তৈলচিত্রের ভূত- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
|
| তৈলচিত্রের ভূত |
তৈলচিত্রের ভূত
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
একদিন সকাল বেলা পরাশর ডাক্তার নিজের প্রকাণ্ড লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখছিলেন। চোরের মতো নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে নগেন ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে তার টেবিল ঘেঁষে দাঁড়াল। পরাশর ডাক্তার মুখ না তুলেই বললেন, বোসো, নগেন। চিঠিখানা শেষ করে খামে ভরে ঠিকানা লিখে চাকরকে ডেকে সেটি ডাকে পাঠিয়ে দিয়ে তবে আবার নগেনের দিকে তাকালেন।
‘বসতে বললাম যে? এ রকম চেহারা হয়েছে কেন? অসুখ নাকি?’
নগেন ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পড়ল। চোরকে যেন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে সে চুরি করে কি না, এইরকম অতিমাত্রায় বিব্রত হয়ে সে বলল, ‘না না, অসুখ নয়, অসুখ আবার কিসের।’
গুরুতর কিছু ঘটেছে সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ হয়ে পরাশর ডাক্তার দুহাতের আঙুলের ডগাগুলি একত্র করে নগেনকে দেখতে লাগলেন। মোটাসোটা হাসিখুশি ছেলেটার তেল চকচকে চামড়া পর্যন্ত যেন শুকিয়ে গেছে, মুখে হাসির চিহ্নটুকুও নেই। চাউনি একটু উদভ্রান্ত। কথা বলার ভঙ্গি পর্যন্ত কেমন খাপছাড়া হয়ে গেছে।
নগেন তার মামাবাড়িতে থেকে কলেজে পড়ে। মাস দুই আগে নগেনের মামার শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণ রাখতে গিয়ে পরাশর ডাক্তার নগেনকে দেখেছিলেন। এই অল্প সময়ের মধ্যে এমন কী ঘটেছে যাতে ছেলেটা এরকম বদলে যেতে পারে? ছেলেবেলা থেকে মামাবাড়িতেই সে মানুষ হয়েছে বটে কিন্তু মামার শোকে এরকম কাহিল হয়ে পড়ার মতো আকর্ষণ তো মামার জন্য তার কোনো দিন ছিল না। বড়লোক কৃপণ মামার যে ধরনের আদর বেচারি চিরকাল পেয়ে এসেছে তাতে মামার পরলোক যাত্রায় তার খুব বেশি দুঃখ হবার কথা নয়। বাইরে মামাকে খুব শ্রদ্ধাভক্তি দেখালেও মনে মনে নগেন যে তাকে প্রায়ই যমের বাড়ি পাঠাত তাও পরাশর ডাক্তার ভালো করেই জানতেন। পড়ার খরচের জন্য দুশ্চিন্তা হওয়ার কারণও নগেনের নেই, কারণ শেষ সময়ে কী ভেবে তার মামা তার নামে মোটা টাকা উইল করে রেখে গেছেন।
নগেন হঠাৎ কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, ‘ডাক্তার কাকা, সত্যি করে একটা কথা বলবেন? আমি কি পাগল হয়ে গেছি?’ পরাশর ডাক্তার একটু হেসে বললেন, ‘তোমার মাথা হয়ে গেছ। পাগল হওয়া কি মুখের কথা রে বাবা! পাগল যে হয় অত সহজে সে টের পায় না সে পাগল হয়ে গেছে।’
‘তবে’- দ্বিধা ভরে খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে হঠাৎ নগেন যেন মরিয়া হয়ে জিজ্ঞাসা করে বসল, ‘আচ্ছা ডাক্তার কাকা, প্রেতাত্মা আছে?’
‘প্রেতাত্মা মানে তো ভূত? নেই।’
‘নেই? তবে-’
অনেকক্ষণ ইতস্তত করে, অনেক ভূমিকা করে, অনেকবার শিউরে উঠে নগেন ধীরে ধীরে আসল ব্যাপারটা খুলে বলল। চমকপ্রদ অবিশ্বাস্য কাহিনি। বিশ্বাস করা শক্ত হলেও পরাশর ডাক্তার বিশ্বাস করলেন। মিথ্যা গল্প বানিয়ে তাকে শোনাবার ছেলে যে নগেন নয়, তিনি তা জানতেন।
মামা তাকেও প্রায় নিজের ছেলেদের সমান টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন জেনে প্রথমটা নগেন একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল। মামার এরকম উদারতা সে কোনোদিন কল্পনাও করতে পারে নি। বাইরে যেমন ব্যবহারই করে থাকুন, মামা তাকে নিজের ছেলেদের মতোই ভালোবাসতেন জেনে পরলোকগত মামার জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধাভক্তিতে তার মন ভরে গেল। আর সেই সঙ্গে জাগল এরকম দেবতার মতো মানুষকে সারা জীবন ভক্তি-ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছে ভেবে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ। শ্রাদ্ধের দিন অনেক রাত্রে বিছানায় শুতে যাওয়ার পর অনুতাপটা যেন বেড়ে গেল-শুয়ে শুয়ে সে ছটফট করতে লাগল। হঠাৎ এক সময় তার মনে হলো, সারা জীবন তো ভক্তি-শ্রদ্ধার ভান করে মামাকে সে ঠকিয়েছে, এখন যদি সত্য সত্যই ভক্তি-শ্রদ্ধা জেগে থাকে লাইব্রেরি ঘরে মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে এলে হয়তো আত্মগ্লানি একটু কমবে, মনটা শান্ত হবে।
রাত্রি তখন প্রায় তিনটে বেজে গেছে, সকলে আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়েছে, বাড়ি অন্ধকার। এত রাত্রে ঘুমানোর বদলে মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করার জন্য বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়াটা যে রীতিমতো খাপছাড়া ব্যাপার হবে সে জ্ঞান নগেনের ছিল। তাই কাজটা সকালের জন্য স্থগিত রেখে সে ঘুমোবার চেষ্টা করল। কিন্তু তখন তার মাথা গরম হয়ে গেছে। মন একটু শান্ত না হলে যে ঘুম আসবার কোনো সম্ভাবনা নেই, কিছুক্ষণ এপাশ ওপাশ করার পর সেটা ভালো করেই টের পেয়ে শেষকালে মরিয়া হয়ে সে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল।
লাইব্রেরিটি নগেনের দাদামশায়ের আমলের। লাইব্রেরি সম্পর্কে নগেনের মামার বিশেষ কোনো মাথাব্যথা ছিল না। তার আমলে গত ত্রিশ বছরের মধ্যে লাইব্রেরির পিছনে একটি পয়সাও খরচ করা হয়েছে কি না সন্দেহ। আলমারি কয়েকটি অল্প দামি আর অনেক দিনের পুরোনো, ভেতরগুলি বেশির ভাগ অদরকারি বাজে বইয়ে ঠাসা এবং ওপরে বহুকালের ছেঁড়া মাসিকপত্র আর নানা রকম ভাঙাচোরা ঘরোয়া জিনিস গাদা করা। টেবিলটি এবং চেয়ার কয়েকটি খুব সম্ভব অন্য ঘর থেকে পেনশন পেয়ে এ ঘরে স্থান পেয়েছে। দেয়ালে তিনটি বড় বড় তৈলচিত্র, সস্তা ফ্রেমে বাঁধানো কয়েকটা সাধারণ রঙিন ছবি ও ফটো টাঙানো। তা ছাড়া কয়েকটা পুরানো ক্যালেন্ডারের ছবিও আছে-কোনোটাতে ডিসেম্বর, কোনোটাতে চৈত্রমাসের বারো তারিখ লেখা কাগজের ফলক এখনো ঝুলছে।
তৈলচিত্রের একটি নগেনের দাদামশায়ের, একটি দিদিমার এবং অপরটি তার মামার। দাদামশায় আর দিদিমার তৈলচিত্র দুটি একদিকের দেয়ালে পাশাপাশি টাঙানো আছে, মামার তৈলচিত্রটি স্থান জুড়ে আছে পাশের দেয়ালের মাঝামাঝি।
কারো ঘুম ভেঙে যাবে ভয়ে নগেন আলো জ্বালে নি। কিন্তু তাতে তার কোনো অসুবিধা ছিল না, ছেলেবেলা থেকে এ বাড়ির আনাচ-কানাচের সঙ্গে তার পরিচয়। লাইব্রেরিতে ঢুকে অন্ধকারেই সে মামার তৈলচিত্রের কাছে এগিয়ে গেল। অস্ফুট স্বরে ‘আমায় ক্ষমা করো মামা’ বলে যেই সে তৈলচিত্রের পায়ের কাছে আন্দাজে স্পর্শ করেছে-বর্ণনার এখানে পৌঁছে নগেন শিউরে চুপ করে গেল। তার মুখ আরও বেশি ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, দুচোখ বিস্ফারিত।
‘তারপর?’
নগেন ঢোক গিলে জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে বলল, ‘যেই ছবি ছুঁয়েছি ডাক্তার কাকা, কে যেন আমাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে ফেলে দিল। সমস্ত শরীর ঝনঝন করে উঠল, তারপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান হতে দেখি, সকাল হয়ে গেছে, আমি মামার ছবির নিচে মেঝেতে পড়ে আছি।’
পরাশর ডাক্তার গম্ভীর মুখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমার আগে কোনো দিন ফিট হয়েছিল নগেন?’
নগেন মাথা নেড়ে বলল ‘ফিট? না, কস্মিনকালেও আমার ফিট হয় নি। আপনি ভুল করেছেন ডাক্তার কাকা, এ ফিট নয়; মরলে তো মানুষ সব জানতে পারে, মামাও জানতে পেরেছেন টাকার লোভে আমি মিথ্যা ভক্তি দেখাতাম। তাই ছবি ছোঁয়ামাত্র রাগে ঘেন্নায় আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন। সবটা শুনুন আগে, তা হলে বুঝতে পারবেন।’
সমস্ত সকাল নগেন মড়ার মতো বিছানায় পড়ে রইল। এই চিন্তাটাই কেবল তার মনে ঘুরপাক খেতে লাগল, ভক্তি ভালোবাসার ছলনায় টাকা আদায় করে নিযেছে বলে পরলোকে গিয়েও তার ওপর মামার এমন জোরালো বিতৃষ্ণা জেগেছে যে তার তৈলচিত্রটি পর্যন্ত তিনি তাকে স্পর্শ করতে দিতে রাজি নন। যাই হোক, নগেন একালের ছেলে, প্রথম ধাক্কাটা কেটে যাবার পর তার মনে নানারকম দ্বিধা-সন্দেহ জাগতে লাগল। কে জানে রাত্রে যা ঘটেছে তা নিছক স্বপ্ন কিনা। ধৈর্য ধরতে না পেরে দুপুরবেলা সে আবার লাইব্রেরিতে গিয়ে মামার তৈলচিত্র স্পর্শ করে প্রণাম করল। একবার যদি মামা রাগ দেখিয়ে থাকেন, আবার দেখাবেন না কেন?
এবার কিছুই ঘটল না। শরীরটা অবশ্য খুব খারাপ হয়ে আছে, মেঝেতে ধাক্কা যেখানে লেগেছিল মাথার সেখানটা ফুলে টনটন করছে এবং সকালে লাইব্রেরিতে মামার তৈলচিত্রের নিচে মেঝেতেই তার জ্ঞান হয়েছিল। কিন্তু এতে বড়জোর প্রমাণ হয়, রাত্রে ঘুমের মধ্যেই হোক আর জাগ্রত অবস্থাতেই হোক লাইব্রেরিতে গিয়ে সে একটা আছাড় খেয়েছিল। নিজের তৈলচিত্রে ভর করে মামাই যে তাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন তার কী প্রমাণ আছে?
নগেন যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাঁচল। কিন্তু বেশিক্ষণ তার মনের শাস্তি টিকল না। রাত্রে আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়েই হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল, তার তো ভুল হয়েছে। দিনের বেলা তাকে ধাক্কা দেয়ার ক্ষমতা তো তার মামার এখন নেই, রাত্রি ছাড়া তার মামা তো এখন কিছুই করতে পারেন না! কী সর্বনাশ। তবে তো রাত্রে আরেকবার মামার তৈলচিত্র না ছুঁয়ে কাল রাত্রের ব্যাপারকে স্বপ্ন বলা যায় না।
এত রাত্রে আবার লাইব্রেরিতে যাওয়ার কথা ভেবেই নগেনের হৃৎকম্প হতে লাগল। কিন্তু এমন একটা সন্দেহ না মিটিয়েই বা মানুষের চলে কী করে? খানিকটা পরে নগেন আবার লাইব্রেরিতে হাজির। ভয়ে বুক কাঁপছে, ছুটে পালাতে ইচ্ছে হচ্ছে, কিন্তু কী এক অদম্য আকর্ষণ তাকে টেনে নিয়ে চলেছে মামার তৈলচিত্রের দিকে। ঘরে ঢুকেই সে সুইচ টিপে আলো জ্বেলে দিল। মটকার পাঞ্জাবির ওপর দামি শাল গায়ে মামা দেয়ালে দাঁড়িয়ে আছেন। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল, মুখে একজোড়া মোটা গোঁফ, চোখে ভর্ৎসনার দৃষ্টি। নগেন এগিয়ে গিয়ে মামার পায়ের কাছে ছবি স্পর্শ করল। কেউ তাকে ঠেলে সরিয়ে দিল না, কিন্তু সমস্ত শরীর হঠাৎ যেন কেমন অস্থির-অস্থির করতে লাগল। তৈলচিত্র থেকে কী যেন তার মধ্যে প্রবেশ করে ভেতর থেকে তাকে কাঁপিয়ে তুলছে।
তবু নগেন যেন বাঁচল। ভয়ের জন্য শরীর এরকম অস্থির অস্থির করতে পারে। সেটা সামান্য ব্যাপার।
ফিরে যাওয়ার সময় আলোটা নিভিয়েই নগেন আবার থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। তার আরেকটা কথা মনে এসেছে। কাল ঘর অন্ধকার ছিল, আজ আলোটা থাকার জন্য যদি মামা কিছু না করে থাকেন? নগেনের ভয় অনেকটা কমে গিয়েছিল, অনেকটা নিশ্চিন্ত মনেই সে অন্ধকারে তৈলচিত্রের কাছে ফিরে গেল। সে জানে অন্ধকারে তৈলচিত্র স্পর্শ করলেও কিছু হবে না। ঘরে একটা আলো জ্বলছে কি জ্বলছে না তাতে বিশেষ কী আসে যায়? ইতস্তত না করেই সে সোজা তৈলচিত্রের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। পরক্ষণে-
‘ঠিক প্রথম রাত্রের মতো জোরে ধাক্কা দিয়ে মামা আমায় ফেলে দিলেন ডাক্তার কাকা।’
‘অজ্ঞান হয়ে গেলে?’
‘না, একেবারে অজ্ঞান হয়ে যাই নি। অবশ্য আচ্ছন্নের মতো অনেকক্ষণ মেঝেতে পড়েছিলাম, কিন্তু জ্ঞান ছিল। তারপর থেকে আমি ঠিক পাগলের মতো হয়ে গেছি ডাক্তার কাকা। দিনরাত কেবল এই কথাই ভাবি। রোজ কতবার ঠিক করি বাড়ি ছেড়ে কোথাও পালিয়ে যাব, কিন্তু যেতে পারি না, কীসে যেন আমায় জোর করে আটকে রেখেছে।’
পরাশর ডাক্তার খানিক্ষণ ভেবে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তারপর আর কোনোদিন ছবিটা ছুঁয়েছ?’
‘কতবার। দিনে ছুঁয়েছি, রাত্রে ছুঁয়েছি, আলো জ্বেলে ছুঁয়েছি, অন্ধকারে ছুঁয়েছি। ঠিক ওইরকম ব্যাপার ঘটে। দিনে বা রাত্রে আলো জ্বেলে ছুঁলে কিছু হয় না, অন্ধকারে ছোঁয়ামাত্র মামা আমাকে ঠেলে দেন। সমস্ত শরীর যেন ঝনঝনিয়ে ঝাঁকানি দিয়ে ওঠে। কোনোদিন অজ্ঞান হয়ে যাই, কোনোদিন জ্ঞান থাকে।
বলতে বলতে নগেন যেন একেবারে ভেঙে পড়ল, 'আমি কী করব ডাক্তার কাকা? এমন করে কদিন চলবে?’
পরাশর ডাক্তার বললেন, ‘তার দরকার হবে না। আমি সব ঠিক করে দেব। আজ সকলে ঘুমিয়ে পড়লে রাত্রি ঠিক বারোটার সময় তুমি বাইরের ঘরে আমার জন্য অপেক্ষা কোরো, আমি যাব।
একটু থেমে আবার বললেন, ‘ভূত বলে কিছু নেই, নগেন।’
তবু মাঝরাত্রে অন্ধকার লাইব্রেরিতে পরাশর ডাক্তার মৃদু একটু অস্বস্তি বোধ করতে লাগলেন। এ ঘরে বাড়ির লোক খুব কম আসে। ঘরের বাতাসে পুরোনো কাগজের একটা ভাপসা গন্ধ পাওয়া যায়। নগেন শক্ত করে তার একটা হাত চেপে ধরে কাঁপছে। কীসের ভয়? ভূতের? তৈলচিত্রের ভূতের? ভূতে যে একেবারে বিশ্বাস করে না, যার বদ্ধমূল ধারণা এই যে যত সব অদ্ভুত অথচ সত্য ভূতের গল্প শোনা যায় তার প্রত্যেকটির সাধারণ ও স্বাভাবিক কোনো ব্যাখ্যা আছেই আছে, ছবির ভূতের অসম্ভব আর অবিশ্বাস্য ভূতের ঘরে পা দিয়ে তার কখনো কি ভয় হতে পারে? তবু অস্বস্তি যে বোধ হচ্ছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। নগেন যে কাহিনি শুনিয়েছে, সারা দিন ভেবেও পরাশর ডাক্তার তার কোনো সঙ্গত ব্যাখ্যা কল্পনা করতে পারেন নি। একদিন নয়, একবার নয়, ব্যাপারটা ঘটেছে অনেকবার। দিনে তৈলচিত্র নিস্তেজ হয়ে থাকে, রাত্রে তার তেজ বাড়ে। কেবল তাই নয়, অন্ধকার না হলে সে তেজ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না। আরও একটা কথা, রাত্রি বাড়ার সঙ্গে তৈলচিত্র যেন বেশি সজীব হয়ে উঠতে থাকে। প্রথম রাত্রে নগেন অন্ধকারে স্পর্শ করলে ছবি নগেনের হাতটা শুধু ছিটকিয়ে সরিয়ে দিয়েছে, মাঝরাত্রে স্পর্শ করলে এত জোরে তাকে ধাক্কা দিয়েছে যে মেঝেতে আছড়ে পড়ে নগেনের জ্ঞান লোপ পেয়ে গেছে।
অশরীরী শক্তি কল্পনা করা ছাড়া এ সমস্তের আর কী মানে হয়?
হয়-নিশ্চয় হয়; মনে মনে নিজেকে ধমক দিয়ে পরাশর ডাক্তার নিজেকে এই কথা শুনিয়ে দিলেন। তারপর চোখ তুলে তাকালেন দেয়ালের যেখানে নগেনের মামার তৈলচিত্রটি ছিল। এ ঘরে তিনি আগেও কয়েকবার এসেছেন, তৈলচিত্রগুলির অবস্থান তার অজানা ছিল না। যা চোখে পড়ল তাতে পরাশর ডাক্তারের বুকটাও ধড়াস করে উঠল। তৈলচিত্রের ওপরের দিকে দুটি উজ্জ্বল চোখ তার দিকে জ্বলজ্বল করে তাকিয়ে আছে। চোখ দুটির মধ্যে ফাঁক প্রায় দেড় হাত।
ঠিক এই সময় নগেন ফিসফিস করে বলল, ‘আলোটা জ্বালব ডাক্তার কাকা?’
পরাশর ডাক্তার তার গলার আওয়াজ শুনেই চমকে উঠলেন-‘না।’
রাস্তা অথবা পাশের কোনো বাড়ি থেকে সরু একটা আলোর রেখা ঘরের দেয়ালে এসে পড়েছে। তাতে অন্ধকার কমে নি, মনে হচ্ছে যেন সেই আলোটুকুতে ঘরের অন্ধকারটাই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র।
নগেন আবার ফিসফিস করে বলল, ‘একটা কথা আপনাকে বলতে ভুলে গেছি ডাক্তার কাকা। দাদামশায় আর দিদিমার ছবি তাঁরা মরবার পর করা হয়েছিল, কিন্তু মামার ছবিটা মরবার আগে মামা নিজে শখ করে আঁকিয়েছিলেন। হয়তো সেই জন্যেই-’
নগেনের শিহরণ স্পষ্ট টের পাওয়া যায়। ‘ভয় পেয়ে গেছেন?’
দাঁতে দাঁত লাগিয়ে পরাশর ডাক্তার তৈলচিত্রের দিকে এগিয়ে গেলেন। কাছাকাছি যেতে জ্বলজ্বলে চোখ দুটির জ্যোতি যেন অনেক কমে গেল। হাত বাড়িয়ে দিতে প্রথমে তার হাত পড়ল দেয়ালে। যত সাহস করেই এগিয়ে এসে থাকুন, প্রথমেই একেবারে নগেনের মামার গায়ে হাত দিতে তার কেমন দ্বিধা বোধ হচ্ছিল। পাশের দিকে হাত সরিয়ে তৈলচিত্রের ফ্রেম স্পর্শ করা মাত্র বৈদ্যুতিক আঘাতে যেন তার শরীরটা ঝনঝন করে উঠল। অস্ফুট গোঙানির আওয়াজ করে পেছন দিকে দু পা ছিটকে দিয়ে তিনি মেঝেতে বসে পড়লেন।
পরক্ষণে ভয়ে অর্ধমৃত নগেন আলোর সুইচ টিপে দিল।
মিনিট পাঁচেক পরাশর ডাক্তার চোখ বুজে বসে রইলেন, তারপর চোখ মেলে মিনিট পাঁচেক একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন নগেনের মামার রূপার ফ্রেমে বাঁধানো তৈলচিত্রটির দিকে।
তারপর তীব্র চাপা গলায় তিনি বললেন, ‘তুমি একটি আস্ত গর্দভ নগেন।’
রাগ একটু কমলে পরাশর ডাক্তার বলতে লাগলেন, ‘গাধাও তোমার চেয়ে বুদ্ধিমান। এত কথা বলতে পারলে আমাকে আর এই কথাটা একবার বলতে পারলে না যে তোমার মামার ছবিটা ইতিমধ্যে রূপার ফ্রেমে বাঁধানো হয়েছে আর ছবির সঙ্গে লাগিয়ে দুটো ইলেকট্রিক বালু ফিট করা হয়েছে?’
‘আমি কি জানি! ছ মাস আগে যেমন দেখে গিয়েছিলাম, আমি ভেবেছিলাম ছবিটা এখানে তেমনি অবস্থাতেই আছে।’
‘ইলেকট্রিক শক খেয়ে বুঝতে পারো না কীসে শক লাগল, তুমি কোনদেশি ছেলে? আমি তো শক খাওয়া মাত্র টের পেয়ে গিয়েছিলাম তোমার মামার ছবিতে কোনো প্রেতাত্মা ভর করেছেন।’
নগেন উদ্ভ্রান্তের মতো বলল, ‘রূপার ফ্রেমটা দাদামশায়ের ছবিতে ছিল, চুরি যাবার ভয়ে মামা অনেক দিন আগে সিন্দুকে তুলে রেখেছিলেন। মামার শ্রাদ্ধের দিন মামিমা ফ্রেমটা বার করে মামার ছবিটা বাঁধিয়েছিলেন। আলো দুটো লাগিয়েছে আমার মামাতো ভাই পরেশ।
‘হ্যাঁ। সে এ বছর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছে। তাই বলল, এই সামান্য কাজের জন্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে পয়সা দেব কেন?’
পরাশর ডাক্তার একটু হেসে বললেন, ‘পরেশ তোমার মামার উপযুক্ত ছেলেই বটে। কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য বাপের ছবিতে ভূত এনে ছেড়েছে। এ খবরটা যদি আগে দিতে আমায়-’
নগেন সংশয়ভরে বলল, ‘কিন্তু ডাক্তার কাকা’-
পরাশর ডাক্তার রাগ করে বললেন, ‘কিন্তু কী? এখনো বুঝতে পারছ না। দিনের বেলা মেন সুইচ অফ করা থাকে, তাই ছবি ছুঁলে কিছু হয় না, ছবি মানে ছবির রূপার ফ্রেমটা। রূপার ফ্রেমটার নিচে কাঠফাট কিছু আছে, দেয়ালের সঙ্গে যোগ নেই, নইলে তোমাদের ইলেকট্রিকের বিল এমন হুহু করে বেড়ে যেত যে আবার কোম্পানির লোককে এসে লিকেজ খুঁজতে হতো। তুমিও আবার ভূতের আসল পরিচয়টা জানতে পারতে। সন্ধ্যার পর বাড়ির সমস্ত আলো জ্বলে আর বিদ্যুৎ তামার তার দিয়ে যাতায়াত করতে বেশি ভালোবাসে কিনা, তাই সে সময় ছবি ছুঁলে তোমার কিছু হয় না। এ ঘরের আলোটা জ্বাললেও তাই হয়। মাঝরাত্রে বাড়ির সমস্ত আলো নিভে যায়, তখন ছবিটা ছুঁলে আর কোনো পথ খোলা নেই দেখে বিদ্যুৎ অগত্যা তোমার মতো বোকা হাবার শরীরটা দিয়েই-’
পরাশর ডাক্তার চুপ করে গেলেন। তার হঠাৎ মনে পড়ে গেছে, সুযোগ পেলে তার শরীরটা পথ হিসেবে ব্যবহার করতেও বিদ্যুৎ দ্বিধা করে না। তিনি হাঁফ ছাড়লেন। কপাল ভালো তড়িতাহত হয়ে প্রাণে মরতে হয়নি।
|
| তৈলচিত্রের ভূত |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের উৎস নির্দেশ: |
|---|
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কিশোর-উপযোগী ছোটোগল্প। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ প্রকাণ্ড- অত্যন্ত বৃহৎ, অতিশয় বড়। ➠ বিব্রত- ব্যতিব্যস্ত, বিপন্ন, বিচলিত। ➠ উদ্ভ্রান্ত- বিহ্বল, দিশেহারা, হতজ্ঞান। ➠ খাপছাড়া- বেমানান, উদ্ভট, অসংলগ্ন, এলোমেলো। ➠ শ্রাদ্ধ- মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের হিন্দু আচার বা শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান। ➠ উইল- শেষ ইচ্ছেপত্র। মৃত্যুর পরে সম্পত্তি বণ্টন বিষয়ে মালিকের ইচ্ছানুসারে প্রস্তুত ব্যবস্থাপত্র বা দানপত্র, যা তার মৃত্যুর পরে বলবৎ হয়। ➠ প্রেতাত্মা- মৃতের আত্মা, ভূত। ➠ অনুতাপ- আফসোস, কৃতকর্ম বা আচরণের জন্য অনুশোচনা, পরিতাপ। ➠ তৈলচিত্র- তেলরঙে আঁকা ছবি। ➠ প্রণাম- হাত ও মাথা দ্বারা গুরুজনের চরণ স্পর্শ করে অভিবাদন। ➠ আত্মগ্লানি- নিজের ওপর ক্ষোভ ও ধিক্কার, অনুতাপ, অনুশোচনা। ➠ বিস্ফারিত- বিস্তারিত, প্রসারিত। ➠ কস্মিনকালে- কোনো কালে বা কোনো কালেই। ➠ ছলনা- কপটতা, শঠতা, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, ধোঁকা। ➠ হৃৎকম্প- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, বুকের কাঁপুনি। ➠ মটকা- রেশমের মোটা কাপড়। ➠ ভর্ৎসনা- তিরস্কার, ধমক, নিন্দা। ➠ ইতস্তুত- দ্বিধা, সংকোচ, গড়িমসি। ➠ অশরীরী- দেহহীন, শরীরহীন, নিরাকার। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পাঠের উদ্দেশ্য: |
|---|
| ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার বিরাজমান, তা ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অন্তঃসারশূন্য। বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে এই কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস সহজেই দূর করা সম্বব। গল্পটি পড়ে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে ভয়মুক্ত, কুসংস্কারমুক্ত ও সচেতন হবে। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পাঠ-পরিচিতি: |
|---|
| ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরাজমান কুসংস্কার যে ভিত্তিহীন, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘তৈল চিত্রের ভূত’ গল্পে তা তুলে ধরেছেন। এ গল্পে তিনি দেখিয়েছেন বিজ্ঞানবুদ্ধির জয়। কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কারণে মানুষ নানা অশরীরী শক্তির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষকে যদি বিজ্ঞানচেতনা দিয়ে ঘটনা-বিশ্লেষণে উদ্বুদ্ধ করা যায় তাহলে ঐসব বিশ্বাসের অন্তঃসারশূন্যতা ধরা পড়ে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ গল্পে নগেন চরিত্রের মধ্যে ভূত-বিশ্বাসের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে স্পষ্ট করে তুলেছেন নগেনের বিশ্বাস ও কুসংস্কারের ভিত্তিহীনতাকে। মৃত ব্যক্তির আত্মা ভূতে পরিণত হয়-এরকম বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত থাকায় নগেন বৈদ্যুতিক শককে ভূতের কাজ বলে সহজে বিশ্বাস করেছে। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তার সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করেন বলে তার কাছে বৈদ্যুতিক শকের বিষয়টি সহজেই ধরা পড়েছে। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের লেখক-পরিচিতি: |
|---|
|
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘মানিক’
তাঁর ডাকনাম। ১৯০৮ সালে সাঁওতাল পরগনার দুমকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর
পৈতৃক বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ছাত্র থাকা
অবস্থায় ১৯২৮ সালে তাঁর প্রথম গল্প ছাপা হয়। লেখালেখির কারণে বিএসসি,
পরীক্ষায় পাশ করতে পারেন নি। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
‘পদ্মানদীর মাঝি’ অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এছাড়া
‘দিবারাত্রির কাব্য’, ‘অহিংসা’, ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ তাঁর
উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এছাড়া তিনি প্রচুর ছোটগল্পও রচনা করেছেন। তিনি
বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। তাঁর লেখার প্রবণতা ছিল মানুষের মন বিশ্লেষণ
করা। ১৯৫৬ সালে তিনি কলকাতায় মারা যান। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের কর্ম-অনুশীলন: |
|---|
|
ক. ৪০০ শব্দের মধ্যে মজা পাওয়ার মতো একটি ভূতের গল্প লেখো (একক কাজ)।
খ. আমাদের সমাজে ভূত ছাড়াও অন্য কী কী কুসংস্কার আছে-সেগুলোর তালিকা করে টীকা লেখো (একক কাজ)। (যাত্রার সময় হাঁচি, যাত্রার সময় পেছন থেকে ডাকা, এক শালিক দেখা, খালি কলস দেখা, কাক ডাকা ইত্যাদি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তি উপস্থাপন) |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: নগেনের মামা কী রকম লোক ছিলেন? উত্তর : নগেনের মামা কৃপণ লোক ছিলেন। প্রশ্ন- ২: নগেনের মামা শেষ সময়ে নগেনের জন্য কী করেছিলেন? উত্তর : নগেনের মামা শেষ সময়ে নগেনের নামে টাকা উইল করেছিলেন। প্রশ্ন- ৩: নগেন মরিয়া হয়ে ডাক্তারকে কী জিজ্ঞাসা করেছিল? উত্তর : নগেন মরিয়া হয়ে ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে, সত্যই প্রেতাত্মা আছে কিনা। প্রশ্ন- ৪: নগেন তার মামাকে কীভাবে ঠকিয়েছিল? উত্তর : নগেন তার মামাকে ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছিল। প্রশ্ন- ৫: নগেন তার মৃত মামাকে কীভাবে ভক্তি-শ্রদ্ধা করতে চেয়েছিল? উত্তর : নগেন তার মৃত মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে ভক্তি-শ্রদ্ধা করতে চেয়েছিল। প্রশ্ন- ৬: অন্ধকারে নগেন তার মামার তৈলচিত্রের সামনে গিয়ে কী বলল? উত্তর : অন্ধকারে নগেন তার মামার তৈলচিত্রের সামনে গিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল- ‘মামা, আমায় ক্ষমা কর।’ প্রশ্ন- ৭: নগেন তার মামার ছবি ছুঁতেই তার কী হলো? উত্তর : নগেন তার মামার ছবি ছুঁতেই তাকে কে যেন ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল। প্রশ্ন- ৮: নগেনের মতে, নগেনের মামা দেয়ালে কীভাবে দাঁড়িয়ে আছেন? উত্তর : নগেনের মতে, নগেনের মামা মটকার পাঞ্জাবির উপর দামি শাল গায়ে দিয়ে দেয়ালে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রশ্ন- ৯: নগেনের মামা তাকে দ্বিতীয় রাতে ধাক্কা দিলে নগেনের অবস্থা কী হলো? উত্তর : নগেনের মামা তাকে দ্বিতীয় রাতে ধাক্কা দিলে নগেন আচ্ছন্নের মতো হয়ে গেল। প্রশ্ন- ১০: কেন পরাশর ডাক্তারের বুক ধড়াস করে লাফিয়ে উঠল? উত্তর : তৈলচিত্রের উপর দুটি জ্বলন্ত চোখ পরাশর ডাক্তারের দিকে জ্বলজ্বল চোখে তাকিয়ে থাকার কারণে পরাশর ডাক্তারের বুক ধড়াস করে লাফিয়ে উঠল। প্রশ্ন- ১১: তীব্র চাপা গলায় পরাশর ডাক্তার নগেনকে কী বললেন? উত্তর : তীব্র চাপা গলায় পরাশর ডাক্তার নগেনকে বললেন, ‘তুমি একটি আস্ত গর্দভ, নগেন।’ প্রশ্ন- ১২: নগেনের মামার ছবি দিনের বেলা স্পর্শ করলে কিছু হয় না কেন? উত্তর : নগেনের মামার ছবি দিনের বেলা স্পর্শ করলে কিছু না হওয়ার কারণ হলো দিনের বেলা সব সুইচ বন্ধ থাকে। প্রশ্ন- ১৩: নগেন কীভাবে ঘরে ঢুকল? উত্তর : নগেন চোরের মতো নিঃশব্দে ঘরে ঢুকল। প্রশ্ন- ১৪: নগেনের মামা নগেনের নামে কী উইল করে রেখে গিয়েছিলেন? উত্তর : নগেনের মামা নগেনের নামে মোটা অঙ্কের টাকা উইল করে রেখে গিয়েছিলেন। প্রশ্ন- ১৫: নগেনের মামার তৈলচিত্রটি দিনের বেলা কিরূপ থাকে? উত্তর : নগেনের মামার তৈলচিত্রটি দিনের বেলায় নিস্তেজ হয়ে থাকে। প্রশ্ন- ১৬: নগেনের মামাতো ভাই কোথায় ভর্তি হয়েছিল? উত্তর : নগেনের মামাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছিল। প্রশ্ন- ১৭: নগেনের মামার তৈলচিত্রটি কে আঁকিয়েছিলেন? উত্তর : নগেনের মামার তৈলচিত্রটি মামা নিজে আঁকিয়েছিলেন। প্রশ্ন- ১৮: ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? উত্তর : ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রশ্ন- ১৯: ‘সূর্যবাবুর ভিটামিন সমস্যা’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী ধরনের রচনা? উত্তর : ‘সূর্যবাবুর ভিটামিন সমস্যা’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর উপযোগী গল্প। প্রশ্ন- ২০: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর : মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সাঁওতাল পরগনার দুমকায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রশ্ন- ২১: ‘উইল’ বলতে কী বোঝায়? উত্তর : মৃত্যুর পরে সম্পত্তি বণ্টন বিষয়ে মালিকের ইচ্ছানুসারে প্রস্তুত ব্যবস্থাপত্রকে উইল বলে। প্রশ্ন- ২২: ‘মটকা’ কাকে বলে? উত্তর : রেশমের মোটা কাপড়কে মটকা বলে। ২৩. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা? উত্তর: ‘তৈলচিত্রের ভূত’ রচনাটি কিশোর উপযোগী ছোটগল্প। ২৪. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর উপযোগী গল্পের সংখ্যা কত? উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর উপযোগী গল্পের সংখ্যা ২৭। ২৫. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কত সালে? উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ২৬. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? উত্তর: ‘তৈলচিত্রের ভূত’ সর্বপ্রথম ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ২৭. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাঝির ছেলে’ কী ধরনের রচনা? উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাঝির ছেলে’ কিশোর উপন্যাস। ২৮. নগেনের মামার গায়ে কীসের পাঞ্জাবি ছিল? উত্তর: নগেনের মামার গায়ে ছিল মটকার পাঞ্জাবি। ২৯. পরাশর ডাক্তার প্রকা- লাইব্রেরিতে বসে কী করছিলেন? উত্তর: পরাশর ডাক্তার প্রকা- লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখছিলেন। ৩০. নগেনের মামা কত বছর লাইব্রেরির পেছনে একটি পয়সাও খরচ করেনি? উত্তর: নগেনের মামা গত তিরিশ বছর লাইব্রেরির পেছনে একটি পয়সাও খরচ করেনি। ৩১. নগেনের মামার ছবি কীসের ফ্রেম দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল? উত্তর: নগেনের মামার ছবি রুপার ফ্রেম দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল। ৩২. কে সমস্ত সকালটা মড়ার মতো বিছানায় পড়ে রইল? উত্তর: নগেন সমস্ত সকালটা মড়ার মতো বিছানায় পড়ে রইল। ৩৩. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সাল কত? উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সাল ১৯৫৬। ৩৩. মামা কখন শখ করে নিজের ছবিটা আঁকিয়ে ছিলেন? উত্তর: মামা মরবার আগে শখ করে নিজের ছবিটা আঁকিয়েছিলেন। ৩৪. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর উপযোগী গল্পের সংখ্যা কত? উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর-উপযোগী গল্পের সংখ্যা ২৭টি। ৩৫. পরাশর ডাক্তার প্রকা- লাইব্রেরিতে বসে কী করছিলেন? উত্তর: পরাশর ডাক্তার প্রকা- লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখছিলেন। ৩৬. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা? উত্তর: ‘তৈলচিত্রের ভূত’ একটি কিশোর উপযোগী ছোটগল্প। ৩৭. নগেনের সাথে পরাশর ডাক্তারের প্রথম দেখা হয় কখন? উত্তর: মাস দুই আগে নগেনের মামার প্রাদ্ধের নিমন্ত্রণে গিয়ে নগেনের সাথে পরাশর ডাক্তারের প্রথম দেখা হয়। ৩৮. ‘ভর্ৎসনা’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর: ‘ভর্ৎসনা’ শব্দের অর্থ তিরস্কার বা নিন্দা। ৩৯. একটু থেমে পরাশর ডাক্তার আবার কী বললেন? উত্তর: একটু থেমে পরাশর ডাক্তার আবার বললেন, ‘ভূত বলে কিছু নেই নগেন।’ ৪০. কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য পরেশ বাপের ছবিতে কী এনে ছেড়েছে? উত্তর: কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য পরেশ বাপের ছবিতে ভূত এনে ছেড়েছে। ৪১. লাইব্রেরির দেয়ালে কয়টি তৈলচিত্র ছিল? উত্তর: লাইব্রেরির দেয়ালে তিনটি তৈলচিত্র ছিল। ৪২. পরাশর ডাক্তার কোথায় বসে চিঠি লিখেছিলেন? উত্তর: পরাশর ডাক্তার নিজের লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখেছিলেন। ৪৩. নগেনের মামার ছবিতে রূপার ফ্রেমটা বাঁধিয়েছিলেন কে? উত্তর: তার মামিমা নগেনের মামার ছবিতে রূপার ফ্রেম বাঁধিয়েছিলেন। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: নগেনের কথা পরাশর ডাক্তার বিশ্বাস করেছিলেন কেন?
প্রশ্ন- ২: নগেনের কথা বলার ভঙ্গি খাপছাড়া হওয়ার কারণ দর্শাও।
প্রশ্ন- ৩: ‘মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করলে হয়তো
আত্মগ্লানি একটু কমবে।’- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
প্রশ্ন- ৪: নগেনের মামা কেমন লোক ছিল?
প্রশ্ন- ৫: পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন কেন?
প্রশ্ন- ৬: মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা নগেনের মনে হলো কেন?
প্রশ্ন- ৭: নগেন তার মামার প্রতি মিথ্যে ভক্তি দেখাত কেন?
প্রশ্ন- ৮: নগেন তার মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধাভক্তি করেনি কেন?
প্রশ্ন- ৯: নগেন মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে গেল কেন?
প্রশ্ন- ১০: মামার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তিতে নগেনের মন ভরে উঠল কেন?
প্রশ্ন- ১১: সমস্ত সকালটা নগেন মড়ার মতো পড়ে রইল কেন?
প্রশ্ন- ১২: নগেন পরাশর ডাক্তারের সাথে দেখা করেছিল কেন?
প্রশ্ন- ১৩: নগেন কেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করে?
প্রশ্ন- ১৪: ‘লাইব্রেরি সম্পর্কে নগেনের মামার বিশেষ কোনো মাথাব্যথা ছিল
না’—এ কথা কেন বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ১৫: পরলোকগত যামার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তিতে নগেনের মন ভরে গেল
কেন?
প্রশ্ন- ১৬: নগেন অনুতপ্ত হয়েছিল কেন?
প্রশ্ন- ১৭: মামার প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তিতে নগেনের মন ভরে উঠল কেন?
প্রশ্ন- ১৭: ‘তুমি একটি আস্ত গর্লভ নগেন।’ এরূপ উক্তির কারণ ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ১৮: পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্তসনা করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ১৯: ‘কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য বাপের ছবিতে ভূত এনে
ছেড়েছে’—কথাটির অর্থ কী?
প্রশ্ন- ২০: নগেনের কথা পরাশর ডাক্তার বিশ্বাস করেছিলেন কেন?
প্রশ্ন- ২১: নগেনের কথা বলার ভঙ্গি খাপছাড়া হওয়ার কারণ দর্শাও। প্রশ্ন- ২২: ‘মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করলে হয়তো আত্মগ্লানি একটু কমবে।’- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ। উত্তর: নগেন তার মামাকে জীবিত থাকতে ভালো না বাসার কারণে মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করতে চেয়েছিল। কারণ এতে তার আত্মগ্লানি কমবে বলে মনে হয়েছিল। নগেনের মামা ছিলেন বেজায় কৃপণ স্বভাবের। এ কারণে সে তার মামাকে মুখে মুখে ভক্তি-শ্রদ্ধা দেখালেও মনে মনে ঘৃণা করত। কিন্তু তার মামা মারা যাওয়ার পর সে তার ভুল বুঝতে পেরেছিল।
প্রশ্ন- ২৩: নগেনের মামা কেমন লোক ছিল? |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা? |
|
ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ রচনাটি কিশোর উপযোগী ছোটগল্প।
গ. ভূত-বিশ্বাসের দিক দিয়ে উদ্দীপকের সাহানা আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের
নগেনের বিশেষ মিল রয়েছে।
ঘ. বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধি দিয়ে কুসংস্কারকে জয় করার মানসিকতার দিক
থেকে রফিক সাহেব এবং ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তারকে আধুনিক
মানসিকতার অধিকারী বলা যায়। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর উপযোগী গল্পের সংখ্যা কত? |
|
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশোর উপযোগী গল্পের সংখ্যা ২৭।
গ. উদ্দীপকের গ্রামবাসীর মধ্যে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের ভূতের ভয়
পাওয়া এবং কুসংস্কারে বিশ্বাসের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. “উদ্দীপকের কুসংস্কার এবং ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের মূল মর্মবাণী একই
সূত্রে গাঁথা’- উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কত সালে? |
|
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
গ. কুসংস্কারে বিশ্বাসের দিক থেকে উদ্দীপকের আসমানী ‘তৈলচিত্রের ভূত’
গল্পের নগেনের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের মূল বিষয় উপস্থাপনে উদ্দীপকটি সহায়ক বলে আমি
মনে করি। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? |
|
ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ সর্বপ্রথম ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
গ. উদ্দীপকের পিয়ারী চরিত্রটি অন্ধবিশ্বাসের দিক থেকে নগেনের সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “উদ্দীপকের শ্রীকান্ত এবং পরাশর ডাক্তার একই চেতনার মানুষ”- মন্তব্যটি
যথাযথ। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাঝির ছেলে’ কী ধরনের রচনা? |
|
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাঝির ছেলে’ কিশোর উপন্যাস।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের মামার নগেনের নামে
সম্পত্তি উইল করে দেওয়ার মতো দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার বিষয়ের সাদৃশ্য
রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে সৃজনের মামার ভাগ্নের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা প্রকাশ
পেয়েছে, যা ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের শিক্ষণীয় দিকের প্রতিনিধিত্ব করে। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. নগেনের মামার গায়ে কীসের পাঞ্জাবি ছিল? |
|
ক. নগেনের মামার গায়ে ছিল মটকার পাঞ্জাবি।
গ. উদ্দীপকের গনি মিয়ার ধারণাটি ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের ভূতে বিশ্বাস
নিয়ে যে কুসংস্কার সে দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে।
ঘ. “উদ্দীপকের রবিন ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তারের যথার্থ
প্রতিনিধি” এই মন্তব্যের সাথে আমি একমত। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. পরাশর ডাক্তার প্রকাণ্ড লাইব্রেরিতে বসে কী করছিলেন? |
|
ক. পরাশর ডাক্তার প্রকাণ্ড লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখছিলেন।
গ. মনের চেতনাগত দিক দিয়ে আব্দুল আউয়ালের সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের
নগেনের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. আব্দুল মান্নানকে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তারের প্রতিরূপ
বলা যায়। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন -৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. নগেনের মামা কত বছর লাইব্রেরির পেছনে একটি পয়সাও খরচ করেনি? |
|
ক. নগেনের মামা গত তিরিশ বছর লাইব্রেরির পেছনে একটি পয়সাও খরচ করেনি।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের ঘটনাগত বৈসাদৃশ্য
বিদ্যমান।
ঘ. উদ্দীপকে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সমগ্র বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেনি। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. নগেনের মামার ছবি কীসের ফ্রেম দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল? |
|
ক. নগেনের মামার ছবি রুপার ফ্রেম দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল।
গ. বুদ্ধি, বিচক্ষণতা ও সাহসের দিক দিয়ে উদ্দীপকের পিয়াস ও ‘তৈলচিত্রের
ভূত’ গল্পের নগেনের মধ্যে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. বিজ্ঞানবুদ্ধির চর্চার মাধ্যমে সজিবের মানসিকতার পরিবর্তন সম্ভব। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কে সমস্ত সকালটা মড়ার মতো বিছানায় পড়ে রইল? |
|
ক.নগেন সমস্ত সকালটা মড়ার মতো বিছানায় পড়ে রইল।
গ. উদ্দীপকের নাতাশা চরিত্রটির সঙ্গে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের
মানসিকতার দিক দিয়ে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেন চরিত্রের সবটুকু প্রকাশিত
হয়নি। |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. রুপার ফ্রেমটা কে সিন্দুকে তুলে রেখেছিল? |
| ----- |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘অশরীরী’ মানে কী? |
| ----- |
| ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কে মামার ছবিটা ফ্রেমে বাঁধিয়েছিল? |
| ----- |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৬। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। ৪. |

