বন্দনা- শাহ মুহম্মদ সগীর

বন্দনা : শাহ মুহম্মদ সগীর
বন্দনা : শাহ মুহম্মদ সগীর 

বন্দনা
শাহ মুহম্মদ সগীর

দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাএ
যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়॥
পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত
কোল্ দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত
অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল
তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল॥
না খাই খাওয়াএ পিতা না পরি পরাএ।
কত দুক্ষে একে একে বছর গোঞাএ
পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন।
কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন
ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড়
দোসর-জনম দিলা তিঁহ সে আহ্মার
আহ্মা পুরবাসী আছ জথ পৌরজন।
ইষ্ট মিত্র আদি জথ সভাসদগণ॥
তান সভান পদে মোহার বহুল ভকতি
সপুটে প্রণাম মোহার মনোরথ গতি ॥
মুহম্মদ সগীর হীন বহোঁ পাপ ভার।
সভানক পদে দোয়া মাগোঁ বার বার॥

‘বন্দনা’ কবিতার পাঠবিশ্লেষণ:

দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাএ।
যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়॥

দ্বিতীয়ত সালাম করি মা-বাবাকে, যাদের দয়ার দ্বারা পৃথিবীতে আমার জন্ম হলো।

পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত।
কোল্ দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত॥

পোকামাকড় থেকে রক্ষা করতে মা খুব সাবধানে সুরক্ষিত রাখতেন, কোলে করে, বুকে করে রেখেছেন, যা পৃথিবীর সবাই জানে।

অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল।
তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল॥

সাধ্যহীন, সামর্থহীন দুর্বল শিশু ছিলাম আমি, তাঁর দয়া ও যত্নের দ্বারা এ দেহ এত বড় হলো।

না খাই খাওয়াএ পিতা না পরি পরাএ।
কত দুক্ষে একে একে বছর গোঞাএ॥

পিতা না খেয়ে আমাকে খাওয়াতেন, নিজে পোশাক না কিনে আমাকে পরাতেন, বছরের পর বছর কত দুঃখ সয়ে পার করেছেন সময়।

পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন।
কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন॥

বাবা তাঁর মন-প্রাণ, জীবন-যৌবন সব বিসর্জন দিলেন, কাকে না জানাব তাঁর জীবনী ধারণ করা কাহিনি/গল্প।

ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড়।
দোসর-জনম দিলা তিঁহ সে আহ্মার॥

শিক্ষককে সম্মান কর পিতার চেয়ে বেশি।

আহ্মা পুরবাসী আছ জথ পৌরজন।
ইষ্ট মিত্র আদি জথ সভাসদগণ॥

তিনিও দ্বিতীয়বার জন্ম দিয়েছেন অশিক্ষার অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে এসে, শিক্ষার আলো দিয়ে, সাধারণ নগরবাসী যতজন নাগরিকই আছেন।

তান সভান পদে মোহার বহুল ভকতি।
সপুটে প্রণাম মোহার মনোরথ গতি॥

আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও বয়োজেষ্ঠ মন্ত্রী আমলাগণ, তাদের সবার পায়ে আমার অনেক শ্রদ্ধা/কদমবুচি।

মুহম্মদ সগীর হীন বহোঁ পাপ ভার।
সভানক পদে দোয়া মাগোঁ বার বার॥

আমার মনের ইচ্ছা তাদের নিজের হাতে কদমবুচি করা, খুবই সাধারণ গুরুত্বহীন আমি অনেক পাপে পাপী, সভায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি বহুবার।


‘বন্দনা’ কবিতার উৎস নির্দেশ:
শাহ মুহম্মদ সগীরের ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের ‘বন্দনা’ পর্ব থেকে গৃহীত এই কবিতাংশ ‘বন্দনা’ নামে সংকলিত হয়েছে। ‘বন্দনা’ পর্ব যথেষ্ট বড়ো, এখানে শুধু গুরুজনদের প্রতি বন্দনার অংশটুকু স্থান পেয়েছে।

শব্দার্থ ও টীকা:
➠ বন্দনা- স্তুতি; প্রশংসা; প্রশংসা গীত।
➠ প্রণাম- নত হয়ে গুরুজনের পদধূলি গ্রহণ; অভিবাদন।
➠ মাও- মায়ে।
➠ করোঁ- করি।
➠ পাএ- পায়ে; চরণে।
➠ যান- যার।
➠ হন্তে- হতে; থেকে।
➠ বসুধায়- পৃথিবীতে।
➠ থুইলা- রাখল।
➠ মাটিত- মাটিতে।
➠ দিআ- দিয়ে
➠ বিদিত- জ্ঞাত; সবার জানা।
➠ অশক্য- অশক্ত; দুর্বল।
➠ আছিলু- ছিলাম।
➠ মুই- আমি।
➠ ছাবাল- ছাওয়াল; ছেলে; সন্তান।
➠ তান- তাঁর।
➠ হন্তে- দ্বারা।
➠ ধড়- শরীর।
➠ বিশাল- বড়।
➠ দুক্ষে- দুঃখে।
➠ গোঙাও- গুজরান করে; অতিবাহিত করে।
➠ পিতাক- পিতাকে।
➠ নেহায়- স্নেহ; অতিক্রম করে; বিসর্জন দেয়ে।
➠ জিউ- আয়ু; জীবিত থাকা; প্রাণ; মন।
➠ কনে- কখনও।
➠ ধারক- ধারের; ঋণের।
➠ কাহন- ষোলপণ; টাকা।
➠ বাড়- বাড়া, বেশি।
➠ দোসর- দ্বিতীয়।
➠ দোসর-জনম- দ্বিতীয় জন্ম।
➠ দিলা- দিলেন।
➠ সে আন্ধার- শৈশবের সে অশিক্ষা/অজ্ঞতা।
➠ তিঁহ- তিনিও।
➠ আহ্মার- আমার।
➠ পুরবাসী- নগরবাসী।
➠ আছ- আছেন।
➠ জথ- যতজন।
➠ পৌরজন- নাগরিক।
➠ ইস্ট- আত্মীয়।
➠ মিত্র- বন্ধু।
➠ আদি- বয়স্ক।
➠ সভাসদ- রাজার মন্ত্রীসভার সদস্যগণ।
➠ তান- তাঁদের,
➠ সভান- সবার; সকলের।
➠ পদে- পায়ে।
➠ মোহার- আমার।
➠ বহুল- অনেক।
➠ ভকতি>ভক্তি- মান্য বা শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির প্রতি অনুরাগ; শ্রদ্ধা।
➠ গতি- স্বভাব।
➠ সপুটে- করজোড়ে; নিজের হাতে।
➠ মনোরথ- ইচ্ছা; অভিলাষ।
➠ গতি- স্বভাব।
➠ হীন- গুরুত্বহীন।
➠ বহোঁ- বহন করে।
➠ পাপ ভার- পাপের বোঝা।
➠ সভানক- সবার।
➠ পদে- পায়ে।
➠ মাগোঁ- প্রার্থনা করা।
পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না ধুইলা মাটিত- মায়ের স্নেহ মমতার তুলনা নেই। মায়ের সদাজাগ্রত কল্যাণদৃষ্টি সন্তানের জীবনপথের পাথেয় স্বরূপ। শিশুকে মা বহু যত্নে লালন-পালন করেন। পিঁপড়ার ভয়ে মা সন্তানকে মাটিতে রাখেনি- এই কথা উল্লেখ করে কবি মায়ের সেই স্নেহ মমতা ও কল্যাণ দৃষ্টিকেই বড় করে তুলেছেন।
অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল- এখানে কবি মানব শিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে পরিণত মানুষ হয়ে উঠে। কবি তাঁর স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে এই পঙক্তিটি ব্যবহার করেছেন।

‘বন্দনা’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি:
কবি ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের প্রারম্ভে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। সংকলিত এই কবিতাংশে জন্মদাতা পিতামাতার ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পিতামাতা অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে সন্তানকে বড়ো করে তোলেন। শিক্ষক জ্ঞানদান করে তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তাঁদের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। কবি তাঁর কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা মনুষ্যত্বের প্রধান ধর্ম। কবিতাংশে তা-ই প্রকাশিত হয়েছে।

‘বন্দনা’ কবিতার কবি পরিচিতি:
শাহ মুহম্মদ সগীর আনুমানিক ১৪-১৫ শতকের কবি। মুসলমান কবিদের মধ্যে তিনিই প্রাচীনতম। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৯৩-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্য রচনা করেন। কাব্যটি পঞ্চদশ শতকের প্রথম দশকে রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। কাব্যের রাজবন্দনায় ‘মহামতি গ্যেছ’ বলে যাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বলে অনুমিত। শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কতিপয় শব্দের ব্যবহার লক্ষ করে ড. মুহাম্মদ এনামুল হক তাঁকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন। শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যে দেশি ভাষায় ধর্মীয় উপাখ্যান বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন, তবে কাব্যে ধর্মীয় পটভূমি থাকলেও তা হয়ে উঠেছে মানবিক প্রেমোপাখ্যান।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘বন্দনা’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন-১: শাহ মুহম্মদ সগীর কত শতকের কবি?
উত্তর: শাহ মুহম্মদ সগীর আনুমানিক ১৪-১৫ শতকের।
প্রশ্ন-২: মুসলমান কবিদের মধ্যে কে প্রাচীনতম?
উত্তর: মুসলমান কবিদের মধ্যে শাহ মুহম্মদ সগীর প্রাচীনতম।
প্রশ্ন-৩: ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্য কে রচনা করেন?
উত্তর: ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীর রচনা করেন।
প্রশ্ন-৪: শাহ মুহম্মদ সগীর কোন সুলতানের রাজত্বকালে কাব্য রচনা করেন?
উত্তর: শাহ মুহম্মদ সগীর গৌড়ের সুলতান গিয়াস উদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে কাব্য রচনা করেন।
প্রশ্ন-৫: ‘শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যায়’— এটি কার ধারণা?
উত্তর: এটি ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের ধারণা।
প্রশ্ন-৬: ‘বন্দনা’ কবিতা মতে, কার মাধ্যমে আমরা পৃথিবীতে এসেছি?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতা মতে, আমরা মা-বাবার মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছি।
প্রশ্ন-৭: ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত—‘দুর্বল ছাবাল’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত—‘দুর্বল ছাবাল’ বলতে দুর্বল সন্তান বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন-৮: ‘বন্দনা’ কবিতা মতে, সন্তান কার ঋণ ষোলো আনা শোষ করতে পারে না?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতা মতে, সন্তান পিতা-মাতার ঋণ ষোলো আনা শোধ করতে পারে না।
প্রশ্ন-৯: একজন শিশুকে কে শিক্ষা দিয়ে বড়ো করে তোলেন?
উত্তর: শিক্ষক একজন শিশুকে শিক্ষা দিয়ে বড়ো করে তোলেন।
প্রশ্ন-১০: ‘বন্দনা’ কবিতায় ‘পিতা হন্তে বাড়’—কার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতায় ‘পিতা হন্তে বাড়’—ওস্তাদ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-১১: ‘বন্দনা’ কবিতায় দ্বিতীয়ে পিতামাতাকে বন্দনা করা হলে প্রথমে কে?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতায় দ্বিতীয়ে পিতামাতাকে বন্দনা করা হলে প্রথমে মহান আল্লাহ।
প্রশ্ন-১২: ‘তান দয়া’—এখানে কার দয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: পিতামাতার দয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-১৩: ‘বন্দনা’ কবিতায় মা সন্তানকে মাটিতে রাখেন না কেন?
উত্তর: বিপদ হতে পারে ভেবে মা সন্তানকে মাটিতে রাখেন না।
প্রশ্ন-১৪: ‘অশক্য’ শব্দটি দ্বারা ‘বন্দনা’ কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘অশক্য’ শব্দটি দ্বারা ‘বন্দনা’ কবিতায় শিশুর অসহায় অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে?।
প্রশ্ন-১৫: শিক্ষকের শিক্ষাদানকে দোসর জনম বলার কারণ কী?
উত্তর: শিক্ষক শিক্ষার মাধ্যমে বড়ো করে তোলেন বলে।
প্রশ্ন-১৬: ‘বন্দনা’ কবিতার মূল প্রতিপাদ্য কী?
উত্তর: 'বন্দনা' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।
প্রশ্ন-১৭: ‘পুরাবাসী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘পুরাবাসী’ শব্দের অর্থ নগরবাসী।
প্রশ্ন-১৮: ‘ছাবাল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘ছাবাল’ শব্দের অর্থ সন্তান।
প্রশ্ন-১৯: ‘তান’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘তান’ শব্দের অর্থ তাঁর।
প্রশ্ন-২০: ‘থুইলা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘থুইলা’ শব্দের অর্থ রাখলা।
প্রশ্ন-২১: ছোটবেলা মানুষ কিরূপ থাকে?
উত্তর: ছোটবেলা মানুষ দুর্বল থাকে।
প্রশ্ন-২২: ‘আহ্মা’ শব্দটির উচ্চারণ কী?
উত্তর: ‘আহ্মা’ শব্দটির উচ্চারণ আমহা।
প্রশ্ন-২৩: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবির নাম কী?
উত্তর: বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবির নাম শাহ মুহম্মদ সগীর।
প্রশ্ন-২৪: ‘বন্দনা’ কবিতায় পিতার চেয়েও কাকে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতায় পিতার চেয়েও মাকে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-২৫: ‘সপুটে’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘সপুটে’ শব্দের অর্থ করজোড়ে।
প্রশ্ন-২৬: ‘বন্দনা’ কবিতায় কোন অঞ্চলের শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যায়?
উত্তর: বন্দনা কবিতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
প্রশ্ন-২৭: ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের কোন অংশটুকু ‘বন্দনা’ কবিতায় স্থান পেয়েছে?
উত্তর: ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের গুরুজনের প্রতি বন্দনার অংশটুকু স্থান পেয়েছে।
প্রশ্ন-২৮: ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি কাদের নিকট বারবার দোয়া চেয়েছেন?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সভানক অর্থাৎ সবার নিকট বারবার দোয়া চেয়েছেন।
প্রশ্ন-২৯: ‘তিঁহ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘তিহ’ শব্দের অর্থ তিনিও।
প্রশ্ন-৩০: কার দয়াতে একজন শিশু বসুধায় আসে?
উত্তর: পিতামাতার দয়াতে একজন শিশু বসুধায় আসে।
প্রশ্ন-৩১: শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ কীর্তি কোনটি?
উত্তর: শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ কীর্তি 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন-৩২: ‘বন্দনা’ কবিতা মতে, কার ভয়ে মা তার সন্তানকে মাটিতে রাখেন না?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতা মতে, পিপড়ার ভয়ে মা তার সন্তানকে মাটিতে রাখেন না।
প্রশ্ন-৩৩: ‘বন্দনা’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতাটি রচনা করেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর।

‘বন্দনা’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

প্রশ্ন-১: ‘দোসর জন্ম’—বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
উত্তর: দোসর অর্থ দ্বিতীয়। দোসর জন্ম অর্থ দ্বিতীয় জন্ম।
➠ কবি জন্মদাতা পিতামাতার ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পিতামাতা অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে সন্তানকে বড় করে তোলেন। শিক্ষক জ্ঞানদান করে তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তাঁদের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। তাই শিক্ষক দোসর জন্ম দিয়ে থাকে।

প্রশ্ন-২: ‘কত দুক্ষে একে একে বছর গোঞাএ’—কেন এ কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অনেক দুঃখকষ্টের মধ্য দিয়ে সন্তান লালন-পালনে পিতামাতার অবদানের কথা উদ্ধৃত কাব্যাংশে স্মরণ করা হয়েছে।
➠ মানব সন্তান পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখার পূর্বেই মা তাকে অনেক কষ্টে গর্ভে লালন করেন। জন্মের পর মা-বাবা তাকে খাইয়ে-পরিয়ে বড়ো করে তোলেন। সন্তানের অসুখ হলে মা-বাবা নির্ঘুম রাত কাটান। ঘরে কোনো খাবার না থাকলেও সন্তানের জন্য খাবার জোগাড় করে নিজেরা না খেয়ে কাটিয়ে দেন। বাঙালি মায়ের সন্তান-বাৎসল্যের এমন উদাহরণ বিরল। সন্তান জন্মের পর থেকে যতদিন বাবা-মা জীবিত থাকেন ততদিন তাদের এই স্নেহ-মমতার কমতি হয় না। সন্তানের জন্য বছরের পর বছর বাবা-মায়ের উৎকণ্ঠাকে কবি এভাবেই প্রশ্নোদ্ধৃত পঙ্িক্তটিতে তুলে ধরেছেন।

প্রশ্ন-৩: ‘ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হস্তে বাড়’—কেন?
উত্তর: মানবশিশু প্রকৃত মানব হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে থাকে শিক্ষকের উসিলায়। তাই কবি ‘বন্দনা’ কবিতায় আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
➠ মানবশিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে অসহায় অবস্থায় থাকে। পিতামাতা কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় তাকে আস্তে আস্তে বড়ো করে তোলেন। এরপর শিক্ষক ঐ শিশুকে বিদ্যা-বুদ্ধি-জ্ঞানে বড়ো করে তোলেন। সে কারণেই শিক্ষক হচ্ছেন দ্বিতীয় জন্মদাতা। শিক্ষকের এই মহান অবদানের বিষয়টিকে বোঝাতে কবি আলোচ্য বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ আলোচ্য উক্তিটিতে শিক্ষকের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়েছে।

প্রশ্ন-৪: দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘দ্বিতীয়ে প্রণাম করো মাও বাপ পাত্র’—কথাটি দ্বারা কবি পৃথিবীতে সন্তানের লালন-পালনে পিতামাতার অবদানের কথা উল্লেখ করে হাদ প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সন্তানদের তার বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন। আল্লাহ সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু পিতা-মাতা হচ্ছেন সন্তানের জন্য উসিলা। তাদের মাধ্যমেই একজন সন্তান এ পৃথিবীতে আসে। তারা অনেক দুঃখ-কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করে থাকেন। তাই কবি আল্লাহর পরেই পিতামাতাকে বন্দনা করার কথা বলেছেন।

প্রশ্ন-৫: ‘কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পিতামাতার ঋণ কখনো পরিশোধ করা যায় না।
➠ পিতামাতার দয়াতে আমরা এ পৃথিবীর আলো চোখে দেখেছি, পৃথিবীতে এসেছি। আমরা যখন পৃথিবীতে আসি তখন ছিলাম খুবই দুর্বল। নিজের কাজটুকু নিজে করার মতো ক্ষমতা আমাদের ছিল না। এমনকি আমাদের খাবার ও পরার দায়িত্ব পালন করেছেন আমাদের পিতামাতা। কঠোর সাধনায় ও পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা আমাদের দিনে দিনে বড়ো করে তুলেছেন। তাদের সে ঋণ আমরা কখনো পরিশোধ করতে পারব না। সে কারণেই ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

প্রশ্ন-৬: ‘বন্দনা’ কবিতায় শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা বলার কারণ কী?
উত্তর: শিক্ষক জ্ঞান দান করে শিশুকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তিনি মানব শিশুর দ্বিতীয় জন্মদাতা।
➠ মানব শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, পৃথিবীতে আগমন করে তখন তার কোনো সহায় থাকে না। তার কোনো ক্ষমতা থাকে না। সে থাকে একাকী, অসহায়। পিতামাতা তাকে আদর দিয়ে, স্নেহ দিয়ে বড়ো করে তোলেন। কিন্তু জ্ঞানে-বিদ্যা-বুদ্ধিতে তাকে সত্যিকার মানুষ করে তোলেন শিক্ষক। শিক্ষক মানব শিশুকে সত্যিকার পথের সন্ধান দেখিয়ে প্রকৃত স্থানে পৌঁছে দেন। সে কারণেই শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-৭: ‘বন্দনা’ কবিতায় দ্বিতীয়ে পিতামাতাকে প্রণাম করতে বলার কারণ কী?
উত্তর: ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি পৃথিবীতে সন্তানের ভূমিষ্ঠ হওয়ার জন্য পিতামাতার ঋণের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন।
➠ মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলের সৃষ্টিকর্তা। পিতামাতার মাধ্যমে একজন শিশু এ পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। তাই জন্মদাতা পিতামাতার ঋণ কখনই পরিশোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের উচিত তাদের সেই মহৎকর্মের স্মরণ করা এবং তাদের প্রণাম তথা শ্রদ্ধা দেখানো। কবির মতে, সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর পর পিতামাতাকে সম্মান করা উচিত। শ্রদ্ধা দ্বারা তাদের মনের তুষ্টি গ্রহণ করা।

প্রশ্ন-৮: ‘দুর্বল ছাবাল’ কথাটি ‘বন্দনা’ কবিতায় কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: মানব শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে থাকে খুবই অসহায়। তার শক্তি ও ক্ষমতা কিছুই থাকে না। তখন সে থাকে দুর্বল অসহায়।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মানব শিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার বর্ণনা করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মানব শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে থাকে অসহায়। তাকে সাহায্য করার কেউ থাকে না। খাওয়ানোর-পরানোর এবং আদর-যত্ন করার কেউ থাকে না। সেই অসহায় অবস্থাকে বর্ণনা করেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর ‘বন্দনা’ কবিতায়।

প্রশ্ন-৯: ‘যান দয়া হস্তে জন্ম হৈল বসুধায়’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পিতামাতার মাধ্যমে মানব শিশু এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি শাহ মুহম্মদ সগীর সন্তানদের তার বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন। আল্লাহ সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু পিতামাতা হচ্ছেন সন্তানের জন্য উছিলা। তাদের মাধ্যমেই একজন শিশু এই পৃথিবীতে আসে। তারা অনেক, দুঃখ-কষ্ট করে সন্তানের লালন-পালন করে থাকেন। তারা সন্তানের জন্য এতটাই ব্যাকুল থাকেন যে, পিঁপড়া কামড় দেবে ভেবে তারা তাদের সন্তানকে মাটিতে পর্যন্ত নামান না। তাদের এই অফুরন্ত ভালোবাসার ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না। তাই আলোচ্য অংশে পিতামাতার স্তুতি করেছেন কবি।

প্রশ্ন-১০: ‘পিঁপড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত’—এই চরণ দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: মা তার সন্তানকে লালনপালন করা সম্পর্কে আলোচ্য চরণে আলোকপাত করা হয়েছে।
➠ মা-বাবা আমাদের জন্মদাতা। তাদের দ্বারাই আমরা পৃথিবীতে আসতে পেরেছি। পিতামাতা কেবল সন্তানের জন্মদানই করেন না; তারা তাদের অক্লান্ত শ্রমে সন্তানদের বড়ো করে তোলেন। সন্তানের কল্যাণ চিন্তায় তারা এতটাই ব্যতিব্যস্ত থাকেন যে সামান্য একটি পিঁপড়া যাতে তাকে কামড় দিতে না পারে সেজন্য তাকে মাটিতে পর্যন্ত রাখেন না। মায়ের আদর যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠে। সন্তানের অমঙ্গল হোক এমন চিন্তা থেকে তার পিতামাতা সর্বদা বিরত থাকেন এবং তার সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।

প্রশ্ন-১১: ‘দুর্বল ছাবাল’ বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: মানবশিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর সে থাকে খুবই অসহায়। তার শক্তি ও ক্ষমতা কিছুই থাকে না। তখন সে থাকে দুর্বল অসহায়।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার কথা বর্ণনা করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মানবশিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে থাকে অসহায়। তাকে সাহায্য করার কেউ থাকে না। খাওয়ানো-পরানো এবং আদর-যত্ন করার কেউ থাকে না। সেই অসহায় অবস্থাকে বর্ণনা করেছেন 'বন্দনা' কবিতার কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।

প্রশ্ন-১২: যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়—বলতে কী বোঝ?
উত্তর: মা-বাবার উসিলায় মানব শিশুর জন্ম প্রসঙ্গে এখানে বলা হয়েছে।
➠ এই পৃথিবীতে মানব শিশুর আগমনের মাধ্যম মা-বাবা। মা-বাবার মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর হুকুমে এ ধরাধমে এসেছি এবং তাঁদের আদর-যত্ন, স্নেহ ও ভালোবাসায় বড়ো হয়েছি। তারা দয়া না করলে আমরা পৃথিবীতে আসতে পারতাম না এবং বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না।

প্রশ্ন-১৩: কনে না সুধিব তান ধারক কাহন—কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আমরা পিতার ঋণ কখনো শোধ করতে পারব না।
➠ এই পৃথিবীতে মানব শিশুর আগমনের মাধ্যম মা-বাবা। মা-বাবার মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর হুকুমে এ ধরাধমে এসেছি এবং তাঁদের আদর-যত্ন, স্নেহ ও ভালোবাসায় বড়ো হয়েছি। বাবা আমাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি আয়-উপার্জন করে আমাদের মুখে খাদ্য তুলে দিয়েছেন। বাবার এই পরিশ্রমের ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না। এখানে সে সম্পর্কেই বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-১৪: ‘অশক্য আছিলু মুই দুর্বল ছাবাল। তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল।’—চরণটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য কবিতাংশটুকুতে কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার বর্ণনা করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
➠ মানবশিশু যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন সে থাকে অসহায়। তাকে সাহায্য করার কেউ থাকে না। খাওয়ানো-পরানো এবং আদর-যত্ন করার কেউ থাকেনা। সেই অসহায় অবস্থাকে বর্ণনা করেছেন কবি তার ‘বন্দনা’ কবিতায়।

প্রশ্ন-১৫: ‘ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড়’—কেন?
উত্তর: মানবশিশু প্রকৃত মানব হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে থাকে শিক্ষকের উসিলায়। তাই কবি ‘বন্দনা’ কবিতায় আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
➠ মানবশিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে অসহায় অবস্থায় থাকে। পিতামাতা কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় তাকে আস্তে আস্তে বড়ো করে তোলেন। এরপর শিক্ষক ঐ শিশুকে বিদ্যা-বুদ্ধি-জ্ঞানে বড়ো করে তোলেন। সে কারণেই শিক্ষক হচ্ছেন দ্বিতীয় জন্মদাতা। শিক্ষকের এই মহান অবদানের বিষয়টিকে বোঝাতে কবি আলোচ্য বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ আলোচ্য উক্তিটিতে শিক্ষকের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়েছে।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বায়েজিদ বোস্তামির মা এক রাতে পানি খেতে চান। ঘরে পানি না থাকায় তা বাহির থেকে সংগ্রহ করে ফিরে এসে দেখেন মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। পানির পাত্র হাতে বায়েজিদ সারারাত মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে ঘুম থেকে জাগলেই মাকে পানি দিতে পারেন। মা যেন পিপাসায় কষ্ট না পান।
ক. ‘বন্দনা’ কবিতায় পিতার চেয়েও কাকে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে?
খ. ‘দোসর জন্ম’ বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে ‘বন্দনা’ কবিতার যে দিক প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “প্রকাশিত দিকটিই ‘বন্দনা’ কবিতার একমাত্র দিক নয়” মন্তব্যটির পক্ষে তোমার যুক্তি দাও।

ক.‘বন্দনা’ কবিতায় পিতার চেয়েও মাকে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে।
খ. দোসর অর্থ দ্বিতীয়।
➠ দোসর জন্ম অর্থ দ্বিতীয় জন্ম। বন্দনা কবিসংকলিত এই কবিতাংশে জন্মদাতা পিতামাতার ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন । পিতামাতা অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে সন্তানকে বড় করে তোলেন। শিক্ষক জ্ঞানদান করে তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তাঁদের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। তাই শিক্ষক দোসর জন্ম দিয়ে থাকে।

গ. উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে 'বন্দনা' কবিতার যে দিক প্রকাশ পেয়েছে হলো স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
➠ উদ্দীপকে বায়োজিতের মা পানি খেতে চান। পানি ঘরে না পাওয়ায় বায়োজিদ পানি আনতে যান। তারপরে দেখেন তার মা ঘুমিয়ে পড়েন । তিনি তার মাকে ডাকলেন না।মায়ের কষ্ট যাতে না হয় সেজন্য বায়োজিদ তার মায়ের মাথার কাছে পানির গ্লাস ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যেন ঘুম থেকে জাগলেই পানি দিতে পারেন। মা যেন পিপাসায় কষ্ট না পান।
➠ অন্যদিকে মা অনেক কষ্টে সন্তানদের লালন-পালন করে গড়ে তুলেন। মায়ের আদর যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে মানুষ হয়ে ওঠে। তাই আমাদের মায়ের এই কষ্টের প্রতিদান হিসেবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে এবং বৃদ্ধ বয়সে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে যেমনটা তারা শিশু এবং কৈশোর কালে করিয়েছেন। সাফল্য লাভের জন্য পিতা-মাতার কাছে দোয়া চাইতে হবে। শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা মনুষ্যত্বের প্রধান ধর্ম।

ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত দিকটিই ‘বন্দনা’ কবিতার একমাত্র দিক নয়।
➠ মন্তব্যটির পক্ষে আমার যুক্তি হলো উদ্দীপকে বায়োজিদ তার মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও মমতা প্রকাশ পেয়েছে। মা যেন কষ্ট না পায় এজন্য সারারাত মায়ের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন পানির গ্লাস নিয়ে। কিন্তু বন্দনা কবিতায় কবি শুধু মায়ের কথাই বলেননি এখানে বলেছেন পিতা শিক্ষক এবং গুরুজনদের। ‘বন্দনা’ পর্ব যথেষ্ট বড়, এখানে শুধু গুরুজনদের প্রতি বন্দনার অংশটুকু স্থান পেয়েছে। কবি তাঁর মূল কাব্যের প্রারম্ভে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রশংসা করেছেন।
➠ সংকলিত এই কবিতাংশে জন্মদাতা পিতামাতার ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পিতামাতা অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে সন্তানকে বড় করে তোলেন। শিক্ষক জ্ঞানদান করে তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তাঁদের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। কবি তাঁর কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা মনুষ্যত্বের প্রধান ধর্ম। কবিতাংশে তা-ই প্রকাশিত হয়েছে।
➠ এজন্যই উদ্দীপকে প্রকাশিত দিকটিই ‘বন্দনা’ কবিতার একমাত্র দিক নয়।

‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শত কোটি সালাম জানাই দরবারে তোমার,
ভক্তি-শ্রদ্ধা-সবকিছু লও এ দাসের এবার।
আগুন-পানি-বাতাস-রোদ্র-ছায়া আর
একটি ইশারা দিয়ে করলে প্রাণের সঞ্চার।
তুমি বিনে কেমনে বাঁচি এ ধরায় বলো না,
তুমি ছাড়া আর সবকিছু তো মায়ার ছলনা।

ক. ‘সপুটে’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘কত দুক্ষে একে একে বছর গোঞাএ’—কেন এ কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে প্রতিফলিত ‘বন্দনা’ কবিতার বিষয় ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার ভাব কতটুকু ধারণ করেছে বলে তুমি মনে করো? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

ক. ‘সপুটে’ শব্দের অর্থ করজোড়ে।
খ. অনেক দুঃখকষ্টের মধ্য দিয়ে সন্তান লালন-পালনে পিতামাতার অবদানের কথা উদ্ধৃত কাব্যাংশে স্মরণ করা হয়েছে।
➠ মানব সন্তান পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখার পূর্বেই মা তাকে অনেক কষ্টে গর্ভে লালন করেন। জন্মের পর মা-বাবা তাকে খাইয়ে-পরিয়ে বড়ো করে তোলেন। সন্তানের অসুখ হলে মা-বাবা নির্ঘুম রাত কাটান। ঘরে কোনো খাবার না থাকলেও সন্তানের জন্য খাবার জোগাড় করে নিজেরা না খেয়ে কাটিয়ে দেন। বাঙালি মায়ের সন্তান-বাৎসল্যের এমন উদাহরণ বিরল। সন্তান জন্মের পর থেকে যতদিন বাবা-মা জীবিত থাকেন ততদিন তাদের এই স্নেহ-মমতার কমতি হয় না। সন্তানের জন্য বছরের পর বছর বাবা-মায়ের উৎকণ্ঠাকে কবি এভাবেই প্রশ্নোদ্ধৃত পঙক্তিটিতে তুলে ধরেছেন।

গ. উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত কবির শ্রদ্ধা-ভক্তি ও ভালোবাসার স্বরূপটিই প্রকাশ পেয়েছে।
➠ উদ্দীপকে স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টি তার অপার ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে। কারণ, স্রষ্টাই তাকে আগুন-পানি, বাতাস, রৌদ্র-ছায়া দিয়ে এই পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তাঁর দয়া ও করুণা ছাড়া কোনো সৃষ্টিই মুহূর্তের জন্য এই পার্থিব জীবনের প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে না। তাই দ্রষ্টার ওপরই মানুষ শতভাগ নির্ভরশীল। কিন্তু মানুষ পার্থিব মোহে পড়ে স্রষ্টার এই অবদানকে ভুলে যায় এবং সুখ-দুঃখের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায়ও লক্ষ করা যায়, যারা আশৈশব লালন-পালন করেছেন, জ্ঞানদান করে শিক্ষিত করে তুলেছেন সেই পিতা-মাতা ও শিক্ষকের প্রতি বিপুল শ্রদ্ধা-ভক্তি আর ভালোবাসা প্রদর্শন করা আমাদের কর্তব্য। কবিতায় কবি স্রষ্টার পরেই স্থান দিয়েছেন তাদেরকে ভক্তি-শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে। পিতা-মাতা আশৈশব সন্তানকে না খেয়ে না পরে কোলে পিঠে করে বড়ো করে তোলেন। আর শিক্ষক তাকে জ্ঞানদান করে দ্বিতীয় জীবনদান করেন। সুতরাং উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে যেমন স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির ভক্তি শ্রদ্ধায় আকুল হতে দেখা যায়, তেমনি কবিতায়ও দেখা যায় পিতা-মাতা ও শিক্ষকের প্রতি কবির অপার শ্রদ্ধা ভক্তি ও ভালোবাসা।

ঘ. উদ্দীপক এবং কবিতায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ভক্তি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হলেও মর্মার্থে আমরা কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ করি।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি ‘দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র’ বলে তার বন্দনা শুরু করেছেন। এখানে বাবা-মার প্রতি কবির গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পিতা-মাতা তাকে আশৈশব লালন-পালন করে বড়ো করে তুলেছেন। মা সন্তানকে পিঁপড়ের ভয়ে মাটিতে রাখেননি, কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন। পিতা না খেয়ে ও না পরে সন্তানকে খাইয়েছেন পরিয়েছেন। সন্তান যখন শিক্ষার উপযোগী হয় তখন শিক্ষক তাকে জ্ঞানদান করে ‘দোসর জনম’ অর্থাৎ দ্বিতীয়বার জন্ম দিয়েছেন। তাঁদের এইসব অবদানের কথা স্মরণ করেই কবি তাদের দ্বিতীয়ে প্রণাম করেছেন।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখি, মহান স্রষ্টার প্রতি মানুষের শতকোটি সালাম-ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি। স্রষ্টা আমাদের আলো-বাতাস, পানি, রৌদ্র-ছায়া দিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন। তিনি আমাদের প্রাণ দিয়েছেন। প্রাণের অবসানে তাঁর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।
➠ উদ্দীপক ও কবিতার বিষয় ভক্তি, শ্রদ্ধা প্রদর্শন হলেও উদ্দীপকে তা মহান স্রষ্টার প্রতি প্রদর্শিত হয়েছে এবং স্রষ্টা ছাড়া সবকিছুকে মায়ার ছলনা বলা হয়েছে। কিন্তু কবিতায় পিতা-মাতা ও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা প্রদর্শিত হয়েছে। যা পার্থিব জীবনে সীমাবদ্ধ। স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তিতে আপ্লুত হয়ে সবকিছুকে মায়ার ছলনা বলে স্রষ্টার মাঝে বিলীন হওয়ার অনুভূতি কবিতায় ব্যক্ত হতে দেখা যায় না। এখানেই কবিতার সাথে উদ্দীপকের কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মুঘল সম্রাট বাবরের সন্তান হুমায়ুন রোগে শয্যাশায়ী। নানা চিকিৎসক দিনরাত চেষ্টা করেও হুমায়ুনের রোগ ভালো করতে ব্যর্থ হন। সেই সময়ে এক দরবেশ বাবরকে পরামর্শ দেন যে, তিনি যদি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু খোদার কাছে উৎসর্গ করেন তবে তাঁর পুত্র ভালো হয়ে যেতে পারে। এ কথা শুনে বাবর খোদার কাছে প্রার্থনা করেন—‘হে দয়াল খোদা, আমার প্রাণের বিনিময়ে তুমি আমার পুত্রকে ভালো করে দাও।’ খোদার মহিমায় হুমায়ূন ভালো হয়ে উঠলেন, অন্যদিকে বাবর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হলেন।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতায় কোন অঞ্চলের শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যায়?
খ. ‘ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হস্তে বাড়’—কেন?
গ. ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত সন্তানের প্রতি স্নেহ-বাৎসল্য উদ্দীপকে প্রতিফলন দেখাও।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পিতার বিষয়টি ‘বন্দনা’ কবিতার আলোকে মূল্যায়ন করো।

ক. বন্দনা কবিতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের শব্দের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
খ. মানবশিশু প্রকৃত মানব হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে থাকে শিক্ষকের উসিলায়। তাই কবি ‘বন্দনা’ কবিতায় আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
➠ মানবশিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে অসহায় অবস্থায় থাকে। পিতামাতা কঠোর পরিশ্রম ও সাধনায় তাকে আস্তে আস্তে বড়ো করে তোলেন। এরপর শিক্ষক ঐ শিশুকে বিদ্যা-বুদ্ধি-জ্ঞানে বড়ো করে তোলেন। সে কারণেই শিক্ষক হচ্ছেন দ্বিতীয় জন্মদাতা। শিক্ষকের এই মহান অবদানের বিষয়টিকে বোঝাতে কবি আলোচ্য বাক্যটি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ আলোচ্য উক্তিটিতে শিক্ষকের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়েছে।

গ. ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার স্নেহ-বাৎসল্য উদ্দীপকে যথাযথভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ পিতামাতা আমাদের জন্মদাতা। তাদের দ্বারাই আমরা পৃথিবীতে আসতে পেরেছি। পিতামাতা কেবল সন্তানের জন্মদানই করেন না, তারা তাদের অক্লান্ত শ্রমে সন্তানদের বড়ো করে তোলেন। সন্তানের কল্যাণ চিন্তায় তারা এতটাই ব্যতিব্যস্ত থাকেন যে, সামান্য একটি পিঁপড়া যাতে কামড় দিতে না পারে সেজন্য সন্তানকে মাটিতে পর্যন্ত রাখেন না। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠে। সন্তানের মাল হোক, এমন চিন্তায় পিতামাতা সর্বদা রত থাকেন এবং তার সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, হুমায়ুন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। কোনো চিকিৎসকই হুমায়ুনের ব্যাধি নিরাময় করতে পারে না। তখন একজন দরবেশ সম্রাট বাবরকে বললেন যে, তিনি যদি তার প্রিয় বস্তু খোদার কাছে উৎসর্গ করেন তবে খোদা হুমায়ুনের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারেন। তখন বাবর তার নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চাইলেন। হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেন। পিতৃস্নেহের কাছে মরণের পরাজয় ঘটলো। ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমন সন্তানের মাল চিন্তায় পিতামাতা সদা সচেষ্ট থাকেন, নিজের চেয়েও সন্তানের সুখকে বড়ো করে দেখেন, তেমনি উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, পিতা তার সন্তানের জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করলেন।

ঘ. নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও পিতামাতা তার সন্তানের মঙ্গল করতে সচেষ্ট হন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, মানবশিশু ভূমিষ্ট হওয়ার পর সে থাকে একেবারেই অসহায়। তার কোনো ক্ষমতাই থাকে না। সেই অসহায় অবস্থায় তাকে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা ধীরে ধীরে বড়ো করে তোলেন তার পিতামাতা। কখনো নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাইয়েছেন আবার নিজেরা না পরে সন্তানকে পরিয়েছেন। তারা সন্তানের এতটাই মঙ্গল চিন্তা করেন যে, সামান্য একটা পিঁপড়ার ভয়ে তারা তাদের সন্তানকে মাটিতেও রাখেননি।
➠ উদ্দীপকে আমরা এক মহান পিতার মহৎ কর্মের দৃষ্টান্ত পাই। পুত্র হুমায়ুনের দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তির আশায় সম্রাট বাবর তার নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেন। তিনি নিজের জীবনের, সুখের কথা চিন্তা না করে খোদার কাছে নিজের জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চেয়েছেন। ‘বন্দনা’ কবিতায়ও কবি শাহ মুহম্মদ সগীর পিতা-মাতার এই অপার স্নেহের কথা ব্যক্ত করেছেন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমন পিতামাতার অপার করুণায় তাদের ভক্তি করার কথা বলা হয়েছে, তেমনি উদ্দীপকের পিতা তার পুত্র হুমায়ুনের জন্যও নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। মোটেই নিজের জন্য চিন্তা করেননি। তাই বলা যায়, সন্তানের জন্য পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
হাফিজ সাহেব শিক্ষকতা করেন। তার ক্লাসে ছাত্ররা মনোযোগ সহকারে তার কথা শ্রবণ করে। ছাত্ররা তাকে যে সম্মান করে তার তুলনা হয় না। তার সহকর্মী মোস্তাক হোসেন ঠিক তার বিপরীত মানসিকতা পোষণ করে থাকেন। তিনি মনে করেন, এই পৃথিবীতে বাঁচতে হলে টাকার প্রয়োজন। তাই তিনি টাকা ছাড়া জ্ঞানদানে আপত্তি করেন। তার ছাত্ররা তাকে ভীতির চোখে দেখলেও ভালোবাসেন না।

ক. ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের কোন অংশটুকু ‘বন্দনা’ কবিতায় স্থান পেয়েছে?
খ. দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাত্র—ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘বন্দনা’ কবিতার কোন বিষয়টি অনুপস্থিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার বিষয় কতটুকু ধারণ করেছে তা বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যের গুরুজনের প্রতি বন্দনার অংশটুকু স্থান পেয়েছে।
খ. ‘দ্বিতীয়ে প্রণাম করো মাও বাপ পাত্র’—কথাটি দ্বারা কবি পৃথিবীতে সন্তানের লালন-পালনে পিতামাতার অবদানের কথা উল্লেখ করে হাদ প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সন্তানদের তার বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন। আল্লাহ সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু পিতা-মাতা হচ্ছেন সন্তানের জন্য উসিলা। তাদের মাধ্যমেই একজন সন্তান এ পৃথিবীতে আসে। তারা অনেক দুঃখ-কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করে থাকেন। তাই কবি আল্লাহর পরেই পিতামাতাকে বন্দনা করার কথা বলেছেন।

গ. উদ্দীপকে হাফিজ সাহেবের ঘটনা বর্ণনায় ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত সন্তানের জন্য পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসার বিষয়টি অনুপস্থিত রয়েছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মানব শিশুর জন্মের পর থেকে বেড়ে ওঠার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসার কথা বর্ণনা করেছেন। শিশু জন্মের পর সে থাকে অসহায়। তার কোনো ক্ষমতা থাকে না। সে অসহায় জীবনযাপন করে। তাকে ঐ অবস্থায় তার পিতামাতা অপার স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে বড়ো করে তোলেন। তারা নিজেরা না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান, নিজেরা না পরে সন্তানকে পরান। একটি পিঁপড়াও যাতে কামড় না দেয় সে দিকে তাদের সজাগ দৃষ্টি থাকে। এক কথায় তারা সন্তানের জন্য নিবেদিত প্রাণ।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, হাফিজ সাহেব একজন শিক্ষক। তিনি তার পেশাটাকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ছাত্ররা তাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান করে। তিনিও ছাত্রদের প্রতি সদা সচেষ্ট থাকেন। আবার মোস্তাক সাহেবকেও আমরা দেখতে পাই, একজন শিক্ষক রূপে। তিনি তার পেশাটাকে ততটা গুরুত্ব না দিয়ে টাকার বিনিময়ে শিক্ষাদান করেন। এখানে দেখা যায়, একজন শিক্ষকের আদর্শে ছাত্ররা মানুষ হয়ে ওঠার কথা আছে। কিন্তু ‘বন্দনা’ কবিতায়, বর্ণিত পিতামাতার স্নেহ-বাৎসল্য উদ্দীপকে একেবারেই অনুপস্থিত। পিতামাতার পাশাপাশি শিক্ষকের ভূমিকার কথা ‘বন্দনা’ কবিতাতে আছে বটে; কিন্তু উদ্দীপকে নেই।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত বিষয়ের আংশিক ধারণ করতে পেরেছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, মানব শিশুর ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে নিজের জীবন দিয়ে হলেও বড়ো করে তোলেন পিতামাতা। পিতামাতার একান্ত প্রচেষ্টাতে একটি শিশু বড়ো হতে থাকে। পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসায় মানবশিশু অসহায় অবস্থা কাটিয়ে বড়ো হয়। তারপর তাকে শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞানে বড়ো করে তোলেন শিক্ষক। শিক্ষক সেদিক থেকে দ্বিতীয় জন্মদাতা রূপে চিহ্নিত হন। পিতামাতার ঋণ কখনো পরিশোধ করা যায় না, শিক্ষকের ঋণও তেমনি পরিশোধ করা যায় না।
➠ উদ্দীপকে আমরা হাফিজ সাহেবকে একজন যোগ্য শিক্ষকরূপে দেখতে পাই। শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি স্নেহ-ভালোবাসা উজাড় করে দেন। শিক্ষার্থীরাও তাকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। কিন্তু মোস্তাক সাহেব বিপরীত চেতনা পোষণ করেন। তিনি শিক্ষক হলেও টাকা ব্যতীত শিক্ষাদানে তার অনিচ্ছা, তাকে শিক্ষার্থীরা ভয় পেলেও শ্রদ্ধা করে না।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় পিতামাতার ভূমিকার কথা বর্ণনা করে শিক্ষকের ভূমিকা বর্ণনা করা হয়েছে। মানব শিশুর জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠায় যেমনি মা-বাবার ভূমিকা অনস্বীকার্য তেমনি তার জীবনে শিক্ষালাভ ও প্রতিষ্ঠার বিষয়ে শিক্ষকের ভূমিকা প্রধান। উদ্দীপকে পিতামাতার বিষয়টি অনুপস্থিত রেখে শিক্ষকের বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। হাফিজ সাহেব স্নেহ-বাৎসল্য দেখালেও পিতামাতার ভূমিকার কথা সেখানে অনুপস্থিত রয়েছে। সুতরাং আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত বিষয়ের আংশিক ধারণ করেছে।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
‘১৯৭১ সাল। ৩ রাইফেল ব্যাটেলিয়ন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। কমান্ডার জাফর যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে তাদের পথ দেখাচ্ছিলেন। ৩০ নভেম্বর ১৯৭১, শত্রুদল তাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। সকলের মৃত্যু অনিবার্য দেখে কমান্ডার জাফর সহযোদ্ধাদের নিরাপদে সরিয়ে দিয়ে একাই যুদ্ধ চালিয়ে যান। নিজের জীবন দিয়ে তিনি তার দলকে বাঁচান।’ এমন কাহিনি ক্লাসে বর্ণনা করছিলেন হাসান স্যার। ছাত্ররা সকলেই উদ্‌বুদ্ধ হলো দেশাত্মবোধে। তারা স্যারকে বলল, ‘সময় এলে এমন আত্মত্যাগ আমরাও করব।’

ক. ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি কাদের নিকট বারবার দোয়া চেয়েছেন?
খ. ‘কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন’—ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত কোন বিষয়টি কমান্ডার জাফর চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার মূলভাব পুরোপুরি ধারণ করেছে বলে কি তুমি মনে করো? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সভানক অর্থাৎ সবার নিকট বারবার দোয়া চেয়েছেন।
খ. পিতামাতার ঋণ কখনো পরিশোধ করা যায় না।
➠ পিতামাতার দয়াতে আমরা এ পৃথিবীর আলো চোখে দেখেছি, পৃথিবীতে এসেছি। আমরা যখন পৃথিবীতে আসি তখন ছিলাম খুবই দুর্বল। নিজের কাজটুকু নিজে করার মতো ক্ষমতা আমাদের ছিল না। এমনকি আমাদের খাবার ও পরার দায়িত্ব পালন করেছেন আমাদের পিতামাতা। কঠোর সাধনায় ও পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা আমাদের দিনে দিনে বড়ো করে তুলেছেন। তাদের সে ঋণ আমরা কখনো পরিশোধ করতে পারব না। সে কারণেই ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

গ. ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত স্নেহ-ভালোবাসা উদ্দীপকের জাফর চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, মানব শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে থাকে একেবারেই অসহায়। তার কোনো ক্ষমতাই থাকে না। সেই অসহায় অবস্থায় তাকে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা ধীরে ধীরে বড়ো করে তোলে তার পিতামাতা। কখনো নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাইয়েছেন আবার নিজেরা না পরে সন্তানকে পরিয়েছেন। তারা সন্তানের এতটাই মঙ্গল চিন্তা করেছেন যে, সামান্য একটা পিঁপড়ার ভয়ে তারা তাদের সন্তানকে মাটিতেও রাখেননি। এক কথায় নিজের জীবনের দিকে নয়; তারা সব সময় সন্তানের মঙ্গল কামনা করেছেন।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, কমান্ডার জাফর তার যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে তার দলকে পথ দেখিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একদিন তারা শত্রুর শক্ত প্রতিরোধে পতিত হন। তাদের প্রাণ নাশের আশঙ্কা দেখা যায়। মৃত্যু সকলের অনিবার্য ভেবে সবাই যখন শঙ্কিত ঠিক তখন কমান্ডার জাফর এগিয়ে আসেন পিতৃস্নেহ নিয়ে। সকলকে তিনি নিরাপদে রেখে একাই যুদ্ধ চালিয়ে যান। একসময় সকলেই প্রাণে বেঁচে যায় কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমন সন্তানের জীবনে পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসার অবদান অপরিসীম তেমনি উদ্দীপকের জাফরও সেই ভালোবাসা নিয়েই তার দলের সকলের জীবন বাঁচালেন।

ঘ. ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসা এবং শিক্ষকের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে কবি তাদের প্রণাম করতে বলেছেন, যা উদ্দীপকে কমান্ডার জাফর ও শিক্ষকের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ মানব শিশু যখন পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে তখন সে থাকে অত্যন্ত দুর্বল। তার সেই দুর্বলতা এতটাই থাকে যে, কোনোভাবেই তাকে একাকী ফেলে রাখা সম্ভব হয় না। সে থাকে একাকী, নিরুপায়। ঐ অবস্থায় তার পিতামাতা তাকে স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে অতি কষ্টে বড়ো করে তোলেন। শিশু বড়ো হলে তাকে জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে বড়ো করে তোলেন ওস্তাদ। ওস্তাদের কারণে একটি শিশু পূর্ণ মানুষরূপে পরিচিত হয়।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, কমান্ডার জাফর সাহেব পিতামাতার ভালোবাসা আর আত্মত্যাগ নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি যুদ্ধে সকলের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি নিজের কথা একবারও ভাবেননি। এমন আত্মত্যাগের কথা বলেই উদারনৈতিক শিক্ষক ছাত্রদের জীবন গড়তে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের জীবন গড়তে এবং শিক্ষা-দীক্ষায় দীক্ষিত করে তুলেছেন। তার অবদানও কম নয়।
➠ উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমন পিতামাতা তাদের মহত্ত্ব দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, স্নেহ দিয়ে সন্তানকে হেফাযত করে তাকে বড়ো করে তোলেন তেমনি কমান্ডার সাহেবও করেছেন। আবার ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত শিক্ষক যেন উদ্দীপকের শিক্ষকের প্রতিরূপ কাজ করেছেন। ফলে উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার অনুরূপ অর্থ বহন করেছে।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মরুভূমিতে পথ হারিয়েছে কাফেলা। একদিন, দু’দিন, তিনদিন তবু পথের দেখা নেই। সঙ্গে যা খাবার ছিল সব শেষ, পানিও শেষ। তাদের দলে ছিল একটি দুই বছরের ছোট্ট বাচ্চা। পানির খোঁজে বেরিয়েছে তার বাবা। অবশেষে খালি হাতে ফিরে এল সে। তখন জিবের লালা দিয়ে তার মুখে একটু পানি দেয়ার চেষ্টা করছে তার মা। এমন সময় এক আগন্তুক এসে তার কাছে রক্ষিত থলে থেকে একটু পানি তাকে পান করালো। আর বলল—‘বাবা, জীবনে অপরকে সাহায্য করো।’

ক. ‘তিঁহ’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘বন্দনা’ কবিতায় শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা বলার কারণ কী?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পিতামাতার সাথে ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার সাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. আগন্তুকের বিষয়টি ‘বন্দনা’ কবিতার আলোকে মূল্যায়ন করো।

ক. ‘তিহ’ শব্দের অর্থ তিনিও।
খ. শিক্ষক জ্ঞান দান করে শিশুকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তিনি মানব শিশুর দ্বিতীয় জন্মদাতা।
➠ মানব শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, পৃথিবীতে আগমন করে তখন তার কোনো সহায় থাকে না। তার কোনো ক্ষমতা থাকে না। সে থাকে একাকী, অসহায়। পিতামাতা তাকে আদর দিয়ে, স্নেহ দিয়ে বড়ো করে তোলেন। কিন্তু জ্ঞানে-বিদ্যা-বুদ্ধিতে তাকে সত্যিকার মানুষ করে তোলেন শিক্ষক। শিক্ষক মানব শিশুকে সত্যিকার পথের সন্ধান দেখিয়ে প্রকৃত স্থানে পৌঁছে দেন। সে কারণেই শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা বলা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পিতামাতা যেন ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার অনুরূপ।
➠ শাহ মুহম্মদ সগীর তার ‘ইউসুফ জোলেখা'’কাব্যের ‘বন্দনা’ পর্বে পিতামাতার মহত্ত্ব বর্ণনা করেছেন। কবি দেখিয়েছেন যে, মানব শিশু জন্মগ্রহণের পর একান্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটাতে থাকে। তখন তার পিতামাতা কঠোর শ্রম ও সাধনায় অপার ভালোবাসায় তাকে বড়ো করে তোলেন। নিজের কথা মনে না করে পিতামাতা সন্তানের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন। এভাবে নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাওয়ান, নিজে না পরে সন্তানকে পরান। একটা পিঁপড়ার ভয়ে সন্তানকে মাটিতে পর্যন্তও রাখেন না তারা।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, একটি কাফেলা মরুভূমিতে পথ হারিয়ে কয়েকদিন অসহায়ের মতো ঘুরছিল কিন্তু পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে তাদের শিশুটিকে পানির পিপাসা নিবারণে ব্যর্থ হয়ে জিহ্বার লালা দিয়ে সন্তানের পিপাসা নিবারণের চেষ্টা করেছেন তারা। তাদের সে চেষ্টা ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দেয়। অর্থাৎ আমরা বলতে পারি, ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার অনুরূপ স্নেহ-ভালোবাসা নিয়ে উদ্দীপকের পিতামাতা অবতীর্ণ হয়েছেন।

ঘ. উদ্দীপকে আগন্তুকের কর্মকা-ে ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসা ও শিক্ষকের মহানুভবতা পরিলক্ষিত হয়।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, মানব শিশুর মানুষ হয়ে ওঠার পেছনে রুধির ধারার মতো অলক্ষে থেকে কাজ করেন পিতামাতা ও শিক্ষক। পিতামাতা শিশুর চরম দুর্দিনে অতিকষ্টে খাইয়ে পরিয়ে বড়ো করে তোলেন। সে বড়ো হওয়াটা দৈহিক, কিন্তু একজন শিক্ষকই শিশুটিকে শিক্ষা, বিদ্যা-বুদ্ধিতে মানুষের মতো মানুষ করে তোলেন। মানব শিশুর মানুষ হয়ে ওঠার পিছনে পিতামাতার মতো শিক্ষকের ভূমিকাও অনস্বীকার্য।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, একটি কাফেলা পথ হারিয়ে ফেললে পানির পিপাসায় তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়। তাদের সাথে একজন শিশু ছিল, তার পানির পিপাসা নিবারণের জন্য তারা সর্বস্ব চেষ্টা করে। নিজেদের কথা ভুলে গিয়ে তারা সন্তানের চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত হয়। ঐ সময় একজন আগন্তুক এসে তার থলে থেকে কিছু পানি বের করে শিশুটিকে দেন এবং তিনি উপদেশ দেন ভবিষ্যতে তারাও যেন এমনি করে অপরের উপকার করতে পারে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার মতো উদ্দীপকের পিতামাতাও সন্তানের মঙ্গলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। আবার আগন্তুক একজন শিক্ষকের মতো মহানুভবতা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, তাদেরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং শিক্ষকের মতো শিক্ষা দান করেন। অর্থাৎ উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার বিষয়বস্তু পুরোপুরি ধারণ করেছে একথা বলা যায়।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মামুন অসুস্থ। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে জানা যায় তার আরথাইটিস রোগ হয়েছে। তার চিকিৎসা সম্ভব কিন্তু প্রচুর টাকার প্রয়োজন। মামুনের বাবা টাকা সংগ্রহ করতে শেষ আশ্রয় বাড়িটাও বিক্রি করে দেন। তার মা বিক্রি করে দেন তার শখের গহনাগুলো। তাতেও পূর্ণ অর্থ জোগাড় না হলে অবশেষে মামুনের বাবা মরণোত্তর তার একটা কিডনি বিক্রি করে দেন।

ক. কার দয়াতে একজন শিশু বসুধায় আসে?
খ. ‘বন্দনা’ কবিতায় দ্বিতীয়ে পিতামাতাকে প্রণাম করতে বলার কারণ কী?
গ. ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত সন্তানের প্রতি স্নেহ-বাৎসল্য উদ্দীপকে প্রতিফলন দেখাও।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত পিতামাতার বিষয়টি ‘বন্দনা’ কবিতার আলোকে মূল্যায়ন করো।

ক. পিতামাতার দয়াতে একজন শিশু বসুধায় আসে।
খ. ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি পৃথিবীতে সন্তানের ভূমিষ্ঠ হওয়ার জন্য পিতামাতার ঋণের কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন।
➠ মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলের সৃষ্টিকর্তা। পিতামাতার মাধ্যমে একজন শিশু এ পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। তাই জন্মদাতা পিতামাতার ঋণ কখনই পরিশোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের উচিত তাদের সেই মহৎকর্মের স্মরণ করা এবং তাদের প্রণাম তথা শ্রদ্ধা দেখানো। কবির মতে, সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর পর পিতামাতাকে সম্মান করা উচিত। শ্রদ্ধা দ্বারা তাদের মনের তুষ্টি গ্রহণ করা।

গ. ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার স্নেহ-বাৎসল্য উদ্দীপকে যথাযথভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ মা-বাবা আমাদের জন্মদাতা। তাদের দ্বারাই আমরা পৃথিবীতে আসতে পেরেছি। পিতামাতা কেবল সন্তানের জন্মদানই করেন না। তারা তাদের অক্লান্ত শ্রমে সন্তানদের বড়ো করে তোলেন। সন্তানের কল্যাণ চিন্তায় তারা এতটাই ব্যতিব্যস্ত থাকেন যে সামান্য একটি পিঁপড়া যাতে তাকে কামড় দিতে না পারে সেজন্য তাকে মাটিতে পর্যন্ত রাখেন না। মায়ের আদর যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠে। সন্তানের অমঙ্গল হোক এমন চিন্তায় পিতামাতা সর্বদা রত থাকেন এবং তার সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই মামুনের দুরারোগ্য ব্যাধি হয়েছে। এতে অনেক অর্থ ব্যয় করলে তার এ রোগ সেরে ফেলা সম্ভব। কিন্তু মামুনের বাবার সে সামর্থ্য নেই। তাই সন্তানের মঙ্গল কামনায় নিজেদের শেষ আশ্রয়টুকুও সে বিক্রি করে ফেলে। তার মাও নিজের শখের সব গহনা বিক্রি মরে দেয়। তার পরও যখন অর্থের সংকুলান হয় না তখন তার বাবা নিজের কিডনিও বিক্রি করে দেয়। একমাত্র ছেলের সুখের জন্যই তাদের এ আত্মত্যাগ। সুতরাং ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমন সন্তানের মজাল চিন্তায় পিতামাতা সদা সচেষ্ট থাকেন, নিজের চেয়েও সন্তানের সুখকে বড়ো করে দেখেন তেমনি উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, পিতামাতা তাদের সন্তানের সুখের জন্য নিজেদের সর্বদা বিলিয়ে দিচ্ছেন।

ঘ. নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও পিতামাতা তার সন্তানের মঙ্গল করতে সচেষ্ট হন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, শাহ মুহম্মদ সগীর পিতামাতার ভালোবাসার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। পিতামাতার অনুগ্রহে আমরা পৃথিবীতে এসেছি। তারা শুধু আমাদের জন্মদাতাই নন; তারা সব সময় আমাদের মঙ্গল কামনা করেন এবং মঙ্গলের জন্য সচেষ্ট থাকেন। তারা একটি পিপড়ার কামড়ও দিতে দেন না শিশুকে। এমনকি নিজে না খেয়ে সন্তানকে তারা খাওয়ান। নিজে না পরে সন্তানকে তারা পরান। নিজের দিকে কোনো খেয়ালই করেন না যেন মা-বাবা। তারা সব সময় কেবল সন্তানের মঙ্গল কামনাতে ব্যস্ত থাকেন।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, মামুনের আরথাইটিস রোগ হয়েছে। তার বাবা তার চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব বিক্রি করেছেন। অবশেষে বসত বাড়িটাও বিক্রি করেন। তাতেও টাকার সংকুলান না হলে তার মা তার সমস্ত গহনা বিক্রি করে দেন। নিজেদের কথা তারা মোটেই চিন্তা করেননি। সন্তানের মজালের জন্য তারা সদা সচেষ্ট ছিলেন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমনি পিতামাতার অপার করণায় তাদের ভক্তি করার কথা বলা হয়েছে তেমনি উদ্দীপকে বাবা-মা মামুনের জন্যও নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন। মোটেই নিজেদের জন্য চিন্তা করেননি। অবশেষে একথা বলা যায়, সন্তানের জন্য পিতামাতার স্নেহ-ভালোবাসার কোনো তুলনা হয় না।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
স্তবক—১:
মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
স্তবক—২:
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে।
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ।

ক. শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ কীর্তি কোনটি?
খ. ‘দুর্বল ছাবাল’ কথাটি ‘বন্দনা’ কবিতায় কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
গ. স্তবক—১ এর সাথে ‘বন্দনা’ কবিতার কোন বিষয়ের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায় তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. স্তবকদ্বয় বিশ্লেষণ করে ‘বন্দনা’ কবিতার আলোকে তা মূল্যায়ন করো।

ক. শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্যগ্রন্থ।
খ. মানব শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে থাকে খুবই অসহায়। তার শক্তি ও ক্ষমতা কিছুই থাকে না। তখন সে থাকে দুর্বল অসহায়।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মানব শিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার বর্ণনা করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মানব শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে থাকে অসহায়। তাকে সাহায্য করার কেউ থাকে না। খাওয়ানোর-পরানোর এবং আদর-যত্ন করার কেউ থাকে না। সেই অসহায় অবস্থাকে বর্ণনা করেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর ‘বন্দনা’ কবিতায়।

গ. ‘বন্দনা’ কবিতায় সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসা ও আত্মোৎসর্গের বিষয়টির বিপরীত দৃশ্য উদ্দীপকের স্তবক—১ এ প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, সন্তানের পৃথিবীতে আগমন এবং তার অসহায় অবস্থায় পিতামাতা তার সন্তানের মজালের জন্য সদা ব্যস্ত থাকেন। যে কাজ সন্তানের অনিষ্ট করতে পারে সেই কাজ করা থেকে তারা বিরত থাকেন। নিজের স্বার্থের কথা তারা কখনই চিন্তা করেন না। তারা নিজেরা না খেয়ে সন্তানদের খাওয়ান, নিজেরা না পরে তাদেরকে পরান। এমন নিঃস্বার্থভাবে তারা নিজেদের নিয়োজিত রাখেন।
➠ উদ্দীপকের স্তবক-১ এ আমরা দেখতে পাই, কবি এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে চান না। তিনি এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান। তার এ বেঁচে থাকতে চাওয়ার মধ্যে কোনো রকম সন্তানের জন্য আকাক্সক্ষা নেই। আছে কেবল আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার আকাক্সক্ষা। মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই। পিতামাতা যেখানে তার সন্তানকে সামান্য পিঁপড়ার হাত থেকেও বাঁচাতে তৎপর থাকেন, নিজেরা না খেয়ে তাদেরকে খাওয়ান, নিজেরা না পরে তাদেরকে পরান সেখানে স্তবক-১ এ নিজের চিন্তা ও নিজের জন্য কামনা আছে। সেই কামনাতে আত্মস্বার্থই প্রধান হয়ে উঠেছে। ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমন পিতামাতার আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে সন্তানের জন্য আত্মত্যাগের বাণী উচ্চারিত হয়েছে উদ্দীপকের স্তবক-১ তার বিপরীত চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. সন্তানের প্রতি মা-বাবার স্নেহ মমতার বিষয়টি ‘বন্দনা’ কবিতায় প্রধানরূপে প্রতিফলিত হয়েছে, যা উদ্দীপকের স্তবক—২ এ পরিলক্ষিত হয় কিন্তু স্তবক—১ তার ব্যতিক্রম।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, সন্তানের প্রতি পিতামাতার আদর-স্নেহের কোনো তুলনা হয় না। পৃথিবীতে আমাদের আগমন ঘটেছে পিতামাতার মাধ্যমে। আমরা যখন শিশু অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের সহায় সম্বল কিছু ছিল না। আমাদের ক্ষমতাও ছিল না কোনো কাজ করার। সেই সময় বাবা-মা আমাদের মঙ্গলের জন্য সদা সচেষ্ট থাকতেন। কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা তারা আমাদের বড়ো করে তুলেছেন। নিজেদের কথা তারা কখনই চিন্তা করেননি। সন্তানের মঙ্গল চিন্তাই ছিল তাদের ব্রত।
➠ উদ্দীপকে আমরা দুই ধরনের চিত্র দেখতে পাই। স্তবক-১ এ সন্তানের মঙ্গলের বিষয়ে কোনো আশাবাদ নেই; বরং তার বিপরীত চিত্র অর্থাৎ নিজেকে নিয়েই ব্যস্ততা লক্ষ করা যায়। আবার স্তবক-২ এ আমরা দেখতে পাই সন্তানের জন্য পিতার আকুতি। ঈশ্বর দেবীকে নদী পার করে দেয়ার বিনিময়ে বর লাভ করেন। তিনি বর হিসেবে চান যেন তার সন্তান দুধেভাতে সারাজীবন থাকতে পারে। সন্তানের মঙ্গল চিন্তায় তিনি নিজেকে নিমগ্ন রেখেছিলেন বলেই এমনটি আশা করেছিলেন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমন সন্তানের প্রতি পিতামাতার ভালোবাসার বাণী বর্ণিত হয়েছে, সেই সাথে বর্ণিত হয়েছে পিতামাতার মঙ্গল চিন্তার কথা। তারা সন্তানের এতটাই মজাল কামনা করেন যে, নিজেরা না খেয়ে সন্তানদের খাওয়ান। নিজে না পরে সন্তানদের পরান। একটি পিঁপড়াও যাতে কামড় দিতে না পারে সেদিকে তারা নজর রাখেন। উদ্দীপকদ্বয় বিশ্লেষণ করলেও আমরা তেমনি চিত্র লক্ষ করি। সন্তানের মঙ্গল কামনায় এক পিতা দুধ-ভাত কামনা করেছেন, যা তার পিতৃস্নেহের বহিঃপ্রকাশ। সবশেষে আমরা বলতে পারি, ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতৃস্নেহেরই অনুরূপ দৃশ্য উদ্দীপকের স্তবক-২ এ আমরা লক্ষ করি।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
আকাশে দুহাত তুলে প্রার্থনা জানায়
হে খোদা রাব্বুল আলামিন খোদায়।
আমার সন্তান যেন থাকে সুখে চিরদিন
জীবন সুখের করে তুলতে পারে একদিন
শিক্ষা-দীক্ষায় যেন হয় পরিপূর্ণ
গুরুজনে ভক্তি করে, হয় না যেন দম্ভপূর্ণ।
এমন কামনা করি হে দয়াময়।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতা মতে, কার ভয়ে মা তার সন্তানকে মাটিতে রাখেন না?
খ. ‘যান দয়া হস্তে জন্ম হৈল বসুধায়’—ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে প্রতিফলিত ‘বন্দনা’ কবিতার বিষয় ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার বিষয় কতটুকু ধারণ করেছে? বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতা মতে, পিপড়ার ভয়ে মা তার সন্তানকে মাটিতে রাখেন না।
খ. পিতামাতার মাধ্যমে মানব শিশু এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি শাহ মুহম্মদ সগীর সন্তানদের তার বাবা-মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলেছেন। আল্লাহ সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু পিতামাতা হচ্ছেন সন্তানের জন্য উছিলা। তাদের মাধ্যমেই একজন শিশু এই পৃথিবীতে আসে। তারা অনেক, দুঃখ-কষ্ট করে সন্তানের লালন-পালন করে থাকেন। তারা সন্তানের জন্য এতটাই ব্যাকুল থাকেন যে, পিঁপড়া কামড় দেবে ভেবে তারা তাদের সন্তানকে মাটিতে পর্যন্ত নামান না। তাদের এই অফুরন্ত ভালোবাসার ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারব না। তাই আলোচ্য অংশে পিতামাতার স্তুতি করেছেন কবি।

গ. শিক্ষক জ্ঞান দান করে আমাদের মানুষ করে তোলেন, ফলে একজন মানব শিশুর সেটি হয় দ্বিতীয় জন্মের মতো। তাই তাদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হয়।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি শাহ মুহম্মদ সগীর বলেছেন, পিতামাতার দয়ার মাধ্যমে আমরা এ পৃথিবীতে জন্মলাভ করি। এরপর তাদের অফুরন্ত ভালোবাসায় আমরা বড়ো হতে থাকি। কিন্তু একজন শিক্ষক আমাদের শিক্ষা দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে, পরিপূর্ণ মানুষ করে গড়ে তোলেন। তারা যদি আমাদের শিক্ষা দান না করতেন তাহলে আমরা অবশ্যই জ্ঞান তথা প্রকৃত আলোর মুখ চোখে দেখতে পেতাম না। ফলে আমাদের বড়ো হয়ে ওঠার পেছনে পিতামাতার যেমন ভূমিকা আছে একজন শিক্ষকের ভূমিকাও তার চেয়ে কম নয়।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই একজন পিতার মুনাজাত। তিনি তার সন্তানের মঙ্গলের জন্য মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট মিনতি জানাচ্ছেন। সেই সাথে তার সন্তান যেন গুরুজনদের শ্রদ্ধা করে, মান্য করে, সম্মান করে সেই প্রার্থনাও করছেন। ‘বন্দনা’ কবিতায় যেমন ওস্তাদের কদর বোঝাতে সন্তানের দ্বিতীয় জন্ম দেয়ার কথা বলে গুরুজনকে সম্মান দেখাতে বলা হয়েছে উদ্দীপকের শেষ দুটি চরণে ওস্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টিতে তারই প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার বিষয় পুরোপুরিভাবেই ধারণ করেছে। সন্তানের জন্য পিতামাতার মঙ্গল চিন্তা এবং গুরুজনদের ভক্তি শ্রদ্ধা করার বিষয়টি এখানে প্রাধান্য লাভ করেছে।
➠ শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর ‘বন্দনা’ কবিতায় পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। কারণ পিতামাতার দ্বারাই আমরা পৃথিবীতে এসেছি, তাই তাদের প্রতিদান শেষ হওয়ার নয়। মায়ের স্নেহ-মমতার তুলনা নেই। মায়ের সদাজাগ্রত কল্যাণ দৃষ্টি সন্তানের জীবন পথের পাথেয় স্বরূপ। অপরদিকে একজন মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হতে হলে তাকে জ্ঞানী হতে হয়, শিক্ষালাভ করতে হয়। আর এ কাজটি করে থাকেন একজন শিক্ষক। শিক্ষক সেই অর্থে আমাদের দ্বিতীয় জন্মদাতা। তার হাতেই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ি। মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠি। তাই আমাদের পৃথিবীতে আসায় যেমন পিতামাতার ভূমিকা ও তাদের ঋণ শোধ করা যায় না তেমনি শিক্ষকের প্রতিদানও পরিশোধ করা যায় না।
➠ উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, একজন পিতা তার সন্তানের মঙ্গল চিন্তায় নিমগ্ন। সন্তানের মঙ্গল চিন্তা করে তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দু’হাত তুলে মুনাজাত করেছেন। তার সন্তান যেন মঙ্গলময় হয়। সন্তানের সার্বিক মঙ্গল কামনা করে তার প্রতি সশ্রদ্ধ নিবেদন করবে সন্তান এমন আশা তার। তিনি আরও কামনা করেন, যেন তার সন্তান প্রকৃত শিক্ষা লাভ করে জীবনে উন্নতি লাভ করতে পারে। আর যে শিক্ষক দ্বারা তার সন্তান শিক্ষিত হবে সেই সন্তান যেন তার শিক্ষাগুরুকেও শ্রদ্ধা করে, সম্মান করে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত পিতামাতার সন্তানের জন্য মঙ্গলচিন্তা এবং শিক্ষককে সম্মান দানের বিষয়টি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে। শাহ মুহম্মদ সগীর যেমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পিতামাতা এবং শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের তেমনি উদ্দীপকেও পিতামাতা সন্তানের জন্য দোয়া করেছেন। সুতরাং বলা যায়, ‘বন্দনা’ কবিতায় বর্ণিত বিষয়টি উদ্দীপক পুরোপুরিভাবেই ধারণ করেছে।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
কবিতাংশ-১:
বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে, নিদ নাহি চোখে তাঁর—
পুত্র তাঁহার হুমায়ুন বুঝি বাঁচে না এ বার আর
চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরণ-অন্ধকার।
কবিতাংশ-২:
বাদশা কহেন—‘সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালণ
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল নাকো কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।’

ক. ‘বন্দনা’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
খ. ‘পিঁপড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত’—এই চরণ দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে দুইজন বাদশার মনের আকুতির সাথে কবির আকুতির কোথায় মিল আছে?
ঘ. ‘প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘বন্দনা’ কবিতার মূলভাব যেন এক সূত্রে গাঁথা’—যুক্তি দেখাও।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতাটি রচনা করেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর।
খ. মা তার সন্তানকে লালনপালন করা সম্পর্কে আলোচ্য চরণে আলোকপাত করা হয়েছে।
➠ মা-বাবা আমাদের জন্মদাতা। তাদের দ্বারাই আমরা পৃথিবীতে আসতে পেরেছি। পিতামাতা কেবল সন্তানের জন্মদানই করেন না; তারা তাদের অক্লান্ত শ্রমে সন্তানদের বড়ো করে তোলেন। সন্তানের কল্যাণ চিন্তায় তারা এতটাই ব্যতিব্যস্ত থাকেন যে সামান্য একটি পিঁপড়া যাতে তাকে কামড় দিতে না পারে সেজন্য তাকে মাটিতে পর্যন্ত রাখেন না। মায়ের আদর যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে বড়ো হয়ে ওঠে। সন্তানের অমঙ্গল হোক এমন চিন্তা থেকে তার পিতামাতা সর্বদা বিরত থাকেন এবং তার সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন।

গ. সন্তানের মঙ্গল কামনার দিক থেকে উদ্দীপকের দুইজন বাদশার মনের আকুতির সাথে কবির মিল আছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, মানব শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে থাকে একেবারেই অসহায়। তার কোনো ক্ষমতাই থাকে না। সেই অসহায় অবস্থায় তাকে কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা ধীরে ধীরে বড়ো করে তোলে তার পিতামাতা। কখনো নিজে না খেয়ে সন্তানকে খাইয়েছেন আবার নিজেরা না পরে সন্তানকে পরিয়েছেন। তারা সন্তানের এতটাই মঙ্গল চিন্তা করেছেন যে, সামান্য একটা পিঁপড়ার ভয়ে তারা তাদের সন্তানকে মাটিতেও রাখেননি।
➠ প্রদত্ত উদ্দীপকে দেখা যায়, বাদশা বাবর তার পুত্রের অসুস্থতায় অস্থির হয়ে পড়েন। পুত্রের জন্য তিনি কেঁদে কেঁদে ফিরছেন আর চোখের পানি ফেলছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় উদ্দীপকের বাদশাও পুত্রের মঙ্গল কামনায় শিক্ষকের খেদমতের কথা বলেছেন। এখানে দেখা যায়, উদ্দীপকের বাদশাদ্বয় নিজ সন্তানের মঙ্গল কামনা করেছেন। উভয়ের ভেতরই সন্তানের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসা লক্ষ করা যায়। অনুরূপভাবে ‘বন্দনা’ কবিতায়ও সন্তানের প্রতি পিতামাতার মঙ্গল কামনা ও স্নেহ ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, সন্তানের প্রতি মঙ্গল কামনার দিক থেকে উদ্দীপকের বাদশাদ্বয়ের সাথে ‘বন্দনা’ কবিতার মিল রয়েছে।

ঘ. প্রশ্নোদ্ধৃত উক্তিটি যথার্থ।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় আমরা দেখতে পাই, শাহ মুহম্মদ সগীর পিতামাতার ভালোবাসার দিকটি বর্ণনা করেছেন। পিতামাতার অনুগ্রহে আমরা পৃথিবীতে এসেছি। তারা শুধু আমাদের জন্মদাতাই নন; তারা সব সময় আমাদের মঙ্গল কামনা করেন এবং মঙ্গলের জন্য সচেষ্ট থাকেন। তারা একটি পিঁপড়ার কামড়ও দিতে দেন না শিশুকে। এমনকি নিজে না খেয়ে সন্তানকে তারা খাওয়ান। নিজে না পরে সন্তানকে তারা পরান। নিজের দিকে কোনো খেয়ালই করেন না যেন মা-বাবা। তারা সব সময় কেবল সন্তানের মঙ্গল কামনাতে ব্যস্ত থাকেন।
➠ প্রদত্ত উদ্দীপকে দেখা যায়, বাদশা বাবর তার পুত্রের অসুস্থতায় অস্থির হয়ে পড়েন। পুত্রের জন্য তিনি কেঁদে কেঁদে ফিরছেন আর চোখের পানি ফেলছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় উদ্দীপকের বাদশাও পুত্রের মজাল কামনায় শিক্ষকের খেদমতের কথা বলেছেন। এখানে দেখা যায়, উদ্দীপকের বাদশাদ্বয় নিজ সন্তানের মঙ্গল কামনা করেছেন। উভয়ের ভেতরই সন্তানের প্রতি স্নেহ-ভালোবাসা লক্ষ করা যায়। অনুরূপভাবে ‘বন্দনা’ কবিতায়ও সন্তানের প্রতি পিতামাতার মঙ্গল কামনা ও স্নেহ ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়।
➠ উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সন্তানের প্রতি পিতামাতার দরদ দেখিয়েছেন এবং শিক্ষকের মর্যাদাও ফুটিয়ে তুলেছেন। আর উদ্দীপকেও সন্তানের প্রতি পিতামাতার মঙ্গল কামনা ও শিক্ষকের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া বাবা-মা কর্তৃক সন্তানদের প্রতিপালন ও আত্মীয় স্বজনদের সহিত ভালো ব্যবহার সম্পর্কেও কবিতায় বর্ণনা করা হয়েছে, যা উদ্দীপকে নেই। তবুও বলা যায়, সন্তানের মঙ্গল কামনার দিক থেকে প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘বন্দনা’ কবিতার মূলভাব যেন এক সূত্রে গাঁথা।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক. শাহ মুহম্মদ সগীর কার রাজত্বকালে ‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্য রচনা করেছেন?
খ. ‘কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন’- কবি এ কথা বলেছেন কেন?
গ. উপরের চিত্রে অবস্থিত (?) স্থান ‘বন্দনা’ কবিতার কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উপরের চিত্রে অবস্থিত (?) স্থানে ইঙ্গিতকৃত দিকটিই ‘বন্দনা’ কবিতার একমাত্র দিক নয়।”- বিশ্লেষণ করো।

ক. শাহ মুহম্মদ সগীর গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্য রচনা করেছেন।
খ. আমাতাপিতার ঋণ শোধ করা প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন কবি।
➠ মাতাপিতা সন্তানের সুখ ও ভালো ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের স্বপ্ন, আরাম-আয়েশ, সময় ও স্বার্থ ত্যাগ করেন। পৃথিবীতে মাতাপিতার চেয়ে আপনজন আর কেউ নেই। শৈশব থেকে তারা সন্তান অসুস্থ হলে সেবা-যত্ন করে ধীরে ধীরে বড়ো করে তোলেন। আবার পিতা নিজে না খেয়ে, না পরে সন্তানের চাহিদা পূরণ করেন। কবি কীভাবে মাতাপিতার এই ঋণ শোধ করবেন সেটি তিনি জানেন না বলেই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।

গ. উপরের চিত্রে অবস্থিত (?) স্থান ‘বন্দনা’ কবিতার সন্তানের জীবনে মাতাপিতার ভূমিকার দিকটিকে ইঙ্গিত করে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি যাঁদের দয়ায় পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছেন ও বেড়ে উঠেছেন, সেই মাতাপিতার প্রশংসা করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মা পিঁপড়ার ভয়ে মাটিতে না রেখে কোলে-পিঠে করে কবিকে বড়ো করেছেন। পিতা অনেক দুঃখকষ্টের মাঝেও নিজে না খেয়ে কবির খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করেছেন। মাতাপিতার অবদান এককথায় অনস্বীকার্য।
➠ উদ্দীপকের চিত্রে (?) চিহ্নের চারদিকে বেশকিছু অনুষঙ্গ উপস্থাপন করা হয়েছে। চিন্তাভাবনা, যত্ন-ভালোবাসা, নির্ঘুম রাত, আদর-স্নেহ, শাসন ও লালনপালনের বিষয়গুলো প্রতিটি মানুষের জীবনে তার মাতাপিতার অবদানকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘বন্দনা’ কবিতায়ও মাতাপিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে কবি একই ধরনের বিষয়াদির অবতারণা করেছেন।

ঘ. ‘বন্দনা’ কবিতায় মাতাপিতার বন্দনা ছাড়া আরও বিষয় উঠে আসায় মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মাতাপিতাসহ অনেকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশে প্রয়াসী হয়েছেন। স্রষ্টার পরেই তিনি মাতাপিতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কেননা, তাঁদের মাধ্যমেই তো কবির পৃথিবীতে আসা এবং বেড়ে ওঠা। এরপর তিনি শিক্ষাগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ করেছেন। উপস্থিত এবং অনুপস্থিত সকলের প্রতি ভক্তি প্রকাশ করে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
➠ উদ্দীপকের চিত্রে (?) চিহ্নের চারদিকে বেশ কয়েকটি মানবীয় অনুষঙ্গ হাজির করা হয়েছে। চিন্তাভাবনা, যত্ন-ভালোবাসা, নির্ঘুম রাত, আদর-স্নেহ, শাসন, লালনপালন ইত্যাদি প্রতিটি মানুষের জীবনে তার মাতাপিতার ভূমিকার কথা তুলে ধরে। ‘বন্দনা’ কবিতায়ও কবি তাঁর মাতাপিতার বন্দনা করতে গিয়ে প্রায় একই ধরনের বৈশিষ্ট্যাবলি তুলে ধরেছেন।
➠ উদ্দীপক এবং ‘বন্দনা’ কবিতা উভয় স্থানেই মানুষের জন্ম ও বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মাতাপিতার অসামান্য অবদানের কথা উঠে এসেছে। তবে আলোচ্য কবিতায় এর বাইরে শিক্ষাগুরুর অবদান তুলে ধরে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়েছে। সকলের কাছে আশীর্বাদও কামনা করা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উপরের চিত্রে অবস্থিত (?) স্থানে ইঙ্গিতকৃত দিকটিই ‘বন্দনা’ কবিতার একমাত্র দিক নয়।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ফিনল্যান্ড প্রবাসী শিহাব অনেকদিন পর দেশে এসেছে। দেশে আসার পর কিছুদিন সে বাড়িতেই ছিল। তারপর একদিন সে তার বন্ধুর আমন্ত্রণে ঢাকায় বেড়াতে আসে। ঢাকায় এসে বন্ধুকে নিয়ে চলে যায় তার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এখানে প্রায় দুইটি বছর সে লেখাপড়া করেছে। এখান থেকে এইচএসসি পাশ করার পরই উচ্চশিক্ষার জন্য সে ফিনল্যান্ড চলে যায়। তারপর লেখাপড়া শেষ করে চাকরি নিয়ে সেখানেই স্থায়ী হয় সে। কলেজে প্রবেশ করেই সে প্রথমে যায় শিক্ষক মিলনায়তনে। সেখানে গিয়ে এতদিন পর শিক্ষকদের প্রিয় মুখগুলো দেখে সে পরম তৃপ্তি লাভকরে। উপস্থিত শিক্ষকগণও পরম আদরে তাকে কাছে টেনে নেন।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতায় কাকে পিতার চেয়েও বেশি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে?
খ. ‘দোসর-জনম দিলা তিহ সে আহ্মার’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘বন্দনা’ কবিতার কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘শিক্ষকগণই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।’-উদ্দীপক ও ‘বন্দনা’ কবিতার আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতায় শিক্ষককে পিতার চেয়েও বেশি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে।
খ. শিক্ষক জ্ঞানদানের মাধ্যমে নবজীবন বা পুনর্জন্ম দেন বলে কবি প্রশ্নোক্ত পঙক্তিটির অবতারণা করেছেন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মাতাপিতার পাশাপাশি ওস্তাদ বা শিক্ষকের মর্যাদা অকুণ্ঠচিত্তে ঘোষণা করেছেন। তিনি ওস্তাদকে পিতার চেয়েও বড়ো জ্ঞান করেছেন। কেননা, পিতা সন্তানকে জন্ম দিলেও শিক্ষক জ্ঞানদানের মাধ্যমে তাকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে পুনর্জন্ম দেন। এ বিষয়টি বোঝাতেই কবি বলেছেন, ‘দোসর-জনম দিলা তিহ সে আহ্মার।’

গ. উদ্দীপকে ‘বন্দনা’ কবিতার শিক্ষাগুরুর প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে তাঁর মাতাপিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেই শিক্ষাগুরুর প্রতি ভক্তি নিবেদন করেছেন। কবির মতে, শিক্ষক শিক্ষাদানের মাধ্যমে মানুষকে দ্বিতীয় জন্ম দিয়ে থাকেন বলে তাঁর প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা পিতার চেয়েও বেশি হওয়া উচিত। শিক্ষক শিক্ষাদান করে মানবশিশুকে সত্যিকার মানুষে পরিণত করেন। তাই তিনি পরম শ্রদ্ধেয়।
➠ উদ্দীপকে ফিনল্যান্ড প্রবাসী শিহাব দেশে বেড়াতে এলে এক বন্ধুকে নিয়ে তার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যায়। সেখানে গিয়ে এতদিন পর শিক্ষকদের প্রিয় মুখগুলো দেখে সে পরম তৃপ্তি লাভ করে। উপস্থিত শিক্ষকগণও তাকে পরম আদরে কাছে টেনে নেন। শিক্ষকদের প্রতি এমন ভক্তি-শ্রদ্ধা 'বন্দনা' কবিতায়ও দেখা যায়। কবি শিক্ষকদের দ্বিতীয় জন্মদাতা বলে মনে করেছেন।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘বন্দনা’ কবিতায় ফুটে ওঠা শিক্ষকের ভূমিকা বিবেচনায় মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় শিক্ষকের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। কবি বলেছেন, শিক্ষকগণ যেন তাঁকে দ্বিতীয় জন্ম দিয়েছেন। কেননা, তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় জ্ঞানলাভ করে কবি নিজেকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন। তাই শিক্ষকের নামে তিনি বন্দনা করেছেন।
➠ উদ্দীপকে ফিনল্যান্ড প্রবাসী শিহাব অনেকদিন পর দেশে এসে বন্ধুকে নিয়ে চলে যায় তার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শিক্ষক মিলনায়তনে গেলে এতদিন পর শিক্ষকদের প্রিয় মুখগুলো দেখে সে পরম তৃপ্তি লাভ করে। উপস্থিত শিক্ষকগণও পরম আদরে তাকে কাছে টেনে নেন। ‘বন্দনা’ কবিতাতেও শিক্ষকের প্রতি এমন ভক্তি-শ্রদ্ধার কথা বর্ণিত হয়েছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মাতাপিতার পরপরই শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি জানিয়েছেন। উদ্দীপকেও শিক্ষকের প্রতি তেমনই ভক্তি-শ্রদ্ধা দেখিয়েছে শিহাব। কবি শিক্ষকের প্রতি সম্মান জানাতে গিয়ে দ্বিতীয় জন্মদাতা হিসেবে শিক্ষককে অভিহিত করেছেন। কেননা, মাতাপিতা সন্তান জন্ম দিলেও শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে তাকে মানুষ করে তোলেন শিক্ষক। তাই বলা যায় যে, শিক্ষকগণই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মায়ের এক ধার দুধের দাম কাটিয়া গায়ের চাম,
পাপোশ বানাইলেও ঋণের শোধ হবে না
এমন দরদি ভবে কেউ হবে না আমার মা গো,
পিতা আনন্দে মাতিয়া, সাগরে ফেলিয়া,
সেই যে চইলা গেল ফিরা আইল না।

ক. ‘ইউসুফ জোলেখা’ কাব্য কার রাজত্বকালে রচিত হয়?
খ. ‘মুহম্মদ সগীর হীন বহোঁ পাপ ভার।’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বন্দনা’ কবিতার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার খণ্ডাংশ মাত্র।’- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘ইউসুফ জোলেখা’ গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে রচিত হয়।
খ. আলোচ্য চরণে কবি নিজেকে তুচ্ছজ্ঞান করে সকলের কাছে আশীর্বাদপ্রার্থী হয়েছেন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি কাব্য রচনায় হাত দেওয়ার আগে মাতাপিতা ও গুরুজনের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে প্রয়াসী হয়েছেন। এরপর তিনি সভায় উপস্থিত সকলের কাছে দোয়া চান। নিজেকে তুচ্ছজ্ঞান করে সকলের দোয়াকে ভরসা করে তিনি কাজে হাত দিতে চান। সে কারণেই কবি বলেছেন, ‘মুহম্মদ সগীর হীন বহো পাপ ভার।’

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বন্দনা’ কবিতার মাতার ভূমিকা সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও পিতার ভূমিকা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সৃষ্টিকর্তার পরপরই মাতাপিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। মাতাপিতা সন্তান জন্মদানের পরে তাকে তিলে তিলে যেভাবে লালনপালন করেন, কবি সেসব বর্ণনা করেছেন। পিঁপড়ার ভয়ে মা সন্তানকে মাটিতেও রাখেন না, অন্যদিকে পিতা নিজে অশেষ দুঃখকষ্টের শিকার হলেও সন্তানের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে মায়ের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। মায়ের সমগ্র অবদান তো বটেই, তাঁর একধার দুধের দাম নিজের চামড়া কেটে পাপোশ বানালেও শোধ করা সম্ভব নয়। অপরদিকে পিতা জন্ম দিয়েই আর পাশে থাকেন না। মায়ের এমন ভূমিকা ‘বন্দনা’ কবিতায় উঠে এলেও পিতার ভূমিকা উদ্দীপকের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা, এখানে পিতাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে শুধু মাতাপিতার-বিষয়ক আলোচনা ফুটে ওঠায় মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মাতাপিতার বন্দনা করার মাধ্যমে শুরু করলেও ক্রমান্বয়ে শিক্ষাগুরু, গণ্যমাণ্য মানুষজন এবং উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শুধু গুণগান ও ভক্তি-শ্রদ্ধাই জানাননি, এর পাশাপাশি তিনি কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের আশায় সকলের কাছে আশীর্বাদও কামনা করেছেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়েছে। কবির মতে, নিজের চামড়া কেটে পাপোশ বানিয়ে দিলেও মায়ের একধার দুধের দাম শোধ করা সম্ভব নয়। মায়ের মতো এমন দরদি পৃথিবীতে পাওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি জন্মদাতা পিতার কথাও বলা হয়েছে। ‘বন্দনা’ কবিতায়ও মাতাপিতার বন্দনা করা হয়েছে: অবশ্য উদ্দীপকের পিতার ভূমিকার চেয়ে কবিতায় ইতিবাচকভাবে ফুটে উঠেছে।
➠ কিছুটা নেতিবাচক থাকলেও উদ্দীপকে ‘বন্দনা’ কবিতার মতো মাতাপিতার প্রশংসাগীতি বর্ণিত হয়েছে। তবে কবিতায় মাতাপিতার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকের প্রতিও ভক্তি-শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এমনকি কবি কাব্যসাধনায় সাফল্যের আশায় সকলের আশীর্বাদও কামনা করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার খণ্ডাংশ মাত্র।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাদশা কহেন, ‘সেদিন প্রভাতে
দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিলো নাক কেন সে চরণ, বড়ো ব্যথা পাই মনে
উচ্ছ্বাস ভরি শিক্ষককে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্নিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে
আজ হতে চির উন্নত হলো শিক্ষাগুরুর শির।’

ক. কবি দ্বিতীয় প্রণাম করতে বলেছেন কোথায়?
খ. 'অশক্য আছিল মুই।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটিতে ‘বন্দনা’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘পিতার চেয়েও শিক্ষকের মর্যাদা অধিক।’ উদ্দীপক ও ‘বন্দনা’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. কবি দ্বিতীয় প্রণাম করতে বলেছেন মা-বাবার পায়ে।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা কবি সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন।
➠ মা অসুস্থ সন্তানের পাশে ছায়ার মতো থাকেন। স্নেহ-মমতা ও অগাধ ধৈর্য সেবায় নিরলস থাকেন। মায়ের আদরযত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে। এখানে কবি মানবশিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থায় স্নেহময়ী মায়ের ভূমিকা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে প্রশ্নোক্ত পঙক্তিটি ব্যবহার করেছেন।

গ. উদ্দীপকটিতে ‘বন্দনা’ কবিতার শিক্ষকের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি মাতাপিতার বন্দনা করার পরপরই শিক্ষকের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কবির মতে, শিক্ষক হচ্ছেন আমাদের দ্বিতীয় জন্মদাতা। কেননা, পিতামাতা সন্তান জন্মদান করলেও তাকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে যথার্থ মানুষে পরিণত করতে অসামান্য অবদান রাখেন শিক্ষক। এমনকি শিক্ষককে কবি পিতার চেয়েও বড়ো বলে উল্লেখ করেছেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে শিক্ষকের মর্যাদা ঘোষিত হয়েছে। বাদশাহ তাঁর পুত্রের শিক্ষককে ডেকে বলেছেন, তাঁর ছেলে নিজহাতে শিক্ষকের পা ধুয়ে না দেওয়ায় তিনি দুঃখ পেয়েছেন। কেননা, শিক্ষকের মর্যাদা হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ‘বন্দনা’ কবিতায়ও কবি শিক্ষককে একইরকম মর্যাদাবান হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। শিক্ষককে কবি দ্বিতীয় জন্মদাতা এবং পিতার চেয়েও বড়ো বলেছেন।

ঘ. শিক্ষক মানবশিশুকে প্রকৃত মানবে পরিণত করতে প্রয়াসী হন বলে মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি তাঁর মাতাপিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে এরপরই অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে শিক্ষকের অবদানের স্বীকৃতি ঘোষণা করেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষক হলেন আমাদের দ্বিতীয় জন্মদাতা। কেননা, মা-বাবার মাধ্যমে আমরা পৃথিবীতে আগমন করলেও শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকই আমাদেরকে সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে ভূমিকা পালন করেন।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যাচ্ছে, বাদশাহ তাঁর পুত্রের আচরণে ব্যথিত; বিশেষত শিক্ষকের প্রতি সে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেনি। শিক্ষকের পা নিজহাতে ধুয়ে দেওয়া উচিত ছিল তার। শিক্ষকের যথার্থ মর্যাদা ঘোষিত হয়েছে উদ্দীপকে। ‘বন্দনা’ কবিতায়ও কবি শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা এবং পিতার চেয়েও বড়ো হিসেবে উপস্থাপন করে শিক্ষকের মর্যাদা ঘোষণা করেছেন।
➠ উদ্দীপকের পিতা অর্থাৎ বাদশাহ শিক্ষককে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং সন্তানের পক্ষ হয়ে শিক্ষকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়েছেন। ‘বন্দনা’ কবিতায়ও শিক্ষকের মর্যাদা ঘোষিত হয়েছে। কবি শিক্ষককে দ্বিতীয় জন্মদাতা বলেছেন। পিতা জন্মদাতা হলেও মনুষ্যত্ব অর্জনে শিক্ষকের ভূমিকা স্বীকার করে কবি শিক্ষকের মর্যাদা পিতার চেয়েও বড়ো বলেছেন। তাই বলা যায় যে, ‘পিতার চেয়েও শিক্ষকের মর্যাদা অধিক।’- মন্তব্যটি যথার্থ।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
গভীর ধেয়ানে বসিল বাবর শান্ত অচঞ্চল,
প্রার্থনারত হাতদুটি তাঁর নয়নে অশ্রুজল।
কহিল কাঁদিয়া- ‘হে দয়াল খোদা, হে রহিম রহমান,
মোর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আমারি আপন প্রাণ,
তাই নিয়ে প্রভু পুত্রের প্রাণ কর মোরে প্রতিদান।’

ক. ‘বন্দনা’ কবিতাংশটি কোন কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে?
খ. কবি পিতার চেয়ে শিক্ষককে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কেন?
গ. উদ্দীপকটিতে ‘বন্দনা’ কবিতার সাদৃশ্যগত দিকটি নিরূপণ করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘বন্দনা’ কবিতার একটি বিশেষ দিককে ইঙ্গিত করেছে মাত্র।”- তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতাংশটি 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
খ. শিক্ষক শিক্ষাদানের মাধ্যমে মানুষকে দ্বিতীয় জন্ম দেন বলে কবি পিতার চেয়ে শিক্ষককে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি তাঁর পিতামাতার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার পরপরই শিক্ষকের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কেননা, কবি মনে করেছেন, পিতামাতা সন্তানকে জন্ম দিয় পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখালেও শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষক তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। বলা যায়, শিক্ষক যেন মানুষকে দ্বিতীয়বার জন্ম দেন। তাই কবি পিতার চেয়ে শিক্ষককে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

গ. উদ্দীপকটিতে ‘বন্দনা’ কবিতার সাদৃশ্যগত দিকটি হলো পিতৃস্নেহ।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় কবি সৃষ্টিকর্তার পরেই মাতাপিতার বন্দনা করেছেন। বিশেষত, জন্মদাতা পিতার অসামান্য ভূমিকা আমাদের জীবনে অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করে। কবির মতে, পিতা নিজে কষ্ট করে জীবন অতিবাহিত করলেও সন্তানের খাওয়া-পরা জোগাতে সদা ব্যস্ত থাকেন। কোনোভাবেই সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহভালোবাসার অবদান শোধ করা সম্ভব নয়।
➠ উদ্দীপকে সম্রাট বাবর কর্তৃক তাঁর পুত্রের জন্য নিজ প্রাণ কোরবানি দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি অসুস্থ সন্তানের প্রাণ রক্ষার্থে দুই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে খোদার কাছে প্রার্থনা করেছেন। নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তিনি সন্তানের সুস্থতা চেয়েছেন। 'বন্দনা' কবিতায়ও সন্তানের জীবনে পিতৃস্নেহের এরকম পরাকাষ্ঠা দেখানো হয়েছে। কবির মতে, পিতা অশেষ দুঃখকষ্ট সহ্য করেও সন্তানকে বড়ো করে তোলেন।

ঘ. উদ্দীপকে পিতৃস্নেহের পরিচয় ছাড়া অন্যান্য বিষয় অনুপস্থিত বিধায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ ‘বন্দনা’ কবিতায় সৃষ্টিকর্তার পরপরই মাতাপিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। মাতাপিতা আমাদের জন্মদানের মাধ্যমে পৃথিবীর আলোতে আনার পাশাপাশি অনেক কষ্ট স্বীকার করে আমাদের লালনপালন করেন। এরপর শিক্ষক আমাদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে মানুষ করে তোলেন। কবি মাতাপিতা, শিক্ষকের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা জানিয়ে সকলের কাছে আশীর্বাদও কামনা করেন।
➠ উদ্দীপকে বাদশাহ বাবরের পিতৃস্নেহের চরম পরাকাষ্ঠা ফুটে উঠেছে। নিজের সন্তানের সুস্থতা কামনায় তিনি চোখের জলে খোদার কাছে প্রার্থনা করেছেন। এমনকি নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও তাঁর সন্তান যেন সুস্থ হয়ে ওঠে, তিনি তাই চেয়েছেন। ‘বন্দনা’ কবিতায়ও সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহভালোবাসার কথা বর্ণিত হয়েছে। সন্তানের জন্য পিতার অশেষ দুঃখযাতনা সহ্য করার কথাও উঠে এসেছে।
➠ উদ্দীপকের কবিতাংশ এবং ‘বন্দনা’ কবিতা উভয় স্থানেই পিতৃস্নেহের পরিচয় ফুটে উঠেছে। পিতা সন্তানের জন্য নিজের জীবনও দিতে প্রস্তুত থাকেন, সেটিও উঠে এসেছে। তবে কবিতায় মাতার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা, শিক্ষকের প্রতি বন্দনা এবং সর্বোপরি সকলের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনার বিষয়গুলোও এসেছে, যেসব উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি ‘বন্দনা’ কবিতার একটি বিশেষ দিককে ইঙ্গিত করে।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
১বায়েজিদ বোস্তামির মা এক রাতে পানি খেতে চান। ঘরে পানি না থাকায় তা বাহির থেকে সংগ্রহ করে তিনি ফিরে এসে দেখেন মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। পানির পাত্র হাতে বায়েজিদ সারা রাত মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে ঘুম থেকে জাগলেই মাকে পানি দিতে পারেন। মা যেন পিপাসায় কষ্ট না পান।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতায় পিতার চেয়েও কাকে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে?
খ. ‘দোসর জন্ম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে ‘বন্দনা’ কবিতার যে দিক প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “প্রকাশিত দিকটিই ‘বন্দনা’ কবিতার একমাত্র দিক নয়।”- মন্তব্যটির সপক্ষে তোমার যুক্তি দাও।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পাশ্চাত্য মনীষী রাস্কিন পৃথিবীতে মানুষের প্রধান তিনটি কর্তব্যের কথা বলেছেন। যথা: সৃষ্টিকর্তার প্রতি কর্তব্য, মাতাপিতার প্রতি কর্তব্য ও মানুষের প্রতি কর্তব্য। এই তিনটি কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ব্যক্তি যথার্থ মানুষ হয়ে ওঠে।

ক. ‘অশক্য’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়।’- এখানে কার দয়ার কথা বলা হয়েছে ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের রাস্কিনের মনোভাবের সাথে ‘বন্দনা’ কবিতার কবির চিন্তাগত মিলের দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে আলোচিত তিনটি বিষয় ছাড়াও ‘বন্দনা’ কবিতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে।”- বিশ্লেষণ করো।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
দেশের একটি খ্যাতনামা কলেজের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক সাঈদ হাসান ঢাকায় থাকেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অনেকদিন পর তিনি গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যান। বাড়ি গিয়ে কালবিলম্ব না করেই তিনি চলে যান তাদের পারিবারিক কবরস্থানে। সেখানে অনেকের সাথে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার মা ও বাবা। জীবনে মা-বাবার অবদানের কথা তিনি কিছুতেই ভুলতে পারেন না। অভাবের সংসারে অনেক কষ্টে তাঁরা তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করেছেন। তাঁদের কথা মনে হলেই কৃতজ্ঞতায় তার চোখ দুটি জলে ভরে যায়।

ক. পিঁপড়ার ভয়ে কে কবিকে মাটিতে রাখেননি?
খ. ‘যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়।’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বন্দনা’ কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে মাতাপিতার ভূমিকাই মুখ্য।’- উদ্দীপক ও ‘বন্দনা’ কবিতার আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-১৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সজীব হাসান প্রথম যেদিন মঞ্চে গান গাইতে উঠেছিলেন সেদিন দর্শকরা তাকে অপমান করে সেখান থেকে নামিয়ে দিয়েছিল। বিষয়টি ওস্তাদ আলী আহসানকে তখন মানসিকভাবে বেশ আহত করেছিল। তারপর থেকে স্বেচ্ছায় তিনি সজীব হাসানকে গান শেখানোর দায়িত্ব নেন। তাঁর পরিচর্যায় সজীব হাসান আজকে দেশের একজন খ্যাতনামা গায়কে পরিণত হয়েছেন। তিনি যে মঞ্চেই গাইতে যান সেখানেই থাকে দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়।

ক. ‘দোসর’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড়।’- চরণটি দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. ওস্তাদ আলী আহসানকে ‘বন্দনা’ কবিতায় কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘তাঁর পরিচর্যায় সজীব হাসান আজকে দেশের একজন খ্যাতনামা গায়কে পরিণত হয়েছেন।’ -‘বন্দনা’ কবিতার আলোকে উদ্দীপকের উদ্ধৃতাংশটি বিশ্লেষণ করো।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-২০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে বাবা। একমাত্র উচ্চশিক্ষিত ছেলে পাশে নেই। চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন। সেই অর্থ নেই অসহায় হতদরিদ্র মায়ের কাছে। ছেলেকে মানুষ করতে তাঁরা সব সম্পদও খুইয়েছেন। একদিন অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হয়নি; তাই অসহায় বাবাটা দুনিয়া ছেড়েছেন।

ক. শাহ মুহম্মদ সগীর কোন শতকের কবি?
খ. ‘দোসর-জনম দিলা তিহ সে আহ্মার।’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকে ‘বন্দনা’ কবিতার কোন বিপরীত দিকটি পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক এবং পাঠ্যবইয়ের ‘বন্দনা’ কবিতার চেতনা সম্পূর্ণ আলাদা।”- তোমার মতামতের আলোকে যুক্তি উপস্থাপন করো।


‘বন্দনা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন-২১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পলাশ একদিন তার বাবার সাথে বাজারে যাচ্ছিল। রাস্তায় তাদের সাথে তার স্কুলের শিক্ষকের সাথে দেখা হয়। পলাশ শিক্ষককে না দেখার ভান করে একপাশ দিয়ে চলে যায়। বিষয়টি লক্ষ করে তার বাবা। এতে তিনি খুব কষ্ট পেলেন এবং নিজের সন্তানের সুশিক্ষার অভাববোধ করলেন।

ক. ‘বন্দনা’ কবিতা কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
খ. ‘দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাএ।’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘বন্দনা’ কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘পলাশের বাবার মতো আদর্শ পিতা হলে সন্তান মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।’- উদ্দীপক ও ‘বন্দনা’ কবিতাবলম্বনে মন্তব্যটির মতামত বিচার করো।


তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. ইউসুফ-জোলেখা, শাহ মুহাম্মদ সগীর, ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক (সম্পাদিত), ৭ম মুদ্রণ, ২০২১, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা।
৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
৫. বানান আন্দেলন, বানান অ্যাপ।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url