বোশেখ : আল মাহমুদ
|
| বোশেখ |
বোশেখ
আল মাহমুদ
যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়
জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে
নদীর পানি শূন্যে তুলে দেয় ছড়িয়ে
নুইয়ে দেয় টেলিগ্রাফের থামগুলোকে।
তিষ্ঠ হাওয়া, তিষ্ঠ মহাপ্রতাপশালী,
গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?
কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির ভিটে?
বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে টুনটুনিদের
উল্টে ফেলে দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি
হে দেবতা, বলো তোমার কী আনন্দ,
কী মজা পাও বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে?
রামায়ণে পড়েছি যার কীর্তিগাথা
সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি?
কালিদাসের মেঘদূতে যার কথা আছে
তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী?
তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস
উড়িয়ে নিলে গরিব চাষির ঘরের খুঁটি
কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে
তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো।
হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি,
তুমিই নাকি বাহন রাজা সোলেমানের
যার তলোয়ার অত্যাচারীর কাটতো মাথা
অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতো।
কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ
তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন করজোড়ে
যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি
কালবোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে।
ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান
ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের
পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান
বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলো।
| ‘বোশেখ’ কবিতার উৎস নির্দেশ : |
|---|
| কবি আল মাহমুদের কবিতা সমগ্রের পাখির কাছে ফুলের কাছে কাব্য থেকে ‘বোশেখ’ কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা : |
|---|
|
➠ বুনোহাঁস- যে হাঁস গৃহপালিত নয়, বনে থাকে। ➠ জেট- দ্রুতগতিসম্পন্ন উড়োজাহাজ। ➠ টেলিগ্রাফ- সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। ১৮৩৭সালে আধুনিক এই যন্ত্র বিদ্যুতের সাহায্যে পরিচালিত হয়। (এখন এ ধরনের যন্ত্র আর ব্যবহার হয় না।)। ➠ তিষ্ঠ- স্থির হও। ➠ রামায়ণ- পৃথিবীর চারটি জাত মহাকাব্যের একটি। রচয়িতা- বাল্মীকি। ➠ মহাবীর হনুমান- রামায়ণে বীর হনুমানের বীরত্বপূর্ণ বহু কর্মের কথা উল্লেখ আছে। রামায়ণোক্ত হনুমানকে মহাবীর হনুমান বলা হয়। ➠ কালিদাসের মেঘদূত- সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন কালিদাস। সংস্কৃত ভাষায় তাঁর অমর রচনা মেঘদূতম্ কাব্য। মেঘদূতকে বাংলায় মেঘদূত বলা হয়। ➠ রাজা সোলেমান- ডেভিডের পুত্র এবং ইসরাইলের তৃতীয় রাজা। তিনি বীর ও দক্ষ যোদ্ধা ছিলেন। ➠ রবীন্দ্রনাথ- বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি। ➠ অদরকারি- যার প্রয়োজন নেই। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি : |
|---|
| বাংলাদেশের একটি পরাক্রমশালী মাস বৈশাখ। ঋতুপরিক্রমায় বার বার সে রুদ্র সংহারক রূপে আবির্ভূত হয়। বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাসে এবং আগ্রাসী থাবায় কখনও কখনও লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এক-একটা জনপদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয় দুঃখী দরিদ্র মানুষ বা অসহায় কোন প্রাণী। ছিঁড়ে যায় গরিব মাঝির পালের দড়ি, উড়ে যায় দরিদ্র চাষির ঘর। ছোট্ট টুনটুনির বাসাও রেহাই পায় না। কিন্তু ধনীর প্রাসাদের কোন ক্ষতি হয় না। কবি তাই আক্ষেপ করে বলছেন, প্রকৃতির যত নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা কেন তা শুধু এই গরিবের বিরুদ্ধেই ঘটবে? অবশেষে বৈশাখের কাছে তার আহ্বান, ধ্বংস যদি করতেই হয়, তাহলে গুঁড়িয়ে দাও সেইসব অট্টালিকা যা গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। এই কবিতায় বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করছেন কবি। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার কবি পরিচিতি : |
|---|
| আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং পরিচালকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। স্বাধীনতার পর তিনি ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। তাঁর কবিতায় লোকজ শব্দের সুনিপুণ প্রয়োগ যেমন লক্ষণীয় তেমনি রয়েছে ঐতিহ্যপ্রীতি। তাঁর প্রকাশিত কাব্য: লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি। কথাসাহিত্য: পানকৌড়ির রক্ত, পাখির কাছে ফুলের কাছে তাঁর শিশুতোষ কবিতার বই। কবি ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন : |
|---|
| ১। কালবৈশাখী আমাদের সমাজ ও পারিবারিক জীবনে যে ক্ষতি করে তার তালিকা তৈরি করো। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘বোশেখ’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
১। আল মাহমুদ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
১. পবনের কাছে কবি মিনতি করেছেন কেন?
২. টেলিগ্রাফ কী? বুঝিয়ে লেখো।
৩. মেঘদূত বলতে কী বোঝ?
৪. ‘বোশেখ’ কবিতার মূলভাব কী?
৫. কবির প্রত্যাশিত সমাজের জন্য বাতাসের কী করতে হবে?
৬. ‘গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? উত্তর:
গরিব, শ্রমজীবী আর নিম্নবিত্ত মানুষের পক্ষ নিয়েছেন কবি।
৭. ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি যেন শ্রমজীবী শ্রেণির প্রতিনিধি—কীভাবে? ব্যাখ্যা
করো।
৮. রবীন্দ্রনাথ করজোড়ে বৈশাখের কেমন রূপ চেয়েছেন?
৯. ‘হায়রে কত সুবিচারের গল্প শুনি’—কোন সুবিচারের কথা বলা হয়েছে? বর্ণনা
করো।
১০. ‘তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস’—ব্যাখ্যা করো।
১১. ‘বোশেখ’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘কবিদের এক মহান রাজা’ বলার কারণ
কী তা ব্যাখ্যা করো।
১২. বাতাস প্রাসাদের ইট খসাতে পারছে না কেন?
১৩. ‘কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে’—এখানে ‘যারা’ দ্বারা কাদের
বোঝানো হয়েছে?
১৪. ‘তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী?’—এই চরণ দুটি ব্যাখ্যা করো।
১৫. ‘কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ/তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিল
করজোড়ে’—ব্যাখ্যা করো।
১৬. রাজা সোলেমানের পরিচয় দাও।
১৭. ‘যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়/ জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড়
মারে’—চরণ দুটি বুঝিয়ে লেখো।
১৮. কবির প্রার্থনা পবনের কাছে কেন?
১৯. ‘বোশেখ’ কবিতায় কবি আল মাহমুদের আক্ষেপ প্রকাশ পেয়েছে কেন?
২১. ‘বোশেখ’ মাসই কবির আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক কেন?
২২. ‘বোশেখ’ কবিতায় বৈশাখ মাসকে কীভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে?
২৩. ‘বোশেখ’ কবিতার আলোকে কবির সাম্যবাদী মনোভাব আলোচনা করো।
২৪. ‘হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
২৫. গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?/ কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির
ভিটে?—ব্যাখ্যা করো।
২৬. বৈশাখ সম্পর্কে কী জান লেখো।
২৭. ‘পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান/ বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে
ফেলো।’—বুঝিয়ে লেখো।
২৮. ‘বোশেখ’ কবিতায় প্রকৃতির রূপ কেমন? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘তিষ্ঠ’ কথার অর্থ কী? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কী? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কালিদাসের ‘মেঘদূত’-এ কার কথা বলা হয়েছে? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. রাজা সোলেমান কে ছিলেন? |
|
ক. রাজা সোলেমান ছিলেন ডেভিডের পুত্র এবং ইসরাইলের তৃতীয় রাজা।
গ. উদ্দীপকে ‘বোশেখ’ কবিতার বৈশাখের আগ্রাসি দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘বোশেখ’ কবিতায় বৈশাখের আগ্রাসনের পাশাপাশি ধনী-গরিবের মাঝে বৈষম্যের
মতো অনেক বিষয় ফুটে ওঠায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে
পারেনি। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. টেলিগ্রাফ কী? |
|
ক. টেলিগ্রাফ হলো সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত
যন্ত্র।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার কালবৈশাখি ঝড়ের রুদ্র সংহারক রূপটি
বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকের জোতদার শ্রেণি ও ‘বোশেখ’ কবিতার ধনিকশ্রেণি তাদের অন্যায়,
অত্যাচার ও শোষণের কারণে একইসূত্রে গাঁথা। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. স্বাধীনতার পর আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন? |
|
ক. স্বাধীনতার পর আল মাহমুদ 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে
নিযুক্ত হন।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বোশেখ’ কবিতার অসহায়দের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার
বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই 'বোশেখ'
কবিতায় কবির প্রত্যাশিত বিষয়। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. জেট কী? |
|
ক. জেট হলো দ্রুতগতিসম্পন্ন উড়োজাহাজ।
গ. উদ্দীপকে ‘বোশেখ’ কবিতার বৈশাখের আগ্রাসি দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. সমাজের ধনী ব্যক্তিদের শ্রমজীবী মানুষের উপর করা শোষণ ও শোষকের ধ্বংস
কামনা করার বিষয়টি উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি ‘বোশেখ’ কবিতার
সমগ্র দিক ফুটিয়ে তুলতে পারেনি। |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘জেট’ শব্দের অর্থ কী? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. আল মাহমুদ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. রুদ্র সংহারক রূপে কোন মাস আবির্ভূত হয়? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘অদরকারি’ শব্দের অর্থ কী? |
| ‘বোশেখ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কোন ধরনের কবিতার বই? |
| তথ্যসূত্র : |
|---|
|
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম , ২০১৫। |

