সুখী মানুষ- মমতাজউদদীন আহমদ
|
| সুখী মানুষ |
সুখী মানুষ
মমতাজউদদীন আহমদ
চরিত্র পরিচিতি
| নাম | বয়স |
| মোড়ল | ৫০ |
| কবিরাজ | ৬০ |
| হাসু | ৪৫ |
| রহমত | ২০ |
| লোক | ৪০ |
(প্রথম দৃশ্য)
[মোড়লের অসুখ। বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে। কবিরাজ মোড়লের নাড়ি পরীক্ষা করছে। মোড়লের আত্মীয় হাসু মিয়া আর মোড়লের বিশ্বাসী চাকর রহমত আলী অসুখ নিয়ে কথা বলছে।।
হাসু : রহমত, ও রহমত আলী।
রহমত : শুনছি।
হাসু : ভালো করে শোনো, ঐ কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, তোমার মোড়লের নিস্তার নাই।
রহমত : অমন ভয় দেখাবেন না। তাহলে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে লেগে যাব।
হাসু : কাঁদ, মন উজাড় করে কাঁদ। তোমার মোড়ল একটা কঠিন লোক। আমাদের সুবর্ণপুরের মানুষকে বড় জ্বালিয়েছে। এর গরু কেড়ে, তার ধান লুট করে তোমার মোড়ল আজ ধনী। মানুষের কান্না দেখলে হাসে।
রহমত : তাই বলে মোড়লের ব্যারাম ভালো হবে না কেন?
হাসু : হবেই না তো। মোড়ল যে অত্যাচারী, পাপী। মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না। দেখে নিও, মোড়ল মরবে।
রহমত : আর আজে-বাজে কথা বলবেন না। আপনি বাড়ি যান।
কবিরাজ : এত কোলাহল করো না। আমি রোগীর নাড়ি পরীক্ষা করছি।
রহমত : ও কবিরাজ, নাড়ি কী বলছে। মোড়ল বাঁচবে তো।
কবিরাজ : মূর্খের মতো কথা বল না। মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়। আমি যা বলি মনোযোগ দিয়ে তাই শ্রবণ কর।
হাসু : আমাকে বলুন। মোড়ল আমার মামাতো ভাই।
রহমত : মোড়ল আমার মনিব।
কবিরাজ : এই নিষ্ঠুর মোড়লকে যদি বাঁচাতে চাও, তাহলে একটি কঠিন কর্ম করতে হবে।
হাসু : বাঘের চোখ আনতে হবে?
কবিরাজ : আরও কঠিন কাজ।
রহমত : হিমালয় পাহাড় তুলে আনব?
কবিরাজ : পাহাড়, সমুদ্র, চন্দ্র, নক্ষত্র কিছুই আনতে হবে না।
মোড়ল : আর সহ্য করতে পারছি না। জ্বলে গেল। হাড় ভেঙে গেল। আমাকে বাঁচাও।
কবিরাজ : শান্ত হও। ও রহমত, মোড়লের মুখে শরবত ঢেলে দাও। (রহমত মোড়লকে শরবত দিচ্ছে)
হাসু : ঐ মোড়ল জোর করে আমার মুরগি জবাই করে খেয়েছে। আমি আজ মুরগির দাম নিয়ে ছাড়ব।
মোড়ল : ভাই হাসু এদিকে এস, আমি সব দিয়ে দেব। আমাকে শাস্তি এনে দাও।
কবিরাজ : মোড়ল, তুমি কি আর কোনোদিন মিথ্যা কথা বলবে?
মোড়ল : আর বলব না। এই তোমার মাথায় হাত রেখে প্রতিজ্ঞা করছি, আর কোনোদিন মানুষের ওপর জবরদস্তি করব না। আমাকে ভালো করে দাও।
কবিরাজ : লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। আর কোনোদিন লোভ করবে?
মোড়ল : না। লোভ করব না, অত্যাচার করব না। আমাকে শাস্তি দাও। সুখ দাও।
কবিরাজ : তাহলে মনের সুখে শুয়ে থাক, আমি ওষুধের কথা চিন্তা করি।
মোড়ল : সুখ কোথায় পাব? আমাকে সুখ এনে দাও।
হাসু : অন্যের মনে দুঃখ দিলে কোনোদিন সুখ পাবে না।
মোড়ল : আমার কত টাকা, কত বড় বাড়ি। আমার মনে দুঃখ কেন?
কবিরাজ : চুপ কর। যত কোলাহল করবে তত দুঃখ বাড়বে। হাসু এদিকে এস, আমার কথা শ্রবণ কর। মোড়লের ব্যামো ভালো হতে পারে, যদি...
রহমত : যদি কী?
কবিরাজ : যদি আজ রাত্রির মধ্যেই-
হাসু : কী করতে হবে?
কবিরাজ : যদি একটি ফতুয়া সংগ্রহ করতে পার।
রহমত : ফতুয়া?
কবিরাজ : হ্যাঁ, জামা। এই জামা হবে একজন সুখী মানুষের। তার জামাটা মোড়লের গায়ে দিলে, তৎক্ষণাৎ তার হাড় মড়মড় রোগ ভালো হবে।
রহমত : এ তো খুব সোজা ওষুধ।
কবিরাজ : সোজা নয়, খুব কঠিন কাজ। যাও, সুখী মানুষকে খুঁজে দেখ। সুখী মানুষের জামা না হলে অসুখী মোড়ল বাঁচবে না।
মোড়ল : আমি বাঁচব। জামা এনে দাও, হাজার টাকা বখশিশ দেব।
(দ্বিতীয় দৃশ্য)
[বনের ধারে অন্ধকার রাত। চাঁদের স্নান আলো। ছোট একটি কুঁড়েঘরের সামনে হাসু মিয়া ও রহমত গালে হাত দিয়ে ভাবছে।
রহমত : কী তাজ্জব কথা, পাঁচ গ্রামে একজনও সুখী মানুষ পেলাম না। যাকেই ধরি, সেই বলে, না ভাই, আমি সুখী নই।
হাসু : আর তো সময় নাই ভাই, এখন বারোটা। সুখী মানুষ নাই, সুখী মানুষের জামাও নাই। মোড়ল তো তাহলে এবার মরবে।
রহমত : আহা রে, আমরা এখন কী করব। কোথায় একটা মানুষ পাব, যে কিনা-
হাসু : পাওয়া যাবে না। সুখী মানুষ পাওয়া যাবে না। সুখ বড় কঠিন জিনিস। এ দুনিয়াতে ধনী বলছে, আরও ধন দাও; ভিখারি বলছে, আরও ভিক্ষা দাও; পেটুক বলছে, আরও খাবার দাও। শুধু দাও আর দাও। সবাই অসুখী। কারও সুখ নেই।
রহমত : আমরাও বলছি, মোড়লের জন্য জামা দাও, আমাদের বখশিশ দাও। আমরাও অসুখী।
হাসু : চুপ চুপ। ঘরের মধ্যে কে যেন কথা বলছে।
রহমত : ভূত নাকি? চলেন, পালিয়ে যাই। ধরতে পারলে মাছভাজা করে খাবে।
হাসু : এই যে, ভাই। ঘরের মধ্যে কে কথা বলছ? বেরিয়ে এস।
রহমত : ভূতকে ডাকবেন না।
[ঘর থেকে একজন লোক বেরিয়ে এলো।]
লোক : তোমরা কে ভাই? কী চাও?
হাসু : আমরা খুব দুঃখী মানুষ। তুমি কে?
লোক : আমি একজন সুখী মানুষ।
হাসু : আঁ। তোমার কোনো দুঃখ নাই?
লোক : না। সারাদিন বনে বনে কাঠ কাটি। সেই কাঠ বাজারে বেচি। যা পাই, তাই দিয়ে চাল কিনি, ডাল কিনি। মনের সুখে খেয়ে-দেয়ে গান গাইতে-গাইতে শুয়ে পড়ি। এক ঘুমেই রাত কাবার।
হাসু : বনের মধ্যে একলা ঘরে তোমার ভয় করে না? যদি চোর আসে?
লোক : চোর আমার কী চুরি করবে?
হাসু : তোমার সোনাদানা, জামাজুতা?
(লোকটি প্রাণখোলা হাসি হাসছে)
রহমত : হা হা করে পাগলের মতো হাসছ কেন ভাই।
লোক : তোমাদের কথা শুনে হাসছি। চোরকে তখন বলব, নিয়ে যাও, আমার যা কিছু আছে নিয়ে যাও।
হাসু : তুমি তাহলে সত্যিই সুখী মানুষ।
লোক : দুনিয়াতে আমার মতো সুখী কে? আমি সুখের রাজা। আমি মস্ত বড় বাদশা।
রহমত: ও বাদশা ভাই, তোমার গায়ের জামা কোথায়? ঘরের মধ্যে রেখেছ? তোমাকে একশ টাকা দেব। জামাটা নিয়ে এস।
লোক : জামা!
রহমত : জামা মানে জামা। এই যে, আমাদের এই জামার মতো জিনিস। তোমাকে পাঁচশ টাকা দেব। জামাটা নিয়ে এস, মোড়লের খুব কষ্ট হচ্ছে।
লোক : আমার তো কোনো জামা নাই ভাই!
হাসু : মিছে কথা বল না।
লোক : মিছে বলব কেন? আমার ঘরে কিছু নাই। সেই জন্যই তো আমি সুখী মানুষ।
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার উৎস নির্দেশ: |
|---|
| -- |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার শব্দার্থ ও টীকা: |
|---|
|
➠ কবিরাজ- বৈদ্য; আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে যিনি চিকিৎসা করেন। ➠ নাড়ি পরীক্ষা- কবজির ধমনির গতি দেখে রোগ নির্ণয়। ➠ মূর্খ- নির্বোধ, বোকা, অজ্ঞ। ➠ শ্রবণ- কানে শোনা। ➠ জবরদস্তি- জোরাজুরি। ➠ ব্যামো- অসুখ, রোগ, ব্যারাম। ➠ তাজ্জব- অদ্ভুত, বিস্ময়কর। ➠ প্রাণখোলা- অকৃত্রিম, উদার, খোলা মনের। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার পাঠের উদ্দেশ্য: |
|---|
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকা পাঠ করে শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করবে যে, অন্যায় ও অনৈতিকভাবে উপার্জিত অর্থ-বিত্তই মানুষের অশান্তির মূল কারণ। বরং সৎ পথে নিজ পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করলেই জীবনে শান্তি মেলে। সুতরাং নীতিহীন পথে সম্পদ উপার্জনের পথ পরিহার করাই উত্তম। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব: |
|---|
|
‘সুখী মানুষ’ মমতাজউদদীন আহমদের একটি নাটিকা। এর দুটি মাত্র দৃশ্য। নাটিকাটির কাহিনিতে আছে, মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে, ধনী হওয়া এক মোড়লের জীবনে শাস্তি নেই। চিকিৎসক বলেছেন, কোনো সুখী মানুষের জামা গায়ে দিলে মোড়লের অসুস্থতা কেটে যাবে। কিন্তু পাঁচ গ্রাম খুঁজেও একজন সুখী মানুষ পাওয়া গেল না। শেষে একজনকে পাওয়া গেল, যে নিজের শ্রমে উপার্জিত আয় দিয়ে কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করে সুখে দিন কাটাচ্ছে। তার কোনো সম্পদ নেই, ফলে চোরের ভয় নেই। সুতরাং শান্তিতে ঘুমোনোর ব্যাপারে তার কোনো দুশ্চিন্তাও নেই। শেষ পর্যন্ত সুখী মানুষ একজন পাওয়া গেলেও দেখা গেল তার কোনো জামা নেই। সুতরাং মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না। নাটকের মূল বক্তব্য সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। একজনের অনেক সম্পদ থেকেও সুখ নেই। আবার আরেকজনের কিছু না থাকলেও সে সুখী থাকতে পারে। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কবি পরিচিতি: |
|---|
| মমতাজউদদীন আহমদ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা শেষে ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশে একজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা- নাটক: স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, রাজা অনুধারের পালা, সাত ঘাটের কানাকড়ি, আমাদের শহর, হাস্য লাস্য ভাষ্য; প্রবন্ধ-গবেষণা: বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত, বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত ইত্যাদি। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২রা জুন ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কর্ম-অনুশীলন: |
|---|
| ক. ‘অর্থ-ঐশ্বর্যই সুখের একমাত্র নিয়ামক’-এ বিষয় অবলম্বনে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করো। (শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে)। খ. তোমার আশেপাশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত অবলম্বনে ‘সুখ’ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো। (একক কাজ)। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন: |
|---|
প্রশ্ন থেকে
অভিনন্দন!
|
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. মোড়লের বিশ্বাসী চাকর কে? |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: |
|---|
|
১. মোড়ল বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিল কেন?
২. অমন ভয় দেখাবেন না—রহমতের একথা বলার কারণ কী?
৩. কাঠুরিয়া লোকটি নিজেকে সুখী মনে করে কেন?
৪. “তোমার মোড়লের নিস্তার নাই।”—হাসুর এ কথা বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
৫. ‘দুনিয়াতে আমার মতো সুখী কে? আমি সুখের রাজা।’ —ব্যাখ্যা করো।
৬. রহমত কেন হাউমাউ করে কাঁদার কথা বলল?
৭. মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষদের ওপর কী রকম অত্যাচার করেছে?
৮. রহমত এবং হাসুও নিজেদের অসুখী মনে করে কেন?
৯. মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না কেন?
১০. হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করে কেন?
১১. হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে কেন?
১২. মোড়লের প্রতি হাসুর সমবেদনা নেই কেন?
১৩. সুখকে কঠিন জিনিস বলা হয়েছে কেন? বুঝিয়ে লেখ
১৪. “মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না।” —ব্যাখ্যা করো।
১৫. ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়।’- এ কথাটির গভীরতা নির্দেশ করো।
১৬. ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’—এ কথাটি কেন বলা হয়েছে?
১৭. “ঐ কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, তোমার মোড়লের নিস্তার নেই।”—ব্যাখ্যা করো।
১৮. সুখী মানুষের প্রাণখোলা হাসির কারণ ব্যাখ্যা করো।
১৯. হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে কেন? বুঝিয়ে লেখো।
২০. হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করে কেন?
২১. সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলা হয়েছে কেন?
২২. মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না’—বলতে কী বোঝ? |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করে তাদের কী বলে? |
|
ক. আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করে তাদের বলা হয় কবিরাজ।
গ. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সুখী মানুষের সাথে উদ্দীপকের জোবেদ আলীর মানসিক প্রশান্তির মিল লক্ষণীয়।
ঘ. “মোড়ল যদি জোবেদ আলীর মতো হতেন তাহলে তার চিকিৎসার জন্য সুখী মানুষের জামা তালাশ করতে হতো না।”- এ উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. নাট্যকার মমতাজ উদ্দীন আহমদের পেশাগত পরিচয় কী? |
|
ক. নাট্যকার মমতাজ উদ্দীন আহমদ পেশাগত দিক দিয়ে ছিলেন সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।
গ. কর্মকা- ও পরিণতি বিচারে মোড়ল চরিত্রের সঙ্গে সেলিম সাহেবের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. “মোড়ল আর সেলিম সাহেবের অসুখের মূল কারণ অভিন্ন সূত্রে গাথা।”—উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার দৃশ্য কয়টি? |
|
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার দৃশ্য দুটি।
গ. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল অঢেল সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক হলেও সৎ, কর্তব্যপরায়ণতা ও পরোপকারীর দিক দিয়ে উদ্দীপকের জাবেদ সাহেবের থেকে ভিন্ন।
ঘ. সাদমান সাহেব ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল চরিত্রের প্রতিনিধি—উক্তিটি যথার্থ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মোড়লের বিশ্বাসী চাকরের নাম কী? |
|
ক. মোড়লের বিশ্বাসী চাকরের নাম রহমত।
গ. উদ্দীপকের করিম সাহেব ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের প্রতিবিম্ব।
ঘ. ‘বেশি লাভের দিকে দৃষ্টি না দিলে করিম সাহেবকেও অশান্তিতে ভুগতে হতো না।’- এ মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. হাসুদের গ্রামের নাম কী? |
|
ক. হাসুদের গ্রামের নাম সুবর্ণপুর।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত চেয়ারম্যান সাহেবের চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. নাট্যকার ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় সমাজের শোষণ ও তার পরিণতির সুন্দর যে চিত্র তুলে ধরেছেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মমতাজ উদ্দীন আহমদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? |
|
ক. মমতাজ উদ্দীন আহমদ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
গ. অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের দিক দিয়ে উদ্দীপকের কবিরাজ ও ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কবিরাজ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সমগ্র ভাব ধারণ করে না। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. লোকটা কার মতো হাসছিল? |
|
ক. লোকটা পাগলের মতো হাসছিল।
গ. উদ্দীপকের জেলে চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরিয়া চরিত্র নিজেকে সুখী ভাবার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. ‘অর্থই অনর্থের মূল’—মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মোড়ল জোর করে হাসুর কী জবাই করেছিল? |
|
ক. মোড়ল জোর করে হাসুর মুরগি জবাই করেছিল।
গ. উদ্দীপকের মধু চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার হাসুর চরিত্রের মিল লক্ষণীয়।
ঘ. উদ্দীপকের চেয়ারম্যানকে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের প্রতিনিধি বলা যায়। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. বিছানায় শুয়ে কে ছটফট করছে? |
|
ক. বিছানায় শুয়ে মোড়ল ছটফট করছে।
গ. উদ্দীপকের মূলভাবের সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মূলবক্তব্যের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
ঘ. ‘মোড়ল স্বার্থচিন্তায় ব্যস্ত একজন মনুষ্যহীন মানুষের প্রতিচ্ছবি’- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে তাৎপর্যপূর্ণ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় কয়টি দৃশ্য রয়েছে? |
|
ক. সুখী মানুষ নাটিকার দুটি দৃশ্য রয়েছে।
গ. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার আলোকে নয়নকে সুখী মানুষ বলা যায়।
ঘ. উদ্দীপকের রফিক সাহেব সুখী মানুষ হতে হলে সৎ পথে নিজ পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করে মনের অশান্তি দূর করতে হবে। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল কার মুরগি জবাই করে খেয়েছে? |
|
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল জোর করে হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে।
গ. ‘পাপ করলে তার শাস্তি পেতে হয়’ হাসুর এই দৃষ্টিভঙ্গি উদ্দীপকের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ. মোড়ল আর রফিক সাহেবের অসুখের মূল কারণ অভিন্ন আর তা হলো অন্যায় ও অনৈতিকভাবে সম্পদ অর্জন। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম কী? |
|
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম হাড় মড়মড় রোগ।
গ. উদ্দীপকের রজব আলীর সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার লোভী, অত্যাচারী মোড়ল চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরে পরিশ্রম ও সততার দিক থেকে এক ও অভিন্ন সত্তা। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩: |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. মোড়লের ‘নাড়ি’ কে পরীক্ষা করছে? |
|
ক. কবিরাজ মোড়লের ‘নাড়ি’ পরীক্ষা করছে।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পলাশ চৌধুরীর লোভী মনোভাবের সাথে সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের মানুষ ঠকিয়ে ধনী হওয়া ও তার পরিণতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
ঘ. মোড়ল ও পলাশ চৌধুরীর জীবনের পরিবর্তন একই সূত্রে গাঁথা – মন্তব্যটি যথার্থ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪: [ঢা. বো.-১৯] |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম কী? |
|
ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম হাড় মড়মড় রোগ।
গ. উদ্দীপকের রজব আলীর সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি হলো অত্যাচারী মোড়ল।
ঘ. উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরে যেন এক অভিন্ন সত্তা—মন্তব্যটি যৌক্তিক ও যথার্থ। |
| ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫: [কু. বো.-১৯] |
|---|
|
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক. কবিরাজ কোন কঠিন কাজটি করতে বলেছিলেন? |
|
ক. কবিরাজ একজন সুখী মানুষের জামা সংগ্রহ করার কঠিন কাজটি করতে বলেছিলেন।
গ. উদ্দীপকের অংশ—১—এ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সুখী মানুষ চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. উদ্দীপকের অংশ—২ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের জন্য নৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট শিক্ষণীয়। |
| তথ্যসূত্র: |
|---|
|
১. সাহিত্য-কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড,
ঢাকা, ২০২৬। ২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮। ৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫। |
