পরিচ্ছেদ ৮: বর্ণের উচ্চারণ

বর্ণের উচ্চারণ
বর্ণের উচ্চারণ

বর্ণের উচ্চারণ

বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ। এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ। কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন। ধ্বনিগুলো দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়। এখানে বাংলা বর্ণের উচ্চারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

স্বরবর্ণ

অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম:
[অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
অনেক [অনেক], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ]।
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ:
অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্কো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্‌]।

আ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]:
আকাশ [আকাশ], রাত [রাত্], আলো [আলো]।
(আ) জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে [অ্যা]-এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমন:
জ্ঞান [গ্যান], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাঁপোন]।

ই, ঈ

[ই। ধ্বনির হ্রস্বতা ও দীর্ঘতা বোঝাতে দুটি বর্ণ রয়েছে: ই এবং ঈ। কিন্তু বাংলা ভাষায় উভয় বর্ণের উচ্চারণ একই রকম:
দিন [দিন], দীন [দিনো), বিনা [বিনা], বীণা [বিনা], হীন [হিনো]।

উ, উ

[উ] ধ্বনির হ্রস্বতা ও দীর্ঘতা বোঝাতে দুটি বর্ণ রয়েছে: উ এবং উ। কিন্তু বাংলা ভাষায় উভয় বর্ণের উচ্চারণ একই রকম:
উচিত [উচিত্], উষা [উশা], উনিশ [উনিশ], উনবিংশ [উনোবিশো]। ঋ বর্ণের উচ্চারণ [রি]-এর মতো:
ঋতু [রিতু], ঋণ [রিন], কৃষক [ক্রিশক্], দৃশ্য [দ্রিশৃশো]।

এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [৩] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ (এ), কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়। এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ:
একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলো [এলো]।
এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

ঐ বর্ণের উচ্চারণ [ওই]: ঐকিক [ওইকিক্], তৈল [তোইলো]।

ও বর্ণের উচ্চারণ [ও]: ওল [ওলা, বোধ [বোখ্]।

ঔ বর্ণের উচ্চারণ [ওউ]: ঔষধ [ওউশ], মৌমাছি [মোমাছি]।

ব্যঞ্জনবর্ণ

ব্যঞ্জনবর্ণগুলো সাধারণত নিজ নিজ ধ্বনি অনুযায়ী উচ্চারিত হয়। যেমন কলা, খর, বল, নাচ শব্দের ক, খ, ব. ন ইত্যাদি বর্ণের উচ্চারণ যথাক্রমে [ক], [খ], [ব], [ন] ইত্যাদি। তবে কয়েকটি ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণ নিজ নিজ ধ্বনি থেকে আলাদা। এ ধরনের কয়েকটি বর্ণের উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা করা হলো। ঞ বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই। স্বতন্ত্র ব্যবহারে [আঁ-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন]-এর মতো উচ্চারিত হয়: মিঞা [মিয়া], চঞ্চল [চল্], গঞ্জ [গজো]।

ণ বর্ণের উচ্চারণ (ন): কণা [কনা], বাণী [বানি], হরিণ [হোরিনা]।

ব বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ব]। তবে ফলা হিসেবে এই বর্ণের উচ্চারণে স্বাতন্ত্র্য আছে। শব্দের আদিতে ব-ফলার উচ্চারণ হয় না। যেমন:
ত্বক [তক্], শ্বশুর [শোশুর], স্বাধীন [শাধিন]। শব্দের মধ্যে বা শেষে ব-ফলা যুক্ত হলে সেই ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়:
অশ্ব [অশো], বিশ্বাস [বিশশাশ], পক্ক [পক্কো]।

ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অ]-এর মতো হয়, যেমন:
শ্মশান [শশান), স্মরণ [শরোন]। শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়, যেমন:
আত্মীয় (আতিয়ো, পদ্ম [পদোঁ]। কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে, যেমন:
যুগ্ম [জুিগমো], জন্ম [জন্]মা, গুল্ম [গুল্‌মা]।

য বর্ণের উচ্চারণ [জা: যদি জোদি, যিনি [জিনি], সূর্য [শুজো]। তবে য-ফলা থাকলে স্বরের উচ্চারণে পরিবর্তন হয়, যেমন:
যেমন ব্যতীত [বেতিতো], ব্যথা [ব্যাথা]। শব্দের মাঝখানে বা শেষে য-ফলা বর্ণের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ঐ বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়, যেমন:
উদ্যম [উদ্‌দমা], গদ্য [গোল্দো]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে থাকা '১'-এর কোনো উচ্চারণ হয় না, যেমন:
সন্ধ্যা [শোন্ধা), স্বাস্থ্য [শাস্থা], অর্ঘ্য [অঘো]।

র বর্ণের উচ্চারণ [র]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে। শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়, যেমন: মাত্র [মাত্রা], বিদ্রোহ [বিদ্রোহো], যাত্রী [জাত্রি]। কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না, যেমন:
কেন্দ্র [কেন্দ্রা], শাস্ত্র [শাস্ত্রো], বস্ত্র [বস্ত্রো]।

শ, ষ, স

শ কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়। স কখনো [শা]-এর মতো উচ্চারিত হয়, আবার কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়। য বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্], শৃগাল [প্রিগাল্]।
ষ বর্ণের [শ) উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষোলো [শোলো]।
স বর্ণের [শা উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারোন], সামান্য [শামানো]।
স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আস্তে], সালাম [সালাম্]।

বর্ণের উচ্চারণ পরিচ্ছেদের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


তথ্যসূত্র :
১. বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৫।
২. প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ: বাংলা একাডেমি, প্রথম খণ্ড, ঢাকা, ২০১২।
৩. প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ: বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ২০১৬।
৪. ভাষা শিক্ষা: দি অ্যাটলাস পাবলিশিং হাউস, ঢাকা, অক্টোবর ২০২১-২২।
৫. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ঢাকা, এপ্রিল, ২০১৮।
৬. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৮তম, ২০১৫।
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url