বোশেখ : আল মাহমুদ

বোশেখ
বোশেখ

বোশেখ
আল মাহমুদ

যে বাতাসে বুনোহাঁসেঝাঁক ভেঙে যায়
জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে
নদীর পানি শূন্যে তুলে দেয় ছড়িয়ে
নুইয়ে দেয় টেলিগ্রাফের থামগুলোকে।

সেই পবনের কাছে আমার এই মিনতি
তিষ্ঠ হাওয়া, তিষ্ঠ মহাপ্রতাপশালী,
গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?
কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির ভিটে?

বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে টুনটুনিদের
উল্টে ফেলে দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি
হে দেবতা, বলো তোমার কী আনন্দ,
কী মজা পাও বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে?

রামায়ণে পড়েছি যার কীর্তিগাথা
সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি?
কালিদাসের মেঘদূতে যার কথা আছে
তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী?

তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস
উড়িয়ে নিলে গরিব চাষির ঘরের খুঁটি
কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে
তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো।

হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি,
তুমিই নাকি বাহন রাজা সোলেমানের
যার তলোয়ার অত্যাচারীর কাটতো মাথা
অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতো।

কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ
তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন করজোড়ে
যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি
কালবোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে।

ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান
ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের
পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান
বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলো।

‘বোশেখ’ কবিতার উৎস নির্দেশ :
কবি আল মাহমুদের কবিতা সমগ্রের পাখির কাছে ফুলের কাছে কাব্য থেকে ‘বোশেখ’ কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে।

‘বোশেখ’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা :
➠ বুনোহাঁস- যে হাঁস গৃহপালিত নয়, বনে থাকে।
➠ জেট- দ্রুতগতিসম্পন্ন উড়োজাহাজ।
➠ টেলিগ্রাফ- সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। ১৮৩৭সালে আধুনিক এই যন্ত্র বিদ্যুতের সাহায্যে পরিচালিত হয়। (এখন এ ধরনের যন্ত্র আর ব্যবহার হয় না।)।
➠ তিষ্ঠ- স্থির হও।
➠ রামায়ণ- পৃথিবীর চারটি জাত মহাকাব্যের একটি। রচয়িতা- বাল্মীকি।
মহাবীর হনুমান- রামায়ণে বীর হনুমানের বীরত্বপূর্ণ বহু কর্মের কথা উল্লেখ আছে। রামায়ণোক্ত হনুমানকে মহাবীর হনুমান বলা হয়।
কালিদাসের মেঘদূত- সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন কালিদাস। সংস্কৃত ভাষায় তাঁর অমর রচনা মেঘদূতম্ কাব্য। মেঘদূতকে বাংলায় মেঘদূত বলা হয়।
রাজা সোলেমান- ডেভিডের পুত্র এবং ইসরাইলের তৃতীয় রাজা। তিনি বীর ও দক্ষ যোদ্ধা ছিলেন।
➠ রবীন্দ্রনাথ- বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি।
➠ অদরকারি- যার প্রয়োজন নেই।

‘বোশেখ’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি :
বাংলাদেশের একটি পরাক্রমশালী মাস বৈশাখ। ঋতুপরিক্রমায় বার বার সে রুদ্র সংহারক রূপে আবির্ভূত হয়। বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাসে এবং আগ্রাসী থাবায় কখনও কখনও লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এক-একটা জনপদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয় দুঃখী দরিদ্র মানুষ বা অসহায় কোন প্রাণী। ছিঁড়ে যায় গরিব মাঝির পালের দড়ি, উড়ে যায় দরিদ্র চাষির ঘর। ছোট্ট টুনটুনির বাসাও রেহাই পায় না। কিন্তু ধনীর প্রাসাদের কোন ক্ষতি হয় না। কবি তাই আক্ষেপ করে বলছেন, প্রকৃতির যত নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা কেন তা শুধু এই গরিবের বিরুদ্ধেই ঘটবে? অবশেষে বৈশাখের কাছে তার আহ্বান, ধ্বংস যদি করতেই হয়, তাহলে গুঁড়িয়ে দাও সেইসব অট্টালিকা যা গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। এই কবিতায় বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করছেন কবি।

‘বোশেখ’ কবিতার কবি পরিচিতি :
আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং পরিচালকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। স্বাধীনতার পর তিনি ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। তাঁর কবিতায় লোকজ শব্দের সুনিপুণ প্রয়োগ যেমন লক্ষণীয় তেমনি রয়েছে ঐতিহ্যপ্রীতি। তাঁর প্রকাশিত কাব্য: লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি। কথাসাহিত্য: পানকৌড়ির রক্ত, পাখির কাছে ফুলের কাছে তাঁর শিশুতোষ কবিতার বই। কবি ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

‘বোশেখ’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন :
১। কালবৈশাখী আমাদের সমাজ ও পারিবারিক জীবনে যে ক্ষতি করে তার তালিকা তৈরি করো।

‘বোশেখ’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘বোশেখ’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :

১। আল মাহমুদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
২। কবি আল মাহমুদের গ্রামের নাম কী?
উত্তর: কবি আল মাহমুদের গ্রামের নাম মোড়াইল।
৩। ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ আল মাহমুদের কোন জাতীয় গ্রন্থ?
উত্তর: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ আল মাহমুদের শিশুতোষ জাতীয় গ্রন্থ।
৪। কীসের দ্বারা আল মাহমুদ প্রভাবিত হন?
উত্তর: মুক্তিযুদ্ধ দ্বারা আল মাহমুদ প্রভাবিত হন।
৫। আল মাহমুদ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
৬। আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
৭। আল মাহমুদ দীর্ঘকাল কোন পেশায় জড়িত ছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন।
৮। আল মাহমুদ স্বাধীনতার পর কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ স্বাধীনতার পর দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
৯। ‘লোক লোকান্তর’ কার লেখা?
উত্তর: ‘লোক লোকান্তর’ কবি আল মাহমুদের লেখা।
১০। ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
উত্তর: ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থের কবি আল মাহমুদ।
১১। আল মাহমুদের গল্পগ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদের গল্পগ্রন্থের নাম পানকৌড়ির রক্ত।
১২। আল মাহমুদের শিশুতোষ বইটির নাম কী?
উত্তর: পাখির কাছে ফুলের কাছে।
১৩। আল মাহমুদ তাঁর কবিতায় কেমন শব্দের ব্যবহার করেছেন?
উত্তর: লোকজ শব্দের ব্যবহার করেছেন।
১৪। ‘বোশেখ’ কবিতাটি কোথা থেকে সংকলন করা হয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতাটি কবি আল মাহমুদের কবিতা সমগ্রের ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
১৫। বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে কবি কী কামনা করেছেন?
উত্তর: বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে কবি অত্যাচারের অবসান কামনা করেছেন।
১৬। ‘বোশেখ’ কবিতায় কবির কেমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: সমব্যথী, সাম্যবাদী, শোষকের বিরুদ্ধে অবস্থান।
১৭। কবিতায় বৈশাখের কোন রূপ প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় বৈশাখের রুদ্র সংহারক রূপ প্রকাশিত হয়েছে।
১৮। ‘বোশেখ’ কবিতার মূলভাব কী?
উত্তর: দরিদ্র শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের প্রতি কবির সহানুভূতি পাশাপাশি শোষকের বিরুদ্ধে ধ্বংসের আহ্বান।
১৯। ‘বোশেখ’ কবিতায় কবির আক্ষেপ কেন?
উত্তর: লোক ঠকিয়ে যারা প্রসাদ গড়ে, তাদের একটা ইটও খসাতে পারে না বাতাস।
২০। বাতাস কাদের জন্য সংহারক রূপ নিয়ে আবির্ভূত হয়?
উত্তর: গরিব মাঝি, দুঃখী মা, টুনটুনি, বুনোহাঁসের জন্য।
২১। ‘বোশেখ’ কবিতার শেষ দিকে কবির কেমন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতার শেষ দিকে কবির আক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে।
২২। কবির আক্ষেপ ঘোচাতে পারে কীভাবে?
উত্তর: যদি দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি না উল্টিয়ে অত্যাচারীদের প্রাসাদ গুঁড়িয়ে দেয়।
২৩। ‘বোশেখ’ কবিতায় কাকে মহাবীর বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় হনুমানকে মহাবীর বলা হয়েছে।
২৪। হে দেবতা: বলে কবি কাকে সম্বোধন করেছেন?
উত্তর: হে দেবতা: বলে কবি বোশেখের ঝড়কে সম্বোধন করেছেন।
২৫। ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি আক্ষেপ করেছেন কেন?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি আক্ষেপ করেছেন প্রকৃতির নিষ্ঠুরতার জন্য।
২৬। ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি কোন রাজার কথা উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি সোলেমান রাজার কথা উল্লেখ করেছেন।
২৭। ‘বোশেখ’ কবিতায় কিসের থাম নুইয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় টেলিগ্রাফের থাম নুইয়ে পড়ার কথা বলা হয়েছে।
২৮। কবি আল মাহমুদ কীসের পাখা দুমড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি আল মাহমুদ জেটের পাখা দুমড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
২৯। ‘সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি’ পঙ্ক্তিটি দ্বারা ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি কীসের স্বরূপ তুলে ধরেছেন?
উত্তর: ‘সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি’ পঙ্ক্তিটি দ্বারা ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি কালবোশেখের স্বরূপ তুলে ধরেছেন।
৩০। ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি কাদের ধ্বংস কামনা করেছেন?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি বিভেদকারী পরগাছাদের ধ্বংস কামনা করেছেন।
৩১। কারা পরের শ্রমে বড়ো বড়ো দালান গড়ে তুলেছে?
উত্তর: অত্যাচারীরা পরের শ্রমে বড়ো বড়ো দালান গড়ে তুলেছে।
৩২। ‘বোশেখ’ কবিতায় কার পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়।
৩৩। ‘বোশেখ’ কবিতায় টুনটুনিদের বাসা কোথায়?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় টুনটুনিদের বাসা বেগুন পাতায়।
৩৪। ‘বোশেখ’ কবিতায় দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উল্টে দিয়ে কার আনন্দ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উল্টে দিয়ে বৈশাখী বায়ু আনন্দ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৩৫। রামায়ণ কী?
উত্তর: রামায়ণ একটি মহাকাব্য।
৩৬। মহাবীরের কীর্তিগাথা কোথায় লিপিবদ্ধ আছে?
উত্তর: মহাবীরের কীর্তিগাথা রামায়ণে লিপিবদ্ধ আছে।
৩৭। মেঘদূত (মেঘদূতম-সংস্কৃত নাম) এর রচয়িতা কে?
উত্তর: মেঘদূত (মেঘদূতম-সংস্কৃত নাম) এর রচয়িতা কালিদাস।
৩৮। ‘বোশেখ’ কবিতায় কাকে নিঠুর সম্বোধন করা হয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় বাতাসকে নিঠুর সম্বোধন করা হয়েছে।
৩৯। ‘বোশেখ’ কবিতায় বাতাস গরিব চাষির কী উড়িয়ে নেয়?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় বাতাস গরিব চাষির ঘরের খুঁটি উড়িয়ে নেয়।
৪০। সোলেমান কোন দেশের রাজা ছিলেন?
উত্তর: সোলেমান ইসরাইল দেশের রাজা ছিলেন।
৪১। কাকে ধ্বংস করার জন্য কবি তুফানকে আহ্বান জানিয়েছেন?
উত্তর: বিভেদকারী পরগাছাদের ধ্বংস করার জন্য কবি তুফানকে আহ্বান জানিয়েছেন।
৪২। মহাপ্রতাপশালী কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর: মহাপ্রতাপশালী বলা হয়েছে বাতাসকে।
৪৩। ‘বোশেখ’ কবিতায় উল্লেখিত কালিদাস কে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় উল্লেখিত কালিদাস সংস্কৃত ভাষার কবি।
৪৪। ‘বোশেখ’ কবিতায় উল্লেখিত ‘রামায়ণ’ মহাকাব্যের রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় উল্লেখিত ‘রামায়ণ’ মহাকাব্যের রচয়িতা বাল্মীকি।
৪৫। কত সালে টেলিগ্রাফ বিদ্যুতের সাহায্যে পরিচালিত হয়?
উত্তর: ১৮৩৭ সালে টেলিগ্রাফ বিদ্যুতের সাহায্যে পরিচালিত হয়।
৪৬। বুনোহাঁস কী?
উত্তর: বুনোহাঁস হলো বনে থাকে এমন হাঁস।
৪৭। ‘মেঘদূত’ কার লেখা?
উত্তর: ‘মেঘদূত’ কালিদাসের লেখা।
৪৮। রামায়ণের রচয়িতার নাম কী?
উত্তর: রামায়ণের রচয়িতার নাম বাল্মীকি।
৪৯। মহাবীর হনুমান কে?
উত্তর: রামায়ণের একজন বীর হনুমান, তাকেই মহাবীর হনুমান বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
৫০। কালিদাস কোন ভাষার কবি ছিলেন?
উত্তর: কালিদাস সংস্কৃতি ভাষার কবি ছিলেন।
৫১। ‘অদরকারি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘অদরকারি’ শব্দের অর্থ যার কোনো প্রয়োজন নেই।
৫২। ‘তিষ্ঠ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘তিষ্ঠ’ শব্দের অর্থ স্থির হও।
৫৩। ইসরাইলের তৃতীয় রাজার নাম কী?
উত্তর: ইসরাইলের তৃতীয় রাজার নাম সোলেমান।
৫৪। ‘তিষ্ঠ’ কথার অর্থ কী?
উত্তর: ‘তিষ্ঠ’ কথার অর্থ থামো।
৫৫। ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
উত্তর: ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের কবি আল মাহমুদ।
৫৬। জেট কী?
উত্তর: জেট হলো দ্রুতগতিসম্পন্ন উড়োজাহাজ।
৫৭। আল মাহমুদের জন্ম কোথায়?
উত্তর: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে।
৫৮। আল মাহমুদ বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ বাংলাদেশের শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক ছিলেন।
৫৯। টেলিগ্রাফ কী?
উত্তর: টেলিগ্রাফ হলো সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র।
৬০। ‘বোশেখ’ কবিতায় কাকে কবিদের মহান রাজা হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কবিদের মহান রাজা হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে।
৬১। আল মাহমুদ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
৬২। কালিদাস কে?
উত্তর: সংস্কৃত ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি মহাকবি কালিদাস। তাঁর ‘মেঘদূত’ মহাকাব্য জগদ্বিখ্যাত।
৬৩। বৈশাখের বাতাসে কী ভেঙে যায়?
উত্তর: বৈশাখের বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়।
৬৪। ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি কাদের ধ্বংস করার জন্য আহ্বান করেছেন?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি আল মাহমুদ ধ্বংস করতে আহ্বান করেছেন বিভেদকারী পরগাছাদের।
৬৫। আল মাহমুদের কবিতায় কোন ধরনের শব্দের প্রয়োগ লক্ষ করা যায়?
উত্তর: কবি আল মাহমুদের কবিতায় লোকজ শব্দের সুনিপুণ প্রয়োগ লক্ষ করা যায়।
৬৬। ‘বোশেখ’ কবিতায় কোন শ্রেণির মানুষের দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা রয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় শ্রমজীবী দুঃখী-দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্টের বর্ণনা রয়েছে।


‘বোশেখ’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :

১. পবনের কাছে কবি মিনতি করেছেন কেন?
উত্তর: কবি পবনের কাছে মিনতি করেছেন, কারণ তিনি চান যে বৈশাখের বিধ্বংসী শক্তি শুধুমাত্র গরিবের ক্ষতি না করে, বরং ধনীদের নির্মমতাকেও প্রতিহত করুক।
কবি লক্ষ্য করেন যে প্রকৃতির এই শক্তি গরিবদের ঘর, ভিটে, এবং জীবিকা ধ্বংস করে, কিন্তু ধনীদের প্রাসাদে কোন ক্ষতি ঘটে না। তাই কবি চান পবন, যার হাতে এমন শক্তি, গরিব ও ধনী সকলের প্রতি সমানভাবে কাজ করুক এবং শোষণকারী ধনীদের অট্টালিকা ধ্বংস করুক, যেন প্রকৃতি সকলের ওপর ন্যায্যভাবে প্রতিশোধ নেয়।

২. টেলিগ্রাফ কী? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: টেলিগ্রাফ দূরে বক্তব্য প্রেরণের এক ধরনের যন্ত্র।
সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের এক অভিনব যন্ত্রের নাম টেলিগ্রাফ। বর্তমানে এ ধরনের যন্ত্র খুব একটা ব্যবহৃত হয় না। ১৮৩৭খ্রিষ্টাব্দে এ যন্ত্র বিদ্যুতের সাহায্যে পরিচালিত হতো।

৩. মেঘদূত বলতে কী বোঝ?
উত্তর: ‘মেঘদূত’ সংস্কৃত ভাষার একটি কাব্যের নাম।
কালিদাস পণ্ডিত মেঘদূত কাব্যের রচয়িতা। সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম কবি কালিদাস সংস্কৃত ভাষায় ‘মেঘদূত’ রচনা করেন। ‘মেঘদূত’ কালিদাসের অমর রচনা। সংস্কৃত মেঘদূতকে বাংলা ভাষায় মেঘদূত বলা হয়। মেঘদূত কাব্যের জন্য কালিদাস বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

৪. ‘বোশেখ’ কবিতার মূলভাব কী?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতার মধ্য দিয়ে কবির সমব্যথী এবং সাম্যবাদী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
কবিতায় দেখানো হয়েছে বৈশাখ মাসের সংহারক রূপ। এ রূপ কেবল অভাবী শ্রমজীবী মানুষের জন্যে কষ্টের কারণ হয়। সেই বৈশাখের কাছে কবির প্রার্থনা, অত্যাচারী শোষকের বিরুদ্ধে যেন সেই বৈশাখের অবস্থান হয়।

৫. কবির প্রত্যাশিত সমাজের জন্য বাতাসের কী করতে হবে?
উত্তর: কবির প্রত্যাশিত সমাজের জন্য বাতাসের কিংবা তুফানের উচিত বিভেদকারী, পরগাছাদের ধ্বংস করা।
যারা পরের শ্রমে মস্ত দালান গড়ে, যেখানে শোষণের চিহ্ন, তাদের বাহাদুরি ধ্বংস করতে হবে।

৬. ‘গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? উত্তর: গরিব, শ্রমজীবী আর নিম্নবিত্ত মানুষের পক্ষ নিয়েছেন কবি।
প্রত্যেকবার কালবৈশাখীর ঝড়ে কেবল অসহায় মানুষদেরই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মাঝি নৌকার মাধ্যমে তার জীবিকা নির্বাহ করে। তার পালের দড়ি ছিঁড়ে কোনো লাভ নেই। বরং যারা অত্যাচারী-শোষক, যারা অন্যকে শোষণ করে ধনী হয়েছে, তাদেরকে বাতাস আঘাত হানবে-কবির এমনই প্রত্যাশা।

৭. ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি যেন শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি—কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি শ্রমজীবী অসহায় মানুষদের পক্ষে কথা বলে শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি হয়েছেন। তাদের দুঃখ অসাধারণ মমতায় উপস্থাপন করেছেন। বাতাসকে যে কারণে কবি নিঠুর বলে উল্লেখ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমজীবী অত্যাচারীদের ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন।

৮. রবীন্দ্রনাথ করজোড়ে বৈশাখের কেমন রূপ চেয়েছেন?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথ বৈশাখ মাসের বিধ্বংসী রূপের মধ্য দিয়ে সমাজের যেসব অদরকারি, অপ্রয়োজনীয় বস্তু রয়েছে, সেগুলোর সমাপ্তি কামনা।
করেছেন। জীর্ণ, শুষ্ক, পুরনো থেকে বৈশাখ আমাদের মুক্তি দিবে। বৈশাখের মাধ্যমে আমরা প্রকৃতি এবং মানবজীবনে সুন্দর এবং নতুনকে বরণ করব।

৯. ‘হায়রে কত সুবিচারের গল্প শুনি’—কোন সুবিচারের কথা বলা হয়েছে? বর্ণনা করো।
উত্তর: ‘হায়রে কত সুবিচারের গল্প শুনি’ বলতে কবি রাজা সোলেমানের ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।
কালবোশেখির প্রবল ঝড় প্রতিবছরই ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং লন্ডভন্ড করে দেয় গরিব-দুঃখী মানুষের বস্তিভিটা। কিন্তু সমাজের উঁচু স্তরে যারা বসবাস করে, গরিব-দুঃখীদের শোষণ করে বৃহৎ অট্টালিকা তৈরি করে, বৈশাখী ঝড় তাদের কোনো ক্ষতি করছে না। এখানে কবি সুবিচারের অভাব প্রত্যক্ষ করে রাজা সোলেমানের সুবিচারের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন। রাজা সোলেমান বায়ুবাহিত সিংহাসনে আরোহণ করেই সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন এবং ন্যায়বিচার কায়েম করেছেন। কিন্তু কবির আক্ষেপ-বৈশাখী ঝোড়ো হাওয়ার সেই গৌরব পরিলক্ষিত হয় না।

১০. ‘তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি বাংলাদেশের একটি পরাক্রমশালী মাস বৈশাখের নিষ্ঠুরতার বিবরণ দিয়েছেন।
বাংলা মাস পরিক্রমায় বৈশাখ আসে বছরের প্রথম মাস হিসেবে। এ মাসটি আমাদের মাঝে আসে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। কিন্তু এ মাসে কালবৈশাখীর নৃশংস কালো থাবায় ধ্বংস হয় বাংলার প্রাচীন জনপদের দরিদ্র কৃষকদের আবাসভূমি, ধ্বংস হয় কৃষকদের ফসলের মাঠ। বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাসে এবং এর আগ্রাসী থাবায় কখনোবা লন্ডভন্ড হয়ে যায় একেকটা জনপদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয় দুঃখী-দরিদ্র মানুষ বা অসহায় কোনো প্রাণী। ছিঁড়ে যায় গরিব মাঝির পাল, উড়ে যায় গৃহস্থালির স্থাপনা। বাতাসে বুনোহাঁসের দলেরা হয়ে যায় ছিন্নভিন্ন, জেটের পাখা দুমড়েমুচড়ে যায়। নুয়ে পড়ে টেলিগ্রাফের থামগুলো। এভাবে বৈশাখের বাতাস নিষ্ঠুরতা দেখায়। তার হৃদয়ে কোনোরূপ মায়া থাকে না বলেই কবি নিষ্ঠুরতার কথা বলেছেন।

১১. ‘বোশেখ’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘কবিদের এক মহান রাজা’ বলার কারণ কী তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাহাত্ম্যকীর্তন করেছেন এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন সমকালীন বাংলা কবিদের শিরোমণি। পরবর্তী সময়ে তিনি নোবেল বিজয়ী হলে বিশ্বকবির মর্যাদা লাভ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখাতেই সমানভাবে বিচরণ করেছেন, কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তাঁর সাথে কারও তুলনা করা যায় না। তিনি সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন নিজের দর্শন দ্বারা, লেখনীর দ্বারা, চিন্তাচেতনার দ্বারা। সে কারণে ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি পুরনোকে-জীর্ণকে ঝেড়ে ফেলতে রবীন্দ্রনাথের অবস্থানকে তুলে ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথ কবিদের রাজা হয়ে আজ বৈশাখের কাছে করজোড়ে জড়িয়ে কামনা করছেন, যেন বৈশাখের ঝোড়ো হাওয়া পুরোনোকে-জীর্ণকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যায়।

১২. বাতাস প্রাসাদের ইট খসাতে পারছে না কেন?
উত্তর: ব্যয়বহুল মজবুত কাঠামোর জন্য বাতাস প্রাসাদের ইট খসাতে পারছে না।
আমাদের দেশে বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হয়। এই ঝোড়ো বাতাসের কাছে ধনী-গরিব বিবেচ্য নয়। কিন্তু আমরা দেখতে পাই ঝড়ে দরিদ্র মানুষের ক্ষয়ক্ষতিই হয় বেশি। তাদের ফসল-ঘরবাড়ি ভেঙে একাকার হয়। কিন্তু এই সকল শ্রমজীবী মানুষদের শোষণ করে যে প্রাসাদ গড়ে ওঠে তার অবকাঠামো যেমন ব্যয়বহুল তেমনি মজবুত। আর এ কারণেই বাতাস প্রাসাদের ইট খসাতে পারে না।

১৩. ‘কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে’—এখানে ‘যারা’ দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় উল্লেখিত ‘কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে’ উক্তিতে ‘যারা’ দ্বারা সমাজের শোষক, অত্যাচারী শ্রেণিকে বোঝানো হয়েছে।
কবি বলতে চেয়েছেন, বৈশাখের তান্ডবে সে মানুষেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যারা ধনিক শ্রেণির শোষণের শিকার হয়ে দরিদ্র জীবনযাপন করছে। দারিদ্র‍্যরে কারণে তারা অট্টালিকা গড়তে পারে না বলেই তাদের ঘর-বাড়ি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈশাখের ঝড় তাদেরকেই আঘাত করে, যারা নির্যাতিত-নিপীড়িত। অথচ যে ধনিক শ্রেণি গরিবদের শোষণ করে অট্টালিকা গড়ে তুলেছে, তারা বহাল তবিয়তে থেকে যায়। প্রচন্ড ঝড় তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কারণ তারা বড়ো বড়ো প্রাসাদে নিরাপদে অবস্থান করে।

১৪. ‘তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী?’—এই চরণ দুটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য চরণ দুটিতে কবি আল মাহমুদ সংস্কৃত কবি কালিদাসের রচিত ‘মেঘদূত’ কাব্যের মেঘের সাথি বায়ুর কথা উল্লেখ করেছেন।
সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন কালিদাস। তাঁর অন্যতম রচনা মেঘদূত। এই মেঘদূত কাব্যে রয়েছে প্রবহমান বায়ুর কথা, যা বার্তাবাহক মেঘকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। কবি মেঘের সাথে বায়ুর এই সখ্যকে বলেছেন, ‘তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী?’ কিন্তু বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবের মাঝে বিপরীত ভূমিকা অবলোকন করে কবি বিস্মিত হয়েছেন।

১৫. ‘কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ/তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিল করজোড়ে’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য চরণ দুটিতে কবি আল মাহমুদ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘কবিদের এক মহান রাজা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিদের এক মহান রাজা। তিনি বৈশাখের আগমনকে করজোড়ে স্বাগত জানান—যা কিছু পুরানো, শুষ্ক, মৃত ও অপ্রয়োজনীয় তাকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে। তাই কবি আল মাহমুদ রবীন্দ্রনাথের মনোবাসনা বৈশাখী ঝড়ের কাছে তুলে ধরেছেন।

১৬. রাজা সোলেমানের পরিচয় দাও।
উত্তর: ডেভিডের পুত্র এবং ইসরাইলের তৃতীয় রাজা সোলেমান।
সুবিচারক, ন্যায়শাসক রাজা সোলেমানের শাসনামল ইতিহাস খ্যাত। তিনি বীর ও দক্ষ যোদ্ধা ছিলেন। একসময় বাতাস রাজা সোলেমানের সিংহাসন স্থানান্তরে বয়ে বেড়াত। এভাবে তিনি প্রজাকুলের মাঝে ন্যায়শাসন ও সুবিচার কায়েম করেছিলেন।

১৭. ‘যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়/ জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে’—চরণ দুটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: আলোচ্য চরণ দুটিতে কালবৈশাখী ঝড়ের ক্ষিপ্রতা, প্রচণ্ডতা ও ধ্বংসলীলার দুটি উপমা দেওয়া হয়েছে।
কবি আল মাহমুদের ‘বোশেখ’ কবিতাটিতে বাংলাদেশের প্রলয়ঙ্করী মাস বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাসের আগ্রাসী থাবার দুটি উপমা প্রদান করা হয়েছে। বৈশাখের এ প্রলয়ঙ্করী থাবায় লন্ডভন্ড হয়ে যায় জনপদ। আকাশে উড়ন্ত বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে, দ্রুতগতিসম্পন্ন উড়োজাহাজের পাখা ভেঙে জনপদের উপর আঘাত হানে প্রলয়ঙ্করী বৈশাখ।

১৮. কবির প্রার্থনা পবনের কাছে কেন?
উত্তর: কবির প্রার্থনা মূলত পবনের কাছেই।
কারণ এই পবনই ধ্বংস করছে গরিব মানুষের ঘরদোর, অথচ অত্যাচারী ও শোষক শ্রেণির কিছু করতে পারছে না। কবির আকুল প্রার্থনা—এই শ্রেণির দরিদ্র মানুষের বাড়ি নষ্ট না করে যারা সত্যিকারের শোষক, পবন যেন তাদের অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দেয়।

১৯. ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি আল মাহমুদের আক্ষেপ প্রকাশ পেয়েছে কেন?
উত্তর: কবি এই বাংলার মাটি আর জল, হাওয়ারই সন্তান।
তিনি দেখেন প্রত্যেকবার ঝড়ে কেবল অসহায় মানুষরাই ক্ষতির শিকার হয়। কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে, তাদের ইটও খসাতে পারে না। তাই কবির আক্ষেপ। ২০. কবি বাতাসকে নিঠুর বলেছেন কেন? উত্তর: কবি বাতাসকে নিঠুর বলেছেন। কারণ প্রতিবছর বাতাস গরিব চাষির ঘরের খুঁটি উড়িয়ে নিয়ে যায়। বাবুই, টুনটুনি এ রকম অনেক পাখির বাসা ধ্বংসের কারণ হয়।

২১. ‘বোশেখ’ মাসই কবির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক কেন?
উত্তর: বোশেখ মাসের কাছেই কবির একান্ত আহ্বান—এই বৈশাখ মাসই বিভেদকারী, পরগাছাদের ধ্বংস করে এই সমাজজীবনকে পরিশুদ্ধ করার তাই কবির। আকাঙ্ক্ষা বোশেখের কাছেই ব্যক্ত হয়েছে।

২২. ‘বোশেখ’ কবিতায় বৈশাখ মাসকে কীভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় বৈশাখ মাসকে চিত্রায়িত করা হয়েছে আগ্রাসী এবং নিঠুর হিসেবে।
যে বৈশাখ মাসের আঘাতে ভেঙে পড়ে, গরিব চাষির ঘর, বাবুই পাখির বাসা, বেগুন পাতার টুনটুনিদের বাসা, আর দুঃখী মায়ের ভাতের হাড়ি। এতসব ধ্বংসের কারণ বোশেখ মাস।

২৩. ‘বোশেখ’ কবিতার আলোকে কবির সাম্যবাদী মনোভাব আলোচনা করো।
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় কবির সাম্যবাদী মনোভাব প্রকাশিত হয়েছে।
কারণ বোশেখ মাস আসে কেবল অসহায় মানুষদের আবাসস্থল ধ্বংস করতে, অথচ শোষক শ্রেণির কিছু করতে পারে না। তাই তাদের ধ্বংস করতে কবির একান্ত আহ্বান।

২৪. ‘হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: এই পঙক্তির মধ্য দিয়ে কবির আক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে। কারণ কবি এর অনেক ঐতিহ্যবাহী সুবিচারের গল্প শুনেছেন।
রাজা সোলেমানের বাহন ছিল এ পবন। সেই রাজা ছিলেন সুবিচারক। তিনি অবলীলায় অত্যাচারীর মাথা কেটে নিতেন, গুঁড়িয়ে দিতেন অহমিকার আট্টালিকা। অথচ এ পবন বাংলার জীবনের সাথে সুবিচার করেনি।

২৫. গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?/ কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির ভিটে?—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য চরণদুটি কবি আল মাহমুদ ‘বোশেখ’ কবিতায় রূপকভাবে উপস্থাপন করেছেন।
‘বোশেখ’ কবিতায় কবি আল মাহমুদ বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। তিনি প্রতীকীভাবে বোঝাতে চেয়েছেন, কালবৈশাখী ঝড়ের যেমন গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কোনো লাভ নেই, আবার গরিব চাষির ভিটে গুঁড়িয়ে দিয়েও কোনো লাভ নেই। তদ্রুপ সমাজে যারা ধনী, তাদের গরিবদের প্রতি জুলুম করে মূলত কোনো লাভ নেই। আপাতদৃষ্টিতে লাভ মনে হলেও তা প্রকৃত লাভ নয়।

২৬. বৈশাখ সম্পর্কে কী জান লেখো।
উত্তর: বৈশাখ বাংলা ষড়ঋতুর প্রথম ঋতুর প্রথম মাস।
বাংলাদেশে বৈশাখ একটি পরাক্রমশালী মাস। ঋতুপরিক্রমায় বারবার। সে রুদ্র সংহারকরূপে আবির্ভূত হয়। বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাস ও আগ্রাসী থাবায় কখনো কখনো লন্ডভন্ড হয়ে যায় একেকটা জনপদ। ডুবে যায় লঞ্চ, স্টিমার ও বিভিন্ন নৌযান। উড়িয়ে নেয় ঘরবাড়ি, গাছপালা, মানুষ, গোরু ও অন্যান্য প্রাণী। ধ্বংস করে ফসলি জমি মাঠ ঘাট প্রভৃতি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয় দুঃখী-দরিদ্র মানুষ বা অসহায় প্রাণী। ছিঁড়ে যায় গরিব মাঝির পালের দড়ি, উড়ে যায় দরিদ্র চাষির ঘর। তাই বৈশাখ নানা ক্ষতি নিয়ে ঋতুপরিক্রমায় আগমন করে থাকে।

২৭. ‘পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান/ বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলো।’—বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: আলোচ্য চরণদ্বয় হলো কবি আল মাহমুদের ‘বোশেখ’ কবিতার শেষ দুটি চরণ।
আলোচ্য চরণদ্বয়ে কবি আল মাহমুদ বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। আলোচ্য চরণদ্বয়ের মধ্য দিয়ে কবি আক্ষেপ করে বলতে চেয়েছেন—প্রকৃতির যত নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা কেন তা শুধু গরিব-দুঃখীদের বিরুদ্ধেই সংঘটিত হয়। তা কেন সেসব অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতে পারে না, যা শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের শোষণের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।

২৮. ‘বোশেখ’ কবিতায় প্রকৃতির রূপ কেমন?
উত্তর: ‘বোশেখ’ কবিতায় প্রকৃতির রূপ অসহায়। এখানে কালবৈশাখীর ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় অনেক কিছু। বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়।
জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে। বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে নিয়ে যায়, দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উল্টিয়ে ফেলে। প্রকৃতির যেন কিছুই করার নে


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বন্যার্ত মানুষের জন্য ত্রাণের আয়োজন করা হয়। ত্রাণকমিটি খুবই কঠোরভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখে। হতদরিদ্র রাসুর পরিবারে লোকসংখ্যা বেশি থাকায় দুইবার ত্রাণ নিতে এলে অনিয়মের দায়ে তার কার্ড বাতিল করা হয়। বরাদ্দের চেয়ে কম চাল দেয়ার প্রতিবাদ করলে রহম আলীকে বেদম প্রহার করে রিলিফ ক্যাম্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমন সময় যতীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও শমসের আলী চৌধুরী এলে তাদের প্রত্যেককে এক মণ চাল, আধা মণ ডালসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী নৌকায় পৌঁছে দিয়ে আসেন ত্রাণকমিটির প্রধান কর্তাব্যক্তি।

ক. ‘তিষ্ঠ’ কথার অর্থ কী?
খ. পবনের কাছে কবি মিনতি করেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র শ্রেণির সাথে রিলিফ কমিটির আচরণের মাধ্যমে ফুটে ওঠা দিকটি ‘বোশেখ’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার একটা খণ্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়।” যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখো।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
এরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবসৃষ্ট কোনো সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় খেটে খাওয়া মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা যেকোনো মানুষের জন্য কঠিন হলেও ধনীশ্রেণির জন্য দুর্যোগ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ যতটা সহজ হয় খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

ক. কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কী?
খ. ‘তবে এমন নিঠুর হলে কেন বাতাস’- কবি কোন প্রসঙ্গে বলেছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার মূলভাব প্রতিফলিত করতে পেরেছে কি? ‘বোশেখ’ কবিতা অবলম্বনে তোমার মতামত দাও।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতিবছর সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল বন্যার কবলে পড়ে। গত বছরের বন্যাটি ছিল সিলেট-সুনামগঞ্জের মানুষের জন্য এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। কোনো কিছু অনুমান করার আগেই তলিয়ে যেতে থাকে মানুষের ঘরবাড়ি। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।

ক. কালিদাসের ‘মেঘদূত’-এ কার কথা বলা হয়েছে?
খ. ‘কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ।’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার মূলভাব কতটুকু স্পর্শ করতে পেরেছে? বিশ্লেষণ করো।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বৃহস্পতিবার (৯মে) সন্ধ্যায় কালবৈশাখি ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুড়াইচ গ্রামের জোহরা বেগম বলেন, হঠাৎ করে বৃষ্টি ও প্রচণ্ড বাতাসে ঘরবাড়ি গাছপালা উপড়ে পড়ে। ঘরের উপর গাছ পড়ে ঘর ভেঙে গেছে। টিনের আঘাতে হাত কেটে গেছে। [সূত্র: এনটিভি, ১০মে ২০২৪ খ্রি.]

ক. রাজা সোলেমান কে ছিলেন?
খ. ‘তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘বোশেখ’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পেরেছে কি? তোমার মতামতের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. রাজা সোলেমান ছিলেন ডেভিডের পুত্র এবং ইসরাইলের তৃতীয় রাজা।
খ. যারা অন্যের শ্রমে মস্ত দালান গড়েছে, বৈশাখ তাদের উপর প্রতিশোধ নিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি উক্ত চরণটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে।
➠ বৈশাখের বিধ্বংসী রূপ যেন শুধু গরিবদের জন্য। কালবৈশাখি ঝড় গরিব চাষির ঘরের খুঁটি উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এ ঝড় সম্পদশালী শোষকশ্রেণির কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এ ঝড়ে তাদের অট্টালিকার একটি ইটও খসে পড়ে না। তাই কবি বৈশাখের কাছে সমাজের শোষণকারী ও অত্যাচারীদের ধ্বংস কামনা করেছেন।

গ. উদ্দীপকে ‘বোশেখ’ কবিতার বৈশাখের আগ্রাসি দিকটি ফুটে উঠেছে।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন বৈশাখের ভয়াবহ করালগ্রাসে এবং আগ্রাসি থাবায় কীভাবে এক-একটা জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। প্রচণ্ড বাতাসে গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিড়ে যায়, দরিদ্র চাষির ঘর উড়ে যায়। টুনটুনি ও বাবুই পাখিও ঝড়ের কবল থেকে নিজেদের ঘর রক্ষা করতে পারে না।
➠ উদ্দীপকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কালবৈশাখি ঝড়ের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। বৃষ্টি ও প্রচণ্ড বাতাসে ঘরবাড়ি, গাছপালা উপড়ে গিয়েছে। ঘরের উপর গাছ পড়ে ঘর ভেঙে গিয়েছে। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার বৈশাখের নিষ্ঠুর দিকটির মিল রয়েছে। কবিতায়ও উদ্দীপকের এ ভয়াবহ রূপটিই ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার এ নিষ্ঠুর ও আগ্রাসি রূপটিরই প্রতিনিধিত্ব করে।

ঘ. ‘বোশেখ’ কবিতায় বৈশাখের আগ্রাসনের পাশাপাশি ধনী-গরিবের মাঝে বৈষম্যের মতো অনেক বিষয় ফুটে ওঠায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি বৈশাখের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ করার সাথে সাথে এ নিষ্ঠুরতার অবসান কামনা করেছেন। কবি আক্ষেপ করে বলেছেন, প্রকৃতির সব নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা যেন গরিব-অসহায়দের সাথেই ঘটে। কিন্তু বড়ো বড়ো অট্টালিকার মালিক, শোষকশ্রেণি ও ধনীদের কোনো ক্ষতি হয় না। কবি চান বৈশাখের বাতাস যেন শোষকদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে দেয় এবং সকল বৈষম্যের অবসান ঘটায়।
➠ উদ্দীপকে কালবৈশাখি ঝড়ের দ্বারা সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার জনজীবন বাড়ের কারণে বিপর্যন্ত। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে বুড়াইচ গ্রামের জোহরা বেগমের ঘরের উপর গাছ পড়ে ঘর ভেঙে যায়। টিনের আঘাতে তার হাত কেটে যায়।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি বৈশাখের প্রভাবে দরিদ্রদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ধনীদের সুখে থাকার দিকটি তুলে ধরেছেন, সেইসাথে অপরাধী ও শোষকদের কৃতকর্মের জন্য শাস্তি প্রত্যাশা করেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে ধনীদের কোনো কথা উল্লেখ করা হয়নি। সমাজে ও প্রকৃতিতে বিদ্যমান এ বৈষম্যের অবসানও কামনা করা হয়নি। এজন্য উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার আংশিক ভাব ধারণ করলেও সম্পূর্ণ ভাবকে ধারণ করতে পারেনি।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার কৃষি শ্রমিক বিমল চন্দ্র রায় ও জেলা সদরের বিশ্বনাথ রায় বলেন, এখনো আমাদের এই অঞ্চলে কায়েম রয়েছে জোতদার প্রথা। জোতদাররাই সুযোগ বুঝে অসহায় শ্রমিকদের আগাম শ্রম কেনাবেচাসহ দাদন ব্যাবসার নামে ভূমিহীন কৃষক ও শ্রমিকদের নানাভাবে বঞ্চিত ও শোষণ করে আসছে। সুত্রঃ বায়যায়দ্দিন, ৩০ এপ্রিল ২০২৩/

ক. টেলিগ্রাফ কী?
খ. ‘যার তলোয়ার অত্যাচারীর কাটতো মাথা’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি উল্লেখ করো।
ঘ. “উদ্দীপকের জোতদার শ্রেণি ও ‘বোশেখ’ কবিতার ধনিকশ্রেণি একইসূত্রে গাঁথা।”- উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

ক. টেলিগ্রাফ হলো সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র।
খ. আলোচ্য চরণটি দ্বারা রাজা সোলেমানের ন্যায়বিচারের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
➠ রাজা সোলেমান ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক। তিনি তাঁর রাজ্যে সবসময় সুবিচার করতেন। অত্যাচারীদের শিরশ্ছেদ করতেন, তাদের অহংকারের অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতেন। তাই কবি বাতাসের কাছেও রাজা সোলেমানের মতো ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন। বাতাস যেন শুধু গরিবদের ক্ষতি না করে, বরং অত্যাচারী ও শোষকদের শোষণের সাম্রাজ্যও ধ্বংস করে দেয়।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার কালবৈশাখি ঝড়ের রুদ্র সংহারক রূপটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতায় বৈশাখ মাসের আগ্রাসী রূপকে তুলে ধরা হয়েছে। বৈশাখী ঝড়ের নিষ্ঠুরতায় এক-একটি জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গরিব শ্রেণির মানুষ। ছিঁড়ে যায় মাঝির পালের দড়ি, চাষি তার থাকার ঘর হারায়, দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উলটে যায়। কিন্তু কালবৈশাখি ঝড় ধনিকশ্রেণির কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
➠ উদ্দীপকে সমাজে প্রচলিত জোতদার প্রথার কথা বলা হয়েছে। তারা সুযোগ বুঝে অসহায় শ্রমিকদের আগাম শ্রম কেনাবেচাসহ দাদন ব্যাবসার নামে ভূমিহীন কৃষক ও শ্রমিকদের নানাভাবে বঞ্চিত ও শোষণ করে আসছে। ‘বোশেখ’ কবিতায় শোষণকারীদের এ রূপটি তুলে ধরা হলেও বৈশাখী ঝড়ের নিষ্ঠুর করালগ্রাসের দিকটিও বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে। কিন্তু উদ্দীপকে বৈশাখ মাসের কোনো উল্লেখ নেই। তাই উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার এ দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. উদ্দীপকের জোতদার শ্রেণি ও ‘বোশেখ’ কবিতার ধনিকশ্রেণি তাদের অন্যায়, অত্যাচার ও শোষণের কারণে একইসূত্রে গাঁথা।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি সমাজের দুই শ্রেণির মানুষের কথা তুলে ধরেছেন। তার মধ্যে একটি হলো ধনিকশ্রেণি। এ শ্রেণিটিই সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। তারা শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে, তাদের শ্রমে গড়ে তোলে মস্ত দালান। আবার তারাই সমাজে বাহাদুরি দেখিয়ে ঘুরে বেড়ায়।
➠ উদ্দীপকে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলায় প্রচলিত জোতদার প্রথার কথা বলা হয়েছে। এ অঞ্চলে জোতদাররা সুযোগ বুঝে অসহায় শ্রমিকদের আগাম শ্রম কেনাবেচা করে। তারা দাদন ব্যাবসার নামে ভূমিহীন কৃষক ও শ্রমিকদের নানাভাবে বঞ্চিত ও শোষণ করে চলেছে। তাদের এ অত্যাচারে উক্ত এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতায় সুবিধাবাদী ও হৃদয়হীন ধনিকশ্রেণির যেসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে, উদ্দীপকের জোতদার শ্রেণি সেই বৈশিষ্ট্যগুলোকেই ধারণ করে। উভয় শ্রেণিই নিজেদেরকে অন্যায়কারী, নিষ্ঠুর ও শোষক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফলে তারা পরস্পর যেন একইসূত্রে গাঁথা। তাই আলোচ্য উক্তিটির তাৎপর্য অপরিসীম।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমি উপাড়ি ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।
মহা-বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না-
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না।

ক. স্বাধীনতার পর আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন?
খ. ‘উল্টে ফেলে দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টি বর্ণনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের মূলভাবই ‘বোশেখ’ কবিতায় কবির প্রত্যাশিত বিষয়।”ー উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

ক. স্বাধীনতার পর আল মাহমুদ 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন।
খ. আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা প্রচণ্ড প্রতাপশালী বৈশাখ মাসের দ্বারা দুঃখিনী মায়ের মুখের আহার কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
➠ বাংলাদেশের একটি পরাক্রমশালী মাস বৈশাখ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর করাল গ্রাসের শিকার হয় দুঃখী দরিদ্র মানুষ। ছিঁড়ে যায় মাঝির পালের দড়ি, উড়ে যায় দরিদ্র চাষির ঘর। প্রচণ্ড বাতাস উলটে ফেলে দেয় দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি। বৈশাখের আগ্রাসি থাবায় দরিদ্র মানুষের ক্ষয়ক্ষতির দিকটি আলোচ্য উক্তিটির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার অসহায়দের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতাটি রচিত হয়েছে বৈশাখী ঝড়কে উদ্দেশ্য করে। বৈশাখের তাণ্ডবের মাধ্যমে কবি দরিদ্র মানুষের জীবনে প্রকৃতির বিপর্যয়ের অভিঘাতকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এক্ষেত্রে কবি তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। এ সহানুভূতিশীলতার কারণেই কবিতাটিতে সমাজের ধনী ও শোষকশ্রেণির ধ্বংস কামনা করা হয়েছে। বৈশাখের কাছে মিনতি করা হয়েছে যেন সে অসহায় পশুপাখি ও মানুষের কোনো ক্ষতি না করে।
➠ উদ্দীপকে অবহেলিত বিশ্বকে উপড়ে ফেলে নব সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। যখন পৃথিবীতে নিপীড়িত মানুষের আর্তনাদ থাকবে না, তাদের কান্না আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হবে না; তখন কবি শান্ত হবেন। তার আগে পর্যন্ত তিনি অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ‘বোশেখ’ কবিতায় নির্যাতিত ও শোষিত মানুষের প্রতি কবির যে সহানুভূতিশীলতা প্রকাশ পেয়েছে, উদ্দীপকেও সেই একই সহানুভূতিশীলতার পরিচয় মেলে। উভয়ক্ষেত্রেই সকল অবহেলা, অন্যায় ও বৈষম্যের অবসান কামনা করা হয়েছে। তাই উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার এ দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই 'বোশেখ' কবিতায় কবির প্রত্যাশিত বিষয়।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতায় সমাজের অত্যাচারী ও শোষকদের বিরুদ্ধে দৃঢ় কণ্ঠে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈশাখের করালগ্রাসে ও আগ্রাসি থাবার নিষ্ঠুরতায় জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। আর নির্মমতার শিকার হয় দুঃখী-দরিদ্র মানুষ। কিন্তু কবি বৈশাখের কাছে গরিবের প্রতি এ নিষ্ঠুরতা থামানোর অনুরোধ করেছেন। কবি বৈশাখের কাছে আহ্বান করেছেন ধ্বংস যদি করতেই হয়, তাহলে যেন অত্যাচারীদের ধ্বংস করে বাতাস। ফলে কবির কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে প্রতিবাদের ভাষা।
➠ উদ্দীপকে অন্যায় ও অবহেলার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরাধীন বিশ্বকে উপড়ে ফেলে নব সৃষ্টির মহানন্দ লাভের কথা বলা হয়েছে। কবির রণ ক্লান্ত বিদ্রোহী মন দুষ্টের দমন না করা পর্যন্ত শান্ত হবে না। উৎপীড়িতের কান্না বন্ধ করে তাবেই তিনি শান্ত হবেন।
➠ ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং অত্যাচারীদের উপর প্রতিশোধ গ্রহণের সব বার্তা দিয়েছেন, উদ্দীপকেও সেই একই প্রতিবাদের ভাষা উচ্চারিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবির মতো ‘বোশেখ’ কবিতার কবিও অত্যাচার ও অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। উভয়ক্ষেত্রেই কবিন্বয়ের প্রত্যাশিত বিষয় অভিন্ন। তাই আলোচ্য উক্তিটিকে আমি যথার্থ বলে মনে করি।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নাটোরের সিংড়ার বাসিন্দা মাধব চন্দ্র দাস বলেন, ‘গত রাতের ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘরের চাল উড়ে গেছে। এতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’ উপজেলার কলম গ্রামের মুরগির খামারি মাসুদ রানা বলেন, ‘গত রাতের কালবৈশাখি ঝড়ে আমার মুরগির খামারের চাল উড়ে গেছে। আমার একমাত্র সম্বল হারিয়ে এখন আমি নিঃস্ব প্রায়।’ সূত্র: প্রথম আলো, ৬ জুন ২০২৪/

ক. জেট কী?
খ. ‘বোশেখ’ কবিতায় ধনীর প্রাসাদের কোনো ক্ষতি হয় না কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার ফুটে ওঠা দিকটি বর্ণনা করো।
ঘ. "উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার একটি দিক তুলে ধরে, সমগ্র দিক নয়।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. জেট হলো দ্রুতগতিসম্পন্ন উড়োজাহাজ।
খ. ধনী ও শোষকশ্রেণি শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে মজবুত অট্টালিকা নির্মাণ করে বিধায় কালবৈশাখি ঝড়ে ধনী প্রাসাদের কোনো ক্ষতি হয় না।
‘বোশেখ’ কবিতায় কবি কালবৈশাখি ঝড়কে তিরস্কার করেছেন অসহায়দের উপর নির্দয় হওয়ার জন্য। একইসাথে তিনি ধনিকশ্রেণির ধ্বংস কামনা করেছেন প্রচণ্ড ঝড়ের কাছে। কারণ, প্রচণ্ড ঝড়ে অসহায় মানুষের ক্ষতি হলেও ধনীর প্রাসাদের একটি ইটও খসে পড়ে না, শ্রমজীবী মানুষের শ্রম যেন ধনিকশ্রেণির অট্টালিকাকে মজুবতভাবে টিকিয়ে রাখে।

গ. উদ্দীপকে ‘বোশেখ’ কবিতার বৈশাখের আগ্রাসি দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘বোশেখ’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন বৈশাখের ভয়াবহ করালগ্রাসে এবং আগ্রাসি থাবায় কীভাবে এক-একটা জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। প্রচণ্ড বাতাসে গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়, দরিদ্র চাষির ঘর উড়ে যায়। টুনটুনি ও বাবুই পাখিও ঝড়ের কবল থেকে নিজেদের ঘর রক্ষা করতে পারে না।
উদ্দীপকে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় সংঘটিত ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের কারণে গ্রামবাসীদের ঘরের চাল উড়ে গিয়েছে। মুরগির খামারের চাল উড়ে যাওয়ায় সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে খামারি। ‘বোশেখ’ কবিতায় কালবৈশাখি ঝড়ের যে বিধ্বংসী রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, উদ্দীপকের ঘটনায় যেন সেটিই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। তাই উদ্দীপকে ‘বোশেখ’ কবিতার এ দিকটি ফুটে উঠেছে।

ঘ. সমাজের ধনী ব্যক্তিদের শ্রমজীবী মানুষের উপর করা শোষণ ও শোষকের ধ্বংস কামনা করার বিষয়টি উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার সমগ্র দিক ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।
‘বোশেখ’ কবিতায় গরিব-দুঃখী মানুষের ক্ষয়ক্ষতির দিকটি তুলে ধরার পাশাপাশি শোষক ও অত্যাচারীদের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। বৈশাখী ঝড় দরিদ্র মানুষ ও পশুপাখিদের ক্ষতি করলেও যারা মানুষকে ঠকিয়ে প্রাসাদ তৈরি করে তাদের কিছু করতে পারে না। তাই কবি বৈশাখী ঝড়কে বিভেদ সৃষ্টিকারী শোষকশ্রেণিকে ধ্বংস করার এবং তাদের মিথ্যা বাহাদুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
উদ্দীপকে কালবৈশাখি ঝড়ের কারণে স্পষ্ট ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। নাটোরের সিংড়ায় ঝড়ের কবলে পড়ে মানুষের বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। উড়ে গিয়েছে টিনের চাল। দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়স্থলও বৈশাখী ঝড় কেড়ে নিয়েছে। গরিব খামারি মুরগির খামার হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে।
‘বোশেখ’ কবিতার ঝড়ের কারণে গরিব-দুঃখীদের ক্ষয়ক্ষতির দিকটি উদ্দীপকে ফুটে উঠলেও এ দুর্দশার অবসান কামনা করার কোনো ইঙ্গিত এখানে নেই। আবার, সমাজের ধনী ও শোষকশ্রেণির শোষিত সম্পদের ধ্বংস কামনার দিকটিও উদ্দীপকে অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার একটি দিক তুলে ধরলেও সমগ্র দিক ফুটিয়ে তুলতে পারেনি বলে আমি মনে করি।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপক
বোশেখ

ক. হনুমানের পিতার নাম কী?
খ. ‘দয়ালু মেঘের সাথী’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের চিত্রের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণরূপে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি কি? তোমার মতামত দাও।

ক. হনুমানের পিতার নাম বায়ু।
খ.কালিদাস রচিত ‘মেঘদূতম্ কাব্য’ রচনার দয়ালু মেঘের সাথি ছিল বাতাস এ কারণে কবি বাতাসের কাছ থেকেও দয়া প্রত্যাশা করেছেন।
সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন কালিদাস। তিনি সংস্কৃত ভাষায় ‘মেঘদূতম কাব্য’ রচনা করেছেন। মেঘদূতমকে বাংলায় মেঘদূত বলা হয়। এ কাব্যে দয়ালু মেঘের সঙ্গী ছিল বাতাস কিন্তু দয়ালু মেঘের সাথে থাকা সত্ত্বেও বাতাসের মধ্যে বিন্দুমাত্র দয়ামায়া নেই। বাতাসের কবল থেকে গরিব-দুঃখী, অসহায় মানুষেরা রেহাই পায় না। তাই কবি বাতাসের কাছ থেকে দয়ালু মেঘের মতো অসহায় মানুষ ও প্রাণিকুলের প্রতি দয়া প্রত্যাশা করেছেন।

গ. উদ্দীপকের চিত্রের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার কালবৈশাখি ঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
‘বোশেখ’ কবিতায় বৈশাখী ঝড়ে এক-একটা জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গরিব মানুষ। দরিদ্র চাষির ঘরের খুঁটি উড়ে যায়, ছিঁড়ে যায় মাঝির পালের দড়ি। আর এই ক্ষতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকে না গরিব-দুঃখী মানুষের।
উদ্দীপকে বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ঝড়ের কবলে বিধ্বস্ত জনপদ। ঘরের টিনে, দরজা, জানালা কোনোকিছুই ঝড়ের করালগ্রাস থেকে রেহাই পায়নি। ‘বোশেখ’ কবিতায় কালবৈশাখি ঝড়ের বিধ্বংসী রূপটিই যেন উদ্দীপকের চিত্রে বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। তাই চিত্রটির সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার এদিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. সমাজের ধনী ব্যক্তিদের শ্রমজীবী মানুষের উপর করা শোষণ ও শোষকের ধ্বংস কামনা করার বিষয়টি উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণরূপে ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।
‘বোশেখ’ কবিতায় গরিব-দুঃখী মানুষের ক্ষয়ক্ষতির দিকটি তুলে ধরার পাশাপাশি শোষক ও অত্যাচারীদের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। বৈশাখী ঝড় দরিদ্র মানুষ ও পশুপাখিদের ক্ষতি করলেও যারা মানুষকে ঠকিয়ে প্রাসাদ তৈরি করে তাদের কিছু করতে পারে না। তাই কবি বৈশাখী ঝড়কে বিভেদ সৃষ্টিকারী শোষকশ্রেণিকে ধ্বংস করার এবং তাদের মিথ্যা বাহাদুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
উদ্দীপকে কালবৈশাখি ঝড়ের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে মানুষের বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে, ভেঙে পড়েছে টিনের চাল। দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়স্থলও বৈশাখী ঝড় কেড়ে নিয়েছে।
‘বোশেখ’ কবিতার ঝড়ের কারণে গরিব-দুঃখীদের ক্ষয়ক্ষতির দিকটি উদ্দীপকে ফুটে উঠলেও এ দুর্দশার অবসান কামনা করার কোনো ইঙ্গিত এখানে নেই। আবার, সমাজের ধনী ও শোষকশ্রেণির শোষিত সম্পদের ধ্বংস কামনার দিকটিও উদ্দীপকে অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণরূপে ফুটিয়ে তুলতে পারেনি বলে আমি মনে করি।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে, রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে, বল ত এসব কাহাদের দান! তোমার অট্টালিকা কার খুনে রাঙা?- ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা। তুমি জান নাকো, কিন্তু পথের প্রতি ধূলিকণা জানে, ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে! (সূত্র: কুলি মজুর, কাজী নজরুল ইসলাম।

ক. ‘জেট’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে’- কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি কীভাবে ‘বোশেখ’ কবিতার সাথে সম্পর্কযুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকে শুধু ধনী-গরিবের অসমতার দিকটি ফুটে উঠেছে, পাঠ্য কবিতার পূর্ণাঙ্গ ভাব এখানে প্রকাশিত হয়নি।’- মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
২. এমন সময় আকাশে মেঘ নাই, কিছু নাই, অথচ কোথা হইতে একটা গর্জনধ্বনি শোনা গেল। পশ্চাতে দিগন্তের দিকে চাহিয়া দেখা গেল, একটা প্রকাণ্ড অদৃশ্য সম্মার্জনী ভাঙা ডালপালা, খড়কুটা, ধুলাবালি আকশে উড়াইয়া প্রচণ্ড বেগে ছুটিয়া আসিতেছে। 'রাখ রাখ সামাল সামাল, হায় হায়' করিতে করিতে মুহূর্তকাল পড়ে কী হইল কেহই বলিতে পারিল না। একটা ঘূর্ণা হাওয়া একটি সংকীর্ণ পথমাত্র আশ্রয় করিয়া প্রবলবেগে সমস্ত উন্মলিত বিপর্যস্ত করিয়া দিয়া নৌকা-কয়টাকে কোথায় কী করিল তাহার কোনো উদ্দেশ পাওয়া গেল না।

ক. আল মাহমুদ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
খ. রবীন্দ্রনাথকে কেন কবিদের মহান রাজা বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘বোশেখ’ কবিতার কোন দিকগুলো ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ.“‘বোশেখ’ কবিতার বিষয়বস্তু উদ্দীপকের চেয়েও ব্যাপক বিস্তৃত।” -মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অশীতিপর বৃদ্ধা সালেকা বেগমের তিনকূলে কেউ নেই। তিনি একটি ভাঙা ঘরে থাকেন। তার পাশের বাড়িতে থাকেন মকবুল মিয়া। মকবুল মিয়া গ্রামের প্রতাপশালী লোক। প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে খাবার দিয়ে সালেকা বেগমকে সাহায্য করে। নয়তো তিনি ভিক্ষা করে আনা চাল নিজেই রান্না করে খান। ভাঙা ঘরে থাকতে সালেকা বেগমের প্রায় সব ঋতুতেই অসুবিধা হয়, শুধু গরমের সময় তিনি স্বস্তিবোধ করেন। কিন্তু এবার বৈশাখের ঝড়ে তার সেই ঘরটির চাল উড়ে গেছে। অথচ ধনী মকবুল মিয়ার কোনো ক্ষতিই হয়নি। সালেকা বেগমের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে এখন। প্রকৃতি কেন বাছবিচার করে মানুষের ক্ষতি করে না- সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই তার অভিযোগ।

ক. রুদ্র সংহারক রূপে কোন মাস আবির্ভূত হয়?
খ. কবি কাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে দিতে বলেছেন এবং কেন বলেছেন?
গ. কবিতার কোন বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে? বর্ণনা করো।
ঘ. “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ‘বোশেখ’ কবিতার কিছু অংশের সাথে উদ্দীপকের মিল রয়েছে।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পদ্মা নদীর ভাঙনে কুষ্টিয়ার বাসিন্দা রিপন মিয়া এখন সর্বহারা। না আছে জমিজমা, বাড়িঘর। নেই আহার। এমতাবস্থায় পাশের গ্রামে পাড়ি জমালে চেয়ারম্যান সুরুজ আলী তাকে কাজ দেয় কিন্তু সারাদিন কাজ করলেও রিপন মিয়া ন্যায্য পারিশ্রমিক পায় না। অথচ চেয়ারম্যানের টাকাপয়সার কোনো অভাব নেই।

ক. ‘অদরকারি’ শব্দের অর্থ কী?
খ. কবি তুফানকে কাদের ধ্বংস করতে বলেছেন?
গ. উদ্দীপকের রিপন মিয়ার সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার গরিব শ্রেণির সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বর্ণনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের চেয়ারম্যান এবং ‘বোশেখ’ কবিতার ধনিকশ্রেণি একইসূত্রে গাঁথা।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।


‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কোনো রাতে ঝড় আরম্ভ হইলে সহজে কমিতে চায় না। সারা রাত্রি চলে পাপসংহারা। কোনো কোনো সময় প্রতিরাতে ঝড় আসে। সারাদিন খায়দায়, সন্ধ্যার দিকে আসন্ন ঝড়ের জন্য প্রস্তুত হয়। ঈশান কোণের কোলে মেঘ সারা আকাশে ধোঁয়ার করিয়া বাতাসে আসে। তারপর আসে ঝড়। মতো ছড়াইয়া গিয়া হু ‍হু করিয়া বাতাস আসে। তারপর আসে ঝড়।

ক. ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কোন ধরনের কবিতার বই?
খ. ‘বোশেখ’ কবিতায় 'সুবিচারের গল্প' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঝড়ের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতায় বর্ণিত ঝড়ের বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. "উদ্দীপকে বর্ণিত ঝড়ের পাপসংহারই বাতাসের কাছে ‘বোশেখ’ কবিতার কবির চাওয়া।- ‘বোশেখ’ কবিতা অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম , ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url