বাংলা ভাষার জন্মকথা- হুমায়ুন আজাদ
বাংলা ভাষার জন্মকথা
হুমায়ুন আজাদ
কোথা থেকে এসেছে আমাদের বাংলা ভাষা? ভাষ্য কি জন্ম নেয় মানুষের মতো? বা যেমন বীজ থেকে গাছ জন্মে তেমনভাবে জন্ম নেয় ভাষা? না, ভাষা মানুষ বা তরুর মতো জন্ম নেয় না। বাংলা ভাষাও মানুষ বা তরুর মতো জন্ম নেয়নি, কোনো কল্পিত স্বর্গ থেকেও আসেনি। এখন আমরা যে বাংলা ভাষা বলি, এক হাজার বছর আগে তা ঠিক এমন ছিল না। এক হাজার বছর পরও ঠিক এমন থাকবে না। ভাষার ধর্মই বদলে যাওয়া। বাংলা ভাষার আগেও এদেশে ভাষা ছিল। সে ভাষায় এদেশের মানুষ কথা বলত, গান গাইত, কবিতা বানাত। মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি। রূপ বদলে যায় শব্দের, বদল ঘটে অর্থের। অনেকদিন কেটে গেলে মনে হয় ভাষাটি একটি নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে। আর সে ভাষার বদল ঘটেই জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার।
আজ থেকে একশ বছর আগেও কারও কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না বাংলা ভাষার ইতিহাস সম্পর্কে। কেউ জানত না কত বয়স এ ভাষার। সংস্কৃত ভাষার অনেক শব্দ ব্যবহৃত হয় বাংলা ভাষায়। এক দল লোক মনে করতেন ওই সংস্কৃত ভাষাই বাংলার জননী। বাংলা সংস্কৃতের মেয়ে। তবে দুষ্টু মেয়ে, যে মায়ের কথা মতো চলেনি। না চলে চলে অন্য রকম হয়ে গেছে। তবে উনিশ শতকেই আরেক দল লোক ছিলেন, যাঁরা মনে করতেন বাংলার সাথে সংস্কৃতের সম্পর্ক বেশ দূরের। তাঁদের মতে, বাংলা ঠিক সংস্কৃতের কন্যা নয়। অর্থাৎ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে উৎপত্তি ঘটেনি বাংলার। ঘটেছে অন্য কোনো ভাষা থেকে। সংস্কৃত ছিল সমাজের উঁচু শ্রেণির মানুষের লেখার ভাষা। তা কথ্য ছিল না। কথা বলত মানুষেরা নানা রকম 'প্রাকৃত' ভাষায়। প্রাকৃত ভাষা হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কথ্য ভাষা। তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে, সংস্কৃত থেকে নয়, প্রাকৃত ভাষা থেকেই উল্ফ ঘটেছে বাংলা ভাষার।
কিন্তু নানা রকম প্রাকৃত ছিল ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে। তাহলে কোন প্রাকৃত থেকে উদ্ভব ঘটেছিল বাংলার? এ সম্পর্কে প্রথম স্পষ্ট মত প্রকাশ করেন জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন। বহু প্রাকৃতের একটির নাম মাগধী প্রাকৃত। তাঁর মতে মাগধী প্রাকৃতের কোনো পূর্বাঞ্চলীয় রূপ থেকে জন্ম নেয় বাংলা ভাষা। পরে বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশের বিস্তৃত ইতিহাস রচনা করেন ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং আমাদের চোখে স্পষ্ট ধরা দেয় বাংলা ভাষার ইতিহাস। যে ইতিহাস বলার জন্য আমাদের একটু পিছিয়ে যেতে হবে। পিছিয়ে যেতে হবে অন্তত কয়েক হাজার বছর। ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কিছু ভাষার ধ্বনিতে, শব্দে লক্ষ করা যায় গভীর মিল। এ ভাষাগুলো যে সব অঞ্চলে ছিল ও এখন আছে, তার সবচেয়ে পশ্চিমে ইউরোপ আর সবচেয়ে পূর্বে ভারত ও বাংলাদেশ। ভাষাতাত্ত্বিকেরা এ ভাষাগুলোকে একটি ভাষাবংশের সদস্য বলে মনে করেন। ওই ভাষাবংশটির নাম ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ বা ভারতী-ইউরোপীয় ভাষাবংশ। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশে আছে অনেকগুলো ভাষা-শাখা, যার একটি হচ্ছে ভারতীয় আর্যভাষা। ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন ভাষাগুলোকে বলা হয় প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা। প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপ পাওয়া যায় ঋগ্বেদের মন্ত্রগুলোতে। এগুলো সম্ভবত লিখিত হয়েছিল যিশুখ্রিস্টের জন্মেরও এক হাজার বছর আগে, অর্থাৎ ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। বেদের শ্লোকগুলো পবিত্র বিবেচনা করে তার অনুসারীরা সেগুলো মুখস্থ করে রাখত। শতাব্দীর পর শতাব্দী কেটে যেতে থাকে। মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যে ভাষা ব্যবহার করত বদলে যেতে থাকে সে ভাষা। এক সময় সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে বেদের ভাষা বা বৈদিক ভাষা। তখন ব্যাকরণবিদরা নানা নিয়ম বিধিবদ্ধ করে একটি মানসম্পন্ন ভাষা সৃষ্টি করেন। এই ভাষার নাম 'সংস্কৃত', অর্থাৎ বিধিবদ্ধ, পরিশীলিত, শুদ্ধ ভাষা। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দের আগেই এ ভাষা বিধিবদ্ধ হয়েছিল।
যিশুর জন্মের আগেই পাওয়া যায় ভারতীয় আর্য-ভাষার তিনটি স্তর। প্রথম স্তরটির নাম বৈদিক বা বৈদিক সংস্কৃত। খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ অব্দ এ ভাষার কাল। তারপর পাওয়া যায় সংস্কৃত। খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে এটি সম্বত বিধিবদ্ধ হতে থাকে এবং খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দের দিকে ব্যাকরণবিদ পাণিনির হাতেই এটি চূড়ান্তভাবে বিধিবদ্ধ হয়। বৈদিক ও সংস্কৃতকে বলা হয় প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা। প্রাকৃত ভাষাগুলোকে বলা হয় মধ্যভারতীয় আর্যভাষা। মোটামুটিভাবে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দ থেকে ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এ ভাষাগুলো কথ্য ও লিখিত ভাষারূপে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত থাকে। এ প্রাকৃত ভাষাগুলোর শেষ স্তরের নাম অপভ্রংশ অর্থাৎ যা খুব বিকৃত হয়ে গেছে। বিভিন্ন অপভ্রংশ থেকেই উৎপন্ন হয়েছে নানান আধুনিক ভারতীয় আর্যভাষা-বাংলা, হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি, পাঞ্জাবি প্রভৃতি ভাষা।
ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে বাংলা; আর আসামি ও ওড়িয়া ভাষা। তাই বাংলার সাথে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আসামি ও ওড়িয়ার। আর কয়েকটি ভাষার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তা রয়েছে বাংলার সঙ্গে; কেননা সেগুলোও জন্মেছিল মাগধী অপভ্রংশের অন্য দুটি শাখা থেকে। ওই ভাষাগুলো হচ্ছে মৈথিলি, মাগবি, ভোজপুরিয়া। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে অবশ্য একটু ভিন্ন মত পোষণ করেন। তিনি একটি প্রাকৃতের নাম বলেন গৌড়ী প্রাকৃত। তিনি মনে করেন, গৌড়ী প্রাকৃতেরই পরিণত অবস্থা গৌড়ী অপভ্রংশ থেকে উৎপত্তি ঘটে বাংলা ভাষার।
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ: |
|---|
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধটি হুমায়ুন আজাদের ‘কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী’ গ্রন্থ থেকে সংকলন করা হয়েছে। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ সংস্কৃত ভাষা- সংস্কৃত ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য।
হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের পবিত্র দেবভাষাও এটি। খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ থেকে
খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বৈদিক বা বৈদিক সংস্কৃত ভাষার
অস্তিত্ব ছিল, যা সংস্কৃত ভাষার প্রাচীনতম রূপ। ঋগ্বেদের মন্ত্রগুলো
এই ভাষায় রচিত হয়। খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দের দিকে এই ভাষা বিধিবদ্ধ
হতে শুরু করে। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ অব্দের দিকে ব্যাকরণবিদ পাণিনির হাতে
বিধিবদ্ধ হয়ে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। সংস্কৃত ছিল উঁচুশ্রেণির মানুষের
লেখার ভাষা। তা কথ্য ছিল না। বাংলাসহ ভারত ও নেপালের অধিকাংশ আধুনিক
ভাষাই এই ভাষা দ্বারা প্রভাবিত। ➠ ভাষাতাত্ত্বিক- ভাষাবিজ্ঞানী, ভাষা নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন। ➠ শ্লোক- সংস্কৃত ভাষার রচিত দুই পঙ্ক্তির কবিতা। ➠ দুর্বোধ্য- যা বোঝা কঠিন, সহজে বোঝা যায় না এমন। ➠ বিধিবদ্ধ- নিয়ম দ্বারা শাসিত, নিয়মের অধীন। ➠ ঘনিষ্ঠ- নিকট, নিবিড়, খুব কাছের। ➠ উদ্ধৃত- উৎপন্ন, জাত। ➠ উৎপত্তি- সূচনা, শুরু, জন্ম। ➠ উদ্ভব- সূচনা, জন্ম, অভ্যুদয়, উৎপত্তি। ➠ মাগধী প্রাকৃত- মগধ অঞ্চলে প্রচলিত সেকালের মানুষের মুখের ভাষা। ➠ গৌড়ী প্রাকৃত- গৌড় অঞ্চলে প্রচলিত সেকালের মানুষের মুখের ভাষা। ➠ অপভ্রংশ- মুখের ভাষার পরিবর্তিত রূপ, প্রাকৃত ভাষার শেষ স্তর। ➠ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়- একজন শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পেশাজীবনে বিদ্যাসাগর কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ‘বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ’ (Origins and Development of Bengali Language) তাঁর অমর গবেষণাকর্ম। তাঁর মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ থেকে। বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে তিনি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের মতের সমর্থক ছিলেন। ➠ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্- বাংলাদেশের একজন স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, অধ্যাপক, সাহিত্যিক ও দার্শনিক। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অবিভক্ত চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এখানে শিক্ষাদান কালে তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে মৌলিক গবেষণা করেন এবং ১৯২৫ সালে প্রমাণ করেন যে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের কথা, বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, আঞ্চলিক ভাষার অভিধান তাঁর অনন্যসাধারণ কীর্তি। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের পাঠের উদ্দেশ্য: |
|---|
| বাংলা ভাষার জন্মকথা রচনাটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষার জন্মকথা জানতে পারবে। বাংলা ভাষা যে সাধারণ মানুষের কথ্যভাষা সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে এবং মাতৃভাষা বাংলার প্রতি তাদের মমত্ববোধ জাগবে। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব: |
|---|
|
‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধে লেখক বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে
আলোচনা করেছেন। ভাষার ধর্ম বদলে যাওয়া। মানুষের মুখে মুখে বদলে যায়
ভাষার ধ্বনি। শব্দেরও বদল ঘটে এবং সে সঙ্গে শব্দের অর্থেরও। এক সময়
ধারণা করা হতো বাংলা এসেছে সংস্কৃত থেকে। কিন্তু সংস্কৃত ছিল লেখার
ভাষা। আর প্রাকৃত ছিল মুখের ভাষা। বিশ শতকের গোড়ার দিকে মানুষের
ধারণা হয়, প্রাকৃত ভাষা থেকে আধুনিক ভারতীয় ভাষাগুলোর জন্ম হয়েছে। জর্জ আব্রাহাম প্রিয়ারসন প্রথম ভারতীয় উপভাষা নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা করেন এবং দেখান যে, মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার জন্ম। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ও মনে করেন, মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার জন্ম। তবে মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, গৌড়ী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি: |
|---|
| হুমায়ুন আজাদ ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার রাড়িখাল গ্রামে। একজন কৃতী ছাত্র হিসেবে তিনি তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন গবেষক হিসেবে তিনি খ্যাতি পেয়েছেন। তাঁর গবেষণা গ্রন্থ হচ্ছে ‘শামসুর রাহমান নিঃসঙ্গ শেরপা’, ‘বাক্যতত্ত্ব’ ইত্যাদি। কিশোর পাঠকদের জন্য লেখা দুটি গ্রন্থ ‘লালনীল দীপাবলি’, ‘কতো নদী সরোবর’। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ ও 'জ্বলো চিতাবাঘ' উল্লেখযোগ্য। তিনি সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। হুমায়ুন আজাদ ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানির মিউনিখ শহরে মৃত্যুবরণ করেন। |
| কর্ম-অনুশীলন : |
|---|
|
ক. বাংলা ভাষার উৎপত্তি নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন কর
(শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে হুমায়ুন আজাদ রচিত 'কতো নদী
সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী' শীর্ষক গ্রন্থটি সংগ্রহ করতে পারলে ভালো
হয়।) খ. তোমার এলাকার আঞ্চলিক শব্দের একটি তালিকা তৈরি করে শ্রেণি শিক্ষকের নিকট জমা দাও (একক কাজ)। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধে বাংলা ভাষাকে কার মেয়ে
বলা হয়েছে? উত্তর : ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধে বাংলা ভাষাকে সংস্কৃত ভাষার মেয়ে বলা হয়েছে। প্রশ্ন- ২: উনিশ শতকের একদল লোকের মতে, বাংলা ভাষার সঙ্গে সংস্কৃত ভাষার সম্পর্ক কেমন? উত্তর : উনিশ শতকের একদল লোকের মতে, বাংলা ভাষার সঙ্গে সংস্কৃত ভাষার সম্পর্ক বেশ দূরের। প্রশ্ন- ৩: সংস্কৃত কাদের লেখার ভাষা ছিল? উত্তর : সংস্কৃত ছিল সমাজের উঁচুশ্রেণির মানুষের লেখার ভাষা। প্রশ্ন- ৪: প্রাকৃত ভাষা কী? উত্তর : প্রাকৃত ভাষা হচ্ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কথ্য ভাষা। প্রশ্ন- ৫: মাগধী প্রাকৃতের কোন অঞ্চলীয় রূপ থেকে জন্ম নেয় বাংলা ভাষা? উত্তর : মাগধী প্রাকৃতের পূর্বাঞ্চলীয় রূপ থেকে জন্ম নেয় বাংলা ভাষা। প্রশ্ন- ৬: বাংলা ভাষার ইতিহাস আলোচনার জন্য আমাদের কত বছর পিছিয়ে যেতে হবে? উত্তর : বাংলা ভাষার ইতিহাস আলোচনার জন্য আমাদের অন্তত কয়েক হাজার বছর পিছিয়ে যেতে হবে। প্রশ্ন- ৭: ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের একটি শাখার নাম লেখ। উত্তর : ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের একটি শাখার নাম হলো ভারতীয় আর্যভাষা। প্রশ্ন- ৮: ভারতীয় আর্যভাষার তিনটি স্তর কখন পাওয়া যায়? উত্তর : যিশুখ্রিষ্টের জন্মের আগেই ভারতীয় আর্যভাষার তিনটি স্তর পাওয়া যায়। প্রশ্ন- ৯: ‘প্রাকৃত’ ভাষাগুলোকে কী বলা হয়? উত্তর : প্রাকৃত ভাষাগুলোকে মধ্যভারতীয় আর্যভাষা বলা হয়। প্রশ্ন- ১০: ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি? উত্তর : ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। প্রশ্ন- ১১: মাগধী প্রাকৃতের কোনো পূর্বাঞ্চলীয় রূপ থেকে জন্ম নেয় বাংলা ভাষা- মতটি কার। উত্তর : উত্তর মাগধী প্রাকৃতের কোনো পূর্বাঞ্চলীয় রূপ থেকে জন্ম নেয় বাংলা ভাষা- মতটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসনের। প্রশ্ন- ১২: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপগুলো কোথায় পাওয়া যায়? উত্তর : প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষার প্রাচীন রূপগুলো ঋগ্বেদের মন্ত্রগুলোতে পাওয়া যায়। প্রশ্ন- ১৩: ‘ভাষার’ ধর্ম কী? উত্তর : ভাষার ধর্ম বদলে যাওয়া। প্রশ্ন- ১৪: পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বাংলা ভাষার- মতটি কার? উত্তর : পূর্ব মাগধী অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে বাংলা ভাষার- এ মতটি ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। প্রশ্ন- ১৫: ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’- প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে? উত্তর : ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধটি ‘কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: ‘মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি’- ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ২: বাংলা ভাষার জন্ম ইতিহাস ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন- ৩: ‘মাগধী প্রাকৃতের কোনো পূর্বাঞ্চলীয় রূপ থেকে জন্ম নেয়
বাংলা ভাষা’- ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৪: ‘বাংলা সংস্কৃতের দুষ্ট মেয়ে।’- কথাটি ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৫: ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতাবলম্বনে কোন কোন
ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে?
প্রশ্ন- ৬: সংস্কৃত শব্দের অর্থ বিধিবদ্ধ, পরিশীলিত এবং শুদ্ধ।
প্রশ্ন- ৭: কীভাবে একটি নতুন ভাষার জন্ম হয়?
প্রশ্ন- ৮: ভারতীয়-ইউরোপীয় ভাষাবংশ সম্পর্কে যা জান লেখো।
প্রশ্ন- ৯: ভাষাকে বহতা নদীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?
প্রশ্ন- ১০: বৈদিক ভাষা বলতে কী বোঝায়?
প্রশ্ন- ১১: “সংস্কৃত নয়, প্রাকৃত ভাষা থেকেই উদ্ভব ঘটেছে বাংলা
ভাষার।”- ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ১২: গৌড়ী প্রাকৃত বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্ন- ১৩: কীভাবে একটি নতুন ভাষার জন্ম হয়?
প্রশ্ন- ১৪: ভারতীয় আর্যভাষার বিবরণ দাও।
প্রশ্ন- ১৫: ভাষাকে স্রোতবাহী নদীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?
প্রশ্ন- ১৬: ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতাবলম্বনে কোন কোন
ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে? |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘সংস্কৃত’ শব্দের অর্থ কী? |
|
ক. সংস্কৃত শব্দের অর্থ বিধিবদ্ধ, পরিশীলিত এবং শুদ্ধ।
গ. অনুচ্ছেদের i. নং বৈশিষ্ট্যটির মধ্য দিয়ে ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’
প্রবন্ধের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো ভাষার ধর্মই বদলে যাওয়া
এবং মানুষের মুখে মুখে ব্যবহারের ফলে ভাষার ধ্বনি ও শব্দের রূপ
বদলে যায়।
ঘ. পারমিতার পঠিত ‘ii’ নং বৈশিষ্ট্যটিতে ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’
প্রবন্ধে বর্ণিত ভাষার প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীলতার দিকটি ফুটে
উঠেছে। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. পৃথিবীর আদি ভাষাগোষ্ঠীর নাম কী? |
|
ক. পৃথিবীর আদি ভাষাগোষ্ঠীর নাম হলো ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী বা
ভারতীয়-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী।
গ. সমাজে বসবাসকারী বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কথ্য ভাষা না হওয়ায় সংস্কৃতকে
মৃতভাষা বলা হয়েছে।
ঘ. পৃথিবীর আদিভাষা জনগোষ্ঠীর সূত্রানুসারে ভাষাপণ্ডিতগণ বাংলা
ভাষার জন্ম ইতিহাস প্রমাণ করেছেন। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ভাষাতাত্ত্বিক কারা? |
|
ক. ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে যারা গবেষণা করেন তাদের
ভাষাতাত্ত্বিক বলা হয়।
গ. উদ্দীপকের ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশের ধারাটি ‘বাংলা ভাষার
জন্মকথা’ প্রবন্ধের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
ঘ. বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ লক্ষ করলে দেখা যায় পরিবর্তনশীলতার
মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ভাষাবংশ কী? |
|
ক. উৎপত্তি অনুসারে পৃথিবীর ভাষাগুলোকে কয়েকটি বংশে ভাগ করা হয়েছে,
এরকম একেকটি বংশকে ভাষাবংশ বলা হয়।
গ. ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান
বাংলা ভাষার উদ্ভবের ইতিহাস আলোচিত হয়েছে, যা উদ্ধৃত উদ্দীপকের
সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকে নতুন ভাষা তৈরির প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে তা ‘বাংলা
ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. প্রাচীন আর্যভাষার কয়টি স্তর? |
|
ক. প্রাচীন আর্যভাষার তিনটি স্তর।
গ. হুমায়ুন আজাদ রচিত ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধে বর্ণিত
সংস্কৃত ভাষার এ দুর্বোধ্যতার সঙ্গে উদ্দীপকের বক্তব্য
সংগতিপূর্ণ।
ঘ. বাংলা ভাষার জন্মের ইতিহাস প্রসঙ্গে উদ্দীপকের নানুর বক্তব্য
যথার্থ নয়। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. আর্যভাষার প্রথম স্তরের নাম কী? |
|
ক. আর্যভাষার প্রথম স্তরের নাম বৈদিক বা বৈদিক সংস্কৃত।
গ. অঞ্চলভেদে ভাষার যে বিচিত্রতা ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধে
ভাষার বদলে যাওয়ার বৈশিষ্ট্যকেই প্রকাশ করে।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে ভাষা অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং ভাষায়
ধ্বনির ব্যবহারের বৈচিত্র্যের বিষয়টি যা ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’
প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. আর্যভাষার কোন স্তর থেকে বাংলা ভাষার জন্ম? |
|
ক. মধ্যভারতীয় আর্যভাষার একটি স্তর প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার
জন্ম।
গ. স্থানকালপাত্রভেদে ভাষার যে রূপ বদল হয় সেটিই মূলত জসিমের নিজের
জন্মস্থানের লোকদের ভাষা না বোঝার প্রধান কারণ।
ঘ. ‘মানুষের মুখে মুখে বদলে যায় ভাষার ধ্বনি’- ‘বাংলা ভাষার
জন্মকথা’ প্রবন্ধের এ উক্তিটি উদ্দীপকে পুরোপুরি প্রতিফলিত
হয়েছে। |
| ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
আরিফ ও জাহান বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলছে। আরিফ বলছে, আগে মানুষ সংস্কৃত ভাষায় কথা বলত এবং সেই ভাষায় তৎসম শব্দের ব্যবহার বেশি ছিল। মানুষ সহজে অনেক কিছু বুঝতে পারত না। আজকাল মানুষ তদ্ভব শব্দবহুল চলিত ভাষারও পরিবর্তন ঘটতে পারে। চলতি ভাষার স্থান অন্য কোনো ভাষা দখল করতে পারে। আর এটাই তো ভাষার ধর্ম।
ক. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কে? |
|
---------------------- |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. সাহিত্য-কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |

