কাকতাড়ুয়া- সত্যজিৎ রায়
|
| কাকতাড়ুয়া |
কাকতাড়ুয়া
সত্যজিৎ রায়
মৃগাঙ্কবাবুর সন্দেহটা যে অমূলক নয় সেটা প্রমাণ হলো পানাগড়ের কাছাকাছি এসে। গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে গেল। পেট্রোলের ইনডিকেটরটা কিছুকাল থেকেই গোলমাল করছে, সে কথা আজও বেরোবার মুখে ড্রাইভার সুধীরকে বলেছেন, কিন্তু সুধীর গা করেনি। আসলে কাঁটা যা বলছিল তার চেয়ে কম পেট্রোল ছিল ট্যাঙ্কে।
‘এখন কী হবে?’ জিজ্ঞেস করলেন মৃগাঙ্কবাবু।
‘আমি পানাগড় চলে যাচ্ছি’, বলল সুধীর, ‘সেখান থেকে তেল নিয়ে আসব।’
‘পানাগড় এখান থেকে কতদূর?’
‘মাইল তিনেক হবে।’
‘তার মানে তো দু-আড়াই ঘণ্টা। শুধু তোমার দোষেই এটা হলো। এখন আমার অবস্থাটা কী হবে ভেবে দেখেছ?’
মৃগাঙ্কবাবু ঠান্ডা মেজাজের মানুষ, কিন্তু আড়াই ঘণ্টা খোলা মাঠের মধ্যে একা গাড়িতে বসে থাকতে হবে জেনে মেজাজটা খিটখিটে হয়ে গিয়েছিল।
‘তাহলে আর দেরি করো না, বেরিয়ে পড়ো। আটটার মধ্যে কলকাতা ফিরতে পারবে তো? এখন সাড়ে তিনটে।’
‘তা পারব বাবু।’
‘এই নাও টাকা। আর ভবিষ্যতে এমন ভুলটি কোরো না কখনো। লংজার্নিতে এসব রিস্কের মধ্যে যাওয়া কখনোই উচিত নয়।’
সুধীর টাকা নিয়ে চলে গেল পানাগড় অভিমুখে।
মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায় খ্যাতনামা জনপ্রিয় সাহিত্যিক। দুর্গাপুরে একটি ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে ডাকা হয়েছিল মানপত্র দেওয়া হবে বলে। ট্রেনে রিজার্ভেশন পাওয়া যায়নি, তাই মোটরে যাত্রা। সকালে চা খেয়ে বেরিয়েছেন, আর ফেরার পথে এই দুর্যোগ। মৃগাঙ্কবাবু কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন না, পাঁজিতে দিনক্ষণ দেখে যাত্রা করাটা তাঁর মতে কুসংস্কার, কিন্তু আজ পাঁজিতে যাত্রা নিষিদ্ধ বললে তিনি অবাক হবেন না। আপাতত গাড়ি থেকে নেমে আড় ভেঙে তিনি তাঁর চারদিকটা ঘুরে দেখে নিলেন।
মাঘ মাস, খেত থেকে ধান কাটা হয়ে গেছে, চারদিক ধু-ধু করছে মাঠ, দূরে, বেশ দূরে, একটিমাত্র কুঁড়ে ঘর একটি তেঁতুলগাছের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া বসতির কোনো চিহ্ন নেই। আরও দূরে রয়েছে একসারি তালগাছ, আর সবকিছুর পিছনে জমাটবাঁধা বন। এই হলো রাস্তার এক দিক, অর্থাৎ পুব দিকের দৃশ্য।
পশ্চিমেও বিশেষ পার্থক্য নেই। রাস্তা থেকে চল্লিশ-পঞ্চাশ হাত দূরে একটা পুকুর রয়েছে। তাতে জল বিশেষ নেই। গাছপালা যা আছে তা-দু একটা বাবলা ছাড়া-সবই দূরে। এদিকেও দুটি কুঁড়েঘর রয়েছে; কিন্তু মানুষের কোনো চিহ্ন নেই। আকাশে উত্তরে মেঘ দেখা গেলেও এদিকে রোদ। মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটা কাকতাড়ুয়া।
শীতকাল হলেও রোদের তেজ আছে বেশ, তাই মৃগাঙ্কবাবু গাড়িতে ফিরে এলেন। তারপর ব্যাগ থেকে একটা গোয়েন্দাকাহিনি বার করে পড়তে আরম্ভ করলেন।
এর মধ্যে দুটো অ্যাম্বাসাডর আর একটা লরি গেছে তাঁর পাশ দিয়ে, তার মধ্যে একটা কলকাতার দিকে। কিন্তু কেউ তাঁর অবস্থা জিজ্ঞেস করার জন্য থামেনি। মৃগাঙ্কবাবু মনে মনে বললেন, বাঙালিরা এ-ব্যাপারে বড়ো স্বার্থপর হয়। নিজের অসুবিধা করে পরের উপকার করাটা তাদের কুষ্টিতে লেখে না। তিনি নিজেও কি এদের মতোই ব্যবহার করতেন? হয়তো তাই। তিনিও তো বাঙালি। লেখক হিসেবে তাঁর খ্যাতি আছে ঠিকই, কিন্তু তাতে তাঁর মজ্জাগত দোষগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি।
উত্তরের মেঘটা অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত এগিয়ে এসে সূর্যটাকে ঢেকে ফেলেছে। সঙ্গে সঙ্গে একটা ঠান্ডা হাওয়া। মৃগাঙ্কবাবু ব্যাগ থেকে পুলোভারটা বার করে পরে নিলেন। এদিকে সূর্যও দ্রুত নিচের দিকে নেমে এসেছে। পাঁচটার মধ্যেই অন্ত যাবে। তখন ঠান্ডা বাড়বে। কী মুশকিলে ফেলল তাঁকে সুধীর!
মৃগাঙ্কবাবু দেখলেন যে, বইয়ে মন দিতে পারছেন না। তার চেয়ে নতুন গল্পের প্লট ভাবলে কেমন হয়? ‘ভারত’ পত্রিকা তাঁর কাছে একটা গল্প চেয়েছে, সেটা এখনও লেখা হয়নি। একটা প্লটের খানিকটা মাথায় এসেছে এই পথটুকু আসতেই। মৃগাঙ্কবাবু নোটবুক বার করে কয়েকটা পয়েন্ট লিখে ফেললেন।
নাহ্, গাড়িতে বসে আর ভালো লাগে না।
খাতা বন্ধ করে আবার বাইরে এসে দাঁড়ালেন মৃগাঙ্কবাবু। তারপর কয়েক পা সামনে এগিয়ে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখে তাঁর মনে হলো বিশ্বচরাচরে তিনি একা। এমন একা তিনি কোনোদিন অনুভব করেননি।
না, ঠিক একা নয়। একটা নকল মানুষ আছে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে।
ওই কাকতাড়ুয়াটা।
মাঠের মধ্যে এক জায়গায় কী যেন একটা শীতের ফসল রয়েছে একটা খেতে, তারই মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে কাকতাড়ুয়াটা। একটা খাড়া বাঁশ মাটিতে পোঁতা, তার সঙ্গে আড়াআড়িভাবে একটা বাঁশ ছড়ানো হাতের মতো দুদিকে বেরিয়ে আছে। এই হাত দুটো গলানো রয়েছে একটা ছেঁড়া জামার দুটো আন্তিনের মধ্য দিয়ে। খাড়া বাঁশটার মাথায় রয়েছে একটা উপুড় করা মাটির হাঁড়ি। দূর থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু মৃগাঙ্কবাবু অনুমান করলেন সেই হাঁড়ির রং কালো, আর তার ওপর সাদা রং দিয়ে আঁকা রয়েছে ড্যাবা ড্যাবা চোখ-মুখ। আশ্চর্য- এই জিনিসটা পাখিরা আসল মানুষ ভেবে ভুল করে, আর তার ভয়ে খেতে এসে উৎপাত করে না। পাখিদের বুদ্ধি কি এতই কম? কুকুর তো এ ভুল করে না। তারা মানুষের গন্ধ পায়। কাক চড়ুই কি তাহলে সে গন্ধ পায় না?
মেঘের মধ্যে একটা ফাটল দিয়ে রোদ এসে পড়ল কাকতাড়ুয়াটার গায়ে। মৃগাঙ্কবাবু লক্ষ করলেন যে, যে জামাটা কাকতাড়ুয়াটার গায়ে পরানো হয়েছে সেটা একটা ছিটের শার্ট। কার কথা মনে পড়ল ওই ছেঁড়া লাল-কালো ছিটের শার্টটা দেখে? মৃগাঙ্কবাবু অনেক চেষ্টা করেও মনে করতে পারলেন না। তবে কোনো একজনকে তিনি ওরকম একটা শার্ট পড়তে দেখেছেন-বেশ কিছুকাল আগে।
আশ্চর্য-ওই একটি নকল প্রাণী ছাড়া আর কোনো প্রাণী নেই। মৃগাঙ্কবাবু আর ওই কাকতাড়ুয়া। এই সময়টা খেতে কাজ হয় না বলে গ্রামের মাঠেঘাটে লোকজন কম দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু এরকম নির্জনতা মৃগাঙ্কবাবুর অভিজ্ঞতায় এই প্রথম।
মৃগাঙ্কবাবু ঘড়ি দেখলেন। চারটা কুড়ি। সঙ্গে ফ্লাস্কে চা রয়েছে। সেটার সদ্ব্যবহার করা যেতে পারে।
গাড়িতে ফিরে এসে ফ্লাস্ক খুলে ঢাকনায় চা ঢেলে খেলেন মৃগাঙ্কবাবু। শরীরটা একটু গরম হলো।
কালো মেঘের মধ্যে ফাঁক দিয়ে সূর্যটাকে একবার দেখা গেল। কাকতাড়ুয়াটার গায়ে পড়েছে লালচে রোদ। সূর্য দূরের তালগাছটার মাথার কাছে এসেছে, আর মিনিট পাঁচেকেই অন্ত যাবে।
আরেকটা অ্যাম্বাসাডর মৃগাঙ্কবাবুর গাড়ির পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। মৃগাঙ্কবাবু আরেকটু চা ঢেলে খেয়ে আবার গাড়ি থেকে নামলেন। সুধীরের আসতে এখনও ঘণ্টাখানেক দেরি। কী করা যায়?
পশ্চিমের আকাশ এখন লাল। সেদিক থেকে মেঘ সরে এসেছে। চ্যাপটা লাল সূর্যটা দেখতে দেখতে দিগন্তের আড়ালে চলে গেল। এবার বাপ করে অন্ধকার নামবে।
কেন জানি মৃগাঙ্কবাবু অনুভব করছেন প্রতি মুহূর্তেই ওই নকল মানুষটা তাঁকে বেশি করে আকর্ষণ করছে।
সেটার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে থাকতে থাকতে মৃগাঙ্কবাবু কতকগুলো জিনিস লক্ষ করে একটা হৃৎকম্প অনুভব করলেন।
ওটার চেহারায় সামান্য পরিবর্তন হয়েছে কি?
হাত দুটো কি নিচের দিকে নেমে এসেছে খানিকটা? দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা কি আরেকটু জ্যান্ত মানুষের মতো?
খাড়া বাঁশটার পাশে কি আরেকটা বাঁশ দেখা যাচ্ছে?
ও দুটো কি বাঁশ, না ঠ্যাং?
মাথার হাঁড়িটা একটু ছোটো মনে হচ্ছে না?
তিনি কি এই তেপান্তরের মাঠে একা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে চোখে ভুল দেখছেন?
কাকতাড়ুয়া কখনো জ্যান্ত হয়ে ওঠে?
কখনোই না।
কিন্তু-
মৃগাঙ্কবাবুর দৃষ্টি আবার কাকতাড়ুয়াটার দিকে গেল। কোনও সন্দেহ নেই। সেটা জায়গা বদল করেছে। সেটা ঘুরে দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে খানিকটা এগিয়ে এসেছে। এসেছে না, আসছে।
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা, কিন্তু দু পায়ে চলা। হাঁড়ির বদলে একটা মানুষের মাথা। গায়ে এখনো সেই ছিটের শার্ট; আর তার সঙ্গে মালকোঁচা দিয়ে পরা খাটো ময়লা ধুতি।
‘বাবু!’
মৃগাঙ্কবাবুর সমস্ত শরীরের মধ্যে দিয়ে একটা শিহরন খেলে গেল। কাকতাড়ুয়া মানুষের গলায় ডেকে উঠেছে এবং এ গলা তাঁর চেনা।
এ হলো তাঁদের এককালের গৃহকর্মী অভিরামের গলা। এদিকেই তো ছিল অভিরামের দেশ। একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন মৃগাঙ্কবাবু। অভিরাম বলেছিল, সে থাকে মানকড়ের পাশের গাঁয়ে। পানাগড়ের আগের স্টেশনই তো মানকড়।
মৃগাঙ্কবাবু চরম ভয়ে পিছোতে পিছোতে গাড়ির সঙ্গে সেঁটে দাঁড়ালেন। অভিরাম এগিয়ে এসেছে তাঁর দিকে।
এখন সে মাত্র দশ গজ দূরে।
‘আমায় চিনতে পারছেন বাবু?’
মনে যতটা সাহস আছে সবটুকু একত্র করে মৃগাঙ্কবাবু প্রশ্নটা করলেন।
‘তুমি অভিরাম না?’
‘অ্যাদ্দিন পরেও আপনি চিনেছেন বাবু?’
মানুষেরই মতো দেখাচ্ছে অভিরামকে, তাই বোধহয় মৃগাঙ্কবাবু সাহস পেলেন। বললেন, ‘তোমাকে চিনেছি তোমার জামা দেখে এ জামা তো আমিই তোমাকে কিনে দিয়েছিলাম।’
‘হ্যাঁ বাবু, আপনিই দিয়েছিলেন। আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন, কিন্তু শেষে এমন হলো কেন বাবু? আমি তো কোনো দোষ করিনি। আপনারা আমার কথা বিশ্বাস করলেন না কেন?’
মৃগাঙ্কবাবুর মনে পড়ল। তিন বছর আগের ঘটনা। অভিরাম ছিল মৃগাঙ্কবাবুদের বিশ বছরের পোরনো গৃহকর্মী।
শেষে একদিন অভিরামের ভীমরতি ধরে। সে মৃগাঙ্কবাবুর বিয়েতে পাওয়া সোনার ঘড়িটা চুরি করে বসে। সুযোগ-সুবিধা দুই-ই ছিল অভিরামের। অভিরাম নিজে অবশ্য অস্বীকার করে। কিন্তু মৃগাঙ্কবাবুর বাবা ওঝা ডাকিয়ে কুলোতে চাল ছুড়ে মেরে প্রমাণ করিয়ে দেন যে, অভিরামই চোর। ফলে অভিরামকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিরাম বলল, ‘আপনাদের ওখান থেকে চলে আসার পর আমার কী হলো জানেন? আর আমি চাকরি করিনি কোথাও, কারণ আমার কঠিন ব্যারাম হয়। উদুরি। টাকা-পয়সা নাই। না ওষুধ, না পথ্যি। সেই ব্যারামই আমার শেষ ব্যারাম। আমার এই জামাটা ছেলে রেখে দেয়। সে নিজে কিছুদিন পরে। তারপর সেটা ছিঁড়ে যায়। তখন সেটা কাকতাড়ুয়ার পোশাক হয়। আমি হয়ে যাই সেই কাকতাড়ুয়া। কেন জানেন? আমি জানতাম একদিন না একদিন আপনার সঙ্গে আবার দেখা হবে। আমার প্রাণটা ছটফট করছিল। -হ্যাঁ, মৃত লোকেরও প্রাণ থাকে-আমি মরে গিয়ে যা জেনেছি সেটা আপনাকে বলতে চাইছিলাম।’
‘সেটা কী অভিরাম?’
‘বাড়ি ফিরে গিয়ে আপনার আলমারির নিচে পিছন দিকটায় খোঁজ করবেন। সেখানেই আপনার ঘড়িটা পড়ে আছে এই তিন বছর ধরে। আপনার নতুন চাকর ভালো করে ঝাড় দেয় না, তাই সে দেখতে পায়নি। এই ঘড়ি পেলে পরে আপনি জানবেন অভিরাম কোনো দোষ করেনি।’
অভিরামকে আর ভালো করে দেখা যায় না- সন্ধ্যা নেমে এসেছে। মৃগাঙ্কবাবু শুনলেন অভিরাম বলছে, ‘এতকাল পরে নিশ্চিন্ত হলাম বাবু। আমি আসি। আমি আসি...’
মৃগাঙ্কবাবুর চোখের সামনে থেকে অভিরাম অদৃশ্য হয়ে গেল।
‘তেল এনেছি বাবু।’
সুধীরের গলায় মৃগাঙ্কবাবুর ঘুমটা ভেঙে গেল। গল্পের প্লট ফাঁদতে ফাঁদতে কলম হাতে গাড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। ঘুম ভাঙতেই তাঁর দৃষ্টি চলে গেল পশ্চিমের মাঠের দিকে। কাকতাড়ুয়াটা যেমন ছিল তেমনভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।
বাড়িতে এসে আলমারির তলায় খুঁজতেই ঘড়িটা বেরিয়ে পড়ল। মৃগাঙ্কবাবু স্থির করলেন ভবিষ্যতে আর কিছু গেলেও ওঝার সাহায্য আর কখনো নেবেন না।
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের উৎস নির্দেশ : |
|---|
| -- |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের শব্দার্থ ও টীকা : |
|---|
|
➠ অমূলক- ভিত্তিহীন। ➠ ইনডিকেটর- নির্দেশক। ইংরেজি Indicator. ➠ ট্যাঙ্কে- গাড়ির তেল রাখার জায়গা। ➠ লংজার্নি- দীর্ঘ ভ্রমণ। ইংরেজি Long journey. ➠ রিস্ক- ঝুঁকি। ইংরেজি Risk. ➠ মানপত্র- সম্মানসূচক স্মারক। ➠ রিজার্ভেশন- সংরক্ষণ। ইংরেজি Reservation. ➠ কুসংস্কার- বিভিন্ন বিশ্বাস যার পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ থাকে না। ➠ পাঁজি- পঞ্জিকা; যেখানে তারিখ, সন, তিথি নক্ষত্র ইত্যাদি লেখা থাকে। ➠ কুঁড়ে ঘর- খড়কুটো দিয়ে বানানো ছোটো ঘর। ➠ বসতি- বসবাসের জায়গা। ➠ অ্যাম্বাসাডর- এক ধরনের মোটর গাড়ির নাম। ইংরেজি Ambassador. ➠ কুষ্টি- নবজাতকের ভবিষ্যদ্বাণী লেখা হয় যেখানে। ➠ মজ্জাগত- জন্মগত। ➠ পুলোভার- সুতোয় বোনা শীতকালীন জামা। ➠ প্লট- কাহিনি। ➠ নোটবুক- দরকারি তথ্য টুকে রাখার খাতাবিশেষ। ইংরেজি Note Book. ➠ পয়েন্ট- বিষয়, প্রসঙ্গ। ইংরেজি point. ➠ বিশ্বচরাচর - সারা পৃথিবী। ➠ ড্যাবা ড্যাবা- বড়ো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ➠ সদ্ব্যবহার- ঠিকভাবে কোনো কিছু ব্যবহার বা কাজে লাগানো। ➠ হৃৎকম্প- হৃদয়ের কম্পন। ➠ মালকোঁচা- দুই পায়ের মধ্য দিয়ে গোঁজা ধুতি লুঙ্গি প্রভৃতির কোঁচা। ➠ শিহরন- অনুভূতি। ➠ সেঁটে- লেগে থাকা। ➠ ভীমরতি- বয়স বাড়ার কারণে জ্ঞানবুদ্ধি লোপ পাওয়া বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। ➠ ব্যারাম- রোগ। ➠ উদুরি- পেটের পীড়া। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব : |
|---|
|
‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পে সত্যজিৎ রায় কুসংস্কারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেছেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে মানবমনে বিচিত্রসব অনুভূতির প্রকাশ ঘটতে পারে। গল্পে একটি অনুষ্ঠান শেষে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কলকাতা ফিরছিলেন লেখক মৃগাঙ্কবাবু। পথে গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে যাওয়ায় গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভার তেল আনতে যান। এই অবকাশে মৃগাঙ্কবাবুর চোখে পড়ল ধু-ধু মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একটি কাকতাড়ুয়া। তিনি লক্ষ করলেন কাকতাড়ুয়ার গায়ে পরানো আছে তিন বছর আগে তাড়িয়ে দেওয়া তাঁর গৃহকর্মী অভিরামের লাল-কালো ছিটের শার্ট। ওঝার কথায় মৃগাঙ্কবাবুর বাবা স্বর্ণের ঘড়ি চুরির অভিযোগে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। অভিরাম নিজের বাড়িতে এসে অর্থ-কষ্টে ও রোগে মারা যায়। সেই অভিরাম কাকতাড়ুয়ারূপে লেখককে জানায় যে, আলমারির নিচে পিছন দিকটায় ঘড়িটি এখনো পড়ে আছে। আসলে ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখছিলেন মৃগাঙ্কবাবু। বাড়ি ফিরে তিনি আলমারির তলা থেকে ঘড়িটা খুঁজেও পেলেন। অভিরামের মাধ্যমে মৃগাঙ্কবাবুর প্রাপ্ত তথ্য সত্যিকার অর্থে অবচেতনে লুকিয়ে থাকা সত্যেরই প্রকাশ। তিনি বুঝতে পারলেন ওঝার কথা ঠিক ছিল না। তাই মৃগাঙ্কবাবু সিদ্ধান্ত নেন ভবিষ্যতে কোনো ওঝার সাহায্য নেবেন না। কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না, এ সত্যটিই ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পে সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের লেখক পরিচিতি : |
|---|
|
সত্যজিৎ রায়ের জন্ম ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায়। তাঁর পূর্ব-প্রজন্মের ভিটা
ছিল কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার মসুয়া গ্রামে। সত্যজিৎ রায় একজন
চলচ্চিত্র-নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, শিল্পনির্দেশক, সংগীত পরিচালক ও লেখক।
তিনি বিশ শতকের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র-নির্মাতাদের একজন হিসেবে বিবেচিত। তাঁর
নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালী’ (১৯৫৫) বহু আন্তর্জাতিক
পুরস্কার লাভ করে। চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে
কল্পকাহিনি লেখক, প্রকাশক ও চিত্রকর। তিনি ছোটোগল্প ও উপন্যাসও রচনা
করেছেন। তাঁর সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র
গোয়েন্দা ফেলুদা ও প্রোফেসর শঙ্কু। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
ক. চাকরি চলে যাওয়া অভিরামের জীবনে কীরূপ প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো। খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের চরিত্রগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। |
|
ক. অবিরাম ছিল মৃগাঙ্কবাবুর বিশ্ব ভ্রমণের, পুরানো পুরুষের। মৃগাঙ্কবাবুর দামি ঘড়ি চুরি দায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চাকরি চলে যাওয়ার অভিমানে জীবনে আসে চরম দুঃসময়। ঐ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার জন্য তিনি পেটের দায়ে চাচার দোকানে চা-ও বেচতেন ও দোকানে ঝি-এর সাথে চলে গিয়ে মুদির দোকানে ঢোকা পড়ে। একদিন সে মৃগাঙ্কবাবুকে দেখে। চাকরিচ্যুত তাকে কৃষ্ণ বল্লাল দান করে।
খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো হলো মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায়,
সুধীর অভিরাম এবং কাকতাড়ুয়া। মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায় একজন জনপ্রিয়
সাহিত্যিক। তার ভাইঝির সখী, তার বাড়ির চাকরিয়াত থেকে অবসরপ্রাপ্ত
একাকাতুয়া হলো গল্পের চরিত্র। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
ক. মৃগাঙ্কবাবুর দেখা স্বপ্নের বাস্তব ভিত্তি কী ছিল? আলোচনা করো। |
|
ক. সত্যজিৎ রায়ের লেখা ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পে মৃগাঙ্কবাবুর দেখা স্বপ্নের
একটি বাস্তব ভিত্তি ছিল, যা তার অতীতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
গল্পের শুরুতে দেখা যায়, মৃগাঙ্কবাবু একটি নির্জন মাঠে গাড়ি নষ্ট হয়ে
যাওয়ার কারণে একা অবস্থান করছিলেন। রাতের নিস্তব্ধতা, একাকীত্ব এবং
কাকতাড়–য়ার উপস্থিতি তার মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করছিল।
খ. সত্যজিৎ রায় ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের মাধ্যমে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের
ভয়ংকর পরিণতি অত্যন্ত বাস্তবধর্মীভাবে তুলে ধরেছেন। গল্পের মূল বার্তা
হলো—অন্ধবিশ্বাসের কারণে নির্দোষ ব্যক্তি অন্যায়ের শিকার হতে পারে এবং
সমাজে বড় ক্ষতির সৃষ্টি করতে পারে। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
ক. মৃগাঙ্কবাবু কাকতাড়ুয়ার গায়ে থাকা লাল-কালো ছিটের শার্ট দেখে কী অনুভব
করলেন? এটি তার অতীত স্মৃতির সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে আছে? |
|
ক. সত্যজিৎ রায়ের ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পে মৃগাঙ্কবাবু একটি নির্জন মাঠে গাড়ি
নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর একটি কাকতাড়ুয়া দেখতে পান, যার গায়ে লাল-কালো ছিটের
শার্ট ছিল। এই দৃশ্য তাকে ভীষণ অস্বস্তিতে ফেলে দেয় এবং তার মনে একটি
বিশেষ স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।
খ. ‘আলমারির নিচে হারানো ঘড়িটি খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে গল্পের মূল
বার্তাটি শক্তিশালী হয়েছে’— মন্তব্যটির যথার্থতা। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
ক. অভিরামের স্বপ্ন-প্রতিচ্ছবি কেন মৃগাঙ্কবাবুর সামনে হাজির হয়েছিল? এটি
দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে? |
|
ক. গল্পের প্রধান চরিত্র মৃগাঙ্কবাবু যখন কাকতাড়ুয়ার গায়ে থাকা
লাল-কালো ছিটের শার্ট দেখে, তখন তার সামনে অভিরামের স্বপ্ন-প্রতিচ্ছবি
হাজির হয়। এর মাধ্যমে গল্পটি মৃগাঙ্কবাবুর মনে অপরাধবোধ ও অনুশোচনা
প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়।
খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পটি সত্যজিৎ রায়ের একটি মনস্তাত্ত্বিক গল্প, যেখানে
মূলত মানুষের বিশ্বাস, অনুশোচনা, এবং অপরাধবোধের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
এর মাধ্যমে লেখক কুসংস্কার, আত্মবিশ্বাস, এবং চেহারার পরিবর্তন সংক্রান্ত
নানা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠককে দেয়। গল্পের মূলভাব বা উদ্দেশ্য কীভাবে
বাস্তবতা এবং কুসংস্কারের মধ্যে পার্থক্য ধরা এবং মানুষের ভুল
সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতি হওয়ার কথা বলা। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
ক. মৃগাঙ্কবাবু কোথায় গিয়েছিলেন? মাঝপথে গাড়ি থেমে গিয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা
কর। |
|
ক. মৃগাঙ্কবাবু দুর্গাপুর ক্লাবের আয়োজন করা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন। তিনি একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, এবং দুর্গাপুরের ক্লাব থেকে তাকে সাহিত্য সম্মাননা বা মানপত্র গ্রহণের জন্য আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ট্রেনে আসন না পাওয়ায় মৃগাঙ্কবাবু মোটরযানে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নেন। যাত্রা শুরুর আগে তিনি নিজের চাকর সুধীরকে সতর্ক করে বলেছিলেন, “পেট্রোল যা আছে, তাতে আমাদের যাত্রা শেষ হবে না।” কিন্তু সুধীর সেই কথায় গুরুত্ব দেয়নি, কারণ পেট্রোলের ইনডিকেটর অনুযায়ী তেলের পরিমাণ যথেষ্ট ছিল, এবং তার মতে, যাত্রা সফলভাবে শেষ করা সম্ভব ছিল। তবে মৃগাঙ্কবাবু জানতেন যে ইনডিকেটরটি কিছুদিন ধরে সঠিকভাবে কাজ করছে না, এবং তাই তিনি সুধীরের ওপর ভরসা করে পেট্রোল না নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন। এর ফলে যাত্রাপথের মাঝপথে পেট্রোল ফুরিয়ে গিয়ে গাড়িটি থেমে যায়, এবং মৃগাঙ্কবাবুর সন্দেহটাই সঠিক প্রমাণিত হয়।
খ. কাকতাড়ুয়া হলো একটি কৃত্রিম মানুষের আকৃতি যা ফসলের মাঠে পাখি ও
পোকামাকড় থেকে ফসল রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়। এটি সাধারণত বাঁশ, পুরনো
কাপড়, হাঁড়ি এবং কিছু কাঠি দিয়ে তৈরি করা হয়। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
ক. ‘কিন্তু আজ পাঁজিতে যাত্রা নিষিদ্ধ বললে তিনি অবাক হবেন না।’—কথাটি
ব্যাখ্যা করো। |
|
ক. “কিন্তু আজ পঞ্জিকায় যাত্রা নিষিদ্ধ বলা হলে তিনি অবাক হতেন না।”— এই
বক্তব্যের মাধ্যমে দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে কুসংস্কারে বিশ্বাসী না হয়েও
সেটিকে অস্বাভাবিক মনে না করার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। বাক্যটিতে
‘পঞ্জিকা’ বলতে সেই নির্দিষ্ট দিনটির শুভ-অশুভ সময় সম্পর্কে দেওয়া তথ্য
বোঝানো হয়েছে, যা অনেকেই কুসংস্কারের ভিত্তিতে অনুসরণ করে থাকেন।
সাধারণত, শুভ-অশুভ মুহূর্ত নির্ধারণের এই প্রথা যুক্তিসম্মত নয়, তবে কোনো
অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির শিকার হলে অনেকেই এমন বিশ্বাসের প্রতি আগ্রহী
হয়ে ওঠেন। খ্যাতনামা সাহিত্যিক মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায়ও এমন একটি
পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন, যা তাকে এই ধরনের কুসংস্কারমূলক ভাবনার দিকে ঠেলে
দেয়।
খ. ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে মানবমনে বিচিত্র সব অনুভূতির প্রকাশ ঘটতে
পারে।’— উক্তিটি একেবারেই যথার্থ। কারণ মানুষের মন প্রকৃতিগতভাবে
সংবেদনশীল, এবং যখন সে কোনো বিশেষ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, তখন তার
চেতনার জগতে নানা রকম চিন্তা, দুশ্চিন্তা, ভয় কিংবা কল্পনার সঞ্চার ঘটে।
সাধারণ অবস্থায় যে মানসিকতা প্রকাশ পায়, সংকটময় মুহূর্তে তা সম্পূর্ণ
ভিন্ন হতে পারে। কারণ সেই বিশেষ মুহূর্ত মানুষের চিন্তাধারা এবং
উপলব্ধিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২০: |
|---|
|
ক. চাকরি চলে যাওয়া অভিরামের জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করে? ব্যাখ্যা
কর। |
|
ক. অভিরামের জীবনে চরম দুর্দশা নেমে আসে তার চাকরি চলে যাওয়ার কারণে, যা
শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের অভিরাম
একজন বিশ্বস্ত কর্মচারী, যিনি বিশ বছর ধরে খ্যাতনামা সাহিত্যিক
মৃগাঙ্কবাবুর বাড়িতে সততার সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু একদিন মৃগাঙ্কবাবুর
বিয়েতে পাওয়া স্বর্ণের ঘড়িটি হারিয়ে গেলে সকলের সন্দেহ অভিরামের ওপর গিয়ে
পড়ে। ওঝার সাহায্যে চাল ছুঁড়ে তাকে চোর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, এবং এই
ভিত্তিহীন অভিযোগের ফলে সে চাকরি হারায়।
খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের চরিত্রগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে তুলে ধরা
হলো— |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
ক. “কিন্তু তাতে তাঁর মজ্জাগত দোষগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি।”— কথাটি
বুঝিয়ে লেখো। |
|
ক. “কিন্তু তাতে তাঁর মজ্জাগত দোষগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি।”—কথটির
মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, মৃগাঙ্কবাবু তার স্বভাবগত দোষের কোনো পরিবর্তন
হয়নি বলে স্বীকার করেছেন, কারণ তিনি মনে করেন, বাঙালিরা সাধারণত
স্বার্থপর প্রকৃতির হয়ে থাকে। তারা নিজের স্বার্থকে সবার আগে রাখে এবং
কখনোই নিজেদের কষ্ট দিয়ে অন্যের উপকার করতে চায় না। মৃগাঙ্কবাবু একসময় এই
দৃষ্টিভঙ্গিকে সমালোচনা করলেও পরে উপলব্ধি করেন, তিনিও এর ব্যতিক্রম
নন।
খ. “কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।”—এই
মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য, কারণ কুসংস্কার মানুষের অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন
বিশ্বাসের প্রতিফলন, যা যুক্তির পরিপন্থী। এটি মানুষের বিচার-বিবেচনা
শক্তিকে দুর্বল করে, অপ্রয়োজনীয় ভয়-ভীতি তৈরি করে এবং সমাজে অশান্তি ডেকে
আনে। বিশেষ করে, কুসংস্কারের ফলে নির্দোষ ব্যক্তির জীবন দুর্বিষহ হয়ে
উঠতে পারে। এ ধরনের কুসংস্কারের ভয়াবহ পরিণতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়
‘কাকতাড়–য়া’ গল্পে, যেখানে কুসংস্কারের শিকার হয়ে একজন বিশ্বস্ত চাকর
অভিরামের জীবন নষ্ট হয়ে যায়। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
ক. চোর শনাক্ত করার জন্য মৃগাঙ্কবাবুর বাবা কী করেছিলেন? ব্যাখ্যা
করো। |
|
ক. মৃগাঙ্কবাবুর বাবা চোর শনাক্ত করতে ওঝার সাহায্য নেওয়ার মাধ্যমে
কুসংস্কারের প্রতি তার অন্ধ বিশ্বাসের পরিচয় দেন। ‘কাকতাড়–য়া’ গল্পের
প্রধান চরিত্র মৃগাঙ্কবাবু, যার জীবনে তিন বছর আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ
ঘটনা ঘটে—তার বিয়েতে পাওয়া স্বর্ণের ঘড়িটি বাড়ি থেকে হারিয়ে যায়।
খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পে সত্যজিৎ রায় কুসংস্কারের ভয়াবহ পরিণতি ও এর বিরূপ
প্রভাব তুলে ধরেছেন। এটি একটি উপদেশমূলক গল্প, যেখানে কুসংস্কারে বিশ্বাস
কীভাবে একজন নিরপরাধ ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে, তা চমৎকারভাবে
ফুটে উঠেছে। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
ক. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় দিকটি ব্যাখ্যা করো। |
|
ক. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের মূল শিক্ষণীয় দিক হলো কুসংস্কারের ওপর নির্ভর
করে চোর শনাক্ত করা যেমন অন্যায়, তেমনি বিপজ্জনকও। সত্যজিৎ রায় এই গল্পের
মাধ্যমে কুসংস্কারের ভয়াবহ পরিণতি ও এর ক্ষতিকর দিকটি তুলে ধরেছেন।
খ. সত্যজিৎ রায়ের ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের পটভূমি শীতকাল, অর্থাৎ মাঘ মাসের
এক দুপুর। এ সময় মাঠঘাট ফাঁকা, জনমানবহীন এবং প্রকৃতি নির্জনতা ধারণ
করেছে। গল্পের প্রধান চরিত্র মৃগাঙ্কবাবুর গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে যাওয়ায়
তিনি থামতে বাধ্য হন পানাগড় নামক স্থানে। তবে এটি প্রধান বন্দর থেকে
প্রায় তিন মাইল দূরে, যেখানে কোনো জনবসতি নেই, শুধু ধু-ধু ফসল কাটার পরের
ফাঁকা মাঠ। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
ক. ‘একটা নকল মানুষ আছে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে’ কথাটি ব্যাখ্যা করো। |
|
ক. ‘একটা নকল মানুষ আছে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে’ কথাটি দ্বারা কাকতাড়ুয়াকে
বোঝানো হয়েছে।
খ. সত্যজিৎ রায় রচিত ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের কেন্দ্রিয় বা প্রধান চরিত্র
মৃগাঙ্কবাবু। যার মাধ্যমে লেখক কুসংস্কারের ভিত্তিহীনতা রূপায়ন করেছেন।
|
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
ক. “বাঙালিরা এ ব্যাপারে বড়ো স্বার্থপর হয়”—ব্যাখ্যা করো। |
|
ক. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পে মৃগাঙ্কবাবু যখন ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কলকাতার
দিকে ফিরছিলেন তখন পথে গাড়ির তেল ফুড়িয়ে যাওয়ায় ড্রাইভার চলে যায় তেল
আনতে। এদিকে গাড়ি যেখানে থামানো সেখানে চারিদিকে ধু-ধু মাঠ। তিনি ভীষণ
একাকীত্ব অনুভব করতে থাকলেন, কারণ আশে পাশে কোনো জনমানব নাই, নির্জন
জায়গা। এই ফাঁকা রাস্তায় হঠাৎ করে একটি দুটি করে গাড়ি আসে। এর মধ্যে দুটো
অ্যাম্বাসাডর ও একটি লড়ি তার পাশ দিয়েই চলে গেলো কলকাতার দিকে। কিন্তু
ফাঁকা রাস্তার মাঝে নির্জন জায়গায় কেনো গাড়িটি থামানো তা কেউই জানার
প্রয়োজন অনুভব করলো না। কারণ বাঙালি জাতি হিসেবে খুবই স্বার্থপর, কারও
বিপদে কেউ সহজে এগিয়ে আসে না।
খ. অভিরামের করুণ জীবন চালনা ও পরিণতির অন্যতম নিয়ামক ছিলো
কুসংস্কারাচ্ছন্নতা। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
ক. মৃগাঙ্কবাবু বইয়ে মন দিতে পারছিলেন না কেনো? ব্যাখ্যা করো। |
|
ক. ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মৃগাঙ্কবাবু যখন কলকাতার দিকে যাচ্ছিলেন তখন মাঝ রাস্তায় গাড়ির তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েন। ড্রাইভার তৎক্ষনাৎ বেরিয়ে পড়েন তেল আনার উদ্দেশ্যে। গাড়িতে থাকলেন মৃগাঙ্কবাবু। যেখানটাতে গাড়ি থেমে আছে সেখানে শুধু বিরান মাঠ, জনমানবহীন জায়গা। মৃগাঙ্কবাবু তখন ভীষণ একাকীত্ব অনুভব করছিলেন। এই একাকীত্বের মাঝে মৃগাঙ্কেবাবুর মনে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছিলো যে কখন ড্রাইভার সুধীর ফিরবে কারণ তাকে আটটার মাঝেই কলকাতা পৌঁছতে হবে। তাই তিনি ভাবলেন বই পড়ে সময়টা কাটিয়ে দিবেন ড্রাইভার সুধীর আসার পূর্বপর্যন্ত। কিন্তু এই অস্তিরতার মাঝে মৃগাঙ্কের বই পড়তে ও ভালো লাগছিলো না। তাই তিনি বইয়ে মন দিতে পারছেন না।
খ. ‘কাকতুড়ায়া’ গল্পে সত্যজিৎ রায় কুসংস্কারের নেতিবাচক প্রভাব তুলে
ধরেছেন। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
ক. ‘কাকতাড়ুয়া’ কী? বুঝিয়ে লেখো। খ. ‘কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।’- কথাটি ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৪: |
|---|
|
ক. অভিরামকে চোর প্রমাণ করতে পারার কারণ ব্যাখ্যা করো। খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পে ‘কুসংস্কারকে বিশ্বাস ভালো নয়’ এর বাইরেও যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে এসেছে সে বিষয়টি সম্পর্কে আলোকপাত করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৫: |
|---|
|
ক. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের নকল মানুষ আসলে কী তার বর্ণনা দাও। খ. মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায় চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৬: |
|---|
|
ক. ‘বাঙালিরা এ ব্যাপারে বড়ো স্বার্থপর হয়।’- ব্যাখ্যা করো। খ. মৃগাঙ্কবাবুর মানসিক অস্থিরতার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৭: |
|---|
|
ক. ‘তারা মানুষের গন্ধ পায়’- কাদের সম্পর্কে এবং কী প্রসঙ্গে এ কথা বলা
হয়েছে? বুঝিয়ে লেখো। খ. ‘মানুষ অবচেতন কখনো ন্যায়ের লঙ্ঘন করতে পারে না’- ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৮: |
|---|
|
ক. মৃগাঙ্কবাবুর দেখা স্বপ্নের বাস্তব ভিত্তি কী ছিল? আলোচনা করো। খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের মাধ্যমে লেখক কীভাবে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের কুফল তুলে ধরেছেন? |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ১৯: |
|---|
|
ক. মৃগাঙ্কবাবু কাকতাড়ুয়ার গায়ে থাকা লাল-কালো ছিটের শার্ট দেখে কী অনুভব
করলেন? এটি তার অতীত স্মৃতির সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে আছে? খ. ‘আলমারির নিচে হারানো ঘড়িটি খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে গল্পের মূল বার্তাটি শক্তিশালী হয়েছে’—মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২০: |
|---|
|
ক.মৃগাঙ্কবাবু কোথায় গিয়েছিলেন? গাড়ি মাঝপথে থেমে যাওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা
করো। খ. কাকতাড়ুয়া তৈরির উপাদান ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২১: |
|---|
|
ক. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় দিকটি ব্যাখ্যা করো। খ. গল্পে উল্লিখিত পরিবেশ, সময় ও আবহাওয়ার বর্ণনা দাও। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২২: |
|---|
|
ক. চোর শনাক্ত করার জন্য মৃগাঙ্কবাবুর বাবার কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো। খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের মূলভাব বর্ণনা করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৩: |
|---|
|
ক. “কিন্তু আজ পাঁজিতে যাত্রা নিষিদ্ধ বললে তিনি অবাক হবেন না।”- কথাটি
ব্যাখ্যা করো। খ.“বিশেষ পরিস্থিতিতে মানবমনে বিচিত্রসব অনুভূতির প্রকাশ ঘটতে পারে।”- ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৪: |
|---|
|
ক. “কিন্তু তাতে তাঁর মজ্জাগত দোষগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি।”- কথাটি বুঝিয়ে
লেখো। খ. “কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।”- ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের আলোকে কথাটির সত্যতা যাচাই করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৫: |
|---|
|
ক. মৃগাঙ্কবাবু কোথায় গিয়েছিলেন? গাড়ি মাঝপথে থেমে যাওয়ার কারণ কী?
ব্যাখ্যা করো। খ. কাকতাড়ুয়া তৈরির উপাদান ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৬: |
|---|
|
ক. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের শিক্ষণীয় দিকটি ব্যাখ্যা করো। খ. গল্পে উল্লিখিত পরিবেশ, সময় ও আবহাওয়ার বর্ণনা দাও। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৭: |
|---|
|
ক. চাকরি চলে যাওয়া অভিরামের জীবনে কীরূপ প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা করো। খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের চরিত্রগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৮: |
|---|
|
ক. “কিন্তু তাতে তাঁর মজ্জাগত দোষগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি।”- কথাটি বুঝিয়ে
লেখ । খ. “কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না।”- ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের আলোকে কথাটির সত্যতা যাচাই করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ২৯: |
|---|
|
ক. অভিরামকে চোর প্রমাণ করতে পারার কারণ ব্যাখ্যা করো। খ. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পে ‘কুসংস্কারে বিশ্বাস ভালো নয়’ এর বাইরেও যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উঠে এসেছে সে বিষয়টি সম্পর্কে আলোকপাত করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৩০: |
|---|
|
ক. ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের নকল মানুষ আসলে কী তার বর্ণনা দাও। খ. মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায় চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৩১: |
|---|
|
ক. ‘বাঙালিরা এ ব্যাপারে বড়ো স্বার্থপর হয়।’- ব্যাখ্যা করো। খ. মৃগাঙ্কবাবুর মানসিক অস্থিরতার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো। |
| ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের বর্ণনামূলক প্রশ্ন- ৩২: |
|---|
|
ক. ‘তারা মানুষের গন্ধ পায়’- কাদের সম্পর্কে এবং কী প্রসঙ্গে এ কথা বলা
হয়েছে? বুঝিয়ে লেখো। খ. ‘মানুষ অবচেতনে কখনো ন্যায়ের লঙ্ঘন করতে পারে না’- ‘কাকতাড়ুয়া’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো। |
| তথ্যসূত্র : |
|---|
|
১. আনন্দপাঠ: অষ্টশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা,
২০২৫। ২. ৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
