এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- জীবনানন্দ দাশ
|
| এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে |
এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে
জীবনানন্দ দাশ
সেখানে সবুজ ডাঙা ভ'রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নাম কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল:
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে-সেখানে বরুণ
কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,
সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ;
সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে তার অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে;
সেখানে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে রূপসীর শরীরের ’পর-
শঙ্খমালা নাম তার এ বিশাল পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে
তারে আর খুঁজে তুমি পাবে নাকো-বিশালাক্ষী দিয়েছিল বর,
তাই-সে-জন্মেছে নীল বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর।
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার উৎস নির্দেশ : |
|---|
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যের অন্তর্গত। কবিতাটির মূলনাম ‘এই পৃথিবীতে এক’। এই কবিতায় কবি বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য ও নিসর্গের সাবলীল ছন্দকে অনন্য সাধারণ ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করেছেন। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা : |
|---|
|
➠ ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে-সবচেয়ে সুন্দর করুণ’- কবির চোখে সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, মমতারসে সিক্ত, সহানুভূতিতে আর্দ্র ও বিষণ্ণ দেশ বাংলাদেশ। ➠ নাটা- লতাকরঞ্চ; গোলাকার ক্ষুদ্র ফল বা তার বীজ। ➠ ‘সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ’-বাংলার প্রভাতের সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা আঁকতে গিয়ে ভোরে মেঘের আড়াল থেকে গাঢ় লাল সূর্যের আলো বিচ্ছুরণ যেন ধারণ করেছে করমচা বা করমচা ফুলের রং। ➠ বারুণী- বরুণানী। বরুণের স্ত্রী। জলের দেবী। ➠ ‘সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে-সেখানে বরুণ কর্ণফুলী ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল’- জলে পরিপূর্ণ এদেশের অসংখ্য নদী-নালার স্রোতধারার প্রাণৈশ্বর্য ও সৌন্দর্যের রূপ আঁকা হয়েছে এই পঙ্ক্তি দুটির মধ্যে। ➠ ‘সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল, সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ’- জীবন আর প্রকৃতির ঐক্য ও সংহতিতে বাংলাদেশ একাকার। পানের বরজে হাওয়ায় যে চঞ্চলতা জেগে ওঠে সেই চঞ্চলতা সম্প্রসারিত হয় দূর আকাশের শঙ্খচিলের ডানায়। আর মিষ্টি ও ম্রিয়মাণ ধানের গন্ধের মতো লক্ষ্মীপেঁচাও মিলেমিশে থাকে প্রকৃতির একান্ত পরিবেষ্টনীতে। বিশালাক্ষী- যে রমণীর চোখ আয়ত ও টানাটানা। এখানে আয়তলোচনা দেবী দুর্গার কথা বলা হয়েছে। ➠ সুদর্শন- এক ধরনের পোকা। ➠ বর- এখানে আশীর্বাদ অর্থে ব্যবহৃত। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব : |
|---|
| অসাধারণ অনন্য সুন্দর এই দেশ। প্রকৃতির সৌন্দর্যের এমন লীলাভূমি পৃথিবীর কোথাও নেই আর। অসংখ্য বৃক্ষ, গুল্ম ছড়িয়ে আছে এদেশের জনপদে-অরণ্যে। মধুকূপী, কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল তাদেরই কোনো-কোনোটির নাম। এদেশের পূর্বাকাশে যখন সূর্য ওঠে মেঘের আড়াল থেকে তার রং হয় করঞ্জা রঙিন। আর এদেশের প্রতিটি নদ-নদী ভরে থাকে স্বচ্ছ জলে। সেই জল ফুরায় না কখনই। জলের দেবতা অনিঃশেষ জলধারা দিয়ে স্রোতস্বিনী রাখে এদেশের অসংখ্য নদীকে। প্রকৃতি আর প্রাণিকুলের বন্ধনে গড়ে উঠেছে চির-অবিচ্ছেদ্য এক সংহতি। তাই হাওয়া যখন পানের বনে চঞ্চলতা জাগায় তখন দূর আকাশের শঙ্খচিল যেন চঞ্চল হয়ে ওঠে। আর ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট লক্ষ্মীপেঁচাও মিশে থাকে প্রকৃতির গভীরে, অন্ধকারের বিচিত্ররূপ এই দেশে। অন্ধকার ঘাসের ওপর নুয়ে থাকে লেবুর শাখা কিংবা অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন উড়ে যায়। জন্ম দেয় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর হলুদ শাড়ির বর্ণশোভা। কবির বিশ্বাস, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না। কেননা বিশালাক্ষী বর দিয়েছিল বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে এই অনুপম সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার কবি পরিচিতি : |
|---|
| আধুনিক বাংলা কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ। ১৮৯৯ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন সেকালের বিখ্যাত কবি। মায়ের কাছ থেকে তিনি কবিতা লেখার প্রেরণা লাভ করেছিলেন। স্বল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন পেশা অবলম্বন করলেও মূলত ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেন। কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতায় সূক্ষ্ম ও গভীর অনুভবের এক জগৎ তৈরি করেন। বিশেষ করে গ্রামবাংলার নিসর্গের যে ছবি তিনি এঁকেছেন, বাংলা সাহিত্যে তার তুলনা চলে না। সেই নিসর্গের সঙ্গে অনুভব ও বোধের বহুতর মাত্রা যুক্ত হয়ে তাঁর হাতে অনন্যসাধারণ কবিতাশিল্প রচিত হয়েছে। এই অসাধারণ কাব্যবৈশিষ্ট্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া ব্যক্তিমানুষের নিঃসঙ্গতা, আধুনিক জীবনের বিচিত্র যন্ত্রণা ও হাহাকার এবং সর্বোপরি জীবন ও জগতের রহস্য ও মাহাত্ম্য সন্ধানে তিনি এক অপ্রতিম কবিভাষা সৃষ্টি করেছেন। বুদ্ধদেব বসু তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন 'নির্জনতম কবি' বলে। উপমা, চিত্রকল্প, প্রতীক সৃজন, আলো-আঁধারের ব্যবহার, রঙের ব্যবহার এবং অনুভবের বিচিত্র মাত্রার ব্যবহারে তাঁর কবিতা লাভ করেছে অসাধারণত্ব। তাঁর নিসর্গবিষয়ক কবিতা বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতাকে তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হিসেবেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর বিশেষ স্থান রয়েছে। জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ 'ঝরা পালক', 'ধূসর পাণ্ডুলিপি', 'বনলতা সেন', 'মহাপৃথিবী', 'বেলা অবেলা কালবেলা', 'রূপসী বাংলা'। 'কবিতার কথা' তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ এবং 'মাল্যবান' ও 'সুতীর্থ' তাঁর বিখ্যাত দুইটি উপন্যাস। জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২এ অক্টোবর কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
১. ‘করুণ’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : ‘করুণ’ শব্দটির অর্থ বেদনাপূর্ণ। ২. সবচেয়ে সুন্দর করুণ স্থানটি কোথায় আছে? উত্তর : সবচেয়ে সুন্দর করুণ স্থানটি আছে এই পৃথিবীর এক স্থান তথা বাংলাদেশে। ৩. এই পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর করুণ স্থানের নাম কী? উত্তার : এই পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর করুণ স্থানের নাম বাংলাদেশ। ৪. ‘অবিরল’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : অবিরল শব্দের অর্থ নিবিড়, ঘন, নিরন্তর। ৫. কী ভরে আছে মধুকূপী ঘাসে? উত্তর : সবুজ ডাঙা ভরে আছে মধুকূপী ঘাসে। ৬. সবুজ ডাঙা ভরে আছে কোন ঘাসে? উত্তর : সবুজ ডাঙা ভরে আছে মধুকূপী ঘাসে। ৭. ‘মধুকূপী’ কী? উত্তর : মধুকূপী এক ধরনের ঘাস। ৮. কবিতায় কোন রঙের ডাঙা আছে? উত্তর : কবিতায় সবুজ রঙের ডাঙা আছে। ৯. ‘অশ্বত্থ’ কীসের নাম? উত্তর : ‘অশ্বত্থ’ একটি গাছের নাম। ১০. ‘অরুণ’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : ‘অরুণ’ শব্দের অর্থ সূর্য। ১১. কোন সময়ের মেঘে নাটার রঙের মতো অরুণ জেগেছে? উত্তর : ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো অরুণ জেগেছে। ১২. কীসের রঙের মতো অরুণ জাগছে? উত্তর : নাটার রঙের মতো অরুণ জাগছে। ১৩. বারুণী কোন সাগরের বুকে থাকে? উত্তর : বারুণী গঙ্গা সাগরের বুকে থাকে। ১৪. গঙ্গা সাগরের বুকে কে থাকে? উত্তর : গঙ্গা সাগরের বুকে থাকে বারুণী। ১৫. বারুণী কে? উত্তর : বারুণী জলের দেবতা বরুণের স্ত্রী। ১৬. ভোরের কীসে নাটার রঙের মতো অরুণ জাগছে? উত্তর : ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো অরুণ জাগছে। ১৭. জলের রাজা কে? উত্তর : জলের রাজা বরুণ। ১৮. ‘জলাঙ্গী’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : জলাঙ্গী শব্দের অর্থ জলাশয় বা জলধারণকারী। ১৯. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কয়টি নদীর নাম উল্লেখ আছে? উত্তর : ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় তিনটি নদীর নাম উল্লেখ আছে। ২০. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কী সাগরের নাম উল্লেখ আছে? উত্তর : গঙ্গা সাগরের নাম উল্লেখ আছে। ২১. কর্ণফুলী, ধলেশ্বরী ও পদ্মা জলাঙ্গীরে কে অবিরল জল দেয়? উত্তর : কর্ণফুলী, ধলেশ্বরী ও পদ্মা জলাঙ্গীরে বরুণ অবিরল জল দেয়। ২২. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কয়টি সাগরের নাম উল্লেখ আছে? উত্তর : ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় একটি সাগরের নাম উল্লেখ আছে। ২৩. পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল কী? উত্তর : পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল শঙ্খচিল। ২৪. শঙ্খচিল কীসের মতো হাওয়ায় চঞ্চল? উত্তর : শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল। ২৫. ‘চঞ্চল’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : ‘চঞ্চল’ শব্দের অর্থ অস্থির/চালু। ২৬. শঙ্খচিল পানের বনের মতো কীসে চঞ্চল? উত্তর : শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল। ২৭. শঙ্খচিল কীসের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল? উত্তর : শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল। ২৮. ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট কী? উত্তর : ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট লক্ষ্মীপেঁচা। ২৯. লক্ষ্মীপেঁচা কীসের গন্ধের মতো অস্ফুট? উত্তর : লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট? ৩০. ‘অস্ফুট’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : ‘অস্ফুট’ শব্দের অর্থ ফোটেনি/ অবিকশিত। ৩১. কীসের শাখা নুয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের ওপর? উত্তর : লেবুর শাখা নুয়ে থাকে অন্ধকারে ঘাসের ওপর। ৩২. লেবুর শাখা নুয়ে থাকে কীসের ওপর? উত্তর : লেবুর শাখা নুয়ে থাকে ঘাসের ওপর। ৩৩. ‘নুয়ে থাকা’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : ‘নুয়ে থাকা’ শব্দের অর্থ ঝুলে থাকা। ৩৪. লেবুর কী নুয়ে থাকে অন্ধকারে? উত্তর : লেবুর শাখা নুয়ে থাকে অন্ধকারে। ৩৫. সুদর্শন কী? উত্তর : সুদর্শন এক ধরনের গোবরে পোকা। ৩৬. অন্ধকার বাতাসে কী উড়ে যায় ঘরে? উত্তর : অন্ধকারে বাতাসে সুদর্শন উড়ে যায় ঘরে। ৩৭. অন্ধকারে সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন কোথায় উড়ে যায়? উত্তর : অন্ধকারে সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন তার ঘরে উড়ে যায়। ৩৮. কার শরীরে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে? উত্তর : রূপসীর শরীরে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে? ৩৯. রূপসীর শরীরের ওপর কোন রঙের শাড়ি লেগে থাকে? উত্তর : রূপসীর শরীরের ওপর হলুদ রঙের শাড়ি লেগে থাকে। ৪০. রূপসীর শরীরে হলুদ কী লেগে থাকে? উত্তর : রূপসীর শরীরে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে। ৪১. শঙ্খমালা কে? উত্তর : শঙ্খমালা একটি মেয়ে। ৪২. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় ‘বর’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : ‘বর’ শব্দের অর্থ আশীর্বাদ। ৪৩. ‘বিশালাক্ষী’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর : ‘বিশালাক্ষী’ শব্দের অর্থ আয়তলোচনযুক্তা। ৪৪. কে বর দিয়েছিলেন? উত্তর : বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলেন। ৪৫. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় বর্ণিত বাংলার রং কেমন? উত্তর : ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় বর্ণিত বাংলার রং নীল। ৪৬. শঙ্খমালা নীল বাংলার কোথায় জন্মেছিল? উত্তর : শঙ্খমালা নীল বাংলার নদী আর ঘাসে জন্মেছিল। ৪৭. পৃথিবীর নদী ঘাসে কাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না? উত্তর : পৃথিবীর নদী ঘাসে শঙ্খমালাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ৪৮. বিশালাক্ষী কে? উত্তর : বিশালাক্ষী স্বর্গীয় দেবী। ৪৯. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটির কবি কে? উত্তর : ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটির কবি জীবনানন্দ দাশ। ৫০. কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মসাল কোনটি? উত্তর : কবি জীবনানন্দ দাশের জন্মসাল ১৮৯৯। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
১. পৃথিবীর স্থানটি সবচেয়ে সুন্দর করুণ কেন?
২. ‘বিশালাক্ষী কীভাবে বর দিয়েছিল?
৩. বিশালাক্ষী বলতে কী বোঝায়?
৪. কীভাবে মধুকূপী ঘাসে সবুজ ডাঙা ভরে আছে?
৫. কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল ইত্যাদি দ্বারা কবি কী
বুঝিয়েছেন?
৬. নাটার রঙের মতো অরুণ জাগে কেন?
৭. গঙ্গাসাগরের বুকে বারুণী থাকার কারণ কী?
৮. কর্ণফুলী, ধলেশ্বরী, পদ্মা, জলাঙ্গীরে বরুণের অবিরল জল দেয়ার কারণ
কী?
৯. শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল কীভাবে?
১০. ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ লক্ষ্মীপেঁচা বলতে কী বোঝানো
হয়েছে?
১১. লেবুর শাখা ঘাসের ওপর কেন নুয়ে থাকে?
১২. সুদর্শন বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১৩. অন্ধকারের সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন কেন উড়ে যায়?
১৪. ‘জলাঙ্গী’ বলতে কী বোঝায়?
১৫. গঙ্গা সাগরের পরিচয় তুলে ধর। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
২. আঁখি মেলে তোমার আলো
ক. জীবনানন্দ দাশের কাব্যবৈশিষ্ট্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী বলে আখ্যায়িত
করেছেন? |
|
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘চিত্ররূপময়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
উদ্দীপকের উভয় অংশে স্বদেশের বুকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার বিশেষ দিকটি
‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় অনুপস্থিত।
“স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধের কারণে এখানকার প্রতিটি
জিনিস কবির চোখে অপরূপ সৌন্দর্য জাগানিয়া।”- উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে
মন্তব্যটি যৌক্তিক। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল কী? |
|
শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল।
উদ্দীপকের কবির জন্মভূমি ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার বাংলাদেশের
প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রশ্নোল্লিখিত মন্তব্যটি সঠিক ও যথার্থ। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. কবির চোখে পৃথিবীর সুন্দরতম স্থান কোনটি? |
|
কবির চোখে পৃথিবীর সুন্দরতম স্থান হলো তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশ।
“উদ্দীপকে ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় ফুটে ওঠা দিকটি হলো,
বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ।
উদ্দীপকের শেষ চরণে রাফির অনুভূতিতে যেন কবি জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতি
চেতনারই প্রতিফলন ঘটেছে।” -মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. লক্ষ্মীপেঁচা কীসের গন্ধের মতো অস্ফুট তরুণ? |
|
লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট তরুণ।
‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের
ঐশ্বর্যের দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশিত বাংলার প্রকৃতিতে দৃশ্যমান।
“উদ্দীপক ও ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার মূল সুর যেন একই ধারায়
প্রবাহিত”- মন্তব্যটি আমি সমর্থন করি। কারণ উভয়ক্ষেত্রেই মাতৃভূমির
বন্দনা ও স্বদেশপ্রেম উচ্চারিত হয়েছে। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. সবুজ ডাঙা কীসে ভরে আছে? |
|
সবুজ ডাঙা মধুকূপী ঘাসে ভরে আছে।
উদ্দীপকের ‘রূপসী বাংলাদেশ’ উক্তিটিতে ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’
কবিতার বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের দিকটি আভাসিত।
“উদ্দীপকে নদীমাতৃক বাংলার যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে তা ‘এই পৃথিবীতে এক
স্থান আছে’ কবিতার একটি বিশেষ ভাবার্থের দর্পণ।”- এই মন্তব্যটি
যথার্থ। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. শঙ্খমালাকে বর দিয়েছেন কে? |
|
শঙ্খমালাকে বর দিয়েছেন বিশালাক্ষী দেবী।
উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার
বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
“উদ্দীপক ও ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার মধ্যে আংশিক বৈসাদৃশ্য
থাকলেও মূল সুর এক ও অভিন্ন।” -মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ‘অস্ফুট’ শব্দের অর্থ কী? |
|
‘অস্ফুট’ শব্দের অর্থ যা ফোটেনি, অর্থাৎ অবিকশিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটির প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যের দিকটি প্রতিনিধিত্ব করে।
“এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটির এক-তৃতীয়াংশ ভাব উদ্দীপকে স্থান
পেয়েছে।”- মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. কার শরীরে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে? |
|
রূপসীর শরীরে হলুদ শাড়ি লেগে থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণিত পদ্মা নদীর চিত্রটি ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার
কর্ণফুলী, পদ্মা ও ধলেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদীর বৈশিষ্ট্যের দিকটিকে নির্দেশ
করে।
“উদ্দীপকের রায়হান সাহেবের দৃষ্টিতে দেখা পদ্মা নদীর দৃশ্যটি ‘এই
পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার একটি দিককে ধারণ করেছে মাত্র, সম্পূর্ণ
দিককে নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. লক্ষ্মীপেঁচা কীসের গন্ধের মতো অস্ফুট? |
|
ক. লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট। গ. প্রথমে উদ্দীপকটি বিশেষ করে এর শেষের তিন চরণ ভালোভাবে পড়। এরপর ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটি পড়ে এর সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য খুঁজে বের কর। এরপর এই সাদৃশ্যগুলো নিজের ভাষায় সহজভাবে প্রশ্নের উত্তরে উপস্থাপন কর। ঘ. উদ্দীপকের কবিতাটি প্রথমেই গভীর মনোযোগ সহকারে পড়ে এর চেতনা নির্ণয় কর। এরপর কবিতাটি গভীরভাবে পড়ে তারও চেতনার বিষয়টি খুঁজে বের কর। দেখবে উভয় চেতনা মিলে যাবে। এবার মূল্যায়ন অংশে যৌক্তিকভাবে তোমার উত্তরের যুক্তিগুলো তুলে ধরে উত্তর সাজিয়ে লেখ। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
উদ্দীপকটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. লেবুর শাখা কোথায় নুয়ে থাকে? |
|
ক. লেবুর শাখা অন্ধকারে ঘাসের ওপর নুয়ে থাকে। গ. প্রথমে উদ্দীপকটি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ে এর বিশেষ দিকটি চিিহ্নত কর। এবার ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটি পড়ে সেই বিশেষ দিকটি কবিতায় খুঁজে বের কর। এরপর কবিতায় সেই বিশেষ দিকটি কীভাবে ফুটে উঠেছে তা সরল ভাষায় নিজের মতো করে উপস্থাপন কর। ঘ. উদ্দীপকটি প্রথমে গভীর মনোযোগ সহকারে পড় এবং স্বদেশ চেতনার স্বরূপ চিহ্নিত কর। এবার কবিতাটিও গভীরভাবে পড়ে দেখ এখানেও কবির একই চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে। এবার মূল্যায়ন অংশে যৌক্তিকভাবে তোমার উত্তরের বর্ণনা সাজিয়ে লিখে উত্তরটি শেষ কর। |
| ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
উদ্দীপকটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে কী উড়ে যায়? |
|
ক. অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন উড়ে যায়। গ. প্রথমে উদ্দীপকটি ভালোভাবে পড়ে নোমানের প্রকৃতি সংক্রান্ত মনোভাবটি উপলব্ধি কর। এবার কবিতাটি ভালোভাবে পড়ে সেই উপলব্ধির সাথে কবিতায় আলোচিত কবির উপলব্ধি মিলাও। দেখবে তা মোটেও মিলছে না। এবার এই বৈসাদৃশ্যের দিকটি তোমার নিজের ভাষায় সহজ করে উপস্থাপন কর। ঘ. প্রথমে উদ্দীপকটি পড় এবং এর মূলভাব বা মূল আবেদনটি ধরার চেষ্টা কর। এরপর কবিতাটি পড়ে তার মূল আবেদনের সাথে বিষয়টি তুলনা কর। দেখবে উদ্দীপকের আবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র কবিতায় লক্ষণীয়। এবার তোমার উত্তরের যুক্তি মূল্যায়ন অংশে ধারাবাহিকভাবে লিখে প্রশ্নের উত্তর শেষ কর। |
| তথ্যসূত্র : |
|---|
|
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
