গণঅভ্যুত্থানের কথা

গণঅভ্যুত্থানের কথা
গণঅভ্যুত্থানের কথা

গণঅভ্যুত্থানের কথা

সভ্যতার আদিকাল থেকে মানুষ নানা ধরনের সমাজে বসবাস করে আসছে। যে কোনো সমাজের শাসনকাজ পরিচালনা করে শাসকেরা। অতীতে রাজা-রানি বা সম্রাটেরা শাসনকাজ পরিচালনা করত। তাদের মৃত্যুর পর তাদের সন্তান বা পরিবারের কেউ একজন শাসনের দায়িত্ব পেত। কিন্তু আধুনিককালে সাধারণত ভোটের মাধ্যমে শাসনক্ষমতা কে পাবে তা নির্ধারিত হয়। তবে এখনো দুনিয়ায় বেশ কিছু দেশ আছে, যেখানে ভোট ছাড়াও শাসক নির্ধারিত হয়। শাসক যেভাবেই নির্ধারিত হোক, তার প্রধান কর্তব্য হলো সকল মানুষের কল্যাণ করা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের উন্নতি সাধন করা।

ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, যুগে যুগে শাসকেরা তাদের কর্তব্যের প্রতি অনেকসময় উদাসীন হয়ে পড়ে। তারা দেশের অধিকাংশ মানুষকে বাদ দিয়ে নিজ গোষ্ঠী বা দলের অল্পকিছু মানুষের জন্য কাজ করতে থাকে। অনেকসময় তারা অত্যাচারী হয়ে ওঠে। এমনকি হত্যা আর লুটতরাজেও লিপ্ত হয়। এ ধরনের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গেলে মানুষ তখন বিদ্রোহ করে। শাসক ও শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করে। সেই আন্দোলনের সাথে যখন সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে শাসককে তাদের দাবি মেনে নিতে বা ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করে, তখন আমরা তাকে বলি গণঅভ্যুত্থান।

দুনিয়াজুড়ে সব কালে, সব দেশেই আমরা এরকম গণঅভ্যুত্থান ঘটতে দেখেছি। বাংলাদেশের নিকট-ইতিহাসেও এরকম তিনটি বড়ো বড়ো গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। প্রথমটি হয়েছিল ১৯৬৯ সালে, যা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। দ্বিতীয়টি ১৯৯০ সালে, যাকে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান বলা হয়, আ তৃতীয়টি হয়েছে একেবারে সম্প্রতি ২০২৪-এর জুলাই মাসে অনেকেই একে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান নামে অভিহিত করছেন।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রধান দাবি ছিল তিনটি জেনারেল আইয়ুব খানের পদত্যাগ, শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামীদের মুক্তি এবং আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রসমাজের এগারো দফা বাস্তবায়ন। জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছিলেন ১৯৫৮ সালে। তখন বাংলাদেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান এবং এখনকার পাকিস্তানের নাম ছিল পশ্চিম পাকিস্তান। আইয়ুব খানের সরকার শিল্প-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি চরম বৈষম্যের নীতি অনুসরণ করত। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা ঘোষণা করেন। তখন আইয়ুব খান মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে কারাবন্দি করে রাখেন। ১৯৬৮ সালের শেষদিকে আইয়ুব খানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ ছাত্ররা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ছাত্ররা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে এগারো দফা দাবি উত্থাপন করেন। এই আন্দোলনে কৃষক-শ্রমিকসহ মেহনতি মানুষের মুক্তির কথা জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। ফলে আন্দোলনে ছাত্রসমাজ ছাড়াও বাংলাদেশের সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়। ছাত্রনেতা আসাদ, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মতিয়ুর, সার্জেন্ট জহুরুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহা, সন্তান কোলে ঘরের মধ্যে বসে থাকা এক মা আনোয়ারা বেগমসহ অসংখ্য মানুষ শহিদ হন। সেনাবাহিনী নামিয়ে এবং কারফিউ জারি করেও মানুষকে নিবৃত্ত করা যায়নি। ছাত্র-শিক্ষক আর মেহনতি মানুষের ব্যাপক আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণের ফলে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সফল হয়। আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়।

আমাদের ইতিহাসে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এ অভ্যুত্থানেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। তারপর অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কথা ছিল বাংলাদেশ হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের দেশ। সকল প্রকার বৈষম্য থেকে মুক্ত হবে এদেশের মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার পর এদেশের মানুষের আবার আশাভঙ্গ শুরু হয়। বৈষম্য কমে না, সুবিচার মেলে না, হত্যা থামে না, দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং মানুষ আবার সর্বক্ষেত্রে অধিকার বঞ্চিত হতে থাকে।

দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থান ঘটে ১৯৯০ সালে। ১৯৮২ সালে একটা নির্বাচিত সরকারকে জোর করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। দীর্ঘ নয় বছরের শাসনে তিনি এদেশের মানুষের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেন, বিরোধী দলগুলোর প্রতি চরম নির্যাতন পরিচালনা করেন, দেশে কায়েম করেন ভয়াবহ স্বৈরশাসন। দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ছিল তখনকার বাংলাদেশের সাধারণ চিত্র।

এ দেশের মানুষ তার শাসনকে শুরু থেকেই মেনে নেয়নি। ক্ষমতা দখলের অল্পদিনের মধ্যেই ১৯৮৩-৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। ছাত্রনেতা সেলিম-দেলোয়ারসহ বহু হতাহতের মধ্য দিয়ে সে আন্দোলন দমন করা হয়। পরে ১৯৮৭ সালে প্রতিবাদী জনতা আরেকবার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নুর হোসেন বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। কিন্তু কিছু দাবিদাওয়া মেনে নিয়ে সরকার আবারও তার পতন ঠেকাতে সক্ষম হয়। এরপর ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পর ছাত্রআন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন করা হয়। তারা দশ দফা দাবিনামা পেশ করেন। সকল দল মিলে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির রূপরেখা ঘোষণা করে। পুলিশের গুলিতে ডাক্তার মিলন, জেহাদসহ বহু মানুষ শহিদ হন। এরপর সারাদেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এলে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পদত্যাগ করে বিদায় নেন।

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের মানুষ একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেখতে চেয়েছিল, অধিকারের রাষ্ট্র দেখতে চেয়েছিল; ছাত্রসমাজ মানসম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার যথাযথ পরিবেশ চেয়েছিল। কিন্তু তারপর একের পর এক সরকার ক্ষমতায় আসলেও পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। বৈষম্য কমেনি, অধিকার বাড়েনি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ আরো খারাপ হয়েছে। মানুষ আবারও আশাভঙ্গের শিকার হয়েছে। চরম বৈষম্য, অপমান আর জুলুম-নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে এদেশের মানুষ তাই আবারও রাস্তায় নামে ২০২৪ সালে। শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু তিনি নানা কায়দাকানুন করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে একের পর এক প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। বাংলাদেশের মানুষের ভোট দেবার অধিকার কেড়ে নেন। পুরো দেশকে একটি পরিবারের শাসনে পরিণত করেন। উন্নয়নের নামে নজিরবিহীন লুটপাট চলতে থাকে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে এক দলীয় এবং পারিবারিক বিষয়ে পরিণত করেন। বিরোধী নেতাকর্মীদের জেলজুলুম ও হয়রানির মধ্য দিয়ে রাজনীতিকে প্রায় অসম্ভব করে তোলেন।

এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে ছাত্রসমাজ সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা ছিল, তার সংস্কার চেয়ে আন্দোলন শুরু করে। ২০১৮ সালে এই আন্দোলন তুঙ্গে উঠলে সরকার কোটাব্যবস্থার সংস্কার না করে সকল ধরনের কোটাই বাতিল করে দেয়। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে সরকার আবারও কোটাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার কৌশল গ্রহণ করলে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামের সংগঠন গড়ে তোলে। তাদের সাথে ক্রমশ সকল ধরনের সংগঠন, দল ও ব্যক্তি যুক্ত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠলে সরকার তা দমন করতে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। কিন্তু তাতেও আন্দোলন থামে না। সরকারি-বেসরকারি সকল ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। তাদের সাথে যুক্ত হন রিকশাওয়ালা, খেটেখাওয়া মানুষ, অভিভাবক ও শিক্ষকরা। সরকার আন্দোলনরত জনতাকে স্তব্ধ করে দিতে সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করে। কিন্তু দেশরক্ষার প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ মানুষ মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে আন্দোলন চালিয়ে যায়। দুহাত প্রসারিত করে বুকে বুলেট নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন ছাত্রনেতা আবু সাঈদ। রাজপথে আন্দোলনরত সহযোদ্ধাদের পানি বিতরণ করতে করতে নিহত হন শিক্ষার্থী মীর মুগ্ধ। মায়ের কোলে থাকা, বাবার হাতে থাকা, ছাদে-বারান্দায় খেলতে থাকা অসংখ্য শিশু নিহত হয়। অসংখ্য মা-বাবা ও খেটে খাওয়া মানুষ শাহাদত বরণ করেন। অবস্থা এমন হয় যে, গুলি করে এবং হত্যা করেও মানুষকে রাস্তা থেকে সরকার সরাতে পারে না। এমতাবস্থায় সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে ভারত চলে যান। তৈরি হয় বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের এক নতুন ইতিহাস।

আগের দুই অভ্যুত্থানের সাথে এবারের অভ্যুত্থানের একটা বড়ো পার্থক্য হচ্ছে, আগের দুবার শিক্ষার্থীরা প্রধান ভূমিকা রাখলেও আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে এরকম কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছিল না। আন্দোলন পরিচালনা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সাথে সকল ধরনের সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ যুক্ত হয়।

কিন্তু এতো মানুষ রাস্তায় নেমেছিল কেন? হাজারো মানুষ জীবন দিল কেন? কেনই-বা হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে আন্দোলন চালিয়ে গেল?

কারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল এক সুন্দর বাংলাদেশের। এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-জাতি বা আঞ্চলিক কোনো বৈষম্য থাকবে না। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কেউ নিপীড়নের শিকার হবেন না। ভিন্নমত থাকবে, এবং পার্থক্যও থাকবে। কিন্তু সবাই সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নেবেন।

মনে রাখতে হবে, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন হলেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়ে যায় না। এজন্য আমাদের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে। অনেক কাজ করতে হবে। সবাইকে পড়াশোনা করে মানুষ হতে হবে। দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। সমাজ থেকে সব ধরণের অন্যায় ও বৈষম্য দূর করতে হবে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তবেই ২০২৪-এর শহিদ ও আহতদের আত্মদান সার্থক হবে। (সংকলিত)

২৪শে-এর বিপ্লব; চিত্রকর: আতিফা তাবাসসুম তৌহা, দ্বিতীয় শ্রেণি
২৪শে-এর বিপ্লব; চিত্রকর: আতিফা তাবাসসুম তৌহা, দ্বিতীয় শ্রেণি
‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ :
‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধটি সংকলিত হয়েছে।

‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা :
➠ অন্তর্ভুক্তিমূলক- যেখানে সকলের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়।
➠ কারফিউ- সান্ধ্য আইন; নির্ধারিত সময়ে বাড়ির বাইরে বা রাস্তায় না যাওয়ার সাময়িক নির্দেশ।
➠ কোটা ব্যবস্থা- সাধারণত পড়াশোনা বা চাকরির ক্ষেত্রে একটি গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত সংখ্যা বোঝায়।
➠ নজিরবিহীন- অভূতপূর্ব; যার নজির নাই।
➠ বৈষম্য- সমান যোগ্যতার ব্যক্তিদের অধিকারের পার্থক্য।
➠ স্বৈরশাসন- একটি শাসন ব্যবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে এবং গণ-আকাঙ্ক্ষা, প্রচলিত আইন বা রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
➠ স্বৈরাচার- স্বেচ্ছাচার; ইচ্ছামত আচরণ।

২৪শে-এর বিপ্লব; চিত্রকর: প্রতিধ্বনি শর্মা, দ্বিতীয় শ্রেণি
২৪শে-এর বিপ্লব; চিত্রকর: প্রতিধ্বনি শর্মা, দ্বিতীয় শ্রেণি
‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের পাঠের উদ্দেশ্য :
গণঅভ্যুত্থানের কথা প্রবন্ধ পাঠ করে শিক্ষার্থীরা গণবিরোধী শাসকদের শাসন ও শোষিত জনতার প্রতিবাদ সম্পর্কে জানতে পারবে। রাষ্ট্রে নাগরিকের দায়িত্ব-কর্তব্য ও অধিকার সম্পর্কেও শিক্ষার্থীরা সচেতনতা অর্জন করবে।

‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব :
‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে শাসকশ্রেণি যখন সুশাসন বাদ দিয়ে অত্যাচারী হয়ে ওঠে, তখন নির্যাতিত-নিপীড়িত জনতা বিদ্রোহ করে; শাসক এবং শাসন পদ্ধতির বিরুদ্ধে শুরু করে আন্দোলন-সংগ্রাম। সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসক যখন গণদাবি মেনে নেয় বা ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়, তখন আমরা সে আন্দোলনকে বলি গণঅভ্যুত্থান।
বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে তিনটি বড় গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে- ১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের, ১৯৯০ সালে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে। ১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে, কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সহস্র মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে জনতার বিজয়।
কিন্তু স্বৈরশাসকের পতনই শেষ কথা নয়। সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আন্তরিক হতে হবে; তাহলেই শহিদ ও আহতদের ত্যাগ সার্থক হবে।

‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কর্ম-অনুশীলন :
ক. তোমার জানা কোনো শ্রমিকের অত্যাচারিত জীবনের একটি কাহিনি লেখো।
খ. ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হয়েছেন এমন একজন শহিদের পরিচয় দাও।

‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :

‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :

‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১ :

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১৭৮৯ সালের ১৪ই জুলাই ফরাসি রাজতন্ত্রের দমননীতির প্রতীক বাঞ্ছিল দুর্গের পতনের মধ্য দিয়ে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। রাজপুরুষদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করতো তাদের এই বাস্তিল দুর্গে বন্দি করে নির্যাতন করা হতো। শত শত বছরের সেইসব নির্যাতন, নিপীড়ন, সামাজিক বঞ্চনা, অর্থনৈতিক অনাচারসহ বহুমাত্রিক শোষণের বিরুদ্ধে এই বিপ্লব ছিল ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। দার্শনিক জঁ-জ্যাক রুশো ছিলেন এই আন্দোলনের মূল প্রবক্তা; আর ফরাসি বিপ্লবকে সফল করেছে ব্যবসায়ী, কারিগর, কৃষক-শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার দরিদ্র মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। অনেক মৃত্যুর বিনিময়ে জনতার জয় হয়, ফ্রান্স মুক্তি পায় রাজতন্ত্রের কবল থেকে।

ক. ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে কোন সংগঠন?
খ. ‘গণঅভ্যুত্থান’ বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের ‘ফরাসি বিপ্লব’ কী ধরনের আন্দোলন? তোমার পাঠ্য ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের ফরাসি বিপ্লবে আন্দোলনকারীদের ভূমিকার সঙ্গে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে উল্লেখিত বাংলাদেশের তিনটি গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের ভূমিকার তুলনা করো।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
শ্রীলঙ্কায় ২০২২ সালের এপ্রিলে ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই আন্দোলন হয়েছিল। বিক্ষোভের একপর্যায়ে বাসভবন থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন রাজাপাকসে। (সূত্র: ঢাকা পোস্ট)

ক. দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থান ঘটে কত সালে?
খ. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।
ঘ. “প্রেক্ষাপট এক হলেও উদ্দীপকের প্রেসিডেন্ট এবং ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের প্রধানমন্ত্রীর দেশ ত্যাগের কারণ এক নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

ক. দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থান ঘটে ১৯৯০ সালে।
খ. বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হলো সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালে গড়ে ওঠা ছাত্রদের একটি সংগঠন।
➠ ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা সংস্কারের আন্দোলন তুঙ্গে উঠলে সরকার কোটাব্যবস্থার সংস্কার না করে সকল ধরনের কোটাই বাতিল করে দেয়। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে সরকার আবারও কোটাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার কৌশল গ্রহণ করলে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। তারা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামক সংগঠন গড়ে তোলে। পরবর্তীকালে তাদের সাথে যুক্ত হয় বিভিন্ন ব্যক্তি, দল ও সংগঠন।

গ. উদ্দীপকের শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে আলোচিত তিনটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে অন্যতম হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। স্বৈরাচারী শাসক বর্বরোচিত উপায়ে এ আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের ফলে ৫ আগস্ট তিনি গণভবন থেকে হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
➠ উদ্দীপকের শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি ২০২২ সালের এপ্রিলে জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে তিনি বাসভবন থেকে পালিয়ে যান। ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে স্বৈরশাসক যেভাবে জনরোষের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, উদ্দীপকের গোতাবায়া রাজাপাকসেও ঠিক একইভাবে পালিয়ে গিয়েছেন। তাই এদিক থেকে উভয় চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেছিলেন কিন্তু ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের প্রধানমন্ত্রী জনগণের উপর ব্যাপক অন্যায়, অবিচার ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে উভয়ের দেশ ত্যাগের কারণ এক নয়।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে একজন নিকৃষ্ট স্বৈরশাসক এর কথা। তিনি নানা কায়দাকানুন করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে একের পর এক প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। উন্নয়নের নামে নজিরবিহীন লুটপাট করেন; মানুষের উপর শোষণ ও নির্যাতন চালান। ফলে এক সময় মুক্তিকামী মানুষের ঐক্যবদ্ধ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
➠ উদ্দীপকে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন। তবে জনতার এ আন্দোলনের মূল কারণ ছিল অর্থনৈতিক সংকট। ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে জনগণ এ আন্দোলন করেছিল। ফলে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট তার বাসভবন থেকে পালিয়ে যান।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার দেশত্যাগের কারণ ছিল সীমাহীন দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, গুম, আটক ও হত্যা কিন্তু উদ্দীপকের শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্টের দেশত্যাগের মূল কারণ ছিল অর্থনৈতিক সংকট। তিনি শেখ হাসিনার মতো ভয়াবহ সব অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন না। ফলে প্রেক্ষাপট এক হলেও দুজনের দেশ ত্যাগের কারণ ছিল ভিন্ন। তাই আলোচ্য মন্তব্যটিকে আমি সঠিক বলে মনে করি।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মেধাহীন, অযোগ্য, অদক্ষ লোক দিয়ে কখনো দেশ চলতে পারে না। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। তাদের ছেলেমেয়েসহ নাতি-নাতনিরাও বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা নিচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরোপুরি কোটায় অথবা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। (সূত্র: চ্যানেল আই)

ক. ‘কারফিউ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দাবিগুলো ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন দিকটি স্মরণ করিয়ে দেয়? আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের আংশিক ভাব ধারণ করে, সম্পূর্ণ নয়।”- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘কারফিউ’ শব্দের অর্থ সান্ধ্য আইন; নির্ধারিত সময়ে বাড়ির বাইরে বা রাস্তায় না যাওয়ার সাময়িক নির্দেশ।
খ. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে প্রধানত তিনটি দাবি ছিল।
➠ উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম দাবি ছিল জেনারেল আইয়ুব খানের পদত্যাগ। তিনি সব ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি চরম বৈষম্যের নীতি অনুসরণ করতেন। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন। ফলে আইয়ুব খান মিথ্যা মামলা দিয়ে শেখ মুজিবসহ আরও অনেককে কারাবন্দি করেন। এর প্রেক্ষিতে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় দাবি ছিল শেখ মুজিবসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামির মুক্তি। আর এ গণঅভ্যুত্থানের তৃতীয় ও শেষ দাবি ছিল আওয়ামী লীগের ছয় দফা এবং ছাত্রসমাজের এগারো দফা বাস্তবায়ন।

গ. উদ্দীপকটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থার দিকটি স্মরণ করিয়ে দেয়।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা ও বৈষম্যের বিষয়টি বেশ গুরুত্বসহকারে উপস্থাপিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য চলতে থাকে। এমনই একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হলো সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা। এর মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তাদের পছন্দের লোক নিয়োগের পথ সুগম করেছিল।
➠ উদ্দীপকে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরোপুরি কোটায় অথবা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিরাও বিভিন্ন নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছে। ফলে মেধাহীন, অযোগ্য, অদক্ষ লোক দিয়ে দেশ ভরে যাচ্ছে। ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে সরকারি চাকরিতে যে কোটাব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, উদ্দীপকে আমরা সেই কোটাব্যবস্থার প্রয়োগ দেখতে পাই। উভয়ক্ষেত্রেই দেশে বিদ্যমান চরম বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাই উদ্দীপকটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার দিকটি স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঘ. উদ্দীপকে অন্যায়, অত্যাচার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দিকটি উন্মোচিত না হওয়ায় উদ্দীপকটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের আংশিক ভাব ধারণ করে।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে সংঘটিত তিনটি গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার মূল কারণ ছিল শাসকশ্রেণির সীমাহীন জুলুম, অনিয়ম ও বৈষম্য। ফলে সব অন্যায়ের শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করতে প্রতিবারই সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে এসেছে। প্রবল প্রতিরোধের নিশ্চিত করেছে শত্রুর পরাজয়।
➠ উদ্দীপকে দেশে বিদ্যমান বৈষম্যের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। অযোগ্য ও অদক্ষ লোকদেরকে বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েই চলেছে। আবার, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির চাকরিতেও পুরোপুরি কোটায় বা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের যে দিকটি রয়েছে, উদ্দীপকেও তার উপস্থিতি লক্ষ করা যায় না। উদ্দীপকটি শুধু বৈষম্য ও দুর্নীতির ঘটনার বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু এসব প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়নি। তাই উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের আংশিক ভাব ধারণ করলেও সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে সক্ষম নয়।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। বিজয়কে ধরে রাখতে হলে মনে রাখতে হবে, আগামীর বাংলাদেশ যেন হয় তারুণ্যনির্ভর, সম্প্রীতিপূর্ণ, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ব, যা আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্ন ছিল। (সূত্র: সমকাল)

ক. শাসকের প্রধান কাজ কী?
খ. স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বর্ণনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের মূলকথা যেন ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের প্রত্যাশিত বিষয়।” বিশ্লেষণ করো।

ক. শাসকের প্রধান কাজ মানুষের কল্যাণ করা।
খ. গুলি করে এবং হত্যা করেও মানুষকে আন্দোলন থেকে দমাতে না। পেরে স্বৈরাচারী সরকার জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
➠ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্বৈরাচারী সরকার আন্দোলনরত জনতাকে স্তব্ধ করে দিতে সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করেন। কিন্তু দেশরক্ষার প্রেরণায় উদ্‌বুদ্ধ মানুষ মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে আন্দোলন চালিয়ে যায়। মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করেও স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষে আন্দোলন বন্ধ করা সম্ভব হয় না। ফলে পরাজিত স্বৈরাচারী সরকার পালিয়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে আলোচিত সাম্প্রতিককালের একটি অভ্যুত্থান হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতন হয় এবং তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান। এর মাধ্যমে দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত মুক্তি লাভ করে। স্বপ্ন দেখতে শুরু করে এক অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সমতার বাংলাদেশ।
➠ উদ্দীপকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কথা বলা হয়েছে। তবে সেই সাথে এ বিজয়কে ধরে রাখতে তারুণ্যনির্ভর, সম্প্রীতিপূর্ণ ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিও এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমেই শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে সফল করার যে চেতনার কথা বলা হয়েছে, উদ্দীপকে আমরা সেই একই চেতনার বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাই। উভয়ক্ষেত্রেই একটি বৈষম্যবিহীন সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা হয়েছে। তাই এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের মূলকথা এবং ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের প্রত্যাশিত বিষয় হলো সবধরনের অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে সংঘটিত তিনটি গণঅভ্যুত্থান এবং এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষটি হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানে বিজয়ের ফলে মানুষ স্বপ্ন দেখছে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-জাতি বা আঞ্চলিক কোনো বৈষম্য থাকবে না। দেশে ভিন্নমত থাকবে ও মতানৈক্য থাকবে কিন্তু সবাই সমঝোতার ভিত্তিতে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নেবে।
➠ উদ্দীপকে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসকের পতনের কথা বলা হয়েছে। সেই সাথে উপস্থাপিত হয়েছে একটি তারুণ্যনির্ভর, সম্প্রীতিপূর্ণ, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন। ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের শহিদদের এ স্বপ্ন পূরণ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে গড়ে উঠবে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। উদ্দীপকেও আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, উদ্দীপকের মূলকথায় যেন ফুটে উঠেছে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের প্রত্যাশিত বিষয়।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ছবি: প্রথম আলো
ছবি: প্রথম আলো

গণআন্দোলনে বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে রাজপথে নেমে নূর হোসেন শহিদ হলেও সেই আন্দোলনের মূল দফাগুলো কোনো সরকারই বাস্তবায়ন করেনি।

ক. সমান যোগ্যতার ব্যক্তিদের অধিকারের পার্থক্যকে কী বলে?
খ. স্বৈরশাসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের চিত্রটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কত সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি কি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করে? তোমার মতামতের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. সমান যোগ্যতার ব্যক্তিদের অধিকারের পার্থক্যকে বৈষম্য বলে।
খ. স্বৈরশাসন বলতে এমন একটি শাসনব্যবস্থাকে বোঝানো হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে উঠে ইচ্ছামতো অন্যায়ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করার সুযোগ পায়।
➠ স্বৈরশাসনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতা একটি রূপ ধারণ করে। এ শাসনব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখে এবং গণ-আকাঙ্ক্ষা, প্রচলিত আইন বা রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো রাষ্ট্র পরিচালনা করে। স্বৈরশাসনের ফলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশজুড়ে জুলুম-নির্যাতন বেড়ে যায় এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করে।

গ. উদ্দীপকের চিত্রটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেয়।
➠ বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থান ঘটে ১৯৯০ সালে। ১৯৮২ সালে একটা নির্বাচিত সরকারকে জোর করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন জেনালের হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। দীর্ঘ নয় বছরর শাসনের তিনি এ দেশের মানুষের সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেন এবং কায়েম করেন ভয়াবহ স্বৈরশাসন। এর প্রেক্ষিতে প্রতিবাদী জনতা তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নূর হোসেন, ডাক্তার মিলন, জোহাদসহ বহু মানুষ শহিদ হন। ফলে সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এলে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতন হয়।
➠ উদ্দীপকের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূর হোসেনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তিনি গণআন্দোলনের বুকে-পিঠে 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' লিখে রাজপথে নামেন এবং পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। কিন্তু সেই আন্দোলনের মূল দফাগুলো কোনো সরকারই বাস্তবায়ন করেনি। ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল মূলত নূর হোসেনের এ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সূত্র ধরেই। তাঁর মৃত্যু আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল। তাই উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঘ. উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত ১৯৬৯ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের উল্লেখ না থাকায় উদ্দীপকটি ‘গণঅভ্যুত্থনের কথা’ প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করে না।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত বাংলাদেশের তিনটি বড়ো গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ছিল আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে, ১৯৯০ সালে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
➠ উদ্দীপকে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পূর্বের একটি ঐতিহাসিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চিত্রে দেখা যাচ্ছে, গণআন্দোলনের বুকে-পিঠে, ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন নূর হোসেন। কিন্তু তিনি পুলিশের গুলিতে শহিদ হন। এরপর সংঘটিত হয় ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে তিনটি গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলি বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটের চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে ইতিহাসের অন্য দুইটি গণঅভ্যুত্থানের কোনো উল্লেখ নেই। তাই উদ্দীপকটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের আংশিক ভাবকে ধারণ করলেও সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করতে সক্ষম নয় বলে আমি মনে করি।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আজ থেকে ৩ দশক আগে সামরিক জান্তা এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের পর তাঁর পতন হয়েছিল। সে আন্দোলনে প্রায় ৩৭০ জন জীবন দিয়েছিলেন, পঙ্গু-গুম হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। ২০২৪ সালের আন্দোলনেও শহিদ হন সহস্রাধিক মানুষ। কিন্তু ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে ছিল বিশাল এক পার্থক্য। (সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা)

ক. কত সালে কোটাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হয়?
খ. গুলি করেও মানুষকে রাস্তা থেকে সরকার সরাতে পারে না কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
ঘ. ‘১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে একটা বড়ো পার্থক্য রয়েছে।’ মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

ক. ২০১৮ সালে কোটাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হয়।
খ. স্বৈরাচারী সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা ও বিদ্রোহী চেতনার কারণে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুলি করেও মানুষকে রাস্তা থেকে সরকার সরাতে পারে না।
➠ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেশপ্রেম বলীয়ান হয়ে মানুষ মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নামে। আন্দোলন দমন করতে সরকার পুলিশকে নির্বিচারে গুলি করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আপনজন হারানো মানুষ দীর্ঘদিন অন্যায়-শোষণ সহ্য করে কোনো কিছুতেই আর ভয় পায় না। তারা পুলিশের গুলির সামনেও বুক পেতে দাঁড়িয়ে যায়। ফলে গুলি করেও তাদেরকে রাস্তা থেকে সরাতে পারে না সরকার।

গ. উদ্দীপকে ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা থাকলেও ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে এ দুটি গণঅভ্যুত্থানের সাথে রয়েছে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলি এবং তিনটি গণঅভ্যুত্থানের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট।
➠ ‘গণঅভূত্থানের কথা’ প্রবন্ধে বাংলাদেশের ইতিহাসে সংঘটিত তিনটি গণঅভ্যুত্থানের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতন হয়। এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রাখে তরুণসমাজ। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বড়ো অবদান রাখে তরুণসমাজ ও সাধারণ মানুষ। একইভাবে ২০২৪ সালেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনতার বিজয় অর্জিত হয়।
➠ উদ্দীপকে ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ১৯৯০ সালে সামরিক জান্তা এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের পর তার পতন হয়েছিল। শত শত মানুষ জীবন দিয়েছিল, পঙ্গু ও গুম হয়েছিল অসংখ্য মানুষ। ২০২৪ সালের আন্দোলনেও সহস্রাধিক মানুষ শহিদ হয়। ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে দেশের তিনটি গণঅভ্যুত্থানের বিস্তারিত ঘটনাই স্থান পেয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে ১৯৬৯- এর গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা অনুপস্থিত। অন্য দুইটি গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটও এখানে খুব একটা বিস্তারিতভাবে উঠে আসেনি। তাই এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বড়ো পার্থক্যটি হলো প্রথমটিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো, কিন্তু দ্বিতীয়টিতে নেতৃত্ব দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে দেশের ইতিহাসে সংঘটিত তিনটি গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৬৯ ও ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে মিল থাকলেও এ দুইটির তুলনায় ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল কিছুটা ভিন্ন। কারণ পূর্বের দুইটি অভ্যুত্থান পরিচালিত হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এ রকম কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ছিল না। আন্দোলন পরিচালনা করেছে শিক্ষার্থীরা। আর তাদের সাথে যুক্ত হয়েছিল সব ধরনের সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ।
➠ উদ্দীপকের আজ থেকে ৩ দশক আগে সামরিক জান্তা এরশাদ পতনের আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। সেই আন্দোলনে শহিদ হয়েছিলন ৩৭০ জন। এরপর সাম্প্রতিককালে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন সহস্রাধিক মানুষ। উভয় আন্দোলন আহত-নিহতের সংখ্যায় যেমন অনেক পার্থক্য ছিল, তেমনই নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও ছিল বড়ো পার্থক্য।
➠ ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধে ১৯৯০ ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে পার্থক্যের দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে কিন্তু ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। উদ্দীপকেও এই বিরাট পার্থক্যের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় আলোচ্য মন্তব্যটিকে আমি যথার্থ বলে মনে করি।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
শতাব্দী লাঞ্ছিত আর্তের কান্না
প্রতি নিঃশ্বাস আনে লজ্জা;
মৃত্যুর ভয়ে ভীরু বসে থাকা,
আর না-পরো পরো যুদ্ধের সজ্জা। প্রিয়,
ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা,
দুর্যোগে পথ হয় হোক দুর্বোধ্য চিনে নেবে যৌবন আত্মা। (মে-দিনের কবিতা, সুভাষ মুখোপাধ্যায়)

ক. কারফিউ কী?
খ. ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’ বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘দুর্যোগে পথ হয় হোক দুর্বোধ্য/চিনে নেবে যৌবন আত্মা’ চরণ দুটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. কারফিউ হলো সান্ধ্য আইন; নির্ধারিত সময়ে বাড়ির বাইরে বা রাস্তায় না যাওয়ার সাময়িক নির্দেশ।
খ. ধর্ম-বর্ণ-জাতি-আঞ্চলিকতা নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে নির্মিত যে বাংলাদেশ, তাকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বলে।
➠ জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষ এক বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে আসছে। যেখানে ধর্ম-বর্ণ-জাতি বা আঞ্চলিক ভিন্নতায় কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। রাজনৈতিক ভিন্নমত এবং পার্থক্যের জন্য কেউ নির্যাতনের মুখে পড়বে না। যেকোনো মতবাদ এবং মতভেদ নিয়েই মানুষ নিরাপদে থাকতে পারবে। রাষ্ট্র বা সরকার সবাইকে সমান সুযোগ এবং সমান নিরাপত্তা প্রদানের মধ্য দিয়ে সব মতবাদের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যে বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’ বলতে সেটিকেই বোঝায়।

গ. অনুরূপ যে প্রশ্নের উত্তরটি জানা থাকতে হবে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদী অবস্থানের দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের তিনটি গণঅভ্যুত্থানে তরুণ সমাজের অগ্রগামী ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ তোফাজ্জল হোসেনের আঁকা একটি কার্টুনে দেখা যায়, একটি গরু ঘাস খাচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানে, কিন্তু তার দুধ চলে যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্তানে। তখন আমাদের দেশের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান। আমাদের দেশকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা শোষণ করত। শোষণের কথাটা তিনি এভাবে প্রকাশ করেছেন।

ক. কোন সংগঠন ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে?
খ. গণঅভ্যুত্থান সংগঠনের কারণ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে 'গণঅভ্যুত্থানের কথা' প্রবন্ধের কোন গণঅভুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাবকে ধারণ করে না।” মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

ক. ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে।
খ. শাসকগোষ্ঠী যখন সাধারণ জনগণের উপর অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়ে তার চরম সীমায় পৌঁছে যায়, তখনই তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
➠ অনেক সময় শাসকগোষ্ঠী নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি উদাসীন হয়ে সাধারণ গণমানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এজন্য তারা হত্যা, খুন, গুম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতাও হরণ করে। এ ধরনের পরিস্থিতি যখন চরম আকার ধারণ করে মানুষ তখনই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই শাসকের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান ঘটায়।

গ. না ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য বিশ্লেষণ করো।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
প্রয়াত কপালে কব্জিতে লালসালু বেঁধে
এই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,
লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষক,
হাতের মুঠোয় মৃত্যু, চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,
নিম্নবিত্ত, করুণ কেরানি, নারী, বৃদ্ধ, ভবঘুরে
আর তোমাদের মতো শিশু পাতা-কুড়ানিরা দল বেঁধে। (স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো- নির্মলেন্দু গুণ)

ক. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অপর নাম কী?
খ. মানুষ কেন বিদ্রোহ করে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন বিষয়টির সাদৃশ্য আছে? বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকে কি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের মূলভাব ফুটে উঠেছে? তোমার মতামত উপস্থাপন করো।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দুলিতেছে তরি ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে জাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছে জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। (কাণ্ডারী হুঁশিয়ার- কাজী নজরুল ইসলাম)

ক. স্বৈরাচার কী?
খ. ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান কীভাবে সফল হয়?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্তানের কথা’ প্রবন্ধের কী সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘কে আছে জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ’-চরণটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
যে যাবে না সে থাকুক, চলো, আমরা এগিয়ে যাই।
যে-সত্য জেনেছি পুড়ে, রক্ত দিয়ে যে-মন্ত্র শিখেছি,
আজ সেই মন্ত্রের সপক্ষে নেবো দীপ্র হাতিয়ার।
শ্লোগানে কাঁপুক বিশ্ব, চলো, আমরা এগিয়ে যাই। (মিছিল- রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ)

ক. কোটা ব্যবস্থা কী?
খ. ‘গণঅভ্যুত্থান’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক কি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাবকে ধারণ করে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই শাসকগোষ্ঠী শুরু করে নানান বৈষম্যনীতি। তারা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার হীন ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু এদেশের ছাত্র-শিক্ষকসহ আপামর জনতা এর বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়ে, বিসর্জন দেয় বুকের তাজা রক্ত।

ক. ছয় দফা কে ঘোষণা করেন?
খ. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের ভিত রচনা করে?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটিতে কি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের মূলভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে? তোমার উত্তরের ভাপক্ষে যুক্তি দাও।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়।
----------------------------
----------------------------
আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা। (আসাদের শার্ট- শামসুর রাহমান)

ক. কত সালে দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থান ঘটে?
খ. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কেন সংঘটিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন গণঅভ্যুত্থানের ঘটনা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা?’ চরণটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সংগ্রামের দিনগুলো ছিল অত্যন্ত ভয় ও বিপজ্জনক, সামরিক শাসক সবধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সভা-সমাবেশ, মিছিল, মত প্রকাসহ সবধরনের নাগরিক অধিকার রদ করেছিল। এর বিপরীতে ছাত্ররাও হয়ে উঠেছিল প্রচণ্ড বেপরোয়া। তারা পদে পদে স্বৈরাচারী শাসকের পথে বাধার সৃষ্টি করেছিল। এভাবেই পার হয়েছিল মাস, বছর।

ক. নজিরবিহীন অর্থ কী?
খ. জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন সংঘটিত হয়েছিল?
গ. উদ্দীপকে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন ঘটনা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের স্বৈরাচারী শাসক এবং ২০২৪-এর স্বৈরাচারী শাসকের কর্মকাণ্ড ও পরিণতি এক নয়।”- মন্তব্যটি সম্পর্কে তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।


‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ভাই মরল রংপুরে সেই
রংপুরই তো বাংলাদেশ
নুসরাতেরা আগুন দিলো
দোজখে যেন ছড়ায় কেশ।
-------------------------
-------------------------
চিরকালই স্বাধীনতা
আসে এমন রীতিতে
কত রক্ত লাইগা আছে
বাংলাদেশের সিঁথিতে। [হাসান রোবায়েরত- সিঁথি।]

ক. বৈষম্য কী?
খ. ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’- স্লোগানটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের কোন গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে? বর্ণনা করো।
ঘ. ‘কত রক্ত লাইগা আছে/বাংলাদেশের সিঁথিতে’- চরণটি ‘গণঅভ্যুত্থানের কথা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।


তথ্যসূত্র :
১. সাহিত্য-কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url