প্রত্যাবর্তনের লজ্জা- আল মাহমুদ
|
| প্রত্যাবর্তনের লজ্জা |
প্রত্যাবর্তনের লজ্জা
আল মাহমুদ
শেষ ট্রেন ধরবো বলে এক রকম ছুটতে ছুটতে স্টেশনে পৌঁছে দেখি
নীলবর্ণ আলোর সংকেত। হতাশার মতোন হঠাৎ
দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।
যাদের সাথে, শহরে যাবার কথা ছিল তাদের উৎকণ্ঠিত মুখ
জানালায় উবুড় হয়ে আমাকে দেখছে। হাত নেড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।
আসার সময় আব্বা তাড়া দিয়েছিলেন, গোছাতে গোছাতেই
তোর সময় বয়ে যাবে, তুই আবার গাড়ি পাবি।
আম্মা বলছিলেন, আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক
কত রাত তো অমনি থাকিস।
আমার ঘুম পেলো। এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি
নিহত হয়ে থাকলাম।
অথচ জাহানারা কোনদিন ট্রেন ফেল করে না। ফরহাদ
আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়। লাইলী
মালপত্র তুলে দিয়ে আগেই চাকরকে টিকিট কিনতে পাঠায়। নাহার
কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না।
আর আমি এদের ভাই
সাত মাইল হেঁটে শেষ রাতের গাড়ি হারিয়ে
এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।
কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো।
শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে। চোখের পাতায়
শীতের বিন্দু জমতে জমতে নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ
লাল সূর্য উঠে আসবে। পরাজিতের মতো আমার মুখের উপর রোদ
নামলে, সামনে দেখবো পরিচিত নদী। ছড়ানো
ছিটানো ঘরবাড়ি, গ্রাম। জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে। তারপর
দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।
কলার ছোট বাগান।
দীর্ঘ পাতাগুলো না না করে কাঁপছে। বৈঠকখানা থেকে আব্বা
একবার আমাকে দেখে নিয়ে মুখ নিচু করে পড়তে থাকবেন,
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...।
বাসি বাসন হাতে আম্মা আমাকে দেখে হেসে ফেলবেন।
ভালোই হলো তোর ফিরে আসা। তুই না থাকলে
ঘরবাড়ি একেবারে কেমন শূন্য হয়ে যায়। হাত মুখ
ধুয়ে আয়। নাস্তা পাঠাই।
আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে
ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো।
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। সংলাপ এবং গল্প বলার ঢংয়ে কবিতাটি রচিত। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠নীলবর্ণ আলোর সংকেত- ট্রেন ছেড়ে দেবার সংকেত। ➠হতাশার মতোন হঠাৎ দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।- গাড়ি ধরতে না পারায় হতাশাগ্রস্ত মনের অভিব্যক্তি। ➠ উৎকণ্ঠিত- উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল। ➠ উবুড়- উপুড়। ➠নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম।- স্বপ্নহীন নিদ্রায় আচ্ছন্ন থাকা। ➠শীতের বিন্দু- শীতের শিশির। ➠দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।- ট্রেন ধরতে না পারার ব্যর্থতা ও ফিরে আসার লজ্জায় এমন অনুভূতির জন্ম। ➠ ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...।- অতএব, তোমরা উভয়ে তথা জিন ও ইনসান তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? ➠ বাসি বাসন- পূর্বরাতে বা পূর্বদিনে ব্যবহৃত, অপরিষ্কার থালা। ➠আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে ফেলবো।- শহরে যেতে না পেরে ফিরে আসার ব্যর্থতা ও লজ্জা মায়ের আশ্রয়ে মুছে ফেলা। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি: |
|---|
| শহরে যাবার শেষ ট্রেনটি ধরার জন্য রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। কবি দেখতে পেলেন, যাদের সঙ্গে একত্রে শহরে যাবার কথা ছিল তারা ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকে সান্ত্বনা জানাচ্ছেন। ট্রেন ধরতে না পারার হতাশায় কবির মনে পড়ল বাবা-মায়ের কথাগুলো। নিজের ভাইবোনদের সতর্ক ও সচেতন প্রস্তুতির স্মৃতিও কবির মনে জাগ্রত হলো। এক রকম পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কবি সেই ভোররাতে বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করলেন। রাতের অন্ধকার সরিয়ে সূর্যের আলো চোখে পড়তেই তিনি দেখতে পেলেন পরিচিত নদী, গ্রাম, নিজেদের আটচালা ঘর। কবির এই ফিরে আসা তার মাকে আনন্দিত করে তুললো। কবিও মাকে জড়িয়ে ধরে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মন থেকে মুছে ফেললেন। শহর বা নাগরিক জীবনের চেয়ে মাতৃতুল্য গ্রামীণ সহজ জীবনই কবির জন্য পরম স্বস্তির। তিনি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতাকে মুছে ফেলছেন মায়ের আশ্রয়ে। এই মা একই সঙ্গে প্রকৃতিরও প্রতিমূর্তি। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
|
আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল
গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তাঁর
পিতার নাম আবদুর রব মির ও মাতার নাম রওশন আরা মির। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। দীর্ঘদিন তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে
জড়িত ছিলেন। ‘দৈনিক গণকণ্ঠ ও ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার
সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং
পরিচালকের পদ থেকে অবসরে যান। আধুনিক বাংলা কবিতায় আল মাহমুদ অনন্য এক জগৎ তৈরি করেন। সেই জগৎ যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন নিয়ে নয়- স্নিগ্ধ-শ্যামল, প্রশান্ত গ্রামজীবন নিয়ে। গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির চিরায়ত রূপ নিজস্ব কাব্যভাষা ও সংগঠনে শিল্পিত করে তোলেন কবি আল মাহমুদ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- কাব্যগ্রন্থ ‘লোক-লোকান্তর’, ’কালের কলস’, ‘সোনালী কাবিন’, ‘মায়াবি পর্দা দুলে উঠো’, ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’; শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’; উপন্যাস ‘ডাহুকী’, ‘কবি ও কোলাহল’, ‘নিশিন্দা নারী’, ‘আগুনের মেয়ে’ ইত্যাদি; ছোটগল্প ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘সৌরভের কাছে পরাজিত, ‘গন্ধবণিক’। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। তিনি ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. আল মাহমুদ কবে জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর: আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ২. আল মাহমুদ এর প্রকৃত নাম কী? উত্তর: আল মাহমুদ এর প্রকৃত নাম মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ৩. আল মাহমুদ এর পিতার নাম কী? উত্তর: আল মাহমুদ এর পিতার নাম আবদুর রব মির। ৪. আল মাহমুদ এর মাতার নাম কী? উত্তর: আল মাহমুদ এর মাতার নাম রওশন আরা মির। ৫. আল মাহমুদ কোথায় পড়াশোনা করেন? উত্তর: আল মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ৬. আল মাহমুদ কোন পেশায় জড়িত ছিলেন? উত্তর: আল মাহমুদ সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। ৭. আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? উত্তর: আল মাহমুদ ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ ও ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ৮. আল মাহমুদ কোন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন? উত্তর: আল মাহমুদ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেছিলেন। ৯. আল মাহমুদ এর প্রধান কাব্যগ্রন্থের নাম কী? উত্তর: আল মাহমুদ এর প্রধান কাব্যগ্রন্থের নাম ‘সোনালী কাবিন’। ১০. আল মাহমুদ কবে মৃত্যুবরণ করেন? উত্তর: আল মাহমুদ ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। ১১. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত? উত্তর: ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। ১২. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার শুরুতে কবি কোথায় যাচ্ছিলেন? উত্তর: কবি শহরে যাচ্ছিলেন। ১৩. “প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি কেন ট্রেন ধরতে পারেননি? উত্তর: ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। ১৪. কবি কাদের সঙ্গে শহরে যেতে চেয়েছিলেন? উত্তর: কবি তাদের সঙ্গে শহরে যেতে চেয়েছিলেন যারা ট্রেনে ছিল। ১৫. কবি ট্রেন ধরতে না পারলে কেমন অনুভব করেছিলেন? উত্তর: কবি হতাশ ও পরাজিত অনুভব করেছিলেন। ১৬. কবির বাবা-মায়ের কী পরামর্শ ছিল? উত্তর: বাবা-মা তাকে ট্রেন ধরার জন্য তাড়াতাড়ি করতে বলেছিলেন। ১৭. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি কোথায় ফিরে যাচ্ছিলেন? উত্তর: কবি বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন। ১৮. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির ভাইবোনরা কীভাবে প্রস্তুতি নিত? উত্তর: তারা সতর্ক ও সচেতনভাবে প্রস্তুতি নিত। ১৯. কবি ট্রেন ধরতে না পেরে কোথায় ফিরে গিয়েছিলেন? উত্তর: কবি বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন। ২০. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি সূর্যের আলোতে কী দেখতে পেয়েছিলেন? উত্তর: কবি পরিচিত নদী, গ্রাম, আটচালা ঘর দেখেছিলেন। ২১. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি মাকে কীভাবে অনুভব করেছিলেন? উত্তর: কবি মাকে জড়িয়ে ধরে তার লজ্জা মুছে ফেলেছিলেন। ২২. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির জন্য কী জীবনের পরম স্বস্তি? উত্তর: গ্রামীণ সহজ জীবন কবির জন্য পরম স্বস্তি। ২৩. কবি কোথায় ফিরে আসার পর তার মায়ের কী প্রতিক্রিয়া ছিল? উত্তর: মায়ের মুখে হাসি ছিল। ২৪. কবি শহরের জীবন সম্পর্কে কী অনুভব করেন? উত্তর: কবি শহরের জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা অনুভব করেন। ২৫. কবি কীভাবে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মুছে ফেললেন? উত্তর: কবি মাকে জড়িয়ে ধরে লজ্জা মুছে ফেললেন। ২৬. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবি কোথায় হাঁটছিলেন? উত্তর: কবি কুয়াশায় হাঁটছিলেন। ২৭. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় কবির মায়ের প্রতিক্রিয়া কী ছিল? উত্তর: মায়ের প্রতিক্রিয়া ছিল হাসি ও সান্ত¡না। ২৮. কবি ট্রেন ধরতে না পেরে কী অনুভব করেছিলেন? উত্তর: কবি পরাজিত ও হতাশ অনুভব করেছিলেন। ২৯. ‘নীলবর্ণ আলোর সংকেত’ কী বোঝায়? উত্তর: ট্রেন ছেড়ে দেবার সংকেত। ৩০. ‘উৎকণ্ঠিত’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর: উদ্বিগ্ন, ব্যাকুল। ৩১. ‘শীতের বিন্দু’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: শীতের শিশির। ৩২. ‘বাসি বাসন’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর: পূর্বদিনে ব্যবহৃত, অপরিষ্কার থালা। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. ‘আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে ঘষে ঘষে তুলে
ফেলবো।’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
২. ‘দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা’-কবির এ অনুভূতির কারণ
কী?
৩. ‘আর আমি এদের ভাই’- কথাটি কোন প্রসঙ্গে, কেন বলা হয়েছে?
৪. প্রত্যাবর্তকের মুখ পরাজিতের মতো কেন?
৫. ‘নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ লাল সূর্য উঠে আসবে।’- পঙক্তিটিতে কী বোঝানো
হয়েছে?
৬. ‘কুয়াশার শাদা পর্দা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
৭. ‘এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।’- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
৮. ‘গোছাতে গোছাতেই তোর সময় বয়ে যাবে’-কথাটি বলার কারণ কী? বুঝিয়ে
লেখো।
৯. ‘এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম।’- পঙক্তিটির তাৎপর্য কী?
বুঝিয়ে লেখো।
১০. “দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।” - ব্যাখ্যা করো।
১১. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কেন্দ্রীয় বিষয় কী?
১২. শহরে যাওয়ার ট্রেনটি ধরতে না পারার পর কবির কী অনুভূতি হয়?
১৩. “কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো-ব্যাখ্যা
করো।
১৪. কবি মা-বাবার কথাগুলি কীভাবে মনে করেন?
১৫. “শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে- এই চরণ দ্বারা কী বোঝায়?
১৬. কবির ভাইবোনদের সতর্ক প্রস্তুতির প্রতিচ্ছবি কীভাবে দেখা যায়?
১৭. কবি তার ফিরে আসার সময় কী দেখতে পান?
১৮. “পরাজিতের মতো আমার মুখের উপর রোদ নামলে।” - ব্যাখ্যা করো।
১৯. কবি মায়ের কাছে ফিরে আসার পর কী অনুভব করেন?
২০. কবি কেন “শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতা” উল্লেখ
করেছেন?
২১. “ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...” এই লাইনটি কবির জীবনে
কী ভূমিকা পালন করে?
২২. কবি কুয়াশায় কাঁপতে কাঁপতে কেন ফিরে আসছেন?
২৩. কবিতায় “ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...” কেন উল্লেখ করা
হয়েছে?
২৪. কবিতায় গ্রামীণ জীবনের প্রাধান্য কেন দেওয়া হয়েছে?
২৫. “নীলবর্ণ আলোর সংকেত” এই চরণের অর্থ কী?
২৬. “হতাশার মতোন হঠাৎ গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।” এই লাইনটি কী বোঝায়?
২৭. “এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি নিহত হয়ে থাকলাম।” - এই লাইনটি কী
বোঝায়? |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
উদ্দীপক-১:
ক. প্রত্যাবর্তিত কবিকে দেখে তার বাবা কী পড়বেন? |
|
ক. প্রত্যাবর্তিত কবিকে দেখে তাঁর বাবা পড়বেন, ‘ফাবি আইয়ে আলা
ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান...’।
গ. উদ্দীপক-২ এর 'ধনে মানে লোকের টানে ভুলিয়ে নিতে চায় যে আমায়' চরণটিতে
‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার গতানুগতিক নাগরিক জীবনের মোহ থেকে মুক্তির
বিষয়টির ইঙ্গিত বহন করে।
ঘ. নগর জীবনের মোহ নয়, গ্রামীণ সহজ-সরল জীবনেই রয়েছে প্রকৃত শান্তির পরশ-
এই বিষয়টিই উদ্দীপক এবং কবিতার মূল বিষয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ১ ও ২
মিলে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার ভাববস্তু প্রকাশে সক্ষম। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও- আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব;
ক. জলার দিকে কী উড়ে যাচ্ছে? |
|
ক. জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে।
গ. উদ্দীপকের স্তবকটিতে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার বাংলার অপরূপ
প্রকৃতির সৌন্দর্য্যরে দিকটি প্রতিফলিত হয়ে কবি গ্রামে ফিরে যান।
ঘ. আালোচ্য কবিতায় শহরমুখিতা, ব্যর্থতা, পারিবারিক জীবন, মায়ের মমতা
প্রভৃতি থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
উঠানের এককোণে বেড়ে ওঠা লবাগাছ থেকে নির্মলা দেবী ফুল তুলছেন। আজ তার উপোস। একমাত্র ছেলে দুদিন বাদেই শহরে যাবে চাকরি করতে। তার কল্যাণের কথা চিন্তা করেই মা পূজা দেবেন ঠাকুরকে। উপোস রেখে ভোগ চড়াবেন। বাবাও ব্যস্ত হয়ে শয়রে যাবে চাকরি কতোটা দিয়ে। ছোটো ভাই-বোনেরা বড়োদাদার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গোছাতে ব্যস্ত। সকলে মিলে যে যার মতো পরিবারের দায়িত্ব পালন করে চলেছে।
ক. কে আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়? |
|
ক. ফরহাদ আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়।
গ. উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবির শহরে যাত্রার প্রসঙ্গের
সঙ্গে সম্পর্কিত।
ঘ. আলোচ্য কবিতায় শহরমুখিতা , ব্যর্থতা, গ্রামীণ প্রকৃতির বর্ণনা, মায়ের
মমতা প্রভৃতি থাকায় মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
এই ভাঙা ছেড়ে যায় রূপ কে খুঁজিতে যায় পৃথিবীর পথে।
ক. কবির চোখের পাতায় কী জমবে? |
|
ক. কবির চোখের পাতায় শীতের বিন্দু জমবে।
গ. ‘তাদের উপেক্ষা করে কে যাবে বিদেশে বলো।'- চরণটি ‘প্রত্যাবর্তনের
লজ্জা’ কবিতার গ্রামের প্রকৃতিমন্নতার দিকটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
ঘ. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতায় শহরমুখিতা, ব্যর্থতা, পারিবারিক জীবন,
মায়ের মমতা প্রভৃতি থাকায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের চিত্রটি লক্ষ্য কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘উৎকণ্ঠিত’ শব্দের অর্থ কী? |
|
ক. ‘উৎকণ্ঠিত; শব্দের অর্থ উদ্বিগ্ন।
গ. উদ্দীপকের চিত্রে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার প্রকৃতির অপরূপ
দৃশ্যের প্রতিফলন লক্ষণীয়।
ঘ. উদ্দীপকটিতে কেবল গ্রামবাংলার নৈসর্গিক রূপ থাকায় ‘প্রত্যাবর্তনের
লজ্জা’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি। ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’
কবিতায় কবির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, গ্রামীণ পরিবেশ, মমতা প্রভৃতি
প্রস্ফুটিত হয়েছে। শহরমুখী যাত্রায় ব্যর্থ |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
গ্রামের ছেলে নিখিল। সাধ ও সাধ্যের এক আকস্মিক গৌরববোধে নগরের স্বপ্ন হাতছানি দিলো নিখিলের ভাবনায়। গ্রামবাংলার নির্ঝঞ্ঝাট মননই যেন খোলনলচে পালটে নগরমুখিতার মুখোশে মুখ ঢাকল। শহুরে জীবনে আর্থিক সচ্ছলতার পিছনে ছুটতে পিয়ে নিখিলকে খাপ খাইয়ে চলার মানসিক টানাপোড়েনে পড়তে হলো। অর্থ ও বিত্তের সুখ হয়ে উঠল বর্তমান; কিন্তু শান্তি লুকালো প্রত্যহ অতীতে। বাড়ি থেকে তার মা তাকে প্রায়ই ফিরে যেতে বলে।
ক. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার উৎস কী? |
|
ক. ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার উৎস 'সোনালী কাবিন।'
গ. উদ্দীপকের নিখিল ও ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবির নগরমুখী ভাবনা
জীবন ও জীবিকার দুর্নিবার প্রয়োজন ও ব্যর্থতার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকের শেষাংশের ভাবনাই যেন ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবিকে
প্রত্যাবর্তনের প্রেরণা জুগিয়েছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া
ক. কবি কত মাইল হেঁটেছিলেন? |
|
ক. কবি সাত মাইল হেঁটেছিলেন।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার গ্রামীণ অপরূপ
প্রকৃতির অনবদ্য রূপটির প্রতিফলন লক্ষণীয়।
ঘ. শহরমুখিতা ও ব্যর্থতার প্রসঙ্গটি উদ্দীপকে না থাকায় উদ্দীপকটি
‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সমগ্রতা বহন করে না। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
উদ্দীপক-১:
ক. উৎকণ্ঠিত মুখগুলো কীভাবে কবিকে সান্ত¡না জানাচ্ছিল? |
|
ক. উৎকণ্ঠিত মুখগুলো হাত নেড়ে কবিকে সান্ত¡না জানাচ্ছিল।
গ. উদ্দীপক-১ ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কবির শহরে যাওয়ার ভাবনার
সঙ্গে জীবন-জীবিকার অনিবার্যতার সূত্রে সম্পর্কিত।
ঘ. মা, মাটির আশ্রয় পাওয়ায় উদ্দীপক-২ কবির ফিরে আসার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে
সফল করতে পেরেছে বলে আমি মনে করি। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী-জননী।
ক. ‘আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক’- কে বলেছিলেন? |
|
ক. ‘আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক’- কবির আম্মা বলেছিলেন।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার গ্রামীণ প্রকৃতির
বর্ণনার দিক থেকে মিল রয়েছে।
ঘ. কেবল প্রকৃতির বর্ণনা থাকায় উদ্দীপকটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার
আংশিক প্রকাশ, পূর্ণরূপ নয়, এ দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
| ------------- |
| ----------- |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, বাংলাদেশ, ২০২৬। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |

