বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
কবির
২৮ নভে, ২০২৪
বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন
বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১।
যশের জন্য
লিখিবেন না। তাহা হইলে যশও হইবে না, লেখাও ভালো হইবে না। লেখা ভালো হইলে যশ আপনি
আসিবে।
২। টাকার জন্য লিখিবেন না। ইউরোপে এখন অনেক লোক টাকার জন্যই লেখে এবং টাকাও পায়;
লেখাও ভালো হয়। কিন্তু আমাদের এখনও সে দিন হয় নাই। এখন অর্থের উদ্দেশ্যে লিখিতে
গেলে,
লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তিপ্রবল হইয়া পড়ে।
এখন আমাদিগের দেশের সাধারণ পাঠকের
রুচি
ও শিক্ষা বিবেচনা করিয়া লোকরঞ্জন করিতে গেলে রচনা
বিকৃত ও
অনিষ্টকর হইয়া উঠে।
৩। যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের বা
মনুষ্যজাতির কিছু
মঙ্গল সাধন করিতে
পারেন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্য লিখিবেন। যাঁহারা অন্য
উদ্দেশ্যে লেখেন, তাঁহাদিগকে যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি
নীচ
ব্যবসায়ীদিগের সঙ্গে গণ্য করা যাইতে পারে।
৪। যাহা অসত্য,
ধর্মবিরুদ্ধ; পরনিন্দা বা
পরপীড়ন
বা
স্বার্থসাধন
যাহার উদ্দেশ্য, সে সকল প্রবন্ধ কখনও
হিতকর
হইতে পারে না, সুতরাং তাহা একেবারে পরিহার্য। সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য।
অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ।
৫। যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না। কিছু কাল ফেলিয়া রাখিবেন। কিছু কাল পরে
উহা সংশোধন করিবেন। তাহা হইলে দেখিবেন, প্রবন্ধে অনেক দোষ আছে। কাব্য নাটক
উপন্যাস দুই এক বৎসর ফেলিয়া রাখিয়া তারপর
সংশোধন
করিলে বিশেষ
উৎকর্ষ লাভ করে।
যাঁহারা সাময়িক সাহিত্যের কার্যে
ব্রতী, তাঁহাদের পক্ষে এই নিয়ম রক্ষাটি ঘটিয়া উঠে না। এজন্য সাময়িক সাহিত্য, লেখকের
পক্ষে
অবনতিকর।
৬। যে বিষয়ে যাহার অধিকার নাই, সে বিষয়ে তাহার
হস্তক্ষেপ
অকর্তব্য। এটি সোজা কথা কিন্তু সাময়িক সাহিত্যতে এ নিয়মটি
রক্ষিত হয়
না।
৭। বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করিবেন না। বিদ্যা থাকিলে, তাহা আপনিই প্রকাশ পায়,
চেষ্টা করিতে হয় না। বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা পাঠকের
অতিশয় বিরক্তিকর
এবং রচনার
পরিপাট্যের
বিশেষ হানিজনক।
এখনকার প্রবন্ধে ইংরাজি, সংস্কৃত, ফরাসি, জার্মান
কোটেশন
বড় বেশি দেখিতে পাই। যে ভাষা আপনি জানেন না, পরের গ্রন্থের সাহায্যে সে ভাষা হইতে
কদাচ উদ্ধৃত করিবেন
না।
৮।
অলংকার-প্রয়োগ বা রসিকতার জন্য চেষ্টিত হইবেন না। স্থানে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গের
(পরিহাস, বিদ্রুপ) প্রয়োজন হয় বটে; লেখকের ভাণ্ডারে এ সামগ্রী থাকিলে, প্রয়োজন
মতে আপনিই আসিয়া পৌঁছিবে-
ভাণ্ডারে
না থাকিলে মাথা কুটিলেও আসিবে না। অসময়ে বা শূন্য ভাণ্ডারে অলংকার প্রয়োগের বা
রসিকতার চেষ্টার মতো
কদর্য আর
কিছুই নাই।
৯। যে স্থানে অলংকার বা ব্যঙ্গ বড় সুন্দর বলিয়া বোধ হইবে, সেই স্থানটি কাটিয়া
দিবে, এটি প্রাচীনবিধি। আমি সে
কথা বলি না। কিন্তু আমার পরামর্শ এই যে, সে স্থানটি বন্ধুবর্গকে পুনঃ পুনঃ পড়িয়া
শুনাইবে। যদি ভালো না হইয়া থাকে, তবে দুই চারি বার পড়িলে লেখকের নিজেরই আর উহা
ভালো লাগিবে না-বন্ধুবর্গের নিকট পড়িতে লজ্জা করিবে। তখন উহা কাটিয়া দিবে।
১০। সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার সরলতা। যিনি সোজা কথায় আপনার মনের ভাব সহজে
পাঠককে বুঝাইতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ লেখক। কেন না লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বুঝানো।
১১। কাহারও অনুকরণ করিও
না। অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না। অমুক ইংরাজি বা সংস্কৃত বা
বাঙ্গালা লেখক এইরূপ লিখিয়াছেন, আমিও এরূপ লিখিব, এ কথা
কদাপি মনে
স্থান দিও না।
১২। যে কথার
প্রমাণ দিতে
পারিবে না, তাহা লিখিও না। প্রমাণগুলি সংযুক্ত করা সকল সময়ে প্রয়োজন হয় না,
কিন্তু হাতে থাকা চাই।
বাঙ্গালা সাহিত্য,
বাঙ্গালার
ভরসা। এই নিয়মগুলি বাঙ্গালার লেখকদিগের দ্বারা রক্ষিত হইলে, বাঙ্গালা সাহিত্যের
উন্নতি বেগে হইতে থাকিবে।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ :
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনাটি প্রথম প্রকাশিত হয়
‘প্রচার’ পত্রিকায়, ১৮৮৫ সালে; পরে এটি তাঁর ‘বিবিধ প্রবন্ধ’ (দ্বিতীয় ভাগ)
নামক গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা :
➠ যশ- সুখ্যাতি, সুনাম, কীর্তি।
➠ লোকরঞ্জন- জনসাধারণের মনোরঞ্জন বা সন্তোষবিধান।
➠ ধর্মবিরুদ্ধ- নীতি-নৈতিকতার বিরোধী।
➠ কোটেশন- উদ্ধৃতি। অন্যের লেখা থেকে বক্তব্য উদ্ধার করে অপর লেখায়
ব্যবহার।
➠ অলংকার- ভূষণ, প্রসাধন, শোভা। ভাষার মাধুর্য ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি করে এমন
গুণ।
➠ ব্যঙ্গ- পরিহাস, বিদ্রুপ।
➠ কদাপি- কখনও, কোনোকালে।
➠ বাঙ্গালা- বাংলা। উনিশ শতকে বঙ্কিমচন্দ্রের কালে ‘বাংলা’কে ‘বাঙ্গালা’
বলে লেখা হতো। শব্দটির পরিবর্তন হয়েছে এভাবে:
বাঙ্গালা>বাঙলা>বাংলা।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উনিশ শতকীয় বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে
পরিচিত। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনাটি সাধু রীতিতে লেখা
এই প্রবন্ধটি আকারে ছোটো হলেও চিন্তার মৌলিকত্বে অসাধারণ। বক্তব্যের
তাৎপর্য বিচার করলে প্রবন্ধটির রয়েছে সর্বকালীন বৈশ্বিক আবেদন। নতুন
লেখকদের প্রতি তিনি যে পরামর্শ এখানে উপস্থাপন করেছেন তার প্রতিটি বক্তব্যই
পালনযোগ্য। খ্যাতি বা অর্থের উদ্দেশ্যে লেখা নয়; লিখতে হবে মানুষের কল্যাণ
সাধন কিংবা সৌন্দর্য সৃষ্টির অভিপ্রায়ে। বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, অসত্য,
নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কিংবা পরনিন্দার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা স্বার্থতাড়িত
লেখা পরিহার করা বাঞ্ছনীয়। তিনি বলতে চান, নতুন লেখকরা কিছু লিখে
তাৎক্ষণিকভাবে না ছাপিয়ে কিছুদিন অপেক্ষা করে পুনরায় পাঠ করলে লেখাটি
সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। যার যে বিষয়ে অধিকার নেই সে বিষয়ে লেখার চেষ্টা করা যেমন
অনুচিত তেমনি লেখায় বিদ্যা জাহির করার প্রবণতাকেও তিনি নিন্দনীয় বলে মনে
করেছেন। অনুকরণবৃত্তিকেও দূষণীয় বলেছেন। অনাবশ্যকভাবে লেখার সৌষ্ঠব বৃদ্ধি
বা পরিহাস করার চেষ্টাও তাঁর কাছে কাম্য নয়। সারল্যকেই তিনি সকল অলংকারের
মধ্যে শ্রেষ্ঠ অলংকার বলে মনে করেছেন। সর্বোপরি বস্তুনিষ্ঠার ওপর
গুরুত্বারোপ করেছেন। এভাবে এই ছোট লেখাটিতে তিনি লেখকের আদর্শ কী হওয়া উচিত
তা অত্যাবশ্যকীয় শব্দ প্রয়োগে উপস্থাপন করেছেন। নবীন লেখকরা বঙ্কিমচন্দ্রের
পরামর্শ মান্য করলে লেখক ও পাঠক সমাজ নিশ্চিতভাবে উপকৃত হবেন; আমাদের
মননশীল ও সৃজনশীল জগৎ সমৃদ্ধ থেকে সমৃদ্ধতর হবে।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি :
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে জুন পশ্চিমবঙ্গের
চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষায় প্রথম
শিল্পসম্মত উপন্যাস রচনার কৃতিত্ব তাঁরই। তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ডেপুটি কালেক্টর। ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে কলিকাতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রথম স্নাতকদের মধ্যে তিনি
একজন। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। এ চাকরিসূত্রে খুলনার
ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করে তিনি নীলকরদের অত্যাচার দমন করেছিলেন।
দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান; যোগ্য বিচারক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল।
বাংলা সাহিত্যচর্চায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছিলেন তিনি। উপন্যাস ও
প্রবন্ধ রচনার বাইরে ‘বঙ্গদর্শন’(১৮৭২) পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ
তাঁর অন্যতম কীর্তি। ১৮৫২ খ্রিষ্টাব্দে ‘সম্বাদ প্রভাকর’ পত্রিকায়
কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্যচর্চার শুরু। বঙ্কিমচন্দ্রের
গ্রন্থসংখ্যা ৩৪। তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী(১৮৬৫)’।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
‘কপালকুণ্ডলা(১৮৬৬)’, ‘মৃণালিনী(১৮৬৯)’, ‘বিষবৃক্ষ(১৮৭৩)’,
‘কৃষ্ণকান্তের উইল’(১৮৭৮), ‘চন্দ্রশেখর(১৮৭৫)’, ‘আনন্দমঠ(১৮৮২)’, ‘দেবী
চৌধুরাণী(১৮৮৪)’, ‘রাজসিংহ(১৮৮২)’, ‘সীতারাম(১৮৮৭)’।‘Rajmohons Wife’
নামে একটি ইংরেজি উপন্যাসও তিনি রচনা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র ধর্ম, দর্শন,
সাহিত্য, ভাষা ও সমাজবিষয়ক অনেক প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
‘লোকরহস্য(১৮৭৪)’, ‘বিজ্ঞানরহস্য(১৮৭৫)’, ‘কমলাকান্তের দপ্তর(১৮৭৫)’,
‘সাম্য(১৮৭৯)’, ‘কৃষ্ণচরিত্র(১৮৮৬)’,‘বিবিধ প্রবন্ধ’
ইত্যাদি তাঁর
গদ্যগ্রন্থ।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যসম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত
হন।
বঙ্কিমচন্দ্র ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :
১. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কাঁঠালপাড়া
গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
২. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫৮ সালে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
৩. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন পেশায় ছিলেন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
৪. লোকরহস্য ও কৃষ্ণচরিত্র বঙ্কিমচন্দ্রের কোন ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: লোকরহস্য ও কৃষ্ণচরিত্র বঙ্কিমচন্দ্রের গদ্যগ্রন্থ।
৫. বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বঙ্কিমচন্দ্র কোন উপাধিতে ভূষিত হন?
উত্তর: বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘সাহিত্যসম্রাট’
উপাধিতে ভূষিত হন।
৬. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
৭. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
৮. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের
অন্তর্গত?
উত্তর: ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধটি ‘বিবিধ প্রবন্ধ’
গ্রন্থের অন্তর্গত।
৯. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিসের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যশের জন্য লিখতে নিষেধ করেছেন।
১০. কোন জায়গার অনেক লোক টাকার জন্য লেখে?
উত্তর: ইউরোপের অনেক লোক টাকার জন্য লেখে।
১১. আমাদের এখনও কোন দিন হয়নি?
উত্তর: আমাদের এখনও টাকার জন্য লেখার দিন হয়নি।
১২. অর্থের জন্য লিখতে গেলে কী প্রবল হয়ে পড়ে?
উত্তর: অর্থের জন্য লিখতে গেলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে।
১৩. যারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাদের কিসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: যারা অন্য উদ্দেশ্যে লেখেন, তাদের যাত্রাওয়ালা প্রভৃতি নীচ
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
১৪. সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য।
১৫. কোন উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ মহাপাপা?
উত্তর: মানবকল্যাণ ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ মহাপাপ।
১৬. ‘যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না।’ বঙ্কিমচন্দ্র এই কথা কাদের
বলেছেন?
উত্তর: ‘যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না।’ এই কথা নতুন লেখকদের
বলেছেন।
১৭. প্রাবন্ধিক কাব্য, নাটক, উপন্যাস কত বছর ফেলে রাখার কথা বলেছেন?
উত্তর: প্রাবন্ধিক কাব্য, নাটক, উপন্যাস দু-এক বছর ফেলে কদর্য রাখার কথা
বলেছেন।
১৮. যারা সাময়িক সাহিত্যে ব্রতী, তাদের পক্ষে কোন নিয়মটি রক্ষা করা হয়
না?
উত্তর: যারা সাময়িক সাহিত্যে ব্রতী, তাদের পক্ষে নতুন লেখা ফেলে রেখে
সংশোধন করার নিয়মটি রক্ষা করা হয় না।
১৯. যে বিষয়ে যার অধিকার নেই, সেই বিষয়ে তার কোনটি অকর্তব্য?
উত্তর: যে বিষয়ে যার অধিকার নেই, সেই বিষয়ে তার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য।
২০. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোনটি প্রকাশের চেষ্টা করতে নিষেধ
করেছেন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করতে নিষেধ
করেছেন।
২১. কোনটি আপনিই প্রকাশ পায়?
উত্তর: বিদ্যা আপনিই প্রকাশ পায়।
২২. বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা কাদের জন্য অতিশয় বিরক্তিকর?
উত্তর: বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা পাঠকের জন্য অতিশয় বিরক্তিকর।
২৩. প্রাবন্ধিক এখনকার প্রবন্ধে কী বেশি দেখতে পান?
উত্তর: প্রাবন্ধিক এখনকার প্রবন্যে ইংরেজি, সংস্কৃত, ফরাসি, জার্মান কোটেশন
বেশি দেখতে পান।
২৪. লেখায় স্থানে স্থানে কিসের প্রয়োজন হয়?
উত্তর: লেখায় স্থানে স্থানে অলঙ্কার বা ব্যঙ্গের প্রয়োজন হয়।
২৫. লেখকের ভান্ডারে কী থাকলে প্রয়োজন মতো আসে?
উত্তর: লেখকের ভাণ্ডারে অলঙ্কার বা ব্যঙ্গ থাকলে লেখায় প্রয়োজন মতো এসে
পৌঁছাবে।
২৬. কিসে অলঙ্কার প্রয়োগের বা রসিকতার চেষ্টার মতো কদর্য আর কিছুই নেই?
উত্তর: শূন্য ভান্ডারে অলঙ্কার প্রয়োগের বা রসিকতার চেষ্টার মতো কদর্য আর
কিছুই নেই।
২৭. প্রাবন্ধিক কোন স্থানটি পুনঃপুন বন্ধুদের পড়ে শোনাতে বলেছেন?
উত্তর: প্রাবন্ধিক অলঙ্কার ও ব্যঙ্গ প্রয়োগের স্থানটি পুনঃপুন বন্ধুদের পড়ে
শোনাতে বলেছেন।
২৮. প্রাবন্ধিক কাকে শ্রেষ্ঠলেখক বলেছেন?
উত্তর: যিনি সোজা কথায় মনের ভাব সহজে পাঠককে বোঝাতে পারেন প্রাবন্ধিকের মতে
তিনিই শ্রেষ্ঠলেখক।
২৯. কিসে দোষগুলো অনুকৃত হয়, গুণগুলো হয় না?
উত্তর: অনুকরণে দোষগুলো অনুকৃত হয়, গুণগুলো হয় না।
৩০. প্রাবন্ধিক কী লিখতে নিষেধ করেছেন?
উত্তর: যে কথার প্রমাণ দেওয়া যাবে না, প্রাবন্ধিক তা লিখতে নিষেধ
করেছেন।
৩১. লেখায় কোনটি যুক্ত করা সবসময় প্রয়োজন হয় না?
উত্তর: লেখায় প্রমাণ যুক্ত করা সবসময় প্রযয়োজন হয় না।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :
১.‘সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য’- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্যে মানবকল্যাণ ও সৌন্দর্য্য সৃষ্টি
সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রবন্ধকার প্রশ্নোক্ত বলেছেন।
➠ সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য অত্যন্ত মহৎ। সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে লেখকের
কেবল সৌন্দর্য্য সৃষ্টি অথবা মানবমঙ্গলের কথাই বিবেচনায় রাখা উচিত। মূলত
এ দুটিই জীবনের প্রকৃত সত্য। ধর্মের মর্মমূলেও রয়েছে এ দুয়ের উপস্থিতি।
সাহিত্যের উদ্দেশ্য এ কারণেই সত্য ও ধর্ম ব্যতীত অন্য কিছু নয়।
২. বঙ্কিমচন্দ্র যশের জন্য লিখতে বারণ করেছেন কেন?
উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, যশ বা খ্যাতি অর্জন একজন লেখকের উদ্দেশ্য
হওয়া উচিত নয়।
➠ কেননা, কোনো কিছু পাওয়ার আশা করে সুসাহিত্য হয় না। সাহিত্যের সাধনা
করতে হয় নিষ্কাম মন নিয়ে। এর ব্যত্যয় ঘটলে লেখার মানে প্রভাব পড়ে। আর
লেখা ভালো না হলে যশ অর্জনের পথও বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে লেখার মান
উৎকৃষ্ট হলে যশ আপনা থেকেই আসে। এ কারণেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যশের
জন্য লিখতে বারণ করেছেন।
৩. বঙ্কিমচন্দ্র নবীন লেখকদের টাকার জন্য লিখতে বারণ করেছেন কেন?
উত্তর: টাকার জন্য লিখতে গেলে লেখার মানের সাথে আপোষ করতে হয় বলে
বঙ্কিমচন্দ্র নবীন লেখকদের টাকার জন্য লিখতে বারণ করেছেন।
➠ লেখার সময় লেখকের মন হতে হয় স্বচ্ছ ও নির্মল। কিন্তু কিছু পাওয়ার আশা
নিয়ে লিখতে গেলে লেখার মানে বিচ্যুতি আসাটাই স্বাভাবিক। টাকার জন্য লিখতে
গেলে লেখকের মাঝে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর
হয়ে পড়ে। এদেশের সাধারণ পাঠক শিক্ষাদীক্ষা ও রুচিশীলতার প্রশ্নে অনেকটাই
পশ্চাৎপদ। তাই রচনায় তাদের মনোরঞ্জন করতে গেলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়ে
পড়ে। একারণেই বঙ্কিমচন্দ্র নবীন লেখকদের টাকার জন্য লিখতে বারণ করেছেন।
৪. ‘সাময়িক সাহিত্য, লেখকের পক্ষে অবনতিকর।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সাময়িক সাহিত্য লেখকের লেখার মানোন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ
বলে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
➠ সাময়িক সাহিত্য স্বল্পকালীন চাহিদার জন্য সৃষ্টি। এ লেখাগুলো অল্প
সময়ের মধ্যে লিখে খুব দ্রুতই প্রকাশ করতে হয়। এ কারণে লেখক লেখাগুলোকে
যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পান না। উৎকৃষ্ট মানের রচনা সৃষ্টির জন্য
রচনা লেখার পর পর্যাপ্ত সময় নিয়ে তা সংশোধন করা প্রয়োজন। সাময়িক সাহিত্যে
ব্রতী লেখকগণ এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণেই সাময়িক সাহিত্য লেখকদের
পক্ষে অবনতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৫. কাব্য, নাটক, উপন্যাস ইত্যাদি দু এক বছর ফেলে রেখে সংশোধন করা উচিত
কেন?
উত্তর: কাব্য, নাটক, উপন্যাস ইত্যাদি দু এক বছর ফেলে রেখে সংশোধন করলে
এগুলোর উৎকর্ষ বৃদ্ধি পায়।
➠ কাব্য, নাটক ও উপন্যাসে লেখকের মনের অনুভূতি, জীবনের অভিজ্ঞতা,
চারপাশের জীবন, প্রকৃতি ইত্যাদি নানা বিষয় স্থান পায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে
লেখকের দৃষ্টিভঙ্গির বদল ঘটে, অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়। তাই এ সকল সাহিত্য
রচনার পর দীর্ঘসময় ফেলে রেখে সংশোধন করলে তা উন্নততর সৃষ্টিকর্মে পরিণত
হয়। তাছাড়া লেখকের অনেক ভুলত্রুটিও এ সময়ের মধ্যে ধরা পড়ে। এ কারণেই
কাব্য, নাটক, উপন্যাস ইত্যাদি দু এক বছর ফেলে রেখে সংশোধন করা উচিত।
৬. ‘ভাণ্ডারে না থাকিলে মাথা ফুটিলেও আসিবে না’- লেখক কোন প্রসঙ্গে কথাটি
বলেছেন?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অলংকার ও ব্যঙ্গ
প্রয়োগে লেখকের স্বাভাবিক দক্ষতার বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন।
➠ রচনার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে লেখকগণ অলংকার, ব্যঙ্গ ইত্যাদি প্রয়োগ করে
থাকেন। এ দুটির ব্যবহারে লেখকের মুনশিয়ানার প্রকাশ ঘটে। যার মাঝে এ
সম্পর্কিত সূক্ষ্মা জ্ঞান আছে তার লেখায় স্বাভাবিকভাবেই এ দুটি বিষয়
সুন্দরভাবে এসে যায়। অন্যদিকে অলংকার বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে অনেক
ভেবেও এগুলোর সঠিক প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না। আবার এগুলো ইচ্ছেম কা
জোরপূর্বক যেখানে সেখানে বসালে রচনার শিল্পগুণ নষ্ট হয়। এ কারণেই
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
৭. ‘অনুকরণে দোষগুলি অনুকৃত হয়, গুণগুলি হয় না।’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অনুকরণপ্রিয়তার নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
➠ অনেক নবীন লেখকই প্রতিষ্ঠিত লেখকদের অনুকরণে সাহিত্য রচনা করতে চায়। এর
ফলে তারা প্রতিষ্ঠিত লেখকের রচনার দোষ-ত্রুটিগুলো সহজে আয়ত্ত করে।
গুণগুলো উপেক্ষিতই রয়ে যায়। অনুকরণবৃত্তির এটিই বৈশিষ্ট্য। অনুকরণ করতে
গেলে অন্যের ত্রুটিগুলোই বেশি আকর্ষণ করে। বঙ্কিমচন্দ্রে অনুকরণবৃত্তির এ
সমস্যাটি নির্দেশ করেছেন প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে।
৮. বঙ্কিমচন্দ্র অনুকরণবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করেছেন কেন?
উত্তর: অন্যের লেখা অনুকরণ লেখকের উৎকর্ষ অর্জনের পথে বাধাস্বরূপ বলে
বঙ্কিমচন্দ্র অনুকরণবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করেছেন অনেকেই নামকরা লেখকদের
অনুকরণে সাহিত্য রচনায় আগ্রহ অনুভব করেন।
➠ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এ ধরনের ঝোঁক ভালো লেখক হওয়ার পথে
প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ। প্রথমত, এর ফলে লেখকের নিজস্ব সত্তার সজীব বিকাশ
বাধাগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয়ত, অনুকরণে সচরাচর। গুণ নয় বরং দোষগুলোই আয়ত্ত হয়।
এ কারণেই বঙ্কিমচন্দ্র অনুকরণবৃত্তি বর্জন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
৯. ‘বাঙ্গালা সাহিত্য, বাঙ্গালার ভরসা।’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাঙালিরা
জীবনে বাংলা ভাষার মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন।
➠ ভাষার সাহায্যে মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করে। মনের ভাব প্রকাশের
সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে মাতৃভাষা। মায়ের মুখে শেখা বুলিতেই মানুষ নিজের
অনুভূতি জানাতে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। মাতৃভাষাতেই মানুষ কথা বলে
সবচেয়ে তৃপ্তি লাভকরে। মাতৃভাষার সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক আছে বলে মানুষের
সব আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-কল্পনার সাথে জড়িয়ে থাকে মাতৃভাষা। বাঙালির
শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ সকল সৃজনশীল ও মননশীল কর্মকাণ্ডের মূলে রয়েছে
মাতৃভাষা বাংলা। এ বিবেচনা থেকে বঙ্কিমচন্দ্র আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
১০. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনাটির সর্বকালীন ও
বৈশ্বিক আবেদন রয়েছে কেন?
উত্তর: ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনাটি যেকোনো কালের,
যেকোনো স্থানের লেখকের জন্য আদর্শস্বরূপ।
➠ আলোচ্য প্রবন্ধটি বঙ্কিমচন্দ্রে বাংলা ভাষার উন্নতিকল্পে নবীন লেখকদের
উদ্দেশে নিবেদন করেছেন। উনিশ শতকের শেষভাগে রচিত হলেও রচনাটির
প্রাসঙ্গিকতা আজও বিদ্যমান। রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র সাহিত্য রচনার প্রকৃত
উদ্দেশ্য এবং আদর্শ লেখকের করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে বিভিন্ন উপদেশ
দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শগুলো যেকোনো দেশের, যেকোনো ভাষার লেখকের জন্যই
প্রযোজ্য, কালজয়ী ও সর্বত্রগামী।
১১. অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: আলোচ্য উক্তির মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন, ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা বা
অন্যের অনিষ্ট সাধনের উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ চরম গর্হিত কাজ।
➠ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য মানবতার
মঙ্গল সাধন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি। লেখার মাধ্যমে যদি সত্য ও সুন্দরের
প্রতিষ্ঠা হয়, তবে তা সার্থক হয়। অন্যদিকে যে লেখায় কেবল নিজের স্বার্থ
প্রাধান্য পায়, যাতে মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, যে লেখা মানুষের পীড়নের
কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাই সৎ মনোভাব ছাড়া লেখনী ধারণকে
লেখক মহাপাপ বলে উল্লেখ করেছেন।
১২. ‘টাকার জন্য লিখিবেন না।’- বঙ্কিমচন্দ্র এ পরামর্শ কেন দিয়েছেন?
উত্তর: টাকার জন্য লিখলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে বলে
বঙ্কিমচন্দ্র টাকার জন্য লিখতে বারণ করেছেন।
➠ সাধারণত অর্থ উপার্জনের আশায় লিখতে গেলে সেখানে মানুষের মন রক্ষার
বিষয়টি এসে পড়ে। এদেশের সাধারণ পাঠক শিক্ষা ও রুচির বিবেচনায় উন্নতির
শিখর থেকে অনেকটাই দূরে। তাদের অধিকাংশই উন্নত মননের অধিকারী নয়। তাই
সাধারণ পাঠকের মনোরঞ্জন করতে গেলে লেখককে তাদের স্তরে নামতে হবে। এর ফলে
লেখককে রচনার মানের সাথেও আপস করতে হবে। এ কারণেই বঙ্কিমচন্দ্র টাকার কথা
ভেবে লিখতে নিষেধ করেছেন।
১৩. সুতরাং তাহা একেবারে পরিহার্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অসৎ উদ্দেশ্যে লিখিত সাহিত্যকে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
➠ সত্য ও ধর্ম সাহিত্যের উদ্দেশ্য। এ কারণে সাহিত্য রচনার সময় লেখকের
লক্ষ্য হওয়া উচিত সৌন্দর্য সৃষ্টি অথবা মানবকল্যাণ। যে সাহিত্য মিথ্যার
ভিত্তিতে গড়া, যে রচনা নবপীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তা কোনো বিবেচনাতেই
গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের লেখার বিপক্ষে বঙ্কিমচন্দ্র নিজের অবস্থানের
বিষয়টি আলোচ্য উদ্ভিতে স্পষ্ট করেছেন।
১৪. সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানবকল্যাণ।
➠ বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনায় ব্রতী হন। কেউ অর্থ
ও যশলাভ করতে চান। কেউ নিছক সৌন্দর্যের ভাবনা প্রকাশ করেন। কেউ আবার
মানবকল্যাণে জীবন সঁপে দেন। তবে সাহিত্যের প্রকৃত লক্ষ্য হলো সত্য ও
ধর্ম। সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানবকল্যাণ যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণে
সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানবমঙ্গলই সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য বলে
বিবেচিত।
১৫. ‘যে কথার প্রমাণ দিতে পারিবে না, তাহা লিখিও না।’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: লেখার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের ওপর জোর দিতে গিয়ে
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টেপাধ্যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
➠ বস্তুনিষ্ঠতা একটি রচনার প্রাণ। আর তা নিশ্চিত করার জন্য লেখকের
প্রয়োজন সত্যাশ্রয়ী হওয়া। লেখক নিজের রচনায় যে সমস্ত তথ্য পরিবেশন করছেন
তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ তাঁর হাতে থাকা আবশ্যক। অনেক সময় প্রমাণ সংগ্রহ
করতে না পারলেও আবেগ বা চাপের বশে কেউ কেউ মনগড়া তথ্য সন্নিবেশ করতে চান।
এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান রয়েছে প্রশ্নের উক্তিটিতে।
১৬. বঙ্কিমচন্দ্র সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার বলেছেন কেন?
উত্তর: লেখায় সরলতা থাকলে তা সহজেই পাঠকের বোধগম্য হয় বলে বঙ্কিমচন্দ্র
সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ অলংকার বলেছেন।
➠ সাহিত্যে রচনার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রূপক, অনুপ্রাস, শ্লেষসহ নানা
ধরনের অলংকার ব্যবহার করা হয়। সরলতা সে অর্থে সাহিত্যের অলংকারের
প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সরলতার গুণে একটি রচনা সবচেয়ে সুন্দর
হয়ে ওঠে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, যে লেখা পড়লে মানুষ সবচেয়ে
সহজে লেখকের মনের ভাব বুঝতে পারে, সেটিই সুন্দরতম রচনা। এ বিবেচনা থেকেই
তিনি সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করেছেন।
১৬. ‘বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করিবেন না’- বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: অনাবশ্যক বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা রচনার গুণগত মান নষ্ট করে বলে
প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
➠ রচনায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টাকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দূষণীয়
হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার মতে, লেখকের মাঝে বিদ্যা থাকলে তা তাঁর লেখায়
নিজে থেকেই প্রকাশ পায়। অনেকে নিজেকে পণ্ডিত প্রমাণের জন্য ভাবি ভারি
তথ্য ও বিদেশি লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। এর ফলে রচনা জটিল হয়ে পড়ে এবং
পাঠক বিরক্ত বোধ করে। রচনার পারিপাট্য নষ্ট হয় বলেই বঙ্কিমচন্দ্র লেখায়
বিদ্যা পরিবেশনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশ্নোক্ত
উক্তিতে।
১৭. ‘সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর।’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সাময়িক সাহিত্য লেখকের লেখার মানোন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ
বলে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রশ্নোত্ত উক্তিটি করেছেন।
➠ সাময়িক সাহিত্য স্বল্পকালীন চাহিদার জন্য সৃষ্টি। এ লেখাগুলো অল্প
সময়ের মধ্যে লিখে খুব দ্রুতই প্রকাশ করতে হয়। এ কারণে লেখক লেখাগুলোকে
যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পান না। উৎকৃষ্ট মানের রচনা সৃষ্টির জন্য
রচনা লেখার পর পর্যাপ্ত সময় নিয়ে তা সংশোধন করা প্রয়োজন। সাময়িক না।
সাময়িক সাহিত্যে বর্তী লেখকগণ এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণেই সাময়িক
সাহিত্য লেখকদের পক্ষে অবনতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক
বিপর্যয়, হতাশা ও হাহাকারে উপমহাদেশ ছিল নানা অভিঘাতে বিপর্যস্ত ও
রূপান্তরিত। এমনই এক পরিবেশে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) তাঁর
ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় বিনির্মাণ করলেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের
মহাকাব্যিক এক আশাবাদী জগৎ। তিনি কলম তুলে নিলেন শোষণ-বঞ্চনাহীন,
শ্রেণিবৈষম্যহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ সৃষ্টি
করতে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাম্যের গান গাইলেন। এক সময়
তিনি হয়ে উঠলেন ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার
আদায়ের কলমসৈনিক। শোষণ, বঞ্চনা ও সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর
বিদ্রোহ আজও আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে।
ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?
খ. অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ-বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনা ‘বাঙ্গালার নব্য
লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন বৈশিষ্ট্যটির প্রতিফলন ঘটায় তা
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বাংলার নতুন লেখকদের প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন
উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি? উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে তোমার
মতামত দাও।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময় বিশ্বব্যাপী মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক
বিপর্যয়, হতাশা ও হাহাকারে উপমহাদেশের জীবন ছিল নানা অভিঘাতে বিপর্যস্ত ও
রূপান্তরিত। এমনই এক পরিবেশে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) তাঁর
ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতায় বিনির্মাণ করলেন শাশ্বত কল্যাণ ও সাম্যবাদের
মহাকাব্যিক এক আশাবাদী জগৎ। তিনি কলম তুলে নিলেন শোষণ-বঞ্চমাহীন,
শ্রেণিবৈষম্যহীন, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক এক জগৎ সৃষ্টি
করতে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সাম্যের গান গাইলেন। এক সময়
তিনি হয়ে উঠলেন ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-গোত্র নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষের
অধিকার আদায়ের কলমসৈনিক। শোষণ, বঞ্চনা ও সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে
তাঁর বিদ্রোহ আজও আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে বারংবার।
ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী?
খ. অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী-ধারণ মহাপাপ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনা ‘বাঙ্গালার নব্য
লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের কোন বৈশিষ্ট্যটির প্রতিফলন ঘটায়?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বাংলার নতুন লেখকদের প্রতি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন
উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি? উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে তোমার
মতামত দাও।
ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো সত্য ও
ধর্ম।
খ. আলোচ্য উক্তির মাধ্যমে লেখক বুঝিয়েছেন, ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা বা
অন্যের অনিষ্ট সাধনের উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ চরম গর্হিত কাজ।
➠ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য মানবতার
মঙ্গল সাধন অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি। লেখার মাধ্যমে যদি সত্য ও সুন্দরের
প্রতিষ্ঠা হয়, তবে তা সার্থক হয়। অন্যদিকে যে লেখায় কেবল নিজের স্বার্থ
প্রাধান্য পায়, যাতে মিথ্যাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, যে লেখা মানুষের পীড়নের
কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাই সৎ মনোভাব ছাড়া লেখনী ধারণকে
লেখক মহাপাপ বলে উল্লেখ করেছেন।
গ. উদ্দীপকের কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য সাধনায় ‘বাঙ্গালার নব্য
লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে প্রকাশিত মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের
বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখা যায়।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।
লেখকের মতে, খ্যাতি বা অর্থলাভ সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য নয়। মানুষের
কল্যাণ বা সৌন্দর্য সৃষ্টিই লেখকের মূল অভিপ্রায় হওয়া বাঞ্ছনীয়। লেখকদের
প্রতি তাই তাঁর নিবেদন, যে লেখায় মানুষের অনিষ্ট হয় তা পরিত্যাগ করে
মানবমঙ্গল নিশ্চিত করে এমন সাহিত্য রচনায় ব্রতী হওয়া উচিত।
➠ উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের মহান শিল্পী কাজী নজরুল ইসলামের কথা বলা
হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সংকটকালে তিনি মানবমুক্তির গান নিয়ে
সাহিত্যাঙ্গনে আবির্ভূত হয়েছিলেন। মানুষের শোষণ-বঞ্চনা,
ক্ষুধা-দারিদ্র্যের যন্ত্রণা তাঁর লেখনীতে স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়।
শ্রেণি-বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের স্বপ্নের কথাই নজরুলের সাহিত্যে মুখ্য হয়ে
ওঠে। মানবহিতৈষী মনোভাব নিয়ে সাহিত্য রচনায় অগ্রসর হওয়ার আহ্বান আলোচ্য
প্রবন্ধেও বিদ্যমান। প্রবন্ধের লেখকের মতে, এটিই সাহিত্য রচনার আসল
উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এ বৈশিষ্ট্যই কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে প্রতিফলিত
হয়েছে।
ঘ. সাহিত্যের মধ্য দিয়ে সত্য ও সুন্দরের চর্চা অব্যাহত রাখার বিবেচনায়
উদ্দীপকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নিবেদন যথার্থভাবে প্রকাশিত
হয়েছে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে অবশ্য পালনীয় কিছু পরামর্শ প্রদান
করেছেন। তাঁর মতে, সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য যশ বা অর্থ লাভ নয় বরং
মানবকল্যাণ। লেখকগণের উচিত লোকরঞ্জন পরিত্যাগ করে সত্য প্রকাশে অসংকোচ
হওয়া। বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী করার জন্য বঙ্কিমচন্দ্রের এ
পরামর্শ অমূল্য।
➠ আলোচা উদ্দীপকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী জরুল ইসলামের লেখক সত্তার
পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। শোষণ-বঞ্চনা, দারিদ্র্য, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা- এ
সবই তিনি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। নিজের সাহিত্যে তিনি এ সমস্ত
অন্ধকারের অবসান কামনা করেছেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন সৌহার্দ্যপূর্ণ
সমাজ গড়াই ছিল নজরুলের লক্ষ্য। আলোচ্য প্রবন্ধের মূলসুরও তাই।
➠ লেখক মাত্রই সত্য ও সুন্দরের পূজারি। মানবমুক্তির গভীরতম অনুভূতি
লেখকের জাদুকরী শব্দমালায় আমাদের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে। সমাজের অসাম্য,
অন্যায়, অরাজকতা লক্ষ করেও যে চুপ থাকে বা অন্যায়কারীদের তোষণ করে সে
প্রকৃত লেখক নয়। প্রকৃত লেখক কখনোই সত্য প্রকাশে পিছপা হন না। তাঁর সত্য
ভাষণেই মানবমুক্তির দুয়ার উন্মোচিত হয়। আলোচ্য উদ্দীপকে বর্ণিত কবি কাজী
নজরুলের লেখার মাঝে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেজেছিল প্রবল বিদ্রোহের সুর।
মানবকল্যাণের শাশ্বত ও সুন্দর বাণীই ছিল তাঁর লেখার মূল হাতিয়ার। এই
হাতিয়ারকে জীবনপথের পাথেয় করার নিবেদনই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় আলোচ্য
প্রবন্ধে করেছেন। রচনার মানব্যঙ্গলকেই সাহিত্যের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে
গ্রহণের নিবেদন জানিয়েছেন তিনি, যার প্রতিফলন উদ্দীপকে স্পষ্টরূপেই ফুটে
উঠেছে।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা, তা
উদ্দেশ্যহীন। মানুষ যখন খেলা করে, তখন সে এক আনন্দ ব্যতীত অপর কোনো ফলের
আকাঙ্ক্ষা রাখে না। যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই, কিন্তু উপরি পাওনার আশা
আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা। ও ব্যাপার সাহিত্যে চলে না।
ক. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার লেখক কে?
খ. ‘সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য’- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বর্ণিত সাহিত্য ও
উদ্দীপকের উল্লিখিত ক্রীড়ার মধ্যে কোথায় পার্থক্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. ‘অমিল থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাহিত্য ও ক্রীড়ার মাঝে তাৎপর্যপূর্ণ
মিলও রয়েছে’— এ বিষয়ে তোমার মতামত তুলে ধরো।
ক. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার লেখক বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়।
খ. সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানবকল্যাণ ও সৌন্দর্য সৃষ্টি সম্পর্কে
বলতে গিয়ে প্রবন্ধকার প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
➠ সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য অত্যন্ত মহৎ। সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে লেখকের
কেবল সৌন্দর্য সৃষ্টি অথবা মানবমঙ্গলের কথাই বিবেচনায় রাখা উচিত। মূলত এ
দুটিই জীবনের প্রকৃত সত্য। ধর্মের মর্মমূলেও রয়েছে এ দুয়ের উপস্থিতি।
সাহিত্যের উদ্দেশ্য এ কারণেই সত্য ও ধর্ম ব্যতীত অন্য কিছু নয়।
গ. উদ্দীপকে ক্রীড়াকে উদ্দেশ্যহীন বলা হলেও আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যের
বিভিন্ন উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে, যা উদ্দীপকের ক্রীড়া ও
আলোচ্য প্রবন্ধের সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নবীন লেখকদের মূল্যবান পরামর্শ
প্রদান করেছেন। ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় উদ্দেশ্য নিয়েই সাহিত্য রচনা করা
যায়। লেখকের মতে, সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সৌন্দর্য সৃষ্টি ও
মানবকল্যাণ। এছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য যেমন ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার বা
মানবপীড়নের জন্য সাহিত্য রচনাকে তিনি 'মহাপাপ' হিসেবে গণ্য করেছেন।
➠ উদ্দীপকে মানুষের দেহমনের সকল ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়াকে শ্রে‘বলা হয়েছে।
কেননা, এটি উদ্দেশ্যহীন। মানুষ নিছক আনন্দ লাভের জন্যই খেলাধুলা করে
থাকে, অন্য কিছু পাবার আশায় নয়। সাধারণ ক্রীড়া উদ্দেশ্যহীন হলেও সাহিত্য
তা নয়। এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে। এখানেই ক্রীড়ার সাথে
সাহিত্যের পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
ঘ. অর্থের সংশ্লিষ্টতায় ক্রীড়া ও সাহিত্য উভয়েরই কলুষিত হওয়ার সুযোগ
থাকে, যা উদ্দীপকের ক্রীড়া ও প্রবন্ধের সাহিত্যের মিল নির্দেশ করে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে নবীন লেখকদের আর্থিক লাভের। করতে
বারণ করেছেন। তাঁর মতে, অর্থের জন্য লিখলে লেখায় লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি
প্রবল ওঠে। আমাদের দেশের সাধারণ পাঠকের পশ্চাৎপদ মননশীলতার বিচারে লেখায়
লোকরঞ্জন করতে গেলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়ে পড়ে।
➠ উদ্দীপকে খেলাধুলার মাধ্যমে আনন্দপ্রাপ্তির কথা বলা হয়েছে। লোকে সচরাচর
অর্থ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় বরং নির্মল আনন্দ লাভের উদ্দেশ্যেই
খেলাধুলা করে থাকে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রচনার লেখকের মতে, খেলাধুলায় আনন্দ
লাভের পরিবর্তে অর্থ লাভের বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠলে সেই খেলা জুয়াখেলায়
রূপান্তরিত হয়। একইভাবে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করতে গেলে
তার স্বাভাবিক ধর্ম বিনষ্ট হয়।। আলোচ্য প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, সাহিত্য রচনার সময় কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করতে।
বরং লেখার উৎকর্ষ বৃদ্ধির প্রতি নবীন লেখকদের যত্নবান হওয়া উচিত। লেখা
ভালো হলে অর্থ, খ্যাতি আপনা থেকেই আসে। কিন্তু লেখার সময় অর্থের কথা
ভাবলে লোকের মন রক্ষার কথা মাথায় চলে আসে। ক্রীড়া যেমন স্বতঃস্ফূর্ত
তেমনি লেখকের লেখাও সকল প্রভাব ও হওয়া চাই। তবেই লেখা হয়ে উঠবে সৌন্দর্য
প্রকাশে সক্ষম এবং মানুষের জন্য কল্যাণকর। অন্যদিকে, অর্থের প্রভাবে যেমন
সাধারণ খেলা জুয়াখেলায় পরিণত হয়, তেমনি সাহিত্যও হয়ে উঠতে পারে মানুষের
জন্য হানিকর। এ কারণেই দেখাও স্বতঃস্ফূর্ত ও মানবকল্যাণের আদর্শের
অনুগামী হওয়া বাঞ্ছনীয়।
➠ আলোচনা থেকে দেখা যায় সামান্য অমিল থাকলেও অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষার দিক
থেকে কোনো কোনো ক্রীড়া ও সাহিত্যের মাঝে তাৎপর্যপূর্ণ মিল বিদ্যমান।
অর্থাৎ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ বলেই আমি মনে করি।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে ‘অতসীমামী’ নামে গল্প
লেখেন। গল্পটি পত্রিকায় প্রকাশের পর এত আলোড়ন তৈরি করে যে, এরপর তিনি
লেখালেখিতেই নিজেকে নিয়োজিত করে ফেলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত
নিরবচ্ছিন্নভাবে মনের আনন্দে লিখে গেছেন তিনি। ফলে তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি
ছিল সর্বজনবিদিত।
ক. আমাদের দেশের সাধারণ পাঠকের কী বিবেচনায় লোকরঞ্জন করতে গেলে রচনা
বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়ে পড়ে?
খ. ‘টাকার জন্য লিখিবেন না’- বঙ্কিমচন্দ্র এ পরামর্শ কেন দিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার কোন দিকটি
প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে’ কথাটি উদ্দীপকের মানিক
বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে কতটুকু সঠিক? তোমার মতামত দাও।
ক. আমাদের দেশের সাধারণ পাঠকের শিক্ষা ও রুচি বিবেচনায় লোকরঞ্জন করতে
গেলে রচনা বিকৃত ও অনিষ্টকর হয়ে ওঠে।
খ. টাকার জন্য লিখলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে বলে বঙ্কিমচন্দ্র
টাকার জন্য লিখতে বারণ করেছেন।
➠ সাধারণত অর্থ উপার্জনের আশায় লিখতে গেলে সেখানে মানুষের মন রক্ষার
বিষয়টি এসে পড়ে। এদেশের সাধারণ পাঠক শিক্ষা ও রুচির বিবেচনায় উন্নতির
শিখর থেকে অনেকটাই দূরে। তাদের অধিকাংশই উন্নত মননের অধিকারী নয়। তাই
সাধারণ পাঠকের মনোরঞ্জন করতে গেলে লেখককে তাদের স্তরে নামতে হবে। এর ফলে
লেখককে রচনার মানের সাথেও আপস করতে হবে। এ কারণেই বঙ্কিমচন্দ্র টাকার কথা
ভেবে লিখতে নিষেধ করেছেন।
গ. উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বর্ণিত
সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখনীর দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখায় সৌন্দর্য সৃষ্টির
দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, লেখার মূল উদ্দেশ্য যশ বা
খ্যাতি অর্জন নয়। পাঠকের মনে স্থান পেতে হলে ভালো লেখা রচনা করতে হবে।
তাহলে এমনিতেই খ্যাতি অর্জিত হবে। উদ্দীপকের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় মনের
আনন্দে সাহিত্য রচনা করেছেন, বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে তিনি ‘অতিসীমামী’
নামে গল্প লিখেছেন। তিনি ভাবেননি তাঁর লেখা তাঁকে এতটা খ্যাতি এনে দেবে।
এক লেখার মধ্য দিয়েই তিনি সাহিত্যিক অঙ্গনে নিজেকে পরিচিত করিয়ে তোলেন।
তাঁর এ পরিচিত হয়ে ওঠা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত নয়। ভালো লিখে পাঠক হৃদয় জয় করতে
পেরেছেন বলেই তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করতে পেরেছেন। উদ্দীপকের এ দিকটিই
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার লেখকের সাহিত্যে সৌন্দর্য
সৃষ্টির অভিপ্রায় ভাবনার প্রতিফলন।
ঘ. লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে' কথাটি উদ্দীপকের মানিক
বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে লেখনীর মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে
সম্পূর্ণ সঠিক।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখক মনে করেন, ভালো
লেখার মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই খ্যাতি অর্জন করা সম্ভব। লেখায় সৌন্দর্য
সৃষ্টি করা গেলে যশ এমনিতেই আসবে। যশপ্রাপ্তির আশায় সাহিত্য রচনা অনুচিত
ও নীতিবিরুদ্ধ।
➠ উদ্দীপকের মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে গল্প লেখেন।
সেই গল্প পত্রিকায় প্রকাশের পর তা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পাঠকহৃদয় জয়
করে তাঁর খ্যাতি দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। উৎকৃষ্ট লেখার কারণেই তিনি
এমন খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।
➠ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যশের আশায় তিনি সাহিত্য রচনা করেননি। ভালো লেখাই
তাঁকে সাহিত্যিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি
নিবেদন’ রচনায় সাহিত্যিক সৌন্দর্য সৃষ্টির মাধ্যমে খ্যাতি লাভের বিষয়টি
প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। নবীন লেখকদের যশ বা অর্থের জন্য লেখালেখি করা
অনুচিত। এতে লোকের মনোরঞ্জন তথা লোক দেখানো মনোবৃত্তি ফুটে ওঠে। তখন
লেখার সৌন্দর্য বিঘ্নিত হয়। আর সাহিত্যের সৌন্দর্য নষ্ট হলে তা
গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। তখন পাঠক সেই লেখায় আনন্দ খুঁজে পায় না। এমন লেখক না
হয়ে আদর্শ লেখক হওয়ার প্রতি আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক গুরুত্বারোপ
করেছেন। প্রাবন্ধিকের এই আদর্শ লেখকের প্রতিচ্ছবি উদ্দীপকের মানিক
বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলা সমীচীন। কেননা, তিনি ভালো লেখার মধ্য দিয়ে যশ অর্জন
করতে সক্ষম হয়েছেন। বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে তিনি এমন গল্প লিখেছেন, যা
পাঠক সমাদৃত হয়েছে এবং তিনিও সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেছেন।
তাঁর ক্ষেত্রে আলোচ্য প্রবন্ধের 'লেখা ভালো হইলে যশ আপনি আসিবে' কথাটি
শতভাগ যথার্থ।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
খেতের পরে যেত চলেছে, খেতের নাহি শেষ
সবুজ গাওয়ায় দুলছে ও কার এলো মাথার কেশ।
সেই কেশেতে গয়না পরায় প্রজাপতির ঝাঁক,
চজুতে তাল ছিটায় সেথা কালো কালো কাক।
সাদা সাদা বক-কনেরা রচে সেথায় মালা,
শরৎকালের শিশির সেথা জ্বালায় মানিক আলা
তারি মায়ায় থোকা থোকা দোলে ধানের ছড়া,
মার আঁচলের পরশ থোকা যেন সকল অভাব-হরা।
সেই ফসলে আসমানিদের নেইকো অধিকার,
জীর্ণ পাঁজর বুকের হাড়ে জ্বলছে হাহাকার।
ক. কোন ধরনের প্রবন্ধ কখনো হিতকর হতে পারে না?
খ. সুতরাং তাহা একেবারে পরিহার্য ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের প্রথম আট চরণে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’
রচনায় উল্লিখিত সাহিত্য রচনার কোন উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘উদ্দীপকে সাহিত্য সৃজনের প্রকৃত উদ্দেশ্যসমূহের পরিপূর্ণ প্রকাশ
ঘটেছে’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
ক. যে প্রবন্ধ অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা বা পরপীড়ন বা স্বার্থরক্ষার
জন্য রচিত হয়, সেসব প্রবন্ধ কখনো হিতকর হতে পারে না।
খ. অসৎ উদ্দেশ্যে লিখিত সাহিত্যকে বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
সত্য ও ধর্ম সাহিত্যের উদ্দেশ্য। এ কারণে সাহিত্য রচনার সময় লেখকের
লক্ষ্য হওয়া উচিত সৌন্দর্য সৃষ্টি অথবা মানবকল্যাণ। যে সাহিত্য মিথ্যার
ভিত্তিতে গড়া, যে রচনা মানবপীড়নের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তা কোনো বিবেচনাতেই
গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের লেখার বিপক্ষে বঙ্কিমচন্দ্র নিজের অবস্থানের
বিষয়টি আলোচ্য উদ্ভিতে স্পষ্ট করেছেন।
গ. উদ্দীপকের প্রথম আট চরণে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’
রচনায় উল্লিখিত সৌন্দর্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দিকটি ফুটে উঠেছে।
➠ রচনার উল্লিখিত রচনায় সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা
করা হয়েছে। প্রাবন্ধিকের মতে, সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। সত্য ও
ধর্ম উভয়ই শাশ্বত সুন্দরের কথা বলে। তাই সৌন্দর্য সৃষ্টির অভিপ্রায়কে
সাহিত্য রচনার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায়।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশের প্রথম আট চরণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যম-িত একটি চিত্র
তুলে ধরা হয়েছে। অবারিত ফসলের খেতে মনের আনন্দে বিচরণ করছে নানা জাতের
পাখি ও কীটপতল। হাওয়া লেগে বানের খেতে অপরূপ শোভার সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বোপরি কবির সৌন্দর্যভাবনার স্বরূপই কবিতাংশের প্রথম আট চরণে মুখ্য
হয়ে উঠেছে। আলোচ্য প্রবন্ধে এই ভাবনার বহিঃপ্রকাশকে সাহিত্য রচনার অন্যতম
লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশ যুগপৎভাবে সৌন্দর্যভাবনা ও মানবকল্যাণের আকাঙ্ক্ষার
ধারক হয়ে ওঠায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’
রচনায় নবীন লেখকের সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে দিক নির্দেশনা
দিয়েছেন। প্রাবন্ধিক বলেছেন, সত্য ও ধর্মই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। এ দুয়েরই
মূলকথা হলো সুন্দর বা ইতিবাচক ভাবনার পালন এবং মানবকল্যাণ নিশ্চিতকরণ।
➠ আলোচ্য উদ্দীপকের কবিতাংশে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি চিত্র
ফুটে উঠেছে। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের খেতে সোনালি ধান হাওয়ায় দুলছে। নানা
প্রজাতির পতঙ্গ ও পাখির বিচরণ, শরতের শিশির ইত্যাদি সেই সৌন্দর্যের
অলংকার হিসেবেই যেন অবস্থান করছে। সৌন্দর্যপ্রীতির এই দিকটির বাইরেও
উদ্দীপকে আরও একটি দিক রয়েছে। সাধের এই সোনালি ফসলের অধিকার থেকে বঞ্চিত
আসমানিদের মতো নিরন্ন মানুষেরা। এখানে কবির মানবপ্রীতির প্রকাশও লক্ষণীয়।
➠ সুতরাং উদ্দীপকে সাহিত্য রচনার উভয় লক্ষ্যই ফুটে উঠেছে। আলোচ্য
প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র নবীন লেখকদের উদ্দেশে বলতে চেয়েছেন, সাহিত্য রচনার
উদ্দেশ্য অত্যন্ত মহৎ। কেবল সৌন্দর্য সৃষ্টির অভিপ্রায় অথবা মানবকল্যাণের
লক্ষ্যই লেখকের সাহিত্য রচনার চালিকাশক্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। অন্য কোনো
উদ্দেশ্য নিয়ে লেখাকে তিনি নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছেন। উদ্দীপকের
কবিতাংশের অধিকাংশ জুড়েই সৌন্দর্য সৃষ্টির ভাবনা লক্ষ করা যায়। তবে শেষ
দুই চরণে সমাজের বঞ্চিত মানুষদের প্রতি সমবেদনা ফুটে উঠেছে। তাদের অধিকার
আদায়ের মনোভাব কবিতাংশে প্রচ্ছন্নভাবে প্রকাশ লাভ করেছে। সৌন্দর্যভাবনা ও
মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও দুয়েরই রূপায়ণ ঘটায় উদ্দীপকে সাহিত্য সৃজনের
উদ্দেশ্যসমূহের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটেছে বলেই আমি মনে করি। অর্থাৎ
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
পয়লা বৈশাখের ক্রোড়পত্রে ছাপানোর জন্য প্রকাশকের জরুরি তাগাদায় একটি
প্রবন্ধ লেখে আশিক। কিন্তু লেখাটি নিজের মনঃপূত না হওয়ায় পরে একসময়
ছাপাতে চায় সে। আশিকের এমন মনোভাবের কথা জানতে পেরে প্রকাশক বলেন, পয়লা
বৈশাখের সংখ্যায় লেখা ছাপালে বহু লোক তাকে চিনবে। তাছাড়া টাকাও বেশি
পাওয়া যাবে। তাঁর কথায় আশিক লেখাটি ছাপাতে রাজি হয়।
ক. কোথায় এখন অনেকে টাকার জন্য লেখে এবং লেখাও ভালো হয়?
খ. বঙ্কিমচন্দ্র লেখাকে কিছুকাল ফেলে রাখতে বলেছেন কেন?
গ. আশিকের প্রথম সিদ্ধান্তটি ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’
রচনার কোন প্রসঙ্গকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আশিকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি তার লেখকসত্তা বিকাশে কেমন প্রভাব ফেলবে
বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণী মতামত দাও।
ক. ইউরোপে এখন অনেকে টাকার জন্য লেখে এবং লেখাও ভালো হয়।
খ. লেখার মানোন্নয়নের স্বার্থে বঙ্কিমচন্দ্র লেখাকে কিছুকাল ফেলে রাখতে
বলেছেন।
➠ বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, কোনো কিছু লিখে সাথে সাথে ছাপানোর সিদ্ধান্ত সঠিক
নয়। বরং লেখাটিকে কিছুদিন ফেলে রেখে সংশোধন করা উচিত। এর ফলে লেখকের
পরিবর্তিত ও তুলনামূলক উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি লেখাটিতে প্রকাশ ঘটানোর সুযোগ
থাকে। তাছাড়া এ সময়ের মধ্যে অনেক ত্রুটিও লেখকের দৃষ্টিগোচর হয়। এ কারণেই
বঙ্কিমচন্দ্র লেখাকে ছাপানোর পূর্বে কিছুকাল সংরক্ষণের কথা বলেছেন।
গ. আশিকের প্রথম সিদ্ধান্তটি আলোচ্য প্রবন্ধে উল্লিখিত রচনার উৎকর্ষ
সাধনে সময় গ্রহণের দিকটিকে ইঙ্গিত করে।
➠ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’
রচনায় নতুন লেখকদের জন্য বেশ কিছু উপদেশ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম
হলো কোনো কিছু লিখে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না করার বিষয়টি। প্রাবন্ধিকের
মতে, রচনাকে কিছু কাল ফেলে রেখে সংশোধন করলে রচনার উৎকর্ষ বাড়ে। যত বেশি
সময় নিয়ে যতবার পড়া যাবে, ততই রচনা সমৃদ্ধতর হয়ে উঠবে।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত আশিক ক্রোড়পত্রের পয়লা বৈশাখের সংখ্যায় ছাপানোর জন্য
প্রকাশকের জরুরি চাহিদার ভিত্তিতে একটি লেখা প্রস্তুত করে। কিন্তু
লেখাটির উৎকর্ষ সাধনের জন্য সে তা বৈশাখের সংখ্যায় না ছাপানোর কথা জানায়।
আরও অনেকবার লেখাটি মূল্যায়ন করে এর মানোন্নয়নের লক্ষ্য থেকেই আশিক এ
সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে। আলোচ্য প্রবন্ধে রচনার উৎকর্ষ সাধনে এমন পরামর্শই
দিয়েছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এভাবেই উদ্দীপকে আশিকের সিদ্ধান্ত
প্রবন্ধের সাথে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
ঘ. ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ায় আশিকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি তার
লেখকসত্তা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং রচনার উৎকর্ষ বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে
নবীন লেখকদের মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, খ্যাতি, অর্থ বা
ব্যক্তিগত স্বার্থসাধন নয়; সাহিত্যের উদ্দেশ্য সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানুষের
কল্যাণসাধন। রচনার উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য তিনি রচনাকে কিছুকাল ফেলে রেখে
মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকের আশিক পয়লা বৈশাখের ক্রোড়পত্রে ছাপানোর জন্য স্বল্প সময়ে একটি
লেখা প্রস্তুত করে। কিন্তু মান বৃদ্ধির স্বার্থে সে লেখাটি পরে ছাপানোর
সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়টি জানতে পেরে প্রকাশক তাকে অর্থ ও খ্যাতির লোভ
দেখালে সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি
নিবেদন’ রচনার আলোকে বলা যায়, আশিকের পরবর্তী সিদ্ধান্তটি ছিল
আত্মঘাতী।
➠ আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক ধর্ম ও সত্যকে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য হিসেবে
চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, লিখতে হবে কেবল সৌন্দর্য সৃষ্টির অভিপ্রায়ে বা
মানবকল্যাণ সাধনের জন্য। সাহিত্যের এ মহান সাধনা কলুষিত হয় অর্থ ও
খ্যাতির প্রলোভনে। উদ্দীপকের আশিকের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি ঘটেছে। এ দুইয়ের
মোহ লেখকদের নির্মল মন নিয়ে লিখতে দেয় না। ফলে লেখাও ভালো হয় না। এছাড়াও
প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাময়িক সাহিত্যের বিপক্ষে অবস্থান
গ্রহণ করেছেন। এ ধরনের সাহিত্যসমূহ মূল্যায়নে লেখকগণ খুবই কম সময় দেন বলে
এগুলোর অধিকাংশই কালজয়ী লেখা হতে পারে না। এ কারণে এ ধরনের সাহিত্য ভালো
লেখক হয়ে ওঠার পরিপন্থি। আশিকের সিদ্ধান্ত তার রচনাকে এই শ্রেণির সাহিত্য
হিসেবেই পরিচিত করবে। নিজের লেখকসত্তা বিকাশের পথে তার সর্বশেষ
সিদ্ধান্তটি তাই নেতিবাচক প্রভাব রাখবে বলেই আমি মনে করি।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের চেষ্টা
করেছেন। তিনি বিভিন্ন গল্প ও উপন্যাসের মাধ্যমে সমাজের কুসংস্কার ও
সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থার নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। ফলে তাঁর লেখা
ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। লেখনীর মধ্য দিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন অপরাজেয়
কথাশিল্পী।
ক. লেখকের মতে, সভ্য ও ধর্ম ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ কী?
খ. সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার কোন দিকটি
ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের উন্নতিতে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি
নিবেদন’ রচনার লেখকের প্রত্যাশার প্রতিফল ঘটেছে কি? তোমার মতামত দাও।
ক. লেখকের মতে, সত্য ও ধর্ম ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে লেখনী ধারণ মহাপাপ।
খ. সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানবকল্যাণ।
➠ বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনায় ব্রতী হন। কেউ অর্থ
ও যশলাভ করতে চান। কেউ নিছক সৌন্দর্যের ভাবনা প্রকাশ করেন। কেউ আবার
মানবকল্যাণে জীবন সঁপে দেন। তবে সাহিত্যের প্রকৃত লক্ষ্য হলো সত্য ও
ধর্ম। সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানবকল্যাণ যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণে
সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানবমঙ্গলই সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য বলে
বিবেচিত।
গ. উদ্দীপকে ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার মানবকল্যাণ
সাধনে সাহিত্য রচনার দিকটি ফুটে উঠেছে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় আদর্শ সাহিত্য ও
সাহিত্যিকের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। লেখক বা সাহিত্যিক সমাজে মানুষের
কল্যাণে সাহিত্য রচনা করলে সে লেখা হয় সৃষ্টিশীল ও কালজয়ী। এর মধ্য দিয়ে
যিনি সাহিত্য রচনা করেন তিনিও মানুষের মনে স্থান করে নিতে সক্ষম হন।
➠ উদ্দীপকের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর লেখনীতে সামাজিক অসঙ্গতি তুলে
ধরেছেন। সমাজের কুসংস্কার ও সামন্তবাদী চিন্তার নেতিবাচক দিকগুলো তাঁর
সাহিত্যে মূর্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর গল্প ও উপন্যাস সমাজ পরিবর্তনের
বার্তাবাহী তথ্যসমৃদ্ধ। ফলে তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা
অর্জন করেছেন। সচেতন পাঠক সাহিত্যিকের কাছে এমন কল্যাণধর্মী লেখাই
প্রত্যাশা করে। ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার লেখকের
সাহিত্যিকের প্রতি আবেদন উদ্দীপকে প্রতিফলিত লেখকের মতো হওয়ার। আলোচ্য
রচনার লেখক প্রত্যাশা করেন যশ বা অর্থের জন্য যেন লেখা না হয়। এমন লেখা
রচনা করা উচিত, যার মাধ্যমে এমনিতেই খ্যাতিমান হওয়া যায়। এজন্য তিনি
লেখকদের মানুষের কল্যাণ সাধনে সাহিত্য রচনার আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্দীপকের
শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মাঝে আলোচ্য রচনার এই দিকটিই ফুটে উঠেছে।
ঘ. বাংলা সাহিত্যের উন্নতিতে উদ্দীপকের সমাজ পরিবর্তনের নিমিত্তে সাহিত্য
রচনার প্রচেষ্টা ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার লেখকের
প্রত্যাশারই প্রতিফলন।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার লেখকের প্রত্যাশা একজন
লেখক আদর্শ সাহিত্যিক হবেন। মানবকল্যাণে তাঁর লেখনী অব্যাহত থাকবে। যশ,
খ্যাতি বা অর্থের পরিবর্তে মানুষের উপকারার্থে সমাজ বিনির্মাণে লেখক
মনোযোগী হবেন।
➠ উদ্দীপকের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক। তিনি
সমাজকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে অসঙ্গতিগুলো লেখনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে
তুলেছেন। তাঁর গল্প ও উপন্যাসে সমাজের কুসংস্কার ও সামন্তবাদী ব্যবস্থার
নেতিবাচক দিক ফুটে উঠেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল লেখার মাধ্যমে সমাজ সংস্কার।
ফলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ও অপরাজেয় কথাশিল্পী হয়ে ওঠেন।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় লেখকের আদর্শ কী হওয়া
উচিত সে বিষয়টি আলোকপাত করা হয়েছে। গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে ভালো
লেখা ও লেখকের আবশ্যকতা। রচনার লেখকের প্রত্যাশা, যারা লেখক তারা শুধু যশ
আর অর্থকে মুখ্য করে নিবে না। তারা হবে মানুষ ও সমাজের হিতৈষী। তাদের
লেখায় উঠে আসবে ন্যায়ের উপযোগিতা। তারা পরনিন্দা ও অনুকরণবৃত্তি মুক্ত
হবে। সমাজের অসঙ্গতি দূর করতে তারা সাহিত্য রচনায় নিমগ্ন থাকবে। রচনার
লেখকের এমন প্রত্যাশা পূরণে আলোচ্য উদ্দীপকটিকে বিবেচনা করা যায়। সেখানে
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সমাজ পরিবর্তনে সাহিত্য রচনা করে খ্যাতিমান
হয়েছেন।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে ফুলপুর
এলাকার মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর জন্য শাপলা
একটি প্রবন্ধ লিখে পত্রিকায় ছাপানোর উদ্যোগ নেয়। প্রথমেই সে সমস্ত
তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। এবং প্রয়োজনমতো প্রবন্ধে সংযুক্ত করে লেখার পর
কয়েকজন বন্ধুকে লেখাটি পড়তে দেয় এবং তারপরও কয়েকদিন সময় নিয়ে নানা ত্রুটি
সংশোধন করে।
ক. কোন ধরনের সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর?
খ. ‘যে কথার প্রমাণ দিতে পারিবে না, তাহা লিখিও না’- ব্যাখ্যা করো।
গ. লেখা ছাপানোর উদ্যোগ গ্রহণের প্রথম ধাপে শাপলা কোন বিষয়টি নিশ্চিত
করেছে? ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধ অনুসারে
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শাপলা রচনা লেখার ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শ
যথাযথভাবে মেনে চলেছে কি? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
ক. সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর।
খ. লেখার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের ওপর জোর দিতে গিয়ে
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টেপাধ্যায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
➠ বস্তুনিষ্ঠতা একটি রচনার প্রাণ। আর তা নিশ্চিত করার জন্য লেখকের
প্রয়োজন সত্যাশ্রয়ী হওয়া। লেখক নিজের রচনায় যে সমস্ত তথ্য পরিবেশন করছেন
তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ তাঁর হাতে থাকা আবশ্যক। অনেক সময় প্রমাণ সংগ্রহ
করতে না পারলেও আবেগ বা চাপের বশে কেউ কেউ মনগড়া তথ্য সন্নিবেশ করতে চান।
এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান রয়েছে প্রশ্নের উক্তিটিতে।
গ. লেখা ছাপানোর উদ্যোগ গ্রহণে শাপলা যথাযথ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে, সে
বিষয়ে আলোচ্য প্রবন্ধেও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় রচনার উৎকর্ষ সাধনে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পরামর্শ।
দিয়েছেন। তিনি রচনার বস্তুনিষ্ঠতার ওপর সম্যক গুরুত্ব দিয়েছেন। এজন্য যে
বিষয়ে প্রমাণ দেখানো সম্ভব নয় সে বিষয়ে লিখতে নিষেধ করেছেন। আর লেখায়
যথাযথভাবে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ দাখিল করার ওপর জোর দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকের শাপলা একটি তথ্যনির্ভর প্রবন্ধ লিখে পত্রিকায় প্রকাশের
উদ্যোগ নেয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই সে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করে
এবং প্রয়োজনমতো লেখায় সংযুক্ত করে। এ বিষয়ে তার কার্যক্রম আলোচ্য
প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্রের পরামর্শের অনুরূপ। তিনি বলেছেন সমস্ত প্রমাণ
লেখায় হয়তো যুক্ত করার প্রয়োজন নাও হতে পারে, তবে তা সংগ্রহে থাকা
আবশ্যক। অর্থাৎ রচনার বস্তুনিষ্ঠতার ব্যাপারে কোনো আপস করা যাবে না।
উদ্দীপকের শাপলা ঠিক সেই ব্যাপারটাই নিশ্চিত করেছে।
ঘ. আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য এবং রচনার মানোন্নয়নের বিষয়ে
লেখক প্রদত্ত দিকনির্দেশনা মেনেই উদ্দীপকের শাপলা লেখনী ধারণ করেছে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় আদর্শ লেখক হওয়ার বিষয়ে নবীন লেখকদের পরামর্শ প্রদান
করেছেন। এখানে সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হিসেবে লেখক উপস্থাপন করেছেন
সৌন্দর্য সৃষ্টি ও মানবকল্যাণ সাধনকে। রচনার উৎকর্ষের জন্য তাঁর পরামর্শ
হলো লেখার যথাযথ মূল্যায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ রাখা উচিত। এজন্য
তিনি লেখককে নিজের লেখা সমালোচকের দৃষ্টিতে দেখতে বলেছেন।
➠ উদ্দীপকের শাপলা ফুলপুর এলাকার জনজীবনের স্বস্তি কেড়ে নেওয়া
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তথ্যনির্ভর প্রবন্ধ লেখার উদ্যোগ নেয়। লেখার জন্য
প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য-প্রমাণ সে জোগাড় করে। লেখাটি শেষ করার পর নিজে এবং
বন্ধুদের মাধ্যমে এর মূল্যায়নের ব্যবস্থা করে অর্থাৎ প্রবন্ধে আদর্শ ও
উৎকৃষ্ট রচনা সৃজনে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা শাপলার কর্মকা-ে বাস্তব
রূপ লাভ করেছে।
➠ আলোচ্য প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সৌন্দর্য বা মানবকল্যাণের
ভাবনাকে সাহিত্য রচনার মূল উদ্দেশ্য বলে অভিহিত করেছেন। তথ্যনির্ভর রচনা
সৃজনের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
লেখাকে সমৃদ্ধ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিয়ে লেখাটি বারবার পড়ে দেখতে
বলেছেন। এ নির্দেশনাগুলো মান্য করলে যে কারো রচনার উৎকর্ষ বৃদ্ধি পাবে।
উদ্দীপকের শাপলা প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে সবগুলো নির্দেশনাই মেনে চলেছে।
তার সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য মহৎ। রচনার উৎকর্ষ সাধনে সে তৎপর। রচনার
বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়েও সে সজাগ। সুতরাং আমার মতে, সে রচনা লেখার ক্ষেত্রে
আলোচ্য প্রবন্ধের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শের যথাযথ
অনুসরণ করেছে।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের একজন কালজয়ী লেখক। আবেগ ও হাস্যরসের
অসামান্য ব্যবহার তাঁর রচনাগুলোকে পাঠকসমাজে সমাদৃত করেছে। তাঁর লেখার
অন্যতম দিক হলো সরলতা। সহজ ভাষায় জীবনের অন্তর্নিহিত দর্শনের এমন সাবলীল
প্রকাশ খুব বেশি লেখকের মাঝে সচরাচর দেখা যায় না। এই গুণের কারণেই তাঁর
লেখা পড়ে এ দেশের বহু মানুষ বইমুখী হওয়ার প্রেরণা পেয়েছে।
ক. বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, কে শ্রেষ্ঠ লেখক?
খ. বঙ্কিমচন্দ্র সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রে‘অলংকার বলেছেন কেন?
গ. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার লেখকের কোন বিষয়ক
পরামর্শ উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. হুমায়ূন আহমেদ একজন সার্থক লেখক' প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা
বিশ্লেষণ করো।
ক. বঙ্কিমচন্দ্রের মতে, যিনি সোজা কথায় নিজের মনের ভাব সহজে পাঠককে
বোঝাতে পারেন, তিনিই শ্রেষ্ঠলেখক।
খ. লেখায় সরলতা থাকলে তা সহজেই পাঠকের বোধগম্য হয় বলে বঙ্কিমচন্দ্র
সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রে‘অলংকার বলেছেন।
➠ সাহিত্যে রচনার সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য রূপক, অনুপ্রাস, শ্লেষসহ নানা
ধরনের অলংকার ব্যবহার করা হয়। সরলতা সে অর্থে সাহিত্যের অলংকারের
প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সরলতার গুণে একটি রচনা সবচেয়ে সুন্দর
হয়ে ওঠে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, যে লেখা পড়লে মানুষ সবচেয়ে
সহজে লেখকের মনের ভাব বুঝতে পারে, সেটিই সুন্দরতম রচনা। এ বিবেচনা থেকেই
তিনি সরলতাকে সকল অলংকারের শ্রে‘বলে অভিহিত করেছেন।
গ. ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় উল্লিখিত রচনার উৎকর্ষ
বৃদ্ধিতে করণীয় বিষয়ক প্রাবন্ধিকের কতিপয় পরামর্শের প্রতিফলন উদ্দীপকে
লক্ষণীয়।
➠ আলোচ্য প্রবন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উন্নতমানের রচনা সৃজনে নবীন
লেখকদের করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম
হলো রচনায় ব্যঙ্গ ও অলংকারের যথাযথ প্রয়োগের দিকটি। এছাড়াও রচনা যথাসম্ভব
সরল করার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। রচনার সৌষ্ঠব বৃদ্ধি ও সাবলীলতার জন্য এ
দুটি পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
➠ উদ্দীপকে বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের রচনাশৈলী
সম্পর্কে বলা হয়েছে। আবেগ ও ব্যঙ্গের ব্যবহারে তাঁর দক্ষতা ছিল
উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া তাঁর লেখার অন্যতম গুণ ছিল সারল্য। এ গুণের কারণেই
তাঁর সৃষ্টিকর্মগুলো এতটা জনপ্রিয় হয়েছে। রচনার উৎকর্ষ সাধনে এতে ব্যঙ্গ
বা পরিহাসের সঠিক ব্যবহার এবং সরলতার অনুগামী হওয়ার কথা আলোচ্য প্রবন্ধের
লেখকের পরামর্শসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রেই উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সাথে
প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
ঘ. পাঠকবান্ধব উৎকৃষ্ট মানের সাহিত্য রচনা করায় হুমায়ূন আহমেদকে একজন
সার্থক লেখক বলা যায়।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনার বেশ কিছু উপায় ব্যাখ্যা করেছেন। এর
মধ্যে অন্যতম হলো ব্যঙ্গ বা পরিহাস ও অলংকারের প্রয়োগে সচেতন থাকা।
সরলতাকে তিনি রচনার শ্রে‘গুণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, যিনি সোজা
কথায় নিজের মনের ভাব সকলকে বোঝাতে পারেন, তিনিই শ্রে‘লেখক।
➠ উদ্দীপকে বাংলাদেশের অনন্য সাধারণ কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের
সাহিত্যের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর লেখায় আবেগ ও
ব্যঙ্গের চমৎকার ব্যবহার লক্ষ করা যায়। সরলতা হুমায়ূন আহমেদের লেখার
সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। সাবলীল ভাষার কারণেই পাঠকের সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়
মসৃণভাবে। আলোচ্য প্রবন্ধের আলোকে বলা যায় এসব বৈশিষ্ট্যের কারণেই লেখক
হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করেছেন।
➠ সাহিত্য রচনায় একেক লেখকের একেক ধরনের দক্ষতা প্রণিধানযোগ্য হয়ে ওঠে।
কোনো লেখক অলংকার ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত হন। কারো লেখায় হাস্যরস আলাদাভাবে
নজর কাড়ে, কেউবা আবার প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহারের কারণে পাঠকপ্রিয় হন। আদর্শ
লেখক হতে গেলে এসব বিষয়েই পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় দিকনির্দেশনা প্রদান
করেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সেখানে তিনি রচনার সারল্যের ওপর বিশেষ
গুরুত্ব প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, লেখার উদ্দেশ্য পাঠককে বোঝানো যে
লেখকের লেখা পাঠক স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে বুঝতে পারে, তাঁকেই তিনি সেরা লেখক
বলে মনে করেন। হুমায়ূন আহমেদের লেখায় অলংকার ও ব্যঙ্গের প্রয়োগে
মুনশিয়ানা লক্ষ করা যায়। সরল ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল বিষয়কেও তিনি
সহজে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করতে পারেন। এ দিকগুলো বিবেচনায় প্রবন্ধের
আলোকে হুমায়ূন আহমেদ একজন সার্থক লেখক। অর্থাৎ আলোচ্য মন্তব্যটি যথাযথ।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
লেখক হওয়া সাধনা ও নিষ্ঠার ব্যাপার। বিখ্যাত লেখক স্টিফেন কিং লেখালেখি
বিষয়ে দিয়েছেন বেশ কিছু উপদেশ-
i. অন্যকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, বরং নিজের দায়িত্ববোধ থেকে দেখো। সত্য
বলতে হবে, তা যত তিব্বই হোক। নিজের বিবেক ও প্রজ্ঞাকে কাজে লাগাও।
ii. কোনো কিছু লেখার পর সেটি পুনরায় দেখো। নিজের লেখার প্রথম পাঠক হবে
নিজেই। সমালোচকের দৃষ্টি দিয়ে নিজের লেখা ব্যবচ্ছেদ করো। আর এটা করতে হবে
নির্দয়ভাবে।
iii. পান্ডিত্যের ভান করবে না। অযথা গুরুগম্ভীর শব্দ ও জটিল বাক্য
ব্যবহার করে অন্যকে চমকিত করার চেষ্টা কোনো কাজের বিষয় নয়। অকারণে
ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলার অভ্যাস পরিহার করো।
iv. অন্য কোনো লেখককে হুবহু অনুকরণ করে লিখবে না। নিজের স্টাইল তৈরি করো।
নিজের ধ্যানধারণা থেকে নিজের মতো করে লেখো, স্বকীয়তা নিয়ে।
ক. ‘যে বিষয়ে যাহার অধিকার নেই, সে বিষয়ে তাহার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য’ - এ
নিয়মটি কোন সাহিত্যে রক্ষিত হয় না?
খ. ‘বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করিবেন না’- বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের i. নম্বর উপদেশ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’
রচনার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের পরামর্শ লেখক ও পাঠক উভয়কেই উপকৃত করবে - প্রবন্ধের আলোকে
উদ্ভিটি বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘যে বিষয়ে যাহার অধিকার নেই, সে বিষয়ে তাহার হস্তক্ষেপ অকর্তব্য’ - এ
নিয়মটি সাময়িক সাহিত্যে রক্ষিত হয় না।
খ. অনাবশ্যক বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা রচনার গুণগত মান নষ্ট করে বলে
প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
➠ রচনায় বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টাকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় দূষণীয়
হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, লেখকের মাঝে বিদ্যা থাকলে তা তাঁর লেখায়
নিজে থেকেই প্রকাশ পায়। অনেকে নিজেকে প-িত প্রমাণের জন্য ভারি ভারি তথ্য
ও বিদেশি লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। এর ফলে রচনা জটিল হয়ে পড়ে এবং পাঠক
বিরক্ত বোধ করে। রচনার পারিপাট্য নষ্ট হয় বলেই বঙ্কিমচন্দ্র লেখায় বিদ্যা
পরিবেশনের চেষ্টা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশ্নোক্ত উক্তিতে।
গ. উদ্দীপকের i. নম্বর উপদেশ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’
রচনায় উল্লিখিত সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সমর্থন করে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে লেখকের অভিলক্ষ্য কী হওয়া উচিত সে
বিষয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মতামত পেশ করেছেন। প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্যের
উদ্দেশ্য হলো ধর্ম ও সত্য। তাই লেখার ক্ষেত্রে লেখকের লক্ষ্য হওয়া উচিত
সৌন্দর্য সৃষ্টি অথবা মানবকল্যাণের ভাবনা। এছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে
সাহিত্য রচনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া লেখার ক্ষেত্রে
পাঠকের মনোরঞ্জন করতে গেলে রচনার উৎকর্ষ নষ্ট হয় বলেও তিনি নবীন লেখকদের
সতর্ক করেছেন।
➠ উদ্দীপকের i. নম্বর উপদেশ আদর্শ লেখক হওয়ার জন্য চমৎকার একটি
দিকনির্দেশনা। এখানে বলা হয়েছে পাঠকের মন রাখার জন্য নয় বরং নিজের
ভালোলাগা ও দায়িত্ববোধ থেকে লিখতে হবে। লেখায় সত্যাশ্রয়ী হওয়া এবং লেখার
প্রতি সততা প্রদর্শনকেও গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রচনায়
লোকরঞ্জন এবং সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা- এ দুটি প্রসঙ্গ ফুটে উঠেছে।
আলোচ্য প্রসঙ্গেও এ দুটি প্রসঙ্গে একই ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘ. আলোচ্য প্রবন্ধের বিশ্লেষণে বলা যায়, উদ্দীপকের পরামর্শসমূহ উৎকৃষ্ট
সাহিত্য সৃজনের অনুকূল, যা লেখক ও পাঠক উভয়ের জন্যই ইতিবাচক।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় বঙ্কিমচন্দ্র
চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের উৎকর্ষ সাধনে নবীন লেখকদের করণীয়। সম্পর্কে
বেশ কিছু মূল্যবান পরামর্শ উপস্থাপন করেছেন। তিনি সাহিত্য রচনার প্রকৃত
উদ্দেশ্যটি পরিষ্কার করেছেন। সে সাথে লেখার মানোন্নয়নে লেখকদের যেসব
বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা
দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে প্রখ্যাত লেখক স্টিফেন কিং প্রদত্ত উপদেশসমূহে লেখকদের লেখার
ক্ষেত্রে নিজের বিবেক ও প্রজ্ঞাকে ব্যবহার করে সত্যাশ্রয়ী ও ইতিবাচক
সাহিত্য রচনার কথা বলা হয়েছে। লেখায় পাঠকের মনোরঞ্জনের ভাবনা পরিত্যাগের
পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লেখার উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে যথাযথ মূল্যায়ন, বিদ্যা
জাহিরের অপচেষ্টা ত্যাগ, অনুকরণবৃত্তি ত্যাগ এবং সরলতা প্রয়োগের
বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে। উৎকৃষ্ট মানের রচনা লেখার ক্ষেত্রে এ
দিকগুলোতে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আলোচ্য প্রবন্ধেও প্রকাশিত হয়েছে।
➠ সাহিত্য মানুষের মননশীলতা বিকাশে সহায়ক। সেই সাথে সাহিত্য
সুকুমারবৃত্তি চর্চারও অন্যতম মাধ্যম। সৃজনশীলতা ও মননের বিকাশে তাই
সুসাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। সুসাহিত্য চর্চার জন্য চাই সুলেখক। যিনি
সাহিত্য রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানেন, সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে
যিনি নিবেদিত প্রাণে, লেখার উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে যিনি আপসহীন, যাঁর লেখা
সহজেই পাঠকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়; তিনিই সুলেখক। আলোচ্য প্রবন্ধ ও উদ্দীপকে
প্রদত্ত উপদেশগুলোকে প্রায় সমধর্মীই বলা যায়। উভয়ক্ষেত্রেই আদর্শ লেখকের
হাত ধরে আদর্শ সাহিত্য সৃষ্টির কামনা প্রচ্ছন্ন রয়েছে। আদর্শ সাহিত্যই
পাঠক তথা সমাজের মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা
রাখতে সক্ষম। সার্বিক বিবেচনায় তাই বলা যায় প্রশ্নোত্ত উক্তিটি সর্বাংশে
যৌক্তিক।
‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
কবিতায় আমরা অনেক কিছু বলতে পারি। কখনো বলতে পারি ঘর-ফাটানো হাসির কথা।
বলতে পারি টগবণে রাগের কথা। বলতে পারি চমৎকার ভালো কথা। কখনো বাজাতে পারি
নাচের শব্দ। আবার কখনো আঁকতে পারি রঙিন ছবি। কিন্তু সবসময়ই মনে রাখতে
হবে, ওই কথা নতুন হতে হবে। যা একবার কেউ বলে গেছে, যে-ছবি একবার কেউ এঁকে
গেছে, তা বলা যাবে না, সে ছবি আঁকা যাবে না। শিক্ষা থেকে কবিতা।
ক. ‘যশ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর’ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের পরামর্শ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার কোন
দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘স্বভাষার সাহিত্যোন্নয়নে উদ্দীপকের লেখক এবং ‘বাঙ্গালার নব্য
লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার লেখকের মতামত সমদর্শী’ উক্তিটির যথার্থতা
বিচার করো।
ক. ‘যশ’ শব্দের অর্থ- সুনাম।
খ. সাময়িক সাহিত্য লেখকের লেখার মানোন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ বলে
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রশ্নোত্ত উক্তিটি করেছেন।
➠ সাময়িক সাহিত্য স্বল্পকালীন চাহিদার জন্য সৃষ্টি। এ লেখাগুলো অল্প
সময়ের মধ্যে লিখে খুব দ্রুতই প্রকাশ করতে হয়। এ কারণে লেখক লেখাগুলোকে
যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পান না। উৎকৃষ্ট মানের রচনা সৃষ্টির জন্য
রচনা লেখার পর পর্যাপ্ত সময় নিয়ে তা সংশোধন করা প্রয়োজন। সাময়িক সাহিত্যে
ব্রতী লেখকগণ এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণেই সাময়িক সাহিত্য লেখকদের
পক্ষে অবনতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গ. উদ্দীপকের পরামর্শ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার
অনুকরণবৃত্তি পরিহারের পরামর্শের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় প্রাবন্ধিক নবীন
লেখকদের অনুকরণবৃত্তি পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাহিত্য
হওয়া উচিত সৌন্দর্যসৃষ্টি এবং মানবকল্যাণের জন্য। আর মানবকল্যাণে সাহিত্য
রচনা করতে গেলে অনুকরণবৃত্তি সাহিত্যের মৌলিকত্বকে বিনষ্ট করে। এছাড়া
সাহিত্য রচনায় অনুকরণ প্রবণতা দোষগুলো অনুকরণে সাহায্য করে, গুণগুলো নয়।
ফলে প্রাবন্ধিকের মতে, সাহিত্য রচনায় অনুকরণ করা অনুচিত।
➠ উদ্দীপকে কবিতা সৃষ্টিতে কবির করণীয় সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদ কিছু
পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, কবিতার মাধ্যমে আমরা ভালো মন্দ অনেক কিছুই
বলতে পারি। কিন্তু এই কবিতা হওয়া উচিত মৌলিক। এক্ষেত্রে অনুকরণপ্রবণতা
গ্রহণযোগ্য নয়। একটি কবিতা আগে কেউ লিখে গেলে সেই একই জিনিস আর লেখা যাবে
না। এই অনুকরণবৃত্তি পরিহার করতে পারলেই প্রকৃত কবিতা রচনা করা সম্ভব। আর
উদ্দীপকের এই পরামর্শ আলোচ্য প্রবন্ধের অনুকরণবৃত্তি পরিহারের দিকটির
সাথেই সাদৃশ্যময় হয়ে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকের লেখক এবং ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনার
লেখক উন্নত সাহিত্য সৃষ্টিতে করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেছেন, যা
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ করে তুলেছে।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় প্রাবন্ধিক উৎকৃষ্ট
সাহিত্য সৃষ্টিতে নবীন লেখকদের করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে
করেন, উৎকৃষ্ট সাহিত্য সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানবকল্যাণ বা
সৌন্দর্য সৃষ্টি। আর এক্ষেত্রে তাঁর পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে বাংলা
সাহিত্য হয়ে উঠবে উন্নত ও গ্রহণযোগ্য।
➠ উদ্দীপকে হুমায়ুন আজাদ একটি আদর্শ কবিতা সৃষ্টিতে কবির করণীয় বিষয়ে
মতামত প্রদান করেছেন। তিনি মনে করেন, কবিতা হতে হবে নতুন। যে কথা কেউ বলে
গিয়েছে তা বলা যাবে না। তাহলে কবিতার মৌলিকত্ব বিনষ্ট হবে। তাঁর এই
পরামর্শ মেনে লিখতে পারলে সেই হবে সাহিত্যের একটি নিদর্শন। এর মাধ্যমে
ভালো মানের সাহিত্য সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের কথা অন্যকে জানিয়ে
যেতে পারি।
➠ ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ রচনায় প্রাবন্ধিক বাংলা
সাহিত্যের মানোন্নয়নে নবীন লেখকদের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ অনুসরণ
করলে উৎকৃষ্ট সাহিত্য রচনা করা সহজ হবে। উদ্দীপকেও কবিতা রচনায় করণীয়
সম্পর্কে বলা হয়েছে। এটিও উৎকৃষ্ট সাহিত্য সৃষ্টিতে অনুসরণীয় হতে পারে।
ফলে উদ্দীপকের লেখকের পরামর্শ এবং ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি
নিবেদন’ রচনার লেখকের পরামর্শ একই ধারায় উৎসারিত। তাই প্রশ্নোক্ত
মন্তব্যটি যথার্থ বলেই বিবেচিত।
তথ্যসূত্র :
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. বঙ্কিম রচনাবলী-২ (প্রবন্ধ): দে’জ পাবলিশিং ।। কলকাতা, অক্টোবর ২০১৮।
৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।