আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা
কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কবিতা।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।
আমি উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলছি।
উনোনের আগুনে আলোকিত
একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি।
আমি আমার মায়ের কথা বলছি,
তিনি বলতেন প্রবহমান নদী
যে সাঁতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে নদীতে ভাসতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি
গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলছি
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি।
ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়
যুদ্ধ আসে ভালোবেসে
মায়ের ছেলেরা চলে যায়,
আমি আমার ভাইয়ের কথা বলছি।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সন্তানের জন্য মরতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ভালোবেসে যুদ্ধে যেতে পারে না।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে সূর্যকে হৃৎপিণ্ডে ধরে রাখতে পারে না।
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল
কারণ তিনি ক্রীতদাস ছিলেন।
যে কর্ষণ করে
শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে।
যে মৎস্য লালন করে
প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে।
যে গাভীর পরিচর্যা করে
জননীর আশীর্বাদ তাকে দীর্ঘায়ু করবে।
যে লৌহখণ্ডকে প্রজ্বলিত করে
ইস্পাতের তরবারি তাকে সশস্ত্র করবে।
দীর্ঘদেহ পুত্রগণ
আমি তোমাদের বলছি।
আমি আমার মায়ের কথা বলছি
বোনের মৃত্যুর কথা বলছি
ভাইয়ের যুদ্ধের কথা বলছি
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলছি।
আমি কবি এবং কবিতার কথা বলছি।
সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা
সুপুরুষ ভালোবাসার সুকণ্ঠ সংগীত কবিতা
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দ কবিতা
রক্তজবার মতো প্রতিরোধের উচ্চারণ কবিতা।
আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারবো
আমরা কি তাঁর মতো স্বাধীনতার কথা বলতে পারবো।
সংক্ষেপিত
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার উৎস নির্দেশ: |
|---|
|
‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতাটি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘বৃষ্টি ও
সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা’ নামক কাব্যগ্রন্থ নেওয়া হয়েছে। এই
কাব্যগ্রন্থে ২টি কবিতা রয়েছে: একটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’,
অন্যটি ‘বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা’। কাব্যগ্রন্থটি
‘সন্ধানী প্রকাশনী’ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয়। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ কিংবদন্তি - জনশ্রুতি। লোকপরম্পরায় শ্রুত ও কথিত বিষয় যা একটি জাতির
ঐতিহ্যের পরিচয়বাহী। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার পাঠ-পরিচিতি: |
|---|
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছ’ কবিতার বিষয় ও আঙ্গিকগত অভিনবত্ব রয়েছে। আলোচ্য কবিতাটিতে উচ্চারিত হয়েছে ঐতিহ্যসচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা। প্রকৃতপক্ষে, রচনার প্রেক্ষাপটে আছে বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস; এই জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের অনিন্দ্য অনুষঙ্গসমূহ। তিনি এই কবিতায় পৌনঃপুনিকভাবে মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় সোচ্চার হন। কবির একান্ত প্রত্যাশিত মুক্তির প্রতীক হয়ে উপস্থাপিত হয় একটি বিশেষ শব্দবন্ধ ‘কবিতা’। কবি তাঁর পূর্বপুরুষের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে এগিয়ে নিয়ে চলেন। কবির বর্ণিত এই ইতিহাস মাটির কাছাকাছি মানুষের ইতিহাস; বাংলার ভূমিজীবী অনার্য ক্রীতদাসের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। ‘কবিতা’ ও সত্যের অভেদকল্পনার মধ্য দিয়ে কবি নিয়ে আসেন মায়ের কথা, বোনের কথা, ভাইয়ের কথা, পরিবারের কথা। কবি এ-ও জানেন মুক্তির পূর্বশর্ত যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে হয়। ভালোবাসার জন্য, তাদেরকে মুক্ত করবার জন্যই তাদের ছেড়ে যেতে হয়। এই অমোঘ সত্য কবি জেনেছেন আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস থেকে। কবিতাটির রসোপলব্ধির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো এর আঙ্গিক বিবেচনা। এক্ষেত্রে, প্রথমেই যে বিষয়টি পাঠককে নাড়া দেয় তা হলো, একই ধাঁচের বাক্যের বারংবার ব্যবহার। কবি একদিকে “আমি কিংবদন্তির কথা বলছি” পঙ্ক্তিটি বারংবার প্রয়োগ করেছেন, অপরদিকে “যে কবিতা শুনতে জানে না/ সে...” কাঠামোর পঙ্ক্তিমালার ধারাবাহিক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে কবিতা আর মুক্তির আবেগকে একত্রে শিল্পরূপ প্রদান করেছেন। এখানে ‘কিংবদন্তি’ শব্দবন্ধটি হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যের প্রতীক। কবি এই নান্দনিক কৌশলের সঙ্গে সমন্বিত করেছেন। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কবি পরিচিতি: |
|---|
|
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত
বহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ
করেন। তিনি ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (সম্মান)-সহ এমএ পাস করে কিছুদিন ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন এবং
সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে
বাংলাদেশ সরকারের কৃষি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী এবং ১৯৮৪-তে যুক্তরাষ্ট্রে
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা সাহিত্যে তাঁর
অবস্থান বিশেষভাবে স্বাতন্ত্র্য চিহ্নিত। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবে জন্মগ্রহণ করেন? |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
প্রশ্ন- ১. “তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল”-ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ২. ‘জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা’-ব্যাখ্যা করো।
প্রশ্ন- ৩. ‘সূর্যকে হৃৎপিণ্ড ধরে রাখা’-বলতে কবিতায় কী বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্ন- ৪. ‘যুদ্ধ আসে ভালোবেসে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্ন- ৫. কবির পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল কেন?
প্রশ্ন- ৬. ‘ভালোবাসা দিলে মা মরে যায়’—বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ৭. কে মায়ের কোলে শুয়ে গল্প শুনতে পারে না? কেন?
প্রশ্ন- ৮. ‘আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি’—এখানে ‘বিচলিত স্নেহ’ বলতে কী
বোঝায়?
প্রশ্ন- ৯. জননীর আশীর্বাদ কাকে, কেন দীর্ঘায়ু করবে?
প্রশ্ন- ১০. যে কবিতা শুনতে জানে না, সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে পারে না
কেন?
প্রশ্ন- ১১. ‘আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি’—কবি এটি কেন বলেছেন?
প্রশ্ন- ১২. “আমরা কি তাঁর মতো কবিতার কথা বলতে পারব”—চরণটি বুঝিয়ে দাও।
প্রশ্ন- ১৩. “তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল”—ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন- ১৪. কবির পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল কেন?
প্রশ্ন- ১৫. ‘তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল’—বুঝিয়ে লেখো।
প্রশ্ন- ১৬. ‘অতিক্রান্ত পাহাড়’ দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ১৭. আমাদের পূর্বপুরুষেরা কীভাবে পতিত জমি আবাদ করতেন?
প্রশ্ন- ১৮. যে কবিতা শুনতে জানে না, সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে
কেন?
প্রশ্ন- ১৯. কবিতা মানুষকে ক্রীতদাসত্ব থেকে মুক্তি দেয় কীভাবে?
প্রশ্ন- ২০. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবি কেন উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলেছেন?
প্রশ্ন- ২১. ‘উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি’—ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ২২. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কী বোঝাতে
চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ২৩. ‘আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি’—এখানে ‘বিচলিত স্নেহ’ বলতে কী
বোঝায়?
প্রশ্ন- ২৪. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, কবিতায় বারবার কবিতা শোনার কথা বলা
হয়েছে কেন?
প্রশ্ন- ২৫. যারা কবিতা শোনে না তাদের অবস্থা কেমন?
প্রশ্ন- ২৬. ‘যে মৎস্য পালন করে প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে’ —পঙ্ক্তিটি
দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ২৭. গাভীর পরিচর্যাকারীকে জননীর আশীর্বাদ কেন দীর্ঘায়ু করবে?
প্রশ্ন- ২৮. ‘সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা’ —বুঝিয়ে লেখো।
প্রশ্ন- ২৯. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আলোকে বাঙালির বেদনাসমূহ
উল্লেখ করো?
প্রশ্ন- ৩০. ‘তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল’—বুঝিয়ে লেখো।
প্রশ্ন- ৩১. ‘অতিক্রান্ত পাহাড়' দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ৩২. আমাদের পূর্বপুরুষেরা কীভাবে পতিত জমি আবাদ করতেন?
প্রশ্ন- ৩৩. যে কবিতা শুনতে জানে না, সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে
কেন?
প্রশ্ন- ৩৪. কবিতা মানুষকে ক্রীতদাসত্ব থেকে মুক্তি দেয় কীভাবে?
প্রশ্ন- ৩৫. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবি কেন উচ্চারিত সত্যের মতো
স্বপ্নের কথা বলেছেন?
প্রশ্ন- ৩৬. ‘উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথা বলছি’—ব্যাখ্যা
করো।
প্রশ্ন- ৩৭. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কী বোঝাতে
চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ৩৮. ‘আমি বিচলিত স্নেহের কথা বলছি’—এখানে ‘বিচলিত স্নেহ’ বলতে কী
বোঝায়?
প্রশ্ন- ৩৯. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, কবিতায় বারবার কবিতা শোনার কথা বলা
হয়েছে কেন?
প্রশ্ন- ৪০. যারা কবিতা শোনে না তাদের অবস্থা কেমন?
প্রশ্ন- ৪১. ‘যে মৎস্য পালন করে প্রবহমান নদী তাকে পুরস্কৃত করবে’—পঙ্ক্তিটি
দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
প্রশ্ন- ৪২. গাভীর পরিচর্যাকারীকে জননীর আশীর্বাদ কেন দীর্ঘায়ু করবে?
প্রশ্ন- ৪৩. ‘সশস্ত্র সুন্দরের অনিবার্য অভ্যুত্থান কবিতা’—বুঝিয়ে লেখো।
প্রশ্ন- ৪৪. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আলোকে বাঙালির বেদনাসমূহ
উল্লেখ করো |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. প্রবহমান নদী কাকে ভাসিয়ে রাখে? |
|
ক. প্রবহমান নদী যে সাঁতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে।
গ. ‘উনোনের আগুনে আলোকিত একটি উজ্জ্বল জানালার কথার’ সাথে উদ্দীপকের
ঐক্য হলো মুক্ত জীবনের প্রত্যাশার চেতনা।
ঘ. উক্ত ঐক্যের প্রেক্ষাপটে কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ‘আমি
কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন- মন্তব্যটি
সত্য। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. যে কবিতা শুনতে জানে না সে কোথায় ভাসতে পারে না? |
|
ক. যে কবিতা শুনতে জানে না, সে নদীতে ভাসতে পারে না।
গ. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কবি তাঁর মায়ের মুখে গল্প শোনার
যে কথা বলেছেন, তার সাথে উদ্দীপকের মিজানের স্মৃতিকাতরতার সাদৃশ্য
রয়েছে।
ঘ. “মায়ের কোলে শুয়ে গল্প, কবিতা ও ছড়া শোনার স্মৃতি তাকে খুব আলোড়িত
করে”- উক্তিটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আলোকে তাৎপর্য বহন
করে। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কবি কার মৃত্যুর কথা বলেছেন? |
|
ক. কবি তাঁর গর্ভবতী বোনের মৃত্যুর কথা বলেছেন।
গ. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় স্বজন হারানোর যে বিষয়টি রয়েছে,
সেটাই উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. ‘যুদ্ধ মানে স্বজন হারানোর কান্না’ উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘আমি
কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করা যুক্তিযুক্ত। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. শস্যের সম্ভার কাকে সমৃদ্ধ করবে? |
|
ক. যে কর্ষণ করে, শস্যের সম্ভার তাকে সমৃদ্ধ করবে।
গ. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় চাষি ও মৎস্য পালনকারীর
প্রতিফলনের কথা বলা হয়েছে, যা উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. ‘পরিশ্রমে যে ফসল ফলে, তা অনাবিল আনন্দের’-উক্তিটি উদ্দীপক ও ‘আমি
কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করা যুক্তিযুক্ত। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. প্রবহমান নদী কাকে ভাসিয়ে রাখে? |
|
ক. যে সাঁতার জানে না, প্রবহমান নদী তাকে ভাসিয়ে রাখে।
গ. উদ্দীপকের সাজেদ ও ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার কবি দুজনেই
কবিতা না শুনলে সাঁতার কাটার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে মতামত
দিয়েছেন, যা পরস্পর সাদৃশ্য।
ঘ. ‘যে কবিতা পড়ে না, সে সাঁতার কাটার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়’-এ
উক্তিটি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার আলোকে বিশেষণ করার দাবি
রাখে। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘অতিক্রান্ত’ শব্দের অর্থ কী? |
|
ক. অতিক্রান্ত শব্দের অর্থ অতিক্রম করা হয়েছে এমন।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার বাঙালি
পূর্বপুরুষদের কর্মোদ্দীপনার দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকের মতিন ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতাটির কবির চিন্তাকে
আংশিক প্রতিফলিত করে- মন্তব্যটি যথাযথ। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. পূর্বপুরুষের পিঠে কীসের মতো ক্ষত ছিল? |
|
ক. পূর্বপুরুষের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সোনার
ফসল ফলানোর এবং বাঙালি জাতি নিপীড়িত হওয়ার দিকটিকে নির্দেশ করছে।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সমগ্র
ভাববে ধারণ করে না-মন্তব্যটি যথাযথ। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘কিংবদন্তির’ শব্দের অর্থ কী? |
|
ক. ‘কিংবদন্তির’ শব্দের অর্থ জনশ্রুতি।
গ. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার বাঙালির স্বাধীনচেতা মনোভাবের
দিকটি উদ্দীপকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত জহিরের পূর্বপুরুষের চিত্র মূলত ‘আমি কিংবদন্তির
কথা বলছি’ কবিতারই সারাংশ।-মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. পূর্বপুরুষদের পিঠে কীসের মতো ক্ষত ছিল? |
|
ক. পূর্বপুরুষদের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।
গ. প্রথমে উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার মধ্যে কোন বিষয়ে সাদৃশ্য রয়েছে তা
নির্ণয় করো।
ঘ. ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার মূলভাব চিহ্নিত করো। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কে মাছের সঙ্গে খেলা করতে জানে না? |
|
ক. যে কবিতা শুনতে জানে না সে মাছের সঙ্গে খেলা করতে জানে না।
গ. উদ্দীপকটি ভালোভাবে পাঠ করে বাঙালির যে বৈশিষ্ট্য এখানে ফুটে
উঠেছে তা চিহ্নিত করো। এখন দেখ, এ বৈশিষ্ট্যটি আলোচ্য কবিতায় কীভাবে
আছে।
ঘ. উদ্দীপকে কোন বিষয়টি আলোচিত হয়েছে তা নির্ণয় করো এবং ব্যাখ্যা
করো। |
| ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে? |
|
ক. যে কবিতা শুনতে জানে না সে ঝড়ের আর্তনাদ শুনবে।
গ. উদ্দীপকটি ভালোভাবে পাঠ করে তাতে কোন বিষয়টি প্রাধান্য লাভ করেছে
তা নির্দেশ করো।
ঘ. প্রথমে আলোচ্য কবিতার মূল বিষয়টি চিহ্নিত করো। |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. সাহিত্য পাঠ: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬। ২. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচনাসংগ্রহ (প্রথম খণ্ড), বাংলা একডেমি, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০১৪। ৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
