অতিথির স্মৃতি- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
|
| অতিথির স্মৃতি |
অতিথির স্মৃতি
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
চিকিৎসকের আদেশে দেওঘরে এসেছিলাম বায়ু পরিবর্তনের জন্যে। প্রাচীর (দেওয়াল) ঘেরা বাগানের মধ্যে একটা বড় বাড়িতে থাকি। রাত্রি তিনটে থেকে কাছে কোথাও একজন গলাভাঙা একঘেয়ে (বিরক্তিকর) সুরে ভজন (মহিমাকীর্তন; প্রার্থনামূলক গান) শুরু করে, ঘুম ভেঙে যায়, দোর (দরজা) খুলে বারান্দায় এসে বসি। ধীরে ধীরে রাত্রি শেষ হয়ে আসে- পাখিদের আনাগোনা (যাতায়াত) শুরু হয়। দেখতাম ওদের মধ্যে সবচেয়ে ভোরে ওঠে দোয়েল। অন্ধকার শেষ না হতেই তাদের গান আরম্ভ হয়, তারপরে একটি দুটি করে আসতে থাকে বুলবুলি, শ্যামা, শালিক, টুনটুনি- পাশের বাড়ির আমগাছে, এ বাড়ির বকুল-কুঞ্জে (লতাপাতায় আচ্ছাদিত বৃত্তাকার স্থান), পথের ধারের অশ্বত্থগাছের (অশ্শত্থো, অশথ গাছ, পিপ্পল, বট জাতীয় বৃক্ষ) মাথায়- সকলকে চোখে দেখতে পেতাম না, কিন্তু প্রতিদিন ডাক শোনার অভ্যাসে মনে হতো যেন ওদের প্রত্যেককেই চিনি। হলদে রঙের একজোড়া বেনে-বৌ পাখি একটু দেরি করে আসত। প্রাচীরের ধারের ইউক্যালিপটাস গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালটায় বসে তারা প্রত্যহ (প্রতিদিন, প্রতি+অহ) হাজিরা হেঁকে (ডেকে) যেত। হঠাৎ কী জানি কেন দিন-দুই এলো না দেখে ব্যস্ত হয়ে উঠলাম, কেউ ধরলে না তো? এদেশে ব্যাধের (শিকারী জাতি বিশেষ) অভাব নেই, পাখি চালান দেওয়াই তাদের ব্যবসা- কিন্তু তিন দিনের দিন আবার দুটিকে ফিরে আসতে দেখে মনে হলো যেন সত্যিকার একটা ভাবনা ঘুচে (দূরীভূত হওয়া) গেল।
এমনি করে সকাল কাটে। বিকালে গেটের বাইরে পথের ধারে এসে বসি। নিজের সামর্থ্য নেই বেড়াবার, যাদের আছে তাদের প্রতি চেয়ে চেয়ে দেখি। দেখতাম মধ্যবিত্ত গৃহস্থের ঘরে পীড়িতদের (অসুস্থদের) মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই ঢের (অনেক) বেশি। প্রথমেই যেত পা ফুলো ফুলো অল্পবয়সী একদল মেয়ে। বুঝতাম এরা বেরিবেরির (ভিটামিন বি-এর অভাবে হাত-পা ফুলে যাওয়া রোগ।) আসামি (এখানে রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।) ফোলা পায়ের লজ্জা ঢাকতে বেচারাদের কত না যত্ন। মোজা পরার দিন নয়, গরম পড়েছে, তবু দেখি কারও পায়ে আঁট করে মোজা পরা। কেউ বা দেখলাম মাটি পর্যন্ত লুটিয়ে কাপড় পরেছে- সেটা পথ চলার বিঘ্ন, তবু, কৌতূহলী (উৎসুক; নতুন কিছু জানার জন্য আগ্রহী বা ইচ্ছুক) লোকচক্ষু থেকে তারা বিকৃতিটা আড়াল রাখতে চায়। আর সবচেয়ে দুঃখ হতো আমার একটি দরিদ্র ঘরের মেয়েকে দেখে। সে একলা যেত। সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন নেই, শুধু তিনটি ছোটো ছোটো ছেলেমেয়ে। বয়স বোধ করি চব্বিশ-পঁচিশ, কিন্তু দেহ যেমন শীর্ণ (রোগা), মুখ তেমনি পাণ্ডুর (ফ্যাকাশে)- কোথাও যেন এতটুকু রক্ত নেই। শক্তি নেই নিজের দেহটাকে টানবার, তবু সবচেয়ে ছোটো ছেলেটি তার কোলে। সে তো আর হাঁটতে পারে না-
অথচ, ফিরে আসবারও ঠাঁই নেই? কী ক্লান্তই না মেয়েটির চোখের চাহনি।
সেদিন সন্ধ্যার তখনও দেরি আছে, দেখি জনকয়েক বৃদ্ধ ব্যক্তি ক্ষুধা হরণের কর্তব্যটা সমাধা করে যথাশক্তি দ্রুতপদেই (সত্বর, তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে) বাসায় ফিরছেন। সম্ভবত এরা বাতব্যাধিগ্রস্ত (মাংসপেশি বা অস্থিসন্ধিতে প্রদাহজনিত রোগ।), সন্ধ্যার পূর্বেই এদের ঘরে প্রবেশ করা প্রয়োজন।
তাঁদের চলন (যাওয়া, ভ্রমণ) দেখে ভরসা হলো, ভাবলাম যাই, আমিও একটু ঘুরে আসিগে। সেদিন পথে পথে অনেক বেড়ালাম। অন্ধকার হয়ে এলো, ভেবেছিলাম আমি একাকী, হঠাৎ পেছনে চেয়ে দেখি একটি কুকুর আমার পেছনে চলেছে। বললাম, কী রে, যাবি আমার সঙ্গে? অন্ধকার পথটায় বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দিতে পারবি?
সে দূরে দাঁড়িয়ে ল্যাজ নাড়তে লাগল। বুঝলাম সে রাজি আছে। বললাম, তবে আয় আমার সঙ্গে। পথের ধারের একটা আলোতে দেখতে পেলাম কুকুরটার বয়স হয়েছে; কিন্তু যৌবনে একদিন শক্তিসামর্থ্য ছিল। তাকে অনেক কিছু প্রশ্ন করতে করতে বাড়ির সমুখে এসে পৌঁছলাম। গেট খুলে দিয়ে ডাকলাম, ভেতরে আয়। আজ তুই আমার অতিথি (মেহমান)। সে বাইরে দাঁড়িয়ে ল্যাজ (লেজ) নাড়তে লাগল, কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না। আলো নিয়ে চাকর এসে উপস্থিত হলো, গেট বন্ধ করে দিতে চাইল, বললাম, না, খোলাই থাক। যদি আসে, ওকে খেতে দিস। ঘণ্টাখানেক পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম সে আসে নি- কোথায় চলে গেছে।
পরদিন সকালে বাইরে এসেই দেখি গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আমার সেই কালকের অতিথি। বললাম, কাল তোকে খেতে নেমন্তন্ন (নিমন্ত্রণ- দাওয়াত; ভোজনে আহ্বান) করলাম, এলিনে কেন?
জবাবে সে মুখপানে চেয়ে তেমনি ল্যাজ নাড়তে লাগল। বললাম, আজ তুই খেয়ে যাবি, না খেয়ে যাসনে বুঝলি? প্রত্যুত্তরে (প্রতি উত্তরে) সে শুধু ঘন ঘন ল্যাজ নাড়ল- অর্থ বোধ হয় এই যে, সত্যি বলছো তো?
রাত্রে চাকর এসে জানাল সেই কুকুরটা এসে আজ বাইরের বারান্দার নিচে উঠানে বসে আছে। বামুনঠাকুরকে ডেকে বলে দিলাম, ও আমার অতিথি, ওকে পেট ভরে খেতে দিও।
পরের দিন খবর পেলাম অতিথি যায় নি। আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে। বললাম, তা হোক, ওকে তোমরা খেতে দিও।
আমি জানতাম, প্রত্যহ খাবার তো অনেক ফেলা যায়, এতে কারও আপত্তি হবে না। কিন্তু আপত্তি ছিল এবং অত্যন্ত গুরুতর আপত্তি। আমাদের বাড়তি খাবারের যে প্রবল অংশীদার ছিল এ বাগানের মালির (বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি) মালিনী (মালির স্ত্রী)- এ আমি জানতাম না। তার বয়স কম, দেখতে ভালো এবং খাওয়া সম্বন্ধে নির্বিকারচিত্ত (উদাসীন মন)। চাকরদের দরদ তার পরেই বেশি। অতএব, আমার অতিথি করে উপবাস। বিকালে পথের ধারে গিয়ে বসি, দেখি অতিথি আগে থেকেই বসে আছে ধুলোয়। বেড়াতে বার হলে সে হয় পথের সঙ্গী; জিজ্ঞাসা করি, হ্যাঁ অতিথি, আজ মাংস রান্নাটা কেমন হয়েছিল রে? হাড়গুলো চিবোতে লাগল কেমন? সে জবাব দেয় ল্যাজ নেড়ে, মনে করি মাংসটা তা হলে ওর ভালোই লেগেছে। জানিনে যে মালির বউ তারে মেরেধরে বার করে দিয়েছে- বাগানের মধ্যে ঢুকতে দেয় না, তাই ও সমুখের পথের ধারে বসে কাটায়। আমার চাকরদেরও তাতে সায় ছিল।
হঠাৎ শরীরটা খারাপ হলো, দিন-দুই নিচে নামতে পারলাম না। দুপুরবেলা উপরের ঘরে বিছানায় শুয়ে, খবরের কাগজটা যেইমাত্র পড়া হয়ে গেছে, জানালার মধ্য দিয়ে বাইরের রৌদ্রতপ্ত নীল আকাশের পানে চেয়ে অন্যমনস্ক হয়ে ভাবছিলাম। সহসা (হঠাৎ) খোলা দোর দিয়ে সিঁড়ির উপর ছায়া পড়ল কুকুরের। মুখ বাড়িয়ে দেখি অতিথি দাঁড়িয়ে ল্যাজ নাড়ছে। দুপুরবেলা চাকরেরা সব ঘুমিয়েছে, ঘর তাদের বন্ধ, এই সুযোগে লুকিয়ে সে একেবারে আমার ঘরের সামনে এসে হাজির। ভাবলাম, দুদিন দেখতে পায় নি, তাই বুঝি আমাকে ও দেখতে এসেছে। ডাকলাম, আয় অতিথি, ঘরে আয়। সে এলো না, সেখানে দাঁড়িয়েই ল্যাজ নাড়তে লাগল। জিজ্ঞাসা করলাম-
খাওয়া হয়েছে তো রে? কী খেলি আজ?
হঠাৎ মনে হলো ওর চোখ দুটো যেন ভিজেভিজে, যেন গোপনে আমার কাছে কী একটা নালিশ (অভিযোগ; ফরিয়াদ) ও জানাতে চায়। চাকরদের হাঁক দিলাম, ওদের দোর খোলার শব্দেই অতিথি ছুটে পালাল।
জিজ্ঞাসা করলাম, হ্যাঁ রে, কুকুরটাকে আজ খেতে দিয়েছিস?
আজ্ঞে (কথায় সম্মাতসূচক শব্দ) না। মালি-বৌ ওরে তাড়িয়ে দিয়েছে যে।
আজ তো অনেক খাবার বেঁচেছে, সে সব হলো কী?
মালি-বৌ চেঁচেপুঁছে (সম্পূর্ণ) নিয়ে গেছে।
আমার অতিথিকে ডেকে আনা হলো, আবার সে বারান্দার নিচে উঠানের ধুলোয় পরম নিশ্চিন্তে (ভাবনাহীন; চিন্তাহীন) স্থান করে নিল। মালি-বৌয়ের ভয়টা তার গেছে। বেলা যায়, বিকাল হলে উপরের বারান্দা থেকে দেখি অতিথি এই দিকে চেয়ে প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে। বেড়াতে যাবার সময় হলো যে।
শরীর সারলো না, দেওঘর থেকে বিদায় নেবার দিন এসে পড়ল। তবু দিন-দুই দেরি করলাম নানা ছলে। আজ সকাল থেকে জিনিস বাঁধাবাঁধি শুরু হলো, দুপুরের ট্রেন। গেটের বাইরে সার সার গাড়ি (সারিসারি গাড়ি) এসে দাঁড়াল, মালপত্র বোঝাই দেওয়া চলল। অতিথি মহাব্যস্ত (অতিশয় ব্যস্ত), কুলিদের সঙ্গে ক্রমাগত ছুটোছুটি করে খবরদারি করতে লাগল, কোথাও যেন কিছু খোয়া (হারানো) না যায়। তার উৎসাহই সবচেয়ে বেশি।
একে একে গাড়িগুলো ছেড়ে দিলে, আমার গাড়িটাও চলতে শুরু করল। স্টেশন দূরে নয়, সেখানে পৌঁছে নামতে গিয়ে দেখি অতিথি দাঁড়িয়ে। কী রে, এখানেও এসেছিস? সে ল্যাজ নেড়ে তার জবাব দিল, কী জানি মানে তার কী।
টিকিট কেনা হলো, মালপত্র তোলা হলো, ট্রেন ছাড়তে আর এক মিনিট দেরি। সঙ্গে যারা তুলে দিতে এসেছিল তারা বকশিশ (পুরস্কার) পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি। গরম বাতাসে ধুলো উড়িয়ে সামনেটা আচ্ছন্ন করেছে, যাবার আগে তারই মধ্য দিয়ে ঝাপসা দেখতে পেলাম- স্টেশনের ফটকের (সদর দরজা) বাইরে দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে চেয়ে আছে অতিথি। ট্রেন ছেড়ে দিলে, বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম না। কেবলই মনে হতে লাগল, অতিথি আজ ফিরে গেয়ে দেখবে বাড়ির লোহার গেট বন্ধ, ঢুকবার জো (উপায়; পথ) নেই। পথে দাঁড়িয়ে দিন-দুই তার কাটবে, হয়তো নিস্তব্ধ (নীরব; নিস্পন্দ) মধ্যাহ্নের (দুপুরে) কোনো ফাঁকে লুকিয়ে উপরে উঠে খুঁজে দেখবে আমার ঘরটা। হয়তো, ওর চেয়ে তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই, তবু দেওঘরে বাসের কটা দিনের স্মৃতি ওকে মনে করেই লিখে রেখে গেলাম।
|
| লেখক ও অতিথি |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের উৎস নির্দেশ : |
|---|
| শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেওঘরের স্মৃতি’ গল্পটির নাম পাল্টে এবং ঈষৎ পরিমার্জনা করে এখানে ‘অতিথির স্মৃতি’ হিসেবে সংকলন করা হয়েছে। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের শব্দার্থ ও টীকা : |
|---|
|
➠ প্রাচীর- দেওয়াল। ➠ একঘেয়ে- বিরক্তিকর। ➠ ভজন- ঈশ্বর বা দেবদেবীর স্তুতি বা মহিমাকীর্তন। প্রার্থনামূলক গান। ➠ দোর- দুয়ার বা দরজা। বাড়ির ফটক। ➠ আনাগোনা- যাতায়াত। ➠ কুঞ্জে- লতাপাতায় আচ্ছাদিত বৃত্তাকার স্থান। ➠ অশ্বত্থগাছ- (অশ্শত্থো) অশথ গাছ, পিপ্পল, বট জাতীয় বৃক্ষ। ➠ প্রত্যহ- প্রতিদিন, (প্রতি+অহ)। ➠ হেঁকে- ডেকে। ➠ ব্যাধ- শিকারী জাতি বিশেষ। ➠ ঘুচে- দূরীভূত হওয়া। ➠ পীড়িত- অসুস্থ। ➠ ঢের- অনেক। ➠ বেরিবেরি- ভিটামিনের অভাবে হাত-পা ফুলে যাওয়া রোগ। ➠ আসামি- এ শব্দটি দিয়ে সাধারণত আদালতে কোনো অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বোঝানো হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে রোগাক্রান্তদের বোঝানো হয়েছে। ➠ কৌতূহলী- উৎসুক; নতুন কিছু জানার জন্য আগ্রহী বা ইচ্ছুক। ➠ শীর্ণ- রোগা। ➠ পাণ্ডুর- ফ্যাকাশে। ➠ দ্রুতপদেই- সত্বর, তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে। ➠ বাতব্যাধিগ্রস্ত- মাংসপেশি বা অস্থিসন্ধিতে প্রদাহজনিত রোগ। বাত রোগীকে নিয়মিত ব্যায়াম; স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা; ধূমপান ও মদ্যপান এড়ানো; ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও জীবনযাপনের মাধ্যমে লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগের অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব। কোনো লক্ষণ দেখা দিলে রিউমাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ➠ চলন- যাওয়া, ভ্রমণ। ➠ অতিথি- মেহমান। ➠ ল্যাজ- লেজ। ➠ নেমন্তন্ন- (নিমন্ত্রণ) দাওয়াত; ভোজনে আহ্বান। ➠ প্রত্যুত্তর- প্রতি উত্তরে। ➠ মালি- বেতনের বিনিময়ে বাগানের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি। ➠ মালিনী- মালির স্ত্রী। ➠ নির্বিকারচিত্ত- উদাসীন মন। ➠ সহসা- হঠাৎ। ➠ নালিশ- অভিযোগ; ফরিয়াদ। ➠ আজ্ঞে- কথায় সম্মাতসূচক শব্দ। ➠ চেঁচেপুঁছে- সম্পূর্ণ। ➠ নিশ্চিন্তে- ভাবনাহীন; চিন্তাহীন। ➠ সার সার গাড়ি- সারিসারি গাড়ি। ➠ মহাব্যস্ত- অতিশয় ব্যস্ত। ➠ খোয়া- হারানো। ➠ বকশিশ- পুরস্কার। ➠ ফটক- সদর দরজা। ➠ জো- উপায়; পথ। ➠ নিস্তব্ধ- নীরব; নিস্পন্দ। ➠ মধ্যাহ্ন- দুপুর। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের পাঠের উদ্দেশ্যে: |
|---|
| অতিথির স্মৃতি গল্প পড়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হবে। নতুন কোনো জায়গা ভ্রমণ করলে ওই অভিজ্ঞতা লিখে রাখতেও আগ্রহী হবে। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের পাঠ পরিচিতি : |
|---|
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে একটি প্রাণীর সঙ্গে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মমত্বের সম্পর্কই এ গল্পের বিষয়। লেখক দেখিয়েছেন, মানুষে-মানুষে যেমন স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক অন্য জীবের সঙ্গেও মানুষের তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক নানা প্রতিকূল কারণে স্থায়ীরূপ পেতে বাধাগ্রস্ত হয়। আবার এই সম্পর্কের সূত্র ধরে একটি মানুষ ওই জীবের প্রতি যখন মমতায় সিক্ত হয় তখন অন্য মানুষের আচরণ নির্মম হয়ে উঠতে পারে। এ গল্পে সম্পর্কের এই বিচিত্র রূপই প্রকাশ করা হয়েছে। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক পরিচিতি : |
|---|
|
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর
গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কৈশোর ও যৌবনের অধিকাংশ সময় ভাগলপুরের
মাতুলালয়ে অতিবাহিত হয়। তিনি কলেজশিক্ষা শেষ করতে পারেননি। ১৯০৩ সালে
জীবিকার সন্ধানে রেঙ্গুন যাত্রা করেন। ১৯১৬ সাল পর্যন্ত তিনি রেঙ্গুনে
ছিলেন এবং সেখানে অবস্থানকালে সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯০৭ সালে
‘ভারতী’ পত্রিকায় ‘বড়দিদি’ প্রকাশিত হলে তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর একে একে গল্প-উপন্যাস লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকে
পরিণত হন। সাধারণ বাঙালি পাঠকের আবেগকে তিনি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে
পেরেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে:
পল্লীসমাজ, দেবদাস, শ্রীকান্ত (চার পর্ব), গৃহদাহ, দেনাপাওনা, পথের
দাবী, শেষ প্রশ্ন
প্রভৃতি। সাহিত্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট, উপাধি লাভ
করেন। বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী কথাশিল্পীর জীবনাবসান ঘটে ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায়। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের কর্ম অনুশীলন : |
|---|
|
ক. তোমার অভিজ্ঞতা থেকে একটি ভ্রমণকাহিনির বিবরণ লেখো (একক কাজ)। খ. তোমার প্রিয় কোনো পশু বা পাখির কোন কোন আচরণ তোমার কাছে মানুষের আচরণের মতো মনে হয়, তার একটি বর্ণনা দাও (একক কাজ)। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: পাখি চালান দেওয়া কাদের ব্যবসায়? উত্তর : পাখি চালান দেওয়া ব্যাধদের ব্যবসায়। প্রশ্ন- ২: কাকে দেখে লেখকের সবচেয়ে বেশি দুঃখ হতো? উত্তর : একটা দরিদ্র ঘরের মেয়েকে দেখে লেখকের সবচেয়ে বেশি দুঃখ হতো। প্রশ্ন- ৩: ‘কী রে, যাবি আমার সঙ্গে? -এ প্রশ্ন কাকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে? উত্তর : ‘কী রে, যাবি আমার সঙ্গে?’-এ প্রশ্ন একটা কুকুরকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে। প্রশ্ন- ৪: কার যৌবনে শক্তিসামর্থ্য ছিল? উত্তর : কুকুরটার যৌবনে শক্তিসামর্থ্য ছিল। প্রশ্ন- ৫: লেখক কাকে অতিথি হিসেবে ঘরে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানান? উত্তর : লেখক একটি কুকুরকে অতিথি হিসেবে ঘরে প্রবেশের আমন্ত্রণ জানান। প্রশ্ন- ৬: আলো নিয়ে কে এসে উপস্থিত হলো? উত্তর : আলো নিয়ে চাকর এসে উপস্থিত হলো। প্রশ্ন- ৭: ‘ও আমার অতিথি, ওকে পেট ভরে খেতে দিও’-কাকে এ আদেশ দেয়া হয়েছে? উত্তর : ‘ও আমার অতিথি, ওকে পেট ভরে খেতে দিও।’-বামুন ঠাকুরকে এ আদেশ দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন- ৮: বেড়াতে বের হলে লেখকের পথসঙ্গী হয় কে? উত্তর : বেড়াতে বের হলে লেখকের পথসঙ্গী হয় কুকুরটি। প্রশ্ন- ৯: মালির বউ কাকে মারধর দিয়ে বের করে দিয়েছে? উত্তর : মালির বউ লেখকের অতিথি তথা কুকুরটাকে মারধর দিয়ে বের করে দিয়েছে। প্রশ্ন- ১০: কে লেখকের কাছে গোপনে নালিশ জানাতে চায়? উত্তর : কুকুরটি লেখকের কাছে গোপনে নালিশ জানাতে চায়। প্রশ্ন- ১১: কাদে দরজা খোলার শব্দে অতিথি পালাল? উত্তর : চাকরদের দোর খোলার শব্দে অতিথি পালাল। প্রশ্ন- ১২: শরীর না সারলেও লেখককে কোথা থেকে বিদায় নিতে হলো? উত্তর : শরীর না সারলেও লেখককে দেওঘর থেকে বিদায় নিতে হলো। প্রশ্ন- ১৩: সবাই বকশিশ পেলেও কে বকশিশ পেল না? উত্তর : সবাই বকশিশ পেলেও অতিথি অর্থাৎ কুকুরটি বকশিশ পেল না। প্রশ্ন- ১৪: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে রাত তিনটায় লেখকের ঘুম ভেঙে যায় কেন? উত্তর : ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে একজনের গলাভাঙা একঘেয়ে সুরে ভজনের শব্দ শুনে রাত তিনটায় লেখকের ঘুম ভেঙে যায়। প্রশ্ন- ১৫: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে উল্লিখিত বেনে-বৌ পাখির গায়ের রং কেমন? উত্তর : ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে উল্লিখিত বেনে-বৌ পাখির গায়ের রং হলুদ। প্রশ্ন- ১৬: লেখক বেরিবেরি রোগীদের চিনতেন কীভাবে? উত্তর : লেখক পা ফোলা দেখে বেরিবেরি রোগীদের চিনতেন। প্রশ্ন- ১৭: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে বেনে-বৌ পাখি কোথায় বসে হাজিরা হাঁকত? উত্তর : ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে বেনে-বৌ পাখি দুটি প্রাচীরের ধারের ইউক্যালিপটাস গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালটায় বসে হাজিরা হাঁকত। প্রশ্ন- ১৮: দেওঘরে কোন ঘরে পীড়িতদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা বেশি? উত্তর : দেওঘরে মধ্যবিত্ত গৃহস্থের ঘরে পীড়িতদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। প্রশ্ন- ১৯: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে লেখক কাকে অতিথি বলেছেন? উত্তর : ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে লেখক একটি কুকুরকে অতিথি বলেছেন। প্রশ্ন- ২০: সন্ধ্যার পূর্বেই কাদের ঘরে প্রবেশ করা প্রয়োজন ছিল? উত্তর : বাতব্যাধিগ্রস্তদের সন্ধ্যার পূর্বেই ঘরে প্রবেশ করা প্রয়োজন ছিল। প্রশ্ন- ২১: অতিথিশালার বাড়তি খাবারের প্রবল অংশীদার কে ছিল? উত্তর : অতিথিশালার বাড়তি খাবারের প্রবল অংশীদার ছিল বাগানের মালির স্ত্রী মালিনী। প্রশ্ন- ২২: কুকুরটি কখন লুকিয়ে বাড়িতে এসেছিল? উত্তর : কুকুরটি দুপুরবেলা লুকিয়ে বাড়িতে এসেছিল। প্রশ্ন- ২৩: বেঁচে যাওয়া খাবার কে নিয়ে গিয়েছিল? উত্তর : মালির বৌ বেঁচে যাওয়া খাবার নিয়ে গিয়েছিল। প্রশ্ন- ২৪: শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত উপন্যাসের খণ্ড কয়টি? উত্তর : শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত উপন্যাসের খণ্ড চারটি। প্রশ্ন- ২৫: ‘বেরিবেরি’ কী? উত্তর : বেরিবেরি শোথ জাতীয় রোগ, যাতে হাত পা ফুলে যায়। প্রশ্ন- ২৬: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে ভোরে ওঠে কোনটি? উত্তর : ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে ভোরে ওঠে দোয়েল। প্রশ্ন- ২৭: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাসের নাম লেখো। উত্তর : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস হলো দেবদাস। প্রশ্ন- ২৮: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূল বিষয় কী? উত্তর : মানবেতর প্রাণীর সঙ্গে মানুষের মমত্বের সম্পর্কের স্বরূপই হলো ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূল বিষয়। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: বেরিবেরির আসামি বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন- ২: বেনে-বৌ পাখির অনুপস্থিতিতে লেখকের ব্যস্ত হয়ে ওঠার কারণ
কী?
প্রশ্ন- ৩: লেখক বাড়ি পৌঁছাতে কুকুরের সাহায্য কামনা করলেন কেন?
প্রশ্ন- ৪: লেখকের অতিথি বারান্দার নিচে বসেছিল কেন?
প্রশ্ন- ৫: ‘ফোলা পায়ের লজ্জা ঢাকতে বেচারাদের কত না যত্ন’- বুঝিয়ে
লেখো।
প্রশ্ন- ৬: ‘দেহ যেমন শীর্ণ মুখ তেমনি পাণ্ডুর’ কথাটি ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন- ৭: মালির বউ কুকুরটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল কেন?
প্রশ্ন- ৮: ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের গল্পকারের সকাল কাটে কীভাবে? |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী? |
|
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গিয়েছিলেন।
গ. উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথির
প্রতি লেখকের ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. ‘উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন’-
মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. বেনে- বৌ পাখি কোন গাছে বসে হাজিরা হেঁকে যেত? |
|
ক. বেনে-বৌ পাখি প্রাচীরের ধারের ইউক্যালিপটাস গাছের উঁচু ডালে বসে
হাজিরা হেঁকে যেত।
গ. আশার মধ্যে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মানবেতর প্রাণীর প্রতি মমত্বের
সম্পর্কের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. “উদ্দীপকে বর্ণিত আশার অনুভূতি ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের সমধর্মী
হলেও পুরোপুরি এক নয়”- প্রেক্ষাপটের দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ। |
| সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক.‘বড়দিদি’ উপন্যাস কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়? |
|
ক. ‘বড়দিদি’ উপন্যাসটি সর্বপ্রথম ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
গ. উদ্দীপকে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের প্রতিফলিত দিক হচ্ছে মানবেতর প্রাণীর
প্রতি ভালোবাসা।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সমগ্রভাবকে ধারণ করে না” মন্তব্যটি
যথাযথ। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. পাণ্ডুর শব্দের অর্থ কী? |
|
ক. পাণ্ডুর শব্দের অর্থ বিবর্ণ।
গ. উদ্দীপকের লোপার সাথে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের মিল খুঁজে পাওয়া
যায়।
ঘ. “উদ্দীপক এবং ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূলভাব একই”।- উক্তিটি যথাযথ। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ভজন শুরু হয় কখন? |
|
ক. রাত তিনটে থেকে ভজন শুরু হয়।
গ. উদ্দীপকটিতে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের পশুপ্রেমের বিষয়টি প্রকাশ
পেয়েছে।
ঘ. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে যতগুলো দিক প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকে তার সবগুলো
দিক প্রকাশিত হয়নি। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. কত সালে ‘বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশিত হয়। |
|
ক. ১৯০৭ সালে ‘বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
গ. অতিথি ও ছাগলছানা দুটি প্রাণীই প্রভুভক্তির পরিচয় দিয়েছে। ইতর প্রাণী
হয়েও মানুষের সঙ্গে তাদের চমৎকার সম্পর্ক রচিত হয়েছে। কিন্তু তাদের করুণ
পরিণতি আমাদের বেদনাহত করে।
ঘ. “‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে অতিথি উদ্দীপকের ছাগলছানাটির মতো ততটা জীবন
ঘনিষ্ঠ নয়” - মন্তব্যটি যথাযথ। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. সবচেয়ে ভোরে ওঠে কোন পাখি? |
|
ক. সবচেয়ে ভোরে ওঠে দোয়েল পাখি।
গ. উদ্দীপকে লোকটির আকুতির সঙ্গে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে লেখকের অনুভূতির
পুরোপুরি সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. “প্রেক্ষাপটে ভিন্ন হলেও ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূল সুরই উদ্দীপকে
প্রতিফলিত হয়েছে।” -উক্তিটি যথাযথ। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. প্রাচীরের ধারের গাছটির নাম কী? |
|
ক. প্রাচীরের ধারের গাছটির নাম ইউক্যালিপটাস।
গ. রানার সঙ্গে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মালির বৌ মালিনীকে মেলানো যায়।
ঘ. “উদ্দীপকের রতনের মাঝে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখককে খুঁজে পাওয়া
যায়” মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পটি কে লিখেছেন? |
|
ক. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পটি লিখেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
গ. রুবার মন খারাপের সঙ্গে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের অনুভূতির
চমৎকার একটি মিল পাওয়া যায়।
ঘ. ‘রুবার সৌন্দর্যচেতনা আর লেখকের সৌন্দর্যচেতনা একই সূত্রে গাঁথা।’
মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক বায়ু পরিবর্তনের জন্য কোথায় গিয়েছিলেন।
|
|
ক. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে
গিয়েছিলেন।
গ. উদ্দীপকের সিয়ামের সঙ্গে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের সাদৃশ্য
রয়েছে।
ঘ. মানুষের ওপর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম, যা উদ্দীপক ও ‘অতিথির
স্মৃতি’ গল্পে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথি কে? |
|
ক. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথি একটি বয়স্ক কুকুর।
গ. উদ্দীপকের বুয়া চরিত্রটিতে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের বাগানের মালীর বউ
অর্থাৎ মালিনী চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি অতিথির স্মৃতি গল্পের মূলভাব ধারণ করে মন্তব্যটি
যথার্থ।” |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের কথক কার আদেশে দেওঘরে গিয়েছিলেন? |
|
ক. ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের কথক চিকিৎসকের আদেশে দেওঘরে গিয়েছিলেন।
গ. মানবেতর প্রাণীর প্রতি আচরণের দিক দিয়ে উদ্দীপকের আকাশের সাথে ‘অতিথির
স্মৃতি’ গল্পের কথকের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. “উদ্দীপকের সাদের মধ্যে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে প্রতিফলিত মানব মনের
মহানুভবতার পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে” মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ
করেন? |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘খাওয়া হয়েছে তো রে? কী খেলি আজ’- উক্তিটি কার? |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. দেওঘরে এসে লেখক কোথায় থাকতেন? |
| ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘পথের দাবি’ উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন? |
| ---------- |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ঢাকা, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৮তম , ২০১৫। |


SAWAD SAFWAN Siddique
Namir mcq 71/107