সুখী মানুষ- মমতাজউদদীন আহমদ

সুখী মানুষ
সুখী মানুষ

সুখী মানুষ
মমতাজউদদীন আহমদ

চরিত্র পরিচিতি

নাম বয়স
মোড়ল ৫০
কবিরাজ ৬০
হাসু ৪৫
রহমত ২০
লোক ৪০

(প্রথম দৃশ্য)

[মোড়লের অসুখ। বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে। কবিরাজ মোড়লের নাড়ি পরীক্ষা করছে। মোড়লের আত্মীয় হাসু মিয়া আর মোড়লের বিশ্বাসী চাকর রহমত আলী অসুখ নিয়ে কথা বলছে।।

হাসু : রহমত, ও রহমত আলী।

রহমত : শুনছি।

হাসু : ভালো করে শোনো, ঐ কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, তোমার মোড়লের নিস্তার নাই।

রহমত : অমন ভয় দেখাবেন না। তাহলে আমি হাউমাউ করে কাঁদতে লেগে যাব।

হাসু : কাঁদ, মন উজাড় করে কাঁদ। তোমার মোড়ল একটা কঠিন লোক। আমাদের সুবর্ণপুরের মানুষকে বড় জ্বালিয়েছে। এর গরু কেড়ে, তার ধান লুট করে তোমার মোড়ল আজ ধনী। মানুষের কান্না দেখলে হাসে।

রহমত : তাই বলে মোড়লের ব্যারাম ভালো হবে না কেন?

হাসু : হবেই না তো। মোড়ল যে অত্যাচারী, পাপী। মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না। দেখে নিও, মোড়ল মরবে।

রহমত : আর আজে-বাজে কথা বলবেন না। আপনি বাড়ি যান।

কবিরাজ : এত কোলাহল করো না। আমি রোগীর নাড়ি পরীক্ষা করছি।

রহমত : ও কবিরাজ, নাড়ি কী বলছে। মোড়ল বাঁচবে তো।

কবিরাজ : মূর্খের মতো কথা বল না। মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়। আমি যা বলি মনোযোগ দিয়ে তাই শ্রবণ কর।

হাসু : আমাকে বলুন। মোড়ল আমার মামাতো ভাই।

রহমত : মোড়ল আমার মনিব।

কবিরাজ : এই নিষ্ঠুর মোড়লকে যদি বাঁচাতে চাও, তাহলে একটি কঠিন কর্ম করতে হবে।

হাসু : বাঘের চোখ আনতে হবে?

কবিরাজ : আরও কঠিন কাজ।

রহমত : হিমালয় পাহাড় তুলে আনব?

কবিরাজ : পাহাড়, সমুদ্র, চন্দ্র, নক্ষত্র কিছুই আনতে হবে না।

মোড়ল : আর সহ্য করতে পারছি না। জ্বলে গেল। হাড় ভেঙে গেল। আমাকে বাঁচাও।

কবিরাজ : শান্ত হও। ও রহমত, মোড়লের মুখে শরবত ঢেলে দাও। (রহমত মোড়লকে শরবত দিচ্ছে)

হাসু : ঐ মোড়ল জোর করে আমার মুরগি জবাই করে খেয়েছে। আমি আজ মুরগির দাম নিয়ে ছাড়ব।

মোড়ল : ভাই হাসু এদিকে এস, আমি সব দিয়ে দেব। আমাকে শাস্তি এনে দাও।

কবিরাজ : মোড়ল, তুমি কি আর কোনোদিন মিথ্যা কথা বলবে?

মোড়ল : আর বলব না। এই তোমার মাথায় হাত রেখে প্রতিজ্ঞা করছি, আর কোনোদিন মানুষের ওপর জবরদস্তি করব না। আমাকে ভালো করে দাও।

কবিরাজ : লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। আর কোনোদিন লোভ করবে?

মোড়ল : না। লোভ করব না, অত্যাচার করব না। আমাকে শাস্তি দাও। সুখ দাও।

কবিরাজ : তাহলে মনের সুখে শুয়ে থাক, আমি ওষুধের কথা চিন্তা করি।

মোড়ল : সুখ কোথায় পাব? আমাকে সুখ এনে দাও।

হাসু : অন্যের মনে দুঃখ দিলে কোনোদিন সুখ পাবে না।

মোড়ল : আমার কত টাকা, কত বড় বাড়ি। আমার মনে দুঃখ কেন?

কবিরাজ : চুপ কর। যত কোলাহল করবে তত দুঃখ বাড়বে। হাসু এদিকে এস, আমার কথা শ্রবণ কর। মোড়লের ব্যামো ভালো হতে পারে, যদি...

রহমত : যদি কী?

কবিরাজ : যদি আজ রাত্রির মধ্যেই-

হাসু : কী করতে হবে?

কবিরাজ : যদি একটি ফতুয়া সংগ্রহ করতে পার।

রহমত : ফতুয়া?

কবিরাজ : হ্যাঁ, জামা। এই জামা হবে একজন সুখী মানুষের। তার জামাটা মোড়লের গায়ে দিলে, তৎক্ষণাৎ তার হাড় মড়মড় রোগ ভালো হবে।

রহমত : এ তো খুব সোজা ওষুধ।

কবিরাজ : সোজা নয়, খুব কঠিন কাজ। যাও, সুখী মানুষকে খুঁজে দেখ। সুখী মানুষের জামা না হলে অসুখী মোড়ল বাঁচবে না।

মোড়ল : আমি বাঁচব। জামা এনে দাও, হাজার টাকা বখশিশ দেব।

(দ্বিতীয় দৃশ্য)

[বনের ধারে অন্ধকার রাত। চাঁদের স্নান আলো। ছোট একটি কুঁড়েঘরের সামনে হাসু মিয়া ও রহমত গালে হাত দিয়ে ভাবছে।

রহমত : কী তাজ্জব কথা, পাঁচ গ্রামে একজনও সুখী মানুষ পেলাম না। যাকেই ধরি, সেই বলে, না ভাই, আমি সুখী নই।

হাসু : আর তো সময় নাই ভাই, এখন বারোটা। সুখী মানুষ নাই, সুখী মানুষের জামাও নাই। মোড়ল তো তাহলে এবার মরবে।

রহমত : আহা রে, আমরা এখন কী করব। কোথায় একটা মানুষ পাব, যে কিনা-

হাসু : পাওয়া যাবে না। সুখী মানুষ পাওয়া যাবে না। সুখ বড় কঠিন জিনিস। এ দুনিয়াতে ধনী বলছে, আরও ধন দাও; ভিখারি বলছে, আরও ভিক্ষা দাও; পেটুক বলছে, আরও খাবার দাও। শুধু দাও আর দাও। সবাই অসুখী। কারও সুখ নেই।

রহমত : আমরাও বলছি, মোড়লের জন্য জামা দাও, আমাদের বখশিশ দাও। আমরাও অসুখী।

হাসু : চুপ চুপ। ঘরের মধ্যে কে যেন কথা বলছে।

রহমত : ভূত নাকি? চলেন, পালিয়ে যাই। ধরতে পারলে মাছভাজা করে খাবে।

হাসু : এই যে, ভাই। ঘরের মধ্যে কে কথা বলছ? বেরিয়ে এস।

রহমত : ভূতকে ডাকবেন না।

[ঘর থেকে একজন লোক বেরিয়ে এলো।]

লোক : তোমরা কে ভাই? কী চাও?

হাসু : আমরা খুব দুঃখী মানুষ। তুমি কে?

লোক : আমি একজন সুখী মানুষ।

হাসু : আঁ। তোমার কোনো দুঃখ নাই?

লোক : না। সারাদিন বনে বনে কাঠ কাটি। সেই কাঠ বাজারে বেচি। যা পাই, তাই দিয়ে চাল কিনি, ডাল কিনি। মনের সুখে খেয়ে-দেয়ে গান গাইতে-গাইতে শুয়ে পড়ি। এক ঘুমেই রাত কাবার।

হাসু : বনের মধ্যে একলা ঘরে তোমার ভয় করে না? যদি চোর আসে?

লোক : চোর আমার কী চুরি করবে?

হাসু : তোমার সোনাদানা, জামাজুতা?

(লোকটি প্রাণখোলা হাসি হাসছে)

রহমত : হা হা করে পাগলের মতো হাসছ কেন ভাই।

লোক : তোমাদের কথা শুনে হাসছি। চোরকে তখন বলব, নিয়ে যাও, আমার যা কিছু আছে নিয়ে যাও।

হাসু : তুমি তাহলে সত্যিই সুখী মানুষ।

লোক : দুনিয়াতে আমার মতো সুখী কে? আমি সুখের রাজা। আমি মস্ত বড় বাদশা।

রহমত: ও বাদশা ভাই, তোমার গায়ের জামা কোথায়? ঘরের মধ্যে রেখেছ? তোমাকে একশ টাকা দেব। জামাটা নিয়ে এস।

লোক : জামা!

রহমত : জামা মানে জামা। এই যে, আমাদের এই জামার মতো জিনিস। তোমাকে পাঁচশ টাকা দেব। জামাটা নিয়ে এস, মোড়লের খুব কষ্ট হচ্ছে।

লোক : আমার তো কোনো জামা নাই ভাই!

হাসু : মিছে কথা বল না।

লোক : মিছে বলব কেন? আমার ঘরে কিছু নাই। সেই জন্যই তো আমি সুখী মানুষ।

‘সুখী মানুষ’ নাটিকার উৎস নির্দেশ:
--

‘সুখী মানুষ’ নাটিকার শব্দার্থ ও টীকা:
➠ কবিরাজ- বৈদ্য; আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে যিনি চিকিৎসা করেন।
নাড়ি পরীক্ষা- কবজির ধমনির গতি দেখে রোগ নির্ণয়।
➠ মূর্খ- নির্বোধ, বোকা, অজ্ঞ।
➠ শ্রবণ- কানে শোনা।
➠ জবরদস্তি- জোরাজুরি।
➠ ব্যামো- অসুখ, রোগ, ব্যারাম।
➠ তাজ্জব- অদ্ভুত, বিস্ময়কর।
➠ প্রাণখোলা- অকৃত্রিম, উদার, খোলা মনের।

‘সুখী মানুষ’ নাটিকার পাঠের উদ্দেশ্য:
‘সুখী মানুষ’ নাটিকা পাঠ করে শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করবে যে, অন্যায় ও অনৈতিকভাবে উপার্জিত অর্থ-বিত্তই মানুষের অশান্তির মূল কারণ। বরং সৎ পথে নিজ পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করলেই জীবনে শান্তি মেলে। সুতরাং নীতিহীন পথে সম্পদ উপার্জনের পথ পরিহার করাই উত্তম।

‘সুখী মানুষ’ নাটিকার পাঠ-পরিচিতি ও মূলভাব:
‘সুখী মানুষ’ মমতাজউদদীন আহমদের একটি নাটিকা। এর দুটি মাত্র দৃশ্য। নাটিকাটির কাহিনিতে আছে, মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে, ধনী হওয়া এক মোড়লের জীবনে শাস্তি নেই। চিকিৎসক বলেছেন, কোনো সুখী মানুষের জামা গায়ে দিলে মোড়লের অসুস্থতা কেটে যাবে। কিন্তু পাঁচ গ্রাম খুঁজেও একজন সুখী মানুষ পাওয়া গেল না।
শেষে একজনকে পাওয়া গেল, যে নিজের শ্রমে উপার্জিত আয় দিয়ে কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করে সুখে দিন কাটাচ্ছে। তার কোনো সম্পদ নেই, ফলে চোরের ভয় নেই। সুতরাং শান্তিতে ঘুমোনোর ব্যাপারে তার কোনো দুশ্চিন্তাও নেই। শেষ পর্যন্ত সুখী মানুষ একজন পাওয়া গেলেও দেখা গেল তার কোনো জামা নেই। সুতরাং মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না। নাটকের মূল বক্তব্য সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। একজনের অনেক সম্পদ থেকেও সুখ নেই। আবার আরেকজনের কিছু না থাকলেও সে সুখী থাকতে পারে।

‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কবি পরিচিতি:
মমতাজউদদীন আহমদ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা শেষে ১৯৯২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশে একজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা- নাটক: স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা, রাজা অনুধারের পালা, সাত ঘাটের কানাকড়ি, আমাদের শহর, হাস্য লাস্য ভাষ্য; প্রবন্ধ-গবেষণা: বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত, বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত ইত্যাদি। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
তিনি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২রা জুন ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কর্ম-অনুশীলন:
ক. ‘অর্থ-ঐশ্বর্যই সুখের একমাত্র নিয়ামক’-এ বিষয় অবলম্বনে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করো। (শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে)।
খ. তোমার আশেপাশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত অবলম্বনে ‘সুখ’ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করো। (একক কাজ)।

‘সুখী মানুষ’ নাটিকার বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:

প্রশ্ন থেকে

অভিনন্দন!
আপনি পেয়েছেন -এর মধ্যে!
যা


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন:

১. মোড়লের বিশ্বাসী চাকর কে?
উত্তর: মোড়লের বিশ্বাসী চাকর রহমত।
২. ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়।’-এটা কার উক্তি?
উত্তর: ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়।’-এটা কবিরাজের উক্তি।
৩. মোড়ল কার মুরগি জবাই করে খেয়েছে?
উত্তর: মোড়ল হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে।
৪. মোড়ল কাকে শান্তি এনে দিতে বলল?
উত্তর: মোড়ল হাসুকে শান্তি এনে দিতে বলল।
৫. কবিরাজ কেন জামা সংগ্রহ করতে বললেন?
উত্তর: মোড়লের অসুখ সারানোর জন্য কবিরাজ জামা সংগ্রহ করতে বললেন।
৬. মোড়লের কী রোগ হয়েছে?
উত্তর: মোড়লের হাড় মড়মড় রোগ হয়েছে।
৭. সুখী মানুষের জামা এনে দিলে মোড়ল কত টাকা বখশিশ দেবে?
উত্তর: সুখী মানুষের জামা এনে দিলে মোড়ল হাজার টাকা বখশিশ দেবে।
৮. কত গ্রামে একজনও সুখী মানুষ পাওয়া গেল না?
উত্তর: পাঁচ গ্রামে একজনও সুখী মানুষ পাওয়া গেল না।
৯. দুনিয়াতে ধনীরা কী চায়?
উত্তর: দুনিয়াতে ধনীরা আরো ধন চায়।
১০. সুখী মানুষটি সারাদিন কী কাজ করে?
উত্তর: সুখী মানুষটি সারাদিন বনে বনে কাঠ কাটে।
১১. সুখী মানুষটি খেয়ে দেয়ে কী করে?
উত্তর: সুখী মানুষটি খেয়ে দেয়ে গান গাইতে গাইতে শুয়ে পড়ে।
১২. ‘সুখী মানুষ’ কী ধরনের রচনা?
উত্তর: ‘সুখী মানুষ’ একটি নাটিকা।
১৩. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল চরিত্রটির বয়স কত?
উত্তর: ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল চরিত্রটির বয়স ৫০ বছর।
১৪. ‘কবিরাজ’ বলতে কী বোঝানো হয়?
উত্তর: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যিনি চিকিৎসা করেন তাকে কবিরাজ বলা হয়।
১৫. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার চরিত্র সংখ্যা কত?
উত্তর: ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার চরিত্র সংখ্যা পাঁচ।
১৬. কবিরাজ কত সময়ের মধ্যে সুখী মানুষের জামা আনতে বলেছিল?
উত্তর: কবিরাজ রাত্রির মধ্যে সুখী মানুষের জামা আনতে বলেছিল।
১৭. কবিরাজ মোড়লের মুখে কী ঢেলে দিতে বলেছিল?
উত্তর: কবিরাজ মোড়লের মুখে শবরত ঢেলে দিতে বলেছিল।
১৮. মোড়ল সম্পর্কের দিক থেকে হাসুর কী হয়?
উত্তর: মোড়ল সম্পর্কের দিক থেকে হাসুর মামাতো ভাই হয়।
১৯. মমতাজ উদ্দীন আহমদ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: মমতাজ উদ্দীন আহমদ ১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
২০. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় কয়টি দৃশ্য?
উত্তর: ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় ২টি দৃশ্য।
২১. আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করে তাদের কী বলে?
উত্তর: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করে তাদের বলা হয় কবিরাজ।
২২. নাট্যকার মমতাজ উদ্দীন আহমদের পেশাগত পরিচয় কী?
উত্তর: নাট্যকার মমতাজ উদ্দীন আহমদ পেশাগত দিক দিয়ে ছিলেন সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।
২৩. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার দৃশ্য কয়টি?
উত্তর: ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার দৃশ্য দুটি।
২৪. মোড়লের বিশ্বাসী চাকরের নাম কী?
উত্তর: মোড়লের বিশ্বাসী চাকরের নাম রহমত।
২৫. হাসুদের গ্রামের নাম কী?
উত্তর: হাসুদের গ্রামের নাম সুবর্ণপুর।
২৬. মমতাজ উদ্দীন আহমদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: মমতাজ উদ্দীন আহমদ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
২৭. লোকটা কার মতো হাসছিল?
উত্তর: লোকটা পাগলের মতো হাসছিল।
২৮. মোড়ল জোর করে হাসুর কী জবাই করেছিল?
উত্তর: মোড়ল জোর করে হাসুর মুরগি জবাই করেছিল।
২৯. বিছানায় শুয়ে কে ছটফট করছে?
উত্তর: বিছানায় শুয়ে মোড়ল ছটফট করছে।
৩০. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় কয়টি দৃশ্য রয়েছে?
উত্তর: সুখী মানুষ নাটিকার দুটি দৃশ্য রয়েছে।
৩১. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল কার মুরগি জবাই করে খেয়েছে?
উত্তর: ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল জোর করে হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে।
৩২. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম কী?
উত্তর: ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম হাড় মড়মড় রোগ।
৩৩. মোড়লের ‘নাড়ি’ কে পরীক্ষা করছে?
উত্তর: কবিরাজ মোড়লের ‘নাড়ি’ পরীক্ষা করছে।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন:

১. মোড়ল বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিল কেন?
উত্তর: অসুখের যন্ত্রণায় মোড়ল বিছানায় শুয়ে ছটফট করছিল।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল শোষকশ্রেণির প্রতিনিধি। সে গরিব ও অসহায় মানুষের সম্পদ শোষণ করেছে। মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে মোড়ল আজ এমন এক কঠিন রোগে আক্রান্ত যা থেকে মুক্তি লাভ অসম্ভব। তাই মোড়ল বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে।

২. অমন ভয় দেখাবেন না—রহমতের একথা বলার কারণ কী?
উত্তর: প্রশ্নোক্ত উক্তিটি রহমত হাসুকে করেছিল মোড়লের রোগ নিরাময় সম্পর্কে।
পাপের ফলস্বরূপ মোড়ল কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে। কবিরাজ মোড়লের নাড়ি পরীক্ষা করছে। মোড়লের বিশ্বস্ত চাকর রহমত এবং আত্মীয় হাসু মোড়লের অসুখ সম্পর্কে কথা বলছে। এমন সময় হাসু রহমতকে বলে, ভালো করে শোনো, ঐ কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, তোমার মোড়লের নিস্তার নেই। তাই রহমত হাসুকে বলে, অমন ভয় দেখাবেন না।

৩. কাঠুরিয়া লোকটি নিজেকে সুখী মনে করে কেন?
উত্তর: কাঠুরিয়া লোকটির অধিক লোভও নেই। আবার অধিক চাহিদাও নেই। তাই কাঠুরিয়া লোকটি নিজেকে সুখী মনে করেন।
কাঠুরিয়া লোকটির চাওয়া এবং পাওয়া সবকিছুই তার সাধ্যের মধ্যে। কাঠুরিয়া লোকটির কোনো দুঃখ নেই। সে সারাদিন বনে কাঠ কেটে যা উপার্জন করে তা দিয়ে চাল, ডাল কিনে খায় এবং রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। তার কোনো চিন্তা নেই, চাহিদা নেই, কিছু হারানোর ভয় নেই, চুরি হওয়ারও ভয় নেই। তাই সে নিজেকে সুখী মনে করে।

৪. “তোমার মোড়লের নিস্তার নাই।”—হাসুর এ কথা বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘মোড়লের কৃতকর্ম ভালো না হওয়ায় হাসু আলোচ্য কথাটি বলেছে।
মোড়ল হলো একজন অসৎ চরিত্রের লোক। সে সুবর্ণপুরের মোড়ল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সে অন্যের জমি কেড়ে নিয়েছে, অন্যের কষ্টে ফলানো ধান লুট করেছে। মানুষের সম্পদ কেড়ে নিয়ে নিজের সম্পদের বহর বৃদ্ধি করেছে। তাই মোড়লের প্রতি সুবর্ণপুরের মানুষের মনে জমা হয়েছে অসীম ঘৃণা। এসব কারণেই হাসু আলোচ্য কথাটি বলেছে।

৫. ‘দুনিয়াতে আমার মতো সুখী কে? আমি সুখের রাজা।’ —ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘দুনিয়াতে আমার মতো সুখী কে? আমি সুখের রাজা।’—এটা সুখী মানুষের কথা।
মানুষের মনে যখন চাহিদার সৃষ্টি হয় তখন চাহিদা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করে। আবার যখন কারও হাতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পদ জমা হয় তখন সেসব সম্পদ রক্ষার একটা তাগিদ কাজ করে। কিন্তু যার কোনো চাহিদা নেই, তার সম্পদ আগলে রাখার তাড়াও নেই। তার মনে সুখ বিরাজ করে। এ কারণেই সুখী মানুষ আলোচ্য কথাটি বলেছে।

৬. রহমত কেন হাউমাউ করে কাঁদার কথা বলল?
উত্তর: অসুস্থ মোড়লের চাকর রহমত তার মনিব সম্পর্কে হাসুর সমবেদনাহীন কথা শুনে হাউমাউ কারে কাঁদার কথা বলে।
মোড়লের অসুখ নিয়ে কথা বলার সময় তার আত্মীয় হাসু তার বিশ্বাসী চাকর রহমতকে মোড়লের বর্তমান অবস্থা এবং অসুখ থেকে মোড়লের নিস্তার নেই বলে জানায়। হাসুর এ ধরনের কঠোর মন্তব্যে রহমত উক্ত কথাগুলো বলে।

৭. মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষদের ওপর কী রকম অত্যাচার করেছে?
উত্তর: মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষদের ঠকিয়ে, জোর করে তাদের জীবিকার মূলধন কেড়ে নিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার করেছে।
মোড়ল একজন অত্যাচারী, কঠোর মানুষ। সে গ্রামের মানুষের গরু কেড়ে নিয়েছে। কারো ধান লুট করেছে। কারো বা মুরগি জবাই করে খেয়েছে। এসব মানুষদের সর্বস্বান্ত করে সে ধনী হয়েছে আবার তাদের দুঃখ দেখে হেসেছে। এভাবেই সে সবার ওপর অত্যাচার করেছে।

৮. রহমত এবং হাসুও নিজেদের অসুখী মনে করে কেন?
উত্তর: রহমত এবং হাসুও নিজেদের অসুখী মনে করে, কারণ তাদেরও মনের মধ্যে চাহিদা আছে।
সুখী মানুষের সন্ধানে গিয়ে হাসু এবং রহমত যখন সুখী মানুষ খুঁজে পায় না, তখন তারা সুখের কারণ সন্ধান করে। সবারই কোনো না কোনো চাওয়া থাকে, যার কারণে সে সুখী হতে পারে না। হাসু এবং রহমতেরও চাওয়া মোড়লের জন্য জামা বখশিশ। তাই তারা নিজেদের অসুখী মনে করে।

৯. মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না কেন?
উত্তর: সুখী মানুষের জামা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে মোড়লের সমস্যার সমাধান হয়নি।
অত্যাচারী নিষ্ঠুর মোড়লের রোগ সারাবার একমাত্র উপায় ছিল একজন সুখী মানুষের জামা তাকে পরানো। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজির পর সে সুখী মানুষ পাওয়া গেল কিন্তু তার কিছুই ছিল না। এমনকি গায়ের জামাও না। আর তাই মোড়লের সমস্যার সমাধান হলো না।

১০. হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করে কেন?
উত্তর: মোড়ল অত্যাচারী ও পাপী বলে হাসু মোড়লের মৃত্যুকামনা করে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল একজন খারাপ লোক। কারো গরু কেড়ে নিয়ে, কারো ধান লুট করে মোড়ল আজ ধনী। মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে মোড়ল হেসেছে। সে অত্যাচারী, পাপী। গ্রামের সব মানুষকে মোড়ল খুব জ্বালাতন করেছে। হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে মোড়ল। এসব অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করেছে।

১১. হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে কেন?
উত্তর: মোড়লের অন্যায় কাজকর্ম সমর্থন করতে পারে না বলেই হাসু মোড়লের আত্মীয় অর্থাৎ ফুফাতো ভাই হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল খুবই অত্যাচারী মানুষ। এর গরু, ওর ধান লুট করে মোড়ল আজ ধনী। অন্যের দুঃখে সে খুশি হয়। গ্রামের মানুষকে সে প্রচুর জ্বালিয়েছে। নিজের ফুফাতো ভাই হওয়া সত্ত্বেও মোড়ল হাসুর মুরগি খেয়ে ফেলেছে। তার এরূপ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ফুফাতো ভাই হওয়া সত্ত্বেও হাসু মোড়লের অমঙ্গল কামনা করেছে।

১২. মোড়লের প্রতি হাসুর সমবেদনা নেই কেন?
উত্তর: মোড়ল একজন অত্যাচারী, পাপী এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ। মোড়লের প্রতি তাই হাসুর সমবেদনা নেই।
মোড়ল তার নিজ অঞ্চলের মানুষদের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন- গরু, খেতের ধান প্রভৃতি লুট করে ধনী হয়েছে। অন্যের কষ্টে সে আনন্দ অনুভব করে। এমনকি সে তার আত্মীয়দের ওপরও অত্যাচার করেছে। হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে। তাই মোড়লের প্রতি হাসুর সমবেদনা নেই।

১৩. সুখকে কঠিন জিনিস বলা হয়েছে কেন? বুঝিয়ে লেখ
উত্তর: মানুষের অন্তহীন চাহিদার কারণে কোনো মানুষই সম্পূর্ণ তৃপ্ত হতে পারে না বলে সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলা হয়েছে।
সুখ হলো আপেক্ষিক ব্যাপার। তাই অনৈতিক পথে অঢেল সম্পদের মালিক হলেও প্রকৃত সুখের নাগাল পাওয়া যায় না। কেননা যারা নৈতিক আদর্শ বর্জন করে অন্যায় ও অবৈধভাবে অর্থ সম্পদ অর্জন করে তারা জীবনে সুখ পায় না। তাছাড়া প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু অতৃপ্তি থাকে। মানুষের মাঝে পরিতৃপ্তি বোধ না থাকায় মানুষ সুখী হতে পারে না। এ কারণেই সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলা হয়েছে।

১৪. “মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না।” —ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: “মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না- এ উক্তিটি যথার্থ।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় অসুস্থ মোড়ল বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে। কিন্তু কিছুতেই তার রোগ ভালো হচ্ছে না। অসুখের দেখাশোনা করছে মোড়লের আত্মীয় হাসু এবং চাকর রহমত আলী। হাসু মনে করে মোড়ল যেহেতু খুব অত্যাচারী মানুষ তাই তার রোগ কিছুতেই ভালো হবে না। হাসুর সরাসরি উক্তি, ‘মোড়ল যে অত্যাচারী, পাপী। মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না। দেখে নিও মোড়ল মরবে।’

১৫. ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়।’- এ কথাটির গভীরতা নির্দেশ করো।
উত্তর: ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়।’—এ কথাটি যথার্থ তাৎপর্য রয়েছে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের বিশ্বস্ত চাকর রহমত তার মনিবের মৃত্যু নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে কবিরাজ তাকে ধমক দেন। কারণ কবিরাজ জানেন প্রত্যেক মানুষকেই একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। এটি নিয়তির লিখন। আর মূর্খ মানুষরাই মৃত্যুর কথা ভুলে যায়। এখানে জীবন সম্পর্কে এক বিশেষ বোধ কাজ করেছে জ্ঞানী কবিরাজের মাঝে। তিনি চিকিৎসা করতে গিয়ে সার্বক্ষণিক প্রত্যক্ষ করেছেন পৃথিবীতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়।

১৬. ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’—এ কথাটি কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’—এ কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে লোভের পরিণাম ভয়াবহ।
লোভ মানুষকে অন্যায় কাজে চালিত করে। আর অন্যায় থেকে আসে পাপ, যা পাপীকে মরণের দিকে ঠেলে দেয়। মানুষ যখন লোভের পথে পা বাড়ায়, তখন তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়। সীমাহীন লোভই মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। যা নাটকের মোড়লের চরিত্রেও দেখা যায়।

১৭. “ঐ কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, তোমার মোড়লের নিস্তার নেই।”—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: “ঐ কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, তোমার মোড়লের নিস্তার নেই।”—উক্তিটি যথার্থ।
কারণ মোড়লের ফুফাতো ভাই হাসু জানে তার ভাই কেমন মানুষ। কত মানুষের ওপর সে অত্যাচার করেছে, কত মানুষকে দুঃখ দিয়েছে। মোড়লের চাকর রহমত তার মনিবের জন্য দুঃখ করলে হাসু বলে মোড়ল আর ভালো হবে না। শুধু নিজের সুখের কথা চিন্তা করলে সুখী হওয়া যায় না। মোড়ল সম্পর্কে বলেছে, “এর গরু কেড়ে, তার ধান লুট করে তোমার মোড়ল আজ ধনী। মানুষের কান্না দেখলে হাসে।” এমন মানুষের রোগ ভালো হওয়া কঠিন।

১৮. সুখী মানুষের প্রাণখোলা হাসির কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: সুখী মানুষের প্রাণখোলা হাসির কারণ হলো, হাসু তাকে চোরের উপদ্রবের কথা জিজ্ঞাসা করেছে।
সুখী মানুষের ঘরে কিছুই নেই। তাই চোরের উপদ্রবের কথায় তার বিষম হাসি পেয়েছে। সারাদিন বনে কাঠ কেটে দিনান্তে তা হাটে বিক্রি করে। প্রাপ্ত টাকা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে তা রান্না করে খায়। তাই হাসুর মুখে চোরের উপদ্রবের কথা শুনে সুখী মানুষ প্রাণখোলা হাসি হেসেছে।

১৯. হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে কেন? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষের ওপর অত্যাচার করে অন্যায়ভাবে সম্পদ লুট করে ধনী হয়েছে। তাই হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল চরিত্রটি নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষকে অনেক জ্বালিয়েছে। তার অত্যাচারে সুবর্ণপুরের মানুষ অতিষ্ঠ। সে মানুষের সম্পদ লুট করে আজ ধনী। মানুষের কান্নায় মোড়ল ব্যথিত না হয়ে উল্লাস করে। এমনকি তার আত্মীয় হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে মোড়ল। এসব অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই হাসু তার আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও মোড়লের মৃত্যু কামনা করে।

২০. হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করে কেন?
উত্তর: মোড়লের অন্যায় কাজকর্ম সমর্থন করতে পারে না বলেই হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করে।
অন্যায় কাজ যে-ই করুক, তাকে সমর্থন করা যায় না। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল এক অত্যাচারী চরিত্র। তিনি গ্রামের মানুষদের অনেক জ্বালিয়েছেন, যা হাসু মেনে নিতে পারেনি। মোড়লকে সে পাপী ও অত্যাচারী মনে করেছে। আর এ জন্যই মোড়লের ফুফাতো ভাই হয়েও হাসু তার মৃত্যু কামনা করে।

২১. সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: পাঁচ গ্রাম খুঁজে কোথাও সুখী মানুষ না পাওয়ায় হাসু সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলেছেন।
দুনিয়াতে সুখী মানুষ পাওয়া খুবই কষ্টের। এ দুনিয়াতে ধনী চায় আরও ধন। ভিখারি আরও ভিক্ষা চায়, পেটুক চায় আরও খাবার। সবাই শুধু ‘চাই আর চাই”। অল্পে তুষ্ট না হওয়ায় সবাই আজ অসুখী। অনেক চাহিদা থাকায় কারও কোথাও সুখ নেই। সুখ একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। তাই হাসুর মতে সুখ বড় কঠিন জিনিস।

২২. মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না’—বলতে কী বোঝ?
উত্তর: ‘মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না।’- বলতে মানসিক যন্ত্রণায় কাতর মানুষের যে ওষুধ সেবনে কাজ হয় না, শারীরিক উপশম লাভ করা যায় না তা বোঝানো হয়েছে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় প্রশ্নোক্ত কথাটি মোড়লকে বলেছে তার ফুফাতো ভাই হাসু। মোড়ল একজন অত্যাচারী, অবিবেচক লোক মানুষের অধিকার হরণ করে সে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তার মধ্যে অনুশোচনা জাগ্রত হয়েছে, যার ফলে শারীরিক অশান্তির চেয়ে মানসিক অশান্তিই বেশি দেখা দিয়েছে। তাই হাসুর মতে, কবিরাজের ওষুধে মোড়লের মনে শান্তি আসবে না।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জোবেদ আলী ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য। এই নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মত তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেন। হবেনই-বা নয় কেন? এলাকার মানুষের অসুখ-বিসুখ হলে সুস্থ না হওয়া অবধি তিনি তার শয্যা ছাড়েন না। সমস্যায় পড়লে সমাধান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার মুখে অন্ন রোচে না। সেই তার অসুখ হলে গাঁয়ের লোক ভেঙে পড়ল। চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে প্রার্থনা করল- আল্লাহ, তুমি আমাদের জোবেদ ভাইকে সুস্থ করে দাও।

ক. আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করে তাদের কী বলে?
খ. হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করে কেন?
গ. জোবেদ আলীর সঙ্গে ‘সুখী মানুষে’র যে মিল আছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মোড়ল যদি জোবেদ আলীর মতো হতেন তাহলে তার চিকিৎসার জন্য সুখী মানুষের জামা তালাশ করতে হতো না’। —বিশ্লেষণ করো।

ক. আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে যারা চিকিৎসা করে তাদের বলা হয় কবিরাজ।
খ. মোড়ল অত্যাচারী ও পাপী বলে হাসু মোড়লের মৃত্যুকামনা করে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল একজন খারাপ লোক। কারো গরু কেড়ে নিয়ে, কারো ধান লুট করে মোড়ল আজ ধনী। মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে মোড়ল হেসেছে। সে অত্যাচারী, পাপী। গ্রামের সব মানুষকে মোড়ল খুব জ্বালাতন করেছে। হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে মোড়ল। এসব অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করেছে।

গ. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সুখী মানুষের সাথে উদ্দীপকের জোবেদ আলীর মানসিক প্রশান্তির মিল লক্ষণীয়।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকাটির সুখী মানুষ চরিত্রটি দীনহীন অবস্থার মধ্যেও সুখী। সে সারাদিন বনে কাঠ কাটে। সেই কাঠ বিক্রির টাকা দিয়ে খাবার কিনে খায়। তার ঘরে কোনো সম্পদ নেই, ফলে চোরের কোনো ভয় নেই। রাতে মনের সুখে ঘুমায়। তাই সে মহাসুখী, সুখের রাজা। অনুরূপভাবে উদ্দীপকের জোবেদ আলীর মধ্যেও লোভ-লালসা না থাকায় গ্রামের মানুষ তাকে পরপর পাঁচবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত করে। মানবসেবা করাই ছিল জোবেদ আলীর মূল লক্ষ্য।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সুখী মানুষ চরিত্রটি নিজের শ্রমে উপার্জিত অর্থে সুখে দিনাতিপাত করে। তেমনই উদ্দীপকের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জোবেদ আলী জনগণের ভালোবাসায় ধন্য। জোবেদ আলী অন্যায়, অনৈতিকতা থেকে বহুদূরে অবস্থান করেছেন সবসময়। সুখী মানুষের জীবন চলে কায়িক পরিশ্রমে, সৎ পথে। নির্লোভ ও সৎ জীবনাচরণে চরিত্র দুটি এক বিন্দুতে মিলে যায়।

ঘ. “মোড়ল যদি জোবেদ আলীর মতো হতেন তাহলে তার চিকিৎসার জন্য সুখী মানুষের জামা তালাশ করতে হতো না।”- এ উক্তিটি যথার্থ।
জোবেদ আলী ও মোড়ল দুজনেই গ্রামের কর্তাব্যক্তি হলেও জোবেদ আলী মানুষের কল্যাণ করে সবার ভালোবাসায় সিক্ত। সবার প্রার্থনা ও কল্যাণ কামনা তার সুস্থ-সুন্দর-সুখী জীবনের পথের প্রধান পথ্য। আর মোড়ল সকল প্রকার খারাপ কাজ করে গ্রামের মানুষের বিরাগের পাত্র। তাই মোড়ল অসুখী।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল চরিত্রটি সকল প্রকার অসৎ গুণের অধিকারী। গ্রামের সব মানুষকে সে জ্বালিয়েছে। কারো গরু, কারো ধান লুট করে মোড়ল আজ ধনী। মানুষের কষ্ট দেখলে সে হাসে, মোড়লের অন্যায়-অত্যাচারের কারণে সবাই তার প্রতি বিরক্ত। তার ফুফাতো ভাই হাসুর মুরগি খেয়েছে মোড়ল, সেও তার মৃত্যু কামনা করে। আর মোড়ল আজ অর্থবিত্তের অধিকারী হলেও বড়ই অসুখী। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের জোবেদ আলী ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য। জনগণের সেবার মাধ্যমে তিনি বারবার নির্বাচিত হন। দুঃখ-শোকে তিনি সর্বদা জনগণের পাশে থাকেন। তাই তার অসুখ হলে সবাই ভেঙে পড়ে। তার জন্য প্রাণভরে দোয়া করে। মানুষকে সেবা করে এবং মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় তিনি সুখী।
সুতরাং, উল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের লোভ-লালসা ত্যাগ করে জোবেদ আলীর মতো জীবনযাপন করলে তার চিকিৎসার জন্য সুখী মানুষের জামা তালাশ করতে হতো না।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সেলিম সাহেব নানা উপায়ে, নানা পন্থায় সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। নদীর পাড় ভেঙে পড়ার মতো ইদানীং বিভিন্ন অজুহাতে সে পাহাড়ের বিরাট বিরাট অংশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। রাতে দুশ্চিন্তায় ঘুম হয় না। তার মনে হচ্ছে যাকে তিনি এক সময় সুখের উৎস ভেবেছিলেন সেই হয়ে উঠেছে এখন অসুখের মূল কারণ। ভাঙন যেভাবে লেগেছে তাতে বোঝা যাচ্ছে পাপের ধন প্রায়শ্চিত্তেই যাবে।

ক. নাট্যকার মমতাজ উদ্দীন আহমদের পেশাগত পরিচয় কী?
খ. হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে কেন?
গ. মোড়ল চরিত্রের সঙ্গে সেলিম সাহেবের চরিত্রের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘মোড়ল আর সেলিম সাহেবের অসুখের মূল কারণ অভিন্ন সূত্রে গাঁথা’।—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

ক. নাট্যকার মমতাজ উদ্দীন আহমদ পেশাগত দিক দিয়ে ছিলেন সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক।
খ. মোড়লের অন্যায় কাজকর্ম সমর্থন করতে পারে না বলেই হাসু মোড়লের আত্মীয় অর্থাৎ ফুফাতো ভাই হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল খুবই অত্যাচারী মানুষ। এর গরু, ওর ধান লুট করে মোড়ল আজ ধনী। অন্যের দুঃখে সে খুশি হয়। গ্রামের মানুষকে সে প্রচুর জ্বালিয়েছে। নিজের ফুফাতো ভাই হওয়া সত্ত্বেও মোড়ল হাসুর মুরগি খেয়ে ফেলেছে। তার এরূপ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ফুফাতো ভাই হওয়া সত্ত্বেও হাসু মোড়লের অমঙ্গল কামনা করেছে।

গ. কর্মকা- ও পরিণতি বিচারে মোড়ল চরিত্রের সঙ্গে সেলিম সাহেবের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
মমতাজ উদদ্ীন আহমদ রচিত ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল খুবই অত্যাচারী মানুষ। কারো গরু কারো বা ধান লুট করে সে আজ ধনী। মোড়ল তার ফুফাতো ভাই হাসুর মুরগি ধরে খেয়েছে। অন্যের দুঃখ দেখে হেসেছে। অন্যায়ভাবে সৃষ্টি করা সম্পদই তার অসুখের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। যে অসুখ তার হয়েছে তার চিকিৎসা কবিরাজের ওষুধে সম্ভব নয়।
উদ্দীপকের সেলিম সাহেবও নানা পন্থায় সম্পদ তৈরি করেছেন। অবৈধ পন্থায় অর্জিত এ সম্পদ বিভিন্নভাবে ইদানীং হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আর সম্পদের দুশ্চিন্তায় তার ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না। এই বিপুল সম্পদই তার অসুখের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোড়ল ও সেলিম সাহেব উভয় চরিত্রটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অন্যায়ভাবে সুখের আশায় যে সম্পদ তারা গড়েছেন, সেই সম্পদই আজ তাদের অসুখের মূল কারণ হয়ে উঠেছে আর এদিক থেকে চরিত্র দুটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. “মোড়ল আর সেলিম সাহেবের অসুখের মূল কারণ অভিন্ন সূত্রে গাথা।”—উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের চরিত্র সেলিম সাহেব সম্পদ হারানোর চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারেন না। অন্যদিকে মোড়ল প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর জীবনে শান্তি নেই। উভয় চরিত্রই অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে জীবন থেকে সুখ হারিয়ে ফেলেছেন।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল খুবই অত্যাচারী মানুষ। মানুষের গরু, খেতের ধান লুট করে সে আজ ধনী। অন্যের দুঃখ দেখলে মোড়ল খুশি হয়। গ্রামের মানুষকে সে অনেক জ্বালিয়েছে। হাসুর মুরগি ধরে খেয়েছে। কিন্তু অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন ও মানুষকে কষ্ট দেয়াই তার অসুখের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। তার অর্থবিত্ত থাকা সত্ত্বেও সে সুখী হতে পারছে না। তেমনি উদ্দীপকের সেলিম সাহেবও নানা উপায়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তার সেই সম্পদ আজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সম্পদের দুশ্চিন্তায় তিনি রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। অর্থবিত্ত মানুষকে সুখী করতে পারে না। আর অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ কখনই মানুষকে সুখের পথের সন্ধান দিতে পারে না। আবার অর্থকষ্টে থেকেও মানুষ সুখী হতে পারে।
অতএব, অবৈধভাবে সম্পদ উপার্জন করে মোড়ল আর সেলিম সাহেব অসুখী, তাদের অসুখের মূল কারণ অভিন্ন সূত্রে গাঁথা।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
জাবেদ সাহেব সৎ, কর্তব্যপরায়ণ ও পরোপকারী সরকারি কর্মকর্তা। তিনি বিত্তবান নন তবে তাঁর জীবনে সুখ ও স্বস্তির অভাব নেই। তারই বন্ধু সাদমান সাহেব সেই অর্থে সুখী নন। তিনি বিত্তবান কিন্তু তার বিত্তের উৎস পুরোপুরি বৈধ নয়। সম্পদ রক্ষা ও অধিক সম্পদ লাভের আশায় তিনি সর্বদা ব্যস্ত। মানুষের হৃদয়ের নিবিড়তম অনুভূতির নাম সুখ। সাদমান সাহেবের জীবনে তা অধরাই রয়ে গেল।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার দৃশ্য কয়টি?
খ. মোড়লের প্রতি হাসুর সমবেদনা নেই কেন?
গ. উদ্দীপকের জাবেদ সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল কোন দিক থেকে ভিন্ন? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘সাদমান সাহেব কি ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল চরিত্রের প্রতিনিধি? উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার দৃশ্য দুটি।
খ. মোড়ল একজন অত্যাচারী, পাপী এবং নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ। মোড়লের প্রতি তাই হাসুর সমবেদনা নেই।
মোড়ল তার নিজ অঞ্চলের মানুষদের জীবিকা নির্বাহের অবলম্বন- গরু, খেতের ধান প্রভৃতি লুট করে ধনী হয়েছে। অন্যের কষ্টে সে আনন্দ অনুভব করে। এমনকি সে তার আত্মীয়দের ওপরও অত্যাচার করেছে। হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে। তাই মোড়লের প্রতি হাসুর সমবেদনা নেই।

গ. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল অঢেল সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক হলেও সৎ, কর্তব্যপরায়ণতা ও পরোপকারীর দিক দিয়ে উদ্দীপকের জাবেদ সাহেবের থেকে ভিন্ন।
অর্থসম্পদ আর ক্ষমতার মধ্যে কোনো সুখ নেই। সুখ মানুষের হৃদয়ের একান্ত অনুভূতি। অন্যকে অত্যাচার নির্যাতন আর শোষণ করে বিপুল বিত্তবৈভব আর ক্ষমতার মালিক হলেও সুখের নিবিড় অনুভূতিকে স্পর্শ করা যায় না। মোড়ল গ্রামের মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করে সম্পদ ও ক্ষমতার মালিক হয়েছে। কিন্তু মোড়ল আজ অসুস্থ। শত চেষ্টা করেও তাকে সুস্থ করা সম্ভব হচ্ছে না। তার অবৈধ অর্থ-ক্ষমতা আজ তাকে সুস্থ করে সুখের সন্ধান দিতে অপারগ। অন্যদিকে জাবেদ সাহেব সৎ কর্তব্যপরায়ণতার মধ্য দিয়ে সুখের সন্ধান পেয়েছেন।
উদ্দীপকের জাবেদ সাহেব ব্যক্তিজীবনে সৎ, কর্তব্যপরায়ণ ও পরোপকারী। সম্পদের প্রতি তার কোনো মোহ নেই। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি দুর্নীতিপরায়ণ নন। গল্পে উল্লিখিত মোড়লের মতো জাবেদ সাহেব অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতি করে অর্থবিত্ত ও ক্ষমতার মালিক হননি। তিনি মানবতার কল্যাণের মধ্যে সুখের অমৃত স্বাদ আস্বাদন করেছেন। এরূপ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে উদ্দীপকের জাভেদ সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল ভিন্ন।

ঘ. সাদমান সাহেব ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল চরিত্রের প্রতিনিধি—উক্তিটি যথার্থ।
মমতাজ উদ্দীন আহমদের ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল অত্যন্ত স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক। তিনি সুবর্ণপুরের মানুষকে শান্তিতে বসবাস করতে দেননি। কারো গরু কেড়ে নিয়ে, কারো ধান লুট করে মোড়ল অঢেল সম্পদের মালিকও হয়েছিলেন। গ্রামের সাধারণ মানুষের কল্যাণ চিন্তা তার মাথায় নেই বরং দেশের ক্ষতি করে হলেও নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করাই তার একমাত্র লক্ষ্য। এমনকি এই লোভী, পাপী, অত্যাচারী মানুষটি আপন ফুফাতো ভাই হাসুর মুরগিটা পর্যন্ত জবাই করে খেয়েছে।
উদ্দীপকের সাদমান সাহেব দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন। সম্পদ রক্ষা ও অধিক সম্পদ লাভের আশায় তিনি সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। সম্পদের পাহাড় গড়তে গিয়ে সাদমান সাহেব অন্যের ক্ষতি করতেও প্রস্তুত। নিজের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য অর্থ-সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলাই তার কাজ।
উল্লিখিত আলোচনা শেষে বলা যায়, সাদমান সাহেব ও মোড়ল যেকোনো মূল্যে নিজেদের আখের গোছানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেন না। তাই বলা যায়, সাদমান সাহেব ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল চরিত্রের প্রতিনিধি।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৪:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
করিম সাহেব শেয়ারবাজারে সামান্য অর্থ বিনিয়োগ করে অধিক লাভবান হন। পরে লাভের আশায় তিনি সম্পূর্ণ মূলধন বিনিয়োগ করে আর্থিক সচ্ছলতা আশা করেন। কিন্তু হঠাৎ শেয়ারবাজারে ধস নামলে লাভ তো দূরে থাক মূলধনও হারালেন। এখন করিম সাহেব অশান্তিতে ভুগছেন।

ক. মোড়লের বিশ্বাসী চাকরের নাম কী?
খ. সুখকে কঠিন জিনিস বলা হয়েছে কেন? বুঝিয়ে লেখো?
গ. উদ্দীপকের করিম সাহেব ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় কার প্রতিবিম্ব? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘বেশি লাভের দিকে দৃষ্টি না দিলে করিম সাহেবকে অশান্তিতে ভুগতে হতো না’—মন্তব্যটি ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. মোড়লের বিশ্বাসী চাকরের নাম রহমত।
খ. মানুষের অন্তহীন চাহিদার কারণে কোনো মানুষই সম্পূর্ণ তৃপ্ত হতে পারে না বলে সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলা হয়েছে।
সুখ হলো আপেক্ষিক ব্যাপার। তাই অনৈতিক পথে অঢেল সম্পদের মালিক হলেও প্রকৃত সুখের নাগাল পাওয়া যায় না। কেননা যারা নৈতিক আদর্শ বর্জন করে অন্যায় ও অবৈধভাবে অর্থ সম্পদ অর্জন করে তারা জীবনে সুখ পায় না। তাছাড়া প্রত্যেক মানুষেরই কিছু না কিছু অতৃপ্তি থাকে। মানুষের মাঝে পরিতৃপ্তি বোধ না থাকায় মানুষ সুখী হতে পারে না। এ কারণেই সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলা হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের করিম সাহেব ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের প্রতিবিম্ব।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল একজন স্বার্থপর মানুষ। নিজের সম্পত্তি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সে মানুষের ক্ষতি করতেও দ্বিধা করে না। গ্রামের মানুষকে নানাভাবে নির্যাতন করে জোর করে তাদের ধন-সম্পদ নিজের করে নিয়েছে। কিন্তু তার অর্জিত অবৈধ ধনসম্পদ তাকে সুখ দিতে পারেনি। সে মানসিক অশান্তিতে ভোগে, রাতে ঘুমাতে পারে না। কবিরাজও তার এ মনের অশান্তি দূর করতে পারেননি।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, করিম সাহেব শেয়ারবাজারে সামান্য অর্থ বিনিয়োগ করে অধিক লাভবান হন। কিন্তু অধিক লোভে তিনি সম্পূর্ণ মূলধন বিনিয়োগ করে মূলধন হারান। লোভ-লালসা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, ক্ষতি করে। লোভী মানুষ অঢেল সম্পত্তির মালিক হলেও জীবনে সুখী হতে পারেন না। যা আমরা দেখতে পাই মোড়ল ও উদ্দীপকের করিম সাহেবের মধ্যে। লোভের কারণেই তারা স্ব স্ব কর্মের দ্বারা মনের অশান্তিতে ভুগছেন। নাটিকার মোড়ল ও উদ্দীপকের করিম সাহেবের অশান্তির মূল কারণ লোভ।

ঘ. ‘বেশি লাভের দিকে দৃষ্টি না দিলে করিম সাহেবকেও অশান্তিতে ভুগতে হতো না।’- এ মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করে কঠিন অসুখে ভুগছে আর উদ্দীপকের করিম সাহেবও নিজের মূলধন দিয়ে অল্প সময়ে বেশি ধনসম্পদের মালিক হতে গিয়ে সব হারিয়ে অশান্তিতে ভুগছেন। অর্থাৎ তাদের দুজনেরই অশান্তির মূলে রয়েছে অধিক লোভ।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল একজন অসুখী মানুষ। সে অসৎভাবে মানুষকে ঠকিয়ে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছে। তার বিশ্বাস মানুষকে ঠকিয়ে সম্পদ অর্জন করতে পারলে সুখী হওয়া যায়। কিন্তু লোভ মানুষকে দেয় অশান্তি ও যন্ত্রণা। তাই কঠিন অসুখে ভুগছে মোড়ল। তাকে সেই সম্পদ শান্তি দিতে পারেনি। উদ্দীপকের করিম সাহেবও শেয়ারবাজারে সামান্য অর্থ বিনিয়োগ করে অধিক লাভবান হন। কিন্তু অধিক লোভের কারণে সম্পূর্ণ অর্থ বিনিয়োগ করে মূলধন হারান। তিনি যদি লোভ না করতেন তাহলে হয়তো তাকে মূলধন হারাতে হতো না। লোভের কারণেই তিনি আজ সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
উল্লিখিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বেশি লোভ না করলে সব হারিয়ে করিম সাহেবকে অশান্তিতে ভুগতে হতো না। লোভ মানুষকে শান্তি দেয় না, দেয় অশান্তি যা নাটিকার মোড়ল ও উদ্দীপকের করিম সাহেবের চরিত্রের মধ্যদিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৫:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
কদমতলীর চেয়ারম্যান সাহেব খুবই অসুস্থ। এক চাকর নসু মিয়া আর চেয়ারম্যান সাহেবের চাচাতো ভাই কদম আলী তার দেখাশোনা করছে। ডাক্তার খুবই চেষ্টা করছেন কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এক ওষুধ বদলে আর এক ওষুধ দেয়া হচ্ছে কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। এক রাতে কদম আলী স্বপ্নে দেখল, একজন কেউ জমি হারিয়ে কাঁদছে আর বলছে, ‘তোমাদের চেয়ারম্যান সাহেবের অসুখ কোনোদিন ভালো হবে না। ও আমার সব কেড়ে নিয়েছে। খোদার বিচার সূক্ষ্ম।’ এরপর কদম আলীর ঘুম ভেঙে গেল।

ক. হাসুদের গ্রামের নাম কী?
খ. “মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না।”—ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত চেয়ারম্যান সাহেবের চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের চরিত্রের সাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

ক. হাসুদের গ্রামের নাম সুবর্ণপুর।
খ. “মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না- এ উক্তিটি যথার্থ।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় অসুস্থ মোড়ল বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে। কিন্তু কিছুতেই তার রোগ ভালো হচ্ছে না। অসুখের দেখাশোনা করছে মোড়লের আত্মীয় হাসু এবং চাকর রহমত আলী। হাসু মনে করে মোড়ল যেহেতু খুব অত্যাচারী মানুষ তাই তার রোগ কিছুতেই ভালো হবে না। হাসুর সরাসরি উক্তি, ‘মোড়ল যে অত্যাচারী, পাপী। মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না। দেখে নিও মোড়ল মরবে।’

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত চেয়ারম্যান সাহেবের চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
মোড়ল খুবই লোভী, স্বার্থপর, লুটেরা একজন মানুষ। অন্যকে ফাঁকি দিয়ে সে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। কিন্তু তার মনে কোনো শান্তি নেই। তার শরীরে হাড় মড়মড়ি রোগ বাসা বেঁধেছে। কিন্তু অনেক অর্থসম্পদ ব্যয় করেও তার রোগ ভালো হচ্ছে না। কারণ তার মনের সব সুখ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সাহেব চরিত্রটি মূল গল্পের মোড়লের প্রতিনিধি। কারণ এই চেয়ারম্যান সাহেবও অন্যদের সম্পদ কেড়ে নিয়ে মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছেন। আবার এই চেয়ারম্যান সাহেবও ভীষণ অসুস্থ। কিন্তু কোনো চিকিৎসায় কাজ হচ্ছে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চেয়ারম্যান এবং নাটিকায় মোড়লের চরিত্র একে অপরের পরিপূরক।

ঘ. নাট্যকার ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় সমাজের শোষণ ও তার পরিণতির সুন্দর যে চিত্র তুলে ধরেছেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল শোষকশ্রেণির প্রতিনিধি। সে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। কর্মফল অবশ্যই ভোগ করতে হয়। তাই সে ফলস্বরূপ এমন এক রোগে আক্রান্ত হয়েছে যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যানও একই দলভুক্ত। অন্যকে ঠকিয়ে, জমি কেড়ে নিয়ে ধনী হয়েছেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি যে, অর্থসম্পদ দিয়ে জীবনে জন্য সুখ পাওয়া যায় না।’ ‘খোদার বিচার সূক্ষ্ম’ এই কথা তাদের জীবনের করুণ পরিণতিই নির্দেশ করেছে। কারণ নিজের অন্যায়ের শাস্তি তারা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে ভোগ করছে।
সার্বিক আলোচনা থেকে বলা যায়, মনের অশান্তি থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় অন্যায় মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে একজন সুখী মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৬:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
মিরাজের বাবার খুব অসুখ। মিরাজদের পাশের গ্রামে এক বিচক্ষণ কবিরাজ থাকেন। কবিরাজের কাছে গিয়ে সে তার বাবার কথা বলে কেঁদে ফেলল। বলল, ‘কবিরাজ মশায় আপনি আমার বাবাকে বাঁচান।’ কবিরাজ এ কথা শুনে উত্তর দিল, ‘কেউ কাউকে বাঁচাতে পারে না।’ কারণ বিচক্ষণ কবিরাজ জানতেন, মানুষের পক্ষে রোগ সারানো সম্ভব, কিন্তু মানুষের জীবনকে চিরদিন স্থায়ী করা সম্ভব নয়।

ক. মমতাজ উদ্দীন আহমদ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
খ. ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়।’- এ কথাটির গভীরতা নির্দেশ করো।
গ. উদ্দীপকের কবিরাজ চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কবিরাজের সাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সমগ্র ভাব ধারণ করে কি? মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।

ক. মমতাজ উদ্দীন আহমদ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
খ. ‘মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়।’—এ কথাটি যথার্থ তাৎপর্য রয়েছে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের বিশ্বস্ত চাকর রহমত তার মনিবের মৃত্যু নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে কবিরাজ তাকে ধমক দেন। কারণ কবিরাজ জানেন প্রত্যেক মানুষকেই একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। এটি নিয়তির লিখন। আর মূর্খ মানুষরাই মৃত্যুর কথা ভুলে যায়। এখানে জীবন সম্পর্কে এক বিশেষ বোধ কাজ করেছে জ্ঞানী কবিরাজের মাঝে। তিনি চিকিৎসা করতে গিয়ে সার্বক্ষণিক প্রত্যক্ষ করেছেন পৃথিবীতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়।

গ. অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের দিক দিয়ে উদ্দীপকের কবিরাজ ও ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কবিরাজ চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কবিরাজ একজন গভীর জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। তিনি তার সমগ্র জীবনের অভিজ্ঞতা দ্বারা বুঝেছেন পৃথিবী নশ্বর। তাই মোড়লের আত্মীয়স্বজন যখন মোড়লকে নিয়ে তোলপাড় শুরু করেছে তখন কবিরাজ মাথা ঠান্ডা রেখে এ পাপী মোড়লকে কীভাবে বাঁচানো যায়, তার উপায় খুঁজে বের করেছেন।
উদ্দীপকের কবিরাজও ইচ্ছা করলেই মিরাজকে মিথ্যা আশ্বাস দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি মিরাজের বাবা সম্পর্কে সত্য কথাই বলেছেন। মিথ্যা কোনো বাণী এ কবিরাজ শুনিয়ে নিজেকে অন্যের চোখে বড় করে তুলতে চাননি। আলোচ্য নাটিকার কবিরাজ ও উদ্দীপকের কবিরাজের চিন্তাচেতনা একই সূত্রে গ্রথিত।

ঘ. উদ্দীপকটি ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মানুষকে ঠকিয়ে মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে ধনী হওয়া এক মোড়লের জীবনের পরিণতি দেখানো হয়েছে। অসৎ পন্থায় অর্জিত অর্থসম্পদের মাধ্যমে জীবনযাপন করলে কেউ জীবনে সুখী হতে পারে না। নিজ পরিশ্রমে সৎ পথে উপার্জিত অর্থসম্পদ দিয়ে জীবনযাপন করলে মানসিকভাবে শান্তি লাভ করা সম্ভব। আর লোভ করলে পাপের ফল অবশ্যম্ভাবী। অসৎ পন্থায় অর্জিত অর্থসম্পদ ভোগকারী মৃত্যুপথযাত্রী অসুস্থ মোড়লের সুস্থতার জন্য কবিরাজকে ডাকা হলে কবিরাজ তার পরামর্শের মধ্য দিয়ে কিছু দার্শনিক সত্য উপস্থাপন করেছেন তার মধ্যে একটি হলো- মানুষ এবং প্রাণী অমর নয়। এ সত্যটিই প্রকৃতপক্ষে উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে মিরাজ তার বাবার অসুস্থতার জন্য কবিরাজের কাছে গিয়ে প্রাণভিক্ষা চায়। কিন্তু বিচক্ষণ কবিরাজ জানেন জীবনকে চিরদিন স্থায়ী করা সম্ভব নয়। মানুষের পক্ষে শুধু রোগ সারানো সম্ভব। এ সত্যটি ছাড়াও আলোচ্য গল্পের বিষয়বস্তু আরও সম্প্রসারিত। অসৎ পন্থায় অর্জিত সম্পদ মোড়লের অসুখের মূল কারণ। গল্পে আলোচিত এসব প্রসঙ্গ উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
উপরিউক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৭:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
গ্রামের পাশে ছোট্ট একটা কুটির। সেই কুটিরে বাস করে এক গরিব জেলে। নদী থেকে মাছ ধরে আর সেই মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন কিনে নিয়ে আসে। যেদিন মাছ পায় না সেদিন পানি খেয়েই দিন কাটিয়ে দেয়। এ নিয়ে তার দুঃখ তো নেই-ই বরং সে সুখী। কারণ অর্থই অর্থের মূল। জেলে নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে করে।

ক. লোকটা কার মতো হাসছিল?
খ. ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’—এ কথাটি কেন বলা হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের জেলে চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কোন চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ-ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘অর্থই অনর্থের মূল’—‘সুখী মানুষ’ নাটিকার আলোকে উদ্দীপকের এ মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

ক. লোকটা পাগলের মতো হাসছিল।
খ. ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’- এ কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে লোভের পরিণাম ভয়াবহ।
লোভ মানুষকে অন্যায় কাজে চালিত করে। আর অন্যায় থেকে আসে পাপ, যা পাপীকে মরণের দিকে ঠেলে দেয়। মানুষ যখন লোভের পথে পা বাড়ায়, তখন তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়। সীমাহীন লোভই মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। যা নাটকের মোড়লের চরিত্রেও দেখা যায়।

গ. উদ্দীপকের জেলে চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরিয়া চরিত্র নিজেকে সুখী ভাবার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের জন্য সুখী মানুষের জামা খুঁজতে গিয়ে একজন সুখী মানুষ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। সে কাঠ কেটে জীবিকা নির্বাহ করে। কাঠ বিক্রি করে সে যে টাকা পায় তাই দিয়ে জীবনযাপন করে। বাড়তি চাহিদা নেই। সে মনে করে, “দুনিয়াতে আমার মতো সুখী কে? আমি সুখের রাজা। আমি মস্ত বড় বাদশা।” কিন্তু তার গায়ের একটা জামা পর্যন্ত নেই।
আলোচ্য উদ্দীপকে জেলে চরিত্রটি কাঠুরিয়ার অনুরূপ। তারও কোনো গচ্ছিত সম্পদ নেই। মাছ ধরে সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে সে তার খাবারের ব্যবস্থা করে। সেও ভাবে পৃথিবীতে সে-ই সবচেয়ে সুখী মানুষ। কারণ তার কিছু হারানোর ভয় নেই। অর্থাৎ জেলে ও কাঠুরিয়া চরিত্র দুটি একে অপরের পরিপূরক।

ঘ. ‘অর্থই অনর্থের মূল’—মন্তব্যটি যথার্থ।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় অন্যায় ও অনৈতিকভাবে মানুষের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করে ধনী হয়েছে মোড়ল। কারো গরু, কারো ধান লুট করে, মানুষকে ঠকিয়ে মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে মোড়ল টাকার পাহাড় গড়েছে। কিন্তু তার এ উপার্জিত অর্থসম্পদ তাকে সুখী করতে পারেনি। তিনি শান্তিতে ঘুমাতে পারেন না। অসুস্থ হয়ে সুখের সন্ধান করে চলেছেন। কিন্তু কোনোভাবেই পরিত্রাণ পাননি।
অন্যদিকে উদ্দীপকের গরিব জেলে নদী থেকে মাছ ধরে আর সেই মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন কিনে খান। এতে তার কোনো দুঃখ নেই। কারণ তার কোনো সম্পদ নেই আর সম্পদ হারানো বা বাড়ানোর চিন্তায় অন্যের ও নিজের অশান্তিও নেই। কিন্তু জেলের যদি মোড়লের মতো সম্পদের লিপ্সা থাকত তাহলে সেও অন্যায় ও অত্যাচারে লিপ্ত হয়ে অন্যের কষ্টের কারণ হতো এবং নিজেও অসুখী হতো।
তাই আলোচনার পরিশেষে বলা যায়, ‘অর্থই অনর্থের মূল।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৮:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
এলাকার চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই যদু আর মামাতো ভাই মধু। দুজনই তাদের ভাইকে বেশ ভালোবাসে। যদু মনে করে চেয়ারম্যানের চরিত্রে কোনো দোষ নেই। কিন্তু মধু জানে চেয়ারম্যান আসলে একজন লোভী মানুষ। সে জনগণের টাকা আত্মসাৎ করে। যদু একদিন মধুকে বলল, ভাইয়ের মতো লোকই হয় না। উত্তরে মধু হেসে দিল, ঠিকই বলেছ, ভাই যার শত্রু তার আর শত্রুর প্রয়োজন নেই।

ক. মোড়ল জোর করে হাসুর কী জবাই করেছিল?
খ. “ঐ কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, তোমার মোড়লের নিস্তার নেই।”—ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের মধু চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার হাসুর চরিত্রের মিল দেখাও।
ঘ. উদ্দীপকের চেয়ারম্যানকে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের প্রতিনিধি বলা যায় কী? মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করো।

ক. মোড়ল জোর করে হাসুর মুরগি জবাই করেছিল।
খ. “ঐ কবিরাজ যতই নাড়ি দেখুক, তোমার মোড়লের নিস্তার নেই।”—উক্তিটি যথার্থ।
কারণ মোড়লের ফুফাতো ভাই হাসু জানে তার ভাই কেমন মানুষ। কত মানুষের ওপর সে অত্যাচার করেছে, কত মানুষকে দুঃখ দিয়েছে। মোড়লের চাকর রহমত তার মনিবের জন্য দুঃখ করলে হাসু বলে মোড়ল আর ভালো হবে না। শুধু নিজের সুখের কথা চিন্তা করলে সুখী হওয়া যায় না। মোড়ল সম্পর্কে বলেছে, “এর গরু কেড়ে, তার ধান লুট করে তোমার মোড়ল আজ ধনী। মানুষের কান্না দেখলে হাসে।” এমন মানুষের রোগ ভালো হওয়া কঠিন।

গ. উদ্দীপকের মধু চরিত্রের সঙ্গে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার হাসুর চরিত্রের মিল লক্ষণীয়।
নাটিকায় হাসু মোড়লকে আত্মীয় হিসেবে ভালোবাসে। কিন্তু সে ভালোবাসা অন্ধ ভালোবাসা নয়। মোড়লের চরিত্রের যে দোষ রয়েছে, সেগুলোকে সে দেখিয়ে দিতে ছাড়ে না। নাটিকাটিতে তারই সহায়তায় পাঠক জানতে পারে মোড়লের কুকর্মের কথা।
আলোচ্য উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মামাতো ভাই মধু। চেয়ারম্যান একজন লোভী মানুষ, সে জনগণের টাকা আত্মসাৎকারী। তবে সবাই তাকে তোষামোদ করে চলে। মধু তাদের দলের নয়। সেও হাসুর মতো সত্য কথা বলতে পিছপা হয় না। ভালোবাসলেও সে চেয়ারম্যানের চরিত্রের দোষগুলো দেখিয়ে দেয় আয়নার মতো। তাই বলা যায়, হাসু এবং মধু পরস্পরের প্রতিনিধিস্বরূপ।

ঘ. উদ্দীপকের চেয়ারম্যানকে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের প্রতিনিধি বলা যায়।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল একজন হৃদয়হীন মানুষ, যার আপন-পর বলতে কিছু নেই। সে গ্রামের লোককে যেমন অত্যাচার করেছে তেমনি নিজের আত্মীয় হাসুর মুরগিও জোর করে জবাই করে খেয়েছে। কারো গরু চুরি করে কারো ধান লুট করে সে আজ ধনী। মানুষের দুঃখ দেখলে সে হাসে। অসুস্থ হয়ে বুঝতে পেরেছে তার এসব কাজ পাপ।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যানও একজন লোভী মানুষ। সে সরকারি অর্থ জনগণকে না দিয়ে নিজের পেট ভরায়। জনগণকে ফাঁকি দিয়ে নিজের ধন-সম্পত্তি বাড়াতে চেয়েছে। কোনো মানুষের প্রতি তার কোনো সত্যিকারের ভালোবাসা নেই। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সে যে কারো ক্ষতি করতে পারে।
উল্লিখিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের চেয়ারম্যান নাটিকার মোড়লের প্রতিনিধিত্ব করেছে।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ৯:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষুধাতৃষ্ণা মেটাতেই বেশি মনোযোগী। তারা সারাক্ষণ অর্থচিন্তায় ব্যস্ত থাকে। অর্থচিন্তার যাতাকলে সবাই বন্দি। ধনী-দরিদ্র সবার অন্তরে একই ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছে- চাই, চাই, আরো চাই। অন্নচিন্তা বা অর্থচিন্তা থেকে মানুষ মুক্তি না পেলে অর্থসাধনাই জীবনসাধনা নয়, একথা মানুষকে বোঝাতে না পারলে শিক্ষা মানবজীবনে সোনা ফলাতে পারে না। অর্থচিন্তায় ব্যস্ত মানুষ প্রকৃত মনুষ্যত্ব অর্জনে অক্ষম।

ক. বিছানায় শুয়ে কে ছটফট করছে?
খ. সুখী মানুষের প্রাণখোলা হাসির কারণ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের মূলভাবের সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মূলবক্তব্যের সাদৃশ্য বর্ণনা করো।
ঘ. ‘মোড়ল স্বার্থচিন্তায় ব্যস্ত একজন মনুষ্যত্বহীন মানুষের প্রতিচ্ছবি’—উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

ক. বিছানায় শুয়ে মোড়ল ছটফট করছে।
খ. সুখী মানুষের প্রাণখোলা হাসির কারণ হলো, হাসু তাকে চোরের উপদ্রবের কথা জিজ্ঞাসা করেছে।
সুখী মানুষের ঘরে কিছুই নেই। তাই চোরের উপদ্রবের কথায় তার বিষম হাসি পেয়েছে। সারাদিন বনে কাঠ কেটে দিনান্তে তা হাটে বিক্রি করে। প্রাপ্ত টাকা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে তা রান্না করে খায়। তাই হাসুর মুখে চোরের উপদ্রবের কথা শুনে সুখী মানুষ প্রাণখোলা হাসি হেসেছে।

গ. উদ্দীপকের মূলভাবের সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মূলবক্তব্যের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
এ জগতে মানুষ সর্বদা অর্থ বা অন্নচিন্তায় মত্ত থাকে। ধনী-দরিদ্র সবার মনে ‘চাই, ‘চাই, আরো চাই’ ভাবটি বিরাজ করে। অর্থ, অন্ন বা স্বার্থচিন্তায় মগ্ন মানুষ প্রকৃত মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারে না। উদ্দীপকে এ বক্তব্যই তুলে ধরা হয়েছে যা ‘সুখী মানুষ’ নাটিকারও মূল শিক্ষা। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় বলা হয়েছে- ‘এ দুনিয়াতে ধনী বলছে আরো ধন দাও, ভিখারি বলছে আরো ভিক্ষা দাও, পেটুক বলছে আরো খাবার দাও। শুধু দাও আর দাও।’
উদ্দীপকটির মূলভাব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মূলবক্তব্যের মধ্যে সুগভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ. ‘মোড়ল স্বার্থচিন্তায় ব্যস্ত একজন মনুষ্যহীন মানুষের প্রতিচ্ছবি’- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে তাৎপর্যপূর্ণ।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল চরিত্রটি স্বার্থপর। কারো গরু কেড়ে, কারো ধান লুট করে মোড়ল ধনী হয়েছে। মানুষকে ঠকিয়ে নিজের সম্পদ বাড়িয়েছে বলে মোড়ল মনুষ্যত্বহীন মানুষের প্রতিরূপ। তার এ আচরণই উদ্দীপকে চিত্রিত হয়েছে, একথা বলা যায়।
আলোচ্য নাটিকার মোড়লের মতোই প্রদত্ত উদ্দীপকটিতে পৃথিবীতে স্বার্থপর কিছু লোকের মনুষ্যত্বহীনতার কথা প্রকাশ পেয়েছে। ক্ষুধা-তৃষ্ণা মেটানোর অজুহাতে অধিকাংশ মানুষ অর্থচিন্তায় মগ্ন থাকে। অর্থচিন্তার নিগড়ে বন্দি হয়ে এসব আত্মকেন্দ্রিক মানুষ সর্বদা ব্যতিব্যস্ত থাকে। তাই এরূপ মানুষ মনুষ্যত্বহীনতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকাটিতে মোড়লের স্বার্থচিন্তা মনুষ্যত্বহীনতার প্রতীক। তেমনি বিশ্বের অধিকাংশ মানুষও মনুষ্যত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে অনৈতিক পথে সম্পদ অর্জন করে- এ বক্তব্য উদ্দীপকে তুলে ধরা হয়েছে।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১০:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রফিক সাহেব অবৈধ উপায়ে বিভিন্ন পণ্য মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতেন এবং পরে তা উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তার খারাপ ব্যবহারের কারণে আশেপাশের মানুষের সাথে তার সম্পর্ক ভালো না। সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তিনি সন্তানদেরও ভালোভাবে মানুষ করতে পারেননি। টাকা- পয়সা নিয়ে চিন্তিত, চোখে ঘুম নেই; ঠিকমতো খেতেও পারেন না তিনি। বাড়ির কাজের লোক নয়ন সারাদিন কাজকর্ম সেরে সন্ধ্যায় খেয়েদেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে। এটা দেখে রফিক সাহেবের মনে হিংসা হয়।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় কয়টি দৃশ্য রয়েছে?
খ. হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে কেন? বুঝিয়ে লেখো।
গ. নয়নকে কী ধরনের মানুষ বলা যায়? ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের রফিক সাহেবকে ‘সুখী মানুষ’ হতে হলে কী কী করতে হবে? —‘সুখী মানুষ’ নাটিকার আলোকে লেখো।

ক. সুখী মানুষ নাটিকার দুটি দৃশ্য রয়েছে।
খ. মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষের ওপর অত্যাচার করে অন্যায়ভাবে সম্পদ লুট করে ধনী হয়েছে। তাই হাসু মোড়লের আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তার অকল্যাণ কামনা করে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল চরিত্রটি নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষকে অনেক জ্বালিয়েছে। তার অত্যাচারে সুবর্ণপুরের মানুষ অতিষ্ঠ। সে মানুষের সম্পদ লুট করে আজ ধনী। মানুষের কান্নায় মোড়ল ব্যথিত না হয়ে উল্লাস করে। এমনকি তার আত্মীয় হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে মোড়ল। এসব অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই হাসু তার আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও মোড়লের মৃত্যু কামনা করে।

গ. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার আলোকে নয়নকে সুখী মানুষ বলা যায়।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় একজন সুখী মানুষের পরিচয় উপস্থাপন করা হয়েছে। সে বনে থাকে এবং নিজের শ্রমে উপার্জিত আয় দিয়ে কোনোভাবে জীবিকানির্বাহ করে সুখে-শান্তিতে দিনাতিপাত করে। সে নিঃসম্বল একজন মানুষ, তাই তার ঘরে চোর প্রবেশ করবে এমন ধারণা সে কখনো করে না। সুতরাং সে রাতে শান্তিতে ঘুমায় । সে বলে, তার কিছু নাই সুতরাং সেই দুনিয়াতে সুখী মানুষ। সে নিজেকে সুখের রাজাও মনে করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায় যে, রফিক সাহেব পণ্য মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। এভাবে তিনি সম্পদের বিশাল পাহাড় গড়েছেন। কিন্তু সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকায়, আশপাশের মানুষের তার প্রতি খারাপ ধারণা থাকায়, সন্তান অমানুষ হওয়ায় তিনি বেশ অশান্তিতে আছেন। অপরদিকে কাজের লোক নয়ন সারাদিনের কাজ সেরে সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে, যা ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সুখী মানুষকে নির্দেশ করে। কেননা, ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় দেখা যায় যে, মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষের সম্পদ, মুরগি ইত্যাদি আত্মসাৎ করে অবশেষে অশান্তিতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নয়ন ‘সুখী মানুষ নাটিকার সুখী মানুষের মতো একজন সুখী মানুষ।

ঘ. উদ্দীপকের রফিক সাহেব সুখী মানুষ হতে হলে সৎ পথে নিজ পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করে মনের অশান্তি দূর করতে হবে।
আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা ও স্বার্থপরতা মানুষের জীবনের অশান্তির মূল কারণ। মানুষকে ঠকিয়ে মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে মনের সুখ পাওয়া যায় না। কারো অঢেল সম্পদ থাকতে পারে কিন্তু তা অবৈধভাবে উপার্জিত হলে জীবনে সুখের আশা করা যায় না।
মনের অশান্তি দূর করার জন্য মানুষকে কতকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। যেমন- সৎপথে অর্থ-উপার্জন করা, কাউকে না ঠকানো, মানুষের মনে কষ্ট না দেওয়া এবং সব ধরনের অন্যায় ও অবৈধ পথ পরিহার করে সৎপথে চলা। সুখী মানুষ’ নাটিকাটিতে মমতাজ উদ্দীন আহমদ মানুষের মনের অশান্তি দূর করার জন্য এই পদক্ষেপগুলোর কথাই উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকের রফিক সাহেবকে দেখা যায় যে, তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ার জন্য পণ্য মজুদ করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করতেন। আবার মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে তাদের মনে কষ্ট দিয়েছেন। সম্পদ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আপন সন্তানকেও মানুষ করতে পারেননি। টাকার চিন্তায় রাতে ঘুমাতেও পারেন না। তাই সুখী মানুষ নাটিকার আলোকে বলা যায়, রফিক সাহেবকে সুখী হতে হলে সৎপথে উপার্জন করতে হবে, মানুষকে ঠকানো ও কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, সব ধরনের অবৈধ ও অন্যায় পথ পরিহার করতে হবে। তাহলেই রফিক সাহেব তার মনের দুঃখ-কষ্ট দূর করে একজন সুখী মানুষ হতে পারবেন।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১১:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
রফিক সাহেব অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। শহরে আলিশান বাড়ি করেছেন। ইদানীং দুর্নীতির দায়ে তার সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। রাতে দুশ্চিন্তায় তার ঘুম হয় না। বিচারে তার জেল হয়ে যেতে পারে। লোকজন বলাবলি করছে, ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না।’ রফিক এখন তার সমস্ত সম্পদ ত্যাগ করে হলেও এ অবস্থা থেকে বাঁচতে চায়।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল কার মুরগি জবাই করে খেয়েছে?
খ. হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করে কেন?
গ. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার হাসুর দৃষ্টিভঙ্গি উদ্দীপকের মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. মোড়ল ও রফিক সাহেবের জীবনের পরিবর্তন একই সূত্রে গাঁথা- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল জোর করে হাসুর মুরগি জবাই করে খেয়েছে।
খ. মোড়লের অন্যায় কাজকর্ম সমর্থন করতে পারে না বলেই হাসু মোড়লের মৃত্যু কামনা করে।
অন্যায় কাজ যে-ই করুক, তাকে সমর্থন করা যায় না। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল এক অত্যাচারী চরিত্র। তিনি গ্রামের মানুষদের অনেক জ্বালিয়েছেন, যা হাসু মেনে নিতে পারেনি। মোড়লকে সে পাপী ও অত্যাচারী মনে করেছে। আর এ জন্যই মোড়লের ফুফাতো ভাই হয়েও হাসু তার মৃত্যু কামনা করে।

গ. ‘পাপ করলে তার শাস্তি পেতে হয়’ হাসুর এই দৃষ্টিভঙ্গি উদ্দীপকের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।
এ জগতে মানুষ সর্বদা অর্থ বা অন্নচিন্তায় মত্ত থাকে। ধনী-দরিদ্র সবার মনেই চাই, চাই আরও চাই ভাবটি বিরাজ করে। আর এই অতিরিক্ত লোভ থেকেই তারা অন্যায় ও পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পাপ কখনো কাউকে ক্ষমা করে না।
হাসু নিজেকে অসুখী মনে করে, কারণ তার মধ্যেও চাহিদা আছে। কিন্তু সে কখনো পাপ কর্ম করে না এবং অন্যায়কারীকেও সমর্থন করে না। এজন্যই সে ‘সুখী মানুষ’ গল্পে অত্যাচারী মোড়লের সর্বদা। অকল্যাণ কামনা করতো। তেমনি উদ্দীপকের রফিক সাহেব একজন দুর্নীতিগ্রস্ত লোক। রাতে দুশ্চিন্তায় তার ঘুম হয় না। লোকে বলাবলি করে, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। অর্থাৎ মানুষকে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হবে। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় হাসুর দৃষ্টিভঙ্গি উদ্দীপকের মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে।

ঘ. মোড়ল আর রফিক সাহেবের অসুখের মূল কারণ অভিন্ন আর তা হলো অন্যায় ও অনৈতিকভাবে সম্পদ অর্জন।
উদ্দীপকের রফিক সাহেব দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারেন না। অন্যদিকে মোড়ল ধনী হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনে শান্তি নেই। উভয় চরিত্রই অবৈধ সম্পদের মালিক হয়ে জীবন থেকে সুখ হারিয়ে ফেলেছেন।
মোড়লের মতো রফিক সাহেবও প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক। কিন্তু এসব অবৈধ সম্পদ তাকে শান্তি দিচ্ছে না। দুশ্চিন্তায় তার রাতের ঘুম হারাম। তিনি বুঝতে পারেন, অধিক সম্পদকে তিনি সুখের উৎস মনে করলেও সেটিই এখন তার অসুখের মূল কারণ।
অর্থ সম্পদের মাঝে সুখ খুঁজে না পেয়ে রফিক সাহেব ও মোড়ল একসময় অনুভব করেছেন অবৈধ পথে উপার্জিত সম্পদই তাদের অসুখের অন্যতম কারণ। এখন তারা সমস্ত সম্পদ ত্যাগ করে হলেও এ অবস্থা থেকে বাঁচতে চান। উভয়েই তাদের জীবনের পরিবর্তন চান। সুতরাং প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্যটি যথার্থ বলা যায়।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১২:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আনোয়ার সাহেব অনেক পরিশ্রম করে সততার সাথে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কোনোদিনও কারো ক্ষতি করেননি। পরিশ্রম আর সততাই ছিল তাঁর প্রেরণাশক্তি। পক্ষান্তরে রজব আলী সুদের কারবার করে ধনাঢ্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। মানুষকে বিপদে ফেলে চড়া সুদে টাকা ধার দেয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। শেষ বয়সে এসে তার মনে কোনো সুখ নেই। তার ভেতরে শুধুই অতৃপ্তি আর হাহাকার।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম কী?
খ. সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলা হয়েছে কেন?
গ. উদ্দীপকের রজব আলীর সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরে যেন এক অভিন্ন সত্তা—যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখো।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম হাড় মড়মড় রোগ।
খ. পাঁচ গ্রাম খুঁজে কোথাও সুখী মানুষ না পাওয়ায় হাসু সুখকে বড় কঠিন জিনিস বলেছেন।
দুনিয়াতে সুখী মানুষ পাওয়া খুবই কষ্টের। এ দুনিয়াতে ধনী চায় আরও ধন। ভিখারি আরও ভিক্ষা চায়, পেটুক চায় আরও খাবার। সবাই শুধু ‘চাই আর চাই”। অল্পে তুষ্ট না হওয়ায় সবাই আজ অসুখী। অনেক চাহিদা থাকায় কারও কোথাও সুখ নেই। সুখ একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। তাই হাসুর মতে সুখ বড় কঠিন জিনিস।

গ. উদ্দীপকের রজব আলীর সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার লোভী, অত্যাচারী মোড়ল চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘সুখী মানুষ’ মমতাজ উদ্দীন আহমদের একটি নাটিকা। তিনি এই নাটিকার কাহিনিতে মানুষের সুখের স্বরূপ তুলে ধরেছেন। দুনিয়াতে যারা অন্যায় ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে তারা কখনো সুখী হতে পারে না। কিন্তু যারা সৎপথে নিজ পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে জীবনযাপন করে তারাই সুখী।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রজব আলী একজন সুদকারবারি। সুদের কারবার করেই তিনি ধনী হয়েছেন। মানুষকে বিপদে ফেলে বেশি সুদে তিনি টাকা ধার দেন। কিন্তু শেষ বয়সে তিনি কোনো সুখ দেখেন না। এজন্য তার ভেতর শুধুই অতৃপ্তির হাহাকার বিরাজমান। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায়ও দেখা যায়, মোড়ল সুবর্ণপুরের মানুষকে ভীষণ জ্বালিয়েছে। গরু কেড়ে নিয়েছে, ধান লুট করেছে, মানুষের কষ্ট দেখে তৃপ্তি পেয়েছে। লোভী, অত্যাচারী ও পাপী মোড়ল জীবনে সুখ পায় না। এজন্য হাড় মড়মড় রোগে আক্রান্ত হয়ে সে কবিরাজের কাছে ‘সুখ দাও’ বলে আর্তচিৎকার করছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রজব আলী ও ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি হলো লোভী, অত্যাচারী এবং পাপী মোড়ল।

ঘ. উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরে পরিশ্রম ও সততার দিক থেকে এক ও অভিন্ন সত্তা।
পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ নেই, যে সুখের প্রত্যাশা করে না। কিন্তু কেবল অর্থ-বিত্তের ওপর সুখ নির্ভরশীল নয়। কঠোর শ্রম ও বৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন ছাড়া কখনো সুখ আসা করা যায় না। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে মানুষের সাথে ধোঁকাবাজী করে টাকা-কড়ি হাতিয়ে নেওয়া সবই অন্যায়ের শামিল। ‘সুখ’ জিনিসটা কঠিন হলেও সততা আর কঠোর পরিশ্রমী হলে তা পাওয়া সম্ভব। সুতরাং অন্যের ক্ষতির আশা না করে সততার সাথে শ্রম ও সাধনার মধ্যে সুখের আশা করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আনোয়ার সাহেব একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী। সততা ও পরিশ্রমের সাথে ব্যবসায় করে তিনি প্রিিত হয়েছেন। কোনোদিন তিনি কারো ক্ষতি করার প্রত্যাশা করেননি। কেবল পরিশ্রম আর সততাই ছিল তার একমাত্র বল। অপরদিকে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায়ও কাঠুরে সারাদিন বনে বনে কাঠ কাটে। সেই কাঠ বাজারে বিক্রি করে যা পায়, তা দিয়ে চাল-ডাল কিনে। তৃপ্তি ও আনন্দভরে খেয়েদেয়ে গান গাইতে গাইতে ঘুমিয়ে যায়, এক ঘুমেই রাত শেষ হয়ে যায়, তার ঘরে সোনা-দানা জামা-জুতা না থাকায় ঘরে চোর ঢোকারও কোনো ভয় নেই তার। শুধু তাই নয়, নিজেকে দুনিয়ার সর্বাধিক ‘সুখী মানুষ’ ও মস্ত বড় বাদশা বলেও দাবি করে এই কাঠুরে। তাই বলা যায়, কারো ক্ষতি সাধনে লিপ্ত বা প্রত্যাশা না থাকায় উভয়েই সুখী।
উদ্দীপক ও ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় দেখা যায়, উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব কোনোদিন কারো ক্ষতির আশা করেন না। নিজ পরিশ্রম আর সততায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পরিশ্রম এবং সততাকে তার আগামী দিনের শক্তি বানিয়ে নিয়ে সুখ উপলব্ধি করেছেন। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায়ও কাঠুরে বনে কাঠ কেটে জীবিকা-নির্বাহের মাধ্যমে জীবনযাপন করে। সোনাদানা-জামাজুতো না থাকায় চোরের ভয় করে না এবং লোভ না থাকায় কারো ক্ষতি করার চিন্তাও আসে না। তাই উদ্দীপক ও ‘সুখী মানুষ’ নাটিকা বিশ্লেষণে এ কথাই প্রতীয়মান হয় যে, আনোয়ার সাহেব এবং কাঠুরের কর্ম- পরিবেশ ভিন্ন হলেও শ্রম-সততা ও পরিশ্রমের দিক থেকে উভয়ে এক অভিন্ন সত্তা।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৩:

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পলাশ চৌধুরী কমিশনার থাকা অবস্থায় সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। শহরে বহুতল ভবন ও দামী গাড়ি কিনেছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও দুর্নীতির কারণে তার নমিনেশন পেপার বাতিল করা হয়। রাতে দুশ্চিন্তায় তার ঘুম হয় না। লোকে বলাবলি করে, এটা তার পাপের ফল। চৌধুরী এখন সম্পদ পরিত্যাগ করে হলেও এ অবস্থা থেকে বাঁচতে চায়।

ক. মোড়লের ‘নাড়ি’ কে পরীক্ষা করছে?
খ. মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না’—বলতে কী বোঝ?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পলাশ চৌধুরীর মনোভাবের সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের কী মিল খুঁজে পাও? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. মোড়ল ও পলাশ চৌধুরীর জীবনের পরিবর্তন একই সূত্রে গাঁথা—মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

ক. কবিরাজ মোড়লের ‘নাড়ি’ পরীক্ষা করছে।
খ. ‘মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না।’- বলতে মানসিক যন্ত্রণায় কাতর মানুষের যে ওষুধ সেবনে কাজ হয় না, শারীরিক উপশম লাভ করা যায় না তা বোঝানো হয়েছে।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় প্রশ্নোক্ত কথাটি মোড়লকে বলেছে তার ফুফাতো ভাই হাসু। মোড়ল একজন অত্যাচারী, অবিবেচক লোক মানুষের অধিকার হরণ করে সে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তার মধ্যে অনুশোচনা জাগ্রত হয়েছে, যার ফলে শারীরিক অশান্তির চেয়ে মানসিক অশান্তিই বেশি দেখা দিয়েছে। তাই হাসুর মতে, কবিরাজের ওষুধে মোড়লের মনে শান্তি আসবে না।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পলাশ চৌধুরীর লোভী মনোভাবের সাথে সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের মানুষ ঠকিয়ে ধনী হওয়া ও তার পরিণতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
সুখী মানুষ মমতাজ উদ্দীন আহমদের একটি নাটিকা। নাটিকাটির কাহিনিতে আছে, মানুষ ঠকিয়ে মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে ধনী হওয়া এক মোড়লের শান্তি নেই। কারণ মোড়ল পরের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। পরের সম্পদ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করলে কখনো সুখী হওয়া যায় না। মানবজীবনে সুখ একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। অনেক সম্পদ থাকলেই সুখ নিশ্চিত করা যায় না। আবার কোনো সম্পদ না থাকলেও সে সুখী হতে পারে। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল অত্যাচারী। সে পরের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। এখন সে অসুখী। একটু সুখের জন্য সে ছটফট করেছে। তার সুখ কেউই নিশ্চিত করতে পারছে না।
উদ্দীপকের পলাশ চৌধুরী অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। শহরে আলীশান বাড়ি করেছেন। ইদানীং দুর্নীতির দায়ে তার নমিনেশন বাতিল করা হয়। রাতে দুশ্চিন্তায় তার ঘুম হয় না। এতদিন তিনি যাকে সুখের উৎস মনে করেছিলেন, আজ তাই হয়ে উঠেছে অসুখের মূল কারণ। এদিক থেকে বলা যায়, মোড়লের সাথে উদ্দীপকের পলাশ চৌধুরী চরিত্রের যথার্থ সাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ. মোড়ল ও পলাশ চৌধুরীর জীবনের পরিবর্তন একই সূত্রে গাঁথা – মন্তব্যটি যথার্থ।
সুখ জিনিসটি আসলে মনের ব্যাপার। অঢেল সম্পদ থাকলেই সুখ নিশ্চিত করা যায় না। আবার কোনো সম্পদ না থাকলেও একজন মানুষ সুখী হতে পারে। অবৈধ সম্পদ অর্জন করে, কারও ওপর অত্যাচার করে, জুলুম করে, সম্পদের পাহাড় গড়ে কখনো সুখী হওয়া যায় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পলাশ চৌধুরী অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। শহরে আলীশান বাড়ি করেছেন। তবে দুর্নীতির দায়ে তার নমিনেশন হাতছাড়া হয়ে যায়। রাতে দুশ্চিন্তায় তার ঘুম হয় না। এতদিন তিনি যাকে সুখের উৎস মনে করেছিলেন আজ তাই হয়ে উঠেছে অসুখের মূল কারণ। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লেরও একই অবস্থা।
উদ্দীপকের পলাশ চৌধুরী কমিশনার থাকা অবস্থায় দুর্নীতি করে অবৈধ টাকাপয়সা উপার্জন করেছেন, দামী গাড়ি কিনেছেন । তেমনি ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লও প্রজাসাধারণের ওপর অত্যাচার করে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেছে। ফলে দু’জনের কেউই সুখে নেই। অবৈধ সম্পদ তাদের সুখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। অতএব, উদ্দীপকের পলাশ চৌধুরী আর সুখী মানুষ নাটিকায় মোড়ল চরিত্রটি একই সূত্রে গাঁথা—মন্তব্যটি যথার্থ।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৪: [ঢা. বো.-১৯]

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আনোয়ার সাহেব অনেক পরিশ্রম করে সততার সাথে ব্যবসা করে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কোনো দিনও কারো ক্ষতি করেননি। পরিশ্রম আর সততাই ছিল তাঁর প্রেরণাশক্তি। পক্ষান্তরে রজব আলী সুদের কারবার করে ধনাঢ্য ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। মানুষকে বিপদে ফেলে চড়া সুদে টাকা ধার দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। শেষ বয়সে এসে তার মনে কোনো সুখ নেই। তার ভেতরে শুধুই অতৃপ্তি আর হাহাকার।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম কী?
খ. সুখকে বড়ো কঠিন জিনিস বলা হয়েছে কেনো?
গ. উদ্দীপকের রজব আলীর সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরে যেনো এক অভিন্ন সত্তা—যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখো।

ক. ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়লের কথিত রোগের নাম হাড় মড়মড় রোগ।
খ. সুখ চাইলেই পাওয়া যায় না বলে সুখ বড় কঠিন জিনিস।
মানুষ সুখী হতে চাইলেই সুখ পায় না, কেননা দুনিয়াতে যার ধন আছে, সে আরও ধন চায়। ভিক্ষুক আরও ভিক্ষা চায়। পেটক আরও খেতে চায়। মানুষের এই অতৃপ্তির কোনো শেষ নেই। তাই মানুষ শুধু চায় আর চায় বলেই সুখ বড় কঠিন জিনিস।

গ. উদ্দীপকের রজব আলীর সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্রটি হলো অত্যাচারী মোড়ল।
সমাজে যেমন নিরীহ ভালো মানুষ আছে, তেমনি অত্যাচারী শোষক শ্রেণির মানুষও রয়েছে। লোভী ও স্বার্থপর লোকেরা পরের সম্পদ জবরদখলের মাধ্যমে ভোগ করে থাকে। দুর্বল-নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়ে তারা অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে কিন্তু সুখ পায় না।
উদ্দীপকের রজব আলী একজন অত্যাচারী ধনাঢ্য ব্যক্তি। মানুষকে বিপদে ফেলে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে তিনি প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। অন্যায়ভাবে মানুষকে শোষণ করে তিনি ধনাঢ্য ব্যক্তিতে পরিণত হলেও তার মনে অতৃপ্তির হাহাকার ছাড়া কোনো সুখ নেই। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায়ও দেখা যায়, মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে ধনী হওয়া এক মোড়লের জীবনে শান্তি নেই। মোড়ল হাড় মড়মড় রোগে আক্রান্ত, যা কেউ সারিয়ে তুলতে পারছে না। কেবল সুখী মানুষের জামাই তার এ রোগের প্রতিকার করতে পারে, যা খুঁজে পাওয়া খুবই দুঃসাধ্য। মুলত অন্যায়ভাবে অত্যাচারের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদই তার। জীবনে অশান্তি ডেকে এনেছে। কাজেই উদ্দীপকের রজব আলীর সাথে ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়ল চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ. উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরে যেন এক অভিন্ন সত্তা—মন্তব্যটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
সমাজে যেমন অর্থলোভী ও স্বার্থপর মানুষ বাস করে, তেমনি সহানুভূতিশীল নৈতিক চরিত্রের অধিকারী মানুষও বাস করেন। তারা সৎপথে এবং সৎ উপায়ে জীবনযাপনের মাধ্যমে তৃপ্তি বোধ করেন। নিজের শ্রমে উপার্জিত আয় দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার মধ্যেই তারা সুখ পান। অন্যায়, অসৎ পথ সব সময়ই তারা পরিহার করে চলেন।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় বনের মধ্যে এক কাঠুরেকে পাওয়া গেল, যে নিজের শ্রমে উপার্জিত আয় দিয়ে কোনো রকমে জীবিকানির্বাহ করে সুখে দিনাতিপাত করছে। তার কোনো সঞ্চিত সম্পদ না থাকায় চোরের ভয় নেই এবং ভাঙা ঘরে শান্তিতে ঘুমায়। কাঠুরে বনের কাঠ কেটে খায় এবং গায়ে দেওয়ার মতো একটা জামা না থাকার পরও সে সুখী। উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব অনেক পরিশ্রম করে সততার সাথে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি কোনো দিন কারও ক্ষতি করেননি। কেবল পরিশ্রম ও সততাই তার প্রেরণাশক্তি। এদিক থেকে আনোয়ার সাহেব ও কাঠুরের সুখী-সুন্দর মানসিকতার মিল পাওয়া যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায়, 'সুখী মানুষ' নাটিকার কাঠুরে একজন সৎ এবং নিজের শ্রমে উপার্জিত অর্থে জীবিকানির্বাহ করে সুখী মানুষ। উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেবের বেলায়ও একই কথা। সুতরাং উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব এবং ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাঠুরে যেন এক অভিন্ন সত্তা- মন্তব্যটি যৌক্তিক ও যথার্থ।


‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সৃজনশীল প্রশ্ন- ১৫: [কু. বো.-১৯]

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
অংশ—১ :
‘ভাঙা কুঁড়েঘর, ছেঁড়া কাঁথা
তবুও এখানে আমার শান্তি গাঁথা।’
অংশ—২ :
‘যার নেই- তারে যদি দাও
পাবে দ্বিগুণ ফিরে
নিজের শুধু ভাব যদি
দুঃখ থাকবে ঘিরে।’

ক. কবিরাজ কোন কঠিন কাজটি করতে বলেছিলেন?
খ. ‘মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে ওষুধে কাজ হয় না’—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের অংশ—১—এ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কোন চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের অংশ—২ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের জন্য কতটা শিক্ষণীয় তা মূল্যায়ন করো।

ক. কবিরাজ একজন সুখী মানুষের জামা সংগ্রহ করার কঠিন কাজটি করতে বলেছিলেন।
খ. শান্তির সম্পর্ক মানুষের মনের সাথে, তাই মনের মধ্যে অশান্তি থাকলে বাইরের ওষুধে কাজ হয় না।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকায় মোড়ল হাড় মড়মড় রোগে আক্রান্ত। অন্যায়ভাবে সে অর্থ উপার্জন করেছে সারা জীবন। মনে তার শান্তি নেই, অনুশোচনায় সে জর্জরিত। তাই ওষুধেও কাজ হয় না। কেবল ন্যায় ও নীতির পক্ষে থাকলেই সুখে থাকা সম্ভব, আলোচ্য উক্তিতে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।

গ. উদ্দীপকের অংশ—১—এ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার সুখী মানুষ চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে।
সুখ একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। পৃথিবীতে সেই মানুষই সবচেয়ে সুখী, যে অল্পে সন্তুষ্ট হয়। অন্যায় ও অসৎ পথে উপার্জিত অর্থবিত্ত কখনো সুখ দিতে পারে না। সৎ পথে নিজ পরিশ্রমের মাধ্যমে সন্তুষ্টচিত্তে জীবিকানির্বাহের চেয়ে সুখ আর কিছুতেই নেই।
উদ্দীপকের অংশ—১—এর লোকটির কিছুই নেই। সে ভাঙা কুঁড়ে ঘরে বাস করে, ছেঁড়া কাঁথায় ঘুমায় এবং তার মনে কোনো অসন্তুষ্টি বা অতৃপ্তি নেই। এতেই সে নিজের সুখ ও শান্তি অনুভব করে। ‘সুখী মানুষ’ নাটিকায়ও এমন একজন মানুষ পাওয়া যায়, যে নিজের শ্রমের বিনিময়ে জীবিকানির্বাহ করে সুখে দিন কাটায়। তার কোনো সম্পদ নেই, গায়ের একটা জামাও না থাকায় সে চোরের ভয় থেকে মুক্ত হয়ে শান্তিতে ঘুমায় আর সুখ অনুভব করে। উদ্দীপকের অংশ—১—এ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার এই সুখী মানুষ চরিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে।

ঘ. উদ্দীপকের অংশ—২ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের জন্য নৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট শিক্ষণীয়।
নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকবোধের অভাবে মানুষ অন্যায় পথে পা বাড়িয়ে নিজেই নিজের অশান্তি ডেকে আনে। অন্যের সম্পদের লোভ তাকে অত্যাচারী করে তোলে। সৎ জীবনযাপন ও বৈধ পথে উপার্জনের মাধ্যমেই প্রকৃত শান্তি অর্জিত হয়।
‘সুখী মানুষ’ নাটিকার কাহিনিতে দেখা যায়, অনৈতিকভাবে মানুষকে ঠকিয়ে, মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে ধনী হওয়া এক মোড়লের জীবনে শান্তি নেই। চিকিৎসক বলেছেন, কোনো সুখী মানুষের জামা গায়ে দিলে মোড়লের অসুস্থতা কেটে যাবে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর একজন সুখী মানুষ পাওয়া গেল, যে নিজের শ্রমে জীবিকানির্বাহ করে, কিন্তু তার কোনো জামা নেই। উদ্দীপকের অংশ—২ থেকে বোঝা যায়, আত্মস্বার্থে বিভোর না হয়ে পরের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ। শুধু নিজের কথা ভাবার মধ্যে দুঃখ ছাড়া সুখ নেই। যার কিছু নেই, তার পাশে দাঁড়ানো, তাকে সহায়তা করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। স্বীয় স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
উপর্যুক্ত মূল্যায়ন থেকে দেখা যায়, নাটিকার মোড়ল অন্যের ওপর জুলুম করে ধনী হয়েছে ঠিকই, কিন্তু জীবনে শান্তি নেই। উদ্দীপকের যে নীতি, নৈতিকতা ও মানবিকবোধের কথা বলা হয়েছে, তার কিছুই নেই মোড়ল চরিত্রে। কারণ, মোড়ল অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে নিজেকে ভোগ দখলে এনেছে। কাজেই উদ্দীপকের অংশ—২ ‘সুখী মানুষ’ নাটিকার মোড়লের জন্য যথেষ্ট শিক্ষণীয় বিষয়।


তথ্যসূত্র:
১. সাহিত্য-কণিকা: অষ্টম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা, ২০২৬।
২. আধুনিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, এপ্রিল, ২০১৮।
৩. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: বাংলা একাডেমি, ১৮তম, ২০১৫।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url