প্রবাস বন্ধু- সৈয়দ মুজতবা আলী

প্রবাস বন্ধু
প্রবাস বন্ধু

প্রবাস বন্ধু
সৈয়দ মুজতবা আলী

বাসা পেলুম কাবুল থেকে আড়াই মাইল দূরে খাজামোল্লা গ্রামে। বাসার সঙ্গে সঙ্গে চাকরও পেলুম।
অধ্যক্ষ জিরার জাতে ফরাসি। কাজেই কায়দামাফিক আলাপ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এর নাম আবদুর রহমান। আপনার সব কাজ করে দেবে- জুতো বুরুশ থেকে খুনখারাবি।’ অর্থাৎ ইনি ‘হরফুন-মৌলা’ বা ‘সকল কাজের কাজি’।
জিরার সায়েব কাজের লোক, অর্থাৎ সমস্ত দিন কোনো-না-কোনো মন্ত্রীর দপ্তরে ঝগড়া-বচসা করে কাটান। কাবুলে এরই নাম কাজ। ‘ও রভোয়া, বিকেলে দেখা হবে’ বলে চলে গেলেন।
কাবুল শহরে আমি দুটি নরদানব দেখেছি। তার একটি আবদুর রহমান।

পরে ফিতে দিয়ে মেপে দেখেছিলুম- ছ ফুট চার ইঞ্চি। উপস্থিত লক্ষ করলুম লম্বাই মিলিয়ে চওড়াই। দুখানা হাত হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসে আঙুলগুলো দু কাঁদি মর্তমান কলা হয়ে ঝুলছে। পা দুখানা ডিঙি নৌকার সাইজ। কাঁধ দেখে মনে হলো, আমার বাবুর্চি আবদুর রহমান না হয়ে সে যদি আমির আবদুর রহমান হত তবে অনায়াসে গোটা আফগানিস্তানের ভার বইতে পারত। এ কান ও কান জোড়া মুখ- হ্যাঁ করলে চওড়াচওড়ি কলা গিলতে পারে। এবড়ো-থেবড়ো নাক-কপাল নেই। পাগড়ি থাকায় মাথার আকার-প্রকার ঠাহর হলো না, তবে আন্দাজ করলুম বেবি সাইজের হ্যাটও কান অবধি পৌঁছবে।

রং ফর্সা, তবে শীতে গ্রীষ্মে চামড়া চিরে ফেঁড়ে গিয়ে আফগানিস্তানের রিলিফ ম্যাপের চেহারা ধরেছে। দুই গাল কে যেন থাবড়া মেরে লাল করে দিয়েছে- কিন্তু কার এমন বুকেট পাটা? রুজও তো মাখবার কথা নয়।
পরনে শিলওয়ার, কুর্তা আর ওয়াসকিট।

চোখ দুটি দেখতে পেলুম না। সেই যে প্রথম দিন ঘরে ঢুকে কার্পেটের দিকে নজর রেখে দাঁড়িয়েছিল, শেষ দিন পর্যন্ত ঐ কার্পেটের অপরূপ রূপ থেকে তাকে বড়ো একটা চোখ ফেরাতে দেখিনি। গুরুজনদের দিকে তাকাতে নেই, আফগানিস্তানেও নাকি এই ধরনের একটা সংস্কার আছে।
তবে তার নয়নের ভাবের খেলা গোপনে দেখেছি। দুটো চিনেমাটির ডাবরে যেন দুটো পান্তুয়া ভেসে উঠেছে।

জরিপ করে ভরসা পেলুম, ভয়ও হলো। এ লোকটা ভীমসেনের মতো রান্না তো করবেই, বিপদে-আপদে ভীমসেনেরই মতো আমার মুশকিল-আসান হয়ে থাকবে। কিন্তু প্রশ্ন, এ যদি কোনোদিন বিগড়ে যায়? তবে?
রহমানকে জিজ্ঞেস করলুম, ‘পূর্বে কোথায় কাজ করেছ?’
উত্তর দিল, ‘কোথাও না, পল্টনে ছিলুম, মেসের চার্জে। এক মাস হলো খালাস পেয়েছি।’
‘রাইফেল চালাতে পার?’
একগাল হাসল।
‘কী কী রাঁধতে জানো?’
‘পোলাও, কোরমা, কাবাব, ফালুদা-।’
আমি জিজ্ঞেস করলুম, ‘ফালুদা বানাতে বরফ লাগে। এখানে বরফ তৈরি করার কল আছে?’
‘কিসের কল?’
আমি বললুম, ‘তাহলে বরফ আসে কোত্থেকে?’

বলল, ‘কেন, ঐ পাগমানের পাহাড় থেকে।’ বলে জানলা দিয়ে পাহাড়ের বরফ দেখিয়ে দিল। তাকিয়ে দেখলুম, যদিও গ্রীষ্মকাল, তবু সবচেয়ে উঁচু নীল পাহাড়ের গায়ে সাদা সাদা বরফ দেখা যাচ্ছে। আশ্চর্য হয়ে বললুম, ‘বরফ আনতে ঐ উঁচুতে চড়তে হয়?’
বলল, ‘না সায়েব, এর অনেক নিচে বড়ো বড়ো গর্তে শীতকালে বরফ ভর্তি করে রাখা হয়। এখন তাই খুঁড়ে তুলে গাধা বোঝাই করে নিয়ে আসা হয়।’

বুঝলুম, খবর-টবরও রাখে। বললুম, ‘তা আমার হাঁড়িকুড়ি, বাসনকোসন তো কিছু নেই। বাজার থেকে সব কিছু কিনে নিয়ে এসো। রাত্তিরের রান্না আজ আর বোধ হয় হয়ে উঠবে না। কাল দুপুরে রান্না কোরো। সকালবেলা চা দিয়ো।’
টাকা নিয়ে চলে গেল।

বেলা থাকতেই কাবুল রওনা দিলুম। আড়াই মাইল রাস্তা- মৃদুমধুর ঠান্ডায় গড়িয়ে গড়িয়ে পৌছব। পথে দেখি এক পবর্তপ্রমাণ বোঝা নিয়ে আবদুর রহমান ফিরে আসছে। জিজ্ঞেস করলুম, ‘এত বোঝা বইবার কি দরকার ছিল- একটা মুটে ভাড়া করলেই তো হত।’ যা বলল, তার অর্থ এই, সে যে-মোট বইতে পারে না, সে-মোট কাবুলে বইতে যাবে কে?
আমি বললুম, ‘দুজনে ভাগাভাগি করে নিয়ে আসতে।’
ভাব দেখে বুঝলুম, অতটা তার মাথায় খেলেনি, অথবা ভাববার প্রয়োজনবোধ করেনি।

বোঝাটা নিয়ে আসছিল জালের প্রকাণ্ড থলেতে করে। তার ভিতর তেল-নুন-লকড়ি সবই দেখতে পেলুম। আমি ফের চলতে আরম্ভ করলে বলল, ‘সায়েব রাত্রে বাড়িতেই খাবেন।’
খুব বেশি দূর যেতে হলো না। লব-ই-দরিয়া অর্থাৎ কাবুল নদীর পারে পৌঁছতে না পৌঁছতেই দেখি মশিয়ে জিরার টাঙা হাঁকিয়ে টগবগাবগ করে বাড়ি ফিরছেন।

কলেজের বড়কর্তা বা বস্ হিসাবে আমাকে তিনি বেশ দু-এক প্রস্থ ধমক দিয়ে বললেন, ‘কাবুল শহরে নিশাচর হতে হলে যে তাগদ ও হাতিয়ারের প্রয়োজন, সে দুটোর একটাও তোমার নেই।’
বসকে খুশি করবার জন্য যার ঘটে ফন্দি-ফিকিরের অভাব, তার পক্ষে কোম্পানির কাগজ হচ্ছে তর্ক না করা। বিশেষ করে যখন বসের উত্তমার্ধ তাঁরই পাশে বসে ‘উই, সার্তেনমাঁ, এভিদামাঁ, অর্থাৎ অতি অবশ্য, সার্টেনলি, এভিডেন্টলি’, বলে তাঁর কথায় সায় দেন। ইংলন্ডে মাত্র একবার ভিক্টোরিয়া আলবার্ট আঁতাৎ হয়েছিল; শুনতে পাই ফ্রান্সে নাকি নিত্যি-নিত্যি, ঘরে ঘরে।

বাড়ি ফিরে এসে বসবার ঘরে ঢুকতেই আবদুর রহমান একটা দর্শন দিয়ে গেল এবং আমি যে তার তন্বীতেই ফিরে এসেছি, সে সম্বন্ধে আশ্বস্ত হয়ে হুট করে বেরিয়ে গেল।
তখন রোজার মাস নয়, তবু আন্দাজ করলুম সেহরির সময় অর্থাৎ রাত দুটোয় খাবার জুটলে জুটতেও পারে।
তন্দ্রা লেগে গিয়েছিল। শব্দ শুনে ঘুম ভাঙল। দেখি আবদুর রহমান মোগল তসবিরের গাড়ু-বদনার সমন্বয় আফতাবে বা ধারাযন্ত্র নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে। মুখ ধুতে গিয়ে বুঝলুম, যদিও গ্রীষ্মকাল, তবু কাবুল নদীর বরফ-গলা জলে কিছুদিন ধুলে আমার মুখও আফগানিস্তানের রিলিফ ম্যাপের উঁচুনিচুর টক্করের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারবে।

খানা টেবিলের সামনে গিয়ে যা দেখলুম, তাতে আমার মনে আর কোনো সন্দেহ রইল না যে, আমার ভৃত্য আগা আবদুর রহমান এককালে মেসের চার্জে ছিলেন।
ডাবর নয়, ছোটখাটো একটা গামলাভর্তি মাংসের কোরমা বা পেঁয়াজ-ঘিয়ের ঘন ক্বাথে সেরখানেক দুম্বার মাংস- তার মাঝে মাঝে কিছু বাদাম কিসমিস লুকোচুরি খেলছে, এক কোণে একটি আলু অপাঙক্তেয় হওয়ার দুঃখে ডুবে মরার চেষ্টা করছে। আরেক প্লেটে গোটা আষ্টেক ফুল বোম্বাই সাইজের শামী-কাবাব। বারকোশ থালায় এক ঝুড়ি কোফতা-পোলাও আর তার ওপরে বসে আছে একটি আন্ত মুর্গি-রোস্ট।

আমাকে থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবদুর রহমান তাড়াতাড়ি এগিয়ে অভয়বাণী দিল- রান্নাঘরে আরো আছে।
একজনের রান্না না করে কেউ যদি তিনজনের রান্না করে, তবে তাকে ধমক দেওয়া যায়, কিন্তু সে যদি ছ’জনের রান্না পরিবেশন করে বলে রান্নাঘরে আরো আছে তখন আর কী করার থাকে? অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর।

রান্না ভালো, আমার ক্ষুধাও ছিল, কাজেই গড়পড়তা বাঙালির চেয়ে কিছু কম খাইনি। তার ওপর অদ্য রজনী প্রথম রজনী এবং আবদুর রহমানও ডাক্তারি কলেজের ছাত্র যে রকম তন্ময় হয়ে মড়া কাটা দেখে, সেই রকম আমার খাওয়ার রকম-বহর দুই-ই তার ডাবর-চোখ ভরে দেখে নিচ্ছিল।

আমি বললুম, ‘ব্যস! উৎকৃষ্ট রেঁধেছ আবদুর রহমান-।’
আবদুর রহমান অন্তর্ধান। ফিরে এল হাতে এক থালা ফালুদা নিয়ে। আমি সবিনয় জানালুম যে, আমি মিষ্টি পছন্দ করি না।
আবদুর রহমান পুনরপি অন্তর্ধান। আবার ফিরে এল এক ডাবর নিয়ে পেঁজা বরফের গুঁড়োয় ভর্তি। আমি বোকা বনে জিজ্ঞাসা করলুম, ‘এ আবার কি?’

আবদুর রহমান উপরের বরফ সরিয়ে দেখাল নিচে আঙুর। মুখে বলল, ‘বাগেবালার বরফি আঙুর-তামাম আফগানিস্তানে মশহুর।’ বলেই একখানা সসারে কিছু বরফ আর গোটা কয়েক আঙুর নিয়ে বসল। আমি আঙুর খাচ্ছি, ও ততক্ষণ এক-একটা করে হাতে নিয়ে সেই বরফের টুকরোয় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অতি সন্তর্পণে ঘষে-মেয়েরা যে রকম আচারের জন্য কাগজি নেবু পাথরের শিলে ঘষেন। বুঝলুম, বরফ-ঢাকা থাকা সত্ত্বেও আঙুর যথেষ্ট হিম হয়নি বলে এই মোলয়েম কায়দা। ওদিকে তালু আর জিবের মাঝখানে একটা আঙুরে চাপ দিতেই আমার ব্রহ্মরন্ধ্র পর্যন্ত ঝিনঝিন করে উঠছে। কিন্তু পাছে আবদুর রহমান ভাবে তার মনিব নিতান্ত জংলি তাই খাইবারপাসের হিম্মৎ বুকে সঞ্চয় করে গোটা আষ্টেক গিললুম। কিন্তু বেশিক্ষণ চালাতে পারলুম না; ক্ষান্ত দিয়ে বললুম, ‘যথেষ্ট হয়েছে আবদুর রহমান, এবারে তুমি গিয়ে ভালো করে খাও।’

কার গোয়াল, কে দেয় ধুয়ো। এবারে আবদুর রহমান এলেন চায়ের সাজ-সরঞ্জাম নিয়ে। কাবুলি সবুজ চা। পেয়ালায় ঢাললে অতি ফিকে হলদে রং দেখা যায়। সে চায়ে দুধ দেওয়া হয় না। প্রথম পেয়ালায় চিনি দেওয়া হয়, দ্বিতীয় পেয়ালায় তাও না। তারপর ঐ রকম, তৃতীয়, চতুর্থ-কাবুলিরা পেয়ালা ছয়েক খায়, অবশ্যি পেয়ালা সাইজে খুব ছোট, কফির পাত্রের মত।
চা খাওয়া শেষ হলে আবদুর রহমান দশ মিনিটের জন্য বেরিয়ে গেল। ভাবলুম এই বেলা দরজা বন্ধ করে দি, না হলে আবার হয়ত কিছু একটা নিয়ে আসবে। আস্ত উটের রোস্টটা হয়ত দিতে ভুলে গিয়েছে।

ততক্ষণে আবদুর রহমান পুনরায় হাজির। এবার এক হাতে থলে-ভর্তি বাদাম আর আখরোট, অন্য হাতে হাতুড়ি। ধীরে সুস্থে ঘরের এককোণে পা মুড়ে বসে বাদাম আখরোটের খোসা ছাড়াতে লাগল।
এক মুঠো আমার কাছে নিয়ে এসে দাঁড়াল। মাথা নিচু করে বলল, ‘আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি।’
‘কে বলল, পছন্দ হয়নি?’
‘তবে ভালো করে খেলেন না কেন?’
আমি বিরক্ত হয়ে বললুম, ‘কী আশ্চর্য, তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিকিনি-তার থেকে আন্দাজ করতে পারো না, আমার পক্ষে কি পরিমাণ খাওয়া সম্ভবপর?’
আবদুর রহমান তর্কাতর্কি না করে ফের সেই কোণে গিয়ে আখরোট বাদামের খোসা ছাড়াতে লাগল।

তারপর আপন মনে বলল, ‘কাবুলের আবহাওয়া বড়ই খারাপ। পানি তো পানি নয়, সে যেন গালানো পাথর। পেটে গিয়ে এক কোণে যদি বসল তবে ভরসা হয় না আর কোনো দিন বেরুবে। কাবুলের হাওয়া তো হাওয়া নয়- আতসবাজির হল্কা। মানুষের ক্ষিদে হবেই বা কী করে।’
আমার দিকে না তাকিয়েই তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘হুজুর কখনো পানশির গিয়েছেন?’
‘সে আবার কোথায়?’

‘উত্তর-আফগানিস্তান। আমার দেশ- সে কী জায়গা! একটা আস্ত দুম্বা খেয়ে এক ঢোক পানি খান, আবার ক্ষিদে পাবে। আকাশের দিকে মুখ করে একটা লম্বা দম নিন, মনে হবে তাজি ঘোড়ার সঙ্গে বাজি রেখে ছুটতে পারি। পানশিরের মানুষ তো পায়ে হেঁটে চলে না, বাতাসের ওপর ভর করে যেন উড়ে চলে যায়।
‘শীতকালে সে কী বরফ পড়ে। মাঠ পথ পাহাড় নদী গাছপালা সব ঢাকা পড়ে যায়, ক্ষেত খামারের কাজ বন্ধ, বরফের তলায় রাস্তা চাপা পড়ে গেছে। কোনো কাজ নেই, কর্ম নেই, বাড়ি থেকে বেরনোর কথাই ওঠে না। আহা সে কি আরাম! লোহার বারকোশে আঙার জ্বালিয়ে তার ওপর ছাই ঢাকা দিয়ে কম্বলের তলায় চাপা দিয়ে বসবেন গিয়ে জানালার ধারে। বাইরে দেখবেন বরফ পড়ছে, বরফ পড়ছে পড়ছে, পড়ছে- দু দিন, তিন দিন, পাঁচ দিন, সাত দিন ধরে। আপনি বসেই আছেন, আর দেখছেন চে তৌর বর্ষ ববারদ- কী রকম বরফ পড়ে।’

আমি বললুম, ‘সাত দিন ধরে জানালার কাছে বসে থাকব?’ আবদুর রহমান আমার দিকে এমন করুণভাবে তাকালো যে, মনে হলো এ রকম বেরসিকের পাল্লায় সে জীবনে আর কখনো এতটা অপদস্থ হয়নি। স্নান হেসে বলল, ‘একবার আসুন, জানালার পাশে বসুন, দেখুন। পছন্দ না হয়, আবদুর রহমানের গর্দান তো রয়েছে।’

খেই তুলে নিয়ে বলল, ‘সে কত রকমের বরফ পড়ে। কখনো সোজা, ছেঁড়া ছেঁড়া পেঁজা তুলোর মতো, তারি ফাঁকে ফাঁকে আসমান জমিন কিছু কিছু দেখা যায়। কখনো ঘুরঘট্টি ঘন, চাদরের মতো নেবে এসে চোখের সামনে পর্দা টেনে দেয়। কখনো বয় জোর বাতাস, প্রচণ্ড ঝড়। বরফের পাঁজে যেন সে-বাতাস ডাল গলাবার চর্কি চালিয়ে দিয়েছে। বরফের গুঁড়ো ডাইনে বাঁয়ে উপর নিচে এলোপাথাড়ি ছুটোছুটি লাগায়- হু হু করে কখনো একমুখে হয়ে তাজি ঘোড়াকে হার মানিয়ে ছুটে চলে। কখনো সব ঘুটঘুটে অন্ধকার, শুধু শুনতে পাবেন সোঁ-ও-ওঁ- তার সঙ্গে আবার মাঝে মাঝে যেন দারুল আমানের ইঞ্জিনের শিটির শব্দ। সেই ঝড়ে ধরা পড়লে রক্ষে নেই, কোথা থেকে কোথায় উড়িয়ে নিয়ে চলে যাবে, না হয় বেহুঁশ হয়ে পড়ে যাবেন বরফের বিছানায়, তারই উপর জমে উঠবে ছ হাত উঁচু বরফের কম্বল গাদা গাদা, পাঁজা পাঁজা। কিন্তু তখন সে বরফের পাঁজা সত্যিকার কম্বলের মতো ওম দেয়। তার তলায় মানুষকে দু দিন পরেও জ্যান্ত পাওয়া গিয়েছে।

একদিন সকালে ঘুম ভাঙলে দেখবেন বরফ পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সূর্য উঠেছে- সাদা বরফের উপর সে রোশনির দিকে চোখ মেলে তাকানো যায় না। কাবুলের বাজারে কালো চশমা পাওয়া যায়, তাই পরে তখন বেড়াতে বেরোবেন। যে হাওয়া দম নিয়ে বুকে ভরবেন তাতে একরত্তি ধুলো নেই, বালু নেই, ময়লা নেই ছুরির মতো ধারাল ঠান্ডা হাওয়া নাক মগজ গলা বুক চিরে ঢুকবে, আবার বেরিয়ে আসবে ভিতরকার সব ময়লা ঝেটিয়ে নিয়ে। দম নেবেন, ছাতি এক বিঘত ফুলে উঠবে-দম ফেলবেন এক বিঘত নেমে যাবে। এক এক দম নেওয়াতে এক এক বছর আয়ু বাড়বে- এক একবার দম ফেলাতে একশটা বেমারি বেরিয়ে যাবে।

‘তখন ফিরে এসে, হুজুর একটা আস্ত দুম্বা যদি না খেতে পারেন, তবে আমি আমার গোঁফ কামিয়ে ফেলব। আজ যা রান্না করেছিলুম তার ডবল দিলেও আপনি ক্ষিদের চোটে আমায় কতল করবেন।’
আমি বললুম, ‘হ্যাঁ আবদুর রহমান তোমার কথাই সই। শীতকালটা আমি পানশিরেই কাটাব।’
আবদুর রহমান গদগদ হয়ে বলল, ‘সে বড়ো খুশি বাৎ হবে হুজুর।’
আমি বললুম, ‘তোমার খুশির জন্য নয়, আমার প্রাণ বাঁচাবার জন্য।’
আবদুর রহমান ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকালো।
আমি বুঝিয়ে বললুম, ‘তুমি যদি সমস্ত শীতকালটা জানালার পাশে বসে কাটাও তবে আমার রান্না করবে কে?’

‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির উৎস নির্দেশ :
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘প্রবাস বন্ধু’ শীর্ষক ভ্রমণকাহিনিটি তাঁর ‘দেশে বিদেশে’ (১৯৪৮) গ্রন্থের পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ থেকে নেওয়া হয়েছে।

‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির শব্দার্থ ও টীকা :
➠ ও রভোয়া- ফরাসি ভাষার বাক্যবন্ধ। অর্থ আবার দেখা হবে।
➠ নরদানব- মানুষের মতো দেখতে ভয়ঙ্কর জন্তু। এখানে বিশালদেহী মানুষ বোঝানো হয়েছে। আদরার্থে।
➠ মর্তমান কলা- মায়ানমারের মার্তাবান দ্বীপে উৎপন্ন কলার জাত।
➠ রুজ- গাল রাঙানোর প্রসাধনী।
➠ পান্তুয়া- চিনির রসে ভেজানো ঘিয়ে ভাজা রসগোল্লা জাতীয় মিষ্টি।
➠ তাগদ- শক্তি।
➠ তন্বী- তিরস্কার।
➠ বারকোশ- কাঠের তৈরি কানা উঁচু বড় থালা।
➠ পুনরপি- পুনরায়।
➠ ব্রহ্মরন্ধ্র- তালুর কেন্দ্রবর্তী ছিদ্র।
➠ বপু- বড় দেহ।
➠ তনু- ক্ষীণ দেহ।
➠ উত্তমার্ধ- স্ত্রী, সহধর্মিণী।

‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির পাঠ-পরিচিতি :
প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ, সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি হাস্যরসাত্মকভাবে এই রচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লেখকের আফগানিস্তান বাসের আংশিক অভিজ্ঞতার পরিচয় আছে এখানে। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সন্নিকটে খাজামোল্লা নামক গ্রামে বাসের সময় আবদুর রহমান নামের একজন তাঁর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। আফগান আবদুর রহমান চরিত্রের মধ্যে সরলতা, স্বদেশপ্রেম, অতিথিপরায়ণতা ফুটে উঠেছে। আবদুর রহমানের রান্না ও পরিবেশন করা খাবারের মধ্যে আফগানিস্তানের বিচিত্র ও সুস্বাদু খাদ্যবস্তুর পরিচয় পাওয়া যায়। আফগানিস্তানের প্রস্তরভূমি এবং বরফ-শীতল জলবায়ু আকর্ষণীয়। ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পটি আমাদের দৃষ্টিকে প্রসারিত করে; একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জীবন ও জগৎ, সমাজ ও সংস্কৃতিকে ভাবতে শেখায়।

‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক পরিচিতি:
সৈয়দ মুজতবা আলী ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে আসামভুক্ত শ্রীহট্টের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেট গভর্মেন্ট হাইস্কুল ও শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেন। পরে ১৯২৬ সালে বিশ্বভারতী থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। আফগানিস্তানে কাবুলের কৃষিবিজ্ঞান কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর বার্লিন ও বন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯৩২ সালে তিনি বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি মিশরের আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ও মহীশূরের বরোদা কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি ১৯৪৯ সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রবন্ধ লেখার অভিযোগে তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়। পরে তিনি বিশ্বভারতীর রিডার নিযুক্ত হন। সৈয়দ মুজতবা আলী নিজস্ব এক গদ্যশৈলীর নির্মাতা। বিভিন্ন ভাষায় ব্যুৎপত্তি ও অসাধারণ পাণ্ডিত্যের সংমিশ্রণে তিনি যে গদ্য রচনা করেছেন, তা খুবই রসগ্রাহী হয়ে উঠেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো: দেশে-বিদেশে, পঞ্চতন্ত্র, চাচা কাহিনী, ময়ূরকণ্ঠী, শবনম ইত্যাদি।
তিনি ১১ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।।

‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কর্ম-অনুশীলন:
১। তোমার এলাকায় শীতকালে যে প্রাকৃতিক অবস্থা সৃষ্টি হয় তার পরিচয় দাও।
২। গ্রীষ্মকাল ও শীতকালের ভ্রমণের সুবিধা অসুবিধাগুলো লেখো।

‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘প্রবাস বন্ধু’ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন :

১. সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম কবে?
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্ম ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে।
২. সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মস্থান কোথায়?
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মস্থান আসামভুক্ত শ্রীহট্টের করিমগঞ্জে।
৩. সৈয়দ মুজতবা আলীর পিতার নাম কী?
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর পিতার নাম সিকান্দর আলী।
৪. সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাস কোথায়?
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারে।
৫. সৈয়দ মুজতবা আলী কোথায় পড়াশোনা করেছেন?
উত্তর: তিনি সিলেট গভর্মেন্ট হাইস্কুল ও শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেছেন।
৬. সৈয়দ মুজতবা আলী কোন বছর বিশ্বভারতী থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন?
উত্তর: তিনি ১৯২৬ সালে বিশ্বভারতী থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
৭. সৈয়দ মুজতবা আলীর কর্মজীবন কোথা থেকে শুরু হয়?
উত্তর: আফগানিস্তানের কাবুলের কৃষি বিজ্ঞান কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
৮. সৈয়দ মুজতবা আলী কোথায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন?
উত্তর: তিনি বার্লিন ও বন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
৯. সৈয়দ মুজতবা আলী কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন?
উত্তর: তিনি ১৯৩২ সালে বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
১০. সৈয়দ মুজতবা আলী মিশরে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন?
উত্তর: তিনি মিশরের আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
১১. সৈয়দ মুজতবা আলী ভারতের কোথায় অধ্যাপনা করেন?
উত্তর: তিনি মহীশূরের বরোদা কলেজে অধ্যাপনা করেন।
১২. সৈয়দ মুজতবা আলী বগুড়ার কোন কলেজে অধ্যক্ষ ছিলেন?
উত্তর: তিনি বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে অধ্যক্ষ ছিলেন।
১৩. সৈয়দ মুজতবা আলী কোন কারণে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন?
উত্তর: পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে প্রবন্ধ লেখার অভিযোগে তিনি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন।
১৪. ১৯৬১ সালে সৈয়দ মুজতবা আলী কোন পদে নিযুক্ত হন?
উত্তর: ১৯৬১ সালে তিনি বিশ্বভারতীর রিডার হিসেবে নিযুক্ত হন।
১৫. সৈয়দ মুজতবা আলী গদ্য লেখায় কী বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করেছেন?
উত্তর: তিনি নিজস্ব এক গদ্যশৈলীর নির্মাতা ছিলেন, যা রসগ্রাহী ও ভাষায় ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন।
১৬. সৈয়দ মুজতবা আলী গদ্য কেন রসগ্রাহী হয়েছে?
উত্তর: বিভিন্ন ভাষায় ব্যুৎপত্তি ও অসাধারণ পা-িত্য তাঁর গদ্যকে রসগ্রাহী করে তুলেছে।
১৭. সৈয়দ মুজতবা আলীর উল্লেখযোগ্য রচনার নাম কী?
উত্তর: তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো: দেশে-বিদেশে, পঞ্চতন্ত্র, চাচা কাহিনী, ময়ূরকণ্ঠী, শবনম।
১৮. সৈয়দ মুজতবা আলী কখন মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: তিনি ১১ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
১৯. সৈয়দ মুজতবা আলী মৃত্যু কোথায় হয়?
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলীর মৃত্যু ঢাকায় হয়।
২০. ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থটি কিসের উপর লেখা?
উত্তর: ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থটি তাঁর প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা ভিত্তিক রচনা।
১. অধ্যক্ষ জিরার কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরার ফ্রান্সের অধিবাসী ছিলেন।
২. পানশির আফগানিস্তানের কোন দিকে অবস্থিত?
উত্তর: পানশির আফগানিস্তানের উত্তর দিকে অবস্থিত।
৩. ‘বারকোশ’ কী?
উত্তর: ‘বারকোশ’ হলো কাঠের তৈরি কানা উঁচু বড় থালা।
৪. কাবুলে লেখকের নতুন বাসস্থান কোন গ্রামে?
উত্তর: কাবুলে লেখকের নতুন বাসস্থান খাজামোল্লা গ্রামে।
৫. অধ্যক্ষ জিরার কোন জাতিভুক্ত?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরার জাতে ফরাসি।
৬. লেখক কোন গ্রামে বাসা খুঁজে পেয়েছিলেন?
উত্তর: লেখক খাজা মোল্লা গ্রামে বাসা খুঁজে পেয়েছিলেন।
৭. লেখক প্রবাসে কোথায় ছিলেন?
উত্তর: লেখক আফগানিস্তানের কাবুলে প্রবাসে ছিলেন।
৮. ‘প্রবাস বন্ধু’ প্রবন্ধের লেখক কে?
উত্তর: ‘প্রবাস বন্ধু’ প্রবন্ধের লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী।
৯. প্রবন্ধের মূল চরিত্র কে?
উত্তর: প্রবন্ধের মূল চরিত্র অধ্যক্ষ জিরা।
১০. লেখক অধ্যক্ষ জিরার সঙ্গে প্রথম কোথায় দেখা করেন?
উত্তর: লেখক অধ্যক্ষ জিরার সঙ্গে প্রথম দেখা করেন ফরাসি ইনস্টিটিউটে।
১১. অধ্যক্ষ জিরার চরিত্র কেমন ছিল?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা ছিলেন উদার, বিনয়ী ও সহানুভূতিশীল।
১২. ‘বারকোশ’ কারা ব্যবহার করত?
উত্তর: ‘বারকোশ’ ব্যবহার করত আফগানিস্তানের লোকেরা।
১৩. অধ্যক্ষ জিরা লেখকের প্রতি কেমন ব্যবহার করতেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা লেখকের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার করতেন।
১৪. অধ্যক্ষ জিরা লেখকের কোন বিষয়ে উৎসাহ দিতেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা লেখকের লেখাপড়ার বিষয়ে উৎসাহ দিতেন।
১৫. লেখক কাবুলে কতদিন ছিলেন?
উত্তর: লেখক কাবুলে এক বছর ছিলেন।
১৬. লেখকের আফগান বন্ধুদের সম্পর্কে অধ্যক্ষ জিরার মনোভাব কেমন ছিল?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা লেখকের আফগান বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন।
১৭. কেন লেখককে বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছিল?
উত্তর: পুরনো বাসার ভাড়া বেশি ও পরিবেশ ভালো না থাকায় লেখককে বাসা পরিবর্তন করতে হয়েছিল।
১৮. লেখকের বাসায় অধ্যক্ষ জিরা কতবার এসেছিলেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা লেখকের বাসায় একাধিকবার এসেছিলেন।
১৯. অধ্যক্ষ জিরার বয়স কত ছিল?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরার বয়স তখন ষাটের কাছাকাছি ছিল।
২০. অধ্যক্ষ জিরা কেন আফগানিস্তানে এসেছিলেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা শিক্ষাবিষয়ক কাজে আফগানিস্তানে এসেছিলেন।
২১. কাবুলের কোন বিদ্যালয়ে লেখক পাঠদান করতেন?
উত্তর: লেখক কাবুলের ফরাসি ইনস্টিটিউটে পাঠদান করতেন।
২২. অধ্যক্ষ জিরা কোথায় থাকতেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা ফরাসি ইনস্টিটিউট সংলগ্ন ভবনে থাকতেন।
২৩. লেখক অধ্যক্ষ জিরাকে কী বলে সম্বোধন করতেন?
উত্তর: লেখক অধ্যক্ষ জিরাকে ‘মঁসিয়ে জিরা’ বলে সম্বোধন করতেন।
২৪. অধ্যক্ষ জিরা কেমন পোশাক পরতেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা সাধারণ ও পরিপাটি পোশাক পরতেন।
২৫. কাবুলের লোকসংস্কৃতি লেখকের মনে কী প্রভাব ফেলেছিল?
উত্তর: কাবুলের লোকসংস্কৃতি লেখকের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
২৬. লেখক কেন অধ্যক্ষ জিরাকে ভুলতে পারেন না?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরার দয়া, আন্তরিকতা ও সাহচর্য লেখকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছিল বলে তিনি তাঁকে ভুলতে পারেন না।
২৭. ‘প্রবাস বন্ধু’ প্রবন্ধের প্রেক্ষাপট কী?
উত্তর: লেখকের কাবুল প্রবাসকালীন অভিজ্ঞতা এই প্রবন্ধের প্রেক্ষাপট।
২৮. লেখক ও অধ্যক্ষ জিরার সম্পর্ক কেমন ছিল?
উত্তর: লেখক ও অধ্যক্ষ জিরার সম্পর্ক ছিল গভীর, আন্তরিক ও শ্রদ্ধাভিত্তিক।
২৯. অধ্যক্ষ জিরা কোন ভাষায় দক্ষ ছিলেন?
উত্তর: অধ্যক্ষ জিরা ফরাসি ভাষায় দক্ষ ছিলেন।
৩০. ‘প্রবাস বন্ধু’ প্রবন্ধে লেখক কী তুলে ধরেছেন?
উত্তর: ‘প্রবাস বন্ধু’ প্রবন্ধে লেখক প্রবাস জীবনের বন্ধুত্ব, স্মৃতি ও সংস্কৃতির সংস্পর্শ তুলে ধরেছেন।
৩১. আবদুর রহমানের দেশের নাম কী?
উত্তর: আবদুর রহমানের দেশের নাম উত্তর-আফগানিস্তান।
৩২. আবদুর রহমানের উচ্চতা কত ছিল?
উত্তর: আবদুর রহমানের উচ্চতা ছিল ছয় ফুট চার ইঞ্চি।
৩৩. সৈয়দ মুজতবা আলী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির অনুধাবনমূলক প্রশ্ন :

১. ‘প্রবাস বন্ধু’ প্রবন্ধে আবদুর রহমানকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে তার শারীরিক গঠনের জন্য।
➠ আবদুর রহমানের উচ্চতা ছয় ফুট চার ইঞ্চি। দুই হাত হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে। তার পায়ে সাইজ ডিঙি নৌকার মতো। কাঁধ এত চওড়া যে লেখকের মনে হয় সে বাদশা আবদুর রহমান হলে গোটা আফগানিস্তানের ভার বইতে পারত। এ কান ও কান জোড়া মুখ। এবড়ো-থেবড়ো নাক-কপাল নেই। তার এমন শারীরিক গঠনের জন্য লেখকের মনে হয় সে মানুষ নয়, কোনো বিশালদেহী ভয়ংকর জন্তু। এ কারণেই তাকে ‘নরদানব’ বলা হয়।

২. “তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিকিনি”— বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: “তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিকিনি” বলতে লেখক আবদুর রহমানের বিশাল শরীর ও সেই অনুযায়ী খাবারের চাহিদার সঙ্গে নিজের তুলনা করেছেন।
➠ আবদুর রহমান প্রথমবার লেখকের জন্য প্রচুর রান্না করে। লেখক তার পরিমাণ দেখে অবাক হলেও উচ্চবাচ্য করেননি। বাঙালিদের তুলনায় তিনি সেদিন একটু বেশিই খেয়েছিলেন। তবুও আবদুর রহমানের দুঃখ রয়ে গিয়েছিল। তারই কথার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক বলেন, আবদুর রহমান বিশাল শরীরের অধিকারী। তার খাবারের চাহিদাও তেমনই হবে। কিন্তু সাধারণ বাঙালি লেখক সেই তুলনায় অতি ক্ষুদ্র। তাই আবদুর রহমানের অভিযোগের বিপরীতে লেখক উভয়ের মধ্যে তুলনা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

৩. “অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর”— মন্তব্যটি লেখক কেন করেছিলেন?
উত্তর: প্রয়োজনের অধিক খাবার পরিবেশনের পরও আরও আছে—আবদুর রহমানের আশ্বাসের কারণে লেখক মন্তব্যটি করেছিলেন।
➠ লেখক খেতে বসে কখাবারের প্রাচুর্য দেখে অবাক হন। প্রচুর মাংস, বিশালাকার কাবাব, বড় থালায় কোফতা পোলাও, আস্ত মুরগির রোস্ট দেখে লেখক থ হয়ে যান। লেখককে চুপ করে থাকতে দেখে আবদুর রহমান বলে, আরও খাবার আছে। লেখকের এটার জন্য যা খাবার সামনে ছিল, তা-ই অনেক বেশি। কিন্তু আবদুর রহমানের আশ্বাসে লেখক সম্পূর্ণ খাবারের পরিমাণ চিন্তা করে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তার নিজের অবস্থা বোঝাতে ব্যঞ্জনার্থে লেখক মন্তব্যটি করেছিলেন।

৪. ‘জিরার সাহেব কাজের লোক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘জিরার সাহেবকে কাজের লোক’ বলতে মূলত অকর্মণ্যই বোঝানো হয়েছে।
➠ অধ্যক্ষ জিরার জাতিতে ফরাসি। ফরাসিরা জাতি হিসেবে শৌখিন। এরা রান্নাবান্না, গল্প করে দিন কাটাতে পছন্দ করে। জিরার সাহেবও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সারাদিন আফগানিস্তানের বিভিন্ন মন্ত্রীর দপ্তরে ঘুরে বেড়িয়ে, ঝগড়া করে তথা আড্ডা দিয়ে বেড়ান। কাবুল শহরে একেই কাজ বলে। তাই অধ্যক্ষ জিরারের এই বিশেষ ধরনের কাজের জন্য তাকে কাজের লোক বলে আখ্যায়িত করেছেন লেখক।

৫. লেখকের মতে আবদুর রহমানের চেহারা কেন আফগান রিলিফ ম্যাপসদৃশ?
উত্তর: লেখকের মতে, আফগানিস্তানের অতি শীতল আবহাওয়াই আবদুর রহমানের রিলিফ ম্যাপসদৃশ চেহারার জন্য দায়ী। আবদুর রহমানের মুখের চামড়া চিরে ফেড়ে গেছে শীতে-গ্রীষ্মে।
➠ রিলিফ দেওয়ার ম্যাপে বিভিন্ন চিহ্নিত স্থান যেমন উঁচু-নিচু দেখায়, আবহাওয়ার কারণে আবদুর রহমানের চেহারাও তেমন অবস্থা ধারণ করেছে। আবদুর রহমান সাধারণ এক আফগান। তার দৃষ্টিতে এই চেহারাই সঠিক। কিন্তু বাঙালি লেখকের অভ্যস্ত দৃষ্টিসীমার বাইরে তার চেহারার বর্ণনা কিছুটা কৌতুকের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।

৬. “আপনার সব কাজ করে দেবে- জুতো বুরুশ থেকে খুনখারাবি”—বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: “আপনার সব কাজ করে দেবে- জুতো বুরুশ থেকে খুন-খারাবি।” কথাটির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, আবদুর রহমান লেখকের সব কাজ করে দেবে; কারণ সে সব কাজ করতে পারে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক কাবুলে গিয়ে গৃহকর্মী হিসেবে আবদুর রহমানকে পান। অধ্যক্ষ জিরার লেখকের সঙ্গে আবদুর রহমানের পরিচয় করিয়ে দেন। আবদুর রহমানের কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। যে, আবদুর রহমান শুধু গৃহকর্মী নয়, কাবুলে লেখকের যখন যে ধরনের প্রয়োজন হবে সে তা পূরণ করতে পারবে। মূলত আবদুর রহমানের কর্মদক্ষতার দিকটি প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে ফুটে উঠেছে।

৭. রিলিফ ম্যাপের চেহারা বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: রিলিফ ম্যাপের চেহারা বলতে লেখক আবদুর রহমানের শরীরের ত্বক শীত-গ্রীষ্মের রুক্ষতায় চিরে ফেঁড়ে যাওয়াকে ইঙ্গিত করেছেন।
➠ লেখক আফগানিস্তানে গেলে আবদুর রহমান নামক এক কাজের লোক ঠিক করা হয়। আবদুর রহমানের গায়ের রং ফর্সা। তবে শীতে গ্রীষ্মে চামড়া চিরে ফেঁড়ে যায়। তার ফর্সা শরীরের চিরে ফেঁড়ে যাওয়া চামড়া আফগানিস্তানের বরফাচ্ছন্ন অসমতল পাহাড় ভূমির মতো মনে হয়। তাই লেখক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

৮. আবদুর রহমান তার গোঁফ কামিয়ে ফেলার কথা বলেছিলেন কেন?
উত্তর: আবদুর রহমান তার গোঁফ কামিয়ে ফেলার কথা বলেছিলেন শীতকালে পানশিরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘুরে এসে লেখকের পক্ষে অনেক বেশি খাবার গ্রহণের যৌক্তিকতা বোঝাতে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে কাবুলে লেখকের কাজ-কর্ম করে দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ জিরার সাহেব উত্তর-আফগানিস্তানের বাসিন্দা আবদুর রহমানকে নিয়োগ দেন। তিনি লেখকের জন্য প্রথমবার যতটা খাবারের আয়োজন করেছিলেন, লেখক ততটা খেতে পরেননি। তখন কাবুলের খারাপ আবহাওয়ার সঙ্গে আবদুর রহমান তার জন্মস্থান ‘পানশির’-এর আবহাওয়া ও পরিবেশের তুলনামূলক বর্ণনা দেন। তার মতে শীতকালে পানশিরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকলে মানুষের ক্ষুধা বেশি হয়, যা কাবুলের পরিবেশে নেই। পানশিরে রাতে বরফ পড়া, সকালে সূর্য ওঠা, ধুলো-বালু-ময়লাহীন নির্মল পরিবেশে ঠান্ডা হাওয়া যেন ধারালো ছুরির মতো। বুক ভরে নির্মল বাতাস নেওয়া এবং ছেড়ে দেওয়ার সময় ভিতরের ময়লা, রোগ-জীবাণু সব পরিষ্কার হয়ে চলে যাওয়ার কথা বলেন আবদুর রহমান। পানশিরের পরিবেশে খাদ্য গ্রহণের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তখন সকাল বেলা বাইরে থেকে ফিরে এসে লেখকের পক্ষে একটা আস্ত দুম্বা খেয়ে ফেলা সম্ভব। আর যদি লেখক তা খেতে না পারেন তাহলে আবদুর রহমান নিজের গোঁফ কামিয়ে ফেলবেন।

৯. “আমাকে থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবদুর রহমান, তাড়াতাড়ি এগিয়ে অভয়বাণী দিল- রান্নাঘরে আরো আছে”— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শুধু নিজের জন্য লেখক ছয়জনের খাবার টেবিলে দেখে বিস্ময়ে থ হয়ে গেলেও আবদুর রহমান মনে করেছে অল্প খাবার দেখে লেখক মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন।
➠ লেখক একা মানুষ। আবদুর রহমান একা একজন মানুষের জন্য ছয়জনের খাবার রান্না করে। এত খাবার খাওয়া একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় দেখে লেখক থ হয়ে দাঁড়িয়ে যান। কিন্তু আবদুর রহমান মনে করে টেবিলে খাবার কম পরিবেশন করা হয়েছে দেখে লেখক মনঃক্ষুণœ হয়েছেন। তাই সে লেখককে এ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে রান্নাঘরে আরও খাবার আছে বলে অভয়বাণী দিয়েছে।

১০. আবদুর রহমানকে ‘সকল কাজের কাজি’ বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আবদুর রহমান জুতো বুরুশ থেকে শুরু করে সব কাজ করতে পারে বলে তাকে ‘সকল কাজের কাজি’ বলা হয়েছে।
➠ কাবুলে লেখকের কাজে সহায়তা করার জন্য আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাকে লেখকের সাথে আলাপ করিয়ে দেওয়ার সময় জিরার সাহেব লেখককে বলেন, ‘এর নাম আবদুর রহমান, আপনার সব কাজ করে দেবে- জুতো বুরুশ থেকে খুনখারাবি।’ তাকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে এবং কথা বলে লেখকও আশ্বস্ত হলেন যে, সে ভীমসেনের মতো রান্না করবে এবং বিপদে-আপদে উদ্ধার করবে। কিন্তু কখনো যদি সে বিগড়ে যায়—সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ দেখেও তাকে মনে হয়েছে—‘সকল কাজের কাজি’।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধূম্র-পাহাড়
কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশতলে মেশে।
এমন ধানের ওপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি
সকল দেশের রানি সে-যে আমার জন্মভূমি।

ক. অধ্যক্ষ জিরার কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
খ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের চেতনার যে দিকটিকে ধারণ করে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বিষয় বর্ণনায় সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মধ্যে রয়েছে বিস্তর বৈপরীত্য’ তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

ক. অধ্যক্ষ জিরার ফ্রান্সের অধিবাসী ছিলেন।
খ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানকে ‘নরদানব’ বলা হয়েছে তার শারীরিক গঠনের জন্য।
➠ আবদুর রহমানের উচ্চতা ছয় ফুট চার ইঞ্চি। দুই হাত হাঁটু পর্যন্ত নেমে এসেছে। তার পায়ে সাইজ ডিঙি নৌকার মতো। কাঁধ এত চওড়া যে লেখকের মনে হয় সে বাদশা আবদুর রহমান হলে গোটা আফগানিস্তানের ভার বইতে পারত। এ কান ও কান জোড়া মুখ। এবড়ো-থেবড়ো নাক-কপাল নেই। তার এমন শারীরিক গঠনের জন্য লেখকের মনে হয় সে মানুষ নয়, কোনো বিশালদেহী ভয়ংকর জন্তু। এ কারণেই তাকে ‘নরদানব’ বলা হয়।

গ উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের স্বদেশ চেতনার দিক ধারণ করে।
➠ স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা প্রত্যেকের মধ্যেই বিরাজ করে। প্রত্যেক মানুষের কাছেই তার স্বদেশ সব থেকে সেরা। যে দেশে তার জন্ম, বেড়ে ওঠা সে জায়গাকে তার কাছে পৃথিবীর সেরা মনে হয়। জন্মভূমির প্রতি এ ভালোবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।
➠ উদ্দীপকের কবি তাঁর স্বদেশের বর্ণনা দিয়েছেন। নদী, পাহাড়, ধানের উপর ঢেউ খেলানো বাতাস প্রভৃতি বর্ণনা করে তাঁর দেশটিকেই শ্রেষ্ঠ বলে বর্ণনা দিয়েছে। লেখক শীতকালটা তার দেশে কাটাবে শুনে আবদুর রহমান খুশি হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির স্বদেশচেতনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. উদ্দীপক এবং ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মধ্যে প্রেক্ষাপটগত বৈপরীত্য দেখা যায়।
➠ প্রকৃতি মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মানুষ প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নেয় নিজেকে। প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকে মানুষের সত্তা। তাই প্রকৃতির পরিচয় থেকেও নির্দিষ্ট কোনো জাতির পরিচয় পাওয়াটা অস্বাভাবিক ককিছু নয়। উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্নিগ্ধ প্রকৃতির সন্ধান মেলে। প্রকৃতি তার বৈচিত্র্যে কীভাবে স্বতন্ত্র তার প্রকাশ ঘটেছে এখানে। প্রকৃতির অপার মহিমা ও সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে উদ্দীপকের চরণগুলোতে।
➠ অপরদিকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের পরিচয়ই আমরা পাই না, বরং আফগানিস্তানের সংস্কার, তাদের পোশাক, জীবনপ্রণালি সবকিছুর পরিচয় পাই। লেখক যেন পুরো আফগানিস্তানের দৃশ্য তাঁর বর্ণনার মধ্যে চিত্রায়িত করেছেন। উদ্দীপকে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা পাওয়া গেলেও আলোচ্য রচনায় আমরা নির্দিষ্ট দেশ ও জাতি সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য পাই। এই তথ্যগুলো আমাদেরকে কাহিনিটি পাঠ করে ভালোভাবে বুঝতে সহযোগিতা করে।
➠ তাই আমরা বলতে পারি, বিষয় বর্ণনার সাদৃশ্য দেখা গেলেও প্রেক্ষাপটের দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মধ্যে রয়েছে বিস্তর বৈপরীত।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মতি মিয়ার পুরো শরীর ঘামে চকচক করছে। তবুও সে সামনের হাঁড়ি থেকে গরুর গোশত খেয়েই চলেছে। তাকে কেউ থামতে বলছে না। একটি পুরো গরুর গোশত তাকে খেতে হবে। নামকরা খাদক সে। বিয়েবাড়িতে বরপক্ষ তাকে নিয়ে যায় কন্যাপক্ষকে অপদস্থ করতে। সে খেতে খেতে ক্লান্ত। তার বামপাশে একটু দূরে তার ক্ষুধার্ত তিনটি সন্তান একটু খাবারের আশায় লালায়িত। কিন্তু মতি মিয়া এক টুকরো মাংসও দিতে পারবে না। কারণ এতে খেলার নিয়ম ভঙ্গ হবে।

ক. পানশির আফগানিস্তানের কোন দিকে অবস্থিত?
খ. “তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিকিনি” বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান এবং উদ্দীপকের শিশুদের আচরণে কী বৈসাদৃশ্য দেখা যায়? বুঝিয়ে লেখো?
ঘ. “উভয়েরই চিন্তা খাবারসংক্রান্ত, তবুও তাদের ভাবনায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. পানশির আফগানিস্তানের উত্তর দিকে অবস্থিত।
খ. “তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিকিনি” বলতে লেখক আবদুর রহমানের বিশাল শরীর ও সেই অনুযায়ী খাবারের চাহিদার সঙ্গে নিজের তুলনা করেছেন।
➠ আবদুর রহমান প্রথমবার লেখকের জন্য প্রচুর রান্না করে। লেখক তার পরিমাণ দেখে অবাক হলেও উচ্চবাচ্য করেননি। বাঙালিদের তুলনায় তিনি সেদিন একটু বেশিই খেয়েছিলেন। তবুও আবদুর রহমানের দুঃখ রয়ে গিয়েছিল। তারই কথার পরিপ্রেক্ষিতে লেখক বলেন, আবদুর রহমান বিশাল শরীরের অধিকারী। তার খাবারের চাহিদাও তেমনই হবে। কিন্তু সাধারণ বাঙালি লেখক সেই তুলনায় অতি ক্ষুদ্র। তাই আবদুর রহমানের অভিযোগের বিপরীতে লেখক উভয়ের মধ্যে তুলনা করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান চেয়েছিল তার মালিক যেন আরও বেশি খাবার খান যা উদ্দীপকের শিশুদের ভাবনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।
➠ মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে খায়। এর মাঝেও কেউ কেউ অতিরিক্ত খায়, নষ্ট করে। আবার অভাবের তাড়নায় অনেকে ন্যূনতম খাবারটুকুও পায় না। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান চেয়েছিল লেখক যেন বেশি করে খান। এতে তার রান্নার উৎকৃষ্টতা প্রমাণিত হবে। লেখক যখন খাচ্ছিলেন তখন সামনে দাঁড়িয়ে আবদুর রহমান লক্ষ রাখছিল। কারণ সে জানত লেখক তার জীবিকাদাতা। তাই লেখককে নিজের সুস্বাদু রান্না খাইয়ে সে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে চায়।
➠ অপরদিকে উদ্দীপকে অতিরিক্ত খাওয়ায় ক্লান্ত মতি মিয়ার সন্তান তিনটি আশা করেছে তাদের বাবা আর গোশত খাবে না, বরং তাদের দিকে এগিয়ে দেবে। সেই খাবার খেয়ে তারা ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে চেয়েছিল। তাই তারা মনে মনে আশা করছিল, তাদের বাবা যেন আর খেতে না পারে। তাই বলা যায়, আবদুর রহমানের চাওয়া ও উদ্দীপকের শিশুদের ভাবনা সাদৃশ্যপূর্ণ নয়।

ঘ. “উভয়েরই চিন্তা খাবারসংক্রান্ত, তবুও তাদের ভাবনায় আকাশ-পাতাল পার্থক্য খাবার।” মন্তব্যটি যথাযথ।
➠ মানুষ বেঁচে থাকার জন্য খাবার খায়। অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত খাবার খায়। অনেকে আবার বেশি পরিমাণে খেতে পারায় অভ্যস্ত, যা মানুষের শারীরিক অবস্থার জন্য ক্ষতিকারক। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানকে তুষ্ট করতে পারেননি। সামনে দাঁড়িয়ে আবদুর রহমান আশা করছিল লেখক আরও বেশি খাবেন।
➠ অপরদিকে উদ্দীপকের মতি মিয়ার সন্তানরা ক্ষুধার্ত। দতাদের সামনে বসে বাজি ধরে মতি মিয়া একটি পুরো ডগরুর এগাশত খেয়ে চলেছে। খেতে খেতে সে থেমে গেছে, খাওয়ার গতি কমেছে। সামনে বসা তার সন্তানরা ভাবছে, বাবা হয়তো ডএখনই বাজিতে হেরে যাবে, আর খেতে পারবে না। ফলে ঐ খাবারটুকু খেয়ে তারা ক্ষুধা নিবৃত্ত করবে। খাবার সামনে রেখে আবদুর রহমান আশা করছিল লেখক বেশি করে খাবেন আর এতে সে তৃপ্ত হবে। অন্যদিকে মতি মিয়ার সন্তানরা ভাবছিল যদি তাদের বাবা খেতে না পারে তবেই তাদের ক্ষুধা মিটবে। তারাও সামান্য কিছু পেয়ে তৃপ্তি লাভ করবে।
➠ পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় আলোচ্য মন্তব্যটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনি ও উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মানুষ যে কেবল নিজেকেই জানিতে চায় তাহাই নহে, বাহিরের জগতের আহ্বান প্রতিনিয়তই তাহাকে টানিতেছে। এই আহ্বানে প্রলুব্ধ হইয়া অনেক লোক দেশভ্রমণে বহির্গত হয়। নানাজাতি, নানাদেশ, তাহাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিভিন্ন জনের নিকট বিভিন্ন রূপে ধরা দেয়। বাহিরের এই বস্তুসত্তাকে লেখক মানসরসে প্রত্যক্ষ করিয়া তথ্যসম্বলিত গ্রন্থ প্রকাশ করেন। এই জাতীয় গন্থে বস্তুসত্তার প্রাধান্য থাকিলেও উহার মধ্যে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থাকিতে পারে।

ক. ‘বারকোশ’ কী?
খ. “অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর” মন্তব্যটি লেখক কেন করেছিলেন?
গ. উদ্দীপকের কোন বৈশিষ্ট্যটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সমগ্র ভাব প্রকাশিত হয়নি।” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘বারকোশ’ হলো কাঠের তৈরি কানা উঁচু বড় থালা।
খ. প্রয়োজনের অধিক খাবার পরিবেশনের পরও আরও আছে আবদুর রহমানের আশ্বাসের কারণে লেখক মন্তব্যটি করেছিলেন।
➠ লেখক খেতে বসে কখাবারের প্রাচুর্য দেখে অবাক হন। প্রচুর মাংস, বিশালাকার কাবাব, বড় থালায় কোফতা পোলাও, আস্ত মুরগির রোস্ট দেখে লেখক থ হয়ে যান। লেখককে চুপ করে থাকতে দেখে আবদুর রহমান বলে, আরও খাবার আছে। লেখকের এটার জন্য যা খাবার সামনে ছিল, তা-ই অনেক বেশি। কিন্তু আবদুর রহমানের আশ্বাসে লেখক সম্পূর্ণ খাবারের পরিমাণ চিন্তা করে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তার নিজের অবস্থা বোঝাতে ব্যঞ্জনার্থে লেখক মন্তব্যটি করেছিলেন।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ভ্রমণের আংশিক অর্থাৎ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে আনন্দ আহরণের দিকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে ফুটে উঠেছে।
➠ কৌতূহলী মানুষ বিভিন্ন কারণে ভ্রমণ করে। ভ্রমণে নানা দেশ, জাতি, সংস্কার, মনোরম দৃশ্য অবলোকন করে মানুষ আনন্দ পায়। এই আনন্দ মানুষভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। উদ্দীপকে অদেখাকে দেখা আর অজানাকে জানার কৌতূহলেই মানুষ ঘর ছাড়ে। ভ্রমণের আহ্বানে আকৃষ্ট হয়ে মানুষ ঘুরে বেড়ায়। নানা জাতি, ঐতিহ্য, প্রকৃতি ইত্যাদি দেখে। দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ করেই মানুষ তার সৌন্দর্যপিপাসা নিবৃত্ত করে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখকও আফগানিস্তানের কিছু সৌন্দর্য অবলোকন করেছেন। আফগানের বরফ-ঢাকা পাহাড়, লব-ই-দরিয়া ইত্যাদি তার অন্তর্ভুক্ত। শুনেছেন আবদুর রহমানের দেশ পানশিরের বর্ণনা। আফগানিস্তানের সৌন্দর্য লেখককে মুগ্ধ করেছিল। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভ্রমণের মাধ্যমে আনন্দ আহরণের বৈশিষ্ট্যটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে উপস্থিত।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সমগ্র যভাব প্রকাশিত হয়নি” মন্তব্যটি যথার্থ। অজানাকে জানা, অদেখাকে দেখার জন্য মানুষ ঘর ছেড়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওয়না হয়।
➠ অনেককে আবার জীবিকার তাগিদে ঘুরে বেড়াতে হয়, যার মাঝে ভ্রমণ সংযুক্ত। উদ্দীপকে দেশ ভ্রমণের বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। বাইরের জগতের আহ্বান প্রতিনিয়ত মানুষকে আকর্ষণ করে। মানুষের পথিক স্বভাব। চলাতেই তার আনন্দ। প্রকৃতির সৌন্দর্যেই সে পিপাসা নিবৃত্ত করে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতেও লেখকের সামান্য ভ্রমণ এবং আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে। বরফ-ঢাকা পাহাড়, নদী অথবা পানশিরের বর্ণনায় সে সৌন্দর্য প্রকাশিত। উদ্দীপকে ভ্রমণবিষয়ক যে বৈশিষ্ট্যটি ফুটে উঠেছে, তার বাইরেও ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আরও কিছু বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
➠ আফগানিস্তানের মানুষের আকার-আকৃতি, খাদ্যাভ্যাস, লেখকের চাকরি, আফগানবাসীর আতিথেয়তা, সংস্কার ইত্যাদি রচনায় আলোচিত হয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে শুধু ভ্রমণ সম্পর্কে কিছু ধারণা বর্ণিত হয়েছে, যাতে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সমগ্র ভাব প্রকাশ পায় না। এ কারণেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কাশ্মীরের ডাল লেক পুরোটাই পাহাড়ঘেরা। যেসব পাহাড়ে কেবলই ফুলের গাছ। এমনকি গাছের পাতা পর্যন্ত রঙিন। বসন্তে যখন গাছে গাছে ফুল ফোটে, তখন সত্যি সত্যিই জায়গাটাকে অপার্থিব মনে হতে থাকে। মোগল বাদশারা তা দেখেই কাশ্মীরের নাম দিয়েছিলেন ভূস্বর্গ; বানিয়েছিলেন গোটা সাম্রাজ্যের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী। শ্রীনগর পর্যটকদের জন্য বিচরণ কেন্দ্র। এর বাইরে দেখার মতো আরও অনেক কিছু আছে। যেমন: মোগলদের বানানো ফুলের বাগান, পরিমহল। এখান থেকে পুরো শ্রীনগর দেখা যায়।

ক. কাবুলে লেখকের নতুন বাসস্থান কোন গ্রামে?
খ. ‘জিরার সাহেব কাজের লোক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কোন দিকটি উদ্দীপকে উদ্ভাসিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উক্ত বিষয়টি মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে” মন্তব্যটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আলোকে মূল্যায়ন করো।

ক. কাবুলে লেখকের নতুন বাসস্থান খাজামোল্লা গ্রামে।
খ. ‘জিরার সাহেবকে কাজের লোক’ বলতে মূলত অকর্মণ্যই বোঝানো হয়েছে।
➠ অধ্যক্ষ জিরার জাতিতে ফরাসি। ফরাসিরা জাতি হিসেবে শৌখিন। এরা রান্নাবান্না, গল্প করে দিন কাটাতে পছন্দ করে। জিরার সাহেবও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি সারাদিন আফগানিস্তানের বিভিন্ন মন্ত্রীর দপ্তরে ঘুরে বেড়িয়ে, ঝগড়া করে তথা আড্ডা দিয়ে বেড়ান। কাবুল শহরে একেই কাজ বলে। তাই অধ্যক্ষ জিরারের এই বিশেষ ধরনের কাজের জন্য তাকে কাজের লোক বলে আখ্যায়িত করেছেন লেখক।

গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনার দিকটি উদ্দীপকে উদ্ভাসিত হয়েছে।
➠ প্রকৃতি-স্রষ্টার এক অপূর্ব সৃষ্টি। প্রকৃতি তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে অনন্তযৌবনা, চিরন্তন, চির নতুন। এই সৌন্দর্যই প্রকৃতিকে অন্যান্য সৃষ্টির চেয়ে আলাদা স্থান দিয়েছে। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনি সাহিত্যের অন্তর্গত। এ রচনায় লেখক আফগানিস্তানের প্রকৃতির রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর সৃষ্ট চিত্রকল্পে আমরা চোখের সামনে বরফাবৃত পাহাড়ি একটি দেশ দেখতে পাই। এই সৌন্দর্য লেখককে মুগ্ধ করেছে। আবদুর রহমানের দেওয়া পানশিরের বর্ণনা এতে আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
➠ উদ্দীপকে ভূস্বর্গ নামে পরিচিত কাশ্মীরের চমৎকার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। তাই কাশ্মীর পরিণত হয়েছে পর্যটকদের বিচরণক্ষেত্রে। মূলত ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. “উক্ত বিষয়টি মানুষকে হাতছানি দিকে ডাকে” মন্তব্যটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির ক্ষেত্রে তাৎপর্যমণ্ডিত।
➠ প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিবিড়। মানুষ আদিমকাল থেকে প্রকৃতিতেই নিজের মনের শান্তি খুঁজে ফিরেছে। প্রকৃতি নানা উপাদান দিয়ে মানুষকে মমতার আলিঙ্গনে বেঁধে নিয়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধুয’ ভ্রমণকাহিনিতে আমরা দেখতে পাই লেখককে প্রকৃতিবোধে তৃপ্ত হতে। বাঙালি লেখকের দৃষ্টিতে পাহাড়ি বরফের দেশ আফগানিস্তানের সৌন্দর্য অন্য ধরনের। সেই সঙ্গে আবদুর রহমান বর্ণিত পানশিরের সৌন্দর্যের বর্ণনা অনন্য মাত্রা সৃষ্টি করেছে। এ এসৗন্দর্যের হাতছানিতে মানুষ দিনের পর দিন মুগ্ধ হয়ে থাকতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, পৃথিবীর ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীরের চিত্র। সেখানে মানুষ আসে অতৃপ্ত মনকে তৃপ্ত করতে। প্রকৃতির যে সৌন্দর্য কাশ্মীরে দেখা যায়, তা মানুষকে বারবার ডাকে। এ ডাকেই মানুষ ফিরে ফিরে যায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।
➠ যে ডাক ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখক আবদুর রহমান অথবা উদ্দীপকের পর্যটক মোগল বাদশাকে আকর্ষণ করেছে। তাই “উক্ত বৈশিষ্ট্যটি মানুষকে হাতছানি দিয়ে ডাকে” মন্তব্যটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আলোকে যথার্থ।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
একটি সাধারণ সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ লোক গৃহকর্মী বা চাকরের ওপর নির্ভরশীল। এদের বয়সভেদে শিশু হতে বৃদ্ধ পর্যন্ত রয়েছে। ব্যস্ততম জীবনে নগরবাসীর অন্যতম প্রয়োজন গৃহকর্মী। এদের মাঝে স্বল্পসংখ্যক স্থায়ীভাবে কাজ করে। এরা মূলত গৃহকর্তার বাসায় প্রায় সকল কাজই করে থাকে। আবার বেশিরভাগই অস্থায়ী ভিত্তিতেও কাজ করে। তবে কিশোর হতে যুবা বয়সীরা অনেকেই চাকরিদাতার কাছে মানসিক এবং শারীরিকভাবে নিপীড়িত হয়, যার হার প্রায় ৫২ শতাংশ। এই হারে উদ্বিগ্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো। মানবাধিকার রক্ষায় এদের আরও বেশি সামাজিক নিশ্চয়তা প্রদান করা উচিত বলে বোদ্ধাগণ মনে করেন।

ক. অধ্যক্ষ জিরার কোন জাতিভুক্ত?
খ. লেখকের মতে আবদুর রহমানের চেহারা কেন আফগান রিলিফ ম্যাপসদৃশ?
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান ও উদ্দীপকের গৃহকর্মীর মাঝে কী সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “চাকরিদাতা হিসেবে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক ও উদ্দীপকের নিয়োগদাতা ভিন্ন মানসিকতাসম্পন্ন” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. অধ্যক্ষ জিরার জাতে ফরাসি।
খ. লেখকের মতে, আফগানিস্তানের অতি শীতল আবহাওয়াই আবদুর রহমানের রিলিফ ম্যাপসদৃশ চেহারার জন্য দায়ী।
➠ আবদুর রহমানের মুখের চামড়া চিরে ফেড়ে গেছে শীতে-গ্রীষ্মে। রিলিফ দেওয়ার ম্যাপে বিভিন্ন চিহ্নিত স্থান যেমন উঁচু-নিচু দেখায়, আবহাওয়ার কারণে আবদুর রহমানের চেহারাও তেমন অবস্থা ধারণ করেছে। আবদুর রহমান সাধারণ এক আফগান। তার দৃষ্টিতে এই চেহারাই সঠিক। কিন্তু বাঙালি লেখকের অভ্যস্ত দৃষ্টিসীমার বাইরে তার চেহারার বর্ণনা কিছুটা কৌতুকের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।

গ. জীবিকার তাগিদে নিয়োগকর্তার সমূহ কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার দিক থেকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান ও উদ্দীপকের গৃহকর্মীর মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
➠ মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে বিভিন্ন জীবিকা অবলম্বন করে। আদিম সময় থেকেই মানুষ তার চেয়ে সম্পন্ন ব্যক্তির কাজ করে দিয়ে নিজ নিজ জীবিকার সংস্থান করে। এই দিক থেকে প্রায় প্রত্যেক মানুষই কর্মী। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমান লেখকের জন্য সকল কাজের কাজি। সে লেখকের জন্য রান্না থেকে আরম্ভ করে হাট-বাজার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার সব কাজ করে। লেখকের কাজ করেই সে তার জীবিকা নির্বাহ করে।
➠ উদ্দীপকের গৃহকর্মীরাও নিজ নিজ নিয়োগদাতার জন্য কাজ করে থাকে। ব্যস্ত নগরজীবনে মানুষ অনেকাংশেই গৃহকর্মীর ওপর নির্ভরশীল। তারা সবাই নিজের অথবা পরিবারের চাহিদা পূরণ করার জন্য এই জীবিকা বেছে নিয়েছে। এই জীবিকার দিক থেকেই ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমান ও উদ্দীপকের গৃহকর্মীর মধ্যে সাদৃশ্য দেখা যায়।

ঘ. “চাকরিদাতা হিসেবে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক ও উদ্দীপকের নিয়োগদাতা ভিন্ন মানসিকতাসম্পন্ন” মন্তব্যটি যথার্থ।
➠ মানুষ জীবিকার জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। মানুষভেদে নিয়োগদাতা ভিন্ন চারিত্রিক স্বভাবের হয়। কেউ কেউ কর্মীর প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও বেশিরভাগই কঠোর মানসিকতা পোষণ করে। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমান বলেখকের গৃহকর্মী। তার বিভিন্ন ধরনের কাজে লেখক অবাক, হতবাক এবং বিরক্ত হলেও তার প্রতি কঠোর কোনো ব্যবহার করেননি, বরং বেশিরভাগ সময়ে কৌতুকের সঙ্গে মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন।
➠ অপরদিকে উদ্দীপকে দেখা যায়, গৃহকর্মীদের মাঝে শতকরা ৫২ জন তার নিয়োগদাতার হাতে নিপীড়িত হয়। এই নিপীড়ন শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের হয়, যা মানবাধিকার হরণ করে। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখক আবদুর রহমানের প্রতি সহানুভূতিশীল, যেখানে উদ্দীপকের ৫২ শতাংশ নিয়োগদাতা অত্যাচার করে গৃহকর্মীকে।
➠ তাই বলা যায়, চাকরিদাতা হিসেবে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক ভিন্ন মানসিকতাসম্পন্ন। সুতরাং মন্তব্যটি যথাযথ।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
তানজিলা একজন গৃহিণী। তিনি খুব ভালো রান্না জানেন। বাড়িতে কোনো অতিথি এলে তার অপ্যায়নের কোনো কমতি রাখেন না তিনি। নানা পদের খাবার রান্না করে খাইয়ে তিনি আনন্দ পান। এছাড়া ইউটিউব থেকে বিভিন্ন রেসিপি শিখে মানুষকে খাওয়ানোয় তাঁর কোনো তুলনা নেই।

ক. কাবুল থেকে কয় মাইল দূরে খাজামোল্লা গ্রাম?
খ. আবদুর রহমানকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির অধ্যক্ষ জিরার হরফন-মৌলা বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের তানজিলার সঙ্গে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির বিষয়বস্তুকে সম্পূর্ণ ধারণ করে না”- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।'

ক. কাবুল থেকে আড়াই মাইল দূরে খাজামোল্লা গ্রাম।
খ. বিভিন্ন ধরনের কাজে দক্ষতা থাকায় আবদুর রহমানকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে অধ্যক্ষ জিরার ‘হরফন মৌলা’ বা সকল কাজের কাজি বলেছেন।
➠ আবদুর রহমান একজন বিশালদেহী মানুষ। সে লেখকের খাবার রান্না করা থেকে শুরু করে জুতা ব্রাশ করা পর্যন্ত সকল কাজ করে দেয়। বোঝা বহন করা ও অন্যান্য সকল কাজেও সে পারদর্শী। তাই তাকে সকল কাজের কাজি বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যক্ষ জিরার।

গ. আতিথেয়তার দিক থেকে উদ্দীপকের তানজিলার সঙ্গে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আব্দুর রহমানের মিল রয়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে সৈয়দ মুজতবা আলীর আফগানিস্তান থাকাকালীন অভিজ্ঞতার কথা বর্ণিত হয়েছে। আফগানিস্তানে লেখকের দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল আব্দুর রহমান নামক এক গৃহকর্মীর ওপর। তার মধ্যে যেসব গুণাবলি দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম ছিল অতিথিপরায়ণতা।
➠ উদ্দীপকের তানজিলা অতিথিপরায়ণ মানুষ। তিনি ভালো রান্না করতে জানেন। বাড়িতে অতিথি এলে তার খাতির যত্নের কোনো কমতি রাখেন না। এমনকি ইউটিউব দেখে রেসিপি তৈরি করেও তিনি অন্যদের খাইয়ে থাকেন। তানজিলার এরূপ কাজ তার আতিথেয়তারই বহিঃপ্রকাশ। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনীর আব্দুর রহমানের মধ্যেও এই আতিথেয়তার বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছে, যা লেখককে মুগ্ধ করেছিল। আতিথেয়তার এই দিকটিই উদ্দীপকের তানজিলার সঙ্গে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের সাদৃশ্য তৈরি করেছে।

ঘ. উদ্দীপকে শুধু ‘প্রবাস কন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে বর্ণিত আবদুর রহমানের আতিথেয়তার দিকটি ফুটে উঠলেও অন্যান্য দিক ফুটে ওঠেনি।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক পরিবেশ, সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজসরল জীবনযাপন তুলে ধরেছেন অত্যন্ত হাস্যরসাত্মকভাবে। লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণ অভিজ্ঞতার আংশিক বর্ণনা পাওয়া যায় আলোচ্য রচনায়। লেখকের দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত আফগান আবদুর রহমানের মধ্যে স্বদেশপ্রেম, আতিথেয়তা ও সরলতাসহ নানা বিষয় লেখক তুলে ধরেছেন এখানে।
➠ উদ্দীপকের তানজিলা একজন গৃহিণী। তিনি অতিথিপরায়ণ মানুষ। মানুষকে খাওয়ানোর ব্যাপারে তার তুলনা হয় না। বাড়িতে অতিথি এলে তিনি যথেষ্ট যত্ন আভি করেন। ভালো রান্না পারেন বলে বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না করে খাওয়ান। এছাড়া ইউটিউব দেখে বিভিন্ন রান্না শিখে তিনি অন্যদের রান্না করে খাওয়ান। অন্যকে খাওয়ানোর মাঝেই যেন তাঁর আনন্দ।
➠ উল্লিখিত আলোচনায় দেখা যায় ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখকের অভিজ্ঞতায় বর্ণিত হয়েছে আফগানিস্তানের নানা বিষয়। এখানে বর্ণিত হয়েছে আফগানিস্তানের প্রকৃতি, সৌন্দর্য, জীবনধারা, আবদুর রহমানের স্বদেশপ্রেমসহ আবদুর রহমানের সাথে লেখকের কাটানো সময়কার হাস্যরসাত্মক বর্ণনা। এর মধ্যে শুধু অতিথিপরায়ণতার দিকটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। কিন্তু রচনার অন্যান্য দিক সেখানে ফুটে ওঠেনি। ফলে উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির বিষয়বস্তুকে সম্পূর্ণরূপে তুলে ধরতে পারেনি।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উদ্দীপক-১ আমার বাড়ি যাইও ভোমর,
বসতে দেব পিঁড়ে,
জলপান যে করতে দেব
শালি ধানের চিড়ে।
শালি ধানের চিড়ে দেব,
বিন্নি ধানের খই,
বাড়ির গাছের কবরী কলা
গামছা-বাঁধা দই। [আমার বাড়ি - জসীমউদ্‌দীন।]

উদ্দীপক-২ এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে-সবচেয়ে সুন্দর করুণ:
সেখানে সবুজ ভাঙা ভ'রে আছে মধুকুপী ঘাসে অবিরল;
সেখানে গাছের নাম: কাঁঠাল, অশ্বত্থ বট, জারুল, হিজল;
সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ;
সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে-সেখানে বরুণ;
কর্ণফুলি ধলেশ্বরী পদ্মা জলাঙ্গীরে দেয় অবিরল জল;
সেইখানে শঙ্খচিল পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল,
[এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে - জীবনানন্দ দাশ]

ক. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখকের দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকা আবদুর রহমান লেখকের জন্য কতটি ফুল বোম্বাই সাইজের শামী-কাবাব এনেছিল?
খ. সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে ‘অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর’- লেখক কেন মন্তব্যটি করেছিলেন?
গ. 'উদ্দীপক-১ এ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে উল্লিখিত কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপক-২ এ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের একটি বিশেষ চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখকের দেখশোনা করার দায়িত্বে থাকা আবদুর রহমান লেখকের জন্য আটটি শামী-কাবাব এনেছিল।
খ. খাবারের আধিক্য দেখে লেখকের যে অবস্থা হয়েছিল, তা বোঝাতেই প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়েছে।
➠ আফগান আবদুর রহমান লেখককে বিপুল পরিমাণ বিচিত্র ও সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করে। প্রথম দিনেই সে গামলা ভর্তি মাংসের কোরমা, দুম্বার মাংস, বোম্বাই সাইজের শামী-কাবাব, কোফতা-পোলাও, আস্ত মুরগির রোস্ট ইত্যাদি খাবার লেখকের সামনে পরিবেশন করে। এত খাবার আনার পরও রান্নাঘরে আরও আছে বলে সে লেখককে জানায়। ছয়জনের খাবার পরিবেশন করে আরও আছে বললে লেখকের অবস্থা এমন হয় যে অম্ল শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর।

গ. 'উদ্দীপক-১-এ ‘প্রবাস কন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে উল্লিখিত আফগানিস্থানের মানুষদের অতিথিপরায়ণতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
➠ সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে কাবুলের অদূরে অবস্থিত খাজামোল্লা গ্রামে বসবাসরত লেখকের দেখাশোনা করার দায়িত্ব পাওয়া আবদুর রহমান অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। সে লেখককে খুশি করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেনি। লেখককে অত্যন্ত ভালোবাসা আর মর্যাদার সাথে আপ্যায়ন করেছিল। লেখকের জন্য সে নানারকম সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করে।
➠ অতিথি আপ্যায়নে বাঙালি আর আফগানরা প্রায় একইরকম মানসিকতা পোষণ করে। বাঙালির আপ্যায়নের উপকরণ খুব দামি নয়; কিন্তু অকৃত্রিম আন্তরিকতায় আর্দ্র। উদ্দীপকে দেখা যায়, কবি তার বন্ধুকে নিজ গ্রামে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। আমন্ত্রণে বন্ধুকে প্রলুব্ধ করার জন্য লেখক তার নিজ অঞ্চলের প্রসিদ্ধ খাবারের উল্লেখ করেছেন। এই খাবারগুলো যেমন সুস্বাদু, তেমনি বিশুদ্ধ ভালোবাসামিশ্রিত। এগুলো অমূল্য। মূল্য দিয়ে এই খাবারের মূল্যায়ন করা যাবে না। খাজামোল্লা গ্রামে আবদুর রহমান লেখককে দেশীয় আপ্যায়নে মুগ্ধ করে। সে ফালুদা, আঙুর, বাদাম, চা প্রভৃতি পরিবেশন করতে লাগল, যা বাঙালির মতো আফগানদেরও আন্তরিক আপ্যায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ঘ. উদ্দীপক-২-এ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের দেশপ্রেমের চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ স্বদেশপ্রেম মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি মানুষ স্বদেশের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। তাই স্বদেশের প্রকৃতি, জনপদসহ প্রতিটি উপকরণ মানুষকে মুগ্ধ করে। আলোচ্য রচনায় আবদুর রহমানের জন্মভূমি পানশিরের সৌন্দর্য বর্ণনার মধ্য দিয়ে তার দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে।
➠ উদ্দীপক-২-এ দেখা যায়, কবির কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বলে মনে হয় তাঁর জন্মভূমিকে। এর প্রতিটি গাছ, ঘাস, লতা-পাতা, নদনদী, প্রকৃতির প্রতিটি অনুষঙ্গ কবির কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এ অনুভব দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানের অনন্য দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। আবদুর রহমানের জন্মস্থান উত্তর আফগানিস্থানের পানশির। এই পানশির তার কাছে সবদিক বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। সেখানকার আবহাওয়া, খাদ্য, পরিবেশ সবই তার বিবেচনায় সেরা। তার মধ্যে প্রগাঢ় দেশপ্রেম লক্ষণীয়। প্রবল দেশপ্রেমে উদ্‌বুদ্ধ হয়েই সে তার দেশের বরফ শীতল আকর্ষণীয় জলবায়ুর মুগ্ধতার কথা লেখককে বর্ণনা করে। আর আবদুর রহমানের দেশপ্রেমের চেতনাটিই উদ্দীপক-২-এ প্রতিফলিত হয়েছে।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমার বাড়ি যাইও ভোমর
বসতে দেব পিঁড়ে,
জলপান যে করতে দেব
কাজলা দিঘির কাজল জলে
শালিধানের চিড়ে।
আমার বাড়ি ডালিম গাছে
ডালিম ফুলের হাসি,
হাঁসগুলি যায় ভাসি।

ক. কোন জায়গার বরফি আঙুর তামাম আফগানিস্তানে মশহুর?
খ. আবদুর রহমানকে ‘হরফুন মৌলা’ বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কোন বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের বক্তব্য ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার মূলবক্তব্য থেকে অনেক দূরের মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. বাগেবালার বরফি আঙুর তামাম আফগানিস্তানে মশচুর।
খ. ‘হরফুন মৌলা’ শব্দের অর্থ হলো সকল কাজের কাজি। বিভিন্ন ধরনের কাজে দক্ষতা থাকায় আবদুর রহমানকে হরফুন মৌলা বা সকল কাজের কাজি বলা হয়েছে।
➠ আবদুর রহমান একজন বিশালদেহী মানব। সে লেখকের খাবার রান্না করা থেকে শুরু করে জুতা ব্রাশ করা পর্যন্ত সকল কাজ করে দেয়। বোঝা বহন করা ও অন্যান্য সকল কাজেও সে পারদর্শী। তাই তাকে সকল কাজের কাজি বলা হয়েছে।

গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির অতিথিপরায়ণতা ও নিজ জন্মভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনার দিকটি উদ্দীপকটিতে ফুটে উঠেছে।
➠ 'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমান চরিত্রটি অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। সে লেখককে অত্যন্ত ভালোবাসা আর মর্যাদার সাথে আপ্যায়ন করেছিল। লেখকের জন্য বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার যেমন দুম্বার মাংসের রোস্ট, ফালুদা, বরফি আঙুর, বাদাম, আখরোট ইত্যাদির ব্যবস্থা করে সে।
➠ আবদুর রহমান একজন স্বদেশপ্রেমিক। সে তার জন্মভূমিকে অত্যন্ত ভালোবাসে। সেখানকার মানুষ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের কথা বর্ণনা করে লেখকের কাছে। উদ্দীপকটিতেও এ দুটো বিষয় ফুটে উঠেছে। সেখানেও ঠিক একইভাবে আবদুর রহমানের মতো অতিথিকে আপ্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং নিজ বাসস্থান বা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সৌন্দর্যের দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের বক্তব্যটিতে কেবলমাত্র অতিথিকে নিমন্ত্রণ, আপ্যায়ন ও নিজ বাসভূমির সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে, যা ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিটির কিছু অংশ ধারণ করে।
➠ সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনাটিতে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে আবদুর রহমান লেখকের প্রতি যথেষ্ট আনুগত্য প্রকাশ করে। কখনো তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে যায় না। তাঁকে সর্বদাই সম্মান করে। কখনো লেখকের সাথে চোখ তুলে কথা বলে না। লেখকও তার সাথে অনেক ভালো আচরণ করেন। কখনো তার প্রতি নির্দয় আচরণ করেন না।
➠ উদ্দীপকে কবি স্বদেশের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অতিথিদের আপ্যায়নের নানা দিক তুলে ধরেছেন। এতে মূলত আমরা কবির স্বদেশপ্রেমের দিকটিই ফুটে উঠতে দেখি। যার মধ্য দিয়ে কবির প্রকৃতি প্রেম ফুটে উঠেছে, তেমনি তার অতিথিপরায়ণতার দিকটিও ফুটে উঠেছে। রচনাটিতে মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। দুজন দুটি ভিন্ন দেশের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে যে সৌহাদ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। এছাড়াও আফগানিস্তানের প্রকৃতি, আবহাওয়া ইত্যাদি বিষয়ও বর্ণনা করা হয়েছে। এ প্রকৃতির সাথে লেখক কীভাবে মানিয়ে নিলেন সে বিষয়ও বর্ণনা করা হয়েছে।
➠ অতএব, উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারে যে, উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনাটির কিছু দিক ফুটে উঠলেও তা মূলবক্তব্য থেকে অনেক দূরের। আর উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে কবির স্বদেশের চিত্র। অপরূপ সৌন্দর্য্যে বিমোহিত কবি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অতিথিদের। অর্থাৎ, উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার খণ্ডিত ভাবই কেবল ফুটে উঠেছে।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জাপানের ব্যস্ত শহর ইয়োকোহামায় নানা কাজে বিদেশিদের আগমন। নতুন দেশে অজানা ভাষায়, অচেনা সংস্কৃতিতে প্রবাসীদের পরম বন্ধু নিশি সান। তিনি বিদেশিদের জাপানিজ ভাষা শেখাতে, পথ চলতে, বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তিতে নানা কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বিদেশিদের সাথে মিশে তিনি নানা দেশের ভাষা ও খ্যাদ্যাভ্যাস রপ্ত করে নিয়েছেন। অনেকে নিজ দেশে ফিরে গিয়েও তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

ক. মাংসের কোরমাটা কীসের মাংসে তৈরি করা হয়েছিল?
খ. ‘তামাম আফগানিস্তান শহরে’ কোন খাবার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পটিকে কোন দিক থেকে প্রতিনিধিত্ব করছে? বর্ণনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের সাথে মিল থাকলেও স্বদেশপ্রেম আবদুর রহমান চরিত্রটিকে অনন্য মাত্রায় উন্নীত করেছে” মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

ক. মাংসের কোরমাটা দুম্বার মাংসে তৈরি করা হয়েছিল।
খ. বাগেবালার বরফি আঙুর সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।
➠ আবদুর রহমান লেখককে একের পর এক নানা পদের খাবার পরিবেশন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বাগেবালার বরফি আঙুর দিয়ে বললেন সেটা নাকি তামাম আফগানিস্তানে মশহুর। লেখক একটা আঙুর মুখে দেয়ামাত্র তার ব্রহ্মরন্দ্র পর্যন্ত ঝিনঝিন করে উঠেছিল। তবু আবদুর রহমানকে খুশি করার জন্য তিনি গোটা আটেক আঙুর খেয়েছিলেন।

গ. উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পটিকে আবদুর রহমানের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতার দিক থেকে প্রতিনিধিত্ব করছে।
➠ প্রবাসে গিয়ে মানুষ নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হয়। ভাষা, খাদ্য, বাসস্থান এর মধ্যে অন্যতম। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া প্রবাস জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব। রচনায় আমরা দেখি দুটি ভিন্ন দেশি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠতে এবং আবদুর রহমানের অতিথিপরায়ণতার কারণেই লেখক খুব সহজে আফগান শহরে মানিয়ে নিতে পারে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, জাপানের ব্যস্ত শহর ইয়োকোহামায় বিদেশিরা এলে নিশি সান পরম বন্ধুর মতো আচরণ করেন। তিনি অন্য দেশ থেকে আগতদের ভাষা শেখা, পথ চলা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজে সহায়তা করেন। অন্যদিকে 'প্রবাস বন্ধু' রচনায় আমরা আবদুর রহমানকে একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখি। লেখক আফগানিস্তান ভ্রমণে গেলে নানাবিধ জটিলতার সম্মুখীন হন। আবদুর রহমান লেখককে নানাভাবে সহায়তা করে তার প্রবাসজীবনকে মধুময় করে তুলেছিলেন। এদিক থেকে উদ্দীপকের নিশি সানের সাথে গল্পের আবদুর রহমানের সাদৃশ্য লক্ষণীয়।

ঘ. “উদ্দীপকের সাথে মিল থাকলেও স্বদেশপ্রেম আবদুর রহমান চরিত্রটিকে অনন্য মাত্রায় উন্নীত করেছে”- উক্তিটি যথার্থ।
➠ স্বদেশপ্রেম মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি মানুষ তার স্বদেশের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। স্বদেশের সঙ্গে তার অস্তিত্বের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই স্বদেশের প্রকৃতি, জনপদ থেকে শুরু করে প্রতিটি উপকরণ মানুষকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে। আর এ দিকটিই আমরা ফুটে উঠতে দেখি আবদুর রহমান চরিত্রে।
➠ উদ্দীপকে নিশি সান চরিত্রটিকে আমরা বিদেশের মাটিতে একজন পর্যটকবান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখতে পাই। জাপানের ব্যস্ত শহর ইয়োকোহামায় কেউ গেলে নানাবিধ জটিলতার মুখোমুখি হন। নিশি সান পরম বন্ধুর মতো তাদের পাশে দাঁড়ান।
➠ আফগানিস্তানে গিয়ে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার লেখক আবদুর রহমানকে কাছে পেয়েছিলেন। আবদুর রহমান আন্তরিকভাবে লেখকের জন্য কষ্ট স্বীকার করতে রাজি ছিলেন। অধিকন্তু এই চরিত্রটি স্বদেশপ্রেমের দিক থেকেও অনন্য। আমরা দেখি, তার জন্মস্থান উত্তর আফগানিস্তানের পানশির তার কাছে সবদিক বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। সেখানকার আবহাওয়া, খাদ্য, পরিবেশ, সবই তার বিবেচনায় সেরা। তবে উদ্দীপকের নিশি সানের মধ্যে স্বদেশপ্রেমের দিকটি বড় পরিসরে আলোচিত হয়নি। নিশি সান দেশে আগত অতিথিদের প্রতি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ- এ দিকটি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের নিশি সান ও ‘প্রবাস বন্ধু’র আবদুর রহমান চারিত্রিক দিক থেকে সমধর্মী হলেও স্বদেশপ্রেমের দিক থেকে আবদুর রহমান অনন্য- উক্তিটি সঠিক।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
স্বচ্ছ জলধারা। অনাবিল আনন্দে জলপাথরের বিছানায় শুয়ে বসে গোসল আর হইহুল্লোড়ে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলার অবস্থা আমাদের। শুধু পা ভিজিয়ে ক্ষান্ত থাকেন না এখানে আসা মানুষগুলো। শরীর এলিয়ে দিয়ে যখন চোখ বুজে আসে তখন একে পাথরেভরা বাথটাব বলেই মনে হবে। নীল আকাশ আর থরে থরে বিছানো পাথর। দূরে-দিগন্ত বিস্তৃত পাহাড়ের হাতছানি। এসব কিছুর মেলবন্ধনেই অপরূপ বিছানাকান্দি। হ্যাঁ, সিলেটের স্বর্ণ বিছানাকান্দি। স্রোতধারায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারবেন অন্য এক রাজ্য। সীমান্তের ওপার থেকে বয়ে আসা স্বচ্ছ জলধারা আর পাথরের মায়াজালে যেখানে হারিয়ে যাবেন নিমিষেই। যেখানে মেঘ, পাহাড় আর জলধারার মিতালি আপনাকে আপন করবে গভীর মমতায়।

ক. রিলিফ ম্যাপের চেহারা মানে কী?
খ. ‘পেঁজা বরফের গুঁড়োয় ভর্তি’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. “উদ্দীপকের বর্ণনা ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মূল উদ্দেশ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।” উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি একেবারেই সামান্য সহজ-সরল বয়ান”- উক্তিটির সাথে তোমার পঠিত ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

ক. রিলিফ ম্যাপের চেহারা মানে শীতে-গ্রীষ্মে শরীরের চামড়া চিরে ফেড়ে রিলিফ ম্যাপের মতো হয়ে যাওয়া।
খ. ‘পেঁজা বরফের গুঁড়োয় ভর্তি’- বলতে বোঝানো হয়েছে আঁশহীন তুলার মতো বরফের গুঁড়োয় ভরা।
➠ আফগানিস্থানের একটি বিখ্যাত খাবার বাগেবালার বরফি আঙুর। এই আঙুর পেঁজা বরফের গুঁড়োর মধ্যে ভরে পরিবেশন করা হয়। এই বরফের গুঁড়ো আঁশহীন তুলোর মতো, বরফের কুচির মধ্যে এভাবে আঙুর রাখলে তা ঠান্ডা থাকে এবং খেতে সুস্বাদু হয়। এভাবে আঙুর পরিবেশনের ফলেই লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

গ. উদ্দীপকে বিছানাকান্দির জলধারায় সময় উপভোগ করার অনাবিল আনন্দটুকু ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মূল উদ্দেশ্যকেই ধারণ করে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী আফগানিস্তান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছেন। প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ, সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজসরল জীবনাচরণ লেখক দারুণভাবে উপভোগ করেন। তবে আবদুর রহমানের সরল আতিথেয়তায় কখনো কখনো লেখকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলেও সেই বিষয়টিকেও লেখক শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। মূলত আলোচ্য রচনার মধ্য দিয়ে লেখকের ভ্রমণবিলাসী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
➠ উদ্দীপকের বর্ণনায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বিছানাকান্দির স্বচ্ছ জলধারায় সময় কাটানোর আনন্দ ব্যস্ত হয়েছে। জলধারার পাথরের বিছানায় শুয়ে গোসল আর হইহুল্লোড় করতে শুরু করলে কখন সময় পার হয়ে যায় তা বোঝা যায় না। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ পাহাড়, মেঘ আর জলধারার স্নিগ্ধ মেলবন্ধন সত্যই মনকে পুলকিত করে। তাই উদ্দীপকের ভ্রমণকালীন আনন্দ উপভোগের বিষয়টি 'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণকাহিনির মূল উদ্দেশ্য আনন্দ উপভোগের দিকটিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঘ. উদ্দীপকটিতে সিলেটের বিছানাকান্দির স্বচ্ছ জলধারার যে স্নিগ্ধ বিবরণ পাওয়া যায় তা ভ্রমণবিলাসী মনকে পরিতৃপ্ত করে, যা ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৌন্দর্যের দিকটিই ধারণ করেছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিটি লেখকের বিখ্যাত রচনা ‘দেশে-বিদেশে’-এর অংশবিশেষ। এখানে লেখক প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও আনন্দটুকু বর্ণনা করেছেন। যেখানে উত্তর আফগানিস্তানের শীতকালের চমৎকার বিবরণ পাওয়া যায়। শীতকালে সেখানে বরফ পড়ে মাঠ, পথ, পাহাড়, নদী, গাছপালা সব ঢেকে যায়। খেত-খামারের কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং বরফের তলায় রাস্তা চাপা পড়ে। আবার বরফ পড়া বন্ধ হলে ছুরির মতো ধারালো ঠান্ডা হাওয়ায় নাক, মগজ, গলা বুক চিরে যায়। তাছাড়া আফগান আবদুর রহমানের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আফগানি খাবারের বিচিত্র ধরন তুলে ধরেছেন লেখক।
➠ উদ্দীপকে সিলেটের স্বর্ণ বিছানাকান্দির বর্ণনা পাওয়া যায়। বিছানাকান্দির স্বচ্ছ জলধারা অনাবিল আনন্দে মনকে ভরিয়ে তোলে। জলপাথরের বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজলে মনে হয় পাথরের বাথটাব। উপরে নীল আকাশ, চারপাশে সবুজ পাহাড়ের হাতছানি আর জলধারার স্নিগ্ধ বয়ে চলা সত্যিই অপরূপ সৌন্দর্যের আধার।
➠ উদ্দীপকে একেবারেই সহজসরল বয়ানে আমরা বিছানাকান্দির যে স্নিগ্ধ-কোমল সৌন্দর্যের বর্ণনা পাই, তা উত্তর আফগানিস্তানের পেজা বরফে ঢাকা হিম-শীতল পরিবেশের থেকে ভিন্ন। আফগানিস্তানের বরফ ঢাকা শীতকাল এবং ঠান্ডা বাতাসের অবাধ চলাচল সত্যিই পাঠককে বিস্মিত করে। তাছাড়া আলোচ্য রচনায় লেখক আফগানিস্তান ভ্রমণের খুঁটিনাটি সবকিছুই লিপিবদ্ধ করেছেন। লেখকের বর্ণনায় সেখানকার ভূমি, পরিবেশ, মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রা সবকিছু স্থান পেয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু বিছানাকান্দির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। তবে বিছানাকান্দির সৌন্দর্য যেমন ভ্রমণপিয়াসিদের আনন্দ দেয় তেমনি আলোচ্য ভ্রমণকাহিনিতেও লেখকের ভ্রমণবিলাসী পরিতৃপ্ত মনের পরিচয় পাওয়া যায়।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয় অভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে বিভিন্ন জায়গা ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে। বিচিত্র সব এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা-খাদ্য-ভাষা-সংস্কৃতি ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে। তার ভাষায় এটি ভ্রমণ নয় বরং অনুসন্ধান বা আবিষ্কার। তার মতে, ভ্রমণকাহিনি পড়ে অভিজ্ঞতা লাভের চেয়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়টাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতাগুলো সে তার ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করে রাখে।

ক. আবদুর রহমানের সরল আতিথেয়তাকে শেষাবধি লেখক কীভাবে গ্রহণ করেছেন?
খ. ‘আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি।’ লেখকের প্রতি আগা আবদুর রহমানের এ অনুযোগের কারণ কী?
গ. উদ্দীপকের অভি চরিত্রে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার কোন বিষয়টি ধরা পড়েছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার সমগ্রভাবকে প্রকাশ করে না-যুক্তি দাও।

ক. আবদুর রহমানের সরল আতিথেয়তাকে শেষাবধি লেখক শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।
খ. আবদুর রহমানের চোখে লেখক পর্যাপ্ত খাবার খাননি- এ কারণেই তার এই অনুযোগ।
➠ আবদুর রহমানের রান্নার দক্ষতা ও রসনাবোধ অতিমাত্রায় প্রবল। সে বিচিত্র সব সুস্বাদু পদ প্রচুর পরিমাণে রান্না করে লেখককে খেতে দেয়। ক্ষুধার্ত অবস্থায় লেখকও সেসব রান্না পেট পুরে, তৃপ্তি করে খান। কিন্তু আবদুর রহমানের মতন ভোজনরসিক ও দশাসই চেহারার মানুষ, পরিপূর্ণ ভোজন সত্ত্বেও লেখকের খাওয়াকে নিতান্ত সাধারণ ও কম ভেবে ‘আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি’ বলে অনুযোগ করে।

গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার ভ্রমণের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতার পরিচয় দাও।

ঘ. ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার যে পরিচয় রয়েছে তা আলোচনা করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
একাদশ মানের ক্যাডেট পিয়াস আন্তঃহাউস বাংলা কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে উপহার হিসেবে পায় হুমায়ূন আহমেদের ভ্রমণসমগ্র। ভ্রমণসমগ্রের পাঁচটি কাহিনি পায়ের তলায় খড়ম, রাবণের দেশে আমি ও আমরা, হোটেল গ্রেভার ইন, মে ফ্লাওয়ার, যশোহা বৃক্ষের দেশে পড়ার পর ভ্রমণকাহিনিতে তার নেশা ধরে যায় তারপর সে কলেজ লাইব্রেরি থেকে ইস্যু করে একে একে পড়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পায়ের তলায় সর্ষে, ছবির দেশে কবিতার দেশে, অন্নদাশঙ্করের জাপানে, পথে প্রবাসে, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাঁদের পাহাড়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপানযাত্রী, পারস্যযাত্রী ইত্যাদি ভ্রমণোপাখ্যানে দেশ-বিদেশের জীবনাচরণ, ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস সর্বোপরি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা সে পায় এবং বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে সে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

ক. লেখকের ভাষ্যে ইংল্যান্ডে মাত্র একবার কে কে আঁতাৎ হয়েছিল?
খ. ‘কাবুল শহরে আমি দুটি নরদানব দেখেছি। তার একটি আবদুর রহমান’- কেন বলেছেন?
গ. উদ্দীপকটিতে উল্লিখিত বিষয়বস্তুর সাথে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কোন দিকটির সাদৃশ্য বিদ্যমান তা আলোচনা করো।
ঘ. উদ্দীপটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সমগ্রভাবকে ধারণ করতে পেরেছে কি?- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. লেখকের ভাষ্যে ইংল্যান্ডে মাত্র একবার ভিক্টোরিয়া আলবার্ট আতাৎ হয়েছিল।
খ. 'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানের বিশাল শারীরিক গড়ন দেখে লেখক তাকে ‘নরদানব’ বলে অভিহিত করেছেন।
➠ লেখকের বাবুচি আবদুর রহমান বিশাল দেহের অধিকারী। উচ্চতায় সে ছয় ফুট চার ইঞ্চি। যেমন সে লম্বা, চওড়ায়ও তেমনি। তার হাত-পায়ের আঙুল সবই অস্বাভাবিক রকমের লম্বা; কাঁধের পরিসরও বিস্ময়কর। আবদুর রহমানের এই দানবীয় শারীরিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করেই লেখক তাকে ‘নরদানব’ উপাধি দিয়েছেন।

গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখকের ভ্রমণপিয়াসি মানসিকতার দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সামগ্রিকতা বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে এসেছেন দুইজন ফরাসি পর্যটক। তারা সমুদ্রের অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যখন সেলফি তুলছিলেন ঠিক সেই সময় পেছন থেকে ছিনতাইকারী তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পর্যটকরা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা ছিনতাইকারীদের ধরতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এতে করে বিদেশি পর্যটকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ক. ‘ওরভোয়া’ কী অর্থ নির্দেশ করে?
খ. লেখক কোনো একটা হদিসের সন্ধানে মগজ আঁতিপাতি করে খুঁজতে আরম্ভ করলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের ছিনতাইকারীদের সাথে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে। আবদুর রহমানের চরিত্রের বৈসাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. “পর্যটকদের নিরাপত্তা দেশের কল্যাণেই নিশ্চিত করতে হবে'-উদ্দীপক ও ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. ‘ওরভোয়া’ শব্দটি- আবার দেখা হবে অর্থ নির্দেশ করে।
খ. আবদুর রহমানের শারীরিক গঠন দেখে লেখকের তাকে বেপরোয়া অবস্থায় নিয়ন্ত্রণের পথ অনুসন্ধানে মগজ আঁতিপাঁতি করতে লাগলেন।
➠ আফগানিস্তানে লেখকের সেবক বিশালদেহী আবদুর রহমান। তার আচার-ব্যবহার অমায়িক হলেও শারীরিক গঠন ভয় পাওয়ার মতো। সে লেখকের সেবক ঠিকই কিন্তু যদি কখনো ক্ষেপে যায় তাহলে কী অবস্থা হবে, এটা নিয়ে লেখক ভাবতে থাকেন। তাকে সেই অবস্থায় নিয়ন্ত্রণের কোনো একটা পথই লেখক তন্ন তন্ন করে মনে মনে খুঁজছিলেন।

গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের আতিথেয়তা, আন্তরিকতা ও নিরাপত্তার ভরসার দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মূলভাব বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
শাপলা এবং তার কয়েজন বান্ধবী ঢাকা থেকে বাসে করে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। বান্দরবানের রাস্তায় বাস ঢুকলে রাস্তার দুইপাশের মনোরম দৃশ্য দেখে তারা গেয়ে উঠল’- এমন স্নিগ্ধ নদী কাহার, কোথায় এমন ধূম্র-পাহাড়; কোথায় এমন হরিৎক্ষেত্র আকাশ তলে মেশে।- বান্দরবান শহরে পৌঁছে তারা পরিচিত একটি পরিবারের আতিথেয়তা গ্রহণ করে। সেখানে দুপুরে তাদের খেতে দেওয়া হলো বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী নানা পদের খাবার। যেমন লাল বিনিচালের ভাপা পিঠা। কালো বিনিচালের ভাত, বাঁশ কোড়লের তরকারি, মাশরুম এবং সাথে বিভিন্ন ধরনের মাছ।

ক. ‘খাজামোল্লা’ গ্রামটির অবস্থান কোথায়?
খ. ‘পা দুখানা ডিঙি নৌকার সাইজ’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের শাপলাদের গানের মধ্যে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের চরিত্রর যে চেতনাবোধের পরিচয় পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের শেষ অংশটির সাথে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির যে সাদৃশ্য রয়েছে তার তুলনামূলক আলোচনা করো।

ক. ‘খাজামোল্লা’ গ্রামটির অবস্থান কাবুল থেকে আড়াই মাইল দূরে।
খ. ‘পা দুখানা ডিঙি নৌকার সাইজ’ বলতে লেখক আবদুর রহমানের পা দুটিকে স্বাভাবিকের থেকে লম্বা ও প্রশস্ত বুঝিয়েছেন।
➠ লেখকের বাবুর্চি আবদুর রহমান বিশাল দেহের অধিকারী। উচ্চতায় সে ছয় ফুট চার ইঞ্চি। যেমন সে লম্বা, তেমনি চওড়াও। তার হাত, পা স্বাভাবিকের তুলনায় লম্বা। পা দু'খানা ডিঙি নৌকার সাইজের অর্থাৎ স্বাভাবিক মানুষের পায়ের তুলনায় প্রশস্ত ও লম্বা।

গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের দেশাত্মবোধের দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে বর্ণিত আবদুর রহমানের আতিথেয়তার দিকটি বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রশিক্ষণের জন্য বিপ্লব ভারতের এক প্রত্যন্ত গ্রামে যায়। গ্রামের এক কৃষকের বাড়িতে সে আশ্রয় পায়। মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি, বাবরি চুলের ওপর পাগড়ি পরা বিশালদেহী গৃহসাকে দেখে বিপ্লব বিব্রতবোধ করে। লোকটি না জানি তার কোনো ক্ষতি করে বসে। বাস্তবে দেখা গেল, সে বাড়িতে তার জন্য একটি বিশেষ ঘরে নির্ধারণ করা হলো। সেটিতে লোকটি নিজে অবস্থান করতেন। চাহিদার অতিরিক্ত সেখানে পেয়েছিল বিপ্লব। বিপ্লবকে কৃষক নিজের ছেলের মতো আপন করে নিয়েছিলেন। এমনকি বিপ্লব মুক্তিযুদ্ধে স্বদেশের জন্য শহিদ হলে কৃষকটি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে।

ক. পানশির কোথায় অবস্থিত?
খ. ‘তোমার বপুটার সঙ্গে আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিখিনি।’-উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের লোকটির মনোভাব ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পে কীভাবে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘অতিথিপরায়ণতা ও দেশপ্রেম উদ্দীপক ও ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পে একইভাবে এসেছে কি? মতামত দাও।

ক. পানশির উত্তর আফগানিস্তানে অবস্থিত।
খ. আফগানিস্তানে লেখকের সেবক আবদুর রহমানকে তার বিশাল দেহের সাথে লেখকের ক্ষীণ দেহ মিলিয়ে দেখার প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে।
➠ আবদুর রহমান বিশাল দেহের অধিকারী আফগান লোক। সে লেখকের সেবায় নিয়োজিত হয়ে সীমাহীন অতিথিপরায়ণতার পরিচয় দেয়। কিছুক্ষণ পর পরই বিভিন্ন রকম খাদ্যসামগ্রী নিয়ে সে লেখকের কাছে হাজির হয়, যা লেখকের ক্ষীণ দেহে সাবার করা কঠিন। তাই তিনি আবদুর রহমানকে বোঝাতে চায় যে, তিনি তার মতো বিশাল দেহের লোক নন যে এত খাবার খেতে পারেন।

গ.‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আলোকে আবদুর রহমানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরো।

ঘ. ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আলোকে আবদুর রহমানের অতিথিপরায়ণতার দিকটি তুলে ধরো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১ম: আমেরিকানদের চোখে পারী হচ্ছে ইউরোপের রাজধানী। পারীর আসল সৌন্দর্য তার প্রশস্ত সরল রাজপথগুলো। পারীর যারা আসল অধিবাসী তারা খুব খাটতে পারে। আহার সম্বন্দ্বে এদের মোগলাই বুচি।

২য়: একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী। ফুলে ও ফসলে কাদা-মাটি-জলে, ঝলমল করে লাবণী হেরিণু পল্লী জননী।

ক. সৈয়দ মুজতবা আলী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন।
খ. রিলিফ ম্যাপের চেহারা বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন।
গ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আবদুর রহমানের চেতনার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের প্রথম অংশে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে”- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

ক. সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
খ. আবদুর রহমানের দৈহিক বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক রিলিফ ম্যাপের প্রসঙ্গ টেনেছেন।
➠ লেখকের বাবুর্চি আবদুর রহমান বিশাল দেহের অধিকারী। তার গায়ের রং ফর্সা তবে শীত-গ্রীষ্মে গায়ের চামড়া ফেটে গেছে। লেখক আব্দুর রহমানের শরীরের ফাটা চামড়াকে রিলিফ ম্যাপের সাথে তুলনা করেছেন।

গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আলোকে লেখকের দেশভ্রমণের অভিজ্ঞতার দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আলোকে আবদুর রহমানের স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগের দিকটি বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
হাস্যরস একপ্রকার ভাবদৃষ্টি। ইহার সাহায্যে লেখক মানবজীবনের অসঙ্গতি ও বৈষম্যকে এক সর্বগ্রাহী উদার অনুভূতি দ্বারা গ্রহণ করিয়া আপাত-বৈষম্যময় মানবজীবনকেও ক্ষমাসুন্দর হাস্যোজ্জ্বল বর্ণে অঙ্কিত করেন। জগৎ ও জীবনের প্রতি একটা নির্লিপ্ত অথচ অভিযোগ বা উচ্ছ্বাসহীন প্রসন্ন ও সহৃদয় মনোভাবই উৎকৃষ্ট হাস্যরসের লক্ষণ। সূত্র: সাহিত্য সন্দর্শন: শ্রীশচন্দ্র দাস।

ক. ‘চাচা কাহিনী’ গ্রন্থটির লেখক কে?
খ. ‘তবে আমার গোঁফ কামিয়ে ফেলবো’- কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় উদ্দীপকের কী কী লক্ষণ পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার রস বর্ণনাশৈলী বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ডিটেকটিভ উপন্যাস পড়ে সজীবের একঘেয়েমি ধরে গিয়েছিল। নতুন ধরনের সাহিত্যের খোঁজ পাবার উদ্দেশ্য নিয়ে সে বন্ধু জয়ের কাছে যায়। জয় তাকে শিবরাম চক্রবর্তীর বই পড়ার পরামর্শ দেয়। এই লেখকের বই পড়ে সজীব বেজায় মজা পায়। পড়তে পড়তে বার বার হেসে ওঠে আর মনে মনে জয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে।

ক. ‘লব-ই-দরিয়া’ বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়েছে?
খ. ‘ইংল্যান্ডে মাত্র একবার ভিক্টোরিয়া আলবার্ট আতাৎ হয়েছিল’- কথাটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের সজীবের একঘেয়েমি দূর হয়ে যেত ‘প্রবাস বন্ধু’র মত রচনার খোঁজ পেলে। যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'আমার ছেলেবেলাতে' চাকরদিগের সদার ব্রজেশ্বর সম্পর্কে লিখেছেন- 'আমাদের পাতে আগে থাকতে ঠিকমতো ভাগে খাবার সাজিয়ে রাখা তার (ব্রজেশ্বরের) নিয়ম ছিল না। আমরা খেতে বসলে একটি একটি করে লুচি আলগোছে দুলিয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করত, 'আর দেব কি'? কোন উত্তর তার মনের মত সেটা বোঝা যেত তার গলার সুরে। আমি প্রায়ই বলতুম, 'চাইনে।' তারপরে সে আর পীড়াপীড়ি করত না।'

ক. সৈয়দ মুজতবা আলী কোথায় রিডার নিযুক্ত হন?
খ. ‘আফগানিস্তানের সংস্কার' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের ব্রজেশ্বরের চরিত্রে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কোন চরিত্রের বিপরীত চিত্র ধরা পড়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখক দুজনের অভিজ্ঞতা বিপরীতধর্মী। বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ঝাড়ুদা টিন কাটলেন। কী আর বেরুবে? বেরুল রসগোল্লা। কাটাচামচের তোয়াক্কা না করে রসগোল্লা হাত দিয়ে তুলে প্রথমেই বিতরণ করলেন বাঙালিদের। তারপর যাবতীয় ভারতীয়, তারপর সবাইকে অর্থাৎ ফরাসি, জার্মান, ইতালীয় এবং স্পেনিয়ার্ডদের। তামাম চুঙ্গিঘর তখন রসগোল্লা গিলছে। আকাশে-বাতাসে রসগোল্লা, চুঙ্গিঘরের পুলিশ, বরকন্দাজ, চাপরাশি সকলেরই হাতে রসগোল্লা।

ক. সৈয়দ মুজতবা আলী সিলেটের কোন স্কুলে লেখাপড়া করেন?
খ. ‘রাইফেল চালাতে পার?’- এ প্রশ্নের উত্তরে আবদুর রহমান একগাল হাসল কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের ‘ঝাণ্ডুদা’ চরিত্রটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের চরিত্রের ছায়া মাত্র। উক্তিটি কি সমর্থনযোগ্য? বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জামান সাহেব মফস্বলে গেলেন অফিসের কাজে। কাছাকাছি একটি ঘর ভাড়া নিলেন। কাজকর্মে সহযোগিতা ও রান্নাবান্না করার জন্য স্থানীয় কিশোর রঞ্জকে রাখলেন। সে তার গ্রামের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মায়ের হাতের রান্না ছাড়া কোনো রান্নাই তার কাছে সুস্বাদু মনে হয় না। তার গ্রামের মতো সবুজ-শ্যামল স্থান নাকি আর কোথাও নেই। জামান সাহেব প্রকল্পের কাজ শেষে ঢাকায় ফিরে আসার সময় রঞ্জুকে সাথে আসতে বললেন কিন্তু রঞ্জু সাফ জানিয়ে দিল নিজ গ্রাম ছেড়ে আর কোথাও তার যেতে ইচ্ছে হয় না।

ক. কাবুল থেকে খাজা মোল্লা গ্রামের দূরত্ব কত?
খ. ‘অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর’- ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পে কথাটি কেন বলা হয়েছে?
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পের আবদুর রহমান ও উদ্দীপকের রঞ্জুর মধ্যে কী সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য রয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পের খণ্ডাংশ মাত্র-মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বারকোশে হরেক রকমের খাবারের নমুনা। তাতে দেখলুম, রয়েছে মুরগি মুসল্লম, শিক কাবাব, শামী-কাবাব আর গোটা পাঁচ-ছয় অজানা জিনিস। আমার প্রাণ অবশ্য তখন কাঁদছিল চারটি আতপ চাল, উচ্ছেভাজা, সোনামুগের ডাল, পটল ভাজা আর মাছের ঝোলের জন্য। অত-শত বলি কেন? শুধু ঝোল ভাতের জন্য। কিন্তু ওসব জিনিস তো আর বাংলাদেশের বাইরে পাওয়া যায় না। কাজেই শোক করে লাভ কী?

ক. দুম্বার মাংসের গামলায় কী দেখে লেখকের অপাঙক্তেয় বলে মনে হলো?
খ. ‘আস্ত উটের রোস্টটা হয়ত দিতে ভুলে গেছে’- কথাটি লেখক কেন ভেবেছেন?
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় বর্ণিত লেখকের খাবারের সাথে উদ্দীপকের কোন খাবারগুলোর সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার সমগ্র ভাবের প্রকাশ ঘটেনি”- মন্ত্রব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অ্যাডভেঞ্চার-প্রিয় অভি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে বিভিন্ন জায়গা ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে। বিচিত্র সব এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা-খাদ্য-ভাষা-সংস্কৃতি ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে। তার ভাষায় এটি ভ্রমণ নয় বরং অনুসন্ধান বা আবিষ্কার। তার মতে, ভ্রমণকাহিনি পড়ে অভিজ্ঞতা লাভের চেয়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়টাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতাগুলো সে তার ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করে রাখে।

ক. আবদুর রহমানের সরল আতিথেয়তাকে শেষাবধি লেখক কীভাবে গ্রহণ করেছেন?
খ. ‘আমার রান্না হুজুরের পছন্দ হয়নি।’ লেখকের প্রতি আগা আবদুর রহমানের এ অনুযোগের কারণ কী?
গ. উদ্দীপকের অভি চরিত্রে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার কোন বিষয়টি ধরা পড়েছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার সমগ্রভাবকে প্রকাশ করে না- যুক্তি দাও।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাশেদ ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে এক সপ্তাহের জন্য মা-বাবার সাথে শিলং বেড়াতে গিয়ে সপ্তাহের পুরোটা সময় শুধু হোটেল কক্ষে শুয়ে-বসে কাটিয়ে দিল। প্রচণ্ড রকম তুষারপাতের ফলে রাস্তাঘাট, গাছপালা, মাঠ-ঘাট সব বরফের তলায় চাপা পড়ে গিয়েছিল। বেড়ানো তো দূরের কথা, হোটেল কক্ষ থেকে বেরোতেই পারেনি সে।

ক. ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনাটি সৈয়দ মুজতবা আলীর কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
খ. খাবার টেবিলে গিয়ে লেখক কী রকম দৃশ্য দেখলেন? বর্ণনা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ভ্রমণ উপভোগ করার জন্য উদ্দীপকের মত আবহাওয়া মোটেই উপযুক্ত নয়- ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জাপানের ব্যস্ত শহর ইয়োকোহামায় নানা কাজে বিদেশিদের আগমন। নতুন দেশে অজানা ভাষায়, অচেনা সংস্কৃতিতে প্রবাসীদের পরম বন্ধু নিশি সান। তিনি বিদেশিদের জাপানিজ ভাষা শেখাতে, পথ চলতে, বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তিতে নানান কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। বিদেশিদের সাথে মিশে তিনি নানা দেশের ভাষা ও খ্যাদ্যাভ্যাস রপ্ত করে নিয়েছেন। অনেকে নিজ দেশে ফিরে গিয়েও তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

ক. মাংসের কোর্মাটা কীসের মাংসে তৈরি করা হয়েছিল?
খ. ‘তামাম আফগানিস্তান শহরে’ কোন খাবার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিটিকে কোন দিক থেকে প্রতিনিধিত্ব করছে? বর্ণনা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের সাথে মিল থাকলেও স্বদেশপ্রেম আবদুর রহমান চরিত্রটিকে অনন্য মাত্রায় উন্নীত করেছে”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমার বাড়ির ডালিম গাছে
ডালিম ফুলের হাসি,
কাজলা দিঘির কাজল জলে
হাঁসগুলি যায় ভাসি
আমার বাড়ি যাইও ভোমর এই বরাবর পথ,
মৌরি ফুলের গন্ধ শুঁকে
থামিয়ে দিও রথ।

ক. ‘ব্রহ্মরন্ধ্র’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘জুতো বুরুশ থেকে খুনখারাবি’ বলতে অধ্যক্ষ জিরার কী বোঝাতে চেয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রবাস কন্ধু’ রচনার একটিমাত্র দিককেই নির্দেশ করেছে”- উক্তিটির যৌক্তিকতা নির্ণয় করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১ম: আমেরিকানদের চোখে পারী হচ্ছে ইউরোপের রাজধানী। পারীর আসল সৌন্দর্য তার প্রশস্ত সরল রাজপথগুলো। পারীর যারা আসল অধিবাসী তারা খুব খাটতে পারে। আহার সম্বন্ধে এদের মোগলাই রুচি।

২য়: একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লিজননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা-মাটি-জলে, বঝলমল করে লাবণী
হেরিণু পল্লিজননী

ক. সৈয়দ মুজতবা আলী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন।
খ. রিলিফ ম্যাপের চেহারা বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন।
গ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের চেতনার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের প্রথম অংশে ‘প্রবাস কন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে'- উক্তিটি মূল্যায়ন করে।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জামান সাহেব মফস্বলে গেলেন অফিসের কাজে। কাছাকাছি একটি ঘর ভাড়া নিলেন। কাজকর্মে সহযোগিতা ও রান্নাবান্না করার জন্য স্থানীয় কিশোর রঞ্জুকে রাখলেন। সে তার গ্রামের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মায়ের হাতের রান্না ছাড়া কোনো রান্নাই তার কাছে সুস্বাদু মনে হয়য় না। তার গ্রামের মতো সবুজ শ্যামল স্থান নাকি আর কোথাও নেই। জামান সাহেব প্রকল্পের কাজ শেষে ঢাকায় ফিরে আসার সময় রজুকে সাথে আসতে বললেন কিন্তু রঞ্জু সাফ জানিয়ে দিলো নিজ গ্রাম ছেড়ে আর কোথাও তার যেতে ইচ্ছে হয় না।

ক. কাবুল থেকে খাজামোল্লা গ্রামের দূরত্ব কত?
খ. ‘অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর'- ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে কথাটি কেন বলা হয়েছে?
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান ও উদ্দীপকের রঞ্জুর মধ্যে কী সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির খণ্ডাংশ মাত্র- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
শাহীন সাহেব একজন রসিক ভদ্রলোক। তিনি নিজের জন্য ভাবেন না, নিজের খাওয়া অন্যকে খাইয়ে তিনি আনন্দ পান। ইউটিউব থেকে নানা রেসিপি অনুযায়ী রেঁধে সকলকে খাওয়ানোয় তার তুলনা নাই।

ক. কোথাকার আঙুর আফগানিস্তানে বিখ্যাত?
খ. ‘রাত দুটোর সময় খাবার জুটলেও জুটতে পারে’- লেখক কেন একথা বলেছেন?
গ. উদ্দীপকে শাহীন সাহেবের সাথে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কার মিল রয়েছে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির অনেক দিকই উদ্দীপকে অনুপস্থিত- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।'


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
হাস্যরস এক প্রকার ভাবদৃষ্টি। ইহার সাহায্যে লেখক মানবজীবনের অসংগতি ও বৈষম্যকে এক সর্বগ্রাহী উদার অনুভূতি দ্বারা গ্রহণ করিয়া আপাত বৈষম্যময় মানবজীবনকেও ক্ষমাসুন্দর হাস্যোজ্জ্বল বর্ণে অঙ্কিত করেন। জগৎ ও জীবনের প্রতি একটা নির্লিপ্ত অথচ অভিযোগ বা উচ্ছ্বাসহীন প্রসন্ন ও সহৃদয় মনোভাবই উৎকৃষ্ট হাস্যরসের লক্ষণ।

ক. ‘চাচা কাহিনী’ গ্রন্থটির লেখক কে?
খ. ‘তোমার খুশির জন্য নয়, আমার প্রাণ বাঁচাবার জন্য’ ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘প্রবাস কন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে উদ্দীপকের কী কী লক্ষণ পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির রস বর্ণনাশৈলী বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রশিক্ষণের জন্য বিপ্লব ভারতের এক প্রত্যন্ত গ্রামে যায়। গ্রামের এক কৃষকের বাড়িতে সে আশ্রয় পায়। মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাড়ি, বাবরি চুলের উপর পাগড়ি পরা বিশালদেহী গৃহস্থকে দেখে বিপ্লব বিব্রতবোধ করে। লোকটি না জানি তার কোনো ক্ষতি করে বসে। বাস্তবে দেখা গেল, সে বাড়িতে তার জন্য একটি বিশেষ ঘর নির্ধারণ করা হলো। সেটিতে লোকটি নিজে অবস্থান করতেন। চাহিদার অতিরিক্ত সেখানে পেয়েছিল বিপ্লব। বিপ্লবকে কৃষক নিজের ছেলের মতো আপন করে নিয়েছিলেন। এমনকি বিপ্লব মুক্তিযুদ্ধে স্বদেশের জন্য শহিদ হলে কৃষকটি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে।

ক. পানশির কোথায় অবস্থিত?
খ. ‘তোমার বপুটার সজো আমার তনুটা মিলিয়ে দেখো দিখিনি।’- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের লোকটির মনোভাব ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কীভাবে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘অতিথিপরায়ণতা ও দেশপ্রেম' উদ্দীপক ও ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে একইভাবে এসেছে কি? মতামত দাও।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সাহিত্যের ছাত্র রাজীব। সিলেবাসের বাইরের বই পড়তে তার বেশি ভালো লাগে। ভ্রমণ বিষয়ক বই তার সবচেয়ে প্রিয়। হাসনাত আবদুল হাই-এর ‘ট্র্যাভেলস’, অন্নদাশঙ্কর রায়ের ‘পথে প্রবাসে’, সুনীলের ‘ছবির দেশে কবিতার দেশে’, শঙ্করের ‘এপার বাংলা ওপার বাংলা’, যাযাবরের ‘দৃষ্টিপাত’, সঞ্জীবচন্দ্রের ‘পালামৌ’, রবীন্দ্রনাথের ‘জাপানযাত্রী’, ‘পারস্যযাত্রী’ ইত্যাদি সে পড়েছে। তার উপলব্ধি হলো- ভ্রমণকাহিনি পাঠে বিভিন্ন দেশের মানুষের ভাষা-সংস্কৃতি-খাদ্যাভ্যাস-জীবনাচরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়।

ক. ‘প্রবাস বন্ধু’ সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে-বিদেশে’ গ্রন্থের কততম অংশ?
খ. ‘আবদুর রহমান ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকাল' কেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তুর সাথে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার কী ধরণের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘ভ্রমণকাহিনি পাঠে বিভিন্ন দেশের মানুষের ভাষা-সংস্কৃতি-খাদ্যাভ্যাস-জীবনাচরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়।’-উক্তিটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আলোকে বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বারকোশে হরেক রকমের খাবারের নমুনা। তাতে দেখলুম, রয়েছে মুরগি মুসল্লম, শিক কাবাব, শামি কাবাব আর গোটা পাঁচ ছয় অজানা জিনিস। আমার প্রাণ অবশ্য তখন কাঁদছিল চারটি আতপ চাল, উচ্ছেভাজা, সোনামুগের ডাল, পটল ভাজা আর মাছের ঝোলের জন্য। অত-শত বলি কেন? শুধু ঝোল ভাতের জন্য। কিন্তু ওসব জিনিস তো আর বাংলাদেশের বাইরে পাওয়া যায় না। কালেই শোক করে লাভ কি?

ক. দুম্বার মাংসের গামলায় কী দেখে লেখকের অপাঙক্তেয় বলে মনে হলো?
খ. ‘আস্ত উটের রোস্টটা হয়তো দিতে ভুলে গেছে’- কথাটি লেখক কেন ভেবেছেন?
গ. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে বর্ণিত লেখকের খাবারের সাথে উদ্দীপকের কোন খাবারগুলোর সাদৃশ্য বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সমগ্র ভাবের প্রকাশ ঘটেনি” মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাশেদ ডিসেম্বর মাসে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে এক সপ্তাহের জন্য মা-বাবার সাথে শিলং বেড়াতে গিয়ে সপ্তাহের পুরোটা সময় শুধু হোটেল কক্ষে শুয়ে-বসে কাটিয়ে দিলো। প্রচন্ড রকম তুষারপাতের ফলে রাস্তাঘাট, গাছপালা, মাঠঘাট সব বরফের তলায় চাপা পড়ে গিয়েছিল। বেড়ানো তো দূরের কথা হোটেল কক্ষ থেকে বেরেতেই পারেনি সে।

ক. ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিটি সৈয়দ মুজতবা আলীর কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
খ. আবদুর রহমানকে ‘হরফন-মৌলা’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ভ্রমণ উপভোগ করার জন্য উদ্দীপকের মতো আবহাওয়া মোটেই উপযুক্ত নয়- ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আলোকে বিশ্লেষণ করো।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
খাত বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে এখানকার প্রকৃতিতেও দেখা দেয় পরিবর্তন। গ্রীষ্মকালে থাকে প্রচণ্ড তাপদাহ, ফলের গন্ধে ভরে ওঠে চারদিক। বর্ষায় সারাদিন ঝরঝর বৃষ্টি, খাল-বিল-নদীতে থই থই করে। হেমন্তে নতুন ধারে ভরে ওঠে এদেশের প্রতিটি ঘর। শীত হলো সবচেয়ে উপভোগ্য ঋতু। নানারকম পিঠা, সতেজ শাকসবজি আর সুস্বাদু খাবারের আনন্দে উদ্বেলিত হয় প্রতিটি বাঙালি পরিবার। বসন্তকে বলা হয় ঋতুর রাজা।

ক. আফগানিস্তানের রান্না ও পরিবেশন করা খাবারের মধ্যে কীসের পরিচয় পাওয়া যায়?
খ. পানশিরের বরফশীতল জলবায়ু আবদুর রহমানের কাছে আকর্ষণীয় কেন?
গ. উদ্দীপকের প্রকৃতির বর্ণনা ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির কোন দিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আংশিক প্রতিফলনমাত্র” আলোচ্য গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির সত্যতা বিচার করো।


তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. দেশে বিদেশে, সৈয়দ মুজতবা আলী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, তৃতীয় সংস্করণ(দশম মুদ্রণ), নভেম্বর ২০২০।
৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।

‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পটি লেখকের ‘দেশেবিদেশে’ গ্রন্থ থেকে গৃহীত।
খ. চাকর আবদুর রহমান খাওয়াতে পেরে আনন্দিত- সে অবস্থায় তাকে খেতে বলা অর্থহীন- এ প্রসঙ্গে উক্তিটি করা হয়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আবদুর রহমান একজন গৃহকর্মী। সে লেখকের সেবায় নিয়োজিত হয়ে সীমাহীন অতিথিপরায়ণতার পরিচয় দেয়। কিছুক্ষণ পরপরই নানা খাদ্যসামগ্রী নিয়ে লেখকের কাছে হাজির হয়। এ অবস্থায় লেখক আবদুর রহমানকে খেতে বললে সেটা যে অর্থহীন- তা বোঝাতেই কথাটি বলা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের রকিবের আচরণে ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পের আবদুর রহমানের চরিত্রের আতিথেয়তার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় সৈয়দ মুজতবা আলীর আফগানিস্তানে থাকাকালীন অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে। আফগানিস্তানে লেখকের দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল আবদুর রহমান নামক এক গৃহকর্মীর ওপর। তার মধ্য দিয়ে আলোচ্য রচনায় দেশপ্রেম, অতিথিপরায়ণতা, সহজসরল জীবন ইত্যাদি মূর্ত হয়ে উঠেছে।
➠ উদ্দীপকের রকিব তার নেপালি বন্ধু নবিনকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। গ্রামের পাশাপাশি সমুদ্রসৈকত, পাহাড়-পর্বত, প্রভৃতি স্থানে ঘুরে বেড়ায় তারা। রকিব ও তার পরিবারের আতিথেয়তা নবিনকে মুগ্ধ করে। বিদায়বেলায় তাই নবিনের চোখ ভিজে ওঠে। ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায়ও আবদুর রহমানের আতিথ্য ও আন্তরিকতা লেখককে মুগ্ধ করে, যা উভয়ের মাঝে সাদৃশ্য নির্মাণ করেছে।

ঘ. অবস্থানগত দিক থেকে উদ্দীপকের নবিন ও ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পের লেখকের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পের লেখক তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষ্টিকে সাহিত্যে উপস্থাপন করেছেন। বিশেষভাবে তাঁর সেবকের মাধ্যমে তিনি সেই বর্ণনাকে আরও প্রাণবন্ত করেছেন। ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে প্রকৃতি ও মানুষের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে লেখককে ভ্রমণপিয়াসী ও প্রকৃতিপ্রেমী বলা যায়।
➠ উদ্দীপকের নেপালি বংশোদ্ভূত নবিন পড়াশোনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে বাস করে। তার বাংলাদেশি বন্ধু রকিবের সাথে তার গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। রকিবের পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে। আতিথেয়তা নবিনকে মুগ্ধ করে। বাংলাদেশের পাহাড়, পর্বত, ঐতিহ্য তাকে বিস্মিত করে।
➠ উদ্দীপকের নবিন ও ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার লেখক উভয়ই ছিলেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে অতিথি। কিন্তু তারা চারিত্রিক দিক থেকে ভিন্ন। কেননা, ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় লেখকের ভ্রমণকাহিনিতে আফগানিস্তানের মানুষ, প্রকৃতি, কৃষ্টি প্রভৃতি দিক ফুটে উঠেছে। কিন্তু উদ্দীপকের নবিনের বক্তব্যে অনুরূপ কোনো দিক পরিলক্ষিত হয় না। তাছাড়া লেখকের ভ্রমণকাহিনি নিজের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে সকলের জন্য প্রকাশ করেছেন। তাই এ মন্তব্য যথার্থ যে, ‘প্রবাস বন্ধু’, গল্পের লেখক ও উদ্দীপকের নবিন এক নয়।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

ক. ‘হরফন-মৌলা’ অর্থ সকল কাজের কাজি।
খ. আবদুর রহমানের বিপুল আয়োজন দেখে লেখক এরূপ ভেবেছেন।
➠ লেখক আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সন্নিকটে খালামোল্লা নামক গ্রামে বসবাস করার সময় আবদুর রহমান নামের একজন তার দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। লেখক যখন অনেক রাত করে বাসায় ফিরলেন এবং আবদুর রহমান তাকে দর্শন দিয়ে গেল তখনই লেখকের মনে হলো, সবকিছু গোছগাছ করে রান্না করতে অনেক রাত নিশ্চয়ই হয়ে যাবে। তাই তার মনে হলো- রাত দুটোয় খাবার জুটলেও জুটতে পারে।

গ. উদ্দীপক-১-এ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় উল্লিখিত আফগানদের অতিথিপরায়ণতার দিকটি চমৎকার বাণীব্যঞ্জনায় ঔজ্জ্বল্য নিয়ে ফুটে উঠেছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমান চরিত্রটি অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। সে লেখককে খুশি করতে প্রচেষ্টার কোনো অন্ত রাখেনি। লেখককে অত্যন্ত ভালোবাসা আর মর্যাদার সাথে আপ্যায়ন করেছিল। লেখকের জন্য সে হরেক রকম সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করে।
➠ অতিথি আপ্যায়নে বাঙালি আর আফগানরা প্রায় একই রকম মানসিকতা পোষণ করে। বাঙালির আপ্যায়নের উপকরণ খুব দামি নয়; কিন্তু অকৃত্রিম আন্তরিকতায় আর্দ্র। খানা খাবার পর আবদুর রহমান লেখককে দেশীয় আপ্যায়নে মুগ্ধ করে। সে ফালুদা, আঙুর, বাদাম, চা প্রভৃতি পরিবেশন করতে লাগল, যা আফগানদের আন্তরিক আপ্যায়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলা যায়।

ঘ. উদ্দীপক-২-এ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আবদুর রহমানের দেশপ্রেমের চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ স্বদেশপ্রেম মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য এবং প্রতিটি মানুষ তার স্বদেশের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। তাই স্বদেশের প্রকৃতি, জনপদসহ প্রতিটি উপকরণ মানুষকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে। আলোচ্য রচনার আবদুর রহমানের চেতনায় এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
➠ উদ্দীপক-২-এ জন্মভূমির প্রকৃতির সৌন্দর্যের বর্ণনা করা হয়েছে। কবির মতে, বাংলা অপরূপ রূপ ও মাধুর্যে সমৃদ্ধ। বাংলার এ রূপ যেকোনো মানুষকে বিমোহিত করে। কবি দেশের সৌন্দর্যে এতটাই মুগ্ধ যে তিনি পৃথিবীর আর কোনো সৌন্দর্য খুঁজতে যান না।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় লেখক আবদুর রহমানের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি আবদুর রহমানের স্বদেশপ্রেমের এক অনন্য চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। আমরা দেখি, তার জন্মস্থান উত্তর আফগানিস্তানের পানশির তার কাছে সবদিক বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। সেখানকার আবহাওয়া, খাদ্য, পরিবেশ, সবই তার বিবেচনায় সেরা। তার মধ্যে প্রগাঢ় দেশপ্রেম লক্ষণীয়। প্রবল দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েই সে তার দেশের বরফ শীতল আকর্ষণীয় জলবায়ুর মুগ্ধতার কথা লেখককে বর্ণনা করে। আর আবদুর রহমানের দেশপ্রেমের চেতনাটিই উদ্দীপক-২-এ প্রতিফলিত হয়েছে।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

ক. অধ্যক্ষ জিরার জাতে ফরাসি।
খ. আবদুর রহমানের শারীরিক গঠনের বিশালতা দেখে লেখক নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ভরসা যেমন পেয়েছেন তেমনি তাকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ভয় পেয়েছেন।
➠ আবদুর রহমান ছিলেন বিশালদেহী মানুষ। তার আচার-আচারণ ছিল অমায়িক। ফলে লেখক তাকে নিয়ে ভরসা পান। কিন্তু কখনো যদি এ রকম বিশালদেহী মানুষ বিগড়ে যায় তাহলে তাকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে লেখক চিন্তিত হয়ে পড়েন। ফলে লেখক আবদুর রহমানকে জরিপ করে ভরসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি ভয়ও পেয়েছেন।

গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও রান্নার বৈচিত্র্য প্রাধান্য পেয়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখক তাঁর কর্মস্থল আফগানিস্তানের সৌন্দর্য ও বিচিত্র স্বাদের রান্নার কথা বলেছেন। সেখানে গ্রীষ্মকালেও উঁচু নীল পাহাড়ের গায়ে সাদা সাদা বরফের সৌন্দর্য দেখা যায়। আর শীতকালে তুলোর মতো বরফ পড়ে সবসময়। তখন রাস্তাঘাট সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। সেখানকার মানুষ বিচিত্র রকমের এবং বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করে। এক জনের খাবার আমাদের দেশে ৫/৬ জনের খাবারের পরিমাণ। একই সাথে পোলাও, মাংস, রোস্ট, কোরমা, কোপ্তা, বাদাম কিসমিস আঙুর সবকিছুই খায়।
➠ উদ্দীপকে কুয়াকাটার সৌন্দর্য ও সেখানকার বিচিত্র রকমের খাবারের কথা বলা হয়েছে। পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ দিনদিন বাড়ছে। যাওয়ার পথটি সহজ এবং সময়ও অনেক কম লাগছে। সেখানে সাগর সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যান্ত- উভয়েই দেখা যায়। এখানের হোটেল-মোটেলগুলোর রান্নার বৈচিত্র্য থাকলেও স্বাদের ততটা ভালোলাগা তৈরি হয়নি। এভাবেই উদ্দীপক এবং ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় আমরা প্রকৃতির রূপ এবং খাবারের বৈচিত্র্যের সন্ধান পাই।

ঘ. উদ্দীপকে সাগর কন্যা কুয়াকাটার রান্নার বৈচিত্র্য আকর্ষণীয় না হলেও ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় আফগানিস্তানের বিচিত্র ও সুস্বাদু খাদ্যবস্তুর পরিচয় মেলে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির মাধ্যমে আমরা আফগানিস্তানের মানুষের খাবার দাবারের বিচিত্র রূপ ও স্বাদের পরিচয় পাই। লেখকের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদেহী বাবুর্চি আবদুর রহমান। লেখকের জন্য সে এক রাতের খাবার পরিবেশন করেছেন। সেখানে দেখা যায়, গামলা ভর্তি মাংসের কোরমা, পিঁয়াজ-ঘি ঘন করে রান্না দুম্বার মাংস, সেখানে বাদাম-কিসমিসের মিশেল, শামী কাবাব, পোলাও, কোপ্তা, আস্ত মুরগির রোস্ট ইত্যাদি মজাদার আয়োজন। খাবার শেষে পরিবেশ করা হলো ফালুদা বা গোলার বরফি বরফি আঙুর, কাবুলি সবুজ চা। খাবার যেমন বিচিত্র তার স্বাদও অসাধারণ।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায় সাগরকন্যা কুয়াকাটার কথা। পদ্মাসেতু খুলে দেওয়ার পর সেখানে যাতায়াতের সুবিধার কারণে পর্যটকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কুয়াকাটার সৈকতে দাঁড়িয়ে একই সাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উভয়েই দেখা যায়। কিন্তু সেখানকার হোটেল-মোটেলের রান্নার বৈচিত্র্য আকর্ষণীয় নয়। তাই ভ্রমণকারীর জন্য এটা একটা কষ্টের খবর বটে। কিন্তু ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় আমরা এর বিপরীত চিত্র অর্থাৎ বিচিত্র ও সুস্বাদু খাবারের সন্ধান পাই।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. অধ্যক্ষ জিরার ফ্রান্সের অধিবাসী ছিলেন।
খ. বিভিন্ন ধরনের কাজে দক্ষতা থাকায় আবদুর রহমানকে ‘হরফন মৌলা’ বা সকল কাজের কাজি বলা হয়েছে।
➠ আবদুর রহমান একজন বিশালদেহী মানুষ। সে লেখকের খাবার রান্না করা থেকে শুরু করে জুতা ব্রাশ করা পর্যন্ত সকল কাজ করে দেয়। বোঝা বহন করা ও অন্যান্য সকল কাজেও সে পারদর্শী। তাই তাকে হরফন মৌলা বা সকল কাজের কাজি বলা হয়েছে।

গ. কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের খলিল মিয়ার সাথে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আবদুর রহমানের সাদৃশ্য রয়েছে।
➠ আলোচ্য গল্পের লেখক কাজের সূত্রে আফগানিস্তান গেলে আবদুর রহমান তার দেখাশুনার দায়িত্বে ছিল। আবদুর রহমান ছিল সকল কাজে পারদর্শি। ভিনদেশি আবদুর রহমানের কাছ থেকে লেখক আতিথেয়তার পরিচয় পেয়েছিলেন। আবদুর রহমান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে লেখকের জন্য বিচিত্র রকম আফগানি খাবার বিপুল পরিমাণে রান্না করেছিল। সে লেখককে খুশি করতে প্রচেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেনি। লেখককে অত্যন্ত ভালোবাসা আর মর্যাদার সাথে আপ্যায়ন করেছিল। মূলত তার কাজ সে অত্যন্ত যত্ন আন্তরিকতা সাথে সম্পন্ন করে।
➠ উদ্দীপকের খলিল মিয়া স্কুলের পিয়ন। সে চল্লিশ বছর থেকে এই কাজে নিযুক্ত। সে বরাবরই কাজের প্রতি নিবেদিত প্রাণ। স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই তাকে অনেক পছন্দ করে তার পরোপকারী মানসিকতার জন্য। তাই বলা যায়, কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং আন্তরিকতার দিক থেকে খলিল মিয়া ও আবদুর রহমান সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র।

ঘ. ‘প্রবাস বন্ধু’ একটি ভ্রমণকাহিনি হওয়ায় উদ্দীপকটি আলোচ্য রচনার সমগ্র চিত্র নয় আংশিক চিত্র ধারণ করেছে।
➠ ‘প্রবাস-বন্ধু’ গল্পের লেখক তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ভিন্ন দেশের ঐতিহ্য, মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষ্টিকে সাহিত্যে উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে তাঁর সেবকের মাধ্যমে তিনি সেই বর্ণনাকে আরও প্রাণবন্ত করেছেন। এই ভ্রমণ কাহিনিতে প্রকৃতি ও মানুষের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তাতে লেখকের ভ্রমণপিয়াসী মনের দেখা মেলে।
➠ উদ্দীপকে পিয়ন খলিল মিয়ার জীবনচিত্র স্থান পেয়েছে। খলিল মিয়া প্রায় ৪০ বছর ধরে একটি স্কুলে কাজ করছে। সে তার কাজের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল। তাই তাকে সকলে পছন্দ করে এবং ভালোবাসে।
➠ উদ্দীপকের বক্তব্যে শুধু খলিল মিয়ার কাজে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল দিকটি ফুটে উঠেছে। কিন্তু আলোচ্য প্রবন্ধের মূল উপজীব্য হলো ভ্রমণপিয়াসী মানসিকতা। এখানে লেখক আফগানিস্তান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছেন। প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ, সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাবরণ লেখক দরূণভাবে উপভোগ করেন যা হাস্যরসাত্মক ভাবে এই রচনায় স্থান পায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য রচনার একটি খণ্ডাংশমাত্র।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘বারকোশ’ হলো কাঠের তৈরি কানা উঁচু বড় খালা।
খ. সৈয়দ মুজতবা আলী শীতকালে পানশিরে যাওয়ার আশা ব্যস্ত করলে তার ভৃত্য আবদুর রহমান খুশিতে গদগদ হয়ে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।
➠ উত্তর আফগানিস্তানের একটি জায়গা হলো পানশির। সেখানে শীতকালে প্রচণ্ড বরফ পড়ে। বরফে পথঘাট, মাঠ, পাহাড়, নদী সব বরফে ঢাকা পড়ে যায়। সেখানকার বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিলে আয়ু কয়েক বছর বেড়ে যায়। আবদুর রহমানের কাছে পানশিরের চমৎকার আবহাওয়ার কথা শুনে লেখক শীতকালটা পানশিরে কাটানোর বাসনা ব্যক্ত করেন। এতে খুশিতে আবদুর রহমান প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

গ. উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণ কাহিনির আবদুর রহমানের স্বদেশপ্রেমের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণ কাহিনীতে আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ ও পানশিরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা করা হয়েছে। ভ্রমণ কাহিনিটিতে আবদুর রহমানের সরলতা ও স্বদেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। আবদুর রহমান লেখকের নিকট তার দেশের যে বর্ণনা তুলে ধরেছেন তাতে তার অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রে ফুটে উঠেছে। পানশির যে আবদুর রহমানের উদ্যম, পরিশ্রম ও নবজীবন লাভের উৎস ভূমি তা তার বর্ণনায় উপলব্ধি করতে পারা যায়।
➠ উদ্দীপকেও দেশ প্রেম, দেশের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার দিকটি প্রস্ফুটিত হয়েছে। দেশ হলো সকল প্রেরণার উৎস। দেশের ঋতু বৈচিত্র্য, প্রত্যেক ঋতুতে আপন রূপে সজ্জিত হওয়ার বিষয়টি উদ্দীপকের কবিকে মুগ্ধ করে। মাতৃভূমির মাটি যেন মানুষের প্রাণ এবং এই মাটিই মানুষকে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণ কাহিনির আবদুর রহমানের স্বদেশপ্রেমের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত চেতনাটিই ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণ কাহিনির পূর্ণ প্রতিফলন নয় কারণ প্রবাস বন্ধু ভ্রমণ কাহিনিটিতে দেশপ্রেমের পাশাপাশি আতিথেয়তা, সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ একটি ভ্রমণ কাহিনি। এই প্রবন্ধে লেখক বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে সেই দেশের মানুষের আচার-আচরণ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের কথা বলেছেন। বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের মাধ্যমে সেই দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন জানা যায় তেমনি সেই দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়। এই ভ্রমণ কাহিনিতে প্রতিবেশি দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ, সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজ-সরল জীবনাচরণ ফুটে উঠেছে।
➠ উদ্দীপকে শুধুমাত্র দেশপ্রেমের বিষয়টি উল্লেখিত। প্রত্যেকটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের কাছে তার দেশ সবচেয়ে প্রিয়। স্বদেশ মানুষকে আলো দেয়, পূর্ণতা দেয়। স্বদেশের রূপবৈচিত্র্য মানুষকে সুভাশিত করে। নবজীবনের চেতনাই মানুষকে উজ্জীবিত করে।
➠ উদ্দীপক ও ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আলোকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রতিফলিত চেতনাটি প্রবাস বন্ধু ভ্রমণ কাহিনির পূর্ণ রূপ নয়। উদ্দীপকে শুধুমাত্র স্বদেশপ্রেম ও তার রূপবৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে কিন্তু প্রবাস বন্ধু ভ্রমণকাহিনিতে আফগানিস্তানের প্রকৃতি, পরিবেশ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তাই বলা যায়, ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণ কাহিনীর মূলভাব উদ্দীপকে অনুপস্থিত।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. ‘বপু’ শব্দের অর্থ- বড়ো দেহ।
খ. আফগানিস্তানে গুরুজনের দিকে না তাকানোর সংস্কার বা রীতি রয়েছে।
➠ লেখকের আতিথেয়তায় নিযুক্ত বিশালদেহী আবদুর রহমান খুবই বিনয়ী প্রকৃতির লোক। সে অতিথিসেবায় যেমন ত্রুটি করে না তেমনি ভক্তি-শ্রদ্ধা প্রদর্শনেও তার কমতি নেই। তার দেশ আফগানিস্তানের রীতি অনুযায়ী গুরুজনের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে নেই। সেই সংস্কার পালন করে প্রথম দিন থেকেই লেখকের সামনে কার্পেটের দিকে তাকিয়ে থাকত। কখনো চোখ উঠিয়ে কথা বলেনি।

গ. উদ্দীপকের রসিক ব্যক্তিটি ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার অতিথিপরায়ণ আবদুর রহমান চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার আবদুর রহমান চরিত্রটি বিদেশি অতিথির প্রতি দারুণ যত্নশীল ও আন্তরিকতাপূর্ণ। আফগানিস্তানের প্রকৃতি-পরিবেশ ও হরেকরকম খাবারের পরিচয় অত্যন্ত চমৎকারভাবে সে তুলে ধরেছে। লেখক যা প্রত্যাশা করেননি, আবদুর রহমান তার চেয়ে অনেক বেশি করেছে। তার অমায়িক ব্যবহার, বিনয়, আন্তরিকতা লেখককে কল্পনাতীত মুগ্ধ করেছে।
➠ উদ্দীপকের রসিক ব্যক্তিটিও অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ একজন অতিথি সেবক। নেপালে যাওয়া রহমান সাহেবের দেখাশুনার দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে সে সেবার কোনো ত্রুটি করেনি। সেখানকার বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে সে রহমান সাহেবকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাঁর সাথে সুন্দর সময় কাটায়। একজন আদর্শ অতিথি সেবকের এমন বৈশিষ্ট্য 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আবদুর রহমানের চরিত্রকে প্রকাশ করে। সেও লেখকের দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে আফগানিস্তানের সুস্বাদু ও বিচিত্র খাদ্যবস্তুর সমাহার ঘটায়। নিজ দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিচয় তুলে ধরে প্রবাসী লেখকের সামনে। তার অমায়িক ব্যবহার ও আতিথেয়তায় লেখক খুব সন্তুষ্ট হন। উদ্দীপকের রসিক ব্যক্তির চরিত্রেও এমন বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠায় তাকে রহমানের প্রতিচ্ছবি বলা যায়।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার প্রবাস জীবনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পরিচয় ও সেবক আবদুর রহমানের সকল বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে না পারায় গল্পের সম্পূর্ণভাবকে ধারণ করতে পারেনি।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পে অতিথিপরায়ণতার সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রকৃতি পরিবেশের পরিচয় ফুটে উঠেছে। বিদেশি অতিথির প্রতি কেমন আচরণ করতে হবে তার রীতিও গল্পে উপস্থাপিত হয়েছে। তাছাড়া আবদুর রহমানের নম্রতা, দেশপ্রেম, সরলতা ও কর্মস্পৃহা রচনাটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
➠ উদ্দীপকে কেবল অতিথি সেবার বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে। রহমান সাহেবের নেপালে অবস্থানকালীন রসিক ব্যক্তিটির সঙ্গ খুবই সুন্দর ছিল। সে বিভিন্ন খাবারের সাথে রহমান সাহেবকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তার সাথে বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা করে অতিথির সুন্দর সময় কাটে। তিনি সেখানকার ভৌগোলিক পরিবেশ দেখেও মুগ্ধ হন।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পে লেখকের প্রবাস জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও সেবক আবদুর রহমানের চারিত্রিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভিন্ন দেশের বৈচিত্র্যময় পরিবশে লেখকের ভ্রমণকে সার্থক করেছে। আফগানিস্তানের প্রস্তরভূমি ও বরফ শীতল জলবায়ু তাঁর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। তাছাড়া অতিথির প্রতি সেবকের বিনয় প্রকাশের অভূতপূর্ব সংস্কার অসাধারণ ছিল। গল্পে লেখকের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আবদুর রহমানের বিশালদেহের যে বর্ণনা তাও রোমাঞ্চকর। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো আবদুর রহমানের কর্মদক্ষতা, কর্মস্পৃহা ও নিজ দেশের সুস্বাদু বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার পরিবেশন করে অতিথি আপ্যায়ন। তার আনুগত্য, অমায়িক ব্যবহার অতুলনীয়। লেখক কখনো কখনো তার আতিথেয়তায় ধৈর্যচ্যুত হলেও শেষ পর্যন্ত একে সাদরে গ্রহণ করেছেন। উদ্দীপকে আলোচ্য গল্পের বিষয়বস্তুর সম্পূর্ণভাব ফুটে ওঠেনি, আংশিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ক. ‘রুজ’ শব্দের অর্থ গাল রাঙানোর প্রসাধনী।
খ. ‘শুনতে পাই ফ্রান্সে নাকি নিত্যি-নিত্যি, ঘরে ঘরে’ বাক্যাংশটি দ্বারা লেখক রূপকার্থে ফ্রান্সের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবক্ষয়ের কারণে জনসাধারণের নিরাপত্তাহীনতার দিকটিকে ইঙ্গিত করেছেন।
➠ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পরিবেশ রাতের বেলা যেকোনো মানুষের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই এখানে রাতে নিরাপত্তাসহ বেরুনোই সমীচীন। কিন্তু লেখক তা না করে একাই বেরিয়ে পড়েছেন দেখে তাঁর বস জিরার সাহেব তাঁকে তাচ্ছিল্য করেন। তখন লেখক জিরার সাহেবের নিজ দেশ ফ্রান্সের সার্বিক পরিস্থিতি যে সেখানকার মানুষের জন্য নিরাপদ নয় সেই বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে, আলোচ্য কথাটি বলেছেন।

গ. উদ্দীপক ও ‘প্রবাস-বন্ধু’ রচনার বিষয়বস্তু গত সাদৃশ্য থাকলেও বেশ কিছু বৈসাদৃশ্যও চোখে পড়ে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় সৈয়দ মুজতবা আলীর আফগানিস্তানে থাকাকালীন অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে। লেখক হাস্যরসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন সে দেশের প্রকৃতি ও জনজীবনের পরিচয়। আফগানিস্তানে লেখকের দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল আবদুর রহমান নামক এক গৃহকর্মীর ওপর। তার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম, অতিথি পরায়ণতা, সহজসরল জীবনযাপন ইত্যাদি চেতনা মূর্ত হয়ে উঠেছে আলোচ্য রচনায়।
➠ উদ্দীপকের ইফতি ও রাফি সোনারগাঁওয়ে সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের মাজার ভ্রমণে যায়। মূলত বই পড়ে সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের অবদান সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাঁর প্রতি আগ্রহী হয়ে তাঁর মাজার ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। এখানে বই পড়ে ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ তৈরির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। আর আলোচ্য রচনায় কর্মসূত্রে লেখককে দেশের বাহিরে যেতে হয় যা রথ দেখা কলা বেচার মতো। তাছাড়া রচনায় যে হাস্যরসের উপস্থিতি এবং আবদুর রহমান চরিত্রের বৈচিত্র্য তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জনে ও ভ্রমণপিয়াসী মানসিকতার দিকটি উদ্দীপক ও রচনায় সাদৃশ্য তৈরি করলেও বেশ কিছু বৈসাদৃশ্যও সুস্পষ্ট।

ঘ. দেশ-বিদেশে ভ্রমণের মাধ্যমে ব্যস্তির জ্ঞানের বিকাশ ঘটে এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়।
➠ সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের অংশবিশেষ প্রকাশ পেয়েছে। কর্মসূত্রে লেখক সে দেশে গিয়েছিলেন। সেখানে আবদুর রহমান নামক এক আফগান তাঁর দেখাশোনার দায়িত্বে নিযুক্ত হয়, যার চারিত্রিক সরলতা, স্বদেশপ্রেম, অতিথিপরায়ণতা লেখককে মুগ্ধ করেছিল। তাছাড়া প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ, সেখানকার মানুষ ও তাদের সহজসরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্য ইত্যাদি বিষয় হাস্যরসাত্মকভাবে এই রচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
➠ উদ্দীপকে ভ্রমণের মধ্যদিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতার জগৎ সমৃদ্ধ করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ইফতি ও রাফি বই পড়ে উৎসাহিত হয়ে সোনারগাঁও ভ্রমণে যায়। সেখানে সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের মাজার ভ্রমণ ছিল তাদের আসল উদ্দেশ্য। এই ভ্রমণের মধ্যদিয়ে তারা ইতিহাস ও বর্তমানের মেলবন্ধন খুঁজে পায়।
➠ আফগানিস্তান ভ্রমণের মধ্যদিয়ে লেখক সে দেশের মানুষের ভাষা-সংস্কৃতি খাদ্যাভাস-জীবনাচরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন যা তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জগৎকে আরও প্রসারিত করে। অন্যদিকে উদ্দীপকেও ভ্রমণের মধ্যদিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের দিকটি সুস্পষ্ট। তাই অনায়াসেই বলা যায়, দেশ-বিদেশে ভ্রমণের মাধ্যমে ব্যক্তির জ্ঞানীয় বিকাশ সাধিত হয়।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. বাগেবালার বরফি আঙুর তামাম আফগানিস্তানে মশহুর।
খ. খাবারের আধিক্য দেখে লেখকের যে অবস্থা হয়েছিল, তা বোঝাতেই প্রবাদটি ব্যবহার করা হয়েছে।
➠ আবদুর রহমান লেখককে বিপুল পরিমাণ বিচিত্র ও সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করে। প্রথম দিনেই সে গামলা ভর্তি মাংসের কোরমা, দুম্বার মাংস, বোম্বাই সাইজের শাহি-কাবাব, কোফতা-পোলাও, আস্ত মুরগির রোস্ট ইত্যাদি খাবার লেখকের সামনে পরিবেশন করে। এত খাবার আনার পরও রান্নাঘরে আরও আছে বলে সে লেখককে জানায়। ছয়জনের খাবার পরিবেশন করে আরও আছে বললে লেখকের অবস্থা এমন হয় যে অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথর।

গ. আলোচ্য উক্তিটি 'প্রবাস বন্ধু' রচনার আলোকে যথার্থ।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ প্রবন্ধে লেখক তার আফগানিস্তান ভ্রমণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। আফগানিস্তানের প্রস্তরময় ভূমি, হিমশীতল জলবায়ু, বিচিত্র খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতি তার কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা যায়। ভিনদেশের বিচিত্র সংস্কৃতি, ভাষা ও মানুষের দৈহিক গড়ন ইত্যাদি সবকিছুই লেখককে অত্যন্ত আকৃষ্ট করেছে।
➠ উদ্দীপকে ভ্রমণের প্রতি মানষের সহজাত তৃষ্ণার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। মানুষ বরাবরই ভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ধর্ম, সংস্কার ঐহিত্য ও ইতিহাসের প্রতি কৌতূহলী। ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনাতেও লেখক আফগানিস্তানের নতুন ভূমিরূপ ও সংস্কৃতির বিচিত্র দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের বিচিত্র অভিজ্ঞতারই অংশ যেন 'প্রবাস বন্ধু' রচনা।

ঘ. উদ্দীপকের শেষ লাইনটি ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনা পাঠের মাধ্যমে পাঠকের আফগানিস্তানের বিচিত্র ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত হওযার দিকটিকে নির্দেশ করে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনা পাঠের মাধ্যমে আফগানিস্তানের অবস্থানকালে লেখকের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা পাঠক জানতে পারে। এ রচনা পাঠের মাধ্যমে পাঠকেরা আফগানিস্তানের প্রস্তরময় ভূমিরূপ, হিমশীতল জলবায়ু, জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, ইতিহাস বিষয়ে লেখকের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারে।
➠ উদ্দীপকের শেষ লাইনে বলা হয়েছে যে, লেখকদের ভ্রমণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা তারা লিপিবদ্ধ করেন সাহিত্যের পাতায় এবং সেই সাহিত্য পাঠ করে পাঠকেরা তাদের কৌতুহল নিবৃত্ত করেন। ফলে তাদের অভিজ্ঞতার জগত সমৃদ্ধ হয়।
➠ ভ্রমণের প্রতি মানুষের সহজাত এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করে। নানা দেশের নানা ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, জলবায়ু, খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতি বিষয়ে মানুষের অনেক কৌতূহল কাজ করে। লেখকেরা তাদের ভ্রমণের এ সকল বিচিত্র অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেন। মানুষ তাদের সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পড়ে ভিনদেশের বিচিত্রতা ও ভিন্নতা সম্পর্কে জানতে পারে।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ক. ‘তরী’ শব্দের অর্থ তিরস্কার।
খ. আবদুর রহমানের শারীরিক গঠন দেখে লেখকের তাকে বেপরোয়া অবস্থায় নিয়ন্ত্রণের পথ অনুসন্ধানে মগজ আতিপাতি করতে লাগলেন।
➠ আফগানিস্তানে লেখকের সেবক বিশালদেহী আবদুর রহমান। তার আচার-ব্যবহার অমায়িক হলেও শারীরিক গঠন ভয় পাওয়ার মতো। সে লেখকের সেবক ঠিকই কিন্তু যদি কখনো ক্ষেপে যায় তাহলে কী অবস্থা হবে, এটা নিয়ে লেখক ভাবতে থাকেন। তাকে সেই অবস্থায় নিয়ন্ত্রণের কোনো একটা পথই লেখক তন্ন তন্ন করে মনে মনে খুঁজছিলেন।

গ. অন্যকে খাওয়ানোর প্রতি আন্তরিকতা প্রদর্শনের দিক থেকে উদ্দীপকের ব্রজেশ্বরের চরিত্রে ‘প্রবাস বন্ধু’ গল্পের আবদুর রহমান চরিত্রের বিপরীত দিক ধরা পড়েছে।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় বর্ণিত আবদুর রহমানের রসনাবোধ অতি প্রবল। সে নানা ধরনের রান্নায় দক্ষ, ভোজনরসিক এবং পরিবেশনেও সিদ্ধহস্ত। সে রান্না করে অন্যকে খাইয়ে পরিপূর্ণ তৃপ্তি পায়। আপ্যায়িত ব্যক্তি প্রচুর খেলেও সে ভাবে খাওয়া বুঝি ঠিকঠাক হলো না।
➠ উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রজেশ্বর যেন তা থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। খাবার পরিবেশন ও অন্যকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে তার মনোভাব ও কর্মকান্ডে অনাগ্রহ ও অনীহার ছাপ স্পষ্ট। ব্রজেশ্বর চরিত্র তাই আবদুর রহমানের বিপরীত।

ঘ. আতিথেয়তা ও ভোজন রসনার দিক থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও লেখকের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় আবদুর রহমান লেখকের নিকট অনেক পদের খাবার অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশন করে। পেট পুরে লেখক এসব সুস্বাদু খাবার প্রচুর খেলেও আবদুর রহমান ভাবে লেখক বুঝি ঠিকভাবে খেলেন না। অর্থাৎ খাওয়ানোর বিষয়ে তার মধ্যে কোনো জড়তা ছিল না।
➠ অন্যদিকে উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্রজেশ্বর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের খাবার ঠিকভাবে রাখা তো দূরে থাক, একটি মাত্র লুচি ঝুলিয়ে বলত, ‘আর দেব কি?’ তার গলার সূরেই বোঝা যেত, সে খাদ্য পরিবেশন ও অন্যকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে নিতান্ত অনাগ্রহী। ফলে রবীন্দ্রনাথকে তার প্রশ্নের উত্তরে বলতে হতো, ‘আর চাইনে।’
➠ কিছু মানুষ আছেন যাঁরা অন্যকে খাইয়ে আনন্দ পান। ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনায় বর্ণিত আবদুর রহমান তেমনই একজন মানুষ। এ কারণে লেখক প্রচুর পরিমাণে খেলেও আবুদর রহমান ভাবে খাওয়া কম হয়েছে। সে লেখকের জন্য একটার পর একটা খাবার নিয়ে আসতে থাকে। ফলে লেখক একপ্রকার বিড়ম্বনাতেই পড়েন। অন্যদিকে উদ্দীপকে আমরা দেখি রবীন্দ্রনাথ সংকোচের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আরেকটি লুচি চাওয়ার সাহস পর্যন্ত করতে পারেন না। অর্থাৎ খাওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত যত্ন পাওয়ার দিক থেকে আলোচ্য রচনার লেখক ও উদ্দীপকে বর্ণিত রবীন্দ্রনাথের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণরূপে আলাদা।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

১০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. মাংসের কোরমাটা দুম্বার মাংসে তৈরি করা হয়েছিল।
খ. বাগেবালার বরফি আঙুর সম্পর্কে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।
➠ আবদুর রহমান লেখককে একের পর এক নানা পদের খাবার পরিবেশন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি বাগেবালার বরফি আঙুর দিয়ে বললেন সেটা নাকি তামাম আফগানিস্তানে মশহুর। লেখক একটা আঙুর মুখে দেওয়ামাত্র তার ব্রহ্মরন্ধ্র পর্যন্ত ঝিনঝিন করে উঠেছিল। তবু আবদুর রহমানকে খুশি করার জন্য তিনি গোটা আটেক আঙুর খেয়েছিলেন।

গ. উদ্দীপকটি ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিটিকে আবদুর রহমানের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতার দিক থেকে প্রতিনিধিত্ব করছে।
➠ প্রবাসে গিয়ে মানুষ নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হয়। ভাষ্য, খাদ্য, বাসস্থান এর মধ্যে অন্যতম। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া প্রবাস জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব। রচনায় আমরা দেখি দুটি ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠতে এবং আবদুর রহমানের অতিথিপরায়ণতার কারণেই লেখক খুব সহজে আফগান শহরে মানিয়ে নিতে পারে।
➠ উদ্দীপকে দেখা যায়, জাপানের ব্যস্ত শহর ইয়োকোহামায় বিদেশিরা এলে নিশি সান পরম বন্ধুর মতো আচরণ করেন। তিনি অন্য দেশ থেকে আগতদের ভাষা শেখা, পথ চলা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজে সহায়তা করেন। অন্যদিকে 'প্রবাস বন্ধু' রচনায় আমরা আবদুর রহমানকে একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখি। লেখক আফগানিস্তান ভ্রমণে গেলে নানাবিধ জটিলতার সম্মুখীন হন। আবদুর রহমান লেখককে নানাভাবে সহায়তা করে তার প্রবাসজীবনকে মধুময় করে তুলেছিলেন। এদিক থেকে উদ্দীপকের নিশি সানের সাথে গল্পের আবদুর রহমানের সাদৃশ্য লক্ষণীয়।

ঘ. ‘উদ্দীপকের সাথে মিল থাকলেও স্বদেশপ্রেম আবদুর রহমান চরিত্রটিকে অনন্য মাত্রায় উন্নীত করেছে’- উক্তিটি যথার্থ।
➠ স্বদেশপ্রেম মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি মানুষ তার স্বদেশের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। স্বদেশের সঙ্গে তার অস্তিত্বের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তাই স্বদেশের প্রকৃতি, জনপদ থেকে শুরু করে প্রতিটি উপকরণ মানুষকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে। আর এ দিকটিই আমরা ফুটে উঠতে দেখি আবদুর রহমান চরিত্রে।
➠ উদ্দীপকে নিশি সান চরিত্রটিকে আমরা বিদেশের মাটিতে একজন পর্যটকবান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখতে পাই। জাপানের ব্যস্ত শহর ইয়োকোহামায় কেউ গেলে নানাবিধ জটিলতার মুখোমুখি হন। নিশি সান পরম বন্ধুর মতো তাদের পাশে দাঁড়ান।
➠ আফগানিস্তানে গিয়ে ‘প্রবাস বন্ধু’ রচনার লেখক আবদুর রহমানকে কাছে পেয়েছিলেন। আবদুর রহমান আন্তরিকভাবে লেখকের জন্য কষ্ট স্বীকার করতে রাজি ছিলেন। অধিকন্তু এই চরিত্রটি স্বদেশপ্রেমের দিক থেকেও অনন্য। আমরা দেখি, তার জন্মস্থান উত্তর আফগানিস্তানের পানশির তার কাছে সবদিক বিবেচনায় শ্রেষ্ঠ। সেখানকার আবহাওয়া, খাদ্য, পরিবেশ, সবই তার বিবেচনায় সেরা। তবে উদ্দীপকের নিশি সানের মধ্যে স্বদেশপ্রেমের দিকটি বড়ো পরিসরে আলোচিত হয়নি। নিশি সান দেশে আগত অতিথিদের প্রতি আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ- এ দিকটি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হয়েছে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের নিশি সান ও ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমান চারিত্রিক দিক থেকে সমধর্মী হলেও স্বদেশপ্রেমের দিক থেকে আবদুর রহমান অনন্য- উক্তিটি সঠিক।


‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

১১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক. সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯৭৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
খ. আবদুর রহমানের দৈহিক বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক রিলিফ ম্যাপের প্রসঙ্গ টেনেছেন।
➠ লেখকের বাবুর্চি আবদুর রহমান বিশাল দেহের অধিকারী। তার গায়ের রং ফর্সা তবে শীতে-গ্রীষ্মে গায়ের চামড়া ফেটে গেছে। লেখক আবদুর রহমানের শরীরের ফাটা চামড়াকে রিলিফ ম্যাপের সাথে তুলনা করেছেন।

গ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির আবদুর রহমানের দেশপ্রেমের চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে।
➠ প্রতিটি মানুষ তার নিজের দেশকে ভালোবাসে, ফলে তার নিকট নিজ দেশই সকল দেশ থেকে সেরা ও সুন্দর মনে হয়। উদ্দীপক-২-এর কবির চেতনায় এবং আলোচ্য রচনার আবদুর রহমানের চেতনায় এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
➠ উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে জন্মভূমির পল্লিপ্রকৃতির বন্দনা করা হয়েছে। কবির মতে, অপরূপ পল্লিবাংলা ফুল ও ফসলে সমৃদ্ধ। পল্লিপ্রকৃতির এই রূপ লাবণ্য কবিচিত্তকে মোহিত করে। কবি দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসেন বলেই দেশের পল্লিপ্রকৃতি কবির দৃষ্টিতে অপরূপ সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে। 'প্রবাস বন্ধু' ভ্রমণকাহিনিতেও আবদুর রহমানের মাঝে প্রগাঢ় দেশপ্রেম লক্ষণীয়। প্রবল দেশপ্রেমে উদ্‌বুদ্ধ হয়েই সে তার দেশের বরফ শীতল আকর্ষণীয় জলবায়ুর মুগ্ধতা লেখকের দৃষ্টিগোচর করে। এভাবেই আলোচ্য ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানের দেশপ্রেম এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। উদ্দীপকের কবির চেতনায় এবং আবদুর রহমানের চেতনায় প্রগাঢ় দেশপ্রেম প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের প্রথমাংশে পারীর সৌন্দর্য ও এর অধিবাসীদের কর্মক্ষমতা ও বুচির কথা বলা হয়েছে, যা লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক প্রতিচ্ছবি।
➠ সৈয়দ মুজতবা আলী তার ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে তাঁর আফগানিস্তানে ভ্রমণের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি আফগানিস্তানের ভূমি, পরিবেশ, সেখানকার মানুষ ও তাদের খাদ্যাভ্যাস প্রভৃতির বর্ণনা দিয়েছেন। এছাড়া আবদুর রহমানের দেশপ্রেমের চেতনাও ফুটে উঠেছে।
➠ উদ্দীপকে পারী তথা প্যারিসের বর্ণনা এসেছে। আমেরিকানদের চোখে পারী হলো ইউরোপের রাজধানী। পারীর প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত আছে এর প্রশস্ত রাজপথগুলোর মধ্যে। পারীর অধিবাসীরা খুবই পরিশ্রমী। আহার সম্বন্ধে এদের বুচিও বেশ। মূলত পারীর বর্ণনাই উদ্দীপকের মূল বিষয়।
➠ ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনিতে লেখক তার আফগানিস্তান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ব্যস্ত করেছেন। তিনি হাস্যরসাত্মকভাবে আফগানিস্তানের অধিবাসীদের সহজসরল জীবনাচরণ, বিচিত্র খাদ্যাভ্যাস এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন। উদ্দীপকেও পারী, অর্থাৎ প্যারিসে শহরের সৌন্দর্য ও এর অধিবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। এদিক দিয়ে মিল থাকলেও আলোচ্য ভ্রমণকাহিনিতে আরও অনেক বিষয় বিধৃত হয়েছে, যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত। ভ্রমণকাহিনিতে আবদুর রহমানের চরিত্রে সরলতা, স্বদেশপ্রেম, অতিথিপরায়ণতা ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকের প্রথমাংশে নেই। সুতরাং আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের প্রথমাংশে ‘প্রবাস বন্ধু’ ভ্রমণকাহিনির লেখকের আফগানিস্তান ভ্রমণের আংশিক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url