বৃষ্টি- ফররুখ আহমদ
|
| বৃষ্টি |
বৃষ্টি
ফররুখ আহমদ
বৃষ্টি এলো...বহু
প্রতীক্ষিত
বৃষ্টি! - পদ্মা মেঘনার
ক
দুপাশে
আবাদি গ্রাম, বৃষ্টি এলো পূবের হাওয়ায়, খ
বিদগ্ধ আকাশ, মাঠ
ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়; খ
বিদ্যুৎ রূপসী পরী
মেঘে মেঘে হয়েছে
সওয়ার।
ক
দিকদিগন্তের
পথে অপরূপ
আভা দেখে তার
ক
বর্ষণ-মুখর
দিনে অরণ্যের কেয়া
শিহরায়, খ
রৌদ্র-দগ্ধ
ধানখেত আজ তার স্পর্শ পেতে চায়, খ
নদীর ফাটলে বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।
ক
রুগ্ন বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের মতন গ
রুক্ষ মাঠ আসমান শোনে সেই বর্ষণের সুর,
ঘ
তৃষিত বনের
সাথে জেগে ওঠে
তৃষাতপ্ত
মন, গ
পাড়ি দিয়ে
যেতে চায় বহু পথ,
প্রান্তর
বন্ধুর,
ঘ
যেখানে
বিস্মৃত দিন
পড়ে আছে
নিঃসঙ্গ
নির্জন
গ
সেখানে বর্ষার মেঘ জাগে আজ
বিষণ্ণ মেদুর
॥ ঘ
|
| বৃষ্টি |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ফররুখ আহমদের ‘মুহূর্তের কবিতা’ (সেপ্টেম্বর ১৯৬৩) কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। এই কাব্যগ্রন্থে ১০০টি সনেট রয়েছে। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ প্রতীক্ষিত- অপেক্ষারত। ➠ আবাদি গ্রাম- কৃষিজমি সংলগ্ন গ্রাম। ➠ বিদগ্ধ- সরস। ➠ বিদ্যুৎ রূপসী পরী- বিদ্যুৎ চমকানোকে লোকজ ধারণা অনুযায়ী সুন্দরী পরীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে যে মেঘে মেঘে ঘুরে বেড়ায়। ➠ সওয়ার- আরোহী। ➠ দিকদিগন্ত- দৃষ্টির শেষ সীমানা। ➠ অপরূপ- অতুলনীয়। ➠ আভা- দীপ্তি। ➠ অপরূপ আভা- নির্মল সৌন্দর্য ➠ অরণ্য- বন; জঙ্গল। ➠ শিহরায়- রোমাঞ্চিত করে। ➠ বর্ষণ- বৃষ্টি। ➠ রৌদ্র-দগ্ধ- সূর্যের তাপে দগ্ধ বা ঝলসিত। ➠ কেয়া- ফুল বিশেষ। প্রবাদবাক্যে কেয়াকে বর্ষার ফুল বলে। আবার অনেকে এ ফুলকে ‘বর্ষার রানি’নামে ডাকে। ➠ রুগ্ণ বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের মতন। রুক্ষ মাঠ আসমান শোনে সেই বর্ষণের সুর, তৃষিত বনের সাথে জেগে ওঠে তৃষাতপ্ত মন- দীর্ঘ বর্ষণহীন দিনে মাঠঘাট শুকিয়ে যে রুক্ষ মূর্তি ধারণ করেছে কবি তাকে রুগ্ণ বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এখন বর্ষণের শুরুতে তৃষ্ণাকাতর মাঠ-ঘাট ও বনে দেখা দিয়েছে প্রাণের জোয়ার। ➠ তৃষিত বন- তৃষ্ণার্ত বন। এখানে বৃষ্টির অভাবে বনের রুক্ষতার সাদৃশ্য। ➠ তৃষাতপ্ত- পিপাসায় কাতর। ➠ পাড়ি দিয়ে- যাত্রা করতে। ➠ প্রান্তর- মাঠ; জনবসতিহীন বিস্তৃত ভূমি। ➠ বন্ধুর- অসমান। ➠ বিস্মৃত দিন- সারাদিন। ➠ নিঃসঙ্গ- একাকী। ➠ নির্জন- জনমানবহীন। ➠ বিষণ্ণ মেদুর- বৃষ্টিবিহীন প্রকৃতির রুক্ষতা বৃষ্টির আগমনে দূরীভূত হয়েছে। প্রকৃতি এখন স্নিগ্ধকোমল হয়ে চারিদিক করে তুলেছে প্রাণোচ্ছল। ➠ মেদুর- কোমল। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি: |
|---|
| কৃষিপ্রধান বাংলার বহুপ্রতীক্ষিত বৃষ্টি নিয়ে কবিতাটি লিখিত। প্রকৃতিতে বর্ষা আসে প্রাণস্পন্দন নিয়ে। আর বৃষ্টিই বর্ষার প্রাণ। এ সময় নদীর দু-ধারে প্লাবন দেখা দেয়, ফলে পলিমাটির গৌরবে ফসল ভালো হয়। বৃষ্টির সময় আকাশের সর্বত্র মেঘের খেলা দেখা যায়, বর্ষার ফুল ফুটে সর্বত্র মোহিত হয়, রুক্ষ মাটি বৃষ্টিতে প্রাণ জুড়ায়। বৃষ্টির দিনে সংবেদনশীলতা মানুষও রসসিক্ত হয়ে ওঠে। তার মনে পড়ে সুখময় অতীত, পুরনো স্মৃতি, আর সে ভালোলাগার আলপনা আঁকে মনে মনে। এ বৃষ্টি কখনো বিষণ্ণও করে মন, একাকী জীবনে বাড়ায় বিরহ। সুতরাং বৃষ্টি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা বা প্রাকৃতিক পালাবদলের নিয়ামক নয়, এর সঙ্গে ব্যক্তির জীবনও কতটা সম্পৃক্ত তারই কাব্যরূপটি কবিতায় ফুটে উঠেছে। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার বৈশিষ্ট্য: |
|---|
|
১। গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রকৃতির কী অবস্থা থাকে এবং বৃষ্টির ফলে তাতে কোন
পরিবর্তন আসে, এই কবিতায় তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ২। এটি একটি সনেট কবিতা। সনেট কবিতা ১৪ চরণের হয়ে থাকে। এই চরণগুলো আবার দুটি স্তবকে বিভক্ত-প্রথম স্তবক ৮ চরণের এবং দ্বিতীয় স্তবক ৬ চরণের। এ ধরনের কবিতায় চরণের শেষে বিশেষ ধরনের মিল থাকে। যেমন, ‘বৃষ্টি’ কবিতার প্রথম স্তবকে ১ম, ৪র্থ, ৫ম ও ৮ম চরণের শেষে এক ধরনের মিল আছে; আবার ২য়, ৩য়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম চরণের শেষে অন্য ধরনের মিল আছে। এছাড়া দ্বিতীয় স্তবকে ৯ম, ১১শ ও ১৩শ চরণে এক ধরনের মিল এবং ১০ম, ১২শ ও ১৪শ চরণে আরেক ধরনের মিল। মিলের এই বিষয়টি ক, খ, গ ও ঘ দিয়ে বোঝানো হলো। ক. অন্ত্যমিল অনুপ্রাস: সওয়ার জোয়ার, বন্ধুর-মেদুর ইত্যাদি; এবং খ. পুনরাবৃত্ত অনুপ্রাস: ‘বন্যা আনে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার।’-এখানে ‘ন’ ও ‘র’ ধ্বনির পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। এগুলো শব্দালংকারের উদাহরণ। ৪। কবিতায় উপমার ব্যবহার হয়েছে। যেমন: ‘রুগ্ন বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের মতন’- এখানে রুগ্ন বৃদ্ধ ভিখারির রগ-ওঠা হাতকে রুক্ষ মাঠের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এটি এক ধরনের অর্থালংকার। ৫। কবিতাটির লয় ধীর গতির। ৬। কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। ৭। চরণগুলোর পর্ব-বিন্যাস এ রকম: /বৃষ্টি এলো... বহু প্রতী/ক্ষিত বৃষ্টি!-পদ্মা মেঘনার /দুপাশে আবাদি গ্রামে, /বৃষ্টি এলো পুবের হাওয়ায়, /বিদগ্ধ আকাশ, মাঠ/ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়; /বিদ্যুৎ-রূপসী পরি/মেঘে মেঘে হয়েছে সওয়ার। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
|
ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ই জুন মাগুরা জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা খান সাবের সৈয়দ হাতেম আলী। ফররুখ আহমদ কলকাতা রিপন কলেজ থেকে আই.
এ. পাস করেন এবং কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শনে অনার্স ও ইংরেজিতে
অনার্সের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
কর্মজীবনে তিনি নানা পদে নিয়োজিত হন এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি
ঢাকা বেতারে স্টাফ রাইটার পদে নিয়োজিত ছিলেন। ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্য তাঁকে
কাব্যসৃষ্টিতে প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
সাত সাগরের মাঝি (কাব্যগ্রন্থ, ১৯৪৪), সিরাজাম মুনীরা (১৯৫২), নৌফেল ও
হাতেম (কাব্যনাট্য, ১৯৬১), মুহূর্তের কবিতা (সনেট, ১৯৬৩), পাখির বাসা
(শিশুতোষ গ্রন্থ, ১৯৬৫), হাতেম তা’য়ী (কাহিনিকাব্য, ১৯৬৬), নতুন লেখা,
হরফের ছড়া, ছড়ার আসর
ইত্যাদি। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজী
পুরস্কার, একুশে পদকসহ (মরণোত্তর) অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৭৪ সালের ১৯শে অক্টোবর তিনি পরলোকগমন করেন। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন: |
|---|
| ১। বর্ষার ঋতুতে প্রকৃতি যে নব সাজে সজ্জিত হয়, তার বিবরণ দাও। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. ‘বৃষ্টি’ কবিতার কবির নাম কী? উত্তর : ‘বৃষ্টি’ কবিতার কবির নাম ফররুখ আহমদ। ২. ফররুখ আহমদের কাব্যসৃষ্টির প্রেরণা কী ছিল? উত্তর : ফররুখ আহমদের কাব্যসৃষ্টির প্রেরণা ছিল ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্য। ৩. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় কোনটিকে বহু প্রতীক্ষিত বলা হয়েছে? উত্তর : ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বৃষ্টিকে বহু প্রতীক্ষিত বলা হয়েছে। ৪. বিদগ্ধ আকাশ, মাঠ কিসে ঢেকে গেল? উত্তর : বিদগ্ধ আকাশ, মাঠ কাজল ছায়ায় ঢেকে গেল। ৫. কে মেঘে মেঘে সওয়ার হয়েছে? উত্তর : বিদ্যুৎ-রূপসী পরি মেঘে মেঘে সওয়ার হয়েছে। ৬. বর্ষণমুখর দিনে কে শিহরায়? উত্তর : বর্ষণমুখর দিনে অরণ্যের কেয়া শিহরায়। ৭. বন্যা কোথায় পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আনে? উত্তর : বন্যা নদীর ফাটলে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আনে। ৮. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় রুক্ষ, অসমান মাঠকে রুগ্ণ ভিখারির কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছে? উত্তর : ‘বৃষ্টি’ কবিতায় রুক্ষ, অসমান মাঠকে রুগ্ণ ভিখারির রগ-ওঠা হাতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ৯. তৃষিত বনের সাথে কী জেগে ওঠে? উত্তর : তৃষিত বনের সাথে তৃষাতপ্ত মন জেগে ওঠে। ১০. কোন ধারণা অনুযায়ী ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বিদ্যুৎ চমকানোকে সুন্দরী পরির সাথে তুলনা করা হয়েছে? উত্তর : লোকজ ধারণা অনুযায়ী ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বিদ্যুৎ চমকানোকে সুন্দরী পরির সাথে তুলনা করা হয়েছে। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. ‘বিদগ্ধ আকাশ, মাঠ ঢেকে গেল কাজল ছায়ায়।’ চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
২. বিদ্যুতৎ-রূপসী পরি মেঘে মেঘে হয়েছে সওয়ার-কথাটির মাধ্যমে কী বোঝানো
হয়েছে?
৩. ‘সেখানে বর্ষার মেঘ জাগে আজ বিষণ্ণ মেদুর’- কথাটি ব্যাখ্যা করো। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় কোন কোন নদীর কথা উল্লেখ রয়েছে? |
|
ক. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় পদ্মা ও মেঘনা নদীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
গ. ‘বেণু-বনে বায়ু নাড়ে এলোকেশ, মন যেন চায় কারে’ উদ্দীপকের এ বক্তব্যের
সাথে ‘বৃষ্টি’ কবিতায় উল্লিখিত নিঃসঙ্গ নির্জন জীবনের বিরহী চেতনার দিকটি
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় উল্লিখিত পুরনো দিনের স্মৃতি ও বিরহী হৃদয়ের ভাবটি
উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে। কবিতার সমগ্র ভাবটি প্রকাশিত হয়নি। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২ [য.বো. ১৫]: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. বর্ষার প্রাণ কী? |
|
ক. বর্ষার প্রাণ হলো বৃষ্টি।
গ. বৃষ্টিমুখর দিনে প্রকৃতির পাশাপাশি মানুষের মনও রসসিক্ত হয়ে ওঠে-
‘বৃষ্টি’ কবিতায় বর্ণিত এ দিকটির সাথে প্রশ্নোক্ত বক্তব্যের মিল
রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে বৃষ্টির আগমনে প্রকৃতির সাথে সাথে কবির মনের অনুভূতির
পরিবর্তন ‘বৃষ্টি’ কবিতার মূলভাবকে ধারণ করেছে। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. কোন হাওয়ায় বৃষ্টি এলো? |
|
ক. পুবের হাওয়ায় বৃষ্টি এলো।
গ. উদ্দীপকটি ‘বৃষ্টি’ কবিতায় উল্লিখিত বর্ষণমুখর দিনে বিরহী হৃদয়ের
অনুভূতিকে বোঝানো হয়েছে।
ঘ. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বর্ণমুখর দিনের একটি সার্বিক চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপক কবিতাংশে কেবল একটি দিক- একাকী জীবনের বিরহ প্রকাশ পেয়েছে। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. প্লাবন হলে কিসের গৌরবে ফসল ভালো হয়? |
|
ক. প্লাবন হলে পলিমাটির গৌরবে ফসল ভালো হয়।
গ. উদ্দীপকে বৃষ্টি কবিতায় উল্লিখিত বর্ষণমুখর দিনের বিরহ-কাতরতা
প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় উল্লিখিত বিষয়ের মধ্যে কেবল একটি দিক বর্ষণমুখর দিনের
বিরহকাতরতা উদ্দীপকে প্রকাশিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকটি ‘বৃষ্টি’ কবিতার
খণ্ডাংশ মাত্র। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. তৃষাতপ্ত শব্দের অর্থ কী? |
|
ক. তৃষাতপ্ত শব্দের অর্থ পিপাসায় কাতর।
গ. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় বর্ণিত বৃষ্টি আশীর্বাদ হিসেবে এলেও উদ্দীপকের
বর্ণনায় বৃষ্টি এসেছে অভিশাপ হিসেবে।
ঘ. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের ওপর বৃষ্টির ইতিবাচক প্রভাবের কথা
বলা হলেও উদ্দীপকে রয়েছে ঠিক তার বিপরীত চিত্র। তাই আলোচ্য মন্তব্যটি
যথার্থ। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. নদীর ফাটলে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার কে আনে? |
|
ক. নদীর ফাটলে পূর্ণ প্রাণের জোয়ার আনে বন্যা।
গ. “খুলেছি হৃদয় বাতায়ন ফেলে সব কাজ”- উদ্দীপকের এ মন্তব্যের সাথে
‘বৃষ্টি’ কবিতার বৃষ্টির রিমঝিম শব্দে সংবেদনশীল মানুষের মন রসসিক্ত হয়ে
ওঠার ক্ষেত্রে মিল রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বৃষ্টি’ কবিতার মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করছে।- মন্তব্যটি
যথার্থ। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ফররুখ আহমদ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন? |
|
ক. ফররুখ আহমদ ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
গ. উদ্দীপকে ‘বৃষ্টি’ কবিতার বৃষ্টিস্নাত দিনে মানুমনে যে অনুভব-অনুভূতির
সৃষ্টি হয় সেই দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বৃষ্টি’ কবিতার আংশিক প্রতিফলন মাত্র- মন্তব্যটি যথার্থ।
|
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে? |
|
ক. ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ।
গ. গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে হঠাৎ বৃষ্টি এলে প্রকৃতির বুকে সজীবতা
নেমে আসে- উদ্দীপকে ‘বৃষ্টি’ কবিতার সেই দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘বৃষ্টি’ কবিতার আংশিক ভাব ধারণ করেছে”- উক্তিটি যথার্থ।
|
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ‘বৃষ্টি’ কবিতায় কোন কোন নদীর কথা উল্লেখ রয়েছে? |
|
ক. ‘বৃষ্টি’‘বৃষ্টি’ কবিতায় পদ্মা ও মেঘনা নদীর কথা উল্লেখ রয়েছে।
গ. উদ্দীপকের শেষ পঙ্ক্তির সঙ্গে ‘বৃষ্টি’ কবিতার শেষের চার চরণের মিল
রয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘বৃষ্টি’ কবিতার একটা বিশেষ ভাব প্রকাশ করে মাত্র, সমগ্র
ভাব নয়”- মন্তব্যটির সঙ্গে আমি একমত। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ফররুখ আহমদ মরণোত্তর কোন পুরস্কারে ভূষিত হন? |
|
ক. ফররুখ আহমদ মরণোত্তর ‘একুশে পদক’ পুরস্কারে ভূষিত হন।
গ. উদ্দীপক কবিতাংশটির সঙ্গে ‘বৃষ্টি’ কবিতার প্রকৃতি ও ঋতুগত বৈসাদৃশ্য
রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বৃষ্টি’ কবিতার মূলভাবকে আংশিক ধারণ করেছে। কারণ উদ্দীপকটি
শুধু ‘বৃষ্টি’ কবিতায় উপস্থাপিত মানবমনের ওপর প্রকৃতির প্রভাব সম্পর্কে
বলা হয়েছে। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. কবি ফররুখ আহমদের কাব্যসৃষ্টির প্রেরণা কী ছিল? খ. বৃষ্টিকে ‘বহু
প্রতীক্ষিত’ বলা হয়েছে কেন? গ. বেত-বনের আড়ালে ডাহুকী ডাকে |
|
ক. ইসলামি আদর্শ ও ঐতিহ্য ফররুখ আহমদের কাব্যসৃষ্টির প্রেরণা ছিল।
গ. প্রশ্নোক্ত উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘বৃষ্টি’ কবিতার মানুষের মনের
হাহাকারের চিত্রের সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকের সাথে ‘বৃষ্টি’ কবিতার ভাবগত মিল থাকলেও গঠনগত মিল নেই-
উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. বৃষ্টির দিনে কে শিহরায়? |
|
ক. বৃষ্টির দিনে অরণ্যের কেয়া শিহরায়।
গ. উদ্দীপকে ‘বৃষ্টি’ কবিতার গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপে রুক্ষ প্রকৃতিকে
স্নিগ্ধ করতে বৃষ্টির জন্য প্রতীক্ষার দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. 'স্তব্ধ প্রকৃতির সঙ্গে মানবও দিন গুনছে বৃষ্টির প্রতীক্ষায়।'-
উক্তিটি ‘বৃষ্টি’ কবিতার আলোকে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. কোন ছায়ায় মাঠ ঢেকে যায়? |
|
ক. কাজল ছায়ায় মাঠ ঢেকে যায়।
গ. উদ্দীপকটিতে ‘বৃষ্টি’ কবিতার বর্ষা প্রকৃতির দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটিতে ‘বৃষ্টি’ কবিতার একাংশের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, পুরো অংশ
প্রতিফলিত হয়নি। মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ফররুখ আহমদ কলকাতার কোন কলেজ থেকে আই. এ. পাশ করেন? |
|
ক. ফররুখ আহমদ কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন।
গ. ‘বৃষ্টি’ কবিতার বিদ্যুৎ চমক ও নদীতে আসা বন্যারূপ প্রাণের জোয়ারের
বৈশিষ্ট্যটি উদ্দীপকের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. না, উদ্দীপকটি ‘বৃষ্টি’ কবিতার পরিপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে না বলে আমি
মনে করি। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ফররুখ আহমদের গ্রামের নাম কী? |
|
ক. ফররুখ আহমদের গ্রামের নাম মাঝআইল।
গ. উদ্দীপকের প্রকৃতি আর 'বৃষ্টি' কবিতার প্রকৃতি একেবারেই বিপরীতমুখী।
ঘ. “উদ্দীপকের জব্বার মিয়ার সমস্যা সমাধানের উপায় 'বৃষ্টি' কবিতাতেই
নিহিত।”- মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. কবি ফররুখ আহমদের কাব্যসৃষ্টির প্রেরণা কী ছিলো? |
| ----------- |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. বৃষ্টির দিনে কে শিহরায়? |
| ----------- |
| ‘বৃষ্টি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
ক. ফররুখ আহমদ কলকাতার কোন কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন? |
| ----------- |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৬। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |

