পুস্তকের শ্রেণিবদ্ধ সংগ্রহকে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার বলা হয়। সকল প্রকার
জ্ঞানকে একত্র করে স্থায়িত্বদানের অভিপ্রায় থেকে লাইব্রেরির সৃষ্টি। এক ব্যক্তির
পক্ষে সর্ববিদ্যাবিশারদ হওয়া অসম্ভব। বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা
লাভ করে। আবার যে ব্যক্তি যে বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করে, তার সবটুকু জ্ঞান
মস্তিষ্কে ধারন করাও তার পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই প্রয়োজন এমন কোনো উপায়
উদ্ভাবনের, যার দৌলতে দরকার অনুযায়ী সমস্ত বিষয়ে একটা মোটামুটি জ্ঞান লাভ করা
যায়। ফলে লাইব্রেরির সৃষ্টি।
লাইব্রেরি তিন প্রকার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সাধারণ। ব্যক্তিগত লাইব্রেরি
ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো গড়ে ওঠে তা হয়ে থাকে ব্যক্তির মনের প্রতিবিম্ব। ব্যক্তি যে
ধরনের রচনা ভালোবাসে তার প্রাচুর্য, আর যে ধরনের রচনা পছন্দ করে না তার
অনুপস্থিতি হয়ে থাকে ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য। এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী
সম্রাট, খেয়ালমতো গড়ে তোলে তার কল্পনার তাজমহল। কাব্যপ্রেমিক হলে কাব্যগ্রন্থ
দিয়ে, কথাসাহিত্যপ্রেমিক হলে কথাসাহিত্য দিয়ে, ইতিহাসপ্রিয় হলে ঐতিহাসিক গ্রন্থ
দিয়ে সে সাজিয়ে তোলে তার টেবিল, আলমারির শেলফ সবকিছু। কারো বাধা দেওয়ার অধিকার
নেই, আপত্তি করবার দাবি নেই, উপদেশ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই। এখানে সে স্বাধীন,
স্বতন্ত্র।
ব্যক্তিগত লাইব্রেরি যেমন ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিবিম্ব, পারিবারিক লাইব্রেরি তেমনি
পরিবারের অন্তর্গত ব্যক্তিসমূহের সমষ্টিগত ইচ্ছার প্রতিচ্ছায়া। এখানে যেমন একের
রুচির ওপর বহুর অত্যাচার অশোভন, তেমনি বহুর রুচির ওপর একের জবরদস্তি অন্যায়। দশ
জনের রুচির দিকে নজর রেখেই পারিবারিক লাইব্রেরি সাজাতে হয়।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক লাইব্রেরি ব্যক্তি বা পরিবারের মর্জিমাফিক গড়ে ওঠে।
সাধারণের হুকুম চালাবার মতো সেখানে কিছুই নেই। লাইব্রেরিসম্পন্ন ব্যক্তির চালচলনে
এমন একটা শ্রী ফুটে উঠতে বাধ্য, যা অন্যত্র প্রত্যক্ষ করা দুষ্কর। সত্যিকার
বৈদগ্ধ্য বা চিৎপ্রকর্ষের অধিকারী হতে হলে লাইব্রেরির সঙ্গে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি
করা অবশ্য প্রয়োজনীয়। তাছাড়া, লাইব্রেরি বা শ্রেণিবদ্ধ পুস্তক সংগ্রহ গৃহসজ্জার
কাজেও লাগে। আর এই ধরনের গৃহসজ্জায় লাভ এই যে, বাইরের পারিপাট্যের সঙ্গে তা
মানসিক সৌন্দর্যেরও পরিচয় দেয়। লাইব্রেরি সৃজনে তৎপর হয়ে ধনী ব্যক্তিরা পুস্তক
কেনার নেশা সৃষ্টি করলে দেশের পক্ষে লাভ হবে এই যে অনবরত বাঁধানো পুস্তকগুলো
হাতড়াতে হাতড়াতে তাদের চামড়ার তলে যে একটি মন সুপ্ত রয়েছে, সে সম্বন্ধে তাঁরা
সচেতন হয়ে উঠবেন। লাইব্রেরি সৃজনের দরুন তাঁরা নিজেরা ততটা লাভবান না হলেও তাঁদের
পুত্রকন্যাদের যথেষ্ট উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা। হয়তো এই লাইব্রেরি থাকার দরুণই পরিণত
বয়সে তাঁরা সুসাহিত্যিক বা সাহিত্য-সমঝদার হয়ে উঠবেন। এ আশা শুধু ভিত্তিহীন
কল্পনা নয়, বড় বড় সাহিত্যিক বা কবিদের জীবনী আলোচনা করলে দেখা যায়, বাল্যে তাঁরা
পিতার অথবা পারিবারিক লাইব্রেরি থেকে সাহিত্যসাধনার প্রেরণা লাভ করেছেন।
সাধারণ পাঠাগার আধুনিক জিনিস। কারণ, ঐতিহাসিকরা কী বলবেন জানি নে, যে
জ্ঞানার্জনস্পৃহা থেকে পাঠাগারের জন্ম, ব্যাপকভাবে তার জাগরণস্পৃহা সহজে মেটানো
সম্ভব নয়। জ্ঞানের বাহন পুস্তক, আর পুস্তক কিনে পড়া যে দুঃসাধ্য ব্যাপার, তা
ধারণা করা সহজ। পুস্তকের ব্যাপারেও সমবায়নীতির প্রবর্তন আবশ্যক। অর্থাৎ
এক্ষেত্রেও দশে মিলে কাজ না করলে সার্থকতা লাভ করা অসম্ভব। এ ব্যাপারে দশের মিলিত
ফলস্বরূপ যা পাওয়া যায়, তাকেই সাধারণ লাইব্রেরি বলা হয়। অবশ্য সাধারণ লাইব্রেরি
ব্যক্তির দানও হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত প্রভাবের চাইতে সাধারণের প্রভাবই সেখানে
বলবত্তর হতে বাধ্য। যদি না হয়, তবে সাধারণ পাঠাগার না বলে ব্যক্তিগত পাঠাগার বলাই
ভালো।
সাধারণ লাইব্রেরির পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হলেও
পুস্তক নির্বাচনে বিশেষ সাবধানতার পরিচয় দিতে হয় বলে মনে হয় না।
সাধারণ লাইব্রেরির পুস্তকসংগ্রহ বিষয়ে আরেকটি কথা বলা দরকার। পুস্তক নির্বাচনকালে
জাতীয় বৈশিষ্ট্য বা জাতীয় সংকীর্ণতার পরিচয় যত কম দেওয়া হয়, ততই ভালো। কারণ,
যতদূর মনে হয়, পাঠাগার জাতীয় বৈশিষ্ট্যের রক্ষক নয়, ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের
বিকাশক। আর ভালো পুস্তকলেখক যখন কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের লোক নন, সমস্ত
সম্প্রদায়ের আত্মীয়, তখন পুস্তক নির্বাচনকালে সংকীর্ণ মনোভাবসম্পন্ন না হওয়াই
ভালো।
জাতির জীবনধারা গঙ্গা-যমুনার মতো দুই ধারায় প্রবাহিত। এক ধারার নাম আত্মরক্ষা বা
স্বার্থ প্রসার, আরেক ধারার নাম আত্মপ্রকাশ বা পরার্থ বৃদ্ধি। একদিকে
যুদ্ধবিগ্রহ, মামলাফ্যাসাদ প্রভৃতি কদর্য দিক, অপর দিকে সাহিত্যশিল্প, ধর্ম
প্রভৃতি কল্যাণপ্রদ দিক। একদিকে শুধু কাজের জন্য কাজ, অপর দিকে আনন্দের জন্য কাজ।
একদিকে সংগ্রহ, আরেক দিকে সৃষ্টি। যে জাতি দ্বিতীয় দিকটির প্রতি উদাসীন থেকে শুধু
প্রথম দিকটির সাধনা করে, সে জাতি কখনও উঁচু জীবনের অধিকারী হতে পারে না। কোনো
প্রকারে টিকে থাকতে পারলেও নব নব বৈভব সৃষ্টি তার দ্বারা সম্ভব হয় না। মানসিক ও
আত্মিক জীবনের সাধনা থেকে চরিত্রে যে শ্রী ফুটে ওঠে, তা থেকে তাকে এক রকম বঞ্চিত
থাকতেই হয়। জীবনে শ্রী ফোটাতে হলে দ্বিতীয় দিকটির সাধনা আবশ্যক। আর সেজন্য
লাইব্রেরি এক অমূল্য অবদান।
লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদণ্ড। কারণ, বুদ্ধির জাগরণ-ভিন্ন জাতীয়
আন্দোলন হুজুগপ্রিয়তা ও ভাববিলাসিতার নামান্তর, আর পুস্তক অধ্যয়ন ব্যতীত বুদ্ধির
জাগরণ অসম্ভব।
(সংক্ষেপিত)
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ:
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি-কথা’ (ফেব্রুয়ারি
১৯৫৯) গ্রন্থের ‘লাইব্রেরি’ শীর্ষক প্রবন্ধের ২য় পরিচ্ছেদের অংশবিশেষ। এই
প্রবন্ধটি ৮টি পরিচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, ‘সংস্কৃতি-কথা’ লেখকের
প্রথম গ্রন্থ যা প্রকাশিত হয় তারঁ মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা:
➠ শ্রেণিবদ্ধ- শ্রেণি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সারি সারি সাজানো।
➠ অভিপ্রায়- ইচ্ছা, উদ্দেশ্য, আকাঙ্ক্ষা।
➠ সর্ববিদ্যাবিশারদ- সব বিষয়ে পাণ্ডিত্যের অধিকারী।
➠ পারদর্শিতা- নৈপুণ্য, পটুতা।
➠ উদ্ভাবন- আবিষ্কার, গবেষণা করে নতুন কিছু বের করা।
➠ প্রতিবিম্ব- প্রতিচ্ছায়া, প্রতিচ্ছবি, প্রতিফলিত অবিকল রূপ।
➠ স্বেচ্ছাচারী- যে আপন ইচ্ছানুযায়ী আচরণ করে।
➠ স্বেচ্ছাচারী সম্রাট- যে রাজ্য আপন ইচ্ছা অনুযায়ী রাজ্য পরিচালনা করেন।
এখানে বাক্যাংশটির বিশেষ অর্থ হচ্ছে ব্যক্তিগত স্বাধীন রুচি ও পছন্দ
অনুযায়ী বই সংগ্রহকারী। যিনি খেয়ালমতো গড়ে তোলেন তাঁর কল্পনার সাম্রাজ্য।
➠ তাজমহল- সম্রাট শাহজাহান যেমন করে তাজমহল তৈরি করে শিল্পীমনের পরিচয়
দিয়েছিলেন, তেমনি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি হচ্ছে ব্যক্তির নিজস্ব রুচি ও
শিল্পীমনের নিদর্শন।
➠ কাব্যপ্রেমিক- যে কবিতা ভালোবাসে।
➠ প্রতিচ্ছায়া- প্রতিচ্ছবি।
➠ অশোভন- যা শোভন বা সুন্দর নয়।
➠ জবরদস্তি- জুলুম, পীড়ন, বাড়াবাড়ি।
➠ মর্জিমাফিক- ইচ্ছা অনুযায়ী, খেয়াল অনুসারে।
➠ শ্রী- সৌন্দর্য।
➠ দুষ্কর- দুঃসাধ্য, সহজে করা যায় না এমন।
➠ বৈদগ্ধ্য- পাণ্ডিত্য।
➠ চিৎকর্ষ- জ্ঞানচর্চার ফলে মনের উন্নতি।
➠ পারিপাট্য- শৃঙ্খলা, গোছানো ভাব।
➠ সৃজন- সৃষ্টি।
➠ সমবায় নীতি- বহু মানুষ মিলে প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বেচ্ছামূলক উদ্যোগে দেশের
উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণের নীতি।
➠ সমঝদার- বোঝে এমন, রসজ্ঞ।
➠ স্পৃহা- ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা।
➠ বলবত্তর- অধিকতর শক্তিশালী।
➠ পরার্থ- পরের উপকার।
➠ সম্প্রদায়- বিশেষ সমাজ ও গোষ্ঠী।
➠ বিকাশক- যা বিকাশ ঘটায়।
➠ ভাব বিলাসিতা- ভাবনার বিলাসিতা, কাজের চেয়ে ভাবনায় বেশি মনোযোগ।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি:
মানবসভ্যতার ক্রম অগ্রগতির ধারায় মানুষের অর্জিত জ্ঞান, মহৎ অনুভব সঞ্চিত
হয়ে থাকে গ্রন্থাগারে। এর মাধ্যমে পূর্বপ্রজন্মের জ্ঞান সঞ্চারিত হয়
উত্তরপ্রজন্মের কাছে। তাই জ্ঞানচর্চা, জ্ঞান-অন্বেষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে
গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
গ্রন্থাগার হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের শ্রেণিবদ্ধ সংগ্রহশালা। সব ধরনের
জ্ঞানের একত্র সমাবেশ ঘটিয়ে জ্ঞানচর্চার প্রসারে ধারাবাহিক ও স্থায়ী ভূমিকা
পালনের জন্য লাইব্রেরির সৃষ্টি। বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডার এত বহুমুখী ও বিপুল
যে, কোনো এক জনের পক্ষে সব জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব নয়। তাই এটি ব্যবহার করে
বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁর প্রয়োজন ও আগ্রহ অনুযায়ী জ্ঞানচর্চা করতে পারেন।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধটিতে জ্ঞানলাভ ও পাঠাগারের সম্পর্ক উপস্থাপন করেছেন
মোতাহের হোসেন চৌধুরী। প্রবন্ধটি বইপাঠে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পাঠাগার
প্রতিষ্ঠায় উৎসাহী করে তোলে।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি :
মোতাহের হোসেন চৌধুরী ১৯০৩ সালের ১লা এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাশ করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। একজন সংস্কৃতিবান ও মার্জিত রুচিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে তিনি খ্যাত ছিলেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘শিখা’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর লেখায় মননশীলতা ও চিন্তার স্বচ্ছন্দ প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সংস্কৃতি কথা’ বাংলা সাহিত্যের মননশীল প্রবন্ধ-ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। ‘সভ্যতা’ ও ‘সুখ’ তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ। ১৯৫৬ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন- ১. কোন ধরনের লাইব্রেরির পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হয়?
উত্তর: সাধারণ লাইব্রেরির পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হয়।
প্রশ্ন- ২. লাইব্রেরি কত প্রকার?
উত্তর: লাইব্রেরি তিন প্রকার- ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সাধারণ।
প্রশ্ন- ৩. সাধারণ জনগণের জ্ঞানস্পৃহা মেটানোর জন্য কোন লাইব্রেরি প্রয়োজন?
উত্তর: সাধারণ জনগণের জ্ঞানস্পৃহা মেটানোর জন্য সাধারণ লাইব্রেরির প্রয়োজন।
প্রশ্ন- ৪. ব্যক্তিগত লাইব্রেরি কীভাবে গড়ে ওঠে?
উত্তর: ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন- ৫. কোন পাঠাগার আধুনিক জিনিস?
উত্তর: সাধারণ পাঠাগার আধুনিক জিনিস।
প্রশ্ন- ৬. কোন লাইব্রেরির ক্ষেত্রে পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হয়?
উত্তর: সাধারণ লাইব্রেরির ক্ষেত্রে পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হয়।
প্রশ্ন- ৭. দশজনের রুচির দিকে নজর রেখে কোন লাইব্রেরি সাজাতে হয়?
উত্তর: দশজনের রুচির দিকে নজর রেখে পারিবারিক লাইব্রেরি সাজাতে হয়।
প্রশ্ন- ৮. পাঠাগার মূলত কী?
উত্তর: পাঠাগার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের বিকাশক।
প্রশ্ন- ৯. সাধারণ লাইব্রেরি কাকে বলা হয়?
উত্তর: যে লাইব্রেরি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসে গড়ে ওঠে তাকে সাধারণ লাইব্রেরি বলে।
প্রশ্ন- ১০. সাধারণ লাইব্রেরি আধুনিক জিনিস কেন?
উত্তর: কারণ এটি জ্ঞানার্জনস্পৃহা পূরণে ব্যাপকভাবে কার্যকর।
প্রশ্ন- ১১. লাইব্রেরি কার জন্য সবচেয়ে উপকারী?
উত্তর: লাইব্রেরি জ্ঞানান্বেষী ও গবেষকদের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
প্রশ্ন- ১২. লাইব্রেরি গৃহসজ্জার কাজেও কীভাবে লাগে?
উত্তর: লাইব্রেরি মানসিক সৌন্দর্যের পরিচয় দিয়ে গৃহসজ্জা সম্পূর্ণ করে।
প্রশ্ন- ১৩. ধনী ব্যক্তিদের লাইব্রেরি সৃজনে আগ্রহ কেন জরুরি?
উত্তর: এতে তারা নিজেরা না হলেও তাদের সন্তানরা উপকৃত হতে পারে।
প্রশ্ন- ১৪. অনেক সাহিত্যিক কীভাবে সাহিত্য সাধনায় প্রেরণা পেয়েছেন?
উত্তর: পিতার বা পারিবারিক লাইব্রেরি থেকে তাঁরা সাহিত্য সাধনায় প্রেরণা পেয়েছেন।
প্রশ্ন- ১৫. সাধারণ লাইব্রেরির পুস্তক নির্বাচনকালে কী বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত?
উত্তর: জাতীয় সংকীর্ণতা বা পক্ষপাত এড়ানো উচিত।
প্রশ্ন- ১৬. পাঠাগারের প্রকৃত ভূমিকা কী?
উত্তর: পাঠাগার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের বিকাশে সহায়ক।
প্রশ্ন- ১৭. সাধারণ লাইব্রেরির পুস্তক শ্রেণিবিন্যাসে কোন বিষয়টি জরুরি?
উত্তর: যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দেওয়া জরুরি।
প্রশ্ন- ১৮. জাতীয় জীবনধারা কিভাবে প্রবাহিত হয়?
উত্তর: আত্মরক্ষা ও আত্মপ্রকাশ-এই দুই ধারায়।
প্রশ্ন- ১৯. একটি জাতি উন্নত হতে হলে কোন দিকটির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে?
উত্তর: আত্মপ্রকাশ বা পরার্থ বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রশ্ন- ২০. লাইব্রেরি জাতির কী নির্ধারণ করে?
উত্তর: লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদ- নির্ধারণ করে।
প্রশ্ন- ২১. লাইব্রেরি কী?
উত্তর: পুস্তকের শ্রেণিবদ্ধ সংগ্রহকে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার বলা হয়।
প্রশ্ন- ২২. লাইব্রেরির সৃষ্টি কেন হয়েছে?
উত্তর: সকল প্রকার জ্ঞান একত্র করে স্থায়িত্ব দেওয়ার জন্য লাইব্রেরির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্ন- ২৩. সব ধরনের জ্ঞান আহরণ করা এক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব কি?
উত্তর: না, কোনো এক ব্যক্তির পক্ষে সব ধরনের জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব নয়।
প্রশ্ন- ২৪. লাইব্রেরির মাধ্যমে কীভাবে জ্ঞান লাভ করা যায়?
উত্তর: লাইব্রেরির মাধ্যমে দরকার অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে মোটামুটি জ্ঞান লাভ করা যায়।
প্রশ্ন- ২৫. লাইব্রেরি কত প্রকার?
উত্তর: লাইব্রেরি তিন প্রকার-ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সাধারণ।
প্রশ্ন- ২৬. ব্যক্তিগত লাইব্রেরি কেমনভাবে গড়ে ওঠে?
উত্তর: ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন- ২৭. ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: এটি ব্যক্তি যে ধরনের রচনা পছন্দ করে তার প্রাচুর্য এবং অপছন্দের রচনার অনুপস্থিতি দ্বারা চিহ্নিত।
প্রশ্ন- ২৮. পারিবারিক লাইব্রেরি কী?
উত্তর: পারিবারিক লাইব্রেরি পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত রুচির প্রতিচ্ছায়া।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :
প্রশ্ন- ১: ‘জাতির জীবন ধারা গঙ্গা-যমুনার মতো দুই ধারায় প্রবাহিত’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: লেখক ‘জাতির জীবনধারা গঙ্গা-যমুনার মতো দুই ধারায় প্রবাহিত’ বলেছেন, যা দিয়ে তিনি জাতির জীবনের দুই মূল দিকের কথা উল্লেখ করেছেন।
➠ একটি হল আত্মরক্ষা বা স্বার্থ প্রসার, যা জাতির দৈনন্দিন কাজকর্মের দিক, যেমন: অর্থ উপার্জন, ব্যক্তিগত উন্নতি ইত্যাদি। আর অন্যটি হল আত্মপ্রকাশ বা পরার্থ বৃদ্ধি, যেখানে জাতি সৃষ্টিশীলতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক কল্যাণে মনোযোগ দেয়। লেখক জানান, যে জাতি শুধু প্রথম দিকটির দিকে মনোযোগী থাকে, সে কখনও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না, কারণ মানসিক ও আত্মিক উন্নতি ছাড়া জাতির সঠিক বিকাশ সম্ভব নয়।
প্রশ্ন- ২: ‘এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী সম্রাট, খেয়ালমতো গড়ে তোলে তার কল্পনার তাজমহল’—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ‘এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী সম্রাট, খেয়ালমতো গড়ে তোলে তার কল্পনার তাজমহল’—বলতে বই সংগ্রহের বিষয়ে ব্যক্তির স্বাধীন রুচি ও পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
➠ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো গড়ে ওঠে। এটা হয়ে ওঠে ব্যক্তির মনের প্রতিবিম্ব। ব্যক্তি যে ধরনের রচনা ভালোবাসে তার প্রাচুর্য আর যে ধরনের রচনা অপছন্দ করে, তার অনুপস্থিতিই ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য।
ব্যক্তির পছন্দের বিষয়ে কারো বাধা দেওয়ার অধিকার নেই, আপত্তি করার সুযোগ নেই। এখানে সে স্বাধীন, স্বতন্ত্র। সম্রাট শাহজাহান যেমন নিজের রুচি ও কল্পনাকে প্রাধান্য দিয়ে তাজমহল গড়ে তাঁর শিল্পী মনের পরিচয় দিয়েছিলেন, তেমনি ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতেও ব্যক্তি নিজের রুচি ও শিল্পী মনের পরিচয় দিতে পারে।
প্রশ্ন- ৩: ‘লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদণ্ড।’ —উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানব সভ্যতার ক্রম অগ্রগতির ধারায় মানুষের অর্জিত জ্ঞান, মহৎ অনুভব সঞ্চিত হয়ে থাকে লাইব্রেরিতে।
➠ এর মাধ্যমে পূর্বপুরুষের জ্ঞান সঞ্চারিত হয় উত্তর-পুরুষের কাছে। লাইব্রেরি সম্পন্ন ব্যক্তি সত্যিকার বৈদগ্ধ ও চিত্তপ্রকর্ষের অধিকারী হয়। জাতীয় জীবনধারার দুটি দিকের দ্বিতীয় দিকটি হলো আত্মপ্রকাশ বা পরার্থ বৃদ্ধি। এদিকে রয়েছে সৃজনশীলতার আনন্দ। যে জাতি এই দিকের সাধনা করে, সে জাতি উঁচু জীবনের অধিকারী হয়। কারণ বুদ্ধির জাগরণ ও বিকাশ ঘটাতে হলে বই পড়তেই হবে। সে জন্য ‘লাইব্রেরিই একটি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদণ্ড’ এ কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন- ৪: ‘এক ব্যক্তির পক্ষে সর্ববিদ্যাবিশারদ হওয়া অসম্ভব’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানের অসংখ্যা শাখা-প্রশাখা রয়েছে। একজন ব্যক্তির পক্ষে জ্ঞানের এই সর্বময় বিস্তৃত শাখায় বিচরণ করা সম্ভব নয়।
➠ পৃথিবীব্যাপী জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্ঞানের শাখাগুলোরও বিস্তৃতি ঘটছে। অর্থাৎ যত দিন যাচ্ছে জ্ঞানের স্বতন্ত্র বিভিন্ন ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হচ্ছে। একজন ব্যক্তির পক্ষে জ্ঞানের এই সবগুলো শাখায় বিচরণ করা সম্ভব নয়। জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রই অনেক বেশি বিস্তৃত, প্রসারিত। একজন ব্যক্তির মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতাও মোটামুটি সীমিত। তাই কোনো মানুষ চাইলেও সব বিষয়ে সমান দক্ষ বা সর্ববিদ্যাবিশারদ হয়ে উঠতে পারবে না। এক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতা থাকবেই। যে ব্যক্তি গণিত ভালো বোঝে, সে সাহিত্যেও যে সমান পারদর্শিতা দেখাতে পারবে, এমন কোনো কথা নেই। আবার একইভাবে যে ইতিহাস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখে, সে পদার্থবিজ্ঞান না— ও বুঝতে পারে। তাই এ কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন- ৫: ‘ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো গড়ে ওঠে’— বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তির নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা এবং নিজস্ব রুচি অনুযায়ী সজ্জিত করা পুস্তকের সমাহার।
➠ লাইব্রেরি মূলত তিন প্রকার। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি। ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে ব্যক্তির রুচিবোধ প্রতিবিম্বিত হয়। অর্থাৎ একজন মানুষের ঠিক যে ধরনের বই পড়তে পছন্দ, সেধরনের বই দিয়েই সে তার লাইব্রেরি গড়ে তোলে। একজন ব্যক্তি যদি কবিতার বই পছন্দ করে, তাহলে সে কবিতার বই দিয়ে লাইব্রেরিকে সজ্জিত করবে। অপরদিকে কেউ যদি বিজ্ঞান বা ইতিহাসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়, অথবা কথাসাহিত্য পছন্দ করে, তাহলে সে সেই ধরনের বই দিয়েই লাইব্রেরিকে সজ্জিত করতে পারবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, অথবা কারও পরামর্শ গ্রহণ করারও কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী সম্রাট, যে তার ইচ্ছা অনুযায়ী কল্পনার তাজমহল গড়ে তুলতে পারবে।
প্রশ্ন- ৬: ‘বাইরের পারিপাট্যের সঙ্গে তা মানসিক সৌন্দর্যেরও পরিচয় দেয়।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বইয়ের সংগ্রহের মাধ্যমে ঘরে লাইব্রেরি গড়ে তুললে তা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং একই সাথে তা ব্যক্তির অন্তর্জগতের সৌন্দর্যের স্বরূপকে প্রকটিত করে।
➠ বই জ্ঞানী মানুষের নিত্যসঙ্গী। যারা প্রকৃত জ্ঞান অন্বেষণে আগ্রহী, তারা নিয়মিত বই পড়েন। বইয়ের সাথেই তাদের সখ্য। অনেকে এতটাই বইপ্রেমী যে, ব্যক্তি উদ্যোগে বাসাবাড়িতে লাইব্রেরি গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে সেটা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক লাইব্রেরির যে-কোনো প্রকার হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ব্যক্তির রুচিবোধের প্রকাশ ঘটে। সারি সারি বই সুন্দরভাবে শেলফে সাজিয়ে রাখলে তা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। একই সাথে একজন ব্যক্তির রুচিবোধ কেমন, সেটা তার বইয়ের সংগ্রহ এবং শেলফে বইগুলো সাজিয়ে রাখার ধরন দেখে বুঝতে পারি। অর্থাৎ লাইব্রেরি বাহ্যিক পারিপাট্যের সাথে ব্যক্তির মানসিক রুচিবোধের প্রকাশ ঘটায়।
প্রশ্ন- ৭: ‘একের রুচির ওপর বহুর অত্যাচার অশোভন, তেমনি বহুর রুচির ওপর একের জবরদস্তি অন্যায়।’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটিতে পারিবারিক লাইব্রেরি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যেখানে পরিবারের সকল সদস্যের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। লাইব্রেরি তিন প্রকার।
➠ এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পারিবারিক লাইব্রেরি। পারিবারিক লাইব্রেরি মূলত পরিবারের সদস্যদের মর্জিমাফিক গড়ে ওঠে। একটা পরিবারে অনেক সদস্য থাকেন। এই সদস্যদের সবার রুচি এক নয়। প্রত্যেকের রুচিবোধে রয়েছে ভিন্নতা। তাই বই পড়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের রুচি আলাদা আলাদা। কেউ সাহিত্যের বই পছন্দ করে, কেউ আবার বিজ্ঞানভিত্তিক, কেউ ইতিহাসভিত্তিক, আবার কেউ ধর্মীয় বই পছন্দ করেন। পারিবারিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হয়। অর্থাৎ সবার রুচির দিকে খেয়াল রেখেই বই সংগ্রহ করতে হয়। এক্ষেত্রে একজনের রুচিবোধ, পরিবারের অন্য সদস্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
প্রশ্ন- ৮: ‘অনবরত বাঁধানো পুস্তকগুলো হাতড়াতে হাতড়াতে তাদের চামড়ার তলে একটি মন সুপ্ত রয়েছে, সে সম্বন্ধে তাঁরা সচেতন হয়ে উঠবেন।’
উত্তর: বই মানুষকে উদার হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। বইয়ের সংস্পর্শে থাকা মানুষ কখনো কঠোর হতে পারে না।
➠ নিয়মিত বই পড়ার ফলে মানুষের মন নির্মল ও পবিত্র হয় ওঠে, কলুষতা মুক্ত হয়। আমাদের সমাজে যারা ধনী এবং সম্পৎশালী হিসেবে পরিচিত, তারা স্বভাবতই একটু অহংকারী স্বভাবের হয়ে থাকে। লেখকের মতে, তারা যদি বই কেনে তাহলে এই বইগুলো পড়ার ফলে তারা তাদের নিষ্কলুষ মনকে আবিষ্কার করতে পারবে। অর্থাৎ তারা অনেক বেশি উদার হিসেবে নিজেদের আবিষ্কার করবে।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাবার সঙ্গে একুশের বইমেলায় আসে অমি। সেখান থেকে বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে সে তার পছন্দমতো বিজ্ঞানের বইগুলো সংগ্রহ করে। শুধু বইমেলা থেকে নয়, অমি যেখানেই যায় সেখান থেকেই বিজ্ঞানের কোনো না কোনো বই কিনে নিয়ে আসে। আর এভাবেই তার বাসায় গড়ে তোলে এক বিশাল লাইব্রেরি।
ক. কোন ধরনের লাইব্রেরির পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হয়?
খ. ‘জাতির জীবন ধারা গঙ্গা-যমুনার মতো দুই ধারায় প্রবাহিত’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের যে লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উক্ত শ্রেণির লাইব্রেরিকে অন্য কোনো শ্রেণির লাইব্রেরিতে রূপান্তর করা সম্ভব কি? ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের আলোকে যৌক্তিক মত দাও।
ক. সাধারণ লাইব্রেরির পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হয়।
খ. লেখক ‘জাতির জীবনধারা গঙ্গা-যমুনার মতো দুই ধারায় প্রবাহিত’ বলেছেন, যা দিয়ে তিনি জাতির জীবনের দুই মূল দিকের কথা উল্লেখ করেছেন।
➠ একটি হল আত্মরক্ষা বা স্বার্থ প্রসার, যা জাতির দৈনন্দিন কাজকর্মের দিক, যেমন: অর্থ উপার্জন, ব্যক্তিগত উন্নতি ইত্যাদি। আর অন্যটি হল আত্মপ্রকাশ বা পরার্থ বৃদ্ধি, যেখানে জাতি সৃষ্টিশীলতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক কল্যাণে মনোযোগ দেয়। লেখক জানান, যে জাতি শুধু প্রথম দিকটির দিকে মনোযোগী থাকে, সে কখনও উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে না, কারণ মানসিক ও আত্মিক উন্নতি ছাড়া জাতির সঠিক বিকাশ সম্ভব নয়।
গ. উদ্দীপকে যে লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে তা হলো ‘ব্যক্তিগত লাইব্রেরি’।
➠ মোতাহের হোসেন চৌধুরী তাঁর প্রবন্ধে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি সম্পর্কে বলেন, এটি একটি ব্যক্তির মন, রুচি এবং ইচ্ছার প্রতিফলন। ব্যক্তি নিজে যেসব বই পড়তে পছন্দ করেন, সেই বইগুলোই সংগ্রহ করে তার লাইব্রেরি সাজিয়ে তোলে। এখানে কোনো ধরনের বাধা বা সীমাবদ্ধতা থাকে না, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তির স্বাধীনতা ও পছন্দের ওপর নির্ভরশীল।
➠ অমি উদ্দীপকে যেমন তার পছন্দমতো বিজ্ঞানের বই সংগ্রহ করছে, তেমনই ব্যক্তিগত লাইব্রেরি তার মনোভাব, রুচি, এবং শখের বহিঃপ্রকাশ। অমি শুধুমাত্র বিজ্ঞানের বই সংগ্রহ করছে, যা তার একান্ত পছন্দ এবং আগ্রহের বিষয়। তার লাইব্রেরি কোনো বাহ্যিক প্রভাব বা সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে গড়া হয়নি, বরং এটি তার ব্যক্তিগত শখ এবং বুদ্ধির অনুশীলন হিসেবেই গড়ে উঠেছে। এটি তার মননের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, যেখানে কোনো অন্যের মতামত বা প্রবণতা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
এছাড়া, ব্যক্তিগত লাইব্রেরির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো যে, এটি ব্যক্তির জ্ঞান অর্জন এবং ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অমি তার বইগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান লাভ করছে, যা তার নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে।
সুতরাং, উদ্দীপকের অমির লাইব্রেরি তার পছন্দ এবং আগ্রহের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরির নিখুঁত উদাহরণ, যা মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রবন্ধে বর্ণিত ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত করছে।
ঘ. হ্যাঁ, এক শ্রেণির লাইব্রেরিকে অন্য শ্রেণির লাইব্রেরিতে রূপান্তর করা সম্ভব, তবে এটি নির্ভর করে লাইব্রেরির ধরন এবং প্রেক্ষাপটের ওপর। মোতাহের হোসেন চৌধুরী তার প্রবন্ধে তিনটি প্রধান ধরনের লাইব্রেরি উল্লেখ করেছেন: ব্যক্তিগত লাইব্রেরি, পারিবারিক লাইব্রেরি, এবং সাধারণ লাইব্রেরি।
➠ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি সাধারণত ব্যক্তির ইচ্ছা ও রুচির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যা তার নিজস্ব আগ্রহ এবং পছন্দের বইয়ের সংগ্রহ। এখানে একমাত্র ব্যক্তি তার নির্বাচিত বইগুলো সংগ্রহ করে, তাই এটি এক ধরনের ব্যক্তিগত সত্তা বা চিন্তার প্রতিফলন। ব্যক্তিগত লাইব্রেরিকে পারিবারিক লাইব্রেরিতে রূপান্তর করা সম্ভব, তবে তার জন্য এই লাইব্রেরির বইয়ের সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্যকে বৃহত্তর পরিবারের সদস্যদের রুচি ও প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতে হবে। একইভাবে, পারিবারিক লাইব্রেরি থেকে সাধারণ লাইব্রেরিতে রূপান্তর করা সম্ভব, তবে এখানে বইগুলোর নির্বাচন ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সাধারণের চাহিদা অনুযায়ী হতে হবে।
পারিবারিক লাইব্রেরি একটি পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত পছন্দের প্রকাশ। এটি এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত রুচির পরিবর্তে, পরিবারের সকল সদস্যের প্রয়োজন এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। পারিবারিক লাইব্রেরিকে সাধারণ লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা সম্ভব, তবে সেখানে বইগুলোর নির্বাচন আরো বিস্তৃত এবং বৈচির্ত্যময় হতে হবে, যেন সেটি আরও বড় জনগণের জন্য উপকারী হতে পারে।
➠ সাধারণ লাইব্রেরি সাধারণ জনগণের জন্য গড়ে ওঠে, যেখানে পুস্তক নির্বাচন জাতীয় বা বৈশ্বিক মানদ-ের ওপর নির্ভর করে। এটি জনগণের প্রয়োজন এবং আগ্রহের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। সাধারণ লাইব্রেরিকে যদি পারিবারিক লাইব্রেরি বা ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করা হয়, তবে তা বিশেষভাবে সীমিত এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য উপযুক্ত হবে।
➠ অতএব, লাইব্রেরির শ্রেণি পরিবর্তন সম্ভব, তবে সেটি নির্ভর করবে লাইব্রেরির আকার, সদস্যদের প্রয়োজন এবং তার লক্ষ্য অনুযায়ী। তবে যে লাইব্রেরি গঠন করা হবে, সেটি পরবর্তী শ্রেণির উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হওয়া উচিত।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ব্যক্তি যে ধরনের রচনা ভালোবাসে তার প্রাচুর্য আর যে ধরনের রচনা পছন্দ করে না তার অনুপস্থিতি হয়ে থাকে ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য। এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী সম্রাট, খেয়ালমতো গড়ে তোলে তার কল্পনার তাজমহল। কাব্যপ্রেমিক হলে কাব্যগ্রন্থ দিয়ে, কথাসাহিত্য প্রেমিক হলে কথাসাহিত্য দিয়ে, ইতিহাসপ্রিয় হলে ঐতিহাসিক গ্রন্থ দিয়ে সে সাজিয়ে তোলে তার টেবিল, আলমারির শেলফ-সব কিছু। কারো বাধা দেওয়ার অধিকার নেই, আপত্তি করার সুযোগ নেই, উপদেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এখানে সে স্বাধীন, স্বতন্ত্র।
ক. লাইব্রেরি কত প্রকার?
খ. ‘এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী সম্রাট, খেয়ালমতো গড়ে তোলে তার কল্পনার তাজমহল’—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. তোমার লাইব্রেরি তুমি কীভাবে সাজাতে চাও? লেখো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ব্যক্তিগত লাইব্রেরির ভালো ও খারাপ দিকের একটি তুলনামূলক আলোচনা করো।
ক. লাইব্রেরি তিন প্রকার-ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সাধারণ।
খ. ‘এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী সম্রাট, খেয়ালমতো গড়ে তোলে তার কল্পনার তাজমহল’ —বলতে বই সংগ্রহের বিষয়ে ব্যক্তির স্বাধীন রুচি ও পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
➠ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো গড়ে ওঠে। এটা হয়ে ওঠে ব্যক্তির মনের প্রতিবিম্ব। ব্যক্তি যে ধরনের রচনা ভালোবাসে তার প্রাচুর্য আর যে ধরনের রচনা অপছন্দ করে, তার অনুপস্থিতিই ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য।
ব্যক্তির পছন্দের বিষয়ে কারো বাধা দেওয়ার অধিকার নেই, আপত্তি করার সুযোগ নেই। এখানে সে স্বাধীন, স্বতন্ত্র। সম্রাট শাহজাহান যেমন নিজের রুচি ও কল্পনাকে প্রাধান্য দিয়ে তাজমহল গড়ে তাঁর শিল্পী মনের পরিচয় দিয়েছিলেন, তেমনি ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতেও ব্যক্তি নিজের রুচি ও শিল্পী মনের পরিচয় দিতে পারে।
গ. আমি যে লাইব্রেরি সাজাব সেটা হবে আমার ব্যক্তিগত লাইব্রেরি।
➠ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি যেহেতু ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো গড়ে ওঠে, তাই আমার লাইব্রেরিও আমার নিজের খেয়ালমতো গড়ে উঠবে। এখানে আমি স্বেচ্ছাচারী সম্রাটের মতোই স্বাধীন। আমি যেহেতু কথাসাহিত্য প্রেমিক, তাই আমার লাইব্রেরিতে কেবল কথাসাহিত্যিকদের বই থাকবে। আমার প্রিয় কথাসাহিত্যিকের তালিকায় আছেন হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, ইমদাদুল হক মিলনসহ আরো অনেকে। আমার শোবার ঘরে আমার পড়ার টেবিলের পাশে একটা বেতের শেলফ আছে। সেই শেলফের একেকটি তাকে আমি একেকজন লেখকের বই রাখতে চাই। তখন যেন চট করেই এ বইগুলো পড়তে পারি, তাই হাতের নাগালের কাছে রাখব। এ ছাড়া কিশোর উপযোগী যে পত্রপত্রিকাগুলো আমি পড়ি, যেমন-কিশোর আলো বা কিআ, তিন গোয়েন্দা-এগুলোও আমার শেলফে স্থান পাবে।
➠ আমার ছোট্ট লাইব্রেরির বই আমি সব সময় সুন্দর করে গুছিয়ে রাখব, যেন বাইরের পারিপাট্যের সঙ্গে আমার মানসিক সৌন্দর্যের পরিচয়ও ফুটে ওঠে।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ব্যক্তিগত লাইব্রেরির ভালো ও খারাপ দিকের একটি তুলনামূলক আলোচনা উপস্থাপন করা হলো—
➠ ভালো দিক : ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তির মনের ইচ্ছানুযায়ী গড়ে ওঠে। লাইব্রেরি ব্যক্তিগত হওয়ায় ব্যক্তি সেটা নিজের মনের মতো সাজাতে পারে। এতে বাইরের পারিপাট্যের সঙ্গে ব্যক্তির মানসিক সৌন্দর্যের পরিচয় ও প্রকাশ পায়।
➠ মন্দ দিক : ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে ব্যক্তি যেহেতু স্বেচ্ছাচারী সম্রাট, তার পছন্দের ক্ষেত্রে যেহেতু কেউ বাধা ও উপদেশ দিতে বা আপত্তি করতে পারে না, তাই বই পছন্দের ক্ষেত্রে ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত অনেক সময় ভুল হতে পারে। কী ধরনের বই কোন বয়সের উপযোগী অথবা বইটির সংগ্রহ সুরুচির পরিচয় বহন করছে কি না, অনেক সময় ব্যক্তি তা নির্বাচন করতে পারে না। ফলে বাইরের পারিপাট্য থাকলেও অনেক সময় তা মানসিক দৈন্যের প্রকাশ ঘটায়
না।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
অয়নের বাবা রাশেদুজ্জামান বাবার একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে পৈতৃক বাড়িটির সঙ্গে বাবার ব্যক্তিগত পাঠাগারটিরও উত্তরাধিকারী হয়েছেন। অয়নের দাদু ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ের বই পড়া ও সংগ্রহে আগ্রহী ছিলেন। রাশেদুজ্জামান সাহিত্য-সংস্কৃতি ভালোবাসেন এবং বাবার পাঠাগারটিতে তিনি নিজের অভিরুচির সংযোজন করলেন। অয়ন তার ভালো লাগা গল্পের বইগুলোকে লাইব্রেরির এক পাশে স্থান করে দিল। লাইব্রেরির সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে ইতিহাসের বই পড়ার আগ্রহ অনুভব করতে লাগল।
ক. সাধারণ জনগণের জ্ঞানস্পৃহা মেটানোর জন্য কোন লাইব্রেরি প্রয়োজন?
খ. ‘লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদ-’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
গ. অয়নের দাদুর লাইব্রেরিটি ছিল একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি—প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রাশেদুজ্জামান বাবার লাইব্রেরিটিকে একটি পারিবারিক লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করেছেন—মন্তব্যটির যৌক্তিক কারণ বিশ্লেষণ করো।
ক. সাধারণ জনগণের জ্ঞানস্পৃহা মেটানোর জন্য সাধারণ লাইব্রেরির প্রয়োজন।
খ. মানব সভ্যতার ক্রম অগ্রগতির ধারায় মানুষের অর্জিত জ্ঞান, মহৎ অনুভব সঞ্চিত হয়ে থাকে লাইব্রেরিতে।
➠ এর মাধ্যমে পূর্বপুরুষের জ্ঞান সঞ্চারিত হয় উত্তর-পুরুষের কাছে। লাইব্রেরি সম্পন্ন ব্যক্তি সত্যিকার বৈদগ্ধ ও চিত্তপ্রকর্ষের অধিকারী হয়। জাতীয় জীবনধারার দুটি দিকের দ্বিতীয় দিকটি হলো আত্মপ্রকাশ বা পরার্থ বৃদ্ধি। এদিকে রয়েছে সৃজনশীলতার আনন্দ। যে জাতি এই দিকের সাধনা করে, সে জাতি উঁচু জীবনের অধিকারী হয়। কারণ বুদ্ধির জাগরণ ও বিকাশ ঘটাতে হলে বই পড়তেই হবে। সে জন্য ‘লাইব্রেরিই একটি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদ-’ এ কথা বলা হয়েছে।
গ. অয়নের দাদুর ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ের বই সংগ্রহ করতেন বলে তাঁর লাইব্রেরিটি ছিল একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি।
➠ উদ্দীপকের অয়নের দাদু ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য সচেতন ছিলেন বলে তিনি তাঁর লাইব্রেরিতে ওই ধরনের বই রাখতেন, যা ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য। এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী সম্রাট। কথাসাহিত্য প্রেমিক হলে কথাসাহিত্য দিয়ে, ইতিহাসপ্রিয় হলে ঐতিহাসিক গ্রন্থ দিয়ে, কাব্যপ্রেমিক হলে কাব্যগ্রন্থ দিয়ে সাজিয়ে তোলে তার টেবিল, আলমারির শেলফ সব কিছু। এ ক্ষেত্রে কারো বাধা উপদেশ দেওয়া অথবা আপত্তি করার দাবি নেই। এখানে সে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
➠ উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বলা যায়, অয়নের দাদুর লাইব্রেরিটি সম্পূর্ণভাবেই ব্যক্তিগত লাইব্রেরি।
ঘ. রাশেদুজ্জামান বাবার লাইব্রেরিটিকে একটি পারিবারিক লাইব্রেরিতে রূপান্তরিত করেছেন তাঁর বাবার সন্তানের ও নিজের বইগুলোকে একসঙ্গে স্থান দিয়ে।
➠ উদ্দীপকের রাশেদুজ্জামান তাঁর বাবার বিষয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য, নিজের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ছেলে অয়নের পছন্দের গল্পের বইগুলো একই লাইব্রেরিতে রাখার ফলে সেটা পারিবারিক লাইব্রেরিতে পরিণত হয়েছে।
➠ ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে পারিবারিক লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে—পারিবারিক লাইব্রেরি পরিবারের অন্তর্গত ব্যক্তিসমূহের সমষ্টিগত ইচ্ছার প্রতিচ্ছায়া। এখানে বহুর রুচির ওপর একের জবরদস্তি অন্যায়। ১০ জনের রুচির দিকে নজর রেখেই পারিবারিক লাইব্রেরি সাজাতে হয়।
➠ উদ্দীপকের রাশেদুজ্জামান তাঁর বাবার পছন্দের বইগুলোর সঙ্গে নিজের ও সন্তান অয়নের বইগুলো একই লাইব্রেরিতে রাখার মাধ্যমে বহুর রুচির প্রাধান্য দিয়ে একে পারিবারিক লাইব্রেরিতে পরিণত করেছেন—এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রবিনের ছোটোবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। সে যেখানেই যায়, বইয়ের দোকান থেকে ঘুরে ঘুরে বই কেনে। উপহার হিসেবে বই পেতেও সে পছন্দ করে। তার অনেক দিনের ইচ্ছা সে একটা লাইব্রেরি গড়ে তুলবে, যেখানে থাকবে শুধু বই আর বই। সে তার অনুভূতির কথা তার বাবাকে জানাল। রবিন বলল, তার ঠিক যেধরনের বইগুলো পছন্দ, সেই বইগুলো দিয়ে সে লাইব্রেরি বানাবে। একথা শুনে তার বাবা বললেন, ‘অবশ্যই এক্ষেত্রে তোমার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে, তুমি তোমার খেয়ালমতো গড়ে তুলতে পারো কল্পনার তাজমহল। এখানে তোমার ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটবে।’
ক. ব্যক্তিগত লাইব্রেরি কীভাবে গড়ে ওঠে?
খ. ‘এক ব্যক্তির পক্ষে সর্ববিদ্যাবিশারদ হওয়া অসম্ভব’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে রবিনের ইচ্ছা অনুযায়ী সে কোন ধরনের লাইব্রেরি গড়ে তুলতে পারে?
ঘ. উদ্দীপকে রবিনের বাবার মন্তব্যটা বিশ্লেষণ করে এর পক্ষে অথবা বিপক্ষে তোমার যৌক্তিক মতামত উপস্থাপন করো।
ক. ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে ওঠে।
খ. বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানের অসংখ্যা শাখা-প্রশাখা রয়েছে। একজন ব্যক্তির পক্ষে জ্ঞানের এই সর্বময় বিস্তৃত শাখায় বিচরণ করা সম্ভব নয়।
➠ পৃথিবীব্যাপী জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্ঞানের শাখাগুলোরও বিস্তৃতি ঘটছে। অর্থাৎ যত দিন যাচ্ছে জ্ঞানের স্বতন্ত্র বিভিন্ন ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হচ্ছে। একজন ব্যক্তির পক্ষে জ্ঞানের এই সবগুলো শাখায় বিচরণ করা সম্ভব নয়। জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রই অনেক বেশি বিস্তৃত, প্রসারিত। একজন ব্যক্তির মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতাও মোটামুটি সীমিত। তাই কোনো মানুষ চাইলেও সব বিষয়ে সমান দক্ষ বা সর্ববিদ্যাবিশারদ হয়ে উঠতে পারবে না। এক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতা থাকবেই। যে ব্যক্তি গণিত ভালো বোঝে, সে সাহিত্যেও যে সমান পারদর্শিতা দেখাতে পারবে, এমন কোনো কথা নেই। আবার একইভাবে যে ইতিহাস সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখে, সে পদার্থবিজ্ঞান না— ও বুঝতে পারে। তাই এ কথা বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রবিনের ইচ্ছানুযায়ী যে লাইব্রেরি গড়ে উঠতে পারে তা হচ্ছে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি।
➠ লাইব্রেরি মূলত তিন প্রকার। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি। ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তির নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে ওঠে। ব্যক্তি যেধরনের লেখনী পছন্দ করে, সেই ধরনের বই দিয়েই সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত লাইব্রেরির সংগ্রহশালা। ব্যক্তিগত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এখানে ব্যক্তিকে ‘স্বেচ্ছাচারী সম্রাট’ বলেও অভিহিত করা যায়। অর্থাৎ স্বেচ্ছাচারী সম্রাট যেমন তার আপন রাজ্যে নিজের খেয়ালখুশিমতো সবকিছু করে থাকেন, তেমনি ব্যক্তিগত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ব্যক্তি আপন পছন্দমতো তার অধীন পুস্তকের রাজ্যকে সজ্জিত করে থাকেন। সে যদি কবিতা পছন্দ করে, তাহলে কবিতার বই দিয়ে, কথাসাহিত্য পছন্দ করলে বিভিন্ন গল্প-উপন্যাসের বই দিয়ে, ইতিহাসপ্রিয় হলে ঐতিহাসিক গ্রন্থগুলো দিয়ে সে তার লাইব্রেরিকে সজ্জিত করতে পারে।
➠ উদ্দীপকে রবিন পুস্তকপ্রেমী, সে লাইব্রেরি গড়ে তুলতে চায়। এক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এটা গড়ে উঠবে। রবিনের ব্যক্তিগত ইচ্ছাই এখানে মুখ্য। তাই সে নিজ ইচ্ছানুযায়ী তার লাইব্রেরিকে সজ্জিত করতে পারবে। যেহেতু সে তার নিজস্ব পছন্দ অনুযায়ী তার লাইব্রেরির বই সংগ্রহ করতে চেয়েছে, তাই ব্যক্তি ইচ্ছার প্রাধান্য থাকায় এখানে যে লাইব্রেরিটি গড়ে উঠবে, সেটি অবশ্যই ব্যক্তিগত লাইব্রেরি হবে।
ঘ. উদ্দীপকে রবিনের ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া লাইব্রেরিটি হচ্ছে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি এবং এ প্রসঙ্গে করা রবিনের বাবার মন্তব্যটা নিঃসন্দেহে যৌক্তিক।
➠ সকল প্রকার জ্ঞানকে একত্র করে স্থায়িত্বদানের অভিপ্রায় থেকে লাইব্রেরি সৃষ্টি। লাইব্রেরি মূলত তিন প্রকার। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি। ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তির নিজ উদ্যোগে গড়ে ওঠে এবং এখানে ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। যে-কোনো ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী তার গ্রন্থাগারের ভা-ার সমৃদ্ধ করতে পারবে। এক্ষেত্রে তার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। এখানে কেউ তাকে জোরপূর্বক বা অন্যভাবে প্রভাবিত করতে পারবে না। এখানে কারও অধিকার নেই, যে এসে বাধা দিবে। এমনকি আপত্তি করার অধিকার নেই, পরামর্শেরও প্রয়োজন নেই। এখানে ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক স্বাধীনতাই মুখ্য, ব্যক্তির সত্তা এখানে স্বতন্ত্র।
➠ উদ্দীপকে রবিন তার বাবার কাছে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। যেহেতু এটা ব্যক্তি উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হবে, তাই এটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরির অন্তর্ভুক্ত। এধরনের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠায় রবিনের ব্যক্তিগতইচ্ছার স্বতন্ত্র প্রতিফলন ঘটবে। এখানে কেউ তাকে জোরজবরদস্তি করতে পারবে না। সে সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুযায়ী পুস্তকের সংগ্রহশালাকে সমৃদ্ধ করতে পারবে। এখানে তার মনের ইচ্ছা প্রতিবিম্বিত হবে। এক্ষেত্রে রবিন কারও উপদেশ গ্রহণ করতেও বাধ্য নয়।
➠ উদ্দীপকে রবিনের বাবা লাইব্রেরি সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, সেটা মূলত ব্যক্তিগত লাইব্রেরি সম্পর্কেই। আর ব্যক্তিগত লাইব্রেরি প্রসঙ্গে উনার মন্তব্য নিঃসন্দেহে যৌক্তিক বলে মনে করি।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রহমান সাহেব এলাকার একজন প-িত ব্যক্তি। যত কাজই থাকুক, তিনি দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বই পড়েন। সব কাজে ব্যত্যয় ঘটলেও এর কখনো ব্যত্যয় ঘটে না। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন বাড়িতে একটি লাইব্রেরি গড়ে তুলবেন। এখানে তিনি তার পছন্দমতো বই রাখবেন এবং যখন যেটা ইচ্ছে হয় সেটাই পড়বেন। তবে তিনি চিন্তা করলেন এই লাইব্রেরির কোন ধরনের বই রাখা যায় সেটা নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতকেও প্রাধান্য দিবেন। কেননা এই লাইব্রেরিতে শুধু তিনি না, পরিবারের অন্য সদস্যরা পড়াশোনা করবে। তাই তিনি তার ব্যক্তিগত রুচি অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চান না।
ক. কোন পাঠাগার আধুনিক জিনিস?
খ. ‘ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তিমনের খেয়ালমতো গড়ে ওঠে’— বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে রহমান সাহেব কোন ধরনের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছেন?
ঘ. পারিবারিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রহমান সাহেবের চিন্তার সাথে তুমি কি একমত? বিশ্লেষণপূর্বক তোমার অবস্থান তুলে ধরো।
ক. সাধারণ পাঠাগার আধুনিক জিনিস।
খ. ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তির নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা এবং নিজস্ব রুচি অনুযায়ী সজ্জিত করা পুস্তকের সমাহার।
➠ লাইব্রেরি মূলত তিন প্রকার। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি। ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে ব্যক্তির রুচিবোধ প্রতিবিম্বিত হয়। অর্থাৎ একজন মানুষের ঠিক যে ধরনের বই পড়তে পছন্দ, সেধরনের বই দিয়েই সে তার লাইব্রেরি গড়ে তোলে। একজন ব্যক্তি যদি কবিতার বই পছন্দ করে, তাহলে সে কবিতার বই দিয়ে লাইব্রেরিকে সজ্জিত করবে। অপরদিকে কেউ যদি বিজ্ঞান বা ইতিহাসের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়, অথবা কথাসাহিত্য পছন্দ করে, তাহলে সে সেই ধরনের বই দিয়েই লাইব্রেরিকে সজ্জিত করতে পারবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, অথবা কারও পরামর্শ গ্রহণ করারও কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। এখানে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী সম্রাট, যে তার ইচ্ছা অনুযায়ী কল্পনার তাজমহল গড়ে তুলতে পারবে।
গ. উদ্দীপকে রহমান সাহেব যে ধরনের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছেন, সেটা মূলত পারিবারিক লাইব্রেরি।
➠ লাইব্রেরি তিন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পারিবারিক লাইব্রেরি। ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিবিম্ব দেখা যায়। আর পারিবারিক লাইব্রেরিতে পরিবারের সকল সদস্যের পছন্দের প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়। এখানে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রুচির ভিন্নতা থাকায় বিচিত্ররকম বইয়ের সমারোহে গড়ে ওঠে পারিবারিক লাইব্রেরি। কেউ থাকে কাব্যপ্রেমী, তো কেউ ইতিহাসপ্রেমী, কেউ কেউ আবার কথাসাহিত্য অথবা বিজ্ঞানভিত্তিক বই পছন্দ করে থাকেন। পরিবারের কোনো সদস্য আবার ধর্মীয় বই পছন্দ করেন। পরিবারের যে ছোট সদস্যরা অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চা যারা থাকে, তারা পছন্দ করে বিভিন্ন ধরনের শিশুতোষ গল্প বা ছড়ার বই। সুতরাং পারিবারিক লাইব্রেরিগুলো এই বিচিত্র রকমের পুস্তকের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকে রহমান সাহেব যে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছেন, সেখানে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের মতামতের দিকেও গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন। অর্থাৎ বই সংগ্রহে অন্যদের মতামতকেও প্রাধান্য দিবেন। এভাবে যে লাইব্রেরি রহমান সাহেব গড়ে তুলতে চেয়েছেন, সেটা নিঃসন্দেহে পারিবারিক লাইব্রেরি। কারণ এধরনের লাইব্রেরিগুলোতে পরিবারের সম্মিলিত রুচির সমন্বয় ঘটে।
ঘ. ‘যেমন একের রুচির ওপর বহুর অত্যাচার অশোভন, তেমনি বহুর রুচির ওপর একের জবরদস্তি অন্যায়।’ এই বিবেচনায় পারিবারিক লাইব্রেরি প্রসঙ্গে দেওয়া রহমান সাহেবের বক্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি।
➠ পুস্তকের শ্রেণিবদ্ধ সংগ্রহকে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার বলা হয়। এই লাইব্রেরি হতে পারে বিভিন্ন রকমের। এর মধ্যে পারিবারিক লাইব্রেরি অন্যতম। পারিবারিক লাইব্রেরি পরিবারের সদস্যদের রুচি অনুযায়ী গড়ে ওঠে। একটি পরিবারে একই সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বয়সের এবং ভিন্ন রুচিবোধের মানুষের উপস্থিতি থাকায় পারিবারিক লাইব্রেরির সংগ্রহশালায়ও দেখা যায় বিচিত্ররকম পুস্তকের সন্নিবেশ। পারিবারিক লাইব্রেরি কখনো একজন ব্যক্তির মর্জিমাফিক গড়ে উঠবে না। এক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবারের সকল সদস্যের সক্রিয় ভূমিকা থাকে। পরিবারের সদস্যদের সমষ্টিগত রুচির প্রতিচ্ছায়া হচ্ছে পারিবারিক লাইব্রেরি। এক্ষেত্রে অবশ্য পরিবারের সদস্যদের বাইরের কারও মতামত বা পরামর্শ গ্রহণেরও প্রয়োজন নেই।
➠ উদ্দীপকে রহমান সাহেব যে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন, সেটা পারিবারিক লাইব্রেরি। কেননা তিনি বলেছেন যে লাইব্রেরির বই নির্বাচনে তিনি পরিবারের সদস্যদের মতামতকে প্রাধান্য দিবেন। রহমান সাহেব মনে করেন, এই লাইব্রেরিতে তিনি শুধু একাই পড়াশোনা করবেন না, পরিবারে অন্য যারা আছেন, তারও অবসর সময়ে এখানে পড়াশোনা করবেন। তাই তাদের রুচিবোধ অনুযায়ীও বই রাখতে হবে। এধরনের লাইব্রেরিগুলোর বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজনের মতামত বাকিদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
➠ আমি পারিবারিক লাইব্রেরির বৈশিষ্ট্যগুলো অবলোকন এবং পর্যবেক্ষণ করে উদ্দীপকের রহমান সাহেবের মতামতের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি। কেননা আমিও মনে করি, পারিবারিক লাইব্রেরি পরিবারের সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা উচিত, এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একজনের মতামত বাকিদের উপর চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রাসেল প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা খুব বেশি করতে না পারলেও সে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে অনেক আগ্রহী। এজন্য সে নিয়মিত বিভিন্ন বই পড়ে। তার এলাকার মানুষদের জ্ঞানার্জনে আগ্রহী করে তুলতে রাসেল গ্রামে একটা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করে। তবে এক্ষেত্রে সে গ্রামের অন্যদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবে। তার মতে, এ ধরনের লাইব্রেরিগুলো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সর্ব সাধারণের মতামতকে এবং রুচিবোধকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
ক. কোন লাইব্রেরির ক্ষেত্রে পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হয়?
খ. ‘বাইরের পারিপাট্যের সঙ্গে তা মানসিক সৌন্দর্যেরও পরিচয় দেয়।’—ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে রাসেল যে লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছে, সেটি কোন ধরনের লাইব্রেরি?
ঘ. রাসেলের এই উদ্যোগ কতটুকু ফলপ্রসূ হবে বলে তুমি মনে করো? তোমার মতামত দাও।
ক. সাধারণ লাইব্রেরির ক্ষেত্রে পুস্তক শ্রেণিবদ্ধ করতে যথেষ্ট সতর্কতার পরিচয় দিতে হয়।
খ. বইয়ের সংগ্রহের মাধ্যমে ঘরে লাইব্রেরি গড়ে তুললে তা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং একই সাথে তা ব্যক্তির অন্তর্জগতের সৌন্দর্যের স্বরূপকে প্রকটিত করে।
➠ বই জ্ঞানী মানুষের নিত্যসঙ্গী। যারা প্রকৃত জ্ঞান অন্বেষণে আগ্রহী, তারা নিয়মিত বই পড়েন। বইয়ের সাথেই তাদের সখ্য। অনেকে এতটাই বইপ্রেমী যে, ব্যক্তি উদ্যোগে বাসাবাড়িতে লাইব্রেরি গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে সেটা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক লাইব্রেরির যে-কোনো প্রকার হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ব্যক্তির রুচিবোধের প্রকাশ ঘটে। সারি সারি বই সুন্দরভাবে শেলফে সাজিয়ে রাখলে তা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। একই সাথে একজন ব্যক্তির রুচিবোধ কেমন, সেটা তার বইয়ের সংগ্রহ এবং শেলফে বইগুলো সাজিয়ে রাখার ধরন দেখে বুঝতে পারি। অর্থাৎ লাইব্রেরি বাহ্যিক পারিপাট্যের সাথে ব্যক্তির মানসিক রুচিবোধের প্রকাশ ঘটায়।
গ. উদ্দীপকে রাসেল যেধরনের পাঠাগার প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছে, সেটি সাধারণ পাঠাগার।
➠ পাঠাগার বা লাইব্রেরি মূলত তিন প্রকারের হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাধারণ লাইব্রেরি। এধরনের লাইব্রেরিগুলো মূলত সামষ্টিক প্রচেষ্টার ফসল। অর্থাৎ অনেকটা সমবায়নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে এ ধরনের লাইব্রেরি। বই হচ্ছে জ্ঞানের বাহন। আর এই জ্ঞানকে সর্বময় বিস্তৃতিদান করতে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাধারণ লাইব্রেরি মূলত এরকমই একটা উদ্যোগ। এক্ষেত্রে সাধারণ এলাকার মানুষ সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েও সাধারণ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে সর্বসাধারণের মতামতকে গুরুত্ব বা অগ্রাধিকার না দিয়ে শুধু প্রতিষ্ঠাতার ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটলে সেটা তখন আর সাধারণ লাইব্রেরি থাকবে না, ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে পরিণত হবে।
➠ উদ্দীপকে রাসেল যে ধরনের লাইব্রেরি স্থাপনের কথা ভাবছে, বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সেটা সাধারণ লাইব্রেরি বলা যায়। কারণ সে যে লাইব্রেরি স্থাপন করতে চাচ্ছে, সেটা সর্বসাধারণের জন্য এবং পুস্তক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে স্থানীয় জনসাধারণের মতামত গ্রহণ করতে চায়। যদিও এই লাইব্রেরি সে প্রতিষ্ঠা করতে চায় একান্তই ব্যক্তিগত আগ্রহে এবং অর্থায়নে। তবুও এক্ষেত্রে সে সকলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ায় এই লাইব্রেরি সাধারণ লাইব্রেরি হবে।
ঘ. উদ্দীপকে রাসেলের গ্রহণ করা উদ্যোগটি সমাজের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ একটি পদক্ষেপ।
➠ লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদ-। জ্ঞানবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারে না। হোক সেটা মননে অথবা প্রায়োগিক জীবনে। ব্যক্তির মানসিক এবং আত্মিক সমৃদ্ধির জন্য জ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই আর জ্ঞানচর্চার প্রধানতম মাধ্যম হচ্ছে বই। পুস্তকপাঠের মাধ্যমে ব্যক্তির জ্ঞানভা-ার যেভাবে সমৃদ্ধ হয়, তা অন্য কোনো মাধ্যমে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লাইব্রেরিতে থাকে বিচিত্ররকমের বইয়ের সমাহার, যা নানামুখী জ্ঞানের' ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ। কোনো ব্যক্তি চাইলেই এই সমৃদ্ধ ভান্ডার থেকে জ্ঞান আহরণ করে নিজের আত্মিক সমৃদ্ধি ঘটাতে পারে। জ্ঞানকে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক লাইব্রেরির পাশাপাশি এখন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে সাধারণ লাইব্রেরি। এর ফলে বৃহত্তর সমাজের মানুষের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং সমাজে জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
➠ উদ্দীপকে রাসেল ব্যক্তিগত উদ্যোগে যে সাধারণ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছে, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য একটি পদক্ষেপ। তার এই মহৎ উদ্যোগের ফলে সমাজের মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চার স্পৃহা সৃষ্টি হবে। এই জ্ঞানার্জনের স্পৃহা সৃষ্টি হলে সমাজের মানুষ ইতিবাচক কাজের প্রতি আকর্ষিত হবে, যেটা বৃহত্তর সমাজে ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
➠ উদ্দীপকে রাসেল যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটা অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করি। কারণ বর্তমান সময়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয়ভাবেই এই ধরনের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং তার আশানুরূপ ফল চোখে পড়ার মতো।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বই মানুষের চিন্তাধারাকে উন্নত করে। নিয়মিত বই পড়ার ফলে একজন মানুষ স্বচ্ছভাবে চিন্তা করতে পারে এবং তার মধ্যে বিশ্লেষণী একটা ক্ষমতা জন্মায়। প্রতি মুহূর্তে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত হওয়ায় নানা চিন্তায় মগ্ন থাকতে হয় মানুষকে। নির্মল আনন্দের উৎস খুঁজে পাওয়া বিরল। বই পড়ার মাধ্যমে আমরা সে নির্মল আনন্দের উৎসকে সহজেই খুঁজে পেতে পারি। সঠিক জ্ঞান ও জীবনপথের সন্ধান পেতে হলে উত্তম বই পড়া আবশ্যক।
ক. দশজনের রুচির দিকে নজর রেখে কোন লাইব্রেরি সাজাতে হয়?
খ. ‘একের রুচির ওপর বহুর অত্যাচার অশোভন, তেমনি বহুর রুচির ওপর একের জবরদস্তি অন্যায়।’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সংশ্লিষ্টতার দিকটি চিহ্নিত করো।
ঘ. বই পড়ার জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা কতটুকু যৌক্তিক এবং ফলপ্রসূ সে বিষয়ে মতামত দাও।
ক. দশজনের রুচির দিকে নজর রেখে পারিবারিক লাইব্রেরি সাজাতে হয়।
খ. উদ্ধৃত অংশটিতে পারিবারিক লাইব্রেরি প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যেখানে পরিবারের সকল সদস্যের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।
➠ লাইব্রেরি তিন প্রকার। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পারিবারিক লাইব্রেরি। পারিবারিক লাইব্রেরি মূলত পরিবারের সদস্যদের মর্জিমাফিক গড়ে ওঠে। একটা পরিবারে অনেক সদস্য থাকেন। এই সদস্যদের সবার রুচি এক নয়। প্রত্যেকের রুচিবোধে রয়েছে ভিন্নতা। তাই বই পড়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের রুচি আলাদা আলাদা। কেউ সাহিত্যের বই পছন্দ করে, কেউ আবার বিজ্ঞানভিত্তিক, কেউ ইতিহাসভিত্তিক, আবার কেউ ধর্মীয় বই পছন্দ করেন। পারিবারিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হয়। অর্থাৎ সবার রুচির দিকে খেয়াল রেখেই বই সংগ্রহ করতে হয়। এক্ষেত্রে একজনের রুচিবোধ, পরিবারের অন্য সদস্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
গ. উদ্দীপক এবং ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধ, উভয়েরই যে উদ্দেশ্য বা ভাবগত মিল রয়েছে তা হচ্ছে পুস্তকের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ।
➠ বই আমাদের জ্ঞানপিপাসাকে নিবৃত্ত করে। একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমেই স্বচ্ছ জ্ঞান আহরণ করতে পারি। কথায় আছে, যারা বইয়ের পাতা পড়তে পারে, তারা মানুষের চোখের পাতাও পড়তে পারে। অর্থাৎ যারা বেশি বেশি বই পড়ে, তারা মানুষের অন্তরাত্মাকে উপলব্ধি করতে পারে, যেটা অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়। ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে বই নিয়ে পড়া সম্ব। তবে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে লাইব্রেরিতে বসে পুস্তক অধ্যয়ন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে বসে বিচিত্রমুখী জ্ঞানের স্বাদ আহরণ করা যায়। কারণ লাইব্রেরিতে থাকে বহুমুখী জ্ঞানের সমাবেশ, যা অন্যত্র সম্ভব নয়।
➠ উদ্দীপক এবং ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধ; উভয় জায়গায়ই বই পড়ার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নিয়মিত বই পড়ার ফলে একজন মানুষ স্বচ্ছভাবে, বিশ্লেষণী শক্তি প্রয়োগ করে চিন্তা করতে পারে। বই পড়ার মাধ্যমে নির্মল আনন্দের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়। অপরদিকে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধেও লেখকের বক্তব্যে একই ব্যঞ্জনা ধ্বনিত হতে দেখি। প্রাবন্ধিক বলেছেন, বুদ্ধির জাগরণ ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। আর বুদ্ধির জাগরণের জন্য অবশ্যই পুস্তক অধ্যয়ন করতে হবে।
ঘ. লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদ-। পুস্তক অধ্যয়নের জন্যই মূলত লাইব্রেরির জন্ম, সুতরাং এটি নিঃসন্দেহে যৌক্তিক।
➠ একটি জাতির মেধা ও মনন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও লালনকারী হিসেবে লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেজন্য বলা হয়, গ্রন্থাগার সমাজ উন্নয়নের বাহন। গ্রন্থাগারে সঞ্চিত থাকে মানুষের যুগ যুগান্তরের চিন্তাচেতনা, ধ্যানধারণা ও জ্ঞানের অমূল্য সম্পদ, যা মানুষের জ্ঞানের অতৃপ্ত তৃষ্ণাকে তৃপ্ত করে।
➠ সর্বসাধারণের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয় বলে গ্রন্থাগারকে বলা হয় জনগণের বিশ্ববিদ্যালয়। কোনো দেশ বা জাতির উন্নত চিন্তাচেতনা ও মনন গড়ে তুলতে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অতুলনীয়। আর এই গ্রন্থাগারে যেভাবে একসঙ্গে বিচিত্র জ্ঞানের সম্মিলন ঘটে, তা অন্য কোথাও দেখা যায় না। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার সব ধরনের পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে।
➠ সুতরাং, বই পড়ার জন্য লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা অনিবার্য। বই পড়ার যে আনন্দ মানুষের মনে, তাকে জাগ্রত করে তুলতে সব ধরনের পাঠাগারের ব্যাপক প্রসার প্রয়োজন। প্রকৃত জ্ঞান অর্জন ও প্রাণশক্তি বৃদ্ধির জন্য দেশের সবখানে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানসমুদ্রে অবগাহন করে জ্ঞানের মণিমুক্তা সংগ্রহের সুযোগ পায়। সুতরাং এর যৌক্তিকতার ক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন করার অবকাশ নেই।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নিশাতের বাবা এলাকার বিখ্যাত ব্যবসায়ী। সম্পদের প্রাচুর্য তার বাড়ির সৌন্দর্য দেখলেই অনুমেয়। নিশাতের বাবা যে খুব বেশি বই পড়তে পছন্দ করেন তা নয়, তবে তিনি অনেক আগে শখের বশে একটি লাইব্রেরি গড়ে তুলেছিলেন বাড়িতে। নিশাত ছোটবেলা থেকেই বাবার লাইব্রেরিতে গিয়ে বইগুলো নাড়াচাড়া করে দেখত। এভাবে একটা সময় বই পড়ার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ জন্মে।
ক. পাঠাগার মূলত কী?
খ. ‘অনবরত বাঁধানো পুস্তকগুলো হাতড়াতে হাতড়াতে তাদের চামড়ার তলে একটি মন সুপ্ত রয়েছে, সে সম্বন্ধে তাঁরা সচেতন হয়ে উঠবেন।’
গ. উদ্দীপকে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের কোন দিকটি উঠে এসেছে?
ঘ. বাবার লাইব্রেরি থেকে পাঠ্যাভ্যাস সৃষ্টি হওয়ায় উদ্দীপকের নিশাত কতটা উপকৃত হবে? তোমার মতামত দাও।
ক. পাঠাগার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের বিকাশক।
খ. বই মানুষকে উদার হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। বইয়ের সংস্পর্শে থাকা মানুষ কখনো কঠোর হতে পারে না।
➠ নিয়মিত বই পড়ার ফলে মানুষের মন নির্মল ও পবিত্র হয় ওঠে, কলুষতা মুক্ত হয়। আমাদের সমাজে যারা ধনী এবং সম্পৎশালী হিসেবে পরিচিত, তারা স্বভাবতই একটু অহংকারী স্বভাবের হয়ে থাকে। লেখকের মতে, তারা যদি বই কেনে তাহলে এই বইগুলো পড়ার ফলে তারা তাদের নিষ্কলুষ মনকে আবিষ্কার করতে পারবে। অর্থাৎ তারা অনেক বেশি উদার হিসেবে নিজেদের আবিষ্কার করবে।
গ. ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে সমাজের ধনী লোকেরা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করলে তারা উপকৃত না হলেও তাদের সন্তানেরা উপকৃত হয়। উদ্দীপকেও আলোচ্য প্রবন্ধের এই দিনটি উঠে এসেছে।
➠ লাইব্রেরি বিভিন্ন উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। অনেকেই শখের বশে লাইব্রেরি গড়ে তোলেন। বিশেষ করে আমাদের সমাজে যারা ধনবান ব্যক্তি আছেন, তারা অনেকেই শৌখিনতার প্রমাণার্থে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে থাকেন, এমনকি অনেক সময় তারা লাইব্রেরির বইগুলো খুলেও দেখেন না। কিন্তু বাড়িতে লাইব্রেরি থাকার একটি বড়ো সুবিধা হচ্ছে তাদের সন্তানেরা ছোটোবেলা থেকে এই বইগুলো দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হওয়ায় একসময় বইয়ের সাথে তাদের সখ্য গড়ে ওঠে এবং তারা বই পড়ায় অভ্যস্ত হয়।
➠ উদ্দীপকে নিশাতের বাবা এবং নিশাতের ক্ষেত্রে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের এই দিনটি উঠে এসেছে। নিশাতের বাবা নিয়মিত পুস্তক অধ্যয়ন না করলেও শখের বশে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে তিনি নিয়মিত বই না পড়লেও ছোটোবেলা থেকে বইয়ের সান্নিধ্যে থেকে বইয়ের প্রতি নিশাতের আগ্রহ জন্মে। ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের এই দিনটিই উদ্দীপকে উঠে এসেছে।
ঘ. বই মানুষের জ্ঞানভা-ারকে সমৃদ্ধ করে। তাই নিয়মিত পাঠ্যাভ্যাস গড়ে ওঠার কারণে উদ্দীপকের নিশাত অবশ্যই উপকৃত হবে।
➠ বাল্যকাল থেকে পুস্তকের সান্নিধ্যে থাকলে তার প্রতি এক অন্যরকম আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে মানুষ গভীরভাবে বইপ্রেমী হয় যায়। নীরব ভাষায় বই আমাদের জীবনকে সুন্দরের গান শোনায়। বই আমাদের একান্ত বন্ধু ও নিঃস্বার্থ সুহৃদ। জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই পড়ার মাধ্যমে নির্মল জ্ঞানের সন্ধান করাই জ্ঞানী ব্যক্তির কাজ। পড়ার অভ্যাস অর্জন করা মানে জীবনের সকল দুঃখ-কষ্ট থেকে নিজের জন্য আশ্রয় তৈরি করা। উৎকৃষ্ট বই মানবজাতির অনাবিল আনন্দের অফুরন্ত উৎস। জাগাতিক সকল সংঘাত, সমস্যার ঊর্ধ্বে বই মানুষের জীবনে আনন্দ নিয়ে আসতে পারে। বই মানুষকে সংগ্রামের যান্ত্রিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে প্রশান্তির জগতে নিয়ে আসে।
➠ উদ্দীপকে নিশাত তার বাবার গড়ে তোলা লাইব্রেরির বইগুলোর সংস্পর্শে থেকে একটা পর্যায়ে তার মধ্যেও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠতে দেখি। বই পড়ার নানাবিধ ইতিবাচক দিক রয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকের নিশাতকে স্পর্শ করবে।
➠ সুতরাং উদ্দীপকের নিশাতের যে পাঠ্যাভ্যাস গড়ে উঠেছে, এর ফলে সে জ্ঞানের সংস্পর্শে শাণিত হবে। জ্ঞানের আলোয় তার জীবন আলোকিত হয়ে উঠবে। সে নিঃসন্দেহে একজন স্বচ্ছ চিন্তার এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-৯:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বলেছেন, “সাহিত্যের চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি; ও চর্চা মানুষের কারখানাতেও করতে পারে না, চিড়িয়াখানাতেও নয়। এইসব কথা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমাদের মানতেই হবে যে, সাহিত্যের মধ্যে আমাদের জাত মানুষ হবে। সেইজন্য আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব, দেশের তত বেশি উপকার হবে।”
ক. ‘বৈদগ্ধ্য’ শব্দের অর্থ কী?
খ. “ব্যক্তি নিজের খেয়াল মতো গড়ে তোলে তার কল্পনায় তাজমহল” —একথা দ্বারা কী বোঝান হয়েছে?
গ. প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্যে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের যে ভাবটি প্রতিফলিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্যে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাব প্রকাশ পায়নি—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
ক. বৈদগ্ধ্য শব্দের অর্থ পাণ্ডিত্য।
খ. ‘ব্যক্তি নিজের খেয়াল মতো গড়ে তোলে তার কল্পনার তাজমহল’—একথা দিয়ে প্রাবন্ধিক ব্যক্তিগত লাইব্রেরির ব্যক্তি স্বাধীনতাকে বুঝিয়েছেন।
➠ ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ব্যক্তি মনের খেয়ালমতো গড়ে ওঠে-সেটি মূলত ব্যক্তি মনের প্রতিবিম্ব। ব্যক্তি কাব্যপ্রেমিক হলে কাব্যগ্রন্থ দিয়ে, কথাসাহিত্য প্রেমিক হলে কথাসাহিত্য দিয়ে এবং ইতিহাস প্রিয় হলে ঐতিহাসিক গ্রন্থ দিয়ে সে তার লাইব্রেরি সাজিয়ে তোলে। এ বিষয়ে কারও বাধা দেয়ার অধিকার নেই, আপত্তি করার দাবি নেই, উপদেশের প্রয়োজনীয়তা নেই। এক্ষেত্রে সে স্বাধীন, স্বেচ্ছাচারী, সম্রাটের মতো নিজের খেয়ালমতো গড়ে তুলতে পারে তার কল্পনার তাজমহল অর্থাৎ লাইব্রেরিটি।
গ. লাইব্রেরিতে সাহিত্য চর্চা ও মননচর্চার মধ্য দিয়ে জাতি উন্নত হবে—‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের এই ভাবটি প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্যে, প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মোতাহের হোসেন চৌধুরী মনে করেন, লাইব্রেরি জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদ-। মানসিক ও আত্মিক সাধনা অর্থাৎ সাহিত্য-শিল্প চর্চার মধ্য দিয়ে জাতি উন্নত হতে পারে। আর সেজন্য লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
➠ প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্যেও আমরা 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধের ভাবটি প্রতিফলিত হতে দেখি। প্রমথ চৌধুরীও মনে করেন সাহিত্যের মধ্য দিয়ে আমাদের জাত মানুষ হবে। আর সাহিত্যচর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি। তাই আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব, দেশের তত বেশি উপকার হবে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, "উন্নত জাতির জন্য চাই সাহিত্যচর্চা, আর সাহিত্য চর্চার জন্য চাই লাইব্রেরি"- লাইব্রেরি প্রবন্ধের এই ভাবটি প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. ‘প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্যে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাব প্রকাশ পায়নি’—মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে মোতাহের হোসেন চৌধুরী লাইব্রেরির আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছেন। জাতির উন্নতির জন্য সাহিত্য শিল্প চর্চা প্রয়োজন, আর সেজন্য প্রয়োজন লাইব্রেরি। কারণ লাইব্রেরি হচ্ছে জ্ঞানের অফুরন্ত ভা-ার। এখানে তিনি প্রথমে লাইব্রেরি কী, কোন অভিপ্রায়ে, কীভাবে লাইব্রেরির সৃষ্টি, লাইব্রেরির প্রকারভেদ বর্ণনা করেছেন। প্রকারভেদ অনুসারে লাইব্রেরির বর্ণনা দিয়েছেন তিনি কারণ ভিন্ন ভিন্ন লাইব্রেরি থেকে ভিন্ন রকম জ্ঞানের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। আর মানবজীবনের শ্রী ফোটাতে লাইব্রেরির অবদান অপরিসীম'।
➠ প্রথম চৌধুরীর বক্তব্যে 'লাইব্রেরি' প্রবন্ধের অদ্যোপান্ত প্রকাশ পায়নি। তবে প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্য ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের মুলভাবটিকে অনেকটাই ধারণ করে আছে। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে একটি জাতি মনুষ্যত্ব বিকাশের সুযোগ পায়। আর সাহিত্যচর্চার জন্য প্রয়োজন লাইব্রেরি। তাই লাইব্রেরির গুরুত্ব অত্যধিক।
➠ প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্যে শুধু লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধে জ্ঞানচর্চার বিকাশ সাধনে, জীবনের শ্রী ফোটাতে, জাতি ও সভ্যতার উৎকর্ষে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব যে অত্যাবশ্যকীয় তা তুলে ধরা হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রমথ চৌধুরীর বক্তব্যে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সমগ্রভাব প্রকাশ পায় নি, বরং আংশিক দিক প্রকাশ পেয়েছে মন্তব্যটি যথার্থ।
‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন-১০:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শামীম প্রতিদিন সকালে স্থানীয় সাধারণ লাইব্রেরিতে যায়, যেখানে সবার জন্য উন্মুক্ত জ্ঞানভান্ডার অপেক্ষা করে। সেখানে শিক্ষার্থী, গবেষক, ও পাঠকদের ভিড় দেখে তার অনুপ্রেরণা আরও বেড়ে যায়। লাইব্রেরির নীরব পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে সে নিরে লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে চলেছে।
ক. জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদ- কী?
খ. পারিবারিক লাইব্রেরি কীভাবে সাজাতে হয়?
গ. উদ্দীপকে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের কোন লাইব্রেরির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. লাইব্রেরির নীরব পরিবেশে ঘন্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে সে নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে চলেছে—মন্তব্যটি ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. জাতির সভ্যতা ও উন্নতির মানদন্ড হলো লাইব্রেরি।
খ. পারিবারিক লাইব্রেরি সাজাতে হয় পরিবারের দশ জনের রুচির দিকে নজর রেখে।
➠ পারিবারিক লাইব্রেরি পরিবারের অন্তর্গত ব্যক্তিসমূহের সমষ্টিগত ইচ্ছার প্রতিচ্ছায়া। এখানে বস্তুর রুচির ওপর একের জবরদস্তি অন্যায়। বহুর রুচির সম্মিলনই এখানে প্রত্যাশিত। তাই পারিবারিক লাইব্রেরি সাজাতে হয় পরিবারের দশ জনের বুচির দিকে নজর রেখে।
গ. উদ্দীপকে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সাধারণ লাইব্রেরির কথা বলা হয়েছে।
➠ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় সাধারণ লাইব্রেরি অপেক্ষাকৃত আধুনিক। দশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই গড়ে ওঠে সাধারণ লাইব্রেরি। এ ধরণের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায় জনসাধারণের মতামত ও রুচি। এখানে থাকে না কোনো একক ব্যক্তির প্রভাব।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, শামীম যে লাইব্রেরিতে যায় সেখানে উন্মুক্ত জ্ঞানভান্ডার সবার জন্য অপেক্ষা করে। অর্থাৎ লাইব্রেরিটি সকল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। সকল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ততাই সাধারণ লাইব্রেরির প্রধান বেশিষ্ট্য। অনুরূপভাবে, ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধেও বলা হয়েছে দশের মিলিত ফলস্বরূপ যা পাওয়া যায়, তাকেই সাধারণ লাইব্রেরি বলা হয়। অর্থাৎ যে লাইব্রেরি দশ জনের জন্য গড়ে তোলা হয় তা-ই সাধারণ লাইব্রেরি। আর এখানে জ্ঞানভা-ারও থাকে দশের জন্য উন্মুক্ত। তাই উপরের ব্যাখ্যার আলোকে এটি অভ্যন্ত সাবলীলভাবেই প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের সাধারণ লাইব্রেরির কথাই বলা হয়েছে।
ঘ. লাইব্রেরির নীরব পরিবেশে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে সে নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে চলেছে—মন্তব্যটি ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধের আলোকে যথার্থ।
➠ লাইব্রেরি জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। কেননা লাইবেরির পরিবেশ নীরব। নীরব এই পরিবেশ বই পড়ায় মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহায়ক। এই পরিবেশে বইয়ের জগতে সময় কাটিয়ে নিজের লক্ষাও হয় পুরণ।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, শামীম প্রতিদিন সকালে স্থানীয় একটি লাইব্রেরিতে যায়। যেখানে জ্ঞানের ভান্ডার উন্মুক্ত সবার জন্য। এই লাইব্রেরির নীরব পরিবেশে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে শামীম এগিয়ে চলেছে নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে। ‘লাইব্রেরি’ প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, জ্ঞানার্জনের স্পৃহা থেকেই লাইব্রেরির জন্ম। অর্থাৎ লাইব্রেরিতে সংগৃহিত বই থেকে জ্ঞান অর্জন করে ব্যক্তি তার নিজের লক্ষ্য পূরণের পথে যেতে পারে এগিয়ে।
➠ উপরে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি বিশ্লেষণের আলোকে এটা অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবেই উপস্থাপিত হয় যে, লক্ষ্য পূরণে লাইব্রেরিই ব্যক্তিকে নিয়ে যায় এগিয়ে। উদ্দীপকে কাশেমের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে লাইব্রেরিই পালন করেছে মুখ্য ভূমিকা। পঠিত রচনায়ও জ্ঞান অর্জন করে নিজের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যেতে লাইব্রেরিকেই বিকল্পহীন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
১. সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
বাংলাদেশ, ২০২৬।
২. রচনাসমগ্র: মোতাহের হোসেন চৌধুরী, নবযুগ প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১৫।
৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।