মানব-কল্যাণ- আবুল ফজল

মানব-কল্যাণ
মানব-কল্যাণ

মানব-কল্যাণ
আবুল ফজল

মানব-কল্যাণ- এ শিরোনাম আমার দেওয়া নয়। আমাদের প্রচলিত ধারণা আর চলতি কথায় মানব-কল্যাণ কথাটা অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়াকেও আমরা মানব-কল্যাণ মনে করে থাকি। মনুষ্যত্ববোধ আর মানব-মর্যাদাকে এতে যে ক্ষুন্ন করা হয় তা সাধারণত উপলব্ধি করা হয় না।

ইসলামের নবি বলেছেন, ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ। নিচের হাত মানে যে মানুষ হাত পেতে গ্রহণ করে, ওপরের হাত মানে দাতা- যে হাত তুলে ওপর থেকে অনুগ্রহ বর্ষণ করে। দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতা তার সর্ব অবয়বে কীভাবে প্রতিফলিত হয় তার বীভৎস দৃশ্য কার না নজরে পড়েছে?

মনুষ্যত্ব আর মানব-মর্যাদার দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। এ কথা ব্যক্তির বেলায় যেমন সত্য, তেমনি দেশ আর রাষ্ট্রের বেলায় বরং অধিকতর সত্য। কারণ, রাষ্ট্র জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু প্রশাসন চালানোই নয়, জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তর দায়িত্ব। যে রাষ্ট্র হাতপাতা আর চাটুকারিতাকে দেয় প্রশ্রয়, সে রাষ্ট্র কিছুতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে না।

তাই মানব-কল্যাণ অর্থে আমি দয়া বা করুণার বশবর্তী হয়ে দান-খয়রাতকে মনে করি না। মনুষ্যত্বের অবমাননা যে ক্রিয়াকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাকে কিছুতেই মানব-কল্যাণ নামে অভিহিত করা যায় না। মানব-কল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত। একদিন এক ব্যক্তি ইসলামের নবির কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিল। নবি তাকে একখানা কুড়াল কিনে দিয়ে বলেছিলেন, এটি দিয়ে তুমি বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা রোজগার করো গে। এভাবে তিনি লোকটিকে শুধু স্বাবলম্বনের পথ দেখাননি, সে সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছিলেন মর্যাদাবান হওয়ার, মর্যাদার সাথে জীবনযাপনের উপায়ও।

মানুষকে মানুষ হিসেবে এবং মানবিক-বৃত্তির বিকাশের পথেই বেড়ে উঠতে হবে আর তার যথাযথ ক্ষেত্র রচনাই মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান। সে সোপান রচনাই সমাজ আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সমাজের ক্ষুদ্রতম অঙ্গ বা ইউনিট পরিবার- সে পরিবারকেও পালন করতে হয় এ দায়িত্ব। কারণ, মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা সেখান থেকেই। ধীরে ধীরে ব্যাপকতর পরিধিতে যখন মানুষের বিচরণ হয় শুরু, তখন সে পরিধিতে যে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সংযোগ ঘটে- তা শিক্ষা কিংবা জীবিকা সংক্রান্ত যা হোক না তখন সে দায়িত্ব ঐসব প্রতিষ্ঠানের ওপরও বর্তায়। তবে তা অনেকখানি নির্ভর করে অনুকূল পরিবেশ ও ক্ষেত্র গড়ে তোলার ওপর।

মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভু, বিচ্ছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না। প্রতিটি মানুষ যেমন সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনি তার কল্যাণও সামগ্রিকভাবে সমাজের ভালো-মন্দের সঙ্গে সংযুক্ত। উপলব্ধি ছাড়া মানব-কল্যাণ স্রেফ দান-খয়রাত আর কাঙালি ভোজনের মতো মানব-মর্যাদার অবমাননাকর এক পদ্ধতি না হয়ে যায় না, যা আমাদের দেশ আর সমাজে হয়েছে। এসবকে বাহবা দেওয়ার এবং এসব করে বাহবা কুড়োবার লোকেরও অভাব নেই দেশে।

আসল কথা, মানুষের মনুষ্যত্বকে বাদ দিয়ে স্রেফ তার জৈব অস্তিত্বের প্রতি সহানুভূতিশীল এ ধরনের মানব-কল্যাণ কিছুমাত্র ফলপ্রসু হতে পারে না। এ হেন মানব-কল্যাণের কুৎসিত ছবি দেখার জন্য দূরদূরান্তে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আমাদের আশে-পাশে, চারদিকে তাকিয়ে দেখলেই তা দেখা যায়।

বর্তমানে মানব-কল্যাণ অর্থে আমরা যা বুঝি তার প্রধানতম অন্তরায় রাষ্ট্র, জাতি, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত চেতনা- যা মানুষকে মেলায় না, করে বিভক্ত। বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারো কল্যাণ করা যায় না। করা যায় একমাত্র সমতা আর সহযোগ-সহযোগিতার পথে।

সত্যিকার মানব-কল্যাণ মহৎ চিন্তা-ভাবনারই ফসল। বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভারা সবাই মানবিক চিন্তা আর আদর্শের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। দুঃখের বিষয়, সে উত্তরাধিকারকে আমরা জীবনে প্রয়োগ করতে পারিনি।

বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস থেকে লালন প্রমুখ কবি এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল সবাইতো মানবিক চেতনার উদাত্ত কন্ঠস্বর। বঙ্কিমচন্দ্রের অবিস্মরণীয় সাহিত্যিক উক্তি: "তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?" এক গভীর মূল্যবোধেরই উৎসারণ।

এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিম্নলিখিত উক্তিটিও স্মরণীয়: “Relationship is the fundamental truth of the world of appearance.” কবি এ উক্তিটি করেছিলেন তাঁর হিবার্ট বক্তৃতামালায়। অন্তর-জগতের বাইরে যে জগৎকে আমরা অহরহ দেখতে পাই তার মৌলিক সত্য পারস্পরিক সংযোগ-সহযোগিতা, কবি যাকে Relationship বলেছেন। সে সংযোগ বা সম্পর্কের অভাব ঘটলে মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ ভিক্ষা দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কে পরিণত হয়।

মানব-কল্যাণ অলৌকিক কিছু নয়- এ এক জাগতিক মানবধর্ম। তাই এর সাথে মানব-মর্যাদার তথা Human dignity-র সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আজ পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখলে কী দেখতে পাই? দেখতে পাই দুস্থ, অবহেলিত, বাস্তুহারা, স্বদেশ-বিতাড়িত মানুষের সংখ্যা দিন দিনই বেড়ে চলেছে। সে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে রিলিফ, রিহেবিলিটেশন ইত্যাদি শব্দের ব্যাপক প্রয়োগ। রেডক্রস ইত্যাদি সেবাধর্মী সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধিই কি প্রমাণ করে না মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ মানব-অপমানে পরিণত হয়েছে? মানুষের স্বাভাবিক অধিকার আর মর্যাদার স্বীকৃতি আর প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানব-কল্যাণ মানব-অপমানে পরিণত না হয়ে পারে না।

কালের বিবর্তনে আমরা এখন আর tribe বা গোষ্ঠীবদ্ধ জীব নই- বৃহত্তর মানবতার অংশ। তাই Go of humanity-কে বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত কিংবা খণ্ডিতভাবে দেখা বা নেওয়া যায় না। তেমনি নেওয়া যায় না তার কল্যাণকর্মকেও খণ্ডিত করে। দেখতে মানুষও অন্য একটা প্রাণী মাত্র, কিন্তু ভেতরে মানুষের মধ্যে রয়েছে এক অসীম ও অনন্ত সম্ভাবনার বীজ। যে সম্ভাবনার স্ফুরণ-স্ফুটনের সুযোগ দেওয়া, ক্ষেত্র রচনা আর তাতে সাহায্য করাই শ্রেষ্ঠতম মানব-কল্যাণ। সেটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা কোনো রকম অপমান-অবমাননার পথে হতে পারে না। হালে যে দর্শনকে অস্তিত্ববাদ নামে অভিহিত করা হয়, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Existentialism তারও মূল কথা ব্যক্তি মানুষের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দান।

বল প্রয়োগ কিংবা সামরিক শাসন দিয়ে মানুষকে তাঁবেদার কিংবা চাটুকার বানাতে পারা যায় কিন্তু প্রতিষ্ঠা করা যায় না মানব-মর্যাদার আসনে। সব কর্মের সাথে শুধু যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে তা নয়, তার সামাজিক পরিণতি তথা Social consequence-ও অবিচ্ছিন্ন। যেহেতু সব মানুষই সমাজের অঙ্গ, তাই সব রকম কল্যাণ-কর্মেরও রয়েছে সামাজিক পরিণতি। এ সত্যটা অনেক সময় ভুলে থাকা হয়। বিশেষত যখন দৃষ্টি থাকে ঊর্ধ্ব দিকে তথা পরলোকের পানে।

স্রেফ সদিচ্ছার দ্বারা মানব-কল্যাণ সাধিত হয় না। সব ধর্ম আর ধর্ম-প্রবর্তকেরা বারংবার নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের ভালো করো, মানুষের কল্যাণ করো, সুখ-শান্তি দান করো মানুষকে। এমনকি সর্বজীবে হিতের কথাও বলা হয়েছে। অতএব আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে। নতুন পদ্ধতিতে- যা হবে বৈজ্ঞানিক, র‍্যাশনাল ও সুবুদ্ধি-নিয়ন্ত্রিত। সমস্যা যত বড় আর যত ব্যাপকই হোক না তার মোকাবেলা করতে হবে সাহস আর বুদ্ধিমত্তার সাথে। এড়িয়ে গিয়ে কিংবা জোড়াতালি দিয়ে কোনো সমস্যারই সমাধান করা যায় না।

আমাদের বিশ্বাস মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় সুপরিকল্পিত পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা সম্ভব। একমাত্র মুক্ত বিচারবুদ্ধির সাহায্যেই বিজ্ঞানের অভাবনীয় আবিষ্কারকে ধ্বংসের পরিবর্তে সৃজনশীল মানবিক কর্মে করা যায় নিয়োগ। তা করা হলেই মানব-কল্যাণ হয়ে উঠবে মানব-মর্যাদার সহায়ক।
[সংক্ষেপিত]

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ:
আবুল ফজলের ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধটি ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে রচিত। এটি প্রথম ‘মানবতন্ত্র’ গ্রন্থে সংকলিত হয়।

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা:
➠ অনুগৃহীত- অনুগ্রহ বা আনুকূল্য পেয়েছে এমন। উপকৃত।
➠ মনীষা- বুদ্ধি। মনন। প্রতিভা। মেধা। প্রজ্ঞা।
➠ র‍্যাশনাল- বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন। বিচক্ষণ। যুক্তিসম্মত। Rational।
➠ মুক্তবুদ্ধি- সংকীর্ণতা ও গোঁড়ামিমুক্ত উদার মানসিকতা।
➠ শিরোনাম- প্রবন্ধ রচনাদির নাম।
➠ মামুলি- প্রথানুযায়ী, গতানুগতিক, অতি সাধারণ।
➠ উপলব্ধি- অনুভূতি, বোধ, লব্ধ জ্ঞান।
➠ দীনতা- দরিদ্রতা।
➠ বীভৎস- অতিশয় কদর্য, ঘৃণ্য, বিকৃত।
➠ অবমাননা- অপমান, অসম্মান।
➠ খয়রাত- দান, বিতরণ, ভিক্ষা।
➠ অবশ্যম্ভাবী- নিশ্চয় ঘটবে এমন।
➠ স্বাবলম্বন- আত্মনির্ভরতা, নিজ শক্তি দ্বারা কর্ম করা।
➠ সোপান- সিঁড়ি।
➠ সংযোগ- মিলন, সংলগ্নতা, মিশ্রণ, যোগাযোগ।
➠ স্বয়ম্ভূ- স্বয়ং সৃষ্ট, স্বেচ্ছায় শরীরধারী, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব।
➠ অলৌকিক- লোকাতীত, ইহলোকের নয় এমন।
➠ অবিচ্ছেদ্য- বিযুক্ত বা খ-িতকরণের অযোগ্য বা অসাধ্য।
➠ জাগতিক- জগৎ বা ইহলোক সম্বন্ধীয়, পার্থিব।
➠ রিহেবিলিটেশন- পুনর্বাসন।
➠ বিক্ষিপ্ত- এলোমেলো, অস্থির, ইতস্তত ছড়ানো।
➠ অস্তিত্ববাদ- সত্তার বিদ্যমানতা সম্পর্কিত মতবাদ, ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস।
➠ চাটুকার- তোষামোদ করে এমন, তোষামোদকারী।
➠ ক্ষুণ্ণ- দুঃখিত, ব্যথিত, ক্ষুব্ধ।
➠ সংক্রান্ত- সম্পর্কিত, সম্বন্ধীয়।
➠ বর্তায়- প্রযোজ্য হয়, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য হওয়া।
➠ বাহবা- উচ্ছ্বসিত প্রশংসা, প্রবল সমর্থন।

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব:

‘মানব-কল্যাণ’ রচনায় লেখক মানব-কল্যাণ ধারণাটির তাৎপর্য বিচারে সচেষ্ট হয়েছেন। সাধারণভাবে অনেকে দুস্থ মানুষকে করুণাবশত দান-খয়রাত করাকে মানব কল্যাণ মনে করেন। কিন্তু লেখকের মতে, এমন ধারণা খুবই সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক। তাঁর মতে, মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রয়াস। এ কল্যাণের লক্ষ্য সকল অবমাননাকর অবস্থা থেকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় মানুষের উত্তরণ ঘটানো। লেখকের বিশ্বাস, মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় পরিকল্পনামাফিক পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করা সম্ভব।


‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের কবি পরিচিতি:

আবুল ফজলের জন্ম ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। তাঁর পিতার নাম ফজলুর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তাঁর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেন। স্কুল শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে প্রায় ত্রিশ বছর কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সমাজ ও সমকাল-সচেতন সাহিত্যিক এবং প্রগতিবাদী বুদ্ধিজীবী হিসেবে তিনি সমধিক খ্যাত। ছাত্রজীবনেই যুক্ত হন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে: অন্যদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ। কথাশিল্পী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করলেও তিনি ছিলেন মূলত চিন্তাশীল প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রবন্ধে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ও স্বচ্ছ দৃষ্টির পরিচয় বিধৃত। আধুনিক অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, স্বদেশ ও ঐতিহ্যপ্রীতি, মানবতা ও শুভবোধ তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রতিপাদ্য বিষয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- উপন্যাস: ‘চৌচির’, ‘রাঙা প্রভাত’; গল্পগ্রন্থ: ‘মাটির পৃথিবী’, ‘মৃতের আত্মহত্যা’; প্রবন্ধ: ‘সাহিত্য সংস্কৃতি সাধনা’, ‘সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন’, ‘সমাজ সাহিত্য ও রাষ্ট্র, ‘মানবতন্ত্র’, ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’; দিনলিপি: ‘রেখাচিত্র’, ‘দুর্দিনের দিনলিপি’। সাহিত্যকৃতির জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের ৪ঠা মে চট্টগ্রামে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।


‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
১. আবুল ফজল কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আবুল ফজল ১৯০৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
২. আবুল ফজল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আবুল ফজল চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
৩. আবুল ফজল কত বছর কলেজে অধ্যাপনা করেছেন?
উত্তর: আবুল ফজল প্রায় ত্রিশ বছর কলেজে অধ্যাপনা করেছেন।
৪. আবুল ফজলের পিতার নাম কী?
উত্তর: আবুল ফজলের পিতার নাম ফজলুর রহমান।
৫. আবুল ফজল কোথায় শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেন?
উত্তর: আবুল ফজল চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করেন।
৬. আবুল ফজল কত সালে মারা যান?
উত্তর: আবুল ফজল ১৯৮৩ সালে মারা যান।
৭. কোন কথাটি মামুলি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে?
উত্তর: ‘মানব কল্যাণ’ কথাটি।
৮. একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়াকে আমরা সাধারণভাবে কী মনে করে থাকি?
উত্তর: মানবকল্যাণ
৯. মানুষ যে হাত পেতে গ্রহণ করে, সেটি কোন হাত?
উত্তর: নিচের হাত।
১০. অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে কোন দিক থেকে তফাত?
উত্তর: অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে মনুষ্যত্ব ও মানব মর্যাদার দিক থেকে তফাত।
১১. জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনার প্রতীক কী?
উত্তর: রাষ্ট্র জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনার প্রতীক।
১২. রাষ্ট্রের বৃহত্তর দায়িত্ব কী?
উত্তর: রাষ্ট্রের বৃহত্তর দায়িত্ব জাতিকে আত্মমর্যদাসম্পন্ন করে।
১৩. মানবকল্যাণের উৎস কিসের মধ্যে নিহিত?
উত্তর: মানবকল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যে নিহিত।
১৪. ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে একদিন এক ব্যক্তি কার কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিল?
উত্তর: ইসলামের নবির কাছে এক ব্যক্তি ভিক্ষা চাইতে এসেছিল।
১৫. ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধ অনুসারে নবি ভিক্ষুককে কী দিয়েছিলেন?
উত্তর: নবি ভিক্ষুককে একখানা কুড়াল কিনে দিয়েছিলেন।
১৬. মানবকল্যাণের প্রাথমিক সোপান কী?
উত্তর: মানবিক বৃত্তি বিকাশের যথাযথ ক্ষেত্র রচনা করা।
১৭. মানবকল্যাণের প্রাথমিক সোপান রচনার দায়িত্ব কার?
উত্তর: মানবকল্যাণের প্রাথমিক সোপান রচনার দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের।
১৮. মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা হয় কোথা থেকে?
উত্তর: মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা হয় পরিবার থেকে।
১৯. প্রত্যেক মানুষ কিসের সঙ্গে সম্পর্কিত?
উত্তর: প্রত্যেক মানুষ সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০. সামগ্রিকভাবে সমাজের ভালো-মন্দের সঙ্গে কোনটি
উত্তর: মানবকল্যাণ সমাজের ভালো-মন্দের সঙ্গে সংযুক্ত।
২১. কোন মনোভাব নিয়ে কারও কল্যাণ করা যায় না?
উত্তর: বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারও কল্যাণ করা যায় না।
২২. সত্যিকার মানবকল্যাণ কিসের ফসল?
উত্তর: সত্যিকার মানবকল্যাণ মহৎ চিন্তাভাবনার ফসল।
২৩. কারা মানবিক চিন্তা আর আদর্শের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন?
উত্তর: বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভাবান সবাই।
২৪. মহৎ প্রতিভাবানদের উত্তরাধিকারকে আমরা কী করতে পারিনি?
উত্তর: আমাদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারিনি।
২৫. কারা মানবিক চেতনার উদাত্ত কণ্ঠস্বর?
উত্তর: বিদ্যাপতি, চ-ীদাস, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল প্রমুখ মানবিক চেতনার উদাত্ত কণ্ঠস্বর।
২৬. “তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” কার উক্তি?
উত্তর: উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের।
২৭. আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে কী করতে হবে?
উত্তর: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টাতে হবে।
২৮. কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে?
উত্তর: নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।
২৯. জোড়াতালি দিয়ে কী করা যায় না?
উত্তর: জোড়াতালি দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না।
৩০. কীভাবে কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করা সম্ভব?
উত্তর: মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় সুপরিকল্পিত পথে।

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-১:


তথ্যসূত্র:
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url