মেয়েটির নাম যখন সুভাষিণী রাখা হইয়াছিল তখন কে জানিত সে
বোবা
হইবে। তাহার দুটি বড়ো বোনকে সুকেশিনী ও সুহাসিনী নাম দেওয়া হইয়াছিল, তাই মিলের
অনুরোধে তাহার
বাপ ছোটো মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখে। এখন সকলে তাহাকে
সংক্ষেপে সুভা
বলে।
দস্তুরমতোঅনুসন্ধান ও
অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে, এখন ছোটোটি পিতামাতার নীরব
হৃদয়ভারের
মতো
বিরাজ করিতেছে।
যে কথা কয় না সে যে
অনুভব করে ইহা
সকলের মনে হয় না, এইজন্য তাহার
সাক্ষাতেই সকলে তাহার
ভবিষ্যৎ
সম্বন্ধে
দুশ্চিন্তা
প্রকাশ করিত। সে যে
বিধাতার
অভিশাপস্বরূপে তাহার পিতৃগৃহে আসিয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছে এ কথা সে
শিশুকাল
হইতে বুঝিয়া লইয়াছিল। তাহার ফল এই হইয়াছিল, সাধারণের
দৃষ্টিপথ
হইতে সে আপনাকে
গোপন
করিয়া রাখিতে সর্বদাই চেষ্টা করিত। মনে করিত, আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি। কিন্তু,
বেদনা কি কেহ কখনো ভোলে? পিতামাতার মনে সে সর্বদাই
জাগরূক
ছিল।
বিশেষত, তাহার মা তাহাকে নিজের একটা ত্রুটিস্বরূপ দেখিতেন; কেননা, মাতা পুত্র
অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন- কন্যার কোনো
অসম্পূর্ণতা
দেখিলে সেটা যেন বিশেষরূপে নিজের লজ্জার কারণ বলিয়া মনে করেন।
বরঞ্চ, কন্যার পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে তাঁহার অন্য মেয়েদের অপেক্ষা যেন একটু বেশি
ভালোবাসিতেন; কিন্তু মাতা তাহাকে নিজের
গর্ভের কলঙ্ক
জ্ঞান করিয়া তাহার প্রতি বড়ো
বিরক্ত
ছিলেন। সুভার কথা ছিল না, কিন্তু তাহার
সুদীর্ঘপল্লববিশিষ্ট
বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল- এবং তাহার
ওষ্ঠাধর
ভাবের
আভাসমাত্রে
কচি
কিশলয়ের
মতো কাঁপিয়া উঠিত। কথায় আমরা যেভাব প্রকাশ করি সেটা আমাদিগকে অনেকটা নিজের
চেষ্টায় গড়িয়া লইতে হয়, কতকটা
তর্জমা
করার মতো; সকল সময়ে ঠিক হয় না, ক্ষমতার অভাবে অনেক সময়ে ভুলও হয়। কিন্তু কালো
চোখকে কিছু তর্জমা করিতে হয় না- মন আপনি তাহার উপরে ছায়া ফেলে; ভাব আপনি তাহার
উপরে কখনো
প্রসারিত
কখনো
মুদিত
হয়, কখনো উজ্জ্বলভাবে জ্বলিয়া উঠে, কখনো
স্নানভাবে
নিবিয়া আসে, কখনো
অস্তমান
চন্দ্রের মতো
অনিমেষভাবে
চাহিয়া থাকে, কখনো দ্রুত চঞ্চল বিদ্যুতের মতো
দিগ্বিদিকে ঠিকরিয়া
উঠে। মুখের ভাব
বৈআজন্মকাল যাহার অন্য ভাষা নাই তাহার চোখের ভাষা
অসীম
উদার এবং
অতলস্পর্শ
গভীর- অনেকটা স্বচ্ছ আকাশের মতো,
উদয়াস্ত
এবং
ছায়ালোকের
নিস্তব্ধরঙ্গভূমি। এই বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা
বিজন মহত্ত্ব
আছে। এইজন্য সাধারণ বালকবালিকারা তাহাকে একপ্রকার ভয় করিত, তাহার
সহিত খেলা করিত না।
সে
নির্জনদ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন।
গ্রামের নাম চণ্ডীপুর। নদীটি বাংলাদেশের একটি ছোটো নদী, গৃহস্থঘরের মেয়েটির মতো,
বহুদূর পর্যন্ত তাহার
প্রসার
নহে; নিরলসাতন্বী
নদীটি আপন কূল রক্ষা করিয়া কাজ করিয়া যায়: দুই ধারের গ্রামের সকলেরই সঙ্গে তাহার
যেন একটা-না-একটা সম্পর্ক আছে। দুই ধারে
লোকালয়
এবং তরুচ্ছায়াঘন
উচ্চ তট: নিম্নতল দিয়া গ্রামলক্ষ্মী
স্রোতস্বিনীআত্মবিস্মৃত দ্রুত
পদক্ষেপে
প্রফুল্ল হৃদয়ে
আপনার অসংখ্য কল্যাণকার্যে চলিয়াছে।
বাণীকণ্ঠের ঘর নদীর একেবারে উপরেই। তাহার
বাঁখারি
বেড়া, আটচালা,
গোয়ালঘর,
ঢেঁকিশালা, খড়ের স্তূপ, তেঁতুলতলা, আম কাঁঠাল এবং কলার বাগান
নৌকাবাহী-মাত্রেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই
গার্হস্থ্য সচ্ছলতার মধ্যে বোবা মেয়েটি কাহারও নজরে পড়ে কি না জানি না, কিন্তু কাজকর্মে যখনই
অবসর
পায় তখনই সে এই নদীতীরে আসিয়া বসে।
প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়। যেন তাহার হইয়া কথা কয়। নদীর
কলধ্বনি, লোকের
কোলাহল, মাঝির গান, পাখির ডাক, তরুর মর্মর-সমস্ত মিশিয়ে চারিদিকের
চলাফেরা-আন্দোলন-কম্পনের সহিত এক হইয়া সমুদ্রের তরঙ্গরাশির ন্যায় বালিকার
চিরনিস্তব্ধ হৃদয়-উপকূলের নিকটে আসিয়া ভাঙিয়া ভাঙিয়া পড়ে। প্রকৃতির এই বিবিধ শব্দ
এবং বিচিত্র গতি, ইহাও বোবার ভাষা বড়ো বড়ো চক্ষুপল্লববিশিষ্ট সুভার যে ভাষা
তাহারই একটা বিশ্বব্যাপী বিস্তার;
ঝিল্লিরব পূর্ণ
তৃণভূমি হইতে শব্দাতীত নক্ষত্রলোক পর্যন্ত কেবল
ইঙ্গিত, ভঙ্গি,
সংগীত, ক্রন্দন এবং দীর্ঘনিশ্বাস।
এবং
মধ্যাহ্নে
যখন মাঝিরা জেলেরা খাইতে যাইত, গৃহস্থেরা ঘুমাইত, পাখিরা ডাকিত না, খেয়া-নৌকা
বন্ধ থাকিত, সজন জগৎ সমস্ত কাজকর্মের মাঝখানে সহসা থামিয়া গিয়া ভয়ানক বিজনমূর্তি
ধারণ করিত, তখন রুদ্র মহাকাশের তলে কেবল একটি বোবা প্রকৃতি এবং একটি বোবা মেয়ে
মুখামুখি চুপ করিয়া বসিয়া থাকিত- একজন সুবিস্তীর্ণ রৌদ্রে, আর-একজন ক্ষুদ্র
তরুচ্ছায়ায়।
সুভার যে গুটিকতক অন্তরঙ্গ বন্ধুর দল ছিল না তাহা নহে। গোয়ালের দুটি গাভী,
তাহাদের নাম সর্বশী ও পাঙ্গুলি। সে নাম বালিকার মুখে তাহারা কখনো শুনে নাই,
কিন্তু তাহার পদশব্দ তাহারা চিনিত- তাহার কথাহীন একটা করুণ সুর ছিল, তাহার মর্ম
তাহারা ভাষার অপেক্ষা সহজে বুঝিত। সুভা কখন তাহাদের আদর করিতেছে, কখন ভর্ৎসনা
করিতেছে, কখন মিনতি করিতেছে, তাহা তাহারা মানুষের অপেক্ষা ভালো বুঝিতে পারিত।
সুভা গোয়ালে ঢুকিয়া দুই বাহুর দ্বারা সর্বশীর গ্রীবা বেষ্টন করিয়া তাহার কানের
কাছে আপনার গণ্ডদেশ ঘর্ষণ করিত এবং পাঙ্গুলি স্নিগ্ধদৃষ্টিতে তাহার প্রতি
নিরীক্ষণ করিয়া তাহার গা চাটিত। বালিকা দিনের মধ্যে নিয়মিত তিনবার করিয়া গোয়ালঘরে
যাইত, তাহা ছাড়া অনিয়মিত আগমনও ছিল; গৃহে যেদিন কোনো কঠিন কথা শুনিত সেদিন সে
অসময়ে তাহার এই মূক বন্ধু দুটির কাছে আসিত- তাহার সহিষ্ণুতাপরিপূর্ণ বিষাদশান্ত
দৃষ্টিপাত হইতে তাহারা কী একটা অন্ধ অনুমানশক্তির দ্বারা বালিকার মর্মবেদনা যেন
বুঝিতে পারিত, এবং সুভার গা ঘেঁষিয়া আসিয়া অল্পে অল্পে তাহার বাহুতে শিং ঘষিয়া
ঘষিয়া তাহাকে নির্বাক ব্যাকুলতার সহিত সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করিত।
ইহারা ছাড়া ছাগল এবং বিড়ালশাবকও ছিল; কিন্তু তাহাদের সহিত সুভার এরূপ সমকক্ষভাবে
মৈত্রী ছিল না, তথাপি তাহারা যথেষ্ট আনুগত্য প্রকাশ করিত। বিড়ালশিশুটি দিনে এবং
রাত্রে যখন-তখন সুভার গরম কোলটি নিঃসংকোচে অধিকার করিয়া সুখনিদ্রার আয়োজন করিত
এবং সুভা তাহার গ্রীবা ও পৃষ্ঠে কোমল অঙ্গুলি বুলাইয়া দিলে যে তাহার
নিদ্রাকর্ষণের বিশেষ সহায়তা হয়, ইঙ্গিতে এরূপ অভিপ্রায়ও প্রকাশ করিত।
উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার আরও একটি সঙ্গী জুটিয়াছিল। কিন্তু তাহার সহিত
বালিকার ঠিক কিরূপ সম্পর্ক ছিল তাহা নির্ণয় করা কঠিন, কারণ, সে ভাষাবিশিষ্ট জীব;
সুতরাং উভয়ের মধ্যে সমভাষা ছিল না।
গোঁসাইদের ছোটো ছেলেটি তাহার নাম প্রতাপ। লোকটি নিতান্ত অকর্মণ্য। সে যে কাজকর্ম
করিয়া সংসারের উন্নতি করিতে যত্ন করিবে, বহু চেষ্টার পর বাপ-মা সে আশা ত্যাগ
করিয়াছেন। অকর্মণ্য লোকের একটা সুবিধা এই যে, আত্মীয় লোকেরা তাহাদের উপর বিরক্ত
হয় বটে, কিন্তু প্রায় তাহারা নিঃসম্পর্ক লোকদের প্রিয়পাত্র হয়- কারণ, কোনো কার্যে
আবন্ধ না থাকাতে তাহারা সরকারি সম্পত্তি হইয়া দাঁড়ায়। শহরের যেমন এক-আধটা
গৃহসম্পর্কহীন সরকারি বাগান থাকা আবশ্যক তেমনি গ্রামে দুই-চারিটা অকর্মণ্য সরকারি
লোক থাকার বিশেষ প্রয়োজন। কাজে-কর্মে আমোদে-অবসরে যেখানে একটা লোক কম পড়ে সেখানেই
তাহাদিগকে হাতের কাছে পাওয়া যায়।
প্রতাপের প্রধান শখ- ছিপ ফেলিয়া মাছ ধরা। ইহাতে অনেক সময় সহজে কাটানো যায়।
অপরাহ্ণে নদীতীরে ইহাকে প্রায় এই কাজে নিযুক্ত দেখা যাইত। এবং এই উপলক্ষে সুভার
সহিত তাহার প্রায় সাক্ষাৎ হইত। যে-কোনো কাজেই নিযুক্ত থাক, একটা সঙ্গী পাইলে
প্রতাপ থাকে ভালো। মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ- এইজন্য
প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝিত। এইজন্য, সকলেই সুভাকে সুভা বলিত, প্রতাপ আর-একটু
অতিরিক্ত আদর সংযোগ করিয়া সুভাকে ‘সু’ বলিয়া ডাকিত।
সুভা তেঁতুলতলায় বসিয়া থাকিত এবং প্রতাপ অনতিদূরে ছিপ ফেলিয়া জলের দিকে চাহিয়া
থাকিত। প্রতাপের জন্য একটি করিয়া পান বরাদ্দ ছিল, সুভা তাহা নিজে সাজিয়া আনিত।
এবং বোধ করি অনেকক্ষণ বসিয়া বসিয়া চাহিয়া ইচ্ছা করিত, প্রতাপের কোনো-একটা বিশেষ
সাহায্য করিতে, একটা-কোনো কাজে লাগিতে, কোনোমতে জানাইয়া দিতে যে এই পৃথিবীতে সেও
একজন কম প্রয়োজনীয় লোক নহে। কিন্তু কিছুই করিবার ছিল না। তখন সে মনে মনে বিধাতার
কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করিত মন্ত্রবলে সহসা এমন একটা আশ্চর্য কাণ্ড ঘটাইতে
ইচ্ছা করিত যাহা দেখিয়া প্রতাপ আশ্চর্য হইয়া যাইত, বলিত, ‘তাই তো, আমাদের সুভির
যে এত ক্ষমতা তাহা তো জানিতাম না।’
মনে করো, সুভা যদি জলকুমারী হইত: আস্তে আস্তে জল হইতে উঠিয়া একটা সাপের মাথার মণি
ঘাটে রাখিয়া যাইত; প্রতাপ তাহার তুচ্ছ মাছধরা রাখিয়া সেই মানিক লইয়া জলে ডুব
মারিত; এবং পাতালে গিয়া দেখিত, রুপার অট্টালিকায় সোনার পালঙ্কে-কে বসিয়া? আমাদের
বাণীকণ্ঠের ঘরের সেই বোবা মেয়ে সু- আমাদের সু সেই মণিদীপ্ত গভীর নিস্তব্ধ
পাতালপুরীর একমাত্র রাজকন্যা। তাহা কি হইতে পারিত না, তাহা কি এতই অসম্ভব। আসলে
কিছুই অসম্ভব নয়, কিন্তু তবুও সু প্রজাশূন্য পাতালের রাজবংশে না জন্মিয়া
বাণীকণ্ঠের ঘরে আসিয়া জন্মিয়াছে এবং গোঁসাইদের ছেলে প্রতাপকে কিছুতেই আশ্চর্য
করিতে পারিতেছে না।
সুভার বয়স ক্রমেই বাড়িয়া উঠিতেছে। ক্রমে সে যেন আপনাকে আপনি অনুভব করিতে
পারিতেছে। যেন কোনো একটা পূর্ণিমাতিথিতে কোনো-একটা সমুদ্র হইতে একটা জোয়ারের
স্রোত আসিয়া তাহার অন্তরাত্মাকে এক নূতনঅনির্বচনীয় চেতনাশক্তিতে পরিপূর্ণ করিয়া
তুলিতেছে। সে আপনাকে আপনি দেখিতেছে, ভাবিতেছে, প্রশ্ন করিতেছে, এবং বুঝিতে
পারিতেছে না।
গভীর পূর্ণিমারাত্রে সে এক-একদিন ধীরে শয়নগৃহের দ্বার খুলিয়া ভয়ে ভয়ে মুখ বাড়াইয়া
বাহিরের দিকে চাহিয়া দেখে পূর্ণিমাপ্রকৃতিও সুভার মতো একাকিনীসুপ্ত জগতের উপর
জাগিয়া বসিয়া-যৌবনের রহস্যে পুলকে বিষাদে অসীম নির্জনতার একেবারে শেষ সীমা
পর্যন্ত, এমন- কি, তাহা অতিক্রম করিয়াও ধমথম করিতেছে, একটি কথা কহিতে পারিতেছে
না। এই নিস্তব্ধ ব্যাকুল প্রকৃতির প্রান্তে একটি নিস্তব্ধ ব্যাকুল বালিকা
দাঁড়াইয়া।
এ দিকে
কন্যাভারগ্রস্ত পিতামাতা
চিন্তিত হইয়া উঠিয়াছেন। লোকেও নিন্দা আরম্ভ করিয়াছে। এমন-কি, এক-ঘরে করিবে এমন
জনরবও শুনা যায়। বাণীকণ্ঠের সচ্ছল অবস্থা, দুই বেলাই মাছভাত খায়, এজন্য তাহার শত্রু
ছিল।
বিদেশযাত্রার উদ্যোগ হইতে লাগিল। কুয়াশা-ঢাকা প্রভাতের মতো সুভার সমস্ত হৃদয়
অশ্রুবাষ্পে একেবারে ভরিয়া গেল। একটা অনির্দিষ্ট আশঙ্কা বশে সে কিছুদিন হইতে
ক্রমাগত নির্বাক জন্তুর মতো তাহার বাপ-মায়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিরিত- ডাগর চক্ষু
মেলিয়া তাঁহাদের মুখের দিকে চাহিয়া কী- একটা বুঝিতে চেষ্টা করিত, কিন্তু তাঁহারা
কিছু বুঝাইয়া বলিতেন না।
ইতোমধ্যে একদিন অপরাহ্ণেছিপ ফেলিয়া প্রতাপ হাসিয়া কহিল, “কী রে সু, তোর নাকি বর
পাওয়া গেছে, তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস আমাদের ভুলিস নে।” বলিয়া আবার মাছের
দিকে মনোযোগ করিল।
মর্মবিদ্ধ হরিণী
ব্যাধের দিকে যেমন করিয়া তাকায়, নীরবে বলিতে থাকে ‘আমি তোমার কাছে কী দোষ করিয়াছিলাম’,
সুভা তেমনি করিয়া প্রতাপের দিকে চাহিল; সেদিন গাছের তলায় আর বসিল না; বাণীকণ্ঠ
নিদ্রা হইতে উঠিয়া শয়নগৃহে তামাক খাইতেছিলেন, সুভা তাঁহার পায়ের কাছে বসিয়া
তাঁহার মুখের দিকে চাহিয়া কাঁদিতে লাগিল। অবশেষে তাহাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়া
বাণীকণ্ঠের শুষ্ককপোলে অশ্রু গড়াইয়া
পড়িল।
কাল কলিকাতায় যাইবার দিন স্থির হইয়াছে। সুভা গোয়ালঘরে তাহার বাল্য-সখীদের কাছে
বিদায় লইতে গেল, তাহাদিগকে স্বহস্তে খাওয়াইয়া, গলা ধরিয়া একবার দুই চোখে যত পারে
কথা ভরিয়া তাহাদের মুখের দিকে চাহিল- দুই
নেত্রপল্লব
হইতে টপটপ করিয়া অশ্রুজল পড়তে লাগিল।
সেদিন
শুক্লাদ্বাদশীর রাত্রি। সুভা শয়নগৃহ হইতে বাহির হইয়া তাহার সেই চিরপরিচিত নদীতটেশষ্পপশয্যায় লুটাইয়া পড়িল- যেন ধরণীকে, এই প্রকাণ্ড মূক মানবতাকে দুই বাহুতে ধরিয়া বলিতে
চাহে, ‘তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না মা, আমার মতো দুটি বাহু বাড়াইয়া তুমিও আমাকে
ধরিয়া রাখো।’
[সংক্ষেপিত]
চিত্রকর: মুসতাকিম রহমান নাহভান; ২য় শ্রেণি
‘সুভা’ গল্পের উৎস নির্দেশ :
‘সুভা’ গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ‘গল্পগুচ্ছ’ থেকে সংকলিত হয়েছে।
➠ অসম্পূর্ণ- অপূর্ণ, আংশিক।
➠ বরঞ্চ- পক্ষান্তরে, তার বদলে।
➠ গর্ভের কলঙ্ক- সন্তান হিসেবে কলঙ্ক। গর্ভ হলো মায়ের পেট। যে ব্যক্তি বা
বস্তুকে পরিবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয় তা হলো কলঙ্ক।
➠ বিরক্ত- অসন্তুষ্ট, উদাসীন।
➠ সুদীর্ঘ পল্লববিশিষ্ট- বড়ো পাতাবিশিষ্ট। এখানে চোখের পাতা হিসেবে ব্যবহৃত
হয়েছে।
➠ ওষ্ঠাধর- ওষ্ঠ এবং অধর, উপরের ও নিচের ঠোঁট [ওষ্ঠ+অধর= ওষ্ঠাধর]।
➠ আভাসমাত্রে- ইঙ্গিতের সাথে সাথে
➠ কিশলয়- গাছের নতুন পাতা।
➠ তর্জমা- অনুবাদ, এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর।
➠ প্রসারিত- বিস্তার লাভ করা।
➠ মুদিত- মুদ্রিত; নিমিলিত।
➠ স্নানভাবে- মলিনভাবে; বিষণ্নভাবে।
➠ অস্তমান- ডুবন্ত, ডুবে যাচ্ছে এমন, চন্দ্র-সূর্যের পশ্চিম দিকে অদৃশ্য
অবস্থা।
➠ অনিমেষ- অপলক, পলকহীন।
➠ দিগ্বিদিকে- সবদিকে।
➠ বৈ- ছাড়া; ভিন্ন।
➠ আজন্ম- জন্মকাল থেকে, আজীবন।
➠ অসীম- সীমাহীন; অশেষ; অনন্ত।
➠ অতলস্পর্শ- তলকে স্পর্শ করা যায় না এমন, অতি গভীর।
➠ উদয়াস্ত- উদয়+অস্ত= উদয়াস্ত, ওঠা ও ডুবে যাওয়া; সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত
পর্যন্ত; সারাদিন।
➠ ছায়ালোক- ছায়া আলোক ছায়ালোক। কোনো বস্তুর ওপর আলো পড়লে বিপরীত দিকে যে
প্রতিবিম্ব হয় তা হলো ছায়া।
➠ নিস্তব্ধ- স্থির, নিস্পন্দ, নীরব।
➠ রঙ্গভূমি- রঙ্গালয়, নাট্যশালা।
➠ বিজন- জনশূন্য; নির্জন।
➠ মহত্ত্ব- মহৎগুণ।
➠ বিজন মহত্ত্ব- কোলাহলমুক্ত প্রকৃতির যে আকর্ষণীয় দিক।
➠ সহিত- সাথে।
➠ নির্জন- জনমানবহীন, বিজন।
➠ দ্বিপ্রহর- দুপুর; ৩ ঘণ্টা সময়।
➠ প্রসার- বিস্তৃতি; বিস্তার লাভ।
➠ নিরলসা- আলস্যহীন।
➠ তন্বী- ক্ষীণ ও সুগঠিত অঙ্গবিশিষ্ট।
➠ লোকালয়- জনগণের বসবাসের এলাকা, জনপদ, বসতি।
➠ তট- নদীর তীর; উঁচু স্থান।
➠ স্রোতস্বিনী- নদী।
➠ আত্মবিস্মৃত- আপনভোলা।
➠ প্রফুল্ল- আনন্দিত।
➠ বাঁখারি- কাঁধের দুদিকে দুপ্রান্তে ঝুলিয়ে বোঝা বহনের বাঁশের ফালি।
➠ গোয়ালঘর- গোশালা, গরুর আবাসস্থল।
➠ ঢেঁকি- ধান থেকে চাল তৈরির লোকজ যন্ত্র।
➠ ঢেঁকিশালা- যে ঘরে ঢেঁকি রাখা হয়। এখনো গ্রামীণ জীবনে অনেক বাড়িতে ঢেঁকির
ঘর আছে।
➠ নৌকাবাহী- যে বা যারা নৌকা চালায়; পানি ঠেলে নৌকা নিয়ে যায়।
➠ গার্হস্থ্য সচ্ছলতা- পারিবারিক দৈনন্দিন জীবনের সচ্ছলতা।
➠ অবসর- অবকাশ, ছুটি, ফুরসত।
➠ কোলাহল- অনেক মানুষের মিলিত কণ্ঠস্বর, হৈচৈ, গোলমাল।
➠ চিরনিস্তব্ধ হৃদয় উপকূল- শান্ত হৃদয়। নিস্তব্ধ হলো আলোড়নহীন
অবস্থা। উপকূল হলো কূলের সদৃশ্য। এখানে হৃদয় উপকূল বলতে হৃদয়ের কিনারার
কথাই বলা হয়েছে।
➠ ঝিল্লিরব পূর্ণ- ঝিঁঝি পোকার আওয়াজ/শব্দে মুখর।
➠ ইঙ্গিত- ইশারা, মনের ভাব প্রকাশার্থে আঙুল চালনা বা চোখের ঠার।
➠ ভঙ্গি- ঢং, অঙ্গভঙ্গি।
বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও
মমত্ববোধে গল্পটি অমর হয়ে আছে। সুভা কথা বলতে পারে না। মা মনে করেন, এ-তার
নিয়তির দোষ, কিন্তু বাবা তাকে ভালোবাসেন। আর কেউ তার সঙ্গে মেশে না, খেলে
না। কিন্তু তার বিশাল একটি আশ্রয়ের জগৎ আছে। যারা কথা বলতে পারে না সেই
পোষা প্রাণীদের কাছে সে মুখর। তাদের সে খুবই কাছের জন। আর বিপুল নির্বাক
প্রকৃতির কাছে সে পায় মুক্তির সনদ। ‘সুভা’ গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর
দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন। শিশুর এ ধরনের প্রতি সকলের মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি
প্রস্তুতে সহায়তা করে এ গল্প।
‘সুভা’ গল্পের লেখক পরিচিতি:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ সালে (৭ই মে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) কলকাতার
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ
ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। বাল্যকালেই তাঁর কবিপ্রতিভার
উন্মেষ ঘটে। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তাঁর বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয়। ১৯১৩ সালে
রবীন্দ্রনাথ ইংরেজি Gitanjali: Song Offerings সংকলনের জন্য এশীয়দের
মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। বস্তুত তাঁর একক সাধনায়
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সকল শাখায় দ্রুত উন্নতি লাভ করে এবং বিশ্বদরবারে
গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ,
সুরকার, নাট্য প্রযোজক ও অভিনেতা। কাব্য, ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক,
প্রবন্ধ, গান ইত্যাদি সাহিত্যের সকল শাখাই তাঁর অবদানে সমৃদ্ধ হয়েছে। তাঁর
অজস্র রচনার মধ্যে
মানসী, সোনার তরী, চিত্রা, কল্পনা, ক্ষণিকা, বলাকা, পুনশ্চ, চোখের বালি,
গোরা, ঘরে বাইরে, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, বিসর্জন, ডাকঘর, রক্তকরবী,
গল্পগুচ্ছ, বিচিত্র প্রবন্ধ
ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ সালে (৭ই আগস্ট ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ) কলকাতায় বিশ্বকবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
‘সুভা’ গল্পের কর্ম-অনুশীলন :
১. বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধীর সাহায্য-সহযোগিতার জন্য কী কী উদ্যোগ গ্রহণ
করা যায়? এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে শ্রেণিশিক্ষকের নিকট জমা দাও।
২. তোমার চারপাশের সমাজে সুভার মতো কারো জীবন-বাস্তবতা থাকলে তা নিজের
ভাষায় লেখো।
‘সুভা’ গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
‘সুভা’ গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
০১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
০২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ই মে জন্মগ্রহণ করেন।
০৩. বনফুল কাব্য প্রকাশিত হয় কত বছর বয়সে?
উত্তর: মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রকাশিত হয়।
০৪. রবীন্দ্রনাথ কত বঙ্গাব্দে মৃত্যবরণ করেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে মৃত্যবরণ করেন।
০৫. রবীন্দ্রনাথ কত সালে মৃত্যবরণ করেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ১৯৪১ সালে মৃত্যবরণ করেন।
০৬. রবীন্দ্রনাথের শেষের কবিতা কী?
উত্তর: শেষের কবিতা একটি উপন্যাস।
০৭. নোবেল প্রাপ্তিতে রবীন্দ্রনাথ এশীয়দের মধ্যে কততম?
উত্তর: নোবেল প্রাপ্তিতে রবীন্দ্রনাথ এশীয়দের মধ্যে প্রথম।
০৮. ‘বিচিত্র প্রবন্ধ’ কার লেখা?
উত্তর: ‘বিচিত্র প্রবন্ধ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।
০৯. মর্মবিদ্ধ হরিণী কার দিকে তাকায়?
উত্তর: মর্মবিদ্ধ হরিণী ব্যাধের দিকে তাকায়।
১০. অবসর সময়ে সুভা কোথায় গিয়ে বসত?
উত্তর: অবসর সময়ে সুভা নদীতীরে গিয়ে বসত।
১১. সুকেশীণী ও সুহাসিনী সুভার কী হয়?
উত্তর: সুকেশীনী ও সুহাসিনী সুভার বড়ো বোন হয়।
১২. সুভার নাম সুভাষিণী রেখেছিল কে?
উত্তর: সুভার নাম সুভাষিণী রেখেছিল তার বাবা বাণীকণ্ঠ।
১৩. পিতা-মাতার নীরব হৃদয়বারের মত বিরাজ করছিল কে?
উত্তর: পিতা-মাতার নীরব হৃদয়বারের মত বিরাজ করছিল সুভা।
১৪. সে আপনাকে দেখিতেছি, ভাবিতেছে, প্রশ্ন করিতেছে এবং বুঝিতে পারিতেছে না
এর কারণ কী?
উত্তর: নবযৌবনে পদার্পন করার কারণে সুভা আপনাকে দেখিতেছি, ভাবিতেছে, প্রশ্ন
করিতেছে এবং বুঝিতে পারিতেছে না।
১৫. সুভা ছোটোবেলা থেকেই কী বুঝে নিয়েছিল?
উত্তর: সুভা ছোটোবেলা থেকেই বুঝে নিয়েছিল যে সে পরিবারের বোঝা স্বরূপ।
১৬. সুভার বাবর নাম কী?
উত্তর: সুভার বাবর নাম বাণীকণ্ঠ।
১৭. সুভা নিজেকে বিধাতার কী বলে মনে করত?
উত্তর: সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ বলে মনে করত।
১৮. সুভাদের গোয়ালে কয়টি গাভী ছিল?
উত্তর: সুভাদের গোয়ালে দুইটি গাভী ছিল?
১৯. সুভা কেমন করে চলত?
উত্তর: সুভা সাধারণে দৃষ্টিপথ থেকে নিজেকে সর্বদা গোপন করে চলত।
২০. সর্বশী ও পাঙ্গুলি কীসের নাম?
উত্তর: সর্বশী ও পাঙ্গুলি সুভাদের দুইটি গাভীর নাম।
২১. উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার যে সঙ্গী ছিল তার নাম কী?
উত্তর: উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার যে সঙ্গী ছিল তার নাম প্রতাপ।
২২. কাজকর্মে অবসর পেলে সুভা কোথায় এসে বসে?
উত্তর: কাজকর্মে অবসর পেলে সুভা নদীতীরে এসে বসে।
২৩. গোঁসাইদের ছোটো ছেলের নাম কী?
উত্তর: গোঁসাইদের ছোটো ছেলের নাম প্রতাপ।
২৪. প্রতাপ সুভাকে সু বলে ডাকত কেন?
উত্তর: প্রতাপ সুভাকে সু বলে ডাকত আদর করে।
২৫. সুভা কার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করত?
উত্তর: সুভা প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করত।
২৬. সুভা কর্তৃক প্রতাপের জন্য কী বরাদ্দ ছিল?
উত্তর: সুভা কর্তৃক প্রতাপের জন্য নিজ হাতে বানানো একটি পান বরাদ্দ ছিল।
২৭. সুভা কল্পনায় গভীর নিস্তব্ধ পাতালপুরীর একমাত্র কী?
উত্তর: সুভা কল্পনায় গভীর নিস্তব্ধ পাতালপুরীর একমাত্র রাজকন্যা।
২৮. সুভার পরিবারের অথনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: সুভার পরিবারের অথনৈতিক অবস্থা সচ্ছল ছিল।
২৯. বাণীকণ্ঠ দুইবেলায় কী দিয়ে খাবার খেত সুভা গল্পে বলা হয়েছে?
উত্তর: বাণীকণ্ঠ দুইবেলায় মাছ ভাত দিয়ে খাবার খেত।
৩০. সুভা কখন বের হয়ে চিরপরিচিত নদীতটে লুটিয়ে পড়ল?
উত্তর: সুভা শুক্লাদ্বাশীর রাতে বের হয়ে তার চিরপরিচিত নদীতটে লুটিয়ে
পড়ল।
৩১. সুদীর্ঘ পল্লবিশিষ্টি বলতে সুভার কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সুদীর্ঘ পল্লব বিশিষ্টি বলতে সুভার বড় পাতা বিশিষ্ট চোখ কে বোঝানো
হয়েছে।
৩২. গর্ভের কলঙ্ক বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: গর্ভের কলঙ্ক বলতে সন্তান হিসাবে কলঙ্ককে বোঝানো হয়েছে।
৩৩. সুভা গল্পে কিশলয় বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: সুভা গল্পে কিশলয় বলতে গাছের নতুন পাতা বোঝানো হয়েছে।
৩৪. তর্জমা শর্ব্দের অর্থ কী?
উত্তর: তর্জমা শর্ব্দের অর্থ অনুবাদ।
৩৫. অনিমেষ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অনিমেষ শব্দের অর্থ পলকহীন।
৩৬. কোন কিছুর উপর আলো পড়লে যে প্রতিবিম্ব তৈরি হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: কোন কিছুর উপর আলো পড়লে যে প্রতিবিম্ব তৈরি হয় তাকে বলে ছায়লোক।
৩৭. বাঁখারি কীসের তৈরি?
উত্তর: বাঁখারি বাঁশের তৈরি।
৩৮. পূর্ণিমা কাকে বলে?
উত্তর: চাঁদের পরিপূর্ণ রূপ হওয়ার সময়কে পূর্ণিমা বলে।
৩৯. নেত্রপল্লব শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নেত্রপল্লব শব্দের অর্থ চোখের পাতা।
৪০. শুক্লাদ্বাদশী মানে কী?
উত্তর: শুক্লাদ্ধাদশী মানে শুক্লপক্ষের চাঁদের বারোতম দিন।
৪১. সুভা গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: সুভা গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ গ্রন্থ থেকে সংকলিত
হয়েছে।
৪২. সুভা গল্পের মাধ্যমে কোন স্বরূপ ফুটে উঠেছে?
উত্তর: সুভা গল্পের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের মনঃকষ্টের স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
৪৩. সুভা গল্পে সুভা কোন ধরণের প্রতিবন্ধী?
উত্তর: সুভা গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী।
৪৪. সুভার মা সুভার প্রতিবন্ধিকতাকে কী বলে মনে করেন?
উত্তর: সুভার মা সুভার প্রতিবন্ধিকতাকে নিয়তির দোষ ও নিজের গর্ভের কলঙ্ক
বলে মনে করেন।
৪৫. কাদের কাছে সুভা প্রখর?
উত্তর: সুভা প্রকৃতির কাছে খুব প্রিয় বা প্রখর।
৪৬. সুভা কোথায় তার আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে?
উত্তর: সুভা প্রকৃতির মাঝে তার আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে।
৪৭. সুভা গল্পের নাম সুভা রাখা হয়েছে কোন যুক্তিতে?
উত্তর: কেন্দ্রীয় চরিত্রের ভিত্তিতে সুভা গল্পের নাম সুভা রাখা হয়েছে।
৪৮. সুভা গল্পে সুভাষিণী নামটি সার্থক হয়নি কেন?
উত্তর: সুভা গল্পে সুভাষিণী নামটি সার্থক হয়নি কারণ সুভা নির্বাক বা কথা
বলতে পারে না।
৪৯. শিশুকাল থেকেই সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ ভেবেছে কেন?
উত্তর: সকলের দুশচিন্তা প্রকাশের জন্য শিশুকাল থেকেই সুভা নিজেকে বিধাতার
অভিশাপ বলে ভেবে নিয়েছে।
৫০. পিতা মাতার হৃদয়ে কে সর্বদা জাগরুক ছিল?
উত্তর: পিতা মাতার হৃদয়ে সুভা সর্বদা জাগরূক ছিল।
৫১. কে সুভাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন?
উত্তর: সুভার বাবা সুভাকে তার অন্য দুই মেয়ে অপেক্ষা সবচেয়ে বেশি
ভালোবাসতেন।
৫২. কথার ভাবানুবাদ সব সময় কী হয় না?
উত্তর: কথার ভাবানুবাদ সব সময় ঠিক হয় না।
৫৩. সুভার চোখের ভাষা কেমন?
উত্তর: সুভার চোখের ভাষা অসীম ও উদার।
৫৪. সুভা গল্পের কোন উক্তিতে সুভার মনের ভাব চোখের মর্মার্থ প্রকাশ
পেয়েছে?
উত্তর: সুভা গল্পের “যাহার ভাষা নেই তাহার চোখের ভাষা অসীম।” এই উক্তিতে
মাধ্যমে সুভার মনের ভাব চোখের ভাষার মর্মার্থ প্রকাশ পেয়েছে।
৫৫. মধ্যাহ্নে মাঝিরা কোথায় যেত?
উত্তর: মধ্যাহ্নে মাঝিরা খাবার খেতে যেত।
৫৬. সুভা নিয়মিত কয় বার গোয়াল ঘরে যেত?
উত্তর: সুভা নিয়মিত তিনবার গোয়াল ঘরে যেত।
৫৭. সুভার সঙ্গীদের মধ্যে কাকে ভাষা বিশিষ্ট জীব বলা হয়েছে?
উত্তর: সুভার সঙ্গীদের মধ্যে প্রতাপকে ভাষা বিশিষ্ট জীব বলা হয়েছে।
৫৮. প্রতাপের প্রধান শখ কী?
উত্তর: প্রতাপের প্রধান শখ ছিপ দিয়ে মাছ ধরা।
৫৯. সহজে সময় কাটানো যায় কোন কাজের মাধ্যমে?
উত্তর: সহজে সময় কাটানো যায় মাছ ধরার মাধ্যমে।
৬০. সুভা বিকালে কোথায় বসে থাকত?
উত্তর: সুভা বিকালে তেঁতুলতলায় বসে থাকত।
৬১. বাণীকণ্ঠ কেন চিন্তিত হয়ে উঠলেন?
উত্তর: সুভাকে নিয়ে লোক নিন্দার কারণে বাণীকণ্ঠ চিন্তিত হয়ে উঠলেন।
৬২. ডাগর চোখ মেলে সুভা কার মুখের দিকে চেয়ে থাকত?
উত্তর: ডাগর চোখ মেলে সুভা তার বাবা-মায়ের মুখের দিকে চেয়ে থাকত।
৬৩. বাণীকণ্ঠ ঘুম থেকে উঠে শোবার ঘরে কী খাচ্ছিল?
উত্তর: বাণীকণ্ঠ ঘুম থেকে উঠে শোবার ঘরে তামাক খাচ্ছিল।
৬৪. সবশেষে অসহায় সুভা কার কাছে আত্তসর্ম্পন করেছে?
উত্তর: সবশেষে অসহায় সুভা ধরণির কাছে আত্তসর্ম্পন করেছে।
৬৫. আমার মত দুইটি বাহু বাড়াইয়া তুমিও আমাকে ধরিয়া রাখ- সুভা কথাটি কাকে
বলেছে?
উত্তর: আমার মত দুইটি বাহু বাড়াইয়া তুমিও আমাকে ধরিয়া রাখ- সুভা কথাটি
প্রকৃতিকে বলেছে।
৬৬. কপোল শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: কপোল শব্দের অর্থ গাল।
৬৭. বিপুল প্রকৃতির কাছে সুভা কী পায়?
উত্তর: বিপুল প্রকৃতির কাছে সুভা মুক্তির আনন্দ পায়।
৬৮. মূক শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মূক শব্দের অর্থ বধির।
৬৯. সুভা মনে মনে কী হতে চাইত?
উত্তর সুভা মনে মনে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হতে চাইত।
৭০. সুভার গ্রামের নাম কী?
উত্তর.: সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
৭১. সুভার ওষ্ঠাধর ভাবের আসামাত্র কেমন করে কেঁপে উঠত?
উত্তর: সুভার ওষ্ঠাধর ভাবের আসামাত্র কচি কিশলয়ের মত কেঁপে উঠত।
৭২. প্রতাপ সুভার মর্যদা বুঝত কেন?
উত্তর: মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হওযায় প্রতাপ সুভার
মর্যাদা বুঝত। ৭৩. বিজন মহত্ব কী?
উত্তর: কোলাহল মুক্ত প্রকৃতির আর্কষন দিক হলো বিজন মহত্ব।
৭২. বাণীকণ্ঠের কান্নার কারণ কী?
উত্তর: পিতৃহৃদয়ের কাতরতা বাণীকণ্ঠের কান্নার কারণ।
৭৩. অকর্মণ্য লোকেরা সরকারী সম্পত্তি হবার কারণ কী?
উত্তর: অকর্মণ্য লোকেরা সরকারী সম্পত্তি হবার কারণ তাদের সহজে হাতের কাছে
পাওয়া যায়।
৭৪. কাদের মধ্যে সমভাষা ছিল না?
উত্তর: প্রতাপ ও সুভার মধ্যে সমভাষা ছিল না।
৭৫. বাণীকণ্ঠের বাড়ির যে দিকটি নৌকাবাহীদের আকর্ষন করত?
উত্তর: বাণীকণ্ঠের বাড়ির সৌন্দর্য ও সচ্ছলতার দিকটি নৌকাবাহীদের আকর্ষন
করত।
৭৬. সুভা নিজের বিয়ের সংবাদ প্রথম কার কাছ থেকে পেয়েছিল?
উত্তর: সুভা নিজের বিয়ের সংবাদ প্রথম প্রতাপের কাছ থেকে পেয়েছিল।
‘সুভা’ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :
১. সুভার মা সুভাকে কীরূপে দেখতেন? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: সুভার মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক বলে বিবেচনা করতেন।
➠ প্রত্যেক মাই পুত্রের চেয়ে মেয়েকে নিজের অংশ হিসেবে দেখে থাকেন। কন্যা
সন্তানের কোনো অসম্পূর্ণতা দেখলে সেটাকে বিশেষভাবে নিজের লজ্জার কারণ
বলেই মনে করেন। তাই সুভার মা নিজের গর্ভের কলঙ্ক বিবেচনা করে সুভার প্রতি
প্রচন্ড বিরক্ত ছিলেন।
২. ‘প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পুরণ করিয়া দেয়।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রকৃতির সাথে সুভার গভীর মিতালির বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে আলোচ্য
উক্তিতে।
➠ সুভা যখন নদীর তীরে এসে বসত তখন তার সামনে নদরি কলধ্বনি লোকের কোলাহল
মাঝির গান পাখির ডাক তরর মর্মর সমস্ত মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। প্রকৃতরি
এই বিবিধ শব্দ এবং বিচিত্র গতিও সুভার ভাষার মতোই নীরব অথ্চ বিশ্বব্যাপী
বিস্তৃত। এভাবেই সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দিত প্রকৃতি।
৩. সুভা কেন মনে মনে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত?
উত্তর: প্রতাপকে অভিভুত করার জন্য সুভা মনে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা
করত।
➠ সুভা মনে মনে প্রতাপকে ভালোবাসাত। তাই প্রতাপ যখন নদীর তীরে বসে মাছ
ধরত তখন সুভা তার পাশে বসে ভাবত সে যদি প্রতাপের কোনো কাজে বা সাহয্যে
আসতে পারত। কিন্তু তার কিছুই করার ছিল না। তাই সে বিধাতার কাছে অলৌকিক
ক্ষমতা প্রার্থনা করত- যেন হঠাৎ মন্ত্রবলে সে এমন একটা আশ্চর্য কাণ্ড
ঘটিয়ে দিতে পারে যা দেখে প্রতাপ অভিভত হয়। বস্তুত প্রতাপের মন হয় করার
জন্যই সুভা অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত।
৪. বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে সুভার মনের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে অজানা আশঙ্কায় সুভার মন আচ্ছন্ন ছিল।
➠ বিদেশ যাওয়ার সময় কুয়াশা ঢাকা প্রভাতের মতো সুভার সমস্ত হৃদয়
অশ্রবাষ্পে ভরে যায়। একটা অনিদির্ষ্ট আশঙ্কায় সে কিছুদিন থেকেই ক্রমাগত
নির্বাক জন্তুর মতো তার বাবা মায়ের সঙ্গে সঙ্গেই থাকত। ভাগর চক্ষু মেলে
তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করত। কিন্তু তারা তাকে
কিছুই বুঝিয়ে বলত না। ফলে একটা ধোয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সুভার মন
সর্বদা ঘুরপাক খেত।
৫. দেখিস আমাদের ভুলিস নে। প্রতাপ কেন বলেছিল?
উত্তর: বিয়ে হয়ে গেলে সুভা যেন তাকে না ভুলে যায় প্রতাপ ঠাট্টাচ্ছলে সে
কথাটিই বলেছিল।
➠ একদিন বিকেলে নদীর তীরে বসে মাছ ধরার সময় প্রতাপ সুভার উদ্দেশ্যে
প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি করেছিল। সুভার বিয়ের খবর শুনে প্রতাপ হেসে হেসে
সুভাকে বলেছিল বিয়ে পর সুভা যেন সবাইকে ভুলে না যায়। বস্তুত প্রতাপ এ
উক্তির মধ্যে দিয়ে সুভাকে বোঝানো চেয়েছে সে সুভার শুভাকাঙ্গী।
৬. সুভাকে সুভার মা বিধাতার অভিশাপ মনে করে কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কথা বলতে পারত না বলে সুভাকে তার মা বিধাতার অভিশাপ মনে করেন।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভা জন্ম থেকেই বোবা। তার অনুভব ও অনুভূতি থাকলেও মা
তাকে মেনে নিতে পারেনি। সে সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করত। কারণ মায়েরা
কন্যা-সন্তানকে নিজেদের অংশ মনে করে। ফলে মেয়ের কোনো সমস্যা বা ত্রুটিকে
মায়েরা তাদের নিজেদের ত্রুটি বলে ধরে নেয়। সুভার মায়ের ক্ষেত্রেও তাই
ঘটেছে। সুভা কথা বলতে পারত না বলে সুভার মা তাকে বিধাতার অভিশাপ বলে মনে
করত। সে নিজের ত্রুটির কথা স্মরণ করে সুভাকে দেখলে বিরক্তি বোধ করত।
৭. মা সুভাষিণীকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন কেন?
উত্তর: একজন মা ছেলে অপেক্ষা মেয়েকে নিজের অংশরূপে দেখেন বলে মা
সুভাষিণীকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। এ
জন্য তার মা তাকে নিজের একটি ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন। কারণ সমাজে প্রচলিত
ধারণা অনুযায়ী একজন মা ছেলে অপেক্ষা তার মেয়েকে নিজের অংশরূপে দেখেন। এ
জন্য মেয়ের কোনো অসম্পূর্ণতা দেখলে মা সেটিকে নিজের লজ্জার কারণ বলে মনে
করেন।
৮. ‘সুভা’ গল্পে ‘গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো
হয়েছে?
উত্তর: ‘সুভা’ গল্পে ‘গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী’ কথাটি দ্বারা চণ্ডীপুর
গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ছোট নদীকে বোঝানো হয়েছে।
➠ সুভাদের গ্রামের নাম চণ্ডীপুর। এই গ্রামের পাশ দিয়ে ছোট নদীটি বয়ে গেছে
গৃহস্বঘরের মেয়েটির মতো। নিরলসভাবে তার ছুটে চলা। দুই তীরে অবস্থিত দুই
গ্রামের সবার সঙ্গেই যেন নদীটির ভাব বা সম্পর্ক রয়েছে। তার জল গ্রামের
সবার জন্য প্রয়োজন। দুই ধারে লোকালয় এবং তরুচ্ছায়াঘন তীর, নিচ দিয়ে যেন
গ্রামলক্ষ্মী স্রোতস্বিনী দ্রুত পায়ে নানা মঙ্গল কাজ করে চলেছে।
৯. সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত কেন? ব্যাখ্যা
কর।
উত্তর: সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত তার নিজের
প্রয়োজনীয়তা প্রতাপকে বোঝানোর জন্য।
➠ প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভা তার কাজে সাহায্য
করতে চাইত। সে কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে চাইত যে এই পৃথিবীতে সেও একজন
প্রয়োজনীয় লোক। অথচ সুভা সেসব কিছুই করতে পারত না। আর এই কারণেই সে
বিধাতার কাছে প্রার্থনা করত- যাতে অলৌকিক ক্ষমতাবলে কোনো একটি কাজ করে সে
প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
১০. “তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা”- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: নিজের চিরচেনা জগৎকে আঁকড়ে ধরে সুভা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
➠ বাকপ্রতিবন্ধী শুভাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পিতা তাকে কলকাতায় নিয়ে
যেতে চায়। কলকাতা যাওয়ার আগের দিন সুভা তার চিরপরিচিত জগৎ নদীতীরে এসে
লুটিয়ে পড়ে। দুই বাহু প্রসারিত করে সে যেন ধরণিকে আঁকড়ে ধরতে চায়। কারণ
সে তার এই চিরচেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায় না। সে চায়
ধরণিও তাকে যেন জড়িয়ে ধরে রাখে। তাকে যেন যেতে না দেয়। প্রশ্নোক্ত
উক্তিটির মধ্য দিয়ে সুভার এই মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে।
১১. সুভা পিতামাতার মনে সর্বদাই জাগরুক ছিল কেন? বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: জন্ম থেকে কথা বলতে না পারার কারণে সুভা পিতা-মাতার মনে সর্বদাই
জাগরুক ছিল।
➠ ‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা। সে জন্মগতভাবেই বোবা। সে বিধাতার
অভিশাপরূপে জন্মেছে বলে নিজেকে আড়াল করে রাখত এবং কষ্ট পেত। তার মা তাকে
নিজের গর্ভের কলঙ্ক বলে মনে করত। সুভার কথা বলতে না পারার বেদনা তার
বাবা-মা কখনই ভুলতে পারত না। তাই সুভা সর্বদাই পিতা-মাতার মনে জাগরূক
ছিল।
১২. “বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির বিজন মহত্ত্ব আছে।”- ‘সুভা’
গল্পের লেখকের এই কর। মতো একটা উক্তিটি ব্যাখ্যা।
উত্তর: “বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব
আছে।”- ‘সুভা’ গল্পের লেখকের এই উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা বাম্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না।
ফলে সুভার বয়সী ছেলে-মেয়েরা তার সঙ্গে মেশে না। তাই সে নিজেকে পরিবার ও
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সে প্রকৃতির কাছে নিজেকে মেলে
ধরে। নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে
প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সুভা যখন নদীর পাড়ে এসে বসে তখন
প্রকৃতির নানা উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা দিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার
হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন সুভার চোখের ভাষা ছিল
অসীম, উদার ও অতলস্পর্শ- অনেকটা গভীর স্বচ্ছ আকাশের মতো, উদয়াস্ত এবং
ছায়ালোকের নিস্তব্ধ রঙ্গভূমি। সেই চোখের ভাষা তার বয়সী ছেলেমেয়েরা বুঝতে
পারত না। এই কারণেই লেখক' প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
১৩. সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল কেন? বুঝিয়ে গেল।
উত্তর: কলকাতায় যাওয়ার আয়োজন শুরু হওয়ায় সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে
ভরে গেল।
➠ কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা মেয়ের কথা চিন্তা করে বিদেশ যান। ফিরে এসে
স্ত্রীকে সপরিবারে কলকাতায় যাওয়ার কথা বলেন। কথা বলতে না পারলেও সুভা
বুঝতে পারে তার পিতা পরিচিত পরিবেশ থেকে তাকে কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে। একটা
অনিদিষ্ট আশঙ্কায় সে সবসময় বাবা-মায়ের সাথে সাথে থাকতে শুরু করে। নিজের
চিরচেনা পরিবেশ ও বন্ধুদের ছেড়ে নতুন জায়গায় যেতে হবে ভেবে কুয়াশা ঢাকা
প্রভাতের মতো সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে যায়।
১৪. প্রতাপকে নিতান্ত অকর্মণ্য লোক কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: জীবনের প্রতি উদাসীন আচরণের কারণে প্রতাপকে অকর্মণ্য লোক বলা
হয়েছে।
➠ প্রতাপকে তার বাবা-মা সংসারের দায়দায়িত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল করার চেষ্টা
করেছেন। কিন্তু তাতে কোনো ভালো ফলাফল পাওয়া যায়নি। বরং প্রতাপ চলেছে তার
নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী। সে ছিপ ফেলে মাছ ধরে। গ্রামের অন্যদের কাজকর্ম করে
দিতে তার আগ্রহ ও আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। সে অন্যের প্রয়োজন মেটাতে
অত্যন্ত উদার ও সচেতন। সেই দিক থেকে সে গ্রামের সবার উপযোগী সরকারি
সম্পত্তির মতো। শুধু নিজ সংসার ও বাড়ির দায়িত্বের প্রতিই সে উদাসীন। এ
কারণেই ‘সুভা’ গল্পে প্রতাপকে নিতান্ত অকর্মণ্য লোক বলা হয়েছে।
১৫. ‘মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেয়’- বাক্যটির মানে
কী?
উত্তর: ‘মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেয়’- বাক্যটির মানে
হচ্ছে- শব্দ শুনলে মাছ চলে যায় বলে শব্দ করে না এমন নীরব সঙ্গী সবচেয়ে
ভালো।
➠ নিশ্চুপ পরিবেশে ছিপ ফেলে মাছ ধরার সুবিধার কথা ভেবে প্রতাপ মাছ ধরার
সময় বাক্যহীন সঙ্গী কামনা করেছে। কারণ মাছ ধরার সময় শব্দ শুনতে পেলে মাছ
এক জায়গায় একত্র না হয়ে অন্যত্র চলে যায়। এতে ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে অসুবিধা
হয়। সুভা কথা বলতে পারে না। সে প্রায়ই কোনো না কোনো কাজে নদীর তীরে যেত।
সেখানে সুভার সঙ্গে প্রতাপের দেখা হতো। মাছ ধরার সময় সুভা কাছাকাছি
থাকলেও প্রতাপের ছিপ ফেলে মাছ ধরতে কোনো অসুবধিা হতো না। প্রতাপেরও
নিজেকে একা মনে হতো না। এ কারণেই সে মাছ ধরার সময় সুভার মতো বাক্যহীন
সঙ্গী কামনা করেছে।
১৬. প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ-এজন্যই প্রতাপ
সুভার মর্যাদা বুঝত।
➠ ‘সুভা’ গল্পে প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছেলে। তার বাবা-মায়ের পক্ষে অনেক
চেষ্টা করেও তাকে দিয়ে সংসারের কোনো কাজ করানো সম্ভব হয়নি। মা-বাবা
প্রতাপকে নিয়ে সব প্রত্যাশা বাদ দিয়েছিল। প্রতাপ অবহেলায় সময় কাটানোর
জন্য অপরাহে নদীতীরে ছিপ ফেলে মাছ ধরত। বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় নীরব
পরিবেশের প্রয়োজন। কারণ পরিবেশ কোলাহলপূর্ণ হলে ভয় পেয়ে মাছ অন্য কোথাও
চলে যায়। এজন্য প্রতাপ চুপচাপ থাকে এমন কাউকে সঙ্গী হিসেবে পছন্দ করত।
কারণ মাছ ধরার সময় একজন নীরব সঙ্গী থাকলে তার সময়টা ভালো কাটত। তাই
বাক্যহীন সঙ্গী সুভার মর্যাদা সে বুঝত।
১৭. ‘সে ভাষাবিশিষ্ট জীব’ কার সম্পর্কে কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
উত্তর: “সে ভাষাবিশিষ্ট জীব”- কথাটি সুভার সঙ্গী প্রতাপ সম্পর্কে বলা
হয়েছে। সুভার গুটিকয়েক সঙ্গীর মধ্যে প্রতাপই একমাত্র কথা বলতে পারে, সেই
প্রসঙ্গে লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
➠ সুভা কথা বলতে পারে না। পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সে নিজেকে দূরে
সরিয়ে নেয়। বাড়ির দুটি গাভী, বিড়াল, গাছপালা ও নদীর সঙ্গে সে সখ্য গড়ে
তোলে। এরাও সুভার মতো ভাষাহীন। এই ভাষাহীনদের বাইরে সুভার আরেকজন সঙ্গী
আছে। লেখকের মতে সে উন্নত শ্রেণির জীব, সে ভাষাবিশিষ্ট প্রাণী। তার নাম
প্রতাপ, গোঁসাইদের ছোট ছেলে। তার পরিচয় দিতে গিয়েই লেখক প্রশ্নোক্ত
উক্তিটি করেছেন।
১৮. প্রতাপের প্রতি তার বাবা-মায়ের নিরাশ হওয়ার কারণ কী?
উত্তর: প্রতাপের প্রতি তার বাবা-মায়ের নিরাশ হওয়ার কারণ হলো- প্রতাপ
সংসারের কাজের প্রতি যত্নবান বা মনোযোগী নয়, বরং সে বড় বেশি উদাসীন।
➠ প্রতাপকে তার বাবা-মা সংসারের দায়িত্ব বারবার দিয়ে দেখে যে, সে কোনো
কাজ করতে চায় না, কাজের প্রতি তার কোনো আগ্রহই নেই। নিতান্ত অকর্মণ্য হয়ে
হয়ে ঘুরে বেড়ানোতেই প্রতাপের বেশি আনন্দ। সে সারাদিন এদিক ওদিক ঘুরে
বেড়ায়। আর বিকেলে নদীর পাড়ে ছিপ ফেলে মাছ ধরে সময় ব্যয় করে। নিজের কাজের
প্রতি তার উৎসাহ নেই। তবে অন্যের কাজের প্রতি তার উৎসাহ ছিল। মূলত
প্রতাপের বাবা-মা অনেক চেষ্টা করেও প্রতাপকে ঘর-সংসারের কাজে মনোযোগী
করতে পারেননি বলেই তার প্রতি তারা নিরাশ হয়েছেন।
১৯. সুভার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না কেন?
উত্তর: সুভার মনের ভাব তার চোখে ফুটে ওঠে, তাই তার কালো চোখকে তর্জমা
করতে হয় না।
➠ আমরা কথার মধ্য দিয়ে যে ভাষা প্রকাশ করি তা আমাদের নিজের চেষ্টায় গড়ে
নিতে হয়। ঠিক কোনোকিছু তর্জমা করার মতো, যা সবসময় ঠিক হয় না। সুভার বড় বড়
কালো চোখের যে ভাষা, যে উজ্জ্বলতা তাতে অবর্ণনীয় ভাবের প্রকাশ রয়েছে। যার
দিকে তাকালে আর কোনো তর্জমা করার দরকার হয় না। তার চোখ দুটোই কথা বলে।
সুভার মনের ভাব তার চোখের উপরে কখনো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠত, আবার কখনো
ম্লানভাবে নিভে আসত। কখনো চঞ্চল বিদ্যুতের মতো, আবার কখনো ডুবে যাওয়া
চাঁদের মতো হয়ে তার মনের ভাব প্রকাশ করত। সুভার মুখের ভাষা না থাকলেও
দৃষ্টির গভীরতা স্পর্শ করা যায়। তাই সুভার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না।
২০. সুভা মনে মনে কী কল্পনা করত?
উত্তর: মনে মনে জলকুমারী হওয়ার কথা কল্পনা করত।
➠সুভা সুভা কল্পনা করত সে যদি জলপরী হতো, তাহলে জল থেকে উঠে সাপের একটা
মণি ঘাটে রেখে আসত। প্রতাপ তার তুচ্ছ মাছ ধরা ছেড়ে সাপের মাথার সেই মণি
নিয়ে জলে ডুব দিত। তারপর পাতালে গিয়ে দেখত রূপার অট্টালিকার সোনার
পালঙ্কে সুভা বসে আছে। সে পাতালপুরীর একমাত্র রাজকন্যা। সে পাতালপুরীর
রাজকন্যা না হয়ে ভুল করে বাণীকণ্ঠর! পরিবারে জন্ম নিয়েছে। সে মনে মনে এসব
বিষয় কল্পনা করত। লোকেরও সে পাতালপুরীর রাজকন্যা না।
২১. “দস্তুরমতো অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া গেছে”-
এখানে ‘অর্থব্যয়’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘দস্তুরমতো অনুসন্ধান ও অর্থব্যয়ে বড়ো দুটি মেয়ের বিবাহ হইয়া
গেছে’- এখানে ‘অর্থব্যয়’ বলতে পণের টাকার পরিমাণকে বোঝানো হয়েছে।
➠ সেকালে হিন্দু সমাজে পণপ্রথা প্রচলিত ছিল। কন্যাকে পাত্রস্থ করতে হলে
পণ দিতে হতো। এ পণের অঙ্ক সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করত। সামাজিক
অবস্থানের তারতম্যে কন্যাপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের দূরত্ব যত বেশি হতো, পণের
পরিমাণ তত বেশি হতো। আর দূরত্ব যত কম হতো, পণের অঙ্কও তত কম হতো। এ ছাড়া
বর আর কনের সৌন্দর্য বিচারের ওপরও বিষয়টি নির্ভর করত। কনে যদি বেঁটে বা
খাটো হতো, তবে পণ বেশি দিতে হতো। আর মেয়ে বরের তুলনায় সুন্দরী হলে পণের
পরিমাণ কম হলেও চলত। আলোচ্য লাইনে 'অর্থব্যয়' দ্বারা এই বিষয়টিই বোঝানো
হয়েছে।
২২. ‘তখন কে জানিত সে বোবা হইবে’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সুভার বোবা হওয়া সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভা একটি বোবা মেয়ে। তিন বোনের মধ্যে সে ছোট। তার বড়
দুই বোন সুকেশিনী ও সুহাসিনী কথা বলতে পারে। তাই দুই বোনের নামের সাথে
মিল রেখে তার নাম রাখা হয় সুভাষিণী। সুভাষিণী অর্থ 'যার কথা সুন্দর'।
সুভাষিণীর যখন জন্ম হয় তখন কেউ জানত না যে সে কথা বলতে পারবে না। আর যে
কথা বলতে পারে না, তার নাম সুভাষিণী এই বিষয়টি অনেকটা দুঃখজনক। তাই এখানে
লেখক মেয়েটির শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সাথে তার নামের বৈপরীত্য প্রকাশ করতে
এমন কথা বলেছেন।
২৩. সুভা কেন বাবা-মায়ের হৃদয়ভারের কারণ হয়েছিল?
উত্তর: সুভা বোবা হওয়ার কারণে বাবা-মায়ের হৃদয়ভারের কারণ হয়েছিল।
➠ সুভার বড় দুই বোন সুস্থ ও স্বাভাবিক। তাই তাদেরকে বিয়ে দিতে তার
বাবা-মাকে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। অনেক টাকা-1 পয়সা খরচ করে এবং ধুমধাম
করে তিনি তাদের বিয়ে দেন। আর সুভা বোবা হওয়ার কারণে তার বাবা দুশ্চিন্তায়
পড়ে যান। কারণ বোবা মেয়েকে বিয়ে দেওয়াটা অন্য দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার মতো
সহজ কাজ নয়। তাই সুভার বাবা-মা প্রতিনিয়ত এই বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন
এবং সুভার অস্তিত্ব যেন তাদের নীরব হৃদয়ভারের মতো হয়ে অবস্থান করে।
২৪. সুভা শিশুকাল থেকেই কী বুঝে নিয়েছিল?
উত্তর: সুভা যে বিধাতার অভিশাপম্বরূপ পিতার ঘরে জন্ম নিয়েছে। সে তা
শিশুকাল থেকেই বুঝে নিয়েছিল।
➠ সুভা জন্ম থেকেই বোবা। মুখে কথা বলতে না পারলেও তার মাঝে অনুভূতি ছিল।
সে তার চারপাশের সবকিছুই অনুভব করত এবং বুঝতে পারত। ছোটবেলা থেকেই তার
ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যেসব কথাবার্তা হতো সেগুলো থেকেই সে বুঝে নিয়েছিল যে,
সে বিধাতার কাছ থেকে আশীর্বাদ নিয়ে জন্মায়নি। পরিবারের লোকজনের আলোচনার
মধ্য থেকেই বুঝে নিয়েছিল যে, সে তার বাবার ঘরে বিধাতার অভিশাপম্বরূপ জন্ম
নিয়েছে।
২৫. নদীকে গৃহস্থ ঘরের মেয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন?
উত্তর: নদীকে গৃহস্থ ঘরের মেয়ের সাথে তুলনা করার কারণ হলো- গৃহস্থ ঘরের
মেয়ে নিপুণা কিন্তু তার বিস্তার সংসারের ছোট গণ্ডির মধ্যে। নদীটিও
তেমনই।
➠ গৃহস্থ ঘরের মেয়েরা সাধারণত কর্মে পটু হয়। স্বভাব হয় শান্ত। সংসারের
প্রতি তাদের আকর্ষণ চিরন্তন। আবার মমত্বে তারা মায়ের মতো, স্বল্পভাষী,
চাহনিতে সৌম্য ভাব আর নিরলস পরিশ্রমী। তার বিস্তার সংসারের ছোট্ট গণ্ডির
মধ্যে, বেশি দূর পর্যন্ত নয়। নদীটিও তেমনি সরু ও দীর্ঘ। মানুষের ক্ষতি
করে না, কারণ বুকে ঢেউয়ের প্রাবল্য নেই। দুপাশের মানুষের প্রয়োজন ও
তৃষ্ণা দুই-ই মেটায়। দুই তীরের গাছপালাকে রসসিক্ত করে প্রাণবন্ত করে
তোলে। তার প্রসারতাও বেশি নয়। এই কারণেই নদীকে গৃহস্থ ঘরের মেয়ের সাথে
তুলনা করা হয়েছে।
২৬. সুভার প্রতি তার মায়ের আচরণ কেমন ছিল?
উত্তর: সুভার প্রতি তার মায়ের আচরণ ছিল বিরক্তিপূর্ণ।
➠ মায়েরা কন্যাসন্তানকে নিজেদের অংশ মনে করে। মেয়েদের কোনো অঙ্গ যদি
ত্রুটিপূর্ণ থাকে তাহলে মায়েরা তা নিজেদের ত্রুটি হিসেবে ধরে নেয়। ‘সুভা’
গল্পে সুভা জন্ম থেকে বোবা ছিল। তাই মা সুভার প্রতি বিরক্ত ছিলেন। এই
ত্রুটিকে সুভার মা নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সুভাকে দেখলে সুভার মা
নিজের ত্রুটির কথা স্মরণ করতেন বলে তিনি সুভার ওপরে বিরক্ত ছিলেন।
২৭. প্রকৃতি কীভাবে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করেছিল?
উত্তর: প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দ ও কোলাহল দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব
পূরণ করেছিল।
➠নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে প্রকৃতি
সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সে সময় পেলেই নদীর পাড়ে এসে বসত। তখন
প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা নিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার
হৃদয়ে আঁছড়ে পড়ত। এই ভাষার বিস্তার যেন বিশ্বব্যাপী। এভাবেই প্রকৃতি
বিভিন্ন শব্দের মধ্য দিয়ে সভার ভাষার অভাব পরণ করেছিল।
২৮. সুভার সাথে গাভী দুটির সম্পর্ক কেমন ছিল?
উত্তর: সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিল গাভী দুটি।
➠ সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু গাভী দুটি হলো সবশী ও পাঙ্গুলি। এদের সাথে সুভার
অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক ছিল। সুভা কখন এদের আদর করত এবং কখন ভর্ৎসনা করত-
এরা সব বুঝত। সুভা নিয়মিত রূণ তিনবার গোয়ালঘরে গিয়ে এদের খোঁজ নিত। এমনকি
সুভার মনের ভাষা, মর্মবেদনা এরা বুঝতে পারত। সুভার বাহুতে শিং ঘষে সুভাকে
এরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করত। সুভার কথাহীন করুণ সুর এরা ভালো করে
চিনত। সুভাকে এরা বন্ধুই মনে করত।
২৯. বিড়ালটি সুভার কাছে গিয়ে কী করত?
উত্তর: বিড়ালটি সুভার কাছে গিয়ে আদর নিত।
➠ সুভার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে অন্যতম একটি প্রাণী বিড়াল। সুভা বসে থাকলে
বিড়ালটি যখন তখন নিঃসংকোচে- এসে তার গরম। কোলে বসে সুখনিদ্রার আয়োজন করত।
সুভা গলায় ও পিঠে হাত! বুলিয়ে দিলে বিড়ালটির ঘুমিয়ে পড়ত।
৩০. প্রতাপ কেমন ছিল?
উত্তর: প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছিল।
➠ গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ অকর্মণ্য বলে বাবা-মা তার ওপর থেকে সব রকম
আশা ত্যাগ করেছিল। সে তার সংসারের কোনো কাজে না লাগলেও অন্য সবার সব কাজে
লাগত। সে ছিপ ফেলে মাছ ধরতে পছন্দ করত। গ্রামে দু-চারটে অকর্মণ্য লোক
থাকেই যারা সব সময় অন্যের উপকারে লাগে, প্রতাপ ছিল তেমনই একজন পরোপকারী
ব্যক্তি।
৩১. সুভা ও প্রতাপের সম্পর্ক কেমন ছিল?
উত্তর: সুভা ছিল প্রতাপের মাছ ধরার সঙ্গী। তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল।
➠ প্রতাপ ছিপ ফেলে মাছ ধরতে খুব পছন্দ করত। তেঁতুলতলায় সুভা বসে থাকত এবং
প্রতাপ কিছু দূরে ছিপ ফেলে পানির দিকে তাকিয়ে থাকত। প্রতাপের জন্য সুভা
একটি করে পান বানিয়ে নিয়ে যেত। সুভা খুব চেষ্টা করত প্রতাপকে কোনো একটা
কাজে সাহায্য করার জন্য, যেন সে বুঝতে পারে যে সুভাও কারও কাজে লাগতে
পারে। প্রতাপ মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকলে সুভা মনে মনে অলৌকিক কোনো ক্ষমতা আশা
করত, যেন সে তা দেখে অবাক হয়। সুভার সাথে প্রতাপের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
ছিল।
৩২. পূর্ণিমার রাতে সুভা কী করেছিল?
উত্তর: পূর্ণিমার রাতে সুভা নিজেকে চেনার চেষ্টা করেছিল।
➠ পূর্ণিমার রাতে একবার সুভা দরজা খুলে ভয়ে ভয়ে মুখ বের করে দিয়ে
পূর্ণিমা দেখছিল। তার কাছে মনে হয়েছিল এই পূর্ণিমা রাতও যেন তার মতো একা
এবং নির্বাক। সে নিজের অস্তিত্ব এবং নিজের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে অনুভূতি লাভ
করে। অনেক কিছু বুঝতে চায়, কথা বলতে চায়, পারে না। চারদিকের সমস্ত
নির্জনতা যেন তাকে ছাপিয়ে ওঠে। আর এই নিস্তব্ধ প্রকৃতির মধ্যে একটি মেয়ে
একা দাঁড়িয়ে থাকে, সুভা সেই বিষয়টিও অনুভব করে।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দুই সন্তানের পর কন্যা সন্তান পলাশ বাবুর পরিবারে আনন্দের বন্যা নিয়ে
এলো। নাম রাখা হলো ‘কল্যাণী’। সকলের চোখের মণি কল্যাণী বেড়ে ওঠার সাথে
সাথে পলাশ বাবু বুঝতে পারলেন বয়সের তুলনায় কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঘটে নি।
কিছু বললে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে। কল্যাণীর বিয়ের কথাবার্তা চলছে।
পলাশ বাবু কল্যাণীর সবই বরপক্ষকে খুলে বললেন। সব শুনে বরের বাবা সুবোধ
বাবু বললেন, ‘পলাশ বাবু কল্যাণীর মতো আমার ছেলেও তো হতে পারত, কাজেই
কল্যাণী মাকে ঘরে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
ক. সুভার গ্রামের নাম কী?
খ. ‘পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার’ কথাটি দ্বারা লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার যে বিশেষ দিকটির
সঙ্গতি দেখানো হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি
ভিন্ন বিশ্লেষণ করো।
ক সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
খ. ‘পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার’ কথাটির মধ্য দিয়ে বাক প্রতিবন্ধী সুভার
বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ে যে নীরব
কষ্টের সৃষ্টি হয় লেখক সে কষ্টের কথা বুঝিয়েছেন।
➠ সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই
মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় বড় দুই মেয়ের মতো
সুভার বিয়ে দিতে পারেননি। সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ ও তার স্ত্রী
উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্টের
সৃষ্টি হয়। লেখক কষ্টকেই বলেছেন পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
গ. উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক
প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।
➠ শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে মানুষ আমাদের সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে
সমাজের মানুষের হীনম্মন্যতার পরিচয় প্রকাশ পায়। আমাদের সবারই
প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হতে হবে। তবেই তারা বিকশিত হবে ও
সুন্দরভাবে বাস করতে পারবে সমাজে। ‘সুভা’ গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না।
তার জন্ম বাবা-মায়ের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও কথা না বলতে পারার
বিষয়টি কিছুটা নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়।
➠ উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারের আনন্দের বন্যা নিয়ে আসে। কিন্তু তার
মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। উদ্দীপকের কল্যাণীর
মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। ‘সুভা’ গল্পের সুভাও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায়
তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্দীপকের বক্তব্যে
কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটির মিল দেখানো হয়েছে।
ঘ. কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি
ভিন্ন মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষেরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার
সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ। তারা আমাদের মতোই মানুষ। তাদের
কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি ও মমত্ববোধে
তারা পাবে জীবনের পূর্ণতা।
➠ উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তার সময়
কল্যাণীর বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে
উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে
ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পের সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। সে কথা
বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা
পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি
বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।
➠ উদ্দীপকের কল্যাণী ও ‘সুভা’ গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও
উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে
সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। কিন্তু ‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিণতি এতটা
মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দুই ছেলের পর অনেক সাধ, ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার ফলস্বরূপ ঘর আলোকিত করে আসে
সাদিয়া। কিন্তু জন্ম থেকেই সাদিয়া কথা বলতে পারে না। সাদিয়ার মা মনে করে
এ তার মন্দ ভাগ্যের ফসল। তবে এ বিষয়ে সাদিয়ার বাবার মনোভাব মায়ের
মনোভাবের বিপরীত। সাদিয়া উপলব্ধি করে সে অন্যদের থেকে আলাদা। এই ধারণা
থেকে সাদিয়া বিপুল প্রকৃতি আর প্রাণিকুলের সাথে সখ্য গড়ে তোলে।
ক. পিতামাতার মনে সর্বদাই জাগরুক ছিল কে?
খ. সুভা কলকাতায় যেতে চায় না কেন?
গ. উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “উদ্দীপকের সাদিয়া ‘সুভা’ গল্পের সুভার যথার্থ প্রতিনিধি।”- উক্তিটির
যথার্থতা বিচার করো।
ক. পিতামাতার মনে সর্বদাই জাগরুক ছিল সুভা।
খ. পরিচিত পরিবেশের মায়া ছেড়ে সুভা কলকাতায় যেতে চায় না।
➠ বাক্প্রতিবন্ধী সুভা তার চারপাশের পরিবেশকে আপন করে নিয়েছে। বস্তুত,
সুভার ভাষাহীন জগতে পরিচিত পরিবেশ আর অবারিত প্রকৃতিই তার একান্ত আশ্রয়।
কথা বলতে না পারায় সুভার তেমন বন্ধুবান্ধব না থাকলেও গুটিকতক অবলা প্রাণী
আর গোঁসাইদের অকর্মণ্য ছেলে প্রতাপই তার সঙ্গী। তাদের ছেড়ে কলকাতার
অনিশ্চয়তা ভরা জীবনে সে পা দিতে চায় না। তাই সুভা কলকাতায় যেতে চায় না।
গ. সুভাকে নিয়ে তার বাবা মায়ের ধারণা এবং প্রকৃতির সাথে সুভার নিজেকে
মানিয়ে নেওয়ার দিকটি উদ্দীপকের বিষয়বস্তুতে দৃশ্যমান।
➠ ‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বাকপ্রতিবন্ধী সুভা। ফলে বাড়ির সবাই
তাকে নিয়ে তারই সামনে দুশ্চিন্তা করে। বিশেষ করে সুভার মা সুভাকে নিজের
একটা ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন। এমনকি তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করে
বিরক্ত হতেন। এসব বিষয় উপলব্ধি করতে পেরে সুভা নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে
সরিয়ে রাখে এবং প্রকৃতি ও প্রাণীদের সাথে সখ্য গড়ে তোলে।
➠ উদ্দীপকের সাদিয়া জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তার মা তাকে
নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন। সাদিয়ার বাবা এর বিপরীত হলেও সাদিয়ার মায়ের মনোভাব
সাদিয়া উপলব্ধি করে ব্যথিত হয়। এতে সাদিয়া নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে
করে প্রকৃতি আর প্রাণীর সাথে সখ্য গড়ে তোলে। উদ্দীপকের সাদিয়া যে
পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, ‘সুভা’ গল্পের সুভাও ঠিক একই পরিস্থিতির শিকার।
তাই উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার এই পরিস্থিতির দিকটির প্রতি ইঙ্গিত
করে।
ঘ. উদ্দীপকের সাদিয়া এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভা পরিবারের কাছে একইভাবে
চিহ্নিত হওয়ায় তারা একে অন্যের প্রতিনিধি।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে
দাঁড়ায়। সকলেই তার সামনে তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে। সুভার মা তাকে
গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে দেখেন এবং নিজেকেই এর জন্য দায়ী মনে করেন। সুভা এসব
বিষয় উপলব্ধি করতে পেরে নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে এবং তার
ভাবশক্তির দ্বারা প্রকৃতি ও প্রাণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
➠ উদ্দীপকের সাদিয়া বাকপ্রতিবন্ধী। এজন্য সাদিয়ার মা নিজের ভাগ্যকে
দোষারোপ করেন। বাবা এর বিপরীত মনোভাব দেখালেও সাদিয়া উপলব্ধি করতে পারে
যে, সে অন্যদের থেকে আলাদা। এই ধারণা থেকে সাদিয়া প্রকৃতি ও প্রাণীদের
সাথে সখ্য গড়ে তোলে।
➠ উদ্দীপকের সাদিয়া এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভা উভয়ই বাকপ্রতিবন্ধী। ঘটনার
বর্ণনায় ভিন্নতা থাকলেও পরিবারের কাছে উভয়ই অবহেলিত হয়েছে। আবার উভয়কেই
দেখা যায় উপলব্ধি শক্তির মাধ্যমে পারিপার্শ্বিক অবস্থা অনুভব করে প্রকৃতি
ও প্রাণীকে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করতে। এসব কারণে বলা যায়, “উদ্দীপকের
সাদিয়াই ‘সুভা’ গল্পের সুভার প্রতিনিধি”- উক্তিটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মা-মরা মেয়ে মিনু। বাবা জন্মের আগেই মারা গেছে। সে মানুষ হচ্ছে এক
দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে। বয়স মাত্র দশ, কিন্তু এই বয়সেই সবরকম কাজ
করতে পারে সে। সবরকম কাজই করতে হয়। লোকে অবশ্য বলে যোগেন বসাক মহৎ লোক
বলেই অনাথা বোবা মেয়েটাকে আশ্রয় দিয়েছেন।
ক. গোঁসাইদের ছোট ছেলেটির নাম কী?
খ. সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত কেন? ব্যাখ্যা
করো।
গ. উদ্দীপকের মিনু ‘সুভা’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতীক? নিরূপন করো।
ঘ. “উদ্দীপকের মিনুর সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্য থাকলেও সুভার
জগৎটি ভিন্ন।” উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
ক. গোঁসাইদের ছোট ছেলেটির নাম প্রতাপ।
খ. প্রতাপের কাছে নিজের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর জন্য সুভা মনে মনে বিধাতার
কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত।
➠ প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভা তার কাজে সাহায্য
করতে চাইত। সে কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে চাইত যে এই পৃথিবীতে সেও একজন
প্রয়োজনীয় লোক। কিন্তু সুভা কিছুই করতে পারত না। আর সে কারণেই সে বিধাতার
কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত যাতে অলৌকিক ক্ষমতাবলে কোনো একটি কাজ
করে সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
গ. উদ্দীপকের মিনু ‘সুভা’ গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতীক। আমাদের সমাজে
অনেক মানুষ যারা শারীরিক ও মানসিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত। তবে অনেকের মাঝেই
পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় অবস্থানগত প্রেক্ষাপটের দিক থেকে।
➠ আমাদের সবার উচিত তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা। উদ্দীপকের মিনু
সুবিধাবঞ্চিত শিশু। সে কথা বলতে পারে না। শারীরিক এই অক্ষমতা নিয়ে তার
আশ্রয় হয় দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে। কথা না বলতে পারলেও সবরকম কাজ সে
করতে পারে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে যায় শুধু অবহেলা।
বোবা বলে সুভা নিজেকে সবার কাছ থেকে গুটিয়ে রাখে। কথা বলতে না পারার কষ্ট
সুভা নিজের মাঝে বয়ে বেড়ায়। সবাই যখন সুভার কথা না বলতে পারার দিকটিকে
ইঙ্গিত করত, তখন সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ হিসেবে মনে করত। এ কারণেই
উদ্দীপকের মিনু ‘সুভা’ গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতীক।
ঘ. “উদ্দীপকের মিনুর সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্য থাকলেও সুভার
জগৎটি ভিন্ন।” উক্তিটি যথার্থ।
➠ সমাজের কিছু মানুষ তাদের শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অবহেলার শিকার
হন। মানুষের অবহেলার কারণে তাদের কষ্টের সীমা থাকে না। আমাদের সবার উচিত
তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। উদ্দীপকের মিনু বাক্প্রতিবন্ধী শিশু।
বাবাকে জন্মের আগেই হারিয়ে মিনুর স্থান হয় দূরসম্পর্কের পিসিমার বাড়িতে।
মিনুর বয়স মাত্র দশ বছর হলেও সে সবরকম কাজ করতে পারে। পিসিমার বাড়িতে
থাকার কারণে এই কষ্ট তাকে মেনে নিতে হয়েছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভাও কথা বলতে পারে না। ছোট থেকেই নিজের এই অভিশাপকে
মেনে নিয়েছে সুভা। সুভার পিতা-মাতার মনেও সর্বদা এই বিষয়টি নিয়ে
দুশ্চিন্তা বিরাজমান ছিল। বড় দুটি বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও সুভাকে নিয়ে তার
পিতা-মাতার মাঝে কিছুটা নীরব হৃদয়ভার ছিল। অবশ্য বাবা-মার সাথে থেকে সুভা
কখনো নিজেকে অসহায় বোধ করেনি। বরং সুভাকে যেন তার বাবা অন্য মেয়েদের চেয়ে
একটু বেশি ভালোবাসতেন। কিন্তু সে কথা বলতে পারে না বলে কেউ তার সঙ্গে
মিশত না।
➠ কথা বলতে না পারার দিক থেকে উদ্দীপকের মিনুর সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার
সাদৃশ্য থাকলেও সুভার জগৎটি ভিন্ন ছিল। কারণ মিনু বড় হয়েছে পিসিমার
আশ্রয়ে। সেখানে তাকে কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু ‘সুভা’ গল্পের সুভা বড়
হয়েছে মা-বাবার ভালোবাসায় এক ভিন্ন জগতে। তাই উক্তিটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘সেই ছেলেটি’ নাটিকাটিতে একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রতি সহানুভূতি
প্রকাশ পেয়েছে। একই সাথে প্রকাশ পেয়েছে শিশুর প্রতি বড়দের মমত্ববোধ।
আরজু, সোমেন ও সাবু তিন বন্ধু একই স্কুলে একই শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু
বিদ্যালয়ে হেঁটে আসতে আরজুর খুব কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে তার পা অবশ হয়ে আসে।
বন্ধুদের সাথে সমান তালে চলতে পারে না।
(ক) ‘সুভা’ গল্পে কোন তিথির কথা উল্লেখ আছে?
(খ) প্রতাপ সুভার মতো সঙ্গী প্রত্যাশা করেছে কেন? ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের সাথে ‘সুভা’ গল্পের সাদৃশ্য চিহ্নিত করো।
(ঘ) “উদ্দীপকের আরজুর কষ্ট আর ‘সুভা’ গল্পের সুভার কষ্ট এক সুতোয় গাঁথা”-
মন্তব্যটি তুমি সমর্থন করো কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
ক. ‘সুভা’ গল্পে শুক্লাদ্বাদশীর তিথির কথা উল্লেখ আছে।
খ. মাছ ধরার সময় প্রতাপ সুভার মতো সঙ্গী প্রত্যাশা করেছে, কারণ সুভা
নিশ্চুপ থাকে। সুভা কথা বলতে পারে না।
➠ তার এই নিশ্চুপ বথাকার বিষয়টি প্রতাপের মাছ ধরার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার
সৃষ্টি করে না। তাই প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভার
উপস্থিতিতে বিরক্ত হতো না। কারণ সুভা কথা বলতে না পারায় কোনো শব্দ হয় না।
মাছ ধরার সময় প্রতাপ এমনই এক সঙ্গীর প্রত্যাশা করেছে। সে মনে করে মাছ
ধরার সময় নিশ্চুপ সঙ্গী সবচেয়ে ভালো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘সুভা’ গল্পের শারীরিক সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি মানুষের
সহানুভূতির বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি আমাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধ
জাগ্রত করতে হবে। তাদের মধ্যে কথা বলতে না পারা, কানে শুনতে না পারা,
দৃষ্টিশক্তিহীনতা, হাত-পা বা শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের সমস্যা হতে পারে।
আমাদের সেবা ও মানবীয় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে
ফিরিয়ে আনা উচিত। উদ্দীপকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশু আরজুর সমস্যা ও
মনঃকষ্টের কথা বর্ণনা করা রয়েছে। তার প্রতি বড়দের মমত্ববোধও লক্ষ করা
যায়। পায়ে সমস্যা থাকার কারণে অন্য বন্ধুদের সাথে স্কুলে হেঁটে আসতে তার
কষ্ট হয়। পা অবশ হয়ে আসায় সবার সাথে সমানতালে চলতে পারে না। তার এ
পরিস্থিতিতে সবাই সহানুভূতি ও মমত্ববোধ প্রকাশ করেছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। তার মা এটাকে নিয়তির দোষ মনে
করলেও বাবা তাকে অনেক ভালোবাসেন। কেউ তার সঙ্গে মেশে না, খেলাধুলা করে
না, তার সামনেই তার কথা না বলতে পারার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। কেউ পাশে
না থাকলেও সুভার বাবা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে
দিয়েছেন। আর সহানুভূতির বিষয়টি উদ্দীপকটিকে ‘সুভা’ গল্পের সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ঘ. “উদ্দীপকের আরজুর কষ্ট আর ‘সুভা’ গল্পের সুভার কষ্ট এক সুতোয় গাঁথা।”-
মন্তব্যটি আমি সমর্থন করি।
➠ প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোর আমাদের সমাজের মানুষ। তারা শারীরিক সীমাবদ্ধতার
কারণে নিজেদের গুটিয়ে রাখতে ভালোবাসে। আমাদের সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে
দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। উদ্দীপকের আরজুর পায়ে সমস্যা থাকার জন্য
হেঁটে স্কুলে আসতে কষ্ট হয়অ তার অন্য বন্ধুদের সাথে সে সমান তালে চলতে
পারে না, পা অবশ হয়ে আসে। এ কারণে আরজু প্রচন্ড কষ্ট পায়।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভাও কথা বলতে পারে না। এজন্য কেউ তার সাথে মেশে না।
সবাই সুভার সামনেই তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা বলে। যার জন্য সে একা একা
থেকে নিজের একটি জগৎ তৈরি করে নেয়। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে সুভা মনে
মনে অনেক কষ্ট পায়।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভার মনে কথা না বলতে পারার কষ্ট ছিল। আর উদ্দীপকের
আরজুর পায়ের সমস্যার কারণে মনে মনে কষ্ট পেয়েছে। দুজনই এই কষ্ট দূর করার
জন্য সবার সহানুভূতি প্রত্যাশা করেছে। সে কারণেই বলা যায়, উদ্দীপকের
আরজুর কষ্ট আর ‘সুভা’ গল্পের সুভার কষ্ট এক সুতোর গাঁথা।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অতি সাধারণ এক কিশোর লখা। কথা বলতে পারে না সে। কিন্তু তাতে কীই-বা আসে
যায়। লখা উঁচু ডালে উঠে লাল ফুল সংগ্রহ করে শহিদ মিনারে যায় শ্রদ্ধা
নিবেদন করতে। কথা বলতে না পারলেও তার মুখ দিয়ে আঁ আঁ আঁ আঁ ধ্বনির মধ্য
দিয়েই বেরিয়ে আসে বাঙালির গর্বের উচ্চারণ।
ক. সর্বশী ও পাঙ্গুলি কার নাম?
খ. প্রতাপের দ্বারা সংসারের উন্নতির আশা বাবা-মা ত্যাগ করেছিলেন কেন?
ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের লখা ‘সুভা’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিচ্ছবি? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের একটি চরিত্রকে প্রতীকায়িত করেছে মাত্র,
গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।” মূল্যায়ন করো।
ক. সর্বশী ও পাঙ্গুলি সুভাদের গোয়ালের দুটি গাভীর নাম।
খ. প্রতাপ নিতান্ত অকর্মণ্য ছির বলে তার বাবা-মা তার দ্বারা সংসারের
উন্নতির আশা ত্যাগ করেছিলেন।
➠ বাবা-মার ছোট ছেলে প্রতাপ ছিল নিতান্ত অকর্মণ্য। অনেক চেষ্টা করেও তাকে
দিয়ে সংসারের উন্নতির কোনো কাজ করানো সম্ভব হয়নি। এজন্য প্রতাপের মা-বাবা
তাকে নিয়ে প্রত্যাশা বাদ দিয়েছেন। সে অপরাহ্নে নদীতীরে ছিপ ফেলে মাছ ধরত।
কারণ এভাবে অনেকটা সময় কাটানো যায়। আসলে প্রতাপ ছিল প্রচণ্ড অলস প্রকৃতির
একজন মানুষ।
গ. উদ্দীপকের লখা ‘সুভা’ গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
➠ পৃথিবীটা অনেক সুন্দর। এই সুন্দর পৃথিবীতে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে
অনেক মানুষ অনিন্দ্য সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে বঞ্চিত হয়। শারীরিক
প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও অনেকে তাদের তীক্ষ্ণ অনুভূতি ও দক্ষতা দিয়ে
অনেক মহৎ কাজ সম্পাদন করে। উদ্দীপকে আমরা কিওেশার লখার পরিচয় পাই, যে কথা
বলতে পারে না। লখা বাক্প্রতিবন্ধী কিশোর। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা
তার কোনো কাজেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। অন্যান্য সুস্থ মানুষের মতো লখাও
নিজেকে সব কাজে সম্পৃক্ত করতে চায়।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভাও কথা বলতে পারে না। কথা বলতে পারে না বলে কেউ তার
সাথে মেশে না। সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হলেও সব কাজ করতে পারে। আর দশটি
স্বাভাবিক মানুষের মতো সেও নিজেকে সব কাজে সম্পৃক্ত করতে চায়। এদিক দিয়ে
উদ্দীপকের লখাকে ‘সুভা’ গল্পের সুভার প্রতিচ্ছবি বলা যায়।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের একটি চরিত্রকে প্রতীকায়িত করেছে মাত্র,
গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ শারীরিক প্রতিবন্ধিতা মানুষকে স্বাভাবিক জীবন থেকে পৃথক করে দেয়। কথা
বলতে না পারা এক ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা। যারা বোবা তারা কর্মের
মাধ্যমে তাদের না-বলা কথাগুলোকে প্রকাশ করে। তাদের প্রতি আমাদের
সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। উদ্দীপকে দেখা যায়, কিশোর লখা কথা বলতে পারে না।
কিন্তু কথা না বলতে পারার কষ্ট নিয়ে লখা থেমে থাকে না। অন্যান্য মানুষের
মতো সেও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়।
➠ ‘সুভা’ গল্পে লেখক বাক্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী চরিত্রের সাথে আমাদের
পরিচয় করিয়ে দেন। তার নাম সুভা। সুভা কথা বলতে পারে না বলে পরিবারের সবাই
অনেক চিন্তিত তার ভবিষ্যৎ নিয়ে। কিন্তু সুভাও সবার মতো কাজ করতে পারে।
সেও নিজেকে সকলের মাঝে সম্পৃক্ত করতে চায়। বাক্প্রতিবন্ধকতার কষ্ট সে তার
কাজের মধ্য দিয়ে কাটিয়ে উঠতে চায়। সে সৃষ্টিকর্তার কাছে অলৌকিক ক্ষমতারও
প্রার্থনা করে যাতে সে সবার দৃষ্টিতে কাজের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
➠ এই দিকটিকে উদ্দীপকটি তুলে ধরলেও গল্পের সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরতে
পারেনি। ‘সুভা’ গল্পে উদ্দীপকের লখার সাথে সুভার সাদৃশ্য রয়েছে বটে, তবে
এই দিকটি ছাড়াও গল্পে বেশকিছু বিষয়ের এবং ভাবের বর্ণনা রয়েছে।
প্রতিবন্ধীদের ওপর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের মনঃকষ্ট ও অসহায়ত্ব,
অনুভূতির তীব্রতা, তাদের প্রতি সমাজের মনোভাব, লেখকের সহমর্মিতা- এসব
বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অদম্য সাহসী ‘তাহমিদ’ ক্লাসে সবার প্রিয়মুখ। বিতর্ক,
আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে তাহমিদ এগিয়েই থাকে। কিন্তু ভাগ্যের
নির্মম পরিহাস, সড়ক দুর্ঘটনায় তাহমিদ একটি পা হারায়। তার পরিবারও পড়ে যায়
ভীষণ দুশ্চিন্তায়। কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে সাহস জোগায় এবং তার পাশে
দাঁড়ায়। বন্ধুদের উৎসাহ ও সহযোগিতায় তাহমিদ এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের
সাথে উত্তীর্ণ হয়।
ক. ‘শুক্লাদ্বাদশী' অর্থ কী?
খ. ‘আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি।’- সুভার এরূপ মনোভাবের কারণ কী?
গ. ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাথে উদ্দীপকের তাহমিদের সাদৃশ্য কোথায় বর্ণনা
করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও তার পরিবারকে
বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না’- মন্তব্যটি ‘সুভা’ গল্প অবলম্বনে বিশ্লেষণ
করো।
ক. ‘শুক্লাদ্বাদশী’ অর্থ চাঁদের বারোতম দিন।
খ. ‘আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি।’- আক্ষেপ থেকে সুভা এ কথাটি মনে করত।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। কথা বলতে পারে না বলে
প্রতিবেশীরা সুভার উপস্থিতিতে তার এই অপারগতার জন্য তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য
করে। তার সঙ্গে দেখা হলেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে। এতে সুভার
সীমাবদ্ধতা তার বারবার মনে পড়ে। সে নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখতে চায়।
এ জন্য সুভা উক্ত কথাটি মনে করত।
গ. ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে
সাদৃশ্য বিদ্যমান।
➠ কোনো ব্যক্তি শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ত্রুটিগ্রস্ত হলে এবং এর
ফলে সাধারণ জীবনযাপনে অক্ষমতা প্রকাশ পেলে সেই অবস্থাকে প্রতিবন্ধিতা বলা
হয়। এটি একটি নিয়তিনির্ভর অবস্থা, যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তির কোনো হাত
থাকে না।
➠ উদ্দীপকের তাহমিদ সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অদম্য সাহসী একজন ছেলে। সে
ক্লাসের প্রিয়মুখ। বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে সে এগিয়ে
থাকে সব সময়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারায় তাহমিদ।
অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনার কারণে তাকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। তার ওপরে
যেমন বিষাদের কালো ছায়া নেমে আসে তেমনই তার পরিবারও পড়ে যায় ভীষণ
দুশ্চিন্তায়।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভাও একজন বাকপ্রতিবন্ধী বালিকা। সে কথা বলতে পারত না
ঠিক, কিন্তু সুদীর্ঘপল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল। তার ওষ্ঠাধর
ভাবের আভাসমাত্র কচি কিশলয়ের মতো কেঁপে উঠত অর্থাৎ তার ছিল তীক্ষ্ণ ।
অনুভূতি শক্তি। শুধু তার প্রতিবন্ধিতা বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার কারণ ছিল।।
ফলে তাকে দুঃখময় বিষণ্ণ জীবন পার করতে হয়। তাই বলা যায়, ‘সুভা’ গল্পের
সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের সাদৃশ্য শরীরিক প্রতিবন্ধিতায়।
ঘ.‘উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও তার পরিবারকে
বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না’- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ শারীরিক প্রতিবন্ধিতা মানুষের কোনো অযোগ্যতা নয়। সামান্য সহানুভূতি ও
উৎসাহ দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এতে সমাজের
কল্যাণ সাধিত হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। মূলত বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের বিকাশে মমত্বশীল, দৃষ্টিভঙ্গি, সহযোগিতা ও
সহানুভূতিই তাদের মানবসম্পদে পরিণত করতে পারে।
➠ উদ্দীপকে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারানো তাহমিদের প্রতি বন্ধুদের
সহানুভূতি ও সাহস জোগানের দিকটি আমরা লক্ষ করি। এমন দুঃখ- দুর্দশার সময়
তাহমিদের পাশে এসে তার বন্ধুরা দাঁড়িয়েছে। যার ফলে সে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে
পেরেছে এবং আপন শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার উৎসাহ লাভ করেছে। একটি পা হারিয়ে
হতাশার ভয়াল অন্ধকারে সে হারিয়ে যায়নি; বরং বন্ধুদের সাহস ও সহযোগিতায়
আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ
হয়েছে।। কল অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পের সুভা বিষণ্ণতার অন্ধকার থেকে উঠে আসতে
পারেনি। কারণ তাকে সাহস ও সহানুভূতি দেখানোর কেউ ছিল না। এমনকি তার
পরিবারও তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে মনে করতেন।
অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার অভাব সুভাকে দুঃসহ বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দেয়।
➠ উদ্দীপকের তাহমিদ বন্ধুদের কাছে থেকে যেমন উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়ে
স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে তেমনটি কিন্তু গল্পের সুভা পায়নি। সাহস দিয়ে
পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করলে সুভাও নিজেকে স্বাভাবিক মানুষ
হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সম্মত হতো এবং তার পরিবারও কন্যাদায়গ্রস্ততা থেকে
মুক্তি পেত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতাপেলে
সুভা ও তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২’-এর উদ্বোধনী আসর অনুষ্ঠিত হয় কাতারের আলবাইত
স্টেডিয়ামে। মঞ্চে আসেন দুহাতে ভর দিয়ে চলা বিশ বছরের যুবক গানিম আল,
মুফতাহ। গানিমের সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে জমকালো আসর শুরু
হয়। কে এই গানিম? জন্মগতভাবেই তাঁর দুটি পা নেই। এজন্য শিশুকাল থেকে
তাঁকে পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। তবে তাঁর মা-বাবা দুজন
দুটি পা হয়ে সন্তানের সঙ্গে থেকেছেন, প্রেরণা জুগিয়েছেন। তাই তো তিনি
বিশ্বের দরবারে একজন মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
ক. ‘বাঁখারি’ অর্থ কী?
খ. সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল কেন? বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের গানিম ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে যে দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ
তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের গানিমের মতো প্রেরণা পেলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার অবস্থারও
পরিবর্তন হতো।”- মন্তব্যটি বিচার করো।
ক. বাঁখারি অর্থ কাঁধের দুদিকে দুপ্রান্তে ঝুলিয়ে বোঝা বহনের বাঁশের
ফালি।
খ. বিদেশযাত্রার উদ্যোগ হতে লাগল বলে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে
গেল।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভা চরিত্রটি ছিল জন্ম থেকেই বোবা। বোবা হওয়ার কারণে
তার পিতা-মাতা তাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিচলিত থাকতেন। গৃহপালিত পশু ও বাড়ির
বিড়াল শাবক ছিল তার বন্ধুর মতো। কিন্তু কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বাণীকণ্ঠ
সুভাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চান। সুভার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না
কিন্তু পিতা-মাতাকে বলতেও পারছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যখন কলকাতায় যাওয়ার
উদ্যোগ শুরু হলো তখন সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
গ. উদ্দীপকের গানিম ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও
সামাজিক বঞ্চনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ সুভা' গল্পের প্রধান চরিত্র সুভা। সে জন্ম থেকেই বোবা। তার এই শারীরিক
প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বাবা-মা বেশ চিন্তিত থাকেন। কারণ গল্পে দেখা যায় যে
শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সমাজ অবহেলার চোখে দেখে। তাই তো সুভার মা সুভাকে
তার গর্ভের কলঙ্ক বলে জ্ঞান করেন। সে কারও কাছে কোনো সহানুভূতি পায় না।
তার একমাত্র ভাষাসম্পন্ন বন্ধু ছিল প্রতাপ। তাকেও দেখা যায় সুভার অনুভূতি
উপলব্ধি করতে চায় না। বোবা হওয়াটা যেন তার পাপ। তার ইচ্ছা, আবেগ,
অনুভূতি, সিদ্ধান্ত কোনোকিছুরই কেউ তোয়াক্কা করে না।
➠ উদ্দীপকের গানিমকেও দেখা যায় যে জন্মগতভাবে তাঁর পা দুটি নেই। এজন্য
শিশুকাল থেকেই তাকে পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। শারীরিক
প্রতিবন্ধিতার জন্য সেও সমাজের কারও কাছে কোনো মূল্য পেত না। সমাজ তাকেও
সব সময় ছোটো ও হীন করে দেখত, যার পুনরাবৃত্তি সুভা চরিত্রে আমরা পাই। তাই
বলা যায়, উদ্দীপকের গানিম ‘সুভা’ গল্পের সুভার সঙ্গে শারীরিক
প্রতিবন্ধিতা ও সামাজিক বঞ্চনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “উদ্দীপকের গানিমের মতো প্রেরণা পেলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার অবস্থারও
পরিবর্তন হতো।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। এটা প্রকৃতিরই এক
লীলা। কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পরিবারের লোকজন
বোঝা মনে করে। তারাও যে আট-দশটা সাধারণ মানুষের মতো তা কেউ মানতেই চায়
না। তারা কোনো কাজের নয়- এটা ভেবে তাদের সব সময় দূরে রাখা হয়। কিন্তু
তারাও একটু বাড়তি যত্ন আর সুযোগ পেলে অসাধ্যকে সাধন করতে পারবে।
➠ উদ্দীপকের গানিমকে দেখা যায় যে, জন্ম থেকেই তাঁর দুটি পা নেই। এজন্য
শিশুকাল থেকে তাঁকে পদে পদে নানা লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু তাঁর
বাবা-মা দুজন গানিমের দুটি পা হয়ে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা
জুগিয়েছেন। যার ফলে বিশ্ব দরবারে তিনি আজ মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে
পরিচিতি লাভ করেছেন। এটা সম্ভব হয়েছে শুধু পরিবার তাঁর পাশে ছিল বলে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা চরিত্রের ক্ষেত্রে দেখা যায় ভিন্ন রূপ। শারীরিক
প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবার তাকে প্রেরণা না জুগিয়ে বরং আরও বোঝা- মনে
করেছে। বিশেষ করে সুভার মা। অথচ বোবা কন্যার এই অবস্থায় মা অথবা বাবা যদি
তার মুখের বুলি হতেন, তার আবেগ- অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতেন তাহলে সমাজ
তাকে এত তাচ্ছিল্য করতে পারত না। তার বাবা-মায়ের কাছেও এতটা বোঝা মনে হতো
না। এমনকি প্রেরণা পেলে সুভার কোনো সুপ্ত প্রতিভাও হয়তো বিকশিত হতে পারত।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের গানিমের মতো প্রেরণা পেলে ‘সুভা’ গল্পের সুভার
অবস্থারও পরিবর্তন হতো। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
শৈশবে সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে সাবিনা। বাবা-মা তাকে
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। পড়াশোনা করে সে আজ দৃষ্টি
প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক। সে এখন সমাজের বোঝা নয়,সম্পদ।
ক. সুভা কীসের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন?
খ. পিতা-মাতার মনে সুভা সর্বদাই জাগরূক ছিল কেন? বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের সাবিনার সাথে সুভার বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবা-মা যদি উদ্দীপকের সাবিনার বাবা- মায়ের মতো
হতো তাহলে সুভাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না।”- মন্তব্যটির যথার্থতা
বিচার করো।
ক. সুভা নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন এবং সঙ্গীহীন।
খ. সুভার কথা বলতে না পারার বেদনা ভুলতে পারে না বলে পিতা-মাতার মনে সে
সর্বদাই জাগরূক ছিল।
➠ সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে না। এই ত্রুটির কারণে
সবাই তার সামনেই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। ফলে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ
মনে করত এবং সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করতে চাইত। কিন্তু তার কথা বলতে
না পারা পিতা- মাতার বেদনার কারণ ছিল। আর বেদনা কেউ কখনো ভুলে যেতে পারে
না। তাই সে সর্বদাই পিতা-মাতার মনে জাগরুক ছিল।
গ. সুভার প্রতি অবহেলাই তার সাথে উদ্দীপকের সাবিনার বৈসাদৃশ্য সৃষ্টি
করেছে।
➠ প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ নয়। এই ত্রুটির উপর মানুষের -কোনো হাত থাকে
না। তাই কারও মধ্যে এই ত্রুটি দেখা দিলে তাকে অবহেলা বা অবজ্ঞা করা উচিত
নয়। বরং তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত সাবিনা সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
কিন্তু এতে তার জীবন থেমে থাকেনি। বাবা-মা তাকে প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি
করিয়ে দিলে সে পড়াশোনা করে আত্মনির্ভরশীল হতে পেরেছে। সাবিনার জীবনের এই
ঘটনা 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে মেলে না। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে
না। তাই সে সবার কাছে উপেক্ষিত হয়েছে। তার জীবনটাকে সুন্দরভাবে পরিচালিত
করার কোনো পথ তাকে কেউ বাতলে দেয়নি। তার মা-বাবাও নয়। বরং সবার কাছে সে
অবহেলা পেয়েছে। আর এখানেই উদ্দীপকের সাবিনার সঙ্গে তার বৈসাদৃশ্য।
ঘ. ‘সুভা’ গল্পে সুভার বাবা-মা যদি উদ্দীপকের সাবিনার বাবা- মায়ের মতো
হতো তাহলে সুভাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না।”- মন্তব্যটি
যথার্থ।
➠ প্রতিবন্ধীরা সমাজেরই অংশ। তাদেরও এ সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার
রয়েছে। তবে এদেরকে সুন্দর জীবনের পথে এগিয়ে দিতে পরিবার ও পারিপার্শ্বের
মানুষের সহযোগিতাই সর্বাগ্রে প্রয়োজন। সবার সহানুভূতি ও সহযোগিতাপূর্ণ
মনোভাবই এ ধরনের উদ্দীপকে সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো সাবিনার সফল
জীবনের। ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়ে সাবিনাকে থেমে থাকতে হয়নি।
বাবা-মায়ের সহযোগিতায় সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। সে সমাজের
বোঝা হয়ে থাকেনি।
➠ ‘সুভা’ গল্পে জন্ম থেকেই কথা বলতে না পারা সুভাকে পরিবার ও সমাজের অনেক
অবজ্ঞা, অবহেলা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। তার বাবা-মা তাকে সহযোগিতা
করেনি। তারা যদি তার প্রতি সহানভূতিশীল হয়ে তার পড়াশোনার ব্যবস্থা করত
অথবা অন্য উপায়ে তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করত, তবে তার জীবন অন্য রকম
হতো। সমাজের বোঝা হয়ে এতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো না। যে নির্বাক
প্রকৃতিকে সে তার পরম বন্ধু ভেবেছিল, তাকে ছেড়েও শেষ পর্যন্ত চলে যেতে
হতো না।
➠ তাই সুভার জীবনের এই করুণ পরিণতির দায় তার পরিবার ও সমাজকেও দিতে হয়।
বিশেষ করে তার বাবা-মাকে। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত
মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পোলিও আক্রান্ত হয়ে শাহানের বাম পা বাঁকা হয়ে গেছে। হাঁটতে তার খুব কষ্ট
হয়, স্কুলে যাওয়ার জন্য সবার আগে ঘর থেকে বেরিয়েও সে সময়মতো স্কুলে
পৌঁছতে পারে না। রাস্তায় বেশ কয়েকবার বসতে হয়, তবুও প্রচণ্ড ব্যথা হয়,
দেরি হয়ে গেলে প্রায়ই সে স্কুলে যায় না। স্কুলের পাশের প্রকান্ড মাঠের
কোণে বসে সারাক্ষণ আকাশের পানে চেয়ে থাকে। শ্রমজীবী বাবাকে এ কথা জানালে
তিনি বলেন, ‘এ সবই তার স্কুল কামাইয়ের অজুহাত।’- এতে শাহান খুব কষ্ট পায়
এবং কাঁদতে শুরু করে।
ক. সুভা দিনে কয়বার গোয়ালঘরে যেত?
খ. ‘প্রকৃতি যেন তাহার ভাষার অভাব পূরণ করিয়া দেয়।’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের শাহানের বাবা ও ‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবার মধ্যে যে সাদৃশ্য
রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের শাহান যেন ‘সুভা’ গল্পের সুভার মতোই সামাজিক অবস্থার
শিকার”- ‘সুভা’ গল্প অবলম্বনে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
ক. সুভা দিনে নিয়মিত তিনবার গোয়ালঘরে যেত।
খ. প্রকৃতির বিভিন্ন শব্দ ও কোলাহল দিয়ে প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ
করে দেয়।
➠ নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে
প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সে সময় পেলেই নদীর পাড়ে এসে বসে।
তখন প্রকৃতির নানান উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা নিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো
সুভার হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। এই ভাষার বিস্তার যেন বিশ্বব্যাপী। এভাবেই প্রকৃতি
বিভিন্ন শব্দের মধ্য দিয়ে সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।
গ. উদ্দীপকের শাহানের বাবা ও ‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবার মধ্যে সন্তানের
মনোবেদনা বুঝতে পারার দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে মানুষ নানাভাবে অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার
হয়ে থাকে। পরিবার, সমাজ সব ক্ষেত্রেই তারা স্বাভাবিক মানুষের কাছ থেকে
অমানবিক আচরণের শিকার হয়। আমাদের একটু সহানুভূতি তাদের জীবনে পূর্ণতা বয়ে
আনতে পারে। উদ্দীপকে পোলিও আক্রান্ত শাহানের জীবনের কষ্ট-যন্ত্রণা এবং
তার পরিবারের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। শাহানের বাবা একজন শ্রমজীবী দরিদ্র
মানুষ। তার সন্তান পোলিও আক্রান্ত হয়ে প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও সে তা
বুঝতে পারে না। এ কারণেই শাহান নিজের কষ্টের কথা বললে সে শাহানকে বলে এ
সবই তার স্কুল কামাইয়ের অজুহাত। পিতা হয়েও সে শাহানের মনোবেদনা বুঝতে
পারেনি।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবা বাণীকণ্ঠ সুভাকে আদর করেন। সন্তানের অসুস্থতা
তাকে দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন করে। বয়স হলেও সুভাকে পাত্রস্থ করতে না পারায়
গ্রামের মানুষের কটু কথা শুনে চুপ থাকেন। অবশেষে একঘরে করার হুমকিতে
শুভাকে পাত্রস্থ করার জন্য তাকে নিয়ে কলকাতায় পাড়ি জমানোর আয়োজন করেন।
তখন সুভা ভীষণ মনঃকষ্টে ভোগে। কারণ সে তার চেনা পরিবেশ ছেড়ে কোথাও যেতে
চায় না। বাবাকে সে তার কষ্টের কথা বোঝাতে চেষ্টা করে। বাবার পায়ের ওপর
লুটিয়ে পড়ে কান্না করে। কিন্তু বাবা তার মনোবেদনা বুঝতে পারে না। উভয়
ক্ষেত্রেই অসুস্থ সন্তানের অসহায়ত্ব ও মনোবেদনা বুঝতে না পারার দিকটি
প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকের শাহান যেন ‘সুভা’ গল্পের মতোই সামাজিক অবস্থার শিকার”-
‘সুভা’ গল্প অনুযায়ী মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ আমাদের সমাজ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের অবহেলার চোখে দেখে। কারণ
এদেরকে তারা কোনো কাজের যোগ্য নয় বলেইবিবেচনা করে। তারা এটা মানতে চায় না
যে, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বেঁচে থাকার পথে কখনো বাধা হতে পারে না।
সহযোগিতা পেলে তারাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এবং সুযোগ পেলে সমাজে
অবদান রাখতে পারে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা বাকপ্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে শৈশব
থেকেই সে অবহেলার শিকার। সমবয়সীরা তাকে খেলায় নেয় না, তার সঙ্গে মেশে না,
কথা বলতে চায় না। প্রতিবেশীরা তার সামনেই তার প্রতিবন্ধিতা নিয়ে
দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে। সুভার মা সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। ফলে
সুভা নির্বাক প্রকৃতির কাছে তার মুক্তির আনন্দ খোঁজে। অন্যদিকে নির্বাক
হওয়ায় বাণীকণ্ঠ মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পারেন না। তাই নিরুপায় হয়ে সুভার
বিয়ের কথা ভেবে তাকে নিয়ে কলকাতায় যাওয়ার আয়োজন করেন। 'সুভা' গল্পে সুভার
এমন সামাজিক অবস্থার সঙ্গে উদ্দীপকের শাহানের সামাজিক অবস্থানের মিল
রয়েছে। শাহানা- পোলিও আক্রান্ত হয়েছে বলে সমাজে সে অবহেলিত। বাম পা বাঁকা
হয়ে যাওয়ার কারণে তার হাঁটতে ভীষণ কষ্ট হয়। সবার আগে ঘর থেকে বের হয়েও সে
সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারে না। ক্লান্ত হয়েস্কুলের পাশের মাঠের এক কোণে
বসে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। তার কষ্টের কথা পরিবারের কেউ অনুধাবন করতে
চায় না।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভাকে তার মা যেমন মেনে নিতে পারেন না তেমনই সমাজের
মানুষের কাছেও সে অবহেলিত থাকে। প্রতাপও কেবল ছিপ ফেলে মাছ ধরার সময়
নির্বাক সঙ্গী হিসেবেই তাকে দেখত, সুভার কষ্ট বা মনোবেদনা অনুধাবন করত
না। উদ্দীপকের শাহানের কষ্টও কেউ বুঝতে চায়নি। এমনকি বাবাও শাহানকে
অবিশ্বাস করেছে। ঠিক সময়ে স্কুলে না যেতে পারাকে স্কুল কামাইয়ের অজুহাত
মনে করেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
একমাত্র সন্তান কাব্য বাকপ্রতিবন্ধী- বিষয়টি যখন জানলেন মিসেস শরীফা-
একটুও ঘাবড়ালেন না; স্বামীকেও বোঝালেন। বাবা-মা’র পরম স্নেহ-মমতা ও
আদর-যত্নে বেড়ে উঠতে লাগল কাব্য। একদিন মা লক্ষ করলেন ছেলে আপন মনে কাগজে
আঁকিবুঁকি করছে। তিনি বুঝে গেলেন মুখে ভাষা না থাকলেও তুলির আঁচড়েই সে
একদিন বিশ্ব জয় করবে। স্বামীর সাথে পরামর্শ করে ছেলের আঁকাআঁকির জন্য যা
যা করা দরকার সব করলেন। আজ দেশে-বিদেশে কাব্যে’র আঁকা ছবি প্রদর্শনী
হচ্ছে; বিক্রি হচ্ছে বহু মূল্যে।
ক. বাবা-মা’র কোন আয়োজন দেখে সুভার হৃদয় অশ্রু-বাষ্পে ভরে উঠেছিল?
খ. ‘তুমি আমাকে যাইতে দিও না, মা’- সুভার এই অভিব্যক্তি বুঝিয়ে লেখো।
গ. কাব্যে’র বাবা-মার সাথে ‘সুভা’ গল্পের বাবা-মা’র বৈসাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যে’র মতো সুভা সমাজের একজন হয়ে
উঠতে পারত- যুক্তি দাও।
ক. বাবা-মায়ের বিদেশযাত্রার আয়োজন দেখে সুভার হৃদয় অশ্রু- বাষ্পে ভরে
উঠেছিল।
খ. নিজের চিরচেনা জগৎকে আঁকড়ে ধরে সুভা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে।
➠ বাকপ্রতিবন্ধী সুভাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পিতা তাকে কলকাতায় নিয়ে
যেতে চান। কলকাতায় যাওয়ার আগের দিন সুভা তার চিরপরিচিত জগৎ নদীতীরে এসে
লুটিয়ে পড়ে। দুই বাহু প্রসারিত করে সে যেন ধরণিকে আঁকড়ে ধরতে চায়। কারণ
সে তার এই চিরচেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায় না। সে চায়
ধরণিও তাকে যেন জড়িয়ে ধরে রাখে। তাকে যেন যেতে না দেয়। প্রশ্নোক্ত
উক্তিটির মধ্য দিয়ে সুভার এই মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে।
গ. কাব্যের বাবা-মা’র সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের বাবা-মা’র মনোভাব ও পদক্ষেপ
গ্রহণে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ সমাজে স্বাভাবিক মানুষের সঙ্গে কিছু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষও দেখা
যায়। তারা শারীরিক অক্ষমতার কারণে অনেক সময় অবহেলার শিকার হয়। অথচ তারাও
মানুষ। সবার সহযোগিতা, আদর-যত্ন পেলে তারাও সমাজে অবদান রাখতে পারে।
তাদের জীবন আরও সুন্দর হতে পারে।
➠ উদ্দীপকের কাব্য বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তার মা মিসেস শরীফা
একটুও ঘাবড়ালেন না; স্বামীকেও বোঝালেন। বাবা-মায়ের পরম স্নেহ-মমতা ও
আদর-যত্নে বেড়ে উঠতে লাগল কাব্য। অন্যদিকে ‘সুভা’ গল্পে বাবা তাকে কিছুটা
ভালোবাসলেও মা সুভাকে নিজের ত্রুটি হিসেবে দেখেন; তাকে নিজের গর্ভের
কলঙ্ক বিবেচনা করে তার প্রতি খুবই বিরক্ত হন। বয়স বাড়তে শুরু করলে
মা-বাবা তাকে বোঝা হিসেবে মনে করেন। লোকের নিন্দা থেকে বাঁচার জন্য পিতা
সুভাকে নিয়ে কলকাতায় চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। তাই বলা যায়, কাব্যের
বাবা-মা’র সাথে ‘সুভা’ গল্পের বাবা-মা’র বৈসাদৃশ্য হলো প্রতিবন্ধী
সন্তানের প্রতি তাদের আচরণ ও মনোভাবে।
ঘ. উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যের মতো সুভা সমাজের একজন হয়ে
উঠতে পারত।
➠ আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধীরা নানাভাবে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়। তারা তাদের
ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ তারাও কোনো- না-কোনো প্রতিভা নিয়েই
জন্মগ্রহণ করে। তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার করা হলে, পরম আদর-যত্নে
তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া হলে দেশ ও জাতির উন্নয়নে তারা
অবদান রাখতে পারে।
➠ উদ্দীপকের কাব্য একজন বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও বাবা-মায়ের কাছ
থেকে পরম স্নেহ-মমতা ও আদর-যত্ন পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠেছে। কাগজে
আঁকিবুকি দেখে মা তাকে নিয়ে আশান্বিত হন। তিনি বুঝে যান মুখে ভাষা না
থাকলেও তুলির আঁচড়েই সে একদিন বিশ্ব জয় করবে। স্বামীর সাথে পরামর্শ করে
ছেলের আঁকাআঁকির জন্য যা যা করা দরকার সব করলেন। ফলে সে তার প্রতিভা
সবাইকে দেখিয়ে দেয়। দেশে-বিদেশে প্রদর্শনী হয় তার ছবির, বিক্রি হয় বহু
মূল্যে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা একজন বাষ্প্রতিবন্ধী। তবে তার চারপাশের সবকিছুই
উপলব্ধি করতে পারে। বাষ্প্রতিবন্ধী সুভা মা, পাড়া- প্রতিবেশী,
আত্মীয়-স্বজন কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের মানসিক সহায়তা বা সহানুভূতি
পায়নি। অথচ সে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে পেরেছে। প্রতাপের কথায় সে কষ্টও
পেয়েছে। বাবা-মা কলকাতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে সে চোখের জলে বুক
ভাসিয়েছে। গাভীকে সে নিজের বেদনার সঙ্গী করেছে। পরিবার, সমাজ থেকে সে
শুধু কষ্টই পেয়েছে। অনুপ্রেরণা পায়নি। কিন্তু পরিবার ও সমাজ থেকে উপযুক্ত
পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে কাব্যের মতো সুভা সমাজের একজন হয়ে উঠতে পারত।
কেননা সব বোধ এবং অনুভূতি তার পরিপূর্ণ ছিল। তাই বলা যায়, প্রশ্নে
প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
প্রতিবন্ধীরা জীবনের স্বাভাবিক ধারায় অন্যদের মতো সমানতালে এগিয়ে যেতে
পারে না। কিন্তু সঠিক মনোযোগ, সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে তারাও দুঃখের
অন্ধকার ছেড়ে আলোকিত জীবনের অধিকারী হতে পারে। এমনকি হয়ে উঠতে পারে
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের একজন। মহাকবি হোমার একজন দৃষ্টি
প্রতিবন্ধী ছিলেন। ইলিয়াড, ওডেসি তাঁরই সৃষ্টি।
ক. সুভার গ্রামের নাম কী?
খ. ‘সে ভাষাবিশিষ্ট জীব।’- কার সম্পর্কে এবং কোন প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের হোমারের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘সুভা’ গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম
হয়েছে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।’
ক. সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
খ. ‘সে ভাষাবিশিষ্ট জীব।’- এই কথাটি প্রতাপ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা একটি বোবা মেয়ে। গুটিকতক গৃহপালিত প্রাণীর সাথে সে
বন্ধুত্ব করে। গোয়ালের দুটি গাভী তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মনে মনে তাদের নাম
দিয়েছে সর্বশী ও পাঙ্গুলি এই দুই নামে। এগুলো ছাড়াও ছাগল ও বিড়াল শাবককেও
সে বন্ধু বানিয়েছে। তবে এগুলো সবই তার মতোই বোবা। উন্নত জীবের মধ্যে তার
এক সঙ্গী হলো গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ। তবে সে কথা বলতে পারে। তাই
তাকে ভাষাবিশিষ্ট জীব বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের হোমারের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের সুভা চরিত্রের প্রতিবন্ধিতার
দিক দিয়ে মিল রয়েছে।
➠ মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। কিন্তু কিছু মানুষ শারীরিক কিংবা মানসিক
ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারা মূলত সমাজে প্রতিবন্ধী হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু অনেকে তাদেরকে নিচু চোখে দেখে। অথচ মানুষের সহানুভূতি ও
বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে দেশ ও জাতির জন্য
অনেক ভালো কিছু করতে পারে।
➠ উদ্দীপকের মহাকবি হোমার একজন বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। বিখ্যাত মহাকাব্য ইলিয়ড ও ওডিসি তাঁরই সৃষ্টি। ‘সুভা’
গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী হলেও চারপাশের সবকিছুই বুঝতে পারে।
প্রাণিজগতের গাভী, ছাগল, বিড়াল প্রভৃতি প্রাণীর সাথে সে সখ্য গড়ে তোলে।
উদ্দীপকের হোমারও একজন প্রতিবন্ধী। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আর ‘সুভা’
গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। এদিক থেকে হোমারের সাথে সুভা চরিত্রের মিল
রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘সুভা’ গল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করতে সক্ষম হয়নি,
বরং আংশিক ভাব প্রকাশিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।
➠ কেউ যখন প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মগ্রহণ করে তখন সে সমাজে নানা ধরনের লাঞ্ছনা
ও বঞ্চনার শিকার হয়। অথচ প্রতিবন্ধী হওয়ার ক্ষেত্রে নিজের কোনো হাত থাকে
না। একজন প্রতিবন্ধীও সমাজের সকলের কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ প্রাপ্য।
মানুষের ভালোবাসা, আদর-স্নেহ ও সহানুভূতি পেলে সেও সুন্দর ও প্রাণোচ্ছল
জীবন কাটাতে পারে।
➠ উদ্দীপকে প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তারা জীবনের স্বাভাবিক
ধারায় অন্যদের মতো সমানতালে এগিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু সঠিক মনোযোগ,
সহযোগিতা ও সুযোগ-সুবিধা পেলে তারাও দুঃখের অন্ধকার ছেড়ে আলোকিত জীবনের
অধিকারী হতে পারে। এর দৃষ্টান্ত হিসেবে মহাকবি হোমারের কথা বলা হয়েছে যে,
তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও বিশ্ব বিখ্যাত মহাকাব্য রচনা করেছেন।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভাকে মা নিজের একটি ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করেন।
বাবা-মায়ের জন্য সে একটি অভিশাপ স্বরূপ। ফলে সুভা নিজেকে সব সময় লুকিয়ে
রাখার চেষ্টা করে। তার তেমন বন্ধুও ছিল না। ফলে সে গাভী, ছাগল, বিড়াল,
প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব করে। আবার প্রতাপের সঙ্গে সুভার বন্ধুত্বও গল্পে
দেখা যায়। শেষপর্যন্ত বাবা-মা তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য কলকাতায় চলে যেতে
চাইলে সে অনেক কষ্ট পায়। গল্পের এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে দেখা যায় না।
প্রতিবন্ধী সুভার জীবনের দুঃখময় অধ্যায়টি উদ্দীপকে উঠে আসেনি। তাই বলা
যায়, উদ্দীপকে ‘সুভা’ গল্পের সমগ্র ভার প্রকাশিত হয়নি।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
স্বপ্না সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। লেখাপড়ায় যেমন ভালো খেলাধুলাতেও তেমনি।
এজন্য সহপাঠীরা স্বপ্নাকে খুব ভালোবাসত। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে
সড়ক দুর্ঘটনায় একটি হাত ও একটি পা হারাতে হয় তাকে। এতে স্বপ্না
মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সবার সামনে আসতে বিব্রত বোধ করে। লেখাপড়া যে আর হবে
না সে ও তার পরিবার নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু তার সহপাঠীরা সান্ত্বনা,
সহযোগিতা আর সাহস দিয়ে তাকে আবার লেখাপড়ার ব্যাপারে উৎসাহী করে তোলে। এই
স্বপ্নাই একদিন এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে স্কুলের সুনাম বৃদ্ধি করে।
ক. সুভা জলকুমারী হলে কী করত?
খ. ‘আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছিলাম?’- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের স্বপ্নার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার দিকটি ‘সুভা’
গল্পের সুভার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “সুভার প্রতি সমাজের মানসিকতা যদি উদ্দীপকের সহপাঠীদের মতো হতো তাহলে
‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিবারকে এত বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।”-
মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
ক. সুভা জলকুমারী হলে আস্তে আস্তে জল থেকে উঠে একটা সাপের মাথার মণি ঘাটে
রেখে যেত।
খ. ‘আমি তোমার কাছে কী দোষ করেছিলাম?’- উক্তিটি দ্বারা সুভার ব্যথিত
হৃদয়ের আক্ষেপ বোঝানো হয়েছে।
➠ সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ের জন্য পাত্র পাওয়া যাচ্ছিল না।
পাত্রস্থ করার জন্য বিদেশযাত্রার আয়োজন করা হয়। উন্নত শ্রেণির জীবের
মধ্যে সুভার একমাত্র বন্ধু প্রতাপ। প্রতাপ ছিপ ফেলে মাছ ধরত এবং সুভা
তেঁতুলতলায় বসে থাকত। এভাবেই তাদের মধ্যে সখ্য জন্মে। সুভা অত্যন্ত
অন্তরঙ্গ বন্ধু প্রতাপকে ছেড়ে যেতে চায়নি। কিন্তু প্রতাপ যখন বলে “কী রে
সু, তোর নাকি পাত্র পাওয়া গেছে, তুই নাকি বিয়ে করতে যাচ্ছিস? দেখিস
আমাদের ভুলিস নে” তখন প্রতাপের এই কথা সুভার অন্তরে মর্মবিদ্ধ হরিণীর
তীরের আঘাতের মতো আঘাত করে। মূলত কাছের বন্ধু প্রতাপের কাছ থেকেও এ ধরনের
ইঙ্গিতময় কথা ছিল সুভার কাছে অপ্রত্যাশিত।
গ. উদ্দীপকে স্বপ্নার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার দিকটি ‘সুভা’ গল্পের
সুভার মানসিক অবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা নানা ধরনের প্রতিবন্ধিতার
কারণে সমাজের অনেক রকম বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়। কিন্তু সহানুভূতি
দিয়ে, সান্ত্বনা দিয়ে তাদের জীবনযাত্রাকে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাভাবিক
করতে পারি।
➠ উদ্দীপকের স্বপ্না পড়ালেখা ও খেলাধুলায় ভালো। সহপাঠীদের ভালোবাসায়
ভালোই কাটছিল সময়। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন সড়ক দুর্ঘটনায় একটি হাত ও
একটি পা হারালে সে সমাজের মানুষের অবহেলা ও অবজ্ঞার কথা ভেবে মানসিকভাবে
বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মূলত শারীরিক প্রতিবন্ধিতা কোনো দোষের না হলেও সমাজের
মানুষের বিরূপ আচরণের শঙ্কায় স্বপ্না মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। উদ্দীপকের
স্বপ্নার সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্য রয়েছে। সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী।
মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। সে পিতা-মাতার নীরব দুশ্চিন্তার কারণ।
তাই শিশুকাল থেকেই নিজেকে সে লোকচক্ষুর অন্তরালে গুটিয়ে রাখে। সে যেন
বিধাতার অভিশাপম্বরূপ এই পৃথিবীতে এসেছে। তাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সুভার
স্বাভাবিক বিকাশ হয়নি। নিজেকে সব সময় পিতা-মাতা ও সমাজের কাছে বোঝাস্বরূপ
মনে হয়েছে। নির্জন দুপুরের নিস্তব্ধতার মতোই সুভা একাকী। সমাজের কাছে
নিজেকে বোঝাস্বরূপ মনে হওয়ায় উদ্দীপকের স্বপ্না ও সুভার মানসিক অবস্থা
পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “সুভার প্রতি সমাজের মানসিকতা যদি উদ্দীপকের সহপাঠীদের মতো হতো তাহলে
‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিবারকে এত বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।” –
মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে আমাদের
সমাজে মানুষ নানা রকম অবহেলার শিকার হয়। সমাজের মানুষের সহানুভূতি ও
বন্ধুত্বসুলভ আচরণ এই মানুষগুলোর জীবনকে আরও সুন্দর করতে পারে।
➠ এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ - হওয়ার পেছনে কাজ করে
সহপাঠীদের সহযোগিতামূলক আচরণ। কিন্তু ‘সুভা’ গল্পের সুভার পরিবেশ, সমাজ
উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সুভার জীবনের করুণ পরিণতির জন্য পরিবারে
তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং মায়ের বিরূপ আচরণ দায়ী। ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রতাপও
তাকে সহানুভূতি না জানিয়ে তাচ্ছিল্য করেছে। বিয়ের পাত্রের সন্ধানে নিজ
পরিবার, মাতৃভূমি, চারপাশের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে তাকে অজানা গন্তব্যে পাড়ি
জমাতে হয়, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। উদ্দীপকে স্বপ্নার সহপাঠীদের মতো সুভা
যদি সহমর্মিতা, সহযোগিতামূলক আচরণ ও সহানুভূতি পেত তাহলে তাকে নিজ
মাতৃভূমি ছাড়তে হতো না। সুভার জীবনও উদ্দীপকের স্বপ্নার মতো এক সুন্দরতম
সুখময় পরিণতির দিকে অগ্রসর হতো।
➠ উদ্দীপকের স্বপ্না সহপাঠীদের সহযোগিতায় শারীরিক প্রতিবন্ধিতা জয় করে
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কিন্তু ‘সুভা’ গল্পের সুভা সামাজিক প্রতিকূল
পরিবেশের কারণে পরিবারে দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে এবং মাতৃভূমি ছেড়ে
অন্যত্র যেতে হয়েছে। অনুকূল পরিবেশ পেলে সুভার পরিবারকে এত বিড়ম্বনায়
পড়তে হতো না। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দিয়ার বয়স সতেরো পেরিয়ে আঠারোয় পড়েছে। ওর সমবয়সী অনেকেই বিয়ে-শাদি করে
রীতিমতো সংসারী। কিন্তু দিয়ার জন্ম থেকেই হাত দুটো অসাড় হওয়ায় অন্যদের
মতো তার সংসার করা হয়নি। দিয়ার বিধবা মা মলিনা বেগম এতে বিচলিত নন। ছোট
ছেলে পনেরো বছরের রাতুলের চেয়ে কোনো অংশে দিয়ার আদর-যত্ন তিনি কম করেন
না। পাড়ার দু-একজন অবশ্য দিয়ার বিকাশের পথে জিন- ভূতের আছরকে দায়ী করে।
কিন্তু ওসব পাত্তা দেন না মলিনা বেগম।
ক. ‘সুভা’ গল্পে কাকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে?
খ. “এই বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব
আছে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের বৈসাদৃশ্য
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের দিয়া কি ‘সুভা’ গল্পের সুভা? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি
দেখাও।
ক. ‘সুভা’ গল্পে প্রতাপকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে।
খ. “এই বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব
আছে।"- ‘সুভা’ গল্পের লেখকের এ উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে। না।
ফলে সুভার বয়সী ছেলেমেয়েরা তার সঙ্গে মেশে না। তাই সে নিজেকে পরিবার ও
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সে প্রকৃতির কাছে নিজেকে মেলে
ধরে। নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে
প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সুভা যখন নদীর পাড়ে এসে বসে তখন
প্রকৃতির নানা উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা দিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার
হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন সুভার চোখের ভাষা ছিল
অসীম, উদার ও অতলস্পর্শ- অনেকটা গভীর স্বচ্ছ আকাশের মতো, উদয়াস্ত এবং
ছায়ালোকের নিস্তব্ধ রঙ্গভূমি। সেই চোখের ভাষা তার বয়সী ছেলেমেয়েরা বুঝতে
পারত না। এ কারণেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
গ. উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের মধ্যে সন্তানের
প্রতি আচরণগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষেরা আমাদের অবহেলার পাত্র নয়। তারাও আমাদের
সমাজেরই অংশ। অথচ আমরা তাদের অবহেলা করি, এড়িয়ে চলি। তাদের সাথে এমন
অমানবিক আচরণ না করে বরং তাদেরকে আপন করে কাছে টেনে নিলে তারাও আমাদের
মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। উদ্দীপকে একজন প্রতিবন্ধী
কন্যাসন্তানের প্রতি মায়ের গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে মা
মলিনা বেগম প্রতিবন্ধী মেয়ে দিয়াকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। জন্ম থেকেই দিয়ার
দুহাত অসাড়। ফলে তার মা মলিনা বেগম মেয়ের প্রতি যত্ন নিয়েছেন। তিনি দিয়ার
অক্ষমতাকে নিজের ত্রুটি হিসেবে দেখেন না, দিয়াকে তাচ্ছিল্য করেন না। তিনি
ছেলেকে যেমন আদর-যত্ন করেন, দিয়াকেও তেমনই আদর-যত্ন করেন।
পাড়াপ্রতিবেশীরা দিয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বললে তাতে তিনি বিশেষ বিচলিত হন
না।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভার মায়ের মাঝে এ বিষয়গুলো দেখা যায় না। সুভা জন্ম
থেকেই কথা বলতে অক্ষম। সুভার এই ত্রুটিকে তার মা নিজের অযোগ্যতা মনে
করেন। সুভার কথা বলতে না পারা যেন তারই গর্ভের কলঙ্ক। তিনি সুভার এই
অসম্পূর্ণতাকে নিজের লজ্জার কারণ মনে করে সুভাকে সহ্য করতে পারেন না। তাই
বলা যায়, উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের মধ্যে
প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি আচরণগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. না, উদ্দীপকের দিয়া ‘সুভা’ গল্পের সুভা নয়।
➠ সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে কেউ শারীরিকভাবে
সক্ষম, আবার কেউ অক্ষম। শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষ সব সময়ই অবহেলার পাত্র
হয়। আমরা যদি তাদের প্রতি আন্তরিক হই এবং সহানুভূতি দেখাই, তাহলে তারা
আমাদের মতোই সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে।
➠ উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিয়া জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার হাত দুটো অসাড়।
ফলে তার মা তাকে সব সমস্যা থেকে আগলে রেখে পরম মমতায় বড় করেছেন। অন্যের
সমালোচনা থেকে দিয়াকে আড়াল করেছেন। 'সুভা' গল্পে সুভা মুখে কথা বলতে পারত
না, তবে তার মাঝে বোধশক্তি ছিল। তার বোধশক্তি দ্বারা সে অনেক কিছু বুঝে
নিত। তবু সুভার মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক ভাবতেন। সুভার ত্রুটিকে
নিজের লজ্জার কারণ মনে করতেন। মা অপেক্ষা বাবা সুভাকে বেশি স্নেহ করতেন।
প্রকৃতি ও পশুপাখির সঙ্গে সুভার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। গ্রাম ছেড়ে কলকাতায়
যাওয়ার সময় তার এই সত্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুভা নিজে নিজের অক্ষমতা ভুলে
থাকার জন্য কল্পনাবিলাসী হয়ে উঠত। মনের অজান্তে কল্পনার মধ্য দিয়ে সে
অন্যের কাছে গুরুত্ব লাভ করত।
➠ উদ্দীপকের দিয়া প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে সুভার মতো হলেও সুভার আলাদা
কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। সুভার প্রখর বোধশক্তি, প্রকৃতিপ্রেম ও সম্পর্ক,
কল্পনাপ্রবণতা ছিল। এই দিক এবং মায়ের অনাদরের দিক থেকে দিয়া অপেক্ষা তার
জীবন হয়েছে আলাদা। আর এ কারণেই বলা যায়, উদ্দীপকের দিয়া ‘সুভা’ গল্পের
সুভা নয়।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দিয়ার বয়স সতেরো পেরিয়ে আঠারোয় পড়েছে। ওর সমবয়সী অনেকেই বিয়ে-শাদি করে
রীতিমতো সংসারী। কিন্তু দিয়ার জন্ম থেকেই হাত দুটো অসাড় হওয়ায় অন্যদের
মতো তার সংসার করা হয়নি। দিয়ার বিধবা মা মলিনা বেগম এতে বিচলিত নন। ছোট
ছেলে পনেরো বছরের রাতুলের চেয়ে কোনো অংশে দিয়ার আদর-যত্ন তিনি কম করেন
না। পাড়ার দু-একজন অবশ্য দিয়ার বিকাশের পথে জিন- ভূতের আছরকে দায়ী করে।
কিন্তু ওসব পাত্তা দেন না মলিনা বেগম।
ক. ‘সুভা’ গল্পে কাকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে?
খ. “এই বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব
আছে।”- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের বৈসাদৃশ্য
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের দিয়া কি ‘সুভা’ গল্পের সুভা? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি
দেখাও।
ক. ‘সুভা’ গল্পে প্রতাপকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে।
খ. “এই বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব
আছে।”- ‘সুভা’ গল্পের লেখকের এ উক্তিটি তাৎপর্যপূর্ণ।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা বাক্প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে। না।
ফলে সুভার বয়সী ছেলেমেয়েরা তার সঙ্গে মেশে না। তাই সে নিজেকে পরিবার ও
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। সে প্রকৃতির কাছে নিজেকে মেলে
ধরে। নদীর কলধ্বনি, পাখির ডাক, মাঝির গান, লোকের কোলাহল ইত্যাদি দিয়ে
প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। সুভা যখন নদীর পাড়ে এসে বসে তখন
প্রকৃতির নানা উপাদান নিজের সমস্ত ভাষা দিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো সুভার
হৃদয়ে আছড়ে পড়ে। নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন সুভার চোখের ভাষা ছিল
অসীম, উদার ও অতলস্পর্শ- অনেকটা গভীর স্বচ্ছ আকাশের মতো, উদয়াস্ত এবং
ছায়ালোকের নিস্তব্ধ রঙ্গভূমি। সেই চোখের ভাষা তার বয়সী ছেলেমেয়েরা বুঝতে
পারত না। এ কারণেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
গ. উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের মধ্যে সন্তানের
প্রতি আচরণগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষেরা আমাদের অবহেলার পাত্র নয়। তারাও আমাদের
সমাজেরই অংশ। অথচ আমরা তাদের অবহেলা করি, এড়িয়ে চলি। তাদের সাথে এমন
অমানবিক আচরণ না করে বরং তাদেরকে আপন করে কাছে টেনে নিলে তারাও আমাদের
মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।উদ্দীপকে একজন প্রতিবন্ধী
কন্যাসন্তানের প্রতি মায়ের গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে মা
মলিনা বেগম প্রতিবন্ধী মেয়ে দিয়াকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। জন্ম থেকেই দিয়ার
দুহাত অসাড়। ফলে তার মা মলিনা বেগম মেয়ের প্রতি যত্ন নিয়েছেন। তিনি দিয়ার
অক্ষমতাকে নিজের ত্রুটি হিসেবে দেখেন না, দিয়াকে তাচ্ছিল্য করেন না। তিনি
ছেলেকে যেমন আদর-যত্ন করেন, দিয়াকেও তেমনই আদর- যত্ন করেন।
পাড়াপ্রতিবেশীরা দিয়ার ব্যাপারে কোনো কথা বললে তাতে তিনি বিশেষ বিচলিত হন
না।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভার মায়ের মাঝে এ বিষয়গুলো দেখা যায় না। সুভা জন্ম
থেকেই কথা বলতে অক্ষম। সুভার এই ত্রুটিকে তার মা নিজের অযোগ্যতা মনে
করেন। সুভার কথা বলতে না পারা যেন তারই গর্ভের কলঙ্ক। তিনি সুভার এই
অসম্পূর্ণতাকে নিজের লজ্জার কারণ মনে করে সুভাকে সহ্য করতে পারেন না। তাই
বলা যায়, উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের মধ্যে
প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি আচরণগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. না, উদ্দীপকের দিয়া ‘সুভা’ গল্পের সুভা নয়।
➠ সমাজে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে কেউ শারীরিকভাবে
সক্ষম, আবার কেউ অক্ষম। শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষ সব সময়ই অবহেলার পাত্র
হয়। আমরা যদি তাদের প্রতি আন্তরিক হই এবং সহানুভূতি দেখাই, তাহলে তারা
আমাদের মতোই সুন্দরভাবে বাঁচতে পারবে।
➠ উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিয়া জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার হাত দুটো অসাড়।
ফলে তার মা তাকে সব সমস্যা থেকে আগলে রেখে পরম মমতায় বড় করেছেন। অন্যের
সমালোচনা থেকে দিয়াকে আড়াল করেছেন। ‘সুভা’ গল্পে সুভা মুখে কথা বলতে পারত
না, তবে তার মাঝে বোধশক্তি ছিল। তার বোধশক্তি দ্বারা সে অনেক কিছু বুঝে
নিত। তবু সুভার মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক ভাবতেন। সুভার ত্রুটিকে
নিজের লজ্জার কারণ মনে করতেন। মা অপেক্ষা বাবা সুভাকে বেশি স্নেহ করতেন।
প্রকৃতি ও পশুপাখির সঙ্গে সুভার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। গ্রাম ছেড়ে কলকাতায়
যাওয়ার সময় তার এই সত্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুভা নিজে নিজের অক্ষমতা ভুলে
থাকার জন্য কল্পনাবিলাসী হয়ে উঠত। মনের অজান্তে কল্পনার মধ্য দিয়ে সে
অন্যের কাছে গুরুত্ব লাভ করত।
➠ উদ্দীপকের দিয়া প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে সুভার মতো হলেও সুভার আলাদা
কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। সুভার প্রখর বোধশক্তি, প্রকৃতিপ্রেম ও সম্পর্ক,
কল্পনাপ্রবণতা ছিল। এই দিক এবং মায়ের অনাদরের দিক থেকে দিয়া অপেক্ষা তার
জীবন হয়েছে আলাদা। আর এ কারণেই বলা যায়, উদ্দীপকের দিয়া ‘সুভা’ গল্পের
সুভা নয়।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপক- i:
“এমন যদি হত
ইচ্ছে হলে আমি হতাম
প্রজাপতির মত।
নানান রঙ্গের ফুলের পরে
বসে যেতাম চুপটি করে
খেয়াল মত নানান ফুলের
সুবাস নিতাম কত।”
উদ্দীপক- ii:
মেধাবী শিক্ষার্থী শ্রেয়সী দুর্ঘটনায় দুটি পা হারালে তার মধ্যবিত্ত
বাবা-মা অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শেখান। সহপাঠিরাও সাহায্য সহযোগিতা করে।
এখন সে একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক।
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান?
খ. বাণীকন্ঠের পরিবারকে একঘরে করবে এমন জনরব শুনা যায় কেন?
গ. উদ্দীপক- i-এর সাথে ‘সুভা’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটির পরিচয় দাও।
ঘ. উদ্দীপক- ii-এর শ্রেয়সীর মতো যদি সুভার বাবা-মা ও বন্ধুরা হতো তাহলে
সুভার পরিণতি ভিন্ন হতো। মন্তব্যটির যথার্থতা প্রতিপন্ন করো।
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
খ. সুভার বিয়ে না দেওয়ায় বাণীকণ্ঠের পরিবারকে একঘরে করবে, এমন জনরব শুনা
যায়।
➠ সুভা হলো বাণীকণ্ঠের তৃতীয় কন্যা। জন্ম থেকেই বাশক্তি না থাকায় তার
বিবাহের বিষয়টি হয়ে ওঠে জটিল ও অনিশ্চিত। সময়ের প্রবাহে সুভার বয়স বাড়লেও
পিতার পক্ষে উপযুক্ত পাত্র জোগাড় করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এই ব্যর্থতাকে
ঘিরে সমাজের নানা কটাক্ষ ও নিন্দা এসে পড়ে বাণীকন্ঠের ঘাড়ে। অথচ তিনি
ছিলেন সচ্ছল গৃহস্থ-নিত্যদিনের আহার হিসেবে মাছ-ভাতের অভাব ছিল না তাঁদের
ঘরে। এই স্বাচ্ছন্দ্য জীবনযাপনই ছিল অনেকের ঈর্ষার কারণ। ফলে, গ্রামের
মানুষজন তাদেরকে একঘরে করবে এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে জনসমাজে।
গ. উদ্দীপক-i এর সাথে সুভা গল্পের প্রকৃতির মাঝে অসহায় মানুষের আশ্রয়
নিয়ে সচ্ছন্দ্য পাওয়ার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ জন্ম থেকে সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। তার সাথে কেউ মিশে না। তাকে সবাই এড়িয়ে
চলে। তার মাও তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করে বিরক্তি অনুভব করে।
একমাত্র তার বাবার কাছ থেকে সে স্নেহ-মমতা পেয়ে থাকে। সুভা এক প্রকার
সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তখন সে প্রকৃতির কাছে আশ্রয় নেয়।
প্রকৃতি তার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়। প্রকৃতি যেন তার হয়ে কথা বলে। তার
চোখের ভাষা প্রকৃতি উপলব্ধি করতে পারে। তাই সুভার হৃদয়-মনের সাথে প্রকৃতি
এক হয়ে মিশে গেছে।
➠ উদ্দীপক-i এর কবিতাংশে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এক অন্তর্নিহিত
আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে। কবি বলেন, তিনি যদি প্রজাপতি হতেন তাহলে ফুলে
ফুলে উড়ে বেড়াতেন। তিনি প্রকৃতির এই অনন্য রঙে, সুবাসে ও সৌন্দর্যের মাঝে
হারিয়ে যেতে চান। কবির মনে প্রজাপতির মতো হবার ইচ্ছার মধ্যে দিয়ে তিনি
বাস্তবতার সীমা পেরিয়ে কল্পনার জগতে চলে গেছেন। মূলত কবি ফুলের সুবাস
গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃতির সান্নিধ্যে আনন্দ খোঁজার কথাই বলেছেন। এতে
মানুষের অন্তর্নিহিত স্বাধীনচেতা মনোভাব ও সৌন্দর্য পিপাসা প্রতিফলিত
হয়েছে। তাই ‘সুভা’ গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভা সহজেই প্রকৃতির মাঝে তার
আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল। প্রকৃতির সঙ্গে সুভার সম্পর্কের দিকটি উদ্দীপকে
ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপক-ii এর শ্রেয়সীর মতো যদি সুভার বাবা-মা ও বন্ধুরা হতো তাহলে
সুভার পরিণতি ভিন্ন হতো মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘সুভা’ গল্পের ‘সুভাষিণী’ বা ‘সুভা’ বাকপ্রতিবন্ধী বলে চারদিক থেকে
বৈরিতার মুখোমুখি হয়। তার মা তাকে নিজের ক্রটিস্বরূপ দেখতেন। প্রতিবেশীরা
তার সামনেই তাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করত। সুভার বিয়ে হতে বিলম্ব হওয়ায়
সামাজিকভাবে তাদের একঘরে করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। প্রিয় ভালোবাসার
জন্মভূমি ছেড়ে তাকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। প্রিয় প্রকৃতি, গৃহপালিত
পশুগুলো ও প্রতাপের সঙ্গ থেকে তাকে বঞ্চিত হতে হবে, এটা ভেবে সুভার মন
ডুকরে কেঁদে ওঠে। তার নিজেকে অসহায় ও বিপন্ন মনে হয়। এভাবে প্রতি পদে পদে
সুভাকে বিড়ম্বনা পোহাতে হয়।
➠ উদ্দীপক-ii এ শ্রেয়সীর সহযোগিতাপূর্ণ এবং ইতিবাচক আচরণ প্রাপ্তির
বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। শ্রেয়সী প্রতিবন্ধী হলেও তার মা-বাবা,
পাড়া-প্রতিবেশী এবং বন্ধু-বান্ধবরা তার প্রতি হতাশ হয় না বরং তার প্রতি
সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করে তাকে গড়ে তোলে। ফলে সে একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক
হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। কিন্তু গল্পের সুভার ক্ষেত্রে হয়েছে এর
সম্পূর্ণ বিপরীত। সুভা কেবল তার বাবার স্নেহ আর ভালোবাসাই পেয়েছে। আর
স্বামী নির্বাচনের সময় সুভাকে তার জন্মভূমি ছাড়তে হয়েছে।
➠ সবার সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ পেয়ে উদ্দীপক-ii এর শ্রেয়সী প্রতিবন্ধিত্বের
বাধা অতিক্রম করে, স্বাভাবিক জীবন-যাপন করে নিজেকে সমাজের উপযুক্ত করে
গড়ে তুলেছে। শ্রেয়সীর এই সাফল্যের পেছনে তার মা-বাবা, সহপাঠিদের
সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু ‘সুভা’ গল্পের সুভা
স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্য যা প্রয়োজন তা সে আপনজনদের কাছ থেকে পায়নি।
চারপাশে বৈরিতার কারণে সুভা দিন দিন নিজেকে মানুষ থেকে দূরে রেখেছে। তার
মধ্যেও ভালো কিছু আছে, সেই চিন্তা করার মতো সুযোগও তার ভেতর জাগ্রত হয়নি
চারপাশের এই বিরূপ পরিবেশের কারণে। মানুষের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা আছে
তার বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা উদ্দীপকের শ্রেয়সী পেলেও
‘সুভা’ গল্পের সুভা তা পায়নি, পেলে হয়তো সুভার জীবনে বিড়ম্বনা তৈরি হতো
না। উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিচর্যা পেলে সুভাও শ্রেয়সীর মতো হয়ে উঠত উপরের
আলোচনায় তা প্রতীয়মান হয়।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূ এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ। তার অনুভবের জগৎ
সমৃদ্ধ। অনুভবশক্তি দিয়ে সে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। এমনকি
ঋতু ও প্রকৃতির পরিবর্তনও সে বুঝতে পারে। আত্মমর্যাদাবোধেও সে সচেতন।
দীঘিরঘাটে যখন ‘শ্যাওলা পড়া পিছল সিঁড়ি জাগে’ তখন সে পিছল খেয়ে জলে পড়ে
ডুবে মরার ভয় করে। সে এও ভাবে যে, ডুবে মরলে তার অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচত।
ক. সুভার প্রকৃত নাম কী?
খ. মাতা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করে কেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পের পরিণতি সম্পূর্ণ আলাদা”-
বিশ্লেষণ করো।
ক. সুভার প্রকৃত নাম ‘সুভাষিনী’।
খ. কথা বলতে না পারায় মাতা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করে।
➠ ‘সুভা’ গল্পের প্রধান চরিত্র সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। অনুভব-অনুভূতির দিক
থেকে সে অন্য দশজনের মতোই, তবুও তার মা কখনোই তাকে স্নেহভরে আপন করে নিতে
পারেনি। বরং মা তাকে নিজের গর্ভজাত এক অপূর্ণতার প্রতিচ্ছবি মনে করত।
সাধারণত মায়েরা তাদের কন্যাসন্তানকে নিজেদের অংশ হিসেবে ভাবে, তাই মেয়ের
যেকোনো সীমাবদ্ধতাকে তারা নিজের ব্যর্থতা বলে মনে করে। সুভার মায়ের
ক্ষেত্রেও এই মর্মান্তিক সত্যই প্রতিফলিত হয়েছে-কথা বলতে না পারায় সে
সুভাকে বিধাতার দেওয়া অভিশাপ হিসেবে গণ্য করে।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের বাকপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীর কষ্টের
দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক প্রতিবন্ধী কন্যা, যার নাম
সুভা। মুখের ভাষার অভাব তাকে সমাজের এক নিঃসঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থানে
দাঁড় করিয়ে দেয়। বারুদ্ধ এই জীবনের বেদনাকে ভাগ করে নেওয়ার মতো কিছু বোবা
প্রাণীই হয়ে ওঠে তার নিঃশব্দ জগতের একমাত্র আপনজন। ভাষাহীনতার কারণে তাকে
পারিবারিক অনাদর ও সামাজিক অবহেলার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়
বারবার।
➠ উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে এক দৃষ্টিহীন গৃহবধূর নিঃশব্দ যন্ত্রণার করুণ
চিত্র। দৃষ্টিশক্তির অভাবে সে ইন্দ্রিয়ের তীব্র অনুভব দিয়ে চারপাশের
প্রকৃতি ও পরিবেশকে বোঝার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যায়। কিন্তু নিজের
অক্ষমতার সীমা তাকে ঘিরে রাখে গভীর বেদনায়। তাই কোনো কোনো মুহূর্তে তার
মনে হয়, শ্যাওলা-ঢাকা দীঘির পিছল ঘাটে নিঃশব্দে ডুবে যাওয়াই হয়তো তার
মুক্তির পথ। একইভাবে, আলোচ্য গল্পের সুভাও প্রতিবন্ধিতার কারণে পরিবার
এবং সমাজের অবহেলার শিকার হয়। মনের অব্যক্ত দুঃখানুভূতি সে নিজের ভেতরেই
চেপে রাখে। কখনো কখনো মুক্ত প্রকৃতির কাছে তা বয়ান করে। এই দিক থেকে সুভা
ও উদ্দীপকের দৃষ্টিহীন গৃহবধূ চরিত্রদ্বয় সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রতিবন্ধিতার
দরুণ উভয়েই নিদারুণ অন্তর্যাতনায় দগ্ধ হয়। আর এই দিকটি উদ্দীপকের সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পের পরিণতি সম্পূর্ণ
আলাদা- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘সুভা’ গল্পে লেখক এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর অন্তর্জগত ও বহুবিধ
সামাজিক প্রতিবন্ধকতার চিত্র উন্মোচন করেছেন। সুভা কথা বলতে না পারায় তার
মা তাকে নিজ গর্ভের কলঙ্ক মনে করে। পরিবারেও তার আপনজনের সংখ্যা নগণ্য।
তাই ভাষার জগত থেকে বিচ্ছিন্ন এই কিশোরী আপন করে নেয় প্রকৃতির নিঃশব্দ
আলিঙ্গনকে, যেখানে সে গড়ে তোলে একান্ত নিজস্ব এক স্বপ্নলোক।
বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তার পিতা বাণীকণ্ঠ সুভার উপযুক্ত পাত্রের
সন্ধানেও ব্যর্থ হন। সময় গড়াতে থাকলে সমাজের লোকেরা নানান তির্যক মন্তব্য
ছুড়ে দিতে থাকে। সবশেষে, অপমান ও দুঃখে জর্জরিত বাণীকণ্ঠ সিদ্ধান্ত নেন
পরিবারসহ নিজ গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় পাড়ি জমাবেন।
➠ উদ্দীপকে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূর মর্মস্পর্শী জীবনের কাহিনি তুলে
ধরা হয়েছে। চোখে না দেখতে পেলেও তার অনুভবের তীক্ষ্ণতা আশ্চর্য রকম
প্রগাঢ়। ইন্দ্রিয়ের শক্তিতেই সে অনায়াসে উপলব্ধি করে প্রকৃতি ও পরিবেশের
সূক্ষ্ম পরিবর্তন। তবুও এই উপলব্ধির গভীরে লুকিয়ে থাকে অসীম বেদনা,
অন্তহীন যন্ত্রণা। তাই কখনো তার মনে হয়-শ্যাওলা-ঢাকা দীঘির ঘাটে নিঃশব্দে
ডুবে গেলে যেন সমস্ত কষ্টের ইতি ঘটবে। মৃত্যুই তাকে এনে দেবে চিরশান্তির
আশ্রয়।
➠ গল্পের সুভা জন্মগতভাবে স্বাভাবিক হলেও নিয়তির নির্মম পরিহাস তাকে
বাকপ্রতিবন্ধীত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে তোলে। পিতা তার প্রতি স্নেহশীল
থাকলেও মায়ের কাছে সে যেন এক অবাঞ্ছিত ভার। অপরদিকে, উদ্দীপকের
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূটিও সমাজের অবহেলা ও উপেক্ষার শিকার হয়ে গভীর
মানসিক যন্ত্রণায় ভোগে। সেই অব্যক্ত যন্ত্রণা থেকেই তার মনে মৃত্যুর
আকুতি জাগে। উভয় চরিত্রই প্রতিবন্ধিতার অভিশাপে দগ্ধ হলেও, তাঁদের জীবনের
গতিপথ ভিন্ন। উদ্দীপকের গৃহবধূ অন্ধ হয়েও বিবাহিত জীবন পায়, এবং
আত্মমর্যাদাবোধে সচেতন থাকে। কিন্তু সুভার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে
দাঁড়ায় এক বিশাল সামাজিক বাধা, যার ফলে বিয়ে দিতে গিয়ে বাণীকণ্ঠকে নানা
অপমান সহ্য করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে পরিবারসহ কলকাতায় চলে যেতে
হয়।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জন্ম থেকেই রাইমা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তবে বাবা-মায়ের পরম যত্ন, সহযোগিতা
এবং নিজের চেষ্টায় আজ সে সমাজে সম্মানের সাথে প্রতিষ্ঠিত। স্বাবলম্বী হয়ে
রাইমা প্রমাণ করেছে যে, প্রতিবন্ধীরা সমাজ ও পরিবারের বোঝা নয়। উপযুক্ত
পরিবেশ পেলে তারাও দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
ক. সুভার পিতার নাম কী?
খ. প্রতাপের প্রতি তার বাবা-মায়ের নিরাশ হওয়ার কারণ বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের রাইমার সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “উদ্দীপকের রাইমার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকটিই ‘সুভা’ গল্পের লেখকের
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
ক. সুভার পিতার নাম বাণীকণ্ঠ।
খ. প্রতাপের প্রতি তার মা-বাবার নিরাশ হবার কারণ তাদের ছেলেটি ছিল
অকর্মণ্য।
➠ ‘সুভা’ গল্পের অন্যতম একটি চরিত্র হলো প্রতাপ। সে গোসাই বাড়ির ছোটো
ছেলে। নিতান্ত অকর্মণ্য প্রতাপ নিজের সংসারের কোনো উপকারে আসে না বরং
সমাজের অন্যান্য মানুষের প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে তাদের উপকার করে থাকে। এ
কারণে প্রতাপকে নিয়ে তার মা-বাবা নিরাশ।
গ. সুভার প্রতি অবহেলার দিকটিই উদ্দীপকের রাইমার সাথে ‘সুভা’ গল্পের
সুভার বৈসাদৃশ্য।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা জন্ম থেকে বাষ্প্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না।
সমবয়সীর মধ্যে কেউ তাকে সঙ্গ দেয় না। এমনকি নিজের মাও তাকে গর্ভের কলঙ্ক
জ্ঞান করে এবং তার প্রতি বিরক্ত ছিলেন। পরিবার এবং প্রতিবেশীরা তার
ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে, সেটি সুভা ছোটোকাল থেকে
উপলব্ধি করেছে। তাই সে সবার কাছ থেকে এরকম অবহেলা পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেয়
এবং বাকহীন পরিবেশ ও প্রাণীর সাথে সখ্য গড়ে তুলে।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত রাইমা জন্ম থেকেই ছিল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তবে এই
প্রতিবন্ধকতা তার জীবনযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। পিতা-মাতার
ভালোবাসা, যত্ন ও সহযোগিতা এবং নিজের অদম্য চেষ্টায় সে সমাজে মর্যাদার
আসনে আসীন হতে সক্ষম হয়। রাইমার জীবনের এই জয়গাথা ‘সুভা’ গল্পের সুভা
চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুভাও জন্ম থেকেই বাষ্প্রতিবন্ধী,
কিন্তু তার জীবনে সেভাবে কেউ এগিয়ে আসেনি পথ দেখাতে। নিজের মায়ের কাছ
থেকেও সে পায়নি ভালোবাসা কিংবা সহানুভূতি। সমাজ তো বটেই, পরিবার থেকেও
বারবার সে পেয়েছে অবজ্ঞা, অবহেলা ও উপেক্ষা। আর এখানেই রাইমা ও সুভার
জীবনের গন্তব্যপথ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। যেখানে রাইমা এগিয়ে যায়
সম্মানের দিকে, আর সুভা মানিয়ে নেয় প্রকৃতির মাঝে।
ঘ. উদ্দীপকের রাইমার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দিকটিই ‘সুভা’ গল্পের লেখকের
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘সুভা’ গল্পে গল্পকার বাষ্প্রতিবন্ধী এক কিশোরীর জীবনবাস্তবতার সামাজিক
চিত্র অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সুভা মনের ভাব সবার মতো করে
প্রকাশ করতে পারে না। বোবা হয়ে জন্মগ্রহণ করায় সে যেনো নিজেকে বিধাতার
অভিশাপরূপে দেখে। মা মনে করে এ তার নিয়তির দোষ। কিন্তু বাবা সুভাকে অনেক
ভালোবাসেন। সমবয়সী ছেলেমেয়েরা সুভাকে, ভয় পেত। তাই সে বন্ধুত্বের বন্ধন
গড়ে তুলেছিল গোয়ালের দুটি গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলির সাথে। অনিশ্চিত
ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সুভার চিরপরিচিত পরিবেশকে আঁকড়ে ধরে রাখার প্রচেষ্টার
মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে গল্পটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত প্রতিবন্ধী মানুষের
আশ্রয়ের জন্য একটি জগৎ তৈরি করেছেন এবং সেইসঙ্গে তাদের প্রতি আমাদের
মমত্ববোধের উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে রবীন্দ্রনাথের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের বিজয় সাধিত হয়েছে রাইমার
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। রাইমার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে তার
বাবা-মায়ের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তার মা-বাবা মেয়ের প্রতিবন্ধিত্বকে
গুরুত্ব দেননি বরং মেয়ের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হওয়ার ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন।
কিন্তু ‘সুভা’ নিজের মধ্যে থাকা সুপ্তপ্রতিভাকে বিকশিত করার জন্য
আপনজনদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায়নি। চারপাশে বৈরিতার কারণে ‘সুভা’
দিন দিন নিজেকে মানুষ থেকে দূরে রেখেছে। তার মধ্যেও ভালো কিছু আছে, সেই
চিন্তা করার মতো সুযোগও তার ভেতর জাগ্রত হয়নি চারপাশের এই বিরূপ পরিবেশের
কারণে। মানুষের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা আছে তার বিকাশের জন্য উপযুক্ত
পরিবেশ ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
➠ অতএব, আলোচনা থেকে দেখা যায়, ‘সুভা’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন
প্রতিবন্ধীদের প্রতি মমত্ববোধের উন্মেষ ঘটানোর আকাঙ্ক্ষা করেছেন তারই
প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের রাইমার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। সুতরাং,
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
এগারো বছরের কিশোর মিদুল প্রায়ই রাস্তার পাশে একাকী বসে থাকে। সব
ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করলেও তাকে কখনো নেয় না। ছেলেটি ধান কাটতে পারে,
নাও বাইতে পারে, অসাধারণ, ছবি আঁকতে পারে। শুধু মুখদিয়ে লালা ঝরে ও
বাঁকিয়ে হাঁটে বলে সবাই তাকে এড়িয়ে থাকতে চায়। কিন্তু একজন সমাজকর্মী
আদিলা তার পিতা-মাতা ও সমবয়সীদের বুঝান যে, “মিদুল সমাজের বোঝা নয়। তারও
আছে বাঁচার অধিকার।”
ক. প্রতাপের প্রধান শখ কী?
খ. সুভা অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত কেন? বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মিদুলের মাঝে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্যগত দিক
ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত “সমাজকর্মীর চেতনা ও ‘সুভা’ গল্পের গল্পকারের
চেতনা-অভিন্ন”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
ক. প্রতাপের প্রধান শখ হলো ছিপ ফেলে মাছ ধরা।
খ. সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত প্রতাপকে
জানিয়ে দিতে যে পৃথিবীতে সেও একজন কম প্রয়োজনীয় লোক নয়।
➠ প্রতাপ যখন জলে মাছ ধরত, সুভা তখন তেতুলতলায় বসে থাকতো। তার খুব ইচ্ছা
করতো প্রতাপকে একটা বিশেষ সাহায্য করতে, একটা কোন কাজে লাগতে। কিন্তু তার
কিছুই করবার ছিল না। তখন সে মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা
প্রার্থনা করতো। যা দেখে প্রতাপ আশ্চর্য হয়ে বলবে, তাই তো, আমাদের সুভির
যে এত ক্ষমতা তাহা তো জানিতাম না।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত মিদুলের পিতা-মাতা ও সমবয়সীদের আচরণ ‘সুভা’ গল্পের
সুভার সাদৃশ্যগত দিক।
➠ জন্ম থেকে সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। তার সাথে কেউ মিশে না। তাকে সবাই এড়িয়ে
চলে এবং তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যও করে। তার মাও তাকে নিজের গর্ভের
কলঙ্ক জ্ঞান করে বিরক্তি অনুভব করে। তাদের এই, অসহযোগিতমূলক আচরণের
কারণেই সুভা নির্বাক প্রকৃতির সাথে সখ্য গড়ে তোলে। যদিও সুভার বাবা
সুভাকে ভালোবাসতো কিন্তু অন্য সবার অসহযোগিতার কারণেই সুভা তার একটা
নিজস্ব জগৎ গড়ে তোলে।
➠ উদ্দীপকে মিদুল এগারো বছর বয়সী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর। সে প্রায়শই
একাকী বসে থাকে রাস্তার ধারে, কারণ তার সমবয়সীরা তাকে খেলায় নিতে চায় না।
অথচ ধান কাটার কাজ হোক বা নৌকা চালানো কিংবা ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল
কর্মকাণ্ড-সবকিছুতেই সে পারদর্শী, তবু শুধুমাত্র প্রতিবন্ধিতার কারণে
সমাজ তাকে প্রত্যাখ্যান করে, এড়িয়ে চলে। এভাবেই উদ্দীপকের গল্প ও ‘সুভা’
উভয় ক্ষেত্রেই সমাজের প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি বিদ্যমান নেতিবাচক মনোভাব
এবং বৈষম্যমূলক আচরণের অদৃশ্য ছবি তুলে ধরে। এ কারণেই এই দুই কাহিনির
মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মীর চেতনা ও ‘সুভা’ গল্পের গল্পকারের চেতনা
অভিন্ন।- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘সুভা’ গল্পে গল্পকার বাষ্প্রতিবন্ধী এক কিশোরীর জীবনবাস্তবতার সামাজিক
চিত্র অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বোবা হয়ে জন্মগ্রহণ করায় সে
যেন নিজেকে বিধাতার অভিশাপরূপে দেখে। মা মনে করে এ তার নিয়তির দোষ।
কিন্তু যাবা সুভাকে অনেক ভালোবাসেন। সমবয়সী ছেলেমেয়েরা সুভাকে ভয় পেত।
তাই সে বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তুলেছিল গোয়ালের দুটি গাভী সর্বশী ও
পাঙ্গুলির সাথে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সুভার চিরপরিচিত পরিবেশকে
আঁকড়ে ধরে রাখার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে গল্পটি। রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুর মূলত প্রতিবন্ধী মানুষের আশ্রয়ের জন্য একটি জগৎ তৈরি করেছেন এবং
সেইসঙ্গে তাদের প্রতি আমাদের মমত্ববোধের উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন।
➠ উদ্দীপকের আদিলা একজন সমাজকর্মী। তিনি মিদুলের প্রতি হওয়া বিরূপ আচরণের
প্রতিবাদ জানান। মিদুলের মুখ দিয়ে লালা ঝরা ও তার বাঁকিয়ে হাঁটার কারণে
সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। তাই তিনি মিদুলের পিতা-মাতা ও সমবয়সীদের বুঝান যে,
মিদুল সমাজের বোঝা নয়, তারও আছে বাঁচার অধিকার।
➠ ‘সুভা’ গল্পে দৃশ্যমান হয় যে, বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় সুভার সামনেই মানুষ
তার ভবিষ্যত নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে। বিয়ের উপযুক্ত
হলেও বিয়ে দিতে না পারায় তার পিতা-মাতাকে মানুষের নিন্দার মুখোমুখি হতে
হয়। মানুষের অবজ্ঞা ও বৈরিতার চাপ থেকে মুক্তি পেতে সুভা আশ্রয় নেয়
প্রকৃতির কোলে। সমাজের প্রতিবন্ধীদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও তাদের
অন্তরজগতের গভীর বেদনার অনুভূতিকে লেখক সুন্দর করে তুলে ধরেছেন সুভা
চরিত্রের মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সুভা’ গল্পের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী
মানুষের প্রতি আমাদের সহানুভূতি ও স্নেহের বীজ বপন করেছেন। অনুরূপভাবে,
উদ্দীপকে মিদুলের পক্ষে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়ায় সমাজকর্মী আদিলা।
অতএব, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও প্রাসঙ্গিক।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
প্রমিতা ভালো গান করে সকল পর্যায়ে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। তাকে নিয়ে তার
পরিবারের অনেক গর্ব। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় বাশক্তি হারিয়ে ফেলে সে। গান
গাওয়া বন্ধ হয়ে যায় প্রমিতার। একসময় যারা তার বন্ধু ছিল তারা একে একে
কেটে পড়ে। আজ তার পাশে কেউ নেই। সেও ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, সবার
থেকে চোখের আড়াল হয়ে একাকিত্বকে সঙ্গী করে দিন কাটে তার।
ক. প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত কেন?
খ. প্রতাপের দিকে সুভা কেন মর্মবিদ্ধ হরিণীর মতো তাকিয়ে ছিল?
গ. উদ্দীপকের প্রমিতার নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সুভার মানসিকতার
কোন দিক প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. প্রমিতা ও সুভার প্রতি পরিজনদের আচরণ কীরূপ হলে তাদের জীবনের পরিণতি
ভিন্ন হতে পারত? যৌক্তিক মতামত দাও।
ক. মাছ ধরার সময় বাক্যহীন সঙ্গীই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হওয়ায় প্রতাপ সুভার
মর্যাদা বুঝত।
খ. সুভার বর পাওয়া গেছে, সে বিয়ে করে চলে যাবে, বিয়ের পর যেন সুভা তাকে
না ভোলে প্রতাপের মুখে এমন কথা শুনে সুভা তার দিকে মর্মবিদ্ধ হরিণীর মতো
তাকিয়ে ছিল।
➠ প্রতাপ মাছ ধরার সময় সুভা একদিন তার কাছে গেলে প্রতাপ তাকে বলে যে, তার
বর খুঁজে পাওয়া গেছে। তার বিয়ে হবে। বিয়ের পর সে যেন সবাইকে ভুলে না যায়।
এ কথা শুনে সুভা প্রতাপের দিকে এমনভাবে তাকায়, যেন মর্মবিদ্ধ হরিণী
শিকারির দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ সুভা বিয়ের জন্য রাজি ছিল না। প্রতাপের
কাছ থেকে কথাটি শুনে তার মোটেই ভালো লাগেনি। অত্যন্ত কষ্ট পায় বলে সুভা
এভাবে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।
গ. উদ্দীপকের প্রমিতার নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ‘সুভা’ গল্পের
প্রতিবন্ধিতার কারণে সুভার বিষণ্ণতা ও একাকিত্বের দিকটি প্রকাশিত
হয়েছে।
➠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সূভা। জন্ম
থেকেই কথা বলতে পারে না সে। কেউ তার সাথে মিশত না বলে প্রকৃতির সঙ্গে
মিতালি পাতিয়ে নিয়েছিল সুভা। নিজের বোবা হওয়াটাকে সে ভাগ্যবিড়ম্বনা বলে
মনে করত। একারণে নিজেকে সে সাধারণের দৃষ্টি থেকে সবসময় আড়াল করে রাখত।
➠ উদ্দীপকের প্রমিতা সড়ক দুর্ঘটনায় বাকশক্তি হারায়। একসময় সুন্দর কণ্ঠে
গান গেয়ে সবাইকে মুগ্ধ করত সে। কিন্তু বাকশক্তি হারানোর পর কাছের
বন্ধুরাও তাকে পরিত্যাগ করে। ফলে নিজেকে অসহায় মনে করে বিষণ্ণতায় ভোগে সে
এবং অন্যদের থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখে। প্রমিতার এই বিষণ্ণতা ও একাকিত্ব
যেন ‘সুভা’ গল্পের সুভার অনুভূতি ও মানসিকতাকে ধারণ করে আছে। বোবা সুভা
নিজেকে পরিবার ও সমাজের বোঝা মনে করত। উদ্দীপকের প্রমিতার মতোই নিজেকে
সবার কাছ থেকে গোপন করে রাখত সে।
ঘ. পরিজনদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা পেলে উদ্দীপকের প্রমিতা ও ‘সুভা’
গল্পের সুভার পরিণতি অন্যরকম হতে পারত।
➠ আলোচ্য গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভা চরিত্রের মধ্য দিয়ে একজন
প্রতিবন্ধীর নানা প্রতিবন্ধকতার দিক তুলে ধরেছেন। এখানে সুভা সমাজ থেকে
কোনো সহযোগিতা পায়নি। পরিবারেও সে ছিল অবহেলিত। তার বাবা তাকে অন্য
মেয়েদের চেয়ে বেশি ভালোবাসলেও তার মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন।
সে কথা বলতে না পারলেও তার যে অনুভবশক্তি আছে তা কেউ মনে করত না। একারণে
সকলে সুভার সামনেই তার ভবিষ্যৎ সম্বন্দ্বে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। ফলে
সুভা শিশুকাল থেকেই মনে করত যে, সে বিধাতার অভিশাপরূপে জন্মগ্রহণ
করেছে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, সংগীতশিল্পী হিসেবে সুনাম অর্জনকারী প্রমিতার
আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাকশক্তি হারিয়ে যায়। একারণে একসময় যারা তার ভালো
বন্ধু ছিল তারা দূরে সরে যায়। প্রমিতা সকলের কাছেই অবহেলার পাত্র হয়ে
ওঠে। যে সময় সবাইকে তার কাছে পাওয়ার প্রয়োজন ছিল সেসময় সবাই তাকে দূরে
সরিয়ে দেয়। পাশে কাউকে না পেয়ে নিজেকে সে গুটিয়ে নেয়। সবার কাছ থেকে
নিজেকে আড়াল করে একাকিত্বকে সঙ্গী করে দিন কাটে তার। আলোচ্য গল্পের সুভাও
স্বজনদের কাছ থেকে এমন অবহেলাই পেয়েছিল।
➠ প্রতিবন্ধীদেরও মানসিক অনুভূতি থাকে। সঠিক যত্ন পেলে তারা নিজেদের
বিকশিত করতে পারে। আমাদের উচিত প্রতিবন্ধীদের পাশে থেকে তাদের প্রতি
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সুভা ও প্রমিতা যদি সমাজ ও পরিবার থেকে
সহমর্মিতা ও সহযোগিতা পেত তাহলে তারাও পরিবার তথা সমাজে বিভিন্নভাবে
অবদান রাখতে পারত। সুভার পরিবার তার প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ আচরণ করলে তাকে
নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র যেতে হতো না। আবার উদ্দীপকের প্রমিতাও গান গেয়ে
যেভাবে সুনাম কুড়িয়েছিল, পরিবার ও বন্ধুরা পাশে থাকলে সে হয়তো অন্য কোনো
বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারত। দুঃসহ একাকিত্ব নয়, তখন তার বেঁচে থাকার
অবলম্বন হতো এগিয়ে যাওয়ার আশাবাদ। তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়,
পরিজনদের সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা পেলে ‘সুভা’ গল্পের সুভা ও
উদ্দীপকের প্রমিতার পরিণতি অন্যরকম হতে পারত।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ওমা জাবিদ, জহির ও খালিদ তিন বন্ধু একই স্কুলে একই শ্রেণিতে পড়ে এবং
একসাথে স্কুলে যায়। জাবিদের মাঝে মধ্যে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে কষ্ট হয়। পা
অবশ হয়ে আসে। পথ চলতে গিয়ে কখনো কখনো বসে পড়ে সে। জহির ও খালিদ তাকে সঙ্গ
দেয়। এতে তাদের মাঝে মাঝে স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। জাবিদের মায়ের
কাছ থেকে জানা যায়, ছোটোবেলায় তার ভীষণ অসুখ হওয়ার পর থেকে তার এ
সমস্যাটি দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে জামিল স্যার জাবিদকে সহযোগিতার
জন্য খালিদ ও জহিরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
ক. ‘কিশলয়’ অর্থ কী?
খ. ‘তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা’-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের জাবিদ আর ‘সুভা’ গল্পের সুভার মিল কোথায়? বর্ণনা দাও।
ঘ. “উদ্দীপকের জামিল স্যার ও জাবিদের বন্দুদের ভূমিকা ‘সুভা’ গল্পের
লেখকের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।”- বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘কিশলয়’ অর্থ গাছের নতুন পাতা।
খ. প্রশ্নোত্ত উক্তিটি দ্বারা লেখক নির্বাক সুভার অসহায়ত্ব এবং প্রকৃতির
কাছে তার নির্ভরতা ও আশ্রয় লাভের বাসনার স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
➠ বাকপ্রতিবন্ধী সুভার আশ্রয়ের অন্যতম জগৎ প্রকৃতি। নিস্তব্ধ প্রকৃতির
কাছে সে পায় মুক্তির আনন্দ। তাই যখন কলকাতায় যাওয়ার দিন স্থির হয় তখন
অজানা ভয়ে শঙ্কিত সুভা চিরপরিচিত নদীতটে লুটিয়ে পড়ে প্রকৃতি মায়ের কাছে
আশ্রয় প্রার্থনা করে। মূলত সে যেমন প্রকৃতিকে ভালোবাসে, সেই ভালোবাসার
অধিকারে প্রকৃতির কাছে সেও আশ্রয়প্রার্থী- প্রশ্নোক্ত উক্তিতে এ বিষয়টিই
প্রকাশ পেয়েছে।
গ. শারীরিক প্রতিবন্ধকতার দিক থেকে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাথে উদ্দীপকের
জাবিদের মিল রয়েছে।
➠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সুভা’ গল্পে এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীর প্রতি
লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। জন্ম থেকেই সুভা কথা বলতে
পারে না। কেউ তার সঙ্গে মেশে না, খেলে না। সবাই তাকে বোঝা মনে করে
অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে। তাই সমাজের দৃষ্টিপথ থেকে নিজেকে আড়াল করে সুভা
প্রকৃতির মাঝে গড়ে তোলে আপন জগৎ।
➠ উদ্দীপকের জাবিদ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। বিদ্যালয়ে হেঁটে যেতে
তার কষ্ট হয়, পা অবশ হয়ে আসে। পথ চলতে গিয়ে কখনো কখনো বসে পড়ে সে।
ছোটোবেলায় একবার ভীষণভাবে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তার এ সমস্যাটি দেখা দেয়।
আলোচ্য গল্পের সুভাও প্রতিবন্ধিতার শিকার। তাই বলা যায়, শারীরিক
প্রতিবন্ধী হওয়ার দিক থেকে সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের জাবিদের মিল রয়েছে।
ঘ. প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায়
উদ্দীপকের জামিল স্যার ও জাবিদের বন্ধুরা 'সুভা' গল্পের লেখকের
আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
➠ ‘সুভা’ গল্পে প্রতিবন্ধী মানুষদের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপরিসীম
ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশিত হয়েছে। পরম মমতায় গল্পে তিনি বাকপ্রতিবন্ধী
এক কিশোরীর বেদনাঘন জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেছেন। আলোচ্য গল্পে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত প্রতিবন্ধী মানুষের আশ্রয়ের জন্য একটি জগৎ তৈরি
করেছেন এবং সেই সঙ্গে তাদের প্রতি আমাদের মমত্ববোধের উন্মেষ ঘটাতে
চেয়েছেন।
➠ উদ্দীপকের জাবিদ শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার। বিদ্যালয়ে হেঁটে যেতে
তার কষ্ট হয়। তার বন্ধু জহির ও খালিদ তাকে পথ চলতে সহায়তা করে। এতে তাদের
মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। এখানে বন্ধুর প্রতি জহির ও
খালিদের সহানুভূতি ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। জাবিদকে সহযোগিতার জন্য
বিদ্যালয়ের জামিল স্যার খালিদ ও জহিরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এর মধ্য
দিয়ে জামিল স্যারের আচরণেও সহানুভূতিশীল মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
➠ ‘সুভা’ গল্পে দেখা যায়, বাকপ্রতিবন্ধী সুভার সামনেই সকলে তার ভবিষ্যৎ
নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করত। এমনকি বিয়ের বয়স অতিক্রান্ত হওয়ায় তার
পিতামাতাকে লোকের নিন্দা সহ্য করতে হতো। মানুষের অবজ্ঞা ও নিন্দার শিকার
সুভা আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল প্রকৃতির মাঝে। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সমাজের
নেতিবাচক আচরণ এবং প্রতিবন্ধীদের মনোজগতের গভীর মর্মবেদনার চিত্র তুলে
ধরে লেখক পরম মমতায় গড়ে তুলেছেন সুভা চরিত্রটি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সুভা’
গল্পের মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও মমত্ববোধ
জাগ্রত করতে চেয়েছেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধী বন্ধু
জাবিদকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জহির ও খালিদ। আর বিদ্যালয়ের শিক্ষক
বিষয়টি জানতে পেরে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জহির ও খালিদকে। অর্থাৎ জামিল স্যার
ও জাবিদের বন্ধুদের মানসিকতায় যে সহানুভূতি ও মমত্ববোধের প্রকাশ পেয়েছে
তা ‘সুভা’ গল্পের লেখকের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মিনু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। বয়স ১২-১৩ বছর। মামা বাড়িতে বসবাস। আপনজন
বলে এ দুনিয়ায় তার কেউ নেই। ঘর-গৃহস্থালির প্রায় সব কাজ শেষ করে সে।
অন্যান্যদের মতো সেও সবার সাথে খেলতে চায়, স্কুলে যেতে চায়। মামিসহ সবাই
তাকে এড়িয়ে চললেও মামা মাঝে মাঝে তার সাথে ইশারা-ইঙ্গিতে গল্প করেন। এতে
মিনু ভীষণ খুশি হয়।
ক. বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সুভা কী পায়?
খ. ‘পিতামাতার মনে সে সর্বদাই জাগরূক ছিল।’- উক্তিটিতে কী প্রকাশ
পেয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘সুভা’ গল্পের কোন দিক প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নয়’- উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পের
আলোকে বিষয়টি মূল্যায়ন করো।
ক. বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সুভা মুক্তির সনদ পায়।
খ. সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার ভবিষ্যত পরিণতি চিন্তায় পিতা-মাতার মনে
সে সর্বদাই জাগরূক ছিল।
➠ বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ বলে মনে করত। সুভার
ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার বাবা-মা শঙ্কিত থাকতেন। মা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক
মনে করতেন। সুভার এই প্রতিবন্ধকতার কারণে সর্বদাই সে তার পিতা-মাতার মনে
অস্বস্তি হিসেবে জাগরুক ছিল।
গ. উদ্দীপকে ‘সুভা’ গল্পের সুভার প্রতিবন্ধী জীবনের করুণ বাস্তবতার দিকটি
প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সূভা একজন বাষ্প্রতিবন্ধী। কথা বলতে না পারায় তাকে মানসিক
কষ্ট পেতে হয়। তার সাথে কেউ খেলতে চায় না। কেউ মিশতেও চায় না। গর্ভধারিণী
মা পর্যন্ত তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক ভাবেন। সে শুধু তার বাবার কাছে একটু
সমাদর পেত।
➠ উদ্দীপকের মিনু একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। সেও অন্যদের মতো খেলতে
চায়, স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। নিজের মামিও তাকে
পছন্দ করে না। অবশ্য তার মামা মাঝে মাঝে তার সাথে ইশারা ভাষায় গল্প করেন।
পাঠ্য গল্পেও বাকপ্রতিবন্ধী বলে সুভা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার
হয়। এজন্য তার তেমন বন্ধুবান্ধব তৈরি হয় না। সুভার এই প্রতিবন্ধকতার
দিকটিই উদ্দীপকের মিনুর চরিত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. সঠিক যত্ন পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে
পরিণত হয় বলে আমি মনে করি।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। কিন্তু সে সবকিছু অনুভব করতে
পারে। সে সবার সাথে মিশতে চায়। কেউ তার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সামনে বিরূপ
প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করলে সে কষ্ট পায়। আবার নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে
করে এবং অন্যের থেকে নিজেকে গোপন রাখে। অথচ যথাযথ সমর্থন ও সাহায্য পেলে
সুভার জীবন অন্যরকম হতে পারত।
➠ উদ্দীপকের মিনু একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। কিন্তু অন্য সবার মতো
খেলতে চায় সে, স্কুলেও যেতে চায়। অথচ সবাই তার প্রতিবন্ধকতার জন্য তাকে
এড়িয়ে চলে। মাঝে মাঝে মামা তার সাথে ইশারায় গল্প বলে, তাতে সে খুব খুশি
হয়। কিন্তু সবার স্নেহ ও ভালোবাসা পেলে সে অন্যভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে
পারত। ‘সুভা’ গল্পে সুভার ক্ষেত্রেও অনেকটা একইরকম পরিস্থিতি লক্ষ করা
যায়।
➠ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ আমাদের সমাজের বোঝা নয়। যত্ন ও যথার্থ
পরিচর্যা পেলে তারা সমাজ নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা তাদের একদিক
অক্ষম হলে অন্যদিক সাধারণত চৌকশ হয়। যদি উদ্দীপকের মিনুকে যথাযথভাবে
সুযোগ দেওয়া হতো এবং তাকে সহযোগিতা করা হতো তবে সে হয়তো সমাজের সুস্থ
চিন্তার ধারার একজন হতে পারত। একইভাবে গল্পের সুভাও সঠিক যত্ন পেলে
মর্যাদাসম্পন্ন জীবনের অধিকারী হতে পারত। সুতরাং নিঃসন্দেহে বলা যায়,
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নয়।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
খেলতে গিয়ে পা ভেঙে যায় সৈকতের। চিকিৎসকের পরামর্শে সৈকত তিন মাস
সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকে। সারা দিন সে একা বিছানায় শুয়ে থাকে। বাড়ির সবাই
বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত। সৈকত জানালা দিয়ে বাইরের প্রকৃতি দেখে। গাছের ডালে
পাখিদের কলকাকলি শোনে। পাখিদের সাথে আপন মনে কথা বলে। সৈকতের বন্ধুরা
মাঝে মাঝে দেখা করতে আসে। গল্প করে লেখাপড়ায় সাহায্য করে।
ক. সুভা কখন নদীর তীরে এসে বসত?
খ. সুভাকে ‘নীরব হৃদয়ভার’ বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকের সৈকতের সাথে ‘সুভা’ গল্পের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকে সৈকতের বন্ধুদের আচরণ লেখকের প্রত্যাশিত আচরণ।’- মন্তব্যটি
মূল্যায়ন করো।
ক. সুভা কাজকর্মে যখনই অবসর পেত তখনই নদীর তীরে এসে বসত।
খ. সুভা কথা বলতে না পারায় তার বিয়ে হচ্ছিল না বলে সে তার পিতা-মাতার মনে
নীরব হৃদয়ভার, অর্থাৎ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
➠ গল্পের সূভা একজন বাষ্প্রতিবন্ধী। কথা বলতে না পারায় বয়স হওয়া সত্ত্বেও
সুভার বাবা সুভার বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। একারণে বড়ো দুই বোনের
বিয়ে হয়ে গেলেও সুভার বিয়ে হচ্ছিল না। এমতাবস্থায় প্রতিবন্ধী মেয়েকে কেমন
করে বিয়ে দেবেন এই দুর্ভাবনা সুভার বাবা-মায়ের হৃদয়ে পাথরের মতো চেপে
বসে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা লেখক এ বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছেন।
গ. উদ্দীপকের সৈকতের শারীরিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রকৃতির মাঝে আশ্রয় খোঁজার
দিকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। তার এই
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার জন্য সে নিকট আত্মীয়, সমবয়সি এমনকি নিজের মায়েরও
অবজ্ঞার শিকার। কেউ তার সাথে মিশতে চায় না। তাই অনুভূতিপ্রবণ সুভা
একমাত্র প্রকৃতি ও নির্বাক গৃহস্থালি প্রাণীদের সঙ্গেই সখ্য গড়ে তোলে।
এদের সঙ্গেই সুভা তার নির্বাক অনুভূতির আদানপ্রদান করে, নদীর ধারে বসে
প্রকৃতির নির্মলতা অনুভব করে, যেন প্রকৃতিই সুভার প্রকৃত সুখের উৎস।
➠ উদ্দীপকের সৈকত খেলতে গিয়ে পা ভেঙে তিন মাসের জন্য সম্পূর্ণ গৃহবন্দি
হয়ে পড়ে। সারা দিন সে বিছানায় একা শুয়ে থাকে। পরিবারের সবাই ব্যস্ততায়
তাকে সময় দিতে পারে না। শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার মধ্যে একাকিত্ব তৈরি করে।
তাই সৈকত প্রকৃতির মাঝে আশ্রয় খুঁজে নেয়। সে পাখিদের কলকাকলি শোনে, আপন
মনে পাখিদের সাথে কথাও বলে। তার শারীরিক অসুস্থতা তাকে প্রকৃতি-নির্ভর
করে তোলে। গল্পের বাকপ্রতিবন্ধী সুভাও তার নির্বাক পৃথিবীর সদস্য হিসেবে
বেছে নেয় প্রকৃতি ও বোবা প্রাণীদের।
ঘ. ‘উদ্দীপকে সৈকতের বন্ধুদের সহানুভূতিশীল আচরণই ‘সুভা’ গল্পের লেখকের
প্রত্যাশিত আচরণ।’- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘সুভা’ গল্পের বাকপ্রতিবন্ধী সূভা প্রতিবন্ধকতার জন্যই সমাজে স্বাভাবিক
অন্য মানুষদের থেকে আলাদা। তাকে সহ্য করতে হয়েছে সমাজের অবজ্ঞা, এমনকি
জন্মদাত্রী মা-ও সুভাকে নিজের গর্ভের কলংক মনে করতেন। তবে সুভার বাবার
মেয়ের প্রতি ভালোবাসার কমতি ছিল না। সবাই সুভাকে বোঝা মনে করলেও পিতা
বাণীকণ্ঠ মেয়ের দুঃখে ব্যথিত হতেন। কিন্তু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের
প্রতি লেখক যে মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও ভালোবাসার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন,
তা সুভার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল।
➠ উদ্দীপকের সৈকতের শারীরিক অসুস্থতার প্রতি তার বন্ধুদের সহযোগিতাপূর্ণ
ব্যবহার তুলে ধরা হয়েছে। সৈকত যদিও পা ভেঙে যাওয়ার জন্য একা হয়ে পড়ে তবুও
মাঝে মাঝে বন্ধুরা দেখা করতে আসে, তাকে সময় দেয় এবং তার লেখাপড়ায়
সহযোগিতা করে। এমন সহযোগিতাপূর্ণ মানবিক আচরণ শারীরিক সীমাবদ্ধতা জয় করার
ক্ষেত্রে একান্ত কাম্য। সুভাও যদি সৈকতের মতো সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ পেত
তাহলে নির্বাক হলেও তাকে জীবনের বিড়ম্বনা সহ্য করতে হতো না।
➠ উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পের মূল বিষয় পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,
উভয়ক্ষেত্রেই মানুষের শারীরিক অপূর্ণতার প্রতি সহমর্মী মনোভাব প্রকাশের
প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। লেখক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি
সহানুভূতিশীল আচরণ প্রত্যাশা করেছেন, তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে
দেওয়ার আহ্বান করেছেন। পরিশেষে বলা যায়, “উদ্দীপকে সৈকতের বন্ধুদের
সহযোগিতাপূর্ণ আচরণই ‘সুভা’ গল্পের লেখকের প্রত্যাশিত আচরণ।”- মন্তব্যটি
যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দীঘির ঘাটে নতুন নতুন সিঁড়ি জাগে-
শ্যাওলা-পিছল- এমনি শঙ্কা জাগে-
পা-পিছলিয়ে তলিয়ে যদি যাই।
মন্দ নেহাত হয় না কিন্তু তায়-
অন্ধ চোখের স্বন্দ্ব চুকে যায়।
ক. পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করছে কে?
খ. ‘লোকটি নিতান্ত অকর্মণ্য’- কেন?
গ. উদ্দীপকের অনুভব ‘সুভা’ গল্পের যে দিকটি উন্মোচন করেছে তা ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের প্রতিবন্ধকতা জীবনবিমুখ আর ‘সুভা’ গল্পের সুভার
প্রতিবন্ধকতাই জীবনধর্মী।”- মূল্যায়ন করো।
ক. পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভারের মতো বিরাজ করছে সুভা।
খ. প্রতাপ কাজকর্ম করে সংসারের উন্নতির কোনো চেষ্টা করছে না বলে তাকে
‘নিতান্ত অকর্মণ্য লোক’ বলা হয়েছে।
‘সুভা’ গল্পে গোঁসাইদের ছোটো ছেলে প্রতাপ। সংসারের জন্য কাজে তার মন নেই।
অকর্মণ্য লোক বলে অনাত্মীয়রা তাকে দিয়ে নানা ধরনের কাজ করিয়ে নেয়। অলস
সময়ে সে ছিপ ফেলে মাছ ধরে। কাজকর্ম করে সংসারের উন্নতির চেষ্টা করে না
বলে প্রতাপকে ‘নিতান্ত অকর্মণ্য লোক’ বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের অনুভব ‘সুভা’ গল্পের প্রতিবন্ধীর মর্মবেদনার দিকটি উন্মোচন
করেছে।
➠ ‘সুভা’ গল্প একজন বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের মর্মবেদনা গল্পকার তাঁর হৃদয়
নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমতা দিয়ে তুলে ধরেছেন। সূভা বাষ্প্রতিবন্ধী বলে সবাই
তাকে এড়িয়ে চলে। বাবা তাকে ভালোবাসলেও মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক বলে মনে
করেন। সে নিজেও নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত। গভীর বেদনাভরা মন নিয়ে সে
তাই নির্বাক প্রকৃতি ও বাকহীন পশুর সঙ্গী হয়। তাদের সাথে সে হৃদয়ের কথা
বলে। ভাষাহীনদের সেই ভাব বিনিময় কখনো প্রসারিত, কখনো মুদিত, কখনো
উজ্জ্বল, কখনো ম্লান হয়ে আসে অন্তমান চন্দ্রের মতো।
➠ উদ্দীপকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর করুণ আকুতি শোনা যায়। দিঘির পানি শুকিয়ে
এলে সেখানে নতুন নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠে। সে শ্যাওলা জমে পিচ্ছিল হয়ে থাকে।
যে কেউ পা দিলে পিছলে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। অন্ধ ব্যক্তিটির মনে শংকা
জাগে-হয়তো পা পিছলে দিঘির জলে তলিয়ে যেতে পারে সে। সে শঙ্কাকে সে
ভালোভাবেই গ্রহণ করতে চায়। কেননা অন্ধত্বের বেদনা থেকে সে চিরতরে মুক্তি
পাবে। উদ্দীপকের বেদনা ‘সুভা’ গল্পের সুভার বেদনারই শামিল।
ঘ. দিঘির জলে পা পিছলিয়ে তলিয়ে যাওয়ার মধ্যে উদ্দীপকে জীবনবিমুখতা আর
সুভার প্রকৃতির সাথে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপনে জীবনধর্মী মনোভাব
প্রকাশিত হয়েছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে লেখক প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ
করেছেন। গল্পের প্রধান চরিত্র সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। তার সামনেই তার
ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। মা তাকে অবহেলা করলেও বাবা
তাকে ভালোবাসতেন। পিতামাতাসহ সবার নিকট সে নীরব হৃদয়ভাবের বোঝা হয়ে
গিয়েছিল। কিন্তু এখানে সে থেমে গিয়ে হতাশ হয়নি। অবারিত প্রকৃতিকেই সে
আশ্রয় করেছে। নদীর কলধ্বনি, লোকের কোলাহল, মাঝির গান, পাখির ডাক সবকিছুই
মিলেমিশে তার হৃদয় হয়ে ওঠে স্বচ্ছ আকাশের মতো, ছায়ালোকের নিস্তব্ধ
বঙ্গভূমি।
➠ উদ্দীপকে আমরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মাঝে অন্ধচোখের বেদনা থেকে হতাশার
প্রতিচ্ছায়া দেখতে পাই। খরা মৌসুমে যখন দিঘির জল শুকিয়ে আসে তখন ঘাটে
নতুন নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে সেখানে শ্যাওলা জমে পিচ্ছিল হয়ে
যায়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মনে শঙ্কা জাগে পা পিছলে যদি দিঘির জলে তলিয়ে
যায়- তবে মন্দ হতো না। অন্ধত্বের অবহেলা আর সইতে হতো না। জীবনের অবসানের
মধ্যেই সব যন্ত্রণার অবসান হতো। জীবনে সবারই দুঃখকষ্ট থাকে। এরই মাঝে
স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। হতাশায় মৃত্যু কামনা করা জীবনের ধর্ম নয়।
বাঁচা-মরা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার হাতে। তিনিই জানেন কখন, কার, কীভাবে
মৃত্যু হবে।
➠ তাই উদ্দীপকের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর মতো হতাশায় মৃত্যু কামনা সঠিক পথ নয়।
বরং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মতো নতুন নতুন পথ সন্ধানের মাধ্যমে ভালোলাগার
উপাদান খুঁজতে হবে। তবেই নতুনভাবে বাঁচার এবং ভালো থাকার প্রেরণা মিলবে।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নাম কথামণি। কথা বলতে যা বোঝায় তা তার কাছ থেকে কেউ শোনেনি। নীরব থাকাতেই
তার আনন্দ। পোষা দুটো বেড়ালের সঙ্গে তার বড্ড খাতির। বেড়ালকে খাওয়াতে সে
খুব পছন্দ করে। বেড়ালের সুখ ও দুঃখ কথামণি বুঝতে পারে। কথামণির মন খারাপ
হলে বেড়ালগুলো নীরবে এসে তার কোলে বসে। হঠাৎ একটি বেড়াল মারা যাওয়ায়
কথামণির চোখ দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নামে। বাবার বদলির সুবাদে কথামণিকে ঢাকা
থেকে রাজশাহী চলে যেতে হয়। যাবার সময় বেড়ালটি তার মৃত সঙ্গীর টানে গাড়ি
থেকে লাফ দিয়ে নেমে যায়। কথামণি রাজশাহী যায় ঠিকই কিন্তু তার অন্তরে
রক্তক্ষরণ চলতে থাকে। ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা তার না থাকলেও তাকে দেখেই
যে কেউ বিষয়টি বুঝতে পারে।
ক. কে সুভাকে নিজের একটা ত্রুটিরূপে দেখতেন?
খ. সুভার নাম কে এবং কেন ‘সুভাষিণী’ রেখেছিল?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের ভিন্নতা নির্ণয় করো।
ঘ. “কিছু দিক থেকে অমিল থাকলেও উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পে মূলত বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মনোবৃত্তিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।”- মন্তব্যের পক্ষে
তোমার যুক্তি উপস্থাপন করো।
ক. সুভার মা সুভাকে নিজের একটা ত্রুটিদ্বরূপ দেখতেন।
খ. সুভার বাবা-মা তার বড়ো দুই বোনের নামের সাথে মিল রেখে সুভার নাম
‘সুভাষিণী’ রেখেছিল।
➠ সুভা জন্ম থেকেই ছিল বাক্প্রতিবন্ধী। সুভার বড়ো দুই বোনের নাম দেওয়া
হয়েছিল সুকেশিনী ও সুহাসিনী। তাই সুভার জন্মের পর সূভার বাবা তাঁর অন্য
মেয়েদের সাথে নামের মিলের অনুরোধে ছোটো মেয়ের নাম রাখেন ‘সুভাষিণী’।
পরবর্তীতে সকলে তাকে সংক্ষেপে সুভা বলে ডাকে।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের অবস্থান ও পরিবেশগত ভিন্নতা
বিদ্যমান।
➠ সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। শুভা কথা বলতে না পারলেও তার অনুভতিশক্তি প্রখর।
সুভা অনুভূতিশক্তি দ্বারা জগৎকে উপলব্ধি করে। সুভা দৃষ্টির মধ্য দিয়ে
সৃষ্টিকে গ্রহণ করে। তাই সুভার মুখে ভাষা না থাকলেও ভাব প্রকাশে তার
সমস্যা হয় না। সুভার অকৃত্রিম বন্ধু প্রকৃতি, জীবজন্তু ও প্রাণী। মানুষের
থেকে প্রাণীর সাথে তার সখ্য বেশি। বিশেষ করে দুটি গাভির সাথে সুভার ছিল
গভীর মিতালি। গাভি দুটি সুভার মনের ভাব বুঝতে পারত। সুভার চারপাশের মানুষ
যেহেতু সুভাকে কটূক্তি করত তাই সে মানুষের চেয়ে প্রকৃতি ও প্রাণীর সাথে
বেশি সখ্য ছিল।
➠ উদ্দীপকের কথামণি অবস্থান ও পরিবেশগত দিক থেকে সুভার থেকে ভিন্ন ছিল।
কথামণির বাবা-মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন না। সমাজ ও পরিবেশের মানুষ
তাকে কটু কথা বলত না। তাছাড়া সুভার সখ্যতা গাভির সাথে থাকলেও কথামণির
সখ্য ছিল বিড়ালের সাথে। সুভার বেদনা ও কথামণির বেদনার কারণ ছিল ভিন্ন।
কথামণি তার বিড়ালকে ফেলে চলে আসতে হয়ে বলে কষ্ট পেয়েছিল। তাই বলা যায়,
উদ্দীপকের সাথে ‘সুভা’ গল্পের অবস্থানগত ও পরিবেশগত পার্থক্য বিদ্যমান।
ঘ. “কিছু দিক থেকে অমিল থাকলেও উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পে বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মনোবৃত্তিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।”- মন্তব্যটি
যথার্থ।
➠ ‘সুভা’ গল্পে বাকপ্রতিবন্ধী সুভার সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ফুটিয়ে তোলা
হয়েছে। প্রতিবন্ধীদেরও যে অনুভূতিশক্তি থাকতে পারে তা সমাজের একশ্রেণির
মানুষ অনুভব করতে চাইত না। তাই প্রতিবন্ধী সুভার সম্মুখে নানা কটূক্তি
করত। এতে সুভার মনে যন্ত্রণা সৃষ্টি হতো। মানুষের প্রতি সুভার ভীতি
সৃষ্টি হয়। এজন্য সুভা আপন মনে নিজের জন্য একটি জগৎ সৃষ্টি করে নেয়।
➠ উদ্দীপকেও কথামণির বাস্তবজীবনের সুখ-দুঃখের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
কথামণিও সুভার মতো বাষ্প্রতিবন্ধী। কথামণির পরিবেশ সুভার মতো না হলেও তার
মনেও বেদনা ছিল কষ্ট ছিল। সুভার মতো কথামণিও প্রাণীর সাথে সখ্য গড়ে
তুলেছিল। কিন্তু বাবার বদলির জন্য স্থান পরিবর্তনের কারণে সেই সখ্যতার
বিড়াল থেকে কথামণি দূরে চলে যায়। এর ফলে কথামণি ব্যথিত হয়।
➠ উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পের আলোকে বলা যায় যে, উদ্দীপক ও ‘সুভা’ গল্পে
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মনোবৃত্তিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সুভা ও
কথামণি উভয়ই বাষ্প্রতিবন্ধী। তাই বলে তাদের অনুভূতিশক্তি নিষ্ক্রিয় নয়।
তারাও সমাজের সহানুভূতি পেলে, সহযোগিতা পেলে সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে
পারে। তাই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া
উচিত।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আনুর মা ডাক্তারের দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখে ব’লে উঠল, আপনি বলুন ডাক্তার
বাবু, আপনি বলুন। ও হতভাগী কালা-বোবা। সকলের মুখে ফুটে উঠল অদ্ভুত
অভিব্যক্তি, বিস্ময়, করুণা, হয়তো কিছুখানি তাচ্ছিল্য আছে তার মধ্যে।
ডাক্তারের মুখে তার প্রকাশ সবচেয়ে কম। এ সন্দেহ তার হয়েছিল।
ক. সুভা কোথায় বসে থাকত?
খ. “কিন্তু তাহার পদশব্দ তাহারা চিনিত” বাক্যটির প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা
করো।
গ. উদ্দীপকের বোবা মেয়েটি ‘সুভা’ গল্পের কোন চরিত্রের অনুরূপ তা নিরূপণ
করো।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে
না।” যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
ক. সুভা তেঁতুলতলায় বসে থাকত।
খ. গোয়ালের গাভী দুটির সাথে সুভার সম্পর্ক বোঝাতে প্রশ্নোক্ত বাক্যটি
ব্যবহৃত হয়েছে।
➠ সুভা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক বালিকা। সে কথা বলতে পারে না বলে তার কোনো
বন্ধু বা সাথি নেই। সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। সুভা তাই তাদের গাভী সর্বশী ও
পাঙ্গুলির সাথে সখ্য গড়ে তোলে। তারা সুভার মুখে কখনো কথা শোনেনি কিন্তু
তার পায়ের শব্দ তারা চিনত। সুভার না বলা কথাগুলো এরা সহজে বুঝতে পারত, যা
মানুষ বুঝত না বা বুঝতে চাইত না। লেখক এখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের
অনুভূতির তীব্রতার দিকটি উন্মোচন করেছেন।
গ. উদ্দীপকের বোবা মেয়েটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার অনুরূপ।
➠ আমাদের সমাজ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি সচরাচর কেউ সহানুভূতি
দেখায় না। ফলে তাদের প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগ হারিয়ে যায়। আর এই
কারণেই তারা মাঝে মাঝে মানুষের দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। উদ্দীপকের
কালা-বোবা মেয়ে আনু বড়ই অসহায়। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সে সবার
অবহেলার শিকার হয়েছে। মায়ের কথায় তার প্রতি তাচ্ছিল্য ভাব প্রকাশিত
হয়েছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভাও সবার কাছ থেকে পেয়েছে শুধু অবহেলা। সবাই মনে করে
সুভা কথা বলতে পারে না, তাই সে কিছু অনুভব করতে পারে না। তার সামনেই সবাই
তার ভবিষ্যৎ দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করে, যা সুভার মনকে অনেক ছোট করে
দেয়। কথা বলতে না পারাটা তার কাছে অভিশাপের মতো মনে হয়। তাই উদ্দীপকের
বোবা মেয়েটিকে ‘সুভা’ গল্পের সুভার অনুরূপ বলা যায়।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে
না।” মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতে হবে। তাদের কষ্টে নিজেকে
একাত্ম করতে হবে। তারাও যে সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবে না এই আত্মবিশ্বাস
জাগিয়ে তুলতে হবে। তবেই পৃথিবী আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে।
➠ উদ্দীপকে আনুর মায়ের কথায় শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েটির প্রতি তাচ্ছিল্য
ভাব প্রকাশিত হয়েছে। মেয়েটি কথা বলতে পারে না বলে তাকে অবহেলার শিকার হতে
হয়েছে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি ‘সুভা’ গল্পেও প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পের সুভা
জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী। গল্পে লেখক শুধু সুভার কষ্ট ও অসহায়ত্বই
প্রকাশ করেননি, তিনি বাকপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও
মমত্ববোধের উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন। সুভার মা নিয়তিকে দোষ দিলেও তার বাবা
তাকে অনেক ভালোবেসেছেন। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের
আপন করে নিয়েছে। তাদের কাছে সুভা ছিল অনেক মুখর। নির্বাক প্রকৃতির কাছে
সে মুক্তির আনন্দ পেয়েছে। উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভাষিণীর কথা অর্থাৎ
সুভার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
➠ অপরদিকে ‘সুভা’ গল্পের মাধ্যমে গল্পকার পৃথিবীর সব শারীরিক প্রতিবন্ধী
মানুষের প্রতি মমত্ববোধ প্রকাশ করতে চেয়েছেন। ‘সুভা’ গল্পে সুবিধাবঞ্চিত
মানুষের সার্বিক দিক প্রতিফলিত হয়েছে। ‘সুভা’ গল্পের মাধ্যমে লেখক মূলত
মানুষের সহানুভূতি জাগিয়ে তুলেছেন এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য একটি
আশ্রয়ের জগৎ’ তৈরি করতে চেয়েছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা
যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
এক ঝড়ের রাতে জলকুমারী ডুবন্ত রাজপুত্রকে গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে।
সে রাজপুত্রকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু সে তো মানুষ নয়। তাই সে স্রষ্টার
কাছে অলৌকিক কিছু প্রার্থনা করলে তার দুইটি পা তৈরি হয়ে যায়। এতে
জলকুমারী নাচ দেখিয়ে রাজপুত্রকে মুগ্ধ করে, কিন্তু মনের কথা সে বলতে পারে
না।
ক. ‘বিজন মহত্ত্ব’ কী?
খ. ‘সে ভাষাবিশিষ্ট জীব’- কার সম্পর্কে, কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের জলকুমারী কন্যার সাথে সুভার সাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের মূল প্রতিপাদ্য ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”-
বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘বিজন মহত্ত্ব’ হলো কোলাহলমুক্ত প্রকৃতির আকর্ষণীয় দিক।
খ. প্রশ্নোক্ত কথাটি প্রতাপ সম্পর্কে, তার কথা বলার যোগ্যতা প্রসঙ্গে বলা
হয়েছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভা কল্পনায় অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়ে
তোলে। পশু-পাখি তথা অবলা প্রাণীদের সাথেই তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এর বাইরে
শুধু প্রতাপের সাথে তার ভালো লাগার সম্পর্ক আছে। কিন্তু প্রতাপ সুভার
অন্য সঙ্গীদের চাইতে আলাদা। কেননা, সে কথা বলতে পারে। প্রতাপের এই বিশেষ
দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেই আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।
গ. মনের কথা বলতে না পারার দিক দিয়ে উদ্দীপকের জলকুমারীর সাথে সুভা
চরিত্রটির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
➠ ‘সুভা’ গল্পের সুভা একজন বাষ্প্রতিবন্ধী কিশোরী। এ কারণে মনের মধ্যে
হাজারো কথা জমা থাকলেও তা সে প্রকাশ করতে পারে না। পারে না নিজের আবেগ ও
অনুভূতিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে। তাই নির্বাক প্রকৃতিকে ঘিরেই নিজস্ব
এক জগৎ তৈরি করে নেয় সে। যেন অবারিত প্রকৃতিতেই ভাষা খুঁজে পায় সে।
➠ উদ্দীপকে এক জলকুমারীর কথা বলা হয়েছে। এক ঝড়ের রাতে গভীর সমুদ্র থেকে
ডুবন্ত রাজপুত্রকে সে উদ্ধার করে। ধীরে ধীরে রাজপুত্রের প্রতি তার মায়া ও
ভালোবাসা জন্মায়। কিন্তু স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করার ক্ষমতা তার
নেই। তাই সে অলৌকিক কিছু পাওয়ার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানায়।
অবশেষে স্রষ্টার অনুগ্রহে সে পা লাভকরলেও রাজপুত্রকে নিজের ভালোবাসার কথা
জানাতে পারে না। অন্যদিকে, আলোচ্য গল্পের সুভা একজন বাষ্প্রতিবন্ধী।
প্রতিবন্ধিতার কারণে অন্যদের মতো সে তার মনের কথা বলতে পারে না। পারে না
নিজের অনুভূতিকে পুরোপুরি প্রকাশ করতে। এদিক থেকে আলোচ্য গল্পের সুভার
সাথে উদ্দীপকের জলকুমারীর সাদৃশ্য প্রতীয়মান হয়।
ঘ. বাকপ্রতিবন্ধী হিসেবে সুভার জীবনবাস্তবতার দিকটি না থাকায় উদ্দীপকটি
‘সুভা’ গল্পের মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করতে পারেনি।
➠ ‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা একজন বাকপ্রতিবন্ধী। কথা বলতে না
পারার অক্ষমতার কারণে সমাজের লোকজন এমনকি তার মা পর্যন্ত তাকে অবহেলার
চোখে দেখে। বাবা তাকে ভালোবাসলেও পরিস্থিতির চাপে শেষপর্যন্ত সুভাকে
অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়। প্রতিবন্ধী সুভার এই কঠিন
জীবনবাস্তবতাই এ গল্পের মূল উপজীব্য।
➠ উদ্দীপকের জলকুমারী এক রাজকুমারের প্রতি অনুরক্ত হয় এবং তাকে ভালোবেসে
ফেলে। কিন্তু সে তো মানুষ নয়। এ বিষয়টিই তার ভালোবাসার পথে প্রতিবন্ধকতা
সৃষ্টি করে। অবশেষে পরম স্রষ্টার বরপ্রাপ্ত হয়ে সে মানুষের মতো দুটি পা
লাভ করে এবং নাচ দেখিয়ে রাজপুত্রকে মুগ্ধ করে। কিন্তু কথা বলার শক্তি না
থাকায় সে নিজের মনের কথা ভালোবাসার মানুষটিকে জানাতে পারে না। এক্ষেত্রে
তার পরিস্থিতি অনেকটা আলোচ্য গল্পের সুভার মতোই।
➠ ‘সুভা’ গল্পে বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার সাথে প্রকৃতি ও মানবেতর প্রাণীর
সম্পর্ক এবং সুভার অসহায়ত্বের দিকটি ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে, উদ্দীপকে
জলকুমারীর মনের কথা বলতে না পারার অসহায়ত্ব প্রকাশিত হয়েছে। সে
রাজকুমারকে গভীরভাবে ভালোবাসলেও তাকে নিজের মনের কথা বলতে পারে না। ফলে
মনঃকষ্টে ভোগে। কিন্তু আলোচ্য গল্পে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সমাজ ও পরিবারের
অবহেলাসহ সুভার নিদারুণ জীবনবাস্তবতার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে, যা
উদ্দীপকের স্বল্প পরিসরে ফুটে ওঠেনি। তাছাড়া সুভার মনোযাতনার দিকটিও
সেখানে অনুপস্থিত। সেদিক বিবেচনায়, প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথাযথ অর্থবহ।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জনি দশম শ্রেণিতে পড়ে। ক্লাসের অন্যসব ছেলেমেয়ের মতো সেও প্রাণবন্ত।
খেলাধুলা করে, বন্ধুদের সাথে দুষ্টুমি করে। হঠাৎ করেই সড়ক দুর্ঘটনায় জনি
একটি পা হারায়। এরপর থেকে ক্লাসের বন্ধুরা তার সাথে সেভাবে মেশে না,
দুষ্টুমি করে না। জনির দিকে কেমন যেন ভয়ে ভয়ে তাকায়।
ক. ‘কপোল’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘কিন্তু, তাহার সুদীর্ঘ পল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দু’টি কালো চোখ ছিল’-
কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের কোন ভাবকে নির্দেশ করে? আলোচনা করো।
ঘ. ‘শারীরিক ত্রুটির কারণেই উদ্দীপকের জনি ও গল্পের সুভা সামাজিক
বৈষম্যের শিকার’- মূল্যায়ন করো।
ক. ‘কপোল’ শব্দের অর্থ গাল।
খ. সুভার সৌন্দর্য বর্ণনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
➠ সুভা স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে পৃথিবীর আলোয় আলোকিত হয়নি। স্রষ্টা তাকে
মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করলেও তার কণ্ঠের কথা অপূর্ণ রেখে দেন। তবে সুভার
বাক্ না থাকলেও তার সুদীর্ঘ পল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল। যার
সৌন্দর্য লেখকের কাছে ছিল অপার বিস্ময়।
গ. উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের সুভার অবহেলিত হওয়ার ভাবটিকে নির্দেশ করে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে সুভা একজন বাকপ্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই সে কথা বলতে পারে
না। এ কারণে প্রায় সর্বত্রই সে অবহেলিত এবং নিজে হীনম্মন্যতায় ভোগে।
বাহ্যিক এই দুর্বলতার কারণেই সুভা নিঃসঙ্গভাবে দিন কাটাত।
➠ উদ্দীপকের জনি একসময় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর ছিল। সড়ক দুর্ঘটনায় পা
হারানোর পরে সে এখন আগের মতো প্রাণবন্ত নেই। কারণ তার বন্ধুরা তার সাথে
আগের মতো মেশে না, দুষ্টুমি করে না। সবাই ওর দিকে ভয়ে ভয়ে তাকায়। জনির এই
মানসিক অবস্থার দিকটি 'সুভা' গল্পের সুভার অবহেলিত হওয়ার দিকটিকে নির্দেশ
করে।
ঘ. “শারীরিক ত্রুটির কারণেই উদ্দীপকের জনি ও ‘সুভা’ গল্পের সুভা সামাজিক
বৈষম্যের শিকার।” মন্তব্যটি বাস্তবতার আলোকে যথার্থ।
➠ সুভা বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী হওয়ার কারণে সে সমাজে যেমন অবহেলিত ছিল
তেমনই তার মায়ের কাছেও ছিল আনাদৃত। সুভা তার মা নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে
করত। এছাড়া অন্যান্যরাও সুভার সাথে ভালোভাবে মিশত না বরং অবজ্ঞার
দৃষ্টিতে দেখত।
➠ উদ্দীপকের জনি একসময় প্রাণবন্ত থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে এখন সে
সবার কাছে অবহেলিত হয়ে আছে। আগের মতো সে ক্লাসে উপস্থিত হলেও অন্যরা তার
সাথে আগের মতো আচরণ করে না। ফলে সে সর্বদা হীনম্মন্যতায় ভোগে।
➠ ‘সুভা’ গল্প এবং উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্যান্য
গুণ থাকা সত্ত্বেও সুভা এবং জনি উভয়ই ছিল শারীরিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আর এ
কারণেই তারা সর্বত্র নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। তাই বলা যায়, “শারীরিক
ত্রুটির কারণেই উদ্দীপকের জনি ও ‘সুভা’ গল্পের সুভা সামাজিক বৈষম্যের
শিকার।”- মন্তব্যটি যৌক্তিক।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
টানিস কেন? কীসের তাড়াতাড়ি
সেইতো ফিরে যাব আবার বাড়ি,
একলা থাকা সেই তো গৃহকোণ,
তার চেয়ে এই স্নিগ্ধ শীতল জলে
দুটো যেন প্রাণের কথা বলে-
দরদ-ভরা দুখের আলাপন;
(সূত্র: অন্ধবর্ষ- যতীন্দ্রমোহন বাগচী।
ক. সুভার হৃদয় কুয়াশা-ঢাকা প্রভাতের মতো কীসে ভরে গেল?
খ. ‘আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি।’- কেন বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘সুভা’ গল্পের কোন দিকটি তুলে ধরেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘সুভা’ গল্পের একটি অংশমাত্র।”- বিশ্লেষণ করো।
ক. সুভার হৃদয় কুয়াশা-ঢাকা প্রভাতের মতো অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
খ. বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সুভা প্রশ্নোক্ত মনোভাব পোষণ করত।
➠ বাবা-মায়ের ছোটো মেয়ে সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। নিজের এমন
দুর্বলতায় সুভা নিজেকে অসহায় মনে করত। সে সাধারণের দৃষ্টিপথ হতে নিজেকে
সর্বদা গোপন করে রাখত। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়াটাকে সে অভিশাপ মনে করত। তাকে
সবাই ভুলে গেলেই সে যেন স্বস্তি পেত।
গ. ‘সুভা’ গল্পে প্রকাশিত প্রকৃতির কাছে আশ্রয় খুঁজে নেওয়ার বিষয়টি
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়।
➠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সুভা’ গল্পে বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার
প্রকৃতি-সংলগ্নতা ফুটে উঠেছে। প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার চারপাশের লোকজন যখন
তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন সে বোবা প্রকৃতির কোলে আশ্রয় খুঁজে
পায়। প্রকৃতির সাথে চলে তার গোপন আলাপ। নিজের দুঃখ-বেদনা, চাওয়া-পাওয়ার
হিসাব মেলানোর চেষ্টা করে প্রকৃতির সাথে। নিকটজনদের কাছে প্রত্যাখ্যাত
হয়ে প্রকৃতি-মাতার কোলে আশ্রয় নেয় সে।
➠ যতীন্দ্রমোহন বাগচী রচিত ‘অন্ধবধূ’ কবিতা থেকে নেওয়া উদ্দীপকে অন্ধবধূ
বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বানকে নাকচ করে প্রকৃতির আশ্রয়ে থাকতে চায়। কেননা,
বাড়িতে গেলে তো তাকে সকলের উপেক্ষার শিকার হয়ে গৃহকোণে একাকী আবদ্ধ থাকতে
হবে। তার চেয়ে প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা তার কাছে বেশি উপভোগ্য মনে হয়।
কেননা, প্রকৃতি-মাতার সাথে স্নেহডোরে বাঁধা আলাপন বাড়িতে সম্ভব নয়। প্রায়
একইরকম প্রকৃতি-ঘনিষ্ঠতা আমরা দেখতে পাই ‘সুভা’ গল্পের সুভা ও
গ্রাম্যপ্রকৃতির মুখোমুখি বসার দৃশ্যে।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ দুই চরণে মাতৃরূপী প্রকৃতির কাছে নিজেকে সমর্পণের
বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যা সুভারও মনের কথা।
➠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা
বাক্প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার আশপাশের সকলেই তাকে অবজ্ঞা-অবহেলা
করে। এমনকি তার গর্ভধারিণী মাও তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে। এমতাবস্থায়
সুভা প্রকৃতির কাছে আশ্রয় খুঁজে পায়। প্রকৃতির সাথেই চলে তার ভাবের
আদান-প্রদান। গল্পের শেষে যখন তাকে চিরচেনা প্রকৃতি থেকে দূরে সরিয়ে
নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তখন সে প্রকৃতি-মাতার কাছে নিজেকে সমর্পণ
করে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
➠ যতীন্দ্রমোহন বাগচী রচিত ‘অন্ধবধূ’ কবিতা থেকে নেওয়া উদ্দীপকে অন্ধবধূ
বাড়িতে ফিরে না গিয়ে প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকতে আগ্রহী। কেননা, বাড়িতে
সবাই তাকে উপেক্ষা করে বিধায় একাকী গৃহকোণে অবস্থান করতে হয়। প্রকৃতির
কাছে থাকতে চাওয়ার সবচেয়ে বড়ো কারণ উদ্দীপকের শেষ দুই চরণে ফুটে উঠেছে।
এখানে মাতৃরূপী প্রকৃতির স্নেহাদরে সে আপ্লুত, যেমনটি দেখা যায় 'সুভা'
গল্পের সুভা চরিত্রের মধ্যে।
➠ ‘সুভা’ গল্পের অন্তিমে সুভার আর্তচিৎকারে ধ্বনিত হয় প্রকৃতি মায়ের
স্নেহছায়ায় থেকে যাওয়ার তীব্র আকুতি। প্রকৃতি-মাতা তার কাছে গর্ভধারিণী
মায়ের চেয়েও বেশি আপন। তাই কলকাতা যাওয়ার বন্দোবস্ত হয়ে গেলে গভীর বেদনায়
জর্জরিত সুভা প্রকৃতি-মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। উদ্দীপকের শেষ দুই চরণে
এমনই ভাবধারার পরিস্ফুটন দেখা যায়। অন্ধবধূর কাছে প্রকৃতির পরশ যেন
মায়েরই পরশ এবং সমস্ত দুঃখ-যাতনা হরণও তার মাধ্যমেই সম্ভব। তাই বলা যায়
যে, উদ্দীপকের শেষ দুই চরণের ভাষ্য যেন সুভারও মনের কথা।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
হলদিয়া গ্রামের দানু মিয়ার স্ত্রী হাত-পায়ের আঙুলবিহীন এক কন্যা সন্তানের
জন্ম দেয়। সন্তানের এরূপ দেখে বাবাও কিছুটা হতাশ হয়। আশেপাশেই সবাই
বাচ্চাটাকে দেখে মা-বাবার সামনেই কটাক্ষ করে। কিন্তু দানু মিয়ার স্ত্রী
সন্তানকে নিজের মমতা দিয়ে মানুষ করতে থাকে। মায়ের অনুপ্রেরণায় সে কন্যা
এখন একটি সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে চাকরি করে। প্রকৃত মানুষ হয়ে সে
পরিবারের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে।
ক. ‘পূর্ণিমা তিথি’ অর্থ কী?
খ. সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাম্পে ভরে গেল কেন?
গ. উদ্দীপকের দানু মিয়ার স্ত্রীর সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের
বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. ‘প্রতিবন্ধীরা কোনো বোঝা নয় বরং অনুপ্রেরণায় তারা সম্পদে পরিণত হয়।’-
মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং ‘সুভা’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘পূর্ণিমা তিথি’ অর্থ হলো চাঁদের পরিপূর্ণ রূপ হওয়ার সময়।
খ. সুভার পিতা বাণীকণ্ঠ সূভাকে নিয়ে বিদেশযাত্রার পরিকল্পনা গ্রহণ করায়
অজানা আশঙ্কায় সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে যায়।
➠ সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার মা ও আশপাশের প্রায় সকলেই তাকে
উপেক্ষা-অবহেলা করে। তার বড়ো দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেলেও তার বিয়ের
ব্যবস্থা করা যায়নি। এ নিয়ে গ্রামে লোকজন নানারকম নেতিবাচক কথাবার্তা
বলতে শুরু করে। অনেকটা বাধ্য হয়েই সুভার বাবা বাণীকণ্ঠ বিদেশযাত্রার
আয়োজন করেন। অর্থাৎ কলকাতায় নিয়ে সুভার বিয়ের বন্দোবস্ত করতে উদ্যোগী হন
তিনি। সুভা বিষয়টি বুঝতে পারে এবং চিরচেনা প্রকৃতি ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায়
শোকার্ত হয়। এর ফলে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাম্পে ভরে যায়।
গ. উদ্দীপকের দানু মিয়ার স্ত্রীর সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
➠ ‘সুভা’ গল্পের প্রধান চরিত্র সুভা একজন বাষ্প্রতিবন্ধী কিশোরী। সন্তান
বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সুভার মা তার প্রতি অসন্তুষ্ট। নিজের সন্তানকে তিনি
নিয়তির দোষ বলে মনে করেন। এছাড়াও সুভাকে তিনি গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন এবং
কন্যার এ ত্রুটিকে নিজের লজ্জার কারণ ভাবেন।
➠ উদ্দীপকে দানু মিয়ার স্ত্রী তার প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিয়ে মোটেই চিন্তিত
নন বরং তিনি তার কন্যাকে অনেক মমতা ও যত্নের সাথে বড়ো করে তোলেন। স্বামীর
হতাশা ও আশপাশের মানুষের কটাক্ষ তিনি কর্ণপাত করেন না। ফলে সে কন্যা
একসময় সরকারি কলেজের প্রভাষক হিসেবে চাকরি করে পরিবারের সবার মুখ উজ্জ্বল
করে। প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত এ পার্থক্যই উদ্দীপকের
দানু মিয়ার স্ত্রীর সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের বৈসাদৃশ্য তৈরি
করেছে।
ঘ. প্রতিবন্ধীদের যদি যথাযথ সুযোগ-সুবিধা এবং অনুপ্রেরণা দেওয়া হয় তবে
তারা সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতে পারে, যা উদ্দীপক ও ‘সুভা’
গল্পে ফুটে উঠেছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা
ও মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। কিন্তু গল্পের বাকপ্রতিবন্ধী সুভার ভবিষ্যতের কথা
ভেবে তার মা-বাবার দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে তার মা
তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ মনে করেন। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী সবার
ব্যবহারেই তার প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পায়। কেবল সে তার বাবার কাছেই
ভালোবাসা পায়।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, হলদিয়া গ্রামের দানু মিয়ার স্ত্রী হাত-পায়ের
আঙুলবিহীন এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় বাবা হয়েও সে কিছুটা হতাশ হয়ে
পড়ে। আশপাশের মানুষজন হাত-পায়ের আঙুলবিহীন এই বাচ্চাটিকে তার মা-বাবার
সামনেই কটাক্ষ করে। কিন্তু তার স্ত্রী আদরের সন্তানের প্রতি যত্নশীল আচরণ
করেন। তিনি স্বামীর হতাশা আর প্রতিবেশীর বিরূপ মন্তব্য উপেক্ষা করে তার
এই কন্যাটিকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলেন। একসময় দেখা যায়, সেই মেয়ে সরকারি
কলেজের প্রভাষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে ‘সুভা’
প্রতিবন্ধিতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের উপেক্ষা পেয়েছে।
➠ ‘সুভা’ গল্পের লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিবন্ধীদের প্রতি অকৃত্রিম
মমত্ববোধ ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই গল্পের মাধ্যমে
প্রতিবন্ধীদের প্রতি সমাজের মমত্ববোধের উন্মেষ ঘটাতে চেয়েছেন। তিনি মনে
করেন, প্রতিবন্ধীরাও সমাজ থেকে ভালো আচরণ ও সহযোগিতা পেলে সম্পদে পরিণত
হতে পারে। আলোচ্য উদ্দীপকে হাত-পায়ের আঙুলবিহীন মেয়েটির জীবনে প্রতিষ্ঠা
লাভ তেমনই একটি উদাহরণ। তাই উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে বলা যায়,
প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় বরং যত্ন পেলে সম্পদে পরিণত হতে পারে।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জাবিদ, জহির ও খালিদ তিন বন্ধু একই স্কুলে একই শ্রেণিতে পড়ে এবং একসাথে
স্কুলে যায়। জাবিদের মাঝে মধ্যে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে কষ্ট হয়। পা অবশ
হয়ে আসে। পথ চলতে গিয়ে কখনো কখনো বসে পড়ে সে। জহির ও খালিদ তাকে সঙ্গ
দেয়। এতে তাদের মাঝে মাঝে স্কুলে পৌছাতে দেরি হয়ে যায়। জাবিদের মায়ের কাছ
থেকে জানা যায়, ছোটোবেলায় তার ভীষণ অসুখ হওয়ার পর থেকে তার এ সমস্যাটি
দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে জামিল স্যার জাবিদকে সহযোগিতার জন্য খালিদ ও
জহিরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
ক. ‘কিশলয়’ অর্থ কী?
খ. ‘তুমি আমাকে যাইতে দিয়ো না, মা’-উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের জাবিদ আর ‘সুভা’ গল্পের সুভার মিল কোথায়? বর্ণনা দাও।
ঘ. “উদ্দীপকের জামিল স্যার ও জাবিদের বন্ধুদের ভূমিকা ‘সুভা’ গল্পের
লেখকের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন”- বিশ্লেষণ করো।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অনাথ সীমা সারাক্ষণ বিষণ্ণ থাকে। তার মনে শান্তি নেই। কেননা, কেউ তার
সাথে মেশে না। সেও কারো সাথে মেশে না। প্রকৃতির সাথেই তার সখ্য ও
বন্ধুত্ব। পিতা-মাতাহারা সীমা চাচার বাড়িতে থাকলেও চাচি তাকে একদম সহ্য
করতে পারে না। এজন্য নদী, গাছপালা, পাখি ইত্যাদির মাঝে সীমা নিজেকে
আবিষ্কার করে সময় কাটায়।
ক. প্রতাপ সুভাকে কী বলে ডাকত?
খ. সুভা নিজেকে সর্বদা গোপন রাখার চেষ্টা করে কেন?
গ. উদ্দীপকের সীমার মাঝে ‘সুভা’ গল্পের সুভার যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘প্রকৃতি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু’- ‘সুভা’ গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে
উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আভা খুবই মেধাবী ও প্রাণচঞ্চল। সবকিছুতে তার
স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। হঠাৎ একদিন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সে তার একটি
পা হারায়। আভা মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ধীরে ধীরে সে নিশ্চুপ হয়ে
যায়।
ক. সুভার আসল নাম কী?
খ. মা ছেলে অপেক্ষা মেয়েকে নিজের অংশরূপে দেখেন কেন?
গ. উদ্দীপকে আভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার দিকটি ‘সুভা’ গল্পের সঙ্গে কীভাবে
সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আভা চরিত্রটি সুভা চরিত্রকে কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করে বলে তুমি মনে
করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দিয়ার বয়স সতেরো পেরিয়ে আঠারোয় পড়েছে। ওর সমবয়সি অনেকেই বিয়ে-শাদি করে
রীতিমতো সংসারী। কিন্তু দিয়ার জন্ম থেকেই হাত দুটো অসাড় হওয়ায় অন্যদের
মতো তার সংসার করা হয়নি। দিয়ার বিধবা মা মলিনা বেগম এতে বিচলিত নন। ছোটো
ছেলে পনেরো বছরের রাতুলের চেয়ে কোনো অংশে দিয়ার আদর-যত্ন তিনি কম করেন
না। পাড়ার দু-একজন অবশ্য দিয়ার এমন অবস্থার জন্য জিন-ভূতের আছরকে দায়ী
করে। কিন্তু ওসব পাত্তা দেন না মলিনা বেগম।
ক. ‘সুভা’ গল্পে কাকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে?
খ. ‘এই বাক্যহীন মানুষের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব
আছে।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের মলিনা বেগম এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের বৈসাদৃশ্য
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের দিয়া কি ‘সুভা’ গল্পের সুভা? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি
দাও।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পাশের বাড়ির সেতুর বিয়ে হচ্ছে দেখে মিনুর মা খুবই কষ্ট - পাচ্ছেন। মিনু
আর সেতু একই বয়সি। কিন্তু তিনি ভাবেন, কে বিয়ে করবে তার সড়ক দুর্ঘটনায় পা
হারানো মেয়েকে? কিন্তু মিনুর বাবা তাকে নিয়ে গর্বিত কারণ, মিনু ঘরে বসে
সেলাইয়ের কাজ করে আজ স্বাবলম্বী।
ক. প্রকৃতি সুভার কীসের অভাব পূরণ করে দেয়?
খ. প্রতাপকে নিতান্ত অকর্মণ্য লোক কেন বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের মিনুর মা এবং ‘সুভা’ গল্পের সুভার মায়ের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “উদ্দীপকের মিনুর বাবা ‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবারই প্রতিচ্ছবি।”
মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বাবা-মা হারা রেজা তার চাচা আমজাদ সাহেবের কাছে থাকে। রেজার একটি হাত ও
একটি পা নেই। তবু সে থেমে থাকে না। ক্লাসে ভালো ফল করায় শিক্ষকগণ তাকে
স্নেহ করেন। সহপাঠীরা তাকে সহযোগিতা করে। তবে কেউ কেউ তাকে নিয়ে তামাশা
করে। ফলে অনেক সময় মন খারাপ হয়। চাচা তাকে বলেন, ‘মন খারাপ কোরো না,
এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করে তুমি সবাইকে দেখিয়ে দাও যে তুমিও পারো।’
ক. সুভার মা সুভার প্রতি বিরক্ত ছিলেন কেন?
খ. সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত কেন? ব্যাখ্যা
করো।
গ. উদ্দীপকের রেজার সাথে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘সুভার বাবা-মায়ের মানসিকতা যদি রেজার চাচার মতো হতো তবে সুভার পরিণতি
অন্যরকম হতে পারত।’- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সুদীপ্ত ও তনয়ার একমাত্র সন্তান মৌনতা। নিটোল চোখের শান্ত মৌনতা কথা বলতে
পারে না। তার প্রতি মাঝে মাঝে মায়ের বিরূপ আচরণ মনে খুব দুঃখ দেয়, কিন্তু
বাবার আদর ও ভালোবাসায় সে সব দুঃখ ভুলে যায়। সুদীপ্ত কখনোই মেয়েকে বোঝা
মনে করেন না বরং তার কাছে মৌনতা সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ উপহারস্বরূপ। তাই
মৌনতার সব না বলা ভাষার চাহনি তার কাছে এক গল্পগাথা।
ক. ‘সুভা’ গল্পে কাকে অকর্মণ্য বলা হয়েছে?
খ. ‘বাক্যহীন মনুষ্যের মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতো একটা বিজন মহত্ত্ব আছে।’-
‘সুভা’ গল্পের লেখকের এই উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সুদীপ্ত চরিত্রটি ‘সুভা’ গল্পের কোন চরিত্রকে প্রতিফলিত
করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের মৌনতার বাবা ‘সুভা’ গল্পের সুভার বাবারই প্রতিচ্ছবি।”-
মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দৃশ্যপট-১: সুজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বালক। সবাই তাকে অন্য চোখে দেখে এবং
প্রকাশ্যে নানা কথা বলে। মা তাকে সংসারের বোঝা মনে করে। সুজন সর্বদা
নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করে। সারাক্ষণ পুতুল বানিয়ে তার সাথে ভাববিনিময়
করে সময় কাটায়।
দৃশ্যপট-২: তমা জন্মান্ধ। পৃথিবীর সৌন্দর্য অনুভব করা ছাড়া তার দেখার
কোনো সুযোগ নেই। মা-বাবা, পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধুরা তাকে সহযোগিতা করে।
সেও সবার সাথে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করে। তমা বিবাহযোগ্য হলে গ্রামের
শিক্ষিত ছেলে সুমন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে নেয়।
ক. সুভার বাবার নাম কী?
খ. সুভা শম্পশয্যায় লুটিয়ে পড়ল কেন?
গ. দৃশ্যপট-১ এর সাথে ‘সুভা’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. দৃশ্যপট-২ এর ‘তমার মতো সুভাও যদি অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জীবনে বিড়ম্বনা তৈরি হতো না।’- মন্তব্যটি মূল্যায়ন
করো।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রনি অল্প বয়সেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। ভাই-বোন,
মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সার্বিক সহযোগিতা পেয়ে সে স্বাভাবিক জীবনযাপন
করার চেষ্টা করে। স্কুলে ভর্তি হলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় সে
পড়াশোনা করতে থাকে। গত এসএসসি পরীক্ষায় ‘এ’ প্লাস পেয়ে সে সবাইকে তাক
লাগিয়ে দেয়।
ক. ‘সুভা’ গল্পে সুভার বাবার নাম কী?
খ. সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের রনির সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের সুভার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘সুভা যদি রনির মতো অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন
বিষাদাক্রান্ত হয়ে উঠত না।’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
‘সুভা’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জন্ম থেকেই সুলতানার ডান হাত এবং ডান পা একরকম অকেজো। বেশিক্ষণ হাঁটতে
পারে না। প্রায় সব কাজেই কারো না কারো সাহায্য নিতে হয়। অন্যদের মতো
স্বাভাবিক না হওয়ায় কেউ - তার সঙ্গে মিশতে চাইত না এবং খেলাও করত না।
কিন্তু সুলতানা মনোবল হারায়নি। ডান হাতে শক্তি না থাকায় সে বাম হাতে
লেখালেখি করে। পড়াশোনা অব্যাহত রেখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি
পেরিয়ে সে এখন স্নাতকে ভর্তি হয়েছে।
ক. ‘অনিমেষ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. কালো চোখকে কিছু তর্জমা করতে হয় না কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সুলতানার সঙ্গে ‘সুভা’ গল্পের সুভার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের সুলতানা চরিত্রের যে দিকটি সুভার মধ্যে অনুপস্থিত, সেটিই
তার করুণ পরিণতির মূল কারণ।’- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।