প্রত্যাবর্তনের লজ্জা- আল মাহমুদ

 প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
প্রত্যাবর্তনের লজ্জা

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
আল মাহমুদ

শেষ ট্রেন ধরবো বলে এক রকম ছুটতে ছুটতে স্টেশনে পৌঁছে দেখি
নীলবর্ণ আলোর সংকেতহতাশার মতোন হঠাৎ
দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।

যাদের সাথে, শহরে যাবার কথা ছিল তাদের উৎকণ্ঠিত মুখ
জানালায় উবুড় হয়ে আমাকে দেখছে। হাত নেড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

আসার সময় আব্বা তাড়া দিয়েছিলেন, গোছাতে গোছাতেই
তোর সময় বয়ে যাবে, তুই আবার গাড়ি পাবি।
আম্মা বলছিলেন, আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক
কত রাত তো অমনি থাকিস।
আমার ঘুম পেলো। এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি
নিহত হয়ে থাকলাম।

অথচ জাহানারা কোনদিন ট্রেন ফেল করে না। ফরহাদ
আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়। লাইলী
মালপত্র তুলে দিয়ে আগেই চাকরকে টিকিট কিনতে পাঠায়। নাহার
কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না।
আর আমি এদের ভাই
সাত মাইল হেঁটে শেষ রাতের গাড়ি হারিয়ে
এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।

কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো।
শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে। চোখের পাতায়
শীতের বিন্দু জমতে জমতে নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ
লাল সূর্য উঠে আসবে। পরাজিতের মতো আমার মুখের উপর রোদ
নামলে, সামনে দেখবো পরিচিত নদী। ছড়ানো
ছিটানো ঘরবাড়ি, গ্রাম। জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে। তারপর
দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।
কলার ছোট বাগান।

দীর্ঘ পাতাগুলো না না করে কাঁপছে। বৈঠকখানা থেকে আব্বা
একবার আমাকে দেখে নিয়ে মুখ নিচু করে পড়তে থাকবেন,
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...।
বাসি বাসন হাতে আম্মা আমাকে দেখে হেসে ফেলবেন।
ভালোই হলো তোর ফিরে আসা। তুই না থাকলে
ঘরবাড়ি একেবারে কেমন শূন্য হয়ে যায়। হাত মুখ
ধুয়ে আয়। নাস্তা পাঠাই।
আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে
ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো।

‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার উৎস নির্দেশ:
‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। সংলাপ এবং গল্প বলার ঢংয়ে কবিতাটি রচিত।

‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা:
নীলবর্ণ আলোর সংকেত- ট্রেন ছেড়ে দেবার সংকেত।
হতাশার মতোন হঠাৎ
দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।
- গাড়ি ধরতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত মনের অভিব্যক্তি।
➠ উৎকণ্ঠিত- উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল।
➠ উবুড়- উপুড়।
নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি
নিহত হয়ে থাকলাম।
- স্বপ্নহীন নিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকা।
শীতের বিন্দু- শীতের শিশির।
দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।- ট্রেন ধরতে না পারার ব্যর্থতা ও ফিরে আসার লজ্জায় এমন অনুভূতির জন্ম।
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...।- অতএব, তোমরা উভয়ে তথা জিন ও ইনসান তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে?
বাসি বাসন- পূর্বরাতে বা পূর্বদিনে ব্যবহৃত, অপরিষ্কার থালা।
আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে
ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো।
- শহরে যেতে না পেরে ফিরে আসার ব্যর্থতা ও লজ্জা মায়ের আশ্রয়ে মুছে ফেলা।

‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি:
শহরে যাবার শেষ ট্রেনটি ধরার জন্য রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। কবি দেখতে পেলেন, যাদের সঙ্গে একত্রে শহরে যাবার কথা ছিল তারা ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকে সান্ত্বনা জানাচ্ছেন। ট্রেন ধরতে না পারার হতাশায় কবির মনে পড়ল বাবা-মায়ের কথাগুলো। নিজের ভাইবোনদের সতর্ক ও সচেতন প্রস্তুতির স্মৃতিও কবির মনে জাগ্রত হলো। এক রকম পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কবি সেই ভোররাতে বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করলেন। রাতের অন্ধকার সরিয়ে সূর্যের আলো চোখে পড়তেই তিনি দেখতে পেলেন পরিচিত নদী, গ্রাম, নিজেদের আটচালা ঘর। কবির এই ফিরে আসা তার মাকে আনন্দিত করে তুললো। কবিও মাকে জড়িয়ে ধরে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মন থেকে মুছে ফেললেন। শহর বা নাগরিক জীবনের চেয়ে মাতৃতুল্য গ্রামীণ সহজ জীবনই কবির জন্য পরম স্বস্তির। তিনি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতাকে মুছে ফেলছেন মায়ের আশ্রয়ে। এই মা একই সঙ্গে প্রকৃতিরও প্রতিমূর্তি।

‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবি পরিচিতি:
আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তাঁর পিতার নাম আবদুর রব মির ও মাতার নাম রওশন আরা মির। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। দীর্ঘদিন তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ‘দৈনিক গণকণ্ঠ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং পরিচালকের পদ থেকে অবসরে যান।
আধুনিক বাংলা কবিতায় আল মাহমুদ অনন্য এক জগৎ তৈরি করেন। সেই জগৎ যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন নিয়ে নয়- স্নিগ্ধ-শ্যামল, প্রশান্ত গ্রামজীবন নিয়ে। গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির চিরায়ত রূপ নিজস্ব কাব্যভাষা ও সংগঠনে শিল্পিত করে তোলেন কবি আল মাহমুদ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- কাব্যগ্রন্থ ‘লোক-লোকান্তর’, ’কালের কলস’, ‘সোনালী কাবিন’, ‘মায়াবি পর্দা দুলে উঠো’, ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’; শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’; উপন্যাস ‘ডাহুকী’, ‘কবি ও কোলাহল’, ‘নিশিন্দা নারী’, ‘আগুনের মেয়ে’ ইত্যাদি; ছোটগল্প ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘সৌরভের কাছে পরাজিত, ‘গন্ধবণিক’। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
তিনি ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
১. আল মাহমুদ কবে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন।
২. আল মাহমুদ এর প্রকৃত নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদ এর প্রকৃত নাম মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
৩. আল মাহমুদ এর পিতার নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদ এর পিতার নাম আবদুর রব মির।
৪. আল মাহমুদ এর মাতার নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদ এর মাতার নাম রওশন আরা মির।
৫. আল মাহমুদ কোথায় পড়াশোনা করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
৬. আল মাহমুদ কোন পেশায় জড়িত ছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন।
৭. আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ ও ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
৮. আল মাহমুদ কোন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন?
উত্তর: আল মাহমুদ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেছিলেন।
৯. আল মাহমুদ এর প্রধান কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: আল মাহমুদ এর প্রধান কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সোনালী কাবিন’।
১০. আল মাহমুদ কবে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
১১. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
১২. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার শুরুতে কবি কোথায় যাচ্ছিলেন?
উত্তর: কবি শহরে যাচ্ছিলেন।
১৩. “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি কেন ট্রেন ধরতে পারেননি?
উত্তর: ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে।
১৪. কবি কাদের সঙ্গে শহরে যেতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: কবি তাদের সঙ্গে শহরে যেতে চেয়েছিলেন যারা ট্রেনে ছিল।
১৫. কবি ট্রেন ধরতে না পারলে কেমন অনুভব করেছিলেন?
উত্তর: কবি হতাশ ও পরাজিত অনুভব করেছিলেন।
১৬. কবির বাবা-মায়ের কী পরামর্শ ছিল?
উত্তর: বাবা-মা তাকে ট্রেন ধরার জন্য তাড়াতাড়ি করতে বলেছিলেন।
১৭. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি কোথায় ফিরে যাচ্ছিলেন?
উত্তর: কবি বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন।
১৮. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির ভাইবোনরা কীভাবে প্রস্তুতি নিত?
উত্তর: তারা সতর্ক ও সচেতনভাবে প্রস্তুতি নিত।
১৯. কবি ট্রেন ধরতে না পেরে কোথায় ফিরে গিয়েছিলেন?
উত্তর: কবি বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন।
২০. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি সূর্যের আলোতে কী দেখতে পেয়েছিলেন?
উত্তর: কবি পরিচিত নদী, গ্রাম, আটচালা ঘর দেখেছিলেন।
২১. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি মাকে কীভাবে অনুভব করেছিলেন?
উত্তর: কবি মাকে জড়িয়ে ধরে তার লজ্জা মুছে ফেলেছিলেন।
২২. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির জন্য কী জীবনের পরম স্বস্তি?
উত্তর: গ্রামীণ সহজ জীবন কবির জন্য পরম স্বস্তি।
২৩. কবি কোথায় ফিরে আসার পর তার মায়ের কী প্রতিক্রিয়া ছিল?
উত্তর: মায়ের মুখে হাসি ছিল।
২৪. কবি শহরের জীবন সম্পর্কে কী অনুভব করেন?
উত্তর: কবি শহরের জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা অনুভব করেন।
২৫. কবি কীভাবে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মুছে ফেললেন?
উত্তর: কবি মাকে জড়িয়ে ধরে লজ্জা মুছে ফেললেন।
২৬. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি কোথায় হাঁটছিলেন?
উত্তর: কবি কুয়াশায় হাঁটছিলেন।
২৭. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির মায়ের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: মায়ের প্রতিক্রিয়া ছিল হাসি ও সান্ত¡না।
২৮. কবি ট্রেন ধরতে না পেরে কী অনুভব করেছিলেন?
উত্তর: কবি পরাজিত ও হতাশ অনুভব করেছিলেন।
২৯. ‘নীলবর্ণ আলোর সংকেত’ কী বোঝায়?
উত্তর: ট্রেন ছেড়ে দেবার সংকেত।
৩০. ‘উৎকণ্ঠিত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল।
৩১. ‘শীতের বিন্দু’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শীতের শিশির।
৩২. ‘বাসি বাসন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পূর্বদিনে ব্যবহৃত, অপরিষ্কার থালা।

‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

১. ‘আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো।’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো’- বলতে বোঝানো হয়েছে, মায়ের সান্নিধ্যে সপ্তম্ভন তার সকল প্রকার দুঃখ-বেদনা-ব্যর্থতা-লজ্জা ভুলে গিয়ে পরম শান্তি লাভ করে।
➠ শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়ে একরকম পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কবি বাড়ির পথে পা বাড়ান। তাঁর মনে পড়ল বাবা-মায়ের সচেতনতামূলক কথাগুলো। মনে পড়ল ভাই-বোনের সতর্ক প্রস্তুতির কথা। লজ্জায় তাঁর হৃদয় ভারী হয়ে উঠল। কিন্তু তাঁর এই ফিরে আসায় মা আনন্দিত হলো। মাকে জড়িয়ে ধরে সমস্ত লজ্জা কোথায় যেন হারিয়ে গেল।

২. ‘দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা’-কবির এ অনুভূতির কারণ কী?
উত্তর: ‘দারুণ ভয়ের মতো জেগে উঠবে আমাদের আটচালা'- পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনের লজ্জার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কবি শেষ রাতের ট্রেন ধরতে না পেরে নতমুখে গ্রামে ফিরে আসেন। ফেরার পথে গ্রামের প্রকৃতির মাঝে তিনি নিজের ব্যর্থতা লক্ষ করেন।
➠ আবার পরিচিত নদী, জলার ধারে বকের ঝাঁক উড়ে যাওয়ার মতো দৃশ্য কবির দৃষ্টিগোচর হয়। নদী ও গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য কবিকে সম্ভাষণ জানায়। পরিচিত পরিবেশে কবি আশ্বস্ত হয়ে ওঠেন। গ্রামের অনবদ্য পড়ক্তির আকর্ষণে নিজেকে আবার জাগিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা খোঁজেন। কিন্তু ঘরে ঢোকার মুহূর্তে কবির মনে কিছুটা জড়তামিশ্রিত ভয় জেগে ওঠে। এ ভয় মূলত পরিবারের লোকজন তার প্রত্যাবর্তনকে কীভাবে নেবে সেই চিন্তাগত।

৩. ‘আর আমি এদের ভাই’- কথাটি কোন প্রসঙ্গে, কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘আর আমি এদের ভাই'- কথাটির মাধ্যমে কবি ট্রেন ধরতে না পারায় অন্য ভাই-বোনদের সঙ্গে তুলনা করে নিজের অসচেতনতা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
➠ কবি সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌছাতে না পেরে ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হন। অবশেষে নত মুখে বাড়ি ফিরে আসেন। ফেরার পথে অন্য ভাই-বোনদের কথা মনের কোঠরে জেগে ওঠে। জাহানারা কখনো ট্রেন ফেল করে না। ফরহাদ আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়। লাইলী মালপত্র তুলে দিয়ে আগেই টিকিট কিনে রাখে। নাহার কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত খাওয়াও ভুলে যায়। অথচ কবি এদের ভাই হয়েও ট্রেন ফেল করেন।

৪. প্রত্যাবর্তকের মুখ পরাজিতের মতো কেন?
উত্তর: ট্রেন ধরার জন্য নির্ধারিত সময়ে কবি স্টেশনে পৌছাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রত্যাবর্তকের মুখ পরাজিতের মতো।
➠ কবি যখন ট্রেন ধরার ক্ষেত্রে গড়িমসি করে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন তখন তাঁর মা-বাবা সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে, তিনি সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌছাতে পারবেন না। তাদের সন্দেহকে সত্য প্রমাণিত করে নিজের পরাজয় স্বীকার করে কবি নত মস্তকে আবার গ্রামের আটচালা ঘরের দিকে পা বাড়ান। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তন অনেকটা পরাজিতের আবহ তৈরি করে।

৫. ‘নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ লাল সূর্য উঠে আসবে।’- পঙক্তিটিতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ লাল সূর্য উঠে আসবে।’- পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির ট্রেন ধরতে না পারা ও বাড়ি ফেরার দৃশ্যের লজ্জামিশ্রিত দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➠ কবি শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়ে এক অখ্যাত স্টেশনে বিহ্বল হয়ে কুয়াশায় কাঁপতে থাকেন। এরপর ধীরপায়ে গ্রামের বাড়ির দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। ফেরার পথে শীতের কুয়াশায় তাঁর পাজামা ভিজে যায়। একসময় ভোর হয়ে এলে, পূর্বাকাশে সূর্য জেগে ওঠে। কবির ভাবনায় নির্লজ্জের মতো সূর্য উঠে আসবে। অর্থাৎ কবির 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা রাতের আঁধারে ঢাকা ছিল। কিন্তু নির্লজ্জের মতো সূর্য উঠে কবিকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।

৬. ‘কুয়াশার শাদা পর্দা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘কুয়াশার শাদা পর্দা' বলতে মনোজগতের দুশ্চিন্তাচ্ছন্ন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে।
➠ শীতের প্রকৃতি কুয়াশায় আবৃত থাকে। কখনো কখনো এমন কুয়াশা ঝরে যে চারপাশের ঘরবাড়ি, গাছপালা কিছুই দেখা যায় না। কুয়াশার গায়ে আবরণ ভেদ করে সূর্যালোকও পৌঁছাতে পারে না। কবির মনোজগতও শহরে যেতে না পারার ব্যর্থতায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। হতাশাগ্রস্ত কবির চিন্তাজগৎ কুয়াশা দিয়ে বোঝানো হয়েছে। কবি শেষ ট্রেনে শহরে যেতে না পেরে শীতের গাঢ় কুয়াশায় দুশ্চিন্তা নিয়ে গ্রামের আটচালা ঘরে প্রত্যাবর্তন করেন।

৭. ‘এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।’- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ‘এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।’- বলতে শেষ রাতের ট্রেন ধরতে না পারায় কবির করুণ অবস্থা বোঝানো হয়েছে।
➠ কবি ট্রেন ধরার জন্য সময়মতো স্টেশনে পৌছাতে পারেননি। সাত মাইল পথ হেঁটে স্টেশনে এসে দেখেন করুণ হুইসুল দিয়ে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে। হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কবির আর কোনো উপায় ছিল না। গ্রামের অখ্যাত একটা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে তিনি শীতের কুয়াশায় কাঁপছিলেন।

৮. ‘গোছাতে গোছাতেই তোর সময় বয়ে যাবে’-কথাটি বলার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কবি শম্বরে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বেশি সময় অপচয় করায় তাঁর বাবা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিলেন।
➠ কবি শহরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও তাঁর মাঝে তেমন ব্যস্ততা দেখা যায় না। তিনি শেষ ট্রেনে চড়ে শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেও গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার তীব্র তাগিদ অনুভব করেন না। ফলে যাত্রার প্রস্তুতির সময় তাঁর নিদারুণ আলস্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্তরের তাগাদা ছিল না বলেই কবি জিনিসপত্র গোছাতে দেরি করেন। তাঁর ঔদাসীন্য দেখে বাবা ঠিকই বুঝে ফেলেন ছেলে ট্রেন ধরতে পারবে না। এজন্যই কবির বাবা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিলেন।

৯. ‘এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম।’- পঙক্তিটির তাৎপর্য কী? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটিতে গভীর নিদ্রার কারণে কবির ট্রেন ধরতে না পারার দিকটি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➠ যে রাতে কবির ট্রেনে শহরে পৌঁছানোর কথা, সে রাতে তিনি সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে পারেননি। কবির মা তাঁকে বহু রাতের মতো বই নিয়ে জেগে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু কবির খুব ঘুম পেল। তিনি গভীর নিদ্রার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আলোচ্য পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

১০. “দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।” - ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এই চরণের মাধ্যমে কবি তার বাড়ির প্রতি ফিরে আসার অনুভূতি এবং সেই সঙ্গে তার জীবনযাত্রার সাদাসিধে রূপ প্রকাশ করেছেন।
➠ “আটচালা” ঘরটি তার গ্রামের সহজ জীবন এবং শেকড়ের সাথে সম্পর্কিত। “দারুণ ভয়ের মতো” এই অংশে কবি সম্ভবত বোধ করছেন যে, তিনি নিজের জীবনের ব্যর্থতা ভুলে যেতে পারছেন না, কিন্তু সেই সাথে ঘরে ফিরে শান্তি পাবেন।

১১. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় কী?
উত্তর: কবিতার মূল বিষয় হল শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেনটি ধরতে না পারার পর যে হতাশা এবং পরাজয়ের অনুভূতি কবি অনুভব করেন।
➠ তারপর গ্রামে ফিরে এসে মায়ের কাছে শরণ নেয়ার মাধ্যমে সেই পরাজয়ের লজ্জা অতিক্রম করা। কবি শহরের জটিল জীবন থেকে মুক্তি পেতে চান এবং গ্রামে ফিরে এসে শান্তি অনুভব করেন, যা তার জন্য পরম স্বস্তির। মায়ের কাছে ফিরে এসে তিনি নিজের ব্যর্থতা ভুলে যান এবং শান্তি পান।

১২. শহরে যাওয়ার ট্রেনটি ধরতে না পারার পর কবির কী অনুভূতি হয়?
উত্তর: কবি ট্রেনটি ধরতে না পারার পর গভীর হতাশায় ভুগেন। তার মনে হয়, সময় পেরিয়ে গিয়েছে এবং তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
➠ তিনি যখন স্টেশনে পৌঁছান, তখন ট্রেন চলে গেছে এবং তার সঙ্গে শহরে যাওয়ার কথা ছিল এমন মানুষদের মুখ তার চোখে পড়ে, যারা তাকে জানালা দিয়ে সান্ত¡না দিচ্ছে। এই অনুভূতি কবির জন্য একপ্রকার পরাজয়ের গ্লানি এবং অবিশ্বাস্য হতাশার সৃষ্টি করে।

১৩. “কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো-ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এই চরণে কুয়াশার শাদা পর্দা দোলানোর মাধ্যমে কবি তার হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং জীবনের অন্ধকার সময়ের কথা স্মরণ করছেন।
➠ কুয়াশা যেন তার পথে একটি বাধা, যা তিনি অতিক্রম করে ঘরে ফিরে আসবেন। ঘরে ফিরে আসা মানে নিজেকে আবার নতুন করে খুঁজে পাওয়া এবং শান্তির সন্ধান পাওয়া।

১৪. কবি মা-বাবার কথাগুলি কীভাবে মনে করেন?
উত্তর: কবি তার মায়ের কথাগুলি মনে করেন যখন তিনি ট্রেনটি ধরতে না পারার পর হতাশ হন।
➠ তার মা বলেছিলেন, “আজ রাত না হয় বই নিয়ে বসে থাক,” যা তাকে কিছুটা শান্তি দেয়। পাশাপাশি, তার বাবা তাকে বারবার তাড়না দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যে সময় চলে যাবে, কিন্তু তিনি আবার গাড়ি পাবেন। এসব কথাগুলি কবির মনে আশার সঞ্চার করে, যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রেন চলে গেছে।

১৫. “শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে- এই চরণ দ্বারা কী বোঝায়?
উত্তর: এই চরণের মাধ্যমে কবি তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বর্ণনা করছেন।
➠ শিশিরে পাজামা ভিজে যাওয়া এক ধরনের স্নিগ্ধতা এবং শীতলতার অনুভূতি তৈরি করে, যা তার ঘরে ফেরার পথে এক ধরনের শান্তি এবং নবজীবনের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এটি তার ফিরে আসার অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত।

১৬. কবির ভাইবোনদের সতর্ক প্রস্তুতির প্রতিচ্ছবি কীভাবে দেখা যায়?
উত্তর: কবির ভাইবোনেরা সবসময় খুবই সতর্ক এবং প্রস্তুত থাকে, কখনোই কোনো ট্রেন বা গাড়ি ফেল করে না।
➠ কবি তাদের কথা উল্লেখ করেছেন যেমন, “জাহানারা কখনো ট্রেন ফেল করে না” এবং “ফরহাদ আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়,” যা তাদের সচেতনতা এবং প্রস্তুতির পরিচয় দেয়। এই দৃশ্য কবির নিজের ব্যর্থতার বিপরীতে আসছে, যা তার জন্য একটি তীব্র আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি করে।

১৭. কবি তার ফিরে আসার সময় কী দেখতে পান?
উত্তর: কবি ফিরে আসার সময় সূর্যের আলো দেখতে পান এবং তিনি তার পরিচিত নদী, গ্রাম, এবং তাদের আটচালা ঘর দেখতে পান।
➠ এই দৃশ্য তার জন্য এক ধরনের শান্তির অনুভূতি নিয়ে আসে। পরাজয়ের পরে যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন সব কিছু যেন পুরানো অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এটি তাকে আত্মবিশ্বাস ও সান্ত¡না দেয়।

১৮. “পরাজিতের মতো আমার মুখের উপর রোদ নামলে।” - ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এই লাইনটি কবির পরাজয় এবং ব্যর্থতার অনুভূতি প্রকাশ করে।
➠ “রোদ নামলে” মানে হলো সূর্যের আলো পরাজিতের মুখে এসে পড়েছে, যা তাকে আরও বেশি পরাজিত এবং লজ্জিত করে তোলে। এটি কবির হতাশাগ্রস্ত অবস্থা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবকে চিত্রিত করে।

১৯. কবি মায়ের কাছে ফিরে আসার পর কী অনুভব করেন?
উত্তর: কবি মায়ের কাছে ফিরে এসে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মুছে ফেলেন।
➠ মায়ের স্নেহের কাছে ফিরে এসে তিনি তার ব্যর্থতা এবং পরাজয়ের অনুভূতি অতিক্রম করেন। মায়ের গা-ছোঁয়া ভালোবাসা তাকে শান্তি দেয়, যা তার শহরের জীবনযাত্রার কষ্ট এবং অস্থিরতা থেকে মুক্তি দেয়। কবি অনুভব করেন, মায়ের কাছে ফিরে আসা মানে নিজের ভিতরের শক্তি এবং শান্তির পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

২০. কবি কেন “শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা” উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: কবি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা উল্লেখ করেছেন কারণ শহরের জীবন তার জন্য অত্যন্ত জটিল এবং চাপপূর্ণ।
➠ তিনি বুঝতে পারেন, গ্রামীণ জীবনই তার জন্য স্বাভাবিক এবং সহজ, যেখানে তিনি মায়ের কাছে ফিরে আসেন। শহরের জীবনে কষ্টের পর তিনি মায়ের আশ্রয়ে ফিরে আসার মাধ্যমে শান্তি খুঁজে পান।

২১. “ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...” এই লাইনটি কবির জীবনে কী ভূমিকা পালন করে?
উত্তর: এই লাইনটি সূরা আর-রাহমানের একটি আয়াত, যা কবি তার মায়ের মুখে শুনছেন।
➠ এই আয়াতটি ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং তার অনুগ্রহের প্রতি কবির আস্থা প্রকাশ করে। মায়ের কাছে ফিরে এসে কবি এক ধরনের আধ্যাত্মিক শান্তি এবং স্বস্তি অনুভব করেন, যা তাকে তার ব্যর্থতা এবং লজ্জা থেকে মুক্তি দেয়।

২২. কবি কুয়াশায় কাঁপতে কাঁপতে কেন ফিরে আসছেন?
উত্তর: কবি কুয়াশায় কাঁপতে কাঁপতে ফিরে আসছেন, যা তার পথচলার অনিশ্চয়তা এবং ব্যর্থতার প্রতীক।
➠ কুয়াশা তার জীবনের অন্ধকার সময়কে তুলে ধরে, যখন তার সামনে কিছুই পরিষ্কার ছিল না। তবে, গ্রামে ফিরে আসার সময় সেই অন্ধকার সরিয়ে সূর্যের আলোয় তিনি শান্তি এবং আশার নতুন সঞ্চার দেখতে পান।

২৩. কবিতায় “ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...” কেন উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: এই শব্দগুলি সূরা আর-রাহমান থেকে নেওয়া, যা কবি তার জীবনের সান্ত¡না এবং দয়া প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছেন।
➠ মায়ের কাছে ফিরে এসে, কবি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই বাক্যটি কবির জীবনযাত্রার শাস্তি এবং ভোগান্তির পর মায়ের ভালোবাসা ও আল্লাহর দয়া অনুভব করার এক গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে।

২৪. কবিতায় গ্রামীণ জীবনের প্রাধান্য কেন দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় গ্রামীণ জীবনের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কারণ কবি শহরের জটিল জীবন থেকে মুক্তি খুঁজছেন।
➠ গ্রামীণ জীবন তার জন্য সহজ, শান্তিপূর্ণ এবং আত্মবিশ্বাসের উৎস। এখানে তিনি মায়ের কাছে ফিরে এসে তার পরাজয় এবং ব্যর্থতা অতিক্রম করেন, যা তাকে শান্তি এবং এক ধরনের সান্ত¡না প্রদান করে।

২৫. “নীলবর্ণ আলোর সংকেত” এই চরণের অর্থ কী?
উত্তর: “নীলবর্ণ আলোর সংকেত” ট্রেন ছেড়ে দেবার সংকেত বোঝায়।
➠ এটি এমন একটি মুহূর্তের প্রতীক, যখন কবি ট্রেনটি ধরতে পারছেন না এবং হতাশা অনুভব করছেন। নীল আলোর সংকেতটি যেমন ট্রেনের গন্তব্যের নির্দেশক, তেমনি কবির জন্য এটি পরাজয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।

২৬. “হতাশার মতোন হঠাৎ গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।” এই লাইনটি কী বোঝায়?
উত্তর: এই লাইনটি কবির ট্রেন ধরতে না পারার হতাশা প্রকাশ করে।
➠ ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর কবি অনুভব করেন যে, তাঁর সময় চলে গেছে এবং তিনি কিছুই করতে পারলেন না। এই অনুভূতি যেন এক ধরনের পরাজয়, যা কবির মনকে নিঃশেষ করে দেয়।

২৭. “এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম।” - এই লাইনটি কী বোঝায়?
উত্তর: এই লাইনটি কবির মানসিক অবস্থাকে ব্যক্ত করে, যেখানে তিনি ব্যর্থতা ও হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে নিজের প্রতি হতাশ।
➠ ‘নিঃস্বপ্ন নিদ্রা’ মানে হচ্ছে এক ধরনের অচেতন অবস্থা, যেখানে কোনো আশা বা স্বপ্ন নেই। কবি যেন তার জীবনের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলেছেন এবং তিনি নিঃশেষিত, পরাজিত অবস্থায় আছেন।


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

উদ্দীপক-১:
যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক, আমি তোমায় ছাড়ব না মা!
মা গো, আমি তোমার চরণ করব শরণ, আর কারো ধার ধারব না মা।
কে বলে তোর দরিদ্র ঘর, হৃদয় তোর রতনরাশি-
আমি জানি গো তোর মূল্য জানি, পরের আদর কাড়ব না মা।
উদ্দীপক-২:
মানের আশে দেশ বিদেশে যে মরে সে মরুক ঘুরে
তোমার ছেঁড়া কাঁথা আছে পাতা, ভুলতে সে যে পারব না মা
ধনে মানে লোকের টানে ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়-
ওমা ভয় যে জাগে শিয়র-বাগে, কারো কাছেই হারব না মা।

ক. প্রত্যাবর্তিত কবিকে দেখে তার বাবা কী পড়বেন?
খ. ‘আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো।’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপক-২ এর ‘ধনে মানে লোকের টানে ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়’ চরণটিতে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার যে বিশেষ দিকের ইঙ্গিত রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপক-১ ও উদ্দীপক-২ মিলে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার ভাববস্তু প্রকাশে সক্ষম কি না? তোমার যুক্তিগ্রাহ্য মতামত দাও।

ক. প্রত্যাবর্তিত কবিকে দেখে তাঁর বাবা পড়বেন, ‘ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...’।
খ. ‘আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো’- বলতে বোঝানো হয়েছে, মায়ের সান্নিধ্যে সপ্তম্ভন তার সকল প্রকার দুঃখ-বেদনা-ব্যর্থতা-লজ্জা ভুলে গিয়ে পরম শান্তি লাভ করে।
➠ শহরে যাওয়ার শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়ে একরকম পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কবি বাড়ির পথে পা বাড়ান। তাঁর মনে পড়ল বাবা-মায়ের সচেতনতামূলক কথাগুলো। মনে পড়ল ভাই-বোনের সতর্ক প্রস্তুতির কথা। লজ্জায় তাঁর হৃদয় ভারী হয়ে উঠল। কিন্তু তাঁর এই ফিরে আসায় মা আনন্দিত হলো। মাকে জড়িয়ে ধরে সমস্ত লজ্জা কোথায় যেন হারিয়ে গেল।

গ. উদ্দীপক-২ এর 'ধনে মানে লোকের টানে ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়' চরণটিতে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার গতানুগতিক নাগরিক জীবনের মোহ থেকে মুক্তির বিষয়টির ইঙ্গিত বহন করে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, অস্থির মানব হৃদয় শান্তির জন্য ছুটে বেড়ায় দেশ-বিদেশে। কিন্তু এ ছুটে চলায় কোথাও শান্তির পরশ মেলে না। ধন- সম্পদের লোভের ফাঁদে মানবজীবন ক্রমশই শুধু অশান্ত চঞ্চল হতে থাকে। প্রকৃত শান্তি মেলে তার মায়ের কোলে, তার চিরচেনা প্রকৃতির সান্নিধ্যে। আর যে কারণেই সব মোহ ত্যাগ করে, ভয়কে জয় করে ফিরতে চায় আপন আলয়ে।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহরের মোহে যাত্রা করলেও শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়। ব্যর্থতার গ্লানি বুকে চেপে তিনি ঘরের পানে পা বাড়ালেন। তাঁর এ ফিরে আসা মাকে আনন্দিত করল। কবি মাকে জড়িয়ে ধরে প্রত্যাবর্তনের সমস্ত লজ্জা মুছে ফেললেন। তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করলেন, নাগরিক জীবনের চাকচিক্যের চাইতে মাতৃতুল্য গ্রামীণ সহজ-সরল জীবন পরম মমতার-শান্তির।

ঘ. নগর জীবনের মোহ নয়, গ্রামীণ সহজ-সরল জীবনেই রয়েছে প্রকৃত শান্তির পরশ- এই বিষয়টিই উদ্দীপক এবং কবিতার মূল বিষয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ১ ও ২ মিলে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার ভাববস্তু প্রকাশে সক্ষম।
➠ উদ্দীপকদ্বয়ে মা-মাতৃভূমির প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। মায়ের দরিদ্র দশা কবির নিকট মহামূল্য ধন-রত্নতুল্য। তাই তিনি আর কিছু চান না, কারো ধার ধারেন না। ধনদৌলতের মোহে যে যেখানে খুশি চলে যাক- কবি তাঁর মায়ের ছেঁড়া কাঁথায় পরম মমতায় মাখামাখি করে পরম সুখ অনুভব করেন। ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবিকে শহরের চাকচিক্য হাতছানি দিয়ে ডাকলেও ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হওয়ার অজুহাতে তিনি মায়ের টানে গ্রামের পানেই পা বাড়িয়েছেন। মা তাঁকে দেখে আনন্দিত হয়েছেন। মাকে জড়িয়ে ধরে তিনি পরম সুখলাভ করেছেন। ব্যর্থতার গ্লানি উবে গিয়েছে। কীসের লজ্জা কীসের ভয়? যেন তিনি সবকিছুই জয় করেছেন।
➠ উদ্দীপক এবং কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ করি, সন্তানের জন্য মায়ের কোল যেমন নিরাপদ এবং শান্তির স্থান- তেমনি মাতৃতুল্য তাঁর মাতৃভূমিও বটে। একজন মানুষ অর্থ-সম্পদের মোহে বিদেশে যেতে বাধ্য হলেও প্রকৃতপক্ষে তার মন কাঁদে মা এবং মাতৃভূমির জন্য। শেকড়ের সাথে বৃক্ষের যেমন সম্পর্ক- তেমনি মা-মাতৃভূমির সাথে প্রতিটি মানুষের সম্পর্ক প্রগাঢ়। শহর জীবনের কৃত্রিম চাকচিক্যময় পরিবেশে মানুষ হাঁপিয়ে ওঠে। গ্রাম্য প্রকৃতির স্নিগ্ধ মায়াময় পরিবেশই মানবজীবনকে করে তোলে মধুময়-গীতিময়-ছন্দময়।


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও- আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব;
দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরী ডানা শালিখের সন্ধ্যায় হিম হয়ে আসে
ধবল রোমের নিচে তাহার হলুদ ঠ্যাং ঘাসে অন্ধকারে
নেচে চলে একবার-দুইবার- তারপর হঠাৎ তাহারে
বনের হিজল গাছ ডাক দিয়ে নিয়ে যায় হৃদয়ের পাশে;
দেখিব মেয়েলি হাত সকরুণ-শাদা শাঁখা ধূসর বাতাসে
শঙ্খের মতো কাঁদে; সন্ধ্যায় দাঁড়ালে সে পুকুরের ধারে।

ক. জলার দিকে কী উড়ে যাচ্ছে?
খ. ‘দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা’-কবির এ অনুভূতির কারণ কী?
গ. স্তবকটিতে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মিল থাকলেও উদ্দীপক ও ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার প্রেক্ষাপট আলাদা।’ মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে।
খ. ‘দারুণ ভয়ের মতো জেগে উঠবে আমাদের আটচালা'- পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির অপ্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনের লজ্জার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কবি শেষ রাতের ট্রেন ধরতে না পেরে নতমুখে গ্রামে ফিরে আসেন। ফেরার পথে গ্রামের প্রকৃতির মাঝে তিনি নিজের ব্যর্থতা লক্ষ করেন।
➠ আবার পরিচিত নদী, জলার ধারে বকের ঝাঁক উড়ে যাওয়ার মতো দৃশ্য কবির দৃষ্টিগোচর হয়। নদী ও গ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য কবিকে সম্ভাষণ জানায়। পরিচিত পরিবেশে কবি আশ্বস্ত হয়ে ওঠেন। গ্রামের অনবদ্য পড়ক্তির আকর্ষণে নিজেকে আবার জাগিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা খোঁজেন। কিন্তু ঘরে ঢোকার মুহূর্তে কবির মনে কিছুটা জড়তামিশ্রিত ভয় জেগে ওঠে। এ ভয় মূলত পরিবারের লোকজন তার প্রত্যাবর্তনকে কীভাবে নেবে সেই চিন্তাগত।

গ. উদ্দীপকের স্তবকটিতে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার বাংলার অপরূপ প্রকৃতির সৌন্দর্য্যরে দিকটি প্রতিফলিত হয়ে কবি গ্রামে ফিরে যান।
➠ ফলে তাঁর মনে হতাশাব্যঞ্জক অভিব্যক্তি জাগ্রত হয়। ফেরার পথে গ্রামের লাল সূর্য, রোদ, নদী, গ্রাম অবলোকন করার বর্ণনা কবিতায় এসেছে। এছাড়াও শিশির, বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান কবির বর্ণনায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। কবি গ্রামে ফিরে আসলে মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। মায়ের স্নেহ-মমতা শহরে যেতে না পারার হতাশা ভুলিয়ে তাকে গ্রামীণ পরিবেশে আপন করে নেয়। কবি তাঁর চিরপরিচিত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে এসে একাত্মতা প্রকাশ করতে সক্ষম হন।
➠ উদ্দীপকের বাংলার রূপের এক হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা লক্ষযোগ্য। কবি বাংলার রূপে মুগ্ধ। তাই এ দেশ ছেড়ে তিনি কোথাও যেতে চান না। তিনি এ দেশের প্রকৃতির সৌন্দরে‌্য লীন হয়ে জীবন কাটাতে চান। কাঁঠাল পাতা ঝরে পড়ার দৃশ্য, শালিকের ঘরে ফেরা কিংবা হিজল গাছের ছায়া দেখে তিনি তাকিয়ে থাকবেন মুগ্ধ চোখে। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও দেখা যায়, বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির মমতাময় রূপ। পরিচিত নদী, বকের উড়ে চলার দৃশ্য কবিকে মুগ্ধ করে। গ্রামে প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ম্লান করে দেয় প্রকৃতির এ মমতাময় রূপ। উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার এ দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. আালোচ্য কবিতায় শহরমুখিতা, ব্যর্থতা, পারিবারিক জীবন, মায়ের মমতা প্রভৃতি থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহরমুখী হতে চাইলেও ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, তাঁর ভাই-বোনরা নিজেদের মতো গুছিয়ে নিয়ে যথাসময়ে ট্রেন ধরতে কখনো ব্যর্থ হয় না। কিন্তু কবির আলস্য ও অসচেতনতা কবিকে শহরযাত্রায় সফল হতে দেয়নি। প্রস্তুতিতেই তিনি পিছিয়ে পড়েন। স্টেশনে রাতের শেষ ট্রেন ধরতে না পারার হতাশা নিয়ে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। ফিরতি পথের গ্রামীণ পরিবেশের শিশির, বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান কবির চেতনায় প্রভাব বিস্তার করেছে। মায়ের স্নেহ-মমতা তাঁকে আপন করে নেয়। কবির প্রত্যাবর্তন তাঁর মাকে আনন্দিত করে। হতাশা ফুলিয়ে গ্রামীণ পরিবেশ ও নিজ পরিবার কবিকে আপন করে নেয়। ফলে কবি তাঁর চিরচেনা নৈসর্গিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দে ফিরে আসেন।
➠ উদ্দীপকে বাংলার প্রকৃতির অনবদ্য চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি বাংলার রূপে এতটাই নিমগ্ন যে, তিনি এ দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চান না। বাংলার প্রকৃতিতে তিনি মিশে থাকতে চান। ভোরের বাতাসে কাঁঠাল পাতা ঝরে পড়ার অনন্য দৃশ্য দেখে কাটাতে চান এ জীবন। এ দেশের ধানখেত, হিজলগাছ কবিকে স্বপ্নের মতো হাতছানি দিয়ে ডাকে। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও আমরা বাংলার প্রকৃতির নানা রূপ দেখতে পাই। গ্রামের নদী, বকের উড়ে যাওয়া কিংবা কুয়াশায় ঢাকা প্রান্তর কবির মনে প্রশান্তি জাগায়। তবে এখানে আমরা আরও দেখতে পাই, কবির শহরমুখী যাত্রার অভিপ্রায় ও তাঁর ব্যর্থতার পরিণাম।
➠ উদ্দীপকের কবি বাংলার প্রকৃতি ছেড়ে কোথাও যেতে চান না। কিন্তু আলোচ্য কবিতার কবি জীবিকার প্রয়োজনে শহরমুখী হতে চেয়ে ব্যর্থ হন।


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

উঠানের এককোণে বেড়ে ওঠা লবাগাছ থেকে নির্মলা দেবী ফুল তুলছেন। আজ তার উপোস। একমাত্র ছেলে দুদিন বাদেই শহরে যাবে চাকরি করতে। তার কল্যাণের কথা চিন্তা করেই মা পূজা দেবেন ঠাকুরকে। উপোস রেখে ভোগ চড়াবেন। বাবাও ব্যস্ত হয়ে শয়রে যাবে চাকরি কতোটা দিয়ে। ছোটো ভাই-বোনেরা বড়োদাদার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাতে ব্যস্ত। সকলে মিলে যে যার মতো পরিবারের দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

ক. কে আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়?
খ. ‘আর আমি এদের ভাই’- কথাটি কোন প্রসঙ্গে, কেন বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি কীভাবে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক ও ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার মূলসুর ভিন্ন।’- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

ক. ফরহাদ আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়।
খ. ‘আর আমি এদের ভাই'- কথাটির মাধ্যমে কবি ট্রেন ধরতে না পারায় অন্য ভাই-বোনদের সঙ্গে তুলনা করে নিজের অসচেতনতা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়েছেন। কবি সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌছাতে না পেরে ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হন।
➠ অবশেষে নত মুখে বাড়ি ফিরে আসেন। ফেরার পথে অন্য ভাই-বোনদের কথা মনের কোঠরে জেগে ওঠে। জাহানারা কখনো ট্রেন ফেল করে না। ফরহাদ আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়। লাইলী মালপত্র তুলে দিয়ে আগেই টিকিট কিনে রাখে। নাহার কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত খাওয়াও ভুলে যায়। অথচ কবি এদের ভাই হয়েও ট্রেন ফেল করেন।

গ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবির শহরে যাত্রার প্রসঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতা অনুযায়ী কবির যাত্রা ছিল শহর অভিমুখে। পূর্বে তাঁর ভাই-বোনরাও শহরে যায় নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য। কবিতায় শহরে যাওয়ার প্রসঙ্গটি বেশ সূক্ষ¥ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গ্রামীণ বাস্তবতায় মানুষের এই শহরমুখিতা জীবনযাত্রার মান উন্নত করার সাথে সম্পর্কিত। কবি ও তাঁর সহযাত্রীদের শহরমুখী যাত্রা হলো জীবিকার প্রয়োজনে যাত্রা। তাই তিনি শহরে যেতে না পারার ব্যর্থতায় হতাশাগ্রস্ত হন। এ সময় তাঁর বাবা-মায়ের কথাগুলো মনে পড়ে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, নির্মলা দেবীর একমাত্র ছেলে দুদিন বাদে চাকরির জন্য শহরে যাবে। সন্তানের কল্যাণ কামনায় তিনি জবাফুল তুলছে ঠাকুরপূজা দেওয়ার জন্য। বাবাও ছেলের টিকিট কাটা নিয়ে ব্যস্ত। অন্য ভাই-বোনদের মধ্যও দেখা যায় কর্মতৎপরতা। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় দেখা যায়, কবি শহরে যাবেন। মা তাঁকে রাতে না ঘুমিয়ে বই পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাবাও তাঁকে সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিচ্ছিলেন। কবিতার এ পারিবারিক আবহের দিকটিই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. আলোচ্য কবিতায় শহরমুখিতা , ব্যর্থতা, গ্রামীণ প্রকৃতির বর্ণনা, মায়ের মমতা প্রভৃতি থাকায় মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহর অভিমুখে যাত্রা করেও ব্যর্থ হন। মূলত কবির আলস্য ও উদাসীনতা কবিকে শহরযাত্রায় সফল করতে পারেনি। প্রস্তুতি নিতেই তিনি পিছিয়ে পড়েন। স্টেশনে রাতের শেষ ট্রেন ধরতে না পেরে তিনি তাই হতাশা নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। ফিরতি পথের গ্রামীণ পরিবেশ কবির চেতনায় প্রভাব বিস্তার করেছে। কবির প্রত্যাবর্তন তাঁর মাকে আনন্দিত করে। হতাশা ও পরাজয়ের গ্লানি ভুলিয়ে গ্রামীণ পরিবেশ ও নিজ পরিবারও কবিকে আপন করে নেয়। ফলে কবি তাঁর আপন পরিবেশে স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেন।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, নির্মলা দেবীর একমাত্র ছেলে শহরে চাকরি করতে যাবে। তাই বাবা-মায়ের ব্যাপক কর্মতৎপরতা। মা উঠোনের এককোণে বেড়ে ওঠা জবাগাছ থেকে ফুল তুলছেন ঠাকুরপূজা করতে। বাবা ছেলের জন্য টিকিট কেনায় ব্যস্ত। অন্য ভাই-বোনরাও যার যার মতো জিনিসপত্র গুছিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ এখানে পারিবারিক বন্ধনের দিকটিই প্রাধান্য পেয়েছে।
➠ উদ্দীপকে কেবল শহরমুখিতা ও পারিবারিক বন্ধনের বিষয়টি প্রস্ফুটিত হয়েছে। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় দেখা যায়, কবি ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ফেরার সময় প্রকৃতির আশ্রয়ে নতুন করে স্বপ্ন বোনেন। গ্রামের প্রকৃতি এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি একই পরিবারের সন্তান হয়েও অন্য ভাই-বোনদের চেয়ে কবির ভিন্নতাও এখানে লক্ষযোগ্য। এই প্রেক্ষিতে বলা যায়, ‘উদ্দীপক ও ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার মূলসুর ভিন্ন।’


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

এই ভাঙা ছেড়ে যায় রূপ কে খুঁজিতে যায় পৃথিবীর পথে।
বটের শুকনো পাতা যেন এক যুগান্তের গল্প ডেকে আনে,
ছড়ায়ে রয়েছে তারা প্রান্তরের পথে পথে নির্জন অঘ্রাণে:
তাদের উপেক্ষা ক’রে কে যাবে বিদেশে বলো- আমি কোনো মতে
বাসমতী ধানখেত ছেড়ে দিয়ে মালাবারে- উটির পর্বতে
যাব নাকো, দেখিব না পামগাছ মাথা নাড়ে সমুদ্রের গানে
কোন দেশে, কোথায় এলাচিফুল দারুচিনি বারুণীর প্রাণে।

ক. কবির চোখের পাতায় কী জমবে?
খ. প্রত্যাবর্তকের মুখ পরাজিতের মতো কেন?
গ. ‘তাদের উপেক্ষা করে কে যাবে বিদেশে বলো।’- চরণটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘চিত্রকল্পটিতে একটি বিশেষ দিকের ইঙ্গিত থাকলেও ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।’- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

ক. কবির চোখের পাতায় শীতের বিন্দু জমবে।
খ. ট্রেন ধরার জন্য নির্ধারিত সময়ে কবি স্টেশনে পৌছাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রত্যাবর্তকের মুখ পরাজিতের মতো।
➠ কবি যখন ট্রেন ধরার ক্ষেত্রে গড়িমসি করে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন তখন তাঁর মা-বাবা সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে, তিনি সঠিক সময়ে স্টেশনে পৌছাতে পারবেন না। তাদের সন্দেহকে সত্য প্রমাণিত করে নিজের পরাজয় স্বীকার করে কবি নত মস্তকে আবার গ্রামের আটচালা ঘরের দিকে পা বাড়ান। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তন অনেকটা পরাজিতের আবহ তৈরি করে।

গ. ‘তাদের উপেক্ষা করে কে যাবে বিদেশে বলো।'- চরণটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার গ্রামের প্রকৃতিমন্নতার দিকটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহর যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফিরে যান। ফিরতি পথের বর্ণনায় গ্রাম বাংলার চিরচেনা পরিবেশের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। কুয়াশার পর্দা, শিশিরে পাজামা ভিজা, চোখের পাতায় শিশির, নদী, ছড়ানো ছিটানো গ্রাম-ঘরবাড়ি, উড়ে যাওয়া বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি। গ্রামে ফিরে তিনি গ্রামীণ পরিবেশে মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। কবি তাঁর পরিচিত নৈসর্গিক পরিবেশে ফিরে প্রকৃতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে সমর্থ হন।
➠ উদ্দীপকে বাংলার এক অপরূপ রূপ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। বাংলার গ্রামীণ জীবনের মায়া ছেড়ে পৃথিবীর অন্য কোথাও কারো যাওয়ার বাসনা জাগে না। এখানকার শুকনো বটের পাতাও যেন যুগান্তের গল্প ডেকে আনে। এছাড়া ধানখেত, অপরূপ গাছপালার দৃশ্যও এখানে জীবন্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও আমরা গ্রামের এমন অসাধারণ দৃশ্য খুঁজে পাই। এখানে গাছ ও লতাপাতা এক মায়াময় আবহ তৈরি করে। নদী ও পাখিদের উপস্থিতি তাতে স্বপ্নের মতো সৌন্দর্য ছড়ায়। উদ্দীপকের এ দিকটিই আলোচ্য কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় শহরমুখিতা, ব্যর্থতা, পারিবারিক জীবন, মায়ের মমতা প্রভৃতি থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, গ্রামীণ পরিবেশ, মমতা প্রভৃতি প্রস্ফুটিত হয়েছে। জীবনের প্রয়োজনে শহর অভিমুখে যাত্রা করেও ব্যর্থ হয়ে তিনি গ্রামে ফিরেন। ফলে তাঁর মনে হতাশাব্যঞ্জক অভিব্যক্তি জাগ্রত হয়। ফেরার পথের বর্ণনায় শাশ্বত গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। গ্রামে ফিরে আসলে কবির মা আনন্দিত হন। মায়ের স্নেহ-মমতা কবির শহরে যেতে না পারার গ্লানি-হতাশা ভুলিয়ে তাঁকে গ্রামীণ পরিবেশে আপন করে নেয়। কবি তাঁর চিরপরিচিত প্রাকৃতিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দে ফিরে একাত্মতা প্রকাশ করতে সক্ষম হন।
➠ উদ্দীপকে বাংলার একটি চমৎকার দৃশ্যপট জেগে উঠেছে। এখানে দেখা যায়, বাংলার মাটির মায়া ছেড়ে কেউ সহজে বিদেশ যেতে চায় না। এখানকার বটের শুকনো পাতাও বহু গল্প তৈরি করে। এছাড়া এখানকার গাছপালা, ধানখেত এক অভূতপূর্ব সৌন্দরে‌্য উদ্ভাসিত।
➠ সর্বোপরি উদ্দীপকে প্রকৃতি-বন্দনার মধ্য দিয়ে স্বদেশের প্রতি মমতা ও ভালোবাসার দিকটি বড়ো হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও বাংলার সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। এখানেও আমরা দেখি, নদী আর পাখির কলকাকলি, গাছপালা, লতাপাতার চমৎকার দৃশ্যপট। কিন্তু আলোচ্য কবিতার মূল বিষয় গ্রামীণ সৌন্দর্য ও গ্রাম্যজীবনের পারিবারিক দৃঢ়তা। কিন্তু উদ্দীপকের মূল বিষয় কেবল গ্রামবাংলার অপরূপ সৌন্দর্য। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। উত্তরের


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

ক. ‘উৎকণ্ঠিত’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ লাল সূর্য উঠে আসবে।’- পঙক্তিটিতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. চিত্রটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কোন দিককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি কি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পেরেছে? যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

ক. ‘উৎকণ্ঠিত; শব্দের অর্থ উদ্বিগ্ন।
খ. ‘নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ লাল সূর্য উঠে আসবে।’- পঙ্ক্তিটির মধ্য দিয়ে কবির ট্রেন ধরতে না পারা ও বাড়ি ফেরার দৃশ্যের লজ্জামিশ্রিত দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➠ কবি শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হয়ে এক অখ্যাত স্টেশনে বিহ্বল হয়ে কুয়াশায় কাঁপতে থাকেন। এরপর ধীরপায়ে গ্রামের বাড়ির দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। ফেরার পথে শীতের কুয়াশায় তাঁর পাজামা ভিজে যায়। একসময় ভোর হয়ে এলে, পূর্বাকাশে সূর্য জেগে ওঠে। কবির ভাবনায় নির্লজ্জের মতো সূর্য উঠে আসবে। অর্থাৎ কবির 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা রাতের আঁধারে ঢাকা ছিল। কিন্তু নির্লজ্জের মতো সূর্য উঠে কবিকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।

গ. উদ্দীপকের চিত্রে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্যের প্রতিফলন লক্ষণীয়।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহরমুখী যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফিরে যান। ফিরতি পথে কবির হতাশাব্যঞ্জক মনোজগৎ কবির বর্ণনায় শীতের বিন্দু, লাল সূর্য, রোদের মতো গ্রামীণ-প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ ঘিরে ব্যস্ত হয়েছে। কবির বর্ণনার কুয়াশা, শিশির, বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান, আটচালা ঘর- শাশ্বত গ্রামীণ জনপদের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। গ্রামে ফিরে তিনি গ্রামীণ পরিবেশে মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। কবি তাঁর চিরচেনা পরিবেশে স্বচ্ছন্দে ফিরে প্রকৃতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে সমর্থ হন।
➠ উদ্দীপকের চিত্রে এক চমৎকার গ্রামের দৃশ্যপট ফুটে উঠেছে। ধানের খেতের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মেঠোপথ। চারদিকে অপরূপ সবুজের সমারোহ। গাছপালা আর লতাপাতায় ঢাকা এ গ্রামীণ দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও দেখা যায়, অনন্য এক গ্রামের প্রতিচ্ছবি। এ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যায় নদী। বকের ঝাঁক উড়ে যায় আনমনে। চারদিকে সবুজ প্রকৃতি। উদ্দীপকে আলোয় কবিতার এ দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকটিতে কেবল গ্রামবাংলার নৈসর্গিক রূপ থাকায় ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি। ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, গ্রামীণ পরিবেশ, মমতা প্রভৃতি প্রস্ফুটিত হয়েছে। শহরমুখী যাত্রায় ব্যর্থ
➠ অন্যান্য সৌন্দর্য অবলোকন করার বর্ণনা কবিতায় এসেছে। এছাড়াও শিশির, বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান কবির বর্ণনায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। কবি গ্রামে ফিরে এসে মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। মায়ের স্নেহ-মমতা শহরে যেতে না পারার গ্লানি-হতাশা ভুলিয়ে তাঁকে গ্রামীণ পরিবেশে আপন করে নেয়। কবি তাঁর চিরপরিচিত প্রাকৃতিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দে ফিরে একাত্মতা প্রকাশ করতে সক্ষম হন।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রামের একটি চমৎকার দৃশ্যপট। এ গ্রাম স্নিগ্ধতায় ভরা। এখানে ধানখেতের মাঝ দিয়ে ছুটে গেছে মেঠোপথ। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সবুজ গাছপালা। যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। যেন এক সবুজের সমুদ্র। ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও আমরা দেখি, গ্রামের এক অপরূপ দৃশ্য। এখানেও আছে সবুজ প্রকৃতির মায়া। আছে নদীর কলতান আর বকের অপরূপ উড়ে চলার দৃশ্য। একইসকো লজ্জা ও শিহরন জাগানো এ প্রত্যাবর্তন গ্রামকে নতুন রূপে উপস্থাপন করে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
➠ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি।


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

গ্রামের ছেলে নিখিল। সাধ ও সাধ্যের এক আকস্মিক গৌরববোধে নগরের স্বপ্ন হাতছানি দিলো নিখিলের ভাবনায়। গ্রামবাংলার নির্ঝঞ্ঝাট মননই যেন খোলনলচে পালটে নগরমুখিতার মুখোশে মুখ ঢাকল। শহুরে জীবনে আর্থিক সচ্ছলতার পিছনে ছুটতে পিয়ে নিখিলকে খাপ খাইয়ে চলার মানসিক টানাপোড়েনে পড়তে হলো। অর্থ ও বিত্তের সুখ হয়ে উঠল বর্তমান; কিন্তু শান্তি লুকালো প্রত্যহ অতীতে। বাড়ি থেকে তার মা তাকে প্রায়ই ফিরে যেতে বলে।

ক. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার উৎস কী?
খ. ‘কুয়াশার শাদা পর্দা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. নিখিল এবং ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবির নগরমুখী ভাবনা যেদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের শেষাংশের ভাবনাই যেন ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবিকে প্রত্যাবর্তনের প্রেরণা জুগিয়েছে।’- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ।

ক. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার উৎস 'সোনালী কাবিন।'
খ. ‘কুয়াশার শাদা পর্দা' বলতে মনোজগতের দুশ্চিন্তাচ্ছন্ন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে।
➠ শীতের প্রকৃতি কুয়াশায় আবৃত থাকে। কখনো কখনো এমন কুয়াশা ঝরে যে চারপাশের ঘরবাড়ি, গাছপালা কিছুই দেখা যায় না। কুয়াশার গায়ে আবরণ ভেদ করে সূর্যালোকও পৌঁছাতে পারে না। কবির মনোজগতও শহরে যেতে না পারার ব্যর্থতায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। হতাশাগ্রস্ত কবির চিন্তাজগৎ কুয়াশা দিয়ে বোঝানো হয়েছে। কবি শেষ ট্রেনে শহরে যেতে না পেরে শীতের গাঢ় কুয়াশায় দুশ্চিন্তা নিয়ে গ্রামের আটচালা ঘরে প্রত্যাবর্তন করেন।

গ. উদ্দীপকের নিখিল ও ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবির নগরমুখী ভাবনা জীবন ও জীবিকার দুর্নিবার প্রয়োজন ও ব্যর্থতার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতা অনুযায়ী কবি শহরমুখী জীবনযাত্রার প্রস্তুতি নেন। শহরে যাওয়ার প্রসজ্ঞাটি কবিতায় বেশ সূক্ষ¥ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গ্রামীণ বাস্তবতায় মানুষের এই শহরমুখিতা জীবনযাত্রার মান উন্নত করার সাথে সম্পৃক্ত। কবি ও তাঁর সহযাত্রীরা শহর অভিমুখে যাত্রা হলো জীবিকার প্রয়োজনে যাত্রা। তাই তো তিনি শহরে যেতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত হন। শহরে যেতে ব্যর্থ হয়ে লজ্জাবনত হন।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রামের ছেলে নিখিল সাধ ও সাধ্যের এক আকস্মিক গৌরববোধে শহরের পথে পাড়ি জমায়। শহরের পরিবেশে সে নিরন্তর নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে। আর্থিক সচ্ছলতার পিছনে ছুটতে গিয়ে পড়তে হয় মানসিক দোটানায়। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে শহরের পথে পাড়ি জমাতে চান কবি। কিন্তু শেষ ট্রেন ধরতে না পারায় তাঁকে আবার নিজের গ্রামেই প্রত্যাবর্তনের লজ্জা নিয়ে ফিরতে হয়। এখানেও কবির ভিতরে কাজ করে মানসিক টানাপোড়েন। উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার এ দিকটিই ফুটে উঠেছে।

ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশের ভাবনাই যেন ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবিকে প্রত্যাবর্তনের প্রেরণা জুগিয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহরের উদ্দেশে রওনা দিয়েও ব্যর্থ হন। স্টেশনে ট্রেন ধরতে না পেরে হতাশা নিয়ে নিজ গ্রামেই ফিরে আসেন। ফিরতি পথের গ্রামীণ নৈসর্গিক পরিবেশের বর্ণনা তাঁর কবিতায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। বাড়িতে ফিরে আসলে মায়ের হাস্যোজ্জ্বল মুখ ও মমতা তাঁকে আপন করে নেয়। কবির প্রত্যাবর্তন তাঁর মাকে আনন্দিত করে। গ্রামীণ পরিবেশে মায়ের স্নেহ, মমতা ও আন্তরিকতা কবির শহরে যেতে না পারার গ্লানি-হতাশা ভুলিয়ে দেয়। মাতৃরূপী গ্রামীণ পরিবেশ ও নিজ পরিবার কবিকে আপন করে নেয়। ফলে কবি তাঁর চিরচেনা নৈসর্গিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেন।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রামের ছেলে নিখিল সাধ ও সাধ্যের হিসাব মেলাতে না পেরে শহরমুখী হয়। শহরের পরিবেশের সঙ্গে-নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অর্থ ও বিত্ত তার জীবনে আসে। কিন্তু শান্তি হারিয়ে যায়। অর্থাৎ ফেলে আসা গ্রাম্যজীবনই তার শান্তির উৎস হয়ে থাকে। শহরজীবন তাকে অর্থবিত্ত দিলেও মানসিক প্রশান্তি দিতে পারে না। ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও দেখা যায়, কবি গ্রামীণ জীবনে শান্তি খুঁজে পান। গ্রামের প্রকৃতিতে লীন হয়ে তিনি বেঁচে থাকতে চান। কিন্তু জীবনের প্রয়োজনে তাঁকে শহরে যাওয়ার চিন্তা করতে হয়। ট্রেন ধরার জন্য স্টেশনে যেতেও তাঁর দেরি হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শেষ ট্রেন ধরতে না পারায় তিনি গ্রামের আটচালা ঘরের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেন। যেখানে আছে মায়া-মমতা, ভালোবাসা আর শান্তি। উদ্দীপকেও শহরে গিয়ে নিখিল গ্রামকে এভাবেই অনুভব করে।
➠ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের শেষাংশের ভাবনাই যেন ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবিকে প্রত্যাবর্তনের প্রেরণা জুগিয়েছে।


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া
লাউমাচাটার পাশে।
ছোট্ট একটা ফুল দুলছে, ফুল দুলছে, ফুল
সন্ধ্যার বাতাসে।
কে এইখানে এসেছিল অনেক বছর আগে,
কেউ এইখানে ঘর বেঁধেছে নিবিড় অনুরাগে।

ক. কবি কত মাইল হেঁটেছিলেন?
খ. ‘এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।’- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. কবিতাংশটিতে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’-এর কোন বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি কি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সমগ্রতা বহন করে? মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. কবি সাত মাইল হেঁটেছিলেন।
খ. ‘এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।’- বলতে শেষ রাতের ট্রেন ধরতে না পারায় কবির করুণ অবস্থা বোঝানো হয়েছে।
➠ কবি ট্রেন ধরার জন্য সময়মতো স্টেশনে পৌছাতে পারেননি। সাত মাইল পথ হেঁটে স্টেশনে এসে দেখেন করুণ হুইসুল দিয়ে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে। হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া কবির আর কোনো উপায় ছিল না। গ্রামের অখ্যাত একটা রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে তিনি শীতের কুয়াশায় কাঁপছিলেন।

গ. উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার গ্রামীণ অপরূপ প্রকৃতির অনবদ্য রূপটির প্রতিফলন লক্ষণীয়।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির ফিরতি পথে গ্রামের নদী ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করার বর্ণনা কবিতায় এসেছে। কবির বর্ণিত কুয়াশা, শিশির, বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান, আটচালা ঘর- শাশ্বত গ্রামীণ জনপদের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। গ্রামে ফিরে তিনি গ্রামীণ পরিবেশে মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। কবি তাঁর চিরচেনা নৈসর্গিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দে ফিরে প্রকৃতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে সমর্থ হন।
➠ উদ্দীপকে গ্রামীণ জীবনের এক স্নিগ্ধ রূপ উঠে এসেছে। এখানে দেখা যায়, লাউ গাছের মাচা, উঠোনে একটা ছোট্ট ফুল দুলছে সন্ধ্যার বাতাসে। এ এক অশেষ সৌন্দরে‌্যর উদ্ভাসন। গ্রামের মাটি আর হাওয়া, সোনার চেয়ে খাঁটি। প্রাণভরে নিশ্বাস নেওয়া যায়। একইভাবে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও আমরা গ্রাম্যপ্রকৃতির চমৎকার রূপ প্রত্যক্ষ করি। এখানে দেখা যায়, পরিচিত নদীর ঢেউ, বকের উড়ে যাওয়া, গ্রামের অপরূপ আটচালা ঘর। কুয়াশায় মোড়ানো ছবির মতো স্নিগ্ধ গ্রামের দৃশ্যপট। উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার এ দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উত্তরের সারবস্তু: উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে আলোচ্য কবিতার গ্রামীণ প্রকৃতির শাশ্বত রূপ প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. শহরমুখিতা ও ব্যর্থতার প্রসঙ্গটি উদ্দীপকে না থাকায় উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সমগ্রতা বহন করে না।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, গ্রামীণ পরিবেশ, মমতা প্রভৃতি প্রস্ফুটিত হয়েছে। শহরমুখী যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে তিনি গ্রামে ফিরে যান। ফলে তাঁর মনে নেতিবাচক ও হতাশাব্যঞ্জক অনুভূতি জাগ্রত হয়। ফিরতি পথে গ্রামের লাল সূর্য, রোদ, নদী ইত্যাদি অবলোকন করার বর্ণনা কবিতায় এসেছে। গ্রামের কুয়াশা, শিশির, বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান কবির বর্ণনায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। গ্রামে ফিরে আসলে মায়ের স্নেহ-মমতা কবির শহরে যেতে না পারার গ্লানি-হতাশা ভুলিয়ে তাকে গ্রামীণ পরিবেশে আপন করে নেয়। কবিও শহরে যেতে না পারার ব্যর্থতাকে মুছে ফেলেন মায়ের আশ্রয়ে তথা প্রকৃতির আশ্রয়ে। কেননা, কবির কাছে শহর বা নাগরিক জীবনের চেয়ে মাতৃতুল্য গ্রামীণ সহজ জীবনই পরম স্বস্তির।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, গ্রামে ফিরে গিয়ে লাউ মাচাটার পাশে দাঁড়ালে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়বে। ছোট্ট একটা ফুল দুলে চলেছে সন্ধ্যায় বাতাসে। গ্রামের মাটি আর জল-হাওয়াকে ভালোবেসে বারবার সেখানে ফিরে যেতে ইচ্ছা জাগে। ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও গ্রামের এক অনবদ্য ৰূপের চিত্র দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। এখানে আছে চির পরিচিত নদী, বকের ঝাঁকের উড়ে যাওয়া, কুয়াশায় মোড়ানো ছবির মতো গ্রামের দৃশ্যপট। কিন্তু এটি কবিতার একটি অংশমাত্র। এছাড়াও আলোচ্য কবিতায় আছে ট্রেন ধরতে না পেরে ধীরপায়ে গ্রামের বাড়িতে প্রত্যাগত এক যুবকের অভিব্যক্তি। গ্রামের পরিবেশে সে উদাস বিহ্বল হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে এ দিকটি অনুপস্থিত।
➠ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সমগ্রতা বহন করে না।


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

উদ্দীপক-১:
একটি প্রাণ, একটি জীবন। সময়ের চাকায় রাতদিন ঘুরতে থাকে ব্যক্তিগত সুখের ভাবনা। আমি থেকেই আমার ব্যাপ্তি। শিল্পকারখানার যান্ত্রিকতায় নগরমুখি মানুষ বড্ড বেশি আত্মকেন্দ্রিক। রাতদিন মানুষ ছুটছে টাকার পিছনে। কালের আবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা যেন শহুরে সমাজে যন্ত্রবদ্ধ কৃত্রিম নাগরিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
উদ্দীপক-২:
সহজ-সরল গ্রামীণ সমাজ কেবল আমিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর আছে এক সামষ্টিক রূপ। পরিবার, সমাজ, প্রকৃতি, মানুষের হাসি-কান্না ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ছাপিয়ে উন্নীত গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনে। অর্থনীতির অর্থের বাইরে বেরিয়েও জীবনের অর্থ। হয় যেখানে সাধারণের মধ্যে ত্যাগের মহিমাকে খুঁজে পায়।

ক. উৎকণ্ঠিত মুখগুলো কীভাবে কবিকে সান্ত¡না জানাচ্ছিল?
খ. ‘গোছাতে গোছাতেই তোর সময় বয়ে যাবে’-কথাটি বলার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপক-১ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবির শহরে যাওয়ার ভাবনার সাথে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক-২ কি কবির ফিরে আসার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সফল করতে পেরেছে? মন্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. উৎকণ্ঠিত মুখগুলো হাত নেড়ে কবিকে সান্ত¡না জানাচ্ছিল।
খ. কবি শম্বরে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বেশি সময় অপচয় করায় তাঁর বাবা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিলেন।
➠ কবি শহরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও তাঁর মাঝে তেমন ব্যস্ততা দেখা যায় না। তিনি শেষ ট্রেনে চড়ে শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেও গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার তীব্র তাগিদ অনুভব করেন না। ফলে যাত্রার প্রস্তুতির সময় তাঁর নিদারুণ আলস্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অন্তরের তাগাদা ছিল না বলেই কবি জিনিসপত্র গোছাতে দেরি করেন। তাঁর ঔদাসীন্য দেখে বাবা ঠিকই বুঝে ফেলেন ছেলে ট্রেন ধরতে পারবে না। এজন্যই কবির বাবা প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছিলেন।

গ. উদ্দীপক-১ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবির শহরে যাওয়ার ভাবনার সঙ্গে জীবন-জীবিকার অনিবার্যতার সূত্রে সম্পর্কিত।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহরমুখী জীবনযাত্রার প্রস্তুতি নেন। শহরে যাওয়ার প্রসঙ্গটি কবিতায় বেশ সূক্ষ¥ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গ্রামীণ বাস্তবতায় মানুষের এই শহরমুখিতা জীবনযাত্রার মান উন্নত করার সাথে সম্পৃক্ত। কবি ও তাঁর সহযাত্রীদের শহর অভিমুখে যাত্রা হলো জীবিকার প্রয়োজনে। তাই তো তিনি শহরে যেতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত হন। শহরে যেতে ব্যর্থ হয়ে লজ্জাবনত হন।
➠ উদ্দীপক-১ এ শহর জীবনের নির্মম যান্ত্রিকতা লক্ষ করা যায়। এখানে মানুষ হয়ে উঠে দ্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক। রাতদিন টাকার পিছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ হারিয়ে ফেলে মানবিক মূল্যবোধ। ব্যক্তিস্বার্থের বাইরে কেউ কিছু কল্পনা করতে পারে না। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি বাবা-মা, নিজ গ্রাম, চেনা পরিবেশ ছেড়ে শহরে যেতে চান জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে। ব্যক্তিজীবন উন্নত করার তাড়নায় শহরমুখী জীবন অনিবার্য হয়ে ওঠে। এমনকি শহরে যেতে না পারার ব্যর্থতা কবিকে হতাশাগ্রস্ত করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-১ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির শহরে যাওয়ার ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঘ. মা, মাটির আশ্রয় পাওয়ায় উদ্দীপক-২ কবির ফিরে আসার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সফল করতে পেরেছে বলে আমি মনে করি।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতায় কবি শহরমুখী হতে চেয়েও ব্যর্থ হন। স্টেশনে ট্রেন ধরতে না পেরে তিনি হতাশা নিয়ে নিজ গ্রামেই ফিরে আসে। গ্রামে মায়ের স্নেহ-মমতা তাঁকে আপন করে নেয়। কবির প্রত্যাবর্তন তাঁর মাকে আনন্দিত করে। গ্রামীণ পরিবেশে মায়ের আন্তরিক অভ্যর্থনা ও মমতা কবির শহরে যেতে না পারার গ্লানি-হতাশা ভুলিয়ে দেয়। হতাশা ভুলিয়ে গ্রামীণ পরিবেশ ও নিজ পরিবার কবিকে আপন করে নেয়। ফলে কবি তাঁর চিরচেনা নৈসর্গিক পরিবেশে আপন অস্তিত্ব খুঁজে পান। গ্রামীণ গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনের কল্যাণে কবির ব্যর্থতা বিলীন হয়ে যায়।
➠ উদ্দীপক-২-এ দেখা যায়, গ্রামজীবনে আত্মকেন্দ্রিকতা নয় বরং এর রয়েছে এক সামষ্টিক রূপ। এখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতাকে ছাপিয়ে গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনদর্শন পরিলক্ষিত হয়। এখানে অর্থচিন্তা কিংবা স্বার্থচিন্তার উর্ধ্বে এক মানবিক মূল্যবোধের জয়গান লক্ষণীয়। উদ্দীপক-২-তেও ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার মতো এক নিঃস্বার্থ গ্রামজীবনের মায়াময় চিত্র দেখা যায়। পরিবার এখানে মানুষের অকৃপণ আশ্রয়স্থল। ট্রেন ধরতে না পেরে গ্রামের অপরূপ পরিবেশে প্রত্যাবর্তনের লজ্জা ফিকে হয়ে আসে। উভয় ক্ষেত্রেই মা, মাটি নিঃস্বার্থ মমতায় হাত বাড়িয়ে বুকে টেনে নেয়।
➠ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপক-২ কবির ফিরে আসার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সফল করতে পেরেছে। এখানে ফিরে এসে কবি মা, মাটির মমতায় আশ্রয় পেয়েছেন।


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবণি।
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম কাঁঠালের মধুর গল্পে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
কঙ্কার সাথে প্রান্তরে মাঠে কড় খেল ল'য়ে অশনিঃ
কেতকী-কদম-যুথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথ মালিকা,
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেল চন্দ্রলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থই থই করে শ্যামল শোভার নবনী।

ক. ‘আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক’- কে বলেছিলেন?
খ. ‘এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম।’- পঙক্তিটির তাৎপর্য কী? বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার মিল খুঁজে বের করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার আংশিক প্রকাশ, পূর্ণরূপ নয়।’- মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

ক. ‘আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক’- কবির আম্মা বলেছিলেন।
খ. প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটিতে গভীর নিদ্রার কারণে কবির ট্রেন ধরতে না পারার দিকটি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➠ যে রাতে কবির ট্রেনে শহরে পৌঁছানোর কথা, সে রাতে তিনি সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে পারেননি। কবির মা তাঁকে বহু রাতের মতো বই নিয়ে জেগে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু কবির খুব ঘুম পেল। তিনি গভীর নিদ্রার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আলোচ্য পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার গ্রামীণ প্রকৃতির বর্ণনার দিক থেকে মিল রয়েছে।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি শহরমুখী যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফিরে যান। ফিরতি পথে গ্রামের লাল সূর্য, রোদ, নদী, গ্রাম অবলোকন করার বর্ণনা কবিতায় এসেছে। কবির বর্ণনার কুয়াশা, শিশির, বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান- শাশ্বত গ্রামীণ জনপদের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে। গ্রামে ফিরে তিনি গ্রামীণ পরিবেশে মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। কবি তাঁর চিরচেনা নৈসর্গিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দে ফিরেন, প্রকৃতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে সমর্থ হন। এমনকি কবির মা যেন গ্রামেরই প্রতিরূপ।
➠ উদ্দীপকে পল্লি-প্রকৃতির এক অপরূপ উদ্ভাসন লক্ষণীয়। পল্লির রূপে কবি মুগ্ধ।' গ্রামের ফুল-ফসল, পাখি-নদী, কাদামাটি অনবদ্য লাবণ্যে ভরা। ঋতুর পরিবর্তন ও ঘ্রাণ এখানে তীব্রভাবে উপলব্ধি করা যায়। অন্যদিকে, ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও গ্রামজীবনের অনন্য রূপ ফুটে উঠেছে। এখানে দেখা যায়, পরিচিত নদীর প্রবাহ। ছড়ানো-ছিটানো ঘরবাড়ি, বকের উড়ে যাওয়ার এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। উদ্দীপকে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার এ প্রাকৃতিক সৌন্দরে‌্যর দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. কেবল প্রকৃতির বর্ণনা থাকায় উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার আংশিক প্রকাশ, পূর্ণরূপ নয়, এ দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, গ্রামীণ পরিবেশ, মমতা প্রভৃতি প্রস্ফুটিত হয়েছে। শহরমুখী যাত্রায় ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফিরে যান। ফলে তাঁর মনে নেতিবাচক ও হতাশাব্যঞ্জক অনুভূতি জাগ্রত করে। ফিরতি পথে গ্রামের লাল সূর্য, রোদ, নদী, গ্রাম অবলোকন করার বর্ণনা কবিতায় এসেছে। গ্রামের কুয়াশা, শিশির, বকের ঝাঁক, কলার ছোটো বাগান কবির বর্ণনায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। কবি গ্রামে ফিরে এসে মায়ের কাছে আশ্রয় নেন। মায়ের স্নেহ-মমতা শহরে যেতে না পারার গ্লানি-হতাশা ভুলিয়ে তাঁকে গ্রামীণ পরিবেশে আপন করে নেয়। কবি তাঁর চিরচেনা নৈসর্গিক পরিবেশে ফিরে আসেন, প্রকৃতির কোলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, কবি পল্লি-প্রকৃতির এক অনবদ্য রূপ প্রত্যক্ষ করে মুগ্ধ হয়েছেন। ফুল-ফসল আর কাদামাটি জলে মাখা বাংলার রূপ কবির চোখে নতুন রূপে প্রতিভাত হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি কেতকী-কদম-যূথিকা প্রভৃতি ফুলের সমাহার কবির চোখে স্বপ্নের আবেশ নিয়ে ধরা দেয়। ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায়ও আমরা পল্লির এ স্নিগ্ধ রূপ প্রত্যক্ষ করি। এখানেও আছে ফুল-পাখি-নদীর কথা। আছে কাদামাটির অকৃত্রিম ঘ্রাণ। কিন্তু আলোচ্য কবিতার পরিসর আরও বিস্তৃত। এখানে কবির শেষ ট্রেন ধরতে ব্যর্থ হওয়া ও গ্রামে প্রত্যাবর্তনের অনবদ্য দৃশ্যের বর্ণনা ছাড়াও কবির পরিবার, স্বজন ও গ্রামজীবনের নানাদিক দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। পারিবারিক বন্ধনের ধরনও এখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
➠ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, “উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার আংশিক প্রকাশ, পূর্ণরূপ নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:
-------------
-----------

তথ্যসূত্র:
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url