প্রার্থনা- কায়কোবাদ

প্রার্থনা : কায়কোবাদ
 প্রার্থনা : কায়কোবাদ 

প্রার্থনা
কায়কোবাদ

বিভো, দেহ হৃদে বল!
না জানি ভকতি, নাহি জানি স্তুতি,
কী দিয়া করিব, তোমার আরতি
    আমি নিঃসম্বল!
তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে
দাঁড়ায়েছি প্রভো, সঁপিতে তোমারে
    শুধু আঁখি জল,
    দেহ হৃদে বল!

বিভো, দেহ হৃদে বল!
দারিদ্র্য পেষণে, বিপদের ক্রোড়ে,
অথবা সম্পদে, সুখের সাগরে
ভুলিনি তোমারে এক পল,
জীবনে মরণে, শয়নে স্বপনে
    তুমি মোর পথের সম্বল,
    দেহ হৃদে বল!

বিভো, দেহ হৃদে বল!
কত জাতি পাখি, নিকুঞ্জ বিতানে
সদা আত্মহারা তব গুণগানে,
    আনন্দে বিহ্বল!
ভুলিতে তোমারে, প্রাণে অবসাদ,
তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ
    চারু ফুল ফল!
    দেহ হৃদে বল!

বিভো, দেহ হৃদে বল!
তোমারি নিঃশ্বাস বসন্তের বায়ু,
তব স্নেহ কণা জগতের আয়ু,
তব নামে অশেষ মঙ্গল!
গভীর বিষাদে, বিপদের ক্রোড়ে,
একগ্র হৃদয়ে স্মরিলে তোমারে
    নিতে শোকানল!
    দেহ হৃদে বল!
                (সংক্ষেপিত)

চিত্রকর: তাজরীয়া বিনতে নেজাম অ্যাঞ্জেল; ৯ম শ্রেণি
চিত্রকর: তাজরীয়া বিনতে নেজাম অ্যাঞ্জেল; ৯ম শ্রেণি
উৎস নির্দেশ:
‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কবির ‘অশ্রুমালা’(১৮৯৬) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

শব্দার্থ ও টীকা:
➠ প্রার্থনা- মুনাজাত, আবেদন।
➠ বিভো- বিভু, স্রষ্টা। এখানে ‘বিভো’ বলে কবি স্রষ্টাকে সম্বোধন করেছেন।
➠ দেহ- দাও।
➠ হৃদে- হৃদয়ে, মনে।
➠ বল- শক্তি, জোর।
➠ স্তুতি- ভক্তি; প্রশংসা।
➠ আরতি- প্রার্থনা।
➠ রিক্ত করে- শূন্য হাতে।
➠ প্রভো- প্রভু।
➠ সঁপিতে- আত্মদান করতে; সমর্পন করতে।
➠ নিঃসম্বল- সম্বলহীন; নিঃস্ব; দরিদ্র।
➠ পেষণে- অত্যাচারে।
➠ ক্রোড়- কোল।
➠ পল- মুহূর্তকাল, নিমেষ।
➠ শয়নে- ঘুমে।
➠ স্বপনে- স্বপ্নে।
➠ সম্বল- অবলম্বন।
➠ নিকুঞ্জ- বাগান।
➠ বিতান- সমষ্টি।
➠ সদা- সবসময়।
➠ তব- তোমার।
➠ বিহ্বল- আত্মহারা; অভিভূত।
➠ অবসাদ- ক্লান্তিজনিত বিষণ্ন ভাব।
➠ তরুলতা- লতাকুঞ্জ।
➠ প্রসাদ- অনুগ্রহ; এখানে সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট ফুল-ফলকে বোঝাচ্ছে।
➠ চারু- সুন্দর।
জগতের আয়ু- পৃথিবীর স্থায়িত্ব যে প্রভুর দয়ার ওপর নির্ভরশীল বোঝানো হয়েছে। সৃষ্টার দয়া ও স্নেহের ওপর নির্ভর করছে জগতের টিকে থাকা না থাকা।
➠ অশেষ- যার শেষ নেই, অন্তহীন।
➠ বিষাদ- বিষণ্নতা, দুঃখবোধ।
বিপদের ক্রোড়ে- বিপদের সময়ে।
➠ একাগ্র- একনিষ্ঠ।
➠ স্মরিলে- স্মরণ করলে, মনে করলে।
➠ শোকানল- শোক রূপ অনল; যে শোক হৃদয়কে দগ্ধ করে।

পাঠের উদ্দেশ্য:
‘প্রার্থনা’ কবিতাটি পাঠ করে শিক্ষার্থীরা স্রষ্টার মহিমা সম্পর্কে জানবে এবং সমগ্র সৃষ্টি যে স্রষ্টার প্রতি নিবেদিত তা উপলব্ধি করবে। তারা স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং সৎ ও সুন্দর জীবন গঠনে তৎপর হবে।

পাঠ-পরিচিতি:
কবি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদে, আপদে, সুখে, শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেন। গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল সবই বিধাতাকে স্মরণ করে। তাঁর অফুরন্ত দয়ায় জগতের সব কিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণধারণ করে আছে। তাঁর দয়া ছাড়া আমরা এক মুহূর্তও চলতে পারি না। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। আমরা রিক্ত হস্তে পরম ভক্তি ভরে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানাই: হে প্রভু, আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও। আমরা যেন তোমার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে পারি।

কবি পরিচিতি:
কায়কোবাদ ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম মুহম্মদ কাজেম আল কুরায়শী। প্রবেশিকা পর্যন্ত লেখাপড়া করে তিনি ডাকবিভাগে চাকরি নেন। অনেক দিন ধরে তিনি নিজগ্রাম আগলাতে পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। ছেলেবেলা থেকেই কবিতা লেখায় তাঁর হাতেখড়ি হয়। তারপর আপন স্বভাবে তিনি ক্রমাগত লিখে গেছেন। তাঁর রচিত মহাশ্মশান বিখ্যাত মহাকাব্য। তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অশ্রুমালা, শিবমন্দির, অমিয়ধারা, মহররম শরীফ ইত্যাদি।
১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে কবি কায়কোবাদ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


চিত্রকর: তাহিয়াত বিনতে হাসান সুবাহ; ৭ম শ্রেণি
চিত্রকর: তাহিয়াত বিনতে হাসান সুবাহ; ৭ম শ্রেণি
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
প্রশ্ন- ১: কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যের নাম কী?
উত্তর : কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্যের নাম ‘মহাশ্মশান’।
প্রশ্ন- ২: ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে সংকলিত?
উত্তর : ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ‘অশ্রুমালা’ কাব্য থেকে সংকলিত।
প্রশ্ন- ৩: প্রভুর গুণগানে আত্মহারা কে?
উত্তর : কবি প্রভুর গুণগানে আত্মহারা।
প্রশ্ন- ৪: ‘হৃদে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘হৃদে’ শব্দের অর্থ হৃদয়ে বা মনে।
প্রশ্ন- ৫: কবি সুখের সাগরে কাকে ভুলে যান না?
উত্তর : কবি সুখের সাগরে সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যান না।
প্রশ্ন- ৬: ‘বিভো’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘বিভো’ শব্দের অর্থ প্রভু।
প্রশ্ন- ৭: কবি কী করতে জানেন না?
উত্তর : কবি ভক্তি ও স্তুতি করতে জানেন না।
প্রশ্ন- ৮: ‘প্রার্থনা’ কবিতায় নিঃসম্বল কে?
উত্তর : প্রার্থনা কবিতায় নিঃসম্বল কবি নিজেই।
প্রশ্ন- ৯: কবি রিক্ত হাতে কার দুয়ারে দাঁড়িয়েছেন?
উত্তর : কবি রিক্ত হাতে প্রভুর দুয়ারে দাঁড়িয়েছেন।
প্রশ্ন- ১০: কবি প্রভুকে কী দিতে বলেছেন?
উত্তর : কবি প্রভুকে মনে বল দিতে বলেছেন।
প্রশ্ন- ১১: কবি কখন প্রভুকে ভোলেননি?
উত্তর : কবি সুখের সময় ও দুঃখের দিনে প্রভুকে ভোলেননি।
প্রশ্ন- ১২: কবির পথের সম্বল কে?
উত্তর : কবির পথের সম্বল তার প্রভু।
প্রশ্ন- ১৩: পশুপাখি কার গুণগানে আত্মহারা?
উত্তর : পশুপাখি প্রভুর গুণগানে আত্মহারা।
প্রশ্ন- ১৪: তরুলতার শিরে প্রভুর কী আছে?
উত্তর : তরুলতার শিরে প্রভুর প্রসাদ, ফুল-ফল আছে।
প্রশ্ন- ১৫: কবিতায় প্রভুর নিঃশ্বাস কী?
উত্তর : প্রভুর নিঃশ্বাস হচ্ছে বসন্তের বায়ু।
প্রশ্ন- ১৬: কবির মতে জগতের আয়ু কী?
উত্তর : কবির মতে জগতের আয়ু হলো প্রভুর স্নেহকণা।
প্রশ্ন- ১৭।: কার নামে অশেষ মঙ্গল নিহিত?
উত্তর : প্রভুর নামে অশেষ মঙ্গল নিহিত।
প্রশ্ন- ১৮: কখন প্রভুকে স্মরণ করলে হৃদয়ের শোকানল নেভে?
উত্তর : গভীর বিষাদে আর বিপদের মধ্যে প্রভুকে স্মরণ করলে হৃদয়ের শোকানল নেভে।
প্রশ্ন- ১৯: ‘পল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘পল’ শব্দের অর্থ মুহূর্তকাল।
প্রশ্ন- ২০: কী দিয়ে কবি নিজেকে প্রভুর হাতে সঁপে দিতে চান?
উত্তর : শুধু চোখের জল দিয়ে কবি নিজেকে প্রভুর হাতে সঁপে দিতে চান।

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১। ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’— বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’ বলতে কবি নিজেকে প্রভুর প্রশংসা করার অযোগ্য ও শূন্য বিবেচনা করেছেন। তাঁর মতে স্রষ্টার প্রশংসা করার মতো তাঁর কোনো সম্পদ নেই।
➠ কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও শুধু চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদ-আপদে, সুখ-শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেন। কবি জানেন, স্রষ্টার অসীম করুণায় বিশ্বের প্রতিটি প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে। কবি তাই চোখের জলে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন। কারণ এ ছাড়া তাঁর কাছে স্রষ্টার জন্য আর কিছুই নেই।

২। ‘সদা আত্মহারা তব গুণ গানে’— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীব্যাপী অরণ্যে রয়েছে সহস্র প্রজাপতির পাখি। সব পাখিই সর্বদা বিচিত্র কণ্ঠে প্রভুর স্তুতি করে যাচ্ছে। তারা এই স্তুতি করছে আনন্দে আত্মহারা হয়ে।
➠ সব পশু-পাখি সর্বদাই সর্বাবস্থায় প্রভুর গুণগানে ব্যস্ত থাকে। সব কাজেই তারা খুশি মনে স্মরণ করে মহান প্রভুকে। প্রভুর অসীম দয়া নিয়ে তারা পৃথিবীতে বেঁচে থেকে শুধু প্রভুর গুণগানই করে।

৩। কবির শোকানল কিভাবে নিভে যায়? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: একান্ত হৃদয়ে প্রভুকে স্মরণের মধ্য দিয়ে কবির শোকানল নিভে যায়।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করেছেন। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেছেন। কারণ কবি জানেন, বিধাতার অফুরন্ত দয়ায়ই জগতের সব কিছু চলছে। সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। কবি তাঁর সৃষ্টিকর্তাকে একমাত্র আশ্রয়স্থল মনে করেন। এ কারণেই তাঁকে স্মরণের মধ্য দিয়ে কবির শোকানল নিভে যায়।

৪। ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি স্রষ্টার কাছে কেন বল প্রার্থনা করেছেন?
উত্তর: ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি নিজেকে স্রষ্টার কাছে সমর্পণ করার জন্য বল প্রার্থনা করেছেন।
➠ সৃষ্টিকর্তাই আমাদের একমাত্র আশ্রয় স্থল। তাঁর দয়ার সমগ্র বিশ্বসংসার চালিত হচ্ছে। কবি তাই স্রষ্টাকে স্তুতি করতে চান। কিন্তু তিনি নিঃসম্বল। তাঁর ভক্তি করার নিয়ম বা উপায় জানা নেই। তাই তিনি স্রষ্টার কাছে হৃদয়ে বল বা শক্তি কামনা করেছেন, যাতে স্রষ্টার কাছে নিজেকে নিবেদন করতে পারেন।

৫। ‘জীবনে মরণে, শয়নে স্বপনে
তোমার মোর পথের সম্বল’— পঙক্তি দুটি বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: কবি প্রভুকে সব সময়ের অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলেই আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
➠ কবি এই পৃথিবীতে এসেছেন প্রভুর অনুগ্রহে। আবার যাবেনও প্রভুর ইচ্ছায়। কবির জীবনের সব কিছুই প্রভুর অনুগ্রহে হচ্ছে। তাই কবি প্রভুকেই পথে একমাত্র সম্বল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই জীবনে-মরণে, শয়নে-স্বপনে কবি শুধু স্রষ্টার কাছেই নিজেকে সমপর্ণ করেন।

৬। ‘ভুলিতে তোমারে, প্রাণে অবসাদ’— কথাটি বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি প্রভুকে কখনই ভুলতে পারবেন না। কারণ প্রভুকে ভোলার কথা হলেই কবির প্রাণে দারুণ অবসাদের সৃষ্টি হয়।
➠ কবির প্রভুকে ভুলতে না পারার একমাত্র কারণ হলো কবির জীবনের প্রতিটি ক্ষণ অতিবাহিত হয় প্রভুর অসীম অনুগ্রহে। কবির ইচ্ছা-আকাক্ষা সব কিছুই পূর্ণ হয় প্রভুর করুণায়। তাই প্রভুকে ভুলে গেলে কবি যেন সম্বলহীন হয়ে পড়বেন। এ কারণেই কবি প্রভুকে ভুলতে পারেন না।

৭। ‘কত জাতি পাখি, নিকুঞ্জ বিতানে
‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য চরণের মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে পৃথিবীব্যাপী অরণ্যে রয়েছে সহস্র প্রজাতির পাখি।
➠ সব পাখিই সর্বদা আনন্দে আত্মহারা হয়ে বিচিত্র কণ্ঠে প্রভুর স্তুতি করছে। সব পশু-পাখি সর্বদাই সর্বাবস্থায় প্রভুর গুণগানে ব্যস্ত। সব সময় তারা খুশি মনে স্মরণ করে মহান প্রভুকে। প্রভুর অসীম দয়া দিয়ে তারা পৃথিবীতে বেঁচে থাকে বলেই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে পাখি আনন্দে আত্মহারা হয়।

৮। ‘তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ
চারু ফুল ফল।’— পঙক্তি দুটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: তরুলতার শাখায় শাখায় সুশোভিত হয় কত ফুল আর ফল। এগুলো স্রষ্টারই অনুগ্রহ।
➠ তাই কবি বলেছেন, ‘তরুলতা শিরে, তোমারি প্রসাদ চারু ফুল ফল।’ গাছে গাছে যে ফুল-ফল সৃষ্টি হয়, তা একমাত্র প্রভুর আদেশেই সৃষ্টি হয়। প্রভুর অনুগ্রহেই তা হয়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন। এমনকি গাছও সৃষ্টি হয়েছে প্রভুর অসীম দয়ায়। তাই কবি এ কথা বলেছেন।


সৃজনশীল প্রশ্ন- ১

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নম্রশিরে সুখের দিনে
তোমারি মুখ লইব চিনে,
দুখের রাতে নিখিল ধরা
যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।

ক. স্তুতি কথার অর্থ কী?
খ. ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার একটি বিশেষ দিককে নির্দেশ করলেও সমগ্রভাব প্রকাশে সক্ষম নয়- যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

ক. স্তুতি কথার অর্থ প্রশংসা।
খ. ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’ বলতে কবি শূন্য হাতে স্রষ্ঠার কাছে আত্মসমর্পণ করাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
➠ স্রষ্টাকে যেকোনো উপায়ে ডাকা যায়। প্রভুকে শ্রদ্ধা ও প্রশংসা করার মতো কোনো সহায় সম্বল কবির নেই। তবু সৃষ্টিকর্তার দুয়ারে শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে নিজেকে সঁপেছেন খোদার মহিমায়, আত্মসমর্পণ করেছেন চোখের জলে।

গ. বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সবসময় বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করার দিকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বর্ণিত হয়েছে যা উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ সৃষ্টিকর্তার পরম গুণ হলো তিনি দয়াময়। সেই দয়াময়তার কারণে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করলে আমাদের মনোবাসনা পূর্ণ হয়।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করা হয়ছে। আনন্দের মুহূর্ত ও প্রাচুর্যের দিনে স্রষ্টাকে ভুলে না যাওয়ার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। সেইসাথে দুঃখে-বিপদে, অভাবে-প্রয়োজনে স্রষ্টাকে স্মরণ করার কথাও বলা হয়েছে, একইভাবে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সবসময় বিধাতার কাছ থেকে শক্তি কামনা করা হয়েছে। কেননা সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। এভাবে আমরা ভাবগত দিক দিয়ে উদ্দীপক ও ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাদৃশ্য খুঁজে পাই।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার যেকোনো অবস্থায় স্রষ্টাকে স্মরণ করার বিশেষ দিককে নির্দেশ করেছে মাত্র, সমগ্রভাব নয়।
➠ স্রষ্টার দেখানো পথই মানবের কল্যাণ বয়ে আনে। জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে স্রষ্টার আরাধনা হয়, সত্যের সন্ধান পাওযা যায়।
➠ উদ্দীপকে পূর্ণ ভক্তিতে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের দিনে খোদাকে স্মরণ করার কথা উঠে এসেছে। অনুরূপভাবে বিপদে-আপদে, জীবনে কঠিন পরিস্থিতি নেমে আসলেও খোদার প্রতি আস্থা রাখার কথা ব্যক্ত হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়েছেন। কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও কেবল চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। স্রষ্টার অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্তনা করে। শূন্য হাতে পরম ভক্তিভরে স্রষ্ঠার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে, তাঁর আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করার জন্য স্রষ্টা যাতে আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দান করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করতে পারেনি।

সৃজনশীল প্রশ্ন- ২

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রহিম মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে দেখল, ইমাম সাহেব মুনাজাত করছেন। তিনি মোনাজাতে আল্লাহ্র কাছে বিনয়ের সাথে সবার জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন। সবার জানা- অজানা অপরাধের জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন এবং বলছেন- প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।

(ক) ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(খ) ‘বিভো, দেহ হৃদে বল’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের মুনাজাতের সাথে প্রার্থনা কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) ‘প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।’- কথাটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ‘অশ্রুমালা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
খ. ‘বিভো, দেহ হৃদে বল’ বলতে স্রষ্টার কাছে দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ সৃষ্টিকর্তার সাহায্য ও দয়া ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। তাই কবি স্রষ্টার কাছেই দেহে ও হৃদয়ে শক্তি কামনা করেছেন। কারণ আমরা যেন স্রষ্টার আরাধনায় নিজেকে নিবেদন করতে পারি।

গ. ‘প্রার্থনা’ কবিতায় নত হয়ে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানানোর দিক দিয়ে কবিতার সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার প্রতি আরাধনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। কবি স্বীকার করেছেন স্রষ্টার প্রতি তাঁর সেই রকম ভক্তি নেই। তিনি জানেন না কীভাবে সষ্টার প্রশংসা করতে হবে। তাই কবি নিঃস্ব রিক্ত হয়ে শুধু চোখের জল নিয়ে স্রষ্টার সামনে দাঁড়িয়েছেন। স্রষ্টা যেন মনে ও দেহে বল দেন। জীবনে-মরণে, শয়নে-স্বপনে বিধাতাই একমাত্র পথের সম্বল।
➠ উদ্দীপকে ইমাম সাহেব মুনাজাতে আল্লাহর কাছে বিনয়ের সাথে সবার জন্য ক্ষমা চান। উপস্থিত সকল মানুষের জানা- অজানা অপরাধের ক্ষমা চান। তিনি বলেন, প্রভু তুমি অন্তর্যামী। আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর। সৃষ্টিকর্তার প্রতি ইমাম সাহেবের বিনয় মিশ্রিত প্রার্থনা ছিল খুবই আবেগপূর্ণ। তার এই আবেগ ‘প্রার্থনা’ কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. ‘প্রভু তুমি অন্তর্যামী আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইমাম সাহেবের এই মোনাজাত ‘প্রার্থনা’ কবিতায়ও সত্য হয়ে উঠেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিপদে-আপদে, সুখে, শান্তিতে সব সময় বিধাতার কাছে শক্তি কামনা করেছেন। সৃষ্টিকর্তার দয়া ছাড়া মানুষ এক পাও চলতে পারে না। সর্বাবস্থায় তাই সৃষ্টিকর্তাই একমাত্র ভরসা। তাই কবি রিক্তহস্তে ভক্তি ভরে তার প্রার্থনা জানায়- হে প্রভু আমাদের দেহে ও হৃদয়ে শক্তি দাও।
➠ উদ্দীপকে ইমাম সাহেব সকলের জন্য দোয়া করেছেন। বিনীতভাবে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে জানা- অজানা অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, প্রভু তুমি অন্তর্যামী, আমাদের অন্তরের কালিমা দূর কর।
➠ উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের প্রার্থনা যেমন খুবই আবেগপূর্ণ যুক্তিযুক্ত। তিনি ইমাম হিসেবে সবার ক্ষমা কামনা করেছেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতায়ও বিনয়ের সাথে একইরূপ প্রার্থনা জানিয়েছেন। কারণ আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ ছাড়া কেউ চলতে পারে না।

সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পাহাড় সমুদ্র রাত্রি
সবই গড়েছেন তিনি।
সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে
স্মরণে রাখি আমরা তারে।
(ক) কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম কী?
(খ) ‘ভুলিনি তোমারে এক পল’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থের মিল আছে কি?- ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) “স্মরণে রাখি আমরা তারে”- কথাটির সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদের একাগ্র হৃদয়ে স্মরিলে তোমারে নিভে শোকানল”- কথাটি কীভাবে সম্পর্কিত বিশ্লেষণ করো।
ক. কবি কায়কোবাদের গ্রামের নাম আগলা পূর্বপাড়া।
খ. ‘ভুলি নি তোমারে এক পল’- বলতে বিধাতাকে এক মুহূর্তের জন্য না ভোলার কথা বলা হয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বলেছেন, চরম দারিদ্র্যে ও বিপদে যখন ছিলাম তখনো তোমাকে ভুলিনি আবার সম্পদে সুখের সাগরে যখন ভেসেছি তখনো তোমাকে এক মুহূর্তের জন্য ভুলিনি।
গ. স্রষ্টার মহিমা ও গুণগান প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘প্রার্থনা’ কবিতার ভাবার্থের মিল রয়েছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি মূলত স্রষ্টার অপার মহিমা তুলে ধরে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে আবেদন- নিবেদন করেছেন। পৃথিবীর ফুল-ফল, তরুলতা সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন জাতের পাখি তাঁরই গুণগান করে। তাঁরই মহিমা গায়। স্রষ্টার অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। তিনিই পাহাড়, সমুদ্র, রাত্রি সবই গড়েছেন। অর্থাৎ তাঁর সৃষ্টি সর্বব্যাপী। সবই তাঁর সৃষ্টি। মানুষের পক্ষে স্রষ্টার সৃষ্টি জগতের বাহিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সৃষ্টিকর্তা সুমহান। সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে আমরা তাঁকে স্মরণে রাখি। ‘প্রার্থনা’ কবিতা ও উদ্দীপক উভয়স্থানে স্রষ্টার মহিমা ও গুণগান প্রকাশিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকের সাথে কবিতার ভাবনার মিল রয়েছে।

ঘ. মনের প্রশান্তি লাভের দিক দিয়ে উদ্দীপকের চরণটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার চরণের সাথে সম্পর্কিত।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতার শেষাংশে বলা হয়েছে মানুষ যদি একাগ্র হৃদয়ে স্রষ্টাকে স্মরণ করে তবে তার মনের শোকানল নিভে যায়। কারণ যিনি স্রষ্টার করুণা লাভে ধন্য হন তার মনে কোন দুঃখ-বেদনা থাকে না। মনেপ্রাণে স্রষ্টাকে ডাকলে মন প্রশান্ত হয়। মনের দারিদ্র্য দূর হয়। মনে কোনো অভাববোধ থাকে না। মনের বা আত্মার অভাব দূর হলেই সে সুখী হয়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, স্মরণে রাখি আমরা তারে। যারা সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণে রাখে তারাইতো পরিপূর্ণ মানুষ। কারণ যার মনে স্রষ্টা সবসময় স্থান পায় সে পাপ পঙ্কিলতা থেকে আপনা আপনি দূরে থাকে। তার মন পবিত্র হয়ে ওঠে স্রষ্টাকে স্মরণের মধ্যদিয়ে। স্রষ্টার স্মরণ যে মনে জাগরূক থাকে সে দুঃখ বেদনার ঊর্ধ্বে উঠে যায়। স্রষ্টাই তার দুঃখ বেদনা লাঘব করে দেন।
➠ উদ্দীপক ও প্রার্থনা কবিতার এই অংশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। উভয় স্থানে স্রষ্টাকে স্মরণের মধ্য দিয়ে মনে প্রশান্তি লাভের অভিপ্রায় রয়েছে। তাই উভয়ে সম্পর্কিত।

সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রুনু তার বাবার সাথে পাহাড় দেখতে গেল। কী অপূর্ব সুন্দর! সবুজ গাছ পালায় ভরা পাহাড়। হরেকরকমের পাখি আর বুনো ফুলের মিষ্টি সুবাস। একটা ঝরনার কাছে গেল তারা। এত সুন্দর জলের ধারা মানুষ কি বানাতে পারে? রুনু মনে মনে ভাবল। নাহ্ এত অপার-অপূর্ব সৌন্দর্য মানুষের সৃষ্টি নয়। এই অসীম সৌন্দর্যের স্রষ্টা একজনই।
(ক) ‘নিকুঞ্জ’ অর্থ কী?
(খ) ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’- কথাটি ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের রুনুর ভাবনা ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে-ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।” - যুক্তি সহকারে আলোচনা কর।
ক. ‘নিকুঞ্জ’ অর্থ বাগান।
খ. ‘সদা আত্মহারা তব গুণগানে’ -চরণটি দ্বারা স্রষ্টার গুণগানের কথা বলা হয়েছে।
➠ কবি বলেছেন- বাগানের বিভিন্ন জাতের পাখিরাও স্রষ্টার গুণগানে ব্যস্ত থাকে। পাখিরা তাঁর গুণগানে আত্মহারা। স্রষ্টার গুণগান আর কলকাকলিতেই তারা প্রকৃতিকে মুখরিত করে তোলে।

গ. প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য প্রকাশের দিক দিয়ে উদ্দীপকের রুনুর ভাবনা ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকে বলা হয়েছে, গাছে গাছে নানা জাতের পাখি, বাগানের ফুল সবই সৃষ্টিকর্তার গুণগান করে। সুন্দর ফুল ফল সবই স্রষ্টার দান। কারণ এই ফুল ফল অন্য কেউ সৃষ্টি করেনি। পাখিরা তাই সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রকাশে আত্মহারা হয়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকের রুনু পাহাড়ের দৃশ্য দেখে অভিভূত হয়। সবুজ গাছপালায় ভরা পাহাড়। যেখানে হরেকরকমের পাখি আর বুনো ফুলের মিষ্টি সুবাস। আরো অবাক হয় একটি ঝরনা দেখে। তার মনে প্রশ্ন জাগে এত সুন্দর ঝরনা কি মানুষ বানাতে পারে? সে বুঝতে পারল এটি সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় তৃতীয় স্তবক ও উদ্দীপক বিবেচনা করলে আমরা লক্ষ করি এখানে প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতার তৃতীয় স্তবকের ভাব ধারণ করেছে।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সমগ্রভাব প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছে।”- কথাটি যুক্তিযুক্ত।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার মহিমা তুলে ধরেছেন আর স্রষ্টার নিকট হৃদয়ে শক্তি সাহস প্রদানের প্রার্থনা জানিয়েছেন। ভক্তি ও প্রশংসা প্রকাশে নিমগ্ন কবি চোখের জলে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদে-আপদে সুখে-শান্তিতে বিধাতার কাছে শক্তি ও সাহায্য কামনা করেন। গাছের পাখি কিংবা বনের ফুল সকলেই স্রষ্টাকে স্মরণ করে। স্রষ্টাই একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকে পাহাড় ও ঝরনার রূপে মুগ্ধ রুনুর মনে প্রশ্ন জেগেছে কে এসব সৃষ্টি করেছে। সে নিশ্চিতই জানে কোনো মানুষের পক্ষে এসব সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। সে স্বীকার করে নিয়েছে পাহাড় ও ঝরনার অসীম সৌন্দর্যের স্রষ্টা একজনই।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার মহিমা প্রকাশিত হলেও কবিতায় যেরূপ শক্তি ও সাহায্য কামনা করা হয়েছে উদ্দীপকে তা নেই। বিধাতাকে স্মরণ ও তাঁকে আরাধনা করার বিষয়টিও উদ্দীপকে অনুপ্রাণিত। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সমগ্রভাব ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সামান্য কারণে হাফিজ তার চাকরি হারালেন। বেকার হয়ে তিনি পথে পথে ঘুরতে লাগলেন। মনে মনে তিনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন। তবুও তার চাকরির ব্যবস্থা হলো না। তিনি প্রভুর ওপর অসন্তুষ্ট হলেন। কয়েক দিন পরে হাফিজ শুনল তার আগের অফিসে দুর্ঘটনা ঘটেছে। যদি তিনি অফিসে থাকতেন তবে দুর্ঘটনায় তার মারাত্মক ক্ষতি হতো। তিনি বিপদে পড়তেন। যেটা চাকরি হারানোর থেকেও ভয়াবহ। হাফিজ মনে মনে প্রভুকে ধন্যবাদ দিলেন। তার মনের ক্ষোভ দূর হলো।

(ক) মহাশ্মশান কবি কায়কোবাদের কী ধরনের রচনা?
(খ) “তব নামে অশেষ মঙ্গল”- কথাটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
(গ) উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া, ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ- ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) “সুখ-দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন, - ঈশ্বর প্রেম মানুষকে মুক্তি দেয়”- উক্তিটি উদ্দীপক ও প্রার্থনা কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘মহাশ্মশান’ কবি কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য।
খ. ‘তব নামে অশেষ মঙ্গল’ -কথাটিতে স্রষ্টার নাম স্মরণের মাধ্যমে অশেষ কল্যাণ লাভের কথা বলা হয়েছে।
➠ স্রষ্টাকে স্মরণ করার মধ্যেই মানুষের সীমাহীন মঙ্গল নিহিত। স্রষ্টার নাম স্মরণের মধ্য দিয়েই মানুষ আত্মিক পবিত্রতা লাভ করে। তার দুঃখ কষ্ট দূর হয়। কারণ সে তার অভাব অভিযোগের কথা স্রষ্টার কাছেই নিবেদন করে।

গ. মানুষ সর্বাবস্থায় সৃষ্টিকর্তার দয়া ও অনুগ্রহের মধ্যেই বেঁচে থাকে। সেদিক দিয়ে উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি কায়কোবাদ মানবজীবনের গভীরতম সত্যকে তুলে ধরেছেন। মহান সৃষ্টিকর্তার অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে। তাঁর কাছেই সকলে সাহায্য প্রার্থনা করে। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শান্তি কামনা করেন। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকের হাফিজ চাকরি হারিয়ে প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেও কোনো চাকরির ব্যবস্থা হয়নি। প্রভুর প্রতি তিনি অসন্তুষ্ট হলেন। আগের অফিসে দুর্ঘটনা ঘটার পর বুঝতে পারলেন সেখানে থাকলে তার কী ভয়াবহ ক্ষতিই না হতো। হাফিজ মনে মনে প্রভুকে ধন্যবাদ দিলেন। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় সৃষ্টিকর্তার দয়া ও অনুগ্রহের দিকটি উদ্দীপকের হাফিজের ঘটনার মধ্যদিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকের হাফিজের ক্ষোভ দূর হওয়া ‘প্রার্থনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবি কায়কোবাদের অনুভবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “সুখ-দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন- ঈশ্বর প্রেম মানুষকে মুক্তি দেয়”- এ উক্তিটি যথার্থ।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি বিপদে, আপদে, সুখে শান্তিতে সব সময় তিনি বিধাতার কাছ থেকে শান্তি কামনা করেন। গাছে গাছে পাখি, বনে বনে ফুল সবই বিধাতাকে স্মরণ করে। তাঁর অফুরন্ত দয়ায় জগতের সবকিছু চলছে। তাঁর কাছে সকলেই সাহায্য প্রার্থনা করে। তাঁর অপার করুণা লাভ করেই বিশ্ব সংসারের প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে। সুখে-দুখে, শয়নে-স্বপনে তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা।
➠ উদ্দীপকেও হাফিজ চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরতে থাকেন এবং ¯্রষ্টাকে ডাকেন। কিন্তু তার কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রভুর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। কিছুদিন পরে জানতে পারলেন অফিসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে চাকরি করলে হাফিজের মারাত্মক ক্ষতি হতো। যেটা তার চাকরি হারানোর চেয়েও ভয়াবহ। হাফিজ পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞতা পোষণ করেন।
➠ ‘প্রার্থনা’ কবিতা ও উদ্দীপকের আলোচনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, ক্ষোভ-বিষাদ যাই আসুক না কেন- ঈশ্বর প্রেম আমাদের মুক্তি দেয়।

তথ্যসূত্র:
১. সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url