যাব আমি তোমার দেশ- জসীমউদদীন

যাব আমি তোমার দেশ : জসীমউদদীন
যাব আমি তোমার দেশ

যাব আমি তোমার দেশ
জসীমউদ্‌দীন

পল্লি-দুলাল, ভাই গো আমার যাব আমি-তোমার দেশে,
আকাশ যাহার বনের শীষে দিক-হারা মাঠ চরণ ঘেঁসে।
দূর দেশীয় মেঘ-কনেরা মাথায় লয়ে জলের ঝারি,
দাঁড়ায় যাহার কোলটি ঘেঁসে বিজলী-পেড়ে আঁচল নাড়ি।
বেতস কেয়ার বনে যেথায় ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়,
পল্লি-দুলাল ভাই গো আমার, যাব সেথায়।
তোমার দেশে যাব আমি, দীঘল বাঁকা পন্থখানি,
ধান কাউনের ক্ষেতের ভেতর সরু সুতোর আঁচড় টানি,
গিয়াছে সে হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির মতো
কোথাও সিধে কোথাও বাঁকা গরুর গায়ের রেখায় ক্ষত।
গাজন-তলির মাঠ পেরিয়ে শিমুলডাঙা বনের বায়ে;
কোথাও গাঁয়ের রোদ মাখিয়া ঘুম-ঘুমায়ে গাছের ছায়ে।
* * * * * * * * * * * * * * * * *
তাহার পরে মুঠি ছড়িয়ে দিয়ে কদম-কলি,
কোথাও মেলে বনে পাতা গ্রাম্য মেয়ে যায় যে চলি।
সে পথ দিয়ে যাব আমি পল্লি-দুলাল তোমার দেশে,
নাম-না জানা ফুলের সুবাস বাতাসেতে আসবে ভেসে।
তোমার সাথে যাব আমি, পাড়ার যত দস্যি ছেলে,
তাদের সাথে দল বাঁধিয়া হেথায় সেথায় ফিরব খেলে।
ধল-দীঘি তে সাঁতার কেটে আনব তুলে রক্ত-কমল,
শাপলা লতায় জড়িয়ে চরণ ঢেউ-এর সাথে খাব যে দোল।
হিজল-ঝরা জলের ছিটায় গায়ের বরণ রঙিন হবে
খেলবে দীঘির ঝিলিমিল মোদের লীলা কালোৎসবে।
তোমার দেশে যাব আমি পল্লি-দুলাল ভাই গো সোনার,
সেথায় পথে ফেলতে চরণ লাগবে পরশ এই মাটি-মার।
ডাকব সেথা পাখির ডাকে, ভাব করিব পাখির সনে,
অজান ফুলের রূপ দেখিয়া মানবো তারে বিয়ের কনে।
চলতে পথে ময়না কাঁটায় উত্তরীয় জড়িয়ে যাবে,
ইটেল মাটির হোঁচট লেগে আঁচল হতে ফুল ছড়াবে।
পল্লি-দুলাল, যাব আমি-যাব আমি তোমার দেশে,
তোমার কাঁধে হাত রাখিয়া ফিরবো মোরা উদাস বেশে।
বনের পাতার ফাঁকে ফাঁকে দেখব মোরা সাঁজ-বাগানে,
ফুল ফুটেছে হাজার রঙের মেঘ তুলিকার নিখুঁত টানে।
গাছের শাখা দুলিয়ে আমি পাড়ব সে ফুল মনের আশে,
উত্তরীয় ছড়িয়ে তুমি দাঁড়িয়ে থেকো বনের পাশে।
যে ঘাটেতে ভরবে কলস গাঁয়ের বিভোল পল্লিবালা,
সে ঘাটেরি এক ধারেতে আসবো রেখে ফুলের মালা।
দীঘির জলে ঘট বুড়াতে পথে-পাওয়া মাল্যখানি,
কুড়িয়ে নিয়ে ভাববে ইহা রেখে গেছে কেই না জানি।
চেনে-না তার হাতের মালা হয়ত সে-বা পরবে গলে,
আমরা দু'জন থাকব বসে ঢেউ দোলা সেই দীঘির কোলে।
চার পাশেতে বনের সারি এলিয়ে শাখার কুন্তল-ভার,
দীঘির জলে ঢেউ গণিবে ফুল শুঁকিবে পদ্ম-পাতার।
বনের মাঝে ডাকবে ডাহুক, ফিরবে ঘুঘু আপন বাসে,
দিনের পিদীম ঢুলবে ঘুমে রাত জাগা কোন্ ফুলের বাসে
চার ধারেতে বন জুড়িয়া রাতের আঁধার বাঁধবে বেড়া,
সেই কুহেলীর কালো কারায় দীঘির জলও পড়বে ঘেরা।

‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার উৎস নির্দেশ:
‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের ‘ধানক্ষেত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা:
পল্লি-দুলাল- পল্লি মায়ের আদরের ছেলে। পল্লির অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশে যে ছেলে হয়েছে, কবি তাকে পল্লি দুলাল বলে সম্বোধন করেছেন।
➠ শীর্ষে- শীর্ষে, মাথার উপরে।
➠ বেতসবন- বেতবন।
➠ দীঘল- দীর্ঘ।
➠ পন্থ- পথ।
➠ দস্যি- দুষ্ট, দুরন্ত।
ধল-দীঘি- মস্ত বড়ো দীঘি।
➠ শাখী- বনের বৃক্ষ।
➠ উত্তরীয়- চাদর, গায়ের কাপড়।
➠ বুড়াতে- ভরতে।
➠ কুন্তল- চুল।
➠ বাসে- গন্ধে।
ফুলের বাসে- ফুলের সুগন্ধে।
➠ কুহেলী- কুয়াশা।
➠ অন্বেষণ- অনুসন্ধান করা, খোঁজ করা।

‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি:
‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। পল্লিগ্রাম, প্রকৃতি যেন তাকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। সেখানে ধান-কাউনের ক্ষেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মত দীর্ঘ বাঁকা পথ গেছে। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। কবি সেই পথে যাবেন পল্লি-দুলালের দেশে। তারপর পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে খেলা করবেন। ধল দীঘিতে সাঁতার কেটে রক্ত কমল তুলে আনবেন। মাটিতে পা ফেলে তিনি হাঁটবেন। পাখির সাথে ডাকবেন। অজানা ফুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন।
পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে তিনি ঘুরে বেড়াবেন। গাছের শাখা দুলিয়ে হাজার রঙের ফুল তুলবেন। যে ঘাটে পল্লিবালারা কলসী ভরে পানি নেয়, সেই ঘাটের পাশে রেখে আসবেন ফুলের মালা। তারপর সন্ধ্যা নামবে। চারদিকে আঁধার আসবে ঘনিয়ে। নিরালা নিঝুম অন্ধকারে কবি পল্লি-দুলালের সাথে পল্লি মায়ের অপরূপ সৌন্দর্য অন্বেষণ করবেন।

‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার কবি পরিচিতি:
জসীমউদ্‌দীন ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কবি তাঁর কবিতায় বাংলাদেশের পল্লিপ্রকৃতি ও মানুষের সহজ স্বাভাবিক রূপটি তুলে ধরেছেন। পল্লির মাটি ও মানুষের জীবনচিত্র তাঁর কবিতায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। পল্লির মানুষের আশা-স্বপ্ন-আনন্দ-বেদনা ও বিরহ-মিলনের এমন আবেগ-মধুর চিত্র আর কোনো কবির কাব্যে খুঁজে পাওয়া ভার। এ কারণে তিনি ‘পল্লিকবি’ নামে খ্যাত। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কিছুকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে সরকারি তথ্য ও প্রচার বিভাগে উচ্চপদে যোগদান করেন। ছাত্রজীবনেই তাঁর কবিপ্রতিভার বিকাশ ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর রচিত ‘কবর’ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। জসীমউদ্দীনের উল্লেখযোগ্য কাব্যের মধ্যে রয়েছে নক্সী-কাঁথার মাঠ, সোজনবাদিয়ার ঘাট, রাখালী, বালুচর, হাসু, এক পয়সার বাঁশি, মাটির কান্না ইত্যাদি। তাঁর ‘নক্সী-কাঁথার মাঠ’ কাব্য বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। চলে মুসাফির তাঁর ভ্রমণকাহিনী। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট, ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়া সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
১৯৭৬ সালের ১৩ই মার্চ কবি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।।

‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:

১। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লির আকাশ কোথায়?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লির আকাশ কোথায় বনের শীর্ষে।
২। পল্লির পথগুলো কীসে ক্ষত?
উত্তর: পল্লির পথগুলো গোরুর পায়ের রেখায় ক্ষত।
৩। কবি কীভাবে ঢেউয়ের সাথে খেলা করবেন?
উত্তর: কবি শাপলা লতায় পা জড়িয়ে ঢেউয়ের সাথে খেলা করবেন।
৪। কবি কোথায় সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন?
উত্তর: কবি ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন।
৫। কবি অজানা ফুলকে কেন বিয়ের কনে মানবেন?
উত্তর: ফুলের রূপ দেখে কবি অজানা ফুলকে কেন বিয়ের কনে মানবেন।
৬। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি কোন পাতার ফুল ঝুঁকিবেন?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পদ্মপাতার ফুল শুঁকিবেন।
৭। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি ও তার বন্ধু কোথায় বসে থাকবে?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি ও তার বন্ধু পল্লির ঢেউ দোলা দিঘির পাড়ে বসে থাকবেন।
৮। কবি কার কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে ঘুরবেন?
উত্তর: কবি পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস বেশে ঘুরবেন।
৯। জসীমউদ্দীনের কবিতায় কোনটি নতুন মাত্রা পেয়েছে?
উত্তর: জসীমউদ্দীনের কবিতায় পল্লির মাটি ও মানুষের জীবনচিত্র নতুন মাত্রা পেয়েছে।
১০। কবি কোন পথে চরণ ফেলতে মাটি-মার পরশ লাগবে?
উত্তর: কবি পল্লির পথে চরণ বা পা ফেলতে মাটি-মার পরশ লাগবে।
১১। গ্রাম্য মেয়ে কেমন করে চলে?
উত্তর: গ্রাম্য মেয়ে বনের পাতা মেলে চলে।
১২। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি কোথায় যেতে চান?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লি-দুলালের গ্রামে যেতে চান।
১৩। জসীমউদ্দীনকে কী বলে অভিহিত করা হয়?
উত্তর: জসীমউদ্দীনকে পল্লিকবি বলে অভিহিত করা হয়।
১৪। দূর দেশীয় মেঘ কনেরা মাথায় কী লয়ে যায়?
উত্তর: দূর দেশীয়া মেঘ কনেরা মাথায় জলের ঝারি লয়ে যায়।
১৫। পল্লির কোথায় সরু সুতোর আঁচড় টানা?
উত্তর: পল্লির ধান-কাউনের খেতের ভেতর সরু সুতোর আঁচড় টানা।
১৬। কবি কাদের সাথে দল বেঁধে হেথায় সেথায় খেলা করবেন?
উত্তর: কবি পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে হেথায় সেথায় খেলা করবেন।
১৭। গাঁয়ের আঁকাবাঁকা পথে চলার সময় বাতাসে কীসের সুবাস ভেসে আসবে?
উত্তর: গাঁয়ের আঁকাবাঁকা পথে চলার সময় বাতাসে নাম না-জানা অনেক ফুলের সুবাস ভেসে আসবে।
১৮। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি ঘাটে কী রেখে আসবেন?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি ঘাটে বনফুলের মালা রেখে আসবেন।
১৯। শাপলা লতায় পা জড়িয়ে কবি কী করবেন?
উত্তর: শাপলা লতায় পা জড়িয়ে কবি ঢেউয়ের সাথে দোল খাবেন।
২০। ‘কুন্তল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘কুন্তল’ শব্দের অর্থ চুল।
২১। কীসের সাথে হোঁচট লেগে আঁচল থেকে ফুল ছড়িয়ে পড়বে?
উত্তর: এঁটেল মাটির সাথে হোঁচট লেগে কাপড়ের আঁচল থেকে ফুল পথে ছড়িয়ে পড়বে।
২২। কবি কার সাথে ভাব জমাবেন?
উত্তর: কবি বনের বৃক্ষের শাখার সাথে ভাব জমাবেন।
২৩। পল্লি-দুলালের দেশ দেখতে কেমন?
উত্তর: পল্লি-দুলালের দেশ তথা পল্লিগ্রাম অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
২৪। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীন লিখেছেন।
২৫। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের ‘ধানক্ষেত’ কাব্য থেকে সংকলিত।
২৬। যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি কোথায় যেতে চেয়েছেন?
উত্তর: কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন।
২৭। কবি ধল-দীঘিতে সাঁতার কেটে কী তুলেন আনবেন?
উত্তর: কবি ধল-দীঘিতে সাঁতার কেটে রক্ত-কমল তুলে আনবেন।
২৮। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় বনের পাতা মেলে কে চলে?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রাম্য মেয়ে বনের পাতা মেলে চলে।
২৯। ‘উত্তরীয়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: উত্তরীয় শব্দের অর্থ—চাদর।
৩০। অচেনা হাতের মালা কে পরবে?
উত্তর: পল্লিকবি জসীমউদ্দীন তাঁর ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় উল্লেখ করেছেন, কোনো আভোলা কিশোরী তাঁর ফেলে আসা অচেনা হাতের মালা গলায় পরবে।
৩১। বেতস কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে কী করে?
উত্তর: বেতস কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়।
৩২। ‘দিঘল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘দিঘল’ শব্দের অর্থ সুদীর্ঘ, দীর্ঘাকার।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

১. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রাম্য মেয়ে কেমন করে চলে?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রাম্য মেয়ের চলার দৃশ্য স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা।
➠ কবি বলেছেন, ‘তাহার পরে মুঠি ছড়িয়ে দিয়ে কদম-কলি, কোথাও মেলে বনে পাতা গ্রাম্য মেয়ে যায় যে চলি।’ অর্থাৎ, সে যখন হাঁটে, তখন তার পথচলায় কদম ফুলের কলি ছড়িয়ে পড়ে এবং বনঝোপের পাতা যেন আপনিই মেলে যায়। এতে তার চলার মধ্যে এক ধরনের মাধুর্য, কোমলতা ও সহজাত গ্রাম্য সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

২. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রামকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রামকে এক মনোমুগ্ধকর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এবং শান্তিময় স্থান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
➠ কবিতায় গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠ, সরু আঁকাবাঁকা পথ, বন-বনানী, নদী-নালা, দীঘি, শাপলা-ফুল, ধানের ক্ষেত, পাখির ডাক ইত্যাদির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামের মেয়েদের চলাফেরা, শিশুদের দুরন্তপনা, গাছের ছায়ায় বিশ্রাম, দীঘির জলে পদ্ম-শাপলার খেলা-এসবই কবিতায় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও পল্লিজীবনের চিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছে। শহরের কোলাহলপূর্ণ জীবনের বিপরীতে কবিতায় গ্রামকে এক শান্ত, নির্মল ও স্বর্গসম পরিবেশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।

৩. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পাড়ার দস্যি ছেলেরা কী করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পাড়ার দস্যি ছেলেরা খুব আনন্দে, উল্লাসে এবং উদ্দীপনায় খেলে।
➠ কবিতায় বলা হয়েছে, তারা একত্রিত হয়ে দল বাঁধে এবং সারা গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। তাদের দুরন্তপনা, খেলাধুলা এবং গ্রামীণ জীবনের স্বাধীনতা কবিতার মধ্যে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তারা যেভাবে নিজেদের আনন্দের জন্য খেলে, তাতে গ্রামের প্রকৃতি এবং পরিবেশের সঙ্গে একটি নির্ভেজাল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে পাড়ার দস্যি ছেলেরা তাদের দুরন্তপনায় নিমজ্জিত, মাঠে-ঘাটে ছোটাছুটি করে, মুক্ত পরিবেশে প্রকৃতির মধ্যে এক অভূতপূর্ব আনন্দ উপভোগ করে। তারা একত্রিত হয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলি কাটায়, যা তাদের গ্রামের সরল জীবনযাত্রার অংশ।

৪. কবি কেন পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চান? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চান কারণ সেখানে রয়েছে নিস্তব্ধতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য, এবং শাশ্বত সুখ।
➠ কবি তার শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে, গ্রামীণ পরিবেশে মুক্তি খুঁজছেন। সেখানে আছে দীঘির জলে শাপলার সৌন্দর্য, পাখির ডাক, ফুলের সুবাস, এবং মেঠো পথে ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনা-সব কিছুই তাকে আকর্ষণ করছে। কবি চাচ্ছেন, পল্লি-দুলালের দেশের এই নির্জন ও সুন্দর পরিবেশে তিনি কিছু সময় কাটান, যেন মনকে শান্তি এবং আনন্দ দিয়ে পূর্ণ করতে পারেন।

৫. ‘হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির মত’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পল্লিগ্রামের আঁকাবাঁকা সরু পথ বোঝানো হয়েছে।
➠ ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রামের আঁকাবাঁকা সরু পথকে গ্রামের হাবা মেয়ের এলোমেলো সিঁথির সাথে তুলনা করা হয়েছে। হাবা মেয়ে পরিপাটি সাজে সাজতে পারে না। এজন্য তার মাথার সিঁথি সোজা থাকে না। পল্লিগ্রামের ধানখেতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা সরু আঁকাবাঁকা পথগুলো তেমনি হাবা মেয়ের মাথার সিঁথির মতো এলোমেলো।

৬. ‘ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে আনব তুলে রক্ত-কমল’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবিতার এই অংশের মাধ্যমে কবি জসীমউদ্দীন তাঁর কৈশোরের দুরন্তপনাকে তুলে ধরেছেন।
➠ গ্রামের দস্যি ছেলেরা সারা দিন ঘুরে ঘুরে গ্রামকে মাতিয়ে রাখে। কবি দস্যি ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করতে চান। গ্রামের প্রকা- দিঘির পানিতে দাপিয়ে বেড়াতে চান। সাঁতার কেটে তুলে আনতে চান লাল পদ্মফুল। কবির খুব ইচ্ছা, এই অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করা।

৭. ফুল দিয়ে কবি কীরূপ খেলা খেলবেন?
উত্তর: জসীমউদ্‌দীন তাঁর ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লিগাঁয়ে গিয়ে পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে, পল্লি-দুলালের সাথে নানা রকম খেলায় মেতে ওঠার কথা বলেছেন।
➠ কবি গাছের শাখা দুলিয়ে বনফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথবেন। মালা গাঁথা শেষ হলে তা গাঁয়ের দিঘির ঘাটে রেখে আসবেন। পল্লিবালারা ঘাটে পানি নিতে এসে তা দেখবে এবং কুড়িয়ে নিয়ে ভাববে, না-জানি কে ভুল করে ফেলে গেছে। এরপর তারা সে মালা গলায় পরবে।

৮. পল্লির রাস্তাকে হাবা মেয়ের সিঁথির সাথে তুলনা করার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: পল্লির রাস্তা তথা পথ যেন গ্রামের হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির মতো কোথাও বাঁকা, কোথাও সোজা। তাই কবি পল্লির রাস্তাকে হাবা মেয়ের সিঁথির সাথে তুলনা করেছেন।
➠ ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রামের আঁকাবাঁকা সরু পথকে গ্রামের হাবা মেয়ের এলোমেলো সিঁথির সাথে তুলনা করা হয়েছে। হাবা মেয়ে পরিপাটি সাজে সাজতে পারে না। এজন্য তার মাথার সিঁথি সোজা থাকে না। পল্লিগ্রামের ধানখেতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা সরু আঁকাবাঁকা পথগুলো তেমনি হাবা মেয়ের মাথার সিঁথির মতো এলোমেলো।

৯. কবি ঘাটের এক ধারে ফুলের মালা রেখে আসবেন কেন? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: গ্রামের বিভোল পল্লিবালার জন্য কবি ঘাটের একধারে ফুলের মালা রেখে আসবেন।
➠ কবি পল্লি-দুলালের সাথে তার গ্রামে যেতে চান। সেখানে গিয়ে কবি গাছের শাখা দুলিয়ে ফুল পাড়বেন এবং ফুলের মালা গেঁথে ঘাটের একধারে রেখে আসবেন। কারণ গ্রামের বিভোল পল্লিবালা কলস ভরে জল নিতে আসবে সেই ঘাটে। সে কবির রেখে আসা মালাটি পেয়ে গলায় পরবে। এই আশায় কবি ঘাটের একধারে ফুলের মালা রেখে আসবেন।

১০. কবিতায় বর্ণিত পল্লি-দুলালের পরিচয় দাও।
উত্তর: কবিতায় বর্ণিত পল্লি-দুলাল হলো পল্লি-মায়ের স্নেহে লালিত সন্তান, যে কবিকে গ্রাম্য-প্রকৃতির রূপ-মাধুরীর সাথে কবিকে পরিচয় করিয়ে দেবে।
➠ ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ গ্রামে যাওয়ার জন্য তার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তাকে সঙ্গে নিয়েই তিনি পল্লিগ্রামের প্রকৃতি ও পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে চান। বস্তুত, আলোচ্য কবিতায় পল্লি-দুলাল একইসাথে কবির সঙ্গী এবং পথ প্রদর্শক, যাকে কবিতাটিতে পল্লিমায়ের আদরের ছেলেহিসেবে পল্লি-দুলাল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

১১. ‘ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে আনব তুলে রক্ত-কমল, শাপলা লতায় জড়িয়ে চরণ ঢেউ-এর সাথে খাব যে দোল।’—পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটি দ্বারা গ্রামে গিয়ে কবি যে, বড়ো দিঘিতে মনের আনন্দে সাঁতার কাটবেন এবং সেখান থেকে রক্তকমল তুলে আনবেন সে কথাই বোঝানো হয়েছে।
➠ এখানে ধল-দিঘি বলতে বড়ো দিঘিকে বোঝানো হয়েছে। কবি সেই গ্রামে গিয়ে সেখানকার মস্ত দিঘিতে মনের আনন্দে সাঁতার কাটবেন এবং সেখান থেকে রক্তকমল অর্থাৎ পদ্মফুল তুলে আনবেন। শুধু তা-ই নয়, সেসময় শাপলা লতার সাথে তার পা জড়িয়ে যাবে। আর তা থেকে মুক্ত হতে সাঁতার কাটতে গিয়ে ঢেউয়ের সাথে দোল খাবেন।

১২. ‘অজান ফুলের রূপ দেখিয়া মানব তারে বিয়ের কনে।’ পঙ্ক্তিতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, গ্রামে গিয়ে তিনি নাম না-জানা ফুলের রূপ দেখে তাকে বিয়ের কনে ভাববেন।
➠ আলোচ্য কবিতায় কবি যে গ্রামে যেতে চেয়েছেন, সেখানকার প্রকৃতি তাকে মুগ্ধ করেছে। সেখানে বেতস-কেয়ার বনে ডাহুক পাখির ডাকে গ্রামবাসী মুগ্ধ হয়। শুধু তা-ই নয়, গ্রামের পথে মুঠি মুঠি কদম ও শিমুল ফুল ছড়িয়ে আছে। সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় নাম না-জানা বিভিন্ন ফুলের সৌন্দর্য ও সুবাস মানুষকে মোহিত করে। সে পথ দিয়ে যাওয়ার সময় কবি অজানা ফুলের সেই রূপ-সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করে তাকে বিয়ের কনে মনে করবেন। প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

১৩. ‘আকাশ যাহার বনের শীষে দিক-হারা মাঠ চরণ ঘেঁষে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: চিরসুন্দর নিভৃত পল্লির বর্ণনা দিতে এখানে সবুজ মাঠ ও আকাশের অনুষঙ্গ ব্যবহার করে পল্লি-প্রকৃতির অবারিত সৌন্দর্যকে বোঝানো হয়েছে।
➠ কবি বলেছেন, গ্রামবাংলার বন-বনানীর শীর্ষে দিগন্তবিস্তৃত সুবিশাল আকাশ আর নিচে সবুজ ফসলের মাঠ যেন দিগন্তে গিয়ে মিশেছে। কবি আঁকাবাঁকা পথ ধরে সবুজ মাঠ পাড়ি দিয়ে পল্লি-প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চেয়েছেন। পল্লির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বোঝাতে গিয়ে কবি আলোচ্য পঙক্তির অবতারণা করেছেন।

১৪. পল্লির আকাশের বর্ণনা দাও।
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন গ্রামবাংলার খোলা আকাশের মনোজ্ঞ বর্ণনা দিয়েছেন।
➠ পল্লিগ্রামের বনের শীর্ষে খোলা আকাশ। তার নিচে থাকে দিগন্তবিস্তৃত বিশাল মাঠ। সেই আকাশে মেঘ কনেরা মাথায় জলের ঝারি বয়ে আনে। মাঝে মাঝে আকাশে বিজলি চমকায়। আর হঠাৎ নেমে আসে বৃষ্টি। এভাবে পল্লির আকাশ তার অবারিত সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে পল্লি-প্রকৃতিকে আরো মনোহর করে তোলে।

১৫. গ্রামের ডাহুক মেয়েরা কেমন করে আসর মাতিয়ে রাখে?
উত্তর: গ্রামের বেতস, কেয়ার বনে ডাহুক মেয়েরা ডাক ছেড়ে আসর মাতিয়ে তোলে।
➠ কবিতায় ডাহুক মেয়ে বলতে ডাহুক পাখিকে বোঝানো হয়েছে। পল্লি-গাঁয়ের আকাশে দিনের শেষে রবি যখন অস্তাচলে গমন করে, তখন ধীরে ধীরে গাছগাছালিতে ঢাকা পল্লিজুড়ে নিকষ কালো অন্ধকার নেমে আসতে থাকে। সেসময় বেতস-কেয়ার বনে ডাহুক মেয়েরা ডাক ছেড়ে তার চারপাশ মাতিয়ে তোলে। ফলে সন্ধ্যার নীরব পল্লি যেন তার সমস্ত নিস্তব্ধতা কাটিয়ে সরব হয়ে ওঠে। এভাবে গ্রামের ডাহুক মেয়েরা ডাক ছেড়ে আসর মাতিয়ে তোলে।

১৬. ‘চেনে-না তার হাতের মালা হয়ত সে-বা পরবে গলে’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: আলোচ্য পঙক্তি দ্বারা কবির ফুল দিয়ে গাঁথা মালা যে ভালোবেসে পল্লিবালারা নিজেদের গলায় পরবে—এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
➠ কবি গাঁয়ে ঘুরে বেড়ানোর সময় গাছের শাখা দুলিয়ে মনের আনন্দে ফুল কুড়াবেন। এরপর সে ফুল দিয়ে মালা গেঁথে তা দিঘির ঘাটে রেখে আসবেন। কবি মনে করেন, পল্লির আত্মভোলা কোনো কিশোরী দিঘির ঘাটে কলসিতে পানি ভরতে এসে সে মালা কুড়িয়ে নেবে। আর ভাববে, না-জানি কে-ই বা সেটি ভুলে রেখে গেছে। শুধু তা-ই নয়, কবির সযতেœ গাঁথা সেই মালা পল্লিবালারা কুড়িয়ে নিয়ে হয়তো মনের আনন্দে গলায় পরবে। প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

১৭. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে কবি কোথায় ঘুরে বেড়াবেন?
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লি দুলালের কাঁধে হাত রেখে পল্লির এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াবেন।
➠ কবি পল্লিগাঁয়ে গিয়ে পল্লির অনিন্দ্যসুন্দর রূপ অন্বেষণ করতে চান। তিনি চান পল্লি-দুলালের সাথে খেলতে এবং ঘুরে বেড়াতে। এরই অংশ হিসেবে তিনি পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস মনে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াবেন। তিনি তাকে নিয়ে সাঁঝের বেলা বাড়ি ফিরে আসার সময় বনের ফাঁক দিয়ে আকাশের রং-বেরঙের মেঘ দেখবেন।

১৮. কবি পল্লি দুলালের দেশে গিয়ে কী কী করবেন?
উত্তর: পল্লিকবি জসীমউদ্দীন বিরচিত ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লি-দুলালের দেশে গিয়ে নানাভাবে সময় কাটাবেন বলে মনের বাসনা ব্যক্ত করেছেন।
➠ তিনি সে গ্রামে গিয়ে পাড়ার দুষ্টু ছেলেদের সাথে দল বেঁধে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াবেন। ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন। আবার শাপলা লতার সাথে পা জড়িয়ে দিঘির ঢেউয়ের সাথে দোল খাবেন। এসময় হিজল ঝরা জলের ছিটায় কবির গায়ের রং রঙিন হবে। সেখানে তিনি পাখির কণ্ঠের সাথে কণ্ঠ মেলাবেন, বনের বৃক্ষের সাথে ভাব জমাবেন। আর অজানা ফুলের রূপ দেখে তাকে বিয়ের কনে ভাববেন। এভাবে পল্লি-প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে তিনি আনন্দময় জীবন কাটাবেন।

১৯. কবি যে গ্রামে যেতে চেয়েছেন সেটি কীরূপ? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কবি যে গ্রামে যেতে চেয়েছেন, প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে সে গ্রামের ভূপ্রকৃতি অনিন্দ্যসুন্দর ও রহস্যময়।
➠ গ্রামের প্রকৃতির সাথে মানুষের জীবনযাত্রার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সেখানকার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের নিচে দিকহারা মাঠ। তার কোল ঘেঁষে মেঘেরা জড়ো হয়, বিজলি চমকায়। যেখানে বেতস কেয়ার বনে ডাহুক পাখির ডাক গ্রামবাসীকে মুগ্ধ করে। আবার সন্ধ্যায় সমগ্র বন অন্ধকারে ছেয়ে যায়। আর দিঘির জলে তার ছায়া পড়ে রহস্যময় সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়।

২০. কবি যে পথে যেতে চেয়েছেন সেটি কীরূপ? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কবি যে পথে যেতে চেয়েছেন, গ্রামের সেই পথটি দীর্ঘ ও সরু সুতার মতোই আঁকাবাঁকা।
➠ কবি যে গ্রামে যাবেন, সে গ্রামের পথ ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে চলে গেছে। সরু সুতার মতো ও দীর্ঘ সেই পথ গ্রামের সহজ-সরল মেয়ের এলোমেলো চুলের মতোই কোথাও সোজা আবার কোথাও বাঁকা। এছাড়াও সে পথ গোরুর কাঁধের ক্ষতস্থানের ন্যায় এবড়োথেবড়ো হয়ে আছে। সে পথে মুঠি মুঠি কদম ও শিমুল ফুল ছড়িয়ে আছে। সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় আরও কত নাম না-জানা ফুলের গন্ধ হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়। সে পথ ধরেই কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন।

২১. কবিতাটিতে কবির পল্লিপ্রীতির পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লি-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ম-িত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
➠ এ কবিতায় পল্লির পরতে পরতে যেসব অকৃত্রিম সৌন্দর্য ও রূপবৈচিত্র‍্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কবি তাকে পরম যত্ন ও সহানুভূতির সাথে কাব্যিক ভাষার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বস্তুত, শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামবাংলার রূপ, রস ও স্নেহ-ভালোবাসার স্পর্শ বারবার কবিকে পল্লিগাঁয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তারই স্মৃতিচারণে কবি এ কবিতাটি রচনা করেছেন। এভাবে আলোচ্য কবিতাটির মধ্য দিয়ে পল্লিপ্রীতির পরিচয় সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

২২. কবি পল্লি-দুলালের সাথে যেতে চেয়েছেন কেন?
উত্তর: পল্লি-প্রকৃতির সৌন্দর্য অন্বেষণ এবং আনন্দভোগের অভিপ্রায়ে কবি পল্লি-দুলালের সাথে তার গ্রামে যেতে চেয়েছেন।
➠ কবিতাটিতে পল্লিপ্রকৃতির ছায়াসুনিবিড় রূপটিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গাঁয়ের বনের শীর্ষে আকাশ আর পায়ের কাছে রয়েছে দিক-হারা বিস্তৃত মাঠ। সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে, ধান খেতের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে গাঁয়ের মেয়ে কদম কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। শুধু তা-ই নয়, রাতের বেলায় সেখানকার বনের ঘুটঘুটে অন্ধকার দিঘির জলে ছায়া ফেলে যে রহস্যময় সৌন্দর্যের দ্যোতনা দেয়, তার কোনো তুলনা হয় না। পল্লি-প্রকৃতির এই রহস্যময় সৌন্দর্য অন্বেষণ এবং আনন্দভোগের অভিপ্রায়ে কবি পল্লি-দুলালের সাথে তার গ্রামে যেতে চেয়েছেন।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শহরের দুই বন্ধু শফিক ও আশিক পরিকল্পনা করে এবার গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের গ্রামের বন্ধু শাহেদের বাড়িতে যাবে। তারা কখনো গ্রাম দেখেনি। বইয়ের পাতায় আর টেলিভিশনে দেখেছে বহুবার, ভালোও লেগেছে কিন্তু সশরীরে যাওয়া হয়নি কখনো। তাই এ সুযোগ তারা কিছুতেই হাতছাড়া করবে না। তাদের ভালোলাগা আরো শতগুণ বেড়ে গেছে শাহেদ যখন নিজ গ্রামের বন-বনানী, ফুল, পাখি, দীঘি, শাপলা, মেঠো পথ, ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনা ইত্যাদির নয়নাভিরাম বর্ণনা তাদের শুনিয়েছে।

ক. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
খ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রাম্য মেয়ে কেমন করে চলে?
গ. উদ্দীপকে শহুরে দুই বন্ধুর গ্রাম দেখার যে ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে তোমার পাঠ্য পুস্তকের কোন কবিতায় এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে—ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে শাহেদ তার গ্রামের যে নয়নাভিরাম বর্ণনা করেছেন ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার আলোকে তার বর্ণনা দাও।

ক. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি পল্লীকবি জসীমউদ্দীন লিখেছেন।
খ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রাম্য মেয়ের চলার দৃশ্য স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা।
কবি বলেছেন, ‘তাহার পরে মুঠি ছড়িয়ে দিয়ে কদম-কলি, কোথাও মেলে বনে পাতা গ্রাম্য মেয়ে যায় যে চলি।’ অর্থাৎ, সে যখন হাঁটে, তখন তার পথচলায় কদম ফুলের কলি ছড়িয়ে পড়ে এবং বনঝোপের পাতা যেন আপনিই মেলে যায়। এতে তার চলার মধ্যে এক ধরনের মাধুর্য, কোমলতা ও সহজাত গ্রাম্য সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

গ. উদ্দীপকে শহুরে দুই বন্ধু শফিক ও আশিকের গ্রাম দেখার যে ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে, তা জসীম উদ্দীন-এর ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।
শহরের ব্যস্ত জীবনে বেড়ে ওঠা শফিক ও আশিক কখনো গ্রাম দেখেনি, কিন্তু বন্ধু শাহেদের বর্ণনা শুনে তাদের মনে এক অন্যরকম আকর্ষণ ও আগ্রহ জন্মেছে। একইভাবে, কবিতায় কবি গ্রামের মনোরম প্রকৃতি, মাঠ-ঘাট, দীঘি, বন-বনানী, সরু পথ, ফুল-পাখি, গ্রামের দুরন্ত ছেলেমেয়েদের খেলা ইত্যাদির এক চিত্র তুলে ধরেছেন, যা পাঠকের মনেও গ্রাম দেখার আকাক্সক্ষা সৃষ্টি করে। কবিতার বক্তা গ্রামের ছেলে "পল্লি-দুলাল" এর সঙ্গে মিশতে চায়, গ্রামের পথে হাঁটতে চায়, শাপলা-লতায় জড়িয়ে দীঘির জলে দোল খেতে চায়, এমনকি গ্রামের সরল মানুষদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়তে চায়। শহরের যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলমুক্ত প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসার এই আকর্ষণ উদ্দীপকের শহুরে দুই বন্ধুর মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে। তারা বই বা টেলিভিশনে গ্রাম দেখলেও বাস্তবে কখনো অনুভব করতে পারেনি, তাই শাহেদের মুখে গ্রামের কথা শুনে তাদের মন ছুটে যেতে চায় সবুজ-শ্যামল গ্রামবাংলায়। কবিতার বক্তার মতোই তারা গ্রামের অজানা সৌন্দর্যকে ছুঁয়ে দেখতে চায়, গ্রামীণ জীবনের নির্মল পরিবেশকে উপভোগ করতে চায়। সুতরাং, শহরের দুই বন্ধুর অনুভূতি এবং কবিতার মূল ভাব একই সুরে বাঁধা, যা গ্রামবাংলার প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও আকর্ষণ প্রকাশ করে।

ঘ. উদ্দীপকে শাহেদ তার গ্রামের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের যে বর্ণনা দিয়েছে, তা জসীম উদ্দীন-এর ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
কবিতায় কবি গ্রামবাংলার এক অপূর্ব চিত্র তুলে ধরেছেন, যেখানে রয়েছে দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, বন-বনানী, সরু মেঠো পথ, দীঘি, শাপলা, কদম ফুল, নদীর পানি, ধান-কাউনের ক্ষেত, বাঁকা-সোজা পথে আঁকা গরুর পায়ের চিহ্ন, বন-জঙ্গলে পাখির ডাক, দুরন্তপনায় মেতে থাকা গ্রামের ছেলে-মেয়েদের আনন্দঘন জীবন।
শাহেদ তার শহুরে বন্ধুদের যেভাবে গ্রামের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছে, কবিতার বক্তাও তেমনভাবেই গ্রামের মায়াবী প্রকৃতির প্রেমে পড়ে গেছে। কবিতায় কবি বলেছেন—‘আকাশ যাহার বনের শীষে দিক হারা মাঠ চরণ ঘেঁসে’, যা গ্রামের মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য প্রকাশ করে। গ্রামের শিশুরা দল বেঁধে খেলে, দীঘির জলে সাঁতার কাটে, শাপলা-লতায় দোল খায়-এসব দৃশ্য শাহেদের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়। কবিতায় আরও আছে, ‘পল্লি-দুলাল, যাব আমি তোমার দেশে’, যা শহরের দুই বন্ধুর গ্রামের প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসার প্রতিফলন।
শাহেদ যেমন তার গ্রামের মেঠোপথ, ফুল-পাখি, দীঘির জল, শিশুদের দুরন্তপনা, বন-বনানীর অপরূপ দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে বন্ধুদের মন আকৃষ্ট করেছে, তেমনি কবিতার বক্তাও গ্রামের পথে হাঁটার, ফুলের সুবাস নেবার, পাখির সঙ্গে ভাব জমানোর আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে, কবিতার প্রতিটি চিত্রকল্প শাহেদের গ্রামের বর্ণনার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
নিলয় ছোটবেলা থেকেই শহরে বড় হয়েছে। গ্রাম সম্পর্কে তার কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নেই, শুধু দাদার কাছে গল্প শুনে কল্পনায় গ্রামকে রঙিন করে রেখেছে। একদিন তার স্কুলের বন্ধুরা ঠিক করে, তারা গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের এক বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে যাবে। এই সুযোগ পেয়ে নিলয়ের আনন্দ আর ধরে না। সে ভাবতে থাকে, কেমন হবে সেই গ্রামের নদী, শাপলা ফুলে ভরা দীঘি, পাখির ডাক, মেঠোপথ আর মাঠে খেলা করা দুরন্ত ছেলেমেয়েরা। গ্রাম সম্পর্কে দাদার বলা গল্পগুলো কি সত্যিই মিলবে? এই কৌতূহল ও উত্তেজনা নিয়েই সে গ্রামের পথে রওনা হয়।

ক. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে সংকলিত?
খ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রামকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে নিলয়ের গ্রাম দেখার যে কৌতূহল ও আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে, তা ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার ভাবের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার আলোকে গ্রামের সৌন্দর্য ও জীবনযাত্রার বর্ণনা দাও।

ক. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের ‘ধানক্ষেত’ কাব্য থেকে সংকলিত।
খ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রামকে এক মনোমুগ্ধকর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এবং শান্তিময় স্থান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
কবিতায় গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠ, সরু আঁকাবাঁকা পথ, বন-বনানী, নদী-নালা, দীঘি, শাপলা-ফুল, ধানের ক্ষেত, পাখির ডাক ইত্যাদির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামের মেয়েদের চলাফেরা, শিশুদের দুরন্তপনা, গাছের ছায়ায় বিশ্রাম, দীঘির জলে পদ্ম-শাপলার খেলা-এসবই কবিতায় প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও পল্লিজীবনের চিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছে। শহরের কোলাহলপূর্ণ জীবনের বিপরীতে কবিতায় গ্রামকে এক শান্ত, নির্মল ও স্বর্গসম পরিবেশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে এক গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।

গ. উদ্দীপকে নিলয়ের গ্রাম দেখার যে কৌতূহল ও আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে, তা ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার ভাবের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
কবিতায় গ্রামকে এক সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মনোমুগ্ধকর জায়গা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতি এবং মানুষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কবিতার কথক গ্রামের প্রকৃতি, পাখির ডাক, দীঘি, শাপলা ফুল এবং শিশুদের দুরন্ত খেলা নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা নিলয়ের অনুভূতির সঙ্গে একেবারে মেলে। নিলয়ের মতো কবিতার কথকও গ্রামের সৌন্দর্য সম্পর্কে কল্পনা করেন এবং তার গ্রামে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নিলয় যেমন তার দাদার কাছ থেকে গল্প শুনে গ্রামকে কল্পনা করে, কবিতার কথকও নিজের মনের মধ্যে গ্রামের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যগুলো আঁকে। কবিতায় গ্রামের সরু পথ, দীঘি, শাপলা, পাখির ডাক, শিশুদের খেলাধুলা সবকিছুই যেন এক ভিন্ন পৃথিবী, যার প্রতি কথকও এক অপার আগ্রহ অনুভব করে। তেমনি নিলয়ের কল্পনায় গ্রাম ছিল এক বিশেষ জায়গা, যেখানে নদী, শাপলা ফুল, পাখির ডাক, মেঠো পথ আর মাঠে খেলা করা দুরন্ত ছেলেমেয়েরা ছিল। তার কৌতূহল এবং উত্তেজনা, যা সে গ্রামে গিয়ে দেখতে চায়, তা ঠিকই কবিতার কথকের গ্রাম্য দৃশ্যের প্রতি ভালবাসার মতো। এভাবে, নিলয়ের গ্রামে যাওয়ার আনন্দ এবং কৌতূহল কবিতার ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত, কারণ কবিতার কথকও গ্রামের প্রতি তার গভীর অনুভূতি এবং আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা নিলয়ের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকটাই মিল।

ঘ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার আলোকে গ্রামের সৌন্দর্য ও জীবনযাত্রা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
কবিতার কথক গ্রামকে একটি মনোমুগ্ধকর স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে প্রকৃতি এবং মানুষের জীবন একসাথে মিলে-মিশে রয়েছে। কবিতায় গ্রামকে ফুলে-ফুলে সজ্জিত, পাখির সুরে পরিপূর্ণ এবং শাপলা ফুলে ভরা দীঘির মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে। এখানে গাছপালা, ফুলের সুগন্ধ এবং মেঘের ভ্রমণ এক অদ্ভুত মধুর পরিবেশ সৃষ্টি করে। দীঘির জলে শাপলা ফুল ফুটে থাকে এবং তার পাপড়ি সাঁতার কাটতে থাকা পানির ঢেউয়ের মতো দুলে ওঠে।
কবিতায় নানা ধরনের গাছপালা, যেমন হিজল এবং শিমুল গাছের উল্লেখ রয়েছে, যা গ্রামের সৌন্দর্যকে আরও প্রশস্ত করে। গাছের ছায়ায় গ্রামবাসীরা আরাম করে বিশ্রাম নেয় এবং গ্রাম্য পরিবেশের স্নিগ্ধতায় মুগ্ধ হয়।
এই কবিতায় গ্রাম্য জীবনযাত্রার সাদাসিধে এবং আনন্দময় দিকের চিত্র পাওয়া যায়। সেখানে গ্রামের ছেলেমেয়েরা মাঠে খেলে, পাখির ডাক শুনে, ফুল তোলায় মেতে ওঠে। গাঁয়ের বাচ্চারা প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে থাকে, তাদের জীবনযাত্রা সাদাসিধে এবং একেবারে প্রাকৃতিক উপায়ে চলে। কবিতায় গ্রামের সরু পথ, বাঁকা রাস্তা এবং ক্ষেতের ভেতর দিয়ে চলার বর্ণনা এসেছে। সেখানে এক ধরনের নির্জনতা এবং প্রাকৃতিক ভ্রমণের আনন্দ অনুভূত হয়।
সব মিলিয়ে, কবিতায় গ্রামকে একটি সম্পূর্ণ নির্জন, শুদ্ধ এবং সৌন্দর্যপূর্ণ স্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষ একে অপরকে পরিপূরক করে এবং সেখানে জীবনযাত্রা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
তামিম শহরের একটি নামী স্কুলে পড়ে। ছুটির দিনে সে সাধারণত বই পড়ে, ভিডিও গেম খেলে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে শপিং মলে ঘুরতে যায়। কিন্তু এবারের গ্রীষ্মের ছুটিতে তার চাচার সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ হয়। প্রথমে তার খুব একটা ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু গ্রামে পৌঁছে সে অভিভূত হয়ে যায়। চারপাশে সবুজের সমারোহ, মাঠে খেলছে ছেলেরা, দীঘির জলে ফুটেছে শাপলা, মেঠোপথ ধরে হেঁটে যাচ্ছে গরুর গাড়ি, পাখির কলতানে মুখরিত সকাল-এসব দেখে তামিমের মন ভরে ওঠে এক অজানা আনন্দে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই নির্জন, শান্ত পরিবেশ তাকে নতুন এক অভিজ্ঞতা দেয়।

ক. যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি কোথায় যেতে চেয়েছেন?
খ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পাড়ার দস্যি ছেলেরা কী করে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে তামিমের যে অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে, তা ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার ভাবের সঙ্গে কীভাবে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক এবং ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার আলোকে গ্রামের জীবনযাত্রার বৈচিত্র‍্য তুলে ধরো।

ক. কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন।
খ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পাড়ার দস্যি ছেলেরা খুব আনন্দে, উল্লাসে এবং উদ্দীপনায় খেলে।
কবিতায় বলা হয়েছে, তারা একত্রিত হয়ে দল বাঁধে এবং সারা গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। তাদের দুরন্তপনা, খেলাধুলা এবং গ্রামীণ জীবনের স্বাধীনতা কবিতার মধ্যে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তারা যেভাবে নিজেদের আনন্দের জন্য খেলে, তাতে গ্রামের প্রকৃতি এবং পরিবেশের সঙ্গে একটি নির্ভেজাল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে পাড়ার দস্যি ছেলেরা তাদের দুরন্তপনায় নিমজ্জিত, মাঠে-ঘাটে ছোটাছুটি করে, মুক্ত পরিবেশে প্রকৃতির মধ্যে এক অভূতপূর্ব আনন্দ উপভোগ করে। তারা একত্রিত হয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলি কাটায়, যা তাদের গ্রামের সরল জীবনযাত্রার অংশ।

গ. উদ্দীপকে তামিমের অভিজ্ঞতা এবং ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার ভাবের মধ্যে মিল রয়েছে শহুরে পরিবেশ থেকে গ্রামে যাওয়ার মাধ্যমে নতুন এক অভিজ্ঞতা লাভের অনুভূতিতে।
তামিম প্রথমে গ্রামে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকার পর, গ্রামে পৌঁছে যা অনুভব করে, তাতে গ্রামীণ পরিবেশের প্রতি তার আগ্রহ এবং ভালো লাগা ফুটে উঠে। কবিতায়ও কবি গ্রাম সম্পর্কে যে কল্পনা করেছেন, তাতে এমনই এক শান্ত এবং সুন্দর পরিবেশের বর্ণনা রয়েছে। তামিম যেমন শহরের কোলাহল থেকে দূরে গ্রামকে নতুনভাবে অনুভব করে, কবি ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় তার কল্পনার গ্রামে মেঠো পথ, দীঘি, পাখির কলতান এবং মাঠে খেলা করা ছেলেমেয়েদের কথা বলেছেন। তামিম যখন গ্রামের স্নিগ্ধ পরিবেশ, শাপলা ফুল, পাখির ডাকে অভিভূত হয়ে ওঠে, ঠিক তেমনি কবিও তার কল্পিত গ্রামে ওই সব দৃশ্যের সাথে নিজেকে একীভূত করতে চায়।
কবিতার মধ্যে যেমন “যাব আমি তোমার দেশে, দীঘল বাঁকা পন্থখানি, ধান কাউনের ক্ষেতের ভেতর সরু সুতোর আঁচড় টানি” এর মাধ্যমে গ্রাম্য সৌন্দর্য এবং জীবনযাত্রার বর্ণনা এসেছে, তেমনি তামিমের অভিজ্ঞতাও এই কবিতার ভাবের সঙ্গে মেলে, যেখানে সে গ্রাম দেখে নিজেকে আবিষ্ট এবং আনন্দিত মনে করে।

ঘ. উদ্দীপক এবং ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার আলোকে গ্রামের জীবনযাত্রার বৈচিত্র‍্য বেশ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকে তামিমের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে গ্রামের শান্ত পরিবেশ এবং তার নতুন অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। তামিম শহরের কোলাহল থেকে দূরে গ্রামের নির্জন পরিবেশে হেঁটে যাওয়ার সময় চারপাশে সবুজ, মাঠে খেলা করা ছেলেরা, দীঘির জলে ফুটে থাকা শাপলা, গরুর গাড়ি, পাখির ডাক এসব দেখে অভিভূত হয়। এই সব দৃশ্য গ্রামীণ জীবনযাত্রার বৈচিত্র‍্যকে তুলে ধরে।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতাতেও গ্রামকে নানা দিক থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে গ্রাম্য জীবনযাত্রার বৈচিত্র‍্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। কবি মেঠো পথ, মাঠ, দীঘি, পাখির ডাক, শাপলা, গাছপালা ইত্যাদি বর্ণনা করেছেন, যা গ্রামের সৌন্দর্য ও জীবনযাত্রার বৈচিত্র‍্যকে ফুটিয়ে তোলে। কবিতায় “পল্লি-দুলাল ভাই গো আমার যাব আমি তোমার দেশে, আকাশ যাহার বনের শীষে দিক হারা মাঠ চরণ ঘেঁসে” এর মাধ্যমে গ্রামীণ জীবন, শান্ত পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়েছে।
গ্রামের জীবনযাত্রার বৈচিত্র‍্য এখানে মাঠে খেলা করা ছেলেমেয়েদের, দীঘির জলে শাপলা ফুটে থাকার দৃশ্য, পাখির কলতানে পরিবেশ মুখরিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তামিম যেমন গ্রামে গিয়ে সেই সব দৃশ্য দেখে নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করে, কবিতাতেও এমন দৃশ্যের বর্ণনায় গ্রাম্য জীবনের এক প্রাণবন্ত ছবি ফুটে ওঠে। গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এসে একটি শান্ত ও প্রাকৃতিক জীবনযাত্রার বৈচিত্র‍্য অনুভূত হয়।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রাফি ছোটবেলা থেকেই শহরে বড় হয়েছে। প্রযুক্তির প্রতি তার প্রচ- আগ্রহ, সারাদিন মোবাইল আর কম্পিউটারে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু এবার ঈদের ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে গ্রামের দাদাবাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পায় সে। প্রথমে মনে হয়েছিল গ্রামে গিয়ে সময় কাটানো কঠিন হবে, কিন্তু সেখানে গিয়ে তার ধারণা বদলে যায়। বিকেলে সে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে ধানক্ষেতে দৌড়ায়, পুকুরে ঝাঁপিয়ে সাঁতার কাটে, গাছের ডালে বসে পাখির গান শোনে। রাতে খোলা আকাশের নিচে বসে জোনাকির আলো দেখে মুগ্ধ হয়। শহরের কৃত্রিম জীবন থেকে দূরে গ্রামের প্রকৃতি তাকে এক নতুন আনন্দে ভরিয়ে দেয়।

ক. কবি ধল-দীঘিতে সাঁতার কেটে কী তুলেন আনবেন?
খ. কবি কেন পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চান? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার ভাবের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. কবিতার আলোকে গ্রামের প্রতি মানুষের টান ও আকর্ষণের কারণ ব্যাখ্যা করো।

ক. কবি ধল-দীঘিতে সাঁতার কেটে রক্ত-কমল তুলে আনবেন।
খ. কবি পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চান কারণ সেখানে রয়েছে নিস্তব্ধতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য, এবং শাশ্বত সুখ।
কবি তার শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে দূরে, গ্রামীণ পরিবেশে মুক্তি খুঁজছেন। সেখানে আছে দীঘির জলে শাপলার সৌন্দর্য, পাখির ডাক, ফুলের সুবাস, এবং মেঠো পথে ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনা-সব কিছুই তাকে আকর্ষণ করছে। কবি চাচ্ছেন, পল্লি-দুলালের দেশের এই নির্জন ও সুন্দর পরিবেশে তিনি কিছু সময় কাটান, যেন মনকে শান্তি এবং আনন্দ দিয়ে পূর্ণ করতে পারেন।

গ. উদ্দীপকে রাফি শহরের কৃত্রিম জীবন থেকে দূরে গ্রামের প্রকৃতির মধ্যে গিয়ে যে আনন্দ অনুভব করেছে, তা ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার ভাবের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
কবি কবিতায় পল্লি-দুলালের দেশে যেতে চায় যেখানে সবুজের সমারোহ, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং নিস্তব্ধ পরিবেশ তাকে আকর্ষণ করে। কবি গ্রামে গিয়ে মেঠো পথে ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনা দেখতে চায়, পাখির ডাক শুনতে চায়, দীঘির জলে শাপলা দেখতে চায়, ফুলের সুবাসে মেতে উঠতে চায়, আর এমন অনেক গ্রামীণ দৃশ্য কবি নিজের চোখে দেখতে চায়, যা তার শহুরে জীবন থেকে অনেক আলাদা। ঠিক যেমন রাফি, যিনি শহরে বড় হয়ে প্রযুক্তি এবং আধুনিক জীবনে আসক্ত ছিল, গ্রামে গিয়ে এক নতুন আনন্দে ভরে ওঠে। রাফি বিকেলে গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে ধানক্ষেতে দৌড়ায়, পুকুরে ঝাঁপিয়ে সাঁতার কাটে, গাছের ডালে বসে পাখির গান শোনে, এবং রাতে খোলা আকাশের নিচে বসে জোনাকির আলো দেখে। এ সমস্ত অভিজ্ঞতা রাফির মনে একটি নতুন প্রফুল্লতা এবং প্রশান্তি এনে দেয়। কবি তার কবিতায় যা চায়, রাফি তা বাস্তবে পায় এবং তার অভিজ্ঞতাও কবির চাওয়া-ধাওয়ার সঙ্গে মিলে যায়।
উভয়ের মধ্যে গ্রামীণ জীবনের সরলতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং আনন্দের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা হয়েছে, যা শহরের কৃত্রিম জীবন থেকে অনেকটাই ভিন্ন।

ঘ. কবিতার আলোকে গ্রামের প্রতি মানুষের টান ও আকর্ষণের কারণ একাধিক।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি গ্রামের প্রকৃতি, শীতল পরিবেশ, এবং সরল জীবনযাত্রার প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও আকর্ষণ ব্যক্ত করেছেন। গ্রামের প্রতি মানুষের টান ও আকর্ষণের মূল কারণ হলো-প্রকৃতির সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং সেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সহজতা ও নিরবতা। কবি গ্রামে যেতে চান যেখানে সূর্যাস্তের পর গাছের পাতায় পাতায় সঙ্গীত বাজে, পাখির কণ্ঠে বাতাস ভরে ওঠে, দীঘির জলে শাপলা ফুটে, আর মেঠো পথ ধরে ছেলেরা দুরন্তপনায় খেলতে থাকে। এ ধরনের দৃশ্য শহরের কোলাহল ও কৃত্রিম জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং মনকে প্রশান্তি দেয়।
গ্রামের পরিবেশ শহরের তুলনায় অনেকটাই শুদ্ধ, যেখানে মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্যে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করে। এখানে যেকোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য যেমন ফুল, পাখি, নদী বা আকাশ মানুষের মনের শান্তি ও স্বস্তি নিয়ে আসে। কবি এই সৌন্দর্য ও শান্তির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বলেন, ‘যাব আমি তোমার দেশে’—এটি গ্রামের প্রতি গভীর প্রেম ও আকর্ষণের প্রকাশ। এছাড়া, গ্রামে জীবনযাত্রা সহজ, স্বাভাবিক, এবং খুব বেশি কষ্টকর নয়। শহরের ব্যস্ততা এবং কৃত্রিমতা থেকে বিরত থাকার জন্য গ্রামকে একটি শান্ত ও পরিতৃপ্তিপূর্ণ স্থান হিসেবে কবি দেখছেন, যেখানে প্রকৃতির সাথে সম্প্রীতি বজায় রেখে জীবনযাপন করা সম্ভব।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রহিম গ্রামের ছেলে। গ্রামের নিবিড় পরিবেশে সে বড়ো হয়ে উঠেছে। শীতের ছুটিতে রহিম তার বড়ো চাচার বাসায় ঢাকায় বেড়াতে যায়। ঢাকায় গিয়ে রহিমের মন উদ্বেল হয়ে ওঠে। সারি সারি দালান, রাস্তায় গাড়ির সারি, বড়ো বড় মার্কেট দেখে রহিম শিহরিত হয়ে ওঠে। ঢাকার আধুনিক পরিবেশ রহিমকে এতটাই আকর্ষণ করে যে, রহিম তার চাচার কাছে আবদার করে ঢাকায় থেকে যেতে।

ক. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় বনের পাতা মেলে কে চলে?
খ. ‘হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির মত’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে রহিমের শিহরিত হওয়া ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় জসীমউদ্‌দীনের কোন বিষয়গুলোকে প্রতিফলিত করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “চাচার কাছে করা রহিমের আবদার ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার জসীমউদ্দীনের আবদারের বিপরীত” উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রাম্য মেয়ে বনের পাতা মেলে চলে।
খ. পল্লিগ্রামের আঁকাবাঁকা সরু পথ বোঝানো হয়েছে।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রামের আঁকাবাঁকা সরু পথকে গ্রামের হাবা মেয়ের এলোমেলো সিঁথির সাথে তুলনা করা হয়েছে। হাবা মেয়ে পরিপাটি সাজে সাজতে পারে না। এজন্য তার মাথার সিঁথি সোজা থাকে না। পল্লিগ্রামের ধানখেতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা সরু আঁকাবাঁকা পথগুলো তেমনি হাবা মেয়ের মাথার সিঁথির মতো এলোমেলো।

গ. উদ্দীপকে শহরের নতুন আধুনিক পরিবেশ রহিমকে শিহরিত করেছে। কিন্তু ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় জসীমউদ্দীন পল্লির অকৃত্রিম ছোঁয়ায় শিহরিত হয়েছেন।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লিগ্রাম ও পল্লি-প্রকৃতি জসীমউদ্‌দীনকে ঘিরে রেখেছে। পল্লি-প্রকৃতির বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের নিচে দিক ভুলে যাওয়া মাঠ, বেতস কেয়ার বনে ডাহুকের ডাক কবিচিত্তকে শিহরিত করে। ধানখেতের মধ্য দিয়ে এলোমেলো সরু মাটির পথ এবং সেই পথে গাঁয়ের মেয়ের কদমকলি ছড়িয়ে হেঁটে চলা কবিকে দস্যি হওয়ার উৎসাহ জোগায়। বনে বনে ফুটে থাকা অজানা শত শত ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত কবি গাছের শাখা দুলিয়ে এসব ফুলের মালা গাঁথতে চেয়েছেন। গ্রামের নিরালা নিঝুম অন্ধকারে কবি পল্লিমায়ের অপরূপ সৌন্দর্য অন্বেষণ করেন।
পল্লিগ্রামের অফুরন্ত রূপবৈচিত্র‍্য ও মনোরম দৃশ্য কবিচিত্তকে শিহরিত করলেও উদ্দীপকে আমরা তার বিপরীত চিত্র লক্ষ করি। রহিম তার চাচার বাসায় বেড়াতে এসে ঢাকা শহরের সারি সারি দালান ও বড়ো বড় মার্কেট দেখে শিহরিত হয়। শহরের এসব দৃশ্য তাকে এতই আকর্ষণ করে যে, সে শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করার মনোবাসনা ব্যক্ত করে। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি গ্রামের যেসব দৃশ্য দেখে শিহরিত হয়েছেন উদ্দীপকের রহিমের মধ্যে তা প্রতিফলিত হয়নি।

ঘ. উদ্দীপকে করা যায়। রহিমের আগ্রহ শহরের পরিবেশের প্রতি, কিন্তু ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় জসীমউদ্‌দীনের আগ্রহের মাঝে বৈপরীত্য লক্ষ করা যায়।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি জসীমউদ্‌দীন পল্লিবালকের কাছে আবদার করে গ্রামে যেতে চায়। পল্লিগাঁয়ের আকাশ, সবুজ মাঠ, আঁকাবাঁকা পথ, বনে বনে ফুলের সমাহার—এসব কবির কবিচিত্তকে বিমোহিত করে। কবি পল্লি-দুলালের হাত ধরে গাঁয়ের পথে ঘুরে বেড়াতে চান।
উদ্দীপকে পল্লি-প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠা রহিমকে শহরের চাকচিক্য দারুণভাবে আলোড়িত করে। আধুনিক সাজসজ্জা দেখে রহিমের মন আনন্দে উদ্বেল হয়। বড়ো বড়ো দালান, নানা রকম গাড়ি ও আধুনিক মার্কেট দেখে রহিম ঢাকায় থাকার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। চাচার বাড়িতে বেড়াতে এসে রহিম ঢাকার প্রতি এতটাই আগ্রহী হয়ে যায় যে, সে তার চাচার কাছে স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাসের জন্য আবদার করে বসে। পল্লিগ্রাম অপেক্ষা ঢাকার চাকচিক্য রহিমের বেশি প্রিয়।
উদ্দীপকে রহিমের আবদার গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাওয়া, কিন্তু এ কবিতায় কবির আবদার পল্লি-প্রকৃতিতে মিশে যাওয়া। শহরের নতুন পরিবেশে এসে রহিম শহরের আধুনিক জীবনের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। অপরদিকে ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি জসীমউদ্‌দীন পল্লি-প্রকৃতিতে আত্মহারা হয়ে ওঠে। তাই রহিমের আবদার ও কবি জসীমউদ্‌দীনের আবদার পরস্পর বিপরীতমুখী।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে যে এক সকল দেশের সেরা।

ক. ‘উত্তরীয়’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে আনব তুলে রক্ত-কমল’—ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ উদ্দীপকের এই কথার সাথে ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কোথায় মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “বাংলাকে সকল দেশের সেরা প্রমাণ করার জন্য ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার প্রাকৃতিক বর্ণনাই যথেষ্ট” এ উক্তিটির পক্ষে তোমার যুক্তি দেখাও।

ক. উত্তরীয় শব্দের অর্থ—চাদর।
খ. কবিতার এই অংশের মাধ্যমে কবি জসীমউদ্দীন তাঁর কৈশোরের দুরন্তপনাকে তুলে ধরেছেন।
গ্রামের দস্যি ছেলেরা সারা দিন ঘুরে ঘুরে গ্রামকে মাতিয়ে রাখে। কবি দস্যি ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করতে চান। গ্রামের প্রকা- দিঘির পানিতে দাপিয়ে বেড়াতে চান। সাঁতার কেটে তুলে আনতে চান লাল পদ্মফুল। কবির খুব ইচ্ছা, এই অকৃত্রিম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করা।

গ. উদ্দীপকে ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা’ বলতে বাংলা প্রকৃতির পুষ্পসম্পদকে বোঝানো হয়েছে। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি জসীমউদ্‌দীনের ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনার সাথে যার মিল রয়েছে।
আমাদের গ্রামবাংলা অপূর্ব সুন্দর নৈসর্গিক প্রকৃতিতে ভরপুর। উদ্দীপকের কবি গ্রামের সৌন্দর্যে এতই বিমোহিত হয়েছেন যে, তিনি পৃথিবীর সকল রূপ তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায়ও কবি গ্রামের এরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য ব্যাকুল হয়েছেন।
কবি জসীমউদ্‌দীন পল্লিগাঁয়ের নাম না-জানা বহু ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। কবি যখন পল্লি-দুলালের সাথে পল্লি-প্রকৃতিতে যাবেন, তখন মিষ্টি ফুলগুলো দেখে বিয়ের কনে মনে করে ভুল করবেন। কারণ গ্রামের আনাচেকানাচে ফুটে থাকা শত শত নাম না-জানা ফুলগুলো এতই সুন্দরভাবে ফুটে থাকে যে, তাদের দেখে মনে হয় বিয়ের কনে। গ্রামের পথ চলতে চলতে এসব ফুলের সুবাসে কবির মন ভরে ওঠে। কবি গাছের শাখা দুলিয়ে এসব ফুল তুলতে চান। বনের পাশে বসে ফুলের মালা গাঁথতে চান। উদ্দীপকের ফুলের যে সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে কবি জসীমউদ্‌দীন তাঁর কবিতায় তা ফুটিয়ে তুলেছেন। ফুলের সৌন্দর্য বর্ণনার দিক দিয়ে উদ্দীপকের কবি ও পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের মাঝে মিল দেখা যায়।

ঘ. আমি মনে করি, ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি প্রকৃতির যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে বাংলা সকল দেশের সেরা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আবহমানকাল থেকে বাংলাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌন্দর্যম-িত দেশ হিসেবে প্রমাণ করে চলেছে। ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি জসীমউদ্‌দীন যে প্রাকৃতিক বর্ণনা দিয়েছেন, তা উপরের উক্তিটিকে আরও যৌক্তিক করে তোলে।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি বলেছেন, এদেশের মাথার উপরে বিস্তৃত আকাশ আর পায়ের নিচে দিকহারা সবুজ মাঠ। মাঠের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা সরু পথ দেখতে অতুলনীয়। গ্রামের এ পথ ধরে গ্রাম্যমেয়ে কদমফুলের কলি ছড়িয়ে এগিয়ে যায়। দিঘির কালো পানিতে পল্লির দস্যি ছেলেরা সাঁতার কাটে। পল্লির মাটি কবির কাছে পরশপাথর। নাম না-জানা শত শত ফুল কবিমনকে বিমোহিত করে। কবি সেই ফুলের মালা গাঁয়ের পল্লিবালাকে উপহার হিসেবে দিতে চান। রাতের বন-বনানী ও সকালের কুয়াশা যেন প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য তালিকার প্রবাহ।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলার গ্রাম-প্রকৃতির এসব অনুষঙ্গের মাধ্যমে এদেশে ষড়ঋতু আবর্তিত, যা পৃথিবীর সকল দেশ থেকে বাংলাকে সর্বোচ্চ স্থানে উন্নীত করেছে। তাই আমার মতে, বাংলাকে সকল দেশের সেরা প্রমাণ করার জন্য ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার প্রাকৃতিক বর্ণনাই যথেষ্ট।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
খুব ভোর করে উঠিতে হইবে, সূর্য উঠার আগে,
কারেও ক’বিনা দেখিস পায়ের শব্দে কেহ না জাগে,
রেল-সড়কের ছোটো খাদ ভরে
ডানকানা মাছ কিলবিল করে,
কাদার বাঁধন গাঁথি মাঝামাঝি জল সেচে আগে-ভাগে,
সব মাছগুলি কুড়ায়ে আনিব কাহারও জানার আগে।

ক. অচেনা হাতের মালা কে পরবে?
খ. ফুল দিয়ে কবি কীরূপ খেলা খেলবেন?
গ. পল্লিগাঁয়ে গিয়ে কবি কী দুষ্টুমি করবেন? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় বর্ণিত বিশেষ দৃশ্য চিত্রায়িত হয়েছে”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন তাঁর ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় উল্লেখ করেছেন, কোনো আভোলা কিশোরী তাঁর ফেলে আসা অচেনা হাতের মালা গলায় পরবে।
খ. জসীমউদ্‌দীন তাঁর ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লিগাঁয়ে গিয়ে পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে, পল্লি-দুলালের সাথে নানা রকম খেলায় মেতে ওঠার কথা বলেছেন।
কবি গাছের শাখা দুলিয়ে বনফুল কুড়িয়ে মালা গাঁথবেন। মালা গাঁথা শেষ হলে তা গাঁয়ের দিঘির ঘাটে রেখে আসবেন। পল্লিবালারা ঘাটে পানি নিতে এসে তা দেখবে এবং কুড়িয়ে নিয়ে ভাববে, না-জানি কে ভুল করে ফেলে গেছে। এরপর তারা সে মালা গলায় পরবে।

গ. জসীমউদদীন পল্লি-দুলালের সাথে গ্রামে গিয়ে যেসব দুষ্টুমি করবেন তা কাব্যিক ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রদত্ত উদ্দীপকেও পল্লিগাঁয়ের এমনি এক দুষ্টুমিপূর্ণ মুহূর্ত জমিতে আল দিয়ে তারপর সেচ দ্বারা মাছ ধরার ভেতর দিয়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
কবি বলেন, তিনি পল্লিগাঁয়ে গিয়ে পাড়ার দুষ্ট দুরন্ত ছেলেদের সাথে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াবেন, খেলাধুলা করবেন, ধল-দিঘিতে সাঁতার কাটবেন, রক্তকমল ও শাপলা তুলবেন। এভাবে মায়ের চেয়েও খাঁটি মাটির পরশ নেবেন। বন্ধুর গলায় হাত রেখে ঘুরবেন, আর নানারকম ফুল ছিঁড়বেন। সে ফুলের মালা গেঁথে দিঘির ঘাটে রেখে দেবেন। গাঁয়ের মেয়েরা সে মালা পেয়ে গলায় পরবে। একপর্যায়ে দিনের আলো নিভে আসবে, ডাহুক ডাকবে, ঘুঘুরা বাসায় ফিরবে, ফুলেরা গন্ধ ছড়াবে, রাত নেমে আসবে তার অপূর্ব মাধুর্য নিয়ে।
আলোচ্য উদ্দীপকে গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ বর্ণিত হয়েছে। পল্লিগাঁয়ের দুরন্ত ছেলেদের এক দুষ্টুমিপূর্ণ মুহূর্ত-জমিতে আল দিয়ে তারপর সেচ দ্বারা মাছ মারার কাহিনি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। তেমনি গ্রামবাংলার নয়নের নিধি, পল্লিমায়ের আদরের দুলাল পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন তাঁর ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লির অকৃত্রিম প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্যের বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন। পল্লি-দুলালের দেশে গিয়ে কবি পাখির ডাকে বিভোর হবেন, গাছে গাছে ঘুরে বেড়াবেন, কাঁটার বাধা বা মাটির হোঁচটেও তিনি থামবেন না। এভাবে কবি পল্লিগাঁয়ে গিয়ে নানা দুষ্টুমিতে মেতে উঠবেন।

ঘ. উদ্দীপকে যেমন গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ বর্ণিত হয়েছে, তেমনি পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন তাঁর ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লির অকৃত্রিম প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্যের বর্ণনা উপস্থাপন করেছেন।
আলোচ্য উদ্দীপকে গ্রামবাংলার চিরায়ত রূপ বর্ণিত হয়েছে। পল্লিগাঁয়ের দুরন্ত ছেলেদের এক দুষ্টুমিপূর্ণ মুহূর্তজমিতে আল দিয়ে অতঃপর সেচ দ্বারা মাছ মারার কাহিনি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। খুব ভোরে সূর্য ওঠার আগে কাউকে না জানিয়ে এমন কাজ করা ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় বর্ণিত বিশেষ দৃশ্যের সাথে চিত্রায়িত হয়েছে।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি মনের আনন্দে, গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশের আকর্ষণে, বাল্যস্মৃতি রোমন্থন করতে পল্লি-দুলালের দেশে যাওয়ার বাসনা ব্যক্ত করেছেন। যে দেশের চারপাশে রয়েছে বনের সারি, গাছ-গাছালির অপরূপ দৃশ্য। সেখানে ফলে ফুলে ভরা গাছের শাখা অবনত মস্তকে কবিকে স্বাগত জানাবে। সেখানে সাঁঝের বেলায় বাগানে নানা রং ও সুবাসের ফুল ফোটে। বন-বনানী থেকে ভেসে আসে পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ। কবি সে গ্রামে গিয়ে ফুল পাখিদের সাথে ভাব জমাবেন, ঘুরে বেড়াবেন। দিঘির পানিতে সাঁতার কাটবেন, ঢেউ গুনবেন, পদ্মফুল তুলে আনবেন। নানা রঙের ফুল কুড়াবেন, মালা গাঁথবেন। এসবই গ্রাম্য প্রকৃতির আকর্ষণে কবিমনের ব্যাকুলতা।
উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লি-প্রকৃতির একটি অবারিত সৌন্দর্য বর্ণনায় গীতিময়তা ও গতিময়তা দান করেছেন। কবি তাঁর গ্রাম্যবন্ধুর সাথে দিঘির পাড়ে বসে প্রকৃতির অপরূপ লীলা প্রত্যক্ষ করবেন। পরিশেষে পল্লির এ প্রাকৃতিক পরিবেশে সহস্র ফুলের গন্ধে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ফরিদ তার বাল্যবন্ধু জাফরের চিঠি পেয়ে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে পড়ে। মনে পড়ে যায় তার গ্রাম শ্যামনগরের কথা—অবারিত মাঠ, ধানখেত, চারদিকে সবুজের সমারোহ, গাছে গাছে পাখির ডাক আর তারই মাঝে নানা রকমের খেলাধুলা। তাই সে সিদ্ধান্ত নিল এবারের গ্রীষ্মের ছুটিটা গ্রামে গিয়ে বন্ধুদের সাথে কাটাবে।

ক. বেতস কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে কী করে?
খ. পল্লির রাস্তাকে হাবা মেয়ের সিঁথির সাথে তুলনা করার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখো।
গ. ফরিদের মাঝে ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় বর্ণিত কবির কোন মনোভাবটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. শ্যামনগরের প্রকৃতি ও কবি জসীমউদ্দীনের বর্ণিত গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তুলনামূলক আলোচনা করো।

ক. বেতস কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়।
খ. পল্লির রাস্তা তথা পথ যেন গ্রামের হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির মতো কোথাও বাঁকা, কোথাও সোজা। তাই কবি পল্লির রাস্তাকে হাবা মেয়ের সিঁথির সাথে তুলনা করেছেন।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় গ্রামের আঁকাবাঁকা সরু পথকে গ্রামের হাবা মেয়ের এলোমেলো সিঁথির সাথে তুলনা করা হয়েছে। হাবা মেয়ে পরিপাটি সাজে সাজতে পারে না। এজন্য তার মাথার সিঁথি সোজা থাকে না। পল্লিগ্রামের ধানখেতের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা সরু আঁকাবাঁকা পথগুলো তেমনি হাবা মেয়ের মাথার সিঁথির মতো এলোমেলো।

গ. ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লিগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। কবির এ মনোভাবটি উদ্দীপকের ফরিদের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি জসীমউদ্‌দীন পল্লি-প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বারবার আদরের পল্লি-দুলালের দেশ তথা পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। কবি যে গ্রামে যেতে চেয়েছেন, প্রকৃতি যেন তাকে জড়িয়ে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের নিচে দিকহারা মাঠ; যার কোল ঘেঁষে বিজলি চমকায়। সেখানে বেতস কেয়ার বনে ডাহ্রক পাখির ডাক গ্রামবাসীকে মুগ্ধ করে। কবি ফুলের সুবাসমাখা পথে পল্লির দুরন্ত ছেলেদের সাথে দল বেঁধে নানা খেলায় মেতে উঠবেন। এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াবেন। গ্রামের ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন এবং শাপলা লতার সাথে পা জড়িয়ে ঢেউয়ের সাথে দোল খাবেন। হিজলঝরা জলের ছিটায় কবির গায়ের রং রঙিন হবে। সেখানে কবি পাখির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বনের বৃক্ষের সাথে ভাব জমাবেন। অজানা নানা ফুলের রূপ দেখে তাকে বিয়ের কনে ভাববেন। পথ চলতে পথের পাশে ময়না কাঁটার সাথে গায়ের কাপড় জড়িয়ে যাবে, এঁটেল মাটির সাথে হোঁচট লেগে অতি যতেœ কুড়ানো ফুল কাপড়ের আঁচল হতে পথে ছড়িয়ে পড়বে। এত কিছুর পরেও কবির কষ্ট হবে না। কবি পল্লি-দুলালের কাঁধে হাত রেখে উদাস মনে গ্রামে ঘুরে বেড়াবেন।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ফরিদ পল্লিগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ। যখন তার হাতে বাল্যবন্ধু জাফরের চিঠি আসে, তখন সে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। তার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে শ্যামনগরের অবারিত মাঠ, ধানখেত, চারদিকে সবুজের সমারোহ, গাছে গাছে পাখির ডাক, নানা ধরনের খেলাধুলা। যা তাকে ব্যাকুল করে তোলে। পল্লির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে সে সিদ্ধান্ত নিল এবারের গ্রীষ্মের ছুটিটা গ্রামে গিয়ে বন্ধুদের সাথে কাটাবে এবং গ্রামের সৌন্দর্য উপভোগ করবে। তাই একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লিগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। কবির এ মনোভাবটি উদ্দীপকের ফরিদের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. শ্যামনগরের প্রকৃতি ও কবি জসীমউদ্দীনের বর্ণিত গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি পল্লিগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য ও মনোরম দৃশ্য অনবদ্য ভাষাচিত্রে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতি যেন পল্লিকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের নিচে দিকহারা মাঠ, আকাশের কোলে বিদ্যুৎ চমকানো মেঘের খেলা, যেখানে বেতস কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে। গ্রামের মাঝখানে বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তর জুড়ে ধান-কাউনের খেতের অপরূপ শোভা যে-কোনো লোকের জন্য অতীব মনোমুগ্ধকর। শস্যক্ষেতের অপূর্ব দৃশ্যে যে কারও নয়ন জুড়ায়। এ বিস্তীর্ণ মাঠের মাঝখানে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে বিরাজ করছে ধল-দিঘি। ধল-দিঘির কাজলকালো পানিতে অজস্র রক্তকমল প্রস্ফুটিত হয়ে নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করেছে। কবি ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন সেই গ্রামে গিয়ে ধল-দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন। শাপলা লতায় পা জড়িয়ে ঢেউয়ের সাথে দোল খাবেন। গাছের শাখা দুলিয়ে মনের আনন্দে হাজার রঙের ফুল কুড়াবেন। কবি সে ফুল তুলে মালা গেঁথে গ্রাম্য দিঘির ঘাটে রেখে আসবেন। আর পল্লিবালারা কলসে পানি ভরতে ঘাটে এসে সে মালা কুড়িয়ে নিয়ে ভাববে, না-জানি কে ভুলে তা ফেলে গেছে। সে মালা হয়তো তারা গলায় পরবে।
উদ্দীপকেও শ্যামনগরের গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। সে গ্রামে রয়েছে অবারিত মাঠ, সবুজ ধানখেত, চারদিকে সবুজের সমারোহ, গাছে গাছে পাখির সুমধুর ডাক। গ্রামের এসব নানা রকমের মনোরম দৃশ্য ফরিদকে আকর্ষণ করেছে। তাই সে এসব সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য গ্রীষ্মের ছুটিতে গ্রামে গিয়ে বন্ধুদের কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় পল্লি-প্রকৃতি, গ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য ও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অনবদ্য ভাষাচিত্রে ফুটে উঠেছে। পল্লির মাঠ, বন-বনানী, আঁকাবাঁকা মেঠো পথ সবকিছুই পল্লির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। এছাড়া পাখ-পাখালি, নানা ধরনের ফুল ইত্যাদি বর্ণনায় ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকেও এসব বর্ণনা ফুটে উঠেছে। সুতরাং বলা যায়, শ্যামনগরের প্রকৃতি ও কবি জসীমউদ্‌দীনের বর্ণিত গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।


‘যাব আমি তোমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
গ্রীষ্মের ছুটিতে সোহেল তার বন্ধু আরিফকে বলল, ‘চল, আমাদের গ্রামে তোর ভালো লাগবে। এখন গাছে গাছে আম ধরে আছে, সব পাড়ব। পাড়ার ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলব। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীতে সাঁতার কাটব। অনেক মজা হবে।’ আরিফ বলল, ‘ধুর, গ্রামে ভদ্রলোক যায় নাকি? নাই বিদ্যুৎ, ঝড়-বৃষ্টি কাদা-পানি, নোংরা পরিবেশ। শহরে কত ভালো। আলো ঝলমল, যেখানে ইচ্ছে গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াও পায়ে কাদা লাগবে না। আর টাকা থাকলে শহরে আমের অভাব আছে নাকি?’

ক. ‘দিঘল’ শব্দের অর্থ কী?
খ. কবি ঘাটের এক ধারে ফুলের মালা রেখে আসবেন কেন? বুঝিয়ে লেখো।
গ. সোহেলের বর্ণনায় ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “আরিফের মানসিকতা ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কবির চেতনার বিপরীত”—উক্তিটি যাচাই করো।

ক. ‘দিঘল’ শব্দের অর্থ সুদীর্ঘ, দীর্ঘাকার।
খ. গ্রামের বিভোল পল্লিবালার জন্য কবি ঘাটের একধারে ফুলের মালা রেখে আসবেন।
কবি পল্লি-দুলালের সাথে তার গ্রামে যেতে চান। সেখানে গিয়ে কবি গাছের শাখা দুলিয়ে ফুল পাড়বেন এবং ফুলের মালা গেঁথে ঘাটের একধারে রেখে আসবেন। কারণ গ্রামের বিভোল পল্লিবালা কলস ভরে জল নিতে আসবে সেই ঘাটে। সে কবির রেখে আসা মালাটি পেয়ে গলায় পরবে। এই আশায় কবি ঘাটের একধারে ফুলের মালা রেখে আসবেন।

গ. উদ্দীপকের সোহেলের বর্ণনায় ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার গ্রামবাংলার চিরন্তন সৌন্দর্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
হাজারো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের এই জন্মভূমি। বাংলার গ্রাম তার চিরন্তন সৌন্দর্য বহন করে। পল্লিমায়ের স্নিগ্ধরূপ যেন বাংলার প্রকৃতিকে দিয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য।
উদ্দীপকের সোহেলের বর্ণনায় তার গ্রামের সৌন্দর্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। তার গ্রামের গাছে গাছে ধরে আছে আম, পাড়ার ছেলেরা ফুটবল খেলে আর মধুমতি নদীতে সাঁতার কাটে। গ্রামবাংলার এই দৃশ্য ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি জসীমউদ্‌দীন চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কবিও গ্রামের মেঠো পথ, বনের ছায়া, পাখির কলোরব, ফুলের সুবাস, পল্লিবালা, পল্লিবালকদের ভালোবেসে পল্লি-দুলালের গ্রামে যেতে চান। কবির বর্ণিত গ্রামবাংলার চিরন্তন চিত্রটিই উদ্দীপকের সোহেলের বর্ণনায় প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. “আরিফের মানসিকতা ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কবির চেতনার বিপরীত।” মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ, আরিফের মাঝে গ্রামের প্রতি কোনো আবেগ, ভালোবাসা নেই।
বাংলার মানুষ আবেগপ্রবণ এবং কল্পনাপ্রিয়। তাই গ্রামবাংলার প্রতি তাদের আবেগ, ভালোবাসা একটু বেশি। তবে কখনো কখনো কঠিন হৃদয়ের মানুষও খুঁজে পাওয়া যায়। যাদের মাঝে আবেগ-ভালোবাসা বা কল্পনার কোনো স্থান নেই, মূলত তারা সৌন্দর্যের মর্মার্থ বুঝতে পারে না।
উদ্দীপকের আরিফ তার বন্ধুর প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। সে মনে করে গ্রাম মানেই হলো বর্বর লোকের বাস, ঝড়, বৃষ্টি, কাদা-পানি, নোংরা পরিবেশ। আসলে সে গ্রাম অপছন্দ করে। কিন্তু ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতায় কবি গ্রামে যাওয়ার প্রবল আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন। গ্রামের প্রতি কবির ভালোবাসা ও আবেগই এই কবিতার মূল বিষয়। গ্রামের পথঘাট, মানুষ, পশু-পাখি, ফুল-ফল কবিকে গভীরভাবে টানে। যার বিপরীত মানসিকতা প্রকাশ করেছে আরিফ।
আরিফ শহরে বসে টাকা দিয়ে সবকিছু পেতে চায়। কারণ তার মানসিকতায় গ্রামের সৌন্দর্যচেতনা জাগ্রত হয়নি। কিন্তু ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কবি গ্রামে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ তাঁর চেতনায় সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত। তাই বলা যায়, “আরিফের মানসিকতা ‘যাব আমি তোমার দেশে’ কবিতার কবির চেতনার বিপরীত”—মন্তব্যটি যথার্থ।


তথ্যসূত্র:
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url