জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।
বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ
ভিতরের রং পলকে ফোটে,
বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র
কৃত্রিম ভেদ ধূলায় লোটে।
বংশে বংশে নাহিকো তফাত
বনেদি কে আর গর-বনেদি,
দুনিয়ার সাথে গাঁথা বুনিয়াদ
দুনিয়া সবারি জনম-বেদি।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার উৎস নির্দেশ:
মানুষ জাতি কবিতাটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘অভ্র আবীর’ কাব্যগ্রন্থ
থেকে নেওয়া হয়েছে। মূল কবিতার নাম ‘জাতির পাঁতি’।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা:
➠ এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত- একই মায়ের দুধ পান করে যেমন
সন্তান-সন্ততি বেড়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব জাতি-ধর্ম-গোত্রের মানুষ একই
পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে জীবন-যাপন করে।
➠ রবি শশী- সূর্য ও চাঁদ।
➠ শীতাতপ (শীত + আতপ)-ঠান্ডা ও গরম।
➠ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা-ক্ষুধা ও পিপাসার কষ্ট।
➠ কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি-ছোটদের পরিপুষ্ট করে তুলি।
➠ যুঝি- যুদ্ধ করি। লড়াই করি। সংগ্রাম করি।
➠ তরে- জন্য (সাধারণত পদ্যে এ শব্দ ব্যবহৃত হয়)।
➠ ডাঁটো- পুষ্ট। শক্ত। সমর্থ।
➠ বাঁচিবার তরে সমান যুবিঝ- মানবিক জীবন-যাপনের জন্য সব মানুষই
লড়াই করে।
➠ বাসর বাঁধি গো- সম্প্রীতি গড়ে তুলি।
➠ দোসর- সাথি। বন্ধু। সঙ্গী।
➠ ধলো- সাদা। ফরসা। শুভ্র।
➠ জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা- জীবনসংগ্রামে কখনো বিপদে পড়ি আবার
সংকট পেরিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখি।
➠ ডাঙা- স্থল। উঁচুভূমি। চর।
➠ জনম-বেদি- সূতিকাগৃহ। জনন্মস্থান।
➠ ছোপ- রঙের পোঁচ। ছাপ/দাগ।
➠ বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ- মানুষের বাইরের চেহারার রং যাই হোক
না কেন, আঁচড় লাগলে বা কেটে গেলে যে লাল রক্ত বের হয় তা বাইরের রঙের
পার্থক্যকে ঘুচিয়ে দেয়।
➠ শূদ্র- হিন্দু চতুর্বর্ণের (চার বর্ণের) একটি হলো শূদ্র।
➠ বনেদি- প্রাচীন। সম্ভ্রান্ত।
➠ বুনিয়াদ- ভিত্তি।
➠ গর-বনেদি- অভিজাত নয় এমন। তুলনীয়: গরহাজির।
➠ দুনিয়া সবারি জনম-বেদি- এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
➠ ব্রহ্ম- হিন্দু ধর্মমতে পরমেশ্বর বা বিধাতা।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার পাঠের উদ্দেশ্য:
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা ও সমমর্যাদার
মনোভাব সৃষ্টি।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব:
দেশে দেশে, ধর্মে ও বর্ণের পার্থক্য সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ
সৃষ্টি করা হয়েছে, কবি মানুষকে তার চেয়ে উপরে আসন দিয়েছেন। আমাদের এই
পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষেরই বাসভূমি। এই ধরণীর
স্নেহ-ছায়ায় এবং একই সূর্য ও চাঁদের আলোতে লালিত ও প্রতিপালিত হচ্ছে সব
মানুষ। শীতলতা ও উষ্ণতা, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতি সব মানুষেরই সমান।
বাইরের চেহারায় মানুষের মধ্যে সাদা-কালোর ব্যবধান থাকলেও সব মানুষের
ভেতরের রং এক ও অভিন্ন। সবার শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে একই লাল রক্ত। মানুষ
আজ জাতিভেদ, গোত্রভেদ, বর্ণভেদ ও বংশকৌলীন্য ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে
নিজেদের পরিচয়কে সংকীর্ণ ও গণ্ডিবদ্ধ করেছে। কিন্তু গোটা দুনিয়ার সঙ্গে
মানুষের যে জন্মসম্পর্ক, সেই বিচারে মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ
এবং তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবার কথা নয়। সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম,
বর্ণ, গোত্র-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে সমগ্র মানবসমাজ, কবি এই কবিতায় মানুষের
সে পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর সব মানুষকে নিয়েই গড়ে উঠেছে মানুষ
জাতি।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার কবি পরিচিতি:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে
জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু
ঘটে। বৈচিত্র্যপূর্ণ ছন্দের কবিতা লিখে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছন্দের
জাদুকর হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কর্মজীবন শুরু
করেছিলেন ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে। কিন্তু পরে ব্যবসায় ছেড়ে
সাহিত্যসাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি আরবি, ফারসি, ইংরেজিসহ অনেক ভাষা
জানতেন। বিদেশি ভাষা থেকে উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ অনুবাদ করলেও কবি
হিসেবেই তিনি অধিক পরিচিত। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, বিদায় আরতি ইত্যাদি।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন:
১. মানুষে মানুষে কী ধরনের ভেদাভেদ তোমার চোখে পড়েছে? তোমার দেখা
মানুষজনের আলোকে উক্ত ভেদাভেদের বর্ণনা দাও এবং এই ভেদাভেদ কীভাবে কমিয়ে
আনা যায় সে ব্যাপারে তোমার মতামত উপস্থাপন কর।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন
-এর মধ্যে!
যা
‘মানুষ জাতি’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন-১: ‘মানুষ জাতি’ কবিতার কবি কে?
উত্তর : ‘মানুষ জাতি’ কবিতার কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
প্রশ্ন-২: ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় কার জয়গান গাওয়া হয়েছে?
উত্তর : ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় মানুষের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন-৩: কবি মানুষকে কীসের উপরে স্থান দিয়েছেন?
উত্তর : কবি মানুষকে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবকিছুর উপরে স্থান দিয়েছেন।
প্রশ্ন-৪: মানুষ জাতি কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
উত্তর : অভ্র আবীর।
প্রশ্ন-৫: সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কর্মজীবন শুরু করেছিলেন কী দিয়ে?
উত্তর : সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ব্যবসা দিয়ে।
প্রশ্ন-৬: ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল কবিতার নাম কী?
উত্তর : ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল কবিতার নাম ‘জাতির পাঁতি’।
প্রশ্ন-৭: মানুষ কীসের স্তন্যে লালিত?
উত্তর : মানুষ একই পৃথিবীর স্তন্যে লালিত।
প্প্রশ্ন-৮: ‘বনেদি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর : ‘বনেদি’ শব্দের অর্থ প্রাচীন বা সম্ভ্রান্ত।
প্রশ্ন-৯: মানুষ কীসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে সংগ্রাম করে?
উত্তর : মানুষ প্রকৃতির প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একসঙ্গে সংগ্রাম করে।
প্রশ্ন-১০: আমরা সবাই কীসের জ্বালা সমান বুঝি?
উত্তর : আমরা সবাই শীতাতপ ক্ষুধা-তৃষ্ণার জ্বালা সমান বুঝি।
প্রশ্ন-১১: আমাদের সবার ভেতরের রং কী?
উত্তর : আমাদের সবার ভেতরের রং হলো এক (লাল)।
প্রশ্ন-১২: কৃত্রিম ভেদ কোথায় লোটে?
উত্তর : কৃত্রিম ভেদ ধুলায় লোটে।
প্রশ্ন-১৩: আমাদের বুনিয়াদ কার সঙ্গে গাঁথা?
উত্তর : আমাদের বুনিয়াদ দুনিয়ার সঙ্গে গাঁথা।
প্রশ্ন-১৪: সবার ভেতরের রং কেমন?
উত্তর : সবার ভেতরের রং লাল।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন-১: বংশে বংশে মানুষের কোনো তফাত নাই কেন?
উত্তর : পৃথিবীতে মানুষের বড় পরিচয় সে মানুষ। এ কারণেই বংশে বংশে কোনো মানুষের তফাত নেই।
পৃথিবীর পার্থক্য সব মানুষ নিয়েই গড়ে উঠেছে মানুষ জাতি। ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি মানুষের জাতি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের পরিচয়কেই বড় করে দেখেছেন। তাই এখানে কোনো বংশে বংশে পার্থক্য নাই।
প্রশ্ন-২: কবি মানুষের সৃষ্ট ভেদাভেদকে কৃত্রিম ভেদ বলেছেন কেন?
উত্তর : একই পৃথিবীতে জš§গ্রহণকারী সকল মানুষ অনুভূতির দিক থেকে এক হওয়ায় কবি মানুষের সৃষ্ট ভেদাভেদকে কৃত্রিম ভেদ বলেছেন।
‘মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি মানুষকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন। পৃথিবীর আলো-বাতাস, শীতলতা, ক্ষুধার অনুভূতি সকল মানুষের সমান। বাইরের ভেদাভেদ মানুষেরই সৃষ্টি। এ কারণে কবি বাহ্যিক সে ভেদাভেদকে কৃত্রিম ভেদ বলেছেন।
প্রশ্ন-৩: পৃথিবীর সঙ্গে মানুষের শক্ত ভিত্তি থাকার কারণ কী?
উত্তর : পৃথিবী সকল মানুষের জন্মস্থান। তাই পৃথিবীর সঙ্গে মানুষের শক্ত ভিত্তি বিদ্যমান।
পৃথিবীতে সবকিছুর উপরে মানুষ জাতির অবস্থান। একই পৃথিবীর আলো-বাতাসে মানুষ লালিত হয়। বাঁচার জন্য সব মানুষ পৃথিবীতে সমানভাবে সংগ্রাম করে। পৃথিবীই তাদের প্রকৃত ভিত্তি। পৃথিবী সব মানুষকেই আগলে রাখে আজীবন।
প্রশ্ন-৪: ‘বাঁচিবার তরে সমান যুঝি’- এ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : ‘বাঁচিবার তরে সমান যুঝি’- এ কথাটি দ্বারা সব মানুষের একই রকম বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা বোঝানো হয়েছে।
এ পৃথিবী সব মানুষের আবাসস্থল। এ পৃথিবীতে নানা বর্ণের মানুষ পাশাপাশি অবস্থান করে। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের সংগ্রাম সামগ্রিক। জীবনসংগ্রামে প্রতিটি মানুষ একে অপরের সহযোদ্ধা। এ কথাটিই প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন-৫: ‘সবাই আমরা সমান বুঝি’-এ কথা দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : ‘সবাই আমরা সমান বুঝি’ একথা দ্বারা অনুভূতির ক্ষেত্রে সব মানুষের অভিন্নতার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
পৃথিবীর সব মানুষের গঠন উপাদান একই ধরনের। আকৃতিতে মানুষের মধ্যে ভিন্নতা থাকলেও প্রকৃতিতে মানুষ অভিন্ন। প্রতিটি মানুষ জন্মসূত্রে একে অপরের আত্মীয়। ক্ষুধা-তৃষ্ণার জ্বালাও আমরা সমানভাবে অনুভব করি। তাহলে কেন মানুষের মাঝে এই বিভেদ? অনুভূতির ক্ষমতা প্রতিটি মানুষেরই সমান। তেতো জিনিস সবার কাছেই তেতো। আবার মিষ্টি জিনিসকে পৃথিবীর কোনো জাতির মানুষই তেঁতো বলতে পারবে না। অর্থাৎ অনুভূতির ক্ষেত্রে সব মানুষই অভিন্ন।
প্রশ্ন-৬: ‘ভেতরে সবাই সমান রাঙা’- পঙ্ক্তিটি দ্বারা কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : ‘ভেতরে সবাই সমান রাঙা।’- পঙ্ক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, পৃথিবীর সব মানুষের শরীরের ভেতরে এক রং তথা এক রঙের রক্ত প্রবাহিত।
আমাদের কারো শরীর কালো, কারো শরীর সাদা। আমরা সুন্দর আর অসুন্দরের পার্থক্য করি। কিন্তু আমাদের সবার রক্ত সমান রাঙা। এতে কোনো তারতম্য নেই। মূলত এর দ্বারা মানুষের বর্ণবৈষম্য দূর করা হয়েছে।
প্রশ্ন-৭: বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র এসবের মধ্যে ভেদ নেই কেন?
উত্তর : ভিতরে সবারই সমান রাস্তা বলে বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র এসবের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই।
মানুষে মানুষে আকৃতিগত দিক থেকে পার্থক্য থাকলেও গঠন-উপাদান একই ধরনের। বিধাতা পৃথিবীতে একটি জাতি সৃষ্টি করেছেন, তা হলো মানুষ জাতি। এখানে বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র এসবের মধ্যে কোনো ভেদ নেই।
প্রশ্ন-৮: কবি মানুষের মাঝে কোনো ভেদাভেদ খুঁজে পান না কেন?
উত্তর : কবির ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের প্রতি সংবেদনশীল ও সমমর্যাদার মনোভাব। এ জন্যই তিনি মানুষের মাঝে ভেদাভেদ খুঁজে পান না।
আমাদের পৃথিবী সব মানুষের আবাসস্থল। এখানে নানা ধর্মের বর্ণের মানুষ বাস করে। এসব ভিন্নতা সত্ত্বেও তারা একে অন্যকে বন্ধু ভাবলে এ পৃথিবী আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। কবিও এই ভাবনা হৃদয়ে ধারণ করেছেন। তাই তিনি মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ খুঁজে পান না।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু। ঈদ, পূজা ও বড়দিনে তারা একে অন্যের
বাড়ি বেড়াতে যায়। আনন্দ-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা
করে। এরূপ আচরণে তাদের বাবা-মা খুব খুশি। রহিমের বাবা বলেন, ‘তোমরা অতি
অসাধারণ। তোমাদের মতো সবাই বন্ধু-সুলভ হলে এ পৃথিবী আরো সুন্দর বাসস্থান
হবে।’
ক. ‘মানুষ জাতি’ কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
খ. ‘দুনিয়া সবারি জনম বেদি’- একথা দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার কোন বক্তব্যটি
ফুটে উঠেছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল সুর’-
উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
ক. ‘মানুষ জাতি’ কবিতাটি কবির ‘অভ্র আবীর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া
হয়েছে।
খ. ‘দুনিয়া সবারি জনম বেদি’- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে পৃথিবীটা সব
মানুষের জন্মক্ষেত্র।
বংশে-বংশে মানুষের মাঝে কোনো তফাত নেই। উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ভুলে সব
মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখতে হবে। বিধাতা মানুষ সৃষ্টি করার সময় কোনোরকম
পার্থক্য রেখে সৃষ্টি করেননি। মানুষের বুনিয়াদ এ দুনিয়ার সঙ্গে গাঁথা হয়ে
আছে। যেহেতু পৃথিবীর সব মানুষের জন্মস্থান এক জায়গায়- সেহেতু ধর্ম-বর্ণের
পার্থক্য ভুলে সব মানুষকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। তাই ভেদাভেদ ভুলে
সবাইকে প্রীতির বাঁধনে আবদ্ধ করাই হবে মানুষের একমাত্র ব্রত।
গ. উদ্দীপকের রহিম, শ্যামল, রোজারিওর বন্ধুত্বে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার
মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা ও সমমর্যাদার মনোভাবটি ফুটে উঠেছে।
‘মানুষ জাতি’ কবিতা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের প্রতি
সংবেদনশীলতা ও সমমর্যাদার মনোভাব সৃষ্টি করার বিষয়টি চিত্রিত হয়েছে। এ
পৃথিবী সব মানুষের জন্মস্থান। হিন্দু-মুসলিম, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ এসব
পার্থক্য ভুলে একই মানব জাতি হিসেবে একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বের হাত
বাড়িয়ে দিতে হবে।
উদ্দীপকেও রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার এই
বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে। রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন ধর্মের মানুষ হওয়া
সত্ত্বেও ঈদ, পূজা ও বড়দিনে তারা একে অন্যের বাড়ি বেড়াতে যায়। সুখে-দুঃখে
একে অন্যকে সহযোগিতা করে। তাদের বন্ধুত্ব সকল ধর্ম বর্ণের ঊর্ধ্বে। তারা
সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের মানবতার সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। অর্থাৎ রহিম,
শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় মানুষের প্রতি মানুষের
অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল সুর”-
উক্তিটি যথার্থ।
মানুষের মধ্যে সকল ভেদাভেদ দূর হয়ে সমতা ও বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার
বিষয়টিই ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল সূর। আর উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্য
এ সুরকেরই ধারণ করেছে।
উদ্দীপকের রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন ধর্মের তিন জন মানুষ হলেও তারা খুব
ভালো বন্ধু এবং সুখে-দুঃখে একে অপরের সঙ্গী। রহিমের বাবা মনে করেন তাদের
মতো অন্য সবাই বন্ধুসুলভ হলে পৃথিবী আরও সুন্দর বাসস্থান হবে। পৃথিবীতে
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র-পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে মানব সমাজ কবি ‘মানুষ জাতি’
কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর সব মানুষকে নিয়েই গড়ে
উঠেছে মানুষ জাতি। এ পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষই একে অপরের আত্মীয়।
হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টানের মাঝে ধর্মীয় পার্থক্য থাকলেও মানবধর্ম সবারই
এক। তাই ধর্মীয় পার্থক্য ভুলে পরস্পর পরস্পরের প্রতি সহানুভূতির হাত
বাড়িয়ে দিতে হবে। আর এ বিষয়টিই ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল শিক্ষা তাই বলা
যায়, উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল সুর।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রাকিবুল হাসান একদিন ক্লাসে এসে দেখলেন, সামনের টেবিলে বসা নিয়ে ছেলেরা
খুব হইচই করছে। তারা কিছুতেই রহিমকে সামনের টেবিলে বসতে দেবে না। কারণ,
তার পোশাক পুরাতন এবং সে স্কুলের মালি রহমতের ছেলে। বিষয়টি বুঝতে পেরে
রাকিব স্যার বললেন, মানুষ যখন মানবিক গুণ হারিয়ে ফেলে এবং তাদের ভেতরে
জাতি-ধর্ম ও বর্ণভেদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন সমাজ থেকে শান্তি চলে যায়।
আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা সবাই এক জাতি আর তা হলো মানুষ
জাতি।’ তখন তিনি চণ্ডীদাসের বিখ্যাত কবিতাটি শোনালেন-
“শুনহো মানুষ ভাই,
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”
ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি কী?
খ. কবি বর্ণে বর্ণে পার্থক্য করেন না কেন?
গ. উদ্দীপকের রহিমকে সামনের টেবিলে বসতে না দেয়ার বিষয়টিতে ‘মানুষ জাতি’
কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে- বর্ণনা করো।
ঘ. ‘সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত চণ্ডীদাসের মতোই মানুষের জয়গান গেয়েছেন’ -উক্তিটি
‘মানুষ জাতি’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের উপাধি ‘ছন্দের জাদুকর’।
খ. কবির কাছে মানুষের একমাত্র পরিচয় সবাই মানুষ জাতি- তাই তিনি বর্ণে
বর্ণে পার্থক্য করেনা।
মানুষে মানুষে জন্মসূত্রকেই কবি সবচেয়ে বড় করে দেখেছেন। রাগ, অভিমান,
দুঃখ, কষ্টে সব মানুষ একসূত্রে গাঁথা। তাই কবি বর্ণে বর্ণে পার্থক্য করেন
না।
গ. উদ্দীপকের রহিমকে সামনের টেবিলে বসতে না দেয়ার বিষয়টিতে ‘মানুষ জাতি’
কবিতার শ্রেণিবৈষম্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘মানুষ জাতি’ কবিতায় মানুষের মধ্যে শ্রেণিবৈষম্যের বিষয়টি বর্ণনা করে
মানুষের পরিচয়কে সবচেয়ে বড় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পৃথিবীর সব মানুষকে
নিয়েই গড়ে উঠেছে মানুষ জাতি। এ মানুষ জাতি সব সৃষ্টির সেরা। এদের মধ্যে
কোনো ভেদাভেদ নেই। মানুষ জন্মগতভাবেই এক ও অভিন্ন। কিন্তু মানুষ আজ
জাতিভেদ, বর্ণভেদ ও বংশকৌলীন্য ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে নিজেদের পরিচয়কে
সংকীর্ণ ও গণ্ডিবদ্ধ করেছে।
উদ্দীপকের রহিমকেও সামাজিক মর্যাদার কারণে তার সহপাঠীরা অবহেলায় পেছনে
ঠেলেদিয়েছে। সে মালির ছেলে বলে শ্রেণিবৈষম্যের শিকার হয়ে সামনের টেবিলে
বসার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সমাজের শ্রেণিবৈষম্যই মানুষকে তার আসল
পরিচয় থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। অর্থাৎ ‘মানুষ জাতি’ কবিতার এ
শ্রেণিবৈষম্যের দিকটিই উদ্দীপকের রহিমের মধ্যে ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত চন্ডীদাসের মতোই মানুষের জয়গান গেয়েছে’- উক্তিটি
যথার্থ।
‘মানুষ জাতি’ কবিতায় তিনি মানুষের জয়গান গেয়েছেন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ গোত্র
সবকিছুর উপরে মানুষকে স্থান দিয়েছেন। দেশে দেশে ধর্ম ও বর্ণের পার্থক্য
সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে, কবি মানুষকে তার
চেয়ে উপরে আসন দিয়েছেন। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’
কবি চণ্ডীদাসের এ কথার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করলেন ছন্দের জাদুকর
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। তার ‘মানুষ জাতি’ কবিতার বিষয়বস্তুর সঙ্গে
চণ্ডীদাসের এ বিখ্যাত বাণীটির মিল পাওয়া যায়।
‘মানুষ জাতি’ কবিতায় সব মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা ও সমমর্যাদার কথা বলা
হয়েছে। আর উদ্দীপকে চণ্ডীদাসের কবিতায়ও একই সুর ধ্বনিত। তাই আলোচনীয়
পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত চণ্ডীদাসের মতোই মানুষের
জয়গান গেয়েছেন।’
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
কাজী নজরুল
ইসলাম ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক কবি। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে তিনি
মানুষকে স্থান দিয়েছেন। তার কবিতায় ধনী-গরিব উঁচুনিচু। হিন্দুমুসলমান সব
মানুষকে একই দৃষ্টিতে দেখেছেন। মানুষের বড় পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ এ সত্যই
নজরুলের কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
ক. মানুষের ভেতরের রং কেমন?
খ. ‘দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো’- পঙ্ক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার যে ভাবটি প্রকাশিত হয়েছে তার বর্ণনা
দাও।
ঘ. “মানুষের সব থেকে বড় পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ” উদ্দীপক ও ‘মানুষ জাতি’
কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ কর।
ক. মানুষের ভেতরের রং রাঙা।
খ. ‘দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো’- পঙ্ক্তিটি দ্বারা প্রতিটি মানুষ তার
সঙ্গীর সঙ্গে বাসর বেঁধে জীবনকে সুখের করতে চায় সেকথাই বলা হয়েছে।
পৃথিবীতে মানুষ একা চলতে পারে না। তাই সে সঙ্গী চায়। এ দোসরের সঙ্গে বাসর
বেঁধে ইহকালীন জীবন সুখের করতে চায়। তাই মানুষ একে অপরের সঙ্গে
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে জীবনকে সুখের করতে চায়। ‘দোসর খুঁজি ও
বাসর বাঁধি গো’ পঙ্ক্তিটি দ্বারা এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় সমগ্র বিশ্বের মানুষকে এক বড় পরিচয়ে
আবদ্ধ করতে চেয়েছেন, এ ভাবটি প্রকাশ পেয়েছে।
পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্ম গোত্রের মানুষ বাস করলেও সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আমরা
সবাই মানুষ। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি আমাদের এ
পৃথিবী। বাইরের চেহেরার মধ্যে সাদা কালো ব্যবধান থাকলেও সব মানুষের
ভেতরের রং এক অভিন্ন। সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ গোত্র পরিচয়ের
উর্ধ্বে যে সমগ্র মানব সমাজ কবি এ কবিতায় সেই পরিচয়কে তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকেও মানব জাতি ও মানবতার জয়গান গাওয়া হয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ,
মুসলিম, খ্রিষ্টান আমরা সবাই মানুষ। সকল ধর্মের সেরা ধর্ম মানবধর্ম।
উদ্দীপকে পৃথিবীর মানুষের কৃত্রিম পরিচয় ছেড়ে তার আসল ও বড় পরিচয় গ্রহণ
করার আহ্বান জানানো হয়েছে যা ‘মানুষ জাতি’ কবিতার ভাবকেই ধারণ করে।
ঘ. “মানুষের সব থেকে বড় পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ” -এ মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণের লোক থাকলেও আমাদের সবারই রয়েছে এক ও
অভিন্ন পরিচয়। সে পরিচয় হচ্ছে আমরা সবাই মানুষ। উদ্দীপক ও ‘মানুষ জাতি’
কবিতায় একই ভাব প্রকাশিত হয়েছে।
মানুষ পৃথক কোনো জাতিসত্তা নয় বরং গোটা পৃথিবীর মানুষ অভিন্ন জাতি, তাদের
প্রধান পরিচয় তারা ‘মানুষ জাতি’। সারা পৃথিবীতে জাতি ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র
পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে সমগ্র মানব সমাজ কবি এ কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই
তুলে ধরেছেন।
অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক কবি কাজী নজরুল ইসলাম জাতি, ধর্ম বর্ণ নিবিশেষে
নজরুল মানুষ ও মানবতার জয়গান করেছেন। ছোট বড় সাদা কালো ধর্ম বর্ণের
ভেদাভেদ ভুলে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠাই নজরুলের মূল চেতনা।
উপরিউক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ বলা যায়, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে
মানুষ যা মানুষ জাতি কবিতা ও উদ্দীপকের মূলভাবকে ধারণ করে।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
“কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক মানুষেতেই সুরাসুর
রিপুর তাড়নে যখনি মোদের বিবেক পায় গো লয়
আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনি পুড়িতে হয়।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদের কুঁড়েঘরে।”
ক. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
খ. ‘একই পৃথিবীর স্তন্যে লালিত’- বলতে কী বুঝিয়েছেন?
গ. ‘মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক’- চরণটিতে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার কোন দিকটির
প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের শেষ দুই চরণ ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূলভাব ফুটে উঠেছে”-
উক্তিটির সত্যাসত্য বিচার করো।
ক. কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
খ. “একই পৃথিবীর স্তন্যে লালিত” -এ চরণটিতে ‘স্তন্যে’ দ্বারা পৃথিবী থেকে
আমরা বেঁচে থাকার যে সমস্ত উপকরণ গ্রহণ করি, তাই বোঝানো হয়েছে।
বেঁচে থাকার জন্য পৃথিবী থেকে আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি, খাদ্য গ্রহণ করি,
আলো-বাতাস গ্রহণ করি। বেঁচে থাকার জন্য পৃথিবীর সব মানুষ পৃথিবীর
উপকরণসমূহই গ্রহণ করে। পৃথিবীর বাইরে থেকে কিছু গ্রহণ করতে পারে না।
আলোচ্য চরণে ‘স্তন্য’ দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
গ. ‘মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক’- চরণটিতে ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় বর্ণিত প্রীতি
ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দিকটি ইঙ্গিত করা
হয়েছে।
‘মানুষ জাতি’ কবিতায় বলা হয়েছে এ পৃথিবী সকল মানুষের আবাসস্থল। নানা বর্ণ
ও গোত্রের মানুষ পৃথিবীতে বসবাস করছে হাজার বছর ধরে। সম্প্রদায় ও বর্ণভেদ
পৃথিবীতে দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে। আবার বিভিন্ন জাতিভেদ মানুষের মাঝে
ক্রমান্বয়ে দূরত্ব সৃষ্টি করছে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে মানুষের
মাঝে এ দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। যখন প্রতিটি মানুষ একে অপরের প্রতি
বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেবে, ধর্ম-বর্ণের ব্যবধানের ওপর মানবতাকে
প্রাধান্য দেবে তবেই পৃথিবীতে শান্তির বিরাজ করবে।
মানুষ যখন ভেদাভেদ ভুলে পরস্পর পরস্পরকে প্রীতিডোরে আবদ্ধ করে তখন
স্বর্গের সুখ সৃষ্টি হয়। বর্ণভেদ, ধর্মভেদ যখন সমাজে বড় করে দেখা দেয় তখন
সমাজ হয়ে ওঠে অশান্ত। এটাই নরক যন্ত্রণা। সুতরাং মানুষ যখন পরস্পরকে
প্রীতিডোরে আবদ্ধ করবে, জাতি-ধর্মের ভেদ ভুলে যাবে তখন সে স্বর্গের সুখ
লাভ করবে।
ঘ. “উদ্দীপকের শেষ দুই চরণ ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল সুর ধারণ করেছে”-
উক্তিটি যথার্থ।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূলভাব হলো- শুধু বংশগত শ্রেণিভেদ নয়, বর্ণগত
শ্রেণিভেদও সমাজে এখন প্রকট আকার ধারণ করছে। শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের
সমানভাবে গ্রহণ করতে পারছে না। তার মূল কারণ হলো মানুষ তার জন্ম পরিচয়
ভুলে গেছে। তারা তাদের নিজের পরিচয় সংকীর্ণ ও গণ্ডিবদ্ধ করেছে। মানুষের
সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তারা মানুষ। সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীতে শুধু মানুষ বলতে
একটি জাতিকেই সৃষ্টি করেছেন। মানুষের মাঝে আকৃতিগত পার্থক্য থাকলেও
প্রকৃতিগত কোনো পার্থক্য নেই।
উদ্দীপকের শেষের চরণ দুটির ভাবার্থ হলো প্রতিটি মানুষ যখন ধর্ম-বর্ণের
বেড়াজাল ছিন্ন করে প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হবে তখন সমাজে শান্তির সুবাতাস
প্রবাহিত হবে। পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত হচ্ছে মানুষে
মানুষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করা। প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যখন মানুষ
পরস্পর পরস্পরকে বেঁধে ফেলবে তখন পৃথিবীতে স্বর্গের সুখ বিরাজ করবে। তাই
বলা যায়, পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান চালিকাশক্তি হলো পারস্পরিক
সম্প্রীতি। আর উদ্দীপকের শেষ দুই চরণ ‘মানুষ জাতি’ কবিতার এ ভাবটিই ধারণ
করেছে।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পৃথিবীর অন্যতম একটি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানে জাতি বা বর্ণপ্রথা কঠিন
আকারে বিদ্যমান। সেখানে বাস্তবেই কালো ও শ্বেতদের মাঝে বিভেদ লক্ষ করা
যায়। নেলসন মেন্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা। যার কল্যাণে সে
দেশের কালো মানুষ দাসত্ব ও বর্ণবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ
নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
ক. ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি’- ব্যাখ্যা করো।
গ. নেলসন মেন্ডেলার কর্মকাণ্ডে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার কোন দিকটির প্রতিফলন
ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি”-
মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
ক. ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ পরমেশ্বর।
খ. শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা আমরা সবাই সমান বোঝার কারণ হলো আমাদের
সবার সমান অনুভূতি রয়েছে।
পৃথিবীর সব মানুষই পাঁচটা ইন্দ্রিয়ের অধিকারী। ব্যক্তি, জাতি বা দেশভেদে
ইন্দ্রিয়ের আধিক্য নেই। ক্ষুধার জ্বালা যেভাবে আমরা সবাই অনুধাবন করি,
শীত আর গরমের জ্বালাও সেভাবে অনুভব করি। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ যা আছে তা
বাহ্যিক। কিন্তু ভেতরটা সবারই সমান।
গ. নেলসন মেন্ডেলার কর্মকাণ্ডে মানুষ জাতি কবিতার সাম্যবাদী দিকটি ফুটে
ওঠেছে।
‘মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি সকল ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দিয়েছেন।
যারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে যে সমগ্র
মানবসমাজ কবি এ কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন। কবি মনে করেন
গোটা দুনিয়ার সঙ্গে মানুষের যে জন্ম সম্পর্ক, সেই বিচারে মানুষ সবার উপরে
এবং তার আসল পরিচয় হলো মানুষ।
এই বিষয়টিরই প্রতিফলন ঘটেছে নেলসন মেন্ডেলার কর্মকাণ্ডে। নেলসন মেন্ডেলা
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ প্রথা বিলোপের জন্য সংগ্রাম করেন। দক্ষিণ
আফ্রিকায় কালো আর ধলোর বিভেদ অনেক দিনের। কালো রঙের মানুষের চেয়ে শ্বেত
বা সাদা রঙের মানুষ উঁচু স্থানের, সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।
দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নিজ প্রচেষ্টায় এ বর্ণবাদ প্রথা দূর করে
সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করেছেন। তার এ কর্মকাণ্ডে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার
সাম্যবাদী বিষয়বস্তুরই প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. উদ্দীপকে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি- মন্তব্যটি
যথার্থ।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার শুধু বর্ণভেদ প্রথা দূরীকরণের বিষয়টি প্রতিফলিত
হয়েছে। কবিতার বিষয় এতে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের মানুষ জাতি
কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি। নেলসন মেন্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার কালো
মানুষদের দাসত্ব ও বর্ণবাদ থেকে মুক্ত করেছেন। তবে এ বিষয়টিই আলোচ্য
কবিতার একমাত্র বিষয় নয়। এছাড়াও এ কবিতায় বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।
‘মানুষ জাতি’ কবিতায় কবি বলেছেন এই ধরণীর স্নেহচ্ছায়ায় এবং একই সূর্য ও
চাঁদের আলোতে লালিতপালিত হচ্ছে সব মানুষ। গোটা দুনিয়ার সঙ্গে মানুষের যে
জš§সম্পর্ক সেই বিচারে মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ। পৃথিবীর সব
মানুষকে নিয়েই গড়ে উঠেছে মানুষ জাতি। এই বিষয়গুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘মানুষ জাতি’ কবিতার সামগ্রিক ভাবের ধারক নয়।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘মমতাদি’ গল্পটিতে মমতাদি দরিদ্রতার কারণে
অন্যের বাসায় কাজ নেয়। মমতার গৃহকর্ত্রী স্ত্রী তাকে কাজের মানুষ বিবেচনা
না করে নিজের পরিবারের একজন মনে করেন। কারণ তিনি মনে করেন মানুষের মধ্যে
জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও অবস্থাগত পার্থক্য থাকলেও সকল মানুষ সমান।
ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে কোন ধরনের কবি বলা হয়?
খ. ‘বাঁচিবার তরে সমান যুঝি’- ব্যাখ্যা করো।
গ. মমতাদির গল্পের মালিকের স্ত্রীর মানসিকতায় ‘মানবজাতি’ কবিতার কোন
ভাবের প্রকাশ ঘটেছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উক্ত কবিতা ও উদ্দীপকের মূলভাব তুমি সমর্থন কর কি? মতের পক্ষে যুক্তি
উপস্থাপন করো।
ক. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ছান্দসিক কবি বলা হয়।
খ. ‘বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।’- চরণটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, পৃথিবীতে
বেঁচে থাকার জন্য আমরা সমানভাবে যুদ্ধ করি।
পৃথিবীতে সকলে বেঁচে থাকতে চায়। আয়ুর সবটুকু ভোগ করে আরো বেশি বেঁচে
থাকতে চায়। যদি মৃত্যু কখনো হাতছানি দেয়, তবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা সবাই
সমান সংগ্রাম করি। আলোচ্য চরণ দ্বারা এটিই বোঝানো হয়েছে।
গ. ‘মমতাদির’ গল্পের গৃহকর্ত্রীর মানসিকতা ‘মানুষ জাতি’ কবিতার জাতিভেদ
ভুলে সকল মানুষকে সম্মানের দৃষ্টিভঙ্গির দিকটি তুলে ধরো।
ঘ. ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করো।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
(i) জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
------------
আসবার কালে কি জাত ছিলে
এসে তুমি কি জাত নিলে।
ক. এ পৃথিবীতে মানুষ কী খোঁজে?
খ. ‘দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো’- চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. “উদ্দীপকের ভাবগত আবহের সঙ্গে ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় সাদৃশ্য ব্যাখ্যা
কর।
ঘ. উদ্দীপকের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের সাথে তুমি একমত পোষণ কর কি? ‘মানুষ
জাতি’ কবিতার আলোকে মতের পক্ষে যুক্তি দাও।
ক. এ পৃথিবীতে মানুষ দোসর খোঁজে।
খ. দোসর খুঁজি বাসর বাঁধি গো- বলতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে বসবাস
করার কথা বলা হয়েছে।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় সামাজিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য
মানুষের কৃত কর্মের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই পৃথিবীর বিপদ সংযুক্ত পথ পাড়ি
দেয়ার জন্য মানুষের বন্ধুর প্রয়োজন। বন্ধুত্বের আশ্রয়ে থাকলে যেকোনো বাধা
বিঘ্ণ অতিক্রম করা যায়। তাই দোসর অর্থাৎ বন্ধু খুঁজে বাসর বাঁধার কথা বলা
হয়েছে।
গ. ‘মানুষ জাতি’ কবিতার জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের
পরিচয়-এ অভিন্ন বিষয়টি তুলে ধরো।
ঘ. ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূলবক্তব্য মূল্যায়ন করো।
‘মানুষ জাতি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
(i) ‘জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথী।’
(ii) ‘কেউ মালা, কেউ তস্বি গলায়
তাইতে কি জাত ভিন্ন বলায়
যাওয়া কিংবা আসার বেলায়
জেতের চিহ্ন রয় কার রে।’
ক. বেঁচে থাকার জন্য আমরা কী বাঁধি?
খ. “বর্ণে বর্ণে নাই রে বিশেষ
নিখিল জগৎ ব্রহ্মময়।” চরণ দুটির ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের দুটি স্তবকের সাথে ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় সাদৃশ্য- ব্যাখ্যা
করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের দুটি স্তবকের মূলভাব ‘মানুষ জাতি’ কবিতার সামগ্রিক ভাবধারণ
করে কী? মতের পক্ষে যুক্তি দাও।
ক. বেঁচে থাকার জন্য আমরা বাসর বাঁধি।
খ. বর্ণের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। সমগ্র পৃথিবীটাই বিধাতার,
পরমেশ্বরের।
পৃথিবীতে নানা বর্ণের লোক আছে, কিন্তু এর মাঝে সৃষ্টিগতভাবে কোনো
পার্থক্য নেই। যিনি নিখিল জগতের স্রষ্টা তাঁর ক্ষমতা সমগ্র পৃথিবীময়।
এখানে বর্ণবিশেষের মাঝে তেমন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। কবি মানুষের
মধ্যে বর্ণ গোত্রকে পরিহার করতে বলেছেন। সমগ্র পৃথিবীটাই বিশ্ব বিধাতার।
তাঁর কাছে সবাই সমান। তাই তিনি বর্ণবিশেষের মাঝে পার্থক্য মানেন না,
উদ্ধৃতিটিতে সেকথাই বোঝানো হয়েছে।
গ. ‘মানুষ জাতি’ কবিতায় মানুষের অভ্যন্তরীণ গঠনের অভিন্নতার বিষয়টি
ব্যাখ্যা করো।
১. চারুপাঠ: ষষ্ঠ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা,
২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।