কালবৈশাখীর সময়টা। আমাদের
ছেলেবেলার
কথা। বিধু, সিধু, নিধু, তিনু, বাদল এবং আরও অনেকে দুপুরের
বিকট গরমের
পর নদীর ঘাটে
নাইতে
গিয়েছি। বেলা বেশি নেই। বিধু আমাদের দলের মধ্যে বয়সে বড়। সে হঠাৎ
কান খাড়া করে
বললে ঐ শোন আমরা কান খাড়া করে শুনবার চেষ্টা করলাম। কিছু শুনতে বা বুঝতে না পেরে
বললাম কী রে? বিধু আমদের কথার উত্তর দিলে না। তখনো কান খাড়া করে রয়েছে। হঠাৎ আবার
সে বলে উঠল ঐ-ঐ-শোন-
আমরাও এবার শুনতে পেয়েছি দূর পশ্চিম-আকাশে ক্ষীণ
গুড়গুড়
মেঘের
আওয়াজ। নিধু
তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললে-ও কিছু না- বিধু ধমক দিয়ে বলে উঠল-কিছু না মানে? তুই সব বুঝিস
কিনা? বৈশাখ মাসে পশ্চিম দিকে ওরকম মেঘ ডাকার মানে তুই কিছু জানিস? ঝড় উঠবে।
এখন জলে নামব না। কালবৈশাখী। আমরা সকলে ততক্ষণে বুঝতে পেরেছি ও কী বলছে।
কালবৈশাখীর ঝড় মানেই আম কুড়ানো।
বাড়ুয্যেদের মাঠের বাগানে চাঁপাতলীর আম এ অঞ্চলে বিখ্যাত। মিষ্টি কী! এই সময়ে পাকে। ঝড়
উঠলে তার তলায় ভিড়ও তেমনি। যে আগে গিয়ে পৌঁছতে পারে তারই জয়।
সবাই বললাম- তবে থাক। কিন্তু তখনো রোদ গাছপালার মাথায়
দিব্যি
রয়েছে। আমাদের অনেকের মনের
সন্দেহ তখনো দূর হয়
নি। ঝড়-বৃষ্টির
লক্ষণ
তো কিছু দেখা যাচ্ছে না; তবে বহু
দূরাগতক্ষীণ
মেঘের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। ওরই ক্ষীণ সূত্র ধরে বোকার মতো চাপাতলীর তলায় যাওয়া
কি ঠিক হবে?
বিধু আমাদের সকল
সংশয় দূর
করে দিলে। যেমন সে
চিরকাল
আমাদের সকল সংশয় দূর করে এসেছে। সে জানিয়ে দিলে যে, সে নিজে এখুনি চাঁপাতলীর
আমতলায় যাচ্ছে, যার ইচ্ছে হবে সে ওর সঙ্গে যেতে পারে। এরপর আর আমাদের সন্দেহ
রইল না। আমরা সবাই ওর সঙ্গে চললাম।
অল্পক্ষণ পরেই প্রমাণ হলো, ও আমাদের চেয়ে কত
বিজ্ঞ।
ভীষণ ঝড়
উঠল, কালো মেঘের রাশি উড়ে আসতে লাগল পশ্চিম থেকে। বড় বড় গাছের মাথা ঝড়ের বেগে
লুটিয়ে লুটিয়ে পড়তে লাগল, ধুলোতে চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল, একটু পরেই ঠান্ডা
হাওয়া বইল, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে পড়তে বড় বড় করে ভীষণ বাদলের বর্ষা নামল।
বড় বড় আমবাগানের তলাগুলি ততক্ষণে ছেলেমেয়েতে পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আম ঝরছে
শিলাবৃষ্টির মতো; প্রত্যেক ছেলের হাতে এক এক বোঝা আম। আমরাও
যথেষ্ট
আম কুড়ুলাম, আমের ভারে নুয়ে পড়লাম এক একজন। ভিজতে ভিজতে কেউ অন্য তলায় চলে
গেল, কেউ বাড়ি চলে গেল আমের বোঝা নামিয়ে রেখে আসতে। আমি আর বাদল সন্ধ্যার
অন্ধকারে নদীর ধারের পথ দিয়ে বাড়ি ফিরছি। পথে কেউ কোথাও নেই, ছোট-বড় ডালপালা
পড়ে পথ ঢেকে গিয়েছে; পাকা নোনাসুদ্ধ নোনাগাছের ডাল কোথা থেকে উড়ে এসে পড়েছে,
কাঁটাওয়ালা সাঁইবাবলার ডালে পথ ভর্তি, কাঁটা ফুটবার ভয়ে আমরা
ডিঙিয়ে
পথ চলছি আধ-অন্ধকারের মধ্যে।
এমন সময় বাদল কী একটা পায়ে বেঁধে
হোঁচট
খেয়ে পড়ে গেল। আমায় বললে- দ্যাখ তো রে জিনিসটা কী?
আমি হাতে তুলে দেখলাম একটি টিনের বাক্স, চাবি বন্ধ। এ ধরনের টিনের বাক্সকে
পাড়াগাঁ অঞ্চলে বলে, ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স। টাকাকড়ি রাখে পাড়াগাঁয়ে। এ আমরা
জানি।
বাদল হঠাৎ বড়
উত্তেজিত
হয়ে পড়ল। বললে-দেখি জিনিসটা? -দ্যাখ তো, চিনিস?
- চিনি, ডবল টিনের ক্যাশ বাক্স।
- টাকাকড়ি থাকে।
- তাও জানি।
- এখন কী করবি?
- সোনার গহনাও
থাকতে পারে। ভারী দেখেছিস কেমন?
- তা তো থাকেই। টাকা গহনা আছেই এতে।
টিনের ক্যাশ বাক্স হাতে আমরা দুজনে সেই অন্ধকারে তেঁতুলতলায় বসে পড়লাম। দুজনে
এখন কী করা যায় তাই ঠিক করতে হবে এখানে বসে। আম যে প্রিয় বস্তু, এত কষ্ট করে জল
ঝড়
অগ্রাহ্য
করে যা কুড়িয়ে এনেছি, তাও একপাশে
অনাদৃত অবস্থায়
পড়েই রইল, থলেতে বা দড়ির বোনা
গেঁজেতে।
বাদল বললে-কেউ জানে না যে আমরা পেয়েছি-
- তা তো বটেই। কে জানবে আর।
- এখন কী করা যায় বল।
- বাক্স তো তালাবন্ধ-
- এখুনি ইট দিয়ে ভাঙি যদি বলিস তো-ওঃ না জানি কত কী আছে রে এর মধ্যে। তুই আর
আমি দুজনে নেব, আর কেউ না। খুব সন্দেশ খাব।
ঝড়ের ঝাপটা আবার এলো। আমরা তেঁতুলগাছের গুঁড়িটার আড়ালে গিয়ে আশ্রয় নিলাম।
তেঁতুলগাছে ভূত আছে সবাই জানে। কিন্তু ভূতের ভয় আমাদের মন থেকে চলে গিয়েছে।
অন্য দিনে আমাদের দুজনের সাধ্য ছিল না এ সময় এ গাছতলায় বসে থাকি।
বাদল বলল-শীতে কেঁপে মরছি। কী করা যাবে বল। বাড়ি কিন্তু নিয়ে যাওয়া হবে না।
তাহলে সবাইকে ভাগ দিতে হবে, সবাই জেনে যাবে। কী করবি?
-আমার মাথায় কিছু আসছে না রে।
-ভাঙি তালা। ইট নিয়ে আসি, তুই থাক এখানে।
-না। তালা ভাঙিসনে। ভাঙলেই তো গেল। অন্যায় কাজ হয় তালা ভাঙলে, ভেবে দ্যাখ। কোনো
গরিব লোকের হয়তো। আজ তার কী কষ্ট হচ্ছে, রাতে ঘুম হচ্ছে না। তাকে ফিরিয়ে দেব
বাক্সটা।
বাদল ভেবে বললে-ফেরত দিবি?
-দেব ভাবছি।
-কী করে জানবি কার বাক্স?
-চল, সে
মতলব
বার করতে হবে।
অর্ধম
করা হবে না।
এক মুহূর্তে দুজনের মনই বদলে গেল। দুজনেই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম। বাক্স ফেরত
দেয়ার কথা মনে আসতেই আমাদের অদ্ভুত পরিবর্তন হলো। বাক্স নিয়ে জল ঝড়ে ভিজে
সন্ধ্যার পর অন্ধকারে বাড়ি চলে এলাম। বাদলদের বাড়ির
বিচুলিগাদায় লুকিয়ে রাখা হলো বাক্সটা।
তারপর আমাদের দলের এক
গুপ্তমিটিং
বসল বাদলদের ভাঙা
নাটমন্দিরের কোণে। বর্ষার দিন-আকাশ মেঘে মেঘাচ্ছন্ন। ঠান্ডা হাওয়া বইছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের
প্রথম। সেই কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টির পরই বাদলা নেমে গিয়েছে। একটা চাঁপাগাছের ফোটা
চাঁপাফুল থেকে বর্ষার হাওয়ার সঙ্গে মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে। ব্যাঙ ডাকছে নরহরি
বোষ্টমের ডোবায়। আমাদের দলের
সর্দার বিধুর
নির্দেশমতো এ মিটিং বসেছিল। বাক্স ফেরত দিতেই হবে- এ আমাদের প্রথম ও শেষ
প্রস্তাব। মিটিং-এ সে
প্রস্তাবপেশ করার আগেই
মনে মনে আমরা সবাই সেটি মেনেই নিয়েছিলাম। বিধুকে বলা হলো বাক্স ফেরত দেয়া
সম্বন্ধে আমরা সকলেই একমত, অতএব এখন উপায়
ঠাওরাতে
হবে বাক্সের মালিককে খুঁজে বের করার। কারও মাথায় কিছু আসে না। এ নিয়ে অনেক
জল্পনা-কল্পনা হলো। যে কেউ এসে বলতে পারে বাক্স আমার। কী করে আমরা প্রকৃত
মালিককে খুঁজে বার করব? মস্ত বড় কথা। কোনো মীমাংসাই হয় না।
অবশেষে বিধু ভেবে ভেবে বললে-মতলব বার করিছি। ঘুড়ির মাপে কাগজ কেটে নিয়ে আয়
দিকি। বলেছি-বিধুর হুকুম অমান্য করার সাধ্য আমাদের নেই। দু-তিনখানা কাগজ ঐ মাপে
কেটে ওর সামনে হাজির করা হলো।
বিধু বললে-লেখ-বাদল লিখুক। ওর হাতের লেখা ভালো।
বাদল বলল-কী লিখব বলো-
- লেখ বড় বড় করে। বড় হাতের লেখার মতো। বুঝলি? আমি বলে দিচ্ছি-
- বলো-
- আমরা একটা বাক্স কুড়িয়ে পেয়েছি। যার বাক্স তিনি রায়বাড়িতে খোঁজ করুন।
ইতি-বিধু, সিধু, নিধু, তিনু। আমি আর বাদল আপত্তি করে বললাম-বারে, আমরা কুড়িয়ে
পেলাম, আর আমাদের নাম থাকবে না বুঝি?
আমাদের ভালো নাম লেখ।
বিধু বললে-লিখে দাও। ভালোই তো। ভালো নাম সবারই লেখ।
তিনখানা কাগজ লিখে নদীর ধারের রাস্তায় ভিন্ন ভিন্ন গাছে বেলের আঠা দিয়ে মেরে
দেওয়া হলো। দু-তিন দিন কেটে গেল।
কেউ এল না।
তিন দিন পরে একজন কালোমতো রোগা লোক আমাদের চণ্ডীমণ্ডপের সামনে এসে দাঁড়াল। আমি
তখন সেখানে বসে পড়ছি। বললাম-কী চাও?
- বাবু,
ইদিরভীষণ কার
নাম?
- আমার নাম। কেন? কী চাই?
- একটা বাক্স আপনারা কুড়িয়ে পেয়েছেন?
আমার নামের বিকৃত উচ্চারণ করাতে আমি চটে গিয়েছি তখন। বিরক্তিভাবে বললাম- কী রকম
বাক্স?
- কাঠের বাক্স।
- না। যাও।
- বাবু, কাঠের নয়, টিনে বাক্স।
- কী রঙের টিন?
- কালো।
- না। যাও-
- বাবু দাঁড়ান, বলছি। মোর ঠিক মনে হচ্ছে না। এই রাঙা মতো-
- না, তুমি যাও।
লোকটা
অপ্রতিভভাবে
চলে গেল। বিধুকে খবরটা দিতে সে বললে-ওর নয় রে। লোভে পড়ে এসেছে। ওর মতো কত লোক
আসবে। আবার তিন-চার দিন কেটে গেল।
বিধুর কাছে একজন লোক এলো তারপরে। তারও বর্ণনা মিলল না; বিধু তাকে বিদায় দিলে
পত্রপাঠ বিদায়। যাবার সময় সে নাকি শাসিয়ে গেল,
চৌকিদরকে বলবে,
দেখে নেবে আমাদের ইত্যাদি। বিধু
তাচ্ছিল্যের সুরে বললে- যাও যাও, যা পার করো গিয়ে। বাক্স আমরা কুড়িয়ে পাইনি। যাও। আর
কোনো লোক আসে না। বর্ষা পড়ে গেল ভীষণ।
সেবার আমাদের নদীতে এলো ভীষণ বন্যা।
বড় বড় গাছ ভেসে যেতে দেখা গেল নদীর স্রোতে। দু-একটা গরুও আমরা দেখলাম ভেসে
যেতে। অম্বরপুর চরের কাপালিরা নিরাশ্রয় হয়ে গেল। নদীর চরে ওদের ছোট ছোট ঘরবাড়ি
সেবারেও দেখে এসেছি-কী চমৎকার পটলের আবাদ, কুমড়োর খেত, লাউ-কুমড়োর মাচা ওদের
চরে। দু পয়সা আয়ও পেত তরকারি বেচে। কোথায় রইল তাদের পটল-কুমড়োর আবাদ, কোথায় গেল
তাদের বাড়িঘর। আমাদের ঘাটের সামনে দিয়ে কত খড়ের চালাঘর ভেসে যেতে দেখলাম। সবাই
বলতে লাগল অম্বরপুর চরের
কাপালিরা
সর্বস্বান্ত
হয়ে গিয়েছে। একদিন বিকেলে আমাদের
চণ্ডীমণ্ডপে
একটা লোক এলো। বাবা বসে হাত-বাক্স সামনে নিয়ে জমাজমির হিসেব দেখছেন। গ্রামের
ভাদুই কুমোর
কুয়ো কাটানোর মজুরি
চাইতে এসেছে। আরও দু-একজন প্রজা এসেছে খাজনা-পত্র।
দিতে। আমরা দু ভাই বাবার কড়া শাসনে বইয়ের পাতা ওলটাচ্ছি। এমন সময় একটা লোক এসে
বললে-দণ্ডবৎ
হই, ঠাকুরমশায়।
বাবা বললেন-এসো। কল্যাণ হোক। কোথা থেকে আসা হচ্ছে?
- আজ্ঞে অঙ্করপুর থেকে। আমরা কাপালি।
- বোসো। কী মনে করে? তামাক খাও। সাজো।
লোকটা তামাক সেজে খেতে লাগল। সে এসেছে এ গাঁয়ে চাকরির খোঁজে। বন্যায় নিরাশ্রয়
হয়ে নির্বিষখোলার গোয়ালাদের চালাঘরে সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছে। এই বর্ষায় না আছে
কাপড়, না আছে ভাত। দু
আড়ি
ধান ধার দিয়েছিল গোয়ালারা দয়া করে, সেও এবার ফুরিয়ে এলো। চাকরি না করলে
স্ত্রী-পুত্র না খেয়ে মরবে।
বাবা বললেন-আজ এখানে দুটি ডাল-ভাত খেও।
লোকটি দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললে-তা খাব। খাচ্ছিই তো আপনাদের। দুরবস্থা যখন শুরু
হয় ঠাকুরমশাই, এই গত
জষ্টি মাসে
নির্বিষখোলার হাট থেকে পটল বেচে ফিরছি; ছোট মেয়েটার বিয়ে দেব বলে গহনা গড়িয়ে
আনছিলাম। প্রায় আড়াই শো টাকার গহনা আর পটল-বেচা নগদ টাকা পঞ্চাশটি একটা টিনের
বাক্সের ভেতর ছিল। সেটা যে হাটের থেকে ফিরবার পথে গরুর গাড়ি থেকে কোথায় পড়ে
গেল, তার আর খোঁজই হলো না। সেই হলো শুরু-আর তারপর এলো এই বন্যে-
বাবা বললেন-বল কী? অতগুলো টাকা-গহনা
হারালে?
-
অদেষ্ট, একেই বলে বাবু অদেষ্ট। আজ সেগুলো হাতে থাকলে-
আমি কান খাড়া করে শুনছিলাম। বলে উঠলাম-কী রঙের বাক্স?
- সবুজ টিনের।
বাবা আমাদের বাক্সের ব্যাপার কিছুই জানেন না। আমায় ধমক দিলেন-তুমি পড়ো না,
তোমার সে খোঁজে কী দরকার? কিন্তু আমি ততক্ষণে
বইপত্তর ফেলে উঠে
পড়েছি। একেবারে এক ছুটে বিধুর বাড়ি গিয়ে হাজির। বিধু আমার কথা শুনে বললে-দাঁড়া,
সিধু আর তিনুকেও নিয়ে আসি। ওরা সাক্ষী থাকবে কি না?
বিবুর খুব বুদ্ধি আমাদের মধ্যে। ও বড় হলে উকিল হবে, সবাই বলত।
আধঘণ্টার মধ্যে আমাদের চণ্ডীমণ্ডপের সামনে বেশ একটি ছোটখাটো ভিড় জমে গেল। বাক্স
ফেরত পেয়ে সে লোকটা যেন কেমন
হকচকিয়ে
গেল। চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। কেবল আমাদের মুখের দিকে চায় আর বলে- ঠাকুরমশাই,
আপনারা মানুষ না দেবতা? গরিবের ওপর এত দয়া আপনাদের?
বিধু অত সহজে ভুলবার পাত্র নয়। সে বললে-দেখে নাও মাল সব ঠিক আছে কি না আর এই
কাকাবাবুর সামনে আমাদের একটা রসিদ লিখে দাও, বুঝলে? কাকাবাবু আপনি একটু কাগজ
দিন না ওকে-লিখতে জান তো?
না, ও উকিলই হবে বটে।
আমার বাবা এমন অবাক হয়ে গেলেন ব্যাপার দেখে যে, তাঁর মুখ দিয়ে একটি কথাও বেরুল
না।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের উৎস নির্দেশ:
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত কিশোরগল্প।
এটি
‘নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের শব্দার্থ ও টীকা:
➠ কালবৈশাখী- বৈশাখ মাসের বিকালের ঝড়বৃষ্টি।
➠ ছেলেবেলা- শৈশব; বাল্যকাল।
➠ বিকট- ভয়ঙ্কর; বিপুল।
➠ নাইতে- গোসলে; স্নানে।
➠ কানখাড়া করা- উৎকর্ণ হয়ে; শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে।
➠ গুড়গুড়- ক্রমাগত দূরমেঘের মৃদু গর্জন; মেঘের ডাক।
➠ আওয়াজ- শব্দ; ধ্বনি।
➠ তাচ্ছিল্য- অবহেলা; অবজ্ঞা; তুচ্ছজ্ঞান।
➠ বাড়ুয্যে- বন্দোপাধ্যায়।
➠ দিব্যি- স্পষ্টভাবে; দৃশ্যমান।
➠ সন্দেহ- সংশয়; দ্বিধা।
➠ লক্ষণ- চিহ্ন; ইঙ্গিত; আভাস।
➠ দূরাগত- দূর থেকে আগত, দূর থেকে এসেছে এমন।
➠ ক্ষীণ- মৃদু; অত্যন্ত অল্প।
➠ সংশয়- সন্দেহ; দ্বিধা।
➠ চিরকাল- বহুদিন থেকে; আজীবন।
➠ বিজ্ঞ- অভিজ্ঞ; বিচক্ষণ।
➠ ভীষণ- প্রচণ্ড; ভয়ংকর।
➠ শিলাবৃষ্টি- বৃষ্টির সঙ্গে বরফ টুকরো পাথর ইত্যাদি পড়া।
➠ যথেষ্ট- অনেক; প্রচুর; খুব।
➠ ডিঙিয়ে- লাফিয়ে; অতিক্রম করে।
➠ হোঁচট- চলমান অবস্থায় কোনো বস্তুর সঙ্গে হঠাৎ পায়ে বা পায়ের আঙুলের চোট
বা সংঘর্ষ।
➠ উত্তেজিত- উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এমন।
➠ গহনা- অলংকার।
➠ অগ্রাহ্য- অবজ্ঞা করা; উপেক্ষা করা।
➠ অনাদৃত- অবহেলিত; উপেক্ষিত; গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এমন।
➠ গেঁজে- টাকা রাখার সরু লম্বা থলে।
➠ মতলব- ফন্দি; কৌশল।
➠ অর্ধম- অন্যায়; নীতিবহির্ভূত।
➠ বিচুলিগাদা- ধানের খড়ের স্তূপ।
➠ গুপ্ত- গোপন।
➠ মিটিং- আলোচনা বা পরামর্শ সভা।
➠ নাটমন্দির- দেবমন্দিরে সামনের ঘর যেখানে নাচ-গান হয়।
➠ বোষ্টম- হরিনাম সংকীর্তন করে জীবিকা অর্জন করে এমন বৈষ্ণব।
➠ সর্দার- দলনেতা।
➠ প্রস্তাব- আলোচনার বিষয়; কথা।
➠ পেশ- উপস্থাপন।
➠ ঠাওরাতে- বের করতে হবে।
➠ ইদিরভীষণ- ইন্দিরভূষণ।
➠ অপ্রতিভভাবে- বিব্রত বা লজ্জিতভাবে।
➠ পত্রপাঠ বিদায়- তৎক্ষণাৎ বিদায়।
➠ চৌকিদর- প্রহরী।
➠ তাচ্ছিল্য- অবজ্ঞা; অশ্রদ্ধা।
➠ কাপালি- তান্ত্রিক হিন্দু সম্প্রদায়।
➠ সর্বস্বান্ত- সর্বহারা।
➠ চণ্ডীমণ্ডপ- যে মণ্ডপে বা ছাদযুক্ত চত্বরে দুর্গা, কালী প্রভৃতি দেবীর
পূজা হয়।
➠ কুয়ো- কূপ।
➠ পত্তর- পত্র।
➠ দণ্ডবৎ- মাটিতে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম।
➠ আড়ি- ধান, গম ইত্যাদি মাপার বেতের ঝুড়ি বা পাত্র।
➠ জষ্টি- জ্যৈষ্ঠ।
➠ অদেষ্ট- [অদৃষ্ট] কপাল,ভাগ্য, নিয়তি।
➠ বইপত্তর- বইপত্র।
➠ হকচকিয়ে- থতমত খাওয়া; হতভম্ব হওয়া।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের পাঠের উদ্দেশ্য:
‘পড়ে পাওয়া’ গল্প পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মধ্যে কর্তব্যপরায়ণতা ও
নৈতিক চেতনার সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে নিজের জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম
হবে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের পাঠ-পরিচিতি:
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশোররা কুড়িয়ে পাওয়া অর্থসম্পদ নিয়ে লোভের পরিচয়
দেয়নি। বরং তারা তাদের বয়সের চেয়েও অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয়
দিয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, বয়সে ছোট হলে কী হবে, তাদের নৈতিক অবস্থানও বেশ
দৃঢ়। এই গল্পে কিশোরদের ঐক্য চেতনার যেমন পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনি তাদের
উন্নত মানবিক বোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তার পাশাপাশি
তীক্ষ্ণ বিবেচনাবোধও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিশোরদের এমন সততা,
নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধে বয়োজ্যেষ্ঠরাও বিস্মিত, অভিভূত। কিশোররা যখন
ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন তারা তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি
বুদ্ধিমান ও বিবেচক তাকে মান্য করে তার ওপর আস্থা স্থাপন করে। এটি গল্পের
একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। দরিদ্র অসহায় মানুষের প্রতি ভালোবাসার চিত্রও
ফুটে উঠেছে এ গল্পে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের লেখক-পরিচিতি:
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে চব্বিশ পরগনা জেলার
মুরাতিপুর গ্রামে, মাতুলালয়ে। তাঁর পৈতৃক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা
জেলার ব্যারাকপুর গ্রামে। তাঁর বাল্য ও কৈশোরকাল কেটেছে দারিদ্র্যের
মধ্যে। মাতার নাম মৃণালিনী দেবী। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেশা ছিল
কথকতা ও পৌরোহিত্য। ছোটগল্প, উপন্যাস, দিনলিপি ও ভ্রমণ-কাহিনি রচনার
মধ্যেই তিনি জীবনের আনন্দ খুঁজে পান। তাঁর রচিত সাহিত্যে প্রকৃতি ও
মানবজীবন এক অখণ্ড অবিচ্ছিন্ন সত্তায় সমন্বিত হয়েছে। তাঁর সাহিত্যে
প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য ও গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবনাচরণের সজীব
ও নিখুঁত চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।পথের পাঁচালী, অপরাজিত উপন্যাস যেমন
তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি তেমনি বাংলা সাহিত্যেরও অমূল্য সম্পদ। তাঁর অন্যান্য
রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: আরণ্যক, ইছামতী; গল্পগ্রন্থ:
মেঘমল্লার, মৌরীফুল; ভ্রমণ-দিনলিপি:
তৃণাঙ্কুর, স্মৃতির রেখা; কিশোর উপন্যাস:
চাঁদের পাহাড়, মিসমিদের কবচ, হীরামানিক জ্বলে।
১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কর্ম-অনুশীলন:
ক. ভালো কাজ করলে যে আনন্দ পাওয়া যায় তার পক্ষে তোমার অনুভূতি ব্যক্ত করো
(একক কাজ)।
খ. ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের চরিত্রগুলো অবলম্বন করে একটি নাটিকা উপস্থাপন করো
(দলগত কাজ)।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন- ১: বিভূতিভূষণ জন্মগ্রহণ করেন কত সালে?
উত্তর : বিভূতিভূষণ জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৪ সালে।
প্রশ্ন- ২: ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশোর দল কোথায় নাইতে গিয়েছিল?
উত্তর : ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশোর দল নদীর ঘাটে নাইতে গিয়েছিল।
প্রশ্ন- ৩: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ
করেন।
প্রশ্ন- ৪: বাড়ুয্যেদের মাঠের বাগানের কোন আম বিখ্যাত?
উত্তর : বাড়ুয্যেদের মাঠের বাগানের চাঁপাতলীর আম বিখ্যাত।
প্রশ্ন- ৫: কালবৈশাখীর ঝড় মানেই কী?
উত্তর : কালবৈশাখীর ঝড় মানেই আম কুড়ানো।
প্রশ্ন- ৬: কে লেখক ও তাঁর বন্ধুদের সংশয় চিরকাল দূর করে এসেছে?
উত্তর : বিধু, লেখক ও তাঁর বন্ধুদের সংশয় চিরকাল দূর করে এসেছে।
প্রশ্ন- ৭: ডাবল টিনের ক্যাশবাক্স কারা কুড়িয়ে পেয়েছে?
উত্তর : ডাবল টিনের ক্যাশবাক্স লেখক ও তাঁর বন্ধু বাদল কুড়িয়ে
পেয়েছে।
প্রশ্ন- ৮: লেখক ও তাঁর বন্ধুদের গুপ্ত মিটিং কোথায় বসল?
উত্তর : লেখক ও তাঁর বন্ধুদের গুপ্ত মিটিং বসল বাদলদের ভাঙা
নাটমন্দিরের কোণে।
প্রশ্ন- ৯: বন্যায় কারা নিরাশ্রয় হয়ে গেল?
উত্তর : বন্যায় অম্বরপুর চরের কাপালিরা নিরাশ্রয় হয়ে গেল।
প্রশ্ন- ১০: ভাদুই কুমোর কী চাইতে এসেছে?
উত্তর : ভাদুই কুমোর কুয়ো কাটানোর মজুরি চাইতে এসেছে।
প্রশ্ন- ১১:‘আজ এখানে দুটি ডাল-ভাত খেও’- এটা কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর : ‘আজ এখানে দুটি ডাল-ভাত খেও’- এটা জনৈক কাপালিকে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন- ১২: কাপালির হারানো বাক্সের ভেতর নগদ কত টাকা ছিল?
উত্তর : কাপালির হারানো বাক্সের ভেতর নগদ পঞ্চাশ টাকা ছিল।
প্রশ্ন- ১৩: বিধু ভবিষ্যতে কী হবে বলে সবার ধারণা?
উত্তর : বিধু ভবিষ্যতে উকিল হবে বলে সবার ধারণা।
প্রশ্ন- ১৪: কতক্ষণের মধ্যে চণ্ডীমণ্ডপের সামনে ভিড় জমে গেল?
উত্তর : আধঘণ্টার মধ্যে চণ্ডীমণ্ডপের সামনে ভিড় জমে গেল।
প্রশ্ন- ১৫: লেখক নদীর চরে কাদের ছোট ছোট ঘরবাড়ি দেখেছেন?
উত্তর : লেখক নদীর চরে কাপালিদের ছোট ছোট ঘরবাড়ি দেখেছেন।
প্রশ্ন- ১৬: কোথায় ব্যাঙ ডাকছে?
উত্তর : নরহরি বোষ্টমের ডোবায় ব্যাঙ ডাকছে।
প্রশ্ন- ১৭: ঝড় উঠলে কোথায় ভিড় হয়?
উত্তর : ঝড় উঠলে বাড়ুয্যেদের চাঁপাতলীর আমের বাগানে ভিড় হয়।
প্রশ্ন- ১৮: লেখকদের দলের মধ্যে বয়সে বড় কে?
উত্তর : লেখকদের দলের মধ্যে বয়সে বড় বিধু।
প্রশ্ন- ১৯: বিধুদের মধ্যে কার হাতের লেখা ভালো?
উত্তর : বিধুদের মধ্যে বাদলের হাতের লেখা ভালো।
প্রশ্ন- ২০: ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কথকদের পাওয়া টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ
অঞ্চলে কী বলে?
উত্তর : ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কথকদের পাওয়া টিনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে
ডবল টিনের ক্যাশবাক্স বলে।
প্রশ্ন- ২১: ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে পাওয়া টিনের বাক্সটি কী রঙের ছিল?
উত্তর : ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে পাওয়া টিনের বাক্সটি সবুজ রঙের ছিল।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন- ১: গল্পকথকদের জলে না নামার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর : ঝড়ে আম কুড়াতে যাবে বলে গল্পকথকরা জলে নামে নি।
➠ গল্পকথকরা অনেকে একত্রে দুপুরে গরম সহ্য করতে না পেরে নদীর ঘাটে যায়
গোসল করতে। কিন্তু তাদের দলের বিধু নামের একজন আকাশে গুড় গুড় শব্দ শুনে
বলে যে, কালবৈশাখী ঝড় আসছে, এখন জলে নামা যাবে না। কারণ ঝড় এলে আম
কুড়াতে যেতে হবে। তবে বিধুর কথা গল্পকথকরা বিশ্বাস করতে পারছিল না।
কিন্তু সত্যি সত্যিই ঝড় আসে এবং বিধু সবাইকে নিয়ে আম কুড়াতে যায়। তাই
গল্পকথকরা জলে নামে না।
প্রশ্ন- ২: বিধু কীভাবে সবার সংশয় দূর করে দিল? বুঝিয়ে দাও।
উত্তর : বিধু সবার আগে আমতলায় যাওয়ার কথা বলে সবার সংশয় দূর করে দিল।
➠ বিধু তার দলকে বলে কালবৈশাখী ঝড় আসছে এখন জলে নামা যাবে না, আম
কুড়াতে যেতে হবে। কিন্তু ঝড়ের কোনো লক্ষণ না বুঝতে পেরে এবং গাছের
মাথায় রোদ দেখে বিধুর দল তার কথায় বিশ্বাস করতে পারছিল না। তারা
ভেবেছিল বিধুর কথায় চাপাতলীর আমতলায় যাওয়া বোকামী হবে। তখন বিধু বলে
যদি কারো ইচ্ছা হয় তাহলে তার সাথে যেতে পারে। এভাবে বিধু সবার সংশয় দূর
করে দিল।
প্রশ্ন- ৩: বাদলরা কীভাবে টিনের বাক্স পেয়েছিল?
উত্তর : ঝড়ের সময় বাড়ুয্যেদের বাগানে বাদলরা টিনের বাক্স কুড়িয়ে
পেয়েছিল।
➠ বাড়ুয্যেদের বাগানে আম কুড়ানোর পর লেখক ও বাদল আমের থলে নিয়ে
সন্ধ্যাবেলা নদীর ধারের পথ দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। ঝড়ে গাছের ছোট-বড় ডালপালা
পড়ে রাস্তা ঢেকে গিয়েছিল। কাঁটা বেঁধার ভয়ে বাদলরা ডিঙিয়ে পথ চলছিল
অন্ধকারের মধ্যে। এমন সময় কী একটা পায়ে বিঁধে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়
বাদল। যেটা পায়ে বিঁধেছিল সেটা তুলে দেখে যে একটা টিনের বাক্স। এভাবে
তারা টিনের বাক্সটি পেয়েছিল।
প্রশ্ন- ৪: বাদল হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়ল কেন?
উত্তর : একটি টিনের বাক্স পেয়ে বাদল হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়ল।
➠ বাদল ও গল্পকথক আম কুড়িয়ে সন্ধ্যার অন্ধকারে বাড়ি ফিরছিল। তখন বাদল
একটি কিছুতে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়। গল্পকথক জিনিসটি তুলে দেখে একটি
টিনের বাক্স। গল্পকথক জানে এ ধরনের বাক্সকে পাড়াগাঁ অঞ্চলে ডাবল টিনের
ক্যাশ বাক্স বলে। গাঁয়ের লোক এ ধরনের বাক্সে টাকা পয়সা রাখে। বাদল
গল্পকথকের হাতের বাক্সটি দেখে ভাবে এতে গহনা এবং টাকা-পয়সা থাকতে পারে।
তাই আনন্দে উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন- ৫: ভূতের ভয় গল্পকথকদের মন থেকে চলে যাওয়ার কারণ কী?
উত্তর : কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সে গহনা, টাকা-পয়সা থাকতে পারে এ আনন্দে
গল্পকথকদের মন থেকে ভূতের ভয় চলে যায়।
➠ গল্পকথক এবং বাদল আম কুড়িয়ে সন্ধ্যার সময় বাড়ি ফেরার পথে একটি বাক্স
কুড়িয়ে পায়। তারা জানে এ ধরনের বাক্সে গ্রাম অঞ্চলের মানুষ গহনা এবং
টাকা-পয়সা রাখে। বাক্সটির ওজন বেশি দেখে কী আছে তা দেখার জন্য তারা
তেঁতুল তলায় গিয়ে বসে। ঝড়ের ঝাপটা আবার এলে তেঁতুলগাছের গুঁড়ির আড়ালে
আশ্রয় নেয়। তারা জানে এ গাছে ভূত আছে। কিন্তু ডাবল টিনের ক্যাশ বাক্স
পাওয়ার আনন্দে তাদের সে ভয় দূর হয়ে যায়।
প্রশ্ন- ৬: গল্পকথক বাদলকে বাক্সটির তালা ভাঙতে নিষেধ করল কেন?
উত্তর : বাক্সটির তালা ভাঙলে অধর্ম হবে ভেবে গল্পকথক বাদলকে বাক্সটি
ভাঙতে নিষেধ করল।
➠ গল্পকথক ও তার বন্ধু বাদল আম নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় টিনের ক্যাশ
বাক্সটি পায় এবং সেটি নিয়ে তারা কী করবে তা ভাবতে থাকে। এক সময় বাদল
তালা ভেঙে বাক্সের টাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে গল্পকথক তা ভাঙতে
অসম্মতি জানায়। বাক্সটি ভাঙলে অন্যায় ও অধর্ম হবে ভেবেই তালা ভাঙতে
নিষেধ করেছিল সে।
প্রশ্ন- ৭:লেখক ও তাঁর বন্ধুদের গুপ্ত মিটিংয়ে বসার কারণ ব্যাখ্যা
করো।
উত্তর : কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্যেই
লেখক ও তার বন্ধুরা গুপ্ত মিটিংয়ে বসেছিল।
➠ লেখক ও তাঁর বন্ধু বাদল একটা টাকা রাখার বাক্স কুড়িয়ে পেয়েছে। কিন্তু
বাক্সটি কার, এটা তারা জানে না। তাই বাক্স কোথায় গচ্ছিত রাখা হবে,
কীভাবে বাক্স প্রকৃত মালিকের হাতে পৌঁছে দেবে- এসব উপায় স্থির করার
জন্যই লেখক তাঁর সকল বন্ধুর সাথে গোপনে পরামর্শ করল।
প্রশ্ন- ৮: কুড়িয়ে নেওয়া আমগুলো অনাদৃত অবস্থায় পড়ে রইল কেন?
উত্তর : পড়ে পাওয়া টিনের ক্যাশবাক্স নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে কুড়িয়ে আনা
আমগুলো অনাদৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।
➠ আম কুড়িয়ে ফেরার সময় ছেলেরা একটি টিনের বাক্স পায় এবং তারা বুঝতে
পারে বাক্সটি একটি ক্যাশবাক্স। সেটিতে টাকাকড়ি বা গহনাও থাকতে পারে।
এসব ভেবে তারা অন্ধকারে একটি তেঁতুলতলায় বসে বাক্সটি নিয়ে কী করবে তা
ভাবতে থাকে। তাদের এ ভাবনার মাঝে ঝড় উপেক্ষা করে কুড়িয়ে আনা প্রিয়
আমগুলোও অনাদৃত অবস্থায় পড়ে রইল।
প্রশ্ন- ৯: কাগজের লেখা নিয়ে লেখক এবং বাদল আপত্তি করল কেন?
উত্তর : কাগজে অন্যদের নামের পাশে গল্পকথক ও বাদলের নাম দেওয়া হয়নি বলে
তারা আপত্তি করল।
➠ আম নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় গল্পকথক বাদল একটি টিনের বাক্স পায় যা তারা
ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কাগজে যখন বাক্স পাওয়ার সংবাদ আর তা
ফেরত নেওয়ার জন্যে যোগাযোগ করতে বিধু অন্যদের নাম দিতে বলল, তখন
নিজেদের নাম বাদ পড়ায় তারা আপত্তি করল।
প্রশ্ন- ১০: তিনদিন পর বাক্স খুঁজতে আসা লোকটিকে কেন ফিরিয়ে দেওয়া
হলো?
উত্তর : তিনদিন পর বাক্স খুঁজতে আসা লোকটি বাক্স সম্পর্কে সঠিক তথ্য
দিতে না পারায় তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো।
➠ বাক্স পাওয়ার খবর ছড়িয়ে দেওয়ার তিনদিন পর একটি কালোমতো লোক
চণ্ডীমণ্ডপে গিয়ে বাক্সটির খোঁজ করল। কিন্তু বাক্সটির ধরন, রং এসব
জানতে চাইলে লোকটি সঠিকভাবে বলতে পারল না এবং মনগড়া উত্তর করল। এসব
বিবেচনা করে সবাই বুঝতে পারে লোকটি প্রকৃত মালিক নয়। তাই লোকটিকে
ফিরিয়ে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন- ১১: বিধুকে একজন লোক শাসিয়ে গেল কেন?
উত্তর : বিধু কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি লোকটিকে দিতে অস্বীকার করায় লোকটি
তাকে শাসিয়ে গেল।
➠ গল্পকথক ও বাদল একটি বাক্স কুড়িয়ে পায়। তারা বাক্সটি মালিকের কাছে
ফিরিয়ে দেয়ার জন্য তিনটি কাগজে বাক্সের কথা এবং তাদের নাম লিখে পথের
ধারে গাছে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দেয়। এ বাক্স নেয়ার জন্য একজন লোক বিধুর
কাছে আসে। কিন্তু লোকটি বাক্সের সঠিক বর্ণনা দিতে পারে না। তখন বিধু
বুঝতে পারে এ লোক বাক্সের প্রকৃত মালিক নয়। তাই বিধু লোকটিকে বিদায় করে
দেয়। বাক্সটি না পেয়ে লোকটি রেগে গিয়ে বিধুকে শাসিয়ে যায়।
প্রশ্ন- ১২: অম্বরপুরের কাপালি কীভাবে তার বাক্স হারিয়েছিল?
উত্তর : হাট থেকে ফেরার পথে কাপালি বাক্সটি হারিয়েছিল।
➠ অম্বরপুরের কাপালির ছিল পটোলের ক্ষেত। সে নির্বিষখোলার হাটে পটোল
বিক্রি করে নগদ পঞ্চাশটি টাকা এবং তার ছোট মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য
আড়াইশো টাকার গহনা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। গহনা আর টাকাগুলো ছিল একটি টিনের
বাক্সের ভেতর। হাট থেকে গরুর গাড়িতে করে ফেরার পথে রাস্তায় কাপালির
বাক্সটি পড়ে হারিয়েছিল।
প্রশ্ন- ১৩: গল্পকথক কীভাবে বাক্সের মালিককে চিনতে পারল?
উত্তর : প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সের বর্ণনা শুনে গল্পকথক বাক্সের
মালিককে চিনতে পারল।
➠ অম্বরপুর থেকে আসা এক চাকরিপ্রার্থী কাপালির কাছে তার দুর্দশা আর
মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য রাখা একটি টিনের বাক্স হারিয়ে যাওয়ার কথা শুনে
গল্পকথকের সন্দেহ হয়। গল্পকথক লোকটির কাছে বাক্সের রং জানতে চাইল।
লোকটির দেওয়া সব বর্ণনা মিলে যাওয়ায় সে বাক্সের মালিককে সহজেই চিনতে
পারল।
প্রশ্ন- ১৪: বিধুর বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া গেল কীভাবে?
উত্তর : বাক্সের মালিক খুঁজে পাওয়ার সংবাদ পেয়ে বিধু সাক্ষীস্বরূপ তার
বন্ধু সিধু আর তিনুকেও নিয়ে আসার কথা বলল। এ থেকে বিধুর তীক্ষ্ণ
বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বর্ণিত কিশোরদের সর্দার বিধুর চরিত্রের নানা গুণের
মধ্যে বুদ্ধিমত্তা অন্যতম। প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার পর বাক্স ফেরত
দেওয়ার আগে সাক্ষী জোগাড় এবং লিখিত বক্তব্য রাখার মাধ্যমে তার
বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-১ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে
গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। সহসা গাড়ির ভিতরে দৃষ্টি পড়তে
সে দেখতে পেল একটি মানিব্যাগ সিটের ওপর পড়ে আছে। ব্যাগে অনেকগুলো ডলার।
কিন্তু ব্যাগে কোনো ঠিকানা পাওয়া গেল না। সে সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করল।
নিরুপায় হয়ে সে পত্রিকা অফিসে গিয়ে সম্পাদককে একটি বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে
দেবার অনুরোধ জানায়।
ক. ‘পড়ে পাওয়া’ কী ধরনের রচনা?
খ. ‘ওর মতো কত লোক আসবে’-বিধুর এ কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের আরিফকে কোন যুক্তিতে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল সুরকেই
ধারণ করে আছে। মূল্যায়ন করো।
ক. ‘পড়ে পাওয়া’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত কিশোর
গল্প।
খ. ‘ওর মতো কত লোক আসবে’ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বিধু, লোভী চরিত্রের
মানুষদের উদ্দেশে এ কথাটি বলেছে।
➠ আম কুড়াতে গিয়ে একটি বাক্স কুড়িয়ে পেয়ে বিধু ও তার বন্ধুরা মিলে
বাক্সটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে কাগজে খবরটি লিখে রাস্তার
ধারে গাছে গাছে লাগিয়ে দেয়। খবর পেয়ে নানা ধরনের অসৎ লোকেরা ভুয়া মালিক
সেজে আসতে থাকে। প্রকৃত অর্থে লোভ সামলাতে না পেরে নিজেদের বাক্স না
হওয়া সত্ত্বেও তারা বাক্স নিতে আসে। এসব লোভী অসৎ মানুষদের উদ্দেশে
বিধু এ মন্তব্যটি করেছে।
গ. সৎ ও দায়িত্বশীল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আরিফকে বিধু
চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা
ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল এবং নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে লিফলেট ছাপিয়ে
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল। এতে তাদের নির্লোভ মনমানসিকতা ও দায়িত্বশীলতার
পরিচয় ফুটে উঠেছে।
➠ উদ্দীপকের আরিফ ট্যাক্সিক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন
আরোহীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে
একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু
সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ব্যাগটি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য পত্রিকায়
বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে।
কোথাও কোনো জিনিস কুড়িয়ে পেলে তা মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেয়া মানব
চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক গুণ। এই গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক গুণটিরই
প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের আরিফ এবং গল্পের বিধুদের মধ্যে।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়- নৈতিকতা ও সৎ মানসিকতার দিক থেকে আরিফ ও
বিধু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল সুরকেই
ধারণ করে আছে।” মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের লেখক এ গল্পটিতে একদল কিশোরের নির্লোভ মানসিকতার
পরিচয় তুলে ধরেছেন।
➠ গল্পে এক ঝড়ের রাতে বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়।
বিধুর নেতৃত্বে একদল গ্রাম্য কিশোর লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে সেই টিনের
বাক্সের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করতে তৎপর হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তারা
টিনের বাক্সের প্রকৃত মালিক খুঁজেও পায় এবং তাকে টিনের বাক্সটি ফিরিয়ে
দেয়। উদ্দীপকের আরিফও তার ট্যাক্সিক্যাবে কোনো এক আরোহীর ফেলে যাওয়া
মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তা এ সততা ও
নৈতিকতারই পরিচায়ক।
➠ সততা, দায়িত্ববোধ, কর্তব্যপরায়ণতা এগুলো একজন সৎ লোকের গুরুত্বপূর্ণ
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এসব আদর্শে উজ্জীবিত
মানুষ নৈতিক চেতনায় সবার ঊর্ধ্বে থাকেন। আর এ আদর্শেরই প্রতিফলন লক্ষ
করা যায় উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল বিষয় সততা ও
নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন উদ্দীপকের স্বল্প পরিসরে আরিফের
মধ্যে উঠে আসায় প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-২ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সন্ধ্যায় দেখা গেল, নিজেদের ছাগলের সাথে অতিরিক্ত একটি ছাগলও আথালে
ঢুকছে। এশার নামাজ পার হয়ে গেল, কিন্তু কেউ খোঁজ নিতে এলো না। দাদু
বললেন, না, না, চুপ করে থাকা ঠিক হবে না। এক কাজ কর, রফিক-শফিক বেরিয়ে
পড়। প্রতিবেশী নাবিল আর তালিমকে সাথে নিয়ে দুজন দুদিকে যেও। মসজিদ থেকে
চোঙ্গা নিয়ে গাঁয়ে ঘোষণা দিয়ে আস। কিছুক্ষণের মধ্যে দু ভাই দাদুর
পরামর্শমতো বলতে লাগল, ভাইসব, একটি ছাগল পাওয়া গেছে। যাদের ছাগল তারা
দয়া করে মতিন শিকদারের বাড়ি থেকে নিয়ে যান।
ক. লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কোন ধরনের লেখক হিসেবে সমধিক
পরিচিত?
খ. ‘দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. রফিক-শফিকের চোঙ্গা ফোঁকার ঘটনাটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন ঘটনার
সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের দাদু যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনারই প্রতিভূ-
বিশ্লেষণ করো।
ক. লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমী ও জীবনধর্মী লেখক
হিসেবে সমধিক পরিচিত।
খ. ‘দুজনেই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম’- কথাটিতে কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ
মানসিকতার দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে এ দুজন হচ্ছে বাদল এবং গল্পকথক। আম কুড়াতে গিয়ে
কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি হয়তো কোনো গরিব লোকের হবে, সে হয়তো বাক্সের
চিন্তায় রাতে ঘুমোচ্ছে না, তার কষ্ট হবে এই চিন্তা করে কথক বাদলকে
বাক্সের তালা ভাঙতে নিষেধ করে এবং বাক্সটি ফেরত দেয়ার কথা চিন্তা করে।
গরিব মানুষের প্রতি তাদের এ ভালোবাসা ও সহানুভূতি ধর্মেরই অঙ্গ। তাই
বলা হয়েছে, দুজনেই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।
গ. রফিক-শফিকের চোঙা ফোঁকার ঘটনাটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধু, নিধু,
বাদলদের গাছে কাগজের লিফলেট লাগানোর ঘটনার সাথে সংগতিপূর্ণ।
➠ সততা, নির্লোভ মানসিকতা, কর্তব্যপরায়ণতা প্রভৃতি মানব চরিত্রের মহৎ
গুণ। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটির মধ্যে এই নীতিবোধগুলোর প্রকাশ লক্ষণীয়। লেখক
এখানে গল্প বলার ছলে একদল কিশোরের নির্লোভ ও দায়িত্বশীল মানসিকতার
চিত্র অঙ্কন করেছেন।
➠ গল্পে বিধুরা নদীর ধারে রাস্তায় ভিন্ন ভিন্ন গাছে কাগজের লিফলেট
লাগায়। কারণ তারা বাক্সের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে বাক্সটি ফেরত
দিতে চায়। এর মধ্য দিয়ে তাদের উন্নত নৈতিকতাবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে রফিক ও শফিকের বাড়িতে নিজেদের ছাগলের সঙ্গে অন্য একজনের ছাগল
আথালে ঢুকে পড়ে। তাই তারা দাদুর পরামর্শমতো ছাগলের প্রকৃত মালিককে
খুঁজে বের করার জন্য চোঙ্গা নিয়ে গাঁয়ে ঘোষণা দেয়-যার ছাগল সে যেন এসে
মতিন শিকদারের বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। সুতরাং রফিক-শফিকের চোঙ্গা ফোঁকার
ঘটনাটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বাক্সটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গাছে লিফলেট
টানানোর ঘটনার সাথে সংগতিপূর্ণ।
ঘ. “উদ্দীপকের দাদু যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনারই প্রতিভূ”
মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশোরদের ঐক্যচেতনার যেমন পরিচয় পাওয়া যায়, তাদের
চারিত্রিক দৃঢ়তার পাশাপাশি তীক্ষ্ণ বিবেচনাবোধও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ
করে। কিশোরদের এমন সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধে বয়োজ্যেষ্ঠরাও বিস্মিত,
অভিভূত। গল্পকার কিশোরদের চরিত্রের দ্বারা আলোচ্য চেতনাকে ফুটিয়ে
তুলেছেন। তারা বাক্সের মালিককে খুঁজে বের করে তার হাতে বাক্সটি বুঝিয়ে
দেয়ার ব্যবস্থা করেছে।
➠ উদ্দীপকের রফিক, শফিক দাদুর কথামতো মসজিদ থেকে চোঙ্গা নিয়ে ছাগল
পাওয়ার ঘোষণার প্রচার করে। কারণ দাদু জানে ছাগলটি তাদের নয়, আর যে
ব্যক্তির ছাগলটি হারিয়েছে সে হয়তো ছাগলের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে
না। তাই তিনি তাদেরকে ঘোষণা দিতে বলেন। অথচ ইচ্ছা করলে তিনি ছাগলটি
নিজের সম্পত্তিতে পরিণত করতে পারতেন। কিন্তু তার নির্লোভ মানসিকতা এবং
কর্তব্যবোধ তাকে সততার ব্যাপারে অটল থাকতে সাহায্য করেছে, যা গল্পের
মূল চেতনাকে ধারণ করেছে।
➠ তাই বলা যায়, উদ্দীপকের দাদু ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনার প্রতিভূ।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-৩ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অর্ণব তার মায়ের অপারেশনের টাকা জোগাড় করার জন্য দিশেহারা। হঠাৎ সে
হাসপাতালের সিঁড়িতে পাঁচশ টাকার এক বান্ডিল নোট দেখতে পায়। তার মন
আনন্দে ভরে ওঠে। পরক্ষণেই যার টাকা তার কথা ভেবে সে মর্মাহত হয়। অবশেষে
সে টাকাগুলো থানায় জমা দেয় এবং প্রকৃত মালিক তা ফেরত পায়।
ক. বালকদের মধ্যে কার হাতের লেখা ভালো ছিল?
খ. “দুজনে হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের অর্ণবের সাথে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের সাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. “উদ্দীপকটিতে যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনারই সন্ধান মেলে।”-
উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
ক. বালকদের মধ্যে বাদলের হাতের লেখা ভালো।
খ. ‘দুজনেই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম’- কথাটিতে কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ
মানসিকতার দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে এ দুজন হচ্ছে বাদল এবং গল্পকথক। আম কুড়াতে গিয়ে
কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি হয়তো কোনো গরিব লোকের হবে, সে হয়তো বাক্সের
চিন্তায় রাতে ঘুমোচ্ছে না, তার কষ্ট হবে এই চিন্তা করে কথক বাদলকে
বাক্সের তালা ভাঙতে নিষেধ করে এবং বাক্সটি ফেরত দেয়ার কথা চিন্তা করে।
গরিব মানুষের প্রতি তাদের এ ভালোবাসা ও সহানুভূতি ধর্মেরই অঙ্গ। তাই
বলা হয়েছে, দুজনেই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।
গ. কুড়িয়ে পাওয়া অর্থসম্পদ প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে গল্পের
কিশোরদের সাথে উদ্দীপকের অর্ণবের সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ অর্থসম্পদের প্রতি লোভ চিরন্তন। তা পড়ে পাওয়া বা যেকোনোভাবেই হোক না
কেন। তবে এ লোভ সংবরণের জন্য ভালো মানসিকতার অধিকারী হতে হয়। এ ধরনের
মন-মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে উদ্দীপকের অর্ণব ও গল্পের কিশোররা।
➠ উদ্দীপকের অর্ণব মায়ের অপারেশনের টাকার ভাবনায় অস্থির। এ অবস্থায়
হাসপাতালের সিঁড়িতে পেয়ে যায় অনেক টাকা। সে ক্ষণিকের জন্য উৎফুল্ল হলেও
টাকার মালিকের কথা ভেবে পরক্ষণেই মর্মাহত হয়। যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে
প্রকৃত মালিককে টাকা ফিরিয়ে দেয় সে। গল্পের কিশোররাও পড়ে পাওয়া
অর্থসম্পদ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেয়। তাই বলা
যায়, অর্ণব ও কিশোরদের ঘটনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “উদ্দীপকটিতে যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূল চেতনারই সন্ধান মেলে।”
উক্তিটি যথার্থ।
➠ লোভ লালসা জীবনেরই অনুষঙ্গ। তারপরও নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা থাকবে।
থাকবে মানবীয় গুণের বহিঃপ্রকাশ। এ চেতনারই মূর্ত প্রতীক উদ্দীপকের
অর্ণব ও পড়ে পাওয়া গল্পের কিশোররা। তাদের মধ্যে লোভ থাকলেও কেউই লোভের
কাছে নতি স্বীকার করেনি।
➠ উদ্দীপকের অর্ণবের মায়ের অপারেশন। টাকা জোগাড় করতে না পেরে সে
দিশেহারা। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সিঁড়িতে অনেক টাকা পেয়েও অর্ণব লোভ
সংবরণ করেছে। মায়ের চিকিৎসার খরচ হিসেবে ব্যবহার না করে প্রকৃত মালিককে
তার অর্থ ফিরিয়ে দেওয়াকে শ্রেয় মনে করেছে। অর্ণবের এ চেতনাই প্রতিফলিত
হয়েছে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের মধ্যে। তারা পড়ে পাওয়া অর্থ সম্পদ
প্রথমে ভোগ দখলের চিন্তা করলেও পরক্ষণে সে চিন্তা বিসর্জন দিয়েছে।
প্রকৃত মালিকের খোঁজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ চেতনায় অর্ণবের
চেতনারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
➠ উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-৪ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রিকশাওয়ালা জাভেদ রাস্তায় ব্যাগ ভর্তি টাকা পড়ে পেল। প্রথমে সে মনে করল
এই টাকা দিয়ে সে ব্যবসা করে বড়লোক হবে। কিন্তু সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে
ভাবল যার টাকা সে কতটা কষ্ট পাচ্ছে। একথা ভেবে সে সিদ্ধান্ত নিল যে,
পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকৃত মালিককে টাকা ফিরিয়ে দিবে। এজন্য সে
পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিল।
ক. ‘পত্রপাঠ বিদায়’ কথাটির অর্থ কী?
খ. ‘এখন জলে নামব না’-কথাটির প্রাসঙ্গিকতা বর্ণনা করো।
গ. উদ্দীপকের জাভেদের সিদ্ধান্ত ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের যে দিকটির সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে জাভেদের মনোভাব ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের অনুভূতি একই
সূত্রে গাঁথা।”- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
ক. ‘পত্রপাঠ বিদায়’ কথাটির অর্থ হচ্ছে তৎক্ষণাৎ বিদায়।
খ. ঝড় শুরু হতে পারে সে কারণে বিধু বন্ধুদেরকে বলেছিল ‘এখন পানিতে নামব
না।’
➠ কালবৈশাখীর ঝড় শুরু হলে আম কুড়ানোর আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।
বিশেষ করে বাড়ুয্যেদের মাঠের বাগানে চাঁপাতলীর আম যেমন সুস্বাদু, তেমনি
মিষ্টি। বন্ধুদের মধ্যে বিধুর কথা সকলে মানে। তাই যদি ঝড় শুরু হয় তাহলে
আম কুড়াতে হবে, শুধু শুধু আর নদীতে স্থান করে লাভ নেই। বিধুর
বিজ্ঞতাসুলভ উক্তিটি এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।
গ. ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিক কিশোরদের সততা, নিষ্ঠা ও
কর্তব্যবোধ। গল্পের এ দিকটির সাথে উদ্দীপকের জাভেদের সিদ্ধান্ত
সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ লোভ সহজাত হলেও উদ্দীপক ও গল্পে তা ক্ষণস্থায়ী হয়েছে দায়িত্বশীলতার
কাছে। বয়সে ছোট হলেও গল্পের কিশোররা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে পড়ে
পাওয়া অর্থ সম্পদ ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে। অনুরূপ দায়িত্বশীলতা ও
কর্তব্যবোধের পরিচয় দিয়েছে রিকশাওয়ালা জাভেদ।
➠ উদ্দীপকের রিকশাওয়ালা জাভেদ ব্যাগভর্তি টাকা পেয়ে বড়লোক হবার স্বপ্ন
দেখে। কিন্তু তার সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের কাছে সব স্বপ্ন যেন
ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সে প্রকৃত মালিকের খোঁজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে।
অনুরূপ পরিকল্পনা দেখা যায় গল্পের কিশোরদের মধ্যে। তাই বলা যায়,
উদ্দীপকের জাভেদের সিদ্ধান্ত ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোর চরিত্রের
গুরুত্বপূর্ণ দিক সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “উদ্দীপকের জাভেদের মনোভাব ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের অনুভূতি
একই সূত্রে গাঁথা।” উক্তিটি যেকোনো বিচারেই যথার্থ।
➠ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই উন্নত মানবিক বোধের পরিচয় দেয়। স্বার্থের
বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে হয়ে ওঠে অনুসরণীয় ও
অনুকরণীয়। এ ধরনের দৃষ্টান্তের দেখা পাওয়া যায় প্রশ্নোক্ত
উক্তিটিতে।
➠ উদ্দীপকের জাভেদ রিকশাওয়ালা। অবর্ণনীয় কষ্টে তার জীবিকা নির্বাহ হয়।
এ অবস্থায় ব্যাগভর্তি টাকা তার চরম প্রার্থিত। যে টাকার লোভ সংবরণ করা
অত্যন্ত দুরূহ। কিন্তু উন্নত মানবিকতাবোধসম্পন্ন জাভেদ তার মনোভাব
পাল্টে ফেলে। সে উন্নত কর্তব্যবোধের পরিচয় দেয়। তার মনের পর্দায় ভেসে
ওঠে যে ব্যক্তির টাকা হারিয়েছে তার কষ্টের চিত্র। এ মনোভাবের যথাযথ
মূল্য দিয়ে সে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় প্রকৃত মালিককে টাকা ফিরিয়ে দিতে।
অনুরূপ মনোভাবের পরিচয় মেলে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের অনুভূতিতে।
বালকরা অর্থ সম্পদ পেয়ে তা ভোগের চিন্তা পরিহার করে প্রকৃত মালিককে
ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
➠ উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-৫ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রাস্তায় যাওয়ার পথে একটি লোককে চিৎকার করে কাঁদতে দেখে থমকে দাঁড়ায়
মুহসীন। কী হয়েছে জানতে চাইলে লোকটি বলে একটি চোর তার মানিব্যাগ চুরি
করেছে। মুহসীন চারদিকে তাকিয়ে চোরের গতিবিধি লক্ষ করে তার পিছু নিল।
অনেক কষ্টে চোরটিকে ধরল, কিন্তু ততক্ষণে মানিব্যাগের মালিক অন্যত্র চলে
গেল। মানিব্যাগ ভর্তি টাকা ছিল। মানিব্যাগে পাওয়া ঠিকানা অনুযায়ী
টাকাসহ মানিব্যাগটি ফেরত দিয়ে আসল মুহসীন।
ক. কোথায় ভূত আছে বলে সবাই জানে?
খ. কালবৈশাখীর ঝড় মানেই আম কুড়ানো! উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন কোন ঘটনাকে ইঙ্গিত করে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘সততা ও নির্লোভ মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়েই মুহসীন মানিব্যাগ ফেরত
দিয়েছিল’ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. তেঁতুলগাছে ভূত আছে বলে সবাই জানে।
খ. ‘কালবৈশাখীর ঝড় মানেই আম কুড়ানো!’- উক্তিটি দ্বারা গ্রামবাংলার
বৈশাখের চিত্রকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
➠ কালবৈশাখীর ঝড় এলেই গ্রামের দুরন্ত ছেলেরা আম কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
কালবৈশাখী মানেই ধ্বংস আর দুর্যোগের ঘনঘটা। কিন্তু বিভীষিকাময় এ ঝড়ও
ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনার কাছে পরাজিত হয়। বৈশাখে আম পাকে। আর দুরন্ত
গতির হাওয়ায় সেসব পাকা আম টপাটপ গাছ থেকে ঝরে পড়ে। গ্রামের ছেলে-মেয়েরা
শত দুর্যোগের মধ্যেও মনের আনন্দে সেসব আম কুড়ায়।
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের বাক্স পেয়ে সেটি
প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
➠ গল্পে লেখক ও বাদল এক ঝড়ের রাতে একটি টিনের বাক্স পায়। এ বাক্সটি
তারা নিজেরা আত্মসাৎ না করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার জন্য
প্রচেষ্টা চালায় এবং অবশেষে তারা সফল হয়। প্রকৃত মালিকের কাছে শেষ
পর্যন্ত বাক্সটি ফিরিয়ে দেয় কিশোররা। উদ্দীপকে দেখা যায়, মুহসীন
রাস্তায় কাঁদতে দেখা লোকটিকে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য সে চোরের পেছনে
ছোটে। অবশেষে কান্নারত লোকটির মানিব্যাগ সংগ্রহ করে তাতে প্রচুর টাকা
থাকা সত্ত্বেও সে মানিব্যাগটি লোকটিকে ফেরত দিতে চায়। লোকটিকে না পেয়ে
তার ঠিকানামতো মানিব্যাগটি পৌঁছে দেয়।
➠ পথেঘাটে বা অন্য কোথাও কারও কোনো জিনিস পেলে তা মালিকের কাছে পৌঁছে
দেয়াই প্রকৃত বিবেকবান মানুষের কাজ। এমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘পড়ে
পাওয়া’ গল্পে ও উদ্দীপকে সাদৃশ্য লক্ষণীয়। এ ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে ‘পড়ে
পাওয়া’ গল্পের বাক্স ফেরত দেয়ার ঘটনাটিকেই ইঙ্গিত করে।
ঘ. সততা ও নির্লোভ মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়েই মুহসীন মানিব্যাগ ফেরত
দিয়েছিল। মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে গল্পকথক ও তার বন্ধু একটি টিনের বাক্স পড়ে পায়।
ইচ্ছা করলে তারা এটি নিজেরা নিতে পারত। কিন্তু সততায় উৎসাহিত হয়ে
নির্লোভ মানসিকতা থেকে তারা দায়িত্বশীলতার সাথে প্রকৃত মালিককে
বাক্সটি ফেরত দেয়।বর্তমান সমাজে লোভ ও অসততা মহামারীর মতো ছড়িয়ে
পড়েছে।
➠ উদ্দীপকে রাস্তায় যাওয়ার পথে একজন লোকের মানিব্যাগ চুরি হলে সেটি
উদ্ধারে মুহসীন চোরের পিছু নেয়। কিন্তু মানিব্যাগ উদ্ধার করে নিয়ে এসে
সেই লোকটিকে আর পায় না। সে ইচ্ছা করলে এই মানিব্যাগ নিজেই হস্তগত করতে
পারত। কিন্তু সততা ও নির্লোভ মানসিকতা থাকলে কেউ অন্যের জিনিস আত্মসাৎ
করতে পারে না। সততা এবং নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে সত্যিকারের মানুষে
উন্নীত করতে পারে। এই মানসিকতার কারণেই মুহসীন মানিব্যাগে পাওয়া ঠিকানা
অনুযায়ী ব্যাগের মালিককে ব্যাগটি ফেরত দিয়ে আসে। এই উন্নত নীতিবোধেরই
প্রকাশ দেখা যায় উদ্দীপক এবং ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে।
➠ সুতরাং বলা যায়, সততা ও নির্লোভ মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়েই উদ্দীপকের
মুহসীন ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোররা প্রকৃত মালিককে জিনিসটি ফেরত দেয়।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-৬ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মাঠে অনেক শিশু-কিশোর মিলে খেলা করছিল। হঠাৎ মিল্টন বলল তার বলটি খুঁজে
পাওয়া যাচ্ছে না। ওদের মধ্যে শফিক ছিল সবার বড়। তাই শফিক মিল্টনকে
শান্ত হতে পরামর্শ দিল। এবং সবাইকে বলল, বলটি খুঁজে বের করার চেষ্টা
কর। শফিকের নির্দেশমতো সবাই বল খোঁজা শুরু করল এবং বিজু বলটি খুঁজে
পেয়ে মিল্টনকে দিয়ে দিল।
ক. ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি লেখকের কোন গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
খ. ‘অল্পক্ষণ পরেই প্রমাণ হলো, ও আমাদের চেয়ে কত বিজ্ঞ।’ উক্তিটি কেন
করা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের শফিকের সাথে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে?
বর্ণনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় বিষয়ের পরিপূর্ণ প্রয়োগ
ঘটেছে” মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
ক. ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি লেখকের ‘নীলগঞ্জের ফালমন সাহেব’ গ্রন্থ থেকে
নেয়া হয়েছে।
খ. ‘অল্পক্ষণ পরেই প্রমাণ হলো, ও আমাদের চেয়ে কত বিজ্ঞ’ ‘পড়ে পাওয়া’
গল্পে বিধু সম্পর্কে লেখক উক্তিটি করেছিলেন।
➠ একদিন পশ্চিম আকাশে মেঘের ক্ষীণ গুড় গুড় আওয়াজ শুনে বিধু বুঝতে পারে
এটি ঝড়ের পূর্বাভাস। তার সঙ্গীরা প্রথমে সে কথা বিশ্বাস করেনি কিন্তু
বিধু চাঁপাতলীর আম কুড়াতে একাই যেতে চাইলে সবাই ততক্ষণে তার সাথে একমত
হয়। এর কিছুক্ষণ পরই প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। এ প্রসঙ্গেই গল্পকথক
বলেন, ‘অল্পক্ষণ পরেই প্রমাণ হলো ও আমাদের চেয়ে কত বিজ্ঞ।’
গ. সৎ মানসিকতা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের দিক থেকে উদ্দীপকের শফিকের
সাথে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধু চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বিধুর নির্দেশেই অন্যরা আম কুড়াতে গিয়েছিল এবং
কুড়িয়ে পাওয়া টিনের বাক্সটির মুখ খোলা থেকে বিরত করেছিল। পরে বিধুর
নির্দেশেই বাক্সটি যথাযোগ্য মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয় এবং
অনেকদিন অপেক্ষার পর বাক্সটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব
হয়েছিল। এখানে দেখা যাচ্ছে বিধুই গল্পের মূল নায়ক এবং দলনেতা হিসেবে
গল্পের অন্য চরিত্রগুলো বিধুকে মান্য করছে। দলনেতার নির্দেশমতো কাজ করে
তারা সুন্দর ও সুচারুভাবে একটি মহৎ কাজ করতে সক্ষম হয়েছে।
➠ উদ্দীপকেও দেখা যায়, মিল্টনের বলটি হারিয়ে গেলে শফিক বিজ্ঞের মতো
মিল্টনকে শান্ত হওয়ার পরামর্শ দেয়। সবাইকে বলটি খুঁজে বের করতে বলে।
তার নির্দেশমতো বলটি খুঁজে বের করে মিল্টনকে ফেরত দেওয়া হয়। এখানে শফিক
বিধুর মতো দলনেতা হয়ে বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। তাই বলা যায় যে,
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে উদ্দীপকের শফিক চরিত্রের সাথে বিধু
চরিত্রের মিল রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় বিষয়ের পরিপূর্ণ প্রয়োগ
ঘটেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো হলো কিশোরদের সুদৃঢ় নৈতিক
অবস্থান। এ গল্পে কিশোরদের ঐক্যচেতনার যেমন পরিচয় পাওয়া যায় তেমনি
তাদের উন্নত মানবিক বোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। এখানে কিশোরদের সততা, নিষ্ঠা,
কর্তব্যবোধ ও তীক্ষ্ণ বিবেচনাবোধ পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এছাড়া
ঐক্যচেতনা ও নেতার নির্দেশ মান্য করাও এ গল্পের শিক্ষণীয় দিক।
➠ উদ্দীপকে মিল্টনের বল হারিয়ে গেলে শফিক দলনেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে
বলটি খোঁজার পরামর্শ দেয়। অন্য বালকরা তার নির্দেশমতো বল খুঁজে বের
করে মিল্টনকে ফেরত দেয়। এতে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিবেচনাবোধ, ঐক্যচেতনা
ও নেতার নির্দেশ মান্য করার বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে। যা উদ্দীপকের
মূলসুরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ সুতরাং বলা যায়, ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় বিষয় পরিপূর্ণভাবে
উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-৭ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মানিক-তপন-শিবলুদের পুকুরঘাটে গতকাল দুপুরে মানিব্যাগসহ একটি জামা
পাওয়া গেছে। যথাযথ প্রমাণসহ জামাটি নেয়ার জন্য অনুরোধ করে সর্বত্র
মাইকিং করা হলো- পরের দিন জামা নিতে আসা চারজন লোককে ফিরিয়ে দিল শিবলু।
কারণ প্রমাণের অভাব ছিল। অবশেষে দশ-বারো দিন পর পুকুরঘাটে আসা একটি
লোকের মুখের বর্ণনা শুনে তপন ভাবল জামাটি তারই হবে। তাই শিবলুকে ডেকে
নিয়ে এসে জামাটি তারা লোকটিকে ফেরত দিল।
ক. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কীর্তি কী?
খ. ‘না- ও উকিলই হবে’ কার সম্পর্কে কেন একথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “শিবলুর চরিত্রের সঙ্গে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধুর চরিত্রের বেশি মিল
খুঁজে পাওয়া যায় কি?” মতের পক্ষে যুক্তি দাও।
ক. ‘পথের পাঁচালী’ এবং ‘অপরাজিত’ উপন্যাস দুটি বিভূতিভূষণ
বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
খ. ‘না-ও উকিলই হবে’- এ কথাটি বিধুর সম্পর্কে বলা হয়েছে।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে
দিতে গিয়ে বিধু যে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে তা উকিলদের মতোই। বিধু
সাক্ষী হিসেবে সিধু, তিনুকে হাজির করার পাশাপাশি বাক্সের মালিকের কাছ
থেকে সব মালামাল বুঝে নেয়ার প্রমাণও রাখল। মূলত সূক্ষ্ম বিবেচনাবোধের
জন্যই বিধু সম্পর্কে এ কথাটি বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বাদল, বিধু, তিনু, সিধুদের কুড়িয়ে পাওয়া
বাক্সের খবর প্রচার করার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে বিধু, সিধু, তিনু, নিধু, বাদল- এরা কালবৈশাখী ঝড়ে
আম কুড়াতে যায়। আম কুড়িয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার মধ্যে একটি বাক্স
বাদলের পায়ে লাগে। নৈতিক মূল্যবোধের কারণে তারা কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সটি
না খুলে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে চায়। এজন্য বিধু কৌশল বের করে।
ঘুড়ির মাপে কাগজ কেটে তাতে বাক্স পাওয়ার খবরটি লিখে গাছের গায়ে লাগিয়ে
দেয়।
➠ উদ্দীপকের ঘটনাটিও বিধুদের এ ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়।
মানিক-তপন-শিবলুদের পুকুরঘাটে মানিব্যাগসহ একটি জামা পাওয়া যায়। তারা
মানিব্যাগসহ পাওয়া জামাটি প্রকৃত মালিককে ফেরত দিতে প্রচার করে। সুতরাং
বলা যায়, প্রকৃত মালিককে তার প্রাপ্য ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রচারের দিক
দিয়ে উদ্দীপক ও গল্পের মিল রয়েছে।
ঘ. শিবলুর চরিত্রের সঙ্গে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধুর চরিত্রের সবচেয়ে
বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের প্রধান চরিত্র বিধু। আম কুড়াতে গিয়ে একটি টিনের
বাক্স কুড়িয়ে পায় তারা। এ বাক্সে টাকা পয়সা এবং সোনার গহনা ছিল। কিন্তু
লোভ পরিহার করে কিশোররাও বাক্স খোলা থেকে বিরত থাকে এবং বাক্সটি ফেরত
দেয়ার উদ্যোগ নেয়। বিধুই কৌশল বের করে এবং বাক্স পাওয়ার খবর সবাই মিলে
প্রচার করে। পরবর্তীতে বাক্স ফেরত দেয়ার সময় উকিলের মতো কৌশল অবলম্বন
করে প্রকৃত মালিকের হাতে বাক্সটি ফিরিয়ে দেয় বিধু এবং অন্য কিশোররা।
➠ উদ্দীপকে শিবলু পুকুরপাড়ে মানিব্যাগসহ জামা পেলে মাইকিং করে তা
জানায়। এতে পরের দিন চারজন ভণ্ড লোক জামা নিতে এ শিবুল তাদের ভণ্ডামি
বুঝতে পারে। অবশেষে যথার্থ প্রমাণ পেয়ে দায়িত্বের সাথে শিবলু জামাটি
যথাযথ মালিকের কাছে ফেরত দেয়।
➠ সুতরাং দেখা যায়, দলনেতা হিসেবে সৎ ও কর্তব্যপরায়ণতার পাশাপাশি
তীক্ষ্ণ বিবেচনাবোধ প্রভৃতি দিক দিয়ে বিধুর সঙ্গে শিবলুর মিল রয়েছে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-৮ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বাস করে কিছু জেলে পরিবার। বন্যায় পাড় ভাঙনের ফলে
তারা আশ্রয়হীন হয়ে গেছে। তাই পাশের থানা হরিপুরে আশ্রয় নিয়েছে। এক জেলে
হরিপুরের এমপি সাহেবের কাছে গিয়ে তার দুঃখের কথা বর্ণনা করল। তখন এমপি
সাহেব জেলেকে খেয়ে যেতে বললেন। জেলে যেন আগামীতে পরিবারসহ ঠিকমতো চলতে
পারে সেজন্য একটি রিকশা কেনার টাকা দিয়ে দিলেন। জেলে এতে কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করলে তিনি বলেন- মানুষ তো মানুষেরই জন্য।
ক. টিনের বাক্সের ভেতরে পঞ্চাশ টাকা ছিল।
খ. অনেক দূর থেকে কাপালি ঠাকুরমশাইয়ের সাথে দেখা করতে এলে তিনি
কাপালিকে ‘এখানে দুটি ডাল-ভাত খেও’-এ কথা বলেছিলেন।
➠ কাপালি ঠাকুরমশাইয়ের দরবারে কাজের খোঁজে এসে নিজের পরিচয় দেয়।
পরিচয়ের সাথে তার অতীতের অবস্থা বর্ণনা করে। সাথে সে এটিও বলে একটি কাজ
তার অনেক বেশি দরকার। বন্যায় নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার কথা শুনে ঠাকুরমশাইয়ের
মনে সহানুভূতির জন্ম হয় কাপালির জন্য। তখন ঠাকুরমশায় তাকে দুটো ডাল-ভাত
খেয়ে যেতে বলেন।
গ. দরিদ্র্যের প্রতি সহানুভূতিশীলতার দিক থেকে ঠাকুরমশাই এবং এমপি
উভয়ের চরিত্রেরই মিল রয়েছে।
➠ তৎকালীন সমাজের উচ্চশ্রেণির জমিদাররা গরিব চাষিদের অত্যাচার করত,
শোষণ করত। কিন্তু ঠাকুরমশাই নামে খ্যাত ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের জমিদারের
মধ্যে প্রজাদের প্রতি বেশ সহানুভূতি দেখা যায়। চাকরির খোঁজে আসা
নিঃস্ব কাপালিকে চাকরি দিয়েছেন কিনা তা গল্পকথকের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে
না উঠলেও জমিদারসুলভ আতিথিয়েতা ঠাকুরমশাইয়ের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কাপালিকে তিনি খেয়ে যেতে বলেছেন।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত হরিপুর থানার এমপি সাহেবও জনগণের প্রতিনিধি। কিন্তু
জনগণের জন্য এমপি হলেও অনেক এমপির আচরণেও তা বোঝা যায় না। কিন্তু
হরিপুরের এমপি ছিলেন সৎ এবং জনদরদি। তিনি গরিব জেলেকে খাবার দিয়েই
ক্ষান্ত হননি সাথে একটি রিকশা কেনার টাকাও তার হাতে তুলে দিয়েছেন।
সমাজে উঁচু-নিচু, ধনী-গরিবের ব্যবধান ভুলে পরস্পরের সহায়তায় এগিয়ে আসাই
আদর্শ মানুষের কাজ। উদ্দীপকের এমপি সাহেবের ও গল্পের ঠাকুর মশাইয়ের
চরিত্রে একই বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে। উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়,
অসহায়, দরিদ্র, পীড়িত মানুষের প্রতি সহানুভূতির দিক থেকে উভয় চরিত্রেরই
মিল রয়েছে।
ঘ. ‘মানুষ তো মানুষেরই জন্য’- ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি
বস্তুনিষ্ঠ।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সমাজে মানবতাবোধ, সততা, অপরের প্রতি ভালোবাসা,
শ্রদ্ধাবোধ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। গল্পে কিশোর চরিত্ররা আগামী
দিনের ভবিষ্যৎ। তারা পড়ে থাকা একটি বাক্সকে সঠিক মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার
জন্য বিচক্ষণতার সাথে তার মালিকের সন্ধান করেছে। এই গল্পে গোয়ালারা ধান
দিয়ে, আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়েছে অসহায় কাপালিদেরকে। সমাজের যারা প্রধান
তারাও বিশ্বাস করে অপরের দুঃখে এগিয়ে আসতে হবে। এ কারণেই গরিব চাষি
ঠাকুরমশাইয়ের কাছে গিয়ে নিজের দুঃখের কথা বলে চাকরি চাইতে পেরেছে।
➠ উদ্দীপকের এমপি সাহেবও একজন মানবতাবাদী মানুষ। গরিবের দুঃখে তারও
প্রাণ কেঁদে ওঠে। তাই তিনি জেলেকে কিনে দিয়েছেন একটি রিকশা। যা দিয়ে সে
জীবিকা অর্জন করতে পারবে। এখানেই মানুষের প্রকৃত পরিচয় নিহিত।
➠ উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই বিষয়টি উদ্দীপক
এবং ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে যথার্থতার সাথে ফুটে উঠেছে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-৯ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
একদিন রাত দশটায় সামান্য কৃষক মনু মিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল। হাতে
রয়েছে মাছ, তরকারি আর চালের পুঁটলি। গাছপালা ঘেরা রাস্তায় প্রকট
অন্ধকারে হাত বাড়ালে হাত দেখা যায় না। মনু মিয়া গুনগুন করে গান গাইতে
গাইতে পথ চলছিল। ভাগ্যিস চেনা রাস্তা। নতুবা হাঁটতেই পারত না। হঠাৎ তার
পায়ের সাথে কিসের যেন ধাক্কা লাগল। বস্তু যে নিরেট মাটির ঢেলা বা ইট
নয়, এটা বুঝেই অন্ধকারে হাতড়িয়ে মনু মিয়া বস্তুটা নিল। ম্যাচ জ্বালিয়ে
দেখল ছোট্ট লোহার বাক্স। ভেতরে রয়েছে সোনার অলঙ্কার ও টাকা। রাতে আর
মনু মিয়ার বাড়ি যাওয়া হলো না। বাঁশতলায় বসে রইল চুপচাপ। শেষরাতে দেখা
গেল এক বৃদ্ধকে। ফুঁপিয়ে বিলাপ করতে করতে রাস্তায় যেন কী খুঁজছে।
বাক্সের প্রকৃত মালিক বুঝতে পেরে মনু মিয়া বৃদ্ধকে বাক্সটা বুঝিয়ে দিয়ে
যখন বাড়ি ফিরল, তখন সে প্রশান্তি অনুভব করল।
ক. কাদের মাঠের বাগানে চাঁপাতলীর আমগাছ আছে?
খ. ‘তেঁতুলগাছে ভূত আছে সবাই জানে।’- বাক্যটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের ঘটনা তোমার পাঠ্য কোন গল্পের ঘটনাকে নির্দেশ করে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “তাৎপর্যগত দিক থেকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্প ও উদ্দীপক একই আদর্শ শিক্ষা
দেয়।” মূল্যায়ন করো।
ক. বাড়ুয্যেদের মাঠের বাগানে চাঁপাতলীর আমগাছ আছে।
খ. ‘তেঁতুলগাছে ভূত আছে সবাই জানে।’- বাক্যটি দ্বারা গ্রামের মানুষের
কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোভাব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
➠ গ্রামে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো
ভূত। গ্রামের প্রায় সবার মনেই ভূতের ভয় কাজ করে। ভূতের আবাসন হিসেবেও
বিভিন্ন স্থান নির্দিষ্ট আছে। তেঁতুলগাছ এগুলোর অন্যতম। আকার-আয়তনে
একটু বড় বা পুরাতন তেঁতুলগাছ মানেই সেখানে ভূতের আস্তানা- এটা গ্রামের
মানুষ মাত্রই বিশ্বাস করে।
গ. উদ্দীপকের ঘটনা ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের টিনের বাক্স কুড়িয়ে পাওয়ার
ঘটনাকে নির্দেশ করে।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কালবৈশাখী ঝড়ে আম কুড়িয়ে অন্ধকার সন্ধ্যায় বাড়ি
ফিরছিল কথক আর তার বন্ধু বাদল। তারা একটা টিনের বাক্স রাস্তায় কুড়িয়ে
পায়। গ্রামের মানুষ এরূপ বাক্সে তাদের টাকা-পয়সা ও গহনা সংরক্ষণ করে।
তারা দুজনেই সংকল্প করে যে, যেভাবেই হোক প্রকৃত মালিককে বাক্স ফিরিয়ে
দেবে। বন্ধুদের সঙ্গে এ নিয়ে মিটিংও করে। অবশেষে অনেকদিন পর তারা
প্রকৃত মালিককে বাক্স ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
➠ উদ্দীপকেও এ ঘটনার মতোই একটি ঘটনার অবতারণা লক্ষণীয়। গরিব কৃষক মনু
মিয়া বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে
অন্ধকারে সে একটা বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্স খুলে দেখতে পায় টাকা আর
সোনার অলঙ্কার। কিন্তু মনু মিয়ার মনে লোভ না থাকায় সে প্রকৃত মালিককে
বাক্স ফিরিয়ে দেয়ার সংকল্প করে। সারারাত সে নির্জন বাঁশতলায় বসে থাকে
বাক্সের মালিকের অপেক্ষায়, শেষে মনু মিয়া বৃদ্ধকে তার বাক্স ফিরিয়ে
দিয়ে সকালবেলা বাড়ি যায়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা ‘পড়ে পাওয়া’
গল্পের ঘটনাকে নির্দেশ করে।
ঘ. “তাৎপর্যগত দিক থেকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্প ও উদ্দীপক একই আদর্শ শিক্ষা
দেয় মন্তব্যটি যথার্থ।”
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে লেখকের বন্ধু বাদল অন্ধকার রাস্তায় একটা মূল্যবান
বাক্স খুঁজে পায়। অনেকদিন পর ঘটনাক্রমে লেখক বাক্সের মালিককে খুঁজে
পান। তখন বন্ধুদের ডেকে বাক্সটি প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেন। এর
দ্বারা মূলত তাদের লোভহীন উন্নত চরিত্রের স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে।
➠ উদ্দীপকেও মনু মিয়া নামক এক কৃষকের সন্ধান পাওয়া যায়। দরিদ্র কৃষক
মনু মিয়া গভীর রাতে বাজার থেকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে একটা মূল্যবান
বাক্স দেখতে পায়, যা টাকা ও গহনায় ভর্তি ছিল। প্রকৃত মালিককে বাক্স
ফিরিয়ে দেয়ার জন্য মনু মিয়া আর রাতে বাড়ি যায়নি। অন্ধকারাচ্ছন্ন
বাঁশঝাড়ের নিচে বসে অপেক্ষা করতে থাকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন রাত
প্রায় শেষের দিকে, তখন কান্নারত এক বৃদ্ধকে পথে কিছু খুঁজতে দেখতে পায়।
তখন মনু মিয়া তাকে সেই বাক্স ফেরত দেয়। এতে মনু মিয়ার চরিত্রের লোভহীন,
সৎ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। যে আদর্শ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পেও লেখক
ও তার বন্ধুরা মূল্যবান বাক্স ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে মূর্ত করেছে।
➠ উপরিউক্ত আলোচনার সমাপ্তিতে বলা যায়, তাৎপর্যগত দিক থেকে উদ্দীপক ও
পড়ে পাওয়া গল্প একই আদর্শ শিক্ষা দেয়।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-১০ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘ক’ নদীর তীরবর্তী ‘খ’ একটি ছোট দ্বীপ। একটি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে এ
দ্বীপে বন্যার পানি ওঠে। বন্যার তীব্র স্রোত এ দ্বীপের বিভিন্ন ফসলের
সাথে অবলা পশুপাখিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র
অবলম্বন কৃষি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। বড় বড় শিম, লাউ ও কুমড়োর মাচা
নদীতে ভেসে যায়। বন্যার পানি নেমে গেলে এ দ্বীপের সংগ্রামী ও অসহায়
মানুষগুলো তাদের অবস্থা পরিবর্তন করতে সমর্থ হয়। কঠোর পরিশ্রম করার
মাধ্যমে নিঃস্ব কৃষকেরা তাদের স্ত্রী-সন্তানের মুখে হাসি ফোটায়।
ক. বাক্স ফেরত পেয়ে লোকটি কী করল?
খ. পশ্চিম আকাশে মেঘের আওয়াজ শুনে বিধু কী বোঝাতে চাইল? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কোন চিত্রটি অঙ্কিত হয়েছে? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্দীপকের কৃষেকরা সমর্থ হলেও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের
কাপালিরা ব্যর্থ হয়েছে বিশ্লেষণ করো।
ক. বাক্স ফেরত পেয়ে লোকটি হকচকিয়ে গেল এবং কাঁদতে লাগল।
খ. বিধু পশ্চিম আকাশে মেঘের গুড়গুড় আওয়াজ শুনে বোঝাতে চাইল কালবৈশাখীর
ঝড়ের কথা।
➠ বৈশাখ মাসে পশ্চিম দিকে মেঘ ডাকার মানে কালবৈশাখীর ঝড় উঠবে। তাই বিধু
সবাইকে ঝড়ে বাড়ুয্যেদের মাঠের বাগানে আম কুড়াতে যাওয়ার কথা বলল। মূলত
বিধু বোঝাতে চাইল পশ্চিম আকাশে এমন মেঘ ডাকলে ঝড় আসবেই।
গ. উদ্দীপকের ‘খ’ দ্বীপের বন্যার ঘটনার মাধ্যমে যেন ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের
অম্বরপুর চরের মানুষের দুঃখদুর্দশার চিত্রই অঙ্কিত হয়েছে।
➠ গল্পে অম্বরপুর চরের লোকজনের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। তারা জমিতে
শাকসবজির আবাদ করে। কিন্তু বন্যা অম্বরপুর চরবাসীর ফসল, ঘরবাড়ি সবকিছু
ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তাদের দুঃখ-দুর্দশার অন্ত থাকে না।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, ‘খ’ লোকজন অসহায় হয়ে যায় প্রলয়ঙ্করী বন্যায়।
বন্যায় ভেসে যায় এ দ্বীপের জমির শিম ও লাউ-কুমড়োর মাচা। ভেসে যায় তাদের
গবাদিপশু। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে অম্বরপুর চরের বাসিন্দাদের যেভাবে
সর্বস্বান্ত করে দেয় প্রলয়ঙ্করী বন্যা, উদ্দীপকেও একইভাবে বন্যায়
সর্বস্বান্ত হয় ছোট দ্বীপের বাসিন্দা। উদ্দীপকে ‘ক’ দ্বীপের একমাত্র
অবলম্বন জমি তলিয়ে যায় পানির নিচে। আর ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে অম্বরপুরবাসীর
বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন জমিগুলোও বন্যায় তলিয়ে যায়। সুতরাং
উদ্দীপকে ছোট দ্বীপের বাসিন্দা এবং ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে অম্বরপুরবাসীর
সর্বস্বান্ত হওয়ার চিত্রই অঙ্কিত হয়েছে।
ঘ. “ভাগ্য পরিবর্তনে উদ্দীপকের কৃষকরা সমর্থ হলেও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের
কাপালিরা ব্যর্থ হয়েছে” মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে অম্বর চরের কাপালিরা ভয়ঙ্কর বন্যায় অসহায় হয়ে যায়।
বন্যায় ভেসে যায় তাদের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, ফসলসহ সবকিছু। বন্যায় সবকিছু
হারিয়ে অনেকেই আশ্রয় নেয় নির্বিষখোলার বিভিন্ন বাড়িতে। তারা তাদের
ভাগ্য পরিবর্তনে সক্ষম হয় না। অসহায় মানুষগুলো তাদের জীবনে দুঃখ
কষ্টকেই বরণ করে নেয়।
➠ উদ্দীপকেও ‘খ’ দ্বীপের কৃষকরা বন্যায় সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়।
বন্যায় সব হারিয়ে দ্বীপের অসহায় মানুষগুলো বন্যা-পরবর্তী সময়ে ভাগ্য
ফেরাতে কঠোর পরিশ্রম করে। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের সহায়
সম্বলসহ কৃষি জমি তলিয়ে নিয়ে যায়। বন্যা পরবর্তী সময়ে কেউ কেউ আবার
তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কঠোর পরিশ্রম করে। ফিরে পেতে চায় আগের সুখ
সমৃদ্ধি। উদ্দীপকের কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে স্ত্রী-সন্তানদের মুখে
হাসি ফোটায় অবশেষে সফল হয় ভাগ্য পরিবর্তনে। উদ্দীপকের কৃষকরা
পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটায়।
➠ উল্লিখিত আলোচনায় বলা যায়, বন্যাপরবর্তী সময়ে ভাগ্য পরিবর্তনে
উদ্দীপকের কৃষকদের ও ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কাপালিদের অবস্থা বিপরীতমুখী।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-১১ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শানু বৈশাখ মাসে মামার বাড়ি বেড়াতে যায়। একদিন আকাশের অবস্থা ও মেঘের
গুড়গুড় শব্দ শুনে বুঝতে পারে কালবৈশাখী ঝড় আসছে। সে তার মামাতো ভাই মনু
ও বনুকে একথা বলে। কিন্তু তারা বিশ্বাস করতে চায় না। তবে সত্যি সত্যি
ঝড় আসে। তখন শানু, মনু ও বনুকে নিয়ে মামার হীমসাগর আমগাছ তলায় যায় আম
কুড়ানোর জন্য। কারণ এ গাছের আম অনেক মিষ্টি। তারা সেখানে গিয়ে দেখে আম
কুড়ানোর জন্য তাদের আগে আরও অনেকে এসে জড়ো হয়েছে।
ক. নরহরি বোষ্টমের ডোবায় কী ডাকছে?
খ. গল্পকথকরা বিধুর কথা বিশ্বাস করতে পারছিল না কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে ‘পড়ে পাওয়া’ রচনার কোন বিষয়ের মিল পাওয়া
যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূলভাব ধারণ করে কী? ব্যাখ্যা করো।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-১২ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সাজ্জাদ হোসেন একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে দীর্ঘদিন কর্মরত আছেন।
কোম্পানির মালিকের সাথে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। গত বছর কোম্পানির
মালিক চৌধুরী সাহেব কোম্পানির সমস্ত দায়িত্ব সাজ্জাদ হোসেনের ওপর দিয়ে
নিশ্চিন্তে হজে চলে যায়। তখন সাজ্জাদ হোসেনের মধ্যে লোভী মানসিকতা কাজ
করে। সে সুযোগ পেয়ে মালিকের প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করে।
ক. বাদল কীসে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল?
খ. বাক্সের প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেতে বাদলরা কী করেছিল? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সাথে কোনো সাদৃশ্য সূচিত করে কি? মতের
পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন-১৩ :
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জসিম মাইক্রোবাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার এক যাত্রীকে
গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। সহসা তার গাড়ির ভিতরে দৃষ্টি
পড়তেই দেখতে পেল, একটি তালা বন্ধ সুটকেস পড়ে আছে। কিন্তু ঐ ব্যাগে কোনো
ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় সে ঘটনা কাগজে লিখে প্রচার করল।
ক. পড়ে পাওয়া কী ধরনের রচনা?
খ. “ওর মত কত লোক আসবে”-কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে জসিমকে কোন যুক্তিতে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়?
ঘ. “জসিমের ঘটনাটি ক্ষুদ্র হলেও চরিত্রটি পড়ে পাওয়া গল্পের মূল
চরিত্রকেই লালন করে আছে” - মূল্যায়ন করো।
তথ্যসূত্র:
১. সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।