আমাদের নতুন গৌরবগাথা

আমাদের নতুন গৌরবগাথা
আমাদের নতুন গৌরবগাথা

আমাদের নতুন গৌরবগাথা

আসছে ফাগুনে আমরা দ্বিগুণ হবো-বাংলাদেশের দেয়ালে দেয়ালে ছড়ানো অগুনতি গ্রাফিতি। কিন্তু এ কোনো ফাগুনের দিন ছিল না, ছিল না রৌদ্রদহনের কোনো কাল। ছিল বাংলার নিজস্ব ঋতু-বর্ষা। অবিরাম ঝরছিল, মাটি-প্রকৃতি সব শীতল করছিল। কিন্তু আঠারো কোটি মানুষের মনে জ্বলতে থাকা আগুন থামানোর সাধ্য তার ছিল না।

সেদিন ৫ই আগস্ট ২০২৪-৩৬শে জুলাই। বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার জুলাইয়ে থেমে গেছে। এদেশের আন্দোলন-সংগ্রাম সংঘটনের চিরাচরিত কোনো সময় এটা নয়। তবু সমগ্র দেশ যেন এক অসহনীয় উৎকণ্ঠায় স্তব্ধ হয়ে আছে। শুধু দেশ নয়, সারা দুনিয়ার মানুষ তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের দিকে-আকাঙ্ক্ষা আর উদ্বেগ নিয়ে। কী ঘটতে যাচ্ছে! এক চরম অনিশ্চয়তায় মানুষ এখানে-ওখানে বোঝার চেষ্টা করছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর টেলিভিশনে অস্থির সময় পার করছে। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা এক দফা দাবি পেশ করেছে। সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকায় ছুটছে। ঘেরাও করবে গণভবন। মূলোৎপাটন করবে শাসনক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিবাদী এক শাসককে। নিপীড়ক সরকারও প্রস্তুত। তার আছে দলীয় বাহিনী। আছে সরকারি নানা বাহিনীকে অন্যায্যভাবে ব্যবহারের নিত্যদিনের অভ্যাস। কাজেই বড়ো ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় সবাই একদিকে যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনি অন্যদিকে আন্দোলন সফল হবে, মানুষ জীবনের মায়া ছেড়ে নেমে আসবে রাস্তায়-এমন এক আশাবাদেও তারা দুলছে।

অবশেষে মুহূর্তগুলো এসে হাজির হলো। কারফিউ উপেক্ষা করে ঢাকার উত্তরার পথে মানুষের দেখা মিলল। যাত্রাবাড়ির দিকে মানুষ জড়ো হতে থাকল ধীরে ধীরে। সাভারে নামল মানুষের ঢল। সময় গড়ালে দেখা গেল, যতদূর চোখ যায়, কেবল মানুষ আর মানুষ। এগিয়ে আসছে শহরের কেন্দ্রের দিকে। কিছু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল সরকারি দলের দুর্বৃত্তবাহিনী। তাদের পাশে ছিল রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর বিপথগামী ক্ষুদ্র একটা অংশ। কিন্তু সবাই হাল ছেড়ে দেয় শীঘ্রই। দৃঢ়চেতা, স্থিরপ্রতিজ্ঞ আর মরতে-প্রস্তুত মানুষের সামনে কোনো প্রতিরোধই টেকে না। জনতা গণভবনে পৌঁছে যায় দুপুর নাগাদ। পতন অত্যাসন্ন টের পেয়ে স্বৈরাচারী সরকার-প্রধান পালিয়ে যান দেশ ছেড়ে। অভাবনীয় এক গণঅভ্যুত্থান দেখে সারা দুনিয়ার মানুষ।

কিন্তু কীভাবে এটা সম্ভব হলো? আন্দোলনটা শুরু হয়েছিল একটা ছোট্ট দাবি নিয়ে। সরকারি বেশিরভাগ চাকরি বরাদ্দ ছিল নানা গোষ্ঠীর জন্য। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পোষ্য কোটার ব্যাপক অপব্যবহার চলছিল। ফলে দেশের বৃহৎ তরুণসমাজ সহজে সরকারি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছিল না। তাই কোটাব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে তারা আন্দোলন করছিল দীর্ঘদিন ধরে। ২০১৮ সালে এ আন্দোলনে বড়ো সাফল্য অর্জিত হয়। সরকার কোটাব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। অথচ আন্দোলনকারীরা এটাকে যৌক্তিকভাবে কমাতে বলেছিল। কারণ দেশে পশ্চাৎপদ বিভিন্ন গোষ্ঠী আছে, প্রতিবন্ধী মানুষ আছে-যাদের জন্য কিছু বাড়তি সুবিধা রাখতে হয়। কিন্তু গণবিরোধী সরকার আন্দোলনকারীদের কোনো যৌক্তিক দাবি না শুনে সম্পূর্ণ কোটাব্যবস্থাই বাতিল করে দিয়েছিল।

এরপর ২০২৪ সালের শুরুতে প্রহসনের নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করে সরকার আবার তার স্বমূর্তিতে ফিরে আসে। কৌশলে পুরোনো কোটা আবার চালু করে। তখন শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলন শুরু করে। এবার তারা আন্দোলন শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নাম দিয়ে। এ নামের মধ্যেই আন্দোলনের বৃহত্তর লক্ষ্যের দিশা ছিল। কেবল চাকরি নয়, দেশে বিদ্যমান হাজারো বৈষম্য নিরসনের একটা আকাঙ্ক্ষা এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছিল। প্রথম দিকে আন্দোলন সীমিত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে। ক্রমশ আন্দোলনে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিতে থাকে। জনবিচ্ছিন্ন সরকার আন্দোলনকারীদের মনোভাব বুঝতে পারেনি, বুঝতে চায়ও নি। তারা নিজেদের ছাত্রসংগঠনকে দিয়ে বর্বর কৌশলে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়। আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশবাসীর হৃদয় স্পর্শ করে।

জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই এ আন্দোলন শিক্ষার্থীদের সীমানা ছাড়িয়ে গণআন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে। তবে শিক্ষার্থীরাই শেষ পর্যন্ত এর নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ছাত্রীদের সর্বাত্মক অংশগ্রহণ ছিল এ আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। ১৪ই জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে প্রায় সব ছাত্রী মিছিল করতে করতে বেরিয়ে এলে আন্দোলনের এক অভূতপূর্ব সর্বজনীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই রাতে এবং পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি দলের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা নিপীড়ন করেছে, বিশেষত নারী-শিক্ষার্থীদের-এই বর্বরতা ছিল আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দিক-নির্ণায়ক ঘটনা। এ প্রেক্ষাপটেই ১৬ই জুলাই আন্দোলন তার সবচেয়ে কার্যকর ও পরিচিত ছবিটি পেয়ে যায়। এটা হলো রংপুরে আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে পুলিশের গুলির সামনে এগিয়ে যাওয়া।

এরপর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ করে দেওয়ার পরে আন্দোলন-কর্মসূচি গতি হারাতে পারত, কিন্তু বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তখন ব্যাপকভাবে এগিয়ে আসে। অসাধারণ জমায়েত, আগ্রাসী মনোভাব এবং অবিশ্বাস্য প্রাণদানের মধ্য দিয়ে তারা আন্দোলনকে অধিকতর বেগবান করে তোলে। সারা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রায় সমগ্র জনগোষ্ঠী আন্দোলনের সাথে একাত্ম হয়ে ওঠে। আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

বস্তুত শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে যুক্ত হতে সমাজের অপরাপর মানুষের কোনো অসুবিধা হয়নি। কারণ দীর্ঘ দুঃশাসনের ফলে সমাজে সে অবস্থা আগে থেকেই বিরাজ করছিল। সরকার নির্বাচন নিয়ে একের পর এক তামাশা করেছে। নাগরিকের জীবনযাপন ও বিশ্বাস নিয়ে প্রতিনিয়ত অপমানজনক কথা বলেছে। সামান্য দাবি আর মতপ্রকাশের কারণে তাদেরকে নির্বিচারে নির্যাতন আর গুম-খুন করেছে। চরম অপমান আর হতমানে বিপর্যন্ত মানুষ নজিরবিহীন লুটপাট আর অর্থপাচারের সংবাদের মধ্যে দেখছিল হু হু করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। বাজারের উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজনই সকল ধরনের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

বছরের পর বছর মানুষ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট হতে দেখেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে সরকারের আজ্ঞাবহ দাস হিসেবে কাজ করতে দেখেছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ দুঃশাসনের অন্ধকারের নিচে বাংলাদেশের মানুষ নাগরিক হিসেবে ভয়াবহ অসম্মান এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল।

এই দানবীয় শাসন চালানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধের গল্প ছিল সরকারের প্রধান অবলম্বন। কিন্তু লোকে দেখল, হাজার হাজার সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধার জন্ম হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পরে, কিংবা জাল সনদ সংগ্রহ করে চাকরির সুবিধা নিয়েছে অনেকে। দেশের গণমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ অনবরত প্রকাশ হলেও সরকার তার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছে না। সকল অনিয়ম আর অবৈধতাকেই সে ঢেকে দিতে চাইছে অবকাঠামোগত 'উন্নয়নের গল্প' দিয়ে। কিন্তু মানুষ জানতে পারছিল, এসব অবকাঠামোর নির্মাণ ব্যয় পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় অসম্ভব রকম বেশি।

বছরের পর বছর ধরে একের পর এক দুর্নীতির চিত্র প্রকাশ হতে থাকে। হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিও যেন এক প্রাত্যহিক চিত্র হয়ে গরিব আর অসহায় মানুষকে উপহাস করতে থাকে। পরীক্ষায় পাশ-ফেলের ব্যবধান গৌণ হয়ে যায়, প্রশ্ন-ফাঁস হয়ে ওঠে নিত্যচিত্র। এমনকি প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকুরির পরীক্ষা এবং নিয়োগেও বছরের পর বছর অনিয়ম হয়েছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন দেশে টাকা পাচারের কাহিনি প্রকাশ হতে থাকে। পুরো দেশ এক ধারাবাহিক প্রতারণার মধ্যে নিমজ্জিত হয়। অবৈধভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র দখলে রাখা একটি পরিবার ও তার অনুগত ক্ষুদ্র এক গোষ্ঠীর ঔদ্ধত্য, দুর্নীতি আর তামাশার মধ্যে পুরো জনগোষ্ঠী ভয়ানক অসম্মানবোধ আর অনিশ্চয়তার শিকার হতে থাকে। তাই আন্দোলনের গতি ত্বরান্বিত হলে প্রথম সুযোগেই সারা দেশের মানুষ এর সাথে ব্যাপক সক্রিয়তায় অংশগ্রহণ করে। অবশেষে ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ক্ষণে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

গণঅভ্যুত্থানের শুরু থেকেই মানুষ শুধুমাত্র স্বৈরাচারী সরকারের পতনকে চরম সাফল্য হিসেবে ভাবেনি। তারা একটা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছে-জালিমের নয়, মজলুমের বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চেয়েছে; গণতান্ত্রিক আর জনবান্ধব রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছে, যা স্বাধীনতার পাঁচ দশক অতিবাহিত হলেও আমরা করতে পারিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান অভূতপূর্ব এক অভ্যুত্থান, যার নজির পৃথিবীতে নেই। এই অভ্যুত্থান আমাদের জন্য এক অসাধারণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এটা কোনো দলের নেতৃত্বে হয়নি। কয়েকটি দলের জোটের মাধ্যমেও সংঘটিত হয়নি। মূলত শিক্ষার্থীদের ডাকে অংশ নিয়েছেন সবাই। সেখানে প্রধান-অপ্রধান প্রায় সকল বিরোধীদলীয় মানুষজন ছিলেন। ধনী-গরিব ও মধ্যবিত্তরা ছিলেন। শহর ও গ্রামের মানুষ ছিলেন। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থী। সবাই নিজেদের অবস্থান ভুলে রাস্তায় একত্রে লড়াই করেছিল একটা উদ্দেশ্য সামনে রেখে। এভাবে আন্দোলনের সময় এমন এক ভাষা তৈরি হয়েছিল, যার মাধ্যমে সবাই সবাইকে বুঝতে পারছিল। সে ভাষার মূল কথা, পারস্পরিক ভিন্নমত নিয়েও দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করা যায়। অর্ধশত বছর উত্তীর্ণ বাংলাদেশে এ এক নতুন ভাষা। সেই ভাষা অনুযায়ী আজ আমাদের সকলকে নিয়ে সবার জন্য জনকল্যাণমূলক এক দেশ গড়তে কাজ করতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে অভ্যুত্থানে বিজয় একটা সুযোগ-সমস্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ, নতুনভাবে দেশ গড়ার সুযোগ। অতীতে এমন সুযোগ এদেশে আরও কয়েকবার এসেছে, কিন্তু আমরা তাকে ব্যবহার করতে পারিনি, ধরে রাখতে পারিনি। এবারের সুযোগকে তাই আমাদের রক্ষা করতে হবে। দেশে নানা মত ও বৈশিষ্ট্যের মানুষ আছে, নানা জাতি ও ধর্মের মানুষ আছে। সবাই যদি যার যার অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করে এবং সতর্কতার সাথে দেশ ও দশের দিকে নজর রাখে, তাহলেই কেবল এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা যেতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, হাজারো শহিদের আত্মদানে একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ঘোষিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। সেই প্রত্যয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ভিন্নমতের প্রতি, ভিন্ন বিশ্বাসের প্রতি, ভিন্ন রীতি ও সংস্কৃতির প্রতি সহিষ্ণুতা দেখানোই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা। আর সেই শিক্ষা গ্রহণ করলেই আমাদের নতুন বিজয় সত্যিকারের গৌরবগাথা হয়ে উঠবে।


চিত্রকর: স্বরচিতা ধর টুনটুন; ৭ম শ্রেণি
চিত্রকর: স্বরচিতা ধর টুনটুন; ৭ম শ্রেণি

‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ :
--

‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা :
➠ গ্রাফিতি- দেয়ালে আঁকা বা কথা, যা সময়ের চিত্র তুলে ধরে।
➠ চিরাচরিত- অতি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে এমন।
➠ উৎকণ্ঠা- উদ্বেগ: আশঙ্কা: ব্যাকুলতা।
➠ গণভবন- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন।
➠ মূলোৎপাটন- মূলোচ্ছেদ; সমূলে বিনাশ; শিকড় সমেত তুলে ফেলা।
➠ ফ্যাসিবাদ- -ইতালির স্বৈরশাসক মুসোলিনি প্রবর্তিত স্বৈর-শাসনপদ্ধতি; সর্বপ্রকার বিরোধিতার কণ্ঠ রুদ্ধ হয় এমন শাসনপদ্ধতি।
➠ কারফিউ- সান্ধ্যআইন: সন্ধ্যার সময় বা সন্ধ্যার পরে লোক চলাচলের নিয়ম-কানুন। [ইংরেজি curfew]
➠ গণঅভ্যুত্থান- গণজাগরণ।
➠ গণআন্দোলন- যে আন্দোলনে জনসাধারণ স্বোচ্ছায় অংশগ্রহণ করে; গণবিক্ষোভ।
➠ প্রহসন- হাস্যরসপ্রধান নাটক; ব্যঙ্গ; বিদ্রূপ।
➠ অভূতপূর্ব- যা পূর্বে হয়নি বা ঘটেনি এমন।
➠ সর্বজনীন- সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত; বারোয়ারী; সকলের জন্য মঙ্গলকর বা কল্যাণকর।
➠ সহিষ্ণু- সহনশীল: বরদান্তকারী; ধৈর্যধারণকারী; ধৈর্যশীল।

‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের কর্ম-অনুশীলন :
১। ১৯৬৯, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের তুলনা করে একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ লেখো।
(শ্রেণি-শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে)
২। মাগো, ভাবনা কেন
আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে
তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে ধরতে জানি।
তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি।
এই রকম উদ্দীপনামূলক ৫টি গানের প্রথম ৪টি করে লাইন লিখে শ্রেণি-শিক্ষকের নিকট জমা দাও। (শ্রেণি-শিক্ষক বাড়ির কাজ হিসেবে এটি মূল্যায়ন করবেন)

চিত্রকর: তাসনিহা বিনতে আনোয়ার; ১ম শ্রেণি
চিত্রকর: তাসনিহা বিনতে আনোয়ার; ১ম শ্রেণি

‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি :
বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই গণঅভ্যুত্থান ১৯৬৯ বা ১৯৯০ থেকে পৃথক। এটা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে হয়নি। তবু ফ্যাসিবাদী সরকারের বিপক্ষের সকল রাজনৈতিক দল এতে অংশগ্রহণ করেছিল। এর দাবিনামার মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে রাজনৈতিক কোনো দাবিও অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ছাত্রসমাজ তাদের শিক্ষাজীবন শেষে ন্যায্যতার ভিত্তিতে কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা নিরসনের জন্য কোটাব্যবস্থার সংস্কার চেয়েছিল। অনেক অত্যাচার-নির্যাতনের পর এই দাবি মেনে নেওয়া হলেও কৌশলে তা আবার ফিরিয়ে আনা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়। আন্দোলনের এক পর্যায়ে সরকার চরম দমননীতি এবং হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার প্রতিরোধে এগিয়ে আসে। এতে গণঅভ্যুত্থান ঘটে এবং সরকার-প্রধান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য আবারও একটা সুন্দর দেশ নির্মাণের সুযোগ এনে দিয়েছে। একে আমাদের রক্ষা করতে হবে।

‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :

১. বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোন বছরের ঘটনা?
উত্তর: ২০২৪ সালের।
২. জুলাই আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি কী ছিল?
উত্তর: কোটাব্যবস্থার সংস্কার।
৩. শিক্ষার্থীরা কেন কোটাব্যবস্থার সংস্কার চেয়েছিল?
উত্তর: শিক্ষার্থীরা কোটাব্যবস্থার সংস্কার চেয়েছিল, কারণ কোটাব্যবস্থায় ন্যায্যতার অভাব ছিল।
৪. শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনের নাম কী দেয়?
উত্তর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
৫. এই আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র ছিল?
উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
৬. ১৪ জুলাই রাতে কী ঘটেছিল?
উত্তর: ছাত্রীরা মিছিল করে হল থেকে বেরিয়ে আসে।
৭. রংপুরের আবু সাঈদ কীভাবে আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে?
উত্তর: তিনি বুক চিতিয়ে পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়ান।
৮. কোন তারিখে সরকারের পতন ঘটে?
উত্তর: ৫ আগস্ট ২০২৪।
৯. এই অভ্যুত্থানের পরে সরকারপ্রধান কী করেন?
উত্তর: দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
১০. এই আন্দোলনের সময় কী ঋতু ছিল?
উত্তর: বর্ষা।
১১. আন্দোলনে সরকারি বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: তারা সরকারের নির্দেশে দমন ও নিপীড়নের চেষ্টা করে।
১২. বিক্ষুদ্ধ জনতা কখন গণভবনে পৌঁছায়?
উত্তর: দুপুর নাগাদ।
১৩. আন্দোলনে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়?
উত্তর: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা।
১৪. ২০১৮ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলনের ফলাফল কী ছিল?
উত্তর: সরকার কোটাব্যবস্থা বাতিল করে।
১৫. আন্দোলন কোন সময়ে গণআন্দোলনে পরিণত হয়?
উত্তর: জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে।
১৬. সরকার কীভাবে দুর্নীতিকে ঢাকতে চেয়েছে?
উত্তর: অবকাঠামোগত ‘উন্নয়নের গল্প’ দিয়ে।
১৭. মানুষ কেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাড়া দেয়?
উত্তর: দুঃশাসন ও বৈষম্যে অতিষ্ঠ হয়ে।
১৮. আন্দোলনের সময় মানুষ কোন আশাবাদে দুলছিল?
উত্তর: সরকার পতনের আশাবাদে।
১৯. আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি কী হয়? উত্তর: স্বৈরাচারী সরকারের পতন এবং দেশ থেকে পলায়ন।
২০. কাদের বিরুদ্ধে জনগণ অভ্যুত্থান করে?
উত্তর: ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে।
২১. আন্দোলনের সময় গণমাধ্যম কী প্রকাশ করে?
উত্তর: দুর্নীতি ও লুটপাটের খবর।
২২. আন্দোলনে কোন শ্রেণির মানুষ অংশ নেয়?
উত্তর: ধনী, গরিব, মধ্যবিত্ত সবাই।
২৩. আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দিকনির্ণায়ক ঘটনা কী?
উত্তর: নারী-শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন।
২৪. সরকার ছাত্রসংগঠনকে দিয়ে কী করে?
উত্তর: আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে।
২৫. জুলাই অভ্যুত্থানের মূল শিক্ষা কী?
উত্তর: সহিষ্ণুতা ও সকলের অংশগ্রহণে দেশ গড়া।
২৬. কোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য কত সালে অর্জিত হয়?
উত্তর: কোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য ২০২৪ সালে অর্জিত হয়।
২৭. শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণ কী ছিল?
উত্তর: মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণ ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা।
২৮. আন্দোলনে ‘ভিন্নমতের ঐক্য’ কীভাবে সম্ভব হয়েছিল?
উত্তর: আন্দোলনে ‘ভিন্নমতের ঐক্য’ সম্ভব হয়েছিল দেশের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থেকে।
২৯. পরীক্ষার ক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম দেখা যায়?
উত্তর: পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁস নিত্যচিত্র হয়ে ওঠে এবং প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগে বছরের পর বছর অনিয়ম ঘটে।
৩০. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের মানুষের জন্য কী ধরনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়?
উত্তর: ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ দেশের মানুষের জন্য গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের এক অসাধারণ সুযোগ সৃষ্টি করে।
৩১. আন্দোলনে ‘ভিন্নমতের ঐক্য’ কীভাবে সম্ভব হয়েছিল?
উত্তর: আন্দোলনে ‘ভিন্নমতের ঐক্য’ সম্ভব হয়েছিল দেশের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থেকে।
৩২. দানবীয় শাসন চালানোর জন্য সরকারের প্রধান অবলম্বন কী ছিল?
উত্তর: দানবীয় শাসন চালানোর জন্য ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ ছিল সরকারের প্রধান অবলম্বন।
৩৩. আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি জালিমহীন, মজলুমের বাংলাদেশ গঠন এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
৩৪. ৫ই আগস্ট কী ঘটেছিল?
উত্তর: ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
৩৫. আন্দোলনে কারা অংশ নিয়েছিল?
উত্তর: আন্দোলনে শিক্ষার্থী, বিরোধীদলীয় মানুষজন, ধনী-গরিব, শহর-গ্রামের মানুষ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল।
৩৬. দেশের জনগোষ্ঠী কী ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়?
উত্তর: দেশের জনগোষ্ঠী ভয়ানক অসম্মানবোধ ও অনিশ্চয়তার শিকার হয়।
৩৭. আন্দোলনে কী ধরনের ভাষা তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: আন্দোলনে এমন একটি ভাষা তৈরি হয়েছিল যার মাধ্যমে সবাই পারস্পরিক ভিন্নমত নিয়েও দেশের জন্য কাজ করতে পেরেছিল।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :

১. ‘অর্ধশত বছর উত্তীর্ণ বাংলাদেশে এ এক নতুন ভাষা’। বাক্যটির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বাক্যটির দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাষা সৃষ্টি করেছে, যা আগে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ছিল না।
➠ এই ভাষা মূলত সকল শ্রেণী, দল, ধর্ম এবং সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে একে অপরের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা তৈরি করেছে। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণ তাদের ভিন্ন মত, বিশ্বাস, বা সংস্কৃতির প্রতি সহিষ্ণুতা এবং সম্মান প্রদর্শন করতে শিখেছে, এবং দেশের উন্নতি ও জনগণের মুক্তির জন্য একযোগভাবে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২. স্বৈরশাসক আন্দোলন দমন করার জন্য কী কী করেছিল?
উত্তর: স্বৈরশাসক আন্দোলন দমন করতে সরকারি দলের দুর্বৃত্তবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করেছিল।
➠ সরকারি দলের দুর্বৃক্তবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার চালিয়েছিল, বিশেষ করে নারীদের। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে, তবে তাতে জনগণের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। সরকার এর গারও কোনো সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়নি, বরং আন্দোলনকারীদের দমন করতে নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয় এবং সরকারের পতনের দিকে ঠেলে দেয়।

৩. ২০২৪ এর স্বৈরশাসকের শাসনব্যবস্থার নেতিবাচক দিক কী কী ছিল?
উত্তর: ২০২৪ এর স্বৈরশাসকের শাসন ব্যবস্থার নেতিবাচক দিক ছিল দুর্নীতি, অসামাজিকতা, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা এবং দেশব্যাপী বৈষম্য প্রতিষ্ঠা করা।
➠ সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহার করা হয়। নির্বাচন ছিল একতরফা এবং ভোটাধিকার পদ্ধতি ছিল অকার্যকর। এই ধরনের শাসন ব্যবস্থায় জনগণের ওপর অত্যাচার, দুর্নীতি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের সম্পদ লুট করা হচ্ছিল, যা জনগণের মধ্যে বিশাল ক্ষোভ তৈরি করেছিল।

৪. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল কেন?
উত্তর: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। কারণ জনগণ একত্রিত হয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
➠ আন্দোলন শুরু হয়েছিল ছোটো দাবি নিয়ে, কিন্তু তা দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষের ভীড় জমায় এ আন্দোলনে। আন্দোলনকারীরা সরকারের বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একমুখী হয়ে উঠেছিল এবং সরকারের সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তারা সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। সরকার যখন আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়, তখন জনগণের শক্তি এবং একাত্মতায় তারা সরকারের পতন নিশ্চিত করে।

৫. ‘আঠারো কোটি মানুষের মনে জ্বলতে থাকা আগুন থামানোর সাধ্য তার ছিল না।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আঠারো কোটি মানুষের মনে জ্বলতে থাকা আগুন থামানোর সাধ্য তার ছিল না।’—বাক্যটি মানুষের মধ্যে সৃষ্ট বিদ্রোহী চেতনা ও তাদের। শক্তি তুলে ধরে।
➠ দেশের মানুষ বৈষম্য ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ ও আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেছিল, তা এত প্রবল ছিল যে প্রকৃতির বিরূপ পরিস্থিতি বা কোনো প্রতিকূলতাই তা দমন করতে পারেনি। এটি বোঝায় যে, জনগণের চেতনা ও সংগ্রামের শক্তি অপ্রতিরোধ্য এবং তা কোনো বাহ্যিক শক্তি দিয়ে দমন করা সম্ভব নয়।

৬. ‘অভাবনীয় এক গণঅভ্যুত্থান দেখে সারা দুনিয়ার মানুষ।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘অভাবনীয় এক গণঅভ্যুত্থান দেখে সারা দুনিয়ার মানুষ।’—উক্তিটি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিস্ময়কর সফলতা এবং তার বৈশ্বিক প্রভাবকে বোঝায়।
➠ আন্দোলনের ব্যাপকতা, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটি প্রমাণ করে যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এবং সংগ্রাম শুধু দেশের ভেতর নয়, সারা বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। এই অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

৭. স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলন করেছে কেন?
উত্তর: স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলন করেছে সরকারি চাকরির কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক দুর্নীতি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল বলে।
➠ মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পোষ্যদের জন্য চাকরি বরাদ্দ হয়ে যাওয়ার ফলে দেশের বৃহৎ মেধাবী তরুণসমাজ সরকারি চাকরি পাচ্ছিল না। তারা কোটাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের দাবি জানালে সরকার সেটি বাতিল করে দেয় ২০১৮ সালে। ২০২৪ সালে সরকার আবার সেই কোটা ব্যবস্থা পুর্নবহাল করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে, যার মাধ্যমে সরকারের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।

৮. ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল কী ছিল?
উত্তর: গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল ছিল স্বৈরাচারী সরকারের পতন এবং জনগণের মধ্যে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাক্সক্ষা জন্ম নেওয়া।
➠ আন্দোলনকারীরা সরকারকে বাধ্য করে দেশ ছাড়তে, যা একটি বৃহৎ গণবিক্ষোভের ফলস্বরূপ ঘটে। আন্দোলন ছিল শুধু সরকারের পতনের জন্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার জন্য। জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করে, তারা তাদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম এবং এই অভ্যুত্থান দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি আনবে।

৯. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল কেন?
উত্তর: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। কারণ সকলের মধ্যে ছিল দীর্ঘদিনের দুঃশাসন এবং বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
➠ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ-শিক্ষার্থী, কর্মী, ধনী-গরিব, শহর-বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে-সকলেই একমত হয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের। মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন ছিল একযোগিতার প্রতীক। একতাবদ্ধ হয়ে জনগণ সরকারের অপশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করে।

১০. ‘বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার জুলাইয়ে থেমে গেছে।’— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার জুলাইয়ে থেমে গেছে।’— বাক্যটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বোঝায় যে, জুলাই মাসটি আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।
➠ এই সময় দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেমে যায় এবং পুরো জাতি আন্দোলন ও উত্তেজনার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। সময় যেন এক অনন্য মুহূর্তে আটকে গিয়েছিল, যা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা এবং জাতির ইতিহাসে এক মাইলফলক স্থাপন করেছিল। এটি আন্দোলনের গুরুত্ব ও গভীরতা বোঝায়।

১১. ‘তারা মূলোৎপাটন করবে শাসনক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিবাদী এক শাসকের।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘তারা মূলোৎপাটন করবে শাসনক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিবাদী এক শাসকের’—বাক্যটি আন্দোলনের লক্ষ্য ও লক্ষ্যস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
➠ এটি বোঝায় যে, জনগণ শুধু ক্ষুদ্র সমস্যার সমাধান নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে চিরতরে উৎখাত করতে চায়। এটি আন্দোলনের গভীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষাকে তুলে ধরে। জনগণের এই দৃঢ় সংকল্প এবং শাসনের প্রতি অসন্তোষই আন্দোলনের শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

১২. ‘দৃঢ়চেতা, স্থিরপ্রতিজ্ঞ আর মরতে প্রস্তুত মানুষের সামনে কোনো প্রতিরোধই টেকে না।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘দৃঢ়চেতা, স্থিরপ্রতিজ্ঞ আর মরতে প্রস্তুত মানুষের সামনে কোনো প্রতিরোধই টেকে না।’—এই বাক্যটি আন্দোলনকারীদের সাহসিকতা এবং তাদের অবিচল সংকল্পের গুরুত্ব বোঝায়।
➠ যখন জনগণ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মৃত্যুও মেনে নিতে প্রস্তুত হয়, তখন কোনো শক্তি তাদের বাধা দিতে পারে না। এটি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিজ্ঞা এবং সংগ্রামের শক্তি প্রকাশ করে। সংগ্রামী মানুষের এই মনোভাবই কোনো আন্দোলনের সফলতার প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

১৩. কেন আন্দোলনটি একটি গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়?
উত্তর: আন্দোলনটি গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়, কারণ এটি দেশের সার্বিক বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে একটি প্রতীক হয়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ এটি সম্ভব করে। সাধারণ মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধারের আশা দেখতে শুরু করেছিল।

১৪. সরকার কেন আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়?
উত্তর: সরকার আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়, কারণ তারা জনসমর্থন ও আন্দোলনের গভীরতাকে অবমূল্যায়ন করেছিল।
➠ তাদের নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ আন্দোলনকারীদের দমন করার পরিবর্তে জনতার সমর্থন বাড়ায়। পাশাপাশি, আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের কারণে সরকার জনগণের আস্থা হারায়।

১৫. আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থনের কারণ কী ছিল?
উত্তর: সাধারণ মানুষ আন্দোলনকে তাদের দীর্ঘদিনের দুঃশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে দেখেছিল।
➠ শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা এবং সরকারী নিপীড়নের বর্বরতা তাদের মনে আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি তৈরি করে। এছাড়া, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো ছিল ন্যায়সংগত এবং মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে যায়।

১৬. ‘বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার জুলাইয়ে থেমে গেছে।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত বাক্যটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বোঝায় যে, জুলাই মাসটি আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঐতিহাসিকভাবে বিশেষ স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।
➠ এই সময় দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেমে যায় এবং পুরো জাতি আন্দোলন ও উত্তেজনার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। সময় যেন এক অনন্য মুহূর্তে আটকে গিয়েছিল, যা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা এবং জাতির ইতিহাসে এক মাইলফলক স্থাপন করেছিল। এটি আন্দোলনের গুরুত্ব ও গভীরতা বোঝায়।

১৭. ‘তারা মূলোৎপাটন করবে শাসনক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিবাদী এক শাসককে।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত বাক্যটি আন্দোলনের লক্ষ্য ও লক্ষ্যস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
➠ এটি বোঝায় যে, জনগণ শুধু ক্ষুদ্র সমস্যার সমাধান নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে চিরতরে উৎখাত করতে চায়। এটি আন্দোলনের গভীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষাকে তুলে ধরে। জনগণের এই দৃঢ় সংকল্প এবং শাসনের প্রতি অসন্তোষই আন্দোলনের শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

১৮. ‘দৃঢ়চেতা, স্থিরপ্রতিজ্ঞ আর মরতে-প্রস্তুত মানুষের সামনে কোনো প্রতিরোধই টেকে না।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত বাক্যটি আন্দোলনকারীদের সাহসিকতা এবং তাদেও অবিচল সংকল্পের গুরুত্ব বোঝায়।
➠ যখন জনগণ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মৃত্যুও মেনে নিতে প্রস্তুত হয়, তখন কোনো শক্তি তাদের বাধা দিতে পারে না। এটি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিজ্ঞা এবং সংগ্রামের শক্তি প্রকাশ করে। সংগ্রামী মানুষের এই মনোভাবই কোনো আন্দোলনের সফলতার প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

১৯. ‘অভাবনীয় এক গণঅভ্যুত্থান দেখে সারা দুনিয়ার মানুষ।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত বাক্যটি গণঅভ্যুত্থানের বিস্ময়কর সফলতা এবং তার বৈশ্বিক প্রভাবকে বোঝায়।
➠ আন্দোলনের ব্যাপকতা, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটি প্রমাণ করে যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এবং সংগ্রাম শুধু দেশের ভেতর নয়, সারা বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। এই অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। ২০. ‘এবার তারা আন্দোলন শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নাম দিয়ে।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত বাক্যটি আন্দোলনের নামকরণ এবং তার বৃহত্তর লক্ষ্যকে প্রকাশ করে।
➠ ‘বৈষম্যবিরোধী’ শব্দটি শুধু চাকরির কোটা নয়, বরং সমাজের সবধরনের বৈষম্য দূর করার সংগ্রামকে নির্দেশ করে। এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যা তরুণ প্রজন্মের বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রতীক। এই নামকরণ আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি এবং বৃহত্তর সমাজ পরিবর্তনের পরিকল্পনার প্রতি ইঙ্গিত দেয়।

২১. সরকার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল বার্তাটি কেন বুঝতে পারেনি?
উত্তর: সরকার জনবিচ্ছিন্ন ছিল এবং আন্দোলনকারীদের দাবির গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
➠ তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের গভীরতা এবং এর ন্যায্যতা উপেক্ষা করে। নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা আন্দোলনকে দমন করতে চেয়েছিল। এই অবহেলা ও অহংকারের কারণে তারা আন্দোলনের প্রকৃত বার্তা বুঝতে অক্ষম হয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

২২. কেন আন্দোলনটি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল?
উত্তর: আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে এক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। গণভবন ঘেরাও এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
➠ শিক্ষার্থীদের দৃঢ়তা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নজিরবিহীন ছিল। সারা বিশ্ব এ আন্দোলনের ফলাফল জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। সরকারের নিপীড়ন এবং জনগণের সাহসিকতা আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।

২৩. আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো কতটা ন্যায়সংগত ছিল?
উত্তর: আন্দোলনকারীদের দাবি অত্যন্ত ন্যায়সংগত ছিল। তারা চাকরিতে কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ এবং এটি যৌক্তিকভাবে সংস্কারের দাবি করেছিল।
➠ বৈষম্য দূর করে সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান তাদের আন্দোলনের মূল বার্তা ছিল। এমনকি পশ্চাৎপদ গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবিধা রাখার পক্ষে ছিল। তাদের দাবি দেশের সার্বিক উন্নতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল।

২৪. নারী শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা আন্দোলনের গতিপথে কী প্রভাব ফেলেছিল?
উত্তর: নারী শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা আন্দোলনকে শক্তিশালী এবং গতিশীল করে।
➠ ১৪ই জুলাই রাতে তাদের মিছিল আন্দোলনকারীদের ঐক্য প্রদর্শন করে। এছাড়া, সরকারি নিপীড়ন তাদের প্রতি বর্বরতার মাধ্যমে জনগণের সহানুভূতি বাড়ায়। নারী শিক্ষার্থীদের দৃঢ়তা ও আত্মত্যাগ আন্দোলনকে আরও জনসমর্থন এনে দেয় এবং এটিকে সর্বজনীনতার দিকে নিয়ে যায়।

২৫. সাভারে জনতার ঢল আন্দোলনের অগ্রগতি কীভাবে প্রতিফলিত করেছিল?
উত্তর: সাভারে জনতার ঢল আন্দোলনের গণপ্রতিরোধের শক্তি প্রদর্শন করে।
➠ এটি প্রমাণ করে যে, আন্দোলন কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; সাধারণ জনগণও এতে অংশগ্রহণ করেছিল। সাভারের ঘটনা ছিল আন্দোলনের শক্তিশালী ভিত্তি, যা আন্দোলনকারীদের মনোবল বাড়ায় এবং সরকারকে আরও চাপের মুখে ফেলে।

২৬. আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ছিল?
উত্তর: শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব অত্যন্ত কার্যকর ছিল। তারা আন্দোলনকে সংগঠিত এবং সুশৃঙ্খল রাখতে সক্ষম হয়।
তাদের সাহসিকতা এবং সুষ্পষ্ট লক্ষ্য জনগণের সমর্থন নিশ্চিত করে। বিশেষ করে, নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ আন্দোলনের নৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে। তাদের নেতৃত্ব আন্দোলনকে সফলভাবে গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত করে।

২৭. “আঠারো কোটি মানুষের মনে জ্বলতে থাকা আগুন থামানোর সাধ্য তার ছিল না।”— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত বাক্যটি মানুষের মধ্যে সৃষ্ট বিদ্রোহী চেতনা ও তাদের শক্তি তুলে ধরে।
➠ দেশের মানুষ বৈষম্য ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ ও আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেছিল, তা এত প্রবল ছিল যে প্রকৃতির বিরূপ পরিস্থিতি বা কোনো প্রতিকূলতাই তা দমন করতে পারেনি। এটি বোঝায় যে, জনগণের চেতনা ও সংগ্রামের শক্তি অপ্রতিরোধ্য এবং তা কোনো বাহ্যিক শক্তি দিয়ে দমন করা সম্ভব নয়।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সময়টা ২০২২ সালের এপ্রিল মাস। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কবলে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দাম, জ্বালানি-ওষুধ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে তীব্র ঘাটতি এবং সরকারী দলের দমন-পীড়ন নীতির কারণে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নেমে আসে রাজপথে। তাদের সাথে যোগ দেয় রাষ্ট্রীয় সেবা, স্বাস্থ্য, বন্দর, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও ডাক থেকে শুরু করে প্রায় এক হাজার ট্রেড ইউনিয়ন। তারা দেশের ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতির জন্য প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পরিবারকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করে। কিন্তু সরকার সেনা মোতায়েন করে দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে এবং সরকারপন্থিরা বিক্ষোভকারীদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালায়। এতে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী আহত হন। ফলে আন্দোলন দাবানলের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে জনগণের আন্দোলনের চাপে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ১৩ই জুলাই ভোরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রথমে মালদ্বীপ, তারপর সিঙ্গাপুরে যান।

ক. কোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য কত সালে অর্জিত হয়?
খ. ‘অর্ধশত বছর উত্তীর্ণ বাংলাদেশে এ এক নতুন ভাষা’। বাক্যটির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের যে বিশেষ দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করে না।’— মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

ক. কোটা সংস্কার আন্দোলনে বড়ো সাফল্য ২০২৪ সালে অর্জিত হয়।
খ. বাক্যটির দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাষা সৃষ্টি করেছে, যা আগে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ছিল না।
➠ এই ভাষা মূলত সকল শ্রেণী, দল, ধর্ম এবং সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে একে অপরের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সহযোগিতা তৈরি করেছে। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণ তাদের ভিন্ন মত, বিশ্বাস, বা সংস্কৃতির প্রতি সহিষ্ণুতা এবং সম্মান প্রদর্শন করতে শিখেছে, এবং দেশের উন্নতি ও জনগণের মুক্তির জন্য একযোগভাবে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন ধারার রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গ. উদ্দীপকটি এবং ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের মধ্যে সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।
➠ উদ্দীপকে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ জনগণ, রাষ্ট্রীয় সেবা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়নগুলো একত্রিত হয়ে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলনে সরকারি দলের দমন-পীড়ন এবং সেনা মোতায়েনের মতো ব্যবস্থা নেয়া হলেও, জনগণের বিরোধিতা ও প্রতিরোধে সরকার শেষ পর্যন্ত সরে যায় এবং প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
এভাবে, বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শুরুতে কোটাব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও ধীরে ধীরে এটি বৃহত্তর জনগণের আন্দোলনে রূপ নেয়। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের কারণে অবশেষে সরকার পতন হয় এবং স্বৈরাচারী শাসকের পতন ঘটে। এখানে শ্রীলঙ্কার জনগণের প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান উভয়ই একটি বিষয়কে সামনে আনে—সেটা হলো, জনগণের অসন্তোষ, সংগ্রাম এবং প্রতিরোধই সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।
এটি প্রদর্শন করে যে, সরকারের দুর্নীতি, অগণতান্ত্রিক শাসন এবং জনগণের প্রতি অবিচারের ফলে জনতা একত্রিত হয়ে সংগ্রামে নেমে আসে। উভয় ক্ষেত্রে সরকার যখন জনগণের আন্দোলনের বিপরীতে দমন-পীড়ন চালায়, তখন আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং অবশেষে জনগণ তাদের অধিকার অর্জন করে। তাই, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের আন্দোলনগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য হলো—জনগণের অভ্যুত্থান শাসকের পতন এবং নতুন একটি সমাজব্যবস্থা নির্মাণের একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করে।

ঘ. ‘সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করে না।’—মন্তব্যটির যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে বাংলাদেশের জনগণের একটি বৃহত্তর সংগ্রামের কথা বলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রথমে কোটাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের দাবি তুলে আন্দোলন শুরু করেছিল, তবে পরবর্তীতে এটি একটি গণআন্দোলনে পরিণত হয়। এই আন্দোলনে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরা নয়, বিভিন্ন শ্রেণি, ধর্ম, ও বর্ণের মানুষ একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের জন্য লড়াই করেছিল। এখানে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল, শুধু একটিমাত্র রাজনৈতিক দাবি নয়, বরং একটি নতুন গণতান্ত্রিক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। প্রবন্ধটির শেষে, 'নতুন গৌরবগাথা' একটি নতুন বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে উদ্ভাসিত হয়, যা স্বাধীনতার পরে এক নতুন যাত্রার সূচনা করতে চায়।
➠ অন্যদিকে, উদ্দীপকে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে জনগণ অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট, এবং সরকারের দমন-পীড়ন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিল। এখানে মূল আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ এবং শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করা। শ্রীলঙ্কায় আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সরাসরি শাসক শ্রেণির পতন এবং প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া, কিন্তু সেখানে নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের বা বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি।
➠ সুতরাং, মন্তব্যটি সঠিক, কারণ শ্রীলঙ্কার উদ্দীপকটি ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সামগ্রিক উদ্দেশ্য বা দৃষ্টিকোণকে স্পর্শ করে না। 'আমাদের নতুন গৌরবগাথা' প্রবন্ধে যে বৃহত্তর জাতীয় ও সামাজিক পরিবর্তনের স্বপ্ন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী চিত্র আঁকা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার আন্দোলনে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। শ্রীলঙ্কায় আন্দোলন মূলত একটি অস্থায়ী শাসক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ছিল, যেখানে বৃহত্তর সমাজতান্ত্রিক বা গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের দিকে তেমন দৃষ্টি দেওয়া হয়নি। ফলে, সাদৃশ্য থাকলেও, উদ্দীপকটি প্রবন্ধের সামগ্রিক ধারণার সাথে পুরোপুরি মিলে না।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছিলেন ১৯৫৮ সালে। আইয়ুব খানের সরকার শিল্প-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি চরম বৈষম্যের নীতি অনুসরণ করত। ১৯৬৮ সালের শেষদিকে আইয়ুব খানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীসহ ছাত্ররা এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ছাত্ররা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করে এগারো দফা দাবি উত্থাপন করে। আন্দোলনে ছাত্রসমাজ ছাড়াও বাংলাদেশের সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়। ছাত্রনেতা আসাদ, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মতিয়ুর, সার্জেন্ট জহুরুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহাসহ অসংখ্য মানুষ শহিদ হন। সেনাবাহিনী নামিয়ে এবং কারফিউ জারি করেও মানুষকে নিবৃত্ত করা যায়নি। ছাত্র-শিক্ষক আর মেহনতি মানুষের ব্যাপক আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণের ফলে ১৯৬৯—এর গণঅভ্যুত্থান সফল হয়। আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন।

ক. শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণ কী ছিল?
খ. স্বৈরশাসক আন্দোলন দমন করার জন্য কী কী করেছিল?
গ. উদ্দীপকের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সাথে ২০২৪ এর স্বৈরশাসকের সাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. ‘১৯৬৯ এর স্বৈরশাসকের চেয়ে ২০২৪ এর স্বৈরশাসক ছিল বেশি ভয়ংকর’—তুমি কি এই মন্তব্যকে সমর্থন করো? তোমার মতামত উপস্থাপন করো।

ক. মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণ ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা।
খ. স্বৈরশাসক আন্দোলন দমন করতে সরকারি দলের দুর্বৃত্তবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করেছিল।
➠ সরকারি দলের দুর্বৃক্তবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার চালিয়েছিল, বিশেষ করে নারীদের। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা করে, তবে তাতে জনগণের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। সরকার এর গারও কোনো সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়নি, বরং আন্দোলনকারীদের দমন করতে নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলে আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয় এবং সরকারের পতনের দিকে ঠেলে দেয়।

গ. উদ্দীপকের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সাথে ২০২৪ সালের স্বৈরশাসকের কার্যকলাপগত মিল রয়েছে।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানের বিবরণ ভুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন স্বৈরশাসনের পতন ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ আন্দোলনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই অভ্যুত্থান সমতাভিত্তিক, সহিষ্ণু এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ এনে দেয়।
➠ উদ্দীপকে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসন আমল সম্পর্কে বলা হয়েছে। আইয়ুব খানের সরকার শিল্প-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি চরম বৈষম্যের নীতি অনুসরণ করত। ১৯৬৮ সালের শেষদিকে আইয়ুব খানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়, এর ফলে অসংখ্য মানুষ শহিদ হন। সেনাবাহিনী নামিয়ে এবং কারফিউ জারি করেও মানুষকে নিবৃত্ত করা যায়নি। এই একই রকম আচরণ করেছিল ২০২৪ এর স্বৈরশাসক হাসিনা। কোটাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন যখন গণআন্দোলনের রূপ নেয় তখন স্বৈরাচারী হাসিনা এই আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য দলীয় বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অপব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায়। ছাত্র সংগঠন এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ করে এবং নারী শিক্ষার্থীদের উপর বিশেষভাবে নিপীড়ন চালায়। এর ফলে অনেকেই শহিদ হয়। কারফিউ জারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করে। তাছাড়া গণমাধ্যমে প্রপাগান্ডা চালিয়ে আন্দোলনকারীদের বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। তবে এই পদক্ষেপগুলো জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয় এবং আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠে, যা শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসকের পতন ঘটায়।

ঘ. আমার মতে, আইয়ুব খানের চেয়েও ২০২৪ এর স্বৈরশাসক ছিল আরও বেশি নিষ্ঠুর এবং ভয়ংকর।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তর এবং স্বৈরশাসনের পতনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক বিশাল বিপ্লব ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের দৃঢ় নেতৃত্ব আন্দোলনকে সফল করে তোলে।
➠ উদ্দীপকে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসন আমল সম্পর্কে বলা হয়েছে। আইয়ুব খানের সরকার শিল্প-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি চরম বৈষম্যের নীতি অনুসরণ করত। ১৯৬৮ সালের শেষদিকে আইয়ুব খানের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়, এর ফলে অসংখ্য মানুষ শহিদ হন। সেনাবাহিনী নামিয়ে এবং কারফিউ জারি করেও মানুষকে নিবৃত্ত করা যায়নি। আইয়ুব খানের এরূপ হীন কর্মকা-ের থেকে আরও জঘন্যতম কর্মকা- চালায় ২০২৪ এর স্বৈরশাসক। ২০২৪ এর স্বৈরাচারী শাসক তার ক্ষমতা রক্ষার জন্য একাধিক অমানবিক কর্মকা- পরিচালনা করেছিল, যার মধ্যে ছিল দলীয় বাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার, নির্যাতন, গুম ও হত্যাকান্ডের ঘটনা। প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চেষ্টা এবং আর্থিক দুর্নীতি ও লুটপাট ছিল তার শাসনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে ছিল অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যয়, যেখানে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়ে উন্নয়নের নামে অস্বাভাবিক ব্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ দুর্নীতি, কোটা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ তার শাসনের অঙ্গ ছিল। ব্যবসা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সরকারের ঘনিষ্ঠদের স্বার্থ রক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অপব্যবহারও হয়েছিল। স্বৈরশাসকের এসব কর্মকান্ডের ফলে শাসক জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে সহায়ক হয় এবং এর পতন ঘটায়।
➠ তাই এটা প্রমাণিত হয় যে ১৯৬৯ এর স্বৈরশাসকের তুলনায় ২০২৪ এর স্বৈরশাসক ছিল বেশি ভয়ংকর। কারণ আইয়ুব খানের চেয়েও ২০২৪ এর স্বৈরশাসক আরও বেশি হীন কর্মকান্ড করেছে।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ফরাসি বিপ্লবে নারীরা সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করে। ওলিম্প দ্য গুজ নারীদের অধিকার রক্ষায় 'নারী ও নাগরিক অধিকার ঘোষণা' রচনা করেন। বিপ্লবের মিছিলে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল, বিশেষত ১৭৮৯ সালের ‘ভার্সাই অভিযানে’ তারা রুটি ও ন্যায়ের দাবি নিয়ে এগিয়ে যায়। নারীদের প্রতিবাদী চেতনা বিপ্লবের আদর্শে নতুন মাত্রা যোগ করে। যদিও বিপ্লব শেষে তাদের অধিকারের স্বীকৃতি ততটা অর্জিত হয়নি, তাদের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।

ক. আন্দোলনে ‘ভিন্নমতের ঐক্য’ কীভাবে সম্ভব হয়েছিল?
খ. ২০২৪ এর স্বৈরশাসকের শাসনব্যবস্থার নেতিবাচক দিক কী কী ছিল?
গ. উদ্দীপকে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘নারীদের প্রতিবাদী চেতনা বিপ্লবের আদর্শে নতুন মাত্রা যোগ করে।’ উদ্দীপকের এই মন্তব্যটি ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

ক. আন্দোলনে ‘ভিন্নমতের ঐক্য’ সম্ভব হয়েছিল দেশের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থেকে।
খ. ২০২৪ এর স্বৈরশাসকের শাসন ব্যবস্থার নেতিবাচক দিক ছিল দুর্নীতি, অসামাজিকতা, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা এবং দেশব্যাপী বৈষম্য প্রতিষ্ঠা করা।
➠ সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহার করা হয়। নির্বাচন ছিল একতরফা এবং ভোটাধিকার পদ্ধতি ছিল অকার্যকর। এই ধরনের শাসন ব্যবস্থায় জনগণের ওপর অত্যাচার, দুর্নীতি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের সম্পদ লুট করা হচ্ছিল, যা জনগণের মধ্যে বিশাল ক্ষোভ তৈরি করেছিল।

গ. উদ্দীপকে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে উল্লিখিত গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তর এবং স্বৈরশাসনের পতনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক বিশাল বিপ্লব ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের দৃঢ় নেতৃত্ব এ আন্দোলনকে সফল করে তোলে।
➠ উদ্দীপকে ফরাসি বিপ্লবে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদানের কথা বলা হয়েছে। ফরাসি বিপ্লবে নারীরা সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করে। বিপ্লবের মিছিলে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল, বিশেষত ১৭৮৯ সালের 'ভার্সাই অভিযানে' তারা বুটি ও ন্যায়ের দাবি নিয়ে এগিয়ে যায়। ফরাসি বিপ্লবের নারীদের সাহসিকতার মতো, বাংলাদেশের ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যেমন, নারীরা ছাত্র আন্দোলনের সাথে যোগ দিয়ে প্রতিবাদী চেতনা এবং সাহসিকতা দেখিয়েছে, যা আন্দোলনের গতিশীলতা ত্বরান্বিত করেছে। নারীদের অবদান বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। তাদের সংগ্রাম ও ত্যাগের ফলে আন্দোলনের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং নতুন দিগন্তের পথ খুলে দিয়েছে। প্রবন্ধে উল্লিখিত শহিদদের আত্মত্যাগের মতো, নারীরাও আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

ঘ. ‘নারীদের প্রতিবাদী চেতনা বিপ্লবের আদর্শে নতুন মাত্রা যোগ করে’ এই মন্তব্যটি প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তর এবং স্বৈরশাসনের পতনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক বিশাল বিপ্লব ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের দৃঢ় নেতৃত্ব এ আন্দোলনকে সফল করে তোলে।
➠ উদ্দীপকে ফরাসি বিপ্লবে নারীদের অংশগ্রহণ ও অবদানের কথা বলা হয়েছে। ফরাসি বিপ্লবে নারীরা সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করে। বিপ্লবের মিছিলে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল, বিশেষত ১৭৮৯ সালের ‘ভার্সাই অভিযানে’ ভারা রুটি ও ন্যায়ের দাবি নিয়ে এগিয়ে যায়। ফরাসি বিপ্লবে নারীরা যেমন সাহসিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে বিপ্লবের মূল আদর্শে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে নারীদের প্রতিবাদী ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছাত্রদের নেতৃত্বে যখন জনগণ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে, তখন নারীরা তাদের সাহসিকতা, দৃঢ়তা ও প্রতিবাদের মাধ্যমে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত করে তোলে। নারীরা এই আন্দোলনে শুধু সহযোদ্ধা হিসেবে নয়, এক ধরনের আইডিয়াল হিসেবে উপস্থিত ছিল। তাদের প্রতিবাদী চেতনা আন্দোলনের শক্তিকে বেগবান করে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
➠ এইভাবে, নারীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ শুধু ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তারা আন্দোলনের আদর্শ এবং লক্ষ্যকে আরো সংহত এবং দৃঢ় করতে সাহায্য করেছে, যা বিপ্লবের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আরব বসন্ত ছিল একাধিক আরব দেশে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিক আন্দোলন। ২০১০ সালে তিউনিসিয়ার এক তরুণ ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা মোহাম্মদ বুয়াজিজি আত্মহত্যা করলে প্রতিবাদের সূত্রপাত ঘটে। দারিদ্র‍্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এটি দ্রুত মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ আরব বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের ফলে তিউনিসিয়া, মিশর এবং লিবিয়ায় সরকার পতন ঘটে।

ক. পরীক্ষার ক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম দেখা যায়?
খ. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল কেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক এবং ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণ যেন একই।’ উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁস নিত্যচিত্র হয়ে ওঠে এবং প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরির নিয়োগে বছরের পর বছর অনিয়ম ঘটে।
খ. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। কারণ জনগণ একত্রিত হয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
➠ আন্দোলন শুরু হয়েছিল ছোটো দাবি নিয়ে, কিন্তু তা দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষের ভীড় জমায় এ আন্দোলনে। আন্দোলনকারীরা সরকারের বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একমুখী হয়ে উঠেছিল এবং সরকারের সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তারা সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। সরকার যখন আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়, তখন জনগণের শক্তি এবং একাত্মতায় তারা সরকারের পতন নিশ্চিত করে।

গ. উদ্দীপক এবং প্রবন্ধ উভয়ের মধ্যেই গণঅভ্যুত্থানের মূল সাদৃশ্য হলো স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এবং শোষণ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের কথা বলা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনতার দৃঢ় সংকল্পে এই আন্দোলন সফল হয়। বিজয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে, যা সমতা, সহিষ্ণুতা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে।
➠ উদ্দীপকে বিভিন্ন আরব দেশে সংঘঠিত হওয়া গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হয়েছে। আরব বসন্তে মোহাম্মদ বুয়াজিজির আত্মাহুতির মাধ্যমে দারিদ্র‍্য, দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ প্রবল হয়ে ওঠে এবং স্বৈরাচার শাসকের বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলন শুরু করে। তেমনি, প্রবন্ধের ২০২৪ সালের বাংলাদেশে দুঃশাসন, বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা, আর্থিক দুর্নীতি এবং দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। উভয় আন্দোলনেই শিক্ষার্থীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আরব বসন্তে তরুণদের বিক্ষোভ আন্দোলন চালানোর মূল শক্তি ছিল, তেমনি প্রবন্ধেও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সব শ্রেণির মানুষ একত্রিত হয়ে একটি গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দেয়। উভয় ক্ষেত্রেই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল সমতা, স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার।

ঘ. “উদ্দীপক এবং ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণ যেন একই”—উক্তিটি যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, সংগ্রাম এবং সফল গণঅভ্যুত্থানের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন, দুর্নীতি এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জনতার দৃঢ় সংকল্পে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।
➠ উদ্দীপক এবং প্রবন্ধে বর্ণিত গণঅভ্যুত্থানের মূল কারণগুলোর সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। উদ্দীপকে বর্ণিত আরব বসন্তের মূল কারণ ছিল দারিদ্র‍্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন। একইভাবে, প্রবন্ধে বাংলাদেশের ২০২৪ এর আন্দোলনের পেছনে ছিল দুঃশাসন, বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা, আর্থিক দুর্নীতি এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো। উভয় আন্দোলনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের বঞ্চনা, শোষণ এবং শাসকদের দমন-পীড়ন দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত হয়েছিল। যখন একটি বিশেষ ঘটনার মাধ্যমে মানুষের ধৈর্য ভেঙে যায়, তখন তা গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আরব বসন্তে বুয়াজিজির আত্মহত্যা এবং প্রবন্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ একই ধরনের সামাজিক অস্থিরতার প্রকাশ।
➠ সুতরাং, প্রশ্নের উক্তিটি যথার্থ, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের একত্রিত হওয়া, সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কবিতা—১: কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা
বন্দিশালার ঐ শিকল ভাঙা
তারা কি ফিরিবে আজ
তাঁরা কি ফিরিবে আজ সুপ্রভাতে,
যত তরুণ অরুণ গেছে অস্তাচলে।

কবিতা—২: যারা স্বর্গগত তারা এখনো জানে
স্বর্গের চেয়ে প্রিয় জন্মভূমি;
এসো স্বদেশব্রতের মহাদীক্ষা লভি
সেই মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণচুমি।

ক. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের মানুষের জন্য কী ধরনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়?
খ. ‘আঠারো কোটি মানুষের মনে জ্বলতে থাকা আগুন থামানোর সাধ্য তার ছিল না।’— ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কবিতা—১ এর সাথে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের কবিতা—২ এর চেতনারই যেন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের শহিদের মাঝে”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

ক. ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ দেশের মানুষের জন্য গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের এক অসাধারণ সুযোগ সৃষ্টি করে।
খ. ‘আঠারো কোটি মানুষের মনে জ্বলতে থাকা আগুন থামানোর সাধ্য তার ছিল না।’—বাক্যটি মানুষের মধ্যে সৃষ্ট বিদ্রোহী চেতনা ও তাদের। শক্তি তুলে ধরে।
➠ দেশের মানুষ বৈষম্য ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ ও আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেছিল, তা এত প্রবল ছিল যে প্রকৃতির বিরূপ পরিস্থিতি বা কোনো প্রতিকূলতাই তা দমন করতে পারেনি। এটি বোঝায় যে, জনগণের চেতনা ও সংগ্রামের শক্তি অপ্রতিরোধ্য এবং তা কোনো বাহ্যিক শক্তি দিয়ে দমন করা সম্ভব নয়।

গ. উদ্দীপকের কবিতা—১ এবং ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধ উভয়ের মধ্যে সংগ্রামের চেতনাকে কেন্দ্র করে সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, জনসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। শিক্ষার্থী ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ আন্দোলনের মূল শক্তি।
➠ উদ্দীপকের কবিতা—১ এ বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে, যারা শিকল ভেঙে মুক্তি আনতে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার সূর্য উজ্জ্বল করেছেন। তেমনি, প্রবন্ধে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নেতৃত্বে যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের কথাও উঠে এসেছে। কবিতায় বিপ্লবীদের না ফেরার যাত্রার কথা বলা হলেও তাদের অবদান নতুন দিনের সূচনা করেছে। প্রবন্ধেও গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আত্মত্যাগকে স্বাধীন ও সমতার ভিত্তিতে নতুন সমাজ গড়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কবিতার মতোই প্রবন্ধেও সংগ্রামকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, অতীতের ত্যাগ ভবিষ্যতের জন্য পথপ্রদর্শক।

ঘ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতায় দেশপ্রেমের চেতনার কথা বলা হয়েছে আর এই চেতনা ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে উল্লিখিত শহিদদের মধ্যে পরিলক্ষিত হওয়ায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, গণসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ ঐক্যবন্ধ হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এ আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য দিক। এই গণজাগরণ দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে সমতা, সহিষ্ণুতা ও উন্নয়নমূলক সমাজ গঠনের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
➠ উদ্দীপকের কবিতা—২ এর চেতনার মূল কথাই হলো জন্মভূমির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের অঙ্গীকার। এই চেতনা প্রবন্ধে আলোচিত শহিদদের আত্মদানের মধ্যে অত্যন্ত সুষ্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। শহিদরা যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা কেবল ব্যক্তিগত বা ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। প্রবন্ধে বর্ণিত ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান একদল ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা একটি বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়। সেখানে শহিদদের আত্মত্যাগ ছিল আন্দোলনের ভিত্তি ও প্রেরণা। তারা প্রমাণ করেছিলেন যে, জন্মভূমির মর্যাদা ও মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকতে হয়। যেমন কবিতায় মৃত্যুঞ্জয়ীদের কথা বলা হয়েছে, তেমনি প্রবন্ধে শহিদদের চিত্র ফুটে উঠেছে, যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। শহিদদের এই আত্মদানের গভীরে ছিল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা এবং দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। তাদের এই ত্যাগ কবিতায় উল্লিখিত স্বর্গগত মৃত্যুঞ্জয়ীদের মতোই শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠে।
➠ তাই বলা যায়, কবিতা ও প্রবন্ধ উভয়েরই কেন্দ্রে রয়েছে দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, আত্মোৎসর্গ এবং গণমানুষের মুক্তির সংগ্রামে অমর হওয়ার চেতনা।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
শহিদের পুণ্য রক্তে সাত কোটি
বাঙালির প্রাণের আবেগ আজ
পুষ্পিত সৌরভ। বাংলার নগর, বন্দর,
গঞ্জ, বাষট্টি হাজার গ্রাম
ধ্বংসস্তূপের থেকে সাত কোটি ফুল
হয়ে ফোটে। প্রাণময় মহৎ কবিতা
আর কোথাও দেখি না এর চেয়ে।
*** *** *** *** *** *** ***
কবিতায় আর নতুন কী লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম
বাংলাদেশ।

ক. আন্দোলনে ‘ভিন্নমতের ঐক্য’ কীভাবে সম্ভব হয়েছিল?
খ. ‘অভাবনীয় এক গণঅভ্যুত্থান দেখে সারা দুনিয়ার মানুষ।’— ব্যাখ্যা করো।
গ. “উদ্দীপকের সাথে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের কোন দিকের সাদৃশ্য রয়েছে?”- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. যখন বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।—‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের আলোকে এই পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

ক. আন্দোলনে ‘ভিন্নমতের ঐক্য’ সম্ভব হয়েছিল দেশের মুক্তি ও কল্যাণের জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা থেকে।
খ. ‘অভাবনীয় এক গণঅভ্যুত্থান দেখে সারা দুনিয়ার মানুষ।’—উক্তিটি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিস্ময়কর সফলতা এবং তার বৈশ্বিক প্রভাবকে বোঝায়।
➠ আন্দোলনের ব্যাপকতা, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটি প্রমাণ করে যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এবং সংগ্রাম শুধু দেশের ভেতর নয়, সারা বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। এই অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের একটি গভীর সাদৃশ্য হলো আত্মত্যাগ এবং পুনর্জন্মের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও জাতীয় গৌরবের উন্মেষ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, জনসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। শিক্ষার্থী ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ আন্দোলনের মূল শক্তি।
➠ উদ্দীপকের কবিতায় শহিদদের পবিত্র রক্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গৌরব ও মহত্ত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি রক্তস্নাত আত্মত্যাগকে ফুলের সৌরভ ও প্রাণময় কবিতা হিসেবে তুলে ধরে জাতির চিরন্তন আবেগ ও আত্মপরিচয়ের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। উদ্দীপকের কবিতায় শহিদদের রক্তের কথা উল্লেখ করে যেভাবে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নতুন প্রাণের জাগরণের প্রতীকী বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আকাক্সক্ষার সাথে মিলে যায়। প্রবন্ধে যেমন জনগণের আত্মত্যাগের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি হয়েছে, উদ্দীপকেও শহিদদের রক্তে সমগ্র দেশের এক নবজাগরণের চিত্র ফুটে উঠেছে। উভয় ক্ষেত্রেই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং ঐক্যের মধ্য দিয়ে নতুন দিনের স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. ‘যখন বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ’ পঙ্ক্তিটি প্রবন্ধের চেতনার সঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এ চরণে শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতার সূচনা এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছে যা ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, জনসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। শিক্ষার্থী ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ আন্দোলনের মূল শক্তি।
➠ উদ্দীপকের কবিতায় শহিদদের পবিত্র রক্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গৌরব ও মহত্ত্বের চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি রক্তস্নাত আত্মত্যাগকে ফুলের সৌরভ ও প্রাণময় কবিতা হিসেবে তুলে ধরে জাতির চিরন্তন আবেগ ও আত্মপরিচয়ের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
➠ প্রশ্নোক্ত কবিতার চরণগুলো শহিদদের আত্মত্যাগেকে স্মরণ করায়, যারা বুকের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ নামে নতুন একটা দেশ তৈরি করেছে। প্রবন্ধে উল্লেখিত ৫ই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও সেই আন্দোলনে শহিদদের ত্যাগ জাতিকে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন সমাজ গঠনের পথে এগিয়ে নিয়েছে। কবিতার এই চরণগুলোও সেই আত্মত্যাগের গভীরতা ও দেশপ্রেমের শক্তিকে তুলে ধরে। এখানে ‘বাংলাদেশ’ কেবল একটি নাম নয়, এটি সংগ্রাম, ত্যাগ, গৌরব এবং একটি নতুন সূর্যের প্রতীক, যা শহিদদের রক্তে পবিত্র ও চিরঞ্জীব হয়ে আছে। এই আত্মদানে বাঙালি জাতি তাদের গৌরবগাথা পুনর্লিখন করেছে, যা প্রবন্ধেও স্পষ্ট।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মিরাজ একজন শান্তিপ্রিয় ছাত্র, যে স্বৈরশাসকের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেয়। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে রাস্তায় নামে। একদিন, পুলিশের গুলিতে তার শরীর ঝলসে যায়। মিরাজের মৃত্যুর পর, তার সহপাঠীরা তার আত্মত্যাগকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে শহরে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষে শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটে। শহিদের আত্মত্যাগই অন্যদের প্রেরণা জোগায় শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে।

ক. দানবীয় শাসন চালানোর জন্য সরকারের প্রধান অবলম্বন কী ছিল?
খ. স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলন করেছে কেন?
গ. উদ্দীপকের মিরাজ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের কার প্রতিনিধিত্ব করে?— ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘শহিদের আত্মত্যাগই অন্যদের প্রেরণা জোগায় শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে’— এই মন্তব্যটির সত্যতা যাচাই করো ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের আলোকে।

ক. দানবীয় শাসন চালানোর জন্য ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ ছিল সরকারের প্রধান অবলম্বন।
খ. স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলন করেছে সরকারি চাকরির কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক দুর্নীতি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল বলে।
➠ মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পোষ্যদের জন্য চাকরি বরাদ্দ হয়ে যাওয়ার ফলে দেশের বৃহৎ মেধাবী তরুণসমাজ সরকারি চাকরি পাচ্ছিল না। তারা কোটাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের দাবি জানালে সরকার সেটি বাতিল করে দেয় ২০১৮ সালে। ২০২৪ সালে সরকার আবার সেই কোটা ব্যবস্থা পুর্নবহাল করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে, যার মাধ্যমে সরকারের অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।

গ. উদ্দীপকের মিরাজ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে শহিদ হওয়া আবু সাঈদের প্রতিনিধি।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণঅভ্যুত্থানের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন স্বৈরশাসনের পতন ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ আন্দোলনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই অভ্যুত্থান সমতাভিত্তিক, সহিষ্ণু এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ এনে দেয়।
➠ উদ্দীপকের মিরাজ একজন শান্তিপ্রিয় ছাত্র, সে স্বৈরশাসকের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেয়। রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সে বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে রাস্তায় নামে এবং পুলিশের গুলিতে তার শরীর ঝলসে যায়। মিরাজের মৃত্যুর পর, তার সহপাঠীরা তার আত্মত্যাগকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে। তার মৃত্যুর পর সমগ্র শহরে গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষে শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটে। উদ্দীপকের মিরাজের মতো প্রবন্ধে উল্লিখিত আবু সাঈদও স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। আবু সাঈদ পুলিশের সামনে নিজের বুক পেতে দেয়, নিষ্ঠুর পুলিশ তাকে তাক করে গুলি ছোড়ে এবং সেখানে সে শহিদ হয়। আবু সাঈদের মৃত্যুতে ছাত্র আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং সমগ্র বাংলাদেশে শিখা ছড়িয়ে পরে।

ঘ. ‘শহিদের আত্মত্যাগই অন্যদের প্রেরণা জোগায় শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে’—মন্তব্যটি ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, গণসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এ আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য দিক। এই গণজাগরণ দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে সমতা, সহিষ্ণুতা ও উন্নয়নমূলক সমাজ গঠনের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
➠ উদ্দীপকে মিরাজের আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে। সে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গিয়ে শহিদ হয়। তার মৃত্যু তার বন্ধুদের মধ্যে আন্দোলনের নতুন প্রেরণা দেয় এবং সমগ্র শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়। ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে উল্লিখিত শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ অন্যদের রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে। শহিদ আবু সাইদের মৃত্যু আন্দোলনকারীদের জন্য এক অমর স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের মধ্যে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের শক্তি জুগিয়েছে। তাদের ত্যাগ মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং তাদের আত্মদানের মাধ্যমে জনগণ জেগে ওঠে। শহিদদের আত্মত্যাগই ছিল গণঅভ্যুত্থানের পেছনে শক্তির মূল উৎস, যা শত্রু শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং গণতন্ত্রের পথে চলার প্রেরণা যোগায়। শহিদদের স্মরণে সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসকের পতন ঘটায়।
➠ তাই বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
স্বৈরশাসন হলো এমন এক শাসনব্যবস্থা, যেখানে এক ব্যক্তি বা একটি দলের একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং জনগণের মতামত বা স্বাধীনতা প্রায়ই অগ্রাহ্য হয়। স্বৈরশাসনে শাসক পুরো রাষ্ট্রের ক্ষমতা হাতে তুলে নেন, যার ফলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়। জনগণের জন্য মুক্তভাবে মতপ্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ বিরোধী মত বা প্রতিবাদ দমন করা হয়। শাসকরা প্রায়ই দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবিচার প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে দেশের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়।

ক. আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
খ. ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল কী ছিল?
গ. উদ্দীপকের বর্ণিত স্বৈরশাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের স্বৈরশাসনের কি কোনো সাদৃশ্য আছে?— ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘স্বৈরশাসনের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনগণ গণঅভ্যুত্থান করতে বাধ্য হয়’— মন্তব্যটি যথার্থতা যাচাই করো।

ক. আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি জালিমহীন, মজলুমের বাংলাদেশ গঠন এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
খ. গণঅভ্যুত্থানের ফলাফল ছিল স্বৈরাচারী সরকারের পতন এবং জনগণের মধ্যে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাক্সক্ষা জন্ম নেওয়া।
➠ আন্দোলনকারীরা সরকারকে বাধ্য করে দেশ ছাড়তে, যা একটি বৃহৎ গণবিক্ষোভের ফলস্বরূপ ঘটে। আন্দোলন ছিল শুধু সরকারের পতনের জন্য নয়, বরং গণতান্ত্রিক এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার জন্য। জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করে, তারা তাদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম এবং এই অভ্যুত্থান দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি আনবে।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত স্বৈরশাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যের সাথে ২০২৪ এর স্বৈরশাসকের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের কথা বলা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনতার দৃঢ় সংকল্পে এই আন্দোলন সফল হয়। বিজয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে; যা সমতা, সহিষ্ণুতা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে।
➠ উদ্দীপকে স্বৈরশাসন ব্যবস্থা কী এবং এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। স্বৈরশাসন হলো একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, যেখানে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, মতপ্রকাশ দমন করা হয় এবং দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবিচারের মাধ্যমে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়। প্রবন্ধে উল্লিখিত শাসকের কর্মকান্ড স্বৈরশাসনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলীয় বাহিনীর অপব্যবহার, গুম-খুন-নির্যাতনের মাধ্যমে জনগণকে দমন, প্রহসনের নির্বাচন, আর্থিক দুর্নীতি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ স্বৈরশাসনের পরিচিত চিত্র। জনগণের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা, কোটাব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অপব্যবহার শাসকের জনবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ দেয়। উন্নয়নের গল্প দিয়ে শাসনের অন্যায় আড়াল করাও স্বৈরাচারের কৌশল। এসব কর্মকান্ড শাসককে স্বৈরশাসকের প্রতিরূপ করে তুলেছে।

ঘ. ‘স্বৈরশাসনের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনগণ গণঅভ্যুত্থান করতে বাধ্য হয়’—মন্তব্যটি সত্য এবং যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তর এবং স্বৈরশাসনের পতনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক বিশাল বিপ্লব ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের দৃঢ় নেতৃত্ব আন্দোলনকে সফল করে তোলে। এ গণঅভ্যুত্থানের বিজয় সমতাভিত্তিক, সহিষ্ণু ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করে।
➠ উদ্দীপকে স্বৈরশাসন ব্যবস্থা কী এবং এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। স্বৈরশাসন হলো একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, যেখানে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, মতপ্রকাশ দমন করা হয় এবং দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অবিচারের মাধ্যমে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়। স্বৈরশাসন ব্যবস্থায় কোনো হিতকর বিষয়ই সাধিত হয় না। এ কারণেই যুগে যুগে পৃথিবীর যেখানেই স্বৈরশাসক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেখানেই এর বিরুদ্ধে প্রবল গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে তার পতন ঘটানো হয়েছে। এর প্রমাণ মেলে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে। প্রবন্ধে উল্লিখিত শাসকের মধ্যে যে স্বৈরশাসকের বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে, তা হলো—রাষ্ট্রযন্ত্র ও দলীয় বাহিনীকে অপব্যবহার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, গুম-খুন এবং নির্যাতন, প্রহসনের নির্বাচন, আর্থিক দুর্নীতি এবং জনগণের বৈধ দাবির প্রতি উদাসীনতা। শাসক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অপব্যবহার করে, কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে এবং জনগণের জীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। উন্নয়ন ও অর্জনের নামে অস্বাভাবিক ব্যয় এবং জনগণের অবস্থা অশান্ত করে তুলে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রবন্ধের শাসককে জনবিচ্ছিন্ন করে তোলে এবং জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার পতন ঘটায়।
➠ তাই এটা প্রমাণিত হয় যে, স্বৈরশাসনের নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনগণ গণঅভ্যুত্থান করতে বাধ্য হয়।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অগাস্টো পিনোশে ১৯৭৩ সালে চিলির সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন এবং সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দেকে উৎখাত করেন। তিনি সামরিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে বিরোধীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালান। তার শাসনামলে হাজারো মানুষকে হত্যা, গুম এবং নির্যাতন করা হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি মুক্তবাজার নীতি গ্রহণ করেন, যা চিলির অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করলেও আয় বৈষম্য বাড়ায়। তার নীতিকে সমর্থকরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন হিসেবে দেখেন তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। ১৯৯০ সালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে তার শাসনের অবসান ঘটে এবং তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।

ক. ৫ই আগস্ট কী ঘটেছিল?
খ. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল কেন?
গ. অগাস্টো পিনোশের সাথে ২০২৪ এর স্বৈরশাসকের সাদৃশ্য আলোচনা করো।
ঘ. “অগাস্টো পিনোশের শেষ পরিণতি এবং ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের স্বৈরশাসকের শেষ পরিণতি একই সূত্রে গাঁথা”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে ফ্যাসিবাদী সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
খ. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। কারণ সকলের মধ্যে ছিল দীর্ঘদিনের দুঃশাসন এবং বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
➠ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ-শিক্ষার্থী, কর্মী, ধনী-গরিব, শহর-বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে-সকলেই একমত হয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়। দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের। মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন ছিল একযোগিতার প্রতীক। একতাবদ্ধ হয়ে জনগণ সরকারের অপশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং তাদের অধিকার পুনরুদ্ধার করে।

গ. উদ্দীপকের অগাস্টো পিনোশের সাথে ২০২৪ সালের স্বৈরশাসকের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, জনসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। শিক্ষার্থী ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ আন্দোলনের মূল শক্তি। অভ্যুত্থানের বিজয় দেশের উন্নয়ন, সমতা ও সহিষ্ণুতার ভিত্তিতে একটি নতুন সমাজ গড়ার সুযোগ এনে দেয়।
➠ উদ্দীপকে চিলির স্বৈরশাসক অগাস্টো পিনোশের শাসনামলের কথা বলা হয়েছে। পিনোশে চিলিতে সামরিক একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করেন। বিরোধীদের গুম, হত্যা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মত প্রকাশের ক্ষমতা সংহত করেন। ঠিক তেমনি, প্রবন্ধে উল্লিখিত ২০২৪ সালের স্বৈরশাসকও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে বিরোধীদের উপর কঠোর দমন নীতি প্রয়োগ করেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় অনুগত বাহিনীতে রূপান্তরিত করেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেন। অর্থনৈতিক নীতিতেও কিছু মিল দেখা যায়। পিনোশে মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে একটি গোষ্ঠীর আর্থিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করেন, ২০২৪ সালের স্বৈরশাসক আয় বৈষম্য বাড়ায়। একইভাবে, উন্নয়নের গল্প সাজিয়ে প্রকল্পগুলোর ব্যয়কে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করেন। উভয় শাসকেরই লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নকে হাতিয়ার বানানো এবং জনগণের দৃষ্টি সেখানেই কেন্দ্রীভূত রাখা। জবাবদিহিতার অভাবও তাদের শাসনের একটি বড়ো মিল।

ঘ. ‘অগাস্টো পিনোশের শেষ পরিণতি এবং প্রবন্ধের স্বৈরশাসকের শেষ পরিণতি একই সূত্রে গাঁথা’—মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের কথা বলা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনতার দৃঢ় সংকল্পে এই আন্দোলন সফল হয়। বিজয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে, যা সমতা, সহিষ্ণুতা এবং দেশের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করে।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই অগাস্টো পিনোশের শাসনের অবসান ঘটেছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চাপে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। ১৯৯০ সালে চিলিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং পিনোশে পরবর্তীতে বিচারের মুখোমুখি হন। প্রবন্ধে বর্ণিত ২০২৪ সালের স্বৈরশাসকের শেষ পরিণতিও একইরকম। জনগণের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা এবং শোষণের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে একটি অরাজনৈতিক অভ্যুত্থান গড়ে ওঠে, যেখানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়। পিনোশের মতোই ২০২৪ সালের স্বৈরশাসক পালিয়ে যেতে বাধ্য হন, যা তার শাসনের অবসান ঘটায়।
➠ উভয় ক্ষেত্রেই জনগণের ঐক্য, নিপীড়িতদের প্রতিরোধ এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিজয় ঘটেছে। এটি প্রমাণ করে, জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন স্বৈরাচারের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এজন্যই উভয় শাসকের পতন একই সূত্রে গাঁথা; তাদের বিরুদ্ধে জনগণের অভ্যুত্থানই চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছে।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯-১৭৯৯) ছিল ফ্রান্সের দারিদ্র‍্যপীড়িত জনগণের দ্বারা সংঘটিত এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। রাজতন্ত্র সামাজিক বৈষম্য এবং অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এই বিপ্লব শুরু হয়। জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ, উচ্চবর্গের কর ফাঁকি ও নিম্নবর্গের উপর চাপানো অতিরিক্ত কর এর মূল কারণ। ১৭৮৯ সালে বাস্তিল দুর্গ আক্রমণের মাধ্যমে বিপ্লব শুরু হয়। রাজা ষোড়শ লুই এবং রানি অ্যান্টোনেটকে রাজদ্রোহের অভিযোগে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব' এই আদর্শ সারা বিশ্বে গণআন্দোলনের অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত।

ক. আন্দোলনে কারা অংশ নিয়েছিল?
খ. ‘বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার জুলাইয়ে থেমে গেছে।’— ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপক ও তোমার পাঠ্য ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে উল্লিখিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের ফরাসি বিপ্লবের মতো বাংলাদেশেও হওয়া গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূরীকরণ’— উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

ক. আন্দোলনে শিক্ষার্থী, বিরোধীদলীয় মানুষজন, ধনী-গরিব, শহর-গ্রামের মানুষ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল।
খ. ‘বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার জুলাইয়ে থেমে গেছে।’— বাক্যটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বোঝায় যে, জুলাই মাসটি আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় হয়ে উঠেছে।
➠ এই সময় দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেমে যায় এবং পুরো জাতি আন্দোলন ও উত্তেজনার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। সময় যেন এক অনন্য মুহূর্তে আটকে গিয়েছিল, যা জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা এবং জাতির ইতিহাসে এক মাইলফলক স্থাপন করেছিল। এটি আন্দোলনের গুরুত্ব ও গভীরতা বোঝায়।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি বিপ্লব এবং প্রবন্ধে উল্লিখিত ২০২৪ সালের বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে একাধিক সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, সংগ্রাম এবং সফল গণঅভ্যুত্থানের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন, দুর্নীতি এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে সমগ্র দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জনতার দৃঢ় সংকল্পে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়েছিল সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক শোষণ এবং রাজতান্ত্রিক দমননীতি থেকে মুক্তির জন্য। বাংলাদেশের ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানও বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা, আর্থিক দুর্নীতি এবং দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের ক্রমাগত অসন্তোষ ও বঞ্চনা আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। ফরাসি বিপ্লবের মতোই প্রবন্ধে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়েছিল। ফরাসি বিপ্লবে দরিদ্র জনগণ, পেশাজীবী এবং বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। তেমনই, বাংলাদেশে শিক্ষার্থী, নারী, গ্রামীণ জনগণ এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। ফরাসি বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে সমতা ও মানবিক মর্যাদার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। উভয় ক্ষেত্রেই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আদর্শ ছিল মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা। ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে ‘স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব’ ধারণার উত্থান ঘটে। বাংলাদেশের অভ্যুত্থান নতুন সমাজ গঠনের একটি সুযোগ সৃষ্টি করে, যেখানে বৈষম্যহীন ও সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন ফুটে ওঠে।

ঘ. ‘উদ্দীপকের ফরাসি বিপ্লবের মতো বাংলাদেশেও হওয়া গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূরীকরণ’—উক্তিটি যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, গণসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এ আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য দিক। এই গণজাগরণ দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে সমতা, সহিষ্ণুতা ও উন্নয়নমূলক সমাজ গঠনের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
➠ উদ্দীপকের ফরাসি বিপ্লব এবং প্রবন্ধে উল্লেখিত বাংলাদেশের ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ। ফরাসি বিপ্লবে উচ্চবর্গের কর ফাঁকি, নিম্নবর্গের উপর চাপানো কর এবং রাজনৈতিক প্রভুত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। এ বিপ্লবের মাধ্যমে সাম্য ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা দেখা যায়। বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানও বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি জন-বিদ্রোহ। বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা, ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আর্থিক দুর্নীতি এবং নাগরিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়েছিল। ২০২৪ অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে সমতাভিত্তিক ও ন্যায্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
➠ সুতরাং, আমরা বলতেই পারি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ। উভয় আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং একটি সমতার ভিত্তিতে মানবিক রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষা।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কবিতা—১: হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন।
জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান,
গত আকালের মৃত্যুকে মুছে
আবার এসেছে বাংলাদেশের প্রাণ।
‘হয় ধান নয় প্রাণ’ এ শব্দে
সারা দেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ
মৃত্যুর ভয় তারা।

কবিতা—২: সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়,
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।
এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালি নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলাদেশের প্রাণ।

ক. দেশের জনগোষ্ঠী কী ধরনের পরিস্থিতির শিকার হয়?
খ. ‘তারা মূলোৎপাটন করবে শাসনক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিবাদী এক শাসকের।’— ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কবিতা—১ এর সাথে কি ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের কোনো সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের কবিতা—২ যেন ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্যকে ধারন করে”— বিশ্লেষণ করো।

ক. দেশের জনগোষ্ঠী ভয়ানক অসম্মানবোধ ও অনিশ্চয়তার শিকার হয়।
খ. ‘তারা মূলোৎপাটন করবে শাসনক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ফ্যাসিবাদী এক শাসকের’—বাক্যটি আন্দোলনের লক্ষ্য ও লক্ষ্যস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।
➠ এটি বোঝায় যে, জনগণ শুধু ক্ষুদ্র সমস্যার সমাধান নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে চিরতরে উৎখাত করতে চায়। এটি আন্দোলনের গভীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষাকে তুলে ধরে। জনগণের এই দৃঢ় সংকল্প এবং শাসনের প্রতি অসন্তোষই আন্দোলনের শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

গ. উদ্দীপকের কবিতা—১ এবং ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধ উভয়ই জাতির চেতনা ও সংগ্রামের বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পটভূমি, জনসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। শিক্ষার্থী ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এ আন্দোলনের মূল শক্তি।
➠ উদ্দীপকের কবিতায় সাধারণ মানুষের মাঝে হঠাৎ করে সচেতনতার উন্মেষ এবং মৃত্যুভয় ভুলে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে, যা প্রবন্ধে আলোচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সাথে মিলে যায়। প্রবন্ধে যেমন দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নেমে আসে, তেমনি কবিতায়ও সংগ্রামের শক্তি ও আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে। উভয় রচনায় জাতির চেতনার জাগরণ এবং সংগ্রামের মাধ্যমে পুনর্জীবনের বার্তা সুষ্পষ্ট।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতা—২ যেন ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে—উক্তিটি যথার্থ।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের কথা বলা হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, বৈষম্য ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনতার দৃঢ় সংকল্পে এই আন্দোলন সফল হয়।
➠ উদ্দীপকের কবিতা—২ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের মূল ভাবনাকে পুরোপুরি ধারণ করে। প্রবন্ধে যেমন জাতির অটল মনোভাব, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের কথা বলা হয়েছে, তেমনি কবিতায়ও সংগ্রামী চেতনা, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার প্রত্যয়ের প্রতিফলন দেখা যায়। প্রবন্ধে জনগণের ঐক্য ও সাহস যেমন প্রাধান্য পেয়েছে, কবিতাতেও সংগ্রামের দৃঢ় সংকল্প ও পুনর্জাগরণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
➠ উভয় ক্ষেত্রে আন্দোলন কেবল সংগ্রামের নয়, বরং জাতির পুনর্নির্মাণের প্রতীক।


‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১৯৫৬-১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবৈষম্য বা এপার্টহাইডের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। কৃষ্ণাঙ্গদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি জেল খেটেছেন। ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ আন্দোলনের ফলে বৈষম্যমূলক আইন বিলুপ্ত হয় এবং ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন।

ক. আন্দোলনে কী ধরনের ভাষা তৈরি হয়েছিল?
খ. ‘দৃঢ়চেতা, স্থিরপ্রতিজ্ঞ আর মরতে প্রস্তুত মানুষের সামনে কোনো প্রতিরোধই টেকে না।’— ব্যাখ্যা করো।
গ. “উদ্দীপকের সাথে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য আছে”— ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের সাথে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক প্রবন্ধের সমগ্রভাব ধারণ করতে পারেনি”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. আন্দোলনে এমন একটি ভাষা তৈরি হয়েছিল যার মাধ্যমে সবাই পারস্পরিক ভিন্নমত নিয়েও দেশের জন্য কাজ করতে পেরেছিল।
খ. ‘দৃঢ়চেতা, স্থিরপ্রতিজ্ঞ আর মরতে প্রস্তুত মানুষের সামনে কোনো প্রতিরোধই টেকে না।’— এই বাক্যটি আন্দোলনকারীদের সাহসিকতা এবং তাদের অবিচল সংকল্পের গুরুত্ব বোঝায়।
➠ যখন জনগণ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মৃত্যুও মেনে নিতে প্রস্তুত হয়, তখন কোনো শক্তি তাদের বাধা দিতে পারে না। এটি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিজ্ঞা এবং সংগ্রামের শক্তি প্রকাশ করে। সংগ্রামী মানুষের এই মনোভাবই কোনো আন্দোলনের সফলতার প্রধান কারণ হয়ে ওঠে।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো বৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, গণসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল এ আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য দিক।
➠ উদ্দীপকে ম্যান্ডেলার বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। ১৯৫৬-১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। কৃষ্ণাঙ্গদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি জেল খেটেছেন। ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ আন্দোলনের ফলে বৈষম্যমূলক আইন বিলুপ্ত হয়। উদ্দীপকের নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে বর্ণবৈষম্যবিরোধী সংগ্রামের সঙ্গে প্রবন্ধে উল্লিখিত বাংলাদেশের কোটাব্যবস্থা সংশোধনের আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেমন ম্যান্ডেলা সংগ্রাম করেছেন, তেমনি বাংলাদেশে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ আন্দোলন শুরু করে। উভয় ক্ষেত্রেই বৈষম্যের অবসান এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল। প্রবন্ধে যেমন ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, ঠিক তেমনই উদ্দীপকে ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং বৈষম্যমূলক আইন বিলোপ ঘটে।

ঘ. প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সত্যতা রয়েছে। কারণ উদ্দীপক এবং প্রবন্ধের মধ্যে কিছু মিল থাকলেও প্রবন্ধের অভ্যন্তরীণ ভাবনা ও লক্ষ্য উদ্দীপকে পুরোপুরি ধরা পড়েনি।
➠ ‘আমাদের নতুন গৌরবগাথা’ প্রবন্ধে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, গণসমর্থন এবং স্বৈরশাসনের পতনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কোটাব্যবস্থার অপব্যবহার, দুঃশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটায়। উদ্দীপকে ম্যান্ডেলার বর্ণবৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে। ১৯৫৬-১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলা বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
➠ কৃষ্ণাঙ্গদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি জেল খেটেছেন। ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ আন্দোলনের ফলে বৈষম্যমূলক আইন বিলুপ্ত হয়। উদ্দীপকের সাথে প্রবন্ধের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাথে মিল থাকলেও এটিই প্রবন্ধের একমাত্র দিক নয়। উদ্দীপকে মূলত ম্যান্ডেলার সংগ্রাম এবং তার নেতৃত্বের কথা বলা হয়েছে, যেখানে বর্ণবৈষম্য দূরীকরণের জন্য তার একক নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে প্রবন্ধে বর্ণিত আন্দোলন আরও বৃহত্তর এবং সমন্বিত; এখানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার জনগণের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। উদ্দীপকে একটি ব্যক্তির নেতৃত্বের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে প্রবন্ধে জনগণের সংগঠিত সংগ্রাম এবং তাদের অংশগ্রহণের উপর বেশি আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়াও উদ্দীপকের আন্দোলন মূলত কৃষ্ণাজাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর কেন্দ্রীভূত। এর মাধ্যমে কেবল একটি নির্দিষ্ট বৈষম্য, অর্থাৎ বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটেছে। কিন্তু প্রবন্ধে উল্লিখিত আন্দোলন কেবল কোটাব্যবস্থার সংস্কারে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি বৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। প্রবন্ধে ছাত্রসমাজ কোটাব্যবস্থার পুনর্বিন্যাসের রহিত করার দাবির মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়েছে। এছাড়াও শহিদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনে নারীর ভূমিকা, স্বৈরাচারী শাসকের নিপীড়ন প্রবন্ধের এই বিস্তৃত ও বহুমুখী ভাবনা উদ্দীপক ধারণ করতে পারেনি।
➠ তাই বলা যায়, যদিও উদ্দীপক প্রবন্ধের কিছু মৌলিক চেতনাকে ধারণ করেছে, তবে উদ্দীপক প্রবন্ধের সামগ্রিক সংগ্রামী চেতনা এবং লক্ষ্য পুরোপুরি তুলে ধরতে পারেনি।


তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url