আমার দেশ : সুফিয়া কামাল

আমার দেশ
আমার দেশ

আমার দেশ
সুফিয়া কামাল 

সূর্য-ঝলকে! মৌসুমী ফুল ফুটে
স্নিগ্ধ শরৎ আকাশের ছায়া লুটে
পড়ে মাঠভরা ধান্য শীর্ষ পরে
দেশের মাটিতে মানুষের ঘরে ঘরে।
আমার দেশের মাটিতে আমার প্রাণ
নিতি লভে নব জীবনের সন্ধান
এখানে প্লাবনে নুহের কিশতি ভাসে
শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে।
জেগেছে নতুন চর-
সেই চরে ফের মানুষেরা সব পাশাপাশি বাঁধে ঘর।
নব অঙ্কুর জাগে-
প্রতি দিবসের সূর্য-আলোকে অন্তর অনুরাগে
আমার দেশের মাটিতে মেশানো আমার প্রাণের ঘ্রাণ
গৌরবময় জীবনের সম্মান।
প্রাণ-স্পন্দনে লক্ষ তরুর করে
জীবনপ্রবাহ সঞ্চারি মর্মরে
বক্ষে জাগায়ে আগামী দিনের আশা
আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা।
নদীতে নদীতে মিলে হেথা গিয়ে ধায় সাগরের পানে
মানুষে মানুষে মিলে গিয়ে প্রাণে প্রাণে সূর্য চন্দ্র করে
মৌসুমী ফুলে অঞ্জলি ভরে ভরে
আপন দেশের মাটিতে দাঁড়ায়ে হাসে
সূর্য-ঝলকে। জীবনের ডাক আসে
সেই ডাকে দেয় সাড়া
নদী-প্রান্তর পার হয়ে আসে লক্ষ প্রাণের ধারা
মিলিতে সবার সনে
আমার দেশের মানুষেরা সবে মুক্ত-উদার মনে
আর্ত-ব্যথিত সুধী গুণীজন পাশে
সেবা-সাম্য-প্রীতি বিনিময় আশে
সূর্য-আলোকে আবার এদেশে হাসে
নিতি নবরূপে ভরে ওঠে মন জীবনের আশ্বাসে।

‘আমার দেশ’ কবিতার উৎস নির্দেশ:
সুফিয়া কামালের ‘উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যের ‘আমার দেশ’ কবিতাটি ‘সুফিয়া কামাল রচনাসংগ্রহ’ থেকে সংকলন করা হয়েছে।

‘আমার দেশ’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা:
➠ সূর্য-ঝলকে- সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত, উদ্ভাসিত।
➠ মৌসুমী ফুল- বিশেষ ঋতুতে (সময়ে) উৎপন্ন ফুল।
➠ স্নিগ্ধ শরৎ- শরৎকালের উজ্জ্বলতা।
➠ ধান্য শীর্ষ- ধানের ওপর ভাগ।
➠ নিতি- নিত্য।
➠ নূহের কিশতি- সেমিটিক পুরাণ অনুসারে পৃথিবীতে মহাপ্লাবনের সময়ে একজন নবির যে বড় নৌকা সবাইকে রক্ষা করেছিল।
➠ শান্তি কপোত- শান্তির কবুতর, কবুতরকে শান্তির প্রতীক বলা হয়।
➠ বারতা- সংবাদ, বার্তা।

‘আমার দেশ’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি:
বাঙালির সোনার বাংলা অসম্ভবকে সম্ভব করে, মাটি থেকে জন্ম দেয় সোনালি ফসল। চমৎকার এর জলবায়ু- সহনীয় রৌদ্রতাপ, নমনীয় জল-বৃষ্টি। তাই এর মাঠ ভরে ওঠে সোনালি ধানে, সবুজ পাটে, নানা বর্ণের ফলমূলে। এদেশের মানুষ পাশাপাশি ঘর বেঁধে তাই শান্তিতে বাস করে। দুর্যোগও যে আসে না তা নয়। কিন্তু দুর্যোগের সময়ও তা অতিক্রান্ত হওয়া মাত্র তারা আবার ঘর বাঁধে পাশাপাশি, থাকে শান্তিতে। বাংলার মানুষের মধুর ভাষা, অপার জীবনানন্দ তাদের নিয়ে যায় সম্প্রীতির মহাসাগরে। আকাশে যেমন সূর্য ওঠে, তেমনি ডাক আসে মিলনের। এদেশের মানুষ পরস্পরে মহামিলনের মধ্যেই প্রত্যহ নতুন হয়ে ওঠে। কবিতায় চিরায়ত বাংলার জীবনবাণী অসাধারণভাবে ধরা পড়েছে।

‘আমার দেশ’ কবিতার কবি পরিচিতি:
সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ’৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অসামান্য ভূমিকা রাখেন। একটি প্রগতিশীল সমাজ-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন যুদ্ধ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর কবিতা লেখার হাতেখড়ি হয় এবং তাঁর কবিতা সমসাময়িক পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি কিছুকাল কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তাঁর কবিতার ভাষা সহজ সরল, ছন্দ সুললিত ও ব্যঞ্জনাময়। এই কর্মের স্বীকৃতির জন্য তাঁকে বাংলাদেশের জনগণ ‘জননী সাহসিকা’ অভিধায় অভিষিক্ত করেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য: সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, উদাত্ত পৃথিবী এবং গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা; স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ: একাত্তরের ডাইরী; শিশুতোষ গ্রন্থ: ইতল বিতল ও নওল কিশোরের দরবারে। সাহিত্যকর্মে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, Women’s Federation for World Peace Crest-সহ অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০শে নভেম্বর ১৯৯৯ সালে এই মহীয়সী নারী মৃত্যুবরণ করেন।।

‘আমার দেশ’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন:
১। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্প্রীতি নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করো।

‘আমার দেশ’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘আমার দেশ’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:

১। সুফিয়া কামালের জন্মতারিখ কত?
উত্তর: সুফিয়া কামালের জন্ম তারিখ ১৯১১ সালের ২০শে জুন।
২। বাংলাদেশের জনগণ সুফিয়া কামালকে কোন অভিধায় অভিষিক্ত করেছে?
উত্তর: বাংলাদেশের জনগণ সুফিয়া কামালকে ‘জননী সাহসিকা’ অভিধায় অভিষিক্ত করেছে।
৩। ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
উত্তর: ‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থের কবি সুফিয়া কামাল।
৪। সুফিয়া কামালের গল্পগ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: সুফিয়া কামালের গল্পগ্রন্থের নাম ‘কেয়ার কাঁটা’।
৫। ‘একাত্তরের ডাইরী’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
উত্তর: ‘একাত্তরের ডাইরী’ স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।
৬। ‘আমার দেশ’ কবিতাটি সুফিয়া কামালের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতাটি সুফিয়া কামালের ‘উদাত্ত পৃথিবী’ নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
৭। ‘বারতা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘বারতা’ শব্দের অর্থ সংবাদ।
৮। ‘আমার দেশ’ কবিতায় প্লাবনে কার কিশ্তি ভাসার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় প্লাবনে নুহের কিশ্তি ভাসার কথা বলা হয়েছে।
৯। কবির দেখা মাঠ কীসে ভরা?
উত্তর: কবির দেখা মাঠ ধানের শীর্ষে ভরা।
১০। কবির দেশের মানুষেরা সবাই কেমন?
উত্তর: কবির দেশের মানুষেরা সবাই মুক্ত-উদার।
১১। ‘শান্তি-কপোত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘শান্তি-কপোত’ শব্দের অর্থ শান্তির কবুতর।
১২। ‘আমার দেশ’ কবিতাটি কোথায় সংকলিত হয়েছে?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতাটি ‘সুফিয়া কামাল রচনাসংগ্রহ’ থেকে সংকলিত হয়েছে।
১৩। কোন কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সুফিয়া কামালের অবদান রয়েছে?
উত্তর: ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সুফিয়া কামালের অবদান রয়েছে।
১৪। সুফিয়া কামাল কোন ধরনের সমাজব্যবস্থার জন্য আজীবন যুদ্ধ করেছেন?
উত্তর: সুফিয়া কামাল প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থার জন্য আজীবন যুদ্ধ করেছেন।
১৫। সুফিয়া কামাল কোথায় শিক্ষকতা করেছিলেন?
উত্তর: সুফিয়া কামাল কলকাতার একটা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছিলেন।
১৬। ‘উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
উত্তর: ‘উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের কবি সুফিয়া কামাল।
১৭। সুফিয়া কামালের একটা স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর: সুফিয়া কামালের একটা স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের নাম ‘একাত্তরের ডাইরী’।
১৮। সাহিত্যে অবদানের জন্য সুফিয়া কামাল কোন পদক পেয়েছেন?
উত্তর: সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য সুফিয়া কামাল বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদক পেয়েছেন।
১৯। ‘আমার দেশ’ কবিতায় কোন ফুল ফোটার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় মৌসুমি ফুল ফোটার কথা বলা হয়েছে।
২০। কোন ঋতুতে আকাশের ছায়া ধানের শীর্ষে লুটে পড়ে?
উত্তর: শরৎকালে আকাশের ছায়া ধানের শীর্ষে লুটে পড়ে।
২১। কবি নবজীবনের সন্ধান লাভ করেন কোথায়?
উত্তর: কবি নবজীবনের সন্ধান লাভ করেন দেশের মাটিতে।
২২। কবির দেশের মাটি কেমন?
উত্তর: কবির দেশের মাটি মধুর।
২৩। কবির কাছে তাঁর দেশের কোন জিনিস মধুর?
উত্তর: কবির কাছে তাঁর দেশের মাটি এবং ভাষা মধুর।
২৪। ‘আমার দেশ’ কবিতায় নদী কীসের পানে ছুটে চলার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় নদী সাগরের পানে ছুটে চলার কথা বলা হয়েছে।
২৫। সুফিয়া কামাল কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: সুফিয়া কামাল বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
২৬। সুফিয়া কামাল কোন বয়সে লেখালেখি শুরু করেন?
উত্তর: সুফিয়া কামাল ছোটোবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন।
২৭। সুফিয়া কামালের কবিতার ভাষা কেমন?
উত্তর: সুফিয়া কামালের কবিতার ভাষা সহজ, সরল, ছন্দ, সুললিত ও ব্যঞ্জনাময়।
২৮। সুফিয়া কামালের একটি কাব্যগ্রন্থের নাম লেখো।
উত্তর: সুফিয়া কামালের একটি কাব্যগ্রন্থের নাম ‘মায়া কাজল’।
২৯। সুফিয়া কামাল কত তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: সুফিয়া কামাল ২০শে নভেম্বর, ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
৩০। আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা—এ পঙ্ক্তিতে কী প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা—এ পঙ্ক্তিতে দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে।
৩১। সুফিয়া কামালের একটি শিশুতোষ গ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: সুফিয়া কামালের একটি শিশুতোষ গ্রন্থের নাম ‘নওল কিশোরের দরবারে’।
৩২। ‘আমার দেশ’ কবিতায় নুহের কিশ্তি ভাসে কখন?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় নুহের কিশ্তি ভাসে প্লাবনে।
৩৩। নদী প্রান্তর পার হয়ে কীসের ধারা আসে?
উত্তর: নদী প্রান্তর পার হয়ে লক্ষ প্রাণের ধারা আসে।
৩৪। নুহের কিশ্তি কী?
উত্তর: সেমিটিক পুরাণ অনুসারে, পৃথিবীতে মহাপ্লাবনের সময়ে একজন নবির যে বড়ো নৌকা সবাইকে বাঁচিয়েছিল সেটিই নুহের কিশ্তি।
৩৫। ‘আমার দেশ’ কবিতায় বর্ণিত বাংলাদেশটা কেমন?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় বর্ণিত বাংলাদেশটা অসম্ভব রকমের সুন্দর।
৩৬। ‘কিস্তি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘কিস্তি’ শব্দের অর্থ নৌকা।
৩৭। নতুন চরে পাশাপাশি ঘর বাঁধার মধ্য দিয়ে কী প্রকাশিত হয়েছে?
উত্তর: নতুন চরে পাশাপাশি ঘর বাঁধার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি প্রকাশিত হয়েছে।
৩৮। সুফিয়া কামালের গল্পগ্রন্থের নাম কী?
উত্তর: সুফিয়া কামালের গল্পগ্রন্থের নাম ‘কেয়ার কাঁটা’।
৩৯। মানুষেরা আবার কোথায় নতুন করে পাশাপাশি ঘর বাঁধে?
উত্তর: ‘নতুন চরে’ আবার মানুষেরা পাশাপাশি ঘর বাঁধে।
৪০। স্নিগ্ধ শরৎ কী লুটে?
উত্তর: স্নিগ্ধ শরৎ আকাশের ছায়া লুটে।
৪১। ‘ইতল বিতল’ ও ‘নওল কিশোরের দরবারে’ সুফিয়া কামালের কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
উত্তর: ‘ইতল বিতল’ ও ‘নওল কিশোরের দরবারে’ সুফিয়া কামালের শিশুতোষ গ্রন্থ।
৪২। ‘আমার দেশ’ কবিতায় বারতা নিয়ে আসে কে?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় শান্তি-কপোত বারতা নিয়ে আসে।
৪৩। ‘আমার দেশ’ কবিতায় কোন ফুল ফোটার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় মৌসুমি ফুল ফোটার কথা বলা হয়েছে।
৪৪। ‘আমার দেশ’ কবিতার বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতার বিষয়বস্তু প্রকৃতি, দেশপ্রেম, মানবিক সম্পর্ক।


‘আমার দেশ’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

১. ‘শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে’—এ কথা দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে’—এই বাক্যটি কবির দৃষ্টিতে শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে কপোত বা পায়রাকে তুলে ধরেছে।
➠ এখানে কপোত বা পায়রা (কবুতর) একটি ঐতিহ্যবাহী পাখি, যা শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। কবি এ বাক্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশ এবং মানুষের মধ্যে শান্তি, বন্ধুত্ব, ও সহযোগিতার বার্তা এসে পৌঁছায়, যেমন কপোত শান্তির দূত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। কবি দেশের মাটি ও মানুষের মাঝে শান্তি ও প্রেমের বার্তা পৌঁছানোর গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন, যেখানে সকলেই একে অপরকে সহযোগিতা ও সম্মান দেয়, এবং এই শান্তির বার্তা মানুষের হৃদয়ে অঙ্গীকার হয়ে থাকে। এটি একটি অন্তর্নিহিত আশাবাদ ও ভালোবাসার প্রতীক, যেখানে মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাতে চায়।

২. ‘স্নিগ্ধ শরৎ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘স্লিপ শরৎ’ বলতে কবি শরৎকালের পরিষ্কার ও স্বচ্ছ আকাশকে বুঝিয়েছেন।
➠ ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রত্যেক ঋতুই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যম-িত। সংগত কারণেই এদেশের প্রকৃতিতে এই ছয়টি ঋতু ভিন্নরকম সৌন্দর্যের দ্যোতনা দেয়। এর মধ্যে শরৎকালের আকাশ থাকে পরিষ্কার ও সুন্দর। শুধু মাঝে মাঝে সাদা মেঘ ঘুরে বেড়ায়। আলোচ্য কবিতায় শরৎকালের আকাশের এমন মোহনীয় দৃশ্য উপস্থাপনকল্পে কবি ‘স্নিগ্ধ শরৎ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন।

৩. ‘জীবনের ডাক আসে’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: জীবনের ডাক আসে বলতে কবি লক্ষ প্রাণের মিলিত ধারার সাথে মিলিত হবার ডাককে বুঝিয়েছেন।
➠ আমার দেশ কবিতায় কবি তাঁর মাতৃভূমি বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আর তা করতে গিয়ে তিনি এদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন। যেখানে সবাই মুক্ত-উদার মনে ব্যথিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। যাপিত জীবনের প্রয়োজনে সবাই একসাথে মিলেমিশে থাকে। এভাবে বহু প্রাণের সম্মিলনে এদেশের মানুষ শান্তির আবাসভূমি তৈরি করে। আলোচ্য কবিতায় জীবনের ডাক আসে বলতে এ বিষয়কেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

৪. ‘নিতি নবরূপে ভরে ওঠে মন জীবনের আশ্বাসে’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মীতার মাঝেই যে এদেশের মানুষ জীবনের সার্থকতা ও নতুন করে বাঁচার মানে খুঁজে পায়—প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে এ বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে।
➠ ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি দেশবাসীর মানবিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব চিত্র এঁকেছেন। সুখে-দুঃখে, এমনকি যে-কোনো দুর্যোগ ও দুর্বিপাকেও সব সময় এদেশের মানুষ মিলেমিশে থাকে। জীবনের নানান সংকটে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। এভাবে মানুষে মানুষে প্রাণের মিলন ঘটিয়ে তারা সাম্য ও প্রীতির এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানুষের মধ্যকার এই সম্প্রীতি ও মানবিকবোধ যেন এদেশের মানুষকে 'নতুনভাবে বাঁচার আশ্বাস দেয়। প্রশ্নোক্ত চরণের মাধ্যমে এ বিষয়কেই বোঝানো হয়েছে।

৫. ‘আমার দেশের মানুষেরা সবে মুক্ত-উদার মনে আর্ত-ব্যথিত সুধী গুণীজন পাশে’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে এদেশের মানুষের সহানুভূতিশীল ও মানবিক পরিচয়ের দিকটিকে তুলে ধরা হয়েছে।
➠ কবিতাটিতে কবি এদেশের মানুষের মানবিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব দৃশ্যপট তুলে ধরেছেন। যেখানে দেশের সকল মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। ফলে তারা একে অপরের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। এ কারণে বিপদে-আপদে তারা একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়ায়। অন্যের অসুখ-অসুবিধা ও ব্যথার ভাগীদার হয়ে তারা সহানুভূতির অপূর্ব নজির স্থাপন করে। আলোচ্য চরণটির মাধ্যমে এদেশের মানুষের এই সহানুভূতিশীল ও মানবিক পরিচয়ের দিকটিকেই বোঝানো হয়েছে।

৬. ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি এদেশের প্রকৃতির যে চিত্র এঁকেছেন তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি এদেশের প্রকৃতির সমৃদ্ধ রূপটিকে তুলে ধরেছেন।
➠ কবিতাটিতে কবি এদেশের সহনীয় রৌদ্রতাপ এবং নমনীয় জল-বৃষ্টির সমন্বয়ে সৃষ্ট চমৎকার জলবায়ুর কথা বলেছেন। এছাড়াও এদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। ফলে এদেশের মাঠ সোনার ফসলে পরিপূর্ণ থাকে। বিভিন্ন ঋতুতেও এদেশে নানারকম ফুলের সমারোহ দেখা যায়। সবমিলিয়ে এদেশের প্রকৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও মনোলোভা।

৭. ‘আমার দেশ’ কবিতায় সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় এদেশের মানুষের মধ্যকার সৌহার্দ্যময় ও শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
➠ ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি এদেশের মানুষের শান্তিকামী মনোভাব এবং সম্প্রীতির নিদর্শন তুলে ধরেছেন। এরই অংশ হিসেবে নতুন জেগে ওঠা চরে গ্রামের মানুষদের পাশাপাশি ঘর বেঁধে থাকা, সুখ-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মতো সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহমর্মিতার চিত্র এঁকেছেন তিনি। এসবকিছু তাদের মধ্যকার সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহবস্থানকেই নির্দেশ করে।

৮. ‘আমার দেশ’ কবিতায় দেশপ্রেমই মূল সুর’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি দেশের অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতি এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের অনুপম বর্ণনার মধ্য দিয়ে মূলত দেশাত্ববোধের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
➠ ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি দেশপ্রেমকেই মুখ্যরূপে উপস্থাপন করেছেন। কবির প্রাণের ঘর এদেশের মাটিতেই মেশানো। কবির কাছে এদেশের জল, হাওয়া, প্রকৃতি তাই অসাধারণ সুন্দর। শুধু তাই নয়, এদেশের মাটি, মানুষ এমনকি এদেশের ভাষাও তাঁর কাছে অত্যন্ত মধুর। কবির এমন অনুভব মূলত তাঁর দেশাত্ববোধেরই নামান্তর। এ দিক বিচারে দেশপ্রেমই যে, ‘আমার দেশ’ কবিতার মূল সুর—এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

৯. ‘মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরা’ বলতে বিভিন্ন ঋতুতে এদেশের প্রকৃতিতে বৈচিত্র‍্যময় ফুলের সমারোহকে বোঝানো হয়েছে।
➠ প্রত্যেক ঋতুই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এদেশের প্রকৃতিতে এই ছয়টি ঋতু ভিন্নরকম সৌন্দর্যের দ্যোতনা দেয়। ঋতু অনুযায়ী এদেশের প্রকৃতিতে নানারকম ফুল ফোটে। শিউলি, হাস্নাহেনা, পলাশ এসকল ফুলের অন্যতম। এসকল ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য যেকাউকেই মুগ্ধ করে। আলোচ্য অংশে বিভিন্ন ঋতুতে এদেশের বুকে বাহারি ফুলের সমাহারকেই কবি 'মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরা' বলে অভিহিত করেছেন।

১০. ‘আমার দেশ’ কবিতায় বাংলার শাশ্বত রূপ ধরা পড়েছে— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় বাংলার চিরায়ত ও সমৃদ্ধ রূপটি মূর্ত হয়ে উঠেছে।
➠ ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতি ও পরিবেশ অনুযায়ী এদেশে নতুন ধরনের মৌসুমি ফুল ফুটে। এছাড়াও সহনীয় রৌদ্রতাপ এবং নমনীয় জল-বৃষ্টির সমন্বয়ে এদেশের জলবায়ু অত্যন্ত চমৎকার। এদেশের মাঠে সোনার ফসল ফলে। শুধু তাই নয়, এদেশের মানুষের জীবনও অত্যন্ত সহজ-সরল। মানবিকবোধের নিরিখে তারা একে অপরের সাথে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। এভাবে মানুষ ও প্রকৃতির বর্ণনার মধ্য দিয়ে কবিতাটিতে চিরায়ত বাংলার শাশ্বত রূপটিই যেন ফুটে উঠেছে।

১১. ‘এখানে প্লাবনে নুহের কিশ্তি ভার্সেস’ চরণটি বাংলার কোন চিত্রকল্পের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সেমিটিক পুরাণ অনুযায়ী, নুহের কিস্তি বা নৌকা মহাপ্লাবনের সময় মানুষকে বাঁচিয়েছিল, যা এদেশের নদীকেন্দ্রিক জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে।
➠ বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। প্রতিবছর বন্যা হয়, পাড় ভাঙে, মানুষ নৌকায় ভাসে কিংবা পারাপার হয় নৌকা করে। এককথায় নদী ও নৌকা এদেশের মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। মহাপ্লাবনের সময় নুহের কিশ্তি যেমন সকলকে রক্ষা করেছিল, তেমনি নদী ও নৌকা এদেশের মানুষের জীবনপ্রবাহকে যেন গতিশীল রেখেছে। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কবি সেই চিত্রই এঁকেছেন।

১২. ‘আমার দেশ’ কবিতায় ‘শান্তি-কপোত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় ‘শান্তি-কপোত’ বলতে শান্তির প্রতীক কবুতরকে বোঝানো হয়েছে।
➠ কপোত হলো কবুতর। আমাদের সংস্কৃতিতে কবুতরের একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এককালে দূর-দূরান্তে যোগাযোগের জন্য কবুতর ব্যবহার করা হতো। তাছাড়া শান্তির প্রতীক হিসেবেও কবুতরের বিশেষ মান্যতা রয়েছে। আলোচ্য কবিতায় কবুতরের সেই বৈশিষ্ট্যকে ইঙ্গিত করেই একে ‘শান্তি-কপোত’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

১৩. ‘আমার দেশ’ কবিতায় সাম্য, প্রীতির বিনিময় হয়েছে কীভাবে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় মানুষে মানুষে পারস্পরিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে সাম্য ও প্রীতির বিনিময় হয়েছে।
➠ কবির মতে, আমাদের দেশের মানুষেরা সবাই মুক্তমনা ও উদার। মানবিক আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তারা সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির মাধ্যমে শান্তির আবাস গড়ে তুলেছে। আর সেই চেতনা থেকে তারা সবাই একে অন্যের বিপদে-আপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। নিজেদের সুখ-দুঃখ পরস্পরের সাথে ভাগ করে নেয়। তাদের এমন সম্প্রীতি ও সহযোগী ভূমিকার চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে আলোচ্য কবিতায় সাম্য-প্রীতির বিনিময় দেখানো হয়েছে।

১৪. ‘আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘আমার দেশের এ মাটি মধুর, মধুর আমার ভাষা’ বলতে কবি নিজ মাতৃভূমি ও এর ভাষার সমৃদ্ধিকে বুঝিয়েছেন।
➠ ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি তাঁর নিজ দেশের প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। সে ভালোবাসার কারণেই কবির চোখে বাংলার মাটি, মানুষ ও এর ভাষা অসম্ভব রকম সুন্দর। তাছাড়া এ মাটিতে পা রেখে, এ ভাষায় কথা বলেই তিনি প্রাণস্ফূর্তি লাভ করেন। তাই আলোচ্য চরণটিতে নিজ মাটি ও মাতৃভাষা বাংলার প্রতি তাঁর সেই ভালোলাগাকে তুলে ধরেছেন।

১৫. ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি বাংলার প্রকৃতির কোন রূপটিকে তুলে ধরেছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি এদেশের চমৎকার জলবায়ু, মাঠ ভরা ফসল এবং ফুলে-ফলে পূর্ণ সমৃদ্ধ প্রকৃতির চিত্র তুলে ধরেছেন।
➠ ‘আমার দেশ’ কবিতায় প্রকৃতি অনেক সুন্দর। কবিতাটিতে কবি এদেশের সহনীয় রৌদ্রতাপ এবং নমনীয় জল-বৃষ্টির সমন্বয়ে সৃষ্ট চমৎকার জলবায়ুর কথা বলেছেন। এছাড়াও এদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। ফলে এদেশের মাঠ সোনার ফসলে পরিপূর্ণ থাকে। বিভিন্ন ঋতুতেও এদেশে নানারকম ফুলের সমারোহ দেখা যায়। সবমিলিয়ে এদেশের প্রকৃতি অত্যন্ত সুন্দর ও মনোলোভা।

১৬. ‘এখানে প্লাবনে নুহের কিশ্তি ভাসে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোচ্য অংশে এদেশের প্রকৃতিকে হজরত নূহ (আ.)-এর কিশ্তির সাথে তুলনা করে একে মানুষের রক্ষাকর্তা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে।
➠ অসম্ভবকে সম্ভব করা সোনার বাংলায় দুর্যোগ-দুর্বিপাক এলেও তা থেকে পরিত্রাণের উপায় রয়েছে। কেননা, কবি মনে করেন, নুহের কিশ্তির মতো এদেশের স্নেহচ্ছায়া সকলকে আগলে রেখেছে। যে-কোনো দুর্যোগ ও দুর্বিপাকে সেই শক্তিই দেশবাসীকে রক্ষা করে। তাছাড়া এদেশের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির যে বন্ধন, তাও সম্ভব হয়েছে দেশমাতৃকার স্নেহচ্ছায়ার কারণেই। প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

১৭. ‘আমার দেশের মাটিতে আমার প্রাণ, নিতি লভে নব জীবনের সন্ধান’— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: দেশাত্ববোধ উজ্জীবিত কবির প্রাণ যে, দেশের মাটিতেই প্রাণস্ফূর্তি লাভ করে প্রশ্নোক্ত চরণটিতে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
➠ কবি তাঁর মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। সংগত কারণেই এদেশের সাথে, দেশের মানুষের সাথে কবি গভীর একাত্মতা অনুভব করেন। আর তাই এদেশের মাটিতে পা রেখে তিনি স্বস্তি লাভ করেন। এ মাটির স্নেহস্পর্শ যেন কবিকে নব জীবনের সন্ধান দেয়, তাকে সজীব ও সতেজ করে তোলে। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কবির এমন অনুভবই ফুটে উঠেছে।

১৮. ‘সূর্য ঝলকে মৌসুমি ফুল ফুটে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা ঋতুর পরিবর্তনে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফুল ফোটার কথা বলা হয়েছে।
➠ ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতুর পরিবর্তনে প্রকৃতিতেও আসে ভিন্নতা। তাই ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতি ও পরিবেশ অনুযায়ী এদেশে নতুন ধরনের মৌসুমি ফুল ফুটে। আলোচ্য অংশটুকুতে ঋতু অনুযায়ী এসকল মৌসুমি ফুল ফোটার কথাই তুলে ধরা হয়েছে।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল!
সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-ফুল—
ঝিঙে ফুল।
গুলো পর্ণে
লতিকার কর্ণে
ঢলঢল স্বর্ণে
ঝলমল দোলে দুল—
ঝিঙে ফুল॥

ক. ‘কিস্তি’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে’—এ কথা দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপক ও ‘আমার দেশ’ কবিতায় বর্ণিত বিষয়ের সাদৃশ্যের দিকটি তুলে ধর।
ঘ. ‘বিষয়বস্তুর বর্ণনায় উদ্দীপক ও ‘আমার দেশ’ কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট’—যৌক্তিক বিশ্লেষণ কর।

ক. ‘কিস্তি’ শব্দের অর্থ নৌকা।
খ. ‘শান্তি-কপোত বারতা লইয়া আসে’—এই বাক্যটি কবির দৃষ্টিতে শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে কপোত বা পায়রাকে তুলে ধরেছে।
এখানে কপোত বা পায়রা (কবুতর) একটি ঐতিহ্যবাহী পাখি, যা শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। কবি এ বাক্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, দেশ এবং মানুষের মধ্যে শান্তি, বন্ধুত্ব, ও সহযোগিতার বার্তা এসে পৌঁছায়, যেমন কপোত শান্তির দূত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। কবি দেশের মাটি ও মানুষের মাঝে শান্তি ও প্রেমের বার্তা পৌঁছানোর গুরুত্বকে তুলে ধরেছেন, যেখানে সকলেই একে অপরকে সহযোগিতা ও সম্মান দেয়, এবং এই শান্তির বার্তা মানুষের হৃদয়ে অঙ্গীকার হয়ে থাকে। এটি একটি অন্তর্নিহিত আশাবাদ ও ভালোবাসার প্রতীক, যেখানে মানুষ একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাতে চায়।

গ. উদ্দীপক এবং ‘আমার দেশ’ কবিতার বর্ণিত বিষয়ের সাদৃশ্যটি প্রকৃতির সৌন্দর্য ও মানুষের প্রতি তার আকর্ষণের গভীর সম্পর্কের মধ্যে নিহিত।
উদ্দীপকে যেখানে ঝিঙে ফুলের কোমল দুলন্ত সৌন্দর্য এবং প্রকৃতির রঙিন বর্ণনার মাধ্যমে পরিবেশের পবিত্রতা ফুটে উঠেছে, সেখানে ‘আমার দেশ’ কবিতায়ও কবি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, যেমন সূর্য-আলো, মৌসুমী ফুল, নদী, চর, এবং স্নিগ্ধ আকাশের বর্ণনা দিয়েছেন। এখানে প্রকৃতি শুধু সৌন্দর্যই নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। কবি বলেছেন, "আমার দেশের মাটিতে আমার প্রাণ", যা প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রকাশ করে। উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের জীবনযাত্রার সাথে প্রকৃতির সুষম সমন্বয়ের একটি ছবি দেখা যায়।
উদ্দীপকে যেমন ঝিঙে ফুলের কোমলতা ও সৌন্দর্য মনের শান্তি সৃষ্টি করে, ঠিক তেমনি কবিতায় দেশের মাটি, নদী, ফুল এবং সূর্য-আলো মিলে মানুষের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং আশা নিয়ে আসে। কবি তার দেশকে তার প্রাণের সঙ্গে মিশে থাকা এক অমূল্য রত্ন হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং প্রকৃতির মধ্যে জীবনের রূপান্তর ও সুখ খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। দুটোই প্রকৃতির প্রশংসা করে, এবং তার মধ্যে মানুষের জীবনের সুন্দরতা ও সুখের সন্ধান পেয়েছে।

ঘ. উদ্দীপক এবং ‘আমার দেশ’ কবিতার বিষয়বস্তুর মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
প্রথমত, বিষয়বস্তুর সাদৃশ্য—উদ্দীপকে যেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য, যেমন ঝিঙে ফুল, সবুজ পাতার দেশে, দুলন্ত ফুল ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে, সেখানে ‘আমার দেশ’ কবিতায়ও প্রকৃতির নানা দিকের বর্ণনা রয়েছে, যেমন সূর্য-আলো, মৌসুমী ফুল, নদী, চর, এবং বনের সৌন্দর্য। উভয় ক্ষেত্রেই প্রকৃতির নানা রূপ তুলে ধরা হয়েছে এবং মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক অনন্য শান্তি ও সৌন্দর্য অনুভব করছে।
চেতনাগত পার্থক্য—তবে চেতনাগত দৃষ্টিকোণ থেকে পার্থক্য রয়েছে। উদ্দীপকে প্রকৃতি এবং তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হলেও এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ, ঝিঙে ফুলের নান্দনিক বর্ণনা একটি সাময়িক অভিজ্ঞতা। তবে ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বর্ণনা করেননি, বরং তা দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে। কবি প্রকৃতির মধ্যে জীবনের স্বপ্ন, জাতির গৌরব, শান্তি, ও মানবিকতার প্রেরণা খুঁজে পান। তাঁর দেশ শুধুমাত্র প্রকৃতির রূপ নয়, এটি একটি স্বপ্নদৃষ্টি, যেখানে মানুষের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়।
অতএব, উদ্দীপকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের অনুভূতি সীমাবদ্ধ থাকলেও ‘আমার দেশ’ কবিতায় দেশ এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের গভীর সম্পর্ক, ঐতিহ্য এবং জাতীয় চেতনা উত্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করে।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
রসুলপুর গ্রামের সবাই পাশাপাশি বসবাস করে। একে অন্যের বিপদে এগিয়ে আসে। সেবা, সাম্য, প্রীতি আর ভালোবাসা বিনিময়ের অনন্য দৃষ্টান্ত এ গ্রাম। এ গ্রামেরই ছেলে আরাফাত। তার স্কুলের বন্ধু জাহিদ একদিন তাদের বাসায় বেড়াতে আসে। জাহিদ বলে, অন্যের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে মানুষের ব্যক্তিগত উন্নতির দিকে নজর দেওয়া উচিত। কারণ, মানুষ সব সময় স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক। কিন্তু জাহিদের এমন কথা মানতে পারে না আরাফাত। সে মনে করে, মানুষ মানুষের জন্য।

ক. নতুন চরে পাশাপাশি ঘর বাঁধার মধ্য দিয়ে কী প্রকাশিত হয়েছে?
খ. ‘স্নিগ্ধ শরৎ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. তোমার পঠিত কবিতার মূলভাব কোন চরিত্র ধারণ করে? তোমার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দাও।
ঘ. “জাহিদের বক্তব্য ‘আমার দেশ’ কবিতার মূলভাবের সাথে সাংঘর্ষিক”—বিশ্লেষণ করো।

ক. নতুন চরে পাশাপাশি ঘর বাঁধার মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি প্রকাশিত হয়েছে।
খ. ‘স্লিপ শরৎ’ বলতে কবি শরৎকালের পরিষ্কার ও স্বচ্ছ আকাশকে বুঝিয়েছেন।
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। প্রত্যেক ঋতুই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যম-িত। সংগত কারণেই এদেশের প্রকৃতিতে এই ছয়টি ঋতু ভিন্নরকম সৌন্দর্যের দ্যোতনা দেয়। এর মধ্যে শরৎকালের আকাশ থাকে পরিষ্কার ও সুন্দর। শুধু মাঝে মাঝে সাদা মেঘ ঘুরে বেড়ায়। আলোচ্য কবিতায় শরৎকালের আকাশের এমন মোহনীয় দৃশ্য উপস্থাপনকল্পে কবি ‘স্নিগ্ধ শরৎ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন।

গ. আমার পঠিত কবিতা ‘আমার দেশ’ এর মূলভাব ধারণ করে আরাফাত। কারণ তার বক্তব্য, মানুষ মানুষের জন্য। ‘আমার দেশ’ কবিতায় ও আমরা তেমনটা লক্ষ করি। দুর্যোগ কেটে গেলে আবার মানুষ মানুষের পাশাপাশি ঘর বেঁধে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখে।
উদ্দীপকে আমরা দুটি চরিত্র দেখতে পাই, যার মধ্যে জাহিদ চরিত্রের দর্শন কবির দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত। যে কারণে আরাফাতকে জাহিদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে দেখি। কারণ কবির মতই আরাফাত বিশ্বাস করে, এ দেশের স্নিগ্ধ মাটিতে সবাই পাশাপাশি ঘর বেঁধে শান্তিতে বসবাস করবে। যেমন চরে ফেরা মানুষেরা পাশাপাশি ঘর বেঁধে নতুন অনুরাগে ফের বসবাস শুরু করে।
নদী যেমন আরেক নদীতে গিয়ে মিশে যায়, কিংবা বড়ো নদী যেমন সমুদ্রে গিয়ে মেশে, তেমনি কবির চোখে মানুষে মানুষ মিশে গিয়েছে। এ দেশের মানুষ সবাই মুক্ত, উদার এমনটা বলতেও কবি ভোলেননি। এ দেশের মানুষের পারস্পরিক মিলনের সহজ সুন্দর রূপ কবির চোখে ধরা দিয়েছে। যেখানে মানুষ আর্ত-ব্যথিতের পাশে দাঁড়ায় সেবা, সাম্য আর ভালোবাসার বিনিময় করে। জাহিদও এমনটায় প্রত্যাশা করে। মানুষ হবে মানুষের জন্য, স্বার্থপর কিংবা আত্মকেন্দ্রিক শুধু হবে না। সুতরাং ‘আমার দেশ’ কবিতার মূলভাব আরাফাত ধারণ করে।

ঘ. জাহিদের বক্তব্য আমার দেশ কবিতার সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ জাহিদ বলেছে, ‘অন্যের সাহায্যে কিংবা কল্যাণে এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে মানুষের ব্যক্তিগত উন্নতির দিকে নজর দেওয়া উচিত। কারণ মানুষ সবসময় স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক।’ তার এ বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হয় ‘আমার দেশ’ কবিতা কিংবা রসুলপুরগ্রামের দিকে তাকালে।
এদেশের মানুষের পাশাপাশি ঘর বাঁধার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন। ঝড়-ঝঞ্জা আর দুর্যোগের পর আবার সম্প্রীতিতে তারা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। যার মধ্যে কোনো স্বার্থপর হওয়া কিংবা আত্মকেন্দ্রিকতার কোনো চিত্র নেই, বরং তারা আর্ত-ব্যথিতের সেবায় এগিয়ে আসে। সেবা, সাম্য আর প্রীতি বিনিময় করে। লক্ষ প্রাণের মিলিত স্রোতধারার মহানন্দ তাদের মধ্যে বিরাজ করে। কিন্তু জাহিদের চিন্তাধারা অন্য রকমের। কারণ সে বিশ্বাস করে, মানুষ যেহেতু স্বার্থপর হয়; সুতরাং কারও বিপদে-আপদে এগিয়ে কোনো লাভ নেই। কিন্তু তার এমন বক্তব্য ‘আমার দেশ’ কবিতার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
তুমি যাবে ভাই—যাবে মোর সাথে,
আমাদের ছোটো গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী
বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,

ক. সুফিয়া কামালের গল্পগ্রন্থের নাম কী?
খ. ‘জীবনের ডাক আসে’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকটি তোমার পঠিত কবিতার কোন দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? তার পরিচয় দাও।
ঘ. “আমার দেশ কবিতায় এবং উদ্দীপকে কবি প্রকৃতি বর্ণনার চেয়ে মানব সম্পর্কেরই জয়গান গেয়েছেন।” মন্তব্যটি যাচাই করো।

ক. সুফিয়া কামালের গল্পগ্রন্থের নাম ‘কেয়ার কাঁটা’।
খ. জীবনের ডাক আসে বলতে কবি লক্ষ প্রাণের মিলিত ধারার সাথে মিলিত হবার ডাককে বুঝিয়েছেন।
আমার দেশ কবিতায় কবি তাঁর মাতৃভূমি বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আর তা করতে গিয়ে তিনি এদেশের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন। যেখানে সবাই মুক্ত-উদার মনে ব্যথিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। যাপিত জীবনের প্রয়োজনে সবাই একসাথে মিলেমিশে থাকে। এভাবে বহু প্রাণের সম্মিলনে এদেশের মানুষ শান্তির আবাসভূমি তৈরি করে। আলোচ্য কবিতায় জীবনের ডাক আসে বলতে এ বিষয়কেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকটি আমার পঠিত কবিতা ‘আমার দেশ’—এর সম্প্রীতি-ভালোবাসার সম্পর্ক, স্নেহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
কারণ ‘আমার দেশ’ কবিতায় আমরা পরস্পরের মহামিলনের চিত্র দেখতে পাই। বাংলার আবহমানকালের অপার মিলনের চিত্র উঠে এসেছে। যে বাংলার মানুষেরা একে অন্যর বিপদে এগিয়ে আসে। উদ্দীপকের কবিতাংশেও আমরা দেখতে পাই, সম্প্রীতির এক অসাধারণ দৃশ্য। যেখানে কবি তাঁর ছোটো গ্রামে আহ্বান করছেন। যেখানে মানুষ মায়া, মমতায় গলগলি করে বসবাস করে। সম্প্রীতির এক মহামিলনের চিত্র যেন এটি।
আর কবি তাঁর কবিতায় পঙক্তিতে সেই সম্প্রীতির রূপ এঁকেছেন। চরে ফেরা মানুষেরা পাশাপাশি ঘর বাঁধে। অথচ এই চর দখল নিয়ে মারামারি, হত্যাকান্ড। এরকম দৃশ্য ‘আমার দেশ’ কবিতায় দেখা যায় না। এইখানে মানুষের অন্তর অনুরাগে মেশানো। ভালোবাসা, সম্প্রীতির মহাকাব্য হয়ে উঠেছে তাই ‘আমার দেশ’ কবিতা। মানুষে সাথে মানুষের প্রাণের মিলন ঘটে এখানে। সেরকম দৃশ্যই উদ্দীপকে, যেখানে কবির আন্তরিক আহ্বান। স্নেহ আর প্রীতির বাহুডোর বাঁধবার করজোড় নিবেদন, তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে। সেই ছোট্ট গ্রামের মায়া ছড়ানো আঙিনায়। সুতরাং উদ্দীপকে আমার পঠিত কবিতার স্নেহের সম্পর্ক, সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্ববোধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. ‘আমার দেশ’ কবিতায় এবং উদ্দীপকে কবি প্রকৃতির বর্ণনার চেয়ে মানবসম্পর্কেরই জয়গান গেয়েছেন—মন্তব্যটি যথার্থ।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবির মূল লক্ষ্যই মানবিক সম্পর্কের জয়গান, যা আমরা দেখতে পাই পুরো কবিতাজুড়ে। এখানে প্রকৃতিও এসেছে বাংলার শান্ত-স্নিগ্ধ, মিষ্টি রূপ, কিন্তু তা যেন মানবিক আর সামাজিক সম্পর্কেই সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য। কবি দুর্যোগ দেখিয়েছেন, চর দেখিয়েছেন আর তা দেখানোর কারণ চরের মানুষের পাশাপাশি নিবিড়ভাবে ঘর বাঁধার জন্য। কবি সাগরের পানে ছুটে চলা নদীর কথা বলেছেন। কারণ প্রাণে প্রাণে মানুষের মিলন দৃশ্য দেখাবেন তাই। শান্তি-কপোত, অন্তর অনুরাগ, নতুন চর এমন শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে মানুষের সামাজিক বন্ধনের দৃঢ় রূপ দেখিয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে আমরা প্রীতিস্নিগ্ধ গ্রামের রূপ দেখি, কিন্তু সেখানে মূল উপস্থাপনার বিষয় মানবিক সম্পর্ক। সেখানে মানুষ কেমন আদরে জাড়াজড়ি করে বসবাস করছে। সুতরাং এ কথা বলা যায় যে, প্রকৃতি বর্ণনার চেয়ে মানবসম্পর্কেরই জয়গান গেয়েছেন।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
এ কি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লি-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবণি।
রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল
আম-কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।

ক. মানুষেরা আবার কোথায় নতুন করে পাশাপাশি ঘর বাঁধে?
খ. ‘নিতি নবরূপে ভরে ওঠে মন জীবনের আশ্বাসে’—ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘উদ্দীপকের অংশটুকু তোমার পঠিত কবিতার মাত্র একটি দিককেই ধারণ করে’ আলোচনা করো।
ঘ. উদ্দীপকে আর কোন কোন বিষয় যুক্ত হলে ‘আমার দেশ’ কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণরূপে ধারণ করত? বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘নতুন চরে’ আবার মানুষেরা পাশাপাশি ঘর বাঁধে।
খ. পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মীতার মাঝেই যে এদেশের মানুষ জীবনের সার্থকতা ও নতুন করে বাঁচার মানে খুঁজে পায়—প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে এ বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি দেশবাসীর মানবিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব চিত্র এঁকেছেন। সুখে-দুঃখে, এমনকি যে-কোনো দুর্যোগ ও দুর্বিপাকেও সব সময় এদেশের মানুষ মিলেমিশে থাকে। জীবনের নানান সংকটে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়। এভাবে মানুষে মানুষে প্রাণের মিলন ঘটিয়ে তারা সাম্য ও প্রীতির এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানুষের মধ্যকার এই সম্প্রীতি ও মানবিকবোধ যেন এদেশের মানুষকে 'নতুনভাবে বাঁচার আশ্বাস দেয়। প্রশ্নোক্ত চরণের মাধ্যমে এ বিষয়কেই বোঝানো হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের অংশটুকু আমার পঠিত কবিতার মাত্র একটি দিক—বাংলার স্নিগ্ধ প্রকৃতিকেই ধারণ করেছে।
‘আমার দেশ’ কবিতায় বাংলার চমৎকার রূপবৈচিত্র‍্য, সোনালি ফসল, সবুজ পাট, নানান রকম ফলমূলের বিবরণ আছে। এসেছে শরতের সুন্দর আকাশ, মৌসুমি ফুল। উদ্দীপকের অংশটুকুতেও আমরা বাংলার শান্তস্নিগ্ধ পল্লি প্রকৃতি দেখতে পাই। বাংলার রূপ ঝলমল করে তার কাদামাটি-জলে। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান একটি দেশ। এ দেশের মাটিতে নানারকম শস্য উৎপাদন করে দেশের মানুষ। সেই রূপ ধরা দেয় এ লাইনে। রৌদ্রতপ্ত বৈশাখের কড়ারূপও ধরা দিয়েছে উদ্দীপকে এবং সেই সাথে বাংলায় নানা রকম ফলমূল উৎপাদিত হয়—সেই চিত্রও এসেছে।
‘আমার দেশ’ কবিতাতেও সূর্য-ঝলকে মৌসুমি ফুল ফোটার দৃশ্য। স্নিগ্ধ শরতের ঝলমল আকাশ, মাঠভরা ধানের শিষের অপার মুগ্ধ হওয়ার রূপ কবির কলমে ধরা দিয়েছে। উদ্দীপকেও এই দিকটাতেই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে নুহের কিশ্তি ভাসার দৃশ্য, নতুন চর, সাগরের পানে নদীর ছুটে চলা, মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরে দেওয়া—এসব দৃশ্য প্রকৃতির লীলাময় রূপের উপস্থাপন ‘আমার দেশ’ কবিতায় খুব সাবলীলভাবে. এসেছে। যেমন উদ্দীপকে আমরা দেখেছি। সুতরাং প্রকৃতির রূপ বর্ণনার জায়গাতে উদ্দীপক কবিতার এই একটি দিককে ধারণ করে।

ঘ. উদ্দীপক আর যে বিষয়গুলো ধারণ করলে ‘আমার দেশ’ কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণরূপে ধারণ করত তা হলো: দেশপ্রেম, মানবিক এবং সামাজিক সম্পর্কের বন্ধন, মানুষে মানুষে প্রেম, প্রীতি, স্নেহ, ভালোবাসা।
‘আমার দেশ’ কবিতায় প্রকৃতির অপার স্নিগ্ধ-মুগ্ধকর রূপ ধরা দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আরও উপস্থাপিত হয়েছে সামাজিক, মানবিক সম্পর্কের বন্ধনের সুগঠিত রূপ। চরে ফেরা মানুষেরা দ্বন্দ্বে না ফিরে তারা পাশাপাশি ঘর নির্মাণ করে নতুন করে বসবাস শুরু করছে। আবার দেশপ্রেম দেখা যায়, কবি ঘোষণা করেন এ দেশের মাটিতেই তার প্রাণ মেশানো। আবার ভাষা প্রসঙ্গে বলেন, এ দেশের মাটি মধুর, ভাষা মধুর। সামাজিক বন্ধনের রূপ দেখান সেবা, সাম্য, প্রীতি বিনিময়ের মাঝ দিয়ে। আর্ত-ব্যথিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। মুক্ত উদার মনের মানুষ সবাই এমনটা বলতেও ভোলেননি, কিন্তু উদ্দীপকে আমরা এসব বিষয় পাইনি। সুতরাং উদ্দীপকে দেশপ্রেম, সামাজিক বন্ধন, মানবিক সম্পর্ক, প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা যুক্ত করলে ‘আমার দেশ’ কবিতার মূলভাব ধারণ সম্পূর্ণ হবে।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আমার দেশের মাটির গন্ধে ভরে আছে সারা মন
শ্যামল কোমল পরশ ছাড়া যে নেই কিছু প্রয়োজন।
প্রাণে প্রাণে যেন তাই এই সুর শুধু পাই
দিগন্ত জুড়ে সোনা রং ছবি এঁকে যাই সারাক্ষণ।

ক. স্নিগ্ধ শরৎ কী লুটে?
খ. ‘আমার দেশের মানুষেরা সবে মুক্ত-উদার মনে আর্ত-ব্যথিত সুধী গুণীজন পাশে’—ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘আমার দেশ’ কবিতায় বর্ণিত বিষয়ের সাদৃশ্যের দিকটি তুলে ধরো।
ঘ. “উদ্দীপক এবং ‘আমার দেশ’ কবিতার মূল সুর যেন একই।”—বিশ্লেষণ করো।

ক. স্নিগ্ধ শরৎ আকাশের ছায়া লুটে।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে এদেশের মানুষের সহানুভূতিশীল ও মানবিক পরিচয়ের দিকটিকে তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতাটিতে কবি এদেশের মানুষের মানবিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব দৃশ্যপট তুলে ধরেছেন। যেখানে দেশের সকল মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। ফলে তারা একে অপরের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। এ কারণে বিপদে-আপদে তারা একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়ায়। অন্যের অসুখ-অসুবিধা ও ব্যথার ভাগীদার হয়ে তারা সহানুভূতির অপূর্ব নজির স্থাপন করে। আলোচ্য চরণটির মাধ্যমে এদেশের মানুষের এই সহানুভূতিশীল ও মানবিক পরিচয়ের দিকটিকেই বোঝানো হয়েছে।

গ. উদ্দীপক ও ‘আমার দেশ’ কবিতার মধ্যে স্বদেশপ্রেম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনার সাদৃশ্য দেখা যায়।
উদ্দীপকে স্বদেশের রূপবৈচিত্রে‍্যর প্রতি কবির মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। স্বদেশের মাটির গন্ধে তাঁর মন ভরে থাকে। কবির মতোই সবার মনের অবস্থা। সবাই দেশের রূপ-সৌন্দর্যে মুগ্ধ। তাই স্বদেশের প্রকৃতির সৌন্দর্যের বাইরে কারো কিছুর প্রয়োজন নেই।
আমার পঠিত কবিতায় কবি বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের চিত্রকল্প উপস্থাপন করেছেন। যেখানে রয়েছে মৌসুমি ফুলের মাথায় সূর্যের ঝলক, স্নিগ্ধ শরতের আকাশ, মাঠভরা ধানের মৌহিনীরূপ। এছাড়াও কবির স্বপ্নীল চোখে রয়েছে নতুন জীবনের সন্ধান। নূহের কিস্তি কিংবা চরে ফেরা মানুষের পাশাপাশি ঘর বেঁধে সুখে-শান্তিতে বসবাসের অপরূপ চিত্র ভেসে ওঠে এখানে। তাই কবিতায় ভাষা পেয়েছে সোনালি ধানের সবুজ মাঠ, রং-বেরংয়ের ফলমূলে পূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। বাংলার সহনীয় জলবায়ু, এর রোদ-বৃষ্টি-জল-আকাশ সবকিছুই স্থান পেয়েছে কবিতার ছত্রে ছত্রে। তাই এখানে যে স্বদেশপ্রীতি প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের কবির স্বদেশপ্রীতির বর্ণনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “উদ্দীপক এবং ‘আমার দেশ’ কবিতার মূল সুর যেন একই।”—উক্তিটি যথাযথ।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি স্বদেশের সৌন্দর্যকে তুলে ধরেছেন। স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি এটি করেছেন। এই দিকটি উদ্দীপকের কবির চেতনায়ও প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে স্বদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি কবির যে মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে তা ‘আমার দেশ’ কবিতার কবির বক্তব্যের অনুরূপ। কেননা, এই কবিতায় কবি নিজস্ব রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে প্রকৃতির চিরকাল প্রাণময় থাকার কথা বলেছেন।
উদ্দীপকেও স্বদেশের শ্যামল-কোমল প্রকৃতির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে স্বদেশের রূপবৈচিত্রের প্রতি কবির মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। ‘আমার দেশ’ কবিতাও এর অনুরূপ। সেখানে এমন এক সোনার ফসলভরা মাঠের চিত্র তুলে ধরেছেন কবি, যেখানে শরতের আকাশ, মাঠভরা ধান, নদী সাগরের পানে চলার স্বাভাবিক রূপ অনন্য সাধারণ হয়ে ধরা দিয়েছে। সেখানে হাতের মুঠো ভরে যায় মৌসুমি ফুলে। অর্থাৎ স্বদেশপ্রেম ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনায় উদ্দীপকের কবিতাংশের সাথে ‘আমার দেশ’ কবিতার সাদৃশ্য চোখে পড়ে।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা।
তোমাতে বিশ্বময়ীর, তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা।
তুমি মিশেছ মোর দেহের সনে,
তুমি মিলেছ মোর প্রাণে মনে,
তোমার ঐ শ্যামল বরণ কোমল মূর্তি মর্মে গাঁথা।

ক. ‘ইতল বিতল’ ও ‘নওল কিশোরের দরবারে’ সুফিয়া কামালের কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
খ. ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি এদেশের প্রকৃতির যে চিত্র এঁকেছেন তা ব্যাখ্যা করো।
খ. উদ্দীপকটি কীভাবে ‘আমার দেশ’ কবিতাকে সমর্থন করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আমার দেশ’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করেছে।”—বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘ইতল বিতল’ ও ‘নওল কিশোরের দরবারে’ সুফিয়া কামালের শিশুতোষ গ্রন্থ।
খ. ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি এদেশের প্রকৃতির সমৃদ্ধ রূপটিকে তুলে ধরেছেন।
কবিতাটিতে কবি এদেশের সহনীয় রৌদ্রতাপ এবং নমনীয় জল-বৃষ্টির সমন্বয়ে সৃষ্ট চমৎকার জলবায়ুর কথা বলেছেন। এছাড়াও এদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। ফলে এদেশের মাঠ সোনার ফসলে পরিপূর্ণ থাকে। বিভিন্ন ঋতুতেও এদেশে নানারকম ফুলের সমারোহ দেখা যায়। সবমিলিয়ে এদেশের প্রকৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও মনোলোভা।

গ. জন্মভূমির সাথে নিবিড় বন্ধনের দিক দিয়ে উদ্দীপকটি ‘আমার দেশ’ কবিতাকে সমর্থন করে।
মানুষের কাছে জন্মভূমি অত্যন্ত প্রিয়। জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়েই মানুষ সমগ্র দেশকে আপন করে পেয়ে থাকে। তাই জন্মভূমির প্রতি মানুষ বিভিন্ন আঙ্গিকে ভালোবাসা প্রকাশ করে। এ প্রেম-ভালোবাসা প্রকাশের মধ্যে বৈচিত্র‍্য থাকতে পারে, কিন্তু উভয়ের উদ্দেশ্য মূলত এক ও অভিন্ন। ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি বাংলার রূপ তুলে ধরেছেন, ফুলে ফসলে ভরে যাওয়া বাংলার রূপ, মৌসুমি ফুলের গন্ধ আর মাঠভরা সোনালি ফসলের সৌন্দর্য কবির কবিতায় ধরা দিয়েছে। আর উদ্দীপকে জন্মভূমিকে সমগ্র সত্তা দিয়ে অনুভব করার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এখানে এদেশের শ্যামল কবির দেহ মনের সাথে গাঁথা পড়ে আছে। এদেশের আলো-বাতাস, মাটি, প্রকৃতি কবিকে স্নেহের বাঁধনে বেঁধেছে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি ‘আমার দেশ’ কবিতার জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আমার দেশ’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করেছে।”—উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ, ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্য এদেশের মানুষের অহংকার। এদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে মানুষ নিজেকে সম্পৃক্ত করে সবার সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে। ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্যকে রূপায়ণের পাশাপাশি দেশের মাটি, মানুষের প্রতি তাঁর অপার মমত্ববোধকে প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়গুলো বাংলার শ্যামল কোমল রূপের প্রসঙ্গে এসেছে।
উদ্দীপকের কবির কাছে দেশের মাটিই তাঁর প্রাণ, আর তা তাঁর দেহের সঙ্গেই মিশে আছে। কবি তাঁর জন্মভূমিতে মিশে থাকেন। তিনি তাঁর দেশের ভালোবাসার মধ্যে নিজের অবস্থান খুঁজেছেন। কারণ, এদেশের শ্যামল-কোমল রূপ তাঁর অন্তরে গ্রথিত। উদ্দীপকের এই ভাবনাটির সাথে ‘আমার দেশ’ কবিতার কবির শরীরে লেগে থাকা স্নিগ্ধ মাটির সুবাসের ভাবনাটি সাদৃশ্যপূর্ণ। একইভাবে জন্মভূমির প্রতি অনুরাগ, অনুভূতিও উদ্দীপকের সাথে একসূত্রে গাঁথা। উদ্দীপকের কবির যেমন দেশের মাটিতে প্রাণ বিরাজমান, কবিতাটিতেও তেমনি কবির প্রাণ মিশে রয়েছে মাতৃভূমির সাথেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা:-
ও যে, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে-দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
ও সে সকল দেশের রানি সে যে—আমার জন্মভূমি।

ক. ‘আমার দেশ’ কবিতায় বারতা নিয়ে আসে কে?
খ. ‘আমার দেশ’ কবিতায় সম্প্রীতির যে দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘আমার দেশ’ কবিতার সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আমার দেশ’ কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশ করেছে।” মন্তব্যটির সত্যতা নিরূপণ করো।

ক. ‘আমার দেশ’ কবিতায় শান্তি-কপোত বারতা নিয়ে আসে।
খ. ‘আমার দেশ’ কবিতায় এদেশের মানুষের মধ্যকার সৌহার্দ্যময় ও শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি এদেশের মানুষের শান্তিকামী মনোভাব এবং সম্প্রীতির নিদর্শন তুলে ধরেছেন। এরই অংশ হিসেবে নতুন জেগে ওঠা চরে গ্রামের মানুষদের পাশাপাশি ঘর বেঁধে থাকা, সুখ-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মতো সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহমর্মিতার চিত্র এঁকেছেন তিনি। এসবকিছু তাদের মধ্যকার সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহবস্থানকেই নির্দেশ করে।

গ. উদ্দীপকটি দেশাত্মবোধ এবং দেশমাতৃকার রূপ বর্ণনার দিক থেকে ‘আমার দেশ’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি চিরায়ত বাংলার অনিন্দ্যসুন্দর রূপটিকে তুলে ধরেছেন। এরই অংশ হিসেবে বাংলার ফসলভরা সোনালি মাঠ, মৌসুমি ফুলের প্রাচুর্য এবং প্রকৃতি ও জীবনের মানবিক মেলবন্ধনের চিত্র এঁকেছেন তিনি। এককথায় প্রকৃতি যেন সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে রেখেছে এদেশে।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি দেশমাতৃকার রূপ-সৌন্দর্যে বিমোহিত। সেই অনুভব থেকেই তিনি নিজ মাতৃভূমিকে সকল দেশের রানি বলে অভিহিত করেছেন। একইভাবে, ‘আমার দেশ’ কবিতায়ও কবি তাঁর স্বদেশকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন। ফলে ফুল-ফসলে পরিপূর্ণ দেশমাতৃকা তার কবিতায় ধরা দিয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর রূপে। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতা এবং উদ্দীপকের কবিতাংশ উভয়ক্ষেত্রেই কবিদ্বয় তাঁদের মাতৃভূমির রূপ-সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে এর গুণগান করেছেন। এর মূলে রয়েছে মাতৃভূমির প্রতি কবিদ্বয়ের প্রগাঢ় দেশপ্রেম। এদিক থেকে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “উদ্দীপকটি ‘আমার দেশ’ কবিতার আংশিক ভাব প্রকাশ করেছে”—মন্তব্যটি যথাযথ।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি আবহমান বাংলার অনিন্দ্যসুন্দর রূপটিকে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি সেখানে এদেশের প্রকৃতি ও মানুষের মানবিক মেলবন্ধন এবং মানুষে মানুষে সৌহার্দের বিষয়টিকেও উপজীব্য করেছেন কবি। সবমিলিয়ে কবিতাটিতে বিপুল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত চিত্র এঁকেছেন কবি।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তাঁর মাতৃভূমির গুণগান গেয়েছেন। কবির চোখে তার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ ধন-ধানে পরিপূর্ণ। তাছাড়া এদেশের সৌন্দর্যও তুলনারহিত। ফলে পৃথিবীর সকল দেশের মাঝে নিজ মাতৃভূমিকেই তিনি শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করেন। আর তাই কবির কাছে তাঁর জন্মভূমি সকল দেশের রানির মর্যাদা লাভ করেছে। আলোচ্য কবিতায়ও কবি তাঁর মাতৃভূমি বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি বাংলার রূপ-সৌন্দর্যের চমৎকার বিবরণ দিয়েছেন। পাশাপাশি আবহমানকাল ধরে বাংলার মানুষের পাশাপাশি অবস্থান এবং তাতে আন্তরিকতা ও ভালোবাসার অনন্যসাধারণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সেখানে লক্ষ প্রাণের মিলিত ধারার সঙ্গে মিশে জীবনের উচ্ছ্বাস, সকলের মুক্ত-উদার মনে ব্যথিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিত্র, সাম্য-প্রীতির বিনিময়সহ নানান দিক উঠে এসেছে। উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে এসকল বিষয় উপস্থাপিত হয়নি। সেখানে কেবল আলোচ্য কবিতায় ফুটে ওঠা দেশমাতৃকার রূপ-সৌন্দর্যের দিকটিই উঠে এসেছে, অন্যান্য দিক নয়। এ বিচারে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার আংশিক বা খ-িত ভাবকে ধারণ করেছে।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
অগ্রহায়ণ মাসের এক বিকেলে আসিফ আর আদনান তাদের গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা শীর্ণ নদীটির তীরে বসে গল্প করছিল। আদনান বলছিল, আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশ কতই না সুন্দর, তাই না? শরতের আকাশে তুলার মতো সাদা সাদা মেঘ। হেমন্তের সকালে কুয়াশাভেজা ঘাস, মাঠের পাকা ধান, কৃষকের ধান ঘরে তোলার দৃশ্য কত সুন্দর এসব প্রকৃতি। আসিফ তখন বলল, শুধু প্রকৃতিই নয়, এদেশের মানুষও অসম্ভব সুন্দর। তারা আবহমানকাল ধরে পরস্পর সম্প্রীতি আর সহমর্মিতা নিয়ে বসবাস করছে।

ক. ‘আমার দেশ’ কবিতায় কোন ফুল ফোটার কথা বলা হয়েছে?
খ. ‘আমার দেশ’ কবিতায় দেশপ্রেমই মূল সুর’—ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘আমার দেশ’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. তুমি কি আসিফের মন্তব্যের সাথে একমত? তোমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দাও।

ক. ‘আমার দেশ’ কবিতায় মৌসুমি ফুল ফোটার কথা বলা হয়েছে।
খ. ‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি দেশের অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতি এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের অনুপম বর্ণনার মধ্য দিয়ে মূলত দেশাত্ববোধের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি দেশপ্রেমকেই মুখ্যরূপে উপস্থাপন করেছেন। কবির প্রাণের ঘর এদেশের মাটিতেই মেশানো। কবির কাছে এদেশের জল, হাওয়া, প্রকৃতি তাই অসাধারণ সুন্দর। শুধু তাই নয়, এদেশের মাটি, মানুষ এমনকি এদেশের ভাষাও তাঁর কাছে অত্যন্ত মধুর। কবির এমন অনুভব মূলত তাঁর দেশাত্ববোধেরই নামান্তর। এ দিক বিচারে দেশপ্রেমই যে, ‘আমার দেশ’ কবিতার মূল সুর—এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

গ. উদ্দীপকে ‘আমার দেশ’ কবিতায় প্রকাশিত বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও মানুষের অন্তর্গত সৌন্দর্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘আমার দেশ’ কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল আবহমান বাংলাদেশের অসাধারণ সৌন্দর্যের রূপায়ণ ঘটিয়েছেন। যেখানে শরতের আকাশের কথা এসেছে, মাঠভরা ফসলের কথা এসেছে। পাশাপাশি নতুন জেগে ওঠা চরে মানুষের পাশাপাশি ঘর বাঁধার দৃশ্য রূপায়ণের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের সম্প্রীতিময় জীবনের কথকতাও ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের আসিফ ও আদনান নামের দুই বন্ধুর কথোপকথনে গ্রামবাংলার অনিন্দ্যসুন্দর রূপটি মনোমুগ্ধকরভাবে ফুটে উঠেছে। যেখানে শরতের আকাশের সাদা মেঘ, কৃষকের ঘরে ধান নিয়ে ঘরে ফেরার চোখজুড়ানো দৃশ্যসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে। একইভাবে, ‘আমার দেশ’ কবিতায়ও কবি আবহমান বাংলার চিরায়ত রূপটিকে তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি এদেশের ভূপ্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য এবং এখানকার মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবিক মেলবন্ধনের চিত্র তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার এ দিকটিই ফুটে উঠেছে।

ঘ. বাংলার ভূপ্রকৃতি এবং মানুষের অন্তর্গত সৌন্দর্য ও অন্বয় বিবেচনায় উদ্দীপকের আসিফের মন্তব্যের সাথে আমি একমত।
‘আমার দেশ’ কবিতায় আবহমান বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর বাইরে কবিতাটিতে মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহমর্মিতা, মৌসুমি ফুলের বাহারি সৌন্দর্যের চিত্রপটসহ বিপুল বাংলাদেশ যেন অনবদ্য রূপ লাভ করেছে।
উদ্দীপকের আসিফ ও আদনান দুই বন্ধু। অগ্রহায়ণের এক বিকেলে গল্প করার সময় তাদের কথোপকথনে বাংলার ভূপ্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের পাশাপাশি এদেশের মানুষের মানবিক মেলবন্ধনের কথাও উঠে আসে। যেখানে আসিফ মনে করে, আবহমানকাল ধরে এদেশের মানুষ সম্প্রীতি আর সহমর্মিতা নিয়ে বসবাস করছে। উদ্দীপকে বর্ণিত বাঙালিদের এই সম্প্রীতির চিত্র ‘আমার দেশ’ কবিতায়ও একইভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
‘আমার দেশ’ কবিতায় আমরা দেখি, এদেশের মানুষ একে অন্যের আনন্দ-বেদনার সঙ্গী হয়েছে। কেউ ব্যথিত হলে অন্যরা তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। শুধু তা-ই নয়, দুর্যোগের পর আবার তারা পাশাপাশি ঘর বেঁধেছে। মানুষের মধ্যকার মানবিক মেলবন্ধনের এই সহজ-সাবলীল রূপটিই ফুটে উঠেছে আলোচ্য কবিতায়। একইভাবে উদ্দীপকের আসিফও মনে করে, শুধু প্রকৃতিই নয়, এদেশের মানুষও অসম্ভব সুন্দর। আবহমানকাল ধরে তারা পরস্পর সম্প্রীতি আর সহমর্মিতা নিয়ে বসবাস করছে। সবাই মিলে তারা যেন মানবিক মেলবন্ধনের এক অপূর্ব অন্বয় তৈরি করেছে। এ দিক বিচারে উদ্দীপকের আসিফের মন্তব্যের সঙ্গে আমি সহমত পোষণ করি।


‘আমার দেশ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ
খুঁজিতে যাই না আর: অন্ধকারে জেগে উঠে ডুমুরের গাছে-
চেয়ে দেখি ছাতার মতো বড়ো পাতাটির নিচে বসে আছে
ভোরের দোয়েলপাখি।

ক. ‘আমার দেশ’ কবিতার বিষয়বস্তু কী?
খ. ‘মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. ‘বাংলার রূপ উপস্থাপনায় উভয় কবিই সিদ্ধহস্ত।’—আলোচনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে কবিতাংশে শুধু প্রকৃতি রূপায়িত হলেও ‘আমার দেশ’ কবিতায় দেশপ্রেম এবং মানবিক সম্পর্কের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।”—ব্যাখ্যা করো।

ক. ‘আমার দেশ’ কবিতার বিষয়বস্তু প্রকৃতি, দেশপ্রেম, মানবিক সম্পর্ক।
খ. ‘মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরা’ বলতে বিভিন্ন ঋতুতে এদেশের প্রকৃতিতে বৈচিত্র‍্যময় ফুলের সমারোহকে বোঝানো হয়েছে।
প্রত্যেক ঋতুই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এদেশের প্রকৃতিতে এই ছয়টি ঋতু ভিন্নরকম সৌন্দর্যের দ্যোতনা দেয়। ঋতু অনুযায়ী এদেশের প্রকৃতিতে নানারকম ফুল ফোটে। শিউলি, হাস্নাহেনা, পলাশ এসকল ফুলের অন্যতম। এসকল ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য যেকাউকেই মুগ্ধ করে। আলোচ্য অংশে বিভিন্ন ঋতুতে এদেশের বুকে বাহারি ফুলের সমাহারকেই কবি 'মৌসুমি ফুলে অঞ্জলি ভরা' বলে অভিহিত করেছেন।

গ. ‘বাংলার রূপ উপস্থাপনায় উভয় কবিই সিদ্ধহস্ত’—উক্তিটি যথাযথ।
উদ্দীপকের কবিতাংশটুকুতে শাশ্বত বাংলার রূপ দেখে কবি অভিভূত হয়েছেন। আর আমার পঠিত ‘আমার দেশ’ কবিতা ও কবি বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য উপস্থাপন করেছেন। যেখানে রয়েছে মৌসুমি ফুলের মাথায় সূর্যের ঝলক, স্নিগ্ধ শরতের আকাশ, মাঠভরা ধানের মোহিনীরূপ। কবি যেমন মুগ্ধ হয়েছেন বাংলার এমন অপরূপ সৌন্দর্যে, তেমনি আমাদেরও মুগ্ধ করেছেন। তাঁর স্বপ্নিল চোখে নতুন জীবনের সন্ধান, নুহের কিন্তুি কিংবা চরে ফেরা মানুষ। মাটি আর মানুষের কাছের কবি তাই প্রতিদিনকার নানারূপ প্রত্যক্ষ করেছেন পৃথিবীর। আর সেই সবই ভাষা পেয়েছে তাঁর লেখায়। তাঁর চোখে তাই সোনালি ধানের সবুজ মাঠ, নানা রংয়ের ফলমূলের বাংলাদেশ। বাংলার সহনীয় জলবায়ু, এর রোদ, বৃষ্টি, জল, আকাশ জায়গা পায় তাঁর কবিতার স্তবকে।
তেমনি উদ্দীপকের কবিতাংশটুকুতে বাংলার রূপে অভিভূত কবি কোথাও যেতে চায় না। এই জল, হাওয়া, অন্ধকার, ডুমুরের গাছের সাথে কবির জীবন বাঁধা। বড়ো পাতার নিচে বসে থাকা দোয়েল পাখির এমন অসাধারণ দৃশ্য নির্মাণ করেছেন তাঁর কবিতায়। সুতরাং বাংলার রূপ উপস্থাপনে উভয় কবিই সিদ্ধহস্ত।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে শুধু প্রকৃতি রূপায়িত হলেও ‘আমার দেশ’ কবিতায় দেশপ্রেম এবং মানবিক সম্পর্কের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
আমার পঠিত কবিতা ‘আমার দেশ’—এ প্রকৃতির রূপায়ণের পাশাপাশি কবি সুফিয়া কামাল দেশপ্রেম এবং মানবিক সম্পর্কের জয়গানও গেয়েছেন। দেশের মাটি, মানুষের প্রতি তাঁর অপার মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। কবির কাছে এ দেশের মাটি মধুর এবং এ দেশের ভাষাও মধুর। কবি স্পষ্টভাবে কবিতায় উল্লেখ করেছেন, দেশের মাটিতে তাঁর প্রাণ মেশানো আছে।
কিন্তু উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকৃতির রূপায়ণ পেলেও দেশপ্রেম কিংবা মানবিক সম্পর্কের এমন উপস্থাপন দেখি না। কবি দোয়েল পাখিকে মুখ হয়ে দেখেন, অন্ধকারে বাংলার রূপ তাকে মুগ্ধ করে। কিন্তু তাতে মানুষ আসেনি, সামাজিক সম্পর্ক, আনন্দ, বেদনা, হাসি-কান্নার মানবিক সম্পর্ক দেখতে পাইনি। সুতরাং উদ্দীপকের কবিতাংশে শুধু প্রকৃতি রূপায়িত হলেও ‘আমার দেশ’ কবিতায় দেশপ্রেম এবং মানবিক সম্পর্কও উপস্থাপিত হয়েছে।


তথ্যসূত্র:
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url