পল্লিসাহিত্য- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

পল্লিসাহিত্য
পল্লিসাহিত্য

পল্লিসাহিত্য
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

পল্লিগ্রামে শহরের মতো গায়ক, বাদক, নর্তক না থাকলেও তার অভাব নেই। চারদিকে কোকিল, দোয়েল, পাপিয়া প্রভৃতি পাখির কলগান, নদীর কুলকুল ধ্বনি, পাতার মর্মর শব্দ, শ্যামল শস্যের ভঙ্গিময় হিলাদুলা প্রচুর পরিমাণে শহরের অভাব এখানে পূর্ণ করে দিচ্ছে। পল্লির ঘাটেমাঠে, পল্লির আলোবাতাসে, পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। কিন্তু বাতাসের মধ্যে বাস করে যেমন আমরা ভুলে যাই বায়ু- সাগরে আমরা ডুবে আছি, তেমনি পাড়াগাঁয়ে থেকে আমাদের মনেই হয় না যে কত বড়ো সাহিত্য ও সাহিত্যের উপকরণ ছড়িয়ে আছে।

শ্রদ্ধেয় ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করে দেখিয়েছেন, সাহিত্যের কী এক অমূল্য খনি পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে আছে। সুদূর পশ্চিমের সাহিত্যরসিক রোমাঁ রোলাঁ পর্যন্ত ময়মনসিংহের মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন। মনসুর বয়াতির মতো আরও কত পল্লিকবি শহুরে চক্ষুর অগোচরে পল্লিতে আত্মগোপন করে আছেন, কে তাঁদের সাহিত্যের মজলিসে এসে জগতের সঙ্গে চেনাশোনা করিয়ে দেবে? আজ যদি বাংলাদেশের প্রত্যেক পল্লি থেকে এইসব অজানা অচেনা কবিদের গাথা সংগ্রহ করে প্রকাশ করা হতো, তাহলে দেখা যেত বাংলার মুসলমানও সাহিত্য সম্পদে কত ধনী। কিন্তু হায়! এ কাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল কই?

আমরা পল্লিগ্রামে বুড়োবুড়ির মুখে কোনো ঝিল্লিমুখর সন্ধ্যাকালে যেসব কথা শুনতে শুনতে ছেলেবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছি, সেগুলি না কত মনোহর! কত চমকপ্রদ! আরব্য উপন্যাসের আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ, আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যু প্রভৃতির চেয়ে পল্লির উপকথাগুলোর মূল্য কম নয়। আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতে সেগুলো বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এখনকার শিক্ষিত জননী সন্তানকে আর রাখালের পিঠা গাছের কথা, রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা শুনান না, তাদের কাছে বলেন আরব্য উপন্যাসের গল্প কিংবা Lamb's Tales from Shakespeare-এর গল্পের অনুবাদ। ফলে কোনো সুদূর অতীতের সাক্ষীস্বরূপ এই রূপকথা নষ্ট হয়ে অতীতের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ লোপ করে দিচ্ছে। যদি আজ বাংলার সমস্ত রূপকথা সংগৃহীত হতো, তবে কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা করে দেখিয়ে দিতে পারতেন যে, বাংলার নিভৃত কোণের কোনো কোনো পিতামহী মাতামহীর গল্প ভারতীয় উপমহাদেশের অন্য প্রান্তে কিংবা ভারত উপমহাদেশের বাইরে সিংহল, সুমাত্রা, যাভা, কম্বোডিয়া প্রভৃতি স্থানে এমনিভাবে প্রচলিত আছে। হয়তো এশিয়ার বাইরে ইউরোপখণ্ডে লিথোনিয়া কিংবা ওয়েলসের কোনো পল্লিরমণী এখনও হুবহু বা কিছু রূপান্তরিতভাবে সেই উপকথাগুলো তার ছেলেপুলে বা নাতি-পোতাকে শোনাচ্ছে। কে আছে এই উপকথাগুলো সংগ্রহ করে তাদের অবশ্যম্ভাবী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে? ইউরোপ, আমেরিকা দেশে বড়ো বড়ো বিদ্বানদের সভা আছে, যাকে বলা হয় Folklore Society। তাদের কাজ হচ্ছে এইসব সংগ্রহ করা এবং অন্য সভ্য দেশের উপকথার সঙ্গে সাদৃশ্য নিয়ে বিচার করা। এগুলো নৃতত্ত্বের মূল্যবান উপকরণ বলে পণ্ডিত সমাজে গৃহীত হয়। শ্রীযুক্ত দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের 'ঠাকুরমার ঝুলি' বা 'ঠাকুরদার থলে' যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের সমস্ত উপকথা এক জায়গায় জড় করলে বিশ্বকোষের মতো কয়েক বালামে তার সংকুলান হতো না।

আমরা Shakespeare-এ পড়েছি রাক্ষসদের বাঁধাবুলি হচ্ছে Fi, Fie, foh, fun! smell the blood of a British man- এর সঙ্গে তুলনা করে পল্লির ‘হাঁউ, মাঁউ, খাঁউ, মানুষের গন্ধ পাঁউ’, এ সাদৃশ্য হলো কোথা থেকে? তবে কি একদিন ঐ সাদা ইংরেজ ও এই কালো বাঙালির পূর্বপুরুষগণ ভাই ভাই রূপে একই তাঁবুর নিচে বাস করত? সে আজ কত দিনের কথা কে জানে? আমরা কথায় কথায় প্রবাদ বাক্য জুড়ে দিই- যেমন ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই’, ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’, ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’, এই রকম আরও কত কী! তারপর ডাকের কথা আছে, খনার বচন আছে।
যেমন: ধরুন-
কলা রুয়ে না কেটো পাত,
তাতেই কাপড় তাতেই ভাত।

প্রবাদ বাক্যে এবং ডাক ও খনার বচনে কত যুগের ভূয়োদর্শনের পরিপক্ব ফল সঞ্চিত হয়ে আছে, কে তা অস্বীকার করতে পারে? শুধু তাই নয়, জাতির পুরনো ইতিহাসের অনেক গোপন কথাও এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।

আমরা আজও বলি- ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর।’ এই প্রবাদ বাক্যটি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন পাণ্ডুয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল। কে এই প্রবাদ বাক্য, ডাক, খনার বচনগুলি সংগ্রহ করে তাদের চিরকাল জীবন্ত করে রাখবে?

তারপর ধরুন, ছড়ার কথা। কথায় কথায় ছেলেমেয়েগুলো ছড়া কাটতে থাকে। রোদের সময় বৃষ্টি হচ্ছে, অমনি তারা সমস্বরে ঝংকার দিয়ে ওঠে-
রোদ হচ্ছে, পানি হচ্ছে,
খেঁকশিয়ালীর বিয়ে হচ্ছে।

এর সঙ্গে সঙ্গে মনে করুন মায়ের সেই ঘুমপাড়ানী গান, সেই খোকা-খুকির ছড়া। এগুলি সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস, কিন্তু আজ দুঃখে দৈন্যে প্রাণে সুখ নেই। ছড়াও ক্রমে লোকে ভুলে যাচ্ছে। কে এগুলিকে বইয়ের পাতায় অমর করে রাখবে?

শুধু ছড়া কেন? খেলাধুলার না কত বাঁধা গৎ আছে বা ছিল আমাদের এ দেশে। যখন ফুটবল, ব্যাটবলের নাম কারও জানা ছিল না, তখন কপাটি খেলার খুব ধুম ছিল। সে খেলার সঙ্গে কত না বাঁধা বুলি ছেলেরা ব্যবহার করত-
এক হাত বোল্লা বার হাত শিং
উড়ে যায় বোল্লা ধা তিং তিং।

বিদেশি খেলার প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে এসব লোপ পাবার উপক্রম হয়েছে। কে এদের বাঁচিয়ে রাখবে?

তারপর ধরুন, পল্লিগানের কথা। পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে এই গানগুলি অমূল্য রত্নবিশেষ। সেই জারি গান, সেই ভাটিয়ালি গান, সেই রাখালি গান, মারফতি গান- গানের এক অফুরন্ত ভাণ্ডার পল্লির ঘাটে, মাঠে ছড়ানো রয়েছে। তাতে কত প্রেম, কত আনন্দ, কত সৌন্দর্য, কত তত্ত্বজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। শহুরে গানের প্রভাবে সেগুলো এখন বর্বর চাষার গান বলে ভদ্রসমাজে আর বিকায় না। কিন্তু-
মনমাঝি তোর বৈঠা নে রে
আমি আর বাইতে পারলাম না।

এই গানটির সঙ্গে আপনার শহুরে গানের কোনো তুলনা হতে পারে? কিন্তু ধারাবাহিকরূপে সেগুলো সংগ্রহের জন্য কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি?

এ পর্যন্ত যা বললাম সেগুলো হচ্ছে পল্লির প্রাচীন সম্পদ। সাহিত্যের ভাণ্ডারে দান করবার মতো পল্লির নতুন সম্পদেরও অভাব নেই। আজকাল বাংলাসাহিত্য বলে যে সাহিত্য চলছে, তার পনেরো আনা হচ্ছে শহুরে সাহিত্য, সাধু ভাষায় বলতে গেলে নাগরিক সাহিত্য। সে সাহিত্যে আছে রাজ-রাজড়ার কথা, বাবু-বিবির কথা, মোটরগাড়ির কথা, বিজলি বাতির কথা, সিনেমা থিয়েটারের কথা, চায়ের বাটিতে ফুঁ দেবার কথা। এইসব কথা নিয়ে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক রাশি রাশি লেখা হচ্ছে। পল্লির গৃহস্থ কৃষকদের, জেলে-মাঝি, মুটে-মজুরের কোনো কথা তাতে ঠাঁই নাই। তাদের সুখ-দুঃখ, তাদের পাপ-পুণ্য, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথায় কজন মাথা ঘামাচ্ছে? আমাদের বিশ্ববরেণ্য কবিসম্রাটও একবার ‘এবার ফিরাও মোরে’ বলে আবার পুরানো পথে নাগরিক সাহিত্য নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। ধানগাছে তক্তা হয় কিনা, এখন শহুরে লোকেরা এটা জানলেও পাড়াগাঁয়ের জীবন তাদের কাছে এক অজানা রাজ্য। সেটা কারো কাছে একেবারে পচা জঘন্য, আর কারো কাছে একেবারে চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়ে ঘেরা। তাঁরা পল্লির মর্মকথা কী করে জানবেন? কী করেই বা তার মুখচ্ছবিখানি আঁকবেন? আমাদের আজ দরকার হয়েছে শহুরে সাহিত্যের বালাখানার পাশে গেঁয়ো সাহিত্যের জোড়াবাংলা ঘর তুলতে। আজ অনেকের আত্মা ইট-পাথর ও লোহার কৃত্রিম বাঁধন থেকে মুক্ত হয়ে মাটির ঘরে মাটির মানুষ হয়ে থাকতে চাচ্ছে। তাদের জন্য আমাদের কিছু গড়াগাঁথার দরকার আছে। ইউরোপ, আমেরিকায় আজ এই Proletariat সাহিত্য ক্রমে আদরের আসন পাচ্ছে, আমাদের দেশেও পাবে। কিন্তু কোথায় সে পল্লির কবি, ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যিক, যাঁরা নিখুঁতভাবে এই পল্লির ছবি শহরের চশমা-আঁটা চোখের সামনে ধরতে পারবেন?

এই সমস্ত রূপকথা, পল্লিগাথা, ছড়া প্রভৃতি দেশের আলোবাতাসের মতো সকলেরই সাধারণ সম্পত্তি। তাতে হিন্দু মুসলমান কোনো ভেদ নেই। যেরূপ মাতৃস্তন্যে সন্তান মাত্রেরই অধিকার, সেরূপ এই পল্লিসাহিত্যে পল্লিজননীর হিন্দু মুসলমান সকল সন্তানেরই সমান অধিকার।

এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলায় ছিল। তার কঙ্কালবিশেষ এখনও কিছু আছে, সময়ের ও রুচির পরিবর্তনে সে অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে। নেহাত সেকেলে পাড়াগাঁয়ের লোক ছাড়া সেগুলোর আর কেউ আদর করে না। কিন্তু একদিন ছিল যখন নায়ের দাঁড়ি-মাঝি থেকে গৃহস্থের বউ-ঝি পর্যন্ত, বালক থেকে বুড়ো পর্যন্ত, আমির থেকে গরিব পর্যন্ত সকলকেই এগুলো আনন্দ উপদেশ বিলাতো। যদি পল্লিসাহিত্যের দিকে পল্লিজননীর সন্তানেরা মনোযোগ দেয়, তবেই আমার মনে হয় এরূপ পল্লিসাহিত্য সভার আয়োজন সার্থক হবে, নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার।

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ:
১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে কিশোরগঞ্জ জেলায় ‘পূর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী’র একাদশ অধিবেশনে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সভাপতিত্ব করেন। এ সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে তিনি যে অভিভাষণ দেন, তারই পুনর্লিখিত রূপ এই ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধটি।

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা:
➠ কলগান- শ্রুতিমধুর ধ্বনি।
পরতে পরতে- স্তরে স্তরে।
ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষক ও সাধক দীনেশচন্দ্র সেন মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরী গ্রামে ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে তিনিই সর্বপ্রথম ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ গ্রন্থে বাংলাদেশের লোকসাহিত্যের গৌরব ও মর্যাদা সাহিত্যের দরবারে তুলে ধরেন। তাঁরই সুযোগ্য সম্পাদনায় চন্দ্রকুমার দে কর্তৃক সংগৃহীত ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়। দীনেশচন্দ্র সেনের মৌলিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রামায়ণী কথা, বৃহৎবঙ্গ, বেহুলা, ফুল্লরা, জড়ভরত ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পরলোকগমন করেন।
রোমাঁ রোলাঁ- (Roman Rolland) ফরাসি দেশের কালজয়ী সাহিত্যিক ও দার্শনিক। রোমাঁ রোলাঁর জন্ম ২৯শে জানুয়ারি ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে। ‘জাঁ ক্রিস্তফ’ উপন্যাস তাঁর অমূল্য কীর্তি। এ গ্রন্থের জন্য তিনি ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ৩০শে ডিসেম্বর ১৯৩৯ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
➠ মদিনা বিবি- মৈমনসিংহ গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত লোকগাথা ‘দেওয়ানা-মদিনা’র নায়িকা।
মনসুর বয়াতি- দেওয়ানা-মদিনা লোকগাথার প্রখ্যাত কবি। আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ-আরব্য উপন্যাসের অন্যতম চিত্তাকর্ষক গল্প ‘আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ’। আলাউদ্দিন নামের এক সাহসী তরুণ এক চতুর জাদুকরের বিস্ময়কর প্রদীপ লাভ করে। আলাউদ্দিন ছিল গরিব এক দুঃখিনী মায়ের একমাত্র ছেলে। এ প্রদীপে ঘষা দিলেই এক মহাশক্তিধর দৈত্য এসে হাজির হতো এবং আলাউদ্দিনের আদেশ অনুযায়ী অলৌকিক কাজ করত। এভাবেই এ প্রদীপের বদৌলতে আলাউদ্দিন প্রচুর ধনসম্পদের অধিকারী হয়। মায়ের দুঃখও দূর হয়।
আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যু- আরব্য উপন্যাসের অন্যতম বিখ্যাত গল্প। গরিব কাঠুরে আলিবাবা ভাগ্যক্রমে পাহাড়ের গুহায় দস্যুদলের গুপ্ত ধনভাণ্ডারের সন্ধান পায়। সেখান থেকে প্রচুর ধনরত্ন এনে সে বাড়িতে রাখে। দস্যুদল আলিবাবার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করে। আলিবাবা তার বুদ্ধিমতী বাঁদি মর্জিনার সহায়তায় এই দস্যুদলকে কাবু করে।
Lamb's Tales from Shakespeare- বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজি নাট্যকার ও কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটকগুলো চার্লস ল্যাম্ব সহজ ভাষায় কিশোরদের উপযোগী করে রূপান্তর করেন। সেই গ্রন্থেরই উল্লেখ এখানে করা হয়েছে।
➠ প্রত্নতাত্ত্বিক- পুরাতত্ত্ববিদ। যিনি প্রাচীন লিপি, মুদ্রা বা ভগ্নাবশেষ থেকে পুরাকালের তথ্য নির্ণয় করেন।
Folklore Society- যে সমিতি লোকশিল্প ও গান, উৎসব-অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার উপাদান সংগ্রহ করে এবং প্রচারের জন্য নানা কাজ করে থাকে। এ সমিতি লোকসাহিত্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে নিয়োজিত। উইলিয়াম থমস ‘ফোকলোর’ কথাটির উদ্ভাবক। ১৮৪৮ সালে সর্বপ্রথম লন্ডনে এই সমিতি গঠিত হয়।
নৃতত্ত্ব (Anthropology)- মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞান।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার- প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক ও বাংলা লোকগাথা ও রূপকথার রূপকার দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের জন্ম ১২৮৪ বঙ্গাব্দে, মৃত্যু ১৩৬৩ সনে। তিনি বাংলার নানা অঞ্চল ঘুরে বহু পরিশ্রম করে রূপকথা সংগ্রহ করেন। তাঁর রচিত ঠাকুরমার ঝুলি শিশুদের প্রিয় বই।
➠ প্রবাদবাক্য- দীর্ঘদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাসযোগ্য কথা বা জনশ্রুতি, যেমন, ‘নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা’।
➠ খনা- প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত নারীজ্যোতিষী। বাংলাদেশের জলবায়ু-নির্ভর কৃষিতত্ত্ব বিষয়ে উপদেশমূলক খনার ছড়াগুলো অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ে রচিত বলে ধারণা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার অন্তর্গত বারাসত মহকুমার দেউলি গ্রামে তাঁর নিবাস ছিল বলে জনশ্রুতি আছে।
➠ বালাম- বইয়ের খণ্ড, ইংরেজি Volume।
➠ ভূয়োদর্শন- প্রচুর দেখা ও শোনার মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা।
➠ বালাখানা- প্রাসাদ।
➠ Proletariat সাহিত্য- অত্যাচারিত শ্রমজীবী দুঃখী মানুষের সাহিত্য।
➠ ফক্কিকার- ফাঁকিবাজি।

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কর্ম-অনুশীলন:
১. পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদানের তালিকা তৈরি করো।
২. পাঁচটি খনার বচন লেখো।
৩. বর্ষায় পল্লির প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দাও।

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি:
‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলার পল্লিসাহিত্যের বিশেষ কয়েকটি দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লেখক এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, একদিন এক বিরাট পল্লিসাহিত্য বাংলাদেশে ছিল, আজ উপযুক্ত গবেষক এবং আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্যোগ ও চেষ্টায় সেই সম্পদগুলো সংগ্রহ করা নিতান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য এ কাজ একান্ত আবশ্যক। প্রবন্ধটি আবহমান কালের বাঙালি, বাংলাদেশ, লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি সকলকে সচেতন হতে উৎসাহিত করে।

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১০ই জুলাই ১৮৮৫ সালে পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে বি.এ. অনার্স পাস করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্যারিসের সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে ডিপ্লোমা এবং ডি. লিট, লাভের গৌরব অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক এবং অধ্যক্ষরূপে নিয়োজিত ছিলেন। অসামান্য প্রতিভাধর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন সুপণ্ডিত ও ভাষাবিদ। প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে দুরূহ ও জটিল সমস্যার যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে তিনি অসামান্য পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়েছেন। বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, বাংলা সাহিত্যের কথা (দুই খণ্ড) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তাঁর অন্যতম কালজয়ী সম্পাদনা গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’। শিশু পত্রিকা আঙুর তাঁরই সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তক অনুবাদ এবং নানা মৌলিক রচনায় তিনি তাঁর দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন।
১৩ই জুলাই ১৯৬৯ সালে ঢাকায় মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জীবনাবসান ঘটে।

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন-১. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-২. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১০ই জুলাই ১৮৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-৩. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স পাস করেন?
উত্তর: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কলকাতা সিটি কলেজথেকে সংস্কৃতে অনার্স পাস করেন।
প্রশ্ন-৪. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন সালে বিএ অনার্স পাস করেন?
উত্তর: ১৯১০ সালে।
প্রশ্ন-৫. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন?
উত্তর: তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে।
প্রশ্ন-৬. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন?
উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রশ্ন-৭. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্যারিসের কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন?
উত্তর: সোরবন বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রশ্ন-৮. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সোরবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কী কী ডিগ্রি লাভ করেন?
উত্তর: ভাষাতত্ত্বে ডিপ্লোমা ও ডিলিট ডিগ্রি।
প্রশ্ন-৯. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কত বছর শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন?
উত্তর: ত্রিশ বৎসরকাল।
প্রশ্ন-১০. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কিসের অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ ছিলেন?
উত্তর: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের।
প্রশ্ন-১১. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কেমন মনের অধিকারী ছিলেন?
উত্তর: মুক্তবুদ্ধির অধিকারী।
প্রশ্ন-১২. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রাচীন ভাষা ও সাহিত্যের কী ধরনের বিশ্লেষণ দিতেন?
উত্তর: যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ।
প্রশ্ন-১৩. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন গ্রন্থে বাংলা ভাষার ইতিহাস তুলে ধরেছেন?
উত্তর: বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।
প্রশ্ন-১৪. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ লিখিত সাহিত্য বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: বাংলা সাহিত্যের কথা (দুই খ-)।
প্রশ্ন-১৫. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন ভাষার অভিধান সম্পাদনা করেন?
উত্তর: বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
প্রশ্ন-১৬. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আলাওলের কোন কাব্য সম্পাদনা করেন?
উত্তর: পদ্মাবতী।
প্রশ্ন-১৭. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বিদ্যাপতির কোন গ্রন্থ সম্পাদনা করেন?
উত্তর: বিদ্যাপতি শতক।
প্রশ্ন-১৮. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত শিশুদের পত্রিকার নাম কী?
উত্তর: আঙুর।
প্রশ্ন-১৯. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন ধরনের রচনায়ও দক্ষতা দেখিয়েছেন?
উত্তর: পাঠ্যপুস্তক অনুবাদ ও মৌলিক রচনা।
প্রশ্ন-২০. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কখন মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: ১৩ই জুলাই ১৯৬৯ সালে।
প্রশ্ন-২১. পল্লির কোথায় কোথায় সাহিত্য লুকিয়ে আছে?
উত্তর: পল্লির ঘাটে-মাঠে পল্লির আলো-বাতাসে পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে।
প্রশ্ন-২২.‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ কে সংগ্রহ করেছেন?
উত্তর: মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেছেন চন্দ্র কুমার দে।
প্রশ্ন-২৩. ‘পিড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’ প্রবাদ বাক্যটি কোন সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়?
উত্তর: ‘পিড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’ প্রবাদ বাক্যটি সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয় যখন পান্ডুয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল।
প্রশ্ন-২৪.ফুটবল, ব্যাটবলের আগে কোন খেলার খুব ধুম ছিল?
উত্তর: ফুটবল, ব্যাটবলের আগে কপাটি খেলার খুব ধুম ছিল।
প্রশ্ন-২৫. কোন গানগুলো এখন বর্বর চাষার গান বলে ভদ্র সমাজে আর বিকায় না?
উত্তর: পল্লিগানগুলো এখন বর্বর গান বলে ভদ্র সমাজে আর বিকায় না।
প্রশ্ন-২৬. সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস কোনটি?
উত্তর: সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস হলো—ঘুমপাড়ানি গান ও খোকা-খুকির ছড়া।
প্রশ্ন-২৭. ‘ফক্কিকার’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘ফক্কিকার’ শব্দের অর্থ ফাঁকিবাজি।
প্রশ্ন-২৮. মৈমনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক কে?
উত্তর: মৈমনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন।
প্রশ্ন-২৯. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে বঙ্গের রাজধানী সম্পর্কে কোন প্রবাদটি উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে বঙ্গের রাজধানী সম্পর্কে ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’ প্রবাদটি উল্লেখ করা রয়েছে।
প্রশ্ন-৩০. পাণ্ডুয়া কিসের রাজধানী ছিল?
উত্তর: পাণ্ডুয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল।
প্রশ্ন-৩১. কোথায় এক বিরাট পল্লিসাহিত্য ছিল?
উত্তর: বাংলায় এক বিরাট পল্লিসাহিত্য ছিল।
প্রশ্ন-৩২. রোমাঁ রোলাঁ কার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন?
উত্তর: রোঁমা রোলাঁ ‘দেওয়ানা-মদিনা’ পালার মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন।
প্রশ্ন-৩৩. প্রত্নতাত্ত্বিক অর্থ কী?
উত্তর: প্রত্নতাত্ত্বিক অর্থ পুরাতত্ত্ববিদ।
প্রশ্ন-৩৪. প্রবাদবাক্য কাকে বলে?
উত্তর: দীর্ঘদিন ধরে লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাসযোগ্য কথা বা জনশ্রুতিকে প্রবাদবাক্য বলে।
প্রশ্ন-৩৫. নৃতত্ত্ব কী?
উত্তর: নৃতত্ত্ব হলো মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞান।
প্রশ্ন-৩৬. পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে কোনগুলি চমকপ্রদ ও মনোহর?
উত্তর: পরিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে পরিগ্রামে বুড়োবুড়ির মুখে সন্ধ্যাকালে যেসব কথা শুনতে শুনতে আমরা ছেলেবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছি সেগুলো চমকপ্রদ ও মনোহর।
প্রশ্ন-৩৭. ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কাদের প্রিয় বই?
উত্তর: ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শিশুদের প্রিয় বই।
প্রশ্ন-৩৮. আজকাল বাংলা সাহিত্যে কত আনা শহরে সাহিত্য বিদ্যমান?
উত্তর: আজকাল বাংলা সাহিত্যে পনেরো আনা শহুরে সাহিত্য বিদ্যমান।
প্রশ্ন-৩৯. শহরে গানের, বাদ্যের অভাব পল্লিগ্রামে কে পূরণ করেছে?
উত্তর: পাখির কোলাহল, নদীর কলধ্বনি, পাতার মর্মর ধ্বনি এবং শস্যের হিলাদুলা।
প্রশ্ন-৪০. শহরের সাহিত্যের বালাখানার পাশে কী গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: গেঁয়ো সাহিত্যের জোড়াবাংলা ঘর।
প্রশ্ন-৪১. শহরে বসে পল্লির জীবন সম্পর্কে মানুষের ধারণা কেমন?
উত্তর: কারো কাছে পল্লি একেবারে জঘন্য, আবার কারো কাছে চাঁদের জ্যোৎস্নায় ঘেরা স্বর্গরাজ্য।
প্রশ্ন-৪২. কে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ রচনা করেছেন?
উত্তর: শ্রীযুক্ত দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
প্রশ্ন-৪৩. ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে পল্লিগানের মধ্যে কোন গানগুলোর উল্লেখ আছে?
উত্তর: জারি গান, ভাটিয়ালি গান, রাখালি গান, মারফতি গান।
প্রশ্ন-৪৪. ‘Fi, Fie, foh, fun!’ কার সাহিত্যে ব্যবহৃত রাক্ষসদের বুলি?
উত্তর: ‘Shakespeare’-এর সাহিত্যে।
প্রশ্ন-৪৫. ‘হাঁউ, মাউ, খাঁউ’ ইত্যাদি কথার সঙ্গে Shakespeare-এর কোন বুলির মিল পাওয়া যায়?
উত্তর: ‘Fi, Fie, foh, fun!’ এর সঙ্গে।
প্রশ্ন-৪৬. ‘খনার বচন’ কী?
উত্তর: খনার বচন প্রাচীন বাংলার জ্ঞানগর্ভ কৃষিপ্রধান বচন।
প্রশ্ন-৪৭. ‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’—এ বাক্যটি কোন শ্রেণির সাহিত্য?
উত্তর: ‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’—এটি একটি খনার বচন।
প্রশ্ন-৪৮. ‘পিঁড়েয় বসে পেঁড়োর খবর’ প্রবাদটি কী বোঝায়?
উত্তর: নিজের অবস্থান না বুঝে বড় বড় কথা বলা।
প্রশ্ন-৪৯. ‘মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে’ কোন ধরনের গান?
উত্তর: পল্লিগান।
প্রশ্ন-৫০. পল্লির উপকথার তুলনা কোন কোন বিদেশি উপন্যাসের সঙ্গে করা হয়েছে?
উত্তর: আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ ও আলিবাবা চল্লিশ চোরের গল্প।
প্রশ্ন-৫১. ‘Lambs Tales from Shakespeare’ কী?
উত্তর: শিশুদের উপযোগীভাবে Shakespeare-এর নাটকের সংক্ষিপ্ত গল্প।
প্রশ্ন-৫২. পল্লির বুড়োবুড়ির মুখে শোনা গল্প কোন সময়ে শোনা হতো?
উত্তর: ঝিল্লিমুখর সন্ধ্যাকালে।
প্রশ্ন-৫৩. ‘প্রলেতারিয়েত সাহিত্য’ কী?
উত্তর: শ্রমজীবী মানুষের সাহিত্য।
প্রশ্ন-৫৪. বিদেশে পল্লিসাহিত্য সংগ্রহের জন্য কেমন প্রতিষ্ঠান আছে?
উত্তর: Folklore Society।
প্রশ্ন-৫৫. ‘Fi, Fie, foh, fun!’ এর বাংলা সংস্করণ কী?
উত্তর: ‘Fi, Fie, foh, fun!’ এর বাংলা সংস্করণ হলো—হাঁউ, মাউ, খাঁউ, মানুষের গন্ধ পাঁউ।
প্রশ্ন-৫৬. ‘গাঁথা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ছন্দোবদ্ধ উপকথা বা কাহিনি।
প্রশ্ন-৫৭. আধুনিক শিক্ষার ফলে কোন সাহিত্য হারিয়ে যেতে বসেছে?
উত্তর: পল্লির উপকথা ও রূপকথা।
প্রশ্ন-৫৮. ‘কপাটি’ কী ধরনের খেলা?
উত্তর: কপটি প্রাচীন লোকজ খেলা।
প্রশ্ন-৫৯. শহুরে সাহিত্য সাধারণত কোন ভাষায় রচিত হয়?
উত্তর: শহুরে সাহিত্য সাধারণত সাধু ভাষায় রচিত হয়।
প্রশ্ন-৬০. পল্লির নতুন সম্পদের অভাব আছে কি?
উত্তর: না, পল্লির নতুন সম্পদেও অভাব নেই।
প্রশ্ন-৬১. শহুরে সাহিত্যে কোন শ্রেণির মানুষের কথা উঠে আসে?
উত্তর: রাজা-বাদশা, বাবু-বিবি, মোটরগাড়ি, সিনেমা, থিয়েটার।
প্রশ্ন-৬২. পল্লিগাঁথা ও উপকথা কাদের সাধারণ সম্পত্তি?
উত্তর: হিন্দু-মুসলমান সকলের।
প্রশ্ন-৬৩. রূপকথা সংগ্রহ করে কি জানা সম্ভব হতো?
উত্তর: বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলার সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য।
প্রশ্ন-৬৪. ছেলেমেয়েরা রোদ-বৃষ্টির সময় কী ধরনের ছড়া বলে?
উত্তর: খেঁকশিয়ালীর বিয়ের ছড়া।
প্রশ্ন-৬৫. ‘এক হাত বোল্লা বার হাত শিং।’ কোন খেলার সঙ্গে যুক্ত?
উত্তর: কপাটি খেলার।
প্রশ্ন-৬৬. আজকালকার শিক্ষিত মায়েরা সন্তানকে কী ধরনের গল্প বলেন?
উত্তর: আরব্য উপন্যাস কিংবা Lambs Tales from Shakespeare-এর অনুবাদ।
প্রশ্ন-৬৭. ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ কী ধরনের কথা?
উত্তর: প্রবাদবাক্য।
প্রশ্ন-৬৮. প্রবন্ধের শেষে লেখক কী ধরনের সাহিত্য সভার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন?
উত্তর: পল্লিসাহিত্য সভা।

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

প্রশ্ন-১.পল্লির উপকথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে কেন?
উত্তর: আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রােতের ফলে পল্লির উপকথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
➠ এখনকার শিক্ষিত জননীরা সন্তানদের পল্লিগ্রমের রাখালের পিঠায় কথা, রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা এখন আর শোনা যায় না। তাদেরকে শোনান আরব্য উপন্যাসের গল্প। আধুনিক শিক্ষার ফলে এসব পল্লি উপকথাগুলো চাষা ভোষার গল্প বিবেচনায় হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন-২. Folklore Society- এর কাজ হচ্ছে উপকথাগুলো সংগ্রহ করে অন্য সভ্য দেশের উপকথার সঙ্গে সাদৃশ্য বিচার করা।
➠ ইউরোপ ও আমোরিকায় বড় বড় বিদ্বাদদের সভার নাম হলো Folklore Society।
এই সংগঠনের কাজ হলো লোকমুখে প্রচলিত সব উপকথাগুলো সংগ্রহ করা। তারপর অন্য সভ্য দেশের উপকথার সাথে এসব উপকথার সাদৃশ্য আছে কি না তা বিচার করা।

৩. ‘আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রােত’—বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: লেখক ‘আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত’ বলতে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাবের কারণে পল্লিসাহিত্যগুলোর বিলুপ্তির বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন।
➠ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা পল্লিসাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে সহায়ক নয়, কারণ এতে পল্লিসাহিত্যের ব্যাপারে জানার বা শেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। এই শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে শুধুমাত্র কর্মমুখী হতে উৎসাহিত করছে, অথচ তাদের আত্মপরিচয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জানার কোন সুযোগ নেই। পল্লিসাহিত্যের অভাব শিক্ষার্থীদের আত্মচেতনা সম্পর্কে উদাসীন করে তুলছে। আজকাল শিশুরা রূপকথা বা উপকথা শোনে না, কারণ এইসব গল্প শিক্ষাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তারা সেগুলো থেকে অজ্ঞ থাকে। লেখক শিক্ষাব্যবস্থায় পল্লিসাহিত্যের অবহেলা এবং আধুনিক শিক্ষার চাপের ফলে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন।

৪. ফোকলোর সোসাইটির পরিচয় দাও।
উত্তর: ফোকলোর সোসাইটি লোকসাহিত্যসংক্রান্ত একটি সমিতি।
➠ ১৯৪৮ সালে প্রথম লন্ডনে এই সমিতি গঠিত হয়। ফোকলোর সোসাইটির কাজ হলো লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণা করা, সংরক্ষণ করা এবং প্রচার করা। ফোকলোর সোসাইটি সাধারণত বিভিন্ন প্রকার লোকশিল্প, গান, উৎসব-অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার উপাদান সংগ্রহ করে এবং প্রচারের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে। ইউরোপ-আমেরিকার মতো আমাদের লোকসাহিত্যের জন্যও এ ধরনের সমিতির প্রয়োজন আছে।

৫. ‘নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার’—লেখক এ কথা কেন বলেছেন?
উত্তর: লেখক ‘নচেৎ এ সকল কেবলি ভুয়া, কেবলি ফক্কিকার’ বলেছিলেন। কারণ, তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে যদি পল্লিসাহিত্য এবং তার বিভিন্ন অমূল্য রত্ন সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে তা ধ্বংসের দিকে চলে যাবে।
➠ পল্লিসাহিত্যের প্রতি আগ্রহ ও গুরুত্ব যদি সমাজের লোকজন, বিশেষ করে পল্লির মানুষদের মধ্যে না থাকে, তাহলে এসব সাহিত্য একসময় অবহেলিত হয়ে পড়বে এবং কেবলমাত্র একটি পুরনো ও অপ্রয়োজনীয় বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে, যা কোনো কাজে আসবে না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পল্লিসাহিত্যের ঐতিহ্য এবং মূল্য হারিয়ে যাবে, এবং তার কোনও গুরুত্ব বা প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না।

৬. ‘পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে এই গানগুলো অমূল্য রত্নববিশেষ’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জারিগান, সারিগান, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, রাখালি, মারফতি ইত্যাদি গানকে লেখক অমূল্য রত্নবিশেষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
➠ পল্লিসাহিত্যের ভাণ্ডারে আছে বিচিত্র ধরনের পল্লীগান। জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, রাখালি, মারফতি, মুর্শিদি গানগুলোর তুলনা হয় না। পল্লীর মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে থাকা অফুরন্ত প্রেম, আনন্দ, সৌন্দর্য, তত্ত্বজ্ঞানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। যুগ যুগ ধরে এগুলো পল্লীবাসীর মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসছে। এসব গানের আবেদন পল্লীপ্রধান বাংলার মানুষের কাছে কখনোই শেষ হওয়ার নয়। তাই লেখক এগুলোকে অমূল্য রতড়ব বলেছেন।

৭. পল্লিজননীর বুকের কোণে কী লুকিয়ে আছে?
উত্তর: পল্লিজননীর বুকের কোণে সাহিত্যের অমূল্য খনি লুকিয়ে আছে।
➠ পল্লিবাংলা অমূল্য পল্লিসাহিত্য-সম্পদে ভরপুর। সাহিত্যের এই মহামূল্যবান সম্পদ পল্লির মাঠে, ঘাটে, আলো-বাতাসে পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। সাহিত্যের ভা-ারে দান করার মতো পল্লিসাহিত্যের সম্পদের অভাব নেই। কিন্তু অযত্ন ও অবহেলায় অনেক মূল্যবান সাহিত্য সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে। পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে থাকা এসব সাহিত্য সম্পদ আমাদের সংরক্ষণ করা উচিত।

৮. অতীতের রূপকথা কীভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?
উত্তর: আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রােতে অতীতের রূপকথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
➠ পল্লিগ্রামে বুড়ো-বুড়ির মুখের যেসব কথা শুনে ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পড়ত সেগুলো কতই না মনোহর! কত চকমপ্রদ! আরব্য উপন্যাসের আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ, আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যু প্রভৃতির চেয়ে পল্লির উপকথাগুলোর মূল্য কোনো অংশে কম নয়। আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রােতে সেগুলো বিস্মৃতির অতলগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এখনকার শিক্ষিত জননী সন্তানকে আর রাখালের পিঠা গাছের কথা, রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা, বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা শোনান না, তাদের কাছে বলেন আরব্য উপন্যাসের গল্প কিংবা LambÕs Tales from Shakespeare-এর গল্পের অনুবাদ। ফলে সুদূর অতীতের এই রূপকথা নষ্ট হয়ে অতীতের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ লোপ করে দিচ্ছে। এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অতীতের সব রূপকথা।

৯. সময় ও রুচির পরিবর্তনে কী ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সময় ও রুচির পরিবর্তনে বাংলার পল্লিসাহিত্য অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে।
➠ এক সময় বাংলায় বিরাট পল্লিসাহিত্য ছিল। তখন নায়ের দাঁড়ি-মাঝি থেকে গৃহস্থের বউ-ঝি পর্যন্ত, বালক থেকে বুড়ো পর্যন্ত সবাই এগুলোর আনন্দ উপদেশ বিলাত। কিন্তু বর্তমানে পাড়াগাঁয়ের লোক ছাড়া সেগুলোর আর কেউ আদর করে না। তাই তার কঙ্কাল বিশেষ এখনও কিছু আছে। কিন্তু সময় ও রুচির পরিবর্তনে পল্লিসাহিত্য আজ ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে।

১০. প্রবাদ-প্রবচন বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে প্রয়োজনীয় কোনো অভিজ্ঞতা যখন হৃদয়গ্রাহী ভাষারূপ লাভ করে তখন তাকে প্রবাদ-প্রবচন বলে।
➠ ‘প্রবচন’ মানে প্রকৃষ্ট যে বচন। সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে অনেক ক্ষেত্রে ছন্দমিল কিংবা উপমা প্রভৃতি ব্যবহার করে প্রবাদে সমাজের কোনো মূল্যবান অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো অলংকারের কাজ করে। এতে বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। যেমন—‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই’; ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ ইত্যাদি।

১১. পল্লিসাহিত্যকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অতীতের সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্বন্ধের যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার জন্য পল্লিসাহিত্যকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
➠ পল্লিসাহিত্যগুলো বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। পল্লির ঘাটে, মাঠে, পল্লির আলো-বাতাসে, পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে এ সাহিত্য ছড়িয়ে আছে। জাতির পুরোনো ইতিহাসের অনেক গোপন বিষয় এ সাহিত্যের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। অথচ সময় ও রুচির পরিবর্তনের ফলে পল্লিসাহিত্য অনাদৃত হয়ে বিলীন হতে চলেছে। অথচ এগুলো ধ্বংস হলে জাতির অতীত ঐতিহ্যের স্মৃতি লোপ পাবে। তাই এগুলোকে উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আর পল্লিসাহিত্য সংরক্ষণ করতে হলে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

১২. পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে যেগুলো অমূল্য রত্নবিশেষ তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।
উত্তর: পল্লিসাহিত্য সম্পদের মধ্যে পল্লির গানগুলো অমূল্য রত্নবিশেষ।
➠ পল্লিজীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত পল্লি গানগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। গানগুলোর কথায় সুরে রয়েছে প্রেম, আনন্দ, বেদনা, সৌন্দর্য ও তত্ত্বজ্ঞান। তাই এই গানগুলো অমূল্য রত্নবিশেষ। জারি গান, ভাটিয়ালি গান, রাখালি গান, মারফতি গান সবই যেন এর অন্তর্ভূক্ত।

১৩. ‘এবার ফিরাও মোরে’ কবি সম্রাটের এ বক্তব্যের মর্মার্থ লেখো?
উত্তর: ‘এবার ফিরাও মোরে’ কবি সম্রাটের এ বক্তব্যের মর্মার্থ মূলত পল্লিসাহিত্যের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতা।
➠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাগরিক সাহিত্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। পল্লিসাহিত্যের মাহাত্ম্য তিনি উপলব্ধি যে করেননি তা নয়। কিন্তু পল্লির জীবন ও পরিবেশ চিত্রনে তাঁর কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, যা তিনি নিজেই উপলব্ধি করেছিলেন। পল্লিসাহিত্যের প্রতি তাঁর এক ধরনের আকর্ষণ ছিল। কিন্তু পল্লির মাঝি, জেলে, কামার, কুমোরদের নিয়ে সাহিত্য রচনার জন্য যে অভিজ্ঞতা থাকা দরকার, শ্রেণিগত কারণে তা তার ছিল না। ফলে যদিও তিনি বলেছেন—‘এবার ফিরাও মোরে’ কিন্তু পল্লিসাহিত্যের কাছে তিনি প্রকৃতপক্ষে ফিরতে পারেননি।

১৪. পল্লির উপকথাগুলো বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে কেন?
উত্তর: আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোতের কারণে পল্লির উপকথাগুলো বিস্মৃতির অতল গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
➠ বাংলা পল্লিসাহিত্যের মধ্যে উপকথাগুলো বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কোনো এক সময়ে পল্লিগ্রামের বুড়োবুড়ির মুখে এসব উপকথা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ত ছেলেমেয়েরা। কারণ এসব উপকথা ছিল অত্যন্ত মনোহর ও চমকপ্রদ। আরব্য উপন্যাসের আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ, আলিবাবা কিংবা চল্লিশ দস্যুর চেয়ে পল্লির উপকথাগুলোর মূল্য অনেক বেশি। কিন্তু এসব উপকথাগুলো আধুনিক কর্মনাশা শিক্ষার স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির অতল গর্ভে । কারণ এখন শিক্ষিত জননীরা এসব উপকথার পরিবর্তে সন্তানদের কোনো ইংরেজি উপন্যাসের অনুবাদ শেখান।

১৫. পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে বুঝিয়ে লেখো?
উত্তর: পল্লির প্রত্যেক পরতে পরতে সাহিত্য ছড়িয়ে আছে বলতে পল্লির আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লোকসাহিত্যকে বোঝানো হয়েছে।
➠ আমাদের দেশের গ্রামগুলো পল্লিসাহিত্যের প্রধান উৎস। পল্লির মাঠেঘাটে, আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পল্লিসাহিত্য। আমরা যেমন বাতাসের মাঝে বাস করে ভুলে যাই বাতাসের কথা, ঠিক তেমনি পল্লিসাহিত্যের অফুরন্ত ভান্ডারের মধ্যে থেকে ভুলে যাই যে আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পল্লিসাহিত্য।


‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
এ লেভেল পরীক্ষা শেষে মিতু বাবা-মা’র সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আসে। গ্রামে তখন পৌষ মেলা বসেছে। মেলায় মিতু বয়াতীর কণ্ঠে ‘একটা ছিল সোনার কইন্যা, মেঘ বরণ কেশ, ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কইন্যার দেশ’ গানটি শুনে বিমোহিত হয়। সে তার বাবা-মা’কে জিজ্ঞাসা করে মা এতদিন কেন আমি এ গানগুলো শুনি নি। এ গানগুলোই তো বড় আপু খুঁজছে তার থিসিসের জন্য। আমি এবার আপুর জন্য গানগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাব।

ক. সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস কোনটি?
খ. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রােত বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. মিতুর এ গানগুলো না শোনার কারণটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের মিতুই যেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়া পল্লি জননীর মনোযোগী সন্তান।’ -মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস হলো- ঘুমপাড়ানি গান ও খোকা-খুকির ছড়া।
খ. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রােত বলতে লেখক বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার চাপে পল্লিসাহিত্যগুলো তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
➠ বর্তমানে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে, তাতে পল্লিসাহিত্য সম্পর্কে জানার কোন উপায় নেই। এই শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে শুধু কর্মমুখী করে তুলছে। নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার কোন সুযোগ এখানে নেই। শিক্ষাব্যবস্থায় পল্লিসাহিত্যের অনুপস্থিতি মানুষকে নিজের পরিচয় সম্পর্কে উদাসীন করে তুলছে। আধুনিক যুগে শিশুরা আর রূপকথা, উপকথা শোনে না। কারণ, শিক্ষাব্যবস্থায় এগুলো অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এগুলো তাদের অজানায় থেকে যাচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় পল্লিসাহিত্যের অবহেলা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার চাপের কথা উল্লেখ করে লেখক একথা বলেছেন।

গ. মিতুর এ গানগুলো না শোনার কারণ হলো শহুরে গানের প্রভাব। এ বিষয়টি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধেও উত্থাপিত হয়েছে।
➠ একটি জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি একদিনে তৈরি হয় না। ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি জাতির তার অস্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। যেকোনো পরিস্থিতিতে, যেকোনো মূল্যে নিজের শিকড় ধরে রাখা উচিত। আধুনিক সমাজে পল্লিসাহিত্যের কোনো উপাদান সম্পর্কেই মানুষ অবগত নয়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এগুলো লোপ পাচ্ছে। দিন দিন মানুষ নিজের অস্তিত্ব ভুলতে বসেছে। পল্লিসাহিত্যের উপাদানগুলোকে মানুষ এখন অবহেলার দৃষ্টিতে দেখছে। যার ফলে নতুন প্রজন্ম এগুলো থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে।
➠ উদ্দীপকের মিতুর এ গানগুলো না শোনার কারণও তাই। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখকও উল্লেখ করেছেন, পল্লিগানগুলোকে এখন চাষাদের গান বলে আখ্যায়িত করা হয়। শহুরে গানের প্রভাবে পল্লিগান বিলুপ্ত হচ্ছে। তাই বলা যায় যে, ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে শহুরে গানের প্রভাবেই মিতু এ গানগুলো শোনেনি।

ঘ. “উদ্দীপকের মিতুই যেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র চাওয়া পল্লিজননীর মনোযোগী সন্তান।”- মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত এবং যথার্থ।
➠ প্রত্যেক জাতিরই নিজ নিজ পরিচয় রয়েছে। তাদের পূর্বপুরুষেরা তাদেরই পরিচয় বহন করেছে। তাই নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে হলে, আধুযনিকতার পাশাপাশি পূর্বপরিচয়ও ধরে রাখা উচিত, তার চর্চা করা উচিত। উদ্দীপকের মিতু গ্রামেড বেড়াতে গিয়ে বয়াতির কণ্ঠে গান শুনে মুগ্ধ হয়। তার মনে গানগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন জাগে। গানগুলো তার ভালো লাগে। তার বড় বোনের থিসিসের কাজে সে এই গানগুলো সংগ্রহ করে দেবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবন্ধে লেখক উল্লেখ করেছেন, একমাত্র এই দেশের জনগণ সচেতন হলেই এই পল্লিসাহিত্যের উন্নয়ন সম্ভব। দেশের জনগণ যদি মনোযোগী হয়ে কাজ করে তবেই কেবল এগুলো রক্ষা পাবে। যা উদ্দীপকের নিতুর মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ উদ্দীপকের মিতুর যে উৎসাহ এবং আগ্রহ দেখা গেছে তা যদি বাংলার প্রত্যেক মানুষের থাকত তাহলে পল্লিসাহিত্যগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেত। প্রবন্ধে লেখকও এমন মতামত উপস্থাপন করেছেন।
➠ লেখক যে মনোযোগী সন্তানের কথা উল্লেখ করেছেন, উদ্দীপকের মিতুর মধ্যে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বাংলা প্রবাদ প্রবচনগুলো লোকসংস্কৃতির সেই সাধারণজনের সৃজনী প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করছে, যারা অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে অর্জন করছে এই সব প্রাবাদিক জ্ঞান। এই জ্ঞান তাই শত শত বছরকাল পেরিয়ে বিংশ শতাব্দীর যান্ত্রিক বর্তমানেও নিজস্বতায় ভাস্বর হয়ে রয়েছে। কেননা, ওই কথামালায় লেগে আছে জন-মননের রূপাদল আর শাশ্বত চিন্তার ফসল।

ক. পাণ্ডয়া কিসের রাজধানী ছিল?
খ. পল্লিজননীর বুকের কোণে কী লুকিয়ে আছে?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাবকে প্রতিফলিত করে না।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. পাণ্ডয়া বঙ্গের রাজধানী ছিল।
খ. পল্লিজননীর বুকের কোণে সাহিত্যের অমূল্য খনি লুকিয়ে আছে।
➠ পল্লিবাংলা অমূল্য পল্লিসাহিত্য-সম্পদে ভরপুর। সাহিত্যের এই মহামূল্যবান সম্পদ পল্লির মাঠে, ঘাটে, আলো-বাতাসে পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। সাহিত্যের ভাণ্ডারে দান করার মতো পল্লিসাহিত্যের সম্পদের অভাব নেই। কিন্তু অযত্ন ও অবহেলায় অনেক মূল্যবান সাহিত্য সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে। পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে থাকা এসব সাহিত্য সম্পদ আমাদের সংরক্ষণ করা উচিত।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে প্রবাদ প্রবচনে সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কথা বলায়।
➠ পল্লির অমূল্য সম্পদ ছড়িয়ে আছে পল্লির প্রতিটি জিনিসে। উপকথা, রূপকথা, প্রবাদ-প্রবচন, ডাক ও কণার বচন, মায়ের ঘুমপাড়ানি গান, খোকা-খুকির ছড়া, খেলার সঙ্গে বাঁধা বুলি এবং জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মারফতি গানগুলোই পল্লির প্রাচীন সম্পদ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলা প্রবাদ-প্রবচনগুলো লোকসংস্কৃতির সেই সাধারণ মানুওেষর সৃজনশীল প্রতিভার চিহ্ন বহন করছে, যারা বিভিন্ন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসব প্রাবাদিক জ্ঞান অর্জন করেছে। আর তাঁদের এসব জ্ঞান শত বছরের পুরনো হয়েও বর্তমান বিংশ শতাব্দীতেও নিজস্বতায় ভাস্বর হয়ে রয়েছে। আর এসব কথামালায় মিশ্রিত আছে জন-মননের রূপাদল আর শাশ্বত চিন্তার ফসল। অপরদিকে ‘পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধে লেখক প্রবাদ-প্রবচনের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, প্রবাদ বাক্যে অনেক যুগের ভূয়োদর্শনের পরিপক্ব ফল সঞ্চিত হয়ে আছে যা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, জাতির পুরনো ইতিহাসের অনেক গোপন কথাও এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। হাজার বছরের পুরনো এসব প্রবাদ-প্রবচনের এখনও মানুষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এমনকি ভবিষ্যতেও থাকবে।
➠ উদ্দীপকে আলোচিত বিষয়ের সঙ্গে ‘পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের লেখকের এই মতের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের সাথে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘পল্লিসাহিত’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাবকে প্রতিফলিত করে না।” -মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ পল্লির প্রতিটি জিনিসের মধ্যেই সাহিত্য ছড়িয়ে রয়েছে। এখানে শহরের মতো গায়ক, বাদক নর্তক না থাকলেও গানের অভাব নেই। পল্লির চারপাশে সাহিত্যের অনেক উপকরণ ছড়িয়ে আছে। সাহিত্যের ভা-ারে দান করার মতো পল্লির সম্পদেরও অভাব নেই। উদ্দীপকে বলা হয়েছে বাংলা প্রবাদ-প্রবচনগুলো লোকসংস্কৃতির সেই সাধারণ মানুওেষর সৃজনী প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করছে, যারা অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে অর্জন করছে এসব প্রবাদিক জ্ঞান। এই জ্ঞান তাই শত শত বছর কাল পেরিয়ে বিংশ শতাব্দীর যান্ত্রিক বর্তমানেও নিজস্বতায় ভাস্বর হয়ে রয়েছে। কেননা ওই কথামালায় লেগে আছে জন-মননের রূপাদল আর শাশ্বত চিন্তার ফসল। অপর দিকে, ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক পল্লিগ্রামের চারদিকে কোকিল, দোয়েল, পাপিয়া প্রভৃতি পাখির কলগান, নদীর কুলকুল ধ্বনি, পাতার মর্মর শব্দ, শ্যামল শস্যের ভঙ্গিময় হেলাদোলার কথার বলেছেন। লেখক পল্লির মাঠে-ঘাটে, আলো-বাতাসে এমনকি পল্লির প্রতিটি পরতে পরতে যে সাহিত্য ছড়িয়ে রয়েছে সেই দিকটিও ফুটিয়ে তুলেছেন। পল্লির প্রাচীন সম্পদ যেমন: উপকথা, প্রবাদবাক্য, ডাক ও খনার বচন, ছড়া, মায়ের ঘুমপাড়ানি গান, খেলাধুলার সঙ্গে বাঁধা বুলি, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মারফতি গান, পল্লিগাথা প্রভৃতি লোকসাহিত্যের কথা লেখক তাঁর প্রবন্ধে ফুটিয়ে তুলেছেন পরম যত্নে।
➠ উদ্দীপকে আমরা প্রবাদ-প্রবচন সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। যা পল্লির প্রাচীণ সম্পদের একটি অংশকে নির্দেশ করে। অন্যদিকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে পল্লির সাহিত্য যেমন, প্রবাদ-প্রবচন, খনার বচন, ছড়, রূপকথা, গান ইত্যাদির বিস্তারিত বর্ণনা প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ এদিক থেকে দেখা যায়, “উদ্দীপকটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাবকে প্রতিফলিত করে না।”


‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১৯৬৩ সালের ২১শে ডিসেম্বর ‘ঋড়ষশ খরঃবৎধৎু অফারংড়ৎু ঈড়সসরঃঃবব’-র সপ্তদশ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাডেমির সংগ্রাহকদেরকে লোকসাহিত্যের উপাদান সংগ্রহের সাথে সাথে বস্তুগত লোকসংস্কৃতির উপকরণ যেমন প্রাচীন মুদ্রা, হস্তলিখিত প্রাচীন পা-ুলিপ, লোক অলঙ্কার, লোক-বাদ্যযন্ত্র, নকশি কাঁথা, নকশি শিকা, নকশি পাখা প্রভৃতিসহ লোকশিল্পের অন্যান্য উপাদান সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। মূলত তখন থেকেই মৌখিক সাহিত্যের উপাদানের পাশাপাশি লোকশিল্পের নিদর্শনাদি সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রয়ের মাধম্যে সংগৃহীত লোকশিল্প নিদর্শন ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বর্ধমান ভবনের নিচতলার বারান্দায় সাজিয়ে রাখা হয়।

ক. কোথায় এক বিরাট পল্লিসাহিত্য ছিল?
খ. অতীতের রূপকথা কীভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্যের ক্ষেত্রটি চিহ্নিত করো।
ঘ. “উদ্দীপকটিতে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের মনের অভিব্যক্তিই প্রতিফলিত হয়েছে।” -উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

ক. বাংলায় এক বিরাট পল্লিসাহিত্য ছিল।
খ. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রােতে অতীতের রূপকথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
➠ পল্লিগ্রামে বুড়ো-বুড়ির মুখের যেসব কথা শুনে ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পড়ত সেগুলো কতই না মনোহর! কত চকমপ্রদ! আরব্য উপন্যাসের আলাউদ্দিনের আশ্চর্য প্রদীপ, আলিবাবা ও চল্লিশ দস্যু প্রভৃতির চেয়ে পল্লির উপকথাগুলোর মূল্য কোনো অংশে কম নয়। আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রােতে সেগুলো বিস্মৃতির অতলগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এখনকার শিক্ষিত জননী সন্তানকে আর রাখালের পিঠা গাছের কথা, রাক্ষসপুরীর ঘুমন্ত রাজকন্যার কথা, বা পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কথা শোনান না, তাদের কাছে বলেন আরব্য উপন্যাসের গল্প কিংবা Lamb's Tales from Shakespeare-এর গল্পের অনুবাদ। ফলে সুদূর অতীতের এই রূপকথা নষ্ট হয়ে অতীতের সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ লোপ করে দিচ্ছে। এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অতীতের সব রূপকথা।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধের বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ পল্লির প্রাচীন সম্পদের মধ্য দিয়ে পল্লিসাহিত্য তার পূর্ণতা লাভ করেছে। পল্লি উপকথা, পল্লি গান, প্রবাদবাক্য, ডাক ও খনার বচন, পল্লিগাথা এ সবকিছুই বাংলা লোক-সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। উদ্দীপকে লোকসাহিত্যের উপাদান এবং লোকশিল্পের প্রাচীন মুদ্রা, হস্তলিখিত প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, লোক-অলংকার, লোক-বাদ্যযন্ত্র, নকশিকাঁথা, নকশি শিকা, নকশি পাখা প্রভৃতি উপাদান সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক পল্লিসম্পদের বিশেষ দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এ প্রসঙ্গে তার অভিমত হলো উপযুক্ত গবেষক এবং আগ্রহী সাহিত্যিকদের উদ্যোগ ও চেষ্টায় সেই সম্পদগুলো সংগ্রহ করা একান্ত জরুরি।
➠ উদ্দীপকে লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি সংগ্রহের নির্দেশ এবং কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘পল্লিসাহিত্য প্রবন্ধে পল্লির প্রাচীন সম্পদ সংগ্রহ করার মতামত ব্যক্ত হয়েছে। সংগ্রহের নির্দেশ কিংবা কার্যক্রম চালু হয়নি। তাই বলা যায় যে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. “উদ্দীপকটিতে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের মনের অভিব্যক্তিই প্রতিফলিত হয়েছে।”- উক্তিটি যথার্থ।
➠ পল্লির অমূল্য রত্ন হলো পল্লিসাহিত্য। এক সময় বাংলায় যে বিরাট পল্লিসাহিত্য ছিল সময়ের ঘূর্ণিপাকে আজ তা ধ্বংসের পথে। পল্লির সাহিত্য সম্পদকে ধরে রাখতে হলে তা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
➠ উদ্দীপকে ১৯৬৩ সালের ২১শে ডিসেম্বর ‘ঋড়ষশ খরঃবৎধৎু অফারংড়ৎু ঈড়সসরঃঃব’-র সপ্তদশ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাডেমির সংগ্রাহকদেরকে লোকসাহিত্যের উপদান সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে বস্তুগত লোকসংস্কৃতির উপকরণ যেমন প্রাচীন মুদ্রা, হস্তলিখিত প্রাচীন পান্ডুলিপি, লোকঅলংকার, লোকবাদ্যযন্ত্র, নকশিকাঁথা, নকশি শিকা, নকশি পাখা প্রভৃতিসহ লোকশিল্পের অন্যান্য উপাদান সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। মূলত তখন থেকেই মৌলিক সাহিত্যের উপাদানের পাশাপাশি লোকশিল্পের নিদর্শনাদি সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত লোকশিল্প নিদর্শন ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বর্ধমান ভবনের নিচতলার বারান্দায় সাজিয়ে রাখা হয়।
➠ অন্যদিকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক বাংলার পল্লিসাহিত্যের প্রাচীন সম্পদের আলোচনা করেছেন। পল্লির সাহিত্য সম্পদ সম্পর্কে তার অভিমত হলো পল্লিসাহিত্যের অমূল্য সম্পদগুলোকে সংগ্রহ করে রাখা ও লোকসাহিত্য সংরক্ষণ এবং প্রসারের জন্য বিশেষভাবে যত্নশীল হওয়া একান্ত প্রয়োজন।
➠ উদ্দীপকে লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি সংগ্রহের নির্দেশ এবং সেই নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখকও লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রসারের জন্য পল্লিসাহিত্যের বিচিত্র সম্পদ আহরণের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেছেন। এসব দিক বিবেচনা করে তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটিতে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের মনের অভিব্যক্তিই প্রতিফলিত হয়েছে।


‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ও জীর্ণ কাষ্ঠের একখান তরী,
তার উপরে এক সওয়ারী,
পাড়ি ধরছে অকূল দরিয়ায় ॥
ওরে ডওরায় পানি টুবুটুবু,
তাইতে তরী ডুবুডুবু
এখন ঢেউ উঠিলে হইবে অনুপায়॥

(ক) রোমাঁ রোলাঁ কার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন?
(খ) সময় ও রুচির পরিবর্তনে কী ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে?- ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটি উঠে এসেছে হয়েছে?
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের খ-াংশ মাত্র।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

ক. রোঁমা রোলাঁ ‘দেওয়ানা-মদিনা’ পালার মদিনা বিবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন।
খ. সময় ও রুচির পরিবর্তনে বাংলার পল্লিসাহিত্য অনাদৃত হয়ে ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে।
➠ এক সময় বাংলায় বিরাট পল্লিসাহিত্য ছিল। তখন নায়ের দাঁড়ি-মাঝি থেকে গৃহস্থের বউ-ঝি পর্যন্ত, বালক থেকে বুড়ো পর্যন্ত সবাই এগুলোর আনন্দ উপদেশ বিলাত। কিন্তু বর্তমানে পাড়াগাঁয়ের লোক ছাড়া সেগুলোর আর কেউ আদর করে না। তাই তার কঙ্কাল বিশেষ এখনও কিছু আছে। কিন্তু সময় ও রুচির পরিবর্তনে পল্লিসাহিত্য আজ ধ্বংসের পথে দাঁড়িয়েছে।

গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের ভাটিয়ালি গানের দিকটি উঠে এসেছে।
➠ সাহিত্যের অমূল্য খনি পল্লিজননীর বুকের কোণে লুকিয়ে রয়েছে। পল্লিসাহিত্যে পল্লির প্রাচীন সম্পদ নিহিত রয়েছে। পল্লির প্রাচীন সম্পদের মধ্যে একটি হলো পল্লিগান। উদ্দীপকে পল্লির অমূল্য রত্নবিশেষ ভাটিয়ালি গান উপস্থাপিত হয়েছে। এসব গান নদী-হাওড়ে মাঝি-মাল্লারা চিত্তবিনোদন, অবসর যাপন বা শ্রম লাঘবের জন্য গেয়ে থাকে। অন্যদিকে, ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক পল্লির অমূল্য সম্পদের কথা বলতে গিয়ে ভাটিয়ালি গানের কথা উল্লেখ করেছেন। পল্লিগানের এ অফুরন্ত ভাণ্ডার পল্লির বুকে ছড়ানো রয়েছে। তাতে কত প্রেম, কত আনন্দ, কত সৌন্দর্য, কত তত্ত্বজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে! তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের অমূল্য সম্পদ ভাটিয়ালি গানের দিকটি উঠে এসেছে।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ পল্লিসাহিত্য বাঙালির প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে। পল্লির বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পল্লিসাহিত্য আমাদের জীবনের কথা বলে। পল্লিসাহিত্যের বিভিন্ন উপাদান সাহিত্য সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য।
উদ্দীপকে পল্লির অমূল্য রত্নবিশেষ, পল্লির প্রাচীন সম্পদ ভাটিয়ালি গানের একটি অংশ উদ্ধৃত হয়েছে। এসব গান সাধারণত মাঝি-মাল্লারা নদী, হাওর-বাওড়ে তাদের কাজের সময় পরিশ্রম বা ক্লান্তি দূর করার জন্য গেয়ে থাকে। তাছাড়া মাঝিরা এ গান বিনোদন ও অবসর সময় কাটানোর জন্যই গেয়ে থাকে। যা আমাদের অস্তিত্বের সাথে জড়িয়ে মিশে আছে।
অন্যদিকে, ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক পল্লির বিরাট সম্পদের সুবিস্তৃত বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে তিনি পল্লির মাঠে-ঘাটে লুকায়িত সাহিত্য যেমন: উপকথা, প্রবাদবাক্য, ডাক ও খনার বচন, ছড়া, মায়ের ঘুমপাড়ানি গান, খেলাধুলার সঙ্গে বাঁধা বুলি, পল্লিগান পল্লিগাথা ইত্যাদি বিষয়ের কথা তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের পল্লির বিরাট প্রাচীন সম্পদের একটি দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ অন্যদিকে, আলোচ্য প্রবন্ধে পল্লির বিরাট লোকসাহিত্যের সম্পূর্ণ বর্ণনা ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায় যে, “উদ্দীপকটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র।”- মন্তব্যটি যথার্থ।


‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
i. বিশ হাত করি ফাঁক,
আম কাঁঠাল পুঁতে রাখ।
ii. গাছ গাছালি ঘন রোবে না,
গাছ হবে তার ফল হবে না।

(ক) প্রত্নতাত্ত্বিক অর্থ কী?
(খ) প্রবাদ-প্রবচন বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকটিতে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে?
(ঘ) “উদ্দীপকটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে প্রকাশিত পল্লিসাহিত্যের বিপুল সম্পদের একটি মাত্র বিষয় তুলে ধরেছে।”- বিশ্লেষণ করো।

ক. প্রত্নতাত্ত্বিক অর্থ পুরাতত্ত্ববিদ।
খ. জীবন ও জগৎ সম্বন্ধে প্রয়োজনীয় কোনো অভিজ্ঞতা যখন হৃদয়গ্রাহী ভাষারূপ লাভ করে তখন তাকে প্রবাদ-প্রবচন বলে।
➠ ‘প্রবচন’ মানে প্রকৃষ্ট যে বচন। সংক্ষেপে ও সুন্দরভাবে অনেক ক্ষেত্রে ছন্দমিল কিংবা উপমা প্রভৃতি ব্যবহার করে প্রবাদে সমাজের কোনো মূল্যবান অভিজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আমাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো অলংকারের কাজ করে। এতে বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। যেমন: ‘দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা নেই’; ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ ইত্যাদি।

গ. উদ্দীপকটিতে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের খনার বচনের দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে পল্লির প্রাচীন অমূল্য সম্পদের মধ্যে অন্যতম একটি সম্পদ হলো খনার বচন।
খনা ছিলেন প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত মহিলা জ্যোতিষী। খনা তাঁর বচন রচনার জন্যই বেশি সমাদৃত। মূলত তিনি যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন সেগুলোই ‘খনার বচন’ নামে পরিচিত। উদ্দীপকে উদ্ধৃত হয়েছে পল্লিসাহিত্যের একটি বিশেষ সম্পদ খনার বচন। খনার বচনে ভূয়োদর্শনের পরিপক্ব ফল সঞ্চিত হয়ে আছে। জাতির পুরনো ইতিহাসের অনেক গোপন কথাও এর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়।
অন্যদিকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক পল্লির অন্যান্য প্রাচীন সাহিত্য সম্পদের পাশাপাশি খনার বচনের মতো অমূল্য সম্পদের কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

ঘ. “উদ্দীপকটি পল্লিসাহিত্য সম্পদের একটি খণ্ডাংশ মাত্র।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলাদেশের জলবায় নির্ভর কৃষিতত্ত্ব বিষয়ে উপদেশমূলক খনার ছড়াগুলো অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ে রচিত বলে ধারণা করা হয়। প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত মহিলা জ্যোতিষী খনার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোই ‘খনার বচন’ নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে উদ্ধৃত লাইন দুটি খনার বচন। খনা যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করতেন সেগুলো সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ছিল। খনার বচনে বহু যুগের যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সঞ্চিত আছে তা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। জীবনের অনেক তাত্ত্বিক বিষয় লুকিয়ে রয়েছে এই খনার বচনে। যেমন: উদ্দীপকেই বলা হয়েছে বিশ হাত ফাঁকা করে করে আম-কাঁঠালের গাছ লাগাতে। এ রকম বিভিন্ন জ্ঞানের সমাবেশ রয়েছে খনার বচনে।
অন্যদিকে, ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ পল্লির সব প্রাচীন সাহিত্য সম্পদের কথা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর মতে পল্লির অমূল্য সাহিত্য সম্পদ হলো: উপকথা, প্রবাদবাক্য, ডাক ও খচার বচন, খোকা-খুকির ছড়া, মায়ের ঘুমপাড়ানি গান, খেলাধুলায় বাঁধা বুলি, পল্লি-গান, রূপকথা, পল্লিগাথা ইত্যাদি। উদ্দীপকে শুধু খনার বচনের কথা উপস্থাপিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধে পল্লিসাহিত্য সম্পদ খনার বচন ছাড়াও অন্যান্য সাহিত্য সম্পদের বর্ণনা ফুটে উঠেছে। এই বিচারে বলা যায় যে, “উদ্দীপকটি পল্লিসাহিত্য সম্পদের একটি খণ্ডাংশ মাত্র।”- শীর্ষক মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।


‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
এ লেভেল পরীক্ষা শেষে মিতু মা-বাবার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। গ্রামে তখন পৌষ মেলা বসেছে। মেলায় মিতু বয়াতির কন্ঠে ‘একটা ছিল সোনার কইন্যা, মেঘবরণ কেশ, ভাটি অঞ্চলে ছিল সেই কইন্যার দেশ’ গানটি শুনে বিমোহিত হয়। সে তার মাকে জিজ্ঞাসা করে- মা এতদিন আমি কেন এই গানগুলো শুনিনি। এ গানগুলো তো বড় আপু খুঁজছে তার থিসিসের জন্য। আমি এবার আপুর জন্য গানগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাব।

ক. সরস প্রাণের জীবন্ত উৎস কোনটি?
খ. আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. মিতুর এ গানগুলো না শোনার কারণটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকে মিতুই যেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর চাওয়া পল্লি জননীর মনোযোগী সন্তান’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

-----------

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

প্রবাসে বসবাস করা মুরসালাত ছুটিতে বাবার সাথে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। তখন বৈশাখ মাস। পাশের গ্রামে বৈশাখী মেলা। মেলায় গান-বাজনাসহ নানান কর্মকা- চলছে। হঠাৎ মেলার এক প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ‘আমায় এত রাতে কেনে ডাক দিলি প্রাণ কোকিলা রে’ গানটি শুনে সে বিমোহিত হয়। বাড়িতে এসে বাবাকে মেলায় শোনা গানের কথা বলে। তারা দু’জনে মিলে পরদিন আবারও মেলায় ছুটে যায় এবং এ ধরনের গানগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের এই লোক-সংস্কৃতিকে সে বিদেশের মাটিতে পরিচয় করিয়ে দিতে চায়।

ক. বাংলা সাহিত্যের কত আনা শহুরে সাহিত্য?
খ. ‘আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোচিত দিকটির ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. উদ্দীপকের মুরসালাতকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিনিধি বলা যায় কি? যুক্তি দিয়ে বিচার করো।

-----------

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বাংলা সাহিত্যে রয়েছে এক বিশাল ভাণ্ডার। এক শ্রেণির সাহিত্যে ছন্দোবদ্ধ ভাষায় অতীত দিনের কাহিনী কিংবা পৌরাণিক কাহিনীর রস মধুর বর্ণনা পাওয়া যায়। আরেক শ্রেণির সাহিত্য জীবনের খণ্ডাশ নিয়ে গদ্যে রচিত হয়ে এক ভিন্নধর্মী রস ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করে। উদ্ভবের দিক থেকেও উভয় শ্রেণির সাহিত্যে রয়েছে বিশাল ব্যবধান।

ক. সাহিত্যের প্রধান ধারা কয়টি?
খ. উপন্যাস বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ছন্দোবদ্ধ ভাষায় রচিত সাহিত্যের পরিচয় দাও।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত উভয় শ্রেণির সাহিত্যের মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করো।

-----------

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
এনজিও কর্মী জলি চাকরির সুবাদে দেশের বিভিনড়ব প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে হয়। বিভিনড়ব শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলতে হয়। একদিন লক্ষ্য করলেন অক্ষর জ্ঞানহীন এক নারী অবলীলায় ছন্দোবদ্ধ কথা বলছেন। অজস্র ছড়া গান তিনি মুখে মুখে কথায় কথায় বানিয়েছেন। জলি সিদ্ধান্ত নেন কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিনি পল্লির এসব সাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবেন এবং এগুলোর শিল্পীদের আমাদের সাহিত্য আসরে নিয়ে আসবেন।

ক. ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কে রচনা করেন?
খ. ‘এবার ফিরাও মোরে’ কবি সম্রাটের এ বক্তব্যের মর্মার্থ লেখো।
গ. উদ্দীপকের অক্ষরজ্ঞানহীন নারীর মাধ্যমে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের জলি যেন ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধি।” – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

-----------

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রসুলপুর গ্রামের জমির উদ্দিন একজন অতি সাধারণ মানুষ। দোতারা হাতে গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে বেড়ায়। সবাই মুগ্ধ হয়ে তার গান শোনে। এসব গানে কত প্রেম, কত সৌন্দর্য আর কত তত্ত্বজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এগুলো আমাদের অমূল্য রতড়ববিশেষ হলেও তা আজ বিলুপ্তির পথে। পল্লিসাহিত্যের এসব উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদের সকলের।

ক. আজকাল বাংলা সাহিত্যের কত আনা শহুরে সাহিত্য?
খ. Folklore Society – এর কাজ কী? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা বর্ণনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের মূল কথাকে প্রতীকায়িত করতে সক্ষম হয়েছে” উক্তিটির যথার্থত্যা বিচার করো।

-----------

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মিসেস রহিমা একজন শিক্ষিত মা। তিনি মনে করেন ছেলেকে বাংলার গল্প শোনানোর চেয়ে বিদেশি সাহিত্যের গল্প শুনলেই বেশি উপকৃত হবে। ছেলেকে দেশি সংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে পারাতেই রহীমা বেগম বেশী গর্ববোধ করছেন। প্রকৃত অর্থে, এটা কোন গর্ব করার বিষয় নয়। বরং নিজ ঐতিহ্যের সঙ্গে এ ব্যবধান এক সময় অস্তিত্বের সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে।

ক. ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ সম্পাদনা করেন কে?
খ. ‘আধুনিক শিক্ষার কর্মনাশা স্রোত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. মিসেস রহিমার চরিত্রে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্থের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে – ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের শিক্ষা কতটুকু যৌক্তিক – ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কররো।

-----------

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
করিম সাহেব আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা উংরেজি, হিন্দি গান ও সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট। তার ধারণা পাশ্চাত্য সাহিত্য-সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারলে বেশি দূর আগানো যাবে না। অন্যদিকে তার বন্ধু সালাম সাহেব উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্তেও দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি হৃদয়ে লালন করেন। পল্লিগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, লালনগীতি তাঁর প্রিয় গান। ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে মৈয়মনসিংহ গীতিকা, পুঁথি ও রূপকথার গল্পসহ বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বই সংগ্রহ করেছেন।

ক. প্রবাদ বাক্য কাকে বলে?
খ. পল্লিসাহিত্যের সংক্ষরণ করা প্রয়োজন কেন?
গ. উদ্দীপকের করিম সাহেবের মানসিকতায় ‘পল্লীসাহিত্য’ কোন মনোভাবের প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “সালাম সাহেবের মনোভাব যেন ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের লেখকের চাওয়ারই প্রতিফলন।” – উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

-----------

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সাহিত্যের এই শাখাটি আধুনিক কালের সৃষ্টি। এর বয়স চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর হবে। এটি গদ্যে লিখিত। আকারে বেশি বড় নয়। এতে কোনো না কোনো কাহিনির বর্ণনা থাকবে, তবে তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নয়। কাহিনির ভিতর থেকেই বেছে নেওয়া কোনো অংশ থাকে মাত্র।

ক. নীলদর্পণ কোন ধরনের নাটকের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ?
খ. ট্র্যাজেডি বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের যে শাখার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান তার বিবরণ দাও।
ঘ. ‘উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই গদ্য সাহিত্যের একমাত্র দিক নয়।’– মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

-----------

‘পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
i. যেমন বুনো ওল
তেমনি বাঘা তেঁতুল।
ii. জ্যৈষ্ঠে খরা, আষাঢ়ে ভরা
শস্যের ভার সহে না ধরা।

ক. ‘Proletariat” সাহিত্য কী?
খ. প্রাবন্ধিক ‘চশমা আটা চোখ’ বলতে কাদেরকে বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘পল্লীসাহিত্য’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে তা বর্ণনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের বর্ণিত উপাদান ছাড়াও পল্লিসাহিত্যের আরো অনেক উপাদান রয়েছে” পল্লিসাহিত্য’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

-----------

তথ্যসূত্র:
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url