প্রার্থনা- কায়কোবাদ

প্রার্থনা
প্রার্থনা

প্রার্থনা
কায়কোবাদ

বিভো, দেহ হৃদে বল!
না জানি ভকতি, নাহি জানি স্তুতি,
কী দিয়া করিব, তোমার আরতি
    আমি নিঃসম্বল!
তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে
দাঁড়ায়েছি প্রভো, সঁপিতে তোমারে
    শুধু আঁখি জল,
    দেহ হৃদে বল!

বিভো, দেহ হৃদে বল!
দারিদ্র্য পেষণে, বিপদের ক্রোড়,
অথবা সম্পদে, সুখের সাগরে
ভুলিনি তোমারে এক পল,
জীবনে মরণে, শয়নে স্বপনে
    তুমি মোর পথের সম্বল,
    দেহ হৃদে বল!

বিভো, দেহ হৃদে বল!
কত জাতি পাখি, নিকুঞ্জ বিতানে
সদা আত্মহারা তব গুণগানে,
    আনন্দে বিহ্বল!
ভুলিতে তোমারে, প্রাণে অবসাদ,
তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ
    চারু ফুল ফল!
    দেহ হৃদে বল!

বিভো, দেহ হৃদে বল!
তোমারি নিঃশ্বাস বসন্তের বায়ু,
তব স্নেহ কণা জগতের আয়ু,
তব নামে অশেষ মঙ্গল!
গভীর বিষাদে, বিপদের ক্রোড়ে,
একাগ্র হৃদয়ে স্মরিলে তোমারে
    নিভে শোকানল!
    দেহ হৃদে বল!
                (সংক্ষেপিত)

চিত্রকর: তাজরীয়া বিনতে নেজাম অ্যাঞ্জেল; ৯ম শ্রেণি
চিত্রকর: তাজরীয়া বিনতে নেজাম অ্যাঞ্জেল; ৯ম শ্রেণি
‘প্রার্থনা’ কবিতার উৎস নির্দেশ:
‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কবির ‘অশ্রুমালা’(১৮৯৬) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

‘প্রার্থনা’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা:
➠ প্রার্থনা- মুনাজাত, আবেদন।
➠ বিভো- বিভু, স্রষ্টা। এখানে ‘বিভো’ বলে কবি স্রষ্টাকে সম্বোধন করেছেন।
➠ দেহ- দাও।
➠ হৃদে- হৃদয়ে, মনে।
➠ বল- শক্তি, জোর।
➠ ভকতি- ভক্তি।
➠ স্তুতি- ভক্তি; প্রশংসা।
➠ আরতি- প্রার্থনা।
➠ নিঃসম্বল- সম্বলহীন; নিঃস্ব; দরিদ্র।
➠ রিক্ত করে- শূন্য হাতে।
➠ প্রভো- প্রভু।
➠ সঁপিতে- আত্মদান করতে, সমর্পন করতে।
➠ আঁখি- চোখ।

➠ পেষণে- অত্যাচারে।
➠ ক্রোড়- কোল।
➠ পল- মুহূর্তকাল, নিমেষ, চব্বিশ সেকেন্ড সময়।
➠ শয়নে- ঘুমে।
➠ স্বপনে- স্বপ্নে।
➠ সম্বল- অবলম্বন।

➠ নিকুঞ্জ- বাগান।
➠ বিতান- সমষ্টি।
➠ সদা- সবসময়।
➠ আত্মহারা- আত্মবিস্মৃতি, আত্মভোলা।
➠ তব- তোমার।
➠ বিহ্বল- আত্মহারা; অভিভূত।
➠ অবসাদ- ক্লান্তিজনিত বিষণ্ন ভাব।
➠ তরুলতা- লতাকুঞ্জ।
➠ শিরে- গাছের শীর্ষে বা চূড়ায়।
➠ প্রসাদ- অনুগ্রহ; এখানে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট ফুল-ফলকে বোঝাচ্ছে।
➠ চারু- সুন্দর।

➠ তব- তোমার।
জগতের আয়ু- পৃথিবীর স্থায়িত্ব যে প্রভুর দয়ার ওপর নির্ভরশীল বোঝানো হয়েছে। সৃষ্টার দয়া ও স্নেহের ওপর নির্ভর করছে জগতের টিকে থাকা না থাকা।
➠ অশেষ- যার শেষ নেই, অন্তহীন।
➠ বিষাদ- বিষণ্নতা, দুঃখবোধ।
বিপদের ক্রোড়ে- বিপদের সময়ে।
➠ একাগ্র- একনিষ্ঠ।
➠ স্মরিলে- স্মরণ করলে, মনে করলে।
একাগ্র হৃদয়ে স্মরিলে তোমারে- সৃষ্টিকর্তার নিকট একাগ্র হৃদয়ে প্রার্থনা করলে শোক বা দুঃখ দূর হয়।
➠ শোকানল- শোক রূপ অনল, যে শোক হৃদয়কে দগ্ধ করে।

‘প্রার্থনা’ কবিতার পাঠের উদ্দেশ্য:
‘প্রার্থনা’ কবিতাটি পাঠ করে শিক্ষার্থীরা স্রষ্টার মহিমা সম্পর্কে জানবে এবং সমগ্র সৃষ্টি যে স্রষ্টার প্রতি নিবেদিত তা উপলব্ধি করবে। তারা স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং সৎ ও সুন্দর জীবন গঠনে তৎপর হবে।

‘প্রার্থনা’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি:
কবি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদে, আপদে, সুখে, শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেন। গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল সবই বিধাতাকে স্মরণ করে। তাঁর অফুরন্ত দয়ায় জগতের সব কিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে আছে। তাঁর দয়া ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। আমরা রিক্ত হস্তে পরম ভক্তি ভরে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানাই: হে প্রভু, আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও। আমরা যেন তোমার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে পারি।

‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি পরিচিতি:
কায়কোবাদ ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী। প্রবেশিকা পর্যন্ত লেখাপড়া করে তিনি ডাকবিভাগে চাকরি নেন। অনেক দিন ধরে তিনি নিজগ্রাম আগলাতে পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। ছেলেবেলা থেকেই কবিতা লেখায় তাঁর হাতেখড়ি হয়। তারপর আপন স্বভাবে তিনি ক্রমাগত লিখে গেছেন। তাঁর রচিত মহাশ্মশান বিখ্যাত মহাকাব্য। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয়ধারা, মহররম শরীফ ইত্যাদি।
১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে কবি কায়কোবাদ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

‘প্রার্থনা’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


চিত্রকর: তাহিয়াত বিনতে হাসান সুবাহ; ৭ম শ্রেণি
চিত্রকর: তাহিয়াত বিনতে হাসান সুবাহ; ৭ম শ্রেণি
‘প্রার্থনা’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন-১: কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যের নাম কী?
উত্তর : কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যের নাম ‘মহাশ্মশান’।
প্রশ্ন-২: কবি কায়কোবাদ রচিত ‘মহাশ্মশান’কোন ধরনের কাব্য?
উত্তর: কবি কায়কোবাদ রচিত ‘মহাশ্মশান’ হলো মহাকাব্য।
প্রশ্ন-৩: প্রভুর গুণগানে আত্মহারা কে?
উত্তর : নানা জাতির পাখি প্রভুর গুণগানে আত্মহারা।
প্রশ্ন-৪: ‘হৃদে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘হৃদে’ শব্দের অর্থ হৃদয়ে বা মনে।
প্রশ্ন-৫: কবি সুখের সাগরে কাকে ভুলে যান না?
উত্তর : কবি সুখের সাগরে সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যান না।
প্রশ্ন-৬: ‘বিভো’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘বিভো’ শব্দের অর্থ প্রভু।
প্রশ্ন-৭: কবি কী করতে জানেন না?
উত্তর : কবি ভক্তি ও স্তুতি করতে জানেন না।
প্রশ্ন-৮: ‘প্রার্থনা’ কবিতায় নিঃসম্বল কে?
উত্তর : প্রার্থনা কবিতায় নিঃসম্বল কবি নিজেই।
প্রশ্ন-৯: কবি রিক্ত হাতে কার দুয়ারে দাঁড়িয়েছেন?
উত্তর : কবি রিক্ত হাতে প্রভুর দুয়ারে দাঁড়িয়েছেন।
প্রশ্ন-১০: কবি প্রভুকে কী দিতে বলেছেন?
উত্তর : কবি প্রভুকে মনে বল দিতে বলেছেন।
প্রশ্ন-১১: কবি কখন প্রভুকে ভোলেননি?
উত্তর : কবি সুখের সময় ও দুঃখের দিনে প্রভুকে ভোলেননি।
প্রশ্ন-১২: কবির পথের সম্বল কে?
উত্তর : কবির পথের সম্বল তার প্রভু।
প্রশ্ন-১৩: পশুপাখি কার গুণগানে আত্মহারা?
উত্তর : পশুপাখি প্রভুর গুণগানে আত্মহারা।
প্রশ্ন-১৪: তরুলতার শিরে প্রভুর কী আছে?
উত্তর : তরুলতার শিরে প্রভুর প্রসাদ, ফুল-ফল আছে।
প্রশ্ন-১৫: কবিতায় প্রভুর নিঃশ্বাস কী?
উত্তর : প্রভুর নিঃশ্বাস হচ্ছে বসন্তের বায়ু।
প্রশ্ন-১৬: কবির মতে জগতের আয়ু কী?
উত্তর : কবির মতে জগতের আয়ু হলো প্রভুর স্নেহকণা।
প্রশ্ন-১৭।: কার নামে অশেষ মঙ্গল নিহিত?
উত্তর : প্রভুর নামে অশেষ মঙ্গল নিহিত।
প্রশ্ন-১৮: কখন প্রভুকে স্মরণ করলে হৃদয়ের শোকানল নিভে?
উত্তর : গভীর বিষাদে আর বিপদের মধ্যে প্রভুকে স্মরণ করলে হৃদয়ের শোকানল নিভে।
প্রশ্ন-১৯: ‘পল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘পল’ শব্দের অর্থ মুহূর্তকাল।
প্রশ্ন-২০: কী দিয়ে কবি নিজেকে প্রভুর হাতে সঁপে দিতে চান?
উত্তর : শুধু চোখের জল দিয়ে কবি নিজেকে প্রভুর হাতে সঁপে দিতে চান।
প্রশ্ন-২১: স্তুতি কথার অর্থ কী?
উত্তর: স্তুতি কথার অর্থ প্রশংসা।
প্রশ্ন-২২: মহাশ্মশান কবি কায়কোবাদের কী ধরনের রচনা?
উত্তর: ‘মহাশ্মশান’ কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
প্রশ্ন-২৩: কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম কী?
উত্তর: কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম আগলা পূর্বপাড়া।
প্রশ্ন-২৪: ‘নিকুঞ্জ’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘নিকুঞ্জ’ অর্থ বাগান।
প্রশ্ন-২৫: কায়কোবাদের আসল নাম কী?
উত্তর: কায়কোবাদের আসল নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী।
প্রশ্ন-২৬: একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে কী নিভে যায়?
উত্তর: একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে শোকানল নিভে যায়।
প্রশ্ন-২৭: একাগ্র হৃদয়ে কাকে স্মরণ করলে শোকানল নিভে?
উত্তর: একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে শোকানল নিভে যায়।
প্রশ্ন-২৮: ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ‘অশ্রুমালা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
প্রশ্ন-২৯: কবি কায়কোবাদ কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: কবি কায়কোবাদ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। প্রশ্ন-৩০: ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কী বর্ণনা করেছেন?
উত্তর: ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমা বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন-৩১: গাছে গাছে পাখি কাকে স্মরণ করে?
উত্তর: গাছে গাছে পাখি বিধাতাকে স্মরণ করে।
প্রশ্ন-৩২: শোকানল শব্দটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শোকানল শব্দটি দ্বারা শোক হৃদয়কে দগ্ধ করে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন-৩৩: কবি কায়কোবাদের জন্ম কোন জেলায়?
উত্তর: কবি কায়কোবাদের জন্ম ঢাকা জেলায়।
প্রশ্ন-৩৪: কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম কী?
উত্তর: কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম আগলা পূর্বপাড়া।
প্রশ্ন-৩৫: কবি কায়কোবাদের লেখালেখির হাতেখড়ি হয় কখন?
উত্তর: ছেলেবেলা থেকেই কবি কায়কোবাদের লেখালেখির হাতেখড়ি হয়।
প্রশ্ন-৩৬: মহান আল্লাহর কী ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না?
উত্তর: মহান আল্লাহর দয়া ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না।
প্রশ্ন-৩৭: কবি কায়কোবাদ কোন পর্যন্ত পড়ালেখা করেন?
উত্তর: কবি কায়কোবাদ প্রবেশিকা পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।
প্রশ্ন-৩৮: কোথায় কবি কায়কোবাদ পোস্টমাস্টারি করতেন?
উত্তর: কবি কায়কোবাদ নিজ গ্রামে পোস্টমাস্টারি করতেন।

‘প্রার্থনা’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

১. ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’—বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’—এই উক্তিতে কবি নিজের দুঃখ, হতাশা এবং আত্মসমর্পণ প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
➠ এখানে কবি শূন্য হাতে, অর্থাৎ কোনো কিছুই নিয়ে নয়, শুধুমাত্র তার দুঃখ, কষ্ট এবং কপালে যা কিছু জুটেছে, সেই অবস্থা নিয়ে স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। কবির কাছে কোনো ধন-সম্পত্তি বা শক্তি নেই যা দিয়ে সে স্রষ্টাকে প্রশংসা করতে পারে, তবুও সে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে খোদার কাছে সমর্পণ করেছে। সৃষ্টিকর্তার মহিমায় মগ্ন হয়ে কবি তার অস্তিত্বকে সঁপে দিয়েছে, এবং তার অশ্রুজল দিয়ে এই আত্মসমর্পণ ঘটাচ্ছে। অর্থাৎ, কবি কোনো মান-অভিমান ছাড়াই, নিঃস্ব অবস্থায়, স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য নিজের সমস্ত দুঃখ ও যন্ত্রণা উজাড় করে দিয়েছে।

২। ‘সদা আত্মহারা তব গুণ গানে’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীব্যাপী অরণ্যে রয়েছে সহস্র প্রজাপতির পাখি। সব পাখিই সর্বদা বিচিত্র কণ্ঠে প্রভুর স্তুতি করে যাচ্ছে। তারা এই স্তুতি করছে আনন্দে আত্মহারা হয়ে।
➠ সব পশু-পাখি সর্বদাই সর্বাবস্থায় প্রভুর গুণগানে ব্যস্ত থাকে। সব কাজেই তারা খুশি মনে স্মরণ করে মহান প্রভুকে। প্রভুর অসীম দয়া নিয়ে তারা পৃথিবীতে বেঁচে থেকে শুধু প্রভুর গুণগানই করে।

৩। কবির শোকানল কিভাবে নিভে যায়? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: একান্ত হৃদয়ে প্রভুকে স্মরণের মধ্য দিয়ে কবির শোকানল নিভে যায়।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করেছেন। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেছেন। কারণ কবি জানেন, বিধাতার অফুরন্ত দয়ায়ই জগতের সব কিছু চলছে। সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। কবি তাঁর সৃষ্টিকর্তাকে একমাত্র আশ্রয়স্থল মনে করেন। এ কারণেই তাঁকে স্মরণের মধ্য দিয়ে কবির শোকানল নিভে যায়।

৪। ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি স্রষ্টার কাছে কেন বল প্রার্থনা করেছেন?
উত্তর: ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি নিজেকে স্রষ্টার কাছে সমর্পণ করার জন্য বল প্রার্থনা করেছেন।
➠ সৃষ্টিকর্তাই আমাদের একমাত্র আশ্রয় স্থল। তাঁর দয়ার সমগ্র বিশ্বসংসার চালিত হচ্ছে। কবি তাই স্রষ্টাকে স্তুতি করতে চান। কিন্তু তিনি নিঃসম্বল। তাঁর ভক্তি করার নিয়ম বা উপায় জানা নেই। তাই তিনি স্রষ্টার কাছে হৃদয়ে বল বা শক্তি কামনা করেছেন, যাতে স্রষ্টার কাছে নিজেকে নিবেদন করতে পারেন।

৫। ‘জীবনে মরণে, শয়নে স্বপনে
তোমার মোর পথের সম্বল’— পঙক্তি দুটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: কবি প্রভুকে সব সময়ের অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলেই আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
➠ কবি এই পৃথিবীতে এসেছেন প্রভুর অনুগ্রহে। আবার যাবেনও প্রভুর ইচ্ছায়। কবির জীবনের সব কিছুই প্রভুর অনুগ্রহে হচ্ছে। তাই কবি প্রভুকেই পথে একমাত্র সম্বল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই জীবনে-মরণে, শয়নে-স্বপনে কবি শুধু স্রষ্টার কাছেই নিজেকে সমপর্ণ করেন।

৬। ‘ভুলিতে তোমারে, প্রাণে অবসাদ’— কথাটি বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি প্রভুকে কখনই ভুলতে পারবেন না। কারণ প্রভুকে ভোলার কথা হলেই কবির প্রাণে দারুণ অবসাদের সৃষ্টি হয়।
➠ কবির প্রভুকে ভুলতে না পারার একমাত্র কারণ হলো কবির জীবনের প্রতিটি ক্ষণ অতিবাহিত হয় প্রভুর অসীম অনুগ্রহে। কবির ইচ্ছা-আকাক্ষা সব কিছুই পূর্ণ হয় প্রভুর করুণায়। তাই প্রভুকে ভুলে গেলে কবি যেন সম্বলহীন হয়ে পড়বেন। এ কারণেই কবি প্রভুকে ভুলতে পারেন না।

৭। ‘কত জাতি পাখি, নিকুঞ্জ বিতানে
‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য চরণের মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে পৃথিবীব্যাপী অরণ্যে রয়েছে সহস্র প্রজাতির পাখি।
➠ সব পাখিই সর্বদা আনন্দে আত্মহারা হয়ে বিচিত্র কণ্ঠে প্রভুর স্তুতি করছে। সব পশু-পাখি সর্বদাই সর্বাবস্থায় প্রভুর গুণগানে ব্যস্ত। সব সময় তারা খুশি মনে স্মরণ করে মহান প্রভুকে। প্রভুর অসীম দয়া দিয়ে তারা পৃথিবীতে বেঁচে থাকে বলেই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে পাখি আনন্দে আত্মহারা হয়।

৮। ‘তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ
চারু ফুল ফল।’— পঙক্তি দুটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: তরুলতার শাখায় শাখায় সুশোভিত হয় কত ফুল আর ফল। এগুলো স্রষ্টারই অনুগ্রহ।
➠ তাই কবি বলেছেন, ‘তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ চারু ফুল ফল।’ গাছে গাছে যে ফুল-ফল সৃষ্টি হয়, তা একমাত্র প্রভুর আদেশেই সৃষ্টি হয়। প্রভুর অনুগ্রহেই তা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন। এমনকি গাছও সৃষ্টি হয়েছে প্রভুর অসীম দয়ায়। তাই কবি এ কথা বলেছেন।

৯. “তব নামে অশেষ মঙ্গল”—কথাটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘তব নামে অশেষ মঙ্গল’ -কথাটিতে স্রষ্টার নাম স্মরণের মাধ্যমে অশেষ কল্যাণ লাভের কথা বলা হয়েছে।
➠ স্রষ্টাকে স্মরণ করার মধ্যেই মানুষের সীমাহীন মঙ্গল নিহিত। স্রষ্টার নাম স্মরণের মধ্য দিয়েই মানুষ আত্মিক পবিত্রতা লাভ করে। তার দুঃখ কষ্ট দূর হয়। কারণ সে তার অভাব অভিযোগের কথা স্রষ্টার কাছেই নিবেদন করে।

১০. ‘বিভো, দেহ হৃদে বল’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘বিভো, দেহ হৃদে বল’ বলতে স্রষ্টার কাছে দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ সৃষ্টিকর্তার সাহায্য ও দয়া ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। তাই কবি স্রষ্টার কাছেই দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করেছেন। কারণ আমরা যেন ¯্রষ্টার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে পারি।

১১. ‘ভুলিনি তোমারে এক পল’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘ভুলি নি তোমারে এক পল’—বলতে বিধাতাকে এক মুহূর্তের জন্য না ভোলার কথা বলা হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বলেছেন, চরম দারিদ্র্যে ও বিপদে যখন ছিলাম তখনো তোমাকে ভুলিনি আবার সম্পদে সুখের সাগরে যখন ভেসেছি তখনো তোমাকে এক মুহূর্তের জন্য ভুলিনি।

১২. ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’—কথাটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’—চরণটি দ্বারা স্রষ্টার গুণগানের কথা বলা হয়েছে।
➠ কবি বলেছেন- বাগানের বিভিন্ন জাতের পাখিরাও স্রষ্টার গুণগানে ব্যস্ত থাকে। পাখিরা তাঁর গুণগানে আত্মহারা। স্রষ্টার গুণগান আর কলকাকলিতেই তারা প্রকৃতিকে মুখরিত করে তোলে।

১৩. ‘তোমারি নিঃশ্বাস বসন্তের বায়ু বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘তোমারি নিঃশ্বাস বসন্তের বায়ু’ বলতে কবি সৃষ্টিকর্তার দয়ায় জগতের সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হওয়া বুঝিয়েছেন।
➠ সৃষ্টিকর্তার অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। তাঁর দয়ার বাইরে কোনোকিছুর অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাঁর অপার করুণা লাভ করে বিশ্বসংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে।

১৪. ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীব্যাপী অরণ্যে রয়েছে সহস্র প্রজাতির পাখি।
➠ সব পাখিই সর্বদা বিচিত্র কণ্ঠে প্রভুর স্তুতি করে যাচ্ছে। তারা এই স্তুতি করছে আনন্দে আত্মহারা হয়ে। সব পশুপাখি সর্বদাই সর্বাবস্থায় প্রভুর গুণগানে ব্যস্ত থাকে। সব কাজেই তারা খুশিমনে স্মরণ করে মহান প্রভুকে। প্রভুর অসীম দয়া নিয়ে তারা পৃথিবীতে বেঁচে থেকে শুধু প্রভুর গুণগানই করে।

১৫. কবির শোকানল কিভাবে নিভে যায়?
উত্তর: একান্ত হৃদয়ে প্রভুকে স্মরণের মধ্য দিয়ে কবির শোকানল নিভে যায়।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করেছেন। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেছেন। কারণ কবি জানেন, বিধাতার অফুরন্ত দয়াতেই জগতের সব কিছু চলছে। সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। কবি তাঁর সৃষ্টিকর্তাকে একমাত্র আশ্রয়স্থল মনে করেন। এ কারণেই তাঁকে স্মরণের মধ্য দিয়ে কবির শোকানল নিভে যায়।

১৬. ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি স্রষ্টার কাছে কেন বল প্রার্থনা করেছেন?
উত্তর: ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি নিজেকে স্রষ্টার কাছে সমর্পণ করার জন্য স্রষ্টার কাছে বল প্রার্থনা করেছেন।
➠ সৃষ্টিকর্তাই আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। তাঁর দয়ায় সমগ্র বিশ্বসংসার চালিত হচ্ছে। কবি তাই স্রষ্টার স্তুতি করতে চান। কিন্তু তিনি নিঃসম্বল। তাঁর ভক্তি করার নিয়ম বা উপায় জানা নেই। তাই তিনি স্রষ্টার কাছে হৃদয়ে বল বা শক্তি কামনা করেছেন, যাতে স্রষ্টার কাছে নিজেকে নিবেদন করতে পারেন।

১৭. ‘জীবনে-মরণে, শয়নে-স্বপনে তুমি মোর পথের সম্বল’—কবি কোথায় এ কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি প্রভুকে সব সময়ের অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলেই আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
➠ কবি এই পৃথিবীতে এসেছেন প্রভুর অনুগ্রহে। আবার যাবেনও প্রভুর ইচ্ছায়। কবির জীবনের সব কিছুই প্রভুর অনুগ্রহে হচ্ছে। তাই কবি প্রভুকেই পথের একমাত্র সম্বল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই জীবনে-মরণে, শয়নে-স্বপনে কবি শুধু স্রষ্টার কাছেই নিজেকে সমর্পণ করেন।

১৮. ‘ভুলিতে তোমারে, প্রাণে অবসাদ’—কথাটি বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি প্রভুকে কখনোই ভুলতে পারবেন না। কারণ প্রভুকে ভোলার কথা হলেই কবির প্রাণে দারুণ অবসাদের সৃষ্টি হয়।
➠ কবির প্রভুকে ভুলতে না পারার একমাত্র কারণ হলো কবির জীবনের প্রতিটি ক্ষণ অতিবাহিত হয় প্রভুর অসীম অনুগ্রহে। কবির ইচ্ছা-আকাক্সক্ষা সব কিছুই পূর্ণ হয় প্রভুর করুণায়। তাই প্রভুকে ভুলে গেলে কবি যেন সম্বলহীন হয়ে পড়বেন। এ কারণেই কবি প্রভুকে ভুলতে পারেন না।

১৯. ‘কত জাতি পাখি, নিকুঞ্জ বিতানে সদা আত্মহারা তব গুণগানে’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘কত জাতি পাখি, নিকুঞ্জ বিতানে সদা আত্মহারা তব গুণগানে’ কথাটির মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে পৃথিবীব্যাপী অরণ্যে রয়েছে সহস্র প্রজাতির পাখি।
➠ সব পাখিই সর্বদা আনন্দে আত্মহারা হয়ে বিচিত্র কণ্ঠে প্রভুর স্তুতি করছে। সব পশুপাখি সর্বদাই সর্বাবস্থায় প্রভুর গুণগানে ব্যস্ত। সব সময় তারা খুশি মনে স্মরণ করে মহান প্রভুকে। প্রভুর অসীম দয়া দিয়ে তারা পৃথিবীতে বেঁচে থাকে বলেই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে পাখি আনন্দে আত্মহারা হয়।

২০. ‘তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ চারু ফুল ফল।’—পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: তরুলতার শাখায় শাখায় সুশোভিত হয় কত ফুল আর ফল। এগুলো স্রষ্টারই অনুগ্রহ।
➠ তাই কবি বলেছেন, ‘তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ চারু ফুল ফল।’ গাছে গাছে যে ফুল-ফল সৃষ্টি হয়, তা একমাত্র প্রভুর আদেশেই সৃষ্টি হয়। প্রভুর অনুগ্রহেই তা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন। এমনকি গাছও সৃষ্টি হয়েছে প্রভুর অসীম দয়ায়। তাই কবি এ কথা বলেছেন।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নম্রশিরে সুখের দিনে
তোমারি মুখ লইব চিনে,
দুখের রাতে নিখিল ধরা
যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।

ক. স্তুতি কথার অর্থ কী?
খ. ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ করলেও সমগ্রভাব প্রকাশে সক্ষম নয়- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

ক. স্তুতি কথার অর্থ প্রশংসা।
খ. ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’ বলতে কবি শূন্য হাতে স্রষ্ঠার কাছে আত্মসমর্পণ করাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
➠ স্রষ্টাকে যেকোনো উপায়ে ডাকা যায়। প্রভুকে শ্রদ্ধা ও প্রশংসা করার মতো কোনো সহায় সম্বল কবির নেই। তবু সৃষ্টিকর্তার দুয়ারে শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে নিজেকে সঁপেছেন খোদার মহিমায়, আত্মসমর্পণ করেছেন চোখের জলে।

গ. বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সবসময় বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করার দিকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বর্ণিত হয়েছে যা উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ সৃষ্টিকর্তার পরম গুণ হলো তিনি দয়াময়। সেই দয়াময়তার কারণে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করলে আমাদের মনোবাসনা পূর্ণ হয়।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করা হয়ছে। আনন্দের মুহূর্ত ও প্রাচুর্যের দিনে স্রষ্টাকে ভুলে না যাওয়ার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। সেইসাথে দুঃখে-বিপদে, অভাবে-প্রয়োজনে স্রষ্টাকে স্মরণ করার কথাও বলা হয়েছে, একইভাবে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সবসময় বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করা হয়েছে। কেননা সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। এভাবে আমরা ভাবগত দিক দিয়ে উদ্দীপক ও ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্য খুঁজে পাই।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার যেকোনো অবস্থায় স্রষ্টাকে স্মরণ করার বিশেষ দিককে নির্দেশ করেছে মাত্র, সমগ্রভাব নয়।
➠ স্রষ্টার দেখানো পথই মানবের কল্যাণ বয়ে আনে। জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে স্রষ্টার আরাধনা হয়, সত্যের সন্ধান পাওযা যায়।
➠ উদ্দীপকে পূর্ণ ভক্তিতে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দিনে খোদাকে স্মরণ করার কথা উঠে এসেছে। অনুরূপভাবে বিপদে-আপদে, জীবনে কঠিন পরিস্থিতি নেমে আসলেও খোদার প্রতি আস্থা রাখার কথা ব্যক্ত হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। স্রষ্টার অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্তনা করে। শূন্য হাতে পরম ভক্তিভরে স্রষ্ঠার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে, তাঁর আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করার জন্য স্রষ্টা যাতে আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দান করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করতে পারেনি।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রহিম মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে দেখল, ইমাম সাহেব মুনাজাত করছেন। তিনি মোনাজাতে আল্লাহ্র কাছে বিনয়ের সাথে সবার জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন। সবার জানা- অজানা অপরাধের জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন এবং বলছেন- প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।

(ক) ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(খ) ‘বিভো, দেহ হৃদে বল’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের মুনাজাতের সাথে প্রার্থনা কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) ‘প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।’- কথাটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ‘অশ্রুমালা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
খ. ‘বিভো, দেহ হৃদে বল’ বলতে স্রষ্টার কাছে দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ সৃষ্টিকর্তার সাহায্য ও দয়া ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। তাই কবি স্রষ্টার কাছেই দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করেছেন। কারণ আমরা যেন স্রষ্টার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে পারি।

গ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় নত হয়ে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানানোর দিক দিয়ে কবিতার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার প্রতি আরাধনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। কবি স্বীকার করেছেন স্রষ্টার প্রতি তাঁর সেই রকম ভক্তি নেই। তিনি জানেন না কীভাবে সষ্টার প্রশংসা করতে হবে। তাই কবি নিঃস্ব রিক্ত হয়ে শুধু চোখের জল নিয়ে স্রষ্টার সামনে দাঁড়িয়েছেন। স্রষ্টা যেন মনে ও দেহে বল দেন। জীবনে-মরণে, শয়নে-স্বপনে বিধাতাই একমাত্র পথের সম্বল।
➠ উদ্দীপকে ইমাম সাহেব মুনাজাতে আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে সবার জন্য ক্ষমা চান। উপস্থিত সকল মানুষের জানা- অজানা অপরাধের ক্ষমা চান। তিনি বলেন, প্রভু তুমি অন্তর্যামী। আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর। সৃষ্টিকর্তার প্রতি ইমাম সাহেবের বিনয় মিশ্রিত প্রার্থনা ছিল খুবই আবেগপূর্ণ। তার এই আবেগ ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. ‘প্রভু তুমি অন্তর্যামী আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইমাম সাহেবের এই মোনাজাত ‘প্রার্থনা’ কবিতায়ও সত্য হয়ে উঠেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিপদে-আপদে, সুখে, শান্তিতে সব সময় বিধাতার কাছে শক্তি কামনা করেছেন। সৃষ্টিকর্তার দয়া ছাড়া মানুষ এক পাও চলতে পারে না। সর্বাবস্থায় তাই সৃষ্টিকর্তাই একমাত্র ভরসা। তাই কবি রিক্তহস্তে ভক্তি ভরে তার প্রার্থনা জানায়- হে প্রভু আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও।
➠ উদ্দীপকে ইমাম সাহেব সকলের জন্য দোয়া করেছেন। বিনীতভাবে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে জানা- অজানা অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।
➠ উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের প্রার্থনা যেমন খুবই আবেগপূর্ণ যুক্তিযুক্ত। তিনি ইমাম হিসেবে সবার ক্ষমা কামনা করেছেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতায়ও বিনয়ের সাথে একইরূপ প্রার্থনা জানিয়েছেন। কারণ আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ছাড়া কেউ চলতে পারে না।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পাহাড় সমুদ্র রাত্রি
সবই গড়েছেন তিনি।
সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে
স্মরণে রাখি আমরা তারে।

(ক) কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম কী?
(খ) ‘ভুলিনি তোমারে এক পল’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থের মিল আছে কি?- ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) “স্মরণে রাখি আমরা তারে”- কথাটির সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদের একাগ্র হৃদয়ে স্মরিলে তোমারে নিভে শোকানল”- কথাটি কীভাবে সম্পর্কিত বিশ্লেষণ করো।

ক. কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম আগলা পূর্বপাড়া।
খ. ‘ভুলি নি তোমারে এক পল’- বলতে বিধাতাকে এক মুহূর্তের জন্য না ভোলার কথা বলা হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বলেছেন, চরম দারিদ্র্যে ও বিপদে যখন ছিলাম তখনো তোমাকে ভুলিনি আবার সম্পদে সুখের সাগরে যখন ভেসেছি তখনো তোমাকে এক মুহূর্তের জন্য ভুলিনি।

গ. স্রষ্টার মহিমা ও গুণগান প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থের মিল রয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি মূলত স্রষ্টার অপার মহিমা তুলে ধরে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে আবেদন- নিবেদন করেছেন। পৃথিবীর ফুল-ফল, তরুলতা সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন জাতের পাখি তাঁরই গুণগান করে। তাঁরই মহিমা গায়। স্রষ্টার অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। তিনিই পাহাড়, সমুদ্র, রাত্রি সবই গড়েছেন। অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টি সর্বব্যাপী। সবই তাঁর সৃষ্টি। মানুষের পক্ষে স্রষ্টার সৃষ্টি জগতের বাহিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সৃষ্টিকর্তা সুমহান। সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে আমরা তাঁকে স্মরণে রাখি। ‘প্রার্থনা’ কবিতা ও উদ্দীপক উভয়স্থানে স্রষ্টার মহিমা ও গুণগান প্রকাশিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকের সাথে কবিতার ভাবনার মিল রয়েছে।

ঘ. মনের প্রশান্তি লাভের দিক দিয়ে উদ্দীপকের চরণটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার চরণের সাথে সম্পর্কিত।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতার শেষাংশে বলা হয়েছে মানুষ যদি একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করে তবে তার মনের শোকানল নিভে যায়। কারণ যিনি স্রষ্টার করুণা লাভে ধন্য হন তার মনে কোন দুঃখ-বেদনা থাকে না। মনেপ্রাণে স্রষ্টাকে ডাকলে মন প্রশান্ত হয়। মনের দারিদ্র্য দূর হয়। মনে কোনো অভাববোধ থাকে না। মনের বা আত্মার অভাব দূর হলেই সে সুখী হয়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, স্মরণে রাখি আমরা তারে। যারা সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণে রাখে তারাইতো পরিপূর্ণ মানুষ। কারণ যার মনে স্রষ্টা সবসময় স্থান পায় সে পাপ পঙ্কিলতা থেকে আপনা আপনি দূরে থাকে। তার মন পবিত্র হয়ে ওঠে স্রষ্টাকে স্মরণের মধ্যদিয়ে। স্রষ্টার স্মরণ যে মনে জাগরূক থাকে সে দুঃখ বেদনার ঊর্ধ্বে উঠে যায়। স্রষ্টাই তার দুঃখ বেদনা লাঘব করে দেন।
➠ উদ্দীপক ও প্রার্থনা কবিতার এই অংশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। উভয় স্থানে স্রষ্টাকে স্মরণের মধ্য দিয়ে মনে প্রশান্তি লাভের অভিপ্রায় রয়েছে। তাই উভয়ে সম্পর্কিত।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রুনু তার বাবার সাথে পাহাড় দেখতে গেল। কী অপূর্ব সুন্দর! সবুজ গাছ পালায় ভরা পাহাড়। হরেকরকমের পাখি আর বুনো ফুলের মিষ্টি সুবাস। একটা ঝরনার কাছে গেল তারা। এত সুন্দর জলের ধারা মানুষ কি বানাতে পারে? রুনু মনে মনে ভাবল। নাহ্ এত অপার-অপূর্ব সৌন্দর্য মানুষের সৃষ্টি নয়। এই অসীম সৌন্দর্যের স্রষ্টা একজনই।

(ক) ‘নিকুঞ্জ’ অর্থ কী?
(খ) ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’- কথাটি ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের রুনুর ভাবনা ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে-ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।” - যুক্তি সহকারে আলোচনা কর।

ক. ‘নিকুঞ্জ’ অর্থ বাগান।
খ. ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’ -চরণটি দ্বারা স্রষ্টার গুণগানের কথা বলা হয়েছে।
➠ কবি বলেছেন- বাগানের বিভিন্ন জাতের পাখিরাও স্রষ্টার গুণগানে ব্যস্ত থাকে। পাখিরা তাঁর গুণগানে আত্মহারা। স্রষ্টার গুণগান আর কলকাকলিতেই তারা প্রকৃতিকে মুখরিত করে তোলে।

গ. প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের রুনুর ভাবনা ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকে বলা হয়েছে, গাছে গাছে নানা জাতের পাখি, বাগানের ফুল সবই সৃষ্টিকর্তার গুণগান করে। সুন্দর ফুল ফল সবই স্রষ্টার দান। কারণ এই ফুল ফল অন্য কেউ সৃষ্টি করেনি। পাখিরা তাই সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রকাশে আত্মহারা হয়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকের রুনু পাহাড়ের দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়। সবুজ গাছপালায় ভরা পাহাড়। যেখানে হরেকরকমের পাখি আর বুনো ফুলের মিষ্টি সুবাস। আরো অবাক হয় একটি ঝরনা দেখে। তার মনে প্রশ্ন জাগে এত সুন্দর ঝরনা কি মানুষ বানাতে পারে? সে বুঝতে পারল এটি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় তৃতীয় স্তবক ও উদ্দীপক বিবেচনা করলে আমরা লক্ষ করি এখানে প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সমগ্রভাব প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে।”- কথাটি যুক্তিযুক্ত।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার মহিমা তুলে ধরেছেন আর স্রষ্টার নিকট হৃদয়ে শক্তি সাহস প্রদানের প্রার্থনা জানিয়েছেন। ভক্তি ও প্রশংসা প্রকাশে নিমগ্ন কবি চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদে-আপদে সুখে-শান্তিতে বিধাতার কাছে শক্তি ও সাহায্য কামনা করেন। গাছের পাখি কিংবা বনের ফুল সকলেই স্রষ্টাকে স্মরণ করে। স্রষ্টাই একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকে পাহাড় ও ঝরনার রূপে মুগ্ধ রুনুর মনে প্রশ্ন জেগেছে কে এসব সৃষ্টি করেছে। সে নিশ্চিতই জানে কোনো মানুষের পক্ষে এসব সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। সে স্বীকার করে নিয়েছে পাহাড় ও ঝরনার অসীম সৌন্দর্যের স্রষ্টা একজনই।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার মহিমা প্রকাশিত হলেও কবিতায় যেরূপ শক্তি ও সাহায্য কামনা করা হয়েছে উদ্দীপকে তা নেই। বিধাতাকে স্মরণ ও তাঁকে আরাধনা করার বিষয়টিও উদ্দীপকে অনুপ্রাণিত। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সমগ্রভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সামান্য কারণে হাফিজ তার চাকরি হারালেন। বেকার হয়ে তিনি পথে পথে ঘুরতে লাগলেন। মনে মনে তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। তবুও তার চাকরির ব্যবস্থা হলো না। তিনি প্রভুর ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। কয়েক দিন পরে হাফিজ শুনল তার আগের অফিসে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদি তিনি অফিসে থাকতেন তবে দুর্ঘটনায় তার মারাত্মক ক্ষতি হতো। তিনি বিপদে পড়তেন। যেটা চাকরি হারানোর থেকেও ভয়াবহ। হাফিজ মনে মনে প্রভুকে ধন্যবাদ দিলেন। তার মনের ক্ষোভ দূর হলো।

(ক) মহাশ্মশান কবি কায়কোবাদের কী ধরনের রচনা?
(খ) “তব নামে অশেষ মঙ্গল”- কথাটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া, ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ- ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) “সুখ-দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন, - ঈশ্বর প্রেম মানুষকে মুক্তি দেয়”- উক্তিটি উদ্দীপক ও প্রার্থনা কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘মহাশ্মশান’ কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
খ. ‘তব নামে অশেষ মঙ্গল’ -কথাটিতে স্রষ্টার নাম স্মরণের মাধ্যমে অশেষ কল্যাণ লাভের কথা বলা হয়েছে।
➠ স্রষ্টাকে স্মরণ করার মধ্যেই মানুষের সীমাহীন মঙ্গল নিহিত। স্রষ্টার নাম স্মরণের মধ্য দিয়েই মানুষ আত্মিক পবিত্রতা লাভ করে। তার দুঃখ কষ্ট দূর হয়। কারণ সে তার অভাব অভিযোগের কথা স্রষ্টার কাছেই নিবেদন করে।

গ. মানুষ সর্বাবস্থায় সৃষ্টিকর্তার দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যেই বেঁচে থাকে। সেদিক দিয়ে উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ মানবজীবনের গভীরতম সত্যকে তুলে ধরেছেন। মহান সৃষ্টিকর্তার অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্থনা করে। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শান্তি কামনা করেন। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকের হাফিজ চাকরি হারিয়ে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেও কোনো চাকরির ব্যবস্থা হয়নি। প্রভুর প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট হলেন। আগের অফিসে দুর্ঘটনা ঘটার পর বুঝতে পারলেন সেখানে থাকলে তার কী ভয়াবহ ক্ষতিই না হতো। হাফিজ মনে মনে প্রভুকে ধন্যবাদ দিলেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সৃষ্টিকর্তার দয়া ও অনুগ্রহের দিকটি উদ্দীপকের হাফিজের ঘটনার মধ্যদিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “সুখ-দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন- ঈশ্বর প্রেম মানুষকে মুক্তি দেয়”- এ উক্তিটি যথার্থ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিপদে, আপদে, সুখে শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শান্তি কামনা করেন। গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল সবই বিধাতাকে স্মরণ করে। তাঁর অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে। তাঁর কাছে সকলেই সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকেও হাফিজ চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরতে থাকেন এবং ¯্রষ্টাকে ডাকেন। কিন্তু তার কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রভুর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। কিছুদিন পরে জানতে পারলেন অফিসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে চাকরি করলে হাফিজের মারাত্মক ক্ষতি হতো। যেটা তার চাকরি হারানোর চেয়েও ভয়াবহ। হাফিজ পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা পোষণ করেন।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোচনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন- ঈশ্বর প্রেম আমাদের মুক্তি দেয়।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপক-১:
মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করা হলেও পৃথিবীর সব সৃষ্টিই স্রষ্টার গুণগানে সদা মশগুল। ক্ষুদ্র পিপীলিকাও তাঁর অপার মহিমা থেকে বঞ্চিত নয়।

উদ্দীপক-২:
তোমার দয়া বিনা পাব না’ত ক্ষমা
ওগো মোর দয়াময় তব করুণা লভিলে হৃদয় আজিকে ধন্য হয়।

ক. একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে কী নিভে যায়?
খ. ‘দেহ হৃদে বল!’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. ১নং উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ফুটে ওঠা দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “২নং উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে”- মূল্যায়ন করো।

ক. একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে শোকের আগুন নিভে যায়।
খ. ‘দেহ হৃদে বল’ বলতে দ্রষ্টার কাছে হৃদয়ের শক্তি কামনা করার কথা বলা হয়েছে।
➠ স্রষ্টা জগতের সকল শক্তি ও ক্ষমতার আধার। তাঁর অপার করুণা লাভকরেই সবাই বেঁচে থাকে। তাই কবি মহান স্রষ্টার কাছেই হৃদয়ের শক্তি কামনা করেন। পার্থিব জগতের সকল সংগ্রামকে এই শক্তি দিয়েই জয় করবেন তিনি।

গ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বর্ণিত স্রষ্টার অপার মহিমা ও সৃষ্টির প্রতি ভক্তি নিবেদনের দিকটি ১নং উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি মহান স্রষ্টাকে সর্বদা স্মরণ করেন। ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জানলেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। স্বীকার করেন স্রষ্টার অপার মহিমার কথা।
➠ ১নং উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের দ্বারা স্রষ্টার গুণগান করার কথা। শুধু মানুষ নয়, জীবেরাও স্রষ্টার গুণগানে মশগুল থাকে। স্রষ্টার মহিমার গুণেই সকল জীব প্রাণধারণ করে বেঁচে আছে। ক্ষুদ্র পিপীলিকা স্রষ্টার মহিমা থেকে বঞ্চিত হয় না। আলোচ্য কবিতায়ও এ বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট বলা হয়েছে। কবি বলেছেন, সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে স্রষ্টাই একমাত্র ভরসা। তাই স্রষ্টার আরাধনাতেই নিজেকে নিবেদন করার কথা বলেছেন তিনি।

ঘ. স্রষ্টার গুণগান করে বিধাতার প্রতি নিজেকে নিবেদন করার ভাব ২নং উদ্দীপক ও ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ মহান সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমা বর্ণনা করেছেন। সৃষ্টিকর্তার আরাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চেয়েছেন। কারণ স্রষ্টার অফুরন্ত দয়ায় জগতের সব কিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্থনা করে।
➠ ২নং উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি দয়াময় স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভ করতে চেয়েছেন। বলেছেন, তাঁর দয়া ছাড়া ভুলের ক্ষমা পাওয়া যায় না। তাঁর করুণা লাভ করেই কবি ধন্য হতে চেয়েছেন। এদিকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবিরও রয়েছে একই বাসনা। তিনিও মহান স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভের আশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার প্রশস্তি গেয়েছেন কবি। স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন প্রার্থনা। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সবসময়ই তিনি বিধাতার অনুগ্রহ লাভ করতে চান। কেননা স্রষ্টার করুণা লাভ করেই জগৎ সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে আছে। সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে তিনিই একমাত্র ভরসা। উদ্দীপকেও আলোচ্য কবিতার সমভাব প্রকাশিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূলভাবেরই অনুগামী।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সুজনশীল প্রশ্ন
উদ্দীপক-৭

ক. ‘চারু’ শব্দের অর্থ কী?
খ. একাগ্র হৃদয়ে স্মরিলে তোমারে/নিভে শোকানল! ব্যাখ্যা করো।
গ. সৃষ্টিকর্তাকে 'পথের সম্বল' বলার কারণ উদ্দীপক এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্র দিক উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে কি? তোমার মতামত দাও।

ক. চারু শব্দের অর্থ হলো সুন্দর।
খ. সৃষ্টিকর্তাকে একাগ্রচিত্তে স্মরণ করলে সকল দুঃখ-দুরাশা, জ্বরা-ব্যাধি দূরীভূত হয়- এ কথাই আলোচ্য অংশে প্রকাশিত হয়েছে।
➠ জীবনে চলার পথে নানা দুঃখ-কষ্ট এসে আমাদের চলার পথকে রুদ্ধ করে দিতে চায়। কখনো কখনো দুঃখের ভার এতই ভারী হয় যা আমাদের সহ্যের সীমা অতিক্রম করে। এমন অবস্থায় স্রষ্টাই আমাদের একমাত্র আশ্রয়। একাগ্রচিত্তে তাঁর কথা স্মরণ করলে শোকের আগুনও ধীরে ধীরে নিভে যায়।

গ. সৃষ্টিকর্তা মানুষসহ সব প্রাণীকে লালন-পালন করেন বলে তাঁকে পথের সম্বল বলা হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমা বর্ণিত হয়েছে। এই পৃথিবী, বিশ্ব-ভূমণ্ডল সবকিছুই বিধাতা সৃষ্টি করেছেন। জগতের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণীও তাঁর স্নেহে টিকে আছে। বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা। তাঁর অপার কুরণায় আমাদের জীবন থেকে দূর হয়ে যায় দুঃখ। তিনি আমাদের সঠিক পথে পরিচালনা করেন, আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনেন। পৃথিবীর প্রতিটি জীব তাঁর স্নেহের ছায়াতেই টিকে আছে। এ কারণে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি সৃষ্টিকর্তাকে ‘পথের সম্বল’ বলেছেন।
➠ উদ্দীপকের ছকে মহান সৃষ্টিকর্তাকে বিভো ও প্রভো বলে সম্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে মঙ্গলময় ও পথের সম্বল বলেও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমার প্রতিই ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি সুখে-দুঃখে সবসময় স্রষ্টাকে স্মরণ করেন। কেননা তাঁকে স্মরণ করলেই মনে শান্তি পাওয়া যায়। সকল সমস্যার তিনির একমাত্র ও শেষ ভরসা অর্থাৎ, উভয়স্থানে স্রষ্টার অপার মহিমা কীর্তনই প্রধান হয়ে উঠেছে। আর তাঁকে ‘পথের সম্বল’ বলার এটাই কারণ।

ঘ. ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্র দিক উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে'- মন্তব্যটি যথার্থ নয়।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি প্রার্থনার নিয়ম-কানুন সম্বন্ধে কিছুই জানেন না। শুধু চোখের জলে তিনি স্রষ্টার কাছে নিজেকে নিবেদন করেছেন। যেন সৃষ্টিকর্তা তাঁকে সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে মনে শক্তি দেন। কেননা, তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা ও অবলম্বন।
➠ সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য সবকিছু নির্ধারণ করে দেন। আমাদের তিনি মঙ্গলের পথে পরিচালিত করে জীবনে কল্যাণ বয়ে আনেন, তাই তিনি মঙ্গলময়। সকল বিপদ-আপদ, দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে তিনিই আমাদের রক্ষা করেন। তিনি আমাদের জীবন চলার পথে একমাত্র সম্বল। উদ্দীপকে স্রষ্টার এ সকল দিক বর্ণিত হয়েছে, যা আমরা আলোচ্য কবিতাতেও লক্ষ করি।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার কাছে শক্তি প্রার্থনা করেছেন, যেন সর্বদা তাঁর উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করতে পারেন। কেননা, তার দয়াতেই সমস্ত জীবন-সংসার চলছে। তিনিই আমাদের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। কবি রিক্ত হয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানান। যেন তিনি আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দেন। স্রষ্টার কাছে আরাধনা করার এ বিষয়টি উদ্দীপকে ফুট ওঠেনি। এ কারণে বলা যায়। ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্র দিক উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
তুলি দুই হাত, করি মোনাজাত
হে রহিম রহমান
কত সুন্দর করিয়া ধরণী
মোদের করেছ দান।
গাছে ফুল, ফল নদী ভরা জল।
পাখির কণ্ঠে গান
সকলই তোমার দান।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতা কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
খ. কবি বিধাতার কাছে চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্রভাবকে ধারণ করে কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

ক.‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ‘অশ্রুমালা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
খ. হৃদয়ে শক্তি লাভের আশায় কবি স্রষ্টার কাছে চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেছেন।
➠ কবি কায়কোবাদ শূন্য হাতে স্রষ্টার কাছে শক্তি প্রার্থনা করেন। কীভাবে স্রষ্টার ভক্তি-শ্রদ্ধা ও প্রশংসা করতে হবে কবির জানা নেই। তাই তিনি চোখের জল নিবেদন করে স্রষ্টার কাছে আবেদন করেন মনে শক্তি জোগানোর জন্য।

গ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সৃষ্টির মধ্য দিয়ে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করার দিকটি ফুটে উঠেছে।
➠ কায়কোবাদ রচিত ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমার কথা প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর করুণাতেই সংসারের প্রতিটি জীব প্রাণ ধারণ করে আছে। সৃষ্টির মধ্য দিয়েই যেন স্রষ্টার আত্মপ্রকাশ ঘটে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, সৃষ্টির মধ্যে মহীয়ান স্রষ্টা মিশে একাকার হয়ে আছেন। কবি মনে করেন, জগতের যত ফুল-ফল, তরু-লতা-জল সবকিছুই স্রষ্টার দান। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়। একইভাবে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় আমরা লক্ষ করি বসন্তের বাতাস কবির কাছে স্রষ্টার নিশ্বাস; জগতের আয়ু তাঁর স্নেহকণা হয়ে ওঠে। অর্থাৎ এখানেও সৃষ্টিতে স্রষ্টা একাকার। তাই বলা যায়, স্রষ্টাকে উপলব্ধির এদিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ. উদ্দীপকের ‘প্রার্থনা’ কবিতা স্রষ্টার মহিমাকে শ্রদ্ধাভরে প্রকাশ করা হয়েছে।
➠ সুন্দর এই পৃথিবীর একজন সর্বশক্তিমান স্রষ্টা রয়েছেন। স্রষ্টা সবসময় মানুষের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন। মানুষও তার কর্মকাণ্ডে যদি দ্রষ্টাকে স্মরণ করে তাহলে তিনি সাড়া দেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি তাই সৃষ্টিকর্তার বন্দনা করে তাঁর কাছে শক্তি ও সাহস প্রার্থনা করেছেন।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার প্রতি অফুরন্ত বিশ্বাস প্রকাশিত হয়েছে। এই পৃথিবীর সবকিছুর স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহর মহিমাকে স্বীকার করা হয়েছে পরম শ্রদ্ধাভরে। সৃষ্টিকর্তার দয়ার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়েছে। কিন্তু ‘প্রার্থনা’ কবিতার বক্তব্য আরও বিস্তৃত।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতারও মূল বিষয় মূলত স্রষ্টার প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস। কবি তাঁর দারিদ্র্য, দুঃখ ও বিপদে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনায় নত হন। এছাড়া ‘প্রার্থনা’ কবিতায় দেখা যায়, সমগ্র বিশ্বসৃষ্টি স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণস্বরূপ উপস্থিত। কবি স্রষ্টার মহিমাকে স্মরণ করে তাঁর কাছে পথ চলার প্রেরণা প্রার্থনা করেছেন; কিন্তু উদ্দীপকে এই সবগুলো বিষয় উঠে আসেনি। স্রষ্টার সৃষ্টির মহিমাই উদ্দীপকের একমাত্র উপজীব্য। উদ্দীপকটি তাই ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্রভাবের প্রকাশক নয়।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
জগৎ জুড়ে আছ তুমি হে প্রভু দয়াময়,
সপ্ত আকাশ সপ্ত জমিন সৃজিলে তুমি অসীম করুণাময়।
নিশীথে গগনে চলে তারকার মেলা চাঁদের হাসিতে মন হয় উতলা
হাসনাহেনা তোমার নামে সুমধুর সুবাস ছড়ায়।

ক. ‘বিভো’ অর্থ কী?
খ. কবি বিধাতার কাছে নিজেকে চোখের জলে নিবেদন করেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার যে দিকটি ফুটে ওঠেনি তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত স্রষ্টার অপার মহিমার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘বিভো’ অর্থ স্রষ্টা।
খ. হৃদয়ে শক্তি লাভের আশায় কবি স্রষ্টার কাছে চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেছেন।
➠ কবি কায়কোবাদ শূন্য হাতে স্রষ্টার কাছে শক্তি প্রার্থনা করেন। কীভাবে স্রষ্টার ভক্তি-শ্রদ্ধা ও প্রশংসা করতে হবে তা কবির জানা নেই। তাই তিনি চোখের জল নিবেদন করে স্রষ্টার কাছে আবেদন করেন মনে শক্তি জোগানোর জন্য।

গ. উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বিধৃত স্রষ্টার কাছে কবির নিজেকে নিবেদনের দিকটি ফুটে উঠেনি।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে সষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেছেন। দেহে ও হৃদয়ে শক্তি প্রার্থনা করেছেন।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার সর্বত্র বিরাজমানতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। স্রষ্টা যে তাঁর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যেই রয়েছেন তা উদ্দীপকের কবি স্বীকার করেছেন। কিন্তু ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার সৃষ্টির মাহাত্ম্য প্রকাশের বর্ণনা করার পাশাপাশি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেন। তাঁর অপার করুণা লাভকরেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে আছে। তাঁর দয়া ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। কবি স্রষ্টার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে চেয়েছেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত হয়নি। ‘প্রার্থনা’ কবিতার এদিকটি প্রার্থনা কবিতায় ফুটে উঠেনি।

ঘ. উদ্দীপক এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার অনন্ত, অসীম ও প্রেমময় সভার মহিমা বিশ্লেষিত হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে কবি স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। অসীম পৃথিবীর স্রষ্টা এক অব্যক্ত প্রেমময় অনুভূতির প্রতীক। হৃদয়ের সমস্ত প্রেমময় অনুভব দিয়ে অতি যত্নে তিনি এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। তিনি অনাদি ও অনন্ত।
➠ উদ্দীপকে এই বিশ্বজগতের নিপুণ দ্রষ্টাকে অনন্ত, অসীম ও প্রেমময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি করুণাময় বলেই এই পৃথিবীকে এতো সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। তাঁর সৃষ্টি অপূর্ব, মনোহর। কারণ তিনি অসীম ক্ষমতার প্রতীক। জগতে যে প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য তা একদিকে যেমন অবিশ্বাস্য সৌন্দর্যের আকার, তেমনি অপরিসীম শক্তিমান সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের স্মারক।
➠ উদ্দীপকে এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতায় দ্রষ্টার মহিমা ঘোষিত হয়েছে। ফুল-ফল, নদী-নালা-জল তাঁর আশীর্বাদ হয়েই জগতকে মহিমান্বিত করে চলেছে। প্রভুর নিঃশ্বাস হয়ে বয়ে চলেছে অফুরন্ত বায়ু। আর পৃথিবীর আয়ু কবির কল্পনায় প্রভুর স্নেহকণা। সৃষ্টির মধ্যে মহীয়ান স্রষ্টা মিশে একাকার হয়ে আছেন। এই উপলব্ধির মধ্যে দিয়েই সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়। ফলে অনন্ত শক্তিমত্তায় আদি ও অকৃত্রিম উৎস হয়ে ওঠেন স্রষ্টা। এভাবেই উদ্দীপক এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমার স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
যে ভুলে তোমারে ভুলে
হীরা ফেলে কাচ তুলে
ভিখারি সেজেছি আমি
আমার সে ভুল, প্রভু,
তুমি ভেঙে দাও।

ক. ‘প্রসাদ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. কবি হৃদয়ের শক্তি প্রার্থনা করেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকটিতে ‘প্রার্থনা’ কবিতার যে ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবির অনুভূতির একটি খণ্ডচিত্র উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে- মন্তব্যটির সাথে কি তুমি একমত? মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

ক. ‘প্রসাদ’ শব্দের অর্থ অনুগ্রহ।
খ. কবি পার্থিব জগতের সব প্রতিকূলতাকে জয় করার অভিপ্রায়ে হৃদয়ের শক্তি প্রার্থনা করেছেন।
➠ পৃথিবীতে মানুষের জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয়, বরং কণ্টকাকীর্ণ। জীবনের বাঁকে বাঁকে থাকে নানা বিপদ বা প্রতিকূলতা। সেগুলো জয় করতে হলে মানসিক শক্তি প্রয়োজন। তাই তো কবি জীবন-সংগ্রাম জয় করতে হৃদয়ের শক্তি প্রার্থনা করেছেন।

গ. স্রষ্টার কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করার দিকটি উদ্দীপকটিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ মানুষ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এই স্রষ্টার গুণগান গাওয়া মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আবার অনেক সময় ভুল করে স্রষ্টার নির্দেশিত পথ থেকে বিমুখ হলেও সেই ভুলের জন্য স্রষ্টার কাছেই ক্ষমা ও সাহায্য প্রার্থনা করা উচিত।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে স্রষ্টার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ভুল করে যদি স্রষ্টার পথ থেকে মানুষ বিচ্যুত হয় তাহলে সে স্রষ্টার অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়। নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্রষ্টার নিকট মাথা নত করে ক্ষমা ও সাহায্য চাওয়া যথার্থ মানুষের কাজ। ‘প্রার্থনা’ কবিতায়ও কবি স্রষ্টার মহিমা প্রকাশ করার পাশাপাশি তাঁর কাছে প্রার্থনা করেছেন একাগ্র চিত্তে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্রষ্টার কাছে সেই ভুল সংশোধনের জন্য সাহায্যও চেয়েছেন কবি। উদ্দীপকে স্রষ্টার নিকট সাহায্য চাওয়ার এই দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে স্রষ্টার কাছে ক্ষমা ও সাহায্য চাওয়ার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে যা ‘প্রার্থনা’ কবিতার খণ্ডাংশকে ধারণ করে।
➠ অনন্ত অসীম বিচারদিনের মালিক মহান সৃষ্টিকর্তা। তাঁর কাছে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার শক্তি প্রার্থনা করা হয়েছে। ভুল করলেও তাঁর কাছেই ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেকোনো বিপদে তাঁর নিকট শক্তি কামনা করা হয়েছে।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে একজন কবি হৃদয়ের আকৃতি ও অনুশোচনা। নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্রষ্টার কাছে নিজেকে সমর্পণ এবং ভুল পথ থেকে সরে আসার জন্য তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা হয়েছে। উদ্দীপকের এই বক্তব্য ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাথে কিছুটা সঙ্গতিপূর্ণ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার অপর মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করা হয়েছে। কবি ভক্তিভরে চোখের জলে নিজেকে দ্রষ্টার কাছে নিবেদন করেন। কবি বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে সব সময় বিধাতার কাছে করুণা ও শক্তি কামনা করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের বক্তব্য সীমিত। যেখানে স্রষ্টার অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে সে কথা উদ্দীপকে উল্লেখ নেই। শুধু রিক্ত হস্তে পরম ভক্তি ভরে স্রষ্টার কাছে সাহায্য প্রার্থনার বিষয়টি উল্লেখ আছে। তাই বলা যায়- ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবির অনুভূতির একটি খণ্ডচিত্র উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে-মন্তব্যটি উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে যুক্তিযুক্ত।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপক—১:
মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করা হলেও পৃথিবীর সব সৃষ্টিই স্রষ্টার গুণগানে সদা মশগুল। ক্ষুদ্র পিপীলিকাও তাঁর অপর মহিমা থেকে বঞ্চিত নয়।
উদ্দীপক—২:
তামার দয়া বিনা পার না’ত ক্ষমা
ওগো মোর দয়াময়
তব করুণা লভিলে হৃদয়
আজিকে ধন্য হয়। [চ. বো.-১৮]

ক. একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে কী নিভে যায়?
খ. ‘দেহ হৃদে বলা।’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. ১নং উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ফুটে উঠা দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ২য় উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে।—মূল্যায়ন করো।

ক. একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে শোকানল নিভে যায়।
খ. ‘দেহ হ্রদে বল’ বলতে দৈহিক শক্তি ও মানসিক স্থিরতাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি মহান স্রষ্টার কাছে আত্মনিবেদন করেছেন। স্রষ্টার অনুগ্রহ ছাড়া পৃথিবীর কোনো কিছুই চলতে ওম বাঁচতে পারে না। সুখে-দুঃখে শয়নে-স্বপনে একমাত্র স্রষ্টাই আমাদের পথের সম্বল। আমরা যাতে স্রষ্টার আরাধনায় নিয়োজিত থাকতে পারি, এ জন্য দৈহিক শক্তি এবং মানসিক একাগ্রতা দরকার। কবি রিক্ত হস্তে পরমভক্তি সহকারে প্রার্থনা করেছেন, হে প্রভু, আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও, যাতে তোমাকে স্মরণ করতে পারি।

গ. ১নং উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার স্রষ্টার অপার মহিমা এবং তাঁর প্রতি সৃষ্টির গুণগানের দিকটি ফুটে উঠেছে।
➠ একমাত্র মহান স্রষ্টা তাঁর অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বজগতের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। মহান প্রভুর অনুগ্রহ ছাড়া জগতের কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না। এ জন্য শুধু মানুষ নয়, অন্যান্য প্রাণীও মহান রবের গুণকীর্তন করে। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর সৃষ্টিও মহান স্রষ্টার অহিমা লাভ করে ধন্য হয়।
➠ ১নং উদ্দীপকে মহান স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির গুণকীর্তন প্রকাশ পেয়েছে। শুধু মানুষ মহান স্রষ্টার গুণকীর্তন করে না, পৃথিবীর সকল সৃষ্টিই স্রষ্টাকে স্মরণ করে। ক্ষুদ্র পিপীলিকাও স্রষ্টার মহিমা থেকে বঞ্চিত নয়। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় মহান স্রষ্টার অনুগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। মহান রবের অনুগ্রহে জগতের সবকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। গাছের পাখি, বনের ফুল-সবই স্রষ্টাকে নিজের ভাষায় স্মরণ করে। তাঁর অপার করুণা লাভকরেই জগৎ-সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে। মূলত মহান স্রষ্টার এই অনুগ্রহ এবং তাঁর প্রতি অন্যান্য প্রাণীর গুণগানের দিকটি ১নং উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

ঘ. ২নং উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে—মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ মহান স্রষ্টা মানুষকে তাঁর অসংখ্য সৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কিন্তু আমরা শ্রেষ্ঠ প্রাণী হলেও শয়তানের প্ররোচনা ও কুপ্রবৃত্তির কারণে মহান স্রষ্টার হুকুম অমান্য করে পাপ করে থাকি। আর মহান স্রষ্টা অপার করুণা ও দয়ায় আমাদেরকে ক্ষমা করেন। মূলত তাঁর দয়া, করুণা ও ক্ষমা ছাড়া কোনো মানুষই স্বস্তি লাভ করতে পারে না।
➠ ২নং উদ্দীপকে মহান স্রষ্টার প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। মানুষ অপরাধ করলেও স্রষ্টার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চায়, কারণ তাঁর দয়া ও করুণা ছাড়া ক্ষমা লাভ করা যায় না। আবার স্রষ্টার দয়া, ক্ষমা ও করুণা লাভ করলেই মানবজীবন ধন্য ও সার্থক হয়। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি চোখের জল ফেলে স্রষ্টার কাছে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। মহান স্রষ্টার দয়া ও করুণা ছাড়া আমরা একমুহূর্তও চলতে পারি না। সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে মহান স্রষ্টাই একমাত্র সম্বল, তার অপার করুণার কারণে প্রতিটি প্রাণী জীবনধারণ করেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় মহান স্রষ্টার অপার মহিমা এবং সৃষ্টির প্রতি তাঁর করুণা ও দয়া প্রকাশ পেয়েছে। কবি রিক্ত হস্তে চোখের জলে স্রষ্টার কাছে তাঁর করুণা ও দয়া প্রার্থনা করেছেন। কারণ স্রষ্টার দয়া ছাড়া কোনো কিছুই সুন্দরভাবে চলতে পারে না। ২নং উদ্দীপকেও মহান স্রষ্টার দ্রয়া, করুণা ও ক্ষমা লাভের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। স্রষ্টার করুণা লাভের মাধ্যমে মানবজীবন সার্থক হয়; যা ‘প্রার্থনা’ কবিতার মৌল ভাবনা। তাই বলা যায়, স্রষ্টার করুণা ও ক্ষমা লাভের বিষয়ে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
যে ভুলে তোমারে ভুলে
হীরা ফেলে কাচ তুলে
ভিখারি সেজেছি আমি
আমার সে ভুল প্রভু,
তুমি ভেঙে দাও।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে সংকলিত?
খ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কীভাবে স্রষ্টার সান্নিধ্য কামনা করা হয়েছে? বুঝিয়ে বলো।
গ. উদ্দীপকটিতে ‘প্রার্থনা’ কবিতার যে ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘প্রার্থনা’ কবিতার প্রকাশিত কবির অনুভূতির একটি খ-চিত্র উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।—মন্তব্যটির সাথে কি তুমি একমত? মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ‘অশ্রুমালা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
খ. স্রষ্টার আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সান্নিধ্য কামনা করা হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি ভক্তি-শ্রদ্ধা না জেনেও চোখের জলে নিজেকে স্রষ্টার দরবারে নিবেদন করেন। কারণ স্রষ্টার অপরিমেয় শক্তির দ্বারাই জগতের সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। জীবনের সব ক্ষেত্রেই তিনি আমাদের ভরসা। আমরা রিক্ত হস্তে তাঁর সাহায্য কামনা করি। কবি বিপদে-আপদে, সুখ-শান্তিতে সব সময় বিধাতার কাছে শক্তি কামনা করেছেন। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্বসংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে।

গ. উদ্দীপকটিতে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত রিক্ততার কথা স্বীকার করে স্রষ্টার কাছে করুণা প্রার্থনা জানানোর ভাবটির প্রতিফলন ঘটেছে।
➠ মহান সৃষ্টিকর্তা জগতের সবকিছুর নিয়ন্তা। তাঁর করুণা ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। সুখে-শান্তিতে, বিপদে-আপদে তাঁকে স্মরণ করেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
➠ উদ্দীপকে কবি নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে স্রষ্টার করুণা প্রার্থনা করেছেন। এখানে তিনি বলেছেন, স্রষ্টা যেন সমস্ত ভুল ভেঙে দিয়ে তাঁর ওপর করুণা বর্ষণ করেন। উদ্দীপকের এ ভাবটিতে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত স্রষ্টার কাছে করুণা প্রার্থনা জানানোর ভাবটির প্রতিফলন ঘটেছে। কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে কবি সব সময় বিধাতার কাছে শক্তি কামনা করেছেন। উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার এই ভাবটির প্রতিফলন ঘটেছে।

ঘ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবির অনুভূতির একটি খ-চিত্র উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।—এ মন্তব্যটির সাথে আমি একমত।
➠ এ জগতে যা কিছু দৃশ্যমান, সবই স্রষ্টার সৃষ্টি। স্রষ্টার কাছেই মানুষ তাই আশ্রয় খোঁজে। বিপদে-আপদে, ভুলভ্রান্তিতে বিধাতার করুণা ভিক্ষা করে। তাঁর করুণা ছাড়া আমরা দু’কদমও চলতে পারি না।
➠ উদ্দীপকের কবি নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে স্রষ্টার কাছে ভুল ভেঙে দেওয়ার প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি নিজেকে এখানে পরম করুণাময়ের কাছে ভিখারি হিসেবে উপস্থাপন করে তাঁর করুণা প্রার্থনা করেছেন। উদ্দীপকের এদিকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার একটি খ-চিত্র মাত্র। উক্ত ভাব ছাড়াও ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বহুমুখী ভাবের অবতারণা ঘটেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার মহিমার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বিপদে-আপদে বিধাতার কাছে শক্তি কামনা করেছেন। কবিতার এসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এসব কারণে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধূলার তলে,
সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।’

ক. একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে কী নেভে?
খ. ‘না জানি ভকতি, নাহি জানি স্তুতি’—কেন বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।
ঘ. ‘স্রষ্টার কাছে মাথা নত করলে অন্তরে প্রশান্তি জাগে’—উদ্দীপক ও ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে শোকানল নিভে যায়।
খ. কবি নিজেকে ক্ষুদ্র ও রিক্ত মনে করেছেন বলে প্রশ্নোক্ত কথা বলেছেন।
➠ কবি নিজেকে স্রষ্টার কাছে নিবেদন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন গাছপালা, লতাপাতা, ফুলফল, পাখি সবাই বিধাতাকে স্মরণ করে। তার অপার করুণা লাভ করেই বিশ্বসংসারের প্রতিটি জীবন ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে আছে। কবি স্রষ্টার এত কিছু দেখে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় নিজেকে রিক্ত-শূন্য মনে করেছেন। তাঁর মনে হয়েছে, তিনি স্রষ্টার ভক্তি ও স্তুতি করার অনুপযুক্ত। তাই তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

গ. উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার স্রষ্টার প্রতি কবির নিজেকে নিবেদন করার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই স্রষ্টার সৃষ্টি। মানুষও তাঁর সৃষ্টির প্রধান অংশ। স্রষ্টা মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে বাকি সব সৃষ্টিকে মানুষের অধীন করে দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে নিজেকে স্রষ্টার মাঝে নিবেদন করার বিষয়টি দেখা যায়। নিজের আত্মসম্মান, অহংকার সবকিছু তিনি স্রষ্টার পায়ের কাছে রেখে দিতে চেয়েছেন। এখানে নিজের চোখের জলে স্রষ্টার কাছে বিনয় প্রকাশ করা হয়েছে। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা জানিয়েছেন। কবিও স্রষ্টার কাছে চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করে তাঁর দয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কবিতায় স্রষ্টার সমস্ত সৃষ্টি, তাঁর অসীম দয়া এবং আমাদের সবার একমাত্র ভরসা তিনি, এই মর্মে অসীম কৃতজ্ঞতার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকে স্রষ্টার কাছে নিজকে নিবেদন করা হয়েছে। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবিও স্রষ্টার মহিমা প্রকাশ করে নিজেকে তাঁর প্রতি নিবেদন করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার স্রষ্টার প্রতি কবির নিজেকে নিবেদন করার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. ‘স্রষ্টার কাছে মাথা নত করলে অন্তরে প্রশান্তি জাগে।’—মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাববস্তু অনুসারে যথার্থ।
➠ সকল প্রাণীর ভরসাস্থল স্রষ্টা। তিনি কখনো কোনো প্রাণীকে নিরাশ করেন না, দূরে ঠেলে দেন না। তাঁর সব সৃষ্টিই তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। তাই প্রতিনিয়ত আমাদের স্রষ্টার প্রতি অনুগত থাকা উচিত।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার প্রতি নিজেকে নিবেদন করার কথা এবং এখানে নিজের অহংকার বিসর্জন দেওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এর মধ্য দিয়ে এক ধরনের নির্ভরতা ও আত্মতৃপ্তির ভাব এখানে প্রকাশিত হয়েছে। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অসীম দয়া ও মহিমার কারণে নিজেকে তাঁর প্রতি সঁপে দিয়েছেন। তিনি চোখের জলে স্রষ্টার প্রতি ভক্তি জানিয়েছেন। কবি মনে করেছেন, নিজেকে একাগ্রচিত্তে স্রষ্টার কাছে সঁপে দেওয়ার মাঝে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি রয়েছে। যার মধ্য দিয়ে অন্তরে প্রশান্তি আসে।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার মাঝে নিজেকে সঁপে দেওয়া এবং এর মধ্য দিয়ে পরিতৃপ্তি পাওয়ার কথা বলেছেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বলেছেন, স্রষ্টার প্রতি নিজেকে নিবেদন করলে ভেতরের শোকের আগুন নিভে যায়। এসব দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপক—১:
মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করা হলেও পৃথিবীর সব সৃষ্টিই স্রষ্টার গুণগানে সদা মশগুল। ক্ষুদ্র পিপীলিকাও তাঁর অপার মহিমা থেকে বঞ্চিত নয়।
উদ্দীপক—২:
তোমার দয়া বিনা পাব না তো ক্ষমা
ওগো মোর দয়াময়
তব করুণা লভিয়ে হৃদয়
আজিকে ধন্য হয়।

ক. একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে কী নিভে যায়?
খ. ‘দেহ হ্রদে বল।’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. ১নং উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ফুটে ওঠা দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ২য় উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে।—মূল্যায়ন করো।

ক. একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করলে শোকানল নিভে যায়।
খ. ‘দেহ হ্রদে বল’ বলতে দৈহিক শক্তি ও মানসিক স্থিরতাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ স্রষ্টার অনুগ্রহ ব্যতীত পৃথিবীর কোনো কিছুই চলতে ও বাঁচতে পারে না। সুখে-দুঃখে শয়নে-স্বপনে একমাত্র স্রষ্টাই আমাদের পথের সম্বল। তাই আমরা যাতে স্রষ্টার আরাধনায় নিয়োজিত থাকতে পারি, এজন্য দৈহিক শক্তি এবং মানসিক একাগ্রতা প্রয়োজন। তাই কবি পরম ভক্তিসহকারে স্রষ্টার কাছে দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করেছেন।

গ. ১নং উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার স্রষ্টার অপার মহিমা এবং তাঁর প্রতি সৃষ্টির গুণগানের দিকটি ফুটে উঠেছে।
➠ স্রষ্টা তাঁর অলৌকিক শক্তিতে সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। স্রষ্টার অনুগ্রহ ব্যতীত জগতের কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না। এজন্য শুধু মানুষ নয়, অন্যান্য প্রাণীও মহান রবের গুণকীর্তন করে। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর সৃষ্টিও মহান স্রষ্টার মহিমা লাভ করে ধন্য হচ্ছে।
➠ ১নং উদ্দীপকে মহান স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির গুণকীর্তন করা হয়েছে। শুধু মানুষ নয়; পৃথিবীর সকল সৃষ্টিই স্রষ্টার গুণকীর্তন করছে। ক্ষুদ্র পিপীলিকাও স্রষ্টার মহিমা থেকে বঞ্চিত নয়। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় মহান স্রষ্টার আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে। স্রষ্টার অনুগ্রহে জগতের সবকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই জগৎ-সংসারে প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে। গাছের পাখি, বনের ফুল—সবই স্রষ্টাকে নিজের ভাষায় স্মরণ করে। সুতরাং মহান স্রষ্টার এই অনুগ্রহ এবং তাঁর প্রতি অন্যান্য প্রাণীর গুণগানের দিকটি ১নং উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

ঘ. ২নং উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করে—‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ স্রষ্টা মানুষকে সৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা শ্রেষ্ঠ প্রাণী হলেও শয়তানের প্ররোচনা ও কুপ্রবৃত্তির কারণে মহান স্রষ্টার হুকুম অমান্য করি। আর স্রষ্টা অপার করুণা ও দয়ায় আমাদেরকে ক্ষমা করেন।
➠ ২নং উদ্দীপকে মহান স্রষ্টার নিকট ক্ষমা প্রার্থনার দিকটি ফুটে উঠেছে। মানুষ অপরাধ করলেও স্রষ্টার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চায়, কারণ তাঁর দয়া ও করুণা ব্যতীত ক্ষমা লাভ করা যায় না। স্রষ্টার দয়া, ক্ষমা ও করুণা লাভ করলেই মানবজীবন ধন্য ও সার্থক হয়ে ওঠে। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি চোখের জল ফেলে স্রষ্টার কাছে নিজের অসহায়ত্ব ব্যক্ত করেছেন।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় মহান স্রষ্টার অপার মহিমা এবং সৃষ্টির প্রতি তাঁর করুণা ও দয়া প্রকাশ পেয়েছে। স্রষ্টার দয়া ছাড়া কোনো কিছুই সুন্দরভাবে চলতে পারে না। তাই কবি রিক্ত হস্তে চোখের জলে স্রষ্টার কাছে তাঁর করুণা ও দয়া প্রার্থনা করেছেন। ২নং উদ্দীপকেও মহান স্রষ্টার দয়া, করুণা ও ক্ষমা লাভের দিকটি উঠে এসেছে। স্রষ্টার করুণা লাভের মাধ্যমে মানবজীবন সার্থক হয়; যা ‘প্রার্থনা’ কবিতার মৌল ভাবনা। সুতরাং বলা যায়, স্রষ্টার করুণা ও ক্ষমা লাভের বিষয়ে প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
১২শে জুন ২০১৭ বিরামহীন মুষলধারে বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হয়। রাঙামাটি জেলায় পাহাড় ধসে বহুলোকের বসতবাড়ি মাটির নিচে বিলীন হয়ে যায়। শত শত লোকের মৃত্যু হয়। চারদিকে মানুষের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। দীপেন সপরিবারে কোনোমতে জীবনে রক্ষা পায়। সেদিন রাতে দীপেন পরিবারের সবাইকে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে বলেন, তিনিই আমাদের রক্ষা করবেন।

ক. কায়কোবাদের আসল নাম কী?
খ. ‘তুমি মোর পথের সম্বল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে দীপেন বাবুর মধ্যে ‘প্রার্থনা’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থকে কতটুকু সমর্থন করে বলে তুমি মনে কর? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. কায়কোবাদের আসল নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী।
খ. এখানে জীবনপথে স্রষ্টার দয়ায় টিকে থাকার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
➠ স্রষ্টার কাছ থেকে কবি জীবনপথে চলার মূল অনুপ্রেরণা বা শক্তি পান। স্রষ্টার অসীম রহমতে তিনি টিকে আছেন পৃথিবীর বুকে। তাঁর জীবনে বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে স্রষ্টাই রক্ষাকর্তা। তাই কবি স্রষ্টাকে তাঁর পথের সম্বল বলেছেন।’

গ. উদ্দীপকের দীপেন বাবুর মধ্যে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃষ্টিকর্তার প্রতি পূর্ণ আস্থার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার গণকীর্তন করেছেন। সুখে-দুঃখে, বিপদ-আপদে তিনি সব সময় স্রষ্টার কাছে শক্তি প্রার্থনা করেন। তাঁর হুকুম ছাড়া পৃথিবীর কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না। তাঁর দয়া ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। তাই স্রষ্টাকে কীভাবে ডাকতে হয় কবি না জেনেও চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন এবং সব সময় স্রষ্টার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে বলেছেন।
➠ উদ্দীপকে দীপেন বাবুর পরিবারের কথা বলা হয়েছে। ১২ জুন ২০১৭সালে দেশের সর্বত্র প্রচুর বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। অতি বর্ষণের ফলে রাঙামাটি জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে এবং বহু মানুষের প্রাণহানি হয়। তবে দীপন বাবুর পরিবার কোনোমতে রক্ষা পায়, কারণ পরিবারের সকলেই সৃষ্টিকর্তাকে সব সময় স্মরণ করেছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের দীপেন বাবুর মধ্যে কবিতায় বর্ণিত স্রষ্টার ওপর বিশ্বাস ও ভরসা রাখার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থকে পুরোপুরি সমর্থন করে করে বলে আমি মনে করি।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমার কথা বলেছেন। তাঁর অফুরন্ত দয়ায় আমরা পৃথিবীতে বেঁচে আছি। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় বিধাতার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। তিনি এ বিশাল পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং সবকিছু তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি অসীম দয়াময় ও সর্বশক্তির অধিকারী। তাই কবি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় পরম ভক্তিভরে সৃষ্টিকর্তাকেই স্মরণ করতে বলেছেন।
➠ উদ্দীপকে দীপেন বাবুর পরিবারের কথা বলা হয়েছে। ১২ই জুন ২০১৭সালে দেশের সর্বত্র প্রচুর বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়। অতিবর্ষণের ফলে রাঙামাটি জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে এবং বহু মানুষের প্রাণহানি হয়। তবে দীপেন বাবুর পরিবার কোনোমতে রক্ষা পায়, কারণ পরিবারের সকলেই সৃষ্টিকর্তাকে সব সময় স্মরণ করেছে।
➠ সৃষ্টিকর্তা আমাদের সবকিছুর মালিক। তাই ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার কথা বলেন। উদ্দীপকের শেষ বাক্যেও সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখার কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থকে পুরোপুরি সমর্থন করে।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
দৃশ্যকল্প—১:
সরল সঠিক পুণ্যপন্থা
মোদের দাও গো বলি
চালাও সে পথে যে পথে তোমার
প্রিয়জন গেছে চলি।
দৃশ্যকল্প—২:
যে পথে তোমার চির অভিশাপ
যে পথে ভ্রান্তি, চির পরিতাপ
হে মহাচালক, মোদের কখনো
কর না সে পথগামী।

ক. কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যের নাম কী?
খ. ‘তোমারি নিঃশ্বাস বসন্তের বায়ু’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. দৃশ্যকল্প—১ এর সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. দৃশ্যকল্প—২ ‘কায়কোবাদের প্রত্যাশাকেই ধারণ করেছে।’—মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

ক. কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যের নাম ‘মহাশ্মশান’।
খ. আলোচ্য চরণ দ্বারা কবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বস্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
➠ মহান আল্লাহ এ বিশ্বের সকল কিছু সৃষ্টি করেছেন। যে ঋতুকে আমরা সকল ঋতুর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ঋতু বলে জানি তা বসন্ত। কবি বসন্ত ঋতুকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিশ্বাস বলে অভিহিত করেছেন। কারণ আল্লাহ তার বান্দাদের সুখে-শান্তিতে রাখতে চান। এজন্যই তিনি তাঁর নিশ্বাস দ্বারা বসন্ত ঋতু সৃষ্টি করেছেন।

গ. দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃষ্টিকর্তার প্রতি কবির যে অনুরাগ প্রকাশিত হয়েছে তার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার মাহাত্ম্য উল্লেখ করেছেন। স্রষ্টা পৃথিবীর সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। পৃথিবীর বস্তুজগতের আমরা নানা কিছুর মধ্যে তাঁর উপস্থিতি অনুভব করতে পারি। কিন্তু তিনি দৃশ্যমান নন। তিনি অদৃশ্য থেকেই আমাদের মঙ্গল-অমঙ্গল নির্ধারণ করেন। ধনী-দরিদ্র, ইতর-ভদ্র সকলের জন্য তিনি করুণার আধার।
➠ উদ্দীপকের কবি স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছেন যে, পথ সরল, সঠিক এবং পুণ্যময়, সে পথের সন্ধান বলে দিতে। যে পথে তাঁর প্রিয়জনেরা চলে গেছেন, আমাদের মতো অজ্ঞ বান্দাদের যেন তিনি সে পথে পরিচালনা করেন। এ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য, ভক্তি এবং ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। ঠিক একই রূপ ভালোবাসা আমরা ফুটে উঠতে দেখি ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবির মধ্যে। তিনিও স্রষ্টার কাছে সকল অমঙ্গল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পুণ্যপথে চলার জন্য প্রার্থনা করেন। উদ্দীপকের কবি এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি উভয়ের নিবেদন সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. ‘দৃশ্যকল্প-২ কায়কোবাদের প্রত্যাশাকেই ধারণ করেছে।’—মন্তব্যটি যথাযথ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি সর্বাবস্থায় স্রষ্টার করুণা কামনা করেছেন। সুখে-দুঃখে, মঙ্গল-অমঙ্গল, রোগশোক, জরাব্যাধি সকল ক্ষেত্রে কবি স্রষ্টার করুণা ভিক্ষা করেছেন। কারণ সকল কিছুর স্রষ্টা বিশ্বনিয়ন্তা করুণাময়ের। তার কাছে কবির সকল সময় প্রার্থনা, তিনি যেন কবিকে সকল দুঃখ সহ্য করার শক্তি প্রদান করেন।
➠ দৃশ্যকল্প-২ এর কবি স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন, যে পথে স্রষ্টার চির অভিশাপ বিরাজিত, সে পথে তিনি যেন কবিকে পরিচালিত না করেন। যে পথে ভুল, ভ্রান্তি, চির পরিতাপ, সে পথে যেন মহাচালক (স্রষ্টা) কখনো তাকে না নিয়ে যান। দৃশ্যকল্প-২ এর কবির এ প্রার্থনা জানানোর দিকটি প্রার্থনা কবিতাতেও সমান্তরালভাবে ফুটে উঠেছে।
➠ দৃশ্যকল্প-২ এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবির প্রার্থনা একই ধারায় প্রবাহিত। কবি কায়কোবাদ তাঁর রচিত ‘প্রার্থনা’ কবিতায় যেভাবে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন সকল অমঙ্গল থেকে দূরে থাকার জন্য, স্রষ্টার করুণা প্রার্থনা করেছেন সুপথে চলার জন্য। ঠিক একইরূপ প্রার্থনা দৃশ্যকল্প-২ এর কবিও সমানভাবে করেছেন। তাই একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, দৃশ্যকল্প-২ কবি কায়কোবাদের প্রত্যাশাকেই পূরণ করেছে।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নম্রশিরে সুখের দিনে
তোমারি মুখ লইব চিনে,
দুখের রাতে নিখিল ধরা
যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।

ক. স্তুতি কথার অর্থ কী?
খ. ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’—বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ করলেও সমগ্রভাব প্রকাশে সক্ষম নয়—যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

ক. স্তুতি কথার অর্থ প্রশংসা।
খ. ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’—এই উক্তিতে কবি নিজের দুঃখ, হতাশা এবং আত্মসমর্পণ প্রকাশ করতে চেয়েছেন।
➠ এখানে কবি শূন্য হাতে, অর্থাৎ কোনো কিছুই নিয়ে নয়, শুধুমাত্র তার দুঃখ, কষ্ট এবং কপালে যা কিছু জুটেছে, সেই অবস্থা নিয়ে স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। কবির কাছে কোনো ধন-সম্পত্তি বা শক্তি নেই যা দিয়ে সে স্রষ্টাকে প্রশংসা করতে পারে, তবুও সে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে খোদার কাছে সমর্পণ করেছে। সৃষ্টিকর্তার মহিমায় মগ্ন হয়ে কবি তার অস্তিত্বকে সঁপে দিয়েছে, এবং তার অশ্রুজল দিয়ে এই আত্মসমর্পণ ঘটাচ্ছে। অর্থাৎ, কবি কোনো মান-অভিমান ছাড়াই, নিঃস্ব অবস্থায়, স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করার জন্য নিজের সমস্ত দুঃখ ও যন্ত্রণা উজাড় করে দিয়েছে।

গ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বিপদ-আপদ, সুখ-শান্তি-সব পরিস্থিতিতেই সৃষ্টিকর্তার কাছে শক্তি প্রার্থনা করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকের সাথে একেবারে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো তাঁর দয়াময়তা। এই দয়া ও ভালোবাসার কারণে, যখন আমরা স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করি, তখন আমাদের মনোবাসনা বা চাওয়া পূর্ণ হয়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে এবং আনন্দের মুহূর্তে ও প্রাচুর্যের দিনেও স্রষ্টাকে ভুলে না যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, দুঃখ, বিপদ, অভাব বা প্রয়োজনের সময় স্রষ্টাকে স্মরণ করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিক তেমনি, ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বিপদে, সুখে, শান্তিতে সবসময় স্রষ্টার কাছ থেকে শক্তি কামনা করা হয়েছে, কারণ সৃষ্টিকর্তাই আমাদের জীবনের একমাত্র ভরসা, সুখ-দুঃখ বা শয়ন-স্বপন-যে অবস্থাতেই থাকি না কেন।
➠ এভাবে, আমরা দেখতে পাই যে ভেবেচিন্তে উল্লিখিত উদ্দীপক এবং ‘প্রার্থনা’ কবিতার মধ্যে ভাবগত দিক থেকে একটি গঠনমূলক সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকটি শুধুমাত্র ‘প্রার্থনা’ কবিতার এক বিশেষ দিককে, অর্থাৎ স্রষ্টাকে যেকোনো অবস্থাতেই স্মরণ করার গুরুত্বকে নির্দেশ করেছে, তবে এটি সমগ্রভাব তুলে ধরেনি।
➠ স্রষ্টার দেখানো পথই মানব জাতির কল্যাণ বয়ে আনে, এবং জীবন যদি সঠিক পথে পরিচালিত হয়, তবে স্রষ্টার আরাধনা হয় এবং সত্যের সন্ধান পাওয়া যায়।
➠ উদ্দীপকে ভক্তির সঙ্গে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় স্রষ্টাকে স্মরণ করার কথা বলা হয়েছে, আর একইভাবে বিপদ, দুঃখ বা কঠিন পরিস্থিতি আসলেও স্রষ্টার প্রতি আস্থা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জানলেও, সে কেবল চোখের অশ্রু দিয়ে নিজেকে নিবেদন করেছেন, কারণ স্রষ্টার অফুরন্ত দয়াতেই সমস্ত জগত পরিচালিত হয়। স্রষ্টার কাছে সাহায্য চাওয়ার জন্য তিনি শূন্য হাতে, পরম ভক্তিতে প্রার্থনা করেছেন, যাতে স্রষ্টা তার দেহ ও হৃদয়ে শক্তি দান করেন।
➠ এভাবে বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার সবকিছুই ধারণ করতে পারেনি, বরং এটি কবিতার এক নির্দিষ্ট দিককেই প্রতিফলিত করেছে।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সামান্য কারণে হাফিজ তার চাকরি হারালেন। বেকার হয়ে তিনি পথে পথে ঘুরতে লাগলেন। মনে মনে তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। তবুও তার চাকরির ব্যবস্থা হলো না। তিনি প্রভুর ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। কয়েক দিন পরে হাফিজ শুনল তার আগের অফিসে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদি তিনি অফিসে থাকতেন তবে দুর্ঘটনায় তার মারাত্মক ক্ষতি হতো। তিনি বিপদে পড়তেন। যেটা চাকরি হারানোর থেকেও ভয়াবহ। হাফিজ মনে মনে প্রভুকে ধন্যবাদ দিলেন। তার মনের ক্ষোভ দূর হলো।

ক. মহাশ্মশান কবি কায়কোবাদের কী ধরনের রচনা?
খ. “তব নামে অশেষ মঙ্গল”- কথাটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া, ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ—ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “সুখ-দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন, - ঈশ্বর প্রেম মানুষকে মুক্তি দেয়”—উক্তিটি উদ্দীপক ও প্রার্থনা কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ক. ‘মহাশ্মশান’ কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
খ. ‘তব নামে অশেষ মঙ্গল’ -কথাটিতে স্রষ্টার নাম স্মরণের মাধ্যমে অশেষ কল্যাণ লাভের কথা বলা হয়েছে।
➠ স্রষ্টাকে স্মরণ করার মধ্যেই মানুষের সীমাহীন মঙ্গল নিহিত। স্রষ্টার নাম স্মরণের মধ্য দিয়েই মানুষ আত্মিক পবিত্রতা লাভ করে। তার দুঃখ কষ্ট দূর হয়। কারণ সে তার অভাব অভিযোগের কথা স্রষ্টার কাছেই নিবেদন করে।

গ. মানুষ সর্বাবস্থায় সৃষ্টিকর্তার দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যেই বেঁচে থাকে। সেদিক দিয়ে উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ মানবজীবনের গভীরতম সত্যকে তুলে ধরেছেন। মহান সৃষ্টিকর্তার অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্থনা করে। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শান্তি কামনা করেন। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকের হাফিজ চাকরি হারিয়ে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেও কোনো চাকরির ব্যবস্থা হয়নি। প্রভুর প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট হলেন। আগের অফিসে দুর্ঘটনা ঘটার পর বুঝতে পারলেন সেখানে থাকলে তার কী ভয়াবহ ক্ষতিই না হতো। হাফিজ মনে মনে প্রভুকে ধন্যবাদ দিলেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সৃষ্টিকর্তার দয়া ও অনুগ্রহের দিকটি উদ্দীপকের হাফিজের ঘটনার মধ্যদিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “সুখ-দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন- ঈশ্বর প্রেম মানুষকে মুক্তি দেয়”—এ উক্তিটি যথার্থ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিপদে, আপদে, সুখে শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শান্তি কামনা করেন। গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল সবই বিধাতাকে স্মরণ করে। তাঁর অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে। তাঁর কাছে সকলেই সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকেও হাফিজ চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরতে থাকেন এবং ¯্রষ্টাকে ডাকেন। কিন্তু তার কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রভুর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। কিছুদিন পরে জানতে পারলেন অফিসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে চাকরি করলে হাফিজের মারাত্মক ক্ষতি হতো। যেটা তার চাকরি হারানোর চেয়েও ভয়াবহ। হাফিজ পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা পোষণ করেন।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোচনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন—ঈশ্বর প্রেম আমাদের মুক্তি দেয়।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রহিম মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে দেখল, ইমাম সাহেব মুনাজাত করছেন। তিনি মোনাজাতে আল্লাহ্র কাছে বিনয়ের সাথে সবার জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন। সবার জানা- অজানা অপরাধের জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন এবং বলছেন- প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
খ. ‘বিভো, দেহ হৃদে বল’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের মুনাজাতের সাথে প্রার্থনা কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।’—কথাটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ‘অশ্রুমালা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
খ. ‘বিভো, দেহ হৃদে বল’ বলতে স্রষ্টার কাছে দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ সৃষ্টিকর্তার সাহায্য ও দয়া ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। তাই কবি স্রষ্টার কাছেই দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করেছেন। কারণ আমরা যেন ¯্রষ্টার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে পারি।

গ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় নত হয়ে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানানোর দিক দিয়ে কবিতার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার প্রতি আরাধনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। কবি স্বীকার করেছেন স্রষ্টার প্রতি তাঁর সেই রকম ভক্তি নেই। তিনি জানেন না কীভাবে স্রষ্টার প্রশংসা করতে হবে। তাই কবি নিঃস্ব রিক্ত হয়ে শুধু চোখের জল নিয়ে স্রষ্টার সামনে দাঁড়িয়েছেন। স্রষ্টা যেন মনে ও দেহে বল দেন। জীবনে-মরণে, শয়নে-স্বপনে বিধাতাই একমাত্র পথের সম্বল।
➠ উদ্দীপকে ইমাম সাহেব মুনাজাতে আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে সবার জন্য ক্ষমা চান। উপস্থিত সকল মানুষের জানা- অজানা অপরাধের ক্ষমা চান। তিনি বলেন, প্রভু তুমি অন্তর্যামী। আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর। সৃষ্টিকর্তার প্রতি ইমাম সাহেবের বিনয় মিশ্রিত প্রার্থনা ছিল খুবই আবেগপূর্ণ। তার এই আবেগ ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. ‘প্রভু তুমি অন্তর্যামী আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইমাম সাহেবের এই মোনাজাত ‘প্রার্থনা’ কবিতায়ও সত্য হয়ে উঠেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিপদে-আপদে, সুখে, শান্তিতে সব সময় বিধাতার কাছে শক্তি কামনা করেছেন। সৃষ্টিকর্তার দয়া ছাড়া মানুষ এক পাও চলতে পারে না। সর্বাবস্থায় তাই সৃষ্টিকর্তাই একমাত্র ভরসা। তাই কবি রিক্তহস্তে ভক্তি ভরে তার প্রার্থনা জানায়- হে প্রভু আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও।
➠ উদ্দীপকে ইমাম সাহেব সকলের জন্য দোয়া করেছেন। বিনীতভাবে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে জানা- অজানা অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।
➠ উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের প্রার্থনা যেমন খুবই আবেগপূর্ণ যুক্তিযুক্ত। তিনি ইমাম হিসেবে সবার ক্ষমা কামনা করেছেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতায়ও বিনয়ের সাথে একইরূপ প্রার্থনা জানিয়েছেন। কারণ আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ছাড়া কেউ চলতে পারে না।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পাহাড় সমুদ্র রাত্রি
সবই গড়েছেন তিনি।
সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে
স্মরণে রাখি আমরা তারে।

ক. কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম কী?
খ. ‘ভুলিনি তোমারে এক পল’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থের মিল আছে কি?- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “স্মরণে রাখি আমরা তারে”- কথাটির সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদের একাগ্র হৃদয়ে স্মরিলে তোমারে নিভে শোকানল”—কথাটি কীভাবে সম্পর্কিত বিশ্লেষণ কর।

ক. কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম আগলা পূর্বপাড়া।
খ. ‘ভুলি নি তোমারে এক পল’- বলতে বিধাতাকে এক মুহূর্তের জন্য না ভোলার কথা বলা হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বলেছেন, চরম দারিদ্র্যে ও বিপদে যখন ছিলাম তখনো তোমাকে ভুলিনি আবার সম্পদে সুখের সাগরে যখন ভেসেছি তখনো তোমাকে এক মুহূর্তের জন্য ভুলিনি।

গ. স্রষ্টার মহিমা ও গুণগান প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থের মিল রয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি মূলত স্রষ্টার অপার মহিমা তুলে ধরে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে আবেদন- নিবেদন করেছেন। পৃথিবীর ফুল-ফল, তরুলতা সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন জাতের পাখি তাঁরই গুণগান করে। তাঁরই মহিমা গায়। স্রষ্টার অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। তিনিই পাহাড়, সমুদ্র, রাত্রি সবই গড়েছেন। অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টি সর্বব্যাপী। সবই তাঁর সৃষ্টি। মানুষের পক্ষে ¯্রষ্টার সৃষ্টি জগতের বাহিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সৃষ্টিকর্তা সুমহান। সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে আমরা তাঁকে স্মরণে রাখি। ‘প্রার্থনা’ কবিতা ও উদ্দীপক উভয়স্থানে স্রষ্টার মহিমা ও গুণগান প্রকাশিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকের সাথে কবিতার ভাবনার মিল রয়েছে।

ঘ. মনের প্রশান্তি লাভের দিক দিয়ে উদ্দীপকের চরণটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার চরণের সাথে সম্পর্কিত।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতার শেষাংশে বলা হয়েছে মানুষ যদি একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করে তবে তার মনের শোকানল নিভে যায়। কারণ যিনি স্রষ্টার করুণা লাভে ধন্য হন তার মনে কোন দুঃখ-বেদনা থাকে না। মনেপ্রাণে স্রষ্টাকে ডাকলে মন প্রশান্ত হয়। মনের দারিদ্র্য দূর হয়। মনে কোনো অভাববোধ থাকে না। মনের বা আত্মার অভাব দূর হলেই সে সুখী হয়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, স্মরণে রাখি আমরা তারে। যারা সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণে রাখে তারাইতো পরিপূর্ণ মানুষ। কারণ যার মনে স্রষ্টা সবসময় স্থান পায় সে পাপ পঙ্কিলতা থেকে আপনা আপনি দূরে থাকে। তার মন পবিত্র হয়ে ওঠে স্রষ্টাকে স্মরণের মধ্যদিয়ে। স্রষ্টার স্মরণ যে মনে জাগরূক থাকে সে দুঃখ বেদনার ঊর্ধ্বে উঠে যায়। স্রষ্টাই তার দুঃখ বেদনা লাঘব করে দেন।
➠ উদ্দীপক ও প্রার্থনা কবিতার এই অংশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। উভয় স্থানে স্রষ্টাকে স্মরণের মধ্য দিয়ে মনে প্রশান্তি লাভের অভিপ্রায় রয়েছে। তাই উভয়ে সম্পর্কিত।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রুনু তার বাবার সাথে পাহাড় দেখতে গেল। কী অপূর্ব সুন্দর! সবুজ গাছ পালায় ভরা পাহাড়। হরেকরকমের পাখি আর বুনো ফুলের মিষ্টি সুবাস। একটা ঝরনার কাছে গেল তারা। এত সুন্দর জলের ধারা মানুষ কি বানাতে পারে? রুনু মনে মনে ভাবল। নাহ্ এত অপার-অপূর্ব সৌন্দর্য মানুষের সৃষ্টি নয়। এই অসীম সৌন্দর্যের স্রষ্টা একজনই।

ক. ‘নিকুঞ্জ’ অর্থ কী?
খ. ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’- কথাটি ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের রুনুর ভাবনা ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে-ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।”—যুক্তি সহকারে আলোচনা কর।

ক. ‘নিকুঞ্জ’ অর্থ বাগান।
খ. ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’—চরণটি দ্বারা স্রষ্টার গুণগানের কথা বলা হয়েছে।
➠ কবি বলেছেন- বাগানের বিভিন্ন জাতের পাখিরাও স্রষ্টার গুণগানে ব্যস্ত থাকে। পাখিরা তাঁর গুণগানে আত্মহারা। স্রষ্টার গুণগান আর কলকাকলিতেই তারা প্রকৃতিকে মুখরিত করে তোলে।

গ. প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের রুনুর ভাবনা ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকে বলা হয়েছে, গাছে গাছে নানা জাতের পাখি, বাগানের ফুল সবই সৃষ্টিকর্তার গুণগান করে। সুন্দর ফুল ফল সবই স্রষ্টার দান। কারণ এই ফুল ফল অন্য কেউ সৃষ্টি করেনি। পাখিরা তাই সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রকাশে আত্মহারা হয়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকের রুনু পাহাড়ের দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়। সবুজ গাছপালায় ভরা পাহাড়। যেখানে হরেকরকমের পাখি আর বুনো ফুলের মিষ্টি সুবাস। আরো অবাক হয় একটি ঝরনা দেখে। তার মনে প্রশ্ন জাগে এত সুন্দর ঝরনা কি মানুষ বানাতে পারে? সে বুঝতে পারল এটি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় তৃতীয় স্তবক ও উদ্দীপক বিবেচনা করলে আমরা লক্ষ করি এখানে প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সমগ্রভাব প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে।”—কথাটি যুক্তিযুক্ত।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার মহিমা তুলে ধরেছেন আর স্রষ্টার নিকট হৃদয়ে শক্তি সাহস প্রদানের প্রার্থনা জানিয়েছেন। ভক্তি ও প্রশংসা প্রকাশে নিমগ্ন কবি চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদে-আপদে সুখে-শান্তিতে বিধাতার কাছে শক্তি ও সাহায্য কামনা করেন। গাছের পাখি কিংবা বনের ফুল সকলেই স্রষ্টাকে স্মরণ করে। স্রষ্টাই একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকে পাহাড় ও ঝরনার রূপে মুগ্ধ রুনুর মনে প্রশ্ন জেগেছে কে এসব সৃষ্টি করেছে। সে নিশ্চিতই জানে কোনো মানুষের পক্ষে এসব সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। সে স্বীকার করে নিয়েছে পাহাড় ও ঝরনার অসীম সৌন্দর্যের স্রষ্টা একজনই।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার মহিমা প্রকাশিত হলেও কবিতায় যেরূপ শক্তি ও সাহায্য কামনা করা হয়েছে উদ্দীপকে তা নেই। বিধাতাকে স্মরণ ও তাঁকে আরাধনা করার বিষয়টিও উদ্দীপকে অনুপ্রাণিত। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সমগ্রভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘সবাই ছেড়েছে, নাই যার কেহ, তুমি আছ তার কাছে তব স্নেহ- নিরাশ্রয় জন, পথ যার গেহ, সেও আছে তব ভবনে।’

ক. কায়কোবাদের প্রকৃত নাম কী?
খ. ‘তুমি মোর পথের সম্বল’- কেন কথাটি বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রার্থনা’ কবিতার কোন দিকটি উঠে এসেছে?
ঘ. ‘নিরাশ্রয়ের আশ্রয় স্রষ্টা’- উদ্দীপক ও ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. কায়কোবাদের প্রকৃত নাম- মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী।
খ. স্রষ্টাকে কবি তাঁর পথের সম্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
➠ পথের সম্বল বলতে বোঝায় পথ চলার অবলম্বন। স্রষ্টাকে কবি তাঁর জীবনের পথ চলার বড় সহায় বা অবলম্বন মনে করেন। কারণ স্রষ্টা সর্বশক্তিমান। তাঁর করুণায় জগৎ গতিশীল। ফলে তাঁর সহায়তা ছাড়া কেউ সফল হতে পারে না। জীবনে বন্ধুর পথ সফলভাবে পাড়ি দিতে হলে স্রষ্টাকে স্মরণ করতে হয়। এ বিশ্বাস থেকেই কবি স্রষ্টাকে তাঁর পথের সম্বল বলে অভহিত করেছেন।

গ. ‘প্রার্থনা’ কবিতা অনুসারে সৃষ্টিকর্তার করুণা কামনা করার কারণটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বর্ণিত সর্বাবস্থায় সৃষ্টিকর্তার কাছে আশ্রয় চাওয়ার প্রসঙ্গটি বিশ্লেষণ করো।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আলম সাহেব ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে লঞ্চে করে গ্রামের বাড়ি রওনা দিলেন। লঞ্চটি যখন মেঘনা নদীর মাঝামাঝি ঠিক সেই সময়, কালবৈশাখীর তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। পরিবারের সবাই আলম সাহেবকে জড়িয়ে ধরে আর্তনাদ শুরু করে। তখন আলম সাহেব বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রাখো, তিনিই আমাদের রক্ষা করবেন।’ স্রষ্টার অশেষ কৃপায় আলম সাহেব নিরাপদে বাড়ি ফিরলেন।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
খ. ‘তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ।’ বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের আলম সাহেবের মধ্যে ‘প্রার্থনা’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি যেন ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত ফল।- উক্তিটি কবিতার আলোকে মূল্যায়ন করো।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ‘অশ্রুমালা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
খ. গাছপালা তরুলতা সকল কিছুতেই স্রষ্টার অনুগ্রহ বিরাজমান-আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা একথাটিই বোঝানো হয়েছে।
➠ স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই আত্মপ্রকাশ করেন। জগতের অনন্ত সুন্দর সৃষ্টির দিকে তাকালে স্রষ্টাকে অস্বীকার করার উপায় থাকে না। গাছ-পালা, তরুলতা সব কিছুতেই স্রষ্টার অনুগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে। কেননা, স্রষ্টার অনুগ্রহ ও অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারে প্রতিটি জীব প্রাণ ধারণ করে আছে। এই বিষয়টি বোঝাতেই আলোচ্য উক্তিটি ব্যবহৃত হয়েছে।

গ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার ওপর কবির অগাধ বিশ্বাস ও আনুগত্যের যেদিক উপস্থাপিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘প্রার্থনা’ কবিতা অবলম্বনে স্রষ্টার মহানুভবতার পরিচয় দাও।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।’

ক. কায়কোবাদের জন্ম কত সালে?
খ. ‘দেহ হৃদে বল’- কবি কথাটি কেন বলেছেন?
গ. উদ্দীপক ও ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্যসূত্র চিহ্নিত করো।
ঘ. ‘সৃষ্টিকর্তাই আমাদের একমাত্র আশ্রয়’- উদ্দীপক ও ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে তোমার মতামত দাও।


‘প্রার্থনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সারাদিন অসহ্য গরমের পর রাতে হঠাৎ দখিনা বাতাস বইতে শুরু করলে অঙ্গ জুড়িয়ে যায় আয়েশার। কৃতজ্ঞতায় সে আল্লাহর কাছে হাত তুলে বলে- ‘হে আল্লাহ, তুমি পরম করুণাময়। এই বাতাস যেন তোমারই শান্তির নিশ্বাস।’

ক. কবি কায়কোবাদ রচিত ‘মহাশ্মশান’ কী ধরনের গ্রন্থ?
খ. ‘তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের আয়েশার প্রার্থনায় ‘প্রার্থনা’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞচিত্ত হওয়ার গুরুত্ব উদ্দীপক ও ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।


তথ্যসূত্র:
১. সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url