নয়া পত্তন- জহির রায়হান

নয়া পত্তন
নয়া পত্তন

নয়া পত্তন
জহির রায়হান

ভোরের ট্রেনে গাঁয়ে ফিরে এলেন শনু পণ্ডিত।

ন্যুজ দেহ, রুক্ষ চুল, মুখময় বার্ধক্যেজ্যামিতিক রেখা।

অনেক আশা-ভরসা নিয়েই শহরে গিয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, কিছু টাকাপয়সা সাহায্য পেলে আবার নতুন করে দাঁড় করাবেন স্কুলটাকে।

আবার শুরু করবেন গাঁয়ের ছেলেমেয়েদের পড়ানোর কাজ। কত আশা! আশার মুখে ছাই!

কেউ সাহায্য দিল না স্কুলটার জন্য। না চৌধুরীরা। না সরকার। সরকারের কাছে সাহায্য চাইতে গিয়ে তো রীতিমতে ধমকই খেলেন শনু পণ্ডিত।

শিক্ষা বিভাগের বড়ো সাহেব শমসের খান বললেন, রাজধানীতে দুটো নতুন হোটেল তুলে, আর সাহেবদের ছেলেমেয়েদের জন্য একটা ইংলিশ স্কুল দিতে গিয়ে প্রায় কুড়ি লাখ টাকার মতো খরচ। ফান্ডে এখন আধলা পয়সা নেই সাহেব। অযথা বারবার এসে জ্বালাতন করবেন না আমাদের। পকেটে যদি টাকা না থাকে, স্কুল বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকুন। এমনভাবে ধমকে উঠেছিলেন তিনি যেন স্কুলের জন্য সাহায্য চাইতে এসে ভারি অন্যায় করে ফেলেছেন শনু পণ্ডিত।

হেঁট মাথায় সেখান থেকে বেরিয়ে চলে এলেও, একেবারে আশা হারাননি তিনি। ভেবেছিলেন সরকার সাহায্য দিল না, চৌধুরী সাহেব নিশ্চয়ই দেবেন। এককালে তো চৌধুরী সাহেবের সহযোগিতা পেয়েই না স্কুলটা দিয়েছিলেন শনু পণ্ডিত।

সে আজ বছর পঁচিশেক আগের কথা-

আশেপাশে দু-চার গাঁয়ে স্কুল বলতে কিছুই ছিল না।

লেখাপড়া কাকে বলে তা জানতই না গাঁয়ের লোক।

তখন সবেমাত্র এনট্রান্স পাশ করে বেরিয়েছেন শনু পণ্ডিত। বাইশ বছরের জোয়ান ছেলে

চৌধুরীর তখন যৌবনকাল। গাঁয়েই থাকতেন তিনি। গাঁয়ে থেকে জমিদারির তদারক করতেন। অবসর সময় তাস, পাশা আর দাবা খেলতেন বসে বসে। কথায় কথায় গাঁয়ে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার ইচ্ছেটা তাঁর কাছে ব্যক্ত করেছিলেন শনু পণ্ডিত। জুলু চৌধুরী বেশ আগ্রহ দেখালেন। বললেন, সে তা বড়ো ভাল কথা, গাঁয়ের লোকগুলো সব গণ্ডমূর্খ রয়ে যাচ্ছে। একটা স্কুলে যদি ওদের লেখাপড়া শেখাতে পারো সে তো বড়ো ভালো কথা। কাজ শুরু করে দাও।

টাকাপয়সা খুব বেশি না দিলেও, স্কুলের জন্য একটা অনাবাদি জমি ছেড়ে দিয়েছিলেন জুলু চৌধুরী। শহর থেকে ছুতোর মিস্ত্রি নিয়ে এসে গুটিকয়েক ছোটো ছোটো টুল আর টেবিলও তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি।

একমাত্র সম্বল দু-টুকরো ধেনো জমি ছিল শনু পণ্ডিতের। সে দুটো বিক্রি করে, স্কুলের জন্য টিন, কাঠ আর বেড়া তৈরির বাঁশ কিনেছিলেন তিনি।

ব্যয়ের পরিমাণটা তাঁরই বেশি ছিল, তবু চৌধুরীর নামেই স্কুলটার নামকরণ করেছিলেন তিনি-জুলু চৌধুরীর স্কুল। আটহাত কাঠের মাথায় পেরেক আঁটা চারকোনি ফলকের ওপর জুলু চৌধুরীর নামটা জ্বলজ্বল করত সকাল,বিকেল।

আজো করে।

যদিও আকস্মিক ঝড়ে মাটিতে মুখ থুবড়ে ভেঙে পড়েছে স্কুলটা। আর তার টিনগুলো জং ধরে অকেজো হয়ে গেছে বয়সের বার্ধক্যহেতু। স্কুলটা ভেঙে পড়েছে। সেটা আবার নতুন করে তুলতে হলে অনেক টাকার দরকার। শনু পণ্ডিত ভেবেছিলেন, সরকার সাহায্য দিল না, জুলু চৌধুরী নিশ্চয়ই দেবেন। কিন্তু ভুল ভাঙল।

সাহায্যের নামে রীতিমতো আঁতকে উঠলেন জুলু চৌধুরী। বললেন, পাগল, টাকাপয়সার কথা মুখে এনো না কখনো। দেখছ না কত বড়ো স্টাব্লিশমেন্ট। চালাতে গিয়ে রেগুলার হাঁসফাঁস হয়ে যাচ্ছি। আধলা পয়সা নেই হাতে। এদিক দিয়ে আসছে, ওদিক দিয়ে যাচ্ছে। শনু পণ্ডিত বুঝলেন, গাঁয়ের ছেলেগুলো লেখাপড়া শিখুক, তা আর চান না চৌধুরী সাহেব।

কেউই চান না।

না চৌধুরী, না সরকার, কেউ না।

অগত্যা গাঁয়ে ফিরে এলেন শনু পণ্ডিত।

ভেঙে পড়া স্কুলটার পাশ দিয়ে আসবার সময় দু-চোখে পানি উপচে পড়ছিল শনু পণ্ডিতের। লুঙ্গির খুঁটে চোখের পানিটা মুছে নিলেন। গ্রামের লোকগুলো উন্মুখ হয়ে প্রতীক্ষা করছিল তাঁর অপেক্ষায়। ফিরে আসতেই জিজ্ঞেস করল, কী পণ্ডিত, টাকা-পয়সা কিছু দিল চৌধুরী সাহেব? না, গম্ভীর গলায় উত্তর দিলেন শনু পণ্ডিত। চৌধুরীর আশা ছাইড়া দাও মিয়ারা। এক পয়সাও আর পাইবা না তার কাছ থাইকা। সেই আশা ছাইড়া দাও।

পণ্ডিতের কথা শুনে কেমন ম্লান হয়ে গেল উপস্থিত লোকগুলো। বুড়ো হাশমত বলল, আমাগো ছেইলাপেইলাগুলা বুঝি মূর্খ থাইকবো?

তা, আর কী করার আছে বলো আমি তো আমার সাধ্যমতো করছি? আস্তে বলল শনু পণ্ডিত!

বুড়ো হাশমত বলল, তুমি আর কী কইরবা পণ্ডিত। তুমি তো এমনেও বহুত কইরছ। বিয়া কর নাই, শাদি কর নাই। সারা জীবনটাই তো কাটাইছ ওই স্কুলের পিছনে। তুমি আর কী কইরবা।

দুপুরে তপ্ত রোদে তখন খাঁ খাঁ করছিল মাঠ ঘাট, প্রান্তর। দূরে খাসাড়ের মাঠে গরু চরাতে গিয়ে বসে বসে বাঁশি বাজাচ্ছিল কোনো রাখাল ছেলে। বাতাসে বেগ ছিল না। আকাশটা মেঘশূন্য।

সবাইকে চুপচাপ দেখে আমিন বেপারি বলল, আর রাইখা দাও লেখাপড়া। আমাগো বাপ-দাদা চৌদ্দপুরুষে কোনো দিন লেখাপড়া করে নাই। খেতের কাজ কইরা খাইছে। আমাগো ছেইলাপেইলারাও তাই কইরবো। লেখাপড়ার দরকার নাই।

তা মন্দ কও নাই বেপারি। তাকে সমর্থন জানাল মুন্সি আকরম হাজি। লেখাপড়ার কোনো দরকার নাই। আমাগো বাপ-দাদায় লেখাপড়া কারে কয় জাইনতোও না।

বাপ-দাদায় জাইনতোও না দেইখা বুঝি আমাগো ছেইলাপেইলাগুলাও কিছু জাইনবো না।ইতা কিতা কও মিয়া তকু শেখ রুখে উঠল ওদের ওপর। শনু পণ্ডিত বলল, আগের জমানা চইলা গেছে মিয়া। এই জমানা অইছে লেখাপড়ার জমানা। লেখাপড়া না জাইনলে এই জমানায় মানুষের কদর অয় না।

তা তোমরা কি কেবল কথা কইবা, না কিছু কইরবা। জোয়ান ছেলে তোরাব আলী অধৈর্য হয়ে পড়ল। বলল, চৌধুরীরা তো কিছু দিব না, তা বুঝাই গেল। আর গরমেন্টো-গরমেন্টোর কথা রাইখা দাও। গরমেন্টোও মইরা গেছেএহন কী কইরবা, একডা কিছু করো।

হুঁ। কী কইরবা করো। চিন্তা করো মিয়ারা। বিড়বিড় করে বলল শনু পণ্ডিত। বুড়ো হাশমত চুপচাপ কী যেন ভাবছিল এতক্ষণ। ছেলে দুটো আর বাচ্চা নাতিটাকে অনেক আশা-ভরসা নিয়ে স্কুলে দিয়েছিল সে। আশা ছিল আর কিছু না হোক লেখাপড়া শিখে অন্তত কাচারিপিয়ন হতে পারবে ওরা। গভীরভাবে হয়তো তাদের কথাই ভাবছিল সে। হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে বলল, যতসব ইয়ে অইছে-যাও ইস্কুল আমরাই দিমু। কারো পরোয়া করি না। না গরমেন্টো। না চৌধুরী, বলে কোমরে গামছা আঁটল হাশমত। বুড়ো হাশমতকে গামছা আঁটতে দেখে জোয়ান ছেলে তোরাব আলীও লাফিয়ে উঠল। বলল, টিনের ছাদ যদি না দিবার পারি অন্তত ছনের ছাদ তো দিবার পারমু একডা। কি মিয়ারা?

হ-হ ঠিক। ঠিক কথাই কইছ আলির পো। গুঞ্জরন উঠল চারদিকে।

হাশমত বলল, মোক্ষম প্রস্তাব। ছনের ছাদই দিমু আমরা। ছনের ছাদ দিতে কয় আঁটি ছন লাইগবো? কী পণ্ডিত, চুপ কইরা রইলা ক্যান। কও না? কমপক্ষে তিরিশটা লাইগবো। মুখে মুখে হিসাব করে দিল শনু পণ্ডিত। তকু বলল, ঘাবড়াইবার কি আছে, আমি তিনডা দিমু তোমাগোরে।

আমি দুইডা দিমু পণ্ডিত। আমারডাও লিস্টি করো। এগিয়ে এসে বলল কদম আলী।

তোরাব বলল, আমার কাছে ছন নাই। ছন দিবার পারমু না আমি। আমি বাঁশ দিমু গোটা সাত কুড়ি। বাঁশও তো সাত-আট কুড়ির কম লাইগবো না।

হ-হ ঠিক ঠিক। সবাই সায় দিল ওর কথায়।

দু দিনের মধ্যে জোগাড়যন্ত্র সব শেষ।

বাঁশ এল, ছন এল। তার সঙ্গে বেতও এল বাঁশ আর ছন বাঁধবার জন্য।

আয়োজন দেখে আনন্দে বুকটা নেচে উঠল শনু পণ্ডিতের। এতক্ষণ গম্ভীর হয়ে কী যেন ভাবছিল আমিন বেপারি।

সবার যাতে নজরে পড়ে এমন একটা জায়গায় গলা খাঁকরিয়ে বলল সে, জিনিসপত্তর তো জোগাড় কইরাছ মিয়ারা। কিন্তুক যারা গতর খাইটবো তাগোরে পয়সা দিবো কে?

হাঁ, তাই তো। কথাটা যেন এক মুহূর্তে নাড়া দিল সবাইকে।

হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠলেন শনু পণ্ডিত। এইডা বুঝি একটা কথা অইল। নিজের কাম নিজে করমু পয়সা আবার কে দিবো? বলে বাঁশ কেটে চালা বাঁধতে শুরু করলেন তিনি। বললেন, নাও নাও মিয়ারা শুরু করো।

হুঁ। শুরু করো মিয়ারা। বলল তকু শেখ।

স্কুলের খুঁটি তৈরির জন্য লম্বা একটা গাছের গুঁড়ি খালপার থেকে টেনে নিয়ে এল তোরাব। হুঁ, টান মারো না মিয়ারা। টান মারো।

হুঁ। মারো জোয়ান হেঁইয়ো-সাবাস জোয়ান হেঁইয়ো। টান মারো। টান মারো।

আন্তে আস্তে। এত তড়বড় করলে অয়। বলল বুলির বাপ। হুঁ।

কামের মানুষ হেঁইয়ো-আপনা কাম হেইয়ো। টান টান।

মরা চৌধুরী হেঁইয়ো। চৌধুরীর লাশ হেঁইয়ো। হঠাৎ খিলখিলিয়ে হেসে উঠল তোরাব আর তকু।

হাসল সবাই।

খকখক করে কেশে নিয়ে বুড়ো হাশমত বলল, মরা গরমেন্টো কইলানা মিয়ারা? মরা গরমেন্টো কইলা না?

হুঁ। মরা গরমেন্টো হেঁইয়ো। -গরমেন্টোর লাশ হেঁইয়ো। টান টান। করম মাঝি চুপ করে এতক্ষণ। বলল,

ফুর্তিছে কাম কর মিয়া সিন্নি পাকাইবার বন্দোবস্ত করিগা।

বাহবা, মাজির পো, বাবা। চালাও ফুর্তি। কলকন্ঠেঠে চিৎকার উঠল চারদিক থেকে- পাটারি বাড়ির রোগা লিকলিকে বুড়ো কাদের বক্সটাও এসে জুটেছে সেখানে। তাকে দেখে আমিন বেপারি ভ্রূ কুঁচকালো। কী বক্স আলী। সিন্নিগন্ধে ধাইয়া আইছ বুঝি?? কয় দিনের উপাস?

যত দিনের অই; তোমার তাতে কী? বেপারির কথায় খেপে উঠল কাদের বক্স। এত দেমাক দেহাও ক্যান মিয়া উপাস ক্যাডা না থাকে? সক্কলে থাকে।

ঠিক ঠিক। তফু সমর্থন করল তাকে। চৌধুরীরা ছাড়া আর সক্কলেই এক-আধ বেলা উপাস থাকে। এমন কোনো বাপের ব্যাটা নাই যে বুক থাবড়াইয়া কইবার পারব-জীবনে একদিনও উপাস থাকে নাই-হ।

তকু আর কাদেরের কথায় চুপসে গেল আমিন বেপারি।

তোরাব বলল, কী মিয়ারা, কিতা নিয়া তর্ক কর তোমরা। বেড়াটা ধরো। টান মারো।

হুঁ। মারো জোয়ান হেঁইয়ো-চৌধুরীর লাশ হেঁইয়ো-মরা চৌধুরী হেঁইয়ো। আহ্হারে চৌধুরী রে! খিলখিলিয়ে হেসে উঠল সবাই একসঙ্গে।

আকরম হাজি রুষ্ট হলো এদের ওপর। এত বাড়াবাড়ি ভালা না মিয়ারা। এত বাড়াবাড়ি ভালা না। এহনও চৌধুরীর জমি চাষ কইরা ভাত খাও। তারে নিয়া এত বাড়াবাড়ি ভালা না।

চাষ করি তো মাগনা চাষ করি নাকি মিয়া। তোরাব রেগে উঠল ওর কথায়। পাল্লায় মাইপা অর্ধেক ধান দিয়া দিই তারে।

পাক্কা অর্ধেক। বলল কাদের।

সন্ধ্যা নাগাদ তৈরি হয়ে গেল স্কুলটা।

শেষ বানটা দিয়ে চালার ওপর থেকে নেমে এলেন শনু পণ্ডিত।

লম্বা স্কুলটার দিকে তাকাতে আনন্দে চিকচিক করে উঠল কর্মক্লান্ত চোখগুলো। সৃষ্টির আনন্দ।

কদম আলী বলল, গরমেন্টোরে আর চৌধুরীরে আইনা একবার দেখাইলে ভালা অইবো পণ্ডিত। তাগোরে ছাড়াও চইলবার পারি আমরা।

হ-হ। তাগোরে ছাড়াও চইলবার পারি আমরা।। ঘাড় বাঁকাল শনু পণ্ডিত।

একটু দূরে সরে গিয়ে বটগাছের নিচে বসতেই কাঠের ফলকটার দিকে চোখ গেল তকু শেখের। আট-হাত লম্বা কাঠের ওপর পেরেক-আঁটা ফলক।

তার ওপর জুলু চৌধুরীর নামটা জ্বলজ্বল করে সকাল বিকেল।

ওইটা আর এইহানে ক্যান? বলল তকু শেখ। ওইটারে ফালাইয়া দে খালে; চৌধুরী খালে ভাসুক। হঠাৎ কী মনে করে আবার নিষেধ করল তোরাব।

থাম-থাম-ফালাইস না। ইদিকে আন। কালো চারকোনি ফলকটার ওপর ঝুঁকে পড়ে একখানা দা দিয়ে ঘষে ঘষে চৌধুরীর নামটা তুলে ফেলল তোরাব আলী। তারপর বুড়ো হাশমতের কল্কে থেকে একটা কাঠকয়লা তুলে নিয়ে অপটু হাতে কী যেন লিখল সে ফলকটার ওপর।

শনু পণ্ডিত জিরোচ্ছিল বসে বসে। বলল, ওইহানে কী লেইখবার আছ আলীর পো। কিতা লেইখবার আছ ওইহানে?

পইড়া দেহ না পণ্ডিত, আহ পইড়া দেহ। আটহাত লম্বা কাঠের ওপর পেরেক-আঁটা ফলকটাকে যথাস্থানে গেঁড়ে দিল তোরাব।

অদূরে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত দৃষ্টি মেলে মৃদুস্বরে পড়লেন পণ্ডিত। শনু পণ্ডিতের ইস্কুল। পড়েই বার্ধক্য-জর্জরিত মুখটা লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল তাঁর।

বিড়বিড় করে বললেন, ইতা কিতা কইরাছ আলীর পো। ইতা কিতা কইরাছ? ঠিক কইরছে। একদম ঠিক। ফোকলা দাঁত বের করে মৃদু হাসল বুড়ো হাশমত। লজ্জায় তখন মাথাটা নুয়ে এসেছে শনু পণ্ডিতের।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের উৎস নির্দেশ :
‘নয়া পত্তন’ গল্পটি জহির রায়হানের ‘গল্পসমগ্র’ থেকে সংকলিত হয়েছে।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের শব্দার্থ ও টীকা :
➠ পত্তন- আরম্ভ, সূচনা।
➠ গাঁয়ে- গ্রামে।
➠ ন্যুজ- কুঁজো।
➠ রুক্ষ- খসখসে।
➠ বার্ধক্য- বৃদ্ধ অবস্থা।
➠ জ্যামিতিক- জ্যামিতির নকশা জাতীয়।
➠ আশা-ভরসা- অবলম্বন।
➠ রীতিমতে- রীতি অনুসারে।
➠ ধমক- তিরস্কার; ভীতি প্রদর্শক বাক্য।
➠ ফান্ড- তহবিল। ইংরেজি Fund.
➠ কুড়ি- ২০।
আধলা পয়সা- অর্ধেক পয়সা; আধ-পয়সা।
➠ অযথা- খামোখা।
➠ জ্বালাতন- বিরক্ত।
➠ হেঁট- মাথা নিচু করা।
➠ এনট্রান্স- প্রবেশিকা পরীক্ষা। এ সময়ের এসএসসি সমমানের।
➠ জোয়ান ছেলে- যুবক ছেলে।
➠ তদারক- দেখাশোনা।
➠ তাস- খেলার জন্য চারকোনাবিশিষ্ট মোটা চিত্রিত কাগজখণ্ড বিশেষ।
➠ পাশা- ছয়-পার্শ্বযুক্ত পাশা। পাশা খেলার বর্তমান নাম হলো ছক্কা খেলা বা লুডু খেলা। এটি প্রাচীন কৌশল এবং ভাগ্য-নির্ভর খেলা, যা মূলত একটি ছোটো সংখ্যাযুক্ত পাশা (বা ছক্কা) নিক্ষেপ করে খেলা হয়। এই খেলার উদ্দেশ্য হল পাশার নিক্ষেপ থেকে প্রাপ্ত সংখ্যার উপর ভিত্তি করে খেলার গুটি চালনা করা।
➠ দাবা- এটি কৌশলগত বোর্ড গেম যা দুজন খেলোয়াড় ৬৪টি বর্গক্ষেত্রযুক্ত একটি বোর্ডে খেলে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ১৬টি ঘুঁটি থাকে। খেলাটি মূলত ভারত থেকে উদ্ভূত এবং এর লক্ষ্য হলো বিপক্ষের রাজাকে কোণঠাসা করে চেকমেট করা।
কথায় কথায়- কথা বলতে বলতে।
➠ ব্যক্ত- প্রকাশ পেয়েছে এমন।
➠ গণ্ডমূর্খ- জ্ঞানবুদ্ধিহীন।
➠ অনাবাদি- চাষ বা আবাদ করা হয় না এমন।
➠ ছুতোর- কাঠের কাজ করা শ্রমিক।
গুটিকয়েক- অল্প পরিমান; কয়েকটি।
➠ সম্বল- জীবিকা অর্জনের উপায়।
ধেনো জমি- যে জমিতে ধান হয়।
➠ বেড়া- যা দিয়ে বেষ্টন বা ঘেড়াও করা হয়।
পেরেক আঁটা- লোহার ছোট কাঁটা লাগানো।
➠ জ্বলজ্বল- উজ্জ্বল হয়ে থাকা।
➠ আকস্মিক- হঠাৎ।
➠ জং- মরিচা
➠ অকেজো- কাজের অযোগ্য; যা কোনো কাজে আসে না।
➠ বার্ধক্যহেতু- বয়সের কারণে; বৃদ্ধ অবস্থার কারণে।
➠ আঁতকে- চমকে।
➠ স্টাব্লিশমেন্ট- প্রতিষ্ঠান। ইংরেজি Establishment.
➠ রেগুলার- নিয়মিত। ইংরেজি Regular.
➠ হাঁসফাঁস- অতিকষ্টে শ্বাস নেওয়া ও ত্যাগ করা।
➠ অগত্যা- নিরুপায় হয়ে।
➠ খুঁট- কোনা, প্রান্তে।
➠ উন্মুখ- উৎসুক; তৎপর।
➠ প্রতীক্ষা- অপেক্ষা।
ছাইড়া দাও- ছেড়ে দাও।
➠ থাইকা- থেকে।
➠ ম্লান- মলিন।
আমাগো ছেইলাপেইলাগুলা বুঝি মূর্খ থাইকবো?- আমাদের ছেলে-মেয়েগুলো বুঝি মূর্খ থাকবে?
আর কী কইরবার আছে কও?- আর কী করার আছে বলো?
➠ সাধ্যমতো- ক্ষমতা অনুয়ায়ী; যথাশক্তি।
➠ কইরবা- করবে।
➠ তপ্ত - গরম।
➠ খাঁ খাঁ- শূন্যতা প্রকাশে।
➠ প্রান্তর- জনবসতিহীন বিস্তৃত ভূমি।
➠ বেগ- গতির পরিমাণ।
চৌদ্দপুরুষে- চৌদ্দ প্রজন্মে (সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছরের গড় সময় হলো প্রজন্ম।)।
ইতা কিতা কও মিয়া- এটা কি বল মিয়া।
➠ জমানা- যুগ।
চইলা গেছে- চলে গেছে।
এই জমানা অইছে লেখাপড়ার জমানা- এই যুগ হলো লেখাপড়ার যুগ।
লেখাপড়া না জাইনলে এই জমানায় মানুষের কদর অয় না।- লেখাপড়া না জানলে এই যুগে মানুষের সম্মান হয় না।
➠ কদর- সম্মান; মূল্য।
➠ অধৈর্য- অস্থির; ব্যাকুল।
➠ গরমেন্টো- Government.
➠ রাইখা- রেখে।
মইরা গেছে- মরে গেছে।
এহন কী কইরবা, একডা কিছু করো।- এখন কী করবে, একটা কিছু করো।
➠ বিড়বিড়- অস্পষ্ট ও অনুচ্চ স্বরে উচ্চারিত কথা।
➠ কাচারি- সরকারি অফিস।
➠ পিয়ন- পত্র বিলিকারী ব্যক্তি।
➠ গুঞ্জরন- গুনগুন রব।
➠ মোক্ষম- জুতসই।
পরোয়া করি না- ভয় করি না।
➠ গামছা- গা মোছবার জন্য ব্যবহৃত ক প্রকার কাপড়ের টুকরো।
➠ আঁটল- শক্ত করে বাঁধল।
➠ আঁটি- এটি আঞ্চলিক শব্দ। তৃণ বা শষ্যাদির গুচ্ছ।
➠ ছন- শন। এক ধরনের ঘাস, যা দিয়ে গ্রামে ঘরের ছাদ তৈরি করা হয়।
➠ ঘাবড়াইবার- ঘাবড়ানো অর্থ ভয় পাওয়া; হতবুদ্ধি হওয়া।
➠ লিস্টি- তালিকা; list.
➠ কুড়ি- ২০।
➠ জোগাড়যন্ত্র- আয়োজন বা প্রস্তুতি।
জিনিসপত্তর- জিনিসপত্র।
➠ জোগাড়- সংগ্রহ।
➠ কইরাছ- করেছো।
গতর খাইটবো- শারীরিক পরিশ্রম।
➠ তাগোরে- তাদেরকে।
➠ অইল- হলো।
➠ গুঁড়ি- গাছের খণ্ড।
➠ খালপার- খালের কিনারা/কূল।
➠ তড়বড়- তাড়াহুড়া।
➠ খিলখিলিয়ে- ক্রমাগত হাসির শব্দ; বিদ্রুপাত্মক হাসির শব্দ।
➠ খকখক- ক্রমাগত কাশির শব্দ।
➠ পো- পুত্র।
➠ পাকাইবার - রান্নার।
➠ ফুর্তিছে- আনন্দের সঙ্গে।
➠ সিন্নি- শিরনি। এক ধরনের খাবার।
➠ বন্দোবস্ত- আয়োজন।
➠ কলকন্ঠে- মধুর সুরে; ললিত কণ্ঠে।
➠ লিকলিকে- অত্যন্ত সরু ও লম্বা বোঝাতে।
➠ ভ্রূ- চোখের উপরে ও কপালের নিচের লোম/চুলসমূহ।
➠ কুঁচকালো- সংকচিত করা।
সিন্নির গন্ধে ধাইয়া আইছ বুঝি?- শিরনির সুবাসে দৌঁড়ে আসছো বুঝি?
➠ উপাস - অনাহারে থাকা।
➠ দেমাক- অহঙ্কার।
এত দেমাক দেহাও ক্যান মিয়া উপাস ক্যাডা না থাকে?- এত অহঙ্কার দেখাও কেন মিয়া অনাহারে কে না থাকে?
কিতা নিয়া- কী নিয়ে।
➠ রুষ্ট - রাগান্বিত।
➠ এহনও- এখনও
➠ মাগনা- বিনামূল্যে পাওয়া।
➠ পাল্লায়- ওজনের যন্ত্রে দ্রব্য বা বাটখারা রাখার পাত্র (দাঁড়ি পাল্লা)।
➠ মাইপা- মেপে।
➠ বান- বেঁধে দেওয়া।
➠ পাক্কা- পুরোপুরি।
➠ নাগাদ- পর্যন্ত।
➠ চিকচিক- দীপ্তিময়তা ও মসৃণতাব্যঞ্জক।
➠ আইনা- এনে।
দেখাইলে ভালা অইবো- দেখালে ভালো হবে।
তাগোরে ছাড়াও চইলবার পারি আমরা।- তাদেরকে ছাড়াও চলতে পারি আমরা।
কিতা লেইখবার আছ ওইহানে?- কী লেখার আছে ঐখানে?

‘নয়া পত্তন’ গল্পের পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব :
‘নয়া পত্তন’ গল্পটি পাকিস্তানি শাসনামলের পটভূমিতে রচিত। গল্পে দেখা যায়, এনট্রান্স পাশ শনু পণ্ডিত গ্রামের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য জমিদারের সহায়তায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঝড়ে জরাজীর্ণ স্কুলটি ভেঙে গেলে শনু পণ্ডিতসহ গ্রামবাসী সংকটে পড়েন। গ্রামের সম্পন্ন ব্যক্তি জুলু চৌধুরী কোনো সাহায্য করতে রাজি হন না। আশেপাশের গ্রামেও আর স্কুল নেই। এ অবস্থায় সবাই সিদ্ধান্ত নেন একসঙ্গে পরিশ্রম করে নিজেদের স্কুল নিজেরাই পুনর্নির্মাণ করবেন এবং সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁরা স্কুল ঘর তৈরি করতে সক্ষম হন। আবার তাঁদেরই উৎসাহে চাষি তোরাব আলী স্কুলের নাম ফলকে আগের নামের পরিবর্তে লেখেন ‘শনু পণ্ডিতের ইস্কুল’ সবাই মিলে মানুষের জন্য ভালো কাজ করতে চাইলে যে কোনো বাধা সহজে অতিক্রম করা সম্ভব। আর সে কাজের সফলতায় বাড়ে মনের উদারতাও। গল্পটি সে ইঙ্গিত দেয়।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের লেখক পরিচিতি :
জহির রায়হান ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। ছোটোগল্প ও উপন্যাস লিখে তিনি খ্যাতি লাভ করেছেন। ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘বরফ গলা নদী’ তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তাঁর একমাত্র গল্পগ্রন্থ ‘সূর্য গ্রহণ’। চলচ্চিত্রকার হিসেবেও জহির রায়হান প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘কাচের দেয়াল’ তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য চলচ্চিত্র। এছাড়া বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্য চিত্র ‘Stop Genocide’‘Birth of a Nation’ তাঁর অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।
মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বড়ো ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে জহির রায়হান ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে নিখোঁজ হন।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. শনু পণ্ডিত শহরে গিয়ে কী ধরনের সাহায্য আশা করেছিলেন? কেন করেছিলেন?
খ. শহরে গিয়ে তাকে কী ধরনের অবহেলা ও অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছিল?

ক. শহরে গিয়ে শনু পণ্ডিত সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য আশা করেছিলেন, যাতে তিনি গাঁয়ের স্কুলটি পুনরায় নির্মাণ করতে পারেন এবং সেখানে গাঁয়ের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা চালু রাখতে পারেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন যে, সরকার যদি তাকে সাহায্য দেয়, তবে তিনি আবার তার স্কুলটির কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গাঁয়ের শিশুদের লেখাপড়ার সুযোগ দেওয়া, যাতে তারা নিজেদের জীবন পরিবর্তন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে সক্ষম হয়। তিনি মনে করতেন যে, শিক্ষা সমাজের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তার নিজে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গাঁয়ের উন্নতি সাধন করতে পারে। তাই তিনি শহরে গিয়ে সরকারি সহায়তা চেয়েছিলেন, কারণ তার স্কুলটি ইতোমধ্যেই কিছুটা ভেঙে পড়েছিল এবং নতুন করে স্কুলটি চালু করার জন্য টাকা ও উপকরণের প্রয়োজন ছিল।

খ. শহরে গিয়ে শনু পণ্ডিতকে ভয়াবহ অবহেলা ও অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। প্রথমে, তিনি সরকারের কাছে স্কুলের জন্য সাহায্য চেয়ে যান। শিক্ষা বিভাগের বড়ো সাহেব শমসের খান তাকে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে ধমক দেন।
সাহেব বলেন, ‘কিছু করতে হবে না, সরকার ইতিমধ্যেই ইংলিশ স্কুল এবং হোটেলের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করছে, আর আপনার স্কুলের জন্য এক পয়সাও নেই!’ তাকে এমনভাবে অপমান করা হয় যেন তিনি কোনো অপরাধ করেছেন, কারণ তিনি সাহায্য চেয়ে সরকারের দরবারে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর, শনু পণ্ডিতের মনে গভীর হতাশা জন্ম নেয়।
এরপর, তিনি চৌধুরী সাহেবের কাছে সাহায্য চেয়ে যান। চৌধুরী সাহেব, যিনি একসময় তার স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু সাহায্য করেছিলেন, এখন আর কোনো সাহায্য দিতে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘টাকা নেই, আর সাহায্যও সম্ভব নয়। বর্তমানে আমরা নিজেরাই ভীষণ কষ্টে আছি, স্কুলে সাহায্য দেওয়া তো দূরের কথা।’ চৌধুরী সাহেবের এই অবহেলা তাকে আরও হতাশ করে তোলে।
এইসব ঘটনার পর, শনু পণ্ডিত বুঝতে পারেন যে, গাঁয়ের শিক্ষার উন্নতির জন্য তাকে কোনো সমর্থন বা সাহায্য মিলবে না। তার আশার বাতি নিভে গেছে, এবং তিনি এমন অবস্থায় ফিরে আসেন, যেখানে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো সহায়তা বা সমর্থন নেই। তার আত্মসম্মান ভেঙে যায়, কারণ সে যে মানুষদের কাছ থেকে সাহায্য আশা করেছিলেন, তারা সবাই তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তার কাজের গুরুত্বকেই মূল্যায়ন করেনি।
এছাড়া, গাঁয়ে ফিরে এসে তার সামনে উপস্থিত গ্রামবাসীরা তাকে প্রশ্ন করলে, তিনি আরো এক ধরনের সামাজিক অপমান অনুভব করেন। গ্রামের মানুষরা যখন জানতে পারে যে, চৌধুরী সাহেব বা সরকার তাকে কোনো সাহায্য দেয়নি, তখন তারা তাকে উপহাস ও বিদ্রুপ করে। এই অভিজ্ঞতা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল, কারণ তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কোনও মূল্যায়ন হয় না এবং সে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়, যেখানে তার সংগ্রাম অযথা হয়ে যায়।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে শনু পণ্ডিতের সম্পর্ক কেমন ছিল? তিনি কীভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য সাহায্য করেছিলেন?
খ. চৌধুরী সাহেব কেন স্কুলের পুনর্গঠন নিয়ে কোনো সাহায্য করতে রাজি হননি?

ক. চৌধুরী সাহেব এবং শনু পণ্ডিতের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ভালো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। একসময় শনু পণ্ডিত এবং চৌধুরী সাহেব গাঁয়ের কাছাকাছি ছিলেন এবং তারা একে অপরকে জানতেন ও বিশ্বাস করতেন। চৌধুরী সাহেব ছিলেন গাঁয়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যিনি জমিদারির তদারকি করতেন এবং সমাজে সম্মানিত ছিলেন। একদিন, শনু পণ্ডিত যখন গাঁয়ের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন, তখন তিনি প্রথমে চৌধুরী সাহেবের কাছে সাহায্য চান। চৌধুরী সাহেব এই প্রস্তাবে খুব আগ্রহ দেখান এবং তার সহযোগিতা দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
চৌধুরী সাহেব স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য সরাসরি বড় অর্থ সাহায্য না দিলেও, তিনি তার জমি দিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য জায়গা দেন এবং শহর থেকে মিস্ত্রি এনে স্কুলের জন্য কিছু টুল এবং টেবিল তৈরি করার ব্যবস্থা করেন। তার এই সাহায্যটি ছোট হলেও, গাঁয়ের একদম প্রথম স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শনু পণ্ডিত তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ স্কুলের নাম ‘জুলু চৌধুরীর স্কুল’ রাখেন এবং চৌধুরী সাহেবের নাম স্কুলের ফলকে লিখে দিয়ে তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ফলে, চৌধুরী সাহেব এবং শনু পণ্ডিতের সম্পর্ক ছিল সহায়ক এবং আন্তরিক।

খ. চৌধুরী সাহেব, যিনি একসময় গাঁয়ের অন্যতম প্রভাবশালী এবং সমৃদ্ধ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার পূর্বেকার জমিদারি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ফলে সমাজে তার একটি বড় সম্মান ছিল, এবং তিনি ছিলেন সমাজে অন্যদের সহায়তা করার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে, তার আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণে, তিনি আর সেই সাহায্য দিতে সক্ষম ছিলেন না।
তার জমিদারি এবং ব্যবসার খরচ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, তিনি নিজের পরিবার এবং সম্পত্তি পরিচালনার জন্যও যথেষ্ট অর্থ জোগাড় করতে পারছিলেন না। একদিকে, তার জমিদারি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, অন্যদিকে, তার ব্যবসার আয়ও কমে যাচ্ছিল। এসব কারণে, তার আর্থিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, তিনি অন্যদের সহায়তা করার মতো অবস্থায় ছিলেন না।
যখন শনু প-িত স্কুলের পুনর্গঠনের জন্য চৌধুরী সাহেবের কাছে সাহায্য চান, চৌধুরী সাহেব তার কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, “আমার কাছে টাকা নেই, আমি সাহায্য করতে পারব না।” তিনি আরও বলেন, “পকেটে যদি টাকা না থাকে, স্কুল বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকুন।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, বর্তমানে তার পক্ষে কিছু করার ক্ষমতা নেই, কারণ তার নিজস্ব জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এছাড়া, চৌধুরী সাহেবের এই অবস্থা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলস্বরূপ। তার অতীতের শ্রীবৃদ্ধি ও সামাজিক মর্যাদা এখনও তাকে তার পুরনো বন্ধু এবং পরিচিতদের কাছে সম্মানিত রাখে, কিন্তু বাস্তবতা হল যে, এখন তিনি আর আগের মতো সাহায্য করতে সক্ষম নন। এই চিত্রটি আমাদেরকে সমাজে ব্যক্তির আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন এবং সেই পরিবর্তনের ফলস্বরূপ তাদের সিদ্ধান্ত এবং কর্মকাণ্ডের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা দেখানোর চেষ্টা করেছে।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৩:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. গাঁয়ে ফিরে এসে শনু পণ্ডিত কীভাবে স্কুল পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিলেন? ব্যাখ্যা করো।
খ. গাঁয়ের লোকেরা কীভাবে শনু পণ্ডিতের উদ্যোগকে সমর্থন জানাল এবং তারা কোন সহায়তা প্রদান করল?

ক. শহরে গিয়ে শনু পণ্ডিত স্কুলের জন্য সাহায্য পেতে ব্যর্থ হলে, তিনি হতাশ না হয়ে বরং নিজের গাঁয়ে ফিরে এসে নতুন উদ্যোমে স্কুল পুনর্নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে, স্কুলের উন্নতি শুধু গাঁয়ের শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্যই নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্যও খুবই প্রয়োজনীয়। গাঁয়ে ফিরে এসে, শনু পণ্ডিত স্কুলের ভবনটির বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে, এটিকে পুনর্নির্মাণ করতেই হবে। সে সময় স্কুলের অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ, ভবনটি বেশ পুরনো হয়ে পড়েছিল এবং অনেক অংশই ভেঙে পড়েছিল। শনু পণ্ডিত তার অভিজ্ঞতা এবং নিজের দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে, গাঁয়ের মানুষের কাছে স্কুলের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে থাকেন। তিনি গাঁয়ের জনগণের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব এবং একটি সুদৃঢ় স্কুলের মাধ্যমে কিভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উন্নত হতে পারে তা তুলে ধরেন।
পূর্বে বিদ্যালয়ের মধ্যে বড় ধরনের কোনো উন্নতি হয়নি এবং শিক্ষার পরিবেশও ছিল অত্যন্ত দুর্বল। শনু পণ্ডিত তার উদ্যোগে প্রথমে স্কুলের অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের অবস্থা ঠিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি স্কুলের ভবন মেরামত, নতুন পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। তার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল শুধু স্কুলের অবকাঠামো নয়, শিক্ষার পরিবেশ এবং গুণগত মানও বৃদ্ধি করা।

খ. গাঁয়ের মানুষ শনু পণ্ডিতের উদ্যোগকে খুবই আন্তরিকভাবে সমর্থন জানান। তারা বুঝতে পারলেন যে, স্কুলের উন্নতি না হলে গাঁয়ের ভবিষ্যত প্রজন্ম ভালো শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবে না। শনু পণ্ডিতের দৃঢ় সংকল্প এবং তার আস্থায়, গাঁয়ের মানুষ একযোগে তার উদ্যোগে যোগ দেয়।
প্রথমত, গাঁয়ের পুরুষরা স্কুলের ভবন মেরামত, দেয়াল নতুন করে তোলা, ছাদের সংস্কার এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের জন্য নিজেদের শ্রম দিতে শুরু করেন। তারা নিজেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীও স্কুলের কাজে ব্যবহারের জন্য প্রদান করেন। কিছু মানুষ, যারা আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ছিল, তারা অর্থ সাহায্য দিয়ে স্কুলের পুনর্গঠন কাজে সহায়তা করেন।
এছাড়া, গাঁয়ের মহিলারাও কিছু অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তারা স্কুলের চারপাশ পরিষ্কার করতে সাহায্য করেন এবং স্কুলের অভ্যন্তরীণ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করেন। তারা মনে করতেন যে, স্কুলের উন্নতির মাধ্যমে গাঁয়ের ছেলে-মেয়েরা ভালো শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং এতে তাদের জীবনের উন্নতি হবে।
অন্যদিকে, গাঁয়ের কিছু অভিজ্ঞানী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও, যাদের মধ্যে জমিদার কিংবা স্থানীয় নেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তারা স্কুলের পুনর্গঠন কাজে সামান্য হলেও সাহায্য করেন। তবে, তাদের সাহায্য ছিল তুলনামূলকভাবে কম, যেহেতু তারা মূলত স্কুলের পুনর্গঠন নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
সবশেষে, গাঁয়ের এই লোকজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সহায়তায়, শনু পণ্ডিত স্কুলের পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করেন। তারা কেবলমাত্র নিজেদের স্কুল নয়, বরং পুরো গাঁয়ের ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করেন। শিক্ষার প্রতি তাদের এই সহানুভূতি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা গাঁয়ের সামগ্রিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৪:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. শিক্ষা বিভাগের বড়ো অফিসারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরো।
খ. শনু পণ্ডিত চরিত্রটিকে মূল্যায়ন করো।

ক. শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের আচরণ ছিল অমানবিক, যখন তারা ভাঙা স্কুল মেরামতের জন্য শনু পণ্ডিতকে সাহায্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পঁচিশ বছর আগে, নিজের উদ্যোগ ও জুলু চৌধুরীর সহায়তায়, শনু পণ্ডিত গ্রামে একমাত্র স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এনট্রান্স পাশ করা বাইশ বছর বয়সী এই শিক্ষিত যুবক তার এলাকার মানুষদের শিক্ষিত করার জন্য এই মহান কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু আর্থিক সাহায্যের অভাবে স্কুলটি সময়মতো মেরামত করা হয়নি, যার ফলে পঁচিশ বছর পর একদিন আকস্মিক ঝড়ে স্কুলটি ভেঙে পড়ে। তখন শনু পণ্ডিত শিক্ষা বিভাগের বড় কর্মকর্তাদের কাছে সাহায্যের জন্য যান, কিন্তু তারা তাকে সাহায্য না করে, বরং ধমক দিয়ে অপমান করেন। তারা অজুহাত দেন যে, রাজধানীতে হোটেল তোলার খরচ এবং সাহেবদের ছেলেদের জন্য ইংরেজি স্কুল স্থাপন করার জন্য বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, এবং শিক্ষা সহায়তা ফান্ডে কোনো অর্থ নেই। বারবার সাহায্য চাইতে যাওয়ার জন্য তারা বিরক্ত ছিলেন। এমনকি তারা তাকে নিজের টাকায় স্কুল চালানোর পরামর্শ দেন এবং টাকা না থাকলে স্কুল বন্ধ করে ঘরে বসে থাকার কথাও বলেন। তাদের আচরণ থেকে মনে হয়েছিল, স্কুল মেরামত করার জন্য সাহায্য চাইতে যাওয়াটা শনু পণ্ডিতের এক বড় অপরাধ ছিল।

খ. ‘নয়া পত্তন’ গল্পের শনু পণ্ডিত চরিত্রটি মানবকল্যাণকামী এবং উদারনৈতিক। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ শিক্ষিত গ্রামবাসী। মাত্র বাইশ বছর বয়সে এনট্রান্স পাশ করার পর, তিনি তার এলাকার মানুষদের শিক্ষিত করার আকাক্সক্ষা নিয়ে কাজ শুরু করেন। জুলু চৌধুরীর মতো জমিদারের সহায়তায় এবং তার অনাবাদি জমি ও টুল-টেবিল দিয়ে তিনি গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। নিজের সম্পদ বিক্রি করে, বিশেষত ধানি জমি এবং টিন কাঠ ও বাঁশ দিয়ে, তিনি স্কুলটি তৈরি করেন। আশপাশের গ্রামে তখন কোনো স্কুল ছিল না, তাই শনু পণ্ডিত গ্রামে শিক্ষার আলো পৌঁছাতে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন।
তিনি ব্যক্তিগত সুখ-সাচ্ছন্দ্য, সম্পদ, পরিবার-সব কিছুই ত্যাগ করেছিলেন মানবকল্যাণের জন্য। সাতচল্লিশ বছর অবিবাহিত কাটিয়ে, তিনি নিজের জীবনের সব কিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন। কিন্তু পঁচিশ বছর পর, আকস্মিক ঝড়ে তার স্বপ্নের স্কুলটি ভেঙে পড়ে। তবে এই মানুষটি কখনো থেমে যাননি। তিনি শহরে গিয়ে সরকারের শিক্ষা বিভাগের কাছে অর্থ সহায়তা চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা তাকে অপমান করে ফিরিয়ে দেয়। এরপর তিনি প্রথমে জুলু চৌধুরীর কাছেও সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সহায়তা পাননি। শেষপর্যন্ত, গ্রামের সাধারণ মানুষের সাহায্যে, ছনের চাল দিয়ে একটি নতুন স্কুল নির্মাণ করেন। সেই স্কুলের নামকরণও হয় তার নামে।
‘নয়া পত্তন’ গল্পের শনু পণ্ডিত একটি অদম্য মানসিকতার অধিকারী ব্যক্তি। তিনি সমস্ত ব্যর্থতা এবং অপমানকে উপেক্ষা করে তার কাজ চালিয়ে গেছেন। সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার এই মহান সংকল্প তাকে উচ্চ মানবিক চরিত্রের অধিকারী করেছে। সমাজে শনু পণ্ডিতের মতো অদম্য ইচ্ছাশক্তির মহৎ মানুষের খুব প্রয়োজন।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৫:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. “আশার মুখে ছাই।” —উক্তিটিতে শনু পণ্ডিতের কোন মনোভাব পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
খ. ‘নয়া পত্তন’ গল্পে গ্রামে প্রথমবার স্কুল তৈরির ঘটনাটি বর্ণনা করো।

ক. ‘আশার মুখে ছাই!’—এই উক্তির মাধ্যমে শনু পণ্ডিত তার হতাশা এবং অর্থ সহায়তা না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি ছিলেন গ্রামের স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা, এবং তার স্বপ্নের স্কুলটি এক অকাল ঝড়ে ভেঙে পড়ে। স্কুলের টিনগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করার জন্য শনু পণ্ডিত শহরে সরকারি সাহায্যের জন্য যান, বড় আশা নিয়ে। কিন্তু তিনি যে শিক্ষা অফিসারদের কাছে গিয়েছিলেন, তারা তাকে কোনো অর্থ সহায়তা দেননি, বরং তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর তিনি প্রথমে জুলু চৌধুরীর কাছে সাহায্য চেয়ে যান, যিনি আগে স্কুল প্রতিষ্ঠায় তাকে সহায়তা করেছিলেন। কিন্তু জুলু চৌধুরীও তাকে সহায়তা করতে অস্বীকার করেন। কোনো অর্থ সহায়তা না পেয়ে, ব্যর্থতার বেদনা নিয়ে, মনোবল ভেঙে গিয়ে শনু পণ্ডিত হতাশাজনকভাবে ‘আশার মুখে ছাই!’ এই উক্তিটি করেন।

খ. মাত্র বাইশ বছর বয়সে, এনট্রান্স পাশ করা শনু পণ্ডিত, জুলু চৌধুরীর আর্থিক সহায়তায়, গ্রামে প্রথমবার স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা প্রায় পঁচিশ বছর আগের ঘটনা। সে সময়ে গ্রামের আশেপাশে কোনো স্কুল ছিল না, এবং গ্রামের মানুষের মধ্যে শিক্ষার কোনো সংযোগ ছিল না। শনু পণ্ডিত তখন সদ্য এনট্রান্স পাশ করা একটি যুবক, আর জুলু চৌধুরী ছিলেন গ্রামের জমিদার, যিনি যুবক বয়সে জমিদারি দেখভাল করতেন। একদিন, তাস-দাবা খেলার আসরে, শনু পণ্ডিত তার স্কুল প্রতিষ্ঠার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন, এবং জুলু চৌধুরী বিষয়টিতে আগ্রহ দেখান ও কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। যদিও তিনি সরাসরি অর্থ সাহায্য দেননি, তবে স্কুলের জন্য একখণ্ড জমি দেন এবং শহর থেকে ছুতার মিস্ত্রি এনে টুল ও টেবিল তৈরির ব্যবস্থা করেন। শনু পণ্ডিত নিজের একমাত্র ধানি জমি বিক্রি করে, সেই টাকায় স্কুলের টিন, বেড়া, বাঁশ ও কাঠ কেনেন। যদিও ব্যয় বেশি হলেও, স্কুলের নাম জুলু চৌধুরীর নামে রাখা হয়। সেই থেকে পঁচিশ বছর ধরে, শনু পণ্ডিত অক্লান্ত পরিশ্রম করে গ্রামবাসীদের ছেলে-মেয়েদের জন্য শিক্ষা বিস্তার করেছেন। কিন্তু পঁচিশ বছর পর, টিনের চাল ক্ষয়ে গিয়ে আকস্মিক ঝড়ে স্কুলটি ভেঙে পড়ে। তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ধূলায় পরিণত হয়। সরকারি সহায়তার জন্য শহরে গিয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে আসেন। এমনকি জুলু চৌধুরীও আর্থিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করেন। শনু পণ্ডিত নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে, পঁচিশ বছর আগে গ্রামের একমাত্র স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অশিক্ষিত জনগণের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়ানোর জন্য। নিজের জমি বিক্রি করে, জুলু চৌধুরীর সহায়তায় তিনি স্কুলটি তৈরি করেছিলেন, যা আজ ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। তিনি তার জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেছিলেন, এমনকি নিজে বিয়েও করেননি, কেবলমাত্র গ্রামবাসীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠার কাজে নিজের সবকিছু দিয়ে দিয়েছেন।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৬:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠায় গ্রামবাসীরা কীভাবে সহযোগিতা করে? ব্যাখ্যা করো।
খ. “সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।”— ‘নয়া পত্তন’ গল্পের আলোকে আলোচনা করো।

ক. নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠায় গ্রামবাসী তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী একত্রিত হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। স্কুলের মেরামতের জন্য সরকারী সহায়তা না পাওয়ার পর এবং জুলু চৌধুরীর অসহযোগিতামূলক আচরণের ফলে গ্রামবাসীরা একসঙ্গে কাজ শুরু করে। টাকা না থাকার কারণে তারা টিনের চালা দিতে পারলেও, বিকল্প হিসেবে ছনের দিয়ে স্কুলঘর তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। স্কুলের চালা বানানোর জন্য তিরিশ আঁটি ছন প্রয়োজন ছিল। তকু শেখ তিন আঁটি, কদম আলি দুই আঁটি ছন দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তোরাব বাঁশের মাধ্যমে সাহায্য করার কথা বলে এবং সাত কুড়ি বাঁশ দান করে। এছাড়াও অন্যান্য অনেক মানুষ বেত ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সহায়তা করে। যারা কিছু দিতে পারছিল না তারা শারীরিক শ্রম দিয়ে স্কুল নির্মাণে সাহায্য করে। পরিত্যক্ত গাছের কাঠ খুঁটি হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন কেউ কেউ। এইভাবে, গ্রামের সবাই একসঙ্গে কাজ করে এবং তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহায়তায় নতুন স্কুলঘর প্রতিষ্ঠিত হয়।

খ. “সকলের ঐকবদ্ধ প্রচেষ্টায় অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।”— এই মন্তব্যটি ‘নয়া পত্তন’ গল্পের প্রেক্ষাপটে সত্যি প্রমাণিত হয়। ‘নয়া পত্তন’ গল্পটি একত্রিত প্রচেষ্টায় যে কোনো কঠিন কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার উদাহরণ দেয়। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র শনু পণ্ডিত পঁচিশ বছর আগে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্কুল তৈরিতে গ্রামের জমিদার জুলু চৌধুরী সাহায্য করেছিলেন এবং স্কুলের জন্য কিছু জমি এবং টুল-টেবিল দিয়েছিলেন। পঁচিশ বছর পর স্কুলের ঘরটি ঝড়ে ভেঙে পড়ে এবং শনু পণ্ডিত সরকারি সহায়তার জন্য গেলে তাকে অপমানিত হতে হয়। শেষপর্যন্ত, তিনি জুলু চৌধুরীর কাছে সাহায্য চাইলে, তিনিও তাকে নিরাশ করেন।
হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন পণ্ডিত, কিন্তু গ্রামবাসীরা তার কথায় উজ্জীবিত হয়ে একত্রিত হয়ে কাজ শুরু করেন। তারা ছনের চালা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং একে অপরকে সহায়তা করে। কেউ ছন দেয়, কেউ বাঁশ দেয়, কেউ বেত এবং অন্যান্য সামগ্রী দেয়, আবার যারা কিছু দিতে পারেনি তারা শারীরিক শ্রম দেয়। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সন্ধ্যার আগেই স্কুলটি পুনরায় নির্মিত হয় এবং শনু পণ্ডিতের নামেই তার নতুন নামকরণ করা হয়। এই গল্পের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, একসঙ্গে কাজ করলে কোনো কাজই অসম্ভব নয়।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৭:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. “যাও ইস্কুল আমরাই দিমু” —কে এবং কেন একথাটি বলেছে?
খ. ‘নয়া পত্তন’ জুলু চৌধুরী চরিত্রের স্বরূপ মূল্যায়ন কর।

ক. ‘যাও ইস্কুল আমরাই দিমু’ এই উক্তিটি বুড়ো হাশমতের ভাবনা প্রকাশ করে, যিনি নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের শিক্ষিত হওয়ার আশা নিয়ে এই কথা বলেছেন। যখন শনু পণ্ডিত সাহায্য না পেয়ে গ্রামে ফিরে আসেন, তখন প্রথমে অনেকেই স্কুলটি বন্ধ করার কথা ভাবছিল। তবে তরু শেখ ও শনু পণ্ডিতের কথায় গ্রামবাসীদের মধ্যে শিক্ষা বিষয়ে নতুন উপলব্ধি তৈরি হয়। কারণ আজকের যুগ হল শিক্ষা, জ্ঞান এবং প্রযুক্তির যুগ। এই যুগে শিক্ষিত না হওয়া মানে পিছিয়ে পড়া। বুড়ো হাশমত নিজে দু’টি ছেলেকে এবং তার নাতি-নাতনিকে আশা নিয়ে স্কুলে পাঠিয়েছিল, যেন তারা অন্তত কাচারির পিওন হতে পারে। তার এই আশা পূরণ না হওয়ার চিন্তায় তিনি খুব দুঃখিত ছিলেন, এবং তার মনে হচ্ছিল যে, ছেলের সেই স্বপ্ন ব্যর্থতায় পরিণত হচ্ছে। তাই তিনি শনু পণ্ডিতের দলে যোগ দেন এবং সকলে একত্রিত হয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ় সংকল্প করেন। আলোচ্য উক্তিটিতে বুড়ো হাশমতের মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

খ. জুলু চৌধুরী একসময় জনকল্যাণমূলক কাজ করলেও এখন তিনি ব্যবসায়িক দ্বার্তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং গাঁয়ের জমিদার শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে তার জীবনযাত্রা পরিবর্তিত হয়েছে। তার জমিতে অনেক বর্গাচাষি কাজ করে এবং তাদের সাথে তার হিসাব-নিকাশ সুষ্ঠু। জমিদার হওয়ার কারণে জুলু চৌধুরীর পরিবার গ্রামবাসীর মতো কষ্টের মধ্যে থাকে না। এক সময় তিনি গ্রামে বাস করলেও বর্তমানে শহরে বসবাস করছেন এবং সেখানে কলকারখানা স্থাপন করে আর্থিক উন্নতির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। সমাজের উন্নয়নে তার আগের সহযোগিতা ছিল, তবে পঁচিশ বছর আগে যখন শনু পণ্ডিত স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তার কাছে সাহায্য চাইলে, তিনি তাকে কিছু না দিয়েও অনাবাদি জমি এবং শহর থেকে ছুতার মিস্ত্রি এনে কিছু টুল-টেবিল বানিয়ে দিয়েছিলেন। স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য শনু পণ্ডিত সবকিছু উজাড় করে দিলেও, স্কুলের নামফলকেই জুলু চৌধুরীর নাম লেখা হয়েছিল।
কিন্তু পঁচিশ বছর পর আকস্মিক ঝড়ে স্কুলটি ভেঙে পড়লে, শনু পণ্ডিত সরকার থেকে টাকা না পেয়ে, জুলু চৌধুরীর কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আসেন। তিনি আশা করেছিলেন, কিন্তু জুলু চৌধুরী এককথায় তাকে না করে দেন। এখন তিনি শহরে কারখানা তৈরিতে ব্যস্ত, এবং আর চান না যে গ্রামবাসীরা শিক্ষিত হোক। এর মাধ্যমে দেখা যায় যে, একসময় গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠায় সাড়া দেওয়া জুলু চৌধুরীর মধ্যে সময়ের সাথে সাথে জনকল্যাণে আগ্রহ কমে গেছে। এখন তার আগ্রহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবং সম্পদ বৃদ্ধিতে। তার চরিত্রে ইতিবাচক দিক থেকে নেতিবাচকতার দিকে এক ধরনের পরিবর্তন এসেছে।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৮:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. ‘গরমেন্টো মইরা গেছে’—প্রসঙ্গসহ কথাটি ব্যাখ্যা করো।
খ. “তাগোরে ছাড়াও চইলবার পারি আমরা।” —কদম আলীর এই কথায় প্রকাশ পেয়েছে আত্মনির্ভরশীলতা ও ঐক্য’—তোমার দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্যটি যাচাই করো।

ক. ইংরেজি গর্ভনমেন্ট (Government) শব্দের আঞ্চলিক রূপ গরমেন্টো।
শনু পণ্ডিত ঝড়ে ভেঙে যাওয়া স্কুল গড়ে তোলার জন্য শহরে যান সরকার এবং জুলু চৌধুরীর কাছে সাহায্যের আশায়। শনু পণ্ডিত সরকারের শিক্ষাবিভাগের লোক বড়োসাহেব শমসের খানের কাছে গিয়ে স্কুল মেরামতের জন্য টাকা চাইলে তিনি পণ্ডিত সাহেবকে হতাশ করেন। নানা খরচের বাহানা দেখিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেন। অতঃপর শনু পণ্ডিতের প্রত্যাশার জায়গা ছিলো জুলু চৌধুরী যিনি কখনো খালি হাতে তাকে ফিরাবেন না। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেখান থেকেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। তাই, শনু পণ্ডিত যখন ব্যর্থ হয়ে এলাকায় ফিরে এলেন এবং সবাই মিলে স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিলো তখন তরুণ তোরাব আলী বলল ‘গরমেন্টো মইরা গেছে’। অর্থাৎ সরকারকে দিয়ে কোনো কাজ হবে না, যা করার সব নিজেদের ঐক্য হয়ে করতে হবে।

খ. ‘তাগোরে ছাড়াও চইলবার পারি’ —কথাটি দ্বারা এলাকাবাসীর আত্মনির্ভরশীলতা ও ঐক্যবদ্ধতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
এন্ট্রান্স পাশ শনু পণ্ডিত গ্রামের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার জন্যে করেন এবং সেই থেকে নিজের সংসারাদি বিসর্জন দিয়ে শিক্ষাদানের কাজেই নিজেকে বিলিয়ে দেন। অর্থাভাবে স্কুলটি আর মেরামত হয়নি। অধিকন্তু প্রলয় ঝড়ে জরাজীর্ণ স্কুলটি ভেঙে জমিদারের সহায়তায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিজের শেষসম্বল খুইয়ে তিনি পঁচিশ বছর আগে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হোটেল ও সাহেবদের ছেলেমেয়েদের জন্য ইংলিশ স্কুল করতে গিয়ে তাদের অনেক টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে তাই কোনোভাবেই গেলে শনু পণ্ডিতে শহরে যান সরকারি শিক্ষাবিভাগের অফিসে। শিক্ষা বিভাগের বড়ো সাহেব শমসের খান শনু প-িতকে তার নিজের সংকটের কথা শুনিয়ে দেন যে রাজধানীতে নতুন দুটি সাহায্য করা সম্ভব নয়। তবে শনু পণ্ডিতের একটা প্রত্যাশার জায়গা ছিলো জুলু চৌধুরী যার নামে স্কুলটি প্রথমে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং যিনি জমিদাতা। কিন্তু শনু পণ্ডিত জুলু চৌধুরীর কাছে গিয়েও হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। অর্থাৎ জুলু চৌধুরী কোনো সাহায্য করতে রাজি নন। নানা বাহানায় তার নিজের ঋণের কথা শুনিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে শনু পণ্ডিত এলাকায় ফিরে এলে এলাকাবাসী তার কথা শুনে সরকার এবং চৌধুরীদের উপর আর আস্থা রাখতে পারলেন না। এলাকাবাসী চিন্তা করে দেখলেন তাদের এলাকার আশেপাশের গ্রামে আর স্কুল নেই। কিন্তু ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা তো করতে হবে। সন্তানদের তাদের বাপ-দাদাদের মতো মূর্খ থাকলে চলবে না। তাই সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেন সবাই একসঙ্গে পরিশ্রম করে নিজেদের স্কুল নিজেরাই পুনর্নির্মাণ করবেন। প্রথমেই বুড়ো হাশমত বললেন, ‘কারো পরোয়া করি না।’ অর্থাৎ সরকার চৌধুরী এদেরকে ছাড়াও তারা নিজেরাই আত্মনির্ভরশীল হতে চায় এবং ঐক্য গড়তে চাই। তাই এলাকার সকলে মিলে ছনের ছাউনি। দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে তারা স্কুল তৈরি করতে সক্ষম হন। কেউ বাঁশ দিয়ে, কেউ ছন দিয়ে কেউ বা নিজের শারীরিক শ্রম দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তারা স্কুল প্রতিষ্ঠা করে ফেলে। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর স্কুলটির দিকে তাকিয়ে কদম আলী বলে, “তাগোরে ছাড়াও চইলবার পারি আমরা।” অর্থাৎ সরকার ও চৌধুরী এদের ছাড়াই তারা এক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়।
তাই বলা যায়, কদম আলীর প্রশ্নোক্ত মন্তব্যের চেতনা মূলত আত্মনির্ভরশীলতা ও ঐক্যতার প্রতীক।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৯:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. ‘গ্রামের লোকগুলো উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিলো তার প্রতীক্ষায়’—কেনো? ব্যাখ্যা করো।
খ. ‘সামাজিক ঐক্য গড়ার মাধ্যমে যেকোনো বাঁধা সহজেই অতিক্রম করা যায়’ —‘নয়া পত্তন’ গল্পের আলোকে এর সত্যতা নিরুপণ করো।

ক. ঝড়ে জরাজীর্ণ স্কুলটি ভেঙে গেলে শনু পণ্ডিতসহ গ্রামবাসী সংকটে পড়েন।
আশেপাশের গ্রামে আর কোনো স্কুল নেই। তাই শনু পণ্ডিত শহরে গিয়েছিলেন সরকারি সাহায্য ও চৌধুরী সাহেবের সহযোগিতার জন্য, যাতে তাদের সহযোগিতায় স্কুলটিকে আবার দাঁড় করানো যায়। শনু পণ্ডিত এই সাহায্যের উদ্দেশ্যে শহরে যাওয়ায় এবং সাহায্য প্রাপ্তির আশায় গ্রামবাসী তার ফিরে আসার জন্য উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিলো। কারণ তাদের বিশ্বাস ছিলো শনু পণ্ডিত খালি হাতে ফিরবেনা। তাই শনু পণ্ডিত ককন ফিরবে সেই আশায় তারা উন্মুখ ছিলো। কিন্তু শনু পণ্ডিতের কথা শুনে গ্রামবাসী সকলেই হতাশ হয়ে পড়লো। বস্তুত, গ্রামবাসী নিজেরা মূর্খ হলেও তারা চায় তাদের সন্তানগুলো শিক্ষিত হোক।
তাই তাদের প্রত্যাশা পূরণের আশায় শনু পণ্ডিতের ফিরে আসার প্রতি এতো আগ্রহ ছিলো তাদের।

খ. ‘সামাজিক ঐক্য গড়ার মাধ্যমে যেকোনো বাঁধা সহজেই অতিক্রম করা যায়’। মন্তব্যটি ‘নয়া পত্তন’ গল্পে প্রমাণিত হয়েছে।
জহির রায়হানের লেখা ‘গোড়া পত্তন’ গল্পটি ঐকতা ও আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক। ঝড়ে জরাজীর্ণ স্কুল ঘরটি ভেঙে গেলে শনু পণ্ডিতসহ গ্রামবাসী সংকটে পড়ে যান, কারণ আশেপাশের এলাকায় আর কোনো স্কুল নেই। তাই শনু পড়িত আর্থিক সহযোগিতার জন্য শহরে যান সরকারের কাছে এবং জুলু চৌধুরীর কাছে। কিন্তু শিক্ষাবোর্ডের বড়ো সাহেব শমসের খান সরাসরি জানিয়ে দেন, কোনোভাবেই সাহায্য করা সম্ভব নয়। কারণ রাজধানীতে দুটি হোটেল ও সাহেবদের ছেলেমেয়েদের জন্য বহু ব্যয় করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অতঃপর শনু পণ্ডিত যান জুলু চৌধুরীর কাছে। কিন্তু তিনিও তাকে হতাশ করেন। নানা বাহানা দেখিয়ে ঋণের কথা তুলে ধরেন। অবশেষে শনু পণ্ডিত ফিরে আসেন গ্রামে। চোখে- মুখে একরাশ হতাশা। এছাড়া আর কিই বা করবেন তিনি। কারণ পঁচিশ বছর আগেই তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠায় শেষ সম্বল খুঁইয়েছেন। তাই চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কী করবেন তিনি। এতে গ্রামবাসীরাও সরকার এবং চৌধুরীদের প্রতি আশা হারিয়ে ফেলে। সমাজের উচ্চশ্রেণির উপর নিম্ন বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দৃষ্টান্ত এই গল্পে ওঠে এসেছে। এলাকার সাধারণ মানুষ মূর্খ হলেও সন্তানদের শিক্ষার প্রতি তারা সচেতন। তাই পরিশেষে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয় যে সম্মিলিতভাবেই তারা স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে। এলাকাবাসীর সকলের আলোচনার এক পর্যায়ে বুড়ো হাশেম বলে ওঠে “কারোর পরোয়া করি না। না গরমেন্টো। না চৌধুরী, বলে কোমরে গামছা আঁটল হাশমত।” এই শুনে এলাকাবাসী সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। তারা নিজেরাই সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ ছন দিয়ে, কেউ বাঁশ দিয়ে, কেউ শারীরিক শ্রম দিয়ে সাহায্য করছে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য। সন্ধ্যার মধ্যেই তারা স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। তাই বলা যায়, সামাজিক ঐক্য গড়ার মাধ্যমে যেকোনো বাঁধা সহজেই অতিক্রম করা যায়। আর জহির রায়হানের ‘নয়া পত্তন’ গল্পে গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টা স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই দিকটিই প্রতীকায়িত হয়েছে।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১০:

নিচের ক ও খ প্রশ্ন দুটির উত্তর দাও:
ক. শনু পণ্ডিত শহরে গিয়েছিলেন কেনো? ব্যাখ্যা করো।
খ. শনু পণ্ডিত চরিত্রটি তোমার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করো।

ক. ঝড়ে জরাজীর্ণ স্কুলটি ভেঙে যাওয়ায় তা পুনর্নির্মানের জন্য শনু পণ্ডিত সাহায্যের আশায় শহরে গিয়েছিলেন।
এন্ট্রাশ পাশ শনু পণ্ডিত গ্রামের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য জমিদার জুলু চৌধুরীর সহযোগিতায় এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘ পঁচিশ বছরেও আর স্কুলটি অর্থের অভাবে সংস্কার হয়নি। এবা প্রকাণ্ড ঝড়ে জরাজীর্ণ স্কুলটি ভেঙে গেলে গ্রামবাসী সংকটে পড়ে যায়। এলাকাবাসী মূর্খ হলেও তারা শিক্ষাসচেতন। তাই সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে তারা চিন্তিত। স্কুলটি ভেঙে যাওয়ায় তা মেরামতের জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। তাই আর্থিক সহযোগিতার জন্যই শনু পণ্ডিত শহরে গিয়েছিলেন সরকারিবিভাগের সাহায্য ও জুলু চৌধুরীর সহযোগিতার আশায়। কিন্তু তিনি তাঁদের কারোর কাছেই আর্থিক কোনো সাহায্য পাননি। হতাশ হয়ে তিনি গ্রামে আবার ফিরে এলেন।

খ. জহির রায়হানের ‘নয়া পত্তন’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং যাকে ঘিরে গল্পের ঘটনা আবর্তিত হয়েছে তিনি হচ্ছেন শনু পণ্ডিত।
শনু পণ্ডিত এন্ট্রাশ পাশ করে মাত্র বাইশ বছর যুবক বয়সেই গ্রামের ছেলেমেয়েদের লেখা পড়ার জন্য জমিদারদের সহায়তায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। স্কুলটি প্রতিষ্ঠায় নিজের শেষ সম্বলটুকু তিনি খরচ করে দিয়েছিলেন। এমনকি সারাজীব সংসারাদি না করে নিজেকে শিক্ষার কাজে বিলিয়ে দেন। প্রায় পঁচিশ বছর ধরে এভাবেই চলছে। অর্থাভাবে স্কুলটি আর সংস্কার হয়নি। কিন্তু এবার প্রকাণ্ড ঝড়ে জরাজীর্ণ স্কুলটি ভেঙে যায়। শনু পণ্ডিত খুব ভেঙে পড়লেন। কারণ এ গ্রামে ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদানের জন্য আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। তাই স্কুল ঘরটি মেরামতের আশায় শনু পণ্ডিত গেলেন শহরে। তিনি সরকারের শিক্ষাবিভাগ জুলু চৌধুরীরর কাছে সাহায্যের আশায় ছুটলেন। কিন্তু শনু পণ্ডিতকে হতাশ করে দিয়ে শিক্ষা অফিসার বললেন, রাজধানীতে দুটো হোটেল আর সাহেবদের প্রয়োজনে ইংরেজ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাই সাহায্য করা সম্ভব নয়। অতপর শনু পণ্ডিত জুলু চৌধুরীর কাছে গিয়েও হতাশ হলেন। শেষ পর্যন্ত খালি হাতে হতাশ মুখে শনু পন্ডিত গ্রামে ফিরলেন। স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার চোখ পানিতে ভরে উঠলো। গ্রামের ছেলেমেয়েরা আর পড়ালেখা করতে পারবে না ভেবেই খুব বিমর্ষ হলেন। শনু পণ্ডিতের কাছে এলাকাবাসী যখন জানতে পারে যে সরকার ও চৌধুরী সাহেব স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো ধরনের সাহায্য করবে না তখন তারা হতাশা হয়। শেষ পর্যন্ত নিজেদের ব্যবস্থাপনায় তারা আবার স্কুল ঘরটি মেরামত করে। এলাকার শিক্ষিত লোক হিসেবে শনু পণ্ডিত দায়িত্বশীল চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি এলাকার সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং তার প্রচেষ্টর কারণেই গ্রামের লোকজন শিক্ষাসচেতন হয়, নিজেরা মূর্খ বা অক্ষরজ্ঞানহীন হলেও সন্তানদের শিক্ষার প্রতি তারা উন্মুখ। শনু পণ্ডিত চরিত্রটি একই সাথে দায়িত্বশীল, কর্মঠ ও ধৈর্যশীল। শনু পণ্ডিতের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমেই গ্রামবাসী শিক্ষার মর্ম অনুধাবন করতে পারে। দায়িত্বশীল বলেই শহরে গিয়ে স্কুল মেরামতের জন্য আর্থিক সহযোগিতা চাইতে সরকারি অফিস ও চৌধুরীর কাছে যান। এলাকাবাসীও শনু পণ্ডিতের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা ও পরিশ্রমের মূল্য দিয়েছে। শনু পণ্ডিত এলাকাবাসীকে ঐক্যবদধ করে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলে স্কুলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়। শনু পণ্ডিতের ইস্কুল।" স্কুলের নাম দেখে শনু পণ্ডিতের বার্ধক্য-জর্জরিত মুখটা লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে যা ছিলো মূলত তার কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। মানুষের জন্য ভালো কাজ করলে এর যে ভালো প্রতিদান ও সম্মান পাওয়া যায় তা এ গল্পে শনু পন্ডিত চরিত্রে দেখা যায়।
তাই বলা যায়, শনু পণ্ডিত চরিত্রটি একই সঙ্গে দায়িত্বশীল, কর্মঠ, ধৈর্যশীল ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চরিত্র।


‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১১:
ক. ‘মরা চৌধুরী হইয়ো। চৌধুরী লাশ কাইয়্যো।’— কথা কেন বলা হয়েছে ব্যাখ্যা করো।
খ. ‘নয়া পত্তন’ গল্পে ফুটে ওঠা সমাজচিত্রের বর্ণনা দাও।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১২:
ক. শম্ভু পণ্ডিত শহরে গিয়েছিলেন কেন?
খ. ‘নয়া পত্তন’ গল্পে নয়া পত্তন ঘটে কীভাবে— বিচার করো।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৩:
ক. ‘এত বাড়াবাড়ি ভালো না মিয়ারা’— কথাটি কোন প্রসঙ্গে কে বলেছে।
খ. ‘একতাই বল’— ‘নয়া পত্তন’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৪:
ক. ‘এত দেমাক দেখাও ক্যান মিয়া’— কথাটি কে কোন প্রসঙ্গে বলেছে? বুঝিয়ে দাও।
খ. ‘বাঁধার প্রাচীর ডিঙিয়ে যেতে পারলেই সাফল্য আসে’— মন্তব্যটি ‘নয়া পত্তন’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৫:
ক. শনু পণ্ডিত শহরে গিয়ে কী ধরনের সাহায্য আশা করেছিলেন? কেন করেছিলেন?
খ. শহরে গিয়ে তাকে কী ধরনের অবহেলা ও অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছিল?

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৬:
ক. চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে শনু পণ্ডিতের সম্পর্ক কেমন ছিল? তিনি কীভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য সাহায্য করেছিলেন?
খ. চৌধুরী সাহেব কেন স্কুলের পুনর্গঠন নিয়ে কোনো সাহায্য করতে রাজি হননি?

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৭:
ক. ‘আশার মুখে ছাই!’ উক্তিটিতে শনু পন্ডিতের কোন মনোভাব পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
খ. গ্রামে প্রথমবার স্কুল তৈরির ঘটনাটি বর্ণনা করো।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৮:
ক. নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠায় গ্রামবাসীরা কীভাবে সহযোগিতা করে? ব্যাখ্যা করো।
খ. ‘সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।’ ‘নয়া পত্তন’ গল্পের আলোকে আলোচনা করো।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৯:
ক. শিক্ষা বিভাগের বড় অফিসারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরো।
খ. শনু পণ্ডিত চরিত্রটিকে মূল্যায়ন করো।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২১:
ক) ‘এত দেমাক দেখনো ক্যান মিয়া, উপাস ক্যাডা না থাকে।’- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
(খ) ‘নয়া পত্তন’ গল্পটি একটি শ্রেণিসংগ্রামের গল্প-উক্তিটির যথার্থতা প্রমাণ করো।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২২:
ক. ‘পড়েই বার্ধক্য-জর্জরিত মুখটা লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল তার।’- কার মুখ রাঙা হলো ও কারণ কী?
খ. ‘নয়া পত্তন’ গল্প থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৩:
ক. ‘যাও স্কুল আমরাই দিমু’- কে এবং কেন একথা বলেছে?
খ. ‘মরা চৌধুরী হইলেও, চৌধুরীর লাশ হইলেও’- চরণটি কী প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?

‘নয়া পত্তন’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৩:
ক. ‘যতসব হইয়ে আইছে- যাও স্কুল আমরাই দিমু।’ উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
খ. ‘শনু পণ্ডিত একটি অনুকরণীয় আদর্শ’- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

তথ্যসূত্র:
১. আনন্দপাঠ: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. গল্পসমগ্র: জহির রায়হান,অনুপম প্রকাশনী, ঢাকা, ২০২৩।
৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url