উমর ফারুক : কাজী নজরুল ইসলাম
|
| উমর ফারুক |
উমর
ফারুক
কাজী নজরুল ইসলাম
তিমির
রাত্রি-এশার আজান শুনি দূর মসজিদে,
প্রিয়-হারা কার কান্নার মত এ-বুকে আসিয়া বিঁধে!
আমির-উল্-মুমেনিন,
তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি জানে না
মুয়াজ্জিন।
তকবির
শুনি, শয্যা ছাড়িয়া
চকিতে উঠিয়া বসি,
বাতায়নে চাই-উঠিয়াছে
কি রে গগনে
মরুর শশী?
ও-আজান, ও কি
পাপিয়ার ডাক, ও কি চকোরীর গান?
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে ও কি ও তোমারি সে আহ্বান?
আবার লুটায়ে পড়ি!
‘সেদিন গিয়াছে’-শিয়রের কাছে কহিছে কালের ঘড়ি!
উমর! ফারুক! আখেরী নবির ওগো
দক্ষিণ-বাহু!
আহ্বান নয়- রূপ ধরে এসো!- গ্রাসে অন্ধতা-রাহু!
ইসলাম-রবি, জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!
সত্যের আলো নিভিয়া-জ্বলিছে জোনাকির আলো
ক্ষীণ!
শুধু আঙ্গুলি-হেলনে শাসন করিতে এ জগতের
দিয়াছিলে ফেলি মুহম্মদের চরণে যে-শমসের
ফিরদৌস
ছাড়ি নেমে এস তুমি সেই শমশের ধরি
আর একবার লোহিত-সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি!
ইসলাম-সে তো
পরশ-মানিক
তারে কে পেয়েছে খুঁজি?
পরশে তাহার সোনা হল যারা তাদেরেই মোরা বুঝি।
আজ বুঝি-কেন বলিয়াছিলেন শেষ
পয়গম্বর-
‘মোর পরে যদি নবি হতাে কেউ, হতো সে এক উমর।’
অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধূলার
তখতে বসি
খেজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম-ঝড়ে। পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি কো নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা-পড়েছে তাহারা, তুমি ছিলে
জওয়াব
ভুঁয়ে।
শত প্রলোভন
বিলাস বাসনা
ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ।
সবারে উর্ধ্বে তুলিয়া ধরিয়া তুমি ছিলে সব নিচে,
বুকে করে সবে বেড়া করি পার, আপনি রহিলে পিছে।
হেরি পশ্চাতে চাহি-
তুমি চলিয়াছ
রোদ্রদগ্ধ
দূর মরুপথ বাহি
জেরুজালেমের কিল্লা যথায় আছে
অবরোধ করি
বীর মুসলিম সেনাদল তব বহু দিন মাস ধরি।
দুর্গের দ্বার খুলিবে
তাহারা, বলেছে শত্রু শেষে-
উমর যদি গো
সন্ধিপত্রে স্বাক্ষর
করে এসে।
হায় রে
আধেক ধরার
মালিক আমিরুল-মুমেনিন
শুনে সে খবর একাকী
উষ্ট্রে চলেছে
বিরামহীন
সাহারা
পারায়ে! ঝুলিতে দু খানা শুকনো
‘খবুজ’ রুটি
একটি
মশকে
একটুকু পানি খোর্মা দু তিন মুঠি!
প্রহরীবিহীন সম্রাট চলে একা পথে উটে চড়ি
চলেছে একটি মাত্র ভৃত্য উষ্ট্রের রশি ধরি!
মরুর সূর্য ঊর্ধ্ব আকাশে আগুন বৃষ্টি করে,
সে আগুন-তাতে খই সম ফোটে বালুকা মরুর পরে।
কিছুদুর যেতে উট হতে নামি কহিলে ভৃত্যে, ‘ভাই,
পেরেশান
বড় হয়েছ চলিয়া! এইবার আমি যাই
উষ্ট্রের রশি ধরিয়া অগ্রে, তুমি উঠে বস উটে;
তপ্ত বালুতে চলি যে চরণে রক্ত উঠেছে ফুটে।’
.........ভৃত্য
দস্ত চুমি
কাঁদিয়া কহিল, ‘উমর! কেমনে এ আদেশ কর তুমি?
উষ্ট্রের পিঠে আরাম করিয়া গোলাম রহিবে বসি
আর হেঁটে যাবে
খলিফা
উমর ধরি সে উটের রশি?’
খলিফা হাসিয়া বলে,
‘তুমি জিতে গিয়ে বড় হতে চাও, ভাই রে, এমনি ছলে।
রোজ-কিয়ামতে আল্লাহ যে দিন কহিবে, ‘উমর! ওরে
করেনি খলিফা, মুসলিম-জাঁহা তোর সুখ তরে তোরে!’
কি দিব জওয়াব, কি করিয়া মুখ দেখাব রসুলে ভাই?
আমি তোমাদের
প্রতিনিধি
শুধু! মোর অধিকার নাই।
আরাম সুখের,-মানুষ হইয়া নিতে মানুষের সেবা!
ইসলাম বলে সকলে সমান, কে বড় ক্ষুদ্র কে-বা!
ভৃত্য চড়িল উটের পৃষ্ঠে উমর ধরিল রশি,
মানুষেরে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধূলায় নামিল
শশী!
জানি না, সেদিন আকাশে পুষ্পবৃষ্টি হইল কি-না,
কি গান গাহিল মানুষে সেদিন বন্দি বিশ্ববীণা!
জানি না, সেদিন ফেরেশতা
তব করেছে কি না
স্তব,-
অনাগত কাল গেয়েছিল
শুধু, ‘জয় জয় হে মানব।’...
তুমি
নির্ভীক, এক খোদা ছাড়া করনিকো কারে ভয়,
সত্যব্রত
তোমায় তাইতে সবে
উদ্ধত
কয়।
মানুষ হইয়া মানুষের পূজা মানুষেরি অপমান,
তাই মহাবীর
খালেদেরে তুমি পাঠাইলে
ফরমান,
সিপাহ-সালারে
ইঙ্গিতে তব করিলে
মামুলি সেনা,
বিশ্ব-বিজয়ী বীরেরে শাসিতে এতটুকু
টলিলে না।
মানব-প্রেমিক! আজিকে তোমারে স্মরি,
মনে পড়ে তব মহত্ত্ব-কথা-সেদিন সে
বিভাবরী
নগর-ভ্রমণে বাহিরিয়া তুমি দেখিতে পাইলে দূরে
মায়েরে ঘিরিয়া
ক্ষুধাতুর
দুটি শিশু
সকরুণ সুরে
কাঁদিতেছে আর দুঃখিনী মাতা ছেলেরে ভুলাতে হায়,
উনানে শূন্য হাঁড়ি
চড়াইয়া কাঁদিয়া অকূলে চায়!
শুনিয়া সকল-কাঁদিতে কাঁদিতে ছুটে গেলে মদিনাতে
বায়তুল-মাল হইতে
লইয়া ঘৃত আটা
নিজ হাতে,
বলিলে, ‘এ সব চাপাইয়া দাও আমার পিঠের পরে,
আমি লয়ে যাব বহিয়া এ-সব দুখিনী মায়ের ঘরে!’
কত লোক আসি আপনি চাহিল বহিতে তোমার বোঝা,
বলিলে, ‘বন্ধু, আমার এ ভার আমিই বহিব সোজা!
রোজ-কিয়ামতে কে বহিবে বল আমার পাপের ভার?
মম অপরাধে ক্ষুধায়
শিশুরা কাঁদিয়াছে, আজি তার
প্রায়শ্চিত্ত করিব আপনি!’-চলিলে
নিশীথ রাতে
পৃষ্ঠে বহিয়া খাদ্যের বোঝা দুখিনীর
আঙিনাতে।
এত যে কোমল প্রাণ,
করুণার বশে তবু গো ন্যায়ের করনি কো অপমান!
মদ্যপানের অপরাধে প্রিয় পুত্রেরে
নিজ করে
মেরেছ দোর্রা, মরেছে
পুত্র তোমার চোখের পরে।
ক্ষমা চাহিয়াছে পুত্র, বলেছ
পাষাণে বক্ষ
বাঁধি-
‘অপরাধ করে তোরি মত
স্বরে কাঁদিয়াছে অপরাধী।’
আবু শাহমার
গোরে
কাঁদিতে যাইয়া ফিরিয়া আসি
গো
তোমারে সালাম করে।
খাস দরবার ভরিয়া গিয়াছে হাজার দেশের লোকে,
‘কোথায় খলিফা’ কেবলি প্রশ্ন ভাসে উৎসুক চোখে,
একটি মাত্র
পিরান কাচিয়া শুকায়নি
তাহা বলে,
রোদ্রে ধরিয়া বসিয়া আছে গো খলিফা আঙিনা-তলে।
...হে
খলিফাতুল মুসলিমিন!
হে
চীরধারী
সম্রাট!
অপমান তব করিব না আজ করিয়া
নান্দী
পাঠ,
মানুষেরে তুমি বলেছ বন্ধু, বলিয়াছ ভাই, তাই
তোমারে এমন চোখের পানিতে
স্মরি গো
সর্বদাই। (সংক্ষেপিত)
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| ‘উমর ফারুক’ কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘জিঞ্জীর’ (১৯২৮) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। কবিতাটি মাত্রাবৃত ছন্দে এবং সাধুভাষায় রচিত। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ তিমির- অন্ধকার। ➠ আমির উল-মুমেনিন- বিশ্বাসীদের নেতা; এখানে বিশেষভাবে বোঝানো হয়েছে মুসলামানদের ধর্মীয় প্রধান ও রাষ্ট্রীয় নেতা হজরত উমর (রা) কে। ➠ মুয়াজ্জিন- যিনি আজান দেন। ➠ তকবির- ‘আল্লাহ’ ধ্বনি বা রব। ➠ চকিতে- নিমিষে। ➠ বাতায়ন- জানালা। ➠ গগনে- আকাশে। ➠ মরুর শশী- মরুভূমি চাঁদ। ➠ পাপিয়ার ডাক- স্ত্রী পাখিটাকে বলা হয় পাপিয়া,আর পুরুষটি হলো পিউ। দুটোকে একত্রে পাপিয়া কিম্বা পিউ-পাপিয়া বলা হয়। এদের ডাক হিন্দিতে ‘পিউ কাঁহা’, বাংলায় ‘চোখ গেল’ ডাক অনুযায়ী ঐ নামেও চিহ্নিত করা হয়। সাধারণভাবে পাপিয়ার ডাক একটি পরিচিত এবং শ্রুতিমধুর শব্দ যা অনেকের কাছেই পরিচিত। ➠ শিয়র- মাথা। ➠ আখেরি- শেষ। ➠ দক্ষিণ বাহু- ডান হাত; কারো প্রধান অবলম্বন বা সহযোগীতা বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। ➠ জ্যোতি- উজ্জ্বলতা; দীপ্তি। ➠ ক্ষীণ- মৃদু। ➠ তাপ- উত্তাপ। ➠ হস্ত- হাত। ➠ পেরেসান- বিপর্যস্ত; ক্লান্ত। ➠ পরশ-মানিক- স্পর্শমণি; যার ছোঁয়ায় লোহাও সোনা হয়। ➠ তখত- সিংহাসন। ➠ সাইমুম- শুকনো উত্তপ্ত শ্বাসরোধকারী প্রবল হাওয়া- বিশেষত মরুভূমির হাওয়া। ➠ মশক- পানি বইবার চামড়ার থলে। ➠ দোর্রা- চাবুক। ➠ চীর- ছিন্ন বস্ত্র। ➠ চীরধারী- ছিন্ন বস্ত্র পরিধানকারী। ➠ পিরান- জামা। ➠ নান্দী- স্তুতি; কাব্যপাঠ বা নাটকের শুরুতে ছোট করে মঙ্গলসূচক প্রশস্তি পাঠ। ➠ শমসের- তরবারি। ➠ দস্ত- হাত। ➠ পেরেশান- বিপর্যস্ত; ক্লান্ত। ➠ খালেদ- খালিদ বিন ওয়ালিদ সপ্তম শতাব্দীর একজন আরবের বীর সেনাপতি ছিলেন। খলিফা আবু বকর এবং উমরের সময়কার বীর যোদ্ধা। আবু বকর (রা)-এর মৃত্যুরপর উমর খলিফা হলে খালিদকে পদচ্যুত করে আবু উবাইদাকে সেনাপতি নিয়োগ করেন। কারণ, অনেক মুসলিম বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, খালিদের কারণেই যুদ্ধে বিজয় অর্জিত হচ্ছে। এই ব্যাপারে উমর বলেছিলেন : বিজয় আল্লাহর তরফ থেকে আসে; শুধু খালিদের কারণে নয়। ➠ উমর ফারুক- ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। ইসলাম ধর্মগ্রহণের পূর্বে তিনি পৌত্তলিক ছিলেন। তাঁর খেলাফতের সময়কাল দশ বছর (৬৩৪-৬৪৪ খিষ্টাব্দ)। তাঁর শাসনামলে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমা আরব সাম্রাজ্য থেকে মিশর ও তুর্কিস্তানের সীমা পর্যন্ত প্রসারিত হয়। একজন ন্যায়নিষ্ঠ, নির্ভীক ও গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর খ্যাতি চির অম্লান। 'ফারুক' হজরত উমরের উপাধি। যিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারেন তাঁকেই 'ফারুক' বলা হয়। হজরত উমর (রা.) ছিলেন সত্যের একজন দৃঢ়চিত্ত উপাসক। ➠ ‘তোমার স্মৃতি যে আযানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন’- হজরত উমরের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পূর্বে নামাজের জন্য প্রকাশ্য আজান দেয়ার রীতি ছিল না। কোরেশদের ভয়ে মুসলমানরা উচ্চরবে আজান দিতে সাহস পেত না। উমর ছিলেন কোরেশ বংশোদ্ভূত শ্রেষ্ঠবীর। তিনি যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন, তখন প্রকাশ্যে আজান দিতে আর কোনো বাধা রইল না। তাই আজানের সঙ্গে যে উমরের স্মৃতি বিজড়িত সে কথা অনেক মুয়াজ্জিন জানে না। ➠ জেরুজালেম- ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একটি প্রাচীন শহর জেরুজালেম। ➠ আবু শাহমা- হজরত উমরের পুত্র। মদপানের অপরাধে খলিফা তাকে ৮০টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেন এবং নিজেই বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাতের ফলে আবু শাহমার মৃত্যু হয়। ➠ খলিফাতুল-মুসলেমিন- মুসলিমদের খলিফা; মুসলিমদের প্রতিনিধি |
| ‘রানার’ কবিতার লাইনের ব্যাখ্যা: |
|---|
|
তিমির রাত্রি—‘এশা'র আজান শুনি দূর মসজিদে। ব্যাখ্যা: রাতের অন্ধকারে দূর মসজিদের এশার আজান কবির বুকে হারানো প্রিয়জনের কান্নার মতো বিঁধে যায়। সূচনা-ইঙ্গিতে বোঝায়—আজানের ধ্বনি কবিকে উমর ফারুকের স্মৃতিতে টেনে নিচ্ছে।
আমির-উল-মুমেনিন, ব্যাখ্যা: কবি আমির-উল-মুমেনিন (বিশ্বাসীদের নেতা) উমর ফারুককে সম্বোধন করে বলছেন—আজানের ধ্বনিতে তাঁর স্মৃতি জাগ্রত হয়, যদিও মুয়াজ্জিন (আজানদাতা) তা জানেন না। আজানের তকবির ধ্বনি শোনামাত্রই কবি শয্যা থেকে চমকে উঠে বসেন এবং জানালার দিকে তাকিয়ে মরুভূমির আকাশে চাঁদ উঠেছে কি না দেখতে চান। তিনি ভাবেন-এই আজানের সুর কি শুধু সাধারণ পাখির (পাপিয়া) ডাক, না কি চকোর পাখির গান? নাকি মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে এটি উমর ফারুকেরই কোনো আহ্বান, যা তাঁকে ন্যায়, সত্য ও ইসলামের সোনালি যুগের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
আবার লুটায়ে পড়ি।
ব্যাখ্যা: কবি আবার শয্যায় শুয়ে পড়েন, কিন্তু কালের ঘড়ির শব্দ যেন তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেয়-উমরের সেই স্বর্ণযুগ চলে গেছে। তিনি উমরকে সম্বোধন করে বলেন-আপনি ছিলেন শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ডান হাত, তাঁর দৃঢ় সহচর। আজ আবার সেই রূপে আসুন, কারণ অন্ধকারের ‘রাহু’ ইসলামকে গ্রাস করছে। ইসলাম ছিল সূর্যের মতো উজ্জ্বল, কিন্তু আজ তার আলো ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে; সত্যের উজ্জ্বল আলো নিভে গিয়ে ক্ষুদ্র জোনাকির মতো ক্ষীণ আলোকচ্ছটা মাত্র আছে।
অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধূলার তখতে বসি
ব্যাখ্যা: এ অংশে কবি হজরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর শাসনকালীন সরল জীবনযাপন, আত্মসংযম ও বিনয়ের কথা তুলে ধরেছেন।
হেরি পশ্চাতে চাহি—
ব্যাখ্যা: এ অংশে কবি হজরত উমর ফারুক (রাঃ)-এর বিনয়, সরলতা ও দায়িত্ববোধকে এক ঐতিহাসিক ঘটনার মাধ্যমে চিত্রিত করেছেন।
কবি কল্পনায় দেখছেন-উমর ফারুক রোদের তাপে দগ্ধ মরুপথ ধরে হাঁটছেন। তখন জেরুজালেমের দুর্গ দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম বাহিনী অবরোধ করে রেখেছে। শত্রুরা অবশেষে আত্মসমর্পণে রাজি হয় এই শর্তে-শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অবশ্যই উমরকে আসতে হবে।
....ভৃত্য হস্ত চুমি
ব্যাখ্যা: ভৃত্যের আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভক্তি প্রকাশ পেয়েছে। যখন হজরত উমর (রাঃ) তাঁকে উটে বসতে এবং নিজে উটের রশি ধরে হাঁটতে বলেন, তখন ভৃত্য গভীর আবেগে আপত্তি জানায়।
খলিফা হাসিয়া বলে,
ব্যাখ্যা: হজরত উমর ফারুক (রাঃ) অত্যন্ত বিনয়ী ও নীতিবান শাসক হিসেবে তাঁর চিন্তাভাবনা প্রকাশ করছেন। ভৃত্যের আপত্তির জবাবে তিনি হাসিমুখে বলেন-তুমি যদি এখন উটে বসো, তাহলে পরে সবাই ভাববে তুমি আমাকে হারিয়ে বড় হয়ে গেছ, অর্থাৎ আমাকেই সেবা করেছ। কিন্তু কিয়ামতের দিনে যখন আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন—“হে উমর! তুমি কি খলিফা হয়ে নিজের আরামের জন্য ভৃত্যকে কষ্ট দিয়েছ?”—তখন আমি কী উত্তর দেব?
কী দিব জওয়াব কী করিয়া মুখ দেখাব রসুলে ভাই।
ব্যাখ্যা: হজরত উমর ফারুক (রাঃ) তাঁর শাসনদর্শন ও মানবিক মূল্যবোধের গভীরতা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন—কিয়ামতের দিনে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সামনে কী উত্তর দেব যদি মানুষের প্রতিনিধি হয়েও আমি নিজের আরামের জন্য অন্যকে কষ্ট দিই? তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, তিনি কেবল জনগণের প্রতিনিধি, নিজের জন্য কোনো বিশেষ অধিকার দাবি করেন না।
জানি না, সেদিন আকাশে পুষ্প বৃষ্টি হইল কিনা,
ব্যাখ্যা: কবি উমর ফারুক (রাঃ)-এর মানবিকতা ও বিনয়কে কাব্যিকভাবে মহিমান্বিত করেছেন। তিনি কল্পনা করছেন—যেদিন উমর নিজের আরামের চেয়ে ভৃত্যের আরামকে অগ্রাধিকার দিয়ে উটের রশি হাতে মরুভূমিতে হেঁটেছিলেন, সেদিনের সেই দৃশ্য হয়তো আকাশের ফেরেশতারাও বিস্ময়ে দেখেছিল।
তুমি নির্ভীক, এক খোদা ছাড়া করনি ক' কারে ভয়
ব্যাখ্যা: কবি উমর ফারুক (রাঃ)-এর নির্ভীকতা, সত্যনিষ্ঠা ও ন্যায়বোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি ছিলেন এমন একজন শাসক যিনি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারও ভয়ে মাথা নত করতেন না। সত্যের পথে অবিচল থাকার কারণে সবাই তাঁকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করত।
মানব-প্রেমিক! আজিকে তোমারে স্মরি,
ব্যাখ্যা: কবি উমর ফারুক (রাঃ)-এর মানবপ্রেম, দয়া ও দায়িত্ববোধের এক অসাধারণ ঘটনা বর্ণনা করেছেন। একদিন রাতে তিনি নগরভ্রমণে বের হয়ে দূরে একটি দৃশ্য দেখলেন—এক দরিদ্র মা তার দুই ক্ষুধার্ত সন্তানকে কোলে নিয়ে সান্ত¡না দেওয়ার চেষ্টা করছে। উনুনে শূন্য হাঁড়ি চড়ানো, কিন্তু তাতে কোনো খাবার নেই; মা শুধু সন্তানদের শান্ত করতে হাঁড়ি বসিয়ে রেখেছে। সন্তানরা ক্ষুধায় কাঁদছে আর মা অসহায়ভাবে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছে।
এত যে কোমল প্রাণ,
ব্যাখ্যা: কবি উমর ফারুক (রাঃ)-এর চরিত্রের আরেকটি দিক-ন্যায়পরায়ণতা ও দৃঢ়তা-প্রকাশ করেছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয়ের মানুষ, মানুষের কষ্টে যিনি মর্মাহত হতেন। কিন্তু সেই কোমলতা কখনও ন্যায়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
আবু শাহমার গোরে
ব্যাখ্যা: কবি উমর ফারুক (রাঃ)-এর বিনয়, সাধারণ জীবনযাপন এবং মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার চিত্র তুলে ধরেছেন। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি: |
|---|
| ‘উমর ফারুক’ কবিতাটিতে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। খলিফা উমর (রা) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। নিজ ভৃত্যকেও তিনি তাঁর সঙ্গে সমান মর্যাদা দিতে কুণ্ঠিত হননি। ন্যায়ের আদর্শ সমুন্নত রাখতে তিনি আপন সন্তানকে কঠোরতম শাস্তি দিতেও দ্বিধাবোধ করেননি। তিনি ছিলেন আমির-উল-মুমেনিন। রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁকে আদর্শবান ব্যক্তিত্ব বলে বিশ্বাস করেই বলেছিলেন, তাঁর পরে যদি কেউ নবি হতেন, তাহলে তিনি হতেন উমর। মহৎপ্রাণ ও আদর্শ মানব চরিত্র অর্জনের জন্য উমর ফারুককে কবি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে কবিতায় উপস্থাপন করেছেন। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
|
কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে (২৪শে মে ১৮৯৯) ভারতের
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ
করেন। ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন। পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের
ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯১৭ সালে তিনি
সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। সেখানেই তাঁর
সাহিত্য-জীবনের সূচনা ঘটে। তাঁর লেখায় তিনি সামাজিক অবিচার ও পরাধীনতার
বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। এজন্য তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ বলা হয়। বাংলা
সাহিত্য জগতে তাঁর আবির্ভাব এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে। কবিতা, উপন্যাস,
নাটক, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি সাহিত্যের সকল শাখায় তিনি প্রতিভার
স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি গজল, খেয়াল ও রাগপ্রধান গান রচনা করে খ্যাতি অর্জন
করেন। আরবি-ফারসি শব্দের সার্থক ব্যবহার তাঁর কবিতাকে বিশিষ্টতা দান করেছে।
মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে
ফেলেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির
মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে অগ্নিবীণা, বিষের
বাঁশি, ছায়ানট, প্রলয়শিখা, চক্রবাক, সিন্ধুহিন্দোল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলিমালা, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা ইত্যাদি তাঁর
রচিত গল্প ও উপন্যাস। যুগবাণী, দুর্দিনের যাত্রী ও রাজবন্দীর জবানবন্দী
তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ। ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে (বর্তমান নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
১। প্রিয়-হারা কান্নার মতো কীসের ধ্বনি কবির বুকে এসে বিঁধে? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
১. হজরত উমরকে ‘আমিরুল মুমেনিন’ বলার কারণ কী?
২. “সাইমুম-ঝড়ে পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক’ নুয়ে”—বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
৩. ইসলামকে পরশমানিক বলা হয় কেন?
৪. আবু শাহমাকে হজরত উমর কেন বেত্রাঘাত করছিলেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করো।
৫. হজরত উমর (রা)-এর প্রাসাদ খসে গিয়েছিল কেন?
৬. ‘অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি’—এ পঙ্ক্তির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
৭. ‘পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক’ নুয়ে’—এ চরণ দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
৮. ইসলামকে ‘পরশমানিক’ বলা হয়েছে কেন?
৯. খলিফা হজরত উমর (রা.) কীরকম জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন? ব্যাখ্যা করো।
১০. ‘মোর পরে যদি নবি হত কেউ, হত সে এক উমর।’—হজরত মুহম্মদ (স.) এ কথা বলেছেন কেন? বুঝিয়ে লেখো।
১১. আমির-উল-মুমেনিন, তোমার স্মৃতি যে আজানের ধ্বনি জানে না মুয়াজ্জিন।—প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কি বোঝানো হয়েছে?
১২. ‘উমর ফারুক’ কবিতায় কবি নজরুল ইসলাম ইসলাম ধর্মকে ‘পরশমানিক’ বা পরশপাথর বলে উল্লেখ করেছেন কেন?
১৩. ‘আর একবার লোহিত সাগরে লালে-লাল হয়ে মরি।’—এ চরণটিতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
১৪. ‘খেজুরপাতার প্রাসাদ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১৫. ‘ইসলাম বলে, সকলে সমান, কে বড়ো ক্ষুদ্র কে বা’—চরণটি ব্যাখ্যা করো।
১৬. ‘করুণার বশে তবু গো ন্যায়ের করনি ক অপমান।’—এ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
১৭. ‘মম অপরাধে ক্ষুধায় শিশুরা কাঁদিয়াছে, আজি তার প্রায়শ্চিত্ত করিব আপনি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
১৮. ‘মানুষেরে স্বর্গে তুলিয়া ধরিয়া ধূলায় নামিল শশী’—কথাটি বুঝিয়ে লেখো। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘উমর ফারুক’ কবিতা কোন কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে? |
|
ক. ‘উমর ফারুক’ কবিতাটি ‘জিঞ্জীর’ কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
গ. একজন আদর্শ ন্যায়বান শাসকের চরিত্রের দিক থেকে চেয়ারম্যান আব্বাস আলী
হজরত উমরের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. আব্বাস আলী চেয়ারম্যানকে উমরের মতো আদর্শ মানুষ হতে হলে একজন প্রকৃত
শাসকের যেসব গুণ রয়েছে সেগুলো তাকে ধারণ করতে হবে। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘সাইমুম’ কী? |
|
ক. সাইমুম হলো শুকনো উত্তপ্ত শ্বাসরোধকারী প্রবল হাওয়া।
গ. উদ্দীপকের ঘটনা-২-এর সাথে ‘উমর ফারুক’ কবিতার ন্যায়বিচার দিকটির
সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে শুধু মানবপ্রেম ও ন্যায়বিচারের দিকটি উঠে আসায় খলিফার
চারিত্রিক মাহাত্ম্যের সমগ্র দিক প্রকাশ পায়নি। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. হিব্রু ভাষায় ‘জেরুজালেম’ শব্দের উচ্চারণ কী? |
|
ক. হিব্রু ভাষায় ‘জেরুজালেম’ শব্দর অর্থ
গ. উদ্দীপকে মহানবি (স.)-এর ইসলামের জন্য নিভীক চরিত্রের আদর্শের পরিচয়
পাওয়া যায় তা উমর ফারুক (রা.)-এর চরিত্রেও প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. ‘মহানবির আদর্শ তাঁর সাহাবিদের চরিত্রকেও আলোকিত করেছিল।’- মন্তব্যটি
যথার্থ। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ইসলামের দ্বিতীয় খলিফার নাম কী? |
|
ক. ইসলামের দ্বিতীয় খলিফার নাম হজরত উমর (রা.)।
গ. উদ্দীপকটিতে ভৃত্যকে সমান মর্যাদা দেওয়ার যে মানসিকতা ফুটে উঠেছে
বর্তমান সমাজে তার সীমিত প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
ঘ. খলিফা উমর (রা.) ছিলেন ন্যায়, মানবতা ও সাম্যের জীবন্ত প্রতীক। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘আমির-উল-মুমেনিন’ শব্দের অর্থ কী? |
|
ক. ‘আমির-উল-মুমেনিন’ শব্দের অর্থ- বিশ্বাসীদের নেতা।
গ. উদ্দীপকের ঘটনা-২-এর সাথে 'উমর ফারুক' কবিতার নিজের সন্তান হলেও
অন্যায়ের শাস্তিবিধানের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. পরোপকারিতা ও অন্যায়ের শাস্তিবিধান ছাড়া আরও বৈশিষ্ট্য হজরত উমর
(রা.)-এর মধ্যে উপস্থিত থাকায় উদ্দীপকদ্বয়ের মাধ্যমে খলিফার চারিত্রিক
মাহাত্মের সমগ্র দিক প্রকাশ পায়নি। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘উমর ফারুক’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের
অন্তর্ভুক্ত? |
|
ক. ‘উমর ফারুক’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘জিঞ্জীর’ কাব্যগ্রন্থের
অন্তর্ভুক্ত।
গ. উদ্দীপকে আলম হোসেনের চরিত্রে হজরত উমর (রা.)-এর চারিত্রিক গুণাবলি
ন্যায়পরায়ণতার প্রকাশ ঘটেছে।
ঘ. অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকায় আলম হোসেনের শাসনকার্যে উমর
ফারুক (রা.)-এর শাসনকার্যের প্রতিফলন ঘটেছে। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. খলিফা উমর (রা) আবু শাহমাকে কয়টি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেন? |
|
ক. খলিফা উমর (রা) আবু শাহমাকে আশিটি বেত্রাঘাতের নির্দেশ দেন।
গ. উদ্দীপকটি ‘উমর ফারুক’ কবিতায় মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ ও
মানবিক আদর্শের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সমস্যা-সংকটে পড়ে মানুষ নানা
জনের সাহায্য প্রার্থনা করে। সাহায্যপ্রার্থীদের দিকে করুণার নয়,
দায়িত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রত্যেকের অবশ্য কর্তব্য।
ঘ. “জগতে প্রকৃত মানুষরাই মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসেন।”- উদ্দীপক ও
কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘আমির-উল-মুমেনিন’ শব্দের অর্থ কী? |
|
ক ‘আমির-উল-মুমেনিন’ শব্দের অর্থ হলো- বিশ্বাসীদের নেতা।
গ. খলিফা উমরের (রা) চরিত্রের অন্যতম গুণ ছিল আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা
যা উদ্দীপকের ঘটনা-২-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকের ঘটনা-১ ও ঘটনা-২-এর মাধ্যমে খলিফার চরিত্রের সামগ্রিক দিক
প্রকাশ পায় না। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ০৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. জেরুজালেম কী? |
|
ক. জেরুজালেম হচ্ছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একটি প্রাচীন শহর।
গ. উদ্দীপকটি ‘উমর ফারুক’ কবিতার হজরত উমরের মানবিকতা ও মানবকল্যাণে
আত্মনিয়োগের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব ‘উমর ফারুক’ কবিতার মূলভাবকে
প্রতিফলিত করে না।” মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. অর্ধ পৃথিবী কে শাসন করেছেন? |
|
ক. হজরত উমর ফারুক (রা) অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন।
গ. উদ্দীপকের হজরত আবু বকর (রা)-এর সঙ্গে ‘উমর ফারুক’ কবিতায় হজরত উমর
ফারুক (রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. “তাৎপর্যগত দিক থেকে উদ্দীপকের হজরত আবু বকর (রা) ও কবিতার হজরত উমর
(রা) একই আদর্শের ধারক”- উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. আখেরি নবির দক্ষিণ বাহু কে? |
|
ক. আখেরি নবির দক্ষিণ বাহু হলেন হজরত উমর ফারুক (রা)।
গ. সমস্ত অত্যাচার আর অরাজকতার অবসান ঘটানোর জন্য ‘উমর ফারুক’ কবিতায় কবি
ব্যাকুল কণ্ঠে হজরত উমর ফারুক (রা)-কে আবার পৃথিবীতে আসার যে আহ্বান
জানিয়েছেন সেই দিকটিই উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘উমর ফারুক’ কবিতার সমগ্র ভাবের ধারক নয়।”- মন্তব্যটি ‘উমর
ফারুক’ কবিতার আংশিক ভাবকে ধারণ করে। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. জেরুজালেমের কেল্লা কারা অবরোধ করে আছে? |
|
ক. কি জেরুজালেমের কেল্লা বীর মুসলিম সেনাদল অবরোধ করে আছে।
গ. ‘উমর ফারুক’ কবিতায় হজরত উমর ফারুক (রা)-এর চরিত্রের সঙ্গে আদর্শগত
দিক থেকে উদ্দীপকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ক্ষমতা ও লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়।
নিজের জঘন্য ইচ্ছা চরিতার্থ করতে গিয়ে অনেকে অন্যের অধিকার কেড়ে নেয়।
ঘ “উদ্দীপকের আলোচিত বর্তমান ক্ষমতাধরদের চরিত্র পরিবর্তনে ‘উমর ফারুক’
কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা) একজন আদর্শ হতে পারে।’- উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ক্ষুধার্ত শিশু দুটিকে ভোলাতে মা কী করলেন? |
|
ক. ক্ষুধার্ত শিশু দুটিকে ভোলাতে মা উনুনে শূন্য হাঁড়ি চড়ালেন।
গ. উদ্দীপকের সালাম সাহেবের চরিত্রের সঙ্গে ‘উমর ফারুক’ কবিতার উমর ফারুক
(রা)-এর চরিত্রের মিল রয়েছে।
ঘ ‘উদ্দীপকটি ‘উমর ফারুক’ কবিতার আংশিক ভাবের ধারক।”- মন্তব্যটি
যথার্থ। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. খাস দরবার কীসে ভরল? |
|
ক. খাস দরবার হাজার দেশের লোকে ভরল।
গ. উদ্দীপকটি ‘উমর ফারুক’ কবিতায় মদ্যপানের অপরাধে হজরত উমর ফারুক
(রা)-এর পুত্র আবু শাহমাকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করে।
ঘ. “উদ্দীপকের আবদুর রহমান সাহেব ও ‘উমর ফারুক’ করিতার হজরত উমর ফারুক
(রা) একই আদর্শের অনুসারী।”- উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘উমর ফারুক’ কবিতায় ‘চীরধারী সম্রাট’ বলা হয়েছে কাকে? |
|
ক. ‘উমর ফারুক’ কবিতায় হজরত উমর (রা)-কে ‘চীরধারী সম্রাট’ বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে ‘উমর ফারুক’ কবিতার সাম্যবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. “মহানবির আদর্শ তাঁর সাহাবিদের চরিত্রেকেও আলোকিত করেছিল।”- মন্তব্যটি
যথার্থ। |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. উমর (রা.) নগর ভ্রমণে বের হয়ে কী দেখতে পান? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘উমর ফারুক’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের
অন্তর্ভুক্ত? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. উমর (রা.) নগর ভ্রমণে বের হয়ে কী দেখতে পান? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. হজরত উমর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কী ছিলেন? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘পরশমণি’ শব্দটির অর্থ কী? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. জেরুজালেম শহরের প্রতিষ্ঠাতা কে? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. হজরত উমর (রা.) কোন মরুভূমি পার হয়ে জেরুজালেম পৌঁছেন? |
| ‘উমর ফারুক’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ইসলামকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন? |
| তথ্যসূত্র : |
|---|
|
১. বাংলা সাহিত্য : নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫। ২. নজরুলের কবিতাসমগ্র: কবি নজরুল ইনসটিটিউট, তৃতীয় সংস্করণ, নভেম্বর ২০১৯। ৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
| মূল কবিতা |
|---|
উমর ফারুক
তিমির রাত্রি-এশার আজান শুনি দূর মসজিদে, |
