নারী- কাজী নজরুল ইসলাম
নারী
কাজী নজরুল ইসলাম
সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো
ভেদাভেদ
নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ
বেদনা
অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড়
অভিযান
মাতা ভগ্নি ও
বধূদের ত্যাগে হইয়াছে
মহীয়ান।
কোন
রণে কত
খুন দিল নর,
লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর, লেখা নাই তার পাশে।
কত মাতা দিল হৃদয় উপাড়ি
কত বোন দিল সেবা,
বীরের
স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোনো কালে একা হয় নি কো জয়ী পুরুষের তরবারি,
প্রেরণা দিয়াছে, শক্তি দিয়াছে
বিজয়-লক্ষ্মী নারী
নারী।
সে-যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না কো, নারীরা আছিল দাসী।
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি,
কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও, উঠিছে
ডঙ্কা
বাজি।
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পরযুগে
আপনারি
রচা
ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে।
যুগের
ধর্ম এই-
পীড়ন
করিলে সে-পীড়ন এসে
পীড়া
দেবে তোমাকেই।
[সংক্ষেপিত]
| ‘নারী’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| ‘নারী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। কাব্যটি ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে, কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। |
| ‘নারী’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ সাম্য- সমতা, সকলের জন্য সমান অধিকার। ➠ সাম্যবাদ- জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্কস সাম্যবাদের তত্ত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: পৃথিবীতে ধনীরা গরিবদের শোষণ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে। তারা নারী, পুরুষের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করে। সব মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে সবাইকে সুখে রাখার তত্ত্বই সাম্যবাদ। ➠ ভেদাভেদ- পার্থক্য। ➠ অশ্রুবারি- চোখের জল। ➠ ভগ্নি- বোন। ➠ মহীয়ান- সুমহান, এখানে মহিমান্বিত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ➠ রণ- যুদ্ধ, লড়াই। ➠ খুন- রক্ত। (ফারসি শব্দ) ➠ ➠ কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর- অসংখ্য নারী স্বামীকে হারিয়েছে। ➠ কত মাতা দিল হৃদয় উপাড়ি- হৃদয়ভরা মমতা দিয়ে উৎসাহিত করল নারী। ➠ স্মৃতিস্তম্ভ- স্মৃতি রক্ষার্থে তৈরি কাঠামো। ➠ বিজয়-লক্ষ্মী নারী- জয়ের নিয়ন্তা দেবী হিসেবে নারীকে কল্পনা করা হয়েছে। ➠ সে-যুগ হয়েছে বাসি- নতুন যুগ সমাগত। পুরোেনা ধ্যান-ধারণা ফেলে নতুনকে বরণ করতে হবে- এ যুগে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা থাকবে। ➠ ডঙ্কা- জয়ঢাক। ➠ বাজি- ধ্বনিত হওয়া ➠ রচা- রচনা করা হয়েছে এমন, সৃষ্টি করা হয়েছে এমন। ➠ পীড়ন- অত্যাচার, নির্যাতন, শারীরিক কষ্ট প্রদান। ➠ পীড়া- যন্ত্রণা, কষ্ট, বেদনা। |
| ‘নারী’ কবিতার পাঠের উদ্দেশ্য: |
|---|
| ‘নারী’ কবিতাটি পাঠ করে শিক্ষার্থীরা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। মানব সভ্যতায় নারীর অবদান যে পুরুষের চেয়ে কম নয় তা জেনে নারীর অধিকারের প্রতি সচেতন হবে। |
| ‘নারী’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি: |
|---|
| সাম্যবাদী কবি নর-নারী উভয়কেই মানুষ হিসেবে দেখেন। তিনি জগতে নর ও নারীর সাম্য বা সমান অধিকারে আস্থাবান। তাঁর মতে, পৃথিবীতে মানবসভ্যতা নির্মাণে নারী ও পুরুষের অবদান সমান। কিন্তু ইতিহাসে পুরুষের অবদান যতটা লেখা হয়েছে নারীর অবদান ততটা লেখা হয় নি। কিন্তু এখন দিন এসেছে সম অধিকারের। তাই নারীর ওপর নির্যাতন চলবে না, তাঁর অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করা চলবে না। নারী-পুরুষ সবাইকে সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রচনা করতে হবে সম্মিলিতভাবে। |
| ‘নারী’ কবিতার কবি-পরিচিতি: |
|---|
|
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৪শে মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই
জ্যৈষ্ঠ) বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ
করেন। তিনি বিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করতে পারেন নি। দশম শ্রেণির ছাত্র
থাকাকালে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্কুল ছেড়ে বাঙালি পল্টনে
যোগদান করেন। যুদ্ধ শেষ হলে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি পল্টন ভেঙে দেওয়া
হয়। নজরুল কলকাতায় ফিরে এসে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। এ সময় সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে চারদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে। অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল প্রতিবাদ করেন। এজন্য তাঁকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। তাঁর রচনাবলি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও গল্প- সাহিত্যের সকল শাখায় আমরা তাঁর প্রতিভার উজ্জ্বল পরিচয় পেয়ে থাকি। তিনি সাম্যবাদী চেতনাভিত্তিক কবিতা, শ্যামাসংগীত, ইসলামি গান ও গজল লিখে প্রশংসা পেয়েছেন। তিনি আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহারে কুশলতা দেখিয়েছেন। দুর্ভাগ্য যে, মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন এবং তার সাহিত্যসাধনায় ছেদ ঘটে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে কবিকে সপরিবার ঢাকায় আনা হয়। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং একুশে পদক পান। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে, কাব্যগ্রন্থ: ‘অগ্নি-বীণা’, ‘বিষের বাঁশী’, ‘সাম্যবাদী’, ‘সর্বহারা’, ‘সিন্ধু-হিন্দোল’, ‘চক্রবাক’; উপন্যাস: ‘মৃত্যুক্ষুধা’, ‘কুহেলিকা’; গল্পগ্রন্থ: ‘ব্যথার দান’, ‘রিক্তের বেদন’ ‘শিউলিমালা’; প্রবন্ধগ্রন্থ: ‘যুগবাণী’, ‘রুদ্র-মঙ্গল’; নাটক: ‘বিঝলিমিলি’, ‘আলেয়া’, ‘মধুমালা’ ইত্যাদি। কবি ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘নারী’ কবিতার কর্ম-অনুশীলন: |
|---|
|
ক. তোমার পরিচিতজনদের মধ্যে এমন কোনো নারীর জীবনালেখ্য রচনা করো, যার
কর্মজগৎ নিয়ে তুমি গর্ব করতে পার (একক কাজ)। খ নারী-পুরুষের মধ্যে ভেদাভেদের স্বরূপ চিহ্নিত করার জন্য তোমার সহপাঠীদের মধ্যে একটি গবেষণা চালাতে পার। এর জন্য শিক্ষকের সহযোগিতায় প্রথমেই প্রশ্নমালা তৈরি করতে হবে। যেমন- ১. সংসারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কে? উত্তর হতে পারে নারী, পুরুষ, অথবা উভয়ই। |
| ‘নারী’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘নারী’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: কবির দৃষ্টিতে কাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই? উত্তর : কবির দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। প্রশ্ন- ২: কীভাবে বিশ্বের কল্যাণকর বস্তু সৃষ্টি করেছে? উত্তর : নারী আর পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে বিশ্বের কল্যাণকর বস্তু সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন- ৩: পাপ-তাপ-বেদনা সৃষ্টিতে নারীর ভূমিকা কতটুকু? উত্তর : পাপ-তাপ-বেদনা সৃষ্টিতে নারীর ভূমিকা অর্ধেক। প্রশ্ন- ৪: জগতের বড় বড় অভিযান কাদের ত্যাগে মহীয়ান? উত্তর : জগতের বড় বড় অভিযান মাতা, ভগ্নি ও বধূদের ত্যাগে মহীয়ান। প্রশ্ন- ৫: নরের বীরত্বের কথা কোথায় লেখা আছে? উত্তর : নরের বীরত্বের কথা ইতিহাসে লেখা আছে। প্রশ্ন- ৬: নারীর সিঁথির সিঁদুর বিসর্জন কোথায় উল্লেখ নেই? উত্তর : নারীর সিঁথির সিঁদুর বিসর্জন ইতিহাসে উল্লেখ নেই। প্রশ্ন- ৭: বড় বড় অভিযানে কারা সেবা দান করেছে? উত্তর : বড় বড় অভিযানে বোনেরা সেবা দান করেছে। প্রশ্ন- ৮: বীরের স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে কার কথা লেখা নেই? উত্তর : বীরের স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে নারীর কথা লেখা নেই। প্রশ্ন- ৯: জয়ী পুরুষদের কারা প্রেরণা দিয়েছে? উত্তর : জয়ী পুরুষদের নারীরা প্রেরণা দিয়েছে। প্রশ্ন- ১০: যে যুগে পুরুষরা দাস ছিল না, সে যুগে নারীরা কী ছিল? উত্তর : যে যুগে পুরুষরা দাস ছিল না, সে যুগে নারীরা দাসী ছিল। প্রশ্ন- ১১: আজ কীসের যুগ? উত্তর : আজ সাম্যের যুগ। ১২. ‘নারী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত? উত্তর: ‘নারী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। ১৩. স্মৃতিস্তম্ভ কার জন্য রচিত হয়েছে? উত্তর: স্মৃতিস্তম্ভ বীরদের জন্য রচিত হয়েছে। ১৪. যে যুগে নারীরা দাসী ছিল, সে যুগ কী হয়েছে? উত্তর: যে যুগে নারীরা দাসী ছিল, সে যুগ বাসি হয়েছে। ১৫. কাজী নজরুল ইসলামকে কত সালে এ দেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়? উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালে এদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়। ১৬. ‘নারী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত? উত্তর: ‘নারী’ কবিতাটি সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। ১৭. ‘নারী’ কবিতাটি কোন কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে? উত্তর: ‘নারী’ কবিতাটি ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। ১৮. ‘নারী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত? উত্তর: ‘নারী’ কবিতাটি ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। ১৯. ‘কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর’ কথাটির অর্থ কী? উত্তর: কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর কথাটির অর্থ হলো- অসংখ্যা নারী স্বামীকে হারিয়েছে। ২০. নরের বীরত্বের কথা কোথায় লেখা আছে? উত্তর: নরের বীরত্বের কথা ইতিহাসে লেখা আছে। ২১. কবি কাদেরকে বিজয়-লক্ষ্মী বলেছেন? উত্তর: কবি নারীদেরকে বিজয়-লক্ষ্মী বলেছেন। |
| ‘নারী’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১: কবি নারী-পুরুষের মধ্যে প্রভেদ করতে চান না কেন?
প্রশ্ন- ২: ‘কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর।’- ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৩: ‘সে-যুগ হয়েছে বাসি’-এ কথার মধ্য দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্ন- ৪: “বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার
করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” ব্যাখ্যা করো।
৫. কবি বর্তমান সময়কে ‘বেদনার যুগ’ বলতে কী বুঝিয়েছেন?
৬. ‘বিজয়-লক্ষ্মী নারী’—চরণটি ব্যাখ্যা কর।
৭. “কেহ রহিবে না বন্দি কাহারও”—চরণটি ব্যাখ্যা কর।
৮. ‘সাম্যের গান’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
৯. ‘নর যদি রাখে নারী বন্দী, তবে এর পরযুগে
১০. ‘সে যুগ হয়েছে বাসি’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১১. ইতিহাসে পুরুষের অবদান যতটা লেখা হয়েছে, নারীর অবদান ততটা লেখা
হয়নি কেন?
১২. কবির চোখে নারী-পুরুষে ভেদাভেদ না থাকার কারণ দেখাও।
১৩. কবি বর্তমান সময়কে মানুষের যুগ বলেছেন কেন?
১৪. ‘কোনো কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারি’—ব্যাখ্যা কর।
১৫. কবি নারী-পুরুষের মধ্যে প্রভেদ করতে চান না কেন?
১৬. ‘কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর।’—ব্যাখ্যা কর।
১৭. ‘সে-যুগ হয়েছে বাসি’—এ কথার মধ্য দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
১৮. “বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে
নারী, অর্ধেক তার নর।”—ব্যাখ্যা কর। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘নারী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত? |
ক. ‘নারী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
সংকলিত।
গ. আনোয়ারার কার্যক্রমে ‘নারী’ কবিতায় বর্ণিত নারী-পুরুষের পাশাপাশি
অবস্থান ও অবদানের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে কাজী নজরুল ইসলামের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটলেও ‘নারী’ কবিতায়
নারীর অধিকার ও অবদানের কথা আরও গুরুত্বের সঙ্গে চিত্রিত হয়েছে। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘বিজয়-লক্ষ্মী নারী’ অর্থ কী? |
ক. কাজী নজরুল ইসলামকে ১৯৭২ সালে এদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়।
গ. জনৈক সমালোচকের মতটি ‘নারী’ কবিতায় বর্ণিত সমাজব্যবস্থার সঙ্গে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “বেগম রোকেয়ার বক্তব্য যেন কাজী নজরুল ইসলামের ‘নারী’ কবিতারই
প্রতিধ্বনি।” উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘নারী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত? |
ক. ‘নারী’ কবিতাটি ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
গ. উদ্দীপকের ‘নারী’ কবিতায় নারীদের অবমূল্যায়নের দিকটি প্রতিফলিত
হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব নারীদের অবমূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনায় আনলেও
‘নারী’ কবিতার বিষয়বস্তু বিশাল ও বিস্তৃত। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘নারী’ কবিতাটি কে লিখেছেন? |
ক. ‘নারী’ কবিতাটির লেখক কাজী নজরুল ইসলাম। ঘ. ১ নং অনুশীলনী প্রশ্নের ‘ঘ’ নং দ্রষ্টব্য (শুধুমাত্র আনোয়ারার স্থলে মনোয়ারা বসালেই হবে) বোর্ড বই প্রশ্নের ‘ঘ’-এ বাঙ্ময় ও যশোর বোর্ড প্রশ্নের ‘ব্যঞ্জনাময়’ শব্দটি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘নারী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে? |
ক. ‘নারী’ কবিতাটি ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
গ. সংসারে স্বামী-স্ত্রীর সমান অধিকার এই বিবেচনায় রমিজ তার স্ত্রীর
মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছে।
ঘ. ‘উদ্দীপকের মূল বক্তব্যে কাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি
ফুটে উঠেছে’- উক্তিটি সত্য। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘নারী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত? |
ক. ‘নারী’ কবিতাটি ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
গ. উদ্দীপকের ভাবে প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি বর্ণিত হয়েছে যা ‘নারী’
কবিতার ভাবার্থের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘নারী’ কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র” মন্তব্যটি
যথার্থ। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. ‘কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর’ কথাটির অর্থ হলো- অসংখ্যা নারী
স্বামীকে হারিয়েছে। |
ক. কত নারী দিল সিঁথির সিঁদুর কথাটির অর্থ হলো- অসংখ্যা নারী স্বামীকে
হারিয়েছে।
গ. ‘নারী’ কবিতায় কবি মানব সভ্যতার অগ্রগতি সাধনে নারী-পুরুষের সমান
অবদানের কথা উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের লেখক ও ‘নারী’ কবিতার কবি একই আদর্শের অনুসারী। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. নরের বীরত্বের কথা কোথায় লেখা আছে? |
ক. নরের বীরত্বের কথা ইতিহাসে লেখা আছে।
গ. উদ্দীপকে ‘নারী’ কবিতায় নারীদের প্রতি পুরুষের বৈষম্যমূলক আচরণের
কথা প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘নারী’ কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না” মন্তব্যটি
যথার্থ। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. কবি কাদেরকে বিজয়-লক্ষ্মী বলেছেন? |
ক. কবি নারীদেরকে বিজয়-লক্ষ্মী বলেছেন।
গ. গেরিলাদের খাদ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে সাবিনা ‘নারী’ কবিতায় উল্লিখিত
কল্যাণকর কাজে নারীর অবদানের বিষয়টির প্রতিনিধিত্ব করছে।
ঘ. উদ্দীপকের শেষের বাক্যটিতে ‘নারী’ কবিতায় প্রকাশিত বৈষম্যের দিকটি
প্রকাশ পায়। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. স্মৃতিস্তম্ভ কার জন্য রচিত হয়েছে? |
ক. স্মৃতিস্তম্ভ বীরদের জন্য রচিত হয়েছে।
গ. শায়লার প্রতি তার পরিবারের আচরণে ‘নারী’ কবিতায় নর কর্তৃক নারীর
অবহেলার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
ঘ. শায়লার কর্মকাণ্ড ও দৃষ্টিভঙ্গি যথার্থ ও প্রশংসার দাবিদার। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. যে যুগে নারীরা দাসী ছিল, সে যুগ কী হয়েছে? |
ক. যে যুগে নারীরা দাসী ছিল, সে যুগ বাসি হয়েছে।
গ. উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে বর্তমান যুগে নারী-স্বাধীনতার বিষয়টি ‘নারী’
কবিতায় উল্লিখিত বর্তমান যুগ যে সাম্যের যুগ কবির এ বক্তব্যের সাথে
সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকের প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের মধ্যে নারীদের পরাধীনতা ও
মূল্যায়নের বিষয়টি ফুটে উঠেছে এবং ‘নারী’ কবিতায়ও কবি নারীদের দাসী
অবস্থার কথা তুলে ধরে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেছেন। |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. বিশ্বের কল্যাণকর জিনিসের অর্ধেক পুরুষ করেছে, বাকি অর্ধেক কে
করেছে?
|
| ----------- |
| ‘নারী’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ক. বীরের স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে কোনটি লেখা নেই? |
| ----------- |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. সাহিত্য কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
