পদ্মা : ফররুখ আহমদ

পদ্মা
পদ্মা

পদ্মা
ফররুখ আহমদ

অনেক ঘূর্ণিতে ঘুরে, পেয়ে ঢের সমুদ্রের স্বাদ, -ক
জীবনের পথে পথে অভিজ্ঞতা কুড়ায়ে প্রচুর -খ
কেঁপেছে তোমাকে দেখে জলদস্যু- দুরন্ত হার্মাদ, -ক

তোমার তরঙ্গভঙ্গে বর্ণ তার হয়েছে পাণ্ডুর! -খ
সংগ্রামী মানুষ তবু দুই তীরে চালায়ে লাঙল -গ
কঠিন শ্রমের ফল- শস্য দানা পেয়েছে প্রচুর; -খ

উর্বর তোমার চরে ফলায়েছে পর্যাপ্ত ফসল! -গ
জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয়, নির্ভীক জওয়ান -ঘ
সবুজের সমারোহে জীবনের পেয়েছে সম্বল। -গ

বর্ষায় তোমার স্রোতে গেছে ভেসে সাজানো বাগান, -ঘ
অসংখ্য জীবন, আর জীবনের অজস্র সম্ভার, -ঙ
হে নদী! জেগেছে তবু পরিপূর্ণ আহ্বান, -ঘ

মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার -ঙ
তোমার সুতীব্র গতি; তোমার প্রদীপ্ত স্রোতধারা। -ঙ

‘পদ্মা’ কবিতার উৎস নির্দেশ :
ফরুখ আহমদের ‘পদ্মা’ কবিতাটি ‘কাফেলা’ (১৯৮০) নামক কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। ‘কাফেলা’ কাব্য সাতটি সনেটের সমন্বয়ে রচিত। সংকলনভুক্ত কবিতাটি পাঁচ সংখ্যক সনেট।

‘পদ্মা’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা :
➠ ঘূর্ণি- জল বা বায়ুর প্রচণ্ড আবর্তন।
➠ সমুদ্রের স্বাদ- সমুদ্র-ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বোঝানো হয়েছে।
➠ জলদস্যু- যে দস্যু নদী বা সমুদ্রপথে ডাকাতি করে।
➠ হার্মাদ- পর্তুগিজ জলদস্যু। স্প্যানিশ শব্দ Armada.
➠ তরঙ্গভঙ্গে- ঢেউয়ের আবর্তনে।
➠ পাণ্ডুর- ফ্যাকাশে, সাদাটে হলুদ বর্ণবিশিষ্ট।
➠ উর্বর- উৎপাদন শক্তিবিশিষ্ট।
➠ ফলায়েছে- উৎপাদন করেছে।
➠ নিঃসংশয়- সন্দেহহীন।
➠ জওয়ান- শক্তিশালী ও বলবান ব্যক্তি। ফারসি শব্দ।
➠ সমারোহে- আড়ম্বর, জাঁকজমক।
➠ সম্বল- পাথেয়, অবলম্বন। জীবিকা অর্জনের উপায়।
মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির- পদ্মার তীব্র গতি মানুষের জীবনপ্রবাহের গতির গতিহীন স্তব্ধতার বুকে এনে দেয় মুক্তির স্পন্দন।
➠ প্রদীপ্ত- উজ্জ্বল, ভাস্বর।
➠ স্রোতধারা- স্রোতের ধারা।

‘পদ্মা’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি :
নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। এসবের মধ্যে পদ্মা সর্ববৃহৎ। ‘পদ্মা’ কবিতায় এ নদীর দুই রূপ প্রকাশিত হয়েছে। একদিকে এর ভয়ংকর, প্রমত্ত রূপ- যা দেখে বহু সমুদ্র ঘোরার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, দুরন্ত জলদস্যুদের মনেও ভয়ের সঞ্চার হয়। অন্যদিকে, পদ্মার পলিতে প্লাবিত এর দুই পাড়ের উর্বর ভূমি মানুষকে দিয়েছে পর্যাপ্ত ফসল, জীবনদায়িনী সবুজের সমারোহ। আবার, এই পদ্মাই বর্ষাকালে জলস্রোতে স্ফীত হয়ে ভাসিয়ে নেয় মানুষের সাজানো বাগান, ঘর, এমনকি জীবন পর্যন্ত। সেই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আবারও প্রাণের স্পন্দন জেগে ওঠে পদ্মাকে ঘিরেই। অর্থাৎ একই পদ্মা খনও ধ্বংসাত্মক রূপে, কখনও কল্যাণময়ী হয়ে এদেশের জনজীবনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে।
‘পদ্মা’ চতুর্দশপদী (sonnet) কবিতা। তিন পঙ্ক্তিযুক্ত চারটি স্তবক এবং শেষে দুই পঙ্ক্তিযুক্ত একটি স্তবকে কবিতাটি বিন্যস্ত। প্রতি পঙ্কতিতে রয়েছে ১৮ মাত্রা। কবিতাটির মিলবিন্যাস- কখক খগখ গঘগ ঘঙঘ ঙঙ।

‘পদ্মা’ কবিতার কবি পরিচিতি :
ফররুখ আহমদের জন্ম ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জুন মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে। তাঁর পিতার নাম সৈয়দ হাতেম আলী। কর্মজীবনে বহুবিচিত্র পেশা অবলম্বন করেছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘকাল ধরে চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন ঢাকা বেতারে ‘স্টাফ রাইটার’ হিসেবে। চল্লিশের দশকে আবির্ভূত শক্তিমান কবিদের অন্যতম ফররুখ আহমদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। এরপর একে একে তাঁর অনেক কাব্যগ্রন্থ, কাব্যনাট্য ও কাহিনিকাব্য প্রকশিত হয়েছে। ইসলামি ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবনে বিশ্বাসী এ কবির কবিতায় প্রধানত প্রকাশ ঘটেছে ইসলামি আদর্শ ও জীবনবোধের। তাঁর অন্য গ্রন্থগুলোর নাম- কাব্যগ্রন্থ: ‘সিরাজাম মুনীরা’; কাব্যনাট্য ‘নৌফেল ও হাতেম’; সনেট সংকলন: ‘মুহূর্তের কবিতা’ এবং কাহিনিকাব্য: ‘হাতেম তায়ী’। এছাড়া তিনি ছোটদের জন্য বেশ কিছু ছড়া ও কবিতা লিখে গেছেন। সাহিত্যকৃতির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেছেন এবং মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন।
১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ শে অক্টোবর তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

‘পদ্মা’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :

‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১. প্রমত্তা পদ্মার সর্বগ্রাসী রূপ নিয়ে বিখ্যাত শিল্পী আবদুল আলীমের ‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’ নামে বহুল প্রচলিত একটি গান রয়েছে। নদী তীরবর্তী মানুষের হাহাকার ভরা দীর্ঘশ্বাস গানটিতে ফুটে উঠেছে- “পদ্মারে তোর তুফান দেইখা
পরান কাঁপে ডরে
ফেইলা আমায় মারিসনা তোর
সর্বনাশা ঝড়ে।”

ক. জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয় কারা?
খ. ‘মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার’ - বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটির সাথে ‘পদ্মা’ কবিতার কোন দিকটির সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘পদ্মা' কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র” - উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয় নির্ভীক জওয়ান।
খ. ‘মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার'- বলতে মূলত স্থবির জনজীবনে পদ্মার গতি সঞ্চারের দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।
➠ পদ্মা তীব্র স্রোতঃম্বিনী নদী, প্রবল তার ঘূর্ণি। অশেষ তার উদ্দামতা। পদ্মার তীব্র বেগ ও গতি জনজীবনেও গভির প্লাবন নিয়ে আসে। প্রশ্ন সমাজ যেন জেগে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে। পদ্মার তীব্র গতি মানুষের জীবনপ্রবাহের গতিহীন স্তব্ধতার বুকে এনে দেয় মুক্তির স্পন্দন। এ বিষয়টি বোঝাতেই প্রশ্নোত্ত কথাটি বলা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘পদ্মা’ কবিতায় বর্ণিত প্রমস্ত পদ্মার বিধ্বংসী আচরণের সামঞ্জস্য লক্ষ করা যায়।
➠ পদ্মা বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী। তীব্র গতিবেগ ও স্রোতের উদ্দাম নৃত্য এ নদীকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। পদ্মা যেন তার গতিবেগ দিয়ে জনজীবনের গতি নিয়ে আসে। তবে বর্ষা মৌসুমে এ নদীর প্লাবনে মানুষের জানমালের অনেক ক্ষতি হয়। এর সুতীব্র স্রোেত ভাসিয়ে নেয় মানুষের সাজানো বাগান, জনজীবন। ‘পদ্মা’ কবিতায় কবি পদ্মা নদীর এই বিধ্বংসী রূপের পরিচয় দিয়েছেন।
➠ উদ্দীপকে পদ্মা নদীর প্রলয়ংকর রূপটি দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। পদ্মার তুফান দেখে তীরবর্তী মানুষের অন্তর কেঁপে ওঠে। পদ্মায় যে সর্বনাশা ঝড় তৈরি হয় তা প্রাণঘাতী হতে পারে নিমেষেই। উড়িয়ে নিতে পারে ঘরবাড়ি। একইভাবে, ‘পদ্মা’ কবিতায়ও কবি পদ্মা নদীর এই বিধ্বংসী রূপের অবতারণা করেছেন। পদ্মার স্রোতে মানুষের সাজানো বাগান ভেসে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে এ কবিতাটিতে। শুধু তাই নয়, জীবনের অজস্র সম্ভারও হুমকির মুখে পড়ে পদ্মার করাল গ্রাসে। উদ্দীপকে ‘পদ্মা’ কবিতার এ দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে কেবল পদ্মা নদীর বিধ্বংসী রূপটি ফুটে ওঠায় তা আলোচ্য কবিতার আংশিক রূপায়ণ।
➠ পদ্মা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ নদী। স্বকীয় ভঙ্গিতে ঢেউ তুলে উদ্দাম গতিতে এ নদী নিরন্তর ছুটে চলে। জনজীবনে সঞ্চার করে গতি। ঝিমিয়ে পড়া জীবনও যেন পদ্মার প্রাণপ্রবাহে জেগে ওঠে। বর্ষাকালে নদীতীরের জনপদের জন্য পদ্মা ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হয়। এভাবে আলোচ্য কবিতাটিতে পদ্মা নদীর বিধ্বংসী ও কল্যাণময়ী দুই রূপই চিত্রিত হয়েছে।
➠ উদ্দীপকে পদ্মা নদীর নেতিবাচক দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। পদ্মার দুরন্ত তুফান দেখে মানুষের প্রাণ আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। জীবননাশের আশকোয় আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ হয়ে পড়ে। এভাবে উদ্দীপকটিতে পদ্মার সংহার রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পক্ষান্তরে, ‘পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
➠ আলোচ্য কবিতায় পদ্মা যেমন নির্মম ও প্রলয়ংকর রূপে উপস্থিত, তেমনি আশপাশের অঞ্চলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে মানুষের অন্ন সংস্থানেও পদ্মাকে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। পদ্মা এখানে স্রোতের বেগে মানুষের সাজানো বাগান, জীবনের অস্র সম্ভার ভাসিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, পদ্মার পলি পড়া চরে চাষাবাদ করে সংগ্রামী মানুষ সোনার ফসল ফলায়। পেয়ে যায় জীবনের সম্বল। উদ্দীপকে পদ্মা নদীকে শুধু প্রলয়ংকর রূপেই চিত্রিত করা হয়েছে। পদ্মার কল্যাণময়ী রূপটি এখানে দৃশ্যমান নয়। অন্যদিকে, ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মার নির্মম রূপের পাশাপাশি মমতাময়ী রূপটিও দৃশ্যমান। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পদ্মা তোমার যৌবন চাই
যমুনা তোমার প্রেম
সুরমা তোমার কাজল বুকের
পলিতে গলিত হেম।
পদ্মা যমুনা সুরমা মেঘনা
গঙ্গা কর্ণফুলী,
তোমাদের বুকে আমি নিরবধি
গণমানবের তুলি!

ক. জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয় কারা?
খ. ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে পদ্মাকে ঘিরে পুনরায় প্রাণস্পন্দন জেগে ওঠে কেন?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশ যেন ‘পদ্মা’ কবিতাটিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়’ - ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতার কেবল একটি দিককেই ধারণ করতে পেরেছে’ - বিশ্লেষণ করো।

ক. জীবন মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয় নির্ভীক জওয়ান।
খ. পদ্মা নদীর সাথে মানুষের গভীর মিতালি থাকায় এ নদীকে ঘিরেই সব হারানো মানুষ নতুন প্রাণস্পন্দন নিয়ে জেগে ওঠে।
পদ্মা নদী বর্ষা মৌসুমে বুদ্র রূপ ধারণ করে। এর তীব্র স্রোতে বিলীন হয়ে যায় মানুষের সাজানো সংসার, ভিটেমাটিসহ জীবনধারণের নানা সম্বল। বিপন্ন হয় মানুষের জীবনও। সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে মানুষ আবার নতুনভাবে জীবন গড়তে চায়। পদ্মাপাড়ের মানুষেরা এ নদীর স্রোতের মতোই তীব্র, সংগ্রামমুখর। পদ্মাকে কেন্দ্র করে আবার তারা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে।

গ. উদ্দীপকে পদ্মা নদীর প্রমত্ত রূপের দিকটি থাকায় কবিতাংশটি ‘পদ্মা’ কবিতাটিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
➠ পদ্মার রয়েছে ভয়ংকর প্রমত্ত রূপ। যা দেখে দূরন্ত জলদস্যুদের মনেও ভয়ের সঞ্চার হয়। বর্ষাকালে পদ্মা স্ফীত হয়ে ভাসিয়ে নেয় মানুষের সাজানো বাগান, ঘর এমনকি জীবন পর্যন্ত। তারপরও পদ্মা এ দেশের জনজীবনের সাথে একাত্ম হয়ে আছে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, পদ্মার প্রমত্ত রূপের কারণে কবি শক্তি অর্জন করতে চেয়েছেন পদ্মা থেকেই। এভাবে যমুনা, সুরমাসহ আরও নদীর বিভিন্ন রূপ চিত্রায়িত করেছেন উদ্দীপকের কবিতাংশে। ‘পদ্মা’ কবিতায় কবিও পদ্মার ভয়াল রূপের পরিচয় দিয়েছেন। পদ্মাপাড়ের মানুষ পদ্মাকে ঘিরেই জীবনধারণ করেন। কিন্তু পদ্মা বর্ষাকালে তার ভয়াল রূপ দেখায়। মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়, তবে আবারও পদ্মাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখে পদ্মাপাড়ের মানুষ। দেখা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশ যেন ‘পদ্মা’ কবিতাটিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতার প্রমত্ত রূপের দিকটি ধারণ করতে পারলেও পদ্মার কল্যাণময়ী দিকটি ধারণ করতে পারেনি।
➠ পদ্মা বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী। তীব্র গতিবেগ ও স্রোতের উদ্দাম নৃত্য এ নদীকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। পদ্মা তার গতিবেগ দিয়ে জনজীবনে পতি নিয়ে আসে। নদীর উর্বর মাটিতে ফসল ফলিয়ে মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে।
➠ উদ্দীপকে পদ্মা নদীর প্রমত্ত রূপটি ফুটে উঠেছে। কিন্তু পদ্মার ইতিবাচক দিকও কবি তুলে ধরেছেন ‘পদ্মা’ কবিতায়। পদ্মার প্রেমময় রূপ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। এর উর্বর ভূমি থেকে পায় পর্যাপ্ত শস্য। তাই পদ্মা ধ্বংসাত্মক হলেও পদ্মাকে ঘিরে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখে পদ্মাপাড়ের মানুষ।
➠ উদ্দীপকের কবি যৌবন ফিরে পেতে চেয়েছেন পদ্মার প্রমত্ত রূপ হতে। এছাড়া আরও নানা নদীর রূপ বর্ণনা করেছেন কবিতাংশে। বর্ষাকালে পদ্মার ভয়ংকর রূপে নিরন্ত বয়ে চলাকে পদ্মার প্রমত্ত রূপ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু পদ্মাকে ‘প্রমত্ত পদ্মা’ আখ্যা দিলেও পদ্মার রয়েছে কল্যাণময়ী রূপ। পদ্মার পলিতে প্লাবিত এর দুই পাড়ের উর্বর ভূমি মানুষকে দিয়েছে পর্যাপ্ত ফসল। আরও দিয়েছে জীবনদায়িনী সবুজের সমারোহ। তাই দেখা যায় যে, উদ্দীপকে ‘পদ্মা’ কবিতার কেবল একটি দিককেই ধারণ করতে পেরেছে।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সর্বনাশা পদ্মা নদী, তোর কাছে শুধাই
বল আমারে তোর কি রে আর
কূল কিনারা নাই।

ক. পদ্মার ঘূর্ণি দেখে কারা কেঁপেছে?
খ. ‘তোমার তরঙ্গভঙ্গে বর্ণ তার হয়েছে পা-ুর’ - কেন বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতার সাদৃশ্যসূত্র চিহ্নিত করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘পদ্মা’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পেয়েছে কি? তোমার মতামত দাও।

ক. পদ্মার ঘূর্ণি দেখে জলদস্যু ও দুরন্ত হার্মাদ কেঁপেছে।
খ. ‘তোমার তরঙ্গভঙ্গে বর্ণ তার হয়েছে পা-ুর’ - পক্তিটির মধ্য দিয়ে পদ্মার ঘূর্ণি দেখে জলদস্যুদের ভীতসন্ত্রস্ত হওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ পদ্মা দুর্বার দুরন্ত নদী। ঘূর্ণি তার ভয়ংকর। পদ্মার ঘূর্ণি দেখে সাধারণ মানুষ তো বটেই দুর্র্ধষ জলদস্যুদের মনেও ভীতি জেগে ওঠে। জলদস্যুরা সাধারণত নদী আর সমুদ্রপথেই জীবন কাটায়। ঢেউ দেখে তারা অভ্যস্ত। কিন্তু পদ্মার ভয়ংকর ঘূর্ণি তাদের কাছেও ভীতিকর হয়ে ওঠে, শুধু তাই নয়, ভয়ে তারা বিবর্ণ হয়ে যায়। আলোচ্য পক্তিটিতেই এ কথাই ফুটে উঠেছে।

গ. পদ্মা নদীর ধ্বংসাত্মক রূপ বর্ণনার প্রেক্ষিতে উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যময় হয়ে উঠেছে।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মা নদীর সংহার মূর্তি ধারণের কথা বলা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে চিরচেনা পদ্মা অচেনা হয়ে যায়। প্রবল প্লাবনে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি ও জীবন সাজানোর অসংখ্য উপকরণ। বন্যায় অনেকের প্রাণহানি ঘটে, সম্পদের প্রভূত ক্ষতি সাধিত হয়।
➠ উদ্দীপকে পদ্মা নদীর সর্বনাশা রূপটি তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ পদ্মার প্রবল স্রোত ও জলপ্রবাহে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসার বিষয়টি ওখানে গুরুত্ব পেয়েছে। তীর ভেঙে ভেঙে পদ্মা নিজেকে সীমা-পরিসীমাহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আবার বন্যার জলে মানুষের বসতভিটা ভাসিয়ে নেয়। ‘পদ্মা’ কবিতায়ও আমরা দেখি পদ্মার এক নির্মম রূপ। পদ্মা তার তীরবর্তী মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসে। ভাসিয়ে দেয় ঘরবাড়ি। ধরা দেয় সর্বনাশা রূপে। উদ্দীপকে ‘পদ্মা' কবিতার এ দিকটিই ফুটে উঠেছে।

ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত পদ্মা নদীর রূপটি ‘পদ্মা' কবিতার খ-িত অংশের প্রতিনিধিত্ব করায় এটি কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করতে পারেনি।
➠ পদ্মা নদীর ইতিবাচক দিক যেমন আছে, তেমনি কিছু নেতিবাচক দিকও পরিলক্ষিত হয়। পদ্মা একদিকে ফুল-ফসলে চারপাশ ভরে তোলে। অন্যদিকে, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয় জনপদ। ‘পদ্মা’ কবিতায় এ দুটি দিকই চিত্রিত হয়েছে।
➠ উদ্দীপকে পদ্মা নদীকে সর্বনাশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সে সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। অকুল পদ্মার ভয়ংকর রূপ কতটা ভীতিকর তা উদ্দীপকে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ‘পদ্মা’ কবিতায়ও আমরা দেখি পদ্মা নদীর প্রলয়ংকর মূর্তি। জলদস্যু তো বটেই, দুরন্ত হার্মাদও তার প্রবল ঘূর্ণি দেখে কাঁপে। মানুষের বসতবাড়ি চুরমার করে দেয় মুহূর্তেই। চিরপরিচিত পদ্মা তখন তাদের কাছে অচেনা হয়ে যায়। হয়ে ওঠে ভীতি ও আতঙ্কের মূর্তিমান প্রতীক। তবে পদ্মার রূপ কেবল এতেই সীমাবদ্ধ নয়।
➠ স্রোতঃস্বিনী পদ্মা নদী খরস্রোতের জন্য বিখ্যাত। এর উদ্দাম স্রোত যেমন মানুষের মনের জড়তা দূর করার আহ্বান জানায়, তেমনি প্লাবন সৃষ্টি করে মানুষের তৈরি কীর্তি ভাসিয়ে মানুষকে নিঃস্বও করে। উদ্দীপকে পদ্মা নদীর এই দিকটির উল্লেখ রয়েছে। ‘পদ্মা’ কবিতায়ও এ প্রসঙ্গের ইঙ্গিত রয়েছে কিন্তু এটিই কবিতার একমাত্র দিক নয়। পদ্মার আশীর্বাদে নদীতীরের মানুষের জীবন ফসলের সম্ভারে পূর্ণ হয়। মানবজীবন ও সমাজের স্থবিরতা দূর হয়ে তাতে গতিসঞ্চার হয় পদ্মার প্রদীপ্ত স্রোতের অনুপ্রেরণায়। এ দিকগুলো ‘পদ্মা’ কবিতায় কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ফুটে উঠলেও উদ্দীপকে অনুপস্থিত। আমার বিবেচনায় তাই, উদ্দীপকে ‘পদ্মা' কবিতার সম্পূর্ণভাব প্রকাশ পায়নি।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
৪. এ আমার শৈশবের নদী, এই জলের প্রহার
সারাদিন তীর ভাঙে, পাক খায়, ঘোলা স্রোত টানে
যৌবনের প্রতীকের মতো অসংখ্য নৌকার পালে
গতির প্রবাহ হানে।"

ক. মৃত জড়তার বুকে কী খুলেছে?
খ. ‘মুক্তির স্বর্ণদ্বার' বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতার সাদৃশ্যসূত্র চিহ্নিত করো।
ঘ. “নদীর গতিধারা জনজীবনেও গতি সঞ্চার করে’ - উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতার আলোকে তোমার মতামত দাও।

ক. মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদ্বার।
খ. ‘মুক্তির স্বর্ণদ্বার’ বলতে মূলত সমাজ ও জীবনের জড়তা থেকে মুক্তি পেয়ে গতিময় জীবনের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
➠ পদ্মা দুরন্ত স্রোতের অধিকারী। তার দুর্বার গতি স্থবিরতার মাঝে উদ্দীপনা জাগায়। মানুষের গতিহীন, স্তব্ধ মনে গতি সঞ্চারিত হয়। পদ্মার উদ্দাম প্রবাহ দেখে। পদ্মার ওপর নির্ভর করে নদীতীরের মানুষের জীবন। তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও গতি এনে দেয় পদ্মার গতিবেগ। অর্থাৎ পদ্মার প্রমত্ত ধারা যেন মানুষকে সকল জড়তা থেকে মুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। এ বিষয়টি বোঝাতেই আলোচ্য কবিতায় পদ্মাকে মুক্তির স্বর্ণদ্বার বলা হয়েছে।

গ. নদীর প্রমত্ত রূপ বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতার সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে।
➠ ‘পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীর কল্যাণময়ী রূপের পাশাপাশি এর প্রমত্ত ও ভয়ংকর রূপটি উন্মোচিত হয়েছে। কবিতায় পদ্মা দুরন্ত এক নদীর নাম। দুর্বার তার গতিপ্রবাহ। ঢেউয়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মাতিয়ে রাখে চারপাশ। কখনো মানুষের মনে জাগিয়ে তোলে অনিঃশেষ ভয় ও শব্দ। ভাসিয়ে দেয় চরাচর।
➠ উদ্দীপকে কবি তার শৈশবের নদীর স্মৃতিচারণ করেছেন। নদীর তীর ভাঙার শব্দ, ঘোলা স্রোত তাঁর স্মৃতিপৃটে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। যৌবনের প্রতীকের মতো নৌকার পালে গতির প্রবাহ কবিকে নাড়া দেয়। একইভাবে, ‘পদ্মা' কবিতায়ও আমরা পদ্মার দুর্বার স্রোত ও ঘূর্ণির দৃশ্য দেখি। এ কবিতায় পদ্মার গতিময়তা ও খরস্রোত মূলত তারুণ্যের প্রতীক। এখানেই উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতায় নদীর সাথে জনজীবনের গভীর সম্পর্কের স্বরূপ বর্ণনার প্রেক্ষিতে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ বলেই প্রতীয়মান হয়।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় ফররুখ আহমদ পদ্মা নদী ও এর সাথে জড়িত মানুষের জীবনের চিত্র এঁকেছেন। পদ্মার দুই পাড়ের মানুষ ফসলের সমারোহ সৃষ্টিতে সময় কাটায়। পদ্মার উত্তাল ঢেউ মানুষের মনে উচ্ছলতার বান এনে দেয়। জীবনযাত্রা থেকে বিদায় নেয় সকল জড়তা ও গ্লানি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কবির শৈশবের নদী জলের প্রহারে তীর ভাঙে। ঘোলা স্রোত বয়ে চলে নিরন্তর। নদীর প্রবহমানতা কবির স্মৃতিতে সমুজ্জ্বল। সেই জলপ্রবাহে ভেসে চলে তারুণ্যদীপ্ত নৌযান। অর্থাৎ এখানে নদীর প্রবহমানতা ও গতিময়তার দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে, যা নদীর তীরবর্তী মানুষদের জীবনকেও প্রভাবিত করে।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় আমরা দেখি পদ্মার প্রমস্ত রূপ, উত্তাল মুপি, যা অভিজ্ঞ জলদস্যুর মনেও ভীতি সঞ্চার করে। পদ্মার স্রোতে চারপাশ হয়ে ওঠে সবুজ শস্যময়, যা পদ্মা-তীরবর্তী মানবজীবনকেও কর্মচল করে তোলে। উদ্দীপকেও নদীর গতি ও প্রবহমানতা কবির জীবনে গতি এনেছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে ‘নদীর গতিধারা জনজীবনেও গতিসঞ্চার করে’- এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নদী তীরে বাস করি চালাই লাঙল
জল সিঁচে হাল চষে ফলাই ফসল
পলিপড়া মাটিতে ফলে সোনাধান
নদী আমার জীবন-মরণ, নদী আমার প্রাণ

ক. ফররুখ আহমদের জন্ম কত সালে?
খ. ‘সংগ্রামী মানুষ তবু দুই তীরে চালায়ে লাঙল’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে ‘পদ্মা’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।
ঘ. ‘নদী আমার জীবন-মরণ, নদী আমার প্রাণ’ - ‘পদ্মা’ কবিতার আলোকে উদ্ভিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

ক. ফররুখ আহমদের জন্ম ১৯১৮ সালে।
খ. পদ্মাতীরের সংগ্রামী মানুষ দুই তীরের জমিতে লাঙল চালিয়ে ফসলের সম্ভার সৃষ্টি করে, যা প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
➠ নদী-তীরবর্তী মানুষের জীবন নিয়ত সংগ্রামশীল। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে তাদের টিকে থাকতে হয়। অন্যদের তুলনায় তাদের ফসল উৎপাদন কিংবা জীবনধারণ বেশ কঠিন। লাঙল চালিয়ে ভূমিকে চাষাবাদের উপযোগী করে তুলতে হয়। এরপর কঠিন শ্রমে ফলাতে হয় শস্যদানা। প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে এদিকটিই বোঝানো হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে ‘পদ্মা' কবিতার পদ্মা-তীরবর্তী মানুষের শ্রমে-ঘামে শস্যদানা উৎপাদনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মা নদী কীভাবে মানুষের জীবনে আশীর্বাদ বয়ে আনে সে বিষয়টির প্রকাশ ঘটেছে। পলিপড়া উর্বর দুই তীরে সংগ্রামী মানুষেরা চাষাবাদ করে। পদ্মার পলিতে প্লাবিত এর দুই পাড়ের উর্বর ভূমি মানুষকে দিয়েছে পর্যাপ্ত ফসল, জীবনদায়িনী সবুজের সমারোহ। সোনালি ফসল তাদের দিয়েছে জীবিকার জোগান।
➠ উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণে নদী-তীরবর্তী একজন কৃষকের সংগ্রামী জীবনচিত্র উঠে এসেছে। এ কৃষক লাঙল চালিয়ে জল সিঁচে ফসল ফলায়। এই ফসলই সেই কৃষকের জীবিকার অন্যতম উৎস। ‘পদ্মা’ কবিতায়ও আমরা দেখি পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষের সংগ্রামী জীবনচিত্র। এখানেও কৃষক কঠিন শ্রমের ফল শস্যদানা পেয়ে তৃপ্ত হয়। উদ্দীপকে ‘পদ্মা’ কবিতার এ দিকটি উঠে এসেছে।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতায় নদীর সাথে মানবজীবনের গভীর সম্পর্কের স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে।
➠ ফররুখ আহমদ রচিত ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মা নদীর দুটি রূপ ফুটে উঠেছে। পদ্মার আশীর্বাদে ফসলের সম্ভারে সংগ্রামী মানুষ পায় সমৃদ্ধির ঠিকানা। আবার এ নদীই কখনো হয়ে ওঠে ধ্বংসপ্রবণ। তখন নদীতীরের মানুষ সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়। পদ্মা তার তীরবর্তী মানুষের জন্য কখনো হয়ে ওঠে বিধ্বংসী, আবার কখনো হয় কল্যাণময়ী। ফলে পদ্মা মানবজীবনের সাথে গভীর সম্পর্কে আবন্ধ হয়ে ওঠে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, নদীতীরে বাস করে এমন একজন কৃষকের জীবনালেখ্য। নদীতীরে লাঙল চালিয়ে জল সিঁচে সে ফসল উৎপাদন করে। পলিপড়া মাটি বলে ফসলও ফলে আশাতীত। নদীকে ডাই তার কাছে মনে হয়েছে প্রাণের সমতুল্য। আবার এ নদীই তার কাছে জীবনের বিপরীত মরণের মতন হয়ে ওঠে। কারণ নদী বিরূপ হলে মৃত্যু অবধারিত। ‘পদ্মা’ কবিতায়ও আমরা পদ্মা নদীর এ দ্বৈত ভূমিকা প্রত্যক্ষ করি। পদ্মা একদিকে পলি ফেলে ভূমিকে উর্বরতা দেয়। কৃষক কঠিন শ্রমে শস্য ফলায়। আবার এ পদ্মার স্রোতেই ভেসে যায় মানুষের সাজানো বাগান, ঘর-সংসার। অর্থাৎ পদ্মা এখানে মৃত্যুর দৃত হয়ে আসে।
➠ নিয়ত বহমান নদী মানুষের ভাগ্য নিয়েও খেলা করে। কাউকে সে ফসলের সম্ভার উপহার দেয়। আর কারো বা ঘরবাড়ি গিলে খেয়ে উদ্দাম নিয়তে ছুটে যায় নিরন্তর। নদী তাই জীবনেরই সমান্তরাল হয়ে ওঠে। ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মা নদীর সাথে মানবজীবনের মিতালির স্বরূপ তুলে ধরা কষ্টের সীমা থাকে না। তবু নদীই আবার মানুষকে নতুন স্বপ্নে উজ্জীবিত হওয়ার মন্ত্র শেখায়। উদ্দীপকের বর্ণনায়ও আমরা নদীর সাথে এমন গাভীর সংযোগের চিত্র দেখি। নদীমাতৃক এ দেশে মানুষের সমগ্র জীবনযাত্রা জুড়েই আছে নদীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান। উপর্যুক্ত গলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ‘নদী আমার জীবন-মরণ, নদী আমার প্রাণ’ ‘পদ্মা' কবিতার আলোকে উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যবহ।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?
দুগ্ধ-স্রোতোৰূপী তুমি জন্মভূমি-স্তনে।

ক. মৃত জড়তার বুকে কী খুলেছে?
খ. জলদস্যুরা কীভাবে অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘পদ্মা' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ আংশিক চেতনাকে ধারণ করেছে মাত্র” - উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদার।
খ. জলদুস্যরা নদী বা সমুদ্রপথে ভ্রমণের মাধ্যমে অনেক অভিজ্ঞতার অধিকারী হয়।
➠ নদী বা সমুদ্রপথে লুণ্ঠনে লিপ্ত দস্যুরাই জলদস্যু নামে পরিচিতি। তারা জীবনের অধিকাংশ সময়ই জলে ভেসে চলে। যাত্রাপথে উত্তাল স্রোত, প্রবল ঘূর্ণি ইত্যাদি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় তাদের। বছরের পর বছর এসব মোকাবিলা করেই তারা জলপথে ভ্রমণের গভীর অভিজ্ঞতা লাভ করে।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘পদ্মা' কবিতার পদ্মা নদীর রূপ এবং এর সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় কবি নদীর কল্যাণকামী দিকটি তুলে ধরেছেন। যেখানে পদ্মাপাড়ের মানুষ নদীর তীরে ফসলের সম্ভার সৃষ্টি করে। আর এ ফসলই তাদের জীবনধারণের নিশ্চয়তা দেয়। বর্ষায় প্লাবনে সহায় সম্বল হারালেও নদীনির্ভর মানুষেরা নতুনভাবে বাঁচার আশায় ঘুরে দাঁড়ায়।
➠ উদ্দীপকের চরণগুলোতে দেখা যায়, উদ্দীপকের কবি বহু দেশে বহু নদী দেখে থাকলেও নিজ দেশের নদীকেই আপন করে নিতে পেরেছেন। ‘পদ্মা’ কবিতায় কবিও পদ্মা নদীর ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। নদীর পলি জমে যে উর্বর চর হয় তাতে সোনার ফসল ফলে। উর্বর ভূমিতে সংগ্রামী মানুষ হালচাষ করে ফসল ফলায়। অর্থাৎ পদ্মা মানুষের জন্য তৈরি করেছে ফসলের সম্ভাবনা। তাই উদ্দীপকের সঙ্গে ‘পদ্মা’ কবিতার পদ্মার কল্যাণকামী দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. উদ্দীপটিতে পদ্মার কল্যাণকামী দিকটি পাওয়া গেলেও পদ্মার ভয়াল ঘূর্ণি ও নির্মম দিকগুলো উঠে আসেনি। তাই উদ্দীপকটি ‘পদ্মা কবিতার আংশিক চেতনাকে ধারণ করেছে মাত্র।
➠ পদ্মা নদীর ইতিবাচক দিক যেমন আছে, তেমনি নেতিবাচক দিকও পরিলক্ষিত হয়। পদ্মা একদিকে ফুল-ফসলে চারপাশ ভরে তোলে। অন্যদিকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয় জনপদ। ‘পদ্মা’ কবিতায় কবি এ দুটি দিক চিত্রায়িত করেছেন।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, অনেক দেশে অনেক নদ-নদী দেখে থাকলেও নিজ দেশের নদীর প্রতি অন্যরকম টান অনুভব করেন। নদীকে 'ট্রুদ্ধ ঘোত্যেরূপী' নামেও আখ্যা দিয়েছেন। এখানে নদীর ইতিবাচক দিকটি দেখা যায়। নদীর সাথে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক তা প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপকে। আর ‘পদ্মা’ কবিতায় কবি নদীর ভয়াল রূপটিও বর্ণনা করেছেন।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মার প্রমত্ত রূপের পরিচয় পাওয়া যায়। বর্ষাকালে নদী টুইটুম্বুর হয়ে ভয়াল রূপ ধারণ করে। এ সময় ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের জীবনধারণের অজস্র সম্ভার। এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে জলদস্যুদের মনেও ভয়ের সঞ্চার হয়। মানুষ তখন নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। তবে তারা আবার পদ্মাকে ঘিরে তাদের স্বপ্নগুলো দেখতে পায়। উদ্দীপকে নদীর সাথে মিতালির রূপটিই দেওয়া আছে। কিন্তু ‘পদ্মা’ কবিতায় নদীর কল্যাণকামী ও ভয়াল রূপ দুদিকের কথা উল্লেখ আছে। তাই উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতার আংশিক চেতনাকে ধারণ করেছে।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরোশত নদী শুধায় আমাকে, 'কোথা থেকে তুমি এলে??

ক. পদ্মার কী দেখে জলদস্যুর বর্ণ পা-ুর হয়েছে?
খ. নির্ভীক জওয়ান জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয় কেন?
গ. উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি কী ‘পদ্মা’ কবিতার সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করতে পেরেছে? যুক্তিসহ উপস্থপন করো।

ক. পদ্মার তরঙ্গভঙ্গ দেখে জলদস্যুর বর্ণ পা-ুর হয়েছে।
খ. সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাই একমাত্র নিয়তি বলে নির্ভীক জওয়ান জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে নিঃসংশয়।
➠ পদ্মা নদীর দুই তীরে সংগ্রামী মানুষদের বাস। তারা কেঠার পরিশ্রম করে চাষাবাদ করে ফসল ফলায়। তারা জানে, পরিশ্রম ভিন্ন তাদের অনিশ্চিত জীবনে অন্য কোনো উপায় নেই। কেননা, তা হলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। জীবন-মৃত্যুর দ্বন্দ্বে তাই তারা সংশয়মুক্ত, সংগ্রাম করে টিকে থাকাটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

গ. নদীর কল্যাণময়ী রূপের দিক দিয়ে উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। এসবের মধ্যে পদ্মা সর্ববৃহৎ। পদ্মার পলিতে প্লাবিত এর দুই পাড়ের উর্বর ভূমি মানুষকে দিয়েছে পর্যাপ্ত ফসল, জীবনদায়িনী সবুজের সমারোহ। জনজীবনে সঞ্চার করে গতি। ঝিমিয়ে পড়া জনজীবনে দেয় প্রাণপ্রবাহ। আর এভাবেই জীবনধারণের জন্য তারা পদ্মার ওপর নির্ভরশীল।
➠ উদ্দীপকের চরণগুলোতে নদীর সাথে মানুষের যে সখ্যতা তা ফুটে উঠেছে। নদীর পলির কথাও উল্লেখ করেছে। ‘পদ্মা' কবিতায়ও দেখা যায়, নদীর পলি জমে যে উর্বর চর হয় তাতে সোনার ফসল ফলায় মানুষেরা অর্থাৎ পদ্মা এখানে মানুষের জন্য তৈরি করেছে ফসলের সম্ভাবনা। পদ্মা কল্যাণময়ী হয়ে এ দেশের জনজীবনের সাথে একাত্ম হয়ে আছে। আর এই দিকটির সাথেই উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে নদীর ইতিবাচক দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু ‘পদ্মা' কবিতায় নদীর ভয়াল রূপের দিকটিও বর্ণিত আছে। তাই উদ্দীপকটি পদ্মা কবিতার সামগ্রিকতাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
➠ ‘পদ্মা' কবিতায় নদীর দুইটি রূপের কথা উল্লেখ আছে। একদিকে ভয়ংকর রূপ, অন্যদিকে পদ্মার কল্যাণময়ী রূপ। তারপরও পদ্মাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখে পদ্মাপাড়ের মানুষ। বর্ষাকালে উদ্দাম গতিতে নিরন্ত ছুটে চলে, আবির্ভূত হয় ভয়ংকর রূপে। সেই সময় জানমালের ক্ষতি করলেও পলি বেয়ে এনে মানুষকে দিয়ে যায় ফসলের প্রাণপ্রাচুর্য।
➠ উদ্দীপকের চরণগুলোতে দেখা যায়, নদীর সাথে লেখকের সখ্যতার দিকটি ফুটে উঠেছে। নদীর পলিতে পা ফেলার চিহ্ন, তেরোশত নদীর কথা ইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু নদীর ভয়াল রূপের কথা উদ্দীপকে স্থান পায়নি। বর্ষার প্লাবনে নদীর পানির উচ্চতা বেডড়েযায়। ফলে মানুষের সাজানো সংসার নদীর পানিতে ভেসে যায়।
➠ নদীমাতৃক বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী। এসবের মধ্যে পদ্মা সর্ববৃহৎ। পদ্মার কল্যাণময়ী রূপ ছাড়াও রয়েছে প্রমত্ত রূপ। যা দেখে দূরন্ত জলদস্যুদের মনেও ভয়ের সঞ্চার করে। আর বর্ষাকালে জলস্রোতে স্ফীত হয়ে ভাসিয়ে নেয় মানুষের সাজানো বাগান, ঘর, এমনকি জীবন পর্যন্ত। দেখা যায়, ‘পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকের বর্ণনা আছে। কিন্তু উদ্দীপকে নদীর নেতিবাচক দিকটি নেই। যার কারণে উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতার সামগ্রিকতা স্পর্শ করতে পারেনি।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপক-১: “ফিরলে আজও পাব কি সেই নদী?
স্রোতের তোড়ে ভাঙা সে এক গ্রাম?
হায় রে নদী পেয়েছে সব কিছু।
জলের ঢেউ ঢেকেছে নাম-ধাম।”
উদ্দীপক-২: “নদী তো কোনোদিন রাখেনি আদিজল
সে জল সমুদ্র নৃত্য করে,
কখনো স্মৃতি হয়ে কখনো ঘাম হয়ে
অশ্রু রক্তের সঙ্গী হয়ে যায়।
তবুও এই নদী বইছে অবিরল,
বইছে চঞ্চল।

ক. মৃত জড়তার বুকে কী খুলেছে?
খ. শস্যদানাকে ‘কঠিন শ্রমের ফল’ বলা হয়েছে কেন?
গ. ১নং উদ্দীপকে ‘পদ্মা' কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ২নং উদ্দীপকে ‘পদ্মা' কবিতার মূলকথা বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে কি? মতামত দাও।

ক. মৃত জড়তার বুকে খুলেছে মুক্তির স্বর্ণদার।
খ. শস্যদানা ফলাতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় বলে এটিকে ‘কঠিন শ্রমের ফল’ বলা হয়েছে।
➠ পদ্মার দুই তীরে সংগ্রামী মানুষদের বাস। নদী তীরের জমি উর্বর হলেও এখান থেকে ফসল ফলানো মোটেও সহজ নয়। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকরা সবুজ ফসলের সম্ভারে দুই তীর ভরিয়ে তোলে। দিনরাত অমানুষিক পরিশ্রম করার পর তারা জীবিকা অর্জনের মাধ্যমে শস্যদানা লাভ করে। এ কারণেই এ শস্য দানা তাদের ‘কঠিন শ্রমের ফল’।

গ. ১নং উদ্দীপকে ‘পদ্মা’ কবিতায় উল্লিখিত নদীর অকল্যাণ মূর্তির স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
➠ ‘পদ্মা' কবিতায় পদ্মা নদীর প্রমত্ত রূপের পরিচয় পাওয়া যায়। এ রূপ আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বর্ষাকালে। এসময় পদ্মার বিপুল জলরাশি ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের সাজানো বাগান, জীবনধারণের অজস্র সম্ভার। এসময় এর ভয়ংকর রূপ এমন হয় যেন, বহু সমুদ্র ঘোরার অভিজ্ঞতার ঋন্দ্ব দুরন্ত জলদস্যুদেরও মনে ভয়ের সঞ্চার হয়।
➠ ১নং উদ্দীপকে নদীর ধ্বংসাত্মক রূপটির প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি সন্দিহান বহুকাল পর ফিরে চিরচেনা গ্রামটির দেখা পাবেন কি না। কেননা গ্রামটি নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। কবির ধারণা গ্রামটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। ‘পদ্মা’ কবিতায় নদীর এমন ধ্বংসাত্মক রূপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বর্ষার প্রমত্ত পদ্মা তার দুকূলের সবকিছু ভাসিয়ে নেয়। আর এ দিকদিয়েই ১নং উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্য রচিত হয়েছে।

ঘ. নদীর সাথে জনজীবনের মিতালির স্বরূপ তুলে ধরার বিবেচনায় ২নং উদ্দীপকে ‘পদ্মা’ কবিতার মূলকথা বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় আমরা পদ্মা নদীর প্রমত্ত রূপের পরিচয় পাই, যা দেখে বহু সমুদ্র ভ্রমণ করা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জলদস্যুর বুকও কেঁপে ওঠে। পদ্মার পলির আশীর্বাদে নদীর দুই তীরে সংগ্রামী মানুষ পর্যাপ্ত ফসল ফলায়। বর্ষায় পদ্মার তীব্র স্রোতে বিলীন হয় মানুষের জানমাল। সব হারানো মানুষ নতুনভাবে জীবনকে সাজিয়ে তুলতে উদ্যমী হয় পদ্মাকে ঘিরেই।
➠ ২নং উদ্দীপকে নদীর প্রতি কবির গভীর অনুরাগ প্রকাশিত হয়েছে। নদীর জল সমুদ্রের ঢেউয়ের মতোই উদ্দাম নৃত্য করে। শ্রমজীবীর ঘাম, দুর্দশাগ্রস্তের অশ্রু ও রক্তের সাথে জড়িয়ে আছে নদী। এভাবেই জীবনযাপনের সঙ্গে নদীর যুগযুগান্তরের বন্ধন বিদ্যমান। ‘পদ্মা' কবিতায়ও নদীর সাথে জনজীবনের এমন বন্ধনের কথা বলা হয়েছে।
➠ নদীর সাথে বাংলার মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। নদীমাতৃক এদেশের মানুষ নানাভাবে নদীর মাধ্যমে উপকৃত হয়। আবার নদীর কারণেই মানুষের স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবুও নদীকে মানুষ ভালোবাসে, নদীকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখে। নদীর গতিময়তা থেকে প্রেরণা নিয়ে মানুষও জড়তা বেড়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২নং উদ্দীপক ও ‘পদ্মা' কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই নদীর সাথে মানুষের এই অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের চিত্র আঁকা হয়েছে। নদীর সাথে মানুষের মিতালির স্বরূপই ‘পদ্মা' কবিতার মূলকথা, যা ২নং উদ্দীপকটিতে সার্থকভাবে ফুটে উঠেছে বলেই আমি মনে করি।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খোলাবাড়িরচর এলাকায় যমুনা নদী বিপুল সম্পদ গ্রাস করে নিয়েছে। জানা যায়, গত বছর ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার খোলাবাড়িরচর, বরখাল, চরমাগুরিয়া ও নয়াপাড়ায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। ফলে ওইসব এলাকায় থাকা ১টি আশ্রয়ণ প্রকল্প, ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি মসজিদসহ খোলাবাড়ি বাজারের প্রায় সিংহভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

ক. সাজানো বাগান কোন ঋতুতে ভেসে গেছে?
খ. অনেক ঘণিতে ঘুরে বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতায় উল্লিখিত পদ্মানদীর কোন রূপের পরিচায়ক? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকে ‘পদ্মা’ কবিতার সবগুলো দিক ফুটে ওঠেনি।’ - মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

ক. সাজানো বাগান বর্ষা ঋতুতে ভেসে গেছে।
খ. ‘অনেক ঘূর্ণিতে ঘুরে’ - বলতে উত্তাল নদী বা সমুদ্রপথে জলদস্যুদের ভ্রমণের বিস্তর অভিজ্ঞতাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ জলদস্যুরা নদী বা সমুদ্রপথে ডাকাতি করে থাকে। এ কারণে অগাধ জলরাশিই তাদের বিচরণের প্রধান স্থান। নদী ও সমুদ্রে তাদের উত্তাল, ঝঞ্ঝামুখর স্রোতের মুখোমুখি হতে হয়। এ বিষয়টিকে তুলে ধরতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতায় উল্লিখিত পদ্মা নদীর ধ্বংসাত্মক রূপের পরিচায়ক।
➠ ফররুখ আহমদ ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মার দুই রূপের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এর একটি রূপ কল্যাণময়ী হলেও অন্যরূপটি ভয়ংকর। এর প্রমত্ত রূপ দেখে বহু সমুদ্র ঘোরার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ, দুরন্ত জলদস্যুদের মনেও ভয়ের সঞ্চার হয়। বর্ষা মৌসুমে প্রমত্ত পদ্মা ফুলেফেঁপে ওঠে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের সাজানো বাগান, জীবনের অজস্র সম্ভার।
➠ উদ্দীপকে যমুনা নদীর রুদ্ররূপের পরিচয় পাওয়া যায়। নদীটি প্রলয়ংকরী বন্যার পর তৈরি করেছে তীব্র ভাঙনের মতো বিপর্যয়। ভাঙনের কবলে বিলীন হয়ে গিয়েছে মানুষের জীবনের নানা অবলম্বন। এতে মানুষ হয়ে পড়েছে নিরাশ্রয়। যমুনার এই ধ্বংসাত্মক রূপের মধ্যদিয়ে নদীর অকল্যাণ মূর্তিটিই প্রতিফলিত হয়েছে। ‘পদ্মা' কবিতায়ও জনজীবনে নদীর এমন নেতিবাচক প্রভাবের পরিচয় বিদ্যমান।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘পদ্মা’ কবিতার খ-িত ভাবের ধারক।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় বাংলার জনজীবনের সাথে পদ্মা নদীর গভীর সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। পদ্মার প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণি অভিজ্ঞ জলদস্যুর বুকেও কাঁপন ধরায়। পদ্মার ভাঙনে তীরবর্তী মানুষ সর্বস্ব হারায়। আবার নদীর দুপাড়ের পলিপ্লাবিত জমিতে সংগ্রামী মানুষ সোনালি ফসল ফলায়। বন্যায় সব হারানো মানুষ নতুন উদ্যম নিয়ে জেগে ওঠার প্রেরণা পায় পদ্মার কাছ থেকেই।
➠ উদ্দীপকে যমুনা নদীর ধ্বংসাত্মক রূপের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। নদীতে সৃষ্ট বন্যা এবং এবং তার পরবর্তী ভাঙনের কবলে পড়ে জামালপুর জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় মানুষেরা নানা ধরনের সম্পদ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ‘পদ্মা’ কবিতায়ও মানবজীবনের ওপর নদীর অভিশাপ হয়ে ওঠার বর্ণনা রয়েছে। তবে কবিতায় পদ্মা নদীর পরিচয় কেবল এ বিষয়টির বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
➠ ‘পদ্মা’ কবিতায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের একটি বিস্তৃত চিত্র প্রকাশ লাভ করেছে। নদীর সাথে এ দেশের মানুষের গভীর মিতালি। নদীর তীরে চাষাবাদ করে মানুষ লাভ করে জীবনদায়িনী শস্যকণা। আবার নদীই ভয়ংকর মূর্তি ধারণ করে ভাসিয়ে নিয়ে যায় জীবন সাজানোর অসংখ্য উপকরণ। তবে নিঃস্ব মানুষ আর স্থবির সমাজ একসময় পদ্মার তীব্র স্রোতের অনুপ্রেরণায় ঠিকই জেগে ওঠে নতুন প্রাণস্ফূর্তিতে। উদ্দীপকে ‘পদ্মা' কবিতার এই দিকগুলোর মধ্যে কেবল নদীর ধ্বংসাত্মক রূপটিই ফুটে উঠেছে। অন্য দিকগুলো এখানে অনুপস্থিত। উদ্দীপকটিকে তাই ‘পদ্মা’ কবিতার সমগ্র নয় বরং খ-িত ভাবের ধারক বলাই শ্রেয়। অর্থাৎ আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।


‘পদ্মা’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ভাঙন প্রবণ তীরে যাদের আবাস তারা কেউ
সুখে নেই- বরং দুঃখেই কাটে তাদের দিনকাল।

ক. ফররুখ আহমদের জন্ম কোন জেলায়?
খ. ‘জীবনের পথে পথে অভিজ্ঞতা কুড়ায়ে প্রচুর’ - কোন প্রসঙ্গে কেন বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপক ও ‘পদ্মা' কবিতার সাদৃশ্যসূত্র চিহ্নিত করো।
ঘ. “নদী তীরের লোকজন সংগ্রাম করে বাঁচে”― উদ্দীপক ও ‘পদ্মা' কবিতার আলোকে তোমার মতামত দাও।

ক. ফররুখ আহমদের জন্ম মাগুরা জেলায়।
খ. “জীবনের পথে পথে অভিজ্ঞতা কুড়ায়ে প্রচুর”— বলতে এখানে জলদস্যুদের বহু নদী ও সমুদ্র পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে।
➠ জলদস্যুরা পেশাগত কারণে সারাদিন নদী আর সমুদ্রে ভেসে বেড়ায়। দস্যুবৃত্তির জন্য সমুদ্রের ঢেউ কিংবা নদীর স্রোতে তাদের অবগাহন অনিবার্য। কারণ জলপথেই তারা ওত পেতে থাকে শিকারের আশায়। ফলে নদী কিংবা সমুদ্রে ভাসার অভিজ্ঞতা তাদের অগাধ। কিন্তু পদ্মার প্রমত্ত রূপ এ অভিজ্ঞ জলদস্যুদেরও সন্ত্রস্ত করে। আলোচ্য পঙ্ক্তিটিতে এ দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকে ‘পদ্মা’ কবিতার পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষের বিপদঘন দিনযাপনের দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➠ নদী বাঙালির অনুভবে বিচিত্র মাত্রা যোগ করে। নদীর তরঙ্গলীলা মানবমনে সঞ্চার করে রোমাঞ্চের অনুভব, কখনো-বা ভীতির আবহ। নদী জীবনযাপনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। আবার জীবনকে বিপদগ্রস্ত করায়ও তার জুড়ি মেলা ভার। ‘পদ্মা’ কবিতায় পদ্মানদীর কথা বলার মাধ্যমে কবি এ দিকগুলোকে তুলে ধরেছেন।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, ভাঙন প্রবণ নদীর তীরে যারা বসবাস করে তাদের কেউ সুখে থাকতে পারে না। তাদের দিনকাল কাটে অপরিসীম দুঃখ আর যন্ত্রণায়। একইভাবে ‘পদ্মা’ কবিতায় আমরা দেখি পদ্মা তীরবর্তী মানুষের সংগ্রামী জীবনচিত্র। পদ্মার স্রোতধারা তাদের ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নেয়। অসংখ্য জীবন আর জীবনের অজস্র সম্ভার তছনছ হয়ে যায় নিমেষেই। উদ্দীপকে ‘পদ্মা' কবিতার এ দিকটির প্রতিফলন লক্ষণীয়।

ঘ. উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতা উভয়ক্ষেত্রেই নদী তীরবর্তী জনপদের সংগ্রামী জীবনচিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
➠ ‘পদ্মা' কবিতায় ফররুখ আহমদ পদ্মা নদীর রুদ্ররূপের পরিচয় তুলে ধরেছেন। বর্ষায় এ নদী জলস্রোতে স্ফীত হয়ে ভাসিয়ে নেয় মানুষের সাজানো বাগান। এমনকি অনেকের জীবনও বিপন্ন হয়। কেউ ভিটেমাটি কেউবা জীবনধারণের নানা অত্যাবশ্যকীয় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়।
➠ উদ্দীপকে ভাঙন প্রবণ নদী তীরবর্তী মানুষদের বিষাদময় জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। কারণ নদীর তীর ভেঙে মানুষের বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়। মানুষ আচমকা হয়ে পড়ে উদ্বাস্তু ও সহায়-সম্বলহীন। ফলে দুঃখে কাটে তাদের নিত্যদিন। যারা কোনোরকমে টিকে থাকে তারাও নিয়ত আশঙ্কা নিয়ে বাঁচে। অন্যদিকে, ‘পদ্মা’ কবিতায় দেখা যায়, পদ্মা নদীর তীরবর্তী মানুষ কীভাবে লড়াই করে বেঁচে থাকে। এখানকার মানুষকে কঠিন শ্রমের বিনিময়ে ফসল ফলাতে হয়। আবার প্রবল স্রোতে ভেসে যায় মানুষের বহুযুগ ধরে সাজানো সংসার। অর্থাৎ পদ্মতীরের মানুষরাও সুখে নেই।
➠ জীবন মানেই সংগ্রাম। জীবন মানেই যুদ্ধ। কিন্তু নদী তীরবর্তী মানুষদের ক্ষেত্রে এ কথা একটু বেশি সত্য। যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা ও জীবিকা নির্বাহ করা তাদের নিয়তি। সে নিয়তিকে মেনে নিয়ে তারা নিয়ত লড়াই করে যায়। উদ্দীপকে ভাঙন প্রবণ নদীতীরের মানুষদের দুর্দশার চিত্র জীবন্ত হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, ‘পদ্মা’ কবিতায়ও পদ্মার স্রোতে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়া মানুষের দুর্ভোগের চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, “নদী তীরের লোকজন সংগ্রাম করে বাঁচে” - উদ্দীপক ও ‘পদ্মা’ কবিতার আলোকে উক্তিটি যথার্থ।


তথ্যসূত্র :
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url