প্রত্যুপকার : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

প্রত্যুপকার
প্রত্যুপকার

প্রত্যুপকার
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

আলী ইবনে আব্বাস নামে এক ব্যক্তি মামুন নামক খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনি বলিয়া গিয়াছেন, আমি একদিন অপরাহ্ণে খলিফার নিকটে বসিয়া আছি এমন সময়ে, হস্তপদবদ্ধ এক ব্যক্তি তাঁহার সম্মুখে নীত হইলেন। খলিফা আমার প্রতি এই আজ্ঞা করিলেন, তুমি এ ব্যক্তিকে আপন আলয়ে লইয়া গিয়া রুদ্ধ করিয়া রাখিবে এবং কল্য আমার নিকট উপস্থিত করিবে। তদীয় ভাব দর্শনে স্পষ্ট প্রতীত হইল, তিনি ঐ ব্যক্তির উপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হইয়াছেন। আমি তাঁহাকে আপন আলয়ে আনিয়া অতি সাবধানে রুদ্ধ করিয়া রাখিলাম, কারণ যদি তিনি পলাইয়া যান, আমাকে খলিফার কোপে পতিত হইতে হইবে।

কিয়ৎক্ষণ পরে, আমি তাঁহাকে জিজ্ঞাসিলাম, আপনার নিবাস কোথায়? তিনি বলিলেন, ডেমাস্কাস আমার জন্মস্থান; ঐ নগরের যে অংশে বৃহৎ মসজিদ আছে, তথায় আমার বাস। আমি বলিলাম, ডেমাস্কাস নগরের, বিশেষত যে অংশে আপনার বাস তাহার উপর, জগদীশ্বরের শুভদৃষ্টি থাকুক। ঐ অংশের অধিবাসী এক ব্যক্তি একসময় আমার প্রাণদান দিয়াছিলেন।

আমার এই কথা শুনিয়া, তিনি সবিশেষ জানিবার নিমিত্ত, ইচ্ছা প্রকাশ করিলে, আমি বলিতে আরম্ভ করিলাম: বহু বৎসর পূর্বে ডেমাস্কাসের শাসনকর্তা পদচ্যুত হইলে, যিনি তদীয় পদে অধিষ্ঠিত হন, আমি তাঁহার সমভিব্যাহারে তথায় গিয়াছিলাম। পদচ্যুত শাসনকর্তা বহুসংখ্যক সৈন্য লইয়া আমাদিগকে আক্রমণ করিলেন। আমি প্রাণভয়ে পলাইয়া, এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে প্রবিষ্ট হইলাম এবং গৃহস্বামীর নিকট গিয়া, অতি কাতর বচনে প্রার্থনা করিলাম, আপনি কৃপা করিয়া আমার প্রাণ রক্ষা করুন। আমার প্রার্থনাবাক্য শুনিয়া গৃহস্বামী আমায় অভয় প্রদান করিলেন। আমি তদীয় আবাসে, এক মাস কাল নির্ভয়ে ও নিরাপদে অবস্থিতি করিলাম।

একদিন আশ্রয়দাতা আমায় বলিলেন, এ সময়ে অনেক লোক বাগদাদ যাইতেছেন। স্বদেশে প্রতিগমনের পক্ষে আপনি ইহা অপেক্ষা অধিক সুবিধার সময় পাইবেন না। আমি সম্মত হইলাম। আমার সঙ্গে কিছুমাত্র অর্থ ছিল না, লজ্জাবশত আমি তাঁহার নিকট সে কথা ব্যক্ত করিতে পারিলাম না। তিনি, আমার আকার প্রকার দর্শনে, তাহা বুঝিতে পারিলেন, কিন্তু তৎকালে কিছু না বলিয়া, মৌনাবলম্বন করিয়া রহিলেন।

তিনি আমার জন্য যে সমস্ত উদ্যোগ করিয়া রাখিয়াছিলেন, প্রস্থান দিবসে তাহা দেখিয়া আমি বিস্ময়াপন্ন হইলাম। একটি উৎকৃষ্ট অশ্ব সুসজ্জিত হইয়া আছে, আর একটি অশ্বের পৃষ্ঠে খাদ্যসামগ্রী স্থাপিত হইয়াছে, আর পথে আমার পরিচর্যা করিবার নিমিত্ত একটি ভৃত্য প্রস্থানার্থে প্রস্তুত হইয়া রহিয়াছে। প্রস্থান সময় উপস্থিত হইলে, সেই দয়াময়, সদাশয়, আশ্রয়দাতা আমার হস্তে একটি স্বর্ণমুদ্রার থলি দিলেন এবং আমাকে যাত্রীদের নিকটে লইয়া গেলেন। তন্মধ্যে যাহাদের সহিত তাঁহার আত্মীয়তা ছিল, তাঁহাদের সঙ্গে আলাপ করাইয়া দিলেন। আমি আপনকার বসতি স্থানে এই সমস্ত উপকার প্রাপ্ত হইয়াছিলাম। এ জন্য পৃথিবীতে যত স্থান আছে ঐ স্থান আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়।

এই নির্দেশ করিয়া, দুঃখ প্রকাশপূর্বক আমি বলিলাম, আক্ষেপের বিষয় এই, আমি এ পর্যন্ত সেই দয়াময় আশ্রয়দাতার কখনো কোনো উদ্দেশ পাইলাম না। যদি তাঁহার নিকট কোনো অংশে কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের অবসর পাই, তাহা হইলে মৃত্যুকালে আমার কোনো ক্ষোভ থাকে না। এই কথা শুনিবামাত্র, তিনি অতিশয় আহ্লাদিত হইয়া বলিলেন, আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে। আপনি যে ব্যক্তির উল্লেখ করিলেন, সে এই। এই হতভাগ্যই আপনাকে, এক মাসকাল আপন আলয়ে রাখিয়াছিল।

তাঁহার এই কথা শুনিয়া, আমি চমকিয়া উঠিলাম, সবিশেষ অভিনিবেশ সহকারে, কিয়ৎক্ষণ নিরীক্ষণ করিয়া, তাঁহাকে চিনিতে পারিলাম; আহ্লাদে পুলকিত হইয়া অশ্রুপূর্ণ নয়নে আলিঙ্গন করিলাম; তাঁহার হস্তপদ হইতে খুলিয়া দিলাম এবং কী দুর্ঘটনাক্রমে তিনি খলিফার কোপে পতিত হইয়াছেন, তাহা জানিবার নিমিত্তে নিতান্ত ব্যগ্র হইলাম। তখন তিনি বলিলেন, কতিপয় নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত শত্রুতা করিয়া খলিফার নিকট আমার ওপর উৎকট দোষারোপ করিয়াছে; তজ্জন্য তদীয় আদেশক্রমে হঠাৎ অবরুদ্ধ ও এখানে আনীত হইয়াছি; আসিবার সময় স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদিগের সহিত দেখা করিতে দেয় নাই; বোধ করি আমার প্রাণদণ্ড হইবে। অতএব, আপনার নিকট বিনীত বাক্যে প্রার্থনা এই, আপনি অনুগ্রহ করিয়া আমার পরিবারবর্গের নিকট এই সংবাদ পাঠাইয়া দিবেন। তাহা হইলে আমি যথেষ্ট উপকৃত হইব।

তাঁহার এই প্রার্থনা শুনিয়া আমি বলিলাম, না, না, আপনি এক মুহূর্তের জন্যও প্রাণনাশের আশঙ্কা করিবেন না; আপনি এই মুহূর্ত হইতে স্বাধীন; এই বলিয়া পাথেয়স্বরূপ সহস্র স্বর্ণমুদ্রার একটি থলি তাঁহার হস্তে দিয়া বলিলাম, আপনি অবিলম্বে প্রস্থান করুন এবং স্নেহাস্পদ পরিবারবর্গের সহিত মিলিত হইয়া সংসারযাত্রা সম্পন্ন করুন। আপনাকে ছাড়িয়া দিলাম, এ জন্য আমার ওপর খলিফার মর্মান্তিক ক্রোধদ্বেষ জন্মিবে, তাহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু যদি আপনার প্রাণ রক্ষা করিতে পারি, তাহা হইলে সে জন্য আমি অণুমাত্র দুঃখিত হইব না।

আমার প্রস্তাব শুনিয়া তিনি বলিলেন, আপনি যাহা বলিতেছেন, আমি কখনই তাহাতে সম্মত হইতে পারিব না। আমি এত নীচাশয় ও স্বার্থপর নহি যে, কিছুকাল পূর্বে, যে প্রাণের রক্ষা করিয়াছি, আপন প্রাণরক্ষার্থে এক্ষণে সেই প্রাণের বিনাশের কারণ হইব। তাহা কখনও হইবে না। যাহাতে খলিফা আমার ওপর অক্রোধ হন, আপনি দয়া করিয়া তাহার যথোপযুক্ত চেষ্টা দেখুন; তাহা হইলেই আপনার প্রকৃত কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা হইবে। যদি আপনার চেষ্টা সফল না হয়, তাহা হইলেও আমার কোনো ক্ষোভ থাকিবে না।

পরদিন প্রাতঃকালে আমি খলিফার নিকট উপস্থিত হইলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, সে লোকটি কোথায়, তাহাকে আনিয়াছ? এই বলিয়া, তিনি ঘাতককেকে ডাকাইয়া, প্রস্তুত হইতে আদেশ দিলেন। তখন আমি তাঁহার চরণে পতিত হইয়া বিনীত ও কাতর বচনে বলিলাম, ধর্মাবতার, ঐ ব্যক্তির বিষয়ে আমার কিছু বক্তব্য আছে। অনুমতি হইলে সবিশেষ সমস্ত আপনকার গোচর করি। এই কথা শুনিবামাত্র তাঁহার কোপানল প্রজ্বলিত হইয়া উঠিল। তিনি রোষারক্ত নয়নে বলিলেন, আমি শপথ করিয়া বলিতেছি, যদি তুমি তাহাকে ছাড়িয়া দিয়া থাক, এই দণ্ডে তোমার প্রাণদণ্ড হইবে। তখন আমি বলিলাম, আপনি ইচ্ছা করিলে, এই মুহূর্তে আমার ও তাহার প্রাণদণ্ড করিতে পারেন তাহার সন্দেহ কি। কিন্তু, আমি যে নিবেদন করিতে ইচ্ছা করিতেছি, কৃপা করিয়া তাহা শুনিলে, আমি চরিতার্থ হই।

এই কথা শুনিয়া খলিফা উদ্ধত বচনে বলিলেন, কী বলিতে চাও, বল। তখন সে ব্যক্তি ডেমাস্কাস নগরে কীরূপে আশ্রয়দান ও প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন এবং এক্ষণে তাহাকে ছাড়িয়া দিতে চাহিলে, আমি অবধারিত বিপদে পড়িব, এ জন্য তাহাতে কোনোমতে সম্মত হইলেন না; এই দুই বিষয়ে সবিশেষ নির্দেশ করিয়া বলিলাম, ধর্মাবতার, যে ব্যক্তির এরূপ প্রকৃতি ও এরূপ মতি, অর্থাৎ যে ব্যক্তি এমন দয়াশীল, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদবিবেচক তিনি কখনই দুরাচার নহেন। নীচপ্রকৃতি পরহিংসুক দুরাত্মারা, ঈর্ষাবশত অমূলক দোষারোপ করিয়া তাহার সর্বনাশ করিতে উদ্যত হইয়াছে; নতুবা যাহাতে প্রাণদণ্ড হইতে পারে, তিনি এরূপ কোনো দোষে দূষিত হইতে পারেন, আমার এরূপ বোধ ও বিশ্বাস হয় না। এ ক্ষেত্রে আপনার যেরূপ অভিরুচি হয় করুন।

খলিফা মহামতি ও অতি উন্নতচিত্ত পুরুষ ছিলেন। তিনি এই সকল কথা কর্ণগোচর করিয়া কিয়ৎক্ষণ মৌনাবলম্বন করিয়া রহিলেন; অনন্তর প্রসন্ন বদনে বলিলেন, সে ব্যক্তি যে এরূপ দয়াশীল ও ন্যায়পরায়ণ, ইহা অবগত হইয়া আমি অতিশয় আহ্লাদিত হইলাম। তিনি প্রাণদণ্ড হইতে অব্যাহতি পাইলেন। বলিতে গেলে, তোমা হইতেই তাহার প্রাণরক্ষা হইল। এক্ষণে তাহাকে অবিলম্বে এই সংবাদ দাও, ও আমার নিকটে লইয়া আইস।

এই কথা শুনিয়া আহ্লাদের সাগরে মগ্ন হইয়া আমি সত্বর গৃহে প্রত্যাগমনপূর্বক তাঁহাকে খলিফার সম্মুখে উপস্থিত করিলাম। খলিফা অবলোকনমাত্র, প্রীতি-প্রফুল্ললোচনে, সাদর বচনে সম্ভাষণ করিয়া বলিলেন, তুমি যে এরূপ প্রকৃতির লোক, তাহা আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। দুষ্টমতি দুরাচারদিগের বাক্য বিশ্বাস করিয়া অকারণে তোমার প্রাণদণ্ড করিতে উদ্যত হইয়াছিলাম। এক্ষণে, ইহার নিকটে তোমার প্রকৃত পরিচয় পাইয়া, সাতিশয় প্রীতিপ্রাপ্ত হইয়াছি। আমি অনুমতি দিতেছি, তুমি আপন আলয়ে প্রস্থান কর। এই বলিয়া, খলিফা, তাহাকে মহামূল্য পরিচ্ছদ, সুসজ্জিত দশ অশ্ব , দশ খচ্চর, দশ উষ্ট্র উপহার দিলেন এবং ডেমাস্কাসের রাজপ্রতিনিধির নামে এক অনুরোধপত্র ও পাথেয়স্বরূপ বহুসংখ্যক অর্থ দিয়া তাহাকে বিদায় করিলেন।

প্রত্যুপকার
প্রত্যুপকার
‘প্রত্যুপকার’ গল্পের উৎস নির্দেশ :
‘প্রত্যুপকার’ রচনাটি আখ্যানমঞ্জরী (১৮৬৮) দ্বিতীয় ভাগ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

‘প্রত্যুপকার’ গল্পের শব্দার্থ ও টীকা :
➠ প্রত্যুপকার- উপকারীর উপকার করা।
➠ অভিরুচি- ইচ্ছা।
সমভিব্যাহারে- সঙ্গে বা সাহচর্যে।
➠ নিষ্কৃতি- মুক্তি।
➠ কোপানল- কোপ ও অনল মিলে কোপানল; ক্রোধ বা রাগের আগুন। এখানে যাওয়া অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
➠ প্রতীতি- বিশ্বাস; ধারণা।
➠ পরিচ্ছদ- পোশাক।
প্রীতিপ্রফুল্ললোচনে- শব্দটিতে মূলত তিনটি শব্দ যুক্ত করা হয়েছে; প্রীতি, প্রফুল্ল ও লোচন-বন্ধুত্বের অনুভূতিতে আনন্দিত চোখে। লোচন অর্থ চোখ।
মৌনাবলম্বন- মৌন ও অবলম্বন মিলে মৌনাবলম্বন; অর্থাৎ নিরবতা পালন।
➠ অব্যাহতি- মুক্তি, ছাড়া পাওয়া।
➠ অবধারিত- নিশ্চিত।
➠ প্রত্যাগমন- ফিরে আসা। শব্দটি গঠিত দুটি শব্দ মিলে: প্রতি ও আগমন।
রোষারক্ত নয়নে- ক্রোধে লাল চোখে।
অবলোকনমাত্র- দেখামাত্র।
➠ সম্ভাষণ- সম্বোধন।
➠ উৎকট- অত্যন্ত প্রবল, তীব্র।
➠ অবরুদ্ধ- বন্দি।
➠ নিরীক্ষণ- মনোযোগ দিয়ে দেখা।
➠ খলিফা- প্রতিনিধি। হজরত মুহম্মদ (স.)-এর পরে মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বপ্রধান শাসনকর্তাকে ‘খলিফা’ বলা হতো। তিনি একাধারে রাজ্যের প্রধান শাসক ও ধর্মনেতা ছিলেন।
➠ ডেমাস্কাস- দামেস্ক। এশিয়ার একটি প্রাচীন শহর। হজরত ইব্রাহিমের (আ.) যুগের পূর্বে এখানে শহর গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে দামেস্ক সিরিয়ার রাজধানী।
➠ মামুন- আল মামুন নামেই সমধিক পরিচিত। তাঁর পূর্ণ নাম আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুন (৭৮৬-৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ)। তিনি ছিলেন সপ্তম আব্বাসীয় খলিফা এবং খলিফা হারুনর রশীদের দ্বিতীয় পুত্র।
➠ বাগদাদ- বর্তমান ইরাকের রাজধানী। খলিফা হারুনর রশীদের সময় বাগদাদ মুসলিম সভ্যতার শ্রেষ্ঠ নগরীতে পরিণত হয়। টাইগ্রিস নদীর উভয় তীরে এবং ফুরাত বা ইউফ্রেটিস নদীর পঁচিশ মাইল উত্তরে অবস্থিত। আব্বাসীয় খলিফা মনসুর ৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে নগরটি প্রতিষ্ঠা করেন।

‘প্রত্যুপকার’ গল্পের পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব :
বিশ্বের নানা দেশের ইতিহাস প্রসিদ্ধ ব্যক্তিগণের জীবনের গৌরবদীপ্ত ঘটনাই এ গ্রন্থের বিভিন্ন রচনার উপজীব্য। ‘প্রত্যুপকার’ আলী আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি। খলিফা মামুনের সময়কালে দামেস্কের জনৈক শাসনকর্তা পদচ্যুত হন। নতুন শাসনকর্তা মামুনের একজন প্রিয়পাত্র ছিলেন আলী ইবনে আব্বাস। তিনি স্থানীয় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয়লাভ করে জীবন রক্ষা করেন। পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ঐ সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন এবং খলিফার নির্দেশে আলী ইবনে আব্বাসের গৃহে তাকে অন্তরীণ করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির সঠিক পরিচয় জানতে পেরে উপকারীর উপকারের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি গ্রহণ করেন এবং খলিফার কাছে তার মুক্তির জন্য সুপারিশ করেন। বস্তুত এ রচনায় দুজন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তাদের একজন নিঃস্বার্থ উপকারী, অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। খলিফার মহত্ত্বও এ রচনায় প্রকাশিত হয়েছে।

‘প্রত্যুপকার’ গল্পের লেখক পরিচিতি :
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে ২৬শে সেপ্টেম্বর ১৮২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মূল নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়। ‘বিদ্যাসাগর’ তাঁর উপাধি। তিনি ছিলেন কলকাতা সংস্কৃত কলেজের ছাত্র। তিনি প্রথমে সংস্কৃত ও পরে ইংরেজি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। দানশীলতার জন্য তিনি ‘দয়ার সাগর’ নামেও পরিচিত। একাধারে পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, সমাজ-সংস্কারক ও খ্যাতনামা লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন তিনি। সুশৃঙ্খল পদবিন্যাস, যথাযথভাবে যতিচিহ্ন প্রয়োগ এবং সাহিত্যিক গদ্য রচনার জন্য তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়ে থাকে। বাংলা বর্ণমালাকে নতুন বিন্যাসে সাজিয়ে ১৮৫৫ সালে বিদ্যাসাগর প্রকাশ করেন শিশুপাঠ্য বই বর্ণপরিচয়। ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে এ বই আজও পথপ্রদর্শক বিবেচিত হয়। বেতাল পঞ্চবিংশতি, ব্যাকরণ কৌমুদী, শকুন্তলা, বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কি না এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস প্রভৃতি তাঁর প্রধান গ্রন্থ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের ২৯শে জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কর্ম-অনুশীলন :
১. কোনো ব্যক্তি তাঁর উপকারীর উপকার করেছেন এমন কোনো ঘটনা তোমার জানা থাকলে তা লেখো।
২. উপকারীর উপকার না করে অপকার করেছে; এরকম একটি ঘটনার বিবরণ দাও।

‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
১। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
২। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।
৩। দানশীলতার জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কী নামে পরিচিত ছিলেন?
উত্তর: দানশীলতার জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ‘দয়ার সাগর’ নামে পরিচিত ছিলেন।
৪। সাহিত্যিক গদ্য রচনার জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কী বলা হয়?।
উত্তর: সাহিত্যিক গদ্য রচনার জন্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়।
৫। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে শিশুপাঠ্য বই ‘বর্ণপরিচয়’ প্রকাশ করেন?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শিশুপাঠ্য বই ‘বর্ণপরিচয়’ ১৮৫৫ সালে প্রকাশ করেন।
৬। ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কোন বই আজও পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হয়?
উত্তর: ভাষা শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে ‘বর্ণপরিচয়’ বই আজও পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হয়।
৭। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালের মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালের মৃত্যুবরণ করেন।
৮। আলী ইবনে আব্বাস কোন দেশের নাগরিক?
উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস বাগদাদের নাগরিক।
৯। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে খলিফার নাম কী ছিল?
উত্তর: ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে খলিফার নাম ছিল আল মামুন।
১০। আলী ইবনে আব্বাসের প্রস্থানার্থে গৃহস্বামী তাকে কয়টি স্বর্ণমুদ্রার থলি দিয়েছিলেন?
উত্তর: আলী ইবনে আব্বাসের প্রস্থানার্থে গৃহস্বামী তাকে একটি স্বর্ণমুদ্রার থলি দিয়েছিলেন।
১১। ‘প্রীতি-প্রফুল্ললোচনে’ শব্দটিতে কয়টি শব্দ আছে?
উত্তর: ‘প্রীতি-প্রফুল্ললোচনে’ শব্দটিতে তিনটি শব্দ আছে।

‘প্রত্যুপকার’ গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :

১। আব্বাস কেন ডেমাস্কাসে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মঙ্গল কামনা করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ডেমাস্কাসের এক ব্যক্তি একসময় আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন। তাই তার বাস যে স্থানে সেই অঞ্চলের মঙ্গল কামনা করেন তিনি।
➠ আলী ইবনে আব্বাস অনেক বছর আগে ডেমাস্কাসের নতুন শাসনকর্তার সঙ্গে সেখানে যান। সেখানে তিনি পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্যদের দ্বারা আক্রান্ত হন। সেই অবস্থায় তিনি ডেমাস্কাসের এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি ওই বাড়িতে এক মাস থাকেন। তারপর অতি নিরাপদে এবং অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে বিদায় গ্রহণ করেন। তাই আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই ডেমাস্কাসের সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলের মঙ্গল কামনা করেছেন।

২। “ঐ অংশের অধিবাসী এক ব্যক্তি একসময় আমার প্রাণদান দিয়াছিলেন।”- চরণটির মধ্য দিয়ে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত চরণটির মধ্য দিয়ে আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ পেয়েছে। আলী ইবনে আব্বাস অনেক বছর আগে একবার ডেমাস্কাসে গিয়ে বিপদগ্রস্ত হন।
➠ সেখানকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে তিনি আশ্রয়প্রাপ্ত হন এবং অত্যন্ত নিরাপদে এক মাস অতিবাহিত করেন। পরে তাকে অনেক অর্থ-সম্পদ এবং সম্মানের সঙ্গে নিজ বাসস্থানে ফিরিয়ে দেন। তাই আব্বাস মনে করেন ওই ব্যক্তিই তাকে নতুন জীবন দিয়েছেন।

৩। পৃথিবীর সব জায়গার চেয়ে ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদের স্থান কেন আব্বাসের সবচেয়ে প্রিয়?
উত্তর: আব্বাস ডেমাস্কাসে নিরাপত্তা এবং অনেক সম্মান ও সেবা-যত্ন পেয়েছিলেন, তাই বৃহৎ মসজিদের স্থান তার সবচেয়ে প্রিয়।
➠ ডেমাস্কাসে গিয়ে আব্বাস বিপদগ্রস্ত হলে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দেন। অত্যন্ত নিরাপদে তিনি সেখানে এক মাস থাকেন। পরে ফিরে আসার সময় আশ্রয়দাতা আব্বাসকে অনেক খাদ্য, স্বর্ণমুদ্রা ও উপহার দিয়ে পাঠিয়ে দেন। আর এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে। তাই তিনি যখনই ওই স্থানের কথা স্মরণ করেন, কৃতজ্ঞতায় নুয়ে পড়েন। কারণ তিনি মনে করেন ওই ব্যক্তিই তাকে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদের স্থান আব্বাসের কাছে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে প্রিয়।

৪। “আপনার মনস্কাম পূর্ণ হইয়াছে।”- বাখ্যা করো।
উত্তর: আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসের বন্দি লোকটির সামনে তার উপকারকারীর সন্ধান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। তখন বন্দি লোকটি তাকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
➠ আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসে যে লোকটির আশ্রয়ে নিরাপদে ছিলেন, তাঁকে তিনি অনেক দিন ধরে খুঁজছেন। এ কথা জানতে পেরে খলিফার কাছে আসা অপরাধী ব্যক্তিটি নিজের পরিচয় তুলে ধরার নিমিত্তে এ কথা বলেছেন। কারণ অনেক বছর আগের ঘটনা হওয়ায় আলী ইবনে আব্বাস লোকটিকে চিনতে পারেননি যে বন্দি লোকটিই সেই ব্যক্তি। আলী ইবনে আব্বাসের কাছ থেকে সব কথা জানার পরে এভাবেই লোকটি নিজের পরিচয় তুলে ধরেন।

৫। দামেস্কের লোকটি কীভাবে খলিফার বন্দি হলেন?
উত্তর: ডেমাস্কের লোকটি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে খলিফার বন্দি হন।
➠ আলী ইবনে আব্বাস লোকটিকে নিজের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে লোকটি জানান যে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। কিছু নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত শত্রুতা করে খলিফার কাছে তাঁর নামে উৎকট দোষারোপ করে। আর তার ফলেই খলিফা রাগান্বিত হয়ে তাঁকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসেন। মূলত লোকটি ছিলেন নিরপরাধ।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নয়নের বাবা একজন কৃষক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। হঠাৎ করে একদিন নয়নের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসার জন্য তখন দরকার পড়ে প্রচুর টাকার। কিন্তু নয়নদের কাছে তখন তেমন কোনো টাকা ছিল না। এজন্য আত্মীয়স্বজনের কাছে গেলেও তারা তখন নয়নের পরিবারকে সাহায্য করতে সম্মত হয় না। সেই মুহূর্তে প্রতিবেশী মানিক মিয়া ধার হিসেবে নয়নের মাকে হাসপাতালের খরচ দেন। বিপদের মুহূর্তে সেই টাকা পেয়ে নয়নের পরিবার মানিক মিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তারা পরবর্তীকালে মানিক মিয়ার যেকোনো বিপদে তাঁর পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন কলেজের ছাত্র ছিলেন?
খ. আলী ইবনে আব্বাসের প্রস্তাবে আশ্রয়দাতা সম্মত হননি কেন?
গ. উদ্দীপকের মানিক মিয়ার সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতার সাদৃশ্যগুলো তুলে ধরো।
ঘ. “উভয়ক্ষেত্রেই অন্যের উপকার করার কথা বলা হলেও উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সব অংশ ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কলকাতা সংস্কৃত কলেজের ছাত্র ছিলেন।
খ. আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকায় আশ্রয়দাতা তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হননি।
➠ আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা খলিফার সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হলে খলিফা তাঁর প্রাণদণ্ড ঘোষণা করার জন্য উদ্যত হন। কিন্তু একপর্যায়ে বন্দি ব্যক্তির আসল পরিচয় জানতে পেরে আলী ইবনে আব্বাস তাঁকে মুক্ত করে দেন। সহস্র স্বর্ণমুদ্রার থলি হাতে দিয়ে আশ্রয়দাতাকে প্রস্থান করার প্রস্তাব দিলে আলী ইবনে আব্বাস এতে খলিফার কোপে পতিত হবেন ভেবে আশ্রয়দাতা তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হননি।

গ.উদ্দীপকের মানিক মিয়ার সাথে বিদপগ্রস্ত মানুষকে সহযোগিতা করার দিক থেকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতার সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামে জনৈক ব্যক্তি ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে কঠিন বিপদে পড়েন। তাঁর প্রাণ সংহার হওয়ার উপক্রম হয়। এমতাবস্থায় সেখানকার একজন সহৃদয় ব্যক্তি তাঁকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন এবং নিজের বাড়িতে একমাস আতিথেয়তা দেন। বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও সাহায্য-সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।
➠ উদ্দীপকের নয়ন তার হৃদরোগে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে প্রচণ্ড বিপদে পড়ে যায়। হাসপাতালের খরচ জোগাতে তার মা হিমশিম খেয়ে যান। এমন সময়ে প্রতিবেশী মানিক মিয়া ধারে টাকা দিয়ে তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ান। বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া বা পরোপকারিতার এমন দৃষ্টান্ত 'প্রত্যুপকার' গল্পে আশ্রয়দাতা চরিত্রের মাঝেও লক্ষ করা যায়। তিনি আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদমুক্ত করেছিলেন।

ঘ. প্রত্যুপকারের দৃষ্টান্ত উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি মূলত আলী ইবনে আব্বাস নামক ব্যক্তির প্রত্যুপকারের ঘটনার আলেখ্য। তিনি একদা ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে চরম বিপদে পড়লে সেখানকার জনৈক সহৃদয় ব্যক্তির মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে যান এবং একমাস আতিথ্য লাভ করেন। পরবর্তীকালে সেই লোক অভিযুক্ত হয়ে খলিফার দরবারে নীত হলে আলী ইবনে আব্বাসের প্রচেষ্টায় মুক্তিলাভ করেন।
➠ উদ্দীপকে নয়ন ও তার মা হৃদরোগে আক্রান্ত তার বাবাকে নিয়ে কঠিন বিপদে পড়ে যায়। আত্মীয়স্বজনও সাহায্য করে না। এমন অবস্থায় তাদের প্রতিবেশী মানিক মিয়া ধার হিসেবে টাকা দিয়ে তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ান। তাদের এই ঘটনার সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় আলী ইবনে আব্বাসের সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়ার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
➠ উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্প উভয় স্থানে বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তবে আলোচ্য গল্পে আলী ইবনে আব্বাস পরবর্তীকালে তাঁর আশ্রয়দাতার বিপদে প্রত্যুপকারীর ভূমিকা পালন করেন, যার সাথে উদ্দীপকে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো ঘটনা উঠে আসেনি। তাই বলা যায় যে, উভয়ক্ষেত্রেই অন্যের উপকারের কথা বলা হলেও উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সব অংশ ধারণ করতে পারেনি।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সবুজ ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা দরিদ্র হওয়ায় ক্লাসের বাইরে অর্থ দিয়ে সে কোনো শিক্ষা সহযোগিতা নিতে পারে না। সবুজের বন্ধু অনিক। তার পরিবার সচ্ছল। অনিক একদিন সবুজকে বলে যে, সে ক্লাসের বাইরে যা শিখে আসে তা সবুজকে পড়াবে। এভাবে অনিক সবুজকে পড়াতে শুরু করল। এতে করে সবুজও পড়ালেখায় অনেক এগিয়ে গেল আর অনিক ক্লাসে প্রথম হয়ে গেল। সবুজকে পড়াতে গিয়ে অনিক নিজেই অনেক বেশি পড়েছে, তাই তার ফলাফল এত ভালো হয়েছে।

ক. আলী ইবনে আব্বাস কতদিন তাঁর আশ্রয়তার বাড়িতে ছিলেন?
খ. ‘আপনি যাহা বলিতেছেন, আমি কখনই তাহাতে সম্মত হইতে পারিব না।’ কোন প্রেক্ষাপটে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের অনিকের সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতাদের কাহিনির কী মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘অন্যের উপকার করার মাধ্যমে নিজের উপকার হয়।’ উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্প অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. আলী ইবনে আব্বাস তাঁর আশ্রয়দাতার বাড়িতে একমাস ছিলেন।
খ. আলী ইবনে আব্বাস বন্দির পরিচয় পেয়ে তাঁকে প্রস্থান করার প্রস্তাব দিলে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
➠ একদিন দামেস্কের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষা করেছিলেন। ভাগ্যের পরিহাসে তিনি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হলে খলিফা তাঁকে আলী ইবনে আব্বাসের বাড়িতে রুদ্ধ করে রাখার আদেশ দেন। একপর্যায়ে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন এই বন্দি ব্যক্তিই আসলে তাঁর প্রাণ রক্ষাকারী সেই দয়াবান ব্যক্তি। তখন আলী ইবনে আব্বাস তাঁর আশ্রয়দাতাকে এক থলে স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে চলে যেতে বলেন। কিন্তু আলী ইবনে আব্বাস এতে বিপদে পড়বে বলে বন্দি লোকটি তাঁর সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।

গ. উদ্দীপকের অনিকের সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতার পরোপকারিতার দিক থেকে মিল লক্ষ করা যায়।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কথক আলী ইবনে আব্বাস একদা নবনিযুক্ত শাসনকর্তার সাথে ডেমাস্কাস শহরে গেলে সেখানকার পদচ্যুত শাসনকর্তার লোকজনের আক্রমণের শিকার হন। সেই সময় জনৈক ডেমাস্কাস নিবাসী তাঁকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। এতে তাঁর প্রাণরক্ষা হয়। পরবর্তীকালে সেই আশ্রয়দাতার দীর্ঘসময়ের আতিথেয়তা এবং স্বদেশযাত্রার বন্দোবস্তের ফলে আলী ইবনে আব্বাস নিরাপদে বাগদাদে ফিরতে পারেন।
➠ উদ্দীপকের অনিক তার দরিদ্র বন্ধুকে লেখাপড়ায় সহযোগিতা করে। তার বন্ধু সবুজ পারিবারিকভাবে দরিদ্র হওয়ায় ক্লাসের বাইরে শিক্ষকের শরণাপন্ন হতে পারছিল না। অনিকের ঐকান্তিক ইচ্ছা ও প্রচেষ্টায় সবুজ শিক্ষা সহায়তা লাভ করে এবং ভালো ফলাফল করতে পারে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতা বিপদগ্রস্ত আলী ইবনে আব্বাসকে সাহায্য করে এবং আতিথেয়তা দিয়ে একইরকম পরোপকারিতার পরিচয় দিয়েছেন।

ঘ. আলী ইবনে আব্বাসকে উপকার করায় তাঁর আশ্রয়দাতা যথার্থ প্রতিদান পেয়েছেন- এই বিবেচনায় মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস কর্তৃক বর্ণিত ঘটনাবলিতে দেখা যায়, একদা তিনি বিপদে পড়ে ডেমাস্কাস নিবাসী জনৈক ব্যক্তির সহযোগিতা পেয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন আতিথ্যও পেয়েছেন। পরবর্তীকালে সেই আশ্রয়দাতা অভিযুক্ত হয়ে খলিফার দরবারে নীত হলে প্রত্যুপকারী আলী ইবনে আব্বাসের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অভিযোগ থেকে মুক্তি পান। তিনি তাঁর পূর্বকৃত পরোপকারিতার ফল লাভ করেন।
➠ উদ্দীপকের অনিক তার দরিদ্র বন্ধু সবুজকে লেখাপড়ায় সাহায্য করতে গিয়ে নিজেও প্রচুর লেখাপড়া করে। এতে তার বন্ধু সবুজ যেমন ভালো ফললাভ করতে সক্ষম হয়, তেমনই অনিকেরও যথেষ্ট উন্নতি হয়। একইভাবে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদ থেকে উদ্ধার করা ও নিজবাড়িতে আশ্রয় দেওয়া লোকটিও আলী ইবনে আব্বাসের মাধ্যমে কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি পান।
➠ উপরিউক্ত আলোচনায় দেখা যায়, অনিক যেমন তার বন্ধু সবুজকে সাহায্য-সহায়তা করতে গিয়ে নিজেও তার সুফল পেয়েছে, তেমনই ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতা ডেমাস্কাস অধিবাসী লোকটি আলী ইবনে আব্বাসের মাধ্যমে কঠিন বিপদে সহায়তা পেয়েছেন। উভয় স্থানেই উপকারী পরবর্তী সময়ে তাদের প্রতিদান পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, ‘অন্যের উপকার করার মাধ্যমে নিজের উপকার হয়’- মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মিশুর পরিবার এই এলাকায় নতুন এসেছে। বাসায় সব গুছিয়ে করে মিশু নতুন এলাকাটা একটু ঘুরে দেখার জন্য বের হয়েছিল। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরেই মিশু আর ঘরে ফেরার রাস্তা খুঁজে পায় না, এদিকে সে মোবাইল ফোন নিয়েও বের হয়নি। তখন সে পার্শ্ববর্তী এক দোকানে গিয়ে তার সমস্যার কথা বলল। সেই দোকানি তার দোকান বন্ধ করে মিশুকে তাদের নতুন বাসার ঠিকানায় পৌঁছে দিয়ে এলেন। মিশুর বাবা-মা সেই দোকানিকে ধন্যবাদ জানালেন। দোকানি বললেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য কাজ করবে এটাই তো স্বাভাবিক।’

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
খ. ‘এই কথা শুনিবামাত্র তাহার কোপানল প্রজ্বলিত হইয়া উঠিল।’ কার প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে দোকানির সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটিতে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব ফুটে উঠেছে কি? তোমার মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
খ. খলিফা আল মামুনের প্রসঙ্গে মন্তব্যটি করা হয়েছে।
➠ অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় পেয়ে পরদিন তাঁকে ছাড়াই আলী ইবনে আব্বাস খলিফার দরবারে যান। এতে খলিফা আল মামুনের সন্দেহ হয় যে, আলী ইবনে আব্বাস হয়তো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়েছে। তাই খলিফার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল তাঁর উপর। তিনি বন্দির কথা জানতে চাইলে আলী ইবনে আব্বাস কিছু একটা বলতে চাইলে খলিফার মনোভাব ফুটে উঠেছে আলোচ্য মন্তব্যটিতে।

গ. উদ্দীপকের দোকানির সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বন্দি চরিত্রের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে খলিফা মামুনের দরবারে জনৈক ডেমাস্কাস নিবাসী ব্যক্তিকে বন্দি করে আনা হয়। পরে জানা যায়, এই লোকটি অনেক দিন আগে আলী ইবনে আব্বাসকে কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। বিদেশ-বিভুঁইয়ে শত্রু কর্তৃক আক্রান্ত হলে তাঁকে নিজবাড়িতে আশ্রয় দেন তিনি। একমাস আতিথেয়তাসহ নিজবাড়িতে ফেরার ব্যবস্থাও করেন তিনি।
➠ উদ্দীপকের মিশু নতুন এলাকায় এসে পথ হারিয়ে ফেললে এক দোকানির কাছে সাহায্য চায়। তখন দোকানি তার দোকান বন্ধ করে মিশুকে তার বাসায় পৌঁছে দিয়ে পরোপকারিতার পরিচয় দেন। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে ডেমাস্কাস নিবাসী লোকটি যিনি খলিফা মামুনের দরবারে অভিযুক্ত হিসেবে বন্দি হয়ে এসেছেন, তিনি আলী ইবনে আব্বাসকে এরকমভাবে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলেন।

ঘ. না, উদ্দীপকটিতে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব ফুটে ওঠেনি।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামে এক ব্যক্তির প্রত্যুপকারের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি একদা ডেমাস্কাসের নবনিযুক্ত শাসনকর্তার সঙ্গী হয়ে সেখানে গেলে সেখানকার আগের শাসনকর্তার লোকজনের হামলার শিকার হন। তখন জনৈক ব্যক্তি তাঁর প্রাণরক্ষা করেন ও আতিথেয়তা দেন। পরে সেই ব্যক্তি খলিফার দরবারে অভিযুক্ত হয়ে এলে তিনি প্রত্যুপকারের পরিচয় দেন।
➠ উদ্দীপকের মিশু নতুন এলাকায় গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে। তখন জনৈক দোকানির কাছে সাহায্য চাইলে তিনি তাঁর দোকান বন্ধ করে মিশুকে তার নতুন বাসায় পৌঁছে দেন। একইভাবে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে বিপদে পড়লে সেখানকার এক ব্যক্তি তাঁকে বিপদমুক্ত করেন এবং নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে দেশে ফেরার সুব্যবস্থা করে দেন।
➠ উদ্দীপকের দোকানি যেমন মিশুকে বিপদে থেকে উদ্ধার করেছেন তেমনই ‘প্রত্যুপকার’ গল্পেও ডেমাস্কাসের লোকটি আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে পরোপকারিতার পরিচয় দেন। তবে গল্পের মূল আলোচ্য বিষয় হলো পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাস কর্তৃক প্রত্যুপকারের ঘটনা তুলে ধরা, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটিতে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব ফুটে ওঠেনি।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নিজের সুখের জন্য ব্যস্ত না হয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক। এ বিষয়ে একটি প্রবাদ আছে- 'ভোগে সুখ নেই, ত্যাগেই রয়েছে প্রকৃত সুখ। আত্মসুখ বা আত্মভোগে কোনো মহত্ত্ব নেই। পরোপকারেই প্রকৃত সুখ। আর এই পরোপকার শুধু পরের জন্যই নয় বরং পরোপকারের মাধ্যমে নিজেরও অনেক কল্যাণ সাধিত হয়। (সূত্রঃ দৈনিক কালের কণ্ঠ, ১০ মার্চ ২০১৭

ক. ‘আখ্যানমঞ্জরী’ কত সালে রচিত হয়?
খ. আশ্রয়দাতা খলিফার কোপে পতিত হয়েছিল কেন?
গ. উদ্দীপকের পরোপকারেই প্রকৃত সুখ কথাটি ‘প্রত্যুপকার’ রচনার কোন চরিত্রের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “বরং পরোপকারের মাধ্যমে নিজেরও অনেক কল্যাণ সাধিত হয়, কথাটি যেন ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘আখ্যান মঞ্জুরী’ ১৮৬৮ সালে রচিত হয়।
খ. দুষ্টমতি দুরাচারদের মিথ্যা অভিযোগে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা খলিফার কোপে পতিত হয়েছিলেন।
➠ আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ছিলেন অত্যন্ত দয়াশীল, পরোপকারী, ন্যায়পরায়ণ ও সদ্বিবেচক। কিন্তু কতিপয় নীচ প্রকৃতির লোক ঈর্ষাবশত শত্রুতা করে তার উপর মিথ্যা দোষারোপ করে। খলিফা সত্য যাচাই না করে দুষ্টমতি দুরাচারদের কথা বিশ্বাস করে তাঁকে বন্দি করেন আর এভাবেই তিনি খলিফার কোপে পতিত হয়েছিলেন।

গ. উদ্দীপকের পরোপকারেই প্রকৃত সুখ কথাটি ‘প্রত্যুপকার’ রচনার আশ্রয়দাতা বা ডেমাস্কাসের অধিবাসী লোকটির বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামে জনৈক ব্যক্তি ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে কঠিন বিপদে পড়েন এবং এতে তাঁর প্রাণ সংহারের সম্ভাবনা তৈরি হলে সেখানকার একজন সহৃদয় ব্যক্তি তাঁকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। পরে নিজের বাড়িতে তাঁকে একমাস আতিথেয়তা দিয়ে বাড়ি ফেরার সুব্যবস্থা করেন। তিনি এতসব কাজ করেছেন মূলত তাঁর সহৃদয়তার বোধ থেকেই।
➠ উদ্দীপকে পরোপকারিতার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, আত্মসুখ বা আত্মভোগে কোনো মহত্ত্ব নেই। পরোপকারেই প্রকৃত সুখ। অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব 'প্রত্যুপকার' গল্পে এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় ডেমাস্কাস নিবাসী জনৈক ব্যক্তির কর্মকান্ডে। তিনি বিপদগ্রস্ত আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদ থেকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আতিথেয়তা দিয়ে পরোপকারিতার আদর্শ স্থাপন করেছেন।

ঘ. আলী ইবনে আব্বাসের কাছ থেকে তাঁর আশ্রয়দাতা প্রত্যুপকার পাওয়ার দিক বিবেচনায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস একদা ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে চরম বিপদে পড়লে সেখানকার জনৈক সহৃদয় ব্যক্তি তাঁকে বিপদমুক্ত করেন এবং নিজবাড়িতে আশ্রয় দেন। একমাস আতিথেয়তা দিয়ে তাঁর বাড়ি ফেরার সব ব্যবস্থাও করে দেন। এর বহুদিন পরে ওই ব্যক্তি অভিযুক্ত হয়ে খলিফার দরবারে নীত হলে আলী ইবনে আব্বাসের মাধ্যমে অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।
➠ উদ্দীপকে পরোপকারিতার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। এখানে একে মনুষ্যত্বের আদর্শ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরোপকারকেই প্রকৃত সুখ হিসেবে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি পরোপকারের ইতিবাচক প্রতিদানের কথাও ফুটে উঠেছে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষা করা ও আশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিও একইভাবে স্বীয় বিপদে তাঁর পরোপকারিতার প্রতিদান পেয়েছেন।
➠ উপরের আলোচনায় দেখা যায়, পরোপকারী ব্যক্তি যেমন মনুষ্যত্বের আদর্শ, তেমনই তিনিও বিপদে পড়লে অপরের কাছ থেকে তাঁর পরোপকারিতার যথাযোগ্য প্রতিদান পেতে পারেন। গল্পে আলী ইবনে আব্বাস ও তাঁর আশ্রয়দাতার ঘটনাবলি এর প্রমাণ বহন করে। তাই বলা যায় যে, “বরং পরোপকারের মাধ্যমে নিজেরও অনেক কল্যাণ সাধিত হয় কথাটি যেন ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে।”


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
চাকরির শুরুতে এ কে এম আহসান তখন তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের একটি মহকুমার এসডিও। একদিন সরকারি গাড়িতে কোথাও যাওয়ার সময় হঠাৎ বন্যার পানির তোড়ে গাড়িটা ঝিলাম নদীতে পড়ে ভেসে যেতে থাকে। তিনি তখন নিজের জীবন বিপন্ন করে ওই গাড়ির পাঞ্জাবি চালককে উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন।
(সূত্র: প্রথম আলো, ১৫ই মে ২০১৬/

ক. আলী ইবনে আব্বাস প্রাণরক্ষা করার জন্য আশ্রয়দাতার বাড়িতে কতদিন ছিলেন?
খ. ‘পৃথিবীতে যত স্থান আছে ঐ স্থান আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের এ কে এম আহসানের সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতার সাদৃশ্য নিরূপণ করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে।”- পক্ষে বা বিপক্ষে তোমার মতামত দাও।

ক. আলী ইবনে আব্বাস প্রাণরক্ষা করার জন্য আশ্রয়দাতার বাড়িতে একমাস ছিলেন।
খ. স্বীয় প্রাণরক্ষা ও আশ্রয় প্রদানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর আশ্রয়দাতার এলাকা সম্পর্কে আলী ইবনে আব্বাসের মতামত ব্যক্ত হয়েছে আলোচ্য মন্তব্যে।
➠ আলী ইবনে আব্বাস একদা চরম বিপদে পড়ে ডেমাস্কাসের জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় পান। সেই ব্যক্তি তাঁকে নিরাপদে আশ্রয় ও আতিথেয়তা দিয়ে তাঁর প্রাণরক্ষা করেন। দীর্ঘ একমাস তিনি সেই ব্যক্তির আশ্রয়ে ছিলেন। পরবর্তীকালে খলিফার দরবারে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ডেমাস্কাস শহরে শুনে আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞতাভরে অতীতের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, ‘এজন্য পৃথিবীতে যত স্থান আছে ওই স্থান আমার কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয়।’

গ. উদ্দীপকের এ কে এম আহসানের সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতার সাদৃশ্য হলো পরোপকারিতায়।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস একদা ডেমাস্কাস শহরে গিয়ে চরম বিপদে পড়লে সেখানকার একজন সহৃদয় ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করেন। বলা যায়, তাঁকে প্রাণে বাঁচিয়ে দেন এবং একমাস নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে নিজের বাড়িতে ফেরত আসার সমস্ত ব্যবস্থা করেন। তিনি এর মাধ্যমে পরোপকারিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
➠ উদ্দীপকের এ কে এম আহসান একদিন সরকারি গাড়িতে কোথাও যাওয়ার পথে বন্যার পানির তোড়ে ঝিলাম নদীতে পড়ে ভেসে যেতে থাকে। তিনি তখন নিজের জীবন বিপন্ন করে ওই গাড়ির চালককে উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন। এরকম পরোপকারিতা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পেও দেখা যায়; প্রাণ সংহার হতে পারত এমন অবস্থায় আলী ইবনে আব্বাসকে রক্ষা করেন ডেমাস্কাস নিবাসী ব্যক্তিটি।

উদ্দীপকে শুধু পরোপকারের দিকটি ফুটে ওঠায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নামক জনৈক ব্যক্তির প্রত্যুপকারের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। তিনি একদা ডেমাস্কাসে গিয়ে প্রাণ সংহারের শঙ্কায় পড়েছিলেন। তখন সেখানকার এক সহৃদয় ব্যক্তি তাকে আশ্রয় ও আতিথেয়তা দিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীকালে সেই লোক খলিফার দরবারে অভিযুক্ত হয়ে এলে আলী ইবনে আব্বাসের প্রচেষ্টায় অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।
➠ উদ্দীপকের এ কে এম আহসান সরকারি গাড়িতে করে কোথাও যাওয়ার সময় বন্যার তোড়ে গাড়িসহ ঝিলাম নদীতে ভেসে যেতে থাকেন। তখন স্বীয় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির ড্রাইভারের জীবন রক্ষা করেন। এমন পরোপকারিতার দৃষ্টান্ত 'প্রত্যুপকার' গল্পেও দেখা যায়। সেখানে চরম বিপদগ্রস্ত আলী ইবনে আব্বাসকে প্রাণে রক্ষা করেন ডেমাস্কাসের অধিবাসী লোকটি।
➠ উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্প উভয় স্থানেই যথাক্রমে এ কে এম আহসান ও ডেমাস্কাস নিবাসী লোকটির পরোপকারিতার বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। অবশ্য গল্পে আলী ইবনে আব্বাস পরে তাঁর উপকারের প্রতিদান দেওয়ার সুযোগ পান এবং প্রত্যুপকারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
একবার লালু সামনে ছুটে যাচ্ছে, একবার পিছনে, একবার ডাইনে, একবার বাঁয়ে। সবুজ চোখগুলো যেন আমার চারদিকে ঘিরে ঘিরে লুকোচুরি খেলছে, আর লালু আমাকে বাঁচাচ্ছে সেই রাশি-রাশি ধারালো দাঁতের অন্ধ আদিম হিংসা থেকে।...
তিন মাস পড়ে থাকতে হয়েছিল আমাকে। বুকের পাঁজরার দুটো হাড় ভেঙে গিয়েছিল, খুলে গিয়েছিল বাঁ হাঁটুর জোড়াটা। তবু তার মধ্যে কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে বলেছিলুম, কেন মারলে- লালুকে কেন মারলে তুমি?

ক. কে ডেমাস্কাসে গিয়ে বিপদে পড়েছিলেন?
খ. ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদ এলাকায় জগদীশ্বরের শুভদৃষ্টি থাকার কথা বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোথায় বৈসাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ.“"উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

ক. আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসে গিয়ে বিপদে পড়েছিলেন।
খ. ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদ এলাকায় জগদীশ্বরের শুভদৃষ্টি থাকার কথা আলী ইবনে আব্বাস বলেছেন একবার সেখানে তার প্রাণরক্ষা হয়েছিল বলে।
➠ অনেক আগে আলী ইবনে আব্বাস একবার বিপদগ্রস্ত হয়ে ডেমাস্কাসের যে অংশে বৃহৎ মসজিদ আছে সেখানকার এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে আশ্রয় লাভ করে জীবন লক্ষা করেন। অনেক দিন পরে এক লোককে আলী ইবনে আব্বাস খলিফার সামনে অপরাধীরূপে পান। লোকটিকে চিনতে না পেরে তিনি তাঁর জন্মস্থান জানতে চাইলেন। লোকটি তখন জানান যে তিনি ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। তখন আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞতায় এবং ওই স্থানে তার প্রাণ রক্ষা হওয়ায় জদীশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন সেই স্থানে তাঁর শুভদৃষ্টি থাকে।
সারকথা: ডেমাস্কাসের বৃহৎ মসজিদ এলাকার মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের প্রতিদান দেওয়ার দিক থেকে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ অনেক সময় কেউ উপকার করলে তা দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে উপকারীর মর্ম বোঝা যায় না। পরে তার উপকারের কথা মনে হলে আক্ষেপ করতে হয়। সারা জীবন বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় কষ্টের বোঝা।
➠ উদ্দীপকের লালু নামে একটি ঘোড়া গল্পকথককে পশুদের হিংস্রতার হাত থেকে বাঁচায়। গল্পকথকের বাবা ভুল বুঝে লালুকে মেরে ফেলে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাসকে অনেক আগে এক সম্ভ্রান্ত লোক তার জীবন রক্ষায় আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। সেই লোকটিকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় সামনে পেয়ে আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন এবং তাঁকে সাহায্য করেন। উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের সহযোগিতার বিষয়টি উপস্থিত। কিন্তু প্রতিদানের দিক থেকে অমিল দেখা যায়। সুতরাং উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মধ্যে প্রতিদানের দিক থেকে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকে উপকার করার পরেও ঘোড়াটি যথাযথ প্রতিদান পায়নি। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস তার সাহায্যকারী লোকটিকে যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ মানুষ মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের পাশাপাশি আমরা অনেক সময় পশুদেরও দেখি মানুষকে সাহায্য করতে। উপকারকারী মানুষই হোক আর পশুই হোক না কেন, যথাযথ প্রতিদান তার প্রাপ্য।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, লালু হিংস্র প্রাণীদের কবল থেকে গল্পকথককে উদ্ধার করেছে। কিন্তু পরে তার বাবা লালুকে হত্যা করেছে। এখানে লালু যথাযথ প্রতিদান পায়নি। অপরদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস অনেকদিন আগে যাঁর আশ্রয় পেয়ে নিজের জীবন রক্ষা করতে পেরেছিলেন, পরে তাঁরই বিপদে তিনি এগিয়ে এসেছেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন। এখানে উপকারী লোকটি তাঁর যথাযথ প্রতিদান পেয়েছেন।
➠ উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের দুই জায়গাতেই সাহায্য করার দিক থেকে মিল পরিলক্ষিত হলেও উপকারকারীরা সমান প্রতিদান পায়নি। উদ্দীপকে সাহায্যকারী ঘোড়াটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস সহযোগিতাকারীকে তাঁর বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি।
সারকথা: উদ্দীপকে ঘোড়াটি উপকার করে প্রতিদান পায়নি। কিন্তু ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের লোকটি উপকার করে প্রতিদান পেয়েছেন। এখানেই উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রবিন আজ অনেক বড় ব্যবসায়ী। টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি কোনোকিছুর অভাব নেই। একমাত্র অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসায় সে এগিয়ে না গিয়ে নিশ্চুপ বসে থাকে। ভুলে যায় ভাইয়ের অবদানের কথা। এই ভাই তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল একদিন।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি ‘আখ্যানমঞ্জরী’র কোন ভাগ থেকে সংকলন করা হয়েছে?
খ. আশ্রয়দাতার কথা আলী ইবনে আব্বাস ভুলতে পারেননি কেন?
গ. উদ্দীপকের রবিনের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
ঘ. "উদ্দীপকের রবিন এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস পরস্পরের বিপরীত।"- মন্তব্যটি যাচাই কর।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি ‘আখ্যানমঞ্জরী’র দ্বিতীয় ভাগ থেকে সংকলন করা হয়েছে।
খ. আশ্রয়দাতা আলী ইবনে আব্বাসের জীবন বাঁচিয়েছিলেন বলে তাঁর কথা তিনি ভুলতে পারেননি।
➠ ডেমাস্কাসে পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্য দ্বারা আক্রমণের শিকার হলে আলী ইবনে আব্বাস প্রাণভয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে। প্রায় এক মাস তিনি নিরাপদে এবং নির্ভয়ে সেখানে অবস্থান করেছিলেন। স্বদেশে ফিরে আসার সময়ও তিনি আশ্রয়দাতার কাছ থেকে অনেক সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছিলেন। এ কারণেই আশ্রয়দাতার কথা আলী ইবনে আব্বাস ভুলতে পারেননি।
সারকথা: মানুষের অবদানের কথা কখনো ভোলা যায় না। আলী ইবনে আব্বার্সও ভোলেননি সেই আশ্রয়দাতার কথা, যার কারণে তার জীবন রক্ষা পেয়েছিল।

গ. উদ্দীপকের রবিনের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রের অনেক বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
➠ মানুষ মানুষের দ্বারা উপকৃত হয়। আর উপকারীর উপকারের কথা স্বীকার করাই মনুষ্যত্বের লক্ষণ। যারা উপকারের কথা অস্বীকার করে তারা মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে। এই শ্রেণির মানুষ পশুরও অধম।
➠ উদ্দীপকের রবিনের মাঝে মানবতাবোধ অনুপস্থিত। সে তার অসুস্থ ভাইয়ের প্রয়োজনে নিশ্চুপ থেকেছে। সে ভাইয়ের অবদানের কথা ভুলে গেছে। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা ভাইয়ের অবদান ভুলে গিয়ে রবিন অকৃতজ্ঞের পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে প্রচন্ড মানবতাবোধসম্পন্ন একজন কৃতজ্ঞ মানুষের পরিচয় পাওয়া যায়, যার নাম আলী ইবনে আব্বাস। যে ব্যক্তি তার জীবন বাঁচিয়েছিলেন আলী ইবনে আব্বাস তাঁর অবদানের কথা স্বীকার করে তাঁর উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি নিঃস্বার্থ উপকারী সেই ব্যক্তির জন্য নিজের জীবন বাজি পর্যন্ত রেখেছেন। মূলত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিচারে উদ্দীপকের রবিনের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: মানুষ মানুষের মনে স্থান করে নেয় তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে। আলী ইবনে আব্বাসের সঙ্গে উদ্দীপকের রবিন চরিত্রের পার্থক্য হলো একজন কৃতজ্ঞ আর অন্যজন অকৃতজ্ঞ।

ঘ. "উদ্দীপকের রবিন এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস পরস্পরের বিপরীত।"- মন্তব্যটি সত্য।
➠ মানবজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মনুষ্যত্ব। যার মাঝে মনুষ্যত্ব নেই সে জীবনে সুখের দেখা পায় না। অন্যের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ এবং মানবজনমের সার্থকতা।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস অন্যতম প্রধান চরিত্র। তিনি একজন কৃতজ্ঞ মানুষ। মনুষ্যত্বের বহিঃপ্রকাশ তার চরিত্রে লক্ষ করা যায়। একবার নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি আশ্রয় নেন ডেমাস্কাসের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে। সেই ব্যক্তির উদার চিত্তের কারণে তার জীবন রক্ষা হয়। সেই অবদানের কথা বহু বছর পার হয়ে গেলেও আলী ইবনে আব্বাস ভোলেননি। সেই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সংকটময় মুহূর্তে আলী ইবনে আব্বাস নিজের জীবন বাজি রেখে তাঁর উপকার করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের রবিন চরিত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। রবিন তার ভাইয়ের উপকারের কথা ভুলে গিয়ে ভাইয়ের প্রয়োজনে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে, যা রবিনের চরিত্রে অকৃতজ্ঞতার ছাপ স্পষ্ট করে।
➠ আলী ইবনে আব্বাস তার আশ্রয়দাতা ব্যক্তির জন্য জীবনের ঝুঁকি গ্রহণ করেছেন। উপকারীর উপকার করার প্রবণতা তার চরিত্রে বিদ্যমান। অথচ উদ্দীপকের রবিন চরিত্রের মাঝে এই বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সত্য।
সারকথা: ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস উপকারীর প্রতি-উপকার করেন। তিনি মনুষ্যত্বের ধারক। অন্যদিকে উদ্দীপকের রবিন অকৃতজ্ঞ। সে মানবতা বিবর্জিত। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সত্য।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
তারপর চেয়ে আসমান পানে বৃদ্ধ কহিল- “বাপ।
শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ।
এতদিন পরে তোর হত্যার লইলাম প্রতিশোধ,
খুনের নেশায় আর করিব না আখেরের পথরোধ।”

ক. আলী ইবনে আব্বাস কোন খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন?
খ. আলী ইবনে আব্বাস হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

ক. আলী ইবনে আব্বাস বাগদাদের খলিফা আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ আল মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন।
খ. আলী ইবনে আব্বাস খলিফার আদেশে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন যাতে বন্দি লোকটি পালিয়ে গিয়ে তাকে কোনো বিপদে ফেলতে না পারে।
➠ আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র ছিলেন। খলিফার আদেশ পেয়ে হাত-পা বাঁধা ব্যক্তিকে আলী ইবনে আব্বাস তার বাড়িতে নিয়ে যান। বন্দি ব্যক্তি যাতে পালিয়ে না যায় এবং খলিফার আদেশ যাতে অমান্য না হয় সে কারণেই আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তিকে সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন। কারণ ওই ব্যক্তি পালিয়ে গেলে তাঁকে খলিফার কোপের মুখে পড়তে হবে।
সারকথা: আলী ইবনে আব্বাস খলিফার ভয়ে এবং নিজের বিপদ যাতে না হয় সেজন্য অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করেছিলেন।

গ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের খলিফা মামুনের ক্ষমার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে পৃথিবীতে অনেকেই প্রশংসিত হয়েছেন। প্রতিশোধস্পৃহা দমিয়ে রেখে ক্ষমার মাধ্যমেই মহত্ত্ব প্রকাশিত হয়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের এক ব্যক্তিকে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছিলেন খলিফা মামুন। দুষ্টমতি দুরাচারদের কথা বিশ্বাস করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সত্য জানার পর মহামতি ও উন্নতচিত্তের অধিকারী খলিফা মামুনের নির্দেশে ওই ব্যক্তি প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। এতে খলিফা ক্ষমার সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
উদ্দীপকেও ক্ষমার এক মহান দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়। পুত্র হত্যাকারীকে কাছে পেয়েও তাকে ক্ষমা করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। প্রতিশোধস্পৃহা বিসর্জন দিয়ে জনৈক পিতা তার পুত্র হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেন। এজন্যই ক্ষমা প্রদানের মহত্ত্বের দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সারকথা: উদ্দীপকে প্রতিফলিত ক্ষমার বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের খলিফা মামুনের ক্ষমার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. "উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষের বড় গুণ। মানুষ জীবনে চলার পথে অনেকের দ্বারা উপকৃত হয়। যারা উপকার করে তাদের প্রতি মানুষের সব সময় কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি। দামেস্কে গিয়ে আলী ইবনে আব্বাস বিপদে পড়লে স্থানীয় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে তিনি আশ্রয়লাভ করেন। পরবর্তীকালে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিটি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন এবং খলিফার নির্দেশে আলী ইবনে আব্বাসের গৃহেই তাকে রাখা হয়। আলী ইবনে আব্বাস তখন উপকারকারী ওই ব্যক্তির যে প্রতিকার করেন সেটিই আলোচ্য গল্পের মূল বিষয়। এদিকে উদ্দীপকে যে বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে সেটি গল্পের খলিফা মামুনের ক্ষমাশীলতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ উদ্দীপকে ফুটে ওঠা খলিফা মামুনের ক্ষমাশীলতার দিকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিক মাত্র। গল্পের মূল বিষয় হলো আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি, যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়। এ দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে কেবল খলিফা মামুনের ক্ষমাশীলতার দিকটির প্রকাশ ঘটেছে। গল্পের মূল বিষয় প্রতি-উপকারের কাহিনি, যার কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
গ্রামের প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের চাকর রফিক। বন্যাকবলিত মানুষদের সাহায্যের জন্য ত্রাণসামগ্রী এলে চেয়ারম্যান সেগুলো মজুদ করে রাখেন। এ বিষয়টি রফিক জানার পরে গ্রামের মানুষদের সব বলে দিতে চায়। তখন চেয়ারম্যান রফিককে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তারপরও রফিক সত্য প্রকাশে বিরত হয় না। সে ভাবে, প্রাণ গেলেও জনগণের অধিকার আমি ক্ষুণ্ণ হতে দেব না। সত্যের পথ থেকে আমি বিচলিত হব না। তারপর সে গ্রামবাসীকে সব বলে দেয় এবং সবাইকে নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।

ক. আলী ইবনে আব্বাস কত দিন জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির গৃহে আশ্রয় নিয়েছিলেন?
খ. "এ জন্য পৃথিবীতে যত স্থান আছে ঐ স্থান আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয়"- উক্তিটি আলী ইবনে আব্বাস কেন করেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের রফিকের সঙ্গে আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব ধারণ করতে পারেনি।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

ক. আলী ইবনে আব্বাস এক মাস জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির গৃহে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
খ. উক্তিটি আলী ইবনে আব্বাস আশ্রয়দাতা ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ অর্থে করেছিলেন।
➠ আলী ইবনে আব্বাস জীবন বাঁচানোর জন্য ডেমাস্কাসের এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই ব্যক্তি তাকে নিরাপদে আশ্রয় দিয়ে তার জীবন রক্ষা করেন। দীর্ঘ এক মাস তিনি সেই ব্যক্তির আশ্রয়ে ছিলেন। বিদায়ের সময় আশ্রয়দাতার অন্যান্য সহযোগিতায় মুগ্ধ হন আলী ইবনে আব্বাস। আর সে কারণেই তিনি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।
সারকথা: জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নেওয়া স্থানটি আলী ইবনে আব্বাসের কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

গ. সত্য প্রকাশের দিক থেকে রফিকের সঙ্গে আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ সত্যের শির সদা উন্নত। যারা মিথ্যার সঙ্গে আপস না করে সত্য প্রকাশ করে তারাই প্রকৃত ব্যক্তিত্ববান। এ ধরনের মানুষ সত্য' প্রকাশের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত নেয়।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ সকৃতজ্ঞ প্রতি-উপকারের আখ্যান। এ রচনায় দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাসের কাছে খলিফা মামুন এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে রাখেন। বন্দি লোকটি হলো সেই ব্যক্তি যিনি আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণরক্ষা করেছিলেন। ঘটনাক্রমে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন বন্দি লোকটির কোনো দোষ নেই। তিনি অন্য কারও হিংসার শিকার। তখন আলী ইবনে আব্বাস নিজের বিপদ হতে পারে জেনেও খলিফা মামুনের কাছে ওই বন্দি সম্পর্কিত সব সত্য প্রকাশ করেন। এদিকে উদ্দীপকে রফিকের মধ্যেও একই চরিত্রের প্রকাশ দেখা যায়। চেয়ারম্যানের রোষানলে পড়বে জেনেও সে জনগণের অধিকারের পক্ষে থাকে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও সে চেয়ারম্যানের কুকীর্তির কথা প্রকাশে তৎপর হয়। মূলত সত্য প্রকাশের এই দিক থেকে আলী ইবনে আব্বাস ও উদ্দীপকের রফিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকের রফিক এবং আলী ইবনে আব্বাস দুজনই সত্যের পক্ষে। মূলত এ দিকটিই সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. "উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব ধারণ করতে পারেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ সমাজে বসবাস করতে হলে সবার সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকতে হয়। আর সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব তখনই বজায় থাকে যখন মানুষের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ থাকে। কৃতজ্ঞতাবোধ সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম উপায়।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ সকৃতজ্ঞ প্রতি-উপকারের আখ্যান। গল্পে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস দামেস্কে গিয়ে বিপদে পড়েন। তখন সম্ভ্রান্ত এক ব্যক্তি তাঁকে আশ্রয় দান করেন এবং তাঁর জীবন বাঁচান। ঘটনাক্রমে সেই ব্যক্তি বাগদাদের খলিফা মামুনের রোষানলে পড়ে বন্দি হন এবং তাঁকে আলী ইবনে আব্বাসের জিম্মায় রাখা হয়। প্রসঙ্গক্রমে আলী ইবনে আব্বাস তাঁকে চিনতে পারেন আর জানতে পারেন যে তিনি নির্দোষ। তখন আলী ইবনে আব্বাস খলিফা মামুনের কাছে বন্দি ব্যক্তির ব্যাপারে সব কথা প্রকাশ করেন। বন্দির উপকারী মনোভাবের কথা জানতে পেরে খলিফা মামুন তাঁকে সসম্মানে দামেস্কে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। মূলত আলোচ্য গল্পে প্রতি-উপকার, মহানুভবতা, সত্য প্রকাশে ভয়হীনচিত্ত এসব বিষয় উঠে এসেছে। এদিকে উদ্দীপকে কেবল সত্য প্রকাশ ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার দিকটি উঠে এসেছে।
➠ উদ্দীপকের রফিক অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি এবং সত্য প্রকাশে বিচলিত হয়নি, যা আলী ইবনে আব্বাসের সত্য প্রকাশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর গল্পের যে মূল সকৃতজ্ঞ প্রতি-উপকার তার কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে প্রতি-উপকারের কোনো ইঙ্গিত নেই। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ইমনের বাসায় প্রচণ্ড অসুস্থ অবস্থায় এক বৃদ্ধ ব্যক্তি আশ্রয় গ্রহণ করে। ইমন বৃদ্ধের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সেবার মাধ্যমে বৃদ্ধ অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। বিদায়ের সময় ইমন তার যাতায়াতের খরচসহ অনেক টাকা তার হাতে তুলে দেন। বৃদ্ধ চলে যাওয়ার পর ইমন ভাবে অতীতের কথা। বৃদ্ধ ইমনকে চিনতে পারেননি। কিন্তু ইমনের মনে পড়ে বাবার মৃত্যুর পর তার দেওয়া অর্থেই সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। আজ তার সেবায় প্রসন্ন হয় ইমনের মন।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের লেখক কে?
খ. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সেই ব্যক্তি প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের ইমনের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতা থেকে দূরে থেকেছেন ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস ও উদ্দীপকের ইমন।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের লেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
খ. আলী ইবনে আব্বাসের সাহসী পদক্ষেপ এবং উন্নতচিত্তের অধিকারী মহামতি খলিফার ন্যায়পরায়ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সেই ব্যক্তি প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেলেন।
➠ নীচ প্রকৃতির পরহিংসুক দুরাত্মা কিছু মানুষ ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে ডেমাস্কাস নিবাসী ও আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতা ব্যক্তিকে খলিফার কাছে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করে। কিন্তু আলী ইবনে আব্বাসের সাহসী পদক্ষেপে খলিফা তাঁর সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। আলী ইবনে আব্বাস সেই ব্যক্তির চারিত্রিক মহত্ত্বের দিকটি খলিফার সামনে উপস্থাপন করেন। এসব দিকের বিবেচনায় খলিফার ন্যায়পরায়ণ সিদ্ধান্তে সেই ব্যক্তি প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পান।
সারকথা: সেই ব্যক্তি তাঁর চারিত্রিক মহৎ গুণের মধ্য দিয়ে খলিফার প্রীতিপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং প্রাণদণ্ড থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন।

গ. উদ্দীপকের ইমনের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো উভয়ই কৃতজ্ঞচিত্তে উপকারীর উপকারের কথা স্মরণ করেছেন।
➠ মানুষকে ভালোবেসে মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে প্রীতি, ভালোবাসা, সেবা ও কল্যাণের মাধ্যমেই মহত্ত্ব অর্জন করা যায়। মানুষের মঙ্গলের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করে সেই প্রকৃত মানুষ। অন্যের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিলে তবেই মানবজীবন সার্থক হয়।
➠ উদ্দীপকের ইমনের মাঝে উপকারীর উপকার স্বীকার করার বিষয়টি সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ইমন তার বাড়িতে আশ্রিত ব্যক্তির উপকারের কথা না ভুলে প্রয়োজনে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কৃতজ্ঞচিত্তে নিজেকে নিবেদিত করেছেন তার প্রয়োজনে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের কাজেও উপকারীর উপকার স্বীকার করে দামেস্ক অধিবাসী সেই ব্যক্তির জন্য নিবেদিত হওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। আলী ইবনে আব্বাস জীবন বাঁচাতে সেই ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই ব্যক্তির প্রয়োজনে নিজের জীবন বাজি রাখতেও তিনি কুণ্ঠিত হননি। এভাবেই উদ্দীপকের ইমন ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস উভয়ের চরিত্রে উপকারের প্রতি-উপকার করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
সারকথা: উপকারীর অবদান ভুলে না গিয়ে নিজেকে নিবেদিত করার বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের পাশাপাশি উদ্দীপকের ইমনের মাঝেও দেখা যায়।

ঘ. “আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতা থেকে দূরে থেকেছেন ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস ও উদ্দীপকের ইমন।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ স্বার্থপর ব্যক্তি সমাজের সকলের কাছে ঘৃণিত হয়। আন্তকেন্দ্রিকতা মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। তাই আমাদের উচিত পরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। সর্বদা মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকলে জীবন সার্থক হয়।
➠ উদ্দীপকের ইমন আশ্রিত বৃদ্ধের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত না থেকে ইমন বৃদ্ধের সেবার দিকটির প্রতি প্রাধান্য দিয়েছেন। ইমন একদিন তার উপকারের জন্যই লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন। তাই বৃদ্ধের প্রয়োজনে পাশে থাকতে পেরে ইমন আজ প্রসন্ন। 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাস স্বার্থপরতাকে দূরে রেখে আশ্রয়দাতা সেই ব্যক্তির জন্য জীবন বাজি পর্যন্ত রেখেছেন। আত্মকেন্দ্রিকতা পরিহার করে তিনি উপকারের প্রতিদান দিয়েছেন প্রসন্ন চিত্তে। আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির মুক্তির জন্য খলিফার কাছে সুপারিশ করেন। পরবর্তী সময়ে সেই ব্যক্তির মহানুভবতার পরিচয় জানার পর খলিফা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড থেকে অব্যাহতি দেন।
➠ উদ্দীপকের ইমনের কর্মকাণ্ডে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। উপকারীর উপকারের কথা স্মরণ করে ইমন তার প্রতিদান দিয়েছেন। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মাঝেও কৃতজ্ঞতা পরিলক্ষিত হয়। জীবন বাঁচানোর প্রতিদানস্বরূপ তিনি তাঁর জীবন বাঁচিয়েছেন। উভয়ের মধ্যে পরার্থপরতা ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: জীবনের সংকটময় মুহূর্তে যাঁরা এগিয়ে আসেন তাঁদের কথা মানুষ ভোলে না। আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতা দূরে রেখে প্রত্যুপকারে নিয়োজিত থেকেছেন উদ্দীপকের ইমন ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাজন সাহেব একবার অনেক টাকা নিয়ে রাতে শহর থেকে ফিরছিলেন। তিনি রাস্তায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। এক রিকশাওয়ালা সেদিন তাকে ছিতনাইকারীর কবল থেকে রক্ষা করেন। অনেক দিন পরে সড়ক দুর্ঘটনায় ওই রিকশাওয়ালার রিকশা ভেঙে যেতে দেখলে রাজন সাহেব তাকে চিনতে পারেন। তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান এবং সেবাযত্ন করেন। তাকে নতুন রিকশা এবং কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করে নিজের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।

ক. বন্দি লোকটির বাস ডেমাস্কাসের কোন অংশে?
খ. আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার বর্ণনা দাও।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি কোন দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের রাজন সাহেব ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের প্রতিচ্ছবি।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

ক. ডেমাস্কাসের যে অংশে বড় মসজিদ আছে সেখানে বন্দি লোকটির বাস।
খ. আলী ইবনে আব্বাস আশ্রয়দাতার বাড়ি ছেড়ে বাগদাদে যাওয়ার সময় অবাক হয়ে যান।
➠ আলী ইবনে আব্বাস অনেক দিন আগে বিপদে পড়ে সম্ভ্রান্ত এক লোকের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ফেরার সময় আব্বাসের কাছে কোনো টাকা পয়সা ছিল না। আশ্রয়দাতা বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রথমে চুপ করে থাকেন। পরে তাকে যাওয়ার জন্য একটি সাজানো ঘোড়া, আর একটি ঘোড়ার পিঠে খাবার সাজিয়ে দেন। সঙ্গে একজন ভৃত্যকে পাঠিয়ে দেন এবং এক থলি স্বর্ণমুদ্রা দেন। যাত্রাপথে যেন কোনো অসুবিধা না হয় তার জন্য তাঁর অনেক পরিচিত জনের সঙ্গে আলী ইবনে আব্বাসকে আলাপ করিয়ে দেন।
সারকথা: সম্ভ্রান্ত লোকটি আব্বাসকে অনেক সহযোগিতা করে তার বাসস্থানে নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে পাঠিয়ে দেন।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি উপকারের প্রতি-উপকার করার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ যিনি বিপদে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান, তিনিই প্রকৃত মানুষ। এ ধরনের মানুষ কখনই অন্যের ক্ষতি করে না। এদের চিত্ত থাকে কৃতজ্ঞতায় পরিপূর্ণ। এরা যেমন অপরের উপকার করে তেমনই প্রতি-উপকারও করে।
➠ উদ্দীপকে রাজন সাহেব ছিনতাইকারীদের কবলে পড়লে রিকশাওয়ালা নিজের কথা না ভেবে তাকে রক্ষা করেছেন। পরবর্তী সময়ে রাজন সাহেব নিজের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে রিকশাওয়ালার প্রতি নিজের কর্তব্য পালন করেন। অন্যদিকে 'প্রত্যুপকার' গল্পের আলী ইবনে আব্বাসকে উপকারীর উপকারস্বরূপ নিজের জীবন বাজি রাখতে দেখা যায়। অনেক দিন পরে হলেও আব্বাস উপকারের কথা ভুলে যাননি। উদ্দীপকে এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দুজনকেই উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে দেখা যায়। তাই তাঁদের মধ্যে প্রতি-উপকার করার বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দুজনই উপকারীকে ভুলে যাননি। সাহায্য ও সাহায্যকারীর কথা মনে রেখে তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন।

ঘ. "উদ্দীপকের রাজন সাহেব ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের প্রতিচ্ছবি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ কৃতজ্ঞতা মানুষের অন্যতম গুণ। চলার পথে আমরা একজন আরেকজনের দ্বারা উপকৃত হই। যারা আমাদের উপকার করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। সুযোগ হলে প্রতি-উপকার করা উচিত। তবেই আমরা যথার্থ মানুষ হতে পারব।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজন সাহেব অনেক টাকা নিয়ে রাতে ফেরার সময় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। এ সময় এক রিকশাওয়ালা তার প্রাণ রক্ষা করেন এবং বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। পরে সেই রিকশাওয়ালা বিপদে পড়লে রাজন সাহেবও তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস বিপদে পড়লে ডেমাস্কাসের এক লোক তাকে আশ্রয় এবং টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেন। অনেক দিন পরে ওই লোকটিকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দেখে তাঁকে খলিফার কাছে নিরপরাধ প্রমাণ করেন।
➠ উদ্দীপকে রাজন সাহেব অনেক দিন পরে হলেও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাসও অনেক দিন পর তার জীবনরক্ষাকারী ব্যক্তিকে কাছে পেয়ে তাঁর উপকার করেছেন। এদিক বিচারে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রাজন সাহেব ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের প্রতিচ্ছবি।
সারকথা: উদ্দীপকের রাজন সাহেব এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস উভয়ের মধ্যেই কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ পেয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সকলের মুখ হাসি ভরা দেখে
পার না মুছিতে নয়ন ধার?
পরহিত ব্রতে পার না রাখিতে
চাপিয়া আপন বিষাদ-ভার?

ক. 'অভিরুচি' শব্দের অর্থ?'
খ. আলী ইবনে আব্বাস জনৈক ব্যক্তির কাছে প্রাণরক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকটির মাঝে ফুটে ওঠা দিকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটিই ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সামগ্রিক দিক নয়- মন্তব্যটির সত্যতা যাচাই কর।

ক. 'অভিরুচি' শব্দের অর্থ ইচ্ছা।
খ. আলী ইবনে আব্বাস পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য জনৈক ব্যক্তির কাছে প্রাণরক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন।
➠ ডেমাস্কাসের পদচ্যুত শাসনকর্তা বহুসংখ্যক সৈন্য নিয়ে আলী ইবনে আব্বাসকে আক্রমণ করেছিলেন। প্রাণভয়ে তিনি এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় চেয়ে প্রাণরক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি তাঁর প্রার্থনাবাক্য শুনে তাকে নির্ভয়ে নিজ ঘরে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন। এতে আলী ইবনে আব্বাস প্রাণে বেঁচে যান।
সারকথা: সৈন্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে প্রাণরক্ষার প্রার্থনা করেছিলেন।

গ. উদ্দীপকটির মাঝে ফুটে ওঠা পরোপকারের দিকটি 'প্রত্যুপকার' গল্পে প্রতিফলিত অন্যের উপকারের বিষয়টির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ মানুষ শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য পৃথিবীতে আসেনি। অন্যের জন্য কাজ করার মধ্যে জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। অন্যের জন্য মঙ্গলচিন্তা নিজের প্রশান্তির জন্য গুরুত্ব বহন করে।
➠ উদ্দীপকে নিজের জন্য না ভেবে অন্যের জন্য কল্যাণচিন্তার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। নিজেকে অন্যের প্রয়োজনে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই মহানুভবতা প্রকাশ পায়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসের পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্যদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সেখানকার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। ওই ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দিয়ে পরের জন্য উপকারের দিকটির প্রতিফলন ঘটান। ওই ব্যক্তির জন্য আলী আব্বাসের জীবন রক্ষা পায়। এভাবেই পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার বিষয়টি উদ্দীপকের পাশাপাশি আলোচ্য গল্পেও ফুটে উঠেছে।
সারকথা: ডেমাস্কাসের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসের জীবন বাঁচিয়ে পরহিত বা পরোপকার করেছেন। এই ভাবধারাই উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটিই ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সামগ্রিক দিক নয়- মন্তব্যটি সত্য।
➠ মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসায় মানবতাবাদী চেতনা প্রকাশিত হয়। ক্ষমা ও মানবতাবাদী চেতনা মানবমৈত্রী সৃষ্টিতে মানুষের মাঝে অনুপ্রেরণা সঞ্চারণ করে। পৃথিবী হয়ে ওঠে আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয়।
➠ উদ্দীপকটিতে পরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। নিজের দুঃখকে পেছনে রেখে অন্যের সুখের জন্য কাজ করার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ অন্যের মুখ হাসি-ভরা দেখেই সুখের সন্ধান লাভ করা যায়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রত্যুপকারের কাহিনি প্রতিফলিত হয়েছে। এক ব্যক্তির আশ্রয় পেয়ে জীবন রক্ষা করার দিকটি এখানে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষা করেন। খলিফা মামুনের মহত্ত্বের বর্ণনাও গল্পে পরিলক্ষিত হয়।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে অপরের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার বিষয়টি উদ্দীপকের সঙ্গে মিলে যায়। তবে উক্ত বিষয়টি গল্পের একটি উল্লেখযোগ্য দিকমাত্র, সমগ্র বিষয় নয়। আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি-উপকারের কাহিনি এবং খলিফা মামুনের মহত্ত্বের বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূল, যার কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বার্তার দিকটি রয়েছে। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে সত্য।
সারকথা: উদ্দীপকের প্রতিফলিত পরোপকারী মনোভাবটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে একীভূত। তবে ‘প্রত্যুপকার’র গল্পের উপকারীর প্রতি উপকার এবং ক্ষমার মহত্ত্বও আছে, যা উদ্দীপকে নেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
চুরির অভিযোগে কিছুলোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করল। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে আমজাদ জানতে পারলেন, বন্দি ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে গিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ কী?
খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়’- বিশ্লেষণ কর।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ উপকারীর উপকার করা।
খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন- বন্দি লোকটির পরোপকারের কথা শুনে তাঁর প্রতিবিধান ভাবনায়।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে ডেমাস্কাসবাসী এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ঈর্ষাবশত দোষারোপের শিকার হয়ে খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। খলিফা মামুন তাঁকে আলী ইবনে আব্বাসের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। কথা প্রসঙ্গে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন এই বন্দি ব্যক্তিই তাঁর প্রাণরক্ষাকারী আশ্রয়দাতা। তিনি তাঁকে শৃঙ্খলমুক্ত করে পালিয়ে যেতে বললেন। তখন ওই ব্যক্তি আলী ইবনে আব্বাসকে বিপদে ফেলে চলে যেতে রাজি হলেন না। পরদিন এসব ঘটনা আলী ইবনে আব্বাস সবিস্তারে দরবারে উপস্থাপন করলে খলিফা মামুন বন্দির প্রতি ন্যায়বিচারের ভাবনায় কিছুক্ষণ মৌন হয়ে থাকেন।
সারকথা: সব ঘটনা শুনে বন্দি ব্যক্তির কী বিচার করবেন তা ভাবতে গিয়ে খলিফা কিছুক্ষণ মৌন হয়ে রইলেন।

গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের ডেমাস্কাসবাসী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বন্দি হওয়ার ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
➠ মানুষ কখনো একা চলতে পারে না। জীবনে চলার পথে বিপদের সম্মুখীন হলে মানুষ মানুষের দ্বারা উপকৃত হয়। মানুষের উচিত উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। উপকারের প্রতি উপকার করার সুযোগ খোঁজা।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ রচনাটি আলী আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি-উপকারের কাহিনি। খলিফা মামুনের প্রিয়পাত্র আলী আব্বাস। তিনি ডেমাস্কাসে একবার পদচ্যুত শাসনকর্তা দ্বারা আক্রমণের শিকার হন। তখন আলী ইবনে আব্বাস সম্ভ্রান্ত এক ব্যক্তির কাছে আশ্রয়লাভ করেন। ঘটনাক্রমে আশ্রয়দাতা সেই ব্যক্তি খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হন। আর আলী ইবনে আব্বাসের গৃহেই তাঁকে রাখা হয়। তারপর আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন যে ব্যক্তি তার উপকার করেছিলেন তিনিই তার ঘরে বন্দি। উদ্দীপকেও এমন এক বিষয় দেখা যায়। উদ্দীপকের আমজাদের বাসায় বন্দি ব্যক্তিটি দশ বছর আগে তার সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল। যে উপকার করে তাকেই নিজের কাছে বন্দি করে রাখতে হয়- এ ঘটনাটি 'প্রত্যুপকার' গল্পের ডেমাস্কাসবাসী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির খলিফা মামুনের সৈন্যদল কর্তৃক বন্দি হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
সারকথা: উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের ডেমাস্কাসবাসী সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বন্দি হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঘ. 'আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়'- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ অকৃতজ্ঞ লোক অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুবিধাবাদী লোকেরা বিপদের সময় কারও সাহায্যে এগিয়ে আসে না। এমনকি বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি তার বিরাট উপকার করে থাকলেও তার প্রতিদান দিতে চায় না।
➠ উদ্দীপকে একজন অকৃতজ্ঞ ব্যক্তির কথা এবং পরোপকারী এক ব্যক্তির চুরির অভিযোগে আটক হওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের ব্যক্তি একসময় আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। আমজাদ তা জেনেও তাকে মুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা করেনি। অন্যদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস বন্দি ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় পেয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে তাঁর উপকারের কথা স্বীকার করেছেন এবং নিজের জীবন বাজি রেখে তাঁকে মুক্ত করে দিতে চেয়েছেন। এই দিক থেকে তারা দুজন পরস্পর বিপরীত চরিত্রের মানুষ। এখানে আমজাদ চৌকিদার অকৃতজ্ঞ ও স্বার্থপর আর আলী ইবনে আব্বাস কৃতজ্ঞ ও নিঃস্বার্থ পরোপকারী।
➠ ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস উপকারীর উপকার স্বীকারকারীদের সার্থক প্রতিনিধি। তিনি উপকারী ব্যক্তির ঋণ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন এবং তাঁর মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের আমজাদ চৌকিদার অকৃতজ্ঞ মানুষের প্রতিনিধি। সে উপকারীর স্বীকার করেনি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকের আমজাদ চৌকিদার অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্বারা উপকৃত হলেও তার প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি। অন্যদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস তার আশ্রয়দাতার ঋণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেছেন এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে মুক্ত করতে চেয়েছেন।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মারাঠা বীর সেনারা বুন্দেলখণ্ডের পরাজয় নিশ্চিত জেনে তাদেরকে সাহায্য করতে যুদ্ধে যোগদান করে। একপর্যায়ে বিপক্ষ দলের একজন মারাঠা সেনাপ্রধানকে পেছন থেকে আক্রমণ করতে আসে। এমন সময় বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যা সেনাপ্রধানের জীবন বাঁচান। সেনাপ্রধান রাজকন্যাকে ধন্যবাদ জানালে রাজকন্যা বলেন, আপনার জন্য আমরা যুদ্ধ জয় করতে পেরেছি, আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আপনার জীবন বাঁচাতে আমাদের প্রত্যেকের জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত।

ক. আলী ইবনে আব্বাস বিপদে পড়ে কোথায় লুকিয়ে ছিলেন?
খ. কীভাবে আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা পায়?
গ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে কি? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

ক. আলী ইবনে আব্বাস বিপদে পড়ে ডেমাস্কাসে লুকিয়ে ছিলেন।
খ. ডেমাস্কাসের এক সম্ভ্রান্ত লোকের সহযোগিতায় আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা পায়।
➠ আব্বাস অনেকদিন আগে ডেমাস্কাসে গিয়ে বিপদে পড়েন। সেখানে তার প্রাণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। তিনি কোনো রকমে এক বাড়িতে গিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষার্থে আকুতি-মিনতি করেন। তারপরে বাড়ির মালিক তাকে অত্যন্ত নিরাপদে এক মাস সেই বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এমনকি আব্বাসকে অত্যন্ত সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাগদাদ অর্থাৎ আব্বাসের জন্মস্থানে পাঠিয়ে দেন। এভাবেই আলী ইবনে আব্বাসের প্রাণ রক্ষা পায়।
সারকথা: : আলী ইবনে আব্বাস পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্য দ্বারা আক্রমণের শিকার হলে ডেমাস্কাসের অপরিচিত এক লোকের সহযোগিতায়। তার প্রাণ রক্ষা পায়।

গ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সঙ্গে উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ মানুষ অন্য কারও দ্বারা উপকৃত হলে সারা জীবন সেই উপকার মনে রাখে। প্রয়োজনের সময় সেই ব্যক্তির সার্বিক মঙ্গল ও উপকার করার চেষ্টা করে। এটিই হলো উপকারীর প্রতি প্রতিদান দেওয়া।
➠ উদ্দীপকে বুন্দেলখণ্ডের যুদ্ধে মারাঠা সেনাপ্রধান নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুন্দেলখণ্ডকে সাহায্য করতে যান। যুদ্ধের একপর্যায়ে তাঁর প্রতি আক্রমণ হলে বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যা তাঁর প্রাণ বাঁচান। কারণ তিনি তাদেরকে বাঁচাতে এসেই বিপদের মুখে পতিত হয়েছেন। এখানে বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যার কৃতজ্ঞতার প্রকাশ দেখা যায়। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পেও আমরা আলী ইবনে আব্বাসের চরিত্রে এরূপ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার নিদর্শন দেখতে পাই। তাই উদ্দীপক ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মধ্যে উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকে মারাঠা সেনাপ্রধানের প্রতি রাজকন্যার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। একইভাবে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পেও উপকারীর প্রতি আলী, ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে বেঁচে থাকতে হলে তাকে মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে বাঁচতে হয়। আর তাই মানুষই মানুষের, সবচেয়ে বড় বন্ধু।
➠ উদ্দীপকে বুন্দেলখণ্ডের যুদ্ধে মারাঠা সেনাপ্রধান বুন্দেলখণ্ডকে সহযোগিতা করতে গেলে তাঁর প্রাণ বিপদের মুখে পতিত হয়। সেই সময় বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যা তাঁর জীবন বাঁচান। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের জীবন রক্ষাকারী ব্যক্তি খলিফার সামনে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপিত হলে আব্বাস নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকটিকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং বাঁচান।
➠ উদ্দীপকে মারাঠা সেনাপ্রধানকে বাঁচানোর মধ্য দিয়ে বুন্দেলখণ্ডের রাজকন্যার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। অপরদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী আব্বাসের জীবন রক্ষাকারীকে বাঁচানোর মধ্য দিয়ে আলী ইবনে আব্বাসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং প্রতি-উপকার করা আলোচ্য গল্পের মূলভাব। এ বিষয়টির ইঙ্গিত উদ্দীপকেও রয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপক ও গল্পে উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের মূলভাব প্রতিফলিত হয়েছে।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বাবা আমাদের চোখের সামনে পর পর দুটি গুলি করে কুকুরটিকে মারলেন। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম বাবা দুঃখে বেদনায় কুঁকড়ে উঠেছেন। তবু শান্ত গলায় বললেন, যে আমার ছেলের জীবন রক্ষা করেছে তাকে আমি গুলি করে মারলাম।

ক. অভিযুক্ত লোকটির জন্মস্থান কোথায়?
খ. আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসে কেন এক মাস অবস্থান করেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বৈসাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উপকারের দিক থেকে এক হলেও প্রতিদানের দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি আলাদা।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

ক. অভিযুক্ত লোকটির জন্মস্থান ডেমাস্কাসে।
খ. আলী ইজ্বনে আব্বাস নিজের প্রাণ রক্ষা করার জন্য ডেমাস্কাসে এক মাস অবস্থান করেছিলেন।
➠ আলী ইবনে আবাস অনেক আগে ডেমাস্কাসে গেলে পদচ্যুত শাসনকর্তার সৈন্যদলের আক্রমণে প্রাণশঙ্কায় পড়ে যান। তখন সেখানে এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে গিয়ে তিনি সাহায্য প্রার্থনা করেন। সেই লোকটি তাকে আশ্রয় দেন এবং তিনি এক মাস ওই স্থানে নিরাপদে থাকেন। তারপর সম্ভ্রান্ত সেই লোক আলী ইবনে আব্বাসকে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। মূলত আলী ইবনে আব্বাস নিজের প্রাণ রক্ষার জন্য বাধ্য হয়েই ডেমাস্কাসে অবস্থান করেছিলেন।
সারকথা: আলী ইবনে আব্বাস নিজের প্রাণ রক্ষা করার জন্য ডেমাস্কাসে এক মাস অবস্থান করেছিলেন।

গ. জীবন রক্ষাকারীর পরিণতির দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ মানুষের উপকার করেও অনেক সময় পরিস্থিতির শিকার হয়ে উপকারী যথাযোগ্য মর্যাদা পান না। এরূপ পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নিষ্ঠুর। পৃথিবীতে উপকারীর উপকার স্বীকার করার অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি কুকুর এক ব্যক্তির ছেলের প্রাণ বাঁচায়। কিন্তু কোনো এক কারণে ওই কুকুরটিকে ব্যক্তিটি হত্যা করেন। পরে তিনি নিজেই মর্মাহত হৃদয়ে আক্ষেপ করেছেন তার সন্তানের প্রাণরক্ষাকারীকে গুলি করেছেন বলে। ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে দেখা যায়, আলী ইবনে আব্বাস একসময় যাঁর কাছে আশ্রয় পেয়ে জীবন রক্ষা করেছিলেন তাঁকে তিনি যথার্থ সময়ে সঠিক প্রতিদান দিয়েছেন। তাঁকে হত্যা বা অসম্মান করেননি। তাই উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের উপকারীর পরিণতির দিক দিয়ে অমিল রয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকের উপকারী কুকুরটিকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সাহায্যকারী লোকটিকে সাহায্য করা হয়েছে। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য গল্পের বৈসাদৃশ্য।

ঘ. "উপকারের দিক থেকে এক হলেও প্রতিদানের দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি আলাদা।" মন্তব্যটি সঠিক।
➠ যে উপকারীর উপকার করে সেই জগতে নন্দিত। উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ উপকারভোগীর নৈতিক দায়িত্ব। তারপরও অনেক সময় উপকার করলেও প্রতিদান হিসেবে উপকারী সমান মর্যাদা পায় না।
➠ উদ্দীপকে কুকুরটি যে ব্যক্তির ছেলের জীবন বাঁচিয়েছে, তিনি কুকুরটিকে গুলি করে মেরে ফেলেন। পরে তিনি অনুতপ্ত হন। কিন্তু কুকুরটির উপকারের মর্যাদা তাকে দেওয়া হয়নি। অপরদিকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পে যে লোকটি আলী ইবনে আব্বাসকে সহযোগিতা। করেছিলেন, আলী ইবনে আব্বাস তাঁকে সঠিক সময়ে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন। তার প্রাণ রক্ষাকারীর প্রাণ পরবর্তী সময়ে তিনিই রক্ষা করেছেন।
➠ উদ্দীপকে কুকুরটিকে প্রতিদান দেওয়া হয়নি, বরং মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস নিজের প্রাণ বাজি রেখে লোকটির উপকার করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে কুকুরের যে পরিণতি হয়েছে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের লোকটির সে পরিণতি হয়নি। সুতরাং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সঠিক।
সারকথা: উদ্দীপকে যে উপকার করে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে আর 'প্রত্যুপকার' গল্পে যে লোকটি প্রাণ বাঁচায় প্রতি-উপকার হিসেবে তারও প্রাণ রক্ষা করা হয়েছে। এখানেই গল্পের সঙ্গে উদ্দীপকের প্রতিদানের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নীলফামারী সদরের কুন্দপুকুর ইউনিয়নের মনসাপাড়া গ্রামের সালমান ফারাজি। যে কারো বিপদাপদে তিনি প্রথমে এগিয়ে যেতেন। একদিন সকালে ট্রেন আসতে দেখে রেললাইনের উপর খেলতে থাকা তিন শিশুকে রক্ষায় ঝাঁপ দিলে তিন শিশুর সঙ্গে তাঁরও মৃত্যু হয়।
(সূত্র: প্রথম আলো, ৮ ডিসেম্বর ২০২১।

ক. বাংলা গদ্যের জনক কাকে বলা হয়?
খ. ‘তোমা হইতেই তাহার প্রাণরক্ষা হইল’ উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? বর্ণনা করো।
ঘ. “নিজের জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের সালমান ফারাজি ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস যেন একই সুতোয় গাঁথা।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
২. গাছ মানুষের বন্ধু। গাছ নানাভাবে আমাদের উপকার করে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, অক্সিজেন, ওষুধ ইত্যাদি আমরা গাছ থেকে পাই। কিন্তু দিনের পর দিন গাছ কেটে পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছি আমরা। এছাড়া গাছের পাতা ছিঁড়ে, ডালপালা ভেঙে, পেরেক মেরে গাছের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। (সূত্র: জাগো নিউজ, ২৭ মে ২০২৩/

ক. আলী ইবনে আব্বাস কোন দেশের লোক ছিলেন?
খ. আলী ইবনে আব্বাস কেন প্রাণভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন?
গ. উদ্দীপকের গাছের সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতার সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. উদ্দীপকটি কি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সামগ্রিক মূলভাব ধারণ করে? তোমার মতামতের ভিত্তিতে যুক্তি প্রদান করো।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সংসার মাঝে দুয়েকটি সুর
রেখে দিয়ে যাব করিয়া মধুর,
দুয়েকটি কাঁটা করি দিব দূর
তার পরে ছুটি নিব!

ক. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
খ. ‘তুমি যে এরূপ প্রকৃতির লোক, তাহা আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না’- কে, কোন প্রসঙ্গে বলেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের কাঁটা দূর করে দেওয়ার বিষয়টির সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের কবিতাংশের ভাবার্থের সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার চিন্তার মিল পাওয়া যায়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল,
গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান,
কাষ্ঠ দগ্ধ হয়ে করে পরে অন্নদান,
স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত,
বংশী করে নিজ স্বরে অপরে মোহিত,
শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জলধরে,
সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের খলিফার নাম কী?
খ. ‘ধর্মাবতার, ঐ ব্যক্তির বিষয়ে আমার কিছু বক্তব্য আছে।’ কেন এবং কার বক্তব্য আছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কাঠের আগুনে পুড়ে অন্যের খাদ্য সংস্থান করার সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের বন্দিকে মুক্ত করে দিতে চাওয়ার যে সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের স্বার্থ বড়ো করে দেখার যে প্রবণতার কথা উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে তা-ই আমরা ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আশ্রয়দাতা এবং আলী ইবনে আব্বাস উভয়ের চরিত্রে দেখতে পাই।” মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

ক. ডেমাস্কাসের বর্তমান নাম কী?
খ. আশ্রয়দাতার বাড়ি থেকে প্রস্থানের দিন আলী ইবনে আব্বাস কেন বিস্ময়াপন্ন হয়েছিলেন?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সমগ্র ভাবকে ধারণ করতে পেরেছে কি? তোমার মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দাও।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
চুরির অভিযোগে কিছুলোক জনৈক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যানের ইউনিয়ন পরিষদে হাজির করল। ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি চৌকিদার আমজাদকে ডেকে নির্দেশ দিলেন বন্দিকে তার বাড়িতে রাখতে। ঘটনাক্রমে আমজাদ জানতে পারলেন, বন্দি ব্যক্তি আর কেউ নয়, সে দশ বছর আগে আমজাদের সন্তানকে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়েছিল, নিজ গৃহে নিয়ে গিয়ে আহত সন্তানের সেবা করেছিল। কিন্তু আমজাদ নিজের ক্ষতি হবে ভেবে না চেনার ভান করে চুপ করে রইল।

ক. ‘প্রত্যুপকার’ শব্দের অর্থ কী?
খ. খলিফা মামুন কিছুক্ষণ মৌন হয়ে ছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের বন্দির ঘটনা প্রত্যুপকার গল্পের কোন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘আমজাদ ও আলী ইবনে আব্বাস উভয়ই বন্দি কর্তৃক উপকৃত হলেও এরা একরকম নয়’- বিশ্লেষণ করো।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
তারপর চেয়ে আসমান পানে বৃদ্ধ কহিল- “বাপ।
শত্রুরে তোর তলোয়ার তলে পেয়েও করিনু মাফ।
এতদিন পরে তোর হত্যার লইলাম প্রতিশোধ,
খুনের নেশায় আর করিব না আখেরের পথ রোধ।”

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালের মৃত্যুবরণ করেন?
খ. আব্বাস কেন ডেমাস্কাসে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মঙ্গল কামনা করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত বিষয়টি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের একটি বিশেষ দিককে প্রতিফলিত করেছে মাত্র, মূল বিষয় নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সাদিক একজন সবজি বিক্রেতা। সবজি বিক্রি করে যে আয় হয় তাতেই তার সংসারের খরচ চলে। সাদিকের পাশের বাড়িতেই থাকেন একজন দরিদ্র বৃদ্ধা। সাদিকের নিজের অর্থ কম থাকলেও তিনি বৃদ্ধার খোঁজ নেন। কখনো তার বাড়ি থেকে খাবার পাঠান বৃদ্ধার জন্য। সাদিকের ধারণা কোনো ভালো কাজই বৃথা যায় না। সাদিকের মতে, অর্থের প্রাচুর্য নয় বরং আমাদের ইচ্ছাই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর সেবা করার জন্য সবচেয়ে জরুরি।

ক. ‘প্রতীতি’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘কিন্তু তৎকালে কিছু না বলিয়া মৌনাবলম্বন করিয়া রহিলেন’-কে, কেন মৌনাবলম্বন করেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের সাদিকের সাথে আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার সাদৃশ্যের বর্ণনা দাও।
ঘ. ‘প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের সাদিক এবং আলী ইবনে আব্বাসের আশ্রয়দাতার চিন্তা-চেতনা একই রকম।’- উদ্দীপক এবং ‘প্রত্যুপকার’ গল্প অবলম্বনে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


‘প্রত্যুপকার’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সমতট জনকল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগ ও সদস্যদের সহযোগিতায় গতকাল তুলাতুলি গ্রামে দুইশো অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়। দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করা মানুষগুলো সহযোগিতা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সাহায্য নিতে আসা এক বৃদ্ধা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরে পেট ভরে খেতে পারিনি, আপনাদের এই খাবারগুলো পেয়ে খুবই আনন্দিত।’

ক. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
খ. আলী ইবনে আব্বাস প্রস্থান দিবসে বিস্ময়াপন্ন হয়েছিলেন কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের বৃদ্ধা ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাসের মাঝে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও তারা হুবহু একইরকম নয়।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url