অন্ধবধূ- যতীন্দ্রমোহন বাগচী
|
| অন্ধবধূ |
অন্ধবধূ
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী!
আস্তে একটু চল না ঠাকুরঝি-
ওমা, এ যে ঝরা-বকুল! নয়?
তাইতো বলি, বসে দোরের পাশে,
রাত্তিরে কাল- মধুমদির বাসে
আকাশ-পাতাল- কতই মনে হয়।
জ্যৈষ্ঠ আসতে ক-দিন দেরি ভাই-
আমের গায়ে বরণ দেখা যায়?
- অনেক দেরি? কেমন করে হবে।
কোকিল-ডাকা শুনেছি সেই কবে,
দখিন হাওয়া বন্ধ কবে ভাই;
দীঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগে -
শ্যাওলা-পিছল এমনি শঙ্কা লাগে,
পা-পিছলিয়ে তলিয়ে যদি যাই!
মন্দ নেহাত হয় না কিন্তু তায়-
অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যায়।
দুঃখ নাইকো সত্যি কথা শোন,
অন্ধ গেলে কী আর হবে বোন?
বাঁচবি তোরা দাদা তো তোর আগে?
এই আষাঢ়েই আবার বিয়ে হবে,
বাড়ি আসার পথ খুঁজে না পাবে-
দেখবি তখন প্রবাস কেমন লাগে?
‘চোখ গেল’ ওই চেঁচিয়ে হলো সারা।
আচ্ছা দিদি, কী করবে ভাই তারা-
জন্ম লাগি গিয়েছে যার চোখ!
কাঁদার সুখ যে বারণ তাহার ছাই!
কাঁদতে পেলে বাঁচত সে যে ভাই,
কতক তবু কমত যে তার শোক।
‘চোখ গেল’- তার ভরসা তবু আছে-
চক্ষুহীনার কী কথা কার কাছে!
টানিস কেন? কিসের তাড়াতাড়ি-
সেই তো ফিরে যাব আবার বাড়ি,
একলা-থাকা- সেই তো গৃহকোণ-
তার চেয়ে এই স্নিগ্ধ শীতল জলে
দুটো যেন প্রাণের কথা বলে-
দরদ-ভরা দুখের আলাপন;
পরশ তাহার মায়ের স্নেহের মতো
ভুলায় খানিক মনের ব্যথা যত!
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| -- |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ ঠাকুরঝি- ননদ, স্বামীর বোন, শ্বশুরকন্যা। ➠ মধুমদির বাসে- মধুর গন্ধে মোহময় সুগন্ধে আচ্ছন্ন। ➠ আকাশ-পাতাল- নানা বিষয়, নানান ভাবনা-অনুভাবনা অর্থে ব্যবহৃত। ➠ জ্যৈষ্ঠ আসতে ক-দিন দেরি ভাই..- একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের অনুভবের অসাধারণ এক জগৎ আলোচ্য অংশে ব্যক্ত হয়েছে। প্রকৃতির বিচিত্র রঙের ধারণা ও অনুভবে এই অন্ধবধূ সমৃদ্ধ। সেই জ্ঞান ও অনুভব থেকে সে জেনে নিতে চায় ঋতুর বিবর্তন। ➠ অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব ঢুকে যাক- অন্ধবধূ অনুভবঋদ্ধ মানুষ অর্থাৎ তার অনুভূতি শক্তি প্রখর। আত্মমর্যাদা বোধেও সে সমৃদ্ধ। কিন্তু সে অন্ধ। এই অন্ধত্বের কষ্ট সে গভীরভাবে অনুভব করে। দীঘির ঘাটে যখন শেওলা পড়া পিছল সিঁড়ি জাগে, তখন সে পিছল খেয়ে জলে পড়ে ডুবে মরার আশঙ্কা প্রকাশ করে। সে এও অনুভব করে যে, ডুবে মরলে অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচত। কিন্তু কবিতাটির চেতনা থেকে মনে হয়, অন্ধবধূ নৈরাশ্যবাদী মানুষ নয়। জীবনের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধ আছে। ➠ চোখ গেল- পাখি বিশেষ। এই পাখির ডাক ‘চোখ গেল’ শব্দের মতো মনে হয়। ➠ কাঁদার সুখ- মানুষ দুঃখে কাঁদে, শোকে কাঁদে। কিন্তু কান্নার মধ্য দিয়ে তার দুঃখ-শোকের লাঘব ঘটে। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব: |
|---|
| সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে। দৃষ্টিহীনেরা নিজেরাও নিজেদের অসহায় ভাবে। কিন্তু ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে এই প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। পায়ের নিচে নরম বস্তুর অস্তিত্ব, কোকিলের ডাক শুনে নতুন ঋতুর আগমন অনুমান করা, শ্যাওলায় পা রেখে নতুন সিঁড়ি জেগে ওঠার কথা বোঝা দৃষ্টিহীন হয়েও সম্ভবপর। তাই দৃষ্টিহীন হলেই নিজেকে অসহায় না ভেবে, শুধুই ঘরের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে আপন অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করা প্রয়োজন। বধূটি চোখে দেখতে পায় না। কিন্তু অনুভবে সে জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। কবিতাটিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা সংবেদনশীল ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
| যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্ম ১৮৭৮ সালের ২৭শে নভেম্বর নদীয়া জেলার জামশেদপুর গ্রামে। পল্লি-প্রীতি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কবিমানসের একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য। নিসর্গ-সৌন্দর্যে চিত্ররূপময়। রচনায় গ্রামবাংলার শ্যামল স্নিগ্ধ রূপ উন্মোচনে তিনি প্রয়াসী হয়েছেন। গ্রাম-জীবনের অতি সাধারণ বিষয় ও সুখ-দুঃখ তিনি সহজ-সরল ভাষায় সহৃদয়তার সঙ্গে তাৎপর্যমণ্ডিত করে প্রকাশ করেছেন। তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহের মধ্যে আছে: লেখা, রেখা, অপরাজিতা, নাগকেশর, বন্ধুর দান, জাগরণী, নীহারিকা ও মহাভারতী। ১লা ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় কর্ম-অনুশীলন: |
|---|
|
১। তোমার জানা কোনো দৃষ্টিহীন মানুষের বিবরণ দাও। ২। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর? |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. ‘অন্ধবন্ধূ’ কবিতাটির রচয়িতা কে? উত্তর: ‘অন্ধবধূ’ কবিতাটির রচয়িতা যতীন্দ্রমোহন বাগচী। ২. যতীন্দ্রমোহন বাগচী কত সালে জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর: যতীন্দ্রমোহন বাগচী ১৮৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ৩. যতীন্দ্রমোহন বাগচী কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? উত্তর: যতীন্দ্রমোহন বাগচী নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ৪. যতীন্দ্রমোহন বাগচী কত সালে মৃত্যুবরণ করেন? উত্তর: যতীন্দ্রমোহন বাগচী ১৯৪৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ৫. ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় দিঘির ঘাটে কী জাগে? উত্তর: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় দিঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগে। ৬. কে চেঁচিয়ে সারা হলো? উত্তর: ‘চোখ গেল’ পাখি চেঁচিয়ে সারা হলো। ৭. ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় কার অনুভূতিশক্তি প্রখর? উত্তর: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূর অনুভূতিশক্তি প্রখর। ৮. দৃষ্টিহীনদের কী দিয়ে প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব? উত্তর: দৃষ্টিহীনদের ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। ৯. অন্ধবধূ কাকে আমের গায়ে বরণ দেখার কথা জিজ্ঞেস করে? উত্তর: অন্ধবধূ তার ননদকে আমের গায়ে বরণ দেখার কথা জিজ্ঞেস করে। ১০. অন্ধবধূ অনেক দিন আগে কিসের ডাক শুনেছে? উত্তর: অন্ধবধূ অনেক দিন আগে কোকিলের ডাক শুনেছে। ১১. ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় কে নৈরাশ্যবাদী মানুষ নয়? উত্তর: ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূ নৈরাশ্যবাদী মানুষ নয়। ১২. অন্ধবধূ কিসের গায়ে বরণ দেখার কথা বলেছে? উত্তর: অন্ধবধূ আমের গায়ে বরণ দেখার কথা বলেছে। ১৩. ‘মধুমদির বাসে’ কথাটির অর্থ কী? উত্তর: ‘মধুমদির বাসে’ কথাটির অর্থ হলো—মধুর সুগন্ধে ভরা পরিবেশ। ১৪. সমাজ কাদের অবজ্ঞা করে? উত্তর: সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে। ১৫. অন্ধবধূ কোথায় বসে মধুমদির গন্ধে আচ্ছন্ন হয়? উত্তর: অন্ধবধূ দোরের পাশে বসে মধুমদির গন্ধে আচ্ছন্ন হয়। ১৬. সমাজ কাদের অবজ্ঞা করে? উত্তর: সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে। ১৭. পায়ের তলায় নরম কী ঠেকেছিল? উত্তর: পায়ের তলায় নরম ঝরা বকুল ঠেকেছিল। ১৮. অন্ধবধূ কাকে আস্তে চলতে বলে? উত্তর: অন্ধবধূ তার ঠাকুরঝিকে আস্তে চলতে বলে। ১৯. কখন আবার বিয়ে হবে? উত্তর: আষাঢ় মাসে আবার বিয়ে হবে। ২০. ‘কাঁদতে পেলে বাঁচত সে যে ভাই,/কতক তবু কমত যে তার শোক’। বাক্যটিতে কী বোঝানো হয়েছে? উত্তর: বাক্যটিতে অন্ধত্বের গভীর কষ্ট বোঝানো হয়েছে। ২১. কোথায় অন্ধবধূ একলা থাকে? উত্তর: অন্ধবধূ গৃহকোণে একলা থাকে। ২২. অন্ধবধূ ঠাকুরঝির কাছে জ্যৈষ্ঠ আসতে কত দিন দেরি বলে জানতে পারে? উত্তর: অন্ধবধূ ঠাকুরঝির কাছে জ্যৈষ্ঠ আসতে অনেকদিন দেরি বলে জানতে পারে। ২৩. অন্ধবধূ জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে কীভাবে? উত্তর: অনুভূতি শক্তি দ্বারা অন্ধবধূ জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
১. অন্ধবধূর আকাশ-পাতাল মনে হয় কেন?
২. “দেখবি তখন- প্রবাস কেমন লাগে?”—অন্ধবধূ একথা বলেছে কেন?
৩. অন্ধবধূ কীভাবে ঋতুর বিবর্তন জেনে নিতে চায়?
৪. দৃষ্টিহীনদের প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব কীভাবে? বুঝিয়ে লেখো।
৫. অন্ধবধূ দিঘির জলে তলিয়ে গেলে মন্দ হতো না বলে কেন?
৬. “বাঁচবি তোরা-দাদা তো তোর আগে?”—অন্ধবধূ এ কথা বলেছে কেন?
৭. ‘কোকিল-ডাকা শুনেছি সেই কবে’—পঙ্ক্তিটি দ্বারা প্রকৃতির কোন রূপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়?
৮. ‘বাঁচবি তোরা দাদা তো তার আগে?’—অন্ধবধূ একথা বলেছে কেন?
৯. অন্ধবধূ অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব চুকে যাওয়ার কথা বলেছে কেন?
১০. ‘দিঘীর ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগে’—কথাটি বুঝিয়ে বলো।
১১. বধূটির ঘরে ফিরে যাওয়ার তাড়া ছিল না কেন?
১২. অন্ধবধূ কীভাবে বুঝতে পারে পায়ের তলায় ঝরা বকুল পড়েছে?
১৩. কীসের পরশ অন্ধবধূর নিকট মায়ের স্নেহের ন্যায়?
১৪. অন্ধবধূ তার স্বামীকে কীভাবে বাঁচাতে চায়?
১৫. কোন পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে অন্ধবধূ অন্তরের যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
১৬. ‘দেখবি তখন—প্রবাস কেমন লাগে?’—অন্ধবধূ একথা বলেছেন কেন?
১৭. অন্ধবধূ কীভাবে বুঝতে পারে পায়ের তলায় ঝরা-বকুল পড়েছে?
১৮. ‘একলা থাকা-সেই তো গৃহকোণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১৯. ‘বাঁচবি তোরা-দাদা তো তোর আগে?’—অন্ধবন্ধু একথা বলেছে কেন?
২০. ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বধূটির ঘরে ফিরে যাওয়ার তাড়া ছিল না কেন?
২১. ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বন্ধুটি অন্ধ চোখের দ্বন্দ্ব ঢুকে যাওয়ার কথা বলেছেন কেন?
২২. অন্ধবধূর আকাশ পাতাল মনে হয় কেন?
২৩. অন্ধবধূ কীভাবে ঋতুর বিবর্তন জেনে নিতে চায়?
২৪. ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বধূটির বর্ণনা দাও?
২৫. জ্যৈষ্ঠ আসতে ক-দিন দেরি ভাই-
২৬. ‘অন্ধ গেলে কী আর হবে বোন?’—আলোচ্য পঙ্ক্তিটিতে কী প্রতিফলিত হয়েছে?
২৭. অন্ধবধূর প্রতি স্বামীর মনোভাব ব্যক্ত করো?
২৮. ‘বাঁচবি তোরা - দাদা তো তোর আগে’—উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
২৯ ‘এই আষাঢ়েই আবার বিয়ে হবে’—এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
৩০. ‘প্রবাসজীবন কেমন লাগে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
|
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘মধুমদির বাসে’ কথাটির অর্থ কী? |
|
ক. ‘মধুমদির বাসে’ কথাটির অর্থ হলো—মধুর সুগন্ধে ভরা পরিবেশ। গ. উদ্দীপকের বক্তব্য ‘মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী’ এবং ‘সব সম্পর্ক ছিন্ন করে পরপারে চলে যেতে হয়’—এই চিন্তাধারা ‘অন্ধবধূ’ কবিতার মূলভাবের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কবিতার বধূ একজন অন্ধ নারী, যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি মানসিক ও আবেগিক কষ্টও বহন করে চলেছে। সে অনুভব করে, পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পারলেও জীবনের প্রতি তার টান আছে। কিন্তু সে জানে, একসময় এই জীবন ছেড়ে তাকে চলে যেতে হবে, যেমন সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়। উদ্দীপকের গৃহবধূ সুদীপা যেমন ঝি ঝি পোকার ডাক, জোছনার আলো, প্রকৃতির সৌন্দর্য ছেড়ে যেতে কষ্ট পান, তেমনই 'অন্ধবধূ' কবিতার বধূও অনুভব করে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও বিচ্ছেদের বেদনা। সে উপলব্ধি করে, তার দুঃখের ভাগ নেওয়ার কেউ নেই, তার একাকীত্ব তাকে তীব্র কষ্ট দেয়। তবুও সে জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব মেনে নিয়ে সামনের পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কবিতায় একদিকে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্যের উল্লেখ রয়েছে—ঝরা বকুল, কোকিলের ডাক, দীঘির ঘাট, স্নিগ্ধ শীতল জল, তেমনি অন্যদিকে রয়েছে বিচ্ছেদ, মৃত্যু ও অন্ধকার জীবনের যন্ত্রণা। কবিতার বধূ বুঝতে পারে, তার মতো অন্ধ মানুষের দুঃখ কেউ বোঝে না, ঠিক যেমন মৃত্যুর পর পৃথিবী কাউকে মনে রাখে না। এইভাবে, উদ্দীপকের বক্তব্য 'অন্ধবধূ' কবিতার জীবনের অনিত্যতা, দুঃখ এবং বিচ্ছেদের ভাবনাকে প্রতিফলিত করে। কবিতার মূল ভাবনার সঙ্গে এটি একেবারে সঙ্গতিপূর্ণ, কারণ এখানে একইসঙ্গে জীবনের সৌন্দর্য, তার ক্ষণস্থায়িত্ব ও অনিবার্য বিদায়ের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। ঘ. ‘উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সমগ্র ভাবের প্রতিফলন ঘটেনি’—বক্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। জীবনের এই স্বল্প সময়ের সমগ্র হিসাব চুকিয়ে, সব সম্পর্ক ছিন্ন করে পরপারে চলে যেতে হয়।’ এতে মূলত জীবনের অনিত্যতা ও মৃত্যুর অনিবার্যতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘অন্ধবধূ’ কবিতার ভাব কেবল জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব বা মৃত্যুর অনিবার্যতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে এক অন্ধ নারীর বেদনা, একাকীত্ব, সামাজিক বঞ্চনা এবং অন্তরের গভীর আবেগও প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার অন্ধ গৃহবধূ বুঝতে পারে যে একদিন তাকে এই জীবন ছেড়ে যেতে হবে। কিন্তু কবিতাটি শুধুমাত্র মৃত্যুর বেদনা নিয়ে নয়, বরং জীবনের চলমান কষ্ট ও সংগ্রামের প্রতিচিত্রও তুলে ধরে। অন্ধবধূ কেবল মৃত্যুর চিন্তায় বিভোর নয়, বরং সে অনুভব করে তার দুঃখের ভাগ নেওয়ার কেউ নেই, তার অন্ধত্ব তাকে আরও বেশি একাকীত্বের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। সে বোঝে, দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষকে সমাজ প্রায় ভুলেই যায়, যেমন ভবিষ্যতে প্রবাসী স্বামী তাকে ভুলে যেতে পারে। কিন্তু উদ্দীপকের বক্তব্যে এই দুঃখ বা সমাজের অবহেলার প্রসঙ্গ নেই। এছাড়াও কবিতায় ঝরা বকুল, কোকিলের ডাক, দীঘির ঘাট, শীতল জল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকৃতির প্রতি এক বিশেষ অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। অন্ধ গৃহবধূ স্পর্শ ও গন্ধের মাধ্যমে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধি করে এবং এতে সে সাময়িক সান্ত¡না খোঁজে। কিন্তু উদ্দীপকের বক্তব্যে এই প্রকৃতির রূপ-রস বা জীবনের প্রতি টানের কোনো উল্লেখ নেই। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের বক্তব্য 'অন্ধবধূ' কবিতার ভাবের কেবল একটি অংশকে প্রতিফলিত করেছে, সমগ্র ভাবকে নয়। এটি মূলত জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও মৃত্যুর অনিবার্যতার দিকটি তুলে ধরেছে, কিন্তু কবিতার গভীর বেদনা, একাকীত্ব, সামাজিক বঞ্চনা ও প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণের অনুভূতিগুলো প্রতিফলিত হয়নি। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. সমাজ কাদের অবজ্ঞা করে? |
|
ক. সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে 'অন্ধবধূ' কবিতার সাদৃশ্য নয়, বৈসাদৃশ্য রয়েছে। অন্ধবধূর প্রতিবন্ধকতা জয় করতে না পারার বিষয়টিই উদ্দীপকের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে।
ঘ. সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিবন্ধীরা পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে নিজেদের স্বাভাবিকভাবেই বিকশিত করে তুলতে পারে। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. অন্ধবধূ কোথায় বসে মধুমদির গন্ধে আচ্ছন্ন হয়? |
|
ক. অন্ধবধূ দোরের পাশে বসে মধুমদির গন্ধে আচ্ছন্ন হয়।
গ. উদ্দীপকটিতে ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বর্ণিত অন্ধবধূর হৃদয়ের করুণ অভিব্যক্তিই প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ. ‘অন্ধবধূ’ কবিতার মূল প্রতিপাদ্য হলো দৃষ্টিহীনদের সহানুভূতি জানানো। সেই বিষয় বিবেচনায় উদ্দীপকটি ‘অন্ধবধূ’ কবিতার পূর্ণ প্রতিফলন। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: |
|
ক. সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে। খ. অন্ধবধূ তার প্রখর অনুভূতিশক্তি দ্বারা দিঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগার কথা বুঝেছে। অন্ধবধূ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও সে একজন ইন্দ্রিয়সচেতন মানুষ। এই ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে সে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছে। দিঘির ঘাটের শ্যাওলা পড়া সিঁড়ির অস্তিত্ব টের পেয়েছে। দিঘির পানি কমে গেছে। অনুভবে সে নতুন সিঁড়ি জাগার কথা বুঝেছে। গ. অন্ধত্বের প্রতিবন্ধকতা দূর করে জীবনকে উপভোগ করার আকাক্সক্ষার দিকটি উদ্দীপকের সাথে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সাদৃশ্য রচনা করেছে। সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে। ফলে দৃষ্টিহীনেরা নিজেদের অসহায় ভাবে। কিন্তু ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে অন্ধদের এই প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী অন্ধবধূর জীবনকে উপভোগের এই আকাক্সক্ষার স্বরূপ বর্ণনা করেছেন। অন্ধবধূ নিজের ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে প্রকৃতিকে উপভোগ করে। পায়ের তলায় নরম শিউলি ফুলের অস্তিত্ব, পাখির ডাকে ঋতু পরিবর্তনের অনুভূতি সবই সে নিজের চেষ্টায় বুঝতে পারে। উদ্দীপকের ফুলবানুরও নিজের অন্ধত্বের প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষা প্রবল। সে দৃষ্টিহীন হলেও আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের মতো বেঁচে থাকার বাসনা মনের মধ্যে পোষণ করে। তার এই বাসনা ‘অন্ধবধূ’ কবিতার অন্ধবধূর আকাক্সক্ষার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্ধবধূও ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে দৃষ্টিহীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চায়। ঘ. উদ্দীপকের ফুলবানু অদম্য ইচ্ছায় প্রতিবন্ধকতা জয় করলেও ‘অন্ধবধূ’ কবিতার অন্ধবধূটি অসহায়ত্বের নিগড়ে বন্দি। ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অসহায়ত্ব বোঝাতে চেয়েছেন। কবিতার ‘অন্ধবধূ’ সমাজে অবজ্ঞার শিকার হওয়ায় নিজেকে অসহায় মনে করে। অন্ধত্বের অভিশাপে সে হতাশা ব্যক্ত করে। এই হতাশা তাকে শেষ পর্যন্ত বয়ে বেড়াতে হয়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে বধূটি সান্ত¦না খুঁজে নিতে চায়। উদ্দীপকের ফুলবানু দৃষ্টিহীন হলেও অন্ধত্বের অভিশাপকে জয় করেছে। ফলে তার ভেতর হতাশা নেই বরং অসহায়ত্বকে জয় করার গৌরব আছে। অবশ্য পরিবার তাকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূ পরিবারের কাছে অসহায়ত্ব থেকে উত্তরণে কোনো সহযোগিতা পায়নি বরং অবহেলিত হয়েছে। ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূটি পরিবারের মানুষের অবহেলার কারণে হতাশা প্রকাশ করেছে। কিন্তু উদ্দীপকে ফুলবানু পরিবারের সহায়তায় হতাশা থেকে মুক্তি পেয়েছে। ফলে উদ্দীপকের ফুলবানুর ক্ষেত্রে সফলতার আনন্দ থাকলেও অন্ধবধূর মাঝে রয়েছে অসহায়ত্বের বেদনা। তাদের দুজনের জীবনের অভিজ্ঞতার মাঝে ভিন্নতা লক্ষণীয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ফুলবানু এবং অন্ধবধূ চরিত্রের ভাব সম্পূর্ণ আলাদা। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. পায়ের তলায় নরম কী ঠেকেছিল? |
|
ক. পায়ের তলায় নরম ঝরা বকুল ঠেকেছিল।
গ. ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় প্রতিবন্ধিতার শিকার অন্ধবধূ নিজেকে অবহেলিত ভাবার দিক বিবেচনায় তার সাথে উদ্দীপকের নিশাতের বৈসাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
ঘ. অন্ধবধূর প্রবাসী স্বামী উদ্দীপকের নিশাতের স্বামী তৌহিদের মতো সহানুভূতিশীল হলে অন্ধবধূর জীবনটা অনেক সুন্দর হতো। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. অন্ধবধূ কাকে আস্তে চলতে বলে? |
|
ক. অন্ধবধূ তার ঠাকুরঝিকে আস্তে চলতে বলে।
গ. উদ্দীপকের ব্যথিতের বেদন কেউ যেমন কেউ বুঝতে পারে না তেমনি ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বর্ণিত বধূর মানসিক যাতনাও কেউ বুঝতে পারেনি।
ঘ. ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূর মানসিক যাতনাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হলেও উদ্দীপকে কেবল মানসিক যাতনার দিকটি আলোচিত হয়েছে। উদ্দীপকটি তাই কবিতার খ-াংশের ধারক। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কখন আবার বিয়ে হবে? |
|
ক. আষাঢ় মাসে আবার বিয়ে হবে।
গ. উদ্দীপকের শিল্পীর সাথে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার অন্ধবধূর দৃষ্টিহীনতার পাশাপাশি প্রকৃতি চেতনার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটিতে ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূর ইন্দ্রিয় সচেতনতার মাধ্যমে পৃথিবীর ঋতুবৈচিত্রে্যর শনাক্তকরণের দিকটির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘কাঁদতে পেলে বাঁচত সে যে ভাই,/কতক তবু কমত যে তার শোক’। বাক্যটিতে কী বোঝানো হয়েছে? |
|
ক. বাক্যটিতে অন্ধত্বের গভীর কষ্ট বোঝানো হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূর দিঘির ঘাটে নতুন সিঁড়ি জাগলে শ্যাওলা পড়া পিছল সিঁড়িতে পা পিছলে তলিয়ে মারা যাওয়ার শঙ্কা অংশটির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
ঘ. “উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূর খ-িত জীবনচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়”—উক্তিটি যৌক্তিক বলা যায়। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কোথায় অন্ধবধূ একলা থাকে? |
|
ক. অন্ধবধূ গৃহকোণে একলা থাকে।
গ. উদ্দীপকের জেসমিনের সাথে ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় অন্ধবধূর স্বামীর প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার সাদৃশ্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় দুজন বিরহকাতর নারীর হৃদয়ের আর্তি ফুটে উঠেছে—মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. অন্ধবধূ ঠাকুরঝির কাছে জ্যৈষ্ঠ আসতে কত দিন দেরি বলে জানতে পারে? |
|
ক. অন্ধবধূ ঠাকুরঝির কাছে জ্যৈষ্ঠ আসতে অনেকদিন দেরি বলে জানতে পারে।
গ. উদ্দীপকের বক্তব্যে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার অন্ধবধূর মৃত্যুচিন্তার দিকটির সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় শারীরিক প্রতিবন্ধী একজন মানুষের মনোজাগতিক নানা বিষয় উঠে এলেও উদ্দীপকে তেমনটা হয়নি। উদ্দীপকটিতে কেবল মৃত্যুচিন্তার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। তাই উদ্দীপকটি ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সমগ্র ভাবের ধারক নয়। |
| ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. অন্ধবধূ জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে কীভাবে? |
|
ক. অনুভূতি শক্তি দ্বারা অন্ধবধূ জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে জ্ঞান রাখে।
গ. অন্ধত্বের প্রতিবন্ধকতা দূর করে জীবনকে উপভোগ করার আকাক্সক্ষার দিকটি উদ্দীপকের সাথে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার সাদৃশ্য রচনা করেছে।
ঘ. উদ্দীপকের পরীবাণু অদম্য ইচ্ছায় প্রতিবন্ধকতা জয় করলেও ‘অন্ধবধূ’ কবিতার অন্ধবধূটি অসহায়ত্বের নিগড়ে বন্দি। |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. চারুপাঠ: ষষ্ঠ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
