সুচেতনা : জীবনানন্দ দাশ
সুচেতনা
জীবনানন্দ দাশ
সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।
আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ
পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু,
দেখেছি আমারি হাতে হয়ত নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন প’ড়ে আছে;
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।
সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে- এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;
এ-বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;
প্রায় ততদূর ভালো মানব-সমাজ
আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
গড়ে দেবো, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।
মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,
না এলেই ভালো হতো অনুভব করে;
এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে সব বুঝেছি
শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;
দেখেছি যা হল হবে মানুষের যা হবার নয়-
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।
| সুচেতনা কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| ‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ (১৯৪২) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ সু- শুভ; সুন্দর। ➠ চেতনা-চিন্তা ➠ সুচেতনা- শুভ/সুন্দর চিন্তা। ➠ নক্ষত্র- তারা, সূর্য। এখানে সূর্যকে বোঝানো হয়েছে। ➠ দারুচিনি- এক ধরনের মসলা জাতীয় গাছ। ➠ বনানী- বন। ➠ নীরবতা- নির্জনতা। ➠ রণ- যুদ্ধ, লড়াই, মারামারি। ➠ রূঢ়- কঠিন, কঠোর। ➠ রৌদ্র- রোদে। ➠ মানুষের মতো- সংবেদনশীল মানবিক মানুষের মতো। ➠ আমরি- আমারই, নিজেই। ➠ পরিজন- পরিবারের লোক, আত্মীয়স্বজন। ➠ এই পথে- গভীর অসুখের পথে। ➠ ক্রমমুক্তি- ক্রমান্বয়ে মুক্তি, ধীরে ধীরে মুক্তি। ➠ শতাব্দী- ১০০ বছর। ➠ এ বাতাস- ধীরে ধীরে মুক্তির বাতাস। ➠ পরম- শ্রেষ্ঠ, দারুণ, চমৎকার। ➠ সূর্যকরোজ্জ্বল- সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল। ➠ নাবিক- নৌকা বা জাহাজের চালক। ➠ ঢের দূরে- অনেক দূরে। ➠ অন্তিম প্রভাতে- শেষ সকাল/ভোর। ➠ মানবজন্মের- মানুষরূপে জন্ম নেওয়া। ➠ সমুজ্জ্বল- বিশেষভাবে উজ্জ্বল, অতি উজ্জ্বল। ➠ শ্বাশত- চিরন্তন, চিরকালীলন। ➠ অনন্ত- যার কোনো শেষ নেই। ➠ সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ বিকেলের নক্ষত্রের কাছে; সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে নির্জনতা আছে।- সুচেতনা নামে এক শুভ চেতনার কথাই এখানে বোঝানো হয়েছে। কবির কল্পনায় দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এই চেতনার সবুজে বিরাজ করছে নির্জনতা। অর্থাৎ এই শুভ চেতনা সর্বত্র বিস্তারিত, বিরাজমান নয়। ➠ এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।- সভ্যতার বিকাশের পাশাপাশি বহু যুদ্ধ-রক্তপাত-প্রাণহানী সংঘটিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। তবে এই ধ্বংসাত্মক দিকটিই পৃথিবীর শেষ সত্য নয়। ➠ আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু, দেখেছি আমারি হাতে হয়ত নিহত ভাই বোন বন্ধু পরিজন প’ড়ে আছে;- প্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও পৃথিবীতে অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ অনেক রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়েই পৌঁছাতে হয় ভালোবাসার পরিণামে। ➠ এই পথে আলো জ্বেলে- এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;- পৃথিবীব্যাপ্ত গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মুক্তির পথই শুভ চেতনা। ইতিবাচক এ চেতনার আলো প্রজ্বলনের মাধ্যমেই সকল বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে। ➠ মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি, না এলেই ভালো হতো অনুভব ক’রে; এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে-সব বুঝেছি- ব্যক্তিক ও সামষ্টিক সংকট প্রত্যক্ষ করে পৃথিবীতে মানবরূপে জন্ম না নেওয়াকে আপাতভাবে কাঙ্ক্ষিত মনে হলেও এই পৃথিবী ও শুভ চেতনা থেকে প্রাপ্তিই শেখাবধি আমাদের গভীরভাবে প্রাণিত ও ঋণী করে। ➠ শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।- পৃথিবীব্যাপ্ত অন্ধকার বা অশুভের অন্তরালেই আছে সূর্যোদয়, মুক্তির দিশা। সুচেতনার বিকাশেই এই আলোকজ্জোল পৃথিবীর দেখা মিলবে, এটিই কবির বিশ্বাস। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি: |
|---|
| ‘সুচেতনা’ জীবনানন্দ দাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। এ কবিতায় সুচেতনা সম্বোধনে কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাসকে শিল্পিত করেছেন। কবির বিশ্বাসমতে, সুচেতনা দূরতম দ্বীপসদৃশ একটি ধারণা, যা পৃথিবীর নির্জনতায়, যুদ্ধে, রক্তে নিঃশেষিত নয়। চেতনাগত এই সত্তা বর্তমান পৃথিবীর গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে সুস্থ ইহলৌকিক পৃথিবীর মানুষকে জীবন্ময় করে রাখে। জীবন্মুক্তির এই চেতনাগত সত্যই পৃথিবীর ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বলিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে। শাশ্বত রাত্রির বুকে অনন্ত সূর্যোদয়কে প্রকাশ করবে। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
|
আধুনিক বাংলা কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশ। ১৮৯৯ সালের
১৭ই ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা সত্যানন্দ দাশ
ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং মা কুসুমকুমারী দাশ
ছিলেন সেকালের বিখ্যাত কবি। মায়ের কাছ থেকে তিনি কবিতা লেখার প্রেরণা
লাভ করেছিলেন। স্বল্প সময়ের জন্য বিভিন্ন পেশা অবলম্বন করলেও মূলত
ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেন। কবি
জীবনানন্দ দাশ কবিতায় সূক্ষ্ম ও গভীর অনুভবের এক জগৎ তৈরি করেন। বিশেষ
করে গ্রামবাংলার নিসর্গের যে ছবি তিনি এঁকেছেন, বাংলা সাহিত্যে তার
তুলনা চলে না। সেই নিসর্গের সঙ্গে অনুভব ও বোধের বহুতর মাত্রা যুক্ত
হয়ে তাঁর হাতে অনন্যসাধারণ কবিতাশিল্প রচিত হয়েছে। এই অসাধারণ
কাব্যবৈশিষ্ট্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
‘চিত্ররূপময়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া ব্যক্তিমানুষের
নিঃসঙ্গতা, আধুনিক জীবনের বিচিত্র যন্ত্রণা ও হাহাকার এবং সর্বোপরি
জীবন ও জগতের রহস্য ও মাহাত্ম্য সন্ধানে তিনি এক অপ্রতিম কবিভাষা
সৃষ্টি করেছেন। বুদ্ধদেব বসু তাঁকে আখ্যায়িত করেছেন
‘নির্জনতম কবি’ বলে। উপমা, চিত্রকল্প, প্রতীক সৃজন, আলো-আঁধারের
ব্যবহার, রঙের ব্যবহার এবং অনুভবের বিচিত্র মাত্রার ব্যবহারে তাঁর
কবিতা লাভ করেছে অসাধারণত্ব। তাঁর নিসর্গবিষয়ক কবিতা বাঙালির জাতিসত্তা
বিকাশের আন্দোলনে ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতাকে
তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হিসেবেও বাংলা
সাহিত্যে তাঁর বিশেষ স্থান রয়েছে। জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘বেলা
অবেলা কালবেলা’, ‘রূপসী বাংলা’। ‘কবিতার কথা’ তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ এবং
‘মাল্যবান’ ও ‘সুতীর্থ’ তাঁর বিখ্যাত দুইটি উপন্যাস। জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২শে অক্টোবর কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| সুচেতনা কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১. কবি জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১. কবিতায় “সুচেতনা” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্ন- ২. ‘ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিক’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৩. ‘এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা সত্য, তবুও শেষ সত্য নয়।’
ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৪. ভালো মানব-সমাজা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৫. ‘সুচেতনা’ কবিতায় কবি নির্জনতা প্রত্যাশা করেছেন কেন?
প্রশ্ন- ৬. ‘মাটি পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি’ - চরণটি
ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৭. ‘এই পথে আলো জ্বেলে- এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে’ -
বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৮. কবির প্রাণ অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরেছে কেন?
৯. কবি মানবসমাজে সুচেতনা প্রত্যাশা করেছেন কেন?
১০. ‘মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ১১. “পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন”- উক্তিটি ব্যাখা করো।
প্রশ্ন- ১২. “শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়”- ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ১৩. কবি কেন সুচেতনাকে একটি দ্বীপের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
প্রশ্ন- ১৪. “শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে”- তাৎপর্য ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ১৫. কবি কীভাবে পৃথিবীর গভীর অসুখের কথা তুলে ধরেছেন?
প্রশ্ন- ১৬. “শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়” -ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ১৭. কবিতায় “প্রাণ” শব্দটি কী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে?
প্রশ্ন- ১৮. “মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি”- ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ১৯. কবি জন্ম না নেওয়াকে কাক্সিক্ষত মনে করার কারণ কী?
প্রশ্ন- ২০. কবিতার শেষে কবি কী বিশ্বাসের কথা বলেছেন?
প্রশ্ন- ২১. “শতাব্দীর মনীষীর কাজ” বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ২২. “শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে” চরণটি ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ২৩. “পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন”- এই চরণে কবি কী বোঝাতে
চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ২৪. “সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ”- কবি কী বোঝাতে
চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ২৫. ‘সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ’- চরণটি ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ২৬. কবি সুচেতনাকে দূরতর দ্বীপের সঙ্গে তুলনা করেছেন কেন?
প্রশ্ন- ২৭. ‘সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে নির্জনতা আছে।’-
ব্যাখ্যা করো।
২৮. ‘এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা সত্য; তবুও শেষ সত্য নয়।’- ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ২৯. পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতাকে কবি শেষ সত্য বলে মনে করেন না
কেন?
প্রশ্ন- ৩০. কবির প্রাণ অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরেছে কেন?
প্রশ্ন- ৩১. ‘মানুষকে মানুষের মতো ভালোবাসা’ বলতে কবি বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৩২. ‘দেখেছি আমারি হাতে হয়ত নিহত ভাই বোন বন্ধু পরিজন পড়ে
আছে’- চরণদ্বয় ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৩৩. মানুষকে মানুষের মতো ভালোবাসা দিতে গিয়েও কবি স্বজনের
মৃতদেহ দেখেছেন কেন?
প্রশ্ন- ৩৪. ‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন’- উক্তিটি ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ৩৫. ‘মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।’- বলতে কবি কী
বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৩৬. ‘এই পথে আলো জ্বেলে- এ-পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে’-
বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৩৭. ‘পৃথিবীর ক্রমমুক্তি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৩৮. ‘সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ’ চরণটিতে কবি কী
বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৩৯. পৃথিবীর ক্রমমুক্তিকে কেন অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ
বলেছেন?
প্রশ্ন- ৪০. ‘এ-বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল’- ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৪১. বাতাসকে পরম সূর্যকরোজ্জ্বল বলে কবি কী বোঝাতে
চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ৪২. ‘ভালো মানবসমাজ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৪৩. ‘ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিক’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৪৪. ‘আজ নয় ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।’- বলতে কবি কী
বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৪৫. ‘সুচেতনা’ কবিতায় ‘অন্তিম প্রভাত’ বলতে কী বোঝানো
হয়েছে?
প্রশ্ন- ৪৬. ‘মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি’- চরণটি
ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৪৭. ‘না এলেই ভালো হতো অনুভব ক’রে’- চরণটিতে কবি কী
বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৪৮. কবি কীভাবে মানবরূপে জন্মগ্রহণ করার সার্থকতা অনুভব
করেন?
প্রশ্ন- ৪৯. শিশির শরীর ছুঁয়ে কবির বোধের পরিবর্তন হয় কেন?
প্রশ্ন- ৫০. ‘শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়’ বলতে কী
বুঝিয়েছেন?
প্রশ্ন- ৫১. কীভাবে পৃথিবীকে গভীরতর অসুস্থতা থেকে মুক্ত করা যাবে
বলে কবি মনে করেন? ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৫২. কবি মানবসমাজে সুচেতনা প্রত্যাশা করেছেন কেন?
প্রশ্ন- ৫৩. ‘সুচেতনা’ কবিতায় কবি নির্জনতা প্রত্যাশা করেছেন কেন? |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা
হয়েছে? |
|
ক. ‘সুচেতনা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
চয়ন করা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকটিতে ‘সুচেতনা’ কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ
চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির বিস্তারের বিষয়টি উঠে
এলেও ‘সুচেতনা' কবিতার আশাবাদের দিকটি উন্মোচিত হয়নি। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. জীবনানন্দ দাশের কোন ধরনের কবিতা মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রামী জনতাকে
অনুপ্রাণিত করেছিল? |
|
ক. জীবনানন্দ দাশের নিসর্গবিষয়ক কবিতা মুক্তিযুদ্ধে সংগ্রামী জনতাকে
অনুপ্রাণিত করেছিল। গ. উদ্দীপকটি ‘সুচেতনা’ কবিতায় উল্লিখিত অসুস্থ পৃথিবীর ধ্বংস ও ভাঙনের দিককে নির্দেশ করেছে। ‘সুচেতনা’ কবিতায় চূড়ান্ত পরিণামে আশাবাদী হলেও কবি সমকালীন সভ্যতার সংকটকে চিহ্নিত করেছেন সাবলীলভাবে। কবির মনে হয়েছে রণ-রক্ত-সফলতা নিয়ে ব্যস্ত যে নাগরিক ও আধুনিক সমাজ সেখানে সুচেতনা এখনো দূরবর্তী দ্বীপের মতোই দুর্লভ। সভ্যতার বিকাশের পাশাপাশি ঘটছে বহু যুদ্ধ-রক্তপাত-প্রাণহানি। প্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও পৃথিবীতে স্বজন হননের মতো ঘটনা ঘটছে। এমন ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি বিবেচনা কবির অনুভব, 'পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন'। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি ‘সুচেতনা’ কবিতার মতো সমকালীন সংকটকে উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকের প্রথম চরণে কবি মানুষের সভ্যতার মর্মে বা চেতনায় ক্লান্তি অনুভব করেছেন। দ্বিতীয় চরণে সভ্যতা যেসব বড়ো বড়ো নগরী সৃষ্টি করেছে, কবি তার মাঝে অনুভব করেছেন বুকভরা ব্যথা। উদ্দীপকে বর্ণিত সভ্যতা ও শহরের এমন ক্লান্তি ও ব্যথা নিঃসন্দেহে বিপর্যস্ত পৃথিবীর তীব্র সংকটের প্রতিচ্ছবি, যা ‘সুচেতনা’ কবিতার অসুস্থ পৃথিবীর ধ্বংস ও ভাঙনের দিককে নির্দেশ করে।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘সুচেতনা' কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই সমকালীন সমাজ-সংকট
প্রত্যক্ষ করে কবিহৃদয়ের রক্তক্ষরণের পরিচয় পাওয়া যায়। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. কবি বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে কী বলে অভিহিত করেছেন? |
|
ক. কবি বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে নির্জনতম কবি বলে অভিহিত
করেছেন।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসার জয়গান
গাওয়া হয়েছে, যা ‘সুচেতনা’ কবিতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপক ও সুচেতনা' কবিতার কবিষয়ের একমাত্র কামনা ভালোবাসাপূর্ণ
পৃথিবী গড়ে তোলা। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. কুসুমকুমারী দাশ কী হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন? |
|
ক. কুসুমকুমারী দাশ কবি হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন।
গ. কল্যাণময় পৃথিবী প্রত্যাশার দিক থেকে উদ্দীপকের নারী এবং
‘সুচেতনা’ কবিতার কবির চেতনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী প্রতিষ্ঠার অনুপম প্রত্যয় স্থাপন করার দিক
দিয়ে উদ্দীপকের নারীর প্রচেষ্টা ‘সুচেতনা’ কবিতার কবির ভাবনার মধ্যে
সমসূত্রে প্রথিত। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. যুদ্ধে রক্তে নিঃশেষিত নয় কী? |
|
ক. যুদ্ধে রক্তে নিঃশেষিত নয় সুচেতনা।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘সুচেতনা’ কবিতায় ফুটে ওঠা শুভচেতনার ভাবটি
প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী প্রতিষ্ঠার দিকটি ফুটে
উঠেছে, যা ‘সুচেতনা’ কবিতার মূলভাবেরই ধারক। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. কবি জীবনানন্দ দাশ কীভাবে মৃত্যুবরণ করেন? |
|
ক. কবি জীবনানন্দ দাশ ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
গ. উদ্দীপকটি ‘সুচেতনা’ কবিতার অসুস্থ পৃথিবীর ক্রমমুক্তির এবং একটি
ভালো মানবসমাজ নির্মাণের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘সুচেতনা’ কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই পৃথিবীর উন্নয়নে মানব
সমাজের সুদীর্ঘ সাধনাকেই মূল শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
|
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. কোথায় অনন্ত সূর্যোদয় হবে বলে কবির বিশ্বাস? |
|
ক. শাশ্বত রাত্রির বুকে অনন্ত সূর্যোদয় হবে বলে কবির বিশ্বাস।
গ. মানবসভ্যতার রূঢ়তার মাঝেও আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ‘সুচেতনা’
কবিতা ও উদ্দীপকের সাদৃশ্যগত দিক।
ঘ. ‘সুচেতনা’ কবিতা ও উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশিত ইতিবাচকতার
বিশ্লেষণের আলোকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ বলেই প্রতীয়মান হয়।
|
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. পৃথিবীব্যাপ্ত অন্ধকার বা অশুভের অন্তরালে কী আছে? |
|
ক. পৃথিবীব্যাপ্ত অন্ধকার বা অশুভের অন্তরালে সূর্যোদয় আছে।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘সুচেতনা’ কবিতার মানবজীবনের মুক্তির আশ্বাসের
দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশ ও ‘সুচেতনা’ কবিতার কবিদ্বয়ের প্রত্যাশা মূলত
মানব জীবনের অগ্রযাত্রায় এক ও অভিন্ন। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘সুচেতনা’ কবিতায় কবিপ্রাণ কোথায় ঘুরেছে? |
|
ক. ‘সুচেতনা’ কবিতায় কবিপ্রাণ রূঢ় রৌদ্রে ঘুরেছে।
গ. পৃথিবীতে মানুষের শুভকর্মের প্রয়াস এবং তাতে ক্রমসাফল্যের
আশাবাদের দিক থেকে ‘সুচেতনা’ কবিতা ও উদ্দীপকের ভাবগত সাদৃশ্য
রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘সুচেতনা’ কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই আলোকিত মানুষের হাতে
আলোকিত সমাজ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. জীবনানন্দ দাশের মায়ের নাম কী? |
|
ক. জীবনানন্দ দাশের মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ।
গ. উদ্দীপকটি ‘সুচেতনা’ কবিতায় কবির ‘ভালো মানব-সমাজ’ গড়ার প্রত্যয়ের
দিকটিকে নির্দেশ করে।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘সুচেতনা’ কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ
সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিহিত রয়েছে। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থের নাম লেখো। |
|
ক. জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থের নাম হলো ‘কবিতার কথা’।
গ. উদ্দীপক (i)-এ হিংসা-দ্বেষে মানবসভ্যতার ধ্বংস এবং ভালোবাসা দিয়ে
তা জয় করার বিষয়টি প্রকাশিত।
ঘ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে ভাবগত দিক থেকে ‘সুচেতনা’ কবিতার
বৈসাদৃশ্য রয়েছে। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. জীবনানন্দ দাশের কাব্যবৈশিষ্ট্যকে ‘চিত্ররূপময়’ বলে আখ্যায়িত
করেছেন কে? |
|
ক. জীবনানন্দ দাশের কাব্যবৈশিষ্ট্যকে ‘চিত্ররূপময়’ বলে আখ্যায়িত
করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। খ. “এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা সত্য, তবু
শেষ সত্য নয়” বলতে কবির চেতনানিহিত বিশ্বাসবোধ প্রকাশ পেয়েছে।
গ. উদ্দীপকটি ‘সুচেতনা’ কবিতার ভালোবাসার শক্তি ও কল্যাণময় ভাবের
ইঙ্গিত বহন করে।
ঘ. “সাদৃশ্য থাকলে ও উদ্দীপকটি ‘সুচেতনা’ কবিতার সমগ্র ভাবের ধারক
হতে পারেনি” মন্তব্যটি সত্য। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়? |
|
ক. বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়। গ. ‘সুচেতনা’ কবিতায় ফুটে ওঠা কবির ইতিবাচক মানসিকতার দিকটি ব্যাখ্যা করো। ঘ ‘সুচেতনা’ কবিতায় প্রকাশিত কবির কল্যাণকর সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
১ ক. জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস সংখ্যা কত? |
| ‘সুচেতনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘সুচেতনা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে? |
| তথ্যসূত্র : |
|---|
|
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬। ২. প্রকাশিত-অপ্রকাশিত রচনাসমগ্র: জীবনানন্দ দাশ, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, ঢাকা,নভেম্বর, ২০২০। ৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
মূল কবিতা
সুচেতনা
জীবনানন্দ দাশ
সুচেতনা, তুমি এক দূরতর দ্বীপ
বিকেলের নক্ষত্রের কাছে;
সেইখানে দারুচিনি-বনানীর ফাঁকে
নির্জনতা আছে।
এই পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতা
সত্য; তবু শেষ সত্য নয়।
কলকাতা একদিন কল্লোলিনী তিলোত্তমা হবে;
তবুও তোমার কাছে আমার হৃদয়।
আজকে অনেক রূঢ় রৌদ্রে ঘুরে প্রাণ
পৃথিবীর মানুষকে মানুষের মতো
ভালোবাসা দিতে গিয়ে তবু,
দেখেছি আমারি হাতে হয়ত নিহত
ভাই বোন বন্ধু পরিজন প’ড়ে আছে;
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন;
মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে।
কেবলি জাহাজ এসে আমাদের বন্দরের রোদে
দেখেছি ফসল নিয়ে উপনীত হয়;
সেই শস্য অগণন মানুষের শব;
শব থেকে উৎসারিত স্বর্ণের বিস্ময়
আমাদের পিতা বুদ্ধ কনফুশিয়সের মতো আমাদেরো প্রাণ
মূক করে রাখে; তবু চারিদিকে রক্তক্লান্ত কাজের আহ্বান।
সুচেতনা, এই পথে আলো জ্বেলে- এ পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি হবে;
সে অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ;
এ-বাতাস কী পরম সূর্যকরোজ্জ্বল;
প্রায় ততদূর ভালো মানব-সমাজ
আমাদের মতো ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকের হাতে
গড়ে দেবো, আজ নয়, ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে।
মাটি-পৃথিবীর টানে মানবজন্মের ঘরে কখন এসেছি,
না এলেই ভালো হতো অনুভব করে;
এসে যে গভীরতর লাভ হলো সে সব বুঝেছি
শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে;
দেখেছি যা হল হবে মানুষের যা হবার নয়-
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি অনন্ত সূর্যোদয়।
