হজরতের মৃত্যুর কথা প্রচারিত হইলে মদিনায় যেন আঁধার ঘনাইয়া আসিল। কাহারও মুখে আর
কথা সরে না; কেহবা পাগলের মতো কাণ্ড শুরু করে। রাসুলুল্লাহর
পীড়ার খবর
শুনিবার জন্য বহুলোক
জমায়েত হইয়াছে। কে
একজন বলিলেন, তাঁহার মৃত্যু হইয়াছে।
বীরবাহু
ওমর
উলঙ্গ তরবারি
হাতে লইয়া লাফাইয়া উঠিলেন, যে বলিবে
হজরত
মরিয়াছেন, তাহার মাথা যাইবে।
মহামতি
আবুবকর শেষ পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পার্শ্বে ছিলেন। তিনি গম্ভীরভাবে জনতার
মধ্যে দাঁড়াইলেন। বলিলেন, যাহারা হজরতের পূজা করিত, তাহারা জানুক তিনি মারা
গিয়াছেন; আর যাহারা আল্লাহর উপাসক, তাহাদের জানা উচিত আল্লাহ অমর, অবিনশ্বর।
আল্লাহর সুস্পষ্ট বাণী: মুহম্মদ (স.) একজন রাসুল বৈ আর কিছু নন। তাঁহার পূর্বে
আরও অনেক রাসুল মারা গিয়াছেন। রাসুলুল্লাহ (স.) মরিতে পারেন, নিহত হইতে পারেন;
তাই বলিয়া তিনি যেই সত্য তোমাদের দিয়া গেলেন তাহাকে কি তোমরা মাথা পাতিয়া গ্রহণ
করিবে না? এই বিশ্বভুবনে ঐ দূর অন্তরীক্ষে যাহা কিছু দেখিতে পাও সবই আল্লাহর
সৃষ্টি, তাঁহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা।
হজরত আবুবকরের গম্ভীর উক্তিতে সকলেরই চৈতন্য হইল। হজরত ওমরের শিথিল অঙ্গ মাটিতে
লুটাইল। তাঁহার স্মরণ হইল হজরতের বাণী আমি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ মাত্র। তাঁহার
মনে পড়িল কুরআনের আয়াত মুহম্মদ, মৃত্যু তোমারও ভাগ্য, তাহাদেরও ভাগ্য। তাঁহার
অন্তরে ধ্বনিয়া উঠিল মুসলিমের গভীর প্রত্যয়ের স্বীকারোক্তি অমর সাক্ষ্য মুহম্মদ
(স.) আল্লাহর দাস (মানুষ) ও রাসুল।
শোকের প্রথম প্রচণ্ড আঘাতে আত্মবিস্মৃতির পূর্ণ সম্ভাবনার মধ্যে দাঁড়াইয়া স্থিতধী
হজরত আবুবকর (রা.) রাসুলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সীমারেখা সৃষ্টি করিয়া
তুলিলেন। তিনি রাসুল, কিন্তু তিনি মানুষ, আমাদেরই মতো দুঃখ-বেদনা, জীবন-মৃত্যুর
অধীন রক্ত-মাংসে গঠিত মানুষ- এই কথাই বৃদ্ধ হজরত আবুবকর সিদ্দিক (রা.) মূর্ছিত
মুসলিমকে বুঝাইয়া দিলেন।
তিনি মানুষের মন আকর্ষণ করিয়াছিলেন মুখ্যত তাঁহার মানবীয় গুণাবলি দ্বারা। মক্কার
শ্রেষ্ঠ বংশে তিনি জন্মিয়াছিলেন। কিন্তু বংশগৌরব হজরতের সচেতন চিত্তে মুহূর্তের
জন্যও স্থানলাভ করে নাই। জন্মদুঃখী হইয়া তিনি সংসারে আসিয়াছিলেন। এই দুঃখের বেদনা
তাঁহার দেহসৌন্দর্য ও চরিত্র-মাধুরীর সহিত মিলিয়া তাঁহাকে নরনারীর একান্ত প্রিয়
করিয়া তুলিয়াছিল। আবাল্য তিনি ছিলেন আল-আমিন- বিশ্বস্ত, প্রিয়ভাষী, সত্যবাদী।
তাঁহার অসাধারণ যোগ্যতা, বুদ্ধি, বিচারশক্তি, বলিষ্ঠ দেহ দেখিয়া মানুষ অবাক হইয়া
যাইত। এই সকল গুণ বিবি খাদিজাকে আকর্ষণ করিয়াছিল।
বস্তুত হজরতের রূপলাবণ্য ছিল অপূর্ব, অসাধারণ। মক্কা হইতে মদিনায় হিজরতের পথে এক
পরহিতব্রতী দম্পতির কুটিরে তিনি আশ্রয় নেন। রাহী-পথিকদের সেবা করাই ছিল তাহাদের
ব্রত। হজরত যখন আসিলেন, কুটিরস্বামী আবু মা'বদ মেষপাল চরাইতে গিয়াছিলেন। তাঁহার
পত্নী উম্মে মা'বদ ছাগীদুগ্ধ দিয়া হজরতের তৃষ্ণা দূর করিলেন। গৃহপতি ফিরিলে এই
নারী স্বামীর কাছে নব অতিথির রূপ বর্ণনা করেন, সুন্দর, সুদর্শন পুরুষ তিনি।
তাঁহার শীর্ষে সুদীর্ঘ কুঞ্চিত কেশপাশ, বয়ানে অপূর্ব কান্তশ্রী। তাঁহার আয়তকৃষ্ণ
দুটি নয়ন, কাজল-রেখার মতো যুক্ত ভূযুগল, তাঁহার সুউচ্চ গ্রীবা, কালো কালো দুটি
চোখের ঢলঢল চাহনি মনপ্রাণ কাড়িয়া নেয়। গুরুগম্ভীর তাঁহার নীরবতা, মধুবর্ষী তাঁহার
মুখের ভাষণ, বিনীত নম্র তাঁহার প্রকৃতি। তিনি দীর্ঘ নন, খর্ব নন, কৃশ নন। এক
অপূর্ব পুলকদীপ্তি তাঁহার চোখেমুখে, বলিষ্ঠ পৌরুষের ব্যঞ্জনা তাঁহার অঙ্গে। বড়ো
সুন্দর, বড়ো মনোহর সেই অপরূপ রূপের অধিকারী।
সত্যই হজরত বড়ো সুদর্শন পুরুষ ছিলেন। তাঁহার চেহারা মানুষের চিত্ত আকর্ষণে যতটুকু
সহায়তা করে, তাহার সবটুকু তিনি পাইয়াছিলেন। সত্যের নিবিড় সাধনায় তাঁহার চরিত্র
মধুময় হইয়া উঠিয়াছিল। কাছে আসিলেই মানুষ তাঁহার আপনজন হইয়া পড়িত। অকুতোভয়
বিশ্বাসে তিনি অজেয় হইয়াছিলেন। শত্রুর নিষ্ঠুরতম নির্যাতন তাঁহার অন্তরের
লৌহকপাটে আহত হইয়া ফিরিয়া যাইত। কিন্তু সত্যে তিনি বজ্রের মতো কঠিন, পর্বতের মতো
অটল হইলেও করুণায় তিনি ছিলেন কুসুমকোমল। বৈরীর অত্যাচারে বারবার তিনি জর্জরিত
হইয়াছিলেন, শত্রুর লোষ্ট্রাঘাতে-অরাতির হিংস্র আক্রমণে বরাঙ্গের বসন তাঁহার
বহুবার রক্তরঙিন হইয়া উঠিয়াছে, তথাপি পাপী মানুষকে তিনি ভালোবাসিয়াছিলেন, অভিশাপ
দেওয়ার চিন্তাও তাঁহার অন্তরে উদিত হয় নাই। মক্কার পথে প্রান্তরে পৌত্তলিকের
প্রস্তরঘায়ে তিনি আহত হইয়াছেন, ব্যঙ্গবিদ্রূপে বারবার তিনি উপহাসিত হইয়াছেন;
কিন্তু তাঁহার অন্তর ভেদিয়া একটি মাত্র প্রার্থনার বাণী জাগিয়াছে;-এদের জ্ঞান দাও
প্রভু, এদের ক্ষমা কর।
তায়েফে সত্য প্রচার করিতে গিয়া তাঁহাকে কী ভীষণ পরীক্ষার সম্মুখীন হইতে হইয়াছিল;
আমরা দেখিয়াছি। পথ চলিতে শত্রুর প্রস্তরঘায়ে তিনি অবসন্ন হইয়া পড়িতেছিলেন; তখন
তাহারাই আবার তাঁহাকে তুলিয়া দিতেছিল। তিনি পুনর্বার চলা শুরু করিলে দ্বিগুণ তেজে
পাথরবৃষ্টি করিতেছিল। রক্তে রক্তে তাঁহার সমস্ত বসন ভিজিয়া গিয়াছে, দেহ নিঃসৃত
রুধিরধারা পাদুকায় প্রবেশ করিয়া জমিয়া শক্ত হইয়াছে, মৃত্যুর আবছায়া তাঁহার
চৈতন্যকে সমাচ্ছন্ন করিবার চেষ্টা করিতেছে, তথাপি অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তাঁহার
বিন্দুমাত্র অভিযোগ নাই। রমণীর রূপ, গৃহস্থের ধনসম্পদ, নেতৃত্বের মর্যাদা, রাজার
সিংহাসন সব কিছুকে তুচ্ছ করিয়া সেই সত্যকে তিনি জীবনের শ্রেষ্ঠতম সম্বল জ্ঞানে
আশ্রয় করিয়াছিলেন; তাঁহাকে উপহাসিত, অবহেলিত, অস্বীকৃত দেখিয়াও ক্রোধ, ঘৃণা বা
বিরক্তির একটি শব্দও তাঁহার মুখে উচ্চারিত হয় নাই। অভিসম্পাত করিতে অনুরুদ্ধ
হইয়াও তিনি বলিলেন: না না, তাহা কখনই সম্ভব নয়। এই পৃথিবীতে আমি ইসলামের বাহন,
সত্যের প্রচারক। মানুষের দ্বারে দ্বারে সত্যের বাণী বহন করা আমার কাজ। আজ যাহারা
সত্যকে অস্বীকার করিতেছে, তাঁহাকে মারিতে উদ্যত হইয়াছে, হয়ত কাল তাহারা-তাহাদের
অনাগত বংশধরেরা ইসলাম কবুল করিবে। আপনার আঘাত জর্জরিত দেহের বেদনায় তিনি কাতর।
সত্যকে ব্যাহত দেখিয়া মনের ব্যথা তাঁহার সেই কাতরতাকে ছাপাইয়া উঠিল। তিনি
ঊর্ধ্বদিকে বাহু প্রসারণ করিয়া বলিলেন: তোমার পতাকা যদি দিয়াছ প্রভু, হীন আমি,
তুচ্ছ আমি, নির্বল আমি, তাহা বহন করিবার শক্তি আমায় দাও। বিপদবারণ তুমি অশরণের
শরণ তুমি, তোমার সত্য মানুষের দ্বারে পৌঁছাইয়া তাহাকে উন্নীত করিলেন যাঁহারা
তাঁহাদের পংক্তিতে আমার স্থান দাও।
মক্কাবাসীরা হজরতের নবিত্ব লাভের শুরু হইতেই তাঁহার প্রতি কী নির্মম অমানুষিক
অত্যাচার চালাইয়াছিল, আমরা দেখিয়াছি। যখন তাহাদের নির্যাতন সহনাতীত হইল, যখন দেখা
গেল, কোরেশরা সত্যকে গ্রহণ করিবে না, হজরত মদিনায় চলিয়া গেলেন। পথে তাঁহাকে হত্যা
করিবার জন্য, তাঁহার ও হজরত আবুবকরের ছিন্ন মুণ্ড আনিবার জন্য বিপুল পুরস্কারের
লোভ দেখাইয়া, ক্ষুধার্ত ব্যামের মতো হিংস্র শত শত ঘাতক পাঠানো হইল। বদর, ওহোদ ও
আহজাব (বা খন্দক) যুদ্ধে মক্কার বাসিন্দা এবং তাহাদের মিত্রজাতিরা সম্মিলিত হইয়া
ইসলামের ও মুসলিমের চিহ্নটুকু পর্যন্ত ধরাপৃষ্ঠ হইতে মুছিয়া ফেলিবার জন্য প্রাণপণ
করিল। খয়বরের যুদ্ধে হজরতের পরাজয়ের মিথ্যা সংবাদ শুনিয়া হজরতের মৃত্যু সম্ভাবনায়
আনন্দে আত্মহারা হইয়া পড়িল। হুদায়বিয়া সন্ধিতে হজরতের শান্তিপ্রিয়তার সুযোগ লইয়া
মুসলিমের স্কন্ধে ঘোর অপমানের শর্ত চাপাইয়া দেওয়ার পরও তাহাদের সহিত
বিশ্বাসঘাতকতা করিতে চাহিল এবং তারপর হজরত যেই দিন বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ
করিলেন, সেই দিনও তাঁহার সহিত যুদ্ধকামনা করিয়া খালিদের সহিত হাঙ্গামা বাঁধাইয়া
দিল। এইভাবে শেষ পর্যন্ত যাহারা পদে পদে আনিয়া দিল লাঞ্ছনা, অপমান, অত্যাচার,
নির্যাতন, প্রত্যেক সুযোগে যাহারা হানিল বৈরিতার বিষাক্ত বাণ, হজরত তাঁহাদের সহিত
কী ব্যবহার করিলেন? জয়ীর আসনে বসিয়া ন্যায়ের তুলাদণ্ড হাতে লইয়া বলিলেন ভাইসব,
তোমাদের সম্বন্ধে আমার আর কোনো অভিযোগ নাই, আজ তোমরা সবাই স্বাধীন, সবাই মুক্ত।
মানুষের প্রতি প্রেমপুণ্যে উদ্ভাসিত এই সুমহান প্রতিশোধ সম্ভব করিয়াছিল হজরতের
বিরাট মনুষ্যত্ব।
শুধু প্রেম-করুণায় নয়, মানুষ হিসেবে আপনার তুচ্ছতাবোধ আপনার ক্ষুদ্রতার অনুভূতি
তাঁহার মহিমাগৌরবকে মুহূর্তের জন্যও ছাপাইয়া উঠিতে পারে নাই। মক্কাবিজয়ের পর হজরত
সাফা পর্বতের পার্শ্বে বসিয়া সত্যান্বেষী মানুষকে দীক্ষা দান করিতেছেন, এমন সময়
একটি লোক তাঁহার কাছে আসিয়া ভয়ে কাঁপিতে লাগিল। হজরত স্মিতমুখে তাহাকে বলিলেন,
কেন তুমি ভয় পাইতেছ? ভয়ের কিছুই এখানে নাই। আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের
প্রভু নই। আমি এমন এক নারীর সন্তান, সাধারণ শুষ্ক মাংসই ছিল যাঁহার নিত্যকার
আহার্য।
মহামহিমার মাঝখানে আপনার সামান্যতম এই অনুভূতিই হজরতের চরিত্রকে শেষ পর্যন্ত
সুন্দর ও স্বচ্ছ রাখিয়াছিল। মানুষ ত্রুটির অধীন, হজরতও মানুষ, সুতরাং তাঁহারও
ত্রুটি হইতে পারে- এই যুক্তির বলে নয়, বরং তাঁহার অনাবিল চরিত্রের স্বচ্ছ সহজ
প্রকাশ মর্যাদাহানির আশঙ্কা তুচ্ছ করিয়া, লোকচক্ষে সম্ভাবিত হেয়তার ভয় অবহেলায়
দূর করিয়া তিনি অকুতোভয়ে আত্মদোষ উদঘাটন করিয়াছেন। একদিন তিনি মক্কার সম্ভ্রান্ত
লোকদের কাছে সত্য প্রচারে ব্রতী। মজলিসের এক প্রান্তে বসিয়া একটি অন্ধ। সম্ভবত সে
হজরতের দুইএকটি কথা শুনিতে পায় নাই। বক্তৃতার মাঝখানে একটি প্রশ্ন করিয়া সে
হজরতকে থামাইল। বাধা পাইয়া হজরতের মুখে ঈষৎ বিরক্তির আভাস ফুটিয়া উঠিল, তাঁহার
ললাট সামান্য কুঞ্চিত হইল।
ব্যাপারটি এমন কিছুই গুরুতর নয়। বক্তৃতায় বাধা হইলে বিরক্তি অতি স্বাভাবিক। আবার
দুঃখী দুর্বল লোকদের হজরত বড়ো আদর করিতেন, কাহারও ইহা অজ্ঞাত নয়। সুতরাং তিনি
অন্ধকে ঘৃণা করিয়াছেন, কাঙাল বলিয়া তাহাকে হেলা করিয়াছেন, এই কথা কাহারও মনে আসে
নাই। কিন্তু তাঁহার এই তুচ্ছতম ত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত আসিল কুরআনের একটি বাণীতে।
তিনি বিনা দ্বিধায়, বিনা সঙ্কোচে তাহা সকলের কাছে প্রচার করিলেন।
মানুষ হিসেবে যে ক্ষুদ্রতাবোধ, মানুষের সহজ দৈন্যের যে নির্মল অনুভূতি হজরতকে
আপনার দোষত্রুটি সাধারণের চক্ষে এমন নির্বিকারভাবে ধরাইয়া দিতে প্ররোচিত
করিয়াছিল, তাহাই আবার তাঁহার মহিমান্বিত জীবনে ইচ্ছা-স্বীকৃত দারিদ্র্যের মাঝখানে
প্রদীপ হইয়া জ্বলিয়াছিল। অনাত্মীয় পরিপার্শ্বের মধ্যেও নিবিড় নির্বিচার ভক্তি,
শ্রদ্ধা, স্বীকৃতি ও আনুগত্য তিনি বড়ো অল্প পান নাই। শত শত, বরং সহস্র সহস্র
মুসলিম তাঁহার ব্যক্তিগত পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ সংগ্রহ করিয়া দিতে
সর্বদা শুধু ইচ্ছুক নয়, সমুৎসুক ছিল। কিন্তু হজরত আপনাকে দশজন মানুষের মধ্যে একজন
গণনা করিলেন, সকলের সঙ্গী সহচররূপে সহোদর ভাইয়ের মতাদর্শ প্রয়াসী নেতার কর্তব্য
পালন করিলেন। সত্যের জন্য অত্যাচার নির্যাতন সহিলেন, দুঃখে-শোকে অশ্রুনীরে তিতিয়া
আল্লাহর নামে সান্ত্বনা মানিলেন, দেশের রাজা-মানুষের মনের রাজা হইয়া স্বেচ্ছায়
দারিদ্র্যের কণ্টক মুকুট মাথায় পরিলেন। তাই তাঁহার গৃহে সকল সময় অন্ন জুটিত না,
নিশার অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালিবার মতো তৈলটুকুও সময় সময় মিলিত না। এমনি নিঃস্ব
কাঙালের বেশে মহানবি মৃত্যু রহস্যের দেশে চলিয়া গেলেন।
স্বামীর মহাপ্রয়াণে বিয়োগবিধুরা আয়েশার বক্ষ ভেদিয়া শোকের মাতম উঠিল, মানুষের
মঙ্গল সাধনায় যিনি অতন্দ্র রজনী যাপন করিলেন, সেই সত্যাশ্রয়ী আজ চলিয়া গেলেন।
নিঃস্বতাকে সম্বল করিয়া যিনি বিশ্বমানবের জন্য আপনাকে বিলাইয়া দিলেন, তিনি আজ
চলিয়া গেলেন। সাধনার পথে শত্রুর আঘাতকে যিনি অম্লান বদনে সহিলেন। হায়, সেই দয়ার
নবি, মানুষের মঙ্গল বহিয়া আনিবার অপরাধে প্রস্তরঘায়ে যাঁহার দাঁত ভাঙিয়াছিল,
প্রশস্ত ললাট রুধিরাক্ত হইয়াছিল, আর সেই আহত জর্জরিত মুমূর্ষু দশাতেও যিনি
শত্রুকে প্রেমভরে আশীর্বাদ করিয়াছিলেন, তিনি আজ জীবন-নদীর ওপারে চলিয়া গেলেন। দুই
বেলা পূর্ণোদর আহারও যাঁহার ভাগ্যে হয় নাই, ত্যাগ ও তিতিক্ষার মূর্ত প্রকাশ
মহানবি আজ চলিয়া গেলেন। বিবি আয়েশার মর্মছেঁড়া এই বিলাপ সমস্ত মানুষের, সমগ্র
বিশ্বের। শুধু সত্য সাধনায় নয়, শুধু ঊর্ধ্ব লোকচারী মহাব্রতীর তত্ত্বানুসন্ধানে
নয়, মানুষের সঙ্গে মানুষের ব্যবহারে হযরত মোস্তফা ইতিহাসের একটি অত্যন্ত অসাধারণ
চরিত্র। ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস, শৌর্য, অনুগ্রহ,
আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও সমদর্শন চরিত্র-সৌন্দর্যের এতগুলি দিকের সমাহার
ধূলোমাটির পৃথিবীতে বড়ো সুলভ নয়। তাই মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ, আমাদের অতি
আপনজন হইয়াও তিনি অনুকরণীয়, বরণীয়।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ :
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মরু
ভাস্কর’(১৯৪১) গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা :
➠ বীরবাহু- শক্তিধারী।
➠ স্থিতধী- স্থিরবুদ্ধিসম্পন্ন।
➠ ধী- বুদ্ধি।
➠ রাসুল- আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ।
➠ পরহিতব্রতী- পরের উপকারে নিয়োজিত।
➠ বয়ান- মুখের বাণী।
➠ গ্রীবা- ঘাড়।
➠ অকুতোভয়- নির্ভয়।
➠ নির্যাতন- অত্যাচার, জুলুম।
➠ কুসুমকোমল- ফুলের মতো নরম।
➠ লোস্ট্রাঘাত- চিলের আঘাত।
➠ বৈরী- শত্রু।
➠ অরাতি- শত্রু।
➠ পৌত্তলিক- মূর্তিপূজক।
➠ তিতিয়া- ভিজে।
➠ সমাচ্ছন্ন- অভিভূত।
➠ পূর্ণোদর- ভরপেট।
➠ বীরবাহু ওমর- ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) ছিলেন একজন তেজস্বী
বীরযোদ্ধা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কোরেশ বংশোদ্ভূত তরুণ বীর ওমর মহানবিকে
হত্যা করার সংকল্প নিয়ে যখন যাচ্ছিলেন তখন তাঁর ভগ্নীর কন্ঠে পবিত্র
কুরআনের বাণী শুনে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। হজরত ওমর (রা) ছিলেন একজন
বীরযোদ্ধা, ন্যায়পরায়ণ শাসক ও মহানবির বিশ্বাসভাজন সাহাবি।
➠ রুধিরাক্ত- রক্তাক্ত, রক্তরঞ্জিত।
➠ রাহী- পথিক, মুসাফির।
➠ পুলকদীপ্তি- আনন্দের উদ্ভাস।
➠ অনুরুদ্ধ- অনুরোধ করা হয়েছে এমন।
➠ মহামতি আবুবকর- ইসলামের প্রথম খলিফা এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে
প্রথম পুরুষ ব্যক্তি। তিনি ছিলেন মহানবির হিজরতকালীন সঙ্গী এবং সারাজীবনের
বিশ্বস্ত সহচর। তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ, আদর্শবাদী ও ইসলামের জন্য
নিবেদিতপ্রাণ।
➠ মক্কা- সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান নগরী। এখানে আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ
অবস্থিত। এই নগরীতে রাসুলুল্লাহ (স.) জন্মগ্রহণ করেন।
➠ মদিনা- সৌদি আরবে অবস্থিত মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় সম্মানিত নগরী। এখানে
হজরত মুহম্মদ (স.) এবং হযরত আবু বকর (রা.) এর মাজার রয়েছে।
➠ হিজরত- শাব্দিক অর্থ পরিত্যাগ। এখানে মক্কা ত্যাগ করে মদিনা যাত্রা
বোঝানো হয়েছে। এই সময় থেকে হিজরি সাল গণনার শুরু।
➠ তায়েফ- সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উর্বর প্রদেশ।
➠ বদর, ওহোদ, আহযাব, খয়বর- হজরতের জীবনকালে ভিন্ন ধর্মাবলম্বলীদের বিরুদ্ধে
এ সব স্থানে মুসলমানদের যুদ্ধ হয়েছিল।
➠ হুদায়বিয়া- একটি যুদ্ধক্ষেত্র, এই স্থানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে
রাসুলুল্লাহ (স.) এর একটি সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এ সন্ধি ছিল অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ এবং রাসুলুল্লাহর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচায়ক।
➠ খালিদ- হজরতের জীবিতকালে ইসলামের প্রখ্যাত বীরযোদ্ধা এবং সেনাপতি।
➠ সাফা- সাফা ও মারওয়া দুটি ছোটো পাহাড় কাবার নিকটে অবস্থিত। হজরত ইবরাহিম
(আ.)-এর স্ত্রী বিবি হাজেরা শিশুপুত্র ইসমাইলের পিপাসা নিবারণের জন্য পানির
সন্ধানে এই দুই পাহাড়ের মধ্যে ছোটাছুটি করেছিলেন। সেই স্মৃতি রক্ষার্থে আজও
হজব্রতীরা সাফা-মারওয়ায় দৌড়ে থাকেন।
➠ আয়েশা (রা.)- হজরত আবুবকরের কন্যা, রাসুলুল্লাহ (স.)-এর অন্যতম
সহধর্মিণী, বিদুষী রমণী ছিলেন। হযরতের ইন্তেকালের পর তিনি বহু হাদিস উদ্ধৃত
করেন।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি :
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধটি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি এ
প্রবন্ধে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হযরত ছিলেন মানুষের নবি। তাই মানুষের পক্ষে
যা আচরণীয় তিনি তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য,
ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেই একজন সাধারণ
মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। ক্ষমতা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া তাঁর অজস্র
চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তাঁর সমগ্র জীবন মানব জাতির কল্যাণের জন্য
নিয়োজিত ছিল। মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে তিনি তাঁর জীবন রূপায়িত করে
তুলেছিলেন। তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের
জন্য অনুকরণীয়। হজরত মুহম্মদ (স.) এর মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারীগণের মধ্যে যে
বেদনা ও হতাশা দেখা দিয়েছিল তা প্রশমন করার জন্য হজরত আবুবকর (রা) মহানবি
(স.)-এর জীবনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে প্রচণ্ড শোককে শান্ত করেন। হজরত মুহম্মদ
(স.)-এর মানবিক গুণাবলি উপস্থাপনের মাধ্যমে এ প্রবন্ধ আমাদের নৈতিক, সৎ ও
মানবিক হবার শিক্ষা দেয়।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি :
মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী ১৮৯৬ সালে (২৯শে ভাদ্র ১৩০৩ সাল) সাতক্ষীরা জেলার
বাঁশদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা বঙ্গবাসী কলেজে বি.এ. ক্লাসের ছাত্র
থাকাকালীন তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন এবং এখানেই লেখাপড়ার সমাপ্তি
ঘটান। এরপর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি
মাসিক মোহাম্মাদী, দৈনিক মোহাম্মাদী, দৈনিক সেবক, সাপ্তাহিক সওগাত,
ইংরেজি দি মুসলমান
ইত্যাদি পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
মহামানুষ মুহসীন, মরুভাস্কর, সৈয়দ আহমদ, স্মার্ণানন্দিনী, ছোটদের হযরত
মুহম্মদ ইত্যাদি।
সহজ সরল প্রকাশভঙ্গি তাঁর রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ১৯৩৫ সালে কলকাতা ছেড়ে বাঁশদহে ফিরে আসেন এবং
সেখানেই ১৯৫৪ সালের ৮ই নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।।
কর্ম-অনুশীলন :
হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একটি তালিকা তৈরি করো।
১. কার গম্ভীর উক্তিতে সকলের চৈতন্য হয়?
উত্তর : আবু বকরের গম্ভীর উক্তিতে সকলের চৈতন্য হয়।
২. মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যু সংবাদে কার শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটাল?
উত্তর : মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যু সংবাদে হযরত ওমর (রা.)-এর শিথিল অঙ্গ
মাটিতে লুটাল।
৩. আবু বকর (রা.) মূর্ছিত মুসলিমকে কী বুঝিয়ে দিলেন?
উত্তর : মুহম্মদ (স.) জীবন-মৃত্যুর অধীন রক্ত-মাংসে গঠিত একজন মানুষ এ
কথা আবু বকর (রা.) মূর্ছিত মুসলিমকে বুঝিয়ে দিলেন।
৪. মুহম্মদ (স.) মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন মুখ্যত কী দ্বারা?
উত্তর : মুহম্মদ (স.) মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন মুখ্যত তাঁর মানবীয়
গুণাবলি দ্বারা।
৫. মুহম্মদ (স.) মক্কা থেকে কোথায় হিজরত করেন?
উত্তর : মুহম্মদ (স.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।
৬. পরহিতব্রতী দম্পতির কুটিরস্বামীর নাম কী?
উত্তর : পরহিতব্রতী দম্পতির কুটিরস্বামীর নাম আবু মাবদ।
৭. হিজরতের পথে উম্মে মা’বদ কী দিয়ে হযরতের তৃষ্ণা নিবারণ করেছিলেন?
উত্তর : হিজরতের পথে উম্মে মা’বদ ছাগীদুগ্ধ দিয়ে হযরতের তৃষ্ণা নিবারণ
করেছিলেন।
৮. কোথায় সত্য প্রচার করতে গিয়ে মুহম্মদ (স.)-কে রক্তাক্ত হতে হয়েছিল?
উত্তর : তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে মুহম্মদ (স.)-কে রক্তাক্ত হতে
হয়েছিল।
৯. কোন সন্ধিতে মুসলমানদের ওপর ঘোর অপমানের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়?
উত্তর : হুদায়বিয়ার সন্ধিতে মুসলমানদের ওপর ঘোর অপমানের শর্ত চাপিয়ে
দেওয়া হয়।
১০. মুহম্মদ (স.)-এর মক্কা বিজয়ের দিন কাফেররা কার সাথে হাঙ্গামা
বাধায়?
উত্তর : মুহম্মদ (স.)-এর মক্কা বিজয়ের দিন কাফেররা খালিদের সাথে হাঙ্গামা
বাধায়।
১১. বক্তৃতার মাঝখানে প্রশ্ন করে মুহম্মদ (স.)-কে থামিয়ে দেয় কে?
উত্তর : বক্তৃতার মাঝখানে প্রশ্ন করে মুহম্মদ (স.)-কে থামিয়ে দেয় একজন
অন্ধ।
১২. মানুষের মঙ্গল আনার জন্য পাথরের ঘায়ে কার দাঁত ভেঙেছিল?
উত্তর : মানুষের মঙ্গল আনার জন্য পাথরের ঘায়ে মুহম্মদ (স.)-এর দাঁত
ভেঙেছিল।
১৩. ‘ধী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘ধী’ শব্দের অর্থ হলো বুদ্ধি।
১৪. কারা পরাহিতব্রতী দম্পতি?
উত্তর : আবু মা’বদ দম্পতি পরহিতব্রতী।
১৫. ‘পৌত্তলিক’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘পৌত্তলিক’ শব্দের অর্থ হলো মূর্তিপূজক।
১৬. ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা কে?
উত্তর : ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)।
১৭. ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম পুরুষ ব্যক্তি কে?
উত্তর : ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীদের মধ্যে প্রথম পুরুষ ব্যক্তি হযরত আবু বকর
(রা.)।
১৮. মহানবি (স.)-এর হিজরতকালীন সঙ্গী কে ছিলেন?
উত্তর : মহানবি (স.)-এর হিজরতকালীন সঙ্গী ছিলেন আবু বকর (রা.)।
১৯. মহানবি (স.) কোন নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর : মহানবি (স.) মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
২০. কখন থেকে হিজরি সাল গণনা শুরু হয়?
উত্তর : মহানবি (স.)-এর হিজরতের পর থেকে হিজরি সাল গণনা শুরু হয়।
২১. আয়েশা (রা.) কার কন্যা?
উত্তর : আয়েশা (রা.) আবু বকর (রা.)-এর কন্যা।
২২. ‘মরুভাস্কর’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
উত্তর : ‘মরুভাস্কর’ গ্রন্থটি রচনা করেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।
২৩. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে কী বিশ্লেষণ করা হয়েছে?
উত্তর : ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.) এর মানবীয়
গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
২৪. কার দিকে সকলের মহাযাত্রা?
উত্তর : আল্লাহর দিকে সকলের মহাযাত্রা।
২৫. উম্মে মা’বদ স্বামীর নিকট কার রূপ বর্ণনা করেন?
উত্তর : উম্মে মা’বদ স্বামীর নিকট মুহম্মদ (স.)-এর রূপ বর্ণনা করেন।
১. মুহম্মদ (স.) মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন কীভাবে? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর : মুহম্মদ (স.) মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন তাঁর মানবীয় গুণাবলি
দ্বারা।
➠ মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানবতার মূর্ত প্রতীক। তিনি ছিলেন আল-আমিন বা
বিশ্বস্ত। তার বুদ্ধি, বিচারশক্তি, বলিষ্ঠ দেহ যে কাউকেই মুগ্ধ করে। দয়া,
ভালোবাসা, সহমর্মিতা, করুণা প্রভৃতি সকল গুণই তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল। আর
অসামান্য দৈহিক সৌন্দর্যের সাথে চরিত্র-মাধুরীর সংমিশ্রণে মুহম্মদ (স.)
মানুষের মন আকর্ষণ করেছিলেন।
২. মুহম্মদ (স.)-এর কাছে এলে মানুষজন তাঁর আপনজন হয়ে যেত কেন?
উত্তর : মুহম্মদ (স.)-এর শারীরিক সৌন্দর্য এবং মধুময় চরিত্রগুণের আকর্ষণে
মানুষজন তাঁর কাছে এলে আপনজন হয়ে যেত।
➠ মুহম্মদ (স.) ছিলেন বড় সুদর্শন পুরুষ। একজন মানুষের চেহারা অন্যের
চিত্ত আকর্ষণে যতটুকু সহায়তা করে এর সবই তিনি পেয়েছিলেন। সেই সাথে সত্যের
নিবিড় সাধনায় তাঁর চরিত্র মধুময় হয়ে উঠেছিল। তাঁর কাছে এলে মানুষজন তাঁর
মুখের মধুবর্ষী ভাষণ এবং অপূর্ব আচরণে মুগ্ধ হয়ে যেত। এভাবে তিনি মানুষকে
আপন করে নিতেন।
৩. মক্কার পথে প্রান্তরে পৌত্তলিকেরা মুহম্মদ (স.)-কে প্রস্তরাঘাতে
জর্জরিত করেছিল কেন?
উত্তর : সত্য প্রচারের কারণে মক্কার পথে-প্রান্তরে পৌত্তলিকেরা মুহম্মদ
(স.)-কে প্রস্তরাঘাতে জর্জরিরত করেছিল।
➠ মুহম্মদ (স.) সত্য প্রচারে ছিলেন পর্বতের মতো অটল। তিনি মক্কার
মূর্তিপূজকদের সৎপথে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালান। কিন্তু পৌত্তলিকেরা
তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ফলে তারা মুহম্মদ (স.)-এর ওপর অত্যাচার নির্যাতন
শুরু করে। মক্কার পথে-প্রান্তরে তাঁকে প্রস্তরাঘাতে জর্জরিত করে।
৪. মুহম্মদ (স.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে গেলেন কেন?
উত্তর : মক্কার কোরেশরা মুহম্মদ (স.)-এর ওপর অসহনীয় নির্যাতন শুরু করলে
মুহম্মদ (স.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যান।
➠ মুহম্মদ (স.) সত্য প্রচার করতে গিয়ে অসহনীয় নির্যাতনের সম্মুখীন
হয়েছেন। মক্কার কোরেশরা তাঁর ওপর নানাভাবে নির্যাতন করতে থাকে। কখনো পথে
কাঁটা পুঁতে, কখনো রাস্তায় পাথর মেরে বারবার তাঁকে রক্তাক্ত করতে থাকে।
একপর্যায়ে তারা মুহম্মদ (স.)-কে হত্যার ষড়ষন্ত্র করে। এজন্য মুহম্মদ (স.)
মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে গেলেন।
৫. মুহম্মদ (স.)-এর মক্কা বিজয়ের দিন কাফেররা খালিদের সাথে হাঙ্গামা
বাধিয়ে দিল কেন?
উত্তর : মুহম্মদ (স.)-এর মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর সাথে যুদ্ধ কামনা করে
কাফেররা খালিদের সাথে হাঙ্গামা বাধিয়ে দিল।
➠ মক্কার কাফেররা নানাভাবে মুহম্মদ (স.)-এর ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেছে।
তারা বদর, ওহোদ, খন্দক প্রভৃতি যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলমানদের নির্মূল করতে
চেয়েছে। মক্কা বিজয়ের সময় কাফেররা মুসলমানদের বিজয় মেনে নিতে পারেনি। তাই
তারা যুদ্ধ বাধাতে চেয়েছিল। এজন্য কাফেররা খালিদের সাথে হাঙ্গামা বাধিয়ে
দিল।
৬. অন্ধের প্রশ্নে মুহম্মদ (স.)-এর ললাট সামান্য কুঞ্চিত হলো কেন?
উত্তর : বক্তৃতার মাঝখানে প্রশ্ন করায় বিরক্তিতে অন্ধের প্রশ্নে মুহম্মদ
(স.) ললাট সামান্য কুঞ্চিত হলো।
➠ মুহম্মদ (স.) সত্য প্রচারে ব্রতী ছিলেন। তিনি সারাজীবন সত্য প্রচার করে
গেছেন। সত্য প্রচারে রত অবস্থায় বক্তৃতা দানের মাঝখানে অন্ধ লোকটি প্রশ্ন
করলে মুহম্মদ (স.) কিছুটা বিরক্ত হন। এজন্য তার ললাট সামান্য কুঞ্চিত হয়।
৭. মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয় কেন?
উত্তর : মুহম্মদ (স.) মানবতার মূর্ত প্রতীক ছিলেন বলে তাঁর আদর্শ আমাদের
জন্য অনুকরণীয়।
➠ মুহম্মদ (স.) সারা জীবন সত্যের সাধনা করে গেছেন। তিনি ছিলেন সৎ,
সহমর্মী, উদার ও নীতিবান। তিনি সবসময় মানবতার কল্যাণে সকলকে অনুপ্রাণিত
করেছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ হবে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ। তাই
মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ আমাদের জন্য অনুকরণীয়।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
হজরত নূহ (আ) ধর্ম ও ন্যায়ের পথে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
এতে মাত্র চল্লিশ জন মানুষ সাড়া দেন। বাকিরা সবাই তাঁর বিরোধিতা শুরু করে
নানা অত্যাচারে তাঁকে অতিষ্ঠ করে তোলে। এ অত্যাচারের মাত্রা সহনাতীত হলে
তিনি একপর্যায়ে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান। আল্লাহর
হুকুমে তখন এমন বন্যা হয় যে, ঐ চল্লিশ জন বাদে সকল অত্যাচারী ধ্বংস হয়ে
যায়।
ক. হজরত মুহম্মদ (স.) কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেন?
খ. সুমহান প্রতিশোধ বলতে কী বোঝায়?
গ. হজরত নূহ (আ) যেদিক দিয়ে হজরত মুহম্মদ (স.) থেকে ভিন্ন তা ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. হজরত নূহ (আ)-এর চরিত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনলে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর
একটি বিশেষ গুণ তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
ক. হযরত মুহম্মদ (স.) কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
খ. সুমহান প্রতিশোধ বলতে লেখক অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম নিপীড়নের জবাবে
ভালো ব্যবহার ও মনুষ্যত্বের আদর্শ প্রতিষ্ঠার কথা বুঝিয়েছেন।
➠ মুহম্মদ (স.) মানবতার জন্য কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করলেও বারবার তিনি বৈরীতার
মুখোমুখি হয়েছিলেন। পৌত্তলিকের প্রস্তরাঘাতে তিনি আহত হয়েছিলেন। সত্য
প্রচারের জন্য তায়েফে গমন করলে শত্রুর নিক্ষিপ্ত পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত
হয়েছিলেন। কিন্তু কারো প্রতি তাঁর ক্ষোভ, ক্রোধ, ঘৃণা কোনোটিই ছিল না।
জয়ীর আসনে বসার পর তিনি তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। তাঁর
ভেতরকার বিরাট মনুষ্যত্ববোধের কারণেই এই সুমহান প্রতিশোধ নেওয়া সম্ভব
হয়েছিল।
গ. হযরত নূহু (আ.) অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলেও
মুহম্মদ (স.) অত্যাচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি বরং তাদের ক্ষমা
করে দিয়েছিলেন।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে লেখক মুহম্মদ (স.)-এর অসাধারণ গুণাবলির
উল্লেখ করেছেন আদর্শ মহামানব হযরত মুহম্মদ (স.) বিশ্বকে জয় করেছিলেন তাঁর
মানবিক গুণাবলি দ্বারা। মানুষের জন্য তিনি দিওয়ানা ও কল্যাণকামী হলেও
তাঁর চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। তাঁকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা
করা হয়েছিল। শারীরিক-মানসিক সব ধরনের নির্যাতনে তাঁকে নিষ্পেষিত করা
হয়েছিল। এত কিছুর পরও তিনি প্রাণের শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। মহান
আল্লাহর কাছেও কারো বিরুদ্ধে কোনো নালিশ করেননি।
➠ উদ্দীপকে হযরত নূহু (আ.) ধর্ম ও ন্যায়ের পথে সবাইকে আহ্বান জানালেও
মাত্র ৪০ জন মানুষ তার আহ্বানে সাড়া দেয়। অন্যরা তাঁর বিরোধিতা এবং
অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। তাদের অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে গেলে
নূহু (আ.) তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন। ওই ৪০ জন বাদে
বাকিদের আল্লাহ ধ্বংস করে দেন। তাই এক্ষেত্রে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর থেকে
হযরত নূহু (আ.)-এর ভিন্নতা আমরা লক্ষ করি।
ঘ. হযরত নূহু (আ.) যদি আরো ধৈর্য ও ক্ষমার নীতি গ্রহণ করতেন তাহলে মহানবি
মুহম্মদ (স.)-এর বিশেষ গুণটি তাঁর মধ্যে ফুটে উঠত।
➠ মানুষ মুহম্মদ (স.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। মানবীয় সকল
শ্রেষ্ঠ গুণের সমাবেশ ঘটেছিল তাঁর চরিত্রে। ভালোবাসা, কল্যাণকামিতা,
ধৈর্য ও ক্ষমার মহৎ গুণ আজও পৃথিবীতে উদাহরণ হয়ে আছে। অথচ তাঁর জীবনের
মহৎ আদর্শকে গ্রহণ না করে কুরাইশরা তাঁর বিরোধিতা করে নির্যাতন-নিপীড়নের
পথ বেছে নেয়। পাথরের আঘাতে তাঁকে বারবার রক্তাক্ত করা হয়। তারপরও তিনি
কখনোই শত্রুদের ওপর প্রতিশোধ নিতে চাননি। বরং তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনাও করেননি। বরং বলেছেন,
“এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা করো।”
➠ উদ্দীপকে হযরত নূহু (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে ধর্ম ও ন্যায়ের পথে আহ্বান
জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র চল্লিশজন মানুষ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়। বাকিরা
তাঁর বিরুদ্ধাচারণে লিপ্ত হয়। নুহু (আ.) ও তাঁর অনুসারীদেরকে অত্যাচারে
অতিষ্ঠ করে তোলে। তাদের অত্যাচারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি আল্লাহর
কাছে ফরিয়াদ করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। আল্লাহ তখন
মহাপ্লাবন দিয়ে অত্যাচারীদের ডুবিয়ে মারেন।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে আমরা লক্ষ করি মহানবি (স.) সীমাহীন
নির্যাতন ও কষ্ট ভোগ করার পরও তিনি কাফেরদের মোকাবেলায় ব্যবস্থা নেওয়ার
জন্য আল্লাহর কাছে কোনো ফরিয়াদ বা প্রার্থনা করেননি। তিনি সবসময় মনে
করতেন যারা তাঁর ওপর অন্যায় করেছে তারা না বুঝে করেছে। তিনি তাদের ওপর
কোনোরূপ প্রতিশোধের চিন্তা কখনোই করেননি। তিনি মনে করতেন অবাধ্যদের সৎপথে
আনার চূড়ান্ত চেষ্টা চালানোই তাঁর কাজ। তিনি সবকিছু বিচার করতেন মানবিক
বিবেচনায়। প্রতিশোধ গ্রহণের স্পৃহা তার ভেতর কখনোই কাজ করেনি।
মনুষ্যত্বের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটেছিল তাঁর চরিত্রে। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত
নূহু (আ.)-এর মধ্যে যদি ক্ষমা ও ধৈর্যের গুণটি আরো বেশি প্রকাশ পেত তবে
মহানবি মুহম্মদ (স.) এর চরিত্রের মতো তা তাঁর মধ্যেও ফুটে উঠত।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
স্ত্রীর দেওয়া বিষপানে মৃত্যুকালে ইমাম হাসান তাঁর বিষদাতার পরিচয় জানতে
পেরেও তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “তোমাকে বড়ই ভালোবাসিতাম, বড়ই স্নেহ করিতাম,
তাহার উপযুক্ত কার্যই তুমি করিয়াছ। তোমার চক্ষু হইতে হাসান চিরতরে বিদায়
হইতেছে। সুখে থাক, তোমাকে আমি ক্ষমা করিলাম।”
উৎস: বিষাদ-সিন্ধু – মীর মশাররফ হোসেন
ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে ‘স্থিতধী’ বলা হয়েছে কাকে?
খ. ‘তাঁহারই দিকে সকলের মহাযাত্রা’। কেন? বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “প্রতিফলিত দিকটি ছাড়াও হযরত মুহম্মদ (স.) অন্যান্য গুণে গুণান্বিত
ছিলেন”- ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে ‘স্থিতধী’ বলা হয়েছে হযরত আবু বকর
(রা.)-কে।
খ মৃত্যুর পর সকলকেই আল্লাহপাকের নিকট ফিরে যেতে হবে বিধায় ‘মানুষ
মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত আবু বকর (রা.) বলেছেন ‘তাঁহারই দিকে সকলের
মহাযাত্রা’।
➠ আল্লাহ তায়ালা বিশ্বভুবনের সকল কিছুরই সৃষ্টিকর্তা। তিনি অমর ও
অবিনশ্বর। তিনি জিন ও মানবজাতিকে তাঁরই ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
দুনিয়াতে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ আখিরাতে লাভ করবে পরম
সুখের স্থান জান্নাত। আর দুনিয়ার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটবে মৃত্যুর
মাধ্যমে। প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে ফিরে
যেতে হবে। তাঁর কাছেই সকলের মহাযাত্রা।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.) -এর
ক্ষমাশীলতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি দুনিয়াতে
ক্ষমার এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। শত্রুর তীব্র অত্যাচারের
মুখেও তাঁর মুখ থেকে কোনো অভিশাপের বাণী প্রকাশ পায়নি। বরং তিনি বলেছেন,
‘এদের ক্ষমা কর প্রভু, এদের জ্ঞান দাও’। তায়েফে সত্য প্রচারে গিয়ে শত্রুর
প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত হয়েও তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে
মানবজাতির জন্য তিনি ক্ষমার অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত ইমাম হাসান মৃত্যুকালে তাঁর ঘাতকের পরিচয় জেনেও তাকে
ক্ষমা করে দেন। এর মাধ্যমে তাঁর মাঝে ক্ষমাশীলতার অপূর্ব প্রকাশ ঘটেছে।
হযরত মুহম্মদ (স.) শত্রুকে নাগালে পেয়েও মাফ করে দিয়েছেন। তেমনি
উদ্দীপকের ইমাম হাসানও নিজের ঘাতককে নাগালে পেয়েও ক্ষমা করেছেন। উভয়ের
মাঝেই ক্ষমাশীলতার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য ফুটে ওঠে।
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত ক্ষমাশীলতার দিকটি ছাড়াও হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন
অজস্র চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত।
➠ মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় হযরত মুহম্মদ (স.) তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে
গেছেন। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার
মধ্যে থেকেই সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। ক্ষমা ও মহত্ত্ব,
প্রেম ও দয়া ছিল তাঁর অসংখ্য গুণের মধ্যে অন্যতম। তাঁর সাধনা, ত্যাগ ও
কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সব মানুষের জন্য অনুকরণীয়।
➠ উদ্দীপকে মুহম্মদ (স.)-এর অসংখ্য চারিত্রিক গুণের মধ্যে মাত্র একটি
দিকের প্রতিফলন ঘটেছে। ইমাম হাসান তাঁর হন্তারকের পরিচয় জানা সত্ত্বেও
তাকে ক্ষমা করার মাধ্যমে মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতা গুণের প্রতিফলন
ঘটান। মুহম্মদ (স.) এই ক্ষমাশীলতা ছাড়াও আরও অসংখ্য গুণে গুণান্বিত
ছিলেন।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স)’ প্রবন্ধে মানুষ হিসেবে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর
বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে। চারিত্রিক গুণাবলি বিবেচনায় হযরত মুহম্মদ
(স.) ছিলেন এক অসাধারণ চরিত্র। তাঁর মাঝে ছিল ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা,
সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস, মৌর্য, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস,
তীক্ষ্ম-দৃষ্টি ইত্যাদি অজস্র গুণের সমাহার। এ কারণেই মানবজাতির জন্য
তিনি হয়েছেন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। আমাদের অতি আপনজন হয়েও হয়েছেন অনুকরণীয়,
বরণীয়। উদ্দীপকে হযরত মুহম্মদ (স.) এর এই অজস্র গুণের মধ্যে একটি তথা
ক্ষমার দিক প্রতিফলিত হয়েছে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
হযরত হাসান বসরী (র.) রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এক লোক এসে
তাঁকে অহেতুক গালাগাল করল। লোকটি চলে যাওয়ার পর হাসান বসরী (র.) তার জন্য
দুই হাত তুলে দোয়া করলেন। উপস্থিত লোকদের একজন যখন জিজ্ঞেস করলেন, যে
ব্যক্তি আপনাকে গালমন্দ করল, দুর্ব্যবহার করল তার জন্য কেন দোয়া করলেন?
তিনি বললেন, ওই লোকটির মনে আছে মানুষের প্রতি ঘৃণা, গালাগাল। সে তাই করে।
আমার মনে আছে কল্যাণ কামনা। আমি তাই করি।
ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
খ. মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর পর মদিনায় আঁধার ঘনিয়ে আসার মতো হলো কেন?
গ. উদ্দীপকের হাসান বসরী (র.)-এর চরিত্রে মহানবি (স.)-এর কোন গুণের
প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ওই গুণটি মানব চরিত্র গঠনে কীভাবে ভূমিকা রাখে? উদ্দীপক ও ‘মানুষ
মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধটি রচনা করেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।
খ. মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর পর নেতা হারানোর শোকে মদিনায় আঁধার ঘনিয়ে
আসার মতো হলো।
➠ মুহম্মদ (স.) ছিলেন মুসলিম জাতির নেতা। তাঁকে মদিনার সকলে প্রাণের
চেয়েও বেশি ভালোবাসত। তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সকলে ইসলামের সেবায়
নিয়োজিত ছিল। ফলে মদিনাবাসীরা মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুকে মেনে নিতে
পারেনি। তারা মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যু সংবাদে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে। এই
সংবাদে সমগ্র মদিনায় আঁধার ঘনিয়ে আসার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
গ. মহানবি (স.)-এর অন্যতম গুণ ‘ধৈর্য’-এর প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের হাসান
বসরী (র.)-এর চরিত্রে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে মুহম্মদ (স.) -এর
চরিত্রে কীভাবে সকল প্রকার মানবীয় গুণের সমাবেশ ঘটেছে। বৈরী শক্তির
অত্যাচারে তিনি বারবার জর্জরিত হয়েছিলেন। সত্য প্রচার করতে গিয়ে তিনি
তায়েফে পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েছিলেন। নির্মম অমানুষিক অত্যাচারে মক্কা
থেকে মদিনায় হিজরতে বাধ্য হয়েছিলেন। সত্য প্রচারের অপরাধে যারা তাঁকে
শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এমনকি হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল তিনি তাদেরকে
কোনোদিন অভিশাপ দেননি। বরং তাদের সৎপথে ফেরানোর জন্য আল্লাহর কাছে
প্রার্থনা করেছেন।
➠ আলোচ্য উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, এক ব্যক্তি হাসান বসরী (র.)-এর সাথে
অসৌজন্যমূলক আচরণ করলেও তিনি উত্তেজিত না হয়ে শান্ত থেকেছেন। কোনো
প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করেননি। নিজেকে সংযত রেখে মন্দ ব্যবহারের জবাবে
ভালো ব্যবহার করেছেন। হাসান বসরী (র.) এ বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলেও প্রশান্ত
মনে তার কারণ ব্যাখ্যা করলেন। তাঁর ধৈর্য ধারণের এই আদর্শ মানুষকে
অনুপ্রাণিত করেছে। তাই বলতে পারি, উদ্দীপকের হাসান বসরী (র.)-এর চরিত্রে
মহনবি (স.)-এর অন্যতম মানবীয় গুণ-ধৈর্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ধৈর্য নামক গুণটি মানব চরিত্র গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা
পালন করে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত এবং মহানবি (স.) এর মহিমান্বিত জীবন থেকে
আমরা সে শিক্ষাই পাই।
➠ ধৈর্যের মতো মহৎ গুণ কীভাবে মানুষকে মহামানবে পরিণত করে তা ‘মানুষ
মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধ থেকে আমরা জানতে পারি। মহানবি (স.) কে বিভিন্ন
সময়ে শত্রুরা লাঞ্ছনা দিয়েছে, তাঁর ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে, তাঁর
প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে জয়ীর আসনে তিনি বসে তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
ক্রোধ, ঘৃণা বা বিরক্তির একটি কথাও তাঁর মুখে উচ্চারিত হয়নি। সত্য
প্রচারে স্বার্থে, মানুষের কল্যাণের স্বার্থে সব কষ্ট হাসিমুখে সয়েছেন
তিনি।
➠ উদ্দীপকের উল্লিখিত হযরত হাসান বসরী (র.)-এর মাঝে এই ধৈর্যের গুণটি
তাঁকে ব্যাপকভাবে মহিমান্বিত করে। তাঁর প্রতি যে অসদাচরণ করা হয়েছে তিনি
তা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করেছেন। ধৈর্যধারণের এই দৃষ্টান্ত আশপাশের
মানুষ এমনকি দুর্বৃত্ত শ্রেণির মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলে। মন্দ ব্যবহারের
জবাবে মন্দ ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে হাসান বসরী (র.) তার চরিত্র মাধুর্য
তুলে ধরতে পারতেন না। কারো গালাগাল নীরবে সহ্য করা সহজ কাজ না। তদুপরি
তিনি আবার ওই ব্যক্তির জন্য হাত তুলে দোয়া করলেন। তিনি ধৈর্যের কঠিন
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
➠ উদ্দীপক এবং প্রবন্ধ বিচার করলে বোঝা যায়, মহামানবের ধৈর্যের মাধ্যমেই
পৃথিবীতে কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। মহানবি (স.) ধৈর্যের মাধ্যমে একটি
অধঃপতিত জাতিকে আলো ও মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই আমরা জানতে
পেরেছি ‘আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন’ পক্ষান্তরে হাসান বসরী (র.)-এর
ধৈর্য ধারণও যুগ যুগ ধরে মানুষকে ধৈর্য ধারণে উদ্বুদ্ধ করে। মানব চরিত্র
গঠনে ধৈর্যই সবচেয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। যে কোনো কল্যাণমূলক কাজ করতে
গেলেই সেখানে বিঘ্ন আছে, কষ্ট আছে। এগুলোকে যারা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা
করে এগিয়ে যায়, তারাই সাফল্য লাভ করে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
এক কাপড়ের ব্যবসায়ী তার দোকানটি করিম নামের এক ছেলের দায়িত্বে রেখে বাইরে
চলে গেলেন। নানা দুর্বিপাকে দীর্ঘদিন তিনি আর ফিরতে পারলেন না। করিম তার
কর্তব্যনিষ্ঠা দিয়ে আরো তিনটি দোকান স্থাপন করল। সাত বছর পর ওই ব্যবসায়ী
ফিরে এলে করিম দোকানের দায়িত্ব তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হলো।
করিমের মহৎপ্রাণের পরিচয় পেয়ে ব্যবসায়ী অভিভূত হলেন। তিনি করিমের হাতেই
দোকান বুঝিয়ে দিয়ে ধর্ম কর্মের জন্য আবার বেরিয়ে পড়লেন। বালক তার সততার
পুরস্কার পেল।
ক. কার মৃত্যুর সংবাদে কারো মুখে কথা সরে না?
খ. “যে বলিবে হযরত মরিয়াছেন, তাহার মাথা যাইবে” বীরবাহু ওমর এ কথা বললেন
কেন?
গ. উদ্দীপকের বিষয়বস্তু মহানবি (স.)-এর গুণাবলির কোন দিকটির সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. সততা কীভাবে মানুষের মহিমান্বিত করে উদ্দীপক ও মানুষ মুহম্মদ (স.)
প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর সংবাদে কারো মুখে কথা সরে না।
খ. মুহম্মদ (স.)-কে অধিক ভালোবাসার কারণে তার মৃত্যুসংবাদ সইতে না পেরে
ওমর (রা) বলেছেন, ‘যে বলিবে হযরত মরিয়াছেন, তাহার মাথা যাইবে’।
➠ ওমর (রা.) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং মুহম্মদ (স.)-এর সাহাবি।
তিনি মুহম্মদ (স.)-কে অত্যধিক ভালোবাসতেন। তাঁর জন্য জীবন উৎসর্গ করতেও
রাজি ছিলেন। এই প্রাণপ্রিয় রাসুলের মৃত্যু সংবাদ তার বুকে শেলের মতো
বিঁধে। এজন্য তিনি রাসুলের মৃত্যুসংবাদে উন্মুক্ত তরবারি হাতে দাঁড়িয়ে
যান এবং প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন।
গ. মহানবি (স.)-এর অসংখ্য গুণের মধ্যে সততা ও সত্যবাদিতার গুণটি
উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধে আমরা লক্ষ করি মহানবি (স.) বাল্যকাল থেকেই
বিশ্বস্ত, প্রিয়ভাষী এবং সত্যবাদী ছিলেন। সততা ও সত্যবাদিতার জন্য তিনি
আল-আমিন উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। সততার জন্য তাঁর প্রতি বিবি খাদিজা
বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। নিঃস্ব কাঙালের মতো তিনি জীবনযাপন করেছেন।
কিন্তু সততা ও সত্যবাদিতা থেকে একচুলও নড়েন নি। শত্রুরাও তাঁর সততার
স্বীকৃতি দিয়েছিল।
➠ আলোচ্য উদ্দীপকে করিম নামের বালকটি সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছে। সততার সাথে সে ব্যবসায়ীর আমানত রক্ষা করেছে। নতুন তিনটি দোকান
স্থাপন করেছে। কিন্তু সে নিজেকে এগুলোর মালিক মনে করেনি। যে কারণে
ব্যবসায়ী ফিরে এলে দোকান তার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে।
উদ্দীপক ও ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে সততা কীভাবে মানুষকে মহিমান্বিত
করে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঘ. মহানবি (স.) তাঁর সততার কারণে সকলের আস্থাভাজন ও আল-আমিন উপাধিতে
ভূষিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে উদ্দীপকে করিম সততার জন্য উপযুক্ত পুরস্কার
পেল।
➠ মহানবি (স.) সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আল-আমিন
উপাধি পেয়েছিলেন একেবারে ছোটবেলায়। তাঁর সততার কারণেই হযরত খাদিজা
(রা)-এর ব্যবসায় বহুগুণে সম্প্রসারিত হয়েছিল। তিনি কখনও মিথ্যার আশ্রয়
নেননি। জীবনের সকল ক্ষেত্রে তিনি সততাকেই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা হিসেবে
গ্রহণ করেছিলেন।
➠ উদ্দীপকের বালক করিম যে সততার পরিচয় দিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার।
করিমের মাঝে সততা ও নিষ্ঠা ছিল বলেই একটি দোকান পরিচালনা করে আরো ৩টি
দোকান স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে। তার ভেতরে কোনো লোভ কাজ করেনি। দোকানের
মূল মালিকের সাথে সে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। বরং সততা ও মনুষ্যত্ববোধে
উজ্জীবিত এই বালক ফিরে আসা মালিকের কাছে দোকানের ভার ন্যস্ত করার জন্য
প্রস্তুত হয়েছে। বালক করিমের সততায় দোকানের মালিক মুগ্ধ হয়েছেন।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধ এবং উদ্দীপকের বিষয় পর্যালোচনা করে আমরা
বলতে পারি সততার মতো বড়গুণ আর নেই। মানুষ মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে
সততার জন্যই। আমাদের মহানবি (স.) ছিলেন মানবতার মহান শিক্ষক। তিনি সততাসহ
সব সৎগুণে চর্চা করে দেখিয়ে দিয়েছেন। সমাজের সব মানুষ সততার নীতি অনুসরণ
করলে কোথাও স্বার্থে দ্বন্দ্ব হবে না। মানুষের জীবনে বিপর্যয় আসবে না।
মানুষ নিরাপত্তা লাভ করবে। কেউ কারো সম্পদ বা অধিকার জোর করে হরণ করবে
না। এই আদর্শ অনুসরণ করেই করিম নিজেকে মহৎপ্রাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
নিজের জীবনকে সাফল্যমমণ্ডিত করতে পেরেছে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
কয়েক বছর আগের ইমরানের সাথে ভালোভাবে কথাও বলত না কেউ। কারণটা ছিল তার
কুশ্রীদর্শন অবয়ব ও দারিদ্র্য, সে কালো ও বেঁটে। থ্যাবড়া নাক আর তোবড়ানো
গালের কারণে চেহারাটা তার অদ্ভুতদর্শন। তবে এখন সে সকলের প্রিয় ‘ইমরান
ভাই’। মানুষের কল্যাণে জীবনকে উৎসর্গ করেছে ইমরান। এলাকার কেউ বিপদে পড়লে
বা সাহায্য চাইলে যথাসাধ্য চেষ্টা করে সে। প্রথম প্রথম সবাই নানাভাবে
বাধা দিলেও দমে যায়নি ইমরান। বরং পরম মমতায় শত্রু-মিত্র সবাইকে আপন করে
নিয়েছে। হযরত মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানুষের ভালোবাসা পেতে
চায় ইমরান।
ক. মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুশয্যার পার্শ্বে শেষ পর্যন্ত কে ছিলেন?
খ. মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যু সংবাদে মূর্ছিত মুসলমানদের চৈতন্য হয় কীভাবে?
ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের ইমরানের কোন বৈশিষ্ট্যটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে
বর্ণিত মুহম্মদ (স.)-এর বৈশিষ্ট্যের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ বাক্যটির যৌক্তিকতা ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ রচনার আলোকে
বিশ্লেষণ করো।
ক. মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুশয্যার পার্শ্বে শেষ পর্যন্ত আবু বকর (রা.)
ছিলেন।
খ. মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুসংবাদে মূর্ছিত মুসলমানদের চৈতন্য হয় আবু বকর
(রা.)-এর গম্ভীর উক্তিতে।
➠ আবু বকর (রা.) মুহম্মদ (স.) -এর মৃত্যুশয্যার পাশে শেষ পর্যন্ত ছিলেন।
তিনি শোকে বিহ্বল মুসলিমদের বোঝালেন মুহম্মদ (স.) আমাদের মতোই মানুষ।
তাঁরও জীবন-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ রয়েছে। তাই মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুতে ভেঙে
না পড়ে মুসলমানদের আল্লাহর একত্ববাদের সত্যকে মাথা পেতে গ্রহণ করতে হবে।
আর আবু বকর (রা)-এর এই পরামর্শেই দুঃখ ভারাক্রান্ত মুসলমানদের চৈতন্য হয়।
গ. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত মুহম্মদ (স.)-এর শারীরিক
সৌন্দর্যের দিক থেকে উদ্দীপকের ইমরানের বৈশিষ্ট্য বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহম্মদ
(স.)-এর মানবিক গুণাবলির পাশাপাশি তাঁর সুন্দর শারীরিক সৌন্দর্যের কথা
বলা হয়েছে। হযরতের রূপলাবণ্য ছিল অপূর্ব, অসাধারণ। তাঁর সুউচ্চ গ্রীবা,
কালো কালো দুটি চোখের ঢলঢল চাহনি ছিল মন-প্রাণ কেড়ে নেওয়ার মতো। এক
অপূর্ব পুলকদীপ্ত চেহারা, সুদর্শন পুরুষ হিসেবে তিনি সহজেই মানুষের চিত্ত
আকর্ষণ করতে পারতেন।
➠ উদ্দীপকের ইমরানের কুশ্রী চেহারার কারণে কেউ তার সাথে ভালোভাবে কথা বলত
না। সবাই এড়িয়ে চলত। কারণ সে ছিল কালো ও বেঁটে। থ্যাবড়া নাক আর তোবড়ানো
গালের অধিকারী। যদিও পরবর্তীতে সেবাধর্মী কাজের মধ্য দিয়ে সে সকলের প্রিয়
হয়ে ওঠে। শারীরিক সৌন্দর্য বিবেচনায় মুহম্মদ (স.)-এর সাথে তার বৈসাদৃশ্য
বিদ্যমান।
ঘ. হযরত মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে যেকোনো মানুষই মানুষের
ভালোবাসা পেতে পারে।
➠ ‘মানুষ মুহাম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মুহম্মদ (স.) মানুষের মন
আকর্ষণ করেছিলেন মূলত তাঁর মানবীয় গুণাবলি দ্বারা। মানুষের সাথে মানুষের
ব্যবহারে তিনি ছিলেন ইতিহাসের অসাধারণ চরিত্র। ক্ষমা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও
দয়া তার অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। সারাজীবন মানবজাতির কল্যাণে
নিয়োজিত ছিলেন তিনি। তাঁর কল্যাণচিন্তা বিশ্বের সব মানুষের জন্য
অনুকরণীয়।
➠ উদ্দীপকের ইমরান হযরত মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানুষের
ভালোবাসা পেতে চায়। ইমরান মানুষের কল্যাণে জীবনকে উৎসর্গ করেছে। মানুষের
প্রয়োজনে বিপদে-আপদে সে ছুটে যায়, সাধ্যমতো চেষ্টা করে। সে ভালোবাসা দিয়ে
শত্রু-মিত্র সবাইকে আপন করে নিয়েছে।
➠ মুহম্মদ (স.) মানুষের পক্ষে যা আচরণীয় তার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও
একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। শত্রুরা তাঁর দেহ থেকে রক্ত
ঝরালেও, তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হলেও তিনি কাউকেই অভিশাপ দেননি। বরং
ক্ষমতার মসনদে আসীন হয়েও তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর নীতি ও আদর্শের
কারণেই তিনি পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছিলেন। উদ্দীপকের
ইমরান মহানবি (স.)-এর আদর্শ অনুসরণ করেই মানুষের ভালোবাসা পেতে চায়। যে
কারণে সে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেছে। মহানবির পথ ধরেই সে সবার কাছে
গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি পেয়েছে। সব মানুষের জন্যই
মহানবি (স.) সর্বশ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় আদর্শ রেখে গেছেন।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
শত্রুর প্রলোভনে পড়ে ইমাম হাসান (রা.)-কে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী জায়েদা
বিষ প্রয়োগ করেন। মৃত্যুপথযাত্রী ইমাম হাসান (রা.) বিষয়টি জানতে পেরেও তা
গোপন রাখেন। তাঁর অনুজ বিষদাতার নাম জানতে চাইলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি
জানান এবং ভবিষ্যতে জানতে পারলেও তাকে ক্ষমা করতে বলেন।
ক. ছাত্রজীবনে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন?
খ. 'মানুষের একজন হইয়াও মুহম্মদ (স.) দুর্লভ'- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর যে মহৎ
গুণের প্রভাব পড়েছে তা ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের প্রতিফলিত গুণটি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর পরিপূর্ণ গুণের
অংশবিশেষ।’ উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
ক. ছাত্রজীবনে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।
খ. অনন্য মানবিক গুণাবলির কারণে হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন দুর্লভ।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত
মুহম্মদ (স.) ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল এবং নিরহংকারী একজন মানুষ।
অত্যাচারীকে তিনি কখনো অভিশাপ দেননি। বংশগৌরব এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর
মাঝে স্থান পায়নি। উদারতার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি নেই। সত্য সাধনায় তিনি
ছিলেন বজ্রের মতো কঠিন, পর্বতের মতো অটল; অথচ করুণায় ছিলেন কুসুমকোমল।
এককথায় বলা যায় ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, সাহস, অনুগ্রহ,
আত্মবিশ্বাস, চারিত্রিক সৌন্দর্য এসব মানবিক দিকের সমাহার মানুষের মাঝে
খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই তিনি মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
গ. উদ্দীপকে ইমাম হাসান (রা.)-এর চরিত্রে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর যে মহৎ
গুণের প্রভাব পড়েছে তা হলো ক্ষমাশীলতা।
➠ প্রবন্ধানুসারে, হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের অগণিত মানবিক গুণের
একটি হলো ক্ষমাশীলতা। মক্কার পথেপ্রান্তরে পৌত্তলিকদের পাথরের আঘাতে তাঁর
শরীরের বসন বহুবার রক্তরঙিন হয়েছে, তবু তিনি পাপী মানুষকে ভালোবেসেছেন।
বারবার আহত হয়েও তাদের অভিশাপ দেননি বরং ক্ষমা করেছেন। তায়েফে শত্রুর
পাথরের আঘাতে তিনি অবসন্ন হয়ে পড়েন, শত্রুরা আবার তাঁকে দাঁড় করিয়ে পাথর
মারতে থাকে, রক্তে তাঁর বসন ভিজে যায়। কিন্তু তবুও তিনি তাদের জন্য
আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন- 'এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা করো।'
মক্কা বিজয়ের পর তিনি পাপী মানুষগুলোর জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।
➠ হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের অনুরূপ গুণের প্রভাব উদ্দীপকের ইমাম
হাসান (রা.)-এর চরিত্রে লক্ষণীয়। ইমাম হাসান (রা.) কে তাঁর স্ত্রী জায়েদা
বিষপ্রয়োগে হত্যা করেন। তিনি সম্পূর্ণ বিষয়াদি জানতে পেরেও তা গোপন
রাখেন। এমনকি তাঁর অনুজের নিকটও তা প্রকাশ করেননি। বরং ভবিষ্যতে জানতে
পারলেও ঘাতককে যেন ক্ষমা করা হয় সেই অনুরোধ করেন। এর মাধ্যমে ইমাম হাসান
(রা.) চরিত্রে ক্ষমাশীলতার এক মহৎ দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘উদ্দীপকে প্রতিফলিত গুণটি হজরত মুহম্মদ (স.) চরিত্রের পরিপূর্ণ গুণের
অংশবিশেষ’- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে দেখা যায় যে, হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন
অত্যন্ত ক্ষমাশীল, উদার, দূরদর্শী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন একজন মানুষ।
গৃহস্থের ধনসম্পদ, নেতৃত্বের মর্যাদা, রাজার সিংহাসন সবকিছুর প্রতি তিনি
ছিলেন নির্লোভ। তিনি মক্কা ও তায়েফে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু
তবুও তাদের অভিশাপ দেননি। বরং মক্কাবিজয়ের পর ঘোষণা করেন সাধারণ ক্ষমা।
সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী হয়েও তিনি তা কখনোই প্রয়োগ করেননি। আবার
মর্যাদাহানির আশঙ্কা তুচ্ছ করে তিনি অকুতোভয়ে আত্মদোষ উদ্ঘাটন
করেছেন।
➠ উদ্দীপকের ইমাম হাসান (রা.)-এর মাঝে ফুটে উঠেছে শুধু ক্ষমাশীলতার
দিকটি। তাঁর ঘাতক স্ত্রী জায়েদার কথা জানতে পেরেও ক্ষমা করে দেন। অনুজের
নিকট বিষয়টি গোপন রাখেন এবং ভবিষ্যতে এ সত্য প্রকাশ পেলেও তাকে ক্ষমা
করতে বলেন। ইমাম হাসান (রা.)-এর এরূপ আচরণে তাঁর অসীম ক্ষমাশীলতার দিকটি
প্রকাশ পেয়েছে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে দেখা যায় যে, হজরত মুহম্মদ (স.)-এর
চরিত্রে নানা গুণের সমাবেশ ঘটেছে। তাঁর চরিত্রের অন্যতম গুণ ক্ষমাশীলতা,
উদারতা, ত্যাগ, সাধুতা, সৌজন্য, অনুগ্রহ, দূরদর্শী চিন্তা ইত্যাদির
উল্লেখ উদ্দীপকে পাওয়া যায় না। সেখানে ফুটে উঠেছে ইমান হাসান (রা.)- এর
অন্যতম মানবিক গুণ ক্ষমাশীলতার দিক। এমন মহান ক্ষমাশীলতার দিক আমরা
মহানবি (স.)- এর অসংখ্য গুণাবলির মধ্যেও লক্ষ করি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে
হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চারিত্রিক গুণাবলির অংশবিশেষ ফুটে উঠেছে মাত্র।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
বৃদ্ধ রজব আলির বাড়ির চাকর শহিদুল। একদিন মনিবের টাকা চুরি করে সে ছেলেকে
বিদেশে পাঠায়। রজব আলির মৃত্যুশয্যায় শহিদুল অনুতপ্ত হয়ে তাঁর নিকট সব
কথা খুলে বললে রজব আলি শহিদুলকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তুমি তোমার ভুল
বুঝতে পেরেছ, এতেই আমি খুশি।
ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ রচনাটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
খ. ‘মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ' কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে উল্লিখিত
মহানবি (স.)-এর কোন পুণটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা গুণটির বাইরে মহানবি (স.)-এর আরও গুণের সমাবেশ পঠিত
প্রবন্ধে রয়েছে- বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো
ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ রচনাটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর ‘মরু-ভাস্কর’
গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
খ. অনন্য মানবিক গুণাবলির কারণে হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন দুর্লভ।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত
মুহম্মদ (স.) ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল এবং নিরহংকারী একজন মানুষ।
অত্যাচারীকে তিনি কখনো অভিশাপ দেননি। বংশগৌরব এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর
মাঝে স্থান পায়নি। উদারতার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি নেই। সত্য সাধনায় তিনি
ছিলেন বজ্রের মতো কঠিন, পর্বতের মতো অটল; অথচ করুণায় ছিলেন কুসুমকোমল।
এককথায় বলা যায় ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, সাহস, অনুগ্রহ,
আত্মবিশ্বাস, চারিত্রিক সৌন্দর্য এসব মানবিক দিকের সমাহার মানুষের মাঝে
খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই তিনি মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
গ. উদ্দীপকের রজব আলির চরিত্রে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে উল্লিখিত
মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীলতার গুণটি ফুটে উঠেছে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের মানবিক
গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মানুষের পক্ষে যা আচরণীয়, তিনি তারই
আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাঁর চরিত্রে একাধারে ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা,
সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ প্রভৃতি মহৎ গুণের সমাবেশ ঘটেছিল। আলোচ্য উদ্দীপকের
ঘটনায় তাঁর চরিত্রের বিশেষ একটি দিক লক্ষিত হয়।
➠ উদ্দীপকে বৃদ্ধ রজব আলির বাড়ির চাকর শহিদুল। ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য
সে তার মনিবের টাকা চুরি করে। অবশেষে রজব আলি মৃত্যু শয্যায় পতিত হলে
শহিদুল চুরির বিষয়টি মনে করে অনুতপ্ত হয় এবং তাকে সব কথা খুলে বলে।
উদারচিত্তের রজব আলি সব শুনে শহিদুলকে ক্ষমা করে দেন। আলোচ্য 'মানুষ
মুহম্মদ (স.)' রচনায়ও হজরত মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমাশীলতার অনন্য উদাহরণ
দেওয়া হয়েছে। ইসলামের বাণী প্রচার করতে গিয়ে তিনি শত্রুর প্রস্তুরাঘাতে
আহত হয়েছেন, তাঁর শরীরের রক্ত পাদুকায় গিয়ে জমাট বেঁধেছে। প্রতিশোধ
নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না করে তাদের ক্ষমা করেছেন, তাদের
মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের রজব আলির চরিত্রে
মহানবির ক্ষমাশীলতার গুণটিই ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা ক্ষমাশীলতার গুণটি ছাড়াও হজরত মুহম্মদ (স.)-এর
চরিত্রে নানা মানবীয় গুণাবলির সমাবেশ ঘটেছে, যা আলোচ্য প্রবন্ধেরও
উপজীব্য।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদের চারিত্রিক গুণাবলি
সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। ক্ষমা, মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া প্রভৃতি উচ্চ
মানবিক গুণাবলির সমন্বয়ে তাঁর চরিত্র মধুর হয়ে উঠেছিল। অসাধারণ হয়েও তিনি
ছিলেন অতি সাধারণ। তার এই নিরহংকারবোধ, নিষ্কলুষ জীবনযাত্রার দিকটি
উদ্দীপকের রজব আলির চরিত্রে দেখা যায় না।
➠ উদ্দীপকে রজব আলির কাজের লোক শহিদুল ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য মনিবের
অর্থ আত্মসাৎ করে। বৃদ্ধ রজব আলি শহিদুলকে বিশ্বাস করে এ বিষয়ে খোঁজ রাখে
না। কিন্তু পরবর্তীতে রজব আলিকে মৃত্যুশয্যায় দেখে পূর্বের কথা মনে করে
শহিদুল অনুতপ্ত হয়। এ অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেতে রজব আলিকে সেকথা খুলে
বলে। রজব আলি উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন। তার
ক্ষমাশীলতার এদিকটি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রেও লক্ষিত হয়।
➠ হজরত মুহম্মদ (স.) মক্কার শ্রেষ্ঠ কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেও
অহংকারবোধ করেননি। নানা প্রলোভন সত্ত্বেও তিনি সত্যের পথ থেকে এতটুকু
টলেননি। ক্ষমতার মোহ এবং প্রতিপত্তিতে বিভ্রান্ত না হয়ে নিতান্ত সাধারণের
মতোই জীবনযাপন করেছেন তিনি। শত্রুর নানা ষড়যন্ত্র ও আঘাতে জর্জরিত হলেও
তিনি তাদের ক্ষমা করেছেন, প্রার্থনা করেছেন তাদের জন্য। বস্তুত মানুষের
কল্যাণ চিন্তা দ্বারা তিনি সকলের মন জয় করেছিলেন। অর্থাৎ উদ্দীপকের রজব
আলির মধ্যে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের ক্ষমাশীলতার দিকটি প্রকাশিত
হলেও আলোচ্য প্রবন্ধে তাঁর চরিত্রের অন্যান্য মহৎ মানবীয় গুণাবলি
উল্লিখিত হয়েছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
মানুষে-মানুষে, জাতিতে-জাতিতে এই যে ভেদের প্রাচীর সহস্রাধিক বছর থেকে
মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মানুষের জ্ঞান, পৌরুষ ও আত্মসম্মানকে নীরবে
ধিক্কার দিচ্ছিল, ইসলামের পয়গম্বর হজরত মুহম্মদ (স.) এসে তাকে
নিদারুণভাবে ধূলিসাৎ করে দিলেন। তিনি উদার কণ্ঠে ঘোষণা করলেন ভেদ নাই,
মানুষে-মানুষে ভেদ নাই। আদমের সন্তান আর আদম মাটির তৈরি। অতএব কারো
গর্বিত হওয়ার কিছু নেই।
ক. কীসের সাধনায় হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্র মধুময় হয়ে উঠেছিল?
খ. ‘মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ।’ কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. হজরত মুহম্মদ (স.)-এর যে বৈশিষ্ট্যটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে, তা
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সমগ্র নয়, আংশিক ভাবকে
ধারণ করেছে।”- বিশ্লেষণ করো।
ক. সত্যের সাধনায় হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্র মধুময় হয়ে উঠেছিল।
খ. অনন্য মানবিক গুণাবলির কারণে হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন দুর্লভ।
➠ হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল এবং নিরহংকারী একজন মানুষ।
অত্যাচারীকে তিনি কখনো অভিশাপ দেননি। বংশগৌরব এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর
মাঝে স্থান পায়নি। উদারতার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি নেই। সত্য সাধনায় তিনি
ছিলেন বজ্রের মতো কঠিন, পর্বতের মতো অটল; অথচ করুণায় ছিলেন কুসুমকোমল।
এককথায় বলা যায় ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, সাহস, অনুগ্রহ,
আত্মবিশ্বাস, চারিত্রিক সৌন্দর্য এসব মানবিক দিকের সমাহার মানুষের মাঝে
খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তাই তিনি মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের মহানুভবতার ও ক্ষুদ্রতাবোধের
বৈশিষ্ট্যটি ফুটে উঠেছে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ রচনাটিতে হজরত মুহম্মদ (স.) নিজেকে অন্য সবার মতো
সাধারণ মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছেন। মক্কা বিজয়ের পর তিনি সাফা পর্বতের
পাশে বসে সত্যান্বেষী মানুষদের দীক্ষা দিচ্ছিলেন এসময় একজন লোক তাঁর কাছে
এসে ভয়ে কাঁপতে লাগল। তখন তিনি তাকে অভয় দিয়ে বলেন তাঁকে যেন সে ভয় না
পায়। কারণ তিনি কোনো রাজা বা সম্রাট নন, মানুষের প্রভুও নন বরং তিনি এমন
এক মায়ের সন্তান, সাধারণ শুষ্ক মাংসই যাঁর নিত্যকার আহার্য ছিল।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, হজরত মুহম্মদ (স.) মানুষের মাঝ থেকে ভেদাভেদের
প্রাচীরকে ধূলিসাৎ করে দেন। ঘোষণা করেন কোনো মানুষে মানুষে বিভেদ নাই।
সবাই আদম সন্তান আর আদম মাটির তৈরি। আলোচ্য প্রবন্ধেও মহানবি (স.)-এর
মহানুভবতা ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ না থাকার চেতনা লক্ষ করা যায়। তাই বলা
যায়, মহানুভবতা ও ক্ষুদ্রতাবোধের দিকটি উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে ফুটে
উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের শুধু একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে,
বাকিগুলো নয়। তাই এটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সমগ্র নয়, আংশিক
ভাব ধারণ করেছে।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ রচনাটি মহামানব হযরত
মুহম্মদ (স.)-এর জীবনের বেশকিছু ঘটনা ধারণ করেছে। সেখানে মহানবি (স.)-এর
রূপলাবণ্য, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসহ বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনচরিত
বর্ণনা করা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তায়েফে শত্রুর
প্রস্তরাঘাতে আহত হওয়ার পরও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি তিনি। অভিশাপ
দেননি শত্রুদের। মহিমান্বিত জীবন লাভের পরও তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার বা
দম্ভ ছিল না। তিনি কখনো ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ বা বৈষম্য করেননি
বিশ্বমানবের জন্য আপনাকে তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের মহানুভবতার একটি দিক প্রকাশ
পেয়েছে মাত্র। এখানে তাঁর নিরহংকার এবং মানুষে মানুষে সাম্য ও ভেদাভেদহীন
মানসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে। কিন্তু ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’-এ উক্ত বিষয়টি
ছাড়াও তাঁর চরিত্রের অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই।
উপরের আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকও আলোচ্য প্রবেন্দ্র মহানবি হযরত
মুহম্মদ (স.)-এর মহানুভবতার দিক প্রকাশ পেয়েছে।
➠ আবার, তাঁর মৃত্যুর পর আবুবকর (রা.) ও হযরত ওমর (রা.)-এর প্রতিক্রিয়ার
বিষয়টিও উদ্দীপকে নেই, যা প্রবন্ধের শুরুতে ছিল। কাজেই এই আলোচনার
প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের
সমগ্রভাব ধারণ না করে আংশিক ভাব ধারণ করেছে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ইমাম হাসান স্ত্রীর দেওয়া বিষপানে মৃত্যুকালে তাঁর বিষদাতার পরিচয় জানতে
পেরেও তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোমাকে বড়োই ভালোবাসিতাম, স্নেহ করিতাম,
তাহার উপযুক্ত কার্যই তুমি করিয়াছ। তোমার চক্ষু হইতে হাসান চিরতরে বিদায়
হইতেছে। সুখে থাকো-তোমাকে আমি ক্ষমা করিলাম।’
ক. সাফা ও মারওয়া কোথায় অবস্থিত?
খ. সুমহান প্রতিশোধ বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘প্রতিফলিত দিকটি ছাড়াও হজরত মুহম্মদ (স.) অন্যান্য গুণে গুণান্বিত
ছিলেন।’ মন্তব্যটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. সাফা ও মারওয়া পাহাড় দুটি কাবার নিকটে অবস্থিত।
খ. পরাজিত মক্কাবাসীকে ক্ষমা করে হজরত মুহম্মদ (স.) যে দৃষ্টান্ত
রেখেছিলেন তাকেই সুমহান প্রতিশোধ বলা হয়েছে।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত
মুহম্মদ (স.)-এর অনেকগুলো মানবীয় গুণের মধ্যে একটি হলো ক্ষমাশীলতা।
মক্কাবাসী কর্তৃক তিনি অনেক অত্যাচার সহ্য করেন। কিন্তু মক্কা বিজয়ের পর
তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন। বলেন, তোমাদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভনেই। যে
মক্কাবাসীরা তাঁকে ক্ষমা করেনি, তিনি তাদের ক্ষমা করে যে প্রতিশোধ
নিয়েছেন তাকেই সুমহান প্রতিশোধ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীলতার
দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মানুষ হিসেবে মুহম্মদ (স.)-এর যাবতীয়
গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে। হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন ক্ষমাশীল একজন মানুষ।
ইসলামের বাণী প্রচার করতে গেলে শত্রুরা তাঁকে পাথর নিক্ষেপ করেছে। তাঁর
শরীরের রক্ত পাদুকায় গিয়ে জমাট বেঁধেছে। প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা
সত্ত্বেও তিনি তা না করে তাদের ক্ষমা করেছেন। তাদের মুক্তির জন্য
সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেছেন।
➠ উদ্দীপকটিতে ক্ষমাশীলতার এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায়। স্ত্রীর
দেওয়া বিষপানে ইমাম হাসান মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যকালে তিনি তাঁর বিষদাতার
পরিচয় জানতে পারেন। পরিচয় জানার পরও তিনি তাকে ক্ষমা করেন। তার সুখ কামনা
করেন। আলোচ্য প্রবন্ধেও মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মধ্যে আমরা এরকম
অসাধারণ ক্ষমাশীলতার নিদর্শন দেখতে পাই। তাই বলা যায় যে, ‘মানুষ মুহম্মদ
(স.)’ প্রবন্ধের এই ক্ষমাশীলতার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে আলোচ্য
উদ্দীপকটিতে।
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত ক্ষমাশীলতার দিকটি ছাড়াও হজরত মুহম্মদ (স.) নানা
গুণে গুণান্বিত ছিলেন, যার পরিচয় পাওয়া যায় ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’
প্রবন্ধে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বলা যায় যে, হজরত মুহম্মদ (স.)
ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটেছে তাঁর
কাজে, কথায় ও আচরণে। তিনি ছিলেন সমস্ত মানবীয় গুণের আধার। শত্রুর প্রতিও
তাঁর অন্তর জুড়ে ছিল অনাবিল প্রেম ও ক্ষমাশীলতা।
➠ উদ্দীপকটিতে স্ত্রীর প্রতি ইমাম হাসানের আচরণে ক্ষমাশীলতার দিকটি
প্রতিফলিত হয়েছে। স্ত্রী তাঁকে বিষ দিয়েছে জেনেও মৃত্যুকালে স্ত্রীকে
ক্ষমা করে দিয়ে ইমাম হাসান এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। একইভাবে
মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.) ও তার শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মুহম্মদ (স.) মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ
বংশে জন্মগ্রহণ করেও কখনো বংশগৌরবের অহংকার প্রকাশ করেননি। সকলের কাছেই
তিনি সাধারণ মানুষরূপে নিজেকে তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন নির্লোভ।
নির্লোভচিত্ততার কারণে তাঁর চরিত্র ছিল পবিত্র। নানা প্রলোভন সত্ত্বেও
তিনি সত্যের পথ থেকে এতটুকু টলেননি। ক্ষমতার মোহ ও প্রতিপত্তির হাতছানিতে
নিজেকে সঁপে না দিয়ে স্রষ্টার দেওয়া দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন সদা
ব্যাপৃত। সত্য প্রচার করতে গিয়ে নানাভাব নির্যাতিত হয়েও তাঁর মুখে অভিশাপ
উচ্চারিত হয়নি। নিজেকে তিনি গড়ে তুলেছেন সাধনা, ত্যাগ আর কল্যাণ চিন্তা
দিয়ে। কিন্তু প্রদত্ত উদ্দীপকে শুধু ক্ষমাশীলতার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ক্ষমার গুণ ছাড়াও হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মধ্যে লক্ষ করা
যায় বহুবিধ মহৎ গুণের সমন্বয়। তাই বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
হজরতের চরিত্রে সংমিশ্রণ হয়েছিল কোমল আর কঠোরের। বিশ্বাসে যিনি ছিলেন
অজেয়, অকুতোভয়, সত্যে ও সংগ্রামে যিনি বজ্রের মতো কঠোর, পর্বতের মতো অটল,
তাঁকেই আবার দেখতে পাই কুসুমের চেয়েও কোমল। বন্ধু-বান্ধবের জন্য তাঁর
প্রীতির অন্ত নেই। মুখ তাঁর সব সময় হাসিহাসি, ছেলেপিলের সঙ্গে মেশেন তিনি
একেবারে শিশুর মন নিয়ে। পথে দেখা হলে বালক বন্ধুকে তার বুলবুলির খবর
জিজ্ঞেস করতে তাঁর ভুল হয় না। বন্ধু বিয়োগে চক্ষু তাঁর অশ্রুসিক্ত হয়।
বহুদিন পর দাই-মা হালিমাকে দেখে 'মা আমার' বলে তিনি আকুল হয়ে ওঠেন।
[সূত্র: মরু-ভাস্কর- হবীবুল্লাহ্ বাহার।]
ক. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত কার
বিরুদ্ধে মুহম্মদ (স.)-এর বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই?
খ. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত
'আবাল্য তিনি ছিলেন আল-আমিন'- বিশ্বস্ত, প্রিয়ভাষী, সত্যবাদী।- ব্যাখ্যা
করো।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’- প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “মহানবি (স.) ছিলেন সকল মানবীয় গুণাবলির অধিকারী।” মন্তব্যটি উদ্দীপক
ও ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত
অত্যাচারীর বিরুদ্ধে মুহম্মদ (স.)-এর বিন্দুমাত্র অভিযোগ নেই।
খ. প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির
নানা দিক প্রকাশ পেয়েছে।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবি
(স.) ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব। তিনি ছিলেন সত্যবাদী, বিশ্বাসী,
নির্ভীক, প্রিয়ভাষী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন মহামানব। তিনি
মানুষকে মুক্তি পথের সন্ধান দিয়েছেন। তিনি ছিলেন সকলের কাছে বিশ্বস্ত।
সবাই তাঁকে আল-আমিন বলে ডাকত। তিনিও সকলের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার
করতেন।
গ. উদ্দীপকে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে
বর্ণিত মহানবি (স.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
➠ আলোচ্য প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর অসংখ্য মানবীয় গুণাবলির উল্লেখ করা
হয়েছে। আর এই মানবীয় গুণাবলির দ্বারা তিনি পৃথিবীতে মানুষের মাঝে আচরণীয়
আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। ক্ষমতা ও মহত্বে, প্রেম ও দয়া তাঁর অজস্র
চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি তাঁর সমগ্র জীবনে মানবজাতির কল্যাণে
নিয়োজিত ছিলেন। ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস,
শৌর্য, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণদৃষ্টি প্রভৃতি চারিত্রিক
বৈশিষ্ট্যে তিনি ছিলেন সমুজ্জ্বল।
➠ উদ্দীপকে মহানবি (স.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করা
হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে তাঁর চরিত্রে কোমল আর কঠোরের সংমিশ্রণ ঘটেছে।
বিশ্বাসে তিনি ছিলেন অজেয়, অকুতোভয়। সত্যে ও সংগ্রামে তিনি বজ্রের মতো
কঠোর ও পর্বতের মতো অটল হলেও তিনি মানবীয় আচরণে ছিলেন কুসুমের মতো কোমল।
যার সাথে যে রকম আচরণ করা দরকার তিনি ঠিক সেভাবেই তা করতেন। এমনকি বালক
বন্ধুর সাথে দেখা হলে তিনি তার বুলবুলির খবর নিতেও ভুলতেন না। তাই বলা
যায়, উদ্দীপকে 'মানুষ মুহাম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত মহানবি (স.)-এর
চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘মহানবি (স.) ছিলেন সকল মানবীয় গুণাবলির অধিকারী।’-মন্তব্যটি উদ্দীপক
ও 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত আলোচ্য প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর অসংখ্য
মানবীয় গুণাবলির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তিনি তাঁর এই গুণাবলির দ্বারা
পৃথিবীর সকল মানুষের কাছে অনুকরণীয় আদর্শ স্থাপন করেছেন। তাঁর সাধনা,
ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর মাঝে
বিদ্যমান ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমাশীলতা, মহানুভবতা পৃথিবীতে
দুর্লভ।
➠ উদ্দীপকে মহানবি (স.)- এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর
চরিত্রের কোমলতা, কঠোরতা, উদারতা, বন্ধু-প্রীতি, মাতৃভক্তি মহানুভবতার
প্রকাশ উদ্দীপকে পরিলক্ষিত হয়। সামান্য বিষয়কেও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে
দেখতেন। ছোটো বাচ্চাদের সঙ্গে তিনি মিশতেন শিশুর মন নিয়ে। অন্যের ব্যাথায়
তিনি কষ্ট পেতেন। তাঁর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জগতে দুর্লভ।
➠ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলা যায়, উদ্দীপক ও প্রকথ উভয়ক্ষেত্রেই
মহানবি (স.)- এর মানবীয় গুণাবলি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। মহানবি (স.)
ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তিনি ছিলেন সকল মানবীয় গুণাবলির
আধার। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘মানুষ মুহাম্মদ
(স.)’ প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
তোমার ধর্ম অবিশ্বাসীদের তুমি ঘৃণা নাহি করে
আপনি তাদের করিয়াছ সেবা ঠাঁই দিয়ে নিজ ঘরে।
ভিন্ন ধর্মীর পূজা মন্দির
ভাঙিতে আদেশ দাওনি হে বীর,
আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারি নাকো পরমত।
ক্ষমা করো হজরত।/কমা করো হথ্যরত কাশ্মী নাজমুল ইসলাম।
ক. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত শেষ
পর্যন্ত হযরতের মৃত্যুশয্যার পাশে কে ছিলেন?
খ. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত
মদিনায় অন্ধকার ঘনিয়ে এলো কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সাধারণ মানুষের পরমত সহ্যের সঙ্গে তায়েফবাসীদের প্রতি
হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর আচরণিক পার্থক্য তুলে ধরো।
ঘ. ক্ষমা করো হজরত-এ ব্যক্ত বাসনা পূরণে মহানবি (স.) এর আচরণের শিক্ষা
কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে? তোমার যৌক্তিক মতামত দাও।
ক. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত 'মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধে বর্ণিত শেষ
পর্যন্ত হজরতের মৃত্যুশয্যার পাশে মহামতি আবুবকর (রা.) ছিলেন।
খ. মুহম্মাদ (স.)-এর মৃত্যুতে মদিনায় আঁধার ঘনিয়ে এলো।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত
মুহম্মদ (স.) ছিলেন সকল মানুষের প্রিয়, ইসলাম ধর্মের বাহক। তিনি যখন
মৃত্যুবরণ করলেন, তখন সমগ্র বিশ্বের বুকে শোকের ছায়া নেমে এলো। প্রিয়
পয়গম্বরকে হারিয়ে মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ল। মদিনার মানুষ হজরত মুহম্মদ
(স.) কে অত্যন্ত ভালোবাসত। তাই তাঁর জীবনাবসানের কারণে মদিনায় আধার ঘনিয়ে
এলো।
গ. সহনশীলতার দিক থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত সাধারণ মানুষের পরমত সহ্যের সঙ্গে
তায়েফবাসীদের প্রতি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর আচরণিক পার্থক্য নিরূপিত হয়।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত
মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে সহনশীলতা গুণটি
অন্যতম। ক্ষমা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়ার অধিকারী মহানবি (স.) তায়েফে সত্য
প্রচার করতে গিয়ে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কাউকে
অভিশাপ দেননি; আঘাত করেননি শত আঘাতেও ধৈর্য হারাননি।
➠ উদ্দীপকে সাধারণ মানুষের ধৈর্যহীনতা অর্থাৎ সহনশীলতার অভাব প্রকটিত
হয়েছে। ভিন্ন মতাবলম্বীদের হজরত বারবার ক্ষমা করলেও সাধারণ মানুষ তা আজ
মানতে পারছে না। তাই তারা ধৈর্যহারা হয়ে পড়েছে। ভিন্ন মতাবলম্বীদের,
অবিশ্বাসীদের প্রতি আঘাত হানার ইচ্ছে অনুভূত হয়েছ সাধারণ মানুষের মধ্যে।
আলোচ্য প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর আচরণের ভিন্নতা প্রদর্শিত হয়েছে।
সাধারণ মানুষ যেখানে অধৈর্য হয়ে পড়েছে সেখানে হজরত মুহম্মদ (স.) সব
অবস্থায় ছিলেন সহনশীল। সহনশীলতাই সাধারণ মানুষের আচরণের সাথে মুহম্মদের
আচরণের পার্থক্য নিরূপিত করেছে, যা উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে স্পষ্ট
হয়েছে।
ঘ. মহানুভবতার শিক্ষাই সাধারণ মানুষের ব্যস্ত বাসনাকে প্রভাবিত করতে
পারে।
➠ মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে বর্ণিত হজরত
মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির কথা ব্যক্ত হয়েছে। মহানুভবতার পরম
পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে মহানবি (স.) সারাজীবন সকল ধর্মের মানুষকে
ভালোবেসে ক্ষমা করেছেন, তাদের মঙ্গল কামনা করেছেন। শত্রুর প্রতি
হিংসাত্মাক মনোভাব প্রদর্শন না করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তাই
তিনি মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠ।
➠ উদ্দীপকে সাধারণ মানুষের ধৈর্যহীনতার পরিচয় পাওয়া যায়। ভিন্ন
ধর্মাবলম্বীদের মহানবি (স.) যেভাবে উদারতা দেখিয়েছেন সাধারণ মানুষ। আজ তা
পারছে না। তাই তারা ক্ষমা চায় হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কাছে কেননা, তাঁর
প্রচলিত শিক্ষা তারা ধরে রাখতে পারেনি।
➠ আলোচ্য প্রবন্ধে হজরতের সমস্ত গুণাবলি উল্লেখপূর্বক তাঁকে শ্রেষ্ঠ
মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ সকল গুণাবলি আমাদের জীবনে ধারণ করার কথা
ব্যক্ত হয়েছে। উদ্দীপকে সাধারণ মানুষের ধৈর্যহীনতা প্রকাশ পেয়েছে তারা
যদি মহানবি (স.)-এর গুণকে নিজেদের মাঝে ধারণ করতে পারে তাহলে তারা
মহানুভবতার অধিকারী বলে প্রতিভাত হবেন। সহনশীলতা ও উদারতা জাগ্রত হবে
তাদের মাঝে। এ শিক্ষাই সাধারণ মানুষের ব্যক্ত বাসনা পূরণে সহায়ক হবে।
সার্বিক বিবেচনায় বলা যায়, ক্ষমা করো হজরত- এ ব্যস্ত বাসনা পূরণে মহানবি
(স.)-এর আচরণের শিক্ষা সাধারণ মানুষকে। প্রভাবিত করতে পারে- উক্তিটি
যথার্থ।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মৃত্যুর সংবাদ শুনে অনেকেই অবিশ্বাস করে ও ক্ষিপ্ত
হয়ে ওঠে কিন্তু তিনি ছিলেন আমাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। রক্তে, মাংসে
গড়া ও সুখ-দুঃখ নিয়ে ছিল তাঁর জীবন। পৃথিবীতে এসেছিলেন আল্লাহর আদেশে
মানবজাতির হেদায়েতের জন্য। সকল যন্ত্রণা, অত্যাচার সহ্য করে হাসিমুখে
তিনি দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ রচনাটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
খ. ‘মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ’- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবির চরিত্রের যে দিকটি
বর্ণিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির খণ্ডচিত্র
মাত্র”- বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ রচনাটি 'মরু ভাস্কর' গ্রন্থের অন্তর্গত।
খ. অনন্য মানবিক গুণাবলির কারণে হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন দুর্লভ।
➠ হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল এবং নিরহংকারী একজন মানুষ।
অত্যাচারীকে তিনি কখনো অভিশাপ দেননি। বংশগৌরব এক মুহূর্তের জন্যেও তাঁর
মাঝে স্থান পায়নি। উদারতার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি নেই। সত্য সাধনায় তিনি
ছিলেন বজ্রের মতো কঠিন, পর্বতের মতো অটল; অথচ করুণায় ছিলেন কুসুমকোমল।
এককথায় বলা যায় ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, সাহস, অনুগ্রহ,
আত্মবিশ্বাস, চারিত্রিক সৌন্দর্য এসব মানবিক দিকের সমাহার মানুষের মাঝে
খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই তিনি মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর চরিত্রের
দায়িত্বশীলতা, সহনশীল ও ক্ষমাপরায়ণতার দিকটি বর্ণিত হয়েছে।
➠ আলোচ্য প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবিক গুণাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তিনি সারাজীবন মানব জাতির কল্যাণে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর ত্যাগ, সাধনা,
মহত্ত্ব সারা বিশ্বের সকল মানুষের জন্য অনুকরণীয়। তায়েফে সত্য প্রচার
করতে গিয়ে তাঁকে অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়। তবুও তিনি
সত্য প্রচারে পিছপা হননি। সকল প্রতিকূলতাকে সহ্য করে হাসিমুখে অপরাধীদের
ক্ষমা করেছেন।
➠ উদ্দীপকে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মহত্ত্ব, দায়িত্বশীলতা এবং ন্যায়পরায়ণ
জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি আমাদের মতোই রক্ত-মাংসের মানুষ ছিলেন। কিন্তু
তিনি সারাজীবন মানব জাতির হেদায়েতের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর ওপর সকল
অত্যাচার সহ্য করে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন হাসিমুখে। সুতরাং,
উদ্দীপকে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মহানবির চরিত্রের দায়িত্ব
নিষ্ঠা, মহত্ত্ব, ক্ষমতা ও সহনশীলতার দিকটি বর্ণিত হয়েছে।
ঘ. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে সামগ্রিকভাবে মহানবি (স.)-এর মানবিক
গুণাবলির বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে উদ্দীপকের ক্ষুদ্র পরিসরে তার সমস্ত
কিছু উঠে আসেনি।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে আলোচিত হয়েছে মানব জাতির শ্রেষ্ঠ আদর্শ
হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলি ও জীবন বাস্তবতা। তিনি ছিলেন সকল
গুণের আধার। মানুষের পক্ষে যা অনুকরণীয় তিনি তারই আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে
গেছেন। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার
মধ্যে থেকেই একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। ক্ষমা,
মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া তাঁর চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান।
➠ উদ্দীপকে মহানবি (স.)-এর জীবন প্রবাহের কিছু দিক নিয়ে আলোকপাত করা
হয়েছে। তিনি আমাদের মতো সাধারণ মানুষ হলেও সারাজীবন মানবজাতির কল্যাণে
নিয়োজিত ছিলেন। নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সকল অনাচার-অত্যাচার তিনি
হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে সংক্ষিপ্ত পরিসরে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির কিছু
দিক উঠে এসেছে। কিন্তু আলোচ্য প্রবন্ধে আমরা হজরত মুহম্মদ (স.) সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা পাই। মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে তিনি তাঁর জীবন
রূপায়িত করে তুলেছিলেন। তাঁর সাধনা, ত্যাগ, কল্যাণচিন্তা ছিল বিশ্বের
সমগ্র মানুষের জন্য অনুকরণীয়। তাছাড়া ইসলাম প্রচারে নবিজির জীবনের বেশ
কিছু ঘটনা প্রবন্ধে আলোকপাত করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি মহানবি
হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির সামগ্রিক চিত্র নয়, খণ্ডচিত্র
মাত্র।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
বিপত্নীক আজিম সাহেব রাজধানীর গুলশানে বিশাল বাড়িতে একাই থাকেন। তাকে
দেখাশোনা করার জন্য রয়েছে বিশ বছরের পুরোনো বিশ্বস্ত চাকর নিয়ামত।
ছেলেমেয়েরা সবাই প্রবাস জীবনযাপন করছে। একদিন এই বিশ্বস্ত চাকর প্রভুর
সর্বস্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ চাকরটিকে মালামাল সমেত ধরে নিয়ে আসে।
আজিম সাহেব তাকে ক্ষমা করে দেন।
ক. হুদায়বিয়া কী?
খ. মহানবি (সা.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ কেন?
গ. ‘মানুষ মুহম্মদ (সা.)’ প্রবন্ধের কোন দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে?
নির্ণয় করো।
ঘ. ‘মহানবি (সা.) এবং আজিম সাহেব উভয়েই ক্ষমার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছেন’- বিশ্লেষণ করো।
ক. হুদায়বিয়া হলো একটি যুদ্ধক্ষেত্র যেখানে বিধর্মীদের সঙ্গে রাসুল
(সা.)-এর একটি সন্ধিপত্র স্বাক্ষরিত হয়।
খ. অনন্য মানবিক গুণাবলির কারণে হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন দুর্লভ।
➠ হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল এবং নিরহংকারী একজন মানুষ।
অত্যাচারীকে তিনি কখনো অভিশাপ দেননি। বংশগৌরব এক মুহূর্তের জন্যেও তাঁর
মাঝে স্থান পায়নি। উদারতার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি নেই। সত্য সাধনায় তিনি
ছিলেন বজ্রের মতো কঠিন, পর্বতের মতো অটল; অথচ করুণায় ছিলেন কুসুমকোমল।
এককথায় বলা যায় ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, সাহস, অনুগ্রহ,
আত্মবিশ্বাস, চারিত্রিক সৌন্দর্য এসব মানবিক দিকের সমাহার মানুষের মাঝে
খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই তিনি মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
গ. মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধের মহানবির ক্ষমা ও মহত্ত্বের দিকটি
উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মানবতার বন্ধু মুহম্মদ (স.)-এর ক্ষমা ও
মহত্ত্বের অনুপম চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মুহম্মদ (স.) এর জীবনের উন্নত
মানবিক গুণাবলিগুলো আলোচ্য প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধে তাকে
অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবেও স্থান দেয়া হয়েছে।
➠ উদ্দীপকে আজিম সাহেবও একজন উন্নত মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ। কেউ তার
ক্ষতি করলে তাকে তিনি নিজগুণে ক্ষমা করে দেন। তার বিশ বছরের এক বিশ্বস্ত
চাকর একদিন সর্বস্ব নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ চাকরটিকে মালামালসহ আটক করে।
কিন্তু আজিম সাহেব তাকে ক্ষমা করে দেন। আজিম সাহেবের এই মহত্ত্ব যেন
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধেরই প্রতিফলন।
➠ প্রবন্ধে মুহম্মদ (স.) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে তায়েফবাসীর নির্মম
নির্যাতনের শিকার হন। কিন্তু তিনি তাদেরকে কোনো অভিশাপ না দিয়ে ক্ষমা করে
দেন।
ঘ. মহানবি (স.) এবং আজিম সাহেব উভয়েই ক্ষমার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন
করছেন- মানুষ মুহম্মদ (স.) প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের বিশ্লেষণে এমন
সিদ্ধান্তেই উপনীত হওয়া যায়।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মুহম্মদ (স.)-কে অনুকরণীয় অনুপম এক
আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যার ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্বমহিমায়
উজ্জ্বল। যিনি চরম দুর্যোগ মুহূর্তেও নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে শত্রুর
প্রতি ক্ষমার বাণী ঘোষণায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন।
➠ উদ্দীপকের আজিম সাহেব যেন ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের শিক্ষাই ধারণ
করে আছেন। তিনি নিজের ক্ষতি করলেও শত্রুকে ক্ষমা ঘোষণায় কুণ্ঠাবোধ
করেননি। তার অতি বিশ্বস্ত চাকর একদিন তার সর্বস্থ নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
পুলিশ চাকরটিকে মালামালসহ আটক করলেও আজিম সাহেব তাকে ক্ষমা করে দেন। তার
এ ক্ষমা এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মুহম্মদ (স.) ক্ষমা ও মহত্ত্বের উজ্জ্বল
দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্ববাসীর জন্য আদর্শ হয়ে আছেন। তিনি ছিলেন
মানবতার পরম বন্ধু। নিজে চরম নির্যাতিত, অত্যাচারিত হয়েও কাউকে তিনি
অভিশাপ দেননি, কারো ব্যাপারে কোনো অভিযোগও করেননি। ইসলামের সুমহান আদর্শ
প্রচারই ছিল তার জীবনের মূল লক্ষ্য। তাইতো তায়েফের প্রান্তরে
প্রস্তুরাঘাতে তাকে রক্তাক্ত করা হলেও তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। বরং
তাদের জন্য স্রষ্টার কাছে দোয়া করেছেন, এদের জ্ঞান দাও প্রভু এদের ক্ষমা
করো। আবার যে মক্কাবাসী তাকে এতটা কষ্ট দিয়েছে, দেশত্যাগ করতে বাধ্য
করেছে মক্কা বিজয়ের সাথে সাথে তাদেরকেও তিনি ক্ষমার বাণী শুনিয়েছেন।
মুহম্মদ (স.)-এর এই ক্ষমার বৈশিষ্ট্য সবার জন্য উজ্জ্বল আদর্শ হিসেবে
বিবেচিত।
ক. ‘পৌত্তলিক’ শব্দের অর্থ কী?
খ. “তাঁহার ললাট সামান্য কুঞ্চিত হইল”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কোন বিষয়টি হজরত মুহম্মদ (স.) এর জীবনযাপনে ফুটে উঠেছে-
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানবতাবোধের মূর্ত প্রতীক’-৪ মুহম্মদ (স.)’
প্রবন্ধের আলোকে যৌক্তিক মূল্যায়ন করো।
ক. ‘পৌত্তলিক’ শব্দের অর্থ হলো মূর্তিপূজক।
খ. বক্তৃতার মাঝখানে হঠাৎ প্রশ্ন করায় মুহম্মদ (স.)-এর মুখে কিছুটা
বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠা বোঝাতে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।
➠ একদিন মুহম্মদ (স.) মক্কার সম্ভ্রান্ত লোকদের কাছে সত্য প্রচারে মগ্ন
ছিলেন। মজলিসের এক প্রান্তে একজন অন্ধ বসেছিলেন। দু'একটি কথা তিনি
ভালোভাবে শুনতে না পাওয়ায় বক্তৃতার মাঝখানে একটি প্রশ্ন করে নবীজীকে
থামান। বক্তৃতায় বাধা পাওয়ায় হজরত মুহম্মদ (স.) এর মুখে কিছুটা বিরক্তির
আভাস ফুটে ওঠে। এটা বোঝাতেই আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের মানবতাবোধ হজরত মুহম্মদ (স.) এর জীবনযাপনে ফুটে উঠেছে।
➠ ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির
কথা বলা হয়েছে। তাঁর জীবনাদর্শ ছিল মানবতার জয়গান গাওয়া। তিনি আজীবন
মানুষের কল্যাণ চিন্তা করেছেন এবং মানুষকে মুক্তির পথে আহ্বান করেছেন।
➠ উদ্দীপকের ছকে দেখানো হয়েছে যে মহানবি (স.) এর আবির্ভাবের পূর্বে আরব
ছিল নানা অত্যাচার জুলুম আর ব্যভিচারে ভরা। এ যুগকে অন্ধকার যুগ বলা
হয়েছে। মহানবি (স.) এই অন্ধকার যুগে আলোকবর্তিকা হয়ে আসেন। নবুয়ত
প্রাপ্তির পর তিনি মানুষকে অন্যায়, অত্যাচার, রাহাজানি, মারামারি ছেড়ে
আল্লাহর নির্দেশিত পথে আহ্বান করেন। এ জন্য পৌত্তলিকরা তাকে অনেক
নির্যাতন করেন। কিন্তু তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)'
প্রবন্ধে দেখা যায় ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে নবিজী তায়েফবাসীদের দ্বারা
আঘাতপ্রাপ্ত হন। কিন্তু তবুও তিনি তাদেরকে অভিশাপ দেননি বরং তাদের
হেদায়েত এর জন্য খোদার নিকট প্রার্থনা জানিয়েছেন। মহানবি (স.) এর জীবনের
একমাত্র লক্ষ্য ছিল মানবতার মুক্তি। তাই সর্বদা হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে
মানুষকে মুক্তি ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেছেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায়
মানবতার এক মহান আদর্শ রেখে গেছেন। উদ্দীপকের ছকেও মানবতার গুণটি
নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ. মানুষ মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানবতার মুক্তিদিশারি।
➠ মানুষ মুহম্মদ (স.) ছিলেন আল্লাহর প্রিয় রাসূল। তাঁর মধ্যে মানব
চরিত্রের সকল গুণাবলির সমাবেশ ঘটেছিল। মানবতার কল্যাণে তিনি সীমাহীন
নির্যাতন সহ্য করেছেন। তবুও তিনি তাঁর নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত
হননি।
➠ উদ্দীপকের ছকে হজরত মুহম্মদ (সা.) এর আবির্ভাবের পূর্বে আরবের অবস্থা
এবং নবুওয়াত প্রাপ্তি ও নবিজীর জীবনাদর্শ ইঙ্গিত করা হয়েছে। মহানবি (স.)
এর আবির্ভাবে আরবের অন্ধকার যুগের অবসান ঘটে। জ্ঞানের আলোকবর্তিকা হাতে
নিয়ে তিনি পথভ্রষ্ট মানুষকে মুক্তির পথে আহ্বান করেন। মানবতার মুক্তিই
হলো তার জীবনের লক্ষ্য। তিনি ছিলেন মানবতার মুক্তির দিশারি। অথচ তিনি
নিজে খুবই অনাড়ম্বর জীবন-যাপন করতেন।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
সাজিদ সাহেব একদিন একটি পার্কে বসেছিলেন। হঠাৎ একটি লোক তার কাছে বলে,
‘আমি তিন দিন ধরে কিছু খাইনি, আমার কাছে কোনো টাকাপয়সা নাই।’ সাজিদ
সাহেবের দয়া হলো। তিনি লোকটিকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করলেন।
ক. সকলের মহাযাত্রা কার দিকে?
খ. ‘এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।’- বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে সাজিদ সাহেবের কর্মকান্ডে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের
কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? বর্ণনা করো।
ঘ. "উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সমগ্রতা
ধারণে সক্ষম নয়।”- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
হান্নান সাহেব অত্যন্ত সৎ ও বিচক্ষণ মানুষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তিনি
তাঁর কর্মস্থলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় কিছু সহকর্মী
বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এবং সুযোগ পেলেই ক্ষতি করার চেষ্টা করে।
হান্নান সাহেব সব বুঝতে পারলেও তাঁর অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াননি বরং
সৃষ্টিকর্তার কাছে তাদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
ক. কার শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটাইল?
খ. ‘আমি রাজা নই, সম্রাট নই, মানুষের প্রভু নই।’- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সহকর্মীদের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’
প্রবন্ধের কোন দিকটিতে আলোকপাত করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের হান্নান সাহেবের মাঝে যে গুণাবলি পরিলক্ষিত হয়, তা ‘মানুষ
মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবসময় মানুষকে অপমান করে। ক্ষমতার দাপটের কারণে
ভয়ে কেউ তার কাছে ঘেঁষতে সাহস পায় না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার হওয়ার কথা
ছিল সবার জন্য নিরাপদ আশ্রয়। মহানবি (স.)-এর আদর্শের সাথে তার পরিচয়
থাকলে নিশ্চয়ই তার কাছে থেকে সহানুভূতিশীল আচরণই পাওয়া যেত।
ক. ছাত্রজীবনে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী কোন আন্দোলনে যোগ দেন?
খ. ‘মহানবি (স.) রাসুল বৈ আর কিছু নন’- উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো
হয়েছে?
গ. কোন দিক থেকে উদ্দীপকের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মহানবি (স.)-এর
আদর্শের পরিপন্থি? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মহানবি (স.)-এর আদর্শকে ধারণ করলে উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের কাছ থেকেও
সহানুভূতিশীল আচরণই পাওয়া যেত।’- উক্তিটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের
আলোকে বিশ্লেষণ করো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় খুনাখুনি, মারামারি আর হিংসা বিদ্বেষের খবর দেখে
মাসুম খুব দুঃখিত হয়। সে ভাবে মানুষের মধ্যে সামান্য ধৈর্যও মনে হয় নেই,
অথচ মহানবি (স.) শত্রুর নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও তাদের মুক্তির
কামনা করে স্রষ্টার কাছে মোনাজাত করে বলেছেন, ‘এদের জ্ঞান দাও প্রভু,
এদের ক্ষমা করো।’ মাসুম ভাবে, অথচ আমরা তাঁরই অনুসারী হয়েও অন্যের অনিষ্ট
করতে ব্যস্ত থাকি।
ক. পৌত্তলিক কী?
খ. মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ কেন তা বুঝিয়ে লেখো।
গ. “উদ্দীপকের মাসুমের ভাবনা ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের মানুষের
পক্ষে যা আচরণীয় তার আদর্শ প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত বহন করে”- উক্তিটি ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. “উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সমগ্রভাব প্রকাশ
করে না।” উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
খোদাবশ একজন সজ্জন ব্যক্তি। তিনি একবার শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার
একটা অনাথ শিশুকে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং নিজের সন্তানের মতো আদর-যত্ন করে
বড় করতে থাকেন। কিন্তু একদিন ছেলেটি তাঁকে কষ্ট দিয়ে চলে যায়, তারপরও
তিনি ছেলেটিকে ক্ষমা করে দিয়ে তার সার্বিক মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে
প্রার্থনা করেন।
ক. মহানবি (স.)-এর মৃত্যু সংবাদ শুনে কে উলঙ্গ তরবারি হাতে লাফিয়ে
উঠলেন?
খ. ‘এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর।’ হজরত মুহম্মদ (স.)কেন এ
প্রার্থনা করেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের কোন দিকটির মিল
রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে ক্ষমাশীলতার যে দুর্লভ দৃষ্টান্ত
উপস্থাপন করা হয়েছে উদ্দীপকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
মানুষে-মানুষে, জাতিতে-জাতিতে এই যে ভেদের প্রাচীর সহস্রাধিক বছর থেকে
মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মানুষের জ্ঞান, পৌরুষ ও আত্মসম্মানকে নীরবে
ধিক্কার দিচ্ছিল, ইসলামের পয়গম্বর হজরত মুহম্মদ (স.) এসে তাকে
নিদারুণভাবে ধূলিসাৎ করে দিলেন। তিনি উদার কণ্ঠে ঘোষণা করলেন ভেদ নাই,
মানুষে-মানুষে ভেদ নাই। আদমের সন্তান আর আদম মাটির তৈরি। অতএব কারো
গর্বিত হওয়ার কিছু নেই।
ক. কীসের সাধনায় হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্র মধুময় হয়ে উঠেছিল?
খ. ‘মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ।’- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. হজরত মুহম্মদ (স.)-এর যে বৈশিষ্ট্যটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে, তা
ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সমগ্র নয়, আংশিক ভাবকে
ধারণ করেছে।”- বিশ্লেষণ করো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আল্লাহ্পাক যুগে যুগে পৃথিবীতে অসংখ্য নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। তাঁরা ছিলেন
অত্যন্ত জ্ঞানী, বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ। তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন সৎ,
সত্যবাদী ও সত্যাশ্রয়ী। সেইসাথে তাঁরা ছিলেন নিঃস্বার্থ, নির্লোভ ও
নিষ্পাপ। আল্লাহর দ্বীন প্রচার করতে তাঁরা অকাতরে নিজেদের জীবন পর্যন্ত
বিসর্জন দিতে প্রস্তুত ছিলেন।
ক. ‘হিজরত’-এর অর্থ কী?
খ. মহানবি (স.) পৌত্তলিকদের দেওয়া ধনসম্পদ ও সুন্দরী রমণীর প্রলোভন গ্রহণ
করেননি কেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত নবি ও রাসুলগণের জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার
দিকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার জন্য নবি ও রাসুলগণের জীবনাদর্শ
অনুসরণের গুরুত্ব ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
সমাজে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের ভয়াবহ ব্যবহার দেখে কলেজপড়ুয়া তিন
যুবক আরমান, শফিক ও জব্বার যুবসমাজকে এর হাত থেকে বাঁচাতে সামাজিক
আন্দোলন চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। কিছু ক্ষেত্রে তারা সফলতা পেলেও
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদেরকে প্রবল বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি শারীরিক
নির্যাতনসহ অপমানিতও হতে হয়। তবুও তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যত বাধাই আসুক এ
আন্দোলন তারা চালিয়ে যাবেই।
ক. তায়েফের অবস্থান কোথায়?
খ. খাদিজা (রা.)-এর হজরত মুহম্মদ (স.)-কে পছন্দ করার কারণ ব্যাখ্যা
করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের কোন ঘটনার সাদৃশ্য
রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুবকদের কর্মকাণ্ডে মুহম্মদ (স.) চরিত্রের মানবীয়
গুণাবলির সকল দিক চিত্রিত হয়েছে কি?- যৌক্তিক মতামত দাও।
তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।