তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা- শামসুর রাহমান
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
শামসুর রাহমান
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে
রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে
খাণ্ডবদাহন?
তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল,
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।
তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মতো চিৎকার করতে করতে
তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হলো।
রিকয়েললেস রাইফেল
আর
মেশিনগান
খই ফোটাল
যত্রতত্র।
তুমি আসবে বলে ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম।
তুমি আসবে বলে
বিধ্বস্ত
পাড়ায় প্রভুর
বাস্তুভিটার
ভগ্নস্তুপে
দাঁড়িয়ে একটানা
আর্তনাদ
করল একটা কুকুর।
তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
অবুঝ শিশু
হামাগুড়ি
দিল পিতা-মাতার লাশের উপর।
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
থুত্থুড়ে এক বুড়ো
উদাস
দাওয়ায়
বসে আছেন তাঁর চোখের নিচে অপরাহ্ণের
দুর্বল আলোর ঝিলিক, বাতাসে নড়ছে চুল।
স্বাধীনতা, তোমার জন্যে
মোল্লাবাড়ির এক বিধবা দাঁড়িয়ে আছে
নড়বড়ে
খুঁটি
ধরে দগ্ধ ঘরের।
হাড্ডিসার এক অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে
বসে আছে পথের ধারে।
তোমার জন্যে,
সগীর আলী, শাহবাজপুরের সেই জোয়ান কৃষক,
কেষ্ট দাস, জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটা,
মতলব মিয়া, মেঘনা নদীর দক্ষ মাঝি,
গাজী গাজী বলে যে নৌকা চালায় উদ্দাম ঝড়ে,
রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস
এখন পোকার দখলে
আর রাইফেল কাঁধে বনে জঙ্গলে ঘুরে-বেড়ানো
সেই তেজি তরুণ যার পদভারে
একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে।
সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা।
পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে জ্বলন্ত
ঘোষণার ধ্বনি-প্রতিধ্বনি তুলে,
নতুন নিশান উড়িয়ে, দামামা বাজিয়ে দিগ্বিদিক
এই বাংলায়
তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা। (সংক্ষেপিত)
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
|
‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ শীর্ষক কবিতাটি শামসুর রাহমানের
‘বন্দী শিবির থেকে’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল-ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রচিত। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটির শুরুতে ‘পূর্বলেখ’ শিরোনামে একটি ভূমিকা সংযোজন করে কবি তাঁর কাব্যরচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেছেন। ৩৮টি কবিতা এগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখযোগ্য কবিতা : তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা তুমি, মধুস্মৃতি, রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি। প্রতিটি কবিতায় স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশে। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ রক্তগঙ্গায়- সরাসরি হিমালয় পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে বঙ্গোপসাগরে
মিশে যাওয়া নদী বলে এই নদী বেগবান ও বৃহৎ। স্বাধীনতার জন্য ‘অনেক
রক্তদান’ বোঝাতে এখানে রক্তগঙ্গা শব্দটি বোঝানো হয়েছে। ➠ খাণ্ডবদাহন- খাণ্ডব মূলত মহাভারতের একটি বিখ্যাত অরণ্য, যা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্বিচারে ধ্বংস করা হয়েছিল অরণ্যের প্রায় সকল প্রাণীকে। এ কবিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞকে খাণ্ডবদাহন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ➠ সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর- মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন হরিদাসীর স্বামী। এ কারণে বিধবা হরিদাসীর সিঁথি থেকে সিঁদুর মুছে ফেলতে হয়েছে। সনাতন ধর্মের বিবাহকেন্দ্রিক সংস্কৃতিতে সধবারা সিঁদুর পরেন, স্বামীর মৃত্যু হলে সিঁদুর মুছে ফেলতে হয়। হরিদাসীকেও হতে হয়েছে সিঁদুরবিহীন। ➠ উজাড় হলো- শূন্য হলো, বস্তি হলো। ➠ রিকয়েললেস রাইফেল- একে সংক্ষেপে বলা হয় আর আর (R.R.)। স্বল্পভারী মারণাস্ত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এর ব্যবহার হয়েছে প্রচুর। পাকিস্তানিরা এই আর আর নিয়ে নিরীহ বাঙালিদের ওপর আক্রমণ করে। ➠ মেশিনগান- অত্যাধুনিক যন্ত্রচালিত বন্দুক। জার্মানি আবিষ্কার করে। পরে এই অস্ত্রের নানা দেশে নানা পরিমার্জন হয়েছে। সে হিসেবে মেশিনগানের আগে লাইট, হেভি, নর্মাল, শর্ট ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার হয়। ➠ যত্রতত্র- যেখানে সেখানে, সব জায়গায়। ➠ তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা, ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হলো। - নয় মাসব্যাপী সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে। ধ্বংস করেছে ছাত্রাবাস, বস্তি। কারণ ছাত্রজনতার প্রবল প্রতিবাদ আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল ছাত্রাবাস ও বস্তি। হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা চেয়েছিল প্রতিরোধের সংগ্রামকে স্তব্ধ করে দিতে। তাই তারা পুড়িয়ে দিয়েছিল গ্রাম ও শহর। নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল বাঙালি জাতিকে। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে অপরিসীম আত্মত্যাগের মাধ্যমে। ➠ বিধ্বস্ত- যা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। ➠ বাস্তুভিটা- বসতবাড়ি। ➠ ভগ্নস্তুপ- স্তূপাকার ধ্বংসাবশেষ। ➠ আর্তনাদ- ব্যাকুল ও কাতর চিৎকার। ➠ হামাগুড়ি- দুই হাত ও দুই জানুর ওপর ভর দিয়ে চলন। ➠ থুত্থুড়ে এক বুড়ো- বয়সের ভারে বিধ্বস্ত লোক, যার বয়স অনেক হয়েছে এবং চলাচল করতে যার কষ্ট হয়। ➠ উদাস- বিষণ্ণ; ব্যাকুল। ➠ দাওয়ায়- বারান্দায়; রোয়াকে। ➠ খুঁটি- বাঁশ বা কাঠের গোঁজ। ➠ হাড্ডিসার- কঙ্কালসার; অতিশয় জীর্ণশীর্ণ। ➠ রুস্তম শেখ, ঢাকার রিকশাওয়ালা, যার ফুসফুস এখন পোকার দখলে- রুস্তম শেখ নামের এক রিকশাওয়ালা যিনি যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। মৃত অবস্থা বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে ‘যার ফুসফুস এখন পোকার দখলে’। ➠ অধীর- ব্যাকুল; উৎকণ্ঠিত; কাতর। ➠ প্রতীক্ষা- অপেক্ষা; প্রত্যাশা। ➠ দামামা- ঢাকজাতীয় রণবাদ্যবিশেষ। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি: |
|---|
| স্বাধীনতা শুধু শব্দমাত্র নয়, এটি এমন এক অধিকার ও অনুভব যা মানুষের জন্মগত। কিন্তু এই অধিকার আদায়ের জন্য বাঙালি জাতিকে দীর্ঘ কাল যেমন সংগ্রাম করতে হয়েছে তেমনি করতে হয়েছে অপরিসীম আত্মত্মত্যাগ। ১৯৭১ সালে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে আপামর বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধচলাকালে বাঙালির রক্তে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয় পাকিস্তানি যুদ্ধবাজরা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে সকিনা বিবির মতো গ্রামীণ নারীর সহায়-সম্বল-সম্ভ্রম বিসর্জিত হয়েছে, হরিদাসী হয়েছে স্বামীহারা, নবজাতক হারিয়েছে মা-বাবাকে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ছাত্রাবাস আক্রমণ করে ছাত্রদের হত্যা করে, শহরের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গণহত্যা চালায়, পুড়িয়ে দেয় গ্রাম ও শহরের লোকালয়। এর প্রাকৃতিক প্রতিবাদ ওঠে পশুর কণ্ঠেও। আর্তনাদ করে কুকুরও। মুক্তিযুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক, জেলে, রিকশাওয়ালা প্রমুখ সাধারণ মানুষ আত্মত্যাগ করে। দগ্ধ হওয়া লোকালয় প্রবীণ বাঙালির আলোকিত চোখে অগ্নি ঝরায়। সেইসঙ্গে নবীন রক্তে প্রাণস্পন্দন ও আশা জেগে থাকতে দেখে কবি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করেন- এত আত্মত্যাগ যার উদ্দেশ্যে সেই স্বাধীনতাকে বাঙালি একদিন ছিনিয়ে আনবেই। কবিতাটি মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য সাহিত্যিক দলিল। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
|
শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩শে অক্টোবর ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর
পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রাম। তিনি ঢাকার
পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট
পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর
পেশা ছিল সাংবাদিকতা। তিনি একনিষ্ঠভাবে কাব্য সাধনায় নিয়োজিত ছিলেন।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত নাগরিক জীবনের প্রত্যাশা, হতাশা, বিচ্ছিন্নতা,
বৈরাগ্য ও সংগ্রাম তাঁর কবিতায় সার্থকভাবে বিধৃত। তাঁর প্রধান কাব্য:
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা,
নিরালোকে দিব্যরথ, বন্দী শিবির থেকে, বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, বুক
তার বাংলাদেশের হৃদয়
ইত্যাদি। এছাড়া তাঁর কিছু অনুবাদ-কবিতা ও শিশুতোষ কবিতা রয়েছে। শামসুর
রাহমান তাঁর অনন্যসাধারণ কবি-কীর্তির জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার,
একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। তিনি ১৭ই আগস্ট, ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন: |
|---|
| ১। কবিতাটিতে স্বাধীনতার জন্য যেসব শ্রেণি-পেশা ও সাধারণ মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার তালিকা তৈরি করো। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. শামসুর রাহমান কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর : শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ২. শামসুর রাহমানের পেশা কী ছিল? উত্তর : শামসুর রাহমানের পেশা ছিল সাংবাদিকতা। ৩. শামসুর রাহমানের কবিতায় কোন কাব্যধারার বৈশিষ্ট্য সার্থকভাবে প্রকাশিত হয়েছে? উত্তর : শামসুর রাহমানের কবিতায় অতি আধুনিক কাব্যধারার বৈশিষ্ট্য সার্থকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ৪. উপমা ও চিত্রকল্প নির্মাণে শামসুর রাহমান কী নির্ভর? উত্তর : উপমা ও চিত্রকল্প নির্মাণে শামসুর রাহমান প্রকৃতিনির্ভর। ৫. শামসুর রাহমানের কবিতার বিষয় ও উপাদান কী কেন্দ্রিক? উত্তর : শামসুর রাহমানের কবিতার বিষয় ও উপাদান শহরকেন্দ্রিক। ৬. শামসুর রাহমান কত সালে মৃত্যুবরণ করেন? উত্তর : শামসুর রাহমান ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ৭. স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য কিসে ভাসার কথা বলা হয়েছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায়? উত্তর : স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য রক্তগঙ্গায় ভাসার কথা বলা হয়েছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায়। ৮. স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য বারবার কী দেখার কথা বলা হয়েছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায়? উত্তর : স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য বারবার খাÊবদাহন দেখার কথা বলা হয়েছে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায়। ৯. স্বাধীনতা আসবে বলে কার কপাল ভাঙল? উত্তর : স্বাধীনতা আসবে বলে সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল। ১০. স্বাধীনতা আসবে বলে কার সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল? উত্তর : স্বাধীনতা আসবে বলে হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল। ১১. শহরের বুকে কোন রঙের ট্যাংক এলো? উত্তর : শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাংক এলো। ১২. কিসের মতো চিৎকার করতে করতে শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাংক এলো? উত্তর : দানবের মতো চিৎকার করতে করতে শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাংক এলো। ১৩. স্বাধীনতা আসবে বলে কে বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভুর বাস্তুভিটার ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করল? উত্তর : স্বাধীনতা আসবে বলে একটা কুকুর বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভুর বাস্তুভিটার ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করল। ১৪. স্বাধীনতার জন্য উদাস দাওয়ায় বসে আছেন কে? উত্তর : স্বাধীনতার জন্য উদাস দাওয়ায় বসে আছেন থুত্থুরে বুড়ো। ১৫. স্বাধীনতার জন্য অপেক্ষারত থুত্থুরে বুড়োর চোখের নিচে কিসের ঝিলিক? উত্তর : স্বাধীনতার জন্য অপেক্ষারত থুত্থুরে বুড়োর চোখের নিচে অপরাহ্ণের দুর্বল আলোর ঝিলিক। ১৬. স্বাধীনতার জন্য কে দগ্ধ ঘরের নড়বড়ে খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে আছে? উত্তর : স্বাধীনতার জন্য মোল্লাবাড়ির বিধবা দগ্ধ ঘরের নড়বড়ে খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ১৭. হাড্ডিসার অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে কোথায় বসে আছে? উত্তর : হাড্ডিসার অনাথ কিশোরী শূন্য থালা হাতে পথের ধারে বসে আছে। ১৮. সগীর আলীর বাড়ি কোথায়? উত্তর : সগীর আলীর বাড়ি শাহবাজপুরে। ১৯. জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকটার নাম কী? উত্তর : জেলেপাড়ার সবচেয়ে সাহসী লোকাটার নাম কেষ্ট দাস। ২০. গাজী গাজী বলে উদ্দাম ঝড়ে নৌকা চালায় কে? উত্তর : গাজী গাজী বলে উদ্দাম ঝড়ে নৌকা চালায় মতলব মিয়া। ২১. রুস্তম শেখ কোথাকার রিকশাওয়ালা? উত্তর : রুস্তম শেখ ঢাকার রিকশাওয়ালা। ২২. রুস্তম শেখের ফুসফুস এখন কিসের দখলে? উত্তর : রুস্তম শেখের ফুসফুস এখন পোকার দখলে। ২৩. তেজি তরুণের পদভারে কিসের জন্ম হতে চলেছে? উত্তর : তেজি তরুণের পদভারে একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে। ২৪. সবাই কার জন্য অধীর প্রতীক্ষায় রয়েছে? উত্তর : সবাই স্বাধীনতার জন্য অধীর প্রতীক্ষায় রয়েছে। ২৫. কোন ধর্মের মেয়েদের বিয়ের পর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া হয়? উত্তর : সনাতন ধর্মের মেয়েদের বিয়ের পর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া হয়। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. ‘আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়’ কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
২. সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল কেন?
৩. হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল কেন?
৪. বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভুর বাস্তুভিটার ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা
আর্তনাদ করল একটা কুকুর-কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
৫. সবাই অধীর প্রতীক্ষা করছে তোমার জন্যে, হে স্বাধীনতা- কেন?
৬. ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় কবি সগীর আলী, কেষ্ট
দাস, মতলব মিয়া, রুস্তম শেখদের কথা বলেছেন কেন?
৭. ‘যার পদভারে একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম হতে চলেছে’- কথাটি বুঝিয়ে
লেখো।
৮. তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা- কবির এই দৃঢ়তার কারণ ব্যাখ্যা
করো।
৯. জলপাই রঙের ট্যাঙ্ককে কবি দানব বলেছেন কেন?
১০. ‘আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়।’ বুঝিয়ে বলো।
১১. যার ফুসফুস এখন ‘পোকার দখলে’ এখানে পোকার দখলে বলতে কোন বিষয়টি
নির্দেশ করা হয়েছে?
১২. পাকিস্তানিরা কেন ছাত্রাবাস উজাড় করে দিয়েছিল?
১৩. ‘তোমাকে আসতেই হবে, হে স্বাধীনতা’—কবির এই দৃঢ় উত্তির কারণ
বুঝিয়ে লেখ।
১৪. ‘সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১৫. ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হলো কেন?
১৬. সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।”—এ কথার মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
১৭. শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো কেন? |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কার সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল? |
|
ক. হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালির
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের বিষয়টি ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে
স্বাধীনতা’ কবিতায় প্রতিফলিত।
ঘ. উদ্দীপকে কেবল ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায়
উল্লিখিত হানাদার পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথাই আলোচনা করা
হয়েছে। কিন্তু কবিতায় রয়েছে আমাদের স্বাধীনতা চেতনার স্বরূপ, যা
উদ্দীপকে অনুপস্থিত। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় সবচেয়ে সাহসী লোক কে?
|
|
ক. ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় সবচেয়ে সাহসী লোক
হচ্ছে, কেষ্ট দাস।
গ. উদ্দীপকটি ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বধীনতা’ কবিতায় উল্লিখিত
মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. চেতনাগত দিক থেকে উদ্দীপক ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’
কবিতাটির বিষয়বস্তু হচ্ছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কার ফুসফুস এখন পোকার দখলে? |
|
ক. রুস্তম শেখের ফুসফুস এখন পোকার দখলে।
গ. উদ্দীপকে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার পাকিস্তানি
বাহিনীর অত্যাচারের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে শুধু পাকিস্তানিদের অত্যাচারের দিকটি প্রতিফলিত হলেও
‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় বাঙালির স্বাধীনতার
আকাঙ্ক্ষাই প্রধান হয়ে উঠেছে। |
| ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. অবুঝ শিশু কিসের ওপর হামাগুড়ি দিয়েছিল? |
|
ক. পিতা-মাতার লাশের ওপর অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিয়েছিল।
গ. ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’ কবিতায় বর্ণিত কবির
স্বাধীনতা লাভের বাসনার বিষয়টি উদ্দীপকে রয়েছে।
ঘ. কবিতার ‘তোমাকে আসতেই হবে’ এবং উদ্দীপকের ‘এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম’ একই আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটিয়েছে। সে আকাঙ্ক্ষা
স্বাধীনতা লাভের। |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫। ২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর। এপ্রিল ২০১৮। ৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
