বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে,
নিদ নাহি চোখে
তাঁর-
পুত্র তাঁহার হুমায়ুন বুঝি বাঁচে না এবার আর!
চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরণ-অন্ধকার।
রাজ্যের যত
বিজ্ঞহেকিমকবিরাজ
দরবেশ
এসেছে সবাই, দিতেছে বসিয়া ব্যবস্থা সবিশেষ,
সেবাযত্নের
বিধিবিধানের
ত্রুটি নাহি এক লেশ।
তবু তাঁর সেই দুরন্ত রোগ হটিতেছে নাক হায়,
যত দিন যায়, দুর্ভোগ তার ততই বাড়িয়া যায়-
জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অস্তরবির প্রায়।
শুধাল বাবর
ব্যগ্রকণ্ঠেভিষকবৃন্দে
ডাকি,
‘বল বল আজি সত্যি করিয়া, দিও নাকো মোরে ফাঁকি,
এই রোগ হতে
বাদশাজাদার মুক্তি মিলিবে নাকি?’
নতমস্তকে
রহিল সবাই, কহিল না কোন কথা,
মুখর হইয়া উঠিল তাঁদের সে নিষ্ঠুর নীরবতা শেলসম
আসি বাবরের বুকে বিঁধিল কিসের ব্যথা।
হেনকালে এক দরবেশ উঠি কহিলেন- ‘সুলতান,
সবচেয়ে তব শ্রেষ্ঠ যে-ধন দিতে যদি পার দান,
খুশি হয়ে তবে বাঁচাবে আল্লা বাদশাজাদার প্রাণ।’
শুনিয়া সে কথা কহিল বাবর
শঙ্কা নাহিক মানি-
‘তাই যদি হয়, প্রস্তুত আমি দিতে সেই কোরবানি,
সবচেয়ে মোর শ্রেষ্ঠ যে ধন জানি তাহা আমি জানি।’
এতেক বলিয়া আসন পাতিয়া নিরিবিলি গৃহতল
গভীর ধেয়ানে বসিল
বাবর শান্ত
অচঞ্চল,
প্রার্থনারত হাতদুটি তাঁর, নয়নে অশ্রুজল।
সেইদিন হতে রোগ-লক্ষণ দেখা দিল বাবরের, হৃষ্টচিত্তে
গ্রহণ করিল শয্যা সে মরণের,
নতুন জীবনে হুমায়ুন ধীরে বাঁচিয়া উঠিল ফের।
মরিল বাবর না, না ভুল কথা, মৃত্যু কে তারে কয়?
মরিয়া বাবর অমর হয়েছে, নাহি তার কোন ক্ষয়,
পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়!
বাবর
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার উৎস নির্দেশ :
‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটি গোলাম মোস্তফার ‘বুলবুলিস্তান’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
সংকলিত হয়েছে।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা :
➠ বাবর- মির্জা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মুঘল সাম্রাজের প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি ১৪৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ফারগানা প্রদেশের (বর্তমান উজবেকিস্তান)
আনদিজান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর রাজত্ব ছিলো (২রা এপ্রিল ১৫২৬ খ্রি. –
২৬শে ডিসেম্বর ১৫৩০ খ্রি.) মাত্র ৪৭ বছর। বাবর ১৫৩০ সালের ২৬শে ডিসেম্বর
আগ্রায় মৃত্যুবরণ করেন। কথিত আছে যে, পুত্রের আরোগ্যের জন্য বাবর নিজেকে
উৎসর্গ করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, ইব্রাহিম লোদীর মা বাবরকে হত্যার জন্য বিষ
প্রয়োগ করেছিলেন। সেই বিষের ক্রিয়া তার শরীরকে ধীরে ধীরে অসুস্থ করে
দেয়। হুমায়ুননামায় গুলবদন বেগম বলেছেন, বাবর অনেক আগে থেকেই পেটের
পীড়ায় ভুগতেন।
➠ বিনিময়- বদল।
➠ নিদ- ঘুম।
➠ হুমায়ুন- মির্জা নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন হলো মুঘল সাম্রাজ্যের
দ্বিতীয় সম্রাট। তিনি ৬ই মার্চ ১৫০৮ খ্রি. কাবুলে (বর্তমান আফগানিস্থান)
জন্মগ্রহণ করেন। ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে জানুয়ারি দিনপানাহ নামক শহরে তার
নিজ গ্রন্থাগারের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ
করেন।
➠ বিজ্ঞ- জ্ঞানী, পণ্ডিত।
➠ হেকিম- ইউনানি চিকিৎসক।
➠ কবিরাজ- আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী ব্যক্তি, বৈদ্য।
➠ দরবেশ- মুসলমান সাধুপুরুষ।
➠ বিধিবিধান- নিয়মকানুন।
➠ দুরন্ত রোগ- সাধারণত শিশুদের অতি চঞ্চলতা, অমনোযোগিতা ও
হাইপারঅ্যাকটিভিটি বোঝানো হয়, যা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি
ডিসঅর্ডার (ADHD) নামক নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যেখানে
শিশুরা স্থির থাকতে পারে না, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না এবং অতিরিক্ত কথা
বলে বা অন্যদের কাজে বাধা দেয়; যদিও সুস্থ শিশুদের মধ্যে কিছু দুষ্টুমি
স্বাভাবিক, কিন্তু ১২ বছরের আগে যদি এই লক্ষণগুলো ৬ মাস বা তার বেশি সময়
ধরে থাকে, তবে এটি ADHD হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
➠ ব্যগ্রকণ্ঠ- উত্তেজিত কণ্ঠস্বর।
➠ ভিষকবৃন্দ- চিকিৎসকগণ।
➠ বাদশাজাদা- সম্রাটের পুত্র, এখানে হুমায়ুন।
➠ নতমস্তক- মাথা নিচু করে আছে এমন, বিনীত।
➠ শেলসম- তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো।
➠ শঙ্কা- ভয়।
➠ অস্তরবি- অস্তগামী সূর্য।
➠ দৃপ্ত- উদ্ধত (এখানে উদ্দীপিত অর্থে ব্যবহৃত)।
➠ সবচেয়ে যে শ্রেষ্ঠধন- প্রত্যেক মানুষের কাছে নিজের জীবনই শ্রেষ্ঠ
ধন হিসেবে বিবেচ্য।
➠ অচঞ্চল- চঞ্চলতাশূন্য, অবিচল।
➠ ধেয়ানে- ধ্যানে।
➠ সুপ্তি- তন্দ্রা, নিন্দা।
➠ সুপ্তিমগ্ন- ঘুমে অচেতন।
➠ নিখিল- সমগ্র জগৎ।
➠ ফুকারি- চিৎকার করে।
➠ কবুল- স্বীকার, গৃহীত।
➠ জয়োল্লাস- জয়ের আনন্দ।
➠ তোরণ- সিংহদ্বার, সদর দরজা।
➠ পূর্বাভাস- আগাম সতর্কবার্তা।
➠ তিমির রাতের তোরণে ঊষার পূর্বাভাস- ভোরের আগমন আঁধার রাতের অবসান
ঘোষণা করে। এখানে হুমায়ুনের মুমূর্ষু অবস্থা তিমির রাত এবং রোগমুক্তির
লক্ষণকে উষার পূর্বাভাস বলা হয়েছে।
➠ হৃষ্টচিত্ত- প্রফুল্ল হৃদয়, খোশমেজাজ।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি :
‘জীবন বিনিময়’ কবিতাটিতে পিতৃস্নেহের একটি মহৎ দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে।
পিতার স্নেহ-বাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় এই কবিতার প্রতিপাদ্য বিষয়। মোগল
সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। বিজ্ঞ চিকিৎসকেরা অনেক
চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাঁর জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এক দরবেশ এসে জানালেন
যে, সম্রাট যদি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ধন দান করেন তবেই তাঁর পুত্র জীবন লাভ
করতে পারেন। সম্রাট বাবর উপলব্ধি করলেন, নিজের প্রাণের চেয়ে আর বেশি প্রিয়
কিছু নেই। তিনি বিধাতার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ সে ধনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন
ভিক্ষা চাইলেন। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর করলেন। এভাবে পিতৃস্নেহের
কাছে মরণের পরাজয় ঘটল। অর্থাৎ সন্তানের প্রতি পিতার অপরিসীম ভালোবাসা ও
অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে কবিতাটিতে।
কবি পরিচিতি:
গোলাম মোস্তফা যশোর জেলার শৈলকুপা থানার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে
জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বি.এ. পাস করেন। কর্মজীবনে
তিনি বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
কাব্য, উপন্যাস, জীবনী, অনুবাদ ইত্যাদি সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর
স্বচ্ছন্দ পদচারণা ছিল। কাব্যচর্চার ক্ষেত্রেই ইসলামি ঐতিহ্য থেকে তিনি
প্রেরণা লাভ করেছিলেন। তাঁর প্রকাশিত কাব্য:
রক্তরাগ, খোশরোজ, বুলবুলিস্তান; উপন্যাস:
ভাঙ্গাবুক, রূপের নেশা, এক মন এক প্রাণ; জীবনী: বিশ্বনবী, মরুদুলাল;
অনুবাদ: কালামে ইকবাল, আল কুরআন, শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া ইত্যাদি।
তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
জীবন বিনিময়
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
প্রশ্ন-১: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতা কার চোখে ঘুম নেই?
উত্তর: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবরের চোখে ঘুম নেই।
প্রশ্ন-২: সম্রাট বাবরের পুত্র কে?
উত্তর: সম্রাট বাবরের পুত্র হলেন হুমায়ুন।
প্রশ্ন-৩: মরণ-অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে কার চারধারে?
উত্তর: মরণ-অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে হুমায়ুনের চারধারে।
প্রশ্ন-৪: সম্রাট বাবর ভিষকবৃন্দকে কী জন্য দরবারে ডেকেছিলেন?
উত্তর: সম্রাট বাবার ভিষকবৃন্দকে হুমায়ুনের চিকিৎসার জন্য দরবারে
ডেকেছিলেন।
প্রশ্ন-৫: বাবর ভিষকবৃন্দকে কীভাবে ডেকেছেন?
উত্তর: বাবর ভিষকবৃন্দকে ব্যগ্রকণ্ঠে ডেকেছেন।
প্রশ্ন-৬: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় চুপ থাকা অর্থে কোন শব্দ ব্যবহার করা
হয়েছে?
উত্তর: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় চুপ থাকা অর্থে ‘নিষ্ঠুর নীরবতা’ শব্দটি
ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশ্ন-৭: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবরকে সর্বশ্রেষ্ঠ ধন দান করার কথা
কে বলেছেন?
উত্তর: 'জীবন বিনিময়' কবিতায় সম্রাট বাবরকে সর্বশ্রেষ্ঠ ধন দান করার কথা
বলেছেন দরবেশ।
প্রশ্ন-৮: বাবর কোথায় আসন পেতে বসেছিলেন?
উত্তর: বাবর গৃহতলে আসন পেতে বসেছিলেন।
প্রশ্ন-৯: আসন পেতে বাবর কী করেছিলেন?
উত্তর: আসন পেতে বাবর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।
প্রশ্ন-১০: বাবরের নয়ন অশ্রুসিক্ত হয় কখন?
উত্তর: বাবরের নয়ন অশ্রুসিক্ত হয় আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত অবস্থায়।
প্রশ্ন-১১: বাবরের প্রিয় ধন কোনটি?
উত্তর: বাবরের প্রিয় ধন তাঁর নিজের প্রাণ।
প্রশ্ন-১২: পুত্রের জন্য বাবর কী কী বিসর্জন দেন?
উত্তর: পুত্রের জন্য বাবর নিজের প্রাণ বিসর্জন দেন।
প্রশ্ন-১৩: বাবর কীভাবে বুঝতে পারেন পুত্র ভালো হয়ে উঠবে?
উত্তর: বাবরের রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় পুত্র ভালো হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন-১৪: বাবরের মৃত্যুকে কবি কী বলেছেন?
উত্তর: বাবরের মৃত্যুকে কবি অমরত্ব বলেছেন।
প্রশ্ন-১৫: কীসের নিকট মরণের পরাজয় ঘটে?
উত্তর: পিতৃস্নেহের নিকট মরণের পরাজয় ঘটে।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :
--------------
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বাবার সঙ্গে ঢাকায় বেড়াতে এসে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে উৎপল ও তার বাবা।
একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা উৎপলকে আঘাত করতে এলে বাবা তাকে সরিয়ে দিয়ে নিজে
ছিনতাইকারীর ছুরিতে রক্তাক্ত হন। হাসপাতালে ডাক্তার সাহেব যখন উৎপলকে
জানান যে, এই মুহূর্তে রক্ত না হলে রোগী বাঁচানো যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে
উৎপল তার শরীর থেকে প্রয়োজনীয় রক্ত দিয়ে বাবাকে আশঙ্কামুক্ত করেন।
ক. ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় কোনটিকে ‘সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন’ বলা হয়েছে?
খ. কবি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন কেন?
গ. উৎপলকে সরিয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে উদ্দীপকের পিতার মাঝে ‘জীবন বিনিময়’
কবিতার বাদশা বাবরের যে পরিচয় মেলে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার ঘটনাপ্রবাহের
সমার্থক নয়” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাদশা বাবরের নিজের জীবনকে ‘সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন’
বলা হয়েছে।
খ. কবি নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন, কারণ বাদশা বাবর যখন হুমায়ুনের আরোগ্যের
সম্ভাবনা জানতে চান, তখন চিকিৎসক ও দরবেশরা নীরব থাকেন।
➠ এই নীরবতা আসলে একটি অমোঘ সত্যের ইঙ্গিত দেয়—হুমায়ুনের বাঁচার আর কোনো
উপায় নেই। বাবর উত্তর পাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন, কিন্তু কারো মুখে কোনো
কথা না থাকায় তাঁর মনে গভীর শঙ্কা ও কষ্টের জন্ম নেয়। এই নিঃশব্দতা তাঁর
জন্য তীক্ষè বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা কবি ‘নিষ্ঠুর’ বলে অভিহিত
করেছেন। এই মুহূর্তে নীরবতা যেন মৃত্যুর ঘোষণা হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তা
হুমায়ুনের আশাহীন অবস্থাকেই প্রকাশ করে। তাই কবি এই নিষ্করুণ ও ভয়ংকর
নীরবতাকে নিষ্ঠুরতার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করেছেন।
গ. উদ্দীপকের পিতার মধ্যে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবরের যে পরিচয়
মেলে, তা হলো নিজের জীবন দিয়ে সন্তানের জীবন রক্ষা করার এক নিঃস্বার্থ
প্রেমের প্রকাশ।
➠ কবিতায় বাবর তাঁর পুত্র হুমায়ুনের জীবন বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন দান
করতে প্রস্তুত হন, একেবারে নিজের প্রিয় প্রাণকে অমূল্য ধন বলে মনে করে
সেটি উৎসর্গ করেন। এইভাবে তিনি তাঁর পিতৃত্বের গভীরতা ও নিঃস্বার্থ
ভালোবাসা প্রদর্শন করেন। এভাবেই উদ্দীপকের পিতা যখন উৎপলকে ছিনতাইকারীদের
আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে নিজেকে বিপদে ফেলে, তখন তার আচরণও এক ধরনের
আত্মত্যাগের প্রতীক হয়ে ওঠে। তিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে সন্তানের
নিরাপত্তার জন্য তার শরীরে আঘাত গ্রহণ করেন। ঠিক যেমন বাদশা বাবর তার
পুত্র হুমায়ুনের জীবন বাঁচাতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, উদ্দীপকের
পিতা তার জীবন দিতে প্রস্তুত হয়ে উঠেন।
➠ এছাড়া, উৎপল তার বাবাকে রক্ষা করার জন্য রক্তদান করেন এবং তা বাবার
জীবন বাঁচায়, কিন্তু তার বাবার মধ্যে আত্মত্যাগের এই মানবিক গুণাবলীই
মূলত ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাবরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাবার প্রতি
সন্তানের অগাধ ভালোবাসা এবং তাকে রক্ষা করার তাগিদই দুই ক্ষেত্রেই প্রধান
অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়। তাই বলা যায়, উৎপল’র বাবা এবং বাবর—দুই জনের
মধ্যে সন্তানের জন্য জীবন দেয়ার এক অটুট সম্পর্ক ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
মেলে, যা কবিতার মূল ভাবের সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।
ঘ. ‘ভাবগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার ঘটনাপ্রবাহের
সমার্থক নয়’— এই মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ উদ্দীপকটি এবং ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মধ্যে মূলভাবের একটা স্পষ্ট মিল
রয়েছে। উভয়েই পিতৃত্বের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ এবং পুত্রের জন্য পিতার
আত্মদানের বিষয়টি তুলে ধরেছে। কবিতায় বাবর তাঁর পুত্র হুমায়ুনের জীবন
বাঁচানোর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, ঠিক তেমনি উদ্দীপকের পিতাও তার
জীবন দিয়ে সন্তানের জীবন রক্ষা করেন। সুতরাং, ভাবগতভাবে দুটি ঘটনাই নিজের
জীবনকে তুচ্ছ মনে করে সন্তানের জন্য আত্মত্যাগের বিষয়টি প্রদর্শন
করেছে।
তবে, ঘটনাপ্রবাহে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাদশা
বাবরের আত্মত্যাগের ঘটনা এক ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক প্রেক্ষাপটে ঘটে, যেখানে
বাবর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন এবং তাঁর প্রিয় জীবনের বিনিময়ে পুত্রের
জীবন ফেরত পেতে চান। এখানে আধ্যাত্মিক এবং ধর্মীয় সত্তার সঙ্গেও সম্পর্ক
রয়েছে, যা কবিতার ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্ব পায়।
➠ অন্যদিকে, উদ্দীপকটির ঘটনা বাস্তব এবং আধুনিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে
ঘটছে, যেখানে ছিনতাইকারীদের আক্রমণের মধ্যে থেকে উৎপল তার বাবা রক্ত দিয়ে
বাঁচান। এখানে আধ্যাত্মিক কোনো উপাদান নেই, বরং বাস্তবিকভাবে আত্মত্যাগ
এবং সাহসিকতার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।
➠ তাই বলা যায় যে, ভাবগত মিল থাকা সত্ত্বেও ঘটনাপ্রবাহের দৃষ্টিকোণ থেকে
দুটি ঘটনা একে অপরের সমার্থক নয়। কবিতার ঘটনা এক ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক
প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে, যেখানে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং তাঁর করুণা
গুরুত্বপূর্ণ, আর উদ্দীপকের ঘটনা হলো এক আধুনিক ও বাস্তব জীবনের
দৃষ্টান্ত, যেখানে রক্তদান ও শারীরিক আত্মত্যাগের মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা
হচ্ছে।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কবিরাজ: হাসু এদিকে এস, আমার কথা শ্রবণ কর। মোড়লের ব্যামো ভালো হতে পারে,
যদি...
রহমত: যদি কী?
কবিরাজ: যদি আজ রাত্রির মধ্যেই-
হাসু : কী করতে হবে?
কবিরাজ: যদি একটি ফতুয়া সংগ্রহ করতে পার।
রহমত: ফতুয়া?
কবিরাজ: হ্যাঁ, জামা। এই জামা হবে একজন সুখী মানুষের। তার জামাটা মোড়লের
গায়ে দিলে, তৎক্ষণাৎ তার হাড় মড়মড় রোগ ভালো হবে।
ক. ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় রোগ কার?
খ. “জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অন্তরবির প্রায়”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কবিরাজের সঙ্গে 'জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন চরিত্রের মিল
রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে না।”-
মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
ক. ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় রোগ হলো বাদশাজাদা হুমায়ুনের।
খ. “জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অন্তরবির প্রায়”- চরণটি দ্বারা কবি বোঝাতে
চেয়েছেন, বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবন অন্তপ্রায় সূর্যের মতো শেষ হয়ে
যাচ্ছে।
➠ কবিতা সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের যত
বিজ্ঞ হাকিম, কবিরাজ, দরবেশ দিন-রাত তার চিকিৎসায় ব্যস্ত। সেবা-যত্নের
কোনো ত্রুটি নেই। কিন্তু বাদশাজাদার কঠিন রোগ কিছুতেই সারে না। যত দিন
যাচ্ছে ততই দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। হুমায়ুনের জীবন-প্রদীপ অস্তপ্রায়
সূর্যের মতো নিভে যেতে বসেছে। দিনের শেষে সূর্য যেমন পশ্চিম দিগন্তে
হারিয়ে যায় তেমনই বাদশাজাদা হুমায়ুনের জীবনও শেষ হয়ে যাচ্ছে- কবি আলোচ্য
চরণটির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
গ. উদ্দীপকের কবিরাজের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার দরবেশ চরিত্রের মিল
রয়েছে।
➠ সমাজে কিছু মানুষ রয়েছে যারা অত্যন্ত বিজ্ঞ। তাঁরা মানুষকে অন্ধকারে
আলোর পথ দেখান। মানুষের হৃদয়ে আশার আলো জাগান। মুক্তির পথের সন্ধান দেন।
উদ্দীপকের মোড়লের কঠিন অসুখ। তার রোগ সারানোর জন্য রহমত ও হাসু ব্যস্ত।
কবিরাজ বলেন, মোড়লকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো সুখী মানুষের জামা সংগ্রহ
করে মোড়লকে পরতে দেওয়া। অন্যদিকে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট বাবরের
পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। হেকিম, কবিরাজরা চিকিৎসা করে তাকে
সুস্থ করতে ব্যর্থ হলে একজন দরবেশ হুমায়ুনের চিকিৎসার উপায় নির্দেশ
করেন। দরবেশ জানান, সম্রাট বাবর যদি তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ধন দান করেন তবেই
তাঁর পুত্র জীবন লাভ করতে পারবে।
➠ উদ্দীপকের কবিরাজ ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার দরবেশ উভয়ই অন্ধকারে আশার
প্রদীপ জ্বালেন। উভয়েই দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার উপায় নির্দেশ করেন।
এভাবেই উদ্দীপকের কবিরাজের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার দরবেশ চরিত্রের
মিল রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকের কবিরাজ মোড়লের হাড় মড়মড় রোগের চিকিৎসাবিধান ও ‘জীবন
বিনিময়’ কবিতার দরবেশ হুমায়ুনের কঠিন রোগের চিকিৎসাবিধান নির্দেশ করেন,
এখানেই দুজনের মিল রয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করেন না।”-
মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ এই পৃথিবীতে পিতার সন্তানবাৎসল্যের কোনো তুলনা হয় না। সন্তানের সব রকম
প্রয়োজন মেটানোর জন্য পিতা সবকিছু করেন। সন্তানের মঙ্গলের জন্য পিতা
নিজের জীবনকেও তুচ্ছ মনে করেন।
➠ উদ্দীপকে কবিরাজ মোড়লের কঠিন রোগের চিকিৎসার উপায় বাতলে দেন। তিনি
বলেন, কোনো সুখী মানুষের জামা পরালেই কেবল মোড়ল সুস্থ হবে। অথচ জামা
পাওয়া এবং তা দিয়ে মোড়লের চিকিৎসা করানো অত্যন্ত কঠিন বিষয়। অন্যদিকে
এমনই কঠিন চিকিৎসা বিধানের কথা প্রকাশ পায় 'জীবন বিনিময়' কবিতায়। দরবেশ
জানান সম্রাট বাবর নিজের শ্রেষ্ঠ ধন দান করলে বাদশাজাদার প্রাণ বাঁচবে। এ
বিষয়টিই শুধু নয়, কবিতায় আরও প্রকাশ পেয়েছে পিতৃস্নেহ, বাবরের মহানুভবতা
ও পুত্রের জীবনাশঙ্কায় পিতার হৃদয়ের বেদনা।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় 'প্রকাশ পেয়েছে পিতৃস্নেহের মহৎ দৃষ্টান্ত। পুত্র
হুমায়ুনের রোগমুক্তির জন্য সম্রাট বাবর নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ ধন নিজ
জীবন উৎসর্গ করেছেন। পিতার স্নেহবাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর পরাজয় ঘটেছে।
অপরদিকে উদ্দীপকে কেবল ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার দরবেশের মতো কবিরাজের
চিকিৎসাবিধান নির্দেশের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু পিতৃস্নেহ বা
সন্তানবাৎসল্যের কথা প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি
যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপক ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতা উভয় জায়গায় চিকিৎসাবিধানের কথা
প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সন্তানবাৎসল্য ও পিতার
মহানুভবতার কথা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। যে কারণে উদ্দীপকটি ‘জীবন বিনিময়’
কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে না।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কত কথা আজ মনে পড়ে তার, গরীবের ঘর তার,
ছোটখাট কত বায়না ছেলের পারে নাই মিটাবার।
------------------------------------------
আজও রোগে তার পথ্য জোটে নি, ওষুধ হয়নি আনা,
ঝড়ে কাঁপে যেন নীড়ের পাখিটি জড়ায়ে মায়ের ডানা।
------------------------------------------
রুগ্ম ছেলের শিয়রে বসিয়া একেলা জাগিছে মাতা,
সম্মুখে তার ঘোর কুজ্ঝটি মহাকাল রাত পাতা।
ক. বাদশাকে শ্রেষ্ঠ ধন দান করার কথা কে বলেন?
খ. কোন উদ্দেশ্যে বাদশা বাবর শান্ত ও অচঞ্চল হয়ে বসেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের পল্লিমায়ের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবরের
বৈসাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “বৈসাদৃশ্য থাকলেও সন্তানবাৎসল্যের দিক থেকে উভয়ে একই।”- মন্তব্যটি
বিচার কর।
ক. ঘর বাদশাকে শ্রেষ্ঠ ধন দান করার কথা বলেন এক দরবেশ।
খ. নিজের জীবনের বিনিময়ে অসুস্থ পুত্রের আরোগ্য কামনায় বাদশা বাবর শান্ত
ও অচঞ্চল হয়ে ধ্যানে বসেন।
➠ একজন দরবেশ বাদশা বাবরকে বলেন তাঁর পুত্র সুস্থ হবে যদি তিনি তাঁর
শ্রেষ্ঠ ধন দান করেন। বাদশা বাবর উপলব্ধি করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন তাঁর নিজ
জীবন। তখন বাদশা বাবর শান্ত ও অচঞ্চল হয়ে গভীর ধ্যানে বসেন এবং অশ্রুসজল
নয়নে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, আল্লাহ যেন তাঁর জীবনের বিনিময়ে
পুত্রের জীবন ভিক্ষা দেন। সারকথা: বাদশা বাবর খোদার কাছে শান্ত ও অচঞ্চল
হয়ে নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন প্রার্থনা করেন।
গ. উদ্দীপকের পল্লিমায়ের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবরের
বৈসাদৃশ্য হলো অর্থনৈতিক অবস্থায়।
➠ মানুষের হৃদয়ে সন্তানের জন্য স্নেহ-মায়া-মমতা একই রকম থাকে। তবে অনেকেই
সমানভাবে সন্তানের যত্ন নিতে পারেন না। দরিদ্র মানুষের হৃদয়ে সন্তানের
জন্য বুকভরা ভালোবাসা থাকলেও তারা সন্তানকে যথার্থভাবে গড়ে তুলতে পারেন
না।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় মোগল সম্রাট বাবরের কথা বলা হয়েছে। সন্তান রোগে
আক্রান্ত হলে তিনি তার চিকিৎসার জন্য হেকিম, কবিরাজ ও দরবেশ নিয়োগ করেন।
সন্তানের সেবাযত্নের বিধিবিধানে তাঁর একটুও ত্রুটি নেই। সন্তানের
সুস্থতার জন্য তিনি যাবতীয় ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের পল্লিজননী
একজন দরিদ্র মা, যিনি সন্তানের কোনো বায়না মেটাতে পারেননি কখনো। সন্তান
রোগে আক্রান্ত হলে তার জন্য ওষুধ ও পথ্য জোটাতে পারেননি। সন্তানের
চিকিৎসার ব্যবস্থাও করতে পারেননি। বুকভরা ভালোবাসা থাকলেও দারিদ্র্যের
কারণে সন্তানের জন্য পল্লিজননী কোনোকিছুই করতে পারেন না। তাই উদ্দীপকের
পল্লিমায়ের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবরের বৈসাদৃশ্য হলো
অর্থনৈতিক অবস্থায়। সারকথা: সন্তানের জন্য বুকভরা ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও
অর্থনৈতিক কারণে পল্লিজননী মৃতপ্রায় সন্তানের জন্য ওষুধ-পথ্যের ব্যবস্থা
করতে পারেন না। এ বিষয়টি বাদশা বাবরের সঙ্গে পল্লিজননীর বৈসাদৃশ্য
নির্দেশ করে।
ঘ. “বৈসাদৃশ্য থাকলেও সন্তানবাৎসল্যের দিক থেকে উভয়ে একই।”- মন্তব্যটি
যথার্থ।
➠ আমাদের সমাজে একশ্রেণির মানুষ আছেন যারা অত্যন্ত ধনী; তাদের ধন-সম্পদের
অভাব নেই। আরেক শ্রেণির মানুষ আছেন যারা অত্যন্ত গরিব; তাদের অর্থ-সম্পদ
একেবারেই থাকে না। কিন্তু সন্তানকে ভালোবাসার প্রশ্নে তারা সমান্তরাল।
উভয় শ্রেণির মানুষের হৃদয়েই সন্তানের জন্য ভালোবাসা থাকে অফুরন্ত।,
➠ উদ্দীপকের পল্লিমায়ের সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা বাদশা বাবরের
অর্থনৈতিক পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু তাঁদের উভয়ের হৃদয়ই সন্তানের জন্য
ভালোবাসায় পূর্ণ। সন্তানের অসুখে বাদশা বাবর যেমন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন
তেমনই পল্লিজননীও রুগ্ম সন্তানের দিকে তাকিয়ে মনঃকষ্টে ভোগেন। রুগ্ধ
সন্তানের শিয়রে বসে মা'একলা জেগে থাকেন। মনে হয় সামনে তার ঘোর
কুয়াশাচ্ছন্ন রাত।
➠ রোগে আক্রান্ত সন্তানকে সুস্থ করতে আলোচ্য কবিতার পিতা যতটা প্রচেষ্টা
করেন উদ্দীপকের মা ততটা পারেন না। কারণ তার অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত নয়।
কিন্তু সন্তানের কষ্টে তার হৃদয় হাহাকার করে। সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায়
আলোচ্য কবিতার পিতার মতো তিনিও উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। সন্তানের কষ্টে তার
হৃদয়ও জর্জরিত। সন্তানের আবদার না মেটাতে পারার কথা মনে করে তিনি কষ্ট
পান। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সত্য। সারকথা: অর্থনৈতিক দিক
থেকে উদ্দীপকের মায়ের সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতার বৈসাদৃশ্য রয়েছে;
কিন্তু সন্তানবাৎসল্যে উভয়েই অভিন্ন।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
একদিন রফিক ও তার ছোটো ছেলে কক্সবাজার বেড়াতে যায়। রফিক ও তার ছেলে
সমুদ্রে স্নান করতে যায়। দুইজনের কেউই ভালো সাঁতার জানে না। হঠাৎ
সমুদ্রের জোয়ার ওঠে। জোয়ারের স্রোতে ভেসে যায় দুইজন। অনেক চেষ্টা করে
কোনোমতে উপরে ওঠে আসে রফিক। ছেলে বারবার চিৎকার করলেও রফিক বাঁচাতে যায়
না নিজের মৃত্যু ভয়ে। ছেলে ডুবে যায় সমুদ্রের অতল গর্ভে। রফিক মনে মনে
ভাবে ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা।’
ক. বাবরের শ্রেষ্ঠ ধন কোনটি?
খ. ‘পুত্র আমার বাঁচিয়া উঠিবে মরিবে না নিশ্চয়।’- বলতে কী বোঝানো
হয়েছে?
গ. উদ্দীপক ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
ঘ. ‘পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়’ উদ্দীপক ও ‘জীবন বিনিময়’
কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. বাবরের শ্রেষ্ঠ ধন তাঁর প্রাণ।
খ. সৃষ্টিকর্তা বাবরের প্রার্থনা কবুল করেছেন বুঝতে পেরে সম্রাট বাবর
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
➠ দরবেশের কথা মোতাবেক বাবর তাঁর সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের শ্রেষ্ঠ ধন
অর্থাৎ নিজের প্রাণ বলিদান দিতে প্রস্তুত। নিজের জীবনের বিনিময়ে সন্তানের
রোগ মুক্তির জন্য বাবর আল্লাহর দরবারে ক্রন্দনরত অবস্থায় প্রার্থনা করেন।
সম্রাট বাবর অনুভব করেন তাঁর প্রার্থনা আল্লাহ কবুল করেছেন। ফলে বাবর
আশঙ্কামুক্ত হন যে, তাঁর পুত্র এবার বেঁচে উঠবে।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সন্তানবাৎসল্য ও আত্মবিসর্জনের
দিকটির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় পুত্রের প্রতি পিতার পিতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
বাবরের ছেলে হুমায়ুন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। কোনো অবস্থাতেই পুত্রের
রোগমুক্তি হয় না। দরবেশ এসে বলেন, নিজের সবচেয়ে প্রিয় ধন বিসর্জনের
মাধ্যমে পুত্রের প্রাণ ফিরে পাওয়া সম্ভব। বাবর উপলব্ধি করলেন নিজের
প্রাণের চেয়ে অধিক প্রিয় তাঁর কাছে কিছু নেই। তাই পুত্রের রোগমুক্তির
লক্ষ্যে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। এভাবেই নিজের আত্মত্যাগের মধ্য
দিয়ে তিনি পুত্রের প্রতি স্নেহবাৎসল্যের প্রকাশ ঘটান এবং নিজের মৃত্যুকে
তুচ্ছজ্ঞান করেন।
➠ উদ্দীপকে রফিক ও তার ছেলে কক্সবাজারে স্নান করতে গিয়ে জোয়ারের স্রোতে
ভেসে যায়। রফিক অনেক কষ্টে তীর উঠে আসে কিন্তু মৃত্যুর ভয়ে ছেলেকে
সাহায্য করতে যায় না। ফলে ছেলেটি ডুবে যায় সমুদ্রের অতলগর্ভে। তার কাছে
নিজের প্রাণ রক্ষাকে সবচেয়ে বড়ো মনে হয়। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় কবি
আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সন্তানের প্রতি পিতার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তুলে
ধরেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে স্বার্থপরতার নির্মম পরিণতি ফুটে উঠেছে। তাই
বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার আত্মবিসর্জনের দিকটির
বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. যেখানে নিখাদ পিতৃস্নেহ বিরাজ করে সেখানে মৃত্যু নয় বরং ভালোবাসা জয়ী
হয়।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় আত্মদানের মাধ্যমে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ হওয়া বাবরের
পিতৃত্বের মহিমাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাবর পুত্রের আরোগ্য চিন্তায়
দরবেশের কথামতো নিজের অমূল্য ধন নিজের জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি।
এভাবে পিতৃস্নেহের কাছে মরণের পরাজয় ঘটে এবং বাবর ইতিহাস রচনা করেন।
➠ উদ্দীপকে রফিক ও তার ছেলে কক্সবাজারে স্নান করতে গিয়ে জোয়ারের স্রোতে
জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পড়ে। রফিক অনেক কষ্টে তীরে উঠে আসে। উপেক্ষা করে যায়
সন্তানের আর্তনাদ। ফলে ছেলেটি ডুবে মারা যায়। তার পিতৃস্নেহকে হার মানায়
নিজের জীবন বাঁচানোর প্রবল ইচ্ছা। 'জীবন বিনিময়' কবিতায় সম্রাট বাবর তাঁর
পিতৃস্নেহের দ্বারা মৃত্যুকে জয় করেছেন। পুত্রের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন
বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেননি বাবর।
➠ পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের রফিক নিজের প্রাণ বাঁচাতে তৎপর ছিলেন যা
আত্মকেন্দ্রিকতার নিদর্শন।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১৬৬৮ সালের শেষের দিকে সম্রাট শাজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তরাধিকার
নিয়ে তাঁর পুত্রদের মধ্যে যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকেই নাটকের
কাহিনির সূত্রপাত ঘটে। যে পত্নীপ্রেমে মশগুল হয়ে তাঁর প্রাণ হতে তাজমহলের
রূপ-সংগীত উৎসারিত হয়, সেই পত্নীর গর্ভজাত সন্তানগণ নির্মম আত্মঘাতী হয়ে
সংগ্রামে লিপ্ত হয়। কিন্তু তিনি থাকেন নিশ্চুপ-অসহায়। তাঁর করার কিছুই
থাকে না। তাঁর পুত্র আওরঙ্গজেব যে কি না তাঁর নিজের ভাইদের সাথে নির্মম
ব্যবহার করে, বাবাকে করে রাখে পরাস্থ ও কারারুদ্ধ। (সূত্রঃ নর্দান
বিশ্ববিদ্যালয়ের জানাল।
ক. মরণের পরাজয় হয়েছে কীভাবে?
খ. সম্রাট বাবরকে শ্রেষ্ঠ ধন দান করতে বলেছেন কে? কেন?
গ. “উদ্দীপকের সম্রাট শাজাহান ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট বাবরের
পরিণতি ভিন্ন।”- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি কি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে? যুক্তিসহ তোমার
মতামত দাও।
ক. পিতৃস্নেহের কাছে মরণের পরাজয় হয়েছে।
খ. সম্রাট বাবরকে শ্রেষ্ঠ ধন দান করতে বলেছেন একজন কবিরাজ তাঁর পুত্র
হুমায়ূনকে বাঁচানোর জন্য।
➠ সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত, যার কোনো নিরাময় নেই।
এক দরবেশ সম্রাটকে পুত্রের জীবন বাঁচানোর একটি উপায় বলেন। আর তা হলো
জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ দান করা। সম্রাটের কাছে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো তাঁর
নিজের জীবন। আর পুত্রকে বাঁচানোর জন্য তিনি নিজের জীবন কোরবানি করতেও
দ্বিধা করেননি।
গ. উদ্দীপকের সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যু দুঃখ ও নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে হলেও
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট বাবর পুত্রের জন্য জীবন বিসর্জন দিয়ে
মহিমান্বিত হন।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় কবি তুলে ধরেছেন পিতৃস্নেহের মহৎ দৃষ্টান্ত। কবিতায়
দেখা যায়, পুত্র হুমায়ুনের মরণব্যাধিতে ঘুম নেই সম্রাট বাবরের। সর্বদা
চিন্তায় ব্যাকুল বাবর পুত্রের রোগমুক্তির লক্ষ্যে কবিরাজ, হেকিম, দরবেশকে
দরবারে ডেকে আনেন। কিন্তু কিছুতেই যখন রোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছিল না তখন
দরবেশের কথামতো নিজের জীবন বিলিয়ে দেন সম্রাট বাবর। বাবরের প্রাণের
বিনিময়ে তাঁর পুত্র আরোগ্য লাভকরেন। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পিতৃত্বকে জয় করেন
বাবর।
➠ উদ্দীপকে ১৬৬৮ সালের শেষদিকে সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর
ছেলেরা সিংহাসন দখলের লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। অসহায় শাহজাহান সবকিছু চুপচাপ
সহ্য করেন। তিনি জীবনের শেষ সময়ে পুত্রদের দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে
নিঃসঙ্গভাবে বন্দি হয়ে মৃত্যুবরণ করেন, যেখানে তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়
প্রেম এবং বিলাসিতার মাঝে কেটেছিল। অপরদিকে, ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট
বাবর পুত্রের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন ত্যাগ করেন এবং সেই ত্যাগের
মাধ্যমে তিনি মহিমা অর্জন করেন। বাবরের পরিণতি ছিল এক মহৎ ত্যাগ যা তাঁকে
ইতিহাসে অমর করে রেখেছে কিন্তু শাহজাহানের পরিণতি ছিল সম্পূর্ণ
বিপরীত-অসহায়তা ও অপমানের মধ্য দিয়ে।
ঘ. উদ্দীপকটিতে পিতৃস্নেহ ও আত্মত্যাগ বিষয়গুলো অনুপস্থিত থাকায় ‘জীবন
বিনিময়’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে না।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূল বিষয় হলো পিতার স্নেহবাৎসল্যের কাছে মৃত্যুর
পরাজয়। পুত্রকে কঠিন রোগ থেকে মুক্ত করতে দরবেশের উপদেশ অনুযায়ী সম্রাট
বাবর নিজ প্রাণ ত্যাগ করেন। তাঁর জীবনের বিনিময়ে তাঁর পুত্র নতুন জীবন
লাভ করেন। পিতার স্নেহভালোবাসার কাছে মরণের পরাজয় ঘটে।
➠ উদ্দীপকে শাহজাহান যখন ১৬৬৮ সালের শেষে অসুস্থ হন তখন তাঁর পুত্রদের
মধ্যে সিংহাসনের জন্য ভয়াবহ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। যাঁর প্রেমে তাজমহলের মতো
অমর নিদর্শন সৃষ্টি হয়েছিল, তাঁরই সন্তানরা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে লিপ্ত হয়।
সম্রাট শাহজাহান অসহায়ভাবে সবকিছু প্রত্যক্ষ করেন। তাঁর পুত্র আরওঙ্গজেব
ভাইদের সাথে নির্মম ব্যবহার করে এবং বাবাকে বন্দি করে রাখেন।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় পিতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পিতৃস্নেহ ও ভালোবাসার
মহৎ দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে শাহজাহান তাঁর
ছেলেদের ক্ষমতার লড়াইয়ে অসহায় হয়ে পড়েন এবং বন্দি হন। যা পিতৃত্যাগ বা
নিঃস্বার্থ ভালোবাসার নয় বরং লোভ, হিংসা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ছবি ফুটে
উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'জীবন বিনিময়' কবিতার মূলভাব ধারণ করে না।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পূজা করে বংশীবদন শঙ্করে ভাবিয়া।
চিন্তা করে মনে মনে নিজ কন্যার বিয়া।
সম্মুখে সুন্দরী কন্যা আমি যে কাঙ্গাল।
সহায়-সঙ্গতি নাই দরিদ্রের হাল।
বর মাগে বংশীদাস ভূমিতে পড়িয়া।
ভাল ঘরে ভাল বরে কন্যার হউক বিয়া।
ক. বাদশা বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে কাদের ডাকলেন?
খ. রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম কবিরাজ কেন ব্যতিব্যস্ত ছিলেন?
গ. উদ্দীপকের পিতা বংশীবদন ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় পিতা বাদশা বাবর
দুজনের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূলভাবকে প্রকাশ করে না।” মন্তব্যটি
আলোচনা কর।
ক. বাদশা বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে ভিষকবৃন্দকে ডাকলেন।
খ. রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ সবাই মিলে বাদশাজাদার চিকিৎসা
নিয়ে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন।
➠ মোগল সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন দীর্ঘদিন দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত।
তার চিকিৎসার জন্য রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ ব্যতিব্যস্ত।
বাদশাজাদার প্রাণরক্ষার জন্য তাঁরা দিন-রাত পরিশ্রম করেন। সবাই একসঙ্গে
বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার বিধান নির্দেশ করেন। বাদশাজাদার সেবাযত্নের
বিধিবিধানে একটুও ত্রুটি করেন না। এসব কারণেই তারা ব্যতিব্যস্ত ছিলেন।
সারকথা: রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ সবাই মিলে অসুস্থ
বাদশাজাদার চিকিৎসা করছিলেন।
গ. উদ্দীপকের পিতা বংশীবদন ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা বাদশা বাবর
দুজনের সাদৃশ্য হলো তাঁরা উভয়েই সন্তানের মঙ্গলের জন্য স্রষ্টার কাছে
প্রার্থনা জানিয়েছেন।
➠ সন্তান পৃথিবীতে পিতা-মাতার শ্রেষ্ঠ উপহার। তারা অসহায় অবস্থায়
পৃথিবীতে আসে। পিতা-মাতা তাদের আদর-যত্নে বড় করে তোলেন। সন্তানের মঙ্গলের
জন্য তাঁরা সর্বদা স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন।
➠ উদ্দীপকের বংশীবদন তাঁর কন্যার ভালো বিয়ের জন্য ভগবান শঙ্করের কাছে
প্রার্থনা করেন। তিনি চান ভগবান যেন তাঁর সন্তানকে ভালো ঘর, ভালো বর দেন।
কন্যার যেন ভালো বিয়ে হয়, সে যেন সুখে-শান্তিতে, কল্যাণে থাকে। অন্যদিকে
সন্তানের কল্যাণ চিন্তা 'করে 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা বাদশা বাবরও মহান
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। তিনি অসুস্থ সন্তানের সুস্থতা কামনা করেন
নিজের জীবনের বিনিময়ে। বাদশা বাবর নিরিবিলি গৃহে শান্তভাবে আল্লাহর কাছে
দুহাত তুলে সন্তানের জীবনের জন্য প্রার্থনা করেন। তাই উদ্দীপকের পিতা
বংশীবদন ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা' বাদশা বাবর দুজনের সাদৃশ্য হলো
তাঁরা উভয়েই সন্তানের মঙ্গলের জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন।
সারকথা: উদ্দীপকের পিতা বংশীবদন ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা বাদশা বাবর
উভয়েই সন্তানের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছেন।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূলভাবকে প্রকাশ করে না।”- মন্তব্যটি
যথার্থ।
➠ পিতা সব সময় সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে ব্যাকুল হন। সন্তানের সুখের
শান্তির জন্য নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দেন। প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও
কুণ্ঠিত হন না। কারণ পিতার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান তাঁর সন্তানের জীবন।’
➠ উদ্দীপকে 'জীবন বিনিময়' কবিতার সন্তানের মঙ্গল কামনার বিষয়টি প্রকাশ
পেয়েছে। উভয় জায়গায় পিতা সন্তানের মঙ্গলের জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা
করেছেন। তবে উদ্দীপকে আত্মত্যাগী পিতার চিত্র ফুটে ওঠেনি, যা আলোচ্য
কবিতায় ফুটে উঠেছে। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় একজন পিতার সন্তানবাৎসল্যের
অসাধারণ দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে, যিনি নিজের জীবনের বিনিময়ে সন্তানের জীবন
রক্ষা করেছেন। তাঁর পিতৃস্নেহের কাছে অপ্রতিরোধ্য মৃত্যুরও পরাজয় ঘটেছে।
পক্ষান্তরে উদ্দীপকের পিতা শুধু সন্তানের সুখ ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা
'করেছেন। দরিদ্র হওয়ায় কন্যার বর প্রার্থনা করে ভগবানের কাছে কন্যার
সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় একজন পিতা সন্তানের জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসার
কথা প্রকাশ পেয়েছে। সন্তানের সুস্থতা ও মঙ্গলই তাঁর জীবনের লক্ষ্য।
অন্যদিকে উদ্দীপকেও একজন পিতার সন্তানের সুন্দর জীবনের জন্য প্রার্থনা
ফুটে উঠেছে। তিনি ভালো ঘরে বিয়ে দিয়ে কন্যাকে সুখী দেখতে চেয়েছেন, কিন্তু
সন্তানের জন্য তাকে জীবনোৎসর্গ করতে হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত
মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকের পিতা ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা উভয়েই সন্তানের
মঙ্গল চিন্তা করে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছেন।। এক পিতা সন্তানের
জন্য জীবনোৎসর্গ করেছেন কিন্তু অন্য পিতার তা করতে হয়নি। তাই মন্তব্যটিকে
যথার্থ বলা যায়।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমি দেবী অন্নপূর্ণা প্রকাশ কাশীতে।
চৈত্র মাসে মোর পূজা শুক্ল অষ্টমীতে।।
বর মাগ মনোনীত যাহা চাহ দিব
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে।
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।
ক. তিমির রাতের তোরণে তোরণে কী?
খ. বাদশা বাবর পুত্রের চারপাশে ঘুরতে লাগলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের পাটুনীর সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের সাদৃশ্য
কীসে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "নিজ স্বার্থ উপেক্ষা করে সন্তানের কল্যাণ কামনাই মুখ্য হয়ে উঠেছে
উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায়।"- মন্তব্যটি বিচার করো।
ক. তিমির রাতের তোরণে তোরণে উষার পূর্বাভাস।
খ. প্রার্থনা মঞ্জুর হওয়ার আনন্দে বাদশা বাবর পুত্রের চারপাশে ঘুরতে
লাগলেন। আল্লাহর কাছে বাদশা বাবর নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের সুস্থতা
চেয়ে প্রার্থনা করেন।
➠ তারপর হঠাৎ তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, আর ভয় নেই, আল্লাহ তাঁর
প্রার্থনা কবুল করেছেন। তাঁর পুত্র এবার নিশ্চয় বেঁচে উঠবে। এই আনন্দে
বাবর পুলকিত হয়ে পুত্রের চারপাশে ঘুরতে থাকেন। হতাশাগ্রস্ত এক পিতার
নিরাশ হৃদয়ে আশার দৃপ্ত জয়োল্লাস জাগে।
সারকথা: পুত্রের আরোগ্য লাভের প্রার্থনা মঞ্জুর হওয়ায় বাদশা বাবর খুশিতে
পুত্রের চারপাশে ঘুরতে লাগলেন।
গ. উদ্দীপকের পাটুনীর সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের সাদৃশ্য
হলো সন্তানবাৎসল্যে। পিতা-মাতা সব সময় সন্তানের মঙ্গল চিন্তায় ব্যাকুল
থাকেন।
➠ আজীবন তাঁরা সন্তানের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির কথা ভাবেন। তাঁরা কখনো
আত্মসুখ বা আত্মস্বার্থ চিন্তা করেন না। স্রষ্টার কাছে প্রতিনিয়ত
সন্তানের মঙ্গল ও কল্যাণ প্রার্থনা করেন। 'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাদশা
বাবর অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য রাজ্যের সব বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ,
দরবেশ নিয়োগ করেন। সবাই বাদশাজাদার রোগ সারাতে ব্যর্থ হন। সবার নীরবতা
তাঁর বুকে শেলের মতো বিঁধে। শেষ পর্যন্ত এক দরবেশের কথামতো নিজের শ্রেষ্ঠ
সম্পদ নিজ প্রাণের বিনিময়ে বাদশা বাবর সন্তানের প্রাণ রক্ষা করেন।
সন্তানের জন্য হাসিমুখে জীবন ত্যাগ করেন। আত্মস্বার্থ নয়, সন্তানবাৎসল্যই
তাঁর কাছে বড় হয়ে ওঠে।
➠ তেমনই উদ্দীপকের পাটুনীকে দেবী অন্নপূর্ণা তাঁর কাছে বর চাইতে বললে
পাটুনী নিজের জন্য কিছু না চেয়ে সস্তানের সুখ-সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেন।
উভয় পিতাই সন্তানের জন্য নিঃস্বার্থভাবে নিজেদের সুখ-সমৃদ্ধি ত্যাগ করেন।
উভয়ের মধ্যে ফুটে উঠেছে অসীম সন্তানবাৎসল্য। তাই উদ্দীপকের পাটুনীর সঙ্গে
'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের সাদৃশ্য হলো সন্তানবাৎসল্যে।
সারকথা: উদ্দীপকের পাটুনী ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার পিতা উভয়েই সন্তানের
জন্য নিজেদের সুখ-স্বার্থ ত্যাগ করেন।
ঘ. "নিজ স্বার্থ উপেক্ষা করে সন্তানের কল্যাণ কামনাই মুখ্য হয়ে উঠেছে
উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ বাবা-মা সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত
তাঁদের সন্তানকে কীভাবে ভালো রাখবেন, সন্তান কীসে ভালো: থাকবে সেই
চিন্তাই করেন। সন্তানের জন্য তাঁদের হৃদয়ে থাকে অশেষ স্নেহ ভালোবাসা।
➠ 'জীবন বিনিময়' কবিতায় বাদশা বাবরের সন্তান হুমায়ুন কঠিন রোগে
আক্রান্ত। এ কারণে বাদশা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। রাজ্যের সব বিজ্ঞ
চিকিৎসক বাদশাজাদাকে সারিয়ে তুলতে ব্যর্থ। এমন সময় এক দরবেশ উঠে বলেন,
বাদশা বাবরের শ্রেষ্ঠ ধনের বিনিময়ে আল্লাহ খুশি হয়ে বাদশাজাদার প্রাণ
বাঁচাতে পারেন। বাদশা বাবর উপলব্ধি করলেন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ধন নিজ
প্রাণ। বাদশা তার বিনিময়েই সন্তানের প্রাণ রক্ষা করলেন। হাসিমুখে
মৃত্যুশয্যা গ্রহণ করলেন। তাঁর সন্তানস্নেহের কাছে মরণেরও পরাজয় ঘটল।
অন্যদিকে পাটুনী দেবী অন্নপূর্ণার দেখা পান। দেবী পাটুনীকে পরিচয় দিয়ে
তাকে বর প্রার্থনা করতে বলেন। পাটুনী নিজের কথা না ভেবে দেবীর কাছে
সন্তানের সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি বিনা দ্বিধায়
বলেন, তার সন্তান যেন দুধেভাতে থাকে।
➠ উদ্দীপকে নিজের জন্য কিছু প্রার্থনা না করে সন্তানের সুখ-সমৃদ্ধি
প্রার্থনা করার মধ্য দিয়ে পাটুনীর নিঃস্বার্থ ও ত্যাগী মানসিকতার প্রকাশ
ঘটেছে। সন্তানের কল্যাণই তার কাছে মুখ্য। তেমনই বাদশা বাবরও আল্লাহর কাছে
নিজের জীবনের বিনিময়ে সন্তানের জীবন প্রার্থনা করে নিজের স্বার্থহীন
মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। সন্তানের জীবনের কাছে, সুখের কাছে তাঁর নিজের
জীবনকে তুচ্ছ করে দেখেছেন। নিজের জীবনের চেয়েও সন্তানের প্রাণ তাঁর কাছে
মূল্যবান। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে পাটুনী নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে সন্তানের স্বার্থের কথা
চিন্তা করেন। আর 'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতা সন্তানের জন্য নিজের জীবন
ত্যাগ করেন। উভয় জায়গায় দুজন পিতা নিজেদের স্বার্থকে উপেক্ষা করেছেন।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রহমত মাস্টারের ছোট ছেলে প্রতিদিন তার জন্য জঙ্গলে ঘেরা পথ পাড়ি দিয়ে
দুপুরের খাবার নিয়ে আসত। দুদিন আগে জঙ্গল দিয়ে আসার সময় তাকে সাপে দংশন
করে। হাসপাতাল অনেক দূর যেখানে নিতে নিতে ছেলেটি মারা যাবে। একথা ভেবে
হঠাৎই রহমত মাস্টার সাপে কাটা জায়গাটায় কামড় দিয়ে চুষে চুষে বিষ তুলতে
শুরু করেন। ছেলেটি সুস্থ হলেও রহমত মাস্টার বাঁচেননি। বিষ পাকস্থলীতে
যাওয়ায় দ্রুত তার মৃত্যু হয়।
ক. ‘শেলসম’ অর্থ কী?
খ. বাদশা বাবর কী কোরবানি দিতে প্রস্তুত? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা
কর।
ঘ. "উদ্দীপকে রহমত মাস্টার ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবর
পিতৃস্নেহের দিক থেকে সমান্তরাল।”- বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘শেলসম’ অর্থ তীক্ষ্ণ অস্ত্রের মতো।
খ. বাদশা বাবর তাঁর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন নিজ জীবন কোরবানি দিতে
প্রস্তুত।
➠ বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ
সবাই চিকিৎসা করেও রোগ সারাতে ব্যর্থ হয়েছেন। বাদশা বাবর চিকিৎসকদের ডেকে
সত্যি সত্যি বাদশাজাদার মুক্তি মিলবে কি না তা জানতে চান। এ সময় এক দরবেশ
উঠে বাদশা বাবরকে বলেন, তাঁর সন্তান হুমায়ুন সুস্থ হতে পারে যদি তিনি
তাঁর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন দান করেন। বাদশা বাবর উপলব্ধি করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ
ধন হলো নিজ জীবন। তখন তিনি সন্তানের জন্য সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন নিজের জীবন
কোরবানি দিতে প্রস্তুত।
সারকথা: বাদশা বাবর নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ফিরে পেতে
চেয়েছেন।
গ. উদ্দীপকে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার নিজের জীবন দিয়ে পুত্রের জীবন রক্ষা
করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
➠ পিতা-মাতার কাছে সন্তানের জীবন সবচেয়ে মূল্যবান। সন্তানের জীবন রক্ষা
করতে পিতা-মাতা নিজ জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হন না। কারণ তাদের কাছে পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠ উপহার হলো সন্তান।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে সাপে কাটা সন্তানকে
বাঁচাতে রহমত মাস্টার মুখ দিয়ে চুষে সন্তানের শরীরের বিষ তুলেন নেন।
সন্তানকে বাঁচাতে নিজের জীবনের পরোয়া করেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত নিজে
জীবন দিয়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করেন। 'জীবন বিনিময়' কবিতায় সম্রাট বাবর
দরবেশের কথামতো সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন নিজের প্রাণের প্রতিদানে আল্লাহর কাছে
পুত্রের প্রাণভিক্ষা চান। তাঁর প্রার্থনা আল্লাহ মঞ্জুর করেন। তখন তিনি
হৃষ্টচিত্তে মৃত্যুশয্যা গ্রহণ করেন। আর হুমায়ুন রোগমুক্তি লাভ করে।'
এভাবেই উদ্দীপকে 'জীবন বিনিময়' কবিতার নিজের জীবন দিয়ে পুত্রের জীবন
রক্ষা করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
সারকথা: 'জীবন বিনিময়' কবিতায় পিতা নিজের জীবন দিয়ে পুত্রের প্রাণ রক্ষা
করেছেন, এ বিষয়টি উদ্দীপকেও প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকের রহমত মাস্টার ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবর
পিতৃস্নেহের দিক থেকে সমান্তরাল।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ পিতৃস্নেহের কোনো তুলনা হয় না। পিতা সব সময় সন্তানের সুস্থ ও সুন্দর
জীবন কামনা করেন। সন্তানকে অসীম স্নেহ-মায়ার বন্ধনে বেঁধে রাখেন।
সন্তানের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন।
➠ উদ্দীপকের রহমত মাস্টার ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবর দুজনই
সন্তানবাৎসল্যের অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায়
দরবেশের কথামতো বাদশা বাবর তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ধন নিজ জীবন সন্তানের জন্য
উৎসর্গ করেন। বিধাতার কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ সেই ধনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন
ভিক্ষা চান। তাঁর প্রার্থনা আল্লাহ মঞ্জুর করেন। তখন তিনি হাসিমুখে
মৃত্যুশয্যা গ্রহণ করেন। উদ্দীপকের রহমত মাস্টারও সন্তানের জন্য নিজের
জীবন দান করেন। সন্তানকে সাপে দংশন করলে নিজে দংশিত জায়গায় কামড় দিয়ে বিষ
চুষে তুলে নেন। এতে তার ছেলেটি সুস্থ হলেও তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় পিতা বাদশা বাবরের সঙ্গে পুত্র হুমায়ুনের জীবন
বিনিময় হয়েছে। অর্থাৎ পিতা তাঁর নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ফিরে
পাওয়ার জন্য দ্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছেন। এখানে উদ্দীপকের রহমত
মাস্টার ও কবিতার বাদশা বাবর দুজনই অসীম সন্তানস্নেহের পরিচয় দিয়েছেন।
উভয়ই জীবন দিয়ে সন্তানকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। তাই বলা যায়
যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপক ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতা উভয় জায়গায় দুই পিতা সন্তানের
জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাই পিতৃস্নেহের দিক থেকে তাঁরা সমান্তরাল।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
গ্রামের হতদরিদ্র জাহানারার এক সন্তানকে নিয়েই জগৎ-সংসার। হঠাৎ তার
সংসারে একদিন ভাঙন দেখা দেয়। তাঁর সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার কোনো
উপায় না থাকায় দরবেশের কাছে যান পানিপড়া আনতে। দরবেশ তাঁর সব ঘটনা শুনে
তাঁকে বলেন, সে চাইলে তাঁর প্রাণের বিনিময়ে সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে পারে।
জাহানারা হাসিমুখে প্রাণ ত্যাগ করে সন্তানের প্রাণ বাঁচান। আর সেই থেকে
জাহানারা মাতৃস্নেহের কারণে অমর হয়ে আছেন।
ক. হুমায়ুনের পিতার নাম কী?
খ. বাদশা বাবরের ছেলে কীভাবে সুস্থ হয়? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন দিকটি নির্দেশ করে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “সন্তানের প্রতি ভালোবাসা সম্রাট বাবরকে ও জাহানারাকে অমর করে
রেখেছে।” মন্তব্যটির সত্যতা নিরূপণ করো।
ক. হুমায়ুনের পিতার নাম বাবর।
খ. পিতার প্রাণ উৎসর্গের মাধ্যমে বাবরের ছেলে সুস্থ হয়ে ওঠে।
➠ বাদশা বাবর ছেলের অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন। চিকিৎসায় কোনো কাজও হচ্ছিল না।
তখন এক দরবেশ জানালেন, সম্রাট যদি তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন দান করেন তবেই তাঁর
পুত্র জীবন লাভ করবে। দরবেশের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিজের প্রাণের
বিনিময়ে ছেলের প্রাণ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। আল্লাহর রহমতে এভাবে
বাদশা বাবরের ছেলে সুস্থ হয়ে ওঠে।
সারকথা: বাবর নিজের জীবনের বিনিময়ে সন্তানকে সুস্থ করেন।
গ. উদ্দীপকের বিষযবস্তু ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সন্তানস্নেহের কাছে মৃত্যুর
পরাজয়বরণের দিকটিকে নির্দেশ করে।
➠ সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা কোনোকিছুর কাছেই পরাজয়বরণ
করে না। একমাত্র বাবা-মা পারেন তাঁদের সন্তানকে প্রাণের চেয়ে বেশি
ভালোবাসতে। কারণ সন্তান বাবা-মায়ের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
➠ উদ্দীপকের দরিদ্র এক মায়ের মৃতপ্রায় সন্তানের কথা বলা হয়েছে। মা তার
সন্তানকে কীভাবে সুস্থ করে তুলবেন সেই চিন্তায় অস্থির। অবশেষে দরবেশের
কাছে পানিপড়া আনতে গেলে দরবেশ তাঁর সব কথা শোনেন এবং বলেন একটা মাত্র
উপায়ে তাঁর সন্তান সুস্থ হতে পারে। সেটি হলো তাঁর প্রাণের বিনিময়ে
সন্তানের প্রাণ। জাহানারা সন্তানকে বাঁচাতে এই পথই গ্রহণ করেন। ‘জীবন
বিনিময়’ কবিতায়ও আমরা একই ঘটনার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। বাদশা বাবর তাঁর
সন্তানকে বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেন। এভাবে উদ্দীপকের বিষয়বস্তু
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সন্তানস্নেহের কাছে মৃত্যুর পরাজয়ের দিকটি নির্দেশ
করে।
সারকথা: সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতার কাছে মৃত্যুর
পরাজয়ের দিক উদ্দীপকে ও কবিতায় অভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ “সন্তানের প্রতি ভালোবাসা সম্রাট বাবরকে ও জাহানারাকে অমর করে
রেখেছে।”- মন্তব্যটি সত্য।
➠ এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। আজ যে আছে কাল সে থাকবে
কি না কেউ জানে না। মৃত্যুতে মানুষের সব কর্মের অবসান হয়। তবে কর্ম
মানুষকে জন্ম-জন্মান্তরে অমর করে রাখতে পারে।
➠ উদ্দীপকের দরিদ্র মা' জাহানারা, যিনি সন্তানকে প্রাণের চেয়ে বেশি
ভালোবাসেন। তাঁর সন্তানস্নেহের কাছে মৃত্যুও পরাজয় স্বীকার করেছে।
সন্তানের প্রতি ভালোবাসায় তাঁকে আজ গৌরবের শীর্ষ স্থানে দাঁড় করিয়ে
দিয়েছে। কারণ অসুস্থ সন্তানকে সুস্থ করতে তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ
করেছেন। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায়ও পিতৃস্নেহে উজ্জ্বল বাবরের পরিচয় পাওয়া
যায়, যিনি সন্তানকে ভালোবেসে তাঁর প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের জীবন
উৎসর্গ করেন। বাদশা বাবর আজ পিতৃস্নেহের কারণে সারা জগতে পরিচিত।
➠ ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে মানুষ তার কর্মের দ্বারা নিজেকে অমর করে নিতে
পারে। মৃত্যু মানুষের শরীরকে বিনাশ করতে পারলেও তার কর্মকে বিনাশ করতে
পারে না। মানুষ তার কর্ম দ্বারা যুগ যুগ ধরে সবার মাঝে অমর হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের জাহানারা ও বাদশা বাবর সন্তানের জন্য প্রাণ দিয়ে আজ অমর হয়ে
আছেন তাঁদের কর্ম দ্বারা। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সত্য।
সারকথা: কর্মই মানুষকে যুগের পর যুগ বাঁচিয়ে রাখে। যেমনটি বেঁচে রয়েছেন
উদ্দীপকের জাহানারা ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবর।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ছয় মাসের শিশু কন্যা পাইল্যা করলাম বড়।
কি লইয়া ফিরবাম দেশে আর না যাইবাম ঘর।
শুন শুন কন্যা আরে একবার আঁখি মেইলা চাও।
একটি বার কহিয়া কথা পরাণ জুড়াও।
ক. বাদশা বাবরের পুত্রের নাম কী?
খ. “নিদ নাহি চোখে তাঁর।” ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের পালিত পিতার সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কার সাদৃশ্য রয়েছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্পূর্ণ বিষয়ের প্রকাশ ঘটেনি।”-
মন্তব্যটির সত্যতা বিশ্লেষণ করো।
ক. কবর বাদশা বাবরের পুত্রের নাম হুমায়ুন।
খ. পুত্রের মৃত্যু আশঙ্কায় বাদশা বাবরের চোখে ঘুম নেই।'
➠ বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। তার চারদিকে মরণ
অন্ধকার ঘিরে আসছে। পুত্রের রোগমুক্তির কোনো লক্ষণ নেই। হাকিম, কবিরাজ,
দরবেশ সবাই ব্যর্থ। পুত্রের মৃত্যুর কথা ভেবে বাদশা বাবর কেঁদে কেঁদে
ফিরছেন। তাঁর চোখে ঘুম নেই। পুত্রের জীবনের করুণ পরিণতির কথা ভেবেই তিনি
ঘুমাতে পারেন না। তাঁর এ অবস্থার কথা ভেবেই কবি বলেছেন, 'নিদ নাহি চোখে
তাঁর।'
সারকথা: পুত্রের আসন্ন মৃত্যুর কথা ভেবে বাদশা বাবরের চোখে ঘুম নেই।
গ. উদ্দীপকের পালিত পিতার সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের
সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ সন্তান মানুষের অন্তরের ধন। সন্তানের দুঃখ-কষ্টে তাই পিতা-মাতার
দুঃখ-কষ্টের শেষ থাকে না। সন্তানের শোকে পিতার হৃদয় বিদীর্ণ হয়। পিতার
পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়। সন্তানকে হারানোর কথা পিতা কল্পনাও করতে পারেন
না।
➠ উদ্দীপকের পালিত পিতা তার কন্যার মৃত্যুতে বিলাপ করেন। কন্যাকে ছেড়ে
শূন্য হাতে তিনি আর ঘরে ফিরতে চান না। কন্যার মৃতদেহের পাশে বসে বারবার
তাকে চোখ মেলে তাকাতে বলেন, কথা বলতে বলেন। তার এই শোকাচ্ছন্ন হৃদয়ের
সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের হৃদয়ের সাদৃশ্য রয়েছে। পুত্র
হুমায়ুনের করুণ অবস্থা দেখে তাঁর পিতৃহৃদয় বেদনায় কাতর। কঠিন রোগ থেকে
হুমায়ুনের মুক্তি মেলে না দেখে বাদশা বাবর শঙ্কিত। পুত্রের মৃত্যুর
আশঙ্কায় তাঁর চোখে ঘুম নেই। চিকিৎসকদের নীরবতা তাঁর হৃদয়ে শেলের মতো
বিঁধে। এভাবেই বেদনাবহ ঘটনার অবস্থার দিক থেকে উদ্দীপকের পালিত পিতার
সঙ্গে 'জীবন-বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরের সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকের পালিত পিতা ও 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবর উভয়ই
সন্তানের জন্য বেদনায় কাতর।
ঘ."উদ্দীপকে জীবন বিনিময়' কবিতার সম্পূর্ণ বিষয়ের প্রকাশ ঘটেনি।"
মন্তব্যটি যথাযথ।
➠ সন্তানের মঙ্গলের জন্য পিতা সবকিছু করতে পারেন। নিজের জীবনের বিনিময়ে
হলেও সন্তানের জীবন রক্ষা করেন। কারণ সন্তানের অবর্তমানে পিতার পৃথিবী
অন্ধকার হয়ে যায়। তার কাছে পৃথিবীর কোনো কিছুরই তখন মূল্য থাকে না। 'জীবন
বিনিময়' কবিতায় পিতৃস্নেহের কথা প্রকাশিত হয়েছে। সন্তানের রোগমুক্তির
জন্য আকুল সম্রাট বাবর নিজের প্রাণের বিনিময়ে আল্লাহর কাছে সন্তানের জীবন
ভিক্ষা চান। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর করেন। বাবর মৃত্যুকে বরণ করে
নেন আর তাঁর সন্তান সুস্থ হয়ে ওঠে।
➠ অন্যদিকে উদ্দীপকের পালিত পিতা তার মৃত কন্যার পাশে বসে শোকাচ্ছন্ন
হৃদয়ে বিলাপ করেন। সন্তানের জন্য তাঁর হৃদয়ে যে শোকের সৃষ্টি হয় তার
সঙ্গে সম্রাট বাবরের বেদনার্ত হৃদয়ের মিল রয়েছে। এ বিষয়টি 'জীবন বিনিময়'
কবিতার কেবল একটি দিকের প্রকাশ ঘটায়। উদ্দীপকে মৃত সন্তানের জন্য একজন
পিতার বিলাপ প্রকাশ পেয়েছে।
➠ অন্যদিকে 'জীবন বিনিময়' কবিতায় সন্তানের রোগাক্রান্ত করুণ অবস্থা দেখে
পিতার বেদনার্ত হৃদয়ের পাশাপাশি ডাক্তার-কবিরাজ-দরবেশদের চিকিৎসা, পিতার
আত্মত্যাগ, পিতৃস্নেহ, সন্তানের আরোগ্যে পিতার আনন্দ, পিতার স্নেহের কাছে
মরণের পরাজয় ঘটা ইত্যাদি বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে- এসব বিষয়ের কোনোটিই
উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। এ দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত
মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপক ও 'জীবন বিনিময়' কবিতায় দুজন পিতার শোক ও বেদনার্ত
হৃদয়ের কথা প্রকাশ পেয়েছে। এ বিষয়টিই 'জীবন বিনিময়' কবিতার একমাত্র বিষয়
নয়।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পল্লিজননী সুফিয়ার একমাত্র ছেলে কঠিন রোগে আক্রান্ত। সন্তান হারানোর ভয়ে,
শোকে তিনি চারদিকে অন্ধকার দেখতে লাগলেন। পরিচিত যত ডাক্তার-কবিরাজ
সবাইকে দিয়ে তিনি সন্তানের চিকিৎসা করিয়েছেন। সবার কাছে সুফিয়া জিজ্ঞাসা
করেন সন্তান সুস্থ হবে কি না? কিন্তু কেউ কোনো ভরসা দিতে পারেনি।
ক. হুমায়ুনের রোগ কেমন?
খ. বাদশা বাবর চোখে অন্ধকার দেখছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের পল্লিজননী সুফিয়া এবং ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবর একই
ব্যথায় ব্যথিত।” মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
ক. হুমায়ুনের রোগ দূরন্ত-অর্থাৎ প্রতিবিধান কষ্টসাধ্য এমন রোগ।
খ. অসুস্থ ছেলের জীবননাশের আশঙ্কায় বাদশা বাবর চোখে অন্ধকার দেখছিলেন।
➠ বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাগত। কোনো
চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রমাগত হুমায়ুন মৃত্যুর দিকে অগ্রসর
হচ্ছে। হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ কেউ তার রোগমুক্তির কোনো ভরসা দিতে পারছেন
না। এমতাবস্থায় প্রিয় সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় বাদশা বাবর চোখে অন্ধকার
দেখছিলেন।
সারকথা: ‘চোখের সামনে সন্তান মৃত্যুর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে বাদশা বাবর
চোখে অন্ধকার দেখছিলেন।’
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সন্তানের অসুস্থতায় দিশেহারা
বাবার মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশ হওয়ার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ সন্তানের সুখ, সুস্থতা সর বাবা-মায়ের একমাত্র কামনা। বাবা-মা সন্তানের
খুশি মুখটা দেখে নিজেদের সব কষ্ট ভুলে যান। সন্তানের মুখের হাসি
বাবা-মায়ের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
➠ উদ্দীপকের পল্লিজননী সুফিয়া তার একমাত্র ছেলের অসুস্থতায় দিশেহারা।
সন্তানকে হারানোর চিন্তায় অস্থিরতায় তিনি চারদিকে অন্ধকার দেখতে লাগলেন।
পরিচিত সব ডাক্তার-কবিরাজ দিয়ে তিনি ছেলের চিকিৎসা করান। তবু রোগ মুক্তির
কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন না। এমনকি ডাক্তার-কবিরাজের কাছে জিজ্ঞাসা
করলেও তারাও কোনো ভরসা দিতে পারছেন না। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায়ও সম্রাট
বাবর তাঁর সন্তানের অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন। বিজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে তিনি
সন্তানের চিকিৎসা করালেও ভালো কোনো ফল আসছে না, এমনকি কেউ ভালো হওয়ার
কোনো আশাও দিতে পারছেন না। এভাবেই উদ্দীপকের সঙ্গে 'জীবন বিনিময়' কবিতার
সন্তানের অসুস্থতায় দিশেহারা বাবার মানসিক যন্ত্রণা ও হতাশ হওয়ার 'ঘটনার
সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: সন্তানের অসুস্থতায় বাবা-মায়ের মানসিক যন্ত্রণার দিকটি উদ্দীপক ও
কবিতায় ফুটে উঠেছে।
ঘ. “উদ্দীপকের পল্লিজননী সুফিয়া এবং ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবর একই
ব্যথায় ব্যথিত।” মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ সন্তানের অসুস্থতা সব বাবা-মায়ের কষ্টের কারণ। আর সন্তান যদি
মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয় তাহলে বাবা-মা গভীর বেদনায় মুষড়ে পড়েন। সন্তানের
কষ্ট কোনো বাবা-মা সহ্য করতে পারেন না।
➠ উদ্দীপকের পল্লিজননী সুফিয়া তার একমাত্র ছেলের অসুস্থতায় চারদিকে
অন্ধকার দেখতে লাগলেন। সন্তান হারানোর ভয় তাকে সারাক্ষণ তাড়া করে ফেরে।
তিনি সন্তানের কষ্টে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিভিন্নভাবে সন্তানকে চিকিৎসা
করাচ্ছেন। ভালো কোনো ফল না দেখতে পেয়ে তিনি আরও বেশি ধৈর্যহারা হয়ে
পড়েছেন। ডাক্তার-কবিরাজ কেউ কোনো ভরসা না দেওয়ায় সন্তান হারানোর ভয় তার
হৃদয়কে বেদনাভারাক্রান্ত করে। 'জীবন বিনিময়' কবিতার বাদশা বাবরও একই
ব্যথায় জর্জরিত। তিনিও তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
কারণ নানাভাবে সন্তানের চিকিৎসা করালেও ভালো কোনো ফল দেখতে পাচ্ছেন
না।
➠ একমাত্র সন্তানকে রোগশয্যায় দেখে উদ্দীপকের মা সুফিয়া ও আলোচ্য কবিতার
বাদশা বাবর উভয়েই হতাশা ও যন্ত্রণায় নিমজ্জিত। তাঁদের হৃদয় যেন শেলবিদ্ধ।
এ দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: প্রিয় সন্তানকে হারানোর আশঙ্কা পল্লিজননী সুফিয়া এবং বাদশা
বাবরকে তাড়ী করে বেড়াচ্ছে। তাই তাঁরা একই ব্যথায় ব্যথিত।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মমতা ও শিউলি দুই বান্ধবী। তারা কেরানীগঞ্জে থাকে। রোজ নৌকা করে পার হয়ে
কলেজিয়েট স্কুলে আসে। একদিন তাদের নৌকা ডুবে গেলে মমতা সাঁতার কাটতে
থাকে। কিন্তু শিউলি সাঁতার না জানায় ডুবতে থাকে। এ সময় মমতা তাকে সাহায্য
করার জন্য এগিয়ে যায়। শিউলি মমতাকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে মমতাও ডুবতে
থাকে। মমতা তখন শিউলিকে ছেড়ে নিজের প্রাণ বাঁচায়। মমতা আর তাকে বাঁচানোর
চেষ্টা করে না।
ক. ‘ফুকারি’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় মরণের পরাজয় ঘটেছে কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের মমতার আচরণে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন সত্যের প্রকাশ ঘটে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের মমতা ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবরের সম্পূর্ণ বিপরীত
মানসিকতা প্রকাশ করে।”- মন্তব্যটি আলোচনা করো।
ক. ‘ফুকারি’ শব্দের অর্থ চিৎকার করে।
খ. ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সন্তানের সুস্থতার জন্য পিতার জীবন উৎসর্গ করার
মধ্য দিয়ে পিতৃস্নেহের কাছে মরণের পরাজয় ঘটেছে।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতা অনুসারে বাদশা বাবরের পুত্র হুমায়ুন দীর্ঘদিন
থেকে রোগে আক্রান্ত। তাকে কোনো হাকিম, কবিরাজ, দরবেশ সুস্থ করে তুলতে
পারছেন না। একজন দরবেশ বাদশা বাবরকে বলেন, বাদশা যদি তাঁর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ
ধন দান করেন তবে আল্লাহ খুশি হয়ে তাঁর পুত্রের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারেন।
একথা শুনে বাদশা বাবর উপলব্ধি করেন সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন তাঁর নিজ প্রাণ।
তখন তিনি ধ্যানে বসেন এবং আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে নিজের জীবনের বিনিময়ে
সন্তানের জীবন প্রার্থনা করেন। আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করেন।
পিতৃস্নেহে বাবর নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। আর এভাবেই পিতৃস্নেহের কাছে
মরণের পরাজয় ঘটে।
সারকথা: সন্তানের প্রতি ভালোবাসা থেকে সম্রাট বাবর নিজের জীবনের বিনিময়ে
সন্তানের জীবন বাঁচান। তার এই পিতৃস্নেহের কাছে মরণও পরাজয়বরণ করে।
গ. নিজের প্রাণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন জগতে আর কিছু নেই- উদ্দীপকের মমতার
আচরণে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার এই সত্যের প্রকাশ ঘটেছে।
➠ এ পৃথিবীতে মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো নিজ প্রাণ। মানুষ নিজেকে
সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো সম্পদ মানুষ সহজেই বিলিয়ে
দিতে পারে, কিন্তু নিজ প্রাণ সহজে অন্যের জন্য উৎসর্গ করতে পারে না।
➠ উদ্দীপকের মমতা ও শিউলি দুজন খুব ভালো বান্ধবী। রোজ তারা নৌকা করে
একসঙ্গে স্কুলে যায়। একদিন নৌকা ডুবে গেলে মমতা সাঁতার কাটতে থাকে। শিউলি
সাঁতার না জানায় ডুবে যেতে থাকে। মমতা তখন শিউলিকে বাঁচাতে গেলে মমতার
নিজের প্রাণ বিপন্ন হয়ে ওঠে। মমতা তখন নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে প্রমাণ করে,
জগতে নিজের প্রাণের চেয়ে বেশি প্রিয় কিছু নেই। অন্যদিকে ‘জীবন বিনিময়’
কবিতায় বাদশা বাবর পুত্রের রোগ নিরাময়ের জন্য হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ নিয়োগ
করেন। সবাই ব্যর্থ হয়ে আশা ছেড়ে দেন। এসময় এক দরবেশ জানান, ব্যদশা যদি
তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ধন দান করেন তবেই আল্লাহ খুশি হয়ে বাদশাজাদার প্রাণ
বাঁচাতে পারেন। বাদশা বাবর তখন উপলব্ধি করেন পৃথিবীতে তাঁর নিজ প্রাণই
সর্বশ্রেষ্ঠ ধন। নিজের প্রাণের চেয়ে প্রিয় আর কিছু নেই। তাই বলা যায় যে,
নিজের প্রাণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন জগতে আর কিছু নেই- উদ্দীপকের মমতার আচরণে
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার এই সত্যের প্রকাশ ঘটেছে।
সারকথা: পৃথিবীতে নিজের প্রাণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু নেই- এ সত্যই উদ্দীপক
ও 'জীবন বিনিময়' কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকের মমতা ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার বাদশা বাবরের সম্পূর্ণ বিপরীত
মানসিকতা প্রকাশ করে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ মানুষ পৃথিবীতে চিরদিন বেঁচে থাকে না। তবে মহৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ
পৃথিবীতে অমর হয়ে থাকে। কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষ মৃত্যুকে জয় করে।
আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জন্য জীবন উৎসর্গ করাই মহৎ কর্মের
লক্ষণ।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাদশা বাবর পিতৃস্নেহের মধ্য দিয়ে অমরত্ব লাভ
করেছেন। সন্তানস্নেহের কাছে তাঁর নিজ জীবন তুচ্ছ হয়ে গেছে। পুত্রের মঙ্গল
ও সুস্থ জীবনের জন্য বাদশা বাবর নিজ প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। নিজের
সর্বশ্রেষ্ঠ ধন নিজ জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করেছেন। তাঁর
পিতৃস্নেহের কাছে মরণের পরাজয় ঘটেছে। নিঃস্বার্থ একজন পিতার মহৎ হৃদয়ের
পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সন্তানস্নেহের কাছে পৃথিবীর সবকিছু হয়ে পড়েছে
মূল্যহীন। অন্যদিকে উদ্দীপকের মমতা আত্মস্বার্থে মগ্ন হয়ে বান্ধবীকে
বিপদের মুখে ছেড়ে দিয়ে নিজের জীবন বাঁচায়। নিজের জীবন বাঁচানোই তার কাছে
মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা তার স্বার্থপর মানসিকতারই প্রকাশ।
➠ উদ্দীপকের মমতা নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করেছে।
মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে নিজেকে জয় করতে পারেনি। তার চিন্তা-চেতনায়
স্বার্থপরতা ফুটে উঠেছে। অন্যদিকে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় নিজের জীবনের
বিনিময়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করে বাদশা বাবর আত্মস্বার্থ ত্যাগের এক মহৎ
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের বিষয়টি মমতার সম্পূর্ণ
বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি
যথার্থ।
সারকথা: ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট বানর নিঃস্বার্থভাবে সন্তানের জন্য
জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যদিকে শুধু নিজের জীবন বাঁচিয়ে আর করব ঠিক বিপরীত
মানসিকতা প্রকাশ করেছে।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আরিফ ৯ম শ্রেণির ছাত্র। দীর্ঘদিন ধরে সে অসুস্থতায় ভুগছে। নানা রকম
ডাক্তারি পরীক্ষানিরীক্ষার পর জানা গেল, তার দুইটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে।
এখন আরিফকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় কিডনি প্রতিস্থাপন। ছেলের জীবন
সংশয়াপূর্ণ দেখে আরিফের অসহায় পিতা আবদুর রহমান নিজেই তার দুইটি কিডনি
দান করতে চাইলেন। কিন্তু দুইটি কিডনি দান করলে আবদুর রহমানের মৃত্যু
নিশ্চিত। তাই ডাক্তাররা তাকে একটি কিডনি দানের পরামর্শ দিলেন। এর ফলে
আরিফ এবং তার পিতা আবদুর রহমান দুজনই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনে সক্ষম
হয়।
ক. প্রত্যেক মানুষের কাছে তার শ্রেষ্ঠ ধন কোনটি?
খ. দরবেশ সম্রাট বাবরকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন দান করার কথা কেন বলেছিলেন?
বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের সাথে 'জীবন বিনিময়' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার শেষ পরিণতি এক নয়।”- মন্তব্যটি
সম্পর্কে তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।
ক. প্রত্যেক মানুষের কাছে তার শ্রেষ্ঠ ধন তার জীবন।
খ. দরবেশ সম্রাট বাবরকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন দান করার কথা বলেছিলেন
সম্রাটপুত্র হুমায়ূনকে বাঁচানোর শেষ উপায় হিসেবে।
➠ সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত, যার কোনো নিরাময় নেই।
এক দরবেশ সম্রাটকে পুত্রের জীবন বাঁচানোর একটি উপায় বলেন। আর তা হলো
জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ দান করা। আর সম্রাটের কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠ সম্পদ ছিল
নিজের জীবন।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার পুত্রের প্রতি পিতার অকৃত্রিম
ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত।
রাজ্যের কোনো হেকিম, কবিরাজ, দরবেশ তার রোগ সারাতে পারছিল না। একটু একটু
করে হুমায়ুন মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পুত্রের এ অবস্থা দেখে বাবর
দরবেশের কথামতো নিজের জীবন বিলিয়ে দেন। বাবরের প্রাণের বিনিময়ে তাঁর
পুত্র আরোগ্য লাভ করেন।
➠ উদ্দীপকে আরিফের জীবন বাঁচাতে তার বাবা আবদুর রহমান নিজের কিডনি দান করতে
চান। কারণ তাকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় ছিল কিডনি প্রতিস্থাপন। দুইটি
কিডনি দানে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আবদুর রহমান তাঁর ছেলেকে বাঁচাতে পিছপা
হন না। ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায়ও উদ্দীপকের আরিফের বাবার মতো সম্রাট বাবর
নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করেন। পুত্রের প্রাণরক্ষায় বিলিয়ে দেন নিজের
জীবন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাথে 'জীবন বিনিময়' কবিতার সন্তানের প্রতি
পিতার সন্তানবাৎসল্য ও আত্মত্যাগের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে আত্মত্যাগের মাধ্যমে দুজনের জীবন রক্ষা হলেও 'জীবন বিনিময়'
কবিতায় এর পরিণতি ছিল মৃত্যু।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুনের মৃত্যু প্রায়
নিশ্চিত ছিল। কোনো চিকিৎসাতেই হুমায়ূন সেরে উঠছিল না। কিন্তু স্নেহবৎসল
পিতার কাছে অবশেষে মৃত্যু হার মানে। বাবর আল্লাহর কাছে নিজের জীবনের
বিনিময়ে সন্তানের জীবন ভিক্ষা চান। আল্লাহ তাঁর আর্জি মেনে নেন। ফলে তাঁর
পুত্র সুস্থ হলেও মৃত্যু ঘটে বাবরের।
➠ উদ্দীপকে নবম শ্রেণির ছাত্র আরিফ জীবনের কঠিন পরীক্ষায় পড়ে। দুটি কিডনি
বিকল হওয়ায় তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। তার বাবা আবদুর রহমান পিতৃস্নেহ
থেকে কিডনি দান করতে চান। তবে দুইটি কিডনি দিলে তাঁর মৃত্যু হতো। তাই
ডাক্তারদের পরামর্শে একটি কিডনির আত্মত্যাগে পিতা-পুত্র দুজনেই নতুন
জীবনের আলো ফিরে পান।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় পিতা বাবর তাঁর পুত্র হুমায়ূনকে বাঁচাতে নিজের
জীবন ত্যাগ করেন। পিতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে পুত্রের জীবন রক্ষা হয়।
অন্যদিকে উদ্দীপকে আবদুর রহমান তাঁর ছেলের জীবন বাঁচাতে একটি কিডনি দান
করেন কিন্তু তিনি মারা যান না বরং দুজনেই সুস্থ জীবনযাপন করতে সক্ষম হন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে আত্মত্যাগের মাধ্যমে দুজনেই সুস্থ হন আর আলোচ্য
কবিতায় পিতা নিজের জীবন দিয়ে পুত্রের জীবন রক্ষা করেন যার পরিণতি পিতার
মৃত্যু। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,
সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।
ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে,
রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।
আমার দেশের মাটির ছেলে, নমি বারংবার
তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সবার অহংকার।
(সূত্র: চাষী- রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী।
ক. বাবরের পুত্র কে?
খ. বাবর কোথায় ত্রুটি রাখেননি? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাধকের সাথে 'জীবন বিনিময়' কবিতার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য
রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে'- চরণটি উদ্দীপক ও 'জীবন
বিনিময়' কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. বাবরের পুত্র হুমায়ুন।
খ. বাবর পুত্রের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখেননি।
➠ বাবর পুত্র হুমায়ুন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হলে বাবর পুত্রের বেদনায় কাতর
হয়ে পড়েন। চোখে ঘুম নেই তাঁর। কেননা, পুত্রের রোগ মরণ অন্ধকারের মতো
ঘনিয়ে আসছে। পুত্রের রোগমুক্তির জন্য রাজ্যের সকল বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ
সবাইকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন তদবিরের ব্যবস্থা করলেও
তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় না। সেবা-যত্নের কোনো ত্রুটিও তিনি রাখেননি। তবুও
তাঁর পুত্রের আরোগ্য হয় না।
গ. উদ্দীপকের সাধকের সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সম্রাট বাবরের সাদৃশ্য
রয়েছে।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাবর পুত্র হুমায়ুন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। দরবেশের
নির্দেশে বাবর নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেন
পুত্রকে সুস্থ করে তোলার আশায়। নিজের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাবর পুত্র
হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে বাবরের প্রার্থনা কবুল হওয়ায়
বাবরের মধ্যে দেখা দেয় কঠিন রোগ।
➠ উদ্দীপকের সাধক দেশের মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি
নিজের কষ্টের কথা ভাবেন না বরং অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন। ‘জীবন
বিনিময়’ কবিতায় বাবরও ঠিক তেমনিভাবে নিঃস্বার্থভাবে পুত্র হুমায়ুনের
প্রাণ রক্ষার জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের
সাধকের সাথে 'জীবন বিনিময়' কবিতার সম্রাট বাবরের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. প্রকৃত মহৎ ব্যক্তিরা নিজের জন্য কখনো সুখ চায় না বরং অন্যের ভালো
চায়।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবর তাঁর পুত্র হুমায়ূনকে বাঁচাতে নিজের
প্রাণ বিসর্জন দেন। কোনো চিকিৎসা দিয়েই যখন হুমায়ূনকে সুস্থ করা যাচ্ছিল
না। তখন পিতা বাবর বিধাতার কাছে করজোড়ে সন্তানের জীবন ভিক্ষা চান। তিনি
তাঁর নিজের জীবনও সন্তানের কারণে বলি দিতে প্রস্তুত হন। সন্তানের
সুস্থতার জন্য তিনি কোনো বিনিময় প্রদান করতেই কার্পণ্য করেননি।
➠ উদ্দীপকে দেশের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গকারী একজন মুক্তিকামী মহাসাধকের
কথা উঠে এসেছে। তিনি নিজের সুখের চিন্তা না করে পরের ভালো চিন্তা করেন।
রৌদ্র, বৃষ্টি, কষ্ট কোনোকিছুই তাঁকে বিরত করতে পারে না।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় বাবর পুত্র হুমায়ুনের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন
উৎসর্গ করেছেন। দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পিতৃস্নেহ ও ভালোবাসার। অপরদিকে,
উদ্দীপকের সাধকও দেশের কল্যাণে নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। তাই বলা
যায়, আলোচ্য কবিতার বাবর ও উদ্দীপকের সাধক দুজনেই পরের ভালো চেয়েছেন এবং
নিজেদের সুখকে বিসর্জন দিয়েছেন।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পিপিড়ার ভয়ে মাও না খুইলা মাটিতে।
কোল দিয়া বুক দিয়া জগতে বিদিত।
অলোক আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল।
তান দয়া হস্তে হৈল এ ধড় বিশাল।
না খাই খাওয়া পিতা না পরি পরা এ।
কত দুক্ষে একে একে বছর গোায়।
পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন। কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন।। (সূত্র-
বন্দনা, শাহ মুহাম্মম্মদ সগির।
ক. অন্তরবি কী?
খ. ‘তিমির রাতের তোরণে তোরণে উষার পূর্বাভাস’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “প্রসঙ্গ ভিন্ন হলেও উদ্দীপক এবং ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূলভাব একই”-
মন্তব্যটির সাথে তুমি কি একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
ক.‘অন্তরবি’ অর্থ অস্তগামী সূর্য।
খ.কবিতায় হুমায়ুনের রোগমুক্তির লক্ষণ বোঝাতে চরণটি ব্যবহার করা
হয়েছে।
➠ সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। একসময় দরবেশের মাধ্যমে
বাবর পুত্রের রোগমুক্তির উপায় সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি বিধাতার কাছে
নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চান। অবশেষে হুমায়ুনের
রোগমুক্তির লক্ষণ দেখা দেয়। ভোরের আগমন যেমন রাতের সব অন্ধকার দূরীভত করে
দেয়, ঠিক তেমনিভাবে হুমায়ুন মুমূর্ষু অবস্থা থেকে সুস্থ হতে লাগল। এখানে
হুমায়ুনের রোগাক্রান্ত অবস্থাকে তিমির রাত এবং রোগমুক্তির লক্ষণকে উষার
পূর্বাভাস বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম
ভালোবাসার সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় কবি সম্রাট বাবরের পিতৃস্নেহের অনন্য দৃষ্টান্ত
সস্থাপন করেছেন। পুত্র হুমায়ুন দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় পিতা
বাবরের চিন্তার শেষ নেই। তিনি পুত্রকে সুস্থ করার জন্য যা যা করা সম্ভব,
তার সবকিছুই করেছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে বড়ো বড়ো কবিরাজ, হেকিম, দরবেশ
নিয়ে এসে পুত্রের চিকিৎসা করিয়েছেন। এমনকি সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজ প্রাণের
বিনিময়ে হলেও পুত্রের প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার গভীর ভালোবাসা ও ত্যাগের কথা ফুটে
উঠেছে। পিঁপড়ার ভয়ে যা কখনো সন্তানকে মাটিতে রাখত না। বাবা নিজের খাবার ও
কাপড়ের কথা আগে না ভেবে সন্তানেরটাই আগে ভেবেছেন। জীবন ও যৌবন বিলিয়ে
দিয়েছেন সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য। 'জীবন বিনিময়' কবিতায় সম্রাট বাবর যেমন
তাঁর অপত্য পিতৃস্নেহ এবং ধনসম্পদ ও ক্ষমতা সবকিছু ব্যবহার করে পুত্রের
জীবন বাঁচাতে তৎপর ছিলেন ঠিক একইভাবে উদ্দীপকের মাতা-পিতাও তাদের
সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য সবকিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলেন। তাই বলা যায়,
সন্তানকে ভালোবাসার দিক থেকে এবং সন্তানের মঙ্গল চিন্তার দিক থেকে
উদ্দীপকের মাতা-পিতার সাথে আলোচ্য কবিতার সম্রাট বাবরের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে সন্তানের জন্য মাতা-পিতার আত্মত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হওয়ায়
উদ্দীপক এবং 'জীবন বিনিময়' কবিতার মূলভাব একই।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো পিতার স্নেহবাৎসল্যের কাছে
মৃত্যুর পরাজয়। পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত বলে পিতা বাবরের
দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না। চিকিৎসকেরা অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে
হুমায়ুনের বাঁচার আশা ছেড়ে দিলে এক দরবেশ অবশেষে আশার আলো দেখান।
দরবেশের পরামর্শে সম্রাট বাবর বিধাতার কাছে নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের
জীবন ভিক্ষা চান। ফলে আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা মঞ্জুর করেন এবং পিতৃস্নেহের
কাছে মরণের পরাজয় ঘটে।
➠ উদ্দীপকে সন্তানের প্রতি মাতা-পিতার অশেষ ভালোবাসার পাশাপাশি তাদের
ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও উঠে এসেছে। একটি ছোটো ও দুর্বল শিশু সন্তানকে বলবান
করে গড়ে তোলার পিছনে মাতা-পিতার রয়েছে অনেক অবদান। পিঁপড়ার ভয়ে সন্তানকে
বুকে আগলে রেখেছেন মাতা। তেমনই করে পিতা নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে অন্ন
তুলে দিয়েছেন এবং নিজে না পরে সন্তানের গায়ে পোশাক পরিয়েছেন। মাতা-পিতা
তাদের জীবন ও যৌবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন শুধু তাদের সন্তানের জন্য।
সন্তানের প্রতি এমন ত্যাগের চিত্র ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায়ও দৃষ্টিগোচর
হয়।
➠ ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় সম্রাট বাবর পুত্রকে বাঁচানোর জন্য সবরকম চেষ্টা
করেছেন। অবশেষে নিজের জীবনের বিনিময়ে তিনি পুত্রের জীবন রক্ষা করেছেন।
উদ্দীপকেও সন্তানের জন্য মাতা-পিতার এমন ভালোবাসা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত
পাই। পিতা নিজের কথা চিন্তা না করে বছরের পর বছর দুঃখ-দুর্দশা সহ্য করে
সন্তানকে বড়ো করেছেন। যা আলোচ্য কবিতার মূল বিষয়। তাই বলা যায়, “প্রসঙ্গ
ভিন্ন হলেও উদ্দীপক এবং ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার মূলভাব একই।” -মন্তব্যটি
যথার্থ।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রোমানা বেগম একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। তাঁর প্রভাব- প্রতিপত্তির
অভাব নেই। তাঁর একমাত্র পুত্র শান। সে জটিল রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে
কলকাতা অ্যাপোলো হাসপাতালে আছে। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসা চলছে। রোমানা
বেগম ছেলের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখেননি। তিনি তাঁর সবকিছুর বিনিময়ে
ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে চান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে টানা এক বছর
সে রোগের সাথে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুবরণ করে। নিয়তির কাছে পরাজিত হয়
মাতৃস্নেহ।
ক. ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় কোনটিকে ‘সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন’ বলা হয়েছে?
খ. সম্রাট বাবরের চোখে ঘুম নেই কেন?
গ. উদ্দীপকের রোমানা বেগমের সাথে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন চরিত্রের
সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।
ঘ. ‘মাতৃস্নেহ সবসময় ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে না।’- উক্তিটি উদ্দীপক
ও ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
‘জীবন বিনিময়’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রুনু ও ঝুনু সহোদর। অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রুনু জ্ঞানমার্গ এবং
ঝুনু ভক্তিমার্গ অবলম্বন করেছে। পল্টু তাদের ভাতুষ্পুত্র। পল্টুকে উভয়ে
ভালোবাসত। এই পল্টু একদিন অসুখে পড়ল। কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও তার রোগের
উপশম নেই। পল্টুর একদিন শ্বাস উঠেছে। পাগলের মতো ঝুনু ডাক্তারকে ফোন
করলেন। তিনি ডাক্তার আনতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লেন। অন্যদিকে রুনু
সাধ্যসাধনায় মগ্ন হলেন।
ক. বাবরের মৃত্যুকে কবি কী বলেছেন?
খ. ‘পুত্র বাঁচিয়া উঠিবে মরিবে না নিশ্চয়।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের রুনু ও ঝুনুর মধ্যে ‘জীবন বিনিময়’ কবিতার কোন বিষয়টি প্রকাশ
পেয়েছে?
ঘ. উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার মূলভাব ধারণ করে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি
প্রদান করো।
চিত্রকর: আহমেদ তাহমিদ রাহিল; ৪র্থ শ্রেণি
তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম , ২০১৫।