ঝরনার গান- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

ঝরনার গান
ঝরনার গান

ঝরনার গান
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

চপল পায় কেবল ধাই,
কেবল গাই পরীর গান,
পুলক মোর সকল গায়,
বিভোল মোর সকল প্রাণ।
শিথিল সব শিলার পর
চরণ থুই দোদুল মন,
দুপুর-ভোর ঝিঁঝিঁর ডাক,
ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন।
বিজন দেশ, কূজন নাই
নিজের পায় বাজাই তাল,
ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়:
শঙ্কা নাই, সমান যাই,
টগর-ফুল-নূপুর পায়,
কোন গিরির হিম ললাট
ঘামল মোর উদ্ভবে,
একলা গাই, একলা ধাই,
দিবস রাত, সাঁঝ সকাল।
ঝুঁকিয়ে ঘাড় ঝুম-পাহাড়
কোন পরীর টুট্ল হার
কোন নাচের উৎসবে।
খেয়াল নাই-নাই রে ভাই
পাই নি তার সংবাদই,
ধাই লীলায়, খিলখিলাই-
বুলবুলির বোল সাধি।
বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায়
কালসারের দল চরে,
শিং শিলায়-শিলার গায়,
ডালচিনির রং ধরে।
ঝাঁপিয়ে যাই, লাফিয়ে ধাই,
দুলিয়ে যাই অচল-ঠাঁট,
নাড়িয়ে যাই, বাড়িয়ে যাই-
টিলার গায় ডালিম-ফাট।
শালিক শুক বুলায় মুখ
থল-ঝাঁঝির মখমলে,
জরির জাল আংরাখায়
অঙ্গ মোর ঝলমলে।
নিম্নে ধাই, শুনতে পাই
'ফটিক জল।' হাঁকছে কে,
কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার
নিক না সেই পাঁক ছেঁকে।
গরজ যার জল স্যাঁচার
পাতকুয়ায় যাক না সেই,
সুন্দরের তৃষ্ণা যার
আমরা ধাই তার আশেই।
তার খোঁজেই বিরাম নেই
বিলাই তান-তরল শ্লোক,
চকোর চায় চন্দ্রমায়,
আমরা চাই মুগ্ধ-চোখ।
চপল পায় কেবল ধাই
উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,
দুল দোলাই মন ভোলাই,
ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।

‘ঝরনার গান’ কবিতার উৎস নির্দেশ:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘ঝরনার গান’ কবিতাটি কবির বিদায় আরতি কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।

‘ঝরনার গান’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা:
➠ বিভোল- অচেতন, বিভোর, বিবশ, বিহ্বল।
➠ বিজন- নির্জন, জনশূন্য, নিভৃত।
➠ কুজন- পাখির ডাক।
ঝুম-পাহাড়- নীরব পাহাড়, নির্জন পাহাড়।
➠ হিম- তুষার, বরফ।
➠ শুক- টিয়ে পাখি।
➠ থল- স্থল।
➠ ঝাঁঝি- একপ্রকার জলজ গুলা, বহুদিন ধরে জমা শেওলা।
➠ মখমল- কোমল ও মিহি কাপড়।
➠ আংরাখা- লম্বা ও ঢিলা পোশাকবিশেষ।
‘ফটিক জল’- চাতক পাখি। এই পাখি ডাকলে ‘ফটিক জল’ শব্দের মতো শোনা যায়।
➠ বিলাই- বিতরণ করি, পরিবেশন করি (বিলোনো থেকে)।
➠ তান- সুর।
তরল শ্লোক- লঘু বা হালকা চালের কবিতা।
➠ চকোর- পাখি বিশেষ। কবি-কল্পনা অনুযায়ী এই পাখি চাঁদের আলো পান করে।
➠ চন্দ্রমা- চাঁদের আলো।
➠ উপল-ঘায়-পাথরের আঘাতে।

‘ঝরনার গান’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব:
‘ঝরনার গান’ কবিতাটিতে অদ্ভুত ধ্বনিব্যঞ্জনায় প্রকাশিত হয়েছে অপূর্ব ভাব। চঞ্চল পা পুলকিত গতিময়: স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন। নির্জন দুপুরে পাখির ডাকও শোনা যায় না। পাহাড় যেন দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়! এত কিছুর মধ্যেও ঝরনার চঞ্চল ও আনন্দময় পদধ্বনিতে পর্বত থেকে নেমে আসে সাদা জলরাশির ধারা। চমৎকার এর ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈভব। এই জলধারার যে সৌন্দর্য এবং অমিয় স্বাদ তা তুলনারহিত। গিরি থেকে পতিত এই অম্বুরাশি পাথরের বুকে আঘাত হেনে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে যে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে তা সত্যি মনোহর।

‘ঝরনার গান’ কবিতার কবি পরিচিতি:
১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত জনন্মগ্রহণ করেন। সত্যেন্দ্রনাথ বিএ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কাব্যচর্চা করতেন। দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভাষা, ধর্ম ইত্যাদি বিচিত্র বিষয়ের তিনি অনুরাগী ছিলেন। সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, হোমশিখা, কুহু ও কেকা, অভ্র-আবীর প্রভৃতি তাঁর মৌলিক কাব্য। তাঁর অনুবাদ- কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: তীর্থরেণু, তীর্থ-সলিল, ফুলের ফসল প্রভৃতি। বিবিধ উপনিষদ ও কবির, নানক প্রমুখের রচনা এবং আরবি, ফার্সি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি, ফরাসি ভাষার অনেক উৎকৃষ্ট কবিতা ও গদ্য রচনা তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন। ছন্দ নির্মাণে তিনি অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। এজন্য তিনি 'ছন্দের যাদুকর' বলে পরিচিত হন।
১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।।

‘ঝরনার গান’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন:
১। কবিতাটিতে প্রকৃতির যেসব উপাদান ও প্রাণীর নাম বলা হয়েছে, তার একটি তালিকা করো।

‘ঝরনার গান’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘ঝরনার গান’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
১. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের পিতামহ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের পিতামহ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
২. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী নির্মাণে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন?
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছন্দ নির্মাণে অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
৩. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী হিসেবে খ্যাত?
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে খ্যাত।
৪. ঝর্ণার সকল গায় কী?
উত্তর: ঝর্ণার সকল গায় পুলক।
৫. ঝর্ণা কিসের ওপর চরণ রাখে।
উত্তর: ঝর্ণা শিথিল শিলার ওপর চরণ রাখে।
৬. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় দুপুর-ভোর কিসের ডাক শোনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ঝর্ণার গান কবিতায় দুপুর-ভোর ঝিঁঝির ডাক শোনার কথা বলা হয়েছে।
৭. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় ঝিমায় কে?
উত্তর: ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় পথ ঝিমায়।
৮. ঝর্ণাকে কে ঘাড় বাঁকিয়ে ভয় দেখায়?
উত্তর: ঝর্ণাকে ঝুম পাহাড় ঘাড় বাঁকিয়ে ভয় দেখায়।
৯. গিরির পায়ে কোন ফুলের নূপুর?
উত্তর: গিরির পায়ে টগর ফুলের নূপুর।
১০. কার উদ্ভবে গিরির হিম ললাট ঘামল?
উত্তর: ঝর্ণার উদ্ভবে গিরির হিম ললাট ঘামল।
১১. বন-বাউয়ের ঝোপগুলোতে কিসের দল চরে?
উত্তর: বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলোতে কালসারের দল চরে।
১২. ঝর্ণা কী দুলিয়ে যায়?
উত্তর: ঝর্ণা অচল-ঠাঁট দুলিয়ে যায়।
১৩. শালিক-শুক কিসে মুখ বুলায়?
উত্তর: শালিকশুক থল-ঝাঁঝির মখমলে মুখ বুলায়।
১৪. যার কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা তাকে ঝর্ণা কী ছেঁকে নিতে বলেছে?
উত্তর: যার কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা তাকে ঝর্ণা পাঁক ছেঁকে নিতে বলেছে।
১৫. যার কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা তাকে ঝর্ণা কোথায় যেতে বলেছে?
উত্তর: যার কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা তাকে ঝর্ণা পাতকুয়ায় যেতে বলেছে।
১৬. চকোর কিসের প্রত্যাশী?
উত্তর: চকোর চন্দ্রমার প্রত্যাশী।
১৭. ঝর্ণা কিসের ঘায় ঝিলিক দেয়?
উত্তর: ঝর্ণা উপল-ঘায় ঝিলিক দেয়।
১৮. ‘ফটিক জল’ বলতে কোন পাখিকে বোঝানো হয়?
উত্তর: ফটিক জল বলতে চাতক পাখিকে বোঝানো হয়।
১৯. কবি-কল্পনা অনুযায়ী কোন পাখি চাঁদের আলো পান করে?
উত্তর: কবি-কল্পনা অনুযায়ী চকোর পাখি চাঁদের আলো পান করে।
২০. ‘চন্দ্রমা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: চন্দ্রমা শব্দের অর্থ চাঁদের আলো।
২১. ঝরণা কেমন পায়ে ছুটে চলে?
উত্তর: ঝরণা চপল পায় ছুটে চলে। অর্থাৎ, চঞ্চল, দ্রুত ও অস্থির পায়ে ছুটে চলে।
২২. ঝিঁঝির ডাক কখন শোনা যায়?
উত্তর: দুপুর-ভোরে ঝিঁঝির ডাক শোনা যায়।
২৩. ঝর্ণা কেবল কার গান গায়?
উত্তর: ঝর্ণা কেবল পরীর গান গায়।
২৪. ঝর্ণা কোন পাখির বোল সাধে?
উত্তর: ঝর্ণা বুলবুলি পাখির বোল সাধে।
২৫. ঝর্ণা কিসের গান গায়?
উত্তর: ঝর্ণা পরীর গান গায়।
২৬. ঝর্ণা কেমন পায় ধায়?
উত্তর: ঝর্ণা চপল পায় ধায়।
২৭. বিজন দেশে কী নেই?
উত্তর: বিজন দেশে কূজন নেই।
২৮. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী হিসেবে পরিচিত হন?
উত্তর: কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘ছন্দের রাজা’ বা ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত হন।
২৯. ঝুম পাহাড় কীভাবে ভয় দেখায়?
উত্তর: ঝুম-পাহাড় দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়।
৩০. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
৩১. ‘শ্লোক’ অর্থ কী?
উত্তর: ‘শ্লোক’ হলো লঘু ও হালকা চালের কবিতা।

‘ঝরনার গান’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

১. ‘শঙ্কা নাই, সমান যাই’—ঝর্ণা এ কথা বলেছে কেন?
উত্তর: পাহাড়ের বাধাকে উপেক্ষা করে ঝর্ণা আপন বেগে ছুটে চলে বলে ঝর্ণা আলোচ্য কথাটি বলেছে।
শিথিল পাহাড়ের গা বেয়ে ঝর্ণা আনন্দিত চিত্তে ছুটে যায়। পথে ঝুম পাহাড় ঝর্ণাকে ঘাড় বাঁকিয়ে ভয় দেখায়। কিন্তু ঝর্ণা তাতে ভীত না হয়ে একই গতিতে ছুটে চলে। পাহাড়ের শঙ্কাকে পরোয়া না করে ঝর্ণা নিজের চলমানতা বজায় রাখে-এই প্রসঙ্গটিই উঠে এসেছে আলোচ্য চরণে।

২. ‘আমরা চাই মুগ্ধ চোখ’—ঝর্ণা এ কথা বলেছে কেন?
উত্তর: সৌন্দর্যপিপাসুর সঙ্গ লাভ করার জন্য ঝর্ণার প্রত্যাশার কথা প্রকাশিত হয়েছে আলোচ্য চরণে।
ঝর্ণার সৌন্দর্য তুলনারহিত। এর চলার পথটি যেমন আনন্দে ঘেরা তেমনি পথের চারপাশের সৌন্দর্যও অপূর্ব। তা দেখে সৌন্দর্যপিপাসুর মনে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মুগ্ধ চোখে তারা চেয়ে থাকে ঝর্ণার দিকে। এমন বিহ্বল ও প্রশংসাসূচক দৃষ্টির প্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে আলোচ্য চরণে।

৩. ‘সুন্দরের তৃষ্ণা যার, আমরা ধাই তার আশেই।’—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: সৌন্দর্যপিপাসুদের সঙ্গ লাভের জন্য ঝর্ণার আগ্রহের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য চরণে।
ঝর্ণার চলা গতিময়, নির্ভয়। তার চলার পথে সে সৃষ্টি করে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। ঝর্ণার প্রত্যাশা, তার সৌন্দর্যে সকলে মুগ্ধ হবে। যারা তাকে দেখবে তাদের চোখে থাকবে মুগ্ধ দৃষ্টি। নিসর্গপ্রেমী সত্তার মনে ভালোলাগার অনুভূতি সৃষ্টির জন্য ঝর্ণা বিরামহীন ছুটে চলে।

৪. ‘পাতকুয়ায় যাক না সেই’—ঝর্ণা কেন এ কথা বলেছে?
উত্তর: বিশুদ্ধ জল পাওয়ার জন্য যারা আগ্রহী ঝর্ণা তাকে পাতকুয়ায় যেতে বলেছে।
শুদ্ধতার চেয়ে ঝর্ণার বেশি মনোযোগ সৌন্দর্যের দিকে। কণ্ঠে যার তৃষ্ণা সে বিশুদ্ধ পানি চায়। ঝর্ণার সৌন্দর্যের তুলনায় সে ঝর্ণার পানির শুদ্ধতার প্রতি বেশি আগ্রহী। কিন্তু ঝর্ণা এ ধরনের মানসিকতার ব্যক্তিদের সঙ্গ লাভে উৎসাহী নয়। তাদেরকে সে পাতকুয়া থেকে জল সেঁচে তৃষ্ণা মেটাতে বলেছে।

৫. ‘দুল দোলাই মন ভোলাই।’—চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: আলোচ্য চরণে ঝর্ণার চলায় ছন্দ ও সৌন্দর্য সৃষ্টির বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়েছে।
ঝর্ণার চলার পথটি পুলকিত গতিময়। স্তব্ধ পাথরের বুকে সে আনন্দের চিহ্ন রেখে ছুটে চলে। এই জলধারার যে সৌন্দর্য তা তুলনারহিত। পাথরের বুকে আঘাত হেনে ঝর্ণা ছন্দের দোলা ও মনোহর সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটায়। এই দৃশ্য সহজেই সৌন্দর্যপ্রেমী মানুষের মনকে হরণ করে নেয়।

৬. ‘শিথিল সব শিলার পর’—বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘শিথিল সব শিলার পর’—বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন নির্জীব, নিস্তব্ধ পাথরের ওপর দিয়ে ঝরনার ছুটে চলা ও তার আনন্দমুখর গতিবিধি।
পাহাড়ের গায়ে থাকা পাথরগুলো স্থির ও নিশ্চল, তারা কোনো শব্দ করে না, কোনো আন্দোলনও করে না। কিন্তু সেই স্তব্ধতার মাঝে ঝরনার প্রবাহ এনে দেয় চঞ্চলতা, সজীবতা ও সুরেলা ধ্বনি। ঝরনার জলের স্পর্শে পাথরগুলোও যেন প্রাণ ফিরে পায়। কবিতার ঝরনাটি সব বাধা অতিক্রম করে, হাসতে হাসতে, নাচতে নাচতে, গান গাইতে গাইতে ছুটে চলে। তার উচ্ছ্বাসময় চলার সাথে পাথরগুলোর নিরবতা একটি দারুণ বৈপরীত্য সৃষ্টি করে, যা প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য প্রকাশ করে।

৭. ঝুম পাহাড় চোখ পাকিয়ে ভয় দেখায় কেন?
উত্তর: ঝুম পাহাড় যেন ঝরনার অবিরাম বয়ে চলার গতি, তার চঞ্চলতা দেখে তাকে থামাতে চায়। তার পুলকিত গতিকে সতর্ক করতে ও তার চঞ্চলতাকে থামাতে তাই চোখ পাকিয়ে ভয় দেখায়।
ঝরনা বয়ে চলে অবিরাম। নৃত্যরত অবস্থায় নানা সুমধুর সুরে গান গাইতে গাইতে সে ধেয়ে চলে। কারও তোয়াক্কা করে না। কারও ভয় নেই তার। সে তার উত্পত্তিস্থল থেকে বহুদূরে চলে যায়। পাহাড় যেন তা পছন্দ করতে পারে না। পাহাড়ের নির্জনতাকে ভঙ্গ করছে বলে, পাহাড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে পাহাড় চোখ পাকিয়ে তাকে ভয় দেখায়। ঝরনার চঞ্চল, পুলকিত গতিকে বাধা দিতে, স্তব্ধতার মধ্যে ঝরনার এই শব্দকে থামাতেই ঝুম পাহাড় চোখ পাকিয়ে ভয় দেখায়।

৮. ‘চপল পায় কেবল ধাই।’—চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: চরণটির মাধ্যমে ঝর্ণার উচ্ছল ও বিরামহীন ছুটে চলাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পাহাড় থেকে সৃষ্ট ঝর্ণা পাহাড়ের গা বেয়ে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলে। তার চঞ্চল, আনন্দমুখর চলার মাঝে বাধা হতে পারে না কিছুই। দিনরাত সে নৃত্যরত রমণীর মতো কেবলই ছুটে চলে।

৯. ‘ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়’—চরণটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ঝর্ণার চলার পাহাড়ি পথ যেন ঝর্ণার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়—আলোচ্য চরণের বক্তব্যে এটিই প্রকাশ পেয়েছে।
ঝর্ণা যেন মুক্ত প্রাণের প্রতীক। পাহাড়ের বুক চিরে চঞ্চল পায়ে ছুটে আসে। পথে পাহাড় এঁকে বেঁকে বাধা সৃষ্টি করে। কবির ভাষায় পাহাড় যেন এভাবে ঝর্ণাকে ভয় দেখাতে চায়। যদিও ঝর্ণা তাতে ভীত না হয়ে আপন গতি বজায় রাখে।

১০. ‘ঝর্ণা একা দিবস-রাত, সাঁঝ-সকালে চলে’-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ঝর্ণা একা দিবস-রাত, সাঁঝ-সকাল চলে বলতে ঝর্ণার অবিরাম ছুটে চলাকে বোঝানো হয়েছে।
ঝর্ণা হচ্ছে পর্বত থেকে নেমে আসা সাদা জলরাশি। ঝর্ণার কোনো বিরাম নেই, বিশ্রাম নেই। ধেয়ে চলাই তার ধর্ম। দিনরাত-সাঁঝ-সকাল অর্থাৎ বাধাহীন, বিরামহীনভাবে পতিত হচ্ছে সে।

১১. ঝর্ণার সকল গায় পুলক কেন?
উত্তর: ঝর্ণা বাধাহীনভাবে ছুটে চলে চারপাশে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে বলে তার সকল গায় পুলক।
ঝর্ণার চলার পথটি চঞ্চল, আনন্দিত, গতিময়। স্তব্ধ পাহাড়ের বুকে সে এঁকে দিয়ে যায় উচ্ছ্বাসের পদচিহ্ন। এই জলধারার চলার পথের সর্বত্র থাকে অসামান্য সৌন্দর্যের সম্ভার। চঞ্চল পদচারণের মাধ্যমে ঝর্ণা মধুর আবেশ সৃষ্টি করে বলেই তার সর্বাঙ্গে পুলক জাগে।

১২. ‘চকোর চায় চন্দ্রমায়’ কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ‘চকোর চায় চন্দ্রমায়’ বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোকের প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে।
‘ঝরনার গান’ কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। ঝরনা প্রকৃতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে ছুটে চলে। নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড় সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা স্তন্য পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে যায়। কবি ঝরনার মনোহর দৃশ্যে মুগ্ধ, বিমোহিত। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, কবিও তেমনি ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।

১৩. ‘সুন্দরের তৃষ্ণা যার’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: যার সুন্দরের তৃষ্ণা আছে ঝরনা তার সান্নিধ্য লাভ করার আশা করে।
ঝরনা নিজে যেমন সুন্দর তেমনি সৌন্দর্যের পূজারিও। তাই সে সৌন্দর্য পিপাসুর সঙ্গ লাভ করার জন্য উদ্‌গ্রীব থাকে। সৌন্দর্যকে যারা ভালোবাসে তাদের খোঁজে বিরামহীন চলেও ক্লান্ত হয় না ঝরনা। এভাবে সৌন্দর্যপ্রেমীর সঙ্গ-সুধা লাভ করার আশায় ঝরনা অবিরাম বয়ে চলে।

১৪. ‘উপল-ঘায় দিই ঝিলিক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পর্বত থেকে নেমে আসা ঝরনার কলতান যে অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করে তা ‘উপল-ঘায় দিই ঝিলিক’ শব্দের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।
পাহাড় থেকে পতিত ঝরনাধারা এক শ্রুতিমধুর ধ্বনিমাধুর্য সৃষ্টি করে। ঝরনার এ অপ্রতিরোধ্য গতিশীলতা, ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈভবের যে সৌন্দর্য তা তুলনারহিত। পাথরের বুকে আঘাত হেনে ঝরনার ক্রমশ পতন যেন মনকে আনন্দে ভাসিয়ে দেয়। এ ভালোবাসা ও সৌন্দর্য সবকিছু মিলিয়ে ঝরনার এ গান মনোমুগ্ধকর।

১৫. “চপল পায় কেবল ধাই”—পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘চপল পায় কেবল ধাই’ বলতে কবি ঝরনার ছুটে চলার চঞ্চল গতিকে বুঝিয়েছেন।
ঝরনা চঞ্চল। প্রকৃতির মাঝে ঝরনা সৃষ্টি করে এক অপূর্ব সৌন্দর্য। নির্জন প্রকৃতির মাঝে সকল বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলে ঝরনা। চঞ্চল গতির কারণেই এর সৌন্দর্য দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। মানবহৃদয়কে আকর্ষণ করে। চঞ্চল গতিই ঝরনার বৈশিষ্ট্য। আলোচ্য পঙ্িক্ততে ঝরনার অবিরাম গতিময়তাকেই বোঝানো হয়েছে।

১৬. “নিজের পায় বাজাই তাল” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘নিজের পায় বাজাই তাল’—বলতে আপন ছন্দে ঝরনার পর্বত থেকে নেমে আসাকে বোঝানো হয়েছে।
ঝরনা চঞ্চল ও গতিশীল। ঝরনা পর্বত থেকে নেমে আসে অবিরল সাদা জলরাশির ধারায়। ঝরনার এই নেমে আসা যেন নিজ পায়ে তার তাল বাজানোর মতো। আনন্দের তালে তালে পাহাড়ের বুকে পদচিহ্ন রেখে ঝরনা নেমে আসে। পায়ের তালে তালে ঝরনার নেমে আসাকেই আলোচ্য অংশে বোঝানো হয়েছে।

১৭. ‘পুলক মোর সকল গায়,
বিভোল মোর সকল প্রাণ।’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘পুলক মোর সকল গায়/বিভোল মোর সকল প্রাণ।’—এর মাধ্যমে ঝরনার ছন্দময় গতি ও আনন্দধারাকে বোঝানো হয়েছে।
ঝরনার সর্বাঙ্গে আনন্দ। কারণ সে পাহাড়ি কন্যা। দূর পাহাড়ের সুউচ্চ চূড়ায় তার জন্ম। তার গতিময়তায় সৌন্দর্য রয়েছে। ঝরনা মনের আনন্দে পাহাড় থেকে নেমে আসে। সে পরির গান গায়, স্বর্গারণ্যে আনন্দ-গানে পরিদের মেতে ওঠার আনন্দ ঝরনার মনে। অসম্ভব খুশিতে ঝরনা আত্মভোলা হয়ে ছুটে বেড়ায়।

১৮. ‘ঝরনার গান’ কবিতায় সৌন্দর্যপিপাসুদের প্রতি কেন ঝরনার অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: ঝরনা নিজে সুন্দর তাই ‘ঝরনার গান’ কবিতায় সৌন্দর্যপিপাসুদের প্রতি ঝরনার অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে।
ঝরনা নির্জন অরণ্যময় নিস্তব্ধ পরিবেশে মনের আনন্দে পাহাড় থেকে নেমে আসে। এই জলধারার যে সৌন্দর্য তা তুলনারহিত। ঝরনা তার আশাতেই ছুটে চলে, যার রয়েছে সুন্দরের প্রতি তৃষ্ণা। কারণ ঝরনা সুন্দরের পূজারি। ঝরনা নিজেও অতুলনীয় সৌন্দর্যের অধিকারী। এজন্য সৌন্দর্যপিপাসুদের প্রতি ঝরনার অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে।

১৯. ঝুম-পাহাড় ভয় দেখালেও ঝরনা কেন সামনে এগিয়ে যায়?
উত্তর: ঝরনা আপন ছন্দে ছন্দময় ও গতিশীল বলে ঝুম-পাহাড় ভয় দেখালেও সে নির্ভয়ে সামনে এগিয়ে যায়।
ঝরনা চঞ্চল। পাহাড়ে তার জন্ম। সে কেবল সামনের দিকেই ধাবিত হয়। পাহাড়ের পাদদেশে আছড়ে পড়া ঝরনাকে ঝুম-পাহাড় ঘাড় ঝুঁকিয়ে ভয় দেখায়, চোখ পাকায়। কিন্তু ঝরনা তার ভয়ে ভীত না হয়ে কেবলই সামনে এগিয়ে চলে।

২০. ঝরনাকে ঝুম-পাহাড় ভয় দেখায় কেন?
উত্তর: ঝরনাকে ঝুম-পাহাড় ভয় দেখানোর কারণ হলো, ঝরনার উচ্ছ্বাস আর মাতামাতিতে পাহাড়ের নিস্তব্ধতা নষ্ট হয়। নিস্তব্ধ পাহাড় যুগের পর যুগ কাটিয়ে দেয়। দারুণ গাম্ভীর্য নিয়ে তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে। কিন্তু ঝরনার উচ্ছল গান, নৃত্য-উদ্যমে ছুটে চলা কোলাহল সৃষ্টি করে। পাহাড় এতে বিরক্ত হয়ে ঝরনাকে ভয় দেখায়। কিন্তু ঝরনা ভয় পায় না, দুরন্ত গতিতে ছুটতেই থাকে। অর্থাৎ ঝরনার চপল-ছন্দময় কারণেই ঝুম-পাহাড় ঝরনাকে ভয় দেখায়।

২১. ঝরনার বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: ঝরনা নানা রকম বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
গতিশীলতা ঝরনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ঝরনা চপল পায়ে ধায়। অবিরাম ছুটে চলে। চারদিকে নিস্তব্ধ প্রকৃতি, তার মধ্যেও ঝরনা ছুটে চলে। সে পরির গান গায়। পর্বত থেকে নেমে আসে ঝরনার সাদা জলরাশি। পাথরের বুকে আঘাত হেনে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

২২. ঝরনা সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের মনের মধ্যে বয়ে যায় কেন?
উত্তর: ঝরনার সৌন্দর্য বুঝতে সৌন্দর্যপিপাসু মানুষই সক্ষম, তাই ঝরনা তাদের মনের মধ্যে বয়ে যায়।
আনন্দময় পদধ্বনিতে পর্বত থেকে নেমে আসে ঝরনার জলরাশি। পাহাড়ের নির্জন প্রকৃতিতে ঝরনা সৃষ্টি করে অপরূপ সৌন্দর্যের, চমৎকার ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈভব। তার এ সবকিছু সৌন্দর্যপিপাসু মানুষকে আকর্ষণ করে। ঝরনা দূর পাহাড়ের চূড়া থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে সৌন্দর্য পিপাসুদের।

২৩. ‘ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন’—বলতে কবি প্রকৃতির শান্ত রূপকে বুঝিয়েছেন।
‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার নিরবচ্ছিন্ন বয়ে চলার মাঝে যে সৌন্দর্য আছে তাকে নানা উপমায় তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঝরনা যে পাহাড়ের মধ্য দিয়ে বয়ে চলে, কবি তার আশপাশের পরিবেশের বর্ণনা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কবি বনের নির্জনতম রূপ এবং তার শান্ত পথ। চলাকেও নির্দেশ করেছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির দ্বারা প্রকৃতির এই নির্জন ও শান্ত অবস্থানই কবি বুঝিয়েছেন।

২৪. ‘খেয়াল নাই নাইরে ভাই’—এখানে কোন খেয়ালের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটিতে ঝরনার কল্পনায় পরির নাচের কথা ঝরনার খেয়াল নেই বলে বলা হয়েছে।
ঝরনা টগর ফুলের নূপুর পায়ে ছুটে চলে। চলার পথে তার আশপাশে পাহাড়ের গায় শীতল পরশ বুলিয়ে দিয়ে যায়। তাই দেখে নাচের উৎসবে পরির হার ছিঁড়ে যায়। কিন্তু ঝরনা চলার সময় সবকিছুকে পেছনে ফেলে ছুটে চলে।

২৫. ‘ধাই লীলায়, খিলখিলাই’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘ধাই লীলায়, খিলখিলাই’ বলতে ঝরনার আনন্দময় বয়ে চলাকে বোঝানো হয়েছে।
ঝরনার চলার পথ আনন্দময় ও চঞ্চল। আপন চলার গতিতে ঝরনা একান্ত স্বাধীন। প্রকৃতির কোনোকিছুর প্রতি খেয়াল নেই তার। পাহাড়ের কোনো উৎসবের সংবাদ তার কাছে পৌঁছে না। ঝরনা তার চলার পথে ঝংকার তুলে নিজস্ব গতিতে বয়ে চলে। যার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় অপরূপ সৌন্দর্যের দ্যোতনা। আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।

২৬. ‘জরির জাল আংরাখায়’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘জরির জাল আংরাখায়’ বলতে পাহাড়ের গায়ে ঝরনা নেমে আসায় সেখানকার যে সৌন্দর্য তৈরি হয় তা বোঝানো হয়েছে।
ঝরনা গতিময়। তার নেমে আসার সময় পাহাড়ের গায় ডালিম ফাটার মতো রং ধরে। এখানে শালিক ও টিয়া পাখি মুখ বুলায়। ঝরনার চলার পথের পাশে মখমল কাপড়ের মতো এক প্রকার শেওলা জমে। এসব দেখতে জরির জালের আংরাখার মতো মনে হয়।

২৭. ‘আমরা চাই মুখ চোখ’—বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘আমরা চাই মুগ্ধ চোখ’—উক্তিটি দ্বারা যাদের সুন্দরের বোধ আছে ঝরনা তাদেরই প্রত্যাশা করে।
যে সুন্দরকে ভালোবাসে তার জন্যই ঝরনার অবিরাম বয়ে চলা। ঝরনা তাদের জন্য সুর, ছন্দ বিলিয়ে যায়। কবির কল্পনায় চকোর পাখি চাঁদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। ঝরনার সৌন্দর্য দেখে সৌন্দর্যপিপাসুরা তেমনই মুগ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশাও ঝরনার। যারা ঝরনা দেখে মুগ্ধ হয় ঝরনা শুধু তাদেরই চায়।

২৮. ‘উপল-ঘায় দিই ঝিলিক’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘উপল-ঘায় দিই ঝিলিক’ বলতে পাথরের আঘাতে ঝরনার জলের ঝিলমিল করে ওঠাকে বোঝানো হয়েছে।
ঝরনার চলার পথে পাথর পড়ে। সেই পাথরের বুক চিরে ঝরনাধারা। নিচের দিকে ছুটে চলে। জলের স্রোতধারার ওপর আলো পড়লে ঝলমল করে ওঠে। গিরি থেকে পতিত এ জলধারা পাথরের অর্থাৎ উপলের বুকে আঘাত হেনে অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

২৯. ‘শঙ্কা নাই, সমান যাই’, পঙ্ক্তি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘শঙ্কা নাই, সমান যাই’ পঙ্ক্তি দ্বারা ঝরনার ভয়হীন সাহসী মনোভাবকে বোঝানো হয়েছে।
ঝরনা পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে সমতলে। মনের আনন্দে তার এ ছুটে চলার পথে শিথিল শিলার ওপর পা ফেলে এগিয়ে যায়। গান গাইতে গাইতেও শুরু হয় তার পথচলা। ঝুম-পাহাড় ঘাড় ঘুরিয়ে ঝরনাকে ভয়ে দেখালেও ঝরনা থামে না। যেহেতু কারও ক্ষতি না করে আপন ইচ্ছায় সে চলে, তাই ঘ তার কাউকে ভয় পাওয়ার কথা নয়। এ কারণেই ঝরনার শঙ্কা নেই।

৩০. ‘কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার/নিক না সেই পাঁক ছেঁকে।’—বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার নিক না সেই পাঁক ছেঁকে।’—বলতে কবি প্রয়োজনের বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।
ঝরনা একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও প্রয়োজনের উৎস। সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ ঝরনার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। আর যার কাছে জলের প্রয়োজনীয়তা বেশি সে সৌন্দর্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয়। কবি সৌন্দর্য পিয়াসী, তাই ঝরনার সৌন্দর্যই তার কাছে মুখ্য, এর জলের প্রয়োজনটা তার কাছে মুখ্য নয়। এ কারণে তিনি বলেছেন, যার জলের তৃষ্ণা তার জন্য ঝরনা নয়, সে যেন কাদা ছেঁকে তার তৃষ্ণা মিটায়।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নিসর্গকে হাতের মুঠোয় পুরে দেয়ার তাগিদ থেকে পলাশ সাহেব গড়ে তোলেন এক রমণীয় উদ্যান। বিস্তীর্ণ খোলা মাঠকে সুপরিকল্পিতভাবে তিনি গড়ে তোলেন। পুকুর, দীঘি, হাঁস, গাছপালা, ফুল, পাখির বিচিত্র সমারোহ সৌন্দর্য-পিপাসু মানুষমাত্রকেই আকৃষ্ট করে। অনিন্দ্য সুন্দর এই প্রকৃতিকে শিল্পী তিলোত্তমা করে সাজিয়েছেন শুধুই নিজের খেয়ালে। ব্যক্তিবিশেষ বা কোনো গোষ্ঠীকে আনন্দ দান নয়, সৌন্দর্যই মুখ্য। বৈরী প্রকৃতি, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তিনি এ কাজে অগ্রসর হয়েছেন। সৃষ্টির আনন্দই তাঁকে এগিয়ে নিয়েছে এতটা পথ।

ক. ঝরণা কেমন পায়ে ছুটে চলে?
খ. ‘শিথিল সব শিলার পর’—বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ঝরনার গান’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে কতটুকু ধারণ করে? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।

ক. ঝরণা চপল পায় ছুটে চলে। অর্থাৎ, চঞ্চল, দ্রুত ও অস্থির পায়ে ছুটে চলে।
খ. ‘শিথিল সব শিলার পর’—বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন নির্জীব, নিস্তব্ধ পাথরের ওপর দিয়ে ঝরনার ছুটে চলা ও তার আনন্দমুখর গতিবিধি।
পাহাড়ের গায়ে থাকা পাথরগুলো স্থির ও নিশ্চল, তারা কোনো শব্দ করে না, কোনো আন্দোলনও করে না। কিন্তু সেই স্তব্ধতার মাঝে ঝরনার প্রবাহ এনে দেয় চঞ্চলতা, সজীবতা ও সুরেলা ধ্বনি। ঝরনার জলের স্পর্শে পাথরগুলোও যেন প্রাণ ফিরে পায়। কবিতার ঝরনাটি সব বাধা অতিক্রম করে, হাসতে হাসতে, নাচতে নাচতে, গান গাইতে গাইতে ছুটে চলে। তার উচ্ছ্বাসময় চলার সাথে পাথরগুলোর নিরবতা একটি দারুণ বৈপরীত্য সৃষ্টি করে, যা প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য প্রকাশ করে।

গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ঝরনার গান’ কবিতার যে সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি পাওয়া যায়, তা হলো- সৌন্দর্যের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সৃষ্টির আনন্দে বিভোর হয়ে পথচলা।
উদ্দীপকের পলাশ সাহেব প্রকৃতির রূপকে নিজের মতো করে সাজিয়েছেন। তিনি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের কথা না ভেবে শুধু নিসর্গের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। বৈরী প্রকৃতি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তিনি এই সৃষ্টির আনন্দে আত্মনিবেশ করেছেন।
অন্যদিকে, ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনা কোনো গন্তব্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে ছুটে চলে না। সে নিজের আনন্দে, নিজের খেয়ালে পথ অতিক্রম করে। পাথরের স্তব্ধতা, পাহাড়ের ভয়ংকর রূপ তাকে থামাতে পারে না। সে হাসে, নাচে, গায়—সব বাধা উপেক্ষা করে তার ছুটে চলাই তার আনন্দ। দুই ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সৌন্দর্যের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসা ও সৃষ্টির উচ্ছ্বাসময় অভিব্যক্তি। পলাশ সাহেব যেমন নিসর্গকে সাজিয়ে আনন্দ খুঁজে পান, ঝরনাও তেমনি নিজের প্রবাহের মধ্যেই জীবনের সৌন্দর্য খুঁজে পায়। তারা কেউই বাহ্যিক প্রতিকূলতা বা অন্যের প্রতিক্রিয়ার তোয়াক্কা করেন না, বরং সৃষ্টির আনন্দই তাদের চালিকা শক্তি।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে আংশিকভাবে ধারণ করে। উভয় ক্ষেত্রেই সৃষ্টির আনন্দ, স্বাধীনতার উচ্ছ্বাস এবং সৌন্দর্যের প্রতি নিখাদ ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা যায়, তবে তাদের উদ্দেশ্য ও প্রবাহের ধরনে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
উদ্দীপকের পলাশ সাহেব কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই নিসর্গের সৌন্দর্য গড়ে তুলেছেন, আর ঝরনাও নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজের আনন্দে ছুটে চলে। দুজনেরই লক্ষ্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করা—পলাশ সাহেব নিসর্গকে সাজিয়ে, আর ঝরনা তার স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহ দিয়ে। পলাশ সাহেব যেমন বৈরী প্রকৃতি ও সামাজিক বাধা উপেক্ষা করে উদ্যান নির্মাণ করেন, ঝরনাও তেমনি পাহাড়ের ভয়, পাথরের বাধা উপেক্ষা করে উচ্ছ্বাসের সাথে প্রবাহিত হয়।
তবে উভয়ের উদ্দেশ্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। পলাশ সাহেব প্রকৃতির সৌন্দর্যকে সুপরিকল্পিতভাবে রচনা করেন, যেখানে একটা গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করে। কিন্তু ঝরনা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই, নিজের খেয়ালে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছুটে চলে। পলাশ সাহেব নিসর্গকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রূপ দেন, কিন্তু ঝরনা কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই, বাঁধনহীনভাবে প্রবাহিত হয়। ঝরনার উচ্ছ্বাসের মধ্যে এক অপূর্ব স্বাধীনতার অনুভূতি রয়েছে।
তাই সবশেষে বলা যায়, উদ্দীপকটি কবিতার মূল ভাবের সাথে অনেকটাই মেলে, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই সৌন্দর্য সৃষ্টি ও আনন্দময় গতির বিষয়টি আছে। তবে, কবিতায় ঝরনা সম্পূর্ণ স্বাধীন, বাঁধনহীন ও স্বতঃস্ফূর্ত, যেখানে পলাশ সাহেবের সৃষ্টিতে পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের ছোঁয়া আছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার মূল বক্তব্যকে আংশিকভাবে ধারণ করেছে।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অভিযাত্রিক দুর্গম পথের দুঃসাহসী পথিক। বন্ধুর পথে তাদের যাত্রা। লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে তারা অটল, অবিচল। মুক্তপথের এ যাত্রী অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী। অভিযাত্রিকের চলার গতিকে বহমান নদীর সঙ্গে তুলনা করা যায়।

ক. ঝিঁঝির ডাক কখন শোনা যায়?
খ. ঝুম পাহাড় চোখ পাকিয়ে ভয় দেখায় কেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘অভিযাত্রিকের চলার গতিতে ঝরনার ন্যায় গতিশীলতা বিদ্যমান’। উক্তিটি উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. দুপুর-ভোরে ঝিঁঝির ডাক শোনা যায়।
খ. ঝুম পাহাড় যেন ঝরনার অবিরাম বয়ে চলার গতি, তার চঞ্চলতা দেখে তাকে থামাতে চায়। তার পুলকিত গতিকে সতর্ক করতে ও তার চঞ্চলতাকে থামাতে তাই চোখ পাকিয়ে ভয় দেখায়।
ঝরনা বয়ে চলে অবিরাম। নৃত্যরত অবস্থায় নানা সুমধুর সুরে গান গাইতে গাইতে সে ধেয়ে চলে। কারও তোয়াক্কা করে না। কারও ভয় নেই তার। সে তার উত্পত্তিস্থল থেকে বহুদূরে চলে যায়। পাহাড় যেন তা পছন্দ করতে পারে না। পাহাড়ের নির্জনতাকে ভঙ্গ করছে বলে, পাহাড় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে পাহাড় চোখ পাকিয়ে তাকে ভয় দেখায়। ঝরনার চঞ্চল, পুলকিত গতিকে বাধা দিতে, স্তব্ধতার মধ্যে ঝরনার এই শব্দকে থামাতেই ঝুম পাহাড় চোখ পাকিয়ে ভয় দেখায়।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার সাদৃশ্য এই যে উদ্দীপকের দুঃসাহসী অভিযাত্রী ও ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার ঝরনা কারও কথায় কান না দিয়ে, শত বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আপন বেগে চলে।
নিজ লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে তারা অটল ও অবিচল। আপন বেগে ধেয়ে চলা তাদের লক্ষ্য। ছন্দের রাজা কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখা ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় কবি ঝরনাকে একটি দৃঢ়, অবিচল, গতিময় এক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। ঝরনার গতি অবিরাম। সে কারও ভয় পায় না। চারপাশের সবকিছুই সে দেখে ও উপলব্ধি করে কিন্তু কারও জন্য তার গতিকে মন্থর করে না। তার উদ্দেশ্য সৌন্দর্যের তৃষ্ণার্তকে খুঁজে বের করা এবং সেই লক্ষ্যেই অবিচল।
অর্থাৎ উদ্দীপকে দুঃসাহসী, পথিক যেমন দুর্গম পথ পাড়ি দেয় তেমনি ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় ঝরনা নানা উঁচু-নিচু, বিস্তর সংকীর্ণ পথ পাড়ি দেয়। নিজের চঞ্চলতা ও অঢেল প্রাণশক্তির মাধ্যমে প্রকৃতির নানা ঘটনা সে উপভোগ করে। কিন্তু তারা উভয়ই অর্থাত্, পথিক ও ঝরনা উভয়েই তাদের লক্ষ্যে দৃঢ় থাকে। দুজনের চলার গতি নদীর স্রোতের মতো। কারও জন্য তারা থামে না। এখানে সাদৃশ্য হিসেবে উভয়ের চলার গতিকে নির্দেশ করা হয়েছে। অর্থাত্ উদ্দীপকের পথিক ও ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার ঝরনার গতি বহমান ও লক্ষ্যে অবিচল।

ঘ. ‘অভিযাত্রিকের চলার গতিতে ঝরনার ন্যায় গতিশীলতা বিদ্যমান।’-উক্তিটি উদ্দীপক ও কবিতার জন্য যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকে দুঃসাহসী অভিযাত্রী দুর্গম পথ দৃঢ় মনোবলের সাথে পাড়ি দেয়। সে তার লক্ষে অটল, অবিচল। অভিযাত্রিকের চলার গতি ও কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার ঝরনার গতিময় ছুটে চলা উভয়ই যেন একই সূত্রে গাঁথা। উভয়ের গতিকে নদীর চলমান স্রোতের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
ঝরনা কারও জন্য থামে না। সে সৌন্দর্যের তৃষ্ণার্তকে খুঁজে বেড়ায় পৃথিবীময়। কোনো বাধা, ভয় তার লক্ষ্যকে বিচলিত করতে পারে না। সে শুধু তার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে চায়। কারও কথা, ভয় দেখানো, চারপাশের ঘটনা তাকে থামাতে পারে না। সে শুধু চেয়ে দেখে আর আপন মনে নূপুর বাজিয়ে পাথরে তাল দিয়ে নেচে-গেয়ে চলতে থাকে। অভিযাত্রিকেরা যেমন নিজের লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে অটল, অবচিল ও দুর্বার গতিতে ছুটে চলে, ঝরনাও পর্বত গাত্রে জন্ম নিয়ে ক্লান্তিহীনভাবে চঞ্চল পায়ে পুলকিত মনে বয়ে যায়।
উদ্দীপকের উক্তিটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে অফুরন্ত প্রাণশক্তির অধিকারী দুঃসাহসী অভিযত্রিক ও পর্বতকন্যা ঝরনার অবিরাম গতিতে কোনো পার্থক্য নেই। অর্থাৎ উক্তিটি যথার্থ।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সমুদ্র বরাবরই খুব টানে দিহানকে। সৈকতের দিকে বিরামহীন ছুটে আসা স্রোতগুলো তার মনে বিস্ময় জাগায়। সমুদ্রকে ভালোবেসেই বেছে নিয়েছে নাবিক জীবন। জাহাজে চড়ে সমুদ্রের বুকে ভেসেছে বহুদিন। দেখেছে সাদা বালির সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া পাথুরে পাহাড়ের সাথে স্রোতের সংঘর্ষের সৌন্দর্য। অবসর সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের দিকে চেয়ে থেকে কাটিয়ে দেয় দিহান।

ক. ঝর্ণা কেবল কার গান গায়?
খ. ‘চপল পায় কেবল ধাই।’—চরণটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. ‘ঝর্ণা’ কবিতায় বর্ণিত ঝর্ণার সাথে উদ্দীপকে উল্লিখিত সমুদ্রের সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের দিহানের মতো মানুষেরাই ঝর্ণার পরম আকাক্সিক্ষত’—ঝর্ণা কবিতার আলোকে কথাটি বিশ্লেষণ করো।

ক. ঝর্ণা কেবল পরীর গান গায়।
খ. চরণটির মাধ্যমে ঝর্ণার উচ্ছল ও বিরামহীন ছুটে চলাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
পাহাড় থেকে সৃষ্ট ঝর্ণা পাহাড়ের গা বেয়ে উদ্দাম গতিতে ছুটে চলে। তার চঞ্চল, আনন্দমুখর চলার মাঝে বাধা হতে পারে না কিছুই। দিনরাত সে নৃত্যরত রমণীর মতো কেবলই ছুটে চলে।

গ. উদ্দীপকে বিরামহীন ছুটে আসা সমুদ্রের স্রোত আর সাদা বালির সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ায় সাথে ঝর্ণার গান কবিতার ঝর্ণার সাদৃশ্য রয়েছে।
‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় ঝর্ণা এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। ঝর্ণা যখন পাহাড়ের গা ঘেঁষে নিচে পতিত হয় তখন দ্রুত ধাবমান জলরাশি দেখতে খুবই চমৎকার মনে হয়। এই ধেয়ে চলা জলরাশি নিচে পতিত হয় এবং পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে। নীরব-নিস্তব্ধ পরিবেশে ঝর্ণার এই গতিময় ছুটে চলা এক নৈসর্গিক পরিবেশের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে সমুদ্রের সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সমুদ্রের বিরামহীন ঢেউ সকলের মনেই বিস্ময়ের অনুভূতি সৃষ্টি করে। নাবিক হিসেবে দিহান দেখেছে সাদা পলির সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া। পাহাড়ের সাথে স্রোতে সংঘর্ষ এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা করে। সমুদ্রের স্রোতের বিরামহীন ছুটে চলা আর তীরে ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার সাথে ঝর্ণার যথেষ্ট সাদৃশ্য বহন করে। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই গতিময়তা, প্রবহমানতা ও সৌন্দর্য সৃষ্টি লক্ষণীয়।

ঘ. সুন্দরের তৃষ্ণা আছে বলেই উদ্দীপকের দিহানের মতো মানুষেরাই ঝর্ণার পরম আকাঙিক্ষত।
‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় সৌন্দর্যপিয়াসী মানুষের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কবিতায় বলা হয়েছে, যার কণ্ঠে প্রবল তৃষ্ণা সে শুধু ঝর্ণার স্বচ্ছ জল নিতে চায়। কেবল তৃষ্ণা মেটাতেই সে ব্যস্ত। ঝর্ণার সৌন্দর্য তাদের চোখে পড়ে না। কারণ সৌন্দর্য উপলব্ধি করার সেই মানসিকতা তার মাঝে থাকে না। তাই কবি ক্ষোভের সাথে বলেছেন, যারা শুধু জল চায় তারা যেন পাতকুয়ায় চলে যায়। আর তার জলে যেন নিজের তৃষ্ণা মেটায়। যাদের সুন্দরের তৃষ্ণা আছে ঝর্ণা কেবল তাদের তৃষ্ণা মেটাতে এগিয়ে যাবে।
উদ্দীপকের দিহানকে সমুদ্র খুব কাছে টানে। সৈকতের দিকে বিরামহীন ছুটে আসা স্রোত তার মনে বিস্ময় জাগিয়ে তোলে। সৈকতে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া, পাথুরে পহাড়ের সাথে স্রোতের সংযত সৌন্দর্যের এক অপার লীলা তৈরি করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমুদ্রের বিশালতার মাহাত্ম্য বোঝার মতো প্রশস্ত মন দিহানের আছে বলেই সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেয়।
ঝর্ণার সৌন্দর্য তুলনাহীন। এই সৌন্দর্য বোঝার ক্ষমতা যাদের নেই তাদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য কবি পরামর্শ দিয়েছেন পাতকুয়ার জল সংগ্রহ করতে। ঝর্ণা কেবল তাদের জন্য ছুটে চলে যাদের সুন্দরের তৃষ্ণা রয়েছে। আলোচ্য উদ্দীপকের দিহানের সেই সৌন্দর্য চেতনা রয়েছে। তার পক্ষে কেবল প্রকৃতির হৃদয় দিয়ে উপভোগ করা সম্ভব। তাই উদ্দীপকের দিহানের মতো মানুষেরাই ঝর্ণার পরম আকাক্সিক্ষত।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
করতোয়া নদীর মনে খুব দুঃখ। একসময় তার আকার ছিল বিশাল। ঢেউ ছিল ক্ষুরধার। তার রূপ দেখে মুগ্ধ হতো সকলে। কিন্তু দখলদার মানুষেরা তার দুই তীর ভরাট করে নানান স্থাপনা গড়ায় ব্যস্ত। স্রোত হারিয়ে সে এখন পরিণত হয়েছে সরু খালে। কচুরিপানা বাসা বেঁধেছে তার বুকজুড়ে। তার আশঙ্কা হয়তো খুব দ্রুতই তার চিহ্ন সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

ক. ঝর্ণা কোন পাখির বোল সাধে?
খ. ‘ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়’—চরণটি ব্যাখ্যা করো।
গ. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় বর্ণিত ঝর্ণার মনোভাবের সাথে উদ্দীপকের করতোয়া নদীর মনোভাবের বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিশেষ শ্রেণির মানুষের প্রতি ‘ঝর্ণা’ কবিতায় কটাক্ষ করা হয়েছে—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. ঝর্ণা বুলবুলি পাখির বোল সাধে।
খ. ঝর্ণার চলার পাহাড়ি পথ যেন ঝর্ণার সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে চায়—আলোচ্য চরণের বক্তব্যে এটিই প্রকাশ পেয়েছে।
ঝর্ণা যেন মুক্ত প্রাণের প্রতীক। পাহাড়ের বুক চিরে চঞ্চল পায়ে ছুটে আসে। পথে পাহাড় এঁকে বেঁকে বাধা সৃষ্টি করে। কবির ভাষায় পাহাড় যেন এভাবে ঝর্ণাকে ভয় দেখাতে চায়। যদিও ঝর্ণা তাতে ভীত না হয়ে আপন গতি বজায় রাখে।

গ. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় বর্ণিত ঝর্ণা আনন্দিত চিত্তে ছুটে চললেও উদ্দীপকের করতোয়ার মনে রয়েছে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা।
কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তঁর ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় প্রকৃতির সৌন্দর্যের আঁধার ঝর্ণার অনিন্দ্য সুন্দর রূপটি তুলে ধরেছেন। নির্জন স্তব্ধ পাহাড় থেকে নেমে আসছে ঝর্ণা। পুলকিত তার ছুটে চলা। পাহাড় যেন দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়। তা উপেক্ষা করে ঝর্ণা অবিরাম ছুটে চলের স্বচ্ছ এই জলরাশির ধারা যেন শরীরের মতোই রূপ লাভ করে।
উদ্দীপকে করতোয়া নদী তার গতি হারিয়ে দিন দিন মরা খালে পরিণত হচ্ছে। তার বুকে আর বিশাল ঢেউ খেলা করে না। নদী থেকে দখলদাররা দুই তীরে গড়ে তুলছে অসংখ্য স্থাপনা। যে নদীর রূপ দেখে মানুষ মুগ্ধ হতো, এখন তা দিন দিন বিবর্ণ হয়ে পড়ছে। করতোয়া নদী এখন তার অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা করছে। কিন্তু ঝর্ণার গান কবিতার ঝর্ণা প্রবহমান। ঝর্ণার আনন্দমুখর ছুটে চলার সাথে তাই বিলুপ্তপ্রায় করতোয়ার মানসিকতায় বৈপরীত্য বিদ্যমান। প্রকৃতির প্রতি কারোরই কোনো মমতা নেই।

ঘ. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় যাদের সুন্দরের তৃষ্ণা নেই তাদের এবং উদ্দীপকে নদী দখলদারদের প্রতি কটাক্ষ করা হয়েছে।
‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় কবি বলেছেন, যাদের সুন্দরের তৃষ্ণা রয়েছে ঝর্ণা তাদের জন্য ছুটে চলে। যারা শুধু এর পানি পান করে তৃষ্ণা মেটাতে চায় তাদের চোখে এর সৌন্দর্য ধরা পড়ে না। তাদের প্রতি ঝর্ণার কোনো অনুরাগ নেই, অনুভূতি নেই। যাদের অভ্যাস শুধুই জল স্যাঁচার, তারা যেন পানি সংগ্রহের জন্য পাতকুয়ায় চলে যায়। যাদের মনে সৌন্দর্যবোধ নেই কবিতায় কবি এভাবেই তাদের প্রতি কটাক্ষ করেছেন।
উদ্দীপকে করতোয়া নদীর বেহাল দশার কারণ হচ্ছে এক শ্রেণির হৃদয়হীন মানুষ। একটি বহমান নদীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে না ভেবে তারা অবৈধভাবে দুপাড়ে নির্মাণ করে বাড়িঘর। ফলে নদী দিন দিন সরু হয়ে পড়ছে। স্রোত হারিয়ে তার বুকে বাসা বাঁধছে কচুরিপানা। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে একসময় হয়তো করতোয়া পুরোপুরি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে।
ঝর্ণার গান কবিতায় কবি ঝর্ণার সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। সৌন্দর্যপিপাসু মন মাত্রই ঝর্ণার রূপে মুগ্ধ না হয়ে পারে না। ঝর্ণাকে যারা শুধু পানির উৎস ভেবে তৃষ্ণা মেটাতে যায়, তারা কখনো ঝর্ণার সৌন্দর্য বুঝতে পারে না। ঝর্ণার সৌন্দর্য তাদের জন্য নয়। একইভাবে যারা নদীর সৌন্দর্য শোভা উপলব্ধি করতে পারে না তারাই কেবল নদীর মৃত্যু ঘটিয়ে ঘরবাড়ি কিংবা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে। তারা দখলদার, তারা হৃদয়হীন। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায়ও এমন স্বার্থপর মানুষের কথা বলা হয়েছে। তাদের কটাক্ষ করা হয়েছে।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
শিখর হইতে শিখরে ছুটব
ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব,
হেসে খল খল গেয়ে কল কল তালে তালে দিব তালি
এত কথা আছে, এত গান আছে, এত প্রাণ আছে মোর
এত সুখ আছে, এত সাধ আছে, প্রাণ হয়ে আছে ভোর।

ক. ঝর্ণা কিসের গান গায়?
খ. ‘ঝর্ণা একা দিবস-রাত, সাঁঝ-সকালে চলে’-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের মধ্যে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার কোন বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের বর্ণনা ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার সহধর্মী হলেও সমগ্রভাবের প্রকাশক নয় —বিশ্লেষণ করো।

ক. ঝর্ণা পরীর গান গায়।
খ. ঝর্ণা একা দিবস-রাত, সাঁঝ-সকাল চলে বলতে ঝর্ণার অবিরাম ছুটে চলাকে বোঝানো হয়েছে।
ঝর্ণা হচ্ছে পর্বত থেকে নেমে আসা সাদা জলরাশি। ঝর্ণার কোনো বিরাম নেই, বিশ্রাম নেই। ধেয়ে চলাই তার ধর্ম। দিনরাত-সাঁঝ-সকাল অর্থাৎ বাধাহীন, বিরামহীনভাবে পতিত হচ্ছে সে।

গ. উদ্দীপকে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় বর্ণিত ঝর্ণার অনন্দমুখর ছুটে চলার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় ঝর্ণা অস্থির, চঞ্চল। ঝর্ণার গতিশীলতা নিরন্তর কেবলই ধেয়ে চলে। বিরামহীন চলাই তার কাজ। বাধা-বিঘœ ও ভয়-ভীতিকে অতিক্রম করে ঝর্ণা এগিয়ে যায়।
উদ্দীপকেও ঝর্ণার আনন্দময় ছুটে চলার দিকটি উল্লেখ করা হয়েছে। পাহাড়ি মেয়ের মতো চঞ্চল ঝর্ণা চারদিকে যে কাঁপন জাগায়। পৃথিবীতে বইয়ে দেয় সুখের পরশ। পাহাড়ের চূড়া থেকে পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে।ঝর্ণার গান কবিতায়ও ঝর্ণার এই মনোমুগ্ধকর প্রবহমানতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকে শুধু ঝর্ণার প্রাণচঞ্চল ছুটে চলার কথা বলা হয়েছে। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় রয়েছে এর পাশাপাশি আরো বহু বিষয়ের উল্লেখ।
‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় ঝর্ণার অনিন্দ্য সুন্দর সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। পাহাড়ের ওপর থেকে অবিরাম নেমে আসা ঝর্ণা পাথরের ওপর পড়ে তা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টি করে অসাধারণ সৌন্দর্য। ঝর্ণা সবাইকে সৌন্দর্য অবগাহন করায় আহ্বান জানায়। যারা সেই সৌন্দর্যের অস্তিত্ব টের পায় না তারা শুধু ঝর্ণার জলে তৃষ্ণা নিবারণ করতে চায়। তারা ঝর্ণার বিরাগভাজন হয়।
উদ্দীপকে ঝর্ণার উদ্দাম নৃত্য আর আনন্দময় গতিকে তুলে ধরা হয়েছে। ঝর্ণা পাহাড়ের চূড়া থেকে নেমে আসে ভূমিতে। আপন ভঙ্গিমায় সে চপল পায়ে ছুটে চলে। ঝর্ণার মনোমুগ্ধকর গান আর খলখল হাসিতে সমস্ত প্রকৃতিও যেন উৎফুল্ল হয়ে ওঠে।
‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় ঝর্ণার নানা বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে। বিশাল পাহাড় যেন ঝর্ণাকে ভয় দেখায়। ঝর্ণার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ঝর্ণা কেবলই ছুটে চলে সবার মৌনতা ভাঙিয়ে। ঝর্ণাকে ঘিরে আনন্দে গান গায় শালিক-চাতক পাখিও। ঝর্ণা কেবল ধাবিত হয় সৌন্দর্যপিপাসুদের জন্যই। কিন্তু উদ্দীপক শুধু ঝর্ণার নৃত্য ও আনন্দময় গতিকেই তুলে ধরেছে। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে সে যে অপর সৌন্দর্য সৃষ্টি করে সেই কথার উল্লেখ নেই। নিজের মনের পুলক জড়ানো ভাবনার বিষয়টিই উদ্দীপকে কেবল স্থান পেয়েছে। তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকের বর্ণনা ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় সমধর্মী হলেও সমগ্রভাবের প্রকাশক নয়।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ঝম্ ঝম্ ঝম্ নামে বরষা
ধরণী উষসী জাগে শ্যাম সরসা।
উছলিত ভরা নদী জাগে কল্লোলে
তীরে বন মল্লিকা কেতকী দোলে।

ক. ঝর্ণা কেমন পায় ধায়?
খ. ঝর্ণার সকল গায় পুলক কেন?
গ. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার সাথে উদ্দীপক কবিতাংশের সাদৃশ্য বিচার করো।
ঘ. উদ্দীপক কবিতাংশে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার সমগ্র ভাব প্রতিফলিত হয়েছে কি? বিশ্লেষণী মতামত দাও।

ক. ঝর্ণা চপল পায় ধায়।
খ. ঝর্ণা বাধাহীনভাবে ছুটে চলে চারপাশে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে বলে তার সকল গায় পুলক।
ঝর্ণার চলার পথটি চঞ্চল, আনন্দিত, গতিময়। স্তব্ধ পাহাড়ের বুকে সে এঁকে দিয়ে যায় উচ্ছ্বাসের পদচিহ্ন। এই জলধারার চলার পথের সর্বত্র থাকে অসামান্য সৌন্দর্যের সম্ভার। চঞ্চল পদচারণের মাধ্যমে ঝর্ণা মধুর আবেশ সৃষ্টি করে বলেই তার সর্বাঙ্গে পুলক জাগে।

গ. উদ্দীপকের বর্ণনাটি ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় উল্লিখিত প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্যের উপস্থাপনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় বর্ণিত ঝর্ণার সৌন্দর্য মনকাড়া ও মনোরম। ঝর্ণা পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন ফেলে ছুটে যায়। পর্বত চূড়া থেকে ঝর্ণা নেমে আসে সাদা জলরাশির ধারা হয়ে। পাথরের গায়ে আঘাত হেনে তার বিচ্ছুরিত জলরাশির মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয় না। তখন মনে হয় সৌন্দর্যের প্রতীক পরীরা যেন কোনো নাচের উৎসবে মেতে উঠেছে।
উদ্দীপক কবিতাংশে বর্ষার রূপচিত্র অঙ্কিত হয়েছে। বর্ষায় বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ। বর্ষার প্রভাবে প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয় প্রাণের স্পন্দন। নদীগুলো ভরে যায় কানায় কানায় আবার কখনো দুই কূল ছাপিয়ে। মল্লিকা, কেতকী ইত্যাদির বাহার এক নৈসর্গিক দৃশ্যের অবতারণা করে। বর্ষার চিরচেনা সৌন্দর্য প্রাণে আনে নতুন আবেগ। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায়ও একইভাবে নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়েছে।

ঘ. ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় উল্লিখিত বিষয়াবলির মধ্যে কেবল একটি দিক অর্থাৎ প্রাকৃতিক রূপময়তার বিষয়টি উদ্দীপকে প্রতিফলিত। তাই উদ্দীপকটিতে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় সমগ্রভাব প্রতিফলিত হয়নি।
‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় কবি ঝর্ণার রূপ বর্ণনা করেছেন অসামান্য দক্ষতায়। ঝর্ণা প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের মায়াজাল বিস্তার করে। ঝর্ণার চলার পথটি আনন্দময়। আর পথের চারপাশ রূপময়তায় ঘেরা। কবিতায় এ বিষয়টি উপস্থাপনের পাশাপাশি এসেছে সৌন্দর্যপিপাসুদের প্রতি কবি-মনের বিশেষ অনুরাগের বিষয়টিও।
বর্ষা ঋতুতে যে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে প্রকৃতি ভরে যায় সেই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে উদ্দীপকে। পৃথিবী যেন নতুন সাজে সজ্জিত হয়। ভরা নদীতে আসে প্রবল জোয়ার। দুকূল ছাপিয়ে চারদিকে প্রবাহিত হয় পানি। প্রকৃতিতে বিরাজ করে স্নিগ্ধতা। বর্ষা যেমন প্রকৃতিকে সুন্দর করে তোলে ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় বর্ণিত ঝর্ণাও তেমনি প্রকৃতিতে সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। কিন্তু কবিতার বিষয়বস্তু আরো বিস্তৃত।
প্রকৃতির প্রতি সবার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। কেউ কেউ প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ হয়। তার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। গভীরভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে চায়। আবার কারো কারো কাছে প্রকৃতি নিছক প্রয়োজন মেটানোর উপাদান। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতায় এমন মানসিকতা পোষণকারীদের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে আমরা এমন কোনো কিছুর উল্লেখ দেখি না। উদ্দীপকে কেবল প্রকাশিত হয়েছে বর্ষার প্রভাবে প্রকৃতির সেজে ওঠার বিষয়টি। ‘ঝর্ণার গান’ কবিতার বিশেষ একটি দিককেই কেবল তা মনে করিয়ে দেয়। সম্পূর্ণ অংশকে নয়। উদ্দীপকটিকে তাই কবিতার সমগ্রভাবের ধারক বলা যায় না।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘ঝরনা, ঝরনা, সুন্দরী ঝরনা
তরলিত চন্দ্রিকা। চন্দন-বর্ণা।
অঞ্চল সিঞ্চিত গৈরিকে স্বর্ণে
গিরি-মল্লিকা দোলে কুন্তলে কর্ণে
তনু ভরি ‘যৌবন’ তাপসী অপর্ণা।’

ক. বিজন দেশে কী নেই?
খ. ‘চকোর চায় চন্দ্রমায়’ কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপক ও ‘ঝরনার গান’ কবিতার আলোকে ঝরনার সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার বক্তব্যকে কতটুকু ধারণ করে?

ক. বিজন দেশে কূজন নেই।
খ. ‘চকোর চায় চন্দ্রমায়’ বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোকের প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে।
‘ঝরনার গান’ কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। ঝরনা প্রকৃতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে ছুটে চলে। নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড় সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা স্তন্য পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে যায়। কবি ঝরনার মনোহর দৃশ্যে মুগ্ধ, বিমোহিত। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, কবিও তেমনি ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।

গ. উদ্দীপক ও ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রূপ প্রকাশ পেয়েছে।
ফুল, গাছ, লতাপাতা, পাহাড়, নদী, ঝরনা এসবই প্রকৃতির উপাদান। এগুলো আমাদের চারপাশের জগৎকে করেছে মোহনীয়। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে। ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য সবাই পছন্দ করে। কবি-মানস আনন্দে উদ্বেলিত হয়।
‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার চঞ্চল গতিময়তার কথা বলা হয়েছে। স্বপ্ন পাথরের বুকে আনন্দের চিহ্ন রেখে ঝরনা অবিরাম ছুটে চলে। তার চলার ধ্বনি ও সৌন্দর্য অসাধারণ। তার জলধারার সৌন্দর্যে সবাই মুগ্ধ হয়। পাহাড়ের গা ঘেঁষে আসা ঝরনাধারা ভাবুক করে দর্শনার্থীকে। উদ্দীপকেও প্রকৃতির সৌন্দর্যের দিকটি প্রকাশিত হয়েছে। ঝরনার সৌন্দর্য ও গতিশীলতা তুলে ধরা হয়েছে। ঝরনাকে ভরা যৌবনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ভরা যৌবনা দ্বারা মূলত ঝরনার রূপ ও সৌন্দর্য প্রকাশ করাই কবির মূল উদ্দেশ্য। অর্থাৎ রূপসৌন্দর্যের দিক থেকে উদ্দীপক এবং ‘ঝরনার গান’ কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার আংশিক বক্তব্য ধারণ করে।
বিশ্বপ্রকৃতি নানা রকম সৌন্দর্যের আধার। প্রকৃতি বন-বনানী, নদনদী, সাগর, পাহাড় বৈচিত্র‍্যময় সৌন্দর্য দিয়ে মানুষকে মুগ্ধ করে রেখেছে। মানুষের এই আনন্দ ও মুগ্ধতার মধ্যেই প্রকৃতির সার্থকতা বিরাজমান। ঝরনা এমনি এক প্রাকৃতিক উপাদান, যার সৌন্দর্য অকৃত্রিম। মুগ্ধ চোখের আলোয় ঝরনা বিরামহীন ঘুরে বেড়ায়।
‘ঝরনার গান’ কবিতায় কবি স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে যাওয়া ঝরনার চিত্রকল্প এঁকেছেন। ঝুম-পাহাড় যেখানে দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়, যেখানে লোকজন নেই, সেখানে আনন্দময় পদধ্বনিতে নেমে আসে ঝরনার সেই সাদা জলরাশির ধারা। কবি অনুভবে ঝরনার আনন্দ টের পেয়েছেন এবং কবিতাটিতেও ঝরনার সেই আনন্দকেই প্রকাশ করেছেন। নিস্তব্ধ দুপুরে ঝরনা চঞ্চল পায়ে বাঁধা ডিঙিয়ে অবিরত ছুটে চলে।
উদ্দীপকেও ঝরনার রূপসৌন্দর্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কবি ঝরনার সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঝরনাকে ভরা যৌবনা বলে উল্লেখ করেছেন। ঝরনার বর্ণ চন্দনতুল্য। এই রূপসৌন্দর্যের দিক থেকে উদ্দীপক ও ‘ঝরনার গান’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে শুধু ঝরনার সৌন্দর্যই বর্ণনা করা হয়েছে। তবে কবিতায় যেমন ঝরনার সৌন্দর্যের পাশাপাশি তার ছুটে চলা এবং দিগ্বিদিক ঝিলমিলিয়ে প্রবহমানতার দিকটির উল্লেখ আছে কিন্তু সেরূপ বর্ণনা উদ্দীপকে নেই। এই বিবেচনায় যথার্থই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার আংশিক বক্তব্য ধারণ করে।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বনের নানান প্রজাতির পাখপাখালির কলতান আর পাহাড়ের জলধারা মিলে সৃষ্টি করে এক মোহনীয় আবেশ। অপরূপ সৌন্দর্য মুখ করে তোলে পরিবেশ। জলাধারে ভাসমান ফুল, ছন্দের তাল, পাখির তৃষ্ণা মিটানো আর সবুজের সমারোহ সব যেন সৃষ্টিকর্তার অপার লীলা নিকেতন।

ক. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কী হিসেবে পরিচিত হন?
খ. ‘সুন্দরের তৃষ্ণা যার’—ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের আলোকে ‘ঝরনার গান’ কবিতায় যে দিকটি ফুটে উঠেছে, তা বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকটিতে ‘ঝরনার গান’ কবিতার আংশিক বিষয় এসেছে বলে তুমি মনে করো তাহলে যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

ক. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘ছন্দের রাজা’ বা ‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত হন।
খ. যার সুন্দরের তৃষ্ণা আছে ঝরনা তার সান্নিধ্য লাভ করার আশা করে।
ঝরনা নিজে যেমন সুন্দর তেমনি সৌন্দর্যের পূজারিও। তাই সে সৌন্দর্য পিপাসুর সঙ্গ লাভ করার জন্য উদ্‌গ্রীব থাকে। সৌন্দর্যকে যারা ভালোবাসে তাদের খোঁজে বিরামহীন চলেও ক্লান্ত হয় না ঝরনা। এভাবে সৌন্দর্যপ্রেমীর সঙ্গ-সুধা লাভ করার আশায় ঝরনা অবিরাম বয়ে চলে।

গ. উদ্দীপকের আলোচনায় ‘ঝরনার গান’ কবিতার ঝরনার রূপমাধুর্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
প্রকৃতির এক অনিন্দ্য সৌন্দর্যের উৎস হলো ঝরনা। ঝরনা তার চলার পথে পাথরে পাথরে আঘাত হেনে বয়ে নিয়ে যায় তার জলরাশি। সূর্যের আলোকে সেই জলরাশি চকচক করে। পাখিরা মনের সুখে ঝরনার অমিয় সুধা পান করে তৃষ্ণা মেটায়। ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্য মানুষকে বিমোহিত করে।
উদ্দীপকে জলাধারের অপার সৌন্দর্যের বর্ণনা পাওয়া যায়। তার চারদিকে যে মোহনীয় আবেশ তৈরি হয় তা মানবমনকে নাড়া দেয়। এর জলরাশি সৃষ্টি করে শান্তিময় পরিবেশ। জলাধারে ভাসমান ফুল, ছন্দের তাল, পাখিদের কলতান সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে যেন উৎসব লেগে যায়। সর্বোপরি, উদ্দীপকের নৈসর্গিক সৌন্দর্যই ‘ঝরনার গান’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. উদ্দীপকে কেবল সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হলেও ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার ছন্দময় গতিশীলতার দিকটিও উঠে এসেছে।
পাহাড়ি কন্যা ঝরনা, পাহাড়েই তার জন্ম। পাহাড়ি পথ বেয়ে প্রাণবন্ত গতিতে নেমে আসে সমতলে। চলার পথে ঝরনা অনেক প্রতিকূলতা পার করে অবলীলায়। সংকীর্ণ অন্ধকার রাস্তায় চলার সময় পাহাড় যেন দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়। কিন্তু চপলা ঝরনা সেই ভয়কে উপেক্ষা করে পাথরের গায়ে পদচিহ্ন এঁকে সামনে এগিয়ে যায়। চলার পথে ঝরনা যে ধ্বনিমাধুর্য সৃষ্টি করে, তা মানবমনকেও আকৃষ্ট করে।
উদ্দীপকের জলাধার তার শুভ্র জলরাশি দিয়ে সৌন্দর্যের মহিমা প্রকাশ করে। এখানে বনের নানা প্রজাতির পাখপাখালির কলতান যেন এক মোহনীয় আবেশ সৃষ্টি করেছে। পাহাড় ও মুখরিত জলাধার অপরূপ সৌন্দর্য গড়ে তুলেছে। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাই পছন্দ করে।
ঝরনা হলো পর্বতের শিখরে জন্ম নেওয়া জলধারা। উচ্চ শিখর থেকে নেমে আসা এ জলধারা আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। আলোচ্য উদ্দীপকেও ‘ঝরনার গান’ কবিতার সৌন্দর্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। ঝরনার যে প্রাণচঞ্চল গতিময়তা রয়েছে তার কোনো বর্ণনা উদ্দীপকে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার কেবল একটি আংশিক চিত্রকল্প তৈরি করতে পেরেছে, সমগ্র ভাব নয়।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘পৌছে দাও এ নতুন খবর, অগ্রগতির ‘মেলে,’
দেখা দেবে বুঝি প্রভাত এখুনি—নেই, দেরি নেই আর,
ছুটে চলো, ছুটে চলো, আরো বেগে দুর্দম, হে রানার।’

ক. ঝুম পাহাড় কীভাবে ভয় দেখায়?
খ. ‘উপল-ঘায় দিই ঝিলিক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ঝরনার গান’ কবিতার যে মিল লক্ষ করা যায়, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘রানার ও ঝরনার ছুটে চলা যেন একই ভাবের প্রতিফলন।’—‘ঝরনার গান’ কবিতার আলোকে তা বিশ্লেষণ করো।

ক. ঝুম-পাহাড় দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়।
খ. পর্বত থেকে নেমে আসা ঝরনার কলতান যে অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করে তা ‘উপল-ঘায় দিই ঝিলিক’ শব্দের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।
পাহাড় থেকে পতিত ঝরনাধারা এক শ্রুতিমধুর ধ্বনিমাধুর্য সৃষ্টি করে। ঝরনার এ অপ্রতিরোধ্য গতিশীলতা, ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈভবের যে সৌন্দর্য তা তুলনারহিত। পাথরের বুকে আঘাত হেনে ঝরনার ক্রমশ পতন যেন মনকে আনন্দে ভাসিয়ে দেয়। এ ভালোবাসা ও সৌন্দর্য সবকিছু মিলিয়ে ঝরনার এ গান মনোমুগ্ধকর।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ঝরনার গান’ কবিতার গতিময়তার দিকটির মিল লক্ষ করা যায়।
পৃথিবীতে কোনোকিছুই স্থির নয়। প্রাণী ও প্রকৃতি সবই গতিশীল এবং যার যার নিয়মে চলমান। আমরা যে স্থির পৃথিবীকে দেখি তাও আসলে গতিশীল। ঝরনা হলো গতিশীলতার প্রতীক।
উদ্দীপকের রানার তার দায়িত্বের কারণে দ্রুতগতিতে ছুটে চলে। কোনোকিছুই তার গতির সামনে চলার পথে বাধা হয়ে উঠতে পারে না। রাত হোক, দুর্গম পথ হোক, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হোক—নিরন্তর ছুটে চলাই তার কাজ। এটাই তার দায়িত্ব। ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার পুলকিত গতিময়তার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ঝরনা চঞ্চল ও গতিময়। ঝরনার জলধারা আনন্দময় পদধ্বনিতে প্রচন্ড বেগে পাহাড় চূড়া থেকে নিচে ছুটে চলে। পাহাড় থেকে নামার সময় পাথরের বুকে আঘাত খেয়ে আরও গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ঝরনার গান’ কবিতার মিল লক্ষ করা যায়।

ঘ. “রানার ও ঝরনার ছুটে চলা যেন একই ভাবের প্রতিফলন।”—‘ঝরনার গান’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
পৃথিবীতে সবাই ছুটে চলেছে। ছুটে চলার মধ্যেই জীবনের আনন্দ নিহিত। প্রাণী ও প্রকৃতি ছুটে চলার মধ্য দিয়ে যেমন আনন্দ পায় তেমনি অন্যকে আনন্দ দেয়। ঝরনার প্রধান আনন্দই হলো ধেয়ে চলা।
ঝরনার জলধারা পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের দিকে নিরন্তর ছুটে চলেছে। গিরি থেকে নেমে আসা জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত হেনে চারদিকে ছড়িয়ে যে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে তা সত্যিই মনোহর। ঝরনার ছুটে চলার ধ্বনিমাধুর্য ও সৌন্দর্য মানুষকে আনন্দ দেয়, মুদ্ধ করে। উদ্দীপকের রানার প্রাপকের কাছে ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিঠি পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিরন্তর ছুটে চলে। প্রিয়জনদের কাছে যথাসময়ে নতুন খবর পৌঁছে গেলে তারা আনন্দ পায়, রানারের ছুটে চলাও সার্থক হয়।
উদ্দীপকের রানার ও ঝরনা উভয়েই ছুটে চলে। তাদের ছুটে চলার মধ্য দিয়ে মানুষ নতুন সংবাদ পাওয়া ও সৌন্দর্যের আনন্দ উপভোগ করে। তাদের কর্ম ভিন্ন হলেও আনন্দদানের দিক থেকে ছুটে চলার অর্থ অভিন্ন। এভাবে রানার ও ঝরনার ছুটে চলার ভেতর দিয়ে মানুষের মনে আনন্দ সঞ্চারিত হয়। তাই ‘রানার ও ঝরনার ছুটে চলা যেন একই ভাবের প্রতিফলন।’—‘ঝরনার গান’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘অন্ধভূমিগর্ত হতে শুনেছিল সূর্যের আহ্বান—
প্রাণের প্রথম জাগরণে তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ;
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা—
ছন্দহীন পাষাণের বক্ষ-পরে আনিলে বেদনা—
নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে।’

ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
খ. “চপল পায় কেবল ধাই”—পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের বৃক্ষের সাথে ‘ঝরনার গান’ কবিতার সাদৃশ্য নির্ণয় করো।
ঘ. “উদ্দীপকের বৃক্ষ ও ‘ঝরনার গান’ কবিতার ঝরনা দুটোই আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ।”—মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
খ. ‘চপল পায় কেবল ধাই’ বলতে কবি ঝরনার ছুটে চলার চঞ্চল গতিকে বুঝিয়েছেন।
ঝরনা চঞ্চল। প্রকৃতির মাঝে ঝরনা সৃষ্টি করে এক অপূর্ব সৌন্দর্য। নির্জন প্রকৃতির মাঝে সকল বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলে ঝরনা। চঞ্চল গতির কারণেই এর সৌন্দর্য দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। মানবহৃদয়কে আকর্ষণ করে। চঞ্চল গতিই ঝরনার বৈশিষ্ট্য। আলোচ্য পঙ্িক্ততে ঝরনার অবিরাম গতিময়তাকেই বোঝানো হয়েছে।

গ. উদ্ভবের দিক থেকে উদ্দীপকের বৃক্ষের সাথে ‘ঝরনার গান’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনা পাহাড়ি কন্যা। পাহাড়ের সুউচ্চ শিখরে তার জন্ম, পাহাড়ের মাটি ভেদ করে চপল পায়ে সমতল ভূমিতে পড়ে। ঝরনার পা চঞ্চল-পুলকিত, যা স্তব্ধ পাহাড়ের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রাখে। ঝরনার এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য মানুষের মনকে করে আনন্দিত। এতে প্রকৃতিতেও ফুটে ওঠে নানা সৌন্দর্য।
উদ্দীপকে বৃক্ষের উদ্ভবের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। মৃত্তিকার কঠিন আবরণ ভেদ করে বৃক্ষের জন্ম হয়। আলোকের আহ্বানে সে ঊর্ধ্বলোকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। বৃক্ষের আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে ঊষর ধরণি সবুজে-শ্যামলে সুশোভিত হয়, যা প্রকৃতির মাঝে মনোরম সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বৃক্ষ ও ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ. “উদ্দীপকের বৃক্ষ ও ‘ঝরনার গান’ কবিতার ঝরনা দুটোই আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ।”—মন্তব্যটি যথার্থ।
‘ঝরনার গান’ কবিতায় বঝরনার সৌন্দর্যের বিষয়টি কবি অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ঝরনা পাহাড়ের সুউচ্চ শিখরে জন্যে, যা আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। প্রকৃতির সৌন্দর্য মানুষের মুখ চোখকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। ঝরনার সৌন্দর্যকে মানুষ উপভোগ করে। মাটির কঠিন আবরণ ভেদ করে জন্ম নেয় বৃক্ষ। আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে বৃক্ষ। মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বৃক্ষ সূর্যালোক থেকে বিচিত্র বর্ণ আরোহণ করে পৃথিবীকে মনোহর ও রূপসি করে তোলে।
‘বৃক্ষ ও ঝরনা’ দুটোই প্রকৃতির নিঃস্বার্থ সন্তান। বৃক্ষ একদিকে আমাদের অক্সিজেন দেয় অন্যদিকে কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতেও বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। ঝরনাও একদিকে প্রকৃতিকে করে তুলে উর্বর—অন্যদিকে এ পৃথিবীর সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের মনকে করে মুগ্ধ। তাই বৃক্ষ ও ঝরনা আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।


‘ঝরনার গান’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
‘ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুইন।
চরণ-তলে বিশাল মরু দিগন্তে বিলীন।
ছুটছে ঘোড়া, উড়ছে বালি,
জীবন স্রোতে আকাশ ঢালি
হৃদয় তলে বহ্নি জ্বালি চলছে নিশিদিন।
বর্শা হাতে, ভরসা প্রাণে, সদাই নিরুদ্দেশ,
মরুর ঝড় যেমন বহে সকল বাধাহীন।’

ক. ‘শ্লোক’ অর্থ কী?
খ. “নিজের পায় বাজাই তাল” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে প্রকাশিত বেদুইনের সঙ্গে ‘ঝরনার গান’ কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের প্রতিফলিত দিকটি ‘ঝরনার গান’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. ‘শ্লোক’ হলো লঘু ও হালকা চালের কবিতা।
খ. ‘নিজের পায় বাজাই তাল’—বলতে আপন ছন্দে ঝরনার পর্বত থেকে নেমে আসাকে বোঝানো হয়েছে।
ঝরনা চঞ্চল ও গতিশীল। ঝরনা পর্বত থেকে নেমে আসে অবিরল সাদা জলরাশির ধারায়। ঝরনার এই নেমে আসা যেন নিজ পায়ে তার তাল বাজানোর মতো। আনন্দের তালে তালে পাহাড়ের বুকে পদচিহ্ন রেখে ঝরনা নেমে আসে। পায়ের তালে তালে ঝরনার নেমে আসাকেই আলোচ্য অংশে বোঝানো হয়েছে।

গ. উদ্দীপকে প্রকাশিত বেদুইনের কর্মক্ষেত্র ‘ঝরনার গান’ কবিতায় ঝরনার প্রাণচঞ্চল দুর্বার গতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
প্রকৃতির এক অনিন্দ্য সৌন্দর্যের উৎস হলো ঝরনা। ঝরনা তার রূপসৌন্দর্য উপস্থাপনের পাশাপাশি আমাদের একটি শিক্ষা দেয়। দুর্গম, বন্ধুর পথ পেরিয়ে জীবনে গতিশীল হওয়ার শিক্ষা ঝরনার কাছ থেকেও নেওয়া যায়। ঝরনার প্রাণচাঞ্চল্য ও সৌন্দর্য আমাদের বাধা অতিক্রম ও সজীব হতে শেখায়।
উদ্দীপকে মরুভূমিতে বাস করা আরব বেদুইনদের দুর্বার গতির কথা ফুটে উঠেছে। তারা পায়ের নিচে তপ্ত বালু মাড়িয়ে নির্বিঘেœ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। ঘোড়া ছুটিয়ে বহুদূর ছুটে চলে তারা। কোনো বাধাই তাদের গতি রুখতে পারে না। ‘ঝরনার গান’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে ঝরনার চঞ্চল গতি। গিরি থেকে পতিত জল পাথরের বুক চিরে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। দৈত্যের মতো পাহাড়কে সে তার জলরাশি দিয়ে সিক্ত করে তোলে। চঞ্চল পায়ে ঝরনা তার গতি বজায় রাখে। কোনো বাধাই সে মানে না। এই গতিময়তার দিকটিই আরব বেদুইন ও ঝরনার মাঝে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. প্রাকৃতিক নিসর্গের আড়ালে সংগ্রামী জীবনচেতনাই ‘ঝরনার গান’ কবিতার কবির চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে, যা উদ্দীপকের কবির ভাবাবেগের অনুরূপ।
‘ঝরনার গান’ কবিতার কবি ঝরনার অপূর্ব সৌন্দর্যে মুগ্ধ। ঝরনার চাঞ্চল্য তাঁকে পুলকিত করে। ঝরনা যখন পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসে তখন সেটি হয়ে দাঁড়ায় এক অসাধারণ সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি। কিন্তু কবি কেবল বঝরনার সৌন্দর্যেই মুগ্ধ হননি, তিনি ঝরনার বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে চলাকেও বুঝিয়েছেন, যা মানুষের জীবনেও তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের কবি আরব বেদুইন হতে চান। কারণ বেদুইনরা প্রচ- সংগ্রামী হয়ে থাকে। তারা কোনো বাধাকেই ভয় পায় না। জীবন-সংগ্রামে জয়ী হতে তারা ছুটে চলে দুর্গম মরুভূমির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। তাদের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই কবিকে আকৃষ্ট করেছে। কবি এমন জীবনকেই উৎকৃষ্ট বলে মনে করেছেন এবং সেটাই আমাদের কাম্য হওয়া উচিত।
‘ঝরনার গান’ কবিতায় কবি পাহাড়ি ঝরনার সৌন্দর্য অবলোকন করেছেন। বঝরনার ছুটে চলা কবির মনকে পুলকিত করেছে সবচেয়ে বেশি। দৈত্যের মতো পাহাড়ের ভয়কে সে কোনো পরোয়া না করে সামনের দিকে ছুটে চলেছে। আর তাই ঝরনার চাঞ্চল্য ও গতিময় পদধ্বনি কবিকে বিমোহিত করেছে। উদ্দীপকের কবি, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মতো ঝরনার সৌন্দর্যকে অবলোকন না করলেও মরুর তপ্ত বালুর মধ্যে সংগ্রামী বেদুইনের জীবনাচারকে সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। মূলত প্রাকৃতিক নিসর্গের আড়ালে সংগ্রামী জীবনচেতনাই উভয় কবি মনের ভাবাবেগ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটেছে।


তথ্যসূত্র:
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url