আমার পথ- কাজী নজরুল ইসলাম

আমার পথ
আমার পথ

আমার পথ
কাজী নজরুল ইসলাম

‘আমার এই যাত্রা হল শুরু
ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার।’

‘মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে’ ‘জয় প্রলয়ঙ্কর’ বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা-শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি-নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়-লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না। যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়। আমার বিশ্বাস, যে নিজেকে চেনে, তার আর কাউকে চিনতে বাকি থাকে না। অতএব যে মিথ্যাকে চেনে, সে মিছামিছি তাকে ভয়ও করে না। যার মনে মিথ্যা, সে-ই মিথ্যাকে ভয় করে। নিজকে চিনলে মানুষের মনে আপনা-আপনি এত বড় একটা জোর আসে যে, সে আপন সত্য ছাড়া আর কারুক্খে কুর্নিশ করে না-অর্থাৎ -কেউ তাকে ভয় দেখিয়ে পদানত রাখতে পারে না। এই যে নিজকে চেনা আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথ-প্রদর্শক কাণ্ডারি বলে জানা, এটা দম্ভ নয়, অহঙ্কার নয়। এটা আত্মকে চেনার সহজ স্বীকারোক্তি। আর যদিই এটাকে কেউ ভুল করে অহঙ্কার বলে মনে করেন, তবু এটা মন্দের ভালো-অর্থাৎ মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। অনেক সময় খুব বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয়। ওতে মানুষকে ক্রমেই ছোট করে ফেলে, মাথা নীচু করে আনে। ও রকম মেয়েলি বিনয়ের চেয়ে অহঙ্কারের পৌরুষ অনেক-অনেক ভালো।
অতএব এই অভিশাপ-রথের সারথির স্পষ্ট কথা বলাটাকে কেউ যেন অহঙ্কার বা স্পর্ধা বলে ভুল না করেন।

স্পষ্ট কথা বলায় একটা অবিনয় নিশ্চয় থাকে; কিন্তু তাতে কষ্ট পাওয়াটা দুর্বলতা। নিজকে চিনলে, নিজের সত্যকেই নিজের কর্ণধার মনে জানলে নিজের শক্তির উপর অটুট বিশ্বাস আসে। এই স্বাবলম্বন, এই নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস করতেই শিখাচ্ছিলেন মহাত্মা গান্ধীজী। কিন্তু আমরা তাঁর কথা বুঝলাম না, 'আমি আছি' এই কথা না বলে সবাই বলতে লাগলাম, 'গান্ধীজী আছেন।' এই পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেললে। একেই বলে সবচেয়ে বড় দাসত্ব। অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কি করে? আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেই দিনই আমরা স্বাধীন হব, তার আগে কিছুতেই নয়। নিজে নিষ্ক্রিয় থেকে অন্য একজন মহাপুরুষকে প্রাণপণে ভক্তি করলেই যদি দেশ উদ্ধার হয়ে যেত, তা হলে এই তেত্রিশ কোটি দেবতার দেশ এতদিন পরাধীন থাকত না। আত্মকে চেনা নিজের সত্যকে নিজের ভগবান মনে করার দম্ভ-আর যাই হোক, ভণ্ডামি নয়। এ-দন্ততে শির উঁচু করে, পুরুষ করে, মনে একটা 'ডোন্ট কেয়ার'-ভাব আনে। আর যাদের এই তথাকথিত দম্ভ আছে, শুধু তারাই অসাধ্য সাধন করতে পারবে।

এ-‘ধূমকেতু’ ঝগড়া-বিবাদ আনবে না, তবে প্রলয় যদিই আনে, তা হলে সেটার জন্যে দায়ী ধূমকেতুর দেবতা, সারথি নয়। এ-দেশের নাড়িতে-নাড়িতে অস্থি-মজ্জায় যে পচন ধরেছে, তাতে এর একেবারে ধ্বংস না হলে নতুন জাত গড়ে উঠবে না। যার ভিত্তি পচে গেছে, তাকে একদম উপড়ে ফেলে নতুন করে ভিত্তি না গাঁথলে তার ওপর ইমারত যতবার খাড়া করা যাবে, ততবারই তা পড়ে যাবে। প্রলয় আনার যে দুর্দম অসম-সাহসিকতা, ‘ধূমকেতু’ যদি তা না আনতে পারে, তবে তাতে অমঙ্গলের চেয়ে মঙ্গলই আনবে বেশি।
দেশের যারা শত্রু, দেশের যা-কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে ‘ধূমকেতু’ হবে আগুনের সম্মার্জনা। ‘ধূমকেতু’র এমন গুরু বা এমন বিধাতা কেউ নেই, যার খাতিরে সে সত্যকে অস্বীকার করে কারুর মিথ্যা বা ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেবে। ‘ধূমকেতু’ সে-দাসত্ব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। ‘ধূমকেতু’ কোনো দিনই কারুর বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেবে না, যদি তার সত্যতা প্রাণে তার সাড়া না দেয়। না বুঝে বোঝার ভণ্ডামি করে পাঁচ জনের শ্রদ্ধা আর প্রশংসা পাবার লোভ ‘ধূমকেতু’ কোন দিনই করবে না।

ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়েই তবে সত্যকে পাওয়া যায়। কোন ভুল করছি বুঝতে পারলেই আমি প্রাণ খুলে তা স্বীকার করে নেবো। কিন্তু না বুঝেও নয়, ভয়েও নয়। ভুল করছি বা করেছি বুঝেও শুধু জেদের খাতিরে বা গোঁ বজায় রাখবার জন্যে ভুলটাকে ধরে থাকব না। তা হলে ‘ধূমকেতু’র আগুন সেই দিনই নিবে যাবে। একমাত্র মিথ্যার জলই ‘ধূমকেতু’-শিখাকে নিবাতে পারবে। তা ছাড়া ধূমকেতুকে কেউ নিবাতে পারবে না।

‘ধূমকেতু’ কোন সাম্প্রদায়িক কাগজ নয়। মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু- মুসলমানের মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোনখানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য। মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল, আদত সত্যের মিল, সেখানে ধর্মের বৈষম্য, কোনো হিংসার দুশমনির ভাব আনে না। যার নিজের ধর্মে বিশ্বাস আছে, যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনো অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।

...দেশের পক্ষে যা মঙ্গলকর বা সত্য, শুধু তাই লক্ষ্য করে এই আগুনের ঝাণ্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হলাম।

‘জয় প্রলয়ঙ্কর’

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ :
‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের সুবিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে। এখানে, মূল প্রবন্ধটি উপস্থাপন করা হলো। লাল চিহ্নিত লাইনগুলো একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের সংকলনের সময় বাদ দেওয়া হয়েছে।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা :
➠ কর্ণধার- নেতৃত্ব প্রদানের সামর্থ্য আছে এমন ব্যক্তি।
➠ কুর্নিশ- অভিবাদন; সম্মান প্রদর্শন।
➠ অভিশাপ-রথের সারথি- সমাজের নিয়ম পাল্টাতে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয়, সমাজরক্ষকদের আক্রমণের শিকার হতে হয়। এ কথা জেনেও নজরুল তাঁর বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি অভিশাপ হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। নিজেই বসেছেন রথচালক তথা সারথির আসনে।
➠ মেকির- মিথ্যা; কপট।
➠ সম্মার্জনা- ঘষে-মেজে পরিষ্কার করা।
➠ আগুনের ঝান্ডা- অগ্নিপতাকা; আগুনে সব শুদ্ধ করে নিম্নে সত্যের পথে ওড়ানো নিশান।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি :
‘আমার পথ’ প্রবন্ধে নজরুল এমন এক ‘আমি’র আবাহন প্রত্যাশা করেছেন যার পথ সত্যের পথ; সত্য প্রকাশে তিনি নির্ভীক অসংকোচ। তাঁর এই ‘আমি’-ভাবনা বিন্দুতে সিন্ধুর উচ্ছ্বাস জাগায়। নজরুল প্রতিটি মানুষকে পূর্ণ এক 'আমি'র সীমায় ব্যাপ্ত করতে চেয়েছেন; একইসঙ্গে, এক মানুষকে আরেক মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে 'আমরা' হয়ে উঠতে চেয়েছেন। স্বনির্ধারিত এই জীবন-সংকল্পকে তিনি তাঁর মতো আরও যারা সত্যপথের পথিক হতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশে ছড়িয়ে দিতে চান। এই সত্যের উপলব্ধি কবির প্রাণপ্রাচুর্যের উৎসবিন্দু। তিনি তাই অনায়াসে বলতে পারেন, 'আমার কর্ণধার আমি। আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।' রুদ্র-তেজে মিথ্যার ভয়কে জয় করে সত্যের আলোয় নিজেকে চিনে নিতে সাহায্য করে নজরুলের এই 'আমি' সত্তা। তাঁর পথনির্দেশক সত্য অবিনয়কে মেনে নিতে পারে কিন্তু অন্যায়কে সহ্য করে না। সমাজ ও সমকাল পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রাবন্ধিক দেখেছেন যে, সুস্পষ্টভাবে নিজের বিশ্বাস আর সত্যকে প্রকাশ করতে না জানলে তৈরি হয় পরনির্ভরতা, আহত হয় আমাদের ব্যক্তিত্ব। নজরুলের কাছে এই ভগ্ন আত্মবিশ্বাসের গ্লানি গ্রহণযোগ্য নয়। এর পরিবর্তে তিনি প্রয়োজনে দাম্ভিক হতে চান; কেননা তাঁর বিশ্বাস- সত্যের দম্ভ যাদের মধ্যে রয়েছে তাদের পক্ষেই কেবল অসাধ্য সাধন করা সম্ভব।
কাজী নজরুল ইসলাম এই প্রবন্ধে দেখিয়েছেন যে, তিনি ভুল করতে রাজি আছেন কিন্তু ভণ্ডামি করতে প্রস্তুত নন। ভুল জেনেও তাকে ঠিক বলে চালিয়ে দেবার কপটতা কিংবা জেদ তাঁর দৃষ্টিতে ভণ্ডামি। এই ভুল ব্যক্তির হতে পারে, সমাজের হতে পারে কিংবা হতে পারে কোনো প্রকার বিশ্বাসের। তবে তা যারই হোক আর যেমনই হোক এর থেকে বেরিয়ে আসাই নজরুলের একান্ত প্রত্যাশা। তিনি জানেন, এই বেরিয়ে আসা সম্ভব হলেই মানুষের সঙ্গে মানুষের প্রাণের সম্মিলন ঘটানো সম্ভব হবে। মনুষ্যত্ববোধে জাগ্রত হতে পারলেই ধর্মের সত্য উন্মোচিত হবে, এক ধর্মের সঙ্গে অপর ধর্মের বিরোধ মিটে যাবে। সম্ভব হবে গোটা মানব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা; আর এই ঐক্যের মূল শক্তি হলো সম্প্রীতি। এই সম্প্রীতির বন্ধন শক্তিশালী হলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা বাড়ে। ভিন্ন ধর্ম-মত-পথের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগে। আর এই সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট মানব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি :
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে মে (১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মায়ের নাম জাহেদা খাতুন।
সত্য প্রকাশের দুরন্ত সাহস নিয়ে নজরুল আমৃত্যু সকল অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার, প্রতিবাদী। এজন্য বাংলা সাহিত্যের ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। আবার একই সঙ্গে কোমল দরদি মন নিয়ে ব্যথিত বঞ্চিত মানুষের পাশে থেকেছেন তিনি। এক হাতে বাঁশি আরেক হাতে রণতূর্য নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন নজরুল; আর এসেই প্রচলিত শিল্পধারাসমূহকে পাল্টে দিয়ে নতুন বিষয় ও নতুন শব্দে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে করেছেন সমৃদ্ধতর। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া নজরুলের কর্মজীবনও ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। মসজিদের ইমামতি, লেটোর দলে যোগদান, ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগদান, সাম্যবাদী ধারার রাজনীতি, পত্রিকা সম্পাদনা কিংবা চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়াসহ বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতায় তাঁর জীবন ছিল পূর্ণ। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ায় এই ঋদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জীবন আমৃত্যু নির্বাক হয়ে যায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে সসম্মানে এদেশে বরণ করে নেওয়া হয়। এর কিছুকাল পরে কবির মৃত্যু হলে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাধিস্থ করা হয়। কবি হলেও সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও তিনি বিচরণ করেছেন। তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে- বাঁধনহারা, মৃত্যু-ক্ষুধা, কুহেলিকা এবং গল্পগ্রন্থের মধ্যে- ব্যথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলিমালা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যুগ-বাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রুদ্র-মঙ্গল, রাজবন্দির জবানবন্দি তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ।
কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে আগস্ট (১২ই ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
➠ লেখক পরিচিতি
১. কাজী নজরুল ইসলাম কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: বর্ধমান জেলায়।
২. কাজী নজরুল ইসলাম যে গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, তার নাম কী?
উত্তর: চুরুলিয়া।
৩. কাজী নজরুল ইসলাম কোন মহকুমায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আসানসোল।
৪. কাজী নজরুল ইসলাম কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে।
৫. কাজী নজরুল ইসলাম খ্রিষ্টীয় কোন মাসের কোন তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: মে মাসের ২৫ তারিখ।
৬. কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ১৩০৬ বঙ্গাব্দে
৭. কাজী নজরুল ইসলাম বঙ্গীয় কোন মাসের কোন তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: জ্যৈষ্ঠ মাসের ১১ তারিখ।
৮. কাজী নজরুল ইসলামের পিতার নাম কী?
উত্তর: কাজী ফকির আহমেদ।
৯. কাজী নজরুল ইসলামের মাতার নাম কী?
উত্তর: জাহেদা খাতুন।
১০. বাংলা সাহিত্যে নজরুল কী কবি হিসেবে পরিচিত?
উত্তর: বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত।
১১. কাজী নজরুল ইসলাম কিসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন?
উত্তর: অন্যায় ও শোষণের।
১২. বাংলা সাহিত্যের কোন কবি মসজিদের ইমামতি করেছেন?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম।
১৩. নজরুল কিসের দলে যোগ দেন?
উত্তর: লেটোর দলে। ১২ বছর বয়সে।
১৪. নজরুল কত খ্রিষ্টাব্দে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন?
উত্তর: ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে।
১৫. নজরুল সেনাবাহিনীর কোন পল্টনে যোগদান করেন?
উত্তর: বাঙালি পল্টনে।
১৬. নজরুল কত বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হন?
উত্তর: তেতাল্লিশ বছর বয়সে।
১৭. কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থগুলোর নাম লেখো।
উত্তর: অগ্নি-বীণা, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, সাম্যবাদী, ফণি-মনসা, জিঞ্জির, সন্ধ্যা, দোলনচাঁপা, ছায়ানট, চক্রবাক, পুবের হাওয়া, মরুভাস্কর, ঝিঙেফুল ইত্যাদি।
১৮. নজরুলের উপন্যাসগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা, কুহেলিকা।
১৯. কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস কোনটি?
উত্তর: বাঁধনহারা।
২০. বাংলা সাহিত্যে প্রথম পত্রোপন্যাস রচয়িতা কে?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম।
২১. কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থগুলোর নাম লেখো।
উত্তর: ব্যাথার দান, রিক্তের বেদন, শিউলি মালা, পদ্মগোখরা, জিনের বাদশা।
২২. নজরুলের নাটকগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: ঝিলিমিলি, আলেয়া, পুতুলের বিয়ে, মধুমালা।
২৩. নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থগুলোর নাম লেখো।
উত্তর: যুগ-বাণী, দুর্দিনের যাত্রী, রুদ্র-মঙ্গল, রাজবন্দির জবানবন্দি।
২৪. কাজী নজরুল ইসলামের অনুবাদ কাব্যগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: রুবাইয়াত-ই-হাফিজ ও রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম।
২৫. কাজী নজরুল ইসলামের গানের সংকলনগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: চোখের চাতক, নজরুল গীতি, গানের মালা, নজরুল স্বরলিপি, গীতিশতদল, সুরমুকুর, চন্দ্রবিন্দু ইত্যাদি।
২৬. কাজী নজরুল ইসলামের বাজেয়াপ্ত হওয়া গানের বই?
উত্তর: চন্দ্রবিন্দু।
২৭. নজরুল সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম লেখ।
উত্তর: ধূমকেতু, লাঙ্গল, দৈনিক নবযুগ।
২৮. নজরুল কোন সাহিত্য সৃষ্টি রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন?
উত্তর: সঞ্চিতা।
২৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন সাহিত্যসৃষ্টি নজরুলের নামে উৎসর্গ করেন?
উত্তর: বসন্ত।
৩০. কোন রচনার জন্য নজরুলকে কারাভোগ করতে হয়?
উত্তর: ‘আনন্দময়ীর আগমনে’র জন্য। ‘ধূমকেতু’র পূজা সংখ্যায় (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে নজরুলকে গ্রেফতার করা হয়।
৩১. কত তারিখে নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়?
উত্তর: ১৮ই ফ্রেব্রুয়ারি, ১৯৭৬
৩২. কত সালে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেয়া হয়?
উত্তর: ১৯৭৪ সালে।
৩৩. কত সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় নজরুলকে ডি. লিট. ডিগ্রি প্রদান করে?
উত্তর: ১৯৭৪ সালে।
৩৪. নজরুলের প্রথম প্রকাশিত রচনা কোনটি?
উত্তর: প্রথম প্রকাশিত রচনা একটি গল্প। নাম: ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’ (সওগাতে প্রকাশিত হয় ১৩২৬ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসে)।
৩৫. নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: ব্যথার দান (ফেব্রুয়ারি ১৯২২)
৩৬. নজরুলের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম কী?
উত্তর: ‘মুক্তি’ (প্রকাশ: শ্রাবণ ১৩২৬, বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা।)
৩৭. নজরুলের প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: ‘অগ্নি-বীণা’ প্রকাশ ১৯২২ খ্রি.।
৩৮. কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তর: ‘অগ্নি-বীণা’।
৩৯. ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর: সাপ্তাহিক বিজলী।
৪০. নজরুলের ‘ধূমকেত’ পত্রিকায় কার বাণী ছাপা হয় এবং বাণীটি কী?
উত্তর: রবীন্দ্রনাথের এবং বাণীটি হলো: ‘আয় চলে আয়, রে ধূমকেতু/আঁধারে বাধ অগ্নি- সেতু’।
৪১. নজরুলকে জাতীয়ভাবে প্রথম কোথায় এবং কত সালে সংবর্ধনা দেয়া হয়?
উত্তর: ১৯২৯ সালের ১৫ই ডিসেম্বর কলকাতার আলবার্ট হলে।

➠ মূলপাঠ
৪২. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রবন্ধিকের কর্ণধার কে?
উত্তর: প্রাবন্ধিক নিজেই নিজের কর্ণধার।
৪৩. প্রাবন্ধিককে কে পথ দেখাবে?
উত্তর: প্রাবন্ধিকের সত্যই প্রাবন্ধিককে পথ দেখাবে।
৪৪. প্রাবন্ধিক কাকে সালাম ও নমস্কার জানাচ্ছেন?
উত্তর: সত্যকে।
৪৫. প্রাবন্ধিক সত্যকে কী করছেন?
উত্তর: সালাম ও নমস্কার জানাচ্ছেন।
৪৬. প্রাবন্ধিকের কাছে কোন পথ বিপথ?
উত্তর: সত্যের বিরোধী পথ।
৪৭. কী প্রাবন্ধিককে বিপথে নিয়ে যেতে পারবে না?
উত্তর: রাজভয়- লোকভয়।
৪৮. সত্যকে সত্যি করে চিনলে কী হয়?
উত্তর: বাইরের কোনো ভয় কিছু করতে পারে না।
৪৯. বাইরে কে ভয় পায়?
উত্তর: যার ভিতরে ভয়।
৫০. কে মিথ্যাকে মিছামিছি ভয় করে না?
উত্তর: যে মিথ্যাকে চিনেছে।
৫১. কে মিথ্যাকে ভয় করে?
উত্তর: যার মনে মিথ্যা।
৫২. নিজেকে চিনলে মানুষ আপন সত্য ছাড়া আর কাউকে কী করে না?
উত্তর: কুর্নিশ করে না।
৫৩. আপন সত্য ছাড়া মানুষ আর কাউকে কখন কুর্নিশ করে না?
উত্তর: নিজেকে চিনলে।
৫৪. মানুষের মনে কখন জোর আসে?
উত্তর: যখন সে নিজেকে চিনতে পারে।
৫৫. মানুষকে কখন ভয় দেখিয়ে পদানত করে রাখা যায় না?
উত্তর: যখন মানুষ নিজেকে চিনতে পারে।
৫৬. প্রাবন্ধিকের গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি কে?
উত্তর: নিজের সত্য।
৫৭. প্রাবন্ধিকের মতে কোনটা অহংকার নয়?
উত্তর: আপন সত্যকে গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি ভাবা।
৫৮. কবির মতে মিথ্যা বিনয়ের চেয়ে কোনটি ভালো?
উত্তর: অহংকারের পৌরুষ ভালো।
৫৯. অনেক সময় মানুষ বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে কী করে ফেলে?
উত্তর: নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলে।
৬০. প্রাবন্ধিকের মতে কোনটি মানুষকে ছোট করে ফেলে?
উত্তর: অতিরিক্ত বিনয়।
৬১. প্রাবন্ধিক নিজেকে কিসের সারথি দাবি করেছেন?
উত্তর: অভিশাপ রথের সারথি।
৬২. কখন নিজের শক্তির উপর অটুট বিশ্বাস আসে?
উত্তর: নিজেকে চিনলে এবং নিজের সত্যকে কর্ণধার হিসেবে মানলে।
৬৩. স্বাবলম্বন বা নিজের উপর অটুট বিশ্বাস রাখতে কে শেখাচ্ছিলেন?
উত্তর: মহাত্মা গান্ধী।
৬৪. গান্ধীজি আমাদের কী শেখাচ্ছিলেন?
উত্তর: স্বাবলম্বন বা নিজের উপর অটুট বিশ্বাস রাখতে।
৬৫. ‘আমি আছি’ না বলে আমরা কী বলতে লাগলাম? উত্তর: ‘গান্ধিজী আছেন’।
৬৬. প্রাবন্ধিকের মতে স্বাবলম্বন কী?
উত্তর: নিজের উপর অটুট বিশ্বাসই স্বাবলম্বন।
৬৭. কী আমাদের নিষ্ক্রিয় করে ফেলে?
উত্তর: পরাবলম্বন।
৬৮. প্রাবন্ধিকের মতে সবচেয়ে বড় দাসত্ব কী?
উত্তর: পরাবলম্বন।
৬৯. বাইরের গোলমি থেকে কারা রেহাই পায় না?
উত্তর: অন্তরে যাদের গোলামির ভাব।
৭০. প্রাবন্ধিকের মতে আত্মনির্ভরতা কখন আসে?
উত্তর: আত্মাকে চিনলে।
৭১. প্রাবন্ধিকের মতে আমরা কখন স্বাধীন হবো?
উত্তর: যখন আত্মনির্ভরতা আসবে।
৭২. প্রাবন্ধিকের মতে কোনটি ভণ্ডামি নয়?
উত্তর: নিজের সত্যকে বড় মনে করা।
৭৩. প্রাবন্ধিকের মতে কারা অসাধ্য সাধন করতে পারে?
উত্তর: যাদের নিজের সত্যকে বড় মনে করার দম্ভ আছে।
৭৪. প্রাবন্ধিকের মতে কাকে উপড়ে ফেলতে হবে?
উত্তর: যার ভিত্তি পচে গেছে।
৭৫. কী জন্য আগুনের সম্মার্জনা প্রয়োজন?
উত্তর: দেশের শত্রু, মিথ্যা, ভণ্ডামি আর মেকি দূর করতে।
৭৬. দেশের শত্রু দূর করতে কী প্রয়োজন?
উত্তর: আগুনের সম্মার্জনা।
৭৭. কাজী নজরুল ইসলামের মতে দেশের শত্রু কারা?
উত্তর: যাদের মধ্যে মিথ্যার বেসাতি।
৭৮. প্রাবন্ধিক কখনো কাকে প্রশ্রয় দেবে না?
উত্তর: মিথ্যাকে।
৭৯. প্রাবন্ধিকের মতে সত্যকে কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর: ভুলের মধ্য দিয়ে।
৮০. প্রাবন্ধিকের মতে আগুন কখন নিভে যাবে?
উত্তর: ভুলটাকে ধরে রাখলে।
৮১. প্রাবন্ধিকের মতে সবচেয়ে বড় ধর্ম কী?
উত্তর: মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম।
৮২. প্রাবন্ধিকের পথের অন্যতম উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: হিন্দু-মুসলামানের মিলন।
৮৩. ধর্মের বৈষম্য কোথায় হিংসার দুশমনির ভাব আনতে পারে না?
উত্তর: মানুষে মানুষে যেখানে প্রাণের মিল।
৮৪. কে অন্যের ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না?
উত্তর: নিজের ধর্মের প্রতি যার বিশ্বাস আছে।
৮৫. প্রাবন্ধিক কী লক্ষ্য করে আগুনের ঝাণ্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হয়েছেন?
উত্তর: দেশের জন্য যা মঙ্গলকর বা সত্য তা লক্ষ্য করে।
৮৬. কিসের মধ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট মানব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব?
উত্তর: সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে।
৮৭. ‘কর্ণধার’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: নেতৃত্ব প্রদানের সামর্থ্য আছে এমন ব্যক্তি।
৮৮. ‘কুর্নিশ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: অভিবাদন। সম্মান প্রদর্শন।
৮৯. ‘সম্মার্জনা’ শব্দে অর্থ কী?
উত্তর: মেজে ঘষে পরিষ্কার করা।
৯০. 'আমার পথ' প্রবন্ধের শেষ বাক্য কোনটি?
উত্তর: দেশের পক্ষে যা মঙ্গলকর বা সত্য, শুধু তাই লক্ষ্য করে এই আগুনের ঝান্ডা দুলিয়ে পথে বাহির হলাম।
৯১. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কোন ভাষারীতি ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: চলিত ভাষারীতি।
৯২. মেকি' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মিথ্যা। কপট।
৯৩. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কোথা থেকে সংলিত হয়েছে?
উত্তর: ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে।
৯৪. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের প্রথম বাক্য কোনটি?
উত্তর: আমার কর্ণধার আমি।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :
১. ‘আমার পথ দেখাবে আমার সত্য।’ কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের এ উক্তিতে প্রাবন্ধিক তার আত্মবিশ্বাসী মানসিকতাই যে তাকে তার কর্ণধার হয়ে পথ দেখাবে, সে প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন।
➠ কর্ণধার বলতে প্রাবন্ধিক মানুষের ভেতরের ঐশ্বরিক শক্তি বা অলৌকিক ক্ষমতাকে বুঝিয়েছেন; যা আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে জানার মধ্য দিয়ে আসে। মানুষের মগজ ও মন পরম স্রষ্টার পরম জ্ঞানশক্তি ও প্রেমশক্তিতে ভরপুর। প্রাবন্ধিকের বিশ্বাস সত্য সব অসৎ শক্তিকে পরাজিত করে মানুষকে পূর্ণতার পথে নিয়ে যায়। তাই প্রাবন্ধিকের সত্য বা সৎ শক্তি সব ধরনের আলস্য, কর্ম বিমুখতা, নৈরাজ্য, অবিশ্বাস ও জরাজীর্ণতাকে পেছনে ফেলে তাকে ন্যায় ও সত্যের পথ দেখাবে।

২. ‘আমার পথ’ প্রবন্ধ অনুযায়ী ভারতের দীর্ঘদিনের পরাধীনতার কারণ কী?
উত্তর: আত্মনির্ভরতা, আত্মমর্যাদার অভাবই কাজী নজরুল ইসলামের মতে দেশের দীর্ঘদিনের পরাধীনতার কারণ।
➠ প্রাবন্ধিক মনে করেন, আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই আত্মনির্ভরতা যেদিন সত্যি সত্যিই আমাদের আসবে, সেদিনই আমরা স্বাধীন হব। নিজের প্রতি বিশ্বাস না রেখে গান্ধীজির মতো মহাপুরুষের ওপর নির্ভর করায় আমাদের স্বাধীনতা অর্জন বিলম্বিত হয়েছিল। অর্থাৎ স্পষ্টই বোঝা যায়, আত্মনির্ভরতার অভাবই পরাধীনতার কারণ হিসেবে বিবেচ্য। পরাবলম্বনই আমাদের নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল।

প্রশ্ন: ‘মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম।’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম তার ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা তুলে ধরে ‘মানুষ-ধমর্কেই সবচেয়ে বড় ধর্ম’ বলেছে।
➠ ভারতের স্বাধীনতা আর মুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল হিন্দু-মুসলিমের বিরোধ। এ সাম্প্রদায়িক বিভেদ না থাকলে আরও আগে দেশ মুক্ত হতো। প্রত্যেকে যার যার ধর্মকে বড় ভেবেছে; কিন্তু অন্যকে সম্মান করতে শেখেনি। ফলে মানবিকচেতনাই যে সবচেয়ে বড় তার কেউ অনুভব করতে পারেনি। মানবিকচেতনাকে মূল্য দিতে পারলেই প্রকৃত ধার্মিক হওয়া যায়। এভাবেই ‘মানুষ-ধমর্কেই সবচেয়ে বড় ধর্ম’ মানতে পারলে জাতিগত ঐক্য-সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আবদুল মালেক সারাটি জীবন শিক্ষকতা করেছেন, গড়েছেন আলোকিত মানুষ। অবসর গ্রহণের পর তিনি গড়ে তুলেছেন ‘তারুণ্য’ নামে সেবা-সংগঠন। বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি পথশিশুদের শিক্ষাদান, দুর্নীতি-বিরোধী অভিযান, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করেন তিনি। অনেকে তাঁর কাজের প্রশংসা করেন আবার নিন্দা ও কটূক্তি করতেও ছাড়েন না কেউ কেউ। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন-
‘মনেরে আজ কহ যে
ভালো মন্দ যাহাই আসুক
সত্যেরে লও সহজে।’

ক. কাজী নজরুল ইসলামের মতে কোনটি আমাদের নিষ্ক্রিয় করে দেয়?
খ. কবি নিজেকে ‘অভিশাপ রথের সারথি’ বলে অভিহিত করেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে আবদুল মালেকের মাধ্যমে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের যে বাণী উচ্চারিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশের বক্তব্য চেতনায় ধারণ করে আলোকিত পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

ক. পরনির্ভরতা আমাদের নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
খ. সমাজের অনিয়মকে ভেঙে ফেলতে কবির যে অবস্থান, তার প্রেক্ষিতে তিনি নিজেকে ‘অভিশাপ রথের সারথি’ বলে অভিহিত করেছেন।
➠ সমাজের প্রচলিত, পুরাতন নিয়মকে ভেঙে নতুনকে প্রতিষ্ঠা করা খুব সহজ নয়। এতে প্রতিনিয়ত সমাজরক্ষকদের আক্রমণের শিকার হতে হয়, নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। এসব জেনেও কবি তাঁর বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। সকল অন্যায়, অবিচার আর অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি অভিশাপ হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। তাই তিনি নিজেকে ‘অভিশাপ রথের সারথি’ বলে অভিহিত করেছেন।

গ. উদ্দীপকের আবদুল মালেকের মাধ্যমে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সত্য পথের পথিক হওয়ার বাণী উচ্চারিত হয়েছে।
➠ নিজের অন্তরের সত্যকে যারা উপলব্ধি করতে পারে তারাই প্রকৃত মানুষ। তারা সমাজ, দেশ ও জাতির মঙ্গল প্রত্যাশী। এ প্রত্যাশা থেকেই তারা সমাজের কুসংস্কার, মিথ্যা আর ভণ্ডামির মূলোৎপাটন করতে চান। সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে চান সত্য ও মনুষ্যত্বকে।
➠ ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন সত্য পথের কথা। সত্য প্রকাশে তিনি নির্ভীক, অসংকোচ। সত্যের তেজেই তিনি অন্যায়কে ধ্বংস করতে চান। তিনি জাগ্রত করতে চান মনুষ্যত্ববোধকে, মানুষের মূল্যবোধকে। উদ্দীপকের আবদুল মালেকও এ সত্য পথের বাণী উচ্চারণ করেছেন, হৃদয়-সত্যের আলোতে আলোকিত হয়ে সমাজকল্যাণে এগিয়ে এসেছেন।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশের বক্তব্য চেতনায় ধারণ করে আলোকিত পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব-মন্তব্যটি সঠিক।
➠ সত্য তার আপন দীপ্তি ও শক্তিতে ভাস্বর। সত্যের পথই জীবনের প্রকৃত পথ। সত্যের সুন্দর ও নির্মম উভয় রূপই আছে। সত্যের নির্মমতার ভয়ে মিথ্যাকে গ্রহণ করলে সে-মিথ্যাই ধ্বংস ডেকে আনে। তাই সত্য যেমনই হোক তাকে গ্রহণ করতে হবে, হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
➠ ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক তাঁর অন্তরের সত্যকে উন্মোচিত করেছেন। তিনি জানেন এ সত্য যত নির্মমই হোক না কেন, এ সত্যই তাঁকে পথ দেখাবে। এ সত্যের আলোতেই তাঁর হৃদয় আলোকিত হয়ে উঠবে। তিনি এটা বিশ্বাস করেন যে, সত্যের দম্ভ যাদের মধ্যে রয়েছে তারাই কেবল অসাধ্য সাধন করতে পারেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এই বিষয়েরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সত্য যেমনই হোক তাকে স্বীকার করার, হৃদয়ে ধারণ করার শক্তি থাকতে হবে। যাদের হৃদয় সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত তারাই আলোকিত পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবেন।
➠ যারা সত্য পথের সাধক তারা সমাজে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে চান। সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলে গোটা পৃথিবী আলোকিত হয়ে উঠবে। আর এ বিচারেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
সক্রেটিস বলেছেন, 'শহড়ি ঃযুংবষভ'; সেজন্য আত্মপরিচয় জানা ব্যক্তি সত্যের শক্তিতে ভাস্বর। সে সত্যকে দ্বিধাহীনচিত্তে হাজারবার সালাম জানাতে পারে; কিন্তু মিথ্যাকে মিথ্যার শক্তিতে বলীয়ান শয়তানকে কখনো কুর্নিশ করে না। সত্যই তার পথপ্রদর্শক। সত্যের আলোয় সে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছতে পারে। সত্য থেকে এক পা বিচ্যুত হলে সে নিজ মনুষ্যত্ব হারাবে।

ক. অতিরিক্ত বিনয় মানুষকে কী করে?
খ. মেয়েলি বিনয়ের চেয়ে অহংকারের পৌরুষ অনেক অনেক ভালো-কেন?
গ. উদ্দীপকের লেখকের ভাবনার সঙ্গে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের ভাবনার তুলনামূলক আলোচনা কর।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের চেতনাগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাবার্থ নয়।”-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

ক. অতিরিক্ত বিনয় মানুষকে ছোট করে।
খ. নিজের সত্যকে অস্বীকার করে অতিরিক্ত বিনয় প্রদর্শন মেয়েলি বিনয়। তার থেকে আত্মবিশ্বাস ও সততার বলিষ্ঠ স্বীকৃতি প্রদর্শন করে পৌরুষকে জাহির করা, যাকে বলা যেতে পারে অহংকারের পৌরুষ, তা অনেক ভালো।
➠ মেয়েলি বিনয় দুর্বলতার নামান্তর; তার চেয়ে নিজেকে চিনে আপনার সত্যকে আপনার গুরু, পথপ্রদর্শক কাণ্ডারি বলে জানা অনেক ভালো। কেউ কেউ এটাকে অহংকার বলে মনে করতে পারে। আত্মবিশ্বাসের স্বীকৃতি এ অহংকারকে পৌরুষের অহংকার বলাই সংগত। মেয়েলি বিনয়ের চেয়ে এ পৌরুষের অহংকার অনেক অনেক ভালো।

গ. উদ্দীপকের লেখকের ভাবনার সঙ্গে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের ভাবনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারলে সে আপন সত্যের শক্তিতে বলীয়ান হিসেবে সমাজে উঁচু শিরে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে। তাকে কেউ মিথ্যার ঘোরে ফেলে বিভ্রান্ত করে স্বার্থ হাসিল করতে পারে না।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, আত্মশক্তির জাগরণ ও মিথ্যার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের ফলে একজন মানুষ প্রকৃত মানবিক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। তখন তার মধ্যে ফুটে ওঠে আত্মমর্যাদাবোধ। অন্যদিকে, ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে যথেষ্ট যুক্তি-তর্ক ও বলিষ্ঠতার সাথে মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করে সত্যের শক্তিতে পথ চলার কথা বলা হয়েছে। মানুষ যদি তার আপন শক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারে, তাকে জগতের কোনো মিথ্যা শক্তি বা শয়তানের শক্তি পদানত করতে পারে না। এই দাবি নিয়ে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের শয়তানি জারিজুরির মেকি খোলস উন্মোচন করাই ধূমকেতুর কাজ। তাই উদ্দীপকের লেখকের ভাবনার সঙ্গে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের ভাবনার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে বলাই যুক্তিসংগত।

ঘ. “উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের চেতনাগত ঐক্য থাকলেও উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাবার্থ নয়।”- উক্তিটি যথার্থতার দাবিদার।
➠ মানুষের আপন পরিচয় পরিষ্কার হয়ে গেলে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তার ফলে সে নিজেকে অসীম শক্তির বাহক বলে মনে করে; তখন তাকে মিথ্যা দিয়ে অবনত করে রাখা যায় না। এ রকম আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি, সাহসী মানুষ সমাজে, দেশে, জাতিতে বৃদ্ধি পেলে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদের মিথ্যা দেয়াল রচনা করে সত্যের আলো থেকে তাদের দূরে রাখা যায় না।
➠ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আমরা যদি আমাদের তথা সমগ্র জাতির আত্মশক্তিকে আস্থায় আনতে পারি, সত্য-মিথ্যাকে জানতে পারি, তবে আপন আপন পরিচয় স্পষ্ট হয়ে যাবে। আত্মপরিচয় জানা ব্যক্তি সত্যের শক্তিতে ভাস্বর। সে মিথ্যাকে অভিবাদন জানায় না এবং মিথ্যার আধার শয়তানকে কুর্নিশও করে না। সত্যই তার পথপ্রদর্শক। সত্যের আলোতে সে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারে। আর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে লেখক আত্মবিশ্বাসী আত্মপ্রত্যয়ী, সত্যের মশাল তাঁর হাতে। সেই আলোয় মিথ্যার কানাগলি তাঁর চোখের সামনে পরিষ্কার। নিজেকে চিনলে, নিজের সত্যকেই কর্ণধার ভাবলে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস আসে।
➠ উদ্দীপকে আত্মবিশ্বাস ও আত্মপরিচয় জানা, সত্যকে জানা, সত্যের আলোয় আলোকিত হয়ে সত্যকে পথপ্রদর্শক করে কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে নিজকে চেনা, আত্মশক্তির আবিষ্কার, তার লক্ষ, উদ্দেশ্য, তার পথচলা সম্পর্কে প্রবন্ধকার যুক্তিনিষ্ঠ ভাষায় বলিষ্ঠ চেতনাজাগানিয়া অনুষঙ্গ তুলে ধরেছেন। আরও বলা হয়েছে, দেশের যারা শত্রু, দেশের যা কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি, মেকি তা সব দূর করতে ‘ধূমকেতু’ হবে আগুনের সম্মার্জনা। অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সত্যধর্ম-প্রাণধর্ম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে ফুটে উঠেছে। আর এসব কিছু প্রদত্ত উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিকতার দাবিদার।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে বঙ্গবন্ধু বলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম- জয় বাংলা!” তার এ ভাষণে জাতির মরা গাঙে যেন ভরা জোয়ার এলো। তাতে জাত-পাতের ভেদাভেদ দূর হলো। হিন্দু-মুসলমান সবাই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে নেমে পড়ল। দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করে ছিনিয়ে আনল লাল-সবুজের রক্তরাঙা পতাকা, স্বাধীন বাংলাদেশ।

ক. ‘আগুনের ঝাণ্ডা’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘ধূমকেতু’ হবে আগুনের সম্মার্জনাকেন?
গ. উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য তুলে ধর।
ঘ. “উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল সুর অভিন্ন”- উক্তিটি কতটুকু যৌক্তিক? ‘আমার পথ প্রবন্ধের আলোকে আলোচনা কর।

ক. ‘আগুনের ঝাণ্ডা’ শব্দটির অর্থ অগ্নি পতাকা।
খ. ‘ধূমকেতু’ হবে আগুনের সম্মার্জনা-কারণ ‘ধূমকেতু’র আগুনের ঝাড়–তে মিথ্যা জাত-পাতের ভেদাভেদ, জাতীয় অন্তরায়, কুসংস্কারের জঞ্জাল জ্বলে-পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে।
➠ সম্মার্জনী বা ঝাড়– দিয়ে ঘরের আঙিনার যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা দূর করা হয়। অন্যায়, অসত্য, অসাম্য, মেকি ও ভণ্ডামিপূর্ণ পচা সমাজকে ‘ধূমকেতু’ প্রলয়ঙ্কর ধ্বংস সাধনে নতুন করে গড়বে বলে লেখক ‘ধূমকেতু’কে আগুনের সম্মার্জনী বলেছেন।

গ. উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে নিবিড় সাদৃশ্য রয়েছে বলা যায়।
➠ ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন আমিত্ব শক্তিকে চিনতে পারলে বা ব্যক্তির বিকাশে যাবতীয় অন্ধকার টুটে গিয়ে আলোর ঝরনাধারা প্রবাহিত হয়, জাতীয় জীবনেও তেমনটি ঘটে থাকে। তারপর তার কাক্সিক্ষত মুক্তি বা লক্ষ্য অর্জনে সে ছুটে চলে দুর্বার দুর্নিবার গতিতে।
➠ উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় ভাষণ কীভাবে কেমন করে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সোনালি মোহনায় সমবেত করেছিল তার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। আর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম কলম সৈনিক হিসেবে পরাধীন ভারতের শক্তি সংগ্রামের ইশতেহার রচনা করেছেন। তাতে ফুটে উঠেছে ‘ধূমকেতু’ সম্পাদনা ও এর লক্ষ্য উদ্দেশ্য। এদিক থেকে উভয় ব্যক্তির চেতনা একই রকম। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে সাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ. “উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল সুর অভিন্ন।”-উক্তিটি অত্যন্ত যৌক্তিক।
➠ মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে চায়। মানুষ আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা নিয়ে স্বাধীনভাবে সমাজে অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে।
➠ উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে ফুটে উঠেছে বাঙালি জাতির দীর্ঘ ইতিহাসে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অদম্য চেতনার কথা। “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।” এ ভাষণের মধ্যে রয়েছে জাতীয়তাবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনাদীপ্ত পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার দৃঢ় চেতনা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক জাতি, হিন্দু-মুসলমান কেউ আলাদা নয়। অন্যদিকে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার মধ্য দিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, মানব-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম। হিন্দু-মুসলমান মিলনের অন্তরায় বা ফাঁকি কোন খানে তা দেখিয়ে দিয়ে এর গলদ দূর করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
➠ উদ্দীপকে ‘আমার পথ, প্রবন্ধে ফুটে উঠেছে সর্বপ্রকার কুসংস্কারের মুক্তি, আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠা, মিথ্যা দূরীকরণ, ধূমকেতুর ঝাড়– দিয়ে ঝেড়ে-মুছে জাতীয় জীবনের সব-রকম গ্লানি মুক্তির আশাবাদ। তাই উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের মূল সূর অভিন্ন- উক্তিটি সঠিক ও যথার্থ।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আপসহীন সাংবাদিক শামসু মিয়া আল ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন, বাঙালির ওপর জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। সত্য প্রকাশের অদম্য স্পৃহা থেকেই আল-ইনসাফের সুদীর্ঘ পথ চলা।

ক. ‘ধূমকেতু’র আগুন কোন দিন নিভে যাবে?
খ. “অন্তরে যাদের এত গোলামির ভাব, তারা বাইরের গোলামি থেকে রেহাই পাবে কি করে?”-বুঝিয়ে দাও।
গ. উদ্দীপকের সাংবাদিক শামসুু মিয়ার সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের কোন সাংবাদিকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়?- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “সংবাদপত্র জাতিগঠন ও স্বাধীনতা অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখে।”- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ক. ভুলের ওপর গোঁ ধরে যেদিন বসে থাকবে, ওই দিন ধূমকেতুর আগুন নিভে যাবে।
খ. পরাবলম্বন করে ভারতবাসীর বাঁচার মানসিকতা তাদের দাসত্বপ্রবণ ভিতু মনের পরিচয় বহন করে। তা দিয়ে নিজের মুক্তি যখন সম্ভবপর নয়, তখন সে ধরনের গোলাম শ্রেণির মানুষ দিয়ে বিদেশিদের গোলামির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা অসম্ভব।
➠ তাই কবির বক্তব্য, যারা মানসিকভাবে গোলামিকে মেনে নিয়েছে, তারা কীভাবে বাইরের গোলামি থেকে নিজেদের মুক্ত করবে?

গ. উদ্দীপকের সাংবাদিক শামসু মিয়ার সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের লেখক সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলামের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
➠ আত্মশক্তিতে বলীয়ান মানুষ সত্যশক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে যে-কাজে হাত দেয়, তা সহজেই তার দ্বারা করা সম্ভব হয়। আত্মবিশ্বাসহীন মানুষ-যার নিজের ওপর বিশ্বাস নেই, তার দ্বারা কোনো মানুষের কোনো কাজের প্রতি অটুট থাকা সহজ নয়।
➠ উদ্দীপকের সাংবাদিক শামসু মিয়া ‘আল-ইনসাফ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা বাঙালির আত্মমর্যাদা, স্বাধিকার আন্দোলন, স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন, জাতিগত আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন নানা প্রতিকূল শক্তির বিরুদ্ধে। তার প্রতিষ্ঠিত আল-ইনসাফ ঐ আদর্শকে সমুন্নত রেখে সুদীর্ঘকাল পথপরিক্রমা করে চলেছে। ঠিক তেমনি মহৎ উদ্দেশ্য ও লক্ষ নিয়ে কবি, সাংবাদিক কাজী নজরুল ইসলাম জাতিগঠন ও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অর্জনের স্বপ্নে তাড়িত হয়ে ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা সম্পাদনার কাজে হাত দেন। এইসব ক্ষেত্রে উভয় সাংবাদিকের চরিত্রে মিল রয়েছে বলা যায়।

ঘ. “সংবাদপত্র জাতিগঠন ও স্বাধীনতা অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখে।”-মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ সমাজের লোকদের সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে সমাজসচেতনতা বৃদ্ধি পায় । আমরা প্রতিদিন সকালবেলা উঠে এককাপ গরম চায়ে মুখ লাগিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকার ওপর চোখ বুলিয়ে নিই। দেশের ও বিশ্বের খবর সংবাদপত্রের পাতাতেই বেশি করে লেখা হয়, তা থেকেই দেশের মানুষ বেশি উপকৃত হয়।
➠ উদ্দীপকে সাংবাদিক শামসু মিয়ার ‘আল-ইনসাফ’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ ও উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে। বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে, স্বাধীনতা আন্দোলনে, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। সমাজ গঠনে, জাতির কল্যাণ কামনায় আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন সাংবাদিক শামসু মিয়া। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার সামনে রেখে ইনসাফের দীর্ঘপথ চলা। একই রকম ভাবে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের লেখক, সাংবাদিক, কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। স্বল্পসময়ের মধ্যে বাঙালির চেতনায় নাড়া দিতে সক্ষম হয়েছিল সাংবাদিক, কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা। উদ্দীপক ও প্রবন্ধে সংবাদপত্র প্রকাশের অভিন্ন লক্ষ ও উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে।
➠ উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের পর্যালোচনা শেষে বলা যায়, সংবাদপত্র জাতিগঠন ও স্বাধীনতা অর্জনে বিরাট ভূমিকা রাখে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
নাজমুল হক একজন সমাজসেবক। তিনি সবসময় স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেন এবং কাউকে পরোয়া করেন না। সত্য প্রতিষ্ঠায় তিনি কুণ্ঠাবোধ করেন না। তিনি মনে করেন; সত্য কথা শুনতে খারাপ লাগলেও তা জীবনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।

ক. কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাকে সালাম-নমস্কার জানিয়েছেন?
খ. আপনার সত্যকে আপনার পথপ্রদর্শক বলে জানা অহংকার নয় কেন?
গ. উদ্দীপকে সত্যের যে চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে তা ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. নাজমুল হকের মনোভাবই পারে সত্য-সুন্দর পৃথিবী গড়তে।‘আমার পথ’ প্রবন্ধ অবলম্বনে উক্তিটির যৌক্তিকতা বিচার কর।

ক. কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে নিজের সত্যকে সালাম-নমস্কার জানিয়েছেন।
খ. আপনার সত্য সব অসৎ শক্তিকে পরাজিত করে পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায় বলে তাকে পথপ্রদর্শক বলে জানা আদৌ অহংকার নয়।
➠ আমাদের এদেশ কৃষিজ, খনিজ, জলজ-সম্পদে ভরপুর। ফলে বিদেশিরা এদেশের ওপর বার বার আক্রমণ করেছে। কিন্তু মানুষ যদি তার স্বদেশ, স্বজাতির কল্যাণ ও মুক্তির জন্য এগিয়ে আসে তাহলে তা দোষের কিছু নয়; বরং তা অহংকারের বিষয়।

গ. উদ্দীপকে সত্যের যে চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে তা ‘আমার পথ’ প্রবন্ধেও প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে যে সত্যের কথা বলেছেন তা হলো মানুষের ভেতরের ঐশ্বরিক শক্তি বা অসীম ক্ষমতা। একজন মানুষ যদি সাধনার দ্বারা এই সত্যকে জানতে পারে তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাকে প্রতিহত করতে পারে না। চলার পথে যত বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, কোনো শক্তিই তার এই পথ-চলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে না। প্রাবন্ধিকের এই সত্যে প্রাবন্ধিককে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে।
➠ উদ্দীপকের নাজমুল হক ও প্রাবন্ধিক এই সত্যেরই পূজারি ছিলেন। তিনি সবসময় স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতেন। আর তার এই স্পষ্টবাদিতাই হলো তার ভেতরগত সত্য। এই সত্যের গুণেই তিনি একজন সমাজসেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাই উদ্দীপকে যে সত্য উপস্থাপিত হয়েছে তা হলো চিরকল্যাণকর, মঙ্গল ও সমাজের জন্য হিতকর। আর এ সত্যই ‘আমার পথ’ প্রবন্ধেরও মূল প্রতিপাদ্য।

ঘ. ‘নাজমুল হকের মনোভাবই পারে সত্য-সুন্দর পৃথিবী গড়তে’।-উদ্দীপকের এ উক্তিটি যৌক্তিক।
➠ স্পষ্টবাদিতা মানুষের অন্যতম ঐশ্বরিক ক্ষমতা। এই ক্ষমতা অর্জন করতে পারলে কোনো বাধা-বিপত্তিই তার চলার পথকে আটকাতে পারে না। যারা এই গুণে গুণান্বিত তারা সামনে এগিয়ে যান এবং এই অগ্রবর্তী পথিকের দ্বারা সমাজের কল্যাণ হয়। সমাজ থেকে দূর হয় সকল অন্যায়-অবিচার, অত্যাচার আর বৈষম্য।
➠ ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন বিদেশি শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য মানুষের সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটি দরকার তা হলো আপন সত্যকে চেনা ও এর স্বরূপ উপলব্ধি করা। উদ্দীপকের নাজমুল হকও এই সত্যের দিশারী। তিনি একজন সমাজসেবক। তিনি মনে করেন সত্য কথা যতই অপ্রিয় হোক না কেন তা সমাজ ও সমাজের মানুষের জন্য মঙ্গলজনক। সমাজ সংস্কার করতে গিয়ে যদি মিথ্যার বেড়াজালে আবদ্ধ হয় তাহলে নাজমুল হক ঘুনে ধরা এ সমাজকে পরিবর্তন করতে পারবেন না। তিনি মনে করেন সত্যই, সুন্দর আর এ মনোভাবই পারে একজন মানুষকে আলোর পথ দেখাতে।
➠ অতএব, সমাজের যারা অগ্রপথিক, যাদের দ্বারা সমাজ তথা রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সে সব কর্ণধারকে বিদেশির দাসত্ব না করে নিজের দেশের কথা ভেবে নিজ ক্ষমতার বলেই দেশ পরিচালনা করতে হবে।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
যারা ঘরের পাশে পাহাড়ের অজগর, বনের বাঘ নিয়ে বসবাস করে, তারা আজ নীরবে বিদেশির দাসত্ব করে। শুনে ভীষণ ক্রোধে হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে ওঠে। সারা দেহমনে আসে প্রলয়ের কম্পন, সারা বক্ষ মন্থন করে আসে অশ্রু।

ক. বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে অনেক সময় কোনটি ঘটে?
খ. পরাবলম্বন কেন আমাদের নিষ্ক্রিয় করে তোলে?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য প্রমাণ কর।
ঘ. “সারা দেহমনে আসে প্রলয়ের কম্পন”- উক্তিটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

ক. বেশি বিনয় দেখাতে গিয়ে অনেক সময় নিজের সত্যকে অস্বীকার করে ফেলা হয়।
খ. পরাবলম্বনতা মানুষের সঞ্জীবনী শক্তি ও আত্মশক্তি ক্রমান্বয়ে বিনষ্ট করে ফেলে।
➠ নিজের সত্তাকে বিকিয়ে অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে অলস ও কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। তার নিজের যে একটা অলৌকিক শক্তি আছে তা বিকাশে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তখন মানুষ অন্যের দানে, দয়ায়, দাক্ষিণ্যে বেঁচে থাকে। পুরাতন-জরাজীর্ণ ধ্যান-ধারণা আর মিথ্যাকে সে আঁকড়ে ধরে কোনো রকমে বেঁচে থাকে। আসলে এ বাঁচায় কোনো কৃতিত্ব নেই।

ক. উদ্দীপকের সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের যথেষ্ট অমিল লক্ষ করা যায়।
খ. বাঙালি ভুলে গেছে তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা, ভুলে গেছে তাঁদের আসল পরিচয়। তারা যে জ্বলে-পুড়ে মরবার জন্য প্রস্তুত কিন্তু মাথা নোয়াবার নয়, তা যেন আজ ভাবাও অবান্তর। দিনের পর দিন তাঁর সন্তানেরা মুখ বুজে সহ্য করছে বিদেশিদের পরাধীনতার শৃঙ্খল।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত বাঙালি একদিন ঘরের পাশে পাহাড়ের অজগর, বনের বাঘ নিয়ে বাস করেছে তারাই আজ নীরব, বিদেশির দাসত্ব করছে। আর এর জন্য বাঙালির আলস্য ও কর্মবিমুখতা দায়ী। এই দাসত্বের জন্য বাঙালি আজ সকলের চেয়ে ঘৃণ্য। শুনে ভীষণ ক্রোধে হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আসে, সারা দেহমনে প্রলয়ের কম্পন আসে, সারা বুক বেয়ে অশ্রু নামে। কিন্তু ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, মানুষের ভেতরে যে ঐশ্বরিক ক্ষমতা আছে তা যদি সে উপলব্ধি করে তাহলে ঐ ক্ষমতার বলে সে তার সামনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি, প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারবে। প্রাবন্ধিক বলেছেন, যার অন্তরে ভয়, সে নিজেকে যেমন ভয় পায় তেমনি বাইরের সবকিছুতেই তার ভয়। যার মনে মিথ্যা সে নিজেকেও ভয় পায়। এখানেই প্রবন্ধের অমিল।

গ. বাঙালিরা নীরবে বিদেশিদের দাসত্ব করে বলেই সারা দেহমনে প্রলয়ের কম্পন আসে।
➠ বাঙালি যে সাহসী জাতি তা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। বাঙালি শুধু লাঠি দিয়েই তার স্বাধীনতাকে অক্ষুণœ রাখতে চেষ্টা করেছে। বাংলার তরুণরাই স্বাধীনতার জন্য অসম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, যা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত আছে। কিন্তু সেই বাঙালিরা আজ পরদেশি প্রভুদের দাসত্ব করে।
➠ উদ্দীপকে লক্ষণীয়, বাঙালি দিনের পর দিন পৃথিবীর লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতো, সেই আজ সকলের দ্বারে ভিখারি। বাঙালিরা ঘরের পাশে পাহাড়ের অজগর আর বনের বাঘ নিয়ে বাস করলেও নীরবে বিদেশিদের দাসত্ব করছে। আর এ জন্যই ভীষণ ক্রোধে প্রাবন্ধিকের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে ওঠে, দেহমনে আসে প্রলয়ের কম্পন। প্রাবন্ধিক বলেছেন, বাঙালি তার নিজের সত্যকে ভালোভাবে চেনে না বলেই তার অন্তরে ঢুকে আছে ভয়, এই ভয়ের জন্য সে নিজের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ। এই নিষ্ক্রিয়তা তাকে সত্যের পথ থেকে মিথ্যা নামক কুসংস্কারাচ্ছন্ন অন্ধকার পথে নিয়ে গেছে। আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে অর্থাৎ নিজের ওপর নিজের ভরসা আসে। তাই প্রাবন্ধিক বলেছেন, পরনির্ভরতা পরিহার করে নিজের শক্তি ও সামর্থ্যরে ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল স্বাবলম্বী হওয়া যাবে।
ঘ. আলোচনার দ্বারপ্রান্তে এসে বলা যায়, মানুষ বাইরে যতই গোঁয়ার্তুমি বা স্বাধীন হওয়ার কথা মুখে বলুক না কেন, সে যতক্ষণ পর্যন্ত তার ভেতরের গলদ দূর করতে না পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে পরাধীনই থাকবে। তাই অন্তরের দাসত্ব দূর করে নিজের ওপর দণ্ডায়মান হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম ফুটিয়ে তুলেছেন।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আজকাল শিক্ষিত বেকারদের মাঝে পরনির্ভরশীলতা বাড়ছে। তারা এর ওপর অটল বিধায় এ সংখ্যাটি কমানো সম্ভবপর নয়। কিন্তু নিজের সম্পর্কে জানলে তারা আর এ সমস্যার সম্মুখীন হতো না। পরের দিকে চেয়ে থাকার জন্য তাদের মন আজ মানসিক দাসত্বে পরিণত হচ্ছে। এ দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে না আসলে জাতীয় জীবনে মুক্তি সম্ভব নয়।

ক. বাংলাদেশের জাতীয় কবি কে?
খ. নিজেকে চিনলে আর কাউকে চিনতে বাকি থাকে না। প্রাবন্ধিকের এ মতামতটি বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের শিক্ষিত বেকারদের মানসিক দাসত্ব পরিবর্তনে প্রয়োজন আত্মনির্ভরতা”-‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

ক. বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
খ. মানুষ যদি তার নিজ সত্তাকে চিনতে পারে অর্থাৎ নিজ দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মবোধ জাগ্রত করে তাহলে বাইরের কোনো অপশক্তিই তাদের গ্রাস করতে পারে না।
➠ এদেশের মানুষের মতো জ্ঞানশক্তি ও প্রেমশক্তি পৃথিবীর আর অন্য কোনো জাতির মধ্যে নেই। এদেশের মানুষ শত শত বছর ধরে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মবোধ জাগ্রত রেখে বসবাস করছে। নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য ও সোনার বাংলাকে স্বকীয় করার জন্য আত্মোৎসর্গ করতে তারা পিছপা হয়নি। তাই প্রাবন্ধিক বলেছেন, নিজেদের সংস্কৃতি, সভ্যতা, ঐশ্বর্য, ধর্মবোধ সম্পর্কে সচেতন থাকলে অন্যরা এদেশের সম্পদ লুট করতে পারত না।

গ. আমি মনে করি উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কারণ উদ্দীপকে যে পরনির্ভরশীলতা ও মানসিক দাসত্বের কথা বলা হয়েছে তা ‘আমার পথ’ প্রবন্ধেও ফুটে উঠেছে।
➠ পরনির্ভরশীলতা মানুষকে অমানুষ করে তোলে, মানুষকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতে বাধা সৃষ্টি করে, তাঁকে নি®প্রাণ পুতুলের মতো করে পরের আজ্ঞাবাহী দাসে পরিণত করে। বহুকাল ধরে আমাদের সমাজের মানুষের অন্তরের উচ্চবৃত্তিগুলো বিনাশ হওয়ায় তাদের মস্তিষ্ক ও হৃদয় অন্যের দাস হয়ে পড়েছে।
➠ উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, আজকাল আমাদের দেশের শিক্ষিত বেকাররা পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু তাদের এ পরনির্ভরশীলতার প্রধান কারণ নিজের সম্পর্কে অচেতন হওয়া। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই সুপ্ত প্রতিভা আছে কিন্তু মানুষ আত্মশক্তি দ্বারা তা বিকশিত করে না। যার ফলে পরের দিকে চেয়ে থেকে মনটাও দাসে পরিণত হয়েছে। ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক এ পরনির্ভশীলতা ও দাসত্বপনার কথা তুলে ধরেছেন। কিন্তু অলস ও কর্মবিমুখ মানুষ তা না করে ধীরে ধীরে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যে-বাঙালি একদিন সারা পৃথিবীর লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াত আজ তারা পথের ভিখারি। আর এ হীন অবস্থার জন্য লেখক তাদের আলস্যকে দায়ী করেছেন। সুতরাং পরনির্ভরতা ও দাসত্বপনার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি অবশ্যই সঙ্গতিপূর্ণ।

খ. “উদ্দীপকের শিক্ষিত বেকারদের মানসিক দাসত্ব পরিবর্তনে প্রয়োজন আত্মনির্ভরতা।”-প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।
➠ উদ্দীপকে শিক্ষিত যুবক বেকারদের পরনির্ভরশীলতার একমাত্র কারণ নিজ সম্পর্কে সচেতনতা। নিজের ভেতরের প্রতিভাকে জ্ঞানের দ্বারা উদ্ভাসিত করা। আলস্য ও কর্মবিমুখতা পদে পদে তাদের দাসত্বেকে পরিণত করেছে আর অন্যের দিকে চেয়ে থাকার জন্য তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারছে না।
➠ প্রাবন্ধিকের মতে, নিজেকে চিনলে নিজের সত্যকেই কর্ণধার মনে করে নিজের শক্তির ওপর অটুট বিশ্বাস জন্মে। এ বিশ্বাস থেকেই তার মধ্যে স্বাবলম্বিতা আসে। এ স্বাবলম্বিতাই পারে মানুষকে পরনির্ভরশীলতা থেকে দূরে রাখতে। আত্মনির্ভরতা যেদিন বাঙালির মাঝে প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিনই বাঙালি পরনির্ভরশীলতার গ্লানি থেকে মুক্তি পাবে।
➠ অতএব, আত্মাকে চিনে, নিজের সত্যকে জেনে, নিজের শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার যে দম্ভ, এই দম্ভই শির উঁচু করে। তাই উদ্দীপকের শিক্ষিত বেকারদের মানসিক দাসত্ব পরিবর্তনে প্রয়োজন আত্মনির্ভরতা-এ উক্তিটি যৌক্তিক।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
মুসলমানদের সাহিত্য-সংস্কৃতিতে বলীয়ান করতে ১৯২৬ সালে বাংলায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ গড়ে ওঠে। এখান থেকে ‘শিখা’ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। যেখানে স্লোগান ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা বলবৎ থাকা একান্ত কাম্য।

ক. কী থাকলে মানুষের ধর্মের বৈষম্যের ভাব থাকে না?
খ. প্রাবন্ধিকের মতে, এদেশের নতুন জাত গড়ে উঠবে না কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অমিলগুলো দেখাও।
ঘ. “জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব”- উক্তিটির আলোকে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি বিশ্লেষণ কর।

ক. কাজী নজরুল ইসলামের মতে, কেউ নিজের ধর্ম চিনলে সে অন্যের ধর্ম ঘৃণা করতে পারে না।
খ. প্রাবন্ধিকের মতে, এদেশের ধ্বংস না হলে নতুন জাত গড়ে উঠবে না।
➠ প্রাবন্ধিক মনে করেন, আমাদের মাতৃভূমি পৃথিবীর স্বর্গ। অতি প্রাচুর্য আমাদের বিলাসী, ভোগী করে শেষে অলস-বিমুখ জাতিতে পরিণত করেছে। আমাদের ঐশ্বর্য শত বিদেশি লুটে নিয়ে যায়, আমরা তার প্রতিবাদ তো করি না, উল্টো তাদের দাসত্ব করি¬- এ লুণ্ঠনে তাদের সাহায্য করি।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অনেক বিষয়েই অমিল লক্ষ করা যায়।
➠ জ্ঞান সকল প্রকার অজ্ঞতা অন্ধকার দূর করে মানুষকে আলোর পথে নিয়ে যায়। নতুনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা তাদের প্রেরণা জোগায়। কিন্তু যারা ভীরু, কাপুরুষ তারা জ্ঞানের আলো উদ্ভাবনে ভয় পায়, শঙ্কিত হয়। অন্ধকারের সাথেই তাদের সখ্য গড়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকে সমগ্র জনগোষ্ঠীর কথা ফুটে ওঠেনি, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ আরো জাতি-উপজাতি আছে, যা উপেক্ষিত হয়েছে। শুধু সমাজের একটি অংশ মুসলমানদেরকে সাহিত্য-সংস্কৃতিতে উদারমনা ও সচেতনভাবে অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক অখণ্ড বাঙালির কথা তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে যেমন সাহিত্যে-সংস্কৃতিতে উদারমনা ও সচেতনভাবে অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে, সেখানে প্রবন্ধে নজরুল বাঙালিদের সত্যের পথে চলার কথা বলেছেন, আর এ সত্যের পথ হলো আলো ও জ্ঞানের পথ।
➠ উদ্দীপকে যে ‘শিখা’ পত্রিকার কথা বলা হয়েছে তা ছিল একটি সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা। পক্ষান্তরে, ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে যে-পত্রিকার উল্লেখ আছে তা হলো ‘ধূমকেতু’। ‘ধূমকেতু’ ছিল বিদ্রোহাত্মক একটি পত্রিকা। ‘শিখা’ পত্রিকার স্লোগান ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।” পক্ষান্তরে ‘ধূমকেতু’ ছিল আগুনের সমার্জ্জনা। যে-আগুনের শিখায় দেশের যারা শত্রু, যা কিছু মিথ্যা, ভণ্ডামি-মেকি তা দূর হবে। সুতরাং একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উদ্দীপকের সাথে প্রবন্ধের ক্রিয়াকলাপ ও অখণ্ডতার দিক থেকে অমিল লক্ষ করা যায়।

ঘ. “জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।”- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
➠ মানুষ যখন আলো ও অন্ধকারকে সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে না তখন মরীচিকার পেছনে ছোটে। জ্ঞানের আলো থেকে আসে কল্যাণ, মহত্ত্ব, সমৃদ্ধি ও জয়ের প্রেরণা। অন্যদিকে অজ্ঞতা থেকে আসে অশান্তি, হতাশা, ব্যর্থতা ও অমানিশার হাতছানি। উদ্দীপকে যে-জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে তাকে জীবন-দর্শনের আলো হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাই আলো যেখানে স্বল্প-সেখানে জ্ঞানের পরিধিও ক্ষীণ। আর মুক্তিও সেখানে অসম্ভব।
➠ ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক যে-সত্যের কথা বলেছেন তা হলো জ্ঞান বা আলো। এই জ্ঞান মানুষের মাঝে উদ্ভাসিত হলে তার চলার পথে কোনো বাধা-বিপত্তি আসলে সে অনায়াসে তা পরাহত করতে পারে। এ সত্যের পথ অতি সহজ নয়, বড়ই কণ্টকাকীর্ণ। এই পথেই মানুষ তার সকল বিভ্রান্তি ও অন্ধকার দূর করে পায় মুক্তির স্বাদ। কিন্তু মুক্তির জন্য হয় সাহসী; পথে যদি কোনো লোকলজ্জার ভয়, রাষ্ট্রের ভয় তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে তাহলে এই পথ চলায় বাঁধার সৃষ্টি হবে। প্রাবন্ধিক স্পষ্টই বলেছেন, সত্য হলো পূর্ণতার প্রতীক। এই পথের পথিকরা ভীরুদের কথা বিশ্বাস করে না। তারা আশায় বুক বেঁধে অন্ধকার ফেলে আলোর পথে এগোয়।
➠ অতএব, উদ্দীপকে যে-প্রাণের কথা বলা হয়েছে সেই জ্ঞান যদি মানুষের অন্তরে সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত না হয়, তাহলে সেখানে ভালো কিছু আশা করা যায় না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিতে যে সত্য ফুটে উঠেছে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে তা অবশ্যই যৌক্তিক।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

উদ্দীপকটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বিশ্বের কল্যাণমন্ত্র তাহাকে ঘিরিয়া বলিল-‘এখন অনেক দেরি, পথ চল।’ পথিক চমকিয়া উঠিয়া বলিল- ‘ওগো আমি যে তোমাকে চাই!’ সে অচিন সাথি বলিয়া উঠিল-‘আমাকে পেতে হলে ঐ সামনের বুলন্দ দরওয়াজা পার হতে হয়!’ দুরন্ত পথিক তাহার চলার দুর্বার বেগের গতি আনিয়া বলিল, ‘হ্যাঁ ভাই, তাই আমার লক্ষ্য’। অনেক দূরে বনের ফাঁকে মুক্ত গগন একবার চমকাইয়া গেল। পিছন হইতে নিযুত তরুণ কণ্ঠের বিপুল বাণী শোর করিয়া উঠিল-‘আমাদেরও লক্ষ্য ঐ, চল ভাই, আগে চল। তোমারই পায়ে চলার পথ ধরে আমরা চলেছি।’ পথিক বুকভরা গৌরবের তৃপ্তি তাহার কণ্ঠে ফুটাইয়া হাঁকিয়া উঠিল-‘এ পথে যে মরণের ভয় আছে।’ বিক্ষুদ্ধ তরুণ কণ্ঠে প্রদীপ্ত বাণী বাজিয়া উঠিল-‘কুছ পরওয়া নেই। ও তো মরণ নয়, জীবনের আরম্ভ।’

ক. ‘মেকি’ শব্দের অর্থ কী?
খ. রাজভয়-লোকভয় প্রাবন্ধিককে বিপথে নিতে পারবে না কেন?
গ. উদ্দীপকের পথিকের মধ্যে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিকটিই ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কামনা করেছেন- বিশ্লেষণ কর।

ক. ‘মেকি’ শব্দের অর্থ কপট।
খ. প্রাবন্ধিক তাঁর সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে রাজভয়-লোকভয় তাঁকে বিপথে নিতে পারবে না।
প্রাবন্ধিক সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত। তিনি তাঁর আত্মাকে চেনেন খুব ভালোভাবেই। কেননা, সত্য ও ন্যায়ের পথে তিনি এমনভাবে অটুট যে, কোনো প্রকার ভয় তাঁকে কাবু করতে পারবে না। এজন্যই রাজভয়-লোকভয় তাঁকে বিপথে নিতে পারবে না।

গ. উদ্দীপকটি মনোযোগসহকারে পড়ে পথিক চরিত্রটি অনুধাবন কর। এরপর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি পড়ে তার সঙ্গে উক্ত পথিকের সাদৃশ্য নির্ণয় করে তা ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকটি ভালোভাবে পড়ে এর মধ্যে ফুটে ওঠা দিকটি অনুধাবন কর। তারপর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি ভালোভাবে পড়ে প্রাবন্ধিকের কামনা উপলব্ধি কর। দেখবে উভয়ের বিষয়বস্তুই এক। এ বিষয়টি সহজ ও সাবলীল ভাষায় বিশ্লেষণ কর।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

উদ্দীপকটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘শুনুন, মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায়-হিন্দু, মুসলিম, বাঙালি, অবাঙালি যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের ওপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়।’

ক. কে বাইরের ভয় পায়?
খ. মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের কোন বিষয়টির সাদৃশ্য রয়েছে? চি‎িহ্নত কর।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন’- বিশ্লেষণ কর।

ক. যার ভিতরে ভয়।
খ. মানুষ-ধর্মই সবচেয়ে বড় ধর্ম বলতে মানব-ধর্মকে বোঝানো হয়েছে।
পৃথিবীতে জাত-পাত, উঁচু বর্ণবৈষম্য প্রভৃতি বিদ্যমান। কিন্তু সবারই এক পরিচয়, আর তা হলো সবাই মানুষ। কেননা, সবার ওপরে মানুষ সত্য, তার উপর আর কিছুই নেই। প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা মূলত মানুষের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বোঝানো হয়েছে।

গ. উদ্দীপকটি ভালোভাবে পড়ে এর দৃশ্যমান বিষয়টি অনুধাবন কর। এরপর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি পড়ে এর সঙ্গে উক্ত দৃশ্যমান বিষয়টির সম্পর্ক নির্ণয় করে তা উপস্থাপন কর।

ঘ. উদ্দীপকটি মনোযোগসহকারে পড়ে এর মূলকথা অনুধাবন কর। তারপর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সমগ্র বিষয় অনুধাবন কর। দেখবে উভয়ের মধ্যে মিল-অমিল বিদ্যমান। এ বিষয়টি সহজ-সরল ভাষায় বিশ্লেষণ কর।


‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

উদ্দীপকটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মানবজীবনে ভুল-ত্রুটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই বলে ভুলের মধ্যে জীবনকে ভাসিয়ে দেয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না। জীবনে ভুলকে একটা শিক্ষা ভাবতে হবে। তবেই মানুষ প্রকৃত পথে ফিরে আসতে পারবে। কেননা, যে মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার পথ চলতে পারে, সেই মানুষই জীবনে সার্থক।

ক. কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রাণপ্রাচুর্যের উৎস বিন্দু?
খ. ভুল করেছি বুঝতে পারলে প্রাণ খুলে স্বীকার করতে প্রাবন্ধিক বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের ফুটে ওঠা দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করে না’-মূল্যায়ন কর।

ক. কাজী নজরুল ইসলামের প্রাণপ্রাচুর্যের উৎস বিন্দু হলো-সত্যের উপলব্ধি।
খ. ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যই প্রাবন্ধিক ভুল করেছি বুঝতে পারলে প্রাণ খুলে স্বীকার করতে বলেছেন।
মানুষ মাত্রই ভুল। কিন্তু ভুলকে আগলে ধরে বসে থাকা নিতান্তই বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। তাই ভুল করে বুঝতে পারলে তা স্বীকার করে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। যেন অদূর ভবিষ্যতে আর ভুল হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। এজন্য প্রাবন্ধিক ভুলকে প্রাণ খুলে স্বীকার করতে বলেছেন।

গ. উদ্দীপকটি মনোযোগসহকারে পড়ে তা অনুধাবন কর। তারপর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি পড়ে উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্য নির্ণয় কর এবং তা সংক্ষেপে উপস্থাপন কর।

ঘ. উদ্দীপকটি ভালোভাবে পড়ে এর প্রধান প্রধান দিকগুলো অনুধাবন কর। এরপর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি ভালোভাবে পড়ে তার প্রধান দিকগুলো চিহ্নিত কর। দেখবে উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সমগ্র বিষয় ধারণ করে না। এ বিষয়টি মূল্যায়ন অংশে লেখ।


তথ্যসূত্র :
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৩।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url