ঝরনার গান- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
|
| ঝরনার গান |
ঝরনার গান
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
চপল পায় কেবল ধাই,
কেবল গাই পরীর গান,
পুলক মোর সকল গায়,
বিভোল মোর সকল প্রাণ।
শিথিল সব শিলার পর
চরণ থুই দোদুল মন,
দুপুর-ভোর ঝিঁঝিঁর ডাক,
ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন।
বিজন দেশ, কূজন নাই
নিজের পায় বাজাই তাল,
ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়:
শঙ্কা নাই, সমান যাই,
টগর-ফুল-নূপুর পায়,
কোন গিরির হিম ললাট
ঘামল মোর উদ্ভবে,
একলা গাই, একলা ধাই,
দিবস রাত, সাঁঝ সকাল।
ঝুঁকিয়ে ঘাড় ঝুম-পাহাড়
কোন পরীর টুট্ল হার
কোন নাচের উৎসবে।
খেয়াল নাই-নাই রে ভাই
পাই নি তার সংবাদই,
ধাই লীলায়, খিলখিলাই-
বুলবুলির বোল সাধি।
বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায়
কালসারের দল চরে,
শিং শিলায়-শিলার গায়,
ডালচিনির রং ধরে।
ঝাঁপিয়ে যাই, লাফিয়ে ধাই,
দুলিয়ে যাই অচল-ঠাঁট,
নাড়িয়ে যাই, বাড়িয়ে যাই-
টিলার গায় ডালিম-ফাট।
শালিক শুক বুলায় মুখ
থল-ঝাঁঝির মখমলে,
জরির জাল আংরাখায়
অঙ্গ মোর ঝলমলে।
নিম্নে ধাই, শুনতে পাই
'ফটিক জল।' হাঁকছে কে,
কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার
নিক না সেই পাঁক ছেঁকে।
গরজ যার জল স্যাঁচার
পাতকুয়ায় যাক না সেই,
সুন্দরের তৃষ্ণা যার
আমরা ধাই তার আশেই।
তার খোঁজেই বিরাম নেই
বিলাই তান-তরল শ্লোক,
চকোর চায় চন্দ্রমায়,
আমরা চাই মুগ্ধ-চোখ।
চপল পায় কেবল ধাই
উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,
দুল দোলাই মন ভোলাই,
ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘ঝরনার গান’ কবিতাটি কবির বিদায় আরতি কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ বিভোল- অচেতন, বিভোর, বিবশ, বিহ্বল। ➠ বিজন- নির্জন, জনশূন্য, নিভৃত। ➠ কুজন- পাখির ডাক। ➠ ঝুম-পাহাড়- নীরব পাহাড়, নির্জন পাহাড়। ➠ হিম- তুষার, বরফ। ➠ শুক- টিয়ে পাখি। ➠ থল- স্থল। ➠ ঝাঁঝি- একপ্রকার জলজ গুলা, বহুদিন ধরে জমা শেওলা। ➠ মখমল- কোমল ও মিহি কাপড়। ➠ আংরাখা- লম্বা ও ঢিলা পোশাকবিশেষ। ➠ ‘ফটিক জল’- চাতক পাখি। এই পাখি ডাকলে ‘ফটিক জল’ শব্দের মতো শোনা যায়। ➠ বিলাই- বিতরণ করি, পরিবেশন করি (বিলোনো থেকে)। ➠ তান- সুর। ➠ তরল শ্লোক- লঘু বা হালকা চালের কবিতা। ➠ চকোর- পাখি বিশেষ। কবি-কল্পনা অনুযায়ী এই পাখি চাঁদের আলো পান করে। ➠ চন্দ্রমা- চাঁদের আলো। ➠ উপল-ঘায়-পাথরের আঘাতে। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব: |
|---|
| ‘ঝরনার গান’ কবিতাটিতে অদ্ভুত ধ্বনিব্যঞ্জনায় প্রকাশিত হয়েছে অপূর্ব ভাব। চঞ্চল পা পুলকিত গতিময়: স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন। নির্জন দুপুরে পাখির ডাকও শোনা যায় না। পাহাড় যেন দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়! এত কিছুর মধ্যেও ঝরনার চঞ্চল ও আনন্দময় পদধ্বনিতে পর্বত থেকে নেমে আসে সাদা জলরাশির ধারা। চমৎকার এর ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈভব। এই জলধারার যে সৌন্দর্য এবং অমিয় স্বাদ তা তুলনারহিত। গিরি থেকে পতিত এই অম্বুরাশি পাথরের বুকে আঘাত হেনে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে যে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে তা সত্যি মনোহর। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
|
১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
জনন্মগ্রহণ করেন। সত্যেন্দ্রনাথ বিএ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কাব্যচর্চা করতেন। দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভাষা,
ধর্ম ইত্যাদি বিচিত্র বিষয়ের তিনি অনুরাগী ছিলেন। সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু
ও বীণা, হোমশিখা, কুহু ও কেকা, অভ্র-আবীর প্রভৃতি তাঁর মৌলিক কাব্য। তাঁর
অনুবাদ- কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: তীর্থরেণু, তীর্থ-সলিল, ফুলের ফসল
প্রভৃতি। বিবিধ উপনিষদ ও কবির, নানক প্রমুখের রচনা এবং আরবি, ফার্সি,
চীনা, জাপানি, ইংরেজি, ফরাসি ভাষার অনেক উৎকৃষ্ট কবিতা ও গদ্য রচনা তিনি
বাংলায় অনুবাদ করেন। ছন্দ নির্মাণে তিনি অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয়
দিয়েছেন। এজন্য তিনি 'ছন্দের যাদুকর' বলে পরিচিত হন। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন: |
|---|
| ১। কবিতাটিতে প্রকৃতির যেসব উপাদান ও প্রাণীর নাম বলা হয়েছে, তার একটি তালিকা করো। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের পিতামহ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন? উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের পিতামহ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ২. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী নির্মাণে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন? উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছন্দ নির্মাণে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। ৩. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী হিসেবে খ্যাত? উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে খ্যাত। ৪. ঝর্ণার সকল গায় কী? উত্তর: ঝর্ণার সকল গায় পুলক। ৫. ঝর্ণা কিসের ওপর চরণ রাখে। উত্তর: ঝর্ণা শিথিল শিলার ওপর চরণ রাখে। ৬. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় দুপুর-ভোর কিসের ডাক শোনার কথা বলা হয়েছে? উত্তর: ঝর্ণার গান কবিতায় দুপুর-ভোর ঝিঁঝির ডাক শোনার কথা বলা হয়েছে। ৭. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় ঝিমায় কে? উত্তর: ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় পথ ঝিমায়। ৮. ঝর্ণাকে কে ঘাড় বাঁকিয়ে ভয় দেখায়? উত্তর: ঝর্ণাকে ঝুম পাহাড় ঘাড় বাঁকিয়ে ভয় দেখায়। ৯. গিরির পায়ে কোন ফুলের নূপুর? উত্তর: গিরির পায়ে টগর ফুলের নূপুর। ১০. কার উদ্ভবে গিরির হিম ললাট ঘামল? উত্তর: ঝর্ণার উদ্ভবে গিরির হিম ললাট ঘামল। ১১. বন-বাউয়ের ঝোপগুলোতে কিসের দল চরে? উত্তর: বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলোতে কালসারের দল চরে। ১২. ঝর্ণা কী দুলিয়ে যায়? উত্তর: ঝর্ণা অচল-ঠাঁট দুলিয়ে যায়। ১৩. শালিক-শুক কিসে মুখ বুলায়? উত্তর: শালিকশুক থল-ঝাঁঝির মখমলে মুখ বুলায়। ১৪. যার কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা তাকে ঝর্ণা কী ছেঁকে নিতে বলেছে? উত্তর: যার কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা তাকে ঝর্ণা পাঁক ছেঁকে নিতে বলেছে। ১৫. যার কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা তাকে ঝর্ণা কোথায় যেতে বলেছে? উত্তর: যার কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা তাকে ঝর্ণা পাতকুয়ায় যেতে বলেছে। ১৬. চকোর কিসের প্রত্যাশী? উত্তর: চকোর চন্দ্রমার প্রত্যাশী। ১৭. ঝর্ণা কিসের ঘায় ঝিলিক দেয়? উত্তর: ঝর্ণা উপল-ঘায় ঝিলিক দেয়। ১৮. ‘ফটিক জল’ বলতে কোন পাখিকে বোঝানো হয়? উত্তর: ফটিক জল বলতে চাতক পাখিকে বোঝানো হয়। ১৯. কবি-কল্পনা অনুযায়ী কোন পাখি চাঁদের আলো পান করে? উত্তর: কবি-কল্পনা অনুযায়ী চকোর পাখি চাঁদের আলো পান করে। ২০. ‘চন্দ্রমা’ শব্দের অর্থ কী? উত্তর: চন্দ্রমা শব্দের অর্থ চাঁদের আলো। ২১. ঝরণা কেমন পায়ে ছুটে চলে? উত্তর: ঝরণা চপল পায় ছুটে চলে। অর্থাৎ, চঞ্চল, দ্রুত ও অস্থির পায়ে ছুটে চলে। ২২. ঝিঁঝির ডাক কখন শোনা যায়? উত্তর: দুপুর-ভোরে ঝিঁঝির ডাক শোনা যায়। ২৩. ঝর্ণা কেবল কার গান গায়? উত্তর: ঝর্ণা কেবল পরীর গান গায়। ২৪. ঝর্ণা কোন পাখির বোল সাধে? উত্তর: ঝর্ণা বুলবুলি পাখির বোল সাধে। ২৫. ঝর্ণা কিসের গান গায়? উত্তর: ঝর্ণা পরীর গান গায়। ২৬. ঝর্ণা কেমন পায় ধায়? উত্তর: ঝর্ণা চপল পায় ধায়। ২৭. বিজন দেশে কী নেই? উত্তর: বিজন দেশে কূজন নেই। ২৮. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী হিসেবে পরিচিত হন? উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘ছন্দের রাজা’ বা ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত হন। ২৯. ঝুম পাহাড় কীভাবে ভয় দেখায়? উত্তর: ঝুম-পাহাড় দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়। ৩০. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ৩১. ‘শ্লোক’ অর্থ কী? উত্তর: ‘শ্লোক’ হলো লঘু ও হালকা চালের কবিতা। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. ‘শঙ্কা নাই, সমান যাই’—ঝর্ণা এ কথা বলেছে কেন?
২. ‘আমরা চাই মুগ্ধ চোখ’—ঝর্ণা এ কথা বলেছে কেন?
৩. ‘সুন্দরের তৃষ্ণা যার, আমরা ধাই তার আশেই।’—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
৪. ‘পাতকুয়ায় যাক না সেই’—ঝর্ণা কেন এ কথা বলেছে?
৫. ‘দুল দোলাই মন ভোলাই।’—চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
৬. ‘শিথিল সব শিলার পর’—বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
৭. ঝুম পাহাড় চোখ পাকিয়ে ভয় দেখায় কেন?
৮. ‘চপল পায় কেবল ধাই।’—চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
৯. ‘ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়’—চরণটি ব্যাখ্যা করো।
১০. ‘ঝর্ণা একা দিবস-রাত, সাঁঝ-সকালে চলে’-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১১. ঝর্ণার সকল গায় পুলক কেন?
১২. ‘চকোর চায় চন্দ্রমায়’ কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
১৩. ‘সুন্দরের তৃষ্ণা যার’—ব্যাখ্যা করো।
১৪. ‘উপল-ঘায় দিই ঝিলিক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১৫. “চপল পায় কেবল ধাই”—পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
১৬. “নিজের পায় বাজাই তাল” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১৭. ‘পুলক মোর সকল গায়,
১৮. ‘ঝরনার গান’ কবিতায় সৌন্দর্যপিপাসুদের প্রতি কেন ঝরনার অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে?
১৯. ঝুম-পাহাড় ভয় দেখালেও ঝরনা কেন সামনে এগিয়ে যায়?
২০. ঝরনাকে ঝুম-পাহাড় ভয় দেখায় কেন?
২১. ঝরনার বৈশিষ্ট্য কী?
২২. ঝরনা সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের মনের মধ্যে বয়ে যায় কেন?
২৩. ‘ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
২৪. ‘খেয়াল নাই নাইরে ভাই’—এখানে কোন খেয়ালের কথা বলা হয়েছে?
২৫. ‘ধাই লীলায়, খিলখিলাই’—ব্যাখ্যা করো।
২৬. ‘জরির জাল আংরাখায়’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
২৭. ‘আমরা চাই মুখ চোখ’—বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
২৮. ‘উপল-ঘায় দিই ঝিলিক’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
২৯. ‘শঙ্কা নাই, সমান যাই’, পঙ্ক্তি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
৩০. ‘কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার/নিক না সেই পাঁক ছেঁকে।’—বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ঝরণা কেমন পায়ে ছুটে চলে? |
|
ক. ঝরণা চপল পায় ছুটে চলে। অর্থাৎ, চঞ্চল, দ্রুত ও অস্থির পায়ে ছুটে চলে।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ঝরনার গান’ কবিতার যে সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি পাওয়া যায়, তা হলো- সৌন্দর্যের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সৃষ্টির আনন্দে বিভোর হয়ে পথচলা।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে আংশিকভাবে ধারণ করে। উভয় ক্ষেত্রেই সৃষ্টির আনন্দ, স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস এবং সৌন্দর্যের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা যায়, তবে তাদের উদ্দেশ্য ও প্রবাহের ধরনে কিছু পার্থক্য রয়েছে। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ঝিঁঝির ডাক কখন শোনা যায়? |
|
ক. দুপুর-ভোরে ঝিঁঝির ডাক শোনা যায়।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার সাদৃশ্য এই যে উদ্দীপকের দুঃসাহসী অভিযাত্রী ও ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার ঝরনা কারও কথায় কান না দিয়ে, শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আপন বেগে চলে।
ঘ. ‘অভিযাত্রিকের চলার গতিতে ঝরনার ন্যায় গতিশীলতা বিদ্যমান।’-উক্তিটি উদ্দীপক ও কবিতার জন্য যুক্তিযুক্ত। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ঝর্ণা কেবল কার গান গায়? |
|
ক. ঝর্ণা কেবল পরীর গান গায়।
গ. উদ্দীপকে বিরামহীন ছুটে আসা সমুদ্রের স্রোত আর সাদা বালির সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ায় সাথে ঝর্ণার গান কবিতার ঝর্ণার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. সুন্দরের তৃষ্ণা আছে বলেই উদ্দীপকের দিহানের মতো মানুষেরাই ঝর্ণার পরম আকাঙিক্ষত। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ঝর্ণা কোন পাখির বোল সাধে? |
|
ক. ঝর্ণা বুলবুলি পাখির বোল সাধে।
গ. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় বর্ণিত ঝর্ণা আনন্দিত চিত্তে ছুটে চললেও উদ্দীপকের করতোয়ার মনে রয়েছে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা।
ঘ. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় যাদের সুন্দরের তৃষ্ণা নেই তাদের এবং উদ্দীপকে নদী দখলদারদের প্রতি কটাক্ষ করা হয়েছে। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ঝর্ণা কিসের গান গায়? |
|
ক. ঝর্ণা পরীর গান গায়।
গ. উদ্দীপকে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় বর্ণিত ঝর্ণার অনন্দমুখর ছুটে চলার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে শুধু ঝর্ণার প্রাণচঞ্চল ছুটে চলার কথা বলা হয়েছে। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় রয়েছে এর পাশাপাশি আরো বহু বিষয়ের উল্লেখ। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ঝর্ণা কেমন পায় ধায়? |
|
ক. ঝর্ণা চপল পায় ধায়।
গ. উদ্দীপকের বর্ণনাটি ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় উল্লিখিত প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্যের উপস্থাপনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় উল্লিখিত বিষয়াবলির মধ্যে কেবল একটি দিক অর্থাৎ প্রাকৃতিক রূপময়তার বিষয়টি উদ্দীপকে প্রতিফলিত। তাই উদ্দীপকটিতে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় সমগ্রভাব প্রতিফলিত হয়নি। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. বিজন দেশে কী নেই? |
|
ক. বিজন দেশে কূজন নেই।
গ. উদ্দীপক ও ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার আংশিক বক্তব্য ধারণ করে। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী হিসেবে পরিচিত হন? |
|
ক. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘ছন্দের রাজা’ বা ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত হন।
গ. উদ্দীপকের আলোচনায় ‘ঝরনার গান’ কবিতার ঝরনার রূপমাধুর্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে কেবল সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হলেও ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার ছন্দময় গতিশীলতার দিকটিও উঠে এসেছে। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ঝুম পাহাড় কীভাবে ভয় দেখায়? |
|
ক. ঝুম-পাহাড় দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ঝরনার গান’ কবিতার গতিময়তার দিকটির মিল লক্ষ করা যায়।
ঘ. “রানার ও ঝরনার ছুটে চলা যেন একই ভাবের প্রতিফলন।”—‘ঝরনার গান’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? |
|
ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
গ. উদ্ভবের দিক থেকে উদ্দীপকের বৃক্ষের সাথে ‘ঝরনার গান’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকের বৃক্ষ ও ‘ঝরনার গান’ কবিতার ঝরনা দুটোই আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ।”—মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘শ্লোক’ অর্থ কী? |
|
ক. ‘শ্লোক’ হলো লঘু ও হালকা চালের কবিতা।
গ. উদ্দীপকে প্রকাশিত বেদুইনের কর্মক্ষেত্র ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার প্রাণচঞ্চল দুর্বার গতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. প্রাকৃতিক নিসর্গের আড়ালে সংগ্রামী জীবনচেতনাই ‘ঝরনার গান’ কবিতার কবির চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে, যা উদ্দীপকের কবির ভাবাবেগের অনুরূপ। |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
