নদীর স্বপ্ন- বুদ্ধদেব বসু
নদীর স্বপ্ন
বুদ্ধদেব বসু
কোথায় চলেছো? এদিকে এসো না!
দুটো কথা শোনো
দিকি,
এই
নাও —
এই চকচকে, ছোটো,
নতুন রুপোর সিকি।
ছোকানুর কাছে দুটো
আনি
আছে,
তোমায় দিচ্ছি তাও,
আমাদের যদি তোমার সঙ্গে
নৌকায় তুলে নাও।
নৌকা তোমার ঘাটে বাঁধা আছে—
যাবে কি অনেক দূরে?
পায়ে পড়ি, মাঝি, সাথে নিয়ে চলো
মোরে আর
ছোকানুরে।
আমারে চেনো না? আমি যে কানাই।
ছোকানু
আমার বোন।
তোমার সঙ্গে বেড়াবো আমরা
মেঘনা,
পদ্মা,
শোণ
শোনো, মা এখন ঘুমিয়ে আছেন,
দিদি গেছে ইশকুলে,
এই ফাঁকে মোরে — আর ছোকানুরে —
নৌকোয় নাও তুলে।
কোনো ভয় নেই — বাবার বকুনি
তোমায় হবে না খেতে,
যত দোষ সব আমরা — না, আমি
একা নেবো মাথা পেতে।
ওটা কী? জেলের নৌকা? — তাই তো!
জাল টেনে তোলা দায়,
রুপোলি নদীর রুপোলি ইলিশ —
ইশ, চোখে
ঝলসায়!
ইলিশ কিনলে? — আঃ,
বেশ, বেশ,
তুমি খুব ভালো, মাঝি।
উনুন ধরাও, ছোকানু দেখাক
রান্নার কারসাজি।
পইঠায় বসে ধোঁয়া-ওঠা ভাত,
টাটকা ইলিশ-ভাজা —
ছোকানু রে, তুই আকাশের রানি,
আমি পদ্মার রাজা।
খাওয়া হলো শেষ, আবার চলছি
দুলছে ছোট্ট নাও,
হালকা নরম হাওয়ায় তোমার
লাল
পল
তুলে দাও।
ছোকানুর চোখ ঘুমে ঢুলে আসে
আমি ঠিক জেগে আছি,
গান গাওয়া হলে আমায় অনেক
গল্প বলবে, মাঝি?
শুনতে শুনতে আমিও ঘুমোই
বিছানা বালিশ বিনা —
মাঝি, তুমি দেখো ছোকানুরে, ভাই,
ও বড়োই ভীতু কিনা।
আমার জন্যে কিছু ভেবো না
আমি তো বড়োই প্রায়
ঝড় এলে ডেকো আমারে — ছোকানু
যেন সুখে ঘুম যায়। [অংশবিশেষ]
|
| নদীর স্বপ্ন |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতাটি বুদ্ধদেব বসুর ‘বারোমাসের ছড়া’ (১৯৫৬ খ্রি.) নামক গ্রন্থের অন্তর্গত নেওয়া হয়েছে। কবিতাটির মূল নাম ‘নদী-স্বপ্ন’। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ দিকি- দেখি। ➠ নাও- গ্রহণ করো, লও। ➠ মোরে- আমারে। ➠ ছোকানু- ছেটো কানু। আদুরে অর্থে। ➠ সিকি- চার আনা মূল্যের মুদ্রা বা ২৫ পয়সার মুদ্রা। পঁচিশ পয়সা মানের মুদ্রাকেও সিকি বলা হয়েছে।) ➠ আনি- এক টাকার যোল ভাগের এক ভাগ মূল্যের মুদ্রা। আগে ষোল আনায় এক টাকা- এই হিসাব প্রচলিত ছিলো। ‘আনা’কে কথ্য ভাষায় ‘আনি’ বলা হতো। ➠ মেঘনা- বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান, গভীরতম ও প্রশস্ততম নদী। মেঘনা অববাহিকার ৫৭% ভারতে এবং ৪৩% বাংলাদেশে অবস্থিত। ➠ পদ্মা- এটি হিমালয়ে উৎপন্ন হয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পদ্মা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এবং দীর্ঘতম নদী, যা গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা। ➠ শোণ- একটি নদীর নাম। পাকিস্তান ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ নদী শোন। শোন খুবই প্রাচীন নদী। পাকিস্তান থেকে এর উৎপত্তি। প্রায় দেড় লক্ষ বছর আগের শোন সংস্কৃতি এই নদীর তীরে আবিষ্কৃত হয়। ঋক বেদে যে সুষমা নদীর নাম আছে সেই সুষমা নদীই আসলে শোন নদী, বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। শোন নদী পাকিস্তানের পাঞ্জাব দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। ➠ ইশকুলে- স্কুলে>ইশকুলে। আদিস্বরাগমের পরিবর্তন। ➠ ঝলসায়- উজ্জ্বল আলোয় চোখ ধাঁধায়। ➠ উনুন- চুলা। যেখানে আগুন জ্বেলে রান্না করা হয়। ➠ কারসাজি- কূটকৌশল। এখানে চমৎকারিত্ব অর্থে কাব্যিক ব্যবহার। ➠ পইঠা- সোপান, সিঁড়ি। এখানে নৌকার প্রান্ত বোঝাচ্ছে। ➠ বেশ, বেশ- ভালো ভালো। ➠ পল- বাতাসের সাহায্যে চালাবার জন্য নৌকায় খাটানো মোটা কাপড়ের পর্দা। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার পাঠের উদ্দেশ্য: |
|---|
| এই কবিতা পাঠ করার কারণে শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির প্রসার ঘটবে। প্রকৃতি ও দেশের প্রতি আকর্ষণ বাড়বে। ভাইবোনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক তৈরি হবে। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব: |
|---|
| বুদ্ধদেব বসু ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় নদী এবং নৌভ্রমণ নিয়ে এক কিশোরের কল্পনা রূপায়িত হয়েছে। দুরন্ত এক কিশোর তার ছোটো বোনকে নিয়ে নৌকাতে উঠে নদীর পর নদী পার হয়ে তাদের মনের আকাঙ্ক্ষা পুরণ করতে চায়। নৌকার নানা রঙের পাল, নীল রঙের আকাশ, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির উড়ে চলা, রূপালি ইলিশ মাছ, নৌকায় রান্না করা, সম্পান গান গাওয়া, গল্প করা-এত কিছু কিশোর মনে গভীর স্বপ্ন নিয়ে আসে। পাশপাশি এ কবিতায় বোনের প্রতি ভাইয়ের দায়িত্ব ও আদর প্রকাশের চমৎকার নিদর্শন আছে। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
|
বুদ্ধদেব বসু বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি কবিতা, ছড়া, ছোটোগল্প,
উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, স্মৃতিকথা, অনুবাদ, সম্পাদনা
ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক (সম্মান) এবং পরের
বছর প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথমে সাংবাদিকতা
এবং পরে অধ্যাপনাকে তিনি পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। ঢাকার পুরানা পন্টন
থেকে তাঁর ও অজিত দত্তের যৌথ সম্পাদনায় সচিত্র মাসিক পত্রিকা ‘প্রগতি’
(১৯২৭-১৯২৯) প্রকাশিত হয়। তিনি ‘কবিতা পত্রিকা’ নামেও একটি
পত্রিকা সম্পাদনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যরীতির বাইরে পৃথক
কাব্যধারার প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম প্রধান কবি বুদ্ধদেব বসুর
রচনাশৈলী স্বতন্ত্র ও মনোজ্ঞ। বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুর অর্থাৎ বর্তমানের মুন্সিগঞ্জে। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন: |
|---|
|
ক. তোমার ভালো লাগার স্বপ্ন নিয়ে কবিতা, গল্প বা নাটিকা রচনা করো (একক
কাজ)। খ. ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতাটির একটি গদ্যরূপ উপস্থাপন করো (দলগত কাজ)। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার কবির নাম কী? উত্তর: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার কবির নাম বুদ্ধদেব বসু। প্রশ্ন- ২: বুদ্ধদেব বসু কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর: বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। প্রশ্ন- ৩: বুদ্ধদেব বসু জন্মগ্রহণ করেন কোন জেলায়? উত্তর: বুদ্ধদেব বসু কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রশ্ন- ৪: বুদ্ধদেব বসু কার সাথে যৌথ সম্পাদনা করে ‘প্রগতি’ মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন? উত্তর: বুদ্ধদেব বসু অজিত দত্তের সাথে যৌথ সম্পাদনা করে ‘প্রগতি’ মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। প্রশ্ন- ৫: বুদ্ধদেব বসু কোথায় মৃত্যুবরণ করেন? উত্তর: বুদ্ধদেব বসু কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। প্রশ্ন- ৬: বুদ্ধদেব বসু নিজে যে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন তার নাম কী? উত্তর: বুদ্ধদেব বসু নিজে যে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন তার নাম ‘কবিতা পত্রিকা’। প্রশ্ন- ৭: এই নাও-এই চকচকে, ছোটো, নতুন- কী? উত্তর: এই নাও-এই চকচকে, ছোটো, নতুন রুপোর সিকি। প্রশ্ন- ৮: কার কাছে দুটো আনি আছে? উত্তর: ছোকানুর কাছে দুটো আনি আছে। প্রশ্ন- ৯: মাঝিকে কে জিজ্ঞেস করেছে- আমারে চেনো না? উত্তর: মাঝিকে কানাই জিজ্ঞেস করেছে, আমারে চেনো না? প্রশ্ন- ১০: ছোকানু কার বোন? উত্তর: ছোকানু কানাইয়ের বোন। প্রশ্ন- ১১: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় আকাশের রানি বলা হয়েছে কাকে? উত্তর: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় ছোকানুকে আকাশের রানি বলা হয়েছে। প্রশ্ন- ১২: দেখাক, রান্নার কারসাজি- কে রান্নার কারসাজি দেখাবে? উত্তর: কানাইয়ের ছোট বোন ছোকানু রান্নার কারসাজি দেখাবে। প্রশ্ন- ১৩: কে নিজেকে পদ্মার রাজা বলে পরিচয় দিয়েছে? উত্তর: কানাই নিজেকে পদ্মার রাজা বলে পরিচয় দিয়েছে। প্রশ্ন- ১৪: সোনা হয়ে জ্বলে কীসের জল? উত্তর: সোনা হয়ে জ্বলে পদ্মার জল। প্রশ্ন- ১৫: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় কাকে লক্ষ্মী বলা হয়েছে? উত্তর: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় মাঝিকে লক্ষ্মী বলা হয়েছে। প্রশ্ন- ১৬: কারসাজি শব্দের আভিধানিক অর্থ কী? উত্তর: কারসাজি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো কূটকৌশল। প্রশ্ন- ১৭: পাল কী? উত্তর: বাতাসের সাহায্যে নৌকা চালানোর জন্য নৌকায় খাটানো কাপড়ের পর্দাই হলো পাল। প্রশ্ন- ১৮: দুপুরের রোদে জল কেমন করে বয়ে চলে? উত্তর: দুপুরের রোদে জল ছলোছলো করে বয়ে চলে। প্রশ্ন- ১৯: ছোকানুর ভাইয়ের নাম কী? উত্তর: ছোকানুর ভাইয়ের নাম কানাই। প্রশ্ন- ২০: বুদ্ধদেব বসুর পৈতৃক নিবাস কোথায়? উত্তর: বুদ্ধদেব বসুর পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুর অর্থাৎ বর্তমান মুন্সীগঞ্জে। প্রশ্ন- ২১: খাওয়ার পর মাঝি কোন রঙের পাল তোলে? উত্তর: খাওয়ার পর মাঝি লাল রঙের পাল তোলে। প্রশ্ন- ২২: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় কার কাছে দুটো আনি আছে? উত্তর: ছোকানুর কাছে দুটো আনি আছে। প্রশ্ন- ২৩: রান্নার কারসাজি কে দেখাবে? উত্তর: ছোকানু রান্নার কারসাজি দেখাবে। প্রশ্ন- ২৪: ‘কারসাজি’ শব্দটির অর্থ কী? উত্তর: ‘কারসাজি’ শব্দের অর্থ কূটকৌশল। প্রশ্ন- ২৫: বুদ্ধদেব বসু কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর: বুদ্ধদেব বসু কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রশ্ন- ২৬: নতুন রুপোর সিকি দেখতে কী রকম? উত্তর: নতুন রুপোর সিকি দেখতে চকচকে। প্রশ্ন- ২৭: কার চোখ ঘুমে ঢুলে আসে? উত্তর: ছোকানুর চোখ ঘুমে ঢুলে আসে। প্রশ্ন- ২৮: সারাদিন গেলে সূর্য কোথায় লুকালো? উত্তর: সারাদিন গেলে সূর্য জলের তলার ঘরে লুকাল। প্রশ্ন- ২৯: রান্নার কারসাজি কে দেখাবে? উত্তর: রান্নার কারসাজি দেখাবে ছোকানু। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: কিশোর তার মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে চায় কীভাবে? বুঝিয়ে
লেখো।
প্রশ্ন- ২: ‘সোনা হয়ে জ্বলে পদ্মার জল/কালো হলো তার পরে’- চরণটি
বুঝিয়ে লেখো।
প্রশ্ন- ৩: কানাই মাঝির সঙ্গে যেতে চাইল কেন?
প্রশ্ন- ৪: ‘এই ফাঁকে মোরে- আর ছোকানুরে- নৌকায় নাও তুলে।’- কোন
ফাঁকে? ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৫: মাঝির গানে জলের শব্দ কীভাবে তাল দিয়েছিল?
প্রশ্ন- ৬: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় কবি পদ্মা নদীকে কীভাবে ব্যাখ্যা
করেছেন?
প্রশ্ন- ৭: নৌকা-ভ্রমণের বিনিময়ে কানাই মাঝিকে আনি বা পয়সা দিতে
চেয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৮: ‘পায়ে পড়ি মাঝি’ সাথে নিয়ে চলো’—চরণটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা
কর।
প্রশ্ন- ৯: ‘ঝাঁকে ঝাঁকে বেঁকে ঐ দ্যাখো পাখি’—চরণটি ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ১০: যত দোষ সব আমরা—না, আমি একা নেবো মাথা পেতে।—ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ১১: কানাই মাঝিকে লক্ষ্মী বলেছিল কেন?
প্রশ্ন- ১২: কানাই মাঝিকে পাল নামাতে বলল কেন?
প্রশ্ন- ১৩: কানাই মাঝিকে পাল নামাতে বলেছে কেন? বুঝিয়ে লেখো।
প্রশ্ন- ১৪: ছোট পাখিকে আকাশের মুখের তিল বলা হয়েছে কেন?
প্রশ্ন- ১৫: কানাই মাঝিকে খুব ভালো বলেছে কেন?
প্রশ্ন- ১৬: ‘সোনা হয়ে জ্বলে পদ্মার জল’—চরণটি দ্বারা কী বোঝানো
হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ১৭: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় রান্নার কারসাজি বলতে কী বোঝানো
হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ১৮: ‘ঝড় এলে ডেকো আমারে’—কানাই একথা বলেছে কেন?
প্রশ্ন- ১৯: কিশোর তার মনের আকাক্সক্ষা পূরণ করতে চায় কীভাবে? বুঝিয়ে
লেখো।
প্রশ্ন- ২০: ‘সোনা হয়ে জ্বলে পদ্মার জল/কালো হলো তার পরে’—চরণটি
বুঝিয়ে লেখো।
প্রশ্ন- ২১: কানাই মাঝির সঙ্গে যেতে চাইল কেন?
প্রশ্ন- ২২: ‘এই ফাঁকে মোরে-আর ছোকানুরে- নৌকায় নাও তুলে।’—কোন
ফাঁকে? ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ২৩: মাঝির গানে জলের শব্দ কীভাবে তাল দিয়েছিল?
প্রশ্ন- ২৪: ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় কবি পদ্মা নদীকে কীভাবে ব্যাখ্যা
করেছেন? |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. দুপুরের রোদে জল কেমন করে বয়ে চলে? |
|
ক. দুপুরের রোদে জল ছলোছলো করে বয়ে চলে।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার বিষয়বস্তুগত অমিল লক্ষ করা
যায়।
ঘ. “বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও কবিতাটি কিশোর মনের আবেগ
প্রকাশের দিক থেকে অভিন্ন” -মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. খাওয়ার পর মাঝি কোন রঙের পাল তোলে? |
|
ক. খাওয়ার পর মাঝি লাল রঙের পাল তোলে?
গ. উদ্দীপকের কিশোরটির সাথে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার বালকের
কল্পনাবিলাসী ভাবনার দিক থেকে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করে না”-
মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় কার কাছে দুটো আনি আছে? |
|
ক. ছোকানুর কাছে দুটো আনি আছে।
গ. নদীর প্রকৃতি বর্ণনা ও ভাইবোনের মধুর সম্পর্কের দিক থেকে
বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় কিশোর মনের
আবেগ প্রকাশ একই রকম।’ -উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. রান্নার কারসাজি কে দেখাবে? |
|
ক. ছোকানু রান্নার কারসাজি দেখাবে।
গ. কল্পনাগত দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার
প্রেক্ষাপটগত ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।
ঘ. “রাতুলের আনন্দানুভূতি কানাইয়ের স্বপ্নের সম্পূর্ণ প্রতিফলন”-
উক্তিটি যথাযথ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘কারসাজি’ শব্দটির অর্থ কী? |
|
ক. ‘কারসাজি’ শব্দের অর্থ কূটকৌশল।
গ. উদ্দীপকে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার কিশোর বয়সের চঞ্চলতার পরিচয় পাওয়া
যায়।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় সমগ্র বিষয়বস্তুকে ধারা করে না’-
মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. বুদ্ধদেব বসু কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? |
|
ক. বুদ্ধদেব বসু কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
গ. উদ্দীপকের কথকের জামা দিতে চাওয়ার সাথে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার
মাঝিকে কানাইয়ের রুপোর সিকি দিতে চাওয়ার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার দৃশ্যপট আলাদা হলেও উভয় কবিতায়
কিশোর মনের একই অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে- উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. নতুন রুপোর সিকি দেখতে কী রকম? |
|
ক. নতুন রুপোর সিকি দেখতে চকচকে।
গ. উদ্দীপকে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার বোনের প্রতি ভাইয়ের মিষ্টি মধুর
ভালোবাসার সম্পর্কের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় প্রকাশিত বোনের প্রতি ভাইয়ের দায়িত্ববোধের
বিষয়টি উদ্দীপকে অনুপস্থিত মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ছোকানুর ভাইয়ের নাম কী? |
|
ক. ছোকানুর ভাইয়ের নাম কানাই।
গ. উদ্দীপকের কবির কল্পনায় নৌকাভ্রমণের আকুলতা ও আবেগ প্রকাশ ‘নদীর
স্বপ্ন’ কবিতায় কানাইয়ের নৌকাভ্রমণের আকুলতা ও আবেগ প্রকাশের সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় কল্পনার সমান প্রভাব থাকলেও
অবস্থানগত ভিন্নতা রয়েছে। মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কার চোখ ঘুমে ঢুলে আসে? |
|
ক. ছোকানুর চোখ ঘুমে ঢুলে আসে।
গ. উদ্দীপকে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার কানাই এবং ছোকানুর নিজ হাতে রান্না
করে পরম তৃপ্তিতে আহার করার যে কাল্পনিক চিত্রকল্পটির অবতারণা করা
হয়েছে তার পরিপূর্ণ স্ফুরণ ঘটেছে।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার আংশিক ভাবের ধারক মাত্র।
মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. সারাদিন গেলে সূর্য কোথায় লুকালো? |
|
ক. সারাদিন গেলে সূর্য জলের তলার ঘরে লুকাল।
গ. ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মনোহর বর্ণনার দিকটিই
উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটিতে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার মূলভাব পরিপূর্ণভাবে ফুটে
ওঠেনি আমি এ বিষয়টির সাথে একমত। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. বুদ্ধদেব বসুর পৈতৃক নিবাস কোথায়? |
|
ক. বুদ্ধদেব বসুর পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুর অর্থাৎ বর্তমান
মুন্সীগঞ্জে।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের কবির অনুভূতি স্মৃতিচারণমূলক আর ‘নদীর
স্বপ্ন’ কবিতার কানাইয়ের অনুভূতি নৌকাভ্রমণকে ঘিরে আনন্দপূর্ণ।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তার শৈশবের নদীকে স্মরণ করেছেন। আর ‘নদীর
স্বপ্ন’ কবিতায় কানাই নদী দেখতে চায়, নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়।
অর্থাৎ নদীকে ঘিরেই সে নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়েছে। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. রান্নার কারসাজি কে দেখাবে? |
|
ক. রান্নার কারসাজি দেখাবে ছোকানু।
গ. উদ্দীপকে ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের দায়িত্ব ও আদর
প্রকাশের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না। |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় পদ্মা নদীকে কী নাম দেওয়া হয়েছে? |
| ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: |
| তথ্যসূত্র : |
|---|
|
১. সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |


