তপুকে আবার ফিরে পাবো, একথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের
মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চার বছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো
দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখবো বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে।
ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম
হয় না। যদিও একটু আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত
পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠকঠক করে কাঁপে।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই। খবর পেয়ে অনেকেই দেখতে আসে ওকে।
অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে ওরা। আমরা যে অবাক হই না তা নয়। আমাদের চোখেও
বিস্ময় জাগে। দু’বছর ও আমাদের সাথে ছিল। ওর শ্বাসপ্রশ্বাসের খবরও আমরা রাখতাম।
সত্যি কি অবাক কাণ্ড দেখ তো, কে বলবে যে এ তপু। ওকে চেনাই যায় না। ওর মাকে ডাকো,
আমি হলপ করে বলতে পারি, ওর মা-ও চিনতে পারবে না ওকে।
চিনবে কী করে? জটলার একপাশ থেকে রাহাত নিজের মত বলে, চেনার কোনো উপায় থাকলে তো
চিনবে। এ অবস্থায় কেউ কাউকে চিনতে পারে না। বলে সে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
আমরাও কেমন যেন আনমনা হয়ে পড়ি ক্ষণেকের জন্য। অনেক কষ্টে ঠিকানা জোগাড় করে কাল
সকালে রাহাতকে পাঠিয়েছিলাম, তপুর মা আর বউকে খবর দেবার জন্য।
সারাদিন এখানে সেখানে পইপই করে ঘুরে বিকেলে যখন রাহাত ফিরে এসে খবর দিলো, ওদের
কাউকে পাওয়া যায় নি তখন রীতিমতো ভাবনায় পড়লাম। এখন কী করা যায় বল তো, ওদের এক
জনকেও পাওয়া গেল না? আমি চোখ তুলে তাকালাম রাহাতের দিকে। বিছানার ওপর ধপাস করে
বসে রাহাত বললো, ওর মা মারা গেছে। মারা গেছে? আহা সেবার এখানে গড়াগড়ি দিয়ে কী
কান্নাটিই না তপুর জন্যে কেঁদেছিলেন তিনি। ওঁর কান্না দেখে আমার নিজের চোখে পানি
এসে গিয়েছিল। বউটার খবর?
ওর কথা বলো না আর। রাহাত মুখ বাঁকালো। অন্য আর এক জায়গায় বিয়ে করেছে। সেকি! এর
মধ্যে বিয়ে করে ফেললো মেয়েটা? তপু ওকে কত ভালোবাসতো। নাজিম বিড়বিড় করে বলে উঠলো
চাপা স্বরে। সানু বললো, বিয়ে করবে না তো কি সারা জীবন বিধবা হয়ে থাকবে নাকি
মেয়েটা। বলে তপুর দিকে তাকালো সানু। আমরাও দৃষ্টি ফিরিয়ে আনলাম ওর ওপর।
সত্যি, কে বলবে এ চার বছর আগেকার সেই তপু, যার মুখে এক ঝলক হাসি আঠার মতো লেগে
থাকতো সব সময়, তার দিকে তাকাতে ভয়ে আমার রক্ত হিম হয়ে আসে কেন? দু'বছর সে আমাদের
সাথে ছিলো। আমরা ছিলাম তিনজন। আমি, তপু আর রাহাত।
তপু ছিলো আমাদের মাঝে সবার চাইতে বয়সে ছোট। কিন্তু বয়সে ছোট হলে কী হবে, ও-ই ছিলো
একমাত্র বিবাহিত। কলেজে ভর্তি হবার বছরখানেক পরে রেণুকে বিয়ে করে তপু। সম্পর্কে
মেয়েটা আত্মীয়া হতো ওর। দোহারা গড়ন, ছিপছিপে কটি, আপেল রঙের মেয়েটা প্রায়ই ওর
সাথে দেখা করতে আসতো এখানে। ও এলে আমরা চাঁদা তুলে চা আর মিষ্টি এনে খেতাম। আর
গল্পগুজবে মেতে উঠতাম রীতিমতো। তপু ছিল গল্পের রাজা। যেমন হাসতে পারতো ছেলেটা,
তেমনি গল্প করার ব্যাপারেও ছিল ওস্তাদ।
যখন ও গল্প করতে শুরু করতো, তখন কাউকে কথা বলার সুযোগ দিতো না। সেই যে লোকটার কথা
তোমাদের বলেছিলাম না সেদিন। সেই হোঁৎকা মোটা লোকটা, ক্যাপিটালে যার সাথে আলাপ
হয়েছিল, ওই যে, লোকটা বলছিল সে বার্নাড’শ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে একটা ছ্যাকড়া
গাড়ির তলায় পড়ে। আর সেই মেয়েটা, যে ওকে বিয়ে করবে বলে কথা দিয়েছিলো ...ও মারা
যাবার পরের দিন এক বিলেতি সাহেবের সাথে পালিয়ে গেছে....রুণী মেয়েটার খবর জানতো।
সে কী, রুণীকে চিনতে পারছো না? শহরের সেরা নাচিয়ে ছিলো, আজকাল অবশ্য রাজনীতি
করছে। সেদিন দেখা হলো রাস্তায়। আগে তো পাটকাঠি ছিলো। এখন বেশ মোটাসোটা হয়েছে।
দেখা হতেই রেস্তোরাঁয় নিয়ে খাওয়ালো। বিয়ে করেছি শুনে জিজ্ঞেস করলো, বউ দেখতে কেমন
হয়েছে, এবার তুমি এসো। উঃ, কথা বলতে শুরু করলে যেন আর ফুরোতে চায় না। রাহাত
থামিয়ে দিতে চেষ্টা করতো ওকে।
রেণু বলতো, আর বলবেন না, এত বক্তে পারে.....
বলে বিরক্তিতে না লজ্জায় লাল হয়ে উঠতো সে।
তবু থামতো না তপু। এক গাল হাসি ছড়িয়ে আবার পরম্পরাহীন কথার তুবড়ি ছোটাত সে, থাকগে
অন্যের কথা যখন তোমরা শুনতে চাও না নিজের কথাই বলি। ভাবছি, ডাক্তারিটা পাশ করতে
পারলে এ শহরে আর থাকবো না, গাঁয়ে চলে যাবো। ছোট্ট একটা ঘর বাঁধবো সেখানে। আর,
তোমরা দেখো, আমার ঘরে কোনো জাঁমজমক থাকবে না। একেবারে সাধারণ, হাঁ, একটা ছোট্ট
ডিসপেনসারি আর কিছু না। মাঝে মাঝে এমনি স্বপ্ন দেখায় অভ্যন্ত ছিল তপু। এককালে
মিলিটারিতে যাবার শখ ছিল ওর। কিন্তু বরাত মন্দ। ছিলো জন্মখোঁড়া। ডান পা থেকে বাঁ
পাটা ইঞ্চি দুয়েক ছোট ছিল ওর। তবে বাঁ জুতোর হিলটা একটু উঁচু করে তৈরি করায় দূর
থেকে ওর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলাটা চোখে পড়তো না সবার। আমাদের জীবনটা ছিলো যান্ত্রিক।
কাক-ডাকা ভোরে বিছানা ছেড়ে উঠতাম আমরা। তপু উঠতো সবার আগে। ও জাগাতো আমাদের
দুজনকে, ওঠো, ভোর হয়ে গেছে দেখছো না? অমন মোষের মতো ঘুমোচ্ছো কেন, ওঠো। গায়ের উপর
থেকে লেপটা টেনে ফেলে দিয়ে জোর করে আমাদের ঘুম ভাঙাতো তপু। মাথার কাছে জানালাটা
খুলে দিয়ে বলতো, দেখ বাইরে কেমন মিষ্টি রোদ উঠেছে। আর ঘুমিয়ো না, ওঠো।
আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে, নিজ হাতে চা তৈরি করতো তপু। চায়ের পেয়ালায় শেষ চুমুক দিয়ে
আমরা বই খুলে বসতাম। তারপর দশটা নাগাদ স্নানাহার সেরে ক্লাশে যেতাম আমরা।
বিকেলটা কাটতো বেশ আমোদ-ফুর্তিতে। কোনোদিন ইস্কাটনে বেড়াতে যেতাম আমরা। কোনোদিন
বুড়িগঙ্গার ওপারে। আর যেদিন রেণু আমাদের সাথে থাকতো, সেদিন আজিমপুরের পাশ দিয়ে
হাঁটতে হাঁটতে দূর গাঁয়ের ভেতর হারিয়ে যেতাম আমরা। রেণু মাঝে মাথে আমাদের জন্য
ডালমুট ভেজে আনতো বাসা থেকে। গেঁয়ো পথে হাঁটতে হাঁটতে মুড়মুড় করে ডালমুট চিবোতাম
আমরা। অপু বলতো, দেখো, রাহাত, আমার মাঝে মাঝে কি মনে হয় জান? কী?
এই যে আঁকাবাঁকা লালমাটির পথ, এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন। অনন্তকাল ধরে যদি
এমনি চলতে পারতাম আমরা। একি, তুমি আবার কবি হলে কবে থেকে? ভ্রু জোড়া কুঁচকে হঠাৎ
প্রশ্ন করতো রাহাত। না, না, কবি হতে যাব কেন। ইতস্তত করে বলতো তপু। তবু কেন যেন
মনে হয়...........। স্বপ্নালু চোখে স্বপ্ন নাবতো তার। আমরা ছিলাম তিনজন। আমি, তপু
আর রাহাত। দিনগুলো বেশ কাট-ছিলো আমাদের। কিন্তু অকস্মাৎ ছেদ পড়লো। হোস্টেলের
বাইরে, সবুজ ছড়ানো মাঠটাতে অগুণিত লোকের ভীড় জমেছিলো সেদিন। ভোর হতে ক্রুদ্ধ
ছেলেবুড়োরা এসে জমায়েত হয়েছিলো সেখানে। কারো হাতে প্ল্যাকার্ড, কারো হাতে শ্লোগান
দেবার চুঙ্গো, আবার কারো হাতে লম্বা লাঠিটায় ঝোলানো কয়েকটা রক্তাক্ত জামা। তর্জনী
দিয়ে ওরা জামাগুলো দেখাচ্ছিলো, আর শুকনো ঠোঁট নেড়ে এলোমেলো আর কী যেন বলছিলো
নিজেদের মধ্যে। তপু হাত ধরে টান দিলো আমায়, এসো। কোথায়? কেন, ওদের সাথে। চেয়ে
দেখি, সমুদ্রগভীর জনতা ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছে। এসো। চলো। আমরা মিছিলে পা
বাড়ালাম। একটু পরে পেছন ফিরে দেখি, রেণু হাঁপাতে হাঁপাতে আমাদের দিকে ছুটে আসছে।
যা ভেবেছিলাম, দৌড়ে এসে তপুর হাত চেপে ধরলো রেণু। কোথায় যাচ্ছ তুমি। বাড়ি চলো।
পাগল নাকি, তপু হাতটা ছাড়িয়ে নিলো। তারপর বললো, তুমিও চলো না আমাদের সাথে। না,
আমি যাবো না, বাড়ি চলো। রেণু আবার হাত ধরলো ওর। কী বাজে বকছেন। রাহাত রেগে উঠলো
এবার। বাড়ি যেতে হয় আপনি যান। ও যাবে না। মুখটা ঘুরিয়ে রাহাতের দিকে ক্রুদ্ধ
দৃষ্টিতে এক পলক তাকালো রেণু। তারপর কাঁদো কাঁদো গলায় বললো, দোহাই তোমার বাড়ি
চলো। মা কাঁদছেন। বললাম তো যেতে পারবো না, যাও। হাতটা আবার ছাড়িয়ে নিলো তপু।
রেণুর করুণ মুখের দিকে তাকিয়ে মায়া হলো। বললাম, কী ব্যাপার, আপনি এমন করছেন কেন,
ভয়ের কিছু নেই, আপনি বাড়ি যান। কিছুক্ষণ ইতস্তত করে টলটল চোখ নিয়ে ফিরে গেলো
রেণু। মিছিলটা তখন মেডিকেলের গেট পেরিয়ে কার্জন হলের কাছাকাছি এসে গেছে। তিনজন
আমরা পাশাপাশি হাঁটছিলাম। রাহাত শ্লোগান দিচ্ছিলো। আর তপুর হাতে ছিল একটি মস্ত
প্লাকার্ড। তার ওপর লাল কালিতে লেখা ছিলো, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। মিছিলটা
হাইকোর্টের মোড়ে পৌঁছতে অকস্মাৎ আমাদের সামনের লোকগুলো চিৎকার করে পালাতে লাগলো
চারপাশে। ব্যাপার কী বুঝবার আগেই চেয়ে দেখি, প্লাকার্ডসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে
তপু। কপালের ঠিক মাঝখানটায় গোল একটা গর্ত। আর সে গর্ত দিয়ে নির্ঝরের মতো রক্ত
ঝরছে তার।
তপু! রাহাত আর্তনাদ করে উঠলো।
আমি তখন বিমূঢ়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম।
দুজন মিলিটারি ছুটে এসে তপুর মৃতদেহটা তুলে নিয়ে গেলো আমাদের সামনে থেকে। আমরা
এতটুকুও নড়লাম না, বাধা দিতে পারলাম না। দেহটা যেন বরফের মতো জমে গিয়েছিলো, তারপর
আমিও ফিরে আসতে আসতে চিৎকার করে উঠলাম, রাহাত পালাও।
কোথায়? হতবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো রাহাত।
তারপর উভয়ে উর্ধ্বশ্বাসে দৌড় দিলাম আমরা ইউনিভার্সিটির দিকে। সে রাতে তপুর মা এসে
গড়াগড়ি দিয়ে কেঁদেছিলেন এখানে। রেণুও এসেছিলো, পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা
নেমেছিলো তার। কিন্তু আমাদের দিকে একবারও তাকায় নি সে। একটা কথাও আমাদের সাথে
বলেনি রেণু। রাহাত শুধু আমার কানে ফিসফিস করে বলেছিলো, তপু না মরে আমি মরলেই ভালো
হতো। কী অবাক কাণ্ড দেখ তো, পাশাপাশি ছিলাম আমরা। অথচ আমাদের কিছু হলো না, গুলি
লাগলো কিনা তপুর কপালে কী অবাক কাণ্ড দেখ তো।
তারপর চারটে বছর কেটে গেছে। চার বছর পর তপুকে ফিরে পাবো, একথা ভুলেও ভাবি নি
কোনোদিন। তপু মারা যাবার পর রেণু এসে একদিন মালপত্রগুলো সব নিয়ে গেলো ওর। দুটো
স্যুটকেস, একটা বইয়ের ট্রাঙ্ক, আর একটা বেডিং। সেদিনও মুখ ভার করে ছিলো রেণু।
কথা বলেনি আমাদের সাথে। শুধু রাহাতের দিকে একপলক তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো, ওর একটা
গরম কোট ছিলো না, কোটটা কোথায়? ও, ওটা আমার স্যুটকেসে। ধীরে কোটটা বের করে
দিয়েছিলো রাহাত। এরপর দিন কয়েক তপুর সিটটা খালি পড়ে ছিলো। মাঝে মাঝে রাত শেষ হয়ে
এলে আমাদের মনে হতো, কে যেন গায়ে হাত দিয়ে ডাকছে আমাদের।
ওঠো, আর ঘুমিও না, ওঠো।
চোখ মেলে কাউকে দেখতে পেতাম না, শুধু ওর শূন্য বিছানার দিকে তাকিয়ে মনটা ব্যথায়
ভরে উঠতো। তারপর একদিন তপুর সিটে নতুন ছেলে এলো একটা। সে ছেলেটা বছর তিনেক ছিলো।
তারপর এলো আর একজন। আমাদের নতুন রুমমেট। বেশ হাসিখুশি ভরা মুখ।
সেদিন সকালে বিছানায় বসে, ‘এনাটমি’র পাতা উল্টাচ্ছিলো সে। তার চৌকির নিচে একটা
ঝুড়িতে রাখা ‘স্কেলিটনের’ ‘স্কাল’টা বের করে দেখছিলো আর বইয়ের সাথে মিলিয়ে পড়ছিলো
সে। তারপর এক সময় হঠাৎ রাহাতের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, রাহাত সাহেব, একটু
দেখুন তো, আমার স্কালের কপালের মাঝখানটায় একটা গর্ত কেন? কী বললে? চমকে উঠে উভয়েই
তাকালাম ওর দিকে।
রাহাত উঠে গিয়ে স্কালটা তুলে নিলো হাতে। ঝুঁকে পড়ে সে দেখতে লাগলো অবাক হয়ে। হাঁ,
কপালের মাঝখানটায় গোল একটা ফুটো, রাহাত তাকালো আমার দিকে, ওর চোখের ভাষা বুঝতে
ভুল হলো না আমার। বিড়বিড় করে বললাম, বাঁ পায়ের হাড়টা দু‘ইঞ্চি ছোট ছিলো ওর। কথাটা
শেষ না হতেই ঝুড়ি থেকে হাড়গুলো তুলে নিলো রাহাত। হাতগুলো ঠক্ করে কাঁপছিলো ওর।
একটু পরে উত্তেজিত গলায় চিৎকার করে বললো, বাঁ পায়ের টিবিয়া ফেবুলাটা দু'ইঞ্চি
ছোট। দেখো, দেখো।
উত্তেজনায় আমিও কাঁপছিলাম।
ক্ষণকাল পরে স্কালটা দুহাতে তুলে ধরে রাহাত বললো, তপু।
বলতে গিয়ে গলাটা ধরে এলো ওর।
উৎস নির্দেশ :
‘একুশের গল্প’ শীর্ষক ছোটগল্পটি জহির রায়হানের
গল্প-সমগ্র (১৯৭৯) থেকে সংকলন করা হয়েছে।
শব্দার্থ ও টীকা :
➠ উদ্বিগ্ন- দুশ্চিন্তাগ্রস্ত; উৎকণ্ঠিত; ব্যাকুল।
➠ তন্দ্রা- বিস্মর নিদ্রার আবেশ বা খোর; ঘুমের ঝোঁক; ঘুমঘুম ভাব।
➠ বিস্ময়- আশ্চর্য: চমৎকৃত ভাব।
➠ ওস্তাদ- গুরু; শিক্ষক।
➠ এনাটমি- [ইংরেজি-Anatomy] জীববিজ্ঞানের একটি ক্ষেত্র যা জীবদেহের গঠন
শনাক্তকরণ এবং বর্ণনার সাথে সম্পর্কিত।
➠ স্কেলিটন- কঙ্কাল [ইংরেজি skeleton]
➠ স্কাল- মাথার খুলি [ইংরেজি skull]।
➠ বার্নার্ড শ- [ইংরেজি- George Bernard shaw] একজন আইরিশ নাট্যকার ও
সমালোচক)
পাঠ-পরিচিতি :
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত এ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে
প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান এক তরুণের আত্মত্যাগ। গল্পটিতে কথক নিজেও একটি
চরিত্র; অর্থাৎ এ গল্পের ঘটনামালা উপস্থাপিত হয়েছে প্রথম পুরুষের বয়ানে।
কথকের সমান্তরালে রাহাত ও তপু নামক আরও দুটি চরিত্রকে আমরা সক্রিয়ভাবে
অংশগ্রহণ করতে দেখি। মূলত এই তিন বন্ধুর আন্তরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক
কর্মকাণ্ডের বিবরণের ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলনকালীন বাংলাদেশের
বাস্তবতা।
তপু ‘একুশের গল্পে’র প্রধান চরিত্র। সে বিবাহিত; রেণু তার স্ত্রী। বাড়িতে
আছেন বৃদ্ধ মা। কিন্তু পারিবারিক সব পিছুটান উপেক্ষা করে প্ল্যাকার্ড হাতে
তপু ছুটে যায় মিছিলে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার অধিকার চাইতে গিয়ে ভাষা
আন্দোলনে শহিদ হয় সে। তপুর কপালের মাঝ বরাবর লেগেছিল গুলি। ছত্রভঙ্গ
মিছিলের সামনে থেকে মিলিটারিরা তুলে নিয়ে যায় তার মৃতদেহ। ঘটনার
ধারাবাহিকতায় চার বছর পর কলেজের হোস্টেলে একদিন আবিষ্কৃত হয় একটি কঙ্কাল।
মাথার খুলির ফুটো আর বাম পায়ের টিবিয়া ফেবুলা দেখে বন্ধুরা বুঝতে পারে
কঙ্কালটি প্রকৃতপক্ষে শহিদ তপুর। কেননা তার বাম পা ছিল ডান পায়ের চেয়ে দুই
ইঞ্চি ছোট। তপুর মতো অনেক প্রাণের বিসর্জন এবং নিরন্তর সংগ্রামের মাধ্যমেই
অর্জিত হয়েছে বাংলা ভাষার অধিকার। শুধু তা-ই নয়, পরবর্তীকালে ভাষা আন্দোলন
হয়ে উঠেছিল বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের প্রধান প্রেরণা। 'একুশের গল্পে' তপুর
কঙ্কাল হিসেবে ফিরে আসা যেন প্রতীকী অর্থ বহন করে। আমরা বুঝতে পারি, জাতীয়
ইতিহাসে বীরদের কোনো মৃত্যু নেই: বারবার তাঁরা ফিরে আসে ভবিষ্যত প্রজন্মের
কাছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রেরণা জোগায়।
কবি পরিচিতি :
জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ শে আগস্ট ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ
করেন। তাঁর আসল নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। একজন
ছোটগল্পকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবে জহির রায়হান খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি মূলত
মধ্যবিত্ত জীবনের রূপকার। চারপাশের মানুষের সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনার চিত্র
তাঁর রচনাকে সমৃদ্ধ করেছে। সমাজের নানা বৈষম্য ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধেও তাঁর
কণ্ঠ ছিল বলিষ্ঠ।
হাজার বছর ধরে, বরফ গলা নদী, শেষ বিকেলের মেয়ে, আরেক ফাল্গুন
ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার
হিসেবেও জহির রায়হানের পরিচিতি রয়েছে।
স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয় লাভের অল্পকাল পরেই ১৯৭২ সালের ৩০ শে
জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ ও শহিদ হন। তাঁর লাশ পাওয়া যায়নি।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
লেখক সত্য বা ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে যে সাহিত্য তৈরি করেন, তাকে পুরোপুরি
ইতিহাস বা সত্য ঘটনা বলা চলে না। কারণ লেখক এখানে কল্পনার আশ্রয় নিয়ে
নতুনভাবে কাহিনি, ঘটনা, চরিত্র ইত্যাদি সৃষ্টি করে থাকেন। ভাষা আন্দোলনের
ইতিহাসে ঘটনার যে বিবরণ আমরা পড়ি তা বাস্তব সত্য। কিন্তু তাতে তপুর মতো
কোনো চরিত্র আমাদের মনে ফুটে ওঠে না। কিন্তু গল্পের তপু আমাদের মনের
পর্দায় জীবন্ত হয়ে বাস্তব সত্যকেও ছাড়িয়ে যায়।
ক. ‘স্কেলিটন’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ঘটনা কীভাবে প্রতিফলিত
হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে যে রীতি-বৈশিষ্ট্যের পরিচয় মেলে তা
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের সার্থকতা বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘স্কেলিটন’ শব্দের অর্থ কঙ্কাল।
খ. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রতিফলিত হয়েছে
এক প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান তরুণের আত্মত্যাগের মাধ্যমে।
➠ ‘একুশের গল্প’ মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত একটি
গল্প। গল্পটিতে কথক নিজেও একটি চরিত্র। কথকের সমান্তরালে রয়েছে রাহাত ও
তপু নামক দুইটি চরিত্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ। এই তিন বন্ধুর আন্তরিক সম্পর্ক
এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণের ভিতর দিয়ে উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলনকালীন
বাংলাদেশের বাস্তবতা। ভাষার জন্য তপুর জীবন উৎসর্গ করা এবং তার ফিরে আসার
ঘটনাটি গল্পকে অনন্য মাত্রা দান করেছে।
গ. উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের ইতিহাস-আশ্রিত হওয়ার বৈশিষ্ট্যটির
পরিচয় মেলে।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পটি জহির রায়হানের ‘গল্প-সমগ্র’ (১৯৭৯) থেকে
সংকলন করা হয়েছে। এটি একটি ইতিহাস-আশ্রিত গল্প। এখানে ভাষা আন্দোলনের
পটভূমিতে মেডিকেল ছাত্র তপুর আত্মত্যাগের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
গল্পটিতে কথক নিজেও একটি চরিত্র; অর্থাৎ এ গল্পের ঘটনামালা উপস্থাপিত
হয়েছে প্রথম পুরুষের বয়ানে। কথকের সমান্তরালে এ গল্পে রাহাত ও তপু নামক
দুইটি চরিত্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ দেখা যায়।
➠ উদ্দীপকে ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে রচিত সাহিত্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিবৃত
হয়েছে। লেখক ঐতিহাসিক বা সত্য ঘটনা নিয়ে যে সাহিত্য রচনা করেন, তাকে
পুরোপুরি ইতিহাস বা সত্য ঘটনা বলা যায় না। কারণ, লেখক এখানে কল্পনার
আশ্রয় নিয়ে নতুনভাবে কাহিনি, ঘটনা, চরিত্র ইত্যাদি সৃষ্টি করে থাকেন। ফলে
আমরা যেসব ইতিহাস-নির্ভর বই পড়ি, সেগুলো বাস্তব সত্য হলেও চরিত্র ও ঘটনা
কাল্পনিক। ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পেও এই রীতি-বৈশিষ্ট্যের সন্ধান মেলে।
এখানে ভাষা আন্দোলনের ঘটনা সত্য হলেও একে ঘিরে আবর্তিত তপু ও তার
বন্ধুদের গল্পটি কাল্পনিক। যার ফলে এটি হয়ে উঠেছে একটি ইতিহাস-আশ্রিত
গল্প। তাই উদ্দীপকে আলোচ্য গল্পের এ রীতি-বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
ঘ. উদ্দীপকের ইতিহাস-আশ্রিত সাহিত্যের বৈশিষ্ট্যের আলোকে ‘একুশের গল্প’
একটি সার্থক ছোটোগল্প।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে উঠে এসেছে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময়ে
ঢাকার উত্তাল রাজনৈতিক বাস্তবতা। মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে শহিদ হয় তপু।
পুলিশ তার লাশ নিয়ে চলে যায়। চার বছর পর ঘটনাচক্রে মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে
তপুর রুমেই তার বন্ধুরা তপুর কঙ্কাল আবিষ্কার করে। গল্পটিতে এভাবে তপুর
ফিরে আসা যেন প্রতীকী অর্থ বহন করে। এর মাধ্যমে পাঠক বুঝতে পারে যে,
জাতীয় ইতিহাসে বীরদের মৃত্যু নেই। তারা বারবার ফিরে এসে ভবিষ্যৎ
প্রজন্মকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রেরণা জোগায়।
➠ উদ্দীপকে ইতিহাসনির্ভর সাহিত্যের নানান দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
সেখানে উঠে এসেছে তপুর কথাও। ইতিহাস-আশ্রিত সাহিত্যের চরিত্র কাল্পনিক
হলেও তা পাঠকের মনের পর্দায় জীবন্ত হয়ে বাস্তবকেও ছাড়িয়ে যায়। অথচ বাস্তব
সত্য ঘটনার বিবরণ পড়ে আমাদের মনে কোনো নির্দিষ্ট চরিত্র ফুটে ওঠে না।
চরিত্র ও গল্পকে জীবন্ত করে তোলাই যেকোনো সাহিত্যের সার্থকতা।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্প পাঠকের মনে এক করুণ অনুভূতি সৃষ্টি করতে সক্ষম।
গল্পটি পাঠ করে যেন সবগুলো চরিত্র ও কাহিনিকে অনুভব করা যায়, যা উদ্দীপকে
বর্ণিত সার্থক সাহিত্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাই উদ্দীপকের আলোকে
বলা যায়, ‘একুশের গল্প’ ইতিহাস-আশ্রিত ছোটোগল্প হিসেবে নিঃসন্দেহে
সার্থকতা লাভ করেছে।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উজ্জ্বল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র শ্রান্ত স্বভাবের এ
ছাত্রের সময় কাটে লাইব্রেরিতে বই পড়ে, আর শিক্ষকদের সঙ্গে পাঠ্য বিষয়
নিয়ে আলোচনা করে। এর মধ্যে শুরু হয় মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন। সেই চুপচাপ
ভালো ছাত্র উজ্জ্বল হঠাৎ করেই এগিয়ে যায় একুশের মিছিলে। সে আর ফিরে আসে
না।
ক. রেণু মাঝে মাঝে কী ভেজে নিয়ে আসত?
খ. ‘ভোর হাতে ক্রুদ্ধ ছেলেবুড়োরা এসে জমায়েত হয়েছিল’- উক্তিটির মাধ্যমে
কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের উজ্জ্বল চরিত্রের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের তপু
চরিত্রের সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. উদ্দীপকের উজ্জ্বলের ফিরে না আসার আলোকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের
রাজনৈতিক বাস্তবতার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
ক. রেণু মাঝে মাঝে ডালমুট ভেজে নিয়ে আসত।
খ. ১৯৫২ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে শাসকেরা যখন
বাংলাকে স্বীকৃতি দিতে চায়নি, তখন রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবি নিয়ে
কুদ্ধ ছেলে-বুড়োরা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে এসে জমায়েত হয়েছিল।
➠ ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য হয়েছিল
রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন। এসময় যুবক থেকে বুড়ো সব বয়সি মানুষ এ আন্দোলনে
অংশগ্রহণ করেছিল। তারা সবাই তৎকালীন শাসকদের উপর ক্ষুব্ধ ছিল। ফলে তারা
ভোর থেকেই হাতে প্ল্যাকার্ড, স্লোগান দেওয়ার ঢুঙ্গো, লম্বা লাটিতে ঝোলানো
রক্তাক্ত জামা ইত্যাদি নিয়ে মিছিলে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হোস্টেলের বাইরে সবুজ ছড়ানো মাঠটিতে এসে জড়ো হয়েছিল।
গ. সাহসিকতার সাথে মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করার দিক থেকে
উদ্দীপকের উজ্জ্বল চরিত্রের সাথে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের তপু চরিত্রের
সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপু। তাকে কেন্দ্রে করেই
গল্পটির ঘটনাবলি আবর্তিত হয়েছে। পারিবারিক টান উপেক্ষা করে সাহসিকতার
সাথে সে রাজপথের মিছিলে অংশ নেয়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলি লাগে তার কপালে।
ভাষার জন্য প্রাণ হারায় তপু।
➠ উদ্দীপকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র উজ্জ্বলের ঘটনা বর্ণিত
হয়েছে। সে খুব শান্ত স্বভাবের তরুণ, পড়াশোনা নিয়েই তার সারাদিন কেটে যায়।
কিন্তু ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সেও আর চুপ করে বসে থাকতে পারে না।
একুশের মিছিলে গিয়ে সে শহিদ হয়। ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে তপু যে দৃঢ়
মনোবল ও সাহস নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়েছিল, উদ্দীপকের
উজ্জ্বলের মধ্যেও সেই একই চেতনা প্রতিফলিত হয়। তারা উভয়ই ভাষা আন্দোলনের
বীর শহিদ। তাই এদিক থেকে উদ্দীপকের উজ্জ্বল চরিত্রের সাথে ‘একুশের গল্প’
ছোটোগল্পের তপু চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের উজ্জ্বল ভাষা আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ‘একুশের গল্প’
ছোটোগল্পের তপুর মতোই আর ফিরে আসেনি, যা সেসময়ের উত্তাল রাজনৈতিক
বাস্তবতাকে তুলে ধরে।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে তপু নামক এক স্বপ্নবান তরুণের করুণ পরিণতির
কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। গল্পে তিন বন্ধু তপু, রাহাত ও লেখকের রয়েছে সক্রিয়
উপস্থিতি। তাদের আন্তরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণের ভিতর
দিয়ে উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলনকালীন বাংলাদেশের বাস্তবতা। সেসময় দেশ
আন্দোলনে উত্তাল ছিল। তরুণ-জনতা দলে দলে যোগ দিয়েছিল মিছিলে। আর তৎকালীন
সরকারের নির্দেশে পুলিশও তাদের উপর গুলি চালাতে পিছপা হয়নি।
➠ উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া উজ্জ্বলের কাহিনি উঠে এসেছে। শান্ত
স্বভাবের উজ্জ্বল লাইব্রেরিতে বই পড়ে, শিক্ষকদের সাথে পাঠ্য বিষয় নিয়ে
আলোচনা করে। এর মধ্যেই সে মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে যোগ দেয়। কিন্তু
একুশের মিছিলে গিয়ে সে আর ফিরে আসে না।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যে রাজনৈতিক
বাস্তবতা ফুটে উঠেছে, উদ্দীপকটি তার প্রতিনিধিত্ব করে। এই উত্তাল
রাজনৈতিক বাস্তবতাই সাধারণ বাঙালিকে মিছিলে গিয়ে জীবন দিতে বাধ্য করেছিল।
আলোচ্য গল্প ও উদ্দীপকের ঘটনাবলি এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে, এর ফলেই সেসময়
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি আদায় করা সম্ভব হয়েছিল।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার
আকাশ-বাতাস স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিকে আয়ত্তে আনতে
গিয়ে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে পুলিশ বাহিনী ছাত্র-জনতার
মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ করে। ভাষা শহিদদের লাশগুলো তৎকালীন শাসকচক্র
জনগণের কাছ থেকে দূরে কোথাও গোপন করে রাখে। উদ্দেশ্য এ লাশ নিয়ে যেন
ছাত্ররা পুনরায় মিছিল করতে না পারে। কিন্তু শাসকচক্র হয়তো জানে না, ওরা
বারবার ফিরে আসবে। ওদের মৃত্যু নেই, ওরা অমর।
ক. তপুর এককালে কোথায় যাওয়ার শখ ছিল?
খ. লেপের নিচে দেহটা ঠক ঠক করে কাঁপে কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের মূলবক্তব্যের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের ভাবার্থের
সম্পর্ক তুলে ধরো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের তপু চরিত্রের বিকাশ ও
পরিণতি তুলে ধরো।
ক. তপুর এককালে মিলিটারিতে যাওয়ার শখ ছিল।
খ. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে তপুর কঙ্কাল তার বন্ধুদের মধ্যে ফিরে এলে
রাতে একটু-আধটু তন্দ্রার মধ্যে যখন সেটির দিকে তাদের চোখ পড়ে, তখন শঙ্কা
ও অস্থিরতায় লেপের নিচে তাদের শরীর ঠঠক্ করে কেঁপে ওঠে।
➠ তপু মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের যে কক্ষে থাকত, সেখানেই চার বছর পর তার
সহপাঠীরা একদিন তাকে কঙ্কাল অবস্থায় আবিষ্কার করে। এ ঘটনায় তপুর সহপাঠী
মহলে শোকের কালো ছায়া নেমে আসে। রাতে কারো ভালো ঘুম হয় না। একটু-আধটু
তন্দ্রার মাঝে হঠাৎ তপুর কঙ্কালের দিকে চোখ পড়তেই তাদের গা-হাত-পা শিউরে
ওঠে। লেপের নিচে সন্ত্রস্ত শরীর তাই কেঁপে ওঠে ঠকঠক করে।
গ. উদ্দীপকের মূলবক্তব্যের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের ভাবার্থ
অভিন্ন।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে লেখক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তপু
নামের এক প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান তরুণের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরেছেন।
গল্পে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহিদ হয় তপু। এ ঘটনার চার বছর পর কলেজের
হোস্টেলে আবিষ্কৃত হয় তপুর কঙ্কাল। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, ইতিহাসে
জাতীয় বীরদের মৃত্যু নেই এবং তারা বারবার ফিরে আসেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে
অনুপ্রেরণা জোগাতে।
➠ উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এদিন ঢাকার
আকাশ-বাতাস স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে যায়। পুলিশ সাধারণ মানুষের উপর
নির্বিচারে গুলি চালায় এবং শহিদদের লাশগুলো দূরে কোথাও গোপন করে রাখে।
কিন্তু শহিদেরা কখনো মৃত্যুবরণ করে না, তারা বারবার ফিরে আসে। ‘একুশের
গল্প’ ছোটোগল্পে তপুর কঙ্কালরূপে ফিরে আসার মাধ্যমে যে বার্তা দেওয়া
হয়েছে, উদ্দীপকে শহিদদের অমর হয়ে থাকার মাধ্যমে সেই একই ভাবের বহিঃপ্রকাশ
ঘটেছে। তাই উদ্দীপকের মূলবক্তব্যের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের
ভাবার্থ সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে শুরুর দিকে এক প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান তরুণ
হিসেবে তপু চরিত্রের বিকাশ ঘটলেও পরবর্তীকালে ভাষার জন্য তার আত্মত্যাগ
গল্পটিতে বিষাদময় পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে তপু ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত এক স্বপ্নবাজ
তরুণ। সে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিত, জীবন নিয়ে নানারকম স্বপ্ন দেখত। তার
জীবন ভালোই চলছিল প্রিয়তমা স্ত্রী, বৃদ্ধা মা ও বন্ধুদের নিয়ে। কিন্তু
ভাষার অধিকার আদায়ের জন্য মিছিলে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহিদ হয় সে, এমনকি
তার লাশটা পর্যন্ত পুলিশ তুলে নিয়ে চলে যায়।
➠ উদ্দীপকে শাসকচক্রের বিরুদ্ধে ছাত্রদের গড়ে তোলা প্রতিরোধের বর্ণনা
দেওয়া হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাস্তায় নামে ছাত্রজনতা।
তাদের দাবি ছিল বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। কিন্তু
তৎকালীন সরকারের নির্দেশে পুলিশ মিছিলে গুলি চালায় এবং লাশগুলো গোপন করে
রাখে।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে তপু চরিত্রের শেষ পরিণতির সাথে উদ্দীপকে
বর্ণিত ঘটনার মিল রয়েছে। উদ্দীপকে পুলিশ যেভাবে শহিদদের লাশ সরিয়ে
ফেলেছে, আলোচ্য গল্পেও চার বছর পরে তপু ফিরে এসেছে ককাল হয়ে। তাই
উদ্দীপকের মতোই তপু চরিত্রের পরিণতি অত্যন্ত করুণ ও হৃদয়বিদারক।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বর্তমানে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানুষের ঢল
নামে। ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ রাত বারোটা থেকে শহিদ
মিনারের দিকে পদযাত্রা করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে। ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত
হয়ে যায় শহিদ মিনারের মূল প্রাঙ্গণ। ভাষার জন্য জীবনদানকারী শহিদেরা
বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল।
ক. তপুর মাকে খবর দেওয়ার জন্য কে গিয়েছিল?
খ. রাহাত রেণুর উপর রেগে ওঠার কারণ কী?
গ. ‘শহিদ মিনার যেন তপুর স্কেলিটন’- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে উল্লিখিত তপুর অমরত্বের
স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
ক. তপুর মাকে খবর দেওয়ার জন্য রাহাত গিয়েছিল।
খ. ভাষা আন্দোলনের মিছিল থেকে রেণু তার স্বামী তপুকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে
চেয়েছিল বলে রাহাত রেণুর উপর রেগে যায়।
➠ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তপুর সাথে তার বন্ধু রাহাতও ছিল। তবে তপুর
স্ত্রী রেণু বুঝতে পেরেছিল যে, এ মিছিলে বিপদ আসন্ন। ফলে সে আতঙ্কিত হয়ে
যখন তপুকে মিছিল থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তখন রাহাত রেণুর উপর রেগে
যায়। সে রেণুকে বাড়ি ফিরে যেতে বলে। আর বলে দেয় যে, তপু তার সাথে ফিরে
যাবে না। এতে রেণু রাহাতের উপর ক্রুদ্ধ হয় এবং তপুকে বারবার ফিরে যেতে
অনুরোধ করতে থাকে।
গ. তপুর স্কেলিটন যেভাবে তপুর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়,
তেমনিভাবে উদ্দীপকের শহিদ মিনারও ভাষা শহিদদের আত্মদানের বিষয়টি স্মরণ
করিয়ে দেয়।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের প্রধান চরিত্র তপু। সে মেডিকেলে পড়ুয়া এক
নির্ভীক তরুণ। ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গিয়ে পুলিশের গুলিতে সে শহিদ হয়।
চার বছর পর তার স্কেলিটন আবিষ্কৃত হয় মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে তার রুমে।
স্কেলিটন দেখে তার বন্ধুরা অবাক হয়ে যায়, হয়ে পড়ে স্মৃতিকাতর। স্কেলিটনটি
যেন শহিদ তপুর অমরত্বের দৃঢ় ঘোষণা দেয়।
➠ উদ্দীপকে একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্যাপনের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এদিন শহিদ
মিনারে মানুষের ঢল নামে। ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ রাত
বারোট থেকে শহিদ মিনারের দিকে পদযাত্রা করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে।
ভাষার জন্য জীবনদানকারী শহিদেরা বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকে অনন্তকাল।
‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে তপুর বন্ধুরা যেমন তার স্কেলিটন দেখে তাকে স্মরণ
করেছে, তেমনিভাবে সাধারণ মানুষও শহিদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের
মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করে। তাই এদিকটি বিবেচনায় শহিদ মিনারই যেন তপুর
স্কেলিটন।
ঘ. যাঁরা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেন, ইতিহাসে সেই বীরদের কোনো মৃত্যু নেই
এবং এ বিষয়টিই উদ্দীপক ও ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে সমভাবে ফুটে উঠেছে।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে ভাষা আন্দোলনে শহিদ হওয়া তপুর কাহিনি বর্ণিত
হয়েছে। ভাষার অধিকার চাইতে গিয়ে সে শহিদ হয় এবং তার লাশ নিয়ে পুলিশ চলে
যায়। মৃত্যুর চার বছর পর তার বন্ধুরা একটি কঙ্কালের মাধ্যমে যেন তপুকে
নতুনভাবে ফিরে পায়। এর মাধ্যমে লেখক বোঝাতে চেয়েছেন যে, শহিদদের কখনো
মৃত্যু হয় না। তারা চিরকাল অমর হয়ে থাকেন।
➠ উদ্দীপকে একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
এদিনে সেখানে মানুষের ঢল নামে। তারা পদযাত্রা করে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন
করে। তাদের শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই ভাষা শহিদেরা মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন
চিরকাল। এর মাধ্যমে শহিদদের অমরত্বের দিকটিই প্রকাশ পায়।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী বীরদের জয়গান গাওয়া
হয়েছে। উদ্দীপকেও এই বীরদের স্মৃতি চির অমলিন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই
বীরেরা যেন বারবার তরুণ প্রজন্মের কাছে ফিরে আসেন; তাদেরকে দেশের জন্য
কাজ করতে উৎসাহ, অনুপ্রেরণা ও সাহস জোগান। এভাবেই ‘একুশের গল্প’
ছোটোগল্পের তপুর মতো সকল শহিদ মানুষের হৃদয়ে চিরদিন অমর হয়ে থাকেন।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ভাষা হলো সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যম। ভাষা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বাহন।
ভাষার উপর আঘাত এলে তাই সমগ্র জনসমষ্টিই শঙ্কিত হয়ে ওঠে। তখন উদ্যোগ
গ্রহণ করে তা প্রতিরোধ করতে। অগ্রসর হয় আত্মদানের পথে। বাংলাদেশের ভাষা
আন্দোলনে এই জনপদের ছাত্র-জনতা-বুদ্ধিজীবীদের এ সংকল্পই প্রতিফলিত হয়েছে।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এরই চূড়ান্ত ফল।
ক. তপুর বাঁ পায়ের কোন হাড়টি দুই ইঞ্চি ছোটো ছিল?
খ. ‘কে বলবে যে এ তপু।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের আলোকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের তিন বন্ধুর মিছিলে যোগদানের
প্রেরণার উৎস ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের আত্মত্যাগের স্বরূপ
বিশ্লেষণ করো।
ক. তপুর বাঁ পায়ের ‘টিবিয়া ফেবুলা’ নামক হাড়টি দুই ইঞ্চি ছোটো ছিল।
খ. চার বছর পর ফিরে আসা তপুর সাথে আগের তপুর বৈসাদৃশ্য ইঙ্গিত করে লেখক
উল্লিখিত উক্তির অবতারণা করেছেন।
➠ চার বছর আগে তপু ছিল টগবগে, প্রাণচঞ্চল এক যুবক। গল্পে আর হাস্যরসে
সবাইকে সর্বদা মাতিয়ে রাখত সে। সে তপু এখন নীরব, নিথর এক কঙ্কাল।
মাতৃভাষার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেয় তপু। মিলিটারিরা প্রমাণ নিশ্চিত
করতে তপুর লাশও তুলে নিয়ে যায়। তার চার বছর পর তপু আবিষ্কৃত হয়
কঙ্কালরূপে। তাই আগের চেহারা ও স্বভাবের সাথে এই তপুর কোনো মিল পাওয়া যায়
না।
গ. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের তিন বন্ধুর মিছিলে যোগদানের প্রেরণার উৎস
ছিল ভাষার উপর আঘাত এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার অধিকার আদায়ের
চেতনা।
➠ ‘একুশের গল্প’ শীর্ষক ছোটোগল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে
এক প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান তরুণের আত্মত্যাগ প্রতিফলিত হয়েছে। লেখক, তপু
ও রাহাত তিন বন্ধু। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র। ভাষার দাবিতে তারা
সকল পিছুটান উপেক্ষা করে বিপদ আসন্ন জেনেও মিছিলে যোগদান করে। এর পিছনে
প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তাদের তীব্র দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও অধিকার
আদায়ের চেতনা।
➠ উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনে ছাত্র-জনতা-বুদ্ধিজীবীদের অংশগ্রহণের দিকটি
প্রতিফলিত হয়েছে। ভাষার উপর আঘাত এলে সমস্ত জনগোষ্ঠীই শঙ্কিত হয়ে ওঠে।
তারা উদ্যোগ গ্রহণ করে তা প্রতিরোধ করতে অগ্রসর হয় আত্মদানের পথে। ভাষা
আন্দোলন এ প্রতিবাদী চেতনা থেকেই মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। ‘একুশের
গল্প’ ছোটোগল্পে তিন বন্ধুর মিছিলে যোগদানের পিছনে যে দেশপ্রেম,
অধিকারবোধ ও প্রতিবাদী চেতনা কাজ করেছে, উদ্দীপকেও সেই একই চেতনার
বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। উভয়ক্ষেত্রেই তীব্র দেশপ্রেম, সাহস ও বিদ্রোহী চেতনা
ছিল ভাষা আন্দোলনে যোগদানের প্রেরণার মূল উৎস।
ঘ. উদ্দীপকে আলোচিত বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে ‘একুশের গল্প’
ছোটোগল্পের তপু জীবন উৎসর্গ করে এবং স্বাক্ষর রেখে যায় এক অনন্য
আত্মত্যাগের।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে বর্ণিত হয়েছে তারুণ্যের প্রত্যয়ী চেতনা। ভাষার
জন্য আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃঢ়চেতা ছিল তপু। স্ত্রীর বাধা এবং
বৃদ্ধা মায়ের কান্না উপেক্ষা করে মিছিলে ছুটে গিয়েছিল সে। হাতে মস্ত
প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাতৃভাষার জন্য রাস্তায় নামে সে। ফলে পুলিশের গুলিতে
শহিদ হতে হয় তপুকে। মূলত রাষ্ট্রভাষার জন্যই ছিল তপুর এ আত্মদান।
➠ উদ্দীপকে ভাষার অধিকার রক্ষায় ছাত্র-জনতা-বুদ্ধিজীবীদের সম্মিলিত
আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। ভাষা হলো সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যম, ইতিহাস ও
ঐতিহ্যের বাহন। ফলে ভাষার উপর আঘাত আসলে সমগ্র জনসমষ্টি আন্দোলনে ফুঁসে
ওঠে। তারা অগ্রসর হয় আত্মদানের পথে। ভাষার অধিকার আদায়ের চেতনা তাদেরকে
শত্রুর সামনে বুক পেতে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে তপু ভাষা আন্দোলনে যে আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত
স্থাপন করেছে, উদ্দীপকে ছাত্র-জনতা-বুদ্ধিজীবীরাও সেই আত্মদানের পথ ধরেই
এগিয়ে গিয়েছে। তাদের সকলের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আমরা সেসময় রাষ্ট্রভাষা
হিসেবে বাংলাকে পেয়েছিলাম এবং আমাদের জাতিগত অধিকার আদায়ে সমর্থ
হয়েছিলাম। বাঙালি জাতি তাদের এ আত্মত্যাগকে চিরকাল মনে রাখবে।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক্যামেরার চোখই আকৃতি দেয় ছবির। ওই চোখে আঁকা ছবি সময়, সমাজ ও সভ্যতার
অবয়ব তুলে ধরে অনাগত দিনের জন্য। সময়ের পটে আঁকা অপরিহার্য বাস্তবতার এমন
সব ছবি কখনো কখনো ক্যামেরার চোখ এঁকে দেয়, যার আবেদন হয় অসীম অথবা
অপরাজেয়। এমনই এক ছবি আঁকা হয়েছিল বৈষম্যবরিাধী ছাত্র আন্দোলনে অসীম
সাহসে বুক চিতিয়ে দেওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের,
যাঁর বুকের পাঁজর ভেদ করে বেরিয়ে গিয়েছিল হন্তারক বুলেট। ওই নির্মম
নিষ্ঠুর বুলেটে আবু সাঈদের বুক বিদীর্ণ নিষ্প্রাণ, নিথর দেহ মাটিতে
লুটিয়ে পড়ে সত্যি, তবে কাব্যময় ক্যামেরার চোখ ঠিকই লিখে রাখে এক অপরাজেয়
ইতিহাস।
ক. গল্পকথককে কে হাত ধরে টান দিল মিছিলে যাওয়ার জন্য?
খ. “তুমিও চলো না আমাদের সাথে।” কে কাকে কোথায় যেতে বলেছিল? ব্যাখ্যা
করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’-এর কোন দিকটির সঙ্গ সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের তপুর জীবনদান এবং উদ্দীপকের আবু সাঈদের
জীবনদান একই চেতনায় উৎসারিত।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
ক. গল্পকথককে তপু হাত ধরে টান দিল মিছিলে যাওয়ার জন্য।
খ. “তুমিও চলো না আমাদের সাথে।”- কথাটি তপু বলেছে তার স্ত্রী রেণুকে ভাষা
আন্দোলনের মিছিলে যেতে।
➠ ‘একুশের গল্প’ শীর্ষক ছোটোগল্পে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা
আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও জীবনদানের ঘটনা বর্ণিত
হয়েছে। তপু তার বন্ধু গল্পকথক ও রাহাতকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ
দেয়। একটু পরে তপুর স্ত্রী রেণু এসে তপুর হাত ধরে, তাকে মিছিলে থেকে
সরিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। তপু তখন স্ত্রীর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তাকেও মিছিলে
যোগ দিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
গ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’-এর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে গিয়ে
তপুর জীবনদানের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ যুগ যুগ ধরে মানুষ বিভিন্ন অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
অন্যায়ের প্রতিকার করতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এমনকি ন্যায্য দাবি আদায়ের
সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেছে। উদ্দীপকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে
অংশগ্রহণকারী রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের জীবন উৎসর্গ করার
বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আবু সাঈদ
পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই দিকটি ‘একুশের গল্প’-এর
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে অংশ নিয়ে তপুর জীবনদানের সঙ্গে
সাদৃশ্যপূর্ণ। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ দাবিতে তপু তার বন্ধু রাহাত ও
গল্পকথককে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেয়। মিছিল হাইকোর্টের মোড়ে
এলেই তপু গুলিবিদ্ধ হয়ে প্ল্যাকার্ডসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
➠ তপুর মতো উদ্দীপকের আবু সাঈদও নিষ্ঠুর বুলেটের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার এই
আত্মদানের ছবি তুলে প্রাণবান ফটো সাংবাদিকরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়।
এভাবে উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’-এর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে গিয়ে
তপুর জীবনদানের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘ. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের তপুর জীবনুদান এবং উদ্দীপকের আবু সাঈদের
জীবনদান একই চেতনায় উৎসারিত।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ সভ্য সমাজে কেউ দীর্ঘ সময় ধরে অন্যায় করে টিকে থাকতে পারে না। কারণ কেউ
না কেউ সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এং প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই প্রবল
প্রতিরোধে রক্তমূল্য দিতে হলেও লক্ষ্য তারা অর্জন করে।
➠ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের গল্পকথক, রাহাত ও তপু তিনজন সহপাঠী বন্ধু। তারা
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেয়। রাহাত ‘রাষ্ট্রভাষা
বাংলা চাই’ বলে স্লোগান দেয়। আর তপু লাল কালিতে লেখা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা
চাই’ একটি বড়ো প্ল্যাকার্ড বহন করে মিছিলে এগিয়ে যায়। মিছিলটি হাইকোর্টের
মোড়ে আসামাত্রই লোকজন দৌড়ে পালাতে থাকে। গল্পকথকের সামনে তপু প্লাকার্ডসহ
মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তপুর এ অবস্থা দেখে রাহাত আর্তনাদ করে ওঠে। তপুর
এভাবে জীবনদানের বিষয়টি উদ্দীপকের আবু সাঈদের জীবনদানের সঙ্গে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।
এ গল্পের মূল বিষয় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তপুর মৃত্যুবরণের
চার বছর পর কঙ্কালরূপে তপুর ফিরে আসা। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি
যথার্থ।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবিতে সেখানে কলেজ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সংগ্রাম করছে, মিছিল নিয়ে পথে নেমেছে।
এখানেও কলেজের ছেলেমেয়েরা এসেছে এই স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে ভাষার দাবি
নিয়ে আলোচনা করতে এবং আগামীকাল মিটিং এবং মিছিলে যোগ দেবার কথা বলতে।
হোস্টেলের সুপার রাশিদা খান বলেন, কিন্তু এরা তো স্কুলের ছাত্রী। এরা
এসবের কী বোঝে? রাবেয়া বলল, কেন বুঝব না। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, আমরা
চাই বাংলাই হোক আমাদের রাষ্ট্রভাষা। ঢাকার ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের
সাথে যোগ রেখে এখানেও আমরা হরতাল করব, মিছিল করব।
ক. কথকরা দিনের বেলায় কাকে ঘিরে জটলা পাকায়?
খ. “তপুকে আবার ফিরে পাবো, একথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন।” ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব কি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের মূলভাবকে নির্দেশ
করে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
ক. কথকরা দিনের বেলায় তপুকে ঘিরে জটলা পাকায়।
খ. “তপুকে আবার ফিরে পাবো, একথা ভুলেও ভাবি নি কোনোদিন।”- গল্পকথক এ
কথাটি বলে।
➠ ভাষা আন্দোলনে যখন মানুষ রাজপথে নামে তখন তপু, গল্পকথক ও রাহাতও সবার
সাথে মিছিলে যোগ দেয়। একপর্যায়ে মিলিটারি এ মিছিলে গুলি করলে তপু কপালে
গুলি খেয়ে রাজপথেই লুটিয়ে পড়ে। বন্ধুরা তার লাশটাও ফিরে পায়নি। কেননা
দুজন মিলিটারি তাদের সামনে থেকেই তপুর মৃতদেহটা নিয়ে চলে যায়। অথচ চার
বছর পর তপুর কঙ্কালের মাথার খুলির ফুটো ও বাম পায়ের টিবিয়া ফেবুলার মাপ
দেখে বন্ধুরা বুঝতে পারে এ কঙ্কালটি প্রকৃতপক্ষে শহিদ তপুর। এ গল্পে
তপুকে কঙ্কাল হিসেবে ফিরে পাওয়া যেন প্রতীকী অর্থে জাতীয় বীরদের দেশের
প্রয়োজনে বারবার ফিরে পাওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করে।
গ. ‘একুশের গল্প’-এর সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই রয়েছে।
➠ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও
তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষা বাংলার
মর্যাদায় সম্মিলিতভাবে রাজপথে নেমে আসে। তাজা তাজা প্রাণ বিলিয়ে দেয়
পুলিশের গুলির মুখে।
➠ উদ্দীপকে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্র-ছাত্রীদের সংগ্রাম ও মিছিল নিয়ে পথে নামার কথা বলা হয়েছে। স্কুলের
ছাত্রী বলে হোস্টেল সুপার রাশিদা খান ছাত্রীদের আন্দোলনে যেতে দিতে চান
না। এ দিকগুলো ‘একুশের গল্প’ গল্পটিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। এ গল্পে রাজপথে
ছেলে-বুড়োসহ অসংখ্য মানুষ রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য জমায়েত হয়। তপুর
স্ত্রী রেণু তপুকে আন্দোলনের মিছিলে যেতে দিতে চায়নি। এ দিক দিয়ে
উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকে কলেজের
ছেলেমেয়েরা এসে স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে ভাষার দাবি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি
গল্পে দেখা যায় না। উদ্দীপকের স্কুলের ছাত্রীরা ঢাকার বাইরে থেকেও
আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে চায়। এদিক থেকে উদ্দীপক ও ‘একুশের গল্প’
বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের মূলভাব ‘একুশের গল্প’ এর মূলভাবকে নির্দেশ করে।
➠ পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৫২ সালে অন্যায়ভাবে বাংলাকে বাদ দিয়ে
উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। বাঙালিরা রাজপথে নেমে এর বিরুদ্ধে
মিছিল করে। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে অনেকেই শহিদ হন।
➠ উদ্দীপকের ঘটনায় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার
দাবিতে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা সংগ্রাম করছে, মিছিল করছে
রাজপথে। কলেজের ছেলেমেয়েরা স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে ভাষার দাবি নিয়ে
আলোচনা করতে এসেছে। আবার স্কুলের ছাত্রীদের মধ্যে মাতৃভাষা বাংলার প্রতি
অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখা গেছে। মাতৃভাষার প্রতি মানুষের এমন ভালোবাসা ও
আত্মত্যাগের মনোভাবই ‘একুশের গল্প’ গল্পটির মূলভাব।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্প মূল উপজীব্যই হলো মাতৃভাষা বাংলার প্রতি
মানুষের গভীর অনুরাগ। এ গল্পের তপু মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার
দাবিতে রাজপথে মিছিলে গিয়ে জীবন দিয়েছে। চার বছর পর সেই তপুর কঙ্কাল পেয়ে
তারা শনাক্ত করেছে। মাতৃভাষা বাংলার জন্য এমন ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের
মনোভাব উদ্দীপকেও মূল বিষয় হিসেবে ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের
মূলভাব ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের মূলভাবকে নির্দেশ করে।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
লাবাডং-এর তথ্যমন্ত্রী রাজাকে জানালেন যে, খ্রিস্টীয় ২০০০ সালে মাটির
পৃথিবীতে ‘বিশ্বমাতৃভাষা দিবস’ পালিত হবে। এটি সেই মাতৃভাষা যে মাতৃভাষার
জন্য মানুষ অকাতরে বুকের রক্ত দিয়েছে। রাজা তথ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন,
অবিলম্বে আমাকে বিস্তারিত জানান। মন্ত্রী রাজাকে জানালেন, ১৯৫২
খ্রিষ্টাব্দে মাটির পৃথিবীর পূর্ব বাংলা নামক একটি সবুজ-শ্যামল দেশের
সচেতন ছাত্রসমাজ, তাদের মুখের ভাষা বাংলাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা
দেবার দাবিতে সংগ্রাম শুরু করলে, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী সংগ্রামী ছাত্রদের
উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাঁদেরকে হত্যা করে। সেদিন ছিল ২১
ফেব্রুয়ারি। তারই স্মরণে পৃথিবীর সকল দেশ একযোগে 'বিশ্বমাতৃভাষা দিবস'
পালনের সিদ্ধিান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে পৃথিবীর জাতিসংঘে।
ক. অন্ধকারে হঠাৎ কার দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে?
খ. “ও এলে আমরা চাঁদা তুলে চা আর মিষ্টি এনে খেতাম।”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পে কোন দিকটির সঙ্গে
সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের মূলভাবের
পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।” মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো।
ক. অন্ধকারে হঠাৎ তপুর কঙ্কালের দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে।
খ. “ও এলে আমরা চাঁদা তুলে চা আর মিষ্টি এনে খেতাম।”- কথাটি গল্পকথক তপুর
স্ত্রী রেণুর আসা প্রসঙ্গে বলেছে।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পে গল্পকথক তপুর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলে-
তপু ছিল তাদের মধ্যে বয়সে সবার ছোটো এবং বিবাহিত। মেডিকেল কলেজে ভর্তি
হওয়ার বছরখানেক পরে তপু রেণুকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে সম্পর্কে মেয়েটা তার
আত্মীয়া ছিল। রেণু প্রায়ই তপুর সঙ্গে দেখা করতে আসত। তখন সবাই মিলে চাঁদা
তুলে চা আর মিষ্টি এনে খেত।
গ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার
দাবিতে মানুষের রাজপথে মিছিল করা এবং সেই মিছিলে মিলিটারির আক্রমণের
দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পৃথিবীর
মধ্যে বাঙালিই একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। তাদের
আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা পেয়েছে।
➠ উদ্দীপকের লাবাডং-এর রাজা ‘বিশ্বমাতৃভাষা দিবস’ সম্পর্কে জানতে চাইলে
তথ্যমন্ত্রী রাজাকে ১৯৫২ সালে পূর্ব বাংলায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে
মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশের ছাত্রসমাজ যে সংগ্রাম শুরু করে সেটি
সম্পর্কে বলেন। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী যে ২১শে ফেব্রুয়ারি সংগ্রামী ছাত্রদের
ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তাদেরকে হত্যা করে সেই ইতিহাসও মন্ত্রী
রাজাকে বলেন। ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার
দাবিতে রাজপথে মানুষের জোয়ার নামে। মানুষের সেই গণজোয়ারে যোগ দেয় তপু,
গল্পকথক ও রাহাত। সেই মিছিলে মিলিটারি গুলি চালালে মানুষ চিৎকার করে
পালাতে থাকে। গুলিতে শহিদ হয় তপু। প্রাণ নিয়ে কোনোমতে বেঁচে ফিরে আসে
অন্য দুজন। গল্পের এসব দিকই উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের মূলভাবের
পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালি জাতি ১৯৫২ সালে একটি স্মরণীয়
ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। এ ইতিহাস বাঙালি জাতির মধ্যে এক অনন্য সাহসিকতার
জন্ম দিয়েছে এবং পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামে বাঙালি জাতি প্রয়োগ করে সফলতা
পেয়েছে
➠ উদ্দীপকে লাবাডং-এর তথ্যমন্ত্রীর জবানিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি
বাংলার সচেতন ছাত্রসমাজের বাংলাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে
সংগ্রাম শুরু করা এবং সেই সংগ্রামে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর নির্মম আচরণের
দিকটি ফুটে উঠেছে। ‘একুশের গল্প’ গল্পে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তপু,
গল্পকথক ও রাহাতের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক
নানা কর্মকাণ্ডের বিবরণ উঠে এসেছে, যা উদ্দীপকের মূলভাবে প্রতিফলিত
হয়নি।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে একজন
স্বপ্নবান ও প্রাণোচ্ছল তরুণের আত্মত্যাগের করুণ কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
বাড়িতে বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীকে রেখেও পারিবারিক সব পিছুটান উপেক্ষা করে
প্ল্যাকার্ড হাতে তপু মিছিলে গিয়ে গুলিতে শহিদ হয়। দুজন মিলিটারি তার
মৃতদেহ তুলে নিয়ে যায়। ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পে তপুর কঙ্কাল হিসেবে
ফিরে আসা যেন প্রতীকী অর্থে জাতীয় ইতিহাসে বীরদের বারবার ফিরে আসাকেই
নির্দেশ করে। এ দিকগুলো উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। তাই বলা যায়,
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
‘বাবা, আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। লোকটাকে জাদুকর ভেবেছিলাম।’ বাবলুর
কথায় বাবা মৃদু হেসে বললেন, না, উনি একজন ভালো মানুষ। একজন ভাষাশহীদের
বাবা। এই বাড়িতে একাই থাকেন। একটাই ছেলে ছিল তাঁর। ১৯৫২ সালের একুশে
ফেব্রুয়ারি আমাদের। মহান ভাষা আন্দোলনে ছেলেটি শহীদ হয়েছে। উনার নাম আবু
সাবের। সারা বছর উনি বাগান পরিচর্যা করেন। ফুল ভালোবাসেন। অপেক্ষা করেন
একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য। এদিন তার হাতে সাজানো বাগানের সব ফুল শহীদদের
স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। বাবলু বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে
তাঁর কথা শুনতে থাকে।
ক. তপুর স্ত্রীর নাম কী?
খ. “সমুদ্রগভীর জনতা ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছে।”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের আবু সাবের ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের কোন চরিত্রটির
বিপরীত? নির্ণয় করো।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব কি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের সম্পূর্ণ ভাবকে
প্রতিফলিত করে? তোমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দাও।
ক. তপুর স্ত্রীর নাম রেণু।
খ. “সমুদ্রগভীর জনতা ধীরে ধীরে চলতে শুরু করেছে।”- কথাটির মাধ্যমে অসংখ্য
মানুষের বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে রাজপথে মিছিলে যোগ দেওয়ার দিকটি
ফুটে উঠেছে।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পে গল্পকথকের কথায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের
ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। গল্পকথক মেডিকেল হোস্টেলের বাইরে, সবুজ ছড়ানো মাঠে
অগণিত লোকের ভিড় জমতে দেখেন। সেখানে ছেলে-বুড়োরা জড়ো হয়- কেউ হাতে
প্ল্যাকার্ড নিয়ে, কেউ লম্বা লাঠিটায় ঝোলানো রক্তাক্ত জামা নিয়ে। এসব
মানুষকে বোঝাতেই লেখক তাদেরকে ‘সমুদ্রগভীর জনতা’ বলেছেন, যারা ধীরে ধীরে
সামনের দিকে চলতে শুরু করেছে।
গ. উদ্দীপকের আবু সাবের ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের রেণু চরিত্রের
বিপরীত চরিত্র।
➠ মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা সহজে ছিন্ন হয় না।
কোনো কারণে প্রিয় মানুষটি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তখন সে সেই মানুষটিকে
বারবার স্মরণ করে। অন্যদিকে এ সম্পর্ক যদি হয় স্বার্থের জন্য তখন তা
বেশিদিন স্থায়ী হয় না।
➠ উদ্দীপকে আবু সাবের একজন ভাষাশহিদের বাবা। বাড়িতে তিনি একাই থাকেন।
তাঁর একমাত্র ছেলেটি মহান ভাষা আন্দোলনে শহিদ হন। ছেলেকে তিনি ভুলতে
পারেন না। সারা বছর তিনি বাগান পরিচর্যা করেন, ফুল ভালোবাসেন। একুশে
ফেব্রুয়ারিতে তিনি তার হাতে সাজানো বাগানের সব ফুল শহিদদের স্মৃতির
উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পে রেণু ভাষা আন্দোলনের
মিছিলে গিয়ে শহিদ হওয়া তপুর স্ত্রী। তপু তাকে খুবই ভালোবাসত। অথচ তপু
মারা যাওয়ার পর রেণু তার প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত রাখতে পারেনি। এ
কারণেই রেণু চরিত্রটি উদ্দীপকের আবু সাবের চরিত্রের বিপরীত চরিত্র।
ঘ. না, উদ্দীপকের মূলভাব ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের সম্পূর্ণ ভাবকে
প্রতিফলিত করে না।
➠ ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির জাতীয়তাবাদকে সুদৃঢ় করে তোলে। ফলে ওই
আন্দোলনের বীরেরা পরবর্তী সব আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও
জোগাবে।
➠ উদ্দীপকে এক ভাষাশহিদের বাবার মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর
দিকটি মুখ্য হয়ে ফুটে উঠেছে। আবু সাবের সেই গর্বিত বাবা যাঁর ছেলে ১৯৫২
সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ হন। তাই তিনি একুশে ফেব্রুয়ারির জন্য অপেক্ষা
করে এ দিন তাঁর হাতে সাজানো বাগানের সব ফুল শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে
উৎসর্গ করেন। ভাষাশহিদদের এমন আত্মত্যাগ এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও
ভালোবাসার দিকটি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পেও ফুটে উঠেছে। এ গল্পে
প্রতিফলিত হয়েছে প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান এক তরুণের আত্মত্যাগ। পাশাপাশি
ফুটে উঠেছে শহিদ তপুর প্রতি গল্পকথক ও বন্ধুদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও
শ্রদ্ধা। তবে গল্পে এ দিকগুলো ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভাব প্রতিফলিত
হয়েছে যেগুলো উদ্দীপকে ফুটে ওঠেনি।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে
কিছু তরুণের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা দিক
ফুটে উঠেছে। মিলিটারির গুলিতে শহিদ হওয়া তপুর কঙ্কাল ফিরে পেয়ে তার
বন্ধুরা আবেগপ্রবণ হয়েছে। তপুর কঙ্কাল হিসেবে ফিরে পাওয়া যেন জাতীয়
ইতিহাসের কোনো বীরের প্রত্যাবর্তন মনে হয়েছে। বারবার যেন তারা ফিরে আসে
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা মুক্তিকামী জনতাকে
প্রেরণা জোগায়। এসব গুরুত্বপূর্ণ দিক গল্পে থাকলেও উদ্দীপকে সম্পূর্ণভাবে
প্রতিফলিত হয়নি।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
সকালে কিছুতেই উঠতে চায় না রূপন। ছ'টা বাজার পরই আম্মা বিছানার ওপর
পাশে গিয়ে বসেন। গায়ে হাত দিয়ে আদর করে ডাকেন, ওঠো সোনা, ছ'টা বাজে,
স্কুলে যেতে হবে না? এখন না উঠলে দেরি হয়ে যাবে। রূপন চোখ খুলে আবার বন্ধ
করে। তার মানে, আর একটু ঘুমুতে চায় সে। আম্মা একটু অপেক্ষা করে আবার
ডাকতে থাকেন, ওঠো না, দেরি হয়ে যাবে যে! সাড়ে সাতটায় তোমার স্কুল, তা মনে
আছে?
ক. গল্পকথক শেষবারের মতো তপুকে কোথায় দেখেছিলেন?
খ. “আমি হলপ করে বলতে পারি, ওর মা-ও চিনতে পারবে না ওকে।” কথক কোন
প্রসঙ্গে এ কথা বলেছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের কোন দিকটির সঙ্গে
সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের মূলভাব উদ্দীপকে
প্রতিফলিত হয়নি।” মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
ক. গল্পকথক শেষবারের মতো তপুকে হাইকোর্টের মোড়ে দেখেছিলেন।
খ. “আমি হলপ করে বলতে পারি, ওর মা-ও চিনতে পারবে না ওকে।”- কথকের এ
কথাটিতে শহিদ তপুর কঙ্কাল দেখে তার মা তাকে চিনতে না পারার দিকটি বোঝানো
হয়েছে।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পে কথকের জবানিতে ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর
বীরত্বগাথা ও তাঁর আত্মত্যাগের কাহিনি ফুটে উঠেছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার
দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে শহিদ হয় তপু। তার কপালের ঠিক
মাঝখানে গুলি লেগে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। তার মৃতদেহটাও দুজন মিলিটারি
তুলে নিয়ে যায়। চার বছর পর তাঁর বন্ধুরা একটি কঙ্কালের কপালের ক্ষত ও বাঁ
পায়ের হাড়ের মাপ দেখে বুঝতে পারে যে এটিই তপুর কঙ্কাল। তপুর মা তাঁর
ছেলের এ কঙ্কাল দেখে চিনতে পারবেন না- এ কথাটি জোর দিয়ে বোঝাতেই কথক
প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
গ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের তপুর দুই বন্ধুকে ঘুম থেকে
জাগানোর দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ কয়েকজন বন্ধু দীর্ঘদিন একসাথে থাকার ফলে সবার মধ্যে একটি আত্মার
সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যখন কোনো বন্ধু কোনো কারণে জীবন থেকে হারিয়ে যায় তখন
তার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো বন্ধুরা স্মরণ করে।
➠ উদ্দীপকের রূপনকে তার মা ছয়টা বাজার পরই আদর করে গায়ে হাত দিয়ে তাকে
ডাকেন, ঘুম থেকে তাকে ওঠানোর চেষ্টা করেন। রূপন ঘুমুতে চাইলেও মা আবার
ডাকতে থাকেনং ঘুম থেকে না উঠলে তার স্কুলে যেতে যে দেরি হয়ে যাবে তা মনে
করিয়ে দেন। 'একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের গল্পকথক তপুর স্মৃতি মনে করতে
গিয়ে কাক-ডাকা ভোরে তাদের বিছানা ছেড়ে ওঠার কথা বলে। তখন তপু সবার, আগে
উঠে কথক ও রাহাতকে জাগাত। ভোর হয়েছে বলে সবাইকে ঘুম থেকে ওঠার তাড়া দিত।
গায়ের ওপর থেকে লেপটা টেনে ফেলে দিয়ে জোর করে তাদের ঘুম ভাঙাত তপু। মাথার
কাছে জানালাটা খুলে দিয়ে বাইরের মিষ্টি রোদ দেখিয়ে ঘুম থেকে উঠতে বলত।
তপুর বন্ধুদের ঘুম থেকে জাগানোর দিকটি উদ্দীপকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের মূলভাব উদ্দীপকে
প্রতিফলিত হয়নি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। অনেক
মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা
বলার অধিকার। ফলে এ আন্দোলনটি ভবিষ্যতের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে বাঙালি
জাতিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রেরণা জোগাবে।
➠ উদ্দীপকে রূপন সকালে ঘুম থেকে উঠতে চায় না। ছয়টা বাজার পরই তার আম্মা
বিছানার পাশে বসে আদর করে তাকে ঘুম থেকে ওঠানোর চেষ্টা করেন। মায়ের ঘুম
থেকে জাগানোর এ দিকটি ‘একুশের গল্প’ গল্পের তপুর বন্ধুদের খুব সকালে ঘুম
থেকে জাগানোর দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ দিকটি গল্পটির মূলভাবকে ধারণ
করে না। কেননা আলোচ্য গল্পটিতে ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তপু নামের এক
সাহসী যুবকের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘদিন পর তার কঙ্কাল ফিরে পাওয়ার দিকটি
বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে
প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান এক তরুণের আত্মত্যাগ মূল বিষয় হিসেবে প্রতিফলিত
হয়েছে। গল্পটির প্রধান চরিত্র তপু। গল্পকথক, রাহাত ও তপু তিন বন্ধু। মূলত
এ তিন বন্ধুর আন্তরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে এ
গল্পে উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহের বাংলাদেশের বাস্তবতা। অথচ
উদ্দীপকে কেবল এ গল্পের তপুর মাধ্যমে দুই বন্ধুকে ঘুম থেকে জাগানোর দিকটি
ফুটে উঠেছে, যা এ গল্পের একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত
মন্তব্যটি যথার্থ।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আমি কোন শহিদের স্মরণে লিখব?
বায়ান্ন, বাষট্টি, উনসত্তর, একাত্তর;
বাংলার লক্ষ লক্ষ আসাদ মতিউর আজ
বুকের শোণিতে উর্বর করেছে এই
প্রগাঢ় শ্যামল।
ক. তপুকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে কে আর্তনাদ করে ওঠে?
খ. “তপু না মরে আমি মরলেই ভালো হতো।”- এ কথা কে, কেন বলেছিল? ব্যাখ্যা
করো।
গ. উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের সংগ্রামী চেতনা এবং ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের সংগ্রামী
চেতনা কি একসূত্রে গাঁথা? উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
ক. তপুকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে রাহাত আর্তনাদ করে ওঠে।
খ. “তপু না মরে আমি মরলেই ভালো হতো।”- এ কথা রাহাত তপুর শহিদ হওয়া
প্রসঙ্গে বলে।
➠ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিল করতে গিয়ে কপালে গুলি লেগে শহিদ হয়
তপু। মিছিলে যাওয়ার সময় তপুর স্ত্রী রেণু তাকে বারবার নিষেধ করেছিল। তপু,
গল্পকথক, রাহাত কেউই রেণুর কথা শোনেনি। পরে তপু শহিদ হলে তার মৃতদেহটাও
পাওয়া যায়নি। সেই রাতে তপুর মা ও রেণু যখন আসে তখন তারা কান্নায় ভেঙে
পড়ে। রেণু রাগে-অভিমানে তাদের সঙ্গে একটা কথাও বলে না। এমন অবস্থায় রাহাত
গল্পকথকের কানে ফিসফিস করে বলে যে, তপু না মরে সে.নিজে মরলেই ভালো
হতো।
গ. উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প' নামক ছোটোগল্পের রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে
মানুষের সাহসী চেতনার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
➠ দেশের যেকোনো দুর্যোগে সাহসী সন্তানেরা প্রবল সাহস নিয়ে মোকাবিলা করে
থাকে। অপশক্তির কোনো বাধা, কোনো ষড়যন্ত্রই এসব বীর সন্তানকে রুখতে পারে
না। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে তারা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিতেও
বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হয় না।
➠ উদ্দীপকে বাংলার লাখো শহিদের আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে। বাংলার লাখো
মানুষ যেন আসাদ আর মতিউরের মতো সাহসী হয়ে উঠেছে। বায়ান্ন, বাষট্টি,
উনসত্তর, একাত্তর প্রভৃতি ইতিহাসের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা অসীম সাহসের
পরিচয় দিয়েছে। বুকের তাজা রক্তে তাঁরা উর্বর করেছে এই বাংলার প্রগাঢ়
শ্যামল। ‘একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পেও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অসংখ্য
মানুষ রাজপথে নামে। তারা ক্রুদ্ধ হয়ে হাতে প্লাকার্ড, স্লোগান দেওয়ার
চুঙ্গো, লম্বা লাঠিতে ঝোলানো, রক্তাক্ত জামা নিয়ে রাস্তায় মিছিলে নামে।
মিলিটারির গুলিতে তপু শহিদ হয়। তার সঙ্গে গল্পকথক, রাহাত অল্পের জন্য
বেঁচে ফেরে। তপুর মৃহদেহটা তারা নিয়ে আসতে পারেনি। মানুষগুলোর এমন
কর্মকাণ্ড তাদের সাহসী চেতনাকেই নির্দেশ করে যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত
হয়েছে।
ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের সংগ্রামী চেতনা এবং ‘একুশের গল্প’ গল্পের সংগ্রামী
চেতনা একসূত্রে গাঁথা।
➠ বাঙালি জাতি যখনই কোনো অপশক্তির মাধ্যমে শোষিত হয়েছে তখনই তারা
সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে। বায়ান্ন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ-
প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ জাতি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। উদ্দীপকে
বায়ান্ন, বাষট্টি, উনসত্তর, একাত্তর প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলার সাহসী
সন্তানদের অসীম সাহসের সঙ্গে লড়াই করার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার
সংগ্রামী ইতিহাসে আসাদ, মতিউর যেভাবে সংগ্রামী চেতনা ধারণ করে দেশের জন্য
শহিদ হয়েছিলেন, তেমনই লাখো মানুষ তাঁদের এই সংগ্রামী চেতনা ধারণ করেই
বুকের রক্ত দিয়ে প্রগাঢ় শ্যামল এই দেশকে উর্বর করেছেন। 'একুশের গল্প’
নামক ছোটগল্পে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অসংখ্য মানুষ রাজপথে নামে।
তাঁরা শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মিলিটারির গুলির মুখে বুক পেতে
দিয়েছে। শেষে তপুর মতো অসংখ্য মানুষ গুলিতে শহিদ হয়। তাঁদের কারও কারও
মৃতদেহটাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এগুলো নিঃসন্দেহে তাঁদের সংগ্রামী চেতনাকেই
নির্দেশ করে। ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পে স্বপ্নবান ও প্রাণোচ্ছল তরুণ
অপুর আত্মত্যাগের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। স্ত্রী রেণুর বারবার নিষেধ
সত্ত্বেও গল্পকথক ও রাহাতকে নিয়ে তপু ছুটে যায় গণমানুষের মিছিলে। তপুর
মতো অসংখ্য মানুষ পারিবারিক সব পিছুটান উপেক্ষা করে ছুটে যায় রাজপথের
মিছিলে। মিলিটারির গুলিতে তপু শহিদ হয়। দুজন মিলিটারি তার মৃতদেহটাও নিয়ে
যায়। এ গল্পে তপু, গল্পকথক, রাহাতদের কর্মকাণ্ড মূলত তাদের সংগ্রামী
চেতনাকেই নির্দেশ করে। এটিই এ গল্পের মূলকথা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের
সংগ্রামী চেতনা এবং গল্পের সংগ্রামী চেতনা একসূত্রে গাঁথা।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করা
স্বাধীনচেতা, দুরন্ত, টগবগে এক তরুণ। ১৯৭১ সালে যোগ দিলেন ক্রাক
প্লাটুনে। সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন উড়িয়ে দেওয়াসহ বেশ কিছু অভিযানে
সফলতা দেখালেন। কিন্তু ৩০ আগস্ট ধরা পড়লেন পাকবাহিনীর হাতে। সহযোদ্ধাদের
তথ্য নেওয়ার জন্য তার উপরে চালানো হলো অমানুষিক অত্যাচার-নির্যাতন।
কিন্তু মুখ খুললেন না আজাদ, সব কিছু সহ্য করলেন দাঁতে দাঁত কামড়ে। তার মা
সাফিয়া বেগম রমনা থানায় তার সাথে দেখা করতে এলে ভাত খেতে চেয়েছিলেন আজাদ।
কিন্তু পরের দিন সাফিয়া বেগম ভাত নিয়ে গেলে ছেলেকে আর খুঁজে পাননি।
ছেলেকে ভাত খাওয়াতে না পারার কষ্টে আজাদের মা সারা জীবন আর ভাত খাননি।
ক. গল্পকথকের সাথে তপুর শেষ দেখা হয়েছিল কোথায়?
খ. তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল কেন?
গ. উদ্দীপকের আজাদের সাথে 'একুশের গল্প’ রচনার কোন চরিত্রটি
সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্পকথক- এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়
কেন? উদ্দীপক ও ‘একুশের গল্প’ রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. গল্পকথকের সঙ্গে তপুর দেখা হয়েছিল হাইকোর্টের মোড়ে।
খ. তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা ভাষা আন্দোলনে
শহিদ, তপুর মৃতদেহ দুজন মিলিটারি নিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম তপুর কঙ্কাল
দেখছে।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটোগল্পের কথক তপুর বন্ধু। ১৯৫২ সালের ভাষা
আন্দোলনে তপু, রাহাত ও গল্পকথক অংশ নিয়েছিল। তারা চার বছর আগে ভাষার
মিছিলে যোগ দিয়ে হাইকোর্টের মোড়ে যাওয়ার পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মিছিলে
গুলি চালায়। লাল কালিতে লেখা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে
তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন মিলিটারি এসে তপুর
মৃতদেহ নিয়ে চলে যায়। সেই ঘটনার চার বছর পর হোস্টেলে তপুর সিটে আসা নতুন
রুমমেটের কাছে থাকা কঙ্কালটি কাকতালীয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর।
অন্যরূপে হলেও প্রিয় বন্ধু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।
গ. উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ রচনার তপু চরিত্রটি
সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ বাঙালি হলো বীরের জাতি। তারা অধিকার আদায়ে ছিল তৎপর। তাদের উপর যখনই
কোনো অন্যায়-অবিচার হয়েছে তখনই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে।
আদায় করেছে নিজেদের অধিকার।
➠ উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক তরুণের আত্মদানের কথা বলা
হয়েছে। এই তরুণের নাম মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। তিনি আগস্ট মাসে ধরা পড়ে
শত্রুর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তবুও সহযোদ্ধাদের কোনো তথ্য তিনি
শত্রুদের দেননি। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চেতনা 'একুশের গল্প’
ছোটগল্পের তপুর সাহসী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তপু 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা
চাই’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছে। স্ত্রী রেণুর
বাধা, অনুরোধ উপেক্ষা করেছে। এভাবে উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’
শীর্ষক গল্পটির তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. ‘যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্প কথক- এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়
মানুষের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে। একজন দেশপ্রেমিক সব সময় দেশ ও জাতির
মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন। অধিকার আদায়ের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন
আন্দোলন করতে হয়। মানুষ ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও
প্রস্তুত থাকে। ‘একুশের গল্প’ গল্পে গল্পকথক, রাহাত ও তপু- তারা তিন
বন্ধু ভাষা আন্দোলনে যোগ দেয় এবং ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ বলে স্লোগান
দেয়। মিছিলে শত্রুরা গুলি চালালে তপু গুলিবিদ্ধ হয়ে প্লাকার্ডসহ মাটিতে
লুটিয়ে পড়ে। বাংলা ভাষার জন্য তার এ আত্মদানের সঙ্গে উদ্দীপকের আজাদের
মিল রয়েছে। তিনিও প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে শত্রুর নির্মমতা সহ্য
করেছেন, তবুও সহযোদ্ধাদের বিষয়ে কোনো প্রকার তথ্য দেননি। ‘একুশের গল্প’
গল্পে তপু ও তার বন্ধুরা অসীম সাহস নিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায়
রাজপথে নেমে পড়ে। তাদের মতো উদ্দীপকের আজাদও দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য
একই কাতারে দাঁড়িয়েছে। আসলে তরুণের ধর্মই এই। দেশে যখনই কোনো
ক্রান্তিকালে পড়ে তখনই তরুণরা দেশ উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই বলা যায়,
দেশমাতৃকার প্রশ্নে যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্পকথক এঁরা এক কাতারে
দাঁড়িয়ে যায়।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আয়ুর প্রথম হৃদয় মন্বিত শব্দ, মনুষ্যত্বের প্রথম দীক্ষা যে উচ্চারণে
তারই সম্মানের জন্য তাঁরা যূথবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বুদ্ধ আর মোহাম্মদের দৃষ্টির মতো দীপ্ত ফল্লুর মুখদেশের মতো
উন্মথিত-আবেগ,
আকাশের যে সাতটি তারা সমস্ত নীলিমার ভেতর চিহ্নিত হয়ে
আছে তাদেরই মতো অনন্য;
আর জীবনের শত্রু শয়তানেরা সেই পবিত্র দেহগুলো ছিনিয়ে নিয়ে গেছে,
আর তাঁদের আত্মা এখন আমরা হৃদয়ে হৃদয়ে পোষণ করি।
ক. তপু মারা যাওয়ার পর তার মালপত্র নিতে কে এসেছিল?
খ. রেণু তপুকে মিছিলে যেতে বাধা দিয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের মিলের দিকটি ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “জাতীয় ইতিহাসে বীরদের কোনো মৃত্যু নেই; বারবার তাঁরা ফিরে আসে
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে।” মন্তব্যটি উদ্দীপকের শেষ লাইন ও ‘একুশের গল্প’
নামক ছোটগল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. তপু মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী রেণু তার মালপত্র নিতে এসেছিল।
খ. রেণুর মনে একটা অজানা ভয় কাজ করছিল বিধায় সে তপুকে মিছিলে যেতে বাধা
দিয়েছিল।
➠ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই সবাই একসঙ্গে জড়ো হচ্ছিল মিছিলে
যাবে বলে। তাদের কারও হাতে প্ল্যাকার্ড; স্লোগান দেওয়ার চুঙ্গো এবং কারও
হাতের লাঠির ডগায় রক্তমাখা জামা। সবাই যখন মিছিলে পা বাড়াল তখন রেণু পেছন
থেকে দৌড়ে এসে তপুর হাত ধরে তাকে থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মায়ের
কথা এবং মিছিলে গেলে তপুর ক্ষতি পারে এই ভয়ে রেণু তপুকে মিছিলে যেতে বারণ
করেছিল।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের বাংলা ভাষাকে
রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাজপথে মানুষের মিছিল ও আত্মত্যাগের দিকটির মিল
রয়েছে।
➠ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাঙালি ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত
রাজপথে রাজপথ রঞ্জিত করেছে। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের দেয়।
➠ উদ্দীপকে ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সাহসী মানুষদের সম্মিলিত প্রতিবাদের
দিকটি ফুটে উঠেছে। তাঁদের দৃষ্টি ছিল বুদ্ধ আর মোহাম্মদ (স.)-এর দৃষ্টির
মতো দীপ্ত। আকাশের সাতটি তারার মতো অনন্য। শত্রুরা প্রতিবাদীদের হত্যা
করে মৃত দেহ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এ আত্মত্যাগের
দিকটি ‘একুশের গল্প’ ছোটগল্পেও ফুটে উঠেছে। এ গল্পে রাষ্ট্রভাষা বাংলার
দাবিতে তপু মিছিলে গিয়ে এরা কপালে গুলি লেগে শহিদ হয়েছে। দুজন মিলিটারি
তার মৃতদেহটাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সামনের মানুষগুলো চিৎকার করে পালাতে
থাকে। উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের এ দিকগুলোরই মিল রয়েছে।
ঘ. “জাতীয় ইতিহাসে বীরদের কোনো মৃত্যু নেই; বারবার তাঁরা ফিরে আসে
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ দেশের দুর্যোগ ও ক্রান্তিকালে যাঁরা বুকে সাহস নিয়ে দেশ ও জাতির
কল্যাণে এগিয়ে আসে তাঁরাই প্রকৃত বীর। দেশের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ
ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। তাঁদের আত্মত্যাগের বীরগাথা পরবর্তী
প্রজন্মকে নানাভাবে প্রেরণা জোগায়।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতি প্রতিরোধের
কথা বলেছেন। এখানে ভাষার দাবীতে মিছিলকারীদের হত্যা করে মৃতদেহ তুলে নিয়ে
যায়। শহিদের আত্মাকে হৃদয়ে ধারণ করেন। ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পে
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অসংখ্য মানুষ রাজপথে মিছিল করে। সেই মিছিলে
কপালে গুলি লেগে তপু রাজপথে লুটিয়ে পড়ে।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পে, তপু শহিদ হওয়ার চার বছর পর কলেজের
হোস্টেলে আবিষ্কৃত হয় একটি কঙ্কাল। মাথার খুলির ফুটো আর বাম টিবিয়া
ফেবুলার আকার দেখে বন্ধুরা বুঝতে পারে এটিই তপুর কঙ্কাল। তপুর কঙ্কাল
হিসেবে ফিরে আসা যেন প্রতীকী অর্থ বহন করে। অর্থাৎ তপুর মতো বীরদের
মৃত্যু নেই। তাঁরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মুক্তিকামী জনতাকে শক্তি
জোগায়; মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে প্রেরণা দেয়। তাই বলা যায়,
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
পুঞ্জীভূত রাগ ও ক্ষোভে আমি অন্ধ। নিজের অসহায়তায় নিজেই লজ্জিত। মা
আমার মুখের পানে চেয়ে বুঝতে পারছেন আমার ব্যথা। কিন্তু মুখ ফুটে কিছু
বলতে পারছেন না। বাবা হঠাৎ বাড়ি ঢুকে পড়লেন। তাকে খুবই উত্তেজিত মনে হল
এবং অসময়ে অফিস থেকে বাসায় চলে আসার জন্য মাও আমার মতো অবাক হলেন। তিনি
কোনো কথা না বলে নামাজ পড়তে বসলেন। আমার অন্তরাত্মা কাঁদছে, কাঁপছে। আমি
কি এমন অসহায়! এত শিশু! আমি কি যেতে পারব না দশজনের সঙ্গে? আমি কি গলা
ছেড়ে বলতে পারব না রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই! আমি কি যাব না মিছিলে?
মৃত্যু-হত্যা-অশ্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলব না ভাষা আমার মা!
ক. তপুর জন্য গড়াগড়ি দিয়ে কে কান্না করেছিলেন?
খ. তপু তার হোস্টেলের কামরায় কীভাবে আবিষ্কৃত হলো? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের কোন চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের চেতনা এবং ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের চেতনা একসূত্রে
গাঁথা। মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
ক. তপুর জন্য গড়াগড়ি দিয়ে তপুর মা কান্না করেছিলেন।
খ. তপু তার হোস্টেলের কামরায় আবিষ্কৃত হলো নতুন রুমটেটের ব্যবহৃত
কঙ্কালের বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে।
➠ 'একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পে তপু চার বছর আগে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে
গিয়ে শহিদ হয়। তপুর সিটে আসা নতুন ছেলেটি এনাটমির বইয়ের সঙ্গে মিলিয়ে
পড়তে একটি মাথার খুলি বের করে, তাতে সে কপালের মাঝখানে একটি গর্ত দেখে
রাহাতকে ডাকে। রাহাত কৌতূহলী হয়ে কঙ্কালটি হাতে নেয় এবং কঙ্কালের পা মেপে
দেখে যে, ডান পায়ের তুলনায় বাম পা-টি দু ইঞ্চি ছোট এবং তার কপালে ঠিক
মাঝখানটায় গুলি লেগেছিল। এভাবে গল্পকথক ও রাহাত নিশ্চিত হয় যে, কঙ্কালটি
তপুরই।
গ. উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন
ঘটেছে।
➠ যারা দেশকে মনে-প্রাণে ভালোবাসেন তারা দেশের ক্রান্তিকালে কোনোমতেই ঘরে
বসে থাকতে পারেন না। দেশের জন্য লড়াই করতে তারা সব সময় প্রস্তুত থাকেন।
এমন সাহসী ও দেশপ্রেমিক মানুষদের কাছে দেশই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
➠ উদ্দীপকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে এক ব্যক্তির মিছিলে যাওয়ার আগ্রহ
এবং যেতে না পারার ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। এখানে তিনি অন্যদের সঙ্গে মিছিলে
যেতে না পারার রাগ ও ক্ষোভের কথা বলেছেন। তার এ ক্ষোভের কারণ তার বাবা
তাকে মিছিলে যেতে দিচ্ছেন না। অথচ তিনি মিছিলে যেতে চান,
মৃত্যু-হত্যা-অশ্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলতে চান ‘ভাষা আমার মা’। ‘একুশের
গল্প’ নামক ছোটগল্পেও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি নিয়ে দলে দলে মানুষ
রাজপথে মিছিল করে। সব বাধা-নিষেধ, ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা রাজপথে
'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' জ্বালাময়ী স্লোগান দেয়। সেখানে তপু মিলিটারির
গুলিতে শহিদ হয়। চেতনাকেই নির্দেশ করে।
ঘ. উদ্দীপকের চেতনা এবং ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের চেতনা একসূত্রে
গাঁথা। মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ বাঙালি ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন বিলিয়ে দেয়।
অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে
তোলে। এই আন্দোলন বাঙালি জাতিকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ও শক্তিশালী করে
তোলে। উদ্দীপকের লেখক রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে গিয়ে গলা ছেড়ে
বলতে চান ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’- ‘ভাষা আমার মা’। অথচ তার বাবার কারণে
তিনি মিছিলে যোগ দিতে পারেন না। ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পেও অনুরূপ
চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে। এ গল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিছিলে তপু
গল্পকথক ও রাহাতও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে তপু কপালে
গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হয়।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পে গল্পকথকের জবানিতে ভাষা আন্দোলনের
কালপর্বের বাংলাদেশের বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। ১৯৫২ সালের। একুশে ফেব্রুয়ারি
বাংলার ভাষার জন্যে মিছিল হলে সেই মিছিলে গল্পকথক, তপু ও রাহাত অংশগ্রহণ
করে। তাদের এমন চেতনা মূলত সংগ্রামী চেতনাকেই নির্দেশ করে যা উদ্দীপকের
চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
যাদের বুকের রক্তে মাতৃভাষা পেয়েছে সম্মান,
সঙ্গিনের মুখে যারা দাঁড়িয়েছে নিষ্কম্প, অম্লান,
মানে নাই কোনো বাধা, মৃত্যুভয় মানে নাই যারা
তাদের স্মরণচিহ্ন এ মিনার- কালের পাহারা!
এখানে দাঁড়াও এসে মনে করো তাদের সে-দান
যাদের বুকের রক্তে মাতৃভাষা পেয়েছে সম্মান।
ক. গল্পকথক কাকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন?
খ. “আমরা এতটুকুও নড়লাম না, বাধা দিতে পারলাম না।”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের সঙ্গে কোন দিক থেকে
সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের কতটুকু ধারণ
করে? তোমার উত্তরের পক্ষে মতামত দাও।
ক. গল্পকথক তপুকে কপালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন।
খ. “আমরা এতটুকু নড়লাম না, বাধা দিতে পারলাম না।” কথাটি গল্পকথক আক্ষেপ
করে তপুর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেছে।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের গল্পকথক, রাহাত এবং তপু ভাষা আন্দোলনের
মিছিলে যোগ দেয়। লাল কালিতে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” প্ল্যাকার্ড নিয়েই
তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। হাইকোটের মোড়ে গল্প কথকের সামনে থেকে দুইজন
মিলিটারি তপুর গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ দ্রুত তুলে নেয়। তপুকে লুটিয়ে পড়তে দেখে
রাহাত আর্তনাদ করে উঠলেও গল্পকথক বিমূঢ়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তপুর মৃত
দেহটা তুলে নেওয়ার সময় গল্প কথক এবং রাহাত কী করছিলেন তা জানাতেই
প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের সঙ্গে ভাষার মর্যাদা রক্ষায়
সাহসী চেতনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে
বাংলার দামাল ছেলেরা মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষায় অসীম
সাহসিকতা দেখিয়েছেন। শত্রুর গুলির মুখে বুক পেতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে
দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে মাতৃভাষা বাংলার সম্মান রক্ষাকারী বাঙালি জাতির বীর শহিদদের
অসামান্য অবদান ও বীরত্বের কথা বলা হয়েছে। তারা মাতৃভাষার জন্য বুকের
রক্ত দিয়েছে, সঙিনের মুখে দাঁড়িয়েছে। তারা কোনো বাধা মানেননি, মৃত্যুভয়ও
তারা উপেক্ষা করেছেন। এমন বীরদেরই স্মরণ করতে বলা হয়েছে। ‘একুশের গল্প’
নামক ছোটগল্পেও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মানুষের সাহসী পদক্ষেপ লক্ষ
করা যায়। এ লগ্নে ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সব ভয়ভীতি, বাধাবিপত্তি,
পারিবারিক পিছুটান উপেক্ষা করে তারা মিছিলে যায় এবং জীবন দেয়। বাংলা
ভাষার মর্যাদা রক্ষায় মানুষের এমন চেতনা মূলত তাদের সাহসী চেতনাকেই
নির্দেশ করে।
ঘ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের আংশিক ভাবকে ধারণ
করে বলে আমি মনে করি।
➠ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যাঁরা নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেন তাঁরা অমর
হয়ে সবার মধ্যে বেঁচে থাকেন। তাঁদের এমন আত্মত্যাগ যুগ যুগ ধরে দেশের
মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। তাঁরা দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে
মুক্তিকামী জনতাকে অনুপ্রেরণা দেয়।
➠ উদ্দীপকে মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায় অস্ত্রের সামনে দাঁড়ানো বীরদের কথা
বলা হয়েছে। যাঁদের মৃত্যুভয় ছিল না, যাঁরা কোনো বাধা মানেননি। ‘একুশের
গল্প’ নামক ছোটগল্পে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিলে তপুর মতো অনেক
প্রাণের বিসর্জন দিয়েছে। অর্জিত হয়েছে বাংলা ভাষার অধিকার। তবে এ গল্পে
গল্পকথক, তপু ও রাহাতের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, তপুর
ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিকসহ আরও কিছু বিষয় ফুটে উঠেছে যেগুলো উদ্দীপকে
প্রতিফলিত হয়নি।
➠ ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পে ভাষা আন্দোলনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত
অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের পাশাপাশি তপুর ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক, তপুকে
নিয়ে গল্পকথকের স্মৃতিকাতরতা, তপুর নির্মম মৃত্যু ও তার মৃতদেহ না পাওয়া,
চার বছর পর তার কঙ্কাল দেখে বন্ধুদের তাকে তপু হিসেবে শনাক্ত করার ঘটনা
প্রভৃতি ফুটে উঠেছে। গল্পের এ দিকগুলো উদ্দীপকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত
হয়নি। তাই উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘একুশের গল্প’ নামক ছোটগল্পের আংশিক ধারণ
করে বলে আমি মনে করি।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাহি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর রাজনীতিতে খুব সচেতন হয়ে ওঠে। নিজের
পড়ালেখায় যেমন সে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে তেমনই দেশ ও দেশের রাজনীতি
নিয়েও তার সরব উপস্থিতি। যখন দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন সে
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেই ছিল। পরিবারের একমাত্র ছেলে রাহি যুদ্ধে অংশগ্রহণ
করে শহিদ হয়। গ্রামে থাকা তার মা এই মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে
পারে না। মায়ের বিশ্বাস তাঁর ছেলে একদিন ফিরে আসবেই।
ক. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে কে আবার ফিরে এসেছিল?
খ. ‘কে বলবে যে এ তপু।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের সাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের সমগ্র ভাব প্রকাশ করে না।”-
যুক্তিসহ তোমার মতামত উপস্থাপন করো।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জহির সেইদিন না থাকলে হয়তো সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধ লোকটিকে বাঁচানো
সম্ভব হতো না। বিধ্বস্ত বাস হতে সে-ই প্রথম বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে
নিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। ডাক্তারের বারণ সত্ত্বেও লোকটিকে
বাঁচাতে রক্ত দিয়েছে এবং জরুরি ওষুধ কিনতে তার মাস খরচের শেষ সম্বল সবকটি
টাকাও খরচ করেছে। আর্তমানবতার স্বার্থে জহির সবসময় এরকমই আত্মত্যাগী।
ক. ‘পলকহীন চোখ জোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিল’- কার?
খ. চার বছর পর তপুর ফিরে আসাতে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল কেন?
গ. উদ্দীপকের ‘জহির’ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের কোন চরিত্রের সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লেখো।
ঘ. “উদ্দীপকের জহিরের রক্তদান ব্যক্তিক কিন্তু ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের
তপুর রক্তদান সামষ্টিক স্বার্থে উৎসারিত।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি
মোরা নতুন একটি কবিতা লিখতে যুদ্ধ করি।
মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি
মোরা সারা বিশ্বের শান্তি বাঁচাতে আজকে লড়ি।
গোবিন্দ হালদার।
ক. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পটি কোন পুরুষে রচিত?
খ. কার দিকে তাকাতে ভয়ে রক্ত হিম হয়ে আসে? কেন?
গ. উদ্দীপকটিতে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটিই যেন ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের মূল উপজীব্য।”- মন্তব্যটির
যথার্থতা নিরূপণ করো।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গিয়ে শহিদ হয় মেডিকেল কলেজের ছাত্র আসাদ। আসাদের
মা আজও ছেলের অপেক্ষায় দিন গোনেন। জীবনসায়াহ্নে এসেও তিনি ছেলেকে নিয়ে
স্বপ্নের জগতে বিচরণ করেন। তিনি এখনও ভাবেন- একদিন তাঁর ছেলে ফিরে এসে মা
বলে ডাকবে! তাঁর প্রতীক্ষার আড়ালে বিদ্যমান মাতৃহৃদয়ের চাপা যন্ত্রণা।
ক. তপুকে শেষবার কোথায় দেখা গিয়েছিল?
খ. ‘আমরা এতটুকুও নড়লাম না, বাধা দিতে পারলাম না।’- কেন?
গ. উদ্দীপকের আসাদের মায়ের সঙ্গে ‘একুশের গল্প’-এর তপুর মায়ের বৈসাদৃশ্য
তুলে ধরো।
ঘ. “উদ্দীপকের আসাদের মায়ের স্বপ্ন ও যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবিই হলো ‘একুশের
গল্প’।”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সবার কথা কেড়ে নেবে
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা,
তাই কি হয়?
তাই তো আমার দেরি হচ্ছে।
তোমার জন্য
কথার ঝুড়ি নিয়ে
তবেই না বাড়ি ফিরব।’
[মাগো ওরা বলে: আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।]
ক. ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা কে?
খ. গল্পের তপু কীভাবে বাস্তব সত্যকে ছাড়িয়ে যায়?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের সংগতিপূর্ণ দিকটি
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের তপুর আত্মত্যাগের কারণ
বিশ্লেষণ করো।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মরণ সাগর পারে তোমরা অমর,
তোমাদের স্মরি।
সংসারে জ্বেলে গেলে যে নব আলোকে
জয় হোক, জয় হোক, তারি জয় হোক-
বন্দিরে দিয়ে গেছ মুক্তির সুধা,
তোমাদের স্মরি।
স্বরলিপিকর-দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
ক. জহির রায়হানের আসল নাম কী?
খ. ‘বিয়ে করবে নাতো কি সারা জীবন বিধবা হয়ে থাকবে?’- কথাটি কেন বলা
হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের মূলভাবে ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘বাঙালি জাতির ইতিহাসে বীররা চির অমর।’- মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘একুশের
গল্প’ ছোটোগল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করা
স্বাধীনচেতা, দুরন্ত, টগবগে এক তরুণ। ১৯৭১ সালে যোগ দিলেন ক্রাক
প্লাটুনে। সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন উড়িয়ে দেওয়াসহ বেশ কিছু অভিযানে
সফলতা দেখালেন। কিন্তু ৩০ আগস্ট ধরা পড়লেন পাকবাহিনীর হাতে। সহযোদ্ধাদের
তথ্য নেওয়ার জন্য তার উপরে চালানো হলো অমানুষিক অত্যাচার-নির্যাতন।
কিন্তু মুখ খুললেন না আজাদ, সব কিছু সহ্য করলেন দাঁতে দাঁত কামড়ে। তার মা
সাফিয়া বেগম রমনা থানায় তার সাথে দেখা করতে এলে ভাত খেতে চেয়েছিলেন আজাদ।
কিন্তু পরের দিন সাফিয়া বেগম ভাত নিয়ে গেলে ছেলেকে আর খুঁজে পাননি।
ছেলেকে ভাত খাওয়াতে না পারার কষ্টে আজাদের মা সারা জীবন আর ভাত খাননি।
ক. গল্পকথকের সাথে তপুর শেষ দেখা হয়েছিল কোথায়?
খ. তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল কেন?
গ. উদ্দীপকের আজাদের সাথে 'একুশের গল্প' রচনার কোন চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্প কথক- এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়
কেন? উদ্দীপক ও ‘একুশের গল্প’ রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন বললেন,
পাকিস্তান সরকার আমাদের মাতৃভাষার অধিকার কেড়ে নিয়ে বিজাতীয় ভাষা উর্দু
চাপিয়ে দেয়ার অপপ্রয়াস চালায়। আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে কোন মূল্যে এ
অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াবার। সেই অনুযায়ী ছাত্র-জনতা সোচ্চার হতে থাকে। এক
পর্যায়ে পাকিস্তান সরকার আমাদের আন্দোলন নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য ১৪৪ ধারা
জারি করে। আমরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিই। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অগ্রসর হতে গেলে পাক মিলিটারি মিছিলে গুলি চালায়। শহীদ
হয় রফিক, জব্বার, সালাম, বরকতসহ অনেকে। সে ত্যাগ বৃথা যায়নি। বাংলার
মানুষের এ আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে ২১শে ফেব্রুয়ারি এখন
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
(ক) তপুর টিবিয়া ফেবুলা কত ইঞ্চি ছোট ছিল?
(খ) ‘ওকে চেনাই যায় না’ -কেন?
(গ) উদ্দীপকে ‘একুশের গল্প’ রচনার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে?
(ঘ) বাংলার মানুষের এ আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে -২১শে
ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
‘একুশের গল্প’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের
গুলি।
সূত্র: যায়যায় দিন;
২৫/১২/২০২০
ক. ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পে কাকে ‘গল্পের রাজা’ বলা হয়েছে?
খ. ‘অনন্তকাল ধরে যদি এমনি চলতে পারতাম আমরা।’- এ কথা তপু কেন বলেছিল?
গ. মিছিলে গুলিবিদ্ধ ভাষাশহিদ ‘একুশের গল্প’ ছোটোগল্পের কোন চরিত্রকে মনে
করিয়ে দেয়? কেন?
ঘ. “ছবিটি ভাষা আন্দোলনের বাস্তব সত্য কিন্তু ‘একুশের গল্প’ ভাষা
আন্দোলনের শিল্প সত্য।”- মূল্যায়ন করো।
তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫।
২. রচনাসমগ্র- জহির রায়হান, অনুপম প্রকাশনী, ঢাকা, জুলাই ২০২৩।
৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।