আপনাদের সবার জন্যে এই উদার আমন্ত্রণ
ছবির মতো এই দেশে একবার বেড়িয়ে যান।
অবশ্য উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো মনোহারী স্পট আমাদের নেই,
কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না- আপনার স্ফীত সঞ্চয় থেকে
উপচে-পড়া ডলারমার্ক কিংবা স্টার্লিংয়ের বিনিময়ে যা পাবেন ডাল্লাস অথবা মেম্ফিস অথবা কালিফোর্নিয়া তার তুলনায় শিশুতোষ!
আসুন, ছবির মতো এই দেশে বেড়িয়ে যান
রঙের এমন ব্যবহার, বিষয়ের এমন তীব্রতা
আপনি কোনো শিল্পীর কাজে পাবেন না, বস্তুত শিল্প মানেই নকল নয় কি?
অথচ দেখুন, এই বিশাল ছবির জন্যে ব্যবহৃত সব উপকরণ
অকৃত্রিম;
আপনাকে আরও খুলে বলি: এটা, অর্থাৎ আমাদের এই দেশ,
এবং আমি যার পর্যটন দফতরের অন্যতম প্রধান, আপনাদের খুলেই বলি,
সম্পূর্ণ নতুন একটি ছবির মতো করে
সম্প্রতি সাজানো হয়েছে: খাঁটি আর্যবংশ সম্ভূত শিল্পীর কঠোর তত্ত্বাবধানে ত্রিশ লক্ষ কারিগর
দীর্ঘ ন’টি মাস দিনরাত পরিশ্রম করে বানিয়েছেন এই ছবি।
এখনো অনেক জায়গায় রং কাঁচা- কিন্তু কী আশ্চর্য গাঢ় দেখেছেন? ভ্যান গগ্-যিনি আকাশ থেকে নীল আর শস্য থেকে সোনালি তুলে এনে
ব্যবহার করতেন- কখনো, শপথ করে বলতে পারি,
এমন গাঢ়তা দ্যাখেন নি:
আর দেখুন, এই যে নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহার- ওর ভেতরেও
একটা গভীর সাজেশান আছে- আসলে ওটাই এই ছবির- অর্থাৎ
এই ছবির মতো দেশের-থিম্!
‘ছবি’ কবিতার উৎস নির্দেশ :
‘ছবি’ কবিতাটি আবু হেনা মোস্তফা কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আপন যৌবন
বৈরী’ থেকে সংকলিত হয়েছে। কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত। গদ্যছন্দে কোনো
সুনির্দিষ্ট পর্ব ও মাত্রাসাম্য থাকে না।
‘ছবি’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা :
➠ মনোহারী স্পট- চিত্তাকর্ষক পর্যটনস্থল।
➠ স্ফীত সঞ্চয়- ফুলে ফেঁপে ওঠা সঞ্চিত অর্থ।
➠ ডলার- আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারি
মুদ্রার নাম।
➠ মার্ক- বিভিন্ন জাতিরাষ্ট্রের মুদ্রার নাম বা হিসাবের একক। সোনা ও
রুপার ওজন পরিমাপে মার্ক হিসাবের একক হয়ে কাজ করে।
➠ স্টার্লিং- পাউন্ড স্টার্লিং। পাউন্ড নামে বিশেষভাবে পরিচিত
যুক্তরাজ্যের সরকারি মুদ্রা।
➠ ডাল্লাস- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অন্যতম জনাকীর্ণ
নগর।
➠ মেম্ফিস- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্য
টেনিসির একটি নগর। নগরটি মিসিসিপি নদীর তীরে অবস্থিত।
➠ কালিফোর্নিয়া- আয়তনের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম
অঙ্গরাজ্য।
➠ শিল্প মানেই নকল নয় কি?- কাব্যতাত্ত্বিক অ্যারিস্টটল বলেছেন, সাহিত্য
বা শিল্প হচ্ছে জীবনের বা ঘটনার অনুকরণ। এ অর্থেই কবি শিল্পকে ‘নকল’
বলেছেন।
➠ খাঁটি আর্যবংশ সম্ভূত- আর্য মানে Aryan। মানবজাতিবিশেষ। এখানে খাঁটি
বাঙালি চেতনার ধারক এক মহামানবকে বোঝানো হয়েছে।
➠ ত্রিশ লক্ষ কারিগর- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহিদ।
➠ ভ্যান গগ- বিশ্ববিখ্যাত ডাচ চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট উইলেম ভ্যান গগ
(১৮৫৩-১৮৯০)। ইনি পোস্ট-ইম্প্রেশনিস্ট শিল্পী হিসেবে সমধিক পরিচিত।
আবেগের সততা, রূঢ় সৌন্দর্য ও গাঢ় রং ব্যবহারের কুশলতায় বিশ শতকের
চিত্রশিল্পে প্রভূত প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তিনি।
The Potato Eaters, self portraits, wheat fields এবং sunflowers
তাঁর অন্যতম বিখ্যাত ছবি। নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহার- বাংলাদেশের
মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী অসংখ্য শহিদের করোটি কবিকথিত ছবিতে বারবার
ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
➠ সাজেশান- একটি বিশেষ চিন্তা যা নতুন কিছুর উন্মেষ ঘটায়।
➠ থিম্- আঁকা ছবিতে সঞ্চারিত বিশেষ কোনো চিন্তা বা বাণীকেই চিত্রশিল্পে
থিম্ বলা হয়। সাধারণত ওই বাণী জীবন, সমাজ ও মানবীয় প্রকৃতিকে অবলম্বন করে
প্রকাশ পেয়ে থাকে। থিম্-এর মাধ্যমে একটি ছবির মৌলিক ও বিশ্বজনীন মূল্য
প্রতিভাত হয়।
‘ছবি’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব :
‘ছবি’ কবিতায় রোমান্টিক কবি নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশকে মহান
শিল্পীর তুলিতে আঁকা একটি কালজয়ী ছবি হিসেবে কল্পনা করেছেন। কবি নিপুণ
শব্দের ছবি এঁকে বুঝিয়ে দেন ত্রিশ লক্ষ খাঁটি বাঙালি-শিল্পী তথা শহিদের
দীর্ঘ নয় মাসের শ্রমে-আত্মদানে সৃজিত হয়েছে এই ছবি। তাঁর নিশ্চিত ধারণা,
রঙের জাদুকর শিল্পী ভ্যান গগও ছবিটিতে ছড়ানো রঙের আশ্চর্য গাঢ়তা কখনো
দেখেননি। কবি মনে করেন, ছবিটিতে ব্যবহৃত অসংখ্য নরমুণ্ডের ব্যবহার ত্রিশ
লক্ষ শহিদের আত্মদানের সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করে আছে, যা এই ছবির মতো
দেশটির গৌরবময় স্মারক। ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তস্নাত সুন্দর এই দেশ
পরিদর্শনের জন্য কবি বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কবিতায়।
‘ছবি’ কবিতার কবি পরিচিতি :
আবু হেনা মোস্তফা কামাল ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই মার্চ সিরাজগঞ্জ
(তৎকালীন পাবনা) জেলার অন্তর্গত উল্লাপাড়ার গোবিন্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ
করেন। তাঁর পিতার নাম এম. শাহজাহান আলী, মাতা খালেকুননেসা। বিশিষ্ট
রোমান্টিক কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল ছিলেন একই সঙ্গে খ্যাতিমান
অধ্যাপক, সফল গীতিকার, সম্মোহনক্ষম বাগ্মী ও মননশীল সাহিত্য-সমালোচক।
সমগ্র শিক্ষাজীবনে তিনি সুপরিচিত ছিলেন কৃতী ছাত্র হিসেবে। ১৯৫৯
খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে
প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৯
খ্রিষ্টাব্দে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন
করেন।
পাবনার এডওয়ার্ড কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর কর্মজীবন। তিনি
ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিযুক্ত ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক থাকাকালে তিনি বাংলা
একাডেমি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক-এর দায়িত্ব পালন
করেছেন। আবু হেনা মোস্তফা কামালের রোমান্টিক কবিস্বভাব তাঁর কবিতাকে
করেছে নন্দনশোভন। শব্দের বহুমুখী দ্যোতনা ও চিত্রধর্মিতা তাঁর কবিতার
প্রধান সম্পদ। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ:
আপন যৌবন বৈরী, যেহেতু জন্মান্ধ, আক্রান্ত গজল; গীতি-সংকলন:
আমি সাগরের নীল; প্রবন্ধগ্রন্থ:
শিল্পীর রূপান্তর, কথা ও কবিতা।
সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন
আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও
বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত একুশে পদক।
কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৩এ সেপ্টেম্বর ৫৩ বছর
বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
‘ছবি’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
‘ছবি’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
‘ছবি’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শহিদের পুণ্য রক্তে সাত কোটি
বাঙালির প্রাণের আবেগ আজ
পুষ্পিত সৌরভ। বাংলার নগর, বন্দর
গঞ্জ, বাষট্টি হাজার গ্রাম
ধ্বংসস্তূপের থেকে সাত কোটি ফুল
হয়ে ফোটে। প্রাণময় মহৎ কবিতা
আর কোথাও দেখি না এর চেয়ে।
ক. কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এদেশকে কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
খ. কবি নিজেকে এদেশের পর্যটন দফতরের অন্যতম প্রধান বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে বাঙালির প্রাণের আবেগ পুষ্পিত হবার বিষয়টি ‘ছবি’ কবিতায়
কীভাবে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “বৈসাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও ‘ছবি’ কবিতা যেন একই সূত্রে গাঁথা”-
উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
ক. কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল এদেশকে ছবির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
খ. দেশের প্রতি অধিকার এবং নিজেকে যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার
জন্য বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে কবি নিজেকে এদেশের পর্যটন দফতরের
অন্যতম প্রধান বলেছেন।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশকে মহান শিল্পীর
তুলিতে আঁকা একটি কালজয়ী ছবি হিসেবে কল্পনা করেছেন। আর এদেশ পরিদর্শনের
জন্য বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি নিজ দায়িত্বে সবাইকে আমন্ত্রণ
জানিয়েছেন আর তাই নিজেকেও পর্যটন দফতরের অন্যতম প্রধান বলেছেন। এ থেকে
দেশের প্রতি কবির অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গ. উদ্দীপকে বাঙালির প্রাণের আবেগ পুষ্পিত হবার বিষয়টি ‘ছবি’ কবিতায়
বর্ণিত নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশের পরিপাটি রূপ বর্ণনার মধ্য দিয়ে
ফুটে উঠেছে।
➠ আবু হেনা মোস্তফা কামাল ‘ছবি’ কবিতায় বাংলাদেশকে মহান শিল্পীর তুলিতে
আঁকা কালজয়ী একটি ছবি বলে আখ্যায়িত করেছেন। ত্রিশ লক্ষ শহিদের প্রাণের
বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাদের রক্তে স্নাত এ দেশের
সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি আজ সকলের নজরকাড়া। সেই সৌন্দর্য অবলোকনের জন্যই
কবি বিদেশিদের এদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শহিদের পুণ্য রক্তে বাঙালির প্রাণের আবেগ আজ
পুষ্পিত সৌরভ। অর্থাৎ, শহিদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে বাঙালি আজ গর্বিত।
বিশ্বের দরবারে বাঙালিকে উচ্চ আসনে বসিয়েছেন শহিদেরা। আবার ‘ছবি’
কবিতায়ও প্রতিফলিত হয়েছে শহিদের আত্মত্যাগের ফলে বাংলাদেশের অনুপম
সৌন্দর্যের কথা। যে কারণে কবি পৃথিবীর যেকোনো দেশ অপেক্ষা এদেশকে
অধিকতর সুন্দর বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, পৃথিবীর যেকোনো
চিত্রকর্ম অপেক্ষা বাংলাদেশ নামক ছবির রঙের গাঢ়তা, ভাবার্থ অতুলনীয়।
উদ্দীপকে যেমন শহিদের আত্মত্যাগের ফলে বাংলাদেশকে সবচেয়ে মহৎ কবিতা
হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে; তেমনি আলোচ্য কবিতায়ও বাংলাদেশকে ছবির মতো
সুন্দর বলা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশকে অনন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে
উদ্দীপকে ও আলোচ্য কবিতায়। তাই আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকে বাঙালির
প্রাণের আবেগ পুষ্পিত হবার বিষয় ‘ছবি’ কবিতায় বাঙময় হয়ে উঠেছে।
ঘ. শহিদের আত্মত্যাগে সমৃদ্ধ স্বদেশের বন্দনাই উদ্দীপক ও ‘ছবি’ কবিতাকে
একসূত্রে গেঁথেছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি নিপুণ শব্দের ছবি এঁকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ত্রিশ
লক্ষ, খাঁটি বাঙালি শিল্পী তথা শহিদের দীর্ঘ নয় মাসের শ্রমে-আত্মদানে ৮
সৃজিত হয়েছে এই ছবি। কবি মনে করেন, ছবিটিতে ব্যবহৃত নরমু-ের ব্যবহার
ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মদানের সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করে আছে। যা ছবির
মতো দেশটির গৌরবময় স্মারক। অর্থাৎ শহিদের আত্মত্যাগে অনন্য বাংলাদেশই এ
কবিতার মূল ভাবনা।
➠ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, শহিদের আত্মত্যাগে পুরো বাঙালি জাতি আজ
উজ্জীবিত, আবেগাপ্লুত। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ আজ ফুলের বাগানের মতোই
সুন্দর। আর উদ্দীপকের বক্তা এদেশের চেয়ে মহৎ কবিতা দেখেননি। অর্থাৎ
শহিদের রক্তদানের পুণ্যেই এদেশ পবিত্র সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত হয়েছে। ‘ছবি’
কবিতায় কবির মনোভাবে একই অনুভূতি দেখা যায়।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি বিদেশিদের এদেশ পরিদর্শনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
কেননা কবি নিশ্চিত এদেশ ভ্রমণে যে কেউ লাভবান হবে। কারণ ছবির মতো এ
দেশে নান্দনিক সৌন্দর্য যেকোনো শিল্পকর্মকে হার মানায়। মূলত কবি এখানে
রূপক অর্থে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহিদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান
জানিয়েছন। তাই তিনি নিশ্চিতভাবে বলেছেন, রঙের এমন গাঢ়তা কেউ পাবে না।
কেননা এ রঙ শহিদের পুণ্য রক্ত। উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে শহিদের
আত্মত্যাগে অনুপম বাংলাদেশের চিত্র। পৃথিবীর যেকোনো কবিতা? অপেক্ষা
এদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তাই আজ বেশি প্রাণময়, মহৎ কবিতা। আলোচ্য
কবিতায় দেশের সৌন্দর্য প্রকাশে নান্দনিক ভাবনার নানা উপকরণ ও সংশ্লিষ্ট
চরিত্রের উল্লেখ থাকলেও উদ্দীপকে তা অনুপস্থিত। তবে উদ্দীপক ও কবিতার
চেতনাগত অবস্থান একই। সুতরাং আমরা বলতে পারি, অনুষঙ্গগত বৈসাদৃশ্য
থাকলেও উদ্দীপকটিতে ‘ছবি’ কবিতা একই সূত্রে গাঁথা। অর্থাৎ প্রশ্নোক্ত
মন্তব্যটি যথাযথ।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
লিসার সাথে মৌসুমীর পরিচয় ফেসবুকে। ফেসবুকে তাদের অনেক কথাই হয়। একদিন
মৌসুমী লিসাকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানায়। মৌসুমী বিনয়ের সাথে
লিসাকে বলে যে, বাংলাদেশ তাদের দেশের চেয়ে সৌন্দর্যের দিক থেকে অত বেশি
কিছুর ধারক হয়তো নয়, তবে বাংলাদেশের সৌন্দর্য কোনোভাবে কমও নয়। তার
কাছে বাংলাদেশের বিস্তারিত বিবরণ শুনে লিসা অবশেষে বাংলাদেশে বেড়াতে
আসে।
ক. মেম্ফিস কী?
খ. ‘রঙের এমন ব্যবহার, বিষয়ের এমন তীব্রতা’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের মৌসুমীর কর্মকা- ‘ছবি’ কবিতার কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত
করেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের অনুভব ছবি কবিতার সমগ্র অনুভবকে ধারণ করে কি? মূল্যায়ন
করো।
ক. মেম্ফিস হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনিসি অঙ্গরাজ্যের একটি
নগর।
খ. আলোচ্য কথাটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধে
শহিদদের আত্মত্যাগের মহিমাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি বাংলাদেশকে কল্পনা করেছেন কালজয়ী এক ছবি হিসেবে। এ
ছবির থিম বা মূল অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে
প্রাণদানকারী মানুষের রক্তের রঙেই ছবিটি এমন উজ্জ্বল। এ কারণেই কবি এই
ছবিতে পাওয়া রঙের অসামান্য ব্যবহার ও বিষয়বস্তুর তীব্রতা অন্য কোথাও
মিলবে না বলে মন্তব্য করেন।
গ. মৌসুমীর কর্মকা- ‘ছবি’ কবিতায় বিদেশিদের বেড়াতে আসার যে উদার
আমন্ত্রণ জানানো হয়, সেই দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে।
➠ ‘ছবি' কবিতায় কবি বলেছেন যে, আমাদের দেশে তেমন উল্লেখযোগ্য বেড়ানোর
স্পর্ট নেই। কিন্তু যতটুকু আছে তার সৌন্দর্য বিশ্বের অনেক বিখ্যাত
স্থানের চেয়ে বেশি। কবি এও জানান যে, অনেক অর্থ খরচ করে বিদেশে যা দেখা
যায়, সেসব বাংলাদেশের সৌন্দর্যের কাছে অভি নগণ্য। ‘ছবি’ কবিতার কবি
এভাবেই বিশ্বের সামনে নিজের দেশকে পরিচিত করার জন্য চেষ্টা করেছেন।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে বেড়াতে আসার জন্য মৌসুমী বিনয়ের
সাথে তার বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানায়। সে বলে বাংলাদেশে সৌন্দর্যপূর্ণ অনেক
বেশি স্থান নেই, তবে যেটুকু আছে তা সবার মন ভরাতে যথেষ্ট। স্বদেশ
সম্পর্কে মৌসুমীর বিবরণ শুনে তার বান্ধবী লিসা বাংলাদেশে বেড়াতে আসে।
‘ছবি’ কবিতায়ও বিদেশিদের বাংলাদেশে বেড়াতে আসার জন্য কবি বিভিন্নভাবে
দেশের সৌন্দর্যের কথা ব্যক্ত করেছেন।
ঘ. ‘ছবি’ কবিতার শহিদদের আত্মত্যাগের যে প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে তা
উদ্দীপকে অনুপস্থিত হওয়ায় তা আলোচ্য কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করে
না।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় দেখা যায়, বিদেশিদের বাংলাদেশে বেড়াতে আসার জন্য উদার
আমন্ত্রণ জানানো হয়। কবির মতে, অনেক টাকা খরচ করে বিদেশে ঘুরে যে
সৌন্দর্য লাভ করা যায় সেটা বাংলাদেশের সৌন্দর্যের কাছে কিছুই নয়। ছবির
মতো এই দেশটি তৈরিতে ত্রিশ লক্ষ কারিগরকে যে পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ করতে
হয়েছে সে বর্ণনাও এখানে এসেছে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, মৌসুমী তার বন্ধুকে বাংলাদেশে বেড়াতে আসার জন্য
বিনয়ের সাথে আমন্ত্রণ জানায়। বাংলাদেশের সৌন্দর্য যে কোনো দেশের চেয়ে
কোনো অংশে কম নয় সেটাও জানায়। তার কাছ থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে
বিস্তারিত জানার পর তার বন্ধু বাংলাদেশে বেড়াতে আসে। স্বদেশের বন্দনা
করে এদেশে বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানানোর দিকটি ‘ছবি’ কবিতায়ও রয়েছে। তবে
এটিই কবিতার একমাত্র দিক নয়। উদ্দীপক ও ‘ছবি’ কবিতা উভয়ক্ষেত্রের
স্বদেশপ্রীতির অনুভূতি বিদ্যমান। উদ্দীপকের মৌসুমী স্বদেশের
রূপবৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে ভিনদেশি বন্ধুর কাছে। ‘ছবি’ কবিতার কবিও
দেশের সৌন্দর্য নিয়ে উচ্ছ্বাসিত। দুজনেই বিদেশি নাগরিকদের এদেশে আসার
জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করেছেন। এদিক থেকে উদ্দীপক ও কবিতা মিলে গেলেও
কবিতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারীদের প্রসঙ্গটি যেভাবে
এসেছে তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। কবি বলতে চেয়েছেন এই আত্মত্যাগের থিম
ধারণ করেই বাংলাদেশ নামক ছবিটি অসামান্য শিল্পসৌন্দর্যে স্বকীয় ও
মহিমান্বিত হয়ে উঠেছে।
➠ উদ্দীপকে এমন কোনো অনুভূতির সন্ধান না মেলায় উদ্দীপকটিকে ‘ছবি’
কবিতার খ-াংশের ধারক বলেই ধরে নেওয়া যায়। সুতরাং উদ্দীপকের অনুভব ‘ছবি’
কবিতার সমগ্রভাবকে স্পর্শ করে না বলেই আমি মনে করি।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
“তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে আমাদের ছোটো গীয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোটো গায়।"
ক. কীসের মাধ্যমে একটি ছবির মৌলিক ও বিশ্বজনীন মূল্য প্রতিভাত হয়?
খ. ‘ছবি’ কবিতায় ভ্যান গগের উদাহরণ আনা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক ও ‘ছবি’ কবিতার কবির আহ্বান একসূত্রে গাঁথা নয়।’-
মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
ক. থিম-এর মাধ্যমে একটি ছবির মৌলিক ও বিশ্বজনীন মূল্য প্রতিভাত হয়।
খ. ভ্যান গগ্ তাঁর ছবিতে আবেগের সততা ও গাঢ় রং ব্যবহারে কুশলতার পরিচয়
দেওয়ায় ছবি কবিতায় তাঁর উদাহরণ আনা হয়েছে।
➠ ভ্যান গগ্ হচ্ছেন বিশ্ববিখ্যাত ডাচ চিত্রশিল্পী। তিনি আবেগের সততা,
রূঢ় সৌন্দর্য ও গাঢ় রং ব্যবহারের কুশলতায় বিশ শতকের চিত্রশিল্পে প্রভূত
প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তাঁর চিত্রকর্মগুলো ছিল নান্দনিক সৌন্দর্যের
আকর। ‘ছবি’ কবিতায় বাংলাদেশকে ছবির সাথে তুলনা করে এ ছবিতে রঙের
ব্যবহারকে ভ্যান গগের রং ব্যবহারে কুশলতার সাথে তুলনা করা হয়েছে। আর এ
কারণেই ‘ছবি’ কবিতায় তাঁর উদাহরণ আনা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত নিজের জন্মভূমিতে বেড়াতে আসার
আহ্বানের স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় নিজের জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ ফুটে উঠেছে।
দেশকে কবি বলেছেন ছবির মতোই সুন্দর। কবি এ কবিতায় নতুন
স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশকে মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা একটি কালজয়ী ছবি
হিসেবে কল্পনা করেছেন। ফলে এদেশের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এদেশে বেড়িয়ে
যাওয়ার জন্য তিনি বিদেশি পর্যটকদের প্রতি উদার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে নিজ জন্মস্থান অর্থাৎ পল্লির প্রতি কবি হৃদয়ের
ভালোলাগার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবির গাঁয়ের প্রকৃতি শ্যামলিমা ও মায়ায়
ঘেরা। সেখানকার মানুষের স্নেহে কবির জীবন ধন্য। নিজের গাঁয়ে যেতে কবি
তাঁর বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সাদরে। যেমনটি আমরা লক্ষ করি ‘ছবি’
কবিতার কবির মধ্যেও। তিনিও বিদেশি পর্যটকদের তাঁর সুন্দর জন্মভূমিতে
বেড়াতে আসার এমন উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। এভাবে নিজ জন্মভূমির প্রশংসা
করে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর দিক দিয়ে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘ. ‘ছবি’ কবিতায় কবির আহ্বানের সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা
সংযুক্ত হলেও উদ্দীপকে এই চেতনার স্বরূপ অনুপস্থিত।
➠ আলোচ্য কবিতায় কবি বাংলাদেশকে উপস্থাপন করেছেন কালজয়ী এক ছবির রূপকে।
স্বাধীনতা সংগ্রামে লাখো শহিদের আত্মদানের চেতনা এ ছবির থিম। তাঁদের
রক্তের রঙেই যেন ছবিটি এমন উজ্জ্বল, এতটা অনন্য হয়ে উঠেছে। ছবির মতো
এদেশে বেড়াতে এসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে একাত্ম হওয়ার জন্য
বিদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কবি।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি তাঁর প্রিয়জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নিজের
গ্রামে। তাঁর গ্রামটি গাছের ছায়ায় ঘেরা, ঘরগুলো স্নেহের আলয়। বন্ধুকে
প্রিয় গ্রামটি ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য তাঁর মাঝে ব্যাকুলতা লক্ষ করা যায়।
‘ছবি’ কবিতায়ও জন্মভূমিতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সক্রিয়
রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় অনুভূতি। ‘ছবি’ কবিতায় কবিকল্পিত
ছবিটি সৃজিত হয়েছে ত্রিশ লাখ শিল্পী তথা শহিদের শ্রমে-আত্মদানে। তাঁদের
আত্মদানে যে সংগ্রামী চেতনা সূচিত হয়েছে তা কবির মনকে করেছে গৌরবদীপ্ত।
সেই অনুভূতি থেকেই বিদেশিদের প্রতি কবির আহ্বান ত্রিশ লাখ শহিদের
রক্তস্নাত সুন্দর এদেশ পরিদর্শনের। উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের এই চেতনাটি
অনুপস্থিত। এখানে প্রিয়জনের আমন্ত্রণের পেছনে রয়েছে পল্লি ও
প্রকৃতিপ্রীতি।
➠ উদ্দীপকের আহ্বানটি তাই ‘ছবি’ কবিতার কবির আহ্বানের সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ আলোচ্য মন্তব্যটি যথাযথ।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
উদ্দীপক-১: আপ্ত তার ফরাসি বন্ধু ড্যানিয়েলকে ইমেইলে লিখেছে, “তোমাদের
দেশটা অনেক সুন্দর। আমি স্বপ্ন দেখি ফ্রান্সে একদিন বেড়াতে যাব। তবে
আমাদের দেশের রূপবৈচিত্র্যও কম নয়। প্রাকৃতিক শোভা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে
বাংলাদেশ মতোই সুন্দর।”
উদ্দীপক-২: ফরাসি নাগরিক ড্যানিয়েল বাংলাদেশি বন্ধু আপ্তকে ইমেইলে
লিখেছে, “তোমাদের দেশ সম্পর্কে আমার অনেক কিছুই জানা আছে। লাখো শহিদের
আত্মদানের স্মৃতিবিজড়িত বাংলাদেশে আমি একবার হলেও বেড়িয়ে আসতে চাই।
তোমাদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরও গভীরভাবে জানতে চাই।”
ক. কঠোর পরিশ্রমী কারিগররা কোন বংশের?
খ. “এখনো অনেক জায়গায় রং কাঁচা।"- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপক-১-এ ‘ছবি’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক-২-এ ‘ছবি’ কবিতার কবির আহ্বান কতখানি সার্থকতা লাভ করেছে?
মতামত দাও।
ক. কঠোর পরিশ্রমী কারিগররা আর্য বংশের।
খ. প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটিতে স্বদেশের সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্তিকে ইঙ্গিত
করা হয়েছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশকে কল্পনা করেছেন
কালজয়ী এক ছবি হিসেবে। এ ছবির থিম হলো স্বাধীনতার জন্য শহিদদের
আত্মত্যাগ এবং শহিদের রক্তের রঙেই ছবিটি উজ্জ্বল। বাংলাদেশ সদ্য
স্বাধীন হওয়ায় শহিদদের আত্মদানের স্মৃতিও একেবারেই তাজা— এ বিষয়টিই
নির্দেশ করা হয়েছে আলোচ্য চরণে।
গ. জন্মভূমিতে বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানানোর দিকটি ‘ছবি’ কবিতার মতোই
উদ্দীপক-১-এ ফুটে উঠেছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় আবু হেনা মোস্তফা কামাল সদ্য স্বাধীন স্বদেশ সম্পর্কে
গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন। স্বদেশকে তিনি বলেছেন ছবির মতো সুন্দর।
বিদেশিদের প্রতি তিনি উদার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ছবির মতো দেশটিতে একবার
বেড়িয়ে যেতে।
➠ উদ্দীপক-১-এর আপ্ত ইমেইল মারফত বন্ধুর দেশের পাশাপাশি নিজের দেশের
রূপ-বৈচিত্র্য সম্পর্কে বিদেশি বন্ধু ড্যানিয়েলকে জানিয়েছে। বন্ধুর
কাছে সে স্বদেশের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছে। প্রাকৃতিক শোভা ও বর্ণাঢ্য
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এদেশকে ছবির মতো অপরূপ শোভাশালিনী করে তুলেছে বলে
তার পাঠানো বার্তায় প্রকাশ পেয়েছে। এই রূপঐশ্বর্য প্রত্যক্ষ করার জন্য
বন্ধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশে। ‘ছবি’ কবিতার কবিও বাংলাদেশে
বেড়াতে আসার জন্য বিদেশি পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘ. বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশি ভ্যানিয়েলের আগ্রহ প্রকাশের দিকটি
বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপক-২-এ ‘ছবি’ কবিতার কবির আহ্বান আংশিকভাবে
সার্থকতা লাভ করেছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা
একটি কালজয়ী ছবি হিসেবে ভেবেছেন। কবির মতে, এই ছবি চেতনাতেই বাংলাদেশ
হয়ে উঠেছে অসামান্য সুন্দর। এ সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার জন্যই বিদেশিদের
প্রতি তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।। যুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের সম্পর্কেও
সে জানে। বাংলাদেশে এসে দেশটি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে চায় বলে
ড্যানিয়েল বন্ধুকে পাঠানো ইমেইলে উল্লেখ করেছে। আলোচ্য কবিতায় কবি
বাংলাদেশের প্রতি পর্যটকদের এমন সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় মূর্ত হয়ে উঠেছে স্বদেশের প্রতি কবির গভীর অনুরাগ। আর
সেই অনুরাগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ। জন্মভূমির জন্য লাখো শাহিদের
আত্মত্যাগ কবিকে করেছে মহান গৌরবের অংশীদার। সেই চেতনায় ঋদ্ধ হয়ে তাই
বিদেশিদের কাছে স্বদেশের অনন্যতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাদের আমন্ত্রণ
জানিয়েছেন এদেশে আসার জন্য। উদ্দীপক-২-এর ড্যানিয়েল এদেশে আসতে চেয়েছে
এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে চেয়েছে।
কবিতায় কবি, পর্যটকদের প্রতি যে আহ্বান জানিয়েছেন তা ড্যানিয়েলের
ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে সার্থকতা লাভ করত যদি সে এদেশে বেড়াতে আসত। তবে
ড্যানিয়েল এদেশে আসেনি কেবল আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
➠ সুতরাং তার মাঝে কবির আহ্বান সম্পূর্ণরূপে নয় বরং আংশিকভাবে পূর্ণতা
লাভ করেছে বলেই আমি মনে করি।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
“গানে আর ভিন্ন কী সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত,
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।"
ক. ‘ছবি’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
খ. ‘মেম্ফিস অথবা কালিফোর্নিয়া তার তুলনায় শিশুতোষ’ বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘ছবি’ কবিতার কোন ভাব প্রাধান্য পেয়েছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘ছবি’ কবিতার অংশবিশেষ মাত্র”- মন্তব্যটি
যথার্থতা নিরূপণ করো।
ক. ‘ছবি’ কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত।
খ. ‘মেম্ফিস অথবা কালিফোর্নিয়া তার তুলনায় শিশুতোষ” - উক্তিতে কবি
স্বদেশের সৌন্দর্য সম্পর্কে নিজের প্রবল আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
➠ ‘ছবি’ কবিতায়, রোমান্টিকতার সুরে কবি নতুন স্বাধীনতাপ্রাপ্ত
বাংলাদেশকে মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা কালজয়ী ছবি হিসেবে কল্পনা করেছেন।
কবির মতে, আয়োজনে ও বৈচিত্র্যে পৃথিবীর অন্যান্য বিখ্যাত নগরীর চেয়ে
বাংলাদেশের অবস্থান হয়তো নিতান্তই সাধারণ। কিন্তু প্রকৃতির শোভা,
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মিশেলে বাংলাদেশের যে সৌন্দর্যের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য
রয়েছে তার তুলনায় মেম্ফিস বা কালিফোর্নিয়ার মতো নগরও তুচ্ছ হয়ে যায়।
এভাবেই কবি স্বদেশ সম্পর্কে তাঁর গর্বিত অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘ছবি’ কবিতার সংগ্রামী চেতনার বহিঃপ্রকাশ
প্রাধান্য পেয়েছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায়, রোমান্টিক কাব্যময়ী বর্ণনায় কবি সদ্যস্বাধীনতাপ্রাপ্ত
বাংলাদেশের মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা কালজয়ী ছবির কল্পনা করেছেন।
সংগ্রামী চেতনাকে অন্তরে ধারণ করে বাঙালি জাতি ছবির মতো গৌরবময় দেশের
ইতিহাস তৈরি করেছে। ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি
স্বাধীন স্বদেশ।
➠ উদ্দীপক থেকে পাইদেশের অভ্যন্তরে যখন শত্রু প্রবেশ করে, তখন শত্রু
দূর করার প্রয়াসে স্বদেশি তরুণদের প্রচেষ্টা কবিতাংশে ব্যস্ত হয়েছে।
ঘৃণার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বুকে প্রচ- সাহস নিয়ে শত্রু নিধনে ঝাঁপিয়ে
পড়ে তার ‘ছবি’ কবিতায় ও নতুন স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের মানুষের উদ্যমী ও
সাহসী মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে। বাংলার জনতা দীর্ঘ নয় মাস সংগ্রাম করে
কীভাবে বাংলার মাটিকে আত্রুমুক্ত করেছে তা কাব্যময়ী বর্ণনায় প্রকাশ
পেয়েছে। সংগ্রামী মনোভাব অন্তরে পোষণ করে বাংলার মাটিকে শত্রুমুক্ত
করার কথা কবিতায় বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের কবিতাংশে
‘ছবি’ কবিতার সংগ্রামী মনোভাব প্রাধান্য পেয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত কবির আহ্বানের স্বরূপ সম্পূর্ণরূপে
প্রকাশ পায়নি বলে তা আলোচ্য কবিতার খ-াংশকে ধারণ করতে পেরেছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায়, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও গৌরবময় ইতিহাসকে
কাব্যময় বর্ণনায় প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামী চেতনা
ছাড়াও বাংলার অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যকে কবি চিত্রময় রূপে ব্যাখ্যা
করেছেন।
উদ্দীপক হতে পাই, দেশের অভ্যন্তরে যখন শত্রু প্রবেশ করে তখন গান ও
রণসংগীত থেকে স্বদেশি তরুণরা শত্রু নিধনের অনুপ্রেরণা লাভ করে। শত্রু
নিধনে তারা আক্রমণাত্মক ভূমিকা রাখতেও পিছপা হয় না। এক্ষেত্রে,
উদ্দীপকের কবিতাংশে সংগ্রামী চেতনাকে অন্তরে পোষণ করার বিষয়টি
প্রকাশ্যমান। ‘ছবি’ কবিতায়ও দেশের মানুষের আত্মত্যাগ ও সাহসী মনোভাব
প্রকাশ পেয়েছে। তবে এটিই কবিতার একমাত্র দিক নয়।
➠ ‘ছবি’ কবিতায়, সংগ্রামী চেতনাকে অন্তরে পোষণ করে বাঙালি জাতির গৌরময়
ইতিহাস সৃষ্টি এবং এদেশের অপরিমেয় সৌন্দর্যকে কবি কাব্যময় বর্ণনায়
প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে, উদ্দীপকে শত্রু নিধনে স্বদেশি তরুণদের সাহসী
মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে। এর বাইরেও ‘ছবি’ কবিতায় কবির একটি বিশেষ আহ্বান
প্রকাশিত হয়েছে। যেটি তিনি করেছেন বিদেশিদের প্রতি, এ দেশে এসে বেড়িয়ে
যাওয়ার জন্য। স্বাধীনতার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের চেতনা এ দেশের
বিষয়েও রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মিশে দেশটির সৌন্দর্যকে করে তুলেছে
অতুলনীয়। তা দেখার জন্যই কবি সবাইকে উদার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উদ্দীপকে
এ ধরনের কোনো আহ্বানের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় না। যেহেতু উদ্দীপকের
অংশে ‘ছবি’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি তাই উদ্দীপকটি ‘ছবি’
কবিতার যথার্থ প্রতিবিঘ্ন নয়।
➠ পরিশেষে বলা যায় যে, “উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘ছবি’ কবিতার অংশবিশেষ
মাত্র”- মন্তব্যটি যৌক্তিক।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পরাজয় অনিবার্য বুঝতে পেরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক দুই দিন আগে
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে বাংলার কৃতী সন্তানদের হত্যা
করে। বাংলার প্রখ্যাত সন্তানদের হত্যা করে ফেলে রাখে ঢাকা শহরের
পশ্চিমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশেই। পরবর্তী সময়ে সেখানে দেখা যায়
শুধু লাশ আর লাশ। ওই লাশের ভয়াবহ রক্তাক্ত দৃশ্যপটের পিছনেই যেন লুকিয়ে
ছিল এদেশের স্বাধীনতার গভীর সাজেশান। পরে তাঁদের স্মরণে সেখানে 'শহিদ
বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ’ নির্মিত হয়।
ক. কবি কতজন কারিগরের কথা উল্লেখ করেছেন?
খ. ‘দীর্ঘ নটি মাস দিনরাত পরিশ্রম করে বানিয়েছেন এই ছবি।’ - কবি এ কথা
বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার কোন দিকটির প্রতিনিধিত্ব করছে? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করছে কি? যুক্তিসহ মতামত
দাও।
ক. কবি ত্রিশ লক্ষ কারিগরের কথা উল্লেখ করেছেন।
খ. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে বাঙালির ত্যাগ ও সংগ্রামের দিকটি
তুলে ধরতে কবি আলোচ্য কথাটি বলেছেন।
➠ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আপামর বাঙালি দেশকে শত্রুমুক্ত করার প্রত্যয়ে
যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁরা দীর্ঘ নয় মাস কেঠার পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে
স্বাধীন করেন। তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামে বাংলাদেশ এত সুন্দরভাবে গড়ে
উঠেছে। এটি বোঝাতেই কবি আলোচ্য কথাটি বলেছেন।
গ. উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতায় ব্যবহৃত নরমুণ্ডের থিমের অন্তরালে প্রকাশিত
বাঙালির আত্মত্যাগের দিকটির প্রতিনধিত্ব করে।
➠ ‘ছবি' কবিতায় কবি সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাঙালিদের কথা বলেছেন
যাঁদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। কবির কাছে তাঁরা
কারিগর হিসেবে ধরা পড়েছে। আর তাঁদের রক্তদানে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।
বাংলাদেশকে ছবি হিসেবে কল্পনা করলে সে ছবির মূলপ্রেরণা শহিদদের
আত্মত্যাগ যা ‘ছবি’ কবিতায় কবি ‘নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহার’ শব্দবন্ধে
তুলে ধরেছেন। বাঙালির এই আত্মত্যাগের কথা উদ্দীপকেও ব্যক্ত হয়েছে।
➠ উদ্দীপকে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের কথা উঠে
এসেছে। যুদ্ধ চলাকালীন শাসকশ্রেণির অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়
বাংলার মানুষ। এমনকি স্বাধীনতার মাত্র দুই দিন আগে তারা বুদ্ধিজীবীদের
নির্মমভাবে হত্যা করে। আলোচ্য উদ্দীপক ও ‘ছবি’ কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই
স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগের দিকটিই প্রতিভাত হয়। যার মধ্য দিয়ে
উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার প্রতিনিধিত্ব করে।
ঘ. বিদেশিদের স্বদেশে আমন্ত্রণের উল্লেখ না থাকায় উদ্দীপকটি ‘ছবি’
কবিতার সমগ্র ভাবকে পুরোপুরি ধারণ করছে না।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় স্বাধীনতার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেম প্রকাশিত
হওয়ার পাশাপাশি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশকে ঘিরে কবির নানা অনুভূতি,
আবেগ ও চিন্তা-চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। কবি দেশকে তুলনা করেছেন কালজয়ী এক
ছবির সাথে। বিদেশিদের প্রতি তাঁর উদার আমন্ত্রণ তাঁরা যেন ছবির মতো এ
দেশে বেড়িয়ে যান।
➠ উদ্দীপকে বাঙালির সংগ্রামী চেতনার দিকটি আলোচিত হয়েছে। বাঙালির দীর্ঘ
সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই উদ্দীপকটি যেখানে বাংলার
শ্রে‘সন্তান বুদ্ধিজীবীদের স্বাধীনতার মাত্র দুদিন আগে নৃশংসভাবে হত্যা
করা হয়। এমন বহু শহিদের পুণ্য রঙেই। দেখানো হয় বাংলাদেশ।
শহিদের আত্মত্যাগের এই দিকটি ‘ছবি’" কবিতায়ও বিধৃত। তবে কবিতার
বিষয়বস্তু কেবল এতেই সীমাবদ্ধ নয়। ও আত্মত্যাগকে তুলে ধরেছেন এবং
বাঙালির দেশপ্রেমকে নিখুঁত শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি
তিনি সকলকে বাংলাদেশে।
➠ এক্ষেত্রে উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার খণ্ডিত অংশকে উপস্থাপন করলেও
সমগ্রভাবকে ধারণ করছে না।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আজ ভয়াল ২৫শে মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ
কালরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ
চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে
নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার
বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমানকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা
করেন এবং শত্রু বিদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান
জানান। ..এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর
বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে
একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে।
ক. 'ছবি’ কবিতায় কোন বিখ্যাত চিত্রশিল্পীর কথা বলা হয়েছে?
খ. ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত কবিকল্পিত ছবিটিকে মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা
বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতার সামগ্রিক পরিচয় ফুটে উঠেছে কি? বিশ্লেষণী
মতামত দাও।
ক. ছবি কবিতায় বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ভিনসেন্ট উইলেম ভ্যান গগের কথা বলা
হয়েছে।
খ. আত্মত্যাগের বিনিময়ে সৃজিত কবিকল্পিত ছবিটি অনন্য সৌন্দর্যে ভাম্বর
বলেই ছবিটিকে মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা বলা হয়েছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি বাংলাদেশকে কল্পনা করেছেন কালজয়ী ছবি হিসেবে। এ
ছবিটি সৃজিত হয়েছে ত্রিশ লাখ শহিদের আত্মদানে। কবি তাঁদেরই ছবিটির
শিল্পী বলেছেন। আত্মত্যাগের মহিমায় এই শিল্পীরা উদ্ভাসিত বলে তাঁদের
মহান শিল্পী বলা হয়েছে।
গ. ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত স্বাধীনতার জন্য মানুষের সংগ্রামী চেতনার
পরিচয় উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
➠ আবু হেনা মোস্তফা কামাল ‘ছবি’ কবিতায় সদ্য স্বাধীন স্বদেশ সম্পর্কে
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। দেশকে তিনি কল্পনা করেছেন কালজয়ী ছবি
হিসেবে। এ ছবির মূল প্রেরণা হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধে
শহিদদের আত্মত্যাগকে। সেই আত্মত্যাগ থেকে উৎসারিত সংগ্রামী চেতনা ছবির
মতো এদেশের গৌরবময় স্মারক হয়ে আছে।
➠ উদ্দীপকে ভয়াল ২৫শে মার্চের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ এবং এর ফলে
মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ও তার পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। ২৫শে মার্চ
কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির ওপর জঘন্য হত্যাযজ্ঞের
সূচনা করে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি হানাদার প্রতিরোধের
লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নয় মাসে দেশকে স্বাধীন করে। স্বাধীনতার জন্য
শহিদদের আত্মত্যাগ বাংলার মানুষের মনে যে সংগ্রামী চেতনার জন্ম দিয়েছিল
সেই স্বরূপ ‘ছবি’ কবিতায়ও ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘ছবি’ কবিতায় স্বদেশপ্রেমের যে গভীর আবেগ ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকে
অনুপস্থিত।
➠ আলোচ্য কবিতায় করি সদ্যস্বাধীন স্বদেশকে ছবির মতো সুন্দর বলে
আখ্যায়িত করেছেন। বাংলাদেশকে মহান শিল্পীর আঁকা অনন্য সুষমাম-িত ছবি
হিসেবে কল্পনা করেছেন তিনি। এ ছবির কারিগর হলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে
প্রাণ বিসর্জনকারী ত্রিশ লাখ শহিদ। তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনায় উজ্জ্বল
ছবির মতো এদেশে আসার জন্য বিদেশিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন
কবি।
➠ উদ্দীপকে ভয়াল ২৫শে মার্চকে স্মরণ করে লেখা একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা
হয়েছে। এ রাতে হানাদার বাহিনী বাংলার মানুষের ওপর বর্বরভাবে ঝাঁপিয়ে
পড়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তারা গ্রেফতার করে। তবে
গ্রেফতার হওয়ার আগেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করলে বাঙালি তাঁর
ডাকে সাড়া দিয়ে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালে
১৬ই ডিসেম্বর রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। বাংলাদেশের
স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা ‘ছবি’ কবিতার মূল উপজীব্য হলেও এটিই কবিতার
একমাত্র দিক নয়।
➠ আলোচ্য কবিতায় কবি স্বদেশ সম্পর্কে নিজের গর্বিত অভিব্যক্তির
বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। শহিদের আত্মত্যাগের চেতনা তাঁর মাঝে
স্বদেশপ্রেমের প্রগাঢ় অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। সেই আবেগ থেকেই নিজেকে
দেশের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে প্রবাসীদের তিনি এদেশে আসার জন্য
আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উদ্দীপকে এমন আমন্ত্রণের কোনো উল্লেখ নেই।
সদ্যস্বাধীন দেশকে ঘিরে কথির যেমন গৌরবময় অনুভূতির প্রকাশ কবিতায় রয়েছে
তেমন অনুভূতির প্রকাশ উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় না। উদ্দীপকটিতে কেবল
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা রয়েছে, যা আলোচ্য
কবিতার কবি নিজের অনুভূতি প্রকাশে মূল অনুষঙ্গ হিসেবে ধারণা করেছেন।
উদ্দীপকটি তাই কবিতার খণ্ডিত অংশের ধারক। তাই উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতার
সামগ্রিক পরিচয় ফুটে ওঠেনি বলেই আমি মনে করি।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান খুব আলোচিত হন তার ছবিতে
একটি হিংস্র মানুষের মুখম-লের ব্যবহার দ্বারা। স্বাধীনতা যুদ্ধ
চলাকালীন তিনি জেনারেল ইয়াহিয়ার হিংস্র মুখম-লের অবয়ব ব্যবহার করে ছবি
আঁকেন। এই ছবি পোস্টার হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বাঙালিদের
সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং আজও করে।
ক. কবিতায় উল্লিখিত ছবিটিতে নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহারের মধ্যে কবি কী
খুঁজে পেয়েছেন?
খ. নরমু-ের ক্রমাগত ব্যবহার কীভাবে বাংলাদেশ নামক ছবিটির থিম হলো?
ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার কোন দিকটিকে উন্মোচিত করছে? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. উদ্দীপকের ও ‘ছবি’ কবিতার নরমুণ্ডের ব্যবহারকে একসূত্রে গাঁথা যায়
কি? যুক্তিসহ প্রমাণ করো।
ক. কবিতায় উল্লিখিত ছবিটিতে নরমুন্ডের ক্রমাগত ব্যবহারের মধ্যে কবি
গভীর সাজেশান খুঁজে পেয়েছেন।
খ. নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহার বলতে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির
আত্মদানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির মূলভিত্তি।
➠ আঁকা ছবিতে সঞ্চারিত বিশেষ কোনো চিন্তা বা বাণীকেই চিত্রশিল্পে থিম
বলা যায়। থিম এর মাধ্যমে একটি ছবির মৌলিক ও বিশ্বজনীন মূল্য প্রতিভাত
হয়। কবি ‘ছবি’ কবিতায় বাংলাদেশকে একটি কালজয়ী ছবি হিসেবে কল্পনা করেছেন
যেখানে নরমু-ের ক্রমাগত ব্যবহার অর্থাৎ স্বাধীনতা সংগ্রামে শহিদের
অবদান কবির কাছে একটি বিশেষ দিক হিসেবে ধরা পড়েছে। অতএব, কবির মতে
নরমু-ের ক্রমাগত ব্যবহারই 'বাংলাদেশ' নামক ছবির থিম।
গ. ভিন্ন আঙ্গিকে হলেও নরমু-ের ব্যবহারকে উপস্থাপনের মাধ্যমে উদ্দীপকটি
‘ছবি’ কবিতার কবিকথিত ছবির থিমকে উন্মোচিত করছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি মনে করেন, বাংলাদেশ একটি কালজয়ী ছবি। যে ছবিতে
অসংখ্য নরমু-ের ব্যবহার ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মদানের সংগ্রামী চেতনাকে
ধারণ করে আছে, যা ছবির মতো দেশটির গৌরবময় স্মারক। আলোচ্য কবিতায়
নরমু-ের ব্যবহার যেমন এদেশের মানুষের সংগ্রামী চেতনাকে প্রকাশ করছে
উদ্দীপকেও একই ব্যাপার লক্ষণীয়।
➠ উদ্দীপকের কামরুল হাসানও জেনারেল ইয়াহিয়া খানের মুখায়বের ছবি ব্যবহার
করে সংগ্রামী চেতনাকে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকটি মূলত ‘ছবি’ কবিতার
নরমু-ের ব্যবহারকেই উপস্থাপন করছে, যার মাঝেও রয়েছে এক গভীর সাজেশান।
ইয়াহিয়ার নিষ্ঠুরতার স্বাক্ষর হচ্ছে কামরুল হাসানের অঙ্কিত হিংস্র
মুখম-লের ছবি। উদ্দীপক ও ‘ছবি’ কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই নরমুণ্ডের ব্যবহারে
মানুষের চেতনাকে জাগিয়ে তোলার ইঙ্গিত বিদ্যমান।
ঘ. সংগ্রামী চেতনাকে ধারণের সূত্রে উদ্দীপকের ও ‘ছবি’ কবিতার নরমুণ্ডের
ব্যবহারকে একইসূত্রে গাঁথা যায়।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় বাংলাদেশ নামক ছবিতে ব্যবহৃত নরমু-ের ব্যবহার ত্রিশ
লক্ষ শহিদের আত্মদানের মহিমাকে ধারণ করে আছে। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতায়
শহিদের আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, কামরুল হাসান ইয়াহিয়ার মুখম-লের ছবি এঁকে
সংগ্রামী ও প্রতিবাদী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। বাঙালি জাতি ভয়ে
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি বরং কামরুল হাসানের ছবির মাধ্যমে দেশের
আপামর সাধারণ জনগণ তাঁর কণ্ঠে সুর মিলিয়েছেন। অত্যাচারের শৃঙ্খল থেকে
মুক্ত হওয়ার জন্যই বাঙালির মধ্যে সংগ্রামী চেতনা জেগে উঠেছিল। “ছবি”
কবিতায় কবি বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্রকে ছবি হিসেবে মনে করেন। যাঁরা
দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন তাঁরাই এ ছবির কারিগর। যেখানে কৃত্রিমতার
কোনো ছাপ নেই। সম্পূর্ণ বাস্তবপটে অঙ্কিত ছবি বাংলাদেশ। উদ্দীপক ও
‘ছবি’ কবিতায় উভয় স্থলেই নরমু-ের ব্যবহার সংগ্রামী চেতনার সাথে
সংশ্লিষ্ট হলেও উদ্দীপকে সংগ্রামী চেতনার উপস্থাপক।
➠ তবে উভয়ক্ষেত্রেই নরমুণ্ডের ব্যবহারে যে গভীর থিম বিদ্যমান তা
মানুষকে অধিকারের জন্য লড়াইয়ের প্রেরণা জোগায়। অতএব ভিন্ন অবস্থানের
প্রেক্ষিতে হলেও সংগ্রামী চেতনাকে ধারণের সূত্রে উদ্দীপক ও ‘ছবি’
কবিতার নরমুণ্ডের ব্যবহার একসূত্রে গাঁথা।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পৃথিবীর নানা দেশে ভ্রমণ করেছে, দেখেছে পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর দক্ষিণ
চীন সাগর, গভীরতম সাগর ক্যারিবিয়ান। সাগর, মেক্সিকো উপসাগরুসহ আরও কত
সাগর। দেশে ফিরে এসে বন্ধু আজাদের সাথে সে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গেলে
আ জানতে চায়, এত দেশে এত সাগর দেখার পর বঙ্গোপসাগর তার কাছে কেমন মনে
হচ্ছে? মঞ্জু বলে, কক্সবাজারের মতো এত সুন্দর সমদ্রসৈকত পৃথিবীর অন্য
কোথাও নেই।
ক. মনোহারী স্পট কী?
খ. কবি সবাইকে বাংলাদেশে বেড়ানোর জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কেন?
গ. উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার সাথে সংগতিপূর্ণ কি-না তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘ছবি’ কবিতার মূলভাব এক নয়’ - উদ্দীপক ও ‘ছবি’ কবিতার
আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
ক. মনোহারী স্পট হচ্ছে চিত্তাকর্ষক পর্যটন স্থান।
খ. বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য কবি সবাইকে
বাংলাদেশে বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
➠ ‘ছবি’ কবিতার কবির কাছে বাংলাদেশ শিল্পীর নিপুণহাতে গড়া এক কালজয়ী
ছবি। এই ছবি কবির কাছে দারুণ সৌন্দর্যের এক ভান্ডার যা অনন্যতা লাভ
করেছে রং ও থিমের অপূর্ব উপস্থাপনে। 'বাংলাদেশ' নামক এই ছবির রং ও থিম
স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদের আত্মত্যাগের প্রেরণায় ভাস্বর। এই ছবিটি দেখলে
সকলে উঁচু মানের শৈল্পিক সৌন্দর্য অবলোকনের অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে বলেই
সবাইকে তিনি বাংলাদেশে আসার উদার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গ. নিজ দেশকে সৌন্দর্যের দিক থেকে অন্য দেশের চেয়ে অতুলনীয় মনে করার
সূত্রে উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার সাথে সংগতিপূর্ণ।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি ডাল্লাস, মেম্ফিস অথবা কালিফোর্নিয়ার মতো মনোহারী
স্পটের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব স্পটের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের
সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য যে ওসবের তুলনায় ঢের বেশি, তাই বলেছেন। তাঁর মতে
অন্য স্থানের সৌন্দর্য বাংলাদেশের তুলনায় শিশুতোষ, যা উদ্দীপকের
বক্তব্যেও লক্ষণীয়।
➠ উদ্দীপকের মঞ্জু বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের মাঝে অতুলনীয়
সৌন্দর্য খুঁজে পেয়েছে। তার কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যে বিমোহিত
হওয়ার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অতুল সৌন্দর্যের দিকটিই উন্মোচিত হয়েছে, যা
‘ছবি’ কবিতার বক্তব্যকেই সমর্থন করে। উভয়ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে
সৌন্দর্যের দিক থেকে অতুলনীয় হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে। এভাবে উদ্দীপক ও
‘ছবি’ কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ঘ. ‘ছবি’ কবিতায় স্বদেশের গর্বিত ইতিহাস কবিচিত্তকে উদ্বুদ্ধ করলেও
উদ্দীপকে এই অনুভব অনুপস্থিত।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্বদেশকে নিয়ে নিজের গর্বিত
অভিব্যক্তির স্বাক্ষর তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশকে তিনি অসামান্য
ত্রিগুণসমৃদ্ধ একটি ছবির সাথে তুলনা করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে
আত্মদানকারী লাখো শহিদের মুক্তিকামী চেতনা এ ছবির থিম। এই থিম ধারণ করে
সবুজ এদেশ যেভাবে অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়েছে, তা দেখে যাওয়ার জন্য সকলের
প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
➠ প্রকৃতির মাঝে যে সৌন্দর্য রয়েছে তা অকৃত্রিম। উদ্দীপকের মঞ্জু
বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে যে সৌন্দর্য অবলোকন করেছে, সেসবের মধ্যে
মাতৃভূমির রূপ-সৌন্দর্যই তার কাছে বেশি বৈচিত্র্যময় মনে হয়েছে। ‘ছবি’
কবিতায়ও কবি মাতৃভূমির সৌন্দর্য প্রকাশ করতে একটি জীবন্ত ছবির সাথে এর
তুলনা করেছেন। তবে ‘ছবি’ কবিতায় বাংলাদেশের থিম তুলে ধরতে গিয়ে কবি যে
প্রসঙ্গের ইঙ্গিত দিয়েছেন তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। ‘ছবি’ কবিতায়
বাংলাদেশ কবির কাছে এক কালজয়ী ছবি হিসেবে উপস্থাপিত। সেই ছবিতে কবি এমন
সব বিষয়ের উপস্থিতি পেয়েছেন যা দেখে মনে হয় বাংলাদেশ যেন কোনো শিল্পীর
নিপুণ হাতের কারুকার্যময় এক শিল্প। তাঁর মতে, বিষয়ের এমন তীব্রতা কোনো
শিল্পীর মজে পাওয়া যাবে না। এর কারণ ‘বাংলাদেশ’ নামক ছবি গড়ে তোলার
কারিগররা হলেন এদেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী মানুষেরা। তাঁদের রক্ত ও
চেতনার মিশেলেই গড়ে উঠেছে ছবিটি। বাংলাদেশের অতুলনীয় সৌন্দর্যের
পটভূমিতে এই সংগ্রামী ইতিহাসও অবিচ্ছেদ্যভাবে চিরকালের জন্য জড়িয়ে
গেছে। উদ্দীপকে কেবল এদেশের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্যের কথা রয়েছে।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত আত্মত্যাগের চেতনা, যাকে কবি বলেছেন
বাংলাদেশের থিম, সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত নেই। এ কারণে উদ্দীপক ও ‘ছবি’
কবিতার মাঝে বিষয়গত মিল থাকলেও উভয়ের মূলভাব এক নয়। অর্থাৎ আলোচ্য
মন্তব্যটি যথাযথ।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
“এই যে ছবি এমনি আঁকা
ছবির মত দেশ,
দেশের মাটি দেশের মানুষ
নানান রকম বেশ,
বাড়ি বাগান পাখ-পাখালি
সব মিলে এক ছবি,
নেই তুলি নেই রং তবুও
আঁকতে পারি সবই।”
ক. ছবির মতো এদেশে একবার কী করে যেতে বলেছেন কবি?
খ. ‘রঙের এমন ব্যবহার’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার সমগ্র অংশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছে কিনা
তা বিশ্লেষণ করো।
ক. ছবির মতো এদেশে একবার বেড়িয়ে যেতে বলেছেন কবি।
খ. ‘রঙের এমন ব্যবহার’ বলতে কবি ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তে স্নাত স্বাধীন
বাংলাদেশের এক কালজয়ী ছবি অঙ্কন করেছেন।
➠ শহিদের আত্মদানেই পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে লাল-সবুজ সুন্দর
এই বাংলাদেশের। ‘ছবি’ কবিতায় কবি ত্রিশ লক্ষ শহিদের দীর্ঘ নয় মাসের
শ্রম ও রক্তের সৃজিত স্বাধীন বাংলাদেশের পুরো মানচিত্রকেই এঁকেছেন।
‘বাংলাদেশ’ নামক যে ছবিটি লেখক কল্পনা করেছেন তার রঙের গাঢ়তা যেন
শহিদের রক্তের রং থেকেই অনুপ্রাণিত।
গ. দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও সৌন্দর্যচেতনার দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘ছবি’
কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় ফুটে উঠেছে কবির প্রগাঢ় দেশপ্রেম ও মাতৃভূমি বন্দনা।
তিনি বাংলাদেশকে মহান শিল্পীর তুলিতে আঁকা কালজয়ী ছবি হিসেবে কল্পনা
করেছেন। কবির চেতনায় ছবির মতো সুন্দর এ দেশটি ত্রিশ লক্ষ শহিদের
আত্মত্যাগ ও সংগ্রামী চেতনার গৌরবময় ধারক।
➠ উদ্দীপকেও কবি এদেশকে ছবিরূপে কল্পনা করে এ দেশের মাটি, মানুষ
প্রকৃতির জয়গান গেয়েছেন। প্রগাঢ় দেশপ্রেমের কারণেই কবি ছবি রং তুলি না
থাকলেও মনের রঙে দেশ-মাটি ও মানুষের ছবি এঁকেছেন। ‘ছবি’ কবিতায়ও কবি
স্বদেশের প্রতি অকৃত্রিম দেশপ্রেমবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে ত্রিশ লক্ষ শহিদের
রক্তে রাঙানো রঙের আশ্চর্য গাঢ়তায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের ছবি এঁকেছেন।
আর এ বিষয়টিই উদ্দীপকটিকে ‘ছবি’ কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ঘ. ‘ছবি’ কবিতায় দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও মাতৃভূমি বন্দনা ছাড়াও
স্বাধীনতার সংগ্রামী চেতনা ফুটে উঠেছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের অভুদ্যয়ের ইতিহাসের
গল্প। ত্রিশ লক্ষ শহিদের দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামে, জাতির পিতার কেঠার
তত্ত্বাবধান ও বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের গল্পতেই কবি এঁকেছেন পুরো
বাংলাদেশের চিত্র। কবি মনে করেন, ছবিটিতে, ব্যবহৃত অসংখ্য নরমু-ের
ব্যবহার ত্রিশ লক্ষ্যে শহিদের রক্তদানের সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করে
আছে, যা এই ছবির মতো দেশটির গৌরবময় স্মারক।
➠ উদ্দীপকে কবি বাংলাদেশকে ছবিরূপে কল্পনা করে সে ছবিতে মনের মাধুরী
মিশিয়ে এ দেশের মাটি, মানুষ ও প্রকৃতির কথা বলেছেন। এখানে কবির প্রকৃতি
চেতনা ও মাতৃভূমির প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। এ দিকটি ছবি কবিতায় ফুটে
উঠলেও কবিতার বিষয়বস্তু কেবল এতেই সীমাবদ্ধ নয়।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় কবি বাংলাদেশের গঠন প্রক্রিয়া, নেতৃত্বদান, জাতীয়তাবোধ
আর কল্পনায় ও চেতনায় আঁকা স্বাধীনতার ছবিই এঁকেছেন। মূলত
মুক্তিযুদ্ধকালীন সুদীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ত্রিশ লক্ষ
শহিদের রক্তদানের মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের সার্বিক চিত্রই
ছবির মতো ‘ছবি’ কবিতাতে প্রস্ফুটিত হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু দেশের
প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠলেও ‘ছবি’ কবিতার অন্য বিষয়গুলো অনুপস্থিত। তাই
উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতার সমগ্র অংশের প্রতিনিধি নয়।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সুহানা তার জার্মান বন্ধু ইসাবেলার সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করার সময় তাকে
বাংলাদেশে বেড়াতে আসার জন্য বারবার বলে। সে জানায় তার দেশটি সবুজে ভরা।
ঋতুবৈচিত্র্যের আশীর্বাদে দেশটি সারা বছরই ছবির মতো সুন্দর।
ক. ভ্যান গগের পুরোনাম কী?
খ. ‘নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহার’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সুহানা কীভাবে ‘ছবি’ কবিতার কবির সঙ্গে তুলনীয়? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. উদ্দীপকের সুহানা ও ‘ছবি’ কবিতার কবির মনোভাব সম্পূর্ণরূপে একসূত্রে
গাঁথা কি? মতামত দাও।
ক ভ্যান গগের পুরোনাম- ভিনসেন্ট উইলেম ভ্যান গগ্।
খ. নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহার বলতে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির
আত্মদানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির
মূলভিত্তি।
➠ আঁকা ছবিতে সঞ্চারিত বিশেষ কোনো চিন্তা বা বাণীকেই চিত্রশিল্পে থিম
বলা যায়। থিম এর মাধ্যমে একটি ছবির মৌলিক ও বিশ্বজনীন মূল্য প্রতিভাত
হয়। কবি ‘ছবি’ কবিতায় বাংলাদেশকে একটি কালজয়ী ছবি হিসেবে কল্পনা করেছেন
যেখানে নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহার অর্থাৎ স্বাধীনতা সংগ্রামে শহিদের
অবদান কবির কাছে একটি বিশেষ দিক হিসেবে ধরা পড়েছে। অতএব কবির মতে
নরমুণ্ডের ক্রমাগত ব্যবহারই 'বাংলাদেশ' নামক ছবির থিম।
গ. স্বদেশে বেড়াতে আসার উদাত্ত আহ্বান তুলে ধরার দিক থেকে উদ্দীপকের
সুহানা ‘ছবি’ কবিতার কবির সঙ্গে তুলনীয়।
➠ ‘ছবি’ কবিতায় আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্বদেশকে নিয়ে নিজের ভাবাবেগ
তুলে ধরেছেন। সদ্য স্বাধীন এ দেশ তাঁর চোখে ছবির মতোই সুন্দর। সুন্দর এ
দেশটিতে একবার বেড়িয়ে যেতে বিদেশিদের প্রতি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কবি।
➠ উদ্দীপকের সুহানা নিজের দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা তুলে ধরেছে
বিদেশি বন্ধুর কাছে। ঋতুবৈচিত্র্যের কল্যাণে বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে
অসামান্য সৌন্দর্যের আধার। সেই সৌন্দর্য প্রাণভরে অবলোকন করার জন্য
বন্ধুকে নিজের দেশে আসতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সুহানা। ‘ছবি’ কবিতার কবিও
বিদেশিদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশে এসে বেড়িয়ে যেতে।
ঘ. ‘ছবি’ কবিতার কবির আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিহিত থাকলেও
উদ্দীপকের সুহানার আহ্বান তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি।
➠ আলোচ্য কবিতায় আবু হেনা মোস্তফা কামাল সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশকে মহান
শিল্পীর তুলিতে আঁকা কালজয়ী এক ছবির সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ ছবির
স্রষ্টা হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণদানকারী শহিদগণ।
তাঁদের আত্মত্যাগের প্রেরণায় ভাস্বর অসামান্য সুন্দর ছবির মতো এই দেশে
আসার জন্য ভিনদেশি পর্যটকদের প্রতি কবি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত সুহানা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে
উচ্ছ্বাসিত। তার সেই উচ্ছ্বাসের প্রকাশই ঘটেছে বিদেশি বন্ধুর সঙ্গে
ভিডিও চ্যাটিংয়ে। স্বদেশের রূপবৈচিত্র্য বর্ণনা করে বন্ধুকে সে
আমন্ত্রণ জানিয়েছে এ দেশে এসে বেরিয়ে যেতে। সমধর্মী আহ্বান ‘ছবি’
কবিতায় থাকলেও দুয়ের মাঝে ভাববস্তুগত ও উদ্দেশ্যগত তফাত বিদ্যমান।
➠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যে বছরের
একেক সময়ে দেশটি একেক রূপে সজিত হয়ে ওঠে। আলোচ্য উদ্দীপকে ভিনদেশি
বন্ধুকে স্বদেশে আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে এদিকটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে 'ছবি' কবিতায় ভিনদেশিদের এদেশে আমন্ত্রণের পটভূমিতে রয়েছে এ
দেশের সংগ্রামী ইতিহাসের গৌরবমণ্ডিত আবেগ। কবিকল্পিত বাংলাদেশ নামক
ছবিটি সৃজিত হয়েছে লাখো শহিদের আত্মত্যাগে। তাঁদের রক্তের রঙেই যেন
ছবিটি আশ্চর্য উজ্জ্বল। শহিদের আত্মদানের সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি
তাই নিজেকে স্বদেশের একজন গর্বিত প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের
প্রয়াস পেয়েছেন। ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত আহ্বানে এই বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে
উঠেছে। সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত সুহানা ও ‘ছবি’ কবিতার কবির মনোভাব
একসূত্রে গাঁথা নয় বলেই আমি মনে করি।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শহিদের পুণ্য রঙের সাত কোটি বাঙালির প্রাণের আবেগ, আজ পুষ্পিত সৌরভ।
বাংলার নগর, বন্দর গঞ্জ, বাষট্টি হাজার গ্রাম ধ্বংসস্তূপের থেকে সাত
কোটি ফুল হয়ে ফোটে। প্রাণময় মহৎ কবিতা আর কোথাও দেখি না এর চেয়ে।
ক. ত্রিশ লক্ষ কারিগর কয় মাস পরিশ্রম করে ছবি বানিয়েছেন?
খ. ‘স্ফীত সঞ্চয়’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘ছবি’ কবিতায় প্রকাশিত কোন বিষয়টিকে তুলে ধরেছে? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “উদ্দীপকে উল্লিখিত 'প্রাণময় মহৎ কবিতা’ ও ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত
ছবি একই চেতনার ধারক”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
ক. ত্রিশ লক্ষ কারিগর নয় মাস পরিশ্রম করে ছবি বানিয়েছেন।
খ. ‘স্ফীত সঞ্চয়’ বলতে ফুলে ফেঁপে ওঠা সঞ্চিত অর্থকে বোঝানো হয়েছে।
➠ বিদেশিরা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিদেশে ভ্রমণ করতে যায়। এজন্য
তারা সারা বছর অর্থ সঞ্চয় করে রাখে। এ সঞ্চিত অর্থ নিজেদের পছন্দ মতো
স্থানে বেড়াতে গিয়ে খরচ করে। মূলত ধনিক শ্রেণি মানুষের বাড়তি আয়ের
অংশটা হচ্ছে স্ফীত সঞ্চয়।
ঘ. ‘ছবি’ কবিতায় উল্লিখিত কবিকল্পিত ছবির থিমের প্রসঙ্গটি বিশ্লেষণ
করো।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মহান নেতা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই বাংলার মানুষ
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা পাই স্বাধীন স্বদেশ। শহিদের রক্তস্নাত
প্রাণের এ দেশ নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই।
ক. কবির মতে শিল্প মানেই কী?
খ. কবি নিজেকে পর্যটন দফতরের প্রধান বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি ‘ছবি’
কবিতার কোন প্রসঙ্গকে তুলে ধরে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘ছবি’ কবিতার মূলভাবের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে কি? মতামত
দাও।
‘ছবি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
তথ্যসূত্র :
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।