সাহিত্যে খেলা- প্রমথ চৌধুরী

সাহিত্যে খেলা
সাহিত্যে খেলা

সাহিত্যে খেলা
প্রমথ চৌধুরী

জগৎ-বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁ, যিনি নিতান্ত জড় প্রস্তরের দেহ থেকে অসংখ্য জীবিতপ্রায় দেবদানব কেটে বার করেছেন তিনিও শুনতে পাই, যখন তখন হাতে কাদা নিয়ে, আঙুলের টিপে মাটির পুতুল ত’য়ের করে থাকেন। এই পুতুল গড়া হচ্ছে তাঁর খেলা। শুধু রোদ্যাঁ কেন, পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন। যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন, বাঁদরও গড়তে পারেন। আমাদের সঙ্গে বড় বড় শিল্পীদের তফাত এইটুকু যে, তাঁদের হাতে এক করতে আর হয় না। সম্ভবত এই কারণে কলারাজ্যের মহাপুরুষদের যা-খুশি তাই করবার যে অধিকার আছে, ইতর শিল্পীদের সে অধিকার নেই। স্বর্গ হতে দেবতারা মধ্যে মধ্যে ভূতলে অবতীর্ণ হওয়াতে কেউ আপত্তি করেন না, কিন্তু মর্তবাসীদের পক্ষে রসাতলে গমন করাটা বিশেষ নিন্দনীয়। অথচ একথা অস্বীকার করবার জো নেই যে, যখন এ জগতে দশটা দিক আছে তখন সেই সব দিকেই গতায়াত করবার প্রবৃত্তিটি মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক। মন উঁচুতেও উঠতে চায়, নিচুতেও নামতে চায়। বরং সত্য কথা বলতে গেলে সাধারণ লোকের মন স্বভাবতই যেখানে আছে তারই চারপাশে ঘুরে বেড়াতে চায়, উড়তেও চায় না ডুবতেও চায় না। কিন্তু সাধারণ লোকে সাধারণ লোককে কী ধর্ম, কী নীতি, কী কাব্য, সকল রাজ্যেই অহরহ ডানায় ভর দিয়ে থাকতেই পরামর্শ দেয়। একটু উঁচুতে না চড়লে আমরা দর্শক এবং শ্রোতৃমণ্ডলীনয়ন মন আকর্ষণ করতে পারি নে। বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না। রঙ্গমঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না, আর কাষ্ঠমঞ্চে না দাঁড়ালে আমাদের বক্তৃতা কেউ শোনে না। সুতরাং জনসাধারণের চোখের সম্মুখে থাকবার লোভে আমরাও অগত্যা চব্বিশ ঘণ্টা টঙে চড়ে থাকতে চাই, কিন্তু পারি নে। অনেকের পক্ষে নিজেদের আয়ত্তের বহির্ভূত উচ্চস্থানে ওঠবার চেষ্টাটাই মহাপতনের কারণ হয়। এসব কথা বলবার অর্থ এই যে, কষ্টকর হলেও আমাদের পক্ষে অবশ্য মহাজনদের পথ অনুসরণ করাই কর্তব্য। কিন্তু ডাইনে-বাঁয়ে ছোটখাট গলিঘুঁজিতে খেলাচ্ছলে প্রবেশ করবার যে অধিকার তাদের আছে, সে অধিকারে আমরা কেন বঞ্চিত হব। গান করতে গেলেই যে সুর তারায় চড়িয়ে রাখতে হবে, কবিতা লিখতে হলেই যে মনের শুধু গভীর ও প্রখর ভাব প্রকাশ করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম থাকা উচিত নয়। শিল্পরাজ্যে খেলা করবার প্রবৃত্তির ন্যায় অধিকারও বড়-ছোট সকলের সমান আছে। এমনকি, একথা বললেও অত্যুক্তি হয় না যে, এ পৃথিবীতে একমাত্র খেলার ময়দানে ব্রাহ্মণশূদ্রের প্রভেদ নেই। রাখাল ছেলের সঙ্গে দরিদ্রের ছেলেরও খেলায় যোগ দেবার অধিকার আছে। আমরা যদি একবার সাহস করে কেবলমাত্র খেলা করবার জন্য সাহিত্যজগতে প্রবেশ করি, তাহলে নির্বিবাদে সে জগতের রাজ-রাজড়ার দলে মিশে যাব। কোনোরূপ উচ্চ আশা নিয়ে সে ক্ষেত্রে উপস্থিত হলেই নিম্নশ্রেণিতে পড়ে যেতে হবে।

লেখকেরাও অবশ্য দশের কাছে হাততালির প্রত্যাশা রাখেন, বাহবা না পেলে মনঃক্ষুন্ন হন। কেননা তারাই হচ্ছেন যথার্থ সামাজিক জীব, বাদবাকি সকলে কেবলমাত্র পারিবারিক। বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্য নূতন সম্বন্ধ পাতানোই হচ্ছে কবিমনের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম। এমনকি, কবির আপন মনের গোপন কথাটিও গীতিকবিতাতে রঙ্গভূমিস্বগতোক্তি স্বরূপেই উচ্চারিত হয়, যাতে করে সেই মর্মকথা হাজার লোকের কানের ভিতর দিয়ে মরমে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু উচ্চমঞ্চে আরোহণ করে উচ্চৈঃস্বরে উচ্চবাক্য না করলে যে জনসাধারণের নয়ন-মন আকর্ষণ করা যায় না, এমন কোনো কথা নেই। সাহিত্যজগতে যাঁদের খেলা করবার প্রবৃত্তি আছে, সাহস আছে, ক্ষমতা আছে, মানুষের নয়ন-মন আকর্ষণ করবার সুযোগ বিশেষ করে তাদের কপালেই ঘটে। মানুষ যে খেলা দেখতে ভালোবাসে তার পরিচয় তো আমরা জড় সমাজেও নিত্য পাই। টাউনহলে বক্তৃতা শুনতেই বা ক’জন যায় আর গড়ের মাঠে ফুটবল খেলা দেখতেই বা ক'জন যায়। অথচ এ কথাও সত্য যে, টাউনহলের বক্তৃতার উদ্দেশ্য অতি মহৎ, আর গড়ের মাঠের খেলোয়াড়দের ছুটোছুটি, দৌড়াদৌড়ি আগাগোড়া অর্থশূন্য এবং উদ্দেশ্যবিহীন। আসল কথা এই যে, মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কেননা তা উদ্দেশ্যহীন। মানুষে যখন খেলা করে, তখন সে এক আনন্দ ব্যতীত অপর কোনো ফলের আকাঙ্ক্ষা রাখে না। যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা। এবং যেহেতু খেলার আনন্দ নিরর্থক অর্থাৎ অর্থগত নয়, সে কারণে তা কারও নিজস্ব হতে পারে না। এ আনন্দে সকলেরই অধিকার সমান।

সুতরাং সাহিত্যে খেলা করবার অধিকার যে আমাদের আছে, শুধু তাই নয়, স্বার্থ এবং পরার্থ এ দুয়ের যুগপৎ সাধনের জন্য মনোজগতে খেলা করাই হচ্ছে আমাদের পক্ষে সর্বপ্রধান কর্তব্য। যে লেখক সাহিত্য ক্ষেত্রে ফলের চাষ করতে ব্রতী হন, যিনি কোনোরূপ কার্য-উদ্ধারের অভিপ্রায়ে লেখনী ধারণ করেন, তিনি গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন না। কেননা খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কাম কর্ম, অতএব মোক্ষলাভের একমাত্র উপায়। স্বয়ং ভগবান বলেছেন, যদিচ তার কোনোই অভাব নেই তবুও তিনি এই বিশ্ব সৃজন করেছেন, অর্থাৎ সৃষ্টি তাঁর লীলামাত্র। কবির সৃষ্টিও এই বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ, সে সৃজনের মূলে কোনো অভাব দূর করবার অভিপ্রায় নেই-সে সৃষ্টির মূল অন্তরাত্মাস্ফূর্তি আর তার ফল আনন্দ। এক কথায় সাহিত্য সৃষ্টি জীবাত্মার লীলামাত্র এবং সে লীলা বিশ্বলীলার অন্তর্ভূত; কেননা জীবাত্মা পরমাত্মার অঙ্গ এবং অংশ। সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। এ দুয়ের ভিতর যে আকাশপাতাল প্রভেদ আছে, সেইটি ভুলে গেলেই লেখকেরা নিজে খেলা না করে পরের জন্যে খেলনা তৈরি করতে বসেন।

সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য যে স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে, তার প্রমাণ বাংলাদেশে আজ দুর্লভ নয়। কাব্যের ঝুমঝুমি, বিজ্ঞানের চুষিকাঠি, দর্শনের বেলুন, রাজনীতির রাঙালাঠি, ইতিহাসের ন্যাকড়ার পুতুল, নীতির টিনের ভেঁপু এবং ধর্মের জয়ঢাক-এইসব জিনিসে সাহিত্যের বাজার ছেয়ে গেছে। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনতুষ্টি হতে পারে, কিন্তু তা গড়ে লেখকের মনতুষ্টি হতে পারে না। কারণ পাঠক সমাজ যে খেলনা আজ আদর করে, কাল সেটিকে ভেঙে ফেলে। সে প্রাচ্যই হোক আর পাশ্চাত্যই হোক, কাশীরই হোক আর জার্মানিরই হোক দুদিন ধরে তা কারও মনোরঞ্জন করতে পারে না। আমি জানি যে, পাঠক সমাজকে আনন্দ দিতে গেলে তারা প্রায়শই বেদনা বোধ করে থাকেন। কিন্তু এতে ভয় পাবার কিছুই নেই; কেননা কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।

অপর পক্ষে এ যুগে পাঠক হচ্ছে জনসাধারণ, সুতরাং তাদের মনোরঞ্জন করতে হলে আমাদের অতি সন্তা খেলনা গড়তে হবে, নইলে তা বাজারে কাটবে না। এবং সম্ভা করার অর্থ খেলো করাবৈশ্য লেখকের পক্ষেই শূদ্র পাঠকের মনোরঞ্জন করা সংগত। অতএব সাহিত্যে আর যাই কর-না কেন, পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করবার চেষ্টা কোরো না।

তবে কি সাহিত্যের উদ্দেশ্য লোককে শিক্ষা দেওয়া? অবশ্য নয়। কেননা কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত। স্কুল না বন্ধ হলে যে খেলার সময় আসে না, এ তো সকলেরই জানা কথা। কিন্তু সাহিত্য রচনা যে আত্মার লীলা, এ কথা শিক্ষকেরা স্বীকার করতে প্রস্তুত নন। সুতরাং শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্মকর্ম যে এক নয়, এ সত্যটি একটু স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেওয়া আবশ্যক। প্রথমত শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়, অপর পক্ষে কাব্যরস লোকে শুধু স্বেচ্ছায় নয়, সানন্দে পান করে; কেননা শাস্ত্রমতে সে রস অমৃত। দ্বিতীয়ত শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানানো, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো; কাব্য যে সংবাদপত্র নয়, একথা সকলেই জানেন। তৃতীয়ত অপরের মনের অভাব পূর্ণ করবার উদ্দেশ্যেই শিক্ষকের হস্তে শিক্ষা জন্মলাভ করেছে, কিন্তু কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা হতেই সাহিত্যের উৎপত্তি। সাহিত্যের উদ্দেশ্য যে আনন্দদান করা, শিক্ষা দান করা নয়, একটি উদাহরণের সাহায্যে তার অকাট্য প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে।

বাল্মীকি আদিতে মুনি-ঋষিদের জন্য রামায়ণ রচনা করেছিলেন, জনগণের জন্য নয়। এ কথা বলা বাহুল্য যে, বড় বড় মুনি-ঋষিদের কিঞ্চিৎ শিক্ষা দেওয়া তার উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু রামায়ণ শ্রবণ করে মহর্ষিরাও যে কতদূর আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন তার প্রমাণ তাঁরা কুশীলবকে তাঁদের যথাসর্বস্ব, এমনকি কৌপীন পর্যন্ত পেলা দিয়েছিলেন। রামায়ণ কাব্য হিসেবে যে অমর এবং জনসাধারণ আজও যে তার শ্রবণে-পঠনে আনন্দ উপভোগ করে তার একমাত্র কারণ, আনন্দের ধর্মই এই যে তা সংক্রামক। অপর পক্ষে লাখে একজনও যে যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের ছায়া মাড়ান না তার কারণ, সে বস্তু লোককে শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছিল, আনন্দ দেবার জন্য নয়। আসল কথা এই যে, সাহিত্য কস্মিনকালেও স্কুলমাস্টারির ভার নেয়নি। এতে দুঃখ করবার কোনো কারণ নেই। দুঃখের বিষয় এই যে, স্কুলমাস্টারেরা একালে সাহিত্যের ভার নিয়েছেন।

কাব্যরস নামক অমৃতে যে আমাদের অরুচি জন্মেছে, তার জন্য দায়ী এ যুগের স্কুল এবং তার মাস্টার। কাব্য পড়বার ও বোঝবার জিনিস, কিন্তু স্কুলমাস্টারের কাজ হচ্ছে বই পড়ানো ও বোঝানো। লেখক এবং পাঠকদের মধ্যে এখন স্কুলমাস্টার দণ্ডায়মান। এই মধ্যস্থদের কৃপায় আমাদের সঙ্গে কবির মনের মিলন দূরে থাক, চার চক্ষুর মিলনও ঘটে না। স্কুলঘরে আমরা কাব্যের রূপ দেখতে পাই নে, শুধু তার গুণ শুনি। টীকা-ভাষ্যেপ্রসাদে আমরা কাব্য সম্বন্ধে সকল নিগূঢ় তত্ত্ব জানি, কিন্তু সে কী বস্তু তা চিনিনে। আমাদের শিক্ষকদের প্রসাদে আমাদের এ জ্ঞান লাভ হয়েছে যে, পাথুরে কয়লা হীরার সবর্ণ না হলেও সগোত্র; অপর পক্ষে হীরক ও কাচ যমজ হলেও সহোদর নয়। এর একের জন্ম পৃথিবীর গর্ভে অপরটি মানুষের হাতে; এবং এ উভয়ের ভিতর এক দা-কুমড়ার সম্বন্ধ ব্যতীত অপর কোনো সম্বন্ধ নেই। অথচ এত জ্ঞান সত্ত্বেও আমরা সাহিত্যে কাচকে হীরা এবং হীরাকে কাচ বলে নিত্য ভুল করি, এবং হীরা ও কয়লাকে একশ্রেণিভুক্ত করতে তিলমাত্র দ্বিধা করিনে, কেননা ওরূপ করা যে সঙ্গত তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আমাদের মুখস্থ আছে। সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না, কেননা মনোজগতে শিক্ষকের কাজ হচ্ছে কবির কাজের ঠিক উলটো। কারণ কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা, আর শিক্ষকের কাজ হচ্ছে প্রথমে তা বধ করা, তারপরে তার শবচ্ছেদ করা, এবং ঐ উপায়ে তার তত্ত্ব আবিষ্কার করা ও প্রচার করা। এই সব কারণে নির্ভয়ে বলা যেতে পারে যে, কারও মনোরঞ্জন করাও সাহিত্যের কাজ নয়। কাউকে শিক্ষা দেওয়াও নয়। সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।

বিচারের সাহায্যে এই মাত্রই প্রমাণ করা যায়। তবে বস্তু যে কী, তার জ্ঞান অনুভূতিসাপেক্ষ তর্কসাপেক্ষ নয়। সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে। এ কথার অর্থ যদি স্পষ্ট না হয় তাহলে কোনো সুদীর্ঘ ব্যাখ্যার দ্বারা তা স্পষ্টতর করা আমার অসাধ্য

এই সব কথা শুনে আমার জনৈক শিক্ষাভক্ত বন্ধু এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সাহিত্য খেলাচ্ছলে শিক্ষা দেয়।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ:
প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার শ্রাবণ ১৩২২ বঙ্গাব্দ (১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দ) সংখ্যায়। পরে তা তাঁর ‘প্রবন্ধসংগ্রহ’ (১৯৫২) বইয়ে সংকলিত হয়।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা:
➠ ভাস্কর- প্রস্তরাদি থেকে যে মূর্তি ইত্যাদি নির্মাণ করে, sculptor.
রোদ্যাঁ- ফ্যাঁসোয়া অগুস্ত রোদ্যাঁ (১৮৪০-১৯১৭) বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘নরকের দুয়ার’ ও ‘বাঘার্স অব ক্যালে’। অন্যান্য অবিনশ্বর কীর্তি- ‘চিন্তাবিদ’, ‘আদম’, ‘ইভ’। তিনি ভিক্টর হুগো, বালজাক, বার্নার্ড শ প্রমুখ বিখ্যাত সাহিত্যিকের প্রতিকৃতি নির্মাণ করেন।
নরকের দুয়ার

নরকের দুয়ার

‘বাঘার্স অব ক্যালে’

‘বাঘার্স অব ক্যালে’

‘চিন্তাবিদ’

‘চিন্তাবিদ’

➠ প্রস্তর- পাথর।
➠ ত’য়ের- তৈরি।
➠ শিব- মহাদেব, মঙ্গলকারী দেবতা।
➠ তফাত, তফাৎ- পার্থক্য, প্রভেদ, ব্যবধান।
➠ ইতর- নীচ, অধম। এখানে নগণ্য অর্থে ব্যবহৃত।
➠ কলারাজ্য- শিল্পকলার পরিমণ্ডল।
➠ অবতীর্ণ- অবতার হিসেবে মানুষের মূর্তিতে নেমেছে এমন বা নেমে আসা।
➠ মর্তবাসী- মাটির পৃথিবীর অধিবাসী।
➠ রসাতল- পুরাণে বর্ণিত ষষ্ঠ পাতাল, অধঃপাত, ধ্বংস।
রসাতলে গমন- অধঃপাতে যাওয়া।
➠ জো- উপায়।
দশ দিক- পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিন, ঈশান, বায়ু, অগ্নি, নৈর্ঋত, ঊর্ধ্ব, ও অধঃ।
➠ গতায়াত- যাতায়াত।
➠ প্রবৃত্তি- অভিরুচি, ইচ্ছা, ঝোঁক, আসক্তি।
ডানায় ভর দিয়ে থাকা- শূন্যলোকে ভাসা।
➠ অহরহ- সর্বদা, সতত, নিয়ত।
শ্রোতৃমণ্ডলী- শ্রোতাসাধারণ।
➠ নয়ন- চোখ।
➠ বেদি- বসার জন্য বা বক্তৃতা দেওয়ার জন্য নির্মিত উচ্চ ভূমি বা মঞ্চ।
➠ রঙ্গমঞ্চে- নাটকের মঞ্চে।
➠ কাষ্ঠমঞ্চ- কাঠের তৈরি মাচা; কাঠের তৈরি মঞ্চ।
➠ অগত্যা- অন্য উপায় না থাকায়, নিরুপায় বা বাধ্য হয়ে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও।
➠ টঙ/টং- উঁচু মাচা।
➠ মহাজন- অত্যন্ত ধার্মিক ব্যক্তি, সাধু ব্যক্তি, মহৎ ব্যক্তি।
➠ গলিঘুঁজি- রাস্তা।
সুর তারায় চড়িয়ে রাখতে হবে- সুর উচ্চ সপ্তকে ধরে রাখতে হবে।
➠ অত্যুক্তি- বেশি কথা।
➠ নির্বিবাদ- বিবাদশূন্য,নির্বিরোধ; শান্তিপূর্ণ।
রাজ-রাজড়ার- বড়ো রাজা- ছোটা রাজা।
➠ বাহবা- প্রশংসাসূচক উক্তি।
➠ মনঃক্ষুন্ন- পছন্দসই, মনোমতো।
➠ বাদবাকি- অবশিষ্ট।
বিশ্বমানব- সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বস্থিত মানবজাতি।
নিত্যনৈমিত্তিক- দৈনন্দিন।
➠ গীতিকবিতা- আত্মভাবপ্রধান কবিতা বিশেষ (Lyric)।
➠ রঙ্গভূমি- আমোদ-প্রমোদের জায়গা। অভিনয় প্রদর্শনের স্থান।
➠ স্বগতোক্তি- আপন মনে নিজে নিজে কথা বলা, অন্যের উদ্দেশ্যে বলা হয়নি এমন উক্তি।
➠ মর্মকথা- মনের কথা।
➠ মরমে- মনে।
➠ আরোহণ- ঊর্ধ্বে গমন।
➠ প্রবৃত্তি- ইচ্ছা।
➠ টাউনহল- নাগরিকদের মিলনায়তন বা সভাগৃহ।
গড়ের মাঠ- বৃহৎ শহর বা নগরমধ্যস্থ দুর্গ বা অট্টালিকাসমূহের মধ্যবর্তী মাঠ বা সমতল জমি, esplanade.
➠ আগাগোড়া- সমস্ত; প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত।
➠ ক্রিয়া- কাজ।
➠ ক্রীড়া- খেলা।
উপরি পাওনার- অপ্রত্যাশিত আয়; নিয়ম বহির্ভূত আয়।
➠ জুয়াখেলা- যে খেলায় বাজি রাখা হয়।
➠ নিরর্থক- অর্থহীন; উদ্দেশ্যহীন।
➠ স্বার্থ- নিজের উদ্দেশ্য সিদ্ধি।
➠ পরার্থ- অন্যের হিত, পরোপকার।
➠ যুগপৎ- একত্র।
➠ গীতা- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যা সাতশত শ্লোকের ধর্মগ্রন্থ। একে সপ্তশতীও বলা হয়। এটি সংস্কৃত মহাকাব্য মহাভারত-এর অংশ। গীতার বিষয়বস্তু কৃষ্ণ ও পাণ্ডব রাজকুমার অর্জুনের কথোপকথন। যেহেতু বেদব্যাস মহাভারত রচনা করেছিলেন বলে মনে করা হয়, সেহেতু মহাভারতের অংশরূপে গীতাও তার দ্বারাই রচিত বলে ধারণা করা হয়।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

মহাভারত

মহাভারত

কৃষ্ণ

কৃষ্ণ

অর্জুন

অর্জুন

➠ ব্রতী- পাপক্ষয় ও পুণ্যলাভের ইচ্ছায় অনুষ্ঠিত ধর্মকার্য করেন যিনি।
➠ অভিপ্রায়ে- ইচ্ছায়; উদ্দেশ্যে।
➠ নিষ্কাম কর্ম- ফললাভের কামনা করা হয়নি এমন কাজ।
➠ মোক্ষলাভ- ভববন্ধন থেকে মুক্তি লাভ, আত্মার মুক্তি অর্জন।
➠ স্বয়ং- নিজে; আপনি।
➠ যদিচ- যদিও।
➠ সৃজন- সৃষ্টি।
➠ লীলামাত্র- খেলামাত্র।
➠ অন্তরাত্মা- জীবাত্মা; অন্তঃকরণ; প্রাণীর দেহে অবস্থানকারী আত্মা।
➠ স্ফূর্তি- আনন্দ; হর্ষ; উৎসাহ।
➠ জীবাত্মা- প্রাণীর দেহে অবস্থানকারী আত্মা।
➠ পরমাত্মা- পরম ব্রহ্ম, ঈশ্বর, সৃষ্টিকর্তা।
➠ মনোরঞ্জন- তোষামোদ; মনের সন্তোষ সাধন।
আকাশপাতাল- প্রচুর; বিশাল
➠ প্রভেদ- পার্থক্য; ব্যবধান।
আকাশ-পাতাল প্রভেদ- বিস্তর পার্থক্য।
➠ স্বধর্মচ্যুত- নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত।
➠ দুর্লভ- দুষ্প্রাপ্য; পাওয়া কঠিন এমন।
➠ চুষিকাঠি- কাঠেল তৈরি শিশুদের চুষবার খেলনা বিশেষ।
➠ রাঙালাঠি- লাল লাঠি।
➠ জয়ঢাক- জয়সূচক ঢাকের শব্দ।
➠ মনতুষ্টি- মনের আনন্দ; মনের খুশি।
➠ প্রাচ্য- পূর্ব বা পূর্বদিক; সাধারণত পূর্ব বা এশিয়ার দেশসমূহ।
➠ পাশ্চাত্য- ইউরোপ এবং আমেরিকা মহাদেশের দেশসমূহ।
➠ কাশী- হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতার জন্য বিখ্যাত। এটি হিন্দুদেবতা শিবের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান এবং ২,০০০-এর বেশি মন্দির রয়েছে, যার মধ্যে বিখ্যাত হলো বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ মন্দির। এটি প্রাচীনতম শহর যা গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।
➠ জার্মানি- ইউরোপের সপ্তম বৃহত্তম দেশ। শক্তিশালী অর্থনীতি, উদ্ভাবন, প্রকৌশল, এবং শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। এটি বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, এবং ভক্সওয়াগনের মতো বিখ্যাত গাড়ির ব্র্যান্ডগুলির জন্য দেশটি পরিচিত।
➠ প্রায়শই- সাধারণত; সচরাচর।
➠ খেলো করা- গুরুত্বহীন বা অসার করা।
➠ বৈশ্য- প্রাচীন আর্যসমাজের চতুর্বর্ণের তৃতীয় স্কর-যারা কৃষিকাজ বা ব্যবসা-বাণিজ্য করত।
➠ শূদ্র- প্রাচীন আর্যসমাজের চতুর্বর্ণের নিম্নতম শ্রেণি বা বর্ণ।
➠ মতিগতি- ইচ্ছা ও প্রবণতা; ভাবগতিক; মনের ভাব।
➠ গলাধঃকরণ- ভক্ষণ, পান।
➠ বাল্মীকি- ‘রামায়ণ’ প্রণেতা বিখ্যাত ঋষি ও কবি। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের আদি কবি হিসেবে সম্মানিত। যৌবনে তার নাম ছিল রত্নাকর এবং পেশা ছিল দস্যুতা। জনশ্রুতি অনুসারে তিনি ব্রহ্মার উপদেশে দস্যুবৃত্তি ছেড়ে তপস্যামগ্ন হন এবং নারদের উপদেশে ‘রামায়ণ’ রচনা করেন।
➠ মুনি- সাধারণত নীরবতা ও তপস্যার মাধ্যমে জীবনযাপনকারী সাধু বা সন্ন্যাসী।
➠ ঋষি- তপস্যায় সিদ্ধিলাভকারী এবং বৈদিক মন্ত্র বা আধ্যাত্মিক সত্যকে প্রকাশ করতে সক্ষম। যিনি তপস্যা করে পরম জ্ঞান লাভ করেন এবং তা প্রকাশ করার ক্ষমতা রাখেন, তিনিই ঋষি। সব ঋষিই মুনি হতে পারেন, কিন্তু সব মুনি ঋষি নন।
➠ বাহুল্য- বাড়াবাড়ি; অতিরিক্ত; অনাবশ্যক ব্যাপার।
➠ রামায়ণ- বাল্মীকি কর্তৃক দশরথ পুত্র রামচন্দ্রের জীবন-কাহিনী অবলম্বনে রচিত মহাকাব্য।
➠ কিঞ্চিৎ- সামান্য; অল্প।
➠ মহর্ষি- ঋষি শ্রেষ্ঠ; মহান ঋষি।
➠ কুশীলব- নট, অভিনেতা।
➠ যথাসর্বস্ব- সমস্ত কিছু।
➠ কৌপীন- ল্যাঙট।
➠ পেলা- পাঁচালী কীর্তন ইত্যাদির আসরে গায়ক-গায়িকাকে দেওয়া শ্রোতাদের পারিতোষিক।
➠ সংক্রামক- প্রসারিত।
যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ- রামচন্দ্রের প্রতি বশিষ্ঠ মুনির উপদেশ সংবলিত সংস্কৃত রামায়ণ। এতে যোগ ও আত্মজ্ঞান সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় উপাখ্যানসহ উপদেশ আকারে আলোচিত হয়েছে।
➠ মাড়ান- পদদলিতকরা; পায়ে পিষ্ট করা।
কস্মিনকালেও- কোনো সময়েই, কখনও।
➠ দণ্ডায়মান- দণ্ডের মতো খাড়া; দাঁড়িয়ে আছে এরূপ; খাড়া।
➠ মধ্যস্থ- মধ্যবর্তিনী; কবি ও শিক্ষকের মাঝামাঝি অবস্থাযুক্ত।
➠ কৃপায়- করুণায়; দয়ায়; অনুগ্রহে।
➠ টীকাভাষ্য- ব্যাখ্যা ও মন্তব্য।
➠ প্রসাদে- গুণে; কারণে।
➠ নিগূঢ়- দুর্জেয়, গভীর ও প্রচ্ছন্ন।
➠ তত্ত্ব- কোনো বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান বা বিদ্যা, মতবাদ।
➠ সবর্ণ- সম রং বিশিষ্ট। একই রঙের।
➠ সগোত্র- একই গোত্রভুক্ত।
দা-কুমড়ার সম্বন্ধ- নিদারুণ শত্রুতার সম্পর্ক; বৈরী সম্পর্ক; মারাত্মক শত্রুতা।
➠ বধ- হত্যা।
শবচ্ছেদ- শবদেহ কেটে পরীক্ষা করা, মড়া কাটা।
অনুভূতিসাপেক্ষ- অনুভূতির সাহায্যে উপলব্ধি করতে হয় এমন।
➠ তর্কসাপেক্ষ- তর্কের মাধ্যমে বিচার বিবেচনা করতে হয় এমন।
➠ মানবাত্মা- মানবের প্রাণ; মানবের হৃদয়।
➠ অসাধ্য- করতে পারা যায় না এমন; চেষ্টার অতীত।
➠ জনৈক- [জনোইকো] কোনো এক ব্যক্তি।
➠ উপনীত- উপস্থিত; আগত।
উপরি পাওয়া- বাড়তি আয় উপার্জন।
বাজারে কাটা- বিক্রি হওয়া।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি:

প্রমথ চৌধুরীর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট পরিচয় ফুটে উঠেছে। লেখাটি ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে এখানে মুদ্রিত হয়েছে।

প্রমথ চৌধুরীর মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনো গুন করা নয়। সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়বে স্বধর্মচ্যুত। অন্যদিকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষা দান করাও নয়। কারণ পাঠ্যবিষয় মানুষ পড়ে অনিচ্ছায় এবং বাধ্য হয়ে। পক্ষান্তরে সাহিত্যের রসাস্বাদন করে মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দে। তাছাড়া শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞানের বিষয় জানানো; পক্ষান্তরে সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনে সাড়া জাগানো।

লেখকের মতে, সাহিত্যের সঙ্গে তুলনা চলে খেলাধুলার। খেলাধুলায় যেমন নিছক আনন্দই প্রধান, সাহিত্যেও তাই। খেলাধুলায় যেমন আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই, সাহিত্যের উদ্দেশ্যও তেমনি- একমাত্র আনন্দ দান করা।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি:

বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী ছিলেন পরিশীলিত বাগবৈদ্যময় রম্যরচনায় সিদ্ধহস্ত। তাঁর বহু রচনা প্রকাশিত হয়েছে ‘বীরবল’ ছদ্মনামে। বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র ‘সবুজপত্র’ (প্রথম প্রকাশ: ১৯১৪) পত্রিকাটি ছিল তাঁরই সম্পাদিত। রবীন্দ্রনাথসহ সমকালীন বিখ্যাত মননশীল লেখকদের অনেকেই ছিলেন এই পত্রিকার লেখক। তাঁর গদ্যশৈলীর নিদর্শন রয়েছে চার ইয়ারী কথা, বীরবলের হালখাতা, রায়তের কথা, তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি গ্রন্থে। তাঁর গল্পগ্রন্থগুলো ও ‘সনেট পঞ্চাশৎ’ কাব্যগ্রন্থ যথাক্রমে গল্পকার ও সনেটকার হিসেবেও বাংলা সাহিত্যে তাঁকে বিশিষ্ট আসন দিয়েছে।

প্রমথ চৌধুরীর পৈত্রিক নিবাস পাবনা জেলার হরিপুর গ্রামে। তিনি ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মৃত্যু ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন- ১. বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক কে?
উত্তর: বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী।
প্রশ্ন- ২. বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র হিসেবে পরিচিত পত্রিকাটির নাম কী?
উত্তর: বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র হিসেবে পরিচিত পত্রিকাটির নাম ‘সবুজপত্র’।
প্রশ্ন- ৩. ‘সবুজপত্র’ কবে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘সবুজপত্র’ ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন- ৪. প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?
উত্তর: প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম ‘বীরবল’।
প্রশ্ন- ৫. প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
উত্তর: প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘সবুজপত্র’।
প্রশ্ন- ৬. প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের আদিকবি কে?
উত্তর: প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের আদিকবি হলেন বাল্মীকি।
প্রশ্ন- ৭. বাল্মীকির আসল নাম কী ছিল?
উত্তর: বাল্মীকির আসল নাম ছিল রত্নাকর।
প্রশ্ন- ৮. যৌবনে রত্নাকরের পেশা কী ছিল?
উত্তর: যৌবনে রত্নাকরের পেশা ছিল দস্যুতা।
প্রশ্ন- ৯. ‘কুশীলব’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘কুশীলব’ শব্দের অর্থ অভিনেতা।
প্রশ্ন- ১০. পাঁচালী কীর্তন ইত্যাদির আসরে গায়ক-গায়িকাকে দেওয়া শ্রোতাদের পারিতোষিককে কী বলে?
উত্তর: পাঁচালী কীর্তন ইত্যাদির আসরে গায়ক-গায়িকাকে দেওয়া শ্রোতাদের পারিতোষিককে পেলা বলে।
প্রশ্ন- ১১. ‘যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ’-এর রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘যোগবশিষ্ঠ রামায়ণ’-এর রচয়িতা বশিষ্ঠ মুনি।
প্রশ্ন- ১২. যোগবশিষ্ঠ রামায়ণে বশিষ্ঠ মুনি কার প্রতি উপদেশ দিয়েছেন?
উত্তর: যোগবশিষ্ঠ রামায়ণে বশিষ্ঠ মুনি রামচন্দ্রের প্রতি উপদেশ দিয়েছেন।
প্রশ্ন- ১৩. টীকাভাষ্য কী?
উত্তর: টীকাভাষ্য হলো মন্তব্যসহ ব্যাখ্যা ও মন্তব্য।
প্রশ্ন- ১৪. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন- ১৫. কত বঙ্গাব্দে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ১৩২২ বঙ্গাব্দে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন- ১৬. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি কোন বইয়ে সংকলিত হয়?
উত্তর: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধটি ‘প্রবন্ধসংগ্রহ’ বইয়ে সংকলিত হয়।
প্রশ্ন- ১৭. ‘প্রবন্ধসংগ্রহ’ বইটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘প্রবন্ধসংগ্রহ’ বইটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন- ১৮. সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট পরিচয় ফুটে উঠেছে কোথায়?
উত্তর: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যচর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট পরিচয় ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন- ১৯. সাহিত্যের সঙ্গে কীসের তুলনা চলে?
উত্তর: সাহিত্যের সঙ্গে খেলাধুলার তুলনা চলে।
প্রশ্ন- ২০. ‘সনেট পঞ্চাশৎ’ কার লেখা কাব্যগ্রন্থ?
উত্তর: ‘সনেট পঞ্চাশৎ’ প্রমথ চৌধুরীর লেখা কাব্যগ্রন্থ।
প্রশ্ন- ২১. প্রমথ চৌধুরী কত খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন- ২২. প্রমথ চৌধুরী কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: প্রমথ চৌধুরী ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রশ্ন- ২৩. সাহিত্যরাজ্যে পাঠকের মনঃতুষ্টি হয় কী পেয়ে?
উত্তর: সাহিত্যরাজ্যে পাঠকের মনঃতুষ্টি হয় খেলনা পেয়ে।
প্রশ্ন- ২৪. শূদ্র পাঠকের মনোরঞ্জন করা সংগত কোন লেখকের পক্ষে।
উত্তর: শূদ্র পাঠকের মনোরঞ্জন করা সংগত বৈশ্য লেখকের পক্ষে।
প্রশ্ন- ২৫. সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে কখন?
উত্তর: সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন- ২৬. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে উল্লিখিত বিখ্যাত ভাস্করের নাম কী?
উত্তর: ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে উল্লিখিত বিখ্যাত ভাস্করের নাম রোদ্যা।
প্রশ্ন- ২৭. কার মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত?
উত্তর: কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রশ্ন- ২৮. ভাস্কর রোদ্যাঁ কোন দেশের নাগরিক?
উত্তর: ভাস্কর রোদ্যা ফরাসি নাগরিক।
প্রশ্ন- ২৯. শাস্ত্রমতে কাব্যরস কেমন?
উত্তর: শাস্ত্রমতে কাব্যরস অমৃত।
প্রশ্ন- ৩০. পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই কীসের খেলা খেলে থাকেন?
উত্তর: পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

প্রশ্ন- ১. ‘যখন তখন হাতে কাদা, নিয়ে তা আঙুলের টিপে মাটির পুতুল ত'য়ের করে থাকেন।’—কথাটি কার সম্পর্কে এবং কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটি বিশ্ববিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁর শিল্পচর্চার পন্থা সম্পর্কে ইঙ্গিত দিতে বলা হয়েছে।
➠ মূলত শিল্পীর খেলার মাধ্যমেই শিল্পরাজ্যের সব অক্ষয় সৃষ্টির জন্ম। শিল্প সৃষ্টিতে শিল্পীর মনের স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দেরই প্রকাশ ঘটে। শিল্প সৃষ্টির উপাদান নিয়ে শিল্পী খেলায় মেতে থাকেন। আর এই খেলার ফলেই তাঁর সৃষ্টি-কর্ম নানা অবয়ব পায়। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁর শিল্প সৃষ্টির উদাহরণ টেনেছেন কাদামাটি নিয়ে। মনের আনন্দে খেলাচ্ছলে তিনি বহু বিখ্যাত সৃষ্টির জন্ম দিয়েছেন।

প্রশ্ন- ২. ‘পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীর সকল শিল্পীরই শিল্প সৃষ্টির প্রয়াসকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখক খেলা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
➠ লেখক মত প্রকাশ করেছেন যে, শিল্পী যা কিছু সৃষ্টি করেন সেটি শিল্পীর কাছে একরকম খেলারই নামান্তর। বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁর সৃষ্টিকর্মকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। মাটি নিয়ে পুতুল গড়ার খেলা খেলেই পৃথিবী জোড়া খ্যাতি পেয়েছেন রোদ্যাঁ। ঠিক তেমনই পৃথিবীর সকল শিল্পীই খেলার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অভিনব সব সৃষ্টিশীল শিল্পকর্ম সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

প্রশ্ন- ৩. ‘বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না।’—বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসতে না পারলে কেউ লেখকদের উপদেশ মানবে না- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা প্রাবন্ধিক এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।
➠ লেখকের মতে, সাহিত্যের উচ্চস্থানে বসতে না পারলে কেউ তাঁকে মান্য করবে না। মানুষ সবসময় শ্রেষ্ঠত্বকে গুরুত্ব দেয়। যে সমাজ বা দেশের উচ্চস্থানে আছে মানুষ তাকেই গুরুত্ব দেয়। অযোগ্য মানুষও যদি বক্তব্যের জন্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে যায়, মানুষ তাকেও গুরুত্ব দেওয়া শুরু করে। সমাজ শুধু উচ্চস্থানের মানুষকেই কদর করে। গুণী মানুষকে খুব কমই মূল্যায়ন করে। গুণী মানুষ যদি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে না পারে তাহলে সে মানুষের কাছে অজানাই থেকে যায়। তাই কবি আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

প্রশ্ন- ৪. অনেকের পক্ষে উচ্চস্থানে ওঠার চেষ্টা মহাপতনের কারণ হয় কেন?
উত্তর: সীমিত প্রতিভার কারণে নিজেদের আয়ত্তের বহির্ভূত স্থানে উঠবার চেষ্টা অনেকের মহাপতনের কারণ হয়।
➠ মানুষের কাছে নিজের প্রভাব ও গুরুত্ব প্রমাণের চেষ্টা মানুষের স্বভাবগত। সাধারণ অন্যান্য সকলের চেয়ে উঁচু অবস্থানে না পৌঁছাতে পারলে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা সম্ভব হয় না। তাই আমরাও নিরন্তর সেই চেষ্টাই করে যাই। এই উঁচুতে ওঠার চেষ্টা সবার জন্য সমান সাফল্য বয়ে আনে না। আয়ত্তের বাইরে কাজ করতে গেলে বরং হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রশ্ন- ৫. ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা, কারো মনোরঞ্জন করা নয়।’—কেন?
উত্তর: মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
➠ বস্তুত সাহিত্যের প্রধান উদ্দেশ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া, খেলায় মানুষ যেরূপে আনন্দ পেয়ে থাকে। মনোরঞ্জন করার মধ্যে কোনো একটা কৃত্রিম প্রয়াস বা বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু আনন্দ দেওয়ার ব্যাপারটিতে, কোনো উদ্দেশ্য বা স্বার্থচিন্তা থাকে না, তা স্বতঃস্ফূর্ত। সাহিত্য যদি কারো মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে রচিত হয়, তবে তা হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। পক্ষান্তরে আনন্দের সন্ধান মেলে স্বতঃস্ফূর্ত খেলার ভিতর দিয়ে। তাই সাহিত্যের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে অনুরূপ উক্তি করা হয়েছে।

প্রশ্ন- ৬. ‘কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।’—কারণ কী?
উত্তর: সাহিত্য হলো মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ- বেদনা ইত্যাদি আবেগ ও অনুভূতির শৈল্পিক প্রকাশ, যা থেকে আনন্দ নামক অভিন্ন রসের খোরাক মেটে।
➠ সাহিত্যে অনেক সময় মানবজীবনের ট্র্যাজিক বেদনার রূপ প্রতিফলিত হয়। তা আস্বাদনে সবাই একধরনের আনন্দলাভ করে। যদিও তার মূলে রয়েছে বেদনাময় আখ্যান। পাঠক সমাজকে আনন্দ দিতে গেলে কবিরা অনেক সময় বেদনা বোধ করে থাকেন। তাই কাব্যজগতে যা আনন্দ রসের আধার, তার অন্য নাম বেদনা।

প্রশ্ন- ৭. কীভাবে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়?
উত্তর: সমাজের মনোরঞ্জন করা সাহিত্যের কাজ নয় আর তা করতে গেলেই সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
➠ সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া। সাহিত্যরাজ্যে মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলা করার মতো সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা সৃষ্টি করা হলে তা ক্ষণস্থায়ীভাবে পাঠকের মনতুষ্টি করতে পারবে কিন্তু তা পুরোনো হলেই সময়ের গর্ভে হারিয়ে যাবে। অন্যদিকে, যে সাহিত্য থেকে মানুষ আনন্দ আহরণে সক্ষম হয় সেই সাহিত্যই হয় কালজয়ী। অর্থাৎ মানুষের মনোরঞ্জন করার উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করা হলেই সাহিত্য তার স্বধর্ম হারায়।

প্রশ্ন- ৮. সাহিত্যে পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করতে কেন নিষেধ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত ও মানহীন হতে পারে বলে সাহিত্যে পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
➠ সাহিত্য কারো মনোরঞ্জনের লক্ষ্যে সৃষ্টি হয় না। সকলকে আনন্দ দান করাই সাহিত্যের উদ্দেশ্য। তাছাড়া এ যুগের পাঠক সমাজ হলো সর্ব- স্তরের জনসাধারণ। গড়পরতা তাদের পাঠাভ্যাসের মানও খুব উঁচু নয়। ফলে বর্তমানের এই পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সম্ভা মানের সাহিত্য নির্মাণ আবশ্যক হয়ে পড়বে। তাই সাহিত্যে আর যাই হোক, এ যুগের পাঠক সমাজের মনোরঞ্জন করতে নিষেধ করা হয়েছে।

প্রশ্ন- ৯. শিক্ষার উদ্দেশ্য ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের অভিমত ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা এবং শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষকে জ্ঞানদান করা।
➠ শিক্ষা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। পক্ষান্তরে সাহিত্যের রসাস্বাদন করে মানুষ স্বেচ্ছায় ও আনন্দে। তা মানুষের মনের দরজা খুলে দেয়। সাহিত্য ও শিক্ষার উদ্দেশ্যের পার্থক্য এখানেই। লেখকের মতে সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষাদান করা নয়। উভয়ের উদ্দেশ্য এক নয়।

প্রশ্ন- ১০. সাহিত্য রচনাকে খেলা করার সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন?
উত্তর: সাহিত্যের কাজ হলো মানুষকে আনন্দ দেওয়া আর পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মল আনন্দের উপায় হলো খেলা করা।
➠ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে লেখক প্রমথ চৌধুরী মত প্রকাশ করেছেন মানুষের দেহমনের সকল ক্রিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ক্রীড়া বা খেলা। কেননা, তাতে কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। নিছক আনন্দের জন্যই মানুষ খেলা করে। সাহিত্যের উদ্দেশ্যও একইভাবে মানুষকে নিবিড় আনন্দ প্রদান করা। সেইসাথে খেলার ময়দানে যেমন ধনী-গরিব বা ছোটো-বড়ো কোনো ভেদাভেদ নেই তেমনি সাহিত্যের অঙ্গনেও কারো প্রবেশাধিকারে বাধা নেই। লেখক তাই সাহিত্য রচনাকে খেলা করার সাথে তুলনা করেছেন।

প্রশ্ন- ১১. শাস্ত্রমতে সাহিত্যের রস অমৃত কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানুষ বেঁচে থাকার জন্য অমৃত পান করে এবং মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করার জন্য সাহিত্যের রস উপলব্ধি করে।
➠ সাহিত্য মানুষকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখে। লেখক 'কাব্যরস অনুধাবন করে কাব্য রচনা করলে তা লেখকের মৃত্যুর পরও রয়ে যায়, যা একজন লেখককে সারা জীবন পাঠকের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখে। মানুষ সারা জীবন বাঁচার আকাক্সক্ষা নিয়ে অমৃত পান করে। মানুষ যদি সাহিত্যের রস উপলব্ধি করতে পারে তবে এর মাধ্যমে মানুষ হাজার বছর বেঁচে থাকার আকাক্সক্ষা পোষণ করে। সাহিত্যের মৃত্যু নেই। সাহিত্য আজীবন পাঠকের মনে রসের সঞ্চার করে। সেই রস উপলব্ধি করে মানুষ নিজের মধ্যে সেই লেখককে বাঁচিয়ে রাখে। তাই সাহিত্যের রস অমৃত।

প্রশ্ন- ১২. ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে জাগানো।’—প্রাবন্ধিক কথাটি কেন বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যক্ত করার জন্যই প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
➠ সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষকে শিক্ষা দেওয়া নয়। সাহিত্যের রস অমৃত সুধার মতো সঞ্জীবনী শক্তিসম্পন্ন। এর স্পর্শে মানুষের অন্তরাত্মা সজীব ও বিকশিত হয়। মানুষের মাঝে সত্যিকার অর্থে মানবিকতার জাগরণ ঘটায় সাহিত্য। শিক্ষাদানের মতো জোরপূর্বক প্রক্রিয়ায় নয় বরং আনন্দদানের মাধ্যমে মনকে জাগানোই সাহিত্যের উদ্দেশ্য।

প্রশ্ন- ১৩. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে কাব্য এবং সাংবাদপত্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী কেন?
উত্তর: কাব্য সৃষ্টির মূলে রয়েছে অন্তরাত্মার স্ফূর্তি, অন্যদিকে সংবাদপত্রের কাজ সংবাদ সরবরাহ। ফলে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে এ দুটির অবস্থান বিপরীতধর্মী।
➠ কবিমনের অনুভূতি থেকে কাব্যের উৎপত্তি। কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা জ্ঞান বিতরণ করা নয় বরং কবি তাঁর আপন প্রাণের আনন্দকে সবার করে তোলার জন্যই কাব্যকলা নির্মাণ করেন। অপরদিকে, সংবাদপত্রের কাজ নির্দিষ্ট, আর তা হলো প্রতিদিনের সংবাদ ও সংবাদযোগ্য তথ্য সকলের সামনে উপস্থাপন করা। কাব্যের সজো কোনোভাবেই সংবাদপত্রের উদ্দেশ্যকে মেলানো যায় না। তাই ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে কাব্য এবং সংবাদপত্রের অবস্থান পরস্পরের বিপরীত মেরুতে।

প্রশ্ন- ১৪. শিল্পরাজ্যে বড়ো-ছোটো সকলের কী রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শিল্পরাজ্যে বড়ো-ছোটো সকলের খেলা করবার অধিকার
➠ রয়েস্কের মতে, সাহিত্য সৃষ্টি করার অধিকার সকলের আছে। বড়ো বড়ো সাহিত্যিক শুধু সাহিত্য রচনা করবেন তা নয়, সবাইকে কবিতা রাখার স্বাধীনতা দিতে হবে। সাহিত্য সৃষ্টির জন্য শুধু কবিরা সুযোগ পাবেন অন্যরা পাবেন না এটা হতে পারে না। সবারই শিল্পরাজ্যে বিচরণ ও খেলার অধিকার রয়েছে। ছোটো বা নবীন লেখকেরাও যেখানে অবাধে বিচরণ করতে পারবেন। সেখানে কোনো ভেদাভেদ করলে সাহিত্যের সত্যিকার অর্থে যে উদ্দেশ্য তা বিলীন হয়ে যাবে। সকল মানুষেরই গান গাওয়া, ছবি আঁকা, কবিতা লেখা ইত্যাদির অধিকার থাকা উচিত বলে লেখক মনে করেন। তাই লেখক বলেন, এই রাজ্যে সকলেরই স্বাধীনতা রয়েছে।

প্রশ্ন- ১৫. লেখকদের কেন যথার্থ সামাজিক জীব বলা হয়েছে?
উত্তর: লেখকগণ সমাজকে উপলব্ধি করে লেখার মাধ্যমে তা প্রকাশ করেন বলে তাঁদের যথার্থ সামাজিক জীব বলা হয়েছে।
➠ লেখকেরা নিজেদের অনুভব উপলব্ধির কথাই তাঁদের রচিত সাহিত্যকর্মে তুলে ধরেন। আর এসব ভাবনার একটি অন্যতম উপাদান হলো লেখকের নিজস্ব সমাজ ও সমাজ-বাস্তবতা। নিরন্তন ভাবনাচিন্তার মাধ্যমে সমাজের কথা, বাস্তবতার চিত্র লেখকগণ শিল্পসম্মত করে সাহিত্যে ফুটিয়ে তোলেন। ফলে পারিবারিক গ-ির নির্দিষ্টতা পেরিয়ে লেখকদের যথার্থ সামাজিক জীব বলা হয়েছে।

প্রশ্ন- ১৬. ‘বিশ্বমানবের মনের সঙ্গে নিত্য নূতন সম্বন্ধ পাতানোই হচ্ছে কবিমনের নিত্যনৈমিত্তিক কর্ম।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানুষের মনের সাথে নিজের ভাবনার সংযোগ স্থাপন করে মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোই কবির কাজ।
➠ সমাজের প্রচলিত গ-িতে আবদ্ধ জীবন কবির জন্য নয়। সাহিত্য রচনা করতে গিয়ে তাঁর পরিচয় হয় বিশ্বের পরিচয়ে। সাহিত্য জগতে খেলা করার মাধ্যমে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বমানবের মনে পৌঁছে যান কবি। কবির আপন মনের কথা তাই কোনো নির্দিষ্ট ভূখ-ের মানুষের জন্য নয়- সে কথার মাধ্যমে কবি যোগাযোগ করেন পৃথিবীর সকল মানুষের সাথে।

প্রশ্ন- ১৭. মানুষের নয়ন মন আকর্ষণ করার সুযোগ কাদের কপালে কীভাবে ঘটে? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: সাহিত্য জগতে যাদের খেলা করার ইচ্ছা, সাহস ও ক্ষমতা আছে তারাই মানুষের নয়ন মন আকর্ষণ করার সুযোগ পান।
➠ প্রাবন্ধিকের মতে, সাধারণ মানুষের ধারণা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য প্রয়োজন উঁচুমঞ্চে আরোহণ করা বা উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করা। প্রকৃতপক্ষে মানুষের মনোযোগ পাওয়ার জন্য ইচ্ছার পাশাপাশি সাহস ও ক্ষমতা থাকা বাঞ্ছনীয়। কেবল মানুষের মনোরঞ্জন করার জন্য সাহিত্য রচনা করলে তার আবেদন স্থায়ী হয় না। মানুষের মনের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারলেই সার্থক কবি হওয়া সম্ভব হয়।

প্রশ্ন- ১৮. মানুষ বক্তৃতা শোনার চেয়ে খেলা দেখতে বেশি আগ্রহী কেন?
উত্তর: বক্তৃতার মধ্যে কেবল নীতিকথাই থাকে, আর খেলার মধ্যে থাকে কেবল আনন্দ, তাই মানুষ খেলা দেখতে বেশি আগ্রহী।
➠ গুণকীর্তন করাই সাধারণত বক্তৃতার মূল বিষয় থাকে। তাছাড়া বক্তৃতার মাধ্যমে নীতিকথা শোনানো হয়। ফলে এতে আনন্দলাভের কোনো উপকরণ থাকে না বলে মানুষ বক্তৃতা শুনতে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করে না। অপরপক্ষে, খেলার মূল উদ্দেশ্যই হলো আনন্দ দেওয়া। তাই মানুষ বক্তৃতা শোনার চেয়ে খেলা দেখতে বেশি আগ্রহী।

প্রশ্ন- ১৯. ‘তিনি গীতের মর্মও বোঝেন না, গীতার ধর্মও বোঝেন না।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উক্তিটির মাধ্যমে যারা পাঠকের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য রচনা করেন তাদের সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, তার সাহিত্যের মর্ম বুঝতে অক্ষম।
➠ সাহিত্য রচিত হয় লেখকের মনের আনন্দের জন্য এবং অন্যকে আনন্দ দেওয়ার জন্য। এর বাইরে অন্য কোনো ফললাভের আশা লেখকদের করা উচিত নয় বলে প্রমথ চৌধুরী মনে করেন। যারা আনন্দ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করেন তারা। যে সাহিত্যের মর্ম সম্পর্কে অজ্ঞ, সে বিষয়টি উদ্ধৃত উক্তির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন- ২০. ‘কবির সৃষ্টিও এই বিশ্ব সৃষ্টির অনুরূপ।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিশ্ব সৃষ্টিতে ঈশ্বরের যেমন কারে‌্যাদ্ধারের উদ্দেশ্য নেই সাহিতা সৃষ্টিও তেমনি অভিপ্রায়হীন।
➠ বিশ্ববিধাতার কোনোকিছুরই অভাব নেই। তারপরও তিনি এই বিশ্বব্রহ্মা- সৃষ্টি করেছেন শুধু নিজের আনন্দের জন্য। কবির রচনার ক্ষেত্রেও একই রকম স্ফূর্তি ও উদ্দীপনা থাকলে তবেই সেই রচনা সার্থক হয়ে ওঠে। অর্থাৎ কবির কাজ কারো মনোরঞ্জন করা নয় বা অভাব দূর করা নয় বরং নিজে আনন্দ পাওয়া ও সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষকে এক আনন্দময় জগতের সন্ধান দেওয়া।

প্রশ্ন- ২১. কবির সৃষ্টিকে বিশ্বসৃষ্টির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে কেন?
উত্তর: ঈশ্বর কর্তৃক বিশ্বসৃষ্টির মতোই কবির সৃষ্টিও অভাব দূর করার অভিপ্রায়যুক্ত। তাই এমন তুলনা করা হয়েছে।
➠ কোনো অভাববোধ থেকে নয় বরং লীলা প্রকাশের উদ্দেশ্যেই ঈশ্বর এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন। কবির কাব্য সৃষ্টিও ঈশ্বরের বিশ্বজগৎ সৃষ্টির সঙ্গে তুলনীয়। কারণ, কবি কাব্যকলার চর্চা করেন কোনো অভাববোধ কিংবা দায়বোধ থেকে নয়। অন্তরাত্মার স্ফূর্তি ও তার ফল লাভের অভিপ্রায়েই কবির সৃষ্টিকর্ম এগিয়ে চলে। সৃজনের আনন্দই কবির একমাত্র প্রাপ্তি। তাই কবির কাব্য সৃষ্টি ঈশ্বরের বিশ্বসৃষ্টির মতোই আনন্দমুখী, অভাব দূর করার অভিপ্রায়মুক্তি এবং সাদৃশ্যপূর্ণ।

প্রশ্ন- ২২. ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য শিক্ষাদান করা নয়’—বলতে লেখক কী। বুঝিয়েছেন?
উত্তর: সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান করা, শিক্ষাদান করা নয়।
➠ সাহিত্য মানুষের মনোজগৎকে জাগ্রত করে। সাহিত্য মানবজীবনে সুখ, দুঃখ, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি শৈল্পিকভাবে প্রকাশ করতে শেখায়। সাহিত্য মানুষকে উপলব্ধির জগৎ তৈরি করে দেয়। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষ মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তুলতে পারে। সাহিত্যের রস উপলখির মাধ্যমে মানুষ মনোজগতে বিচরণ করতে পারে। সাহিত্য জগতে কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক ধরাবাধা নিয়ম রয়েছে। মানুষের ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার বিষয়টি অনুধাবন করতে হয় বা মুখস্থ করতে হয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য মনকে বিশ্বের খবর জানিয়ে দেওয়া আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া।

প্রশ্ন- ২৩. বাল্মীকির রামায়ণ ও যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের মৌলিক বিরোধ কোথায়?
উত্তর: বাল্মীকির রামায়ণ ও যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের মৌলিক বিরোধ হলো- একটি রচিত হয়েছিল আনন্দদানের জন্য এবং অপরটি শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে।
➠ বাল্মীকি রচিত রামায়ণ শ্রবণে ও পাঠে সন্ধান মেলে আনন্দের। আর আনন্দ সংক্রামক হওয়ায় তাঁর রামায়ণ আজও নিয়মিত চর্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে, যোগবশিষ্ঠ রচিত রামায়ণ আবেদনময় হয়ে উঠতে পারেনি কেননা, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষাদান করা। তাই মানুষ সেই রামায়ণের ছায়াও মাড়ায় না। এই মৌলিক বিরোধটির ফলেই দুই রচয়িতার রামায়ণের দুই ধরনের পরিণতি হয়েছে।

প্রশ্ন- ২৪. ‘আনন্দের ধর্মই এই যে তা সংক্রামক।’—বলতে কোন প্রসঙ্গে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিতে বোঝানো হয়েছে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া আর তা সহজেই সবার হৃদয়ে সঞ্চারিত হয়।
➠ বাল্মীকি রচিত রামায়ণ মুনিঋষিদের জন্য রচিত হলেও এর সাহিত্যগুণের কারণে তা সমাদর পেয়েছে সবকালে। আনন্দ প্রদানের ক্ষমতা থাকায় আজও সেই রামায়ণের চর্চা রয়েছে। কেননা, সেই আনন্দ ক্রমে সংক্রমিত হয়েছে মানুষের মাঝে। অন্যদিকে, শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রচিত যোগবশিষ্ঠ রামায়ণের সেই গুণটি ছিল না। ফলে তা আবেদনময় হয়ে ওঠেনি।

প্রশ্ন- ২৫. ‘লেখক ও পাঠকদের মধ্যে এখন স্কুলমাস্টার দন্ডায়মান।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: স্কুলমাস্টারদের শিক্ষাপদ্ধতির কারণে পাঠক সাহিত্যের প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
➠ সাহিত্য ও শিক্ষার প্রকৃতি একরূপ নয়। সাহিত্য জোর করে বোঝার বিষয় নয়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করতে না পারলে এর আসল স্বাদ পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের স্কুলমাস্টারগণের গতানুগতিক শিক্ষাদান পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা কবির মনের ভাব বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না। এ কারণেই বলা হয়েছে কবি ও পাঠকদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্কুলমাস্টার।

প্রশ্ন- ২৬. সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না কেন?
উত্তর: জ্ঞানের কথা বলা নয়, বরং সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দদান হওয়ায় তা শিক্ষার ভার নেয় না।
➠ শিক্ষা হলো সেই বস্তু যা লোকে অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গলাঃধকরণে বাধ্য হয়। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনকে বিশ্বের খবর দেওয়া, মনকে জাগানো নয়। কিন্তু সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানুষের মনকে স্বচ্ছন্দে আনন্দের খোঁজ দেওয়া। সাহিত্যের রাজ্যে শিক্ষা রাজ্যের মতো কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সেখানে মানুষ মনের আনন্দে বেলু করতে পারে। শিক্ষার ভার নেওয়া তাই সাহিত্যের কাজ নয়। শিক্ষাদান করা শিক্ষকেরই সাজে কবির নয়।

প্রশ্ন- ২৭. মনোজগতে শিক্ষকের কাজ লেখকের কালের বিপরীত কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শিক্ষকের কাজ শিক্ষাদান করা আর লেখকের কাজ আনন্দ দেওয়া।
➠ মনোজগতে শিক্ষা স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে পারে না। মানুষ বাধ্য হয়ে শিক্ষার বিষয়গুলোকে মুখস্থ করে। এই মুখস্থ শিক্ষা বেশিদিন মানবমনে জায়গা করে নিতে পারে না। তাই মনোজগতে শিক্ষকও বেশিদিন থাকতে পারেন না। পক্ষান্তরে লেখকের কাব্যরস পাঠক অনুধাবন করতে পারলে লেখক আজীবন মানবমনে রয়ে যায়। লেখকের কাজ হলো মানুষের মনোজগতে সাহিত্যের রস উপলব্ধি করতে শেখানো। আর শিক্ষকের কাজ মানুষকে বিশ্বের খবর জানিয়ে দেওয়া। তাই বলা যায়, মনোজগতে শিক্ষকের কাজ লেখকের কাজের বিপরীত।

প্রশ্ন- ২৮. ‘সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, গুরুর হাতের বেতও নয়।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: তীব্র জ্ঞানপিপাসা না থাকলে চাইলেই সাহিত্যকে আত্মস্থ করা যায় না তেমনি প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে সাহিত্যের স্বাদ পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব নয়।
➠ সাহিত্য মানুষকে আত্মিক প্রশান্তি দান করে। সাহিত্যের ভিতর থেকে এর প্রকৃত আনন্দরস নিংড়ে নিতে হলে চাই সাহিত্যের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আত্মনিবেদন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে সাহিত্যের ব্যবচ্ছেদ করা হয় ও সাহিত্যের গূঢ় অর্থ বোঝানো হয়। কিন্তু পাঠকের জ্ঞান আহরণের তীব্র ইচ্ছা ছাড়া কোনো উপায়েই এর অমৃত সুধা পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। তাই বলা হয়েছে, সাহিত্য ছেলের হাতের খেলনাও নয়, কিংবা গুরুর হাতের বেতও নয়।

প্রশ্ন- ২৯. সাহিত্য জগতে লেখকের প্রকৃত কাজ কী?
উত্তর: মানুষের মনোরঞ্জন করার জন্য নয় বরং মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য সাহিত্য রচনা করাই লেখকের কাজ।
➠ মানুষের মনোরঞ্জন করার জন্য রচিত সাহিত্যকে খেলনার সাথে তুলনা করেছেন 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখক প্রমথ চৌধুরী। খেলনাসদৃশ । এই রচনা মানুষকে সাময়িক তুষ্টি প্রদান করলেও দুদিন পর এটি খেলনা হয়ে যায়। লেখকের কাজ তাই খেলনা তৈরি করা নয় বরং নিজের মনের আনন্দে সাহিত্যজগতে খেলা করা ও মানুষের মনের কাছাকাছি পৌঁছানোর সাধনা করা।

প্রশ্ন- ৩০. লেখকের মতে, সাহিত্যে কোন আত্মা খেলা করে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: লেখকের মতে, সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে।
➠ সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে। সাহিত্য সৃষ্টি হয় মানবাত্মাকে জাগ্রত করার জন্য। সাহিত্যের উদ্দেশ্য মানবাত্মাকে আনন্দ দেওয়া। সাহিত্যের মূল বিষয়বস্তু হলো মানুষ। মানুষের জীবনের নানা দিক নিয়ে সাহিত্যের সৃষ্টি। মানবজীবনের প্রেম-বেদনা, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ ইত্যাদি নিয়ে সাহিত্যের সৃষ্টি। সাহিত্য মানবজীবনের সকল ক্ষেত্রে বিচরণ করে মানবমনে অনুভবের জগৎ তৈরি করে। মানবাত্মাকে বিভিন্ন রূপে সাহিত্য উপস্থাপন করতে পারে। তাই সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেখানে আনন্দের জগৎ তৈরি করে।

প্রশ্ন- ৩১. ‘অতি সস্তা খেলনা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: প্রবন্ধে ‘অতি সস্তা খেলনা’ বলতে সেই সাহিত্যকর্মকে বোঝানো হয়েছে, যা পাঠকদের মনোরঞ্জনের জন্য খুবই নিম্নমানের ও অগভীর হয়ে থাকে।
➠ এটি এমনভাবে রচিত হয়, যাতে তা সহজেই জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বাজারে বিক্রি হয়। এ ধরনের রচনার মূল উদ্দেশ্য পাঠকদের সাময়িক বিনোদন দেওয়া, গভীর সাহিত্যিক মান বজায় রাখা নয়। লেখক এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ধরনের সস্তা সাহিত্য মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রচিত হয় এবং তা দীর্ঘমেয়াদি মূল্য বা শিল্পের প্রকৃত আনন্দ দিতে ব্যর্থ। এর ফলে সাহিত্য তার স্বকীয়তা ও গুণগত মান হারায়, এবং লেখকের জন্য এটি মনস্তুষ্টির কারণ হয় না।

প্রশ্ন- ৩২. ‘মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ।’—কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন এবং আনন্দদানের জন্যই সংঘটিত হয়।
➠ খেলা শুদ্ধ আনন্দ দেয়, যা শ্রেণি বা ভেদাভেদ ছাড়াই সবার জন্য সমান। এটি মানুষের মন ও দেহকে সতেজ রাখে এবং জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। খেলায় কোনো স্বার্থ বা উপকারের আকাক্সক্ষা নেই, যা একে অন্য সব কার্য্যকলাপ থেকে আলাদা করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে।

প্রশ্ন- ৩৩. ‘যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরে পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: আনন্দবিহীন উপরি পাওনার লোভে যে খেলা হয় তাকে জুয়াখেলার সাথে তুলনা করা যায়।
➠ সাহিত্য হবে নিছক আনন্দের জন্য আর আনন্দময় সাহিত্যই হলো প্রকৃত সাহিত্য। প্রমথ চৌধুরী তাঁর এমন বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন। যে, সাহিত্য কেবলমাত্র সাহিত্যিকের হৃদয় নিঃসৃত আনন্দের ঝরনাধারা দিয়েই প্রবাহিত হবে। কেননা, উদ্দেশ্য-প্রধান সাহিত্য রচনা করলে বা অন্যের মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্য রচনা করলে তা হবে অত্যন্ত নিম্নমানের সাহিত্য, যা অনেকটা জুয়াখেলার মতোই। কেননা, এতে উপরি পাওনার আশা থাকে। আর প্রকৃত সাহিত্যে থাকে উদ্দেশ্যবিহীন স্বতঃপ্রণোদিত খেলার মতোই নির্মল আনন্দ।

প্রশ্ন- ৩৪. ‘এই পুতুল করা হচ্ছে তার খেলা।’—কার এবং কেন?
উত্তর: শিল্পীর খেলার মাধ্যমেই শিল্পরাজ্যের সব অক্ষয় সৃষ্টির জন্ম—লেখকের এই মনোভাবই ব্যক্ত হয়েছে আলোচ্য উক্তির মাধ্যমে।
➠ লেখকের মতে, শিল্প সৃষ্টিতে শিল্পীর মনের আনন্দেরই প্রকাশ ঘটে। শিল্প সৃষ্টির উপাদান নিয়ে শিল্পী খেলায় মেতে থাকেন। আর এই খেলার ফলেই তার সৃষ্টিকর্ম নানান অবয়ব পায়। ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী তাঁর রচনায় ফরাসি ভাস্কর রোদ্যাঁর শিল্পসৃষ্টির উদাহরণ টেনেছেন। কাদামাটি নিয়ে পুতুল গড়া খেলার মাধ্যমেই তাঁর সব বিখ্যাত সৃষ্টির জন্ম হয়েছে। আর এই খেলাই হলো পৃথিবীর সব সৃজনশীল কর্মের মূল।

প্রশ্ন- ৩৫. ‘খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্কাম কর্ম।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: খেলা হচ্ছে জীবজগতে একমাত্র নিষ্ক্রম কর্ম, কারণ এতে কোনো কিছু লাভের বা পাওয়ার অভিপ্রায় থাকে না।
➠ লেখকের মতে, মানুষ খেলায় আনন্দ ব্যতীত অন্য কোনো ফলের আকাক্সক্ষা করে না। যদি তা করে তবে তা হয় জুয়াখেলা। প্রাবন্ধিক এরূপ নিষ্কাম খেলার সাথে সাহিত্যের সাদৃশ্য উপস্থাপন করেছেন। খেলার মতো সাহিত্যের উদ্দেশ্যও আনন্দ লাভ করা। অর্থাৎ খেলা বা সাহিত্য দুইটিই জীবজগতে হতে হবে কোনো কামনা ছাড়া কাজ। যে কাজের উদ্দেশ্য হবে শুধু আনন্দের প্রাপ্তি।

প্রশ্ন- ৩৬. ‘কবির মতিগতি শিক্ষকের মতিগতির সম্পূর্ণ বিপরীত’—কেন?
উত্তর: কবি ও শিক্ষকের মতিগতি সম্পূর্ণ বিপরীত—উক্তিটির মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্য ও শিক্ষার উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কথাই বলতে চেয়েছেন।
➠ প্রাবন্ধিকের মতে শিক্ষা বিষয়টি মানুষ সাধারণত নিতান্তই অনিচ্ছার সাথে গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। আর এই করার কাজটির দায়িত্বে থাকেন শিক্ষক। অন্যদিকে, কবির উদ্দেশ্য সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মনের জাগরণ ঘটানো। এটি বল প্রয়োগে নয় বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই কেবল সম্ভব। এ কারণেই শিক্ষক ও কবির মতিগতি সম্পূর্ণ বিপরীত বলা হয়েছে।

প্রশ্ন- ৩৭. সাহিত্যের মাধ্যমে কারো মনোরঞ্জন করা উচিত নয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মনোরঞ্জন করা যদি সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে, তাই সাহিত্যের মাধ্যমে কারো মনোরঞ্জন করা উচিত নয়।
➠ প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে মনোরঞ্জন বা শিক্ষাদানের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণের বিপক্ষে। সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দদান করা। মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে যায়। লেখক তাঁর সাহিত্যকর্মের জন্য কৃতিত্ব, প্রশংসা ও বাহবা দাবি করতে পারেন। কিন্তু হাততালি ও বাহবা পাওয়া যাদি সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে সাহিত্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

প্রশ্ন- ৩৮. ‘রঙ্গমঞ্চে না চড়লে আমাদের অভিনয় কেউ দেখে না।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সাধারণ দৃষ্টিতে যেকোনো জিনিসের বাহ্যিক রূপটি প্রত্যক্ষ করা গেলেও তা হৃদয়গ্রাহী হওয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন দাবি করার বিষয়টি প্রশ্নোত্ত উক্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
➠ লেখকের মতে, সাধারণ মানুষের চোখ বস্তুর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য্য অনুধাবন করতে পারে না। তাই যেকোনো বিষয় তাদের সামনে একটু বেশি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করতে হয়। নিজের কথা যেমন গুরুত্ব দিয়ে সাধারণের ঊর্ধ্বে উঠে প্রকাশ না করলে কেউ মানে না, তেমনই রঙ্গমঞ্চে না চড়লে অভিনেতার অভিনয় কেউ দেখে না। অভিনেতাকে আপন কলা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে হলে অবশ্যই রক্তামঞ্চে চড়তে হবে।

প্রশ্ন- ৩৯. ‘মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যহীন এবং আনন্দদানের জন্যই সংঘটিত হয়।
➠ খেলা শুদ্ধ আনন্দ দেয়, যা শ্রেণি বা ভেদাভেদ ছাড়াই সবার জন্য সমান। এটি মানুষের মন ও দেহকে সতেজ রাখে এবং জীবনের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। খেলায় কোনো স্বার্থ বা উপকারের আকাক্সক্ষা নেই, যা একে অন্য সব কার্য্যকলাপ থেকে আলাদা করে এবং শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে।

প্রশ্ন- ৪০. লেখক আনন্দবিহীন খেলাকে জুয়াখেলা বলেছেন কেন?
উত্তর: যে খেলায় আনন্দ নেই বরং উপরি পাওয়ার আশা আছে লেখক তাকে জুয়াখেলা বলার পক্ষপাতী।
➠ প্রাবন্ধিকের মতে, মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে খেলাই শ্রেষ্ঠ। কেননা, তা উদ্দেশ্যবিহীন। তবে যেকোনো খেলায় আনন্দ থাকা আবশ্যক। আনন্দময় বলেই খেলাকে সবাই উপভোগ করে। যে খেলায় আনন্দ নেই, সে খেলার পিছনে অন্য কোনো ‘উদ্দেশ্য কাজ করে। খেলার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন সেরকমই একটি উদ্দেশ্য। আর অর্থের উদ্দেশ্যে যে খেলা হয় সে খেলাকে জুয়াখেলা হিসেবে চিহ্নিত। লেখক তাই আনন্দবিহীন খেলাকে জুয়াখেলা বলেছেন।

প্রশ্ন- ৪১. কাব্যরস নামক অমৃতে আমাদের অরুচি জন্মেছে কেন?
উত্তর: বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাদান পদ্ধতির ত্রুটির কারণে কাব্যরস নামক অমৃতে আমাদের অরুচি জন্মেছে।
➠ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী শিক্ষা ও সাহিত্যের প্রভেদ স্পষ্ট করেছেন। শিক্ষা মানুষ গ্রহণ করে নিরানন্দভাবে ও অনেকটা বাধ্য হয়ে। অপরদিকে, সাহিত্যরস মানুষ গ্রহণ করে স্বেচ্ছায়। প্রাবন্ধিকের মতে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক কর্তৃক কাব্য পাঠদানের ফলে কাব্যসাহিত্য আনন্দের উৎস না হয়ে ভীতির বিষয় হয়ে পড়েছে। তাছাড়া কবি ও পাঠকের মাঝখানে শিক্ষক দেওয়ালরূপে দাঁড়িয়ে যাওয়ায় কাব্যরস নামক অমৃতে আমাদের অরুচি জন্মেছে।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জনপ্রিয় কথাশিল্পী অপু রায়হানের আজ অনেক কথাই মনে পড়ছে। তিনি যখন স্কুলে পড়ার সময় স্কুল ম্যাগাজিনের জন্য একটি গল্প জমা দিয়েছিলেন তখন অনেকের লেখা ছাপা হলেও তারটি ছাপা হয়নি। অথচ আজ তার লেখা না হলে নামী-দামী কাগজগুলোর সাহিত্য সম্পাদকদের মনই ভরে না। তার এ সাফল্য একদিনে আসেনি। এ জন্য তাকে অনেক সাধনা করতে হয়েছে। অনেক কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে সামনে এগুতে হয়েছে।

ক. মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ কোনটি?
খ. সাহিত্য জগতে কোনোরূপ উচ্চ আশা নিয়ে প্রবেশ করা উচিত নয় কেন?
গ. অপু রায়হানের সাহিত্য চর্চার বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে?
ঘ. ‘অপু রায়হানের লেখা না হলে নামী-দামী কাগজগুলোর সাহিত্য সম্পাদকদের মনই ভরে না’- ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছে ক্রীড়া।
খ. সাহিত্য হচ্ছে একটি খেলার মাঠ। তাই খেলার মাঠে যেমন জয়-পরাজয় থাকতেই পারে তেমনি সাহিত্যের ক্ষেত্রেও থাকতে পারে সফলতা বা ব্যর্থতা।
➠ মনের আনন্দে অনেকটা খেলার ছলেই সাহিত্য চর্চা করা উচিত। তাতে হয়তো একদিন সফলতা আসতে পারে। কিন্তু কেউ যদি উচ্চ আশা নিয়ে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করে তবে সেক্ষেত্রে তার পতনের যথেষ্ট আশঙ্কা থাকে। কেননা, এ ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী কারো সাহিত্যকর্ম যদি পাঠকপ্রিয়তা না পায় তবে তার মনোবল ভেঙে যেতে পারে এবং তাতে করে তার ভেতরে লুকায়িত সম্ভাবনাও বিনষ্ট হতে পারে। ফলে তার পক্ষে আর কোনোদিনই স্বাভাবিক সাহিত্য চর্চাটুকুও সম্ভব হয় না। তাই এ জগতে কখনোই উচ্চাশা নিয়ে প্রবেশ করা উচিত নয়।

গ. লেখক প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে দুশ্রেণির সাহিত্যিকের কথা বলেছেন।
➠ এক শ্রেণির সাহিত্যিক আছেন যারা অনেক উচ্চাশা নিয়ে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন। এদের কেউ কেউ সফল হলেও অনেকেই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। আবার আরেক ধরনের সাহিত্যিক আছেন, যারা কোনোরূপ উচ্চাশা না নিয়ে অনেকটা খেলার ছলেই সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন। কালক্রমে দেখা যায়, এদেরই কেউ কেউ এক সময় বিখ্যাত সাহিত্যিক হয়ে ওঠেন।
➠ প্রমথ চৌধুরীর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী অপু রায়হান হচ্ছে শেষোক্তদের দলে। অপু রায়হান যখন স্কুল ম্যাগাজিনের জন্য গল্প জমা দেন তখন কিন্তু বিখ্যাত কোনো সাহিত্যিক হওয়ার জন্য তিনি তা করেননি। আবার অনেকের লেখা ছাপা হলেও নিজের লেখা ছাপা না হওয়ায় তিনি কোনো হতাশাতেও ভোগেননি। বরং নিয়মিত তিনি তার সাহিত্য চর্চা চালিয়ে গেছেন এবং এভাবেই এক সময় এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। লেখকের ভাষায় তিনি রাজরাজরাদের দলে মিশে গেছেন।

ঘ. এমন একদিন ছিল যখন অপু রায়হানের লেখা তার স্কুল ম্যাগাজিনেই ছাপা হতো না।
➠ অথচ দীর্ঘ সাধনার পর তিনি এমন একজন জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য লেখক হয়ে ওঠেছেন যে, তার লেখা না হলে পত্র-পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকরা তাদের বিশেষ সংখ্যার পত্রিকাগুলোকে অনেকটাই অপূর্ণ মনে করেন।
➠ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী অপু রায়হানের মতো লেখকদের প্রসঙ্গেই বলেছেন, কোনোরূপ উচ্চ আশা নিয়ে সাহিত্য জগতে প্রবেশ না করে মনের আনন্দে অনেকটা খেলার ছলে এ জগতে প্রবেশ করলে এক সময় খ্যাতিমান হয়ে ওঠা সম্ভব। আর এটা যে সম্ভব অপু রায়হান হচ্ছেন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
➠ এদিক থেকে আমরা বলতে পারি প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ ও সুচিন্তিত কিছু বিষয় তুল ধরেছেন।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কবি মুনিরুজ্জামান কেবল লেখালেখি নয়, ব্যক্তিজীবনেও খুব কাব্যপ্রিয়। তিনি যখন তার বন্ধু-বান্ধব বা সহকর্মীদের সাথে কথা বলেন, তখন প্রায়ই তাতে ছন্দ জুড়ে দেন। অনেক সাধারণ কথাই কবিতার ভঙ্গিমায় বলা তার একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ জন্য অনেকেই তাকে স্বভাব কবি বলে ডাকেন।

ক. রোঁদ্যা কে?
খ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে রোদ্যার প্রসঙ্গ টানা হয়েছে কেন?
গ. রোদ্যার সাথে মুনিরুজ্জামানের কী ধরনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘অনেক সাধারণ কথাই কবিতার ভঙ্গিমায় বলা তার একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে’ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. রোদ্যা জগদ্বিখ্যাত একজন ফরাসি ভাস্কর।
খ. যারা সত্যিকারের সাহিত্যিক তারা সাহিত্যে শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।
➠ এর জন্য বিশেষ কোনো সময়-সুযোগের দরকার হয় না। যখন তখন মনের আনন্দেই তারা এ কাজটি করেন। জগদ্বিখ্যাত ফরাসি ভাস্বর রোদ্যাও ছিলেন একজন জাতশিল্পী। যখন তখন হাতের কাছে কাদা পেলেই তা দিয়ে তিনি মাটির পুতুল তৈরি করে ফেলতেন। এটা ছিল তার এক ধরনের খেলা। এ খেলা খেলতে খেলতেই তিনি অনেক বিখ্যাত ভাস্কর্য নির্মাণ করে জগদ্বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। এ জন্যেই 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে তাঁর প্রসঙ্গটি টেনে প্রকৃত সাহিত্যিকদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।

গ. রোঁদ্যা যেমন যখন তখন হাতে কাদা নিয়ে পুতুল তৈরি করে ফেলতেন মুনিরুজ্জামানও তার বন্ধু-বান্ধব বা সহকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় যখন তখন ছন্দ ব্যবহার করে এক ধরনের কাব্যময়তা সৃষ্টি করতেন।
➠ রোদ্যাঁ ছিলেন একজন জগদ্বিখ্যাত ভাস্কর আর মুনিরুজ্জামান হচ্ছেন একজন কবি। দুজন শিল্পের দুটি আলাদা শাখায় বিচরণ করলেও স্বভাবগতভাবে তাদের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। মনের আনন্দে অনেকটা খেলার ছলেই তারা তাদের শিল্পকর্মগুলো সৃষ্টি করেন।

ঘ. কবি মুনিরুজ্জামান ও ফরাসি ভাস্কর রোদ্যার মতো যারা সত্যিকারের শিল্পী তারা মনের আনন্দে অনেকটা খেলার ছলেই তাদের শিল্পকর্মগুলো নির্মাণ করেন।
➠ এ জন্যে তাদের বিশেষ কোনো সময় বা সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। তাদের শিল্প সৃষ্টির পেছনে বিখ্যাত হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা থাকে না; বরং কাজ করতে করতেই এক সময় তারা বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। শিল্প সৃষ্টি তাদের একটি সহজাত স্বভাবগত বিষয়। আর এ সহজাত স্বভাবগত বিষয়টিই তাদের শিল্পবোধ হিসেবে কাজ করে। আর এই শিল্পবোধই এক সময় তাদের মহৎ শিল্পের স্রষ্টা করে তোলে। তারা সার্থক শিল্পী হিসেবে জগতে অমর হয়ে থাকেন। রোঁদ্যার মতো অনেকেই এভাবে অমর হয়ে আছেন।
➠ উদ্দীপকের কবি মুনিরুজ্জামান অমর হয়ে থাকবেন। প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে যথার্থভাবেই শিল্পীদের শিল্প নির্মাণের সহজাত ও স্বভাবগত বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আজ শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন। জসিম সাহেব এদিন সাধারণত বাসায়ই থাকেন। জ্যৈষ্ঠের দুপুরে প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে একটু প্রশান্তির জন্য তিনি বারান্দায় এসে বসলেন। সামনেই একটি খোলা জায়গা। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে সেখানে একদল ছেলে ক্রিকেট খেলছে। তবে এ খেলার মধ্যে প্রচলিত য়িম-কানুনের কোনো বালাই নেই। মাঠেরও নেই কোনো সীমারেখো। খেলায় ছক্কা ও আউট করারও কোনো প্রতিযোগিতা নেই। কিন্তু, তারপরও ছেলেগুলো এতেই যে কী আনন্দ পাচ্ছে তা বলে বোঝানো যায় না। এসব দেখতে দেখতেই জসিম সাহেব কল্পনার পাখায় ভর করে তার ছেলেবেলায় হারিয়ে গেলেন।

ক. পৃথিবীতে একমাত্র কোথায় ব্রাহ্মণ-শূদ্রের পার্থক্য নেই?
খ. মানুষের দেহমনের সকল ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ছেলেদের ক্রিকেট খেলার বিষয়টি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে?
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরীর অভিমত বিশ্লেষণ করো।

ক) পৃথবীতে একমাত্র খেলার মাঠে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের পার্থক্য নেই।
খ) মানুষের দেহের যত প্রকার ক্রিয়া রয়েছে তার মধ্যে ক্রীড়াই শ্রেষ্ঠ। কেননা ক্রীড়া উদ্দেশ্যবিহীন।
➠ খেলাধুলায় আনন্দ ব্যতীত অন্য কোনো ফল লাভের আকাঙ্ক্ষা থাকে না। ক্রীড়া ব্যতীত অন্য যেকোনো কর্মে কোনো না কোনো ফল লাভের আকাঙ্ক্ষা বা উদ্দেশ্য থাকলেও মানুষ শুধু নিজের মনের আনন্দের জন্যই খেলাধুলা করে। এ খেলায় একমাত্র আনন্দ লাভ ছাড়া অপরের মনোরঞ্জন করা অথবা কোনো বৈষয়িক প্রত্যাশা থাকে না। তাই সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে প্রাবন্ধিক ক্রীড়াকেই শ্রেষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন।

গ) প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে নিজস্ব কিছু মতামত তুলে ধরেছেন।
➠ তাঁর মতে, সাহিত্য একটি বিশুদ্ধ শিল্পকর্ম। যে শিল্পকর্মের মূলে থাকে নিরর্থক আনন্দ। এর পেছনে ফল লাভের মতো কোনো সংকীর্ণ উদ্দেশ্য থাকে না। মানুষ তার মনের আনন্দে অন্তরাত্মার স্ফূর্তি থেকে এটা সৃষ্টি করেন এবং পাঠক স্বেচ্ছায় ও সানন্দে এটি পাঠ করেন। এর পেছনে আনন্দ ব্যতীত অন্য কোনো ফল লাভের আশা থাকে না। যদি থাকে তবে তা সাহিত্য হয় না; তা হয় অপসাহিত্য।
➠ উদ্দীপকের ছেলেগুলো কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন অনুসরণ না করে ক্রিকেট খেলে যে আনন্দ পাচ্ছে, জয়-পরাজয় বা ছক্কা-চারের প্রতিযোগিতা হলে তারা কিন্তু এতোটা আনন্দ পেতো না। এ কারণেই প্রমথ চৌধুরী তার প্রবন্ধে সাহিত্যকে খেলার মাঠের সাথে তুলনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে স্পষ্টতই তিনি বলেছেন, যেখানে ফল লাভের আশা থাকে সেখানে কখনো নির্মল আনন্দ থাকে না। তাই লেখনি ধারণ করে যারা কোনো ধরনের ফল চাষে ব্রতী হন, তারা কখনো প্রকৃত সাহিত্যের স্রষ্টা হতে পারেন না। তারা হন খেলনা নির্মাতা।

ঘ) আধুনিক বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী। ‘সাহিত্যে খেলা’ তাঁর একটি বহুল আলোচিত প্রবন্ধ। এ প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি তাঁর মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
➠ প্রত্যেক শিল্পের যেমন একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে তেমনি সাহিত্যেরও তা রয়েছে। লেখকের মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে আনন্দ দেয়া; কারও মনোরঞ্জন করা নয়। মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে সাহিত্য সৃষ্টির বিষয়টিকে তিনি সমর্থন করেন না। কারণ মনোরঞ্জনের জন্য সাহিত্যের নামে যা সৃষ্টি হয়, তা প্রকৃত সাহিত্য নয়। তা এক ধরনের খেলনা। এ খেলনা দিয়ে অন্যকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হলেও যিনি এটা গড়েন, তিনি কখনো সন্তুষ্ট হতে পারেন না।
➠ এ কারণেই প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যকে খেলনার বিপরীতে খেলার মাঠের সাথে তুলনা করেছেন। যেখানে উঁচু-নীচু ও ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ঘুচিয়ে মানুষ কেবল নির্মল আনন্দের জন্য খেলা করেন। তাদের এ খেলা হয় উদ্দেশ্যহীন। ফলে এতে কোনো বাড়তি চাপ থাকে না। থাকে শুধু নির্মল ও নির্ভেজাল আনন্দ। উদ্দীপকের ছেলেগুলো কোনো ধরনের জয়-পরাজয় বা স্কোরের তোয়াক্কা না করে ক্রিকেট খেলে যে আনন্দ পাচ্ছে তা জয়-পরাজয় নির্ধারণী কোনো খেলায় কল্পনাও করা যায় না। একইভাবে যে সাহিত্যের মাধ্যমে ফল লাভের প্রত্যাশা থাকে, সেখানেও জয়-পরাজয়ের আশঙ্কা থাকে। আর যেখানে জয়-পরাজয়ের আশঙ্কা থাকে, সেখানে সবাই মিলে এক সাথে নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে পারে না। এ কারণেই তিনি সাহিত্যকে উদ্দেশ্যহীন খেলার সাথে তুলনা করেছেন।
➠ তাঁর মতে, যিনি লেখনি ধারণা করে সাহিত্যের মধ্যে নিজে খেলা না করে অপরের জন্য খেলনা তৈরি করেন, তিনি কখনোই প্রকৃত সাহিত্যিক হতে পারেন না।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নঈম মোস্তফা একজন পাঠকপ্রিয় সৃজনশীল লেখক। আর্থিকভাবে তিনি কিছুটা অসচ্ছল হলেও এ নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। একবার এক প্রভাবশালী প্রকাশনা সংস্থা থেকে তার কাছে নবম শ্রেণির বাংলা গাইড বই লেখার প্রস্তাব আসে। সংসারের আর্থিক দুরবস্থা লাঘবের একটি সম্ভাবনা দেখে তার স্ত্রী এতে খুশি হলেও বিনয়ের সাথে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ক. সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের কী হতে পারে?
খ. সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে কেন?
গ. নঈম মোস্তফার মতো লেখকদের বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে কীভাবে আলোচিত হয়েছে?
ঘ. লেখালেখির ব্যাপারে নঈম মোস্তফার দৃষ্টিভঙ্গিটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনস্তুষ্টি হতে পারে।
খ) সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলেই সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে।
➠ কেননা, সাহিত্য হচ্ছে অন্তরাত্মার স্ফূর্তি। তার একমাত্র ফল হলো আনন্দ। তাই নিজের মনের আনন্দে খেলার ছলে যে সাহিত্য সৃষ্টি হয় না, তা প্রকৃত সাহিত্য নয়। তা এক ধরনের খেলনা মাত্র। এ খেলনা পেয়ে পাঠক তৃপ্ত হতে পারেন। কিন্তু এটা গড়ে কোনো লেখক তৃপ্ত হতে পারেন না। লেখক যদি স্বাধীনভাবে তার মনের কথাগুলো তার সাহিত্যকর্মে তুলে ধরতে না পারেন তবে সেটা কোনো অবস্থাতেই সত্যিকারের কোনো সাহিত্য নয়।

গ) লেখক প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে দুশ্রেণির সাহিত্যিকের কথা বলেছেন।
➠ এক শ্রেণির সাহিত্যিক আছেন যারা সমাজের মনোরঞ্জনের জন্য বা বিশেষ কোনো ফল লাভের আশায় সাহিত্য সৃষ্টি করেন। অপর শ্রেণি সাহিত্য সৃষ্টি করেন মনের আনন্দে। অন্তরাত্মার স্ফূর্তিই তাদের সাহিত্য সৃষ্টির মূল প্রেরণা।
➠ নঈম মোস্তফা হচ্ছেন এই শেষোক্তদের দলে। তিনি তার মনের আনন্দে সৃজনশীল সাহিত্য রচনা করেন। তাই প্রকাশনা সংস্থা থেকে তার কাছে যখন গাইড বই লেখার প্রস্তাব আসে তখন আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকার পরও বিনয়ের সাথে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

ঘ. লেখালেখির ব্যাপারে নঈম মোস্তফার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে একজন প্রকৃত সাহিত্যিকের মতো।
➠ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের লেখক প্রমথ চৌধুরীর মতে তারাই প্রকৃত সাহিত্যিক যারা কোনোরূপ ফলের আশায় কিংবা কারো মনোরঞ্জনের জন্য লেখনি ধারণ করেন না। তারা লেখনি ধারণ করেন মনের আনন্দে অনেকটা খেলার ছলে।
➠ তাদের সাহিত্যকর্ম সমাজ বা ব্যক্তিবিশেষের মনোরঞ্জনের জন্য ব্যবহৃত হয় না। তাদের সাহিত্য ব্যবহৃত হয় মানুষের মনে অপার আনন্দ দানের জন্য। এ ধরনের সাহিত্যিকরা অর্থের পেছনে ছুটেন না। নিজের স্বকীয়তাকে বিসর্জন দিয়ে কারো বিশেষ চাহিদা পূরণের জন্যেও লেখনি ধারণ করেন না।
➠ এদিক থেকে নঈম মোস্তফা নিঃসন্দেহে একজন সার্থক, সফল ও প্রকৃত সাহিত্যিক।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ছাত্রজীবনে রাজনীতি করার সুবাদে পাস করার সাথে সাথেই বশির আহমেদের একটি ভালো চাকরি হয়ে যায়। জীবনে লেখালেখি করার অভ্যাস না থাকলেও সরকারকে খুশি করার জন্য সরকার প্রধানের উপর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা সংগ্রহ করে নিজের সম্পাদনায় সে একটি বই প্রকাশ করে। অনেকেই নিজের নেতৃভক্তি প্রমাণ করার জন্য এ বইটি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বশির আহমেদ রাতারাতি হিরো বনে যায়। কিন্তু কয়েক বছর পর দেশের সরকার পরিবর্তন হলে তার এ বইটি আর বাজারে বিক্রি হয় না।

ক. কোনোরূপ কার্য উদ্ধারের অভিপ্রায়ে যারা লেখনি ধারণ করেন তারা কিসের মর্ম বোঝেন না?
খ. কারো মনোরঞ্জন করা সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয় কেন?
গ. বশির আহমেদ সম্পাদিত বইয়ের ব্যাপারে লেখক প্রমথ চৌধুরী তার ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে কী ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেছেন?
ঘ. ‘এ বইটি আর বাজারে বিক্রি হয় না’ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. কোনোরূপ কার্য উদ্ধারের অভিপ্রায়ে যারা লেখনি ধারণ করেন তারা গীতের মর্ম বোঝেন না।
খ. একজন সাহিত্যিক কোনোরকম অভাববোধ থেকে সাহিত্য সৃষ্টি করেন না।
➠ তিনি তার মনের পূর্ণতা থেকেই সাহিত্য সৃষ্টি করেন। তাই কেউ যদি কারো মনোরঞ্জন করার জন্য কোনো সাহিত্য সৃষ্টি করেন তবে তা সাহিত্য না হয়ে এক ধরনের খেলনা হয়ে ওঠে। এসব অপসাহিত্য দীর্ঘদিন পাঠক সমাজে টিকে থাকতে পারে না। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এক সময় তা কালের আবর্তে হারিয়ে যায়। তাই কখনোই কারো মনোরঞ্জন করা কোনো প্রকৃত সাহিত্যের উদ্দেশ্য হতে পারে না।

গ. সাহিত্য হচ্ছে মানবাত্মার খেলা। মানুষ তার মনের আনন্দে খেলার ছলেই এ সাহিত্য সৃষ্টি করে থাকেন।
➠ সাহিত্যিকরা জাগৈতিক কোনো অভাববোধ থেকে সাহিত্য সৃষ্টি করেন না। নিজের মনের পূর্ণতা থেকেই তাদের সাহিত্য সৃষ্টি হয়। যারা কোনো বিশেষ ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সমাজের মনোরঞ্জন করার জন্য সাহিত্য সৃষ্টি করেন তাদের সে সৃষ্টি সাহিত্য না হয়ে খেলনা হয়ে ওঠে। শিশুরা যেমন দুদিন পর পুরনো খেলনা ভেঙে নতুন খেলনা নিয়ে মেতে ওঠে এ ধরনের অপসাহিত্যের ভাগ্যেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে।
➠ বশির আহমেদ সম্পাদিত বইটির ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক প্রমথ চৌধুরী অত্যন্ত চমৎকারভাবে এ বিষয়টিই তুলে ধরেছেন।

ঘ. সাহিত্য হচ্ছে অপার রসের আধার। সাহিত্য মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলে তাকে আনন্দে ভরে দেয়।
➠ যে সাহিত্য এ কাজ করতে পারে না তা প্রকৃত সাহিত্য নয়। যে সাহিত্য মানুষকে নির্মল আনন্দ দানের পরিবর্তে বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মনোরঞ্জন করে তাকে আর যাই হোক সাহিত্য বলা যায় না। যিনি কোনো বিশেষ ফল লাভের আশায় কাউকে খুশি করার জন্য লেখনি ধারণ করেন, তার হাত দিয়ে যা সৃষ্টি হয় তা সাহিত্য নয়; খেলনা। এসব খেলনা কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রয়োজন ফুরালে দুদিন পর পাঠক তা ছুঁড়ে ফেলে।
➠ বশির আহমেদ সম্পাদিত বইটির ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। যাকে তোষামোদ করার জন্য বইটি প্রকাশ করা হয় তার ক্ষমতা থাকাকালে বইটি প্রচুর বিক্রি হলেও ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর বইটির আর কোনো ক্রেতা পাওয়া যায় না। তবে এ বইটির যদি সাহিত্যমূল্য থাকতো তবে এর ভাগ্যে এ ধরনের পরিণতি ঘটতো না। কে ক্ষমতায় থাকলো বা না থাকলো তা দিয়ে নির্ধারিত হতো না তার পাঠকপ্রিয়তা বা বিক্রির সংখ্যা। পাঠক স্বেচ্ছায় এর সাহিত্য রস পান করার জন্য সব সময়ই এ বইটি কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাতো।
➠ তাই আমরা বলতে পারি, এ সম্পর্কে লেখক প্রমথ চৌধুরী যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তা সর্বাংশেই সত্য।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জাহিদ হাসান একজন ঔপন্যাসিক। একটি বিশেষ শ্রেণি ও বয়সের পাঠকদের কথা চিন্তা করে তিনি তার উপন্যাসগুলো লেখেন। ফলে তার উপন্যাসগুলো সব শ্রেণির পাঠকদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু তারপরও বাজারে তা প্রচুর বিক্রি হয়। এক শ্রেণির পাঠকদের মনোরঞ্জন করে অর্থ উপার্জন করাই তাঁর সাহিত্য রচনার মূল উদ্দেশ্য। সাহিত্যিক হিসেবে তিনি তার সাহিত্যের শিল্পমান নিয়ে কখনো চিন্তা করেন না।

ক. সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য কী?
খ. মন উঁচুতেও উঠতে চায়, নীচুতেও নামতে চায়- কেন?
গ. জাহিদ হাসান এর সাহিত্য রচনার বিষয়টি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘তিনি তার সাহিত্যের শিল্পমান নিয়ে কখনো চিন্তা করেন না’- উক্তিটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে সকলকে আনন্দ দেয়া।
খ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে মানুষের মন সম্পর্কে লেখকের গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ বস্তুত মানুষের মন বড় বিচিত্র। অনেক চিন্তাবিদ মানুষের মনকে একটা অন্ধকার ঘরের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্ধকার ঘর যেমন রহস্যজনক, তার কোথায় কী আছে তা বলা মুশকিল, তেমনি মানুষের মনও বড় রহস্যময়। এ মন কখন কী চায়, কী বলে তা বোঝা খুব কঠিন। তবে সাধারণ মানুষের মন বাস্তবে এমন নয়; অনেকটা গতিহীন। তারা যেখানে আছে সেখানেই থাকতে চায়। তারা সামনেও এগুতে চায় না, আবার পেছনেও যেতে চায় না। তবে মাঝে-মধ্যে কল্পনার পাখায় ভর করে তারা সব জায়গায় ঘুরে আসে। এচন্যই লেখক বলেছেন, মানুষের মন উঁচুতেও উঠতে চায় আবার নীচুতেও নামতে চায়।

গ. প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, সে অনুযায়ী উদ্দীপকের জাহিদ হাসানের সাহিত্য চর্চার আদর্শ ও উদ্দেশ্যের যথেষ্ট বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
➠ প্রমথ চৌধুরী এর মতে, সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে সবাইকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। একমাত্র আনন্দের জন্যই সাহিত্য রচনা করা উচিত। যারা জাগৈতিক কোনো উদ্দেশ্য সাধনের আশায় সাহিত্য সৃষ্টি করেন তারা প্রকৃত সাহিত্যিক নন। তাদের হাতে সৃষ্ট সাহিত্য স্বধর্মচ্যুত হয়ে পড়ে। সেসব সাহিত্য সাহিত্যের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে পথভ্রষ্ট হয়। ফলে তাদের তৈরি সাহিত্য হয়ে যায় ছেলের হাতের খেলনা। যে খেলনা তৈরি কখনো সাহিত্যের উদ্দেশ্য হতে পারে না। কারণ খেলনার আবেদন ক্ষণকালীন। পক্ষান্তরে সাহিত্যের আবেদন চিরস্থায়ী। এ কালের পাঠক সাধারণ জনগণ। তাই সাধারণ জনগণের মনোরঞ্জন করতে হলে সাহিত্যের নামে সস্তা খেলনা তৈরি করতে হয়। এ ধারণার বশবর্তী হয়ে কোনো লেখক যদি সে খেলনা তৈরি করেন, তবে তিনি বিশুদ্ধ সাহিত্যের উদ্দেশ্য হতে বিচ্যুত হবেন। উদ্দীপকের জাহিদ হাসান সাহিত্যের নামে এসব খেলনাই তৈরি করছেন। প্রমথ চৌধুরী তার 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে অত্যন্ত চমৎকারভাবে এ বিষয়টিই ফুটিয়ে তুলেছেন।
➠ জাহিদ হাসান একজন ঔপন্যাসিক। অর্থ প্রাপ্তির আশায় প্রতিবছর বই মেলার জন্য তিনি উপন্যাস লেখেন। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে এক শ্রেণির পাঠকের মনোরঞ্জন করা। ফলে সাহিত্যের নামে সস্তা খেলনা তৈরি করে তিনি একটি বিশেষ শ্রেণির পাঠকের মন আকর্ষণ করেন, যা কখনোই সাহিত্যের উদ্দেশ্য হতে পারে না। যার ফলে উদ্দীপকের জাহিদ হাসানের সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্যের সাথে প্রমথ চৌধুরী তাঁর 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে আদর্শ সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তার সাথে কেবল বৈসাদৃশ্য নয়, এক ধরনের বৈপরীত্যও লক্ষ করা যায়। তাই এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যে লেখক সাহিত্য ক্ষেত্রে ফলের চাষ করতে ব্রতী হন, তিনি যেমন গীতের মর্ম বোঝেন না, তেমনি গীতার ধর্মও বোঝেন না।

ঘ. উদ্দীপকের জাহিদ হাসান একজন ঔপন্যাসিক। অর্থ প্রাপ্তির আশায় এক শ্রেণির পাঠকের মনোরঞ্জন এর জন্য তিনি সাহিত্য রচনা করেন। যার কারণে তাঁর উপন্যাস সব শ্রেণির পাঠকদের আকর্ষণ করতে না পারলেও এক শ্রেণির পাঠকের কাছে প্রচুর বিক্রি হয় এবং তিনি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী অর্থ লাভ করেন। এসব উদ্দেশ্যমূলক লেখায় শিল্পমানের ঘাটতি থাকলেও এ নিয়ে জাহিদ হাসানের কোনো মাথাব্যাথা নেই। এক শ্রেণির পাঠকদের মনতুষ্টির জন্যই তিনি লেখেন। প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে এ ধরনের সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
➠ প্রমথ চৌধুরী মনে করেন, সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। কোনো রকম ফললাভের প্রত্যাশা ছাড়া নিছক আনন্দের জন্যই সাহিত্য চর্চা করা উচিত। প্রাপ্তির প্রত্যাশা সাহিত্য চর্চার আদর্শকে সঙ্কুচিত ও কলঙ্কিত করে। তিনি মনে করেন, কবির কাব্য সৃষ্টির সাথে স্রষ্টার বিশ্ব সৃষ্টির একটি সাদৃশ্য রয়েছে। সৃষ্টিকর্তার কোনো অভাব না থাকলেও তিনি এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন কেবল খেলার জন্য। অর্থাৎ সৃষ্টি তার লীলামাত্র। কবির সৃষ্টিও অনুরূপ। তাঁর কাব্য সৃষ্টির মূলেও কোনো অভাব দূর করা কিংবা জাগৈতিক প্রাপ্তির প্রত্যাশা থাকে না। অন্তরাত্মার স্ফূর্তি থেকেই সাহিত্য কিংবা কাব্যের সৃষ্টি এবং তার ফলস্বরূপই লাভ হয় আনন্দ।
➠ কারও মনোরঞ্জন করা কিংবা শিক্ষাদান সাহিত্যের উদ্দেশ্য নয়। কারণ ব্যক্তি বা সমাজের মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। হাততালি বা বাহবা পাওয়া সাহিত্যের উদ্দেশ্য হতে পারে না। সাহিত্যরাজ্যে খেলনা পেয়ে পাঠকের মনন্তুষ্টি হতে পারে, কিন্তু তা গড়ে লেখকের মনস্তুষ্টি হতে পারে না। কারণ পাঠক সমাজ যে খেলনা আজ আদর করে, কাল সেটিকে ভেঙে ফেলে। একারণেই যেসব সস্তা সাহিত্য আজ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে কাল তা আবার হারিয়ে যাচ্ছে। এসব সাহিত্যের মধ্যে সাহিত্যের মৌলিক উপাদান না থাকাতেই এমনটি হয়।
➠ প্রবন্ধকার তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে এ ধরনের সাহিত্যিক সম্পর্কে বলেছেন, সাহিত্যে আর যা-ই করো মনোরঞ্জনের চেষ্টা করো না। উদ্দীপকের জাহিদ হাসান মনোরঞ্জনের সামগ্রী তৈরি করে এক শ্রেণির পাঠকের মনস্তুষ্টি করেছেন, সাহিত্যের শিল্পমান সম্পর্কে চিন্তা করেন নি। ফলে তার সাহিত্যে চিরস্থায়ী আবেদন সৃষ্টি হয়নি। তাই কালের গর্ভে এক সময় তা হারিয়ে যাবে।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
উদ্দীপক

ক. কবির কাজ কী?
খ. শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্ম-কর্ম এক নয় কেন? বুঝিয়ে লেখো।
গ. সারণিটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সাথে কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য আনন্দ দান করা, শিক্ষা দান করা নয়।’ উদ্দীপক ও ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. কবির কাজ কাব্য সৃষ্টি করা।
খ. ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী শিক্ষা ও সাহিত্যকে স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছেন।
➠ শিক্ষাকে মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, অমৃতের মতো সাহিত্য বা কাব্যরস সকলে স্বেচ্ছায় ও সানন্দে পান করে। এছাড়া শিক্ষা মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানালেও সাহিত্য মানুষের মনকে জাগায়। অপরের মনের অভাব পূরণ করার জন্যে শিক্ষকের হাতে শিক্ষা জন্মলাভ করলেও কবির নিজের মনের পরিপূর্ণতা হতেই সাহিত্যের জন্ম। তাই ধর্ম-কর্মের দিক থেকে শিক্ষা ও সাহিত্য কখনোই এক নয়।

গ. প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যের চলিত গদ্য রীতির অগ্রপথিক।
➠ ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে তিনি বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে মন্তব্য করেছেন। সারণিটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর আলোকে তৈরি করা হয়েছে। সারণিটিতে শিক্ষা ও সাহিত্যকে পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করে তার একটি তুলনামূলক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এখানে শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য বর্ণনার পাশাপাশি এদের পার্থক্যও নির্দেশ করা হয়েছে।
➠ লোকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিক্ষা গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হলেও কাব্যরস সানন্দে পান করে। শিক্ষা মানুষের মনকে বিশ্বের খবর জানালেও সাহিত্য মানুষের মনকে জাগিয়ে তোলে। অপরের মনের অভাব পূরণের উদ্দেশ্যে শিক্ষার জন্ম হলেও কবির মনের পরিপূর্ণতা হতেই সাহিত্যের উৎপত্তি। এর একটি অর্থাৎ শিক্ষা জ্ঞানদান করলেও অপরটি অর্থাৎ সাহিত্য আনন্দ দান করে। শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য এবং এদের প্রকৃতি বর্ণনার দিক দিয়ে সারণিটি ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ।

ঘ) 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মতামত প্রদান করেছেন। যে কোনো তত্ত্ব ও নির্দেশনাকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি আনন্দ দান করাই যে সাহিত্যের প্রধান কাজ এ সম্পর্কেও তিনি সুস্পষ্ট মন্তব্য প্রদান করেছেন।
➠ প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে সাহিত্যের নানা দিক নিয়ে দিক-নির্দেশমূলক মতামত প্রকাশ করছেন। কোনো রূপ উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য জগতে প্রবেশ করা উচিত নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। তিনি এমনও মন্তব্য করেছেন যে, সাহিত্যে যিনি ফল লাভের আশায় অংশগ্রহণ করেন, তিনি যেমন গীতার ধর্ম বোঝেন না তেমনি গীতের মর্মও বোঝেন না। কেননা, সাহিত্য হচ্ছে এমনই নিষ্কাম কর্ম যার মধ্য দিয়ে জাগৈতিক সব ধরনের মোহ থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব।
➠ সঙ্গতকারণেই সাহিত্যের উদ্দেশ্যও হবে সকলকে আনন্দ দান করা; শিক্ষা দান করা নয়। যদিও আলোচনা, সমালোচনা, সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্য উপলব্ধির মধ্য দিয়ে জ্ঞান লাভ সম্ভব। তথাপিও সরাসরি শিক্ষাদান করা সাহিত্যের রীতি বিরুদ্ধ কাজ। সাহিত্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে আনন্দ দান করা; শিক্ষাদান করা নয়।
➠ সারণির এ বিষয়টি সম্পর্কে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে প্রমথ চৌধুরীর সুস্পষ্ট মন্তব্য-‘সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়।’ সঙ্গত কারণেই মন্তব্যটি সাহিত্যে খেলা প্রবন্ধের আলোকে তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে।


‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জ্ঞানের কথা জানা হয়ে গেলে আর জানতে ইচ্ছে করে না-তা জেনে মনে আনন্দও জন্মে না। সূর্য পূর্বাকাশে ওঠে-এই তথ্য আমাদের মন টানে না। কিন্তু সূর্যোদয়ে যে সৌন্দর্য ও দেখার আনন্দ তা সৃষ্টিকাল থেকে আজও বিদ্যমান। এই সৌন্দর্য ও আনন্দানুভূতি পাঠক হৃদয়ে জাগিয়ে তোলাই সাহিত্যের কাজ। পাঠ ও অনুধাবনের মাধ্যমে রসিক পাঠকের হৃদয়ে তা সঞ্চারিত হয়। রস গ্রহণে অসমর্থ লোকই সাহিত্যের সৌন্দর্যও আনন্দানুভূতির পরিবর্তে আত্মহিত ও সন্তুষ্টি খোঁজে। সাহিত্যে নির্মিত সৌন্দর্য-অনুভূতি যদি লোকহিত সাধন করে, তাতে সাহিত্যের কুললক্ষণ নষ্ট হয় না। শুধু লোকহিত ও সন্তুষ্টির প্রচেষ্টা সাহিত্যকে কুলত্যাগী করে, সাহিত্যিক শিক্ষকে রূপান্তিরত হন।

ক. ‘রামায়ণ’ কে রচনা করেছেন?
খ. ‘অতি সন্তা খেলনা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘সাহিত্যের স্বধর্মচ্যুত’ হওয়ার বিষয়টি উপরের অনুচ্ছেদে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, বুঝিয়ে দাও।
ঘ. ‘শিক্ষা ও সাহিত্যের উদ্দেশ্য ভিন্নধর্মী বক্তব্যটি উপরের অনুচ্ছেদে কতখানি প্রতিফলিত হয়েছে বলে তুমি মনে করো।’ উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

-----------

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মানুষের একটি চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে নিজের অনুভূতি ও উপলব্ধি অন্যের কাছে প্রকাশ করা। জয়নুল আবেদীনের মতো ছবি এঁকে, কিংবা রবীন্দ্রনাথের মতো কবিতা-গান লিখে নিজ হৃদয়ানুভূতি ও রূপচেতনা সে অন্য মনে ছড়িয়ে দিতে চায়। এভাবে সে জগতের সকল মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। চায় লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকতে। এ কাজ তখনই সফল হয়, যখন রঙে, ঢঙে, আকারে-প্রকারে, ভাষায়-সুরে, ছন্দে, ইঙ্গিতে নিখুঁত রূপ বা অনুভূতি অন্য মনে প্রতিফলিত ও সঞ্চারিত করা যায়। এ কাজ যে পারে, শিল্পরাজ্যের সেই রাজা। ধর্মের জাতপাত, বর্ণভেদ সেখানে একাকার।

ক. রোদ্যার একটি শ্রেষ্ঠ ভাস্কর্যের নাম লেখো।
খ. ‘মানুষের দেহমনের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে ক্রীড়া শ্রেষ্ঠ।’ কেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. প্রবন্ধে বর্ণিত ব্রাহ্মণশূদ্রের মানবাধিকার উপরের অনুচ্ছেদের কোন বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়? আলোচনা করো।
ঘ. উপরের অনুচ্ছেদের ‘লক্ষ হৃদয়ের মধ্যে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা’ বাক্যাংশ অবলম্বনে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত ‘বিশ্বমানবের সঙ্গে সম্বন্ধ পাতানোরই নামান্তর’ প্রসঙ্গে তোমার মতামত উপস্থাপন করো।

-----------

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মুনীর বৃষ্টির মধ্যে দাওয়ায় বসে ছিল। বাহির বাড়ির সামনেই সদ্য ধানকাটা একটি ক্ষেতে একদল বালক বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে। আসলে বালকেরা একটি জাম্বুরাকে ফুটবল বানিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে তা নিয়ে ছুটোছুটি করছে। সে লক্ষ্য করল, বালকেরা সে কী আনন্দই পাচ্ছে এতে। উদ্দেশ্যহীন খেলাচ্ছলে আনন্দÑঅবগাহনের সাথে সাহিত্যচর্চার যে তুলনা প্রমথ চৌধুরী করেছেন তাকে মুনীরের কাছে অত্যন্ত যুৎসই তুলনা মনে হল।

(ক) সাহিত্যের একমাত্র উদ্দেশ্য কী?
(খ) সাহিত্যের দ্বারা কারো মনোরঞ্জন করা উচিত নয় কেন?
(গ) উদ্দেশ্যহীন খেলাচ্ছলে আনন্দ অবগাহনের সাথে সাহিত্যচর্চার যে তুলনা প্রমথ চৌধুরী করেছেন সে তুলনাকে তোমার মতো করে ব্যাখ্যা করো।
(ঘ) উদ্দীপকে মুনীরের অভিব্যক্তির যথার্থতা তোমার পঠিত ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

-----------

‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সুমন জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতাটি অসংখ্যবার পড়েছে। কবিতাটি তার হৃদয়মন স্পর্শ করেছে। একাদশ শ্রেণিতে উঠার পর এ কবিতাটিকে সে পাঠ্যরূপে পেল। অধ্যাপক মিলন কবিতাটি পড়াতে গিয়ে এর নানা দিক নিয়ে পুঙ্খনাপুঙ্খ বিশ্লেষণ করলেন। পরিশেষে তিনি এ কবিতার পর সমালোচনামূলক কয়েকটি প্রশ্ন নিলেন। এবার সুমনের কাছে ‘কবর’ কবিতাটি রীতিমতো ভীতি জাগানিয়া একটি বিষয়ে পরিণত হলো।

(ক) কারো মনোরঞ্জন করতে গেলে সাহিত্য কোনটি হারায়?
(খ) সাহিত্য ও শিক্ষার পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
(গ) উদ্দীপকের বিষয়বস্তুকে ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের কোন বক্তব্যটি সত্য বলে প্রমাণিথ করেছে?
(ঘ) কাব্যমৃতে অরুচি ধরার পেছনে এ যুগের শিক্ষকদের দায়ী করে প্রমথ চৌধুরী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার যথার্থতা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

-----------

তথ্যসূত্র:
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url