শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব- মোতাহের হোসেন চৌধুরী
|
| শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব |
শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
মোতাহের হোসেন চৌধুরী
মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব ওপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে। অবশ্য জীবসত্তার ঘরেও সে কাজ করে; ক্ষুৎপিপাসার ব্যাপারটি মানবিক করে তোলা, তার অন্যতম কাজ। কিন্তু তার আসল কাজ হচ্ছে মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। অন্য কথায়, শিক্ষার যেমন প্রয়োজনের দিক আছে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় দিকও আছে। আর অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক। সে শেখায় কী করে জীবনকে উপভোগ করতে হয়, কী করে মনের মালিক হয়ে অনুভূতি ও কল্পনার রস আস্বাদন করা যায়। শিক্ষার এ দিকটা যে বড়ো হয়ে ওঠে না, তার কারণ ভুল শিক্ষা ও নিচের তলায় বিশৃঙ্খলা জীবসত্তার ঘরটি এমন বিশৃঙ্খল হয়ে আছে যে, হতভাগ্য মানুষকে সব সময়ই সে সম্বন্ধে সচেতন থাকতে হয়। ওপরের তলার কথা সে মনেই আনতে পারে না। অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি। ধনী-দরিদ্র সকলেরই অন্তরে সেই একই ধ্বনি উত্থিত হচ্ছে চাই, চাই, আরও চাই। তাই অন্নচিন্তা তথা অর্থচিন্তা থেকে মানুষ মুক্তি না পেলে, অর্থসাধনাই জীবনসাধনা নয়- একথা মানুষকে ভালো করে বোঝাতে না পারলে মানবজীবনে শিক্ষা সোনা ফলাতে পারবে না। ফলে শিক্ষার সুফল হবে ব্যক্তিগত, এখানে সেখানে দুএকটি মানুষ শিক্ষার আসল উদ্দেশ্যটি উপলব্ধি করতে পারবে, কিন্তু বেশির ভাগ লোকই যে তিমিরে সে তিমিরেই থেকে যাবে।
তাই অন্নচিন্তার নিগড় থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার যে চেষ্টা চলেছে তা অভিনন্দনযোগ্য। কিন্তু লক্ষ্য সম্বন্ধে সচেতন না থাকলে সে চেষ্টাও মানুষকে বেশি দূর নিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না। কারারুদ্ধ আহারতৃপ্ত মানুষের মূল্য কতটুকু? প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলে আলো হাওয়ার স্বাদবঞ্চিত মানুষ কারাগারকেই স্বর্গতুল্য মনে করে। কিন্তু তাই বলে যে তা সত্য সত্যই স্বর্গ হয়ে যাবে, তা নয়। বাইরের আলো হাওয়ার স্বাদ পাওয়া মানুষ প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলেও কারাগারকে কারাগারই মনে করবে, এবং কী করে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তাই হবে তার একমাত্র চিন্তা। আকাশ-বাতাসের ডাকে যে পক্ষী আকুল, সে কি খাঁচায় বন্দি হবে সহজে দানাপানি পাওয়ার লোভে? অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়, এই বোধটি মানুষের মনুষ্যত্বের পরিচায়ক।
চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা, আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা যেখানে নেই সেখানে মুক্তি নেই। মানুষের অন্নবস্ত্রের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে এই মুক্তির দিকে লক্ষ রেখে। ক্ষুৎপিপাসায় কাতর মানুষটিকে তৃপ্ত রাখতে না পারলে আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না বলেই ক্ষুৎপিপাসার তৃপ্তির প্রয়োজন। একটা বড়ো লক্ষ্যের দিকে দৃষ্টি রেখেই অন্নবস্ত্রের সমাধান করা ভালো, নইলে আমাদের বেশি দূর নিয়ে যাবে না।
তাই মুক্তির জন্য দুটি উপায় অবলম্বন করতে হবে। একটি অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা, আরেকটি শিক্ষাদীক্ষার দ্বারা মানুষকে মনুষ্যত্বের স্বাদ পাওয়ানোর সাধনা। এ উভয়বিধ চেষ্টার ফলেই মানবজীবনের উন্নয়ন সম্ভব। শুধু অন্নবস্ত্রের সমস্যাকে বড়ো করে তুললে সুফল পাওয়া যাবে না। আবার শুধু শিক্ষার ওপর নির্ভর করলে সুদীর্ঘ সময়ের দরকার। মনুষ্যত্বের স্বাদ না পেলে অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েও মানুষ যেখানে আছে সেখানেই পড়ে থাকতে পারে; আবার শিক্ষাদীক্ষার মারফতে মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলেও অন্নবস্ত্রের দুশ্চিন্তায় মনুষ্যত্বের সাধনা ব্যর্থ হওয়া অসম্ভব নয়।
কোনো ভারী জিনিসকে ওপরে তুলতে হলে তাকে নিচের থেকে ঠেলতে হয়, আবার ওপর থেকে টানতেও হয়; শুধু নিচের থেকে ঠেললে তাকে আশানুরূপ ওপরে ওঠানো যায় না। মানব উন্নয়নের ব্যাপারে শিক্ষা সেই ওপর থেকে টানা, আর সুশৃঙ্খল সমাজ-ব্যবস্থা নিচের থেকে ঠেলা। অনেকে মিলে খুব জোরে ওপরের থেকে টানলে নিচের ঠেলা ছাড়াও কোনো জিনিস ওপরে ওঠানো যায়- কিন্তু শুধু নিচের ঠেলায় বেশিদূর ওঠানো যায় না। তেমনি আপ্রাণ প্রচেষ্টার ফলে শিক্ষার দ্বারাই জীবনের উন্নয়ন সম্ভব, কিন্তু শুধু সমাজব্যবস্থার সুশৃঙ্খলতার দ্বারা তা সম্ভব নয়। শিক্ষাদীক্ষার ফলে সত্যিকার মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলে অন্ন-বস্ত্রের সমাধান সহজেই হতে পারে। কেননা অন্ন-বস্ত্রের অব্যবস্থার মূলে লোভ, আর শিক্ষাদীক্ষার ফলে মানুষ উপলব্ধি করতে পারে, 'লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু' কথাটা বুলিমাত্র নয়, সত্য। লোভের ফলে যে মানুষের আত্মিক মৃত্যু ঘটে, অনুভূতির জগতে সে ফতুর হয়ে পড়ে, শিক্ষা মানুষকে সে-কথা জানিয়ে দেয় বলে মানুষ লোভের ফাঁদে ধরা দিতে ভয় পায়। ছোটো জিনিসের মোহে বড়ো জিনিস হারাতে যে দুঃখ বোধ করে না, সে আর যাই হোক, শিক্ষিত নয়। শিক্ষা তার বাইরের ব্যাপার, অন্তরের ব্যাপার হয়ে ওঠে নি। লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়। শিক্ষার আসল কাজ জ্ঞান পরিবেশন নয়, মূল্যবোধ সৃষ্টি; জ্ঞান পরিবেশন মূল্যবোধ সৃষ্টির উপায় হিসেবেই আসে। তাই যেখানে মূল্যবোধের মূল্য পাওয়া হয় না, সেখানে শিক্ষা নেই।
শিক্ষার মারফতে মূল্যবোধ তথা মনুষ্যত্ব লাভ করা যায়; তথাপি অন্নবস্ত্রের সুব্যবস্থাও প্রয়োজনীয়। তা না হলে জীবনের উন্নয়নে অনেক বিলম্ব ঘটবে। মনুষ্যত্বের তাগিদে মানুষকে উন্নত করে তোলার চেষ্টা ভালো; কিন্তু প্রাণিত্বের বাঁধন থেকে মুক্তি না পেলে মনুষ্যত্বের আহ্বান মানুষের মর্মে গিয়ে পৌঁছতে দেরি হয় বলে অন্নবস্ত্রের সমস্যার সমাধান একান্ত প্রয়োজন। পায়ের কাঁটার দিকে বারবার নজর দিতে হলে হাঁটার আনন্দ উপভোগ করা যায় না, তেমনি অন্নবস্ত্রের চিন্তায় হামেশা বিব্রত হতে হলে মুক্তির আনন্দ উপভোগ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই দু দিক থেকেই কাজ চলা দরকার। একদিকে অন্নবস্ত্রের চিন্তার বেড়ি উন্মোচন, অপরদিকে মনুষ্যত্বের আহ্বান, উভয়ই প্রয়োজনীয়। নইলে বেড়িমুক্ত হয়েও মানুষ ওপরে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করবে না, অথবা মনুষ্যত্বের আহ্বান সত্ত্বেও ওপরে যাওয়ার স্বাধীনতার অভাব বোধ করবে, পিঞ্জরাবদ্ধ পাখির মতো উড়বার আকাঙ্ক্ষায় পাখা ঝাপটাবে, কিন্তু উড়তে পারবে না।
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ : |
|---|
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর সংস্কৃতি-কথা গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশবিশেষ। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা : |
|---|
|
➠ শিক্ষা- বিদ্যাচর্চা, জ্ঞান লাভ। ➠ মনুষ্যত্ব- মানবতা, মানুষের থাকা উচিত এমন সদ্গুণ। ➠ মানবিক- মানবীয়, মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক। ➠ পরিচয়- জানাশোনা। ➠ প্রয়োজন- দরকার, আবশ্যক। ➠ শ্রেষ্ঠ- অতি উৎকৃষ্ট, উত্তম। ➠ উপভোগ- বিশেষ তৃপ্তির সঙ্গে ভোগ। ➠ অনুভূতি- উপলব্ধি, অনুভব, সুখ-দুঃখবোধ। ➠ রস- নির্যাস, নিঃস্রাব, ক্ষরণ, স্বাদ। ➠ আস্বাদন- রসগ্রহণ, রসানুভূতি, স্বাদ, আস্বাদ। ➠ বিশৃঙ্খল- এলোমেলো, শৃঙ্খলাহীন, নিয়মহীন, উচ্ছৃঙ্খল। ➠ ধ্বনি- শব্দ, কণ্ঠস্বর, রব, আওয়াজ। ➠ মুক্তি- স্বাধীনতা, অবরোধ বা বন্ধন থেকে উদ্ধার। ➠ জীবন সাধনা- বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা, প্রাণ বাঁচানোর প্রচেষ্টা। ➠ ব্যক্তিগত- নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যের অন্তর্গত, ব্যক্তিবিশেষ বিষয়। ➠ উপলব্ধি- অনুভূতি, বোধ, জ্ঞান। ➠ অভিনন্দন- প্রশংসাবাদ দ্বারা আনন্দ প্রকাশ, সংবর্ধনা। ➠ কারারুদ্ধ- কারাগারে আটক, জেলখানায় বন্দি। ➠ কারাগার- জেলখানা, কয়েদখানা, বন্দিশালা। ➠ দানাপানি- আহার ও পানীয়, খাদ্য ও পানীয়। ➠ চিন্তা- চিন্তাকরণ, একাগ্রচিত্তে স্মরণ। ➠ পক্ষী- পাখি, বিহঙ্গ। ➠ প্রাচুর্য- প্রচুরতা, আধিক্য। ➠ স্বাধীনতা- স্বচ্ছন্দতা, বাধাহীনতা। ➠ সমস্যা- জটিল ও সংকটময় বিষয়, যার সমাধান করা কষ্টকর। ➠ সমাধান- সম্পন্নকরণ। ➠ নিগড়- শিকল, বেড়ি। ➠ তিমির- অন্ধকার। ➠ ক্ষুৎপিপাসা- ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। ➠ ফতুর- নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত। ➠ লেফাফাদুরস্তি- বাইরের দিক থেকে ত্রুটিহীনতা কিন্তু ভিতরে ফাঁপা। ➠ বেড়ি- শিকল, শৃঙ্খল। ➠ হামেশা- সবসময়, সর্বক্ষণ। ➠ উন্মোচন- উন্মুক্ত করা। ➠ পিঞ্জরবন্ধ- খাঁচায় বন্দি। ➠ জীবসত্তা- জীবের অস্তিত্ব। ➠ মানবসত্তা- মানুষের অস্তিত্ব। মানবসত্তা বলতে লেখক মনুষ্যত্বকে বুঝিয়েছেন। শিক্ষার মাধ্যমে এই মনুষ্যত্ব অর্জন করা যায়। ➠ অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি- লেখকের মতে আমরা জীবসত্তাকে টিকিয়ে রাখতে অধিক মনোযোগী। ফলে অর্থচিন্তা আমাদের সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখে। অর্থচিন্তায় ব্যস্ত মানুষ প্রকৃত মনুষ্যত্ব অর্জনে সক্ষম নয়। ➠ কারারুদ্ধ আহারতৃপ্ত মানুষের মূল্য কতটুকু?- খাওয়া-পরার সমস্যা মিটে গেলেই জীবনের উন্নয়ন সম্ভব হয় না। এ জন্য প্রয়োজন চিন্তার স্বাধীনতা, বুদ্ধির স্বাধীনতা ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা। শিক্ষার মাধ্যমেই এ স্বাধীনতা অর্জিত হয়। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের কর্ম-অনুশীলন : |
|---|
| মানব মুক্তির জন্য সমাজের উপরের অংশ ও নিচের অংশের কর্তব্যগুলো নির্দেশ করো। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি : |
|---|
| মানুষের দুটি সত্তা- একটি তার জীবসত্তা, অপরটি মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব। জীবসত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অন্নবস্ত্রের চিন্তা থেকে মুক্তি এবং শিক্ষা লাভের মাধ্যমে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটে। শিক্ষার ফলে মনুষ্যত্বের স্বাদ পেলে অন্নবস্ত্রের সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে ওঠে। শিক্ষার আসল কাজ মূল্যবোধ সৃষ্টি, জ্ঞান দান নয়; জ্ঞান মূল্যবোধ সৃষ্টির উপায়মাত্র। লেখক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পর্ক চিহ্নিত করেছেন। জ্ঞান ও অন্তরের মুক্তি ব্যক্তিকে মনুষ্যত্ববোধে উন্নীত হওয়ার শিক্ষা দেয়। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি : |
|---|
|
মোতাহের হোসেন চৌধুরী ১৯০৩ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক
নিবাস নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
বাংলায় এম. এ. পাশ করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক
ছিলেন। একজন সংস্কৃতিবান ও মার্জিত রুচিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে তিনি খ্যাত
ছিলেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত 'শিখা' পত্রিকার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। তাঁর
লেখায় মননশীলতা ও চিন্তার স্বচ্ছন্দ প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর গদ্যে প্রমথ
চৌধুরীর প্রভাব লক্ষণীয়। তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ সংস্কৃতি কথা বাংলা সাহিত্যের
মননশীল প্রবন্ধ-ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। তাঁর মৃত্যুর পর গ্রন্থটি
প্রকাশিত হয়। সভ্যতা ও সুখ তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ। ১৯৫৬ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর তিনি পরলোকগমন করেন। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন : |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন : |
|---|
১. মোতাহের হোসেন চৌধুরী কবে জন্মগ্রহণ করেন? |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন : |
|---|
|
০১. অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে মুক্তি বড়।- কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
০২. শুধু শিক্ষার ওপর নির্ভর করে মানবজীবনে উন্নতি করার ভাবনা অযৌক্তিক
কেন?
০৩. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে শিক্ষাকে মইয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে
কেন?
০৪. লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়-কেন?
০৫. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানবজীবনকে দোতলা ঘরের সাথে
তুলনা করেছেন কেন?
০৬. প্রাণিত্বের বাঁধন থেকে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত জরুরি কেন?
০৭. আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না কেন?
০৮. ‘অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি’—বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
০৯. “কারারুদ্ধ আহারতৃপ্ত মানুষের মূল্য কতটুকু?”—এখানে ‘কারারুদ্ধ’ বলতে
কী বোঝানো হয়েছে?
১০. মানবজীবনে শিক্ষা সোনা ফলাতে পারে না কেন?
১১. শিক্ষার আসল কাজ কী? ব্যাখ্যা করো।
১২. ‘অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক’—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
১৩. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব প্রবন্ধের রচয়িতার মতে অর্থচিন্তা থেকে মুক্তি
পাওয়া জরুরি কেন?
১৪. লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’—কথাটি দ্বারা কী বোঝানো
হয়েছে?
১৫. অপ্রয়োজনের শিক্ষাকে লেখক শ্রেষ্ঠ বলেছেন কেন?
১৬. মানবজীবনে শিক্ষা সোনা ফলাতে পারে না কেন? বুঝিয়ে লেখো।
১৭. আত্মার অমৃত উপলব্ধি করা যায় না কেন?
১৮. শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকই শ্রেষ্ঠ দিক কেন?
১৯. অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি’—বলতে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?
২০. “লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়”—বুঝিয়ে দাও।
২১. অর্থসাধনাই জীবনসাধনা নয়’—ব্যাখ্যা করো।
২২. ‘বেশিরভাগ লােকই যে তিমিরে সে তিমিরেই থেকে যাবে।’— বুঝিয়ে লেখো।
২৩. শিক্ষা দ্বারাই জীবনের উন্নয়ন সম্ভব কীভাবে ব্যাখ্যা করো।
২৪. শিক্ষার অপ্রয়োজনের দিকটিকে লেখক শ্রেষ্ঠ দিক বলেছেন কেন? |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মানব জীবনে মুক্তির জন্য মোতাহের হোসেন চৌধুরী কয়টি উপায়ের কথা
বলেছেন? |
|
ক. মানবজীবনে মুক্তির জন্য মোতাহের হোসেন চৌধুরী তার ‘শিক্ষা ও
মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে দুইটি উপায়ের কথা বলেছেন।
গ. উদ্দীপকের সুমনের মাঝে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের জীবসত্তা
অর্জনের দিকটি প্রতিফলিত।
ঘ. শ্যামলের কাজে শিক্ষার অপ্রয়োজনীয় দিকটি উপস্থিত। আর এই অপ্রয়োজনের
দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত? |
|
ক ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’
গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
গ.উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের
মানবসত্তা বা মনুষ্যত্বের দিকটি উপস্থিত।
ঘ. ছোট জিনিসের মোহে বড় জিনিস হারাতে দুঃখবোধ না করায় উদ্দীপকের আমেনা
বেগমের ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত? |
|
ক. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’
গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
গ. উদ্দীপকের শেফালীর চরিত্রে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের বর্ণিত
মনুষ্যত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
ঘ. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে প্রকাশিত লেখকের মতামত অনুসারে বলা
যায়, উদ্দীপকের মারুফার মানসিকতা পরিবর্তনে প্রকৃত শিক্ষার প্রয়োগে
মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ প্রয়োজন । |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪ |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি কোন প্রবন্ধের অংশবিশেষ? |
|
ক. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব, প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’
গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ।
গ. উদ্দীপকের শিহাবের মাঝে মনুষ্যত্ববোধ ছিল বলেই তিনি তার স্ত্রীর
অন্যায় প্রস্তাবে রাজি হননি।
ঘ. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ অনুসারে বলা যায়, প্রকৃত শিক্ষার
মাধ্যমে রেবার মাঝে মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ ঘটাতে পারলে রেবার মানসিকতা
পরিবর্তন করা সম্ভব। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন? |
|
ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরী ‘শিখা’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের মানবসত্তা বা
মনুষ্যত্ববোধের মিল রয়েছে।
ঘ. শিক্ষা বা জ্ঞানার্জনই বাদশাহ আলমগীরের ছেলের মাঝে মানবসত্তার বিকাশ
ঘটাতে পারে। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কোনটি মূল্যবোধ সৃষ্টির উপায় হিসেবে কাজ করে? |
|
ক. জ্ঞান মূল্যবোধ সৃষ্টির উপায় হিসেবে কাজ করে।
গ. উদ্দীপকের মঞ্জুর কর্মকাণ্ডে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের
‘প্রয়োজনীয় দিক’ তথা জীবসত্তার ঘর এর দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের সঞ্জু সৎ পথ অবলম্বন করে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’
প্রবন্ধে বর্ণিত মানবসত্তা বা ওপরের তলায় উঠতে সক্ষম হয়েছে। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়, এ বোধটি কীসের পরিচায়ক? |
|
ক. ‘অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়’, এ বোধটি মানুষের
মনুষ্যত্বের পরিচায়ক।
গ. উদ্দীপকের রশিদ সাহেবের মাঝে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের
মানবসত্তা বা মনুষ্যত্বের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. ‘উদ্দীপকের আরশাদ ব্যাপারির মতো স্বার্থন্বেষী মানুষদের মানসিকতা
পরিবর্তনে ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের শিক্ষা অতীব প্রয়োজন বলে আমি
মনে করি। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কীসের নিগড়ে সকলে বন্দি? |
|
ক. অর্থচিন্তার নিগড়ে সকলে বন্দি।
গ. উদ্দীপকের মতিনের মানসিকতায় ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের জীবসত্তার
দিকটি প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের সুজাই যেন ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের প্রবন্ধকারের
মূলচেতনার ধারক- উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরী কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন? |
|
ক. মোতাহের হোসেন চৌধুরী ‘শিখা’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।
গ. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শহীদুল্লাহর মধ্যে মনুষ্যত্ববোধের জাগরণ
ঘটিয়েছে।
ঘ. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে জীবসত্তা ও মানবসত্তার বিষয় আলোচিত
হলেও উদ্দীপকে কেবল মানবসত্তার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। সেদিক থেকে
উদ্দীপকটি ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন মাত্র। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. জীবসত্তার ঘর হতে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই কী? |
|
ক. জীবসত্তার ঘর হতে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই হলো শিক্ষা।
গ. উদ্দীপকের সুমনের অন্ধকার জীবনে পা বাড়ানোর কারণ হলো অন্ন-বস্ত্রের
সুব্যবস্থা না হওয়া।
ঘ. শিক্ষা ও অন্নবস্ত্র উভয়ের সুব্যবস্থাই পারে উদ্দীপকের সুমনের মতো
মানুষগুলোর জীবসত্তা ও মানবসত্তার উন্নয়ন ঘটাতে। |
| ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. শিক্ষার অন্যতম কাজ কী? |
|
ক. ক্ষুৎপিপাসার ব্যাপারটি মানবিক করে তোলা শিক্ষার অন্যতম কাজ।
গ. উদ্দীপকের রহমত সাহেবের চরিত্রে ‘শিক্ষা ও মানুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের
জীবসত্তার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের সাদিক সাহেব ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ লেখকের
আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পেরেছে বলে আমি মনে করি। |
| তথ্যসূত্র : |
|---|
|
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৫। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
