আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিরাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দীঘল রজনী তার তরে জাগি’ ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।
আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি,
যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি।
যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা গান;
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর,-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
মোর বুকে যেবা কবর বেঁধেছে আমি তার বুক ভরি’
রঙিন ফুলের সোহাগ-জড়ান ফুল মালঞ্চ ধরি।
যে মুখে সে কহে নিঠুরিয়া বাণী,
আমি লয়ে করে তারি মুখখানি,
কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি' সাজাই নিরন্তর-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
‘প্রতিদান’ কবিতার উৎস নির্দেশ :
‘প্রতিদান’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের ‘বালুচর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
সংকলিত।
‘প্রতিদান’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা :
➠ যেবা- যে; যিনি।
➠ বিরাগী- নিস্পৃহ; উদাসীন।
➠ দীঘল রজনী- দীর্ঘ রাত।
➠ ঘুম যে হরেছে- নির্ঘুম রাত কাটানোর কথা বলা হয়েছে।
➠ বিষে-ভরা বাণ- কটু কথা; হিংসাত্মক ভাষা।
➠ সোহাগ- আদর; ভালবাসা।
➠ মালঞ্চ- ফুলের বাগান।
➠ নিঠুরিয়া- নিষ্ঠুর; নির্দয়।
➠ ঠাঁই- স্থান; আশ্রয়।
➠ নিরন্তর- নিয়ত; অবিরাম।
‘প্রতিদান’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি :
‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই
যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও
কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় এক পরিবেশ
সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। কেননা ভালোবাসাপূর্ণ মানুষই নির্মাণ করতে পারে সুন্দর,
নিরাপদ পৃথিবী। কবি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে
অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর, বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন।
‘প্রতিদান’ কবিতার কবি পরিচিতি :
জসীমউদ্দীন ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের
১লা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আনসারউদ্দীন মোল্লা এবং মায়ের
নাম আমিনা খাতুন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামে। ফরিদপুর
রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করার পর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কলেজে অধ্যয়নকালে “কবর” কবিতা
রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন এবং ছাত্রাবস্থায়ই কবিতাটি স্কুল
পাঠ্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
জসীমউদ্দীন ‘পল্লি-কবি’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুকাল অধ্যাপনা করেন। পরে সরকারের প্রচার ও জনসংযোগ
বিভাগে উচ্চপদে আসীন হন। পল্লিজীবন তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। বাংলার
গ্রামীণ জীবনের আবহ, সহজ-সরল প্রাকৃতিক রূপ উপযুক্ত শব্দ উপমা ও চিত্রের
মাধ্যমে তাঁর কাব্যে এক অনন্য সাধারণ মাত্রায় মূর্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর
বিখ্যাত ‘নকসী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)’ কাব্যটি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায়
অনূদিত হয়েছে। তাঁর অন্যান্য জনপ্রিয় ও সমাদৃত গ্রন্থ হচ্ছে:
‘সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)’, ‘বালুচর (১৯৩০)’, ‘ধানখেত (১৯৩৩)’, ‘রঙিলা
নায়ের মাঝি (১৯৩৫)’।
সাহিত্যকৃতির স্বীকৃতি হিসেবে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে
সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে।
জসীমউদ্দীন ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
‘প্রতিদান’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসেনি কেহ অবনী ’পরে
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে। সূত্র: সুখ- কামিনী রায়
ক. ‘প্রতিদান’ কবিতার চরণ সংখ্যা আঠারোটি।
খ. যে কবিকে নিষ্ঠুর কথা শোনান কবি নিরন্তর তার মুখ সাজান।
➠ ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি উদারতা ও সহনশীলতার বাণী উচ্চারণ করেছেন। কবির
প্রতি যারা কঠোর বাণী প্রয়োগ করে তাদের প্রতি তিনি তেমনটি করবেন না। তিনি
তাদের প্রতি সুন্দর ব্যবহার ও কোমল আচরণ করবেন। তিনি নিষ্ঠুরতার উত্তরে
নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন পছন্দ করেন না। তাই যারা কবির প্রতি কঠোর বাণী
উচ্চারণ করে কবি তাদের মুখকে নিরন্তর সাজাতে চান।
গ. উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’ কবিতার পরার্থে আত্মনিবেদনের দিকটি প্রকাশিত
হয়েছে।
➠ ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ পরিহার করে অপরের কল্যাণে
আত্মনিবেদন করেছেন। তিনি অনিষ্টকারীকে কেবল ক্ষমা করেই ক্ষান্ত হননি বরং
তার উপকার করতে চেয়েছেন। কবি মনে করেন, প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে
ভালোবাসাই পারে পৃথিবীকে সুন্দর ও নিরাপদ করতে। আর তাই তিনি তাঁর শত্রুর
প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি দেখতে চেয়েছেন মানবজীবনের সার্থকতা সবসময়
নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে অন্যের উপকার করার মাঝে নিহিত। আমাদের অন্যের জন্য
কোনো স্বার্থ ছাড়াই নিজেদের উৎসর্গ করতে হবে। তাঁর মতে, এ জগতে কেউ শুধু
নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য আসেনি বরং পরের কল্যাণে আত্মনিবেদন করার জন্যই
এসেছে। উদ্দীপকের এই আত্মনিবেদনের স্বরূপ আমরা ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির
মাঝেও দেখি। কবি মনে করেন, পরের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করতে পারলেই সমাজ
হয়ে উঠবে সুন্দর। আর এখানেই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য।
ঘ. পরার্থে আত্মনিবেদন করার আহ্বানের দিক থেকে উদ্দীপকের কবির চেতনা ও
‘প্রতিদান’ কবিতার কবির চেতনা সমান্তরাল।
➠ ‘প্রতিদান’ কবিতায় ক্ষমাশীলতা, উদারতা ও সহনশীলতার দৃষ্টান্ত ফুটে
উঠেছে। কবি সমাজে বিদ্যমান হানাহানি-হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে প্রীতিময়
পরিবেশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কবি মনে করেন, পরার্থপরতার মধ্য দিয়ে
মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করলেই তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হবে। তাঁর কাছে
সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কই পরম সত্য।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিও অন্যের কল্যাণের মাঝে মানবজীবনের সার্থকতা
খুঁজে পান। তিনি মনে করেন, মানুষ শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে এ জগতে
আসেনি। পরার্থে আত্মনিবেদন করতে পারার মাঝে জীবনের প্রকৃত সুখ নিহিত।
এজন্যই জগতে মানবের আবির্ভাব। এর বিপরীতে তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকে
না। কবি মনে করেন, অন্যের উপকারে কিছু করতে পারলেই মানবজীবন সার্থক ও সফল
হবে। আলোচ্য কবিতার কবিও এমন চেতনাই ধারণ করেন।
‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি যেমন অপরের কল্যাণের কথা বলেছেন, তেমনি উদ্দীপকের
কবিতাংশেও অপরের কল্যাণ করার কথা বলা হয়েছে। পরার্থে আত্মনিবেদনের মধ্যেই
যে মানবজীবনের সার্থকতা নিহিত তিনি তা দেখাতে চেয়েছেন। আর এই বিষয়টিই
আলোচ্য কবিতার প্রধান বিষয়। উদ্দীপকের আদর্শ ধারণ করার মধ্য দিয়ে
‘প্রতিদান’ কবিতার কবির প্রত্যাশা পূরণ হতে পারে। আলোচ্য কবিতার কবির এই
অপরের কল্যাণ করার চেতনা উদ্দীপকের কবির চেতনারই প্রতিধ্বনি। তাই
উদ্দীপকের কবি ও ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির চেতনা সমান্তরাল বলা সংগত।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মসজিদে কাল শিরনি আছিল, অঢেল গোস্তরুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটি কুটি!
এমন সময় এল মুসাফির গায়ে আজারির চিন,
বলে, বাবা, আমি ভুখাফাঁকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা, ভালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছো মোর গো-ভাগাড়ে গিয়ে। নমাজ পড়িস বেটা’? সূত্র: মানুষ- কাজী নজরুল ইসলাম
ক. ‘মালঞ্চ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. “কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি’ সাজাই নিরন্তর”- কথাটি দ্বারা কবি কী
বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে মোল্লার আচরণে ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’ কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেনি”- বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘মালঞ্চ’ শব্দের অর্থ বাগান।
খ. যে কবিকে নিষ্ঠুর বাণী শুনিয়েছে কবি তার মুখখানি সাজিয়ে দিতে
চেয়েছেন।
➠ কবি বিশ্বাস করেন কারো ক্ষতি করা নয়, উপকার করাই মানুষের প্রকৃত ধর্ম।
তাই কেউ নিষ্ঠুর বাণী শোনালে কবি তার মুখ সাজিয়ে দিতে চেয়েছেন। দেখিয়ে
দিয়েছেন প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ নয়, ভালবাসাই জীবনের আদর্শ।
গ. উদ্দীপকে মোল্লার আচরণে ‘প্রতিদান’ কবিতার অনিষ্টকারীর দিকটি ফুটে
উঠেছে।
➠ ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি এমন এক শ্রেণিকে তুলে ধরেছেন যাদের কাজ
মানুষের অনিষ্ট করা। অন্যের ঘর ভেঙেই তাদের শান্তি। অন্যকে কাঁদতে দেখলেই
তারা স্বস্তি পায়। তাদের মনে অন্যকে নিয়ে কোনো ভালো চিন্তা কাজ করে না।
তারা কেবল নিজের ভালোটাই বুঝতে পারে। অন্যের অপকার করে নিজের স্বার্থ
উদ্ধার করাই তাদের কাছে জীবনের প্রকৃত নাম। কবি এই ধরনের মানুষকেও
ভালোবেসে ক্ষমা করে দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দেওয়ার পক্ষে অবস্থান
নিয়েছেন এই কবিতায়।
➠ উদ্দীপকের মোল্লা সাহেব একজন ধর্মসাধক। অথচ সাত দিনের ক্ষুধার্ত ভিখারিকে
সে খাবার না দিয়ে বিদায় দেয়। যদিও তার কাছে অঢেল গোস্ত রুটি ছিল। মূলত,
মোল্লা সাহেব একজন স্বার্থ-সন্ধানী মানুষ যে নিজের জন্যই ধর্মকে ব্যবহার
করে। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মের নামে সে অধর্মের কাজ করে। তাই বলা যায়, মোল্লার
আচরণে 'প্রতিদান' কবিতার অনিষ্টকারীদের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’ কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেনি” মন্তব্যটি
যথার্থ।
➠ ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি সহনশীলতা, উদারতা ও ক্ষমাশীলতার দৃষ্টান্ত
উপস্থাপন করেছেন। কবি সমাজে বিদ্যমান হানাহানি-হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে
প্রীতিময় পরিবেশের আকাঙ্ক্ষা করেছেন। কেননা, ভালোবাসাপূর্ণ মানুষই
নির্মাণ করতে পারে সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী। কবি অনিষ্টকারীর উপকার করার
মাধ্যমে মহানুভবতার শক্তিতে পৃথিবীকে নির্মল ও সুন্দর করে তুলতে চেয়েছেন।
কেননা, অপরের উপকারেই মানবজীবনের সুখ ও সার্থকতা নিহিত।
➠ উদ্দীপকে আমরা একজন অনিষ্টকারীর স্বরূপ দেখতে পাই। যে একজন ধর্মরক্ষক
হয়েও অধর্মের কাজ করে। মসজিদে শিরনি অঢেল গোস্ত রুটি থাকলেও সাত দিনের
অভুক্ত ভিখারিকে মোল্লা সাহেব খাবার না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। এর মধ্য দিয়ে
মূলত সমাজের ধর্মের মুখোশধারী স্বার্থ-সন্ধানী মানুষদের স্বরূপ উন্মোচিত
হয়েছে।
➠ উদ্দীপকে স্বার্থ-সন্ধানী সংকীর্ণ মনের মানুষের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একটি সুন্দর পৃথিবীর
প্রত্যাশা করেছেন। কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার
মধ্যেই যে প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় যে সুখ পাওয়া যায় তা প্রতিহিংসায় পাওয়া যায় না।
তাই প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে কবির কণ্ঠে ব্যস্ত হয়েছে প্রীতিময়
পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। ফলে প্রশ্নোক্ত
মন্তব্যটি যথার্থ।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপক-i:
তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? সূত্র: কপালকুণ্ডলা - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উদ্দীপক-ii:
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক মানুষেতে সুরাসুর। সূত্র: স্বর্গ-নরক - শেখ ফজলল করিম
ক. ‘প্রতিদান’ কবিতার রচয়িতা কে?
খ. কবি কাঁটা পেয়ে ফুল দান করতে চান কেন?
গ. i-নং উদ্দীপকটি ‘প্রতিদান’ কবিতায় কোন দিকটিকে প্রকাশ করে? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. ii-নং উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’ কবিতার মূলসুর নিহিত আছে কি? মতামত দাও।
ক. ‘প্রতিদান’ কবিতার রচয়িতা জসীমউদ্দীন।
খ. কবি অহিংসা ও মানবতায় বিশ্বাসী বলে সারাটি জীবন ফুল দান করেছেন।
➠ কবি কখনো অনিষ্টকারীর ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ চান না। তিনি অনিষ্টকারীকে
ক্ষমা করে, তার বিপদে পাশে থাকতে চান। তাই কেউ কবিকে কাঁটা দিলেও
প্রতিদান হিসেবে কবি তাকে ফুল দিয়ে যাবেন সারাজীবন। কারণ
প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ নয় বরং ভালোবাসাই পৃথিবীকে সুন্দর করে তুলতে পারে
বলে কবির বিশ্বাস।
গ. i-নং উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতায় প্রকাশিত অনিষ্টকারীর প্রতি মহানুভবতা
প্রকাশের দিকটিকে তুলে ধরে।
➠ জসীমউদ্দীন ‘প্রতিদান’ কবিতায় এক মহৎ ও উদার মানসিকতার পরিচয় তুলে
ধরেছেন। যে ব্যক্তি তাঁর অনিষ্ট সাধন করে তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণের
পরিবর্তে কবি তাকে ক্ষমা করে দেন। শুধু তাই নয় সেই ব্যক্তির বিপদের দিনে
তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেও দ্বিধা করেন না।
➠ i-নং উদ্দীপকে এক উন্নত জীবনচেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অধম শ্রেণির
মানুষের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের হতাশাগ্রস্ত বা উদবুদ্ধ হওয়ার কোনো
যৌক্তিকতা নেই। বরং নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই মানবজীবনের
সাধনা হওয়া উচিত। এ বিষয়টিকে ‘প্রতিদান’ কবিতার প্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে
আমরা বলতে পারি, অপকারকারী আমাদের অনিষ্ট করলে আমরা যদি প্রতিশোধ নিতে
চাই তবে আমরাও তার মতোই হীন মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিতে পরিণত হব। এর
বিপরীতে তাকে ভালোবেসে বুকে টেনে নিলেই নিজেরা যেমন আমরা উন্নত হব তেমনি
সমাজও উন্নত হবে।
ঘ. সুন্দর পৃথিবী গড়ার আহ্বান তুলে ধরার দিক থেকে উদ্দীপকটিতে আলোচ্য
কবিতার মূলসুর ধ্বনিত হয়েছে বলেই আমি মনে করি।
‘প্রতিদান’ কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্য
দিয়ে প্রকৃত সুখ খুঁজে নিতে চেয়েছেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান
বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হয়েও তাঁর কণ্ঠে বেজেছে মিলনের
সুর। মানুষকে আপন করার মাধ্যমে উন্নত ও বাসযোগ্য একটি পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন
দেখেছেন কবি।
➠ ii-নং উদ্দীপকে সুন্দর সমাজ গড়তে আমাদের করণীয় সম্পর্কে বলা হয়েছে।
পৃথিবীতে মানুষে-মানুষে সম্পর্ককে তুচ্ছ করে কেবল স্বর্গ-নরকের ভাবনায়
পড়ে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। মানুষে-মানুষে প্রীতিময় সম্পর্কের
মাধ্যমেই পৃথিবীতে স্বর্গসুখ লাভ করা সম্ভব। ‘প্রতিদান’ কবিতায়ও একই
বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➠ স্বার্থের কারণে পৃথিবীতে মানুষে মানুষে দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। ইহলৌকিক
সুখ-সমৃদ্ধির মরীচিকায় দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে মানুষ অন্যের ক্ষতি করছে।
এক্ষেত্রে ‘প্রতিদান’ কবিতা ও ২নং উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই আমার দৃষ্টিভঙ্গি
পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবি অনিষ্টকারীকে ক্ষমা
করে এবং প্রতিদানে তার উপকার করে অনিষ্টকারীর মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে
চেয়েছেন। পরার্থপরতার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা খুঁজে নিতে চেয়েছেন কবি।
কবির মতে কেবল এভাবেই সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। ২নং উদ্দীপকেও
সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণে মানুষের ইতিবাচক ভূমিকাকে আহ্বান করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে তা যে পারস্পরিক প্রীতিময় সম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত সেটি বলার
অপেক্ষা রাখে না। সার্বিক বিবেচনায় বলা যয়, ২নং উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’
কবিতার মূলসুরই প্রকাশ পেয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
এক বুড়ি হযরত মুহম্মদ (স.) এর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতো এবং পথ চলতে
নবির পায়ে কাঁটা ফুটলে আনন্দিত হতো। একদিন পথে কাঁটা না দেখে নবিজী
চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং বুড়ির বাড়িতে গিয়ে দেখলেন বুড়ি অসুস্থ। নবি (স.)
কে দেখে বুড়ি ভীত হলেন। তিনি বুড়িকে ক্ষমা করে দিলেন এবং সেবাযত্ন দিয়ে
সুস্থ করে তুললেন।
ক. কবি কাকে বুকভরা গান দেন?
খ. কবিকে যে পর করেছে তাঁকে আপন করার জন্য কেঁদে বেড়ান কেন?
গ. উদ্দীপকের ভাবের সাথে ‘প্রতিদান’ কবিতার মূলভাবের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘প্রতিদান’ কবিতার ভাবার্থ ধারণ করলে একটি সুন্দর সমাজ গড়া
সম্ভব” বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
যে পথে গিয়েছে তারা কালিদাস, দান্তে ও হোমার
অজেয় রবীন্দ্রনাথ, বেদব্যাস, খৈয়াম, হাফিজ,
সুকান্ত-মিল্টন-শেলী অকাতরে ঢেলে মনসিজ-
সেই পথে গেছে সেও। এই শান্তি আমার-তোমার।
হে মন, প্রফুল্ল হও। শোনো তার মৃত্যুহীন গান
মানুষ সকল সত্য। এই সত্যে আমি অনির্বাণ।
ক. ‘নিরন্তর’ শব্দের অর্থ কী?
খ. যে কবির ঘর ভেঙেছে, কবি তার ঘর বাঁধতে চান কেন?
গ. উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে ‘প্রতিদান’ কবিতার সাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. “উদ্দীপকের ‘এই শান্তি তোমার আমার’ ও ‘মানুষ সকল সত্য’” অংশই
‘প্রতিদান’ কবিতার মূল বক্তব্য।”- উদ্ধৃতিটুকু কতখানি যথার্থ? বিশ্লেষণ
করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলই দাও,
তার মতো সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পরের কারণে মরণেও সুখ;
‘সুখ’, ‘সুখ’ করি কেঁদো না আর'
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী 'পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।
সূত্র: সুখ- কামিনী রায়
ক. কবি কাকে বুক ভরা গান দেন?
খ. কবির ঘর যে ভেঙেছে কবি তার ঘর বেঁধে দিতে চান কেন?
গ. ‘প্রতিদান’ কবিতার যে দিকটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘প্রতিদান’ কবিতার মূলভার একই।” এ কথার সার্থকতা তুলে ধরো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পরপীড়া পরিহার, পূর্ণ পরিতোষ।
সদানন্দে পরিপূর্ণ স্বভাবের দোষ।।
নাহি চায় আপনার পরিবার সুখ।
রাজ্যের কুশল কার্যে সদা হাস্যমুখ।।
কেবল পরের হিতে প্রেম লাভ যার
মানুষ তারেই বলি, মানুষ কে আর?
সূত্র: মানুষ কে? - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ক. ‘প্রতিদান’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
খ. “কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর”- উক্তিটি দ্বারা কী
বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “উদ্দীপকের কবির আকাঙ্ক্ষার মানুষই ‘প্রতিদান’ কবিতার কবি”- মন্তব্যটি
বিশ্লেষণ করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অনুজের হস্ত ধরিয়া নিকটে বসাইয়া হাসান বলিতে লাগিলেন, ভাই স্থির হও। আমি
আমার বিষদাতাকে চিনি। যাহা হউক ভাই, তাহার নাম আমি কখনোই মুখে আনিব না।
তাহার প্রতি আমার রাগ, হিংসাদ্বেষ কিছুই নাই। ঈশ্বরের নামে শপথ করিয়া
বলিতেছি, আমার বিষদাতার মুক্তির জন্য ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করিব।
সূত্র: বিষাদ-সিন্ধু - মীর মশাররফ হোসেন
ক. ‘বাণ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘প্রতিদান’ কবিতায় কবির কণ্ঠে, কোন আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত হয়েছে? ব্যাখ্যা
করো।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রতিদান’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে কি? আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের বিষদাতা ‘প্রতিদান’ কবিতার নিষ্ঠুর মানুষদের প্রতিনিধি।”-
মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাসের হেলপারদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা রোমেলের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে
গিয়েছে। সেদিনও ভাড়ার টাকা নিয়ে এক বাসের হেল্পারের সঙ্গে বাবিতণ্ডায়
জড়িয়ে পড়ে সে, হেল্পারকে নানা কটু কথাও বলে। শেষমেশ ভাড়া দিতে গিয়ে পকেটে
হাত দিয়ে সে দেখে মানিব্যাগ নেই, মনের ভুলে বাসায় ফেলে এসেছে। মনে মনে
অপদস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বিব্রত কণ্ঠে হেল্পারকে সে জানাল তা।
রোমেলকে অবাক করে দিয়ে হেল্পার বলল- "সমস্যা নেই, আপনার যেখানে নামার
সেখানেই নামবেন। আপনি আমাকে মানুষ বলে ভাবতে নাও পারেন কিন্তু আমি আপনার
প্রতি অমানবিক আচরণ করব না।" নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত রোমেল
হেল্পারের কাছে ক্ষমা চাইল।
ক. ‘প্রতিদান’ কবিতাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
খ. কবি পরকে আপন করতে চান কেন?
গ. উদ্দীপকের হেল্পারের আচরণে ‘প্রতিদান’ কবিতার কোন দিকটির প্রতিফলন
ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে-
মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল।
গাভি কভু না করে নিজ দুগ্ধ পান,
কাষ্ঠ দগ্ধ হ'য়ে করে পরে অন্ন দান।
স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত,
বংশী করে নিজ স্বরে অপরে মোহিত।
শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে,
সাধুর ঐশ্বর্য, শুধু পরহিত তরে।
সূত্র: পরোপকার - রজনীকান্ত সেন
ক.‘নকসী কাঁথার মাঠ’ কী ধরনের রচনা?
খ. ‘কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘প্রতিদান’ কবিতার যে দিকটি প্রকাশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের সাধুজন ‘প্রতিদান’ কবিতার কবির কাঙ্ক্ষিত মানুষ”- উক্তিটির
সত্যতা যাচাই করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা,
হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা
তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম
সত্যবাক্য ঝলি উঠে খরখড়্গসম
তোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মান
তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজ স্থান।
সূত্র: নৈবেদ্য - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ক. ‘মালঞ্চ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘কত ঠাঁই হতে কত কী যে আনি, সাজাই নিরন্তর’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘প্রতিদান’ কবিতার বৈসাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. উদ্দীপকের ক্ষমা, কবিতার পরোপকার ভিন্ন হলেও একই বৃন্তের যেন দুটি
ফুল- কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মতাে সুখ কোথাও কি আছে?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
পরের কারণে মরণেও সুখ,
‘সুখ’ ‘সুখ’ করে কেঁদ না আর,
যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে
ততই বাড়িবে হৃদয় ভার।
সূত্র: সুখ- কামিনী রায়
ক. ‘প্রতিদান’ কবিতাটি জসীমউদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত
হয়েছে?
খ. “কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের সারকথা ‘প্রতিদান’ কবিতার সঙ্গে যে দিক থেকে
সাদৃশ্যপূর্ণ তা আলোচনা করো।
ঘ. “‘প্রতিদান’ কবিতার কবি উদ্দীপকের সারকথাই ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন
করেছেন” - মূল্যায়ন করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
এক বুড়ি হযরত মুহম্মদ (স.) এর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখত এবং পথ চলতে
নবির পায়ে কাঁটা ফুটলে আনন্দিত হতো। একদিন পথে কাঁটা না দেখে নবিজী
চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং বুড়ির বাড়িতে গিয়ে দেখলেন বুড়ি অসুস্থ। নবি (স.)
কে দেখে বুড়ি ভীত হলেন। তিনি বুড়িকে ক্ষমা করে দিলেন এবং সেবাযত্ন দিয়ে
সুস্থ করে তুললেন।
ক. কবি কাকে বুকভরা গান দেন?
খ.কবিকে যে পর করেছে তাকে আপন করার জন্য কেঁদে বেড়ান কেন?
গ.উদ্দীপকের ভাবের সাথে ‘প্রতিদান’ কবিতার মূলভাবের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘প্রতিদান’ কবিতার ভাবার্থ ধারণ করলে একটি সুন্দর সমাজ গড়া
সম্ভব”- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
‘প্রতিদান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
কৈশোরে বাবাকে হারিয়ে অকূল পাথারে পড়ে সজীব। তার চাচারা সাহায্য করার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। সজীব ও তার মাকে বাড়ি থেকে তাড়ানোর জন্য নানাভাবে তাদের ওপর নির্যাতনও চালায়। সমস্ত প্রতিকূলতা সহ্য করে নিজের চেষ্টায় সজীব আজ প্রতিষ্ঠিত। এখন শহরে তার দুটি বাড়ি আছে অথচ তার সেই চাচারা দিন আনে দিন খায়। সজীবের একবার মনে হয় তাদের ক্ষমা করে দিয়ে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে। কিন্তু অতীতের নির্যাতনের কথা মনে হলে মনটা বিষিয়ে ওঠে তার।
ক. যে কবিকে পর করেছে তাকে কবি কী করতে চান?
খ. “যে মোরে করিল পথের বিবাগী/পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সজীবের প্রথম মনোভাবটি ‘প্রতিদান’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সুন্দর পৃথিবী গড়ার ক্ষেত্রে সজীবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাব কীরূপ হবে? মতামত দাও।
ক. যে কবিকে পর করেছে তাকে কবি আপন করতে চান।
খ. ‘যে মোরে করিল পথের বিবাগী- পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।’- পঙ্ক্তির মধ্য দিয়ে কবি পরার্থপরতার দিকটি তুলে ধরেছেন।
কবি বিশ্বাস করেন প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের মনোভাব বর্জন করে পরার্থপরতার মধ্যেই প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা লাভকরা সম্ভব। তাই যে কবিকে পথের বিবাগী করেছে কবি তার জন্যই পথে পথে ঘোরেন। অর্থাৎ অনিষ্টকারীর মঙ্গল কামনায় কবি নিজেকে নিবেদন করেন। অপকারীর উপকার করার মাধ্যমে তার মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই কবির লক্ষ্য।
গ. অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে প্রতিদানে তার উপকার করার প্রসঙ্গটি 'প্রতিদান' কবিতার আলোকে বর্ণনা করো।
ঘ. ‘প্রতিদান’ কবিতায় প্রকাশিত কবির মূল প্রত্যাশার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।
তথ্যসূত্র :
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।