বিদ্রোহী : কাজী নজরুল ইসলাম

বিদ্রোহী
বিদ্রোহী

বিদ্রোহী
কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর-
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
আমি চিরদুর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহাপ্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস!
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর,
আমি দুর্বার,
আমি ভেঙে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন।
আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর!

বল বীর-
চির-উন্নত মম শির!
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রাণী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য;
আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার,
আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দণ্ড,
আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচণ্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা হুতাশ আমি হুতাশীর।
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয় লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের

আমি উত্তর-বায়ু মলয়-অনিল উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি
আমি মরু-নির্ঝর ঝর ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুমঘুম
ঘুম চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝঝুম
মম বাঁশরীর তানে পাশরি
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠি যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া!
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!
আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম-স্কন্ধে
আমি উপাড়ি ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে।
মহা- বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না-
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত
আমি চির-বিদ্রোহী বীর-
বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নত শির!

‘বিদ্রোহী’ কবিতার উৎস নির্দেশ :
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) থেকে সংকলিত হয়েছে। ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা ‘বিদ্রোহী’।

‘বিদ্রোহী’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা :
➠ মম- আমার।
➠ শির- মাথা।
➠ নেহারি- দেখে; প্রত্যক্ষ করে।
➠ শিখর- চূড়া; শীর্ষচূড়া।
➠ হিমাদ্রি- হিমালয় পর্বতমালা।
শির নেহারি’ আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!- আমার শির বা মস্তক প্রত্যক্ষ করে হিমালয়ের শিখর বা শীর্ষচূড়া পর্যন্ত মাথা নত করে আছে।
➠ চিরদুর্দম- যাকে দমন করা কঠিন এমন; দুর্দান্ত।
➠ দুর্বিনীত- উদ্ধত; বিনীত নয়।
➠ নৃশংস- নিষ্ঠুর; হিংস্র।
➠ মহাপ্রলয়- সৃষ্টির ধ্বংসকাল। এই প্রলয়কালে সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মারও আয়ুর অবসান ঘটে।
➠ নটরাজ- মহাদেবের আর এক নাম। সৃষ্টির ধ্বংসকালে ধ্বংসের এই দেবতার ভয়ঙ্কর নৃত্যময় মূর্তি।
➠ কানুন- আইন।
➠ টর্পেডো- ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এক ধরনের অস্ত্র।
➠ ভীম- ভীষণ; ভয়ানক; পঞ্চ-পাণ্ডবের দ্বিতীয় পাণ্ডব, ইনি গদা নিয়ে যুদ্ধে পারঙ্গম।
➠ ধূর্জটি- শিব বা মহাদেবের অন্য নাম। জটাধারী শিবের জট ধূম্ররূপী বলে তাকে ধূর্জটি বলা হয়।
এলোকেশে- যার চুল বা কেশ এলানো। এখানে অকাল বৈশাখীর ঝড়ের সঙ্গে এলানো চুলের তুলনা করা হয়েছে।
আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাত্রীর- আমি বিশ্ব বিধাতার বিদ্রোহী পুত্র।
➠ নিশাবসান- রাতের শেষ বা অবসান।
ইন্দ্রানী-সুত- ইন্দ্রের স্ত্রী ইন্দ্রানী বা শচী। তার পুত্রের নাম জয়ন্ত।
➠ বেদুঈন- আরবদেশের একটি যাযাবর জাতি।
➠ চেঙ্গিস- চেঙ্গিস খান (১১৬২-১২২৭ খ্রিষ্টাব্দ)। মোঙ্গল জাতির অন্যতম যোদ্ধা ও সামরিক নেতা।
➠ কুর্নিশ- কিছুটা পিছিয়ে সম্ভ্রমপূর্ণ সালাম বা অভিবাদন।
ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার- ঈশান কোণ থেকে শিঙা থেকে ধ্বনিত ওঙ্কার বা ‘ওঁকার’ বা ‘ওঁ’ ধ্বনি।
ইস্রাফিলের শিঙ্গা- পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত বিশিষ্ট ফেরেশতার নাম ইস্রাফিল। ইনি বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনে দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিয়ামত বা প্রলয়কালে হযরত ইস্রাফিলের ব্যবহৃত শিঙ্গা।
পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল- শিব বা মহাদেব পিণাক নামক ধনু ধারণ করেন বলে তার নাম পিণাক পাণি। তাঁর অন্য হাতে থাকে ডমরু নামক ডুগডুগি জাতীয় বাদ্যযন্ত্র ও ত্রিশূল।
আমি চক্র ও মহাশঙ্খ- বিষ্ণু বা সুদর্শন চার হাত বিশিষ্ট। তাঁর এক একটি হাতে থাকে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম। এখানে বিষ্ণুর হাতের চক্র ও শঙ্খকে বোঝানো হয়েছে।
➠ প্রণব-নাদ- ওঙ্কার ধ্বনি।
➠ দুর্বাসা- ভারতীয় পুরাণের কোপন-স্বভাব বিশিষ্ট মুনি। মহর্ষি অত্রির ঔরষে ও তাঁর স্ত্রী অনসূয়ার গর্ভে দুর্বাসার জন্ম। এর কোপানলে পড়ে অনেকেই দগ্ধ হন।
বিশ্বমাত্রিক- বিশিষ্ট ব্রহ্মর্ষি। ক্ষত্রিয়কুলে জন্মগ্রহণ করেও কঠোর তপস্যার ফলে তিনি ব্রাহ্মণত্ব লাভ করেন।
➠ হুতাশী- হা-হুতাশ করে যে।
➠ নিদাঘ- গ্রীষ্ম।
➠ মরু-নির্ঝর- মরুভূমির ঝরনা।
➠ অর্ফিয়াস- গ্রিক পুরাণের গানের দেবতা অ্যাপোলো ও মিউজ ক্যাল্লোপির পুত্র অর্ফিয়াস ছিলেন মহান কবি ও শিল্পী। তবে মতান্তরে ইনি থ্রেসের রাজা ইগ্রাসের সন্তান। ইনি যন্ত্রসংগীতে পারদর্শী ছিলেন। তিনি যন্ত্রসংগীতে সকলকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। ইনি সুরের ইন্দ্রজাল বিস্তার করে ভালোবাসার পাত্রী ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন। সুরের জাল বিস্তার করে অর্ফিয়াস মৃত ইউরিডিসের প্রাণ ফিরে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সামান্য ভুলের জন্য ঐ সাফল্য তাঁর অধরা থেকে যায়।
➠ তান- সুরের বিস্তার।
➠ পাশরি- ভুলে যাই; বিস্মৃত হওয়া।
হাবিয়া দোজখ- সাতটি দোজখের একটি দোজখ।
➠ পরশুরাম- বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার। জমদগ্নি ও রেণুকার পঞ্চম পুত্র। অস্ত্র হিসেবে পরশু বা কুঠার ধারণ করায় তাঁর নাম হয় পরশুরাম। ইনি পিতার আদেশে কুঠার দিয়ে মাতৃহত্যা করেন। আবার সাধনাবলে মাকে বাঁচিয়ে তোলেন।পরশুরামের কঠোর কুঠার নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব- পরশুরাম একুশ বার ক্ষত্রিয়দের নিধন করেন। শ্রী কৃষ্ণের বৈমাত্রেয় জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।
➠ হল- লাঙ্গল; বলরামের অস্ত্র।
➠ বলরাম- শ্রী কৃষ্ণের বৈমাত্রেয় জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।
➠ খড়গ- অস্ত্রবিশেষ। বলিদানে ব্যবহৃত হয়।
➠ কৃপাণ- তলোয়ার বা তরবারি সদৃশ অস্ত্রবিশেষ।
ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- ভয়ানক রণক্ষেত্রে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।

একই চরিত্র বিভিন্ন নামে পরিচিত :
➠ নটরাজ- শিব, উমাপতি, চন্দ্রশেখর, ত্রিশূলধারী, দেবাদিদেব, ধূর্জটি, বিশ্বনাথ, বিশ্বপতি, মহাদেব, শঙ্কর, শিবশন্তু, হর।
➠ ইন্দ্র- অদিতিপুত্র, দেবরাজ, বাসব, মহেন্দ্র, মেঘবাহন, শচীকান্ত, সুরনাথ, সুরপতি।
➠ শচী- ইন্দ্রপত্নী, ইন্দ্রাণী, দেবেন্দ্রাণী।
➠ বিষ্ণু- কৃষ্ণ, মাধব, শ্যাম।

‘বিদ্রোহী’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি :

‘বিদ্রোহী’ বাংলা সাহিত্যের একটি শ্রেষ্ঠ কবিতা। রবীন্দ্রযুগে এ কবিতার মধ্য দিয়ে এক প্রাতিস্বিক কবিকণ্ঠের আত্মপ্রকাশ ঘটে- যা বাংলা কবিতার ইতিহাসে এক বিরল স্মরণীয় ঘটনা।

‘বিদ্রোহী’ কবিতায় আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে। কবিতায় সগর্বে কবি নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসন ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেন। এ কবিতায় সংযুক্ত রয়েছে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কবির ক্ষোভ ও বিদ্রোহ। কবি সকল অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও পুরাণের শক্তি উৎস থেকে উপকরণ উপাদান সমীকৃত করে নিজের বিদ্রোহী সত্তার অবয়ব রচনা করেন। কবিতার শেষে ধ্বনিত হয় অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান কাম্য। বিদ্রোহী কবি উৎকণ্ঠ ঘোষণায় জানিয়ে দেন যে, উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল যতদিন পর্যন্ত প্রশমিত না হবে ততদিন এই বিদ্রোহী কবিসত্তা শান্ত হবে না। এই চির বিদ্রোহী অভ্রভেদী চির উন্নত শিররূপে বিরাজ করবে।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি পরিচিতি :

কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) বাংলা কাব্যজগতের এক অনন্য শিল্পী। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র আট(৮) বছর বয়সে পিতাকে হারিয়ে কবির পরিবার চরম দারিদ্র্যে পতিত হয়। ১৩১৬ বঙ্গাব্দে গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাইমারি পাস করে সেখানেই এক বছর শিক্ষকতা করেন নজরুল। বারো (১২) বছর বয়সে তিনি লেটোর দলে যোগ দেন এবং দলের জন্য পালাগান রচনা করেন। বস্তুত তখন থেকেই তিনি সৃষ্টিশীল সত্তার অধিকারী হয়ে ওঠেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪) শুরু হওয়ার পর ১৯১৭ সালে ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে তিনি যোগদান করেন এবং করাচিতে যান; পরে হাবিলদার পদে উন্নীত হন।

১৯২০ সালের শুরুতে বাঙালি পল্টন ভেঙে দিলে তিনি কলকাতায় আসেন এবং পরিপূর্ণভাবে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। সাপ্তাহিক ‘বিজলী’তে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হলে চারদিকে তাঁর কবিখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ‘লাঙল’, ‘নবযুগ’, ‘ধূমকেতু(১৯২২)’-সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যসমূহ ‘অগ্নি-বীণা(১৯২২)’, ‘বিষের বাঁশি(১৯২৪)’, ‘সাম্যবাদী(১৯২৫)’, ‘সর্বহারা(১৯২৬)’, ‘সিন্ধু হিন্দোল()’, ‘চক্রবাক()’, ‘সন্ধ্যা(১৯২৯)’, ‘প্রলয়-শিখা(১৯৩০)’। এছাড়াও তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। অসংখ্য সংগীতের স্রষ্টা নজরুল। দেশাত্মবোধক গান, শ্যামাসংগীত, গজল রচনায় তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৬০) উপাধিতে ভূষিত করে। ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক(১৯৪৫)’, ‘একুশে পদক(১৯৭৬)’সহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় তিনি ভূষিত হন। ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে নজরুলকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয় এবং জাতীয় কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘বিদ্রোহী’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :

০১. কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
০২. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় কখন?
উত্তর: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়।
০৩. কখন বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়?
উত্তর: ১৯২০ সালে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়।
০৪. কাজী নজরুল ইসলাম কত নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন।
০৫. কখন বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়?
উত্তর: ১৯২০ সালের শুরুতে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া হয়।
০৬. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি সর্বপ্রথম সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
০৭. কত খ্রিষ্টাব্দে কাজী নজরুল ইসলাম ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন?
উত্তর: ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে কাজী নজরুল ইসলাম ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
০৮. কবি নিজেকে কীসের অভিশাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে পৃথিবীর অভিশাপ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
০৯. কবি কী মানেন না?
উত্তর: কবি কোনো আইন মানেন না।
১০. কবির এক হাতে কী রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: কবির এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
১১. কবি তাঁর অন্য হাতে কী রয়েছে বলে কবিতায় উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: কবি তাঁর অন্য হাতে রণ-তূর্য রয়েছে বলে কবিতায় উল্লেখ করেছেন।
১২. ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কী দাহন করবেন বলে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতা অনুসারে কবি বিশ্বকে দাহন করবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
১৩. কবি নিজেকে কার বুকের ক্রন্দন-শ্বাস বলে উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে বিধবার বুকের ক্রন্দন-শ্বাস বলে উল্লেখ করেছেন।
১৪. কবি নিজেকে কাদের বঞ্চিত ব্যথা বলেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে পথবাসী গৃহহারা যত পথিক রয়েছে তাদের বঞ্চিত ব্যথা বলেছেন।
১৫. কবি নিজেকে কাদের মরম বেদনা বলেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে অবমানিতের মরম বেদনা বলেছেন।
১৬. কবি নিজেকে কেমন রবি বলেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে রৌদ্র-রুদ্র রবি বলেছেন।
১৭. কবি কীসের তানে পাশরি যান?
উত্তর: কবি বাঁশরীর তানে পাশরি যান।-
১৮. কবি নিজেকে কার হাতের বাঁশরী বলেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে শ্যামের হাতের বাঁশরী বলেছেন।
১৯. কবি নিজেকে কার কুঠার হিসেবে ঘোষণা করেন?
উত্তর: কবি নিজেকে পরশুরামের কুঠার হিসেবে ঘোষণা করেন।
২০. কবি কীসের মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি আনবেন বলে ঘোষণা করেছেন?
উত্তর: কবি বিশ্বকে নিঃক্ষত্রিয় করার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি আনবেন বলে ঘোষণা করেছেন।
২১. কবি নিজেকে কার কাঁধের হল বলেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে বলরামের কাঁধের হল বলেছেন।
২২. কবি কী উপড়ে ফেলবেন বলে ঘোষণা করেছেন?
উত্তর: কবি অধীন বিশ্বকে উপড়ে ফেলবেন বলে ঘোষণা করেছেন।
২৩. ‘বিদ্রোহী’ কবিতা অনুসারে কবি কী ছাড়িয়ে উঠেছেন?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতা অনুসারে কবি বিশ্ব ছাড়িয়ে উঠেছেন।
২৪. ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির দুই হাতে কী রয়েছে?
উত্তর: কবির এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আরেক হাতে রণতূর্য রয়েছে।
২৫. ‘নেহারি’ অর্থ কী?
উত্তর: দেখে বা প্রত্যক্ষ করে।
২৬. ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি কী দাহন করবেন বলেছেন?
উত্তর: কবি বিশ্বকে দাহন করবেন বলেছেন।
২৭. ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিজেকে কার বুকের ক্রন্দন-শ্বাস বলেছেন?
উত্তর: বিধবার বুকের ক্রন্দন-শ্বাস বলেছেন।
২৮. ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিজেকে কাদের বঞ্চিত ব্যথা বলেছেন?
উত্তর: পথবাসী গৃহহারা যত পথিক রয়েছে তাদের বঞ্চিত ব্যথা বলেছেন।
২৯. কবি নিজেকে কাদের মরম বেদনা বলেছেন?
উত্তর: অবমানিতের মরম বেদনা বলেছেন।
৩০. কবি নিজেকে কেমন রবি বলেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে রৌদ্র-রুদ্র রবি বলেছেন।
৩১. কবি কীসের তানে পাশরি (ভুলে) যান?
উত্তর: কবি বাঁশরীর তানে পাশরি যান।
৩২. কবি নিজেকে কার হাতের বাঁশরী বলেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে শ্যামের হাতের বাঁশরী বলেছেন।
৩৩. কবি নিজেকে কার কুঠার হিসেবে ঘোষণা করেন?
উত্তর: কবি নিজেকে পরশুরামের কুঠার হিসেবে ঘোষণা করেন।
৩৪. কবি কীভাবে বিশ্বে শান্তি আনবেন?
উত্তর: কবি বিশ্বকে নিঃক্ষত্রিয় করে বিশ্বে শান্তি আনবেন।
৩৫. কবি নিজেকে কার কাঁধের ‘হল’ বলেছেন?
উত্তর: কবি নিজেকে বলরামের কাঁধের হল বলেছেন।
৩৬. কবি কী উপড়ে ফেলবেন বলে ঘোষণা করেছেন?
উত্তর: কবি অধীন বিশ্বকে উপড়ে ফেলবেন বলে ঘোষণা করেছেন।
৩৭. ‘বিদ্রোহী’ কবিতা অনুসারে কবি কী ছাড়িয়ে উঠেছেন?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতা অনুসারে কবি বিশ্ব ছাড়িয়ে উঠেছেন।
৩৮. ‘নটরাজ’ কাকে বলা হয়?
উত্তর: শিবকে নটরাজ বলা হয়।
৩৯. ‘মহা-প্রলয়’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘মহা-প্রলয়’ অর্থ সৃষ্টির ধ্বংসকাল।
৪০. ‘টর্পেডো’ কী?
উত্তর: টর্পেডো হচ্ছে ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এক ধরনের অস্ত্র।
৪১. ‘ভীম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘ভীম’ শব্দের অর্থ ভীষণ বা ভয়ানক।
৪২. ভীম কে?
উত্তর: ভীম হলেন মহাভারতে উল্লিখিত পঞ্চপাণ্ডবের দ্বিতীয় পাণ্ডব।
২৮. ‘বিদ্রোহী-সুত’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী-সুত’ অর্থ বিদ্রোহী পুত্র।
২৯. ‘নিশাবসান’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘নিশাবসান’ অর্থ রাতের শেষ বা অবসান।
৩০. ইন্দ্রাণী-সুত কে?
উত্তর: ইন্দ্রাণী-সুত হলেন ইন্দ্রাণীর পুত্র জয়ন্ত।
৩১. বেদুইন কারা?
উত্তর: বেদুইন হচ্ছে আরবের এক যাযাবর জাতি।
৩২. ইস্রাফিল কে?
উত্তর: একজন ফেরেশতা।
৩৩. ফেরেশতা ইস্রাফিলের দায়িত্ব কী?
উত্তর: ফেরেশতা ইস্রাফিল বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
৩৪. ‘চক্র’ কী?
উত্তর: ‘চক্র’ দেবতা বিষ্ণুর হাতের অস্ত্রবিশেষ।
৩৫. ‘প্রণব-নাদ’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘প্রণব-নাদ’ অর্থ ওঙ্কার ধ্বনি।
৩৬. দুর্বাসা কে?
উত্তর: দুর্বাসা ভারতীয় পুরাণে উল্লিখিত কোপন-স্বভাববিশিষ্ট একজন মুনি।
৩৭. অর্ফিয়াসের পিতা কে?
উত্তর: অর্ফিয়াসের পিতা গ্রিক পুরাণের গানের দেবতা অ্যাপোলো।
৩৮. অর্ফিয়াস কেন বিখ্যাত?
উত্তর: অর্ফিয়াস তার বাঁশির সুরের জন্য বিখ্যাত।
৩৯. অর্ফিয়াস সুরের ইন্দ্রজাল রচনা করে কার মন জয় করেছিলেন?
উত্তর: অর্ফিয়াস সুরের ইন্দ্রজাল রচনা করে ভালোবাসার পাত্রী ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন।
৪০. ‘তান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘তান’ শব্দের অর্থ সুরের বিস্তার।
৪১. পরশুরাম কে?
উত্তর: পরশুরাম হলেন দেবতা বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার।
২৩. ‘নেহারি' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘নেহারি' শব্দের অর্থ দেখে বা প্রত্যক্ষ করে।
২৪. ‘মহা-প্রলয়' অর্থ কী?
উত্তর: ‘মহা-প্রলয়' অর্থ সৃষ্টির ধ্বংসকাল।
২৫. টর্পেডো কী?
উত্তর: টর্পেডো হচ্ছে ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এক ধরনের অস্ত্র।
২৬. ‘ভীম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘ভীম’ শব্দের অর্থ ভীষণ বা ভয়ানক।
২৭. ভীম কে?
উত্তর: ভীম হলেন মহাভারতে উল্লিখিত পঞ্চপাণ্ডবের দ্বিতীয় পাণ্ডব।
২৮. ‘বিদ্রোহী-সুত’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী-সুত’ অর্থ বিদ্রোহী পুত্র।
২৯. ‘নিশাবসান’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘নিশাবসান’ অর্থ রাতের শেষ বা অবসান।
৩০. ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় উল্লিখিত ইন্দ্রানী-সুত কে?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় উল্লিখিত ইন্দ্রাণী-সুত হলেন ইন্দ্রাণীর পুত্র জয়ন্ত।
৩১. বেদুইন কী?
উত্তর: বেদুইন হচ্ছে আরব দেশের একটি যাযাবর জাতি।
৩২. 'বিদ্রোহী' কবিতায় উল্লিখিত ইস্রাফিল কে?
উত্তর: ‘বিদ্রোহী' কবিতায় উল্লিখিত ইস্রাফিল একজন ফেরেশতা।
৩৩. ফেরেশতা ইস্রাফিল কীসের দায়িত্বপ্রাপ্ত?
উত্তর: ফেরেশতা ইস্রাফিল বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
৩৪. চক্র কী?
উত্তর: ‘চক্র’ দেবতা বিষ্ণুর হাতের অস্ত্রবিশেষ।
৩৫. ‘প্রণব-নাদ’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘প্রণব-নাদ’ অর্থ ওঙ্কার ধ্বনি।
৩৬. দুর্বাসা কে?
উত্তর: দুর্বাসা ভারতীয় পুরাণে উল্লিখিত কোপন-স্বভাববিশিষ্ট একজন মুনি।
৩৭. অর্ফিয়াসের পিতা কে?
উত্তর: অফিয়াসের পিতা গ্রিক পুরাণের গানের দেবতা এ্যাপোলো।
৩৮. অর্ফিয়াসের পিতা এ্যাপোলো ছাড়া অন্য কে হতে পারে বলে মত পাওয়া যায়?
উত্তর: অফিয়াসের পিতা এ্যাপোলো ছাড়া থ্রেসের রাজা ইগ্রাস হতে পারে বলে মত পাওয়া যায়।
৩৯. অর্ফিয়াস সুরের ইন্দ্রজাল বিস্তার করে কার মন জয় করেছিলেন?
উত্তর: অর্ফিয়াস সুরের ইন্দ্রজাল বিস্তার করে ভালোবাসার পাত্রী ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন।
৪০. ‘তান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘তান’ শব্দের অর্থ সুরের বিস্তার।
৪১. পরশুরাম কে?
উত্তর: পরশুরাম হলেন দেবতা বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার।
৪২. পরশুরামের অস্ত্র কী?
উত্তর: পরশুরামের অস্ত্র হলো পরশু বা কুঠার।
৪৩. হল কার অস্ত্র?
উত্তর: হল বলরামের অস্ত্র।
৪৪. বলরাম কে?
উত্তর: বলরাম হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণের বৈমাত্রেয় জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।
৪৬. কৃপাণ কী?
উত্তর: কৃপাণ তলোয়ার বা তরবারি-সদৃশ অস্ত্রবিশেষ।
৪৭. খড়্গ কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
উত্তর: খড়্গ পশু বলিদানে ব্যবহৃত হয়।
৪৮. ডমরু কী?
উত্তর: ‘ডমরু’ হচ্ছে ডুগডুগি জাতীয় একপ্রকার বাদ্যযন্ত্র।
৪৯. ইন্দ্রাণী কে?
উত্তর: ইন্দ্রাণী হলেন ইন্দ্রের স্ত্রী।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :

১. “যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না’- একথা বলার কারণ কী?
উত্তর: নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের দুঃখকষ্ট ও আর্তচিৎকার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবি বিপ্লব-প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বোঝাতে তিনি প্রশ্নোক্ত কথা বলেছেন।
➠ অসাম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহ নিরন্তর। যেখানেই তিনি অত্যাচার ও অনাচার দেখেছেন, সেখানেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। নিপীড়কের বিরুদ্ধে এবং আর্তমানবতার পক্ষে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন তিনি। তাঁর হুংকারে কেঁপে উঠেছে অত্যাচারীর ক্ষমতার মসনদ। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও উৎপীড়িত মানুষের পক্ষে বিপ্লব-প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ বিষয়টিকে স্পষ্ট করতেই তিনি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

২. ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয়ে নিজ অস্তিত্বের স্বরূপ তুলে ধরতেই কবি প্রশ্নোত্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।
➠ কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি। মানবপ্রেম ও সাম্যচেতনা তাঁর কবিতার মূল প্রেরণা। আর তাই যেখানেই অসাম্য ও অনাচার লক্ষ করেছেন, ব্যথিত কবি সেখানেই উচ্চারণ করেছেন দ্রোহের পক্তিমালা। আলোচ্য কবিতাটিতেও কবির দ্রোহ পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে, যার মুখ্য উদ্দেশ্য মানবমুক্তি। নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দন বন্ধ করার প্রয়াসেই তাঁর এই দ্রোহ। কবি সত্তার এই বিদ্রোহী রূপ এবং তার অন্তরালে মানবপ্রেমের বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোত্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

৩. ‘আমি দুর্বার/ আমি ভেঙে করি সব চুরমার’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য উক্তিতে কবির বিধ্বংসী রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
➠ ‘বিদ্রোহী' কবিতায় কবি শোষণ-বঞ্চনা ও অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বেনিয়া শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের অপশাসন ও ভেদ-বৈষম্যের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশবাসীকে তিনি মুক্ত করতে চান। এ লক্ষ্যেই দুর্বার গতিতে তিনি শোষক ও অত্যাচারীর সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিতে চান। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে বিদ্রোহী কবিসত্তার এমন বিধ্বংসী রূপই প্রতিফলিত হয়েছে।

৪. কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলেছেন কেন?
উত্তর: নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলে কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ অভিহিত করে শৃঙ্খল ভাঙার বার্তা দিয়েছেন।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষকে নিষ্পেষিত হতে দেখে কবির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি দেখেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আইন ও বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে মানুষকে নাকাল হতে হয়। সংগত কারণেই তিনি আইনের এই বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি অনিয়ম দিয়ে প্রচলিত নিয়মকে এবং উচ্ছৃঙ্খলতা দিয়ে শৃঙ্খলিত ও প্রথাবদ্ধ জীবনব্যবস্থাকে ভাঙতে চেয়েছেন। এজন্যই কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলে অভিহিত করেছেন।

৫. ‘আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাতৃর’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনার ধারক হিসেবে কবি নিজেকে বিশ্ববিধাতার বিদ্রোহী পুত্র বা সুত বলে অভিহিত করেছেন।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে তখন আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে সমাজে শক্ত আসন গেড়েছে অন্যায়-অত্যাচার ও বৈষম্য। সরে কারণেই সমাজে জেঁকে বসা এই বৈষম্য ও অচলায়তনকে ভাঙতে চেয়েছিলেন কবি। এ লক্ষ্যেই তিনি উচ্চারণ করেন দ্রোহের পরিমাণ। তাঁর এই দ্রোহ কোনো নির্দিষ্ট গ-িতে আবদ্ধ নয়। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তিনি বিধ্বংসী রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন। বিদ্রোহী চেতনার ধার হিসেবে অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁর এই নিরন্তর দ্রোহের বিষয়টি বোঝাতেই কবি নিজেকে বিশ্ব-বিধাতার বিদ্রোহী-সুত বা ধীর পর বলে অভিহিত করেছেন।

৬. কবি নিজেকে ‘অর্ফিয়াসের বাঁশরী’ বলেছেন কেন?
উত্তর: বাঙালি জাতিকে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে জাগ্রত করার মানসে কবি গ্রিক পুরাণে উল্লিখিত মহান শিল্পী অর্ফিয়াসের বাঁশির সাথে নিজের তুলনা করেছেন।
➠ অর্ফিয়াস গ্রিক পুরাণের একজন মহান কবি ও শিল্পী। তিনি যন্ত্রসংগীতে সকলকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। শুধু তাই নয়, সুরের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করে তিনি ভালোবাসার পাত্রী ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন। কবির প্রত্যাশা, অর্ফিয়াসের বাঁশির সুরের মতো তাঁর বিদ্রোহের সুরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাবে। সে সুরে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হবে দেশবাসী। মিলবে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। এমন ভাবনা থেকেই কবি নিজেকে অর্ফিয়াসের বাঁশি বলে অভিহিত করেছেন।

৭. কবি নিজেকে ‘চির-বিদ্রোহী বীর’ বলেছেন কেন?
উত্তর: চিরকালীন বিদ্রোহের ঝান্ডাধারী বীরপুরুষ হিসেবে পরিচয় জ্ঞাপন করতে গিয়ে নিজেকে কবি ‘চির-বিদ্রোহী বীর’ বলে অভিহিত করেছেন। কবি সাম্যচেতনাকে ধারণ করেন।
➠ আর তাই যেখানেই তিনি অন্যায় ও অসাম্য দেখেছেন, প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন তার বিরুদ্ধেই। একই কারণে পরাধীন ভারতবর্ষে চারপাশের অন্যায়-নিপীড়ন ও বৈষম্য প্রত্যক্ষ করে ব্যথিত কবি উচ্চারণ করেন দ্রোহের পক্তিমালা। কবির এ দ্রোহ কোনো স্থান-কাল বা সীমার গ-িতে আবদ্ধ নয়। প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। এই অনুভব থেকেই কবি নিজেকে চির-বিদ্রোহী বীর বলে অভিহিত করেছেন।

৮. ‘আমি চেঙ্গিস’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি নিজের মাঝে বিধ্বংসী যোদ্ধা চেঙ্গিস খানকে কল্পনা করে নিজের বিদ্রোহ ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রা দিতে প্রয়াসী হয়েছেন।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নানা বিধ্বংসী চরিত্রকে অবলম্বন করে তাঁর দ্রোহের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। এক্ষেত্রে কখনো পুরাণ আবার কখনো ঐতিহাসিক অনুষঙ্গে ভর করে কবি তাঁর ধ্বংসকামী সত্তার পরিচয় জ্ঞাপন করেছেন। এরই অংশ হিসেবে কবি নিজেকে দূর্র্ধষ মোঙ্গল যোদ্ধা ও সেনাপতি চেঙ্গিস খানরূপে কল্পনা করেছেন। চেঙ্গিস খান অত্যন্ত নৃশংস ছিলেন। আলোচ্য কবিতায় কবি নিজেকে চেঙ্গিস খান রূপে কল্পনা করে মূলত অপশক্তিকে ধ্বংসের বার্তা দিতে চেয়েছেন।

৯. “শির নেহারি’ আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির” ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: “শির নেহারি’ আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির”- কথাটির মধ্য দিয়ে আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে।
➠ আলোচ্য কবিতার কবি বীর ধর্মের অনুসারী। আত্মপ্রত্যয়ী বীরের চিত্র সর্বদাই সমুন্নত। সংগত কারণেই কবির এই বীর সত্ত্বা কোনোকিছুকে পরোয়া করে নাঃ ধ্বংসের দামামা বাজিয়ে এগিয়ে যায় নতুন সৃষ্টির লক্ষ্যে। কবি মনে করেন, আত্মগৌরবে বলীয়ান তাঁর সেই সসম্ভ বিরোচিত রূপ অবলোকন করে হিমাদ্রি তথা হিমালয়ও যেন মাথা নত করে। প্রশ্নোত্ত চরণটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

১০. কবি নিজেকে পৃথিবীর অভিশাপ বলেছেন কেন?
উত্তর: সমাজে বিরাজমান অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁর বিধ্বংসী রূপ বোঝাতেই কবি নিজেকে পৃথিবীর অভিশাপ বলে উল্লেখ করেছেন।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজশক্তি তখন জগদ্দল পাথরের মতো এদেশবাসীর ওপর চেপে বসেছে। অত্যাচারী এই শাসকগোষ্ঠীর অপশাসনে সমগ্র দেশই যেন নরকে রূপান্তরিত হয়েছে। এদের ধ্বংস করতে হলে এক ভয়ানক রুদ্রের প্রয়োজন, যে এদের সাজানো বাগানকে তছনছ করে দিতে পারে। কবি নিজেই সেই রুদ্ররূপ ধারণ করে অত্যাচারীর জন্য মহাপ্রলয় আনতে চেয়েছেন। তিনি যেন সাক্ষাৎ অভিশাপ, যিনি অত্যাচারী ও শোষকের সাম্রাজ্যকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবেন। এমন মনোভাব থেকেই নিজেকে তিনি পৃথিবীর অভিশাপ বলেছেন।

১১. কবি ‘অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল’ কেন?
উত্তর: কবি ‘অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল’ কারণ তিনি কোনো অন্যায়, অসাম্য মানেন না।
➠ যথার্থ আত্মজাগরণ প্রত্যেকটি ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয়। কবি নিজেকে উচ্ছৃঙ্খল বলেছেন সকল পরাধীনতা, অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে। যে সকল নিয়ম ভেদাভেদ সৃষ্টি করে সেসব নিয়ম তিনি মানেন না। সেসব মিথ্যা শৃঙ্খলেও তিনি নিজেকে আবদ্ধ করেন না।

১২. কবি নিজেকে বেদুঈন বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সকল অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজের বিদ্রোহী সত্তার অবয়ব রচনা করতে কবি নিজেকে বেদুঈন বলে সম্বোধন করেছেন।
➠ বেদুঈনরা হলো আরবদেশের একটি যাযাবর জাতি যারা মরুর বুকে যাযাবর জীবন যাপন করে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এদের নানা প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। কবিও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামকে বেদুঈনের এই নিরন্তর জীবন সংগ্রামের সাথে তুলনা করেছেন। সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিজের অনমনীয় ও শক্তিশালী অবস্থানকে বোঝাতেই কবি নিজেকে বেদুঈন বলে উল্লেখ করেছেন।

১৩. কবি নিজেকে মহাভয় বলে অভিহিত করেছেন কেন?
উত্তর: অন্যায়-অবিচার নিয়ে অপশক্তির মনে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যেই কবি নিজেকে ‘মহাভয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত শোষিত, বঞ্চিত ও অত্যাচারিত হতে দেখেছেন কবি। এভাবে মানুষকে নিপীড়িত হতে দেখে সংক্ষুব্ধ হয়ে কবি বিদ্রোহের পথ বেছে নেন। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যায় ও অসাম্য ঘোচাতে অত্যাচারীর মনে তিনি ভীতির সঞ্চার করতে চান । এ লক্ষ্যে সকল অপশক্তির মনে ভয় হিসেবে আবির্ভূত হতে চান তিনি। এ জন্যই কবি নিজেকে ‘মহাভয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

১৪. ‘আমি দুর্বার/ আমি ভেঙে করি সব চুরমার’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য উক্তিতে কবির বিধ্বংসী রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি শোষণ-বঞ্চনা ও অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বেনিয়া শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের অপশাসন ও ভেদ-বৈষম্যের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশবাসীকে তিনি মুক্ত করতে চান। এ লক্ষ্যেই দুর্বার গতিতে তিনি শোষক ও অত্যাচারীর সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিতে চান। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে বিদ্রোহী কবিসত্তার এমন বিধ্বংসী রূপই প্রতিফলিত হয়েছে।

১৫. ‘আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্যদিয়ে কবির ধ্বংসকামী মানসিকতার ভয়াবহ রূপটি ফুটে উঠেছে।
➠ অন্যায় ও অসাম্যকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে কবি অপশক্তিকে ধ্বংস করতে চান। এ লক্ষ্যে নিজেকে তিনি নানা বিধ্বংসী রূপে কল্পনা করেছেন। এরই ধারাবহিকতায় তিনি অত্যাচারীর ভরা-তরী তথা সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে দেবেন এবং টর্পেডো ও মাইনের মতো বিধ্বংসী অস্ত্ররূপে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন, তা বোঝাতেই কবি বলেছেন, ‘আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন’

১৬. কবি নিজেকে ধূর্জটি বলেছেন কেন?
উত্তর: কবি অপশক্তির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে গিয়ে ধ্বংসের দেবতা শিবের ধূর্জটি রূপে নিজেকে কল্পনা করেছেন।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে বিরাজমান অন্যায় ও অসাম্য প্রত্যক্ষ করে ব্যথিত কবি এর বিরুদ্ধে দ্রোহ ঘোষণা করেন। অপশক্তিকে ধ্বংস করতে গিয়ে নিজেকে তিনি নানা পৌরাণিক ধ্বংসকারী চরিত্রে কল্পনা করেছেন। ধূম্ররূপী জটাধারী শিব বা মহাদেবকে ধূর্জটি বলা হয়। শিবের এই সংহারক রূপটিকে অবলম্বন করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি অভিশাপ হয়ে নেমে আসতে চান। এজন্যই কবি নিজেকে ধূর্জটি বলে অভিহিত করেছেন।

১৭. কবি নিজেকে ‘ইন্দ্রানী-সুত’ বলেছেন কেন?
উত্তর: নিজেকে ‘ইন্দ্রানী-সুত’ তথা জয়ন্ত-এর মতো যোদ্ধা হিসেবে কল্পনা করে কবি নিজেকে ‘ইন্দ্রাণী-সুত’ বলেছেন।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় বিদ্রোহের বাণী ছড়িয়ে দিতে ধর্ম, ঐতিহ্য; ইতিহাস ও পুরাণের শক্তি উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহ করেছেন। ইন্দ্রাণী-সুত জয়ন্ত একটি পৌরাণিক যোদ্ধা চরিত্র। দেবরাজ ইন্দ্র ও তাঁর স্ত্রী শচী বা ইন্দ্রাণীর সন্তানও জয়ন্ত। ইনি রাবণের স্বর্গাভিযানকালে বিক্রমের সাথে যুদ্ধ করে রাক্ষসসেনাদের পরাস্ত করেন। কবিও তাঁর সময়ে অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে নিজেকে জয়ন্তরূপী বীর যোদ্ধা মনে করেছেন। তাই তিনি নিজেকে ‘ইন্দ্ৰানী-সুত’ বলেছেন।

১৮. ‘আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ’ কথার দ্বারা আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি বিদ্রোহী হিসেবে নিজের আত্মপরিচয়ের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। মানবপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বিদ্রোহ করেছেন অত্যাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে। আপন আদর্শে স্থিত কবির এই বিদ্রোহী সত্তা স্বাধীনচেতা, আত্মপ্রত্যয়ী ও নির্ভীক। সংগত কারণেই কারও কাছে মাথা নত করেন না তিনি । প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে।

১৯. ‘আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি নিজেকে শিব বা মহাদেবের হাতের ডমরু ও ত্রিশূলরূপে নিজেকে কল্পনা করে আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেছেন।
‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে নানা পৌরাণিক চরিত্র ও অস্ত্রের প্রসঙ্গ টেনেছেন। প্রশ্নোক্ত ‘পিণাক-পাণি’ ধ্বংসের দেবতা শিব কর্তৃক ব্যবহৃত তেমনি এক পৌরাণিক অস্ত্র। এগুলো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সময় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নৃত্যের তালে তালে ডমরু বাজে আর চূড়ান্ত আঘাত হানা হয় ত্রিশূল দিয়ে। কবি নিজেকে সেই ডমরু আর ত্রিশূলরূপে বর্ণনা করে মূলত অপশক্তি বিনাশের বার্তা দিতে চেয়েছেন।

২০. কবি নিজেকে ‘ধর্মরাজের দণ্ড’- বলেছেন কেন?
উত্তর: ন্যায়বিচারের প্রতিমূর্তি হিসেবে নিজের সুদৃঢ় অবস্থান তুলে ধরতেই কবি নিজেকে ধর্মরাজের দণ্ড বলেছেন।
➠ দেবগণের মধ্যে যম সর্বাপেক্ষা পুণ্যবান বলে তাঁর নাম ধর্মরাজ। তিনি নিরপেক্ষভাবে জীবের পাপ-পুণ্যের বিচার করেন। তাঁর হাতের দ-ই ধর্মরাজের দণ্ড। মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ কবিও তেমনি ন্যায়ের প্রতিমূর্তি। বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের ন্যায়ের পক্ষেই তাঁর দ্রোহ। সমাজে প্রচলিত অন্যায়-অত্যাচার ও শোষণ-বঞ্চনার যোগ্য শান্তি বিধান করার মানসে নিজেকে তিনি ধর্মরাজের দণ্ডের সাথে তুলনা করেছেন।

২১. কবি নিজেকে ‘ক্ষ্যাপা দুর্বাসা’ বলেছেন কেন?
উত্তর: কবি বিদ্রোহের বাণী ছড়িয়ে অপশক্তির প্রতিভূদের মনে ভয় ধরিয়ে দিতে নিজেকে ‘ক্ষ্যাপা দুর্বাসা’ বলেছেন।
➠ পুরাণ মতে, দুর্বাসা অত্যন্ত কোপন-স্বভাব বিশিষ্ট একজন মুনি! অনেকেই তাঁর কোপানলে দগ্ধ হন। ইনি তাঁর স্ত্রীকে শাপ দিয়ে ভস্ম করেন। তাঁর শাপে দেবরাজ ইন্দ্রও শ্রীভ্রষ্ট হন। ক্রোধের বশবর্তী হয়ে দুর্বাসা অনেক সময় উন্মত্তের মতো কাজ করতেন। ফলে দেবতারা পর্যন্ত তাঁকে ভয় পেতেন। আলোচ্য কবিতায় কবি বিদ্রোহী হিসেবে অন্যায় ও অসাম্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ভীতি সঞ্চারের উদ্দেশ্যেই নিজেকে ‘ক্ষ্যাপা দুর্বাসা’ বলে অভিহিত করেছেন।

২২. কবি নিজেকে ‘বিশ্বামিত্র শিষ্য’ বলেছেন কেন?
উত্তর: কবি বিদ্রোহকে কঠোর সাধনার বিষয় গণ্য করে পৌরাণিক তপস্যি ঋষি বিশ্বামিত্রের শিষ্য হিসেবে আত্মপরিচয় দান করেছেন।
➠ পুরাণ মতে, ঋষি বিশ্বামিত্র ক্ষত্রিয়কুলে জন্ম নিলেও একপর্যায়ে যুদ্ধ- বিগ্রহের প্রতি বিরাগভাজন হন। তখন থেকে তিনি ব্রাহ্মণত্ব লাভের জন্য কঠোর সাধনা ও তপস্যা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সফল হন। কবি বিদ্রোহকে তেমনি এক সাধনা বা তপস্যা হিসেবেই নিয়েছেন। ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে এ তপস্যায় লেগে না থাকলে সফলতা ধরা নাও দিতে পারে। তাই কবি বিশ্বামিত্রকে গুরু মেনে নিজেকে তাঁর শিষ্য বলে অভিহিত করেছেন।

২৩. ‘আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব’– ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি দাবানল-দাহ তথা ভয়ানক অগ্নিপ্রবাহরূপে নিজেকে কল্পনা করে অশুভ শক্তির তৈরি অসাম্যের পৃথিবীকে দাহন বা ধ্বংস করার মানসে আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেছেন।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি অপশক্তির ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন এক বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী বিনির্মাণ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি ভয়ংকর অগ্নিপ্রবাহ বা দাবানলের দাহ্য ক্ষমতারূপে নিজেকে কল্পনা করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি অপশক্তি প্রভাবিত জগৎকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ধ্বংস করে ঈন্সিত সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

২৪. ‘আমি বিধবার বুকে ক্রন্দন-শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্যদিয়ে পীড়িত মানুষের প্রতি কবির সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে।
➠ মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণাকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পেরেছেন বলেই কবি যথার্থ বিদ্রোহী হতে পেরেছেন। মানুষের প্রতি অপার ভালোবাসাই কবির দ্রোহের মূলসুর। বস্তুত, কবির এই দ্রোহ মানবমুক্তির লক্ষ্যেই চালিত। এ কারণেই স্বামীহারা নারী তথা বিধবার ক্রন্দনের অন্তর্নিহিত বেদনা বা যন্ত্রণাদগ্ধ মানুষের হা-হুতাশকে অনুভব করেছেন তিনি। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে পীড়িত মানুষের প্রতি তাঁর সেই সহানুভূতি ও সহমর্মিতার পরিচয় ফুটে উঠেছে।

২৫. কবি নিজেকে ‘বঞ্চিত ব্যথা’ বলেছেন কেন?
উত্তর: পথবাসী গৃহহারা পথিকের ব্যথা-যন্ত্রণাকে উপলব্ধি করে সহমর্মিতা প্রকাশ করতেই কবি নিজেকে ‘বঞ্চিত ব্যথা’ বলেছেন।
➠ কবি বিদ্রোহী হয়েছেন মূলত একটি শোষণ-বঞ্ছনাহীন ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী বিনির্মাণের লক্ষ্যে। তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণাকে দরদি মন নিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে নিজেকে তিনি শোষিত ও নির্যাতিত মানুষের একজন কল্পনা করে তাদের ব্যথা-বেদনাকে উপলব্ধি করেছেন। নিপীড়িত মানুষের প্রতি তাঁর এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই কবিকে বিদ্রোহের পথে ধাবিত করেছে। এরই অংশ হিসেবে নিজেকে বঞ্চিতের ব্যথা অভিহিত করে আর্তমানবতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন কবি।

২৬. ‘আমি পথিক কবির গভীর রাগিণী, বেণু-বীণে গান গাওয়া’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে কবির প্রেমভাব এবং নিজ সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশিত হয়েছে।
কবি একই সঙ্গে প্রেম ও দ্রোহের প্রতিমূর্তি। অন্যায়-অসাম্যের বিরুদ্ধে দ্রোহ করার পাশাপাশি তিনি মানবপ্রেমেরও ধারক। তাছাড়া কবি মনেপ্রাণে পুরোদস্তুর বাঙালি। বাঙালি সংস্কৃতি তাঁর অস্তিত্বের সাথে জুড়ে রয়েছে। পথিক কবির সৃষ্টিকর্ম ও বাঁশির সুর আবহমান বাঙালি সংস্কৃতিরই অংশ। আলোচ্য অংশে নিজেকে সেই সুরের সঙ্গে একাত্ম করে কবি তার প্রতি নিজের অনুভব ও ভালোবাসাকে ব্যক্ত করেছেন।

২৭. ‘আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বাংলার গ্রীষ্ম ঋতুর রুদ্র রূপের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে কবি বলেছেন, ‘আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি।’
ঋতুবৈচির্ত্যের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। ঋতুপরিক্রমার সূত্র ধরে এদেশে প্রথমেই আবির্ভাব ঘটে রবির কিরণে উজ্জ্বল গ্রীষ্মকালের। এসময় রোদের তীব্রতায় চারদিকে যেন অগ্নিবর্ষণ হয় । সংগত কারণেই এ ঋতু বাংলাদেশের মানুষকে করেছে সংগ্রামী এবং প্রবল কষ্টসহিষ্ণু। কবি তাদেরই একজন। তাই তিনি দ্রোহের বাণী উচ্চারণ করতে গিয়ে গ্রীষ্মের রুদ্ররূপের মাঝে যেন নিজেকেই খুঁজে পান। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কবির সে অনুভবই ব্যক্ত হয়েছে।

২৮. ‘আমি মরু-নির্ঝর ঝরঝর’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মরুভূমির বুকে এক টুকরো ঝরনাধারার ন্যায় কবি বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির দিশা দেখাতে এসেছেন বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।
➠ মানুষ যেন শোষণ-বঞ্চনা ও অত্যাচার-নিপীড়নের হাত থেকে রেহাই পায়, সে লক্ষ্যেই কবির নিরন্তর দ্রোহ-সংগ্রাম। কিন্তু পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ জন্মভূমিতে কবির প্রত্যাশিত সেই সমাজ যেন মরুভূমির মাঝে ঝরনার দেখা পাওয়ার মতোই প্রায় অসম্ভব বিষয়। কিন্তু কবি সে অসম্ভবকেই সম্ভব করতে চান। বিষয়টিকে বোঝাতেই নিজেকে তিনি মরু-নির্ঝর বলে অভিহিত করেছেন।

২৯. ‘আমি শ্যামলিমা ছায়াছবি’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্যদিয়ে কবি বাংলার প্রকৃতির শ্যামল-কোমল- মোহনীয় রূপে নিজেকে কল্পনা করেছেন।
➠ সবুজে-শ্যামলে ছাওয়া আমাদের এই দেশ। যেদিকে দুচোখ যায় সবুজ আর সবুজ; যেন পটে আঁকা ছবি। ভর দুপুরে গাছের ছায়ায় যে আলো- আঁধারের খেলা চলে তা তুলনারহিত। কবি বাংলাদেশের প্রকৃতির এই চিরায়ত রূপটি তাঁর হৃদয়ে ধারণ করেন। অর্থাৎ মাতৃভূমির প্রকৃতির প্রতি রূপমুগ্ধতা ও গভীর অনুরাগ থেকেই কবি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

৩০. ‘আমি রুষে উঠি যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া, ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি রুদ্ররূপ ধারণ করলে কী ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, তা বোঝাতেই তিনি আলোচ্য পক্তিটির অবতারণা করেছেন।
➠ আলোচ্য কবিতায় কবি নানা অনুষঙ্গে ভর করে তাঁর দ্রোহের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কবি মূর্তিমান অভিশাপ হয়ে নেমে আসতে চান। আর তা করতে গিয়ে তিনি নিজেকে উপস্থাপন করেছেন বিধ্বংসী রূপে। তাঁর এই বিধ্বংসী রূপ দেখে যেন শত্রুর বুকে কাঁপন ধরে যায়। পবিত্র কোরআনে উল্লিখিত সপ্ত নরক এবং হাবিয়া দোজখের আগুনও যেন কেঁপে উঠে নিভে যায়। এর মধ্য দিয়ে প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কবির দ্রোহের ধ্বংসাত্মক রূপটিই প্রতিভাত হয়।

৩১. কবি নিজেকে ‘পরশুরামের কঠোর কুঠার’ বলেছেন কেন?
উত্তর: কবি তাঁর দ্রোহের বিধ্বংসী রূপটি প্রকাশ করতেই নিজেকে পরশুরামের কুঠার বলে অভিহিত করেছেন।
➠ পৌরাণিক চরিত্র পরশুরাম শ্রীকৃষ্ণের বৈমাত্রেয় জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। তিনি পৃথিবীকে ক্ষত্রিয়মুক্ত করতে তাঁর কুঠারের মাধ্যমে একুশবার ক্ষত্রিয়দের নিধন করেন। কবি নিজেকে পরশুরামের সেই কুঠাররূপে কল্পনা করে অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর ধ্বংসের মধ্য দিয়ে অপশাসনের অবসান ঘটাতে চেয়েছেন।

৩২. ‘আমি হল বলরাম স্কন্ধে’– কবি এ কথা বলেছেন কেন ?
উত্তর: অন্যায়-অত্যাচার ধ্বংসকল্পে কবি নিজেকে পুরাণে বর্ণিত অন্যতম বীর যোদ্ধা বলরামের বিধ্বংসী অস্ত্র হল বা লাঙলরূপে উপস্থাপন করেছেন।
➠ বলরাম মহাভারতে বর্ণিত অন্যতম বীর যোদ্ধা। তিনি শ্রীকৃষ্ণের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাও বটে। তাঁর প্রধান অস্ত্র ছিল হল বা লাঙল। এই হল ব্যবহার করেই তিনি কৌরবদের প্রধান নগরী ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছিলেন। আলোচ্য কবিতাটিতে কবি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজের বিধ্বংসী মনোভাবকে উপস্থাপন করতেই প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

৩৩. ‘আমি উপাড়ি ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নবসৃষ্টির মহানন্দে’- ব্যাখ্যা করো ।
উত্তর: সৃষ্টির লক্ষ্যে ধ্বংস- সেই প্রেরণা থেকেই কবি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন ।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির ধ্বংসকামী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তবে কবির এ ধ্বংসাত্মক রূপের বিপরীতে একটি মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। আর তা হলো একটি শোষণ ও বঞ্চনাহীন শান্তিপূর্ণ পৃথিবী বিনির্মাণ করা। অর্থাৎ তিনি ধ্বংস করতে চান নতুন সৃষ্টির অভিপ্রায়ে। আলোচ্য চরণে কবি নিজেকে রুদ্ররূপে কল্পনা করে অপশক্তির অধীনস্থ পৃথিবীকে সমূলে উপড়ে ফেলতে চেয়েছেন। আর এ কাজ তিনি করবেন নবসৃষ্টির মহানন্দ নিয়ে। এভাবে আলোচ্য চরণটিতে কবির বিদ্রোহের স্বরূপ এবং তার লক্ষ্যই উঠে এসেছে।

৩৪. কবি নিজেকে ‘মহা-প্রলয়ের নটরাজ’ বলেছেন কেন?
উত্তর: নটরাজ শিবের মতো ধ্বংসলীলা চালিয়ে অপশক্তি নাশ করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই করি নিজেকে মহা-প্রলয়ের নটরাজ বলেছেন।
➠ ভারতীয় পুরাণ মতে, নৃত্যকলার উদ্ভাবক হিসেবে মহাদেব শিবের আর এক নাম নটরাজ। তাঁর ধ্বংসের সময়কার নৃত্যকে তাণ্ডব নৃত্য বলা হয়। গজাসুর ও কালাসুরকে নিধন করে তিনি তাণ্ডব নৃত্য করেছিলেন। কবিও পুরাণের সে ঐতিহ্য স্মরণ করে সমকালীন প্রেক্ষাপটে অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীসহ সকল প্রকার অপশক্তিকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজেকে তিনি মহা-প্রলয়ের নটরাজ বলে অভিহিত করেছেন।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত-সাতশ নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে।
মম ধূম-কু-লী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার
আর মর্ত্যে শাহারা-গোবী-ছাপ
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।

ক. কবি কী মানেন না?
খ. “যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না”- একথা বলার কারণ কী?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক্টি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করেনা”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. কবি কোনো আইন মানেন না।
খ. নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের দুঃখকষ্ট ও আর্তচিৎকার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবি বিপ্লব-প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বোঝাতে তিনি প্রশ্নোক্ত কথা বলেছেন।
➠ অসাম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কবির বিদ্রোহ নিরন্তর। যেখানেই তিনি অত্যাচার ও অনাচার দেখেছেন, সেখানেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। নিপীড়কের বিরুদ্ধে এবং আর্তমানবতার পক্ষে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন তিনি। তাঁর হুংকারে কেঁপে উঠেছে অত্যাচারীর ক্ষমতার মসনদ। অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেলেও উৎপীড়িত মানুষের পক্ষে বিপ্লব-প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ বিষয়টিকে স্পষ্ট করতেই তিনি প্রশ্নোক্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হচ্ছে বিদ্রোহী চেতনা।
➠ ‘বিদ্রোহী' কবিতায় নানা ব্যঞ্জনায় কবির বিদ্রোহের স্বরূপ ফুটে উঠেছে। যেখানেই অন্যায়-অত্যাচার দেখেছেন, সেখানেই তিনি বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে ফুঁসে উঠেছেন। বিশেষ করে পরাধীন মাতৃভূমিতে বিজাতীয় শাসকদের আগ্রাসন ও শোষণ-নির্যাতন তাঁকে পীড়িত করেছে। সংগত কারণেই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দ্রোহ ঘোষণা করেছেন তিনি। বস্তুত, মানুষ হয়ে মানুষের ওপর প্রভুত্ব ফলানো সামন্ত প্রভুদের ধ্বংসের মধ্যেই তিনি মুক্তির নতুন আলো দেখতে পেয়েছেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে বিপ্লবী মানসের বারংবার ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে। কালের খেয়ালে ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু হলেও বিপ্লবী চেতনার মৃত্যু নেই। সময় পরিক্রমায় তা একজন থেকে অন্যজনে সঞ্চারিত হয়। ফলে বিপ্লবীর বজ্রকেঠার আহ্বানে পরিবেশ ঘোলাটে হয়ে আসে। শিব বা মহাদেবের ত্রিনয়নও তখন অন্ধকারে ঢেকে যায়। প্রভুত্ব ফলানো নরপিশাচদের জীবন অভিশপ্ত হয়ে ওঠে বিপ্লবীদের প্রত্যাঘাতে। তথাকথিত সামন্ত প্রভুদের কাছে তারা যেন মূর্তিমান অভিশাপে পরিণত হয়। বিপ্লব-বিদ্রোহের এই বিধ্বংসী রূপটি আলোচ্য কবিতায়ও একইভাবে ফুটে উঠেছে। সেখানে বীর ধর্মের অনুসারী কবি সামন্ত প্রভুদের তৈরি সকল নিয়ম ও শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে প্রয়াসী হয়েছেন। অর্থাৎ উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী' কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। এটিই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে কেবল বিদ্রোহী চেতনার দিকটি ফুটে ওঠায় তা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সমগ্রভাবকে ধারণ করতে পারেনি।
➠ আলোচ্য কবিতাটি কবির বিদ্রোহী চেতনার এক অনন্য প্রকাশ। বিদ্রোহের স্বরূপ উদ্ঘাটনে কবিতাটি অনন্য মাইলফলকও বটে। তবে এ কবিতায় শুধু দ্রোহ চেতনাই নয়, সেখানে বিদ্রোহী হিসেবে কবির আত্মপরিচয়, প্রেম ও দ্রোহের স্বরূপসহ বিচিত্র বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়াও কবিতাটিতে আর্তমানবতার মুক্তির লক্ষ্যে কবি প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে বিদ্রোহী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অন্যায় ও অসাম্য ঘুচাতে সেখানে বিপ্লবী সত্তার পুনরুত্থানের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এই বিদ্রোহী সভা অকুতোভয় ও মানবকল্যাণে নিবেদিত। শত প্রতিবন্ধকতাও তার পথ রুদ্ধ করতে পারে না। অন্যায়ের প্রতিভূদের জন্য সাক্ষাৎ অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয় সে। আলোচ্য "বিদ্রোহী' কবিতায়ও কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার এমন বৈশিষ্ট্যের কথাই তুলে ধরেছেন। যেখানে পরাধীন জন্মভূমিতে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি দ্রোহ করেছেন সমাজে বিরাজমান অপশাসন ও অচলায়তনের বিরুদ্ধে। তাঁর বিশ্বাস, এই অচলায়তন ভেঙেই একদিন দেখা মিলবে মুক্তির পথ। একইভাবে, উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবি মহাবিপ্লবের কথা বলেছেন। অর্থাৎ উভয়স্থানে ববজ্রনির্ঘোষ বিপ্লবের কথা প্রকাশিত হলেও কবিতাটির ব্যাপ্তি উদ্দীপকের কবিতাংশের তুলনায় ব্যাপক। তাছাড়া এ কবিতায় মানবতাবোধে উদ্ভাসিত কবির সদম্ভ উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। মুহূর্তের জন্যও তিনি অপশক্তির কাছে মাথা নিচ করতে রাজি নন। সর্বোপরি কবির বিপ্লব প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে মানুষের প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা। আলোচ্য কবিতার এ সকল বিষয় উদ্দীপকের কবিতাংশে উঠে এসেছে আসেনি। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দুর্বাসা হে! রুদ্র তড়িৎ হান্ছিলে বৈশাখে,
হঠাৎ সে কার শুনলে বেণু কদম্বের ঐ শাখে।
বজ্রে তোমার বাজলে বাঁশি, বহ্নি হলো কান্না, হাসি
সুরের ব্যথায় প্রাণ উদাসী-
মন সরে না কাজে।
তোমার নয়ন-ঝুরা অগ্নি-সুরেও রক্ত-শিখা বাজে!

ক. কবি নিজেকে কার শিষ্য বলে ঘোষণা করেছেন?
খ. ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশিত হয়েছে? আলোচনা করো।
ঘ. উদ্দীপকের দুর্বাসা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ক্ষ্যাপা দুর্বাসার স্বরূপ উন্মোচনে সহায়ক কি? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।

ক. কবি নিজেকে বিশ্বামিত্রের শিষ্য বলে ঘোষণা করেছেন।
খ. প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয়ে নিজ অস্তিত্বের স্বরূপ তুলে ধরতেই কবি প্রশ্নোত্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।
➠ কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি। মানবপ্রেম ও সাম্যচেতনা তাঁর কবিতার মূল প্রেরণা। আর তাই যেখানেই অসাম্য ও অনাচার লক্ষ করেছেন, ব্যথিত কবি সেখানেই উচ্চারণ করেছেন দ্রোহের পক্তিমালা। আলোচ্য কবিতাটিতেও কবির দ্রোহ পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে, যার মুখ্য উদ্দেশ্য মানবমুক্তি। নিপীড়িত মানুষের ক্রন্দন বন্ধ করার প্রয়াসেই তাঁর এই দ্রোহ। কবি সত্তার এই বিদ্রোহী রূপ এবং তার অন্তরালে মানবপ্রেমের বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোত্ত চরণটির অবতারণা করেছেন।

গ. উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতায় প্রকাশিত বিদ্রোহী কবির রুদ্ররূপের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি সূর্মর দ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন। পরাধীনতার শৃঙ্খল এবং সামাজিক ভেদ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে করতে গিয়ে কবি বিধ্বংসী নানারূপে নিজেকে কল্পনা করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সাম্যের বাণী ঔপনিবেশিক ও শাসকশ্রেণির কর্ণগোচর হবে না। তাই আলোচ্য কবিতাটিতে তিনি এই অত্যাচারী অপশক্তির বিরুদ্ধে অভিশাপ হয়ে ফিরে আসতে চান।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে দুর্বাসার বুদ্ধরূপের পরিচয় পাওয়া যায়। দুর্বাসার সে রূপে সুরের বাঁশি যেন বজ্র হয়ে যায়, কান্না-হাসির সরল আবেগ নেয় অগ্নিরূপ। আর তার মনোমোহিনী সুরও যেন ম্লান হয়ে যায় অভিঘাতের বেদনায়। দুর্বাসার নয়ন-ঝুরা অগ্নি-সুরে উপস্থিত হয় রক্ত-শিখা। এই চরম ক্ষ্যাপাটে দুর্বাসা তথা দ্রোহের বিধ্বংসী রূপ আলোচ্য ‘বিদ্রোহী' কবিতায়ও একইভাবে ফুটে উঠেছে। সেখানে কবি কেবল প্রবল বিক্রমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেই থেমে থাকেননি, বরং ধ্বংসকামী বিচিত্র রূপে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। কবিতায় উঠে আসা বিদ্রোহী কবির রুদ্র রূপটিই প্রকাশিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের দুর্বাসার ধ্বংসাত্মক রূপ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ক্ষ্যাপা দুর্বাসার স্বরূপ উন্মোচনে সহায়ক বলেই আমি মনে করি।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় বিদ্রোহের স্বরূপ উন্মোচন করতে গিয়ে কবি নিজেকে নানা ধ্বংসাত্মক রূপে কল্পনা করেছেন। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নিজেকে ক্ষ্যাপা দুর্বাসা বলে পরিচয় দেওয়ার মধ্য দিয়ে। কেননা পুরাণ মতে, মুনি দুর্বাসা ছিলেন অত্যন্ত কোপন-স্বভাববিশিষ্ট। তাঁর কোপানলে পড়ে অনেকেই দগ্ধ হন; এমনকি তা থেকে দেবতারাও রেহাই পাননি।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে দুর্বাসা মুনিকে অবলম্বন করে বিদ্রোহী চেতনার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। কবির দৃষ্টিতে, দুর্বাসার রুদ্ররূপ দর্শনে সুরের আধার বাঁশি যেন বজ্র হয়ে যায়, কান্না-হাসির সরল আবেগ আগুনের রূপ পায়, এমনকি নয়ন-ঝুরা সুরেও তার রক্ত-শিখা বেজে ওঠে। অর্থাৎ তার প্রভাবে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশিত দ্রোহের এই বিধ্বংসী রূপটি আলোচ্য কবিতায় ক্ষ্যাপা দুর্বাসার প্রতীকে উঠে এসেছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় বিদ্রোহী হিসেবে কবি তাঁর আত্মপরিচয় দান করেছেন। আর তা করতে গিয়ে তিনি কোপন-স্বভাবের মুনি দুর্বাসার প্রসঙ্গ উপস্থাপন করেছেন। এখানে কবি তাকে অবলম্বন করেছেন ধ্বংসের প্রতীক হিসেবেই। নিজেই বলেছেন যে, তিনি শুধু দুর্বাসা নন; বরং ক্ষ্যাপা দুর্বাসা। উদ্দীপকে আমরা যে দুর্বাসাকে পাই, প্রকৃত অর্থে তিনি এসেছেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতার দুর্বাসা চরিত্রের ব্যাখ্যা হিসেবে। আলোচ্য কবিতায় কবি দুর্বাসাকে শুধু ক্ষ্যাপা বলেছেন; কিন্তু তার সেই ক্ষ্যাপা রূপ কেমন হতে পারে তা বলেননি। উদ্দীপকের দুর্বাসার দিকে নজর দিলে আমরা দুর্বাসার প্রকৃত রূপটি খুঁজে পাই। সেদিক থেকে দেখলে উদ্দীপকের দুর্বাসা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ক্ষ্যাপা দুর্বাসার স্বরূপ উন্মোচনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
যাহারা পদে পদে আনিয়া দিল লাঞ্ছনা, অপমান, অত্যাচার, নির্যাতন, প্রত্যেক সুযোগে যাহারা হানিল বৈরিতার বিষাক্ত বাণ, হযরত তাঁহাদের সহিত কী ব্যবহার করিলেন? জয়ীর আসনে বসিয়া ন্যায়ের তুলাদ- হাতে লইয়া বলিলেন: ভাইসব, তোমাদের সম্বন্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ নাই, আজ তোমরা সবাই স্বাধীন, সবাই মুক্ত। মানুষের প্রতি প্রেমপুণ্যে উদ্ভাসিত এই সুমহান প্রতিশোধ সম্ভব করিয়াছিল হযরতের বিরাট মনুষ্যত্ব।

ক. কবি নিজেকে কাদের মরম বেদনা বলেছেন?
খ. ‘আমি দুর্বার/ আমি ভেঙে করি সব চুরমার’ - ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের হযরত মুহম্মদ (স.) ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও তাঁদের মূলচেতনা একই” - মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. কবি নিজেকে অবমানিতের মরম বেদনা বলেছেন।
খ. আলোচ্য উত্তিতে কবির বিধ্বংসী রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি শোষণ-বঞ্চনা ও অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বেনিয়া শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের অপশাসন ও ভেদ-বৈষম্যের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশবাসীকে তিনি মুক্ত করতে চান। এ লক্ষ্যেই দুর্বার গতিতে তিনি শোষক ও অত্যাচারীর সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দিতে চান। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে বিদ্রোহী কবিসত্তার এমন বিধ্বংসী রূপই প্রতিফলিত হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের মহত্ত্ব ঘোষণার সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার দ্রোহের দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি দ্রোহ ও বিক্ষোভে উচ্চকিত। কবিতায় সকল অন্যায়, অনিয়ম ও শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয়েছে। অত্যাচারী, শোষক ও অপশাসনের অবসানে রুদ্ধ মূর্তিতে কবিতার কবির অবস্থান।
➠ উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে ক্ষমা ও মহত্ত্বের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত। যারা হ্যরতকে অপমানিত, লাঞ্ছিত করেছেন তিনি সুযোগ পেয়েও তাদের প্রতি কোনো প্রতিশোধ নিলেন না। বরং বৈরিতার বিপরীতে তিনি বন্ধুত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। জয়ীর আসনে বসেও তিনি ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেন। ঘোষণা করলেন, কারো বিরুদ্ধে তাঁর কোন অভিযোগ নেই। সবাইকে তিনি স্বাধীন ও মুক্ত বলে ঘোষণা করলেন। চিরশত্রুকে এভাবে ক্ষমার মহত্ত্ব প্রদর্শন সত্যিই বিরল। ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি এখানেই উদ্দীপক থেকে পৃথক। কবিতাটিতে অত্যাচারী ও শোষকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদেরকে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত কবি ক্ষান্ত হবেন না বলেও ঘোষণা করেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে শত্রুর প্রতি প্রদর্শিত হয়েছে সীমাহীন উদারতা ও ক্ষমার বাণী। কোন প্রতিশোধ স্পৃহা সেখানে স্থান পায়নি।

ঘ. উদ্দীপকের হযরত মুহাম্মদ (স.) ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মধ্যে স্বভাবগত পার্থক্য থাকলেও তাঁদের মূলচেতনা মানবকল্যােণে আবদ্ধ।
➠ ‘বিদ্রোহী' কবিতার কবি মানবসমাজে শান্তি ও স্থিতি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশী। এজন্য তিনি শোষক, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে কেঠার হস্ত। উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল বন্ধ করতে তিনি অনমনীয় ও বিদ্রোহী। শোষককে শাস্তি দিয়ে তিনি মানবসমাজে দুর্বলের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
➠ উদ্দীপকের হযরত মুহম্মদ (স.) বিশ্ব মানবতার এক অতুলনীয় আদর্শ। তাঁর স্বভাব ছিল উদারতা ও মহানুভবতায় পরিপূর্ণ। শত্রুর প্রতিও তিনি ছিলেন দয়ার্দ্র। পদে পদে যারা তাকে অপমান, লাঞ্ছনা, অত্যাচার, নির্যাতন করেছিল বিজয়ী হয়ে তাদের প্রতি তিনি ক্ষমার অমিয় বাণী উচ্চারণ করেন। কতটা মহত্তম হলে এমন ঘোষণা দিতে পারেন তা অভাবনীয়। মানবসমাজে জিঘাংসা দূর করে পরমতসহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর মূল চেতনা।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি স্বভাবে তীব্র ও বিক্ষুব্ধ ছিলেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে পীড়া দিত। উৎপীড়িত যন্ত্রণা তিনি সহ্য করতে পারতেন না। মানুষের দুর্দশা লাঘবে তিনি কেঠার থেকে কেঠারতর ছিলেন। ভারতীয় ঔপনিবেশিক শাসকের শোষণে তৎকালীন সমাজে মানবতা ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল। দুর্বলের ওপর শাসক শ্রেণির অবর্ণনীয় নিষ্পেষণে মানুষের জীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছিল। অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে বিদ্রোহ চেতনা ধারণ করেন আলোচ্য কবিতার কবি। তিনি শোষক ও নির্যাতনকারীদের নির্মূল করেই সমাজে স্থিতি ফেরাতে চান। তাঁর এ মূল চেতনা উদ্দীপকের মানবকল্যাণকামী হযরত মুহম্মদ (স.)-এরই চেতনা। যদিও স্বভাবে আলোচ্য কবিতার কবি ও হযরত মুহম্মদ (স.) ভিন্ন ছিলেন, কিন্তু চেতনায় তারা অভিন্ন।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
“মুক্তি আলোকে ঝলমল করে আঁধারের যবনিকা
দু’শ বছরের নিঠুর শাসনে গড়া যে পাষাণবেদি
নতুন প্রাণের অঙ্কুর জাগে তারই অন্তর ভেদী।
নব ইতিহাস রচিব আমরা মুছি কলঙ্ক লেখা।”

ক. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
খ. কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাবকে কতটুকু প্রতিফলিত করতে পেরেছে? যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
খ. নিয়ম-শৃঙ্খলার বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব নয় বলে কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ অভিহিত করে শৃঙ্খল ভাঙার বার্তা দিয়েছেন।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের জাঁতাকলে মানুষকে নিষ্পেষিত হতে দেখে কবির হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তিনি দেখেছেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গেলেই আইন ও বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে মানুষকে নাকাল হতে হয়। সংগত কারণেই তিনি আইনের এই বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। শুধু তাই নয়, এ লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি অনিয়ম দিয়ে প্রচলিত নিয়মকে এবং উচ্ছৃঙ্খলতা দিয়ে শৃঙ্খলিত ও প্রথাবদ্ধ জীবনব্যবস্থাকে ভাঙতে চেয়েছেন। এজন্যই কবি নিজেকে ‘অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল’ বলে অভিহিত করেছেন।

গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় উঠে আসা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুনের সূচনার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় নিরন্তর বিদ্রোহের বাণী উচ্চারিত হলেও তা লক্ষ্যহীন নয়। কবি জন্মজন্মান্তরে শুধু বিদ্রোহই করে যাবেন, বিষয়টি এমন নয়; বরং তাঁর ঈজ্জিত শোষণ ও বঞ্চনাহীন সমাজ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে এ বিদ্রোহেরও অবসান ঘটবে। এছাড়াও তিনি বিদ্রোহ করতে গিয়ে বারবার ধ্বংসকামী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন, নিজেকে নানা বিধ্বংসী রূপে কল্পনা করেছেন। তবে তাঁর এই বিধ্বংসী রূপ সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই চালিত।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসন-শোষণের অবসান কামনা করা হয়েছে। কবি মনে করেন, সেদিন হয়তো খুব দূরে নয়, যখন এ অন্ধকার যুগের পরিসমাপ্তির মধ্য দিয়ে আলো ঝলমলে নতুন দিনের সূচনা হবে। জাতীয় জীবনের কলঙ্করেখা মুছে গিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে সেদিন, সূচনা হবে সোনালি ভবিষ্যতের। আলোচ্য ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও কবি এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। কবি সেখানে অত্যাচারী ব্রিটিশ রাজশক্তিসহ সকল অপশক্তির ধ্বংস কামনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি স্বপ্ন দেখেছেন শোষণ-বঞ্চনাহীন এক নতুন পৃথিবীর। সকল অশুভকে মুছে দিয়ে সেই নতুন দিনের প্রত্যাশাতেই তাঁর নিরন্তর সংগ্রাম-বিদ্রোহ। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় উঠে আসা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন দিনের সূচনার দিকটিই ফুটে উঠেছে।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাবকে আংশিক প্রতিফলিত করতে পেরেছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে কবির দ্রোহের স্বরূপ ফুটে উঠেছে। এ কবিতায় পরাধীন ভারতবর্ষের সমস্যাসংকুল আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে বিপর্যস্ত জাতির মুখপাত্র হিসেবে কবি নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই কবিকে এমন অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। সর্বোপরি, কবিতাটিতে তিনি অপশক্তির কুপ্রভাব দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছেন।
➠ উদ্দীপকে দুইশ বছরের ব্রিটিশ শাসন-শোষণের অন্ধকার অধ্যায়কে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেওয়া হয়েছে। মুক্তির আলোকে জাতীয় জীবন ঝলমলে হয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে সেখানে। কবির বিশ্বাস, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের পাষাণবেদি একদিন ধ্বংস হবেই, সূচনা হবে নতুন দিনের। একইভাবে, ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবিও অপশাসন ও সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে দ্রোহ করেছেন। তবে কবির ধ্বংসকামী বিদ্রোহী রূপটি শোষণ-নির্যাতনবিহীন এক নতুন পৃথিবী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই চালিত।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও আলোচ্য উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই অপশক্তির ধ্বংস কামনা করা হয়েছে। তবে এই ধ্বংসের মূল উদ্দেশ্য বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হওয়া। তবে এটিই আলোচ্য কবিতার একমাত্র বিষয় নয়। কেননা, এ বিষয়টি ছাড়াও সেখানে কবির দ্রোহের স্বরূপ এবং এর অন্তর্গত প্রেরণা হিসেবে মানবতাবোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে এ সকল বিষয়ের উল্লেখ নেই। তাছাড়া কবিতাটির বিস্তৃত পরিসরে উঠে আসা নানা চিত্রকল্প এবং পৌরাণিক অনুষঙ্গের যে ব্যবহার আমরা দেখতে পাই, উদ্দীপকের কবিতাংশে তা অনুপস্থিত। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার আংশিক ভাবকে প্রতিফলিত করে।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
তুমিই আমার মাঝে আসি
অসিতে মোর বাজাও বাঁশি,
আমার পূজার যা আয়োজন
তোমার প্রাণের হবি।'

ক. অর্ফিয়াসের পিতা এ্যাপোলো ছাড়া অন্য কে হতে পারে বলে মত পাওয়া যায়?
খ. ‘আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাতৃর’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘প্রেম ও দ্রোহের সমন্বয় উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় সমান্তরালরূপে প্রকাশিত হয়েছে’ - বিশ্লেষণ করো।

ক. অর্ফিয়াসের পিতা এ্যাপোলো ছাড়া থ্রেসের রাজা ইগ্রাস হতে পারে বলে মত পাওয়া যায়।
খ. অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেতনার ধারক হিসেবে কবি নিজেকে বিশ্ববিধাতার বিদ্রোহী পুত্র বা সুত বলে অভিহিত করেছেন।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে তখন আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে সমাজে শক্ত আসন গেড়েছে অন্যায়-অত্যাচার ও বৈষম্য। সরে কারণেই সমাজে জেঁকে বসা এই বৈষম্য ও অচলায়তনকে ভাঙতে চেয়েছিলেন কবি। এ লক্ষ্যেই তিনি উচ্চারণ করেন দ্রোহের পরিমাণ। তাঁর এই দ্রোহ কোনো নির্দিষ্ট গ-িতে আবদ্ধ নয়। অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তিনি বিধ্বংসী রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন। বিদ্রোহী চেতনার ধার হিসেবে অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁর এই নিরন্তর দ্রোহের বিষয়টি বোঝাতেই কবি নিজেকে বিশ্ব-বিধাতার বিদ্রোহী-সুত বা ধীর পর বলে অভিহিত করেছেন।

গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ অর্থাৎ প্রেমানুভূতির দিকটি কবির বিদ্রোহের প্রেরণা হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ার দিক থেকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাথে সম্পর্কিত।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি পরাধীনতা ও অচলায়তনের বিরুদ্ধে কবির দুর্মর দ্রোহের বহিঃপ্রকাশ। আত্মানুসন্ধানী কবি পরাধীন ভারতবর্ষের শৃঙ্খলিত জীবন ও বৈষম্যকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন নিবিড়ভাবে। সংগত কারণেই আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক এই অচলায়তনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, কবির দ্রোহের বীজ লুকিয়ে আছে তাঁর প্রেমানুভূতিতে। মানুষের প্রতি ভালোবাসাই তাঁকে ঘোরে পথে চালিত করেছে।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রেয়সীর প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা ব্যক্ত হয়েছে। কবির বিদ্রোহী সত্তা প্রেয়সীর অনুরাগের স্পর্শেই প্রেমিক সভায় পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে, প্রিয়ার প্রেমই তাঁর বিদ্রোহের অনুঘটক। অর্থাৎ বিদ্রোহী কবি প্রেমিক কবিরই রূপান্তর মাত্র। একইভাবে, আম সত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি বলেছেন- “মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য।’ অর্থাৎ প্রেম এবং দ্রোহ্ এ দুয়ের সমন্বয়েই কবির অস্তিত্ব পূর্ণতা লাভ করে। মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তিনি দ্রোহ করেছেন। সংগত কারণেই কবির এই দ্রোহ তার প্রেমিক সত্তারই ভিন্ন রূপ। উদ্দীপকের কবিতাংশেও দ্রোহের মাঝে প্রেমের সন্নিবেশ ঘটতে দেখা যায়। সে বিবেচনায় উদ্দীপকে ফুটে ওঠা বিদ্রোহের বীজ তথা প্রেমানুভূতি কবির বিদ্রোহের প্রেরণা হিসেবে আলোচ্য কবিতার সাথে সম্পর্কিত।

ঘ. প্রেম ও দ্রোহের সাবলীল প্রকাশ দেখে বলা যায় যে, উক্তিটি যথার্থ।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলসুর বিদ্রোহী চেতনা হলেও সেই বিদ্রোহের বীজ লুক্কায়িত আছে প্রেমে। কেননা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে কেউ অন্যের দুঃখ-বেদনা নিজের মাঝে অনুভব করতে পারে না। কবিও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সর্বগ্রাসী বিদ্রোহী রূপ ধারণ করেছেন মূলত প্রেমের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই। মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাঁকে দ্রোহের পথে চালিত করেছে।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির প্রেমানুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। কবির প্রেয়সীর করস্পর্শে তাঁর বিদ্রোহের বা যুদ্ধের অসি বাঁশিতে রূপ নেয়। অর্থাৎ কবির কাছে অসি আর বাঁশি সমার্থক; যখন যেটা প্রয়োজন, তখন সেটার ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে কবির অস্তিত্বজুড়ে রয়েছে তাঁর প্রেমিক সত্তা। এই প্রেমিক সত্তাই তাকে দুর্মর দ্রোহের পথ দেখিয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়। বিদ্রোহী রূপে তাঁর যে বিধ্বংসী রূপ, তা মূলত প্রেমময় একটি সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণের লক্ষ্যে। তাই কবির কাছে প্রেম আর দ্রোহ সমার্থক। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ও উদ্দীপকে যুগপৎ প্রেম ও দ্রোহ প্রকাশিত হয়েছে। আসলে যার হৃদয়ে প্রেম নেই, তার পক্ষে বিদ্রোহী হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আলোচ্য কবিতার কবির ক্ষেত্রেও বিদ্রোহের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে মানবপ্রেমকে কেন্দ্র করেই। অর্থাৎ নিপীড়িত মানুষের হাহাকারই কবিকে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশেও আমরা কবিচিত্তের প্রেমময় রূপটি প্রত্যক্ষ করি। প্রেয়সীর ভালোবাসার নিমগ্ন কবির যুদ্ধের অসিই যেন রূপ নেয় বাঁশিতে, তাঁর অন্তরে বেজে চলে সেই মোহন বাঁশির সুর। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা বা উদ্দীপকের কবিতাংশ উভয় ক্ষেত্রে দ্রোহের অন্তরালে কবিদ্বয়ের প্রেমময় রূপটিই প্রতিভাত হয়। সে বিবেচনায় প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথাযথ।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
“আমার এ কূল ভাঙিয়াছে যেবা আমি তার কূল বাঁধি,
যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি।
যে মোরে দিয়েছে বিষে-ভরা বাণ,
আমি দেই তারে বুকভরা গান;
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর,-
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।

ক. কাকে ঘৃনটি বলা হয়?
খ. কবি নিজেকে ‘অর্ফিয়াসের বাঁশরী' বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা যেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ।’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. শিব বা মহাদেবকে ধূর্জটি বলা হয়।
খ. বাঙালি জাতিকে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে জাগ্রত করার মানসে কবি গ্রিক পুরাণে উল্লিখিত মহান শিল্পী অর্ফিয়াসের বাঁশির সাথে নিজের তুলনা করেছেন।
➠ অর্ফিয়াস গ্রিক পুরাণের একজন মহান কবি ও শিল্পী। তিনি যন্ত্রসংগীতে সকলকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতেন। শুধু তাই নয়, সুরের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করে তিনি ভালোবাসার পাত্রী ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন। কবির প্রত্যাশা, অর্ফিয়াসের বাঁশির সুরের মতো তাঁর বিদ্রোহের সুরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাবে। সে সুরে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হবে দেশবাসী। মিলবে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি। এমন ভাবনা থেকেই কবি নিজেকে অর্ফিয়াসের বাঁশি বলে অভিহিত করেছেন

গ. মূল উদ্দেশ্য অভিন্ন হলেও উদ্দীপকের কবিতাংশ ও আলোচ্য কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো দুজন কবি সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ। ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় সমাজে জেঁকে বসা অপশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। এখানে কবি অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান চান। এজন্য তিনি বিদ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এক্ষেত্রে উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল যতদিন পর্যন্ত থাকবে ততদিন তাঁর বিদ্রোহী সভাও শান্ত হবে না।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। সেজন্য তিনি তাঁর পরম শত্রুকে শুধু ক্ষমা করেই ক্ষান্ত হননি বরং তার উপকারে আত্মনিয়োগ করেছেন। অর্থাৎ, একজন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান শত্রুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, আর অন্যজন অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এখানেই উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার বৈসাদৃশ্য।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনার মূলে রয়েছে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, যা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। তাঁর বিদ্রোহ মূলত সামাজিক বৈষম্য ও উৎপীড়নকারীর বিরুদ্ধে। তিনি সমাজের উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল না থামা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে সমাজের হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি তাঁর পরম শত্রুকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন। যে কবিকে বিষেভরা বাণ দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে কবি তাকে বুকভরা গান দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। আবার যে তাঁকে কাঁটা দিয়ে গেছে তাকে তিনি ফুল দিয়েছেন। কিন্তু ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় এর বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় শত্রুর প্রতি কবির ক্রোধের বিপরীতে, আলোচ্য কবিতাংশের কবি ভালোবাসা দিয়ে শত্রুকে জয় করতে চেয়েছেন। অর্থাৎ একজন অত্যাচারীর প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং অন্যজন অত্যাচারীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আপাত দৃষ্টিতে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেলেও তাঁরা মূলত একই উদ্দেশ্যকে ধারণ করেন, আর তা হলো সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা। সমাজকে বৈষম্যমুক্ত করতে একজন বিদ্রোহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও অন্যজন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। সুতরাং উদ্দেশ্যগত দিক বিচারে উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা ‘বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
যে ব্যক্তির হৃদয় অভাবী, অসহায়, নিঃস্ব, এতিম ও দুর্বলকে দেখে আপ্লুত হয় না, কষ্টে চিত্ত ব্যথিত হয় না; তার মনে প্রেম নেই, মায়া নেই, কোনো মমতা নেই। যার মনে মানবপ্রেম নেই, মসজিদ কিংবা মন্দিরে গিয়ে যতই ফ্রন্দনরত অবস্থায় থাকুক; সৃষ্টিকর্তার প্রেম সে পাবে না, পেতে পারে না, সৃষ্টিকর্তা সবার প্রতিই করুণা করেন কিন্তু প্রেম সবার ললাটে জোটে না।

ক. কবি নিজেকে কার মরম বেদনা বলেছেন?
খ. ‘আমি চেঙ্গিস’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত চেতনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? বিশ্লেষণ করো।

ক. কবি নিজেকে অবমানিতের মরম বেদনা বলেছেন।
খ. কবি নিজের মাঝে বিধ্বংসী যোদ্ধা চেঙ্গিস খানকে কল্পনা করে নিজের বিদ্রোহ ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রা দিতে প্রয়াসী হয়েছেন।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নানা বিধ্বংসী চরিত্রকে অবলম্বন করে তাঁর দ্রোহের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। এক্ষেত্রে কখনো পুরাণ আবার কখনো ঐতিহাসিক অনুষঙ্গে ভর করে কবি তাঁর ধ্বংসকামী সত্তার পরিচয় জ্ঞাপন করেছেন। এরই অংশ হিসেবে কবি নিজেকে দূর্র্ধষ মোঙ্গল যোদ্ধা ও সেনাপতি চেঙ্গিস খানরূপে কল্পনা করেছেন। চেঙ্গিস খান অত্যন্ত নৃশংস ছিলেন। আলোচ্য কবিতায় কবি নিজেকে চেঙ্গিস খান রূপে কল্পনা করে মূলত অপশক্তিকে ধ্বংসের বার্তা দিতে চেয়েছেন।

গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় প্রকাশিত দ্রোহের অন্তরালে কবির মানবপ্রেমের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির বিদ্রোহী সত্তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বিদ্রোহ করেছেন শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অত্যাচার ও সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে। এর মূলে রয়েছে নিপীড়িত মানুষের প্রতি কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। বস্তুত, একটি সুখী ও শান্তিপূর্ণ সময় বিনির্মাণের লক্ষ্যেই কবির এই দ্রোহ।
➠ উদ্দীপকে মানবপ্রেমকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বক্তা মনে করেন, যে ব্যক্তির মনে মানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই, মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে যার হৃদয় বিগলিত হয় না, পরম স্রষ্টার আশীর্বাদ থেকে সে বঞ্চিত থেকে যায়। অর্থাৎ, মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহের পথ প্রশস্ত হয়। অন্যদিকে, ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি অন্যায়-অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে লেখনী ধারণ করেছেন। নিপীড়িত মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার লক্ষ্যেই কবির এই বিদ্রোহ। এর মূলে রয়েছে তাদের প্রতি কবির অকৃত্তি ভালোবাসা। আলোচ্য উদ্দীপকেও মানুষকে ভালোবাসার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য করিতর কবির মানবপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

ঘ. উদ্দীপকটিতে উঠে আসা মানবপ্রেমের চেতনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় নিপীড়িত মানুষের প্রতি কবির ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলসুর বিদ্রোহী চেতনা হলেও সেই বিদ্রোহের বীজ লুক্কায়িত আছে প্রেমে। কেননা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ন থাকলে কেউ অন্যের দুঃখ-বেদনা নিজের মাঝে অনুভব করতে পারে না। কবিও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সর্বগ্রাসী বিদ্রোহী রূপ ধারণ করেছেন মূলত প্রেমের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাঁকে দ্রোহের পথে চালিত করেছে।
➠ উদ্দীপকে মানুষকে ভালোবাসতে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। উদ্দীপকটির বক্তা মনে করেন, স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভের জন্য সর্বাগ্রে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। অন্যথা সেই ব্যক্তি মসজিদ-মন্দিরে গিয়ে যতই কান্নাকাটি করুক তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাছাড়া যে ব্যক্তির মনে আর্ত-পীড়িত মানুষের প্রতি করুণা তৈরি হয় না, মানুষের অসহায়ত্ব দেখে যার মন কাঁদে না মানবিকতাবিবর্জিত সেই ব্যক্তি মানুষের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হবে। এভাবে আলোচ্য উদ্দীপকটিতে মূলত মানবপ্রেমের চেতনাই ফুটে উঠেছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় দ্রোহের অন্তরালে নিপীড়িত মানুষের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বস্তুত, সামাজিক অচলায়তন ও ভেদ-বৈষম্য দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই পরাধীনতার শৃঙ্খলকে ভাঙতে চেয়েছেন তিনি। নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁর এই নিরন্তর সংগ্রাম। কবিহৃদয়ের প্রগাঢ় মানবিকবোধই এর কারণ। একইভাবে, আলোচ্য উদ্দীপকটিতেও মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমে পরম স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সেখানে মানবপ্রেমের জয়গানই ধ্বনিত হয়েছে, যা আলোচ্য কবিতারও অন্যতম বিষয়। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের প্রতিফলিত মানবপ্রেমের চেতনা ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় নিপীড়িত মানুষের প্রতি কবির ভালোবাসার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কারবালা ময়দানে ইমাম হোসেন তাঁর বাহাত্তরজন সঙ্গীসহ নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। শত অনুরোধ ও ভয-ভীতি উপেক্ষা করে তিনি সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন। মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছেন, কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। সকলেই যখন অর্থলোভে, রাজ্যলোভে বা মৃত্যুভয়ে ইয়াজিদের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে, তখন তিনি একাই ইয়াজিদি শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।

ক. কাজী নজরুল ইসলাম কোথা থেকে নিম্ন প্রাইমারি পাস করেন?
খ. কবি নিজেকে ‘মহা-প্রলয়ের নটরাজ’ বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্য কোন দিক থেকে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “চির-উন্নত মম শির”- উদ্ভিটিতে প্রকাশিত আদর্শবোধই উদ্দীপকের ইমাম হোসেনের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. কাজী নজরুল ইসলাম গ্রামের মক্তব থেকে নিম্ন প্রাইমারি পাশ করেন।
খ. নটরাজ শিবের মতো ধ্বংসলীলা চালিয়ে অপশক্তি নাশ করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই করি নিজেকে মহা-প্রলয়ের নটরাজ বলেছেন।
➠ ভারতীয় পুরাণ মতে, নৃত্যকলার উদ্ভাবক হিসেবে মহাদেব শিবের আর এক নাম নটরাজ। তাঁর ধ্বংসের সময়কার নৃত্যকে তা-ব নৃত্য বলা হয়। গজাসুর ও কালাসুরকে নিধন করে তিনি তা-ব নৃত্য করেছিলেন। কবিও পুরাণের সে ঐতিহ্য স্মরণ করে সমকালীন প্রেক্ষাপটে অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীসহ সকল প্রকার অপশক্তিকে ধ্বংস করতে চেয়েছেন। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নিজেকে তিনি মহা-প্রলয়ের নটরাজ বলে অভিহিত করেছেন।

গ. অপশক্তির বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। সেসময় পরাধীন ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক শাসনের জাঁতাকলে প্রতিনিয়ত নিষ্পেষিত হচ্ছিল মানুষ। নিপীড়িত মানুষের সেই আর্তনাদ ব্যথিত করে কবিচিত্র্যকে। সংগত কারণেই সমাজসচেতন কবি তাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সগর্বে উচ্চারণ করেন দ্রোহের পঙক্তিমালা। ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি তারই ফল।
➠ উদ্দীপকে সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় ইমাম হোসেনের সংগ্রামের কথা বলা হয়েছে। সঙ্গী-সাথিদের নিয়ে কারবালা ময়দানে এক অন্যায় যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছেন তিনি। তবুও রাজশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ইয়াজিদ বাহিনীর অন্যায়কে কখনো মেনে নেননি, বশ্যতা স্বীকার করেননি তার কাছে। আলোচ্য ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রায় একইরূপ দৃঢ়তা লক্ষ করা যায়। সেখানে অপশক্তির বিনাশ কামনায় কবি বিধ্বংসী নানা পৌরাণিক চরিত্রকে অবলম্বন করেছেন। কবিতাটিতে তিনি অন্যায়ের অবসান না হওয়া পর্যন্ত তাঁর এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখার ঘোষণা শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মানবমুক্তির এই সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন তিনি। অর্থাৎ, আলোচ্য কবিতা এবং উদ্দীপকে বিরুদ্ধ শক্তির কাছে মাথা নত না করার দৃঢ়তা লক্ষ করা যায়। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে আলোচ্য কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. প্রশ্নোত্ত উদ্ভিটিতে ফুটে ওঠা আদর্শবোধ তথা অপশক্তির কাছে মাথা নত না করার দৃঢ়তা উদ্দীপকের ইমাম হোসেনের চরিত্রে বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ফুটে ওঠা দ্রোহ নিছক মানবমনের ক্ষোভ বা দুঃখের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এক আদর্শবোধের নামান্তর। এ কবিতার ছত্রে দর্শবোধই প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে কখনো কবি ধ্বংসের প্রতীক, কখনো তিনি প্রেমের প্রতীক, কখনো বা মানবতাবাদের প্রতীক হয়ে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে দ্রোহ করেছেন তিনি। এক্ষেত্রে কবির আপসহীন মনোভাবের পরিচয় মেলে।
➠ উদ্দীপকের ইমাম হোসেন ইয়াজিদি রাজশক্তির অন্যায়, অবিচার ও অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। যেখানে রাজশক্তির অধীনস্থ রাষ্ট্রীয় বাহিনী ছিল সুবিশাল, সেখানে মাত্র বাহাত্তর জন সঙ্গী নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তিনি অসম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। এক্ষেত্রে হার জিত তাঁর কাছে মুখ্য ছিল না; আদর্শ প্রতিষ্ঠাই ছিল মূল লক্ষ্য। একইভাবে, ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবিও সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের পক্ষে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেন।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় এবং উদ্দীপকে যুগপৎভাবে অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করার কথা বর্ণিত হয়েছে। মলত একটি আদর্শবোধকে কেন্দ্র করেই চালিত হয়েছে; আর তা হলো- সাম্যচেতনা ও ন্যায়। এ আদর্শকে ধারণ করেই ইমাম হোসেন এবং আলোচ্য কবিতার কবি বিদ্রোহ করেছেন। পরাজয়ের সম্ভাবনা জেনেও মানমর্যাদা প্রতিষ্ঠার পিছপা হননি। অর্থাৎ, শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তাঁরা ছিলেন আপসহীন। আলোচ্য কবিতার উদ্ভিটিতে এ ভাবাদর্শই প্রতিফলিত হয়েছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আরাফ ছোটবেলা থেকেই একরোখা। সে যা ভাবে, তাই করে। মা-বাবার শাসন-বারণ মানে না। লেখাপড়ায় মনোযোগ নেই; কিন্তু পাড়া-প্রতিবেশীর যেকোনো সমস্যায় সে সবার আগে এগিয়ে আসে। সেবার পাশের বাড়িতে আগুন লাগলে কিশোর বয়সি আরাফের প্রচেষ্টায় আগুন লাগা ঘরে আটকে পড়া তিন বছর বয়সি শিশু অমিতের জীবন রক্ষা পায়। আরাফ কোনোকিছুকেই পরোয়া করে না।

ক. ডমরু কী?
খ. “শির নেহারি’ আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির” ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘আরাফ যেন ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মানসপুত্র’- উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. ‘ডমরু’ হচ্ছে ডুগডুগি জাতীয় একপ্রকার বাদ্যযন্ত্র।
খ. “শির নেহারি' আমারি, নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির” - কথাটির মধ্য দিয়ে আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ ঘোষিত হয়েছে।
➠ আলোচ্য কবিতার কবি বীর ধর্মের অনুসারী। আত্মপ্রত্যয়ী বীরের চিত্র সর্বদাই সমুন্নত। সংগত কারণেই কবির এই বীর সত্ত্বা কোনোকিছুকে পরোয়া করে নাঃ ধ্বংসের দামামা বাজিয়ে এগিয়ে যায় নতুন সৃষ্টির লক্ষ্যে। কবি মনে করেন, আত্মগৌরবে বলীয়ান তাঁর সেই সসম্ভ বিরোচিত রূপ অবলোকন করে হিমাদ্রি তথা হিমালয়ও যেন মাথা নত করে। প্রশ্নোত্ত চরণটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।

গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় প্রকাশিত কবির দৃঢ়চেতা মনোভাব এবং মানবপ্রেমের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় নানাভাবে বিদ্রোহ ও বিদ্রোহীর আদর্শের কথা বর্ণিত হয়েছে। স্বীয় আদর্শ ও চেতনাবোধে অবিচল থাকার প্রেরণা এ কবিতা থেকে পাওয়া যায়। কবি বিপ্লব-প্রতিবাদ করতে করতে কখনো দুর্বার হয়ে সবকিছু ভেঙে চুরমার করে ফেলতে চান, আবার কখনো বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে বিশ্বকে ধ্বংসযজ্ঞ বানাতে চান; কিন্তু তিনি আদর্শে ও চেতনায় অবিচল। তিনি যা কিছু করেন, তা মূলত সমাজের মালের কথা ভেবেই করেন।
➠ উদ্দীপকের আরাফ ছোটোবেলা থেকেই একরোখা। মা-বাবার শাসন-বারণ সে মানে না। ঠিকমতো লেখাপড়া না করায় নিজের ভবিষ্যৎ জীবন হুমকির মুখে ফেলে দেয় সে। তা সত্ত্বেও মানুষের বিপদে-আপদে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও এগিয়ে যায় সে। এক্ষেত্রে আগুনের সর্বগ্রাসী বিধ্বংসী রূপও তাকে আটকাতে পারে না। একইভাবে, আলোচ্য ‘বিদ্রোহী' কবিতার কবিও সামাজিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে উদ্দীপকের আরাফের মতোই দুর্বার। বিরাজমান অসাম্য ও অনিয়মের বেড়াজালকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তবে তিনি এ সবকিছুই করেন একটি আদর্শ ও চেতনাবোধ থেকে; আর তা হলো মানবতাবোধ। অর্থাৎ উদ্দীপকের আরাফ এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি উভয়েই দৃড়চেতা মনোভাবের অধিকারী এবং মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় প্রকাশিত কবির মানবপ্রেম ও দৃঢ়চেতা মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।

ঘ. জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবকল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিক থেকে উদ্দীপকের আরাফকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মানসপুত্র বলা যায়।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নিরন্তর বিদ্রোহের বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি প্রচলিত নিয়মকানুনের বেড়াজাল ভেঙে ফেলার লক্ষ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়চেতা মনোভাব রাখেন। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন দিনের সূচনাই কবির মূল লক্ষ্য। এসবের পেছনে কবিমনে একটি বিষয়ই ক্রিয়াশীল, আর তা হলো দেশ ও দশের কল্যাণ।
➠ উদ্দীপকের আরাফ একরোখা স্বভাবের। সে মা-বাবার শাসন-বারণ মানে না। ঠিকমতো লেখাপড়াও করে না; অর্থাৎ সে নিজের ব্যক্তিগত উন্নতি ও সফলতার বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন। অথচ সে-ই আবার সবার বিপদে-আপদে এগিয়ে আসে, তথা মানবকল্যাণের প্রশ্নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও অন্যের জীবন বাঁচাতে সে বন্ধপরিকর। এ বিষয়ে আরাফ যেন ‘বিদ্রোহী' কবিতার কবি মানসেরই অনুসারী।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় ফুটে ওঠা দ্রোহের অন্তরালে কবি মানবতাবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এ কবিতায় তিনি সকল অসংগতি ও ভেদ-বৈষম্য দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পরাধীনতার শৃঙ্খলকে ধ্বংস করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর্ত-নিপীাড়ত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁর এই নিরন্তর সংগ্রাম। উদ্দীপকের আরাফের মাঝেও আলোচ্য কবিতার কবির এই মানবতাবোধের আদর্শই প্রতিফলিত হয়েছে। অর্থাৎ এ কবিতায় কবি যেমন মানবপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে অসাম্য দূর করতে প্রয়াসী হয়েছেন, তেমনি উদ্দীপকের আরাফও জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে কবির মতো মানুষকে ভালোবাসে বলেই। সংগত কারণেই তাকে কবির যোগ্য উত্তরসূরিও বলা চলে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথাযথ।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
(i) “দুই হাত কাটা তবু শের-নর আব্বাস,
পানি আনে মুখে, হাঁকে দুশমনও সাব্বাস!”
(ii) “দ্রিম দ্রিম্ বাজে ঘন দুন্দুভি দামামা,
হাঁকে বীর “শির দেগা, নেহি দেগা আমামা।”

ক. কবিকে রুষে উঠতে দেখে কী ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়?
খ. কবি নিজেকে পৃথিবীর অভিশাপ বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপক (i)-এ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির আপসহীন মনোভাবের সমার্থক’ বিশ্লেষণ করো।

ক. কবিকে রুষে উঠতে দেখে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়।
খ. সমাজে বিরাজমান অন্যায় ও অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁর বিধ্বংসী রূপ বোঝাতেই কবি নিজেকে পৃথিবীর অভিশাপ বলে উল্লেখ করেছেন।
➠ পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজশক্তি তখন জগদ্দল পাথরের মতো এদেশবাসীর ওপর চেপে বসেছে। অত্যাচারী এই শাসকগোষ্ঠীর অপশাসনে সমগ্র দেশই যেন নরকে রূপান্তরিত হয়েছে। এদের ধ্বংস করতে হলে এক ভয়ানক রুদ্রের প্রয়োজন, যে এদের সাজানো বাগানকে তছনছ করে দিতে পারে। কবি নিজেই সেই রুদ্ররূপ ধারণ করে অত্যাচারীর জন্য মহাপ্রলয় আনতে চেয়েছেন। তিনি যেন সাক্ষাৎ অভিশাপ, যিনি অত্যাচারী ও শোষকের সাম্রাজ্যকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবেন। এমন মনোভাব থেকেই নিজেকে তিনি পৃথিবীর অভিশাপ বলেছেন।

গ. উদ্দীপক (i)-এ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ফুটে ওঠা দিকটি হলো লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত প্রাণপণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি নানা উপমায় ও প্রকরণে তাঁর বিদ্রোহী চেতনাকে মূর্ত করে তুলেছেন। সামাজিক নানা অসংগতি ও অত্যাচার নির্যাতনের চিত্র কবিকে দুর্বার বিদ্রোহী করেছে। কিন্তু বিপ্লব-প্রতিবাদ বরাবরই প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়, তবে তাতে বিপ্লবী থেমে যায় না। তাকে অবধারিতভাবেই লক্ষ্য পানে এগিয়ে যেতে হয়। আর তাই কবি বিদ্রোহ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও অন্যায়-অত্যাচারের অবসান না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
➠ উদ্দীপক (i)-এ আব্বাস নামের এক বীরপুরুষের অদম্য মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নিজের দুই বাহু হারানো সত্ত্বেও দমে যায়নি সে। সকল বাধা অতিক্রম করে হাত বিহীন শরীর নিয়েই পানি আনতে এগিয়ে যায় সে। তার এমন দৃঢ়তা দেখে দুশমনরাও বাহবা না দিয়ে থাকতে পারে না। একইভাবে, ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও কবির অদম্য মনোভাবের পরিচয় মেলে। কবির বর্ণনামতে, বিদ্রোহ করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে গেলেও শান্ত হতে রাজি নন। অত্যাচার ও অসাম্য ঘোচানোর মাধ্যমে মানবমুক্তির পথ প্রশস্ত করাই তাঁর দ্রোহের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবিরাম লড়াই চালিয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর এমন অদম্য মনোভাবের দিকটি উদ্দীপক (i)-এর আব্বাস চরিত্রেও পরিলক্ষিত হয়। সে বিবেচনায় লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে আলোচ্য কবিতার কবির দৃঢ়চেতা মনোভাব এবং প্রাণপণ প্রচেষ্টার দিকটিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

ঘ. সর্বাবস্থায় স্বীয় আদর্শ ও চেতনাবোধে স্থির থাকা এবং অন্যায় শক্তির কাছে মাথা নত না করার দিক থেকে প্রশ্নোত্ত উক্তিটিকে যথার্থ বলে মনে করা যায়।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি বিদ্রোহকে একটি আদর্শ ও চেতনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কবি মনে করেন, বিদ্রোহী হতে হলে ব্যক্তিকে ইতিবাচক আদর্শবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং অপশক্তির কাছে মাথা নত না করার মতো চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, বিদ্রোহীর আদর্শ ও দৃঢ়তার কাছে হিমালয় চূড়ার মতো পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গকেও তুচ্ছ বলে মনে হবে।
➠ উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশে দেখা যায়, শত্রুসৈন্যের সঙ্গে বীরযোদ্ধার লড়াই চলছে। চারদিকে যুদ্ধের দামামা বাজছে। শত্রুসৈন্যের প্রবল আঘাতে বীরের মস্তক ধড় থেকে আলাদা হলেও আদর্শের প্রশ্নে সে কোনোমতেই মাথা নত করবে না, অর্থাৎ মৃত্যুও তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারবে না। ‘বিদ্রোহী’ কবিতায়ও প্রায় একইরূপ দৃঢ় মনোভাবের পরিচয় মেলে। তাই কবি নিরন্তর বিদ্রোহ করে যান নিপীড়ক অপশক্তির বিরুদ্ধে। অর্থাৎ বীরধর্ম বা আদর্শবোধের ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির বিদ্রোহী সত্তার স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। বৈষম্য ও শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী এই কবিসত্তা দুর্দমনীয় ও বিধ্বংসী। এ মূল প্রেরণা কবির মানবতাবোধ। মানবপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি বিদ্রোহ করেছেন অনাচার ও অসাম্যের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে তিনি আপসহীন মনোভাব পোষণ করেন। একইভাবে, উদ্দীপক (রর)-এর কবিতাংশে উল্লিখিত বীর প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত, কিন্তু আত্মসম্মানবোধকে বিসর্জন দিতে মোটেও রাজি নয় সে। অর্থাৎ ‘বিদ্রোহী’ কবিতা এবং উদ্দীপক (ii)-এর কবিতাংশের কবিদ্বয় আদর্শবোধ ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন। তারা কোনোমতেই অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অনেক দাম দিয়ে কিনেছি এই বাংলা, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বাংলা আজ আমাদের। বাংলার আকাশ থেকে হানাদারের কালো ছায়া সরিয়ে আমরা নিয়েছিলাম নির্ভরতার চাবি। বুকের কাছে যে কেউটে সাপের ঝাঁপি আগলে রাখতে হয়েছিল আমাদের তা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলাম অনায়াসে।

ক. ‘কানুন’ শব্দের অর্থ কী?
খ, ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি ‘অর্ফিয়াসের বাঁশরী’ বলতে কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কোন দিকটি নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “চেতনাগত মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব ও কবিতার মূলভাব পুরোপুরি এক নয়।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘কানুন’ শব্দের অর্থ আইন, নিয়ম বা বিধিব্যবস্থা।
খ. বাঙালি জাতিকে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত করতে কবি গ্রিক পুরাণে উল্লিখিত মহান শিল্পী অর্ফিয়াসের বাঁশির সঙ্গে নিজের তুলনা করেছেন।
➠ অর্ফিয়াস গ্রিক পুরাণের একজন মহান কবি ও শিল্পী। তিনি যন্ত্রসংগীতে সবাইকে মুগ্ধ করে রাখতেন। শুধু তা-ই নয়, সুরের ইন্দ্রজাল সৃষ্টি করে তিনি ইউরিডিসের মন জয় করেছিলেন। কবির প্রত্যাশা, অর্ফিয়াসের বাঁশির সুরের মতো তাঁর বিদ্রোহের সুরও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যাবে। সে সুরে বিদ্রোহের অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হবে দেশবাসী। এমন ভাবনা থেকে কবি নিজেকে ‘অফিয়াসের বাঁশরী’ বলে অভিহিত করেছেন।

গ. উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান হওয়ার দিকটি নির্দেশ করছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি সমগ্রপ্রসারী বিদ্রোহের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসন ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম হন। কবি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও পুরাণের শক্তি উৎস থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে নিজের বিদ্রোহী সভার অবয়ব রচনা করেছেন। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে অত্যাচারীর শক্তি নিঃশেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দ্রোহের ঘোষণা দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে লাখো শহিদের আত্মত্যাগের ফসল স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। বাংলার আকাশ থেকে হানাদারের কালো ছায়া সরিয়ে, ভয়ংকর কেউটেরূপী পাকহানাদার বাহিনীকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে হারিয়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ছত্রে ছত্রে বিদ্যমান। কবি তাঁর কবিতায় সকল অত্যাচারী শক্তির অবসান কামনায় নিরন্তর বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।

ঘ. অত্যাচারীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনার দিক থেকে সাদৃশ্য সত্ত্বেও কবিতায় আরও বেশকিছু বিষয় বিদ্যমান থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যৌক্তিক।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসন ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দেন। কবিতাটিতে কবি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও পুরাণের শক্তি উৎস থেকে উপকরণ ও অনুষঙ্গ নিয়ে নিজের বিদ্রোহী সত্তার অবয়ব রচনা করেন। কবি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত কবির এই বিদ্রোহী সভা লক্ষ্যে অবিচল থাকবে।
➠ উদ্দীপকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। উদ্দীপকের এহেন বক্তব্য ‘বিদ্রোহী’ কবিতার বিদ্রোহী চেতনার সমান্তরাল। কবির মতে, উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তার সংগ্রাম চলমান থাকবে।
➠ উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতা পর্যালোচনা করলে দেখা যাচ্ছে যে, অত্যাচারী শক্তির অবসান ঘটিয়ে মানবমুক্তির বার্তা উভয় স্থানেই এসেছে। বাঙালিরা পাকহানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে- এ বিষয়টি কবির নিরন্তর বিদ্রোহের প্রতিফলন। তবে কবিতাটিতে এর বাইরে ধর্ম, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পুরাণসহ নানা অনুষঙ্গ এসেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, চেতনাগত মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব ও কবিতার মূলভাব পুরোপুরি এক নয়।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
যতোই চাও না কেন আমার কন্ঠ তুমি থামাতে পারবে না,
যতোই করবে রুদ্ধ ততোই দেখবে আমি ধ্বনি-প্রতিধ্বনিময়।
আমার কন্ঠকে কেউ কোনোদিন থামাতে পারেনি
যেমন পারেনি কেউ কোনো কালে ঠেকাতে অরুনোদয়,
চাও বা না চাও নৈঃশব্দ্যেও যদি কান পাতো
শুনবে আমারই কণ্ঠস্বর। [সূত্র: আমার কণ্ঠ কেউ থামাতে পারবে না- মহাদেব সাহা]

ক. ‘পাশরি’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘আমি সেই দিন হব শান্ত’- ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।” মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো।

ক. ‘পাশরি’ শব্দের অর্থ ভুলে যাই।
খ. যেদিন সমাজে বিদ্যমান সকল প্রকার বৈষম্য দূরীভূত হবে, উৎপীড়ন বন্ধ হবে কবি সেদিন শান্ত হওয়ার কথা বলেছেন।
➠ কবি প্রত্যক্ষ করেছেন, ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ চরম দুঃসময়ে উপনীত হয়েছে। চারদিকে অন্যায়-অত্যাচার, অনাচার। একদিকে দারিদ্র্যের কশাঘাত, অন্যদিকে ধনী-দরিদ্র, জাতি-ধর্মের বৈষম্য সমাজব্যবস্থাকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। পাশাপাশি ঔপনিবেশিক শক্তির শোষণ ও পরাধীনতার গ্লানি কবিকে ভাবিয়ে তোলে। সংগত কারণে সমাজ সচেতন কবি এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চেয়েছিলেন, যা আলোচ্য কবিতায় সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাই কবি সকল প্রকার অন্যায় এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই বিদ্রোহ আর্তমানবতার পক্ষে এবং পরাধীনতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আলোকবর্তিকা সদৃশ। যা কিছু নষ্ট, পুরাতন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন কবির বিদ্রোহ সে সবকিছুর বিরুদ্ধেই। প্রথাবদ্ধ জীবন ও শৃঙ্খলকে ভেঙে নতুন করে গড়তে চান তিনি। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর এই বিদ্রোহ একদিন পরাধীন জাতিকে পৌঁছে দিবে মুক্তির সীমায়। অর্থাৎ সমাজ থেকে সকল অনাচার, বৈষম্য দূর হলেই কবি শান্ত হবেন।

গ. নিরন্তর বিদ্রোহ প্রকাশের দিক থেকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি সকল ধরনের অন্যায়-অত্যাচার, অবিচার-অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। কবির সামনে যত বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন তিনি সব চূর্ণ-বিচূর্ণ করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। শুধু তা-ই নয় পৃথিবীকে যুদ্ধ মুক্ত করতে নিঃক্ষত্রিয় বিশ্ব গড়ে তোলায়ও সচেষ্ট তিনি।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে বিদ্রোহী চেতনার স্ফুরণ ঘটেছে। কবির মতে, যতই চেষ্টা করা হোক না কেন কবির বিদ্রোহী কণ্ঠকে রোধ করা যাবে না। বরং রুদ্ধ করতে চাইলে আরও বেশি করে তা ধ্বনিত হতে থাকবে। সূর্যোদয়কে যেমন কোনোকালে ঠেকাতে সক্ষম হয়নি কেউ, তেমনি কবির বিদ্রোহী কণ্ঠ নৈঃশব্দের মাঝেও শোনা যাবে। 'বিদ্রোহী' কবিতার বিদ্রোহী চেতনাও যেন উদ্দীপকের সমান্তরাল। এ কবিতায় কবি সকল প্রকার অন্যায়-অত্যাচার, অনাচার-অবিচার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যে নিরন্তর সংগ্রাম ঘোষণা করেছেন, উদ্দীপকেও তা একইভাবে ধ্বনিত হয়েছে।

ঘ. নিরন্তর বিদ্রোহ ঘোষণা করার দিক বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতা সামগ্রিক বিদ্রোহের এক মহা এপিটাপ। যেখানেই অন্যায়, ঝঞ্ঝা ও কদর্যতা রয়েছে, সেখানেই কবির বিদ্রোহী কণ্ঠ উচ্চকিত। কবি ঘূর্ণির মতো পথের সামনে উপস্থিত সকল প্রতিবন্ধকতা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে যেতে প্রয়াসী। নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের কান্না বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবির এ বিদ্রোহ নিরন্তর চলবে।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নিরন্তর বিদ্রোহের বাণী তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছেন। কবির মতে, তাঁর বিদ্রোহ এতটাই সুদূরপ্রয়াসী ও তীব্র যে কোনো শক্তিই তাকে স্তব্ধ করে দিতে পারবে না। সূর্যোদয় যেমন অবশ্যম্ভাবী, তেমনি কবির বিদ্রোহের বাণীও অবিরাম ধ্বনিত হতে থাকবে। ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ছত্রে ছত্রেও প্রায় একই চেতনাবোধের বিচ্ছুরণ লক্ষ করা যায়। সেখানেও অন্যায়-অত্যাচারসহ সর্বপ্রকার অমানবিকতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কবি নিরন্তর সংগ্রাম ঘোষণা করেছেন।
➠ উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহী’ কবিতা উভয় স্থানেই দুর্মর বিদ্রোহের বাণী যুগপৎ ঘোষিত হয়েছে। কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিই তাঁদের এই বিদ্রোহী চেতনাকে থামাতে পারবে না। এক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের অবশ্যম্ভাবী ঘটনার মতো একজনের বিদ্রোহ নিরন্তন চলমান; অপরদিকে অন্যজন ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো সামনে আসা সকল বাধাকে যেকোনো মূল্যে বিদায় করতে সদা প্রস্তুত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি যুক্তিসংগত।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কলম, তুমি শুধু বারংবার,
আনত ক’রে ক্লান্ত ঘাড়
গিয়েছ লিখে স্বপ্ন আর পুরনো কত কথা,
সাহিত্যের দাসত্বের ক্ষুদিত বশ্যতা।
ভগ্ন নিব, রুগ্ন দেহ, জলের মতো কালি,
কলম, তুমি নিরপরাদ তবুও গালাগালি
খেয়েছ আর সয়েছ কত লেখকদের ঘৃণা,
কলম, তুমি চেষ্টা কর, দাঁড়াতে পার কি না। [সূত্র: কলম- সুকান্ত ভট্টাচার্য]

ক. বলামের অস্ত্রটির নাম কী?
খ. “আমি চক্র ও মহা শঙ্খ” বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের কলম এবং বিদ্রোহী কবিতার প্রতিফলিত চেতনার মধ্যকার বৈসাদৃশ্য চিহ্নিত করো।
ঘ. “উদ্দীপকের কলমের মতো কারো দাসত্ব, অধীনতা স্বীকার করতে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি রাজি নন”- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

ক. বলরামের অস্ত্রটির নাম হলো হলো।
খ. “আমি চক্র ও মহা শঙ্খ” বলতে কবির বিদ্রোহী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
➠ বিষ্ণু বা সুদর্শন চার হাত বিশিষ্ট। তাঁর এক একটি হাতে থাকে শঙ্খ, চক্র, গদ্য ও পদ্ম। এখানে উক্ত চরণে বিষ্ণুর হাতের চক্র ও শঙ্খকে বুঝানো হয়েছে। উক্ত চরণে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ কবির বিদ্রোহী মনোভাবের দিকটি ফুটে উঠেছে।

গ. উদ্দীপকের কলম এবং বিদ্রোহী কবিতায় প্রতিফলিত চেতনার মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ দাসত্ব মানেই অভিশাপ। এটি মানুষকে পঙ্গু করে তোলে। যে নিজেকে চিনে না, জানে না, সে নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং এক সময় দাসত্ব বা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে জড় বস্তুতে পরিণত হয়।
➠ উদ্দীপকে ‘কলম’ প্রতীকী চরিত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে যে দাসত্বের শিকার। সে লেখকের বশ্যতা স্বীকার করে সারাক্ষণ কাজ করে যায়। তার ভগ্ন নিব, রুগ্ন দেহ, বুকে যে কালি ধারণ করে সেটাও জলের মতো। সে নিরপরাধ তবুও সে গালি খায়। এখানে ‘কলম’ নামক প্রতীকী চরিত্রটি দাসত্বের শিকার। উদ্দীপকের ‘কলম’ চরিত্রটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির চেতনার সঙ্গে বৈসাদৃশ্য য়েছে। কারণ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি আত্মবিশ্বাসী চেতনায় ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জোরালে কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কবির প্রতিবাদের ধারা ঔপনিবেশিক শাসনের ভিতও কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কবিতায় কবির অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী সত্তা প্রকাশ পেয়েছে। যেহেতু, ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির চরিত্রটি, উদ্দীপকের ‘কলম’ চরিত্রটির বিপরীত আদর্শ ধারণ করে, তাই উদ্দীপকের কলম চরিত্রটির সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতর বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. “উদ্দীপকের কলমের মতো কারো দাসত্ব, অধীনতা স্বীকার করতে 'বিদ্রোহী' কবিতার কবি রাজি নন”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ নিজের মতো করে জীবন গড়তে হলে আত্মবিশ্বাসী হতে হয়। কারো নির্দেশমতো বা পরামর্শমতো চলতে গেলে নিজস্বতা ধরে রাখা যায় না। তাই নতুন কিছু, সৃষ্টিশীল কোনো কিছু প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সৎপথে থেকে দুনির্বার ভঙ্গিতে সামনে এগোতে হয়।
➠ উদ্দীপক হতে পাই, ‘কলম’ নামক প্রতীকী চরিত্রটি সারাজীবন দাসত্বের শিকার হয়েছে। এ কলমকে দিয়ে কবি পরাধীন বাঙালিদের বুঝিয়েছেন। যারা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে নিজেদের সমস্ত সত্তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে শাসকদের সব অবিচার, শোষণ, নিপীড়ন মুখ বুজে সহ্য করে আসছে। উদ্দীপকের এই কলমের মতো ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি এসব দাসত্ব বা পরাধীনতা স্বীকার করতে নারাজ।
উদ্দীপকের মন্তব্যটি সঠিক ও যথার্থ। কারণ ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি দুর্দমনীয় ভঙ্গিতে সত্যের পথে এগিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সমস্ত অসত্য ও পুরোনোকে ধ্বংস করে নতুন সম্ভাবনাময় সত্য সুন্দর জীবনের প্রতিষ্ঠা করবেন। তিনি কারো দাসত্ব স্বীকার করবেন না।
➠ কবির মতে, অন্যায়-অত্যাচারীদের অত্যাচারের অবসান না হওয়া পর্যন্ত কবি শান্ত হবে না। কবি রুদ্র-রূপে পৃথিবীর সকল অন্যায় ও অবিচার, অত্যাচারের অবসান ঘটাবেন। এক্ষেত্রে, উদ্দীপকে প্রকাশিত ভাবের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবির ভাবের সাদৃশ্য রয়েছে। সুতরাং পরিশেষে বলা যায় যে, বিষয়গত ভাবনা ও ভাবগত সাদৃশ্যের কারণে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির যথার্থতা রয়েছে।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমি জীবনে অনেক আত্মপ্রবঞ্ছনা করে করে অন্তরে অশেষ যন্ত্রণা ভোগ করেছি, কত রাত্রি অনুশোচনায় ঘুম হয়নি। এখন সোজা এই বুঝেছি যে, আমি যা ভালো বুঝি, যা সত্য বুঝি, শুধু সেইটুকু প্রকাশ করব, বলে বেড়াব, তাতে লোকে নিন্দা যতই করুক, আমি আমার কাছে ছোটো হয়ে থাকব না, আত্মপ্রবঞ্চনা করে আর আত্মনির্যাতন ভোগ করব না।

ক. অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থে দ্বিতীয় কবিতার নাম কী?
খ. “আমি সেই দিন হব শান্ত” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের ‘আমি’ এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মধ্যে সাদৃশ্য চিহ্নিত করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির আত্মোপলব্ধি আমাদের সামনে মূর্ত করে তোলে” মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

ক. অগ্নি-বীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতার নাম হলো বিদ্রোহী।
খ. “আমি সেই দিন হব শান্ত”- বলতে কবির আশাবাদ ব্যক্ত হয়েছে।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতা হতে পাই, আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ কবিতায় ঘোষিত হয়েছে। কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হয় অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান কাম্য। বিদ্রোহী কবি উৎকণ্ঠ ঘোষণায় জানিয়ে দেন যে, উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল যতদিন পর্যন্ত প্রশমিত না হবে, ততদিন এই বিদ্রোহী কবিসত্তা শান্ত হবে না। উক্ত চরণে এই মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে।

গ. সত্যের পথে বিচরণ করার দিক থেকে উদ্দীপকের ‘আমি’ এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ সত্যের মাধ্যমে মানুষের জীবন পূর্ণতা পায়। সত্যের পথে থাকলে বাধায় সম্মুখীন হতে হয়, সমাজের শোষকশ্রেণির বিভিন্ন আক্রমণের মাঝে পড়তে হয়। এরপরও মানুষ সত্যের পথে থেকে আপন বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
➠ উদ্দীপকের ‘আমি’ ভাবনাই বিন্দুতে সিন্দুর উচ্ছ্বাস জাগায়। উদ্দীপকের ‘আমি’ সত্যের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা পেতে চায়। লেখক আত্ম-প্রবঞ্চনা ভোগ করে অনেক অনুশোচনায় তিনি নিদ্রাহীন থেকেছেন। অবশেষে নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সত্যের পথে নিজের ‘আমি’কে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস পেয়েছেন। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের ‘আমি’ সত্তার মধ্যে সত্যের পথে বিচরণ করার দিকটি ফুটে উঠেছে। অপরদিকে, বিদ্রোহী কবিতায় কবি কুরআন-পুরাণ থেকে শুরু করে সকল প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ থেকে শক্তি ধারণ করেছেন এবং অন্যায় ও অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর তুলেছেন। কবি জোরালো কণ্ঠে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের ‘আমি’ সত্তার সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির সত্যের পথে অটল থাকার দিক থেকে সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মর্মবাণী আমাদের সামনে মূর্ত করে তোলে”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ জীবনে সত্যের উপলব্ধির মাধ্যমে নিজেকে চিনতে পারা যায়। আর নিজেকে চিনতে পারলে জীবন পায় সার্থকতা। সত্যের শক্তির মাধ্যমে সমাজের অনিয়ম ভেঙে উৎকৃষ্ট মানবসমাজ গড়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপক হতে পাই, ‘আমি’ সত্তা কবির আপন মূর্তি সমাজের মাঝে তুলে ধরেছে। কবির মতে, অসত্য ধারণ করে কবি অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। কিন্তু অসত্যের পথে না থাকার আহ্বান জানিয়ে সত্যের পথে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকার ঘোষণা দিয়ে কবি তাঁর বিদ্রোহী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। এক্ষেত্রে কবির সত্যের প্রতি গভীর চেতনাবোধ উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির মনোভাব ও প্রতিবাদী চেতনার দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
➠ “উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবির আত্মোপলব্ধি আমাদের সামনে মূর্ত করে তোলে” মন্তব্যটি সঠিক। কারণ বিদ্রোহী কবিতায় অন্যায়কারী শক্তির প্রতি কবির বুদ্রভাব প্রকাশ পেয়েছে। কবি আত্মশক্তিতে বিশ্বাস রেখে সত্যের পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া কবির দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মনোভাবে অসত্য ও অন্যায়ের অবসান করার আশাবাদও ব্যস্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবির মনোভাবে সত্যের প্রতি অটল থাকার দিকটি নির্দেশিত হয়েছে। এছাড়া উদ্দীপকেও একই মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং পরিশেষে, বলা যায় যে, ভাবগত সাদৃশ্য থাকার কারণে মন্তব্যটি যথার্থ।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বিশ্বের কল্যাণমন্ত্র তাহাকে সিরিয়া বলিল- “এখন অনেক দেরি, পথ চল”। পথিক চমকিয়া উঠিয়া বলল- হ্যাঁ, ভাই, বুলন্দ দরওয়াজা পার হওয়া আমার লক্ষ্য। পিছন হইতে নিযুত তরুণ কণ্ঠের পুিল বাণী শোর করিয়া বলিল, “আমাদেরও লক্ষ্য তাই।” পথিক বুকভরা গৌরবের তৃপ্তি তাহার কণ্ঠে ফুটাইয়া হাঁকিয়া উঠিল- “এ পথে যে মরণের ভয় আছে।” বিক্ষুব্ধ তরুণ কণ্ঠে প্রদীপ্ত বাণী বাজিয়া উঠিল- “কুছ পরওয়া নেই। ও তো মরণ নয়, জীবনের আরম্ভ।” [সূত্র: দূরন্ত পথিক: কাজী নজরুল ইসলাম।]

ক. ‘নিশাবসান’ শব্দটির অর্থ কী?
খ. “পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল”- কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের পথিকের মধ্যে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিকটিই ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কবি কামনা করেছেন”- বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘নিশাবসান’ শব্দটির অর্থ হলা রাতের অবসান।
খ. কবি নিজেকে শিব বা মহাদেবের হাতের ডমরু ও ত্রিশূলরূপে নিজেকে কল্পনা করে আলোচ্য উক্তির অবতারণা করেছেন।
➠ ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় দিতে গিয়ে নানা পৌরাণিক চরিত্র ও অস্ত্রের প্রসঙ্গ টেনেছেন। প্রশ্নোক্ত ‘পিণাক-পাণি’ ধ্বংসের দেবতা শিব কর্তৃক ব্যবহৃত তেমনি এক পৌরাণিক অস্ত্র। এগুলো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সময় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। নৃত্যের তালে তালে ডমরু বাজে আর চূড়ান্ত আঘাত হানা হয় ত্রিশূল দিয়ে। কবি নিজেকে সেই ডমরু আর ত্রিশূলরূপে বর্ণনা করে মূলত অপশক্তি বিনাশের বার্তা দিতে চেয়েছেন।

গ. ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় প্রকাশিত কবির বিদ্রোহী চেতনার দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করো।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
যেখানে মানবতা কঠোর শৃঙ্খলে বন্দি
যেখানে মানুষকে আটকে রাখার ফন্দি;
যেখানে যত আছে অন্যায়, অনাচার
যেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের অসম ব্যবহার;
সেখানে লড়াই করো, করো সংগ্রাম
করো সব অনিয়ম-বৈষম্যের অবসান
দাও মানবতার মুক্তি, আনো সাম্যের সমাজ
মানুষে-মানুষে ভাই-ভাই রূপে করবে বিরাজ।

ক. ‘নিদাঘ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ভাবনাই প্রতিফলিত হয়েছে কি না তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক কিংবা বিদ্রোহী কবিতার কবির প্রত্যাশা সর্বযুগে সকল শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের ভাবনা।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আকরাম হোসেন স্পষ্টবাদী ও সত্যপ্রিয় মানুষ। তিনি কারো ওপর নির্ভর করতে পছন্দ করেন না। জীবনের চেয়ে সত্যকে তিনি বেশি ভালোবাসেন এবং সে কথা তিনি স্পষ্ট করে নির্ভয়ে বলেন।

ক. ‘নিদাঘ’ শব্দটির অর্থ কী?
খ. “বল বীর- চির-উন্নত মম শির” বলতে কবি কোন প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন।
গ. উদ্দীপকের আকরাম হোসেনের চরিত্রে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার চেতনাবোধ প্রতিফলিত হয়েছে”- মন্তব্যটির স্বপক্ষে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজর অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়।
বিশ্বের আমি চির দুর্জন,
জগদ্বীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরোষোত্তম সত্য,
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মাথিয়া ফিরি স্বর্গ-পাতালা-মর্ত্য!
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া
গিয়াছে সব বাঁধ।

ক. কবি কী মানেন না?
খ. “আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল বৈশাখীর”- বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সাদৃশ্য চিহ্নিত করো।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ পংক্তির আলোকে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করো।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃমহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু।
সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে মম ললাটে।
মম ধূম কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ,
হাহাকার আর মর্ত্যে সাহারা-গোবি ছাপ
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।

ক. অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম কী ছিল?
খ. কবি ‘অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খল’ কেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিদ্রোহ’ কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. “উদ্দীপকের মতো ‘বিদ্রোহ’ কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।”- কথাটির মূল্যায়ন করো।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
“ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?- প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!
আসছে নবীন জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!
তাই সে এমন কেশে বেশে
প্রলয় বয়েও আসছে হেসে-
মধুর হেসে!
ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চির-সুন্দর!
তোরা সব 'জয়ধ্বনি কর!”

ক. নজরুল কত সালে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত হন?
খ. “মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য;”- পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহ’ কবিতার সাদৃশ্য নির্ণয় করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘বিদ্রোহ’ কবিতার সমগ্র দিক ফুটে উঠেছে কি?- তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে,
আমি যাই তারি দিনপঞ্জিকা লিখে,
এত বিদ্রোহ কখনো দেখেনি কেউ,
দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ,
স্বপ্ন-চূড়ার থেকে নেমে এসো সব- শুনেছ?
শুনছ উদ্দাম কলরব?
নয়া ইতিহাস লিখছে ধর্মঘট;
রক্তে রক্তে আঁকা প্রচ্ছদপট।
প্রত্যহ যারা ঘৃণিত ও পদানত,
দেখো আজ তারা সবেশে সমুদ্যত;

ক. ‘নতশির’ অর্থ কী?
খ. বীরের শির চির-উন্নত কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি কোন দিক থেকে ‘বিদ্রোহ’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের দিকে দিকে ওঠা অবাধ্যতার ঢেউ কি ‘বিদ্রোহ’ কবিতার কবির বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত-সাতশ নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে।
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার
আর মর্ত্যে শাহারা-গোবী-ছাপ
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।

ক. কবি কী মানেন না?
খ. ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না’- একথা বলার কারণ কী?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বিদ্রোহ’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো|
ঘ. “উদ্দীপকটি 'বিদ্রোহী' কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করে না”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অনেক দাম দিয়ে কিনেছি এই বাংলা, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই বাংলা আজ আমাদের। বাংলার আকাশ থেকে হানাদারের কালো ছায়া সরিয়ে আমরা নিয়েছিলাম নির্ভরতার চাবি। বুকের কাছে যে কেউটে সাপের ঝাঁপি আগলে রাখতে হয়েছিল আমাদের তা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলাম অনায়াসে।

ক. ‘কানুন’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘বিদ্রোহ’ কবিতায় কবি ‘অর্ফিয়াসের বাঁশরী’ বলতে কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘বিদ্রোহ’ কবিতার কোন দিকটি নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “চেতনাগত মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব ও কবিতার মূলভাব পুরোপুরি এক নয়।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
যতোই চাও না কেন আমার কণ্ঠ তুমি থামাতে পারবে না, যতোই করবে রুদ্ধ ততোই দেখবে আমি ধ্বনি প্রতিধ্বনিময়। আমার কণ্ঠকে কেউ কোনোদিন থামাতে পারেনি যেমন পারেনি কেউ কোনোকালে ঠেকাতে অরুণোদয়, চাও বা না চাও নৈঃশব্দেও যদি কান পাতো শুনবে আমারই কণ্ঠস্বর।

ক. ‘পাশরি' শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘আমি সেই দিন হব শান্ত'- ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘বিদ্রোহী’ কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘বিদ্রোহ’ কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।”- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে,
আমি যাই তারি দিনপঞ্জিকা লিখে,
এত বিদ্রোহ কখনো দেখেনি কেউ,
স্বপ্ন-চূড়ার থেকে নেমে এসো সব-
শুনেছ? শুনছ উদ্দাম কলরব?
নয়া ইতিহাস লিখছে ধর্মঘট;
রক্তে রক্তে আঁকা প্রচ্ছদপট।
প্রত্যহ যারা ঘৃণিত ও পদানত,
দেখ আজ তারা সবেগে সমুদ্যত;

ক.‘কৃপাণ’ কী?
খ. কবি বিশ্বকে নিঃক্ষত্রিয় করতে চেয়েছেন কেন?
গ. উদ্দীপকটি কোন দিক থেকে ‘বিদ্রোহ’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ.উদ্দীপকের দিকে দিকে ওঠা অবাধ্যতার ঢেউ কি ‘বিদ্রোহ’ কবিতার কবির বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।


‘বিদ্রোহী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী,-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

ক.‘বিদ্রোহ’ কবিতার কবিকে রুষে উঠতে দেখে কী ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়?
খ. কবি নিজেকে বেদুঈন বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কবির বক্তব্য বিষয়ের সাথে ‘বিদ্রোহ’ কবিতার বৈসাদৃশ্যের দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা ‘বিদ্রোহ’ কবিতার মর্মকথারই প্রতিরূপ।” বিশ্লেষণ করো।


তথ্যসূত্র :
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url