নিরীহ বাঙালি- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

নিরীহ বাঙালি
নিরীহ বাঙালি

নিরীহ বাঙালি
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

আমরা দুর্বল নিরীহ বাঙালি। এই বাঙালি শব্দে কেমন সুমধুর তরল কোমল ভাব প্রকাশ হয়। আহা! এই অমিয়সিক্ত বাঙালি কোন্ বিধাতা গড়িয়াছিলেন? কুসুমের সৌকুমার্য, চন্দ্রের চন্দ্রিকা, মধুর মাধুরী, যুথিকার সৌরভ, সুপ্তির নীরবতা, ভূধরের অচলতা, নবনীর কোমলতা, সলিলের তরলতা- এক কথায় বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য এবং স্নিগ্ধতা লইয়া বাঙালি গঠিত হইয়াছে! আমাদের নামটি যেমন শ্রুতিমধুর তদ্রূপ আমাদের সমুদয় ক্রিয়াকলাপও সহজ ও সরল।

আমরা মূর্তিমতী কবিতা-যদি ভারতবর্ষকে ইংরেজি ধরনের একটি অট্টালিকা মনে করেন, তবে বঙ্গদেশ তাহার বৈঠকখানা (drawing room) এবং বাঙালি তাহাতে সাজসজ্জা (drawing room suit)! যদি ভারতবর্ষকে একটা সরোবর মনে করেন, তবে বাঙালি তাহাতে পদ্মিনী। যদি ভারতবর্ষকে একখানা উপন্যাস মনে করেন, তবে বাঙালি তাহার নায়িকা। ভারতের পুরুষ সমাজে বাঙালি পুরুষিকা! অতএব আমরা মূর্তিমান কাব্য।

আমাদের খাদ্যদ্রব্যগুলি-পুঁইশাকের ডাঁটা, সজিনা ও পুঁটি মৎস্যের ঝোল-অতিশয় সরস। আমাদের খাদ্যদ্রব্যগুলি-ঘৃত, দুগ্ধ, ছানা, নবনীত, ক্ষীর, সর, সন্দেশ ও রসগোল্লা-অতিশয় সুস্বাদু। আমাদের দেশের প্রধান ফল, আম ও কাঁঠাল-রসাল এবং মধুর। অতএব আমাদের খাদ্যসামগ্রী ত্রিগুণাত্মক-সরস, সুস্বাদু, মধুর।

খাদ্যের গুণ অনুসারে শরীরের পুষ্টি হয়। তাই সজিনা যেমন বীজবহুল, আমাদের দেশে তেমনই ভুঁড়িটি স্থূল। নবনীতে কোমলতা অধিক, তাই আমাদের স্বভাবের ভীরুতা অধিক। শারীরিক সৌন্দর্য সম্বন্ধে অধিক বলা নিষ্প্রয়োজন; এখন পোষাক পরিচ্ছদের কথা বলি।

আমাদের বর অঙ্গ যেমন তৈলসিক্ত নবনিগঠিত সুকোমল, পরিধেয়ও তদ্রূপ অতি সূক্ষ্ম শিমলার ধুতি ও চাদর। ইহাতে বায়ুসঞ্চালনের (ventilation এর) কোন বাধা বিঘ্ন হয় না! আমরা সময় সময় সভ্যতার অনুরোধে কোট শার্ট ব্যবহার করি বটে, কারণ পুরুষমানুষের সবই সহ্য হয়। কিন্তু আমাদের অর্ধাঙ্গী-হেমাঙ্গী, কৃষ্ণাঙ্গীগণ তদানুকরণে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ (শেমিজ জ্যাকেট) ব্যবহার করেন না। তাঁহারা অতিশয় সুকুমারী ললিতা লজ্জাবতী লতিকা, তাই অতি মসৃণ ও সূক্ষ্ম ‘হাওয়ার শাড়ি’ পরেন। বাঙালির সকল বস্তুই সুন্দর, স্বচ্ছ ও সহজলব্ধ।

বাঙালির গুণের কথা লিখিতে হইলে অনন্ত মসী, কাগজ ও অক্লান্ত লেখকের আবশ্যক। তবে সংক্ষেপে দুটি চারিটা গুণের বর্ণনা করি।

ধনবৃদ্ধির দুই উপায়, বাণিজ্য ও কৃষি। বাণিজ্য আমাদের প্রধান ব্যবসায়। কিন্তু তাই বলিয়া আমরা (আরব্যোপন্যাসের) সিন্দাবাদের ন্যায় বাণিজ্যপোত অনিশ্চিত ফললাভের আশায় অনন্ত অপার সাগরে ভাসাইয়া দিয়া নৈরাশ্যের ঝঞ্চাবাতে ওতপ্রোত হই না। আমরা ইহাকে (বাণিজ্য) সহজ ও স্বল্পায়াসসাধ্য করিয়া লইয়াছি। অর্থাৎ বাণিজ্য ব্যবসায়ে যে কঠিন পরিশ্রম আবশ্যক, তাহা বর্জন করিয়াছি। এই জন্য আমাদের দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস নাই, শুধু বিলাসদ্রব্য-নানাবিধ কেশতৈল ও নানাপ্রকার রোগবর্ধক ঔষধ এবং রাঙা পিত্তলের অলঙ্কার, নকল হীরার আংটি, বোতাম ইত্যাদি বিক্রয়ার্থ মজুদ আছে। ঈদৃশ ব্যবসায়ে কায়িক পরিশ্রম নাই। আমরা খাঁটি সোনা রূপা বা হিরা জওয়াহেরাৎ রাখি না, কারণ টাকার অভাব। বিশেষত আজি কালি কোন জিনিসটার নকল না হয়?

যখনই কেহ একটু যত্ন পরিশ্রম স্বীকার পূর্বক “দীর্ঘকেশী” তৈল প্রস্তুত করেন, অমনই আমরা তদনুকরণে “হ্রস্বকেশী” বাহির করি। "কুন্তলীনের" সঙ্গে "কেশলীন" বিক্রয় হয়। বাজারে “মস্তিষ্ক স্নিগ্ধকারী” ঔষধ আছে, ‘মস্তিষ্ক উষ্ণকারী’ দ্রব্যও আছে। এক কথায় বলি, যত প্রকারের নকল ও নিষ্প্রয়োজনীয় জিনিস হইতে পারে, সবই আছে। আমরা ধান্য তণ্ডুলের ব্যবসায় করি না, কারণ তাহাতে পরিশ্রম আবশ্যক।

আমাদের অন্যতম ব্যবসায়-পাস বিক্রয়। এই পাস বিক্রেতার নাম ‘বর’ এবং ক্রেতাকে ‘শ্বশুর’ বলে। এক একটি পাসের মূল্য কত জান? ‘অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী’। এম.এ. পাশ অমূল্যরত্ন, ইহা যে সে ক্রেতার ক্রেয় নহে। নিতান্ত সস্তা দরে বিক্রয় হইলে, মূল্য-এক রাজকুমারী এবং সমুদয় রাজত্ব। আমরা অলস, তরলমতি, শ্রমকাতর, কোমলাঙ্গ বাঙালি কিনা তাই ভাবিয়া দেখিয়াছি, সশরীরে পরিশ্রম করিয়া মুদ্রালাভ করা অপেক্ষা (Old fool) শ্বশুরের যথাসর্বস্ব লুণ্ঠন করা সহজ।

এখন কৃষিকার্যের কথা বলি। কৃষি দ্বারা অন্নবৃদ্ধি হইতে পারে। কিন্তু আমরা ভাবিয়া দেখিয়াছি কৃষিবিভাগের কার্য (agriculture) করা অপেক্ষা মস্তিষ্ক উর্বর (brain culture) করা সহজ। অর্থাৎ কর্কশ উর্বর ভূমি কর্ষণ করিয়া ধান্য উৎপাদন করা অপেক্ষা মুখস্থ বিদ্যার জোরে অর্থ উৎপাদন করা সহজ। এবং কৃষিকার্যে পারদর্শিতা প্রদর্শন করা অপেক্ষা কেবল M.R.A.C পাশ করা সহজ। আইনচর্চা করা অপেক্ষা কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা করা কঠিন। অথবা রৌদ্রের সময় ছত্র হস্তে কৃষিক্ষেত্র পরিদর্শনের জন্য কৃষি বিষয়ে জ্ঞানচর্চা অপেক্ষা টানাপাখার তলে আরাম কেদারায় বসিয়া দুর্ভিক্ষ সমাচার (Famine Report) পাঠ করা সহজ। তাই আমরা অন্নোৎপাদনের চেষ্টা না করিয়া অর্থ উৎপাদনে সচেষ্ট আছি। আমাদের অর্থের অভাব নাই, সুতরাং অন্নকষ্টও হইবে না। দরিদ্র হতভাগা সব অন্নাভাবে মরে মরুক, তাতে আমাদের কি?

আমরা আরও অনেক প্রকার সহজ কার্য নির্বাহ করিয়া থাকি। যথা:

(১) রাজ্য স্থাপন করা অপেক্ষা “রাজা” উপাধি লাভ সহজ।

(২) শিল্পকার্যে পারদর্শী হওয়া অপেক্ষা B.Sc ও D.Sc পাশ করা সহজ।

(৩) অল্পবিস্তর অর্থব্যয়ে দেশে কোন মহৎ কার্য দ্বারা খ্যাতি লাভ করা অপেক্ষা ‘খাঁ বাহাদুর’ বা ‘রায় বাহাদুর’ উপাধি লাভের জন্য অর্থ ব্যয় করা সহজ।

(৪) প্রতিবেশী দরিদ্রদের শোক দুঃখে ব্যথিত হওয়া অপেক্ষা বিদেশীয় বড়ো লোকদের মৃত্যুদুঃখে ‘শোক সভার’ সভ্য হওয়া সহজ।

(৫) দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের জন্য পরিশ্রম করা অপেক্ষা আমেরিকার নিকট ভিক্ষা গ্রহণ করা সহজ।

(৬) স্বাস্থ্যরক্ষায় যত্নবান হওয়া অপেক্ষা স্বাস্থ্য নষ্ট করিয়া ঔষধ ও ডাক্তারের হস্তে জীবন সমর্পণ করা সহজ।

(৭) স্বাস্থ্যের উন্নতি দ্বারা মুখশ্রীর প্রফুল্লতা ও সৌন্দর্য বর্ধন করা (অর্থাৎ healthy and cheerful হওয়া) অপেক্ষা (শুদ্ধগণ্ডে!) কালিডর, মিল্ক অভ রোজ ও ভিনোলিয়া পাউডার (Kalydore, milk of rose and Vinolia powder) মাখিয়া সুন্দর হইতে চেষ্টা করা সহজ।

(৮) কাহারও নিকট প্রহারলাভ করিয়া তৎক্ষণাৎ বাহুবলে প্রতিশোধ লওয়া অপেক্ষা মানহানির মোকদ্দমা করা সহজ ইত্যাদি।

তারপর আমরা মূর্তিমান আলস্য-আমাদের গৃহিণীগণ এ বিষয়ে অগ্রণী। কেহ কেহ শ্রীমতীদিগকে স্বহস্তে রন্ধন করিতে অনুরোধ করিয়া থাকেন। কিন্তু বলি, আমরা যদি রৌদ্রতাপ সহ্য করিতে না পারি, তবে আমাদের অর্ধাঙ্গীগণ কিরূপে অগ্নির উত্তাপ সহিবেন? আমরা কোমলাঙ্গ-তাঁহারা কোমলাঙ্গী: আমরা পাঠক, তাঁহারা পাঠিকা; আমরা লেখক, তাঁহারা লেখিকা। অতএব আমরা পাচক না হইলে তাঁহারা পাচিকা হইবেন কেন? সুতরাং যে লক্ষ্মীছাড়া দিব্যাঙ্গনাদিগকে রন্ধন করিতে বলে, তাহার ত্রিবিধ দণ্ড হওয়া উচিত। যথা তাহাকে (১) তুষানলে দগ্ধ কর, অতঃপর (২) জবেহ কর, তারপর (৩) ফাঁসি দাও!

আমরা সকলেই কবি-আমাদের কাব্যে বীররস অপেক্ষা করুণরস বেশি। আমাদের এখানে লেখক অপেক্ষা লেখিকার সংখ্যা বেশি। তাই কবিতার স্রোতে বিনা কারণে অশ্রুপ্রবাহ বেশি বহিয়া থাকে। আমরা পদ্য লিখিতে বসিলে কোন্ বিষয়টা বাদ দিই? ‘ভগ্ন শূর্প’, ‘জীর্ণ কাঁথা’, ‘পুরাতন চটিজুতা’ -কিছুই পরিতাজ্য নহে। আমরা আবার কত নতুন শব্দের সৃষ্টি করিয়াছি; যথা-‘অতি শুভ্রনীলাম্বর’, “সাশ্রুসজলনয়ন” ইত্যাদি। শ্রীমতীদের করুণ বিলাপ-প্রলাপপূর্ণ পদ্যের ‘অশ্রুজলের’ বন্যায় বঙ্গদেশ ধীরে ধীরে ডুবিয়া যাইতেছে। সুতরাং দেখিতেছেন, আমরা সকলেই কবি।

আর আত্মপ্রশংসা কত করিব? এখন উপসংহার করি।

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের উৎস নির্দেশ:
‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন প্রবন্ধগ্রন্থ ‘মতিচূর’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড থেকে সংকলিত হয়েছে।

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের শব্দার্থ ও টীকা:
➠ সৌকুমার্য- সৌন্দর্য।
➠ ঝঞ্ঝাবাতে- ঝঞ্ঝার বাতাসে।
➠ কুন্তলীন, কেশলীন- লেখকের আমলে জনপ্রিয় চুলে দেয়ার তেলের নাম।
➠ হাওয়ার শাড়ি- সূক্ষ্ম সুতোর শাড়ি। পাতলা শাড়ি।
➠ তণ্ডুল-চাল।
কালিডর, মিল্ক অভ রোজ, ভিনোলিয়া পাউডার- সৌন্দর্যবর্ধক সামগ্রী।
➠ দিব্যাঙ্গনা- স্বর্গের রূপসী। হুরপরি।
➠ শুভ্রনীলাম্বর- পরিষ্কার নীল আকাশ।
সাশ্রুসজলনয়ন- জলভরা চোখ।
➠ আত্মপ্রশংসা- নিজের প্রশংসা।

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের কর্ম-অনুশীলন:
১. ‘নিরীহ বাঙালি’ পাঠটিতে (যে সময়ের) বাঙালির যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে তার একটি তালিকা তৈরি করো।

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের পাঠ-পরিচিতি:
‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটিতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক হাস্য-রসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন। বাঙালি পুরুষগণের অলসপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতি আলোচনাও রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যঙ্গাত্মক এ প্রবন্ধের মাধ্যমে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। প্রবন্ধটি আমাদের ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি মনোযোগী হবার শিক্ষা দেয়।

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের লেখক পরিচিতি:
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী ছিলেন। ছোটবেলায় বড় বোন করিমুন্নেসা বেগম রোকেয়াকে বাংলা শিক্ষায় সাহায্য করেন। পরে তিনি বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের তত্ত্বাবধানে ইংরেজি শেখেন। বিহারের অন্তর্গত ভাগলপুরের সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিবাহের পর তিনি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নামে পরিচিত হন। স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন। মুসলিম নারী জাগরণে তিনি অগ্রণী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলআনজুমান-ই-খাওয়াতীন-ই-ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন। পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, মতিচুর, সুলতানার স্বপ্ন ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
৯ই ডিসেম্বর ১৯৩২ সালে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন মৃত্যুবরণ করেন।।

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:

প্রশ্ন-১. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে।
প্রশ্ন-২. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: ৯ই ডিসেম্বও, ১৮৮০।
প্রশ্ন-৩. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর পিতার নাম কী ছিল?
উত্তর: জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের।
প্রশ্ন-৪. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর পিতার পেশা কী ছিল?
উত্তর: তিনি একজন সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী ছিলেন।
প্রশ্ন-৫. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে বাংলা ভাষা শিক্ষায় সাহায্য করেন কে?
উত্তর: তাঁর বড় বোন করিমুন্নেসা বেগম।
প্রশ্ন-৬. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কার তত্ত্বাবধানে ইংরেজি ভাষা শেখেন?
উত্তর: তাঁর বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের তত্ত্বাবধানে।
প্রশ্ন-৭. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্বামীর নাম কী?
উত্তর: সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন।
প্রশ্ন-৮. রোকেয়া বিবাহিত জীবনে কী নামে পরিচিত হন?
উত্তর: বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নামে।
প্রশ্ন-৯. রোকেয়া সাহিত্যচর্চা শুরু করেন কার অনুপ্রেরণায়?
উত্তর: তাঁর স্বামী সাখাওয়াত হোসেনের প্রেরণায়।
প্রশ্ন-১০. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কীসের বিরুদ্ধে কলম ধরেন?
উত্তর: সমকালীন মুসলিম সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন-১১. রোকেয়ার জীবদ্দশায় তাঁর সাহিত্যচর্চা মূলত কোন উদ্দেশ্যে ছিল?
উত্তর: মুসলিম নারী সমাজকে শিক্ষিত ও সচেতন করা।
প্রশ্ন-১২. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির নাম কী?
উত্তর: সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল।
প্রশ্ন-১৩. মুসলমান নারীদের সংগঠন হিসেবে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোনটি প্রতিষ্ঠা করেন?
উত্তর: আনজুমান-ই-খাওয়াতীন-ই-ইসলাম।
প্রশ্ন-১৪. রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো-
উত্তর: পদ্মরাগ।
প্রশ্ন-১৫. “অবরোধবাসিনী” কার লেখা?
উত্তর: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা।
প্রশ্ন-১৬. “সুলতানার স্বপ্ন” রচনার জন্য রোকেয়া কী বিষয়ে খ্যাতি লাভ করেন?
উত্তর: নারীমুক্তি ও কল্পবিজ্ঞানমূলক সাহিত্যের অগ্রদূত হিসেবে।
প্রশ্ন-১৭. “মতিচূর” কী ধরনের গ্রন্থ?
উত্তর: এটি একটি প্রবন্ধ সংকলন।
প্রশ্ন-১৮. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন মৃত্যু কবে হয়?
উত্তর: ৯ই ডিসেম্বর ১৯৩২।
প্রশ্ন-১৯. কোন জাতীয় পোশাককে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে?
উত্তর: ইংরেজ ললনাদের শেমিজ ও জ্যাকেট পোশাককে নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-২০. ধনবৃদ্ধির কয়টি উপায়?
উত্তর: ধনবৃদ্ধির দুইটি উপায়।
প্রশ্ন-২১. কৃষিকাজে পারদর্শিতা অপেক্ষা কী পাস করা সহজ?
উত্তর: কৃষিকার্যে পারদর্শিতা অপেক্ষা গ.জ.অ.ঈ পাস করা সহজ।
প্রশ্ন-২২. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-২৩. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-২৪. কোন জাতীয় পোশাককে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে?
উত্তর: শেমিজ জ্যাকেটকে ইংরেজি ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-২৫. শুভ্রনিলাম্বর শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: শুভ্রনীলাম্বর শব্দের অর্থ হলো পরিষ্কার নীল আকাশ।
প্রশ্ন-২৬. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বাঙালিদের কী বলেছেন?
উত্তর: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বাঙালিদের দুর্বল-নিরীহ বাঙালি বলেছেন।
প্রশ্ন-২৭. ভারতবর্ষকে ইংরেজি ধরনের একটা অট্টালিকা মনে করলে বাঙালিদের কী ভাবা হয়েছে?
উত্তর: ভারতবর্ষকে ইংরেজি ধরনের একটা অট্টালিকা মনে করলে বাঙালিরা সেখানে যেন এক বৈঠকখানা।
প্রশ্ন-২৮. বেগম রোকেয়ার মতে বাঙালির গুণের কথা লিখতে হলে কেমন লেখকের আবশ্যক?
উত্তর: বেগম রোকেয়ার মতে বাঙালির গুণের কথা লিখতে হলে অক্লান্ত লেখকের আবশ্যক।
প্রশ্ন-২৯. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে কী মাছের ঝোলকে সরস বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে পুঁটি মাছের ঝোলকে সরস বলা হয়েছে।
প্রশ্ন-৩০. বেগম রোকেয়ার মতে আমাদের স্বভাবে কোনটি অধিক?
উত্তর: বেগম রোকেয়ার মতে আমাদের স্বভাবে ভীরুতা অধিক।
প্রশ্ন-৩১. বাঙালি শব্দে কী ধরনের ভাব প্রকাশ পায়?
উত্তর: বাঙালি শব্দে সুমধুর, তরল, কোমল ভাব প্রকাশ পায়।
প্রশ্ন-৩২. লেখিকা বঙ্গদেশকে কী বলে তুলনা করেছেন?
উত্তর: বঙ্গদেশকে ভারতবর্ষের বৈঠকখানা বলে তুলনা করেছেন।
প্রশ্ন-৩৩. বাঙালি কিসে মূর্তিমান?
উত্তর: বাঙালি মূর্তিমান কাব্য।
প্রশ্ন-৩৪. বাঙালির প্রধান খাদ্যদ্রব্য কী?
উত্তর: পুঁইশাকের ডাঁটা, সজিনা ও পুঁটি মাছের ঝোল।
প্রশ্ন-৩৫. বাঙালির স্বভাব কেন ভীরু?
উত্তর: নবনীতে কোমলতা অধিক বলে আমাদের স্বভাব ভীরু।
প্রশ্ন-৩৬. বাঙালির পরিধেয় বস্ত্র কেমন?
উত্তর: সূক্ষ্ম শিমলার ধুতি ও চাদর।
প্রশ্ন-৩৭. বাঙালিরা কী কারণে কোট-শার্ট পরে?
উত্তর: সভ্যতার অনুরোধে।
প্রশ্ন-৩৮. লেখিকা বাঙালিদের কী বলে উপহাস করেছেন?
উত্তর: অলস, তরলমতি, শ্রমকাতর, কোমলাঙ্গ।
প্রশ্ন-৩৯. লেখিকার মতে, কোন ব্যবসায়ে বাঙালিরা আগ্রহী নয়?
উত্তর: ধান্য-ত-ুলের ব্যবসায়।
প্রশ্ন-৪০. বাঙালির দোকানে কী ধরনের জিনিস থাকে?
উত্তর: বিলাসদ্রব্য ও নকল পণ‍্য।
প্রশ্ন-৪১. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে এম.এ. পাসকে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: অমূল্যরত্ন।
প্রশ্ন-৪২. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বরকে লেখিকা কী নামে অভিহিত করেছেন?
উত্তর: পাস বিক্রেতা।
প্রশ্ন-৪৩. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে শ্বশুরকে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: পাস ক্রেতা।
প্রশ্ন-৪৪. বাঙালি কৃষিকাজে আগ্রহী নয় কেন?
উত্তর: কারণ এতে কায়িক পরিশ্রম করতে হয়।
প্রশ্ন-৪৫. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে মুখস্থ বিদ্যাকে লেখিকা কী বলেছেন?
উত্তর: অর্থ উপার্জনের সহজ উপায়।
প্রশ্ন-৪৬. বাঙালির প্রিয় ফল কী কী?
উত্তর: আম ও কাঁঠাল।
প্রশ্ন-৪৭. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকা কোন পাউডারের কথা উল্লেখ করেছেন?
উত্তর: কালিডোর, মিল্ক অফ রোজ, ভিনোলিয়া পাউডার।
প্রশ্ন-৪৮. বাঙালি নারীরা কোন ধরনের শাড়ি পরেন?
উত্তর: হাওয়ার শাড়ি।
প্রশ্ন-৪৯. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকার মতে, কোন কাজটি রাজ্য স্থাপনের চেয়ে সহজ?
উত্তর: “রাজা” উপাধি লাভ করা।
প্রশ্ন-৫০. শিল্পে পারদর্শিতা অপেক্ষা কোনটি সহজ?
উত্তর: ই.ঝপ ও উ.ঝপ পাস করা।
প্রশ্ন-৫১. বড়লোকদের মৃত্যুতে কী করা সহজ?
উত্তর: শোকসভা করা।
প্রশ্ন-৫২. দুর্ভিক্ষে পরিশ্রম না করে কী করা সহজ?
উত্তর: আমেরিকার কাছে ভিক্ষা চাওয়া।
প্রশ্ন-৫৩. স্বাস্থ্যরক্ষার চেয়ে কী করা সহজ?
উত্তর: ডাক্তার ও ওষুধের ওপর নির্ভর করা।
প্রশ্ন-৫৪. সৌন্দর্য রক্ষায় কোনটি সহজ?
উত্তর: প্রসাধনী মেখে সৌন্দর্য অর্জনের চেষ্টা।
প্রশ্ন-৫৫. মার খেয়ে প্রতিশোধের চেয়ে কী সহজ?
উত্তর: মানহানির মামলা করা।
প্রশ্ন-৫৬. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে গৃহিণীরা কেন রান্না করেন না?
উত্তর: তাঁরা কোমলাঙ্গী, তাই অগ্নির উত্তাপ সহ্য করতে পারেন না।
প্রশ্ন-৫৭. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকা রান্নার অনুরোধকারীকে কী শাস্তি দিতে বলেন?
উত্তর: দগ্ধ করা, জবেহ করা, ফাঁসি দেওয়া।
প্রশ্ন-৫৮. বাঙালির কাব্যে কোন রস প্রধান?
উত্তর: করুণরস।
প্রশ্ন-৫৯. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকার মতে, বঙ্গদেশ কীভাবে ডুবে যাচ্ছে?
উত্তর: কবিতার অশ্রুজলের বন্যায়।
প্রশ্ন-৬০. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকার মতে, বাঙালির আত্মপ্রশংসা কেমন?
উত্তর: সীমাহীন ও অতিরঞ্জিত।


‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

প্রশ্ন-১. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে ‘মূর্তিমান কাজ’ বলেছেন কেন?
উত্তর: বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে ‘মূর্তিমান কাজ’ বলেছেন, কারণ তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে বাঙালির অলসতা, কর্মবিমুখতা ও কথার ফুলঝুরিকে তুলে ধরেছেন।
➠ তিনি দেখিয়েছেন, বাঙালি কঠোর পরিশ্রমের চেয়ে সৌন্দর্য, বিলাসিতা ও সহজপথে সাফল্য পাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগী। কৃষি, ব্যবসা, শিক্ষা-সব ক্ষেত্রেই তারা শ্রমের পরিবর্তে কৃত্রিমতা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়। বাস্তব ও কর্মমুখী জীবনের বদলে তারা অলসতা ও রসিকতায় মগ্ন বলেই রোকেয়া তাদের ‘মূর্তিমান কাজ’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন।

প্রশ্ন-২. ‘পাস বিক্রয়’ বলতে কী বোঝ?
উত্তর: ‘পাস বিক্রয়’ বলতে বাঙালি পুরুষদের মাঝে শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়ে যৌতুক গ্রহণের মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ ‘নিরীহ বাঙালি’, প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালির পরিশ্রমহীনতার দিকটি তুলে ধরেছেন। বাঙালি আলস্যপ্রিয়তার কারণে সহজে সম্পদ লাভ করতে চায়। এজন্য পুরুষরা একটু শিক্ষিত হলে সেই শিক্ষাগত যোগ্যতার অজুহাতে বিয়েতে যৌতুক নেয়। এভাবে বিনা পরিশ্রমে সম্পদ লাভের দিকটি বোঝাতেই লেখিকা পাস বিক্রয়ের কথা বলেছেন।

প্রশ্ন-৩. পাস বিক্রয় করা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে পাস বিক্রয় বলতে উচ্চশিক্ষিত বাঙালি যুবকদের বিয়ে করে অর্থ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা লাভের প্রবণতাকে বোঝানো হয়েছে।
➠ এখানে ‘পাস’ বলতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, যেমন MA, BA, বা অন্যান্য ডিগ্রি বোঝানো হয়েছে, যা বিয়ের বাজারে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেগম রোকেয়া ব্যঙ্গ করে বলেছেন যে, একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক (যার নিজস্ব উপার্জন বা কর্মদক্ষতা নেই) সহজেই ধনী পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হতে চায়, যেন এটি কোনো ব্যবসা বা লেনদেন। তিনি এই প্রবণতাকে সমাজের অলসতা ও পরিশ্রমবিমুখ মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

প্রশ্ন-৪. আমাদের কাব্যে বীর রস অপেক্ষা করুণ রস বেশি কেন?
উত্তর: দুর্বল ও নিরীহ মানসিকতার কারণেই আমাদের বীর রস অপেক্ষা করুণ রস বেশি।
➠ বাঙালি আলস্যপ্রিয় জাতি। কোনো কঠিন পরিশ্রম আমরা করতে চাই না। আমাদের খাদ্যভ্যাসও অনেক কোমল। তাই স্বভাবে ভীরুতাই বেশি। দুর্বলচিত্ত নিয়ে যখন কবিতা লিখতে বসি তখন করুণ ঘটনার প্রকাশ ঘটিয়ে থাকি। সাহস, দৃঢ়তা অপ্রিয়তার চেয়ে দয়া, করুণা ইত্যাদি দিকই প্রধান হয়ে ওঠে। আমাদের ভীরু মানসিকতা ও দুর্বল স্বভাবের কারণেই আমাদের কাব্যে করুণ রসের আধিক্য লক্ষণীয়।

প্রশ্ন-৫. ‘আমাদের এখানে লেখক অপেক্ষা লেখিকার সংখ্যা বেশি’ কেন?
উত্তর: আমাদের কাব্যে করুণ আবেগের প্রাধান্য লক্ষ করে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমাদের এখানে লেখক অপেক্ষা লেখিকার সংখ্যা বেশি।
➠ প্রাবন্ধিক তাঁর রচনায় সব বাঙালিকেই কবি বলে অভিহিত করেছেন। কবিতায় বীর রস অপেক্ষা করুণ রসের আধিক্য বেশি। এদের কবিতার স্রোতে বিনা কারণে অশ্রুপ্রবাহ বেশি। তাই বলা হয়েছে, লেখকের চেয়ে লেখিকার সংখ্যা বেশি।

প্রশ্ন-৬. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে মূর্তিমান কাব্য বলেছেন কেন?
উত্তর: আলস্যের কারণে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে মূর্তিমান কাব্য বলেছেন।
➠ সমাজ সচেতন লেখিকা বেগম রোকেয়া তার ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বাঙালির জীবনাচরণের নানা অসংগতিকে কটাক্ষ করেছেন। কর্মের মধ্য দিয়ে খ্যাতি অর্জনের চেয়ে বাঙালি অন্যের করুণায় পাওয়া খ্যাতিতেই বেশি খুশি হয়। পরিশ্রমে তাদের অনীহা আর সহজ কাজে তাদের আগ্রহ বেশি। পুরুষরা আলস্যপ্রিয় আর নারীরা অহেতুক রূপচর্চা, পরনিন্দা নিয়ে বেশি ব্যস্ত। ঘরের কোণে থাকতেই যেন তারা বেশি পছন্দ করে। বাঙালির এসব কর্মকা-ের কারণে লেখিকা তাদের মূর্তিমান কাব্য বলেছেন।

প্রশ্ন-৭. বাঙালি ধান্য তণ্ডুলের ব্যবসা করে না কেন?
উত্তর: বাঙালি ধান্য তণ্ডুলের ব্যবসা করে না, কারণ এই ব্যবসায় অধিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়।
➠ বাঙালি অলসতাপ্রিয় ও শ্রমকাতর জাতি। পরিশ্রমের দ্বারা সাফল্য লাভ করা বাঙালির পক্ষে কল্পনার অতীত। শারীরিক পরিশ্রম নেই অথচ লাভবান হওয়া যাবে এমন ব্যবসায় বাঙালি অভ্যস্ত। ধান্য তণ্ডুলের ব্যবসায় কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় বলেই বাঙালি এ ব্যবসা করে না।

প্রশ্ন-৮. ‘এমএ পাশ অমূল্য রত্ন, ইহা যে সে ক্রেতার ক্রেয় নহে।’—বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: এখানে বোঝানো হয়েছে যে, বিয়ের ক্ষেত্রে পাশ করা ছেলেরা তাদের শিক্ষার বিনিময়ে কনেপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি ধন-সম্পদের প্রত্যাশা করে।
➠ লেখকের মতে, বাঙালির অন্যতম ব্যাবসা পাশ ব্যাবসা। কোনো ছেলে যদি এম.এ পাশ করে তবে বিয়ের বাজারে সে অমূল্য রতে্নর মতো। তাকে জামাই হিসেবে কিনতে হলে মেয়ের বাবাকে কন্যার সাথে তার সব সম্পত্তির অধিকারও নতুন জামাইকে দিতে হবে। তাই এম.এ পাশ জামাই কেনা সব মেয়ের বাবার পক্ষে সম্ভব হয় না। এম.এ পাশের বিনিময়ে বরের চাহিদা কমপক্ষে ‘এক রাজকুমারী এবং অর্ধেক রাজত্ব’।

প্রশ্ন-৯. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধ অবলম্বনে বাঙালির সহজ কার্যনির্বাহের পরিচয় দাও।
উত্তর: টেকসই ও ধারাবাহিক উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। অথচ বাঙালি সবক্ষেত্রেই বিনা শ্রমে সহজভাবে সফলতা অর্জন করার পক্ষপাতী।
➠ বাঙালি পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদনের চেয়ে মুখস্থবিদ্যার জোরে পরীক্ষা পাশ করে আয়রোজগার করতে চায়। বাঙালি খ্যাতি অর্জনের জন্য মানবসেবায় শ্রম দেওয়ার চেয়ে কিছু টাকাপয়সা খরচ করে কোনো একটা উপাধি লাভ করে খ্যাতিমান হতে চায়। বাঙালি কষ্ট করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা করার চেয়ে স্বাস্থ্য নষ্ট করে ডাক্তারের কাছে গিয়ে ওষুধ খাওয়াকেই সহজ মনে করে।

প্রশ্ন-১০. ‘ভারতবর্ষকে ইংরেজি ধরনের একটি অট্টালিকা মনে করেন, তবে বঙ্গদেশ তাহার বৈঠকখানা’—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
➠ এই প্রসঙ্গে ভারতবর্ষের বাঙালি সমাজের প্রয়োজনীয়তা এবং উপযোগিতার উদাহরণ দিয়েছেন। প্রাবন্ধিক বুঝিয়েছেন ভারতবর্ষ যদি ইংরেজি ধরনের অট্টালিকা হয় তাহলে বাংলাদেশ তার বৈঠকখানা। কারণ একটি অট্টালিকার প্রয়োজনীয় অংশ হলো বৈঠকখানা। তেমনি ভারতবর্ষের ইতিবাচক এবং নেতিবাচকতার দুটির-ই অংশীদার হলো বঙ্গদেশ বা বাঙালি, এই ব্যাখ্যা প্রদানের উদ্দেশ্যেই প্রাবন্ধিক বলেছেন—ভারতবর্ষে ইংরেজি ধরনের অট্টলিকা হলে বঙ্গদেশ তার বৈঠকখানা।

প্রশ্ন-১১. বাঙালির পোশাক পরিচ্ছদের বর্ণনা দাও।
উত্তর: ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বাঙালি নারী-পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনাচারণের বিভিন্ন দিক যেমন—তুলে ধরা হয়েছে তেমনি বাঙালি নারী-পুরুষের খাদ্যাভাস এবং পোশাক পরিচ্ছদেরও বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
➠ পুরুষদের পোশাক সম্পর্কে বলা হয়েছে—নবনিগঠিত সুকোমল শরীরে পরিধেয় সূক্ষ্ম শিমলার ধুতি ও চাদর যাতে বায়ু সঞ্চালনে বাধা-বিঘœ হয়না। তবে সভ্যতার অনুরোধে কোট শার্ট ব্যবহার করেন বাঙালি পুরুষেরা। তবে নারীরা ইউরোপীয় নারীদের মতো শোবিজ জ্যাকেট ব্যবহার করেন না বরং অতি মসৃন ও সূক্ষ্ম ‘হাওয়ার শাড়ি’ পরেন। পোশাকের বর্ণনার মাধ্যমে প্রাবন্ধিক মূলত বাঙালির বৈশিষ্ট্য আচরণিক দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

প্রশ্ন-১২. ‘অর্ধেক রাজত্ব ও এক রাজকুমারী’—উক্তিটির প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করো।
উত্তর: ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বাঙালির কর্মবিমুখতা এবং সহজলভ্যতার বর্ণনা দিয়েছেন।
➠ এই প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক বাঙালি সমাজের পুরুষদের পাশ বিক্রয়ের কথা বলেছেন। অর্থাৎ যেখানে শিক্ষাগত সনদপত্রের প্রতি আলাদা একধরনের দুর্বলতা। বাঙালি সমাজে মেয়ের বাবা শারীরিক পরিশ্রমের চেয়ে শিক্ষাগত সনদপত্রকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যার কারণে বাঙালি ছেলেরা পাশ বিক্রয়ে মেতে উঠে আর এই পাশের মূল্য হলো অর্ধেক রাজত্ব এবং এক রাজকুমারী। পাশ বিক্রয়ের প্রসঙ্গেই প্রাবন্ধিক এই মন্তব্যটি করেছেন।

প্রশ্ন-১৩. ‘কৃষি বিভাগের কার্য করা অপেক্ষা মস্তিষ্ক উর্বর করা সহজ’ প্রাবন্ধিক এই বক্তব্যটি কাদের সম্পর্কে বলেছেন এবং কেন?
উত্তর: রোকেয়া সাখাওয়াত ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বাঙালিদের অলসতার অনেকগুলো রূপ দেখিয়েছেন।
➠ পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে বাঙালির অলসতা এবং আরামপ্রিয়তাকেও দেখিয়েছেন প্রাবন্ধিক। আমাদের অন্নবৃদ্ধির প্রধান উপায় হিসাবে কৃষি কাজের কথা প্রাবন্ধিক বলেছেন। তবে কৃষিকাজে, ভূমিকর্ষণে যে পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রম হয় তার থেকে মুখস্ত বিদ্যার জোরে অর্থ উৎপাদন করা সহজ বলে মনে করেন বাঙালিরা। তাই প্রাবন্ধিক বাঙালিদের সম্পর্কে উক্ত মন্তব্য করেছেন তাদের কর্মবিমুখতা এবং আরামপ্রিয়তার কারণে।

প্রশ্ন-১৪. বাঙালিরা তাদের কাজ যেভাবে সহজভাবে সম্পন্ন করে থাকে তার বর্ণনা দাও।
উত্তর: বাঙালিরা সহজভাবে কার্য সম্পাদন করে থাকে। তাদের কার্য সম্পাদনের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
➤ রাজ্য স্থাপন করা অপেক্ষা ‘রাজা’ উপাধি লাভ সহজ।
➤ শিল্পকার্যে পারদর্শী হওয়া অপেক্ষা B.Sc ও D.Sc পাশ করা সহজ।
➤ দেশের দুর্ভিক্ষ নিবারণের জন্য পরিশ্রম করা অপেক্ষা আমেরিকার নিকট ভিক্ষা গ্রহণ করা সহজ।
➤ স্বাস্থ্যরক্ষায় যত্নবান হওয়া অপেক্ষা স্বাস্থ্য নষ্ট করিয়া ঔষুধ ও ডাক্তারের হস্তে জীবন সমর্পণ করা সহজ।
➤ কারও নিকট প্রহারলাভ করে তৎক্ষণাৎ বাহুবলে প্রতিশোধ লওয়া অপেক্ষা মানহানির মোকাদ্দমা করা সহজ ইত্যাদি।

প্রশ্ন-১৫. ‘আমরা কোমলাঙ্গ- তাঁহারা কোমলাঙ্গী’—কাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটিতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী-পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনচরণের বিভিন্ন দিক হাস্যরসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন।
➠ বাঙালি পুরুষগণের অলসপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে যেমন—আলোচনা রয়েছে তেমনি নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতি আলোচনাও রয়েছে। নারী-পুরুষের এই বৈশিষ্ট্যের সমান্তরালে বাঙালি সমাজের চিত্র এঁকেছেন প্রাবন্ধিক। মূলত এ কারণেই প্রাবন্ধিক উক্ত মন্তব্যটি করেছেন।

প্রশ্ন-১৬. কৃষিকার্য বিষয়ে বাঙালির চিন্তাধারা বর্ণনা করো।
উত্তর: কৃষিকাজের বিষয়ে বাঙালির ধারণা অন্যতম নেতিবাচক।
➠ বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। কিন্তু কৃষিকাজ সম্পর্কে বাঙালির মনোভাব অত্যন্ত হতাশাজনক। বাঙালি পরিশ্রম করে ভূমি চাষাবাদের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের পক্ষপাতী নয়। জমিতে ফসল ফলানোর চেয়ে অহেতুক চিন্তাভাবনায় সময় কাটাতে তারা পছন্দ করে। কৃষিকাজে পারদর্শিতা দেখানোর চেয়ে মুখস্থ করে পরীক্ষা পাস তাদের নিকট সহজ ও উত্তম।

প্রশ্ন-১৭. বাঙালির নকল প্রবণতা সম্পর্কে লেখকের অভিমত ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: লেখকের মতে, বাঙালি কষ্ট করে কোনো জিনিস তৈরি করার চেয়ে অন্যেরটা দেখে নকল পণ্য তৈরি করতে উৎসাহী।
➠ বাঙালি বিনা কষ্টে সহজেই কোনো কাজ সম্পাদন করতে চায়। এজন্য অন্যের দেখাদেখি নকল পণ্য তৈরির কাজে খুব দক্ষ। লেখক উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ হয়তো 'কুন্তলীন' নামের কেশতেল বাজারে নিয়ে আসল। কিছুদিনের মধ্যে আরেকজন নকল করে ‘কেশলীন’ নামের কেশতেল বাজারে ছাড়ে। বাঙালির নকল প্রবণতার জন্য দোকানে দোকানে নানা প্রকার বিলাসদ্রব্য, রঙিন পিতলের অলংকার, নকল হীরার আংটি, বোতাম ইত্যাদি পাওয়া যায়।

প্রশ্ন-১৮. ‘Old fool শ্বশুরের যথাসর্বস্ব লুণ্ঠন করা সহজ।’—কথাটির ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রবন্ধকার শিক্ষিত বাঙালি বরের মানসিকতাকে উন্মোচন করেছেন।
➠ আমাদের বিএ, এমএ পাশ বাঙালি বর পাশ বিক্রেতা। আর পাশ ক্রেতা হলো ঙষফ ভড়ড়ষ শ্বশুর। এক একটা পাশের মূল্য এক রাজকুমারী এবং রাজত্ব লাভ। তাই শ্রমকাতর বাঙালি বর ভেবেছে, সশরীরে পরিশ্রম করে মুদ্রা লাভ অপেক্ষা ঙষফ ভড়ড়ষ শ্বশুরের যথাসর্বস্ব লুণ্ঠন করা সহজ।

প্রশ্ন-১৯. “অল্পবিস্তর অর্থ ব্যয়ে দেশে কোনো মহৎকার্য দ্বারা খ্যাতি লাভ করা অপেক্ষা ‘রায় বাহাদুর’ উপাধি লাভের জন্য অর্থ ব্যয় করা সহজ।”—উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: এখানে বাঙালির হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
➠ বাঙালি সামান্য অর্থব্যয়ে মহৎকাজ করা অপেক্ষা রায় বাহাদুর খ্যাতি লাভের জন্য অধিক অর্থ ব্যয়ে আগ্রহী। দেশের কল্যাণে যে মহত্ত্ব রয়েছে, তা বোঝার জন্য প্রয়োজন উন্নত মানসিকতা। বাঙালির সে মানসিকতার অভাব। তারা শাসকদের তোষামোদে লিপ্ত হয়। যার বদৌলতে লাভকরে ‘খাঁ বাহাদুর’, 'রায় বাহাদুর' উপাধি। এজন্য তারা অর্থ ব্যয়ে কুণ্ঠিত হয় না। বাঙালির এ ধরনের স্বভাবের সমালোচনা করেছেন লেখক।

প্রশ্ন-২০. ‘আমরা কোমলাঙ্গ—তাঁহারা কোমলাঙ্গী’ কথাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আমরা কোমলাঙ্গ, তাঁহারা কোমলাঙ্গী’ কথাটি পুরুষ ও স্ত্রীলোকের স্বভাব বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে।
➠ পুরুষ কোমলাঙ্গ, স্ত্রীলোক কোমলাঙ্গী। বাঙালি পুরুষরা সাধারণত শ্রমবিমুখ, অলস। যে কাজ ফাঁকি দিয়ে সহজেই উদ্ধার করা সম্ভব তারা সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। কঠিন পরিশ্রম করে তারা ব্যবসা করে না, রোদে গিয়ে মাঠের ফসল রক্ষণ করে না, কঠোর পরিশ্রমে বিদ্যার্জন করে না। এজন্য তারা কোমলাঙ্গ। ঠিক সে বিবেচনায় নারীরা স্বভাবতই কোমলাঙ্গী।

প্রশ্ন-২১. আমরা ধান, তুলার ব্যবসায় করি না—কেন?
উত্তর: আমরা ধান, তুলার ব্যবসায় করি না, কারণ এসব ব্যবসায় প্রচুর কায়িক শ্রম ক্ষয় হয়।
➠ বাঙালি স্বভাবে ভীরু ও জাতিতে আরামপ্রিয়। বাণিজ্য এ জাতির প্রধান ব্যবসায়। বাণিজ্যে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু বাঙালি জাতি বাণিজ্যে অনেক পরিশ্রম করে না। যেসব ব্যবসায় পরিশ্রমসাধ্য, বাঙালি সেসব ব্যবসায় এড়িয়ে চলে। সহজসাধ্য ও নিশ্চিত লাভ আছে, এমন ব্যবসায় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যদিও সেসব ব্যবসায়ের বেশির ভাগই ফাঁকি।

প্রশ্ন-২২. ‘আমাদের কাব্যে বীররস অপেক্ষা করুণরস বেশি’—কেন?
উত্তর: আমাদের দুর্বল মানসিকতার কারণেই আমাদের কাব্যে বীররস খুব কম, আর করুণরস অনেক বেশি।
➠ বাঙালি জাতি অনেক বেশি অলস। কোনো কঠিন পরিশ্রম আমরা স্বীকার করি না। আমাদের খাদ্যাভ্যাসও অনেক কোমল। এসব কারণেই আমাদের মধ্যে ভীরুতার স্থান বেশি। আমাদের চিত্ত দুর্বল, ফলে আমরা যখন কাব্য লিখতে বসি, তখন করুণ ঘটনার উপস্থাপন করতে ভালোবাসি। করুণরস সাধারণত করুণা ও দয়া উৎপাদন করে। বস্তুত এ করুণরসের আধিক্যের কারণ আমাদের ভীরু মানসিকতা ও ভঙ্গুরে স্বভাব।


‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নন্দ বাড়ির হত না বাহির, কোথা কী ঘটে কি জানি, চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি। নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে কলিশন হয়, হাঁটিলে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়। তাই শুয়ে শুয়ে কষ্টে বাঁচিয়া রহিল নন্দলাল। সকলে বলিল, ‘ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক চিরকাল’।

ক. কোন জাতীয় পোশাককে ইংরেজ ললনাদের নির্লজ্জ পরিচ্ছদ বলা হয়েছে?
খ. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালিকে ‘মূর্তিমান কাজ’ বলেছেন কেন?
গ. নন্দলালের বৈশিষ্ট্য ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে যাদের কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করে তাদের স্বরূপ তুলে ধরো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের উপেক্ষিত দিকটি বিশ্লেষণ করো।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দেখা হলেই মিস্ট অতি
মুখের ভাব শিষ্ট অতি
অলস দেহ ক্লিষ্ট গতি,
গৃহের প্রতি টান-
তৈল ঢালা স্নিগ্ধ তনু
নিদ্রা রসে ভরা
মাথায় ছোট বহরে বড়
বাঙালি সন্তান।

ক. মুসলিম নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে রোকেয়া কী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
খ. আমাদের খাদ্যবস্তুকে লেখিকা ত্রিগুণাত্মক বলেছেন কেন?
গ. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের যে দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. প্রবন্ধ এবং উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই বাঙালির প্রতি কটাক্ষের বাণ নিক্ষেপ করা হয়েছে উপযুক্ত মতামত দাও।

ক. মুসলিম নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে বেগম রোকেয়া 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
খ. সরস, সুস্বাদু, মধুর- এই তিনটি গুণের কারণে আমাদের খাদ্য বস্তুকে লেখিকা ত্রিগুণাত্মক বলেছেন।
➠ বাঙালি রসনাবিলাসী। তার খাদ্য তালিকায় চর্য্য, চোষ্য, পেয় সবই অতি উচ্চমানসম্পন্ন হওয়া আবশ্যক। আমাদের শাকসবজিগুলো অতিশয় সরস। দুগ্ধজাত মিষ্টান্ন জাতীয় খাদ্য দ্রব্য অতিশয় সুস্বাদু। আর ফল-ফলাদি মধুর। তাই সব মিলিয়ে লেখিকা আমাদের খাদ্যবস্তুকে ত্রিগুণাত্মক বলেছেন।

গ. আলোচ্য অনুচ্ছেদে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে ফুটে ওঠে বাঙালির আলস্যে-বুদ্ধিহীনতা অথচ সাজসজ্জায় আড়ম্বর এবং অতি বিনয়ের দিকটি উদ্দীপকে ধরা পড়েছে।
➠ আমাদের বাঙালি সমাজ অতিশয় সজ্জনের ছদ্মাবরণে যে আলস্য ও ভালো মানুষীর নির্বিবাদ লালনের মহড়া দিয়ে চলেছে তা রীতিমতো হৃদয় বিদারক। তারা কঠিন কাজের দিক থেকে সবসময় মুখ ফিরিয়ে রাখে। সহজলভ্য বস্তুর প্রতি তাদের নজর। যে কাজে শ্রম লাগে, ঝুঁকি আছে সে কাজে তার উপস্থিতি নজরে আসে না। তার ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে তাকে বরং ভীরু বা কাপুরুষ বিশেষণে বিশেষিত করা যায়। লেখিকা তাই উপহাস করে পুরুষকে পুরুষিকা বলেছেন।
➠ উদ্দীপকটির বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে যেন আমরা প্রবন্ধেরই প্রতি ছবি পাই। এখানেও বাঙালি পুরুষের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। বাঙালি পুরুষেরা অলস, কর্মবিমুখ, অতিশয় ভদ্র। সবিনয়ে, সলজ্জ হাসিতে সে অভ্যাগতদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করে বা নিবেদন করে। সব সময় যেন তাকে তন্দ্রালস্য ছেঁকে ধরে থাকে। এছাড়া গৃহকাতরতা তার মজ্জাগত বিষয়। সুতরাং দেখা যায়, বাঙালির বর্ণনায় উভয়েই প্রায় অভিন্ন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।

ঘ. প্রবন্ধ এবং উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই বাঙালির প্রতি কটাক্ষের বাণ নিক্ষেপ করা হয়েছে- উক্তিটি যৌক্তিক।
➠ মানুষ সুখে যেমন হাসে তেমনি অতি দুঃখেও কখনো কখনো হাসে। সে হাসিতে ভিতরের উচ্ছ্বাস প্রকাশ পায় না বরং মনের ক্লেদই প্রকাশ পায়। প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আমাদের সমাজের মায়েরা যেমন মনের খেদে কখনো কখনো প্রশংসা করে তেমনি বাঙালি জাতির অভিভাবক হিসেবে আলোকবর্তিকা হাতে যাঁরা অগ্রসরমান তাঁরা আমাদের নিয়ে বিব্রত। তাই মনের খেদে নিজেদের বুক চিরে নিজেরাই রক্তাক্ত হয়েছেন। তার পরে যেন বুকের দুঃখ বুকে ধারণ করতে না পেরে চোখের জলে তা ধুতে বসেছেন।
➠ উদ্দীপকে যে পরিচয় বিধৃত হয়েছে তাতে অতি ভদ্র পুরুষগুলো নারীর কমনীয়তাকে যেন পশ্চাতে ফেলে এগিয়ে গেছে। আমাদের পৌরুষ কোথায় গিয়ে নিঃশেষ হয়ে গেল তা ভাববার বিষয়। আমরা এ স্বনির্মিত বিবর থেকে বের হতে না পারলে যথার্থ মুক্তি কখনোই আমাদের কাছে ধরা দেবে না। ইউরোপের নারীরা পুরুষের পোশাক পরে পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আর আমরা বাঙালি পুরুষেরা নারীর পোশাক পরে নারীর চেয়েও হীন অবস্থায় পতিত হতে বসেছি।
➠ সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপক ও প্রবন্ধ উভয়ক্ষেত্রেই চাপা ক্ষেদোস্তি প্রকাশ পেয়েছে।


‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ঐ মহিলার গয়নাগুলো যেমন ভারী, তেমনিতর দামি,
আমার ভাগ্যে জুটছে একটা ভ্যাঁদলামাকা স্বামী।
ঐ মহিলা পরছে দেখ শাড়ি বেনারসি,
আর মহিলার মুখে কেমন মুক্তোঝরা হাসি।
ঐ ছেলেটা ফস্যা কেমন কেবল নাকটা একটু বোঁচা
আমার ছেলে, হায়রে কপাল সবার মধ্যে ওচা।

ক. কার সমুদয় সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা নিয়ে বাঙালি গঠিত হয়েছে?
খ. ‘আজি কালি কোন জিনিসটার নকল না হয়।’- বাক্যটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের অনুপস্থিত দিকটি বিশ্লেষণ করো।

ক. বিশ্বজগতের সমুদয় সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা নিয়ে বাঙালি গঠিত হয়েছে।
খ. বাঙালি যে সব কিছু নকল করতে সিদ্ধহস্ত সেই বিষয়টিই লেখিকা বোঝাতে চেয়েছেন।
➠ কোনো পণ্য তৈরি করলে সাথে সাথে তার নকল পণ্যও তৈরি করে ফেলে বাঙালি। দীর্ঘকেশী তেলও প্রস্তুত করলে তার মতো করে হ্রস্বকেশী তেল বের করে। কুন্তলীনের সাথে বিক্রয় হয় কেশলীন। মস্তিষ্ক স্নিগ্ধকারী ওষুধের সাথে সাথে মস্তিষ্ক উষ্ণকারী দ্রব্যও পাওয়া যায় বাজারে। যত প্রকার নকল ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস সবই বাঙালি তৈরি করে।

গ. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধ অবলম্বণে বাঙালি নারীদের ভূষণ বিলাসের দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের আলোকে বাঙালিদের শ্রমকাতরতা ও আলস্যের দিকটি পর্যালোচনা করো।


‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
বিশ্বের যা- কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। বিশ্বে যা কিছু এল পাপ তাপ বেদনা অশ্রুবারি অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী জগতের যত বড় বড় জয় বড় বড় অভিযান মাতা, ভগ্নী ও বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান।

ক. আমাদের কাব্যে কোন রস বেশি?
খ. ‘আমাদের অন্যতম ব্যবসায়-পাস বিক্রয়।’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটির সাথে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে প্রতিনিধিত্ব করে না।”- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কাহারো বাড়িতে গেলে দেখিবে চালের উপর খড় নাই, ঘরখানার চারদিকে আবর্জনাময়, বসিবার একটু স্থান নাই, মাথার উপর মাকড়শার জাল ঝুলিতেছে- এইরূপ হীন অবস্থা। কিন্তু জল খাবারের সময় দেখিবে, অতি উৎকৃষ্ট পরোটা, কোরমা, কাবাব উপস্থিত। আমরা কেবলই রসনা-পূজায় সময় কাটাই। আধ্যাত্মিক জীবন আমাদের নাই বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। রমণী রাঁধুনীরূপে জন্মগ্রহণ করে এবং মরণে বাবুর্চি জীবনলীলা সাঙ্গ করে। আমাদের সুখের চরম সীমা সচরাচর উপাদেয় খাদ্য রাঁধিতে শিক্ষা করা ও বিবিধ অলঙ্কার ব্যবহার করা পর্যন্ত।

ক. আমাদের কী অতিশয় সরস?
খ. লেখিকা বাঙালির খাদ্য সামগ্রীকে ত্রিগুণাত্মক বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের রসনা বিলাসের সাথে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের রসনা পূজার সাদৃশ্য কী? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটিতে তোমার পাঠ্যবইয়ের ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের আংশিক বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।”- মূল্যায়ন করো।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পারীর পুরুষেরা অসম্ভব রকমের বাচাল, ভোজনপটু আর অলস। কথার আসর বসলে শেষই হতে চায় না। খাবারের জন্য বাজার ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করে। শারীরিক পরিশ্রমের ভয়ে কম পরিশ্রমের বা বিনা পরিশ্রমের ব্যবসা বেছে নেয়। বিদ্যা শিক্ষার ব্যাপারে পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রেখে বিদ্যালয়ে গমন করে খ্যাতি লাভের আশায়। বংশের মান রাখতে স্ত্রীর ওপর কর্তৃত্ব চালাতে ভুল করে না। এসব কারণে পারীর পুরুষেরা জগতে স্বতন্ত্র হয়ে আছে।

ক. যে পুরুষ স্ত্রীকে রন্ধন করতে বলে বেগম রোকেয়ার মতে, তার ‘২য় দণ্ড’ কী হওয়া উচিত?
খ. “রাজ্য স্থাপন করা অপেক্ষা ‘রাজা’ উপাধি লাভ সহজ”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের পারীর পুরুষের মধ্যে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে উল্লিখিত পুরুষের কোন দিকটি অনুপস্থিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সবদিককেই তুলে ধরে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
প্রদীপ একজন দোকানদার। তার দোকানে মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে শুধু নানা প্রকারের বলবর্ধক ওষুধ এবং রাঙা পিতলের অলংকার, নকল হীরার আংটি, বোতাম ইত্যাদি বিক্রয়ের জন্য মজুদ আছে। এই ব্যবসায়ে তার খুব একটা পরিশ্রম করতে হয় না। সে দোকানে আসল থেকে নকল জিনিসই বেশি রাখে।

ক. বেগম রোকেয়া কার তত্ত্বাবধানে ইংরেজি শেখেন?
খ. বাঙালি পুরুষ কোর্ট শার্ট ব্যবহার করে কেন?
গ. উদ্দীপকের মধ্যে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. প্রদীপের ব্যবসায়ে কায়িক পরিশ্রম নেই- উক্তিটি কতটুকু যৌক্তিক ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের আলোকে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করো।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অন্নপায়ী বঙ্গবাসী
স্তন্যপায়ী জীব
জন দশেকে জটলা করি
ভক্তপোশে বসে।
ভদ্র মোরা, শান্ত বড়ো
পোষমানা এ প্রাণ,
বোতাম আঁটা জামার নিচে
শান্তিতে শয়ান।

ক. বিশ্ব জাতের কী দ্বারা বাঙালি গঠিত হয়েছে?
খ. লেখিকা বাঙালিকে ‘মূর্তিমান কাব্য’ বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে নিরীহ বাঙালির কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি নারী-পুরুষের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন তা বিশ্লেষণ করো।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
স্তবক-১: পদে পদে ছোট ছোট নিষেধের ডোরে বেঁধে বেঁধে রাখিয়ো না ভালো ছেলে করে।
স্তবক-২: শাবাশ বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়; জ্বলে-পুড়ে মরে ছার খার তবু মাথা নোয়াবার নয়।

ক. কুন্তলীনের সঙ্গে কী বিক্রয় হয়?
খ. অর্থ উৎপাদনের চেয়ে অন্নোৎপাদন কেন বেশি জরুরি?
গ. উদ্দীপকের কোন স্তবকটি ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. স্তবক-২ এ বাঙালি চত্রির মানসের দৃঢ়তাই ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের মূল উপজীব্য-যৌক্তিক বিশ্লেষণ করো।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির
গালি দিয়া সব গদ্যে-পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির।
পড়িল ধন্য, দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন
লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায় খায় তার দশ গুণ।
খাইতে ধরিল লুচি আর ছোঁকা সন্দেশ থাল-থাল
তখন সকলে বলিল, বাহবা, বাহবা, নন্দলাল।

ক. ‘শুভ্রনীলাম্বর’ অর্থ কী?
খ. লেখিকা বাঙালির খাদ্য সামগ্রীকে ত্রিগুণাত্মক বলেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকের প্রথম চার চরণে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের কোন দিকটি দৃশ্যমান? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের নন্দলাল, ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের বাঙালির দর্পণ স্বরূপ।”- মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আত্মোন্নতির জন্য পরিশ্রম এবং উদ্যম অপরিহার্য। সততার ভেতর দিয়ে যেমন সত্তার মহিমা উদ্ভাসিত হয়, কাজের মাধ্যমেও তেমনি সমাজে স্বনির্ভর মানুষের অফুরন্ত শক্তির প্রকাশ ঘটে। দুঃখ হয় তখন, যখন দেখি, উদীয়মান যুবকের মধ্যে সম্ভাবনাময় শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা পরানুগ্রহের মোহে দুয়ারে দুয়ারে চাকরির জন্য মাথা কুটে মরছে।

ক. কৃষিকাজে পারদর্শিতা প্রদর্শন অপেক্ষা কী পাস করা সহজ?
খ. ভারতবর্ষ ও বাঙালিকে রোকেয়া কী ভাবে তুলনা করেছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্যগুলো ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের মূল সুর এক ও অভিন্ন। মূল্যায়ন করো।

-----------

‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কবির সাহেব প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে একটি ব্যবসা দাঁড় করালেন। তার দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই পাওয়া যায়। কোনো ভেজাল সামগ্রী তিনি দোকানে রাখেন না। তাঁর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেন। চারদিকে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তার এ ধরনের কাজকে সকলেই স্বাগত জানায়।

ক. একটি পাসের মূল্য কত?
খ. বাঙালি ধান তণ্ডলের ব্যবসা করে না কেন?
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের কোন ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়? উপস্থান করো।
ঘ. কবির সাহেবের ব্যবসা প্রক্রিয়া বাঙালির ধনবৃদ্ধির উপায়ের বিপরীত-‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

-----------

তথ্যসূত্র :
১. বাংলা সাহিত্য: নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. রচনাসমগ্র: বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, ঝিনুক প্রকাশনী, জুলাই ২০১১। ৩. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল ২০১৮।
৪. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url