ফুলের বিবাহ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
|
| ফুলের বিবাহ |
ফুলের বিবাহ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বৈশাখ মাস বিবাহের মাস। আমি ১লা বৈশাখে নসী বাবুর ফুলবাগানে বসিয়া একটি বিবাহ দেখিলাম। ভবিষ্যৎ বরকন্যাদিগের শিক্ষার্থ লিখিয়া রাখিতেছি।
মল্লিকা ফুলের বিবাহ। বৈকাল-শৈশব অবসানপ্রায়, কলিকা-কন্যা বিবাহযোগ্যা হইয়া আসিল। কন্যার পিতা বড়োলোক নহে, ক্ষুদ্র বৃক্ষ, তাহাতে আবার অনেকগুলি কন্যাভারগ্রস্ত। সম্বন্ধের অনেক কথা হইতেছিল, কিন্তু কোনটা স্থির হয় নাই। উদ্যানের রাজা স্থলপদ্ম নির্দোষ পাত্র বটে, কিন্তু ঘর বড়ো উঁচু, স্থলপদ্ম অত দূর নামিল না। জবা এ বিবাহে অসম্মত ছিল না, কিন্তু জবা বড়ো রাগী, কন্যাকর্তা পিছাইলেন। গন্ধরাজ পাত্র ভালো, কিন্তু বড়ো দেমাগ, প্রায় তাঁহার বর পাওয়া যায় না। এইরূপ অব্যবস্থার সময়ে ভ্রমররাজ ঘটক হইয়া মল্লিকা-বৃক্ষসদনে উপস্থিত হইলেন। তিনি আসিয়া বলিলেন, ‘গুণ! গুণ! গুপ্ মেয়ে আছে?’
মল্লিকাবৃক্ষ পাতা নাড়িয়া সায় দিলেন, ‘আছে!’ ভ্রমর পত্রাসন গ্রহণ করিয়া বলিলেন, ‘গুণ গুণ গুণ! গুণ গুণাগুণ! মেয়ে দেখিব।’
বৃক্ষ, শাখা নত করিয়া মুদিতনয়না অবগুণ্ঠনবতী কন্যা দেখাইলেন।
ভ্রমর একবার বৃক্ষকে প্রদক্ষিণ করিয়া আসিয়া বলিলেন, ‘গুণ! গুণ! গুণ! গুণ দেখিতে চাই। ঘোমটা খোল।’
লজ্জাশীলা কন্যা কিছুতেই ঘোমটা খুলে না। বৃক্ষ বলিলেন, ‘আমার মেয়েগুলি বড়ো লাজুক। তুমি একটু অপেক্ষা কর, আমি মুখ দেখাইতেছি।’
ভ্রমর ভোঁ করিয়া স্থলপদ্মের বৈঠকখানায় গিয়া রাজপুত্রের সঙ্গে ইয়ারকি করিতে বসিলেন। এদিকে মল্লিকার সন্ধ্যাঠাকুরাণী-দিদি আসিয়া তাহাকে কত বুঝাইতে লাগিল- বলিল, ‘দিদি, একবার ঘোমটা খোল- নইলে, বর আসিবে না- লক্ষ্মী আমার, চাঁদ আমার, সোনা আমার, ইত্যাদি।’ কলিকা কতবার ঘাড় নাড়িল, কতবার রাগ করিয়া মুখ ঘুরাইল, কতবার বলিল, ‘ঠান্ন্দিদি, তুই যা।’ কিন্তু শেষে সন্ধ্যার স্নিগ্ধ স্বভাবে মুগ্ধ হইয়া মুখ খুলিল। তখন ঘটক মহাশয় ভোঁ করিয়া রাজবাড়ি হইতে নামিয়া আসিয়া ঘটকালিতে মন দিলেন। কন্যার পরিমলে মুগ্ধ হইয়া বলিলেন, ‘গুণ গুণ গুণ গুণ গুণাগুণ! কন্যা গুণবতী বটে। ঘরে মধু কত?’
কন্যাকর্তা বৃক্ষ বলিলেন, ‘ফর্দ দিবেন, কড়ায় গণ্ডায় বুঝাইয়া দিবে।’ ভ্রমর বলিলেন, ‘গুণ গুণ, আপনার অনেক গুণ ঘটকালিটা?’
কন্যাকর্তা শাখা নাড়িয়া সায় দিল, ‘তাও হবে।’
ভ্রমর- ‘বলি ঘটকালির কিছু আগাম দিলে হয় না? নগদ দান বড়ো গুণ-গুণ গুণ গুণ।’
ক্ষুদ্র বৃক্ষটি তখন বিরক্ত হইয়া, সকল শাখা নাড়িয়া বলিল, 'আগে বরের কথা বল- বর কে?'
ভ্রমর- ‘বর অতি সুপাত্র। তাঁর অনেক গুণ-৭-৭।’
এ সকল কথোপকথন মনুষ্যে শুনিতে পায় না, আমি কেবল দিব্য কর্ণ পাইয়াই এ সকল শুনিতেছিলাম। আমি শুনিতে লাগিলাম, কুলাচার্য মহাশয়, পাখা ঝাড়িয়া, ছয় পা ছড়াইয়া গোলাবের মহিমা কীর্তন করিতেছিলেন। বলিতেছিলেন যে, গোলাপ বংশ বড়ো কুলীন; কেন না, ইহারা 'ফুলে' মেল। যদি বল, সকল ফুলই ফুলে, তথাপি গোলাপের গৌরব অধিক; কেন না, ইহারা সাক্ষাৎ বাঞ্ছামালির সন্তান; তাহার স্বহস্তরোপিত। যদি বল, এ ফুলে কাঁটা আছে, কোন্ কুলে বা কোন্ ফুলে নাই?
যাহা হউক, ঘটকরাজ কোনরূপে সম্বন্ধ স্থির করিয়া, বোঁ করিয়া উড়িয়া গিয়া, গোলাব বাবুর বাড়িতে খবর দিলেন। গোলাব, তখন বাতাসের সঙ্গে নাচিয়া নাচিয়া, হাসিয়া হাসিয়া, লাফাইয়া লাফাইয়া খেলা করিতেছিল, বিবাহের নাম শুনিয়া আহাদিত হইয়া কন্যার বয়স জিজ্ঞাসা করিল। ভ্রমর বলিল, 'আজি কালি ফুটিবে।'
গোধূলিলগ্ন উপস্থিত, গোলাব বিবাহে যাত্রার উদ্যোগ করিতে লাগিলেন। উচ্চিঙ্গড়া নহবৎ বাজাইতে আরম্ভ করিল: মৌমাছি সানাইয়ের বায়না লইয়াছিল, কিন্তু রাতকানা বলিয়া সঙ্গে যাইতে পারিল না। খদ্যোতেরা ঝাড় ধরিল; আকাশে তারাবাজি হইতে লাগিল। কোকিল আগে আগে ফুকরাইতে লাগিল। অনেক বরযাত্রী চলিল; স্বয়ং রাজকুমার স্থলপদ্ম দিবাবসানে অসুস্থকর বলিয়া আসিতে পারিলেন না, কিন্তু জবাগোষ্ঠী শ্বেত জবা, রক্ত জবা, জরদ জবা প্রভৃতি সবংশে আসিয়াছিল। করবীদের দল, সেকেলে রাজাদিগের মতো বড়ো উচ্চ ডালে চড়িয়া আসিয়া উপস্থিত হইল। সেঁউতি নীতবর হইবে বলিয়া, সাজিয়া আসিয়া দুলিতে লাগিল। গরদের জোড় পরিয়া চাঁপা আসিয়া দাঁড়াইল উগ্র গন্ধ ছুটিতে লাগিল। গন্ধরাজেরা বড়ো বাহার দিয়া, দলে দলে আসিয়া, গন্ধ বিলাইয়া দেশ মাতাইতে লাগিল। অশোক নেশায় লাল হইয়া আসিয়া উপস্থিত; সঙ্গে একপাল পিঁপড়া মোসায়েব হইয়া আসিয়াছে; তাহাদের গুণের সঙ্গে সম্বন্ধ নাই, কিন্তু দাঁতের জ্বালা বড়ো-কোন বিবাহে না এরূপ বরযাত্রী জোটে, আর কোন বিবাহে না তাহারা হুল ফুটাইয়া বিবাদ বাধায়? কুরুবক কুটজ প্রভৃতি আরও অনেক বরযাত্রী আসিয়াছিলেন, ঘটক মহাশয়ের কাছে তাঁহাদের পরিচয় শুনিবেন। সর্বত্রই তিনি যাতায়াত করেন এবং কিছু কিছু মধু পাইয়া থাকেন।
আমারও নিমন্ত্রণ ছিল, আমিও গেলাম। দেখি, বরপক্ষের বড়ো বিপদ। বাতাস বাহকের বায়না লইয়াছিলেন; তখন হুঁ-হুম করিয়া অনেক মর্দানি করিয়াছিলেন, কিন্তু কাজের সময় কোথায় লুকাইলেন, কেহ খুঁজিয়া পায় না। দেখিলাম, বর বরযাত্রী, সকলে অবাক হইয়া স্থিরভাবে দাঁড়াইয়া আছেন। মল্লিকাদিগের কুল যায় দেখিয়া, আমিই বাহকের কার্য স্বীকার করিলাম। বর, বরযাত্রী সকলকে তুলিয়া লইয়া মল্লিকাপুরে গেলাম।
সেখানে দেখিলাম, কন্যাকুল, সকল ভগিনী, আহাদে ঘোমটা খুলিয়া মুখ ফুটাইয়া, পরিমল ছুটাইয়া, সুখের হাসি হাসিতেছে। দেখিলাম, পাতায় পাতায় জড়াজড়ি, গন্ধের ভাণ্ডারে ছড়াছড়ি পড়িয়া গিয়াছে -রূপের ভারে সকলে ভাঙিয়া পড়িতেছে। যুথি, মালতী, বকুল, রজনীগন্ধা প্রভৃতি এয়োগণ স্ত্রী-আচার করিয়া বরণ করিল। দেখিলাম, পুরোহিত উপস্থিত; নসী বাবুর নবমবর্ষীয়া কন্যা (জীবন্ত কুসুমরূপিণী) কুসুমলতা সূচ সুতা লইয়া দাঁড়াইয়া আছে; কন্যাকর্তা কন্যা সম্প্রদান করিলেন; পুরোহিত মহাশয় দুইজনকে এক সুতায় গাঁথিয়া গাঁটছড়া বাঁধিয়া দিলেন।
তখন বরকে বাসর-ঘরে লইয়া গেল। কত যে রসময়ী মধুময়ী সুন্দরী সেখানে বরকে ঘিরিয়া বসিল, তাহা কি বলিব। প্রাচীনা ঠাকুরাণীদিদি টগর সাদা প্রাণে বাঁধা রসিকতা করিতে করিতে শুকাইয়া উঠিলেন। রঙ্গণের রাঙ্গামুখে হাসি ধরে না। যুঁই, কন্যের সই, কন্যের কাছে গিয়া শুইল: রজনীগন্ধাকে বর তাড়কা রাক্ষসী বলিয়া কতো তামাসা করিল; বকুল একে বালিকা, তাতে যত গুণ, তত রূপ নহে; এককোণে গিয়া চুপ করিয়া বসিয়া রহিল; আর ঝুষ্কা ফুল বড়ো মানুষের গৃহিণীর মতো মোটা নীল শাড়ি ছড়াইয়া জমকাইয়া বসিল। তখন-
‘কমলকাকা-ওঠ বাড়ি যাই- রাত হয়েছে, ও কি, চুলে পড়বে যে?’ কুসুমলতা এই কথা বলিয়া আমার গা ঠেলিতেছিল; চমক হইলে, দেখিলাম কিছুই নাই। সেই পুষ্পবাসর কোথায় মিশিল? মনে করিলাম, সংসার অনিত্যই বটে- এই আছে এই নাই। সে রম্য বাসর কোথায় গেল, সেই হাস্যমুখী শুভ্রস্মিতসুধাময়ী পুষ্পসুন্দরীসকল কোথায় গেল? যেখানে সব যাইবে, সেইখানে- স্মৃতির দর্পণতলে, ভূতসাগরগর্ভে। যেখানে রাজা প্রজা, পর্বত সমুদ্র, গ্রহ নক্ষত্রাদি গিয়াছে বা যাইবে, সেইখানে ধ্বংসপুরে। এই বিবাহের ন্যায় সব শূন্যে মিশাইবে, সব বাতাসে গলিয়া যাইবে।
কুসুম বলিল, ‘ওঠ না-কি কচ্চো?’
আমি বলিলাম, ‘দূর পাগলি, আমি বিয়ে দিচ্ছিলাম।’
কুসুম ঘেঁষে এসে, হেসে হেসে কাছে দাঁড়াইয়া আদর করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, ‘কার বিয়ে, কাকা?’
আমি বলিলাম, ‘ফুলের বিয়ে।’
‘ওঃ পোড়া কপাল, ফুলের? আমি বলি কি! আমিও যে এই ফুলের বিয়ে দিয়েছি।’
‘কই?'
‘এই যে মালা গেঁথেছি।’ দেখিলাম, সেই মালায় আমার বর কন্যা রহিয়াছে।
| উৎস নির্দেশ : |
|---|
|
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লঘুরচনা কমলাকান্তের দপ্তর গ্রন্থের নবম সংখ্যক লেখা 'ফুলের বিবাহ'। |
| শব্দার্থ ও টীকা : |
|---|
|
➠ কন্যাভারগ্রস্ত- বিবাহযোগ্যা কন্যা বিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বহনকারী
অর্থে। |
| কর্ম-অনুশীলন : |
|---|
|
১. পাঠটিতে যেসব ফুলের কথা বলা হয়েছে সেগুলোর নাম ও গন্ধের পরিচয় দিয়ে
একটি ছক তৈরি করো। |
| পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব : |
|---|
|
‘ফুলের বিবাহ’ রচনায় হাস্যরসের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলের নাম, সে ফুলগুলোর গন্ধের তারতম্য, বর্ণের রকমফের অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন বঙ্কিমচন্দ্র। কখন কোন ফুল ফোটে সে পর্যবেক্ষণও এই রচনায় পাওয়া যায়। বিয়ে-অনুষ্ঠান বাড়ির শিশু-কিশোর ও প্রতিবেশীদের মধ্যে অতীব আনন্দ নিয়ে আসে। এই অনুষ্ঠানে বর-কনে কেন্দ্রে থাকলেও বর-কনের মাতা-পিতা, কনের পড়শি নারীরা নানাভাবে সম্পৃক্ত থাকেন, ঘটকও থাকেন বিশেষভাবে যুক্ত। বিয়ে অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এমন নানা ব্যক্তির পরিবর্তে বিভিন্ন ফুলের উল্লেখ করে অসাধারণ দক্ষতায় বঙ্কিমচন্দ্র বাঙালির গার্হস্থ্য একটি অনুষ্ঠানকে আরও আনন্দদায়ক করে এখানে উপস্থাপন করেছেন। এখানে লেখক প্রকৃতিকে বাস্তব জীবনে উপস্থাপনে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। ‘ফুলের বিবাহ’ গদ্যটি কৌতূহলী ও পর্যবেক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সহায়ক। |
| লেখক-পরিচিতি: |
|---|
|
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ২৬শে জুন ১৮৩৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ
পরগনা জেলার অন্তর্গত কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৫৮
সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং সে
বছরই ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে নিযুক্ত হন। তাঁর
অসামান্য কৃতিত্ব প্রকাশ পেয়েছে পাশ্চাত্য ভাবাদর্শে বাংলা উপন্যাস
রচনার পথিকৃৎ হিসেবে। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বাংলা উপন্যাস
দুর্গেশনন্দিনী বাংলা কথাসাহিত্যে এক নবদিগন্ত উন্মোচন করে।
তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো:
কপালকুণ্ডলা, মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ, ইন্দিরা, যুগলাঙ্গুরীয়, রাধারানী,
চন্দ্রশেখর, রজনী, কৃষ্ণকান্তের উইল, রাজসিংহ, আনন্দমঠ, দেবী
চৌধুরানী ও সীতারাম।
প্রবন্ধ-সাহিত্যেও বঙ্কিমচন্দ্র কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
কমলাকান্তের দপ্তর, লোকরহস্য, কৃষ্ণচরিত্র ইত্যাদি তাঁর
উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ। |
| বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| জ্ঞানমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
১. কোন মাস বিবাহের মাস? |
| অনুধাবনমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
১. ক্ষুদ্র বৃক্ষটি কেন বিরক্ত হয়েছিল?
২. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘ফুলের বিবাহ’ কেন রচনা করেছেন? উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ভবিষ্যৎ বর-কন্যাদের জন্য ‘ফুলের বিবাহ’
রচনা করেছেন।
৩. ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে কন্যার পিতার অবস্থা সম্পর্কে লেখো।
৪. মল্লিকা ফুলের বিয়ের জন্য বর পাওয়া যাচ্ছিল না কেন?
৫. ‘ফর্দ দিবেন, কড়ায় গন্ডায় বুঝাইয়া দিবে’—ব্যাখ্যা করো।
৬. ‘বর অতি সুপাত্র।’—বরকে অতি সুপাত্র বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
৭. ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে মৌমাছি বরযাত্রীর সঙ্গে যেতে পারেনি কেন?
৮. রাজকুমার স্থলপদ্ম কেন বিবাহে আসতে পারেনি?
৯. ‘কোন বিবাহে না এরূপ বরযাত্রী জোটে, আর কোন বিবাহে না তাহারা হুল
ফুটাইয়া বিবাদ বাধায়?’ বুঝিয়ে লেখো।
১০. ‘দেখিলাম, সেই মালায় আমার বর কন্যা রহিয়াছে’—ব্যাখ্যা করো।
১১. গোলাপের বিবাহযাত্রার বিবরণ দাও।
১২. ‘বরপক্ষের বড়ো বিপদ’—বিপদটি কী এবং কেন?
১৩. ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে বিবাহবাড়ির ভিতরের অবস্থা বর্ণনা করো।
১৪. ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে বর্ণিত বাসরঘরের বিবরণ দাও।
১৫. চমক হইলে, দেখিলাম কিছুই নাই—ব্যাখ্যা করো।
১৬. ‘সংসার অনিত্যই বটে—এই আছে এই নাই।’ ব্যাখ্যা করো।
১৭. ‘এই বিবাহের ন্যায় সব শূন্যে মিশাইবে, সব বাতাসে গলিয়া
যাইবে’—ব্যাখ্যা করো।
১৮. মল্লিকা ঘোমটা খুলছিল না কেন?
১৯. ‘বলি ঘটকালির কিছু আগাম দিলে হয় না?’ ‘নগদ দান বড়ো গুণ- গুণ গুণ
গুণ।’—বুঝিয়ে লেখো।
২০. ‘এ সকল কথোপকথন মনুষ্য শুনিতে পায় না, আমি কেবল দিব্যকর্ণ পাইয়াই এ
সকল শুনিতেছিলাম।’—ব্যাখ্যা করো। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে কে ঘটকের দায়িত্ব পালন করে? |
|
ক. ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে ভ্রমর ঘটকের দায়িত্ব পালন করে। সে মল্লিকা
ফুলের জন্য বর খুঁজে আনে এবং গোলাব ফুলের সঙ্গে মল্লিকার বিবাহের
ব্যবস্থা করে।
গ. উদ্দীপকের মৌরি ফুল-ফলের গাছ দেখে অভিভূত হয়ে গভীর আনন্দ অনুভব
করে।
ঘ. মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই প্রকৃতপক্ষে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের
মূল চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে লেখক কোন মাসে একটি বিয়ে দেখেছিলেন? |
|
ক. ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পে লেখক বৈশাখ মাসে একটি বিয়ে দেখেছিলেন।
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের পিতার কন্যাকে পাত্রস্থ করার
প্রচেষ্টার দিকটির সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে বাঙালি বিয়েতে কন্যার পিতার ত্যাগ, প্রচেষ্টা এবং বাঙালি
বিয়ের একটি অংশ পণপ্রথার দিকটি ধারণ করেছে, ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের
সামগ্রিক ভাবকে নয়। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. গোলাপের গৌরব অধিক কেন? |
|
ক. গোলাপের গৌরব অধিক কারণ, গোলাপ বাঞ্ছামালির সন্তান,
স্বহস্তরোপিত।
গ. উদ্দীপকে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের পণপ্রথা এবং মধ্যযুগীয় বাঙালি সমাজে
প্রচলিত গৌরীদান প্রথার প্রভাবজাত মানসিকতা ফুটে উঠেছে।
ঘ. হ্যাঁ, পণপ্রথার শিকার এবং সমাজ নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে পাত্রস্থ
হওয়ার বিষয়টির দিক থেকে উদ্দীপকের কন্যা ও স্কুলের বিবাহ গল্পের
মল্লিকা ফুলকে একসূত্রে গাঁথা যায়। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ক্ষুদ্র বৃক্ষ ফুল ও ভ্রমরের কথোপকথন লেখক কীভাবে শুনেছিলেন? |
|
ক. ক্ষুদ্র বৃক্ষ ফুল ও ভ্রমরের কথোপকথন লেখক দিব্যকর্ণ পেয়ে
শুনেছিলেন।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের প্রকৃতিচেতনার দিকটির সাদৃশ্য
রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকে প্রতিফলিত ভাবটিই ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল চেতনা—
মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? |
|
ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার
কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
গ. উদ্দীপকটির সঙ্গে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের প্রাসঙ্গিক দিক হলো— লেখকের
মৃত্যুচেতনা বা দার্শনিক চেতনায়।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হলেও ‘ফুলের
বিবাহ’ গল্পের সামগ্রিক ভাবকে ধারণ করতে পারেনি— মন্তব্যটি পুরোপুরি
যৌক্তিক। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে কী ছিলেন? |
|
ক. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পেশাগত জীবনে ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি
কালেক্টর ছিলেন।
গ. উদ্দীপকে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের আড়ম্বরপূর্ণ বিবাহযাত্রার দিকটি
প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূলভাবকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করতে
পারেনি’”—মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘যত গুণ, তত রূপ নহে’ কার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? |
|
ক. ‘যত গুণ, তত রূপ নহে’ বকুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
গ. উদ্দীপকের বলাইয়ের মনোভাবে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের গল্পকথক কমলাকান্ত
অর্থাৎ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও
সংবেদনশীলতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের যথার্থ প্রতিচ্ছবি নয়।”—মন্তব্যটি
সম্পর্কে আমি একমত। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. নীল শাড়ি পরে বসেছিল কে? |
|
ক. নীল শাড়ি পরে বসেছিল ঝুমকো ফুল।
গ. উদ্দীপকে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ফুলের সৌন্দর্য ও সেই সৌন্দর্যে
বিমোহিত হওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. “বিষয়বস্তুর বর্ণনায় উদ্দীপক ও ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের। গল্পের
সাদৃশ্য থাকলেও চেতনাগত পার্থক্য স্পষ্ট।” মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. পত্রাসন অর্থ কী? |
|
ক. পত্রাসন অর্থ পাতার ওপর আসন।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো বাংলার
গ্রামীণ সমাজের বিবাহপ্রথা ও সামাজিক বন্ধন।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের মূল চেতনাকে সম্পূর্ণরূপে ধারণ
করেছে।”—মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. এয়ো অর্থ কী? |
|
ক. এয়ো অর্থ সধবা নারী।
গ. উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের ফুলের সৌন্দর্য এবং রং বৈচিত্র্যের
বিষয়টি ধারণ করে।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘ফুলের বিবাহ’ গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে
পারেনি।”—মন্তব্যটি যথার্থ। |
| তথ্যসূত্র : |
|---|
|
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
