ঋতু বর্ণন- আলাওল

ঋতু বর্ণন
ঋতু বর্ণন

ঋতু বর্ণন
আলাওল

প্রথমে বসন্ত ঋতু নবীন পল্লব
দুই পক্ষ আগে পাছে মধ্যে সুমাধব
মলয়া সমীর হৈলা কামের পদাতি
মুকুলিত কৈল তবে বৃক্ষ বনস্পতি
কুসুমিত কিংশুক সঘন বন লাল।
পুষ্পিত সুরঙ্গ মল্লি লবঙ্গ গুলাল
ভ্রমরের ঝঙ্কার কোকিল কলরব
শুনিতে যুবক মনে জাগে অনুভব॥
নানা পুষ্প মালা গলে বড় হরষিত
বিচিত্র বসন অঙ্গে চন্দন চর্চিত

নিদাঘ সমএ অতি প্রচণ্ড তপন
রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ
চন্দন চম্পক মাল্য মলয়া পবন
সতত দম্পতি সঙ্গে ব্যাপিত মদন

পাবন সময় ঘন ঘন গরজিত
নির্ভয়ে বরিষে জল চৌদিকে পূরিত
ঘোর শব্দে কৈলাসে মল্লার রাগ গাএ।
দাদুরী শিখিনী রব অতি মন ভাএ
কীটকুল রব পুনি ঝঙ্কারে ঝঙ্কারে।
শুনিতে যুবক চিত্ত হরষিত ডরে॥
আইল শারদ ঋতু নির্মল আকাশে।
দোলাএ চামর কেশ কুসুম বিকাশে॥
নবীন খঞ্জন দেখি বড়হি কৌতুক।
উপজিত যামিনী দম্পতি মনে সুখ॥
প্রবেশে হেমন্ত ঋতু শীত অতি যায়।
পুষ্প তুল্য তাম্বুল অধিক সুখ হয়॥
শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ।
অতি দীর্ঘ সুখ নিশি পলকে পোহাএ॥
পুষ্প শয্যা ভেদ ভুলি বিচিত্র বসন।
উরে উরে এক হৈলে শীত নিবারণ॥
কাফুর কস্তুরী চুয়া যাবক সৌরভ।
দম্পতির চিত্তেত চেতন অনুভব॥
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার উৎস নির্দেশ:
আলাওলের ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতাটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘পদ্মাবতী’র ঋতু বর্ণন খণ্ড থেকে সংক্ষেপিত আকারে সংকলিত।

‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার পাঠ বিশ্লেষণ:

প্রথমে বসন্ত ঋতু নবীন পল্লব।
দুই পক্ষ আগে পাছে মধ্যে সুমাধব॥

কবি প্রথমে বসন্ত ঋতুর বর্ণনা দিয়েছেন। বসন্ত ঋতুতে গাছে নতুন পাতার আগমন ঘটে।গ্রীষ্মকাল ও শীতকালের মাঝে উত্তম বসন্তকাল। রয়েছে।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা:

➠ নবীন- নতুন।
➠ পল্লব- গাছের পাতা।
➠ নবীন পল্লব- গাছের নতুন পাতা।
➠ সু- উত্তম।
➠ সুমাধব- উত্তম বসন্তকাল।
➠ দুই পক্ষ- ১ পক্ষ হলো ১৫ দিন; আর দুই পক্ষ হলো ৩০ দিন। এখানে দুই পক্ষ বলতে শীত ও গ্রীষ্মকাল।কে বুঝিয়েছে।
➠ মলয়া- দখিন; দক্ষিণ।
➠ মলয়া সমীর- দখিনা স্নিগ্ধ বাতাস।
➠ হৈলা- হলো; হয়েছে।
➠ কামের- কামদেব-এর। প্রেমের দেবতার।
➠ পদাতি- পদচারী সৈনিক। সংবাদবাহক।
➠ কৈল- করিল; করল
➠ বনস্পতি- যে বৃক্ষে ফুল ধরে না শুধু ফল হয়। যেমন: অশ্বত্থ, বট ইত্যাদি বৃক্ষ।
➠ কুসুমিত- পুস্পিত; ফুলে ভরে গেছে।
➠ কিংশুক- পলাশ ফুল বা বৃক্ষ।
➠ সুরঙ্গ- সুন্দর রঙ। শোভন বর্ণ।
➠ মল্লি- বেলিফুল। বেলফুল।
➠ লবঙ্গ- একপ্রকার ফুল। মসলা।
➠ গুলাল- আবির। ফাগ। সুগন্ধি রঞ্জক দ্রব্য।
➠ ভ্রমর- মৌমাছি।
➠ ঝঙ্কার- বীণাযন্ত্রের শব্দ। গুঞ্জন।
➠ কলরব- বহুকণ্ঠের সম্মিলিত গুঞ্জন, কোলাহল।
➠ পুষ্প- ফুল।
➠ অনুভব- উপলব্ধি; অনুভূতি।
➠ হরষিত- আনন্দিত; উল্লাসিত।
➠ গলে- জড়িয়ে।
➠ বসন- পরিধানের কাপড়, পরিধেয় বস্ত্র।
➠ অঙ্গে- শরীরে; দেহে।
➠ চন্দন- সুগন্ধি কাঠবিশেষ ও তার গাছ।
➠ চর্চিত- প্রলেপ/লেপন করা হয়েছে।

➠ নিদাঘ- গ্রীষ্মকাল। উত্তাপ।
➠ সমএ- সময়।
➠ তপন- তাপ; সূর্য।
➠ ত্রাসে- রোদের ভয়ে।
➠ রহে- থাকে।
➠ চরণে- পায়ে।
➠ সরণ- শরণ অর্থে ব্যবহৃত। আশ্রয়।
➠ চম্পক- চাঁপা ফুল ও তার গাছ; চম্পা ফুল।
➠ মাল্য- ফুলের মালা।
➠ চম্পক মাল্য- চম্পা ফুলের মালা।
➠ মলয়া- দক্ষিণ; দখিনা।
➠ পবন- বাতাস।
➠ মলয়া পবন- দখিনা/দক্ষিণের স্নিগ্ধ বাতাস।
➠ ব্যাপিত- বিস্তৃত।

➠ গরজিত- গম্ভীর শব্দে/ধ্বনিতে ধ্বনিত।
➠ সতত -সদা, সর্বদা, নিরন্তর।
➠ পাবন- প্লাবন।
➠ বরিষে- বর্ষিত হচ্ছে। অজস্র ধারায় বৃষ্টিপাত।
➠ চৌদিকে- চারিদিকে।
➠ পূরিত- পূর্ণ। ভরা। ভরপুর।
➠ কৈলাস- শিবের বাসস্থান। হিমালয় পর্বতের একটি অংশ।
➠ মল্লার- মালহার; সংগীতের একটি রাগ; রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে গাওয়া হয়।
➠ মল্লার রাগ- বর্ষা ঋতুর রাগ বিশেষ।
➠ দাদুরী- মাদি ব্যাঙ। ভেকী। আর পুরুষ ব্যাঙকে বলা হয় দাদুর।
➠ শিখিনী/শিখিনী- ময়ূরী। আর শিখিন হলো ময়ূর।
➠ রব- আওয়াজ; শব্দ।
➠ অতি মন ভাএ- মনে অনেক ভাব জাগে।
➠ পুনি- পুনরায়।
➠ আইল- আগমন ঘটা।
➠ শারদ ঋতু- শরৎঋতু।
➠ নির্মল- স্বচ্ছ; শুভ্র।
➠ নির্মল আকাশ- স্বচ্ছ/পরিষ্কার আকাশ।
➠ চামর- পাখা বিশেষ। চমরী- গরুর পুচ্ছ দিয়ে তৈরি পাখা।
➠ খঞ্জন- এক জাতীয় চঞ্চল পাখি।
➠ উপজিত- উপস্থিত হয়। উৎপন্ন।
➠ যামিনী- রাত্রি; রজনী।
➠ তাম্বুল- পান। একপ্রকার পাতা যা সুপারি চুন ইত্যাদি সহযোগে খাওয়া হয়।
➠ তরাসে- ভয়ে। ত্রাসে।
➠ তুরিতে- দ্রুত। শীঘ্র। তাড়াতাড়ি।
➠ কাফুর- কপূর। শুভ্র গন্ধদ্রব্য বিশেষ।
➠ কস্তুরী- মৃগনাভি।
➠ চুয়া- গন্ধদ্রব্য। একপ্রকার সুগন্ধি ঘন নির্যাস।
➠ যাবক- আলতা।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি:

প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয় আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুগে যুগে মানুষ হয়েছে মুগ্ধ। মুগ্ধ হয়েছেন সংবেদনশীল কবিগণও। ঋতু বর্ণনা মধ্যযুগের কাব্যের এক স্বাভাবিক রীতি।

কবি আলাওল এই ঋতু বর্ণনায় প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সাথে মানব মনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। বসন্তের নবীন পত্রপুষ্প, মলয় সমীর, ভ্রমর-গুঞ্জন ও কোকিলের কুহুতান; গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তপনের রৌদ্র ত্রাস ও ছায়ার গুরুত্ব; বর্ষার মেঘ গর্জন, অবিরল বৃষ্টিজলে স্নাত প্রকৃতি, একটানা দাদুরী শিখীনি রব; শরতের নির্মল আকাশ, ফুলের চামর দোলা, খঞ্জনার নাচ; শরৎ বিদায়ে হেমন্তে পুষ্পতুল্য তাম্বুলের সুখ এবং শীতের ত্রাসে ত্বরিত সূর্য ডুবে যাওয়া, রজনীতে সুখী দম্পতির চিত্তসুখ ইত্যাদি চমৎকারভাবে বর্ণিত হয়েছে কবিতাটিতে। ষড়ঋতুর বর্ণনার ভেতর দিয়ে কবি বাংলার প্রকৃতির রূপ-মাধুরী তুলে ধরেছেন। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য বাংলার নিসর্গ-রূপকে যে সমৃদ্ধ করেছে তা এ কাব্যাংশ থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার কবি পরিচিতি:
আলাওল সতেরো শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দে ফতেহাবাদ পরগনার জালালপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তরুণ বয়সে জলপথে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময়ে তাঁর পিতা ও তিনি পর্তুগিজ জলদস্যুদের কবলে পড়েন। এই আক্রমণে তাঁর পিতা নিহত হন। তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে আরাকানে উপস্থিত হন। সেখানে প্রথমে আরাকান রাজের সেনাদলে কাজ পান তিনি; ক্রমে রাজদরবারের প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের কৃপাদৃষ্টি লাভ করেন এবং ভুক্ত হন। তাঁরই পৃষ্ঠপোষকয় এবং কাব্যপ্রতিভা ও বিদ্যাবুদ্ধির গুণে আলাওল ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন। রাজসভার শিক্ষিত ও পদস্থ ব্যক্তিদের সাহচর্যে থেকে তিনি কাব্যচর্চা করেছেন। তাঁর রচনায় নাগরিক চেতনা ও রুচির ছাপ সুস্পষ্ট। সংস্কৃত, আরবি, ফারসিসহ বিভিন্ন ভাষায় ব্যুৎপন্ন আলাওল অসামান্য পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। শিল্পকুশলী এই কবির অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে- কাব্য: ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল’, ‘হপ্ত পয়কর’, ‘সিকান্দরনামা’; নীতিকবিতা ‘তোহফা’; সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য: ‘রাগতালনামা’
আলাওল ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:

১. আলাওল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ফতেহাবাদ পরগনার (বর্তমান ফরিদপুর জেলা) জালালপুরে।
২. আলাওল কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দে।
৩. সুমাধব কী বোঝায়?
উত্তর: উত্তম বসন্তকাল।
৪. মলয়া সমীরের মানে কী?
উত্তর: দখিনা স্নিগ্ধ বাতাস।
৫. কামের অর্থ কী?
উত্তর: কামদেবের, প্রেমের দেবতার।
৬. আলাওলের পিতার নাম কী?
উত্তর: আলাওলের পিতার নাম জানা যায়নি।
৭. আলাওল কোথায় আক্রমণের শিকার হন?
উত্তর: পর্তুগিজ জলদস্যুদের কবলে পড়েন।
৮. পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণের পর আলাওল কোথায় পৌঁছান ?
উত্তর: আরাকানে পৌঁছান।
৯. আলাওল কোন রাজদরবারে প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের কৃপাদৃষ্টি লাভ করেন?
উত্তর: আরাকান রাজদরবারে।
১০. কৈল শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: কৈল শব্দের অর্থ করিল।
১১. বনস্পতি কী ধরনের বৃক্ষ?
উত্তর: যে বৃক্ষে ফুল ধরে না, শুধু ফল হয়।
১২. কিংশুক কী?
উত্তর: কিংশুক পলাশ ফুল বা বৃক্ষ।
১৩. আলাওল কোন কাব্য রচনা করেন?
উত্তর: আলাওল পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন।
১৪. আলাওল কোন ভাষায় পা-িত্য অর্জন করেছিলেন?
উত্তর: সংস্কৃত, আরবি, ফারসি পা-িত্য অর্জন করেছিলেন।
১৫. আলাওল কোন কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন?
উত্তর: সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন।
১৬. আলাওল কখন মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: আলাওল ১৬৮০ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
১৭. আলাওল কোন কাব্য রচনা করেন যা সঙ্গীতবিষয়ক?
উত্তর: রাগতালনামা কাব্য রচনা করেন যা সঙ্গীতবিষয়ক।
১৮. সুরঙ্গ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: সুরঙ্গ শব্দের অর্থ সুন্দর রঙ, শোভন বর্ণ।
১৯. মল্লি কী?
উত্তর: বেলিফুল।
২০. লবঙ্গ কী?
উত্তর: লবঙ্গ একপ্রকার ফুল, মসলা।
২১. আলাওলের “ঋতু বর্ণন” কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: আলাওলের “ঋতু বর্ণন” কবিতাটি ‘পদ্মাবতী’র ঋতু বর্ণন খ- থেকে নেওয়া হয়েছে।
২২. বসন্তে কোন ফুল মুকুলিত হয়?
উত্তর: বসন্তে কৈল ফুল মুকুলিত হয়।
২৩. গ্রীষ্মের তাপ কোন ঋতুর আগমনের ইঙ্গিত দেয়?
উত্তর: গ্রীষ্মের তাপ বর্ষা ঋতুর আগমনের ইঙ্গিত দেয়।
২৪. বর্ষার সময় কোন রাগের গুঞ্জন শোনা যায়?
উত্তর: বর্ষার সময় মল্লার রাগের গুঞ্জন শোনা যায়।
২৫. গুলাল কী?
উত্তর: আবির, ফাগ।
২৬. ঝঙ্কার কী?
উত্তর: বীণাযন্ত্রের শব্দ, গুঞ্জন।
২৭. শরতে কোন পাখির নাচ দেখা যায়?
উত্তর: শরতে খঞ্জন পাখির নাচ দেখা যায়।
২৮. কিংশুক ফুলের রঙ কী রকম?
উত্তর: কিংশুক ফুলের রঙ গাঢ় লাল।
২৯. বর্ষার সময় কৈলাসে কী রাগের ছোঁয়া লাগে?
উত্তর: বর্ষার সময় কৈলাসে মল্লার রাগের ছোঁয়া লাগে।
৩০. শীতকালে কোন সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: শীতকালে কাফুর, কস্তুরি ও চুয়া সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়।
৩১. বসন্ত ঋতুতে কোন পাখির ডাক শোনা যায়?
উত্তর: বসন্ত ঋতুতে কোকিলের মধুর কুহুতান শোনা যায়।
৩২. কোন ঋতুতে নবীন পল্লব দেখা যায়?
উত্তর: বসন্ত ঋতুতে নবীন পল্লব দেখা যায়।
৩৩. হেমন্তে কোন বস্তু অধিক সুখদায়ক মনে হয়?
উত্তর: হেমন্তে তাম্বুল বা পান অধিক সুখদায়ক মনে হয়।
৩৩. বর্ষার সময় কোন রাগ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়?
উত্তর: বর্ষার সময় মল্লার রাগ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যায়।
৩৪. সরণ কী?
উত্তর: সরণ মানে আশ্রয়।
৩৫. বরিষে শব্দের মানে কী?
উত্তর: বর্ষিত হচ্ছে, অজস্র ধারায় বৃষ্টিপাত।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

১. ‘রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ’ বলতে গ্রীষ্মে সূর্য্যরে প্রখরতায় মানুষের ছায়াও চরণতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি আলাওল গ্রীষ্মের তাপদাহের কথা বলেছেন। এ সময় সূর্য্যরে প্রচ- তাপ থাকে। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের আগমনে চারদিক প্রচন্ড উত্তাপে ফেটে পড়ে। সূর্য তার সমস্ত রাগ নিয়ে যেন হাজির হয়। রৌদ্রের এই প্রখরতার জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। সূর্য্যরে কিরণ থাকে মাথার উপর। ফলে দুপুরে ছায়াও মানুষের সোজা পায়ের নিচ বরাবর যেন আশ্রয় নেয়। আর এ বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

২. পাবন সময়ে চারপাশ জলে ভরে যায় কেন?
উত্তর: পাবন সময়ে বর্ষার অবিরাম বৃষ্টির ধারায় চারপাশ পানিতে ভরে ওঠে।
বর্ষাকালে প্রতিনিয়তই ঝরতে থাকে অবিরল বৃষ্টির ধারা। বৃষ্টির পূর্বমুহূর্তে ঘন ঘন মেঘের গর্জনে মুখরিত হয় প্রকৃতি। কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা না করে বৃষ্টির জল অবিরাম বর্ষিত হয়। ফলে চারদিকে পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এভাবে থই থই পানিতে বর্ষাকালে এক মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়।

৩. ‘রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ’ বলতে গ্রীষ্মে সূর্য্যরে প্রখরতায় মানুষের ছায়াও চরণতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি আলাওল গ্রীষ্মের তাপদাহের কথা বলেছেন। এ সময় সূরে‌্যর প্রচ- তাপ থাকে। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের আগমনে চারদিক প্রচন্ড উত্তাপে ফেটে পড়ে। সূর্য তার সমস্ত রাগ নিয়ে যেন হাজির হয়। রৌদ্রের এই প্রখরতার জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। সূর্য্যরে কিরণ থাকে মাথার উপর। ফলে দুপুরে ছায়াও মানুষের সোজা পায়ের নিচ বরাবর যেন আশ্রয় নেয়। আর এ বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

৪. ‘শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘শীতের তরাসে বৃবি তুরিতে লুকাএ।’- চরণটি দ্বারা শীতকালে তাড়াতাড়ি সূর্যাস্ত এবং দিনের স্বল্প ব্যাপ্তির দিকটি উপস্থাপন করা হয়েছে।
শীত ঋতুতে প্রচন্ড ঠান্ডা যেন সূরে‌্যর উপর ত্রাস সৃষ্টি করে। শীতের ভয়ে সূর্য দ্রুত অস্ত যায়। এ সময় রোদে তেমন তেজ থাকে না। শীতের কাছে পরাজয় স্বীকার করে সূর্য দিগন্তে লুকিয়ে যায়। এ বিষয়টি বোঝাতেই ‘শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ’- চরণটির অবতারণা হয়েছে।

৫. ‘অতি দীর্ঘ সুখ নিশি পলকে শোধা’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: শীতকালের রাত দীর্ঘ হলেও সুখানুভূতির কারণে তা দ্রুত শেষ হয় বোঝাতে কবি আলোচ্য উক্তিটি করেন।
‘ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের সাথে মানবমনের গভীর সম্পর্কের দিকটি বর্ণনা করেন। প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রমে মানবমনের অনুভবের জগতেও পরিবর্তন ঘটে। প্রকৃতিতে শীতকাল এলে মানবমনে নতুন সুখানুভূতি তৈরি হয়। শীতে দিন হোটো হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়। তবে এই দীর্ঘ রাতও কবির মতে সুখানুভূতি তৈরি করে। ফলে খুব দ্রুতই যেন এই রাত শেষ হয়ে যায়। কবি মূলত শীতের আনন্দ ও ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রমে মানব মনের পরিবর্তনকে বুঝিয়েছেন।

৬. ‘কুসুমিত কিংশুক সঘন বন লাল’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি প্রশ্নোক্ত চরণটিতে পলাশ ফুলে ফুলে বন লাল হওয়ার কথা বুঝিয়েছেন।
বসন্ত ঋতুতে চারদিক নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। পূর্বের রূঢ়তা, রুক্ষতা মুছে ফেলে প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে। তখন গাছে গাছে নতুন নতুন পাতা দেখা যায়। প্রকৃতি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বসন্তের নানা দিক উঠে এসেছে। বসন্ত মানেই প্রকৃতিতে নানা রং নানা ফুল ও পাখির ছড়াছড়ি। এ সময় ভ্রমরের গুঞ্জন এবং কোকিলের কলরবে চারদিকে মুখরিত হয়ে ওঠে। পলাশ ফুলে ফুলে ঘন বন যেন লাল হয়ে ওঠে। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কবি এ বিষয়টিই বুঝিয়েছেন।

৭. ‘দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ।’- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা বর্ষাকালে ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাক এবং এর মাধ্যমে মানবমনে সৃষ্ট পুলকের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় কবি আলাওল বর্ষায় প্রকৃতি চিত্রিত করতে মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। বর্ষাকালে প্রায়শই এদের ডাক শোনা যায়। প্রকৃতিতে ব্যাঙ ও ময়ূরীর এই কলধ্বনি মানুষের চিত্তকেও আন্দোলিত করে। প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন যেন মানবমনেও ভাবের সঞ্চার ঘটায়।

৮. ‘পাবন সময় ঘন ঘন গরজিত/ নির্ভয়ে বরিষে জল চৌদিকে পূরিত।’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: বর্ষাকালে মেঘের গর্জন ও অবিরল বৃষ্টির জলে প্রকৃতিতে যে সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তা বোঝাতে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় ঋতুর রূপবৈচিতত্র্যের কথা বলা হয়েছে। বর্ষাকালের আগমনে প্রকৃতি সতেজ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির সময় আকাশে যে মেঘ হয় তার রূপে সেজে ওঠে প্রকৃতি। বৃষ্টির পূর্বমূর্ষুতে ঘন ঘন মেঘের গর্জনে মুখরিত হয় প্রকৃতি। ঝরতে থাকে অবিরল বৃষ্টি ধারা। বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয় জলাশয়গুলো। থই থই পানিতে মনোরম এক পরিবেশ তৈরি হয় বর্ষাকালে। বৃষ্টি আপন মনে ঝরতে থাকে। সে যেন কোনো কিছুকেই ভয় পায় না, আপন বর্ষণের ধারায় প্রকৃতিকে ভরপুর করে দেয়। তাই কবি বর্ষাকালে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে আলোচ্য উক্তিটি করেন।

৯. ‘ঘোর শব্দে কৈলাসে মল্লার রাগ গাএ’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘ঘোর শব্দে কৈলাসে মল্লার রাগ গাএ'- বলতে কবি বর্ষাকালে প্রকৃতির আপন মনে গান গেয়ে যাওয়াকে বুঝিয়েছেন।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয় আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবে। বর্ষার বৃষ্টিতে থই থই করে চারদিক। রাতে বৃষ্টির শব্দ যেন আরও বেড়ে যায়। চারদিকে সুনসান নীরবতার কারণে বৃষ্টির প্রচ- শব্দকে মনে হয় যেন হিমালয় পর্বতে গাওয়া মালহার। মূলত চারদিকে নীরবতার কারণে বৃষ্টির যে নিজস্ব ছন্দ রয়েছে তা কবির কাছে গান হয়ে ধরা দেয়। আর এ বিষয় বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

১০. “নবীন খঞ্জন দেখি বড়হি কৌতুক” চরণটি-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এই চরণে শরৎ ঋতুর আনন্দময় পরিবেশের কথা বলা হয়েছে। “নবীন খঞ্জন” বলতে খঞ্জন পাখির চঞ্চল নৃত্য বোঝানো হয়েছে। শরতের নির্মল আকাশে খঞ্জন পাখির নাচ দেখে মানুষের মনে আনন্দের সৃষ্টি হয়। এটি প্রকৃতির সেই স্বচ্ছ, নির্মল রূপের ইঙ্গিত দেয়, যা শরৎ ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

১১. আলাওল বসন্ত ঋতুকে কীভাবে বর্ণনা করেছেন?
উত্তর: আলাওল বসন্ত ঋতুর রূপ বর্ণনা করেছেন এক মুগ্ধকর আবহে। তিনি বসন্তের আগমনে প্রকৃতির নবজীবন লাভের চিত্র এঁকেছেন। বসন্তে চারদিক সেজে ওঠে নবীন পল্লবে, আর মলয়া সমীর দখিনা বাতাস হয়ে প্রেমের বার্তা বয়ে আনে। এই সময় গাছে গাছে ফুল ফোটে। ভ্রমরের গুঞ্জন, কোকিলের মিষ্টি ডাক মনে প্রেমের স্পন্দন জাগে। বসন্ত যেন প্রকৃতি এবং প্রেমের এক অনন্য সম্মিলন।

১২. “মলয়া সমীর হৈলা কামের পদাতি” চরণটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এই চরণে কবি আলাওল বসন্ত ঋতুর দখিনা বাতাসের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। “মলয়া সমীর” মানে হলো স্নিগ্ধ দখিনা বাতাস, যা বসন্তে প্রবাহিত হয়। আর “কামের পদাতি” বলতে কামদেবের দূত বা সহচরকে বোঝানো হয়েছে। এই বাতাস প্রেমের বার্তা বহন করে প্রেমিক-প্রেমিকার মনে আবেগের সঞ্চার ঘটায়। বসন্তের এই বাতাস যেন প্রকৃতিকে প্রেমময় এবং সজীব করে তোলে।

১৩. কবি কীভাবে গ্রীষ্ম ঋতুর বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছেন ? উত্তর: গ্রীষ্ম ঋতুকে আলাওল চিত্রিত করেছেন প্রচ- তাপ এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট ক্লান্তির মাধ্যমে। সূর্যের তীব্র রৌদ্রের কারণে মানুষ ছায়ার আশ্রয় খোঁজে। চারদিকে এক রকমের রুক্ষতা বিরাজ করে। তবে এই কঠিন সময়েও প্রকৃতিতে কিছুটা প্রশান্তি এনে দেয় মলয়া বাতাস আর চন্দনের শীতল সুবাস। গ্রীষ্মের রুক্ষতা প্রকৃতিকে যেমন প্রভাবিত করে, তেমনই মানুষের মনের গভীরেও ছোঁয়া লাগে।

১৪. আলাওল কীভাবে বর্ষাকালের বর্ণনা দিয়েছেন?
বর্ষাকালকে আলাওল বর্ণনা করেছেন মেঘের গর্জন, প্রবল বৃষ্টি এবং জলমগ্ন প্রকৃতির মধ্য দিয়ে। আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা পড়ে, আর বজ্রের শব্দ কৈলাস পাহাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে তোলে। অবিরাম বৃষ্টির ধারা প্রকৃতিকে সজীব করে তোলে। দাদুরী (মাদি ব্যাঙ) আর শিখিনী (ময়ূরী) যেন আনন্দে ডাকতে থাকে। বর্ষার জলে স্নাত প্রকৃতি যেন প্রাণ ফিরে পায়।

১৫. “মুকুলিত কৈল তবে বৃক্ষ বনস্পতি”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এই চরণে কবি বসন্ত ঋতুতে বনস্পতি গাছের ফুল ফোটার দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। “মুকুলিত” মানে কুঁড়ি ধরা, আর “বনস্পতি” বলতে বোঝানো হয়েছে সেইসব বৃক্ষকে যেগুলোতে সাধারণত ফুল ধরে না, কিন্তু বসন্তে তাদের নতুন কুঁড়ি ও পাতা নিয়ে সেজে ওঠে। বসন্তের ছোঁয়ায় এই গাছগুলো নতুন প্রাণ পায়। প্রকৃতির এই নবজাগরণ বসন্তের মাধুর্যকে ফুটিয়ে তোলে।

১৬. কবির বর্ণনায় শরৎ ঋতুতে প্রকৃতি কীভাবে পরিবর্তন হয়?
আলাওল শরৎ ঋতুকে তুলে ধরেছেন নির্মল আকাশ আর স্নিগ্ধ প্রকৃতির মাধ্যমে। বর্ষার ভারী বৃষ্টির পর আকাশ যেন পরিষ্কার হয়ে ওঠে, আর মৃদু বাতাসে ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। শরতের ফুলের পাপড়ি যেন চামরের মতো দোল খায়। এই সময় খঞ্জন পাখির চঞ্চল নাচ প্রকৃতিতে প্রাণচাঞ্চল্য এনে দেয়। দম্পতিরা শরতের এই স্নিগ্ধতায় খুঁজে পান এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি।

১৭. “কুসুমিত কিংশুক সঘন বন লাল” চরণটি কী নির্দেশ করে?
উত্তর: এই চরণে কবি বসন্ত ঋতুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য কিংশুক বা পলাশ ফুলের কথা বলেছেন। বসন্তে যখন পলাশ ফুল ফোটে, তখন গাছে গাছে লাল ফুলের সমারোহ দেখা যায়। এই ফুলের কারণে গোটা বন যেন লাল রঙে রাঙিয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই রঙিন রূপ বসন্তের প্রাণময়তা এবং উচ্ছ্বাসকে প্রকাশ করে।

১৮. ঋতু বর্ণন কবিতার হেমন্ত ঋতুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: হেমন্ত ঋতুতে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রকৃতিতে তখন এক রকমের নীরব শীতলতা ছড়িয়ে পড়ে। আলাওল এই ঋতুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাম্বুল বা পানের সুখ। এই সময় পুষ্পের কোমলতা এবং তাম্বুলের স্বাদ মানুষকে আনন্দ দেয়। শীতের ভয়ে সূর্য দ্রুত অস্ত যায়, আর রাত দীর্ঘ হয়। দম্পতিরা এই দীর্ঘ রাতে উষ্ণতার খোঁজে একে অপরের সান্নিধ্যে আসে।

১৯. “ভ্রমরের ঝঙ্কার কোকিল কলরব”- ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এই চরণে বসন্তের সঙ্গীতময় পরিবেশের বর্ণনা করা হয়েছে। বসন্তের সময় ভ্রমরের গুঞ্জন আর কোকিলের মধুর কুহুতানে প্রকৃতি মুখরিত হয়ে ওঠে। এই সুরেলা শব্দগুলো প্রেমময় আবহ সৃষ্টি করে। এমন পরিবেশে যুবক-যুবতীর মনে ভালোবাসার অনুভূতি জেগে ওঠে। বসন্ত যেন প্রকৃতিকে এক আনন্দময় সুরের জগতে পরিণত করে।

২০. শীত ঋতুতে দম্পতিদের অনুভূতি কীভাবে প্রকাশ পায়?
উত্তর: শীত ঋতুতে প্রকৃতি হয়ে ওঠে কঠোর এবং কনকনে। সূর্য যেন শীতের ত্রাসে তাড়াতাড়ি ডুবে যায়। দীর্ঘ রাতের আবেশে দম্পতিরা নিজেদের ভালোবাসার উষ্ণতায় মগ্ন থাকে। চন্দন, কাফুর, কস্তুরী এবং সুগন্ধি চুয়ার সুবাস দম্পতির আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। তারা বিচিত্র বসনের উষ্ণতায় শীতের কামড়কে ভুলে থাকে।

২১. “পুষ্প তুল্য তাম্বুল অধিক সুখ হয়” - কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এই চরণে হেমন্ত ঋতুর সৌন্দর্য এবং স্বস্তি তুলে ধরা হয়েছে। “তাম্বুল” বলতে পান বোঝানো হয়েছে, যা হেমন্তের সময় মানুষকে বিশেষ আনন্দ দেয়। পুষ্পের মতো নরম তাম্বুলের স্বাদ হেমন্তের শীতলতায় মানুষকে আরাম দেয়। এটি হেমন্ত ঋতুর আরামদায়ক এবং মনোরম পরিবেশের প্রকাশ।

২২. বসন্ত ঋতুতে কামদেব কী ভূমিকা পালন করেন?
বসন্তের এই প্রেমময় আবহে কামদেবের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। কবি আলাওল বলেছেন, মলয়া বাতাস কামদেবের দূতের মতো কাজ করে। এই সময় ফুলের সুবাস, কোকিলের ডাক আর ভ্রমরের গুঞ্জনে প্রেমের আবেশ তৈরি হয়। যুবক-যুবতীর মন প্রেমে ভরে ওঠে। প্রকৃতি যেন নিজেই প্রেমের মূর্তি ধারণ করে।

২৩. “শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ” চরণে কী চিত্র ফুটে উঠেছে?
উত্তর: এই চরণে শীত ঋতুর তীব্রতা বর্ণনা করা হয়েছে। “রবি” বলতে সূর্যকে বোঝানো হয়েছে, আর “তুরিতে লুকাএ” মানে দ্রুত লুকিয়ে পড়া। শীতের সময় সূর্যের আলো তাড়াতাড়ি হারিয়ে যায়, আর ঠা-া বেড়ে যায়। প্রকৃতি যেন দ্রুত সন্ধ্যায় ঢেকে যায়। এটি শীতের সেই কঠিন, কনকনে পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়।

২৪. বর্ষার মল্লার রাগ কীভাবে পরিবেশকে প্রভাবিত করে?
উত্তর: বর্ষাকালে মল্লার রাগের সুর যেন প্রকৃতির নিজস্ব সঙ্গীতে রূপ নেয়। মেঘের গর্জন আর বজ্রের শব্দের সঙ্গে এই রাগ যেন মিলে যায়। আলাওল উল্লেখ করেছেন, কৈলাস পাহাড়ে মল্লার রাগের সুর ঘন ঘন বেজে ওঠে। এই সময় দাদুরী আর শিখিনী ডাকতে থাকে। মল্লার রাগের এই গম্ভীর সুর একদিকে প্রকৃতিকে সজীব করে তোলে।

২৫. ঋতু বর্ণন কবিতায় খঞ্জন পাখির বিশেষত্ব কী?
উত্তর: শরৎ ঋতুর বর্ণনায় খঞ্জন পাখির চঞ্চলতা এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে এসেছে। কবি বলেছেন, খঞ্জন পাখির নাচ দেখে মানুষের মনে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। নবীন খঞ্জনের এই চঞ্চলতা শরতের নির্মল প্রকৃতিকে আরও সুন্দর করে তোলে। এই পাখির চঞ্চলতা যেন দম্পতিদের মনে এক অনাবিল কৌতুক এবং ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

২৬. “রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ” চরণটি কী বোঝায়?
উত্তর: এই চরণে কবি গ্রীষ্মের তীব্র রৌদ্রের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। প্রচ- গরমে মানুষ এবং প্রাণীকুল ছায়ার আশ্রয় খোঁজে। “রৌদ্র ত্রাসে” মানে রৌদ্রের ভয়ে, আর “ছায়া চরণে সরণ” বলতে ছায়ার আশ্রয় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গ্রীষ্মের এই তাপ প্রকৃতি এবং মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে। এ সময় ছায়াই যেন স্বস্তির একমাত্র আশ্রয় হয়ে ওঠে।

২৭. “ঘোর শব্দে কৈলাসে মল্লার রাগ গাত্র” চরণে কী দৃশ্য ফুটে উঠেছে?
উত্তর: এই চরণে বর্ষাকালের বজ্রধ্বনির বর্ণনা করা হয়েছে। “কৈলাসে” বলতে শিবের বাসস্থান কৈলাস পর্বতকে বোঝানো হয়েছে। বর্ষার সময় মেঘের গম্ভীর গর্জন যেন কৈলাসকেও কাঁপিয়ে দেয়। এই গর্জনকে কবি “মল্লার রাগ” এর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা বর্ষার আবহ তৈরি করে। এটি বর্ষার তীব্রতা এবং প্রকৃতির ভয়ংকর রূপকে প্রকাশ করে।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
১. আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে
বসন্তের এই মাতাল সমীরণে।

ক. মল্লার কী?
খ. ‘রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে “ঋতু বর্ণন” কবিতার বসন্ত ঋতুর সাদৃশ্য আছে- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি “ঋতু বর্ণন” কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি”-মূল্যায়ন কর।

ক. মল্লার হলো সংগীতের একটি রাগ; রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে গাওয়া হয়।
খ. ‘রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ’ বলতে গ্রীষ্মে সূর্য্যরে প্রখরতায় মানুষের ছায়াও চরণতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি আলাওল গ্রীষ্মের তাপদাহের কথা বলেছেন। এ সময় সূর্য্যরে প্রচ- তাপ থাকে। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের আগমনে চারদিক প্রচন্ড উত্তাপে ফেটে পড়ে। সূর্য তার সমস্ত রাগ নিয়ে যেন হাজির হয়। রৌদ্রের এই প্রখরতার জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। সূর্য্যরে কিরণ থাকে মাথার উপর। ফলে দুপুরে ছায়াও মানুষের সোজা পায়ের নিচ বরাবর যেন আশ্রয় নেয়। আর এ বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকে বসন্তের সৌন্দর্য্যরে কথা বর্ণিত হয়েছে যা ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বসন্ত ঋতুর বর্ণনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বসন্তের অপরূপ সৌন্দরে‌্যর কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে চারিদিক ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। দখিনা বাতাস প্রেমের দেবতার বার্তাবাহক হয়ে হাজির হয়। চারপাশের গাছপালায় নতুন পাতা এবং ফুলের সমারোহ থাকে। ফলে বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগের সাড়া পড়ে যায়। উদ্দীপকে বসন্তের অপরূপ সৌন্দর্য্যরে কথা বলা হয়েছে। এই সময় জোছনা রাতে সবাই বনে বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। বসন্তের মাতাল সমীরণ সবাইকে সৌন্দর্য উপভোগের বার্তা দিয়ে গিয়েছে। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও আমরা দেখতে পাই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সজো ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বসন্ত ঋতুর সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর অপরূপ সৌন্দর্য্যরে কথা বলা হলেও উদ্দীপকে কেবল বসন্ত ঋতুর কথা বর্ণিত হয়েছে বিধায় উদ্দীপকটি কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য এবং এর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তে নবীন পত্র-পুষ্প, গ্রীষ্মের সূর্যতাপ, বর্ষার অবিরল জলধারা, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পতুল্য তাম্বুল, শীতের দীঘল রজনি যে পরিবর্তন সাধন করে তা কবি তাঁর কবিতায় সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রকৃতির এই রূপমাধুরী মানুষের মনেও প্রভাব ফেলে। প্রকৃতির মতোই মানুষের মনও একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে। উদ্দীপকে বসন্তের মাতাল সমীরণের কথা বলা হয়েছে। এই ঋতুতে জোছনা রাতে সবাই বনে সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছে। কেননা বসন্তের বন ফুলে ফুলে শোভিত থাকে। এই শোভা উপভোগ করার আনন্দ সবাই পেতে চায়। বসন্তের এই অপরূপ সৌন্দর্য তুলে ধরার জন্যই উদ্দীপকটির অবতারণা করা হয়েছে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও বসন্ত ঋতুর প্রায় একইরকম বর্ণনা ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে বসন্তের রূপ বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বসন্তের রূপ ছাড়াও বাংলার সব ঋতুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
কবিতায় গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত ঋতুর রূপমাধুরী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া ঋতুর এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও আলোচ্য কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে বসন্ত ঋতুর সৌন্দর্য ব্যতীত অন্যান্য দিক অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
২. ‘হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?’
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
‘দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?’
[সূত্র: তাহারেই পড়ে মনে—সুফিয়া কামাল।]

ক. ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় তপন কখন অতি প্রচ- হয়?
খ. পাবন সময়ে চারপাশ জলে ভরে যায় কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার কোন দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার খ-াংশ মাত্র’- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

ক. ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় নিদাঘ সময়ে বা গ্রীষ্মকালে তপন অতি প্রচ- হয়।
খ. পাবন সময়ে বর্ষার অবিরাম বৃষ্টির ধারায় চারপাশ পানিতে ভরে ওঠে।
বর্ষাকালে প্রতিনিয়তই ঝরতে থাকে অবিরল বৃষ্টির ধারা। বৃষ্টির পূর্বমুহূর্তে ঘন ঘন মেঘের গর্জনে মুখরিত হয় প্রকৃতি। কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা না করে বৃষ্টির জল অবিরাম বর্ষিত হয়। ফলে চারদিকে পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এভাবে থই থই পানিতে বর্ষাকালে এক মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়।

গ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বসন্তকালে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় ঋতুভেদে প্রকৃতির বিচিত্র রূপ-রস-গন্ধের উন্মোচন ঘটেছে। আর বাংলার ছয়টি ঋতুর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি ঋতু হলো বসন্ত। বসন্তকালে গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুল ফোটে, স্নিগ্ধ দখিনা হাওয়া বয়ে যায়, ভ্রমরের গুঞ্জন শোনা যায় এবং কোকিলের কুহুতানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
উদ্দীপকে পৃথিবীতে ফাগুন তথা বসন্তের আগমনের বিষয়টি উঠে এসেছে। দখিনা বাতাসের আগমন, বাতাবি নেবুর ফুল ফোটা, আমগাছে মুকুল আসা এবং বাতাসের সাথে এই মুকুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনাগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দিক সামগ্রিকভাবে বসন্তকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেই নির্দেশ করে। অর্থাৎ, ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বসন্তকালের মনোমুগ্ধকর সৌন্দরে‌্যর বিষয়টিই উদ্দীপকের কবিতাংশে চিত্রিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সকল দিক প্রকাশ না পাওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি আলাওল প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের সাথে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। তিনি এখানে বসন্ত থেকে শুরু করে শীত পর্যন্ত ছয়টি ঋতুরই বর্ণনা দিয়েছেন। কবিতায় প্রতিটি ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মানুষের মননে ঋতুগুলোর আবেগিক প্রভাব বিস্তারের দিকটি উঠে এসেছে।
উদ্দীপকে কেবল বসন্ত ঋতুর বর্ণনা দেখা যায়। এখানে ফাল্গুন মাসের আগমনি বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফাগুন মাস তথা বসন্তের জন্য কবির অপেক্ষাও উদ্দীপকটির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্কা। তবে বসন্ত ব্যতীত এখানে আর কোনো ঋতুর উল্লেখ নেই। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় অন্যান্য ঋতুর পাশাপাশি বসন্ত ঋতুর বর্ণনা উল্লেখযোগ্য। উদ্দীপকটি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার শুরুর দিকে বর্ণিত বসন্তকালের ভাবকে ধারণ করে, কিন্তু বাকি পাঁচটি ঋতুর বর্ণনা এখানে অনুপস্থিত। তাই উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার খ-াংশকে উপস্থাপন করলেও, সমগ্রভাবকে উপস্থাপন করতে সক্ষম নয়। ফলে উক্ত মন্তব্যের সাথে আমি একমত পোষণ করি।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
৩. বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত এই ছয় ঋতুর আবর্তনে আবর্তিত হচ্ছে আমাদের ঋতুবৈচিত্র্য। প্রত্যেকটি ঋতুরই রয়েছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য। একেক ঋতু আমাদের জীবনে নিয়ে আসে একেক রকম পরিবর্তন। বাংলার প্রকৃতিতে এ পরিবর্তন নিয়ে আসে অফুরন্ত সৌন্দর্য। এ সৌন্দর্য্যে আমাদের যেমন চোখ জুড়িয়ে যায়, তেমনি আমাদের হৃদয় ভরে ওঠে আনন্দে। গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার বৃষ্টি, পরতের আলোঝলমল নীল আকাশ, হেমন্তের ফসলে ভরা মাঠ, শীতের কুয়াশাঢাকা সকাল আর বসন্তের ফুলের সৌরভ প্রকৃতি ও জীবনে আনে বৈচিতত্র্যের ছোঁয়া। বর্ষপঞ্জির হিসেবে বাংলা বছরের বারো মাসের প্রতি দুই মাসে এক ঋতু হয়। প্রকৃতির এক অলৌকিক নিয়মে ঋতুর এই আসা-যাওয়া। ঋতু পরিক্রমায় বাংলাদেশে যে বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যায়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা দেখা যায় না।

ক. ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
খ. ‘রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় প্রস্ফুটিত কোন বিষয়ের সঙ্গে উদ্দীপকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘ঋতু পরিক্রমায় বাংলাদেশে যে বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যায়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা দেখা যায় না।’- মন্তব্যটির যৌক্তিকতা উদ্দীপক ও ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতাটি 'পদ্মাবতী' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
খ. ‘রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ’ বলতে গ্রীষ্মে সূর্য্যরে প্রখরতায় মানুষের ছায়াও চরণতলে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি আলাওল গ্রীষ্মের তাপদাহের কথা বলেছেন। এ সময় সূরে‌্যর প্রচ- তাপ থাকে। প্রকৃতিতে গ্রীষ্মের আগমনে চারদিক প্রচন্ড উত্তাপে ফেটে পড়ে। সূর্য তার সমস্ত রাগ নিয়ে যেন হাজির হয়। রৌদ্রের এই প্রখরতার জনজীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়ে। সূর্য্যরে কিরণ থাকে মাথার উপর। ফলে দুপুরে ছায়াও মানুষের সোজা পায়ের নিচ বরাবর যেন আশ্রয় নেয়। আর এ বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

গ. ঋতু বর্ণন' কবিতায় প্রস্ফুটিত ষড়ঋতুর উপস্থিতির সাথে উদ্দীপকটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় প্রকৃতিতে ষড়ঋতুর আগমন ও প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দরে‌্য যুগে যুগে মানুষ হয়েছে মুগ্ধ। কবিতায় কবি ফুটিয়ে তুলেছেন প্রকৃতি রূপবৈচিত্র্য। বসন্তের নবীন পত্রপুষ্প, মলয়া সমীর, ভ্রমরের গুঞ্জন, কোকিলের কুহুতান; গ্রীষ্মের প্রচ- তপনের রৌদ্র ত্রাস ও ছায়ার গুরুত্ব; বর্ষার মেঘ গর্জন, শরতের নীল আকাশ, হেমন্তের ফসল ভরা মাঠ, শীতের দীর্ঘ রজনি ইত্যাদি চমৎকারভাবে বর্ণিত হয়েছে কবিতায়।
উদ্দীপকের ছয় ঋতু প্রকৃতিতে পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করে। গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার বৃষ্টি, শরতের ঝলমল নীল আকাশ, হেমন্তের ফসলভরা মাঠ, শীতের কুয়াশাঢাকা সকাল- আর বসন্তের ফুলের সৌরভ প্রকৃতি ও জীবনে বৈচিতত্র্যের ছোঁয়া আনে। উভয় স্থানেই প্রকৃতির সাথে মানবমনের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও এহেন ঋতুবৈচিতত্র্যের পরিচয় ফুটে উঠেছে।

ঘ. ‘ঋতু পরিক্রমায় বাংলাদেশে যে বৈচিত্র্যময় রূপ দেখা যায়, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা দেখা যায় না।’ মন্তব্যটি যথার্থ।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বাংলা প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি আলাওল ঋতুর পালাবদলে ঝংলার নৈসর্গিক রূপ আলোচ্য কবিতায় তুলে ধরেছেন। বসন্তের নবপত্র, ফুল, কোকিল, ভ্রমরের অনুষঙ্গ তিনি কবিতায় এনেছেন। গ্রীষ্মের তাপদাহ, বর্ষার জলস্নাত প্রকৃতি, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের শীত শীত ভাব, শীতের দিনরাত্রি কোনো কিছুই বাদ যায়নি তাঁর বর্ণনা থেকে। অনিন্দ্য প্রাকৃতিক সৌন্দরে‌্যর অধিকারী বাংলার চিত্র তিনি সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন কবিতাটিতে।
উদ্দীপকে ঋতুবৈচিতত্র্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। একেক ঋতু আমাদের জীবনে নিয়ে আসে একেক রকম পরিবর্তন। বাংলার প্রকৃতিতে এ পরিবর্তন নিয়ে আসে অফুরন্ত সৌন্দর্য। এ সৌন্দরে‌্য আমাদের হৃদয়-মন ভরে ওঠে আনন্দে। গ্রীষ্মের দাবদাহ, বর্ষার বৃষ্টি, শরতের আলোঝলমল নীল আকাশ, হেমন্তের ফসলি মাঠ ইত্যাদির কথা বর্ণিত আছে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও এহেন ঋতুবৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় ষড়ঋতুর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। ষড়ঋতুর লীলাবৈচিত্র্য ও নানা রূপ-রসের কথা এখানে নানা ব্যঞ্জনায় ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকেও বাংলার ঋতুবৈচিতত্র্যের কথা বর্ণিত হয়েছে। মূলত বাংলাদেশের মতো এত ঋতুবৈচিত্র্য আর কোনো দেশে দেখা যায় না। প্রকৃতি এখানে নানা রঙে-ঢঙে সেজে ওঠে, যা আর কোথাও দেখা যায় না। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
৪. রাশেদ শহরে থাকে। শহরে বড়ো বড়ো দালানকোঠার কারণে আকাশ দেখা যায় না। ছুটিতে গ্রামে গিয়ে এবার সে দেখে আকাশ ফকঝকে পরিষ্কার। মাঝেমধ্যে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে যাচ্ছে। রাশেদ অবাক হয়ে আকাশ দেখে। ভাবে এত সুন্দর পুত্র নীলাকাশ শহরে থাকলে দেখার সৌভাগ্য হতো না।

ক. তাম্বুল কী?
খ. ‘শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ।’ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার যে দিকের প্রতিফলন ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে 'অতু বর্ণন' কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে কি? তোমার মতামত দাও।

ক. তাম্বুল হলো পান; যা সুপারি, চুন প্রভৃতি সহযোগে খাওয়া হয়।
খ. ‘শীতের তরাসে বৃবি তুরিতে লুকাএ।’- চরণটি দ্বারা শীতকালে তাড়াতাড়ি সূর্যাস্ত এবং দিনের স্বল্প ব্যাপ্তির দিকটি উপস্থাপন করা হয়েছে।
শীত ঋতুতে প্রচন্ড ঠান্ডা যেন সূরে‌্যর উপর ত্রাস সৃষ্টি করে। শীতের ভয়ে সূর্য দ্রুত অস্ত যায়। এ সময় রোদে তেমন তেজ থাকে না। শীতের কাছে পরাজয় স্বীকার করে সূর্য দিগন্তে লুকিয়ে যায়। এ বিষয়টি বোঝাতেই ‘শীতের তরাসে রবি তুরিতে লুকাএ’- চরণটির অবতারণা হয়েছে

গ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার শরৎকালের প্রাকৃতিক সৌন্দরে‌্যর দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য এবং মানবমনে এর প্রভাব বর্ণনা করা হয়েছে। এই ষড়ঋতুর একটি হলো শরৎকাল। বর্ষার ঘন কালো মেঘ সরে গিয়ে শরতের আগমনে আকাশ হয়ে ওঠে নির্মল। আকাশে ভেসে বেড়ায় শুভ্র মেঘের ভেলা। এসময় ফুলে চামর দোলা লাগে এবং খঞ্জনা নেচে ওঠে আপন ছন্দে।
উদ্দীপকে শরৎকালের প্রকৃতির রূপ ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে রাশেদ শহরে বাস করে। তাই সে সচরাচর ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে না। কিন্তু ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে গিয়ে সে শরৎকালের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়। প্রকৃতির এই অপরূপ রূপমাধুরে‌্য সে বিমোহিত হয়। অর্থাৎ, ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার মতো উদ্দীপকেও শরৎকালে প্রকৃতির চিরচেনা রূপ এবং মানুষের হৃদয়ে এই রূপের প্রতি সৃষ্ট গভীর আবেগের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটি উন্মোচিত হয়নি।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় প্রকৃতির বিচিত্র রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে যুগে যুগে বহু মানুষ যুদ্ধ হয়েছে। এই সুখভা মানবমনে বহুমুখী ভাবের সৃষ্টি করে। বসন্তের নবীন পত্রপুষ্প, মলয়া সমীর, গ্রীষ্মের প্রচ- তপন, বর্ষার মেঘের গর্জন, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পানপাতা, শীতের রজনির সুখ সবকিছু যেন মানুষের হৃদয়ে ভিন্ন ভিন্ন অনুভব জাগিয়ে তোলে। উদ্দীপকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে সুন্দরভাবে শরৎকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে বর্ণনা দেওয়া হলেও মানবমনে
এর প্রভাব সম্পর্কিত কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। উদ্দীপকের রাশেদ শরতের আকাশ দেখে অবাক হয়েছে। কিন্তু এ বিস্ময় তার অন্তরে কোনো আবেগ সঞ্চার করেছে কি না, সে বিষয়েও উদ্দীপকে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় একইরকম শরতের বর্ণনা ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে কেবল শরৎ ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে কথা বর্ণিত হয়েছে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার অন্তর্নিহিত প্রকৃতি ও মানবমনের সংযোগের বিষয়টি এখানে প্রায় অনুপস্থিত। তাই উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের দিকটি পরিপূর্ণভাবে উন্মোচিত হয়নি বলে আমি মনে করি।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
৫. এই সব শীতের রাতে আমার হৃদয়ে মৃত্যু আসে;
বাইরে হয়তো শিশির ঝড়ছে, কিংবা পাতা
কিংবা প্যাঁচার গান, সেও শিশিরের মতো, হলুদ পাতার মতো।

ক. কীটকুলের রব কোন ঋতুতে বারবার ধধ্বনিত হয়?
খ. ‘অতি দীর্ঘ সুখ নিশি পলকে শোধা’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার শীত ঋতুর বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার খ-াংশ মাত্র।" মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. কীটকুলের রব বর্ষা ঋতুতে বারবার ধধ্বনিত হয়।
খ. শীতকালের রাত দীর্ঘ হলেও সুখানুভূতির কারণে তা দ্রুত শেষ হয় বোঝাতে কবি আলোচ্য উক্তিটি করেন।
‘ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের সাথে মানবমনের গভীর সম্পর্কের দিকটি বর্ণনা করেন। প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রমে মানবমনের অনুভবের জগতেও পরিবর্তন ঘটে। প্রকৃতিতে শীতকাল এলে মানবমনে নতুন সুখানুভূতি তৈরি হয়। শীতে দিন হোটো হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়। তবে এই দীর্ঘ রাতও কবির মতে সুখানুভূতি তৈরি করে। ফলে খুব দ্রুতই যেন এই রাত শেষ হয়ে যায়। কবি মূলত শীতের আনন্দ ও ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রমে মানব মনের পরিবর্তনকে বুঝিয়েছেন।

খ. উদ্দীপকের সাথে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার শীতের আনন্দের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
‘ঋতু বর্ণন' কবিতায় দেখা যায়, কবি শীতের আগমনকে সুখকর বলে প্রকাশ করেছেন। শীতের ভয়ে তীব্র সূর্যও যেন দ্রুত অন্তে চলে যায়। প্রকৃতিতে পুষ্পশোভার পরিবর্তে এক বিচিত্র পরিবেশ তৈরি হয়। এ সময় বিভিন্ন সুগন্ধী, আলতা ব্যবহারের মাধ্যমে দম্পতির ভাবনায় সুখানুভূতি জাগ্রত হয়। এভাবে শীতের সাথে মানবপ্রেমের সম্পর্ককে জাগ্রত করেছেন কবি।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়, শীতের রাতে কবির হৃদয়ে মৃত্যু আসে। যদিও বাইরের প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর থাকে। বাইরে যদিও শিশির পড়তে থাকে, প্যাঁচার গান শুনতে পাওয়া যায়। শীতের এই মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যও কবির মনে অনুভবের জগত তৈরি করতে পারেনি। অন্য ঋতুতে কবির হৃদয়ে আনন্দের জোয়ার বইলেও শীত এলে কবির হৃদয়ে মৃত্যু আসে। কিন্তু ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি শীতকালে সুখী দম্পতির দারুণ অনুভূতির কথা বলেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় শীতকালে যে মানবমনে প্রেমের সৃষ্টি করে তার বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার শীতকালের প্রকৃতির অংশটি প্রকাশিত হওয়ায় উদ্দীপকটি কবিতার খ-াংশ মাত্র। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। কবি বসন্তে পুষ্পের সৌন্দর্য, গ্রীষ্মের প্রখর তাপ, বর্ষার অবিরল বৃষ্টির ধারা, শরতের নির্মল আকাশ, শীতের রাতে দম্পতির সুখানুভব চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। কবি প্রত্যেকটি ঋতুকে শৈল্পিক রূপদান করেছেন। শীতের প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়ে দম্পতিরা যে সুখ অনুভব করেন কবি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। ঋতু পরিবর্তন যে মানবমনে কতটুকু প্রভাব ফেলে কবি তার সুনিপুণ বর্ণনা দেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে শীতের ঋতুবৈচিতত্র্যের বর্ণনা করা হয়েছে কিন্তু তা কবির হৃদয়ে অনুভবের জগৎ তৈরি করতে পারেনি। শীত এলে কবির হৃদয়ে মৃত্যু আসে যদিও বাইরে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য থাকে। শীতের শিশির বিন্দু, প্যাঁচার গান, তরু-লতার সতেজতা দেখা যায়। প্রকৃতির পরিবর্তনের ফলে যে মানবমনের পরিবর্তন ঘটে তা কবিমনে আসেনি, কবির এসেছে মৃত্যু। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও শীত ঋতুর একইরকম বর্ণনা লক্ষ করা যায়। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতা ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রম ও মানবমনে সুখের উল্লাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। শীতও যে মানবমনে আনন্দ দিতে পারে কবি তার বর্ণনা করেছেন। উদ্দীপকের কবিতায় কেবল প্রকৃতিতে শীতের রূপটি ফুটে উঠেছে কিন্তু মানবমনে যে প্রেমের জগৎ তৈরি হয় তা প্রকাশিত হয়নি, অন্যান্য ঋতুরও উল্লেখ করা হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশটি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার খন্ডাংশ মাত্র।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
৬. প্রকৃতি ও মানবমন অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে জড়িয়ে আছে। শাহরিক মানুষের মন আর গ্রামীণ মানুষের মন আলাদা গড়নের। কারণ গ্রামের প্রকৃতি থেকে শহরের প্রকৃতি ব্যাপক ভিন্ন। গ্রামীণ পরিবেশে এক নৈসর্গিক আবহে মানুষের মন থাকে উদার, কোমল, সতেজ ও ¯িœগ্ধ। অন্যদিকে নাগরিক জীবন ব্যক্তিকেন্দ্রিক, ব্যস্ত ও স্বার্থসচেতন। এ ছাড়াও প্রকৃতির আবেশে মানুষের মনে আসে বিস্তর পরিবর্তন। বসন্তের আবহে কোকিলের কুহু ডাকে যেকোনো মানুষের মনই রসপূর্ণ হয়।

ক. কোন ঋতুতে চামর কেশ দুলে?
খ. ‘কুসুমিত কিংশুক সঘন বন লাল’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? .
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি কি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সম্পূর্ণভাব ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে? যুক্তিসহ তোমার মতামত দাও।

ক. শরৎ ঋতুতে চামর কেশ দুলে।
খ. কবি প্রশ্নোক্ত চরণটিতে পলাশ ফুলে ফুলে বন লাল হওয়ার কথা বুঝিয়েছেন।
বসন্ত ঋতুতে চারদিক নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। পূর্বের রূঢ়তা, রুক্ষতা মুছে ফেলে প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে। তখন গাছে গাছে নতুন নতুন পাতা দেখা যায়। প্রকৃতি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বসন্তের নানা দিক উঠে এসেছে। বসন্ত মানেই প্রকৃতিতে নানা রং নানা ফুল ও পাখির ছড়াছড়ি। এ সময় ভ্রমরের গুঞ্জন এবং কোকিলের কলরবে চারদিকে মুখরিত হয়ে ওঠে। পলাশ ফুলে ফুলে ঘন বন যেন লাল হয়ে ওঠে। প্রশ্নোক্ত চরণটিতে কবি এ বিষয়টিই বুঝিয়েছেন।

গ. প্রকৃতি ও মানবমন অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে জড়িয়ে থাকার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের পাশাপাশি মানবমনে এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। ঋতুভেদে মানুষের মনের পরিবর্তন কবিতায় সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বসন্তের রং যেমন মানুষের মনকে রঙিন করে তেমনি অন্যান্য ঋতুতেও মানুষের মন ভিন্ন আবহ ধারণ করে। বর্ষায় হরষিত যুবক চিত্ত, হেমন্তে পুষ্পতুল্য তাম্বুলের সুখ এবং শীতে দম্পতির চিত্তসুখের কথা কবিতায় বর্ণিত হয়েছে। বসন্তের রঙিন আভা যেন প্রকৃতি থেকে কবির হৃদয়ের মর্মমূলে প্রবেশ করে দোলা দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দরে‌্য যুগে যুগে মুগ্ধ হয়েছে মানুষ। উদ্দীপকে প্রকৃতি ও মানবমনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে জড়িয়ে থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। গ্রামীণ পরিবেশে এক নৈসর্গিক আবহ মানুষের মন থাকে উদার, কোমল, সতেজ ও স্নিগ্ধ। বসন্তের কোকিলের কুহুতানে যেকোনো মানুষের মনই রসপূর্ণ হয়। এছাড়াও শহরের মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্যে না থাকার কারণে তারা হয় ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এখানেও প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রভাব পড়েছে মানুষের উপর। তাই বলা যায় যে, প্রকৃতি ও মানবমন ওতপ্রোতভাবে জড়িত-এ দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে কেবল ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার মানবমনের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কের দিকটি প্রকাশিত হওয়ায় উদ্দীপকটি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের পাশাপাশি মানবমনের উপর প্রকৃতির প্রভাবের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয় আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবে। কবি এই ঋতু বর্ণনায় প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের সাথে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। বসন্তের নবীন পত্রপুষ্প, মলয় সমীর, ভ্রমর-গুঞ্জন ও কোকিলের কুহুতান; গ্রীষ্মের প্রচ- তপনের রৌদ্র ত্রাস ও ছায়ার গুরুত্ব; বর্ষার মেঘ গর্জন, অবিরল বৃষ্টিজলে স্নাত প্রকৃতি, শরতের নির্মল আকাশ, ফুলের চামর দোলা, খঞ্জনের নাচ; শরৎ বিদায়ে হেমন্তে পুষ্পতুল্য তাম্বুলের সুখ এবং শীতের ত্রাসে ত্বরিত সূর্য ডুবে যাওয়া, রজনিতে সুখী দম্পতির চিত্তসুখ ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রকৃতি ও মানবমনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের বিষয়টি এবং বসন্ত ঋতুর দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামীণ পরিবেশের এবং শহুরে পরিবেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনে প্রকৃতির যে প্রভাব থাকে তা তুলে ধরা হয়েছে উদ্দীপকের বর্ণনায়। গ্রামের নৈসর্গিক আবহে মানুষের মন থাকে উদার ও সতেজ। অন্যদিকে শহুরে পরিবেশের প্রভাবে মানুষের মন থাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এছাড়া বসন্তের আবহ মানুষের মনে যে প্রভাব ফেলে সেটাও উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের কথা। এছাড়া মানবমনের উপর প্রকৃতির প্রভাবের দিকটিও কবিতায় ফুটে উঠেছে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল মানবমনের উপর প্রকৃতির প্রভাবের দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে। কবিতায় উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়গুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। কাজেই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সম্পূর্ণভাব ফুটিয়ে তুলতে পারেনি।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
৭. সারা রাত ধরে ঝিরঝির বৃষ্টি। সকালেও তার বিরাম নেই। সজীব এই বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা নিয়ে স্কুলের পথে রওনা হয়। যাওয়ার পথে রাস্তার পাশের ভোবায় দেখে অসংখ্য ব্যাঙ ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ শব্দে ডেকে চলেছে অবিরাম। সজীব মুগ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যাঙের ডাক শোনে।

ক. ‘শিখিনী’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘দাদুরী শিখীনি রব অতি মন ভাএ।’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার মূলভাবের প্রতিফলন ঘটেছে কি? তোমার মতামত দাও।

ক. ‘শিখিনী’ শব্দের অর্থ 'ময়ূরী'।
খ. প্রশ্নোক্ত চরণটি দ্বারা বর্ষাকালে ব্যাঙ ও ময়ূরীর ডাক এবং এর মাধ্যমে মানবমনে সৃষ্ট পুলকের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় কবি আলাওল বর্ষায় প্রকৃতি চিত্রিত করতে মাদি ব্যাঙ ও ময়ূরীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। বর্ষাকালে প্রায়শই এদের ডাক শোনা যায়। প্রকৃতিতে ব্যাঙ ও ময়ূরীর এই কলধ্বনি মানুষের চিত্তকেও আন্দোলিত করে। প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন যেন মানবমনেও ভাবের সঞ্চার ঘটায়।

গ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বর্ষাকালে প্রকৃতির রূপ ও মানবমনে এর প্রভাবের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি আলাওল ষড়ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। কবিতাটিতে বর্ষাকালে প্রকৃতি ও জীবনের বর্ণনাও রয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে চারিদিকে পানি গইথই করে। এসময় আনন্দে ডেকে ওঠে ব্যাঙ ও ময়ূরী, অন্যান্য কীট-পতঙ্গও বর্ষাকালে বিচিত্র রকমের আওয়াজ করে। আর প্রকৃতিতে প্রাণের এ কোলাহলে মানবমনেও উল্লাসের সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে বর্ষাকালের বর্ণনা রয়েছে। ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে স্কুলে যাবার সময় সজীব রাস্তার পাশের ডোবায় অসংখ্য ব্যাঙ দেখতে পায়। তারা ক্রমাগত ডাকছিল, ব্যাঙের ডাক শুনে সজীব মুগ্ধ হয়ে যায়। তার মনে যেন এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে, ফলে সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ব্যাঙের ডাক শোনে। অর্থাৎ, ঐ উদ্দীপকের ঘটনাও বর্ষাকালের বৈশিষ্ট্য, এসময় প্রাণীদের আওয়াজ এবং মানুষের বৃদয়ে এর অদ্ভুত প্রভাবের দিকটিকে নির্দেশ করে। উভয়ক্ষেত্রেই প্রকৃতি ও জীবনে বর্ষার চিরায়ত রূপটির প্রতিফলন দেখা যায়।

ঘ. উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার মূলভাবের আংশিক প্রতিফলন ঘটলেও সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় বাংলার ষড়ঋতুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়েছে। ছয়টি ঋতুর ভিন্ন ভিন্ন রূপবৈচিতত্র্যের চিত্রায়ণ দেখা যায় কবিতায়। আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবেই মূলত প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যস্ত হয়। এছাড়া কবিতাটিতে মানবমনে ষড়ঋতুর প্রভাব সম্পর্কেও বর্ণনা করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ষাকালের প্রকৃতি ও জীবনের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে বর্ষার অবিরাম জলধারা এবং এ সময়ের পরিবেশের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে সজীবের মনে বর্ষার প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়। সে ডোবার ধারে ব্যাঙের ডাক শুনে আনন্দিত হয়। উদ্দীপকটি বর্ষার রূপ, ব্যাঙের ডাক এবং মানব হৃদয়ে বর্ষার কারণে সৃষ্ট অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। একইভাবে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও বর্ষাঋতুর এহেন বর্ণনা ফুটে উঠেছে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার মতো উদ্দীপকে বৃহৎ পরিসরে ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য ফুটে ওঠেনি। তবে বর্ষাকালের বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি, ডোবায় ব্যাঙের ডাক এবং মানুষের মনে এর ফলে সৃষ্ট ভাবের দিকটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন লক্ষণীয়। কিন্তু এটি আলোচ্য কবিতার সমগ্র মূলভাবের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম নয় বলে আমি মনে করি।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
৮. নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে/ তিল ঠাঁই আর নাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাসনে ঘরের/ বাহিরে।
বাদলের ধারা ঝরে বারকর/ আউষের খেত জলে ভর-তর,
কালিমাখা মেঘে ওপারে আঁধার/ ঘনিয়েছে, দেখ চাহি রে।
.........
শোনো শোনো পারে যাবে ব’লে/ কে ডাকিছে বুঝি মাঝি রে?
খেয়া-পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে।
পুবে হাওয়া বয়, কূলে নেই কেউ/ দু’কূল বাহিয়া উঠে পড়ে ঢেউ..
দর-দর বেগে জলে পড়ি জল/ ছলছল উঠে বাজি রে।
খেয়া-পারাপার বন্ধ হয়েছে/ আজি রে॥

ক. দাদুরী ও শিখিনীর রব কখন শোনা যায়? খ. ‘পাবন সময় ঘন ঘন গরজিত/ নির্ভয়ে বরিষে জল চৌদিকে পূরিত।’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার কোন বিশেষ দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি কি ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করে? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. দাদুরী ও শিখিনীর রব-বর্ষাকালে শোনা যায়।।
খ. বর্ষাকালে মেঘের গর্জন ও অবিরল বৃষ্টির জলে প্রকৃতিতে যে সৌন্দর্য ফুটে ওঠে তা বোঝাতে কবি প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় ঋতুর রূপবৈচিতত্র্যের কথা বলা হয়েছে। বর্ষাকালের আগমনে প্রকৃতি সতেজ হয়ে ওঠে। বৃষ্টির সময় আকাশে যে মেঘ হয় তার রূপে সেজে ওঠে প্রকৃতি। বৃষ্টির পূর্বমূর্ষুতে ঘন ঘন মেঘের গর্জনে মুখরিত হয় প্রকৃতি। ঝরতে থাকে অবিরল বৃষ্টি ধারা। বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয় জলাশয়গুলো। থই থই পানিতে মনোরম এক পরিবেশ তৈরি হয় বর্ষাকালে। বৃষ্টি আপন মনে ঝরতে থাকে। সে যেন কোনো কিছুকেই ভয় পায় না, আপন বর্ষণের ধারায় প্রকৃতিকে ভরপুর করে দেয়। তাই কবি বর্ষাকালে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে আলোচ্য উক্তিটি করেন।

গ. উদ্দীপকের কবিতাংশে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বর্ষাকালের সৌন্দর্য্যরে দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি বর্ষাকালের যে অপরূপ সৌন্দর্য তা বর্ণনা করেন। বর্ষার মেঘের গর্জন প্রকৃতিতে কোলাহল সৃষ্টি করে। বর্ষার মেঘ প্রকৃতিকে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলে। মেঘ প্রকৃতিতে স্নিগ্ধ, শান্ত ও মনোরম পরিবেশ তৈরি করে। মেঘের ঘন গর্জন বৃষ্টিকে প্রকৃতিতে আগমন জানায়। অবিরল ধারায় ঝরতে থাকে বৃষ্টি। বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় নদী-খাল-পুকুর। চারদিকে পানি থই থই করতে থাকে। নির্ভয়ে বৃষ্টি প্রকৃতিকে ঐশ্বর্যময় করে তোলার প্রয়াস পায়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে আষাঢ় মাসের সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়েছে। বৃষ্টির অবিরল জলধারায় আউশ ধানের খেত ভরে যায়। মেঘ কিছু সময়ের জন্য প্রকৃতিকে অন্ধকার করে তোলে। বৃষ্টির পানিতে পরিপূর্ণ হয়েছে নদ-নদী। নদীর জলরাশি ও মেঘের গর্জন উদ্দীপকের কবিতাংশে দেখা যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বর্ষাকালের মনোরম বর্ণনার দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে কেবল বর্ষাকালের দিকটি ফুটে উঠেছে কিন্তু ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় ষড়ঋতুর পরিবর্তন এবং সেই সাথে মানবমনের উপর ঋতুর প্রভাব বর্ণিত হওয়ায় উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সমগ্রভাব ধারণ করেনি।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি ঋতু পরিবর্তনের অপরূপ বর্ণনা তুলে ধরেছেন। কবি ঋতু বর্ণনায় প্রকৃতির রূপবৈচিতত্র্যের সাথে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। 'কবি প্রত্যেক ঋতুকে তার আপন সৌন্দর্য দ্বারা সাজিয়ে তুলেছেন। তিনি বসন্তের নবীন পুষ্প, মলয়া সমীর, ভ্রমরের গুঞ্জন ও কোকিলের মনোমুগ্ধকর গানের বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়া কবিতায় গ্রীষ্মের প্রচ- তাপ ও ছায়ার গুরুত্ব প্রকাশ করেছেন। বর্ষার মেঘ গর্জন ও অবিরল বৃষ্টিজলে স্নাত প্রকৃতি এবং শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পতুল্য তাম্বুলের সুখ এবং শীতের প্রকৃতির যে পরিবর্তন তার প্রাণোচ্ছল বর্ণনা দিয়েছেন কবি। উদ্দীপকে দেখা যায়, কবিতাংশটিতে বর্ষাকালের মনোরম সৌন্দর্য ও মানবমনের কথা বলা হয়েছে। আষাঢ়ে বৃষ্টিতে পরিপূর্ণ আউশের ধানের খেত, পরিপূর্ণ নদ-নদী উদ্দীপকের বর্ণনায় ফুটে উঠেছে। বর্ণনায় মেঘের ঘন গর্জনে মুখরিত হয়েছে আকাশ। তার সাথে আছে স্নিগ্ধ-শীতল হাওয়া বয়ে যাওয়া প্রকৃতি। নদ-নদী জলে পরিপূর্ণ। তাই মাঝিরা ভয়ে পারাপার বন্ধ করে দেয়। বৃষ্টি তার আপন ধারায় ঝরে মানবমনে ভয়ের সৃষ্টি করে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও বর্ষা ঋতুর প্রায় একই ধরনের বর্ণনা লক্ষ করা যায়।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় কবি বাংলায় ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের মনের যে পরিপূর্ণতা আসে তা প্রকাশ করেছেন। ঋতু পরিবর্তনের পালাক্রমে প্রকৃতিতেও যে প্রভাব পড়ে কবি তা শৈল্পিকভাবে প্রকাশ করেছেন, যা উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় না। উদ্দীপকে শুধু বর্ষাকালের সৌন্দর্য ও মানুষের মনোভাবের কথা প্রকাশিত হয়েছে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় সব ঋতুর বর্ণনা করা হয়েছে, প্রকৃতির সাথে মানবমনের যে সম্পর্ক রয়েছে তা প্রকাশিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশটিতে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার বর্ষাকালের রূপটি প্রকাশিত হয়েছে যা ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সমগ্রভাব প্রকাশ করে না।


‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
৮. রসুলপুর গ্রামের মানুষ কখনো বসে থাকে না। বছরের প্রতিটি পর্ব তারা উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে। তারা বসন্তে ফুলের ব্যাবসা আর মৌচাষ করে। গ্রীষ্মের প্রচ- গরমে তারা আম-লিচুর ব্যাবসা করে। বর্ষায় মাছ চাষ করে। শীতকালে তারা তাজা তাজা সবজির ফলন ঘটায়। তাদের এই ধারাবাহিক কর্মচক্রই গ্রামের আর্থিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

ক. কস্তুূরী অর্থ কী?
খ. ‘ঘোর শব্দে কৈলাসে মল্লার রাগ গাএ’- বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে 'ঋতু বর্ণণ' কবিতার সামঞ্জস্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার মূলসুর এক।’ যুক্তিসহ মতামত দিয়ে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. কস্তুূরী অর্থ মৃগনাভি।
খ. ‘ঘোর শব্দে কৈলাসে মল্লার রাগ গাএ'- বলতে কবি বর্ষাকালে প্রকৃতির আপন মনে গান গেয়ে যাওয়াকে বুঝিয়েছেন।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয় আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবে। বর্ষার বৃষ্টিতে থই থই করে চারদিক। রাতে বৃষ্টির শব্দ যেন আরও বেড়ে যায়। চারদিকে সুনসান নীরবতার কারণে বৃষ্টির প্রচ- শব্দকে মনে হয় যেন হিমালয় পর্বতে গাওয়া মালহার। মূলত চারদিকে নীরবতার কারণে বৃষ্টির যে নিজস্ব ছন্দ রয়েছে তা কবির কাছে গান হয়ে ধরা দেয়। আর এ বিষয় বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সামঞ্জস্যপূর্ণ দিকটি হলো প্রকৃতির রূপ পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসা।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার সময়ভেদে প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন এবং মানবমনে এর প্রভাবের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। প্রকৃতির বিচিত্র রূপ অভিব্যক্ত হয় আবহাওয়া ও ষড়ঋতুর প্রভাবে। বসন্তে নতুন পাতার সমাহার, কোকিলের কুহুতান, দখিনা বাতাস, গ্রীষ্মে প্রচন্ড রৌদ্রতাপ, শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, শীতে কুয়াশার আড়ালে সূর্য্যরে লুকিয়ে থাকা ইত্যাদি নানা বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে কবিতায়। এছাড়া এর প্রভাবে মানুষের জীবনেও আসে পরিবর্তন। মানুষ একেক ঋতুতে একেকভাবে জীবনযাপন করে।
উদ্দীপকে রসুলপুর গ্রামের মানুষজন খুবই সক্রিয়। তারা প্রতিটি ঋতুকে উপযুক্তভাবে ব্যবহার করে। বসন্তে ফুলের ব্যাবসা, মৌমাছি প্রতিপালন, গ্রীষ্মে আম-লিচুর ব্যাবসা, বর্ষায় মাছ চাষ, শীতে তাজা সবজির ফলন ঘটানো প্রভৃতির মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করে। নিজেদের আপন গতিতে প্রকৃতির সাথে তালে তাল মিলিয়ে তারা দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও প্রকৃতি আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের রূপের পরিবর্তন ঘটায়, যার প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনেও। এক্ষেত্রে তাই উদ্দীপক ও ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ঘ. ঋতুর পরিবর্তন এবং মানবজীবনে এর প্রভাবের দিকটি উদ্দীপক ও ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার মূল কথা হওয়ায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় ষড়ঋতুর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতি ঋতু পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় নিজের রূপবৈচিত্র্য প্রকাশ করে। কখনো সে তীব্র ও উত্তপ্ত আকার ধারণ করে আবার কখনো মলিন হয়ে শান্তির ধারা বজায় রাখে। কখনো আকাশ সেজে ওঠে সাদা মেঘের ভেলায় আবার কখনো প্রকৃতি ফুলে ফুলে শোভিত হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন মানবমনেও ফেলে প্রভাব। বসন্তে ভ্রমর-কোকিলের রব শুনে মানুষ পুলকিত হয়। বিচিত্র পোশাকে, ফুলের সাজে নিজেকে সজ্জিত করে, গ্রীষ্মে ছায়া খুঁজে। বর্ষায় ব্যাঙ্কোর, ময়ূরীর ডাক-মানুষকে আনন্দিত করে। হেমন্তে পান খেয়ে সুখ পায়, শীতেও মানবমন প্রভাবিত হয়।
উদ্দীপকের রসুলপুর গ্রামের মানুষজন আবহাওয়া ও প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের জীবিকা নির্বাহের পথ পরিবর্তন করে। অলস সময় পার করে না তারা। কখনো তারা ফুলের ব্যাবসা করে কখনো তারা মাছ চাষ করে। আবার কখনো সবজি চাষ করে। তাদের এই পরিবর্তনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে ঋতুর পরিবর্তন। ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায়ও ঋতুগুলোর এহেন পালাবদল লক্ষ করা যায়।
‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় প্রকৃতি তার আপন তাল, ছন্দে ধেয়ে চলে। নিজেকে সে সময়ের সাথে সাথে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজিয়ে তোলে। আর এর প্রভাব পড়ে জনজীবনে। উদ্দীপকের রসুলপুর গ্রামের মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলে প্রকৃতি। তারা প্রকৃতির সাথে খাপ খাইয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তারাও প্রকৃতির মতো নিজেদেরকে গতিময় রাখে। তাই প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার মূলসুর এক।


তথ্যসূত্র :
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url